Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

বাংলাদেশের জনতা করোনা: বিদেশ ফেরতরা বলছে বাংলাদেশে বিমানবন্দরে কোন ধরণের বাছ বিচার করা হচ্ছে না, করোনা কি জিনিস তা নিয়ে সবার অসচেতনতা ছিলই আর এখন সরকার সচরাচরের মত লুকোচুরি খেলছে। হয়তো সামনে লাশ গুম করবে, অসচেতন গাফেল সরকার মুজিব বন্দনাতে সময় পার করছিল। করোনা এদেশে এসেছে তার দাগ সরকার খোঁজে নাই, কেয়ারও করে নাই, নজর ছিল অন্যদিকে। তা ছাড়া অনেক তথ্য নিশ্চিত করছে সরকার চারপাশকে চাপে রাখছে করোনার কথা বলতে নিষেধ করছে। সচরাচরের মত অপরাধী সরকারের প্রচেষ্টা দেশের প্রতিটি সেক্টরের দোষ ঢাকার প্রচেষ্টা। যখন মুজিব বন্দনাতে বিদেশীরা আসবে না বললো তার আগ পর্যন্ত সরকার করোনার ধারেকাছেও নেই, বরং লুকাতে ব্যস্ত। গো বেক মোদি, কথাটি খুব সম্মানের বিষয় নয়, বরং লজ্জার। মোদির জন্য এ যাবত ৮ মার্চ পর্যন্ত সরকার ছিল পাগলপ্রায়। সারা দেশের মানুষ বিদ্রোহী হলেও, সরকারের হুমকি ধমকি বহাল ছিল। ভারত বাংলাদেশ উভয় পক্ষে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়, চুক্তির নামে ঝুলানো লোভের মূলা, তিস্তাকে বাদ রেখে ছলবাজী মেঘ কাটার গল্পও শোনানো হয়। নদীপথের যাতায়াত বাড়ানো ও চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহারের ভারতীয় লাভ জমা করতে মোদির উৎকন্ঠাও লুকানো থাকে নাই। ভারত কখনোই তার লাভের চুক্তি পাওনার জমা ভুলে না। একতরফা লাভে সবদিন আগুয়ান। বাংলাদেশকে তাদের দখলদারী অংশ মনে করে একতরফা লুটপাটের চুক্তি ও আলোচনা চলে। বেশীরভাগ সময় এর বেশী কিছু জানেও না বাংলাদেশীরা। মুসলিমরা মোদির চোখে বিষফোঁড়া। বাংলাদেশে মুসলিম আলেমদের প্রতিবাদের কাছে তার সব কপট কৌশল মুখ থুবড়ে পড়লো। মোদি গো বেকে বাধ্য হয় বহুদিন থেকে তার একতরফা অর্জন, এবার বাধ সাদলো বেরিকেড হয়ে দাঁড়ালো বাংলাদেশের জনতা ও করোনা।

সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদন:  সতর্ক সংকেত এসেছে বিশিষ্ট জনদের গবেষনা প্রতিবেদন থেকে। খুব সংক্ষেপে ঐ পরিসংখ্যান আনছি। বাংলাদেশের ব্রাক বিশ^বিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ^বিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ^বিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও এপিডেমিওলজিস্টদের লেখা এক গবেষনা প্রতিবেদনে এমন আশঙ্খা করা হয়েছে। শংকা প্রকাশ করা হয়েছে ৫ লাখেরও বেশী মানুষ মারা যেতে পারে। শংকায় ৮ মে থেকে এটি ছড়াতে থাকবে। ২৮ মে থেকে এটি ৮ কোটি ৯১লাখের উপর ভর করতে পারে। এদের এক অংশকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে। কিছুদের নিবিড় পরিচর্যার দরকারও পড়তে পারে। সর্বমোট ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা। মোট জনসংখ্যার ৮১% আক্রান্ত হতে পারে। তবে সরকারের তড়িত পদক্ষেপে সেটি কমতেও পারে। কত কমবে সেটি ব্যাখ্যাতে আসে নাই। তাদের হিসাব অনুযায়ী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৪৬৪০ জন রোগীর ৫৯জন হাসপাতালে নেয়া হবে ১২ জনের নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন পড়বে এবং মারা যাবে একজন। সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগীর সংখ্যা দেখা যেতে পারে মে মাসের ১১ তারিখে ১ কোটি ৪১ লাখেরও বেশী। ১৪ মে / ১৬ মে তে হাসপাতাল নিবিড় পরিচর্যাতে ছুটাছুটি শুরু হবে। দেখা যাবে ২৬ মে একদিনেই ৮০ হাজার ৭৯৬ জন মারা যেতে পারেন। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৮ মেতে একজন মারা যান মানে ততদিনে সারা দেশে ১,৬৮৫ জনের মধ্যে এ রোগ ছড়াবে। ৩১ মার্চ নাগাদ লক্ষণ দেখা যেতে পারে ২১ হাজার ৪৬১ জনের মধ্যে। হাসপাতাল দৌড়াদৌড়ি, নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর ৬ জন মারা যেতে পারে। গবেষকরা আশংকা প্রকাশ করছেন তারা যতটা বলছেন তার চেয়েও ভয়ংকর হতে পারে বাস্তব। বাংলাদেশে যেখানে বলা হচ্ছে ১ জন মারা গেছে এর সত্যতা কতটা নিশ্চিত, ধারণা করা হয় এর চেয়েও বেশী হতে পারে। নানান সতর্ক সংকেত ও বানী থেকে তাই মনে হচ্ছে সরকার এসব পরিসংখ্যানে ধামাচাপার চেষ্টায় আছে। পরিসংখ্যানটি ২০১১ সালের মানুষের বয়সের অনুপাতে সাজানো হয়। বর্তমানে বয়স্কদের সংখ্যা বেড়েছে, তাই মৃত্যুর শংকাও বাড়তে পারে। প্রতিবেদনটি যৌথভাবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ গবেষক দ্বারা করা হয়। এর মূল গবেষকরা লন্ডনের বিখ্যাত ইম্পোরিয়াল কলেজের গবেষকদের উদ্ভাবিত মডেলের আলোকে করা, পরবর্তীতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরিস্থিতির উপর প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। সংক্রামক রোগের উপর করা ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকদের কাজ খুবই উচ্চ মানসম্পন্ন। ঐ মডেল অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে প্রায় ৫ লাখ ও যুক্তরাষ্ট্রে ২২ লাখ মানুষ মারা যেতে পারে। উল্লেখ্য, এসব প্রকাশের পর যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এটি মোকাবেলায় বড় ধারার পরিবর্তন আনে। (নেত্র নিউজ থেকে ২১ মার্চ ২০২০। সুইডিশ সময় ১৮:২০)।

করোনার বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ নিন: যুগে যুগে অতীতেও মানুষ এভাবে সংক্রামক রোগের ভয়ংকর বিপদের মুখোমুখি হয়েছে। দুনিয়া যতই এক হচ্ছে ভাইরাস ততই ভয়ংকর স্বরুপ নিয়েছে। সততা মানবতা ও দক্ষতা দিয়ে জীবনে তার মোকাবেলা করা জরুরী। করোনা কেন হয় কিভাবে ছড়ায় এর মাঝে সবাই এটি জেনেছেন। যতদূর পারা যায় মানুষের সংস্পর্শ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা জরুরী। হাতের ছোঁয়াতে এটি ছড়াবার সম্ভাবনা থেকে আলাদা আলাদা দূরে থাকতে বলা হচ্ছে। যে কোন বিপদেই আল্লাহর সাহায্য চাওয়া বাঞ্ছণীয়। তারপরও শুধু সাহায্য চাইলেই মানুষ নিরাপদ, এমন কোন শর্ত নেই। কেউ কেউ বেয়াড়াপনা করে বলছেন মসজিদ ছাড়বো না, বেশী করে নামাজ পড়তে মসজিদে যাবেন। ধরে নিচ্ছেন এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি বেশী পাবেন। বস্তুত আল্লাহ বেওকুফের জন্য অনুদার। কারণ মানুষকে বিবেক দেয়া হয়েছে, সে যদি বিবেকের সঠিক ব্যবহার না করে বেওকুফী করে মরে তার দায় কেন আল্লাহ নিতে যাবে। মানুষকে আল্লাহ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব বানিয়েছে এ কারণে যে তারা তাদের মগজের সঠিক ব্যবহার করবে, যুক্তি দিয়ে জ্ঞান দিয়ে বুদ্ধি দিয়ে সঠিক সত্যকে গ্রহণ করবে। কেউ যদি স্বেচ্ছায় আগুণে ঝাপ দিয়ে বলে যে আল্লাহর হুকুমে তার কিছু হবে না। আগুণের ধর্ম পুড়িয়ে মারা, ঐ ধর্মটিও আগুণের স্বভাবের অংশ। তাই একজনকে বাঁচতে হলে আগুণকে তার ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। নবী মোহাম্মদ (সঃ)কে কুরাইশরা ১০০ উটের পুরষ্কারে তার মাথার দাম নির্ধারণ করার পরও ধরতে পারে নাই। কিন্তু তারা নবীর মাথার সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরে। নবীকে আল্লাহ সাহায্য করেছেন এটি সত্য এবং নবীও তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ঘটনার জটিলতা বুঝতে পেরে আগের রাতেই গৃহত্যাগ করে সওর পর্বত পর্যন্ত পৌছান। অতপর গুহার ভিতরে সূর্যদোয় পরে আত্মগোপন করে কপটদের দৃষ্টির আড়ালে গোপন থাকেন। অবশ্যই আল্লাহর অসীম রহমতে বেঁচে যান। উন্মত্ত কুরাইশরা তাকে মারতে গিয়েছে, তাদের ঘোড়ার পদভারে প্রকম্পিত পাহাড়ে ভয় পাওয়া নবী ও আবুবকর আল্লাহর সাহায্য চেয়েছেন। আল্লাহর সহযোগিতায় তারা গুহার অভ্যন্তরে নিরাপদ থেকেছেন। সবযুগেই নবী রসুলরা সাধু সজ্জনরা এভাবে আল্লাহর সাহায্য পেয়েছেন তার অর্থ এটি নয় যে তারা হাত পা ছেড়ে বসে ছিলেন আর আল্লাহ তাদেরে দৈব কৌশলে উদ্ধার করে মদিনায় পৌছে দেন। তারা নিজেরা দায়িত্বশীল ও কর্তব্য পরায়ন ছিলেন এবং আল্লাহর সহযোগিতা পেয়েছেন। মানুষ দাঁড়িয়ে বসে শুয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহর সাহায্য চাইতে পারে, প্রার্থণা করতে পারে। দেখা গেছে বৃটেনের এক পরিসংখ্যানে ২৫% মুসলিমরা মারা গেছে করোনায়। অনেকে এও মন্তব্য করছে তারা তাদের কিছু মনগড়া বেয়াড়া মনোবৃত্তির কারণে এ গড় হিসাবে ধরা খেয়েছে। যুক্তির ধর্ম ইসলাম যুক্তিহীন ভৌতিক ধর্ম নয়।

সরকারের রাজশিক গাফিলতি: বাংলাদেশ সরকার যেভাবে জন্মশতবর্ষ পালন করতে চেয়েছিল, দুনিয়া কাঁপানো করোনাকে একপাশে ঠেলে দিয়ে। একটি বিতর্কীত মানুষকে নিয়ে ঢলাঢলি করতে চেয়েছে সরকার, যারা আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে আক্রমণ করছে তাদের এনআরসি বিষয়ক আরএসএসরা। মন্ত্রী কাদের ধমকে উঠেন, নরেন্দ্র মোদির বিরোধীতা করতে লজ্জা করে না। লজ্জার কি বুঝেন কাদের? আত্মসচেতন জাতি কাদেরের থেকেও বহুগুণ বেশী সমঝদার। তারা বলেছেন করোনা বিএনপির রাজনীতি ও কারসাজি। বাংলাদেশের সরকার যেভাবে মরার উপর খাড়ার ঘাঁ মেরে মুজিব বর্ষকে পালনে নেমেছিল, বিদেশের ঋণে খাওয়া ঘি খোর ফকির দেশটির রাজশিক আচরণ অতীতেও বিতর্কীত হয়েছে বারে বারে। ইত্যবসরে করোনা এক ভয়ংকর গজব হয়ে হাজির হয়েছে। ক্ষমতায় অন্ধ সরকার কল্পনায় বাবা পূজায় ব্যস্ত সময় পার করেছে, বাস্তব দুনিয়া তাদের সামনে ছিল না। কল্পনার ফানুসে হাতির ঝিলের আতশবাজিতেও মুগ্ধ ব্যস্ত মুজিব পরিবার, পারিবারিক শতবর্ষ পালন করছে রাষ্ট্রীয় খরচে। সাত মেট্রিক টন = ১৭৫ মণ আতশবাজি বিদেশ থেকে কেনা হয়েছে, আলোকশয্যায় ঢাকা শহরের সাজ সাজ রব। উৎকন্ঠিত মোদির অগ্রদূত শ্রিংলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ঘুরে যান। উত্তাল সারাদেশ নারাজি মোদিতে, চিন্তার বলিরেখা কপালে। না হলে এ যাত্রা ঠেকায় কে? পত্রিকার শিরোনাম ‘গভীর রাতে মুজিব কন্যা তার পরিবার নিয়ে হাতির ঝিলে’।

মুখর মন্ত্রীরা, উপনির্বাচন তাদের শেষ দাগ: বিএনপির রিজভী বলছেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলাতে সরকার শুধু লিপ সার্ভিস দিচ্ছে। মুজিববর্ষের বন্যায় ভেসে যাওয়া তথ্য মন্ত্রী হাসান মাহমুদ উচ্ছাসের অতিশয্যে বলছেন, ‘বিএনপির সুযোগ ছিল মুজিব বর্ষে হত্যা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার’। এসব অপ্রাসঙ্গিক মিথ্যাচারী বাচাল নেতাদের সামনে এসে আজরাইল দরজাতে টোকা দিলেও তারা নিজেদের ত্রুটিও দেখে না বিপদও দেখে না। দেখে পরের বিপদ, ক্ষমতায় অন্ধ পরনিন্দায় অবিচল। একই ধাতে গড়া নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন পিছাতে রাজি না করোনা থেকেও ভয়ংকর তারা নিজেরা সরকারী দালাল। ইভিএম সম্বল করা দালালরা প্রার্থীদের বুথে ঢুকতে দেয়নি, ভোটাররা কেন্দ্রে যায়নি। গেটে পাহারা জোরদার ভোট দেয়া দূর অস্ত, ভোটকেন্দ্রে ঢোকার হুকুমই বাতিল সরকারী দম্ভ প্রমাণ হয়েছে এবারও। ওবায়দুল কাদের বলেছেন তারা করোনা থেকেও ভয়ংকর। জাতিকে এভাবে দুই ভাইরাসের সাথে লড়তে হচ্ছে। আগাম করোনা সংকেত থেকে সরকার কোন অর্জন জমা করেনি। সরকার নিশ্চিন্ত ছিল, মরবে তো গরীব বিরোধীরা, শক্তিমানদের মরার সুযোগ কম। আতশবাজীর তলানীতে ফূর্তির বছর কাটাবে। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের বাচাল প্রশাসন মুখর থেকেছে। মস্ত্রীদের কথা কখনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পর্যায়ের আবার অনেকের কথা কুফরি কালামের পর্যায়ে পড়ে। মন্তব্যগুলো লোম দাঁড় করিয়ে দেবে। করোনা নিয়ে বিএনপি জনগণকে আতঙ্কিত করছে, তথ্যমন্ত্রী। শেখ হাসিনা থাকতে করোনা আমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না নৌপরিবহন মন্ত্রী,  করোনা প্রতিরোধে ঢাকা বিমানবন্দরের মত ব্যবস্থা উন্নত দেশগুলোতেও নেই, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, শেখ হাসিনার মত নেত্রী পেয়েছি বলেই তা প্রতিরোধ করতে পারছি, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ ইতালী স্পেনের মত ভুল করবে না, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। করোনা মারাত্মক রোগ নয়, এটি সর্দি জ¦রের মত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, করোনার চেয়েও আওয়ামী লীগের শক্তি অনেক বড়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী, করোনা ভাইরাস মারাত্মক নয় ছোঁয়াচে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, করোনা নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা ইতালীর চেয়েও বেশী সফল বাংলাদেশ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী। উপরের দালালগুলোর প্রকৃতি ও আচরণ ইতিহাসে দলিল হয়ে থাকবে। দেখলাম এই দালালগুলোর অতিআচার ও অত্যাচারে জর্জরিত কর্মকান্ডে ইউরোপ বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস অর্ডার বাতিল করছে। তারা এ দলবাজ মিথ্যাচারী বকওয়াজগুলোকে বিশ^াস করে না। আরো কঠিন যুদ্ধ সামনে আসছে। সব নষ্টামীর খেসারত দিবে ঐ হতভাগা জাতি। আল্লাহ এদের মুখে লাগাম দিক। অবৈধ সরকার এসব দালাল পুষে, দেশ পরিচালনার নামে এসব ভাড়ামির জন্যই তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরা দলেবলে বহুদিন থেকে মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। কপটদের স্বভাব সাধারণত বদলায় না।  সবারই শংকা করোনায় ভর করে আরো বড় খেল জমা করবে দাগাবাজরা। মানুষের লাশ লুকোবে, গুম করবে গিলে ফেলবে সতি সবিত্রী ময়দানে তারপরও দেবীরুপে হাজিরা দেবে। মানুষ মেরে যে অবাধ অপকর্ম করার রাজনীতি উদোর পিন্ডি ভোদড় ঘাড়ে চাপানোর ছলবাজি কসরত চলছে, সাম্প্রতিক উপনির্বাচন তার সর্বশেষ প্রমান।

জাতি দুই ভাইরাস নিয়ে লড়ছে: সারা জাতির মতই খালেদা জিয়াও দুই শক্ত ভাইরাসের সাথে লড়ছেন। এক হাসিনা সরকার অন্য ময়দানের করোনা।  খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা রহমান সাংবাদিকদের বলেন ৫ মিনিটও দাঁড়াতে পারেন না খালেদা জিয়া (১২ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০) ৭৫ বয়স উর্ধ এ মহিলাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে যা করার সবই করা হচ্ছে। আদালতকে হাতের মুঠোয় নিয়ে উঠবস করানোর প্রমানও বর্তমান। সবদিকেই খালেদা জিয়া চরম ঝুকিতে আছেন! এ ঝুকিতে মুখর দলবাজ ছাড়া বাকী সারা দেশ একদিকে! ছলে বলে কলে কৌশলে সরকার চাইছে খালেদাকে হত্যা করতে এ অভিযোগ ইতমধ্যে উঠেছে, সারা জাতি তার স্বপক্ষে মিটিং মিছিল করছে তারপরও সরকার ধামাচাপাতেই জাতিকে গুম খুনে হত্যা করছে একইভাবে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকেও মৃত্যুর এজেন্ডা নিয়েছে। ইতালীর প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সমাধান শেষ, এখন বাকী একমাত্র আশা আকাশে, অদেখা বিধাতার দিকেই তিনি ইঙ্গিত করছেন। করোনার এ হুমকি এসেছে দৈব থেকে, সেটি মাথামোটাদের বুঝতে হবে। দৈবের সাথে ভন্ডামী মশকরা কান্ডে মানব জাতি সীমা ছাড়িয়ে গেছে, বাংলাদেশ সরকারও ছলাকলাতে শিরোমনি। তারপরও শেষ ভরসা আল্লাহর আদালতে নিভৃতে বিচার চাওয়া। সরকার জাতিকে উদ্ধার করবে, সে ভরসা জাতির সামনে কম। কোন ভাবে সংক্রমিত হলে ভীতি না ছড়িয়ে সঠিক পরিচর্চা নিজেকেই করতে হবে। এমন সংকটে কাছের বাকীরাও ভীত থাকবে। আত্মবিশ^াসী থেকে ভিটামিন সি খাওয়া, পানি জাতীয় লিকুইড খাওয়াসহ রোগের বিস্তার না ঘটানোর ব্যাপারে সংযত থাকতে হবে। দালাল মন্ত্রীদের নয় বরং বিশেষজ্ঞদের কথা শুনতে হবে। আল্লাহর সাহায্য চাইতে কার্পণ্য নয়, মনের দুর্বলতা মানুষকে তাড়াতাড়ি অসুস্থ করে, আবার সবল আত্মবিশ^াসে বিশ^াসী মানুষ আশার আলো জাগাতে পারে। এ জন্য বলা হয় মরার আগে না মরতে। কঠিন সংগ্রামী পরীক্ষাতে সারা দুনিয়া যেন এর মোকাবেলা করতে পারে এ দোয়া চাইছি আল্লাহর কাছে। ভয় দেখিয়ে আল্লাহ নির্ভয় করুক। সৎ ও সুন্দর পথে চলার তওফিক দান করুক।

লেখার সময়: ২২মার্চ, ২০২০ সাল।

 

নাজমা মোস্তফা

সরকার এমন এক অদ্ভুত জিরোটলারেন্সের নীতির উপর চলছে যেখানে সত্য প্রকাশ করা এই আজব রাজকন্যার দেশে নিষিদ্ধ। যে বা যারা এটি করবে তাদের জন্য হামলা মামলা কারাগার বরাদ্দ। এর খেসারত দিয়ে চলেছে দেশটির সবচেয়ে বেশী বেশী ক্রেডিটধারী পরিবারটি। তাদের অপরাধ তাদের জনগণ বেশী পছন্দ করে ও তারা সততার দাগ রেখে আজীবন চলতে পেরে জনতার অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছে । হিংসার  সংকীর্ণ মানসিকতায় ডাকাত সরকার তাদের উপরই শুধু নয় গোটা জাতির উপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। পাপিয়ার পাপ প্রকাশ করা যাবে না। এটি প্রকাশও বেআইনী অপরাধ বলে চিহ্নিত হচ্ছে। প্রতিটি অপরাধ একটির সাথে আরেকটি যুক্ত। টক অব দ্যা আশুলিয়াকে বলা হচ্ছে আশুলিয়ার পাপিয়া। আজকের লেখার শিরোনাম সত্য ও ন্যায়ে অটল থাকার নির্দেশ, মূলত এটি কোন অবৈধ মানুষ সরকারের নির্দেশ নয়। এক অদেখা শক্তি দুনিয়ার মালিক মোক্তার বলে আমরা যাকে জানি এটি তার নির্দেশ। সুরা নিসার ১৩৫ নাম্বার আয়াতে  বলা হয়েছে সত্য প্রকাশ করতে ও ন্যায় বিচারে দৃঢ় থাকতে। দরকারে নিজের বিরুদ্ধে অথবা পিতামাতার ও নিকটজনের বিরুদ্ধে গেলেও সেটি করতে হবে। কারণ এটি লুকানো সম্ভব না, এদের অপরাধীদের আল্লাহ জানে বেশী। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে মানুষ জাতিকে এ হুমকি দিয়ে রেখেছে আল্লাহ! যদিও ছলবাজরা এ কুরআনীয় নির্দেশ এড়িয়ে নকল রং ঢং বহাল রেখেছে শুধু মানুষকে প্রতারণা করবে বলে। এ নির্দেশ নারী পুরুষ আস্তিক নাস্তিক ধার্মিক অধার্মিক সবার জন্য। হে মানবজাতি বলে সম্মোধন করে কুরআন তার প্রতিটি কথা বার বার বলে রেখেছে।

বাংলাদেশে ৯০% মুসলিম ও ৯৯.৯% পার্সেন্ট ধার্মিকের দেশ হওয়ার পরও মিডিয়া কথা বলতে পারে না। ময়দান ঘেটে সত্যকে তুলে আনা সহজ কাজ নয়। অনেকের হয়তো মনে আছে কিছুদিন আগে বর্তমান হাসিনা সরকারের বয়ান, ‘একটি পত্রিকা আমি পড়ি না, পছন্দ করি না, নামটিও বলতে চাচ্ছি না।’ জানতে খুব ইচ্ছে করছিল সে মূল্যবান পত্রিকা কোনটি। ইত্যবসরে সব রাখ ঢাককে ধামাচাপা দিয়ে পাপিয়া নামধারী পাপিষ্ঠা নেত্রীর সাথে রাঘব বোয়ালগং ময়দানে হাজির। নতুন নতুন আশুলিয়ার পাপিয়া সাদিয়ারাও দলে দলে শরিক হচ্ছে। মার্চের ২ তারিখে পাপিয়ার মুখে আমলা এমপি ব্যবসায়ী সহ ৩০জনের কথা ওয়েস্টিন হোটেলের বরাতে প্রকাশিত হয়। এই  শামিমা নূর পাপিয়ার কূকীর্তি ছাপার অপরাধে মানবজমিন সম্পাদকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টএর আওতায় মামলা হয়েছে। নিউজ পেপারে লিস্টের সবার নাম না আসলেও ৩০ জন জড়িত কথাটির প্রকাশকথা সরকার সইতে নারাজ। সরকারের নীতি হচ্ছে তার দলের লুকানো কুকীর্তি ছাপা যাবে না। সেখানে সম্পাদককে অপমান করতে সরকার পিছপা নয়। সারা দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো শোরগোল তুলেছে সরকারের ঐ অপকর্মের বিরুদ্ধে। মানব জমিন যে সরকারের পছন্দের নয়, সেটি স্পষ্ট হল। ডাকাত সরকার নিজের পাপেই আকন্ঠ ডুবে আছে, সেখানে কিভাবে পাপিয়ার পাপ ঢাকবে সে চিন্তায় তাদের ঘুম হারাম হয়ে আছে। যারা সত্য বলে তাদেরে সইতে পারে না, ভয় পায় অপরাধী সরকার।

সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে সত্য প্রকাশ করা, সবাই এটি করতে সমান দক্ষ নয়। সৎ সাংবাদিকতার মর্যাদা যে কত উপরে সেটি বলার ভাষা নেই। সহজভাবে বলা হয় একজন সৎ ব্যক্তি মক্কা শরিফের সাথে তুলনীয়। মুসলিমরা তাদের শ্রেষ্ঠ অনুভূতি দিয়ে এভাবে বুঝায়। একজন দাগী আসামী আর একজন দায়িত্বশীল সম্পাদক, উভয়ের অবদান সমাজে দু রকম। একজন সম্পাদকের দায়িত্ব সমাজের প্রকৃত স্বরুপ জনতার সামনে স্পষ্ট করা আর আসামীদের কাজ সমাজ থেকে সব নীতি নৈতিকতা মুছে দেয়া। ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টএর আওতায় কি সরকার বা তার নিকটজনরা ধরা খায়? ইন্টারনেটের মুক্ত যুগে সাধারণ মানুষও জানছে চারপাশ থেকে অনেক সত্য অনেক মিথ্যা প্রতারণা ছলনায় ভরা লেনদেনের খবর, গোয়েন্দারাও নিশ্চয় এসব খবর পান, জানেন। এদের বিরুদ্ধে কি কখনো বিচার বরাদ্দ হয়েছে? এ কারণেই জিয়া ব্যতিক্রমী ছিলেন, তার জীবনে কোন দুর্নীতির দাগ কেউ অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পায়নি। সে সময় ঢাকাতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেই থাকতাম। একবার এক কারেন্টের মিস্ত্রীর মুখে জিয়া পরিবারের অবিশ^াস্য খবর শুনে বিস্মিত হয়েছি,  আজো অনেকেই ঐ সব প্রমাণ নিয়ে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছেন বলেই মনে করি। জিয়া পরিবারের সাথে খাওয়া ডাল করলা ও সাধারণ মাছের ঝোল তরকারীর ভাগিদারদের সাথেও কথা হয়েছে সময়ে সময়ে। জিয়া নিজ পরিবারের জন্যও কোন স্বজনপ্রিয়তার সুযোগ রাখেন নাই। শাহিন স্কুলে দশ বাচ্চার জন্য যে নিয়ম, জিয়ার কড়া হুকুম ছিল তার বাচ্চাদের জন্যও সমান নিয়ম থাকবে কোন ব্যতিক্রম তিনি হতে দেন নাই। আম জনতারা ময়দান থেকে এসব মহাত্মনদের থেকে অনেক শিখেছে, আজকাল সে সিলসিলা ময়দানে নেই। গলাডুবা অপরাধী স্বৈরাচার এরশাদ টাইটেলেই পরিচিত, সাথে তার রাজনীতির সহোদরা শেখ হাসিনার ক্রমাগত প্রশ্নাতীত বিতর্কীত অর্জনে জাতি হতবুদ্ধ!

বিষয়টি সত্য ও ন্যায়ে অটল থাকা। এর চুলচেরা বিশ্লেষণ বিবেকের জমা। শেখ হাসিনা নিজেও যে তারেককে হুমকি ধমকি দিলেন যে তোমার মাকে ছাড়া হবে না। তখন হাসিনার বিরুদ্ধে কেন মামলা হয় না ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টএর আওতায়? বিচার কি শুধু বিরোধী খালেদাগংদের জন্য জমা। শুরুতে মুজিব পরিবারের ব্যাংক লুটেও বিচার হয় নাই, দেরীতে ব্যাংক ডাকাতীরও বিচার হয় না। সমাজের সুধী জনদের বিস্ফোরক মন্তব্য সারা জাতি শুনছে। কিন্তু চোর ডাকাতের গায়ে ওসব লাগে না। যে দেশের নিয়ম নির্দোষের উপর বিচার বরাদ্দ হওয়া, প্রমাণ খালেদা জিয়া, মাহমুদুর রহমান, মইনুল হোসেন, শফিক রেহমানরা মামলায় জেল খাটেন! তাদের অপরাধ করতে হয় না, এদের মুখ স্ট্যাপল করতেই টিপে ধরা ধরপাকড় নাটক সাজা ও মুখ সিল করা। এরা জাতির ডাকাত নয়, এরা জাতির বিবেক! এমন কি ফরহাদ মজহারকেও ভয়, তাই রানা প্লাজার রেশমার আদলে নাটক মঞ্চায়ন। আগের দিন ভারতের নির্যাতীত সংখ্যালঘুদের পক্ষে মাহমুদুর রহমানের সাথে প্রতিবাদী সম্মেলন, চলে বিনাশের চেষ্টা! ভাগ্যিস বর্ডারে পাচারের আগে দৈবের সহযোগিতায় বেঁচে গেছেন ফরহাদ মজহার। ধড়পাকড়ের এ হুমকি শুধু কি ফরহাদ মজহারের জন্য, ঝিকে মেরে বৌকে শেখানো! বাকীদের অনিরাপত্তার হুমকি জমা রাখা। এরকম এক একটি ঘটনা নিয়ে বিশাল রম্য রচনা হতে পারে।

মুজিবনামায় এক সরব মুক্তিযোদ্ধা: সত্য ও ন্যায়ের বদলে স্বাধীনতা পাওয়ার পঞ্চাশে দেশ কেমন করে পঁচে গেল অনেক বিদগ্ধ জনরা পুরানো বুকচাপা বেদনা অন্তরে ধারণ করে দম ছাড়ছেন। যুদ্ধ যদি পঞ্চাশ পেরোয় যোদ্ধা তখন নিশ্চিত সত্তুর পঁচাত্তর পার করেন। বৃটেনে থাকা এরকম একজন মুক্তিযোদ্ধা জগলুল হোসেনের কিছু সত্য কথন জাতির পঞ্চাশপূর্ব অবস্থান নিশ্চিত করবে কিছুটা হলেও। লুন্ঠিত বিজয়ে এসবই প্রকৃত যুদ্ধচিত্র “মুজিবকে বঙ্গশত্রু উপাধী দিয়েছিলেন মতিয়া, মুজিবের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে ও জুতা বানাতে চেয়েছেন তিনি। বর্তমান হাসিনার সংসদের ইনু সেনা ট্যাংকে অস্ত্র ছুড়ে আনন্দ প্রকাশ করেন, মুজিবের জন্ম গ্রহণের সংবাদ শুনে নয়, বরং  মৃত্যু বরণের খবর শুনে। সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ শংকা প্রকাশ করেন শেখ মুজিব হত্যায় মুজিবের ভাগনা শেখ সেলিম জড়িত। শাহরিয়ার কবির লেখেন মুজিব এখন বঙ্গবন্ধু নন, বঙ্গশত্রু বা জনশত্রু। কর্ণেল তাহের তিনিও বিতশ্রদ্ধ মুজিবের উপর বলেন, মুজিবের লাশ বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করতে কারণ তার কবর হলে আওয়ামী লীগ মাজার বানাবে। মেননের দলের বিবৃতি, মুজিবের মৃত্যুতে জনগণ উল্লসিত, এ মৃত্যু সামান্যতম দুঃখ সমবেদনা জাগায়নি, জাগাতে পারে না। সেদিন মুজিব, তোফায়েল রক্ষীবাহিনীর প্রধানসহ অনেককেই সাহায্য চাইলে কেউ মুজিবের সাহায্যে আসে নাই সাহায্যও করে নাই। সেনাবাহিনীর প্রধান শফিউল্লাহ বুদ্ধি দেন, দেয়াল টপকে পালাতে। মৃত্যু পরবর্তী দোয়া করতে মানুষ পাওয়া যায় নি। লন্ডনে আওয়ামী সরকারের স্পিকার আব্দুল মালেক উকিলের মন্তব্য, দেশ ফেরাউনের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে। সাবেক স্পিকার ও বিদেশ আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী বলেন, একশবার মুজিবের ফাঁসি হলেও তার পাপমুক্তি হবে না। তার মৃতদেহ যখন সিড়িতে পড়েছিল তখন ফণিভূষণ মজুমদার ও মনোরঞ্জন ধরসহ ১৮ মন্ত্রীর ১০জন ও ৯জন প্রতিমন্ত্রীর ৮জন মোশতাক মন্ত্রীসভায় যোগ দেন। বাকীদের মধ্যে ৪জন কারাগারে যান আর ৩ জন বিদেশে ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আজকের শক্তিধর এইচ টি ইমাম। তার জানাজায় অংশ নেন ১৮জন। বিবিসিতেও শেখ হাসিনা এরকম ১০-১৮সংখ্যার কথা প্রকাশ করেন। এটি একজন মুক্তিযোদ্ধার পঞ্চাশের জমা!

 মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস জানা: এরকম অনেক খবর জমা আছে, যারা পরে জন্মেছেন মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনলেও জানেন কম, মিথ্যা ইতিহাসে সত্যরা হাপায়। আর যখন সরকার সব ধামাচাপায় জড়িত থাকে তখন কোন সত্যই জানা সহজ হয় না। একটি গ্রন্থ সূত্র থেকে: বাংলাদেশ সরকারের ভারতপন্থীদের নিয়ে গঠিত হয় রক্ষীবাহিনী তাদের কপট কার্য সিদ্ধি করতে। ১৯৭১ সালের অক্টোবরে যুদ্ধকালীন সময়ে ‘র’ এর নিয়ন্ত্রণে গোপন সাতদফা চুক্তি হয়। এ সাতটি চুক্তিতে স্বাধীনতা বিধ্বস্ত হয়। ভাবতে অবাক লাগে কিভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন ঐ শর্তে সায় দেন। এটি অবশ্য সত্য, তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি জনাব সৈয়দ নজরুল ইসলাম চুক্তি সাক্ষরের পর মূর্ছা যান। ঐ লিখিত সমঝোতাই হচ্ছে বাংলাদেশ রক্ষী বাহিনীর উৎসকথা। —- ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের গোয়েন্দা দফতর জানতে পারে যে কলকাতার ভবানীপুরে এক বাড়ীতে ভারতীয় গোয়েন্দা নিয়ন্ত্রণে ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামে এক গোপন সংগঠন কাজ করছে। উদ্দেশ্য পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করা। চিত্তরঞ্জন সুতার ও কালিদাস বৈদ্য তথাকথিত বঙ্গভূমির প্রবক্তা এর সাথে জড়িত। পরে এরা দুজনাই আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এমপি। মূলত এরা ‘র’ এর এজেন্ট হয়ে ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের এক পর্যায়ে ঐ দুজনসহ আরো এক হিন্দু আওয়ামীনেতা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশকে ভারতের অংশ করে রাখার প্রস্তাব রাখেন। এখানে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো জনাব হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি অবহিত করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জনাব চৌধুরীর মতে তারা কিছু সংখ্যালঘু নেতারা চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে সিকিম বানাতে” (জনাব মাসুদুল হক লিখিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘র’ এবং সিআইএর ভূমিকা দ্রষ্টব্য। আবু রুশদ এর ‘বাংলাদেশে র’ গ্রন্থেও আপনারা অনেক সূত্র কথা পাবেন। —- আবার সেই মুক্তিযোদ্ধা জগলুল ভাইএর স্মৃতিকথাতে ফিরছি। এই রক্ষী বাহিনী দিয়ে পাকিস্তান ফেরত “মুজিব সরকার ৩০ হাজার দেশপ্রেমিক হত্যা করেন। তাদের অপশাসনে নেমে আসে স্বাধীন দেশে নির্বিচার হত্যা, নিপীড়ন, নির্যাতন, লুন্ঠন, দখলবাজী সীমান্ত পাচার এসব রংবাজি বিভীষিকা। তাদের অপশাসনে লুন্ঠন, কালোবাজারী সীমান্তপাচারের ফলে ১৯৭৪ সালে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষে প্রত্যক্ষ ৫ লক্ষ ও পরোক্ষ ১০ লক্ষ হতভাগ্য ময়দানে মারা যায়। ক্ষমতার টিকিয়ে রাখার মসনদীয় স্বার্থে ভারতের কাছে সার্বভৌমত্ব জমা রাখার প্রচেষ্ঠায় সরকার হয় চরম জনবিচ্ছিন্ন। এমন সংকট সময়ে ক্ষমতাকে আরো শক্ত করে বেধে রাখতে তিনি বাকশাল চালু করে স্বৈরশাসকের ভূমিকায় নামেন। যেন ফের আইয়ুব ইয়াহইয়ার চেয়ে আরো ভয়ংকর রুপে ময়দানে আবির্ভুত মুজিবের বাকশাল!

আমরা তখন ঢাকাতে, সদ্যমুক্ত দেশে অর্থনীতির নাকানী চুবানি দশা! চাকরীর পাওনা টাকাতে মাস চলে না। নতুন সংসার প্রথম সন্তান কোলে এসেছে। ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যানের বরাতে জানানো হয়েছে মুজিব সরকার থেকে হুমকি এসেছে সবাইকে সই করতে হবে, নইলে চাকরী থাকবে না। আজো আমার কর্তা রস করে বলে, আমি এখনো বাকশাল কারণ আমি তো ওটি প্রত্যাহার করি নাই। গোটা দেশের এতবড় একজন নেতার এমন স্বৈরাচারী ক্ষমতার পরিবর্তন জাতির জন্য মৃত্যুবৎ ছিল। সন্ধ্যে হলে কেউ ঘর থেকে বেরুতো না। দিনেও চলাচল দুষ্কর ছিল। হাতবেগ টাকা পয়সা দুর্বৃত্তরা ছিনিয়ে নিত, আমার কর্তা এর শিকার হন দু দুবার। ডাকাতের মোকাবেলা করে বাসায় এসে হাপিয়ে বলে উঠেন, এদেশে থাকবো কেমনে? বিচার করার কেউ ছিল না। চারপাশে হুমকি ধমকিতে মুমূর্ষ জীবন। সরকার দলীয়রা হুমকি ধমকি দিয়ে বলতো ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকবো। নিরিহ মানুষগুলো আজকের অত্যাচারী নিরিহ বিরোধীর মতই সেদিনও কেঁপেছে কেঁদেছে! কি থেকে কি হয়ে গেল! স্বাধীনতার নামে এ কেমন পরাধীনতার শিকল পরলো এ জাতি! ১৯৭৫সালের ২৫ জানুয়ারী বাকশালী শাসনের শুরু। জাতীয় সংসদে মাত্র ১১ মিনিট স্থায়ী অধিবেশনে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাশ হয়। শেখ মুজিব সেদিন প্রধানমন্ত্রী থেকে আজীবন রাষ্ট্রপতি হন। সংসদীয় পদ্ধতি বাতিল হয়ে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতি প্রবর্তীত হয়। অন্য সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে দেশে বাকশাল নামের এক দল গঠন করেন শেখ মুজিব। মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়াসহ বাকী সব সংগঠন নিষিদ্ধ করে সরকার নিয়ন্ত্রিত চারটি দৈনিক ছাড়া সব সংবাদপত্র নিষিদ্ধ হয়। উল্লেখ্য পিতা ও কন্যা উভয়ের কাজেকর্মে অনেক মিল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যে বেদনায় দেশের মানুষ বিগত শতকে কেঁদেছে, আজো কেন সেই একই বেদনায় পুনরায় কাঁদছে? গোটা দুনিয়ার বিবেক নড়ছে প্রতিবাদ করছে, দেশের বিবেকরা সম্পাদকরা কি তড়পাতে তড়পাতেই মরবে? সত্য প্রকাশ করবে না? সচেতন বিবেকরা জবাব দিন, মুসলিম হয়েও ঐশী কলাম কুরআনকে এড়িয়ে যাবেন? এই কি ধর্ম ধারণ, সত্য ও ন্যায়ে অটল থাকার নির্দেশ পালন? আল্লাহ এমন সংকট সময়েও সবার সহায় হোক।

লেখার সময়: ১৫ই মার্চ ২০২০সাল। বি দ্রষ্টব্য: লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ সাপ্তাহিকে ১৮ মার্চ ২০২০ তারিখে ছাপে।

নাজমা মোস্তফা

বাংলাদেশের আমলনামার দলিল: জাতি ভুলে গেছে কি না জানি না, বিগত সময়ে রবীন্দ্রবর্ষ পালনের বাড়াবাড়ি কি মাত্রায় ছিল। ভারতেও এমন ছিল না যতটা বাড়াবাড়ি বাংলাদেশে ছিল। একবিংশ শতকের শত ব্যস্ততার মাঝে এসব বর্ষ পালনের নিয়ম নীতি নতুন ম্যাসেজ বিলি করছে। মানুষ কি জাতির সম্মানিতজনদের ইতিহাস কম জানে? প্লাস মাইনাস করা মানেই মানুষকে দেবতা বা দেও বানানোর প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। সরকার তার কথার জালে বার বার আটকায়। গভীর রাতে ভোট সারা সরকার প্রধানমন্ত্রী বলেন দেশ সিঙ্গাপুর থেকেও শক্তিশালী, (১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০)। এ খবরের পাশের খবর বেসিক ব্যাংক দাঁড়াতে পারে না। খবরের এ ধারার জটিলতা কি আগের কথাকে খেলো করে না? শক্ত আটুনী ফসকা গেরো দিয়ে আসলটা বের হয়ে পড়ে। ২০২০ সালই যদি হয় মুজিববর্ষের জমা তবে সবচেয়ে কলঙ্কিত জমা হচ্ছে মুজিবকন্যার ইতিহাস বাংলাদেশের আমলনামাতে স্বর্নাক্ষরে লিখিত থাকবে। ঐ বছর উত্তাল বাংলাদেশে মরার উপর খাড়ার ঘাঁয়ের মত এসব পালন করেন তার অবৈধ পথে গদি দখলদার কন্যা সরকার। আল্লাহর আদালতে কোন অনাচারের জায়গা নেই। সরকার বলতে চায় সাত মার্চের ভাষণই স্বাধীনতার সারকথা! এর পরই দেশ মুক্ত স্বাধীন। মাঝখানের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ সব খেল তামাশা। শেখ মুজিবের কন্য শেখ হাসিনার কাছে ৪০০ টাকার মেজর জিয়াউর রহমানের অবদান স্বীকৃত নয়, এমন একটি মুক্তিযুদ্ধকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চান তিনি। সবাই জানে ১৫০০ টাকা ভাতা প্রাপ্ত মুজিব পরিবার পাকিস্তানী নিরাপত্তায় থেকেছেন। বাকী দেশ চরম অনিরাপত্তায় থাকার পরও মুক্তিযুদ্ধসহ গোটা জাতি এ রকম কথায় কলঙ্কিত হয়।  ঐ মানসিকতায়ই জিয়া পরিবার আজও তার কপট আক্রমণের স্বীকার। এসব আচরণ দাগ রাখা, ময়দানে লুকানো নেই। এ দেশের সব কৃতীত্ব একমাত্র তার বাবার, এমন আবদার মুজিবও করেন নাই। হাস্যকরভাবে বাকীরা দারোয়ান পিয়নের মত। আর্মি অফিসাররা তার দৃষ্টিতে নিকৃষ্ট। বিডিআর বিপর্যয়কে বিদ্রোহের নামে ৫৭ আর্মি আফিসার কেটে মেরেও তিনি নির্বিকার। মূল ত্যাগীদের বর্জন করা মুজিববর্ষ যেন পারিবারিক বর্ষ পালন। ইতিহাসকে অস্বীকার ও মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সরকার দেউলিয়াত্বের চূঁড়াতে। ভারতীয় ডিশের কালচারে নিমজ্জিত বাংলাদেশের ৯০% মুসলিম এ সংস্কৃতির ধারক নয়। এ হীন মানসিকতা জাতিকে আত্মমর্যাদাহীন করছে। ধর্ম ও রাজনীতি ভয়ংকরভাবে কলঙ্কিত হচ্ছে। বাংলাদেশী সংস্কৃতি কখনোই হিন্দু সংস্কৃতি নয়। নেতৃত্বের চেতনহীন মানসিকতা জাতিকে কলঙ্কিত করছে, জাতি পথ হারাচ্ছে।

দিল্লীতে মুসলিমরা মরছে: দিল্লী পুড়ছে। ভারত সরকার যা বলছে ৪২ মুসলিম মরছে, ক্রমেই এটি বাড়ছে ৫৩ অবদি, বাস্তবে যে কত মরছে সেটি একমাত্র আল্লাহ জানে। অতীতে শিখ হামলায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়। গুজরাটে দুই তিন হাজার নিহত হয়। মুসলিম নিধনে মোদি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে আজো সোচ্চার। ভারত চাইছে তার দেশে মুসলিমদের ধ্বসিয়ে দিতে। মেরে কেটে পুড়িয়ে, সচরাচরের মত মুসলিমদের হত্যা করে স্বৈরাচারী মোদি ভারত গণতন্ত্রের বড়াই করে। ষড়যন্ত্রীরা শুধু ভারতের ভিতরেই নয় পাশর্^বর্তী দেশের পরিবেশ বিষাক্ত করাও তাদের ষড়যন্ত্রের অংশ। ভারত এমন একটি দেশ যেখানে প্রায়শই মুসলিম প্রধান এলাকায় দাঙ্গা হয়। দিল্লী রাজধানী হওয়ার পরও নিস্তার নেই, সেখানেও দাঙ্গা। বাকী সারা দেশে কি হয় বা অতীতে কি হয়েছে, এসব হিন্দুত্ববাদের সহজ বাস্তবতা। ইতিহাস বলে মুসলিমরা বৃটিশ বিরোধী প্রবল প্রতিবাদী থেকে ভারতের অস্তিত্ব সংকটে অকাতরে প্রাণ দিয়েছে দলে দলে হাজারে হাজারে কখনো লাখে লাখে। জাতির অস্তিত্ব রক্ষার্থে এরা মরতে ভয় পায়নি। তারপরও সাম্প্রদায়িক ভারতে ২৫ শতাংশ মুসলিমরা ভিখারী। এদের চাকরী বাকরী নেই বললেই চলে। বড় জোর ২% ৩% এর গড় হিসাব। সাম্প্রতিক বড়জোর হয়তো দুই এক পার্সেন্ট বেড়েছে। মুসলিমরা চাকরি পায় না, লেখাপড়ার সুযোগও কম পায়। এই একবিংশ শতকেও তারা চরমভাবে নির্যাতীত কারণ এর পেছনের লিডাররা মুসলিম নিধনে তাদের কলকাঠি নেড়ে ইন্ধন দিয়ে গেছে দূর অতীত থেকে। মোদির পূর্বপুরুষ ও তাদের সজ্জনরা শতবর্ষ পালনকারী রবীন্দ্রনাথসহ তাদের বাঘ নখর লুকিয়ে মুসলিম নিধনকারী আগুনের যোগানদাতা, আজকের মোদি তারই ধারাবাহিকতা।

ভারতের সাম্প্রদায়িক আচরণ: মাত্র সেদিন দিল্লীর হামলাতে রাস্তাতে ছড়ানো ভাঙ্গা কাঁচের টুকরা, চারপাশে মানুষহীন এলাকা ও উল্টে থাকা সেন্ডেলের পরিবেশ বাস্তব চিত্র দুনিয়াকে জানান দিয়েছে। অতীতেও ভারত পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা গুজরাটেও বা অন্য যেকোন সময়েই বিশেষ বৈশিষ্ট। মুসলিম মরতে শুনলে তারা নড়ে না, বেশির ভাগ সময় নির্বিকার থাকে। এবারো একজন পুলিশও যায় নি এমন অভিযোগ উঠেছে। এ হচ্ছে হিন্দুত্ববাদী ভারতের অমানবিক আচরণ। অতীতের মতই মানবতা খসে পড়া মোদিরা মুসলিমদের সব অর্জনকে ঢেকে রাখতে পেরেছে বলেই তারা মুসলিম নিধনকে তাদের জীবনাচারের অংশ মনে করে। মুসলিমদের উজ্জল ইতিহাসকে তারা ঢেকে রেখে মিথ্যা ইতিহাস রচনা করে মানুষকে ভুলিয়ে রেখেছে শতাব্দী শতাব্দী। আমরা নিজেরাও যেসব ইতিহাস পড়েছি দৃশ্যত তাও সত্য ইতিহাস নয়। যতই সচেতনরা গবেষনা করছে ততই সত্য বেরিয়ে পড়ছে; প্রকৃত সত্য কত স্পষ্ট ও স্বচ্ছ ছিল কিন্তু তা ভারতে চেপে রাখা ইতিহাস।

মুসলিমরা মিথ্যা অপবাদের শিকার: ঐ মিথ্যা অপবাদের জোরে সারা বিশে^ মুসলিমরাই আক্রমণের শিকার। আজ ভারতের ২০ কোটি মুসলিম মৃত্যুর মুখোমুখি। মালয়েশিয়ার নির্বাসিত জাকির নায়েক বলেন, ভারতে মুসলিমরা নির্যাতীত হচ্ছে লুট হচ্ছে ঘর বাড়ী পুড়ানো হচ্ছে, চাকরীচ্যুত হচ্ছে। হিন্দু বাড়ীকে চিহ্নিত করে রাখা হয় যাতে মুসলিম ঘর চেনা যায়। ঠিক যেভাবে হিটলারী কায়দায়, ইসরাইলী কায়দায় চিহ্নিত করা হয়, ঠিক ওভাবেই করা হচ্ছে। মোদিকে দাওয়াত দেয়া মানে মুসলিমদের আরো অবমাননা করা। পাকিস্তানের ইমরান খানও তার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ভারতে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের নিরবতা চলছে। বাংলাদেশের জনতারা উচ্চকন্ঠ হয়ে ভারতীয় মুসলিমদের নিরাপত্তায় সোচ্চার হয়েছে। দিল্লীতে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সামনেই ভারত উলংগ। মোদির অনেক কসরতে সাজানো কারুকার্যকরা দেয়াল বস্তির দুর্গন্ধ সব আড়াল করেও উপচে পড়া দিল্লীর দুর্গন্ধ আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়লো। লাশের সংখ্যা বাড়ছে, হিন্দু মুসলিমরা জান বাঁচাতে ঘরে তালা দিয়ে ঘর ছেড়ে পালাচ্ছে। ভিন রাজ্য থেকে দাঙ্গাবাজ ভাড়া করে আনা হয়েছে, স্থানীয়রা চিনতে পারছে না। তাই তারা সংঘবদ্ধ হয়েছে।

মোদির রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী আচরণ: মোদির আচরণে ত্যক্ত বিরক্ত বাংলাদেশের জনতারা। ঢাকা ইউনিভার্সিটির ডাকসু নেতা নূর ও তার সহযাত্রীরা  প্রতিবাদ করছে। মুসলিম নিধনে মোদির বাঘ নখর বহু পুরানো, ক্ষমতা গ্রহণের আগ থেকেই মোদি সোচ্চার থেকেছেন গুজরাটে শতাব্দীর শুরুতে ২,০০০ এরও অধিক মুসলিম হত্যার মাঝে। ঐ সময় মোদির ভিসা আমেরিকাও বাতিল করে। ক্ষমতা আরোহন হাতজোড় করা মোদিকে খুনী মোদি থেকে মানুষ মোদি করলেও মোদি স্বরুপ ঢেকে রাখতে পারেন নাই। বাংলাদেশের মেজরিটি মানুষ চায় না মোদির পা এদেশে পড়–ক। ফ্যাঁসিবাদের আড়ালের কলকাঠি নাড়তে ভারতের সরকার মুখর, স্বাধীনতায় ভারতের অবদান থাকলেও স্বাধীনতা পরবর্তী ভারত বাংলাদেশের জন্য চরম বিড়ম্বনার দাগ রেখে চলেছে। মোদির মতই সরকারের সব সংকীর্ণতা খোলাসা হয়ে পড়ছে। এটি দেশের প্রতিটি সচেতন জনতা জানে ও বুঝে। আবরারকে মারতেও তাদের লম্বাহাতের দাগ, ছোট্ট দেশটিকে বিভক্ত করে রাখার পেছনেও ভারতের বাঘ নখর স্পষ্ট। ভিপি নূর কি ফের আবরারের মতই মরবে? তাকে মেরে ফেলার হুমকি চলছে কারণ সে ভারতের অনাচারের বিরুদ্ধে সরব। দশদিন পর ১১ তারিখের পর বস্তায় ভরে গুম করে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। যারা হুমকি ধমকিতে ছিল তারা অতীতেও হামলা করেছে। ভারতীয় জাতি মুখর হয়েছে মোদির সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে। তাদের প্রতিটি আচরণেই বাংলাদেশের কলিজাতে কামড় পড়ে, ভারত কখনোই অনুতপ্ত নয়। বর্ডারে মানুষ মারা, পানির ন্যায্য হিস্যা না দেয়া, দেশকে মরুকরণ করা, পানিতে মেরে কারবালা করা মোদি কিভাবে বাংলাদেশের বন্ধু হয়! আভ্যন্তরিন দুর্ভোগে ভারত বার বার জড়ায়! বাংলাদেশের ব্যাংক লুটেও কেন ভারত ও তার কর্মকর্তারা? এ হীনমন্যতার জবাব কি? বিতর্কীত মৃত্যু হত্যা গুম খুনে ভারত কেন জড়ায়? অবচেতন অবস্থায় বিএনপির সালাউদ্দিন ভারতে কেন উদ্ধার হয়, সুখরঞ্জন বালীরা কেন ভারতের কারাগারে, এসব সহজ কথা নয়, রাজনীতির জটিলতায় প্রশ্নবিদ্ধ ভারত লেজেগোবরে একাকার! স্বাধীনতায় সাহায্য করা মানে এটি নয় যে এ স্বাধীনচেতা জাতি ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে! বাংলাদেশের মানুষ মোদীর বিরুদ্ধে ঘৃণায় আকাশ বাতাস বিদীর্ণ করছে! মোদির ভারত প্রকাশ্যে বলছে মুসলিম আমাদের প্রথম শত্রু, হিন্দু বা বাকীরা নয়। বাংলাদেশের সরকারকেও এ দেশের মানুষ স্বীকার করে না বলেই ভোট চুরি করে গদিতে যায়। তখন ভারত নির্লজ্জের মত ঐ সরকারকে সহযোগিতা দিয়ে টিকিয়ে রাখার কসরত করে। আশ্চর্য হলেও সত্য মানুষ বুঝে ভারত তাদের বন্ধু নয়, শত্রু। সত্য কথাটি হচ্ছে মুজিবকন্যা ও মোদী উভয়ে উভয়ের কুটিল স্বার্থের বলি।

অবৈধ সরকারের মুজিববর্ষ: সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে ছবিসহ মুজিবপূজার রকমসকম করতে আইন করা হয়েছে। কি সাংঘাতিক কথা! এ পূজা না করলে কমপক্ষে ৭ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত শাস্তি নির্ধারিত। আইনের পেছনে কলকাঠি নড়ছে শক্তির তলানীতে, সততার ভিত্তি বাতিল, শপথের কথা তাদের মনে নেই। গভীর রাতে জনতার ভোট ছাড়াই গদিনশীন আবার সেই মুজিবেরই কন্যা। জোর করে ডান্ডাবাজি করে শ্রদ্ধা অর্জন করা যায় না। শ্রদ্ধা অন্তরের অন্তস্থল থেকে আসতে হবে। গুম, খুন লাল ঘোড়ার দাবড়ানিতে লাঠির গুতাতে শ্রদ্ধারা পালায়। জন্মশতবর্ষ হিসাবে ১৭ মার্চ থেকে এর পরের বছর ২৬ মার্চ পর্যন্ত এক বছর ৯ দিন চলবে এই জোরপূর্বক বন্দনা গীতি। এর মাঝে বগুড়াতে শিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠানে সব ছাত্রছাত্রীর মুজিব মুখোশ নাটক সমাপ্ত হয়েছে। এভাবে চলবে সারা বছর নগরসজ্জা, ভিডিও ডকুমেন্টারী, প্যাকেজ নির্মাণ, নটনৃত্য, ছবি, চাঁদাবাজি, ব্যানার পোস্টার, প্রদর্শনী, আলোকশয্যা। ধর্ম অবমাননাকারীরা বাড়তি সরকারী নিরাপত্তা পায় আবার সরকার বা তার অনাচারের উপর কেউ কিছু বললে বা মন্তব্য করলে বক্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক মামলা হয়। জেলা উপজেলা পর্যায়ে ৫০,০০০/ ২৫,০০০ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এ দেশের মালিক শুধু মুজিব কন্যা রাতের ভোটচোর  সরকার। ব্যাংকের টাকা তুলে ব্যাংক দেউলিয়া করে সাজ সাজ চলছে। আর মরহুম মুজিবের নামে জীবিত জনতারা জিম্মী হয়ে আছে। শেখ মুজিব যেদিন মারা যান সেদিনও মানুষ আকন্ঠ বিপদগ্রস্ত ছিল। মানুষ ভয়ংকর আতংকে সময় পার করেছে। মানুষের কাঁদবার কথা ছিল, কিন্তু কেউ কাঁদে নাই। দলের লোকেরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বলেছে দেশ মুক্ত হলো। এসব মিথ্যে নয়, জমা রাখা ইতিহাস। আপনারা উল্টে দেখুন, সময় ওভাবেই কথা বলেছে, কষ্ট জমা রেখেছে।

পারিবারিক বর্ষপালন: মুজিব বর্ষে দেশের গন্যমান্য ব্যক্তিরা নেই। তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম রব নেই, মুক্তিযোদ্ধা জাফর উল্লাহ নেই, কাদের সিদ্দিকীও নেই শুধু মোদির দরকার পড়েছে বড় বেশী না হলেই নয়, স্বাধীনতার অর্জনে খালেদার অবদান অল্প নয়। তিনি আজ মৃতবৎ বেঁচে আছেন। ইতিহাস অস্বীকার করার অবদানে ধন্য বর্তমান সরকারী প্রচেষ্টা। এর শুরুটা বিগত শতকে রাজনীতির নামে দেশ বিভক্ত করা রাজনীতি দিয়ে শুরু। যখন এটি করা হয় তখন সচেতনরা টের পেয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মন্তব্য স্কুল ফেরত বাচ্চারা ক্রমাগত ভুল ইতিহাস গেলাতে চাইলে মা বাবারা আৎকে উঠতেন! সময়টি বিগত শতকের শেষ দশকের কথা! দেশে আজ গণতন্ত্র নামে ধুয়ে মুছা আইয়ুবীয় প্রহসন বহু বেশী। এমন সব আচরণ করা হচ্ছে যা ঐ সময় আইয়ুব ইয়াহইয়ার পাকিস্তানেও করা হয়নি। ৪৭ থেকেও বহুগুণ বেশী পরাধীন দেশ আজ! মুজিব বর্ষ পালনে একচোখা নীতি ও জিয়ার প্রতি ৪০০ টাকার মেজর নামের ঘৃণ্য প্রচারণা জাতিকে কখনোই সমৃদ্ধ করবে না! মুজিবকে এভাবে উপরে তোলা সম্ভব নয়! এভাবে মানুষ দেবতা না হয়ে উল্টোটি হয়। এসব প্রচারণা মুজিবকে নয়, বরং জিয়াকে অসীম উচ্চতায় তুলে ধরছে।

কিছু প্রশ্ন: গভীর রাতে ভোটের দখলদার সরকার দেশ ধ্বংসের সব পাট চালু রেখেছে। সেজন্য তার শুধু মুসলিম নিধনকারী মোদির দরকার কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মূল নায়কদের দরকার নেই। ঐ যুদ্ধে মুজিব যেমনি ছিলেন না, তার মেয়ে হাসিনাও ছিলেন না। বাম ঘরানার নেতা জুনায়েদ সাকী প্রশ্ন রেখেছেন এটি কি মোদিবর্ষ নাকি মুজিববর্ষ, কোনটি? ভারত অপেক্ষায় ছিল ডনাল্ড ট্রাম্প চলে গেলে তারা মুসলিমদের উপর হামলা করবে। তবে তারা হেরেছে। ট্রাম্প থাকা অবস্থায়ই মানুষ মারা শুরু হয়। মুজিব পূজাতে দেখা যায় পরিবারের নিকট কিছু সদস্যদের, যারা অনেকেই বিভিন্নভাবে বিতর্কীত অবস্থানে চিহ্নিত! সরকার প্রচার করতে চায় জাতির পিতা শেখ মুজিব। কিন্তু মুসলিমরা সেটিও মানতে নারাজ। নবী ইব্রাহিম (আঃ) হচ্ছেন মুসলিমদের ধর্মপিতা। উন্নয়ন জপা আইয়ুব শাসক কি করে হাসিনার পথপ্রদর্শক, এটি জাতির বড় প্রশ্ন। বগুড়ার স্কুলে মুজিব মুখোশ ছিল দিপুমনিদের উচ্ছ্বাসের প্রকাশ। ৫৬ টাকা দামের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের টিস্যুবক্সেও মুজিবের ছবি। ছোট ক্লাস থেকে বাচ্চাদের তপজপ করানো হচ্ছে। কোন কোন স্কুলে ক্লাসে শত শত ছাত্রছাত্রীকে সাত মার্চের ভাষণ মুখস্ত করানো হচ্ছে। শেখ হাসিনা রেহানা জয় পুতুলরা তাদের নাতি পুতিরা কি ওটি মুখস্ত করেছেন?  আর একটি কথা, ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আ্যলীকে চেয়ার ছুড়ে মারার গল্প কেন শেখ মুজিবের অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে ঠাঁই পেল না? অনেক তথ্য প্রমান করে ঐ গ্রন্থ তার রচিত গ্রন্থ নয়। দুর্মূখেরা বলে ওটিও বর্তমান সরকারের গোজামিল! ইতিহাস খুঁড়ে সময় সব মিথ্যা পরিষ্কার করবে, যদি মানুষের বিবেক কার্যকর থাকে!  গলাবাজি মিথ্যাচার করে কখনোই ইতিহাস ভুগোল রাজনীতি হয় না। মুজিবের বড় অবদান বাকশাল করা আর এক বড় অবদান হাসিনার মত এক হযরত আউলিয়ার বাপ হওয়া! শেখ হাসিনা সারা জাতির সাথে প্রতারণা করে মিথ্যাচার করে গদি দখল করে এসব সাজিয়েছেন! ঘোলা পানিতে মাছ শিকার কতটুকু অর্থবহ হবে, আল্লাহই জানে ভালো। যারা মুক্তিযুদ্ধকে আব্বাযুদ্ধ বাবাযুদ্ধ ডেডীযুদ্ধ করতে চায়; নিঃসন্দেহে তারা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

বাংলাদেশ জন্মের জড়িতরা অবহেলিত: হাজার কামান বিমান ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে পতাকা তোলা সহজ ছিল না, বিদগ্ধ কথাটি ঐ পতাকাবাহীর। সেদিন কারফ্যু হরতালের মাঝে আ স ম রব মানচিত্র আঁকা পতাকা প্রথম তুলেন। সিরাজুল আলম খান, অসুস্থ শাহজাহান সিরাজ এরা কপট কষ্টে অতীত বলতে চান না এড়িয়ে যান কারণ সব লুন্ঠিত আজ, মুজিব পরিবারের পারিবারিক অনুষ্ঠান। আত্মত্যাগী জাতি খসে গেছে মুক্তিযুদ্ধ থেকে, তাদের গলে পরানো হয়েছে পরাধীনতার ডিজিটাল শিকল! আ স ম রবের হিসাবে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ই জানুয়ারী পর্যন্ত দেশটি স্বাধীন ছিল, এ নির্মল সত্য কথাটি জাতি জানুক বুঝুক শিখুক হজম করুক। মুজিব তার ছেলেদের বিয়েতে বিধ্বস্ত দেশের বুকে দাঁড়িয়ে সোনা মনিমুক্তা খচিত মুকুট পরিয়ে বিয়ের আয়োজন করেন, যেদিন ময়দানে সোরগোল ছিল বকুল ফুলের মালা দিয়ে যৌতুকবিহীন বিয়ে। জনতার নেতা শেখ মুজিব অতি অল্প দিনেই পাকিস্তান ফেরত প্রিয়নেতা সকল চিন্তাকে ছাড়িয়ে রাজাতে পরিণত হন। আজকের জন্মদিনে কেউ বলছেন ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ। ৪৫ বছর পর সেই রাজাকে দ্বিতীয় পূনর্জন্ম দিয়ে একই কায়দায় ৪০০ কোটির মুকুট পরানো কতটুকু বিবেচনার দাবী রাখে! মানুষের মন থেকে জাতির সম্মানিতদের দাগ মুছে আত্মপ্রচারের রাজনীতি মানুষের হৃদয়ে কতটুকু জায়গা করতে সক্ষম? এমন হলে যুগে যুগে রাজা বাদশাহ জমিদাররা নিজেদের ইতিহাস নিজেরাই গড়ে নিজের শক্তি দিয়ে জাতিকে কিনে গোলাম করে রাখতেন! চিন্তাকে প্রসারিত করলে এ জাতি তাদের বর্তমান বিড়ম্বনার সব জবাব অবশ্যই খুঁজে পাবে বলে আশা রাখি।

লেখার সময়: ০৮ মার্চ ২০২০ সাল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: জানতে পারলাম বাংলাদেশীরা মোদিকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।  মুজিববর্ষ না মোদিবর্ষ?। লেখাটি ১৩ মার্চ ২০২০ সালের সাপ্তাহিক দি রানার নিউজ এর কলামে নিউইয়র্ক থেকে ছাপা হয়

 

 

 

 

নাজমা মোস্তফা

আমি কে তোরা জানিস! হ্যাঁ জাতি জেনেছে। মক্ষিরানী পাপিয়া কে? কত তার ডাটবাট। রং রুপ টাকা মদ উলকি বিলাসিতা সুখ স্বর্গকে কাছ থেকে দেখা পাপীয়া, সাথে ১১ মন্ত্রী ৩৩ এমপিরা দলবাধা। নেতা নেত্রীরা নানান সুযোগ ভোগ করেছেন, টাকা লুটপাটেও রাখঢাকে সরকার অতিরিক্ত সচেতন। জাতি জানে এসব ঢেকে রাখাই সরকারের বেশী পছন্দ। এসব বাইরের লোক জানা লজ্জার , সঙ্গত কারণে এসব লুকিয়ে রাখা গদির জন্য বাঞ্ছনীয়। বিরোধীর দিকে খালেদার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করতে বাধা নেই। গদি রক্ষার্তে এসব জায়েজ। যেন মিথ্যে বলাটাই মদীনার সনদ, ধর্মপালন। টকশো মুখরা সব অপরাধের পক্ষ সাপোর্ট করা অপু উকিল পাপিয়ার অপরাধের আড়ালেও নিয়োগ বানিজ্যে জড়িত। এখানেও পাপিয়াকে কীট পতঙ্গ বলার পর দেখা যাচ্ছে অপু নিজেই কীট পতঙ্গের একজন। বলছেন এটি সমাজের কীট, আওয়ামীলীগের নয়। অপু উকিলরা এবং এরকম আরো বেশ কথক আছেন সারাক্ষন মিথ্যাচার করে প্রতিবাদ মুখর। এদের সবাই চেনেন, নাম না বললেও সারা দেশের মানুষ এদেরে জানেন চেনেন। সরকার বেকায়দায় পড়লে থলের বিড়াল একটি একটি করে ছাড়ে। আর বাহাদুরি করতে থাকে আমরাই ধরেছি। অনলাইনে অনৈতিক নারী ব্যবসায় প্রথম বাংলাদেশে পাপিয়া। ব্যংক লুটের খবর আগে যায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে তিনি চেপে যেতে বলেন। একভাবেই প্রভাবশালীদের লিস্ট গেছে তার কাছে তিনি নিশ্চয় এখনো চেপে রাখতে বলছেন, সেটি জাতি দেখছে। ভোক্তভোগীরা জানে, এভাবে নিকটজনদের কথা চেপে রাখা হয়। এভাবে সরকার মধু কই কই মানুষকে বিষ খাওয়াচ্ছে।

মফিজুর রহমান সুমন আর চমকলাগা মেকআপে সাজা পাপিয়ার অপকর্ম জানা ওয়েষ্টিনের তথ্য দিতে আপত্তি। নিশ্চিত ওয়েষ্টিনের হোটেল কর্তৃপক্ষ চাপের মুখে, ঠিক পুলিশ যেমন বলে চাপের মুখে! প্রভাবশালীর আনাগোনা সব জানা, ব্যাংক লুট যেভাবে প্রকাশ করা যায় না এসব কেমনে প্রকাশ করবে সব খানে সরকারের কালোদাগ লেগে আছে। মুখবাজ ওপু উকিলের নাম বারে বারে আসছে। টকশোতে তার মিথ্যাচারী মুখের তোড়ে বাকীরা কথা বলতে পারতেন না। তাই বিধাতা নিজ দায়িত্বে এসব কীটদের কীটত্ব স্পষ্ট করছে। কি ঢলাঢলির ছবি রে বাবা? তারপরও মুখে মাছি বসার উপায় নেই। আরেকজন নাজমা আক্তার উনিও কম যান না। নিজের ঢোল নিজে পিটা সত্যবাদী সদাচারী নরকের দানবদের জাতি চিনে নিন! এদের কারণেই শ্লোক সাজানো হয়েছে ‘চোরের মায়ের বড় গলা!’ আশ্চর্য্য হতে হয় যখন শুনতে হয় টকশোতে অপু উকিলরা বড় গলাতে হুমকি ধমকি দেয়, আর বলে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোটের মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায়। জাতি হাসবে না কাঁদবে সেটি বলার মত নয়। এত মিথ্যা এত প্রতারণা এত ছলনা জগত কেমন করে সহ্য করে! অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মাদক, চাঁদাবাজি, প্রতারণা  গাড়ীর ব্যবসা, এই টোকাই মানের পাপিয়া, ব্যবসায় বাজিমাত। জানা যাচ্ছে পাপিয়ার বাবা একজন গাড়ী চালক, আর মন্ত্রী এমপিরা পাপিয়ার গাড়ী চালাতে ব্যস্ত। হোটেল ওয়েস্টার্ণে যেখানে আরেক ধরা খাওয়া ছলবাজ রেশমাদের চাকরি হয়, সেখানে তার জন্য রুম বরাদ্দ থাকে। সমাজসেবার নামে এসব অসামাজিক কাজ করা। ঠিক যেরকম ধর্মের নাম নিয়ে মানুষকে প্রতারণা করা! কিছু রংঢ়ং ছাড়া প্রতারণা করা সম্ভব হয় না। তাই তাহাজ্জুদ, নামাজ, মদিনার সনদ। পাপিয়ার পাপের রাজ্যে ফুলের মত চরিত্রবানরা ছুটাছুটি করতেন। এরা কেউ হয়তো বলেই বসবেন হযরত পাপিয়া। নাসিম কড়া কথা শুনিয়েছেন, কিছু আগে এই নাসিমের হাসপাতাল বানিজ্যের অপকর্মে ইউটিউব মুখর ছিল, ডাক্তাররা কেঁদে বুক ভাসিয়েছেন। সবই শক্তির তলানীতে কদর্য কসরত। মদ আর উঠতি তরুনী রাখা ধর্মধারীদের নিয়ে তালিয়া বাজানো আর কত ধর্মের অবমাননা চলবে?

মানুষ যখন লজ্জাহীন হয়, তখন সে পশুরও অধম হয়। পাপিয়ারা শূণ্য থেকে উঠে আসা, আত্মমর্যাদা জ্ঞানের সুযোগ তাদের কম। বরং মাঝখানে সেলিব্রেটি জীবন যাপন, তার অগাধ ফাও পাওনা। পাপিয়া কি শুধু একাই চোর, সরকারওতো একই তালে কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়ে ব্যংককে দেউলিয়া করে দিয়েছে। সরকারের সব চেহারা একহারা এক ধাতে গড়া। পাপিয়ার সব লজ্জারা ওপেন। গরীব ঘরের মেয়েরা ছিল তার খদ্দের। কাদেরের ঘড়িও ময়দানে কথা বলেছে, তখনো সাধুতার পরিশ্রম তিনি করছেন। পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কলঙ্ক দৃশ্যমান ছিল না, যে খেল তারা দেখাচ্ছেন, অভিনব ক্যারিশমা! সাথে সরকারী প্রয়াস চলছে সবার মুখরতা, সাধুতার নিরলস পরিশ্রম, উপদেশ বিলি বন্টন, কিভাবে পানির কল ব্যবহার করবেন, লেখাপড়া করবেন করাবেন। সেলিম প্রধান, ক্যাসিনো বানিজ্য, থাইল্যান্ডে বার, অস্ত্র ব্যবসা মাদক, ইয়াবা, তদবির বানিজ্য চাঁদাবাজি, চাকরী বানিজ্য এক কথায় সব ধরণের অপকর্ম এদের কাজ। নীতিহীন শাসকদলের মনোরঞ্জনের জন্য এদের দরকার পড়েছে যুগে যুগে।

পাপিয়া মধুকরী দলেবলে প্রভাবশালী ঘেরা, উপরে উঠার সিড়ি মন্ত্রী এমপিরা। গিভ এন্ড টেক নীতিতে উভয়ে লুটপাটীয় উপকার জমা করেছেন। সরকার পাপিয়াদের দিয়েই দলেভারী। তাই দক্ষতার সাথে গভীর রাতে ভোট সারতে পারে। পাপিয়া ও সরকারের ভাষা একই। আমি কে তোরা জানিস! বাপের বেটি! এরকম বেটিরা প্রতিটি বাপের জন্য মরণ যাতনা। এ বেটিরা বড় সময় সমরাটদের বাঁচান, শুধু খালেদাদের মারেন। পাপিয়ার এক হাতে উষ্কি আঁকা কাবা মসজিদ অন্য হাতে শিবলিঙ্গের ছবি, কালির পূজা করেন, ঈমানের ভয়ংকর দুর্দশা। এটি কি ধর্ম না ব্যবসা! তৃণমূল পর্যায়ের এ নেত্রী দিশেহারা অগাধ সম্পদের নেশাতে পাগলপারা। রাজনীতির অগাধ সুযোগ আর নেতাদের বাসনা পুরণের খায়েশ থেকে লোভী পাপিয়ার উত্থান। তবে সরকার এদের রেখে ঢেকে রাখে। সরকার ধরি মাঝ না ছুঁই পানির সব রকম সকম জানে, এটি পরীক্ষিত সত্য। বিরোধী নির্দোষের জন্য ধড়পাকড়ে দক্ষ সরকার। পাপিয়ার বুকের পাটা দৃঢ়, কারণ তাদের খুঁজে পেতে সরকার দুধ কলা দিয়ে পুষে। তবে না জানার ভান করে সময় পার করে, উভয়ের কুটিল বাসনা পুরা হয়। অনাচারী সরকার পাপিয়ার পাপের সহযোগী। আমি কে আমাকে জানিস! পাপিয়া জানে সরকার তার সুহৃদ। বাংলাদেশব্যাংক সহ সব ব্যংক লুট হয়, প্রধানমন্ত্রী ঢেকে রাখেন। বিচারকে স্তব্ধ করে ক্ষমতাধর, মহা শক্তিশালী, যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন। সিনহাবাবুও সময়ে বগলে থাকে, কাজ শেষে কীটতূল্য সিনহা বাবুরা ডাস্টবিনের টিস্যু পেপার।

সারা জাতির জনতা খোয়াড়ে শ^াসরুদ্ধকর অবস্থানে, যেন তাড়া খাওয়া পশুকে ভয়ংকর হায়েনা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। পাপিয়াও এরকম এক খোয়াড়ের পশু। তার উপর হয়তো নির্দেশ ছিল, লুটেপুটে খাওয়ার পারমিশন ছিল, দলবাজদের সুযোগ সুবিধা তৈরী করার আদেশ ছিল। শাসকবর্গের খায়েশ পুরণ করতেই ফের খোয়াড়ের আসামী! নির্দোষ খালেদার বেরিকেড, আদালত কন্ট্রোল, জামিন বাতিল, ওয়েস্টিন হোটেলের মালিকের মুখে তালা, সবই সরকারী কারসাজি ছাড়া কিছু নয়। অপু উকিল নাজমা আক্তাররা টকশোর টকবাজ। আল্লাহ যে একজন আছে এ তার প্রমাণ; এসব ওপেন করছে অদেখা আল্লাহ যাকে চোখে দেখা যায় না। ২০০০ সাল থেকে পাপিয়ার স্বামী সুমনের উত্থান। এমন ডাকাত দলে পেয়ে সরকার মন্ত্রী এমপিরা মহাখুশী, বাক বাকুম সুরে ময়দানে সরব। হাসি হাসি করমর্দনরত পাপিয়া মন্ত্রী এমপিরা এককাতারে চলে দহরম মহরম। তারপরও আধা রাখি আধা ঢাকি বেশ সরকারের! যুবনেতা সুমন ২০০১ সালের চিহ্নিত খুনী, অতঃপর পদধারী। পাপিয়াদের পাপের লিস্ট মাফ পায় যুগ যুগ অবদি! প্রতিপক্ষ বিরোধীর জন্য বরাদ্দ সব যাতনা, মরলেও মামলা হাতকড়া লিস্ট করা বার বার। বিশ বছর ধরে লুটেরা সুমন, ফটোসেশন, ভিডিওফ্যাশন, ওদের  গুন্ডামীতে দেশ বাজিমাত। সরকার নীরব যেন বর্ডারের বিএসএফের গুলি পরবর্তী নিরবতা, খুবলে খাচ্ছে জনতার হাড়গোড় সব, দুই দশকেও এদের নাড়ে না। ভনিতা যত, প্রধানমন্ত্রীর বয়ান আমি ধরলাম; কারণ কি? ধরতে দুই দশক! সরকারের ডাকাত পছন্দ, তাই দলে ভিড়ায়, পদ বিলায়। কারণ রাতের ভোট সামলাতে এদের বিশাল কর্মী গোন্ডাবাহিনী ও বিশাল শোডাউনের খুউব দরকার । রাজা রানীর আদলে এরা মিছিল করে, জনতার কলিজা খুবলে খায়। সরকার পক্ষ বলে দুষ্টের অপকর্ম আমরা গ্রহণ করবো না। অপকর্ম করছে জানলেও এদের ধরা হয় না। থানা এদের বিরুদ্ধে কোন কেইস নেয় না।

সরকারই নির্দেশ জারি করেছে, বোবা মিডিয়া এবার সমানেই বহিষ্কৃত বহিষ্কৃত বলে চেচাচ্ছে। বহিষ্কৃত বললেই সব পাপ শেষ। জাতি তোমাদের জানছে, চিনছে বার বার, এত সহজে কি অপকর্ম থেকে বাঁচা যায়? তাহলে সব জাহান্নামীরাই হতো সব চেয়ে বড় সুবিধাবাদী ইহ ও পরকালে। প্রতিদিন আড়াই লাখ টাকার বিল শোধ, তিন কোটি টাকা তিন মাসের মদের বিল। ছবিতে মন্ত্রী তোফায়েল, কাদের, দীপু মনি, নেতানেত্রী সম আরো বসন্তের কোকিলরা যেন নিজেকে এমন এক চরিত্রবতীর সাথে ঢলাঢলি করতে পেরে ধন্য মনে করছেন, আর করবারই তো কথা! টাকা অস্ত্র চাকুরী পতিতা সবই লোভনীয় চরিত্রহীনদের জন্য। সবাই এক বাক্যে বলছে এক পাপিয়া নয়, দলে দলে পাপিয়ারা দেশ দখল করে আছে! সরকার সারাক্ষণ দেখে খালেদার দুই কোটি। পাপিয়ার ক্যাডার বাহিনী, ৩০,০০০ টাকার বদলে মেয়েদের উপর নির্যাতন ও পতিতা বানানোর কাজ। উপরতলার কর্তাদের মানুষ না চাইতেই উপহার সামগ্রীতে দামী দামী ঘড়ী স্যুট ঠেসে ধরে। পাপিয়া না চাইতেই ডজন রুশ নারী রেডী করে রাখে কর্তাবাবুদের জন্য। না চাইতে পাচ্ছে, না গিলে উপায় কি! যে বড় বড় নেতার নাম উঠছে, নড়ছে, দেখাও যাচ্ছে, ভাসুরদের লুকিয়ে রাখার কসরত চলছে। সরকার জাতি ধ্বংসের এজেন্ডা নিয়েছে! ধর্ম ও রাজনীতির সব মাত্রা ধ্বংস করাই কাজ। জাতির কাছে অদেখা বিধাতা বার বার স্পষ্ট করছে! বিধাতার আরশ থেকে টান পড়েছে বলেই পাপিয়া আজ খাঁচায়। 

তবে বিচার কতদূর সে আল্লাহ মালুম! চিত্র নায়ক সালমান শাহের তদন্তে ঘুষ চেয়েছে বাংলাদেশের পুলিশ। এটি হচ্ছে প্রশাসনের ছাতার তলে আসল পুলিশ চরিত্র। এদের এ চারিত্রিক বৈশিষ্টের দায় উপরের নির্দেশ কিন্তু বিধাতার না, এ চিত্র বিধ্বস্ত মানবতার! জাতি পাপিয়ার সাথে পাপিয়ার প্রতিপালককেও চিনেছে, জেনেছে। ভালো করেই চিনেছে। মক্ষীরানীদের ভিড়ে থাকা প্রজাপতি দেবতা সেতুমন্ত্রী কাদেরের জন্য বিদেশে চিকিৎসা বাধ্যতামূলত হলেও তিন বারের প্রধানমন্ত্রীর জন্য দখলী দেশে আলাদা নিয়ম। যে অভিনয় খেলা সরকার দন্ডহাতে খেলছে, এর পরিণতি পাপিয়ার থেকে ভালো কিছু নয়! বরং বহুগুণ বেশী বেশী অপরাধ, পাপিয়া কপট নেকড়ের হাতে ধরা খাওয়া রক্তাক্ত শিকার। প্রতি বছর ২৫ ফ্রেব্রুয়ারীতে পিলখানাতে যারা শ্রদ্ধা জানায় ঢাক ঢোল পিটিয়ে নাটকীয় ফুলের তোড়া দেয়, বিধাতা তাদের চেনেন, যারা এদের খুন করেছে; কেমন যেন হাস্যকর সবকিছু!! ১১ বছরেও স্বজনরা হতাশ! যে আকাশ ভেঙ্গে মাথার উপর পড়েছে, তার কোন সুরাহা নেই! বরং সেদিন থেকে দেশ ক্রমাগত মৃত্যুকূপের দিকে ধাবিত, ওটি ছিল ধারাবাহিক মরণের শুরু, মানুষ মরছে! বিচারের রায় নিভৃতে কাঁদছে, স্বজনরা অন্ধকারে! জাতির কাছে ওপেন সিক্রেট, সরকার লুকালেও প্রকৃত সত্য লুকানো নেই। ভুল ও জোড়াতালি মার্কা বাংলা বানানে একুশে পদক বিতরণ চলছে। ২০২০ সালের পিলখানার আগের দিন ২৪ ফ্রেব্রুয়ারী কীর্তিমান সরকারী দলের দুই ভাই এনু ও রুপমের বাসায় টাকার খণি আবিষ্কার, প্রতিটি নোট ১,০০০ টাকার। ৫ সিন্দুকে কয় ঘন্টা দুই মেশিনে চলে গণনা ২৭ কোটি ও বিভিন্ন দেশী বিদেশী টাকা ডলার সব। দেশ উন্নয়নের মহাসড়ক, আওয়ামীদের ঘরে ঘরে গড়ে উঠছে টাকার খনি। বেগ ভর্তি স্বর্ণালংকার, ৫ কোটি টাকার বন্ড, সাথে আরো এটা ওটা। মাত্র সেদিন সম্রাটদের ক্যাসিনো কান্ডে ময়দান গরম হয়ে মাঝে বন্ধ ছিল, সুনসান নিরবতা! সরকারপন্থী পত্রিকা বাংলাদেশ প্রতিদিন বলছে দৈবাৎ পাপিয়া ছিল এক দুর্ঘটনা, ফের সুনসান নিরবতা!  বড় কথা সব লুটেরাই সরকারী সহযোগী লম্বাহাত উন্নয়নের হিমালয় তারা। এসব তাদের উন্নয়নের প্রামাণ্য দলিল। যখন ধরা পড়ে তখনই বলা হয় এরা বহিষ্কৃত নয়তো এর আগ পর্যন্ত চলে এদের সাথে গলাগলি ঢলাঢলি ফটোসেশন ভিডিওফ্যাশন। ধৈর্য্য ধরা জাতি আর কত নির্বাক থাকবে, কত মৃত্যুর প্রহর কাটাবে? দৃষ্টি কাতর, কলম জড়িয়ে যাচ্ছে বিবেক যেন পথ খুঁজে পাচ্ছে না। কি করবে?

লেখার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ সাল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ কলামে ০৬ মার্চ ২০২০ সংখ্যায় ছাপা হয়।

নাজমা মোস্তফা

বর্তমান সময়টিতে ২০২০ সালেও যে ভাবে ধর্মের বাড়াবাড়ি খুব বেশী চোখে পড়ছে। এর প্রধান কারণ ইউটিউবের বরাতে মানুষরা অনেক বেশী প্রচার করতে পারছে আর চৌদ্দশত বছর ধরে যেসব মিথ্যাচার করে মানুষ টিকে থাকতে পেরেছে বর্তমান সময়ে সেভাবে মানুষকে আর বশ করা যাচ্ছে না। মানুষের চোখ খোলে যাচ্ছে, মানুষ তার বিবেক দিয়ে তাড়িত হচ্ছে, বিবেক সম্পন্ন মানুষ সত্য মিথ্যে বুঝতে পারছে। যা কিছু আগেও মানুষ ধরতে পারতো না, আজ সেটি অনেক সহজে ধরা পড়ছে। কুরআন একটি ঐশী গ্রন্থ , এ গ্রন্থের বেশী বেশী অনুসরণ প্রচার পালন হলে, মানুষ প্রকৃত সত্যকে ময়দানে দেখতে পারতো, সকল মিথ্যাকে এড়িয়ে প্রকৃত সত্যকে গ্রহণ করতে পারতো। বাংলাদেশের মানুষ সত্যসন্ধানী এর প্রমাণ রেখেছে ২০২০ সালের তরুণরা। যখন তারা ডাঃ মিজানুর রহমানের ওয়াজের মাহফিলে কিছু সত্যের সন্ধান পেয়ে ঝাপিয়ে পড়ে, সরকারের মাথা থেকে পা অবদি গরম হয়ে যায় ভয়ে। তাই ঘাবড়ে যেয়ে খুব কৌশলে তাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয় বলে সবাই একবাক্যে বলাবলি করছে। এসব ওয়ায়েজরা সত্যের উপর দাঁড়িয়ে কাজ করছে দেখে অসৎ গভীর রাতের অবৈধ সরকারে কাঁপুনী জাগে। মিথ্যারা সব সময়ই সত্যকে ভয় পায়। ধর্মের ইতিহাস বলে নবী ইব্রহিমকে নমরুদ, মুসাকে ফেরাউন, ঈসাকে রোমান শাসকরা ও নবী মোহাম্মদকে আরবের কুরাইশরা প্রচন্ডভাবে ভয় পেয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের প্রতিপক্ষ তাদের মারতে গেছে। কিন্তু আল্লাহর প্রহরা এতই স্পষ্ট ছিল যে এরা প্রত্যেকেই প্রচন্ড শক্তিশালী থাকার পরও তাদের টিকিটিও নাড়তে পারে নাই। বরং তারা নিজেরাই ধ্বংস হয়ে অতীত ইতিহাসের সাথে মিশে গেছে। 

প্রথম শব্দ যা কুরআনে নাজেল হয়েছে সেটি হচ্ছে ‘পড়’ চোখ খুলে দেবার জন্য পড়াটাই প্রথম ও প্রধান শর্ত। অবশ্যই এ পড়া অর্থে জ্ঞানার্জন করাকেই উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আরবী ভাষাতে নাজেল হওয়া কুরআন চৌদ্দশত বছরেরও আগে আসা এ নির্দেশনামা। সকল অন্ধকার পার করে ঐ আলোর মশাল হাতে এরা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণেই অতি অল্প দিনের মাঝে ঐ আলোর ঝলকানিতে দুনিয়ার বড় অংশে এরা ছড়িয়ে পড়ে। সারা দুনিয়ার আলোর নাচন শুরু হয়ে যায়। কালে ঐ সূত্রে ইউরোপেও রেঁনেসার সূত্রপাত হয়। ওদিকে ইবলিসের চলমান অর্জনে ইত্যবসরে মূল ইসলামে অনেক অনাচার প্রবেশ করতে থাকে, সত্যের সাথে মিথ্যার সংযোজন হয়, কুরআনকে দূরে ঠেলে দিয়ে যখন মিথ্যার পাহাড় গড়ে নেয়া হয়, তখনই ঐ সত্যের ঝলকানীতে কালিমা জমতে থাকে। শুরু থেকেই সত্য ধর্মের সাথে বিরুদ্ধবাদী নষ্টরা লেগে ছিল, সত্যকে ধ্বংস করতে বদ্ধ পরিকর হয়ে খুব কৌশলে ধর্মের আলখেল্লার ভিতরে ঢুকে পড়ে নষ্টরা। এ প্রচেষ্টা নবীর সময় থেকেই প্রথম নয়, সৃষ্টির শুরুতে আদমের সময় থেকেই এ বিরুদ্ধ শক্তি প্রকট আকারে দুনিয়ার ময়দানে চষে বেড়াচ্ছে। ঐ বিরুদ্ধ শক্তির নাম ইবলিস। ঐ ইবলিসই মুসাকে তাড়িয়ে নিয়ে চলে নীলনদের উপকন্ঠে, ঈসাকে শুলে চড়ায়, ইব্রাহিমকে আগুণে ফেলে, শেষ নবীকে মক্কা থেকে তাড়িয়ে মদীনায় নিয়ে যায়, একের পর এক যুদ্ধ লাগিয়ে তাদের ধ্বংস করার সবকটি পায়তারা চালায়। মোট কথা ইবলিসের অবসর নেই, এ শক্তিশালী মাধ্যম চলমান, বহমান, সচল সবদিন। এদের হাতে সারা বিশে^ মুসলিমরা মার খাচ্ছে। সৃষ্টির শুরুতে আল্লাহ মানুষকে এ অবস্থার কথা অবগত করিয়েছেন, এটি ভুলে গেলে চলবে না।  

গবেষনার দৃষ্টিতে প্রতিপক্ষ ইবলিসকে স্পষ্ট করে চিনতে হবে একজন সচেতন বিবেকধারী মানুষকে। যার বিবেক সজাগ ভূমিকায় থাকবে, তার কাছে এরা ধরা পড়বেই। কুরআন কোন অসম্পূর্ণ গ্রন্থ নয়। যদি কেউ একে অসম্পূর্ণ মনে করেন তবে বুঝতে হবে তিনি ভুলের মাঝে আছেন, প্রকৃত সত্য থেকে দূরে অবস্থান করছেন। কুরআন নিজেই প্রচার করে এটি একটি পরিপূর্ণ গ্রন্থ। নবী ছিলেন ঐ সময়কার মুসলিমদের জন্য উদাহরণীয় কিন্তু কুরআন ব্যতীত ধর্মে কোন সংযোজন বিয়োজনের ক্ষমতা নবীর ছিল না, নবী ভুলেও কুরআন বিরোধী কোন কাজ করেন নাই। নবী এসেছিলেন ঐ অন্ধকার সমাজের সব বাতিলকে নষ্টকে দূর করতে। কিন্তু আজো দেখা যায় সমাজে কিভাবে ধর্মের নামে অন্ধকার জেকে বসে আছে মানুষের মন ও মগজে। যত অন্ধকার গ্রামে যাবেন কুসংস্কার তত বেশী করে উপলব্ধি করতে পারবেন, এসব কুসংস্কার ধর্মের নামেই সাজানো হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় আদম আর ইবলিসের ঘটনাটি স্পষ্ট করে কিভাবে ইবলিস মানব সম্প্রদায়কে পথহারা করেছে, করছে এবং সম্ভবত আরো করবে। একমাত্র লেখাপড়া করে অর্জন করা সুশিক্ষা মানুষকে আলোর পথ দেখাবে। সেটিও কুরআনেই বর্নিত হয়েছে। শুরু থেকেই মুসলিমরা আল্লাহতে আত্মসমর্পণ করে ঐ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছে বলেই অতি অল্প দিনের মাঝে তারা আকাশচুম্বী উচ্চতায় উঠতে পেরেছে।

যখনই কুরআন থেকে মানুষ দূরে সরতে থাকে, তখন থেকেই মুসলিম মানসে অন্ধকার জেকে বসে। উদাহরণ হিসাবে বলতে পারি, ইসলাম কবরের বাসিন্দা মেয়েদের কবর থেকে তুলে এনে ময়দানে হাজির করে মানুষের মর্যাদা দেয়। এতে ইবলিস অরফে দুষ্ট চক্র হাঁসফাঁস করতে থাকে। অতি অল্প দিনের মাঝে ইবলিস ফাঁক খুঁজতে থাকে কিভাবে ধর্মের অলিন্দে ভেজাল ঢোকানো যায়। এবং অতি অল্প দিনের মাঝেই ইবলিস সেটি করতে সক্ষম হয়। খুব কৌশলে নারীদের ফের কবরে পাঠাতে না পারলেও পুনরায় গৃহবন্দী করতে পেরেছে। কুরআন থেকে দূরে ঠেলে রেখে অসংখ্য মানবিক সংযোজন চলে জোরেসোরে। মানবিক সংযোজন তখনই ভয়ের যখন এটি কুরআনকে অবহেলা করে পাশ কাটিয়ে নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা দেয়। শতাব্দী পরে মানুষ প্রকৃত সত্যকে গুলিয়ে ফেললে ঐ মানবিক সংযোজনের উপর বেশী দখল ও প্রচার চলে। কিতাবের নামে নকলের পাহাড় জমে ইবলিসের পরিসর বাড়ে, আর ক্রমে মূল সিলেবাস কুরআনের পরিসর দিনে দিনে ময়দান থেকে দূরে সরতে থাকে। আল্লাহর জায়গার দখলদার হয় দু নাম্বারী পূজকরা। 

শিরক এমন এক পাপের নাম, যা করতে মুসলিমদের ১০০% নিষেধ করা হয়েছে। এটি মূর্তিপূজার সমতূল্য। কিন্তু অসংখ্য জনতা নামে মুসলিম, ঐ কঠিন পাপ শিরক করেও মনে করে তারা মুসলিম। প্রকারান্তরে এরাই মূর্তির পূজা না করেও মোশরেক নামে পরিচিত। মানুষ যখনই গবেষনা থেকে দূরে সরে গেছে, অন্ধকারে ডুবে গেছে, নারীদের শৃংখলিতকরণ পুনরায় আংশিক হলেও জায়গা করে নেয়। এর বড় প্রমান সৌদির মেয়েরা এই সেদিনও গাড়ী ড্রাইভের অনুমতি পায়নি কারণ তারা মূল ইসলামে নেই বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। নবীর প্রচারিত ইসলাম প্রতিষ্ঠিত থাকলে এতদিনে ইসলাম আকাশচুম্বী অবস্থানে পৌছে যেত। আজো দেখা যায় সৌদি আরব এমন এক দেশ যেদেশে নবী জন্ম নিয়েছেন। তবে ওটি সৌদি আরব ছিল না। সৌদ নামধারী দখলদার এক গোষ্ঠী কঠিন শর্তে শত অনাচারে মোড়া এক অভিনব পারিবারিক ধর্ম ব্যবস্থা অনুসরণ করছে বর্তমান সময়ে। এক একজন ১০০টা বিয়ে করছে শত শত সন্তান জন্ম দিচ্ছে, রাজতন্ত্র চালু করেছে, এসব নবীর অনুসৃত ধর্ম নয়। এসব তাদের মনগড়া অপকর্ম ঘেরা শক্তিমত্তার প্রমান সব। আজ সে দেশে মানুষ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে না। সত্যবাদী সাংবাদিককে কেটে টুকরো টুকরো করা হয় শক্তির তলানীতে। যেখানে ১০০% ইসলাম নেই। সৌদের শাসন শোষন বহাল কিন্তু মূল ইসলাম ১০০% আছে কখনোই বলা যাবে না। ইসলাম কখনোই অসংখ্য বিয়ের অনুমতি দেয়নি, ধর্মের নামে অনেক অনাচার সৌদিরা করছে তা কখনোই ইসলাম নয়। বিবেক সম্পন্ন মুসলিমদের সত্য সন্ধানী হতে হবে আর সেই কুরআনীয় সত্যের উপর অনড় থেকে কাজ করতে হবে, সেটিই প্রতিটি মুসলিমের উপর ধর্মের নির্দেশণা। আল্লাহ আমাদের সেই সহজ সরল সত্যে চলার তওফিক দান করুন।

রচনাকাল ২১ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০ সাল।

 

 

 নাজমা মোস্তফা

 

সময়টি শতাব্দীর শুরুর দশক পার করা। আজ থেকে আট বছর আগে লেখা কলামটি। পান্ডুলিপি হয়ে আমার খাতার নোটবুকে পড়েছিল। দশকের শুরুতেই ছিল পাগলা ঘন্টার তুমুল হল্লা। আজ জানুয়ারী মাস, তারিখটি ১৮, সালটা ২০১২এর শুরুর মাস। চলছেই একটির পর একটি। কত আর বলা যায় শিরোনাম সংবাদ প্রানকাড়া সব মৃত্যু ঘন্টার করুণ রাগিনী চারদিকে আকাশে বাতাসে প্রচন্ড বেগে বইছে। পৃথিবী নামের বলয় ভেদ করে যেন উগলে উঠছে মাটি ভেদ করে ফুসে উঠা ভিসুবিয়াসের জ্বালামুখ থেকে ভয়ানক সব লাভা জ্বলজ্বল করা। জমা হচ্ছে ই-মেইলরা হাজার হাজার,  তারপরও ডিলিট করা হয় না। সময় বড় অল্প, জমা রাখি পড়বো। পড়বার সময়ই বা কোথায়? সূর্যদোয় থেকে সূর্যাস্ত ঘন্টাতে কতই হয়? এর মাঝে সব জমা সামাল দিতে হবে। সংসার, কাজ, রান্না, পড়া, লেখা, চারপাশ দেখা। এক জোড়া হাতে মাত্র দশটি আঙ্গুল পিল পিল চলছে কিবোর্ডে যা এড়িয়ে যাবার উপায় নেই। দরকারী সবই ছুটে চলছে উর্ধ্বশ্বাসে। সারিবাধা সব কষ্টরা করছে বাস্তব জটলা। পত্রিকার ওয়েভ সাইটে ক্লিক করলেই উগলে বের হয় খবররা। থরে বিথরে সাজিয়ে রাখা। সত্যি ভাবতে অবাক লাগে জীবনটা কেমন যেন আসলের বদলে অদ্ভুত অন্য রকম এক পাওয়ার মাঝে বাড়তি ব্যস্ততা। বুদ্ধিধারীদের কেউ বা মন্তব্য করছে সমানে, আর মানুষ হাজার বছর উপরে পার করেও আজ ক্লান্ত। কেউ কেউ আকাশের তারাকে নিয়ে বেশী করে ভাবতে বলছে।

কিয়ামতের আগাম সংবাদ কি এটি? হয়তো বা! আজ আর লিখতে কাগজ লাগে না। সর্বত্র সাদা কাগজ সারাক্ষণ খালি পাওয়া যায় কম্পিউটারের ডেস্কটপে। প্রযুক্তি যে কত দিস্তা সেখানে ঢুকিয়ে রেখেছে, কেউ জানে না রেখেছে কয় মন কলমকালি সঙ্গোপনে। সবাই লিখছে দিনের পর দিন, যেন বছরের পর বছর চলছে তাদের যায় যায় দিন। কাকে রাখি কাকে ডিলিট করি, কুল পাই না। এ শতাব্দীর শুরুতে খোদ আমেরিকাতে এক ভয়ানক বিস্ফোরণ ৯/১১, তারিখটি আমেরিকার পুলিশ কল নাম্বারের সাথে মেলানো এক কঠিন ছকে আঁকা, প্লেন করে আঁকা ক্ষণটি। এর লেজ ধরে বিকল্প আসে আরো কত কত ওয়ান ইলেভেনরা, তাও ইতিহাসে যতনে জমা রাখা।

সমানেই শুনছি চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ

২০০৯ সাল, নতুন শতাব্দীর নয় বছরের ফেব্রুয়ারীর বিস্ফোরণ “বিডিআর বিদ্রোহ”

একটি স্বাধীন দেশের হৃদপিন্ডে যেন আকস্মিক মরণ কামড়!

“মাটি খুড়ে জঙ্গী খোঁজার ঘোষনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর”।

কলাম আসে “আগে চাঁদাবাজদের ধরুণ, পরে ভিন্ন কথা বলুন”।

সময়টি একদম মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মতনই, এক মার্চের কথা।

যশোর খুলনা ও সাতক্ষীরাতে হাইপ্রেসারও কিডনী রোগী বেড়েছে দারুণ।

পানিতে লবনাক্ততা বেড়েছে এটিই কারণ। যেভাবে পানির স্তর নামছে,

রাজশাহী ও চারপাশ মরূভূমির প্রস্তুতি নিচ্ছে। মরবার সাজ চলছে।

কি আশ্চর্য্য এ রকম প্রস্তুতিতে দিনে দিনে দেনা বাড়ছে, দেশটি আহত বিধ্বস্ত তিলে তিলে মুমূর্ষদশা। রুদ্র মূর্তি ধরেছে বনগাঁ থেকে বঙ্গোপসাগর। তারপরও কেন তোমরা অন্ধ থাকছো? নিজের বুদ্ধি বিবেককে কি এমন ভাবেই বন্ধক রাখতে হয়? এ যে মানবতার অপমান হবে বন্ধু! তোমার বিবেক কেন দেশমাতার বৈরীতায় মগ্ন? বিবেককে কেন পরের কারণে এমন বন্ধক রাখলে! এ যে লজ্জা! তাও কি বুঝো না?

জানো ওয়াশিংটন পোস্টে ১৯৯৭ সালের মার্চে আসে এক প্রতিবেদন। দূরে থেকেও কঠিন গোপন কথা বলে যা তোমরা অনেকেই জানছো না বুঝছো না; বোকার ভনিতা করছো। ওরা বলছে জানো কি, কখন থেকে বাংলাদেশের চরম সর্বনাশ শুরু হয়েছে, যখন ভারত গঙ্গার পানি সীমান্তে তার নিজের দিকে সরিয়ে নিয়েছে। ওরা পরিমাপ করেছে তোমাদের ক্ষতির পরিমাণ টাকার অঙ্কে, চার বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে; তারপরও বোঝ না বন্ধু! তুমি শিখলে না চতুরতা, বুদ্ধিমত্তা তোমার জিম্মী কেন আজো? বন্ধুর স্বরুপ সন্ধান করতে তোমার চল্লিশটি বছর লেগে গেল! তোমার একজোড়া চোখ তোমাকে সারাক্ষণ পথ দেখাচ্ছে, হাটতে শিখাচ্ছে, গাইতে শিখাচ্ছে, বলতে শিখাচ্ছে তারপরও তুমি কেন অন্ধ? এসব ভাবলে মাথার কষ্ট বাড়ে। “গোলাপী এখন ট্রেনে”র গোলাপী তো অন্ধ ছিল, চোখে দেখতো না। তুমি কি জবাব দিবে? তোমার চোখ থাকতেও তুমি অন্ধ! বিধাতার কাছে তোমার কি জবাব হবে?

আবারো শুনতে পাই চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ।

শুনছি সমানেই! উদ্ভট সব আওয়াজের সে বিস্ফোরণ কি কিয়ামতের আলাপন?

দেশের নেতৃস্থানীয়রা আজ আর মিথ্যা বলতে পিছে তাকায় না, ভয় পায় না।

কেন এমন হলো? মানুষ এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিচ্ছে, কোন পাত্তা দিচ্ছে না।

মানুষ আজ জেনে গেছে, শেষ জামানাতে এসব হবে কম বেশী সবাই জানে।

অপকর্মীরা আরো জানে এসব মিথ্যা বলার সব অধিকার তারা অর্জন করেছে,

২০১২, ধাপে ধাপে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠেছে দেশ চল্লিশ পার করেছে।

চল্লিশে সাধুরা সোমত্ত হয়, বুদ্ধিদিপ্ত পদক্ষেপ রাখতে ভয় পায় না

এমনই পূর্ণতা এ সংখ্যাতে এমনই স্বার্থকতা। বর্ডারে হতভাগা হতভাগীরা মরছে,

প্রধানেরা চুপ, মুখে রা নেই, যেন কিছুই হয়নি। গরীবের বাচ্চারা মরেছে, মরুক।

উল্টো ওদেরে ডেকে এনে মালা পরাচ্ছে সোনার সোহাগে বন্ধুত্ব বিলাচ্ছে এমন দুর্দীনে, কোষাগার শূণ্য। কিন্তু তাতে কি, এটি এমনই এক রোগ সবার জানা। গরীবের ঘোড়া রোগ হয় না? এমনই এক রোগে পেয়ে বসেছে। বাহারী এ জাতির ঘাড়ে চেপেছে হতাশার সংক্রমন, মহামারী রোগ। আর্সেনিকে অবশ একাংশ, খরা দারিদ্রতা হাঁ করে আছে। তারপরও রাজসভা অতি বেশী তৎপর, দুহাতে বিলানো হচ্ছে সম্মান সাধনা চলছে সপ্তরাগে, উচ্চাঙ্গে। ওদের অপকর্মের বদলে শাসানী নয়, এ যে মায়াময় বুলি! গরীবের ফেলনা মেয়ে ফেলানীকে বাড়তি জ্ঞান দেয়া হচ্ছে! সে তো মরেছে! তার দেখবার চোখ সে কবে গলে পঁচে ভর্তা হয়েছে! দেখছে বাকী জনতারা যারা আজো বেঁচে আছে, সামনে মৃত্যুর অপেক্ষায় সময় পার করছে

চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ সমানেই শুনছি।

মানব বন্ধনে রাস্তারা সারি বাধা, কি করবে এরা দিশেহারা!

তারপরও তারা কত লড়বে কত দশক কত যুগ কত শতাব্দী।

জেনেছি নয় মাসে যুদ্ধ শেষ, এবার কেউ কেউ বলছেন চল্লিশেও শেষ নয়।

ছাত্র নামধারী লীগনেতারা সকল প্রেরণার উৎস, পানিশূণ্য মাঠে লগি বৈঠায় তারা,

স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, যদিও জন্ম একাত্তর পার করা।

চাপাতি খুর দা পরখ করা। নব্য স্বাধীনতার নব্য রাজাকার এরা।

সুরঞ্জিতও বলছেন, “জাতি আজ দুভাগ হয়েছে” স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আর বিপক্ষের ধারা।

এসব সাজানো গোজামিল কথা, বলাটা সঠিক না।

সত্তুরে যখন আমরা তরুণ, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ছিল গোটা বাংলাদেশ আজ তারা বিভক্ত, দুই ধারা।

পুরানো মূল স্বাধীনতার শক্তিরা ৫০ পার হওয়া রিটায়ার্ড ধাপে তারা।

নতুন শক্তিরা বাংলার তরুণ, মিথ্যায় আগাগোড়া মোড়া। প্রজন্মরা জেনেছে একদিন তারা পিন্ডির নিগড় থেকে বের হয়েছে বিগত সত্তুরে। ফের দিল্লীর নিগড়ে ঢুকতে যাবে কোন খেদে? এটি কি কোন জাগ্রত বিবেক বলে? এতেই তাদের বাধ প্রতিবাধ, গড়ে তোলা ভিন্নধারা। চল্লিশ বছরেও এত তেড়ে উঠে নি জাতি অতীতে। এটি ঐ চল্লিশের দৃপ্ত চেতনা জাতির সামনে। আর একটি আগত মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি, এরা একবিংশের জাগ্রত জনতা!

অর্থনীতিবিদদেরও কপালে বলিরেখা। প্রশ্ন সোনালী দিন তো সামনে নয়

তবে কি এটি পেছনের হাটে ফেলে আসা? ডিজিটাল এ তো কথার কথা।

দেশ চলছে নগদ ছাপানো টাকাতে, যেন তলাহীন ঝুড়ির ঝাঝরা দশা।

পরীক্ষার পাশ ফেল আজ প্রশ্নাতীত, ফেল করেও চাকরি বাগায় ১৪৪ নেতা পাতিনেতা।

ভালো খবর আছে জমছে তলানীতে, তবে কেমনধারা যেন একহারা।

প্রধানমন্ত্রী আগামী কাল আগরতলা যাচ্ছেন। প্রাপ্তির পটে কিছু জমেছে

আগরতলায় সম্মানসূচক ডি-লিট মনে রাখবার, মুছে দিবার মত নয়।

তাইতো বলতেই হয় “এত কৃতজ্ঞতা কিভাবে ভুলা যায়”?

কিন্তু ফেলানীর সামনে সব কৃতজ্ঞতায় ভাটা পড়েছে!

কাঁটাতারে ঝূলতে থাকা উল্টে রাখা ফেলানীরা কি বড়বেশী অকৃতজ্ঞ?

কচি মেয়ের ধর্ষিত জীবন, হিসেবটা আবার করুণ – যারা বড়বেশী কৃতজ্ঞ!

 

বর্ডারে ফেনসিডিল, ইয়াবা, হিরোইন কত শত নতুন নাম না জানা মাল মশলা সমানেই আসছে।

ওরা গিলবে নাচবে মরবে। কাটাতাঁরের খাঁচাতে যারা আটকে আছে, কেমন মজা ওরা মরবেই?

যেন এক নতুন উপনিবেশ বাংলাদেশ, সেজেছে অপূর্ব বিবস্ত্র সাজ। মঞ্চে মঞ্চে উদ্যাম নৃত্য,

সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে যুব সমাজ ঘোলা জল সমানেই গিলছে, শিখছে নতুন বুলি, সবহারা উন্মত্ত।

সব হারানোর বেদনা ভুলার ঔষধ হাতের কাছেই, এরা ড্রাগাসক্ত।

ওপার থেকে দম্ভের আওয়াজে চিদাম্বরম গগৈ,

“বৃহৎ নদী বাঁধ নির্মাণ হবেই। ট্রানজিট করিডোর আমাদের চাই”।

কচি ছেলের বায়না, নতুন মা দিশেহারা এমন আবদারে উচ্ছ্বসিত;

অন্তরে প্রেমের ফল্গুধারা! তরুণেরা বেকার, নেই চাকরী

কথা ছিল প্রতি ঘরে একটি চাকরী, পাঁচ লাখ আজ চাকরীর ফেরারী

জনতারা কাঁদছে সমানেই বিলাপ করুণ সুরে, রহিয়া রহিয়া।

যারা দূরে আছি, বলো – কেমনে রাখি আখিবারে চাপিয়া?

 

এখনো শুনতে পাচ্ছি চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ

চাকরীর বাজার ভারতীয়দের হাতে, এটি কেন?

বাংলাদেশ কবে ভারত হলো? জানলাম না কেন?

যেদিন বিডিআর এর ৫৭ মেধাবী জোওয়ান মরলো ২০০৯এর ২৫ ফেব্রুয়ারীতে,

সেদিনই কি? আমরা কি জানতে পারি না?

এ কি আমাদের অপরাধ? ঐ মৃত্তিকাতে আজো ঘুমিয়ে আছে আমার স্বজন, আমার হৃদয় মন আত্মা।

দরিদ্র এক দঙ্গল মানুষের নাড়িভূড়ি ফালি ফালি করে খুবলে খাওয়া এ কেমন উন্মাদতা?

ঐ শাস্ত্রে কি পরহেজ করার বিধান বাতিল?

পরস্বঅপহরণ কি শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়?

পরের জীবন হরণে কি বাড়তি পূণ্য হয়?

সবার বিধাতা একজনই, হোক সাদা কালো পিত বাদামী

সবার রক্তের রং লাল, এক বিধাতার সন্তান তুমি আমি!

এক একটি প্রশ্নের এক একটি উত্তর হয় কিন্তু আজকের সব প্রশ্নের উত্তর এক

যেন সরল অঙ্ক খুব সোজা, “যুদ্ধাপরাধীর বিচার ঠেকাবার কসরত সব”।

 

তারপরও থেমে নেই, চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ সমানেই শুনছি। ফারাক্কা টিপাইমুখ ট্রানজিট, হামলা মামলা গুম সব সারিবাধা, এক বন্ধু ভাগ্যে পাওয়া অগাধ উপার্জন।  তত্ত্বাবধায়ক নামের এক নতুন জিগির আকাশে বাতাসে। একে সরাতেই হবে, মুছে দেয়া হয়েছে কৌশলে। এবার ইভিএমে ভোটগ্রহণে বাড়তি বিতন্ডা, তাও অকারণ নয়। দিল্লী হাইকোর্টও বলছে, এতে কারসাজির সুযোগ রয়েছে। ভোট চুরির সম্ভাবনা সামনে, অতএব সাধু সাবধান!

বিশ্বাস করেন চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ

খালেদা জিয়ার রোডমার্চ বনাম প্রধানমন্ত্রীর চ্যাংদোলা তত্ত্ব, কেন কথার এমন ছিরি!

প্রধানের বাংলাতে  মনে হয় আরো পড়াশুনা দরকার। ভাষার জন্য এত রক্ত ব্যথায় ভরা

এক উপনিবেশ একবিংশ শতকের শুরুতে মানচিত্র জুড়ে অপূর্ণতা।

এরকম সময়েও ফেনীর জয়নাল হাজারীর সব দন্ড মওকুফ হয়।

আরেক মরণ ফাঁদ তিতাস মৃতপ্রায়; একতরফা বন্ধুত্ব কাম্য নয়।

লন্ডন সেমিনারে অ্যামনেস্টি: বাংলাদেশ মানবিক পরিস্থিতি সুবিধার নয়।

পলোগ্রাউন্ড থেকে উচ্চধ্বনি উঠে, “এ দেশ কারো করদরাজ্য নয়”।

সুজনেরা বলছেন লোহা তপ্ত থাকতেই হাতুড়ি ঠুকতে হয়।

“চুক্তি যেন গলার কাঁটা” বক পন্ডিত নির্বিকার, আছে শুধু বড়াই

প্রথম আলোতে আর কালের কন্ঠে চলছে কুৎসিত লড়াই।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে লুটপাট, উচ্চ মূল্য বাজার, শেয়ার বাজারে ধ্বস,

স্বাধীনতা আজ পরাধীনতার লেবাস আটা, যেন এক উপনিবেশিক ফানুস।

আরো শুনতে চাও, বলবো আরো দুটি কথা! শুনতে চাও এ বেদনার উপাচার।

বেদনার ভারে উপচে পড়ছে চারধারে সঙ্গোপনে চেপে রাখা কষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় দলীয় আখড়া কেন? কেনই বা শিক্ষার পাশাপাশি জাতির ডুবার অঙ্গিকার?

একজন শিক্ষকের সামনে সন্তানসম ছাত্র তার; অনাগত ভবিষ্যত কেন এত ওজনহীন হালকা মূল্যহীন জমাট মাংসপিন্ড। এরা সবাই স্বার্থের পেছনে ছুটছে বলেই তারা একচোখা, দৃষ্টিহারা। চারপাশ আজ ঝাঝরা বিষফল ছড়ানো উত্তপ্ত আকাশ বাতাস, আগাম ভবিষ্যত অনেকেই অতীত লাশ। লাশের কপট ভারে বৃদ্ধ পিতার কাঁধ যেন টন টন বোঝার এক বরফগলা হিমালয়। পৃথিবী – তুমি কি ক্লান্ত আর বইতে পারছো না এ ক্লন্তির বোঝা? তবে কি কিয়ামত আগত, সামনে?  আমরা আতঙ্কিত!

যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল পোস্ট জানান দিয়েছে, আজ সারা বিশ্ব জানে বাংলাদেশের সীমান্ত আজ ইঁদুরের ফাঁদ “মৃত্যুর দেয়াল”। ইসরাইল ও ফিলিস্তিন থেকেও ভয়ঙ্কর এরা নির্যাতনে ছাড়িয়ে গেছে সবারে, চাঁদাবাজ ঘোষখোর বিএসএফ জোওয়ান। বিবিসির খবরে প্রকাশ ঘোষের টাকা চাইতে তারা হাবিবুরকে উলঙ্গ করেছে। আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে হাবিবুর কাঁদছে। ওরা নেকড়ের মত ঝাপিয়ে তৎপর শিকারের উপর। শিকারীর গোঙ্গানী শুনছে জনতারা ইউটিউবের চারপাশ থেকে। হিউমেন রাইটস ওয়াচ এক মানবাধিকার সংগঠন জানে কত রক্ত বইছে সীমান্তে কাঁটাতারের ফাঁক গলিয়ে। ঘুষের কত রকম উপার্জনের আয়োজন সেখানে। গত এক দশকে এক হাজার বাংলাদেশী বিএসএফের গুলিতে লাশেরা মুমূর্ষু মৃত। নির্যাতীতের সংখ্যা অফুরান, মোটেও হাজারে কুলাবার নয়, ওয়াচের মন্তব্য। তারা জোওয়ানরা হাবিবুরকেও মনে করেছিল মরে গেছে। তাই লাশ ছুড়ে ফেলে রাখে। বিধাতার দয়ার সৃষ্টি, তাই সে মরে নাই। মানচিত্রের ওপারে দিল্লীর প্রশাসন চিন্তিত, নিশ্চয় বিদেশী আইএসআই গোয়েন্দা জড়িত!

ওরা কতই না তৎপর কৌশলী! ভাগ্যিস এটি ফাঁস হলো আর ফাঁস না হওয়া

কত লাশেরা মিছিল করছে জনমানবহীন কাঁটাতারের সীমান্ত দেয়ালে।

মনে পড়ে বর্ডারে চেকিংএ গেলে, তারা কতই না টাকা খাবার ধান্ধা খোঁজে।

যদিও সীমান্ত খোলা, চোরাকারবারীরা সহজেই যেতে পারে বখরা দিলে।

কাঁটাতার এক অনাচার ফাঁদের নাম। বিচার শুধু ফেলানী আর হাবিবুরের জমা।

ঐ বিদেশীর গোয়েন্দা না থাকলেই কি বিধাতার ছবি কথা বলবে না, ঐ কিয়ামতের মাঠে?

ওরে পাষাণ! ঐ মাঠে কেউ ছাড়া পাবে না। হাতকড়া হাতে থাকবে সাথে সব জান ও মান।

জেনে রাখিস! ফেলানী ও হাবিবুরের থেকেও বহুগুণ কঠিন হবে তোদের পরিণাম।

পাঠক বন্ধু ! এক বিংশ শতকের এ নব্য উপনিবেশবাদের গল্প শোনার পরও

নিশ্চয় বিশ্বাস করতে কষ্ট সার! এতসব গল্প শুধু কবিতাই নয়,

সত্য কথন। হে বিধাতা! বন্ধ করো এ নির্যাতন। শুনছি সমানেই শুনছি

চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার ঢং ঢং মতন শব্দের আয়োজন।

 

কিছু নতুন খবর আছে কেউ বলছে চাঁদের বুকে ষ্টেশন হবে। এলিয়েনরা আছে ধারে কাছে। কিন্তু তারচেয়েও গুরুতর সমস্যা সামনে। দেশবাসীর সামনে এলিয়েন নয়,  জয়নাল হাজারীরা টুপি মাথায় দাঁড়ি মুখে একপায়ে দাঁড়িয়ে। এদের দেখলে গলা শুকিয়ে কাঠ হয় সাধারণ জনতার। তারা সাধারণেরা সন্ত্রাস চায় না, চায় বাঁচবার নিশ্চয়তা। জয়নাল হাজারীরা মাথায় টুপি আর দাঁড়ি রাখলেই কি সাত খুন মাফ হয়ে যায়! সারিবাধা সব অপরাধ ধুয়ে মুছে যায়! তবে সব দাাঁড়ি সমান নয়! দাঁড়িরও রকম সকম ভিন্ন নিয়মে গড়া, গাটছড়া বাধা! আমরা সাধারণেরা চেয়ে আছি শুধু অপলক দৃষ্টিতে, ২০১২ জানুয়ারী, তুমি বছরের শুরু, তুমি সাক্ষী থেকো। শুনছি সমানেই চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ। আট বছর আগের লেখাটি পড়লে মনে হয় যেন গতকালের কথা বলছি। শুনছি তো শুনছি সমানেই শুনছি। আল্লাহ এ জটিল সঙ্গিন সময়ে জাতিকে সঠিক পথ বাতলে দিক। আমিন।

মূল রচনাকাল ১৮ জানুয়ারী ২০১২।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ব্লগে ছাপা হয় ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০। এ চলমান সপ্তাহে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ থেকেও কলামটি ছাপা হয়।

 

নাজমা মোস্তফা

খবরটি স্টাফ রিপোর্টার কৃত ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০তারিখ মিডিয়ার খবর। কে বা কারা চাইছে আবরার ফাহাদের বাবাকে আড়াল থেকে মামলা আপসে মিটমাট করে ফেলতে কল করছে। বিনা অপরাধে মৃত্যুর জবাব কিভাবে ফয়সালা হয় তাও আবার আপোষে? শক্তির তলানীতে এটি সংগঠিত হয়েছে, এর অনেক সাক্ষ্য প্রমাণে ওরকমই মনে হয়। ঘটনা ঘটিয়ে সরকারও সিসিটিভির দাগ মিটানোতে উঠে পড়ে লাগে। সরকারের অতি চাতুরী ছাত্র জনতার কাছে ধরাও পড়লো। সাত্তার নামের একজন টেলিফোনে আল্লাহর বাণী শুনিয়ে আপোস প্রস্তাব দিচ্ছে। নির্দোষ মেধাবী আবরার হত্যায় আল্লাহর কথা মনে পড়ে নাই, এবার দুর্বৃত্তের জীবন বাঁচাতে আল্লাহকে মনে পড়েছে! ২০১৯ সালের ৭ই অক্টোবর প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হত্যা করে, সচরাচর ধারাবাহিক হত্যা গুমের মতই স্বাভাবিক এসব হত্যাকান্ড।

‘বাংলাদেশের বেসরকারী খাতে ভারতীয় দাপট’ খবরের শিরোনাম। পোশাক শিল্প, বায়িং হাউজ, আইটি এবং সেবা খাতে ভারতীয় দাপট বেড়েই চলেছে। চীনা ও শ্রীলংকা এরপরে থাকলেও করোনা ভাইরাসে চীনের দাপট কিছু কমলেও ভারতীয় দাপট আরো বেড়ে যাবার আশংঙ্খা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে এক লাখেরও বেশী ভারতীয় কাজ করেন। অন্যদিকে বায়িং হাউজে এই সংখ্যা আরো আরো বেশী। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম, বিজ্ঞাপন, কনসালটেন্সি এসব খাতেও ভারতীয়রা রয়েছেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে কম করে হলেও পাঁচলাখ ভারতীয়রা কাজ করে। কিন্তু তাদের অধিকাংশেরই কোনো ওয়ার্ক পারমিট নেই। তারা টুরিস্ট ভিসায় আসে। আর তাদের বেতন অনেক বেশী। টুরিস্ট ভিসায় যারা কাজ করে তাদের আয়কর পুরো অর্থই অবৈধ পথে বাংলাদেশের বাইরে চলে যায়। সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্ট ও ভারতীয় কৌশলশর্ত জুড়ে দেয়ার কারণেও তাদের জনশক্তিকে কাজ দিতে হয়। ট্রাভেল এজেন্টদের বড় একটি অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে। সরকার এসব ব্যাপারে তৎপর নয় বরং চরম গাফলতি, দেশের স্বার্থকে খর্ব করছে।

বাংলাদেশের চাকরির বাজারে কর্মরত বিডিজবস ডটকমের পরিচালক ফাহিম মাশরুম বলেন, ‘বিদেশে কর্মীদের মাঝে ভারত সবার উপরে তারপর শ্রীলংকা, চীন থাইল্যান্ড। এদের দশভাগেরও ওয়ার্কপারমিট না থাকায় অবৈধভাবে কাজ করছে। তারা ভারত থেকে পেমেন্ট পায়। এ সিস্টেমও তারা ভারতীয়রা করে নিয়েছে।’ পোশাকখাতের বড় অংশ তাদের টেকনিশিয়ান ও ডিজাইনাররাই উঠায়। বিআইডিএস এর অর্থনীতিবিদ ডঃ নাজনীন আহমেদ জানান, ‘প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে যাচ্ছে। বাংলাদেশের টার্গেট ২০ বিলিয়ন ডলার। তার মানে আনা রেমিটেন্সের এক উল্লেখযোগ্য ভাগ তাদের পাতে যায়। এটি হচ্ছে বৈধ চ্যানেলের কথা। আর অবৈধ পথে কত যায় তার কোন হিসাব সরকারী খতিয়ানে নেই। সবচেয়ে বেশী যায় ভারত ও শ্রীলংকায়। একাউটেন্ট ও প্রশাসনিক কাজেও বাইরে থেকে লোক নিয়োগ দেয়া হয়’ (পোশাক শিল্পের এসব সূত্র: ডয়েচে ভেলের রিপোর্ট)।

এই হচ্ছে পোশাক শিল্পের বর্তমান দশা। উন্নয়নের ফানুসে সরকার সবকিছু রঙ্গিন চশমা চোখে মাপছে। কালার ব্লাইন্ড সরকার যেন সবকিছু ভুল অংকে ভুল ফিরিস্তিতে দেশবাসীকে বোঝাচ্ছে? আইবিটিআইএফ সভায় বস্ত্রমন্ত্রী ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ তারিখ বুধবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে প্রথমবারের মত দুই দেশের দুই দিন ব্যাপী সভা হয়। সভায় বলা হয়, উভয় দেশ উপকৃত হবে। কিন্তু প্রায় সব ব্যাপারে একতরফাভাবে পরনির্ভর মনেবৃত্তির সরকারের কাছ থেকে ঘাটতি মোকাবেলার ব্যাপারে জনগণের খুব একটি বিশ^াস জন্মাবার কথা নয়। কারণ কোন ব্যাপারেই সরকার কোন দক্ষতার দাগ দেখাতে পারে নাই। দেউলিয়া অর্থনীতির বোঝা কাঁধে নিয়ে পোশাক শিল্পকে খাদের কিনারায় নিয়ে দাঁড় করাতে সরকারের গাফিলতিও অস্বীকার করার উপায় নেই। যখন সরকারের অর্থমন্ত্রী সংসদে দাড়িয়ে বুক ফুলিয়ে সরকারের সুরে একই লাগামছাড়া মন্তব্য ছুড়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রচার করেন, “আমি বিশে^র এক নম্বর অর্থমন্ত্রী”(৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, আমাদের সময়)। শেয়ার বাজারের সীমাহীন ধ্বসের উপর দাঁড়িয়ে এ হুংকার যেন ‘সিংহ আমি বনের রাজা’র মতই অহংকারী ভারসন। অর্থমন্ত্রী এতই সুবোধ বালক যে, ব্যাংকের মালিক ডিরেক্টররা ঋণ নিয়ে বসে থাকলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেয়ার দরকার বোধ করেন না। মনে হয় উনার লজ্জা লাগে। ঠিক যেভাবে ভারতীয়রা মালামাল বিনা ট্রানজিটে পার হয়, শুনেছি বাংলাদেশ সরকার চাইতে লজ্জা পায়! দেশ থেকে কোটি কেটি হাজার কোটি টাকা পাচার হলেও অর্থমন্ত্রী কোন ব্যবস্থা নেন না। কি কারণে তার এমন নিরবতা, সেটি তিনি ভালো জানেন। তবে নিজের কাজেকর্মে স্বচ্ছতা না থাকলে অপরকেও সুবিধা দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না। শক্তির নীতিতে তারা দক্ষ, উল্টে পাল্টে দে মা, লুটেপুটে খাই!

সরকারের সব মন্ত্রীরা ঢোল পিটাতে পিটাতে ঢোল ক্ষয় হওয়ার শেষ ধাপে কিন্তু জনতারা যে যেদিকে পারে ময়দান ছেড়ে পালাতে চাইছে। এর কারণ কি? রোগীর লক্ষণ দেখে ডাক্তার রোগ নির্ণয় করে। কি কারণে তরুণদের এমন রোগ হলো সেটি নির্ণয় করা দরকার। এত সুখ সমৃদ্ধি উন্নয়ন মেগাপ্রজেক্ট রেখেও কেন তারা দেশ ছেড়ে পালাতে চাচ্ছে! আর ভারতীয়রা কিভাবে এখানে নিরাপত্তা পাচ্ছে! ওপরদিকে ভারত সরকার এনআরসির সোরগোল তুলেও ফায়দা লুটার মানসাঙ্কে ব্যস্ত। দেশটা কি শুধু অর্থমন্ত্রীর, সেতুমন্ত্রী কাদেরের, মন্ত্রী নাসিমের নাকি গভীর রাতে ভোট লুটেরা প্রধানমন্ত্রীর! জনতারা সব বেওয়ারিশ লাশ, খালেদার মতই। ডঃ কামাল সীমা ছাড়িয়ে গেছেন, বয়ানে কাদের (মানবজমিন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০), জিয়া এরশাদ খালেদা এ মাটির সন্তান নন, (শেখ হাসিনা, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০)। মন্ত্রী নাসিমের বয়ান ভোটারদের সাথে সম্পর্ক না থাকায় ভোটে তারা কেন্দ্রে আসেনি, নাসিম, (৫ ফেব্রুয়ারী, নয়াদিগন্ত), ‘বর্তমান সরকারের সময় বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত’ বয়ানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারা জাতি কমবেশী জানে, ইতিহাস এ মাটির দাগদেয়া সন্তান জন্ম কাহিনীর অনেক কথা জমা করে রেখেছে, যা শুনতে বাজে লাগে। এখানে  সবার কথার মাঝে বাস্তবতার চরম সংকট। এরা দলগতভাবে সত্যকথা ও কাজ ভুলেই গেছে। কথায় কথায় বেফাঁস মিথ্যা হাসির খোরাক জমায়! এসব দেশের সমাজ চিত্র ও অর্থনীতির একটু ছোঁয়া। আবরার হত্যা, খালেদার কারাগার, মন্ত্রীদের বাগাড়ম্বর, ভোটের মৃত্যুদশা, অর্থনীতির গোজামিল অংকদশা, সচেতনকে গভীরভাবে ভাবায়। এ যেন শত্রু ঘুনপোকারা মজ্জা চুষে খাচ্ছে আর দেশের অস্থিমজ্জা ঝরঝরে হচ্ছে। অদেখা বিধাতা ছাড়া আর বিচার চাইবার কোন জায়গা সামনে পিছনে ডানে বামে অবশিষ্ট নেই। তারপরও সবহারাদের বড় ভরসা আল্লাহ, যে ময়দানে বিচার চাইবার জায়গা কোনদিনও শেষ হবার নয়।

৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০।

বি দ্র: উপরের পুরো লেখাই নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ কলামে ছাপে ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ সালে।

নাজমা মোস্তফা

কি কারণে একজন মুক্তিযোদ্ধা এরকম একটি আবদার করে বই লিখে গেলেন সেটি কি জাতিকে ভাবায় না? জাতির মগজ নামক শরীরের অঙ্গটি কর্মক্ষম থাকলে আর বিবেক কার্যকর থাকলে অবশ্যই তাদের ভাবতে হবে, একবার নয়, বার বার। কে কোন দল করে সেটি বিষয় নয় কে কে মানুষ সেটিই বিষয়। এখানে মানবিক ও পাশবিক বিবেচনা ছাড়া আর কোন প্রসঙ্গ নেই। এ মুক্তিযোদ্ধা সেদিন ২০২০ দেখেছিলেন বিধায় এমন রায় দিয়েছিলেন। এরা ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা। দেশপ্রেমের খাতায় এরা চিরজীবি। এদের পাওনা অফুরান, দুই জাহান ভরা স্বার্থক মানব সন্তান। ফাঁসি দেয়া ধান্ধাবাজরা বোকার মত দেউলিয়া হয়ে টিকছে, ক্ষমতার চেয়ার ব্যতীত এরা মানব হৃদয়ে কংকাল, অপরিচিত লাশের হাড় গোড় নয়তো ঘৃণ্য জীব। আকর্ষণ সম্মান দায়বদ্ধতা দয়া মায়া মমতা না হারালে কি কেউ ফাঁসির দন্ড চায়? মতিয়ুর রহমান রেন্টুর কাছে এরা কয় যুগ আগেই সর্বহারা হয়েছে। ক্ষমতার দাপটে অবৈধরা সব চাপা দিয়ে রেখেছে, বাজেয়াপ্ত করেছে। আজ এদের ময়দানের আচরণ স্পষ্ট করছে এরা গোটা জাতির কাছে নিঃস্ব দেউলিয়া হয়ে ধ্বংসের শেষ সীমানায় হাঁপাচ্ছে।

স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের সৎ সাহসী যোদ্ধারাই প্রকৃত বিজয়ী। জাতিকে বাঁচাতেই তাদের আত্মত্যাগী সততার দাগ চিহ্ন। তারপরও জাতি কেন মরছে হাটু পানিতে? বিদ্রোহী মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেন্টু তার বিদ্রোহের স্বাক্ষর রেখেছেন কাজে কথায় ও কালিতে। সরকার যা করছে, এটি তার বহু পুরানো জাত স্বভাব, ঐ মুক্তিযোদ্ধা বিগত শতকে অকপটে সব স্পষ্ট করে গেছেন। শেখ হাসিনার প্রাইভেট সেক্রেটারী তিনি নিজে ১৬ বছর ও তার স্ত্রী ৯ বছর একসাথে কর্মচারী কর্মকর্তা হয়ে থাকার পর এই তার পরিসংখ্যান। তথ্যবহুল বাস্তব ঘটনার প্রতিটি রাজনৈতিক জটিলতার খুটিনাটি সেখানে স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে।

নীচে মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেন্টুর বই “আমার ফাঁসি চাই” (প্রকাশকাল ১৯৯৯, স্বাধীনতা দিবস), ঐ গ্রন্থ থেকে বিগত শতকের ইতিহাস দেখা কিছু বাস্তব সত্য তুলে ধরছি। মূল গ্রন্থে অনেক বিস্তৃত আলোচনা এসেছে, বইটি ময়দানে নেই, তবে অনলাইনে আছে বাংলা ও ইংরেজীতে। ঐ লেখকের দুটি বইএর অন্যটি হচ্ছে “অন্তরালে হত্যাকারী খুনী প্রধানমন্ত্রী” (জীবনাতঙ্কে ছুটে বেড়ানো রেন্টুর ভাতিজা রাকেশ রহমানের ভিডিও তথ্য)। সরকারের সৎ সাহস থাকলে বই দুটি ময়দানে থাকতো, বাজেয়াপ্ত কেন হবে? রাকেশও এই কথা বলেন। সহজ অংক, তার মানে সরকারই দোষী, আর রেন্টুর অর্জন ইহ ও পরকালে জমছে বহুগুণে। সরকারের অপকর্মের ১৫ মামলা বাতিল, রেন্টুর চ্যালেঞ্জ করে লেখা বইও বাতিল! সরকারকে বাতিল করাই মুক্তির একমাত্র বিশুদ্ধ জবাব। এ বইটি পড়ার পর কোন বিবেকবান মানুষ সরকারের সাথে থাকতে পারে না। শেখ মুজিবের উত্তরসুরীরাই তাদের পূর্ব পুরুষের পরিচিতি ঈমান আকিদা সততা, যোগ্যতা, মানবিকতার পক্ষে বিপক্ষে দলিল স্পষ্ট করছে, এদের সুকর্ম অপকর্মের দায় পাপ পূণ্য সংগৃহীত হচ্ছে। কুরআনে সুরা বাকারাহর ২১৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন উৎপীড়ন হত্যার চেয়ে গুরুতর। তার মানে এরা হত্যার চেয়েও গুরুতর অপরাধ করছে। যোগ বিয়োগের হিসাবটি প্রজন্মকেই করতে হবে, জাতিও পরখ করতে পারে। যে কেউ বিগত সময়ের সব কার্যকারণ ও সাম্প্রতিক ২০২০ সালের ভোটের বাস্তবতা এর সাথে মিলিয়ে নিতে পারবেন। ঐ বইএর ১৩৮,১৩৯,১৪০ পৃষ্ঠা থেকে সামান্য সংগ্রহ দিলাম।

(১)        সম্পূর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সঠিক সময়ে স্বাধীনতা ঘোষণা না করায়, ত্রিশ লক্ষ মানুষকে নিহত হতে হয়, দুই লক্ষ মা বোনকে ধর্ষিত হতে হয়, এর দায়ে দায়ী শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসি চাই।

(২)       মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার অভিযোগে শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর বিচার চাই, শাস্তি চাই।

(৩)       মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছে, শেখ মুজিবর রহমানকে স্বাধীন দেশে ফিরিয়ে এনেছে, স্বাধীনতার পর ভারত থেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা না এনে, রাজাকার আলবদরসহ ভুয়া ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ (সার্টিফিকেট) দেয়ার অভিযোগে শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর বিচার চাই, শাস্তি চাই।

(৪)       ক্ষমা না চাইতেই স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার, আলবদরদের ঢালাওভাবে ক্ষমা ঘোষনা করার অপরাধে শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসি চাই।

(৫)       মহান বিপ্লবী নেতা কমরেড সিরাজ সিকদারকে বন্দি অবস্থায় বিনা বিচারে গুলি করে হত্যা করার অপরাধে শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসি চাই।

(৬)       সিরাজ সিকদারকে খুন করে পবিত্র পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে সিরাজ সিকাদার আজ কোথায় বলে দম্ভকারী শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসি চাই।

(৭)       জনগণের ভোট দেয়ার অধিকার, মিছিল করার অধিকার, দল করার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণসহ সংবিধানের মৌলিক অধিকার হরণ করে জাতির উপর একদলীয় (বাকশাল) শাসন শোষন চাপিয়ে দেয়ার অপরাধে শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর বিচার চাই, শাস্তি চাই।

বাবার পর মেয়ের উপর ক্ষ্যাপা মুক্তিযোদ্ধা রেন্টু। এসব কি বিনা কারণে, বিবেককে প্রশ্ন করেন।

(ক) শেখ হাছিনা ভারত থেকে দেশে এসে সন্ত্রাসী, চোরাকারবারী, কালোবাজারী, ঘোষখোরদের রাজনীতির চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছে এবং রাজনীতি থেকে সকল প্রকার নীতি আদর্শ ঝেটিয়ে বিদায় করে প্রতিষ্ঠিত করেছে নীতিহীন এক রাজনীতি, এই অপরাধে শেখ হাছিনার বিচার চাই শাস্তি চাই।

(খ) ভারতে বসে স্বাধীনতার ঘোষক মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করে এবং ১৯৮১ সালের ৩১শে মে তা বাস্তবায়িত করার অপরাধে শেখ হাছিনার ফাঁসি চাই।

(গ) ১৯৮২ সালে গনগণ কর্তৃক নির্বাচিত বিএনপি সরকার উৎখাত করে সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অপরাধে শেখ হাছিনার বিচার চাই, শাস্তি চাই।

(ঘ) সামরিক স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদকে হাতের মুঠোয় রাখার জন্য, ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা, ছাত্র আন্দোলনের নামে ’৮৩র মধ্য ফেব্রুয়ারী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র জাফর ও জয়নাল এবং ’৮৪এর ফেব্রুয়ারীতে সেলিম ও দেলোয়ার হত্যার অপরাধে শেখ হাছিনার ফাঁসি চাই।

(ঙ) ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে সার্ক শীর্ষ সম্মেলণ পন্ড করার জন্য হিন্দু মুসলমান সাম্প্রদায়িক রায়ট লাগিয়ে দেওয়ার অপরাধে শেখ হাছিনার বিচার চাই, শাস্তি চাই।

(চ) ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের মার্চ পর্যন্ত আন্দোলনের ইস্যু তৈরী করার জন্য ঢাকা শহরে ১০৩ জন নিরীহ অজ্ঞাতনামা সাধারণ মানুষকে খুন করার অপরাধে শেখ হাছিনার ফাঁসি চাই।

বইটি পড়া প্রতিটি বাংলাদেশীর অবশ্য অবশ্য কর্তব্য। স্বাধীনতার শুরু থেকেই এরা দাগী আসামী। জেলখানায় চার নেতার মৃত্যু কেন, এদের প্রতি এ অভিযোগও তিনি করেছেন। আলোচনার বদলে নিরবতা ষড়যন্ত্রকথা! শেখ মুজিব ইচ্ছাকৃতভাবেই পাকিস্তানীদের হাতে ধরা দেন! ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার বিপ্লব ছিল মুজিবের বাকশাল ও ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ!  ৮১ সালের ২৩শে ২৪শে মে টিএসসি তৃতীয় তলাতে কর্ণেল শওকত আলীর বয়ানে ছিল, “জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম গেলে —– মেজর জেনারেল মঞ্জুরের নেতৃত্বে জিয়া হত্যা হবে। এ হত্যাকান্ডের ব্যাপারে হাছিনা জ্ঞাত থেকে কাজ করতেও নির্দেশ দিয়েছেন। ধূর্ত এরশাদ মঞ্জুরকে ত্বরায় হত্যার নির্দেশ দিয়ে নিজের অপরাধ ঢাকে। এরশাদের দাগী অপরাধীরাই জেল থেকে খালাস পাওয়া ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ডাঃ মিলনকে হত্যা করে। ঢাকা শহরের গুন্ডা বদমাইশদের হাতে নগদ পাঁচলক্ষ টাকা দিয়ে লুট হয় ঢাকেশ্বরী মন্দীর, রামকৃষ্ণ মিশন, তাতিবাজার, শাখারিপট্টি, ——- সার্ক সম্মেলন পন্ড করা হয় হাছিনার নির্দেশে।  সচিবদেরে ন্যাংটা করে ফেলার নির্দেশও ছিল হাছিনার। একজন আলমকে সচিবদের ন্যাংটা করার দায়িত্ব দিলেন। (ঐ গ্রন্থ, ১৬২ পৃষ্ঠা)। জেনারেল নাসিম বীর বিক্রমকে শেখ হাছিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করার প্রস্তাব দেন। ২০শে মে ’৯৬এর ক্যু দে তা’র পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে ভারতীয় সেনা সমাবেশ কলাম থেকে “দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সেনাবাহিনীর শৃংখলা বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল নাসিমকে সেনাবাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান বিশ^াস বরখাস্ত করেন। প্রেসিডেন্ট যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলে এ দেশ ঐ দিনই একটি দেশের গোয়েন্দা ষড়যন্ত্রের ব্লু প্রিণ্টে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে দাঁড় করিয়ে দিতে পারতো (বাংলাদেশে ‘র’ আবু রুশদ পৃষ্ঠা ১৯২)। জনতার মঞ্চের আয়োজনে ও কলকাঠিতে শেখ হাছিনা। এক কথায় এ জাতির প্রতিটি দুর্যোগে দুর্ভোগে শেখ হাছিনা সরাসরি জড়িত। সমস্ত জাতি চোখ থাকতেও অন্ধ সিনেমার গোলাপীর মত পথ হাতড়ে চলেছে। এরপরও বাপ বেটির ঢোল কিভাবে পেটাবে বিবেকসম্পন্ন জনতা? প্রশ্ন সেটাই।তিহাস কথা কয়। কি কারণে একজন মুক্তিযোদ্ধা মরণের ভয় না করেও এমন প্রতিবাদ করে গেলেন, যখন ক্ষমতায় হাছিনা। যুগে যুগে জাতির স্যালুট এমন ত্যাগী মুক্তিযোদ্ধার পাওনা! ইসলামে একেই বলে জিহাদ, শত ষড়যন্ত্রেও সত্য প্রকাশ করার সাহস ঐ সব অসাধারণদের অর্জন। শুধু ইতিহাস কথা বলে না, বর্তমানও কথা বলছে। তার বাস্তব প্রমান সব জনতার চোখের সামনেই স্পষ্ট। একজন প্রাইভেট সেক্রেটারী হিসাবে ২২ বছর আগে দেখার শেষটা আর শুরুটা ৪০/৪১ বছর আগ থেকেই তিনি পরখ করছেন হাছিনার আচরণ গতিবিধি কাছ থেকে ঘরে থেকে। রেন্টু প্রথমে তার নিজের ফাঁসি চেয়ে বইএর নাম করেন। কারণ তিনি জেনেও এসব চেপে ছিলেন, এই অপরাধে! পরবতীতে যে দুজনের ফাঁসি চেয়েছিলেন তারা, বাপ বেটি! মুক্তিযোদ্ধা রেন্টুর রায়ে ফাঁসির আসামী!

(০২/০২/ ২০২০) = ফেব্রুয়ারীর ২, ২০২০।

 

নাজমা মোস্তফা

শান্তিময় দাসত্ব থেকে অশান্ত ভয়ের স্বাধীনতা উত্তম। উক্তিটি থমাস জেফারসনের। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর উত্তম উদাহরণ হিসাবে বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে একটি সাউথএশিয়া জার্নালে প্রকাশিত “Bangladesh: An Enslaved Nation? (Part 1) November 30, 2019 by R. Chowdhury লেখাটি ছাপে। যুদ্ধ ও গুলি ছাড়াই কিভাবে ভারত তার উদরে দেশটিকে ঢুকিয়ে দেয়ার সব কসরত সার্থকভাবে করছে তার চিত্র ফুটে উঠেছে ঐ লেখাটিতে। ৯০% মুসলিমদের দেশটিতে ভারতীয় সংস্কৃতির ভাগাড় করাসহ বাংলাদেশের এ দাস সরকার গণতন্ত্রের পথিকৃত তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে শিকল পরিয়ে রেখেছে। কোন মানুষ ছাত্র নেতা শিক্ষক সাংবাদিক রাজনীতিবিদ স্বাধীনভাবে নিজের কষ্টও ব্যক্ত করতে পারে না। আজো মনে পড়ে স্বাধীনতা পরবর্তী ২৫ বছর চুক্তিটি জানতাম গোলামী চুক্তি হিসাবে, কিন্তু এটাকে ঘুরিয়ে প্রচার করা হতো মৈত্রী চুক্তি নামে। গোলামীর ঐ দড়ি সেদিনই সচেতনরা টের পায়। এর মূল শর্তগুলি বেশ ঢাকা ছিল। মানুষ দোটানার মাঝে ছিল দাসত্ব না মৈত্রী। আমার মনে পড়ে ঐ সময় এর উপর একটি লেখা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলার এক শিক্ষক আব্দুস সাত্তার সাহেব এর উপর তার নিজের লেখা একটি কপি দিয়েছিলেন, আমি খুব সযতনে সেটি আমার ফাইলে রেখেছিলাম। পরে কোনভাবে সেটি হারিয়ে ফেলি অন্য কিছু জরুরী কাগজপত্রের সাথে। ৭১ পরবর্তী এমন কোন আচরণ চোখে পড়ে নাই, যাতে ভারতকে পরম বন্ধু মনে করা যায়। বরং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা চোখে পড়েছে। অবৈধ দখলদার সরকার টিকে আছে তাদের সহযোগিতায়। যার কারণে শত অনাচারেও প্রতিবাদ প্রতিরোধ না করে সীমাহীন নীরবতা বাংলাদেশকে বিপন্ন করেছে। বাংলাদেশ আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা শাসক থমাস জেফারসন মানুষের জন্য স্বাধীনতার যে স্বপ্ন দেখতেন সেটি আজ মুজিব কন্যা পুরোটাই ধ্বংস করে দিয়ে বাংলাদেশের জন্য সংকট সৃষ্টি করে চলেছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি যে কত ভয়ংকর বিপন্ন সেটি একটি কলামে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। এমন পরাধীনতা পাকিস্তান আমলেও জাতি পরখ করে নাই, বৃটিশ আমলেও না। দেখা গেছে বৃটিশরা সাক্ষী মারা গেলে প্রমাণের অভাবে দোষী ব্যক্তিকেও ছেড়ে দিয়েছে। আর এ সরকারের সময় ফাঁসির রায় প্রাপ্ত মানুষকে দোষী হিসাবে পাকাপোক্ত করতে কারাগারের এজলাশেও মাথায় জঙ্গি টুপি পরানো যায়। যাকে তাকে জঙ্গি সাজানো যায়, হাটে ঘাটে মাঠে কেউ নিরাপদ নয়। লাশ গুম হত্যা রক্ত জঙ্গিপনা চাপানো যায় যে কোন নির্দোষের ঘাড়ে এ যেন মগের মুলুক।   

 

ভারতের সাথে কি চুক্তি হয়েছে বিএনপি জানতে চাইলেও সরকার নড়ে নাই। এবার তারা তথ্য প্রযুক্তিতে মামলা করবেন বলে ঠিক হয়েছে। তারা যা চুক্তি করেছে তাতে ন্যুনতম অর্জন না রেখেই একতরফা চুক্তি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার, ফেনী নদীর পানির ব্যবহার, ট্রেন যোগাযোগে বাংলাদেশের ভারতের বিশাল ব্যয়ভার আমদানী রপ্তানীর সব খতিয়ান বাংলাদেশের উপর জেকে বসে, বিনা শুল্কে ট্রানজিট সুবিধা, ফেনী নদীর চুক্তিতে বিপর্যস্ত হবে মোহুরীর সেচ প্রকল্প, মৎস্য শিল্প ধ্বংস গুণছে, পরিবেশ হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে। চুক্তির আগ থেকেই সুবিধাবাদী ভারত বাঁধ দিয়ে সারা দেশ শুকিয়ে খরাতে বিরান করে রাখতে সাহায্য করে থাকে, সেখানে ভারতকে এমন অবারিত বাংলাদেশ সরকারের অপ্রকাশিত লুকানো দান, বিএনপির মামলার সংখ্যা ২৬ লাখ থেকে ৩৫ লাখে পৌচেছে। টিউলিপের বরাতে কম্পিউটার কেনার গোজামেল কথার স্পষ্ট জবাব দেন বিএনপির বক্তারা। আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের দ্বিগুণ দামে কেনা সব কম্পিউটার কেনাতে কোম্পানীর স্বার্থকেই বড় করে দেখা হয়েছে। সেটি মূলত বাংলাদেশের স্বার্থবিরুদ্ধে চুক্তির অংশ ছিল। যেখানে পরবর্তীতে বিএনপি সরকার ন্যায্যমূল্যে কম্পিউটার কিনেছিল। পরে চুক্তি মাফিক ৫০ কোটি টাকা নেদারল্যান্ড সরকার দেয়নি। কথাছিল ঐ ক্ষতিপূরণ তাদের দেয়ার।  নেদারল্যান্ডসের নামে যে মিথ্যাচার গল্প প্রধানমন্ত্রী সাজিয়েছেন তার জবাব দেয়া হয় এভাবে। উপর্যুপরি তিনি তার সব অপকর্ম ঢাকার প্রয়াস চালান। সে চুক্তি কেন বাতিল হয়, দুর্নীতির প্রধান ৩ বড় কারণে ওটি বাতিল হয়, প্রধানমন্ত্রীর বোনের মেয়ে টিউলিপ নামের জন্য নয়। তার সবকটি কারণ বিএনপির রিজভী স্পষ্ট করেন। ওটিও ছিল আজকের মতই করা দুর্নীতি ও স্বার্থবিরোধী চুক্তির ধারাবাহিক নমুনার অংশ। দেশের স্বার্থের বিপরীতে উচ্চদামে করা কম্পিউটার চুক্তি, ডঃ মশিয়ুর রহমান ছুটির দিনে ঐ চুক্তি করেন ১০,০০০ কম্পিউটার কেনা হয় উভয় দেশের শেয়ারে। পরে গোজামিল সামলাতে ক্ষতিপূরণ উসল না করে উল্টো তাদের আমলে মোঃ আলী সরকার ২ মিলিয়ন ১৩০ হাজার ইউরো পৌছে দেন কঠোর গোপনীয়তার সাথে। তবে বাতিল হওয়ার কারণে সম্ভবত বাংলাদেশের ভাগে কোন প্রাপ্তি জমে নাই। মোট কথা হচ্ছে টিউলিপ নাটকের যে অবতারণা হাসিনা করেছিলেন, সেটি ধোপে টেকে নি।

 

কিছু দিন আগে ভারতের সংবাদ মাধ্যমেও দেখলাম মোদির নির্দেশে মানুষ মুসলিমদের দোষী সাব্যস্ত করতে লুঙ্গি পরে ট্রেনে আগুন দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা সেটি অনেক সভাতে প্রকাশ করে জনতাকে সাবধান করছিলেন। যার কারণে এরা হাতেনাতে ধরাও পড়ে, যার জন্য এটি বলা সম্ভব হচ্ছে। ধরা না পড়লে মুসলিমরাই স্থায়ী আসামী হতো। ২০০২ সালে করা গুজরাটের ঐ আগুনও ওরকমই ছিল। যার জের ধরে ২/৩০০০ মুসলিমকে ময়দানে মারা হয়, কত নারী সম্ভ্রম হারায়, লাশ হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার এসব ঘটনা ভারতের নিত্যদিনের ঘটনা। সেখানে হাজার হাজার দাঙ্গা হয়, যা ভাবতেও গাঁ শিউরে উঠে। নিউজ টিভির খবর ও প্রথম আলোর বরাতে প্রকাশ ৩৫,০০০ কোটি টাকা নিয়ে চম্পট প্রশান্ত কুমার হাওলাদার। ২০১৪ সালের আগে পরের লুটপাটের এ মহানায়ক অতীতেও সব ধরণের সাহায্য সহযোগিতাও পেয়েছেন সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। তিনি একা নন, তার পারিবারিক দলবল নিয়ে এসব করছেন। এত করেও অর্থসহ পালিয়ে যেতে পেরেছেন সার্থকভাবে। গত দশ বছরে দেড় হাজারেরও বেশী বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের নামে এসব আরো সহজ হয়েছে। ভুক্তভোগীর হিসাব মত এটি ২,০০০ এরও বেশী। ভিন্ন মতের কারণে ৩৫লাখের বিরুদ্ধে মামলা, গুম ১,০০০ গ্রেফতার খুন খুব সহজ বাস্তবতা। প্রতিবাদে কাউকে রাস্তায় নামতে দেয়া হয়না, কার্যালয় ঘিরে রাখা হয়। কারণ নীতিহারা সরকারের ভিত নড়বড়ে। মানুষ দেখলে ভয় পায়। মানবাধিকার লংঘন করা সরকার পাশবিক বলেই ক্ষমতা ধরে আছে। ফাঁকে ফাঁকে উপদেশ বিলির নাটক চলমান আছে। একদিনের আওয়ামী নেতা ডাঃ কামাল বলেন, ৪৮ বছর পর একটি স্বাধীন দেশে মানুষকে লড়তে হচ্ছে অস্তিত্ব রক্ষার্থে। আইনের কর্তা মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বিচারক নিয়োগের আগে কোন তদন্ত হয় না, আর নিয়োগে কোন আইন মানা হয় না। সব কাজেই কি অপরিসীম দক্ষ এ সরকার এ তার নমুনা মাত্র! তারপরও সরকার বলতেই পারে এসব মদীনার সনদের অংশ।

 

মজনু নামটি খাসা, এরা সময় সুযোগে ভার্সিটির লাইলিদের ধর্ষণ করে। সাম্প্রতিক সময়ে এটি সরকারী পাগলামি মঞ্চনাটকের অরেক নমুনা। মুখ দাতঁ বের করে রাখা এ প্রতিবন্ধীকে জাহাঙ্গির বিশ^দ্যিালয়ের সেঞ্চুরী করা মানিকের সাথে দেখতে অভ্যস্ত সরকার। শতবার ধর্ষনকারী মানিক নিরাপদ থেকেছে, বিচার বরাদ্দ হয়নি, বরং অনেক তথ্যে সরকারী প্রমোট পেয়েছে। দাঁত কেলিয়ে থাকা হাঁ করা মজনু মিয়ার রক্ষে নেই, ডিএনএর প্রমাণ সরকারের হাতে। চরম অসুস্থ খালেদা জিয়ার সুস্থ সার্টিফিকেটও সরকারের হাতে। এটিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রেডি রেখেছে, গড়গড় বলে দেয়। ডিজিট্যাল বাংলাদেশে ল্যাবেও দৌড়ানোর গরজ কম, কারণ দেশ উন্নয়নের মহাসড়ক। বিনাভোটের সরকার গদিতে। আজ ২৬ জানুয়ারী দেখলাম প্রধানমন্ত্রী বলছেন খেলাধুলার মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক গড়ে তুলতে চাই। মানবিক অর্জণে শূন্যের কোঠায় নেমে সারা দেশ রসাতলে গিয়েও যদি খেলাই জাতির একমাত্র টিকে থাকার মানদন্ড হয়, তবে এ জাতির মরণ বড়ই সন্নিকটে, যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এ দেশে এ খেলায়াড় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কারো চাওয়া পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। ময়নাতদন্ত, ডিএনএ, ইভিএম, হলি আর্টিজেন, জঙ্গি নাটক সবই সহজভাবে এ মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশের সরকারের পক্ষে সাজানো সম্ভব। এর মাঝে ভারতের অমিত সাহা ও মোদির নাটকে যে ভেজাল ছিল সেটি সম্প্রতি স্পষ্ট হয়। জাকির নায়েকের স্বীকারুক্তিতে জানা যায় বোঝাপড়ার শর্তবদ্ধ প্রস্তাব মোদি দিয়েছেন জাকির নায়েককে, শর্ত হচ্ছে কাশ্মীর শোডাউনকে পজিটিভ ধরে স্বীকার করে সুকর্ম বললে তার বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করে তাকে নির্দোষ করতে তিনি রাজি। তখন তিনি হবেন ধুয়ো তুলসি পাতা, ফুলের মত পবিত্র একজন। ঐ প্রস্তাবইতো জাকির নায়েককে ধুয়ে ফুলের মত পবিত্র করে দিল! এতেই জাকির নায়েকের নির্মলতা ও স্বচ্ছতা স্পষ্ট ।  মোদি হাসিনার সবই ছিল সাজানো হামলা মামলা! একজন সত্য সেবককে মিথ্যায় ফাঁসিয়ে কবরের পাশে কুরআন তিলাওয়াত করলে কি আল্লাহ সাত খুন মাফ করে দিবে বলে মনে হয়। সিরাতুল মোসতাকিম’ অর্থে সহজ সরল ধর্ম হলেও সত্য বিরোধী মানবিক নীতি বিরোধী প্রতিটি আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এ ধর্মে। । কষ্টের কথাটি হচ্ছে পিস টিভি বন্ধের নাটকে মোদির সাথে আমাদের মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও মোদি নষ্ট করে ছাড়লেন! মোদি ভিন দেশের কর্তা, তার সাথে তালিয়া বাজাতে সরকার কেন তার স্বকীয়তা অস্তিত্ব সবই হারায়। এখানে তারা উভয়েই এক খোরে মাথা মোড়ানোর দল। এরা দোষী এটি প্রমাণ করতে আর কয়টি সিল সার্টিফিকেট লাগবে? সর্বাঙ্গে এত দুর্গন্ধ কেন?  ফুলের মত পবিত্র করার একটি দাগও কেন বাংলাদেশ সরকারের নেই? সব নষ্ট নাটকের প্লাবনে ভরা। আবারো নির্বাচন আবারো ধরা খাওয়া। চরিত্র হারানোর দায় সরকারের চেয়ে বেশী আর কোন প্রতিবন্ধী মজনুর আমলনামায় আছে কি? 

লেখার সময়: ২৫ অক্টোবর ২০২০ সাল।

বি দ্র: উপরের পুরো লেখাই নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ কলামে ছাপে জানুয়ারীর ২৪ তারিখ ২০২০ সালে।

 

নাজমা মোস্তফা

এখানে আমার দুটি লেখার শিরোনাম। প্রথম শিরোনামটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য জমা এক ভয়ংকর সংকেত। ক্রমাগত অনাচার দেশে চলমান আছে ও ধামাচাপায়ও সমান তালে তালিয়া বাজানো হচ্ছে। এর পরে আনবো ২০১২ সালে আমার দেশে ছাপা হওয়া একটি মৃত্যু ও সারিবাধা প্রশ্ন ও ধামাচাপা সংবাদ। পাঠক উপরের অংশটি পড়ে নীচের অংশটি মেলাতে ভুলবেন না। বাংলাদেশের বিএনপির নেতা ও জনতারা তাদের দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার নামে স্লোপয়জনিংএর আশংকা করছেন।  দলের সিনিয়র মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ০৪ এপ্রিল ২০১৯ বৃহষ্পতিবার এ আশংকা ব্যক্ত করেছেন, মুখ সিলকরা মিডিয়াও এটি প্রকাশ করেছে।  সরকার  থেকে যা বলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। তাদের চিহ্নিত ডাক্তারদের বক্তব্যও সঠিক নয়। যেখানে কারাগারে গেলে ঐ ডাক্তাররা বলেন তিনি গুরুতর অসুস্থ আবার হাসপাতালে আসলে পরে পরিচালক বলে দিলেন তার অসুস্থতা গুরুতর নয়। সবার শংকা সরকারের চাপে কর্তৃপক্ষ এমন করছেন চাকরী ও পদ ধরে রাখার খাতিরে, খালেদা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে ‘রাজার হালে আছেন’ বলতে মুখে বাধে না তার। ঐ যুক্তির পক্ষে অর্ডারী কর্তৃপক্ষও হাটি হাটি পা রাখছে। এ আচরণ অবৈধ পথের অর্জনধারী সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট। আদালত, হাসপাতালেও সরকারী হস্তক্ষেপের নজির এসব। আবরার হত্যায় অপরাধীর পক্ষে সিসিটিভির ফুটেজে ধামাচাপায়ও মুখর প্রতিবাদী প্রধানমন্ত্রী। তিনি একবার নন, বার বার ধরা খান তবে কোন লজ্জাবোধ করেন না।

গত সোমবার ২৩ ডিসেম্বার ২০১৯ কারাগার থেকে হাসপাতালে আসার এক ঘন্টা পরই বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম মাহবুবুল হক সংবাদ ব্রিফিংএ বলেছিলেন, চিকিৎসা শুরু হয়েছে উনি সুস্থ আছেন। রিজভীর দাবী কোন ধরণের উন্নত চিকিৎসা তাকে দেয়া হয়নি। তার ফ্রোজেন শোল্ডারসহ ডানহাত বামহাত নাড়ার শক্তি রহিত হচ্ছে, হাটতে পারছেন না। যেখানে গত বছর ফ্রেব্রুয়ারীতে তিনি কারাগারে গেলেন নিজে হেটে, আজ তাকে হুইল চেয়ার ব্যবহার করতে হয়। রিজভীদের ভয় সরকার কারাগারের ভিতরই কি স্লোপয়জনিংএর কোন ব্যবস্থা করছে কি না। না হলে কেনো তিনি এভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়ছেন। আমরা শুনছি তার ব্লাড সুগার নামছে না, ১৬/১৭ উঠে, খুব একটা নামে না। সরকার ও তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা কি যে করছে তার প্রমাণ গত বনানী এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের সময় কিভাবে সেই শিশু ছেলেটিকে সরকারী প্রপাগান্ডাতে নামানো হলো সেটি জাতি দেখেছে। মুখ দিয়ে বলানো হলো টাকাগুলি এতিম খানাতে দিয়ে দিবে, এর কারণও খালেদা। শয়নে স্বপনে ঐ জপমালা সরকারের পুথিবিদ্যা। মাইক হাতে নিলেই তাকে চপলা বালিকার মত এসব আবোলতাবোল বলতে শুনা যায়। মানুষ শুনে আর ধিক্কার দেয়। এটি হচ্ছে চলমান বাংলাদেশ ও তার রাজনীতির এক উদাহরণীয় প্রমাণ। সত্য ও মিথ্যার দ্বন্ধ ময়দানে প্রকট, এরা চায় গোটা জাতি মিথ্যুক হোক, শুধু তারা কিছু দলদাস টিকে থাকুক, বাকীরা ধ্বসে যাক। পুলিশ প্রশাসন আদালত হাসপাতাল কোথাও কোন মানবতা কার্যকর নয়, সর্বত্র পাশবিকতা। আরবাররা লাশ আর নূরেরা মৃত্যুর ময়দানে। নূরেরা বেঁচে যাওয়াতে তারা বাড়তি নাটক করতেও ভুলে না, নির্লজ্জের মত মাথায় হাত বুলিয়ে তারা প্রতারণা ঢাকতে ছুটে যায়। মূল দাগীগুলোকে সহজে ধরে না, বরং বাঁচানোর কসরত চালায়। বেকায়দায় পড়লে প্রতিবন্দি মজনুদের দিয়ে নাটক চলমান রাখে। গদি রক্ষার কিছু দরদ দেখাতে চাইলেও ভেতরের কপটতা ঢাকা থাকে না, দালালীটাও দেখা যায়, শোনাও যায়। অল্প সময়ের জন্যও তারা দালালী থেকে সরে না। এরা এভাবে গোটা জাতিকে স্লোপয়জনিং দিয়ে অবচেতন করে রেখেছে। এক আল্লাহর অলৌকিক সাহায্য ছাড়া এ জাতির বাঁচার সুযোগ প্রায় শূণ্যের কোঠায়, উদ্বেগে উৎকন্ঠায় জাতি জটিল সময় পার করছে। লেখার সময় ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯।

 

একটি মৃত্যু সারিবাঁধা প্রশ্ন

মানুষ অনেক সত্যকে চাপা দিয়ে রাখে খুব কৌশলে, কিন্তু দেখা যায় কৌশলী কোনো এক সত্তা সেটির জট অনেক পরে হলেও খুলে দেয়। কোনো সত্যই চিরদিনের জন্য চাপা থাকে না। মাঝে কয়টি বছর হয়তো জনতা এর বাস্তবতা থেকে দূরে থাকে। ভুল খবরে সবাই বিশ্বাসী হয়ে ওঠে। গোটা বিশ্বে টেররিস্টের গুঞ্জন আকাশে-বাতাসে। একবিংশ শতকে এটি বেশ মোটাতাজা খবর বলা চলে। কোণঠাসা হয়ে পড়া মুসলমান পরিচয়ের জনতা এর জরুর আসামি। কিন্তু বাস্তবের সন্ত্রাসীরা যেন আর মিডিয়াতে কোনোভাবেই জায়গা করতে পারে না। দেরিতে হলেও যখন দখিনা বাতাস কিছু ছিটেফোঁটা প্রমাণ আমাদের দুয়ারে এনে পৌঁছে দেয়, তখন তা অবশ্যই মনকে নাড়া দেয়। এটি সত্য যে, নিশ্চয় কে বা কারা এর পেছনে দিবারাত্র কাঠখড় পুড়িয়ে যাচ্ছে, ইন্ধন জোগাচ্ছে। এরা সাধারণের চোখে ধরা পড়ে না বেশিরভাগ মিডিয়ার কারসাজিতে। তবে মিডিয়াতে যেটি খুব সোচ্চার হয়ে আসে, তার সুবাস-কুবাস সবই ছড়ায় খুব দ্রুত। একটি খবর ছড়াতে আজ মুহূর্তও সময় লাগে না। গোটা বিশ্বে জঙ্গি টেররিস্ট নামের জটিল প্রচারে সবাই বেশ সিদ্ধ। মনে মনে সবার জানা, কারা আজ টেররিস্ট। কিন্তু যখন অপর পিঠে হালকা মেজাজের কিছু গভীর জটিল খবরও ধরা পড়ে, তার পরও সেটি বেশ চাপা থাকে। না হলে কোনো সত্য চাপা থাকে না, থাকতে পারে না। যদি সেটি চাপা থাকে তাহলে বুঝতে হবে, এসব ছলবাজি দুনিয়ার কৌশলমাত্র। আজ এরকম একটি চাপা দেয়া অতীত কথা আলোচনা করব, যা সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে।

একটি মৃত্যু যার প্রায় আট বছর হতে চলছে, যিনি ছিলেন একজন সংগ্রামী মানুষ, একটি নির্যাতিত জনপদের মুক্তির জন্য নিবেদিতপ্রাণ এক সত্তা তার নাম ইয়াসির আরাফাত। ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনতার সপক্ষে আন্দোলনরত এ ব্যক্তির সংগ্রামী জীবনের কথা বর্তমান সময়কার সচেতন মানুষ কম-বেশি সবাই জানেন। ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান এবং পশ্চিম তীরের হেডকোয়ার্টার্সের কাছেই তাকে সমাহিত করা হয়। যখন তিনি মারা যান, তখন শোনা যায় লিভার সিরোসিসে তিনি মারা যান। কিন্তু অতি সমপ্রতি কিছু গবেষকের কাছে ভিন্ন খবর ঠাঁই পাচ্ছে। খবরে ধারণা করা হচ্ছে, ফিলিস্তিনের এ নেতা পলোনিয়াম বিষে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আল জাজিরা টিভি চ্যানেল রিপোর্ট করে, বিজ্ঞানীরা তার ব্যবহার্য জিনিসপত্রের মাঝে অব্যাখ্যাকৃত অস্বাভাবিক পলোনিয়াম ২১০-এর সন্ধান পান। কাতারের সংবাদ সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে আল জাজিরা ৪ জুলাই এটি প্রচার করে। সুইস গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত লসেইন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণাতে ধরা পড়ে, উচ্চমানের পলোনিয়াম তার ব্যবহার করা জিনিসপত্র, যেমন কাপড়চোপড়, টুথব্রাশ, তার মাথার বস্ত্রাবরণ, আন্ডারওয়্যার এসবের মাঝে পাওয়া যায়। এই ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ড. ফ্রাংকইস বচোড টিভি চ্যানেলকে বলেন, আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, ব্যাখ্যা না করা উচ্চমাত্রার অসাধারণ পলোনিয়াম ২১০-এর বায়োলজিক্যাল ফ্লুইডের প্রমাণ এ গবেষণাতে ধরা পড়েছে। এই সংস্থার লসেইন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এখন আরাফাতের শরীর, হাড় ও তার কবরের মাটি পরীক্ষা করার কথা বলছেন। এদিকে আরাফাতের বিধবা স্ত্রী সুহা ফিলিস্তিনি সংস্থার কাছে এসব পরীক্ষার অনুমোদন চেয়েছেন। সুহা আরও বলছেন, এতে তার বুকের ওপর কিছু চাপ কমবে। অন্তত ফিলিস্তিনি জনগণ, আরব ও মুসলমানদের বোঝানো যাবে যে, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত অপরাধমূলক মৃত্যু। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ইয়াসির আরাফাতের দেহ পরীক্ষা না করার কোনো কারণ থাকতে পারে না, তার বিষক্রিয়ায় মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

আরাফাত ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে মারা যান। সেখানে চারদিকে গুজব ছিল যে, তিনি লিভার সিরোসিসে বা ক্যানসারে বা এইডসে মারা গেছেন। ওই পরীক্ষার সঙ্গে জড়িত সুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিনের প্রধান প্যাট্রিস ম্যানজিন বলেন, তার কোনো লিভার সিরোসিস হয়নি, কোনো ক্যানসারের লক্ষণ পাওয়া যায়নি, লিউকিউমিয়া, এইচআইভি বা এইডসও ছিল না। খবরে প্রকাশ, তিনি মারা যাওয়ার আগে ওজন হারানোর সমস্যা, ভীষণ বমিপ্রবণতা এবং ডায়রিয়ায় ভুগছিলেন। এখানকার সবক’টি লক্ষণই ওই বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাকেই সুস্পষ্ট করছে। জানা যায়, আলেকজান্ডার লিটভিনেস্কো নামে একজন রাশিয়ান সিকিউরিটি এজেন্ট ২০০৬ সালে একই রকম জটিলতা নিয়ে মারা যান ওই পলোনিয়াম বিষক্রিয়ার কারণে। এ ঘটনাটিও ইয়াসির আরাফাত মারা যাওয়ার মাত্র দু’বছর পরের ঘটনা। এটিও আল জাজিরা টিভি চ্যানেলের খবরে উল্লেখ করা হয়। ২০০৬ সালে মারা গেলে তার ব্যবহার করা জিনিসপত্রে উচ্চমাত্রায় এ তেজস্ক্রিয় বিষের সন্ধান পাওয়া যায়।

ব্রিটিশ সাংবাদিক জর্জ গ্যালওয়ে নীতির প্রশ্নে সত্য প্রচারের কারণে এর গভীরে ঢুকতে তৎপর  থেকেছেন। তিনি একাধারে সাংবাদিক, রাজনীতিক ও গ্রন্থকার। তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার জীবনের এক বড় অংশ এ ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন। এ বিষ পারমাণবিক বিষক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত একটি বিষ। সঙ্গত কারণেই এটি যে কারও কাছেই থাকার কথা নয়। যারা পারমাণবিক অস্ত্রে সক্রিয় ক্ষমতা অর্জন করেছে, একমাত্র তারাই এটি প্রয়োগ করতে পারে। জর্জ গ্যালওয়ে এটিও সুস্পষ্ট করেন মাত্র কিছু আগে ইসরাইলের এরিয়েল শ্যারন ও এহুদ এলমার্ট এটি প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইয়াসির আরাফাতের কোনো ক্ষতি করতে না পারার যে ওয়াদা ছিল, সেটি এর মাঝে শিথিল নয়, একদম বাতিল হয়েছিল। এমন কি শ্যারন এটিও সুস্পষ্ট করেন যে ইসরাইলের কোনো কর্মকাণ্ডের জবাবে ফিলিস্তিনের ওই নেতার কোনো বীমার পলিসিও কার্যকর নয়। এগুলো সবই প্রশ্ন; শুধু এটিই নয়, আরও বহু প্রশ্ন জমেছে এরই মাঝে। এগুলো হচ্ছে, ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল বছর হিসেবে আজকের যুগে এটি খুব কম সময় নয়। কেন এতবড় একটি সময়ের কালক্ষেপণ? ফ্রান্স কেন এটি সে সময় খতিয়ে দেখার দরকার বোধ করল না? একজন স্বনামধন্য নেতার বিষয়টি কেন পোস্টমর্টেমের পর্যায় পর্যন্ত গেল না? কী কারণে ওইসব রক্তের, প্রস্রাবের, ঘামের সব রিপোর্ট ধ্বংস করা হলো? যদিও ফ্রান্সের গতানুগতিক নিয়মে তারা এসব দশ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখে এক্ষেত্রে কেন তার ব্যতিক্রম হলো? কী কারণে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে এতই নীরব ভূমিকা পালন করছে এসব সারিবাঁধা প্রশ্ন গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলের সঙ্গে আরও প্রশ্নের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। তবে ফিলিস্তিনের জনতা তাদের ৭৫ বছর বয়স্ক প্রয়াত নেতার প্রকৃত খবর জানতে চায়। আমরাও বাকি বিশ্বের জনতা সত্য উদঘাটনের অপেক্ষাতে উন্মুখ হয়ে রইলাম।

বি দ্র: উপরের পুরো লেখাই নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ কলামে ছাপে জানুয়ারীর ১৭ তারিখ ২০২০ সালে। তবে নীচের লেখাটি  ২০১২ সালের জুনের ২১ তারিখ আমার দেশ পত্রিকার অনলাইনে ছাপা হয়।

নাজমা মোস্তফা

সম্প্রতি গত শুক্রবার রাতের প্রথম প্রহরে ইরানের জেনারেল কাসেম সুলাইমানি মার্কিণ সেনাদের হাতে নিহত হন। মুসলিম বিশে^ শিয়া সুন্নীরা উভয়েই বলেন তারা মুসলিম, কিন্তু কুরআন এরকম বিভক্তি স্বীকার করে না। সে হিসাবে এ বিভক্তি কখনোই ধর্ম ইসলাম কুরআন দ্বারা অনুমোদন পায় না। কুরআনে নবীকে বলা হয়েছে, ‘যারা ধর্মকে বিভক্ত করেছে তাদের ব্যাপারে তোমার কোন দায় নেই’ (আল আনআম এর ১৬০ আয়াত)। এই সুবাদে এক দলের বিরুদ্ধে লেলিয়ে আরেক দলকে কবজা করার যে নীতি তাকেও সমর্থন করা যায় না। এ যাবত এরা একে অন্যের গুটি হয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। আর মধ্যসত্ত্ব লোভীরা এর থেকে উপকৃত হচ্ছে। ইসলামের প্রতিটি মাথাকে ঠান্ডা রেখে ঘটনাগুলি বিশ্লেষণ জরুরী। সুন্নী অনেকেই বলেন শিয়ারাই একমাত্র দোষী। কিন্তু নীতির কথাটি প্রকৃত দোষী খোঁজা, পক্ষপাত নয়। সুন্নী দোষী হলে তাদেরও ধরা উচিত, নয়তো ন্যায়বিচার অসম্ভব।   

এবার যদি বর্তমান বিশ্বের সংঘাতময় অবস্থানের দিকে তাকাই, শিয়া সুন্নী চালের গুটি বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে স্বজাতি নিধনের উত্তম হাতিয়ার হয়ে। এত গভীর ক্ষতের পরও ইরাক ইরানের শিয়াদের মাঝে একটি গোত্রীয় একতা ছিলই, আমেরিকা এখানে পরস্পরের মাঝে বৈরী নীতি গ্রহণ করছে। আমেরিকা আরব বিশ্বে তার একটি অনুগত গোষ্ঠী গড়ে তুলতে চাচ্ছে ইরানের শিয়াদের বিরুদ্ধে। বোষ্টন ইউনিভার্সিটির একজন মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের শিক্ষক আগাষ্টাস নরটন এ মন্তব্যটি করেন। তার মতে একই সময়ে আমেরিকা চাচ্ছে বাগদাদের গরিষ্ঠ সংখ্যক শিয়াদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে, তার ভাষায় ‘আমি মনে করিনা এটি কোন স্থায়ী সমাধান’। পলিটিক্যাল সায়েন্সের প্যালেস্টাইনের গাজার এক প্রফেসর বলেন, ‘তোমরা ইতিহাসের বিরুদ্ধে কাজ করছো, সেখানে আরব ভূমিতে কখনো কোন শিয়া শাসক এই ১৪ শতাব্দীর মাঝে ছিলনা। শিয়ারা আরব বিশ্বে কখনো শাসন করেনি এবং এটিই তোমাদের সবচেয়ে বড় ভুল। যার জন্য তোমাদের অনেক বেশী মূল্য দিতে হবে। একই রকম মন্তব্য করে প্যালেস্টাইনের পলিটিক্যাল বিজ্ঞানী প্রফেসর শাহিন বলেন, ‘তোমরা ইতিহাসের বিরুদ্ধে কাজ করছো। তোমরা ধর্মের ইতিহাস আঁচ করতে পারো নি। সুতরাং যদি একটি নতুন অধ্যায় তোমরা রচনা করতে চাও নতুন পলিসি দ্বারা, অবশ্যই তার জন্য ইতিহাসকে দরকার। তখন তোমাদের পলিসি অবস্থানহীন শূন্যের উপর দাঁড়াবে’। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের মধ্যপ্রাচ্য ইতিহাসের প্রফেসর জোয়ান কোল বলেন, ‘আমি মনে করি বর্তমানের পলিসি সম্পূর্ণ নড়বড়ে অবস্থানে এগুচ্ছে যা প্রত্যেককে আমেরিকা বিরোধী করে তুলবে শেষ পর্যন্ত’। এখানে বেশ আগে করা কয়জন বিশেষজ্ঞ প্রফেসরের অভিমত তুলে ধরলাম।

এবার এর উপর আরো কিছু  তথ্য এখানে সংযোজন করবো যাতে মুসলিমরা  সঠিক সত্যে আসতে পারে। ইতিহাসের জটিলতায় এ বিভক্তি গড়ে উঠেছে, এর পিছনে ষড়যন্ত্রে কখনোই হযরত আলী নন, বরং ভয়ংকর দাগি আসামী জড়িত না থাকলে এরকম একটি একত্বের ধর্ম কুরআন বিরোধী অবস্থান নিয়ে দুভাগ হতে পারে না। মানুষের বিবেকের জন্যই সত্যের সাথে যেমন মিথ্যের দ্বন্ধ বাধে, তেমনি সচেতন বিবেকই সেটি স্পষ্ট করে। ঐ সময় ইসলামের ইতিহাসে রাজনৈতিক ছলচাতুরীর প্রমান ময়দানে স্পষ্ট। ধর্মের নামে, রাজনীতির নামে, রাজতন্ত্রের নামে, ধর্মের মূল থেকে সরাতে ষড়যন্ত্রীরা ইসলামের চরম সর্বনাশ করে তা চাপা দিয়ে রেখেছে, কৌশল আজ অবদি চলমান। যে ষড়যন্ত্রের চোটে একে একে খলিফাদের মৃত্যু, শেষ খলিফা আলী ও তার দুই সন্তান হাসান হোসেন ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের জটিলতায় ইহকাল ত্যাগ করেন। সেই একই ষড়যন্ত্রে হাজার বছর থেকে মুসলিমদেরে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। আর কয় শতাব্দী পার করে মুসলিমরা পথ পাবে? এসব কৃতকর্মে পরবর্তী মুসলিমরা ঐ সময়ে ক্ষ্যাপেছে যার কারণে ময়দানে আজকের যুগের পাথর নিক্ষেপের মত কঙ্কর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে, ঠিক আজ যেমনটি প্যালেস্টাইনে কাশ্মীরে হচ্ছে। সে সময় হাজার হাজার মুসলিমরা নিহত হয়েছেন, এরা কি সবাই শিয়া বলে মনে হয়? না, এরা সবাই ছিল ইসলামের অনুগত সত্যিকারের আত্মত্যাগী প্রাথমিক যুগের নিবেদিতপ্রাণ মুসলিম। গণতন্ত্র ধ্বংসকারী শাসক দল কৌশলে শাসন ক্ষমতা হাতে নিয়েই এসব কাজ করে। সব দায় চাপিয়ে দেয় নির্দোষ মুসলিমদের উপর, ক্ষমতার অপকৌশলে অপরাধী সবার চোখে ধূলো ছিটিয়ে মানুষকে আজ অবদি ধাঁ ধাঁ লাগিয়ে রেখেছে। অনেকটাই ঠিক আজকের বাংলাদেশের রাজনীতির মতই। সেক্ষেত্রে মার খাওয়া শিয়া বা সুন্নী উভয়ে একই কষ্টের বাহক। এখানে শিয়াসুন্নী আর গোটা বাংলাদেশী হচ্ছে মার খাওয়া মুসলিম, যদি তারা সচেতন হতো তবে দেশ ধর্ম দুটিই রক্ষা পেতো।  লাভ আর লাভ শুধু একটি বড় গুটিবাজ ধান্ধাবাজ দেশিবিদেশী চক্রের, আর ক্ষতি পুরো দেশ লাশের ময়দান, কখনো আওয়ামী কখনো বেশীরভাগ বিরোধী বিএনপি জামাত বা বেওয়ারিশ জনতা। ঠিক আজকের রাজনীতির আদলে ধর্মের এ নাটকও সাজানো হয়েছিল। সঙ্গত কারণেই বলতে হবে গুটিবাজ প্রশিক্ষিত ইবলিসের দোসর। সবার অগোচরে দুষ্ট এর ফাঁক গলিয়ে ধর্মে বিভেদ গড়ে কুরআন বিরোধী প্রয়াস চালায় খুব কৌশলে। আমরা জানি কুরআনে বার বার চিন্তাশীলদের চিন্তাকে প্রসারিত করতে বলা হয়েছে। এমন সংকট সময়ে প্রতিটি বিবেককে সজাগ থাকতে হবে।

সময়ের প্রেক্ষিতে যখন দুষ্টের চালটা প্রতিষ্ঠা পায়, তখন স্বাভাবিকভাবে ভাংগন খেলাটা সাজানো সহজ হয় কৌশলী হাতে। ময়দানে পোড় খাওয়া নিবেদিত প্রাণ মুসলিম (আজকের শিয়া সুন্নী উভয়ে) কোনঠাসা হয় আর অল্প গুটি কয় দালাল ষড়যন্ত্রী সরকারের আদর আহ্লাদ পায়। ঐ সময়ের কোনঠাসা মুসলিমরা পরবর্তী বিভক্ত শিয়া ও সুন্নী। ইতিহাসে পাওয়া যায় ইমাম আবু হানিফা অষ্টম শতাব্দীতে জন্ম নেয়া শিয়াদের নেতা জাফর আস সাদিকের প্রতি অনুগত ছিলেন। ইনি শিয়া ও সুন্নী উভয়ের সাথে সম্পর্কীত সমাজের সম্মানিত জন। তার মানে সুন্নী ইমাম আবু হানিফা শিয়াদের প্রতি অনুরক্ত, দরদী ও একদলের ছিলেন। এরা উভয়ে শিয়া ও সুন্নী নামে প্রচারিত হলেও এক ছিলেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী গড়ালে যখন বহু মিথ্যা সাজানো সম্ভব হয়, তখন ঐ সাজানো মিথ্যাচারে ওদের একাংশকে শিয়া নামকরণ করা হয় এবং এরা নানান বিভ্রান্তি জমা করে একই ভাবে পরবর্তী সুন্নীরাও সুন্নী নাম নিয়ে সেই মিথ্যার বন্যায় অনেক বিভ্রান্তিকে ধর্মের অংশ মনে করতে থাকে। ধর্মের নামে অনেক মিথ্যা ছলবাজিকে ধর্মে ঢুকানো হয়, সেটি করে ঐ দুষ্ট চক্র। দুষ্টের একমাত্র উৎসাহ নিজের অপরাধ ঢেকে রাখা ও ঐ বিভক্তিকে বাকীদের গেলানো ও স্থায়ী করা। এভাবে আজও দেখা যায় এসব সাজানো মিথ্যাচারে কুরআন বিরোধী কথাও ধর্মের নামে পালিত হচ্ছে পরম উৎসাহে। হিংসার পরিবেশ তৈরী হলে শিয়ারা নিজেদের আলাদা করতে যেয়ে নকল ইমামতির পথ তৈরী করে। অন্যদিকে সুন্নীরা কালে শিয়া বিরোধী হতে গিয়ে মূল ষড়যন্ত্রীদের কপট কৌশলে ঐ দলে পড়ে যায়। ষড়যন্ত্রী তার নিজের নিরাপত্তার জন্য এ অসম্ভব কাজটিকে সম্ভব করে রাজশক্তি দ্বারা।

চিন্তা করুণ, ২০০১ এ নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারের বোমার দায় হিসাবে ইরাককে দোষী সাব্যস্ত করা কতটা বেমানান, প্রমাণ ছাড়াও ইরাক আক্রমন সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তারপরও সচেতনরা কি করেছে? বড়জোর বক্তৃতা বিবৃতি, দু একটি সম্পাদকীয় কলাম আমেরিকা বৃটেনের কিছু সাংবাদিকেরা লিখে সত্য প্রকাশ করছে কিন্তু তাতে কি শাসকবর্গের কিছু হয়েছে? এর সূত্র ধরে কি বলা যায় যে একবিংশ শতাব্দীতে কোন মুসলিম ছিল না। ইরাকে আমেরিকার আক্রমন কোন সময়ই যুক্তিসঙ্গত হয়নি। এভাবেই শক্তির তলানীতে যুগে যুগে অনেক অনাচার, অনেক নকল জমা হয়েছে। রাজতন্ত্রের প্রবক্তা মুসলিম নামধারী কুরআন বিরোধী ষড়যন্ত্রীদের হাতে কোন জবাব নেই। শেষ বিচার দিনের ফয়সালায় সঠিক সমাধান অবশ্যই অপেক্ষায় আছে। ইতিহাস বা অনেক হাদিস তথ্যেও দেখা যায় হযরত ওমরের সময় দেখা গেছে একজন মহিলারও অনেক স্বাধিকার ছিল। স্বয়ং খলিফা ওমরের বিরুদ্ধেও বলতে পেরেছেন কারণ কুরআন নির্ভর ইসলাম তার সামনে ছিল। মৌলিক ইসলামে ভক্তির নামে অন্ধভক্তি প্রতারণা ছলনার কোন সুযোগ নেই। তাবিজ কবজ ঝাড় ফুকের কোন অবকাশ নেই। এত কিছুর পরও ষড়যন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এমন হাদিসও রচনা করা হয়েছে যে, ‘কোন সাহাবীর বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবেনা’। উল্লেখ্য এসব নবী পরবর্তী বহু বছর পরের ষড়যন্ত্রী সংযোজন। এটিও ষড়যন্ত্রের একটি শক্ত অংশ, শক্তির তলানীতেই সাজানো মিথ্যাচার। আল্লাহ স্বয়ং রসুলকে বলেছেন, “সেক্ষেত্রে আমরা নিশ্চয় তোমাকে দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাতাম ইহজীবনে এবং দ্বিগুণ মৃত্যুকালে” (সুরা বনি-ইসরাইলএর ৭৫ আয়াত)। কুরআন বলে, অপরাধ করলে রসুলের জন্য দ্বিগুণ শাস্তি। ষড়যন্ত্রীরা কি রসুল থেকেও বড়!

ইমাম হোসেনের কারবালার পরাজয় ছিল এই চক্রান্তকারীদের একটি সাজানো খেলা, সেটা শিয়া বা সুন্নী উভয়ের এক নিদারুন কষ্টকথা, দু’দলেরই সমান কষ্ট। সেখানে যদি শিয়ারা ষড়যন্ত্রীদের অসহযোগিতা দেখায় বা কড়া প্রতিবাদ জানায় সেটা খুবই যৌক্তিক, সুন্নীরাও প্রতিবাদী ছিল, সেদিন উভয়েই এক ও প্রতিবাদী ছিল। যদি সুন্নীরা প্রতিবাদী না থাকে, তবে তারা কি চেতনহারা? মাঝখানে ষড়যন্ত্রকারী সে ইন্ধনে তাপ দিয়ে দ্বৈত ভূমিকা পালন করে সুন্নী নামে ধর্মের একটি নতুন মডেল তৈরী করতে পেরেছে। যার ফলে এ দু’ভাইএর ভিতর যুগ যুগ অবধি হিংসা বিদ্বেষ ও তোষের আগুন তাজা রাখা সম্ভব হয়েছে। সবই করা হয়েছে শুধু দুষ্টের নিজের নিরাপত্তার জন্য। যার সবটাই সাজানো শয়তানের কুটচাল, শিয়া সুন্নী বিভেদ তৃতীয় পক্ষের স্বার্থে রচিত উপাখ্যান। তার কিছু ঐতিহাসিক সত্যতা আমি শাহরিয়ার শহীদের রচিত “ইসলামে বিভ্রান্তি ও বৃটিশ স্বীকারোক্তি” গ্রন্থ থেকে খুব সংক্ষেপে পয়েন্টগুলো তথ্যসহ তুলে ধরছি।

(১) মুয়াবিয়াই ইসলামকে দু’ভাগ হিসাবে বিভক্ত করার পূর্ণ সূচনা করেন আর তার ফলে বিকল্প ইসলামের গোড়াপত্তন করলো তারই লম্পট পুত্র ইয়াজিদ (২৮ পৃষ্ঠা)।

(২) উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াজিদ খলিফাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে প্রথম মদ্যপ ছিলেন। তার পানাসক্তি উত্তরাধিকারসূত্রে অর্জন করেন দ্বিতীয় আল-ওয়ালিদ (৭৪৩-৭৪৪খ্রীঃ) (২৮ পৃষ্ঠা)।

(৩) আবু সুফিয়ান (মোয়াবিয়ার বাবা) সঙ্গীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, দেখ, বহু কষ্টে ও সাধনার পর ক্ষমতা আমাদের হাতে এসেছে, এটাকে বলের ন্যায় বনি উমাইয়ার এক হাত থেকে অন্য হাতে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে এটি (খেলাফত) যেন, আর কোনদিন বনি হাশিমিদের (নবীর বংশধারীদের) ঘরে ফিরে না যায় (২৬ পৃষ্ঠা)।

(৪) ইমাম হাসান হতে খিলাফত জবরদখল করে নিয়ে মুয়াবিয়া রাজতন্ত্র গঠন করেনএবং রাজতন্ত্র কন্টকমুক্ত করার জন্য ইমাম হাসানকে তারই স্ত্রীর মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করান। ইমাম হাসানের শেষ ইচ্ছা ছিল, রসুল(সঃ)এর রওজার পাশে শায়িত হওয়ার কিন্তু মোয়াবিয়ার নির্দেশে লাশ মসজিদে নববীর পাশে আনলে মারওয়ানকে দিয়ে লাশের উপর তীর নিক্ষেপ করা হয় এবং সেখানে দাফন করতে দেয়া হয় না, দাফন হলো জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে। তারপর খলিফা তার লম্পট পুত্র ইয়াজিদকে খলিফা ঘোষণা করা হয় ৫০ হিজরিতে (২৬ পৃষ্ঠা)।

(৫) মুয়াবিয়া তার সব প্রদেশের গভর্নরদের উপর এ নির্দেশ জারি করেন যে, “সকল মসজিদের খতিবগণ মিম্বর হতে আলীর উপর অভিসম্পাত দেওয়াকে যেন তাদের দায়িত্ব বলে মনে করেন”। ইয়াজিদের পিতা মুয়াবিয়াই ৪১ হিজরিতে জুমুআর নামাজের খুৎবায় আহলে বায়েতের প্রতি গালি দেয়ার রীতি প্রবর্তন করেন। ৭০ হাজারেরও বেশী মসজিদে জুমুআর নামাজের খুৎবায় হযরত আলী এবং তার পবিত্র বংশধরদের গালিগালাজসহ অভিসম্পাদ প্রদান করা হতো (২৭ পৃষ্ঠা)।

(৬) মুয়াবিয়ার গভর্নর যিয়াদ যখন কুফার মসজিদে খুৎবা দিতে দাঁড়ান (উদ্দেশ্য আলীকে গালিদান) তখন কিছু লোক তার প্রতি কঙ্কর নিক্ষেপ করে এর প্রতিবাদ জানায়। এতে তৎক্ষণাৎ মসজিদের দরজা বন্ধ করে ৩০ থেকে ৮০ জন লোকের হাত কেটে দেয়া হয়। হযরত আবু বকরের পুত্র মোহাম্মদ বিন আবু বকরকে হত্যা করে তার লাশ গাধার চামড়ায় ভরে জ্বালিয়ে দেয়া হলো (২৮ পৃষ্ঠা)।

(৭) ইয়াজিদ এক বিশাল সৈন্য বাহিনী মদীনায় প্রেরণ করেন। ইয়াজিদ তিন দিনের জন্য মদিনাকে হালাল করে দিলেন। রসুল (সঃ) এর বাড়ীকে পশুর আস্তাবল বানানো হলো। মদিনার পথে পথে গলিতে গলিতে মানুষের রক্তের স্রোত প্রবাহিত হলো। উক্ত মর্মান্তিক ঘটনায় মদিনায় শিশু ও মহিলা ব্যতীত বারো হাজার চারশো সাতানব্বই জন লোককে হত্যা করা হলো। মহিলাদের ধর্ষন করা হলো। ফলে একহাজার মহিলা অবৈধ সন্তান প্রসব করলো। যারা মারা যান তারা হলেন, মোহাজের, আনসার তাবেঈন, উলেমা ১৭০০জন, সাধারণ লোক ১০,০০০ জন, হাফেজ ৭০০ জন, কুরাইশ ৯৭ জন। এই সর্বোমোট ১২,৪৯৭ জন।

(৮) এতো গেল নিজেদের দলাদলির খবর। এর সূত্র ধরে বিরুদ্ধবাদী বৃটিশরা কিভাবে এর সুযোগ গ্রহন করে, তার উপরও প্রাপ্ত যথেষ্ট বক্তব্য এসেছে বইটিতে। এখানে এর কিছু উদাহরণ দেয়া হলো। “ওহে হ্যামফার তোমার পরবর্তী মিশনের জন্য দুটি কাজ। (১) মুসলমানদের দুর্বল জায়গার খোঁজ নিতে হবে। সেই দুর্বল জায়গা দিয়ে আমরা তাদের দেহে প্রবেশ করবো এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গ খুলে ফেলবো। বস্তুতপক্ষে শত্রুকে ঘায়েল করার এটাই পথ। (২) যে সময় তুমি এসকল দিক চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে তখন আমি যা বলেছি তা করবে। —-যখন তুমি মুসলমানদের রজ্জুহীন করতে সক্ষম হবে এবং একজনকে আরেকজনের বিরূদ্ধে বিবাদে লিপ্ত করতে সক্ষম হবে তখনই তুমি হবে সবচেয়ে সফল এজেন্ট এবং মন্ত্রনালয় থেকে অর্জন করবে একটি মেডেল” (৫২ পৃষ্ঠা)।

(৯) মন্ত্রনালয়ের কেউ একজন আমায় বললেন, “আপনার কাজ হচ্ছে মতভেদ উস্কে দেয়া, মুসলমানদের একতাবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে চিন্তা করা নয়” (৫৪ পৃষ্ঠা)।

(১০) আমাদের বিদায় অনুষ্ঠানে উপনিবেশ সমূহের মন্ত্রী আমাকে বলেন যে, “আমরা মদ ও নারীর সাহায্যে অবিশ্বাসীদের (তার মতে মুসলমান) হাত থেকে স্পেন দখল করে নিয়েছি। এই দুটি বিশাল শক্তি দিয়ে আমাদের হৃত সকল ভূখন্ড ফিরিয়ে আনতে হবে” আমি জানি মন্ত্রীর বক্তব্য কত সঠিক ছিল (৬২ পৃষ্ঠা)।

চিন্তাশীলদের খোরাক আছে তথ্যগুলোর মধ্যে। টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর ইরাকে শিয়া সুন্নীদের বিভেদকে বড় করে দেখিয়ে, কখনো লুক্কায়িত পারমানবিক স্থাপনার কথা, কখনো ক্যামিক্যাল মারণাস্ত্রের অপবাদে মিথ্যে করে হলেও জাতিকে চরম দন্ড দিতে হয়েছে। দেখা যাচ্ছে আবারও ইরানকে অনেক দিন থেকেই শাস্তির জন্য টার্গেট করা হচ্ছে। তার মানে এখানের বিষয় কখনোই শিয়া বা সুন্নী নয়, প্রতিষ্ঠিত শক্ত শাসক পক্ষের দৃষ্টিতে কখনো সুন্নী সাদ্দাম দোষী আবার কখনো শিয়া ইরান দোষী, এককথায় উভয়ই দোষী, এদের পাপ এরা মুসলিম। প্রথমে ক্রুসেড নাম দিয়ে শুরু করা বুশের যুদ্ধে বিধ্বস্থ দেশটির করুন পরিণতি কি ইসলামের দায়? এভাবে যুগে যুগে মানুষকে মূল থেকে দুরে সরিয়ে রাখার কাজটি করেছে ষড়যন্ত্রী পক্ষ, আল্লাহ যার নাম দিয়েছে ইবলিস। ইবলিস কিয়ামত পর্যন্ত বেঁচে থাকবে, অর্থাৎ ইবলিসকে মোকাবেলা করেই প্রকৃত মেধাবী মানুষকে বিজয় ছিনিয়ে নিতে হবে।

এরা চৌদ্দ শত বছর ধরে ধর্মটিকে রাজতন্ত্রের মোড়কে গণতন্ত্র থেকে দূরে রাখে। যার জন্য আজো সৌদি আরবে রাজতন্ত্র, রসুলের প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্র সেখানে মৃত। ইসলামে অপকৌশল হয়েছে যুগে যুগে এসবই তার প্রমাণ। হয়তো শিয়ারা বাস্তবে বেশী প্রতিবাদী থেকেছে, যদি তাই হয় সেটাও নৈতিকতার ক্ষেত্রে তারা ঠিক ছিল। আর প্রতিবাদ সুন্নীরা করে নাই বলেও কোন প্রমাণ নেই, কারণ ঐ সময় যারাই নিহত হয়েছেন তারা সবাই অবিভক্ত মুসলিম ছিলেন। সাধারণ জনতা এর গভীরে না ঢোকে শুধু নিজের রক্ত ঢেলে খেসারত দিয়ে গেল আজীবন। কুরআন স্মরণ করেই মুসলিমরা দেড় হাজার বছর পর হলেও  এক প্লাটফরমে আসতে পারে এটা কোন বিতন্ডার বিষয়ই নয় বরং নিজেদের অজ্ঞতার কারণে অযথাই এ দলাদলি। এ অজ্ঞতা জনিত ত্রুটিও কম নয়। আত্মসচেতন না থাকার কারণে পরিস্থিতির শিকার হয়ে খেসারত পুরোটাই দিচ্ছে শিয়া সুন্নীরা। আল্লাহ সঠিক সত্য মিথ্যার ফয়সালাকারী। তবে অবশ্যই প্রতিটি সচেতন মুসলিমদের ভাংগনের অপরাধ থেকে বের হয়ে কুরআনের একতার পথে চলতে হবে। মোয়াবিয়া গোত্রের এই শতাব্দী পূর্ব অপকর্মের খেসারত পৃথিবীর মুসলিমদেরে আজ অবদি দিতে হচ্ছে। রাজতন্ত্র নামের এই অপকর্ম এরাই চালু করে যা কখনোই ইসলামে স্বীকৃত নয়। গণতন্ত্রের এই পূণ্যের ভান্ডে কে কি কৌশলে এই এঁটো মিশিয়ে দিলো তা নির্ধারণ করতে আমরা আজও ব্যর্থ হচ্ছি। এ ক্ষোভ শুধু শিয়াদের একার ক্ষোভ নয়, এটি সুন্নীদেরও ক্ষোভ। শিয়া সুন্নী কথাটি ভুলে যেতে হবে, এরা সবাই এক আল্লাহর অনুসারী মুসলিম জনতার অংশ।

এ কষ্ট এই দু’দলেরই সমান কষ্ট। একতার পথ রচনা করতে হবে রক্তপাত দিয়ে নয়, সম্প্রিতী দিয়ে, অস্ত্র দিয়ে নয় – বরং কলম দিয়ে, কথা দিয়ে, যুক্তি দিয়ে, চোখ ফুটানো সত্যতা দিয়ে সবার দৃষ্টি খুলে দিতে হবে, সবার অন্ধত্ব ঘুচিয়ে দিতে হবে। প্রকৃত ইসলামে স্বরচিত বিধান বা কোন ব্যক্তিতন্ত্র চাপিয়ে দেয়া ইসলাম নয়। পরবতীতে শিয়ারাও ইমামতির নামে অনেক বিভ্রান্তি জড়ো করেছে। প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা ছিলো সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা। সেখানে কারো ব্যক্তিগত খেলাফত নির্ধারণের কোন জায়গা নেই, খলিফা হবেন জনগণের মনোনিত শাসক, জনগণের ভোটেই তিনি নির্বাচিত হবেন, যেমন হয়েছিলেন হযরত আবুবকর, ওমর, আলী, ওসমানরা । লেখক শাহরিয়ার শহীদের সাথে সুর মিলিয়ে বলছি, হযরতের বিদায় হজ্জের একটি বাণী ছিল এরকম, “যদি কোন নাককাটা কাফ্রি ক্রীতদাসকেও তার যোগ্যতার জন্য তোমাদের আমীর করে দেয়া হয়, তোমরা সর্বোতোভাবে তার অনুগত হয়ে থাকবে। তার আদেশ মান্য করবে”। উপরোক্ত উক্তিটি ছিল নবী মোহাম্মদ (সঃ)এর মুখ নিসৃত অমৃত বানী। তিনি সেখানের জনতার কাছ থেকে এই অঙ্গিকারটুকুও আদায় করেন যে যারা এখানে উপস্থিত নেই তাদের কাছে “আমার এ বানী তোমরা নিজ দায়িত্ব মনে করেই পৌছে দিও”। তাই আজ চৌদ্দশত বছর পর আমরা সে বানী আজও অবগত হচ্ছি কিন্তু পালনের ক্ষেত্রে মূল থেকে সরে এসেছি। আমরা যদি সঠিক মুসলিম হই তবে আমাদের উচিত কুরআন ফলো করা। যে কুরআন শেষ নবীর মারফতে দুনিয়াতে এসেছে। নবী প্রবর্তিত এই কুরআনের নীতিমালাই ইসলামের বিধান। মুখ্যত আমরা অনুসরণ করবো এই নবীকে। তার পরবর্তী আবুবকর, ওমর, আলী খলিফারা আদৌ কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন, সেটিই আমাদের বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত। এরা কি কখনো এরকম দলাদলীর মাঝে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন? এরা কি কেউ শিয়া বা সুন্নী ছিলেন?

বস্তুত পূর্ববর্তী যুগের সত্য সাধকরা যে বিজয়ডঙ্কা বাজিয়ে গেছেন, কোন অবস্থায় আমরা যেন তার অমর্যাদা না করি। এরা সবাই ছিলেন উৎকৃষ্ট মুমিন, আল্লাহর অনুগত বান্দা, কুরআনের প্রতিষ্ঠাতা, প্রয়োজনে রক্তের বিনিময়ে, ত্যাগের বিনিময়ে তারা সেটি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। আমরা আমাদের মূল ছেড়ে দিয়ে ডালপালা নিয়ে নাচানাচি করছি। কুরআনে যে বিভেদ সৃষ্টি করতে বার বার নিষেধ করা হয়েছে, আমরা সেটিই করে চলেছি। এসব বিচ্ছিন্নতা, দলাদলির কারণে ধর্মের সঠিক অনুসরণ না করে ফসল তুলতে পারছি খুব কম, যার ফলশ্রুতিতে আমাদের ধর্মের গৃহে আজ খরা, মন্দা, মহামারি, আকাল, দুর্ভিক্ষ অনেক বেড়েছে।

(১) বলো (হে মোহাম্মদ!) ‘মহাকাশমন্ডলীর ও পৃথিবীর কেউই গায়েব সম্বন্ধে জানেনা আল্লাহ ছাড়া’ (সুরা আন-নমল আয়াত ৬৫)।

(২) কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে যারা সীমালংঘন করেছে তাদের আবাস হচ্ছে আগুন। যতবার তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইবে তাদের তাতে ফিরিয়ে আনা হবে; আর তাদের বলা হবে: ‘আগুনের শাস্তি আস্বাদন করো যেটিকে তোমরা মিথ্যে বলতে’ (সুরা আস-সাজদাহ আয়াত ২০)।

(৩) বলো ‘আমি তো তোমাদের সতর্ক করি কেবল প্রত্যাদেশের দ্বারা: আর বধির লোকে আহ্বান শোনেনা। যখন তাদের সতর্ক করা হয় (সুরা আল-আম্বিয়া ৪৫ আয়াত)।

(৪) যে কেউ রসুলের আজ্ঞাপালন করে সে অবশ্যই আল্লাহর আজ্ঞাপালন করে। আর যে কেউ ফিরে যায় আমরা তোমাকে (মোহাম্মদকে) তাদের উপর রক্ষাকারীরুপে পাঠাই নি (সুরা আন-নিসার ৮০ আয়াত)।

(৫) আর যারা নিজের আত্মাকে ফাঁকি দেয় তাদের পক্ষে বিতর্ক করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ ভালবাসেন না তাকে যে বিশ্বাসঘাতক, পাপাচারি (সুরা আন-নিসার ১০৭ আয়াত)।

(৬) এ হবে না তোমাদের (মূর্তিপুজকদের) চাওয়া অনুসারে, আর গ্রন্থপ্রাপ্তদের চাওয়া অনুসারেও নয়। যে কেউ কুকর্ম করে তাই দিয়ে তার প্রতিফল দেয়া হবে আর তারজন্য সে আল্লাহকে ছাড়া পাবে না কোন বন্ধু, না কোন সহায় (সুরা আন-নিসার ১২৩ আয়াত)।

(৭) আর তাদের মতো হয়ো না  যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল আর মতভেদ করেছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী আসার পরেও। আর এরা – এদের জন্য আছে কঠোর যন্ত্রণা, যেদিন কতকগুলো চেহারা হবে ঝকঝকে আর কতকগুলো চেহারা হবে মিসমিসে (কালো); তারপর যাদের চেহারা কালো হবে তাদের ক্ষেত্র হবে আরও গুরুতর। তোমাদের জন্য নির্দেশাবলী সুস্পষ্ট করলাম যদি তোমরা বুঝতে পারো। (সুরা আল-ইমরানএর ১০৪ ও ১০৫ আয়াত)।

উপরে মাত্র ৭টি আয়াত জটিলতাকে খোলাসা করতে একটি না এনে সাতটি আনতে হলো। আর এটি কোন হালকা জিনিস নয়। গ্রন্থটি এখানের দু’দলেরই অনুকরণীয় সিলেবাসের অংশ। দেখা যাচ্ছে যারা এই গোপন গায়েবের, ইমামতির স্বতন্ত্র মিথ্যা দাঁড় করাচ্ছে এরা কঠিন আগুনের মুখোমুখি দাঁড়াবে, কারণ সহজ সরল ধর্মটিতে এসব নেই। ধর্মের নামে যা বাড়াবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব ইসলামে নেই, আল্লাহ ছাড়া কারো হাতে গায়েবের ক্ষমতা নেই। যারা সত্যকে অস্বীকার করে মিথ্যে প্রচার করে তাদের শাস্তি আগুন। একমাত্র সত্য বাণী আসে রসুলের মারফত প্রত্যাদেশের দ্বারা, ওহির দ্বারা, এখানে প্রত্যাদেশকৃত বাণীর জয় ঘোষিত হয়েছে। কুরআন আল্লাহর বাণী, নবীর স্বরচিত বাণী নয়। তাই নবীর আজ্ঞাপালন মানেও কুরআনের অনুসরণ, এটি আল্লাহর নির্দেশ। আর যদি কেউ ফিরে যায় আল্লাহ সে ক্ষেত্রে নবীকে কটাক্ষ করে বলছেন তাদেরে ফেরানোর দায়িত্ব তোমার নয়। “তাদের উপরে রক্ষাকারীরূপে নিযুক্ত করি নি, আর তুমি তাদের উপরে কার্যনির্বাহকও নও” (সুরা আনআমের ১০৮ আয়াত)। যারা মতভেদ ও বিচ্ছিন্নতায় ইন্ধন যোগায় তাদের অবস্থা হবে গুরুতর। এসবই আল্লাহর সুস্পষ্ট নির্দেশনা। আল্লাহ সবার জটিলতাকে সহজ করে দিক, এই কামনায়।

 

লেখাটির প্রকাশ সময়ের দাবী। জানুয়ারী ০৪, ২০২০ সাল।

মূল লেখাটি প্রায় ২০ বছর আগের জমা। একটি অপ্রকাশিত বই (শিয়া সুন্নী – পিছন ফিরে দেখা) এটি একটি চ্যাপ্টারের কিছু অংশ। মূল গ্রন্থটি ১৯টি চ্যাপ্টারে সাজানো। এর প্রতিটি চ্যাপ্টার দেড় হাজার বছরের শিয়া সুন্নীর সব জটিলকে স্পষ্ট করতে মূল ধর্ম ইসলাম ও কুরআনীয় বস্তুনিষ্ট সত্যের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে।

বি দ্রষ্টব্য: এ লেখাটি নিউইয়র্ক ভিত্তিক ‘দি রানার নিউজ’ সাপ্তাহিকে ১৭ জানুয়ারী ২০২০ সংখ্যায় ছাপা হয়।

নাজমা মোস্তফা

(২০২০ এর ছন্দকথা)

কিছু সত্য কথা, জানাবো ষ্পষ্ট কিছু ব্যাথাময় বার্তা। বাংলাদেশকে অশান্ত করতে ‘র’ শান্তিবাহিনী গড়ে।

গুপ্তচরবৃত্তি, চোরাকারবারি, নাশকতায় রত, কৌশল যত, সীমান্তের বাইরে নয় ভিতরে বসবাস অবিরত।

ইন্দিরা গান্ধী চাননি ভারতের পূবদিকে সূর্যের মত শক্তিশালী দেশের উদয়। ভাঙ্গা জরুরী, হাতুড়ী ছাড়াই কসরত,

অতপর মগজের লালিত সন্তান ‘র’এর উদয়। ভাঙ্গো পাকিস্তান, মেরুদন্ডহীন দেশ গড়ার অর্ডার জাতকের উপর।

তড়িঘড়ি ৭১ এ, চুক্তি স্বাধীনতার শুরুতেই ২৫ বছরের শিকল, শান্তি চুক্তির নামে করা গোলামী অবিকল।

‘এই শিকল পরা ছল মোদের এই শিকল পরা ছল, এই শিকল পরেই শিকল তোদের করবো রে বিকল।’

বাঁচবার জন্য কবিতার দরকার, কিন্তু শিকল কেন আবার? প্রতারণা কেন বারে বার, জবাবটাও দরকার।

তখনও নজরুল জীবিত ময়দানে বাকহারা, নয়তো তখনই জাতি জেনে যেত, তার হুঙ্কারে শিকল ছিন্ন হতো।

ইন্দিরা জানতেন এদের চেতনা শক্ত! মূর্তি নয় ঈশ^র গরু নয় মা তাদের, এক অদেখা আল্লাহতে ভক্ত।

গরু তাদের খাদ্য মূর্তি কখনো খেলনা। অন্তরে বিধাতার পদচিহ্ন এঁকে দিয়েছে, দুখুর সত্য সাধনা। 

কাশ্মীর দাপটের তলানীতে চেপে রাখা, সিকিম গিলে হজম, হায়দ্রাবাদও উদরে।

বাংলাদেশের কথা ভেবে কাঁপুনী জাগে। ঐ কাঁপুনীতেই ‘র’এর জন্ম আতুড় ঘরে মায়ের তদারকিতে,

কাশ্মীরের পরেই সাত রাজ্য সাত বোনের কান্না সোরগোল, ভাংগনের গুঞ্জন ময়দানে,

কাশ্মীরী মুসলিম আফজাল গুরু ফাঁসিতে, বিচার নয় প্রহসন, চলে খুশীর কপট নাচন।

জোরপূর্বক পাকিস্তান খন্ডনের অপরাধ মনের মাঝে আজো কাঁপন জাগায়।

খালেদায় কাঁপুণী আজ নতুন নয়। সময়টা ১৯৯৩ খালেদা কলকাতা দমদম বিমান বন্দরে।

খালেদার ইমেজে ভারত সংকটে। সাংবাদিকেরা উৎসুক।

জানানো হয় খালেদা ইচ্ছুক নন। দেখা করবেন না। উৎসুকরা আশাহত ভারতীয় যোগ।

খালেদা এক মানুষ আর ভারত এক দেশ। এত ছোট হওয়া, খালেদার ভয়ে মিথ্যা বলা?

তাদের ভয় খালেদাকে, সবদিন আজো এবং বিগত শতকেও।

পশ্চিমবঙ্গের বাঙ্গালীরাও যদি ‘দিল্লী হঠাও’ সুর তোলে!

তাদের অসংখ্য ভয়! সাত বোন যদি স্বাধীনতা চায়!

যদি বাংলাদেশ হয় পথ প্রদর্শক, শিক্ষক, দৃষ্টান্ত এক। তারা চায় এদের নির্জীব করে রাখতে,

মূর্তিপূজা আর মাতৃবন্দনা আচার, যদিও নারীরা শুদ্রানী এ পূজার বিচার।

ইয়াবা ফেনসিডিল কার জন্য?

ভারত বলে বাংলাদেশে সৈন্যের দরকার শূণ্য।

তাই বিডিআর মুছার আবদার নাম পাল্টাবার

বিডিআর আজ বিজিবি, দেশবাসী জানে না, কেন? অতীতে অনেক রাজনীতিবিদের ছিল শংকা,

প্রয়াত শ্রী জয় প্রকাশ নারায়নের মন্তব্য, বাংলাদেশ সৃষ্টি যদি আরেক পাকিস্তান সৃষ্টির আশংকা!

‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’। মদ গাজার মাতম উঠুক, কলেমা ছেড়ে রামধন গাইতে শিখুক।

‘যহি আল্লাহ সহি রাম’ তাদের কাছে সব সমান। আল্লাহর সাথে রামের সমতা বড়ই বেমামান!

পশুও মা হয় কিন্তু মুসলিম কখনোই মানুষ হয় না, দেবতার আদালতে।

এযাবৎ বলেছ মুসলিম অচ্ছুৎ ছোটলোক ম্লেচ্ছ, ছুলে জাত যায়!

গরুর নামে মুসলিম পিটায়! বিবেকরা শবমিছিলে মৃত পরলোকে গেছে।

পরজন্মে কীট পতঙ্গ রুপে গরুরও অধম হয়ে জন্মাবে। তারপরও জট খুলবে না?

নিকৃষ্ট আচরণ! মুসলিমরা অনুমোদিত খাদ্যে বঞ্চিত, প্রহৃত, লাঞ্ছিত সবে!

বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র মুজিব বলেছিলেন সেই কবে।

মানেক শ জানতেন, অনুপ্রেরণায় তারা যাবে ভারতের চেয়ে মক্কা ও মদীনায়।

প্রেরণার জায়গা পাকিস্তানও হতে কতক্ষন? অবশ্যই মানেক শ, তাতো মিথ্যে না!

ভারত চায় এদের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিতে, ভারতের উপর নির্ভরশীল রাখতে।

এমন হলে মেনে নিলে স্বাধীনতা ছাড়াই ৭১, পাকিস্তানেরই পদলেহন মন্দের ভালো হতো।

তাহলে ভারতের নাক গলানোর সুযোগ না হতো । মেজর জলিলের হুঙ্কারে ভারত বুঝেছিল,

এদের বাগে আনা সোজা না। চিন্তায় কপাল কুঁচকায়। তারপরও দাদারা বসে নেই, কম করে নাই।

আবরার, নূর, শত গুম খুন একপাশে রাখা এত অবিচার কত বলা যায়, এমন সমাচার।

মন মন টন টন উপচে পড়া কষ্টের জীবন ! শান্তিবাহিনী, বঙ্গসেনা, মোহাজির সংঘ, আরো কত কি?

যুদ্ধ তো পুরোটাই লুট করেছে দাদারা! কি লজ্জা?

যুদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধারা আর আত্মসমর্পণের দলিল তৈরী করে তারা!

কোনদিন কি তারা বিবেকের কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে?

এটি নীতি নৈতিকতার কথা, যুক্তির কথা ধর্মের কথা, তারা ভুলেই গেছে।

নজরুল সেই কবে বোবা অথর্ব, মৃতবৎ বোধের অতীত শিশুবৎ, তখনও জীবন্ত ফসিল এক।

শফি চাকলাদারের “কাফেরের তলোয়ার চাও কতল করিতে আমারে” –

মনে করিয়ে দেয় তার বাকহীনতার কথা। সবই তো গোপন করে রাখা!

কথাগুলি চাকলাদারের নয়, নজরুলের মার খাওয়ার পর আর বাকহারার আগের কথা।

কত মার খাবে বাছারা, সবার সাথে মানবতার কথা বলেছে, মানচিত্রের মর্যাদা চেয়েছে।

বন্ধুর বেশে তোমরা মানচিত্রে হামলে পড়লে শতাব্দীর শুরুতে! ভাবলে ম্লেচ্ছ যবন এরা!

ঠিক তোমাদের গুরুদেবের মতন। কষ্ট চেপে কত শত লাশ ময়দানে জানাজার অপেক্ষায়?

এত লোভ প্রতিবেশীর ভিটার পরে? সব ফুটেজ নিরব প্রতিবাদ জমছে প্রকৃতির পাতায়, 

পার পাবে না কর্তারা! শুধু মসজিদ নয়, মন্দিরের হিসেবও নেয়া হবে কড়ায় গন্ডায়!

বাবর আওরঙ্গজেবরা কত মন্দির গড়েছিল, সব ভুলে বসে আছ, ফুটেজ তো সংরক্ষিত খাতায়।

রাম পুনিয়ানীকে জিজ্ঞেস করে কিছুটা জানো। গোলাম আহমেদ মর্তোজা এখানো সংগ্রামরত।

সত্য বলতে শিখো, যত বড় পান্ডিত্যই থাক, মিথ্যার কোন পাওনা নেই। পুরষ্কার সত্যের জমা, দুই জনমে।

বাকীরা ব্যর্থ, বিধ্বস্ত, বাতিল, সর্বহারা। যত লাঞ্ছিত বঞ্চিত সবাই সারিবদ্ধ হও। পুরষ্কার গোলাতে উঠাও।

একটু গদ্যকথা শুনাই। বেমানান নয় মোটেও, তবে প্রবঞ্চনার কথা কিছু আছে ওখানেও।

 

১৯৯১ সাল নির্বাচনের সময় আনন্দবাজার গোষ্ঠীর সাপ্তাহিক সানন্দার সাম্পাদিকা অপর্ণা সেন, বাংলাদেশে আসেন। সানন্দা একটি সাপ্তাহিক আর বাংলাদেশ এক দেশ, দুয়ের ফারাক আকাশ পাতাল। কিন্তু সানন্দা সম্পাদিকা (একদিন এ দেশ তারও ছিল!) বাংলাদেশে  নির্বাচনের খোঁজে (?)। বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ না করে তড়িঘড়ি ছুটে যান অপেক্ষমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতের জন্যে। বস্তুত ঐ নির্বাচনে শেখ হাসিনা হেরেছিলেন, ঐ ছুটে যাওয়া ছিল কপট সংকীর্ণ রাজনীতির কতকথা। আর পরবর্তী নির্বাচনেও ভারতের অন্যায় সাহায্য ও সহযোগিতা ব্যতীত শেখ হাসিনার জেতার সম্ভাবনা কতটা পূর্ণ আর কতটা শূণ্য সেটি পাঠকরাই জানেন ভালো। অর্পণা সেনকে অনেকেই বাংলাদেশের মেয়ে মনে করে আহ্লাদে আটকানা! কিন্তু অর্পণারা দর্পণে কি তাদের চেহারা দেখেন? তাদের আচরণ সংকীর্ণ স্বার্থে গোলামী ও দাসত্ব শেখার প্রশিক্ষণ। সত্যকে ঠেলে দিয়ে মিথ্যার সাথে বসতি। কঠিন সত্য কথা বেমানান শুনালেও সত্য প্রকাশ যুগের মানবতার দাবী। নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে সেটিও বিবেচনা করার সময় বাংলাদেশের! রবীন্দ্রনাথ সবার গলার তাবিজ, কিন্তু মুসলিমদেরে মানুষ না ভেবে বারে বারে ম্লেচ্ছ যবন ডাকে, তাতেও কি মুসলিমরা সম্মানিত? মুসলিমদের উদার সভ্যতা তাদের সংকীর্ণতা শেখায়নি। ধন্য তাদের বদান্যতা মহানুভবতা আন্তরিকতা! কিন্তু ইতিহাস তো সবাইকে জানতে হবে মানতে হবে! একে অস্বীকার করার সাধ্য কারো নেই! সঙ্গত কারণেই শত কষ্টকে চেপে রেখেও দুটো সত্য কথা বলা, যা সবার জানা, একটু ঝালাই করা। সবার সুমতি হোক, সবার সুগতি হোক। সবাই তাদের স্বাধীনতা বজায় রেখে মানুষ হয়ে বাঁচুক। পরম মালিকের কাছে এ প্রার্থণা জমা রেখে বছরের শুরুতে এ ছন্দকথা, শেষ করছি এখানেই। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

০১/০১/২০২০

রাত ১টা ০২ মিনিটে: নতুন বছরের নতুন দিনের শুরুর সময়ে

 

 

নাজমা মোস্তফা

(পূর্ব প্রকাশের পর)

সম্বিৎহারা মুসলিমদের অপরাধ: সত্য ইতিহাস ধর্ম না জানা, চোখ কান থাকার পরও মিথ্যাতে মজে থাকা বিরাট অপরাধ। বর্তমান সময়ের সম্বিৎহারা মুসলিমদের জন্য এটি চরম লজ্জার কথা। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব, আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ মুসলিমদের একমাত্র অবলম্বন, মানুষ মাত্রেরই সচেতন থাকা, মানবতা জীবনের মূল কথা। মানুষের বড় দোষ চেতনহীন ও  দেউলিয়া থাকা। অসচেতনরা নিজের উজ্জল অর্তীতকে ভুলে গোলামীতে দাসখত করে। পাপই পূণ্যকে আলাদা করে। শুরুতেই ধর্মটি কিভাবে দু টুকরো হলো, কে করলো (?) আজো এ ব্যাপারে নিরবতা চলছে। ধর্মের সত্যকে শক্ত করে ধরার নির্দেশ, নয়তো বিভক্তির দন্ড গুরুতর (আল ইমরানের ১০৩ আয়াত)। সেখানে মিথ্যার কোন জায়গা নেই। ময়দান থেকে সত্যের বাহক নবী পরলোকে গেলেও শত্রুপক্ষ শিশু ইসলামকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। শত্রুকে সবাই চেনে কিন্তু অচেনা মোনাফেকও শত্রু হয়, কুরআন এভাবে আড়াল করা শত্রুদের পরিচিতি জানিয়ে প্রকাশ্য শত্রুদের চিনিয়েছে। এভাবে ইবলিস যুগে যুগে সুযোগের ব্যবহারে কার্পণ্যতা দেখায় নি। অতি অল্প দিনেই ইবলিসের সহযোগিতায় ভাংগনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ধান্ধা লাগিয়ে আলখেল্লার ভেতরে দুর্বৃত্ত বহাল তবিয়তে কয় শতাব্দী অবদি জীবন্ত, এজন্য শিয়া সুন্নী বিরোধ আজো বহাল। এভাবে যুগে যুগে বোকারা অপরাধী ঠাকুরদেরে বড় আসন দিয়ে রেখে পূজো দিচ্ছে দিয়েছে হয়তো আরো দিবে। সত্য প্রকাশে বিরত থেকেছে ত্রাসে ভয়ে, ভুলেও অপরাধীর নাম মুখে আনে না। মনে রাখতে হবে আল্লাহর উপর কোন বড় কর্তা নেই, বড়হুজুর নেই। অপরাধ ধরা পড়লে ঢোল পিটিয়ে পাশবিকতা জানান দেয়া মানবতার কাজ। তবে কখনো নির্দোষকে নয়।

ইসলাম কি কেন, পরিচয় কি এর সদস্য কারা: সম্বিৎহারা মুসলিমকে জানতে হবে তারা কারা, কি তাদের পরিচয়? এ ধর্মের নীতি জটিলতাহীন সহজ সরল, অসীম ক্ষমতার অধিকারী এক আল্লাহতে বিশ^াস রাখা। মানুষের মুখাপেক্ষী না হয়ে আল্লাহকেই একমাত্র অভিভাবক মানা। মুসলিমদের চেতনহীনতা আৎকে উঠার মত ! এমনও বলা হয়েছে এমন এক সময় আসবে যখন ঐ ধর্মের নাম ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। ধর্মের নামে থাকবে অধর্ম! জ্ঞানের মূল্য কমবে, যোগ্যরা উপযুক্ত সম্মান পাবে না। সত্যচ্যুতির কারণে ধর্ম প্রচারকরাও জটিলতায় জড়াবে। কুরআন এক ব্যতিক্রমী গ্রন্থ, সাধারণ পুস্তকের মত মানুষের রচিত নয়। এটি পৃথিবীর একমাত্র ১০০% বিশ^াসযোগ্য গ্রন্থ যা পৃথিবী ধ্বংসের আগে বিলুপ্ত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। নবীর জীবন কালীনই সুসংরক্ষিত ও সজ্জিত ত্রুটিমুক্ত (সুরা হিজর ৯ আয়াত)(সুরা আল ওয়াকিয়াহ ৭৭, ৭৮ আয়াত)। এর বানী সমূহ প্রায় ১৫শত বছর থেকেই একই, নিরাকার আল্লাহ এর সংরক্ষক। এজন্য এর সামনে পেছনে ডানে বামে কোন দিক আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা শূণ্য। যুগে যুগে সত্য সাধকরা এক সত্যের অনুশীলন করেছেন। অনুসারীরা সংকীর্ণতায় আমিত্বের অহংকারে ভিন্ন নামে আলাদা হয়েছে। অসাধারণ সব তথ্য ঐ গ্রন্থে জমা আছে। মূলত সারা মানব জাতি এক ঘরের বাসিন্দা। তাই আদম ইব্রাহিম ঈসা মুসা নামের সব সত্যসাধককে না মানলে কোন মানুষ মুসলিম দাবী করতে পারে না, এ ধর্মের নির্দেশনা। অঞ্চল ভিত্তিক গড়ে উঠা এক সভ্যতার নাম হিন্দু সভ্যতা। আঞ্চলিক নবী ঈসার ধর্ম খৃষ্টানিটি যেখানে বাইবেলে জেসাস ক্রাইস্ট নিজেই বলেন, আমি শুধু মাত্র ইসরাইলের হারানো গোত্রগুলির সন্ধানে প্রেরিত হয়েছি (ম্যাথু ১৫: ২৪)। পূর্ববর্তীরা আঞ্চলিক নবী হলেও শেষনবী মুহাম্মদ (সঃ) সারা দুনিয়ার সম্পদ, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না (সুরা সাবার ২৮ আয়াত)। শেষ নবী হওয়ার কারণ তার সিলেবাসের পূর্ণতা ও সঙ্গত কারণে ওটি সিলমারা। এসব নবীদের নিয়োগ কোন মানবিক বরাদ্দ নয়, এরা অদেখা আল্লাহর নিয়োগপ্রাপ্ত। ঈসা নবীর মাত্র ৫৭০ বছর পরই প্রয়োজন পড়ে বলেই শেষ নবীকে আসতে হয়। ঐ নবীর পর আজ প্রায় দেড় হাজার বছর আর কেউ আসে নাই, সূত্র মতে আর আসবেও না।

 কুরআন একটি জীবন বিধান: সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সীমারেখা দাগ দেয়া সবার  জন্য। জাতিতে জাতিতে নবীরা এসেছেন (সুরা ইউনুস ৪৮ আয়াত)। শেষ নবীর মাধ্যমে নারীদের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। আমরা ইতিহাসে কোথাও পাই না নবী নিজ হাতে কোন যুদ্ধে মানুষ খুন করেছেন, এমন কোন উদাহরণ নেই। তারপরও তার বিরুদ্ধে একবিংশ শতক অবদি সন্ত্রাসীর খাতায় নাম তোলা হয়েছে। শত শত ইহুদী কেউ কেউ বলেন ৯০০ নিধনের অভিযোগ তোলে রাখা হয়েছে। সবই ইতিহাসের স্বরচিত মিথ্যাচার, ‘ইসলামে যুদ্ধ’ লেখাতে সেটিও খন্ডন করেছি। এ মিথ্যাচার অতীতে ইউরোপীয়রা করেছে ঐ পথে হেটেছে ভারতীয় ইতিহাসবেত্তারাও। মাঝের সময়ে মুসলিমরা বেঘোরে ঘুমাচ্ছে, এমন সুযোগে বিরোধীরা মনের মাধুরী দিয়ে নবীকে দাঙ্গাবাজ সাজিয়েছে। আগে নিজে জানুন তারপর অপরকে জানান। প্রতিটি বিবেকের দায়িত্ব ও কর্তব্য, সত্যের সাধনা করা। নাক ডাকিয়ে ঘুমের খেসারত দিচ্ছে মুসলিমরা, জেগে উঠার বিকল্প নেই। প্রতিটি সাজানো মিথ্যার বদলে সত্যকে স্পষ্ট করা প্রতিটি মানুষের ঈমানী দায়িত্ব। মুসলিমরা কখনোই অপকর্মী নয়, বরং কুরআন মূর্তিপূজকের উপাসককে গালি দিতে নিষেধ করে (সুরা আনাম ১০৯ আয়াত), তাদের বিপন্নকে নিরাপত্তা দিতে বলে (সুরা তওবা, ৬ আয়াত)। অসৎ উপায়ের অর্জন নিষিদ্ধ। মধ্যপন্থাকে উত্তম পন্থা ধরা হয়, চরমপন্থা থেকে দূরে থাকতে বার বার বলা হয়েছে। সীমালংঘনকারী আল্লাহর অপছন্দের। জ্ঞান আহরণ নারী পুরুষ উভয়ের জন্য ফরজ। বিচার সবার জন্য হবে নিরপেক্ষ (সুরা নিসা ৫৯ আয়াত)। মদ, নেশাদ্রব্য, ক্ষতিকর শুকরসহ কিছু খাদ্য হারাম ঘোষিত হয়েছে। মানব জীবনের চরিত্র গঠনের প্রতিটি বিষয় এ সিলেবাসের অংশ।

ইসলাম বিরোধীদের চরম সংকীর্ণ আচার আচরণ: বাংলাদেশের জন্মলগ্নে রবীন্দ্রনাথ বেঁচে ছিলেন না, নজরুল ছিলেন। নজরুলের গান ছিল না সেটিও বলা যাবে না। রবীন্দ্রনাথের একটি প্রশ্নবিদ্ধ মূর্তি বন্দনার গান কেটে ছেটে রবীন্দ্র সংগীত জাতির ঘাড়ে চাপলো কার পাপে? যুদ্ধ করলো জাতির সন্তানেরা প্রাণ দিল মান দিল কিন্তু অর্জন পুরোটাই লুটে নিয়ে গেল ভারত, গুন্ডে চলচিত্র ম্যুভিসব যেন নব্য স্বাধীনতা শেখানোর মহরত। সত্য বলা অপরাধ, বললে আবরার হবে লাশ, বিডিআরহয় বাতিল, ফেলানীরা প্রতিনিয়ত মরছে ঝুলছে কাঁটাতারে। এ কেমন নীচতা! জাতি কি ভুলে গেছে মেজর জলিলের প্রতিবাদ প্রতিরোধ কথা! মুক্তিযুদ্ধ বাতাসে মিলিয়ে গেল, সাথে মিলিয়ে গেল পাকিস্তানের ফেলে যাওয়া অস্ত্রগুলোও লুটেরার দখলে। মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলিল হলেন প্রথম রাজবন্দী ছলবাজের  হাতে। রাত দুপুরের ডাকাতী নয়, দিন দুপুরে ডাকাতী। ২০০ বছরের ইংরেজ কৃত সম্বিৎহারা দশা কি আজো বহাল থাকবে? যতনে আড়াল করে রাখা সব অপরাধ থরে বিথরে। পূর্ব বঙ্গের চাষার ছেলেপেলেদের পড়াশুনায় বৈরী রবীন্দ্রনাথ নিয়ে আজ পূর্ববাংলায় মাতম চলছে। বাবু গিরীশচন্দ্র ব্যানার্জী, ডঃ স্যার রাসবিহারী ঘোষ এবং কলকাতার বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার আশুতোষ মুখার্জীর নেতৃত্বে বাংলার এলিটগণ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ১৮ বার স্মারলিপির মাধ্যমে  তদানিন্তন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ এর উপর চাপ সৃষ্টি করলেন। ডঃ স্যার রাসবিহারী ঘোষের নেতৃত্বে হিন্দু প্রতিনিধিগণ বড় লাটের কাছে যুক্তি দেখান এরা কৃষক, এটি তাদের কোন উপকার করবে না (দ্রষ্টব্য: Calcutta University Commission report. Vol. IV পৃষ্ঠা ১১৩)। সেদিন তারা সব এক ছিল হিন্দু সংবাদপত্র, হিন্দু বুদ্ধিজীবি, নেতা নেত্রীরা বিভিন্ন শহরে মিটিং মিছিলের মাধ্যমে জোটবদ্ধভাবে কাজ করে ও বৃটিশের কাছে এ প্রস্তাব রাখে (দ্রষ্টব্য: ঐ গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১১২, ১৫১)। ঐ সব রাজকপালীদের উদ্দেশ্যে নজরুল লিখেছিলেন, “বড় ভাব বড় কথা আসে নাকো মুখে, তোমরা লিখিও অমর কাব্য যাহারা আছো সুখে।” মুক্তিযুদ্ধ কালীন তাজউদ্দিন ও ইন্দিরা গান্ধীর মাঝে সাতদফা চুক্তি ও যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের সাথে ভারতের ২৫ সালা চুক্তিটি সবার মুখে ছিল গোলামী চুক্তির নামান্তর। মহৎ কাজের অপর পিঠে যদি এভাবে ছুরি চালানো হয় তবে তাকে কি বলা যায়। মানবিক না পাশবিক?

সংকটাপন্ন বাংলাদেশ: বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বিভাজন এমনভাবে হয়েছে কেউ কাউকে চিনতে পারছে না, ভাই ভাইকে না। এর কারণ তারা ঘুমাচ্ছে বেঘোরে, ঘুম ভাংছে না। নজরুল ময়দানে নেই কিন্তু তার কথাগুলি ইথারে ইথারে আজো শিশুকবিতার ছলে “আমি হবো সকাল বেলার পাখি” হয়ে ছন্দকথা প্রতিটি হৃদয়ে আওয়াজ তুলতে পারে। পথ হারিয়ে ফেলা, শত্রু মিত্র বুঝতে না পারা জাতি যেন পথ খুঁজে পায়। দেশ নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই, যেন এটি দ্বিতীয় পলাশীর প্রান্তর। কোম্পানীর শাসন জেকে বসেছে জাতির কোষে কোষে। গুপ্তচরবৃত্তি ময়দানে, ভারতের তালপট্টি দখল, দু দুজন রাষ্ট্রনায়ক হত্যা, স্বাধীন বঙ্গভূমি আন্দোলন, বারে বারে কাল্পনিক মিথ্যা সংখ্যালঘু নির্যাতনের বুলি কপচানো, গারো ল্যান্ড আন্দোলন, প্রতিবেশীর টাকাতে গদি দখল ও টিকে থাকা, অতীতের মোহাজির সংঘ, দরকারে খালেদা জিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র এটি নতুন নয় বরং বহুদিনের, শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস সৃষ্টি, অতীতে জন্মাষ্টমীর মিছিলে হামলা ও দুর্গাপূজা নিয়ে চক্রান্ত, পুশইন পুশব্যাক আজকের ভারতীয় অনুপ্রবেশ, বিডিআর বিদ্রোহ, সাজানো ষড়যন্ত্রে বর্ডারে সৈন্য, দেশকে অস্তিতিশীল রাখার পিছনের দৈত্যকে চিহ্নিত না করা, এসব কারণেই দেশ হাটু পানিতে ডুবছে।

সত্য মিথ্যার চলমান লড়াই: প্রতিটি সুকর্ম মানুষের জন্য মুক্তির অর্জন আর প্রতিটি মিথ্যাচার স্বার্থপরতা অপকর্ম তাদের পাপ পরিণতির নামে বন্দিত্বের জমা। বিচারক বিধাতা ইতর মেথর সবার বিচারক। সংগ্রামের সম্পাদককে ও তার পত্রিকা অফিসকে ভেঙ্গে চুরমার করা হয়েছে কারণ তিনি একজন ফাঁসিতে দেয়া মানুষকে শহীদ বলেছেন। তিনি কি মিথ্যাচার করেছেন? তিনি যদি সত্য হন তবে তার পুরস্কৃত হবার কথা কয়েকগুণ। কুরআন বলছে জেনে শুনে সত্য গোপন করো না, সুকর্মের জন্য দশগুণ জমা। আর মিথ্যাচার করলেও তার শাস্তি তিনি পাবেন। যারা তাকে হাতে কলমে শিক্ষা দিয়ে যে অনাচার করছে তারা এর জবাব কিভাবে দিবে জানি না। তারা বিচারের মুখোমুখি করতে পারতো, তা না করে তার ও তার সংস্থার উপর হামলে পড়া কি সুসভ্যতা। দেশে যে অত্যাচারের মহামেলা চলছে এরকম অত্যাচার প্রাথমিক যুগের মুসলিমদের করা হতো। কুরআন নির্দিষ্ট করে দিয়েছে যারা সৎ থেকে আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করে তারা মর্যাদাশীল, মহাপুরষ্কৃত (সুরা বাক্কারাহএর ৫৪, আল ইমরানের ১৪০, ১৫৭, ১৬৯, ১৯৫ আয়াত)। সততায় চলাদের দুটি (বাঁচলে গাজি মরলে শহীদ) কল্যানমূলক পুরষ্কারের খবর দেয়া হয়েছে (সুরা তওবায় ৫২ আয়াতে), এদের জন্য শাস্তি নয় বরং শান্তি প্রতীক্ষমান। ঘটনার ধারাবাহিকায় জানা যায় ঐ কাদের মোল্লা ও মাওলানা সাঈদী বর্তমান সরকারের কপট রাজনীতির শিকার। ময়দানের দাগ চিহ্নে কিছু লুকানো নেই। ইতিহাস কোন অবিচার সয় না, শেষ বিচারে মানুষের প্রতিটি অঙ্গই সত্য প্রকাশ করবে, সাক্ষ্য দিবে। একবিংশ শতকের মানুষও সত্য লুকাতে অপারগ হচ্ছে। শেষ বিচারকের সিসিটিভির রেকর্ড কতগুণ শক্তিশালী হয়ে গোয়েন্দাগিরি করছে, সময় স্পষ্ট করবে। বিচার হবে বালি পরিমান পক্ষপাত শূণ্য ঝকঝকা ফকফকা। সংগ্রাম সম্পাদককে ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছে করছে এ জন্য যে তার পত্রিকার অনেক ব্যতিক্রমী উদাহরণীয় সত্য প্রকাশ আমাকে মুগ্ধ করেছে। বিগত শতকে বাংলাদেশ থাকা কালীন সময়েও দেখেছি অন্য অনেকের থেকে দেশপ্রেমে ভরা এ পত্রিকার কথা ও কাজ অনেক বস্তুনিষ্ট তথ্যবহুল দেশপ্রেমের অসাধারণ দাগ রাখা উদাহরণীয় অর্জনে ভরা। মনে হচ্ছে ঐ সততার অর্জনেই তিনি ধরা খেয়েছেন। সৎ ব্যক্তির অর্জন জমা হচ্ছে বাড়ছে প্রতিনিয়ত, কারো সাধ্য নেই কমানোর মিটানোর এর উপর কলম চালানোর। সত্য সমাগত হবে মিথ্যা দূরীভূত হবে এ আশায় রইলাম।

লেখার সময় ২০ ডিসেম্বর ২০১৯।

(চলবে)

বি দ্র: এই লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ‘দি রানার নিউজ’ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ সংখ্যায় ছাপা হয়েছে।

নাজমা মোস্তফা

(পূর্ব প্রকাশের পর)

বাংলার সবুজ চত্বরে ইসলাম: নবীর জন্ম ৫৭০ সালে। ঐ সময়ও আরব বণিকরা এদেশে আসতো। তাদের বানিজ্য সম্ভারের সাথে ধর্মও বাংলার সবুজ মাঠে এসেছে। ইসলামের আগে ঐ দেশের পৌত্তলিক মূর্তিগুলি আজ অবদি ঘরে ঘরে পূজিত হচ্ছে যা আমার অন্য কলামে এসেছে। বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের ‘মজেদের আড়া’ গ্রামে প্রাচীন একটি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ থেকে একটি ইট পাওয়া যায় যাতে লেখা ছিল আরবী হিজরী ৬৯ সাল (৬২২+৬৯) মানে ৬৯১ সালের প্রমাণসহ কলেমার বাণীটি খোদাই করা। রংপুর জেলার ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মামা, মা আমেনার চাচাতো ভাই আবু ওয়াক্কাস (রা.) ৬২০ থেকে ৬২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার করেন (পৃ. ১২৬)। এতে প্রমাণিত হয় নবী পরবর্তী খলিফাদের পর সাহাবীদের যুগেই বাংলার সবুজ মাটিতে ইসলামের নাড়া পড়ে যায়। এতে বুঝা যায় ইসলাম আর বাংলাদেশের নিবিড় বন্ধন প্রায় শুরু থেকেই।

কেন মুসলিমরা লেখাপড়াতে পিছিয়ে থাকলো: আমরা জেনেছি লেখা এবং পড়ার নির্দেশ ছিল ইসলামের প্রথম বাণী। ওটি কখন কেন কিভাবে রুদ্ধ হয়ে গেল, সেটিও চিন্তার বিষয়। জেনারেল শ্লীম্যান মোগল যুগের শিক্ষার উচ্চমানের প্রশংসায় বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিমরা যেভাবে এগিয়ে গেছে পৃথিবীর খুব কম সম্প্রদায়ের মাঝে সেরুপ হয়েছে। কারণ তাদের মাঝে যে ব্যক্তি কুড়ি টাকা মাইনে পায় সে তার পুত্রের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের সমান শিক্ষার ব্যবস্থা করতো। অক্সফোর্ড থেকে যে জ্ঞান নিয়ে যুবকরা বের হতো মুসলিম যুবকরা সাত বৎসর সে জ্ঞান আহরণ করে মাথায় শিরস্ত্রাণ পরিধান করতো। সে অনর্গল সক্রেটিস, এরিস্টটল, প্লেটো, হিপোক্রেটিস, গেলেন ও ইবনে সিনা সম্বন্ধে আলোচনা করতে পারে” (বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস ১৭৫৭-১৯৪৭, এম এ রহিম, ১১১-১১২ পৃষ্ঠা)। উইলিয়াম হান্টারও স্বীকার করেছেন মুসলিমদের শিক্ষা ব্যবস্থা ঐ যুগের সমসাময়িক সবার চেয়ে উৎকৃষ্টতর ছিল (হান্টার প্রাগুক্ত ১৭০; মল্লিক প্রাগুক্ত ১৫০)।

মুসলিমদের জন্য চরম বৈরী পরিবেশ: যে জাতি চরম বৈরী পরিবেশে লড়াই করে টিকে তারা তলোয়ার দিয়ে হুমকির জোরে অপকর্ম করে টিকে না বরং ঐক্য সততা মানবতার ব্যতিক্রমী অর্জনে টিকার সাহস রাখে। বৃটিশ পিরিয়ডে পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলায় শিক্ষার প্রতি সরকারের সীমাহীন উদাসীনতা অনেকের লেখাতে ফুটে উঠেছে। ঐ সময় মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া মুসলিম জমিদারদের আর্থিক অসঙ্গতি শিক্ষা গ্রহণে  বাধাগ্রস্ত করে। শিক্ষা, চাকুরী, জমি বাজেয়াপ্তকরণ, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রয়োগ এসব নানা ইস্যুতে মার খাওয়া মুসলিমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৃটিশ গভমেন্ট এর দ্বারা বাংলার মুসলমানদের আঘাত করে (হান্টার ৫৩-৫৪পৃ:)(বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস, এম এ রহিম ৫০ পৃ:)। এ অবস্থায় জমির প্রকৃত মালিকদের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে এক শ্রেণীর বাবুদেরে সেটি দেয়া হয় যারা ঘুষ ও অন্যান্য অবৈধ উপায়ে ধনী হয়েছে (মল্লিক, প্রাগুক্ত ৩৪)। জেমস ও কেনেলী মন্তব্য করেছেন, রাজস্ব বিভাগের সামান্য কর্মচারীদেরে জমিদারীর মালিকানা দেয়া হয় ও অর্থ সংগ্রহ করার নানান সুযোগ দেয়া হয় যাতে মুসলমরা বঞ্চিত থাকে (হান্টার ৫৪-৫৫)। ঐ সময় সকল শিক্ষক ছিল হিন্দু এবং এডাম ঐ সময়ের পাঠ্য তালিকার উল্লেখ করে বলেন, প্রতিদিন সকালে হাটু গেড়ে নত মস্তকে সরস্বতী বন্দনা আবৃতি করতে হতো। পত্রলিখা মনসামঙ্গল এসব পাঠ্যতালিকাভুক্ত ছিল (এম এ রহিম বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস ১১৬, এ আর মল্লিক ১৬৪-১৬৫)। অপরদিকে কিছু মিশনারী স্কুল স্থাপিত হলেও সেখানে খৃষ্টধর্মীয় বই বাধ্যতামূলক পাঠ্য তালিকার অংশ ছিল অবস্থাদৃষ্টে পুনরায় মুসলিমরা মূর্তিপূজা ও খৃষ্টান তৃত্ত্ববাদের শিক্ষা নিতে বাধ্য ছিল। স্বভাবতই মুসলিমরা ঐ পাঠের প্রতি আগ্রহ হারায় (ঐ গ্রন্থ ১১৮)। হিন্দু কলেজ নাম দিয়ে কলেজ স্থাপিত হয় যেখানে শুধু হিন্দুরা পড়ার সুযোগ পেতো। মিশনারিজরাও চাইতো হিন্দুরা ইংরেজী শিখুক তাহলে তারা তাদের মূর্তিপূজার অসারতা বুঝতে পারবে এবং ধর্মান্তরিত হয়ে খৃষ্টান হবে ((ঐ, আর সি মজুমদার ৩২, ৪৮)। এককথায় লেখাপড়ার পরিবেশকে সবদিক থেকেই কঠিন করে তোলা হয় একেতো আর্ধিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে পড়া মুসলিমরা লেখাপড়ার খরচ বহন করতে অপারগ ছিল এবং বাংলা পাঠ্যপুস্তক সব দেবদেবী ও পৌরাণিক কাহিনীতে পূর্ণ ছিল (জে লং, এডামস, সেকেন্ড রিপোর্ট, ৯৭-৯৯)। এ সম্বন্ধে ই, সি, বেইলী বলেন, শিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তন করার সময় তাদের সংস্কার বা শিক্ষার প্রতি কোনরুপ প্রয়োজনের প্রতি সরকার বিবেচনা করে নাই। শিক্ষা ব্যবস্থা তাদের স্বার্থের পরিপন্থী ও সামাজিক রীতিনীতির প্রতিকূল হয়ে পড়ে (হান্টার ১৭৩-১৭৫, মল্লিক ২৭৪-৮, ৩২৫)। বেইলী এটি স্পষ্ট করেন যে তাদের প্রাদেশিক ভাষা ও হিন্দু শিক্ষক উভয়ই তাদের জন্য অগ্রহণযোগ্য। সর্বোপরি ধর্ম শিক্ষার কোন সুযোগ নেই। যেখানে মুসলিমরা শিক্ষার সাথে ধর্মীয় শিক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতো (সূত্র: ঐ)। চার্লস গ্রান্ড ১৭৯২ সালে পার্লামেন্টে বলেন, ‘প্রকৃতি সম্বন্ধে সত্যিকারের জ্ঞান বিচ্যুরিত হলে হিন্দু ধর্মের ভিত্তি খসে পড়বে এবং ক্রমে খৃষ্টধর্ম সেখানে জায়গা করে নিবে” (হিস্ট্রি অব ফিডম মুভমেন্ট, ২য় খন্ড ১ম ভাঃ, ২৫২)।

মীর এহিয়া চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য যা দান করে যান, পরে তা বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং এ বিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্র শিক্ষক ছিল হিন্দু তথাপি এ বিদ্যালয় থেকেও দরিদ্র মুসলিম ছাত্ররা কোনরুপ আর্থিক সুবিধা পায় নাই (হান্টার ১৭৩-১৭৫, মল্লিক ২২৬-৪৩, ২৪৯-৭৪)। কলকাতায় স্কুল কলেজ স্থাপিত হয়, মুসলিমরা কম থাকার কারণে সেখানেও মুসলিমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের শিক্ষার প্রতি সরকার উদাসীন ছিল। ঐ সময় বাংলার মুসলিম জমিদারদের সবদিকে দূর্বল করা হয়। অপর দিকে হিন্দু জমিদারগণ যারা কলকাতায় ছিল তারা অনেকে পশ্চিম বাংলায় তাদের সম্প্রদায়ের জন্য স্কুল স্থাপন করেন। ঠাকুর পরিবার ও আরো অনেক হিন্দু জমিদারের পূর্ব বাংলায় জমিদারী ছিল তারা কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে বাস করতেন এবং সেখানে স্কুল স্থাপন করলেও পূর্ব বাংলায় কোন স্কুল স্থাপন করেন নাই। এখান থেকে লাভে মূলে কঠিন নির্যাতন করেও (কখনো বছরে দুইবার) খাজনার নামে উপসত্ত্ব তুলে নিয়েছেন। তারা অনেকেই পূর্ব বাংলার কৃষক সন্তানদের শিক্ষার বিরোধী ছিলেন। এর কারণ তারা মনে করতেন প্রজারা শিক্ষিত হলে জমিদারীতে তাদের কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়বে (হান্টার ১৭৩-১৭৫, মল্লিক ২২৬-৪৩, ২৪৯-৭৪)। 

বৃটিশ পূর্ব ভারতবর্ষে মাদ্রাসা শিক্ষা খুব উন্নত মানের ছিল। হিন্দু শিক্ষক অপেক্ষা মুসলিম শিক্ষকরা অধিক যোগ্য ছিলেন। এডাম মন্তব্য করেন, “যদি বাঘা, বোহার, চাঙ্গারিয়া, ও মুর্শিদাবাদের মাদ্রাসাগুলি ভালভাবে পরিচালিত হতো তাহলে তারা উচ্চমানের শিক্ষাকেন্দ্রে উন্নীত হতো” ( জে  লেং, ১১-১৬, ৪৮-৭৩, ২১৫-৩২৭)। হিন্দুদের পরিচালিত স্কুলে মুসলিমদের পড়ার কোন সুযোগ ছিল না। তাছাড়া সরকার মুসলিমদের প্রতি উদাসীন। কোম্পানীর শাসকগণ নিষ্কর জমি বাজেয়াপ্ত করে। মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলির দান সম্পত্তি তারা অন্য কাজে লাগায়। এডাম সরকারের এ কাজের সমালোচনা করে বলেন, সরকার যদি এ দানের সম্পত্তিগুলি তাদের আসল উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতো তবে মুসলিমরা একটু হলেও উপকৃত হতো (মল্লিক ১৬৪, ২৯১-৯২, জে লং ২১৭)। ১৮০৬ সালে হাজি মুহম্মদ মহসিন ওয়াকফ সম্পত্তি মুসলিম ছাত্রদের জন্য দান করে যান কিন্তু তারা সেটি না করে ভিন্নভাবে ব্যবহার করে (মল্লিক, তৃতীয় অধ্যায় দ্রষ্টব্য)।

কেন হিন্দু বৃটিশ একতরফা মুসলিম বিরোধী হয়ে উঠলো, এর উত্তরও সোজা। বৃটিশদের ভয়ের কারণ মুসলিমদের আদর্শগত অবস্থান,  হিন্দুদের পথহারা করতে রসদ জুগিয়েছে বর্ণ হিন্দু নামের খুব অল্প সংখ্যক সুবিধাভোগী ব্রাক্ষ্মণ, যারা মূলত বাকী সব মানুষকেই সাধারণ হিন্দুকেও অমানুষ মনে করতো। নিজ জাতির বাকীদেরে তারা নিচবর্ণ চিহ্নিত করে স্বরচিত বিধানে নিজেকে দেবতার আশির্বাদ পাওয়া বলে প্রচার চালাতো। তবে এটি ঠিক পরবর্তীতে অতি চর্চাতে তারা সেটি বাকী হিন্দুদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে পেরেছে। এ মিথ্যাচারিতা কুসংস্কারাচ্ছন্ন হিন্দুদের অনেক ক্ষেত্রেই মুসলিম বিরোধী করতে পেরেছে। যতদূর ঘেটেছি মুসলিমদের উদারতা ও মানবতার পরিচর্চার কারণেই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা জিরো অবস্থানে। যা আছে তা হিন্দুরাও স্বীকার করবে তা মিথ্যাচারের নামান্তর। শাস্ত্র সাধারণ হিন্দুর ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এ সুযোগে স্বরচিত বিধানে তারা ধর্মের নামে হিংসার চর্চা যোগ করেছে, সাধারণ হিন্দুরা হয়েছে শুদ্র অচ্ছুৎ আর মুসলিমরা হয়েছে ম্লেচ্ছ যবন অচ্ছুৎ, বৌদ্ধরা হয়েছে নেড়ে। এদের ধরো, মারো, কাটো। বিশেষ করে মুসলিমকে, কাটাকাটির কাজটিও সেরেছে শুদ্র অচ্ছুৎ দিয়ে। কারণ তার চিন্তাশক্তির দৈন্যতায় সে নিজেই অস্তিত্বহীন মেরুদন্ডহীন। সে জেনেছে এটি করলে ধর্ম পালন হবে, হয়তো পাপী জীবনে কিছু জমবে। যদি তাদের বিবেক স্বচ্ছ থাকতো, কড়া পাহারায় থাকতো তবে এসব অনাচার হতো না। যে সাধুরা মিথ্যাচারে তা দিয়েছে সাধারণ হিন্দুরা ওদেরে বিশ^াস করেছে। এভাবে “স্বধর্মে নিধনং শ্রেয় পরধর্ম ভয়াবহ” কথাটি মানুষকে মূল সত্য থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। যার জন্য মানুষ ক্রমেই ভাংছে মরছে মারছে ছোট থেকে ছোট হচ্ছে। এতো গেল ভারতবর্ষের মুসলিম দুর্গতির কারণ।

ধর্ম ও ইতিহাস বলে কিছু ক্ষেত্রে হিন্দু মুসলিম দুই জাতি একতার সুরে এক হয়েছে। পূজার উপকরণ হিসাবে ফুল, বেলপাতা, চন্দন, ধুপ ধোনা, মোমবাতি, মাদুলী, তাবিজ কবজ, ঝাড় ফুক, তুক তাক, তন্ত্র মন্ত্র ভুত প্রেত দেও দানব মূলত এসব হিন্দু সমাজের আচার। দুনিয়া থেকে এসব মিটিয়ে দিতেই নবীদের আগমণ এ পৃথিবীতে। নিরাকারের আদেশকে দূরে ঠেলে দিয়ে যুক্তিহীন ভাবে কাঠের মাটির মূর্তি পূজকরা জায়গা করে নেয়।  প্রতিটি ধর্মে আজো খুঁজলে প্রকৃত সত্য পাওয়া যায় যেখানে এসব কাজ নিষিদ্ধ। তারপরও তারা শাস্ত্র বিরোধী কাজ করছে। তুলনামূলক ধর্মের গবেষনায় এসব স্পষ্ট করা। ওদিকে ইত্যবসরে যারা ধর্মান্তরিত হয়ে এসেছে অনেকেই পূর্ববর্তী মিথ্যাকে কুসংস্কারের আকারে এখানেও নিয়ে এসে পালন করে। ইত্যবসরে মাজার পূজার আকারে মূর্তিপূজার ভিত্তি দাঁড়িয়ে যায়। মহাআনন্দে উভয় সমাজের লোকরা সেখানে বাতি ধুপ দিতে যায়, উভয়েই এক পাপে ধরা খায়। কুরআনে এ উভয় সম্প্রদায়কে বলা হয় মোশরেক। মুসলিমদের অন্য আর একদল লোক আছে যারা আল্লাহকে কাজে ও কথায় মানে বললেও উল্টো পথে চলে, তাদের আচরণ তাদের পরিচিতি স্পষ্ট করে। সে অনায়াসে নীতিবিরোধী অপকর্ম করে, মনে হয় সে কাউকে পরোয়া করে না এরা হচ্ছে মোনাফেক। তাছাড়া যে মুসলিমরা কথায় ও কাজে সৎকাজ করে সৎ পথে চলে তারা প্রধানত মুমিন, প্রকৃত ইসলাম অনুসারী। একজন মোনাফিক মুশরিক হিন্দুর মন্দির ভাংতে পারে কিন্তু একজন মুমিন কখনোই সেটি করতে পারে না এবং করলে সে তার পদ হারাবে। এটি তার সারা জীবনের একমাত্র অর্জন। সে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ঐ পথের সাধনায় সময় পার করে, শিশুকাল থেকে সততার মানবতার ট্রেনিং পায় ও নেয়। যারা এটি নিতে চাইলেও ভুল পথে হাটে  তারা অনেক সময় পথ হারায়। উদাহরণ হিসাবে তসলিমা নাসরিন, হুমায়ুন আজাদের কথা বলতে পারি। এরা শিশুকাল থেকে বিকৃত ইসলাম দ্বারা লালিত হয়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন, তাবিজ কবজ, ঝাড় ফুক, তুক তাক, তন্ত্র মন্ত্র দ্বারা সত্য ও মিথ্যাকে গুলিয়ে ফেলেছেন।

ইতিহাসে প্রমাণ পাওয়া যায় কিছু খৃষ্টান ইহুদী, গ্রীক, পার্সিক ধর্মান্তরিত মুসলিম হয়ে পূর্ববর্তী অনেক মিথ্যা আচারকে এখানে নিয়ে আসেন। এদের একজন ইতিহাসখ্যাত মনছুর হাল্লাজ (‘মোস্তফা চরিত’ মোহাস্মদ আকরম খাঁ, পৃষ্ঠা ৭৪)। খলিফাদের যুগে এসবের সুযোগ ছিল না। ইবনে মাজা ইবনে ওমর হতে নবীর কঠোর সাবধান বানী উচ্চারণ করেন যে, আখেরী জামানায় মুসলিমরা ঐসবে ডুবে ধ্বংস হতে থাকবে (তাবরানী)। খলিফাদের যুগে এসবের সুযোগ ছিল না কিন্তু পরবর্তী যুগে এমন কি বর্তমান যুগে এর উপর মহামারী চলছে। সত্যসাধকদের সাথে সচেতন হিসাবে বলবো অন্ধবিশ^াস জ্ঞান নয়, কুসংস্কার ভক্তি নয়, যুক্তিহীন কাজ এবাদত নয়। ধর্ম যদি মানুষকে পরিশুদ্ধ না করে পথহারা করে, সেটি ধর্ম নয়।  

(চলবে)

বি দ্র: লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত  “দি রানার নিউজ” ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ সংখ্যায় ছাপে।

 

নাজমা মোস্তফা

(পূর্ব প্রকাশের পর) (৩)

ইতিহাস বলে ভারতের বাহির থেকে আগত আর্যরা ককেসাস পর্বত পার হয়ে মেসোপটেমিয়া ও এশিয়া মাইন থেকে আর্যদের আগমন। কেউ কেউ মধ্য এশিয়ার বদলে পূর্ব ইউরোপকে আর্যদের আদিবাস কেন্দ্র বলেন (সূত্র: বিনয় ঘোষ, ভারতজনের ইতিহাস, পৃষ্ঠা ৭০)। সিন্ধু নদীর অববাহিকায় যে সভ্যতার বিকাশ ঘটে তাই সিন্ধু সভ্যতা। হিন্দু কোন ধর্মের নাম নয় বরং সভ্যতার নাম। ভারতের আদিবাসী দ্রাবিড়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় দেখা গেছে ইসলাম ও মুসলিমদের বিষয়ে অতীতেও নানা বই পুস্তক প্রবন্ধ নাটক চলচিত্র সংবাদপত্র প্রচার মাধ্যম রেডিও টিভির মাধ্যমে ভুল ম্যাসেজ ছড়ানো হয়েছে। কৌশলে দেখানো হয়েছে ভারতীয় মুসলিমরা বিদেশী, এরা মিত্র নয় বরং শত্রু আর বাকী সবাই স্বদেশী। ভারতীয় মুসলিমদের রচিত ইতিহাস ও বাস্তবতাকে খোদ রবীন্দ্রনাথ বলেছেন বিদেশী মুসলমান রচিত এসব মিথ্যা ইতিহাস (সূত্র: লেখক আবু ফাতেমা মোহাম্মদ ইসহাক)। এই দেশী বিদেশী মারপ্যাচে ভারতের জনতাকে পথহারা করতে প্রচার মাধ্যম, ইতিহাস সংবাদ, সাহিত্য, লেমটন লেকচার, এসব মাধ্যমকে হাতিয়ার হিসাবে নেয়া হয়। সং¯ৃ‹তিবানরা বৃটিশ তোষণে কার্পণ্যতা দেখান নি। যারা ভারতের সম্পদ লুটে নিয়ে অন্যত্র নিজেদের দেশকে সমৃদ্ধ করে তারা বরণীয় পূজনীয় হয় আর যারা নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে ভারতের মাটিতে নিজের ও প্রজন্মের একমাত্র ঠিকানা গড়ে সত্য প্রতিষ্ঠায়; সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সত্য ও সুন্দরের জন্য আল্লাহর আদেশ মেনে লড়ে যায় তারাই বিদেশী, ভারতে মোদিরা আজো ভাবে তাই। তারা মুসলিমদের ধ্বংস চায়। বাকী সব আর্যদের (?) জন্য দরজা খোলা, শুধু মুসলিমদের জন্য তালা ঝোলা। সেই বৃটিশ নির্গমনের পর থেকে আজো ভারত মুসলিমদের সাথে একতরফা বিমাতাসুলভ আচরণে তারা দক্ষ। এরাই একমাত্র সংখ্যালঘু দল যাদের অবদানে অর্জনে ঋণে ভারত আকন্ঠ নিমজ্জিত। মানবিকতা মাপার স্কেল তাদের অনেক ক্ষেত্রেই বিলুপ্ত। অকৃতজ্ঞতা একটি নিকৃষ্ট আচরণ, বিধাতার দৃষ্টিতে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সাম্প্রতিক ও নিকট অতীতে ভারতের মুসলিমরা আজো পরাধীন, বলাটা ভুল নয়। 

মিথ্যা অপশক্তিকে চিহ্নিত করে যদি সত্য স্পষ্ট হয়, সেটি কি সত্যের অপরাধ? ন্যায়ের ঝান্ডা হাতে মিথ্যার বিনাশে এই মুসলিমরা নিজের জীবনের সাথে ভারতের জীবনকে একসূত্রে গেঁথেছেন বলেই তারা ৭০০ বছরেরও বেশী এ দেশ শাসন করে তারাই সত্য সৈনিক, পথের দিশারী, স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি, স্বদেশী। বাকীরা বেশ বড়মাপে শোষক, নির্যাতনকারী সত্যবিনাশি মিথ্যার প্রতিষ্ঠাকারী। মূল সত্য শক্তিকে হটিয়ে দিতে বাকীরা কি করেছেন ইতিহাস দিয়ে সেটি পরখ করেন। ইতিহাসবিদ আমীর আলী বলেন, “মুসলমানগণ ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজন উপলব্ধি করার আগেই সরকারী অফিসের দ্বার তাদের জন্য রুদ্ধ হয়। (এস, এ রশিদ, ন্যাশনাল মহামেডান এসোসিয়েশন, ১৭-১৯)। ১৮৬৯ সালে ‘দূরবীণ’ নামের কলকাতার একটি ফার্সি সংবাদপত্র লিখে, “ছোটবড় সকল সরকারী পদ মুসলিমদের থেকে কাড়িয়া নেয়া হয় এবং অন্য সম্প্রদায়কে বিশেষ করে হিন্দুদেরে দেয়া হয়।” এ পত্রিকা আরো প্রকাশ করে সুন্দরবনের কমিশনার তার অফিসে শুধু হিন্দু প্রার্থীর দরখাস্ত আহবান করেন (হান্টার, প্রাগুক্ত, ১৫৯-১৬৭)। হান্টারের মন্তব্য ছিল, চাকরি ক্ষেত্রে মুসলিমদেরে এমনভাবে বাদ দেয়া হয় যে, কলকাতার অফিসগুলোতে চাপরাশি, কলম মেরামতকারী, এসব ব্যতীত অন্য কোন কাজে মুসলিমরা নেই বললেই চলে (সূত্র: ঐ)। ১৮৭১ সালে কলকাতার একটি বড় অফিসে খোঁজ নিলে জানা যায় সেখানে মুসলিমদের ভাষা পড়তে পারে এমন একজন লোকও নেই (এম এ রশিদ ২০-২৩)। আমীর আলী বলেন, গত বিশ বছর যাবত মুসলিমরা আগ্রাণ চেষ্টা করেও চাকরীতে দ্বার রুদ্ধ করে রাখায় তারা ঢুকতে পারে না। যদি কেউ সৌভাগ্যক্রমে ঢুকে তবে তা রক্ষা করাই তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ তাকে তাড়াবার জন্য অফিসে ষড়যন্ত্র চলতে থাকে (এম এ রশিদ ২৫-২৬)। ভাবতে অবাক লাগে সে মাটিতে আম জনতার মাঝেও বিবেক সম্পন্ন হিন্দুর উপস্থিতি কম; কোন বিশেষ কারণে মানবিক হিন্দুর সংখ্যা সবদিন অল্প। এটি সবাই স্বীকার করবেন তাদের এ প্রকৃতি আঁচ করতে পারে চতুর বৃটিশরা। তাই তারা হয় বৃটিশের দেশবিধ্বংসী সহযোগী। দেশ মাতৃকার সাথে প্রতারণায় তারা বড় মাপে ধরা খায়।

এরকম অবস্থায় একবার মুসলিমরা চাকরীর দাবী জানালে রবীন্দ্রনাথের জবাব ছিল “প্রভুর খানার টেবিলের নীচে নিক্ষিপ্ত খাদ্য টুকরার জন্য যে কোলাহল উত্থিত হইয়াছে, ইহা সমর্থণ করায় শুধু যে নীচতা আছে তাহা নয়, উহা চারিত্রিক দৌর্বল্যেরও পরিচায়ক (কবির ভাষণ থেকে, ১৯৩৭ সালের ‘মাসিক মোহাম্মদ’ থেকে উদ্ধৃত)। পাঠক লক্ষ্য করেন রবীন্দ্রনাথ বৃটিশকে প্রভু মানলেও মুসলিমদেরে কুকুরের মত নীচ পশু প্রজাতির বলে অপমান করেছেন তার ভাষণে এবং সেই কুকুর স্বভাবের মানুষগুলোর চারিত্রিক দুর্বলতাও প্রশ্নবিদ্ধ পরিচয় বলে প্রকাশ করেছেন। একদিনের চেতন সম্পন্ন মুসলিম জাতির ক্রমাগত চেতনহীন অবস্থানের জন্য এসব স্পষ্ট করা দরকার, সময়ের দাবী। হিন্দুরা সমষ্টিগতভাবে বৃটিশের ঐ হিংসা পরায়নতাকে বগলদাবা করে নিয়েছে। কারণ বৃটিশরা এটি বুঝতে পেরেছে যে মেরুদন্ড বাঁকা হিন্দুরা তাদের সহযোগী, এদের হাত দিয়ে কোন বিপর্যয় ঘটবে না বরং এই স্বাধীনচেতা মুসলিমরাই তাদের জন্য অশনিসংকেত। উভয় সম্প্রদায়কে বিচ্ছিন্ন করতে ডিভাইড এন্ড রুলসহ বাকী সব অস্ত্র সচল রেখেছে। এসব কারণে হিন্দুরা আগাগোড়া বৃটিশের অনুগত থেকেছে, তারা নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে নির্যাতীত হয়েও পরাধীনতার শিকল গলে পরে দলিত হয়ে থেকেছে। মূলত বর্ণ হিন্দুরা কলে কৌশলে সাহিত্য রাজনীতি ও ক্ষমতায়নে কপটতার স্বাক্ষর রেখেছে। এদের কারণেই এদেশে বৃটিশ শাসন প্রায় ২০০ বছর বিলম্বিত হয়। এজন্যই হাজার হাজার মুসলিম সত্য সৈনিকরা ফাঁসিতে ঝুলে ইহ ও পরকাল দুই জাহানে বিরাট অর্জন জমা করে দেশপ্রেমের অসাধারণ অর্জন জমা করতে পেরেছেন।

প্রায়ই মানুষকে ইসলাম নিয়ে কটাক্ষ করতে শুনি, ইসলাম নাকি জীবনে কোন কিছুই করে নাই, তলোয়ারবাজি সন্ত্রাসী ছাড়া। ছলবাজরা স্বীকার না করলেও যুগের প্রকৃত মনীষারা সত্য প্রকাশ করে গেছেন। “আরবের ভিতর দিয়েই মানুষ জগতে তার আলো ও শক্তি সঞ্চয় করেছে, —– ল্যাটিন জাতি দিয়ে নয়” বলেছেন মিঃ জি সি ওয়েলস। এভাবে পৃথিবীর এক প্রাপ্ত থেকে অন্যপ্রান্ত সত্যের আলোতে বিকশিত হয়েছে। অপকর্ম করতে নয় নিজের নিরাপত্তার জন্য তলোয়ারের প্রয়োজন অস্বীকার করার নয়। তবে মোদির ভারতের মত নির্দোষের উপর তলোয়ারবাজি ইসলাম সমর্থণ করে না। অপকর্মে ঢেকে রাখা সত্য বিবেককে জাগ্রত করতে কিছু সত্য প্রকাশ করতেই হয়। একজন নির্দোষ মানুষ হত্যাকে কুরআনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যেন গোটা মানব সম্প্রদায়ের হত্যার সমান অপরাধ (সুরা মায়েদার ৩২ আয়াত দ্রষ্টব্য)। শত মিথ্যার জবাব হিসাবে এ তথ্যবহুল গ্রন্থটি একটি অনবদ্য প্রমাণ। “1001Inventions – The enduring Legacy of Muslim Civilization by Salim T.S.Al-Hassani, Chief Editor (national Geographic)”। বিজ্ঞানের প্রায় প্রতিটি বিভাগই আলোকিত করেছে মুসলিমরা। এখানে ১০০১টি আবিষ্কারের কথা উল্লেখিত হয়েছে।

তন্ত্রমন্ত্র নয়, গবেষনা দিয়ে অতীত ইতিহাস বিচরণ করে প্রথম বাণীর অনুসরণে পড়েন লিখেন সন্ধান করেন, নিশ্চিত প্রকৃত সত্য ধরা পড়বে। রসায়ন, ওষুধ বিজ্ঞান, ভূগোল, কম্পাস, মানচিত্র, সমুদ্র বিদ্যা, যুদ্ধ কৌশল সর্বত্রই মুসলিমদের জয়জয়াকার। একটি কলামে এত কথা স্পষ্ট করা প্রায় অসম্ভব। তবুও আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে পাঠকেরা গবেষনার সামান্য উপাত্ত সূত্র মনে করতে পারেন। ২৭৫টি গবেষনা পুস্তক রচয়িতা একজন আল কিন্দি, ৮৬০ সনে মুসলিম বিজ্ঞানীরা একশত রকমের যন্ত্র তৈরীর নিয়ম ও ব্যবহার নিয়ে গ্রন্থ তৈরী করেছেন। ৬০ জন মুসলিম ভূগোলবিদ পৃথিবীর প্রথম মানচিত্র অংকন করেন। কম্পাস, কাঁচ, লবন, পারদ, গন্ধক, আর্সেনিক আবিষ্কারও তাদের কাজ। অনেকেই জানেন গণিত বিশারদ ওমর খৈয়াম, নাসিরুদ্দিন তুসি, আবু সিনাদের মত অসংখ্যরা বহু বহু অর্জনে ময়দান আলোকিত করে রেখেছেন। হাজ্জাজ ইবনে মাসার ও হুনায়ুন ইবনে ইসহাক মানমন্দিরের প্রথম আবিষ্কারক পৃথিবীর প্রথম মানমন্দিরও মুসলিমদের হাতে ৭২৮ খৃ:, দ্বিতীয়টি ৮৩০ খৃ: জন্দেশপুরে, তৃতীয়টি বাগদাদে চতুর্থটি দামেস্কে (চেপে রাখা ইতিহাস, গোলাম আহমাদ মর্তোজা, পৃষ্ঠা ২২)। দেখা যায় নবী গত হওয়ার ১০০ বছর পূর্তির আগেই এমন অসাধারণ অর্জন জমা শুরু হয়ে যায়। স্বভাবতই জানতে চাইবেন এটি কেন কিভাবে হয়? কুরআনের প্রথম শব্দ যেটি নাজেল হয় সেটি ছিল “পড় এবং কলমের সাথে”। তার মানে পড়া ও লেখাই ছিল আল্লাহর প্রথম নির্দেশ। তাই মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে শুরু হয় গ্রন্থ রচনা করা, গ্রন্থাগার গড়া, মসজিদই ছিল প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র, সাথে ধর্ম গড়ে দেয় পরিবারিক শৃংখলা। অতপর শুরু হয় মাদ্রাসা, মহাবিদ্যালয়, বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন। সেদিনের মুসলিম মেয়েরা এমন কি তৎকালীন দাসীরাও অনেক বিদুষী সম্মানিতা ছিলেন কারণ তারা কবর থেকে উদ্ধারপ্রাপ্তা মুক্ত স্বাধীন জনতার অংশ। অল্প কথায় বিজ্ঞানের বিকাশের শুরুটা মুসলিমদের হাতে, আর এ বিজয়ের মূল কারণ অলৌকিক গ্রন্থ কুরআন ও তার পথনির্দেশ মানা দক্ষ মুসলিমদের আত্মায় অন্তরে ঐ সত্যকে গ্রহণ বরণ ও পালন। স্বভাবতই প্রশ্ন আসবে আজ মুসলিমদের কি হলো, প্রশ্নটি জমা রাখুন আমরা আসবো সেখানে আমাদের ব্যর্থতা আমাদের খুঁজতেই হবে। আমরা খুঁজবো। মনের মাঝে শুধু একটি আশা পুতে রাখুন আমরাই হবো আ’লা যদি আমরা সত্যবিমুখ না হই।

“শার্লেমেন ও তার লর্ডরা যখন নাম দস্তখত করতে শিখছিলেন, তখন আরব পন্ডিতেরা আরাস্তুর (এরিস্টটল) এর গ্রন্থ অধ্যয়নে ব্যস্ত ছিলেন। কর্ডোভার বিজ্ঞানীরা সতেরোটি বিরাট লাইব্রেরী নিয়ে গবেষণা করতেন। তার একটি লাইব্রেরীর বইএর সংখ্যা ছিল ৪ লক্ষ। সে পন্ডিতেরা যখন পরম আরামদায়ক গোসলখানা ব্যবহার করতেন তখন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে শরীর ধোয়াকে এক ভয়ংকর অনাচার বলে বিবেচনা করা হতো। “আরব জাতির কাহিনী আমাদের কাছ এত গুরুত্বপূর্ণ এর কারণ, এর মূলে আছে এমন এক মহান ধর্ম প্রবর্তকের সাধনার কথা যিনি নিরাকারের উপাসনায় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ  তিনজন ধর্ম সাধকদের মাঝে তৃতীয় ও আধুনিকতম অবস্থানে এবং তাঁর ধর্ম ইহুদী ও খৃষ্টানের সাথে সম্পৃক্ত” (আরব জাতির ইতিকথা, পৃষ্ঠা ৪, ফিলিপ কে হিট্টি, অনুবাদে অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খাঁ)।

মুসলমানদের প্রত্যক্ষ প্রভাবেই ইউরোপে সরকারী গোসলখানা প্রবর্তিত হয় (ঐ ২১৬ পৃ:)।  ইসলামের বিজয় কতকটা ছিল একটি ভাষার বিজয় – একটি গ্রন্থের ভাষার বিজয় । কবিতা প্রিয়তাই ছিল বেদুইনদের একমাত্র সাংস্কৃতিক সম্পদ। সেদিনে কবিরাই ছিলেন মরু সমাজের প্রেস এজেন্ট ও সাংবাদিক (ঐ, ২৩ পৃ:)। — কবিতা আরবের পাবলিক রেজিষ্টার (ঐ, ২৪ পৃ:)—ঐ আমলে আরবে কুরআনই প্রথম গদ্যগ্রন্থ ছিল এবং আজো আদর্শ গদ্যগ্রন্থের আসনে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে (৪১ পৃ:)। নামাজের ময়দানই ইসলামের প্রথম ড্রিলের ময়দান (৪৫পৃ:)— কুরআনই আল্লাহর শেষ প্রত্যাদেশ, সমস্ত মোজেজার মধ্যে কুরআন শ্রেষ্ঠতম মোজেজা (৪৩ পৃ:)” (ঐ)। চিকিৎসা বিজ্ঞানের একজন আধুনিক ফরাসী ঐতিহাসিক বলেন, হুনাইন নবম শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম মানুষ ছিলেন। তিনি ছিলেন সুদক্ষ অনুবাদকও। শাসক আল মামুন তার অনুদিত গ্রন্থ ওজন করে তাকে সেই পরিমাণ সোনা দিতেন। দুটি বস্তু চিকিৎসক হুনাইনকে কাজে উৎসাহ দিত। প্রথমতঃ ধর্ম, তাই শত্রুরও উপকার করা উচিত বলে মানতেন। দ্বিতীয়তঃ বন্ধুর জন্য তো আরো বেশী করা কর্তব্য মনে করতেন (ঐ গ্রন্থ ১১০/১১১ পৃ:)। মিঃ গীবন বলেছেন, আরবরা বিধর্মীদের গ্রন্থাদি বিনষ্ট করা পছন্দ করতেন না। তাদের ধর্মীয় নীতি এটি সমর্থণ করে না। (দ্র: গ্রন্থাগারের ইতিহাস মধ্যযুগ, শামসুল হক, ৩২ পৃষ্ঠা)। সর্বাপেক্ষা বিশুদ্ধ বক্তার মুখ ও মস্তিষ্ক নিঃসৃত বাণী লিখে সংগ্রহ করেছিলেন আবু আমর ইবনুল আ’লা যা একটি ঘরের ছাদ পর্যন্ত ঠেকে গিয়েছিল (এনসাইক্লোপেডিয়া অব ইসলাম ভল্যুয়ম ১, পৃ: ১২৭)। 

প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী যুবক বালক পরিণত বয়সে চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা:) প্রশাসন, বিদ্রোহ দমনে খুবই ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এরপরও তার আমলে কুফার জামে মসজিদ জ্ঞানকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। দেশ বিদেশের ছাত্ররা জ্ঞানার্জনের জন্য ছুটে যেতেন। আলী স্বয়ং ছিলেন অধ্যক্ষ (সূত্র: মুজীবুর রহমানের লেখা ‘হযরত আলী পুস্তকের ৩৬০ পৃ:, ছাপা ১৯৬৮)। উমাইয়া আমলে রাজতন্ত্রের নামে অপশক্তি ঢুকলেও ইসলামের জ্ঞানলব্ধ কাজ থেমে থাকে নাই। এ আমলেই ব্যাকরণ, ইতিহাস, স্থাপত্য বিদ্যার কাজ এগিয়ে চলে। উমাইয়া আমল হচ্ছে উন্নতির যুগ ‘ডিমে তা দেয়ার যুগ’ (সূত্র: হিস্ট্রি অব দ্যা আরবস, ২৪০ পৃ:)। যদিও রাজতন্ত্রের এ পরিণতি পরবর্তিতে সুখকর হয়নি। নবীর গঠনতন্ত্র বিরোধী এ খাদ ইসলামকে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

খলিফা মামুনের বিরাট গ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল খাওয়ারিজমী, প্রথম বিজগণিতের জন্মদাতা, শ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞ। পড়া লেখা ও পর্যটনে তিনি দক্ষতার সাথে কুরআনকে অনুসরণ করেছেন। কিতাবুল হিন্দ নামের গ্রন্থে তিনি শূণ্যের অপরিসীম মূল্য তোলে ধরেন, এই শূণ্যের জন্মদাতাও তিনি। খলিফার অনুরোধে তিনি আকাশের মানচিত্র আঁকেন, পঞ্জিকার জন্ম দেন। সরকার উপাধি দেয় ‘সাহিব আলজিজ’ নামে (সূত্র: সমরেন্দ্রনাথ সেনের লেখা বিজ্ঞানের ইতিহাস, ২য় খন্ড, পৃ: ১২৬, ১৩৬৪) ও (‘চেপে রাখা ইতিহাস’ গোলাম আহমাদ মর্তোজা)।

১৩২৭ সালে একজন দূর ভ্রমণকারী বাগদাদে আসেন আর তিনি দেখতে পান যে, শহরের পশ্চিম অংশের তেরটি বাড়ীর প্রতিটিতে দুই হতে তিনটি ব্যাপকভাবে সজ্জিত গোসলখানা আছে। এবং প্রত্যেক গোসলখানায় গরম ও ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা আছে। (১১৭ পৃষ্ঠা, আরব জাতির ইতিকথা গ্রন্থ)। নবী বলতেন বিজ্ঞানের দুই শাখা ধর্ম শাস্ত্র ও চিকিৎসা শাস্ত্র। তারাই প্রথম ঔষধ বিক্রেতার দোকান স্থাপন করে। প্রথম ফার্মাকোপিয়ার মূল তারাই। খলীফা আল মামুনের আমলেই ফার্মেসীওয়ালাদের (ঔষধ মিশ্রণকারী) একটি পরীক্ষা পাস করতে হতো। চিকিৎসককেও পরীক্ষা দিতে হতো। একটি অনাচার ধরা পড়ায় ৯৩১ সালে একজন সুবিখ্যাত চিকিৎসককে খলিফা হুকুম দেন যে, উক্ত চিকিৎসক বাকী সমস্ত চিকিৎসককে পরীক্ষা করবেন এবং কেবল উপযুক্ত ব্যক্তিদেরই সনদ দেবেন। ঐ সময় বাগদাদে ৮৬০ জনের উপর চিকিৎসক এ পরীক্ষায় পাশ করেন। এভাবে রাজধানী হাতুড়ে ডাক্তারদের হাত থেকে বেঁচে যায়। চিকিৎসকরা রোজ জেলখানাও পরিদর্শন করতেন। জনতার স্বাস্থ্যরক্ষায় এমন ব্যবস্থা ঐ সময় জগতে আর কোথাও ছিল না। নবম শতাব্দীর শুরুতে হারুনুর রশিদ পারস্যের আদেশে মুসলিম জগতে প্রথম হাসপাতাল হয়। এর অল্প দিনের মাঝে মুসলিম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৪টি হাসপাতাল গড়ে উঠে। মুসলিম হাসপাতালে নারীদের জন্য আলাদা বিভাগ ও ডিসপেনসারী থাকতো। কোন কোন হাসপাতালে থাকতো ডাক্তারী বইএর লাইব্রেরী ও চিকিৎসা শিক্ষাদানের সুযোগ (ঐ গ্রন্থ ১৩২/১৩৩ পৃষ্ঠা)।

আল রাজী (৮৬৫-৯১৫ সালে) কেবল মুসলিম জগতে নয়, সমস্ত মধ্যযুগের একজন মৌলিক চিন্তাবিদ, ও শ্রেষ্ঠ চিকিৎসাবিদদের অন্যতম ছিলেন। কথিত আছে হাসপাতালের স্থান নির্ধারণ করতে তিনি বিভিন্ন স্থানে মাংসের টুকরো টাঙ্গিয়ে রাখতেন। যে টুকরোতে কম পচন ধরতো সেখানে তিনি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করার নির্দেশ দিতেন। সার্জারিতে তাকেই সিটনের আবিস্কারকর্তা বলা হতো। আরব চিকিৎসা শাস্ত্রে আল রাজীর পরেই ইবনে সীনার ক্যানন গ্রন্থ বিশ^কোষসম সে যুগের চিকিৎসা শাস্ত্রের শীর্ষে অবস্থান করতো এবং ইউরোপে পাঠ্য পুস্তক হয়ে  ছিল। এভাবে ইসলামই ইউরোপকে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকে নিয়ে যায় দ্বাদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত। পাশ্চাত্য জগতের চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ গ্রন্থই পথ প্রদর্শক হিসাবে ছিল। ডাক্তার উইলিয়াম ওসলারের ভাষায়, “এ গ্রন্থটি অন্য যে কোন গ্রন্থের চেয়ে দীর্ঘতর সময় মেডিক্যাল বাইবেল হিসাবে টিকে ছিল”(ঐ গ্রন্থ ১৩৩/১৩৪/১৩৫ পৃষ্ঠা)। 

(চলবে)

লেখার সময়: ৬ ডিসেম্বর ২০১৯।

 

বি দ্রষ্টব্য: লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ‘দি রানার নিউজ’ সাপ্তাহিকে ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ সংখ্যায় ছাপা হয়।

Tag Cloud