Articles published in this site are copyright protected.

Archive for the ‘Religion’ Category

পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার।

এ প্যারাটি ১২ এপ্রিল ২০১৭ সালের সংযোজন: মঙ্গল শোভাযাত্রার তর্কযুদ্ধে হাসিনা বলছেন মঙ্গলবার ও কি তাহলে হিন্দু বার? জবাবে বলছি শুধু মঙ্গলবার কেন, বৃহস্পতিবারও দেবতার নামে নাম, তবে গবেষনাতে অনেক সত্য উন্মোচিত হচ্ছে; বেদের রচয়িতা হচ্ছেন অঙ্গিরার পুত্র বৃহষ্পতি। উল্লেখ্য উক্ত অঙ্গিরা নবী ব্রহ্মার পুত্র (ব্রহ্মা মানে নবী ইব্রাহিম (ABRAHAM = BRAHAM+A) দুর্গা পূজা-Braham+a এর উৎপত্তি। লিংকটি দেখতে পারেন । আকবরের সৃষ্ট বাংলা সনে হিন্দু আধিক্য থাকা খুব স্বাভাবিক। তার স্বরচিত ধর্ম দীন-ই-এলাহী ধর্মটি হিন্দু ধর্মের একটি ভিন্নতর সংস্করণ ছাড়া আর কিছু ছিল না। দেব দেবীর নাম অনুসারেই মঙ্গল দেবতার নামানুসারে ঐ নামও এসেছে সপ্তাহের এক বার হয়ে। অজয় রায় সহ আসাদুজ্জামান নূর হাসিনা কেউই ধর্মের গোড়াতে না গিয়েই নিজেদের মনমত ফতোয়া দিয়ে বেড়াচ্ছেন। সবাই ফতোয়া বিলি করতে ওস্তাদ। এককালের অগ্নি উপাসক ইরানীদের নওরোজ উৎসব এনে ঢাল হিসাবে আনতে চাইছেন। ইতিহাসের জমায় প্রকাশ আকবরও এককালে শিয়ার অতিরিক্ত মাহদি ঘটিত ভবিষ্যত আগমনীর স্বপ্ন থেকেই নিজেকে ঐ পদের একজন ধরে নিয়ে নতুন দীন এ এলাহী ধর্মটির দিকে পা বাড়ান। কিন্তু এর মাঝে ঐশী নির্দেশ না থাকার কারণে নকল মাহদী আকবরের প্রচেষ্ঠা অঙ্কুরেই শেষ হয়। ধর্মটি না জেনেই যারা ধর্মের মস্তানী করছেন তারা ও থেকে বিরত হলেই ভালো। মুসলিমদের উপর নবীর স্পষ্ট নির্দেশ ও সাবধান বাণী হচ্ছে কখনোই যেন অন্য ধর্মের অনুকরণ করা না হয়। ঐ সময় মদীনাতে দুটি উৎসব পালিত হতো, নবী মুসলিমদের জন্যও দুটি উৎসব নির্ধারিত করে দেন, ঈদুউল ফিতর ও ঈদউল আজহা। ধর্মে কোন সংযোজন তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। এর প্রধান কারণ সমাজে প্রচলিত অন্য ধর্মের অর্জন ছিল এত বিতর্কীত ও প্রশ্নবিদ্ধ যে ওর সংস্পর্শে আসলে সত্য ধর্ম বিপন্ন, বিনষ্ট হতে বাধ্য। এ নীতি একদিনের জন্য ছিল না এটি চিরকালের জন্যই তিনি নির্ধারিত করে যান। তারপরও নানা অনাচার এখানে এসে জমা হয়েছে, শবেবরাত পড়শির ময়দান থেকে আগত এরকম একটি অনুষ্ঠান যার কোন ধর্মীয় ভিত্তি নেই। এরপর মঙ্গলশোভা যাত্রা নামে আর একটি অনাচার আজকের প্রজন্মকে উদবুদ্ধ করছে সরকার ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা, এরা ধর্মটি সঠিকভাবে জানে না বলেই এ কাজে অগ্রসর হচ্ছে। সনাতন ধর্মের নামে হিন্দুরাই মুসলিমদের সব ম্লেচ্ছ অচ্ছুৎ নবী রসুলদেরে সামান্য নামে ওদল বদ করে তাদের মন্দিরে গোবর চোনা দিয়ে পরিশুদ্ধ করে নিয়েছে।

বাংলাদেশের মুসলিমরা কোন কোন বিষয়ে কিভাবে ক্রমে ক্রমে মূল সত্য থেকে সরছে, তার নিদর্শণ বহু। বিশেষ করে দেশ থেকে বের হয়ে বিদেশে এসে ধর্ম শিখেছে এর উদাহরণ শত শত। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান যা দলিলে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত স্পষ্ট নীতিমালার কারণে এতে যোগ বা বিয়োগের সুযোগ নেই বলাই বাহুল্য। কিন্তু তার পরও অজ্ঞ মানুষ ধর্মের মূলে না গিয়ে ভুলের মাঝে জড়িয়ে গেছে শুরু থেকেই। ঐ ভুল থেকে বের হয়ে মূল সত্যে আত্মসমর্পন করাও সময়ের দাবী। ভুল করেছে বলে তার আর শোধরানোর সুযোগ নেই তা বলা যাবে না। শবেবরাত এরকম একটি অনাচারের নাম যা ধর্মের নামে সমাজে চালু হয়ে গেছে। ওটিও হয়েছে হিন্দুদের পূজা অর্চনার ফাঁক গলিয়ে। হয়তো কোন ধর্মান্তরিত হিন্দুই ওটি মহাআনন্দে ঢুকিয়ে দিতে পারেন কারণ মূল ইসলামে এ ধারার কোন বিধান চালু নেই। ইসলামে কোন শনি মঙ্গল বার বা দিন, ক্ষণ, তারিখ সপ্তাহ নেই যে এটি খারাপ বা ভালো, সব দিনই সমান, এর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ নিজে।

 

তবে কুরআনে মাত্র একটি রাত আছে মহিমান্বিত রাত আর সেটি শবে কদরের রাত, সেদিন প্রথম কুরআন নাজেল হয়েছে এবং তাকে হাজার মাসেরও অধিক মর্যাদাবান বলা হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামে আর কোন রাত দিনের বাড়তি হিসাব নেই। অতঃপর ক্রমে ক্রমে এ ছোঁয়ারোগের শিকারে উপমহাদেশের মুসলিমরা ‘শবেবরাত’ নামের এক বরাত বন্টনের বাড়তি সংযোজন ঘটিয়েছেন, ধারণা হয় পাশর্^বর্তী সমাজের ছাপ এতে স্পষ্ট। আমার এক গুরুজনের মুখে শুনেছিলাম তিনি বলতেন হিন্দুদের একটি পূজা আছে কোজাগরি লক্ষী পূজা। এ দিন তারা রাতেও নানান অপকর্ম করতো, চুরি তার একটি সহজাত অংশ ছিল এর কলাটা ওর মূলাটা তারা চুরি করতো। দেখা যায় সময়ে সময়ে ধর্ম পালনের অংশ হিসাবে এমন অনেক অপকর্ম সে ধর্মের অঙ্গনে মহা উৎসাহে পালিত হত।  আবার বলা হত সে রাত দেবতা উর্ধ্বাকাশ থেকে নিচআকাশে নেমে আসেন এবং বড় করে হাক ছাড়েন, কে কে জাগতি বলে। তখন যারা জেগে থাকেন তারা বড় বর পান, এ হচ্ছে কোজাগরি লক্ষিপূজার মূল বানী, স্বরুপ।

রমজানের ১৫দিন আগে ঠিক অনুরুপ একটি আচার এসে শবেবরাতের নামে সংযোজিত হয়ে যায় পাকভারতের মুসলিমদের জীবনে, যার কোন অস্তিত্ব মূল গ্রন্থ কুরআনে নেই। স্পষ্ট বলা যায় এরকম সংযোজন ধর্ম নয়, বরং বিদআত। এবার প্রশ্ন হচ্ছে বিদআত কি? বিদআত এমন একটি জিনিস যা ধর্মে নেই কিন্তু ধর্মের নামে ময়দানে এসে ঢুকে গেছে। মূলের বাইরে কোন মুসলিম কোন কিছু সংযোজন বিয়োজন করতে পারেন না, ধর্মের নিষেধ। কুরআনে বলা হয়েছে নবীর জীবদ্দশাতেই ধর্মটি পরিপূর্ণতা প্রাপ্ত হয়। এখানে সংযোজন বিয়োজন করা হারাম কাজের একটি এবং যারা এসব করবে স্পষ্ট স্বচ্ছ হাদিস হচ্ছে এটি তাদেরে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। তার মানে যারা ঐ শবেবরাতও পালন করবেন তারা জাহান্নামে যাবেন। এখন কথা হচ্ছে অনেকে না জেনে এটি করেছে, তবে জানার পর এসব মিথ্যা সংযোজন থেকে শত হাত দূরে থাকা উচিত। মানুষ একটু একটু করেই ধ্বসের দিকে আগায়, নষ্টের দিকে ধাবিত হয়। পয়লা বৈশাখে কেন ভাতা দেয়ার দরকার পড়লো? এ ভাতা কেন আংশিকের জন্য বরাদ্দ, কেন সারা জাতি পায় না? সরকার এত স্বচ্ছল হলে তাই করা উচিত, শুধু সরকারী কর্মচারী কেন, গোটা জাতির জন্য দরজা খুলে দেয়া হোক। এসব বাহুল্য আস্ফালন বলেই মনে হচ্ছে। হয়তো এটি করা হয়েছে যাতে এটি শক্ত ভিত্তি পেয়ে মূমুর্ষ দশা থেকে এ অবয়ব নিয়ে বেঁচে থাকে। এসবই শিকড়শুদ্ধ জাতি ধ্বংসের নানান অঙ্গভঙ্গি মাত্র। বৈশাখে সংখ্যালঘু হিন্দুরা ঘটপূজা, গনেশপূজা, সিদ্ধেশ^রী পূজা, ঘোড়ামেলা, চৈত্রসংক্রান্তি পূজা অর্চনা, চড়কপূজা বা নীল পূজা বা শিবপূজা, গম্ভীরা পূজা, কুমীরের পূজা, অগ্নিনৃত্য, উল্কিপূজা, বউমেলা, মঙ্গলযাত্রা, সূর্যপূজা, ত্রিপুরাদের বৈশুখ, মারমাদের সাংগ্রাই ও পানিউৎসব, চাকমাদের বিজু উৎসব, (তিনদলের সম্মলিত নাম বৈসাবি) (দেড় ডজন পূজা পার্বন), + অগ্নি উপাসকরা নওরোজ পালন করে থাকেন।

জাটকা নিধনের পক্ষে সরকারের উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তারা দেড়মন ওজনের ইলিশ দিয়ে ভুড়ি ভোজন করে প্রমাণ রাখলেন তারা দেশের ভালোর চেয়েও ধ্বংসের মৃদঙ্গই বেশী বাজাতে চান। প্রধানমন্ত্রী বলছেন বৈশাখী উদযাপনে ধর্মীয় বিধিনিষেধ নেই। অনেক সময় তিনি দুর্গাদেবীর পক্ষেও যুক্তি দেখিয়েছেন, যা দেশবাসীর কাছে ঈমানী সংকটের ইশারা বলেই মনে হয়েছে। কারণ অনেকে মনে করেন প্রধান যখন বলছেন তখন কি না জেনেই বলছেন। চাটুকার এক মন্ত্রী ইনু ফতোয়া দিয়েছেন, বৈশাখী পালন করা ঈমানের অংশ, জাতি ধ্বসের বড় নমুনা এসব। কিন্তু দেখা যায় এরা রাজনীতির শত অপরাধের আড়ালে ধর্ম নিয়েও এসব বলে ধর্মকে বিতর্কীত অবস্থানে ছুড়ে দিচ্ছেন। ইসলাম কুসংস্কারমুক্ত স্বাধীন একটি ধর্ম। এখানে সকল সুএর সমর্থণ একশত ভাগ আর সকল কুএর প্রতিরোধও একশতভাগ, এটিই ইসলামের নীতি। এখানে শনি মঙ্গলবারে যাত্রা যেমনি নাস্তি হয়না, ঠিক তেমনি কোন ছিঁটেফোটা অনাচার ব্যভিচার, খুন, ধর্ষণ, চুরি, জোচচুরি, সমর্থণীয় নয়, যা এসব উদযাপনের নামে নতুনভাবে সংযোজন করা হচ্ছে। বিগত সময়ে এদিনে সবার দৃষ্টির আড়ালে সমকামীদের রংধনুময় র‌্যালিও প্রচারিত হয়েছে এনজিওর ছত্রচ্ছায়ায়। মিডিয়া এসব দেখে না দেখার ভান করে থাকে বা তাদেরে থাকতে বাধ্য করা হয়। মুসলিম প্রধান জনতার একটি দেশে এসব কিসের আলামত? দেখা যায় এবারও সমকামীরা আয়োজন নিয়ে আসে রাজধানীর শাহবাগে, চারজন আটক হয়েছে (১৪ এপ্রিল ২০১৬)। এনজিওর ছত্রচ্ছায়ায় নববর্ষকে উপলক্ষ করে এবারো মিছিলের সাজ পুলিশের বাধায় পন্ড হলেও তাদের নাম প্রকাশিত হয়নি। জানি না পুলিশ ভবিষ্যতে তা প্রকাশ করবে কিনা? ক্রমাগত মার খাওয়া ৯০% – ৯৫% অধ্যুষিত মুসলিম দেশকে সমকামীরা কোন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়! মধ্যযুগকে চ্যালেঞ্জ করা সুলতানা কামালরা এসব প্রশ্নের জবাব দিবেন কি? বৈশাখের ছুটির অবদান স্বৈরাচার এরশাদের। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পালনও এরশাদের। মঙ্গলশোভাযাত্রার শুরু ১৯৮৯ থেকে। এতে দেখা যায় এসব আমদানী প্রধানত পৌত্তলিক কালচারের বাহূল্যে ভরপুর। নব নব আস্ফালনে মূল হালখাতার অস্তিত্ব বিলুপ্তির শেষ ধাপে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ইসলাম শিখতে হবে না পার্থ

 

অপর দিকে সার্বজনিন বলতে সব ধর্মের ব্যবসায়ীরাহালখাতাপালন করতো বছরের শুরুতে, এটি ছিল সমাজের দায় থেকে সৃষ্ট একটি সামাজিক বাস্তবতা। হালখাতার মিষ্টি আমরাও ছোটবেলায় খেয়েছি আজো মনে পড়ে, তবে সেদিন কোন রংখেলা দেখিনি। পঞ্চগড় প্রতিনিধির বরাতে প্রকাশ করতোয়া নদীতে রং খেলার পর নদীতে ডুবে শিক্ষার্থী সুমির মৃত্যু। এটি পয়লা বৈশাখের খেলারামের বদান্যতা! বার বার দেখা যাচ্ছে বৈশাখ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পূজার পোয়াবারো মাস। ঐ রংখেলা তাদের পূজোর অংশ মাত্র। ঢাকা মহানগরের পুলিশের (ডিএমপি)র নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে উন্মুক্ত স্থানে বৈশাখী পালনের ঘোষনা দিয়েছেন সুলতানা কামালগংরা (১২ এপ্রিল, ২০১৬)। তিনি একে মধ্যযুগীয় চিন্তা বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। মধ্যযুগ বলতে পঞ্চম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীকে মনে করা হয়। ইতিহাসে প্রমাণ ঐ সময় বিশ^ অন্ধকারে ছেয়ে যায়। অতঃপর সপ্তম শতাব্দীতে এমন এক আলোর বিস্ফোরণ ঘটে যার জের হিসাবে জাগরণের যুগ শুরু হয়ে যায় এর প্রমাণও ইতিহাস। রেঁনেসার মূল বাহক শক্তি মুসলিমরা। যে মুসলিম কালচারকে আজ সুলতানা কামালরা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন। উক্ত সম্মেলনের ছবিতে পাঁচজন সদস্যকে দেখা যায়। তারা হচ্ছেন শ্রমিক নেতা ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ফারাহ কবির, সেলিনা আহম্মেদ, জাহানারা নূরী, ও সুলতানা কামাল সম্ভবত সুলতানা চক্রবর্তী? টাইটেলে চক্রবর্তী অনেকের মন্তব্যে দেখলাম। এরা কাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেটিও প্রশ্নের জমা বাড়ায়। নাম দেখে মনে হচ্ছে এখানের কোন মহিলাই হিন্দু নন, কিন্তু ভিন্ন সংস্কৃতির তিলক কপালে ধারণ করে এরা কাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেটিও বিবেচনার দাবী রাখে।

এটি এমন একটি সময় যখন সারা জাতি স্বাধী

nirapottaedনতা ও সার্বেভৌমত্বের হুমকির মুখে মুমূর্ষু সময় পার করছে। কাল এক বোনের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, সম্প্রতি তার ভাই দেশ থেকে ফিরেছেন। তিনি বলেছেন দেশে বর্তমানে মানুষের সামনে মাত্র দুটি পথ আছে। এক উপায় হচ্ছে তাদের আওয়ামী লীগ করতে হবে আর দ্বিতীয় পথটি হচ্ছে ওটি করতে না পারলে তাকে মরে যেতে হবে। এ হচ্ছে ২০১৬এর বাংলাদেশ! দেশ বিধ্বংসী কাজের মহামেলা, উন্নয়নের নামে রিজার্ভ লোটপাটের সূবর্ণজয়ন্তি, লোপাটের দেশে শক্তির ছায়াতলে বিডিআর বিদ্রোহের নামে নিজ পায়ে কুড়াল মারার মহামেলায় মেধা নিধনে জাতি ধ্বংসের প্রয়াস, পাঠ্যবইএ হিন্দুকরণ, মুসলমানিত্ব মুছে দেয়ার প্রাণান্তর প্রচেষ্ঠা একের পর এক চলছেই জোর কদমে। এ সপ্তাহের রিপোর্টে প্রকাশ আওয়ামীলীগের ইট ভাটা থেকে শিশুসহ ১৩ মানুষ আকৃতির শ্রমিক উদ্ধার। এদের প্রায় অভুক্ত রেখে বিনা পয়সাতে কাজ বাগিয়ে নেয়া শক্তিমানের এ ব্যতিক্রমী অর্জন। ঠিক এরকম সময়ে যখন রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ভবন নির্মাণ করছে হাসিনা পুত্র আইটি বিশেষজ্ঞ প্রচার পাওয়া জয়ের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, চারপাশে সোরগোল উঠেছে, “হলে পরে চেতনাভক্ত, লোহার চেয়ে বাঁশ শক্ত”। ঠিক তখনই সুলতানা কামালরা বৈশাখে কি নৃত্য পরিবেশন করবেন, কোন মঞ্চ নাটক করবেন তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ইলিশ খাবেন না বালিশে মাথা রেখে ঘুম পাড়ানিয়া বৈশাখী মন্দিরা বাজাবেন, রং খেলবেন না সং সাজবেন, নাকি বাচ্চাদের অদলে বিলাই নৃত্য, মুখোশ নৃত্য, গোলামী নৃত্য পরিবেশন করবেন সংকটে দেশবাসীকে মুঢ় করে রাখতে চাইছেন! এরা টেনে আনছে ভিন সমাজের দাগভরা সব কলাকৌশল, থার্টি ফাস্ট নাইটের আদলে তারা জাতি ধ্বংসের বৈশাখী খসড়া নির্মাণ করতে চায় ! বাংলাদেশের নিরপেক্ষ মিডিয়া প্রচন্ড চাপে, মন্তব্য অ্যামনেস্টির।

মাহমুদুর রহমান ইন্টারভিউ,

উপরে বর্নিত সদস্যরা নিজেরাই মানবাধিকারের নামে মানবাধিকার ধ্বংসের খেলায় আকন্ঠ ডুবে সময় পার করছে, এসব কি তার জ¦লজ্যান্ত প্রমাণ নয়? মন্ত্রীরা অপরাধ করলেও সাজা পান না। সম্প্রতি কাকতালীয়ভাবে আদালত কর্তৃক কয়জন দন্ডপ্রাপ্ত হন, বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও কলামিষ্ট ডঃ তুহিন মালিক প্রশ্ন তুলেছেন এত করেও কিন্তু তাদের মন্ত্রীত্ব যায় না। তারা ঠিকই স্বপদে বহাল থাকেন, এমন মজার বাংলাদেশ সরকারের শাসন! বাংলাদেশের মানবাধিকার কোথাও নেই, তলানীতেও নেই। তাই ‘অধিকার ও এশিয়ান মানবাধিকার কমিশন’ জাতিসংঘের প্রতি গণতন্ত্রের দিকে নজর দিতে আহবান জানিয়েছে দেশটির এমন সঙ্গিন সংকট সময়ে! কুরআনের একটি আয়াত দিয়ে লেখাটি শেষ করবো। “ওহে মানবজাতি! নিঃসন্দেহ আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি পুরূষ ও নারী থেকে আর আমরা তোমাদের বানিয়েছি নানান জাতি ও গোত্র যেন তোমরা চিনতে পার। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচাইতে সম্মানিত সেইজন যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ধর্মভীরূ। নিঃসন্দেহ আল্লাহ সর্বজ্ঞাতা, পূর্ন ওয়াকিফহাল” (সুরা আল-হুজুরাতএর ১৩ আয়াত)।

নাজমা মোস্তফা,  ১৪ই এপ্রিল ২০১৬।

যুগের সত্য মোকাবেলায় হিন্দু সংস্কৃতির প্রস্তুতি

মুজাফফরনগর মুসলিমদের হিন্দু রায়টের সংবাদ দেখুন। এরপরও তারা স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে এক করবে। কি কষ্টে যে একদিন এরা ঐ বাঘ নখর থেকে বের হয়ে এসেছিল, তা এসব ভারতীয় মুসলিমের হিন্দি ভিডিওতে একটু হলেও পরখ করুন।

TRUE INDIAN Asaduddin owaisi – Exposing ‘MASTER MINDS’ Behind MUZAFFARNAGAR RIOTS

বিজেপির রাম মাধব দিবাস্বপ্ন দেখে বক্তব্য দিচ্ছেন ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশ তিন দেশ এক হবে, হবে অখন্ড ভারত। যুদ্ধ ছাড়াই জনতার মতে হবে কারণ সবার এক সংস্কৃতি এবং তা হচ্ছে হিন্দু সংস্কৃতি। তাই কি ? ঐ একতায় মিলে নাই বলেই ৪৭এর ভাগ আলাদা হওয়া। আজ এত পরে এই রঙ্গরসের কথা কেন ? মূর্তিপূজক আর আল্লাহপূজক কি কখনো এক হতে পারে ? সত্য আর মিথ্যা কি কখনো এক হয় ? মানবতা আর পাশবিকতা কি এক হয় ? আলো আর অন্ধকার কি এক হয় ? দুটির দুই রাস্তা, এ রেলপথ কোনদিনও এক হবে না। হলে দুজনের অপমৃত্যু। একটি মাত্র পথ আছে আলোর মিছিলে অন্ধকার যোগ দিতে পারে। ভুলকে ন্যায়ের পথে আনা যেতে পারে। মিথ্যা সত্যের সাথে যোগ দিতে পারে।

৩৩ কোটি দেবতার পাপে স্বর্গ যে টলমল সেটি আমরা শিশুকাল থেকে ছন্দে শুনেছি। কিন্তু তার বাস্তব যে এত ভয়ঙ্কর তা চিন্তা করিনি। কাল একটি ভিডিও দেখছিলাম একটি মেয়ের পাঁচটি ছেলের সাথে বিয়ে হচ্ছে, সাতপাঁকে বেধে। এ ছেলেগুলি মেয়েটিকে নিয়ে ঘুরছে। ‘সাতপাক’ অনুষ্ঠানটি এসব তাদের বিয়ের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান। একটি গল্প সব সময় শুনি সবার মুখে, দ্রৌপদী ছিলেন পঞ্চপান্ডবের স্ত্রী এটি মহাভারতের গল্প। শুনেছি পান্ডবরা পাঁচভাই একটি জিনিস এনে মাকে বললে মা জিনিসটি না দেখেই বলেন ‘ভাগ করে খাও’। মায়ের আদেশ বলে তারা পাঁচজনই একে স্ত্রী রুপে গ্রহন করেন। বাস্তব জীবনে এমন মা না জন্মালেও ধর্মের ময়দানে এমন মা কি ধর্মের অবমাননা আটকায় ? মায়ের এ দৃষ্টিভঙ্গি ওদের ধর্ম ও পথ উভয় হারাবার দায়ে ভরা। মহাভারতসহ বিভিন্ন পুরানে ও মনুসংহিতা নারী বিদ্বেষে পরিপূর্ণ, যেখানে নারী উপস্থাপিত হয়েছে দানবীরূপে। তবে খুঁজে খুঁজে মুসলিমদের সব খবর রাখতো আমার বান্ধবীরা বিগত শতকের ষাটের দশকেও। প্রথম হিল্লা বিয়ে নামের উদ্ভট বিয়ের খবর আমি তাদের মুখ থেকেই জানি। আমি লজ্জায় কুকড়ে একটু হয়ে যাই আর নিজের এ নষ্ট ধর্ম নিয়ে মনে মনে কাতর হয়ে পড়ি। কিন্তু মূলত এসব ইসলামের কোন বিধানই নয়, যেভাবে এ গল্পটি ছড়িয়েছে মূল ছেড়ে। এতে ধর্ম নষ্ট হওয়ার কোন অবকাশই নেই। তাদের পরিবার ঐ এত্তটুকুন বয়সে তাদের ঐ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পেরেছে, যা আমার পরিবার পারেনি। সেটি হবে আমি ক্লাস সিক্স বা সেভেনে পড়ছি।

পঞ্চ স্বামীর ঘরে থাকা বিবর্তীত পশু প্রকৃতির মেয়েটির যখন বাচ্চা হবে তখন কি করা হচ্ছে, গামলায় চুবিয়ে মেরে ফেলা হবে কারণ এটি মেয়ে। আসন্ন ডেলিভারীর মেয়েটি থাকে চাটাইএর উপর, তবে আনন্দের কথা হচ্ছে বসবাস হবে স্বয়ং মা দেবতার সাথে অর্থে গরুর সাথে। আর এর ফাঁক গলিয়ে পাঁচ ছেলে পর্যায়ক্রমে এসে নিজের পাওনা ভাগটুকু উসল করে নেয়। জানেন এসব দেখার পর কয় রাত শান্তিতে ঘুমুতে পারিনি এজন্যে যে তারপরও কেমন করে ওরা ঐ ধর্মের পক্ষ নেয়, বন্দনা গায় এবং ওটি ধারণ করে থাকে ? এসব কি মানবের ধর্ম ? সাম্প্রতিক সময়ের কন্যা হত্যা হচ্ছে এক নিরব গণহত্যার নাম। ১ কোটি পরিত্যক্ত মেয়ে সে দেশে আর দুই দশকে ২০ লাখ মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। লোহার রড দিয়ে গর্ভের সন্তানকে পিটায় স্বামী শ^শুররা। হরিয়ানা, পাঞ্জাব, দিল্লী, গুজরাটে ছেলেমেয়ের রেশিও ৯০০: ১০০০, এটি বেশ কবছর আগের হিসাব। ভারত ভয়ঙ্কর রাষ্ট্র মেয়ের জন্য। রাস্তা, ডাস্টবিন বাসস্ট্যান্ড বলা যায় এ বোঝা মেয়ে আবর্জনা ফেলার নিরাপদ স্থান। পূজা পায় গরুরা, আর মানুষ পায় পশুর সম্মান। ঐ ভূমিতে শুধু নজরুলরাই বিদ্রোহ করতে জানে। অন্যরা স্বার্থকেই বড় করে দেখে। তাই সেখানে একবিংশ শতকেও গভীর নিরাশার অন্ধকার। জাকির নায়েক ছাড়া আলো নিয়ে কারা আসবে ? ওদেরে আসতে দিন মানুষগুলো অন্তত মানুষ হয়ে বাঁচুক। মোদীর মোমবাতি দমকা বাতাসে টিকবে বলে মনে হয় না। জাকের নায়েকের দুএকটি ভুল হতে পারে, তাই বলে এরকম ভুল এরা করতে শিখে নি। উজ্জ্বল প্রদীপ হাতে এরা আধারেরই যাত্রী। মনে হয় এরাই চারপাশ আলোকিত করতে পারবে।

যে মন্দিরে একরাত থাকলেই হয়ে পড়েন গর্ভবতী!

 

বেশীর ভাগ দেবী কিন্তু মেয়ে তারপরও মেয়েদের আর শুদ্রত্ব কাটে না, মানুষের মর্যাদা পায় না। ধর্মই তাদেরে দেউলিয়া করেছে। ভারতে লিঙ্গ প্রকাশ দন্ডনীয় অপরাধ। এর ফাঁক গলিয়ে চলে মোটা টাকার ব্যবসা। স্বাস্থ্যকর্মীরা মুখের ডান গালে হাত দিলে বুঝবে মেয়ে, পানি খেতে দিলেও মেয়ে। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। সেখানে মুসলমান আর মেয়ে এ দুই মনে হচ্ছে এককাতারে। সম্প্রতি এক বিস্ময়কর খবর বেরিয়েছে, পাঞ্জবের ১,০০০ বালকের বিপরীতে মাত্র ৩ শত মেয়ে। স্বভাবতই পাঁচ ভাইকে এক বউ বিয়ে করতেই হবে এবং হচ্ছেও। ধর্মতো ঐ দরজা খোলা রেখেছে। এককালে শুনেছিলাম বান্ধবী কারো মুখে মুসলিম ছেলেরা বড়ই বখাটে হয় কিন্তু হিন্দুরা হয় না এর কারণ ব্যাখ্যাতে আসে। দেবর ভাসুর সব সামাল দিতে পারেন হিন্দু কুলবধুরা যা মুসলিম কুলবধুরা মোটেও পারেন না। উত্তর ভারতের দেরাদুনে পাঁচ ভাইএর এক বউ। মেয়েটি জানায় তার মার জীবনও এরকম ছিল। কারো মেয়ে হয়েছে শুনলে মানুষ বিদ্রুপ করে উপদেশ বিলি করে ভ্রুণ টেস্ট করে জেনে নিতে পারলে না? গর্ভপাতে আইনি ঝামেলা সামাল দিতে চতুর ডাক্তার স্ত্রীর প্রজনন পথে একটি বড়ি রেখে দেন। পরের দিন সকালে কাঁপতে কাঁপতে স্ত্রী স্বামীকে সংবাদ দেয় যে প্রশ্রাবের সাথে শিশুর শরীরের অনেক অংশ বেরিয়ে গেছে। স্বামী তাকে সুসংবাদ হিসাবে গ্রহণ করে। কোন কোন অঞ্চলে ভোটাররা ভোটের বদলে বউ চায় নির্বাচনী শর্তে। “বউ দাও জিতে নাও ভোট”। এসব শুধু গরীর পরিবারেই নয়, অন্যরাও এ রোগের শিকার। এককালে আরবের কুরাইশরা এ রোগের শিকার ছিল আমরা বলি আইয়ামে জাহেলিয়া। জোর গলাতে বলা যায়, সেটি এখনো বহাল আছে ভারতে। একই সুরে বিজিপি নেতারা বলছেন, বোমার বদলে বুলেট দিয়ে পাকিস্তানকে ঠান্ডা করা হয়েছে, প্রয়োজনে বাংলাদেশকেও ঠান্ডা করা হবে। বক্তারা নিজেরাই বলছেন তাদের দিন পাল্টেছে, কারণ ময়দানে বিজিপি পশ্চিমবঙ্গের আফগানিস্তান সিরিয়া হবার সুযোগ নেই। যে অমানবিক চিত্র এখানে চিত্রিত হলো এসব কোন সভ্য মানবতার চালচিত্র হতে পারে না ! এসব হতে পারে জাহেলিয়াতি আচার। সপ্তম শতাব্দীতে একই ধারাতে হুমকি ধমকি দিয়েছিল মূর্তিপূজক কন্যাহত্যাকারী কুরাইশরা। কোথায় আজ তারা? ইতিহাসে খুঁজে দেখুন। তাই ইতিহাসের এত আস্ফালন ভয়ঙ্কর সন্দেহ নেই। এসব কি জাহেলিয়াত জাতির নতুন জন্মের আলামত? যে মহাপুরুষেরা ভূমিতে জন্মেও এসব চাপা দিয়ে শুধু মুসলিম বিদ্বেষী ম্লেচ্ছ যবন গালিতে মজে সময় পার করেন তাদের সমাজ এর বেশী আলো কি ভাবে সঞ্চয় করবে ? কলামটি লেখার তারিখ = মার্চ ২০১৬। 

নাজমা মোস্তফা,  ০৬ এপ্রিল ২০১৬

ধর্মহারা লালনের জন্য ডেরা তৈরী করে কে বা কারা?

১৮৯১ সালে থেকে পূর্ব বাংলায় বসবাস করার কারণে রবীন্দ্রনাথ এক নতুন বিশ্বকে অবলোকন করেন। বাংলাদেশের মানুষ, তার প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা, সমাজ, অর্থনীতি, নিসর্গ সবই তার পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে কিঞ্চিত ভিন্ন। পূর্ববঙ্গের মানুষ, প্রকৃতি তার সঙ্গে বিপুল যোগাযোগ তার মনকে মুক্ত করেছিল ক্ষুদ্র গন্ডির বন্ধন থেকে। পূর্ববঙ্গের সুদূর দিগন্ত বিসতৃত প্রকৃতির মুক্ত অঙ্গনে পদার্পণ করে তিনি লোকসাধারণের মধ্যে শাস্ত্রীয় বিধিবহির্ভূত ধর্মের উর্ধ্বে এক সহজ সরল ভক্তিসাশ্রিত মানবিক গুণের পরিচয় পেয়েছিলেন (“রবীন্দ্র মানসে বাউল সাধনার প্রভাব”, ডঃ আব্দুল ওয়াহাব)। লালনও সেখানে প্রভাব ফেলেন সন্দেহ নেই। তাই এখানে রবীন্দ্রনাথ লালনের কাছে ঋণী। তার গানের প্রভাব পড়েছিল বরীন্দ্রনাথের সাহিত্যের পরিসরে। বস্তুত লালন নামের এই ফকিরের নিজের জীবনের ইতিহাসই এক চরম বঞ্চনার ইতিহাস। তিনি জন্মগত একটি জটিল সমাজের পাশাপাশি একটি উদারবাদী সমাজের বাতাসে লালিত হয়েছেন বলে তার জীবনচরিতে জানা যায়। বাস্তবে এক হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারের ছেলে হলেও বসন্ত আক্রান্ত সহযাত্রীকে তার গোত্রের তীর্থযাত্রী লোকেরা তাকে পথে ফেলে গেলে মুসলমানদের সেবায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন। মুসলমানদের ছোঁয়া লাগার কারণে তার সমাজ তাকে চিরতরে বিসর্জন দেয়। তার পরিবার বা তার মা বা তার স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের সন্তানের বা স্বামীর দাবী পেশ করতে পারেনি। যার জন্য লালন পথের ফকির। তার পরবর্তী ইতিহাস মুসলমানদের সান্ন্যিধ্যে বেড়ে উঠা এক লালন ! তার আধ্যাত্মিক গানই নির্দেশ করে তার মূল সুরটি মহামানবের ধর্মের ছোঁয়াই বয়ে বেড়ায়। অনেকে প্রচার করেন লালন মুসলমানও ছিলেন না, হিন্দুও ছিলেননা।

“আমরা জানি মাইকেল মধুসুধন ছেড়া জুতার মত তার পুরাতন জরাগ্রস্ত জীর্ণ ধর্মটি ফেলে দিয়ে খৃষ্টান ধর্মে দিক্ষা নেন। ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন মানে এটি নয় যে তিনি দুটি ধর্ম ধারণ করছিলেন। লালনের গান থেকেই আঁচ করা যায় একটি ব্যতিক্রমী অসাধারণ বিকশিত মন তার অন্তরে লুকিয়ে ছিল। যে সমাজ তাকে ছুঁড়ে দূরে ফেলে দিয়েছে তাকে তিনি আজীবন বুকে চেপে ধরে রেখেছেন, এটি যারা প্রচার করে তারা ধর্ম নামের প্রতারক দল ! এর লেজুড় ধরে আরেক দল শুরু করেছে বাউল নামের এক আলাদা সংস্কৃতি যার কতকটা হিন্দুত্ব এবং কতকটা মুসলমানি ঢংএর, সঙ্গে অনেকে জুড়ে দিয়েছেন গাজার চিলিমটিও ! বৈরী পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে লালনের ভিন্ন রকম প্রকাশ ! তিনি ছিলেন বিরুপ পরিস্থিতির শিকার এক ব্যতিক্রমী হতভাগ্য বাংলাদেশের সন্তান ! তাকে নকল করে নকল লালন তৈরীর চেষ্টা না করাই সমাজের জন্য মঙ্গল ! তারপরও উল্লেখযোগ্য কথাটি হচ্ছে, সমাজে মুসলমান নামের একটি উদারবাদী সম্প্রদায় ছিল বলে এত বিপর্যয়ের পরও তার একটি জীবন গড়ে উঠে ! ফকিরের জন্যও একটি ডেরা তৈরী হয়েছে ! যার গানে আল্লাহ, নবী মোহাম্মদ, নবী আদমের কথা আছে তাকে মুসলমান নয় বলার কোন যুক্তিই থাকতে পারেনা ! ফকিরের নিজের জীবনটাই ছিল মুমূর্ষ সংস্কারাক্রান্ত হিন্দুত্বের কঙ্কালের উপর প্রতিষ্ঠা পাওয়া মানবতার বিজয় ঘোষনা করা এক প্রচন্ড প্রতিবাদ ! তার প্রতিবাদের প্রতিরোধের বিকাশ ও বিসতৃতি ঘটিয়েছেন তিনি তার স্বরচিত গানের মাঝে, “এলাহি আল মিম গো আল্লাহ বাদশা আলমপনা তুমি”! (একই ধর্ম একই ধারা, নাজমা মোস্তফা, ১০০/১০১ পৃষ্ঠা)”।

তারপরও লালন মুসলিম সমাজে ঠাঁই পেলেও বর্তমানে তাকে নিয়ে যে এক অদভুত দর্শণের উপর কাজ চলছে তার মূল শিকড় খোঁজে পাওয়া মুশকিল। বাড়াবাড়ির অতি উৎসাহে কেউ কেউ প্রচার করছেন বাংলার নবী লালন শাহ এবং কেউ কেউ খুব কৌশলে তার বানীকে একটি ধর্মের বাণী বলে প্রচার করছেন। ঠিক এরকম কিছু অতি উৎসাহী মানুষকে অতীতে দেখা গেছে কবি রবীন্দ্রনাথকেও ঈশ^রের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। এই কিছুদিন আগেও শেখ মুজিবকে তাদের আওয়ামী লীগের নিজস্ব সাইটেও বাংলার নবী হিসাবে প্রচার করা হয়। মানুষ কতদূর অজ্ঞ হলে এসব করতে পারে, সেটি খুব সহজে অনুমেয়। এরা ধর্মজ্ঞানে চরম অজ্ঞ না হলে এটি করতে পারে না। কিছু নাস্তিক ও বিতর্কীতজনরা সবদিনই বাড়াবাড়ির পর্যায় ঘাটতে উল্টাসিধা অনেক কথাই প্রচার করতে উৎসাহী। দেখা যায় অতীতে নবী রসুলরাও যা প্রচার করেছেন তার সাথে অনেক মিথ্যাচার, অনেক সংযোজন বিয়োজনের প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু তারপরও তাদের হাতে আসা ছিল মূল ঐশী বানীসমূহ, যার প্রেক্ষিতে মূল হারাবার শংকাকে উৎরিয়েও সত্যকে খুঁজে নেয়া সম্ভব।

লালন নামের এসব মানুষকে নিয়ে পরবর্তীতে যারা গবেষনা করেছে তারা তাকে কোন পথে নিয়ে গেছে সেটিও দেখার বিষয়। একমাত্র লালন নিজেই জানেন তিনি কি বলতে চেয়েছেন, আর বাকীরা কি বুঝতে চাইছে বা কিভাবে এসব কথামালার ব্যাখ্যা দিচ্ছে। তাই আমি মনি করি তাকে ভিত্তি করে নকল লালনদের সৃষ্টি সমাজকে বিকৃতই করবে। নারী, গাজা, বিকৃত যৌনাচার এসবই তাকে ধ্বসিয়ে দিতে বড় করে সমাজে জায়গা করে দিবে। যা সমাজকে ইতিবাচক না করে নেতিবাচকই করে তুলবে সন্দেহ নেই। আল্লাহ জাতিকে সুপথ দেখাক।

 

নাজমা মোস্তফা,  ০৬ এপ্রিল ২০১৬। ১৭ বছর আগের লেখা কবিতাটি এখানে নীচে সংযোজন করছি।

 

লালনের কুলিনেরা

দেয়ালের ওপাশে যার দৃষ্টি বিধে না, নিদেন পক্ষে মক্ষিকাও না
বুদ্ধির দৌড়ে জুয়েল আইচরা অনেক যায়, যদিও পিঠ দেখে না।
তবুও স্রষ্টায় সাজে তুলনায়, পিছনের পিপিলিকাও দিব্যি পালায়
পিঠে বসা মশাটাও মারতে পারে না যে মানুষ,
স্রষ্টায় একই ফিতায় মাপে, যেন কল্পলোকের যমদূত ।
শারাব পিয়ায়, ভাবে সৃষ্টি স্রষ্টা একই সত্ত্বায়
অহমের অক্টোপাস তাকে গিলে, পথহারাদের নেতা
এ পৃথিবী মানবের জীবনের, – নয় বৈরাগীর, কাল্পনিকের।
হতাশার বৈরাগী লালন ফকির,ব্যতিক্রমী বৃন্তচ্যুত ঝরাফুল
রোগাক্রান্ত ফুলেরা সুবাস ছড়াতে পারে না, মধুকর বসে না
ব্যর্থতার করূণ রাগিনী তার বীণার তারে, হৃদয় কাড়ে ঠিকই
নিত্য নুতন লালনদের রাস্তা আবর্জনার পঁচাডোবা
লালন একজনই জন্মেছে আগাছার মত কালেভদ্রে
প্রকৃতিই গড়ে নেয় দু এক লালন ব্যতিক্রমী সন্তান।
মনগড়া লালন, স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ নয় , জন্মানো জঞ্জাল
লালনকে দেখে যারা নিজেরাই লালন সাজে মহাউৎসবে
অসাধু বাবা গড়ে নকল লালনে, অবাস্তব অনাচার
সংসারে সং সাজি ভং ধরি ভাং গিলে, খুঁজে রাস্তা বাঁচার
মানুষেরে বিভ্রান্ত করে পাপের পশরা সাজায় চমৎকার,
সুযোগে শয়তান সাধু সাজে, লালনের ভেক ধরে বার বার।

১৯৯৯ সালের ১৬ই জুন। লালন এক বৃন্তচ্যুত এক মননশীল ব্যক্তিসত্ত্বা । তাকে ধরে সমাজে গড়ে উঠছে এক গোষ্ঠী মানে নকল লালনেরা।

বাংলাদেশ কি আকবরের দীন-ই-এলাহীর উত্তরসুরি?

বর্তমান বাংলাদেশ আকবরের আদর্শ উদাহরণ অনুসরণ করছে কি? বেশ ক বছর আগে অমর্ত্যসেন আবদার রেখেছিলেন মুসলিমরা যেন আকবরকে অনুসরণ করে। আজ আকবরের চালচিত্র নিয়ে একটু কথা না বললে নয় ! খুব সংক্ষেপে বলবো তিনি কি করেছিলেন। হিন্দুদের তিনি খুব পূজনীয় ছিলেন কিন্তু মুসলমানের কবর তিনি রচনা করেছিলেন ! তিনি এক নতুন ধর্মের প্রবর্তন করেন তার নাম “দীন-ই-এলাহী”, এ ধর্মে করণীয় = সূর্য্যপূজা বাধ্য / আকবরকে খলীফাতুল্লাহ প্রচার বাধ্যতামূলক / পর্দাপ্রথা রহিত/খতনা নিষিদ্ধ /  কবর দিতে কাবার দিকে পা দিয়ে শায়িত করতে হবে নয়তো কবরের দরকারই নেই নয়তো গমের প্যাক বা ইট বেধে পানিতে ফেলে দিতে হবে / গরু মহিষ মেষ উট খাওয়া নিষিদ্ধ করে বাঘ ভাল্লুক, সিংহ খাওয়া চলবে /  গরু ব্যবহার কোরবানী নিষিদ্ধ / আজান, জামাত নামাজ নিষিদ্ধ / হজ্জ্ব নিষিদ্ধ / কুকুর ও শুকরকে আল্লাহর কুদরত মনে করতে হবে / কুরআন অবিশ^াস করতে হবে / পুনরুত্থান ও শেষ বিচার অস্বীকার করতে হবে / প্রজা কর্তৃক সেজদা প্রবর্তন / সালামের পরিবর্তে আল্লাহু আকবর বলা / সালামের উত্তরে জাল্লা জালালুহু / (স্মরণযোগ্য আকবরের নাম ছিল জালাল উদ্দিন আকবর) /  জুয়াকে বৈধ করা ও সরকারী সহযোগিতা দান / মদ সুদ বৈধ /  দাঁড়ি মুন্ডন বাধ্যতামূলক / মুতাহ বিবাহের নামে এক অনাচারী মেয়াদী বিয়ের প্রচলন করেন / ফরজ গোসল রহিত / ইত্যাকার অবদানে ধন্য আকবরকে সব সময় ভারত ‘মহামতি’ বলেই প্রচার করে বড় গলাতে। যদিও বাকী বহুজন মুসলিম সজ্জ্বনের গায়ে কলঙ্ক তিলক লেপে দেয়া ! অমর্ত্যসেনের মত তখনকার হিন্দুরা বেজায় খুশী আকবরের এবম্বিদ উদাহরণে ! তারা খুশীর অতিশয্যে তার নাম দেন দিল্লিশ^র ও জগদ্বীশ^র, ওনামেই তারা তাকে ডাকে। তারা অনুরোধ করেন আকবরের আগে আবার আল্লাহ কেন ?  উত্তরে তিনি বলেন, মুসলিমদের জন্য আমিই আল্লাহ। তারপরও তারা নাখোশ হওয়াতে তিনি ওদুটো বাদ দিয়ে সালামের নতুন “আদাব” শব্দ ব্যবহার করতে আদেশ দেন । এরপর হিজরী সন বাতিলের অভিযোগ উঠলে তাও করা হয়। তাদের যুক্তি হচ্ছে কোন হিন্দু ওটি করলে আপত্তি উঠতো আর এটি করা এত সহজ ছিল না ! কিন্তু আকবর করাতে সাপও মরলো লাঠিও ভাংলো না।

“জনতার কথা” Real Public Voice

 

আকবর মসজিদগুলোকে গোদামঘর ও প্রজাদের ক্লাবঘরে রুপান্তর করেন। কিছু মসজিদ হিন্দু প্রজারা ভেঙ্গে ওখানে মন্দির নির্মাণ করেন। আকবরের কাছে মুসলিমরা এর প্রতিবাদ করলে তিনি জবাবে বলেন, মুসলমানদের এর প্রয়োজন ছিল না। থাকলে ভাংগা সম্ভব হতো না। মন্দিরের প্রয়োজন, তাই মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। তার যুক্তি ছিল দুটোই ধর্মস্থান। মসজিদের বদলে মন্দির অসুবিধা কোথায়, তাই নতুন মসজিদ নির্মাণ বন্ধ করে দেয়া হয়। সেদিন নবী মোহাম্মদ (সঃ) ছিলেন আকবরের প্রতিদ্বন্দ্বী ! এছবাতুন নবুয়ত, রিসালায়ে তাহলীলিয়া, মুনতাখাবুত্ত ওয়ারিখ, Mujjadis Conception of Towhid, `Awn-ul-Mabud’ `Kalematul Hoque’    এসব গ্রন্থ এসব সাক্ষ্যে ভরপুর। যদিও ভারতের চলমান সাহিত্যে এসব অনুপস্থিত, মহামতির এসব সুবাস চেপে রাখা। এত উল্লম্ফন ভালো না ! আকবরের শেষ পরিণতিটা একটু পরখ করে নেই। ১৫৭৯ সালে ফতেহপুর সিক্রীর প্রধান মসজিদে আকবর তার দালাল উলামা দলকে সাজিয়ে পাঠালেন। দালাল কবি ফৈজীর রচিত আকবরবন্দনা কবিতা হাতে তিনি উচ্ছ্বসিত ! এবার কেন যেন সব আন্ধার হয়ে আসতে লাগলো ! অলক্ষ্যে হাতও বুকের উপর চলে এলো ! তারপরও আগ্রহের কমতি নেই ! প্রথমে চোখ তারপর কন্ঠ বিদ্রোহ করে উঠে ! কেন জানি কথা জড়িয়ে আসে ! মিম্বর থেকে মহামতি নামলেন। সবাই হতবাক ! অবশেষে বললেন, জোর করে নয় ইচ্ছা হলে যে কেউ এ নতুন ধর্ম দীন-ই-এলাহী গ্রহণ করতে পারেন। এক ইংরেজ ঐতিহাসিক এ ঘটনার বর্ণনা করেন। “কিন্তু এই ঘটনায় ভাবাবেগের সঞ্চার হল, তা যে দৃঢ়চিত্তে প্রবল শত্রুর মোকাবেলায় কখনো বিচলিত হয়নি, তাকে অভিভূত করেছিল; যে হৃদয় সকল বিপদেও শান্ত থাকতো এখন তা দ্রুত স্পন্দিত হতে লাগল। যে কন্ঠস্বর যুদ্ধের তুমুল হট্টনিনাদ ছাড়িয়ে উর্ধ্বে শ্রুত হত, এক্ষণে বালিকার কন্ঠের ন্যায়ই তা ভেঙ্গে পড়ল। প্রথম তিন ছত্রের উচ্চারণ সমাপ্ত করার পূর্বেই সমরাট নকল নবীকে সেই উচ্চ হতে নেমে আসতে হয় (টার্কস অব ইন্ডিয়া, পৃঃ ৬৯ দ্রষ্টব্য)। সে তিন লাইনের মূল ভাব ছিল “কোন ভাষা এমন নেই তার গুণগান করি, আল্লাহু আকবর হলেন সেই মহান আল্লাহ।” তারপরও যদি কেউ বাড়তি আকবর সম্বন্ধে আরো জানতে চান পড়তে পারেন একটি লেখা লিংক এড্রেস হচ্ছে  বাদশাহ আকবরের সম্পর্কে ঐতিহাসিক বর্ণনা

 

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই উপরে।

Mufti Fayezullah and nurul kabir ,live talk

 

সম্প্রতি বাংলাদেশের পাঠ্যবইএর কিছু পাঠ দেখে বিস্ময়ে হতবাক হচ্ছি ! সপ্তম শ্রেণীতে দূর্গাদেবীর বন্দনা, অষ্টম শ্রেণীতে যেভাবে আকবরী ধর্ম প্রচলিত হচ্ছে তা বিস্ময়কর ! যেভাবে ব্যভিচারের প্রশিক্ষণ পাঠের মাঝে দেয়া হচ্ছে তা অবাক করার বিষয়। সংক্ষেপে খুব কৌশলে নিজেকে জানুন’ কলামে বলা হচ্ছে দুজনের সম্মতিতে যৌন অনুভূতি প্রকাশ দোষের নয় ! ছেলে মেয়ের বন্ধুত্ব দোষের নয়। পাঠের মাঝে ভাল লাগা, যৌন অনুভূতি, যৌন আকর্ষণ, চিঠি লেখা, হাত ধরা, দেখা করা, কোন ক্ষেত্রে আর একটু কাছে আসা ! এসব কি? হানিমুনের প্রশিক্ষণ মধুচন্দ্রিমার উল্লম্ফন ! কোমলমতি বাচ্চাদেরে নিয়ে এসব কি নষ্টামীর খেলা একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে? ছিহ ! আপনারা সারা দেশে বাচ্চাকাচ্চাসহ রাস্তায় নেমে আসুন ! জাতি ধ্বংসের কি খেলায় সরকার মজেছে ! এসব ব্যভিচারের প্রশিক্ষণ ছাড়া আর কিছু নয় ! এর শাস্তি কি হতে পারে ! কঠোর প্রতিবাদ বাপ মায়ের প্রতিটি অভিভাবকের জরুরী হয়ে পড়েছে, কুরআনকে তাদের জরুর পাঠের অংশ করেন যেন তারা এর বাণী আহরণ করে হজম করতে পারে, অনুবাদ ধরিয়ে দিবেন, আপনারা অভিভাবকরা পিছিয়ে পড়েছেন। সুরা নূরে বর্ণিত ব্যভিচারের আয়াতটি তাদের শিখিয়ে দিবেন। কারণ শিক্ষকরা আর শিক্ষক নেই, মেরুদন্ড হারা প্রজাতি হয়ে বাধ্য হয়েছে আজ দানবের পাঠদানে ! দজ্জাল আজ দোয়ারে ! তাদেরে সতর্ক করুন, ঘরে ঘরে বাচ্চাদেরে তাদের জীবন গঠনের সুশৃংখল জীবনের সূত্র সিলেবাস কুরআন ধরিয়ে দেন। বের করে বুঝে নিজেরাও পড়েন ও প্রচার করুন। ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী দুজনের শাস্তি হচ্ছে ১০০ প্রকাশ্য বেত্রাঘাত। প্রকাশ্য এ কারণে যেন মুমিনদের একটি দল তা দেখতে পায়, ওপথ না মাড়ায়। পড়েন সুরা নূরের ২ আয়াত। ব্যভিচার হচ্ছে এক ধরণের অশ্লীলতা ! হুমায়ুন আজাদের কাছে তা মধুর হলেও ইসলামের কাছে আল্লাহর দৃষ্টিতে তা অশ্লীলতা ! ৯০%এরও বেশী জনতার দেশে কোন সাহসে কোন ব্যক্তি এসব সংযোজন করে ? পাঠ্যপুস্তকের কবি আলাউলের হামদের শুরুরবিসমিল্লাহসরিয়ে মঙ্গলকাব্যের অন্নপূর্না দেবীর তোষামোদে সিলেবাস সাজানো হয়েছে ! ময়দান থেকে গণতন্ত্র যেমন অতীত, একই তালে আজ অগণতান্ত্রিকভাবে রামায়ন, মহাভারত, রাধাকৃষ্ণলীলা, দূর্গাদেবী তাদের উপর জবর দখলি করে চাপিয়ে দেয়া কেনযে ভাবে জাতি ধ্বসের দিকে ধাবিত হচ্ছে, জাতিকেই এ থেকে কঠোর হস্তে মুক্তির পথ খুঁজে নিতে হবে !  জাতি যেন তার নিজগুণে প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন করতে শিখে ! কুরআনে নির্দিষ্ট করে দেয়া ব্যভিচারের শাস্তি একশ বেত্রাঘাত।

আর ব্যভিচারের ধারেকাছেও যেও না, নিঃসন্দেহ তা একটি অশ্লীলতা, আর এটি এক পাপের পথ (সুরা বনি ইসরাইলের ৩২ আয়াত)

পাঠ্যবই নিয়ে টকশোতে হেফাজতে ইসলামের নেতা মুফতি ফয়জুল্লাহর যুক্তিপূর্ন কথা

নাজমা মোস্তফা,  ২৩ মার্চ ২০১৬ সাল।

চারপাশে ষড়যন্ত্র, গন্ধ, ইসলাম বাতিলের চাপা মর্মর ধ্বনি!

নীচে চারপাশ থেকে পাওয়া যুক্তি খবরগুলি পরখ করে নিতে অনুরোধ করছি। বহুদিন থেকে ঘটে চলা ঘটনাগুলি একটির সাথে অন্যটি এক সূত্রে গাঁথা। এসব একটি জাতি ধ্বংসের ধারাবাহিক মঞ্চনাটক ! অকস্মাৎ যাজক, খৃষ্টান, ইতালী, জাপানি, শিয়া নিধনের সহজ জবাব নীচের এসব খবরে লুকিয়ে আছে। আপনারা সচেতন হোন ও সবাইকে সচেতন করে তুলুন ! মাত্র আজই ২০১৬ সালের ২২ মার্চের কুড়িগ্রামে ৬৫ বছরের এক ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধাকে নিজ বাসার সামনে কে বা কারা মটরসাইকেলে এসে গলা কেটে হত্যা করে ! আপনাদের অজান্তে খুনীরা কলিজাতে ঢুকে আপনাদের বুকে ছুরি চালাচ্ছে ! স্মরণ করুণ ১৭ বছর আগে তিনি ধর্মান্তরিত হয়েছেন, কিন্তু আজ তাকে মারা হচ্ছে ! বিগত ১৭ বছর জাতির কোন অসুবিধা হয়নি তার ধর্মান্তরে ! আজ কার স্বার্থে তাকে হত্যা করা হলো ? দয়া করে আপনারা জাগুন, মশাল হাতে জাগুন ! নিরপরাধ বাংলাদেশী সংখ্যাগুরুকে ১০০% ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে, উপরে নীচে, সামনে পিছনে, ডানে বায়ে ! ধারণা হয়, নবী ইব্রাহিম (আঃ)কে যেভাবে আগুণের মাঝে ছুঁড়ে দেয়া হয়েছিল, আপনাদেরে গোটা দেশের ৯০% মুসলিমকে এক ভাবেই আগুণে নিক্ষেপ করার পরিকল্পনা হচ্ছে ! মনে রাখবেন আল্লাহ কিন্তু তার নবীকে উদ্ধার করে, তারা ষড়যন্ত্র করেছে ঠিকই, কিন্তু আল্লাহর প্রহরায় কেউ তার ক্ষতি করতে পারেনি ! নীচে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে ঝেড়ে ফেলার প্রস্তুতি বিদেশী পত্রিকা বেশ দিন থেকে বিকট আওয়াজে জানান দিচ্ছে। হতভাগা জাতির সৎ প্রতিনিধিত্বকারী নেই, তাই জাতি দেশের মিডিয়া থেকে এসব জানতে পারে না নীচের খবরগুলিই তার বড় প্রমাণ ! কিয়ামত দোয়ারে ! দাজ্জাল আপনার ফটকে ! সঙ্গিন সময়ে একমাত্র নীতিকে সত্যকে সাথে রাখুন ! আপনারা বদর, ওহুদ, খন্দক পার হচ্ছেন, ভরসা একটাই, আল্লাহ পথ দেখাবেই ! প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারী শৃংখলিত হবেই ! আল্লাহ বলে, “নিঃসন্দেহ তারা চাল চালছে, আর আমিও পরিকল্পনা উদ্ভাবন করছি !” (সুরা আতত্বারিক ১৫/১৬ আয়াত) আল্লাহ শ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারীআমরা জানি, তারপরও অবচেতনের মত ঘুমিয়ে থাকলে চলবে কেন ? হতে হবে আল্লাহর অতন্দ্র প্রহরী, সৈনিক, সত্য সাধক !

আওয়ামীলীগ একটি অভিশপ্ত দল..একি বললেন সাবেক এমপি ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি

সংক্ষেপে কয়টি পয়েন্ট টাচ করবো। বাংলাদেশের মিডিয়ায় ষড়যন্ত্রের খবর পৌছে খুব কম, নয়তো প্রকাশ করতে পারে না ! গলাতে ষাড়াশি দিয়ে চেপে রাখা ! মাহমুদুর রহমানের মতই মিডিয়ার গলা বন্ধ ! ভারতে বা ভিন্ন দেশে এসব মৌজের খবর বের হয় জোরেসোরে ! বহু ঘটনার বিতর্কীত মানিক বলেন, বিচারপতি সিনহা মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী রাজাকার ছিলেন। সামিয়া রহমানের উপস্থাপনাতে দেশের বেসরকারী টেলিভিশন ৭১ চ্যানেলের টকশোতে এসব উঠে আসে গত ১৭ জানুয়ারী ২০১৬ তারিখে। ঐ সময় তিনি নাকি ছিলেন পিস কমিটির মেম্বার রাজাকার ! তারপরও এরা পায় বড় মসনদ ! অন্যরা তাদের হাত দিয়েই ফাঁসিতে ঝুলে ! কি ভৌতিক সব শক্তিমানের ডিগবাজী ! ওদিকে গতকালের খবরে জানলাম নতুনভাবে সেনাবাহিনীকে আইনের আওতায় নিতে চায় সরকার ! সবাই বলে এমনিতেই চোখ দাঁত নখ সব কেটে নির্বাক করে রেখেছে। এটি আরেক নতুন পায়তারা ! রয়টার্স, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ডেইলী মেইল-ইউকে, এনডিটিভির খবর, ডেইলি মিরর-আইকে, উর্দু ডন নিউজের খবরে এসব ভরা গলাতে বিস্তারিত এসেছে। ভারতীয়রা প্রতিটি লেখার নীচে শত শত কমেন্ট করেছে, ভারতীয় খুশীর নাচন বাড়বাড়ন্ত, কারণ বাংলাদেশের মুসলিমদেরে জবাই করা যাবে অতি অল্পে ! কিন্তু বাংলাদেশের টকশো মিডিয়া চুপ, চাপা দিয়ে রাখা ! জাতি হাটু পানিতে ডুবে মরার পর জানবে, তার আগে নয় ! গোপন চুক্তি ! অবৈধ পথে আসলে কি হবে চুক্তি করতে কোন বাধা পেতে হচ্ছে না ! দিপুমনি বিগত সময়ে বিনা অর্জনে গোটা বিশে^ ঘুরে বেড়িয়ে হাওয়া খেয়ে আজো জোর গলাতে সুরঞ্জিতি ধারাতে গলাবাজি করে বলছেন, শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে, বাস্তবে যেখানে মৃত্যু আহতের কোন কমতি নেই।  রয়টারের স্পষ্ট খবরে আসে ২৮ বছর পর একটি রিট পুনর্জীবিত করে ইসলাম বাদ দেয়া হচ্ছে। সিনহা বাবু কি ৭১ সালে শান্তি কমিটির রাজাকার হয়ে স্পাই এর কাজে নিয়োজিত ছিলেন ? অংকটা মিলাতে চাই ! তার মানে আজো তিনি কোন পক্ষের স্পাই নন, বলার সুযোগ কম ! তাকেই করা হয়েছে প্রধান বিচারপতি ! ভালই মনে হয়েছিল, এবার দেখি তার গায়েও উৎকট গন্ধ !

ইসলামের নাম নেয়া কিছু সংগঠন ছলবাজদের নিজেদের সৃষ্ট দাবার গুটি। ভারতে মুসলিমদের উপর দাদরী, ঝাড়খন্ড ছাড়াও অসংখ্য উদাহরণ সমানেই এপ্লাই করা হয়। একেতো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর নির্যাতন তার উপর জঙ্গির অপবাদ সাজিয়ে রাখা ! তাদের স্বসার্থে এসব দাবার গুটি তারা সৃষ্টি করে রেখেছে। আজকের যুগে এসব ষড়যন্ত্র চাপা থাকে না ! ময়দান গরম রাখতে ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী স্বৈরাচারের এটি খুব দরকার ! ভারতে গরুর নামে মুসলিমকে ফাঁসি দেয়া সহজ দুর্ঘটনা ! তাদের পুলিশও তালিতে থেকে নির্যাতীতের ধার ধারে কম ! বিডিআর বিদ্রোহের সব দায় জঙ্গির কাঁধে চাপিয়ে দেয়ার কসরত কম করা হয়নি। দেখা গেছে জঙ্গি ছাপিয়েও সরকারী যোগসূত্র বের হয়েছে বহুবেশী ! নবী মোহাম্মদ যুদ্ধবাজ, সংঘাত প্রিয়, কুরআন জিহাদী বই এসব প্রচারে বাংলাদেশ সরকারও কম যায় না, একই ভাবে বাংলাদেশের সরকার সেক্যুলারিজমের নামে ঐ পথে হাটাই পছন্দ করে ! প্রতারকের প্রশংসা কুড়াতে কুরআনে আগুন দিতেও তারা পিছ পা হয়না !  একই ধারাবাহিকতায় আজ ১৫জনের পক্ষে ১৫ কোটি মানুষকে কবর দিতে উদ্যত হয়েছে সরকার ! তাও আবার ঐ ১৫জনের মাঝে ১০ জন মৃত। মানে মাত্র ৫ জনের জন্য ১৫ কোটির উপর খাড়ার ঘাঁ রেডি রাখা হচ্ছে, ওত পেতে আছে ! আব্দুল কাদের মোল্লা কি আসলেই যুদ্ধাপরাধী ছিলেন? শুনুন তাঁর সাক্ষী ও গ্রামবাসীদের মুখে

নাজমা মোস্তফা,  ২২ মার্চ ২০১৬।

জাকির নায়েক ও সৌদির এক ধর্ম প্রচারকের পুরষ্কার

সম্প্রতি ইউকের একটি খবরে এসেছে সৌদি সরকার এক মুসলিম ধর্ম প্রচারককে ১ লক্ষ ৩০ হাজার পাউন্ডের সবচেয়ে সম্মানিত মূল্যবান পুরষ্কারটি দিয়েছে। কিন্তু কথা হচ্ছে ঐ প্রচারক এরকম ফতোয়াও অতীতে দিয়েছেন যেখানে তিনি বিবাহ বহির্ভুত মিসরাহ বিয়ের (মুতাহ বা মেয়াদী বিবাহ) আদলে সুবিধাবাদী দাসদাসিকে  ব্যক্তিগত শারীরিক সম্পর্কের জন্য বৈধ ও জায়েজ হিসাবে দেখিয়েছেন, যা প্রকৃত কুরআনে বা আল্লাহর নির্দেশিত গ্রন্থ দ্বারা স্বীকৃত নয়।  যদি একজন প্রচারক এরকম বড় ভুল করেন তবে তাকে কখনোই হালকা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। মারাত্মক ভুলকারী এদেরে পুরষ্কৃত করার আগে আরো সতর্ক নজর দেয়া উচিত। শাস্তিযোগ্য অপরাধের বিনিময় কখনোই পুরষ্কার নয়। কারণ এসব হচ্ছে মূল গ্রন্থ কুরআন বিরোধী অপরাধ, আল্লাহ বিরুদ্ধ অপরাধ। সম্প্রতি পাকিস্তানের পাঞ্জাবে এরকম এক ফতোয়াতে এক ছেলে তার হাত কেটে ইমামের কথামত উপহার দিয়েছে। এসব কখনোই ইসলাম নয়। এরকম বিকৃত ধারার ইসলামের প্রচার প্রাথমিক ইসলামে কখনোই সম্ভব ছিল না। এখানের প্রহরা এত শক্ত ছিল যে নবী গত হবার পরও চার খলিফার সময়েও এসবের উপর অতিরিক্ত খবরদারী ছিল। তাছাড়া মানুষ এত সতর্ক ছিল যে ও ধারার সুযোগ খুব কম ছিল। তারপরও প্রমাণ পাওয়া যায় যে কেউ এরকম প্রচারে ধরা খেলে তাদেরে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হতো। এটি অবশ্যই একটি উল্লেখযোগ্য আলোচনাযোগ্য বিষয়। ঐদিনের খবরে আরো একটি খবরও আসে যে জাকির নায়েকও একই ধারার সম্মানী পুরষ্কার পান। এটিও ওখানে ঐ সূত্রে তুলে ধরার প্রচেষ্ঠা হয় যে তাকেও ইউকেতে নিষেধ করা হয়েছে, বলা হয় তার অপরাধ ৯/১১এ আমেরিকার জর্জ বুশের “ইনসাইড জব” তথ্য সূত্রের প্রচারের অপরাধে। ম্যাসেজটি অলক্ষ্যে দুটি ঘটনাকে এক করে দেখতে সম্ভবত উৎসাহী হয়েছে। নীচে এর উপর যুক্তির আলোচনাটুকু রাখছি।

বাস্তবে, ধর্মের প্রচারে জাকির নায়েক প্রশংসনীয় অবদান রাখতে পেরেছেন সন্দেহ নেই। যদিও কিছু জনেরা তার পিছু নিয়েছেন তার কর্মকান্ডকে রুদ্ধ করে দিতে। যাকে একটি বড় নোংরামি বলে ধরা যেতে পারে। জাকির নায়েকের যে ব্যতিক্রমী সব ধর্মের উপর তুলনামূলক ব্যাখ্যা, এর তুলনা চলে না। তাছাড়া একদম খোলা ডিকশনারীর পাতার মত যেভাবে তিনি অনর্গল একই সূত্রের বেদ উপনিষদ, বাইবেল, কুরআন ও মহাভারতের শ্লোক আয়ত্ব করতে দক্ষতা রেখে চলেছেন, তার জন্য তাকে এ বিশে^র একজন অতি ব্যতিক্রমী ও বিশ^স্ত প্রচারক হিসাবে গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত। তার যোগ্য সমকক্ষ আর কাউকে দেখি না। একজন আহমদ দিদাতকে অনুসরণ করতে গিয়ে তিনি যে ব্যতিক্রমী সূত্র সন্ধানকে সুবিন্যস্তভাবে রপ্ত করতে পেরেছেন, সে হিসাবে তিনি বহু আগেই আহমদ দিদাতকে ছাড়িয়ে গেছেন। তার জন্য তাকে যারা ধন্যবাদ দিবেন না তারা নিদেন পক্ষে ঈর্ষাপরায়ন ও কৃপণ সন্দেহ নেই। অনেকে তার পিস টিভি নিষিদ্ধ করতে চাইছে, ঐ মানসিতার দাসত্বে সত্যকে রুখতে গিয়ে ব্যর্থ হারুপার্টির অদক্ষ ধর্মব্যবসায়ীরা ওটি সবদিনই করে করছে ও করবে। এ কাজটি তারা অতীত যুগে সারা জীবনই করে এসেছে, এমনকি যুগে যুগে নবীরাও এসব অত্যাচারী ধর্মধারী জনতার আক্রমণ থেকে রেহাই পান নাই। যুক্তির কথাটি হচ্ছে এভাবে সত্যকে রুদ্ধ করে ধ্বংস করা যায় না। রাশিয়া চিরদিন ঐ কাজটি করেছে শক্ত হাতুড়ী হাতে নিয়ে তারপরও সেখানের সব ময়দানে সত্যরা খান খান হয়ে ভেঙ্গে পড়ে মানচিত্রই সত্য সাধকদের উন্মোচন করে সত্যের বিজয় কেতন উড়িয়েছে। বেশী টাইট দিলে বাঁধন ছিড়ে যায়, এটি মনে রাখলে ভাল। বড় ধরণের ষড়যন্ত্রে জাকির নায়েককে নিষিদ্ধ করা হলো। এসব অনেক মামানসই লিংকও মুছে দেয়া হচ্ছে। জানি না এর জবাব কি হতে পারে?

Dr.Zakir Nayak》Challenge to Arnab Goswami against its investigation

 

যুক্তির সূত্রে জাকির নায়েক এ যুগের একজন ধর্ম প্রচারক, ঐশী বাহক নবী রসুল নন যে তাকে একশত পার্সেন্ট শুদ্ধ একটি মানুষ হতে হবে। এবার প্রশ্ন হতে পারে তবে ঐ সৌদির মিসরাহ নামের অনাচারী প্রচারকের দোষকে কেন হালকা করে দেখছি না। সৌদির ঐ প্রচারকের অপরাধ মোটেও হালকা নয়, মৌল ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক, তাই ওকে হালকা করে দেখার অবকাশ কম। জাকির নায়েক কখনোই কুরআন বিরোধী আল্লাহ বিরোধী কোন প্রচারে নেই। তার কাজই কুরআন বাইবেল বেদ উপনিষদ মহাভারতের সূত্র ভিত্তিক প্রচার। তার ত্রুটি বিষয়ক খোলাসা করতে আমি একটি ছোট্ট উদাহরণ আনতে পারি যেমন একবার একটি অপরাধ জনতাদের চোখে ধরা পড়েছে যে তিনি এজিদ (আঃ) বলেছেন। ধর্মের একজন সুক্ষ্ম গবেষক হিসাবে আমি নিজেও এটি জাকির নায়েকের মত মানবো না, এজিদের মত কালপ্রিট একজনকে এ সম্মান দেয়ার কোন যুক্তি নেই। কিন্তু জাকির নায়েক উদারতার দরজাটি খোলাসা করতেই এটি করেছেন সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা সুক্ষভাবে দেখলে দেখবো এরকম অপমানিত অর্জনধারী আরো অনেক জনই বহাল আছেন খোশ তবিয়তে আমাদের ধর্মের অঙ্গনে। আমরা অতি আস্ফালনে তাদের মাথায় তুলে রেখেছি যার জন্য আজো ইসলাম সত্যধর্ম হিসাবে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি যুদ্ধরত। এসব আবর্জনা ইসলামের রাস্তা থেকে পরিষ্কার করতে পারলে ধর্মটি আরো নাদুস নুদুস সুস্থ সবল রোগমুক্ত আবর্জনামুক্ত হতে পারতো। জানা যায় বৃটেন কোন এক অদৃশ্য অজুহাতে জাকির নায়েককে বেরিকেড দিয়ে রেখেছে, সেটি ৯/১১ দুর্ঘটনা জনতারা মনে করলেও গলদ অন্যখানে বলেই ধারণা হয়। ৯/১১ কোন সময়ই বৃটেনের ঘটনা নয়, বৃটেন ভিন্ন কারণে সত্যকে রুদ্ধ করতেই সম্ভবত এ ধারার বেরিকেড দিয়ে চলেছে।

কিছু ইসলাম পন্থীরাও ঐ রুদ্ধকরণের সাথে তালি দিয়ে ময়দান গরম করার তালে আছেন। জানা যায় ৭৩ দলের বিভক্তি রোগের আশংখার মাঝে একক ইসলামের এমন ধারার অনুসারীদের এসব সংকীর্ণ আচরণ নানান প্রশ্নের জমা বাড়ায় যা সমর্থণ করা যায় না। জাকির নায়ক ভারতের গৌরব হলেও মোদির জন্য জাকির নায়েক সোনা নন বরং আলকাতরা, তা দুনিয়ার সবাই জানেন।  গুজরাটের দাগী আসামী মোদিকে আমেরিকাও একদিন রুদ্ধদ্বার নোটিশ লটকে দিয়েছিল, মোদি প্রধানমন্ত্রী হলেও তিনি স্বরুপ বদলিয়েছেন এমন প্রমান কারো জানা নেই। জাকির নায়েক যদি জর্জ বুশকে ঐ অপরাধে চিহ্নিত করেন তবে এমন কোন বড় ভুল করেন নাই। কারণ এটি প্রায় স্বীকৃত সত্য যে ওটি ছিল আমেরিকার ইনসাইড জব। মুসলিমদের পায়ে শিকল পরাতে ওসব করা হয়েছিল এসবের অজস্র ম্যাসেজ,  ডকুমেন্টারী, বুশেজ ওয়ার নামের ম্যুভি, ফারেনহাইট ৯/১১ ছাড়াও অসংখ্য গবেষনা তথ্য লেখা ওয়েবসাইট শত শত ছড়িয়ে আছে খোলা ময়দানে। তাই ঐ দোষে জাকির নায়েককে কোণঠাসা করার কোন সুযোগ নেই।

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

এই বক্তব্বের কারণেই কি নিষিদ্ধ হলেন জাকির নায়েক লন্ডনে !!!

 

অক্সফোর্ড ইউনিয়ন এ এক ঐতিহাসিক বক্তব্য ‘ইসলাম ও একুশ শতাব্দি’। ডাঃ জাকির নায়েক।

 

সপ্তম শতাব্দী থেকে এ ধর্মটিকে রুদ্ধ করতে নবী করিমের স্বগোত্রীয় স্বজন আবু জেহেল আবু লাহাব আবু সুফিয়ানরা ছিলেন একপায়ে দাঁড়া। তারা আজো বেরিকেড দিয়ে চলেছে, এবং সেটি কিয়ামত পর্যন্ত চলবে হালকা দমে নয়, পুরোদমে। তারপরও সত্য প্রচার থেমে থাকবে না, পুরোদমেই চলবে বহুগুণ তেজে। যতই মোদিরা আগুন দিবে ততই মানুষ একটু বাড়তি সচেতন হবে। ৯/১১এর আগে আমেরিকাতে মানুষ ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধে তেমন জানতো না, ঐ ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় বুশ ষড়যন্ত্রে হাত দাগালেও ইসলাম ধর্মটি পৌছে গেছে প্রতিটি সচেতন আমেরিকানের হৃদয়ে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ঐ পরিতাপে পাগলের প্রলাপ ছাড়তেই মুখর। ওটি সাজানো হয়েছিল আমেরিকা নিধনের জন্য নয়, বরং ওটি মুসলিম নিধনের হাতিয়ার হিসাবে ছুড়ে দেয়া হয় হাতিয়ারটি ময়দানে। পরবর্তীতে ওটি উল্টো বুমেরাং হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দুনিয়ায় ইসলামের বাহক শক্তি হয়ে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে একজন অদেখা ন্যায়বাদী আল্লাহর বাস্তব থাকা। যার চোখ আছে সে দেখে যার কান আছে সে শোনে। যার মন আছে সে জমা করে। যার বিবেক আছে, সে ঐ অদেখা বিবেকের ইশারাতেই প্রকৃত সত্যকে সবদিনই স্বীকার করে। তাই মূর্তিপূজক আজরের ছেলে মূর্তিপূজক না হয়ে হন এক আল্লাহর একনিষ্ট প্রচারক একজন ইব্রাহিম। কুরআন বলে “ইব্রাহিম ইহুদী ছিলেন না, খ্রষ্টানও নহেন, বরং তিনি ছিলেন ঋজু স্বভাব মুসলিম” (সুরা আল ইমরানএর ৬৬ আয়াত)।

 

নাজমা মোস্তফা,  ৩১ জানুয়ারী ২০১৬।

খুতবা, তবলিগ জামাত, ইজতেমা ও কিছু কথা

বেশ দিন থেকে দেখছি তবলিগ জামাতের বিসতৃতি বেশ বড় পরিসরে বেড়েছে। পরিসর যেভাবে বেড়েছে সেভাবে অর্জন জমেছে বলে মনে হয় না। ঢাকাতে থাকা অবস্থায় দেখতাম কিছু লোকেরা বাসায় বাসায় আসতেন। এখানেও আমেরিকাতে আসার পর দেখি বাইবেলের কিছু সংস্থার লোকেরা এভাবে বাড়ী বাড়ী এসে মানুষকে ধর্মের নসিহত করে। তবে ব্যতিক্রম হচ্ছে ঢাকাতে তারা মুসলিমদের কাছে যেতেন আর আমিরেকাতে তারা সবার কাছেই যায়। আমার কেন জানি ওদের জন্য বড় মায়া লাগে। স্বার্থহীনভাবে কিভাবে এরা শীত গ্রীস্মকে উপেক্ষা করে দোয়ারে দোয়ারে ধরনা দেয়, আর সবচেয়ে বড় কথাটি হচ্ছে অন্য খৃষ্টানেরাও দেখতাম তেমন পাত্তা দিত না। আমার পাশে থাকা এক নানকে একদিন তাদের কথা বলাতে সে বেশ বিরক্তি প্রকাশ করলো। মনে হলো ভাবখানা তারা তাদেরে এক ধরলেন আপদ মনে করতো যার জন্য তারা এদেরে এড়িয়ে যেত। তারা বাইবেল গ্রন্থের কিছু লিফলেট জনতাদেরে ধরিয়ে দিত। আমি সব সময় তা হসিমুখে গ্রহণ করতাম। এতে তারা খুব খুশী হতো, মনে করতো আমি তাদের ধর্মের দিকে ঝুঁকছি, জানতে চাচ্ছি এসব। কিন্তু তারা খুব কম জানতো যে আমি তাদের ধর্মের অনেক কিছুরই খবর রাখি। তারা আমার নামটি পর্যন্ত তাদের খাতাতে টুকে নিত এবং বাসার সামনে এসেই আমার নাম ধরে ডাক দিত। স্বভাবতই অবাক বিস্ময়ে আমি দরজা খুলে দিতাম। তাদের সাথে কথা বলতাম আর বলতাম আমি তোমাদের মতই হেটে না হলেও গবেষনায় সময় পার করছি। প্রতিনিয়ত জানছি, পড়ছি।  জানা যায় ১৯২৬ সাল থেকে দেওবন্দ শিক্ষিত কোন এক মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াসের প্রচেষ্টাতে এটি শুরু হয় ঐ সময় থেকে। জীবনে কিছু তবলিগ জামাতি পরিবারের সাথে পরিচিত হয়েছি যাতে বেশ কাছে থেকে তাদেরে অবলোকন করার সুযোগ হয়েছে। তাছাড়া অনেকেই এর বিরুদ্ধে বিরুপ মন্তব্য করেন সঙ্গত কিছু যুক্তির কারণে সেটি জেনে এর উপর কিছু ইতিবাচক দৃষ্টিতে আজকের লেখাটি লিখছি। কেন জানি মনে হয় ক্রমে ওরা মূল সত্য থেকে বেশ বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। তবলিগে ছেলেরা চিল্লার নামে তিন দিনের, চল্লিশ দিনের জন্য পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের ঐসব জটিলতা মেনে নিতে কষ্ট হয়েছে এবং অনেকের পারিবারিক দুর্যোগ প্রত্যক্ষ করেছি। এসব ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক, এদের অনেক অগোছালো পরিবারের মহিলাকে বাচ্চাদেরে অনেক জটিলতার মাঝে পার করতে দেখেছি। এমতাবস্তায় পাড়শিরা চাঁদা তুলে তাদের পরিবারকে সহায়তা কর্তে শুনেছি দেখেছি। অনেক সময় অভিভাবকহীন মায়ের পক্ষে একা সামাল দেয়া জটিল হয়ে পড়তো। ইসলাম দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রচার করে “বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয়”

চার দেয়ালের পারিবারিক গন্ডির মাঝে থেকে সৎ সুন্দরভাবে জীবনের সব দায় সুষ্ঠভাবে পরিচালনার মাধ্যমে পরিপূর্ণ জীবনাচার চালিয়ে যাওয়াই ইসলাম। নিজেদের পরিচিত গন্ডির মাঝে কেউ ঐ মতবাদে অনুরাগী হলে, এর উপর বিরুপ মন্তব্য অনেককেই করতে শুনি। সম্প্রতি ক্যানাডাতে আমার এক বোনজি থাকে, সে বলেছে তার বিল্ডিংএ তারা এভাবে ধর্মালোচনা করেন যদিও কেন জানি তারা কেউ কুরআন অনুসরণ করেন না, বরং অন্য কোন বই অনুসরণ করে। তখন সে প্রস্তাব দেয় কুরআন পড়তে। তারপর দুই এক সভাতে ওটি অনুসরণ করা হয়। আমি যতদূর জানি তারা “ফাজায়েলে আমল” নামে একটি বই পড়েন ও ফলো করেন এবং কেন জানি তারা সব সময়ই ঐ কেতাবটিকে খুব মনোযোগের সাথে ফলো করেন। শোনা যায় বইটি অদভুত সব গালগল্পে ভরা। এও বলা হয় ওটিই তাদের পথ নির্দেশিকা। বিশ^কে কুরআনের দিকে আহবান কথার ইঙ্গিত কুরআনেই এসেছে, সেখানে কেন এরা ধর্মধারীরা সেখানের মূল সত্য থেকে সামান্য হলেও তফাতে থাকবে?  অনুসারীকে কুরআন থেকে বিচ্ছিন্ন করার অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। আমি নিজে বাস্তবে জানি না তাদের এই জটিলতার হেতুটি কি? তবে ছাত্র অবস্থা থেকে কিছু ছাত্র ছাত্রী, পড়শি সুজন থেকে যতটুকু জেনেছি মনে হয় শোনা কথাগুলি একদম মিথ্যেও নয়। ইদানিং শুনি অনেকে বলেন ইজতেমা এক ধরণের ছোট হজ্জ। মুসলিমরা জীবনে একবারই হজ্জ করবেন, তারই নির্দেশনা। তার আবার ছোট বড় কি? কেউ কেউ বলছেন এটি গরীবের হজ্জ। গরীবের জন্য আল্লাহর নির্ধারিত কোন হজ্জ বরাদ্দ নেই, সেখানে গরীবের জন্য এটি বেঁধে দেয়া ইসলামের কোন কাজ নয়। চৌদ্দশত বছর পূর্ব কুরআন এসেছে পূর্ণতার স্বাক্ষর নিয়ে। কুরআন নিজেই বলে তা পরিপূর্ণ বিধানাবলী নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।  তাকে খন্ডিত মনে করার যুক্তি নেই।

বলতে বাধা নেই এরা সংগঠিত হয়েছে এটি বলতে ভালোই শুনায় কিন্তু গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষের খারাপ মানসিকতার পরিবর্তন কতটুকু করতে পেরেছে, ঐ যোগ বিয়োগের হিসাব তাদের করা উচিত। তাহলে হয়তো এর বড় অর্জন তারা গোলাতে তুলতে পারবে। শবেবরাতের রাতে আমাদের দেশে জনতারা সারা রাত কেঁদে কেটে একাকার করে দেন এবাদত বন্দেগীতে। কিন্তু ফলাফল সব পাশ্চাত্যের গোলাতে উঠে, এর যুক্তিটি কি হতে পারে? যুক্তিটি হতে পারে এটি একটি বাড়তি এবাদত যা ধর্মের নির্দেশ নয়। কারণ সুরা কদরের রাত ব্যতিরেকে অন্য কোন রাতকে ইসলামের পরিভাষাতে কুরআনের ভাষাতে মর্যাদা দেয়া হয়নি। এটি কালের ধারায় গজিয়ে উঠা আচারের একটি, মূল ধর্মাচার নয়। যার সহজ পরিণতিতে আমাদের গোলা থাকে শূণ্যেভরা। সংক্ষেপে “নিঃসন্দেহ আমরা এটি অবতারণ করেছি মহিমান্বিত রজনীতে, এটি কি? এটি হচ্ছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। ফেরেশতাগণ  ও রুহ তাতে অবতীর্ণ হয় তাদের প্রভুর অনুমতিক্রমে প্রতিটি ব্যাপার সম্বন্ধে শান্তি বিরাজিত থাকে ফজরের উদয় পর্যন্ত” (সুরা কদর, ১-৫আয়াত)। খুব স্পষ্টভাবে এটি সুনির্দিষ্ট করে বলা যে এ রাতটি হাজার মাস থেকেও উত্তম। এরকম আর কোন উত্তম রাত কুরআনে লিপিবদ্ধ নেই। তারপরও ভারত উপমহাদেশে দেখা যায় মুসলিমরা একটি ভিন্ন ধারার শবেবরাতের নামে এবাদত চালু করেছেন যার কোন ভিত্তি মূল ইসলামে নেই। তাই আজ স্পষ্ট করে বলা যায় এটি কালের ধারায় গড়ে উঠা এক অনাচারের নাম। ইসলাম এ ধারার আচার আচরণকে উৎসাহ দেয় না, বরং নিরুৎসাহ করে। যা ইসলামে নেই তা নতুন করে কেউ শুরু করলে তাকে বলা হয় বিদআত, আর এসব না করতে বলা হয়েছে। শক্ত করে বলা হয়েছে যারা বিদআত করবে তারা জাহান্নামে যাবে। সে হিসাবে এমন ধারার ইবাদত করে অনাচারের যোগান না দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যে কেউ বলতে পারেন করলে ক্ষতি কি? সীমার বাইরে যাবার ক্ষতি এটিই, ধর্মের নামে কোন কিছু বাড়তি চালু করাই অপরাধ। যারা এটি করবে এর দায়ভার তাদেরেই বইতে হবে। সে জবাবদিহিতার দায়ভার জেনে মেনে সবাইকে পথ চলতে হবে।

ইসলাম কোন গাজাখুরী ধর্ম নয়, এটি শৃংখলার ধর্ম, নির্দেশের বাইরে যাওয়াটা আল্লাহ বিরুদ্ধ কাজ। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে আদম ও ইবলিসের গল্পটির আড়ালে এটি বুঝানো হয়েছে যে আমাদের প্রতি পদে পদে বিভ্রান্তির বিচ্যুতির জটিলতাতে পড়তে হবে। এবং নিজের বুদ্ধি বিবেক বিবেচনা দিয়ে তার মোকাবেলা করতে হবে। পদে পদে শয়তান আমাদের বিভ্রান্ত করবে আর বিবেক তাকে চিহ্নিত করতে সক্ষম। বলা হয়েছে শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু, লুক্কায়িত কিছু না, আড়ালে থাকে না।। আমরা তাকে দেখলেই চিনতে পারবো, সে আসবে বন্ধু হয়ে স্বজন হয়ে নেতা হয়ে। শয়তান সেদিন এটিও স্পষ্ট করেছে যে তোমার সঠিক অনুসারীকে আমি বিভ্রান্ত করতে পারবো না তবে তোমার বেশীর ভাগ হবে আমার অনুসারী পথহারার দল। সবকিছু বিবেচনায় রেখে সুচিন্তিত ভাবে এসব জটিলকে সহজভাবে নিতে হবে কারণ এ ধর্মটি মুমিনদের জন্য ১০০% লাভ জমা করবে যদিও এটি সবার জন্য এসেছে। এর অনুসারীরা প্রতিটি দিন প্রতিটি নামাজের সময় তারা সহজ সরল পথে “সিরাতুল মোসতাকিম”এর দিকে পরিচালিত হবার দোয়া করেন। মোনাফিক ও মুশরিকরাও এবাদতে সামিল হন, তবে শয়তানের কবজায় তারা দুনিয়ার বেশী সময় পার করেন। শয়তান তাদেরে আলিঙ্গনে নিজের দলে রাখে বলে তারা মুমিন হতে পারেন না। তবলিগ ভাইদের কাছে আবদার রাখি আপনারা ধর্মের মূল সত্যে মূল গ্রন্থ কুরআনে প্রত্যাবর্তন করুন। ফাজায়েলে আমলকে এত বেশী প্রধান্য দেয়ার কোন যুক্তি খাটে না। যতটুকু জেনেছি ওর মাঝে একগাদা মিথ্যায় ভরা অনাচারি গল্প দিয়ে ঠাসা যার কোন ধর্মীয় বা ঐতিহাসিক মূল্য নেই।  এ ধারার গ্রন্থকে আমলে দেয়া মানে বিভ্রান্তিতে আরো ডুবে যাওয়া, তা না করে বরং কুরআনকে মূল্যায়ন করাই প্রকৃত ধার্মিকের কাজ হওয়া উচিত। তা ছাড়া পৃথিবীতে অন্য কোন গ্রন্থের সাথে কুরআনের তুলনা চলে না। ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য কি শুধুই দোয়া করা? কর্মহীন এবাদতের মূল্য ইসলামে বড় অল্প। ইসলাম একটি কর্মময় জীবনধারা।

আপনারা নিশ্চয় সবাই জানেন সেই কাঠুরিয়ার গল্পটি। নবী করিম (সঃ) তাকে তার নিজের পুরোনো কম্বল বিক্রি করে কুঠার কিনে তা দিয়ে কাঠ কেটে জীবন পরিচালনা করায় উৎসাহ দেন কিন্তু ভিক্ষুককে ভিক্ষা করতে নিরুৎসাহিত করেন। ধর্মে অবস্থাপন্নকে গরীবকে জাকাত দিতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে কিন্তু তাই বলে গরীবকে হাত পাততে বলা হয় নাই। এটি হচ্ছে মর্যাদাবান ইসলামের মূল শিক্ষা, মানুষকে কর্মী করে গড়ে তোলার শিক্ষা। আমাদের সমাজে বরং উল্টো মানুষকে হাত পা ভেঙ্গে পঙ্গু করে ভিক্ষুক হতে দেখা যায়, কারণ এরা ইসলামের মূল থেকে কত দূরে অবস্থান করছে, এ তার উদাহরণ মাত্র। একজন শ্রমিক একজন রিক্সাচালক অনেক বড় দরবেশের পদ দখল করে আছে, তারা যে কঠিন কষ্টের অর্জন জমা করছে, মৌমাছির শ্রমের মধু আহরণের সাথে তুলনীয় হতে পারে। তাদের পাওনা যে কি হবে সেটি চিন্তা করেন সচেতনরা। তারা বেশির ভাগই সৎ, আল্লাহর খুব কাছের জন। যে নারী যে পুরুষ ইট ভেঙ্গে দেশ গড়ার কাজে হাত দাগিয়েছে, তার মূল্য কি একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার বা প্রধানমন্ত্রীর থেকে খুব কম? মনে হয় না, বরং মনে হয় হয়তো তার বহু উপরে সে পৌছতে সক্ষম শুধু তার অর্জন দিয়ে সে আকাশ ছুঁতে সক্ষম। যদি সদাচরণে যৌবনে একজন যুবক চলতে পথে আল্লাহর স্মরণে, ঘোষ, নেশা,  দুর্নীতি, ধর্ষন, মদ, চুরি, রাহাজানি, ডাকাতী এক কথায় সব ধরণের অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকে, তার পাওনা কোন গন্ডি দিয়ে বেঁধে রাখা যাবে না।  তখন তারা এরকম একটি অর্জন জমা করতে পারবে, যখন তার ঈমান শক্ত থাকবে, কোন অবস্থায়ই তারা ওপথ মাড়াবে না। তাকে গাটের পয়সা খরচ করেও আপনি বিভ্রান্ত করতে পারবেন বলে মনে হয় না। কারণ সে অসাধারণ জীবন মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে সত্যকে স্পর্শ করতে পেরেছে বলেই সে সৎ থেকেছে, এর বাইরে আর কোন পরিচিতি তার নেই। সে বিশ^ জয় করা তরুণ। আপনাদের তাকেই গড়তে হবে। এমন ধারার যুবককে দিয়ে বিশ^ জয় করতে সময় বেশী লাগবে না। পাশাপাশি ভিন্ন সমাজ থেকে এসব কারণে মুসলিম সমাজে এসব অপরাধ নেই বলাই উচিত। এর প্রধান কারণ ধর্ম তাদের নৈতিকতার গন্ডি বেধে দিয়েছে, যা অন্যরা পারে নাই। তারপরও আমাদের সমাজে কেন এসব দুর্নীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে তার কোন জবাব নেই। এর প্রধান কারণ মূল আদর্শটি তারা রপ্ত করতে পারে নি আত্মায় অন্তরে। এর গাফিলতির দায় সমাজের বাকীদের ঘাড়ে বর্তায় শিক্ষক অভিভাবকসহ সমাজ ব্যবস্থা মানুষকে পশুত্ব চর্চায় উদ্বুদ্ধ করছে। আপনারা নৈতিকতার দিকদর্শক হিসাবে এসব শোধরানোর জন্য ইতিবাচক কাজ করতে পারেন। কারণ যারা আপনাদের ঐ জলসাতে এসেছে, তারা অনেকেই আকন্ঠ ডুবে আছে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে।

এসব অপরাধীদের অপকর্মে গড়া দোয়ার কান্নাতে কি বিধাতার মন টলবে? অপরাধি হলে বিধাতার অনুগ্রহ না পাওয়ারই কথা। শত অপরাধ করে বেহেশতে চলে যাওয়ার মেকী গল্প না করাই উত্তম কারণ এসব কুরআন বিরুদ্ধ প্রচারণা অনেক সময় আমাদের সমাজে বিলি করা হয়। প্রকৃত গ্রন্থকে পাশ কেটে নকল কথার বানিজ্যে ব্যবসা সফল হবার কথা নয়। ধর্মটি এত বোকার ধর্মও নয়। পাপীর জন্য এখানে শক্ত বেরিকেড দেয়া, উদ্ধারের সব কটি রাস্তা সিলগালা করা অপরাধীর জন্য। যদিও অনেক ওয়াজে আমরা রঙ্গ রসের অনেক গল্প শুনি বাস্তবে কুরআন এসব স্পষ্ট করেই বিবৃত করেছে এবং এসব থেকে দূরে সরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে, একবার নয় বারে বারে। নষ্ট ও অপরাধী উদ্ধারের সোজা রাস্তা নেই বলাই সমিচিন। “নিঃসন্দেহ তিনি জানেন কথাবার্তার প্রকাশ্য দিক আর জানেন যা তোমরা গোপন কর” (সুরা আম্বিয়া অর্থ নবীগণ, ১১০ আয়াত)। আল্লাহ বলেন, “এটি দুনিয়ার জীবন হচ্ছে তোমাদের জন্য একটি পরীক্ষা আর কিছুকালের জন্য জীবন উপভোগ” (ঐ সুরা, ১১২ আয়াত)। এবাদতের শর্ত হচ্ছে মানুষকে নির্মল হতে হবে, হালাল খেতে হবে, হালাল রোজগার ঘরে তুলতে হবে। তার হিসাব খুব সহজ। বাংলাদেশের কয়জন মানুষ টাকার রং দেখেন, তারা মনে করেন টাকা হলেই চলে, এর আবার সততার দরকার কি? আল্লাহর কম্পিউটার কিন্তু টাকার প্রকৃত রং চিনতে অতিরিক্ত সক্ষম। দেশটি ডুবি ডুবি করে দুর্নীতির লিস্টে সব সময় উপরের লিস্টে নামেদাগে চিহ্নিত হয়, কারণটি কি? এসব বিষয়ে আপনারা তবলিগের মাহফিলে ইজতেমাতে মানুষকে দিক দর্শন দিতে পারেন, তাদেরে অপরাধের পথ থেকে সরে আসার আহবান জানাতে পারেন। নয়তো এসব দোয়া অরন্যে রোদন ছাড়া আর কোন কিছু কি জমা করতে পারবে? একটু কান পেতে শুনুন আল্লাহ কি বলেন, “আর আকাশ ও পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যে যা কিছু আছে সে সমস্ত আমরা খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি” (ঐ সুরা, ১৬ আয়াত)।

অনেক ধর্মে বলা হয় কাজ করে যাও, ফলাফলের আশা করো না। কুরআন কিন্তু তা কখনোই বলে না। সব সময়ই আশায় বেধে রেখেছে তার অনুসারীকে। ইসলাম ও কুরআন সুকর্মের বদলে সুফলের ১০০% গ্যারান্টি দেয়। উদ্দেশ্যহীন তপজপের মূল্য ইসলামে নেই। এটি অতি বৈজ্ঞানিক নিয়মে বাধা ধর্মের মালিকানা সত্য ও নীতিতে গড়া। অনাচার অসত্য বিভেদ বিভক্তির ১০০% বিরোধী মনোভাবে ইসলাম ঠাসা। সেখানে অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন নামে যে দল গড়েছেন বিভিন্ন সংস্থার নামে মূলত ইসলাম এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত মাত্র একটি গাথুনিতে পরিচিত। তাই কড়া করে বলা হয়েছে এ ধর্মে কোন বিভক্তি আনা যাবে না। কিন্তু আমরা বেওকুফরা সে মূলকে শক্ত করে শিকলে বেঁধে রাখতে পারি নি বলে ধর্মের নামে আমাদের মাঝে এত বিভেদের ছড়াছড়ি। হাদিসে জানা যায় মানুষ এভাবে ৭৩ দলে নাকি বিভক্ত হবে, এবং মাত্র একটি দল থাকবে সত্যের উপর। তার সহজ মানে হচ্ছে একমাত্র ইসলাম ছাড়া বাকীরা বাতিল বলে গণ্য হবে। তারও সহজ সমিকরণ হচ্ছে বা হবে ৭৩ থেকে ৭২কে ফেলে দিয়ে ঐ মূল একে ফিরতে হবে সবাইকে, তবেই রক্ষা নয়তো বাকী ৭২দলের কঠিন মরণ। সেই একক সত্ত্বায় ফেরার কৌশলও বাতলোনো আছে পবিত্র গ্রন্থে, শক্ত করে ঐ গ্রন্থের গাটছড়া বাঁধতে হবে।

ইদানিং শুনছি বাংলাদেশে খুতবা নির্ধারণ করার ব্যবস্থা হচ্ছে। উদ্যোগটা উদ্দেশ্য মহৎ হলে মন্দ ছিল না, কিন্তু মনে হচ্ছে তারা এর মূল ছেড়ে দেয়াতে অভিস্ট  লক্ষ্যে পৌছা তাদের ইচ্ছা নয়। বলা হচ্ছে সেখানে কোন রাজনীতির কথা থাকতে পারবে না। ইসলাম কিন্তু এসেছিল সমাজে উত্থিত প্রতিটি সমস্যারই সমাধানে। মসজিদে কোন দিনই জঙ্গি তৈরী হয়নি, ঐশী আদর্শে গড়ে তোলা একদল মানুষ তৈরী করা হয়। যারা এক আল্লাহ ব্যতীত কারো তোয়াক্কা করে না, কোন অনৈতিকতার গোলামী তারা করে না। তবে জীবন চলতে প্রতিটি নীতি নৈতিকতার অতিরিক্ত মূল্যায়ন করে। মসজিদই বড় রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়  প্ল্যাটফরম বলেই জানি। মসজিদই ছিল প্রাক ইসলামের সংসদ। সেখানে প্রতিটি জটিল বিষয় আলোচিত হতো এবং এর উপর ভিত্তি করে নৈতিকতার মানবিকতার আদর্শ ঐশী গ্রন্থের আলোকে উত্তমকে গ্রহণ করা হতো। জামাতের নামাজ তাদের শিখিয়েছিল সামাজিক সাম্যতা আর মহান ঐক্যতার বন্ধন। ঐ একতার কারণে ক্রমে রক্তের বন্ধন থেকে মুসলিম ভাতৃত্বের স্থানও উপরে উঠে আসে। নামাযই ছিল মুসলিমদের ড্রিলের ময়দান। ভাতৃত্বের বন্ধন এতই জোরালো ছিল যে, বিভেদ সেখানে কোনভাবেই জায়গা করতে পারে নি। সবার লক্ষ্য এক আল্লাহকে স্পর্শ করা। কোন পীর মুরশিদকে স্পর্শ করার দায় কোন জনতার মনে খন্ডিতভাবেও ছিল না। আল্লাহ ছাড়া আর বাকী কোন শক্তির পূজা এরা করে না, মসজিদে তা হয় না। ইসলাম পীর মুরশিদের গোজামেলে রাস্তাকে মূর্তিপূজার সাথে তুলনা করে। সেখানে একমাত্র আল্লাহর ঐশ^রিক একাত্বতার স্বীকৃতি সমর্থনীয়।

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

মদীনায় প্রথম সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমাদের প্রিয় নবী ইহুদী, পৌত্তলিক ও মুসলিমদেরে দেশের সাধারণ স্বার্থরক্ষার্থে ও দেশের মঙ্গলের জন্য একটি রাজনৈতিক জাতি বা কওমে পরিণত করার ডাক দেন। সেদিন যার যার ধর্ম নিয়েও প্রতিটি গোষ্ঠী সংঘবদ্ধ হয়ে দেশ সেবাতে এক অবিস্মরণীয় প্রতিজ্ঞাপত্রের বদৌলতে প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক সনদে এক সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়। যেখানে প্রত্যেকের স্বকীয়তা, স্বাধীনতার মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়। পীর মুরশিদের জন্য আলাদা কোন তকমা প্রচার করার সুযোগ থাকে নাই। লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায় ও সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটি এমন একটি সময় ঘটে যখন গোটা আরব জাহেলিয়াতিতে আকন্ঠ ডুবে ছিল তখন একদল মানুষকে নবী মোহাম্মদ (সঃ) বিশে^র ময়দানে মানবতার ডঙ্কা বাজিয়ে এগিয়ে নিতে হাজির হন। সেদিন মসজিদের প্রতিটি মানুষ ছিল সত্যের সৈনিক। সেদিন ঐ সাধারণতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল শক্তিমানের অত্যাচার থেকে দূর্বলকে রক্ষা করা। আজ যদি এসব বেরিকেড দিতে প্রবল হয়ে আরো দুর্বলকে আঘাত করা হয় তবে এর উদ্দেশ্য অংকুরেই বিনষ্ট হতে বাধ্য। কারণ যারা এর গুরুদায়িত্বে শোনা যায় তারা  অনেকেই নিজেরাই বিতর্কিত মানুষ তাদের কাজে কর্মে। এরা শক্তিমানের রাজদন্ড হয়ে দূর্বলকে আঘাত করলে ইসলামকেই সমূলে উৎপাটন করা হবে। বলা হচ্ছে সেখানে কোন রাজনীতির কথা আসবে না। কারণটি কি? রাজনীতি কি ইহকালীন কোন সমস্যা নয়? রাজনীতি কি পরকালীন কোন সমস্যা মাটির নীচের কবরের ব্যাপার, যার কোন প্রয়োজন নেই জীবন সংগ্রামী মানুষের? রাজা যা ইচ্ছা তাই করবেন কেউ কিছু বলবে না, তা কোনদিনও ইসলামের বিষয়বস্তু ছিলও না, থাকার কথাও নয়। ইসলাম এক বিশ^ সমাজ গঠনের স্বপ্নে গড়া আদর্শ। একে রাজনীতির সূতা নাতা দিয়ে কষে বাঁধতে গেলে মৌল ইসলামকেই ধ্বংস করা হবে।

চলমান প্রসঙ্গের এ খবরটি উল্লেখ না করে পারছি না। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ধর্মদ্রোহী আখ্যা দিয়ে ১৫ বছরের এক ছেলেকে হাত কাটার নির্দেশ দেন সাব্বির আহমদে নামের এক ইমাম । সে নির্দেশটি পালন করতে ঐ ছেলেটিকেই বলা হয়। সুবোধ বালকটি নিজে তার হাত কেটে উপহার হিসাবে ইমামের স্মরণে পাঠায় । ১৭ জানুয়ারীর খবরে সেই ভয়ঙ্কর ইমামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ্য প্রশ্ন না বুঝে ভুলভাবে হাত তোলাতে শালিস কমিটির বরাতে তাকে এ ফতোয়া দেয়া হয়। এ ধারার ফতোয়াবাজরা অন্যায় ফতোয়াই দেন, বোঝা যায় তারা ধর্ম শিখেননি। মূল গ্রন্থ কুরআন তাদের আমলে নেই বলেই তারা এসব কুরআন বিরোধী অনাচার করছে আর ধর্মের ঘাড়ে বন্দুকটি রেখে বোকাদেরে শিকার করছে। যারা কুরআন বিরোধী কোন কাজ করবে তাদেরে কঠিন শাস্তির বিধান রাখা উচিত। এর সহজ যুক্তি কুরআন বিরোধী মানে আল্লাহ বিরোধী। তাহলে মানুষ ফতোয়ার নামে এমন ধারার অপরাধ করবে না। কুরআন একমাত্র গ্রন্থ যেখানে ন্যায় নীতি ছাড়া অনৈতিকতার কোন উদাহরণ নেই। যারা কুরআনের প্রতিটি ম্যাসেজের সাথে গভীর বিশ^াসে জ্ঞাত নয়, জড়িত নয়, তাদেরে এসব ইমামতির দায়িত্ব দেয়া উচিত নয়। যেখানে কুরআনের বক্তব্যযে কেউ হত্যা করে একজন নির্দোষ মানুষকে যেন সে সবাইকে হত্যা করলো। আর যে কেউ একজন নির্দোষকে বাঁচালো সে যেন সমস্ত লোকজনকেই বাঁচালো (সুরা মায়েদার ৩২ আয়াতে)। এরা কুরআন না বুঝেই মুখস্ত করে, তাই এর মূল্যবান বাণীসমূহ তাদের অন্তরে প্রবেশ করে না। সমস্ত মুসলিম বিশে^ এ ধারার জনতাকে ইমামতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া উচিত।

ইতিহাস বলে প্রাথমিক ইসলামে যদি কেউ এ ধারার সামান্যতম ভুল ত্রুটির উদাহরণ স্থাপন করতো, সাথে সাথে প্রকাশ্য ময়দানে তাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হতো, এতে মানুষ এসব অপরাধ করার সাহস পেতো না। হয়রত ওমরের সময়ে তামিদদারী নামক একজনকে মিথ্যা গালগল্প প্রচারের অপরাধে বেত্রাঘাত করা হয়, তিনি ধর্মের নামে মিথ্যা গালগল্পকে ধর্মের গল্প বলে চালানোর প্রচেষ্ঠা করেন। ঐ বিতর্কিত ইমামের প্রশ্নটি যা বালকটি বুঝতে পারে নাই তা ছিল নবী মোহাম্মদ(সঃ)কে মহব্বত করা ও না করা বিষয়ে। তখন সে ভুলক্রমে প্রশ্নটি না বুঝে হাত উঠায় যাতে ইমাম সন্তুষ্ট হতে পারেন নি। এ ধারার ধর্ম বাহকেরা ধর্মের খোলসের বাইরেই ঘোরাফেরা করেন, ভেতরে প্রবেশ করে এর মহানুভবতাকে স্পর্শ করতে পারেন না। গবেষণা তথ্য বলে প্রিয়নবী মোহাম্মদ(সঃ) বিশেষ তাগিদ সহকারে বলে যান যে, “সাবধান! খ্রীষ্টানেরা যেরূপ মরিয়মের পুত্র যীশুকে বাড়াতে বাড়াতে অসীম ও নিরাকার “পরম পিতার” আসনে বসিয়ে দিয়েছে। তোমরা যেন আমার সম্বন্ধেও সেরূপ অতিরঞ্জন করো না, আমি তো আল্লাহর একজন দাস ও তার বার্তাবহ আর কিছুই নহি (মোসলেম–মেশকাত-২৮)। উপরোক্ত সূত্রতে ঐ সব ধর্মে অনভিজ্ঞ ইমামদের জানবার শিখবার অনেক বড় বানী লুকিয়ে আছে। আমার নিরপেক্ষ কাতর মাতৃমন বলছে সে যদি ঐ দিন মসজিদে না যেত তবে এ বিড়ম্বনার সামনে পড়তো না, তার হাতটি অন্তত বাঁচতো। এতে এটি কি স্পষ্ট হয় না যে ঐ ইমাম সন্তানদেরে নামাজের চেয়ে বখাটে হতেই উৎসাহ যোগিয়ে যাচ্ছেন, নয়কি? সব বিতর্কিত ধর্ম না বোঝা প্রচারক ইমামদের কাছে প্রশ্নটি জমা রাখলাম।

ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারনা গুলোর সমাধান – ডাঃ জাকির নায়েক বাংলা

 

দেশে এত এত সমস্যা যার কোন শেষ নেই। প্রতিটি সমস্যাই সেখানে কমবেশী আলোচিত হতে পারে। রক্ষক হয়ে পুলিশ নির্দোষ মানুষ ধরে যমের ঘরে পাঠাচ্ছে, ইসলামের প্রকৃত নীতি হিসাবে সেটিও সেখানে মসজিদে আলোচিত হতে পারে। হিন্দুদের মন্দিরে আগুন কে বা কারা দিচ্ছে তাও খেলাসা করার উদ্যোগ সেখান থেকে নেয়া যেতে পারে। ইদানিং ফেসবুকে অনেক প্রমাণসহ খবর পাই যে অনেক জায়গায় বোকা মুসলিমদেরে ফাঁসাতে হিন্দুরাই নাকি নিজেদের মূর্তি নিজেরা ভাংচুর করছে। এসব প্রতিটি জটিলতার উপরই ওখানে আলোচনা হতে পারে। ইদানিং জঙ্গিপনার নামে কিছু কথা আসছে, তা প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা নয়। জঙ্গিপনার নামে ছেলে মাকে হত্যা করে ফেলছে, এটি কি ধরণের ইসলাম, এমন ধারার ইসলাম কোন দিন নবী করিম প্রচার প্রতিষ্ঠা করেন নাই। আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছে আল্লাহর পরই ছেলে মেয়েকে মায়ের বাপের প্রতি নজর দিতে হবে। চিন্তা করুণ সচেতনরা, এটিই একমাত্র ধর্ম যেখানে একজন মা বাবাকে কত উপরে স্থান দেয়া হয়েছে। কেউ যদি মাকে হত্যা করে তাতে আল্লাহ খুশীতে গদগদ হয়ে যাবেন যারা ভাবে তারা ইসলামের গভীর সত্যে ঢুকতে পারে নাই বলে এমন মিথ্যাতে সয়লাব হয়ে গেছে। কুরআন বলে ‘বলো “তোমাদের কি দৃষ্টিগোচর হয়েছে, – তোমাদের উপরে যদি আল্লাহর শাস্তি এসে পড়ে আতর্কিতে অথবা প্রকাশ্যভাবে, তবে অত্যাচারী গোষ্ঠী ছাড়া আর কাউকে কি ধ্বংস করা হবে”? “অতএব যে কেউ ইমান আনে ও সৎকাজ করে তাদের উপরে থাকবে না কোনো ভয়ভীতি, আর তারা করবে না অনুতাপ (সুরা আন’আমএর ৪৭/ ৪৮ আয়াত)।

নাজমা মোস্তফা

কিভাবে তবলিগ করতে হবে এর উপর সুন্দর উদাহরণ বর্তমান। এর উপর উপরে একটি ভিডিও লিংক দিচ্ছি। উপরে ওটিও মুছে দেয়া হয়। যারা চায় না প্রকৃত ইসলাম প্রচারিত হোক তারা এসব সহ্য করতে পারে না।

মাকড়শার ঠুনকো বাসা

ধর্ম রাজনীতি নিয়ে সারা বিশে^ আলোচনা সমালোচনা চলে। এতে কোন পাপ হিসাবে কেউ নিচ্ছে না। ইসলাম এমন একটি নির্ভেজাল ধর্ম আজ চৌদ্দশত বছর থেকেই প্রতিষ্ঠিত। তার উপরও সারা বিশ^ থেকে একদল জোরের সাথে বলছেন যে এটি জঙ্গি ধর্ম, অনেক বিতর্কীত মুসলিমও ঐ সুরে তাল দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি কর্মকান্ডে মানবতার দোসর এ নবীর জীবন নীতির আচরণে সমৃদ্ধ যদিও কিন্তু তাকে শ্রেষ্ঠ অপকর্মী জঙ্গি হিসাবে অনেকেই প্রচারে নেমেছেন। একদিন সিকিমকে নিয়ে অনেক নিন্দাবাজের পাহাড় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছিল। এর কারণ ইতিহাসে জমা আছে। সিকিম ষড়যন্ত্রের কোপানলে আত্মহত্যা করে হাটু পানিতে পুকুরে ডুবে মরেছে। তাই বলে সেটি কি চিরদিনের জন্য একটি হালাল কাজ বলেই স্বীকার করতে হবে? তাহলে পৃথিবীতে নীতি নৈতিকতা অচিরেই আত্মহত্যা করবে। হাত পা বেধে গলাডুবা সরকারের সমালোচনা করতে বসলে ৩ থেকে ৩,০০০ অভিযোগ জমা করা সম্ভব, তারপরও অনেকের বিশ্লেষন শুনলে মনে হবে বিএনপির অপরাধ এই আর সরকারের অপরাধ তার একটু বেশী, এরা অনেক সময়ই দেখা যায় কিছুটা ঘুরিয়ে হলেও বলতে চায় দুজনাই প্রায় সমানে সমান। সাংবাদিক বিচারক অনেককেই এরকম কথা বলতে অতীতেও শুনেছি, শুনছি, ধারণা হয় আরো শুনবো। এরা আসলে খোলসে ঢাকা অপরাধি পার্টির নিয়োজিত দালাল। তাই শত অনাচারেও এদের বিচারিক ক্ষমতা শূন্যের কোঠাতে ঘোরাঘুরি করে। যারা এভাবে বিশ্লেষণ করছেন তাদের বিশ্লেষণই ভুল। দেশটি ডুবতে ডুবতে গভীর তলানিতে গিয়ে পৌচেছে। এর উদ্ধারের সম্ভাবনা ধারে কাছে দেখছি না। যদিও আমরা ময়দানে নেই, শৃঙ্গ থেকে দেখছি সমতলের দেশটিকে। তারা এখনো বিএনপির ভুল খুঁজে পেলেও সরকারের ভুল যে কয়টি সেটি কিয়ামতের আগে সম্ভবত কেউ করতে পারবে না, মনে হচ্ছে অসম্ভব। ঐ বিচারিক আদালতে যদি বিধাতা স্পষ্ট করেন তখন বিশ^বাসী প্রকৃত সংখ্যাটা জানবে। কেউ বলছেন ভারতের সাথে দেরীতে করমর্দন দায়ী, কেউ বলছেন দেরীতে মাঠে আসা দায়ী, এভাবে ভোটের পরাজয়ের হিসাব করছেন, কেউ বলছেন ভোটাররা নাখোশ হয়েছেন। এমনতরো বিশ্লষণ শুনে মনে হয় এরা কি সত্যিই দেশের পরিস্থিতি অবলোকন করছেন নাকি ভারতীয় তালে মঞ্চ নাটক করছেন?

০৫ জানুয়ারী “গনতন্ত্র হত্যা দিবস”

 

বিশ্লেষকরাও কি হতাশ জাতির জনতাকে নিয়ে মশকরা করছেন, সরকার তো মশকরাতেই সময় পার করছে। তবে প্রশ্ন জাগছে শেষ পর্যন্ত তারা কেন ঐ মশকরাতে সামিল হচ্ছেন। ২০১৪তে নির্বাচনী অনিয়ম খোলাসা করে এইচ টি ইমাম নির্বাচন সম্পর্কে বলেছিলেন, “পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিটি উপজেলাতে রিকরুটেদের সাথে কথা বলে, মোবাইল কোর্ট করিয়ে নির্বাচন করেছি। তারা পাশে দাঁড়িয়েছে, বুক পেতে দিয়েছে। ছাত্রদেরে উৎসাহ দিয়ে বলেন, তোমরা লিখিত পরীক্ষা ভালো করো, ভাইভা আমরা দেখবো। ছাত্রলীগের পাশের দায়িত্ব সরকারের। তারপরও সুরঞ্জিতরা বড় গলাতে বলেন, “জনসমর্থণের উপর ভিত্তি করে সরকার ক্ষমতায়, পুলিশকে বিভাজন করা যাবে না, পুলিশ সকলের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আওয়ামী লীগার সম্পাদক মন্ডলীর একজনও বলেন, এটি কি শুধুই এইচ টি ইমামের নিজের কথা নাকি সরকারের কথা, সেটি স্পষ্ট হওয়া জরুরি! ঠিক এবার যেভাবে এরশাদ বলেছিলেন যে সকাল নয়টার মাঝে ভোট শেষ হবে। ওরকমই ২০১৫এর পৌরনির্বাচন এরশাদীয় এজেন্ডা মতনই হয়েছে। মিছেমিছি বিশ্লেষকরা মনগড়া বিশ্লেষনে সময় পার করছেন। প্রায়ই শুনি শাহজালাল বিমান বন্দরে টন টন সোনা ধরা পড়ে। সেদিন দেখলাম এক টক শোতে এক বক্তা বাহাদুরি করে বলছেন ধরা পড়ছে মানে সরকারের কৃতিত্ব। এটি তো ডাকাতির মূখ্য সময়, ধরা পড়ছে বলেই বড় বড় ডাকাতরা পার পেয়ে যাবে? ডাকাতি না হলে তো ডাকাত ধরা পড়ার সম্ভাবনাই মিটে যেত। যে জাতির মগজ এভাবে বিচার করে তাদের জন্য জানি না আর কি অপেক্ষা করছে! বিগত শতকে ৯০এ যে গণতন্ত্রকে মুক্ত করা হয়েছিল ডাকাতের কাছ থেকে, আজ তার চেয়েও বড় ডাকাতের কবজায় দেশ। 

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

৫ই জানুয়ারির কলঙ্কিত নির্বাচনের, জালভোট ও অনিয়ম নিয়ে বাঁশেরকেল্লার বিশেষ ডুকুমেন্টারী

 

আজকের খবরে দেখলাম পেট্রোল বোমায় পোড়া লোকগুলির খবরও নেয় না কেউ। যে সরকার মানুষ পোড়ানোর দক্ষতা নিয়ে ডাটে বাটে বসে আছে, আজও মানুষের জানের কোন তোয়াক্কা করছে না। তখন তো দেখলাম সরকারী সাগরেদরা হাসপাতালে ভিডিও সেশনে ব্যস্ত। নাটক করতে গীতার রাণীর পাশে ছুটে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্টো গীতা রাণীর ধমক খেলেন। তাদের কি কোন দায় নেই, ঐ মানুষগুলোর খোজ করার? ঐ সময় ছবি তোলার দরকার পড়েছিল তাই ছুটে যাওয়া, আজ আর ছবির প্রয়োজন ফুরিয়েছে। অবশ্যই এর দায় সরকারের ঘাড়েই পড়ে। অন্যরা যদি পুড়ায়ও তারপরও এর দায় সরকারের ঘাড়ে পড়ে। কারণ সরকারই এ দেশের মালিক মোক্তার। আর মালিক মোক্তার বলেই মানুষদের জমের ঘরে নিশ্চিন্তে পাঠাচ্ছে ইলিয়াস আলী থেকে সালাউদ্দিন, বাকী শত শত নির্যাতীত মানুষ। সরকার যতই ধান্ধাবাজী করুক, আল্লাহর সুক্ষ্ম দৃষ্টিকে পৃথিবীর কোন সত্ত্বাই অপকর্ম এড়িয়ে যেতে পারবে না। এটি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবার মনে রাখলে ভালো হয়। পেট্রোল বোমার একটি ফাইলে সিরিয়েলি সারা দেশে ধরা খাওয়া নিউজে আসা সচিত্র প্রতিবেদনসহ খবর এসেছে এসব সরকার তার গুন্ডাদেরে দিয়ে করাচ্ছে। এরা বারে বারেই বোমাসব ধরাও পড়েছে, যার কোন শাস্তি হয়নি।

এমনকি পুলিশের লিক হওয়া ভিডিও দেখেছি আমরা যে, পুলিশ প্রধানরা বলছে কিভাবে সরকারের হয়ে তারা অপকর্ম করে সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে। মূল অসামীকে না ধরে তারা মামলা করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে, নির্দোষ প্রবীন সম্মানিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। যাদের এ বয়সে আদর যতœ পাবার কথা, তারা কারাগারের প্রকোষ্টে কঠিন সময় পার করেছেন এই সেদিনও, আজো অনেকেই আছেন। এসব আলামত ভালো না, কঠিন মরণের লক্ষণ। বাংলাদেশের প্রতিটি বিপর্যয়ের দায় আওয়ামী লীগের ঘাড়ে পড়ে এক বড় সময় থেকেই বড়মাপে। ঐসব বিপর্যয় থেকে মাত্র সামান্য কটি আনছি। জিয়া হত্যা, লেবানন ট্রেনিং, ৮৩এর ফেব্রুয়ারীর ছাত্র হত্যা, নিজ দলের সেলিম, জয়নাল, জাফর, দেলায়ার হত্যা, ৯০এর আন্দোলন আন্দোলন খেলা, ৮৬এর পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়া, ১৯৯২এর হিন্দু মুসলিম রায়ট নাটক, গোলাম আজমের সাথে বৈঠক, রুমালে গ্লিসারিন, খুন করে বেশী খাওয়ার নটনৃত্য, ট্রেনে গুলির মিথ্যে নাটক, দিগম্বর কাহিনী, জেনারেল নাসিমকে ক্ষমতা দখলের প্রস্তাব, পুলিশের লাশ চাওয়া ও মিলিটারির লাশ চাওয়া, ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের হিড়িক, অযৌক্তিক যুদ্ধ বিমান ক্রয়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হামলা মামলা, গঙ্গা ও পার্বত্য চুক্তি, প্রকাশ্য ময়দানে লোক দেখানো নামাজ পড়ার বদৌলতে হাসির নাটক, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারী এসব কিছুই কি আল্লাহতালা দেখেনি? মুসলিম প্রধান বাংলাদশের জনতারা ৯০% অন্তত মুসলিম নামধারী, তাদের ধারণা কি হয় যে, আল্লাহ বাস্তবিকই দৃষ্টিশক্তিহীন! প্রধানমন্ত্রী বলছেন আওয়ামী লীগ সরকার এতিমদের দায়িত্ব নিয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকার সারা দেশের বাবাদেরে মেরে তার বাচ্চাদের দায়িত্ব নিতে ব্যস্ত কেন? যুক্তিটি কি, এবারও হাসির নাটক? দেশবাসী তাদেরে ভোট দিবে না এ স্থির বিশ^াসে বছরের পর বছর ভোটের নাটক করে আওয়ামী লীগ। যেখানে বাবারাই বাঁচতে পারে না সেখানে এতিম মেঘেরা কিভাবে বাঁচবে এ সরকারের ডান্ডাবাজির সামনে?

কুরআন শরিফের ২৯ নাম্বার সুরার নাম “মাকড়সা আরবীতে “আনকাবুত”। রসিক আল্লাহ মানুষকে সচেতন করতে ক্ষুদ্র উদাহরণ দিতেও কুন্ঠিত নন। চারদিকে অবস্থা দৃষ্টে মনে বড়ই শংকা। তাই ঐ সুরাটি নিয়ে একটু টাচ করবো খুব সংক্ষেপে তোমরা কি মনে করো তোমাদের পরীক্ষা করা হবে না? পূর্বের সবাইকেই পরীক্ষা করা হয়েছে। যারা সংগ্রাম করছেএটি তার নিজের ভান্ডারে জমবে, আল্লাহ সবার উপরের দ্রষ্টা। আল্লাহর পরই পিতামাতার প্রতি সদয় হতে বলা হয়েছে। তবে শিরক করা পাপী পিতামাতার হকের বেলায় তোমার দায় কম। তুমি বাধ্য নও তাদের শিরকীয় অন্যায় আদেশ পালন করতে। যারা পাপের পথে লিডারদের অনুসরণ করেন, মনে করেন নেতা মনে হয় পাপের বোঝা শেয়ার করবেন, না এটি হবার নয় সেদিন শেষ বিচারের সময় নেতাদেরে ঘাড়ে পড়বে ডাবল বোঝা, একদিকে নিজের পাপের বোঝা অন্যদিকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার বাড়তি পাপের বোঝা বইতে হবে। ক্রমে ক্রমে নবীদের কথা আসে কিভাবে নূহ নবীর সময়  মহাপ্লাবন আসে, কারণ তারা অত্যাচারী জনতাদের কারণেই এটি ঘটে। তাদের অপরাধে নূহ (আঃ)এর অনুসারীরা মহাপ্লাবনের মুখোমুখি দাঁড়ায়। এর পরবর্তী নবীর অনুসারীরাও একইভাবে প্রতিমা পূজায় মগ্ন থেকে মিথ্যার উদ্ভাবক হয়। আল্লাহ এসব ঘটনা দিয়ে বার বার জনতাকে হুশিয়ার করেন যে একদিন তোমাদের আমার কাছেই ফিরতে হবে। বার বার সাবধান বাণীটি হচ্ছে আল্লাহ ছাড়া তোমাদের আর কোন অভিভাবক নেই।

নবী ইব্রাহিমের শাসক জনতারা নির্দেশ দিচ্ছিল তাকে কতল করতে বা তাকে পুড়িয়ে ফেলতে। আল্লাহ তাকে উদ্ধার করেন। সবই বিশ^াসীদের জন্য নিদর্শন। অপরাধীদের দুনিয়ার জীবন শেষ হলে বন্ধুত্বও শেষ হবে, তখন একে অপরের শত্রু হয়ে সেদিন উত্থিত হবে, একে অপরকে অভিশাপ দিবে, আবাস হবে আগুন। সেখানে সাহায্যকারীদের কেউ থাকবে না। নবী ইব্রাহিম (আঃ)কে বুড়ো বয়সেও অসীম রহমত দেয়া হয়, ইসহাক, ইয়াকুব, নবুয়ত, ধর্মগ্রন্থ দান করে তার পুরষ্কার দুনিয়াতেই তাকে প্রদান করেছিলাম, আর পরকালে তিনি আলবৎ হবেন সৎকর্মীদের অন্তভুক্ত। নবী ইব্রাহিমের ভাগ্না নবী লুতএর সময় মানুষ আবারো পাপের সাগরে ভাসে। পুরুষরা এমন সব পাপ করে যা এর আগে কোন জাতি করেনি। নবীদের সময় কালীনই ধ্বংস নামে, লুত নবী রক্ষা পেলেও অভিশপ্ত নারী লুত নবীর স্ত্রীসহ অপরাধীরা ধ্বংস থেকে বাঁচতে পারে নি। একজন নবীও তার স্ত্রীকে বাঁচাতে সক্ষম নন। এটি আর একটি জীবন্ত সত্য, যা পাপীর জন্য নির্ধারিত। অনেক সময় আমাদের সমাজে সাধু বাবারা মানুষকে প্রতারণা করে নানান মুশকিল আহসান করে দিবে বলে, কিন্তু কুরআন বলে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। কারণ সেদিন নবীর স্ত্রীও ছিলেন পাপের যোগানদাতা। অন্য নবী শোয়াইব (আঃ) তার জনগনকে বলেছেন, পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটিয়ে ঘুরাঘুরি করো না, শেষ দিনকে ভয় করতে বললেও তারা শুনেনি। নবীদের সুকথা তারা বিশ^াস করতো না, উল্টো তারা মনে করতো এসব মশকরা, তারা সবসময়ই নবীদেরে নিয়েও হাসি তামাশা করতো।  বলতো ঠিক আছে, তুমি যদি নবী হও বা সত্যবাদীদের মধ্যকার হও তবে আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি নিয়ে এস। অতঃপর দুষ্ট লোকেরা সবদিনই সবযুগে নবীদেরে প্রত্যাখ্যান করে ভিন্ন ধারাতে কাজ করে গেছে। আজো তার ব্যতিক্রম নয়।

নবীরা আল্লাহর সাহায্য চান, “আমার প্রভো! আমাকে ফেসাদ সৃষ্টিকারী লোকদের বিরুদ্ধে সাহায্য করো”। সেজন্য এক ভুমিকম্প তাদের পাকড়াও করলো। কাজেই অচিরেই তাদের বাড়ীঘর নিথরদেহী হয়ে গেল। এভাবে আদ, সামুদকেও ধ্বংস করা হয়। কারুন, ফিরআউন ও হামানকে আল্লাহ ধ্বংস করেন আর তাদের কাছে তো মুসা এসেই ছিলেন স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে। তাদের পাপের কারণে আমরা পাকড়াও করেছিলাম এক প্রচন্ড ঝড়। তারা দেশে অহংকার আস্ফালন করতো তাই তারা শাস্তি এড়িয়ে যাবার লোক ছিল না। এটি তাদের উপর অবধারিত ছিল। তাদের মাঝে কেউ রয়েছে যাকে পাকড়াও করলো মহাগর্জন আর তাদের মধ্যে কেউ রয়েছে যাকে আমরা পৃথিবীকে দিয়ে গ্রাস করিয়েছিলাম আর কাউকে আমরা ডুবিয়ে মেরেছিলাম। আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করার পাত্র নন। কিন্তু তারা তাদের নিজেদের প্রতি অন্যায়াচরণ করে চলেছিল, তাদের উপমা হচ্ছে মাকড়সার দৃষ্টান্তের মত। তারা নানান ষড়যন্ত্রে নকশা কেটে ঘর বানায় অথচ নিঃসন্দেহ সবচেয়ে ঠুনকো বাসা হচ্ছে মাকড়সারই বাসা, যদি তারা জানতো। আর বিজ্ঞজন ব্যতীত অন্য কেউ এসব বুঝতে পারে না। মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন সত্যের সাথে। নিঃসন্দেহ এতে এক নিদর্শন রয়েছে মুমিনদের জন্য।

উপরের ঘটনা শুধু ঐ যুগের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। সব যুগেই এটি হয়েছে হচ্ছে এবং হবে। কিয়ামত পূর্ব সব যুগের অপরাধীরাই এভাবে আক্রান্ত হবে। সব সময়ই দেখা যায় মানুষ অন্ধ বিশ^াসের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নবীদেরে বলে, আমরা বিশ^াস করবো আমাদের অলৌকিক কিছু দেখাও। নবীরা মানুষকে ম্যাজিক দেখাতে আসেন নাই। সব যুগেই তাদের হাতের কিতাব গাইড বুকই শ্রেষ্ঠ মুজেজা বা ম্যাজিক, তার অনুসারীদের জন্য। আজকের বিশ^ বাসীর সামনের ম্যাজিক কিতাব হচ্ছে কুরআন। এটি শুধু মুসলিমদের জন্য আসে নাই, এটি সারা বিশ^বাসীর উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। “আমি তো তোমাকে সমগ্র মানব জাতির প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরুপে প্রেরণ করেছি কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না” (সুরা সাবা ২৮ আয়াত)। এ হিসাবে এ গ্রন্থের বাণী শুধু মুসলিমের পথ নির্দেশ হয়ে আসেনি, এসেছে গোটা বিশ^কে পথ দেখাবে বলে। এটি গোটাবিশে^র সম্পদ, রোজনামচা ও পথনির্দেশিকা।

 

নাজমা মোস্তফা,  ৪ জানুয়ারী ২০১৫ সাল।

সৌদি গ্যাজেটে প্রকাশিত “মিসরাহ” অরফে “মুতাহ” বিবাহ

সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া সৌদি গ্যাজেটে ২৯ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে একটি বিষয় উঠে আসে যা মুসলিম জীবনের সাথে জড়িত। রিয়াদ থেকে প্রচারিত সৌদি গ্যাজেটের লেখাটির শিরোনাম ছিল “আনএ্যাবল টু এফর্ড ম্যারেজ এক্সপেন্সেস, ইয়ং ম্যান গো ফর মিসইয়ার” লেখাটির শিরোনামই ঘটনার বিষয় স্পষ্ট করছে। “মিসইয়ার” এক ধারার বিবাহ ব্যবস্থা যা অনেক সময় অতীতে সৌদিরা তাদের ইসলামপূর্ব সময়ে ব্যবহার করেছে। শোনা যায় আজো কোন কোন জায়গায় সৌদি ও ইরানীরা তা ফলো করছে। এবার কথা হচ্ছে বাস্তব জটিল অর্থনীতি, সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থানে এটি কতটুকু সমর্থণীয়, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মক্কা দৈনিকের বরাতে দেখা যাচ্ছে অনেক পুরুষ এতে উৎসাহী হচ্ছেন। পারিবারিক পরামর্শদাতা নাসার আল তুবাইতি এর কারণ হিসাবে ব্যাখ্যা করছেন, যুবকেরা চলমান বিবাহ ব্যয় বহনে অক্ষম এবং মেয়েদের অতিরিক্ত দাবী দাওয়ার প্রেক্ষিতে এ গ্যাপ পূরণ করতে ঐ বিকল্প চিন্তার দরকার পড়েছে। অতীতে আমরা খুব কম হলেও নামটি শুনেছি “মুতাহ” বিয়ে নামে এক অস্থায়ী বিয়ের কথা। এখানের এ দুটি বিয়ে ব্যবস্থা একই ধারার। এতে দায় দায়িত্বের বালাই নেই, এক ধরণের কন্ট্রেক্ট ম্যারেজের মত, এটি একটি শর্তবদ্ধ সাময়িক খন্ডকালীন বিয়ে।

মুসলিমদের নৈতিকতার দরজায় টোকা পড়েছে বলেই এতে অনেক সচেতন ধর্মধারীর নজর কাড়ছে, আমিও তার ব্যতিক্রম নই। রাজতন্ত্রের আদলে গদি জোড়া সৌদির অনেক কাজই বিতর্কীত, এসব ইসলাম নয়। তারা প্রথমেই যে রাজতন্ত্রের ধারণা বহাল রেখেছে এসব ইসলামের বৈরী কাজ। আর সেটি চলছে বহু বড় সময় কাল থেকে। এটি একটি বড় ইশারা হতে পারে আদমকে শয়তান বিভ্রান্ত করবে বলে কুরআন নামের ঐশীগ্রন্থে যে ইশারা রয়েছে এর ফলশ্রুতিতে আমরা এভাবে শুরুর সময় থেকেই আক্রান্ত হচ্ছি। ইসলামে এ ধারার বিয়ের কোন বর্ণনা বাস্তবতা পেতে পারে না। কারণ এরকম ধারনাই কুরআন বিরোধী। মেয়েরা শুধুই কি বাচ্চা পালনের জন্য বা গৃহকর্মের জন্য, তা কিন্তু নয়,  বরং চলমান জীবনে একজন সঙ্গি বা সঙ্গিনী সব ব্যাপারে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবে। নবী জীবনের ২৫ থেকে ৫৫ অবধি জীবনের একমাত্র সঙ্গিনী ছিলেন বিবি খাদিজা, তিনি কি করেছিলেন? তাকে কি গৃহকোণে বন্দী করে রাখা হয়েছিল?  তিনি তো একজন স্বনামে খ্যাত ব্যবসায়ী মহিলা ছিলেন যিনি “তাহিরা” উপাধিপ্রাপ্তা। সৌদিতে মহিলাকে ড্রাইভ পর্যন্ত করতে দেয়া হতো না বলেই আমরা জানি। যে আল্লাহর প্রথম নির্দেশ ছিল জ্ঞানঅর্জনের। ধারণা মতে তাদের আজ জ্ঞানবিজ্ঞাানের চূঁড়ামনিতে পৌছার কথা কিন্তু তারা আজও জ্ঞান অর্জনের বিরোধী মনোভাবে উজ্জ্বল। অনেক সময় মদ নারীতে অতিরিক্ত আসক্ত। বিবাহ সম্বন্ধে ইসলামের মূল নির্দেশ হচ্ছে এক বিয়ের পক্ষে, ভাষ্যমতে এর উপর শক্ত নির্দেশই টিকে। যা আমাদের বাংলাদেশীরা অনেক বেশী বহাল রাখতে পেরেছে শক্ত হাতে। কিন্তু চলমান সৌদি বাদশাহরা কি করছে? ডজন ডজন বিয়ে করে শত সন্তানের পিতৃত্বের দাবী করে। এ সব কি ইসলাম? এসব হচ্ছে জাহিলিয়াতি আচার। এসব নির্মূল করতেই নবী এ ধরাতে এসেছিলেন। উচিত ছিল এর উপর পরবর্তীদের বাস্তব কাজ করা। ধর্ম ও ইতিহাস বলে অতীতে যারা সোচ্চার হয়েছেন তাদেরে কৌশলে তথাকথিত রাজনেতারা খুন করে ময়দান থেকে সরিয়ে দেয়। আল্লাহর সামাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে দেয়নি। এসব ইবলিস করবেই, এটি আমাদের জানা, ইবলিস আমাদের ঘরে সদর দরজা দিয়েই আমাদের সাথেই ঢোকে, বের হয়, যার জন্য আমরা ধরতে পারি না। আল্লাহ বারে বারে কুরআনে বলেছেন এ হচ্ছে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। তার মানে তুমি চাইলে তাকে ধরতে পারবে, সে কোন লুক্কায়িত শত্রু নয়, সে আড়ালে নেই।

অতীত ইতিহাস বলে মুতাহ বিবাহের নামে এক জাহিলিয়াতি অনাচার ইসলামপূর্ব যুগে প্রচলিত ছিল। কালে অনেকে ঐ অনাচারকে টেনে এনে ইসলামের পবিত্র অঙ্গণে ঢুকিয়ে দেয়ার প্রয়াস করেছেন, করছেন। বস্তুত তা কুরআন বিরুদ্ধ অনাচার। সুরা নিসার ১৩৬ আয়াতে বলা হয়েছে “ওহে যারা ঈমান এনেছ, বিশ^াস স্থাপন করো আল্লাহতে, তার রসুলে ও তার কিতাবে”। বস্তুত ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটও ভিন্ন ছিল; দাসপ্রথা, যুদ্ধবিগ্রহ ও বন্দী নারী পুরুষের বাড়তি সমস্যা ঐ সমাজে প্রচলিত ও বহাল ছিল। এমতাবস্তায় বলা হয়েছে ন্যায়পরায়নতার স্বার্থে ঐ সব এতিম মেয়েকে বিয়ে করা যাবে। তবে একজনকেই কারণ এটি নিশ্চিত একের উর্দ্ধে সমতা বিঘিœত হবেই। আল্লাহর বাণীতে এটিও সুস্পষ্ট যে একজনকেই বিয়ে করবে। এটিই বেশী সঙ্গত (৪:৩)।  এর পর পরই বলা হয়েছে তাদের প্রাপ্য মহরানা আদায় করতে হবে নিঃস্বার্থভাবে। পুরুষকে দেবার মানসিকতায় বিয়ে করতে হবে তবে যদি সঙ্গত কারণে প্রতিপক্ষ কোন ছাড় দেয় স্বেচ্ছাকৃতভাবে, সেটিও সমর্থণীয়। অনেকে জবরদস্তি করে মেয়েদের থেকে মাফ করিয়ে নিতে চান এটি অধর্মাচার, অকুরআনীয় বিচার (৪:৪)। মোটকথা উভয়ের সমঝোতাতে যে কোন ফয়সালা হতে পারে, তবে জবরদস্তি করে কোন কিছু কুরআন সমর্থণ করে না। সব সময় সাক্ষী রেখো, তারপরও সব হিসাব রক্ষণে আল্লাহই সুবিচারক (৪:৬)। কারো সম্পত্তি জবরদস্তি করে ব্যবহার করা যাবে না, সবার প্রতি সদয় ব্যবহার করতে হবে (৪:১৯)। যদি দেখা যায় স্বাধীনা নারী বিয়ে ব্যয়সাধ্য তাহলে এমতাবস্থাতে বিশ^াসিনী দাসীকে বা বন্দিনীদের থেকে স্ত্রীরুপে গ্রহণ করারও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে কঠিন কথাটি হচ্ছে কখনোই তাকে মোহরানা ছাড়া বিয়ে করা সমর্থণীয় নয়, এবং ব্যভিচারের জন্যও এটি সমর্থনীয় নয় (৪:২৪)। কম হোক বেশী হোক যার যার সাধ্যমত সেটি নির্ধারিত হবে। ছেলে পক্ষের উপরও অযথা বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেয়ার কোন যুক্তি ইসলাম বা কুরআন সম্মত নয়। ইসলাম একটি জীবন বিধান কারো উপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেয়া এর বিধান নয়। এসব প্রেক্ষাপটে বরং দেখা যাচ্ছে মেয়েরা বাড়তি দায়ভার চাপাচ্ছে পুরুষের উপর, তা মোটেও সমর্থণীয় নয়।

তারপরও বিধান দেয়া হয়েছে যার আর্থিক সঙ্গতি নেই, তার জন্যই বিশশসিনী কুমারীদের যারা ডান হাতে ধরা রয়েছে, এখানেও আল্লাহর সেই একই কথা মোহরানা দিবে, ব্যভিচারের জন্য এসব নয়, রক্ষিতারুপেও তা সমর্থণীয় নয়। এটি শুধু তার জন্য যে মনে করে যে সে পাপে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা। আর যদি কেউ ধৈর্য্যধারণ করে, তবে সেটিই বেশী ভাল তার মানে সে ধৈর্য্য ধারণ করতে পারলে তার পুরষ্কার উত্তম হবে। সে ভালটারই অনুসরণ করবে। আল্লাহই ত্রাণকর্তা ও অসীম কৃপানিধান (৪:২৫)। বস্তুত এ আয়াতে বুঝা যায় যারা সত্যিকারের ধৈর্য্যশীল তাদের জন্য ত্রানকর্তা স্বয়ং আল্লাহ, সফলতা তাদের শক্ত পাওনা হয়ে থাকবেই। সৌদি গ্যাজেটের লেখাটিতে দেখা যায় বহুবিবাহ কমে আসছে, এটি লক্ষণ ভালো। তার মানে ধীরে হলেও মানুষ প্রকৃত সত্যে আত্মসমর্পণ করছে। ডিভোর্স বাড়ছে এর কারণ বহুবিধ, সারা বিশে^ই এর উর্ধ্বগতি। মিসরাহ বিয়ে বা মুতাহ বিবাহের নামে ফতোয়াবাজদের এসব ফতোয়া দেখে ভয় লাগে মনে, এরা যে কুরআনকে কম অনুসরণ করছেন, এসব তার প্রমাণ। কুরআনেই শ্রেষ্ঠ ফতোয়া বিলি করা হয়েছে, আল্লাহ স্বয়ং ফতোয়াবাজ হয়ে এর মালিকানাতে প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহকে পাশ কাটিয়ে যে বা যারা ফতোয়ার নামে এসব অনাচারকে লালন করছেন তারা প্রকারান্তরে অপকর্মের লালন করছেন। আল্লাহ দ্ব্যর্থহীন ভাষাতে বলেন, তিনি কখনোই বিফল করবেন না কর্মীদের কোন কাজ, তারা পুরুষ হোক বা নারী (৩:১৯৪)। উভয়ের মর্যাদা অভিন্ন আল্লাহর কাছে। আল্লাহর নির্দেশকে ডিঙ্গিয়ে উপরোক্ত ধারণার বিয়ে কখনোই কুরআন সমর্থন করে না। অতীতে ‘মোতাহ’ বিয়ের নামে এক জাহেলিয়াতি অনাচার সমাজে প্রচলিত ছিল। আমরাও শুনেছি বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে নাকি কাজের মৌসুমে মানুষ অস্থায়ী বিয়ে করতো। যদি এসব সত্য হয়, তবে এসব ইবলিসীয় কাজ কুরআনের মাপকাঠিতে টিকে না। ফতোয়ার নামে আজকাল অনেক অনাচারই করা হচ্ছে এসব নেতিবাচক প্রচার থেকে সত্য নির্ভর আল্লাহর বিধানকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। প্রতিটি মুসলিমকে মুমিন হতে হবে। কুরআনের হিসাবে সমাজে সভ্যতাতে এমন কি মুসলিমদের মধ্যেও তিন ধারার মানুষ হবেন এক মুমিন, মোনাফিক, মুশরিক।  মুমিন ছাড়া বাকী দু’দলই নিকৃষ্ট প্রজাতির মানুষ। সত্য ধর্মের ও সত্য গ্রন্থের লালন ও প্রসারই সঠিক পথ নির্দেশিকা। বস্তুত সৌদিকে নয়, রসুলের মারফতে আসা গ্রন্থ কুরআনকে আল্লাহর বানী জেনেই ইসমে আজমের মত কঠিন সত্য নির্ভর যুক্তি বলেই ফলো করতে হবে। এটি এমন একটি ঐশী গ্রন্থ যা এখানের তিন একসূত্রে গেঁথেছে যা এ গাঁথুনির শক্ত ভিত্তি। এর সাথে যার বিরোধ হবে সত্যের সাথে মিথ্যার কোন ফয়সালা হবে না।

উপসংহারে বলতে বাধ্য হচ্ছি কি কারণে আজ চৌদ্দশত বছর পরও জাহেলিয়াতি আচার আমাদের পরিসরে হালকাভাবে হলেও এসে ভিড়েছে। মুতাহ বিবাহ কুরআন বিরোধী একটি অনাচারী ধারা যা ছিল ইসলামপূর্ব সমাজের আচার মাত্র। কিভাবে আজ আলোকিত গ্রন্থ প্রাপ্তির চৌদ্দশত বছর পরও আমরা ঐ পুরাতনকে নষ্টকে খুঁজে পাচ্ছি। কিয়ামতের আগে মানুষ ঐ পূর্বেকার জাহিলিয়াতি যুগের দিকে ফিরে যাবে, এমন ধারার কথা সমানেই আলোচনায় আসে। বর্তমান চলমান সমাজে এমন অনেক অনাচারকে বিজয় মালা পরানো হচ্ছে। যেমন: সমকামিতা, বিবাহ বহির্ভুত জীবন যাপন ব্যবস্থা, এটি প্রতিটি মুসলিমকে জানতে হবে মানতে হবে এসব ইসলাম নয়। এসব কুরআন নামের বস্তুনিষ্ট সিলেবাসের বাইরের অনাচারী ব্যবস্থা। বস্তুত কিভাবে কুরআন বিরুদ্ধ আচরণ এসে আমাদের পবিত্র অঙ্গণে এসে জায়গা করে নিয়েছে, এসব তার বাস্তব উদাহরণ মাত্র। এর প্রধাণ কারণ আমাদের গাফিলতি, ধর্মহীন, প্রকৃত কুরআনজ্ঞানহীন, গবেষনাহীন ধ্যাণধারণা এসবের জন্য দায়ী। গ্রন্থটি বস্তনিতে বেধে উপরের তাকিয়ায় নাগালের বাইরে রেখে দেবার জন্য আসে নাই, বরং এসেছে একে বোঝার জন্য, মানার জন্য, পালন করার জন্য। অনেকে মনে করেন তেলাওয়াত করলেই সকল দায় শেষ। মোটেও নয়, তেলাওয়াতে দায় মাত্র শুরু হয়, শেষ হয় পালনে। আল্লাহ আমাদের সহজ সরল ধর্মটি বোঝার তওফিক দান করুন। আল্লাহ জানেন আমরা পরবর্তীতেও যে এসব অনাচার করবো। তাই আল্লাহর সাবধানবাণীটি স্মরণ করা ছাড়া আর দ্বিতীয় পথ সামনে খোলা নেই। আল্লাহ বলেন, “হে গ্রন্থধারীগণ!  কেন তোমরা সত্যকে মিথ্যার পোষাক পরিয়ে দিচ্ছ, আর তোমরা জেনেশুনে সত্যকে লুকাচ্ছ”? (সুরা আল ইমরানের ৭০ আয়াত)। আল্লাহ আমাদের সত্যকে ধারণ করার তওফিক দান করুন।

 

নাজমা মোস্তফা,   ১৩ নভেম্বর ২০১৫ সাল।

 

সেক্যুলার প্রীতিতে বাংগালি মুসলিমের ধর্মহীনতা

বাংলাদেশে বাংলা ভাষার উপর সাম্প্রতিক ভিন্নরকম এক হামলা চলছে । টিভি খুললেই দেখি নানান উল্টাসিধা ধারা। রাজনৈতিক বিতর্কীত অবস্থানে ইদানিং আর বাংলা চ্যানেল দেখাই হয় না, সেটিও তাদের সংকীর্ণ প্রচারে দেখাটি সময়ের অপচয় বলেই মনে হয়, তাই আর দেখা হয় না। “নয়াদিগন্তে” ৪ঠা অক্টোবরের উপসম্পাদকীয় কলামে ছাপা হওয়া জি মুনিরের লেখাটি মনে দাগ কাটলো, লেখাটির নাম ছিল “বাংলা ভাষা নিয়ে এ কোন তৎপরতা”। সমমাপের চিন্তায় আক্রান্ত একজন সুহৃদকে লেখাটি পাঠাই। তিনি লেখাটি পড়ে ফেরত কল করেন ও এর উপর মন্তব্যও করেন। এসব সাম্প্রতিক জটিলতা যে বেশ পুরোনো শিকড়ে বাধা, সেটি খোলাসার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। ভেবেছিলাম অন্য কাজ করবো। তার কথাটির পরই কম্পিউটার নিয়ে বসি। সংক্ষেপে বলছি শুরুটা লেখক জি মুনির তার স্বদেশীয় ও স্বগোত্রীয় এক গুণিজনের কাছে যোগাযোগের মাধ্যমে পৌছতে ব্যর্থ হন একবার নয়, বরং বার বার বহুবার। এর কারণ একটি বাক্যের উপলব্ধির সীমাবদ্ধতায় এ অঘটন ঘটে, গ্রহীতার ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্ঠায়। অতঃপর অন্য একজন পথ বাতলে দেন, কারণ উনার জানা ছিল এ জটিল রোগের গোটামোটা কারণ। গ্রহিতার টেলিফোন মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য অসুস্থতার কারণ তার ভালই জানা ছিল। আমি এটিকে অসুস্থতাই বললাম। এরকম কিছু জটিল আচরণের শিকার হয়ে একবার আমার এক নানা বললেন লোকটি শিক্ষিত বটে, তবে তার মানসিক বৃদ্ধি হয়নি, মানে তিনি মানসিক অসুস্থ ব্যক্তি। বিতর্কীত অবস্থানে উপরোক্ত পরিচিতি আমার আর আমার কর্তার খুব পছন্দ হয়। তাই প্রায়ই কথা উঠলে এরকম অবস্থানে আমরা দুজনাই এটি কোট করি। বাস্তবে মানুষের বৃদ্ধির নানান রকমফের আছে, শারীরিক বৃদ্ধির সাথে অনেক সময় মানসিক বৃদ্ধি ঠিকমত হয় না, আবার অনেক সময় দুটোরই সংকট দেখা দেয়। এদেরে মানসিক প্রতিবন্দীও ধরা হয়। এবার কাজের কথায় আসি।

“আস-সালামু আলাইকুম”কে অনেক সেকুলার ধারার মানুষ মনে করেন এটি মুসলমানি ঢং, একে ছাড়তেই হবে নয়তো আর বাংগালী হওয়া যাবে না। “স্লামালাইকুম” আমাদের মন মানসিকতার সাথে অতোপ্রেতোভাবে জড়িত। আমরা এটি ব্যতিরেকে অন্য মুসলিমের সাথে কথা বললে 484792_376318135808082_1715004718_nঅপমানকর বলেই মনে হয়। মনে হয় আপনি প্রতিপক্ষকে অবজ্ঞা করলেন। “আস-সালামু আলাইকুম” এটি কি শুধুই একটি কথার কথা? কেউ মনে করেন আরবী বই কেন পড়তে হবে? তার উপর টিটকারী দিয়ে অনেকে বলেন এসব উল্টোবই মুখস্ত করতে হবে কেন?। উল্টোবই বলার অর্থ হচ্ছে এটি ডান দিক থেকে পড়তে হয়, লিখতে হয়। আমরা বাংলা ইংরেজী বাম দিক থেকে ডান দিকে লিখি বা পড়ি। রাজনৈতিক আচরণের সুবিধার্থে আজকাল টুপি দাড়ি, আরবী বই, এসবকে এক নির্দিষ্ট চিহ্নের মাঝে বেধে দেয়া হচ্ছে। আরবী বই অর্থে কুরআন সে লিস্টের শিরোভাগে অবস্থান করে। এমন একটি গ্রন্থ যার তুলনা পৃথিবীতে আর দুটি নেই। এটি কোন মানবিক রচনা নয়। এটি স্বর্গীয় রচনা যদিও মানবিক পরিশ্রমে পাবলিশ হয়েছে প্রেস থেকে। এর প্রতিটি বাণী অক্ষর সাজানো গোছানো সবকিছুতেই ঐশ^রিকতার ছোঁয়া লাগানো। এর প্রকৃত বাহক (ফেরেশতা জিবরাইল) অদেখা এক সত্ত্বা যাকে মানবিক চোখে দেখা যায় না। তার উপস্থিতি টের পেতেন নবী মোহাম্মদ (সঃ), ধারণা হয় তার প্রিয়তমা স্ত্রী বিবি খাদিজা কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেও তিনি কিছুই দেখতেন না বা টের পেতেন না। নবীর আচরণে কিছু শারীরিক পরিবর্তন আসতো, শরীর কাঁপতো, শীত শীত অনুভূত হতো, যার জন্য তিনি এমন অবস্থায় তার শরীর ঢেকে দিতেও বলতেন। তাই রসিক আল্লাহ তাকে “কমলিওয়ালা” বলেও সম্মোধন করেছে। আজকের দিনে এ বইটি অনেকের চোখে শূল হয়ে বিঁধছে। অনেকে প্রচার করছেন এসব জঙ্গিদের বই। এসব পবিত্র গ্রন্থে সেক্যুলাররা অনেক সময় আগুন দিচ্ছেন পুড়াচ্ছেন, ভয়ও পাচ্ছেন না। তারা মনে করছেন, এসবই মিথ্যে জঙ্গিদের খেলা। টুপি দাড়িওয়ালা অনেক সহজ সরল মানুষ ধর্মটির সব জটিলতা কুটিলতা না বুঝলেও, তারা সৎ উদ্দেশ্যেই এসব ধারণ করে ও চলে। কিন্তু সেক্যুলার নামধারী সমাজ তাদেরে ভিণœ ধারাতে চিহ্নিত করে চলেছে। এটি এক বিরাট সংকট তৈরী করছে বাংলাদেশের সংখ্যা গরিষ্ট মুসলিমদের জীবনে।

অনেক সময়ই বিদেশের ইসলামিক স্কুলে বাচ্চাদেরকে এর মাহাত্ম্য শিক্ষককে বোঝাতে হয়। সহজভাবে একটি বাচ্চাকে প্রশ্ন করলেই সে বলে বসে এর অর্থ হচ্ছে “হাই” মানে “হ্যালো”। আসলে কি তাই? না, মোটেও তা না। জি মুনিরের উপরোক্ত ঘটনার গ্রহিতাও যে অনভিজ্ঞ অসচেতন শিশুদের মতনই একই উত্তর দিবেন, তাতে কোন সন্দেহ নেই। বাংলাদেশে টিভির বাংলা অনুষ্ঠানে অনেককে ইদানিং বলতে শুনি, “শুভ সকাল”,“শুভ বিকাল” বা “শুভ রাত”। এর অর্থ কি? সকালটি বিকালটি রাতটি শুভ হোক, এইতো? এর বেশী কিছুই নয়। আর মুসলমানের “আস সালামু আলাইকুম” অনেক বেশী ব্যাপক ও অর্থবহ। এর অর্থ হচ্ছে “আল্লাহ তোমাকে শান্তি দান করুন” একজন শিক্ষক যখন তার ছাত্রদের এটি বলেন, তখন তার ছাত্ররাও সাথে সাথে বলে উঠে “ওয়ালাইকুম আস সালাম”। সুজনের কাছ থেকে এরকম একটি দোয়া প্রাপ্তির পর তারাও বসে থাকে না, প্রতি উত্তরে তারা বলে “আল্লাহ আপনাকেও শান্তি দান করুন ”। সারা বিশ^ জুড়ে যখনই একজন মুসলিম আর একজনকে এ দোয়া করে ঠিক তখনই প্রতিপক্ষও তাকে পাল্টা দোয়াতে আপলুত করে দেয়। এর সাথে কি শুভ সকাল শুভ বিকালের তুলনা চলে? মনে হয় চলে না। এ ধর্মের প্রতিটি জিনিসই অর্থবহ, সাবলীল ও সুন্দর। এটাকে বলা হয় “সালাম” অর্থ হচ্ছে শান্তি। এটি হচ্ছে শান্তির দোয়া। এক মুসলমান আর এক মুসলমানকে দেখলেই একে অন্যের জন্য দোয়া করে। এই পৃথিবীতে এরকম ব্যবস্থা আর কোন ধর্মধারীদের মাঝে এভাবে প্রচলিত নেই। সবারই এক একটি শব্দ জমা আছে কিন্তু এসবের তুলনা এ শব্দ সমষ্টির সাথে তুলনীয় নয়। তারপর সংকীর্ণতার অজ্ঞতার খেসারত হিসাবে সংকীর্ণ চিন্তা থেকে অনেকে অনেক কথাই বলেন। এসব করলেই কি তিনি মহান ও মহৎ হয়ে যান? না, এতে প্রমাণিত হয়, তিনি ঐ সুন্দরকে ধারণ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ বলেই, বিশালকে তিনি এমন সংকীর্ণ গন্ডিতে জমা রাখেন। সাগরকে তিনি জলাশয়ে জমা রাখতে চান।

আমরা ছোটকালে শুনতাম আমাদের দাদারা বলতেন বর্তন(প্লেট), আনানাস (আনারস), তসতরি(পিরিচ), আমরা অনেকেই মনে করতাম আমদের দাদারা একদম গেঁয়ো। আসলে কি তাই? না, তারা প্রকৃতই খানদানী শব্দ ব্যবহার করতেন। যা আরবী ফারসি উর্দু ইংরেজী এরকম অনেক অনেক ভাষা থেকে সংগৃহীত আহরিত ও ব্যবহৃত ছিল যার প্রেক্ষিতে এক নতুন ভাষা স্থিতিলাভ করে, যার নাম বাংলা। “অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী” বলে একটি কথা আছে। আমাদের সেক্যুলাররা অনেক সময় ঐ অল্প বিদ্যার রুটিন ওয়ার্ক করছেন বলেই মনে হয়। আমি যা ধারণ করি তাই আমার ধর্ম। আমার প্রথম ধর্মশিM_Id_376239_Internationalক্ষক আমার মা। যেদিন ধর্মের কিছুই জানিনে সেদিন থেকে ধর্মকে চিনিয়েছেন। একটি ভাত যখন প্লেট থেকে পড়ে গেছে তখনই শিখিয়েছেন এ অনাচার আল্লাহ সইবেন না। তখনই প্রশ্ন উঠে এসেছে তিনি কে? কোথায় থাকেন? মনের সঙ্গোপনে আজো সে সব মনে গেঁথে আছে। সচেতনভাবে ধর্ম শিখতে নামি এর অনেক পরে। মুসলিম নন এমন বাংগালীদের এসব প্রশ্ন মনে হবার অবকাশ কম। কারণ মূর্তিপূজক হলে সাক্ষাৎ দেবতা থাকলে নিরাকারের প্রশ্ন আসার কোন জায়গা খালি থাকে না। তাই আমার মন মানসিকতা আর আমার হিন্দু বান্ধবীটির মন মাসনিকতা কোনদিনও এক হবে না। আমরা পাশাপাশি থাকলেও দুই জন হবো দুই ভুবনের বাসিন্দা। আমার মুসলিম সেক্যুলার বান্ধবীরা কেমন হবেন আমি জানি না। তবে তারাও হয়তো বাড়তি কিছু উপলব্ধির জটিলতাতে কম বেশী ভোগবেন। এসব জটিলতার শুরু আজ নতুন নয়। সেক্যুলার হচ্ছে না এপার না ওপার, যেন দু নৌকায় পা দেয়ার ফায়দা লুন্ঠনকারী। কালের অবগাহনে সংকীর্ণ স্বার্থে সমাজে এরা জায়গা করেছে।

পশ্চিমারা কেন ইসলামকে ভয় করে !! উত্তর দিচ্ছেন ডঃ জাকির নায়েক

 

কবি নজরূল ইসলাম ছিলেন বিশাল হৃদয়ের একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ আমরা সবাই জানি। তারপরও তাকে সেক্যুলার বলুন আর সাম্প্রদায়িক মুসলিম বলুন তাকেও এ পথ মাড়াতে হয়েছে। সে লড়াই তাকে করতে হয়েছে সাধারণের সাথে তো বটেই, এমনকি খোদ তার গুরুকবির সাথেও। তার লেখা থেকেই উদ্ধৃত করছি, “কবিগুরু আমায়ও বাণ নিক্ষেপ করতে ছাড়েন নি। তিনি বলেছেন, আমি কথায় কথায় রক্তকে ‘খুন’ বলে অপরাধ করেছি। কবির চরণে ভক্তের সশ্রদ্ধ নিবেদন, কবি তো নিজেও টুপি পায়জামা পরেন, অথচ, আমরা পরলেই তার এত আক্রোশের কারণ হই কেন, বুঝতে পারিনে। এই আরবি ফার্সি শব্দ প্রয়োগ কবিতায় শুধু আমিই করিনি। আমার বহু আগে ভারতচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ প্রভৃতি করে গেছেন। আমি একটি জিনিস কিছুদিন থেকে লক্ষ্য করে আসছি। সম্ভ্রান্ত হিন্দু বংশের অনেকেই পায়জামা-শেরওয়ানি-টুপি ব্যবহার করেন, এমন কি লুঙ্গিও বাদ যায় না। তাতে তাদের কেউ বিদ্রুপ করে না। তাদের ড্রেসের নাম হয়ে যায় তখন ‘ওরিয়েন্টাল’ কিন্ত ওগুলোই মুসলমানেরা পরলে তারা হয়ে যায় “মিয়া সাহেব”। মৌলানা সাহেব আর নারদ মুনির দাড়ির প্রতিযোগিতা হলে কে যে হারবেন বলা মুশকিল। তবু ওনিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপের আর অন্ত নেই। আমি তো টুপি –পায়জামা-শেরওয়ানি-দাড়িকে বর্জন করে চলেছি শুধু ঐ “মিয়া সাহেব” বিদ্রুপের ভয়েই, তবুও নিস্তার নেই। এইবার থেকে আদালতকে না হয় বিচারালয় বলবো, কিন্তু নাজির-পেশকার-উকিল-মোক্তরকে কি বলবো? কবিগুরুর চিরন্তনের দোহাই নিতান্ত অচল। তিনি ইটালিকে উদ্দেশ্য করে এক কবিতা লিখেছেন। তাতে – “উতারো ঘোমটা” তাকেও ব্যবহার করতে দেখেছি। “ঘোমটা খোলা” শোনাই আমাদের চিরন্তন অভ্যাস। “উতারো ঘোমটা” আমি লিখলে হয়তো সাহিত্যিকদের কাছে অপরাধীই হতাম। কিন্ত “উতারো” কথাটা যে জাতেরই হোক ওতে এক অপূর্ব সঙ্গীত ও শ্রীর উদ্বোধন হয়েছে ওজায়গাটায়, তা তো কেউ অস্বীকার করবে না। ঐ একটু ভালো শোনাবার লোভেই ঐ একটি ভিনদেশী কথার প্রয়োগে অপূর্ব রুপ ও গতি দেওয়ার আনন্দেই আমিও আরবি ফারসি শব্দ ব্যবহার করি। কবিগুরুও কতদিন আলাপ আলোচনায় এর সার্থকতার প্রশংসা করেছেন। আজ আমাদেরও মনে হচ্ছে আজকের রবীন্দ্রনাথ আমাদের সেই চিরচেনা রবীন্দ্রনাথ নন। তার পিছনের বৈয়াকরণ পন্ডিত এসব বলাচ্ছে তাকে। “খুন” আমি ব্যবহার করি আমার কবিতায় , মুসলমানি বা বলশেভিকি রং দেওয়ার জন্য নয়। হয়তো কবি ওদুটোর একটাও রং আজকাল পছন্দ করছেন না, তাই এত আক্ষেপ তার। আমি শুধু “খুন” নয়, বাংলায় চলতি আরো অনেক আরবি ফার্র্সি শব্দ ব্যবহার করেছি  আমার লেখায়। আমার দিক থেকে ওর একটা জবাবদিহি আছে। আমি মনে করি, বিশ^কাব্যলক্ষির একটা মুসলমানি ঢং আছে। ও সাজে তার শ্রীর হানি হয়েছে বলেও আমার জানা নেই। স্বর্গীয় অজিত চক্রবর্তীও ও ঢং এর ভূয়শী প্রশংসা করে গেছেন। বাঙলা কাব্য লক্ষীকে দুটো ইরানী জেওর পরালে তার জাত যায় না, বরং তাকে আরও খুবসুরতই দেখায়। আজকের কলা লক্ষীর প্রায় অর্ধেক অলঙকারই তো মুসলমানী ঢংএর, বাইরের এ ফর্মের প্রয়োজন ও সৌকুমার্য সকল শিল্পীই স্বীকার করেন। পন্ডিত মালবিয়া স্বীকার করতে না পারেন, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ স্বীকার করবেন।” (শ্রেষ্ঠ নজরুল, বড়র পিরীতি বালির বাঁধ, ৪৭৫-৪৭৬পৃষ্ঠা) উপরের এ প্যারাটি আমি কবির সাহিত্য গ্রন্থ থেকেই টুকে নিলাম।

ভাষার প্রশ্নে মাতৃভাষার মূল্যায়নে বাংলাদেশ উর্দুর সাথে লড়াই করেছে। কিন্ত কি হলো আধৃুনিক বাঙ্গলাদেশীদের? সেক্যুলারিটির কবজাতে পড়ে হিন্দির আগ্রাসনে আজ বাঙ্গাHefazat_1লীর মৃত্যুদশা। এ অপকালচারে ডুবতে বেসেছে বাংলাদেশের অস্তিত্ব। এর প্রতিবাদ দেশের সর্বত্রই হচ্ছে, দেশের অনেকেই করেন। আমরা টের পাই কম, কারণ আমরা এখানে হিন্দির গোলামীতে নই। তারপরও ধারেকাছে অনেক আত্মবিকৃতরা ঐ রোগে আক্রান্ত থাকতে পারেন। হিন্দু বা উর্দুতে বিতন্ডা বাধতে পারে। উর্দু সংস্কৃতি মুসলিমের সাথে গেলেও হিন্দি সংস্কৃতি কোনভাবেই মুসলিমের সাথে খাপে খাপে যাবে না। প্রমাণ হিসাবে তখন নজরুলের সাথে রবীন্দ্রনাথের ঠুকাঠুকি হবেই, এটিই স্বাভাবিক। এটি শুধু ধর্মের কারণেই নয়, সংস্কৃতির ভিন্নতা দু সমাজের দু রকম, অস্বীকার করার উপায় নেই। তারপরও তারা মিলেমিশে কাটিয়েছে, যতদিন না বৃটিশের কপট দৃষ্টি তাদের উপর পড়েছে তখন থেকেই তাদের মাঝে এ বিভেদের মাত্রা কাজ করেছে বহুগুণ শক্তিধর হয়ে, ইতিহাস তাই বলে। মুসলমান যতটুকু অসাম্প্রদায়িকতার প্রাকটিস করতে পেরেছে হিন্দুরা সেটি করতে অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়েছে, এর প্রমাণ সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দেশে বিদেশে, খোদ ভারতে এটি মহামারী রুপে বারে বারে আবির্ভুত হয়। আজকের ছাপা হওয়া কলাম থেকেই উদাহরণ দিচ্ছি (০৬ অক্টোবর ২০১৫, আমাদের সময়.কম) খবরের শিরোনাম “বাবাকে পিটিয়ে হত্যার পরও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চান সরতাজ”। ভারতের দাদরিতে গরুর মাংস রাখার মিথ্যা গুজবে উগ্র হিন্দুর হিং¯্র আক্রমণে বয়োবৃদ্ধ খামারি মজুর আখলাক(৫৮)কে পিটিয়ে মারা হয়। তার ছেলে মুহাম্মদ দানিশ(২২) হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। আর তার ছোট ভাই মুহম্মদ সরতাজ পরিবারের এত বড় বিপদে ভেঙ্গে পড়েছেন কিন্তু তারপরও ধৈর্য্যহারা হন নাই। কবি আল্লামা ইকবালের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, বাবা মারা গেছেন, তবু বলবো, “সারে জাঁহা সে আচ্ছা হিন্দুস্তান হামারা”। এমন ঘোর বিপদের দিনেও তার মুখে কোন তিক্ততা প্রকাশিত হয়নি। তিনি আরো বলেন, আমাদের আদর্শ কখনো পরষ্পরের সঙ্গে শত্রুতার শিক্ষা দেয় না। ভালো মানুষের পাশাপাশি মন্দ লোকও রয়েছে। তার ক্ষোভ সবার বিরুদ্ধে নয়, একমাত্র আসামীর বিরুদ্ধে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার তিনিও চান। এর নাম হচ্ছে ইসলাম, কার্যত এটি এমন এক ধর্মগ্রন্থ যা একটি অনাহুত মৃত্যুকেও সমর্থণ করে না, হোক সে যে কোন ধর্মধারী। এ আয়াত নির্দেশ করে “যে একজনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করলো যেন সে গোটা মানবজাতিকে হত্যা করলো আর যে একজনকে বাঁচালো যেন সে গোটা মানবজাতিকে বাঁচালো” (আল মাইদাহ এর ৩২ আয়াত) । এখানে বলা নেই যে তাকে শুধু মুসলিমই হতে হবে। তাকে হতে হবে মানব সম্প্রদায়ের একজন। এ গ্রন্থ আসে নাই শুধু মুসলিমদের জন্য একাই, বরং সমস্ত মানব জাতির উদ্দেশ্যেই এ গ্রন্থ নিবেদিত হয়েছে। “আমি তো তোমাকে সমগ্র মানব জাতির প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরুপে প্রেরণ করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না” (সুরা সাবার ২৮ আয়াত)। তাই কাউকে অন্যায় আঘাত করা যাবে না। ধর্মকে আত্মায় অন্তরে ধারণ কর্তে না পারার বদৌলতে অনেক সেক্যুলাররা অমার্জনীয় অপরাধ করে চলেছেন। দেখা যায় কার্যত সেক্যুলাররাই সাম্প্রদায়িক নির্যাতনে বাড়তি উৎসাহবোধ করেন কিন্তু প্রকৃত ধর্মধারী মুসলিম এটি করতে অপারগ কারণ তাদের হাতপা সত্য ও নীতির সাথে বাধা। আল্লাহ সঠিক ধর্মটি ধারণ করায় সবার সুমতি দিক।

 

নাজমা মোস্তফা,   ০৬ অক্টোবর ২০১৫।

২০১৫ এর লাশের মিছিলে হজ বিপর্যয়

ঈদের দিন মসজিদে নামাজে গিয়ে প্রথম শুনতে পাই এ বিপর্যয় সংবাদ মসজিদের ইমামের মুখে। একই সাথে চমকে উঠি ও সাথে সাথে চিন্তিত হয়ে পড়ি। কারণ মাত্র দু’দিন আগে আমার মামাতো বোন আমাকে টেলিফোন করে জানায় যে, “আপা হজ্জ্বে যাচ্ছি, দোয়া রেখো।” সে সৌদিতেই থাকে। ওটি ছিল তার তৃতীয় বড় হজ¦। সেখানে সে ঈদের নামাজেই আমি উৎকন্ঠিত হয়ে উঠি। বাসায় এসে তাকে কল করি সাথে সাথে জবাব আসে “দ্যা নাম্বার ইজ নট ইন সার্ভিস”। এমন একটি রেসপন্স পেয়ে আরো বেশী চিন্তিত হয়ে পড়ি। অগত্যা কি আর করা, তাদের বাচ্চাদের কাছে মেইল করলে তার বড় ছেলে ত্বড়িত জবাব দেয় ও তাদের ভালো থাকা বিষয়ে আমাকে নিশ্চিন্ত করে। আপাতত তার চিন্তা মাথা থেকে সরলেও বাকী শত হাজার মুসলিমের চিন্তা নিয়েই ইন্টারনেট চষে বেড়াচ্ছি আজ কয়দিন। ঘটনাটি কি?  ঈদের দিনই শুনেছি ৭১৭জন নিহত হাজির খবর। সৌদি এটি দাবী করলেও ২৬ সেপ্টম্বরের খবরে প্রকাশ ইরান দাবী করছে ২,০০০। সমালোচনার মুখে দাঁড়ানো বাদশাহ সালমান এ ব্যাপারে নতুন সংস্কারের কথাও বলছেন। জানা যায় ইরানের ১৩১জন হাজির মৃত্যু ছাড়াও নিখোঁজ রযেছেন ৩৬৫জন। হজ ব্যবস্থাপনা ওআইসির হাতে ছেড়ে দেয়ার দাবী জানিয়েছে ইরান। সব দেশই উৎকন্ঠার সময় পার করছে। কথা উঠছে কেন এ বিপর্যয়? ময়দান থেকে যা জানা যাচ্ছে, হজ কমিটির প্রধান খালেদ আল ফয়সল দায়ী করছেন আফ্রিকান নাগরিকসহ কিছু হাজি দলকে দোষী মনে করছেন, যারা তাড়াহুড়া করছিলেন, যার জন্য বিপর্যয় হয়। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় আল-অ্যারাবিয়া টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন, কিন্তু কেন তাদের দায়ি করছেন তার কোন সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। গ্রান্ড মুফতি বলছেন, এতে মানুষের হাত নেই, এ নিয়ে হজ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে দায়ী করা যাবে না।

Hajj-770x470একবিংশ শতকের যুক্তির এ যুগে গ্রান্ড মুফতির এমন যুক্তি সচেতনরা মানবে কেন? যারা হজ্জে¦ যান বা এর মোকাবেলা করেন তারা ভালো করেই জানেন মানুষ সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম মন মানসিকতা নিয়েই হজে¦ গমন করে। সেখানে ইচ্ছাকৃত বিশৃংখলা সৃষ্টির সুযোগ অনেক কম। এসব খোড়া যুক্তি মাননসই নয় বলেই ধারণা হচ্ছে, কিন্তু অজানা ভিন্ন রকমের বিরাট বিপর্যয় ছাড়া সেখানে এত মানুষের আত্মাহুতি কখনো সম্ভব নয়। যখন ইরান থেকে প্রতিবাদ আসতে থাকে তখন এটিও শোনা যায় যে ইরানীদের কারণে এ বিশৃংখলা ঘটে। পরষ্পর কাদা ছোঁড়াছোড়ি না করে সত্যের কাছে সমর্পন করাই প্রকৃত নীতি হওয়া উচিত। আজ একটি ভিডিও চিত্র দেখছিলাম, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ছত্রচ্ছায়াতে কিভাবে লুটপাটের মহামেলা চলছে, এসব নিয়ে যখন তদন্তদল একজন আসামীর কাছে যায়, তখন আসামী বলেন ভাই আমি মাত্র কাল হজ্জ্ব করে ফিরলাম। তদন্তদল অনেক যুক্তি প্রমাণের রসদ নিয়েই হাজির হয়েছে, কিন্তু তিনি হজ্জ্বের দোহাই দিয়ে সব অপরাধের বৈতরণী পার পেতে চাচ্ছেন। বেওকুফেরা এভাবে অজায়গায় কু জায়গায় এনে ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে।

ইরানের মিডিয়া ও আরো অনেকের যুক্তিতে জোর দাবী উঠেছে, হাজিরা যখন শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর মেরে চলে যান, তখন হঠাৎ করেই দুটি সড়ক বন্ধ থাকায় ভিড় এড়াতে বা স্থান ত্যাগ করতে ব্যর্থ হন হজ¦যাত্রীরা। এ হচ্ছে বিপর্যয়ের একটি বড় কারণ। আর পাথর মারতে আসা হজ¦যাত্রীদের এক মুখী চলাচলের একটি রাস্তাকে হঠাৎ করে দ্বিমুখী করা হয়। যার কারণে এত অল্প পরিসরে এটি সামাল দেয়া সম্ভব হয়নি। এবার কথা হচ্ছে এসব কেন করা হলো?  সেটিও জানা যায় যে, সৌদি প্রিন্সের ঐ পথে যাতায়াতের কারণেই তা দ্বিমুখী করা হয়। অভিযোগ আরো উঠেছে সৌদি রাজপুত্র সালমান মিনা অঞ্চলে ২০০ সেনা ও ১৫০ জন পুলিশসহ বিশাল গাড়ি বহর নিয়ে ঢোকার পর হঠাৎ হজ¦যাত্রীদের রাস্তার উল্টোদিকে ফিরতে থাকার কারণে এবং আগে থেকে সমন্বয় না করে কয়েকটি সড়ক হঠাৎ বন্ধ করে দেয়ায় এ বিপর্যয় ঘটে।

ইসলামকে দেখতে হবে কুরআনের আলোকে, সৌদির আলোকে নয়। এ সৌদিতেই এককালে জাহেলিয়াতির প্রচার প্রসার ছিল আর তা ধর্মের ছায়াতলেই হয়েছে। তথাকথিত কুরাইশরা যারা একদিন আল্লাহর পূজাও আরাধনা করতো, কালে তারাই হয়ে পড়ে মূর্তিপুজক জাতি। তাদের পূর্ব পুরুষ ছিলেন নবী ইব্রাহিমের ছেলে নবী ইসমাইলের বংশধারা। তারা কালে একেশ^রবাদীতা ছেড়ে শিরকের পথে গিয়ে মূর্তিপূজক হয়ে পড়ে। ক্রমে আল্লাহ ছেড়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে লাত উজ্জাহ ও মানাহ নামের নিজেদের মনগড়া আল্লাহর পৌনে এক গন্ডা কন্যাদের নিয়ে, যার কোন অস্তিত্বও নেই, ভিত্তিও নেই। সেদিন এর সাথে যুক্ত হয় সর্বমোট ৩৬০ মূর্তি। এটিও জানা যায় সেদিনের সেসব মূর্তির মাঝে নবী ইব্রাহিম (আঃ)এর মূর্তিও ছিল। একই দিনের খবরে দেখি মিশরে কারাবন্দি ব্রাদারহুড নেতা বাদিকে মারধর করে সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য। মিশরের মানবাধিকার সংস্থা (ইসিআরএফ) আরো জানায় আরেক ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ বেলতাগিকেও একইদিনে মারধর করা হয়। বলা বাহুল্য উভয় নেতার বিচার চলছে। বিচার চলাকালিন একজন নিরাপত্তা কর্মী বাদির শরীরে এক কাপ পানি নিক্ষেপ করে। এর প্রতিবাদ করলে এর জবাবে মারধর করে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়। এ ছাড়া ব্রাদারহুডের তৃতীয় আরেক নেতাকেও একই সময় মারধর করা হয়। উল্লেখ্য ২০১৩ সালের জুলাই মাসে বন্দুকের নলের মাথায় ইসলামপন্থী সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর ৮০ বছরের পুরানো আধুনিক ও গণতান্ত্রিক ইসলামী ব্রাদারহুড নেতাকর্মীদের উপর সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ এ নিপীড়ন চলছে। একই দিনে পত্রিকাতে দেখি ভারতে বিজেপি নেত্রীর মন্তব্য: “নিরীহ পশু নয়, নিজ সন্তানদের (অর্থে) পুত্রকে কুরবানি দিক মুসলিমরা” (সুত্র জি নিউজ)। বলিদান হিন্দুদের অতি সাধারণ এক রীতি। কিন্তু মুসলিমের প্রসঙ্গ উঠলে তারা বদলে যায়। কারণ অতীতে আমরা দেখেছি গুজরাটের ঘটনাতে গরু কুরবানীর চেয়ে তারা মানুষ কুরবানীতে বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

সারা বিশ^ থেকেই সবাই সমবেদনা জ্ঞাপন করছেন আবার বিরুদ্ধবাদী অনেকেই তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে আনন্দের প্লাবন বইয়ে দিচ্ছেন। মন্তব্য করছেন মুসলমানরা হাটতেও জানে না, ঢলে ঢলে পড়ে। চার্লি হেবদো এই সেদিনও সুখে হোক আর দুঃখেই হোক কার্টুন এঁকেছেন আয়লানের দুর্ঘটনাকে নিয়ে। আয়লান কুরদি হচ্ছে সেই তিন বছরের সিরিয়ান শিশুটি যে সারা বিশে^ নাড়া তৈরী করেছে। সে ভূমধ্যসাগর পাড়ে মৃত অবস্থায় রিফিউজি ক্রাইসিসের এক জ¦লজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে বিশে^র নজর কেড়েছে (২ সেপ্টেম্বর ২০১৫)।  চার্লি হেবদো তার কাটূর্নে এ সত্যকে স্পষ্ট করেছেন যে, ছবিতে খৃষ্টান ঈসার আদলে এক সাধুর পানির উপর দিয়ে হেটে যাওয়া আর মুসলিম আইলান দু পা উল্টে মারা যায় সাগরবক্ষে, ছবিতে তাই সুস্পষ্ট হয়। যখন জানতে পারি এসব কার্টুন মুসলিমের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দিয়েছে তখন খুঁজে ছবিটি দেখি। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, পানির উপর দিয়ে হেটে যাওয়া সাধু কিন্তু বাস্তবে মুসলিমদেরই একজন নবী ঈসা। আর ডুবে মরা ঐ আয়লানও ঐ নবীরই পরবর্তী প্রজন্মের একজন। এমন চিত্র দর্শণে খোদ নবী ঈসার মনেও অনেক কষ্ট জমা হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।

খবরে প্রকাশ এর মধ্যে সৌদি আরবের হজ কমিটির প্রধান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করে তা প্রকাশের আশ^াস দিয়েছেন। জানা যায় ঐদিন ছিল প্রচন্ড গরম। হাজিদের জন্য বিভিন্ন স্থানে পানির ব্যবস্থা থাকে আমরা জানি, তবে সেদিন পানির কিছু সংকট হাজিদের চোখে ধরা পড়ে সম্ভবত অতিরিক্ত গরমের কারণে। ঐ সময় উপর থেকে হেলিকপ্টারেও পানি ছিটানো হয়। অতিরিক্ত গরমও মানুষকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। অনেক সময়ই এরকম ঘটনা ঘটছে। অতীতে ২০০৬ সালে মিনা উপত্যকাতে পদদলিত হয়ে মারা যান ৩৬০ জন যাত্রী। সেদিনও ঐ জায়গায়ই অতিরিক্ত ভীড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঐ বছর আট তলা ধ্বসে ৭৩ জন মারা যান হজে¦র পূর্বে। এর দু বছর আগে মিনাতে ২৪৪ জন সংঘর্ষে মারা যান। ঐ সময় হজে¦র শেষ দিনেও এর জের ধরে পরে আহত হন কয়েকশত যাত্রী। ২০০১এ হজে¦র শেষ দিনে নিহত হন ৩৫জন যাত্রী। আর সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ১৯৯০ সালে, একটি সুড়ঙ্গ পথে অতিরিক্ত ভীড়ে পদদলিত হয়ে নিহত হন কমপক্ষে ১৪২৬ যাত্রী। এবার বাংলাদেশী হাজীদের মধ্যে ২৬ জনের মৃত্যু ও ৯৮ জন নিখোঁজ থাকার সংবাদ পাওয়া গেছে। হয়তো ক্রমে এ সংখ্যারও ওদল বদল হবে।  সর্বশেষ খবর হিসাবে মনে হচ্ছে নিহতের সংখ্যা ১৩০০, আহতের সংখ্যা ১৫০০, দায়ী রাজপুত্রের গাড়ী বহর।

crmosque.comসৌদি সরকার অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হয়ে কঠিন সময় পার করছে। ২৯ সেপ্টেম্বরের এক খবরে প্রকাশ সৌদি নেতৃত্ব পরিবর্তন আনার আহবান জানালেন এক সিনিয়র প্রিন্স। সৌদির এক সিনিয়র প্রিন্স তার দেশের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার আহবান জানিয়েছেন। তেলের মূল্যের ক্রমবর্ধমান পতন ও মক্কায় গত সপ্তাহের এ বিপর্যয়ের পর এ আহবান। তবে তিনি গণমাধ্যমে নাম প্রকাশ করতে রাজি হন নি। ব্রিটেনের দৈনিক গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদের নাতি এই পত্রিকাকে বলেছেন, সৌদি রাজ পরিবারের মধ্যে কোন্দল চলছে এবং জনগণও সরকারের উপর রাজা সালমানের উপর সন্তুষ্ঠ নয়। সালমান গত জানুয়ারী মাসে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। তার কথামত দুটি খোলা চিঠির বরাতে রাজ্য স্থিতিশীল অবস্থায় নেই, রাজার ছেলে সালমানই রাজ্য চালাচ্ছেন। তার চারজন বা পাঁচজন চাচা এসব চিঠি নিয়ে আলোচনাতে বসবেন। তারা তাদের বহু ভাতিজাকে নিয়ে একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন এবং ওতে আশা করছেন দরজা খুলে যাবে। দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেকেই উদ্বিগ্ন। গোত্রীয় নেতারাসহ সব শ্রেণীর জনগণও খুব চাপ দিচ্ছে এ বিষয়ে। প্রকৃতপক্ষে বাদশাহর পুত্র মোহাম্মদ বিন সালমানই দেশটির রাজত্ব চালাচ্ছেন (সূত্র রেডিও তেহরান) (দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন)। । সোমবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, তেলের দর ৫০ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় সৌদি সরকার এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ থেকে অন্তত ৭ হাজার কোটি ডলার তুলে নিয়েছে। বর্তমানের বাদশাহ আসার পর থেকেই প্রশাসনিক ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। ইয়েমেনের সাথে যুদ্ধ ও ইসলামিক ষ্টেট (আইএস) এর মুখে দেশটির নিরাপত্তাও হুমকির মুখে।

উল্লেখ্য, বাদশাহকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহবান জানানো প্রিন্সের নাম নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি। এ যুক্তিতেই এটি সুস্পষ্ট যে এখানে চলছে ক্ষমতার নষ্ট লড়াই। পারিবারিক কোন্দলের ফাঁক গলিয়ে রাজতন্ত্র পাকাপোক্ত করার এ নষ্ট প্রয়াসকে শিকড় শুদ্ধ উপড়ে ফেলে দিতে হবে কারণ মূল থেকেই এসব ইসলাম বিরোধী অপকর্ম। সব যুগেই অপকর্মীরা ক্ষমতার জোরে ধরাকে সরাজ্ঞান করেছে ও এসব অপকর্ম চালিয়ে গেছে, সৌদিরাও তার ব্যতিক্রম নয়। ইতিহাস বলে তারাই জাজিরাতুল আরবকে সৌদি আরবে রুপান্তরিত করেছে এবং অনেক জাহিলিয়াতি অনাচারের সূত্র সন্ধান করলে আজো পাওয়া যায়। ইসলামের জন্মভ’মিতে এসব পরিণতি মেনে নেয়া বিবেকবান মুসলিমের পক্ষে কষ্টকর। একবিংশ শতকের এ কঠিন সময়ে খোদ ইসলামের জন্মভ’মিই যদি মুক্ত না হয়, তবে বাকী মুসলিম বিশ^ কেমন করে মুক্তির রাস্তা খুঁজে পাবে? সিরাতুল মোস্তাকিম নামধারী শ্রেষ্ঠ প্রজাতির এ সঠিক রাস্তা ভিন্ন মুসলিমের বাঁচার আর কোন পথ নেই, নয়তো আল্লাহর কঠিন আজাবের আশংকা থেকেই যায়। অনেক সময় ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় ধরা খাওয়া সব অবিচারই প্রকাশ্য জবাবদিহিতার জরুর দাবিদার। চৌদ্দশত বছর আগের জাজিরাতুল আরবের জাহেল কুরাইশরা কোন নীতির ধার ধারতো না, অনাচার জোর যার মূলক তার ছিল তাদের নীতির ভিত্তি। জাহেলিয়াতের যুগে তারা আল্লাহর বিধান ছেড়ে তাদের স্বরচিত রাস্তা তৈরী করেছে। খৃষ্টানেরা যেমন পোপের বদৌলতে তৈরী করেছে আল্লাহর একমাত্র সন্তান, একইভাবে কুরাইশরা তৈরী করেছে আল্লাহর তিনমাত্র কন্যা সন্তান। ইসলাম এমন এক জীবন বিধান যেখানে চলমান জীবনের সব মানবিক সুন্দরতাই ধরা পড়ে। এখান থেকে কেউ ছিটকে বেরিয়ে গেলে বা খন্ডিত হয়ে পড়লে এর পরিপূর্ণ মর্যাদা লঙ্ঘিত হয়।

সূত্র হিসাবে বাংলাদেশে সময় টিভির বরাতে ৩০ সেপ্টেম্বরের খবরে প্রকাশ, হাজিরা বলেন প্রিন্সএর জন্য পুলিশের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কারণেই এ দূর্ঘটনা ঘটে। দেশের যারা তদারকির দায়িত্বে থাকেন তাদের অব্যবস্থাপনাতে হাজিরা ব্যথিত হৃদয়ে মনের কষ্টের কথা জানান। উপরোক্ত আলোচনা থেকে মনে হচ্ছে দেশটির শাসকদলের মাঝে ক্ষমতার লড়াই চলছে। এরা বহু যুগ অবধি ইসলামের নাম নিয়ে যা করে চলেছে তাদের বেশকিছু কাজের সাথে, ইসলামের দূরতম যোগও নেই। শিরক ইসলামে নিষিদ্ধ, এটি পাপের সেরা। এর গোড়া কাটতে গিয়ে যেভাবে তারা বাড়াবাড়ির রাস্তা ধরেছে সেটিও গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ইসলামের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্থাপনার উপর হামলে পড়েছে। এটি যেন ইতিহাস থেকে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করারই সামিল। ইসলামের কুরআনীয় নির্দেশ হচ্ছে সারা বিশ^ ঘুরে ঘুরে আল্লাহর সৃষ্ট এ দুনিয়ার প্রকৃত অবস্থানসহ অতীত বর্তমান দেখায় উৎসাহ দেয়া হয়েছে। মানুষকে ভ্রমণ করে সত্য অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। বলা হয়নি সব সত্যকে ইতিহাস থেকে মুছে দিতে। এই সেদিনও তারা মদীনার মসজিদে নববীকে পর্যন্ত নিশ্চিহ্ন করতে উৎসাহী থেকেছে। গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ইসলামই জাহেলিয়াত জাতিকে সুপথ দেখায়। মদীনার সনদ তারই পথিকৃত যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। জনগণের অমতে একদিনও কোন খলিফা গদিতে থাকতে পারেন না।

এর জের ধরে বাড়তি লাই পেয়ে ছোট দেশগুলিও ক্রমাগত অনাচারের মাঝে আকন্ঠ ডুবে জাহেলিয়াতির প্রসার ঘটিয়ে চলেছে। ইসলাম কোন সময়ই অনাচারী রাজতন্ত্রের বা পরিবারতন্ত্রের অনুমোদন করে নাই। সেটি যদি করতো তবে  ইসলামে খলিফা নির্ধারণের ভিন্ন রাস্তা রচিত হতো। নবীর জীবদ্দশাতেই সাহাবী আবুবকরের ইমামতিতে নামাজ পড়ানো হয়। এটি ছিল যোগ্যতার পরিপক্কতার ভিত্তিতে পরবর্তী খলিফা নির্ধারণের ইঙ্গিত মাত্র। ইসলামের নাম নিয়ে সৌদি অনেক কিছুই করেছে করছে, যা কোন সময়ই ইসলাম অনুমোদন করে না। সেখানে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে দেশ পরচিালনার কথা, সেখানে বহু ভাতিজার মতামতের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবার কোন নির্দেশ নেই। দেশের জনগণই দেশের প্রাণ, ভাতিজারা নন। বলা হচ্ছে যুবরাজ বলা হচ্ছে প্রিন্স। চৌদ্দশত বছর আগেই প্রিয়নবী মোহাম্মদ মোস্তফা (সঃ) এর মারফতে আনিত গ্রন্থ কুরআন দ্বারা এ রাস্তা বন্ধ করা হয়ে গেছে। আজো সারা বিশে^ মুসলিমরা এসব ভুল রাস্তাকে অনুসরণ করছে কিন্তু নবী মোহাম্মদ (সঃ) এসেছিলেন এসব স্বৈরাচারী রাস্তা চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দিতে। প্রিয়নবী গত হবার পর খুব কৌশলে সেটি পুনরায় চালু করে দেয় পরবর্তী কপট স্বৈরশাসকরা।

বাংলাদেশের শত শত মানুষ সে দেশে কাজ করে আমরা তাদের থেকে জেনেছি ব্যক্তিগতভাবে শাসকদের অনাচারের বিষয়ে কথা বলার অনুমোদন সেখানে নেই। কোন কথা বললে জান কবজ করা হয়। এসব কি ইসলাম? এসব গল্প শুনলে আমাদের পিলে চমকাতো! গোটা বিশে^ ইসলামের নাম নিয়ে আজ আল্লাহর জায়গাতে তার প্রতিপক্ষের রাজত্ব চলছে, খোদ আরবের মানচিত্রে, ইসলামের জন্মভূমিতে। যার বদৌলতে নিপীড়নে অত্যাচারে আজো গোটা বিশে^ মুসলিমরা মুমূর্ষ সময় পার করছে, এর দায় পবিত্র ধর্মের ঘাড়ে না পড়লেও বহুভাগে সৌদির ঘাড়ে পড়ে। তারা নাকি বিয়ে করে অগুণতি, সন্তান সন্ততি শত শত। কিন্তু ইসলাম প্রকৃতপক্ষে এক বিয়ের পক্ষেই কথা বলে।  ব্যতিক্রম থাকলেও ঐ একের উপরই ইসলামের বিবেচনা। গোটা বিশে^র মুসলিমরা তাদের মত নয় কেন? তাদের এসব সীমাহীন অপকর্ম আজ ইসলামকে অনেক ক্ষেত্রে বিতর্কীত করে তুলেছে। এসব নষ্ট নীতির কোন ভিত্তি ইসলামে নেই। রসুলের বিদায় হজে¦র ভাষন অনুসারে ইসলামের নীতি হচ্ছে একজন নাককাটা কাফ্রি কৃতদাসও যদি যোগ্য হয় তাহলে তারও যথাযোগ্য সম্মান দিতে হবে। প্রয়োজনে তাকে শাসক নির্বাচন করতেই ইসলামের নির্দেশ। রসুলের যুগে দাসপ্রথা সে সমাজে প্রচলিত ছিল, কিন্তু ইসলামের মহানুভবতার সামনে তা টিকতে পারে নি। আজকের মুসলিমরা নিশ্চয় জানেন ঐ কালো চামড়ার কৃষ্ণকালো বেলাল কাবার উপরে উঠার সাহস নিয়ে আজান দেন। এটি সহজেই অনুমেয়, সেদিন মর্যাদায় বেলাল কাবার চূড়ামনিতে স্থানলাভ করেন। তার সম্মানের মাত্রাটা আঁচ করুন।

খলিফা হজরত ওমরের গল্প ইসলাম সম্বন্ধে কি বলে? তার শাসনামলে সেদিন ইসলামের নারীরা এতই সোচ্চার ছিলেন যে তারাও প্রতিবাদ করতেন উঁচূগলাতে। যদিও ইতিহাস বলে, কালে মেয়েদের আবারো কৌশলের শিকল পরিয়ে দেয়া হয়। গণিমতের মাল প্রাপ্তির পর পরবর্তীতে যখন উপস্থিত ময়দানে একজন নারী দেখতে পান যে, ঐ কাপড়ে তার পরিবারের কারো একটি ড্রেস হয়নি কিন্তু দেখা যায় হযরত ওমর ঐ একই কাপড়ের একটি ড্রেস তৈরী করতে পেরেছেন। ঐদিন ঐ প্রতিবাদী উপস্থিত জনতার ময়দানে মহিলা নিঃসংকোচে এর ব্যাখ্যা দাবি করেন। তখন হযরত ওমর এক ব্যাখ্যা দানে বাধ্য ছিলেন এবং এর ব্যাখ্যা ছিল যে, ঐ দিন তিনি ও তার পুত্র দুটি কাপড় পান যার কারণে দুটি হওয়াতে তিনি একটি ড্রেস বানাতে সক্ষম হন। এ হচ্ছে ইসলাম। কই ইসলাম তো বলে না যে, সেদিন হযরত ওমর ঐ নারীকে শাস্তি দিয়েছিলেন বা কিছ! বরং শোনা যায় পরম নিশ্চিন্তে ঐ ইসলামের সৌন্দর্যকে জনসমক্ষে তোলে ধরতেই উচ্চকন্ঠ ছিলেন তিনি। কোন সাহসে এ সৌদি পরিবার নিজেকে শাহজাদা, যুবরাজ বা প্রিন্স অখ্যায়িত করেন? এর সূত্র বা সিলসিলা কি? নবী মোহাম্মদ তো কোনকালেও যুবরাজ ছিলেন না, প্রিন্সও না, শাহজাদাও না। তিনি ছিলেন আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ। তিনি বলতেন আমাকে ভয়ের কিছু নেই আমি আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ।

 

ঐ দিনের এসব ঘটনার পর এবার বিক্ষুব্ধ সাধারণ হাজিরা কমেন্ট করেন ২৩ লাখ হাজির ম্যানেজমেন্ট করার সামর্থ তাদের নেই। এত লোকের ভিসা দেয়া ঠিক না। রাজার ছেলে আসাতে গেট বন্ধ করে দেয়। এতে মানুষের উপর পড়ে মানুষ মারা গেছে। ঐ রাস্তার একটি অংশে গর্তের মত ছিল। ঐ গর্তে কয়েকজন পড়ে যায়। হাজিরা বলেছেন যেভাবে তাস সাজিয়ে রাখলে পড়ে যায়, সে একইভাবে যেন সারিবদ্ধ তাসের সারিরা লাশ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। হাজিরা সরজমিনে দেখেছেন খালি লাশ আর লাশ। গ্রান্ড মুফতি বলছেন এ নিয়ে কাউকে কিছু বলা যাবে না। এটি আল্লাহর কাজ! বিচিত্র কি হয়তো বা দুনিয়ার অনাচারি বান্দাদের অতি অনাচারে ক্ষুব্ধ বিধাতার এ বিক্ষুব্ধ প্রকাশের জুৎসই প্রতিবাদ, অবশ্যই গ্রান্ড মুফতিরা এ দায় এড়িয়ে যেতে পারবেন না! ইসলামের বিচার সবার জন্য সমান। এখানে একজন কাফ্রির লাশ আর প্রিন্সের লাশের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। যদিও আজকের জাহেলিয়াতি তারই স্বাক্ষর রেখে মিনার প্রাঙ্গন রক্তরঞ্জিত করে লাশের মিছিল সাজিয়েছে।

অনেকে এবারের ঘটনাকে অবলম্বন করে শিয়া ও সুন্নীর বিভেদকে উস্কে দিতে চাচ্ছেন। হতে পারে অবস্থার প্রেক্ষিতে এখানে শিয়া অধ্যুষিত ইরানের হাতে কিছু মশলা এসে পড়েছে। প্রতিপক্ষের হাতে মশলা তুলে দিলে এটি একজন নিবেই, এ সহজ অংক সৌদি সরকারের মাথায় আগে থেকে জমা রাখলে ভালো হতো। দুর্ঘটনা সংঘটিত হবার পর বিনা প্রমাণে নিজেকে বাঁচাতে অপর নির্দোষকে আক্রমন করার যুক্তি দেউলিয়াত্বের প্রমাণ মাত্র। ২৫ সেপ্টেম্বরের খবরে প্রকাশ ভারতের লক্ষেèৗতে প্রথমবারের মত একসঙ্গে শিয়া সুন্নীরা ঈদের জামাত করতে যাচ্ছে। সেখানে ১ লাখ ২৫ হাজার শিয়া এবং এর প্রায় ৫ গুণ সুন্নী বাস করেন। ইন্টারনেট ভিত্তিক এস২এস সংস্থা এ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। উভয় সম্প্রদায়ই ধর্মের মৌলিক পাঁচটি বিধান মেনে চলে। এতে কোন বিতন্ডা নেই, বহুযুগ পূর্ব কৃত্রিম বিভাজন ভুলে গিয়ে দুই সম্প্রদায় এক কাতারে দাঁড়িয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, ঐ নামাজে ইমামতি করবেন একজন সুন্নী ইমাম। এটিই ইসলামের মৌলিক বিধান। ধর্মকে বিভক্ত করার দায় একমাত্র কপট ধর্মধারীদের, কখনোই এ দায় নবী মোহাম্মদ (সঃ) বা ইসলামের ঘাড়ে সমর্পিত হবে না। এটি কুরআনের আল-ইমরানের ১০৪ আয়াত দ্বারা সুস্পষ্ট করা হয়েছে যারা এ বিভেদ ঘটাবে তারা কঠোর আজাবের সম্মুক্ষীন হবে। যদিও গাফিল মুসলিমরা সে সূত্রকে অবহেলা করে দেড় হাজার বছর অবধি এ বিরোধ জিইয়ে রেখেছে, ধর্মের যত না কারণে তার চেয়ে বহু বেশী রাজনৈতিক কারণে।

বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর বর্ণনা শেষ পর্ব ৪ আলোচক ডাঃ জাকির নায়েক (Bangla)

 

আজকের এ সঙ্গিন মূহুর্তে অতি অল্প কিছু প্রস্তাবনা রাখছি। প্রয়োজনে এ জটিল বিষয়টিতে মুসলিম বিশে^র সহযোগিতায় উৎসাহী হতে হবে। ইসলামকে সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে মহতের দিকে যেতে হবে। প্রয়োজনে ওআইসি এর সম্মিলিত সমাধানের দিকে গিয়ে সবার মতামতের মূল্য দিতে হবে। মানুষকে বার বার হজে¦র প্রতি উদ্বুদ্ধ করার প্রবণতা থেকে সরে আসতে হবে। আমাদের প্রিয় নবী একবারই মাত্র হজ¦ করেন। বাকী সারা বছরই মানুষ ঘুরে ঘুরে ওমরাহ হজ¦ করছেন। এটি জীবনে একবারই করার বিধান। কারো টাকা ও সুযোগ থাকলেই তাকে কেন শুধু ওটিই করতে হবে। প্রতিটি সুকর্মই মানুষের আমলনামাতে ইতিবাচক হয়ে থাকবে। আমি এমন মানুষকেও পেয়েছি যাদের সামর্থ নেই হজ¦ করার, কিন্তু ঐ সব নেকী জড়িত ছওয়াবের গল্প শুনে তাদের জীবনে হজ¦ করতে না পারার আহাজারির শেষ নেই। এরকম অবস্থা কখনোই ইসলামের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। হজে¦র মহানুভবতা আঁচ করার মত অনেক গল্পই ধর্মের ভান্ডারে জমা আছে, অনেক অনেক মহৎ কাজ করেও একজন ঐ অর্জন জমা করতে পারেন। গোটা বিশে^র মুসলিমরা বা জনতারা কতভাবেই না বঞ্চনার শিকার তার কোন সমাধানের চিন্তা কেন সচেতনের মাথায় খেলে না। ইসলামের এবাদত যদি মন মানসিকতার পরিবর্তন না ঘটায়, মানুষকে মহৎ না করে তবে ঐ এবাদতের মূল্য অতিঅল্প। সংকীর্ণ চিন্তা দিয়ে বিধাতাকে টলানো যাবে বলে মনে হয় না। হজের সময় একটি জিনিস আমার চোখে পড়েছে সাধারণত আমাদের এশিয়ান জনতারা নবীজির মাজারের কাছাকাছি গেলে উতলা হয়ে উঠেন। অনেকে মনে করেন, নবীজি তাদেরে দেখছেন, অনেকে বলেন জিন্দানবী। ইসলাম এ ধারার কোন সংবাদ অন্তত কুরআন বিলি করে না। কুরআন এসবের ঘোর বিরোধী। তাই বলবো ধর্মটিকে জানতে একবার নয় বার বার কুরআনের কাছে ছুটে যান। বাঁচবার রাস্তা মুক্তির সব সোপান ওখানেই লুকিয়ে আছে। আল্লাহ হাফেজ।

 

নাজমা মোস্তফা,  ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫।

কার্টুন এক হাস্যকর তামাশা

ফ্রান্সের প্যারিসে নবী মোহাম্মদ (সঃ)কে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কার্টুন এঁকে যে হাস্যকর তামাশার সূত্রপাত হয় তা অনেক দূর গড়ায়। শুধু এটিই নয়, প্রায়ই বেশ ক বছর থেকে এসব হচ্ছে। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে মুসলিম বিরোধী “ইনোসেন্স অব মুসলিমস” ম্যূভিটি সারা মুসলিম বিশে^ বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন একটি কলাম লিখেছিলাম “ইনোসেন্স অব মুসলিমস: এক উদভ্রান্ত পাগলা ঢিলের নাম” শিরোনামে। প্রায়ই এসব হয় এবং হচ্ছে, ডেনিশ কার্টুন সাম্প্রতিক সময়ের কার্টুন এসব নিয়ে নাস্তিকদের সাইটে সারা বছরই কলমের মল্লযুদ্ধ লেগে আছে ইসলামিস্টদের সাথে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কখনো মুসলিমরা বিরোধীকে আঘাত করছেন কখনোবা তারা নিজেরাও নিহত হচ্ছেন। কথা হচ্ছে ফাস্টবয়কে লাস্টবয়রা সবদিনই ঘৃণা করে এবং করবে। এতে ক্ষিপ্ত না হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তির মাঝে জবাব দেয়াই উত্তম বলে মনে করি। কারণ যার কাছে যুক্তি সে জিতবেই, তার হারার কোনই সম্ভাবনা নেই। ফ্রান্সের কার্টুনিস্ট চার্লি হেবদো তার ম্যাগাজিনে এক গুচ্ছ কার্টুন এঁকে সারা বিশে^ বেশ বড় রকমের নাড়া তৈরী করতে সক্ষম হয়। এ রোগ ২০১১, ২০১২, ২০১৫ ক্রমেই এসব হচ্ছে একের পর এক, গোটা বিশ^ দেখছে। সাম্প্রতিক সময়ে ২রা জানুয়ারীর ২০১৫ তে দেখা যায় দুজন লোক সশস্ত্র সাজে সজ্জিত হয়ে এক নাগাড়ে ঐ কার্টুনিস্টসহ তার সাথের আরো ১২জন মানুষকে প্রকাশ্য ময়দানে গুলি করে বসে। প্রথমে ১১জন মারা যায় এবং সেখানে আরো ১১জন আহত হয়। ঠিক ঐ সময় সেখানে একজন ফ্রেন্স মুসলিম পুলিশও ঐ বিতন্ডাতে চার্লি হেবদোর পক্ষে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে খুন হয়। মিডিয়া সমান গলাতে প্রচার করছে এসব করেছে মুসলিম টেররেস্ট জঙ্গিরা।

10 Lies You Were Told About Islam!

ওদিকে ১১ই জানুয়ারীতে ৪০টি দেশে হর্তাকর্তাসহ এর প্রতিবাদে জড়ো হন প্যারিসের সব মিলে প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন মানুষ। সেদিন তাদের সবার হাতের পতাকাতে একটি ম্যাসেজই ছিল “জে স্যুট চার্লি” এর অর্থ হচ্ছে “আমি চার্লি।” এর প্রায় এক মাস পর ১১ই ফেব্রুয়ারীতে নর্থ ক্যারোলিনার ইউনিভার্সিটি টাউন অব চ্যাপেল হিলে তিনজন মুসলিম নিহত হয় যাদের মাঝে এক দম্পতি স্বামী স্ত্রীসহ তিনজন, তৃতীয়জন ঐ মেয়েটির বোন একসাথে একজন সন্ত্রাসীর হাতে মারা যায়। এর ধারাবাহিকতায় ৪৬ বছরের স্টিফেন হিক্সকে আক্রমণকারী হিসাবে পুলিশ আটক করে। এসব ঘটনার পর আমার মনে ঐ কার্টুন দেখার বিষয়ে কিছু উৎসাহ তৈরী হয় যার প্রেক্ষিতে আমি ওগুলো খুঁজতে থাকি। যদিও ফ্রেন্স ভাষা না জানাতে তাদের প্রতিটি কথার অর্থ আমি বুঝতে পারিনি, তবে কিছু ধারনা পাই কিছু কার্টুনের আকার ইঙ্গিত দেখে। দু একটি ছবি দেখার পর আমার এসব দেখার উৎসাহ কমে আসে। কারণ সেই পুরনো একই খেলা কত আর শোনা যায় বা দেখা যায়, জনম জনম থেকে সেই এক সাপের নাচন খেলা, ওসব দেখতে কি আর মন চায়? মনে হলো মিডিয়া, চার্লি ও অন্যান্য কার্টুনিস্টরা যা করছে, এসব কত যে বড় রকমের হাস্যাস্পদ কাজ তারা করছে, সেটি তারা নিজেরাও চিন্তা করতে পারছে না। এটা অনেকটা মিথ্যার সাথে যুদ্ধ করার মত, ছায়ার সাথে যুদ্ধ করার মত ব্যাপার। ইতিহাসে প্রমান পাওয়া যায় কিছু জনেরা নবী ইসা (আঃ)কে বাস্টার্ড গালি দিয়ে চরম প্রশান্তি অর্জন করেছে। তখনকার ইহুদী রাব্বিরা তাকে শূলে চড়ায়, তাদের দাবী অনুযায়ী তাকে ক্রুশে চড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঐ ঘটনার আলোকে মানুষটিকে টিটকারী মশকরা করার কোন কমতি তারা রাখে নাই। থুথু ছিটিয়েছে, মাথায় কাটার মালা পরিয়েছে, বাস্টার্ড বলে গালি দিয়েছে, একই  আদর্শের দিশা ধরে ভিন্ন আরেকদল যখন নবী মোহাম্মদ (সঃ)কে একজন যুদ্ধবাজ, নারী নির্যাতনকারী বা নারী লোভী হিসাবে উপস্থাপন করে চরম তৃপ্তি পেতে চায়। যখন একজন সম্মানিতকে কোনভাবেই অবদমিত অপমানিত করার সুযোগ থাকে না, তখন অসুস্থ জনতারা মনের স্বান্তনার জন্য এসব অপবাদকে মুখরোচক হিসাবে গ্রহণ করে, আর ওতেই স্বান্তনা পেতে চায়। বস্তুত এসব করে তারা নিজের অন্তরের হিংসার ক্ষতের উপর প্রলেপ লেপে দিতে চায়।

মহাবিশ্ব সৃষ্টি ও আল্লাহর অস্তিত্ব ( গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক মন্তব্য সমূহ )

 

ধর্ম এক চরম মিথ্যাচার, এ বিতন্ডার কোন সুযোগ নেই। এর প্রধান প্রমান হচ্ছে এক ধর্মের সাথে অন্য ধর্মের একাত্বতা। ইহুদী খৃষ্টান আর ইসলাম, ধর্মের যোগসূত্রে বাধা এরা তিন। সোজা করে তাকালেই দেখা যায় এরা সবাই এক ঘরের মানুষ, মূলত এরা এক আলোর দিশারী। এমনও দেখা গেছে যারা যৌবনে ধর্ম মানেনি তারাই প্রৌঢ় হলেই ধর্মের ঘাড়ে ভর করতে দাঁড়াতে চেয়েছে। কিন্তু যখন গায়ে শক্তি থেকেছে তখনই শক্তির বাহাদুরিতে ধর্মকে অবজ্ঞা করেছে বহু বেশী, হয়েছে নাস্তিক। ধর্মের এ বিতন্ডা দেখে নাস্তিকতায় স্বান্তনা খুঁজেছে অনেকে, এ হচ্ছে বোকামীর ধর্ম দর্শন। দেখা যায় ইসলামকে প্রতিপক্ষ জেনে সেই সপ্তম শতাব্দী
থেকে চলছে এসব লড়াই। আজ এreligion.blogs.cnn.comত পরেও সেটি শেষ না হয়ে বরং যেন দিনে দিনে মহিরুহ হয়ে উঠছে। তাই মহিরুহের অবস্থানকে স্পষ্ট করার দায়িত্ব ছিল আমাদের প্রতিটি ধর্মধারীর। যারা এর পেছনে রসদ যুগিয়ে চলেছে, তাদের স্বযতœ তদারকিতে এটি বেড়েই চলেছে। আর যাদের দায়িত্ব ছিল এসব জটিলকে খোলাসা করার তারা দিনে দিনে ধর্মের মূল গবেষনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বরং উল্টো বিরোধীকে রসদ যুগিয়ে গেছে। এরকম বহু উদাহরণ চারপাশে ছড়ানো আছে।  এ শতকের শুরুতে ৯/১১ এ ঘটে ভিন্ন রকম যুদ্ধের সূচনাপর্ব। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বুশ একে “ক্রুসেড” বলে ডাক দিলেও প্রতিবাদ উঠলে তাকে ‘সরি’ বলতে হয়েছে। কিন্তু প্রথমে সময় ক্ষ্যাপন না করে তিনি ক্রুসেডের ডাক দেন। সভ্যতার যে সংকটের আশংকা করেছে সচেতনরা, তারা ওটি নির্মুল করতে আজ নতুন করে ভাবছে কিভাবে প্রত্যেকের ই-মেইল ইন্টারনেট চেক করবে। এতে মানুষের প্রাইভেসির মাত্রাটি একদম শূন্যের কোঠাতে নেমে আসবে, সন্দেহ নেই। তারপরও কি যুদ্ধকে সামাল দেয়া যাবে বলে মনে হয়, যদি না এসব মিথ্যা ক্যারিক্যাচার বন্ধ হয়?

ফিলিস্তিনের কলিজাতে কামড় : বিগত শতকে হিটলার (অনেকের ধারণা মতে ৬০ লাখ) ইহুদী নিধন করে সহজ একটি সমাধান করতে চান। এতে কতদূর যে সমাধান হয়েছে তা ইতিহাসই সাক্ষী। বরং এক হিটলারের বদলে গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে ইহুদীরাই পরবর্তী বিশে^র হিটলার হয়ে নতুন জন্মে ফিলিস্তিনের কলিজাতে কামড় দিয়ে চলেছে। যদিও ফিলিস্তিনিরা এর জন্য মোটেও দায়ী নয়, জার্মান হিটলারের দায় তাদের ঘাড়ে চাপার কথা নয়, কিন্তু অবিবেচকের মত বিশ^ মোড়লরা এ ব্যাপারে চরম অনাচার করে বিধাতার দরগাহে খুব বড়দাগেই আজকের দন্ডধারী আসামী। বড়কর্তারা যারা শুরু থেকেই এর পেছনে তেল যুগিয়েছে তাদের ঘাড়েই এর দায় বর্তায়। সেখানে দেখা যায় নিরপরাধ প্যালেষ্টিনিয়ানদের শিশু, মেয়ে, মহিলা, পুরুষ কারো মুক্তি মেলেনি, ঐসব দানব স্বরুপ পরবর্তী নকল ইহুদী নামধারীদের অত্যাচার থেকে। তাদেরে স্বগৃহ থেকে বের করে নিয়ে সর্বস্ব লুন্ঠন করে পথে বসিয়েছে, এমন অনাচার নাই যা তারা করে নাই। জাতিসংঘ নির্ধারিত স্কুলেও হামলে পড়তে তাদের বাধে নাই। বাড়ির মূল কর্তাকে বের করে নিয়ে গোটা বিশ^ থেকে ছন্নচ্ছাড়াদেরে ধরে ধরে এনে নতুন বসতি গড়ে তোলে। আরবে ইসরাইলের বিষয়টি ভয়ংকর গবেষনাতে বের হয়েছে ইসরাইলীয়রা কোন দিনই ঐ মাটির সাথে যুক্ত নয়। তারা খাজারসহ অন্য সম্প্রদায়ের বাসিন্দা। কিন্তু বৃটিশ পরাশক্তি এদেরে কৌশলে প্যালেষ্টিনিয়ানদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। যার সাথে ইতিহাস ধর্মের কোন যোগাযোগ নেই। সবই ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ। নবী ইসা এসেছিলেন একজন আঞ্চলিক নবী হয়ে বাইবেলের হিসাবেও ইহুদীদের হারানো গোত্রের সন্ধানকর্তা হিসাবে এসেছিলেন, তিনি ছিলেন আঞ্চলিক নবী। বাইবেল বলে, “তিনি (জিসাস ক্রাইস্ট) উত্তরে বলেন, ইসরাইল কুলের হারানো মেষ ছাড়া আর কারো নিকট আমি প্রেরিত হই নাই” (বাইবেল, ম্যাথ্যু ১৫:২৪ আয়াত)। দেখা যায় যে মুসার অনুসারী ইহুদীদের খুঁজে দেখার কাজে তিনি এসেছিলেন, তারাই তাকে এর মাঝেই শুলে চড়ায়। এরা বিভ্রান্ত হয়েছিল বলেই পরবর্তী নবী ঈসা (আঃ)কে আসতে হয়। এবং নবী ঈসার অনুসারীরাও বিভ্রান্ত হয়েছিল বলে তারও পরবর্তী আর একজনকে আসতে হয়, তিনি হচ্ছেন শেষ নবী মোহাম্মদ (সঃ)। তার হতেই ধর্ম পূর্ণতা লাভ করে। আল্লাহ বলেন, “যারা অবিশ^াস পোষন করে তারা আজকের দিনে তোমাদের ধর্ম সম্বন্ধে হতাশ^াস হয়েছে, কাজেই তাদের ভয় করো না, বরং ভয় করো আমাকে। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম ব্যবস্থা পূর্ণ করলাম” (সুরা মায়েদার ৩ আয়াত)। ধারাবাহিক ২৩ বছরে ধর্মটি এভাবে পূর্ণতা পায়। তারপরও এর মাঝে কোন জটিলতা ধরা পড়লে বা তৈরী হলে তাও ঐ কুরআনের প্রথম বাণী “পড়” কথার অনুসরণে ধর্মধারী জনগণকেই প্রয়োজনে চর্চা গবেষনা করে সঠিককে বেছে নিতে হবে এবং তারই সাধনা করতে হবে। বিদায় হজে¦র বাণীতে ছিল মিথ্যা ‘চিরতরে দূরিভূত হয়েছে’।

প্রায় দুই হাজার বছর পরের ইতিহাসে সারা বিশ^ থেকে ছন্নচ্ছাড়াদেরে ধরে এনে প্যালেস্টাইনে ঠাঁই দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে বৃটিশ এমপি মিঃ ডেভিড ওয়ার্ড ইসরাইলী প্রাইম মিনিস্টার বেনজামিন নেতানিয়াহুর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঐ প্যারিস সংহতিতে ২০১৫ সালের জানুয়ারীর ১১ তারিখে। এবং তিনি শুধু প্রতিবাদই করেন নাই তার প্লেকার্ডের বানী ছিল “জে স্যুট প্যালেস্টাইন” “আমি প্যালেস্টাইনী” ছিল তার প্রতিবাদের শ্লোগান। গাজার হামলার প্রতিবাদে তিনি বলেন, “আমি যদি তখন গাজাতে থাকতাম, আমি ইসরাইলের প্রতি রকেট নিক্ষেপ করতাম”। ৬০ বছরেরও বেশী সময় থেকে প্যালেস্টাইনীরা এ মার খেয়ে যাচ্ছে। যদিও সমস্ত বিশে^র সুজনদের মেধাবীদের শরীরের উপর বিবেক নামের মস্তিষ্কটি আজো সচল আছে এবং ছিল। যে ধর্ম দিয়ে বিরুদ্ধবাদীরা ইসলামের জনতাকে পাগল ঠাওর করতে চাচ্ছেন মুক্তির রাস্তা খুঁজতে এমন জটিল সময়ে সে গ্রন্থ থেকে কিছু বানী আনছি। সে গ্রন্থে পাওয়া যায় খৃষ্টানরাই মুসলিমের সবচেয়ে কাছের স্বজন। আর ইসলামের শুরু থেকেই এর সর্বনাশ  ও ধ্বংস সাধনে ইহুদীরা অতোপ্রতোভাবে জড়িত থাকার ইতিহাস পাওয়া যায় সর্বত্র। নবী মোহাম্মদকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রের সাথে তারা বারে বারে জড়িত থেকেছে। এসব আচরণের কিছু দাগ চিহ্নও পবিত্র গ্রন্থ কুরআনে পাওয়া যায়। এতে ইহুদীদের কপটতা ও খৃস্টানের সহজতা ধরা পড়ে (সুরা মাইদাহ এর ৮২ আয়াত)। অতীতে ইহুদীরাই নবী ইসাকে অর্থাৎ জিসাসকে নিয়ে মশকরা করেছে আর আজকে তারা দুদলই (ইহুদী ও খৃষ্টান) নবী মোহাম্মদকে নিয়ে মশকরা করছে, আর নাস্তিক্য ধারার কারণে এসব বেড়ে চলেছে। যদিও ধর্মের একত্ব যেখানে লক্ষ্য করা যায়, সেখানে এসব হবার কথা ছিল না।

বিবি আয়েশার বিয়ে: (কুরআনে সুরা নিসার ৫ ও ৬ আয়াতে) দেখা যায় আল্লাহর নির্দেশ এসেছে কিভাবে সংশ্লিষ্টরা একজন সাধারণ মুসলিম অনাথের প্রতি আচরন করবেন। সেখানে বলা হয় তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে যতদিন না তারা বিবাহযোগ্যা হয়ে উঠে ততদিন তাদের দেখভাল করতে হবে, তাদের সহায় সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে তা নষ্ট করা যাবে না। অতপর তাদের সম্পত্তি তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। সবার শেষে সাবধান বাণী হিসাবে বলা হয় হিসাব রক্ষক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। ইসলামের এরকম একটি নির্দেশের পর কেমন করে নবী মোহাম্মদ (সঃ) একজন ৬ বছর বা ৯ বছরের মেয়েকে বিয়ে করতে পারেন বলে যা চৌদ্দশত বছর পরও বিরোধীর জ¦ালা হয়ে জ¦লছে। ধারাবাহিকভাবে সমাজে এ নিয়ে বিতন্ডা তৈরী করা হচ্ছে। সবার উপর আবু বকর ছিলেন বিবি আয়েশার বাবা, বাবার কষ্টের চেয়েও আজকের বিরোধীর কষ্ট যেন বহুগুণ বেশী। তিনি এমন একজন বিচক্ষণ সাহাবা (নবীর সহচর) যাকে নবীর পরই খলিফার মর্যাদা দেয়া হয়। এতে কি এসব স্পষ্ট হয় না, এসবই বিরুদ্ধবাদীদের অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়? সবচেয়ে বড় কথা নবী মোহাম্মদ(সঃ) ২৫ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত এক স্ত্রী বিবি খাদিজা ছাড়া আর কারো পানি গ্রহণ করেননি। ঐ সময় তার ঘরে চার চারজন মেয়ে ফাতেমা, কুলসুম, রোকেয়া, জয়নব এদের রক্ষণাবেক্ষনের জন্যও একজন বুদ্ধিমতি যোগ্য অভিভাবকের সংবাদ নিয়ে খাওলাহ নামের এক মহিলা বিবি আয়েশার নাম উচ্চারণ করে বিয়ের পয়গাম নিয়ে আসেন, তখন নবীর ৫৫ বছরে ঐ বিয়ে হয়। এসব ক্ষেত্রে যে বা যারা আরবী ভাষাটি জানেন তারা ভাল করেই জানেন “বিকর” শব্দটি কখনোই কোন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর জন্য বা নয় বছরের বাচ্চার জন্য ব্যবহার হয় না। এটি একমাত্র তার জন্যই ব্যবহার হয়েছে যে এরি মাঝে বিবাহযোগ্যা (তাইয়্যিবা) হয়ে উঠেছে। আমি দেখেছি অনেক মুসলমানও বিষয়টি ভালো করে জানেন না। অনেকে সহিহ হাদিসের দোহাই দিয়ে এরকম কুরআন বিরোধী মিথ্যার প্রচার করে ধর্মের বারোটা বাজিয়ে চলেছেন, যার ইন্ধনে গোটা বিশে^ লঙ্কাকান্ড চলছে। সহি হাদিসের বড় শর্ত হচ্ছে তা কুরআন বিরোধী হতে পারবে না। কোন হাদিস কুরআন বিরোধী হলে, তা বাতিল বলে গন্য হবে, এটি হাদিসের প্রধান শর্ত। সারা বিশ^ই আজ বিবি আয়েশার মা বাবা সেজে যুদ্ধের মাঠে নেমেছে। বিবি আয়েশা আজ তাদের হাতের গিনিপিগ। আর বিরোধীরা মহা উৎসাহে এসবের উপর নটনৃত্য চালিয়ে যাচ্ছে। কার্টুন রচিত হচ্ছে এসব ভুলের উপরই রঙ্গমেলা চলছে, কলমের কালিতে কার্টুনের আঁকিবুকিতে ওটিই ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।

রাসুল সাঃ কে নিয়ে কেউ ব্যাঙ্গ করলে মুসলিমদের কি করনীয় ডাঃ জাকির নায়েক

দেখা যায় বেশীর ভাগ কার্টুনের ক্যারিকেচার হচ্ছে বহু বিবাহ, বিবি আয়েশার বিয়ে, যুদ্ধবাজ ধর্ম এসব নিয়ে বিতন্ডা। আমরা সবাই জানি বাইবেলে বহু বিবাহ একটি সাধারণ ঘটনা। নবী ইব্রাহিমের দু সন্তান ইসমাইল ও ইসহাক দু মায়ের দু সন্তান। তাই বলে ওসব নিয়ে ইসলামে কোন বিতন্ডা করতে দেখা যায় না বা কোন বিতন্ডা বাধে না। ইসলামের বক্তব্যও এক বিয়েতেই টিকে, সুরা নিসার ৩ আয়াতে শর্ত হচ্ছে একাধিক  স্ত্রী থাকলে সবার সাথে সমতা রাখতে হবে, এবং সেটি জটিল। তোমরা একাধিকের সাথে সমতা রাখতে পারবে না (৪:১২৯) তাহলে একজনকেই এবং এটিই বেশী সঙ্গত” (সুরা নিসার ৩ আয়াত)। ইসলামের শক্তি প্রবল বলেই হয়তো মিথ্যা গল্প জুড়ে কুরআন, মোহাম্মদ, ও ইসলাম নিয়ে মশকরা করার লোকের বিধর্মী বা নাস্তিকের কোন কমতি নেই এ পৃথিবীতে, কোন যুগেই এদের কমতি হয়নি। বেশীর ভাগ বিতন্ডাকারীদের কথা হচ্ছে বিবি আয়েশার বিয়ে হয়েছে ৬ বছর বয়সে আর ঘরে তোলা হয়েছে ৯ বছর বয়সে। গোটা বিশে^ এরকম অনেক কর্ম অপকর্ম আছে যার কোন অভাব নেই কিন্তু ইসলামকে নিয়ে এ ক্যারিকেচার যেন কিয়ামত পর্যন্তই চলবে। সেদিন যখন কার্টুন খুঁজতে থাকি তখন দুটি আঁকিবুকি আমার কাছে স্পষ্ট হয় একটি চাকাওয়ালা বাহনে দেখা যায় নবী মোহাম্মদ (সঃ) ও ছয় বছরের বাচ্চা আয়েশা বসে আছেন এবং ছবিতে টেগ লাগানো আছে যে মোহাম্মদ ও তার কনে আয়েশা এরকম কিছু একটা। অন্য একটি ছবিতে এক মুসলিম সম্ভবত নবী স্বয়ং কুরআন হাতে দাঁড়িয়ে আর দূর থেকে সেখানে শেলের মত কিছু এসে কুরআনকে বিদ্ধ করছে। যেন কুরআনের সাথে যুদ্ধ চলছে, অস্ত্রের যুদ্ধ। আজ থেকে প্রায় বারো তেরো বছর আগে ইন্টারনেটে নাস্তিকের সাথে যুদ্ধ করতে যেয়ে এর জবাবে ১৬ টি পয়েণ্টের ভিত্তিতে যুক্তি  খুঁজে পাই যেখানে প্রমাণিত হয় যে, বিবি আয়েশার বিয়ে মোটেও ৬বা ৯ বছরে হয় নি, বরং বিয়েটি হয় ১৯ বছর বয়সে তার বহুবিধ প্রমান পাওয়া যায়। কিভাবে মিথ্যার সাথে আজ চৌদ্দ শতাব্দী পরও তারা যুদ্ধ করে চলেছে, যেন ছায়ার সাথে যুদ্ধ করছে। ওখান থেকে শুধু কুরআনের যুক্তিটুকুই যথেষ্ট মনে করে আনছি, কারণ এটি আল্লাহর বানী। “আর এতিমদের পরীক্ষা করে দেখবে যে পর্যন্ত না তারা বিবাহ বয়সে পৌছে যায়, তারপর যদি তাদের মধ্যে বিচারবুদ্ধি দেখতে পাও তবে তাদের সম্পত্তি তাদের হস্তার্পন করবে, আর তা মাত্রাতিরিক্তভাবে ও তাড়াহুড়া করে খেয়ে ফেলো না পাছে তারা বড় হয়ে যাবে (এই আশঙ্কায়) আর যে অবস্থাপন্ন সে যেন বিরত থাকে, আর যে গরীব সে ন্যায়সংগতভাবে খায়। তারপর যখন তোমরা তাদের সম্পত্তি তাদের ফিরিয়ে দাও তখন তাদের সামনে সাক্ষী ডাকো। আর হিসাবরক্ষকরুপে আল্লাহ যথেষ্ট” (সুরা নিসার ৬ আয়াত)। 

বাকী অনেক হাদিস ও ঐতিহাসিক যুক্তিতেও এসব বানোয়াট কথা টিকে না। এবন হেশাম, হালবি, এয়াবা প্রভৃতিতে পাওয়া যায় বিবি আয়েশা (রাঃ) সমরক্ষেত্রে উপস্থিত থেকে সৈনিকদের সেবা শুশ্রুষা করেন। বিবি আয়েশা বদর যুদ্ধের ময়দানে সেবা শুশ্রুষা করেন। ইতিহাসে বা হাদিসে পাওয়া যায় প্রত্যক্ষ যুদ্ধের ময়দানে অংশ নেয়ার একটি বয়স নির্ধারিত আছে ১৫ বছরের নীচে কেউ যুদ্ধে যোগ দিতে পারতো না। এমতাবস্তায় তিনি ৬ বছরের বা ৯ বছরের হলে কেমন করে বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবেন। এরকম কোন যুক্তিতেই এসব টিকে না যে বিবি আয়েশার বয়স ৬ বা ৯ ছিল। সুক্ষ্মভাবে প্রতিটি কার্টুনের নষ্টামির স্পষ্ট জবাব দেয়া সম্ভব। তা না করে মিছামিছি খন্ডযুদ্ধ করার কোন মানে নেই। কারণ তা হলে ওতে অসহিষ্ণুতার উদাহরণ তৈরী হয়। মুসলমানকে ধৈর্য্য ধারণ করতে শক্ত করেই বলা হয়েছে। বিনিময়ে তাদের জন্য অফুরান পাওনা জমা আছে। সবার উপর মানুষকে কুরআনে বলা হয় আশরাফুল মকলুকাত। মানে মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। আর এই শ্রেষ্ঠ জীবের স্বীকৃতি স্বরুপ মাথাটি তার প্রতিটি সুকর্মের প্রকৃত যোগানদাতা। তাই কাউকে নিয়ে মশকরা করার পূর্বে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার পূর্বে দরকার তার মূল ইতিহাসকে জানার। ঘটনার মূল গোড়াতে না পৌছে শুধু ডালপালা নিয়ে নাড়াচাড়া করলে ডাল ভেঙ্গে হাত পা ভাঙ্গার সমূহ সম্ভাবনাকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। তারা ইহকালে কোনদিনও সফল হতে পারবে না। ধৈর্য্য ও সবরের আয়াতটি হচ্ছে: “তারাই শ্রেষ্ট যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করছে ও পরষ্পরকে সততা অবলম্বনে উপদেশ দিচ্ছে এবং পরষ্পরকে ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দিচ্ছে” (সুরা আল আসরের ৩ আয়াত)। ধৈর্য্য ধরার মাধ্যমে জটিলকে মোকাবেলা করার আহবান জানিয়ে এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ।

নাজমা মোস্তফা,  ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫।

মুতার যুদ্ধ ময়দানের কঠিন যুদ্ধ: ধর্ম ব্যবসা নয়

ভারতের পৌত্তলিক সংস্পর্শে এসে তৃতীয় মোগল সম্রাট আকবর ইসলাম ধর্মটিকে বদলে দিয়ে একটি পৌত্তলিক ধর্ম করতে চেয়েছিলেন। ইতিহাসে প্রমাণ পাওয়া যায় সম্রাট আকবর ঐশী নির্দেশ ছাড়াই এগিয়েছিলেন ঐ কাজটি করতে। “দীন-এ-এলাহি” নামের এ অদভুত ধর্মের পয়গম্বর ছিলেন বাদশাহ আকবর স্বয়ং। “প্রতিদিন প্রত্যুষে তিনি সমগ্র বিশ্ব উজ্জীবনকারী পরমাত্মার প্রতীকরুপী সূর্যের পূজা করতেন। অপর পক্ষে তিনি নিজে স্বয়ং অগণিত মুঢ় নর নারী কর্তৃক পূজিত হতেন”। (ভারতের শিল্পকলা ১৪শ সংস্করণ দ্রষ্টব্য)। আকবর নামটি মুসলিম শোনালেও বাস্তবে তার রোজনামচাতে ইসলাম মনস্কতার পরিচয় মিলে নাই, তার সাক্ষী ইতিহাস। বায়তুল মোকারারমের খতিব প্রফেসর মাওলানা সালাহ উদ্দিন আহমদ সম্প্রতি জুম্মার খুতবায় এক অদভুত  ব্যাখ্যা দিয়েছেন যার সাথে ইতিহাসের মিল হয় না। শেখ মুজিবের নিহত পরিবারকে মুতা যুদ্ধের সাহাবীদের সাথে তুলনীয় করে তিনি দেখিয়েছেন। এতে তিনি সত্য ধর্ম ইসলামকে অনেক বিতর্কের সামনে নিয়ে গেছেন। 

মনে হচ্ছে মুতা যুদ্ধের মূলে তিনি না ঢুকে তিনি চাটুকারিতার উদাহরণ টেনেছেন। সম্রাট আকবরের শৈশব এমন কেটেছে যে প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের তার সুযোগ কম হয়েছে। আকবরের স্বেচ্ছাচারী শাসনে ভারতের মুসলমান সমাজ বাকরদ্ধ ছিল। ব্লকম্যানের আইনী আকবরী, ১ম খন্ডে এসব প্রমাণ পাওয়া যায় যে, সেদিন সেখানে বায়াতনামাতে স্বাক্ষর করেন সে সময়ের ১৮ জন ব্যক্তি, এ দলে একমাত্র বীরবল ছাড়া আর সবাই ছিলেন মুসলমান। বায়াতনামার উপসংহারে বলা হয়, যদি সম্রাট কোন বিধান জারি করেন এসব পালন করতে জনগণ বাধ্য। এটিও বলা হয় এসবের বিরোধিতা করলে পরকালে লানত ও ইহজীবনে সমাজচ্যুতি ও ধ্বংস দন্ড কার্যকর হবে। সেদিনও কুরআন গ্রন্থখানি ভারতের ময়দানে গৃহে সর্বত্রই ছিল। কুরআনকে অবজ্ঞা করে শাসক আকবর তার প্রতাপের জোরে এসব মিথ্যা সমাজে চালু করেন, ইতিহাস আজো তার সাক্ষ্য বয়ে বেড়াচ্ছে। সবযুগেই দেখা গেছে যখন শাসনদন্ড রুঢ় হয় কিছু মুসলমানকে এসব ক্ষেত্রেও কেনা যায় এবং সেদিনও এটি সম্ভব হয়েছে। এরা যুগে যুগে এভাবে কুশাসকের অপকর্মের সামনে মাথা নত করে দিয়েছে। তারপরও সত্যকে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে দেখা গেছে। এর কারণ হচ্ছে সত্য ধর্মের মূল দায়িত্ব এমন এক সত্ত্বার হাতে নিয়োজিত, যাকে নির্মূল করা শত আকবরের পক্ষেও সম্ভব নয়।

‘মোহাম্মদ’ নামে আরবের এক সদ্য উত্থিত ছেলে নবুয়তী দাবী করছে আর ঈশ্বর যীশুকে মনুষ্য সন্তান বলে প্রচার করছে। এ ধৃষ্ঠতা অসহ্য, তাই রোমের খৃষ্টান শাসকরা গাটছড়া বাঁধছে বেশ দিন থেকে। মুতা যুদ্ধের গোড়ার ঘটনা এটি। এর মধ্যে পারস্য পদানত হয়েছে, বিশ্বে বেশ নাড়া পড়ে গেছে। এদিকে সিরিয়ার ‘মাআন’ প্রদেশের এক খৃষ্টান গভর্ণর তার ব্যক্তিগত অনুসন্ধানে দৃঢ়তার সাথে নবী মোহাম্মদ(সঃ)কে যীশুর পরবর্তী আগত ঈশ্বর প্রেরিত ঐশী শক্তি বলে মেনে নিয়েই সত্য ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করে তা পত্রপাঠে নবী মোহাম্মদ (সঃ)কে জানিয়েছেন। ঐ গভর্ণরকে ক্রুশে চড়ানো হয়, তারপরও তিনি সত্য থেকে বিচ্যুত হতে রাজি হন নি। উইলিয়াম মূরের লেখনীতে খৃষ্টান শাসনকর্তাকে দেয়া ঐ গভর্নরের বক্তব্য পাওয়া যায়, “আমি মোহাম্মদের ধর্ম কখনোই ত্যাগ করবো না। আপনি ভালভাবেই জানেন, অতীতে যীশু তার বাণীতে, এর আগমনেরই ভবিষ্যদ্বানী প্রচার করে গেছেন। কিন্তু সম্রাট! সাম্রাজ্যের মায়াজালেই আপনি আজ সত্যকে অস্বীকার করছেন।” ঘটনার ধারাবাহিকতায় তাকে ক্রুশে বিদ্ধ করা হয়। হাজার হাজার দর্শকের সামনে তিনি হাসিমুখে ক্রুশবিদ্ধ হন। ঘটনাটি বিরোধী পক্ষের জন্য খুব সুখকর ছিল না। আসন্ন মৃত্যুকেও এরা সত্যানুসারীরা পরোয়া করে না। দেখা যায় এরা পরাধীন ধর্মের শিকল পরা থেকে এমন মৃতবৎ বাঁচার চেয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করাই শ্রেয় মনে করে। সেদিন ক্রুশের মরণ তার নতুন জীবনের বিজয়ের দ্বার হয়ে উঠে। যীশুর প্রকৃত অনুসারী, এ গভর্নর নাকি ঐ ক্ষমতালোভী রোম সম্রাট; সেটি পাঠকই বিবেচনা করুন।

প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ সাঃ Part 02, মুতার যুদ্ধ

 

 

হুদায়বিয়ার সন্ধির পর ইসলামের ডাক চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, দিকে দিকে সবার কাছে দূত মারফতে নবীর পক্ষ থেকে পত্রও পাঠানো হয়। এরকম সময়ে ‘ওমের’ নামের এক পত্রবাহক সাহাবীদূত মুতা নামক স্থানে পৌঁছলে এক খৃষ্টান দর্পধারী কর্মচারী ‘শোরাহবিল’ তাকে হত্যা করে ফেলে। যার সফল পরিণতি ছিল যুদ্ধ। এটি মক্কা বিজয়েরও আগের ঘটনা। খৃষ্টানশক্তি সেদিন মুসলিমদেরকে চিরতরে নির্মুল করে দিতে ছিল বদ্ধপরিকর। এমন সঙ্গিন সময়ে অগোছালো অবস্থায়ও সেদিন তিনজন সেনাপতি পর পর নিহত হন। তিনজনকেই নবী নির্বাচন করে দেন। এবং চার নাম্বার জনকে প্রয়োজনে তাদের নিজেদের মাঝ থেকে নির্বাচিত করার ভার দেয়া হয়। এটি একটি সহজ যুদ্ধ ছিল না। একটি নব্য উঠতি শক্তি প্রবল প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষিত লক্ষ লক্ষ সৈন্যের মোকাবেলার জন্য মোটেও যথেষ্ঠ ছিল না, প্রস্তুতও ছিল না। তাদের গোটা খৃষ্টান সমাজ সেদিন এক ছায়াতলে এসে হামলে পড়ে মুসলিমের উপর প্রবল পরাক্রমে। মুসলিমরা ছিল মাত্র তিন হাজার, অপর পিঠে খৃষ্টানেরা এক লক্ষ (৩৩ গুণের বেশী) শিক্ষিত ও সুসজ্জিত সৈন্যের সহিত এ লড়াই । প্রবল পরাক্রমে পর পর তিন সেনাপতি নিহত হবার পর মুসলমানদের মাঝে কিছু বিপর্যয় দেখা দেয়। অগত্যা এক সৈনিক বীরবর এগিয়ে আসেন এবং বিপর্যস্ত যুদ্ধে হেলে পড়া নবীর পতাকা তুলে ধরেন। সেদিন তার ডাকে ঐ ময়দানেই খালেদ বিন ওয়ালিদকে চতুর্থ সেনাপতি নির্বাচন করা হয়। ইত্যবসরে নবী (সঃ) তিনজন সেনাপতি নিহতের খবর অবগত হয়ে মদীনা থেকে পুনরায় দলবল নিয়ে যুদ্ধে যোগ দেন। আল্লাহর ও নবীর মর্যাদা রক্ষার্থে আরবের প্রতিটি সমর্থ ব্যক্তি সেদিন যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। নতুন সেনাপতি খালেদ ও তার অপরিসীম রণচাতুর্য্য ও সত্যধর্মের সৎ নেতৃত্ব তাকে বিজয়ের দ্বারে নিয়ে যায়। খৃষ্টানরা যুদ্ধ থেকে পলায়ন করে, তারা পরাজিত হয়।

দীর্ঘ এক সপ্তাহকাল যুদ্ধ চলে (হালবী ৩-৬৬ প্রভৃতি সূত্র)। খালেদের হাতে পর পর আটটি তরবারী ভেঙ্গে চুরমার হয় এবং নয় নম্বর তরবারীতে যুদ্ধ সমাপ্ত হয়। এ ঘটনা স্বয়ং খালেদের বর্ণিত বিবরণে পাওয়া যায় (বোখারী, মুতা সমর)।  খালেদ সেনাপতি হওয়ার পর আল্লাহ সে কঠিন যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় দান করেন। কথাকয়টি স্বয়ং রসুলের মুখনিঃসৃত বাণী (হালবী ৩-৬৭) থেকে জানা যায়। এ যুদ্ধে খৃষ্টানদের থেকে মুসলিমরা অনেক যুদ্ধলব্ধ সম্পদ লাভ করে। (ফৎহুলবারী ৭-৩৬১ এবং হালবী ৩-৬৮)। উপস্থিত খতিব সালাহ উদ্দিন ধর্মকে পাশ কেটে যে ধর্ম ব্যবসা করছেন এতে সত্য ধর্মের অমর্যাদা হয়েছে। একবিংশ শতকে বসে তিনি সংকীর্ণ অর্থে বিকৃত প্রচারে ধর্ম ব্যবসাতে নেমেছেন। তিনি বলছেন এরা তিনজন নিরপরাধ ছিলেন, মনে হচ্ছে তারপরও তাদের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ ছিল। এরা ছিলেন সত্যধর্ম প্রচারে প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত শেষনবী হযরত মোহাম্মদ কর্তৃক নির্বাচিত যুদ্ধের তিন সেনাপতি। তিনজনই সেনাপতি, আমীর বা নেতা ছিলেন, প্রথম জন ইতিহাসে চিহ্নিত কৃতদাস জায়েদ, দ্বিতীয় জন ছিলেন জাফর ইবন আবুতালিব (হযরত আলীর ভাই), তৃতীয় জন ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবন রওয়াহা। শেখ মুজিবের ও তার পরিবারের মৃত্যু অনেক বিতর্ক জমা করেছে। এসব জটিল বিষয়কে একচোখা নীতিতে বিচার বিশ্লেষণ করলে সত্য ধর্মকে ছোট করা হয়। এসব বেফাঁস কথার জন্য বিধাতার বিচারেও ধিকৃত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। স্রষ্টাই শ্রেষ্ঠ বিচারক। যে বা যারা জাতির সাথে প্রতারণার খেলা খেলবে এদেরে বিধাতাও ছেড়ে দিবে না। সম্রাট আকবর বলে তারও মুক্তি সহজ হবার কথা নয়। আর খতিব সালাহ উদ্দিন কি নিজের জমা বাড়াচ্ছেন না?

 যশোরের শ্রী জাহিদ থেকে কেন কীভাবে মোঃ জাহিদুল ইসলাম

 

দুঃখজনক হলেও সত্য কথা, বর্তমান সময়ে ও অতীতে কখনো মদীনার সনদের নামে বাংলাদেশে যা ঘটছে তার অনেক কিছুই ইসলামের সাথে চরমভাবে সাংঘর্ষিক। শেখ মুজিবের বা তার পরিবারের মৃত্যু অস্বাভাবিক ছিল, তারপরও তা বিতর্কের উর্ধ্বে নয়। এসব সবারই জানা। সম্রাট আকবরের পক্ষে অতীতে অমর্ত্যসেনও ওকালতি করেছেন তার “আরগুমেন্টেটিভ ইন্ডিয়ান” বইএ মুসলমানদেরকে নিয়ে বাড়তি কিছু চিন্তা করে তাদেরে আকবরের ধর্ম গ্রহণের ডাক দিয়েছেন। অমর্ত্য সেন হয়তো সেখানে ইসলামের স্বার্থ থেকে তার নিজ সংস্কৃতির^ স্বার্থকে বড় করে দেখেছেন, কিন্তু ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশের খতিবেরও ধর্ম সম্বন্ধে এমন ঘোলাটে অস্বচ্ছ ধারণা মেনে নেয়া কষ্টকর। জাতীয় খতিবকে ইসলামের সেবক হতে হয়, তা যদি না হয়, সংকীর্ণ চাটুকারীতায় নিমজ্জিত ব্যক্তি শুধু ইসলামের নয়, বরং দেশ জাতি সমাজ ও বিশ্বের জন্য বিপদজনক। ইসলাম এসেছে মানুষকে মুক্ত করতে নির্মল করতে, খতিবের মত মানুষকে ধর্মের মিথ্যা মায়াডোরে বাঁধতে নয়। “তারা আল্লাহর আয়াতকে স্বল্প মূল্যে বিনিময় করে, তাই তারা (লোককে) তাঁর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে। নিঃসন্দেহ জঘন্য যা তারা করে যাচ্ছে! (সুরা আল-বারাআতএর ৯ আয়াত)। অল্প মূল্যে বিক্রি হওয়ার ঘটনা আল্লাহর জানা, তাই ওসব আয়াত কুরআনের অংশ হয়েছে। কুরআন বলে, “আর বলো, ‘সত্য সমাগত এসেই গেছে আর মিথ্যা অন্তর্ধান করেছে। নিশ্চয় মিথ্যা তো সদা অন্তর্ধানশীল থাকে” (সুরা বনী ইসলাইলএর ৮১ আয়াত)। এদের কারণেই আজো মিথ্যা অন্তর্ধাণশীল না হয়ে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্ঠায় আছে। নবীদের কাজ শেষ, এ ব্যাপারে বর্তমানের ভবিষ্যতের সচেতনকে, মুক্ত চিন্তার মানুষকে, প্রকৃত ধার্মিককে জাগতে হবে; এ জাগার বিকল্প নেই।

Documents show 2002 Gujarat riots were not sudden

নাজমা মোস্তফা,  ১৫ই আগষ্ট ২০১৪সাল।

(লেখাটি নিউইয়র্ক ভিত্তিক ঠিকানা ছাপিয়েছে ২০১৪ সালের নভেম্বরের ২৪তারিখে)।

নষ্টের সীমা তসলিমা

নাজমা মোস্তফা

 

তসলিমা নামটি তোমার শতমুখে শতবার তসলিম জানায়,

কাজটি তোমার দিশাহীন জাতির প্রজন্মকে পাপ পথ দেখায়।

নষ্টের নেতা সেজে, মিছিলের মোড়ে তুমি সবার আগায়।

সভ্যতার পঁচা লাশের গন্ধে ভারি আজকের মানবতা,

সেই ডোমখানার মিছিলের মোড়ে তুমি নষ্টের নেতা।

নারীর মুক্তি  খুঁজছো সত্যি, তুমি এক রাজনীতিক,

নারীকে কখনো করছো রাণী কখনো করছো বেশ্যার খণি,

কখনো কাঁদছো চোখে নিয়ে জল,

কখনো ফেলেছ পাপের চিতায়, হেসে উঠেছো হাসি খল খল,

ছলাকলা বলা করছ সকল, এই কি তোমার ছল?

পেশা ছিল ডাক্তার, পায় নি কো কোন নারী কোন সেবা, কোন সুখ তার,

কোন মা হাসে নি, কোন শিশু বাঁচে নি, দেশে দেশে ছুটে যাও, এই করি ছল ।

নষ্টের লিস্টে নাম লেখো হৃষ্টে, পেপারের প্রথমে লিখে যাও তসলিমার কলাম।

যাই লেখো ছাঁই পাশ, ভালমন্দ কিছু থাকে, মন্দের গন্ধে

হেসে উঠে নষ্টেরা, মনের মন্দিরে মল্লার বাজায়।

ভালোদের ঘাটতি, সভ্যতার কাটতি

ক্লিনটনই তোমাদের টন টন প্রাপ্তি;

তোমরাই দলে ভারী এরশাদ, ক্লিনটন

কুটি কুটি কুর্ণিশ করিও অহর্নিশ।

সভ্যতা গুমরি কাঁদে, নারীদেরে নিয়ে তুমি নরক সাজাও,

নরকের কীট সেজে মনের সুখে তুমি মৃদঙ্গ বাজাও।

নারীর শ্রেষ্ঠ রূপ, হতভাগী তুমি দেখলে না কোন কালে,

যে রূপে ধন্যা ছিলেন তোমার মা, যেদিন তুমি জন্মেছিলে,

হতে পারে কষ্টে ছিলেন অবশিষ্টে যখন তুমি হলে উচ্ছিষ্টে।

 

কুরআনের অনেক পার্থক্য, দেখে তুমি ভাবছ; সার্থকও,

কুরআন, সে তো আরবী গাথা, অমৃত বাণী; নয় উপকথা।

তুমি যা সাজিয়েছ সব বানানো বুনট কাহিনী।

তোমার সব তথ্য, মূলানুগ আরবীর নয় কো তা পথ্য।

পৃথিবীতে ভাল কিছু করার অনেক বিরান ভূমি পড়ে আছে,

হতাশায় ভরা গোটা বিশ্ব আজ নিঃস্ব হয়ে বিলাপ করছে,

আর তুমি তসলিমা হতে চাও প্রথমা,

নষ্টের নেতা সেজে সাজাতে চাও, সেরা সিলেবাস।

 

ফেরাউন, কারূণ, আজর, লাহাব, সাদ্দাদ কত,

মিশে আছে শত শত,সবাই তাদের জানে ইতিহাস,

রেখেছে তাদের যতনে বুকের পাটাতনে;

কুখ্যাত নটোরিয়াস তারা তোমার পূর্বপুরুষ, তোমার ওস্তাদ।

কৈশোর যৌবন পার হয়ে আসা আজতক্,

ওদের চলার পথ তোমারই রাজপথ।

জেনে নিও পাপ পরিতাপ, কতটুক ছিল তাদের বিলাস,

ছোট্ট এ জীবনের অনেক প্রাপ্তি অনেক অভিলাষ।

ঘোড়ার ডিম দেখো নি তুমি?

শেষকালে তাই পাওনা তোমার, যাকে বলে অশ্বডিম্ব

যদিও ভাবছো তুমি, তোমার পিছে আছে গোটা বিশ্ব;

তোমার জন্য মায়া হয়, তুমি বড় হতভাগি, নিঃস্ব।

 

গোড়ার কথা: বিগত শতকের শেষ প্রহরে লেখা কবিতাটি।

দোররা

অতি সম্প্রতি প্রতিটি বিবেকের দরজায় কড়া নেড়ে গেল কিশোরী হেনা। এসব বেশকিছু ভুলভাবে উপস্থাপিত ইস্যু মুসলমান সমাজের মেয়েদের বিপদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে বার বার। ফতোয়ার নামে কিছু অসচেতন ব্যক্তি ধর্মের নামে যা করছেন তা রীতিমত অধর্মের পর্যায়ে পড়ছে। আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুরুষ পক্ষ দায়ী হলেও শাস্তির ভাগ বর্তায় শতভাগ মেয়ের ওপর। অনেক প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন, এরা চলনে-বলনে সাধারণ মোল্লা-মুনসীর পর্যায়েও পড়ে না। যাই হোক, গ্রামের মাতব্বর সেজে তারা দাবি করছেন, তারা ধর্মের মালিক-মোক্তার। দেখা যায়, একজন নির্যাতিত মেয়ে একাধারে সমাজের অসত্ প্রকৃতির লোকের দ্বারা একবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সমাজের ফতোয়াবাজদের দ্বারা দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি বহুদিন থেকে হচ্ছে, হয়েছে, হয়তো আরও হবে। এখানে এ মেয়েটিকে যে দুটি পক্ষই নির্যাতন করছে, আমরা যারা মুসলামান তারা জানছি এবং মানছি যে তাদের দুজনার শাস্তিই ইহকালে না হলেও পরকালে তা অবধারিত। আর ইহকালীন কোর্টেও তাদের জন্য উপযুক্ত শাস্তির বিধান রাখা উচিত। কিন্তু দেখা যায়, অনেক সময় বিচারের নামে হয় কিছু প্রহসন।

যারা এসব ফতোয়া বিলি করছেন তারা যদি সঠিক বিষয়টি বুঝতেন তবে তারা সত্যিই ভয় পেতেন। তারা বুঝতে পারেন না বলে ভয়ও পান না। দেখা যায়, সূরা নিসায় শুধু অভিযোগকারীদের চারজন সাক্ষী উপস্থিত করার আদেশ দেয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে সূরা নূরে বলা হচ্ছে যে, ‘অভিযোগকারী যদি চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী দ্বারা নিজের অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণিত করতে না পারে, তবে প্রত্যেক অভিযোগকারীর প্রতি ৮০ দোররার দণ্ড বিধান করতে হবে। অধিকন্তু কোনো বিচার ক্ষেত্রে এসব অভিযোগকারীর সাক্ষ্য কস্মিনকালেও গৃহীত হতে পারবে না, তওবা না করা পর্যন্ত।’ আল্লাহর উপরোক্ত নির্দেশ যারা মান্য করবে না এবং পাশ কাটিয়ে মনগড়া ব্যাখ্যা দেবে তাদের শাস্তি অবধারিত, শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। যেখানে মিথ্যা অভিযোগকারীর জন্য শাস্তির বিধান দেয়া হয়েছে, সেখানে মিথ্যা বিচারকেরও শাস্তি কি কম হবে বলে মনে হয়? এরা প্রকারান্তরে ধর্মের নামে কোরআনকে পাশ কাটিয়ে কোরআনের অবমাননা করছেন, প্রকৃতই অধর্মের কাজ করছেন।

দুঃখের বিষয় হচ্ছে, অপরাধ নির্মূলকারীরাই বাড়তি অপরাধ করছেন। বস্তুত তারা যে এ ব্যাপারে কত অজ্ঞ, প্রকৃত ধর্ম থেকে কত দূরে অবস্থান করছেন সেটি তারা বুঝতে পারলে মঙ্গল। সেটি তারা একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই বুঝতে পারতেন। তারা এ যাবত ধর্মটি জপতেই ব্যস্ত থেকেছেন। বেশ আগে নূরজাহানের ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে সিলেটের ছাতকছড়াতে এরকম বীভত্স একটি অঘটন ঘটে, যেটি খুব প্রচারে আসে। আবার প্রায় সময়ই বাংলা পত্রিকায় নারী নির্যাতনের নানা ধরনের খবর দৃষ্টিগোচর হয়। বিগত শতকের শেষভাগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র এসব অপকর্মের ওপর সেঞ্চুরি করার সাহস দেখায়। যথার্থই মেধা বিকাশের কী অপরিসীম ধৃষ্ঠতা! বস্তুত সমাজের প্রতিটি সাধারণ মানুষেরই এর ওপর স্বচ্ছ ধারণা থাকা দরকার, এর ধর্মীয় প্রকৃত নির্দেশনাও তার জানা দরকার। বস্তুত এ ধর্মটি সব ব্যাপারে স্বচ্ছতা নিয়েই গর্বের সঙ্গে টিকে আছে ১৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা তার প্রচারিত গ্রন্থেই বর্তমান। এটির সমাধানে পৌঁছতে কোনো সময়ই একজন প্রকৃত ধর্মধারীর বেগ পাওয়ার কথা নয়। কারণ প্রতিটি ঘরেই কোরআন গ্রন্থের কপি বর্তমান। যে কেউ সেটি পরখ করে যাচাই করে নিতেও পারেন। কোরআন ধর্মগ্রন্থটি এসেছে মানুষের চলার সরল-সঠিকের দিকদর্শন নিয়ে, কিন্তু এর চর্চা সঠিক না হওয়াতে সমাজে অনেক অনাচার এসে ঠাঁই করেছে মহা আয়েশে। আমরা একে চরম মমতায় বস্তনীতে বেঁধে তাকিয়ার অনেক উপরে রেখে পালিয়ে বাঁচি। মানুষ বিস্তর লেখাপড়া করলেও এর প্রকৃত সূত্র সঠিকতা থেকে দূরে থেকেছে বহু বেশি। একমাত্র শুধু তোতাপাখির মতো না বুঝে জপতেই ব্যস্ত থেকেছি। বরং সেটিকে আত্মায়-অন্তরে ধারণ করতে হবে, সর্বোপরি সেটি পালন করতে হবে। সেটিই ধর্মের সঠিক নির্দেশনা, পালন করতে হলে তাকে বোধের ভেতরে ঠাঁই দিতে হবে। ধর্মের এ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটিকে বলতে গেলে সমাজে পিছিয়েপড়া এক গোত্রের লোকসংখ্যার হাতে তুলে দিয়ে শিক্ষিত জনেরা শুধু ধর্মের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেই ব্যস্ত। মায়ের সবচেয়ে অপদার্থ ছেলেটিকে মাদ্রাসার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। মানুষ যা ধারণ করে সেটিই তার ধর্ম। সে যদি মাদ্রাসায় না পড়ে তবে সে ধর্মের তেমন কিছুই জানে না। এটি কেন হচ্ছে? বাংলাদেশের অনেক পরিবারই আছে, ধর্মের কোনো ধারও ধারে না, শুধু নামে মুসলমান। বাল্যকালে আমার এক স্যারের ভাষাতে এরা হচ্ছে গরু খাওয়া মুসলমান। ঈদের সদায় নিয়ে ব্যস্ত, যদিও ব্যক্তিগত পর্যায়ে রোজার কোনো গুরুত্বই সে জানে না। তাদের ছেলেপেলেরা ধর্মের কোনো খবরই জানার সুযোগ পায় না।

বিশ্বাস কি জিনিস সুবহানআল্লাহ এত সুন্দর উদাহারন By Dr Zakir Naik

 

আমরা পরিপূর্ণ ধর্মের আগমনের ১৪০০ বছরের বেশ পরও নিজেরা গাফেল বলেই মনে হচ্ছে ধর্মের গোড়াতে ঢুকতে পেরেছি যথেষ্ট কম। আমাদের প্রকৃত সিলেবাসই কোরআন। আমরা সব সময়ই যত জপি তত কিন্তু পালন করি না। এটি যেন জপলেই শেষ। পালন করার গরজ কম। কিন্তু সেটিই হওয়ার কথা ছিল বেশি। আমরা বিজয় গর্বে সবাই বলি, আমরা ইমাম আবু হানিফার অনুসারী। কিন্তু কেউই বলতে পারব না আবু হানিফা কে ছিলেন, কী ছিলেন, কী করতেন। বস্তুত আমাদের পূর্বপুরুষেরা তার কাছেই বেশি যুক্তির মাপ পেয়েছিলেন বলেই ধারণা হয়, মুসলিম জগতের বড় গোষ্ঠী মানুষই তার অনুসারী। কিন্তু তার প্রকৃত অনুসরণটিও আজ প্রশ্নবিদ্ধ। অতীতে তাকেও ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার কসরত করা হয়েছে, ইতিহাস তাই বলে।

তথাকথিত শাসকবর্গের প্রতাপের আড়ালে সঠিকভাবে বিচারকার্য করতে পারবেন না বলে ইমাম আবু হানিফা বিচারকের পদ নিতেও রাজি ছিলেন না। এই সাধু ব্যক্তি সব সময়ই শাসকবর্গের ঘৃণার শিকার হয়েছেন, এর কারণ তিনি তাদের সহযোগিতা দেননি। কারণ তারা এটি ভালো করেই আঁচ করতে পারে যে এ ব্যক্তি এ সমাজের সম্মানিত একজন। সবাই তাকে সমীহ করে এবং মানে। তার কথার মূল্য তাদের শাসকবর্গের চেয়ে বেশি ছিল বলেই তারা তাকে কিনতে চেয়েছিল। কিন্তু এ কাজটি সে সময়কার শাসকেরা করতে সমর্থ হয়নি। এ মূল্যবান ব্যক্তিটিকে কখনোই চড়া দামেও কেনা যায়নি। এটিই ছিল তার অপরাধ। সব সময়ই একজন উলেমাকে ইমামকে শাসকেরা অল্প দামে কিনে নিয়েছে এবং তাদের ফর্মা মত ধর্ম সাজিয়ে প্রচার করতে বাধ্য করেছে। কিন্তু ইমাম আবু হানিফার বেলায় মোটেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বলেই তাদের আক্রোশের ও ক্ষোভের শেষ ছিল না। তার জীবনীগ্রন্থে এসব ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে।

এরাই ইসলামের সত্য সাধক। এরা বিচারকের পদ পেয়েও ভয় পেয়েছেন এ কারণে যে, শাসকবর্গের শোষণ-নীতির কারণে তারা সুষ্ঠু বিচার করতে পারবেন না। এই ভয়েই এত বড় পদ পেয়েও একে অবহেলায় দূরে ঠেলে দিয়েছেন। আর আমাদের ফতোয়াবাজরা দেখা যায় এসব মিছে কোরআনবিরোধী কাজ করতেও ভয় পাচ্ছেন না। অনাচারকে লালন-পালন করতে এখানে কেউই ভয় পাচ্ছে না। দেখা যায়, দুবার দু’রকম রিপোর্ট আসে ময়নাতদন্তে। এমন ধারার ময়নাতদন্তের দরকারই বা কী? যারা এসব কাজ করছে এদের জন্য কঠোর শিক্ষণীয় শাস্তির দরকার, যাতে আর কোনো মানুষের জীবন নিয়ে এরা ছিনিমিনি খেলতে না পারে। সম্প্রতি একটি খবরে দেখলাম, ‘মৌলভীবাজারে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ : জন্মদিন পালনের চাঁদা না পেয়ে মিথ্যা হিল্লা বিয়ের ফতোয়াবাজির মামলা সাজানো হয়।’ ভুলে গেলে চলবে না, শয়তান তার অপকর্মের থাবা মানুষের মাধ্যমেই চালায়। কীভাবে বহুরূপী শয়তান সব ক্ষেত্রেই তার মাথাটি ঠিকই ঢুকাতে পারছে, এসবই তার প্রামাণ্য উদাহরণ। এর সূত্র ধরে আর একটি বিধান পাথর মারা, যা মূলত ইসলাম ধর্মের কোনো বিধানই নয়। পবিত্র কোরআনের কোথাও এমন ধারার কোনো শাস্তির বিধান নেই। তাও দেখা গেছে বার বার এ ধর্মের মানুষকে আহত করছে। নিচের বর্ণনাতে এর ওপর কিছু আলোকপাত করছি।

পাথর মারার বিধান মুসলমানের নয়, এটি ইহুদিদের বিধান :
ঘটনার স্বচ্ছতার জন্য আমি কিছু অতীতের দিকে ফিরে যাচ্ছি। ১২ নভেম্বর ২০০২ সালে ‘ঐ ধর্ষণকারী এখন কোথায়?’ শিরোনামের একটি লেখা পত্রিকায় ছাপা হয় যেখানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রটির সন্ধানই ছিল ইঙ্গিতের বিষয়। এর জবাবে সৈয়দ হাম্মাদ মহাখালী, ঢাকা থেকে ‘ঘটনায় কিছু ভুল ছিল’ নামে হজরত ওমরের ছেলের তথ্যের ওপর একটি লেখা ছাপে ২৬ নভেম্বর তারিখের যাযাদি সংখ্যায়। লেখকের হজরত ওমরের এ তথ্যের ওপর এবং ‘ইসলামে অপরাধের মাত্রা পাথর মারার বিধান কী পুরুষ কী নারীদের জন্য নির্ধারণ করা’ বলে যা প্রচার করেন, তার ওপরও আমি দুটি কথা বলতে চেয়ে লেখাটি সে সময় যাযাদিতে পাঠিয়েছি যদিও সেটি আর পরে ছাপেনি। সেখান থেকে এখানে কিছু সংযোজন করছি।

ফতোয়ার নামে অনেকে অনেক অনাচার ইসলামের নামে করেছেন, এই কিছুদিন আগেও যা নিয়ে আমাদের দেশে অনেক তোলপাড় হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে অনেকেই কোরআনের তোয়াক্কা না করে অনেক বানোয়াট কথাকে ইসলামের নামে চালিয়ে দিয়ে অনাচার লালন করে বেড়াচ্ছেন। আর এ ব্যর্থতার দায় আমাদের নিজেদের গবেষণাহীনতা, কোরআনজ্ঞানহীনতা, বিজ্ঞানহীনতা, যুক্তিহীনতা ও বিবেকহীনতা। সর্বোপরি বিশ্বধর্মের দাবিদার সুমহান ধর্মের মাধুর্যকে মর্যাদা দিতে আমাদের ফতোয়া বিলিকারী অনেকেই ব্যর্থ হয়েছেন।

সব পাপের বিচারকর্তা স্রষ্টা নিজেই। কিছু কিছু পাপের বিচারের বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে, আমাদের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থটিতে হারাম এবং হালালের নির্দেশ দেয়া আছে। এতে মদ, শূকর, মাদকদ্রব্য, রক্ত, জুয়া খেলা, আল্লাহ ছাড়া অন্য নামে যবেহকৃত জীব, জবেহবিহীন আঘাতপ্রাপ্ত মরা জীব এসব নিষিদ্ধ; এর জন্য কোনো শাস্তি আমার জানা নেই; ওসব হারাম, মুসলমান সে কারণে এটা থেকে সব সময় দূরে থাকেন, সেটাই বিধান। হজরত ওমরের ছেলেকে শাস্তি হিসেবে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল। শাস্তি দেখে আঁচ করা যায় তার পাপ কোনটা ছিল। স্মরণ করার বিষয়, তাকে কিন্তু পাথর মারা হয়নি। উপরে বর্ণিত বক্তার মতো যাদের এ ব্যাপারে পাথর মারার এই ভুল ধারণা বিদ্যমান, তাদের এই ধারণাকে স্বচ্ছ করে দিতে কোরআনের কয়টি আয়াত নিচে আনছি : (উল্লেখ্য, হজরত ওমরের ছেলে একই অপরাধে দোষী হওয়ায় বাবার হাতে বেত্রাঘাতেই তার মৃত্যু হয়)। কোরআনে নির্দিষ্ট করে দেয়া ব্যভিচারের শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত।

. ‘আর ব্যভিচারের ধারেকাছেও যেও না, নিঃসন্দেহে তা একটি অশ্লীলতা, আর এটি এক পাপের পথ’ (সূরা বনি ইসরাইলের ৩২ আয়াত)।  . ‘ব্যভিচারিণী ব্যভিচারী তাদের দুজনের প্রত্যেককে (গুনে গুনে) একশবেত্রাঘাতের চাবুক মার (অবশ্য পিঠে, পিঠের ছাল তোলার চেয়ে লোকের সামনে অবমাননা করার প্রতি অধিক জোর দেবে, তবে ইহুদিদের বিধান অনুযায়ী পাথর মেরে মেরে ফেলার কথা ভাববে না : ১৫) আর আল্লাহর বিধান পালনে তাদের প্রতি অনুকম্পা যেন তোমাদের পাকড়াও না করে, যদি তোমরা আল্লাহতে আখেরাতের দিনে (কর্মফল প্রাপ্তি সম্পর্কে) বিশ্বাস করো (তবে যদি কোনো সতী সাধ্বী ধর্ষিতা হয় তবে শাস্তি পাবে ধর্ষণকারী, নিরপরাধীদের ওপর শাস্তি বর্তাবে না) আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি দেখতে পায় (যাতে ধর্ষকরা ধরনের সমাজবিরোধী পাপাচারকে ভয় করে চলে, : ২৫)’ (সূরা আন নূরের আয়াত) উপরে তফসিরকারক ব্যাখ্যাতে এটি উল্লেখ করেছেন কিন্তু যদি কোনো তফসিরকারক সেটি সুস্পষ্ট নাও করেন এটি কমন সেন্সের ব্যাপার; যে নির্দোষ, তাকে একজন নির্যাতন করল, তাকে কেন শাস্তি পেতে হবে—এ সাধারণ বুদ্ধিটুকু যে খরচ করতে পারে না সে আবার বিচারক হয় কেমনে, ফতোয়া দেয়ার অধিকারী হয় কেমনে? আমাদের দেশের একজন অশিক্ষিত রিকশাচালককেও এ বিচারের ভার দিলে সেও এ ভুল করবে বলে মনে হয় না।

আবার সূরা নিসার ২৫ আয়াতে দেখা যায়, এদের দুজনকে প্রয়োজনে অল্প শাস্তি দেবে যদি তারা তওবা করে এবং সত্যিকার অনুতপ্ত হয়। তারপর বলা হচ্ছে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ বার বার ফেরেন, অসীম কৃপানিধান। উপরের দুটি আয়াতেই এটা স্পষ্ট যে, এদের শাস্তি কোরআনে যেভাবে বরাদ্দকৃত তা স্রষ্টা কর্তৃক নির্ধারিত, কারও মনগড়া ব্যাখ্যা এখানে অচল। ক’বছর আগের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অপরাধে সেঞ্চুরি করা ছাত্রের শাস্তি আরও বহুগুণ বেশি হতে পারে কারণ সে শুধু ধর্ষকই নয়, সে এটা দিয়ে সমাজে ধর্ষক সন্ত্রাসীর ধারা আনতে চেয়েছে, সে এসবের ওস্তাদ। স্রষ্টা তার সৃষ্টির প্রতি খুবই দয়ালু সন্দেহ নেই; কিন্তু (৩) সূরা নূরের ২ আয়াতে দেখা যায়, আল্লাহ খুব কঠোরভাবে বিচারকদের শর্তবদ্ধ করেই যেন বলছেন, যদি তোমরা শেষ বিচার মানো তবে ওদের প্রতি অনুকম্পা দেখাবে না, কিন্তু তারপরও দেখা যাচ্ছে ক্ষেত্রবিশেষে যদি তারা অনুতপ্ত হয় তবে তাদের জন্য অল্প শাস্তি রাখ। স্রষ্টার দেয়া এই অনুকম্পা না দেখানোর হুশিয়ারিই হজরত ওমরকে এত কঠোর করেছিল; স্রষ্টার সত্যিকারের সৈনিক হিসেবে তার দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল সবার জন্য সমান বিচারের দিকে। এটি মূল কোরআনীয় বিধান। কিছু হাদিস থেকে পাথর মারার বিধানকে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে। যে ধারার কোনো কথা কোরআনে নেই, সেটিকে হাদিস দ্বারা প্রমাণের কোনো সুযোগ নেই। কোরআনের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো কর্ম, আদেশ-নির্দেশ, উপদেশ কখনোই হাদিস হতে পারে না। হাদিস আমাদের দ্বিতীয় সূত্র গ্রন্থ। হাদিসকে সব সময় হতে হবে প্রথম গ্রন্থ কোরআনের সাহায্যকারী বিবরণ।

‘আমার দেশ’ পত্রিকার ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখের এক কলামে দেখি, নিকট অতীতের বেদনার এ ভার কমাতে কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন একটি বেশ বড় মাপের উপন্যাস তৈরি করছেন। সমাজকে সচেতন করতে এভাবে সাহিত্যিকরা যুগে যুগে কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয় সব সময়। দেখা যাচ্ছে এটি বিভিন্ন ভাষাতেও অনূদিত হতে যাচ্ছে। এর গভীরে ঢুকলেই যে কোনো সচেতনের বোঝা উচিত, মানুষ কী পরিমাণ পাষাণ হতে পারলে এ কাজটি করতে পারে। বস্তুত ঘটনাই বলে দেয়, মেয়েটি যে কী পরিমাণ নির্দোষ ছিল। হতভাগী নূরজাহানের প্রথম স্বামী নিরুদ্দেশ হয়ে গেলে মসজিদের কোনো এক প্রভাবশালী মৌলানা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু বাবা এই বয়স্ক লোকের সঙ্গে বিয়ে না দিয়ে তাকে মোতালেব নামের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেন। এ অপরাধে এ বিয়ে বৈধ নয় এ জিগির তুলে তাকে পাথর ছুড়ে মারা হয়। এতে করে নূরজাহানের নতুন স্বামীকেও দেয়া হয় একই শাস্তি। তার বাবাকে করা হয় বেত্রাঘাত। এ অপমান সইতে না পেরে সে রাতেই নূরজাহান আত্মহত্যা করে। ওই মাওলানা যদি সত্যিই এ মেয়েটিকে এরকম প্রস্তাব পাঠিয়ে থাকেন তবে তাকেও এরকম শাস্তির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এরকম একটি নির্দোষ মেয়েকে হত্যা করে তিনি যে কী অপরাধ করেছেন, নিচের আয়াতই তার ফলাফল নির্দেশ করে দেবে।

কোরআনে আল-মাইদাহ সূরার ৩২ আয়াতে দেখা যায়,  – একটি মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা যেন গোটা মানবজাতিকে হত্যা করার শামিল। আবার একটি মানুষকে রক্ষা করাও যেন গোটা মানবজাতিকে রক্ষা করার সমান কাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি ফতোয়াই দেখা যাচ্ছে অন্যায়ের ওপর দাঁড়িয়ে অপকর্মের সীমানা ডিঙ্গানোর অপরাধে অপরাধী। অনেক ধর্মধারী নিজেও জানেন না আসলে কোন বিধান সত্যিকারভাবে প্রযোজ্য। অনেকে মনে করে থাকেন, ধর্মের দায় যাদের ঘাড়ে চাপানো হয়েছে এর রায় শুধু তারাই দেবেন। এরকম একটি ধর্মের রায় যে কোনো সচেতন ব্যক্তিই দিতে পারেন, তবে অবশ্যই তাকে কিছুটা পরিপক্কতা অর্জন করতে হবে। যুগে যুগে দেখা গেছে ইমামরাও সঠিক দিকদর্শন না দিয়ে শাসক সম্প্রদায়ের চালের গুটি হয়ে কাজ করেছেন। বস্তুত ইসলাম সবচেয়ে সহজ-সরল ধর্ম। অতীতের ধর্মগুলো অনেকাংশে কঠিন বলেই এটিকে সহজ-সরল ধর্ম বলা হয়েছে। বাড়তি কিছু জটিলতা আমরা নিজেরাই যোগ করে নিয়েছি, নিজেরা অজ্ঞ বলেই। তাদের (ইহুদীদের) গ্রন্থে এ পাপের শাস্তি বরাদ্দ আছে পাথর মারা, কিন্তু কোরআনে সেরকম কোনো কথা নেই। আর আমাদের পরবর্তী অসচেতনরা দেখা গেছে অনেক কিছুই না বুঝে কখনো খৃষ্টানদের কখনো ইহুদিদের অনেক যুক্তি-কুযুক্তি ঢুকিয়ে দিয়েছেন নিজেদের পবিত্র অঙ্গনে। নবী ইব্রাহিম যখন তার বাবা আজরের অগ্নিপূজার ও মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন তখন বাপ তাকে কঠোর শাসানি দেন। তার শাসানির খবর আমরা জানতে পেরেছি তাদের গ্রন্থ থেকে নয়, আমাদের গ্রন্থ থেকেই।

সূরা মরিয়মের ৪৬ আয়াতে (১৯ : ৪৬) ইব্রাহিমের বাবা তাকে পাথর ছুড়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন। সে (আজর) বলল, “হে ইব্রাহিম, তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে বীতশ্রদ্ধ? তুমি যদি না থামো তবে তোমাকে আমি নিশ্চিত পাথর ছুড়ে মেরে ফেলব; আর তুমি আমার থেকে এই মুহূর্তে দূর হয়ে যাও’| এরকম শাস্তির বিধান সে সময়কার বিধান হলেও আধুনিক ইসলাম এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। নিজেরা সচেতন না থাকলে যে কোনো প্রহরে যে কোনো সংস্কার-কুসংস্কার, আচার-অনাচার পার্শ্ববর্তী সমাজ থেকে অনায়াসে এসে নিজেদের নির্মল পবিত্র অঙ্গন আচ্ছন্ন করতে পারে, এ ব্যাপারে আমাদেরে সচেতন থাকতে বার বার নবী মোহাম্মদ (সা.) তাগাদা দিয়ে গেছেন। কিন্তু পরবর্তীকালে এ তাগাদার মর্যাদা অনেকটাই বজায় রাখা হয়নি। রাখা যে হয়নি এসবই তার প্রকৃত প্রমাণ। খৃষ্টান ইহুদীয় বিধান এসে সুরসুর করে ইসলামের পবিত্র অঙ্গনে বেশ আয়েশে মানুষের বিশ্বাসে ঠাঁই করে নিয়েছে। সব ঝেড়ে-বেছে প্রকৃত সত্যটি নিয়ে অগ্রসর হোন। নিজের প্রকৃত ধর্মের প্রকৃতই মর্যাদা করুন। তাহলে কোনো সালমান রুশদি, কোনো তসলিমা নাসরিন মহাপবিত্র এ ধর্মের গোড়া ধরে নাড়া দেয়ার সাহস কোনোদিনও পাবে না।

এটি ছাপে দৈনিক আমারদেশ ০৩ মার্চ ২০১১ তারিখে।

Tag Cloud