Articles published in this site are copyright protected.

Archive for the ‘Research’ Category

মীর মশাররফ হোসেনের “গাজী মিঁয়ার বস্তানী”কবিতার অংশ:

 

মীর মশাররফ হোসেনের “গাজী মিঁয়ার বস্তানীর হারানো কবিতার অংশ:

কুষ্টিয়ার সন্তান , কুষ্টিয়ার লাহিড়ীপাড়াতে এক মুসলিম জমিদার পিতা মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবারে মীর মশাররফ হোসেন জন্ম গ্রহণ করেন। তার জীবনকাল (১৮৪৭-১৯১২), তার রচিত উপন্যাস, নাটক কবিতা, গান তৎকালীন সমাজ চিত্রের এক অনবদ্য দলীল। জমিদার দর্পণ, গাজী মিয়াঁর বস্তানী, বসন্তকুমারী নাটক,বেহুলার গীত, মুসলমানের বাংলা শিক্ষা, হযরত আমীর হামজার ধর্ম জীবনলাভ, এসব উল্লেখযোগ্য। ১৮৭৯ খৃঃ জানুয়ারী সংখ্যা “হাফেজ” পত্রিকায় মোশাররফ হোসন ‘উদাসীন পথিক’ নামে কবিতাটি ছিল “গাজী মিয়াঁর বস্তানীর চতুর্বিংশ নথির শেষ অংশ। “আমার জীবনী” গ্রন্থে বস্তানীর একবিংশ থেকে চতুর্বিংশ নথি প্রকাশ পেয়েছে, সেখানে এ কবিতাটি নেই। নয়ন চট্ট্রপাধ্যায় ডট কম সূত্রে  মশাররফ রচনা সম্ভারের ৩৭৭ থেকে ৩৮২ পৃষ্ঠার পিডিএফ স্কেন কপি থেকে নেয়া। আমি কবিতার তিন ছন্দের লাইন সংক্ষেপ করে এক লাইনে সাজিয়েছি।

জানা যায় এটি এমন একটি সময় রচিত যখন রাজ্য হারা মুসলিমরা সাহস হারিয়ে জীবনের দেউলিয়াত্বের কঠিন সময় পার করেছেন। যার জন্য তাকে ছদ্মনামে কবিতাটি প্রকাশ করতে হয়। তারপরও তার পরবর্তী জীবনী গ্রন্থের মূল রচনা সম্ভার অনুপস্থিত। কারণ রাজ্যহারা মুসলিমরা সেদিন সব হারিয়েছে। অর্থ বিত্ত প্রভাব প্রতিপত্তি থেকে শুরু করে ইতিহাসও হারিয়েছিল বৃটিশ হিন্দুর কারসাজিতে। এর গভীর বাস্তবতা তার ‘উদাসীন পথিক’এর লেখাতে ফুটে উঠেছে। অসাম্প্রদায়িক মুসলিম সমাজের উদারতার সুযোগে কিভাবে হিন্দুরা মুসলমানদের সর্বস্ব কেড়ে নেয়, তার সুক্ষ্ম চিত্র কবিতাটিতে খুব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

সবদিন মুসলিমদের মহানুভবতার বৈরী বর্ণবাদী হিন্দুরা:  মুসলমানরা বাংলাভাষাসহ  গোটা সমাজকে আদর্শ মানবতার বুলিতে আপলুত করে এক উদারবাদী সমাজের জন্মদান করে। কালে বিখ্যাত গবেষক পন্ডিত শ্রীযুক্ত ডক্টর দীনেশ চন্দ্র সেন রায় বাহাদুর লিখেছেন, – বঙ্গ সাহিত্যকে একরুপ মুসলমানদের সৃষ্টি বললেও অত্যুক্তি হবে না। মুসলমান সমরাটগণ বহু ব্যয় করিয়া শাস্ত্রগুলিকে অনুবাদ করিয়াছিলেন। আবার দরিদ্র ভবঘুরে শ্রেণীর পুঁথি লেখক সাহিত্যিক আলাওল, মুসলিম মাগন ঠাকুর এদের মত মুসলমানদের পরিশ্রমেও বাংলা সাহিত্য গৌরবান্বিত হয়েছে। শ্রীযুক্ত দীনেশ চন্দ্র সেন লিখেছেন, মুসলমানগণ ইরান, তুরান প্রভৃতি যে স্থান হতেই আসুক না কেন, এদেশে আসিয়া সম্পূর্ণ বাঙ্গালী হইয়া পড়ে। তাহারা হিন্দু প্রজা মন্ডলী বেষ্টিত হইয়া বাস করিতে থাকে। মসজিদের পাশে দেবমন্দিরের ঘন্টা বাজে, মহরম, শবেবরাত প্রভৃতির পাশে দুর্গ্যাৎসব, রাস, দোল উৎসব, চলতে থাকে। তিনি আরো বলেন, রামায়ন মহাভারতের মত মহান গ্রন্থগুলো সর্বপ্রথম অনুবাদ করেন রাজা হোসেনশাহ, পরগাল খাঁ এবং ছুটি খাঁ। আমরা জানি বাংলা কুরআন অনুবাদ করেন ভাই গিরিশচন্দ্র সেন। যার জন্য মুসলিমরা তাকে ভাই বলেও সম্মোধন করে থাকেন। কিন্তু মুসলমানদের অবদানকে কোন সময়ই অপর পক্ষ সম্মানের সাথে দেখেছে তার নিদর্শন তুলনামূলকভাবে খুব কম বরং বারে বারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের হিন্দু সাহিত্যিকদের দ্বারা আক্রান্তই দেখা গেছে। তাদের বরণ্য সাহিত্যিকরাও মুসলিমদেরে যবন, ম্লেচ্ছ, পাতকী, পাষন্ড, দুরাত্মা, দুরাশা, নরপিশাচ, নরাধম, বানর, নেড়ে, দেড়ে, ধেড়ে, অজ্ঞান, অকৃতজ্ঞ বলেছেন। বঙ্কিমবাবু রাজসিংহে বাদশাহ আকবরের দাঁড়িতে যুবতী নারী দিয়ে ঝাড় মারিয়েছেন, উদার অসাম্প্রদায়িক আওরঙ্গজেবকে কপট সৃষ্টি হিসাবে প্রচার করা তাদের  অনবদ্য কাজ ছিল, তার মুখে নারী দ্বারা লাত্থি মারান, মৃণালিনী গ্রন্থে বখতিয়ার খিলজীকে অরণ্যর অর্থে বানর বলেছেন। কবিতায় – “আসে আসুক না আরবী বানর, আসে আসুক না পারসী পামর।” ঈশ^রগুপ্তসহ এটি হিন্দু সাহিত্যিকদের অনবদ্য অবদান। এ অপবাদ থেকে কবি রবীন্দ্রনাথও বাদ যান নাই। বর্ণপ্রথায় আকন্ঠ নির্যাতনে ভঙ্গুর দিশেহারা ভারতবর্ষ ইসলামের মহানুভবতায় নির্যাতীত মানবাত্মা সেদিন বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শিখে, মুসলিম মননের কারণে তাদের অফুরান ঋণ থাকা সত্ত্বেও, তারা পারতোপক্ষে স্বীকার করেনা। বরং পরক্ষণেই তাদের সর্বস্ব লুটে নিতে বৃটিশকে তারা দেবদূত জ্ঞান করে। তাই রবীন্দ্রনাথ বৃটিশ বন্দনাতে গেয়ে উঠেন, জনগণ মন অধিনায়ক জয়হে, ভারত ভাগ্যবিধাতা যা আজো ভারতের জাতীয় সংগীত। আলোর দিশারী মুসলিমরা আজো তাদের চোখে পথের কাঁটা, কি ভারতে কি বাংলাদেশে। কিন্তু গাফেল অসাম্প্রদায়িক মুসলিমরা সেটি যেন আজো আঁচ করতে অপারগ।  পাশের দেশের হিন্দুত্বের একটি প্রামাণ্য ভিডিও চিত্র।

KILLING FIELDS OF MUZAFFARNAGAR

 

বর্তমান মুসলমান সমাজের একখানি চিত্র” যা রচনা করেন মীর মশাররফ হোসেন।  

    দ্বিতল ত্রিতল ঘর / খাড়া আছে ভিত্তিপর / সূর্কি চুন খসিয়া পড়েছে।

           জানালা কপাট ভাঙ্গা, ভেঙ্গে পড়ে ইট রাঙ্গা / কত গাছ শিকড় ছাড়িছে।

          চামচিকে আরশোলা / দিনকানা পেঁচাগুলা / গিরগিটি জেঠী করে বাস।

         যাদের বাসের কথা / কুঁড়ে বেধে আছে তথা / দালানের এপাশ ওপাশ।

       পেটে নাই অন্ন কণা / পরিয়াছে ছেঁড়া তেনা / ছেঁড়া কাঁথা কাহার সম্বল।

           গরমে পরাণ যায় / ঠেকিয়া লজ্জার দায় / গায় দেয় দো-সূতী কম্বল।

          কেহ মোট খেটে খায় / কেহ বোটে দাঁড় বায় / কেহ কাটে জঙ্গলের কাঠ।

        কাঁটায় চিরিছে গাঁ / কুড়ালে কাটিছে পা / শিরে কাঠ, ফিরে সারা হাট।

         সে হাট তাদের-ই ছিল / মহাজন বেঁচে নিল / এবে তারা কড়ার ভিখারী।

        মোটা কঁচু, কাঁচা কলা / আলু ওলে ভরি জ¦ালা / বেচিতেছে বসিয়া দোধারী।

       কাহার মাথায় বোঝা / ভারেতে হইল কুজা / সোজাভাবে চলিতে না পারে।

         আজ অন্ন পেটে নাই / পাইবে দুই এক পাই / ক’ দিন চলিবে আর ধারে?

    তামাক, আগুন, টিকে /জোগাইছে দোকানীকে / কেহ দেয় কলিয়া সাজিয়া।

       মাসি বরাদ্দ আছে / তাতেই পরাণ বাঁচে / ছেলেমেয়ে পরিবার নিয়া।

        এ হাট তাদেরি ছিল / ফাঁকি দিয়ে কেড়ে নিল / পুরাতন নায়েবের ভাই।

       পৈত্রিক বসতবাড়ী / পুষ্করিনী গোলাবাড়ী / কিনিয়াছে তাহার যামাই।

      প্রথমেতে ‘ছুচ’ হয়ে / পশে হিন্দু রয়ে রয়ে / মুসলমান জমিদার ঘরে।

        ক্রমে চেপে বসে ঘাড়ে / সাধ্য নাই মাথা নাড়ে / ‘ফাল’ হয়ে ফাড়ে চেরে পরে।

         বেঁড়ে বুড় বলদেরে / চোম্বা বলি সমাদরে / সদা মুখে যে আজ্ঞা হুজুর।

      সম্মুখে দাঁড়িয়ে রয় / জোড় হাতে কথা কয় / তোষামোদে বড় বাহাদুর।।

       গন্ডমুর্খ জমিদার / ফুলে হল ঢোলাকার / শুনিতেও ভাল লাগে কানে।

       আগ পিছ নাহি চান / আহলাদেতে গলে যান / খাবি খান খুশীর তুফানে।

        যদি বলি জল উচা / বলে হিন্দু তাই সাচা / প্রতিবাদ করে না কাহার।

     বিদ্যাহীন, বুদ্ধিহীন, একেবারে অর্বাচীন / বাঙ্গালার প্রায় জমিদার।

      অলসের দাস হয়ে / বিছানা বালিশ লয়ে / গড়াগড়ি যান দিনরাত।

       মুখে দিতে দুটো ভাত / উঠে না উপরে হাত / দিন দিন হয় কুপোকাৎ।।

      কাৎ হয়ে চিৎ হয়ে / হুকো টানে শুয়ে শুয়ে / মুখে করি সুবাসিত নল।

       পরনিন্দা গ্লানি গীত /শুনে হন হরষিত / গায় গীত মোসাহেব দল।।

      যাহারা দেশের মান / মানি মধ্যে মান্যমান / ছিল মান সম্ভ্রম প্রচুর।

        তাঁদের তনয় যারা / আরদালি হরকরা / হইয়াছে মুটিয়া মজুর।

     সদরালা পুত্র যিনি / কাছারিতে পাখা টানি / করিছেন দিন গুজরান।

       কেহ লাল পাগ বেঁধে / চাপরাশ করি কাঁধে / পোড়া পেট জ¦ালায় হয়রান।

     ডেপুটির পুত্র হয়ে / ডেপুটির বাক্স লয়ে / পালকির আগে আগে ধায়।

    মুন্সেফের সন্তান / মারিয়া তামাকে টান / বাজারেতে টিকে বেঁচে খায়।

      লক্ষপতি জমিদার / সন্তান সন্ততি তার / খেটে খায় অপরের বাড়ী।

      কাজেতে করিলে হেলা / মার খায় দুই বেলা / জুতা লাত্থি খড়মের বাড়ী।

      কটিতে কাঁপড় আটা / হাতেতে বাঁশের ঝাটা / যায় কাঁটা ফেলিতে পথের।

      জিজ্ঞাস তাহার ঠাঁই / পরিচয় পাবে ভাই / সে যে পৌত্র কোন নবাবের।।

      হইয়ে ঘোড়ার ঘাসী / ঘাস তোলে রাশি রাশি / খুরপিই খুন্তির সহায়।

       পরিচয় জিজ্ঞাসিলে / সত্য কথা প্রকাশিলে / অবিশ^াস করিবে তাহায়।

      খাঁ বাহাদুরের নাতি / ছিল কোটা বাড়ী হাতী / আরমাদার কিবা জমিদার।

      গিয়াছে যা ছিল হায় / বার ভুতে লুটে খায় / এবে হইয়াছে খুন্তি সার।

        ঐ যে ভিখারী যায় / ঝোলা ঘাড়ে ফিরে চায় / যাক ওরে জিজ্ঞাস কি বলে।

       বাপ দাদা ধনবান / ছিল বড় মান্যমান / মাথা হেটে পুঁজিত সকলে।

       তাহাদের বংশধর / ভিক্ষা মাঙ্গে ঘর ঘর / হাতে মালা কাঁধে ছালা ঝুলী।

     গলায় তসবির দানা / দেরে বাবা! এক দানা / প্রাণ যায়, মুখে এই বুলী।

       দেখ দিল্লী লক্ষ্নৌ গিয়ে / আছে ভস্মে আচ্ছা দিয়ে / কত মহামূল্য রতœধন।

     শাহানশার বংশধর / পান বেঁচে করে ঘর / কোচয়ানী করে কোন জন।

        নবাব কুলের কুল / বেচিতেছে ফলমূল / মাথায় করিয়া বোঝা বোঝা।

       আম, জাম, নারিকেল / খরমুজা, পাকা বেল / ভারে দেহ হইয়াছে কুঁজা।

     হাতেতে হীরার বালা / গলায় মোতির মালা / কানে ইয়ারিং ফিরোজার।

       পায়ে সোনার মল / করিতেছে ঝলমল / কটিদেশে হেমচন্দ্রহার।

      বেগম নবাবজাদী / বাইজীর হল বাঁদী / কেহ সাদী করে ভেড়ুয়ায়।

       কেহ গুড়গুড়ি মাজে / কেহ বা তামাক সাজে / কেহ বাও করিছে পাখা।

      বঙ্গের বুনেদী দল / গেছে সবে রসাতল / কেহ মরা কেহ আধমরা।

      গেছে সবে হিন্দু ঘরে / কেহ বা তা দৃষ্টি করে / আরও মুখে বলে ভাল তারা।।

    একবার মাথা তুলে / দেখ ভাই চক্ষু মেলে / মুসলমান কিসে হল সারা।

       জমিদারী কোথায় গেল / সেনারুপা কি হইল / এত ঘর কিসে গেল মারা।।

      চিরকাল হিন্দুগণ / করিতেছে নির্যাতন / তবু জ্ঞান হলনারে হায়।

      নিতেছে সকল টেনে / তবু তারে নাহি চিনে / চক্ষে ধাঁ ধাঁ এমনই লাগায়।

        দেখ যত হিন্দু ঘর / কিসে হল ধনেশ^র / খোঁজ দেখি কারণ ইহার।

      প্রতি মুসলমান ঘরে / চাকুরীর সাজ পরে / সর্বনাশ করিল সবার।।

প্রকাশক “উদাসীন পথিক”

Shankaracharya Said Hindu Is Fake Religion – Dr Zakir Naik Islam Kay Mutalliq Galat Fahmiyaan

 

নাজমা মোস্তফা,  ২৩ জুন ২০১৬ সাল।

২০১৬এর রমজানে বাংলাদেশের শাসন যন্ত্রে সংযম সংকট প্রকট

১৫,০০০ বন্দী: সাধু আর শয়তানের স্বরুপ দেখে জেনেও আমরা বিবেক সচেতন মানুষ হয়েও ফারাক বুঝি নি। দুইকে এক পাল্লায় মাপাটাই আমাদের শ্রেষ্ঠ অপরাধ, বড় পাপ। রমজানে একটি মুসলিম দেশে ১৫ হাজার সরকারের বন্দী। সরকার নামেদাগে অসৎ, দেশসহ সবাই গোটা বিশ^ স্বীকার করেছে জানছে। সহজ জবাব হবে ১৫০০০ সাধুকে আসামী সরকার বন্দী করেছে রমজানের মাসে। বন্দুক যুদ্ধে ক্রস ফায়ার দিয়ে পুলিশ দিয়ে ক্রসফায়ারে মারছে তাদেরে, যারা থাকলে সরকারের বিপদ হয় বাড়ন্ত। পরিচয় যাই থাকুক টেগ লাগানো হয় এ প্রাকটিসিং মুসলিম। সরকার ও মিডিয়া বুঝাতে চায় প্রাকটিসিং মুসলিম সমাজের বিপদ। সরকার ও পুলিশ (নামধারী মুসলিম) বিচারের আগেই টেগ লাগায় নিজ সুবিধামতন। বেশ কবছর থেকে আনসারুল্লা বাংলা টিম, হিজবুল্লাহ এসব সাজানো কাকতাড়উয়ার নাম। সচেতন সাংবাদিকেরা ভাতে মরছেন, অর্থে মরছেন, বিবেকে মরছেন। দুই একজনা কষ্টের জমায় দেশ হারিয়ে ফেলার কষ্টের কথা প্রকাশ করছেন দীর্ঘশাস ছেড়ে। ট্রানজিটের নামে ভারত আসে যায়, তাদের হোমরা চোমরারা কথায় কথায় সমানেই বেদনাদায়ক তাালিয়া বাজায়। একটি স্বাধীন দেশকে তারা এভাবে শাসানি দিতে চায়, কারণ মেরুদন্ডহীন এক প্রাণীর দখলে দেশ। সারা দেশ হিন্দুরা তালিকা হাতে চাকরি নিয়েছে ঐ প্রাণীর উর্বর মস্তিস্কের দেউলিয়াত্বে। মুসলিমরা কারাগারে সময় পার করছে। তারপরও ভারত হুমকি ধমকিতে কোমরে হাত রেখে তর্জনী তোলে বক্তব্য দেয়। শক্তিহীন সরকার নীরব। ভারতের মুসলিমরা বিপন্ন দশাতে সব সময়। ওখানেও হিন্দুরা মুসলিমের নামে মিড়িয়াকে কবজা করে হুমকি ধমকি চালাচ্ছে, এ ষ্টিম রুলার তাদের স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই প্রকটভাবে বেগবান। গুজরাট, বাবরী মসজিদ, মোজাফফর নগর মাইল ফলক হয়ে ইতিহাসের অসংখ্য সাক্ষর আছেই। তাদের খাগড়াগড়কান্ডের অমিয় সরকার, মুজাফফরনগরে মন্দিরের সামনে গরূর মাংস রেখে ভিএইচপির কর্মী দেশরাজ সিং, রাজস্থানে সুশীল চৌধুরী, বাঙ্গালোরে আবুল খান নাম নিয়ে হিন্দু যুবকের কারসাজি ধরা পড়লেও বলা হয় এরা চার রাজ্যের চার মানসিক বিকার গ্রস্ত হিন্দু যুবক। তারা হিন্দু যুবকেরা বোরখা পরে মন্দিরের সামনে মাংস রেখে মুসলিম নির্যাতনের দলিল সাজায়। দৈবাত কালে ভদ্রে কেউ ধরা পড়ে, তারপর তারা মানসিক বিকারগ্রস্ত সেজে ছাড়া পায় সহজেই। তারা মনে করে ওখানে ভারতে আল্লাহ নেই, ভগবানের শাসন। পক্ষান্তরে মিথ্যা অভিযোগে মুসলিম ধরা পড়লেও তাদের জামিনও হয় না, এ হচ্ছে ভারত। পাঠক ভুলে যাবেন না, রিজার্ভ চুরির মূল হোতারা থাকেন ভারতে, বৃটিশ পত্রিকা ডেইলি মেইলের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পেট্রোল বোমা কারা মারে – আসিফ নজরুল

 

প্রধাণের নিরাপত্তা: এবারের রমজানে ইফতারের জন্য সন্ধ্যায় সেনানিবাসের সেনামালঞ্চে অবৈধ পথে আসা প্রধানমন্ত্রী হাসিনা হাজির হলে সেনানিবাসের সকল মসজিদের মাইকে মাগরিবের আজান বন্ধ করে দেয়া হয়। তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে, যাতে গুলাগুলি হলে শোনা যায়। এজন্য এই বিতর্কীত নজিরবিহীন কাজটি খুব সহজভাবে করা হয় অপকর্মীর সার্থে। এতে সাধারণ মানুষরা বিস্মিত হন কারণ ৯০% মুসলিমের দেশে এসব অতীতে কখনো হয়নি। এদেশ কি ইসরাইলী আদলে বাড়ছে? অনেকের মনে প্রশ্ন সেদেশেও আজান নিষিদ্ধ। দেশের বেশীর ভাগ সংবাদ মাধ্যম হয়রানি এড়াতে এসব সংবাদ প্রচার থেকেও বিরত থাকে। সম্প্রতি আজ ২১ তারিখের খবরের শিরোনাম “বিদেশী ওয়েবসাইটে (অনলাইন সূত্রে বিদেশটি ইন্ডিয়া) সেনাবাহিনী নিয়োগ বিজ্ঞাপন উদ্দেশ্য প্রণোদিত: আইএসপিআর”। বলা হয় তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোন মহল করে থাকতে পারে, তা ভিত্তিহীন। কিন্তু এসব অপকর্মে কোন শক্ত প্রতিবাদ করার সাহস নেই কেন বাংলাদেশের? জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেছেন, ভারতকে ট্রানজিট দিয়ে শেখ হাসিনা দেশের স্বাধীনতা ১৯২ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি আরো বলেন, ট্রানজিটের নামে সরকার অন্যায়ভাবে স্বাধীনতার হৃদপিন্ড ছিঁড়ে দিল্লীর হাতে তুলে দিয়েছে। সবদিকে বাংলাদেশ শোষিত হচ্ছে। ব্যারিষ্টার হায়দার আলী বলেন, সব হচ্ছে ভারতের নির্দেশে। এই রমজানের সংযমের মাসেও দেশে চলছে শক্তির তলানিতে চরম মতলববাজি কান্ডকারখানা। সরকারের তালিতে গুম খুন হচ্ছে, সরকার নিজেই আসামীকে বিরোধী সাইনবোর্ড সেটে দিচ্ছে বারে বারে। অতি উৎসাহী সরকার নিজের নিরাপত্তা দিতে এটি করছে। সংখ্যালঘুরা অল্প হলেও তারাও নির্যাতীত হচ্ছে, এটিও শক্তিমানের ভিন্ন খেলার অংশমাত্র। শোনা যায় কখনো তারা নিজেরাই তাদের ভাঙ্গা চোরা মন্দির পুড়িয়ে মোটা অংকের টাকা বাগিয়ে নিচ্ছে, এসবের প্রামান্য দলিলও ময়দানে আসছে।

সেনা চাকুরী বিজ্ঞপ্তি ও অস্ত্র নাটক ভারতের প্রচার বিজ্ঞাপনে ভারত ও “র” জড়িয়ে আছে। উত্তরার বৌদ্ধ মন্দিরের পাশে (?) এক নম্বরবিহীন গাড়িতে এক গাড়ী বোঝাই অস্ত্রশস্ত্র ফেলে যায়। প্রথমে কিছু হৈচৈ হয় তারপর চুপ। এসবের সাথে “র” ও বাংলাদেশ গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত বলে জানা গেছে। বাংলাদেশে নম্বরবিহীন গাড়ী একমাত্র ডিজিএফআই ব্যবহার করে। তাই ঘটনা দুর্ঘটনা কমার কোন ভরসা নেই। যেকোন মুহূর্তে যে কোন কিছু ঘটতে পারে, তারা ঘটাতে পারে। একই মঞ্চনাটকের অংশ যেমনটি সাজানো হয়েছিল পিলখানার হত্যাকান্ড, জিয়াহত্যাকান্ড, এমনকি মুজিব হত্যাকান্ডও ভারতীয় চাল জড়িত থাকার সন্দেহ অমূলক নয়। অনেক প্রমাণে তাই দৃশ্যত মনে হয়। জিয়ার ব্যতিক্রমী দেশাত্ববোধের কারণে ভারত অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার চক্রান্ত বাস্তবায়নে বাধার সম্মুখীন হয়। যার স্বাভাবিক পরিণতি তার মৃত্যু, পথ পরিষ্কার করা। তারপর থেকেই কয়েকশ অফিসারকে গোপনে লাখ লাখ টাকা (ইসলামে এসব হারাম অর্জন) মাসোহারা দেয়া হয়। ফলে ১/১১ সাজানো সহজ হয়। যার সহজ পরিণতিতে সব নাটক হয়, হাসিনা দৃশ্যপটে পুনরায় আবির্ভূত হন। এর সহজ পরিণতিতে পিলখানাতে সেনা বিদ্রোহ সহজ গতি পায়, বহু অফিসার চাকরি হারান, কঠোর নিরাপত্তায় দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। বর্তমানে যারা বহাল আছেন তারা বেশীর ভাগ ঐ মাসোহারার কিস্তির সদস্য তারা। যার জন্য স্মরণ আছে নিশ্চয় একবার জয় বলেছেন এখন আর সেনাবাহিনীর এমন কেউ নেই যে নড়বে চড়বে বিপ্লব প্রতিবাদ করবে। ২০১০ সালে হাসিনার ভারতের সাথে যে গোপন ৩০টি চুক্তি হয়েছে যার কিছুই জানে না দেশবাসী বা সংসদও। সিরাজুর রহমান, আতাউস সামাদরা ঐ সময় অনেক চেচামেচি করেছেন এখন তারা মৃত; ময়দান খালি, মুমূর্ষু অনেকেই কারাগারে।  যার সহজ পরিণতি এত এত গুম খুন হত্যা ধ্বংস স্বাধীনতা হারানোর মত ভয়ঙ্কর অবস্থান দেশে চলমান। ভারতীয় এজেন্ডাতে সেনাবাহিনীর বিজ্ঞাপনও তার অংশ মনে হয়। অতি সম্প্রতি পুলিশে সেনাবাহিনীতে বাইরের লোক নিয়োজিত হয়েছে তার প্রামাণ্যতা ভিডিও ফুটেজে এসেছে, এরা বাংলাভাষী নয় । ভারতীয় পোর্টালে এরকম খবরও আসে যে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন ভারতীয়রা। জানা যায় এসবে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র জয় বলেছেন, বাঙ্গালীদের উচ্চতা কম, তাই পাঞ্জাবী উচ্চতার যুবকদের সেনা হিসাবে চাই। আরো কোন ভয়ঙ্কর খেল হচ্ছে না, বলা যাবে না। যেভাবে সুষমারা ভারতীয়রা হিন্দু নাটকের মহড়া সাজাচ্ছে তাদের নিজেদের স্বার্থে। বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক দেশ সাজানোর পেছনে ভারত নেই, বলার উপায় নেই।

 রমজানে দৈবের জঙ্গি নাটক ফাঁস : এসব সাজাতে উদ্দেশ্যমূলক হিন্দু, খৃষ্টান, ব্লগার, নিধন হচ্ছে দেদারসে। নির্যাতীত নির্দোষ জনতার ভালো ছেলেরাও রমজানের লাশ হচ্ছে। দৈবের খেলা হিসাবে কিছু চাঞ্চল্যকর খেল ফাঁস হয়ে গেছে। এবারের কাকতাড়য়া ছিল ফাইজুল্লাহ ফাহিম নামের এইচএসসির এক ছাত্র ১৮ বছরের ছেলে যাকে শিবির হিসাবে সাজায় পুলিশ। ঘটনার বিভিন্ন রকম যোগসূত্র আসছে। কেউ বলছে জনতারা তাকে ময়দানে ধরেছে। কেউ বলছে ভিন্ন কথা। দুর্ঘটনা ঘটানোর ৪দিন আগে তাকে আটক করা হয়। বেকায়দার সরকারকে উদ্ধার করতে জঙ্গি নাটকে বিরোধীর সম্পৃক্ততাকে কোনভাবে প্রমাণ করতে খুব চাপের মাঝে সরকার ও তার লাঠিয়াল বাহিনী পুলিশ ও র‌্যাব। রিমান্ড মারধর পরে পুলিশ জানতে পারে ফাহিম একজন নামাজি ছেলে, তবে সে শিবির বা তাবলিগ পছন্দ করে না। তার বাপ মায়ের বক্তব্যেও তা স্পষ্ট হয়। অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলামের নির্দেশে এ নাটক সাজানোর সিদ্ধান্ত হয়। এবার কোপানোর জন্য নির্ধারিত একজন হিন্দুর উপর এ সহজ নাটকের মহড়া চলে। পুলিশ ফাহিমকে তার বাবার মোবাইলে এসএমএস করিয়ে খবর পাঠাতে বাধ্য করে যে সে বিদেশে চলে যাচ্ছে, এ ছাড়া উপায় নেই। বেঁচে থাকলে দেখা হবে। বাবা গোলাম ফারুক ইত্যবসরে থানাতে ডিজি করেন। ফাহিমসহ আরো দুজনকে গাড়ীতে করে প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর ভাড়া বাসায় নেয়া হয় ও তাদের কোপাতে নির্দেশ দেয়া হয়। কোপানোর পরই তাকে পরিকল্পনা মাফিক আটক দেখিয়ে থানায় নিয়ে সেখান থেকে সড়ক পথে ঢাকায় নেয়া হয়। আর প্রচার করা হয় বাকীরা পালিয়ে গেছে। এরপর তার উপর ট্রেনিং চলে এসব শিবিরের কাজ, রেটিনা কোচিং সেন্টার জড়িত, বরিশালে আরো হামলা হবে, মীর কাসেম আলীর আইনজীবি বান্নাকে ফাঁসাতে হবে, উত্তরার অস্ত্র উদ্ধারের সব আগাম স্বীকারোক্তির প্রশিক্ষণ তার উপর দিয়ে চলে। তার আশা অনেক কিছুই তাদের কথামত শর্ত সাপেক্ষে কাজ করাতে যদি সে ছাড়া পায়, বার বার ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানায়। এর মাঝে চলে ১০ দিনের রিমান্ড। সে জানায় তার মামা বড় অফিসার, দরকারে তিনি ছাড়িয়ে নিয়ে যাবেন। রিস্ক দেখে মনিরুল ও তার উর্ধ্বতনরা তাকে ময়দান থেকে সাফ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অতপর নিয়ে যাওয়া হয় মাদারীপুরের মিয়ারচরে। পুলিশের একাধিক আসামী সামনে থেকে তাকে গুলি করে হত্যা করে, মুজিবের আমলে সিরাজ শিকদারতে যেভাবে হত্যা করা হয় ঠিক ওভাবে, হাতে হাতকড়া, গুলি বুকের বাঁ পাশে হৃদপিন্ড ঝাঝরা করে। জনতার হাতে তার ধরা পড়ার সব গল্প মিথ্যা, সাজানো। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে এক পুলিশ অফিসারই সাংবাদিকদেরকে বলেছে, অনেক পুলিশ গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। মুখরা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ফাহিম শিবির করতো আর পুলিশ বলেছে ফাহিম হিজবুত তাহরিরের লোক। শিবির, আনসারউল্লাহ বাংলা টিম, হিজবুত তাহরির এসব হচ্ছে নষ্ট সমাজের ফসল রক্ষার তাকতাড়য়া। কিছুদিন আগে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর  মাগুরাসহ ভিন্ন জেলা উপজেলাতে পুলিশের উদ্যোগে বাঁশের লাঠি তুলে দেয়া হয় সংখ্যালঘু পুরুষ মহিলাদের হাতে, আমরা প্রকাশ্যে উচ্ছস্বিত লাঠিয়াল নারী পুরুষদেরে দেখি। নিজেদেকে ধোয়া তুলসি পাতা দেখাতে এসবও শক্তিমানের নাটকের অংশ মাত্র, পুলিশ র‌্যাব তাদের সহযোগী মাত্র।

প্রধান মন্ত্রীর নীল নকশা পাঁশ করলেন – ডঃ তুহিন মালিক

 

চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর মেয়ে তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করেও ময়না তদন্তের নামে অসভ্য নাটক চলছে। দেখলাম তার বাবাকে মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রকৃত আসামী না ধরে বরং তনুর সব দাগচিহ্ন ডায়রি, অ্যালবাম পুলিশ কবজায় নিতে ব্যস্ত। সব সময়ই আসামীরা সরকারী লোক না হলে কেন সরকার বারে বারে ওদের রক্ষায়ই তৎপর দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন দেশটি ভারত নিয়ন্ত্রিত ভোটহীন একটি দেশ। এ হচ্ছে ৭১এর স্বাধীন বাংলাদেশ। পেট্রল বোমা, পেপার স্প্রে সরকারের উদ্ভাবিত নাটকের অংশমাত্র। বিরোধী নিধনের জন্য সেটি বারে বারে আন্দোলনের সময় ধরা পড়েছে মিডিয়ার খবরে, পরক্ষণেই প্রতিটি ক্ষেত্রেই এদেরে ছেড়ে দেয়া হয়। ঐ ভারতীয়রা যেভাবে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে আসামী ছেড়ে দেয় সরকারও তার আসামীদের ধরা পড়লেও ছেড়ে দেয়। আজ দেখি শিরোনাম, পেট্রোল বোমার থেকেও  পুলিশের র‌্যাবের হাতে কয়গুণ বেশী মানুষ মরছে। কি সুন্দর স্বাধীনতার পুলিশী দেশ এক বাংলাদেশ! এসব সরকারী উল্লম্ফনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সরকারের  (অনুর্বর ) মস্তকের প্রশংসা করেন। এই সেই দেশ গায়ে বুলেটপ্রুফ থাকলেও (ফাহিম) গুলিতে নিহত হয় বন্দী আসামী। সবাই বুঝে সরকারের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে পড়ার ভয়ে এভাবে একের পর এক ক্রসফায়ার হয় রমজানেই।  অনাচার ও অনৈতিক দেশে রাজধানীর খাল থেকে বেরিয়ে পড়ে ৯৭টি পিস্তলবোমাসহ বিপুল অস্ত্র গুলি। তুরাগ থানার পঞ্চবটি এলাকায় বৌদ্ধমন্দিরের পেছনে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা এসব উদ্ধার করে। পরের দিনের খবরে প্রকাশ উত্তরার খালে আরো ৩২ ম্যাগাজিন উদ্ধার। এ মাসের ৭ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত আইনশৃংখলা বাহিণীর হাতে নিহত হয়েছে ১৭ জন। এরা সরকারদলীয়দেরে বাঁচাতে সব করছে। প্রয়োজনে ফাঁসি মওকুফ করে জেল থেকে মুক্ত করছে। ঠিক একইভাবে তারা মূল আসামী না ধরে সব সময় মঞ্চনাটক করে চলেছে। তাদের কাজ হচ্ছে অপরাধীকে বাঁচানো, সব অপরাধের প্রমাণকে আগলে রাখাই তাদের নিয়োগবানিজ্য। কারণ অবৈধ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে এসবের কোন বিকল্প নেই। সরকার নিজেই হত্যা গুমের বানিজ্যে প্রত্যক্ষ জড়িত, এটি সব আলামতেই প্রমাণিত।

এটি এমন একটি দেশ একের পর এক নাটক সেখানে চলমান। ভয়ানক রিজার্ভ চুরি এর মাঝে তলিয়ে গেছে। সাবেক গভর্ণর ফরাস উদ্দিনের হিসাবে ব্যাঙ্ক থেকে  তিনটি পদ্মাসেতু নির্মাণের সম পরিমান টাকা মেরে শক্তির তলানীরা বাড়তি শানে ধার দিচ্ছে। গত সাত বছরে ব্যাংক থেকে ৩০,০০০ কোটি টাকা চুরি গেছে। শেয়ারবাজার লুটপাট করে, সরকারী বেসরকারী সব ব্যাংক লুটে এবার ইসলামী ব্যাংক লুটের প্রক্রিয়ায় চুড়ান্ত প্রক্রিয়া চলছে। যার জন্য নতুন পরিচালকদেরে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালক হিসাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিতর্কীত মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের নামও এসেছে। এবার একচিলতে মাপের বাংলাদেশ ভারতকে ট্রানজিট চালুর মহড়া সেরেছে শফিক রেহমানদেরে কারাগারে ভরেই। বলা যায় না যদি এ মুখবাজরা মুখ ফসকে দুকথা বলে দেয়। মনে হয় তার মৌচাকের ঢিল সইবার ক্ষমতাও এ সরকার হারিয়েছিল! বোঝা যায় মাঝে মাঝে দুএক কলামের ধকল সইতে সরকারের বেগ পেতে হতো। যার সফল পরিণতি ধড়পাকড় নাটক। এত অপরাধ হচ্ছে এই মুসলিম দেশের রমজানের মাসেই। পাঠক বলুন সরকার কি সংযমী? অস্তিত্বে আল্লাহ ভীতি রমজানের বড়জমা। শুধু উপোশ করলেই রোজা হয়না, লোক দেখানো তসবিহ টিপলেই রোজা হয়না, মাথায় গিলাফ দিয়ে ঢেকে ওমরাহও করলেও নিশ্চয়তা ক্ষীন থেকে ক্ষীনতর হতে বাধ্য, যদি মানব আত্মায় রমজানের মহাত্ম্য প্রবেশ না করে। মুসলিম প্রধান সারা জাতির নেতৃত্বও আইন শৃংখলা বিচার বিভাগ সবাই কি রমজানের মাসেও ঈমান হারিয়ে দেউলিয়াত্ব বরণ করবে? আল্লাহর আদালতে এর বস্তুনিষ্ট বিচার জনতার পক্ষের আবদার ও সময়ের বড় জমা !

নাজমা মোস্তফা,    ২১শে জুন ২০১৬ সাল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য পুনশ্চ: আজকের ২১ জুনের পত্রিকার বরাতে প্রকাশ ঝিনাইদহের পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলি হত্যায় ইসলামী ছাত্র শিবির জড়িত বলে দাবী পুলিশের। গত সোমবার গাবতলি থেকে ধৃত এনামুল হক (২৪) পুরোহিত হত্যার দায় স্বীকার করে, জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন। গ্রেপ্তারকৃত এনামুল ঝিনাইদহ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী। তিনি আরো বলেন এ হত্যাকান্ডে ছাত্রশিবিরের অরো সাতজন জড়িত। একই নাটকের পুনরাবৃত্তি। সবচেয়ে বড় কথা কোন সাধারণ মুসলিমও এরকম কাজ রমজানে করবে বলে মনে হয় না। আলতাফ হোসেনরা মুসলিম সম্বন্ধে কি ধারণা রাখেন জানি না। তারা খেলতে খেলতে বেশি বিজ্ঞান করে ফেলছেন। অলক্ষ্যের বিচারকর্তাই এসবের জন্য উত্তম বিচারক।

আতঙ্কিত হাসিনার তাৎক্ষনিক চিন্তার বলিরেখা কপালে

বাংলাদেশের শংকিত সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতবাধা কথাগুলি একই সীমাবদ্ধ গন্ডির মাঝেই ঘুরে ফিরে। এগুলো হচ্ছে তাকে ১৯/২০/ হয়তো ৭০ (?) বার মারার চেষ্ঠা হয়েছে, বিরোধীরা জঙ্গির যোগানদাতা, পাকিস্তান পাগল হয়ে বাংলাদেশের সর্বনাশ করছে, কথায় কথায় ভারতের অনুকরণে পাকিস্তান গীত সঙ্গিত, জামায়াত দমন বটিকা যুদ্ধাপরাধ, বিএনপি দমন বটিকা পেট্রোলবোমা ইত্যাদি। এই কথাকটি ছাড়া তার উদ্ধারের আর কোন বড় অস্ত্র হাতের কাছে নেই ! অনেক সময় অতি কথনে আদিঅন্ত বিবেচনায় গোল বাধে, খেই হারিয়ে উল্টো কথাও জমে। যেমন ইদানিং বলছেন শেখ মুজিবকে পাকিস্তানীরা আগরতলা ষড়যন্ত্রে ফাঁসায়। আবার তারাই প্রচার করে শেখ মুজিব ঐ ষড়যন্ত্র করেই স্বাধীনতার যুদ্ধকে এগিয়ে নেন ! বলতে হবে সত্যের মা চিরতরে মরেছে, জাগার আশা নেই ! বিগত ১৯ মার্চ ২০১৬ তারিখে খালেদা জিয়া কিছু ব্যতিক্রমী কথা বলেছেন দৃঢ়চিত্তে। তাই চিন্তার বলিরেখা !

Andolon News | 07 Jan 2017 | ব্যাংক ডাকাত সজীব ওয়াজেদ জয় লুট করছে সরকারী বেসরকারী দেশের সকল ব্যাংক

জাতি ধারণা করছে প্রযুক্তিবিদ জোহার পরিবার সালাউদ্দিনের পরিবারের মতই বিকট দানবের হাতে পড়েছে !  কলাবাগান, কচুক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, ভাষানটেক, কোথাও তার মামলা যায় না, তারা নিশ্চিত করেছে তিনি ভিন গ্রহের বাসিন্দা ! সততার বড়াই করা দেশে কেউ তার মামলা নিবার অনুমোদন পায় না ! মৃত্যু চিন্তায় কাতর প্রধানমন্ত্রী দেশের বাকী কারো চিন্তায় অস্থির হন না ! প্রচার করেন সততার কথা, আল্লাহর উপরও দায় ঠেলে দেন, আল্লাহ নাকি তাকে অনুমোদন করেছে, ক্ষমতা দিয়েছে ! ২১ মার্চের খবরে প্রকাশ অনুষ্ঠিত ১০টি পৌরসভার মধ্যে সাতটিতে কেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতীকে সিল মারা, বিরোধী এজেন্টদেরে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া কেন্দ্র দখলে ব্যস্ত তার কর্মকর্তারা। সুবিধাভোগী ধর্মধারী যুক্তি দেখাবেন আল্লাহ আমাকে দখল নিতে উদ্বুদ্ধ করছে ! তিনি আল্লাহকে নিয়ে মশকরা করতেও আতঙ্কিত নন ! রসিক আল্লাহ তার বান্দাদের আদিঅন্ত ভাল করেই জানে। তাই আগাম এ ধারার মানুষকে ওপেন করতে “মুনাফিকুন” নামে সুরাও নাজেল করে রেখেছে। তাই মুমিন না হওয়া পর্যন্ত মানুষ প্রকৃত ধার্মিক নয়। তিন ধারার মাঝে মুমিন ব্যতীত মুশরিক মুনাফিক অত্যাচারী মিথ্যাচারী জনতার অংশ মাত্র। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট ছিল আর একটি চাতুরী নাটক, সাজানো হয় খুউব কৌশলে ! যে কোন সচেতনই এ নকল কষা অংক, গভীর পর্যবেক্ষণে ফলাফল আঁচ করতে পারবেন !!

 

মোটা বুদ্ধির জমা হিসাবে মনে করি আগষ্ট হচ্ছে চিকন মাথার সন্ত্রাসীদের অংকের মাসএকযোগে ৬৩ জেলাতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, সময়টি খেয়াল করবেন বিগত জোট সরকারের সময়ে, ২০০৫ সালের ১৭ই আগষ্ট। এর ঠিক এক বছর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তখনকার বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনার সভাতে গ্রেনেড হামলা হয়, বিকেল টা ২২ মিনিটে ! পাঠক লক্ষ্য করবেন ঐদিন সন্ত্রাসবিরোধী সভা চলছিল ! খোলা ট্রাকে নিজেদের বানানো উনমুক্ত মঞ্চে ভাষণ দিচ্ছেন শেখ হাসিনা ! বকতৃতা শেষ, মাত্র শোভা যাত্রার উদ্বোধনী ঘোষনা করবেন ! ঠিক মুহূর্তেই গ্রেনেড হামলে পড়ে (হাসিনা হত্যার উদ্দেশ্যে), তার আগেও নয়, পরেও নয়হতভাগী আইভি রহমান সেদিন গুলতির সামনে পড়েন যদিও তিনি হত্যার উদ্দেশ্য ছিলেন না, তিনিসহ ২৪ জন নিহত হন, আহত ৫০০। মোটাদাগে চিহ্নিত করার মত আইভি রহমান নিহত হলেন, সেদিনের আইভি হলেন দৈবের পরিহাস মাত্র ! বুলেট প্রুফ গাড়ীতে শেখ হাসিনা বিকেল পাঁচটার সময় সমাবেশে পৌছান ! স্মরণ করার বিষয় ঐ বকতৃতায় অতিসাবধানী হাসিনা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও দেশব্যাপী বোমা হামলা বন্ধে সরকারকে হুশিয়ার করেন ! ঘটানোর আগে থেকেই  হুশিয়ারী সংকেত রেডি ছিল ! স্বাধীনতার পর থেকে সন্ত্রাসীতে কারা এগিয়ে ছিল জাতির কি এখনো জানা বাকী ? সারা জাতি জানে বিশ^বিদ্যালয় “ডাকাতের গ্রাম” নামে পরিচিতি অর্জন করে। পাঠক ঘটনাটি মেলাবেন প্লিজ ! ঠিক পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে বিরোধীর উপর দোষ ছুঁড়ে দেয়ার মতনই ! ২০ মিনিটের বকতৃতা, সব অংক করে কষা ! ধোঁয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন ! গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয় ! কোন বেকুব ছাড়া কোন বুদ্ধিমান কখনোই বুলেট প্রুফ গাড়িতে এটি করে হাত দাগাতে যাবে বলে মনে হয় না ! সারা মঞ্চ জুড়ে শত শত সন্ত্রাসী ময়দানে ! বিরোধী বুদ্ধিমতী হাসিনা সরল অংকটি কষে দেখিয়েছেন ! তার ধারণা ১৫ আগষ্ট যে সাজিয়েছে, সেই ২১ ১৭ তারিখ সিলেক্ট করেছে ! সচেতন বিবেককে প্রশ্ন করুন ! আলামতে কি মনে হয়

শত শত মানুষের আর্ত চিৎকার, ছিন্ন দেহ, রক্ত, বারুদের পোড়া গন্ধ ! সরকারের বর্তমান গোলাম মিডিয়া বলবে সবই দিনের আলোর মতই ঝকঝকে পরিষ্কার ! আর সচেতনরা দেখেন গভীর রাতের মতই ঘোর অন্ধকার ! ঐ সময়কার সরকার বিদেশের সাহায্যও নিয়েছিল সন্ত্রাস উন্মোচনে। মিডিয়াতে এটিও এসেছিল, কথা ছিল ময়দানে মঞ্চসভা হবে। কিন্তু অতঃপর সেটি হয় ট্রাকের উপর ! ঐদিন বিরোধী নেত্রী আসেন বুলেট প্রুফ গাড়ীতে। ২০০৯ সালে তিনি সরকার প্রধান হিসাবে অনুষ্ঠানে আসার কথা ছিল, বিডিআর বিদ্রোহের খবর আগে থেকেই প্রধানের জানা ছিল, তাই তিনি সেদিন আগে ভাগেই সটকে পড়েন ! সেদিনের বোমাও সরাসরি প্রধানের উপর পড়ার কথা নয়। তবে আইভির কপালের ফের, তিনি তো আর প্রধান নন ! বর্তমান সরকার নাকি এর বিচার করছে ! বিডিআর বিদ্রোহের বিচারও সরকার করেছে ! আগুণও দিয়েছে, পানিও ঢেলেছে, দু’ কাজেই দক্ষ এ সরকার ! সে সময় সন্ত্রাস উন্মোচনে বিদেশীরা আসলে চাইছিল প্রধাণের গাড়ীটি চেক করতে, কিন্তু ওটি করতে দেয়া হয়নি। গাড়ী চেক করতে না দেয়ার কারণটি কি ছিল ? জাতির মনে কি কোনই প্রশ্ন জাগেনি ? কিবরিয়া হত্যার কোন কুল কিনারা হয় না ? কেন? ঐ সময় এটিও পত্রিকার পাতাতে এসেছিল যে ঐদিন কোন কারণে কিবরিয়া ঘটনাস্থলে যেতে চান নি, কিন্তু সরকার প্রধান খুব কৌশলে তাকে ঠেলে পাঠায় !

বর্তমান সরকার রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েই কুট কৌশলের পথ বেছে নিয়েছিল। ঐ মামলার ৫২ আসামীর মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৯ জনই পলাতক দেখানো হয়। উল্লেখ্য বিএনপি জামায়াত জোট সরকার আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার অন্যতম আসামী করা হয় তারেক রহমানকে। গ্রেনেড মামলায় অভিযুক্ত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন – ইন্টারপোল। এ ছাড়া জরুরী অবস্থার সময় দায়ের করা কয়েকটি মামলায় তারেক আসামী। ইন্টারপোলের রেকর্ড থেকে তারেককে বাদ দেয়া হয়েছে (আমাদের সময়, ২১/০৩/২০১৬)। কিন্তু শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্র থেকে তিনি ইহজীবনেও বাদ পড়বেন বলে মনে হয় না। কারণ এখনো একই যন্ত্রসঙ্গিত জাতি শুনছে, শুনবে ! ঐ সময়ের কৃত অসংখ্য নিজের মামলা হাসিনা উঠিয়ে নিয়ে বিরোধী নেত্রীর সাজার অপেক্ষায় সময় পার করছেন ! তার ছেলের অপরাধ উচ্চারণেই একজন নির্দোষ সাধক বছরের পর বছর কারাগারের  আসামী !

খালেদার হুমকিতে হাসিনার কপালে চিন্তার বলিরেখা ! কিন্তু মূল বিষয় এড়িয়ে এখানেও চাতুরালী করছেন তিনি ! স্থানকালপাত্রসহ  বর্ণনা করে বলা তার পুত্র ঘুষ গ্রহণকারী আসামী, চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছিলেন মাহমুদুর রহমান, তার জবাব না দিয়ে তিনি তাকে কারাগারে ঢোকান ! এসব সততার দাগ নয় ! এখন তার ছেলে কিছু করে নাই, ওটি প্রমাণ তাকেই দিতে হবে ! অতীতেও অপরাধীর লিস্টে তাকে পাওয়া গেছে, চিরাচরিত সাধু হলে তাকে সাধু বানানো সহজ হতো ! কিন্তু ঐ প্রমাণ কখনোই উপস্থাপিত হয়নি ! মানুষ খেকো বাঘ কিন্তু সাংঘাতিক, বার বার মানুষ খেতে চায় ! তাই প্রধানমন্ত্রী বার বার বলছেন খালেদা নাকি তাকে মারার হুমকি দিয়েছেন, কিন্তু আসল কথা আজো চেপে যাচ্ছেন ! খালেদা জিয়া ওরকম মৃত্যু হুমকি দেবার মেয়ে নন, এটি সারা জাতিই জানে। বরং বেফাঁস কথা বলাতে বর্তমানের অনৈতিক প্রধানমন্ত্রীই সেরা ! যে মূলকথা খালেদা বলেছেন, ছেলেকে বাঁচাতেই গভর্ণর বলির পাঠা হয়েছেন, আজো এর কোন যুৎসই জবাব নেই তার মুখে ! একবার নয়, বার বার শতবার কৃত প্রতারককে মানুষ বিশ^াস করবে কোন যুক্তিতে ? স্বৈরাচারের সাথে সন্ধি, সেক্রেটারিয়েটের দিগম্বর কাহিনী, রেশমা নাটক, সুখরঞ্জন বালি নাটক, ইলিয়াস আলী নাটক, সাগর-রুণি নাটক, গার্মেন্টস শ্রমিক লিডার আমিনুল নাটক, চৌধুরী আলম নাটক, রানা প্লাজা নাটক, সালাহউদ্দিন নাটক, বর্তমানে চলছে জোহা নাটক, এসব শত শত নাটক ভুলে যাবার মত নয় ! কোন সচেতন ভুলতে পারে না। চারপাশে আসংখ্য উদাহরণ পড়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। শুধু ভরসা বিশ^প্রভু বড়দাগে সব অবলোকন করছে ! এর বাইরে জাতির সামনে আর কোন ভরসা দেখছি না। তবে এটি ঠিক, শত হতাশায়ও ঐ ভরসা অনেক বড় ভরসা !!

 

নাজমা মোস্তফা,  ২১ মার্চ ২০১৬ সাল।

সাবধান ! জাতি জেগে উঠুন ! প্রধাণের প্রস্থান হোক প্রধান দাবী !

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই।

জাতি জেগে উঠুন ! ময়দানে নামুন ! আতিউরের পদক্ষেপ সাহসী পদক্ষেপ এটি প্রধানমন্ত্রী বুঝেন কিন্তু এমন সাহসের পরিচয় দিতে অপারগ অনৈতিক পথের উপর দাঁড়ানো প্রধানমন্ত্রী ! এ একটি জাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ করুণ লজ্জার উদাহরণ ! চলছে বাড়তি ভাড়ামি অশ্রুসিক্ত প্রধানমন্ত্রী ! কার চোখে জল বেশী, জাতির না প্রধানমন্ত্রীর ? প্রধানমন্ত্রী বোবা ! মুখরার এত ভয়ানক নীরবতা ! সচেতনরা আঁচ করছেন প্রশাসন পাগলের মত ছুটছে ভারতের কাছে, কারণটি কি? অনেক চটকদার কথাই শোনা গেছে আতিউর এপয়েন্টমেন্ট পান নাই, তাই দেখা হয় নি ! এপয়েন্টমেন্ট না পাওয়ার কারণ অভিমান, গোস্যা ! নাটকের সীমাটা একটু বেশী ! মূল চোরের কাছে কোনদিনও তথ্য পৌছায় না, পৌছাবেও না। সাধু আতিউরের  কথার মাঝে কিছু অসাধু যুক্তি জনগণকে ব্যথিত করেছে এবং তাকেও দুষ্টের সহকর্মী জ্ঞান করছে। কথার মাঝে জবাব লুকিয়ে আছে “নৈতিক দায় থেকে বীরের বেশে পদত্যাগ করেছি, আমি চাই না বঙ্গবন্ধু কন্যার ভাবমূর্তি নষ্ট হোক” ভুল পথে হাটা একজন মানুষের ভাবমূর্তির এ স্তুতিপূর্ণ কথাই তাকে একজন ভুল পথের সহকর্মী সহমর্মী স্বরুপ উপস্থাপন করার জন্য যথেষ্ট। কোন সাধু কোন দিন অপকর্মীর বাঁচার স্বপ্ন দেখে না ! বড় গলা সাধুতার প্রমান নয় ! ভারতের অল্প দামে কেনা দালালরা দেশ বিধ্বংসী কাজের পরও প্রচারে ব্যস্ত, ভারতের হাত আছে কথাটি শুনলে তারা খুব কষ্ট পান। যদিও ভারতকে নির্দোষ কতমা লাগিয়ে বাঁচানোর কোন পথই অবশিষ্ট নেই !

শেখ মুজিবের পরিবারকে ডাকাত সর্দার হিসাবে প্রমান করলেন ডঃ আতিউর রহমান।

এই সেদিনও পাকিস্তানকে যে জাতি মোকাবেলা করলো আজ তারা কেমন করে নপূংশক জাতি হয়ে গেল ! সিকিমের কথা কি শুনেছিলেন আগে ভরা দরাজ গলায় কি তারা বলেছিল কখনো ? আমাদের ভারতীয় বনধুরা  আত্মীয়রা বলে আমরা আজো জানি না, ভারত কি কৌশলে সিকিম দখল করেছে ! দালালরা আজও বাড়তি তৎপর, কথাই প্রমাণ ! অনেক বেঁচে গেছি, সব তো নেয়নি ! কিন্ত জাতির পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীসহ প্রধাণমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী উঠেছে ! চতুর চোখের জল দিয়ে পাপ ধোয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত ! প্রধানমন্ত্রী একজন আতিউর হোন, আপনি কি দৃষ্টান্ত করতে সবদিনই অপারগ থাকবেন, অন্তত আতিউরের সমকক্ষ হন ! এটি জাতি ধ্বংসের সব খেল শেষ করে আতিউরের পদত্যাগই সমাধান নয় ! সব ভিডিও ফুটেজের দাগ তো মুছে দিয়েছে ! অতীতে চুরিতে ধরা খাওয়া সুরঞ্জিত পদত্যাগ করলেও জাতির সাথে ক্রমাগত ভাড়ামি কমে নাই, লাগাতার লেগে ছিল, আজও প্রমাণ ! মন্তব্যে আসছে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট কেউ জড়িত বলেই তথ্য ফাঁস না করার জন্য এসব চলমান নাটকের ভাড়ামি !

অর্থমন্ত্রী প্রশ্ন রেখেছিলেন গভর্ণর এত স্পর্ধা পেল কোথায় ? এর জবাব দিয়েছেন আতিউর। আমি মুজিব কন্যার সম্মানার্থে পদত্যাগ করছি ! তার মানে পদত্যাগ করছেন ঐ মহিলার জন্য ! নিজের দোষে নয়, দোষ অন্যের, যারা তাকে ব্যবহার করেছে তাদের কারণে তার বিদায় ! তাই অল্প দামে অপরাধীর জন্য উপহার প্রধানের একফোটা জল ! সততার দাগ নেই, উদাহরণ নেই, কান্নাই তার চাতুরীর জবাব ! এটি কি আতঙ্কের ফরমাইশী কান্না, নাকি গ্লিসারিনের কান্না ঐ গ্যারান্টি কে দিবে ?  সংসদে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে অর্থমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকেন ! বিডিআরের দাগে ভরা মুজিব কন্যাকে কি এত সহজে পবিত্র করতে পারবেন গভর্নর আতিউর ? যে দুজনকে সরানো হলো বলা যায় না, হয়তো ওরা দুই জনই দাগী নয়তো ঐ ময়দানের সবচেয়ে স্বচ্ছ ব্যক্তি। কারণ এ সরকারকে বিশ^াস করার কোন যুক্তি সামনে পিছনে নেই। বিডিআর বিদ্রোহে কারাগারে নির্দোষ গুচ্ছবন্দী মেরে ময়দানে সরকারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য উচ্চকন্ঠ স্তব্ধ করা কি হয়নি ? ব্যাংকলুটে একবাক্যে শোনা গেছে ইথারের খবর “জানানোর জায়গায় জানানো হয়েছে”, আতিউরও বলেছেন শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন, এটিই জানানোর জায়গা ! চোখ মুছে জাতির শত প্রশ্নের জবাব দিন ! দেশে কোন কিছুই আপনার অগোচরে ঘটে নাই, লুটপাট বিডিআর বিদ্রোহ সব ! আপনিই মূল নাটের গুরু ! চোখের জলে চাপাবাজির চেষ্টা না করাই ভাল ! উদাহরন হিসাবে একজন পাঠকের মন্তব্য: ‘প্রধানমন্ত্রীর জন্য গভর্ণরের বলি!!! নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট কেউ জড়িত, তাই গভর্ণর যাতে তথ্য ফাঁস করে না দেন সেই জন্য স্বান্তনা দিচ্ছেন’। একটি দেশ একটি জাতি অনেক অনেক বড় ! তারপরও মানুষের মত মানুষ হলে একটি মানুষের মর্যাদাও একদম কম নয় ! কথিত শ্রেষ্ঠ ও সৎ গভর্ণরের ফিরিস্তি পড়েন। গোটা আমলনামা অসংখ্য অসৎ আচরণের দাগে ভরা ! আপনারে বড় বলে বড় হওয়া যায় না ! ময়দানে বড়ত্বের উদাহরণ থাকতে হবে !

ঘটনার দিন সিসিটিভি রহস্যজনকভাবে নষ্ট ছিল। ২৬/২৭ জানুয়ারী এটি ঠিক করেন ট্যাকনিশিয়ানরা। আবার টাকা স্থানান্তরের আগের দিন ৪ঠা ফেব্রুয়ারী নষ্ট হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা এ নষ্ট নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ! কারণ তাদের স্থির বিশ^াস নির্দিষ্ট দিনটিতে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে ওটি নষ্ট করা হয়। ঐ দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে আরসিবিসি শাখার সার্ভিস প্রধান নষ্ট হওয়া ব্যাপারে রিপোর্ট করেন। তারা ঐ বিক্রেতা কোম্পানীকে রিপোর্ট করলে ৯ ফেব্রুয়ারী বিকেল ২টায় পরীক্ষা করে তারা জানায় সিসিটিভি নষ্ট নয়, কাজ করছে না ইউপিএস। অর্থ পাচার বিরোধী বিভাগ এ নষ্ট হওয়া সময়কাল নিয়ে খুউবই সন্দিহান ! তারা বলছেন এটি উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে ঘটানো হয়েছে, সিসিটিভির ইউপিএসকে নষ্ট করে দেয়া হয় ব্যাংকটির ভিতর থেকে। সিসিটিভির বিষয় খুঁজতে গিয়ে এসব তথ্য ধরা পড়েছে ! ময়দানের মানুষগুলোকে মূল্যায়ন করুন ! মেজর হাফিজ যা বলেছেন তার মূল্য খুউবই স্পষ্ট ও অর্থবহ। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে না ! ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ২০০ প্রার্থী নির্বাচন ছাড়াই চেয়ারম্যান হয়েছে, সংসদের এমপি হয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে জিম্মিদশা কাটাতে হচ্ছে, চলছে সবক্ষেত্রে কিয়ামতের আগের ডিজিটাল লুটপাট ! গণতন্ত্র মৃত, অর্থমন্ত্রী অকেজো, জিম্মী, দলবাধা কপট কর্মকর্তারা একশনে ! বাঁচতে হলে একমাত্র রাস্তা সবাইকে ময়দানে নামতে হবে ! একটি সংগ্রামী জাতির এমন মরণ মানায় না ! এত বিপর্যয়ের পরও কেন জাতি চুপ ? আন্তর্জাতিক তদন্ত ব্যতিরেকে আদালতের মামলা করায় ঝামেলা হবে সব খবর মতলববাজের ভেতরের জমা ! ইতিহাস বিকৃতি যা এযাবৎ করা হয়েছে, তা যাতে বদলানো না যায় তাই আইন করা হচ্ছে। শাস্তি হবে ৫ বছরের সাজা আর ১ কোটি টাকা জরিমানা। যুক্তি সততা কোন বিবেচ্য বিষয় নয়,  যতবার যুক্তি দিবেন ততবার শাস্তি ভোগ করবেন ! জামায়াতের আমির ও সাবেক মন্ত্রী নিজামীকে কাদের মোল্লার মত মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা প্রদান করা হয়েছে। কারণ তার দাবী যে ঘটনায় তার শাস্তি হচ্ছে সে ঘটনাস্থলে তিনি ৮৬ সালের আগে কখনো যান নাই (১৬ মার্চ, ২০১৬, আমারদেশ)। তারপরও অসৎ দাগে ভরা সরকারের অধিনস্ত আইন এসব করে যাচ্ছে। একমাত্র পড়শির মনমত বিচারই সরকারের কাম্য !

ফিলিপাইনের পত্রিকা ইনকোয়েরার এর খবরে প্রকাশ টাকা চোরের একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী ব্যাঙ্কের সাবেক কাস্টমার সার্ভিস হেড রোমুলডো আগারাডো নিজ চোখে কাচের দরজা দিয়ে বাইরে মায়া সন্তোস দিগুয়েতোর গাড়িতে টাকার বস্তা তুলতে দেখেন, যা তিনি সিনেট কমিটিকে বলেন। ১৭ মার্চের একই দিনের খবরে ভারত থেকে অস্ত্র আসছে, দেশে যুদ্ধ হবে লাশ হবে সাধারন নীরিহ মানুষ বিএনপি এবং জামায়াত, বিরুদ্ধবাদী জনতারা। যা বহুদিন থেকে চলমানভাবে বহমান ! রবীন্দ্রপ্রেম বর্তমানে সবচেয়ে সস্তা জাতি ধ্বংসের বাঁশরি আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে আছে ! এ মৃত্যু বটিকা দিয়ে বহুদিন থেকে গানে গানে দেশবাসীকে ভুলিয়ে রাখার কসরত চলছে ! বন্ধ করুন গান আর বাজনা ! মৃত্যুপথযাত্রী জাতির আবার গান বাজনা ! গান গাইবে চোরেরা ! যাদের নিজদেশে আইটি বিশেষজ্ঞরা সুস্থির জান নিয়ে বাঁচতে পারে না তাদের মুখে রংএর গান মানায় না ! গাইতে হবে বিদ্রোহের গান ! ব্যাংকের তদন্তে সংশ্লিষ্ট আইটি কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তিবিদ তানভির জোহা ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের ডিরেক্টর (অপারেশন), কচুক্ষেত থেকে সিএনজি ঘিরে অপহৃত হয়েছেন (১৭ মার্চ) ! তিনি আশংকিত ছিলেন, কারণ তার প্রশ্নে বিরক্ত একটি মহলের নাখোশ হওয়ার হুমকি তিনি পাচ্ছিলেন ! চোর ধরতে সময় ক্ষেপন কেন ? চোর তো ময়দানেই ঘুরছে, এই অপহরণকারীরাই মনে হচ্ছে চোরের বড় সাগরেদ ! সব অপরাধিই এক সূতায় বাধা ! গভর্নরকে বীরত্বের অশ্রু যে দেয়, সে শরিক শক্তি মনে না করার কোন যুক্তি নেই !  হাসিনা সৎ মানুষদেরে রিমান্ডে নিতে তৎপর কিন্তু অসতের জন্য অশ্রু দেন ! জাতির সামনে এটিই সমাধানের বড় সূত্র ! গভর্ণরকে রিমান্ডে নিলে অনেক রাঘব বোয়াল খোলাসা হয়ে যেত ! জাতি ময়দানে নামুন, নির্দোষ মাহমুদুর রহমানের মুক্তি সময়ের দাবী। ওরা ময়দানে থাকলে অশ্রু বিনিময়ের পক্ষরা এত গোল দিতে পারতো না ! এর জন্যই কৌশলে সরকার তাকে বন্দি করে রেখেছে ! গভর্ণর আতিউর ২০০৯ থেকে অর্থনীতির ক্রমাগত ধ্বসের বড় দাগী আসামী, কৌশলে দায় এড়ানোতে বড় চোরের মাথা বাঁচানোকে স্বচ্ছতা বুঝায় না ! বরং চোর ধরাতে সহযোগিতা দিলে বুঝা যেতো তিনি স্বচ্ছ ! তিনি শুধু একজন মহিলাকে বাঁচানোর চিন্তায় সময় পার করছেন, এটিই জাতির জন্য ভয়ানক সংবাদ !

আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করছে ধান্ধাবাজ ধূর্ত ! সৎ সঠিকদের সেখানে জায়গা নেই, যারা আসতে চাইবে তাদেরে সেখানে বসতে দেয়া হবে না ! হবিগঞ্জের একবারের নয়, তিনবারের নির্বাচিত মেয়র গোলাম কিবরিয়া জি কে গউসকে খুব কৌশলে সুযোগ না দেয়ার পায়তারায় হাটছে সরকার ! দিলীপ দাসের  নামের আগে বসতে যাচ্ছে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের সিলটি ! সিলেটের বহু প্রত্যাশিত বহু দিনের অবদানধন্য রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ সরিয়ে দেয়ার নিদের্শে দাগ রেখে বড় ভূমিকায় আছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ! মাঝখানে কিছু সিনহা নাটক দেখেছেন অনেকে মনে করেছেন উনি আপনাদের মানুষ ! না, তিনি দেবীর নিয়োজিত মানুষ ! আপনাদের জন্য আল্লাহ আছেন ! পড়েন amadersylhet.com/news/14287 সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ তারাপুর চা বাগান দেবোত্তর সম্পত্তি এখানে শুধু মূর্তিদেবী থাকবেন আর কেউ নয় ! তাই দেবীমূর্তি স্থাপিত হতে যাচ্ছে ! নির্দেশ দেয়া হয়েছে এক মাসের মধ্যে ওটি স্থাপন করতে হবে !  কোথায় শাহজালালের সন্তানেরা, ওরা কি সবাই ঘুমিয়ে, নাকি মরেই আছে ! শেষ বারের মত প্রকৃত মানুষ হয়ে জেগে উঠুক সবাই ! কিভাবে ভারত বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে চুরমার করেছে আর শুধু এটিই নয়, সারা বছরই তারা ঐসব কাজ করে। এক দুই নয়, শত শত মসজিদ তারা এভাবে ভেঙ্গে চলেছে যুগে যুগে তা ঐ জমিতে প্রমাণ হয়ে আছে ! এখন এই ৯০% ৯৫% পবিত্র মুসলিম প্রধান ভূমিতে তারা হানা দিচ্ছে কারণ তাদের নিয়োজিত লেন্দুপ বসে আছে মসনদে ! সংঘবদ্ধ হোন। মূর্তিপূজকের পায়ের তলানীতে আপনারা নন ! এটি ঈমানের প্রশ্ন ! জীবন মরণের প্রশ্ন ! স্মরণ করুন আল্লাহর সাবধান বানী, যারা সত্য থেকে দূরে যায় শয়তান তার পিছু নেয়, কাজেই সে বিপথগামীদের অন্তর্ভূক্ত হয়। আর যদি আমরা ইচ্ছে করতাম তবে নিশ্চয়ই এর দ্বারা তাকে আমরা উন্নত করতাম। কিন্তু সে অধঃপাতে যাবার জন্য মাটি আঁকড়ে ধরলো। সুতরাং তার উপমা হচ্ছে কুকুরের দৃষ্টান্তের মত। ওকে যদি তুমি তাড়া কর, সে জিভ বের করে হাঁপাবে, আর যদি তুমি তাকে এড়িয়ে চলো (তথাপি) সে জিভ বের করে হাঁপাবে। হচ্ছে সেসব লোকের দৃষ্টান্ত যারা আমাদের নির্দেশ সমূহ প্রত্যাখ্যান করে। তুমি ইতিবৃত্ত বিবৃত করো, যেন তারা চিন্তা করতে পারে” (সুরা আল আরাফ ১৭৫/১৭৬ আয়াত)

এ সরকার সৎ ও বৈধ নয়। কিছু চিহ্নিত দালাল ছাড়া এটি সমস্ত বাংলাদেশীরা একবাক্যে স্বীকার করবেন। এর সূত্র ধরে ক্রমান্বয়ে দেশ বিধ্বংসী শত শত কাজ চলছে একের পর এক। এসব একটি অপকর্মেই একটি সরকারের চলে যাবার কথা। অপকর্ম ঘটার পর সরকার চিৎকার দিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সিসিটিভি বসায়। এতেও তার ফায়দা চোরেরা পকেট ভরার সুযোগ পায়। আর যখন যে পয়েন্টে ঘটনা ঘটে তখন সেটি নষ্ট থাকে আগে থেকেই কৌশলে নষ্ট করে রাখা হয়, কখনো ফুটেজ ঝাপসা আসে ! এরা অপেক্ষায় আছে আল্লাহর গজব না আসা পর্যন্ত অপেক্ষায় আছে !  সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ সরিয়েছে সংখ্যালঘুর স্বার্থে ! সংখ্যাগরিষ্টের কোন দাবী সরকার দেখে না, দেখার প্রয়োজন মনে করে না ! সংখ্যাগুরুর চিৎকারকে মূল্যায়ন না করেই সংখ্যালঘুর দালাল হয়ে দেশ চালাচ্ছে সরকার ! আজকে ১৫ মার্চের খবরে প্রকাশ “এবার তিতাসে তিন হাজার কোটি টাকার গরমিল”। যারা বিডিআর বিদ্রোহের এতগুলো লাশের মর্যাদা দেয়নি তাদের কাছে আপনারা কিসের ভরসাতে বসে আছেন ? দখলদার খুনী পার্টিই শক্তির দন্ড ধরে ঠাঁয় বসে আছে, পন করেছে কিয়ামত পর্যন্ত নামবে না ! সাবধান হোন ! জেগে উঠুন ! নির্ঘাৎ জেনে রাখুন আল্লাহ আপনাদের সহায় ! তুমি ইতিবৃত্ত বিবৃত করো, যেন তারা চিন্তা করতে পারে” (সুরা আল আরাফ ১৭৫/১৭৬ আয়াত)

পুরো বিলবোর্ড জুড়ে একটা কাল বিড়াল দিয়ে দেন, কোন আপত্তি নাইঃ মাহি বি চৌধুরী,

নাজমা মোস্তফা,  ১৭ই মার্চ ২০১৬।

ব্যাংক লুটের হোরিখেলায় বাংলাদশ ৭২ – ৭৪ অতঃপর ২০১৬

বাংলাদেশের ব্যংক জটিল দুর্যোগে আক্রান্ত ভিতরে বাইরে। ডলারে ৮০ টাকা ধরে গোপনে বাংলাদেশে ব্যংকের ৭৬০০ কোটি টাকা সরিয়ে নেয়ার অ্যাডভাইস গিয়েছিল। ৮০৮ কোটি সরিয়ে নেয়া হয় শ্রীলংকা ও ফিলিপাইনে, অর্থমন্ত্রীকে জানানো হয়নি (আমারদেশ, ০৯ মার্চ ২০১৬)। জানা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে মজুদ থাকা টাকা থেকে সুইফট কোডের মাধ্যমে লুট করতে ৩৫টি পরামর্শ বা অ্যাডভাইস পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে কার্যকর হয় মাত্র ৫টি পরামর্শ, একাধিক সূত্রে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইত্যবসরে ফিলিপাইনের পত্রিকায় খোলাসা হয়ে গেলে আর ঢেকে রাখা যায়নি, তাই প্রকাশ হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ তারিখ বুধবার এটি প্রকাশ করতে বাধ্য হয়। কৌশলে বলা হয় হ্যাকড হয়েছে, যার কোন ভিত্তি নেই। তবে সুইফট কর্তৃপক্ষ গতকাল এক বার্তায় বলেছে, তাদের নেটওয়ার্ক অপব্যবহার হয়েছে এমন কোন লক্ষণ এখনো পাওয়া যায়নি। দুইপক্ষের প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী উভয়ের বার্তা বিনিময় ছিল খুবই অথেনটিক অর্থে বিশ^াসযোগ্য। সব ধরণের যোগাযোগ শেষে সম্প্রতি ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজি হাসান, নির্বাহী পরিচালক ও কেন্দ্রীয় ব্যংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা এবং তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ রাকেশ আস্তানা কথা বলছেন।  ইত্যবসরে জানা যায় শ্রীলংকা থেকে উদ্ধার হওয়া টাকাটা গিয়েছিল সে দেশের একটি নতুন খোলা এনজিওর বেসরকারী সংস্থাতে। কিন্ত অল্প হলেও বিধিবাম ছিল, নাখোশ ছিল ! শ্রী লংকার মানি লন্ডারিং এত বড় অংকের টাকাকে সন্দেহের চোখে দেখে ! তারা তাদের কেন্দ্রীয় ব্যংককে জানালে তারা আটকে দেয়, যার সুবাদে দুইকোটি মাত্র উদ্ধার হয়। ফিলিপাইনেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ব্যংকে নিউইয়র্ক থেকে ওখানে টাকা যায় ও জমা হয়। ত্বরায় সেখান থেকেও অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। ফিলিপাইনের দূর্বল ও অসাধু ব্যংক কর্মকর্তার যোগসাজসে কয়েকটি ক্যাসিনোর (জুয়ার সংস্থা) হাত ঘুরে হংকং চলে যায়। তবে ভারতীয় সুইফটের কাছ থেকে যথাযথ সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশের সুইফটের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে ! নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে, মনে হচ্ছে তারা বেশ নির্বিকার ! প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অন অ্যারাইভাল ভিসার কথা উল্লেখ করলেও প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না ! রাকেশ আস্তানা বলছেন তদন্তের মাঝপথে আছি। আজ ১০ তারিখেই জানলাম মাঝপথ, শেষটা কখন হয় মনে রাখা দরকার !

Bangladesh Parliament by Barrister Andaliv (Full)

কিছু প্রশ্ন জমছে। এরকম সুইফট ম্যাসেজ কোন সাধারণ অপেন করতে পারবেন না। দুপাশের দু অভিজ্ঞের কাছেই ঐ এক সফটওয়ার থাকতে হবে, হতে হবে সুইফটএর সদস্য। একমাত্র ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব। একমাস পার করা নীরবতার ব্যাখ্যা দিচ্ছেন অন্য মন্ত্রীরা, অনেকে বলছেন যারে জানাবার তাকে জানানো হয়েছে, কে সে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ? তার সহজ মানে অর্থমন্ত্রীর ঘাড়ে ওটি বর্তায় না, বর্তায় অন্য কোনখানে ! ৭২ ঘন্টার নোটিশ ওদের জন্যও দরকার ! অর্থমন্ত্রী বলেছেন তাকে কেউ জানায়নি তিনি পত্রিকা থেকে জেনেছেন। পত্রিকায় এ খবরও এসেছে খুব প্রভাবশালীরা এতে জড়িত। আমরা লক্ষ্য করেছি একই রকমের খবর এসেছিল পদ্মাসেতুর সময়ও। যার সূত্রে বিশ^ব্যাংক ঐ ঋণ বন্ধ করে দেয়। এটিই কি প্রথম নাকি শেষ ! নাকি সমানেই হালকা মানের লুটপাট চলছেই সবার অলক্ষ্যে। ১০ মার্চের খবরে প্রকাশ  গভর্নর আতিউর রহমান বৃহস্পতিবার ভারত গেলেন আবার ফিরবেন ১৪ তারিখে। যারা সাড়া দেয়নি তাদেরে সাথে মিটিং করার কথাও এসেছে। প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে । বাস্তবতা এখানেই নীচে।

এবার হাসিনা, রেহানা, জয় আর পুতুলের লোভাতুর দৃষ্টি পড়েছে ইসলামী ব্যাংকে

বিশ^ব্যাংকের সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি পরিচালক ভারতীয় বংশদভুত রাকেশ আস্তানা সাংবাদিকদের মাঝে ভূমিকা রাখছেন। বাংলাদেশ ব্যংক কর্মকর্তারা এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, কারণ বাংলাদেশ ব্যংকের নিয়মের  তোয়াক্কা না করেই এ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে । সূত্র জানায়, গত ৭ মার্চে ঢাকার বনানীর এক অভিজাত রেঁস্তোরায় রাকেশ আস্তানার সাথে একান্তে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ডঃ আতিউর রহমান। তারপর দিনই তাকে দেখা যায় বাংলাদেশ ব্যাংকে। বলা হয় একজন বিশিষ্ট বিদেশ বিশেষজ্ঞ এর উপর কাজ করছেন। ভারতীয় নাগরিককে এ দায়িত্ব দেয়াতে অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। বাংলাদেশের আইটি এক্সপার্টরা সব গোমর ফাঁক করে দিবে, তাই তারা বিশ^স্থ হন না তাদের কাছে ! এর মাঝে বাংলাদেশের সব কম্পিউটারে একটি বিশেষ সফটওয়্যার ইন্সটল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে যা রাকেশ আস্তানার তৈরী, যাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা। ৮ মার্চ থেকে তিনি কাজ শুরু করেই টুকে নেন প্রতিটি পয়েন্টের আইপি এড্রেস ও সিরিয়াল নাম্বার। তারচেয়েও বড় কথা বাংলাদেশ সুইফট কোডের নিয়ন্ত্রণ হয় ভারতে ! ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক দায়ী বলে উল্টো বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকৃত ঘটনা চেপে রাখার কিছু চেষ্টা করছে ! যারা এটি নিয়ন্ত্রণ করছে ভারত থেকে তাদেরে আসতে বলা হলেও তারা আসছে না। ওদিকে ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন হলো বেলজিয়াম ভিত্তিক আন্তব্যাংক নেটওয়ার্ক। এর মাধ্যমে আন্তব্যাংক লেনদেনের পরিচিতি সনাক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, কন্সালটেন্সি বা পরামর্শক ফি হিসাবে এ টাকা স্থানান্তরের সংকেতলিপিও গিয়েছিল বাংলাদেশে ব্যংকের সংকেতলিপি থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেই পাঠানো সুইফট কোড দিয়েই এই টাকা সরানো হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষরাই এর সাথে সরাসরি জড়িত। শ্রীলংকা তৎপর থাকায় এ পর্যন্ত শুধু ঐ অল্প টাকাটা পাওয়া যায়। পুরো একমাস দুর্গন্ধ লুকিয়ে রেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রীম কোর্টের ড. ইউনুস আলী আখন্দ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, লুটেরারা এখনো শেষ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধার পেতে। পৃথিবীর সকল ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেন এই সুইফট কোডের মাধ্যমে হয়, এটি ঝুকিমুক্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নির্দিষ্ট সফটওয়ার দ্বারা সম্পাদিত। বিশিষজ্ঞরা বলছেন এটি হ্যাকড হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এমন উদাহরণ আজ পর্যন্ত নেই। নির্দিষ্ট কোড, কার্ড ও সংকেতের মাধ্যমে এর কাজ চলে। পুরো প্রক্রিয়াটি নিরাপদ হওয়ার কারণেই আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলে সুইফট প্রক্রিয়াটি অর্থ লেনদেনে নিরাপদ বলেই বিবেচিত হয়ে আসছে। এর বাইরে একটি সাংকেতিক চিহ্নের প্রয়োজন হয়, যা একমাত্র সংশ্লিষ্ট বিভাগের তিন সেকশনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরাই জানেন। টাকা লুটের ঘটনা যথাসময়েই শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলেন ডক্টর আতিউর রহমান

যে কান্ড ঘটায়, তার কাছেই কেন বিচারের ভার ? যে বেড়াতে ধান গিলে খায়, তার পাহারায় কেন ফসল ? শিয়ালের কাছে মুরগী রাখা কতটুকু নিরাপদ ? এত বড় ঘটনা কিনতু আইটি বিশেষজ্ঞ জয়ের কোন স্ট্যাটাস নেই। ওদিকে খবর বেরিয়েছে এ লুটে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাসহ প্রভাবশালী মহল ও সংঘবদ্ধ চক্র (১০ মার্চ ২০১৬)। স্পষ্ট করেই বলা এটি কোন হ্যাকিংয়ের ঘটনা নয়। ব্যাংকের গোপন সুইফট কোড, কার্ড ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেই পুরো লেনদেন হয়, এখন পর্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে অর্থমন্ত্রণালয়। ভবিতব্য আল্লাহর হাতে ! নীচে বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনালি রুপালি জনতা কৃষি ব্যাংকের সংখ্যালঘু বিশালদের লিস্ট ।

ভারত আর সংখ্যালঘুর হাতে গোটা দেশ তুলে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ডিরেক্টর সনাত কুমার সাহা। ডেপুটি ডিরেক্টর শিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী। এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর: ১. নির্মল চন্দ্র ভক্ত। ২. শুভঙ্কর সাহা। ৩. বিষ্ণু পদ সাহা। ৪.অশোক কুমার দে। ৫. সুধীর চন্দ্র দাস। ৬. দাসগুপ্ত অসীম কুমার। ৭. গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী। ঋণ সংক্রান্ত বিভাগগুলোর মহাব্যবস্থাপক হচ্ছেন। ১. অশোক কুমার দে। ২. দেব প্রসাদ দেবনাথ। ৩. বিশ^নাথ সরকার। ৪. খগেস চন্দ্র দেবনাথ। ৫. দেবাশীষ চক্রবর্তী। ৬. সুকমল সিংহ চৌধুরী। ৭. মিহির কান্তি চক্রবর্তী। ৮. শ্যামল কুমার দাস। সোনালী ব্যাংক: এমডি ও সিইও : প্রদীপ কুমার দত্ত। বোর্ড অব ডিরেক্টর: ১. রঞ্জিত কুমার চক্রবর্তী। ২. প্রদীপ কুমার দত্ত। জিএম:  ১. নেপাল চন্দ্র সাহা। ২. পরিতোশ কুমার তারুয়া।৩. সুবাস চন্দ্র দাস। রুপালি ব্যাংক: ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান: অমলেন্দু মুখার্জী। মহা ব্যবস্থাপক: বিষ্ণু চন্দ্র সাহা। উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক: দেবাশীষ চক্রবর্তী। অগ্রনী ব্যাংক পরিচালক: বলরাম পোদ্দার। ১. জি এম: জি এম পঙ্কজ রায় চৌধুরী। ২. বাবুল কুমার সাহা। জনতা ব্যাংক: পরিচালক: মানিক চন্দ্র দে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক: মহা ব্যবস্থাপক: রোহিনী কুমার পাল। উপমহাব্যবস্থাপক: ঠাকুর দাশ কুন্ডু, উপব্যবস্থাপক: গান্ধী কুমার রায়। কর্মসংস্থান ব্যাংক: মহাব্যবস্থাপক: গকুল চন্দ্র রায়।

সংশ্লিষ্টরা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলছেন যাদের জানানো দরকার তাদেরে জানিয়েছি। তবে সম্ভবত গোমর ফাঁকের ভয়ে “রাবিশ” অর্থমন্ত্রীকে কৌশলে আড়ালে রাখা হয়। তিনি এক মাস পর জানতে পারেন পত্রিকার মারফতে আম জনতার সাথে। সচেতনদের একজন ডঃ তুহিন মালিক তার ফেসবুকের দুটি কথা উল্লেখযোগ্য মনে করছি। তিনি বলেন, ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেতনের তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা থাকতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভের টাকা হ্যাকড হলো কিভাবে ? আর একটি প্রশ্ন রাখেন দেশের প্রথম ব্যংক ডাকাতরাই কি দেশের প্রথম ব্যাংক হ্যাকার ? ১৯৭২-৭৪ সালের ব্যাংক ডাকাতিতে যারা জড়িত ছিল তাদের পরবর্তী প্রজন্মের দিকেই ইঙ্গিতটি করা হয়েছে ! অনর্গল কথাবলা মন্ত্রীরা তদন্তের স্বার্থে অর্থমন্ত্রীকে বলা হয়নি বলে যুক্তি দিচ্ছেন। বারে বারে আসে গুণধর বন্ধু ভারতের নাম, শত্রু পাকিস্তানকে কেন একবারের জন্যও দেখি না এ পাড়ায় হামলে পড়তে ! প্রশ্নটি রইলো জনতার কাছে ! ভারতের নাগরিক এই আইটি ডিরেক্টর রাকেশ আস্তানাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে কনসালটেন্ট হিসাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপুটি গভর্নর আবু হেনা মোঃ রাজি হাসানও জানানোর জায়গায় জানিয়েছেন কথাটি উল্লেখ করেন। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে এর উপর মামলা হবে কি না? তিনি জবাবে বলেন, অর্থ আদান প্রদানে পদ্ধতিগত কিছু বিষয় থাকে। তা পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। তা দেখে পরবর্তী করণীয় ঠিক হবে। তিনি বলতে পারলেন না যে এর বিচার হবে বা মামলা হবে ! কারণ এদের আমলনামাতে এরকম নজির স্থাপিত হয়নি। বরং এসব মামলা ময়দান থেকে মিলিয়ে যায় তাই আবু হেনার কথায় এত সন্দেহজনক শংকা ! আজ ১০ মার্চ ২০১৬ তারিখের এমন সংগীন সময়ে আমাদের শক্তিমান প্রধানমন্ত্রী ময়দানে সেনাবাহিনীকে প্রস্তত করছেন আর বলছেন, সেনাবাহিনীকে সদা প্রস্তত থাকতে হবে ! ভিত্তি স্থাপন, উদ্বোধনে আনন্দ সময় পার করছেন, আজ তার আনন্দ ও পূর্ণতার দিন ! জাতির পিতার সাফল্যের দিন ! সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার দিন ! একপাল বেওকুফ মেষপাল নিয়ে তিনি মুখে হাসির ঝিলিক হাতে ছড়ি নিয়ে ময়দানে রাখাল সাজার পাট চালিয়ে যাচ্ছেন ! আল্লাহ ঐ হতভাগা মেষপাল গুলোর হেফাজত করুক।

 

নাজমা মোস্তফা,  ১০ মার্চ ২০১৬।

ইসলামে যুদ্ধ: ব্যাখ্যার নামে অপব্যাখ্যা

এ লেখাটি মূলত আমি আমাদের ঐতিহাসিকদের কৃত অপব্যাখ্যা ও নানান ভুল তথ্য সংযোজন বিষয়ের উপর লিখছি। এর ফলাফল কিভাবে যে প্রকৃত ঘটনাকে মূল সূত্র থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় এবং কিভাবে ভুল ব্যাখ্যা এসে নিজের অবস্থান পাকা করে নেয়, তার উপর আলোকপাত করতে চাই। এ প্রসঙ্গে একটি গল্পও মনে পড়ে যাচ্ছে কিছু দিন আগে আমার এক পরিচিত জন তার বাচ্চাকে এখানের ইসলামিক স্কুলে ভর্তি করতে যাবে, তখন তার প্রশ্নটি হলো এসব স্কুলে ভর্তি করা কি ঠিক হবে? এখানে আবার আল-কায়েদার কোন সমস্যা নেই তো? তার কথাতে সত্যিকারভাবে আমি চমকে উঠি। আল-কায়েদা ভীতি কিভাবে আমাদের গোটা সমাজকে কুরে খাচ্ছে। এতে বুঝা যাচ্ছে মুসলমান মানে আল-কায়েদা। প্রকারান্তরে এ প্রচারে শুধু অমুসলিমরাই নয়, মুসলমানরাও যোগ দিচ্ছে, তাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তথ্য বিভ্রান্তি মানুষকে সব চেয়ে বেশী বেদিশা করতে পারে, যেটি কাটিয়ে উঠা অনেক জটিল ব্যাপার। যুদ্ধের প্রসঙ্গে সন্ত্রাসী মোহাম্মদের চিত্র অনেকের চোখেই পড়ছে। কারণটি ঠিক এটি নয় যে মোহাম্মদ ঠিক ঠিকই সন্ত্রাসী ছিলেন বরং কারণটি হচ্ছে আজকের মতোই যেভাবে মুসলমানকে সন্ত্রাসী বানানো হচ্ছে, সেখানেও সেভাবে নবী মোহাম্মদকে সন্ত্রাসী বানানো হয়েছে। যা নিয়ে কিছু ইউরোপীয় লেখক ও ঐতিহাসিকরা সারা জীবন তাদের নিজের মতো করে নানান রঙ্গরসনা করে গিয়েছে এ সবের সূত্র ধরে। এখন আমরাও নিজেরা অনেক সময় ঐ সব ভুল ব্যাখ্যা পড়ে নিজেরা নিজেদেরে ভুল বুঝছি। মোহাম্মদ (সঃ) সম্বন্ধে ভুল জানছি, এবং কখনো এটি মানছি অনেকেই  যে তিনি বুঝি সত্যিই যুদ্ধবাজ ছিলেন।

একদল মহানন্দে মোহাম্মদকে দায়ী করছেন যে তিনি কেন প্যাগানদের দেব দেবীদের সাথে যুদ্ধের ডাক দিলেন? মোহাম্মদ ভালো করেই জানতেন এ দেবদেবীরা পঙ্গু, শক্তিহীন, মাটির বা পাথরের ঢেলা, যা দিয়ে বড়জোর আমাদের ছেলে পেলেরা খেলতে পারে, তার বেশী নয়। আজকাল খেলতেও বাচ্চারা এর চেয়ে উন্নত উপকরণ পছন্দ করে। মাটিতে বা পাথরে তাদের মন ভরে না। এদের ধরাশায়ী করতে যুদ্ধের দরকার হয় নি। তিনি যখন একেশ্বরবাদী ধর্ম প্রচার করছিলেন ঐ প্রচারকেই তারা ধরে নেয় তাদের অকাল মরণ। আসন্ন মৃত্যু ভয়ে তারা প্রলাপ বকতে থাকে। কখনো মাথায় ঢালে উটের নাড়িভূড়ি, কখনো পাথর ছুড়ে মারে, নওমুসলিমদেরে পাথরে তপ্ত বালুতে নির্যাতন করে, আগুণের ছ্যাকা দেয়। প্যাগান নামধারী শক্তিপূজকরা এসব করে। তারপরও তারা যুদ্ধবাজ হয় না, হয় শান্তশিষ্ট সুবোধ বালক। যারা এ সবের পক্ষে ওকালতি করেন তারাই প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধের ইন্ধনদাতা। মোহাম্মদ এমন বেওকুফ ছিলেন না যে মূর্তির সাথে বোকার মতো যুদ্ধ করতে যাবেন। যদি তাদের সে অপবাদ ঠিকই হয়ে থাকে তবে সে অপবাদ খন্ডনোর দায়িত্ব বর্তায় ঐ সব ক্ষমতাহীন দেবতা নামক মূর্তিদের উপরই, যাদের প্রধানের কাঁধে একবার নবী ইব্রাহিম(আঃ) তার কুঠার রেখেছিলেন যাতে ঐ সব অন্ধরা দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। তারপরও সেই অন্ধরা পরবর্তীতে স্বয়ং নবী ইব্রাহিমের মূর্তি গড়ে পূজা দিয়েছে। যিনি এককালে মূর্তি ভেঙ্গেছিলেন পরে তাকেও তারা ভগবান ঈশ্বর বানিয়ে ছাড়ে। এরা জগতের মানুষ নামের কলঙ্ক ছাড়া আর কিছুই নয়। বিবেকের অপমান তারাই করেছে যুগে যুগে সব চেয়ে বেশী। এক বিংশ শতাব্দীতেও প্যাগানদের স্বপক্ষে লড়াই হচ্ছে, এদেরকে নিয়ে কথা বলতে আমাদের বিবেক সম্পন্ন মানুষদের লজ্জা করা উচিত।

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

মদীনার ইহুদীরা শিশু ইসলামকে ধ্বংস করে দিতে কি কান্ড যে করেছিল তা একমাত্র প্রকৃত ইতিহাস ঘাটলে পাওয়া যাবে অবশ্যই। কিন্তু আমরা নিজের গবেষণার ভান্ডার সমৃদ্ধ করার চেয়ে নিজেরা নিজেদের মাঝেই লেগে আছি তার প্রধান কারণ ইজতেহাদ থেকে সরে পড়া। কখনো নিজেদের পন্ডিতী জাহির করতে যেয়ে আমাদের মাঝে কে কাফির, কে মুমিন সেটির উপর নিজেরাই সার্টিফিকেট দিচ্ছি যদিও আমরা ভাল করেই জানি আমাদের নিজেদের সার্টিফিকেট দেবার কোনই ক্ষমতা নেই এ ব্যাপারে। তবে সঠিক যুক্তি দিয়ে ইজতেহাদের কঠিন শর্ত পালন করে অনেক শক্ত কথাও বলা সম্ভব। হারাম হালালের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ ব্যতীত, আমাদের অতি সাধারণ মানুষকে যে কোন সাধারণ জিনিসকে বলতে শোনা যায় এটি হারাম। যেন ফতোয়া তাদের মুখের বুলি, অপরকে আঘাত করার জন্য এক উত্তম হাতিয়ার। বস্তুত হারাম বা হালাল কারো মুখের কথায় হবার কথা নয়, এটির ধারণা শুধু তখনই কার্যকর হবে যখন এর উপর স্রষ্টার সুস্পষ্ট নির্দেশনা আসবে। কারো মুখের কথায় বা কোন ওয়াজকারীর মুখের বর্ণনাতে এটি নির্ধারিত হতে পারে না। ইসলাম কোন আচারের ধর্ম নয়, এটি নীতির ধর্ম, সিলেবাসের ধর্ম। সিলেবাসের বাইরে কেউ এটিতে বাড়তি কিছু সংযোজন বিয়োজন করতে পারেন না। যেমন সেদিন একজনকে বলতে শুনলাম রমজানের আগের দিন রোজা রাখা হারাম, তার মানে সমস্ত আমেরিকার মুসলমানরা এ কাজটি করছেন প্রতি বছর। আমরা জানতাম ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম এবার আর একটি নতুন ফতোয়া শুনলাম এবং অনেকেই রমজানের আগের ছয় রোজাও রাখেন নফল মনে করে তার মানে তারা সারাজীবন হারাম কাজ করছেন। এসবই আমাদের ধর্মের সর্বনাশ করেছে সবচেয়ে বেশী, সবাই মনে মনে পন্ডিত। যার যা মুখে আসে তাই হারাম হালাল বলে প্রচার করতে কেউ দ্বিধা করছেন না।

Lecture Series Facts & Myths Dr Ram Puniyani,

 

স্মরণ করার বিষয় প্রথম হতেই মদীনায় একদল কপট মুসলমানের আবির্ভাব হয়েছিল যাদেরে খুব সহজে মুসলমান না বলে মোনাফেক বলা যায়। এদের একজন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই মোনাফিকের এক উত্তম উদাহরণ হয়ে ইতিহাস বিখ্যাত হয়ে আছেন। সম্ভবত ধর্ম নয়, ক্ষমতার লোভই তাকে এ নতুন ধর্ম গ্রহণে উৎসাহিত করেছিল কিন্তু পরে দেখা গেল এ ধর্ম কোন বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য বা কোন ব্যাক্তি বিশেষের লাভের জন্যও সৃষ্ট হয় নি। কিন্তু সে ব্যাক্তিটি আমৃত্যু এ ধর্মটির সর্বনাশের জন্য, এর মূলচ্ছেদের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যায়। আব্দুল্লাহ ইবন উবাইএর কাছে লেখা কুরাইশ নেতাদের চিঠির ব্যাখ্যা ছিল এভাবে যে, তোমরা আমাদের স্বধর্মের হয়েও আমাদের পরম শত্রু মোহাম্মদকে নিজের দেশে আশ্রয় দিয়েছ। এবার তোমরা দুটি কাজ করতে পার এক তোমরা তাকে নিজেরা যুদ্ধ করে ধ্বংস করে ফেলবে নয়তো তাকে সেখান থেকে বের করে দিবে। আমরা কসম করে বলছি তোমরা যদি এ দুটির একটি অন্তত গ্রহণ না করো তাহলে আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমাদের আক্রমণ করবো। তোমাদের যুবকদেরে নিহত করবো এবং তোমাদের মেয়েদেরে বাঁদী বানিয়ে রাখবো (আবু দাউদ হাদিস গ্রন্থের সুত্রে প্রাপ্ত)।

তারপরও ইউরোপীয় লেখকেরা এসবের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সব সময় অতিরঞ্জন করে দেখিয়েছেন যে হযরত মদীনায় আসার পর কোরেশদের উত্যক্ত করে তাদের বানিজ্য সম্ভারাদি লুন্ঠন করে তাদেরে যুদ্ধে লিপ্ত করতে বাধ্য করেন। দেখা যায় পরবর্তী যুগে অনেক লেখক ও রাবীরা কাফেলা লুন্ঠন করার উদ্দেশ্যে এ কথাগুলি তাদের লেখাতে যোগ করে দেন। তারপরও দেখা যায় তাবরী, তাবকাত প্রভৃতি গ্রন্থের বদৌলতে আমাদের লেখকরা তাদের লেখা থেকে এ কাফেলার মানুষ এবং উটের সংখ্যাও সুক্ষ্মভাবে দিতে পেরেছেন। বস্তুত ঐ সব রাবীরা তেমন কোন কাফেলার প্রকৃত সন্ধান দিতে না পারলেও একটি ভুল তথ্য সংযোজন করে দিতে দ্বিধা করেন নি। একমাত্র গবেষনাই এ সব গোজামেল খোলাসা করতে সক্ষম। নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য, গতিবিধি লক্ষ্য রাখার জন্য গুপ্তচর প্রেরিত হত, কাফেলা লুন্ঠনের জন্য কখনোই নয়। যদি সত্যিই কাফেলা লুন্ঠনের জন্য প্রেরিত হতো তবে এত অল্প সংখ্যক ব্যাক্তি কখনোই প্রেরিত হতো না। কুর্জ এবন জাবের নামের মক্কার একজন প্রধান ব্যাক্তি মদীনার নিকটস্থ কৃষিঅঞ্চল থেকে মুসলমানদের পালিত পশুগুলি ধরে নিয়ে যায় (সুত্রগ্রন্থ, এছাবা, ৭৩৮৮নং)। দিন দিন এদের অপকর্ম ও তৎপরতা বাড়তে থাকে। এর কাছাকাছি সময়ে মক্কাবাসীদের আসন্ন যুদ্ধের আগাম প্রস্তুতি সংবাদ হযরতের কানে যায়। ঠিক তখনই হযরত এদের গতিবিধি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গুপ্তচর নিয়োগ করেন। নাখলা নামক স্থানটিতে যে ঘটনাটি ঘটে তাকেও অনেকেই  উদ্দেশ্যমূলক ধরে নিয়ে হযরতকে দায়ী করে  বদর যুদ্ধের কারণ মনে করে প্রচার করে থাকেন। বাস্তবে প্রকৃত অনুসন্ধানে তাও টিকে না। এরা কখনোই কাফেলা লুন্ঠনের কোন অনুমোদন পায় নি। দেখা গেছে ঐতিহাসিকরা কখনো ঐ সব গুপ্তচর বাহিনীকে “অভিযান” হিসাবে উল্লেখ করেন। এতে ইউরোপীয় লেখকেরা দ্বিগুণ উৎসাহে তাদের তপ্তবাণী ছড়াতে থাকেন ইসলাম নিধনের উত্তম সুযোগ মনে করে।

হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) যে ভাবে মক্কা বিজয় করে ছিলেন

 

ইউরোপীয় লেখকদের ও আরো সব ঐতিহাসিক তথ্য বিভ্রান্তি আমাদের অনেককেই খটকায় ফেলে দিয়েছে। অনেকে ধরে নেন যে তাহলে মোহাম্মদ নিশ্চয় এরকম কোন সন্ত্রাসের যোগান দিয়ে গেছেন। অনেক সময় কুরআনের আয়াতই যথেষ্ট সংখ্যক জটিল ধারণার অবসান ঘটাতে সাহায্য করে। যেমন বদর যুদ্ধের উপর নাজেল হওয়া অনেক আয়াতেই বোঝা যায় যে তাদের অহঙ্কার ও যুদ্ধউন্মাদনার কারণেই এ যুদ্ধের অনুমতি মুসলমানদেরে দেয়া হয়। কুরআনের আয়াত থেকেও এটি জানা যায় যে, “মক্কার কোরাইশ নর নারীদের মধ্যে একরতি পরিমাণ সোনাদানাও যার নিকট ছিল তারা সেটি এ কাফেলায় প্রেরণ করে” (দাহলান ১-৩৬৫)। সুরা আনফালে তাদের ধন সম্পদ সংগ্রহের বর্ণনার উপর সুস্পষ্ট বক্তব্য আসে। এখানে সুরা আনফাল থেকে বদর যুদ্ধের উপর দুটি আয়াত আনছি  “নিঃসন্দেহ যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা তাদের ধন সম্পত্তি খরচ করে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেবার জন্যে। তারা এটি খরচ করবেই, তারপর এটি হবে তাদের মনস্তাপের কারণ” (সুরা আনফালের ৩৬ আয়াত)। “ওহে যারা ঈমান এনেছ! যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের যখন তোমরা দেখা পাও যুদ্ধ যাত্রা করছে তখন তাদের দিকে পিঠ ফিরাবে না” (সুরা আনফালের ১৫ আয়াত)। এখানে দুটি সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। এক তারা ধন সম্পদ দিয়ে প্রতিরোধ গড়ছে, এবং এর মোকাবেলা করতে ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে, পিঠটান না দিতে হুশিয়ার করা হচ্ছে। সত্যের প্রতিষ্ঠায়, ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। “আর তাদের সাথে লড়বে যে পর্যন্ত না উৎপীড়ন বন্ধ হয়, আর ধর্ম সামগ্রিকভাবে আল্লাহর জন্যেই হয়।” (সুরা বাক্কারাহএর  ১৯৩আয়াত , সুরা আনফালের ৩৯ আয়াত)।  এখানে দেখা যাচ্ছে এসব আয়াতে উৎপীড়ন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। এ নির্দেশ মোহাম্মদের কোন নির্দেশ নয়, এ নির্দেশ আল্লাহর নির্দেশ। তাই কারো যদি সখ  হয় যুদ্ধবাজ চিহ্নিত করার তবে আল্লাহকেই করতে পারেন, মোহাম্মদকে নয়।

ইতিহাস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে যে ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে তা হচ্ছে যে মদীনায় বসবাসকারী দুটি দল বনু কোরাইজা ও বনু নাজির নামের দুটি ইহুদী গোত্র মোহাম্মদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে তিনি দুই গোত্রের সমস্ত পুরুষকে হত্যা করার নির্দেশ দেন। বস্তুত এখানে সুপ্তভাবে হলেও কথাটি থেকে যায় যে তিনি প্রকারান্তরে তাদের জন্যও প্রেরিত হয়েছিলেন। তবে কেন তিনি এত কঠোর হলেন? এতে অনেকেই মনে করতে পারেন যে তিনি তাহলে দেখা যায় খুবই হিংস্র ছিলেন, যুদ্ধবাজ ছিলেন। সামান্য একটি কথাতে সমস্ত ইতিহাস পরিষ্কার হয়ে যায় না। এই ইহুদীদের ছলচাতুরী যে কি প্রকৃতির ছিল তা এক কথায় প্রকাশ করার নয়। তারপরও এর মূল ঘটনা একদম সেরকম ছিল না যেভাবে এটি অনেকেই ধরে নিচ্ছেন। বস্তুত ইসলামের কারণেই বরং তাদের উপর অনেক সহনশীল ভূমিকা দেখানো হয় নয়তো প্রাচীন তথাকথিত মধ্যযুগীয় নীতির অনুসারে চললে তাদের এ রকম অপরাধের কারণে তাদের প্রতি আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়াও সঙ্গত ছিল। এ ঘটনার আগে বদর, ওহুদ, খন্দকের উপর অনুসন্ধান চালালে প্রতিটি পাঠক জানবেন যে তারা এই যুদ্ধের শুরুটা কিভাবে ঘটিয়েছে এবং মুসলমানদেরে যুদ্ধে বাধ্য করেছে। এক গালে চড় দিলে আর এর গাল বাড়িয়ে দেবার ধর্ম ইসলাম নয়। কেউ কাউকে আক্রমণ করলে আক্রমনকারীর উপর জবাব দিবার অধিকার বর্তায়। সে অপরাধে তাকে দোষী মনে করার কোন কারণ নেই। অপরাধ অনুপাতে শাস্তি সব যুগেরই বিচার। আর সে সময়টি ছিল মধ্যযুগ, মধ্যযুগের সেই চরম বর্বরতার উপরই ভর করে দাড়ায় প্রচন্ড প্রতাপে মহান পরিচিতি নিয়ে ইসলাম নামের শান্তির ধর্ম। এটি দাঁড়াতে তাকে শান্তির উপর অবলম্বন করেই এগুতে হয়; অশান্তি, অরাজকতা, অন্যায়, অবিচার করে নয়। ন্যায়, নীতি, মহানুভবতা, সুবিচারের উপর ইসলাম কঠিন একটি শক্ত পরিচিতি নিয়ে গর্বের সাথে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে ইহুদীরা যারা ইসলামের দুর্যোগে কঠিন কপট ভূমিকা নেয় তাদের সম্বন্ধে একটি কথা বলে রাখি এরা মূলত এখানের আরবের মূল বাসিন্দা ছিল না। জবুর, ইঞ্জিলের পুরানো শাস্ত্র তথ্য অনুসারেই তাদের পূর্বপুরুষরা একজন নবীর অপেক্ষায় এখানে এসে বসতি করতে থাকে। কিন্তু যখন তারা দেখলো যে এ নবী তাদের নিজেদের গোত্র থেকে আসেন নি তখনই তারা বেঁকে বসে। বস্তুত এখানের ইহুদীরা পৃথিবীর অন্য সব ইহুদীদের থেকে দুধর্ষ ছিল, ষড়যন্ত্রে, ও কপটতায়। মদীনায় আগমনের পরপরই হযরত সব জাতির  সাথে মিলে একটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। পৌত্তলিক, ইহুদী ও মুসলিমরা ছিল মদীনার বাসিন্দা। এখানে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত ছিল এবং স্বদেশ রক্ষার্থে সবার সহযোগিতা নতুন রাষ্ট্রের নাগরিকদের শর্তের অংশ ছিল। বহিঃশত্রুর সাথে ষড়যন্ত্র ছিল এ গণতন্ত্রের শর্তবিরোধী কাজ। ধর্ম, বানিজ্য, ও সমস্ত আভ্যন্তরিন বিষয়ে ইহুদীদিগের সম্পূর্ণ স্বীকৃতির অনুমোদন ছিল। তারা কিন্তু বার বারই এসব শর্ত অমান্য করে অপরাধ করতে থাকে এবং তাদেরে এসব ক্ষেত্রে বার বারই ক্ষমা করে দেয়া হয়। এবং ক্ষমা দেয়া হয় বিনা দন্ডে এবং বিনা ক্ষতিপূরণে, যা বাস্তবে তাদের তথাকথিত জীবনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এদের প্রধান পেশাই ছিল গোত্রে গোত্রে গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে রাখা যে যুদ্ধের পিছনে তারা যুগ যুগ ব্যাপী ইন্ধন দিয়ে গেছে। আউস ও খাজরাজ গোত্রের  সে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের খবর আমাদের প্রায় সবারই জানা। বরং এই মুসলমানদের আগমনে সে দেশের বহু যুগ ব্যাপী সব রক্তচোষা যুদ্ধের চির অবসান হয় যা ছিল ইহুদীদের নিজস্ব মাতবরির জন্য এক ভীষণ ধাক্কা, এক প্রচন্ড হুচট।

দেখা যায় সুযোগ মত তারা সন্ধির কথা অস্বীকার করতে দ্বিধা করতো না। তখন তারা প্রকাশ্যে অস্বীকার করতো যে তারা সন্ধির ধার ধারে না এবং মোহাম্মদকে তারা চিনে না, পরোয়া করে না। পরিখার যুদ্ধেও মুসলিম নারীদের এবং ছেলেপেলেকে আক্রমণ করতে এরা উদ্যত হয়। সে সময়ও তারা মনে করেছিল যে কোরেশের সাথে সন্ধির ফলে এ দুই বাহিনীর মিলিত প্রচেষ্ঠায় সমস্ত মুসলিম বাহিনী ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস খন্দকের গ্যাড়াকলে পড়ে অর্থ্যাৎ অদভুত এ নতুন ধরণের অভিনব যুদ্ধ কৌশলের ফলে তাদের সব হিসাব গোলমেলে হয়ে যায়। এ সময় বনি নাজির গোত্রের নেতা ‘হোয়াই’ খাইবারের ইহুদীদের সমাজপতি হয়ে বসে এবং নানান ষড়যন্ত্রে মুসলমানদের ধ্বংসের জন্য সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। তার স্বপ্ন ছিল আকাশচুম্বি। অতি অল্প দিনের মধ্যে ষড়যন্ত্রী সূত্রে যোগাযোগ করা বিশাল ইহুদী বাহিনী আসলে তারা একাই এতদঅঞ্চল শাসন করার স্বপ্নে বিভোর হয়ে লম্ফঝম্ফ দিতে লাগলো। যার সহজ পরিণতি হিসাবেই খন্দকের যুদ্ধের পর তিন সহস্র সৈন্য সহযোগে মুসলমানরা তাদের দূর্গ অবরোধ করে তাদেরে আত্মসমর্পণ করতে বলে। তারা সে প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে। তখনও তারা খাইবারের আশায় বসে ছিল। এরকম সঙ্গীন মূহূর্তেও হযরত তাদেরে বার বার সন্ধির প্রস্তাব দেন তারা সেটি প্রত্যাখ্যান করে। বরং তারা পরবর্তীতে সন্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর সংবাদ পাঠালো যে মোহাম্মদ নয় বরং ছাআদ ইবন মাআজ এর বিচার তারা মানবে। হযরত তাদের এ প্রস্তাব মানলে তারা তখন আত্মসমর্পণ করে।

এরপর খন্দক যুদ্ধে আহত ছাআদ তাদের বিচারের ভার গ্রহণ করেন। প্রথমে ছাআদ তাদেরে প্রতিজ্ঞা সমাপান্তে তার বিচার্য অভিমত ব্যক্ত করেন ঠিক এভাবে যে, তাদের যুদ্ধা পুরুষদেরে কতল করা হোক, বাকীদেরে বন্দী করা হোক এবং বিষয়সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হোক। এ সিদ্ধান্ত অনুসারেই একদলের প্রাণদন্ড হয় এবং একদলকে বন্দী করা হয়এর পূর্বে প্রতিবারই ইহুদীদেরে ক্ষমা প্রদর্শণ করা হয়েছে এবং তা করেছেন হযরত স্বয়ং নিজে। বনী কোরাইজার যে অপবাদ অনেকেই হযরতের নামে চাপাতে চান সেটিও কার্যত হযরতের উপর বর্তায় না। কারণ হযরত বিচার করলে হয়তো আগের মতোই ক্ষমা করে দিতে পারতেন কিন্তু সে বিচারের দায় পড়ে ছাআদের উপর যার বিচার ইহুদিরা শিরোধার্য করে মানতে চেয়েছিল। এ তাদেরই কর্মের উপযুক্ত ফলাফল। আর বিশ্বস্রষ্টার ইচ্ছাও হয়তো এটিই ছিল তাই এরকম একটি ফয়সালার মোকাবেলা তাদের করতে হয়। তাদের পাপের তুলনায় তাদের পাওনাটা মোটেও বেশী হয় নি, বরং কমই হয়েছে।

এর সূত্রে এক শ্রেণীর লেখকেরা বলেছেন যে, কোরাইজা গোত্রের সমস্ত বয়ঃপ্রাপ্ত পুরুষদেরে হত্যা করা হয়েছিল, সংখ্যাও তারা ব্যক্ত করেন ছয়শত থেকে নয়শত। কিন্তু তিরমিজি, নাছাই, প্রভৃতি হাদিছ গ্রন্থে কোরাইজা অভিযানে যোগদানকারী জাবের বলেন যে, ছাআদ কোরাইজার পুরূষদেরে নিহত করার আদেশ প্রদান করেন। তাদের সংখ্যা ছিল চারশত। তারপর তারা নিহত হওয়ার পর ছাআদের মৃত্যু হয়। এ হাদিসের সূত্রে জানা যাচ্ছে তারা ছিলেন চারশত। আবার জাবের বলেন যে, ছাআদ সমস্ত পুরুষকে নিহত করার আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু বোখারী ও মুসলিমের সূত্রে জানা যায় ছাআদ বলছেন, “আমি আদেশ করছি যে, যুদ্ধে লিপ্ত পুরুষদের নিহত করা হউক”। উপরের সবকটি হাদিস মিলিয়ে পড়লে দেখা যাবে যে সে সময়ে এই বন্দী নির্ধারণের জন্য একটি বিচার হয়েছিল। (তথ্য সূত্র মোহাম্মদ আকরম খাঁ, মোস্তফা চরিত, পৃষ্ঠা ৪৭২)। বিচারের পর ঐ চারশত পুরুষ থেকে যাদের সম্বন্ধে কোন প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায় নি তাদেরে মুক্তি দেয়া হয় বা বন্দী করে রাখা হয়কুরআন শরিফেও এর উপর বর্ণনা এসেছে সুরা আহজাবে। সেখানে বলা হয় যে তারা একদলকে নিহত করলো এবং একদলকে বন্দী করলো। সঙ্গত কারণেই বুঝা যায় সকল পুরুষকে নিহত করা হয় নি। একদল রেহাই পায়। এবন আছাক নামের এক হাদিস বেত্তা বলেন, তারপর হযরত তাদের তিনশত পুরুষকে নিহত করলেন এবং অবশিষ্ট পুরুষকে বললেন তোমরা সিরিয়া প্রদেশে চলে যাও (কানজুল ওম্মাল ৫-২৮২)। সে সময় সিরিয়া প্রদেশটি ইহুদীদের প্রধান কেন্দ্র ছিল। বনি কোরাইজার এক মহিলা রায়হানাকে নিয়েও ভিত্তিহীন গালগল্পের অবতারণা করা হয়েছে। কিন্তু হাফেজ ইবন মন্দার ন্যায় রেজাল শাস্ত্রের ইমাম এটি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে, হযরত বনি কোরাইজার রায়হানাকে বন্দী করার পর মুক্ত করে দিলে রায়হানা নিজ পরিজনের নিকট চলে যান”। প্রখ্যাত হাফেজ ইবন হাজরও এটি স্বীকার করেছেন।

তারপরও ঐতিহাসিকরা এটি বর্ণনা করেছেন যে তারা কোরাইজারা কোথায় রাত্রিবাস করে। ঐতিহাসিক হালবী বলেন, কোরাইজার সমস্ত পুরুষকে ওসামা ইবন জায়েদের গৃহে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। বাস্তবে সে সময়ের একটি সাধারণ গৃহ কি রকমের হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়, এবং সে গৃহে কেমন করে এত লোকের জায়গা হলো সেটিও ভাববার বিষয়। ঐতিহাসিকরা দেখা গেছে কখনো কখনো হাদিসের বা তফসিরেরও পাত্তা দেন নি, কখনো কখনো মনগড়া ব্যাখ্যা দান করেছেন। এবং আমাদের অনেকেই তার অনুকরণে নকল ইতিহাস টেনে এনে ঘটনাকে আরো ঘোলাটে করে তোলেছেন। এভাবে দেখা যায় হয়তো অনেকে তফসিরেও অনেক ভুল ব্যাখ্যা ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এর খেসারত হিসাবে পরবর্তীরা অনেক ভুলের যোগান দিয়ে যাচ্ছেন এবং সমাজে অনেক নতুন ভুল ধারণা শক্তিশালী হয়ে প্রচারিত হচ্ছে, কখনো নতুন ভুলের সৃষ্টিও হচ্ছে। লড়াকু কোরাইশ দল তথাকথিত আইয়ামে জাহেলিয়ার নীতির উপর ভর করেই তাদের কাজ চালায় আর অপর পক্ষে মুসলমানেরা তাদের নবী মোহাম্মদের নেতৃত্বে জগত সেরা আদর্শের অনুকরণে বিশ্বকে চমকে দেবার মতো এক ভিন্নধর্মী আদর্শের ঝান্ডা তোলে ধরে। বস্তুত বিরুদ্ধবাদীদের এই মিথ্যে ছলবাজ সাজানো অপবাদ যেটি তারা করে চলেছে এটি কখনোই যুক্তির কাছে টেকে না। শান্তিদূত হযরত মোহাম্মদ (সঃ) একজন নবী হিসাবে ইহুদীদের প্রতি, পৌত্তলিকের প্রতি বা খৃষ্টানের প্রতি, আচারে আচরণে কখনোই ইসলামের বাইরে যান নি, নীতির বাইরেও যান নি। তার যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে নি বরং তারাই বারে বারে পদস্থলিত হয়েছে আদর্শ থেকে, সত্য থেকে, নীতি থেকে।

ইসলামের মূল শিক্ষাতে যদি মুসলমানেরা সত্যিকারভাবে নিবিষ্ট থাকতো তবে তাদের হারার বা অনুশোচনার কোনই কারণ ছিল না। আজ সারা বিশ্বে ইসলাম গালির ভাগিদার। চৌদ্দশত বছর আগে আমাদের নবী যে ইসলাম রেখে গিয়েছিলেন তার সাথে পরবর্তীতে যেভাবে দলে দলে হাদিস মতে (৭৩ দল) অসংখ্য দলের সৃষ্টি হচ্ছে, এরা সবাই এ সব গ্যাঞ্জামের যোগানদাতা। কালে মানুষ মূল গ্রন্থ থেকে সরে পড়ে এবং এটিকে একটি পুথির মর্যাদা দেয় অতিরিক্ত সমাদরে। সে বদ্ধ দরজা ইদানিং কিছু মুসলমানেরা ভাংতে শুরু করেছেন খুব নতুনভাবে, এটি আশার কথা। ইজতিহাদ, গবেষনা ব্যতীত কখনোই সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়। এটি ছিল এখানের আদেশ, কালে জনতারা তার মূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেখানে মহা ধুমে জায়গা করে নেয় ফতোয়া, তাবিজ কবজ, ঝাড় ফুক, তুক তাক, মন্ত্র তন্ত্র। এককালের মূর্তিপূজক জাতি শুরু করেছে কবর পূজার নামে নানা ভাওতাবাজীর মাজার পূজা। ভুত তাড়ানোর নামে, জিন খেদানোর নামে বছরে প্রায় সব সময়ই শোনা যায় নানান অপকীর্তির সংবাদ পত্রিকার পাতাতে। এসব জিনদের অসুবিধা হচ্ছে এসব প্রচারের বাহূল্যতায় এরা ধরা পড়ে যাচ্ছে, সমাজে অনেকের দৃষ্টি স্বচ্ছ হচ্ছে। নয়তো অতীতে এসব চাপা পড়ে যেত, খুব একটা এসব অপকর্মের কথা জানাজানি হতো না। কম বেশী আমাদের সারা জাতির একাংশ অন্তত এসবের গভীর অন্ধকারে ডুবে আছে। এর প্রধান কারণ এখানের কৌশলবাজরা একে ধর্ম বলে দিব্যি চালিয়ে দিচ্ছে মানুষের অজ্ঞানতার সুযোগে। এভাবে অনেকের দৃষ্টিতে মোহাম্মদ কখনো সন্ত্রাসী, যুদ্ধবাজ। বাস্তবে তিনি যা ছিলেন তা আল-কুরআন সত্যের অঙ্গিকার নিয়ে আজো ঘোষণা দিচ্ছে।

Old Bible Proves Quran is Right

 

এক আল্লাহর, এক গ্রন্থের এক ধর্মকে আজ নানা জন নানাভাবে বুঝার চেষ্টা করছেন। মূল গ্রন্থকে বুঝুন, জ্ঞানীর দৃষ্টিতে সত্যের সন্ধান করুন। মুসলমান যদি বাড়াবাড়ি (আল্লাহর অপছন্দনীয় জিনিস) সেটি ত্যাগ করে তার মূল আদর্শ নিয়ে থাকতো তবে বিশ্বজয়ের চাবিকাঠি তাদের হাতেই থাকতো। জ্ঞানীদের উচিত এর উপর গবেষনার দৃষ্টিতে সত্যের সন্ধান করা, তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা। কুরআনের প্রথম বাণীটিই ছিল “পড়” কথাটির মূল্যায়ন করা। দুঃখের বিষয় যাদের উপর এর নির্দেশ ছিল দেখা যায় প্রকারান্তরে তারাই প্রচারে সময়ে সময়ে এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এভাবে এরা দৃশ্যতঃ ধর্মের পক্ষের শক্তি হয়ে বিপক্ষের কাজ করেন। উদাহরণ হিসাবে বলছি এককালে নারী শিক্ষাতে এটি করেছেন আমাদের কর্তারা। সেই কর্তাদের কথা মতো এগুলে আমারও আজ এ অর্টিক্যালটি লেখার কথা ছিল না।

এর জের হিসাবে কিভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি, কিভাবে আমাদের জ্ঞানের দ্বার রুদ্ধ করা হয়েছে তার একটি উদাহরণ দিচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমনটিও ঘটেছে একবার এক ছাত্র উচ্চতর গবেষনার কাজ কুরআনের উপর করতে চাইলে তাকে তা করতে দেয়া হয় নি। কথাটি শুনে আমি চমকে উঠেছিলাম, কেন দেয়া হয় নি? কারণ কুরআনের উপর গবেষণা চলবে কেন? এটি পূর্ণ, এটি গবেষনার বিষয় নয়। একটি সত্য ধর্মধারীদের এটি বলা শোভা পায় না। কিয়ামত পর্যন্ত এর উপর গবেষণা, সাধনা করার নির্দেশ ছিল আল্লাহরই, যতই আমরা এর উপর গবেষণা করবো ততোই নতুনের সন্ধান পাবার কথা ছিল। আমাদের অজ্ঞ জনতার একাংশ এর থেকে শুধু তাবিজ কবজের নামে মিথ্যা বিদ্যা চালু করে দিয়েছে, সত্যিকারের সুফল তারা কখনোই তাদের ভাড়ারে উঠাতে পারে নি। জিহাদের নামে আজ সুইসাইড বোম্বিং কোন মজার খেলা নয়, বেহেশত কোন ছেলের হাতের মোয়াও নয়। কুরআনে আল্লাহ দুটি বেহেশতের অঙ্গিকার করেছেন একটি ইহকালে একটি পরকালে। বেশীরভাগের কাছে ইহকালেরটি ফসকে যাচ্ছে মনে হচ্ছে তাহলে পরকালেরটা কি এভাবে ঘোরাপথে পৌছানো সম্ভব হবে, সে সাধনা একদল করছেন। এতই কি সহজ পরীক্ষাতে ষ্টার, লেটার, টেলিগ্রাম, স্ট্যান্ড মার্ক পেয়ে যাওয়া তাও আবার কুপথে? বিবেককে প্রশ্ন করুন, বিবেকই মানুষের শ্রেষ্ঠ ওস্তাদ, এটিও একটি হাদিস। ব^াংলাদেশ আফগানিস্তান নয় বা কাশ্মিরও নয়, ইরাকও নয়, ইসরাইলও নয়। তারপরও যদি কারো সখ হয় এদেশটিকে ওদের এক সারিতে দাঁড় করিয়ে দিতে তাদের জন্য কঠিন বিচার অপেক্ষা করছে অবশ্যই, কারণ স্রষ্টা সত্যিকারের বিচারক। কোন দলের নয়, বিধর্মীর, অধার্মিকের, নাস্তিকের সবারই বিচারক তিনি। তাই সুসাইড বম্বিং করে নিজের জানটা খুইয়ে শেষকালে যখন জাহান্নামের শহীদ মিনারে ঢোকানো হবে সেটি যে কেউ সাধারণ বিবেক দিয়েও খুজলে পাবেন। সবারই সেটি অবশ্যই মাথায় রেখে চলা উচিত।

জানি না যেসব পাগল এসব করছে তাদের কাছে আমার এ লেখাটি পৌছাবে কি না? তবে পাগল দিয়ে অনেক কাজই করানো যায়, সত্যিকারের মানুষদের মুক্তির জন্য স্রষ্টার সাহায্য ছাড়া আমাদের বাঁচবার আর কোন পথ দেখছি না। বিদেশে থেকে নিজের দেশের মানুষদেরে খুব বেশী করে মনে পড়ে। যে সমাজ যে বন্ধুজন যে শিকড় আমি ফেলে এসেছি তা আমাকে চরমভাবে ভাবায় এবং সে হিসাবে আমি আমার দেশের জনগণকে শ্রদ্ধা করি অতিরিক্ত। যে মূল্যবোধ আজো আমাদের সমাজে অবশিষ্ট আছে তা অমূল্য ভান্ডার সন্দেহ নেই। নিজেদের অপরিনামদর্শিতার জন্য আমরা যেন তা হারিয়ে না বসি। যতদূর জানি স্রষ্টাই নির্যাতিতের সবচেয়ে কাছের বন্ধু, তাই আজ কায়মনোবাক্যে তাঁর কাছেই সাহায্য চাইছি। শত সমস্যায় জর্জরিত একটি জাতি যেন সঠিক পথের সন্ধান পায়, এ কামনাই করছি।

 

নাজমা মোস্তফা,  নভেম্বর ২৭, ২০০৫ সাল (এটি লেখা হয়) ২৩ নভেম্বর ২০০৬ সালে লেখাটি যায়যায়দিনে ছাপা হয়।

Tag Cloud