Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

লেখালেখি করি কারো বাহবা পাওয়ার জন্য নয়। তবে সত্যকে উন্মোচন করার বাসনা থেকেই কলম ধরেছিলাম, তাই আজো মনে করি সত্যের উন্মোচনই একজন লেখকের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। দেখা যায় সবাই নামে মুসলিম কিন্তু কাজে অনেকেই মিথ্যার আশ্রয় নেন খেয়ালে বেখেয়ালে। যখনই এ ধারার কাজ একজন মুসলিম করবেন বুঝে নিতে হবে তার ঈমানের মাঝে গলতি আছে। ধর্মীয় কথা বলতে এক শ্রেণীর মানুষ প্রচার করেন যে ক্রমাগত অপরাধের জন্য কাঁদতে থাক আর মাপ চাইতে থাক। তাহলে এক সময় সব পাপ থেকে তুমি মুক্তি পেয়ে যাবে। এসব হচ্ছে গোজামেলে বানোয়াট ধর্ম চিন্তা। একজন মুমিন মুসলিমকে সাধনা করতে হবে আমি মিথ্যাচারে যাব না। পাপের পথে হাটবো না, সে চেষ্টাই যদি তার না থাকে তবে সে কেমন মুমিন মুসলিম? ঈমানদারের কাঁদার দরকার কম, কারণ সে ঈমানে বলিয়ান একজন, অপরাধ থেকে থাকবে শত যোজন দূরে। তার জন্য এসব নাটকের ভনিতার দরকার বা গরজ কম।  এসব কাজ হচ্ছে অপরাধির, যে সারাক্ষণ দেশ জাতির অপরাধের মানসে গুটি চালান দেয়। এ কাজটি তাকেই করতে হবে, তবে তার মেকী কান্নায় কোন ফল বয়ে আনবে না। কুরআনের যুক্তির সুক্ষ বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট হয়। ইবলিসদের সব দোয়ারে সিল পড়ে থাকবে কারণ তারা  অপকর্ম করা চিহ্নিত দলের সদস্য। বাংলাদেশে যা হচ্ছে বছরের পর বছর এসবকে অপকর্ম ছাড়া আর কিছু বলার ফুরসত নেই। একজন মুসলিম হিসাবে কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলা ঈমানের অংশ জেনেই প্রতিটি কাজ করেছি। আমার ব্লগে জটিল বিষয়ের উপর শতেরও উপরে লেখা জমে আছে, ধর্ম ও রাজনীতির জটিলকে সহজ করা ও সত্য প্রকাশ করাই আমার কাজের অংশ। সজ্ঞানে আমি যদি কখনো মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেই, সে মিথ্যার ভার আমার কাঁধেই বর্তাবে। ধর্মের জটিলতার কষ্ট যেমন আমাকে কষ্ট দেয় একইভাবে রাজনীতির কষ্টও আমাকে ভয়ংকরভাবে পীড়া দেয়। তসলিমাকে জবাব দিব বলে কলমটি তুলে নিয়েছিলাম, এখন দেখি সারা দুনিয়া জোড়া অনাচারের বিচরণ, তবে অতিরিক্ত ধর্ম ও রাজনীতিতে। এ দুটি ক্ষেত্রেই খুব কৌশলে এঁটো মিশিয়ে দেয়া হয়েছে । যখন ছোট ছিলাম আমার দাদীর কাছে শুনেছিলাম তাদের গ্রামে নাকি এক লোক তার মেয়েকে মেরে ফেলে, পাশের বাড়ীর লোকটিকে ফাঁসাবে বলে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সে প্রমাণ করতে পারে নি যে, মেয়েটিকে প্রতিবেশী মেরেছে। সম্ভবত ঐ সময় দেশে বিচার ব্যবস্থা ইতিবাচক ছিল বলেই অনাচার প্রমাণ করা সহজ হয়নি। বাংলাদেশে আজকাল সবাই একযোগে বলছে এখানে ধারে কাছের সময়ে বিচারের উপর ভরসা করার কোন যুক্তি নেই। তারপরও মানুষের সঠিক ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর। আদম যখন গন্দুম খেয়েছিলেন শয়তানের প্ররোচনাতে, আল্লাহ মাফ করেছেন আদমকে কিন্তু ইবলিসকে কখনোই মাপ করেন নি বরং বিতাড়িত করেছেন এবং তাকে জাহান্নামি চিহ্নিত করেছেন, সে হচ্ছে পথহারা, শয়তানের দোসর, সে অধঃপাতেই যাবে। তারপরও কথা থেমে নেই, তারও শক্ত বিচার বরাদ্দ আছে।

কমবেশী অনেকেই জানেন ২০০৪ সালের ২১ আগষ্টের মূল ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছে এবং কিভাবে পরে সাজানো হয়েছে। এসবের উপর অসংখ্য যুক্তি, তথ্য, কথা চারপাশে ছড়িয়ে আছে। আমার নিজেরই এর উপর লেখা আছে, শত শত মানুষ এসব পড়েছে, আমি  চাইলেও তা সংক্ষেপ করতে পারি না। কারণ জটিল বিষয় স্পষ্ট করতে হলে কিছু ব্যাখ্যার দরকার পড়ে। কথা হচ্ছে পৃথিবীতে এমন কি কেউ আছে যে বা যারা তাদের অপকর্ম ঢেকে রাখতে পারবেন? না, ঐ স্বপ্ন না দেখাও ভালো। একমাত্র নাস্তিক যে সে এটি ভাবতে পারে, কারণ সে বোকার স্বর্গেই অন্ধকারে বসবাস করে। এখানে কয়টি কথা আজকের পত্রিকাগুলো থেকে নিয়েছি বাংলাদেশে অনৈতিক মন্ত্রীদের নীতিহীন কথা। ক্ষমতাধর বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল বলেন, নির্বাচনকালীন বর্তমান সরকারই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। কাদের হানিফ, নাসিম এসব মন্ত্রীদের কথা হচ্ছে  বিএনপি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য ছড়ানোর পায়তারা করছে। নাশকতা করে নির্বাচন ঠেকানো যাবে না। বিএনপির কোন সমর্থণ নেই। পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। দেশের পরিস্থিতি জানেন দেশবাসী ভালোই, তারপরও দেশবাসীকে প্রতারণা করতে এসব আবোলতাবোল বকছে সরকারসহ তাদের মন্ত্রীরা। লাখ লাখ কোটি কোটি সমর্থণের ঠেলাতে সরকার ও তার মন্ত্রীরা ভয়ের চোটে একমাত্র পুলিশী রাষ্ট্র বানিয়ে উল্টাসিধা বুলি আওড়াচ্ছেন।

চলমান সময়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া শত শত ঘটনার মতই ২০০৪ সালের ঐ ঘটনাতে ২৪টি জ্যান্ত মানুষ যখন মরলো তাদের আত্মার আহাজারিতে কর্মকর্তাদের গোষ্ঠী শুদ্ধ যে একদিন  ধ্বসে পড়বে, সেটি কি একবারও মাথাতে খেলে না? কারবালার প্রান্তরে যে নবী বংশ ইমাম হুসেনকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলো আসামীরা কি পার পেয়ে যাবে বলে মনে হয়?  হোক সেটি চৌদ্দশত বছরেরও আগেকার কথা। না, ঐ ইবলিসরা কখনোই পার পাবে না, পার পেতে পারে না। সূত্র মতে আমরা জানি ২০০৪ সালের ঘটনাটির পর পরই বিএনপি সরকারই এর সুষ্ঠ বিচারের জন্য মামলা করেছিল। দেশীয় স্থানীয় তদন্তের পাশাপাশি এফবিআই এবং ইন্টারপোলকে সম্পৃক্ত করেছে যেন প্রকৃত দোষীকে আইনের সামনে মোকাবেলা করা হয়। তখন কিন্তু বিদেশী সংস্থাকে উপাত্ত বিলি করে নি বিরোধীদল আওয়ামী লীগ, এটি সবার জানা। বুলেটপ্রুফ মার্সিডিজ গাড়ীটি পর্যন্ত তারা ধ্বংস করে দিয়েছে বলে ওটিও ঢাকা পড়ে যায়। ঐ সময়ে বিএনপি সরকার ছিল মাত্র দুই বছর আর পরবর্তী সাত বছরে ছয়বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানের রায়ে প্রথম দিকের বিএনপি জামাতের জোট সরকারের কোন প্রতিবেদন দাখিল হয়নি এবং পরবর্তীতে মামলাকে প্রভাবিত করার অভিযোগ এসেছে বার বার। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন (অনেক পরে হলেও) তারেক রহমানকে জড়ানোর কারণে মামলার রায়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কারণ তারেকের বিরুদ্ধে কোন সাক্ষ্য প্রমাণ নেই। তারপরও সাজা বহাল রাখা হয়েছে। এর আগে এফবিআই এবং ইন্টারপোলের তদন্তেও তারেক রহমানের নাম আসে নি, এমনকি সম্পূরক চার্জশিটেও নেই। ঐ সময় আমরাও ময়দানে দেশটিতে হাজির ছিলাম। খুব গুরুত্ব দিয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে বিভৎস এ ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেছি। এটি ঠিক নয় যে, বিএনপি এর তদন্তে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। অনেকে বলেন বিএনপি জজ মিয়া নাটক করেছে আজকে এর জবাব দিয়েছেন তাদের এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী (১২ অক্টোবর)। তিনি এর ব্যাখ্যা দেন তৎকালীন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এটি করেছে। রাজকাহন অনুষ্ঠানে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন। তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে, এ ন্যাক্কারজনক মামলার সুষ্ঠ তদন্ত বিএনপিও চেয়েছে কিন্তু ঐ অনেক পথ পাড়ি দিয়ে ১৪ বছর পর এর এমন এক বিচার হয়েছে যে চারদিক থেকেই এর বিরুদ্ধে শোরগোল উঠেছে। ৫০১জন চিকিৎসক বলেছেন এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত রায়।  কারাগার থেকেও মামলার আসামী হওয়ার নজির আজকের পত্রিকাতেও দেখলাম। ১৯ জনের ফাঁসি, ১৯ জনের যাবজ্জীবন, এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। অসংখ্য অব্যক্ত প্রশ্নের জবাব ছাড়াই বিচার হল একদম খালেদা জিয়ার এতিমের টাকা চুরির মামলার আদলে। তারেক যদি সব পরিকল্পনা করেই থাকেন তবে তাকে কেন ফাঁসি দেয়া হচ্ছে না? যাবৎজীবন দিচ্ছেন, তার মানে তাকে মিথ্যা মামলাতে ফাঁসানো হচ্ছে কাদের মোল্লার মতই, সবাইকে মনে রাখতে হবে সবাইকেই মরতে হবে। তবে কোন নির্দোষ যাতে শাস্তি না পায় সেটি হচ্ছে প্রকৃত সুবিচারের শর্ত।

মৃত প্রয়াত সুরঞ্জীতও বলে গেছেন এসব হচ্ছে রাজনৈতিক মামলা। কালে ভদ্রে দু একজনের মুখ দিয়ে আসল কথা বের হয়ে যায়। আজ সংবাদপত্রের সূত্রে প্রকাশ ১২ অক্টোবর ২০১৮ জাফরউল্লাহ চৌধুরীর হাসপাতালের পাশে আইন শৃংখলা বাহিনী চারপাশ ঘিরে রাখে এমনভাবে যে তিনি তার হাসপাতাল থেকে বের হতে পারেন নাই। ঐ দিন বিকালে তাদের একটি বৈঠক করার কথা ছিল সেটি রুধবার জন্যই কি সরকার এ কাজটি করলো? যার জন্য বাধ্য হয়ে আয়োজকরা ঐ দিনের বৈঠক বাতিল করেন। অনেক পরে ওরা সরে গেলে তিনি হাসপাতাল থেকে তার বাসাতে ফিরে যান। আজকেরই খবর আদালত থেকে ছাড়া পেয়ে একজন আসামী ছাত্রদল নেতা যার বিরুদ্ধে দেড়শতাধিক মামলা রয়েছে রবিউল ইসলাম নয়ন ছাড়া পেয়ে গেট থেকেই ধৃত হন সাদা পোশাকে কারিগররা তাকে মটরসাইকেল থেকে মাইক্রোবাসে তোলে নিয়ে যায় এবং যোগাযোগ করলে তারা এসব অস্বীকার করে। এসব হচ্ছে আইনের দেশ উন্নয়নের দেশ নীতির দেশ বাংলাদেশের কর্মকান্ড। ঐ দেশে নিশ্চয়ই বিধাতা আল্লাহ অবসরে যান নাই, সবই পরখ করছেন। যার যত ইচ্ছে মারেন মামলা দেন, তবে নির্ঘাৎ মনে রাখবেন সময় কথা বলবে। অদেখা বিধাতা ঠিক সময়েই নড়েচড়ে বসে। তার অংক বড়ই জটিল। এটি সব কর্মকর্তাদের মাথায় রাখা উচিত।  আমার কয় বছর আগের লেখাতে এসব স্পষ্ট করেছি, তাই বার বার এককথা বলে লাভ নেই। আমার ব্লগে আছে লেখাটির নাম হচ্ছে “বিএনপি সরকার পতনের লক্ষে একুশে আগষ্ট ২০০৪, সচেতনের সন্দেহ প্রতিষ্ঠিত সন্ত্রাসীর দিকে!”। বিশাল ঘটনা, বিশাল লেখা, বিশাল সব যুক্তিরা। লেখাটি পড়লে সম্ভবত অনেকের মগজ ঝালাই হয়ে যাবে। মানুষ যে দুনিয়াতে কি করতে পারে, সেটি বুঝতে সহজ হবে।

এফবিআইকে গাড়ী চেক করতে কেন দেয়া হলো না? / মুক্তাঙ্গন থেকে সরে গিয়ে ১ ঘন্টার নোটিশে কেন স্থান বদল করা হলো? তারেক রহমানের মেধা কি এতই তুখোড় যে রেকি ছাড়াই ২৪ জনকে খতম করে তারা পালালো, কেউ ধরা পড়লো না?  তারেকের নাম আগে কেন আসে নাই? আজ আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিজের দলেরসহ সব মানুষ মেরে তক্তা করে দেয়, তারা সেদিন কেন এত সুবোধ বালকের পার্ট নিল? মুফতি হান্নান যেসব আওয়ামী নেতাদের কথা বলে গেলেন তারা কেন বিচারের মুখোমুখি হন না? হাছিনা কি যুক্তিতে আইভিকে বার বার ট্রাকে উঠতে বলছিলেন?  তিনি কি জানতেন যে, ট্রাকটি নিরাপদ থাকবে। আইভিসহ যে ২৪জন নিহত হলো, আহত হলো আরো শত শত। যে এসব সাজিয়েছে রাজনৈতিকভাবে হলেও সে বুকে হাত দিয়ে বলুক সে উৎরে যাবার কথা কি ভাবছে। আর যারা এর ইন্ধনে তালিয়া বাজাবেন তারাও কি পার পেয়ে যাবেন?  সিনহাবাবুসহ বিচারকরা যুদ্ধপরাধীদের নামে যে উদ্ভট বিচার করেছেন তার নামে যতটুকু অবিচার হয়েছে তার থেকে প্রতিটি মানুষকে নিজের বিচারের জন্য প্রস্তুত থাকার কথা মনে করে দিতে চাই। কারণ সবার উপরে আর একজন নিরপেক্ষ বিচারক যিনি বুঝেন না আওয়ামী লীগ, বিএনপি অথবা জামায়াতে ইসলাম, তিনি বুঝেন শুধু নীতি নৈতিকতা। আমি তার কথাই বলছি। আপনারা মুসলিমরা তার উপরই ঈমান এনেছেন।  তাকে শক্ত করে ধরে রাখুন। ঈমানটা মরার আগে এভাবে হারাবেন না প্লিজ। আমার এ লেখাটি সমাজের প্রতিটি ব্যক্তি মানুষকে উপলক্ষ করেই বলছি। আসল আদালতকে এড়িয়ে যাবার কোনই ফুরসত হবে না। বেশী দিন তো লাগলো না, সিনহা বাবু এর মাঝেই ধরা খেলেন। একদিন যাদের ইন্ধনে মানুষ নাচে তারাও খুব শীঘ্রই ধরাও খায়। এসবই কি প্রমাণ করে না একজন নিরপেক্ষ বিচারকের নিরব উপস্থিতি?

গড়ে একজন মানুষ বাঁচে মাত্র ১০০ বছর, তার বেশী নয়। তারপরও তাদের এত আস্ফালন এত অনাচার মনে হয় তারা যেন জীবনেও মরবে না। এ রকম অনাচার অদেখা বিধাতা করলে মানা যেত। কিন্তু মানুষরা কেমন করে এসব অনাচার করে, বুঝি না। দৃষ্টির আড়ালে বিধাতা কথা বলে না কিন্তু সময়ে নড়েচড়ে, ঘটমান ঘটনা ঠিকই ঘটায়। এটাই তার কথা বলা। একক ¯্রষ্টা বিধাতা আল্লাহ দৃষ্টিহারা নন, নির্বিকার নন। তার প্রকাশ ভঙ্গি স্বতন্ত্র, আমাদের মত নয়। তাকে স্মরণ করে মনে রাখার নামই হচ্ছে ঈমান। একজন ঈমানদার কখনোই মিথ্যার বেসাতি করতে পারেন না। যদি করেন তবে আপনি ফেল ব্যর্থ ঈমানহারা একজন। আপনার ইহজীবন পরজীবনের লাইসেন্স পাবার সম্ভাবনা কম। নয়তো আপনিই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। আপনার নামটি খোদাই করা চিরস্থায়ী খাতাতে উঠাতে পারেন। তবে শর্ত হচ্ছে আপনাকে প্রকৃত সত্যের গোলামী করতে হবে জন্ম থেকে মৃত্যু আজীবন। সত্য সত্য তার পরও সত্য, যেখানে মিথ্যার কোন বেসাতি চলবে না।

১২ই অক্টোবর ২০১৮।

পুনশ্চ: এ লেখাটি সাজিয়েছি ১২ অক্টোবর ২০১৮। কিন্তু হয়তো ব্লগে দিতে হলে আমাকে সাজানোর সুবিধার জন্য অন্য আগের একটি তারিখ ব্যবহার করতে হবে যাতে লেখাটি আমার লেখার লিংকসমূহের মোট ডাটা কলামের নীচের দিকে থাকে। এ লেখাটি নিউইয়র্ক ভিত্তিক সাপ্তাহিক পত্রিকা রানারে ২০১৮ সালের ১৮ই অক্টোবরে ছাপা হয়েছে।

Advertisements

নাজমা মোস্তফা

মিয়ানমারের অমানবিকতার পর বৌদ্ধদের স্বরুপ উন্মোচন দরকার হয়ে পড়েছে। সোয়া দুই হাজার বৎসর আগের মহাপুরুষ গৌতমবুদ্ধের অনুসারীরুপে পরিচিত বৌদ্ধরা আজ দু’ভাগে বিভক্ত, হীনযান ও মহাযান। প্রথম দল নাস্তিক আর দ্বিতীয় দল আস্তিক। খৃষ্টীয় প্রথম শতাব্দীর শেষ দিকে চীনেও বৌদ্ধ প্রভাব বিস্তার লাভ করে। এর মাঝে শত বর্ষ পার হওয়া বৌদ্ধধর্ম এক অদভুত আকার ধারণ করে বসে। ভারতবাসীর মন ও মগজে তখন শত শত ভূত প্রেত দেও দানব ঠাকুর দেবতা পিশাচ পিশাচিনী ঘেরা সমাজ ৩৩ কোটি দেবতার পাপে টলটলায়মান ছিল। এর কুপ্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত করতেই গৌতম বুদ্ধ কঠোর হাতে এসব অনাচার থেকে বের হওয়ার জন্য তাদের সে সময়ের প্রতিষ্ঠিত প্রচারিত ঈশ্বরবাদ ও তাদের নীতিবাদের প্রতিবাদ করেছিলেন। যার স্বাভাবিক ফলশ্রুতিতে তিনি পরিবর্তিত হলেন একজন নাস্তিক হিসাবে এবং কখনো পরবর্তীতে তিনি পূজিত হন স্বয়ং ঈশ্বর হিসাবেও। একই ফলাফল যুগে যুগে তার পরবর্তী বিভ্রান্ত অনুসারীরা জমা করে ঠিক একই ভাবে যারা এককালে ঈসা নবী ও ইব্রাহিম নবীকেও পূজা দিয়েছিল। অশ্বস্থ বৃক্ষের নিচে তিনি কি করতে গিয়েছিলেন? ধারণা করা হয় এই মেডিটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এরা অসীমের কাছে পৌছতে পেরেছিলেন , অসীম তার সন্ধানে একাত্মতা ঘোষনা করেছে। এভাবে এরা বিশেষভাবে জ্ঞান অর্জন করেন। যে বা যারা এ জ্ঞান অর্জন করেন নাই, তারা অনেক সময় এসব অস্বীকার করেন। কিন্তু সাধুরা যখন সত্যের সন্ধান পান তারা কোনভাবেই সত্যকে অস্বীকার করতে পারেন না। প্রচারিত ধর্মশাস্ত্রে এসব জ্ঞানের অর্জনকে স্বীকার করার অজস্র যুক্তি বর্তমান। ঐ সময় ভারবর্ষ তার যোগ বিয়োগের সবকিছুর একত্রিকরণ করে ফেলে। এবার শুরু হল ‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি’ বলতে তাদের সামান্যতম কুন্ঠিত হতে হয়নি, চলতে থাকে জোরে সোরে স্বয়ং বুদ্ধের পূজা অর্চনা।

ভারতবর্ষের চরম দুর্দিনে দুঃসময়ে তার জন্ম হয়েছিল এটি সুস্পষ্ট। চারপাশে অনাচার দেখে ক্লান্ত বুদ্ধ গৃহত্যাগী হন। আজকে একবিংশ শতকে ভারতের গুরুরা ধর্মের নামে নারী নির্যাতন করছে অপকর্মের এমন কিছু নেই যা তারা করে না, তারা নাম নিয়েছে ঈশ^র। সাম্প্রতিক ধর্মগুরু রাম রহিম সিং ছলবাজ সাধক এ ধারায় প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে ধর্ম ব্যবসা চালায়। তাদের গোপন সুড়ঙ্গ মহিলা হোস্টেল সাধ্বী নিবাস অবধি ছোঁয়। অন্য সুড়ঙ্গ পাঁচ কিলোমিটার লম্বা। সেখানে খোঁজ মিলে বিস্ফোরক কারখানাও। অবিশ^াস্য দামে বিক্রি হয় ঈশ^রের প্রসাদ যা তারা নিজেরাই ফলায়। একটি কাঁচা মরিচের দাম পড়ে এক হাজার রুপি, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এসব কেনে বিবেকহারা মাথাবিক্রি করা সদস্যরা। এ ধারাতে সারা ভারতে নানা ভঙ্গির সাধুরা সচল। কুসংস্কার জীবন্ত ও দুরন্ত গতিতে বহমান, মন্দিরের সামনে গলায় মালা পরা কাপড়হীন নেংটিপরা গুরু, মাটিতে শুয়ে পড়া নারীদের পিঠে হাটলেই নারীরা গর্ভবতী হচ্ছেন, সন্তানহীন মায়েরা এসব ‘একাদশী’ নামের উৎসবে শরিক হন। সন্তান জন্ম দিতে না পারলেও বিশ^াস কমে না, এসব হচ্ছে ধান্ধাবাজ সাধুর বাস্তব অবস্থা (জুলাই ১৫, ২০১৭)। নিজেদের বানানো মন্দির প্রাঙ্গনেই এসব সাধুদের দেহ ব্যবসা চলে। দারিদ্রতা, অশিক্ষা কুশিক্ষা ও কুসংস্কারের কারণে সবদিনই ভারত ভন্ড ধর্ম গুরুদের বিচরণ ক্ষেত্র হয়ে ছিল আজো আছে। বিচারকরা বলছেন ধর্ম গুরু রাম রহিমের আচরণ জঙ্গলের জানোয়ারের মত। ভক্তরা নিজের বাপ মা থেকেও তাকে বড় বলে মানে। ভক্তদের মুখে জানা যায় তিনি তাদেরে সুবাক্য শোনান কিন্তু নিজে এমন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন যে তারা বিশ^াস করতে পারছে না। এটি সবদিনই প্রতারকের বড় কৌশল, যার জন্য বলা হয় অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।

প্রতিবাদী ধর্ষিতার পক্ষ থেকে এসব জানার পর আজ সাধুবাবা কারাগারে। তবে শোনা যায় তার আদর সোহাগের কমতি সেখানেও নেই। তবে অপকর্ম করার পক্ষে তার কিছু সুযুক্তি ছিল। তার যুক্তিগুলো প্রতিটি বিবেচক মূর্তি পূজকের ভাববার কথা!  শ্রীকৃষ্ণও ঈশ^র, তার ৩৬০ জন প্রেমলীলার গোপী থাকলে তার বেলায় আপত্তি কেন? তার যুক্তি তার ক্ষমতা অনেক, পিস্তল দিয়ে খুন করতে পারেন, ভক্ত পরিবারের সবাই তার অনুগত, কেউ প্রতিবাদও করবে না, সরকারেও তার প্রভাব প্রকট, তারাও ঈশ^রকে স্যালুট দিয়ে চলে, মূখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রের মন্ত্রীরাও তার প্রতি ভক্তি দেখান। খুনের হুমকি দেন একবিংশ শতকের এসব ভারতীয় ঈশ^ররা। ডেরা ম্যানেজার ফকিরচাঁদকে খুন করলেও এখন পর্যন্ত কেউ কোন কুল কিনারা করতে পারে নাই, ঈশ^রের এতই ক্ষমতা!  

উপরের এসব কথার ভিত্তিতেই ধারণা করা যায় যে তিনি গৌতম বৌদ্ধ যখন জন্ম নেন, তখন সেখানের অবস্থা কেমন ছিল?  সাধক বুদ্ধ প্রকৃত জগতের মালিক সম্বন্ধে ভাল ধারণা লাভ করেন। এবং সাধক নামধারী সেই যুগের সব প্রতারক ব্রাহ্মণেরা যা প্রচার করতো তা ছিল খাদযুক্ত, ভুলেভরা যার কারণেই তার বিবেক নড়েচড়ে উঠে। তাই খাটি সোনার যুক্তি দেখাতে গিয়ে তিনি তাদেরে যুক্তি দিয়ে বুঝাতেন। এতে তারা একদল মনে করলো তিনি নাস্তিক, অন্যরা এটি প্রচার করতে লাগলো তিনি হিন্দুর অবতার, কেউ বা প্রচার করলো তাকে ধান্ধাবাজ তস্কর। বৌদ্ধরা প্রার্থণার প্রারম্ভে তিনবার পাঠ করে –“নমো তস্সো ভগবতো অহরতো সম্মা সাম্বুদ্ধস্সো” অর্থাৎ পবিত্র মহাজ্ঞানী প্রভুর প্রশংসা হোক। হিন্দু ধর্মের অশ্বমেদ, গোমেদ এমনকি নরমেদ যজ্ঞের ভয়াবহ রীতির পর মহাত্মা গৌতম আনলেন অহিংসার মূল মন্ত্র। অহেতুক প্রাণী হত্যা মহাপাপ বলে তিনি ঘোষনা করলেন। স্বভাবতই সে সমাজের এই ভয়ানক কুৎসিত রুপ দর্শনে তার মহান হৃদয় ব্যথিত হয়ে উঠে। তিনি প্রচার করতে লাগলেন অহিংসার নীতি, তথাকথিত ধর্মের নামে ভারতের ভয়ংকর হিংসা ধারার নীতিসকল তাকে এসব নীতি গ্রহণে উজ্জীবিত করে সন্দেহ নেই। বিকৃত বিবর্তনের তালে পড়ে পরবর্তীদের কারসাজিতে যীশু যেমন তিন ঈশ্বরের অন্যতম হয়েছেন, তেমনি বিকৃত শিক্ষার পরিণতিতে গৌতম হয়েছেন নাস্তিক। প্রকৃতপক্ষে যীশুও যেমন ঈশ্বরত্বের দাবী করেননি তেমনি মহাত্মা গৌতমও নাস্তিক ছিলেননা, ঈশ^রত্বের দাবীও করেন নাই। ভারতীয়রা ঈশ্বরের অস্তিত্বে অবিশ্বাসকারী হিসাবে নয় বরং বেদে অবিশ্বাসকারীকে নাস্তিক আখ্যা দিয়েছে। প্রমাণ দেখুন যথা নাস্তিকো বেদ নিন্দক (মনু ২/১১) যেহেতু গৌতমবুদ্ধ বর্তমান দুর্বোধ্য বেদকে প্রকৃত বেদ বলে স্বীকার করতেন না তাই বিরুদ্ধবাদী নিন্দুকেরা তাকে নাস্তিক আখ্যায় ভূষিত করেছে। সম্রাট অশোকের শিলালিপিগুলির মধ্যে এখনও ঈশানার (ঈশ্বরের) উল্লেখ রয়েছে (জগন্নাথ থেকে বিশ মাইল দূরে ধাওলীতে প্রাপ্ত অশোকলিপি)। ঈশানা অর্থ যে ঈশ্বর তা পন্ডিতেরাও স্বীকার করেছেন (Sanskrit-English Dictionary by Shivram Apte) । সমাজ থেকে পুতুল পূজা, নর পূজা, প্রেতপূজা দূর করতেই যুগে যুগে এসব সাধকরা আজীবন সাধনা করে যান। তাদের এত অবদানের পরও লক্ষ্য করা যায় এদের অবর্তমানে পরবর্তীরা ঐ নিষিদ্ধ অনাচারের উপরই জীবন পাত করেন। বুদ্ধ দেবের প্রতিষ্ঠিত প্রধান নীতি ছিল ‘অহিংসা’ আহারের জন্য বা ঠাকুর দেবতার জন্য কোন প্রাণ হত্যা না করার নির্দেশ থাকলেও পরবর্তী তার অনুসারী বৌদ্ধরা সর্বভুকের প্রতিযোগিতায় জগতকে ছাড়িয়ে যায়। পশু পাখি সরিসৃপের মাঝে বৌদ্ধদের অভক্ষ্য কি কিছু আছে? ‘তাও’ মতবাদের সাথে মিশে সেটি এক অদভুত রুপলাভ করে যা প্রকৃতই সাধক বৌদ্ধের কবর রচনা করে। তাই শুধু মায়ানমারই বুদ্ধকে আজ  নতুন কবর দিচ্ছে না, তার কবর বারে বারেই অতীতে এভাবে রচিত হয়েছে।

জানা যায় আজকাল বৌদ্ধরা মাংস খাওয়া অবৈধ জ্ঞান করেন। অথচ গৌতম বুদ্ধ স্বয়ং এবং তার শিষ্যরা সবাই মাংস খেতেন। (প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাস, ৭৭ পৃষ্ঠা)। জাতকের ভূমিকায় স্বীকার করা হয়েছে, বৌদ্ধরা অহিংসা পরায়ণ হলেও মৎস্য ও মাংস গ্রহণ করতেন। (ঐ, ৩১১ পৃষ্ঠা) শুধু তাই নয়, বুদ্ধদেব চুন্দের দেয়া বিষ মিশ্রিত মাংস খেয়েই মৃত্যু বরণ করেছিলেন (উদ্বোধন, জৈষ্ঠ, ১৩৭৮)। এখানেই প্রমান তিনি যদি ঈশ^রই হতেন তবে এরকম মৃত্যু কেন হবে তার? ভারতের ঈশ^র ধর্মগুরু রাম রহিম সিংই বা কেন কারাগারে? মোদির ভারত মানুষ হত্যা করতে ইতস্তত করে না কিন্তু গরু হত্যাকে অপরাধ মানে। বিশ^ জোড়া তাদের গরুর মাংসের ব্যবসা তারপরও মুসলিমদের তটস্থ করতে ভিন্ন ব্যবস্থা তাদের। পশুরও অধম এসব কর্মকান্ড তাদের হীনমন্যতাকে বিশে^র কাছে স্পষ্ট করছে। বুদ্ধ আমিষ খেতেন, নিরামিষ আহারের প্রবর্তন করেছিলেন সম্রাট অশোক (উদ্বোধন, পৌষ ১৩৭৮)। ভারতে কখনো বৌদ্ধকে চোর ও বৌদ্ধগণ নাস্তিক দুটোই প্রচার করা হয়েছে। হিন্দুদের প্রচার মাধ্যমে এখানের নেতিবাচক ঊভয় অর্জনকেও হাতিয়ার হিসাবে নেয়া হয়েছে। জওহরলাল নেহরু তার ডিসকভারী অব ইন্ডিয়াতে বলেন, “ভারতে নিচুস্তরের দলিত মার্কা অল্প সংখ্যক বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী বিদ্যমান”। তারা কৌশলে গৌতম বুদ্ধকে অবতার বানায় এবং তার অনুসারীরা দলিত শ্রেণীর বলেও পরিগণিত করা হয় ঠিক এভাবে। অস্পৃশ্য সম্প্রদায়ের যে সাধারণ নিয়ম ছিল সেটি এখানেও তারা প্রয়োগ করে যে, “যারা বৌদ্ধগণকে স্পর্শ করবে তাদের ¯œান (সর্বাঙ্গ ধৌত) করতে হবে”। একই নিয়ম তারা মুসলমানদের বেলায়ও প্রয়োগ করতে আমরা দেখেছি। এরা সবাই তাদের কাছে ‘মালেচা’ বা অসূচি। পূর্ববর্তী ধর্মধারীদের জটিল এসব কান্ডজ্ঞানহীন অধার্মিকতার ফলস্বরুপ পরবর্তী কিছু নতুন ধর্মের সুত্রপাত হয়। যার প্রেক্ষিতে এদের জবাব হিসাবে ক্রমে বৌদ্ধধর্ম, শিখধর্ম ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠা পায়। খোদ মুসলমানরা মূর্তি গড়ার ব্যাপারে সবদিনই কড়া প্রহরায় থেকেছে তারপরও তাদের শিরক করায় তারা শত পার্সেন্ট শুদ্ধতা বজায় রাখতে পারেনি। তাদের একদল শিরকের নামে মূর্তি দূরে রাখলেও পীর পুরোহিতকে পূজা দেবার নামে এক ঘৃণ্য শিরকী প্রথা সমাজে চালু করেছে। পার্শ্ববর্তী সমাজের ছোয়াতে তারাও এ ক্ষেত্রে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিন্দু সমাজের সাধু নামের কিছু ব্যক্তিরা এবং মুসলমান সমাজের পীর নামে কিছু ব্যক্তিরা ধর্মের নামে এ কু-প্রথা সমাজে চালু করেছে। প্রকৃত একেশ^রবাদী ইসলাম এসব অস্বীকার করে।

কুরআন এমন একটি ফরমুলা গ্রন্থ যেখানে গবেষনার উপাত্ত লুকিয়ে আছে চক্ষুষ্মানদের জন্য। সেই কুরআন’ নামের ফরমুলা গ্রন্থ থেকে দু’টি আয়াত এনে এই মহাপুরুষ সম্মন্ধে বক্তব্য আনছি। । কিছু তফসিরকারকেরা তাকে ওখানে খুঁজে পেয়েছেন, লক্ষ্য করুন আয়াত দু’টি। “আর স্মরণ করো ইসমাইল ও ইয়াসাআ ও যুল কিফলকে কারণ তারা সবাই ছিলেন সজ্জনদের অন্যতম। (সুরা স্বাদ ৪৮ আয়াত)। “আর ইসমাইল ও ইদরীস ও যুল কিফল – সবাই ছিলেন অধ্যবসায়ীদের মধ্যকার। আর তাদের আমরা প্রবেশ করিয়েছিলাম আমাদের করুণাভান্ডারে। নিঃসন্দেহ তারা ছিলেন সৎকর্মীদের অন্তর্ভূক্ত” (সুরা আম্বিয়া ৮৫/৮৬ আয়াত)। আম্বিয়া অর্থাৎ “নবীগণ” উভয় সুরাতেই জুল কিফল নামে এক সজ্জনের কথা উচ্চারিত হয়েছে। স্মরণ করার বিষয় হচ্ছে গৌতম বুদ্ধ কিন্তু কপিলাবস্তুর বাসিন্দা ছিলেন। তফসিরকারক  তাকে কপিলাবস্তুর বাসিন্দা বুদ্ধ বলেই গ্রহণ করেছেন।  (অনুবাদে আলহাজ ডাঃ জহুরুল হক)। এ ধর্মটি খৃষ্টধর্মেরও কয়েকশ বছর আগের ধর্ম। যৌবনে নবী ঈসা(আঃ)ও এ সাধকের সন্ধানে ভারতবর্ষ পর্যন্ত গিয়েছেন এর সন্ধান ইতিহাসে পাওয়া যায়। ইসলাম ধর্মের যে ঐতিহাসিক যোগসূত্র পাওয়া যায় সেখানে দেখা যায় ইহুদী, খৃষ্টান, ইসলাম, বৌদ্ধ, এ চার ধর্মের সূত্র সন্ধান এক সূত্রে গাঁথা। শিখ ধর্মও ইসলামের সাথে একাত্বতায় অসংখ্য যুক্তিতে ভরা। আমি আমার “একই ধর্ম একই ধারা” গ্রন্থটিতে দেখিয়েছি কি ভাবে ধর্মগুলি ইসলামের সাথে একাত্বতা দেখিয়ে গেছে। কিন্তু কান্ডজ্ঞানহীন ধর্মধারীরা সারা জীবনই মুসলিম বিদ্বেষে আকন্ঠ ডুবে নরকের দিকেই ছুটে চলেছে যুগ যুগ অবধি। সূচী আজ মুসলিম নিধনকে কল্যাণের কাজ মনে করছেন কিন্তু তার গবেষনাহীন জীবন ধারাতে এ মহৎ চিন্তার কি কোনই সূযোগ নেই যে এরাই এ জাতি গোষ্ঠীই তাদের প্রকৃত মানুষের পথ দেখাতে সক্ষম। তারা আজ যে পশুর স্বরুপে উদ্ভট রুপ ধারণ করে জাহান্নামের নরকের ব্যবসা করছে, এর সুক্ষ্ম বিচার তাদের সামনেই কয় কদম এগুলেই অবশ্যই অপেক্ষা করছে একজন নিরপেক্ষ বিচারকের প্রকৃত আদালতে! রোহিঙ্গারা এ পৃথিবীর সন্তান, কোন মনুষ্য সন্তানকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার অধিকার কারো নেই। এর দায় থেকে কেউ মুক্তি পাবে না, পেতে পারেন না। কুরআন থেকে আরো কয়টি আয়াত এনে লেখাটি এখানেই শেষ করবো। আল্লাহ সবার সুমতি দিন।

বস্তুতঃ ‘আদ-এর ক্ষেত্রে (৭ঃ৬৫) তারা তখন পৃথিবীতে যুক্তি ব্যতিরেকে অহঙ্কার করতো, আর বলতোঃ “আমাদের চেয়ে বলবিক্রমে বেশী শক্তিশালী কে আছে?” তারা কি তবে দেখতে পায় নি যে, আল্লাহ যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের চেয়ে বলবিক্রমে অধিক বলীয়ান? আর তারা আমাদের নির্দেশাবলী সম্বন্ধে বাদ-প্রতিবাদ করতো। সেজন্য আমরা তাদের উপরে পাঠিয়েছিলাম এক ভয়ঙ্কর ঝড়তুফান” (সুরা হামীম-সাজদাহএর১৫,১৬ আয়াত)। অনেক পরে হলেও অত্যাচারীদের ধ্বংস অনিবার্য। উদাহরণ হিসাবে কুরআন থেকে অতীত যুগের আ’দ জাতির উদাহরণ আনলাম। “বস্তুতঃ চোখ তো অন্ধ নয়, কিন্তু অন্ধ হচ্ছে হৃদয় যা রয়েছে বুকের ভেতরে” (সুরা হজ্বএর ৪৬ আয়াত)। “নিঃসন্দেহ ক্বারূণ ছিল মুসার স্বজাতির মধ্যেকার, কিন্তু সে তাদের বিরূদ্ধে বিদ্রোহ করলো। আর আমরা তাকে ধনভান্ডারের এতসব দিয়েছিলাম যে তার চাবিগুলো একদল বলবান লোকের বোঝা হয়ে যেত। দেখো! তার লোকেরা তাকে বললে; গর্ব করো না, নিঃসন্দেহ আল্লাহ দাম্ভিকদের ভালবাসেন না” (সুরা আল-ক্বাসাসএর ৭৬ আয়াত)। “দুনিয়াতে ফ্যাসাদ বাধাতে চেয়ো না। নিঃসন্দেহ আল্লাহ ফেসাদে লোকদের ভালবাসেন না” (সুরা আল-ক্বাসাসএর ৭৭ আয়াত)।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সাল।

নাজমা মোস্তফা

বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতা পরবর্তী চরম সংকট সময় পার করছে। গণতন্ত্রের নাম খাতায় থাকলেও শাসককুলের আচরণে অনুপস্থিত। গণতন্ত্রের মিথ্যাচারে চরম অবৈধ পথেই তাদের থাকা, বেঁচে থাকা, আর চলা। মিথ্যাচার হচ্ছে সব কুশাসকের শ্রেষ্ঠ ঢাল। মনে হয় কথায় কথায় শাসককুলের মুখে মিথ্যাচারী বুলি শুনতে শুনতে মানুষ বাস্তব সত্য ইতিহাস ভুলতে বসেছে। জাতির সচেতনরা মাঝে মাঝে শত মিথ্যাচারকে দূরে ঠেলে সত্যকে নেড়ে চেড়ে দেখান। বাংলাদেশের ইতিহাসে মোট তিনবার সামরিক আইন জারি হয়েছিল। প্রথমবার একজন রাজনীতিবিদ আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক সেনাপ্রধান ছিলেন কে এম শফিউল্লাহ দ্বিতীয়বার একজন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আর সেনাপ্রধান ছিলেন ৩ নভেম্বরে অভ্যুত্থান করা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ। আর তৃতীয়বার হচ্ছেন স্বৈরশাসক লেজে হোমো এরশাদ। অনেককে অনেক সময় বলতে শোনা যায় এরশাদ তুলনামূলক সাধু,  জোড়া প্রতারকের একজন শক্ত সাগরেদ এরশাদ, চরম ধূর্ত ও আদর্শহীন নেতৃত্ব। দেশের সর্বনাশের জন্য তার অবদান কোন অংশে কম নয়। আমরণ তিনি শয়তানিতেই তালিয়া বাজিয়েছেন, এখনো বাজাচ্ছেন ভবিষ্যতেও বাজাবেন। এতে কোন ব্যত্যয় নেই, জাতি সাবধান! তার সময়ে তিনি নিজেই ছিলেন সেনাপ্রধান, জবরদখল করে ক্ষমতা হাতিয়ে নেন। গণতন্ত্রের নাম পাল্টিয়ে বর্তমান হাসিনা শাসক উন্নয়নের অপকৌশলে দেশটির মজ্জা বের করে দিয়েছেন বললে ভুল হবে না। বাংলাদেশের মানুষ বাকহারা, সবচেয়ে বেশী জীবনের নিরাপত্তাহীনতার শিকার। দৃশ্যত এরশাদ সবচেয়ে বড় স্বৈরশাসক আর শত অপকর্মের যোগানদাতা হাসিনা সরকার তার অনুসারী বড় সাগরেদ। তারা দুজনা মিলে দেশটির চরম অবক্ষয়ের ইতিহাস গড়তে কার্পণ্য করেন নাই। দুজনাই ভারতের শক্ত বন্ধু, বাংলাদেশের বৈরীতায় প্রশ্নবিদ্ধ তাদের দালালী কর্মকান্ড। শুরুতে ভারতীয় স্টাইলেই সরকার রোহিঙ্গাদের পুশবেক করা শুরু করেছিল।বলতে দ্বিধা নেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুরুতে অবহেলা দেখালেও বাংলাদেশের শাসককুলের সাহস যুগিয়েছে তুরষ্ক সরকারের মানবতার আশ্রয়ের ডাক। দেরী না করেই তারা ছুটে এসেছেন সাহায্যার্থে, যদিও ভেংচি কেটে কিছু বেয়াড়া ধরা খাওয়া দালালরা নিজের অপকর্ম ঢাকার ব্যর্থ চেষ্ঠা করেছে।

রোহিঙ্গা একদল মানুষের নাম, আজ তাদের মানুষ বলে স্বীকার করছে না এককালের সাধক বুদ্ধের অনুসারীরা। একবিংশ শতকে এসে এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। শান্তির উপর নোবেল বিজয়ের অসার বাস্তবতাকে টিটকারী মারছে ২০১৭এর বার্মা ও তার নেত্রী সূচী। সম্ভবত সাধক বুদ্ধের উপর কোন চর্চা নেই এদের, বাবা মা হারিয়ে ১১০০ রোহিঙ্গা শিশু এসে ভিড়েছে বাংলাদেশে। সূচী মায়ের জাত হলেও মানবতা ও মাতৃত্ব তার মাঝে আছে বলে কোন প্রমান তিনি দাঁড় করাতে পরেন নাই। এটি স্পষ্ট নোবেলের মুখে চুনকালি লেপে দিলেন তিনি। খোপাতে ফুল গোজা সূচী মানুষ নন, দৈত্য দানব, জিন, ভুত এরকম কিছু প্রমান করতেই কি তার এত তৎপরতা? একটি দেশের এক তৃতীয়াংশ ৩,৮০০০০ পলাতক এদের অপকর্মে। এরা আকারেই মানুষ কিন্তু আচরণে অশিক্ষিত বর্বর! ১৯৪৮এর আগের পৃথিবী তারা চেনে না, এর অস্তিত্ব তারা স্বীকার করছে না। পৃথিবীর মানুষদেরে জাগতে হবে এবং দুনিয়াতেই এ রকম অপকর্মীদের কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একজন অপরাধীকে একবার ফাঁসি দেয়া যায় কিন্তু এর উপযুক্ত বিচারে তাকে কয়বার ফাঁসি দিলে সুবিচার হবে সেটি সভ্য পৃথিবীর মানুষকে ভাবতে হবে। ২০০০ সালে টুইন টাওয়ার ধ্বসানো হয় খুব কৌশলে যাতে মুসলমানকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়। মাইকেল মূরের “ফারেনহাইট নাইন ইলেভেন” থেকে শুরু করে অসংখ্য গবেষনাতে, ম্যূভিতে আজ এটি অপেন সিক্রেট যে এটি ঘটানো হয়েছে একদল নির্দোষকে আসামী করতে। প্যালেস্টাইনের মুসলিম নিধন, কাশ্মীরের মুসলিম নিধন, ভারতের মুসলিম নিধন একের পর এক অদভুত খেলার শিরোনাম ‘মুসলিম নিধন করা’, কেউ বলছেন এদের পাঠিয়ে দাও মঙ্গলে। ভারত বাংলাদেশের বন্ধু এটি প্রমান করা খুব কষ্ট, প্রায় অসম্ভব। মোদিজি খুব মজাসে হাত মেলালেন সূচীর সাথে। বাংলাদেশের হিন্দু প্রভাবিত অনেকের ফেসবুক স্টেটাসে জানলাম তারাও বেজায় খুশী রোহিঙ্গা নিধনে। এরা তো মোদিরই জাত ভাই, তাই এটি তারা প্রমাণ করে দেখালেন। এসব ধর্মধারীদের উচিত ধর্ম নিয়ে ব্যবসা নয়, বরং মানবতার চাষ করলে তারা ইহ ও পরকালে উপকার জমা করতে পারতো। মানুষের জন্য বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস গড়তে পারতো। 

প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে নিষ্ঠাবান মুসলিম ছাড়া গোটা বিশ^ মদ ও মাদকে আকন্ঠ থেকেছে আজীবন। এবার খুব কৌশলে ঐ হারাম খাদ্যকে মুসলিমদের জন্য ভোগ্যপন্য করা হচ্ছে। যাতে এরা আত্মায় ও অন্তরে ধ্বসে পড়ে। প্রতিটি জাতিতে গোষ্ঠীতে মুসলিমদেরে জাগতে হবে, নিজেদের আমলনামা নিয়ে, আদর্শ নিয়ে, মানবিকতা নিয়ে নৈতিকতা নিয়ে শক্ত হয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ঠিক তখনই বিধাতার অপরিসীম সাহায্য সহযোগিতার দাবিদার হবে মুসলিমরা। ভারতের স্বার্থে আর মায়ানমারের স্বার্থকে জলাঞ্জলী দিয়ে ফেনসিডিল, ইয়াবার ব্যবসার গোমর ফাঁক করে ঘরে ঘরে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যেখানে সমস্ত জাতি আজ ইয়াবার নেশাতে বুঁদ হয়ে আছে আর প্রতিটি ষড়যন্ত্রী সরকারের সাগরেদরা আঙ্গুল ফুলে কালাগাছ হতে চুটিয়ে ব্যবসা করছে। বাংলাদেশের সরকার ও তার চামুন্ডারা ব্যস্ত টাকা গড়ার কাজে,  এদের রশিতে খুব ঢিল করে রাখা, অবৈধ রোজগারই অসৎ পথে আসা সরকারের বড় ভরসা। কুপথে যারা হাটে এদের কোন ধর্ম থাকে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাবে ৩০ লাখ, যদিও বেসরকারী হিসাবে আরো বেশী বাংলাদেশীরা এসব মাদকে আসক্ত। সরকার ও তার সাগরেদরা নিজেদের সাজানো নাটকে জঙ্গিনামার প্রচার করছে ধার্মিকরা খারাপ, তারাই জঙ্গি। তার মানে যারা ইয়াবা সেবী ফেনসিডিল সেবী তারাই সোনার বরপুত্র। সরকারী নটবরদের টাকার গরম বেড়েই চলেছে। এরা আসামী হলেও কারাগার আটকায় না, কারণ রশিতে ঢিল দিয়ে রাখা। বরং দেখা যায় এরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রমোদভ্রমনে সাগর পারে ফুরফুরে হাওয়া খেয়ে বেড়ায় ইয়াবাখোর বদিরা। জাতির জন্য কি লজ্জার কথা এসব! 

সাম্প্রতিক হিসাবে গড়ে প্রতিদিন ২০ কোটি ব্যয় হলে মাসে খরচ হয় ৬০০, কোটি টাকার ইয়াবা (আমাদের সময়)। নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই মনের সুখে এসব গিলছে। অসৎ পথের অর্জনের হিসাব দুনিয়াতেই হয়ে যায়, যদিও অসচেতন মা বাবা গুরুজনরা সেটি চিন্তা করেন কম। মরার পরের বিচার অবশ্য বরাদ্দ আছেই, দুনিয়ার বিচারই কি কম হয়? পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে ঐশী বাংলাদেশের একটি মাইল ফলক এঁকে রেখেছে। মা বাবাকে খুন করে কতদূর অধঃপাতে সে যেতে পেরেছে। প্রতিটি ইয়াবাসেবীকে এক একজন ঐশী ভাবলে জাতির পরিণতি কি ভয়ঙ্কর পর্যায় পার করছে, সেটি বুঝতে বেশী সময় লাগে না। এ থেকে নিস্তারের সবচেয়ে সহজ সমাধান হচ্ছে নৈতিকতার চাষ করা। সূচীর মায়ানমারের চলমান পাশবিক রাস্তা মানুষের রাস্তা নয়। যুগে যুগে সূচীরা যেভাবে সমাজে নেতিবাচক ধ্বস নামাতে পেরেছেন অপরদিক সাধক বুদ্ধ, জগতের সাধু নামের এক একজন ব্যক্তির অর্জনেই জগতের চেহারা বদলে গেছে, ইতিবাচক অর্জনে জগত ধন্য হয়েছে শতাব্দী শতাব্দী অবদি।

বাংলাদেশ এসব ইয়াবা মাদক উৎপাদন করছে না। ভারত মিয়ানমারসহ আরো বহু দেশ এসব উৎপাদন করে, আর বর্ডার দিয়ে এসব আবর্জনা বাংলাদেশে ঢুকে। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদী থেকে সীমান্ত অঞ্চল জুড়ে ইয়াবা পাচারের সবচেয়ে বড় রমরমা ব্যবসা। দেশের ৩২ টি জেলা ও ১৩২টি উপজেলার সাথে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকমের বরাতে মিয়ানমারের আটটি সংগঠন সীমান্তে ৩৭টি  ইয়াবা কারখানায় মালিকানায় নাসাকা। তারা ১৩ ধরনের ইয়াবা মরণবড়ি তৈরী করে। ডিলার সাবডিলার সব রেডী করা আছে। ৩০ লাখ পিস ইয়াবা পৌছে যায় প্রতিদিন মুখোশধারী ইয়াবা সিন্ডিকেটের মিয়ানমারের ১৭চোরাচালানি ডিলারদের কাছে। এরপর আছে সাবডিলাররা। ১৯৯০ সালে এসব ব্যবসার শুরু থাইল্যান্ডে। মায়ানমারের প্রশাসনের মদদে থাইল্যান্ড থেকে কাঁচামাল এনে সে দেশের অভ্যন্তরে কারখানা স্থাপন করা হয়। এখানে টেকনাফের দুটি ইয়াবা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চিহ্নিত ১৭ জন দিয়ে চলে ব্যবসা। দুটির একটি টেকনাফের স্থানীয় সংসদ সদস্যের পাঁচভাই, এপিএস, ভাগ্নে ও তালতো ভাইয়ের খবর গোয়েন্দাদের হাতে ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। অন্যটির খবর এখনও ঢেকে রাখা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যাদের তথ্য ফাঁস হয়েছে তারা হচ্ছেন আওয়ামী সংসদ সদস্য আব্দুর রহামন বদি, তার পাঁচভাই যথাক্রমে আবদুস শুক্কুর/আব্দুল আমিন/ মজিবুর রহমান/ শফিক/ ফয়সাল, শাহেদুর রহমান নিপু বদির ভাগনা, কামরুল হাসান রাসেল বদির ফুপাতো ভাই। এসব হচ্ছে বাংলাদেশের অবৈধ পথে আসা সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বদিময় বদ খবর। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে এরকম একজন আসামীকে কারাগার থেকে কিভাবে বরণ করা হয় ২০০ তোরণ দিয়ে, সে সব ছবি জনতার ভুলার কথা নয়, ছবিতে দেখা যায় বেহায়া লোকটি হাসিমুখে গলাতে মালা নিয়ে ময়দানে এসেছে। দুদকের মামলায় মাত্র তিন মাসের কারাদন্ড হলেও মাত্র ১৮দিনে বের হয়ে আসে বদিরাজ। নয়ন বাবুর চিকন দৃষ্টিতে ধরা পড়া বদির আসল খবর হচ্ছে ঐ সময় বদি এসব ম্যানেজ করে অতি কম পরিশ্রমে, মাত্র ১১০০ কোটি টাকা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাথে বদির সমঝোতা হয়। যার স্বাভাবিক পরিণতিতেই খোলা পায়ে প্রধানমন্ত্রীর সাগর সঙ্গমে প্রমোদ ভ্রমনে বদিকেও তালিয়া বাজাতে দেখা যায়। ফেসবুকের বদৌলতে মিডিয়ার প্রচারে অনেকেই এসব দেখেছেন নিশ্চয়।

দেশে তো আছেন অনেক ভাড়, বিদেশেও কিছু ভাড় সাংবাদিকরা অনেক ভাড়ামির উদাহরণ রাখছেন তাদের লেখনীতে। প্রধানমন্ত্রী হাসিনাই একমাত্র নেতা যিনি রোহিঙ্গা সমাধানে কাজ করতে পারেন। তার রক্তেই নাকি সমাধান জোড়া। তাদের কর্নকুহরে এসব বদিনামা ঢোকে না। তাদের চোখে সব সময় নকল চশমা; দেখেন শুধু জামায়াত আর পাকি, জামায়াত নির্ভর রবীন্দ্রসঙ্গিত ভক্তদের কথা বলে জামায়াত পাকিকে ঘৃণা করলেও রবীন্দ্র প্রীতিকে স্পষ্ট করতে এরা ভুলেন না।  ২০১৪ সালে প্রথম আলোতে এক খবরে প্রকাশ ৬ বছরে বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশ করেছে ৭৭ গুণ। এর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মুসলিম প্রধান একটি দেশে এসব কেন? কি কারণে বাবা মারা অভিভাবকেরা, কর্তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন? বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের রিজার্ভ লুটের কথা মনেই নেই প্রধানমন্ত্রীর কিন্তু সিনহা সংকটের সমসাময়িক সময়ে জুড়ে দেন বিএনপির সম্পদের হিসাব নিয়ে তিনি সংসদে মুখর আর ছবিতে তার তালিয়াখোর বদিরা বত্রিশ দাঁত বের করে হেসে কুটিকুটি। সবকটাই লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে এক খোরে মাথা মোড়ানোর দল। সাগর চুরির সব খবর জাতি কমবেশী জানেই। তদন্ত হয়েছে কিন্তু চোররা এতই শক্তিমান যে তাদের নাম নাকি প্রকাশ করা যাবে না, আপত্তি আছে, তাদের অর্থমন্ত্রীই বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শাক দিয়ে কত আর মাছ ঢাকবেন। বেহায়াপনার সীমা অতীতে তার দলের প্রয়াত সুরঞ্জিতবাবুরা দেখিয়ে গেছেন, তারা আর বাদ যাবেন কেন? সখ করেই মানুষের মুখে বারে বারেই কথা তুলে দিচ্ছেন। মানুষ তাদেরে ভালোই চিনে গেছে।

ট্রাম্পএর মত বাংলাদেশের হিন্দুরাও প্রকাশ্যে ফেসবুকে মুসলিম পছন্দ করছেন না, অনেকে চাইছেন ভারতের জন্য একটি এপ্রিল ফুল। ভারতকে কাছের মনে করেন। কলেজে পড়াকালীন একদিন আমাদের ইংরেজী শিক্ষক জিতেন স্যার কুরআনের বিরুদ্ধে কটি কড়া কথা বলেছিলেন যে, এর মাঝে ঘাপলা আছে। সদ্য স্বাধীন দেশে কথাটি শুনে খুশীতে দেখি হোষ্টেলে আমাদের সবকটি হিন্দু বান্ধবীরা একজোট হয়ে কানাঘুষা করছে আর আমরা গুটিকয় মুসলিম বান্ধবীরা মনমরা হয়ে সে আঘাতটিকে বুকে চেপে ধরে এ ওর মুখপানে তাকাচ্ছিলাম মাত্র। আশ্চর্য মনে হলেও এটি বাস্তবতা, মোদি সূচীর সমর্থণে বাংলাদেশের হিন্দুরাও প্রতিনিধি পাঠিয়েছে সেইসাথে ফেরত প্রতিনিধিকে ফুলের মালায় বরণও করেছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদেরে পড়তে দেয়া হয় না। মেরুদন্ড ভেঙ্গে পড়ার সব কাজে তাদের সরকারের হাত শক্ত, ভারতের ক্ষেত্রের সাথে এসব আচরণে তাদের মিল অনেক। রোহিঙ্গা ছেলেমেয়ে পড়তে পারে না। এনটিভির অনলাইন সাক্ষাৎকারে এসব স্পষ্ট হয়েছে উচ্চশিক্ষার প্রশ্নই আসে না। মুসলিমদের এভাবে শিকল পরানোর এসব অভিনব কৌশল মাত্র। ইরাক কোন হুমকি ছিল না বরং ভুল ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা রিপোর্ট, ইরাক ধ্বংসের জন্য এ মিথ্যাটি তখন জরুরী ছিল। খারাপ হোক ভালো হোক তাদের শাসককে ফাঁসি দেয়ার জন্য এসব মিথ্যা যুক্তি তৈরী করা হয় এভাবে। সূচীও ঐ মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন বলছেন ওরা মিথ্যা উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। মায়ানমারে এসব কিছুই হচ্ছে না। সূচীর কাছে রোহিঙ্গারা টেররিস্ট, মোদিও দৌড়ে গিয়ে একাত্বতা জানিয়েছেন। মোদির রাজ্যে গরুর চেয়ে অল্প দামে মুসলিমরা বিকায়। হিন্দুরাও মিয়ানমারে নির্যাতীত হচ্ছে এবার শুনি সেটি আর এক বড় চাল। এরা মিয়ানমারের পক্ষে বন্দনা সঙ্গিতে ষড়যন্ত্রী হয়ে একত্রে জড়িত। নিজেরাই মুসলিম বেশ ধরে আগুন দিচ্ছে আর সরকারী সহযোগিতায় প্রচার করছে এসব রোহিঙ্গাদের ষড়যন্ত্র। সব শিয়ালের এক রা। 

মোদির দেশে ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে স্কুলপাঠ্যে ভারতের একটি বড় অংশে সচল থাকা তিনশ বছরের মোগল ইতিহাসকে বাদ দেয়া হচ্ছে (৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। এর কারণ মোগলরা মুসলিম। শূণ্যস্থানকে পূরণ করা হচ্ছে মারাঠা দস্যু শিবাজীকে দিয়ে। মূর্তিহীন হিন্দু ধর্ম ক্রমে মূল সত্য থেকে সরে এসে আগাগোড়া মূর্তিনির্ভর মিথ্যা জগাখিচুড়ী আচারধর্মী কর্মকান্ডে জড়িয়ে যায়। খবরে প্রকাশ ভারতে হিন্দুত্ববাদকে নিয়ে কোন প্রশ্ন করলেই সাংবাদিকরা হত্যার শিকার হন (বিবিসি, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অসাম্প্রদায়িক বামপন্থী বুদ্ধিজীবি সাহিত্যিক গোলাম সামদানী কোরায়শী ময়মনসিংহে ব্যাপক ইসলাম প্রচার সম্পর্কে বলেন,  “এগার সিন্ধুর দুর্গের সম্মুখে মানসিংহের সঙ্গে ঈসা খাঁর ইতিহাসখ্যাত বিখ্যাত সেই যুদ্ধ ও সন্ধি স্থাপিত হয়। ভগ্ন তরবারীর প্রতি বীরোচিত সৌজন্যের যে পরিচয় ঈসা খাঁ রেখে গেছেন তা ময়মনসিংহবাসীর সম্মুখে এক অত্যুজ্জল আদর্শ হিসাবে বিরাজ করছে। — হত্যার বৈধ সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও বাঙ্গালী বীর হত্যা করেন নি, তাই বিশ্বের বীরশ্রেষ্ঠদের অন্যতম তিনি। মোগল সেনাপতি আফজাল খাঁর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধের সাহস না থাকায় কাপুরুষ শিবাজী আপস আলোচনার নাম করে তাঁবুতে ডেকে এনে নিরস্ত্র আসহায় অবস্থায় আতর্কিত আক্রমণ করে আফজাল খাঁকে হত্যা করেছিলেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “সোনার বাংলা” রচয়িতা বাঙ্গালী বীর ঈসা খাঁকে ফেলে মারাঠা দস্যু শিবাজীকে নিয়ে কবিতা লিখলেন এবং প্রমাণ করলেন বিশ্বকবি হলেও মূলত তিনি হিন্দুদেরই কবি” (ময়মনসিংহের সাহিত্য ও সংস্কৃতি: গোলাম সাদমানী কোরায়শী : জেলা বোর্ড ময়মনসিংহ ১৯৭৮, পৃষ্ঠা ৯)। ভারতের সাবেক উপরাষ্ট্রপতির স্ত্রী সালমা আনসারীর মাদ্রাসার পানির ট্যাঙ্কে বিষ প্রয়োগ করার সময় এক ছাত্রের চোখে পড়ে যাওয়াতে বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। মানুষ কতদূর ভয়ংকর হলে এসব করতে পারে, এটি তার নমুনা মাত্র (উৎস: পরিবর্তন সেপ্টেম্বর ১৮,২০১৭,)। গরু পূজকের দেশে মানুষের এই মর্যাদা। মিয়ানমারের সেনা প্রধান রোহিঙ্গা নিধনে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে চলেছেন। আনন্দবাজার পত্রিকার রিপোর্টে প্রকাশ বিজেপি নেত্রী বেনজির আরফান রোহিঙ্গাদের জন্য দোয়া কামনায় তাকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আগামী তিনদিনের মধ্যে তাকে কারণ দর্শানোর জন্য দল থেকে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশী জেলেরা বলছে, বিদেশী ট্রলারের দৌরাত্ম্যে দেখে মনে হয় ইলিশের মালিক ভারত ও মিয়ানমার। তারা একসাথে ৩০/৪০ টি ট্রলার নিয়ে সীমানা লংঘন করে বাংলাদেশ জলসীমায় ঢুকে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। অত্যাধুনিক যন্ত্র দ্বারা সাগরের তলদেশের মাছ দেখে জাল ফেলে নিয়ে যায় তারা। ধরা পড়লেও দ্রুত পালাবার সব রাস্তা তারা রপ্ত করেই কাজ সমাধা করে (আগষ্ট ১৫, ২০১৭)। পশ্চিমবঙ্গে মৌরলার চেয়ে কম দামে মিলছে অঢেল ইলিশ কলকাতা প্রতিনিধি (৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭)।  ২৫ আগষ্টের পর থেকে কয়েকবার ড্রোন বাংলাদেশের আকাশসীমা লংঘন করে, এবার ১০,১২, ও ১৪ সেপ্টেম্বর আবারও আকাশসীমা লংঘন করাতে আবারও প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। মোদির হিন্দুত্ববাদের সাথে সাম্প্রতিক বৌদ্ধ মায়ানমারের আদর্শ একদম একাত্ম হয়ে মিলে গেছে।

মিয়ানমারের বৌদ্ধরা সাধক বৌদ্ধের কবর রচনা করে দিয়েছে। কি পরিমান যে ভয়ংকর তারা হয়েছে মনে হচ্ছে তারা পশুকেও হার মানাবে। ওদের নির্যাতনের ভয়ংকর কতকথা আমি তেমন নাড়ছি না। সর্বত্র এর প্রমান জীবন্ত হয়ে আছে। আশি^ন ভিরাথু (ওয়ারাথু) নামে এক ভিক্ষু “নাইন সিক্স নাইন” নামে একটি আন্দোলন শুরু করেছেন, রাষ্ট্রীয় ইন্ধনে তা পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বরতার নজির তৈরী করে চলেছে। বৃটিশ পরবর্তী বার্মাতে আগাম চ্যালেঞ্জের আশংকাতে রোহিঙ্গাদের একদল জিন্নাহর সাথে পূর্ব পাকিস্তানের সাথে নিয়ে নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু তখনকার শাসক সূচীর বাবা অং সান জিন্নাহকে সমতার কথা বলে ও পথে আগাতে বাধা দেন। কিন্তু পরের ইতিহাস বলে তারা তাদের কথা থেকে ক্রমে সরে আসে। মুসলিমরা একেশ^রবাদী অনুসারী সব সময় এক আল্লাহকে স্মরণ করে সব কাজে আগানো তাদের নীতি। অনেকে “বিসমিল্লাহ” এর অর্থ ‘আল্লাহর নামে শুরু করলাম’ না বলে এ সংখ্যাটি ব্যবহার করেন। সে হিসাবে অনেকে দেখা যায় সেভেন এইট সিক্স অর্থাৎ ৭৮৬ এ সংখ্যাটি বিসমিল্লাহর পরিবর্তে ব্যবহার করেন। কেন ব্যবহার করেন তার কোন উপযুক্ত ব্যাখ্যা নেই। এসব কোন ধর্মের নির্দেশও নয়। কুরআনের আয়াতকে এভাবে সংক্ষেপ করার কোন বিধানও কারো জানা নেই। কুরআন হাদিসেও এর উপর কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় নি। এসব কালের অবগাহনে বেড়ে উঠা মনগড়া আচার বলা যেতে পারে। আশি^ন ওয়ারাথু ঐ ৭৮৬ সংখ্যার বিপক্ষে তার “নাইন সিক্স নাইন” যুদ্ধ চালু করেছেন। তিনি মনে করছেন এ দিয়ে তিনি মুসলিম নিধন চালু করে অভিনব কৃত্তিমান অবদান রাখছেন।

এক রাখাইন বালকের বাণী “আমি রাখাইনে সুখী ছিলাম না, আমাদের কোন স্বাধীনতা ছিল না, আমার দোকান থেকে অন্য কোথাও আমি পণ্য সরবরাহ করতে পারতাম না। নিষেধাজ্ঞার মাঝে জীবন কঠিন ছিল, সেনাবাহিনী গ্রামে ঢুকে গুলি করে হত্যা শুরু করে। বিক্ষুব্ধ এক প্রতিবেশী ছুরি হাতে প্রতিবাদী হয়ে আমার সামনে গুলি খেয়ে মরে। অনেক বছর ধরে এসব মারধর চলছে। বাঁচতে না পেরে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছি। শুধু একটি লুঙ্গি নিয়ে গ্রাম ছেড়েছি। যারা ওখানে রয়েছে তাদের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে আছি।” স্যাটেলাইটের ছবি থেকে নিউইয়র্ক ভিত্তিক হিউম্যান রাইটসওয়াচ বলছে রোহিঙ্গাদের ২১৪টি গ্রাম ধ্বংস করা হয়েছে, এবং এ ধ্বংসের ব্যাপকতা বেড়েই চলেছে। তারা যাতে বাড়ীতে না ফিরতে পারে তার সব ব্যবস্থা করছে সৈন্যরা। স্থানে স্থানে মাইন পুতে রাখছে, রোহিঙ্গারা এসব মাইনে পড়েও মরছে সমানেই। আর ঠিক এরকম সময়ে সূচী বলে চলেছেন তার জানা নেই কেন রোহিঙ্গারা দেশ ছাড়ছে।  কয়টি ছবির ভুল ব্যাখ্যা পেয়ে কিছু দেশ বিরোধী দালাল জনেরা মিয়ানমারের হয়ে গানা গাইতে তৎপর, এটি দুঃখজনক। বাংলাদেশের বর্ডারে চলছে বর্মি নারী শিশু পুরুষের মৃত্যুর মহোৎসব আর দেশটির ভিতরে চলছে সরকারী তান্ডবে গুম হত্যার মহোৎসব।

বাংলাদেশে টিআইবি রিপোর্টে বলা হচ্ছে দুর্নীতিবাজদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে। দুই বছরে বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড ৩৮৭টি (১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। ভিতরের মানুষরা বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে কোথায় আছে বা কোথায় মিলাচ্ছে কেউ বলতে পারে না। সম্প্রতি বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমানও গায়েব বেশ দিন থেকে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত হাইকমিশনার জাইদ রা’দ আল হুসেইন রোহিঙ্গাদের এ নিপীড়নকে জাতিগত নির্মূলের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ বলে অভিহিত করেছেন। দশকের পর দশক থেকে এ নির্যাতন চালানো হচ্ছে। জিয়াউর রহমানের সময়ও এ ইস্যু নিয়ে তৎপরতা শুরু হলে তখন এর জবাবে শক্ত অবস্থান নেয়া হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। খালেদা জিয়ার সময়ও এ ইস্যুকে অতীতে উসকে দেয়া হয়, তবে বেশী আগানো যায় নি। এখন অবৈধ পথে আসা সরকার নিজেই নড়বড়ে, তার শক্ত অবস্থান সব সময়ই প্রশ্নবিদ্ধ! ১৯৭৭ সাল থেকে ৭৮ সালের মধ্যে এক অতিভৌতিকতা মায়ানমার সরকারের মাঝে জন্মলাভ করে ক্রমে এ সহিংসতার বিকাশ ঘটে। ৮২ সালে তাদের দেশের রাখাইন সম্প্রদায়ের সব নাগরিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। ৯৪ সাল থেকে নবজাতকরাও আর স্বীকৃত হয় না। ২০১৪এর আদমশুমারী থেকে রোহিঙ্গদের বাদ রাখা হয়। মানবাধিকারকর্মী ও বার্মিজ রোহিঙ্গা অরগেনাইজেশন ইউকের প্রেসিডেন্ট তুন খিন জানান, তারা তাদের নিজ দেশে শান্তিতে বসবাস করতে চায়। অন্য দেশে থাকার ইচ্ছ তাদের নেই, তবে জান বাঁচাতে আজ তারা পরবাসী (রয়টার্স অবলম্বনে)।

বাংলাদেশের প্রশ্নবিদ্ধ সরকারের কর্মকান্ড চরম দুর্যোগেও চরম প্রশ্নবিদ্ধ। ইংলান্ডে, ইন্দোনেশিয়া, তুরষ্কসহ সব দেশ থেকে ত্রাণ সামগ্রি পাঠানো হচ্ছে, ইত্যবসরে এক গোষ্ঠী তাদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি বানাতে তৎপরতা চালাচ্ছে। দেশের ভিতরে যে কাজটি বেশ দিন থেকে সরকার সদলবলে করছে সেটি কৌশলে রোহিঙ্গাময় ছড়িয়ে দেয়াও হয়তো সহজ হবে। কিন্তু জনগণ তৎপর থাকলে কোন ষড়যন্ত্রই টিকবে না। সরকারের আচরণে নিজ জনগণের জন্য মানবতাবোধের পরিচয় নেই বলেই বারে বারে প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে রোহিঙ্গা প্রশ্নে সরকার কতটুকু মানবিক হবে সেটিতেও সরকার কেন যেন ধরা পড়ে যাচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে ২২ ট্রাক ত্রাণ নেয়া হলে সেটি সরকার কবজা করে নেয়, এর চেয়ে হীনমণ্য কাজ আর কি হতে পারে? সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় এসব তাদের গামলায় ঢালতে হবে। এরা পারে না এমন কোন কাজ নেই। এসব অপকর্ম করেই তারা ইতিহাসে শক্ত দাগ রাখছে। মৃতবৎ গণতন্ত্রের মাঝে এর বেশী আশা করাই বৃথা। লুটপাটের বাইরে এ সরকার বুঝে না কিছুই। সম্প্রতি মাহমুদুর রহমানের এক বক্তব্যে এটি স্পষ্ট করেই বলা হয়, তিন দেশেই হত্যাকারীরা ক্ষমতার দন্ড ধরে দাঁড়িয়ে আছে। এরা যথাক্রমে ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। তিনজনের হাতেই টকটকে রক্তের দাগ জমাট বেধে আছে। সত্যকে খুন করে এরা দন্ড ধরে আছে। আচরণে এক হওয়াতে তিনজনাই কিন্তু কমবেশী এক পথে হাটে। এর সন্ধানে যুক্তি সবার চোখেই পড়বে। সবার উদ্যেশ্য এক, পৃথিবীর মানুষকে ইসলাম বিরোধী মুসলিম বিরোধী করা। ভারতে বেশ বড় সময় থেকে চালানো হচ্ছে মিথ্যাচার যে মোগল আমলে বৌদ্ধদের উপর অন্যায় অত্যাচার চালানো হয়, যার সবটাই মিথ্যাচার। যারা সঠিক ইতিহাসের উপর গবেষণা করেছেন তাদেরে তারা চেপে রেখেছে যুগ যুগ অবধি। মিথ্যা ইতিহাস দিয়ে বৌদ্ধদেরেও উস্কানী দেয়া হয়েছে। ভারতের এরকম প্রচারযন্ত্রের কর্মকান্ড বার্মাতেও সক্রিয় আছে। ৭৭, ৯১ ও ২০১২ তে তাদের রোহিঙ্গা বিতাড়ন অপকর্ম সাক্ষী হয়ে আছে। মিয়ানমারের  উগ্র নেতাকে “বুদ্ধিষ্ট টেররিষ্ট” আখ্যা দিয়ে কলাম বের করেছে টাইম ম্যাগাজিন ২০১৩ সালে।

এদিকে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে সরকার যা করছে মুসলিম নিধনে ও ইসলাম ধ্বংসে মনে হচ্ছে বড় সোল এজেন্ট হয়েই কাজ করছে। মুসলিম নিধনের এ কৌশল ছড়িয়ে দেয়ার পিছনে অনেকেই সক্রিয়। শ্রীলংকাতেও এর তৎপরতা বাড়ানোর কসরত চলছে। আর এর যোগসাজসে রাখঢাক না রেখেই স্বয়ং মোদিজি তার কর্মকান্ড নিয়ে ময়দানে হাজির, এতে আর বিভ্রান্ত হবার কিছু নেই। যতই ভনিতা করেন মূল সত্য এখানেই প্রকাশিত হয়ে আছে। দেখা যায় অসহায় মুসলিম নিধনে তারা কাছের দূরের সবাই এক। ইনসান আর শয়তান সব সময়ই দুটি পক্ষ। এটি নিশ্চয় সবার জানা হয়ে গেছে যে এদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরমর্শ দিচ্ছে ইসরাইল। ফিলিস্তিন কাশ্মীর সব খানেই শত্রুপক্ষ একটি জায়গায় এসে আটকে যায়। সরকার এতই বিতর্কীত যে রোহিঙ্গাদের ত্রাণও তাদের দিতে হচ্ছে বিএনপির ত্রাণ লুট করে। বাংলাদেশেই তার সাগরেদদের অতি অসৎ কর্মকান্ডে, ভারতের পানিতে আসা বন্যার খেসারতে দুর্ভিক্ষের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। এত সংকটেও চাল নিয়ে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের সাথে বন্ধুত্বের চাল চালছে। একদিকে তারা বর্ডারে হুমকি দিচ্ছে আর দুর্বল পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দেশ বন্দুত্বের সুরে মেরুদন্ডহীন চালবাজি তেল মারছে। সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে হয়, তারা যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে আর বিনিময়ে বাংলাদেশ তাদের পিঠে তেল মালিশ করবে এ কেমন কুটনীতি? এখানে কুটনীতিও নেই সততাও নেই, নীতি নৈতিকতাও নেই। এ বছরের মে মাসে বাংলাদেশকে সৌদি সরকার রমজানে ৫০ টন খেজুর উপহার দেয়। এতে অনেকেই বলছেন খেজুর তো দূরে থাকুক আমরা নামগন্ধও পাই নাই। সবই নিশ্চয়ই সাবাড় করে দিয়েছে সরকারী কোষাগারের গামলার মালিকেরা। এই খেজুরের হিসাব নিয়েই সরকারের প্রতিটি সদস্য শেষ ময়দানে ছ্যারাবেরা অবস্থাতে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই গেল। সেতু মন্ত্রী বলেন, ১২ লক্ষকে হাসিনা নাকি ত্রাণ দিয়ে আসলেন। জনতারা প্রশ্ন রাখছে ৩ লক্ষের পরের বাকী ৯ লক্ষ ত্রাণও কি তারা সরকারী কোষাগার থেকে লুট করে নিল এই সুযোগে? প্রধানমন্ত্রী বলেন তিনি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়ান। ত্রাণের টাকা গিলেও তোফায়েল আহমদ বলছেন, খালেদা জিয়া মানবিক হলে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতেন।  বিচার বিবেচনা আপনাদের জনতার কাছে রইলো। এরা নাকি দেশ চালাচ্ছে, লাগামহীন এক দঙ্গল লুটেরার হাতে দেশ বেসামাল।

২৫ আগষ্ট থেকে রোহিঙ্গা নিধন খেলা শুরু করে খুব দ্রুততার সাথে ২৭, ২৮ ও সেপ্টেম্বরের ১, ১০, ১১,১৫ তারিখে কয়েক দফা বাংলাদেশের আকাশ সীমা লংঘন করে মিয়ানমার, কিন্তু জবাবে দুর্বল পররাষ্ট নীতির কারণে বাংলাদেশ নিকৃষ্ট মানের পররাষ্টনীতির আচরণ করছে। তার মানে বলছি না যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে, তবে আত্মসম্মান বজায় রাখার মত আচরণ আশা করে দেশবাসী। উদাহরণ হিসাবে ২০১৪ সালে বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান নিহত হন মিয়ানমারের বর্ডার গার্ডের গুলিতে। এরপরই একজন জেলে তাদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। সবারই মনে থাকার কথা, তাদের ট্রলার দিয়ে বিজিবির নায়েক রাজ্জাককে জোর করে তুলে নেয়। ভুলে যাবার কথা নয়, ফেসবুকে, অনলাইনে বন্দী অবস্থার ঐ অপমানের ছবি জাতি দেখেছে। ২০১৩ তে নাফ নদী থেকে ২১ জেলেকে তারা ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমারের নাসাকা বাহিনী, এর পর মুক্তিপণও দাবী করে। ২০১৩ সালের মার্চে ৩ পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমার। যদিও ২০০০ সালে নাফ যুদ্ধে বাংলাদেশ বাহিনী জয়লাভ করে মাত্র আড়াই হাজার সেনা দিয়ে। যেখানে মায়ানমারের সৈন্য ছিল প্রায় ২০-৩০ হাজার, তারা নিহত হয় ৬০০, জয় লাভ করে বাংলাদেশ, বার্মার প্রেসিডেন্ট ক্ষমা চেয়ে রণে ভঙ্গ দেন (সূত্র নয়নচ্যাটার্জিডটকম)। তবে বর্তমানে অবৈধ হয়ে টিকে থাকা সরকার সেদিন করেছে ভাসি, তার সার্বিক দুর্বল চিত্ত আচরণে সে রণতেজ তার নেই।

এবার একজন ওজনদার মানুষের কথা আমরা কিছু শুনি। যার ছত্রচ্ছায়ায় ২০০১এ ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল সেদিনও বিজয় জমেছিল বাংলাদেশের ভাগে। যদিও জাতির করুণ কষ্ট লেপ্টে গেছে দুষ্ট চক্রের মিলিত প্রচেষ্ঠাতে জাতির কলিজাতে বিডিআর বিদ্রোহ নামে ২০০৯ সালে; ওটি ছিল বিডিআর ধ্বংসের নামে জাতি ধ্বংসের নষ্ট মরণ খেলা। আজকের সংকটেও ঐ রিটায়ার্ড মেজর জেনারেল কিছু বুদ্ধি বাতলে দিয়েছেন, দুর্জন কি সুজনের বুদ্ধি নিবে? তারপরও দেশ ও বিশ^বাসীর কাছে এটি তুলে ধরতেই তার বক্তব্যটি খুব সংক্ষেপে আনছি। তার নাম (অবঃ) আ.ল.ম ফজলুর রহমান (৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। পাকিস্তানের পশ্চিম পাশে আফগানিস্তানকে নিয়ে যে ধ্বংস যজ্ঞ চালু হয়েছিল, এখানেও এরকম কিছু হতে কতক্ষণ? একইভাবে বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্তে রোহিঙ্গা মিয়ানমার। ভারত ও চীনের টানাপোড়ান চলছে। মিয়ানমার সামরিক শাসকেরা সূচীকে অকার্যকর করতেই রোহিঙ্গাকে দাবার গুটির মতই ব্যবহার করছে। রোহিঙ্গা ঠেলাঠেলিতে সেনাবাহিনী বেশ প্রসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে মায়ানমারের কাছে। আর সে দেশের সেনাবাহিনী চায় রোহিঙ্গা সমস্যার জঙ্গিকরণ হোক। (শোনা যাচ্ছে ভারতীয় তৎপরতায় বাংলাদেশের ভারত নির্ভর মিডিয়া শুরু করে দিয়েছে রোহিঙ্গা নিয়ে জঙ্গিগীতি )। হয়তো বলা যায় না, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগেনাইজেশনকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীও পৃষ্টপোষকতায় বিদেশী কোন শক্তির মদদে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে তারা দেশের ভিতরে সীমিত আকারে সেনাবাহিনী ও সীমান্ত পুলিশের উপর আক্রমণ করে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের জঙ্গিকরণ করতে পারে।  এতে একটি মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশকে টেনে এনে আর একটি আফগানিস্তানের সৃষ্টি করে ভারতীয় কৌশলগত লাভ জমা করার কসরত হতে পারে। তখন ঐ অস্থিতিশীল মিয়ানমার চীনের জন্য আর এক আফগানিস্তান হয়ে আভির্ভূত হবে। রোহিঙ্গা সমস্যাতে বাংলাদেশকে জড়াতে পারলে এর অবস্থান হবে আফগানিস্তানের পাশের পাকিস্তানের মত। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের গান ইত্যবসরে সরকার শুরু করে দিয়েছে তার বেঁচে থাকার ঢাল হিসাবে এর ব্যবহার করছে তার ইচ্ছামত, এবার শুরু হবে পুরোদমে বহুগুণ তেজে। বাংলাদেশ তার অনেক অঙ্কেই গোজামিলের সম্মুক্ষীণ হবে। এমতাবস্তায় সমাধান হিসাবে তিনি বলছেন, (১) যত শীঘ্র সম্ভব বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মাঝে একটি কার্যকরী ব্যবস্থাতে গিয়ে এ সিদ্ধান্তে পৌছাতে হবে যে আরাকানে যাতে কোনভাবেই জঙ্গীবাদের উত্থান না ঘটে, এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। (২) এর জন্য জরুরী ভিত্তিতে মিয়ানমারের সাথে একটি চুক্তিতে উপনিত হওয়া দরকার। (৩) এরা লক্ষ লক্ষ জনতারা যাতে তাদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মিয়ানমারের নাগরিক হিসাবে জীবন ধারণ করতে পারে, এ ব্যাপারে মিয়ানমারের সরকারের সাথে কার্যকরী ব্যবস্থা করা বাংলাদেশের জন্য জরুরী। (৪) যত শীঘ্র সম্ভব শান্তিই সমাধান, যুদ্ধ কখনোই কোন সমাধান নয়। মিয়ানমার চাইছে বাংলাদেশ যুদ্ধে জড়াক। কারণ এটি করতে পারলে বাকী রোহিঙ্গাদেরেও বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া সহজ হবে। বাংলাদেশকে দুর্বল করতে পারলে তারা আর রোহিঙ্গা নিয়ে কোন ইতিবাচক কাজ করতে পারবে না। ইতিমধ্যে চীন রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ রিজ্যুলেশনে ভেটো দিয়েছে, মনে হচ্ছে এটি করেছে চীন এ জন্য যে তারা আমেরিকা ও ভারতকে মিয়ানমার ইস্যু থেকে বিরত রাখতে চায়। বাংলাদেশকে মনে রাখতে হবে তার সাথে চীনের ২৪ বিলিয়নের বিনিয়োগ আছে। এ হিসাবে চীনের সাথে তৎপরতা বাড়ানো জরুরী। যদি চীন এর সমাধানে কোন ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গা মুসলিমদেরে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়াও দরকার। প্রয়োজনে এদের সামরিক প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, সামরিক সহায়তা দিয়ে রাখাইন প্রদেশ স্বাধীন করতে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশ একটি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। চীনমুখী কুটনীতিই একমাত্র উপযুক্ত সমাধান বলেই মনে হচ্ছে। তবে এটিও ঠিক প্রয়োজনে সমর প্রস্তুতির কোন বিকল্প নেই। সে সামর্থ ও সাহস মাথায় রাখতে হবে। যাতে মিয়ানমার সংযত অচরণ করতে বাধ্য থাকে। (লেখক, সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ রাইফেলস বিডিআর (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি)। চাল দিয়ে চালেসমাতির বদলে নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে সম্মানজনক রাস্তার বাস্তব ভিত্তিক কুটনৈতিক তৎপরতা বহাল রাখতে হবে।

এ সমস্যার সমাধান না করলে অচিরেই মায়ানমারকে ইরাক ও আফগানিস্তানের ভাগ্য বরণ করতে হবে বলে মনে করেন তুরষ্কের রাজনীতিবিদ হাসান বিতমেজ (১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিএনএন)। তিনি বলেন রোহিঙ্গা সমস্যায় মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের মদদ থাকতে পারে এবং মায়ানমার এর সমাধান না করলে ফের ২০০০ এর পুনরাবির্ভাব হবার আশংকা থেকে যাবে। নিজ দেশের সমস্যার সমাধানে মায়ানমারের উদ্যোগ নেয়া জরুরী। আন্তর্জাতিক শক্তি সম্পদ ও অর্থনৈতিক করিডোর হওয়ার কারণে এখানে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র সবার হস্তক্ষেপ ও স্বার্থসিদ্ধির অঞ্চল হয়ে উঠেছে। ২০০৪ সালে রাখাইনে বিশাল শক্তি সম্পদ উন্মোচিত হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই বেইজিং মায়ানমার থেকে গ্যাস সরবরাহের সুযোগ করে নেয় যার বদৌলতে তারা মধ্যপ্রাচ্যে ও আফ্রিকাতে তেল সরবরাহ করে। ভারতের সঙ্গেও তাদের বিনিয়োগ সীমান্ত ইস্যু ও অর্থনৈতিক চুক্তি রয়েছে। ২০০০ সালে ইরাকের যে করুণ পরিণতি হয় সেটি সবার সামনেই উদাহরণ হয়ে আছে। এটি ভুলে যাওয়া কারো উচিত নয়। সহজ কথায় বলা যায় এদের ব্যক্তি স্বার্থের কাছে বারে বারেই মুসলিমদের জিম্মী করা হয়েছে। হাসান বিতমেজ আশা প্রকাশ করেন, ২৫ আগষ্ট থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে শুরু হওয়া নতুন জাতিগত নিধনের বিষয়ে মায়ানমার আলোচনা ও কুটনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও তুরষ্কের নেতৃত্বে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতায় এর সমাধান সম্ভব। তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট রিসেফ তায়েফ এরদোগান মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে এর স্বপক্ষে ইতিবাচক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।

সচেতন পর্যবেক্ষকরা বলছেন কাঁচা টাকার লোভে রোহিঙ্গাদের প্রতি সরকারী দরদ। খবরে প্রকাশ এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশীদের হিসাবে এক হাজার কোটি টাকার বেশী অর্থ জমা হয়েছে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে। বেশ কিছু কার্যকারণও তার স্বপক্ষে যুক্তি বিলি করছে। রোহিঙ্গা বিলি বন্টনে, এখানেও ইয়াবা এমপি বদিরাজ হাজির, টাকার গন্ধে এমন দুর্যোগেও তাদের মন ভরপুর। চারদিকে শোনা যাচ্ছে রিলিফ চুরি, শরণার্থিদের স্বর্ণালংকার, গরুছাগল, শূণ্য হাতে আসার পরও যা কিছু পাচ্ছে সম্পদ লুটপাটে হাত বাড়াচ্ছে যুবতীদের ইজ্জত একটি বাড়তি পাওনা, এসব জমছে সরকারী অবৈধ সরকারী পাষন্ডদের তান্ডবের অংশ হয়ে। মিডিয়াতে সরকারী কান্নার ছবিতে আবেগ প্রবণ প্রচারও আছে, কোনটারই কমতি নেই। রিলিফ বিতরণে সেনাবাহিনীকে দেয়ার আবেদন উঠেছে কিন্তু এখনো সরকারের ঐ দিকে মন নেই। স্বার্থপর এ সরকারের চোখ থাকে সব সময় তার নিজের পকেটের দিকে। নিজেরটা সংরক্ষনই বড় কথা, যেখানে রিজার্ভ চুরি কোন বিষয়ই নয় তাদের কাছে, সেই তারা রোহিঙ্গার প্রতি দায়িত্বশীল হবার যুক্তি কতটুকু মর্যাদা পাবে সেটিই বড় প্রশ্ন? দেশে দুর্ভিক্ষের মর্মর ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। প্রতিটি মেগা সাইজ লুটপাটের পরই এমন ভয়ংকর বিপদ নেমে আসে জাতিতে গোষ্ঠীতে, অতীতে ৭৪ এর ভয়াল দুর্ভিক্ষ নামের উদাহরণীয় বিপদ সংকেত জমা আছেই।

একটি সত্যকে স্পষ্ট করে তুলেছেন তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। জাতিসংঘ অকার্যকর করে রেখেছে তার নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসংঘ একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে মানুষ আশায় বুক বেধে ফরিয়াদ জানাবার জায়গা মনে করে। যদিও এর কিছু নেতিবাচক অর্জন থাকার কারণে এর কার্যকারীতা কম, জাতিসংঘ সঠিক কাজটি সঠিক সময়ে করতে পারে না। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ হচ্ছে চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র, এরা ভেটো দিয়ে যে কোন কাজকে স্তব্ধ করে দেয়, যার জন্য জাতিসংঘ ইতিবাচক কাজ তেমন কিছুই করতে পারে না। এরদোয়ান এর সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসাবে সিরিয়া যুদ্ধের উদাহরণ তুলে ধরেন। এ যুদ্ধ হাজার হাজার মানুষের প্রাণ হরণ করেছে, লক্ষ লক্ষ মানুষকে ঘরছাড়া করেছে, তারপরও রাশিয়ার সহযোগিতায় সিরিয়ার দানব ধরা খায় না। এসব গোজামেল থেকে দুনিয়াকে বাঁচাতে হলে এসব মানুষের তৈরী নকল ভেজালকে প্রকৃত মানবিক, সত্য সুন্দরের আলোকে গড়ে তুলা ছাড়া বিকল্প আর কিছু নেই। শক্তির দন্ড হাতে যারা মিথ্যাচারে রত তাদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা উচিত। দুনিয়াতে এসব অনাচারকে জিইয়ে রাখার বড় মোজেজাই এসব। 

সব কথার সার কথা হচ্ছে ঈমানদার হওয়া ও পৃথিবীর অদেখা মালিককে ভয় করা। সে সব খুটিনাটি ফাইলবদ্ধ করছে, ঐ খাতায় উঠানো নাম মিটিয়ে দেয়ার কোন রাবার, ইরেজার আবিষ্কার হয়নি যা দিয়ে ওটি মুছা যাবে। আপনি বিধাতাকে দেখেন না, তার মানে এটি নয় যে বিধাতা আপনাকে দেখছে না। আপনার চুলচেরা বিশ্লেষন পর্যবেক্ষণ সব লিপিবদ্ধ হচ্ছে বিধাতার কম্পিউটারে। সবার স্মরণ রাখলে ভালো হয়, অন্তত মুসলিমদের এটি স্মরণ রেখে চলা সব সময়ের দাবী। কয়টি আয়াত দিয়েই লেখাটি শেষ করবো। “স্মরণ রেখো, দুইজন গ্রহণকারী গ্রহণ করে চলেছেন ডাইনে ও বাঁয়ে” (সুরা ক্বাফএর ১৭ আয়াত)। “সে কোন কথাই উচ্চারণ করে না যার জন্য তার নিকটেই এক তৎপর প্রখর প্রহরী নেই” (সুরা ক্বাফএর ১৮ আয়াত)। “তিনি জানেন চোখগুলোর চুপিসারে চাওয়া আর যা বুকগুলো লুকিয়ে রাখে” (সুরা আল-মুমিনএর ১৯ আয়াত)। “ওহে যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহর জন্য দৃঢ় প্রতিষ্ঠাতা হও, ন্যায় বিচারে সাক্ষ্যদাতা হও, আর কোনো লোকদলের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের যেনো ন্যায়াচরণ করতে বাধা না দেয়, প্ররোচিত না করে। ন্যায়াচরণ করো, এটিই হচ্ছে ধর্মভীরূতার নিকটতর। আর আল্লাহকে ভয়শ্রদ্ধা করো। নিঃসন্দেহ তোমরা যা করছো, আল্লাহ তার পূর্ণ-ওয়াকিবহাল”(সুরা আল-মাইদাহ ৮ আয়াত)।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সাল।

এখানে মোট ১০০ + + + লেখার লিংক দেয়া হলো। যে লেখাগুলি রাজনৈতিক পটে লেখা হয়েছে। বাংলাদেশ বড় সংকট সময় পার করছে। বাস্তব ঘটনার আলোকে এগুলি লিখা হয়েছে ময়দানের দাগ চিহ্ন দেখে। স্বাধীনতা পরবর্তী জাতি এত বিপর্যস্ত অবস্থান মোকাবেলা করে নি যা বর্তমানে একটি বড় সময় থেকে মোকাবেলা করে যাচ্ছে। লেখাগুলি বাংলাদেশীদের জীবনের সাথে অতোপ্রতোভাবে জড়িত। লেখাগুলি প্রতিটি সচেতন বাংলাদেশীর পড়া অত্যন্ত জরুরী। তাছাড়াও কিছু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাস্তব নির্যাতনের কিছু চিত্রও এখানে এসেছে। শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসাবে ইসলাম একটি জরূরী অধ্যায়, অস্বীকার করার উপায় নেই। তাতে কোন ভুল জড়িত থাকুক সেটি এখানের কোন সৎ নেতৃত্বই চাইবেন না। সঙ্গত কারণে সেটির মূল্যায়নও দরকার। 

ইমাম যখন ঈমান হারান / আলখাল্লার ভিতরে ইবলিসের বসবাস /  বৌদ্ধ ধর্মের শিকড়েও ইসলাম /  মানুষের রক্তে নদীরা লাল /  শিকড়হারা (?) রোহিঙ্গাদের ইতিহাস / সৌদি, কাতার, গণতন্ত্র, আরববসন্ত, ইসলাম – সন্ধানী বিশ্লেষণ  /  ফরহাদ মজহার, খালেদা জিয়ার বোতল, পুলিশ ও সরকার / পলাশির পতনের মূলে হিন্দু পরাশক্তি অতঃপর মীরজাফর /

বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন, ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব? , নিষিদ্ধ বৃক্ষ / ২০১১ সালের ৩১ মে (বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস) উপলক্ষে লেখা /  বাংলাদেশের কলিজাতে কামড়: লাশের মিছিলে জিয়া ও মঞ্জুর / মালালা ও নাবিলা: পশ্চিমা বিশে^র নাবলা কথা। মাদ্রাসার বই ও হিন্দু লেখক , ভুল শুধরে ফের ভুল / সত্য বলা ছাড়া আর কোন বিকল্প দেখছি না /  হাওর গিলছে ভারত পানি মাঙ্গা লালপানি মিলা / জাতীয় সংগীত মূর্তিবন্দনা থেকে মাতৃবন্দনা অদক্ষ হাতে দেশবন্দনা (conspiracy / politics) বাংলাদেশ কি আকবরের দীন-ই-এলাহীর উত্তরসুরি? / পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার / স্বাধীনতা হারাবার শংকা কেন জাগছে? / মাওলানা সাঈদীর বিচারে “গভমেন্ট গেছে পাগল হইয়া তারা একটা রায় চায়” /  ষড়যন্ত্রের ভূমিকম্প : সিকিম মানচিত্রের পরিবর্তন / মধ্যযুগীয় উপনিবেশ: রুখে দাও বাংলাদেশ  / প্রতিরক্ষা চুক্তির ফাঁদে লেজেগোবরে জঙ্গিবাংলাদেশ ভাসুরের নাম মুছতে ব্যাংকে আগুন সাথে জঙ্গি হামলা /  ২০০১ সালের ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ জানান দেয় বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশ / বিগত শতকের গুণ্ডামি আজ চলচ্চিত্রের ‘গুণ্ডে’ / ঢিলের বদলে পাটকেল আসে কখনও খোদায়ি কখনও মানবিক /  ১৯৮৩ সালে ভারতে বাংলাভাষীদের ওপর আরোপিত নেলীর ধ্বংসযজ্ঞ /  এরশাদ চিহ্নিত জোড়া প্রতারকের একজন / ওড়না বিতর্ক: / মুক্তমনা ধর্মনিরপেক্ষ ও নাস্তিক্যবাদের নামে পাঠ্যবই এ গভীর ষড়যন্ত্র /  কয়লার ময়লাতে সুন্দরবন গভীর শংকায়  / আটশ’ বছরপূর্ব ওলির বাণীতে মানচিত্রের অতীত ও ভবিষ্যত্ +সিইসি বিতর্ক পিপিলিকার পাখা /   ছবি যখন ডিজিটাল ভোটের কথা কয়! /  ইসলাম বাতিলের ধ্বনি / জাতি জাগো  / ধর্মনিরপেক্ষতা ষড়যন্ত্রীদের ধর্ম বটিকা ! / গোলামী বড়? / প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষা ধর্ম চাকরী / ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ / পড়শির মনমত  / পথ খুঁজছে নাগরিকত্ব হারানো / হিন্দু প্রলয়াম / কুরআন পুড়ানো, প্রতিমা ভাঙ্গা / আনন্দবাজার ও “র”সুন্দরবন শংকায় “ক্রুসেডার ১০০”সংকটে জেগে উঠ / রাজনীতির অগ্নুৎপাত / গণতন্ত্র কি / শহীদের প্রশ্নবিদ্ধ সংখ্যা  / জাতীয় সংগীত বিডিআর বিদ্রোহ / মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার মেজর (অবঃ) এম এ জলিল: অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা / আলামত সৃষ্টির না ধ্বংসের? ব্যাংক লুটে ৭২ – ৭৪, ২০১৬ / প্রস্থান হোক প্রধান দাবী /  চিন্তার বলিরেখা কপালে / দুজন সম্পাদক / জিহাদ জঙ্গি, জয়, লাশের দেশ / গুলশানের জমা / সরকারই জঙ্গী ওপেন সিক্রেট / কল্যানপুরের জঙ্গি / সার্বভৌমত্ব মাপুন / দুর্গা পূজা পলাশীর কলঙ্ক / সুরঞ্জিতনামা / সংকটে বাংলাদেশ / কণ্ঠে কাঁটার মালা লতার বেদনায় হালকা মলম / দুই বিদেশী হত্যা: সরকার ও ভারত /  অন্ধ আলোটা নিভিয়ে দাও / বিরোধীরা আন্দোলনে সরকার গণহত্যায় / সরকার অপকর্ম দেখে না /  বিএনপি সরকার পতনের লক্ষে একুশে আগষ্ট ২০০৪, সন্দেহ সন্ত্রাসীকে / ভারত সরকারের নির্বাচনী ব্যাঙ্ক ২০১৪ ডিসেম্বরের রাজনৈতিক হালখাতা / লাশের মিছিলে জিয়া ও মঞজুর / স্বৈরাচাররা দুর্গন্ধ ঢাকতে ব্যস্ত ভালবাসার নাস্তিক সংকট / বৈশাখ পূজা শবেবরাত ইলিশ মঙ্গলপ্রদীপ সমকামিতা মানবাধিকার / ২০১৬এর রমজানে সংযম সংকট /  আকবরের দীন-ই-এলাহী কি ? ষড়যন্ত্রে : সিকিম মানচিত্রের পরিবর্তন / গুজরাটের রক্ত: ভারতবর্ষের গর্ব না কলঙ্ক? / অযোধ্যার আগুনের সলতেটা কার /

ধর্ম ও গবেষনা মূলক লেখা: অনেক ক্ষেত্রে ভুল ভাবে ধর্মের  বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সেটি স্পষ্ট করতে ১৮ + লেখা সংযোজন করছি যে গুলি এর মাঝে ছাপা হয়েছে এই সাইটে। 

ইমাম যখন ঈমান হারান / সৌদি, কাতার, গণতন্ত্র, আরববসন্ত, ইসলাম – সন্ধানী বিশ্লেষণ /  বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন,  ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব?, নিষিদ্ধ বৃক্ষ২০১১ সালের ৩১ মে (বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস) উপলক্ষে লেখা / ইসলামে যুদ্ধ: ব্যাখ্যার নামে অপব্যাখ্যা / ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:মুতার যুদ্ধ ময়দানের কঠিন যুদ্ধ: ধর্ম ব্যবসা নয় / দোররা / কার্টুন এক হাস্যকর তামাশা  / সেক্যুলার বাংগালি মুসলিমের ধর্মহীনতা / ২০১৫ এর লাশের মিছিলে হজ বিপর্যয় / “মুতাহ” বিবাহ “আইএসআইএস”এক বিষ ফোঁড়ার নাম / মাকড়শার ঠুনকো বাসাখুতবা, তবলিগ জামাত, ইজতেমা ও কিছু কথা / জাকির নায়েক ও সৌদির এক ধর্ম প্রচারকের পুরষ্কার / ধর্মহারা লালনের জন্য ডেরা তৈরী করে কে বা কারা? / যুগের সত্য মোকাবেলায় হিন্দু সংস্কৃতির প্রস্তুতি / পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার। / তুরষ্কের অভ্যুত্থানে আযান ছিল বিপদের সাইরেন ধ্বনি / ইহুদীরা না ইসরাইলীয় না সেমেটিক, জায়নবাদী ইহুদীরা নবী ইব্রাহিমের নয়, হিটলারের অনুসারী / মধ্যযুগ বাংলাদেশে, ধর্মের নামে রাজ প্রতারণা / ইসলামের নারী

তাছাড়া কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণামূলক বিষয়ে বা সাহিত্যে ইতিহাসে যে নির্যাতনের অপকর্ম করা হয়েছে তারও কিছু ছোঁয়া থাকবে। এবারের লেখাগুলোতে ডজনখানেক লেখা সংযোজন করছি।  

মালালা ও নাবিলা: পশ্চিমা বিশে^র নাবলা কথা। শিকড়হারা রোহিঙ্গাদের ইতিহাস / সময়ের দাবী কাশ্মীর বাংলাদেশ থেকে ভারত হটাও কষ্টের যাতাকলে কাশ্মীর, শুনছি যুদ্ধের ধ্বনি / প্যালেস্টাইনীরা বিপন্ন বিধ্বস্ত জঙ্গী আক্রান্ত / গাজাতে অবরোধ, বিপন্ন মানবতা, সভ্যতার নিরবতা! / মীর মশাররফ হোসেনের “গাজী মিঁয়ার বস্তানী”কবিতার অংশ:প্রসঙ্গ গুজরাটের ধর্মান্ধতা: উচ্চবর্ণের হিংস্রতা / প্রসঙ্গ রবীন্দ্র: কবি জসিম উদ্দিনের দৃষ্টিতে শান্তিনিকেতন / সাহিত্যে সতিত্বহানীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বাংলাদেশে এইডসএর প্রকৃত অবস্থান অতংকজনক /  ফেলানী /

এখানে স্মৃতিচারণমূলক একটি লেখা সংযোজন করছি।

গণিভাই ও আমরা

১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৭।

আওয়ামী পাখা: সাবেক যুগ্মসচিব থেকে অবসর নেয়া নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে পাঁচ সদস্যের নতুন ইসি নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো আব্দুল হামিদ। বাংলাদেশের বর্তমান ইসি প্রেক্ষাপটে ধর্মের কথা কিছু এসেই যাচ্ছে। যদিও অজয় রায়রা এ নীতিধর্মটি সইতে পারেন কম, তারা চান ময়দান থেকে ওকে সার্বিক ভাবে মুছে দিতে। ইসলাম ধর্মের নির্দেশ হচ্ছে যদি কেউ একজন বিশ^াসিনী নারীকে নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দেয় তার জন্য ৮০ বেত্রাঘাত ও শাস্তি হিসাবে তার কোন সাক্ষ্যই গ্রহণযোগ্য নয় (সুরা নূর ২৩ আয়াত)। বিচার দিনে তাদের জিহবা, তাদের হাত তাদের পা তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যা তারা বলছিল (২৪ আয়াত)। সে হিসাবে এরকম ক্ষেত্রে একজন মানুষ যদি গোটা জাতির সাথে মিথ্যাচার করে তবে তার শাস্তি কতগুণ হতে পারে? অন্তত এরকম অবস্থানে একজনের সিইসি পদের তো প্রশ্নই উঠে না। যার সাক্ষ্যই গ্রহণযোগ্য নয়, তাকে কেন একটি মর্যাদার পদ দিতে হবে আবার সেই প্রকৃতির একজনের অহঙ্কারী কথাও সংবাদে এসেছে যে, সর্বোচ্চ পদ না পেলে তিনি গ্রহণ করবেন না। এ হিসাবে তাকে সবনিচের পদও দেবার কথা নয়। প্রধানমন্ত্রীও কথায় কথায় মিথ্যাচার করেন তা সারা জাতি জানে। এ হিসাবে তারও কোন যোগ্যতা নেই ওরকম একটি পদ ধরে রাখার। এ দৃষ্টিতে তিনিও অকুরআনীয় আচরণ ধন্য একজন মানুষ। সম্প্রতি খালোদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী ও এ্যাসাইনমেন্ট অফিসার শাসসুল ইসলাম মিথ্যাচারের গভীর সত্য কথাটি তার ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। ৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় তৎকালীন সচিব মহিউদ্দিন খান আলমগীরের ডাকে জনতার মঞ্চ ছিল একটি দেশ বিধ্বংসী অনাচারের জটিল মঞ্চ, এটি সারা জাতি জানে। ঐ সময় সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা চাকরির শৃংখলা ভঙ্গ করে ঐ অনাচার করে। নুরুল হুদা ঐ অনাচারে ছিলেন না, সাফাই গাইছেন। এবার তথ্য প্রমাণসহ তার বিপক্ষে সঠিক সত্য প্রকাশিত তথ্য আসছে (টুডে ডেস্ক)। সংক্ষেপে আনছি, সে সময় গুরুতর শৃংখলাভঙ্গের অপরাধে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়, এদের সাক্ষাৎ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় ২০৮ জনের তালিকা থেকে ৮৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। তারপরও এদের অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় নি। তারা তৎকালীন উর্ধতন কর্মকর্তাদের ধরে প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। ফলে অনেকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ওরাই আওয়ামী লীগের মূল দোসর বা অবলম্বন হয়ে উঠে, শীর্ষ পদে বসে, এরাই চালাচ্ছে বর্তমান সরকার। আবার যারা অবসরে গেছেন তাদের কামেলিয়াতী এতই গভীর ছিল যে এরাই পরবর্তীতে মন্ত্রী এমপির পদ পায়। এরা প্রত্যেকেই জাতি ধ্বংসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এরা শীর্ষে থাকলে যে কোন প্রসফুটিত জাতির ধ্বংস সহজ হয়।

বিএনপির উদারতার শাস্তি: সরকারের শীর্ষ পদে ডাকাত ঢুকে গেলে জাতির যা হয় তাই হচ্ছে এবং সামলাতে না পারলে আরো হবে।  ৯৬ সালে জনতার মঞ্চের সময় নুরুল হুদা কুমিল্লার ডিসি ছিলেন। সেখান থেকে তিনি মঞ্চের সাথে একাত্মতার বিবৃতি দেন। কুমিল্লা কালেকটরেট তখন প্রধানমন্ত্রী খালদা জিয়ার ছবি নামিয়ে ফেলেন।  এসব প্রকাশ হয় দৈনিক ভোরের কাগজসহ অন্যান্য জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় (৩০ মার্চ ৯৬সাল)। এ ছাড়া ৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনের ঠিক আগে হাইকোর্টে রিট করা হয় তার বিরুদ্ধে, ১৬৩৫ নম্বর রিটে তার ঐ অপকর্মে সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ আছে। তিনি এখানে ২০১৭ সালে যে অসততার পরিচয় প্রকাশ করলেন তাতে তার ধূর্ততার স্পষ্ট প্রমাণ এখনো বর্তমান। উল্লেখ্য, ৭৩ সালের তোফায়েল ক্যাডারের অফিসার (আইএমএস) হওয়া সত্ত্বেও খালেদা সরকার নুরুল হুদাকে ফরিদপুর ও কুমিল্লা জেলাতে সাড়ে চার বছর জেলা প্রশাসক রাখেন। তখন রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্ব দেয়া হতো না। তবে ৯১-৯৬ সালেও বিভিন্ন আওয়ামী পন্থীকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে বসানো হয়েছিল। যার খেসারতে এরাই পরবর্তীতে জনতার মঞ্চ করার দুঃসাহস দেখায়। ১৯৮০ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান বিজেএমসির এসিস্টেন্ট ম্যানেজার থেকে কে এম নুরুল হুদাকে বঙ্গভবনের সেকশন অফিসার হিসাবে নিয়োগ দিলে তিনি আড়াই বছর কর্মরত ছিলেন। তারপরও তিনি আগাগোড়াই একজন প্রাক্তন ছাত্রলীগ ও ভারতের প্রশিক্ষিত মুজিব বাহিনীর সদস্য, জনতার মঞ্চ নায়ক, জটিল দেশ বিধ্বংসী অংকের সদস্য।

আওয়ামী অপকর্মের নজির: শৃংখলা ভঙ্গের অপরাধে আসামীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় ২০০১ সালের ৯ ডিসেম্বর। পরে তিনি প্রশাসনিক ট্রাইবুনালে যান তবে জাতি জানে না তার কোন রায়ের খবর। অথচ বলা হচ্ছে হাইকোর্টের রায়ে তিনি চাকরি ফেরত পান, পিছনের তারিখে হাইকোর্ট নাকি তাকে পদোন্নতিও দিয়েছে, যা আদৌ সত্য নয়। হাতেম আলী খানের রেফারেন্স দেখিয়ে চাকরি ফেরতের বৈধতার কথাও হচ্ছে। বাস্তব হচ্ছে ২০০৯ এ ক্ষমতায় এসে অন্যান্যদের সাথে নুরুল হুদার চাকরি ফেরত দেন শেখ হাসিনা, উপঢৌকন হিসাবে সাথে দুটি পদোন্নতিও দেয়া হয়, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব হিসাবে। নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ইউনুসের পায়ে বেড়ি দেয়া হয় বয়সের প্যাঁচে, কিন্তু এর কয় বছর আগে ২০০৫ সালেই হুদার অবসরের বর্ষপূর্তি তারিখ পার হয়ে গেলে বেড়ি প্রযোজ্য নয়। এসব হচ্ছে তার অতিরিক্ত সচিব ও সচিব হওয়ার গোমর ফাঁক নাটক। তার যোগ্যতা যুগ্মসচিব পর্যন্তই। এমনও ঘটেছে ঐ সময় যিনি কবরে চলে গেছেন এমন ব্যক্তিকেও মেজর জেনারেল প্রমোশন দিয়ে হাসিনা সরকার বিশে^ অনন্য রেকর্ড রেখেছেন। দেখা যায় অবসরের প্রায় দেড়যুগের কাছাকছি সময়ে শেখ হাসিনার দয়াতে একটি দাওমারা পদ পেয়েছেন, যা নিয়ে মিথ্যাচারের ডুগডুগি বাজিয়েছেন।

ভেবেছিলাম একটি লিংক দেব সেটি এর মাঝেই মুছে দেয়া হয়েছে।

বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল..প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য ফাঁস করলেন আসিফ নজরুল ও মেজর আখতার

 

আমার লেখার শিরোনামটি একটি চিরাচরিত সত্য বানী। পিপিলিকার যখন মরার সময় হয় তখন তার পাখা দৈব থেকে গজায়। সরকারের সব ছক আসছে উচ্চ পর্যায় থেকে। যেখানে তথাগত রায়রা সুরঞ্জিতকে দিয়ে ভোটের বানিজ্য শক্ত ভুমিকা রাখতে দাগ রেখে যায়। সেখানে খালেদাকে মামলায় বেধে দেয়া আর এক নাটকের জটিল অংশ মাত্র। এরা আল্লাহর বা ধর্মের তোয়াক্কা করে না। এরা শুধু সামনের ক্ষমতার ময়দান দেখে। সুরঞ্জিত যে এত লুটপাট করলেন যাবার সময় কি কিছু নিতে পেরেছেন? নুরুল হুদাসহ প্রতিটি সুরঞ্জিতকেই শূণ্য হাতেই বিদায় নিতে হবে, তারপরও মানুষ বিধাতার অংক বুঝে খুব কম। জনতার কলিজাতে কামড় দিয়ে তার জনপ্রিয় নেত্রীকে কারাগারে দিয়ে নির্বাচন সারতে চায় বর্তমান সরকার। নিজের বহু গুণ অপর্মের সব ফিরিস্তি করে নিজের সব জটিল মামলা সরিয়ে নিয়ে যে নাটক তিনি করছেন, তা মূল আদালতে জমা থাকবেই।  পৃথিবীর কোন শক্তি নেই সঠিক অপকর্ম থেকে পার পেয়ে যাবার। জিয়া পরিবারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তিনি সীমাহীন নাটক করছেন। ঘোষক মানেন না, জিয়ার মুক্তিযুদ্ধ স্বীকার করেন না, পদক কেড়ে নিয়েছেন, খালেদাকে তার বাসা থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছেন আরো কত কি? তিনি আরো বহু বেশী করতে চান,  পা সোজা করে দাঁবাবার শক্তি না থাকাতে র‌্যবের পুলিশের ভরসায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সরকার চুরির সাগরচুরির ও মহাসাগরচুরির রেকর্ডে। এটি তার জানা এ আপোষহীন নেত্রীর জনপ্রিয়তা আকশচুম্বী। ওটি রোধতে তাকে কারাগারে ঢুকানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই। খালেদা জিয়া হচ্ছেন এখনকার সময়ের মাহমুদুর রহমান। ইনুর বেফাঁস মুখে এটি বার বার জাতি জেনেছে যে,খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা হবে এবং জেলে পুরা হবে। যার কারণে মিথ্যা মামলা আর প্রতি সপ্তাহে হাজিরা নাটক। কারণ মামলাকে দ্রুত হাটতে হবে নইলে খেল জমবে না। আদালতও সরকারের নির্দেশে চলে। বারে বারেই প্রমাণ আদালতের আচরণও সরকারী গোলামীতে হাটে। খবরে প্রকাশ, কম করে হলেও ২০৪১ পর্যন্ত হাসিনাকে আরো দুই মেয়াদে ক্ষমতায় রাখতে হবে (১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭)। এ মন্ত্রী তার বেয়াই খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ আবদার রাখেন। যার খেসারতে জাতিকে এসব নাকানী চুবানী খাওয়ানো হচ্ছে। দেশবাসী কি বুঝতে পারছে না তারা কোথায় যাচ্ছে? কার গোলাম হচ্ছে? দেশ যে কোন পথে হাটছে এটি জাতিকে আগা গোড়াই বুঝতে হবে। এদের দেশপ্রেম কোন শিকেয় ঝুলছে এটি নিশ্চয় জাতি আঁচ করতে পারবে, বিবেককে প্রশ্ন করুন এবং তড়িৎ উত্তরটি সংগ্রহ করুন। জাতি ভীষণ বড় সংকট সময় পার করছে। তবে জনতারা ঘুমিয়ে থাকলে চলবে কেন? দোয়া করি আল্লাহই জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক।

Andolon News | 29 Jan 2017 | এই তাহারা আসলে কাহারা ।

নাজমা মোস্তফা, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭।

মক্কা হচ্ছে গোটা মুসলিম বিশে^র মিলন কেন্দ্র। এর পরিচালনার নেতৃতে যারা থাকবে, সবার প্রতি তাকে সমান দৃষ্টিতে বহুমুখী তৎপরতার দৃষ্টান্ত রাখতেই হবে। প্রতিটি মুসলিম সদস্য, দেশ গোষ্ঠী এর বড় দাবিদার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি চরম ঘোলাটে অবস্থানে পৌচেছে যা এশিয়ার জন্য শুধু নয়, গোটা বিশে^র জন্য ভূকম্পনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্রাম্পএর সফল সৌদি ভ্রমণে অনেকে অমেরিকার অস্ত্র বিক্রির সফলতা লক্ষ্য করেছেন। কিন্তু এর পর পরই সৌদির কিছু কর্মকান্ডের প্রেক্ষিতে বর্তমান বিতন্ডা অনেক উচ্চাঙ্গে ময়দান গরম করছে। অনেকেই সৌদিকে মাইল ফলক হিসাবে ধরেন কিন্তু বাস্তবে সৌদি ইসলামের সুমহান ঐতিহ্য তুলে ধরে রাখতে এযাবত কতটুকু সমর্থ হয়েছে, সেটি পর্যালোচনার সময় পার হচ্ছে। অতি সম্প্রতি ইউটিউবে মেহদী হাসানের একটি ডিবেটের জবাব দেখছিলাম, তিনি খুব স্পষ্টভাবে বাস্তবতা তুলে ধরেন। তার জবাবেও (নীচে ভিডিওটি দ্রষ্টব্য) এটি স্পষ্ট হয়, ১৪০০ বছর আগের বিশ^ভাতৃত্বের অসাধারণ ইসলাম আর বর্তমান সৌদি আরব বনাম ইসলামকে তুলে ধরেন। সম্প্রতি সৌদির কর্মকান্ডের উপর পক্ষে বিপক্ষে কথা উঠেছে। আরব ঐক্য বজায় রাখার উপরে মুসলিম ব্রাদারহুডসহ তুরষ্কের এরদোয়ানও সরব হয়েছেন। প্রতিটি সচেতনের মাথায় রাখা উচিত জাজিরাতুল আরব কেন কখন কিভাবে সৌদি আরবে রুপান্তরিত হয়। এসব জানতে হলে অবশ্যই শিকড়ের সন্ধান করতে হবে। একমাত্র শিকড়ের সন্ধানেই মৌল ইসলামের সহজ আবিষ্কার সম্ভব। সৌদি যে সংকীর্ণতার দিকে নিজের পরিচয়কে স্পষ্ট করছে, এতে বিশ^ মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর সমাধানের চিন্তা করতে হবে। অনেকে মনে করেন সৌদি যা বলবে যা করবে তাই হবে মুসলিম বিশে^র পথনির্দেশিকা। যারা ইসলামকে এভাবে চিন্তা করেন তারা মূল ইসলামের পরিচয় নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছেন। ইসলাম নির্ধারণ করার প্রধান মাপকাঠি প্রধানত ঐশী নির্দেশিকা আল কুরআন দ্বারা নির্ধারিত ও প্রদর্শিত হয়ে আছে। আজ থেকে চৌদ্দশত বছরেরও আগে এটি গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ হয়েছে এবং সেদিন থেকে এটিই সকল বিতর্কের উর্ধে একমাত্র বিশ^াসযোগ্য পথনির্দেশিকা। আজো প্রতিটি মুসলিম এ থেকে মুখস্ত করেন আর তখনকার বেশীর ভাগ মুসলিমরা এটি আগাগোড়া মুখস্ত করে নিতেন। তাদের নিজের ভাষাতে নাজেল হওয়াতে তারা এটি রপ্তও করেছেন আত্মায় অন্তরে।

কাতার সংকট: অতি সম্প্রতি এর সাথে সঙ্গতি রেখে আর একটি খবর ‘নেতানিয়াহুর কাছে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের চিঠি’ মিডিয়াতে খবরটি আসে জুলাই এর ১১ তারিখে। চিঠির বিষয়বস্তু হচ্ছে ইসরায়েল যেন হিন্দুদের সাথে ও একই সাথে বাংলাদেশের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। “Bangladeshis activist calls for diplomatic relations with Israel” শিরোনামে হিন্দু সংগ্রাম কমিটির প্রধান শিপন কুমার বসু এ চিঠি দিয়েছেন। মিডল ইস্ট মনিটর এর খবর বলছে, এটি পৌছে দেয়া হয়েছে ইসরাইলের দ্রুজ পার্টির নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী মেন্দি সাফাদির মাধ্যমে। যিনি গতবছরও বাংলাদেশের মিডিয়াতে মোশাদ এর এজেন্ট হিসাবে বার বার আলোচিত হন, মনিটর সেটিও উল্লেখ করে ভারতের নরেন্দ্র মোদির সফরেও এ নেতা উদ্দেলিত। দেখা যায় হিন্দুরা জগত শেঠ, উমি চাঁদ, রায় দুর্লভদের মতই যেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর দারস্থ হতে উৎসাহী। তারা এ দেশে বাস করে ভিন দেশ যারা দেশটির মজ্জা চুষে খেতে উদ্যত সময়ে অসময়ে তাদের কাছে ছুটে যায়, আবদারের জায়গা মনে করে। এরা প্রকারান্তরে দেশদ্রোহী আচরণ ধন্য কর্মকান্ড করে চলেছে, এসব তার প্রামান্য দলিল মাত্র। যে ইসরাইল একদল নির্দোষ জনতার উপর খাড়ার ঘায়ের মত চেপে বসেছে তারাই আজ হিন্দুদের অবতার সাজছে। মিডিল ইস্ট সংকটের আরো কারণ বের হচ্ছে। একই সময়ে খবরে প্রকাশ “কাতার সংকটের মূল হোতা ঋণ চেয়ে ব্যর্থ কুশনার”। সংকটের ঠিক আগইে কুশনার ৫০০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছিলেন, যার জন্য আজ মাশুল গুনতে কাতারকে এ সংকটে পড়তে হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসএর সূত্র মতে ২০১৫ সালে ট্রাম্পের নির্বাচন সময়ে কুশনার  শ্বশুরের সম্পদের রক্ষকের ভূমিকায় ছিলেন। প্রথমে কাতারের ধনী ব্যবসায়ী এতে সম্মতও হন এবং পরে একটি চায়নিজ কোম্পানীও মাত্র ৪ বিলিয়ন ঋণে সম্মত হয়েও কয়েক সপ্তাহ পরে তারা প্রত্যাহার করে। একই ধারাবাহিকতায় কাতারও সরে পড়ে। এ ঘটনার পর পরই কাতার সংকটের সূত্রপাত হয়। এর সূত্রে কুটনৈতিক সম্পর্ক ত্যাগ করে সৌদিসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ। একই সাথে ইরানের সাথে সম্পর্কের অভিযোগও আনা হয় (সূত্র: দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট)।

শ্রেষ্ঠ বিবৃতির কুরআন গ্রন্থ:  মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে তীব্র করতেই এসব পথে সংকীর্ণতার পথ চলা সৌদি সরকারের বিশাল বিতর্ক বর্তমান সময়ে জনসমক্ষে স্পষ্ট হতে চলেছে। মিশরে ব্রাদারহুডের দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও তাদের যোগ বিয়োগের মাঝে যোগের পাওনাই বিশাল। কিছু বিয়োগের খেসারত ছাড় দিলে তাদের বিশাল অর্জনকে খেলো করে দেখার কোন যুক্তি নেই। ব্রাদারহুড একটি আদর্শিক দল, তারা কখনোই এতদঅঞ্চলের অন্য দেশগুলির ব্যাপারে অন্যায় হস্তক্ষেপ করার নজির নেই, তাদের বিরুদ্ধে সৌদি যে অপবাদ ছড়াচ্ছে তার ভিত্তি কম, খেলো যুক্তি দিয়ে সৌদি তার কপট স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। ব্রাদারহুড কড়া ভাষাতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগের প্রতিবাদ করে ও নিন্দা জানায়। শুরু থেকেই এ সংগঠনটি নানা রকম নিপিড়ন নির্যাতনের শিকার হয়ে আছে। এত বিপর্যয়ের পরও তার চলাতে মৌলিক নীতিমালাতে শান্তির বিপক্ষে যাওয়ার কোন উদাহরণ তারা রাখে নাই। অপরদিকে শুরু থেকে সৌদির ইতিহাস বিশ্লেষনে ধরা পড়ে অসাধারণ সব গোজামিল কর্মকান্ড যা বিতর্কের জমা বাড়িয়েই চলেছে, কুরআনের নির্দেশণাতে খুঁজে পাওয়া যুক্তি দ্বারা জটিল সময়ে সঠিক পথটি খুঁজে নিয়ে এ থেকে উদ্ধার পাওয়া প্রতিটি মুসলিমের উচিত। চৌদ্দশত বছর থেকে এটি উদাহরণীয় দিকনির্দেশণা

“শ্রেষ্ঠ বিবৃতির একটি গ্রন্থ, সুবিন্যস্ত, পুনরাবৃত্তিময় সৎকর্মীদের জন্য উদাহরণীয় (সুরা যুমার ২৩ আয়াত)” “এ এক পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষ তা জানে না” (যুমার ৮৯ আয়াত)। “এর যা মন্দ তারা অর্জন করবে তা তাদের পাকড়াও করবে এ তারা এড়িয়ে যেতে পারবে না” (যুমার ৫১ আয়াত)।

ইসলাম অবিস্মরণীয় আলোকবর্তিকার নাম: সৌদি আরবের শুরুটা কেমন ছিল? শেষনবী এসেছিলেন ১৪০০ বছর আগে ৫৭০ খৃষ্টাব্দে জন্ম নিয়ে ৬৩২ সালে ইসলাম নামে একটি শ্রেষ্ঠ আত্মত্যাগী সততার মানদন্ডে মানবতার মূল্যবোধে সমৃদ্ধ জাতি গড়ে দিয়ে তিনি ইহধাম ত্যাগ করেন। ১৩০০ বছর পর ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বৃটিশের অনুগত ও সেবাদাস আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ বৃটিশদের অনুমতিতে হিজাজের নাম পরিবর্তন করে নিজ বংশের নাম অনুসারে এই জাজিরাতুল আরবের নাম রাখেন ‘সৌদি আরব’। এটি এ বিশে^র একমাত্র দেশ যেখানে একটি দেশের নাম হয়েছে একটি গোত্রের নাম অনুসারে। স্বভাবতই একজন সচেতনের মনে প্রশ্ন জাগবে তাহলে এটি কি চক্রান্ত নয়? শেষনবী বা তার পরিবার বা তার গোত্র কোন  নামেও কি দেশটি কখনো চিহ্নিত হয়েছিল? অবশ্যই, এটিই সৌদি কৃত এক বড় চক্রান্ত বা প্রতারণার উৎকৃষ্ঠ উদাহরণ। মুসলিম একটি গর্বিত জাত গোষ্ঠীর নাম, যাদেরে যুগে যুগে ষড়যন্ত্রকারীরাই ভাগে ভাগে ভাগ করেছে। প্রধাণত দুইভাগে ও পরে বহুভাগে বিভক্ত করেছে, তারা কুরআনের হিসাবেও আল্লাহর দৃষ্টিতে কঠোর শাস্তির ও যন্ত্রণার শিকার হবে। স্মরণ করুন “আর তাদের মত হয়ো না যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল আর মতভেদ করেছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী আসার পরেও। আর এরা – এদের জন্য আছে কঠোর যন্ত্রণা, (আল-ইমরান ১০৪ আয়াত ও আনআমের ১৬০ আয়াত)।

ধর্ম নয়, রাজনৈতিক চাল: ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায় শুরু থেকে বিভক্ত করার অপরাধে সামিলরা এসব করে শুধু মাত্র রাজনৈতিক সিদ্ধিলাভের জন্য, ধর্মের লাভের জন্য নয়। ধর্মের সর্বনাশ সেদিন থেকেই শুরু, ওরা ছিল ফেতনার উদগাতা, বিভক্তির জন্মদাতা। ইতিহাস বলে সংকীর্ণ স্বার্থে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য মূল গ্রন্থকে পাশ কাটিয়ে রাজদন্ডের নৈতিকতা বিহীন শক্তির আদলে কুরআনকে, ইসলামকে, নীতিকে চরম ভাবে অবহেলা করেছে সৌদরা। সবই হয়েছে নির্মল বিশুদ্ধ পবিত্র ইসলামকে সামনে রেখে, তার সেবক সেজে প্রতারণার কাজটি সমাধা করা হয়। সে শুরুটি আজও চলছে, শেষ হয়ে যায়নি। প্রকারান্তরে এভাবে সৌদ নামধারীরা কালে গোটা মুসলিম বিশে^র অধিকর্তা হয়ে বসে। বৃটিশরা সব সময়ই পরের ঘর দখলে, পরের ঘর ভাংতে দক্ষতা দেখিয়েছে ডিভাইড এন্ড রুলের নীতিকে অবলম্বন করে। এখানে দেখা যায় ঐ বৃটিশকে অবলম্বন করেই এরা জাজিরাতুল আরব বা হিজাজুল আরবএর পরিবর্তন করে এর উপর জবর দখল করে বসে। কার ইঙ্গিতে কোন সাহসে তারা নবীর দেশকে নতুন নামকরণ করলো? তুরষ্ককে ভেঙ্গে দিতে যেভাবে কামাল আতাতুর্ককে বেছে নেয়া হয় ঠিক একইভাবে ইবনে সৌদকেও অনুচর হিসাবে বেছে নেয় বৃটিশরা। এর জন্য প্রতিমাসে তাকে ৫ হাজার পাউন্ড স্টার্লিং ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। প্রথম বিশ^যুদ্ধে তুরষ্ক হেরে গেলে ইবনে সৌদের সাহস বাড়তে থাকে। এরপর এরা আরবের নানা অংশে সেনা অভিযান চালায়। অতপর ১৯২৫ সালে তারা হিজাজের মক্কা, মদীনা শহরসহ জেদ্দাহ, তায়েফ ও ইয়ানবু শহরে তাদের সেনা বাহিনী বিশ ত্রিশ হাজার মুসলিমকে হত্যা (?) করেছিল, যা কোন মতেই ইসলামের কুরআনের শেষনবীর নীতির অংশ নয় ! যেখানে কুরআনের কথা হচ্ছে,  যে বা যারা একজন নিরপরাধকে হত্যা করবে কোন কারণ ছাড়া তা সে যে কোন ভাষার গোত্রের বা ধর্মেরই হোক না কেন, সে যেন সর্ব সাকুল্যে সারা বিশে^র মানুষকেই হত্যা করলো। উল্লেখ্য এ আয়াতটিই (সুরা মায়েদার ৩২ আয়াত) নাজেল হয়েছিল এমন এক সময়ে যখন ইহুদীরা চরম অপরাধী হয়ে আল্লাহর চোখে ধরা খায় বলেই প্রামাণ্য হয়ে কুরআনে এ আয়াতে জায়গা করে নেয়। ঐ সময়ে ইহুদী নামধারীরাই ঐ সময়ের দাগী অনাচারী এবং ঐ সময়ে প্রকৃত ইহুদী অপরাধীরাই এসব নির্দোষ মানুষ হত্যা করতো, তাই তাদের উদ্দেশ্যে সাবধান বানী হিসাবে এটি নাজেল হয়। এ মূল্যবান আয়াতটি কিয়ামত পর্যন্ত অনুসরণ করার মত শক্ত অবলম্বনে ধন্য হয়ে আছে। ঐ সময়ের প্রতারক ইহুদীদের অপরাধের কারণেই তাদের কাছ থেকে মূল ধর্মটি অন্য একদল নির্মল চরিত্রের মানুষ কুলকে দেয়া হয়, যারা ছিল নবী ইসমাইলের বংশধারা। বনি ইসরাইল নামেও একটি সুরা জমা আছে কুরআনে, সারা কুরআন জুড়ে ওদের অপকর্মের সাবধানী সংকেত অনেক অনেক সুরাতে পাওয়া যায়।

আবু হানিফারা চক্ষুশূল: ইবনে সৌদ ময়দানে কুরআনকে সামনে রেখে এ অপকর্ম কেমন করে করলেন আর তার পরবর্তীরা এ অপকর্মের প্রতিবাদ না করে তা নিরবে সয়ে যাচ্ছে আজ অবদি, নিজেরাও অনাচার বহাল রেখেছে। আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ ‘নজদ’ অঞ্চলের মরু অধিবাসী। সুদূর প্রসারী রাজনীতির কপট স্বার্থে ওয়াহাবি সম্প্রদায়ের সাথে তারা জোট বাধে। বৃটিশের চক্রান্ত জগত জোড়া, ভারত বর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী তার উত্তম উদাহরণ। ইবনে সৌদকে ‘রাজার উপাধি’ দেয়া ও মূল নাম বদলে ‘সৌদি আরব’ নামকরণের অনুমতি দেয় বৃটিশরা এ শর্তে যেন তারা ফিলিস্তিনে অবৈধ ইহুদী নামধারীদের বসতিতে গোটা বিশ^ থেকে সদ্য আমদানী করা (ইহুদী যারা বর্তমান ইসরাইলে বসতি করছে) তাদের বিরোধীতা না করে। বর্তমানের গবেষনাতে ধরা পড়ছে এরা কখনোই প্রকৃত ইসরাইলীয়ও নয়। ইতিহাস পর্যালোচনাতে ধরা পড়ে, সৌদি আরব মূলতঃ বৃটিশ ধর্ম পালন করছে বললে কি ভুল বলা হবে? আমরা জানি সত্যনিষ্ঠ ইমাম আবু হানিফাকে প্রধান বিচারক নিয়োগ করার পরও তিনি সেটি নেন নাই শুধু এ যুক্তিতে যে, তাকে দিয়ে অন্যায় বিচার করানোর সম্ভাবনা তিনি আঁচ করেছেন। নিশ্চয় শাসক পক্ষ ষড়যন্ত্রী মনোভাব সম্পন্ন ছিল বলেই এ মুসলিম সাধু নিজেকে নির্মল রাখতে এ অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়ে গেছেন জগৎ বাসীর সামনে। এসব ত্যাগীদের সামনে এসব কপটরা অনেক বড় আসামী। সত্যি কথা বলতে কি এদের নিজেদের পরিচিতি সংকট অস্তিত্ব সংকটই মূলত আজকার মূল সংকটের কারণ। রাজতন্ত্রের যে মিথ্যাচারী অবয়ব তারা ধরে আছে এটি উমাইয়া পিরিয়ডে একইভাবে ষড়যন্ত্রের সুবাদে ময়দানে ঢোকে আর এরাও পরে সেই ষড়যন্ত্রকে আরো পাকাপোক্ত করে। যুগের আবু হানিফারা সব দিনই এদের চোখে চক্ষুশূল।

জিন ইনসান: কথায় আছে অতি বাড় বেড়ো না ঝরে পড়ে যাবে, এত ছোট হয়ো না ছাগলে মোড়াবে। সৌদির অতি বাড়ের খবর আমরা কয়জন রাখি? কয় দশক আগে যখন প্রথম আমাদের স্বজনরা ওদেশে কাজের সন্ধানে প্রবাসী হয়, তখনই সরাসরি তাদের থেকে জানতে পারি সেখানে কোন রাজনৈতিক আলোচনার সুযোগ নেই। ভয়ে কেউ এসব কথা বলে না, কেউ টের পেলে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। তার মানে রাজনীতি এক ধরণের ডাকাতী, একে লুকিয়ে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয় সেখানে, কেন? অবাক বিস্ময়ে এসব শুনেছি, আর শিশুকাল থেকে বেড়ে উঠা মনের মনিকোঠায় পরম শ্রদ্ধার ভালবাসার দেশটির সাথে নিজের মনের অংক মেলাতে কষ্ট হয়েছে ঠিক তখনই। এদের কল্যাণেই ১৯১৭ সালে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সারা বিশ^ থেকে ছুটে আসা কিছু বিচ্ছিন্ন জনতা অন্য কোথাও ঠাঁই না পেয়ে ‘ইসরাইল’ নামের রাষ্ট্রটি জবর দখল করে নিরীহ নিরপরাধ ফিলিস্তিনের উপর চেপে বসে । সৃষ্টির শুরুতে আদম আর ইবলিসের ঘটনা দিয়ে মহান আল্লাহ তার অনাগত বান্দাদের অদেখা অতিভৌতিক বাস্তবতাকে দেখতে শিখিয়েছে, জানতে শিখিয়েছে। কুরআনে বার বার বলা হয়েছে এদের উভয়ের (আদম ও ইবলিসের / জিন ও ইনসানের/ ইনসান ও ইবলিসের) কঠিন পরীক্ষা হবে। এদের দুজনার একজন নরম স্বভাবের মাটির আদলে গড়া, আর একজন উদ্ধত অহংকারী কপটের আদলে অগ্নিমূর্তি, উভয়েই কঠিন বিচারের মুখোমুখি হবে। কুরআনে সুরা আর রহমানে বারে বারে বলা হয়েছে এদের উভয়ের বিচার বরাদ্দ আছে, উভয়ের কাছে নবীরা এসেছেন। সুরা আর রহমানে দুটি সত্ত্বাকেই উদ্দেশ্য করে সাবধানী সংকেতে বলা হচ্ছে উভয়ে মাপঝোক সঠিকভাবে করবে, ফলফলাদি, গাছগাছালি, খেজুর, শস্যদানা  উভয়ের খাবার, তারপরও তোমরা উভয়ে আমার (আল্লাহর) কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে বলে প্রশ্ন করা হয়েছে একবার নয়, বারে বারে (সুরা আর রহমান ৮-১৩)। সমস্ত কুরআন জুড়ে গবেষনার উপাত্ত ভান্ডার লুকিয়ে আছে চিন্তাশীলদের জন্য। বাইবেলের অনেক গল্পকে কুরআনের অনেক অনুসারীরা বাইবেলের অদলেই গ্রহণ করে নিয়েছেন যদিও কুরআন সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে তার সত্যকে উপস্থাপনা করেছে, সেখানে বাইবেলের মত গড়ে উঠা কোন বিতন্ডার সুযোগ নেই। যার জন্য কুরআন বাইবেলের একদম হুবহু রিপ্লিকা নয়। অনেক ক্ষেত্রে সাদৃশ্য যেমন বর্তমান ঠিক তেমনি একটা স্বাতন্ত্রমূলক পার্থক্য উভয় গ্রন্থে বর্তমান। এসব পার্থক্যই প্রমাণ করে এটি বাইবেল থেকে কপি করা কখনোই নয়। একজন অক্ষর জ্ঞানহীনের সৃষ্ট কাজ এটি নয়। “এ কিতাব বিশদভাবে ব্যাখ্যাকৃত, আর যাদের গ্রন্থ দিয়েছিলাম তারা জানে যে, এটি অবতীর্ণ হয়েছে তোমার প্রভুর নিকট থেকে সত্যের সাথে, অতএব তুমি (মুহাম্মদ) সন্দিহানদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না” (সুরা আল-আনআমের ১১৫)। আবার দুনিয়ার বেশীরভাগের অনুসরণ না করতেও বলা হয়েছে, কারণ তারা অসার বিষয়ের অনুসরণ করে আর আন্দাজের উপর চলে (ঐ সুরার ১১৭ আয়াত)। আদম ও ইবলিস দুটি পক্ষ, বাইবেলের রুপক গল্পটি অনেক সত্য উন্মোচনের জন্যই আদিষ্ট হয়েছিল। মানব জাতির জন্য এসব ঘটনার মাঝে লুকিয়ে ছিল অসাধারণ গবেষণা লব্ধ সূত্রসমূহ। কুরআনেও এর ইঙ্গিত এসেছে বারে বারে। বিবরণে প্রকাশ ইবলিস আল্লাহর আদেশ পালন না করাতেই তার পরিচিতি স্পষ্ট হয়, সে স্বভাবে বেয়াড়া, বেআদব ও চরম উদ্ধত অহংকারী। যার পরিণতিতে তার জায়গা হবে জাহান্নামে, সে বিতাড়িতদের একজন। অনেকে গল্পের শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলেন, মনে করেন সে ফেরেশতাদের একজন ছিল, কিন্তু না, সে কখনোই ফেরেশতা ছিল না, সে এক আগুনের গোলা, অহংকারীতে ভরা এক নরকগামীর আগাম পরিচয়ধারী তোমাদের শত্রু, শয়তান দলভুক্ত, জিনদের মধ্যকার (সুরা আল কাহফএর ৫০ আয়াতে), কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত (বাক্কারাহ ৩৪ আয়াত) এভাবে কুরআনে তার পরিচয় স্পষ্ট। শয়তানরা কখনোই আল্লাহর অনুগত নয়। সত্যের নীতির আল্লাহর বিরুদ্ধাচারনই তাদের মূখ্য ভূমিকা। ফেরেশতারা সব সময় আল্লাহর  অনুগত। আল্লাহ কুরআন এটি স্পষ্ট করে যে এরা সব নবীকেই বিপদে ফেলার চেষ্ঠা করেছে। এককালে আরবের কুরাইশরাই ছিল আরবের জিন, বদর ওহুদ খন্দকসহ আজীবন তারা নবীর বিরুদ্ধাচারণ করেছে। “এইভাবে আমরা প্রত্যেক নবীর জন্যে সৃষ্টি করেছি শত্রু, মানুষ ও জিনের মধ্যকার শয়তানদের থেকে (আনআমএর ৬:  ১১২ আয়াত)”। প্রতিটি বিশ^াসীর সামনে বিরাট গবেষনার সূত্র লুকিয়ে আছে। গোটা বিশে^র মানুষ এমনই গাফেল হয়ে আছে যে, আদমকে খুঁজে পেলেও ইবলিসকে খুঁজে পায় না। যদিও ইবলিস যুগে যুগে প্রতিটি জাতিতে গোষ্ঠীতে প্রতিটি অপরাধীর ঘাড়ে সয়লাব হয়ে বিজয় উল্লাসে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

শুরু থেকে অনেক প্রশ্নে বিদ্ধ সৌদি: অভিযোগ আক্রান্ত কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবাদ করেন, মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে কিভাবে আমরা আত্মসমর্পণ করবো? সৌদির দৃষ্টিতে ইরানের সাথে সম্পর্ক রাখা বিরাট অপরাধ। কিন্তু আল্লাহর হুকুম এ সত্যধর্মে বিভেদ রেখা টানা যাবে না। কাতারিদের মসজিদুল হারামে ঢুকতে দিচ্ছে না সৌদি আরব। প্রশ্ন হচ্ছে নিজের স্বার্থপরতা, একদর্শীতা, সংকীর্ণতা, অপরাধ সৌদি কেন দেখতে পায় না? সৌদি কি সব বিচারের উর্ধে? শেষ নবী পর্যন্ত সারাক্ষণ সন্ত্রস্ত থেকেছেন পাছে কোন গাফিলতি ধরা পড়ে। তাই বিদায় হজ্জ্বে উপস্থিত হজ¦যাত্রীদের সামনে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে নবী এটি স্পষ্ট করেন যে তিনি গুরুত্বের সাথে তার প্রতিটি কাজ সমাপন করেছেন। উপস্থিত দশ হাজার জনতা এক বাক্যে তার কর্মকৃতিত্বের স্বীকৃতি দান করেছে। স্মরণ রাখতে হবে সৌদি মানেই ইসলাম নয়, ইসলামের জন্ম ঐ ভূমিতে হওয়াতে এখনো অনেক অসাধারণ উদাহরণীয় বাস্তবতা সেখানে বর্তমান, তারপরও জাহেলিয়াতির জন্মভূমি হিসাবে অনেক অনাচারও সেখানে থাকতে পারে, সেটি ভুলে গেলে চলবে না। একমাত্র সত্য, যুক্তি ও বিবেক আসলকে চিহ্নিত করতে সক্ষম। কারণ সপ্তম শতাব্দীতে যে সব ইবলিসরা আইয়ামে জাহেলিয়াতিকে সাদরে আপ্যায়ন করেছিল, ষড়যন্ত্রকারীরা সেটি ধরে রাখবে না, তা বলার অবকাশ কম। সৌদি কতটুকু ইসলামিক অর্জন ধরে রেখেছে? কোন যুক্তিতে সৌদি বাদশাহরা ১০০টি বিয়ে করেন? কোন যুক্তিতে সৌদি সরকার মেয়েদের ড্রাইভিংএর অনুমতি দেয় না? কুরআন বিরোধী মিসরাহ বা মুতাহ বিবাহের অনুমতির ফতোয়া তারা কিভাবে দেয়? এসব মৌলিক প্রশ্নে তারা কেন প্রশ্নবিদ্ধ? অনেক অনেক অপরাধীকে যে ভাবে কঠোর শাস্তি দেয়া হয়, প্রায়ই শোনা যায় লঘু পাপে গুরুদন্ড এসব কিসের আলামত? ইসলামিক ন্যায়বিচার সেখানে কতটুকু অনুসরণ করা হয়? সেসব বিশ্লেষণ করা জরুরী। যে কেউ মুসলিম যদি কুরআন বিরুদ্ধ কাজ করে, অতি অবশ্যই প্রতিটি মুসলিমের তার প্রতিরোধ করা উচিত সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে।

তুরষ্কে এরদোয়ান: স্মরণ যোগ্য উদাহরণ হতে পারে এরদোয়ানকে কেন তুরষ্কের মানুষ পছন্দ করে? সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে দেশটির হাজার হাজার জনতা রাস্তায় নেমে আসে। অনেকে ট্যাঙ্কের নীচে শুয়ে পড়ে থামিয়ে দিয়েছে ষড়যন্ত্রকারীর দেশ বিরোধী অভ্যুত্থান। এর প্রধান কারণ তিনি ছিলেন জনগণের প্রতিনিধি, ইস্তাম্বুলের মেয়র কালীন (১৯৯৪-৯৮) যে বৈপ্লবিক দুর্নীতি দূর করা সহ বাজেটের টাকাকে লুটেপুটে না খেয়ে জনগণের প্রকৃত কাজে এমনভাবে ব্যবহার করেন যে জনতারা প্রতিটি সেক্টরে উপকৃত হয়। তাদের দুই বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করে চার বিলিয়ন শহর উন্নয়নে ব্যয় করে অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা থেকে দেশকে আলোর পথে আশার পথে নিয়ে আসেন। দেশটির জিডিপি এমন উচ্চতায় নিয়ে পৌছান যে দেশবাসী তা নিয়ে গর্ব করে। তারা আশা করে আগামী দশ বছরে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দেশে পরিণত হবে। সততা, শৃংখলা, ন্যায়বিচার, নীতি নৈতিকতা ব্যতীত এসব অর্জন সম্ভব নয়। স্বৈরাচার, উৎপীড়ন, লুটপাটের বানিজ্যে যারা জড়িত তারা এসব অর্জনের স্বপ্ন দেখতে পারে না। বাস্তবভিত্তিক ইসলামিক মূল্যবোধ একটি বড় চালিকা শক্তি যার উপর ভিত্তি করে তুরষ্ক এগিয়ে চলেছে। বলতে দ্বিধা নেই কিছু বিতর্কীত অর্জনে সৌদি অনেক পিছিয়ে, তার সাম্প্রতিক কর্মকান্ডই বড় প্রমাণ, সৌদি যেন ন্যায়বিচারের ন্যায়কে কেটে দিয়ে শুধু বিচারকে বহাল রেখেছে। নির্যাতীতরা তার কাছে সন্ত্রাসী, যাদের দিকে তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার কথা, তাকে সে আরো বেশী পেষণ করতে চাচ্ছে। গণতন্ত্র না হয়ে রাজতন্ত্রই তার ঢাল হয় কেমন করে? ইসরাইলের মত একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রকে তারা ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে কেন?

ইসরাইল ঘোষনা: ১৯১৭ সালের ২রা নভেম্বর বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যালফোর ফিলিস্তিনে ইসরাইলের ঘোষনা ব্যালফোর ঘোষণা নামে ইতিহাসখ্যাত। এর আগেই আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদের কাছ থেকে লিখিত সম্মতিপত্র আদায় করে বৃটিশরা। হাওরের গরু আর মামা শ^শুরের দান। স্বল্প মূল্যে সৌদকে কিনে নেয় বৃটিশরা কারণ এখানে উভয়েই অপকর্মে দৃশ্যমান ছিল বলেই এটি সহজ হয়। শর্তটি দেখুন। “I am King Abdul Aziz Ibne Abdur Rahman – From the Faisal’s and Saud’s dynasty, thousand time I assured that and with knowing all I recommend in front of that honorable British governments representative Sir Kukas that if British government donate the Palestine to the poor Jews then I have nothing to raise protest against that. Basically I will not go beyond the British government upto Qiyamah. Nasirul Syeds book “Ale Saud’s History”.

“আমি বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুর রহমান – ফয়সলের বংশধর ও সৌদের বংশধর। হাজার বার স্বীকার করছি ও জেনেশুনে বলছি যে, মহান বৃটিশ সরকারের প্রতিনিধি স্যার কুকাসএর সামনে স্বীকারোক্তি করছি এই মর্মে যে, গরীব ইহুদীদেরকে বা অন্য কাউকে বৃটিশ সরকার যদি ফিলিস্তিন দান করে দেন তাহলে এতে আমার কোনো ধরণের আপত্তি নেই। বস্তুত: আমি কিয়ামত পর্যন্ত বৃটিশ সরকারের অভিমতের বাইরে যাব না” (নাসিরুস সাইদ প্রণীত আলে সৌদের ইতিহাস)।

কার নির্দেশে তারা কিয়ামত পর্যন্ত বৃটিশের গোলামীতে নিজেকে সম্পৃক্ত করে দিল? এরা কি আল্লাহর ভয়ে ভীত থেকেছে বা তার নির্দেশণাকে অনুসরণ করেছে, ইতিহাসের এসব জমা হয়তো কিয়ামতের মাঠেই এর জবাব তার বস্তুনিষ্ট আলোকধারীদের দিতে হবে। ঐ প্রস্তুতি অতি অবশ্যই প্রতিটি সত্যনিষ্ঠ চিন্তাশীল সচেতনকে অর্জন করতে হবে।

“Once in 1945, King Abdul Aziz Saud delivered a message against the construction of the Jewish country Israel. Immediately British government and Jewish two lobbyist came and contracted with King Abdul Aziz and let his remembered about the agreement of the previous assurance. Then King told them “in favor of the Jews what the things I will do should confidence on that. What I am saying is not important what I am doing should focus on that. Because It was another kind of forgery to hold the trickery I cannot hold the power if I am not talking like that.” (Nasirul Syed’s book Ale Saud’s History, page 953) After hearing this both the members got happy and left.” একবার (১৯৪৫ সালে) বাদশাহ আব্দুল আজিজ সৌদ ইহুদীবাদী ইসরাইল গঠনের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিবৃতি আসে। সঙ্গে সঙ্গে বৃটিশ সরকার ও বাহুদীবাদীদের পক্ষে দু’জন প্রতিনিধি এসে আব্দুল আজিজের সাথে দেখা করে এবং বাদশাহকে তার সম্পাদিত সম্মতি পত্রটির কথা মনে করিয়ে দেয়। তখন বাদশাহর জবাব ছিল, “আমি ইহুদীদের স্বার্থে কার্যত যা করে যাব তার উপর বিশ^াস রাখবেন। কি বলছি তার দিকে লক্ষ্য করবেন না। কারণ এ ধরণের কথা না বললে আমি টিকে থাকতে পারবো না” – (নাসিরুস সাইদ লিখিত ‘আলে সৌদের ইতিহাস’,  পৃ-৯৫৩)। বাদশাহর এ কথা শুনে বৃটিশ সরকারের ও ইহুদীবাদীদের প্রতিনিধি খুশী হয়ে ফিরে যায়। প্রায়ই এখানে ওখানে দেখা যায় সৌদি ইসরাইলের আঁতাত, আমরা নিজের চোখকে বিশ^াস করতে পারি না, মনকে প্রবোধ দিতে পারি না, আবার ভুলে যাই। তারা যে প্রতারণার খেলা খেলছে, এটি স্পষ্ট। তাদের উপরোক্ত যুক্তি এসব মিথ্যাচারের ষড়যন্ত্রের প্রামাণ্য দলিল মাত্র !

ষড়যন্ত্র: ১৯১৪ সালে স্বাক্ষরিত আল আকির চুক্তি অনুযায়ী সৌদ তুরষ্কের বিরুদ্ধে বৃটিশকে সহায়তা দেয়, বৃটিশ নাগরিক ও ব্যবসার রক্ষণাবেক্ষণের অনুমোদন দেয়। বিনিময়ে বৃটিশও প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করার অনুমোদন দেয়। দেখা যায় সৌদ পরিবারের লড়াইটি ছিল ওসমানিয়া সা¤্রাজ্যের বিরুদ্ধে, ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে, তূর্কী খেলাফতের ধ্বংস সাধনেও সৌদি রাজা আব্দুল আজিজ বৃটেনের সাথে হাত দাগিয়েছেন। রাজতন্ত্রের আদলে সৌদ রাষ্ট্র সৃষ্টি ছিল বৃটিশের একটি বিভৎস আবিষ্কার। ইসলামই একমাত্র গণতন্ত্রের প্রধান সূতিকাগার হওয়ার পরও কিভাবে ইসলামে রাজতন্ত্র এসে আসন গেড়ে বসে এসব তার অনবদ্য নিদর্শণ। এর আগের ইতিহাস ঘাটলেও আমরা এর অতীত কৃত কপটদের সন্ধান পাই যারা এ ধর্মটিকে বিভক্ত করে দুভাগ করেছিল তাদের কপট স্বার্থে আর সেখানে যুগ যুগ অবধি দেশীয় কপটদের সাথে সব সময়ই আন্তর্জাতিক চক্রান্ত লুকিয়ে ছিল, এসব স্পষ্ট হওয়া সময়ের বড় দাবী। প্রথম ষড়যন্ত্র কালীন মাসিক ৫ হাজার পাউন্ড, চুক্তি অনুযায়ী বৃটিশ সরকার সৌদ পরিবারকে প্রতি বছর ষাট হাজার পাউন্ড ভাতা দিতে থাকে। শুরুতে স্যার কুকাসকে সৌদি রাষ্টের উৎসবের উদ্দেশ্যে পাঠালে তাকে রাজা উপাধিতে ভূষিত করতে কুকাসের ভাষ্য ছিল, হে আব্দুল আজিজ, আপনি শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এটি ঠিক যেমন মিরজাফরকে তেল মেরেছিল উঁমিচাঁদগং ও বৃটিশরা। রাজার উত্তর ছিল, ‘আপনারাই আমার এ ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি করেছেন ও এ সম্মান দান করেছেন। যদি মহান বৃটিশ সামাজ্য না থাকতো তাহলে এখানে আব্দুল আজিজ আল সৌদ নামে কেউ আছে বলেই জানতো না। আমি তো আপনাদের মাধ্যমেই ‘আমির আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ’ শীর্ষক খেতাবটি অর্জন করতে পেরেছি। আমি আপনাদের এই মহানুভবতা আজীবন ভুলব না। আর আমার বিগত আচরণ ছিল আপনাদের সেবক ও অনুগত (গোলাম) হিসাবে আপনাদের ইচ্ছাগুলো বাস্তবায়ন করা। বৃটিশের দেয়া মেডেল রাজা আজিজের গলায় পরিয়ে কুকাস বলেন অচিরেই আপনাকে হিজাজের বাদশাহ ও হিজাজকে ‘সৌদি সামাজ্য’ ঘোষনা করা হবে। এ কথা শুনে আজিজ কুকাসের কপালে চুমু খেয়ে বলেন,

“আল্লাহ যেন আমাদেরকে আপনাদের খেদমত করার ও বৃটিশ সরকারের সেবা করার তৌফিক দেন।(মুহাম্মদ আলী সাইদ লিখিত ‘বৃটিশ ও ইবনে সৌদ, পৃষ্ঠা ২৬)। তথ্যসূত্রগুলো: সরওয়াতুস সৌদিয়া, ৩৯ পৃষ্ঠা/ বৃটিশ ও ইবনে সৌদ, পৃষ্ঠা ২০/ নজদ ও হিজাজের ইতিহাস, পৃষ্ঠা ২১০।

কেমন বর্বরতা! :খবরের শিরোনাম, কাতারের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দিলেই ভয়াবহ পরিণতি। কাতারি হজযাত্রীদের মক্কার মসজিদ আল হারামে ঢুকতে দিচ্ছে না, সৌদি কর্তৃপক্ষ কাতারি পত্রিকা আল শারক এর বরাতে এ খবর দিয়েছে বিবিসি ও রয়টার্স (জুন ১২, ২০১৭) । এখানে আমি সাম্প্রতিক খবরের শিরোনাম আনলাম যাতে সৌদির কর্মকান্ড বুঝা যাচ্ছে। এভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস অনেক কষ্টেভরা, চাতুরামী ও অনৈতিকতার দায়ে ভরা। এর পিছনে স্থানীয় ও অস্থানীয় বড় ইবলিসরা প্রচন্ডভাবে কর্মরত। এখন ইরানকে প্রতিপক্ষ ধরে সৌদি নিজেকে নিষ্পাপ নবীর সঠিক উত্তরসুরী বোঝাতে চাইলেও উপরের ঘটনাগুলো কি সংবাদ বিলি করে সেটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে প্রতিটি চিন্তাশীল মুসলিমকে। কুরআনে বারে বারে বলা আছে এখানে চিন্তাশীলদের জন্য খোরাক জমা আছে। সঠিক গবেষণা ব্যতীত কোন দিনও সত্যকে উন্মোচন করা সম্ভব নয়।

সৌদির বড় ভয় রাজতন্ত্র: বিশ্লেষনে দেখা যায় সৌদির বড় ভয় রাজতন্ত্রকে যা ইসলামের সাথে খাপে খাপে যায় না। ইসলামের সাথে সংঘর্ষ ছিল রাজতন্ত্রের প্রতাপের, দন্ডের, অবিচারের, জাহেলিয়াতির, অনাচারের। এসব বিলোপ করতেই ঐ নবীর আগমন হয়েছিল এ পৃথিবীতে। যদিও তারা যুগ যুগ থেকে রাজতন্ত্রটি ধরে আছেন যদিও নবীর যুগে বা সাহাবীদের যুগে এটি অনুপস্থিত ছিল। আরব বসন্তে তাদের নাড়িভুড়িসহ ভিত কমবেশী নড়ে উঠেছে। তাই এবার কাতারিদের কর্তৃত্ব কাটতে অতিরিক্ত তৎপর রাষ্ট্র সৌদি। সবচেয়ে বড় হুমকি তাদের কাছে ইরান, শাহের ইরান হলে তারা সখ্যতা গড়তো, এটি কিন্তু শাহের আমলের ইরান নয়, তাই যত বিতন্ডা। সম্প্রতি জাতিসংঘের ফিলিস্তিনী বিষয়ক বিশেষ কমিটি ইসরাইলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের নিন্দা জানায়। কঠোর দমন পীড়নসহ, বিনাবিচারে আটক, শিশুদের নির্বিচারে আটক, সব ধরণের নিরাপত্তাহীন, অমানবিক আচরণসহ জটিল পরিস্থিতির মুখে ফিলিস্তিনীরা (সূত্র: পার্সটুডে)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর দ্বিমুখী নীতি লক্ষ্য করার মত। প্রমাণ হিসাবে সাবেক মার্কিন রাজনীতিবিদ রন পল টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন ইরানের বিরুদ্ধে বাকস্বাধীনতার লংঘনের অভিযোগ করেন অথচ রাজতান্ত্রিক সৌদি আরবে মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা লংঘনের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেন না। সাংবাদিকরাও এ নিয়ে কেন টিলারসনকে কিছু জিজ্ঞাসা করেন না, সেটিও স্পষ্ট করেন তার বক্তব্যে (সূত্র: পার্সটুডে)। ।

১৯৭৯ সালের শাহের যুগের পরের ইরান সৌদির জন্য বিষবৎ কেন? এখানে দেখা যায় ইরানের সাথের লড়াই শিয়া সুন্নীর লড়াই নয়, বরং রাজতন্ত্র রক্ষার লড়াই। এখানে ইরান শত্রু কারণ সে নির্যাতীতের পক্ষ সমর্থন করছে। ইসলাম সর্বযুগে নির্যাতীতের পক্ষে দুহাত আগলে দাঁড়িয়েছে। এরা সব সময় নির্যাতীতের পক্ষে দাঁড়ায় যেখানে সৌদি হচ্ছে নির্যাতন করার পক্ষে। সঙ্গত কারণে হামাস, হিজবুল্লা, ও ব্রাদারহুডের সংগ্রামে ইরানের সমর্থন থাকলে তাকে বেশী মানবিক মনে হবার কথা। যেখানে সৌদি অমানবিক, ইসরাইল সমর্থক, ইসলামের সাথে চরমভাবে বেমানান।  আল কুরআনে সুরা মায়েদার ৮২ আয়াতে এটি স্পষ্ট করেই বলা যে, নবীকে বলা হচ্ছে “তুমি নিশ্চয় দেখতে পাবে যারা ঈমান এনেছে তাদের মাঝে শত্রুতায় সব চাইতে কঠোর হচ্ছে ইহুদীরা ও যারা শরিক করে। আর নিশ্চয় তুমি আবিষ্কার করবে যে, যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে বন্ধুত্বে সবচাইতে ঘনিষ্ট হচ্ছে ওরা যারা বলে ‘নিঃসন্দেহ আমরা খৃষ্টান’ এটি এ জন্য যে তাদের মাঝে রয়েছে পাদ্রীরা ও সাধু সন্যাসীরা আর যেহেতু তারা অহঙ্কার করে না” (সুরা মায়েদার ৮২ আয়াত)। কোনভাবেই সৌদিকে কুরআনের নির্দেশ পালনের দিকে দেখা যাচ্ছে না। দেখা যায় কুরআনের হিসাবে শত্রুতার শিরোভাগে ইহুদী ও শিরকধারী অংশীবাদীরা শীর্ষে।  সৌদি সরাসরি আল্লাহ বিরোধী আদেশই অনুসরণ করছে।

ইসরাইলের ষড়যন্ত্র: আল আকসা মুসলিমদের প্রথম কিবলা, সে মসজিদে ফিলিস্তিনিদের নামাজ পড়তে দিচ্ছে না ইসরাইল (০১ জুলাই ২০১৭, সূত্র: পার্সটুডে)। ইসরাইল সৃষ্টির পর থেকেই এরা সব আন্তর্জাতিক আইন, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিরোধী কাজ যোগান দিয়ে যাচ্ছে। মুসলিমদের ধর্মীয় অনুসঙ্গ নামাজে প্রতিরোধ করে তারা বোঝাতে চায় যে ফিলিস্তিনের সব অধিকার তারা ধ্বংস করে দিয়েছে, সব এখন ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে। মুসলিমদের সব কিছু নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আজানও বন্ধ করে দিয়েছে। মাত্র বছর দিন আগে জাতিসংঘের শিক্ষা সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো বলেছিল, আল-আকসা মসজিদসহ বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের ইসলামী স্থাপনার সাথে ইহুদীদের কোন ধরণের ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নেই। কিন্তু বাস্তবে বছরের প্রায় ২০০ দিনই মুসলিমদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইল। প্রথমত কিবলার অনেক অংশকে তারা তাদের সম্পত্তি দাবী করছে, উদ্দেশ্য আল-আকসা বিচ্ছিন্ন করা। উন্নয়নের অজুহাতে সুড়ং খোঁড়াসহ ঐ অঞ্চলের মসজিদের অস্তিত্বকে বিপন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য ১৯৯৪ সালে জর্দানের সাথে করা এক চুক্তিতে তারা অঙ্গীকার করেছিল যে কখনোই আল-আকসা মসজিদের সীমানায় তারা প্রবেশ করবে না। কিন্তু ট্রাম্প আসার পর বায়তুল মোকাদ্দাস শহরসহ ফিলিস্তিনী অঞ্চলে ইসরাইলের ষড়যন্ত্র ধারণার চেয়েও বেশী জোরদার হচ্ছে। অনেকের মতে, তাদের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মনে হয় সব অইহুদীদের  ধর্মীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চায়। ১৯ জুলাই ২০১৭ তারিখে মানবজমিনের বরাতে আল জাজিরার খবরে প্রকাশ ফিলিস্তিনী দের শংকা ইসরাইল গোপনে ঐ স্থাপনায় ফের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে। জেরুজালেমের পবিত্র এলাকাটিতেই রয়েছে আল আকসা মসজিদ ও ডোম অব দ্য রক। মক্কা ও মদীনার পর এটি ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান।

ভারত: “ফিলিস্তিন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল ভারত” (০৯ জুলাই, প্রথম আলো)।  ইসরাইলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরে নরেন্দ্র মোদি নেতানিয়াহুকে বহু জনমের দোস্তের মতই বুকে জড়িয়ে ধরা, সাগর পারে খালি পায়ে হাটা, ফেসবুকে কৃতজ্ঞতা জানানো, সবই অসাধারণ। ওদিকে পাশেই রামাল্লাহ, ছিল সম্পূর্ণ অচেনা, বাতিলের খাতায় ঢেকে রাখা, সেখানে যাওয়ার বা কোন ধরণের যোগাযোগের দাগও নেই, যদিও আমৃত্যু একটি বন্ধুত্বের আবরণ এতদিন ছিল। নেহরুর সময়ই ভারত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু বহুদিন থেকেই একটি অদেখা সম্পর্ক ছিল গোপন। দৃশ্যতঃ তৃতীয় বিশে^ ইসরাইলের শুরু থেকেই বন্ধু ঘাটতি প্রকট। রাশিয়া সবদিনই ভারতের বড় হাত ছিল, এবার প্রকাশ্যে ইসরাইলও যোগ হলো। মজার ব্যাপার হচ্ছে এতদিন ভারত ইসরাইলের সম্পর্ক ছিল বেশ লুকোচুরির মাঝে যেন অন্যেরা না দেখে, মানুষ মন্দ বলার সুযোগ ছিল। এবার বেশ ফুরফুরে মেজাজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিন্দনীয় বন্ধুত্বকে স্পষ্ট করেন। এর প্রধান কারণ যেখানে আরবরাই তাকে বন্ধু ভাবছে, সেখানে আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো? সচেতনরা দরাজ ভাবে চিন্তার দরজা খুলে দিন। আরববসন্ত কি শুধু তিউনিসিয়ার জন্য এসেছিল, আর বাকীদের জন্য কিছুই নয়। তিউনিসিয়ার সেই যুবকের মত প্রতিটি জাতিকেই কি গায়ে আগুণ দিয়ে রাজতন্ত্রের ক্ষত দেখাতে হবে? অধিকার আদায় করতে জনতার মূল্যায়ন করতে শাসক শ্রেণীর কপট শোষণকে রুখে দিতে গণতন্ত্রই হচ্ছে যুগের শ্রেষ্ঠ মত ও পথ। ঐ গণতন্ত্র কিন্তু ভারতেরও আছে আমেরিকারও আছে, ভারতে এত গণতন্ত্র থাকার পরও সারা বছর মুসলিমরা মার খায়, তাদের সে সাম্প্রদায়িক খবরও তারা আড়াল করে রাখে মিডিয়াতে প্রকাশ করে না, ছাপে না, সম্প্রতি এটিও প্রকাশ পায়। এ ক্ষেত্রে আমেরিকা অনেক প্রশংসা পাওয়ার দাবীদার। “সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার খবর কেন ছাপে না পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম” (জুলাই ৮, ২০১৭, আমার দেশ) এটি ছিল খবরের শিরোনাম, সম্ভবত পাছে লোক জানাজানি হয়। তাহলে সুবিধা একটাই সারা বছরই সংখ্যালঘু অবাধে  নির্যাতন নিধন করা যায় ১৯৪৭ থেকে ২০১৭। এর মাঝে জুলাইএর ৯ তারিখে “দিল্লীর রাজপথে মহিষ নিয়ে যাওযার পথে গোরক্ষকদের তান্ডব”  ভারতে এসব নতুন কিছু নয়। মুসলিমদের বাড়ীতে আগুন, পিটুনিতে হত্যার ঘটনা, গরুর মাংস খাওয়ার অপরাধে ১৫ বছরের কিশোর জুনায়েদকে চলন্ত ট্রেনেই ছুরিকাঘাত করা, এরকম যুগ যুগ থেকেই আখলাকদের পিটিয়ে মারা হয়,  মরার জন্যই ওদেশে জন্মায়, অপমৃত্যুর শিকার হয়। পরে জানা যায় ঐ মাংস মা-গরুর ছিল না, ছিল খাসি মাসির। তারপরও ভারতে গণতন্ত্রের মর্যাদা কি ভাবে পবিত্র থাকে? এবার মূল দিল্লীতেই গোরক্ষকরা নিজের শক্তির জানান দেয়। ছয় ব্যক্তি ৮০ টি মহিষ নিয়ে কসাই খানাতে বৈধ কাগজপত্রসহই যাচ্ছিলেন। পথে দিল্লীর হরিনাথ ট্রাক থামিয়ে জনতাকে মারধর করে গোরক্ষকরা। হাসপাতালে নিতে পাঁচজনকে ছেড়ে একজনকে আশংকাজনক বলে জানায়। সেদেশে সংখ্যালঘুর কোন ধর্ম থাকতে নেই, অধিকার থাকতে নেই। ভারতের দিল্লীসহ দেশটির বহু জায়গায় গোহত্যা নিষিদ্ধ। গত এপ্রিলে ছত্রিশগড়ের মূখ্যমন্ত্রী রমন সিং ঘোষনা দেন, রাজ্যে কেউ গরু জবাই করলে শাস্তি মৃত্যুদন্ড, ফাঁসি দেয়া হবে। এই জুনে মোদির আহবান ছিল গোহত্যার বিরুদ্ধে মানুষ খুন না করতে। এর কয় ঘন্টার মাঝেই ঝাড়খন্ডে উগ্র হিন্দুর হাতে খুন হন মুসলিম য্বুক। (সূত্র: দ্য হিন্দু, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া)। কি পাশবিক ভারতের গণতন্ত্র ও তার প্রয়োগের বাস্তবতা অন্তত সংখ্যালঘুর জন্য ! স্বাধীনতার ৭০ বছরেও তাদের বোধদয় হলো না !

কর্মতৎপর কাতারই কপটদের কাল: কাতারকে তারা ধন্যবাদ দিতে পারতো, তা না করে তারা তাকে প্রতিরোধে নেমেছে কারণ তাদের কপট সংকীর্ণ স্বার্থ। ‘বিমানে চড়ে কাতার যাচ্ছে চার হাজার গরু’ দেশটিতে যাতে দুধের সংকট না হয় সে জন্য কাতারের এক ব্যবসায়ীর পরিকল্পনা এটি। তবে প্রথমে প্রস্তুত ছিল জাহাজে আনার, পরে গবাদি পশুর বিমান ভ্রমণ বর্তমান রাজনৈতিক জটিলতায় সৃষ্ট, পশুদের জন্য এটি হবে ইতিহাসে বেশ বড় খবর। জাহাজের বদলে অবরোধের কারণেই বিমানের ভাবনা (১৩ জুন ২০১৭)। গত ৫ জুনে অবরোধ অরোপিত হয়। ছিন্ন করা দেশগুলো থেকেই দুধসহ টাটকা খাবার দাবার ও নির্মাণ সামগ্রি আসতো। মুসলিম বিশে^র এই উন্মাদনার কারণ হচ্ছে ইসলামের মূল আদর্শের সাথে বিরোধীরা(?)টিকতে না পেরে মূল থেকেই ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। সেটি যুগ যুগ অবদি চলছে। কিছু আগের ইতিহাস বলছি। ইয়েমেনে হুতি শিয়াদের বিনাশ করতে সৌদি (সুন্নী) বেপরোয়া বোমা ফেলেছে। ইরান ছিল হুতিদের পক্ষে। ওদিকে পাকিস্তান, তুরষ্ক মিলে ১০/১২টি দেশ সৌদির সাথে ছিল। ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরোধ ছিল। ওবামার শেষ সময়ে ইরানের সাথে কিছু সমঝোতা হলেও ট্রাম্প প্রশাসন সব ক্ষেত্রেই লঙ্কাকান্ড বাধাচ্ছে। সৌদি চাইছে কাতারের বিদেশনীতি তার থেকে ভিন্ন হতে পারবে না। কাতারের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার এমন কি তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে অন্য জ্ঞাতি ভাইকে ক্ষমতায় আনার হুমকিও চলছে। সৌদি আরবে কাতারের বার্সার জার্সি পরলেই জেল জরিমানা, (১৩ জুন, ২০১৭)। কাতারের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের যে অভিযোগ তুলেছে তার সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ দিতে পারে নি অবরোধকারী আরব দেশগুলো (সূত্র আল জাজিরা)। কাতার সংকটে বিপদে পড়বে ফিলিস্তিনীরা। গাজায় ২০১২ সালে শেখ হামাদ প্রকল্পের পুরো অর্থের যোগান দেয় ধনী দেশ কাতার। নি¤œ আয়ের প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিন পরিবার সেখানে স্থানান্তর হয়ে আবাস পেয়েছে। সেখানের এক অধিবাসী বলেন অর্থ সমর্থন অবকাঠামো ভবন নির্মাণ সবকিছুই বন্ধ হয়ে যাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজাতে নতুন বাড়ী, হাসপাতাল ও সড়ক নির্মাণে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে কাতার। দেশটি আরো প্রায় ১০০ কোটি ডলার দেয়ার অঙ্গিকার করেছে। সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলে সৌদি ও তার মিত্ররা কাতারকে একঘরে করার চেষ্টা করছে, যদিও কাতার এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে। সরকারি হিসাবে গাজাতে ৪০ শতাংশ মানুষের কোন কাজ নেই। বেকারত্বের ক্ষেত্রে যা বিশে^ একটি বড় রেকর্ড। দুঃখজনক হলেও সত্য সৌদি আরব কাতারকে একঘরে করার চেষ্টা করছে, এর এক বড় কারণ হামাসকে সহায়তা করা বন্ধ করতে হবে। এই হামাস সংগঠনটিই গাজা শাসন বা পরিচালনা করছে। প্রায় এক দশক আগে ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে হটিয়ে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হামাস। এর এক বছর পরে নির্বাচনে জয়লাভ করে হামাস। কাতারের সাবেক আমীরই একমাত্র নেতা যিনি নিপিড়িত গাজা সফর করেছেন। সেখানে যেসব ঘরবাড়ি সড়ক হচ্ছে তা হামাসের জন্য হচ্ছে না, বরং হচ্ছে ফিলিস্তিনী নিপিড়িত নির্যাতীত জনগণের জন্যে। সেখানে সীমান্তের দুধারে মিশর ও ইসরাইল কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। একই দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিম ব্রাদারহুডকে তারা সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করছে, যা বাস্তবিকই সৌদির আসল বিতর্কীত স্বরুপ, প্রকৃতি বিশে^র ময়দানে স্পষ্ট করছে। কাতারের প্রতি সংহতি জানিয়ে ফিলিস্তিনী শিশুরা স্লোগান দিচ্ছে “আমরাই কাতার”। আরব বসন্তকে সমর্থণ করায় কাতারকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে এমন মন্তব্য করেছেন হামাসের পার্লামেন্টারিয়ান ইয়াহইয়া মুসা। ট্রাম্পএর সৌদি ভ্রমণের সাথে গোটা বিষয় যুক্ত, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও তারা মনে করছেন। শেখ হামাদ সিটিতে যখন মিস্টার মুসা এ বক্তব্য দেন তখন ফিলিস্তিনী শিশুরা কাতার ও ফিলিস্তিনের পতাকা নাড়াচ্ছিল (বিবিসি বাংলা)। ইসরাইল ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের একটি পরিকল্পনায় সায় দিয়েছে যার ফলে গাজাতে বিশ লক্ষ মানুষ ৪৫ মিনিট কম বিদ্যুৎ পাবে। তারা গড়ে মাত্র চার ঘন্টার মত বিদ্যুৎ পায়। হামাসের অভিযোগ এসব তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে মিলে এসব করছে। ওদিকে ট্রাম্প ইসলামিক স্টেট, আল কায়দা ও হেজবুল্লার সাথে হামাসকেও দায়ী করতে উৎসাহী।

সৌদির ধ্যান রাজতন্ত্র: সৌদি কার ধ্যান করছে? গণতন্ত্রের তো নয়ই, তাহলে কি বাদশাহীর, না রাজতন্ত্রের? আল-জাজিরা একটি স্বাধীন স্যাটেলাইট গণমাধ্যম, কাতার অর্থ সাহায্য দেয় এটি সৌদির পছন্দ নয়, ইরান কাতার সম্পর্ক ভালো হলেও সৌদির আপত্তি, যার জন্য আজ কাতার অপরাধী। বিশে^র দৃষ্টিতে খারাপ ট্রাম্পও যে কোন কারণেই হোক ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের সাথে অল্প সময় নিয়ে হলেও দেখা করেন কিন্তু মোদির সব কিছু সিলড। বিগত বেশ বড় সময় থেকেই ভারতের সাথে ইসরাইল শিক্ষা ক্ষেত্রেও শক্ত গাটছড়া বাঁধছে। গ্যাঞ্জামের গুড় হয়তো লাগিয়েছেন ট্রাম্পই কিন্তু বাকীরা সুর সুর করে ধরা পড়েছে প্রকাশ্য ট্রাপে, যার যার প্রকৃত স্বরুপ নিয়ে। হয়তো এতে অনেক গোপন হয়েছে খোলাসা, দিবালোকের মত ফকফকা। সৌদিসহ জোটের দেয়া ১৩ শর্তে রাজি হয় নাই, তার মানে কাতার সন্ত্রাসী এটি জোটের কথা। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল থানি দোহায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, সৌদি জোটের দাবীগুলি হচ্ছে অবাস্তব যা মানা অসম্ভব। তার ভাষায় এটি আসলে সন্ত্রাসবাদের বিষয় নয়, এটা বাকস্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করা। আলোচনার মাধ্যমে কাতার এর সমাধান চায়. শুরু থেকেই তারা প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে , মধ্যস্থতাকারী দেশ কুয়েতকেও তা জানিয়েছে (ইন্টারনেট সূত্র)। বিশ্লেষনে দেখা যায় গনতন্ত্র কি সুবিধাবাদীদের একটি ধারালো অস্ত্র? যারা গণতন্ত্র ধারণ করছে তারাই প্রকারান্তরে বলছে ওটিকে শক্তভাবে ঠেকাও, কারণটি কি? তাদের কপট স্বার্থ! সহজ জবাব হচ্ছে এরা নীতিরও নয়, মানবতারও নয়! আরবরা দেশের তেলের টাকায় কেনা শক্তির জোরে তাদের বাদশাহী টিকিয়ে রেখেছে। ইসলাম কখনোই এসব সায় দেয় না। শনিবার জার্মানির হ্যামবার্গে জি-২০ সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে আবারও সোচ্চার হন তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান (রোববার ৯ এপ্রিল ২০১৭)। সৌদি জোটের ১৩ শর্তের মাঝে এক শর্ত হচ্ছে তুরষ্কের একটি সামরিক ঘাটি বন্ধের দাবীও এসেছে। সঙ্গত কারণেই তুরষ্কও তার ক্ষোভ প্রকাশ করে। জি-২০ সম্মেলনে এরদোয়ান সেটি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সব পক্ষকে শান্তির জন্য সমঝোতায় পৌছার জন্য আবারো আলোচনার আহবান জানান (সূত্র: আল-জাজিরা)।

Mehdi Hasan’s Awesome Reply in a Debate

বাংলাদেশ: বাংলাদেশেও কাগজে গণতন্ত্র আছে কিন্তু মাঠে নেই।

যুগে যুগে অসৎ শাসকরা শয়তানের বাহক শক্তি হয়ে ইন্ধন দিয়ে গেছে, রাজতন্ত্রে ভর করেই অপকর্মের মহড়া চালানোর উদাহরণ সর্বত্র। যার জন্য ইমাম আবু হানিফার মত সাধুরা ইসলামের বিজয় যুগের কাছাকাছি সময়ও অনেক নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস এ্যাসোসিয়েশেন প্রমাণ্য দলিলসহ বিশ্লষণধর্মী ব্যাখ্যাসহ বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। সরকারী সমর্থনে পুলিশ নিজেই অপরাধ করছে আর তাদের কৃত অপরাধ অস্বীকার করে চলেছে সরকার। পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস সরকারের এ দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করেন এবং মানবাধিকার মানুষের জীবন ও আইনের অশ্রদ্ধার যে আচরণ সরকার করছে তার অবসান চান। পুলিশ নিজের অপরাধকে বৈধতা দিতে বন্দুকযুদ্ধের নাটক করে, সরকার তাতে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। এসব আজ আর লুকানো নেই, খোলা দলিলের বানী। নিরপরাধের শাস্তি হয় অপরাধীরা মৃদঙ্গে তালিয়া বাজায়। এ হচ্ছে ২০১৭ তে ব্যর্থতায় ভরা কাগুজে গণতন্ত্রের বিকৃত প্রতিষ্ঠা। নীতি নৈতিকতার মানদন্ডে ইসলাম আগা গোড়া মোড়া। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সৌদি, ভারত, ইসরায়েল, আমেরিকা সিরিয়েলি কেন এক কাতারে দাঁড়িয়ে গেল, এক হয়ে গেল? তাহলে, এরাই কি ইসলামের প্রকৃত বিরোধী শক্তি হয়ে দাড়াচ্ছে? বিশ্লেষনে পাওয়া যুক্তি হিসাবে এ বলাটা অপরাধের হবে বলে মনে হয় না। প্রশ্নটি প্রতিটি সচেতনকে চিন্তাশীলকে বার বার পরখ করে দেখতে হবে। কুরআন কিন্তু তার অভিমত আগেই দিয়ে রেখেছে ,

“তুমি নিশ্চয় দেখতে পাবে যে যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে শত্রুতায় সব চাইতে কঠোর লোক হচ্ছে ইহুদীরা ও যারা শরীক করে।

আর নিশ্চয় তুমি আবিষ্কার করবে ঘনিষ্ট হচ্ছে তারা যারা বলে আমরা খৃষ্ঠান” সুরা মায়েদার ৮২ আয়াত দ্রষ্টব্য)।”

নাজমা মোস্তফা, ১০ জুলাই ২০১৭ সাল।

পাঠ্যবই জটিলতা ষড়যন্ত্রের সাথে কারা জড়িত আশা করছি খুব সহজেই তারা ধরা পড়বে ও শাস্তি পাবে। ধরা খাওয়ার পরও কিছু ষড়যন্ত্রীরা আজ উচ্চকন্ঠ হয়েছে যাতে জাতিকে কৌশলের সূতা নাতা দিয়ে অষ্টেপৃষ্ঠে বাধা যায়। ২০১৭ সালে পাঠ্যবইএর তুমুল লড়াই বাংলাদেশে শুরু হয়েছে, এই সুবাদে মুক্তমনের নামে অজয় রায়রা খুব হাত দাগিয়ে চলেছেন। প্রথমে শুনে আমিও কিছু বিচলিত হই, চমকাই। অনেক দিন থেকে এ লড়াই জানাই ছিল, তারপরও চমকানোতে বিষয়টার উপর একটু বাড়তি আলোকপাত করাই জরুরী মনে করলাম। মাথা ঠান্ডা করে ভালো করে পিছনে তাকাই। মুক্তমন নামধারী এসব অজয় রায় মেধাবীরা দেশটির ও জনগণের পোস্ট মর্টেম করে ছাড়বেন মনে হচ্ছে। তার কথা শুনে মনে হবে হেফাজতিরা সব অপকর্মের মূল। কারো দোষ থাকতে পারে সেটি স্পষ্ট করে না দেখিয়ে মিথ্যে করে অপবাদ ছড়ালেই বাহাদুরি কেনা যায় না এবং এভাবে মুক্তমনা হওয়াও যায় না। বরং এতে সব ছলবাজিও স্পষ্ট হবার সম্ভাবনা থেকে যায় । বাংলাদেশ একটি ৯০%-৯৫% মুসলিম দেশ। সেখানে এই ৯৫% মানুষের বিশ^াসের কবর রচনা করে কেন পাঠ্যবই সাজাতে হবে? অতীতে কি কারণে মুসলিমরা লেখাপড়াতে পিছিয়ে পড়েছিল সেটি কি বাংলাদেশের মুসলিমরা ভেবে দেখবে না? ভারতে আখলাকদের মূল্য কানা কড়িতে বিকায়, গরুর মাংসও খেতে পারে না ধর্মের দোহাই দিয়ে, ওটি খেলে তাদের জবাই হতে হয়।

তৎকালীন বৃটিশ জেনারেল শ্লীমান মোগল যুগের উচ্চ মানের শিক্ষার প্রশংসা করে বলেছেন, ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার যেরুপ ব্যাপক প্রসার হয়েছে পৃথিবীর খুব কম সম্প্রদায়ের মধ্যেই সেরুপ হয়েছে। উইলিয়াম হান্টারও এ কথাটি স্বীকার করেছেন যে, সেই যুগে ভারতে প্রচলিত শিক্ষা অন্যান্য শিক্ষা পদ্ধতি হতে বহুলাংশে উৎকৃষ্টতর ছিল। উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে মুসলিমদের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি হয়। রাজ্যহারা মুসলিমদের প্রতি বৃটিশের ছিল একচোখা নীতি। মুসলিমরা সাধারণ শিক্ষার সাথে ধর্মীয় শিক্ষা অত্যাবশ্যক মনে করতো। তখন ছাত্রদেরে প্রতিদিন হাটু গেড়ে নত মন্তকে স্বরস্বতী বন্দনা আবৃত্তি করতে হতো। পত্র লেখা, মনসামঙ্গল, হিন্দু ধর্ম ও উপকথাসমৃদ্ধ দিয়ে সাজানো ছিল। যার জন্য মুসলিমরা পাঠশালাগুলির এই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আকৃষ্টতা হারায়। এটিই প্রধানত মুসলিমদের পড়াশুনাতে পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ। তাদের কাছে তাদের ঈমান রক্ষা করাই ছিল জীবন ধারণের মতই মূল্যবান। যারা আজীবন যুক্তির সাথে উঠাবসা করেছে, তারা  এসব অতিভৌতিক মূর্তি নির্ভর জীবনের মাঝে খেই হারিয়ে ফেলেছিল। নজরুল সবদিনই ভারতের পাঠ্যবইতে উপেক্ষিত। সেদিন দেখলাম তার চুরুলিয়ার অবহেলার চিত্রটি একটি কলামে ভিডিওটি দেই। তড়িঘড়ি কেউ ওটি মূল সূত্র থেকে মুছেও দেয়। কারণ মুসলিম নির্যাতনের খুশবু বের হয়ে যাচ্ছে। অজয় রায়দের মুখে মুসলিম জনতার বিপক্ষের ওকালতী অনেকটাই স্পষ্ট। বাংলাদেশের ইসলাম মানসের অনুভূতিকে তারা মনে করে হেফাজতের অনুভূতি।

ইসলামী শিক্ষা বাদ দিতে হবে –

নতুন সংযোজন: অনেক দিন থেকেই মুক্তমতের দাবীদার বর্ষিয়ান এ শিক্ষক দেশবাসীকে নির্দেশ দিচ্ছেন। আজ ১২ এপ্রিল ২০১৭, আবার তিনি সরব হয়েছেন, প্রথম আলোয়। তরুণকে ডাকছেন প্রয়োজনে মূর্তি সরালে তরুণরা যেন ময়দানে ঝাপিয়ে পড়ে। কথায় কথায় বৃহত্তর মুসলিম জনগোষ্ঠীর কোন চাওয়াকে তিনি হেফাজতের চাওয়া বলে তীর্যক মন্তব্য করেন। সমস্ত ভারত জুড়ে ভারতের হিন্দুদের সীমাহীন বিতর্কীত কর্মকান্ড দেখেও কয়জন মুসলিম মুখিয়ে উঠেন কিন্তু তিনি মুক্তমতের নাম নিয়ে একটি নীতি ধর্মের মানুষকে এভাবে আক্রমণ করে নিজের প্রকৃত পরিচিতি স্পষ্ট করেন। ধর্মের উপর তার আক্রমণের সীমা, প্রথম লাইনে বলেন ইসলাম শান্তির ধর্ম, বলেই তিনি জুড়ে দেন এদের কিছু সংগঠন নারীকে শুধু রান্না ঘরে আর রাতে পুরুষের সঙ্গি করতে চায়। ইসলাম কখনোই এসব অনাচারে নেই। কয়টি সংগঠন এর কথা বলে মূল ধর্মকে কটাক্ষ করে তিনি কি বলতে চাচ্ছেন? তিনি কি প্রকারান্তরে এ ধর্মের শিকড়ে বিষ ঢেলে দিচ্ছেন না? এর নাম কি মুক্তমনা? তাদের আধা রাখি আধা ঢাকি বেশ থেকে স্পষ্ট হওয়া দরকার। তাদের এটি স্পষ্ট করা দরকার তারা বাংলাদেশ থেকে মুসলিম নির্মুল চান, ইসলাম ধর্মের বিলুপ্তি চান। হাজার অপকর্মে অপসংস্কৃতিতে দেশ ডুবছে সেদিকে তাদের খেয়াল নেই। এরা যদি প্রকৃতই মুক্ত মনের হতেন তবে জাতির এত বিপন্ন দশাতে তারা কয়টি সত্য কথা বলেছেন, বা জাতিকে সুপথ দেখাতে পারে। জাতি বিভক্তির খেলা ছাড়া তাদের হাতে দ্বিতীয় কোন কার্ড নেই। 

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তনসমূহ দেখে অজয় রায়রা ক্ষুব্ধ। স্মরণ রাখার বিষয়, হাতে নাতে ধরা পড়ে কিছুটা বেকায়দায় পড়ে সরকার এ পরিবর্তন করে। অতীতে কোন সরকারের সময়েই এসব দেশ বিধ্বংসী বিতর্ক উঠে নাই, কেন? পাকিস্তানের সময়ও এসব ঘটনা ঘটে নাই, এমন কি নতুন স্বাধীন দেশেও নয়। এসব সত্য তারা ঐ পাঠক্রমের পক্ষশক্তিও বলতে বাধ্য হচ্ছেন। দেখা গেছে অজয় রায়রা ঐ পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাদের যুক্তিতে মনে হচ্ছে ছাগলের গাছে চড়াটাই শোভনীয়। আজ কেন এমন ভুতের আগমন ঘটলো? শুধু পরিবর্তন নয়, ঐ সব কালপ্রিটকে খুঁজে খুঁজে জবাবদিহি মূলক শাস্তিই উচিত ছিল একমাত্র জমা পাওনা। বেশ কটি বছর থেকে এসব চলছে, অতপর ২০১৭এ তা পুনঃমুদ্রন করে ফিরিয়ে আনা হয়। দেখা যায় সমাজের এগিয়ে চলা নামধারী কিছু জনরা মুক্তবুদ্ধির নামে, ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে মুসলিমকে আবর্জনা গেলাতে চাচ্ছে। ৫% হিন্দুর জন্য ৯৫% মুসলিমকে তারা চরম অবজ্ঞা দেখিয়েছে। নীচে কি সরানো হয়েছে এবং কি ফেরত এসেছে তার একটু ছোঁয়া আনছি।

ক্লাস ওয়ানে ওড়না বিতর্ক তো রয়েই গেল। ওড়না দেয়াতে নাকি শিশু মেয়ের উপর অবিচার হয়েছে। দেখা গেছে বিগত সময়ে ক্লাস টুএর পাঠে শেষ নবীর “সবাই মিলে করি কাজ” ক্লাস থ্রি এর খলিফা আবু বকর, ক্লাস ফোর এর খলিফা হযরত ওমরের সংক্ষীপ্ত জীবনী বাদ দেয়া হয়। ক্লাস ফাইভে হুমায়ুন আজাদের একটি বিতর্কীত কবিতার নাম “বই” যাতে এটি স্পষ্ট যে মূল ইসলাম ধর্ম গ্রন্থকে খুব কৌশলে ব্যঙ্গ করে উদ্দেশ্য মূলক ভাবে নাস্তিক ধ্বজাধারী এ লেখক লিখেছিলেন; তা কেন কি উদ্দেশ্যে বাচ্চাদের পাঠ্য সূচিতে ঢোকানো হলো এটি কি ভাবার বিষয় নয়? একদম কচি একদল বাচ্চার সাথে পাঠ রচনাকারী পরিচালকরা কি পরিমান ষড়যন্ত্র করেছেন সেটি মাথায় রাখবেন, প্লিজ! যখন থেকে তারা চিন্তা করতে শিখবে ক্লাস ফাইভে এ ডোজটি রেডি করা হয়, যাতে তারা গিলে। শহীদ তিতুমীরের জীবন চরিত, তার বৃটিশ বিরোধী কৃতিত্বের কথা, আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জীবন চরিত এসব সরিয়ে ঢোকানো হয় “হিমালয়ের শীর্ষে বাংলাদেশের পতাকা” উল্লেখ্য, মুসা ইব্রাহিম নামের একজন এভারেষ্ট বিজয়ী দাবিদার যাকে নেপাল সরকার তার এ কৃতিত্বকে অস্বীকার করে। অতপর বিতর্কীত জিনিস বদলে আনা হয় কবি কাদের নেওয়াজের লেখা বাদশাহ আলমগীরের “শিক্ষা গুরুর মর্যাদা, বিদায় হজ্জ্ব ও বৃটিশ বিরোধী যোদ্ধা বীর তীতুমীরের জীবন কাহিনী। ক্লাস সিক্সএ বাংলা চারুপাঠে একটি গল্প “লাল গরুটা” যেখানে সমালোচকরা বলছেন গোমাতার প্রতি ভক্তিই গল্পের মূল উদ্দেশ্য। মুসলিমদেরে যে গরু জবাইএরও হুমকি দিচ্ছে সংখ্যালঘুরা শুধু বাংলাদেশই নয়, আমেরিকাতেও, সেখানে এসব সুক্ষ্ম কারচুপির নিদর্শন নয় বলার সুযোগ কম। এর বদলে পুনরায় ফেরত আনা হয় “সততার পুরষ্কার” নামের ঘটনাটি। ভারতের রাচী ভ্রমণ বদলে মিশরের নীলনদ আর পিরামিডের দেশ” পাঠ্যটি ফিরিয়ে আনা হয়। ক্লাস সেভেনে দূর্গা দেবীর প্রশংসায় রচিত “বাংলাদেশের হৃদয়” নামের কবিতা বদলে রবীন্দ্রনাথেরই আরেকটি কবিতা “নতুন দেশ” নেয়া হয়েছে। সেভেনে আবার শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী “মরু ভাষ্কর” ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ক্লাস এইটে দুটি কবিতা “প্রার্থণা ও বাবরের মহত্ত্ব” যা বাদ দেয়া হয়েছিল তা ফিরিয়ে আনা হয়। সাহিত্যিক কায়কোবাদের লেখা প্রার্থণা কবিতাটি আল্লাহর প্রশংসা ভক্তির এক অনুপম উদাহরণ, তাই এটি সরিয়ে প্রবেশ করা হয় বাউল লালনের “মানবধর্ম” কবিতা। প্রকারান্তরে এসব হচ্ছে নাস্তিক্যবাদী শিক্ষার নামে ইসলাম ধ্বংস খেলা। বাংলাদেশে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে মোগলরা বাতিল কেন ? কারণ হতে পারে মোদির ইচ্ছেতে তাই হচ্ছে ভারতে। বাংলাদেশে স্থানে স্থানে বসে আছে ভারতের দালালরা। সবদিন ভারতে বেশির ভাগই বিৃকত মুসলিম ইতিহাস পড়ানো হয়েছে। যারা এর উপর সঠিক কাজ করেছেন তাদের কাজকে আজীবন বাজেয়াপ্ত করে রাখা হয়। যদিও অনুসন্ধিৎসুরা জানেন এসব কত সঠিক। মোগল বাদশাহদের শহর ও রাস্তা করা ঐতিহাসিক দাগগুলোও খুব চতুরতার সাথে ভারত সরকার মুছে ফেলছে মুসলিম বিদ্বেষের কারণে। বাংলাদেশ নামের ৯৫% মুসলিম দেশটিতে চলছে এভাবে ভারতীয়করণ। দেখা গেছে যেখানে আগে ক্লাস এইটে ৩২টি পাঠ ছিল সেখানে এখন ১০টি কমে ২২টিতে এসে ঠেকেছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন যেন তেন প্রকারে এসব বদলে দেয়া হয়েছে। কবি সগিরের নবম দশমের “বন্দনা” কবিতায় মা বাবার প্রতি শ্রদ্ধা সহ বিধাতার প্রতি আনুগত্য ও নৈতিক শিক্ষার উপাদানটি সরিয়ে আনা হয় “সুখের লাগিয়া” মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব পদাবলী। এভাবে বাদ দেয়া হয় আল্লাহর নামে নিবেদিত মধ্যযুগের মুসলিম কবি আলাউলের “হামদ” কবিতাটি। অতপরঃ ক্লাস নাইন ক্লাস টেনে মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত রাধা কৃষ্ণের লীলাকীর্তন (মামা ভাগনীর প্রেমলীলা) “সুখের লাগিয়া” বিতর্কীত লেখাটির বদলে শাহ মুহাম্মদ সগীরের “বন্দনা” কবিতাটি নেয়া হয়েছে। ভারতচন্দ্রের লেখা দেবী অন্নপূর্ণার কাছে প্রার্থণা করে লেখা “আমার সন্তান” এর বদলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে মহাকবি আলাউলের হামদ” নামক কবিতাটি। লালনের একটি বিতর্কীত কবিতা “সময় গেলে সাধন হবে না” যেটি ইত্যবসরে লালন গবেষকরা যা আবিষ্কার করেছেন তা সব সচেতনের জন্যই আতঙ্কজনক বিবেচিত হবে। সঙ্গত কারণেই এটি বাদ দিয়ে কবি আব্দুল হাকিমের বঙ্গবানী কবিতাটি নেয়া হয়। রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়ের ইসলাম বিদ্বেষী কবিতা “স্বাধীনতা” বদলে আনা হয়েছে কবি গোলাম মোস্তফার “জীবন বিনিময়” কবিতাটি। অখন্ড ভারত গড়ার স্বপ নিয়ে লেখা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের “সাকোটা দুলছে” বদলে কাজী নজরুল ইসলামের “উমর ফারুক” কবিতাটি নেয়া হয়েছে। ভারতের ভ্রমনকাহিনী “পালামৌ” বদলে বঙ্কিমের “ফুলের বিবাহ” গল্প নেয়া হয়েছে।

Bangla New Talk-show ” নিলুফার মনির সাথে সুভাষ সিংহের তুমুল হেফাজত বিতর্ক”

 

যেখানে ওড়না শিখলেই শিশু মেয়েরা অত্যাচারিত হবে, আর যখন শিক্ষক হুমায়ুন আজাদ শেখাবে মদ খাও, নেশা করো, ধর্মকে অবজ্ঞা করো, কোন প্রথা মানবে না, সংসার বিয়ের কোন মূল্যায়ন করবে না। তিনি কিন্তু এসবই করেছেন কিন্তু সমাজকে ধ্বসিয়ে দিতে কিছু বাকী রাখেন নাই। এমন কি এখানে মুসলিমদের যে সব নীতি নৈতিকতার বিষয় আলোচিত হয়েছে এসব থেকে হিন্দুরা কি কিছুই শিখছে না? নীতির উপর পাঠ রচিত হলে যে কোন ধর্মধারীই তা থেকে ইতিবাচক অর্জন জমা করতে সক্ষম। রাধা কৃষ্ণের লীলার মাঝে যদি নীতি নৈতিকতা থাকতো তবে ওটি রাখতে কারো আপত্তি হবার কথা নয়। তারা ছাত্রছাত্রীরা এখান থেকেই মানুষ হবার প্রকৃত সবক আহরণ করতে সক্ষম। ধর্মের নামে নষ্ট প্রেমলীলা, নিজ দেশের ধ্বংস ডেকে ভিন দেশের স্বপ্নকে বাস্তবায়নে পাঠ সাজানো, মিথ্যা এভারেস্ট বিজয়ের মিথ্যা শিক্ষা, ছাত্র ছাত্রীকে চরিত্র ধ্বংসের সব হাতেখড়িতে কেন উদবুদ্ধ করা, তাও আবার নাস্তিক শিক্ষক দ্বারা! যারা সারা জীবন ইসলাম ধর্মের উপর কুৎসা রচনা করেই ক্ষান্ত থাকে নাই, তার দৃষ্টিতে ধর্ম মানুষের অজ্ঞানতার আধার, সুপরিকল্পিত মিথ্যাচার। তার ভাষায় পঞ্চম শ্রেণীর জ্ঞানও ধর্ম দিতে পারে না। ধর্মে অবিশ^াসী, পরকালে অবিশ^াসী, পরিবার প্রথাতে অবিশ^াসী ধর্মকে তিনি সর্ব নিকৃষ্ট বলে দেখিয়েছেন, তার লেখাতে নেশা মদকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন। জীবনকে উচ্ছন্নে নিয়ে যেতে, নীতি নৈতিকতাকে উপড়ে ফেলে দিতে এমন কোন কাজ নেই যাতে তিনি না উৎসাহ দিয়েছেন। হুমায়ুন আজাদের সমাদর পাবার মূল কারণ তিনি ইসলাম বিদ্বেষী। তার রচিত বই কবিতার কয়টি লাইন যে কোন সচেতনের মনেই কষ্ট বাড়িয়ে দিবে। হুমায়ুন আজাদের আজীবনের সাধনাই ছিল ঐ ঐশী গ্রন্থের বিরুদ্ধে, এটি নিশ্চয় যারা তার পাঠ পড়েছেন তারা জানেন। এরকম একজন মানুষ কবি কি বলতে চাচ্ছে এ কবিতাতে, পাঠক দেখুন –

“যে বই তোমায় দেখায় ভয়,

সেগুলো কোন বই-ই নয়

সে বই তুমি পড়বে না।

যে বই তোমায় অন্ধ করে

যে বই তোমায় বন্ধ করে

সে বই তুমি ধরবে না”

উপরের এ কবিতাটি ওড়না পড়ার কষ্ট থেকে কি ভয়ঙ্কর নয়? শিশুকে শেখানো হচ্ছে কুরআন কোন বই-ই নয়। ও বই পড়লে তুমি নষ্ট হবে, অন্ধ হবে, ওর ধারে কাছেও যাবে না। বিদ্যার কি বাহারী নমুনা! তো স্কুলে যাওয়ারই দরকার কি? মদের পাট্টাতে পাঠিয়ে দিলেই হয়, ভালো শিক্ষা হবে! হিরোইন ফেনসিডিলের প্রসার হবে, প্রতিবেশী দেশের আয় রোজগার বাড়বে। এখানের উপরের প্রায় প্রতিটি গল্প কবিতার সাথে আমরা নিজেরাও পরিচিত, এসব আমরা নিজেরাও পড়েছি। আর আমাদের হিন্দু ভাই বোনরাও এ থেকে অনেক নীতি নৈতিকতা শিক্ষা লাভ করেছেন যার সাক্ষী আমরা নিজেরাই। যা তাদের শিক্ষা ব্যবস্থাতে অনুপস্থিত বলেই আজও মুসলিমরা এসব মিথ্যাকে কখনোই গ্রহণ করতে পারে না। হিন্দুরা বলুক যে এসব শিক্ষালাভ করে তাদের বাচ্চাকাচ্চারা উচ্ছন্নে গিয়েছে, যাচ্ছে এবং যাবে। তারা প্রকারান্তরে ১০০% মুসলিমকে হিন্দুত্বের মূর্তি পূজাতে দাখিল করতে শপথ নিয়েছে। স্কুল কলেজে কখনোই ঈদ রমজান পালন হয় না, কিন্তু স্বরস্বতি পূজা না হলে নয়। সারা দেশে ২৯,০০০ / ৩০,০০০ মূর্তি গড়ে জাতির সামনে কি সুদিন আসছে, পরিবেশ ধ্বংস ছাড়া। এসব বিষয়ে সচেতন বিবেচক হিন্দুকে বিধর্মীকেও জেগে উঠতে হবে। এই একবিংশ শতকেও যদি মানুষ না জাগে আর কত যুগ মানুষকে অন্ধকারে হুমড়ি খেয়ে পড়ে থাকতে হবে। সারা দেশে যেভাবে হিন্দুত্ববাদীরা ও ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা হামলে পড়ছে মনে ভয় হচ্ছে এসব কি প্রকৃতই তাদের ধ্বসের লক্ষণ। বলা হয় বাতি নিভে যাবার আগে ধ্বপ করে জ¦লে উঠে? ওটি কি ওরকম কিছু!  বস্তুত নির্দ্ধিধায় বলা যায় এ পাঠ্য সূচি রচিত হয়েছিল দেশটিকে বিকৃত যৌনাচার ও হিন্দুত্ববাদের এক উৎকৃষ্ঠ লালনাগার হিসাবে গড়ে তুলার জন্য। এর মাঝে কোন ভুল নেই, যে বা যারা এসব করেছে তারা যে কত গভীর ষড়যন্ত্রের উপর ভর করে এসব করেছে তার সন্ধানে প্রতিটি সচেতনকে সে হিন্দু হোক বা মুসলিম হোক অতন্দ্র প্রহরায় বাড়তি সচেতন থাকতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই।

তোমরাই হচ্ছো শ্রেষ্ঠ উম্মততোমাদের খাড়া করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য। এ জন্য যেতোমরা প্রতিষ্ঠা করবে ন্যায়ের এবং নির্মূল করবে অন্যায়ের এবং ঈমান আনবে আল্লাহর উপর (সুরা আল ইমরানআয়াত ১১০)

নাজমা মোস্তফা

মার্চের ৬ তারিখ, ২০১৭।

ফরহাদ মাজহারকে নিয়ে সম্প্রতি নাটক মাত্র শেষ হলো। সরকার পক্ষে এইচ টি ইমাম বলছেন, সরকার ফরহাদ মাজহারকে ভয় পায় না, তিনি এত বড় কেউকেটা নন। এটিও স্পষ্ট হলো যে কেউকেটাকে সরকার ঠিকই ভয় পায়। সরকারের দলবল ছাড়া ঐ সমাজে কে যে কেউকেটা সে বিচার করুক দেশবাসী। এ ব্যাপারে হোম ওয়ার্ক জরুরী, বাংলাদেশে যারা বসবাস করছে তারা পেট নীতিতেই সময় পার করছে বেশী। সরকার গোল্লায় যাক বা স্বর্গে যাক সে খোঁজে নেই তারা। তবে মনের সঙ্গোপনে সবারই কষ্টকাঁটা বিধে আছে। মানুষ দম আটকে হাল ছেড়েছে। সরকার প্রতিটি নাটক করছে সামনে পেছনে নিজের ক্রমাগত বৈধতার সংকট কাটাতে। মানুষের জীবনের শংকা এ সরকারের নেই। তাদের কাছে বাকী মানব জীবনের মূল্য অতি অল্প। শুধু ফরহাদ মাজহার নন, তাদের কাছে কেউই কিছু নন। মিডিয়াতে এত উল্টাসিধা খবর এসেছে যে সেখানে আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে ইচ্ছাকৃত গৃহত্যাগ দেখাতে। যেন এ বয়সে এসে ফরহাদ মজহার গৌতম বুদ্ধের মতই সংসার ত্যাগ করে নিখোঁজ হয়ে গেলেন। কর্তৃপক্ষ টোপটা গিলেছিল ঠিকই কিন্তু হজম করতে পারে নাই, উগলে বের করে দিয়েছে।

দুটি ফোনের মাঝে একটিতে ফোন আসে। তিনি বের হয়ে যান। কেউ একজন হেটে যেতে দেখেছেন। আসল খবর হচ্ছে কোন ফোন আসে নাই এসব অদেখা ভুত সাজিয়েছে, এরা তারাই যারা নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে। র‌্যাবকে একজন ফোন করে জানায় এবং র‌্যাব তাকে ফলো করে যশোহরের অভয় নগর থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় লাভজনক কে, প্রশ্ন করেন মুন্নী সাহা “প্লেয়ার বনাম প্লেয়ার” নামের টকশোতে। ঢাকার আদাবর থেকে তাকে অপহরণ করে, খুলনার পুলিশ বলেছে তিনি গৃহত্যাগের নাটক করেছেন। মুন্নি সাহার মনে হতে পারে এতে ফরহাদ মজহারই বেশী লাভবান হলেন! তিনি কেউকেটা নন, এবার কেউকেটা হলেন। কিছুরা অপহরণটি মানতে নারাজ। যার জন্যই মনে হচ্ছে চাঁদাবাজি, মুক্তিপন নাটকের সাথে জুড়ে দেয়া হয়। অপহরণের সাথে আবার ডানপন্থী বামপন্থীর প্রশ্ন কেন? সবাই অনুমান করতে ওস্তাদ! অতীতে ইলিয়াস আলীকে, সালাহউদ্দিনকে গিলতে পেরেছে পানি ছাড়াই। ধরা খেয়ে গেলে চোরের সবটাই লস, লাভ হয় না, তখন লাভ হয় বাড়ীওয়ালার। এখানে মুন্নী সাহা এ প্রশ্নটিই রাখে যে কে লাভবান হচ্ছেন। ইলিয়াস আলীকে গুম করে কে লাভবান হয়েছেন, সাগররুণিকে হত্যা করে কারা লাভ গোলাতে উঠিয়েছেন সে উত্তর মুন্নি সাহার ভালোই জানা আছে। তারপরও ঐ প্রশ্নটিই তাকে প্রতিটি সদস্যকেই করতে দেখা যায়।  সাগর রুণির হত্যার পর পরই একটি গুজব মিডিয়াতে ছড়ানো হয় যে তাদের মাঝে প্রেমের জটিলতা ছিল, বোঝাপড়ার সমস্যা ছিল। এসবে আগুয়ান আসামী পক্ষ, যারা চায় প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন রাস্তা করে দিতে, ধামাচাপা দিতে। আসামী পক্ষকে বাঁচাতে এসব উপস্থাপিকার কৌশল সবার চোখেই পড়ার মত বিষয়। তার পরও দেশবাসী কি করবে, চোখ থাকতেও অন্ধের ভনিতা করে পড়ে আছে। গাড়ীর মধ্যে তাকে লাত্থি মারে কিডন্যাপাররা। ভোর রাত তিনটাতে সচরাচরের মত কম্প্যুটারে বসলে চোখের সমস্যাতে ঝাপসা দেখাতে চোখের ড্রপ ফুরিয়ে যায়। যার জন্য সেই ভোরে তিনি বাসার সামনের দোকানে ঔষধ কিনতে নেমেছিলেন যে ফার্মেসী ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। তার মানে তিনি তখনও গৃহত্যাগ করার মত পাগল হয়ে যান নাই, বাড়ী থেকে গোসসা করে দেশান্তরী হন নাই বলেই মনে হচ্ছে। আর ঐ ফাঁকে চতুর পুলিশ তড়িঘড়ি একটি রেডিকরা ব্যাগ ধরিয়ে দিল, মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়লো। তিন ব্যক্তি টেনে হিচড়ে তাকে মাইক্রোবাসে ওঠায়, সিটে বসতেও দেয়নি। ঐ অবস্থায় স্ত্রীকে জানালে তারা ফোনটি কেড়ে নেয়। ফেরার পথে তাকে মাইক্রোতে তোলা হয়নি, একটি রিকশাতে তুলে তারা অনুসরণ করতে থাকে এবং একটি লোকজনহীন বাসের পেছনের সিটে বসিয়ে দেয়। এর ফাঁকে একটি বেগ ধরিয়ে দেয় সেখানে  পুলিশের সিজার লিস্টে উল্লেখ করা হয়েছে ঝোলা টাইপের বেগে প্রিন্টের লুঙ্গি, প্রিন্টের পাঞ্জাবি ও কিছু নতুন টাকাও বেগে ছিল। তারা কেন তাকে সীমান্তের দিকে নিতে চাইছিল? মাইক্রোবাসটি কোথায়? (সূত্র: আওয়াজবিডি নিউইয়র্ক, ৫ জুলাই, ২০১৭)। এটি কোন তেলাপোকা নয় যে সুরুৎ করে লুকিয়ে গেছে। সারা দেশ জানে সেটি কোথায় লুকালো। ‘তোমরা কি চাও’ বলাতে প্রথমে ৫০ লাখ বললেও পরে ৩৫ লাখ চায় তার স্ত্রীর ফোনেই (সূত্র: purboposhchimbd) ) । স্ত্রী ফরিদা আক্তার আদাবর থানায় জিডি নং-১০১, ও পরে একটি অপহরণ মামলা নং-০৪ দায়ের করেন। সোমবার রাত ১১টার দিকে যশোহরের নওয়াপাড়া বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় যশোর থেকে প্রথমে ঢাকার আদাবর থানাতে তারপর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয় (সূত্র: যুগান্তর)। ফেসবুকে একটি ছবিতে দেখি তাকে ঘিরে দুই তিনজনই বসে আছেন মাত্র, সারা বাস খালি। কৃতকর্মীরা ঐ বাসের সাথেই লেপ্টে আছে। কিন্তু পুলিশ ও সরকার এতই তৎপর যে সমানেই বলা হয় তদন্তের আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না। সরকারের করিৎকর্মা এইচটি ইমাম বলছেন, ঐ ব্যক্তি এমন ইমপরটেন্ট না যে সরকার ভয় পাবে? এ সরকারের কাছে সবাই ধোয়া তুলসি পাতা, তাতো জাতি জানে ও দেখছেই। জনতার সন্দেহ ভারতীয় গুম বাহিনী এতে সরাসরি জড়িত। আর সাথে আছে দেশীয় মদনগুলো, নাহলে এসব গল্প কেন নব নব ঢংএ সাজে। এক সংবাদ সম্মেলেন ডিআইজি দাবি করেন, অপহরণ নয়, ফরহাদ মজহার স্বেচ্ছায় ভ্রমণের বেগসহ আলাদা কাপড় নিয়ে বের হয়েছেন। সম্মেলনে তিনি নীরব ছিলেন। অতীতের সবগুলো গুমেই দেখা যায় ভুক্তভোগীরা নীরব হয়ে যায়। হয়তো কড়া কোন ড্রাগে তাদের আক্রান্ত করা হয়। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবন পরিষদ যুক্তরাজ্য জুলাই ৩, ২০১৭ তারিখে সন্ধ্যে সাতটা তিরিশ মিনিটে এ অপহরণের প্রতিবাদে লন্ডন আলতাফ আলি পার্কে একটি সমাবেশের আয়োজন করে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য খবর হচ্ছে লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন এটি বিএনপির কান্ড কিনা সেটি সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে (আমার দেশ, ০৬ জুলাই ২০১৭)।

এইচআর ডব্লিউএর রিপোর্ট “বাংলাদেশে গোপনে আটক করে রাখা হয়েছে অনেককে” (মানবজমিন, ৭ জুলাই ২০১৭)। এরা গুম খুন ছাড়াও গোপন আটকসম্বন্ধে বলেছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ৫ জুলাই নিউইয়র্ক থেকে ৯১ পৃষ্ঠার প্রকাশিত রিপোর্টের শিরোনাম “উই ডোন্ট হেভ হিম: সিক্রেট ডিটেনশন্স অ্যান্ড এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সেস ইন বাংলাদেশ” এতে বলা হয়েছে ২০১৩ থেকে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীসহ কয়েকশ’ মানুষকে আটকে রেখেছে বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।  ২০১৬ সালেই ৯০ জন গুম হয়েছেন। ২১টির প্রমাণ্য উপস্থাপনা করেছে, যেখানে বন্দীদেরে পরে হত্যা করা হয়। ২০১৬ তে বিরোধীদলীয় প্রথম সারির রাজনীতিকদের তিন ছেলেকে তুলে নিয়ে ৬মাস পর একজন ফিরে আসলেও বাকী দুইজন আজও নিখোঁজ। এদেরে সাথে কৃত আচরণ নির্যাতন ও অশোভন অভিযোগ আছেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, ২০০৯ সালে মানবাধিকার লংঘনের ক্ষেত্রে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও গুমের বিষয়ে শূন্য সহনশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে ২০০৯ থেকে কমপক্ষে ৩২০টি গুমের ঘটনা ঘটেছে। এর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, গুমের প্রামাণ্য প্রতিবেদনসহ রিপোর্ট হয়েছে। কিন্তু সরকার মানবাধিকার, মানুষের জীবন ও আইনের শাসনের প্রতি অবজ্ঞামূলক ভাব দেখাচ্ছে ও আইনের তোয়াক্কা না করেই এ চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ১৯ নেতাকর্মীর গুমের প্রামাণ্য প্রতিবেদন দেয়া হয়, যাদেরে ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এসবের কোন জবাব নেই সরকারের কাছে। বেশীর ভাগ ঘটাচ্ছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র‌্যাব, পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ ডিবি, বা নিরাপত্তার বাহিনীর অজ্ঞাত সদস্যরা। এসব অভিযোগ তদন্তসহ, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংস্কার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের অফিসের সাহায্য নিতেও বলা হচ্ছে। সরকার তো করবে না, তবে দেশবাসীকে সঠিক সময়ে সঠিক হুমওয়ার্কটি করতে হবে। বর্তমান সরকারের প্রতিটি সদস্যই সরকারের মতই একখোরে মাথা মোড়ানোর দল। এত বাস্তবতার পরও এইচটি ইমাম ও হাসান মাহমুদরা কি করছেন ওটিই বাস্তবতা!

ভুলো মনা বাংলাদেশীদের স্মৃতিশক্তিকে আরো ধারালো রাখতে হবে। ভুললে চলবে কেন? মনে আছে নিশ্চয় খালেদা জিয়ার বোতল (মদ) আর এবার পাওয়া গেল পুলিশের বরাতে ফরহাদ মজহারের ঝুলানো ব্যাগ। আমি দুটি ছবি দেখেছি একটিতে বিশাল বাসে শুধু সাদা পোশাকে ফরহাদ মজহার বসে আছেন আর তাকে ঘিরে আছে ২/৩জনা, ঈদের ভয়ঙ্কর ভিড়ে সারা বাস খালি! আর ঝোলানো বেগ বললে সেটিও ছিল না ঝোলানো বেগ যা তিনি সচরাচর পড়ার জন্য ব্যবহার করতেন, হয়তো দু একটা বই নিতেন। এ বেগ ছিল অন্য রকমের বাচ্চাদের স্কুল ব্যাগের মতন। বেগ ও মদ বিষয়ে একজন সাংবাদিকের পাওয়াটুকু পাঠকদের সাথে শেয়ার করছি। প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই তিনবারের সম্মানিত বিরোধী নেত্রীকে চুটকি কাটেন তিনি তো বোতল খান। তিনি জানেন তার অঘটন ঘটন পটিয়সী চেলারা (নীচে সাংবাদিকের লেখাতেই ক্রিড়ারত) এটি প্রতিষ্ঠিত করবে তাকে শুধু ‘বোতল’ সূত্রটুকু উল্লেখ করলেই চলবে। আজ মজহার নাটকে সেটি বেশ খোলাসা হলো। তাই জাতির চোখ খুলে দিতে সেটিও জরুরী হুমওয়ার্কের অংশ হয়েই রইলো।

বলছি সংক্ষেপে “খালেদা জিয়ার বাসায় মদ! আর ফরহাদ মজহারের ব্যাগ!!!” এম মাহাবুবুর রহমান। জাস্ট নিউজ: ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বাসভবন থেকে টেনে হিচড়ে বের করা হয়েছিল। একজন সংবাদকর্মী হিসাবে আমি পুরো ঘটনা ফলো করেছিলাম। প্রতিবাদে পরদিন হরতাল ডাকে বিএনপি। আওয়ামী আজ্ঞাবহ ভিসি আরেফিন সিদ্দিক হরতালের মাঝেই পরীক্ষা নেন। ঐদিন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ঐ সাংবাদিকেরও এমফিল পরীক্ষা থাকায় তিনি অংশ নেন। ওটি ছিল তার চোখে দেখা প্রথম হরতাল ধর্মঘটে প্রথম পরীক্ষা। এর মাধ্যমে ছাত্রদলও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে শতভাগ নিয়নন্ত্রণ হারায়। পরীক্ষা শেষ করেই তিনি ছুটে যান ক্যান্টনমেন্টে বেগম খালেদা জিয়ার উচ্ছেদকৃত বাড়ীতে। জাহাঙ্গীরগেইট থেকেই এক সেনাকর্মকর্তা জানালেন আমার দেশ, এনটিভি, নয়াদিগন্ত, দিনকালের সাংবাদিকরা সকলে একপাশে দাঁড়ান, অন্যরা পৃথক সারিতে। ইত্যবসরে ঐ সাংবাদিক ওদিকের কোন দলে না ভিড়ে তিনি ক্যাম্পাসের বড়ভাই বোরহানুল হক স¤্রাটের  (এটিএননিউজ) এর গাড়ীতে গিয়ে উঠে বসেন। কিছুক্ষণ পর গাড়ী ছুটে মইনুল রোডের বাড়ির উদ্দেশ্যে, কিন্তু আমারদেশসহ ভিন্ন লাইনের সাংবাদিকদের ঐ গেইট থেকেই ফেরত যেতে হয়। অর্থাৎ তারা নিষিদ্ধ। এবার বাড়ীর গেইটে গিয়ে দ্বিতীয়বার আইডি চেক। তিনি তখন নিউজবিএনএন নামক একটি অনলাইনের সম্পাদনা করেন। সে পরিচয়েও তার অনুমতি মেলে নি। অতপর তিনি ইত্তেফাকের ক্রাইম রিপোর্টার আবুল খায়ের ভাইয়ের হস্তক্ষেপে বাড়ীতে প্রবেশ করেন। খালেদা জিয়ার বাড়ীতে ঢুকে ঐসব সাংবাদিক সহকর্মীদের সে কি উল্লাস!! এটিএননিউজ এর বোরহানুল হক স¤্রাট, আর নিউএজএর মুকতাদির রোমিও ছাড়া বাকী সবাই ছিলেন উল্লসিত। ভোরের কাগজের শ্যামল দত্ত আর এটিএন নিউজের জ. ই মামুনকে মনে হয়েছে তাদের ভাগ্যে লটারি লেগে গেছে। বিলিয়ন ডলারের লটারি! উচ্ছ্বসিত তারা!

খালেদা জিয়ার বেডরুমে গিয়ে দুই পা উপরে তুলে নাচার চেষ্টা শ্যামল দত্তের। ওদিকে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বার বার টয়লেট দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছিলেন। টয়লেটে রাখা ছোট্ট একটি ফ্রিজ খুলে ছবি নিতে বলেন জ. ই মামুনকে। ফ্রিজ খুললে দেখা যায় পাঁচ টাকা দামের তিনটি মিস্টি বিস্কুট। তিনি প্রশ্ন করেন, “খালেদা জিয়া এত রুচিহীন? এ বয়সে এতো মিস্টি ও কমদামী বিস্কুট খান তিনি?” সেনা কর্মকর্তা বলেন, “আরো ভালোভাবে দেখেন, অনেক কিছুই পাবেন।” তারা যখন কিছুই পাচ্ছিলেন না, তখন সে সেনা কর্মকর্তা নিজেই ফ্রিজ থেকে একটি বোতল হাতে নিলেন। মদের বোতল। বললেন, উনি (খালেদা জিয়া) মদও খান!! এরপরের উল্লাস কার কে দেখে! জ, ই মামুন (সাংবাদিক!!) ছবি তুলেন নানা অ্যাঙ্গেলে। এখানে সহকর্মী স¤্রাটের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এ সাংবাদিক। শ্যামল দত্তের ও জ, ই মামুনের দিকে তার ঘৃণার দৃষ্টি সাংবাদিক মাহাবুবুর রহমানকে কিছু সাহস যোগায়। তাই তিনি বলেন আপনারা এসব না করলেও পারতেন। এর জবাবে শ্যামল দত্ত বলেন, “আপনি কে? এসব প্রশ্ন করছেন কেন?” জবাবে তিনি বলেছিলেন “একজন সম্পাদক হয়ে আপনি এখানে এসেছেন কেন? উল্লাস করতে?” এর পরই আরেকজন সেনা কর্মকর্তা কর্ণেল ওয়ালি বেডরুম থেকে সাংবাদিকদের বের করে নিলেন। তারপর জাইমার রুম আর ফটো শ্যুটিং এসব চলছিল। বেশ পর বারান্দা দিয়ে এক বৃদ্ধ হেটে যান, তার কাছে মনে হচ্ছিল ইনি হয়তো খালেদা জিয়ার বাসায় কাজ করতেন। কিন্তু বৃদ্ধ জানালেন, না, তিনি স্যারের বাসাতে কাজ করেন। তার স্যার এ বেগটি পাঠিয়েছে কর্ণেল স্যারকে দিতে। কি আছে বেগে জানতে চাইলে তিনি বললেন ‘আমি জানি না, প্যাকেট করা। কর্ণেল স্যার ছাড়া খুলতে নিষেধ করেছেন। এই বলে বৃদ্ধ খালেদা জিয়ার বেড রুমের দিকেই গেলেন। কিছুক্ষণ পরে কর্ণেল ওয়ালি এসে আবার সাংবাদিকদের ডাকলেন। বললেন, আপনারা মনে হয় অনেক কিছুই মিস করেছেন। শুধু টিভি ক্যামেরাগুলো নিয়ে আসেন। আচরণ সন্দেহ হওয়াতে সাংবাদিক মাহাবুবুর ও রোমিও তাদের পিছু নেন। একজন মেজর কর্ণেল ফারুকের মেয়ের জামাই এসে খালেদা জিয়ার বেডের মেট্রেস তুলে ধরে পাশের ড্রয়ার খুলে দিলেন। বললেন, এগুলো ভালো করে দেখেন। এসব কি? মহিলার টেস্ট দেখেন!!! ওদিকে জ. ই. এামুন এগিয়ে গিয়ে কিছু পর্নো ম্যাগাজিন বের করলো। ক্যামেরাম্যানকে ছবি নিতে বললো। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। মাহাবুবুরের অবাক করা মগজ নড়লো। ওমনিতে বৃদ্ধের প্যাকেট ছিল তার মগজেই জমা। সেনা কর্মকর্তাকে বললেন, একটু আগে তো এসব ছিল না। আমরা তো বেডের নিচও দেখেছি। একটি চিঠিও তিনি পেয়েছিলেন বেডের নিচ থেকে। রোমিও তার কথাতে সায় দেন। এবার রেগে যান কর্নেল ওয়ালি, এবং কর্ণেল ফারুকের মেয়ের জামাই মেজরের উপর তাকে দেখার দায়িত্ব পড়ে। আর ওদিকে ফরহাদ মজহারের ব্যাগে পুলিশ আবিষ্কার করেছে ফোনের চার্জার, শার্ট এসব যদিও তিনি কখনোই শার্ট পরেন না। যখন বের হন তখন তার গায়ে পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরাই ছিল। এ সাংবাদিক লেখক ১৮টি পয়েন্ট জুড়ে দিয়েছেন কারণ তার কোন অংকই মিলছে না। প্রশ্নগুলি হচ্ছে (১) মাইক্রোবাসে গেলে বাসে কেন ফিরলেন? (২) মাইক্রোবাসটি কার? কে চালাচ্ছিল, এখন কোথায়? (৩) সন্ধ্যা পর্যন্ত তার চোখ কেন বাঁধা ছিল (যুগান্তর)? (৪) তাকে কেন ছদ্মনামে লুকিয়ে বাসে উঠিয়ে দেয়া হলো, মাইক্রোবাস কেন ফিরলো না? (৫) গ্রিল হাউজে কবে থেকে ভাত ডাল সব্জি বিক্রি হয়? (৬) তাকে র‌্যাব ক্যাম্পে নেয়া হয়েছিল কেন? (৭) কার ফোন তিনি পান? (৮) এক বস্ত্রে বের হওয়া কিভাবে ব্যাগসহ উদ্ধার হন? (৯) ৩৫ লাখের মুক্তিপণের ফোন নাম্বারটি কেন করানো হয়েছিল, নাম্বারটি কার? (১০) ভারতের মুসলিম নিধনের প্রতিবাদের পরপরই কেন এটা ঘটলো, কেন তাকে হরণ করা হলো? (১১) নিজেকে গুম দেখিয়ে উনার কি লাভ? (১২) অসুস্থ, বিভ্রান্ত ও নির্বাক দেখাচ্ছিল কেন তাকে? (১৩) অতীতের সব নিখোঁজেরা ফিরে এসে কেন চুপ হয়ে যান? (১৪) অতীতের সব গল্পই কি এক ছকে আঁকা? (১৫) রিজওয়ানা হাসানের স্বামীর অপহরণ ও উদ্ধারের সাথে এ ঘটনা একাকার হচ্ছে কি? (১৬) এখন তিনি কোথায়? এরপর কি তাকে আবার রিমান্ডে নেয়া হবে? (১৭) আসলে কি অন্য পক্ষ তাকে গুমচেষ্টা করেছিল আর সরকার নিগেশিয়াসন করে অ্যারেস্ট করলো? (১৮) না কি ভারতীয় প্রেসক্রিপশন এমনই ছিল। গুম নাটক অতপর গ্রেফতার!! সবাই জীবিত ফেরতের প্রত্যাশায় থাকতে থাকতে তিনি কারাবাসে চলে যাবেন!!!! (এ সাংবাদিক লেখক: রয়টার্সের লন্ডন অফিসে কর্মরত; ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, দ্যা গার্ডিয়ান)।

উল্লেখ্য, গত জুলাই এর ২ তারিখে ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে আমারদেশ পত্রিকার সম্পাদক ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ভারতে গোরক্ষা আন্দোলনের নামে মুসলিম হত্যার প্রতিবাদ করেন (শীর্ষ নিউজ)। একজন মানবাধিকার কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও একজন বিবেকমান মানুষ হিসাবে ভারতে সমানেই সংখ্যালঘুর উপর হামলা হয়। এ নিয়ে আমাদের সুশীল সমাজের কারো মুখেই কোন কথা নেই। আবার আমরা জানি কথায় কথায় তথাগত রায়রা বাংলাদেশের এত সম্প্রীতি থাকার পরও এদেশে মাতবরী করতে আসতে দেখা যায়, আমাদের সংখ্যালঘুরাও দৌড় দিয়ে মামার বাড়ীতে আবদার রাখতে যায়। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ ঐ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফরহাদ মজহারও। ফরহাদ মজহার বলেন, যে কোন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতের এ কর্ম মানবতা বিরোধী। মাহমুদুর রহমান বলেন ১/১১এর ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। গতকাল অর্থাৎ শনিবার রাত থেকে মাহমুদুর রহমানের বাসার সামনে পুলিশ অবস্থান করছে। তাই সকালে তিনি নির্দিষ্ট সময়ে বের হতে ব্যর্থ হন। মাহমুদুর রহমানের বক্তব্য থেকে জানা যায় তাকে বের হতে সংবাদ সম্মেলনে যেতে ‘উপর মহলের নিষেধাজ্ঞা আছে’ বলে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে বাধা দেয়। পরে দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাক্ষাৎ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় এবং বাসা থেকে তাকে বের হতে দেয় পুলিশ। তাই পুলিশের এসব তৎপরতাও হুমওয়ার্কের আওতায় আনা দরকার। এসব ফেলনা তথ্য নয়। এবার সরাসরি মাহমুদুর রহমানকে না ধরে তার পাশে বসা লোকটির উপর পুলিশ মনে হয় হামলে পড়ে। অবশ্যই এটি উপর মহলের নির্দেশে নয় বলার সুযোগ কি আর থাকে? সম্প্রতি ভারতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে গো রক্ষার বিরুদ্ধে বলছেন মোদি কিন্তু তিনি নিজেই ঐ নাটকের মূল চালিকাশক্তি। তার এ লোকদেখানো বক্তব্যের পর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সেটি পূর্বেকার ভিডিও দিয়ে প্রমাণ করে দেখায়। এসব মুসলিম নিধন নাটক ছিল মোদির ভোট ব্যাংক বাড়ানোর কসরত। ভারতের মানুষ বেশীর ভাগই সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণ মানুষ, না হলে মোদি বিজয় লাভ করতেন না। ভারত যে সংকীর্ণ গন্ডিতে বাধা এক জাতি, সেটি তাদের আচরণেই স্পষ্ট। গুজরাট, আহমেদাবাদ, এসব উদাহরণ সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। গরুর জন্য দেশ হলেও মুসলিমের জন্য মরণ। দশ হাজার টাকায় ফরহাদ মজহার মুক্ত (পূর্বপশ্চিমবিডি সূত্র)। কে তাকে ফোন করলো তারানা হালিম কি জবাব দিবেন? সিম রেজিষ্ট্রেশন করার অনেক গালগল্প শুনেছি, তারপরও কেন সিসেম ফাঁক হয় না, সত্য ঢাকা থাকে, এতদিনপরও প্রকাশ পায় না। ভারতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে পাকিস্তানের জয়ে উল্লাস করায় ১৫ মুসলিম গ্রেফতার। কাশ্মীর ভারতের থাবার মুখে মুমূর্ষু সময় পার করছে। জবরদস্তি করে কি ভালোবাসা আদায় করা যায়? বিগত শতাব্দীতে চলে যাওয়া আশায় ভরা এক সশ্রদ্ধ জনের বিখ্যাত উক্তিটি স্মরণ করেই লেখাটির ইতি টানবো।

“ইদানিং ভারতের কিছু সংখ্যক মুসলিম বিদ্বেষী জ্বিন দৈত্য ও দানবদের মনে এক দানবীয় আকাঙ্খার উদ্রেক হয়েছে। ওরা চাইছে, বাবরী মসজিদসহ ভারতের অসংখ্য মসজিদ ভেঙ্গে ঐ সব স্থানে মন্দির গড়ে তুলতে। আমি মনে করি, তা কোনদিনও সম্ভব হবেনা। কেননা, আল্লাহ-পাক দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন যে, তিনি তা কোনদিনও হতে দিবেন না। পরন্তু তিনি ইসলামকে (তার সত্য সাম্য ন্যায় ও বিজ্ঞান ভিত্তিক অবস্থার কারণে সর্বধর্মের উপরে প্রতিষ্ঠিত করবেন অচিরেই) (কুরআনের ৬১ সুরার ৮ এবং ৯ নম্বর আয়াত দ্রষ্টব্য)। বর্তমান বিশ্বের কয়েক শ কোটি শোষিত মানুষের মত আমিও দুঃখ পাই যখন শুনি যে, অযোধ্যার বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে রামচন্দ্রের স্মৃতিতে মন্দির গড়ার নামে ভারতের বিভিন্ন স্থানে সহস্রাধিক মুসলমানকে ইতিমধ্যে প্রাণে বধ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। অথচ মূল প্রশ্নতো ওটা ছিল না। কার্যত, ওখানে মসজিদের স্থানে মসজিদ টিকে থাকবে, নাকি মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির গড়ে উঠবে, আসল প্রশ্ন তাও নয়। বরং প্রশ্ন হচ্ছে ওখানে, অর্থাৎ এই ভারত বর্ষে পূজা পাবেন কে? বিশ্ব স্রষ্টা নিজে, না তার সৃজিত মানুষ এবং মানুষের সৃজিত প্রতীক এবং প্রতিমা? এবং ধর্মের নামে মানুষ জানবে কাকে, সত্যকে না কুসংস্কারকে? এ দুটো প্রশ্নের জবাব খুজে পায় নি ভারতবর্ষের মানুষ গত এক হাজার বছরের এত খুন, জখম, সংঘাত ও সংঘর্ষের পরেও। তাই আশা করা যায় যে, এই দুটি প্রশ্নের সঠিক জবাব শুধু এই উপমহাদেশের মানুষেরাই নয়, বরং গোটা বিশ্বের মানুষ আগামী এক দশকের মাঝেই পেয়ে যাবে। এবং খুব সম্ভবত, অনাগত এই সুদিনের খবর জানতেন বলেই বিশ্ব নবী (সঃ) নাকি প্রায়ই বলতেন যে, তিনি হিন্দের দিক থেকে খুসবু তথা সুগন্ধির সুবাস অনুভব করছেন (সেতুবন্ধন ডাঃ এম এ শুকুর, পৃষ্ঠা ১৬০-১৬১, আগষ্ট ১৯৯২)।”

 

নাজমা মোস্তফা,  জুলাই ৭ তারিখ ২০১৭।

নাজমা মোস্তফা

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত “আমাদের সময়” নভেম্বরের ২৮ তারিখ ২০১৭তে একটি কলাম ছাপে তার শিরোনাম “সরকারের ভিত কাঁপে এক খুনে”। শিরোনামটি দেখে পরম উৎসাহে লেখাটি গড় গড় করে পড়ে নেই। লেখাটি পড়ে মনে হলো একটি কলাম লেখা জরুরী। যারা অন্ধকারে পড়ে থেকে এসব কলাম লিখছেন তাদের অবগতির জন্য এ লেখা বেশী দরকারী। তাদের হাত দিয়ে মিথ্যাচার কিভাবে মিডিয়ার রসদ হচ্ছে, এসব তার উত্তম উদাহরণ। এরা অনেকে অত্যাচারী সরকারকে খুশী করতে এসব প্রকৃত খবর এড়িয়ে আংশিক সংবাদ পরিবেশন করেন।

ঘটনাটি যদি একটি দুর্ঘটনা হয়ে থাকে তবে বছরে এরকম হাজারটা দুর্ঘটনা দেশে ঘটে চলেছে। সরকারের নিজ মদদে বরং শত নয় হাজার হাজার মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে, গুম খুন হচ্ছে। সরকার হাসিনা এর পক্ষে সাফাই গাইছেন, যুক্তি দেখাচ্ছেন সব দেশেই এসব হয়। বিডিআর বিদ্রোহে একসাথে প্রায় ৫ ডজন মেধাবীকে খুন করে শক্তির তলানীতে কিন্তু দেশে কোন ষড়যন্ত্রী পক্ষের আন্দোলনকারী নেই বলেই ওদের ধ্বস নামে নি। দেশে আন্দোলনকারী আছে কিন্তু ষড়যন্ত্রী পক্ষ হয়ে মিথ্যাচারের রটনাবাজ হাসিনা ছাড়া আর কেউ নেই বলেই মনে হয়। ওরা আজও বুক চেতিয়ে গলাবাজি করছে, আর মিডিয়া তার সমর্থনে তালিয়া না বাজালে উপায় নেই, বাতিলের খাতায় ছুড়ে দেয়া হবে। আমাদের সময়ের কলাম “ধানমন্ডি ১ নম্বর সড়কের ১৩ নম্বর বাসার এক পরিবারে মেয়েটি গৃহপরিচারিকার কাজ করত। আবুল আহসান আহমদ আলীর গ্রামের বাড়ীও দিনাজপুর। টানা তিন বছরে একবারও দিনাজপুরে মায়ের কাছে আসা হয়নি ইয়াসমিনের। তাই বাড়িতে আসার জন্য বিশেষ করে মাকে দেখার জন্য ভীষণ উতলা ছিল সে। গৃহস্বামী তাকে দুর্গাপূজার ছুটিতে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু বাড়ি যাওয়ার জন্য উতলা ইয়াসমিন সেই বাক্যে স্বান্তনা পায়নি। এ কারণে ১৯৯৫ সালের ২৩ আগষ্ট ঐ পরিবারের ছেলেকে স্কুলে পৌছে দিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে একাই দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যায় ইয়াসমিন। সে উঠে পড়ে দিনাজপুর-ঠাকুরগাওগামী নৈশ কোচ হাছনা এন্টারপ্রাইজে। ২৪ আগষ্ট ইয়াসমিন রাত ৩টার দিকে দিনাজপুরের দশমাইল মোড়ে নামে। কোচের সুপারভাইজার দশমাইল মোড়ের পান দোকানদার জাবেদ আলী, ওসমান গনি, রহিমসহ স্থানীয়দের কাছে কিশোরী ইয়াসমিনকে দিয়ে সকাল হলে মেয়েটিকে দিনাজপুর শহরগামী যে কোন গাড়িতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু এর কিছুক্ষণের মধ্যে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার টহল পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান সেখানে আসে। তারা মেয়েটিকে তার মায়ের কাছে পৌছে দেয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। দশমাইলে একটি আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিশোরীকে নিয়ে যায় তারা। পরে ধর্ষণ ও হত্যা করে। পরদিন সকালে ইয়াসমিনের লাশ পাওয়া যায় দিনাজপুর-দশমাইল মহাসড়কে রানীগঞ্জ ব্রাক অফিসের সামনে। ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, পুলিশ হেফাজতে ধর্ষণ শেষে খুন হয় ইয়াসমিন। —- এখানে উল্লেখযোগ্য যে, উত্তর গোবিন্দপুর এলাকায় পড়ে থাকা ইয়াসমিনের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির উদ্দেশ্যে কোতায়ালি থানার এসআই স্বপন কুমার প্রকাশ্যে জনতার সামনেই লাশ উলঙ্গ করে ফেলেন, যা উৎসুক জনতার মাঝে ক্ষোভ সঞ্চার করে। এ নিয়ে দিনাজপুরে বিক্ষোভ মিছিল হয়”। এ লেখাটিতে দেখানো হয় এ ঘটনার পর ঐ সময় বিএনপি সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দেয় জনতারা। আমরা জানি জনতারা বিডিআর বিদ্রোহের শত বেদনা নিয়েও দম ছাড়ছে আর ষড়যন্ত্রী পক্ষ দম্ভোক্তি প্রকাশ করে চলেছে। ছলবাজি বিচারের নামে প্রহসন করে চলেছে। নির্দোষকে মেরে সাফ করেছে করছে আর প্রকৃত আসামীকে খালাস দিচ্ছে।

এবার আমি একজন প্রত্যক্ষদর্শীর নিজ চোখে পরখ করা বক্তব্য ও কলাম থেকে এর উপর কটি কথা যোগ করছি। কিভাবে আলখাল্লার ভিতর ইবলিস লুকিয়ে থাকে সেটি আল্লাহ পবিত্র গ্রন্থে বারে বারে স্পষ্ট করে তার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মানুষরা চোখ থাকতেও অন্ধের ভূমিকায় আছে। আল্লাহ বলেন প্রকৃত মানুষ তার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব, তাই বলে সব নয়। এরা অনেকে পশুরও অধম, হীন থেকে হীনতর এরা। গবেষণার চোখে সুক্ষ্ম দৃষ্টির অভাবে অনেক অনাচার ধরতে পারে না। তবে এটি ঠিক বিধাতার দৃষ্টি থেকে এসব কপটরা কখনোই বাঁচতে পারবে না। আল্লাহ এমন একটি অদেখা সত্তা যাকে আমরা দেখি না সত্য, কিন্তু তিনি সর্বক্ষণ আমাদের পরখ করছেন। সুতরাং অপরাধ করে নিস্তার পেয়ে যাবার সুযোগটা সাময়িক। যারা এই শক্তিমান সত্ত্বাকে প্রকৃত অর্থে বিশ^াস করে না, তারাই গোটা বিশ^ সমাজ জুড়ে এরকম অনাচার কাজ করেছে করছে সামনে আরো করবে। উপরের পুলিশেরা যেভাবে একটি লাশ ফেলে ঠিক একইভাবে শত শত লাশ পড়ছে বাংলাদেশে এদের কল্যাণে। এখানের এরা সবাই ইবলিসের দোসর। মানুষের সরল চোখে তা ধরা পড়ে নাই যদিও এসব চলে তখনকার বিরোধী শক্তির অতিশয় ধুরন্ধর নেতৃত্বের আঁচলের তলানীতে, যার নেতৃত্বে শেখ হাসিনা। এরা সময়ে সময়ে প্রতারণার জন্য মদিনার সনদ, তসবিহ, নামাজ, তাহাজ্জুদ এসব ব্যবহার করে শুধু মাত্র ক্ষমতায় যাবার গুটি হিসাবে। এরা সম্ভবত আল্লাহকে চিনেও না, তার পরোয়াও করে না।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত একজনের গ্রন্থ থেকে নেয়া শিরোনাম “জনতাকে শান্ত থাকার বকতৃতা: ১৯৯৫ সালের ২৪ আগষ্ট দিনাজপুরের মানুষ পুলিশের বিরুদ্ধে মিটিং মিছিল শুরু করলে শেখ হাসিনা দিনাজপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আব্দুর রহিমসহ কয়জন জেলা নেতাকে জরুরী তলব করে ঢাকায় ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু ভবনের লাইব্রেরী রুমে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিকেল পাঁচটাতে। তার পরামর্শ ছিল এই বিক্ষোভকে আন্দোলনে রুপ দিতে হবে। নির্দলীয় খোলসে রেখে তখনকার খলেদা সরকারের পতন ঘটাতে হবে। এখন ঢাকার দিকে নয়, দিনাজপুর থেকে ঢাকায় আসতে হবে। প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ করতে হবে। লাশের পর লাশ ফেলতে হবে। পুলিশের লাশও ফেলতে হবে। ঐ পুলিশের মাঝেই লোক আছে, যাদের টাকা পয়সা দিলে গুলি করে মানুষ মেরে ফেলার স্তুপ লাগিয়ে দিবে। পুলিশের সাথেও কন্ট্রাক্ট করবেন, টাকা পয়সা দেবেন। মনে রাখবেন, একমাত্র এই পথে ক্ষমতার মুখ দেখতে পারবেন। নইলে জীবনেও আর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিতে পারবেন না। ইয়াসমীন মরে সুযোগ করে দিছে, একে কাজে লাগান নির্দলীয় ব্যানারে। লীগের নাম মুখেও আনবেন না। ফাল দিয়ে কেউ মঞ্চে যাবেন না। সব করবেন পিছন থেকে। মুখ খুলবেন না, কথা বললে দুনিয়ার ভাল ভাল কথা বলবেন। কাজে যাই করেন, শুধু মুখে ভাল কথা। লঙ্কাকান্ড বাধাতে পারলে আমিও দিনাজপুর আসবো। ওখানে আপনাদের সাথে আমার কোন কথা হবে না। আমি শুধু বকতৃতায় বলে আসবো ধৈর্য্য ধরুন, শান্ত থাকুন, এসব। কিন্তু আপনারা কাজের কাজ পুরোপুরি চালিয়ে যাবেন। এখন ২০ লাখ টাকা নিয়ে যান। বাকী যা লাগে ওখানেই পৌছে দেব। আমি শুধু কাজ (লাশ) চাই। টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের গাড়ী না থাকলে আমি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেব” (মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেনটু “আমার ফাঁসি চাই” পৃষ্ঠা ৮১/৮২)।

৮১ সালের ১৭ই মে থেকে ৯৭সাল এই ১৬ বছর লেখক শেখ হাসিনার রাজনীতির নেপথ্যের অনেক কাহিনী বইটিতে প্রকাশ করেন। তিনি ছিলেন শেখ হাসিনার অলিখিত কনসালটেন্ট। তার স্ত্রী ৮৮ থেকে ৯৭ পর্যন্ত ৯ বছর হাসিনার অবৈতনিক হাউজ সেক্রেটারী ছিলেন। বইটিতে তিনি শেখ মুজিবেরও বিচার চান। তার যুক্তিতে নামকরণে প্রমাণ তিনি তার নিজের ফাঁসি চান, এ যুক্তিতে যে এত অপরাধ দেখেও তিনি অসহায়ভাবে নিরব ভূমিকায় ছিলেন। আজো সারা দেশের আওয়ামী লীগের অপকর্মীরা জানে কত অপরাধী তারা কিন্তু তারা নিরব। এরকম অবস্থাতে একজন মানুষের ঈমানের উপর সন্দেহ আসতেই পারে। ঈমান মানে আর কিছু না, আল্লাহতে বিশ^াস। এরকম কাজ করলে আর মানুষের ঈমান থাকার কথা নয়। হাসিনা সরকারের সময়ই এ বইটি প্রচার প্রকাশ করেন রেনটু তার বুকের পাটা বহাল রেখে। আর ধারণা হয় বইটির কপি বাজার থেকে ধ্বংস করা হয় এবং পরে বাতিলও করা হয়। এই সুবাদে দু একজনা ভাগ্যবানের কাছে এর কপিটি হাতে এসে পড়ে, আমিও তার একজন।

বইটির ১৩৭ পৃষ্ঠায় আর একটি কলাম ছিল “আমার, শেখ মুজিবের ও শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই”, তিনি এখানে তার নিজ সহ বাকী দুই জনেরও ফাঁসি চান। নীচে এ তিনজন অপরাধীর অপরাধের কারণ বর্ণিত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইংল্যান্ডের ক্রমওয়েল ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেই স্বৈরাচার হয়েছিলেন, তার বিচার হয় তার মৃত্যুর পরে। কবর থেকে তার হাড়গোড় তোলে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়েছিল, একেই বলে আইনের শাসন। তার যুক্তিতে শেখ মুজিবের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস হয়। এখানে তিনি তিনজনের ফাঁসি দাবী করেন। প্রথমে তার নিজের। যুক্তিগুলো হচ্ছে শেখ মুজিব হত্যার প্রতিবাদে যুদ্ধ করে দেশের যে ক্ষতি করেছি সে অপরাধে তিনি তার নিজের বিচার চান। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা জেনেও তা প্রকাশ না করায় এবং হত্যাকারীদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে তিনি তার নিজের ফাঁসি চান। ১৯৯২ সালে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন পন্ড করার জন্য শেখ হাসিনার পরিকল্পনা ও নির্দেশে হিন্দু মুসলিম রায়ট লাগিয়ে যে অপরাধ করেছি তার জন্য তার নিজের ফাঁসি চান। ৯২ থেকে ৯৬ পর্যন্ত আন্দোলনের নামে ঢাকা শহরের শেখ হাসিনার নীল নকশা ও নির্দেশে যে ১০৩ জন লোক নিহত হয় এই অজ্ঞাতনামা ১০৩ জন মানুষ হত্যার দায়ে তিনি তার নিজের ফাঁসি চান। (ঐ গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৩৮)।

লেখকের দৃষ্টিতে ফাঁসির আসামী হিসাবে (১) সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ঘোষণা না করায় ত্রিশ লক্ষ মানুষ নিহত হয়, ২ লক্ষ মা বোন ধর্ষিত হয়। এর জন্য শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসি চান। (২) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার অভিযোগে শেখ মুজিবের মরণোত্তর বিচার ও শাস্তি চান। (৩) যে মুক্তিযোদ্ধারা শেখ মুজিবকে স্বাধীন দেশে ফিরিয়ে আনেন। স্বাধীনতার পর ভারতে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা না এনে রাজাকার আলবদরদেরসহ ভুয়া ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেয়ার অভিযোগে তার মরণোত্তর বিচার ও শাস্তি চান। (৪) ক্ষমা না চাইতেই স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার, আলবদরদের ঢালাওভাবে ক্ষমা করার অপরাধে তার শাস্তি চান। (৫)বিপ্লবী নেতা সিরাজ সিকদারকে বন্দী অবস্থায় বিনা বিচারে গুলি করে হত্যার অপরাধে তার ফাঁসি চান। সিরাজ সিকদারকে খুন করে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে দম্ভোক্তির জন্য তার মরণোত্তর শাস্তি চান। (৭) জনতার ভোটের অধিকার, মিছিল করার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণসহ সংবিধানের মৌলিক অধিকার হরণ করে জাতির উপর একদলীয় (বাকশাল) শাসন শোষণ চাপিয়ে দেয়ার অপরাধে শেখ মুজিবের মরণোত্তর বিচার ও শাস্তি চান (ঐ গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৩৯)।

অতপর লেখক “ক থেকে চ” পর্যন্ত ছয়টি নম্বরযুক্ত শক্ত যুক্তি দ্বারা শেখ হাসিনার ফাঁসি চান

(ক) ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে এসে সন্ত্রাসী, চোরাকারবারী, কালোবাজারী, ঘুষখোরদের রাজনীতির চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছে এবং রাজনীতি থেকে সকল প্রকার নীতি আদর্শ ঝেটিয়ে বিদায় করে প্রতিষ্ঠিত করেছে নীতিহীন রাজনীতি। এই অপরাধে শেখ হাসিনার বিচার চান, শাস্তি চান।

(খ) ভারতে বসে জিয়া-উর রহমান হত্যায় ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করে ৮১ সালের ৩০ শে মে তা বাস্তবায়িত করায় হাসিনার ফাঁসি চান

(গ) ৮২ সালে নির্বাচিত বিএনপি সরকার উৎখাত করে সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অপরাধে শেখ হাসিনার বিচার ও শাস্তি চান

(ঘ) সামরিক স্বৈরাচার এরশাদকে হাতের মুঠোয় রাখার জন্য ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা, ছাত্র আন্দোলনের নামে ৮৩এর মধ্য ফেব্রুয়ারী বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র জাফর ও জয়নাল এবং ৮৪এর ফেব্রুয়ারীতে সেলিম ও দেলোয়ার হত্যার অপরাধে শেখ হাসিনার ফাঁসি চান।(ঐ গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৩৯/১৪০)।

(ঙ) ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন পন্ড করার জন্য হিন্দু মুসলমান সাম্প্রদায়িক রায়ট লাগিয়ে দেয়ার অপরাধে শেখ হাসিনার বিচার ও শাস্তি চান

(চ) ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত আন্দোলনের ইস্যু তৈরী করার জন্য ঢাকা শহরে ১০৩ জন নিরীহ অজ্ঞাতনামা সাধারণ মানুষকে খুন করার অপরাধে শেখ হাসিনার ফাঁসি চান।

আমার লেখাটির শিরোনাম “আলখাল্লার ভিতরে ইবলিসের বসবাস”, কেন আওয়ামী লীগের অনুসারীরা অতিরিক্ত নীতিবিবর্জীত। এর প্রধান কারণ তাদের নেতৃত্বের চরম সংকট। যারা তাদের চালায় তাদের উৎসাহেই এরা বিপথগামী দল। আদর্শহীন নেতৃত্ব কোনদিনও মানুষকে সুপথ দেখাতে পারে না। মানুষ যখন নষ্ট পথে হাটে, বুঝতে হবে সেটি ইবলিসের পথ। “তিনি জানেন চোখগুলোর চুপিসারে চাওয়া আর যা বুকগুলো লুকিয়ে রাখে” (সুরা আল-মুমিনএর ১৯ আয়াত)। “স্মরণ রেখো, দুইজন গ্রহণকারী গ্রহণ করে চলেছেন ডাইনে ও বাঁয়ে” (সুরা ক্বাফএর ১৭ আয়াত)।  কুরআনে এটি বারে বারে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এরা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। তাদের চলন বলন দেখেই তাদের চিনে নিতে হবে তার অনুসারীদের, কে ইনসান আর কে ইবলিস। “নিশ্চয়ই আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি শ্রেষ্ঠ সুন্দর আকৃতিতে। তারপর আমরা তাকে পরিণত করি হীনদের মধ্যে হীনতমে” (সুরা তীনের ৪/৫ আয়াত)। “শয়তানের সাঙ্গোপাঙ্গদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। নিঃসন্দেহ শয়তানের চক্রান্ত চির দুর্বল” (সুরা নিসার ৭৬ আয়াত)। “তোমাদের আমি বলেছিই যে শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু” (সুরা আল-আরাফ-এর ২২ আয়াত)। উপরের আয়াতগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়লেই চিহ্নিত ইবলিসকে জেনে যাবেন। তাদের মুখের ভালো ভালো কথা আর অন্তরের বিভৎস অধ্যায়ের খবর বিশ^প্রভু অদেখা বিধাতার কাছে জমা আছেই। অনলাইনে “আমার ফাঁসি চাই” কথাটি ইংরেজীতে লিখে সার্চ দিলেই আপনারা হাতের কাছে বইটি পেয়ে যাবেন, পড়তে পারেন এবং সত্য মিথ্যা পরখ করেন। আর প্রতিটি বাংলাদেশীর জন্য এ বইটি পড়া মনে হয় ফরজ হয়ে পড়েছে। নিজেকে দেশকে বাংলাদেশকে চিনতে হলে এটি অবশ্যই ছত্রে ছত্রে পড়তে হবে আপনাকে, অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোক।

কলামটি লেখার তারিখ- ২৮ নভেম্বর ২০১৭ সাল।

মীরজাফর নামটি তার অতীত কর্মকান্ডে জনমনে একটি কলঙ্কের নাম। কিন্তু এর চেয়ে বড় বড় কলঙ্কিত মীরজাফরেরাও নিশ্চিন্তে সংগোপনে লুকিয়ে আছেন খোলসের ভিতরে, তা স্পষ্ট হওয়াও ইতিহাসের বড় দায়। গবেষণালব্ধ ইতিহাস বলে মুসলিমরা সব সময়ই অতি অসাম্প্রদায়িক, এর বড় কারণ এটি তাদের ধর্মের স্পষ্ট নির্দেশনা। যার প্রেক্ষিতে তারা সব সময়ই মীরজাফরকে আসামী ধরে ধিক্কার দিয়েছে কিন্তু বাকীদের ব্যাপারে এতই নির্লিপ্ত থেকেছে যে, এতেও প্রকৃত সত্যের সাথে অনেক অবিচার করা হয়েছে। যার জন্য ধূর্ত অপরাধী শক্তি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেছে সেদিন থেকে আজ অবদি। গবেষণার প্রকৃত ইতিহাস বলে মীরজাফর কিছুটা চক্রান্তকারী হলেও পরমাত্মীয় সিরাজ বিরোধী ও দেশ বিরোধী চক্রান্তে জড়াতে চান নি। এমন কি ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় এ দায় বহাল রাখতে কুরআনের শপথও নিষ্ক্রিয় হয়েছে। চারপাশ থেকে কপট জোটবদ্ধ হিন্দুরা লোভের টোপ ফেলে তাকে ষড়যন্ত্রীদের দলে ভিড়ায়। মীরজাফর যখন এসব চক্রান্তে জড়াতে চাননি তখন উমিচাঁদের জবাব ছিল, আমরা তো সিরাজকে মারছি না। নিজেরাও নবাবী নিচ্ছি না। সিংহাসনে আপনাকেই বসাবো। কারণ আপনাকে ইংরেজসহ আমরা ও বাকী মুসলিম অমুসলিম সবাই শ্রদ্ধার চোখে (?) দেখে। এভাবে অতি লোভের টোপ পেয়ে মীরজাফর উমিচাঁদের বিলি করা জীবনধ্বংসকারী টোপটি গেলেন। এটি সত্য তার ঈমানের গলতি ছিল বলেই তিনি এমন টোপ গিলতে পারলেন। আজও যারা ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে জাতির সর্বনাশ করছে, এরা সবাই ঐ এক গোষ্ঠী দলের অন্তর্ভূক্ত। এরা মুমিন তো নয়ই, মুসলিমও নয়, এরা মোনাফিক। প্রতিটি জনতার এদের সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার। মানুষের মাঝে এরা তিন গোষ্ঠী আর চতুর্থ আর এক দলের নাম হচ্ছে মুশরিক। যারা আল্লাহর সাথে শিরক করে, অমুসলিমরা তো করেই, এমন কি মুসলিম হয়েও করে। এখানের সবচেয়ে উত্তম দল হচ্ছে মুমিন দল, এরা এক্সেলেন্ট পাওয়া দলের সদস্য।

প্রসঙ্গ একজন রাগীব আলী: প্রধান রিচারপতি সিনহা বাবু প্রায়ই দু চারটে কথা বলে চমক আনতে চান। যেমন ৪০ ভাগ কাজ হয় আর ৬০ ভাগ পকেটে ঢুকে যখন তিনি এটি বলছেন তখন জনগণ সন্দেহ করছে ৯০ ভাগই পকেটে ঢুকছে, না হলে এক মাইল রাস্তা খরচ হতে অন্যদের থেকে দশগুণ বেশী খরচ হয় কেন? দেখা যায়, সরকারী হিসাবে একটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের দাম হয় লাখ টাকা! এসব হচ্ছে ভাবমূর্তির লুটপাট বানিজ্য! সারা দেশে এত সব ভয়ঙ্কর অবস্থা চলছে, সে সব বিষয়ে বাংলাদেশ যেনো বোবার ভনিতা করছে। কেন এমন নীরবতা, কারণ মুখ খুলবে যে, তার ময়দানের অধিকার বাতিল হবে, হবে গুম নয়তো খুন। যে বা যারাই দেখছেন অনেক গুণিজনই বলছেন যে সাঈদী নির্দোষ থাকার সার্বিক প্রমাণ থাকার পরও কেন রায় উল্টোমুখি হয় স্কাইপি আদলে। কেন আসামীপক্ষ আইনজীবির জলজ্যান্ত যুক্তি ধোপে টেকে না? বিচারের নামে কেন এসব স্বজ্জ¦নদেরে ভাবিত করে না, বুঝি না। এতদ প্রসঙ্গে সিলেটের একজন রাগীব আলীর মানবিক অনেক কর্মকান্ডের অনেক রেকর্ড বর্তমান থাকার পরও তার বিচার বড় সহজে হয়। মনে হয় সরকারী কোন তকমা তার দলিলে নেই। তিনি বড় বড় ব্যাংক জালিয়াতি লুটপাটের রিজার্ভ চোর নন, শেয়ার চোরও নন, বলা হচ্ছে বিচারে কিছু ত্রুটি তার পেয়েছে। রিজার্ভ চোরদের, শেয়ার চোরদের শুধুই ছাড়, গুম হত্যাকারীরা নিষ্পাপ হয়, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। শুধু রাগিব আলী এলাকায় মানবতার সেবায় বিস্তর কর্মকান্ড করার পরও জেলের আসামী, ১৪ বছরের জেল। এই বিচার স্থানীয় অস্থানীয় অনেক মানুষের মনে নানান প্রশ্নের জমা বাড়িয়েছে, বিশেষ করে আঞ্চলিক ময়দানে সচেতন মানুষের মন ও মননে।

সিলেটের তারাপুর চা বাগান নিয়ে বেশ জটিলতা ছিল। সেখানে ৩ হাজার পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করা হবে বা হয় কারণ তাদের দোষ এরা রাগীব আলী নামে একজনের কাছ থেকে জায়গা জমি কিনেছিল। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা প্রশাসনের এই এক চোখা নীতি অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন কারণ রাগীব আলী কোন জমি বেআইনী দখল করেন নাই বরং তিনি পঙ্কজ কুমার গুপ্তের কাছ থেকে ঐ জমি কিনেছেন। পঙ্কজের পূর্ব পুরুষ কেউ একজন এ জমি কিনেছিলেন বৃটিশ ব্যবসায়ী সি কে হার্ডসন থেকে। এই সি কে হার্ডসন নামের ব্যক্তিটি হচ্ছে বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর পক্ষের একজন বৃটিশ। এই বেনিয়ারা সে সময় ব্যবসার নামে এ দেশ দখল করে রাখে। এটি তখন ছিল আসাম অঞ্চল। উইকিলিক্সে দেখা যায় ঐ সময় সব জায়গার মালিকই ছিল মুসলিমরা। কিন্তু কোম্পানী অশেষ নির্যাতনে কালে রাজ্যহারা মুসলিমদের সম্পদের দখলদারী নেয়। পরবর্তীতে দেশ ত্যাগের হিড়িকের সময় সেটি বৃটিশরা বিক্রি করে দেয় পঙ্কজ কুমারের পূর্ব পুরুষের কাছে। তারাপুরের জমি রাগিব আলী বিক্রি করে আসামী হলে পঙ্কজ কেন ঐ জমি ক্রয় করে আসামী হচ্ছেন না? এসব কথা যুক্তি অনেক ফেসবুকেও আলোচিত হচ্ছে। অতপর দেখা যায় এটি মন্দিরের জন্য দান করা হয়। এতে মূল বিষয় কি দাড়াচ্ছে মুসলিমদের থেকে জোর করে সম্পদ কুক্ষিগত করে সেটি মন্দিরে দিলে সেটি কি সঠিক হয়? এটি গেল রাগিব আলীর জটিলতার এক দিক।

সিলেটের ইতিহাস: উইকিলিক্সএর বরাতে পাওয়া যায় এ অঞ্চলে আর্য যুগ, মুসলিম যুগ, মোগল আমল, বৃটিশ আমল, অতপর পাকিস্তান মুুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ। সিলেট ছিল মূলত আসামের অংশ এখনো তার এক অংশ ভারতের আসাম রাজ্যের অঙ্গীভূত হয়ে আছে। এই যে ধারাবাহিক পর্যায়গুলি এসবে জবর দখল ও জবরদস্তি কাজ করেছে বহুভাবে। ইসলামপূর্ব সময় থেকে চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতকে গুপ্তবংশ, অতপর শশাঙ্ক নামে একজন স্বল্প সময়ের জন্য শেষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পাল রাজবংশ এতদঅঞ্চল শাসন করে। দ্বাদশ শতাব্দীতে সুফি সাধক ত্যাগী মুসলিমদের মারফতে এ অঞ্চলে ইসলাম আসে। সামরিক অভিযান ও যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে শত শত বছরের নির্যাতীত মানুষ ব্যতিক্রমী বিশ^ধর্মের মহতি সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে একে সাদর অভ্যর্থণা জানায়। ১২০৫-১২০৬ খৃষ্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজীর মাধ্যমে রাজা লক্ষণসেনের পলায়নের মাধ্যমে সেন রাজবংশের পতন ঘটে। ষোড়শ শতকে মোগল যুগের আগ পর্যন্ত এ অঞ্চল সুলতান ও ভূস্বামীদের হাতে শাসিত হয়। মোগল যুগেই বাদশাহ জাহাঙ্গিরের নামানুসারে ঢাকার রাজধানীর নাম রাখা হয় জাহাঙ্গিরনগর। ইউরোপীয় বণিকরা আসে পঞ্চদশ শতকের শেষভাগে। ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দে বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী পলাশীর ষড়যন্ত্রে এ ভূখন্ড দখলের পর এতদঅঞ্চলের শাসন কুক্ষিগত করে। ঐ ষড়যন্ত্রে বাহ্যত মীরজাফরকে দেখা গেলেও এর পিছনে প্রকটভাবে সচল ছিল হিন্দু বেনিয়া গোষ্ঠী, এ কুটবুদ্ধি চালবাজরা সব সময়ই মীরজাফরকে সামনে দিয়েছে যাতে সাপও মরে আর লাঠিও না ভাঙ্গে। দৃশ্যত তারা স্বজ্ঞানে একজন মুসলিমকে শাসন ক্ষমতা দিতে চায় নি কিন্তু নিজের গা বাঁচাতে মীরজাফরকে কাকতাড়–য়ার মত ব্যবহার করে। এযাবৎ ভারতে মুসলিমদের গৌরবোজ্জল ইতিহাস ঢেকে রাখা হয়েছে প্রচন্ড কৌশলে। এর উত্তম উদাহরণ হিসাবে যুগ যুগ অবধি এই গোলাম আহমাদ মোর্তজার মত লেখকদের লেখাকে অপ্রকাশিত করে রাখাটা এর এক অনন্য উদাহরণ।

ঐ দেশ ধ্বংসে বেনিয়া গোষ্ঠী জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রাজবল্লভ ছিল মূল চালিকা শক্তি। শুরুতে বৃটিশদের এদেশে মসনদ গড়ার সুযোগ করে দেয় এরাই। শুরু থেকে “টাকা যত লাগে এ যাবত দিয়েছি আরো দেব, কোন চিন্তা নেই” টাকারও মালিক মূলতঃ গৌরিসেন। এটি ছিল তাদের মুখের বানী। এরপরই সিরাজের বড় খালা ঘসেটি বেগমকে সিংহাসনের লোভ দেখায়। নবাব সিরাজউদৌলাকে সরাতে তারা ব্যস্ত সময় পার করছিল। ইংরেজ দূত ওয়াটস সেদিন মহিলার ছদ্মবেশে (অবশ্যই বোরখা পরেছিল) পালকী যোগে গোপন সলা পরামর্শে যোগ দেয়। সেদিনও বোরখা অস্ত্রটি এমন এক দেশ বিধ্বংসী ভূমিকা রাখে সেটি মাথায় রাখা উচিত। খুব সহজে যে কোন পুরুষও এটি পরে ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে। সেদিন দখলদার বৃটিশদের অর্থনৈতিক দায় মেটায় জগৎ শেঠ। জগৎ শেঠ মাছের তেলে মাছ ভেজে অর্থের যোগান দেয়। ইতিহাসের সব দায় মীরজাফরের ঘাড়ে একাই চাপিয়ে দিয়ে চালবাজরা থাকে খোলসের আড়ালে। আলীবর্দী খাঁএর কোন পুত্র না থাকাতে নাতি সিরাজুদৌলাই সিংহাসনে বসেন। সিরাজের বিরুদ্ধে হিন্দু-বৃটিশ শক্তি মিলিতভাবে মিথ্যাচারের রং চড়িয়ে ইতিহাস ঢেলে সাজায়, যার কোন সত্য ভিত্তি নেই। সঠিক তথ্য নির্ভর গবেষনাতে এসব ছলচাতুরী ধরা পড়ে। বৃটিশরা হামলে পড়ে পলাশিতে কারণ উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠের সাজানো সেনাপতি মীরজাফর হচ্ছে তাদের কাকতাড়–য়া স্বপক্ষ শক্তি। ক্লাইভের সৈন্য মাত্র ৩,০০০ আর সিরাজের সৈন্য ৫০,০০০। যুদ্ধকালীন এই মিলিত হিন্দু-মীরজাফর শক্তি নিষ্কর্মা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো আর নবাবের সৈন্যরা মরলো যেন আত্মহত্যা করছে তারা। মীর মর্দান সেনাপতির নির্দেশ ব্যতিরেকেই বীরের মত শহীদ হন। তখন অবদি যুদ্ধ কিন্তু সিরাজের অনুকূলে ছিল। ওদিকে মোহনলাল ও ফরাসি মিত্র সিনফ্রে যখন যুগপৎ তৎপর ঠিক তখন অল্প দামে কেনা বিশ^াসঘাতক মীরজাফর যুদ্ধ বন্ধের আদেশ করে। যুদ্ধের চলমান গতি বদলে যায়, সিরাজসহ ভারত পরাজয়ের মালা গলে পরে নেয়। এই হিন্দু ও মীরজাফর শক্তিই বৃটিশদের জয়ের মুকুট পরায়। প্রকৃতপক্ষে এটি যুদ্ধ ছিল না, ছিল একটি জাতির মিথ্যাচারের ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পাতানো খেলা। যুগ যুগ থেকে এসব ইতিহাসের তলায় চাপা দিয়ে রাখা। মুসলমানদের ইতিহাস সব সময়ই গৌরবের ইতিহাস যারা সঠিক ইতিহাস পাঠ করেছেন তারা জানেন। মীরজাফরেরও বহু আগ থেকেই হিন্দু মিলিত শক্তি ছক আঁকছিল। সিরাজ ধ্বংসের যে গোপন বৈঠক হয় সেখানে জগৎশেঠ, রাজা মহেন্দ্ররায় (দুর্লভ রায়), রাজা রামনারায়ণ,  রাজা রাজবল্লভ, কৃষ্ণদাস ও মীরজাফর। এরা সব বৃটিশের অনুগত গোলাম, রাজা টাইটেলও বৃটিশের দান। তাদের একজন জোর গলাতে হিন্দু নবাবের দাবী জানান, কিন্তু কুটবুদ্ধির কৃষ্ণদাস কৌশলে মীরজাফরকেই কোরবানীর বলদ হিসাবে সামনে রাখেন। বাকীরা এ যুক্তিতে এটি মেনে নেন যে অন্য কেউ নবাব হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। টাকার যোগানদাতা জগৎশেঠ ভারতের যোদপুরের এক হিন্দু হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার পরিবারের একজন হীরানন্দ জঠর জ¦ালায় বঙ্গদেশে এক বৃদ্ধের সেবা করার সুযোগ পান। ঐ বৃদ্ধের মৃত্যুতে তার সম্পদ হীরানন্দের ভাগের জমা। ১৭৫২ খৃষ্টাব্দে বাদশাহ ফররুখ শাহের সময় মুর্শিদ কুলি খাঁর সুপারিশে হীরানন্দকে শেঠ উপাধি দেয়া হয়। তখনকার সময়েও এসব হিন্দু মুসলিম মিলিত শক্তির ঐতিহাসিক উদাহরণ হয়ে ছিল (রিয়াজুস সানাতিন, Stewarts History of Bengal)। ওদিকে মুর্শিদ কুলী খাঁর মৃত্যুর সময় তার টাকাও শেঠদের বাড়ীতে জমা ছিল যার পরিমাণ সাত কোটী টাকা, যা শেঠরা কোনদিনই ফেরত দেয়নি (মুর্শিদাবাদ কাহিনী, ৫৬পৃষ্ঠা, নিখিল চন্দ্র রায়)। এভাবে অপরের হাতিয়ে নেয়া টাকা দিয়েই ব্যাংকার সেজে গোটা দেশ ধ্বংসের কর্মকান্ড চলে শেঠ কুলের মদদে। বৃটিশরা তাদের লেখাতে এটি স্বীকার করে যে, The Rupees of the Hindu banker, equally with the sword of the English colonel contributed to the overthrow of the Mahammedan power in Bengal. (ঐতিহাসিক চিত্র, অক্ষয় কুমার মৈত্র ১ম বর্ষ ১ম সংখ্যায় দ্রষ্টব্য। ইতিহাসের ইতিহাস, গোলাম আহমাদ মোর্তজা, ২৩৬ পৃষ্ঠা)। বাংলার মুসলমান ধ্বংস করতে বৃটিশ সেনাপতির তরবারীর সাথে হিন্দু ধনপতির মিলিত প্রয়াসেই এটি সম্ভব হয়। সিরাজকে হত্যা করার প্রস্তাবটিও জগৎ শেঠের। এরা মিলিতভাবে সিরাজের বিরুদ্ধে অন্ধকুপের হত্যাসহ চরিত্রধ্বংসের অনেক অনেক কলঙ্ক ছড়ায় যা ছিল ইতিহাসের চরম মিথ্যাচার মাত্র। এ মিথ্যাচারে অনেক বাবু হিন্দু লেখকরাও মহানন্দে শরিক হন। সিরাজ বুঝতে পেরেছিলেন মীরজাফর প্রতারণা করতে পারেন তারপরও কেন তাকে বিশ^াস করলেন এর একমাত্র যুক্তিটি হচ্ছে এই মোনাফিক কুরআন হাতে নিয়ে শপথ করেছিল যে দেশ বিধ্বংসী কিছু করবে না। এর জবাব অবশ্যই পরকালের খাতায় জমা রইবে। অনেকে মিথ্যাচারে ভরে দিলেও একজন গিরীশচন্দ্র ঘোষ প্রকৃত সত্য সিরাজকে সঠিক সত্যে উদ্ভাসিত করে নাটক লিখেন যা সকল মিথ্যাচারের মুখে চুনকালি লেপে দেয়। তার নাটক ছিল সকল মিথ্যাচারের স্পষ্ট জবাব। এক সময় ক্লাইভের শঠতার ইতিহাসও স্পষ্ট হলে, সে কলঙ্ক লুকাতে তার শেষ পরিণতিও হয় কলঙ্কজনক মৃত্যুতে। কাপুরুষের মত নিজ কন্ঠে ধারালো ক্ষুর দিয়ে শ^াসনালী কেটে আত্মহত্যার কলঙ্ক দিয়ে নিজেকে সমর্পণ করেন। এসব চাপা দিয়ে রাখা অতীতের অনেক অনেক ইতিহাস জানা যায় গোলাম আহমাদ মোর্তজার “ইতিহাসের ইতিহাস” গ্রন্থ থেকে (২৩২-২৪৬ পৃষ্ঠা)।  কলকাতার দুর্গ নির্মানের ব্যয়ের যোগানদাতা ছিল রায় দুর্লভ, তার ছেলে কৃষ্ণরায়, এরা প্রজা সাধারণের টাকায় নিজেদের মসনদ দৃঢ় করে। অন্যদিকে এই মুসলিমরাই সিপাহী বিদ্রোহের প্রকৃত যোগানদাতা হলেও গালির ভাগই তাদের ঘাড়ে বর্তায় কপটদের কল্যাণে। ওয়াটসাহেবকে সপরিবারে বন্দী করে কাশিমবাজার থেকে মুর্শিদাবাদ আনা হয়, রাজ বল্লভের পুত্র প্রজা নিপিড়নের টাকা পাচার করেন বৃটিশের ঘাটিতে। এ অপরাধেও হলওয়েল, কৃষ্ণদাস, ও উমিচাঁদকে নবাবের কাছে আনা হয়। তারা জানতেন তাদের পাপ প্রানদন্ডের অপরাধে অভিযুক্ত। কিন্তু সিরাজ তাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। এর খেসারত তাকে দিতে হয় জীবন দিয়ে।

এর ১০০ বছর পর ১৮৫৭সালে সিপাহী বিপ্লবের পর কোম্পানীর হাত থেকে সরাসরি বৃটিশ সা¤্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে আসে। বহুবার দুর্ভিক্ষ, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর হয় ১৭৭০ সালে, ৩০ লাখ মানুষ মারা যায়। অতপর ১৯০৫-১৯১১ বঙ্গভঙ্গ হয় এর ফলে রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক পুর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে একটি নতুন প্রদেশ গঠিত হয়। সেদিন রবীন্দ্রনাথসহ কলকাতা হিন্দু শ্রেণীর প্রবল বাধার মুখে এটি রদ হয়। ঐ বিভাগ ভাংতেই রচিত হয় সোনার বাংলা গানটি ছিল বাঙ্গলী মুসলিমের জন্য একটি দেশ বিধ্বংসী গান। তারপরও ইতিহাসের বাস্তবতায় ১৯৪৭ সালে আবার পাকিস্তান নামে পুনরায় দেশটি বিভক্ত হয়। কারণ এটি না হয়ে উপায় ছিল না। বর্ণহিন্দুরা যে জাতি বিদ্বেষী খেলা শুরু করেছিল এর সহজ পরিণতি ছিল এটি। নীচবর্ণ হিন্দুও সবদিনই ভারতে মুসলিমদের মত অন্য সব সংখ্যালঘিষ্টের মতই সেখানে নির্যাতীত। বৃটিশ আমলে আসাম ও সিলেট একত্রিত ছিল। দেখা যায় বৃটিশ আমলে এ এলাকায় ইন্ডিয়ান লস্করেরা তাবেদারী শাসন চালাতো। ১৭৭৮ সালে রবার্ট লিন্ডসের অধীনে সিলেট বড় ধরণের বন্যা, ফসলহানিতে বিক্ষুব্ধ সৈয়দ গাদী ও সৈয়দ মাহদী (পীরজাদা নামে পরিচিত)র সাথে লিন্ডসের যুদ্ধ সংগঠিত হয়। তখনও প্রচুর ভারতীয় তস্কর বৃটিশের সাথে যোগ দেয়। ফলে অনেকে সেদিন সিলেট ছেড়ে লন্ডনে চলে যায় ও সেখানে বসতি গড়ে। অতপর ইতিহাসের পালাবদলে দেখা যায় পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বে মাত্র তিনদিন আসাম ও সিলেট একত্রিত ছিল।

সুরমা টাইমসএর বরাতে ১৬ মে ২০১৬ তে দেখা যায় তারাপুর চা বাগান যা বৃটিশ পিরিয়ডে ছিল স্টার টি গার্ডেন (Star Tea Garden) ১৮৯২ সালের ১০ জুন ৭ হাজার টাকায় ৪২২.৯৬ একরের বাগানটি ডব্লিউ আর হার্ডসন বিক্রি করে দেন বৈকুন্ঠ চন্দ্র গুপ্তের কাছে। ১৯১৫ সালের ২ জুলাই বৈকুন্ঠ চন্দ্র জিউ দেবতার নামে বাগানটি উৎসর্গ করেন। তারপর তার  ছেলে রাজেন্দ্র গুপ্ত হন এর সেবায়েত। রাজেন্দ্র গুপ্ত ১৯৮৮ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর পঙ্কজ কুমার গুপ্ত দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষার্থে ইজারার অনুমতি চান ভূমিমন্ত্রণালয়ের কাছে। ১৯৮৯ সালের ১২ই অক্টোবর সে অনুমতি প্রদান করে। ইত্যবসরেই পঙ্কজ কুমার অনুমতি পাবার আগেই ১২লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে রাগীব আলীর ছেলে আব্দুল হাইয়ের কাছে পুরো তারাপুর চা বাগান বিক্রির জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। এভাবে এ সম্পদ রাগীর আলীর দখলে আসে। মুসলিম অধ্যুষিত সিলেটে বৃটিশ দখলদার হার্ডসনের সাথে বিরোধ লাগে মুসলিমদের। সিলেট আমার নিজের অঞ্চল, তার উপর সেখানের মানুষের প্রতি আমার একটি দুর্বলতা আছে অবশ্যই। মালিক সি কে হার্ডসেনের পর তার ছেলে ডব্লিউ আর হার্ডসন। ঐ ব্যক্তি তখনকার বৃটিশ কোম্পানীর বরাতে আসাতে তার নাম ধাম সবই বর্তমান। এখানে কেন তার নামে গোজামিল করা হলো, এটিও কি কোন চাতুরীর উদ্দেশ্যে কি না, সেটি স্পষ্ট হওয়া জরুরী। এমনকি তখনকার কলকাতা রেজিষ্টারেও এ নামটি লিখা আছে হাডসন, আসামের একজন ডেপুটি কালেকটর হিসাবে হার্ডসন নয় (সূত্র The Asiatic Journal and Monthly Miscellany, Volume 27, পৃষ্ঠা ২০২, লিঙ্ক-https://goo.gl/jTm9OY)।

ওদিকে ব্লগার সুক্ষ্মদর্শী নয়নেরও (নয়ন চ্যাটার্জির) প্রশ্ন হচ্ছে এটি কি কোন উদ্দেশ্যমূলক করা কি না? আদৌ বৈকুন্ঠ চন্দ্র গুপ্ত হাডসনের থেকে এ ব্যক্তি ক্রয় করেছিল কি না? এটিও জানা যায় বৈকুন্ঠ ছিল ঐ চা বাগানের সামান্য কর্মচারী। একজন সাধারণ কর্মচারী ঐ সময় ১৮৯২ সালে এত বিশাল টাকা কোথা থেকে পেল? এখানে কি কোন অতিভৌতিকতা কাজ করেছে কি না, সেটিও পরখ করে দেখা দরকার।  দেখা যায় পঙ্কজ যে কোন কারণেই হোক সব ধরণের সহযোগিতা পেয়ে যাচ্ছে যেখানে রাগীব আলীর জন্য সব দরজা বন্ধ ঘোষিত হয়। তিনি আসামী হলে ঠিক আছে। কিন্তু অন্যরা আসামী নয় তার যুক্তি কি হতে পারে সেটি পরখ না করলে সাঈদীর মতই কাদের মোল্লাহর মতই স্কাইপি রায় হচ্ছে না, সে প্রশ্ন সচেতনের মাঝে থেকেই যাবে। ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে রাগীব আলীর মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়াও জারি হয়। এদিকে জামিনে থাকা পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে আদালত। দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভূমি আত্মসাতের কারণে স্মারক জালিয়াতির অভিযোগে রাগীব আলীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ১০ জুলাই চার্জশিট দাখিল করে পিবিআইএর ১১৭ নং মামলাটি তদন্ত করেন এসআই দিলীপ কুমার নাথ।

তখনকার বৃটিশ ভারতের এক ভুক্তভোগী ডাঃ শুকুরের গ্রন্থ ‘সেতুবন্ধন’ থেকে দুটি প্যারা। কিন্তু আল্লাহর মার বড় মার। এসব ব্যাপারে আল্লাহ কাউকে ক্ষমা করেন না। বাংলার এই নিরীহ মানুষের ভাগ্য নিয়ে যখনই যারা বেঈমানী করেছে হোক তারা দেশের কিংবা বিদেশের, ক্লাইভ উমিচাঁদ জগৎশেঠ রাজবল্লব নন্দকুমার মীরজাফর মীরন ঘসেটি বেগম ভুট্টো মুজিব প্রিয়দর্শিনী কেউ স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করে এই দুনিয়া ছেড়ে বিদায় নিয়ে যেতে পারেননি। আর তাইত দেখি ভারত বিভাগকালীন সময়ের প্রধান কারিগর লর্ড মাউন্টব্যাটেন সেদিন স্ববংশে নিহত হলেন উত্তর সাগরে ভাসমান প্রমোদ তরীতে আইরিশ সন্ত্রাসীদের পাতানো বোমার আঘাতে। ভারত বিভাগকালীন সময়ে লেডী মাউন্টব্যাটেনের কৃত পাপাচার ও পন্ডিত নেহরুর সাথে তার ফষ্টিনষ্টি ও মেলামেশার কথা না বললে ভারত বিভাগের মূল কারণ এবং এ ব্যাপারে প্রধান কর্মকর্তাদের পরিচয় ও তাদের কাজের স্বরুপ একদিন মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যাবে (সেতুবন্ধন ডাঃ এম এ শুকুর, পৃষ্ঠা ৫০-৫১, আগষ্ট ১৯৯২)।

একটি কথা আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, যারা বাংলা তথা পূর্বাচলে মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন তাদের সবারই অপঘাত মৃত্যু ঘটেছে। আর্ল মাউন্ট ব্যাটেনও এই পরিণতি থেকে রেহাই পাননি। “ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় ঘসেটি বেগমের প্যালেস রাজনীতির বদৌলতে এদেশ নিজের স্বাধীনতা হারিয়েছিল পলাশীর মাঠে। পলাশী নাটকের সকল চক্রান্তকারীরাই অস্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করেছিলেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নবাব সিরাজউদ্দৌলা মুহাম্মদী বেগ কর্তৃক নির্মমভাবে নিহত হয়েছিল, আমিনা বেগম ও ঘসেটি বেগমকে ঢাকার অদূরে বুড়িগঙ্গায় ডুবিয়ে মারা হয়েছিল। মীর জাফর আলী খান এক ধরনের মারাত্মক কুষ্ট ব্যাধিতে মারা যান এবং তার পুত্র মীরণ বজ্রপাতের মাধ্যমে ইহজীবন ত্যাগ করেন। মীর কাসেম আলী খানের মৃতদেহ দিল্লীতে আজমিরি গেইটের নিকটে রাস্তায় পাওয়া গিয়েছিল। রবার্ট ক্লাইভের তৈরী পদক প্রাপ্তদের চুড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম দেখতে না পাওয়ায় উমিচাঁদ হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। মুঙ্গের দূর্গের শীর্ষ থেকে জগৎ শেঠ ও রায় দুর্লভ মীর কাসেম আলী খান কর্তৃক গঙ্গায় নিক্ষিপ্ত হন। মহারাজ নন্দকুমারকে ওয়ারেন হেস্টিংস এক মিথ্যা মামলার আসামী করে ফাঁসি দেন। নাটকের মূল নায়ক ক্লাইভ স্বয়ং আত্মহত্যা করে মৃত্যু বরণ করেন। পলাশীর বিয়োগান্ত নাটকের নায়ক ও নায়িকাদের জীবনের এটাই ছিল নির্মম পরিণতি। ইতিহাস ইতিহাস, আরব্য রজনী এটা নয়। তাইত দেখি, ১৯৭১ সালের ভারত বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নাটকে যে তিন মহারথী প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদের তিনজনই ঘাতকের হাতে নিহত হয়েছিলেন। শুধু তাও নয়, এই তিনটি পরিবার আজ এক মহা ত্রাস ও বিভিষিকার শিকার হয়ে পড়েছে। কিন্তু কেন? এরও জবাব দিবে ইতিহাস (সেতুবন্ধন ডাঃ এম এ শুকুর, ৫৬-৫৭)।

নাজমা মোস্তফা, ৩০ জুন, ২০১৭।

সুনামগঞ্জের শনির হাওর টাংগুয়ার হাওর বিপর্যস্ত। জানা যায় বাংলাদেশ সীমানা থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে উন্মুক্ত খনি থেকে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করে ভারতের মেঘালয় রাজ্য। সেখান থেকেই পানি এসে হাওরের পানি দুষিত করেছে। পরিণামে মাছ হাঁস মরছে, গরু মহিষসহ জীব বৈচিত্রের উপর প্রভাব পড়ছে। এর ক্ষতিকর প্রভার মানুষের উপর পড়বে না সে নিশ্চয়তা কি সরকার ও তার বিচারকর্তারা দিতে পারবেন? তড়িঘড়ি আনবিকশক্তি কমিশনের দীলিপ কুমার সাহা (?) ও দেবাশীষ পাল (?) পরীক্ষা সেরে দাবী করেছেন হাওরের পানিতে তেজষ্ক্রিয়তা নেই। অবৈধ সরকারের প্রকৃত বিরোধীদলহীন সংসদ হচ্ছে রং তামাশার কারখানা। জাতির যেখানে জীবন মরণের প্রশ্ন সেখানে তারা রসরংএ কপট কমেন্ট করছেন আর সময় পার করছেন। বলছেন এরকম হলে নাকি খুব ভালো পানিতে আসা মূল্যবান ইউরেনিয়ামে লাভ দেখছেন। হাওরের দুর্যোগ মানতে অপারগ তারা। উল্টো দেখি প্রধানমন্ত্রী বেজায় নারাজ গোসসা এসব খবর মিডিয়াতে আসাতে। যেখানে ভুক্তভোগীরা বলছে একটি মাছও বেঁচে নেই সেখানে তিনি পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সরকার সাহায্য দিবে তবে দুর্যোগ পূর্ণ এলাকা ঘোষনা করবে না। সাহায্যও রাজনীতির রং দেখে নিশ্চিত হয়ে দেয়া হয়, আওয়ামী না হলে কারো ভাগ্যে সাহায্যও মিলে না, সেটি বেশ দিন থেকেই জাতি জানে। সরকারী পরিদর্শকের মন্তব্য শুনলাম ওখানের এক প্রত্যক্ষদর্শী ভুক্তভোগীর কাছ থেকে যে তারা বলেছেন মানুষ যখন মরছে না সেটি আবার কেমন ধারার দুর্গত এলাকা? এটি হচ্ছে মানুষ খেকো সরকার, লাশ ছাড়া কিছু বুঝে কম! সরকারের মাঝে সচেতনতা আনতে মানুষকে মানববন্ধন করতে হচ্ছে, তারপরও রসিকতা চলছে। সরকারের স্বভাবই হচ্ছে ছলবাজি করা।

একটা সামলাতে আরটা এনে হাজির করে। এবার বলছে ওহ ওটি হচ্ছে সার প্রয়োগের বিরুপ প্রভাব। আবার বলছে কঠোর বিচার করবো। এসব হচ্ছে হাওরে কিছু দুর্নীতিবাজদের কারণে, ওসব অঞ্চল আজ ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হচ্ছে!  তারপরও চালবাজ মিথ্যাচারী সরকার মূল জটিলতা উন্মোচনে নেই। বরং কিভাবে ঢেকে রাখবে সে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ইত্যবসরে সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতিও বসে নেই, ভারতকে উদ্ধার করতে তিনিও একপায়ে খাড়া। হাওরের এই বিশাল ক্ষতি কি ভাবে পুষানো যাবে তার সমাধান বিলি করছেন যে কারো কাছে আমরা হাত পাতবো না, আমরা স্বয়ং সম্পূর্ণ। সব মোকাবেলা করবো নিজেরাই। ভারতের সব দায় যেন হাসিমুখে তিনি বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে উৎসাহী। যাতে কস্মিনকালেও ভারত ইউরেনিয়াম জটিলতায় না পড়ে, সেদিকে তার অতিরিক্ত নজর! এপ্রিলের ২৫ তারিখে আমাদের সময় বরাতে “কেন মরছে মাছ কিংবা হাঁস? সৈয়দ হাফিজুর রহমান জাবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক। তার গবেষনাতে শুধু কীটনাশক ও ফার্টিলাইজার ব্যবহারের সতর্কতার উপর কথা এসেছে। কিন্তু কেন জানি মূল আতঙ্ক ভয়ঙ্কর ইউরেনিয়াম ইস্যুটি আসেনি। বাংলাদেশের প্রায় তিনকোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট। দেখা যায় মেঘালয় রাজ্যে উন্মুক্ত খনিতে ইউরেনিয়াম জটিলতাতে ২০১১ ও ২০১২ সালে তাদের মাছের মড়ক হয় এবং ওখানের স্থানীয় খাসিয়া ছাত্র সংগঠন আন্দোলন করে। ফেসবুকে একজন কৃষকের জবানবন্দি থেকে উৎকট গন্ধ ও লাল ইট রং পানির খবর জানি, সে পানি দিন কয় ছিল। এটি জানার পর পরই আমার এক বোনের সাথে কথা হয় সে সুনামগঞ্জ নিবাসি। তার কাছ থেকে জেনে নিয়েই আমি কলামটি লিখতে বসি।

সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ, মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ ও মন্ত্রীদের মানুষ না মরার টিটকারীসহ বিস্তারিত জানলাম। একটি উৎকট গন্ধের কথা জিজ্ঞেস করাতে সে বললো প্রচন্ড রকমের একটি উৎকট গন্ধে সারা অঞ্চল সয়লাব ছিল একনাগাড়ে ১৪/১৫দিন। ১৪/১৫ দিন কথাটি আমি বার বার জিজ্ঞেস করে জেনে নেই। সেটি এতই ভয়ঙ্কর ও উৎকট ছিল যে তারা দরজা জানালা সেটেও নিস্তার পাচ্ছিল না। ঘরেও টিকে থাকা দায় ছিল। সব ফুটো ফাটা বন্ধ করেও এ তীব্র গন্ধ কেন, সেটি এখনো তারা আঁচ করতে পারছে না। সরকার আর মিডিয়া ভারতের দুর্গন্ধ ঢাকতে ব্যস্ত সারাক্ষণ আর ওদিকে দেশের জনতারা গিনিপিগ। প্রধানমন্ত্রীর সফর সেটি মুসলিম পাড়াতে নয়, ওটি হয়েছে হিন্দু পাড়াতে, সহায় সাহায্য সবই ওখানে। এটিও বললো অনেকে বলছে ধানপঁচা গন্ধ এটি সবৈব মিথ্যা কথা কারণ ধান এখনো ধরে নাই পঁচবে কেমনে, তবে সব ভেসে গেছে। অনেক সময় ধান পঁচে তাই বলে ওতে মাছ হাঁস মরে না, এটি সে স্পষ্ট করে। এটি নির্ঘাৎ ইউরেনিয়াম ঘটিত জটিলতা এটি আর রাখঢাক করে লুকানোর কোন যুক্তি দেখি না। শত শত বছর থেকে লোকজন বলছে এমন ধারা বিপর্যয় কোনদিন তারা দেখেনি। বন্যা আসে বন্যা যায়। লোকসানের পরও মানুষ ফের উঠে দাঁড়ায়। এবার বিষ যদি প্রয়োগ করা হয় তবে মানুষ উঠবে কেমনে? রসিক রানীকে তারা পানি দিয়েছে, পানি মাঙ্গা পানি মিলা, রক্তরাঙ্গা পানি, বিষযুক্ত পানি খাও মর, স্বাধীনতার স্বাদ নয় বরং বিস্বাদ ভোগ কর। মমতাময় প্রতিবেশীর ঈমানদারী পানি এটি। জাতির সাথে বেঈমানী না করেই এবার মোদির সরকার ঈমানদারী পানি পাঠিয়েছে হাওরবাসীর জন্য।

০৫ এপ্রিল, ২০১৭। নাজমা মোস্তফা

বিশাল গন্ডির ইসলামকে ওরা সংকীর্ণ গন্ডিতে বাধতে গিয়ে বাস্তবের নাবিলার দাদীরা মরছে, ঠিক তারই পাশাপাশি সোরগোল উঠেছে নাটকের গুলি খাওয়া, মালালার বাঁচা, নোবেল পর্যন্ত পৌছে যাওয়া। যদিও নাবিলার কথা নাবলা কষ্টে ভরা, মানবতার প্রকৃত জমা। বিশ^ কম জানলেও সচেতন মুসলিমরা জানে নবীকে নিয়ে বিকৃত মিথ্যার সব কার্টুন আঁকা, নবীর প্রতিটি কাজের তীর্যক ছবি আঁকছে বিরুদ্ধবাদীরা। সপ্তম শতাব্দী থেকে এ সত্য ময়দানে, সেদিন থেকে বিরোধীরা এ ছলবাজ কাজে সচল আছে। বলা হচ্ছে পাকিস্তানের সোয়াতের এক স্কুল ছাত্রী মেয়ে মালালার উপর হামলা করে তালেবান মুসলিমরা। মিডিয়ার চাতুর্যতায় গোটা বিশে^র সামনে বিশাল প্রমাণ নিয়ে দাঁড়ায় একটি ম্যাসেজ “তালেবানী ইসলাম নারী শিক্ষা বিরোধী”। কুরআন নির্ভর ইসলামের রুপ এক, এর কোন তালেবানী, আলকায়দা আইএসআইএস বা যেকোন নামের খন্ডিত সংস্করণ হতেই পারে না। মূল সত্যকে অবহেলা করে এ ধারার রাজনৈতিক মিথ্যাচার ধর্মটির শুরুর ইতিহাসের সাথেই জড়িত। এর মূল কারণ বিরোধী সূত্রতা ও শত্রুতা।

‘মালালার ওপর হামলার ঘটনাটি আগেই লেখা’ (২৩ মে ২০১৭, প্রথম আলো) মালালা সম্বন্ধে পাকিস্তানেরই এক নারী সাংসদ মুসারাত আহমাদজেবের কথা শিরোনামটি দখল করেছে। তার মতে বিবিসির জন্য এটি আগে সাজানো হয়, পরে ঘটানো হয়। উম্মাহ পত্রিকার সাক্ষাৎকারে তার দাবী মালালার বাড়ীতে যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিক তিনমাস থেকে তাকে প্রশিক্ষণ দেন। মাথার গুলি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন এবং সোয়াতে সিটি স্কেনে তার কোন চিহ্ন পাওয়া যায় নি, এটিও স্পষ্ট করেন। তবে পেশোয়ারের সামরিক হাসপাতালে ওটি ধরা পড়ে। অভিযোগ উঠেছে আরো তার চিকিৎসকদেরে পাকিস্তান সরকার বাড়ীর জমি দেয় । যখন ছদ্মনামে বিবিসিতে মালালা লিখতেন তখনও তিনি ওসব লিখতে জানতেন না। উল্লেখ্য ২০১২ সালে তালেবান কর্তৃক তার উপর হামলা হয়, তিনি তখন থেকে নারী শিক্ষার উপর কাজ করছেন এবং ঐ সব কারণে ২০১৪ তে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।

অপরপক্ষে ওয়াজিরাস্তানের মেয়ে নাবিলার ক্ষতির পরিমাপ মনে হচ্ছে কম তো নয়ই বরং বহু বেশী। কিন্তু সেখানে নাটকহীন বাস্তবতার প্রতিবাদ প্রতিরোধ খুব অল্প। জীবন থমকে যায়, আহত বিধ্বস্ত মেয়েটি মুষড়ে পড়ে। আশ্চর্য্য, বরঞ্চ মানবতা যেন তাকে চোখ রাঙ্গায়! মালালা প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সাংসদের মন্তব্য যেন ফের পুরোনো ঘটনাকে উসকে দিল। লেখাটি অনেকটা যেমনটি রামের জন্মের আগেই রামায়ন লেখা হয়। যার জন্য বাস্তবের রামের সাথে রামায়নের রামের বৈপরিত্য স্বাভাবিক। নাদিম এফ পারাচা নামের একজন অভিজ্ঞ জার্নালিস্ট এর ১১অক্টোবর ২০১৩ সালের কলামটি বিশে^র সামনে যেন ঐ ঘটনাটির পোস্টমোর্টেম রিপোর্ট বলা যেতে পারে। লেখাতে https://www.dawn.com/news/1048776  Malala: The real story (with evidence)  একাধিক ছবিসহ প্রামাণ্যতার দলিল এসেছে, সব শেষে একটি ফিকশন নাটকের আশ্রয়ও নেয়া হয়েছে। অসংখ্য মানুষ তাতে বিস্ময় প্রকাশ করা সহ মন্তব্য করছেন, ৭২ হাজারের মত লাইক পড়েছে। আজ এটি চারদিকে সারা বিশে^ ছড়িয়ে পড়েছে এমনকি তাদের ডিফেন্স অনলাইনেও এর স্বপক্ষে লেখা বর্তমান। এখানে প্রচেষ্ঠা হয়েছে যে নারী শিক্ষা বিরোধী তালেবানরা সোয়াতের এ স্কুল যাওয়া মেয়ের মুখে ও মাথাতে গুলি করে। যার প্রেক্ষিতে তাকে প্রথমে পাকিস্তানে ও পরে ইংল্যান্ডে একাধিক সার্জারীর মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা হয়। বর্তমানে মালালা ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন আর নারীর স্বপক্ষে কাজ করছেন। এটি হচ্ছে গল্পের একদিক, যা পশ্চিমা বিশে^র মিডিয়া লুফে নিয়েছে।

এ গল্পের অন্যদিকও ঐ সোয়াত ভূমি থেকেই উত্থিত হয়েছে। ২০১৩ সালের এপ্রিলে Dawn.com (ডাওন ডট কম) থেকে পাঁচ মাস মেয়াদে একটি ইনভেস্টিগেশন দল পাঠানো হয় ঐ উত্থিত গল্পের পরবর্তী কিছু যৌক্তিক কারণে। তাদের ঐ গবেষণাতে বেশ কিছু প্রমান চ্যালেঞ্জের আদলে দাঁড়িয়েছে ঐ ঘটনাটির বিপক্ষে। মূল সন্ধানী প্রাপ্তিগুলি হচ্ছে।

(১) প্রথমত মালালা সোয়াতের মেয়ে বা পুস্তন মেয়ে নয়। সোয়াতের একজন সম্মানী ডাক্তার ইমতিয়াজ আলী খানজাই যিনি একটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক চালান। তিনি রিপোর্টারদের জানান যে ঘটনাক্রমে মালালার ডিএনএ রিপোর্ট তার কাছে আছে, ওতে প্রমাণিত হয় যে, সে পুস্তন মেয়ে নয়। তিনি তাদের রিপোর্টও দেখান। মেয়েটি যখন আরো ছোট অবস্থায় তার অভিভাবকদের সাথে ডাক্তারের চ্যাম্বারে আসে তার কানের সমস্যা নিয়ে, ওটি ঐসূত্রে তখনকার পাওয়া। ইত্যবসরে যখন সেই মেয়েই ফের গুলিতে বিদ্ধ হয় তখন তিনি স্মরণ করেন যে তার কাছে ওর কিছু সেম্পল আছে কোন বোতলে। যা অনেকটা সখের মতই তিনি রোগীদের এসব সংগ্রহ করেন।  সে হিসাবে তিনি বলেন এ মেয়ে পস্তু নয়, বরং ককেসাস, সম্ভবত পোলান্ডের মেয়ে।

(২) এ ঘটনার পর তিনি তার বাবাকে ডেকে বলেন যে আমি জানি তোমার মেয়ে কে? এ কথা শুনে তার বাবা চিৎকার চেঁচামেচি করলে ডাক্তার জানতে চান, ঠিক আছে আমি সবাইকে না জানালেও অবশ্যই আপনাকে আসল সত্য ঘটনাটি প্রকাশ করতে হবে।

(৩) ঠিক তখনই তার বাবা ধরা খেয়ে রাজি হন এবং প্রকাশ করেন যে তার আসল নাম জেইন এবং সে হাঙ্গেরীতে ১৯৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করে। তার মূল জন্মগত বাপ মা হচ্ছে খৃষ্টান মিশনারীজ যারা সোয়াত ভ্রমনের পর মালালাকে গিফট হিসাবে দান করে। সাথে সাথে সে লেখাতে খানজাইএর সেসব সংগৃহীত ডিএনএর নমুনা ছবিও প্রদর্শিত হয়।

(৪) এবার তাকে প্রশ্ন করা হয় তিনি কেন এখন এসব বলছেন উত্তরে তিনি বলেন তার বিশ^াস এসব করা হচ্ছে পাকিস্তান বিরোধীতার স্বার্থে, মালালাকে ঐ ইস্যুতে উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই তিনি শংকা প্রকাশ করেন।

(৫) তিনি আরো বলেন তিনি প্রমাণ দিতে পারবেন, যে তরুণ তাকে গুলি করেছে সেও পুস্তন নয়। তার কাছে ঐ মানুষটিরও কানের খইল সেম্পল জমা আছে। ঐ শ্যুটারের পরীক্ষার পর তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে সে সম্ভবত ইটালীয়। তিনি তখন তাদেরে ঐ সেম্পলটি মাইক্রোসকোপের নীচে নিয়ে দেখান। জানুয়ারী ২০১২ তে ডাক্তার এসব পাওয়া যুক্তি কিছু সিনিয়র পাকিস্তানী ইনটেলিজেন্সকে ও আইএসআইকে ইমেইল করেন।

(৬) এর কিছু দিন পরই তার ক্লিনিকটি রেইড হয়। তখন তিনি সৌদি ছিলেন, সেদিনও তিনি সৌদি রয়েল পরিবারের কিছু জনের এয়ারওয়াক্স সংগ্রহের জন্য ওখানে ছিলেন। এর সুবাদে তার ক্লিনিকে তার কর্মচারীদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় এবং রেইডাররা  জানতে চায় কোথায় রাখা আছে ঐসব গবেষনালব্ধ সেম্পলগুলো?

(৭) ঐ বছরের জুনে একজন তরুণ আইএসআই এই ডাক্তারের সাথে দেখা করেন এবং পুলিশ রেইডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এবং তাকে এটিও অবগত করান যে আইএসআই মালালার প্রকৃত পরিচিতি সম্বন্ধে অবগত। অনেক আলাপ আলোচনার পর ডাক্তার ঐ আইএসআই এর টেলিফোন নাম্বারটি রিপোর্টারকে দেন। ঐ অফিসারটি কথা বলতে নারাজ ছিলেন যদিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানা যায়।

(৮) ঐ মিস্টার এক্স একজন রিপোর্টারের কাছে লোয়ার সোয়াতের একটি গার্লস স্কুলের কিছু ইনফরমেশন দেন। তার মুখ ঢাকতে তিনি একটি স্পাইডার মাস্ক ব্যবহার করেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন এসব একদিন প্রকাশ হবে। আমি চাই না এরকম একটি স্পর্শকাতর গোপন খোলাসা করে দিতে। আমি একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। তিনি তার বাবার কথা “বিশাল ক্ষমতার সাথে দায়িত্বও জড়িত থাকে” কথাটি স্মরণ করেন ।

(৯) মালালার এ দুর্ঘটনা প্রদর্শিত হয় ইনটেলিজেন্স এজেন্সীর কারসাজিতে। ঐ অফিসার রিপোর্টারকে বলেন, সমস্ত নাটকটি পরিবেশিত হয় পাকিস্তান ও ইউএস এজেন্সীর যৌথ উদ্যোগে। যাতে পাকিস্তানী সৈন্য নর্থ ওয়াজিরিস্তান আক্রমন করতে পারে  এবং নর্থ ওয়াজিস্তান দখলে নিতে একটা ওজুহাত পায়।

(১০) যখন তাদেরে পাল্টা প্রশ্ন করা হয় নর্থ ওয়াজিরিস্তান যদি পাকিস্তানের অংশই হয় তবে আবার দখল কেন? অফিসারের জবাব ছিল, কয়েক শতাব্দী থেকে নর্থ ওয়াজিরিস্তান একটি স্বাধীন মুসলিম আমিরাতের অংশ। কিন্তু আমাদের ইতিহাসের বইতে বাচ্চাদেরে শেখানো হয় এটি পাকিস্তানের অংশ। ওটি ধারণার চেয়েও বেশী তেল, সোনা, দস্তা, রুপা কয়লা, হিরা, গ্যাস এবং দুর্লভ ডাইনোসরের ফসিল সমৃদ্ধ এলাকা, যার জন্য আমেরিকাও এসেছে। তখন রিপোর্টার প্রশ্ন করেন এসবের পক্ষে কি কোন দলিল আছে? তাকে কিছু ডাইনোসেরের হাড়ের ছবি দেখানো হলো যার ব্যাখ্যা তিনি দেন। তিনি আরো বলেন এসব তালেবানের ভূতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে ধরা পড়ে।

(১১) এবার প্রশ্ন হচ্ছে এটিতে আমেরিকা ও পাকিস্তানের জড়িত থাকার প্রমাণ কি? তখন ঐ অফিসার একটি কাগজ বের করে দেখান যে এটি তার প্রমাণ। এটি তালেবানদের কোয়ান্টাম ফিজিক্স নামে পরিচিত। সেখানে পাওয়া যায় দুজন মানুষের মাঝে টুইট আদান প্রদান হয়েছে। একজনের নাম ‘Lib Fish’ (CIA operator in Qatar)  আর একজনের নাম ‘Oil Gul (ISI in Lahore)’ দুজনভার মাঝে কথা চলে আকারে ইঙ্গিতে। আর একজন পাওয়া যায় @Tsunami_Mommy Agents d! যিনি বাধা দেন তিনি পাকিস্তানের খাইবার পুস্তুন প্রদেশের একজন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি এটি আবিষ্কার করেন যে ওরা দুই মিলে একটি নকল শুটিংএর প্ল্যান করছে যেখানে কোন গুলি থাকবে না। অতপর সুনামী মামী, ডাক্তার, অফিসার ও একজন মুসতানসার হুসাইন তাতারের বিষয় জানার পর একটি লেখা যার নাম হচ্ছে “এ ফেইক শুটিং অব এ ফেইক লিবারেল বাই এ ফেইক লিবারেল, ইউ বাসটাস।” ঐ লেখার পানডুলিপিতে থাকবে তারিখসহ কিছু ধারাবাহিক ঘটনা।

(১)      অক্টোবরের ১, ১৯৯৭: মালালার জন্ম হাঙ্গেরীয় বাপ মায়ের ঘরে, বুদাপেস্টে, তার নাম জেইন।

(২)     অক্টোবর ৪, ২০০২ : অভিভাবকরা CIA দ্বারা গৃহীত হন এবং তাদের একটি ক্রাশ কোর্স করানো হয় এভানজেলিক্যাল ক্রিশ্চিয়ানিটি, হিপনোটিজম আর কারাতের উপর।

(৩)     অক্টোবর ৭, ২০০৩ তারা পাকিস্তানের সোয়াতে থাকবেন এবং সেখানের এনজিও কাজে স্বক্রিয় থাকবেন। একজন আইএসআই এজেন্টের সংস্পর্শে থাকবেন, এবং পরিবারকে খৃষ্টান ধর্মে ধর্মান্তর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। জেইনকে তাদের মাঝে রাখা হবে। তার নাম বদলে মালালা রাখা হয়।

(৪)     অক্টোবর ৩০, ২০০৭, মালালা একটি ব্লগ লিখতে শুরু করে এবং সেখানের ধর্মধারী গোষ্ঠীকে তাদের অস্ত্র নামাতে বলে এবং বাইবেল হাতে নিয়ে এনজয় করতে বলে।

(৫)     অক্টোবর ২১, ২০১১, ধর্মধারীরা তাকে তার এভানজেলিক্যাল ব্লগ লেখা বন্ধ করতে বরং এর মাঝে তার হুমওয়ার্ক শেষ করতে বলে।

(৬)    অক্টোবর ১, ২০১২, সিআইএ একজন পস্তু বলতে পারা ইাাঁলিয়ান আমেরিকানকে নেয়  যার নাম রবার্ট। নিউইয়র্কে বসবাস করতেন এবং তাকেও একটি ক্রাশ কোর্স দেয়া হয় গুলি করার প্রশিক্ষণের উপর।

(৭)     অক্টোবর ৭, ২০১২ সিআইএ আইএসআই এর সাথে শেয়ার করে ঐ ফেইক শুটিংএর প্ল্যান করে। আইএসআই এতে সম্মত হয় এবং মালালা ও তার অভিভাবককে এর উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

(৮)     অক্টোবর ১১, ২০১২: এ তারিখে একজন ইটালিয়ান আমেরিকান সোয়াত ভ্যালিতে পৌছান একজন উজবেক হোমিওপ্যাথ হিসাবে। ঐ ফেইক গানম্যানের একটি ছবিও সাটা ছিল ঐখানে।

(৯)     অক্টোবর ১২, ২০১২, রবার্টকে একটি বন্দুক দেয়া হয় যাতে কোন গুলি ছিল না। সে মালালার স্কুলের ভ্যানকে থামায় এবং তার দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে। সে আঘাতের ভনিতা করে এবং হাতে গোপন করে রাখা টমেটো সসএর একটি প্যাককে সারা মুখে ছড়িয়ে দেয়। একটি নকল এমবুলেন্স তাৎক্ষণাৎ সেখানে এসে হাজির হয় এবং মালালাকে তুলে নেয়। সারা বিশে^ শোরগোল উঠে যে মালালাকে চরমপন্থী তালেবানরা গুলি করেছে। মিডিয়াতে আসে মালালার বন্ধুরা বলছিল যে গানম্যান মালালাকে খুঁজছিল এবং তার পর তাকে গুলি করে। প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকারে একটি মানুষ ভ্যান থামায় এবং পস্তু ভাষাতে চিৎকার করে ‘হু ইজ জেইন।’ মেয়েরা দ্বিধায় পড়ে পরস্পরের দিকে মুখ চাওয়াচাওয়ী করছিল। — তখন একটি মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে “তুমি আমার দিকে তাকাচ্ছো? ঠিক তখনই মালালা তার দিকে স্কুল বেগটি ছুড়ে মারে এবং ইটালি ভাষাতে চিৎকার করতে থাকে “নো, ইউ ইডিওট, আইএম লুকিং এট ইউ। মালালা মালালা, রিমেম্বার? বোকা” জবাবে বলে, ওহ! তারপর সে তাকে গুলি করে তার গুলিবিহীন বন্দুক দিয়ে।

(১০)   আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হচ্ছে যে মেয়েটিকে হসপিটালে দেখা যায় সে কিন্তু মালালা নয়। ঐ অফিসার কিছু ছবি দেখায় ওর প্রমাণ হিসাবে। সে প্রথমে আমাদের একটি ভিডিও দেখায় যেখানে দেখা গেছে মালালা হাসিখুশীভাবে বাঙ্গি জাম্পিং করছিল রিভার সোয়াত নদীর পাশের হিলী উপত্যকাতে। একটি ছবিও সেখানে সাটা হয়। এসব গেল একটি গল্পের দুটি দিক।

এবার আর একটি গল্প আসবে নাবিলার না বলা কথা।  একজন টরেন্টো বেইসড কলাম লেখক মর্তুজা হোসেইন যিনি মিডিল ইস্টার্ন পলিটিক্সএর অনেক কাজের সাথে সম্পৃক্ত। নমুনা তুলে ধরেছেন। তিনি দুজনাতে তুলনা করে দেখিয়েছেন নাবিলা রেহমান ওয়াশিংটন ডিসিতে কেন আবেদন ছড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হলেন? নয় বছরের নাবিলা তার মৃত দাদীর কথা উল্লেখ করে জানতে চেয়েছিল কি দোষ ছিল তার দাদীর? ২৪ অক্টোবর, ২০১২ একটি মরণঘাতি ড্রোন নর্থ ওয়াজিরিস্তানের ৮ বছরের মেয়ে নাবিলা রহমানের মাথার উপর উড়ছিল। ভাইবোনসহ তার দাদী মমিনা বিবি বাড়ীর পাশের মাঠে কাজ করছিলেন। তিনি বাচ্চাদেরে শিখাচ্ছিলেন কিভাবে ঢেড়শ, গাছ থেকে তুলতে হয়। সামনে ঈদ, তারা ভাবে নাই তাদের জীবন অতি অল্প সময়ের মাঝে ছিহ্নভিন্ন হয়ে যাবে। সিআইএর কৃত ড্রোনের ঐ বিভৎস আওয়াজ তাদের পিছু নেয় এবং মনুষ্যবিহীন সে ড্রোনের আক্রমণে বিপর্যয় নেমে আসে ঐ রেহমান পরিবারের উপর। মুহূর্তের মাঝে ৭টি বাচ্চা আহত বিধ্বস্ত হয় এবং তাদের দাদী তখনই মারা যান। নাবিলা এত কষ্ট ধারণ করেই বেঁচে আছে। গত সপ্তাহে নাবিলা তার স্কুল শিক্ষক বাবা এবং ধারালো ড্রোনের আঘাতে আহত ১৩ বছরের ভাইটিও ওয়াশিংটন ডিসিতে আসে তাদের সে করুণ গল্পটি শোনাতে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় দূর থেকে আগত গ্রামের পরিবারটিকে কোন গুরুত্বই দেয়া হয়নি। কংগ্রেশনাল হিয়ারিংএর ৪৩০ সদস্যের মাঝে মাত্র পাঁচজন উপস্থিত ছিলেন। নয় বছরের নাবিলার প্রশ্ন ছিল উপস্থিত দর্শকের কাছে কি অপরাধ ছিল তার দাদীর?

নাবিলার বাবা রফিক রেহমান বলেন আমেরিকার একটি ডকুমেন্টারী প্রডাকশন থেকে তাদের আসতে বলাতে তারা এখানে এসেছেন। তার ধারণা একজন শিক্ষক হিসাবে তিনি মনে করেন আমেরিকার জনগণেরও জানতে হবে তাদের কৃতকর্মে কিভাবে মানুষরা বিধ্বস্ত হচ্ছে এবং তার সন্তানেরাও এর ব্যতিক্রম নয়। তার মেয়ে টেররিস্ট নয়, মাও নয়। তিনি এফপির সাক্ষাৎকারে এসব প্রশ্ন তুলে ধরেন। এমন না যে তার পরিবার এসব কোন সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িত বা ইউএস বিরোধী কোন চরমপন্থী দলের সাথে জড়িত বা কিছু তারপরও এসব কেন, এর জবাব কি হতে পারে? মিডিয়ার বাহাদুরী যুক্তি কাটিয়ে তিনি বলেন সেখানে কোন বাড়ীতে বা গাড়ীতেও নয়, তারা বলেন এসব মিসাইল নামে খোলা ময়দানে যেখানে তারা শস্য ক্ষেতে কাজ করছেন এবং সেখানে বিকট আওয়াজে বোমা ফোটে, দুটি উজ্জল আলো তার দিকে ছুটে আসে আর হাতে আঘাত করে যার ফলে রক্ত ক্ষরণ বন্ধ না হওয়াতে হাসপাতালে নিলেও মমিনা বিবির মৃত্যু ঘটে। একই অবস্থা তার ভাই জোবায়ের ঐ ধারালো ক্ষতের শিকার, যাকে দুটি অপারেশন করতে হয়। যার জন্য তারা আহতই নয় শুধু ঋণগ্রস্তও হচ্ছে। এর পর থেকে তারা ঘুমাতে পারছে না, স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। জোবায়েরের ভাষাতে তার জীবনটাই যেন ওলটপালট করে দিয়েছে আকাশ থেকে নামা বৃষ্টির মত ঐ ড্রোন হামলা।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে জানা যায় ২০১৬ তে আমেরিকা আইএসআইএসকে ওবামার সময়েও ১ বিলিয়ন অস্ত্র দিয়েছে (২৫মে ২০১৭)। এতে প্রমাণিত হয় ইরাককে দুর্যোগে যেমনি একহাতে সাহায্য করেছে অন্যহাতে শত্রুপক্ষ ধরে আইএসআইসকেও অস্ত্র দিয়ে ইন্ধন দিয়ে গেছে। এরা যেন “যেমনি নাচাও তেমনি নাচে পুতুলের কি দোষ?” ওবামা আমার প্রিয় শাসক। তারপরও তার সময়ে কৃত কষ্টকে উপেক্ষা করি কিভাবে? ব্যক্তি ওবামা শুধু একটি ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান। তারা স্বীকার করেছে এভাবে বহুমুখী আক্রমনে ইরাক বিধ্বস্ত হচ্ছে যদিও তারাই স্বীকার করেছে এটি ইসলামিক স্টেট। কংগ্রেস সদস্য ডেমোক্রেটিক ইউএস সদস্য তুলসী গ্যাবার্ড সিরিয়া থেকে ফেরত এসে আইএসআইএস ও আল কায়দাকে সাহায্য করা অপকর্মের সত্য প্রমান নিয়ে ফিরেন। আসাদের ক্যামিক্যাল অস্ত্র কিভাবে ডজন ডজন সাধারণকে আহত বিধ্বস্ত করছে এ তার বস্তুনিষ্ট প্রমান। গ্যাবার্ডের মুখে শুনি, আলেপ্পো আর দামাসকাসের মাঠে একজন আমেরিকানকে দেখে সিরিয়ার জনতারা উৎফুল্ল হয় এবং সাথে সাথে জানতে চায় কি কারণে তোমরা আমাদের বন্ধু হয়ে আমাদের শত্রুকে হত্যা, ধ্বংস, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতনে সিরিয়ানদের মারতে সাহায্য করছো? এ প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করেন ২০০৩এ ইরাক আক্রমণের নামে কিভাবে সাদ্দাম হোসনেকে “ওয়েপনস অব মাস ডেসট্রাকশন” এর কথা বলে একটি মিথ্যা যুদ্ধ দিয়ে সমগ্র ইরাককে ধ্বংস করা হল। ঐ সময় সবই ছিল বুশের মিথ্যা অজুহাত ও সর্বৈব মিথ্যাচার। আজ আর কোনভাবেই এটি লুকানো নেই ৯/১১ কাদের সৃষ্টি। এটি মালালার মতই আর একটি ছলবাজ নাটকের নাম। সব কিছুর মূলেই ঐ সাধারণ আম নয়, ফজলি আমকে কবজা করতেই এতসব নাটক হচ্ছে গোটা বিশ^ পাড়াতে। ইসলাম কি কোন মানুষের সৃষ্ট ধর্ম? এর পেছনে মহাশক্তি বিদ্যমান বলেই মুসলিমরা জানে ও মানে। তবে ইবলিসীয় কিছু অপরিণামদর্শীতার কারণেই আজ ঐ ধর্মের গোড়া ধরে ভূমিধ্বস নামছে।

সচেতন বিশ্লেষকর জার্নালিস্টরা আবিষ্কার করেছেন পশ্চিমা প্রোপাগান্ডার দুমুখো নীতি। ইসলাম নামের একটি বস্তুনিষ্ট ধর্ম তাদের এতসব প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ঐ ধর্মের মহানুভবতাকে তারা তাদের নিজেদের আক্কেল দিয়ে সাজাতে চায়। তাই সৃষ্টি হয় আল কায়দা, আইএসআইএস, ধর্মের দ্বন্ধ বেড়ে চলে বহুগুণিত হয়ে। ইরাক, আফগানিস্তান, ভিয়েতনাম, ফিলিস্তিন, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভারত (বিহার, গুজরাট, আসাম, কর্ণাটক, আলীগড়, আহমেদাবাদ) শত শত লক্ষ লক্ষ মানুষ নিধন যজ্ঞ চলছে, একটিতেও মুসলিমরা অপরাধী নয়। তারপরও মুসলিমরা কেমন করে হয় টেররিস্ট আর বাকীরা সব সাধু! অস্ত্র বিক্রি, তেল বানিজ্য ঠিক রাখতেই নির্দোষ মুসলিমরা আজ কপটের কাছে ময়দানের অপরাধী। এটি মাথায় থাকুক সবদিনই কিছু ধর্মধারী দালালকে অল্প দামে কিনতে পেরেছে বিরুদ্ধাবাদীরা কারণ তারা মানুষ নয় ইবলিসের দোসর নামে এরা নিজেকে অল্প দামে বিক্রি হতে দিতে কখনোই কার্পণ্য করে নি। সারা বিশে^ই সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের সাথে ইসলামকে এক করে দেখানো হচ্ছে যদিও ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে এসবকে কখনোই সমর্থণ করা হয় না। একটি শক্ত সামর্থ ধর্ম ভেঙ্গে খান খান হয় আস্ত দুখন্ড, প্রতিষ্ঠায় তারা ব্যয় করে চলেছে যুগ যুগ বিভাজন খেলা।  শিয়া সুন্নী বিভেদকে তারাই তৃতীয় পক্ষ জিইয়ে রাখছে যুগ যুগ ধরে এসব লুকানো নেই। কিন্তু মুসলিমকে মাথামোটা ভাব থেকে মুক্ত হতে হবে। চিকন মাথার সত্যনিষ্ট বাস্তবতা অর্জন করতে হবে, প্রকৃত সত্যের সৈনিক হতে হবে। নকল ছলবাজকে দিয়ে এ সত্যসাধন সম্ভব নয়। মনুষ্য পরিচয়ে বাঁচতে হলে প্রতিটি মুসলিমকে প্রাথমিক যুগের সত্যনিষ্ট নিবেদিত সত্য সাধক হতে হবে। পরিশুদ্ধ চিত্তে যুক্তির মাঝে প্রতিটি সত্যের সঠিক বিশ্লেষন করতে হবে।

নাজমা মোস্তফা, ২৯ মে ২০১৭।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: গল্পটি যদি শত ফিকশন নাটকের একটি হয়, সেটি আমি উল্লেখ করেছি। মালালা যদি পারাচার মিথ্যাচার হয়, সে দায় পারাচার, আমার নয়। সম্প্রতি বাংলাদেশে ডুব সিনেমা নিয়ে গ্যাঞ্জাম হচ্ছে। হুমায়ুন আহমদের চালচিত্র নাকি ঐ ছবিতে এসেছে যা নিয়ে চলছে বিতন্ডা। তার দ্বিতীয় স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন বলছেন এটি হুমায়ুন আহমদের জীবন চিত্র আর চিত্র পরিচালক ফারুকী বলছেন এটি তার জীবনের সাথে কোন মিল নেই। তারপরও মানুষের আগ্রহ হয়তো এর কারণে আরো বেড়ে গিয়েছে ছবিটি দেখার জন্য। সত্য মিথ্যা দর্শকেরা দেখার পরই বিচার করতে পারবেন। সাক্ষাৎকারে শুনলাম ফারুকী এটিও বলেছেন এখানে যদি কোন মিল ছবিতে ধরা পড়ে তাকে বলা হয় শিল্পের আড়াল। তার মানে এখানেও একটি কৌশল সম্ভবত নেয়া হয়েছে শিল্পের আড়ালেই, কিছু সত্য প্রকাশের কসরত হয়তো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, আর এটি করার ক্ষমতা হয়তো একজন নির্মাতা শিল্পের স্বার্থেই  রাখেন।

আমরা স্বাধীন হয়েছি কারো তাঁবেদারি করার জন্য নয় — শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

নির্যাতীত মানুষকে বাঁচতে উদ্যোগ নিন, গর্জে উঠুন সামনে কোন পথ নেই। আগে উপরের ভিডিওটি দেখুন।

আমরা স্বাধীন হয়েছি কারো তাবেদারী করার জন্য নয়, এটিই ছিল জিয়ার কথা। নির্যাতীত মানুষকে বাঁচতে এসব সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সিলেটের উস্তার আলীর বিশাল বহুতল ভবনটি পুলিশ কমিশনারের হিসাবে ঝাঝরা করে দিয়েছে জঙ্গি নাটক। তিনি সরকারী দলের সদস্য নন, তাই তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সরকারী ইন্ধনেই এসব হচ্ছে। এবার চোখ পড়েছে মৌলভী বাজারে বড়হাট ও ফতেহপুরের দুটি বাড়ীতে। কুমিল্লার কোটবাড়ি উপজেলার গন্ধমতির “আরমানী” নামের তিলতলা ভবনে ঘিরে রেখে একই তালে (২৯ মার্চ)। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সামাজিক ডাক দিয়ে জনগণের রাজপথে নেমে আসা উচিত। জনতারা হাজারে হাজারে নেমে আসলে তারা পালাবার পথ পাবে না। এসব জটিল স্পষ্ট করণে প্রমাণাদি তুলে দিন রাষ্ট্রদূতদের হাতে। মানবাধিকার, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক তদন্ত ও হস্তক্ষেপ চান। আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করুন। পুলিশ কর্তৃক সৃষ্ট জঙ্গিনাটক ও মানবাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিভাগে দলিল পত্র সহযোগে অভিযোগ দিন। অবশ্যই বাঁচতে হলে সঠিক উদ্যোগের বিকল্প নেই। জনমনে প্রশ্ন এসেছে এবং আসছে যে এসবের ভেতরে প্রধানমন্ত্রীর মদদ আছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে এ সরকার। গুলশান হলি আর্টিজনে যা দিয়ে (জাকের নায়েককে ছোবল দেয়া হয়), অতপর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমরা জঙ্গি দমনে সক্ষম হয়েছি। তারপরও প্রতি ইস্যুর আগেই কেমন করে আবার জঙ্গিরা নতুন করে জন্মায়? কিয়ামত পর্যন্তই কি এরা আওয়ামী লীগের চারপাশে ঘুরবে? এতে এটি স্পষ্ট যে, এ ক্ষমতাধর দুর্বৃত্তদেরে দূরে সরাতে পারলেই দেশটি সমূহ বিপদ থেকে বাঁচতে পারবে। বহু অধ্যুষিত দেশে যা অসম্ভব , মানুষ কোন সূত্রও বলতে পারে না বরং তাদেরে চারপাশ থেকে কৌশলে ১৪৪ ধারা দিয়ে সরিয়ে নেয়া হয়। দেখুন একই কারসাজি। এখানেও প্রবাসীর বাড়ী চয়েস করা হয়েছে, বেছে বেছে বাড়ীগুলো নিচ্ছে সরকার।

LIVE নিউজ সরাসরি : মৌলভীবাজারে  অভিযান হিট ব্যাক প্রচুর গোলাগুলি হচ্ছে ৪ জঙ্গি আটক।

 

জঙ্গি হামলার সাথে সাথে অনেকগুলি লেখা লিখেছি। 1(গুলশান জঙ্গি) একই নাটক দেখে দেখে 2 (শেখ হাসিনা ও জয়ের কারণে Zongi) একঘেয়ে নাটকে অরুচি ধরে উৎসাহ কমে গেছে,  3 (কল্যানপুরের জঙ্গি) মনে হয় সবই সরকারের চাতুরী নিজের অপকর্ম ঢাকার মিথ্যে প্রয়াস মাত্র। সম্প্রতি  ঢাকা পায়রা রেলপথ নির্মাণ ২৪০ কিলোমিটার, খরচ ধরা হয় ৬০,০০০ কোটি টাকা। দেয়া হয় ডিপি রেলের নামে এক ভুঁইফোড় কোম্পানীকে স্বাভাবিকের ১০গুণেরও বেশী খরচ দেখানো হয়। দেয়া হয়েছে বৃটেনে এক অখ্যাত কোম্পানীকে যাতে রক্তচোষা প্রজন্ম বাঁচে। মনে হয় সত্য যুগ চলছে, কিছুই লুকানো যায় না। শুনছি র‌্যাবের সাতখুনের নটরাজ জিয়াকে প্রমোশন দেয়া হয়েছে, জনতার জবাব হাসিনা সরকার গন্ডা গন্ডা খুন দেখে উৎফুল্ল, তাই পুরষ্কার। জঙ্গি, সেটিও রক্তচোষা প্রজন্মের সৃষ্টি। প্রতিটি জঙ্গি নাটক পরখ করে চশমা ছাড়াই পথচারীরা মন্তব্য করছে র‌্যাব পুলিশ মনিরুল বেনজির মনির ছাড়া বাংলাদেশে কোন জঙ্গি নেই। ৯৫% মুসলিমের দেশে এসব জঙ্গিতে জড়িত র‌্যাব পুলিশ ঈমানের সব পরীক্ষায় ফেইল। দেশে জঙ্গি নয়, বরং অমানুষে ভরে গেছে। নাটোরে আ’লীগ সভাপতির অনুমতি না নেয়ায় বৃদ্ধার লাশ কবর দেয়া গেল না, এটি ছিল খবরের শিরোনাম। সিলেটের আতিয়া মহেলর জঙ্গিতেও আওয়ামী ক্যাডার, অন্যেরা ধরা পড়লে রক্ষা ছিল না। সরকারসহ তার মন্ত্রীরা গোটা জাতিকে কুমড়া মোরব্বা করে দিত!!!

হামলা চালাতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা মনির নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, অন্য হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী অহিদুল ইসলাম অপু (২৫) কে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এরা আরো বড় কিছু করতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন। কারণ এসব করা হচ্ছে মূলত ভারতীয় তালিতে “র” এর নির্দেশে এসব পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনাই অতিরিক্ত। কারণ হচ্ছে সামনের প্রতিরক্ষা চুক্তিটি বাংলাদেশের গলা দিয়ে গেলানো। উল্লেখ্য কঠোর নিরাপত্তার মাঝেই এসব বিস্ফোরকের ঘটনা সব ঘটছে। জনগণ ধারে কাছেও নেই, শুধু শয়তান আর জঙ্গীরা ময়দানে। তারপরও ৭৮জন নাগরিককে বিল্ডিং থেকে সরকারী তান্ডবে বের করে আনা হয় কিন্তু জঙ্গিরা কি কারণে একটি গুলি বা বোমা বিস্ফোরক কিছুই ছুড়লো না, তার জবাব কি হতে পারে? বেগম মর্জিনা কি ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন যারা আগে “সোয়াত আয় সোয়াত আয়” বলে ডাকাডাকি করলো?! কি তার মর্তবা? এত বড় নাটক সামাল দিতে কিছু লাশ জরুরী! তাই নিদেন পক্ষে দুই পুলিশ ইন্সপেক্টরসহ ৪ লাশ আর বাদবাকী ১৫/২০ আহত (শনিবার, ২৫ মার্চ ২০১৭)! অতীতে হাসিনা বলতেন লাশ ফেলো নিজের দলের হলেও, ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুশিয়ে দিব! তিনি অর্ডারে লাশ ফেলাতেন, ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হয়ে লাশ পড়তো, তিনি গ্লিসারিন রুমালে মেখে কান্নার নকল ভান করে ময়দানে হাজির হতেন। রুমালের আড়ালে মুচকি হাসতেন। যে বই প্রমান হয়ে ছেপেছিল সে সত্য প্রকাশ হয়ে পড়াতেই তিনি সত্য ধামাচাপা দিতেই বইটি বাতিল ঘোষণা করেন। নয়তো ঐ সাহসী বীর পুরুষ বইটি অপকর্মীর সামনেই প্রকাশ্যে ছাপার সাহস রেখেছেন কারণ তিনি বক্তব্যে অকপট ছিলেন, আল্লাহর স্বপক্ষের কাজ করেছেন। “আর সত্যকে তোমরা মিথ্যার পোষাক পরিয়ো না বা সত্যকে গোপন করো না” সুরা বাক্কারাহএর ৪২ আয়াত। এখানে লেখক মতিউর রহমান রেনটু অতি শক্ত মানের ঈমানদারএর কাজ করেছেন। ধারণা হয় এর পুরষ্কার তার পাওনা হয়ে আছে, তিনি পাবেন।

জঙ্গি হামলা করে সরকার হটানো যাবে না বলেন সেতুমন্ত্রী কাদের (৩০ মার্চ) এটি বলার জন্যই তারা নকল নাটক সাজাচ্ছে এবং স্পষ্ট করছে ক্ষমতা ছাড়বো না। বিবেকতে সচল রেখে চিন্তাকে কাজে লাগান। কত সহজে আসামীকে সনাক্ত করা যায় দেখুন। সাম্প্রতিক সিলেটের জঙ্গি খবরের দ্রষ্টব্য হচ্ছে ঢাকা থেকে ভিকটিমদেরে এখানে এনে বাড়ীর ভিতরে আগেই রাত ১০টার দিকে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালা দিয়ে এই জঙ্গি নাটক সাজানো হয়। পুলিশ বলছে আগে থেকেই সেখানে বিস্ফোরক রাখা ছিল। পুলিশ বাহিনী স্পষ্ট করে দেশে গোয়েন্দা থাকার পরও শেষ মূহূর্ত ছাড়া তারা কখনোই কিছু টের পায় না। যখন কোন নষ্ট চুক্তির সময় ঘনিয়ে আসে তখনই এসব জরুরী ভিত্তিতে দরকারী হয়ে পড়ে। দূরে থাকা আতিয়া মহলের বাড়ীওয়ালার বক্তব্য হচ্ছে যে কাউকে পুলিশ বন্দুক ও হয়রানির ভয় দিয়ে ভাড়াটিয়ার ফরম পূরণ থেকে সবই করানো সহজ। সব সময়ই দেখা গেছে তারা কয় মাস আগে নিজেরা একটি বাসা ভাড়া নেয় এবং নাটক সাজায়, ক্রস ফায়ারের নামে কিছু মানুষ মারা হয়। গাজীপুরে গত বছরের ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর শনিবার পুলিশী মঞ্চনাটক। ১ মাস আগে প্রশাসনই ভাড়া নিয়েছিল হাড়িনালের ঐ বাড়ি। এভাবে সেদিন উন্মোচন হলো গাজীপুরে জঙ্গি নাটকের রহস্য।শেখ মুজিবের সময় কালিন জহির রায়হান হত্যা থেকেই এসব মিথ্যাচার সমাজে চালু হয়ে গেছে। তবে স্মরণযোগ্য! আসল আদালত থেকে কেউই ছাড়া পাবেন না। জঙ্গি হতে যে কেউ আল্লাহু আকবর বললেই প্রমাণ হয় জঙ্গি মর্জিনা লাফাচ্ছে। এরকম অর্জন দিয়ে তারা আল্লাহকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। উল্লেখ্য মদিনার সনদ, নূহের নৌকা, আল্লাহু আকবর, সাদা কালো আল্লাহ মোহাম্মদ ফলক ব্যবহার, ধর্ম যার যার উৎসব সবার, এসবই ছলবাজ মুনাফিকির যুদ্ধাস্ত্র, এসব ঈমানদারীর লক্ষণ নয়। ঈমান চোখে দেখা যায় না, এসব মিথ্যা ধর্মধারীদের হাতিয়ার, কুরআনের মত একটি ব্যতিক্রমী  ঐশীগ্রন্থে এদেরে মুনাফেক বলা হয়েছে। এর উপর একটি সুরাও নাজেল হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কখনোই বলে না মুসলিমরা জঙ্গির নামে আল্লাহকে ব্যবসার পসরা সাজিয়েছে। কখনো অল্পশিক্ষিত আবার ইদানিং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের তুখোড় ছাত্রও ছাটে পড়ছে। যুক্তিটি হতে পারে প্রতিপক্ষের পথের কাঁটা এরা। নর্থ সাউথ শিক্ষার্থীরাও ধরা খাচ্ছে সম্ভবত সংস্থাটির ক্রেডিটে ভারতের অনীহা, ভারত চায় না এদেশের বাচ্চারা দেশে পড়–ক, কেন ভারত নয়, ভারত তার দেশটির স্বার্থে ভাল বেঁচে থাকার জন্য আজ বাংলাদেশের কলিজাতে এমন কামড়ের পড় কামড় বসাচ্ছে, এ হচ্ছে সোনা বন্ধুর মরণ কামড়।

শয়তানের অতি তৎপরতার কারণে মৃত জুয়েল রানা ২০১৭ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশে মৃত্যু থেকে জীবন নিয়ে স্বজ্ঞানে পত্রিকা অফিস পর্যন্ত ছুটে যায় এটি প্রমাণ করতে যে সে মরে নাই। জানা মতে এটি বর্তমান পৃথিবীর একমাত্র সদস্য যে মৃতকে বাতিল প্রমাণিত করতে পেরেছে। তাদের সাজানো নাটক ষড়যন্ত্র আজ আল্লাহর আরশ স্পর্শ করছে। তবে মনে হচ্ছে মরেছে সরকার ও পুলিশ। সাক্ষাৎ জীবন্ত লাশ দেখে বেকায়দায়, জুড়ে দেয় গল্প, আইডি কার্ড হারার কারণে ছবি, বায়োডাটা সব বদলে যায়। এসব জটিল সময়ে পুলিশ কিন্তু উৎকন্ঠিত সাংবাদিকদের ঢুকতেও দেয় না কারো সাথে কোন কথাও বলে না। ডাল মে কুছ কালা নয়, বরং পুরো ডাল মে আলকাতরা ঢাল দিয়া। 

সিলেটের শিব বাড়ীর জঙ্গি আস্তানায় বার বার ধরা খাওয়ার পর এবার কিছু লাশ না ফেললেই নয়, পুলিশের ইজ্জত নিয়ে বাঁচা দায়।  ১০টা থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়, এরপরে গভীর রাতে ৫ তলা ভবনের ঐ বাড়ী থেকে বিস্ফোরকের শব্দ পাওয়া যায়। গোটা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা। পুলিশ ঘিরে রাখে জঙ্গি মহল। এর (৩০ ঘন্টা পর) পরদিন শনিবার সকাল ৮.২৮ মিনিটে তারা অভিযান চালায়। ঐদিন রাত পৌনে ৮টার দিকে আসে সেনা কামান্ডো দল। সাধারণ চলাচলও বন্ধ করে দেয়া হয়। শুক্রবার পড়ন্ত দুপুরে উচ্চস্বরে ফ্লাটের জানালা দিয়ে পুলিশকে জঙ্গি মর্জিনাসহ (নারী পুরুষ)  চিৎকার দিয়ে দ্রুত সোয়াত ফোর্স পাঠাতে বলে। দেরী যেন তাদের তর সইছে না, বলে দেরী কেন? দ্রুত সোয়াত ফোর্স পাঠাও! সবকিছুতেই অতি নাটকীয়তা দেখা যায়! ফেসবুকে কিছু ছবিতে দেখলাম তারা নাকি রেকি করছে কিন্তু অনেকের হেমলেট পরা নেই, অগোছালো প্রস্তুতি, মনে হচ্ছে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে দু একটা লাশ পড়েছে পুলিশের, একটি লাশ সুনামগঞ্জের এক ভাইএর। ধারণা হয় তিনিও নীতি ধর্মে ধরা খাওয়া গোষ্ঠীর কেউ হবেন হয়তো বা। হাসিনা সরকার খুব ভালো করে জানে লাশ ছাড়া রাজনীতি নড়ে কম। তাই তার লাশ চাই সব কিছুর একটি বড় দাবী ছিল বিগত শতকেও। আশা করি ভুলে যান নাই বিএনপির সময়ের দিনাজপুরের ইয়াসমিনের লাশও ছিল হাসিনার ফরমাইশী লাশ। উপরে তার প্রমাণ দিয়েছি। বিশেষজ্ঞ মনিরুলদের ভাষ্য অনুযায়ী প্রতিটি ফ্লোরে বোমা ও আইসিইউ পেতে রাখা। মিডিয়া সূত্রে কথা ছিল পুলিশ র‌্যাব ও সিটিটিসির প্রধান মনিরুল যাবেন বীরত্ব প্রদর্শনে। কিন্তু আসল মহড়াতে জানা যায় তিনি জান বাঁচানো পালিয়ে বাঁচা নাটের গুরু। ধারণা হয় সুবোধ ভালো মানসিকতার মানুষকে খুব কৌশলে ময়দান থেকে স্প্রিন্টার মেরে মারা হয়। স্বান্তনা পুরষ্কার হিসাবে সবশেষে গো টু সিঙ্গাপুর। অনেকে জানেন তিনি ছিলেন ৩৪ লং কোর্সের সদস্য। বিডিআরের ষড়যন্ত্রী ঘটনার পর হেলিকপ্টারে একজনকে আকাশে হত্যা করা হয়, বলা হয় দুর্ঘটনা, কারণ এটি করে তার মুখটি সিল করা হয়। এসব হচ্ছে একবিংশ শতকের নব উদ্ভাবিত ডিজিটাল কৌশল। 

আলীবাবা নাটকের মর্জিনাকে এখানে জঙ্গী মহিলা হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন উর্বর মস্তিষ্কের পুলিশ প্রধানরা। গলা ছেড়ে নাম ধরে ডাকছেন মর্জিনা আত্মসমর্পণ করো। এবার শুনছি না, এরা মানসিকভাবে খুব সবল, অপেক্ষা করা হচ্ছে এরা দূর্বল হয়ে আসুক, ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করে তারা আত্মসমর্পণ না করলে হামলা করা হবে। সবকিছুর একটি সীমা থাকে, এদের এসব ভাড়ামির যেন কোন সীমা পরিসীমা নেই। জাতি মরছে আর তারা সাজাচ্ছেন রকমারী নাম “স্প্রিং রেইন” বদলে “অপারেশন টুইট লাইট”। ২৪মার্চে সেখানে এক বোনের সাথে আমার কথা হয়, সে জানায় ঘোর অন্ধকার হয়ে ঝড় আসছে, ওমন ঝড় সে জীবনেও দেখেনি। পরদিন পেপারে দেখি ঠিকই ঐ সময় পুলিশ আশপাশের বাড়ীতে টর্চ লাইট খুঁজতে যায়।  এদিকে নাসিম বলছেন, বিএনপি জামায়াত সারাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটিয়ে হামলা চালাচ্ছে। এসব যদি নাই হয় তবে কিভাবে বিএনপি জামায়াতের ঘাড় মটকানো যায়? মন্ত্রী নাসিমের কুকীর্তি দেখি ইউটিউবে, পাবনায় কিভাবে একজন সৎ মানুষকে বের করা হয় বাকী সমস্ত প্রশাসন চোখের জলে তাকে বিদায় করে। হাজার হাজার মানুষ এসব দেখছে। দেখেছি কিভাবে হাসপাতালের কোটি কোটি টাকা মিথ্যা অপ্রয়োজনীয় ক্রয়ে নিজেদের সমঝোতার মাধ্যমে বাজেট লোপাট করছেন তিনি ও তার সাগরেদরা আর এরপরও এরাই গলা বড় করে চেঁচোয় আর সাধুতার ভন্ডামী করে!

শনিবার সকাল থেকে অপারেশন টুইটলাইট চলছে। জঙ্গি মুসা রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের বজ্রকোলার সন্তান। খবরে প্রকাশ নব্য জেএমবি প্রধান জঙ্গি মুসা মাদ্রাসার বা কওমী মাদ্রাসার ছাত্র বা শিক্ষকও নয় বরং  আওয়ামী লীগ সেক্রেটরির মেয়ের যামাই (২৭ মার্চ ছবিতে চোখ বাধা কেন? এ বুঝি প্রকাশ পড়ার লজ্জা!)। ওদিকে চ্যানেল আইএর রিপোর্টে জানা যায় ২৫ মার্চ আহত ফারুক এত নিরাপত্তার মাঝেও হাসপাতাল থেকে গায়েব হচ্ছে ২৭ মার্চ। নাম এসেছে ছাত্রলীগ নেতা জান্নাতুল ফাহমি ও অহিদুল ইসলাম অপুর। মৃত চারজনের মাঝে দুজনের লাশ ফেরত দেয়া হয়নি। ওরা ডেকরেটার্সএ কাজ করতেন তারা হচ্ছেন কাদিম শাহ ও শহীদুল ইসলাম, এছাড়া ৪৫জন আহত হয়েছেন। সেদিন একটি নিউজে পড়েছি তাদের পরিবার থেকে আহাজারি করছে যে এরা ঐ দিন কোথাও স্বাধীনতার দিনের অনুষ্ঠানের জন্য ডেকোরেশনের কাজ করছিল, এসব সরকারী ড্রামা ছাড়া আর কিছু কি? ওদিকে ভারতের হুমকি আসছে, বর্ডার সিল করে দেব। এটি তারা সব সময় বলে কিন্তু সিল করবে কি বরং বিশাল গরুসহ সবকিছু, ইয়াবা ফেনসিডিলসহ সবই ঐ ফাঁক দিয়ে সুর সুর করে দেশে ঢুকে। এসব জঙ্গি তালে ভারত জড়িত থাকার অনেক যুক্তি প্রমান দৃশ্যত সবার সামনে, এসব লাগাতার একই তালে সাজানো বাড়তি অনুসঙ্গ। ক্লোরোফর্ম স্প্রে,  ১৪৪ ধারা বহাল থাকা অবস্থায়, সাধারণকে দূরে সরিয়ে রেখে সব চোখকে ফাঁকি দিয়ে সাজানো হচ্ছে এসব নাটক। বাংলাদেশের অকর্মা পুলিশ সেনারা পারছে কম, এবার কর্মা ভারতের সহযোগিতা না হলে কেমনে চলবে ??

আবার একই দিনের খবরে প্রকাশ সুপ্রিম কোর্ট বিচারকদের বাসভবনে নিরাপত্তা জোরদারে নির্দেশ দিয়েছে। যে দেশের মানুষের বেঁচে থাকার কোন নিরাপত্তা নেই সে দেশে বিচারকরাই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে একতরফাভাবে উদ্বিগ্ন!  বলা হচ্ছে এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দেখে প্রধান বিচারপতি উদ্বিগ্ন! যারা ময়দানে নিরাপত্তা দেয় না, বরং বিপত্তি ঘটায় তারাই যদি উদ্বিগ্ন হয়,  তাতে এ জাতির সামনে কি পরিমাণ অন্ধকার সেটি স্পষ্ট হয়! সোমবার ২৭ তারিখের বরাতে নারীরা আজ শুধু ক্ষমতায় নয়, জঙ্গিতেও জড়িত প্রমান করতে সরকার বদ্ধপরিকর! সবশেষে নারীসহ ৪ জঙ্গি নিহত সেনাবাহিনীর বরাতে এসেছে। চাঁদপুরে বিদেশী পিস্তল ও গুলিসহ ছাত্রলীগ নেতা আটক (২৬ মার্চ), ২০১৭ সালে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী জঙ্গী কারা তারপরও কেন এসব স্পষ্ট হয় না? র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান লেঃ কর্নেল আজাদের চোখে এবং মাথার ভিতরে বোমার স্প্রিন্টার ঢুকে যায়, ফলে বাঁচার সম্ভাবনা কম কিন্তু আর্মিকে স্বান্তনা দিতে তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। জানা যায় সেখানে তাকে ক্লিনিক্যালি মৃত পাওয়া যায়। বর্তমানে তাকে আর্টিফিসিয়াল রেসপিরেটরিতে রাখা হয়েছে। (অতপর ৩১ মার্চ মৃত ঘোষনা করা হয়)| বৃহষ্পতিবার রাত থেকে মিডিয়াতে প্রচারিত হয় পুলিশ র‌্যাব ও সিটিটিসির প্রধান মনিরুল গিয়ে সব পরিচালনা করার কথা থাকলেও কোন অজ্ঞাত কারণে তারা যায় নি। এটি একই বিডিআরের হাসিনা নাটকের মতই ঘটনা থেকে দূরে সটকে থাকা যাকে বলে। এরকম ঘটনা আরো প্রশ্ন বাড়িয়ে দিচ্ছে। ৩০ মার্চের ফতেপুরে ‘জঙ্গি আস্তানার খবরে প্রকাশ মৌলভী বাজার সদর উপজেলার হাসপাতালে ৭ জঙ্গির লাশ রেখে যায় আইনশৃংখলা বাহিনী (উৎস এনটিভি)। ৪টি শিশু বাচ্চা যাদের বয়স ১-১২ বছর, ২ নারী ৩৫, ৫৫ ও এক যুবক ৩৫, ক্ষতবিক্ষত মরদেহগুলি দুটি বস্তায় ভরে রেখে যাওয়া হয় হাসপাতালের মর্গে।  রাজধানীর কাফরুলে জঙ্গি সন্দেহে ২২ ও ২৫ বছরের দুই ছেলেকে পুলিশে দিলেন বাবা, (প্রথম আলো, ২৭ মার্চ ১৭)। এটি উদ্দেশ্যমূলক নয় বলতে পারছি না। কারণ যদি সত্যিই জঙ্গিতে বাবা অতিষ্ঠ হতেন ১৫ আসনের সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদারের উপস্থিতিতে (?) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। জঙ্গি প্রচারে এ নটিকীয়তাও নাটকের অংশ নয় কিভাবে বলি?

আপনারা জানেন এসব হলিআর্টিজেনের সাথে কিভাবে জাকের নায়েকও কৌশলে লেপ্টে যান। একই মঞ্চ নাটকে এসব সাজানো হচ্ছে, যাতে প্রতিপক্ষের সব পথ সহজ ও সরল হয়। একই হাতে করা সবকটি অংক, এসব হচ্ছে মতলববাজের কারসাজি। যারা ইসলামকে খাঁচাতে পুরতে চায়, এসব কার কাজ সেটি কি বুঝতে কষ্ট হচ্ছে? কারণ গোটা বিশে^ শোরগোল পড়ে গেছে, জানা হয়ে গেছে এ ধর্মটিকে সামলে রাখা যাবে না। এটি মানবের ধর্ম হয়ে বেঁচে রইবে। এতদিন অনেক মানুষ তাবিজ কবজে, ঝাড়ফোঁকেই সন্তুষ্ট থাকতো, দেখা যেত হিন্দুরাও মাজারে বাতি দিতে ছুটে যেত, পূজার গন্ধ পেত যদিও মুসলিমরা অচ্ছুৎ, শুদ্রের মত। এবার আসল সৈনকিরা জেগে উঠছে, এটি মানুষ বুঝতে পারছে বলেই এত হাক ডাক সারা বিশ^ জোড়ে জোয়ার বইছে। সারা বিশে^  জয়ের আন মাস্কিং ছড়িয়ে গেছে। ভারতের এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, পাকিস্তানের ডন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিলেটের জঙ্গী আস্তানার কমান্ডো অভিযান ও আস্তানার পাশের বিষ্ফোরন, হতাহতের খবর বিশ^ মজলিসে হট কেকের মত বিকাচ্ছে। বিএনপি জঙ্গীদের রক্ষার জন্য জাতীয় ঐক্য চায় বলেন হানিফ এমপি (৩১ মার্চ ২০১৭)। সত্য কথাটি হচ্ছে দেশ ধ্বংসের নামে হানিফ নির্দোষ মানুষদেরে লাশ বানিয়ে ভারতীয় ঐক্যের নামে স্বাধীন বাংলাদেশকে সিকিমের আদলে অঙ্গরাজ্য বানাতে চান।  তাই জাকির নায়েক আজ আর নায়েক নন, নায়ক হয়ে গেছেন। এভাবে জঙ্গি নাটক হচ্ছে প্রতিরক্ষা চুক্তির কুইনাইন ডোজ, শক্তির দাপটে জাতিকে এ তেতো গেলানোর মহা কসরত চলছে। তারা ৭১এর যুদ্ধের মতই আচরণ করছে দেশবাসীর সাথে। দেখুন।

31 March 2017 | ৭১ এর পাক-হানাদার বাহিনীর মত আচরণ করছে শেখ হাসিনার বাহিনী।

নাজমা মোস্তফা , ২৮ মার্চ ২০১৭।

 

 

ভাসুরের নাম নিতে আপত্তি থাকার পরও টকশোতে আরাফাতগংরা  মিথ্যাচার করলেও জাতি জানে কারা পেট্রোল বোমাসহ ধরা পড়েছে ও খবরের শিরোনাম হয়েছে। এত ধড়পাকড়ের পরও তারা ডাবল ট্রিপল মিথ্যাচারের পক্ষে সাফাই গেয়ে ডাবল ট্রিপল মাপে পাপ জমাচ্ছে। আজ ২৭ মার্চে দেখি বিএনপি নেতা ফখরুলসহ ৩৬জন নেতাসহ  মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হয়েছে, শুনানী ১ জুন। তারা নাকি ২০১২ তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরন ও আগুন দিয়েছেন, তাই মামলা দিয়ে আগাম নির্বাচণী প্রচারে বাধা হতে ঠিক সময়ে আদালত সেটি উচ্চে তুলে ধরছে। মনে হচ্ছে সরকার আর আদালত এক সমঝোতায় হাটছে, এসব তার প্রমাণ নয়, বলার অবকাশ কম। মামলার বাদী তেজগাঁ থানার উপ পরিদর্শক, সবই এক সুরে গাঁথা। এখানে নির্যাতীত জনগনের পক্ষে দাঁড়াবার কোন এজেন্ট ময়দানে অপেক্ষায় নেই, এটিই ২০১৭এর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা।

আপনারা সবাই কম বেশী জানেন ব্যাংকের টাকা কোন পথে কার পকেটে গেল। এমন সংকটে ব্যাংকে আগুন না দিলেই নয়। কারণ বলা তো যায় না যদি আবার কেঁচো খুড়তে কখনো আসল ধামাচাপা দেয়া বিষধর মাথা বের করে?  সে আগুন থেকেও মানুষকে সরিয়ে দিতে হবে। কত দিক সামলাতে হয় সরকার নামের প্রতারককে! দুরন্ত ছেলেপেলের মায়েরা কি শান্তিতে থাকতে পারে? যদিও খবরের হেডিং শিরোনাম রিজার্ভ চুরির হোতারা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে আছে, কিন্তু ওটি উন্মোচন করার কোন দায় সরকারের যেমন নেই প্রশাসনও চুপ আদালতও চুপ, রাবিশ অর্থমন্ত্রীও ধমকের চোটে নির্বাক, দম ধরে বলেন সামান্য দুর্ঘটনা। এটি ঠিক কেউ উদ্যোগ নিলেও কিছু করতে পারবে না বরং উল্টো নিজের মরণ ত্বরান্বিত করবে। হয়তো বিধাতার বিচারে সত্য যুগ হলেও সরকারী হিসাবে চরম অন্ধকার যুগ চলছে ডিজিটাল বাংলাদেশে। কোন সত্য প্রকাশ করা যাবে না। কেউ সামান্য নড়লেই হবে পদের রদবদল, ওএসডি, হুমকি ধমকি, গুম লাশ কিছুই বাদ যাবে না। চিহ্নিত যে বা যারা এসব মিথ্যে অপারেশন নামের যুদ্ধে মারা যাচ্ছেন এরা প্রকৃত জঙ্গিযুদ্ধে মারা যাচ্ছেন এটি বলার সুযোগ খুউবই কম। কারণ এখানের সাজানো কোন অংকই সেটি স্পষ্ট করে না।  ধারণায় এরাও ষড়যন্ত্রের শিকার, কৌশলের কাছে লাশ হয়ে এদেরে সাফ করা হচ্ছে। সে হিসাবে জোর গলাতে বলা যায় এরা সত্যিকারের সৈনিক ছিলেন, জনগণের প্রকৃত সেবক ছিলেন। এ সম্ভাবনাই সব গবেষণাতে অনেকের কাছেই এটি প্রকটভাবে স্পষ্ট হচ্ছে।

২১ আগষ্ট ২০০৪এর  সব জঙ্গি নাটকও ছিল হাসিনা নামের তখনকার বিরোধী পক্ষের ষড়যন্ত্রী কারসাজি। খোদ আগষ্টের বোমা হামলায় যেখানে কোন বোমাই হাসিনার দিকে ছোড়া হয়নি, বরং ছোড়া হয় মাটিতে যারা ছিলেন, সেদিন তারই ষড়যন্ত্রে মরেন আওয়ামী স্বজন আইভি, প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী। সেটিও সবাই জেনেছে প্রধানমন্ত্রী বার বার তাকে ডেকেছেন মঞ্চে চলে যেতে তিনি যান নাই, তাই মরতে হলো তাকে। এসব অনেক তার নিজেদের লোকেরাই দলিলে স্পষ্ট করেছেন সেদিন। ঐ সময় বিএনপি সরকারই এসব বিরোধীকে কঠোর হাতে দমন করে এবং আজকের জঙ্গি হামলার মতই আওয়ামী নেতার আত্মীয়রা ধরা পড়েন যার খেসারতে বিডিআরএর প্রধান প্রকৃত দেশপ্রেমিক ডিজি মেজর জেনারেল শাকিলকে খুব কৌশলে দুনিয়া থেকে মুছে দেয়া হয়। দেখা গেছে পরবর্তীতে হাসিনা সরকারে আসলেও এসব দ্বিগুণ তেজে মহানন্দে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আজ পুনরায় দেখা যাচ্ছে ঐ ভাইরাস আবার মহানন্দে ময়দানে সচল। এর জলজ্যান্ত প্রমাণ ইতিহাস ও তার চারপাশের অসংখ্য দাগ। সিলেটের প্যারা কমান্ডোদের এসব কর্মকান্ডে মুখর প্রশংসায় ভারতীয় সাবেক সেনাকর্মকর্তারা (২৮ মার্চ ১৭, আমাদের সময়) বস্তুত এসব প্রশংসা “র” এর পাওনা, স্পষ্ট করলেই পারতো তারা। শের-ই বাংলা একে ফজলুল হক বলতেন, “যখনই দেখবে কলকাতার দাদারা আমার প্রশংসা করছে তখনই বুঝবে যে আমি আমার দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছি” কথাটি জাতির জন্য স্মরণীয় বাণী। এসব চালাবে সেনাবাহিনী পুলিশ থাকতে সবকিছুতেই কেন প্রধানমন্ত্রী? প্রশ্নটি জমা রাখুন! “অপারেশন টোয়াইলাইট: শুরু থেকে শেষ” (আমাদের সময়, ২৮ মার্চ, ১৭) সেখানে স্পষ্ট হয় এসব প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার আলোকে সেনাবাহিনী অপারেশন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। রাষ্ট্রীয় মদদেই বাংলাদেশে ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে বলেছে, এফবিআই (বুধবার ২৯ মার্চ, ২০১৭)। প্রতিটি বিতর্কীত কর্মে এটি স্পষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের এজেন্ট নন, দাদাদের এজেন্ট। 

এরকম সময়ে লন্ডন থেকে এক সংবাদ কর্মী বিশ্লেষক ভাই আখতার মাহমুদ ডজন খানেক যুক্তি এনেছেন, অবশ্যই তা চিন্তাশীলদের চিন্তা জড়ো করে। তিনি বলেছেন এটি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে। বিডিআরে ৫৭ সহ ৭৪ মেধার মরণ তার নির্দেশে, বাইরে আর্মি প্রস্তুত থাকলেও প্রধানমন্ত্রী হাসিনার হুকুমের অভাবে এরা মারা যায়। একই ভাবে হলি আর্টিজানে কমান্ডো সময়মত পাঠানো হয়নি, সেদিন শেষ সময়ে মাত্র ১০ মিনিটে মরেন ২৬ জন। সম্প্রতি সিলেটে সেরা মেধাবী কমান্ডোরা এক জেনারেলের নেতৃত্বে তিন দিনে মারলো ২ জঙ্গি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, হামলা নয়, ধাক্কাধাক্কি বিস্ফোরনে ৩ পুলিশসহ ৬ মৃত্যু! স্মরণীয় এখানের একজন পুলিশ ইউএসএ তে বোমার উপর এক বছর ট্রেনিং প্রাপ্ত, নিহতদের একজন ছাত্রলীগ নেতা। সংক্ষেপে যারা (১) ১০ মিনিটে ২৬ লাশ ফেলতে পারে তারা কেন চার দিন নেয় চার জন মারতে। যদিও দৃশ্যত ভয়ঙ্কর কিছুই ছিল না। (২) সেনা ও পুলিশের এত নিরাপত্তার মাঝে ছাত্রলীগ নেতা বোম্ব ডিসপোজেবল ইউনিটের সাথে কি কাজ ছিল এখানে? ছাত্রলীগকে কেন পুলিশ ও সেনাদের মাঝে প্রায়ই দেখা যায় (৩) এসব প্রশিক্ষিত বাহিনী কি বাস্তবিকই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য, না আর কোন অপকর্মের জন্য, সে প্রশ্নও স্পষ্ট হচ্ছে। (৪) কেন বিবিসি বলছে বাংলাদেশে আইএস আছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছে, না নেই। (৫) কেন বাংলাদেশ রিজার্ভ চোর ঘুরে বেড়াচ্ছে বিবিসির রিপোর্ট বের হওয়ার ৩ ঘন্টার মাঝেই ব্যাংকের ১৩ বা ১৪ তলাতে ফরেন এক্সচেঞ্জের অফিসে আগুন লাগে? (৬) কেন আগুন লাগার খবরের পরে পরেই জঙ্গি হামলা হলো? (৭) ২১ দিন আগে পুলিশী হেফাজতে থাকা নিহত জঙ্গী বিমানবন্দরে কিভাবে আত্মঘাতি বোমা হামলা চালায়? (৮) কথিত জঙ্গীর পরিবার থেকে চেকের মাধ্যমে নেয়া ঘুষের সাত লাখ টাকা কার একাউন্টে জমা হয়? (৯) কেন ভারতীয় হিন্দী সিনেমার আদলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের আগেই এরকম একটি সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়? (আমরা জানি ভারত কাশ্মীরের আফজাল গুরুর ফাঁসিতে সাজানো নাটকই বড় ভূমিকা পালন করে) (১০) ৭১ পরবর্তীকৃত সকল অপকর্মের আসামী সম্ভাব্য শত্রু রাষ্ট্র ভারতের সাথে কেন প্রতিরক্ষা চুক্তি করা? (১১)  কেনই বা ভারত থেকে নিচুমানের অস্ত্র কিনতে হবে, কার স্বার্থে? আখতার মাহমুদ জানতে চেয়েছেন প্রায় ডজনখানেক প্রশ্নের জবাবেই লুকিয়ে আছে জঙ্গী নাটকের মূল সুর। পাঠক খোলা মন দিয়ে বিবেক দিয়ে আপনারাও খুঁজুন, জবাবটি নির্ঘাত পেয়ে যাবেন। সত্য প্রকাশ হওয়াই সত্যের নীতি, কিছুদিন চাপা দেয়া যায় হয়তো বা। সংকট প্রকট কারণ মিডিয়াও অথর্ব, পারছে না প্রকাশ করতে নানা জটিলতাতে। নেতা কর্মী গুম সরকারী রুটিন ওয়ার্কের আওতায় হচ্ছে, প্রতিটি সচেতন আঁচ করছেন। তাই আকাশ, বিকাশ, বাধন, ডন টাইপের নাম দিয়ে কিছু আগে এদেরে হত্যা করা হয়েছে। অস্ত্র হিসাবে আছে একে-২২ রাইফেল আর নাইন এমএম পিস্তল। কাউন্টার টেররিজম মনিরুলের দাবী অনুযায়ী এটি ভারতে তৈরী। দেখুন কিভাবে বন্ধু রাষ্ট্র এসব যোগান দিচ্ছে সন্ত্রাসীদেরে যাদেরে তারা লালন করছে আর মশলাও দিচ্ছে। বিনা অপরাধে এসব স্বাধীন দেশের নির্দোষ মানুষ মারছে সরকার সবার নাকের ডগা দিয়ে। আর কাজটি করছে তারাই যাদের হাতে দায়িত্ব মানুষের জান মালের নিরাপত্তা দেয়া। বেড়াতে ধান গিলে খাচ্ছে। বেড়া জানে না যতই গিলুক যেদিন এর ফেরত হবে তখন কি কোন আদালত এত মৃতের ভার বইতে পারবে? তারপরও ঐ বন্ধুর কাছ থেকে কেন অস্ত্র কেনা বা প্রতিরক্ষা চুক্তি করা? এ জাতির সামনে কি আর কোন পথ খোলা নেই। তার চেয়ে বঙ্গপোসাগরে গিয়ে ঝাপ দিয়ে মরে গেলেই কি ভালো নয়? দেশবাসী এমন সংকট থেকে বাঁচতে ঝাপ দিন নয়তো প্রতিরোধে মাঠে নামেন!! নীচের ভিডিওতে জানুন কিছু ঐতিহাসিক সত্য তথ্য, দরকারে গবেষনা করুন। রিজার্ভ ফান্ডের দলিল প্রমান বিনষ্টে চলছে নানা রকম ষড়যন্ত্র। ভিডিওটি দেখতে পারেন। 

Andolon News | 24 Mar 2017 | রিজার্ভ ফন্ডের টাকা লোপাটের দলিল প্রমাণ বিনষ্টে চলছে নানা রকম ষড়যন্ত্র।

 

অতীতে দেখেছি আমরা আওয়ামী লীগের নায়করাই জঙ্গির মূল যোগানদাতা, অতপর বাতাসে মিলিয়ে যান। মনে কি পড়ে সিলেটের আতিয়া মহলের আদলে গাজীপুরে গত বছরের ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর শনিবার পুলিশী মঞ্চনাটক। ১ মাস আগে প্রশাসনই ভাড়া নিয়েছিল হাড়িনালের ঐ বাড়ি। এভাবে সেদিন উন্মোচন হলো গাজীপুরে জঙ্গি নাটকের রহস্য। গত ৮ অক্টোবরের সে মঞ্চনাটকের নাম ছিল অপারেশন শরতের তুফান, এতে সাতজন নিহত হয়। হাড়িনালে ২ জন, টাঙ্গাইলের কাগমারায় ২ জন এবং সাভারের আশুলিয়াতে ১ জন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকদের কাছ থেকে এসব ভয়ঙ্কর তথ্য জানা যায়। অভিযানের আগের রাতেই বাড়ীটি ঘেরাও করা হয় পুরো পশ্চিম হাড়িনাল এলাকায়। একদিনে ১১ কথিত জঙ্গি হত্যার এই পুরো নাটক নির্মিত হয় আওয়ামী পুলিশের সংগঠন পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুরের এসপি হারুনের নেতৃত্বে। যিনি ইতিপূর্বে প্রকাশ্য রাজপথে বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন ফারুককে অন্যায়ভাবে পিটিয়ে আহত করেছিলেন। অতপর আল্লাহর বিচার একটু দূরে হলেও আসবে না সেটি, বলা ঠিক না। সময় হলে ঠিকই আসে, যদিও আমরা বুঝি না মনে করি দুনিয়া বুঝি হাতের মুঠোয় নেয়া যায়। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো হাতেই দুনিয়া নেই, সেটি বুঝতে পারলে ভালো হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের আগুন কাকতালীয় না পরিকল্পিত? জনকন্ঠ ছেপেছে, আমাদের সময়ও ওটি ছেপেছে। এসব হচ্ছে সরকারের জটিলতাকে হালাল করার নির্দেশিত সাজানো কলাম। প্রমান দেখুন, ঐ কলামে এসেছে ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক (ঢাকা) সমরেন্দ্রনাথ বিশ^াস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, এসব সামান্য ঘটনা, এসব শুধু শুধু বড় করে দেখা হচ্ছে, চায়ের কিটলী থেকে এসব হতে পারে? তার দৃষ্টিতে চেয়ারের টাওয়েলটিও পুড়ে নাই। কিন্তু এদিকে চায়ের কেটলীতে যে সারা দেশ পুড়ে যাচ্ছে সেটি সমরেন্ত্রনাথরা কোন সময়ই দেখবেন না। কিন্তু দিনের আলোতে পরিদর্শকরা দেখেন সেখানে মুদ্রানীতি বিভাগের মহা ব্যবস্থাপকের পুরো কক্ষই পুড়ে যায়। কম্পিউটার আসবাবপত্রসহ কিছুই বাকী নেই, সব পুড়ে ছারখার। তার কক্ষেও কম্পিউটার আসবাবপত্রসহ পুড়ে ছারখার। তার ব্যক্তিগত সহকারীর কক্ষের সবকিছুই পুড়ে গেছে। এসব কক্ষগুলি হলুদ ফিতা দিয়ে ঘিরে রাখা, সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।  ওদিকে মন্ত্রী নাসিম বলছেন বিএনপি জামায়াত সারা দেশে জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটিয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিরা প্রধান বিচারপতিও বলছেন আমরা অনিরাপদ। যদিও জনতার পক্ষে বলা যায় কুচাই এলাকার নিরপরাধ ফাহিমের পরিবারের মত নিরপরাধদের মৃত্যু কান্নাতে এদের কারো চোখ ভিজে না। এসব দুর্নীতি নির্মূলে সরকার দ্বিধান্বিত, বলেছে টিআইবি (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ)। একটি অংশ এসব দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করতে চায়, এটি স্পষ্টভাবে এসেছে। হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক, বিসমিল্লাহ গ্রুপের অর্থ আত্মসাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এছাড়াও আছে ঋণ নেয়া ও ঐ টাকা আত্মসাতের ঘটনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ব্যাংক নাজুক অবস্থানে, খেলাপি ঋণের পরিমান ৬৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। টাকা আত্মসাতের দু মাস পর জনগণ জানতে পারে অন্য দেশের বরাতে। দেশের মুখ চাপা, গণ মাধ্যম সত্য প্রকাশ করতে পারে না। প্রকাশিত দেশ ফিলিপাইনই স্পষ্ট করে বাংলাদেশের ভিতরের লোকজনই এতে জড়িত। এর স্বপক্ষে সব প্রমান। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকও একই কথা বলছে। এর জন্য তদন্ত প্রকাশিত হচ্ছে না, মাঝে মাঝে মুখ ফসকে সত্য বলা অর্থমন্ত্রী আবুল মালও এটি প্রকাশ করেছেন যে এসব প্রকাশ করা যাবে না। ডাল মে কুচ কালা থাকার কারণে এসব জটিলতা! যদিও সাধারণের জন্য ভাসুরের নাম নিতে মানা, তবে চিরন্তন সত্য হচ্ছে আজরাইল কিন্তু ভাসুর মানে না!

নাজমা মোস্তফা

২৮ মার্চ, ২০১৭।

 

সিকিম একটি বহুজাতিক অধিবাসী অঞ্চল। মূলত সেখানে প্রধান তিনটি জনগোষ্ঠীর বাস—লেপচা, ভুটিয়া ও সেরপা। লেপচারাই এখানের মূল বাসিন্দা, যার জন্য দেখা যায়, লেপচারা অন্যদের তুলনায় তাদের মৌলিক আচার ধরে রাখতে বেশি উৎসাহী । জানা যায়, লেপচা ও ভুটিয়ার বড় অংশ ৭০ শতাংশেরও বেশি জনতা নেপালি। এরাই সেখানের বড় গোষ্ঠীর জনতা। সিকিম হিমালয়ের পূর্বে অবস্থিত একটি অঞ্চল। পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গের নিচে প্রাকৃতিক লীলাভূমি হিসেবে ছড়িয়ে থাকা একটি অঞ্চল। নেপাল, ভুটান ও ভারতের কাছ ঘেঁষে খনিজ সম্পদে ভরপুর প্রাণিবিদ্যা ও জীববিদ্যার উপকরণে সমৃদ্ধ অঞ্চলটি ১৯৫৮-৬০ সিকিম গেজেটের হিসাবে ৭২৯৯ স্কয়ার কিলোমিটার বিস্তৃত। সামপ্রতিক ২০১১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরে একটি ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল ছিল সেটি। সে কারণেও সিকিম চিন্তার দুয়ারে নাড়া দেয় নতুন করে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। পুরো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পন্ন হতে এমনিতেই কিছু সময় লাগে এবং দেখা যায়, যতই সময় যায় ততই ক্ষতির পরিমাণ বাড়ে। বাংলাদেশও এ কম্পনে দুলে উঠে উল্লেখযোগ্য একটি সময়, যা এ যাবত্কালীন সব ভূমিকম্পনের সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। এ একটি আগাম সতর্ক সংকেত দেশবাসীর জন্য। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সঙ্কটের সম্মুখীন হলে সবাইকে মনে মনে প্রস্তুতি নিতে হবে। যদি এমন হয় তখন কী কী করতে হবে। তাছাড়া বাংলাদেশ মানচিত্রের দেশটিও এরকম সিকিমীয় মানচিত্রিক ভূকম্পনের শিকার হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। পার্শ্ববর্তী বন্ধু রাষ্ট্রের বর্ডার ইস্যুর সঙ্গে আরও নানান আচারে একের পর এক বিদ্ধ হচ্ছে দেশটি।

mapofindiaবহুদিন থেকে মনের গোপন কোণে সিকিম চিন্তার রাজ্যে সুপ্ত হয়েছিল, ভূকম্পন যেন সে মনের নাড়াকে সামনে নিয়ে আসে। অতীত থেকে, ইতিহাস থেকে মানুষ শেখে। এটি খুব সহজ শিক্ষা, অন্যের দুর্যোগ দেখে ঠেকেও মানুষ শেখে। সিকিমের মানচিত্রের কিছু জমা ইতিহাসের পাতায় জমে আছে, সচেতনরা সেখান থেকে খোরাক জমা করতে পারেন, রিখটার স্কেল ছাড়াও অনেক ভূকম্পনের মাত্রাও আঁচ করতে পারেন। বাংলার পলাশীর প্রান্তর তার অধিবাসীদের জন্য অনেক বেদনার উপাচার সংগ্রহ হিসেবে জমিয়ে রেখেছে। কেমন করে এককালে স্বাধীন এ অঞ্চলের মানুষ পরাধীনতার শিকল পরেছিল। তার সবক’টি সূত্রকথা ছলনা, মীর জাফরি প্রক্রিয়া। সেটি কী ছিল, কেমন ছিল তা জানার জন্য আছে ইতিহাস। ইতিহাস নিয়ে অনেক ধামাচাপা হয়েছে যুগে যুগে, আজও হচ্ছে। তবে প্রকৃতই ধামাচাপা দেয়ার যুগ মনে হচ্ছে আজ বাসি হয়েছে। ইন্টারনেটের বদৌলতে সাজানো সত্য-মিথ্যা সবই গবেষণা করলে মূল সত্য ধরা পড়বেই। মনে হয় একে এড়িয়ে যাওয়ার ফুরসত খুব কম। সে হিসেবে বলা চলে, এ বুঝি সত্য যুগের নমুনা।

৬ এপ্রিল ১৯৭৫, সকালবেলা। রাজা পালডেন থনযুপ নামগয়াল সবে নাশতা শেষ করেছেন, তখনই শুনলেন রাজপ্রাসাদ অঙ্গনে গোলাগুলির আওয়াজ। দৌড়ে গেলেন জানালার ধারে। যা দেখলেন তা তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ভারতীয় সেনারা তার প্রাসাদ রক্ষীদের আক্রমণ করেছে। চোখের সামনে মাত্র ৩০ মিনিটের নাটকীয় অপারেশনে তার এক উনিশ বছরের রক্ষীর জীবনের বিনিময়ে রাজা পালডেন সিংহাসন হারালেন। সেই সঙ্গে অবসান হলো ৪০০ বছরের রাজতন্ত্র এবং হারিয়ে গেল পৃথিবীর বুক থেকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। আর তা পরিণত হলো প্রতিবেশী ভারতের একটি প্রদেশে। জাতিসংঘে একটু গুঞ্জন হলো। বিশ্বের কেউ টুঁ শব্দও করল না। কারণ হিসাবে বলা হলো, দেশটি গণতন্ত্র পেয়েছে, যদিও তা আর একটি দেশের অঙ্গ হিসেবে। তা ছাড়া আরও যুক্তি দেখানো হলো দেশটির জনগণই স্বাধীনতা চায়নি, চেয়েছে ভারতের সঙ্গে মিশে যেতে। কিন্তু জানা যায়, লেপচা ও ভুটিয়ারা জনতার বড় অংশ, তারা চ্যাগল সাম্রাজ্যে সুখী ছিল।

উল্লেখ্য, চীন আজও ইন্ডিয়ার এ আগ্রাসনকে মেনে নিতে পারেনি, তারা স্বীকৃতি দেয়নি। কোনো রাষ্ট্র প্রশ্ন না তুললেও বিশ্লেষক, গবেষক ও বিদগ্ধজনরা তখন এবং এখনও অনেক প্রশ্ন তুলেছেন, যার সঠিক জবাব কখনও মেলেনি। এসব বিশ্লেষকের মধ্যে রয়েছেন এক ভারতীয় সাংবাদিক সুধীর শর্মা। একটি জাতির হারিয়ে যাওয়ার বেদনা (পেইন অব লুজিং এ নেশন) শিরোনামে এক চমৎকার প্রতিবেদনে সিকিমের ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা ও হটকারিতার ইতিহাস বর্ণনা করে সিকিমের বিদায়ের কাহিনী লিখেছেন তিনি। মন্তব্য করেছেন, এমনটি যে হবে তার চেষ্টা শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিদায়ের লগ্ন থেকেই। এমনকি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওয়াহেরলাল নেহরু এক কথোপকথনে সাংবাদিক ও কূটনীতিবিদ কুলদীপ নায়ারকে এর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মিলেছিল নেপথ্যে ইন্ধনকারী একজন মীর জাফররুপী কাজী লেন্দুপ দরজি। ভারতের নেতারা ক্লাইভের ভূমিকায় ছিলেন। তবে এখানে স্লোগান ছিল গণতন্ত্রায়ণ, সংখ্যালঘুর ক্ষমতায়ন এবং রাজতন্ত্রের অবসান। তবে ফলাফল সেই একই। প্রভুর পরিবর্তন! গণতন্ত্র, ক্ষমতায়ন সবই হলো। শুধু জনগণ তার স্বাদ অনুভব করতে পারল না। আসলে সব কর্মকাণ্ডের মূলে ছিল নিয়ন্ত্রণ ও দখল। গদিচ্যুত হওয়ার তিন দিন পর রাজা পালডেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন।

‘আমি বাকরুদ্ধ হয়েছি তখনই যখন ভারতীয় বাহিনী সিকিম আক্রমণ করল। (প্রাসাদের) ৩০০ এর কম গার্ডের ওপর আক্রমণ চালানো হলো। অথচ এরা ভারতীয় দ্বারা শিক্ষাপ্রাপ্ত এবং তারা ভারতীয় অস্ত্রে সজ্জিত ও ভারতীয় অফিসার দ্বারা পরিচালিত। সিকিমরা ভারতীয়দের কমরেড ভাবে। এ আক্রমণ গণতান্ত্রিক ভারতের সবচেয়ে ন্যক্কারজনক দিন’ কথাটি তিনি বড় দুঃখে লিখলেন। রাজা পালডেন হয়তো এমন করুণ পরিণতিকে অন্যদিকে মোড় দেয়াতে পারতেন, যদি তিনি আর একটু স্মার্ট হতেন। লিখেছেন বি এস দাশ। তার সিকিম সাগা বইতে মি. দাশ লিখেছেন, যদি রাজা আর একটু বুদ্ধির সাহায্যে তার কার্ডটি খেলতেন তাহলে অবস্থা অন্যরকম হতো। দাশ সিকিমে ভারতীয় পলিটিক্যাল অফিসার ছিলেন যখন গ্যাংটকের পতন ঘটে। ভারতীয় পলিটিক্যাল অফিসার অর্থে তিনিই প্রকৃত ক্ষমতাধারি ব্যক্তি ছিলেন ১৯৫০ সালের সিকিম ভারত চুক্তি অনুযায়ী। দাশ লিখেছেন, ‘সিকিমকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন ভারতের প্রতিরক্ষার খাতিরে, আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছিলাম।’

অথচ রাজা পালডেন বুঝতেই পারেননি ভারতীয় উদ্দেশ্য। তিনি ভাবতেন, জওয়াহেরলাল নেহরু ও এম কে গান্ধীসহ সব বড় নেতা তার পরম শুভানুধ্যায়ী।

পালডেনের সেক্রেটারি ক্যাপ্টেন সোনম ইয়ংডো লিখেছেন, রাজা তার ভয়ঙ্কর স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি যে, ভারত কখনও তার ছোট রাজ্যকে দখল করে নেবে। অথচ এমনটি হবে এবং এর জন্য একটি মাস্টার প্লান প্রস্তুত। সে কথা চীন ও নেপাল সিকিমের রাজাকে জানিয়েছিল। ১৯৭৪ সালে নেপালের রাজার অভিষেকের সময় রাজা পালডেন কাঠমান্ডুতে যান। সেখানে নেপাল, চীন ও পাকিস্তানের নেতারা রাজা পালডেনকে তিনটি হিমালয়ান রাজ্যকে নিয়ে ভারতের মাস্টার প্ল্যানের কথা বলেছিলেন। নেপাল সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের সম্পাদক সুধীর শর্মা লিখেছেন, চীনের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী রাজা পালডেনকে গ্যাংটকে না ফেরার পরামর্শ দেন এ জন্য যে, এ মাস্টার প্ল্যানের প্রথম শিকার হবে সিকিম। অন্য দুটির জন্য রয়েছে আরও জটিল পরিকল্পনা। পালডেন এ কথা বিশ্বাস করতে পারেননি। শর্মা লিখেছেন, রাজা পালডেন ভারতকে তার সবচেয়ে বড় সুহৃদ মনে করতেন। কেননা তার সেনাবাহিনী প্রাসাদরক্ষী এবং তার শাসনতন্ত্র নির্মাণ ও পরিচালনা ভারতই করত। তিনি তাদের বললেন, আমার সেনাবাহিনী কেমন করে আমার বিরুদ্ধে লড়বে? তাছাড়া রাজা পালডেনকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অনারারি মেজর জেনারেলের পদমর্যাদা দেয়া হতো। নেহরুও বলেছিলেন, এমন ছোট দেশ দখল করার প্রয়োজন নেই (১৯৬০ সালে কুলদীপকে নেহরু বলেছিলেন, টেকিং এ স্মল কান্ট্রি লাইক সিকিম বাই ফোর্স উড বি লাইক শুটিং এ ফ্লাই উইথ এ রাইফেল)। অথচ তার কন্যা মাত্র ১৫ বছর পর ‘জাতীয়’ স্বার্থের কথা বলে সত্যিই সেই মাছিকে হত্যা করলেন। তবে দখলের বীজ নেহরুই বুনেছিলেন। সিকিমের রাজতন্ত্রের পতনের লক্ষ্যে সিকিম ন্যাশনেল কংগ্রেস (এসএনসি) গঠনে তিনিই উৎসাহ জুগিয়েছিলেন।

এসএনসির নেতা লেন্দুপ দরজির গণতন্ত্রের সংগ্রামকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যায় প্রথমত নামগয়াল পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য। আসলে কাজী ও নামগয়াল ছিল একে অন্যের শত্রু। এই বিভেদকে ভারত কাজে লাগায় তার মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে। ক্যাপ্টেন ইয়ংজু লিখেছেন—‘ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বেসামরিক পোশাকে রাজার বিরুদ্ধে গ্যাংটেকের রাস্তায় মিছিল, আন্দোলন ও সন্ত্রাস করত।’ এমনকি লেন্দুপ দরজি নিজেই শর্মাকে বলেছেন, ‘ভারতের ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর লোকেরা বছরে দু-তিনবার আমার সঙ্গে দেখা করত কীভাবে আন্দোলন পরিচালনা করা যাবে—সেসব বিষয় জানার জন্য। তাদের একজন এজেন্ট তেজপাল সেন ব্যক্তিগতভাবে আমাকে অর্থ দিয়ে যেত এ আন্দোলন পরিচালনার জন্য। এ অর্থ দিয়ে রাজনৈতিক সন্ত্রাস পরিচালিত হতো। শর্মা লিখেছেন, এই সিকিম মিশনের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল ভারতের ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (সংক্ষেপের)। এর ডাইরেক্টর অশোক রায়না, তার বই ইনসাইড র : দ্য স্টোরি অব ইন্ডিয়ান সিক্রেট সার্ভিস—এ বাংলাদেশ অধ্যায়সহ সিকিমের বিষয় বিস্তারিত জানিয়েছেন। রায়না লিখেছেন, ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ১৯৭১ সালেই সিকিম দখল করে নেয়া হবে। সে লক্ষ্যে সিকিমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সৃষ্টির জন্য আন্দোলন, হত্যা, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি ইত্যাদি করা হচ্ছিল। এখানে হিন্দু নেপালি ইস্যুকে বড় করে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টায় সফলতা আসে। দরজির সঙ্গে এসব সাক্ষাত্কার রেকর্ড হয়ে আছে। ভারতের ‘র’ নামের এই সংস্থাই মূলত মিশন সিকিমের মূল হোতা। এটি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা পায় এবং মাত্র তিন বছরে পাকিস্তান নামের একটি দেশকে ভেঙ্গে টুকরো করে দেয় এবং একটি নতুন দেশ বাংলাদেশের সৃষ্টি করে। আগ্রাসনের মাঝে সিকিম দখল করা তাদের এরকম আর একটি সার্থক প্রচেষ্টা ছিল। প্রতিবেশী দুটি দেশে এ রকম চাল চেলে দুটি ক্ষেত্রেই তারা চরমভাবে সফল হয়েছে।

গ্যাংটক পোস্টের সম্পাদক সিডি রাই বলেছেন, ‘সিকিমের নেপালি বংশোদ্ভূত সমপ্রদায়ের মধ্যে দৃঢ়ভাবে ছড়ানো গেল যে, সিকিমের বৌদ্ধ রাজা তাদের নির্যাতন, নিষ্পেষণ করছেন। সুশীল ও এলিটরা এক হয়ে ভাবতে শুরু করল, বৌদ্ধ রাজার নির্যাতনের চেয়ে আমাদের ভারতীয় হয়ে যাওয়াই ভালো।’ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরা অনেকে ধারণা রাখেন, এরা মানবতাবাদী। অহিংসা পরম ধর্ম। কিন্তু তারপরও সেখানে তিনি বৌদ্ধ হলেও ছিলেন রাজা এবং সে রাজত্ব থেকে তাকে মুছে দেয়ার ভালো যুক্তি হয়ে ভারতের চাণক্যনীতি এখানে কাজ করেছিল। ক্যাপ্টেন সেনাম ইয়ংডো দাবি করেছেন, সিকিমে রাজার বিরুদ্ধে লেন্দুপের আন্দোলন ছোট ছিল এবং তা হয়েছে সম্পূর্ণভাবে ভারতের অর্থানুকূল্যে। তার মতে, ভারত ‘ডাবল গেম’ খেলছিল। একদিকে রাজাকে আশ্বস্ত করছিল যে তার সিংহাসন নিরাপদ এবং তিনি সঠিক পথে আছেন। অন্যদিকে লেন্দুপকে অর্থ ও লোকবল দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলা হয়, যাতে দেশের অধিকাংশ লোককে রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে এক সারিতে আনা যায়। এর ফলে ১৯৭৪ সালের নির্বাচনে লেন্দুপের এসএনসি পার্টি ৩২ সিটের ৩১টিই লাভ করেছিল। এর আগে দিল্লির চাপে রাজা ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় একটি সমঝোতায় আসতে বাধ্য হন। ৮ মে ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত এ মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব কেওয়াল সিংহ এবং ভারত সমর্থিত তিনটি পার্টি সিকিম ন্যাশনাল পার্টি, সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস ও জনতা কংগ্রেস। রাজা এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। এর আগের মাসে এক নাগাড়ে ১০ দিন আন্দোলন চলে গণতন্ত্রের সপক্ষে।

মজার কথা, এই হাজার হাজার আন্দোলনকারীকে গ্যাংটকের পালজোর স্টেডিয়ামে আটকে রেখে ইন্দিরা গান্ধী জিন্দাবাদ স্লোগান উঠাতে বাধ্য করা হয়। এ আন্দোলনের শেষ দিন ভারত বি এস দাশকে পলিটিক্যাল অফিসার হিসেবে নিযুক্তি দিলে সিকিমের তিন পার্টি আন্দোলন উঠিয়ে নেয়। এর কয়েক দিন আগে রাজার কাছে খবর এসেছিল এ তিন পার্টির জয়েন্ট অ্যাকশন (জেএসি) কমিটি ১৫ হাজার মানুষের এক কর্মী বাহিনী নিয়ে সংখোলা থেকে গ্যাংটকের দিকে এগোচ্ছে। ভীত রাজা ভারতের সাহায্য চাইলেও এদিকে জেএসিও ইন্দিরা গান্ধীর কাছে টেলিগ্রাম পাঠাল তাদের কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি দিয়ে এবং এর সঙ্গে সিকিমে হস্তক্ষেপের আবেদন জানালো। এরপর ভারতের জন্য সিকিমে হস্তক্ষেপ করার বিরুদ্ধে আর কোনো বাধাই রইল না। অর্থাত্ ভারতের তিন দশকের পরিকল্পনা, অর্থ ব্যয় এবং আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ড সার্থক হলো। বিশ্লেষকরা তাদের লেখনীতে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন।

নির্বাচনে জিতে ২৭ মার্চ, ১৯৭৫ প্রথম কেবিনেট মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী লেন্দুপ দরজি রাজতন্ত্র বিলোপের এবং রেফারেন্ডামের সিদ্ধান্ত নিলেন। চারদিন পর সারা দেশের ৫৭টি স্থান থেকে ফলাফল এলো। জনগণ রাজতন্ত্র বিলোপের পক্ষে। কৃষিমন্ত্রী কেসি প্রধান অবশ্য বলেছেন, পুরো ব্যাপারটাই সাজানো। ভারতীয় সেনাবাহিনী বন্দুকের মুখে ভোটারদের `হ্যাঁ ভোট দিতে বাধ্য করেছিল। অনেক লেখক বলেছেন, রাজা পালডেন তার রাজত্বের প্রথমদিকে নেহরুর নির্দেশে রাজতন্ত্র বিলোপের লক্ষ্যে তথাকথিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধাক্কা দিল্লির সহায়তায় উের গেলেন। তখন দিল্লিকে পরম সুহৃদ ভাবতে থাকলেন। তাই চীন বলল, ‘যদি ভারতীয় বাহিনী তাকে আক্রমণ করে, তাদের সাহায্য চাইলে ভারত সীমান্তে চীন ও পাকিস্তানের সেনা সমাবেশ ঘটিয়ে ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধ করা যাবে। সুধীর শর্মা লিখেছেন, রাজা পালডেন যখন বুঝতে পারলেন তখন আর কিছুই করার ছিল না। অবশ্য অনেকেই সিকিমের এ বিপর্যয়ের জন্য রানী এবং লেন্দুপের স্ত্রীকে খানিকাংশে দায়ী করে থাকে। তবে বিশ্লেষকরা এ মতকে আমলে নেননি।

হিমালয়ের পাদদেশের তিনটি রাজ্যের ‘প্রটেক্টরেট’ অবস্থানকে সে দেশের ক্ষমতাবানরা মেনে নিয়েছিল। তবে ভারতের ক্রমবর্ধমান চাপ তিনটি দেশকে ক্রমেই একে অন্যের কাছে নিয়ে আসতে থাকলে ইন্দিরা গান্ধী প্রমাদ গোনেন। তাই পরিকল্পনাকে একটু পরিবর্তন করেন। কাঠমান্ডু পোস্টে ৩ জুন ১৯৯৭ ‘ভুটানিজ সিন্ড্রোম’ নামে এক নিবন্ধে প্রচলিত ধারণা যে, সিকিমে নেপালি ভারতীয়রা সব ঘটনার জন্য দায়ী। তা সত্য নয় বলতে গিয়ে দাবি করা হয়, তিনটি দেশের অভ্যন্তরীণ গোলযোগের জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এবং তাদের অর্থ ও তাদের কিছু বশংবদ দায়ী। কাজী লেন্দুপ দরজির নেতৃত্বে এ বশংবদরা পরবর্তীকালে ঘটনা বিপরীতমুখী করতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। লেন্দুপ দরজি ও তার বিদেশি স্ত্রীকে কালিমপং—এ অবশিষ্ট জীবনের তিন দশক দেশবাসীর নিন্দা, ঘৃণা এবং ভারতের অবহেলার বোঝা বয়ে বেড়াতে হয়। কাজী লেন্দুপ এক সাক্ষাত্কারে সুধীর শর্মাকে বলেন, আমি ভারতের জন্য এত করলাম, এমনকি দেশটিও দিয়ে দিলাম। তার প্রতিদানে তারা আমায় এত অবহেলা করল। কাজ হয়ে গেলে পর ভারত কীভাবে তাকে ছুড়ে দেয়, সে বেদনার কথা লেন্দুপ শর্মাকে জানান। প্রথমে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হতো। কিন্তু কাজ ফুরালে দেখা যায় লেন্দুপকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতো একটি সাক্ষাত্কারের জন্য, যেন দ্বিতীয় শ্রেণীর নেতা। এ যেন কাজের সময় কাজি আর কাজ ফুরালে পাঁজি।

অনেকেই বলেছেন, সিকিমের ব্যাপারে ভারত ১৯৭১ সালের লক্ষ্য পরিবর্তনের কারণ বিশ্বপরিস্থিতি এবং প্রতিবেশী দেশের চলমান ঘটনাবলী। তাই এ সময় সিকিমে আন্দোলনের ধারাকে বেগবান রাখতে হয়েছে শুধু। সুধীর শর্মার মতে, বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের অভ্যুদয় এবং ১৯৭৪ সালে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের সাফল্যের কারণে দিল্লিকে আর তার ইমেজের ব্যাপার নিয়ে ভাবতে হয়নি। সে সিকিম দখল করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। বিশেষ করে ভুটানের জাতিসংঘের সদস্যপদ প্রাপ্তি এই সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। ভুটানের জাতিসংঘের সদস্য প্রাপ্তিকে ভারতের সহজভাবে না নিয়ে উপায় ছিল না। স্বাধীন বিশ্বে বিশেষ করে নিরপেক্ষ বলয়ের নেতৃত্বে এমনকি তার গণতান্ত্রিকতার দাবিতে চিড় ধরত। বাংলাদেশকেও তাকে সাহায্য করতে হয় স্বাধীনতাকামী হিসেবে। তার একটিই ভয় ছিল, বাংলাদেশ ও ভুটানকে অনুসরণ করে যদি সিকিম জাতিসংঘের সদস্যপদ দাবি করে। ইন্ডিয়ার এ আগ্রাসনকে চীন মেনে নেয়নি। তবে দেখা যায়, বিবিসির বরাতে একটি শর্তে তারা তা মেনে নেয়ার অঙ্গীকার করে। ২৪ জুন ২০০৩ বিবিসি নিউজে বলা হয়, ইন্ডিয়া যদি তিব্বতের ওপর চীনের কর্তৃত্ব স্বীকার করে, তবে তারা সিকিমকে মানতে পারে। নয়তো কোনো অবস্থাতে এ আগ্রাসনকে তারা মেনে নেবে না।

মালয় কৃষ্ণধর ছিলেন ভারতের সাবেক ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর একজন জয়েন্ট ডাইরেক্টর। তার একটি সুস্পষ্ট অভিমত ছিল সে (লেন্দুপ দরজি) না থাকলে সিকিম কখনোই ভারতের অংশ হতে পারত না|কাজি লেন্দুপ ছিলেন একজন নেপালি বংশোদ্ভূত। কৃষ্ণধর দিল্লির চাতুর্যের প্রামাণ্যতা বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, তার যুবক বয়স থেকেই তিনি লক্ষ্য করে আসছেন বলে মন্তব্য করেন। ১৯৭৫ সালে অন্যায়ভাবে কংগ্রেস বিশেষ করে সঞ্জয় গান্ধী দরজিকে বাধ্য করে তার পার্টিকে ইন্ডিয়ার জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে। কাজী প্রথমে কিছু ইতস্তত করলেও সরকার ও তার সহযোগীরা তাকে এ কাজে বাধ্য করে, যার জন্য জনতা পার্টির সঙ্গে তাকে মিশে যেতে হয়। খুব অল্প সময়ের মাঝে তার আধিপত্য শূন্যতে নেমে আসে। ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধীর ক্ষমতা দখলের পর তিনি আক্ষেপ করছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্কারের। কিন্তু তাকে একটি ডাস্টবিনের ময়লা কাগজের মতো ছুড়ে ফেলা হয়। ওই সময়ের চিত্র মালয় কৃষ্ণধর তার লেখনীতে তুলে ধরেন। তার কথাতে এই সেই লেন্দুপ দরজি যিনি কাঞ্চনজঙ্ঘার মতো এরকম একটি মূল্যবান রত্ন তার পরবর্তী পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে ওদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য ছিলেন। মালয় কৃষ্ণধর দরজিকে ওপরে তুলে ধরতে চেয়েছেন এবং ভারত সরকারকে তার মর্যাদা দিতে উৎসাহ দিয়ে গেছেন তার লেখনীতে।

এদিকে নেপালেও রাজতন্ত্রের অবসান ঘটেছে ঠিক একই পদ্ধতিতে। যদিও দেশটি টেকনিক্যালি এখনও স্বাধীন। তবে এখানে সাত পার্টির জোট ও মাওবাদীরা সর্বতোভাবে দিল্লির ওপর নির্ভরশীল। ইংরেজি আদ্যাক্ষর হিসেবে অনেকে এর নাম দিয়েছে ‘স্প্যাম’ (সেভেন পার্টি অ্যালায়েন্স অ্যান্ড মাওইন্ট) গত নির্বাচনের আগে গিরিজা প্রসাদ কৈরালার নেপাল কংগ্রেস ও সিপিএম ইউএমএল দিল্লিতে গিয়ে তাদের কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন করলে বিশ্লেষকরা বলেন, এটা আর একটি সিকিম সিনড্রোম, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মপদ্ধতির সিদ্ধান্ত নিতে স্বদেশ ভূমিকে ব্যবহার করে না। তারা বলেন, এই ‘স্প্যাম’ পলিটিক্যাল অলিগার্কি বা রাজনৈতিক অভিজাততন্ত্র পছন্দ করে, জনগণের গণতন্ত্র নয়। ঠিক একই লক্ষ্য দিল্লিরও। তারা জনগণ নয়, রাজনৈতিক দলের আনুগত্য কামনা করে। তারা প্রতিটি রাজনৈতিক দলে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় লাইন অব ইনহেরিটেন্স রাখে। একটির পতন হলে অন্যটি সে স্থান পূরণ করে। একজন ভুটানি বিশ্লেষক কাঠমনডু পোস্টে সমপ্রতি এক নিবন্ধে সতর্ক করেছেন এই বলে যে, বর্তমানের ভুটান নেপালের রাজনৈতিক গোলযোগ যদি ঠাণ্ডা মাথায় সমাধানের চেষ্টা না করে, তাহলে এটি ভুটানিজ সিনড্রোম হবে এবং এর পরিণতি হবে সিকিমের মতো। লেখক আরও বলেছেন, গত ছয় দশকের নানা কর্মপন্থায় আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক, দেশীয় ষড়যন্ত্র ও হটকারিতায় যে কর্মকাণ্ড চলছে, তা বিরতিহীন। এসব কর্মকাণ্ড সমগ্র অঞ্চলকেই এক কাতারে আনবে, যদি এখনই এসব কর্মপন্থায় সংযুক্ত নটনটীরা সতর্ক না হয়। পরিণামে সবাই হবে কাজী লেন্দুপ দরজি, যার পার্টি ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে একটি সিটও পায়নি। যদিও মাত্র ৫ বছর আগে তারা পার্লামেন্টে ৩২ সিটের ৩১টি সিট দখল করেছিল। ইতিহাস তাকে আঁস্তাকুড়ে ফেলে দিলে, ভুটানিজ সিনড্রোমের লেখক সতর্ক করে দিলেন। ৪০০ বছরের পুরনো একটি ইতিহাসের সমাপ্তি এভাবেই ঘটে। এভাবেই লেন্দুপ দরজি তার মাতৃভূমিকে ভারতের কাছে তুলে দেন।

বিশাল মানচিত্রের দেশ ভারত প্রতিবেশীর প্রতি কী করছে বা করতে পারছে, এ তার উত্তম উদাহরণ মাত্র।
সামন্ততন্ত্র থেকে বেরিয়ে এসে গণতন্ত্রের ছায়াতলে ঢুকতে পারলে সেটি প্রগতির কথাই বলত। লেন্দুপ সেটি করতে পারতেন। কিন্তু যখন ব্যক্তির লোভ, পদের লোভ বড় হয়ে দেখা দেয়, তখন আর কোনো ফয়সালাই মুক্তির পথ বাতলে দিতে পারে না। ‘দি ইল্লিগ্যাল অকুপেশন অব সিকিম বাই ইন্ডিয়া—থার্টিফাইভ ইয়ার্স অব অপ্রেশন’ অর্থাৎ ‘সিকিমে ভারতের অন্যায় আগ্রাসন—৩৫ বছরের নির্যাতন’ কলামটি ছাপে ২০০৯ সালের অক্টোবরের ১৭ তারিখে মইন আনসারী। ৩৪ বছর আগে যখন ভারতীয় সেনারা সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে তাদের কর্তৃত্ব চালায় তখন গোটা বিশ্বের সচেতন অংশ ঘুমিয়ে ছিল এবং সে দিন থেকে সবাই ঘুমিয়ে আছে। যেখানে তিব্বতের কারণে দেখা যায় পশ্চিমের অনেক বিবেচনা কাজ করে, সেখানে এই নিরীহ জাতি গোষ্ঠীর মানুষের জন্য কারও কোনো চেতনা নেই, কোনো বিতণ্ডা নেই, যার ফলাফল ভারত তার উদরে ঢুকিয়ে নিল। ব্যারিস্টার মুনশি তার বইয়ে এ বিষয়টি অনেক আগেই আলোচনা করে সুস্পষ্ট করে বলেছেন যে, এটি ‘র’ এর কাণ্ড। গোটা বিশ্ব ভুলে গেছে সিকিমের কথা। দক্ষিণ তিব্বতের কিছু অংশ কেমন করে দিল্লি দখল করে নিল তার ব্যাপারেও বিশ্বের কারও দায় নেই। ভুটানের ভাগ্যেও হয়তো তাই অপেক্ষা করছে। ভারতের এ ক্ষুধার যেন নিবৃত্তি নেই। প্রতিবেশীর প্রতি ভারতের এরকম নীতির একটি ফয়সালা হওয়া উচিত। দিল্লির এটা শেখা উচিত যে আগ্রাসনের কোনো শোধ নেই। একটি নিরীহ শান্তিপ্রিয় জাতিকে এভাবে তারা কুক্ষিগত করে রেখেছে। ভারত তার ৪৫০ মিলিয়ন দলিতকে এবং নিম্ন বংশোদ্ভূত মানুষকে অস্পৃশ্য বলে দূরে ঠেলে রেখেছে। বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক বন্ধনে তাদের বেঁধে রাখা হয়েছে। সিকিম তার মূল পরিচিতি ও তার স্বকীয় স্বাধীনতা হারিয়েছে। কঠোর ব্রাহ্মণ্যবাদের যাঁতাকলে বৌদ্ধ অনুসারীরা আজ বেয়নেটের মুখে নির্বাক।

ভারত সরকার অবশ্য সিকিম দিয়ে দেয়ার ২৭ বছর পর লেন্দুপ দরজিকে ‘পদ্মভূষণ’ পদবি দেয় এক অনাড়ম্বর পরিবেশে সান্ত্বনা হিসেবে ২০০২ সালে এবং ১৯৭৪ সালে সিকিম সরকার তাকে ‘সিকিম রত্ন’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এরকম প্রাপ্তির পরও লেন্দুপ ও তার স্ত্রী এলিসা কালিংপনে তাদের জীবনের শেষ সময় কাটান চরম গ্লানিময় অনুতাপের মাঝে। ১৯৯০ সালে তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর লেন্দুপ একাকী বসবাস করতে বাধ্য হন। তার কোনো ছেলেপেলে বা কোনো আত্মীয়স্বজন তার দায়-দায়িত্ব নেয়নি। জনতার ঘৃণা, ক্ষোভ ও বেদনার ঘোর কাটাতে তিনি তার নিজেকে লজ্জাজনক মৃত্যুর দিকেই ঠেলে দেন। অতঃপর পরিপূর্ণ ১০৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। বলা হয়ে থাকে এ মূল নাটক মঞ্চস্থ করতে লেন্দুপের দুই স্ত্রী কম-বেশি জড়িত ছিলেন। ফার্স্ট লেডি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর এ নারীরা ক্ষমতাকেই বড় করে দেখেছেন। এ লড়াইয়ে চ্যাগল রাজা ও কাজী লেন্দুপের লড়াইই মুখ্য ছিল না। এর মাঝে ইতিহাসের আরেক উল্লেখযোগ্য নারী এসে হাজির হন তিনি হলেন ভারতের ইন্দিরা গান্ধী। এই তিন নারীর কোপে পড়ে সিকিম আজ এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ইতিহাসের সাক্ষী গোপাল হয়ে আছে। এ ইতিহাস থেকে শেখার অনেক কিছুই আছে, তবে যদি সচেতন জাতিরা বাঁচতে চায় এবং মিথ্যা ছলনার সাজানো ভেড়ার ঘরে ঢুকতে না চায়, চোখ-কান খোলা রেখে পর্যালোচনা করলে সিকিমের ভূমিকম্পসহ ‘পেইন অব লুজিং এ নেশন’ মানচিত্রের অনেক লুকানো বেদনা উন্মোচন করতে সক্ষম হবেন। এতে সত্যও উন্মোচিত হবে এবং নিজের অস্তিত্বও বিপন্ন-দশা থেকে মুক্তি পাবে।

 

নাজমা মোস্তফা,  Published in Amar Desh, September 25, 2011 (Re post)

Tag Cloud