Articles published in this site are copyright protected.

Archive for the ‘Politics and religion’ Category

দুর্গা পূজা সার্বজনীন নয় বরং পলাশীর কলঙ্ক

(আন্ডারলাইন করা ইটালিক : কোন লেখার বা ভিডিও লিংক ) 

নবী ইব্রাহিম জন্ম নেন মূর্তিপূজকের ঘরে এবং তার বাস্তবতার সাথে বেমানান মূর্তি পূজার অসারতা স্পষ্ট করণে মূর্তি ভাঙ্গার উদাহরণে তাকে ধর্মে ও ইতিহাসে জায়গা করে নিতে হয়। মূলতঃ তিনি মূর্তি ভেঙ্গেছিলেন তার স্বজনদের নির্বূদ্ধিতা ও মূর্তির অসারতা স্পষ্ট করতে। সে হিসাবে তার বাবা তার পরিবার সবদিন মূর্তিপূজক কিন্তু তিনি সেদিন থেকে আজও হানিফ নামধারী আত্মসমর্পিত মুসলিম। উভয় কুলের মাঝে দিন ও রাতের মতই বিস্তর পার্থক্য! এ দু’কুল যোজন যোজন দূরের দুই পারের বাসিন্দা। এ দুজনের জন্য কখনোই সার্বজনীন পূজা পালিত হয়নি বা ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ রচিতও হয়নি। কালের ধারাতে সংকীর্ণ বর্ণহিন্দুরা এমন অচ্ছুৎ নীতি অনুসরণ করে যে, ম্লেচ্ছ ( খোদ রবীন্দ্রনাথ তার সাহিত্যে এ নামে মুসলিমকে সম্মোধন করেছেন) মুসলিমের ছোঁয়া লাগলে ১০০% পূজা নষ্ট হয়, মুসলিমের ছোয়া লাগলে তাদের জাত যায়। বেশ দিন থেকে কিছু মুসলিম বেওকুফরা অতি উৎসাহের বশে প্রচার করছেন “ধর্ম যার যার উৎসব সবার”। মূর্তি পূজার কোন সংশ্রব ইসলামের সাথে কোন সময়ই মেলে নি, নবী ইব্রাহিমের সময় থেকেও না, নবী নূহের সময় থেকেও না। অসতর্ক অজ্ঞ মুসলিমদের অনেকেও এটি প্রচার করতে চাচ্ছেন যে, তাদের পূর্ব পুরুষরাও অসাম্প্রদায়িকভাবে পূজা পার্বনে যোগ দিতেন। এটি সম্পূর্ণ একটি মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ হিন্দুরা সবদিনই এতই ছুৎমার্গ ছিল যে কোন মুসলিম যোগ দিলে তাদের প্রায়শ্চিত্ত করতে হতো এবং তারা সব রসদ আয়োজন অবলীলায় ফেলে দিত। এসব আমরা হরহামেশা শুনেছি, দেখেছি, জেনেছি। নবী মোহাম্মদের সাথে কুরাইশের বিতন্ডার কারণ ছিল ঐ মূর্তি পূজা। “লাকুম দী নুকুম ওলইয়া দীন এর অর্থ এটি নয় যে “তোমার পূজা আমি করবো আর আমার পূজা তুমি করবে”। এ সুরাটি স্পষ্ট দুটি ভিন্ন ধর্মের ভিন্নতাকেই স্পষ্ট করে। যদিও অনেকে বালখিল্যতা দেখাতে গিয়ে অতি হিন্দুপ্রীতি কুরাইশ প্রীতি দেখাতে গিয়ে এসব কথাকে গুলিয়ে ফেলেন। নবীর স্পষ্ট কড়া সাবধানী নির্দেশ ছিল বিধর্মীরা যা করে তা কখনোই যেনো মুসলিমরা ফলো না করে। কিন্তু দেখা যায়, ছলে বলে কলে কৌশলে আজকের ময়দানে কিভাবে ঐসব ছলাকলাকে অনুসরণ করা যায় সেটিই মুসলমানকে গলা অবধি গেলানো হচ্ছে। আর এটি তারাই করছে যারা ধর্মের গন্ডিতে জন্ম গ্রহণ করলেও অজ্ঞতার মাঝে ডুবে আছে। ধর্ম তাদের অন্তরে যেমনি নেই, বাস্তবতায়ও সেটি অনুপস্থিত। মন ও মননে তারা কখনো অংশীবাদী কখনো ধর্মহীন। অনেক গবেষণাতে দেখা গেছে পৌত্তলিকতার কিছু সূত্র বিজ এসেছে ঐ আবর ভূমি থেকে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের হিন্দুদের এ পূজা আর নারীদেবতারা মূলতঃ কুরাইশের ময়দান থেকে আমদানী করা। তারা বলে সনাতন, কিন্তু ধর্মের ইতিহাসে আদমের সময় থেকে মানুষের যাত্রা শুরু, সুতরাং মানব ইতিহাসে আদমের আগে আর সনাতন আসার কোন সুযোগ নেই। আর এই দেবীদূর্গা তো মাত্র সেদিনের দেবতা। তার কোন সনাতন ইতিহাসও নেই। মুসলিমদের নবী রসুলকে কালের ধারাতে যুগে যুগে ধর্মের কোলে ঠাঁই দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার মুসলিম পরিচিতি মুছে ফেলা হয়েছে। যার জন্য মুসার অনুসারীরা ইহুদী, নবী ইসার অনুসারীরা খ্রীষ্টান নাম ধারণ করেছে। প্যালেস্টাইনের মুসলিমরা এককালে মুসার অনুসারী ছিল বা শেষ নবী আসার পর তারা ইসলামে জায়গা করে নেয়।  তবে আজকালকার ইহুদীরা সেমেটিক নয়, এরা নবী মুসার বিশুদ্ধ অনুসারী নয়, এটি বর্তমানে খোদ ইহুদীদের গবেষনা লব্ধ যুক্তিতেও প্রমাণিত। আমার ব্লগের লেখাতেও এর উপর একটি কলাম এসেছে (জায়নবাদী  ২৫ আগষ্ট ২০১৬) তারিখে। এতদ অঞ্চলে পৌত্তলিক ও মুসলিম আরবরা সওদাগরী করতে আসতো, মুসলিমরা মূলতঃ বাঁচার জন্য ব্যবসা করতো এবং ধর্ম প্রচারের জন্য দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়তো। এভাবে ধর্ম ও ব্যবসা সমান তালে আগায়, অতি অল্পদিনের মাঝে সারা বিশে^ ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে উলুধ্বনি দেয় হিন্দুরা। একই কায়দায় মক্কায় নেমাডিক আরবরা উলুধ্বনি দেয় এখনও। যে কোন আনন্দ উৎসবে তারা এটি ব্যবহার করে। শেষ নবীর সময়কার আরবদের লাত, উজ্জাহ ও মানাহ ছিল তাদের প্রধান তিন নারীদেবী, তারা বলতো আল্লাহর কন্যা। বাংলায় আজো বলা হয় কোন কিছু মানত করা – এটিও পৌত্তলিক কুরআইশ আরবদের দেবী মানতের স্মৃতি বহন করে। কৃত্তিবাস ওঝা আরবী দেবী ওজ্জার কীর্তির বর্ণনা করে গেছেন। কালের ধারায় দূর্গাপূজা শুধু মাত্র বাঙ্গালী হিন্দুর একটি বিশেষ পার্বন। ভারতেও বাঙ্গালী পাড়াতে এটি পালিত হতে দেখা যায়। বাল্মিকীর রামায়নে দূর্গার নাম গন্ধও নেই, কৃত্তিবাস ওঝা তার বাংলা তরজমায় রামচন্দ্রকে দূর্গার পদতলে জায়গা দিয়েছেন। সর্পদেবী মনসাও পৌত্তলিক আরবদেরই দেবী। ইসলামের আগে মক্কার কাবা মন্দিরে তিনশত ষাটটি মূর্তি পূজিত হত। এদের মাঝে মূর্তি ভঙ্গকারী নবী ইব্রহিমের মূর্তিও পূজিত হত। মনসা, দূর্গা স্বরস্বতী, লক্ষ্মী প্রভৃতি নামের দেবীর নামের অপভ্রংশ বাংলাদেশে যা প্রচলিত হয়ে আছে তা অনেক আরবী শব্দের সাথে মিল আছে।

আরবে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব হলে শেষ নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর হাতে পৌত্তলিক আরববাসী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। ঠিক তেমনি পরবর্তীতে বঙ্গদেশেও ইসলাম ধর্মের ছোয়া লাগলে পরে পৌত্তলিক হিন্দু বঙ্গবাসীদের অনেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম হন। আবার অনেকে ঐ প্রাচীনতাকে আকড়ে হিন্দু হিসাবে আজো টিকে আছে। উল্লেখ্য যে, বঙ্গবাসী মুসলিমদের ইসলামধর্ম যেমন আরব থেকে আগত, বঙ্গবাসী পৌত্তলিক হিন্দুদের পৌত্তলিকধর্মও তেমনি আরব হতে আগত। তাই জাতিগত হিসাবে এই দুই সম্প্রদায়ের মূলেই আরব দেশ ও আরব জাতি। স্মরনীয় বিষয় ইসলাম শুধু এই শেষ নবী নিয়ে আসেন নি। তারো বহু আগে এর পূর্ববর্তী নবীদের হাতেও চর্চিত হয়েছে এ একেশ^রবাদী ধর্ম।

উইকিপিডিয়ার সূত্রে পাওয়া দূর্গাপূজা: প্রথম এটি বৃটিশ ইন্ডিয়ার শুরুতে রাজা নবকৃষ্ণ দেব কলকাতার শোভাবাজার রাজবাড়ীতে  লর্ড ক্লাইভের সম্মানে পালন করেন ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দে। শারদীয় দূর্গাপূজা মূলত বৃটিশ বন্দনায় নবকৃষ্ণ কর্তৃক দেশ বিক্রির এক ঐতিহাসিক নজির চিহ্ন। বৃটিশ বন্দনা করতেই হিন্দু মিরজাফরদের একজন দেশ বিক্রিতে বৃটিশ ভাগ পাওয়া দোভাষী নবকৃষ্ণের হাতে এর প্রথম আয়োজন হয়। সেদিন কোন চার্চ বা গীর্জা না থাকাতে এটি ছিল ক্লাইভের সম্মানার্থে সংঘটিত হিন্দু আয়োজন। তাদের এর সার্বজনীনতা প্রচন্ডভাবে স্বাধীনতা হারানোয় কালিমাযুক্ত হয়ে ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছে। ব্রাহ্মণ হিন্দুরা ও জমিদার শ্রেণীর নিজস্ব আয়োজনে এসব হয়। সেখানে তাদের প্রধান অতিথী ছিল তথাকথিত বৃটিশ মনিবরা। “ক্লাইভের দুর্গোৎসব” নামে ১৯৯৭ সালের ৫ অক্টোবর আনন্দবাজার একটি রবিবাসরীয় কলাম ছাপে।

from-wikipedia-about-durgapuza

Source: Wikipedia,  Old painting of Durga Puja in Kolkata at Shobhabazar Rajbari.

নবকৃষ্ণের আয়োজনে বৃটিশ বন্দনার উদ্দেশ্যে মদ্যপান বাইজি নৃত্য ও গরুর মাংস ভক্ষণ ছিল ঐ দিনের পূজার রসদ। বড়দাগে এটি স্পষ্ট করছে কিভাবে অতীতে একটি গোষ্ঠী একটি জাতির পথহারার দেশ হারার পিছনে শক্ত দালালী ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু রাজ্যহারা অসাম্প্রদায়িক মুসলিমরা সেটি অবলীলায় এড়িয়ে গেছে। বরং তারা নিজেদের দালাল মিরজাফরকে যুগ যুগ ধরে একমাত্র অপরাধী  শিখন্ডী ধরে গালাগাল দিয়েই ক্ষান্ত থেকেছে। এটিও মুসলিমদের অসতর্কতার বড় নজির বহন করে চলেছে। নিজের পাগল সামলাতে ব্যস্ত বাংলাদেশের মুসলিমরা মনে করে ঘষেটি বেগম আর মিরজাফরই একমাত্র দোষী দালাল, কিন্তু প্রকৃত ষড়যন্ত্রীরা আজও অধরা। কিন্তু ইতিহাস তা ভুলেনি , তা বুকে চেপে ধরে আছে শক্তভাবে বড়দাগ দিয়ে রেখেছে, এর নাম শারদীয় দূর্গাপূজা। গোলাম আহমদ মোর্তজার গবেষনাধর্মী লেখাকে দাবিয়ে রাখতে ভারতের চেষ্টা বহুযুগ থেকে চলছে, আজও সে দেশে তা প্রকাশে অবারিত নয় বলেই জানি। বঙ্কিমও এ ইংরেজ বন্দনার কথা স্বীকার করেছেন যে এটি ক্লাইভের সময়ের সৃষ্ট এক ইংরেজীয় কারসাজি। বিগত শেষ দশকে বাংলাদেশের ‘গায়ে হলুদে’র অনুষ্ঠানে এক রসিক মন্তব্য ছুড়েছিলেন, অনুষ্ঠানের মাংসটা কি হবে পাঠার? ঠিক একইভাবে বঙ্কিমের আগাম মন্তব্য ছিল ভবিষ্যতে দূুর্গাপূজার মন্ত্রও ইংরেজীতে হবে। (তথ্যসূত্র – এ এক অন্য ইতিহাস – গোলাম আহমদ মোর্তজা, বিশ^বঙ্গীয় প্রকাশন, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৩২-৩৪)।

ইসলামই ধর্মের সঙ্গতি মূলভিত্তি: উদারতার অভাবে প্রকাশ না করলেও অনেক হিন্দুরা এটিও জানেন যে, মৃত্যুর সময় মৃত্যুপথযাত্রীকে ব্রাহ্মণ যে মন্ত্র পাঠ করান, সেটি ইসলামের কলেমার অংশ। আমার কর্তার এক ছাত্র হিন্দু ব্রাহ্মণের ছেলের নিজ মুখ থেকে শোনা শ্লোকটুকুন “লা ইলহা হরতি পাপাম, ইল্লা ইল্লাহা পরম পাপাম, জন্ম বৈকুন্ঠ পার অউপ ইনুতি, জপি নমো মোহাম্মদম” (উত্তরায়ণ বেদ ৫ম চ্যাপ্টার)। সনাতনের  সঙ্গতি খুঁজতে এটুকু আনলাম। পাঠকের চিন্তার দরজা খুলে দিতে কিছু সূত্র এসব মাত্র। বিয়েতে সাতপাক ধরে আছে তারা আজও ইসলামে হজ্জ্বের তওয়াফকে অনুসরণ করে। যার সহজ জবাব হচ্ছে  “ন তস্য প্রতিমা অস্তি” ঈশ^রের কোন প্রতিমা নেই। মূর্তি নিধনকারী নবী ইব্রাহিম বা আব্রাহাম ইংরেজীতে Abraham, পাঠক লক্ষ্য করুন, ইসলামের নবীরা কিভাবে সনাতনে জায়গা খুঁজে পান। সামান্য ওদল বদলেই তারা অবিকৃত আকারে ওখানে জায়গা করেছে। Abraham এর প্রথম অক্ষরটি সরিয়ে এনে পেছনে লাগিয়ে দিলেই কিভাবে ব্রহ্মার উৎপত্তি হয়, সেটি আাঁচ করতে পারেন Braham+a এর উৎপত্তি। নবী নূহএর সামনে মা যুক্ত হলে মা+নুহ = মনুহ হয়ে যায় অতি কম পরিশ্রমেই। ঠিক এভাবে সরস্বতি আব্রাহামের স্ত্রী সারাহর নামের সাথে সতি যোগ করলেই হয়ে যায় সারাহস্বতি। এ হচ্ছে সনাতনের সূত্রকথা। ইসলাম থেকে সংগৃহীত নবী পরিবারের সদস্যরা ইহজন্মেই সেখানে হয়ে গেছেন দেবতা। এটি ঠিক হিন্দুদের বর্তমান প্রচলিত ধর্ম নবী মোহাম্মদকে উপলক্ষ করে নয়, বরং নবী নূহের ও ইব্রাহিমের সাথে বহু ঘটনায় যুক্ত আছে। অনেক গবেষনাতে এর যুগসূত্র ও প্রমান পাওয়া যায়। তাই তাদের সনাতন ধর্ম মুসলিমের সনাতন মূল থেকে কোনভাবেই দূরে নয়। এরা মূল ইসলামের সাথেই লেপ্টে আছে। তারা এভাবে যবন ম্লেচ্ছদেরই উত্তরসুরী। অস্বীকার করার উপায় নেই ইসলামই একমাত্র সনাতন ধর্ম। 

হিন্দু থেকে মুসলমান হওয়ার সাক্ষাৎকার | যশোরের শ্রী জাহিদ থেকে কেন কীভাবে মোঃ জাহিদুল ইসলাম

কিন্তু হিংসার বশবর্তী হয়ে মিথ্যাচারে ভর করে তারা মুসলিমকে অচ্ছুৎ জ্ঞান করেছে যদিও তারা ঐ ধর্মের অবয়বে নিজের অবস্থানকে কিছুটা হলেও সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু শিরকের সূত্রে এত মিথ্যাচার জুড়ে দিয়েছে যে নূহের যুগে মূর্তিপূজক জাতির পানিতে ডুবে “জ¦ালা প্রলয়াম” সংঘটিত হলেও তারা ঐ পথ থেকে আজো নিবৃত হয়নি। তাদের শাস্ত্রে নুহের প্লাবনকে ঐ নামেই আখ্যায়িত করা হয়। পৌত্তলিক আরবদের মত এখানকার দেবীরাও মৌসুমী। এরা দূর্গাকে বিসর্জন দেয়। এ বছর যে হারে মূর্তি তৈরী হয়েছে আর পানিতে এসব বিসর্জন করাতে পরিবেশ যে কিভাবে বিষিয়ে উঠছে তা জনতারা কি আঁচ করছে না ? এভাবে নানা ষড়যন্ত্রে নবকৃষ্ণদের দ্বারা দেশটি দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা হারাবার সংকটে আছে ! মরার উপর খাড়ার ঘাঁএর মত পরিবেশ বিনষ্টে এসব মূর্তিরাই কালে সমাজে ভয়ানক উপদ্রব হয়ে দাঁড়াবে। এ বছর ২৯০০০+ মূর্তি গড়া হয়েছে, বর্তমানে এটি হু হু করে বেড়ে চলেছে। খবরটি পরিবেশ দোষনের জন্য ভয়ঙ্কর, সন্দেহ নেই।   ধর্মের নামে প্রাগৈতিহাসিক এ মাটির পুতুল পূজার রেওয়াজ জাতি বিধ্বংসী হয়ে উঠছে দিনে দিনে, তা নিয়ে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে প্রতিটি সচেতনের ভাবা উচিত, হিন্দুদেরেই বেশী করে ভাবা উচিত। মুসলিমরা পরিবেশ দোষণ না করেই উপাসনা করতে পারে আর তাদেরে এক নয় দুই নয়,  মাত্র ১০%এর জন্য হাজার হাজার অর্থে ২৯,০০০ + মূর্তিই গড়তে হবে ক্ষুদ্র মানচিত্রের একটি দেশ জুড়ে !  কালে নির্বাক মাটির দেবতারা কি মানব ধ্বংসের দায়ভার নিবে ! এ দায় বহন করার শক্তি কি তারা রাখে?

নাজমা মোস্তফা,    ১৪ অক্টোবর ২০১৬।

ইহুদীরা না ইসরাইলীয় না সেমেটিক/ জায়নবাদী ইহুদীরা নবী ইব্রাহিমের নয়, হিটলারের অনুসারী হিসাবে প্রমাণিত

উপরের কথাগুলি বিস্ময়ের মত শুনালেও এর বাস্তবতা সকল বিস্ময়কে ছাড়িয়ে গেছে। আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ইসরাইল পরিচিতি প্রমাণিত, যেখানে প্রতারণা জড়িত:  ডঃ এরান এলহাইক, জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির মেডিসিনের জেনেটিক গবেষক তার গবেষণাতে এটি দেখান যে বর্তমানের ইহুদীরা মূলত খাজারিয়ার বাসিন্দা, এরা ইব্রাহিমের প্রজন্ম নয়। সে হিসাবে তারা খাজার, ইসরাইলীয় নয়। আমেরিকা, ইউরোপ, এবং বর্তমানের ইসরাইলের ইহুদী জাতির পিতা ইব্রাহিম নন, বরং রাজা বুলানএর উত্তরসূরী এবং পুরানো খাজারিয়ার বাসিন্দা। রাশিয়ার দক্ষিণের কোকেসাস অঞ্চলে টার্কিক লোকেরা ছিল মূর্তিপূজক জাতি যারা পরে ইহুদী ধর্মে ধর্মান্তরিত হয় অষ্টম শতাব্দীতে। সপ্তম শতাব্দীতে ইসলাম আসে, এরা ইহুদী ধর্মে ঢুকে ইসলামের শেষ নবী আসারও বহু পর। ইত্যবসরে নবী মোহাম্মদ (সঃ) আসার পর বহু ইসরাইলীয় ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলামে প্রবেশ করে। কিন্তু এই বর্তমানের চিহ্নিত ইহুদীরা গবেষনায় পাওয়া যায় এরা মূল ইসরাইলের বাসিন্দা কখনোই নয়। এইসব খাজাররা পরবর্তীতে রাশিয়া, হাঙ্গেরী, পোলান্ড, জার্মেনী এবং ইউরোপের আরো অনেক দেশে বসতি করে। এরাই পরে ষড়যন্ত্রীদের সহযোগিতায় ১৯৪৮ সালে মুসলিম অধ্যুষিত একটি নতুন ভূমিতে বসতি স্থাপন করে দখলদার হয়ে যায়। হারেটজ ইসরাইলের দৈনিক নিউজপেপারে ডঃ এরান এ মন্তব্য করেন যে তারা পারিবারিক বা রক্তের সম্পর্কে কোনভাবেই নবী ইব্রাহিমের সাথে যুক্ত নয়। বিশে^র ইহুদীরা প্রধানত খাজার গোত্রেরই লোক। এসব গবেষনাতে দেখা যায় ২%এরও কম ইহুদীরা মূল ইসরাইলের বাসিন্দা। এমতাবস্থায় ইহুদী খৃষ্টানের গড কোনভাবেই প্যালেস্টাইনকে খাজারদের জন্য সৃষ্টি করেন নাই বা ওটি জবর দখল করার অনুমোদন দেন নাই।

The so called Jews in Israel are not true Jews, they are Khazars Ashkenazi Jews Identity theft

যখন প্রাইম মিনিস্টার নেতানিয়াহু বলেন, গড তাদের পূর্ব পুরুষকে এ ভূমি দান করেছেন, এটি সম্পূর্ণভাবে একটি ভুল ধারণা। ইসরাইলের পূর্বপুরুষ আজকের ইহুদীরা নয়। আব্রাহাম অরফে ইব্রাহিমের সূত্রে তাদের দাবী সম্পূর্ণ একটি গোজামিল মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়। ১৯৪৮ সালে আমেরিকা ইসরাইল রাষ্ট্রটির অনুমোদন দেয়, এ ছাড়া তাদের আর কোন বৈধতা নেই। বরং বাইবেলে ভবিষ্যদ্বানী পাওয়া যায় যে, শেষ জামানাতে প্রতারকেরা  মিথ্যাভাবে দাবী করবে তারা ইসরাইলের অধিবাসী এবং এর পেছনে কাঠখড় পুড়াবে। তারা বিরোধীদের সাথে লড়বে কিন্তু গড তার জবাব দিবে “আমি জানি তোমার ক্লেশ ও দীনতা, তথাপি তুমি ধনবান; এবং আপনাদিগকে ইহুদী বললেও যারা ইহুদী নয়, কিন্তু শয়তানের সমাজ, তাদের ধর্মনিন্দাও আমি জানি” (প্রকাশিত বাক্য ২:৯)। “দেখ শয়তানের সমাজের যে লোকেরা নিজেদের ইহুদী বললেও ইহুদী নয়, কিন্তু মিথ্যা কথা বলে, আমি তোমার চরণ সমীপে তাহাদিগকে উপস্থিত করিয়া প্রাণিপাত করাব এবং তারা জানতে পারবে যে আমি তোমাকে ভালবাসি” (বাইবেলে রিভিলেশন বা প্রকাশিত বাক্য ৩:৯)

বাইবেলের উপরের ভার্সে তাদের মিথ্যাচারের প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ইহুদীরা এর দাবীদার নয়, যদিও তারা মিথ্যাচার করছে এবং বর্তমানের ডিএনএ টেস্টের রিজাল্টও তাই রিডিং দিচ্ছে। ইহুদীরা এটি জানে যে তারা মূলত এর দাবিদার নয়, এসব প্রচারের সাথে সাথেই প্রচারকারী স্কলাররা জায়নিস্টদের আক্রমণের শিকার হন এবং তারা এই যুক্তিতে আব্রাহাম পর্যন্ত নিয়ে যাবার বাসনা জমা রাখে। এই মিথ্যা দখলদারিত্ব দিয়ে তারা আব্রাহামের দাবীদার হওয়ায় দাবী করছে। এর সুবাদে খৃষ্টানরা এরকম একটি অনৈতিক আবদারকেও সত্য বলে ধরে নিয়েছে। এখন মধ্যযুগ নয়,  ডিএনএ টেস্টের এ আলোকিত যুগের উদ্ভাসিত সত্যে তাদের জবাব কি হতে পারে? এমন কি ঐশীগ্রন্থেও তাদের প্রতারণা ধরা পড়ছে স্পষ্টভাবে, এসব এড়িয়ে যাবার কোন সুযোগ নেই। এটিও সত্য যে, এসব কাজ খোদ ইহুদী গবেষকদের চোখেই ধরা পড়েছে। ১৮৯৯ খৃঃ বৃটিশ ঐতিহাসিক ও পুরাতত্ত্ববিদ হিউস্টোন সটুয়ার্ট চ্যাম্বারলেন “দ্যা ফাউন্ডেশন অব দ্যা নাইনটিন্থ সেঞ্চুরী” নামে বই ছাপেন। which held that the Jews were not a race, but instead, were “bastards.” অর্থাৎ ইহুদীরা কোন জাতি নয়, বরং শিকড়হীন জারজ। ঐ সময় এ শব্দটি প্রচলিত ছিল বলেই এটি কড়া শুনালেও ব্যবহৃত হয়। ইয়াটজহাক স্কিপার এটি স্পষ্ট করেন যে, জেকব লিটম্যান্স এর “দ্যা ইকনোমিক রোল অব জুজ ইন মেডাইবেল পোলান্ড” লেখাতে এটি নিশ্চিত করা হয় যে ইহুদীরা মূলত খাজার। ১৮৬৭ খৃঃ একজন বড় ইহুদী স্কলার আব্রাহাম হারকাভি এটি ষ্পষ্ট করেন যে, ইহুদীদের প্রচলিত ইদিশ ভাষাটিও খাজারদের ভাষা। একজন স্বনামধন্য আর্থার কয়েস্টলার যিনি নিজেও একজন জায়নবাদী ইহুদী, ১৯৭৬ সালে একই ধারার বই ছাপেন। তিনি লিখেন, বিশে^র বড় সংখ্যক ইহুদীরা পূর্ব ইউরোপের বাসিন্দা, সম্ভবত মূলত এরা খাজার। এর মানে এর সহজ অর্থ দাড়ায় এদের পূর্ব পুরুষ কেনানের বাসিন্দা নয়, বরং ককেসাস, এরা আর্য গোত্রের। জাতিগতভাবে এরা হান, উলগোর এবং মেগিয়ার গোত্রের। এরা আব্রাহাম (ইব্রাহিম), আইজ্যাক(ইসহাক), জেকবের (ইয়াকুবের) বংশধারা নয়। কয়েস্টার এ কাজটি করে মনে করেছিলেন যে তিনি তার গোত্রের জনতার জন্য কিছু বস্তুনিস্ট কাজ করতে পেরেছেন। কিন্তু সব গোপন ওপেন হয়ে পড়াতে এর পরই তিনি জায়নিস্ট দ্বারা পরবর্তীতে কঠিনভাবে আক্রান্ত হন। সংক্ষেপে তারা ইব্রাহিমের নয়, বরং কিং বুলানের এবং খাজারের বাসিন্দা।

“As Shlomo Sand, history professor at the University of Tel Aviv, explains it in his outstanding, 2007 book, Invention of the Jewish People, “Without the Old Testament in its hand and the exile of the Jewish people in its memory, Israel would have no justification for annexing Arab Jerusalem and establishing settlements in the West Bank, the Gaza Strip, the Golan Heights, and even the Sinai Peninsula.” তেল আবিবের  ইতিহাসের অধ্যাপক ডঃ আস স্লোমো স্যান্ড ২০০৭ সালে তার বিখ্যাত বই ‘ইনভেনশন অব দ্যা জিউইশ পিউপিল’এ লিখেন, “হাতে ওল্ট টেস্টামেন্ট ও স্মরণে থাকা ঘটনা ছাড়া ইহুদীদের বাস্তবে কোন অধিকার নেই আরবের জেরুজালেম অধিকার করার এবং তার পশ্চিম তীরে গাজা স্ট্রিপ, গোলান হেইট এমন কি সিনাই উপত্যকাতেও”। তারা মূলত টার্কিশ মোঙ্গল রক্ত মিশ্রিত জাতি। তার বই ইহুদীদের সম্পূর্ণ উল্টে দিয়েছে। ১৯৪৮ সালে জবরদখল করা জাতি যে মূল ইসরাইলীয় (ইহুদী) নয়, এতে আর কোন বিতন্ডার অবকাশ নেই। বরং প্যালেস্টাইনের মুসলিমরাই ঐ ভূমির প্রকৃত অধিকারী। যাদের জবরদখল করে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে আর প্রমিজ ল্যান্ডের মূল মালিকদেরে উচ্ছেদ করে যারা জবরদখল করছে, এরা কি জঙ্গি নয়? গোটা বিশ^ এর জবাব দিবে কি?  এরকম অন্য একটি বই হচ্ছে কেভিন ব্রুকসএর ১৯৯৯ সালে “দ্যা জুজ অব খাজারিয়া”। এসব লেখা ষড়যন্ত্রী ইহুদীদের প্রভাবে চাপা পড়ে থাকে। কারণ তাদের হাতে সব কিছু, ক্ষমতার দাপটে তারা সব কিছুই দাবিয়ে রাখতে সক্ষম হচ্ছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আইনি সুরক্ষা দিতে নতুন একটি আইনের প্রস্তাব করেছেন দেশটির একজন এমপি। প্রস্তাবিত এই আইনে ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীকে দাফতরিক কোনও অপরাধের জন্য তদন্ত থেকে রেহাই দেওয়ার দাবী করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। সবই ক্ষমতার অপব্যবহারের আওতায় পড়ে।

ইহুদীরা হিটলারের অনুগত অনুসারী: এ কথাটি খুব নতুন শোনালেও এর বাস্তবতা স্পষ্ট। বহু দিন থেকে মনের মাঝে প্রশ্ন জমে ছিল কি কারণে হিটলারকে এমন ক্রুদ্ধ করে তোলে ইহুদী নামের একদল মানুষের প্রতি? এর জবাব কোনদিনও পাই নাই। বর্তমানের প্রচারিত ইহুদীরা মূলত ইব্রাহিমের অনুসারী নয়, বরং হিটলারের অনুগামী, গবেষণা তথ্যে তাই পাওয়া যায়। এবং ঐ আচরণ তাদের বর্তমান জীবনের সাথে খুব মানানসইও, এটি অস্বীকারের উপায় নেই। ১৯৩৩ সালের মার্চে যখন হিটলার জার্মানির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে জার্মানী ইহুদীদের কোন কারণে টাইট দিতে নামেন। তখন আমেরিকায় ইহুদীরা মেডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে জার্মানীর দ্রব্য বর্জনের ডাক দেয়। ঐ বছর ২৪ মার্চে লন্ডন ডেইলি এক্সপ্রেস প্রকাশ করে যে ইহুদীরা এর মাঝে সর্বত্র জার্মানীর অর্থনীতির বিরুদ্ধে পবিত্র যুদ্ধ ঘোষনাসহ জার্মান জিনিসে বয়কট শুরু করেছে। ইহুদীরা এই অর্থনৈতিক ক্রুসেড অবরোধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নামে। মার্চের ২৭ তারিখে হিটলারের বিরুদ্ধে ৪০,০০০ প্রতিবাদী মাঠে নামে (নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ)। এর সরাসরি জবাবে মার্চের ২৮ তারিখে জার্মানীতে প্রতিটি ইহুদী দোকানকে বয়কট করার নির্দেশ দেয়া হয়। একই বছরে ১৯৩৩ সালেই জার্মানী ও জায়নবাদীরা একটি ব্যক্তিগত সহযোগিতার আওতায় এসে জার্মানী বাকি বিশে^ একটি নাড়া সৃষ্টি করতে সমর্থ হয় যেখানে প্যালেস্টাইন উপলক্ষ থাকে। তীব্র বয়কটের কারণে জার্মানীর ইহুদীরা জায়নবাদীদের প্রতি সামান্য দরদী হয়। জার্মানীতে যতদূর সম্ভব অরাজকতা সৃষ্টি করে জায়নবাদী ষড়যন্ত্রে জার্মানীর জাতীয় সমাজবাদী দলের সহযোগে এই অজুহাতে যাতে অতঃপর প্যালেস্টাইনে একটি বহুল অধ্যুষিত ইহুদী বসতি গড়া যায়। ইউরোপিয়ানরা স্বভাবত ইহুদী বিরোধী, আর এর সমাধান একমাত্র প্যালেস্টাইন! হাওরের গরু মামাশশুরের দান! কি অপরিসীম বদান্যতা! জায়নবাদীরা কৌশলে এডলফ হিটলারের সহযোগিতায় বৃহৎ ইহুদী বসতির এজেন্ডা নিয়ে হাটে। সূত্র: (1) Quoted in: Ingrid Wecker, Feuerzeichen: Die “Reichskristallnacht” (Tubingen: Grabert, 1981), p. 212. See also: Th. Herzl, The Jewish State (New York: Herzl Press, 1970), pp 33, 35, 36, and Edwin Black, The Transfer Agreement (New York: Macmillan, 1984), p.73. Other sources are (2) Barnes Review, “The Jewish Declaration of War on Nazi Germany, The Economic Boycott of 1933”. (3)  The Dramatic Story of the Pact Between the Third Reich and Jewish Palestine, by Edwin Black.

জায়নবাদীরা জার্মান এসএস হিটলারের গ্যাস্টাপো বাহিনী সমর্থিত, হিটলারের ব্যক্তিগত সাপোর্ট এখানে যুক্ত ছিল। এর উপর অসংখ্য সূত্র উপাত্ত চারপাশে ছড়িয়ে আছে। ১৯৩০ সালে জার্মানী ও জায়নবাদীদের সম্মিলিত প্রয়াসে সারা জার্মানীতে ৪০ টি ক্যাম্পে যেখানে ভবিষ্যতের অনাগত ইহুদীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় যারা নতুন জায়গায় বসতি স্থান করবে, কিভাবে সেটি সামাল দিবে। ১৯৪২ সালে অন্তত তখনও একটি সরকার অনুমুদিত ক্যাম্পের সন্ধান পাওয়া যায় যার নাম ছিল “কিব্বুতস” যার উপরে উড়তো একটি নীলসাদা ব্যানার যা পরবর্তীতে ইসরাইলের জাতীয় পতাকার জায়গা দখল করে। সূত্র: Lucy Dawidowicz, The War Against the Jews, 1933-1945 (New York: Bantam, pb., 1976), pp 253-254; Max Nussbaum, “Zionism Under Hitler,” Congress Weekly (New York: American Jewish Congress), Sept. 11, 1942.; F. Nicosia, The Third Reich (1985), pp 58-60, 217.; Edwin Black, The Transfer Agreement (1984), p. 175.

দেখা যায় হিটলার ও জায়নবাদীরা একই এজেন্ডা নিয়ে একই পরিণতির দিকে হাটে। তাদের লক্ষ্য ছিল ইহুদীদের জন্য একটি জায়গা করে দেয়া আর সেটি প্যালেস্টাইনের মত একদল মুসলিমের ঘাড়েই বর্তায়। জায়নবাদী “ওয়ার্ল্ড জুইশ কংগ্রেস” জার্মানীতে একটি যুদ্ধের ডাক দেয়। [2] Th. Herzl, “Der Kongress, ” Welt, June 4, 1897. Reprinted in: Theodore Herzls zionistische Schriften (Leon Kellner, ed.), ester Teil, Berlin: Judischer Verlag, 1920, p. 190 (and p.139) [3] Francis R. Nicosia, The Third Reich and the Palestine Question (1985), pp. 54-55.; Karl A. Schleunes, The Twisted Road to Auschwitz (Urbana: Univ. of Illinois, 1970, 1990) pp. 178-181.

 গোপন উদ্দেশ্য ভিনদেশ দখল, ষড়যন্ত্রে নিজের লোককে গ্যাসচ্যাম্বরের দিতেও কুন্ঠিত নয়: যার সহজ পরিণতিতে ইহুদীরা ঐ দেশ থেকে অন্যত্র আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে বেড়ায়। যেখানে গেছে প্রতিবেশীরা তাদের দরজা সেটে দেয় (books, “Perfidy” and “Min Hametzer”)। এর ফলে পাঁচটি জাহাজ বোঝাই জার্মানীর ইহুদী আমেরিকাতে পৌছে এবং এখান থেকে ফেরত গিয়ে তারা গ্যাস চ্যাম্বারের খোরাক হয়। এসব ইহুদীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল না তাদের মানুষকে বাঁচানো বরং প্যালেস্টাইনে একটি স্থায়ী বসতি সৃষ্টি করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। ১৯৩৮ সালের ডিসেম্বরে বেন গুরিয়ন, প্রথম জায়নবাদী প্রধান নেতা হিসাবে জায়নিস্ট রাষ্ট্রের ঘোষনা দেন। অতঃপর ১৯৪৯ তিনি বলেন, যদিও আমরা স্বপ্ন দেখছি এবং আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন শুরুর পথে। ইত্যবসরে ইসরাইলে ইহুদীদের জড়ো করা হয়ে গেছে, এরা তখন মোট ৯০০,০০০, যেখানে বাকী হাজার হাজার ইহুদীরা সারা বিশে^ ছড়িয়ে আছে। আমাদের প্রকৃত স্বপ্ন হচ্ছে জগতের সকল ইহুদীকে ইসরাইলে নিয়ে আসা। প্রধানমন্ত্রী শ্যারণ একটি কথা প্রচার করেন যে এন্টি সেমেটিজম বাড়ছে এবং এর থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হচ্ছে ইহুদীদেরকে ইসরাইলে জায়নবাদী আওতায় নিয়ে আসা। এটি একমাত্র জায়গা যেখানে ইহুদীরা ইহুদী হিসাবে বসতি করতে পারবে। এসব কথা বলে তারা প্রকৃত এহুদা গোষ্ঠীর ও প্যালেস্টাইনের বাসিন্দাদের মানবিক অধিকার ধ্বংস করছে। দেখা যায় অতি অল্প দিনে জায়নবাদীরা মেজরিটি হয়ে উঠে। এন্টি সেমেটিজমের বুলি উড়িয়ে দেয়া হয় যাতে ইহুদীরা সারা বিশ^ থেকে পতঙ্গ পালের মত ছুটে আসে ইসরাইলে। থিওডোর হ্যারজল তার ডায়রীর ১৯ পৃষ্ঠায় লিখেন, এন্টি সেমেটিজম হবে আমাদের নিশ্চিত বন্ধু, এবং এন্টি সেমেটিক দেশগুলি হবে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। এন্টি সেমেটিক হিসাবে আখ্যায়িত করার এ অভিযোগের বিরুদ্ধে চিরাচরিত এহুদী প্রজন্মের একজন শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব এর কঠোর প্রতিবাদ করেন, তিনি হচ্ছেন সেক্রেটারী অব স্টেট কলিন পাওয়েল। তিনি শক্ত ভাষায় জায়নবাদী রাষ্ট্র পরিচিতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট বলেন যে জায়নবাদী রাষ্ট্র কখনোই এন্টি সেমেটিক রাষ্ট্র নয়। এটি স্পষ্ট করেই বলা যায় এরা না ইসরাইলীয় না সেমিটিক, না জুইশ রাষ্ট্র, এটি জায়নবাদীদের ছলবাজ রাষ্ট্র, মিথ্যার উপর দাঁড়ানো একটি সভ্যতার কলঙ্ক মাত্র। গোটা বিশ^ আজ শয়তানের করতলে। সত্য পরাভুত, মিথ্যার জয়জয়াকার। চেতনহীনতা, গবেষনাহীনতা ও অদূরদর্শীতায় গোটা বিশ^ এমন করুণ অবস্থানের দিকে মোড় নিয়েছে।

Media and Islam War or Peace By Dr.Zakir Naik(Full)

 

১১ আগষ্ট ২০১৬ তে প্যালেস্টাইনের উপর একটি লেখা দিয়েছিলাম, সেখানে বলেছিলাম পরের লেখাতে আনবো কিভাবে এসব অনাচারও সৃষ্টিকর্তার চোখে ধরা পড়ছে, সেটি পরের লেখাতে আনবো। সৃষ্টিকর্তার বৈরী শক্তিও মঞ্চ দখল করতে ধর্মের খোঁজ করে। ঐ খুটি ধরেই দাঁড়াবার বাসনা মনে জমা রাখে! তাই দেখা যায় এরা মূল কেনানের বাসিন্দা না হয়েও ঐ কেনানের ভূভাগ দাবী করে ধর্মের দোহাই দিয়ে, পূর্বপুরুষের দোহাই দেয়, যা সর্বতোভাবে শত পার্সেন্ট মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। উপরে বর্নিত বাইবেলেও এ ছলনার সংবাদটি লুকিয়ে আছে। বাইবেলে দু’হাজার বছরেরও আগে ঐশী সংবাদ হয়ে এটি এসেছে যে এরা ইহুদীরা প্রতারক দল, এরা প্রকৃত বাসিন্দা নয়। সকল দুর্বৃত্ত সঙ্গতিহীন সবাই নবীর ছায়ায় দাঁড়াতে চায়, নবীর প্রকৃত অনুসারীকে ধ্বংস করে তারা মিথ্যার উপর দিয়ে প্রচার চালায় সবদিন, সর্বত্র। তাই প্রকৃত সাধু নির্বাসিত, ইবলিস আজ ময়দানের বড় ধর্মবেত্তা।

 

নাজমা মোস্তফা, ২৫শে আগষ্ট ২০১৬ সাল।

তুরষ্কের অভ্যুত্থানে আযান ছিল বিপদের সাইরেন ধ্বনি/ কামালের ধর্মনিরপেক্ষবাদ ইসলাম ধ্বংসের হাতিয়ার ছিল/ তুরষ্কে ইসলামের নতুন জন্মে এরদোয়ান

আযান ছিল বিপদের সাইরেন ধ্বনি: তুরষ্কে কামাল আতাতূর্কএর শাসন এককালে দেশটি তার বহু যুগ সঞ্চিত সততা, মানবিকতা, স্বজাত্যবোধ থেকে সরে ভয়ঙ্কর অবস্থানে দাঁড়ায়। কামাল আতাতূর্ক নামটি শুনতে মুসলিম হলেও তার আচরণ ছিল ইসলাম বিরোধী। ঐ প্রতারণাকে উসকে দিতে কৌশলে বলা হয় এটি ধর্মনিরপেক্ষতা, যার সহজ অর্থ ছিল ধর্মহীনতা, এটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা। ঐ সব প্রেতাত্মারা আজও দম ছাড়ছে বলেই তুরষ্কে আজও সংঘাত সংগ্রাম হচ্ছে। তাই নাম মুসলিম হলেই সে মুসলিম আদর্শের কবরও রচনা করতে পারে, তার আচরণে তাকে চিনতে হবে। সুক্ষ্মদৃষ্টিতে দেখলে এদের খুব সহজেই চেনা যায়।

নিকট অতীতে ১৯৯৭ সালের সেনা অভ্যুত্থানে সরকারী ঘোষনায় ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। মুসলিম অধ্যুষিত তুরষ্ক সেদিনও ফুঁসে উঠে। প্রতিবাদ বিক্ষোভের অংশ হিসাবে একটি কবিতা পাঠের অপরাধে সেদিন এরদোয়ানকে কারাগারে পাঠায়। ৪ বছরের কারাদন্ড পাওয়া এরদোয়ানকে ১০ মাস কারাভোগ করতেও হয়। এবার ২০১৬ এর ১৫ই জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান রাত থাকতেই মানুষকে রাস্তায় নামার নির্দেশ দেন। প্রতিটি মসজিদ থেকে ক্রমাগত আজান হতে থাকে, যার প্রেক্ষিতে অসময়ের আজান ধ্বনিকে সাইরেন জ্ঞানে জনতারা ময়দানে নেমে আসে। তাদের প্রতিরোধের মুখে অভ্যুত্থানকারীরা পাততাড়ি গুটাতে বাধ্য হয়। একেই বলে সততা ন্যায়পরায়নতা, গনতন্ত্র ও মানবতার শক্তি। নানা কারণে বর্তমান মুসলিম বিশে^ সংকট প্রকট। এর কারণ অনুসন্ধানে সত্যনিষ্ট মন নিয়ে চারপাশ খানাখন্দক চষে বেড়ালে খুব সহজে আসামীকে পাজাকোলা করে ধরতে না পারলেও অন্তত চেনা সম্ভব। মুনাফিক মুসলিমরা নিজেরাও ঐ সংকটে ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে। মোগল সমরাট আকবর নামটি মুসলিম হলেও কাজে ধর্মহীন অপকর্মের এক নষ্ট উদাহরণ। প্রতিকূল পরিবেশে আদর্শের প্রকট সংকট ছিল তার জীবনে, তাই বাকী মোগল শাসকদের মত তিনি নীতির ধর্মের সুশিক্ষা অর্জনের সুযোগ কম পান। শত্রুকে চিনতে পারা সংকটের অর্ধেক পার হওয়ার সমান। তুরষ্ক ও তার ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পিছনে কিছু কথা জমে। এসব স্পষ্ট করা সময়ের দাবী। আতাতুর্ক উপাধীতের ভূষিত মোস্তফা কামাল পাশার নামেই সনাক্ত করা হয় তিনি মুসলিম, আমাদের কবি নজরুল কবিতা লিখেন, যুদ্ধেও যান। কিন্তু বাস্তব তার চেয়েও বহুগুণ কঠিন ও নির্মম।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে অটোমান শাসকরা ইহুদী ব্যাংকে ঋণগ্রস্ত হয়ে সুদের অভিশাপে জড়িয়ে পড়াতে সংকটে পড়ে। তখন শেষ অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদকে প্রস্তাব দেয়া হয় যে, ঋণের বদলে যেন প্যালেস্টাইনকে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। সুলতান সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ডয়েনমেহ ও ফ্রিমেশন হচ্ছে ইহুদী লবির একটি ধারা। ১৬৮৬ সালের ডিসেম্বর মাস। তিন শ’য়েরও বেশী ইহুদীরা ইসলামে ধর্মান্তরিত হলেও গোপনে তারা ইহুদী ধর্মকে আকড়ে থাকে। যার জন্য এদেরে তুরষ্কের মুসলিমরা ডয়েনমেহ নামে ডাকে, এককথায় বিট্রেয়ার। সেলোনিকা নামের এরা ছিল অটোমানের ইহুদী। ইতিহাস বলে উনবিংশ শতাব্দীতে এরা ২০,০০০ সদস্যে পৌছায়। গ্রীক শাসনের অধীনে ১৯১৩ পর্যন্ত থেকে তারা কন্সটেনটিনোপল স্থানান্তরিত হয়। এদের মাঝ থেকেই এই কামাল পাশার আবির্ভাব ঘটে। অনেক সূত্রমতে এরা ইহুদী ফ্রিম্যানরা পরবর্তীতে ‘নক্সাবন্দী’ নামে ইসলামের এক বিভ্রান্ত অনুসারী নামে এখনো পরিচিত। অরফি পাশা নামের একজন ছিল ঐ সুলতান আব্দুল হামিদের বিরোধী পক্ষ। এই প্রতারকেরা কুরআনের আয়াতের পরিবর্তন করে তা ধারণ করতেও কুন্ঠিত হয়নি। এভাবেই আসে ইহুদী মানসিকতার চাঁদোয়ার তলে তুরষ্কের বিগত শতকের অতীত অভ্যুত্থান। সুলতান আব্দুল হামিদ অনেক ব্যতিক্রমী প্রশাসনী পদক্ষেপে ঋণের মাত্রা কমিয়ে আনলেও তরুণ প্রজন্মের জোয়ারের নামে তাকে উচ্ছেদ করা হয়। বাস্তবের  মোস্তফা কামাল ইস্যুটি ছিল ইসলামের নাম নিশানা মিটিয়ে দেয়া এক ভয়ঙ্কর অপশক্তির নাম। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি হচ্ছে শেষ অটোমান সুলতানাত ধ্বসে যাবার আগ পর্যন্ত তার ছলবাজ ভূমিকা ছিল চাঁদোয়ার তলানীতে ইসলামের বৈরীতা করা। ইসলামের নাম নেয়া এ প্রতারক নেতা ইসলামের ঝান্ডার তলেই ইসলাম ধ্বংস করে।  যুগে যুগে এরাই ইসলাম ধ্বসের জন্য দায়ী। ঐ সময় যারাই চিৎকার করেছে তারাই বলি হয়েছে। শুধু নাম রাখলেই তাকে মুসলিম মনে করার কোন অবকাশ নেই। বরং এদের স্বরুপ প্রকাশ পায় তাদের আচরণে। এটি পৃথিবীর ইতিহাসের বড় শিক্ষা। ইসলাম বা মুসলিম পরিচিতি নিয়ে গোটা বিশে^ অনেকেই অনেক অনাচার করেছে, করছে, করবে। কুরআনে বর্ণিত শুরুতেই আদমের সময়কার বকধার্মিক ইবলিস কিন্তু আল্লাহ অস্বীকারকারী ছিল না। আল্লাহর নির্দেশ মত তার শয়তানি কর্মকান্ড থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বলা হয়েছে। এরা হচ্ছে জাহান্নামের সর্দার, পথ প্রদর্শক। তবে সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে দেখলে এদেরে চেনা যায়। এরা স্বরুপ লুকাতে পারে না। মুসলিম ছদ্মাবরণে ছলনার স্বরুপ ধরেন কামাল আতাতুর্ক, তিনি ছিলেন শুধু নামেই মুসলিম আর বাকী তার কিছুই ইসলামের ছিল না।

কামালের ধর্মনিরপেক্ষবাদ ইসলাম ধ্বংসের হাতিয়ার ছিল: ইহুদী বংশদ্ভুত মোস্তফা কামাল ছিলেন রিপাবলিকান টার্কির প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় বীর। তিনি শিশুকালে হিব্রুতে ইহুদী ধর্মজ্ঞান লাভ করে বেড়ে উঠেন। কালে ইহুদী বাবার তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠা কামাল হয়ে দাঁড়ান ধর্মনিরপেক্ষতার গড ফাদার। তার আচার আচরণ বিতর্কীত কর্মকান্ড, মিলিটারী প্রশিক্ষণে দক্ষতায় বীর হলেও সন্তর্পণে ঢাকা ছিল তার কপট চরিত্রটি। দেশটির কলিজাতে আহত করার মত সীমাহীন অপকর্ম তিনি করেন। তিনি নিজেকে গুটিয়ে মিথ্যাচারে লুকিয়ে রাখেন, তাই সুক্ষ্ম গবেষনায় তার ঢেকে রাখা পাটের উন্মোচন ঘটে। স্বাভাবিকভাবে তিনি ৯৯% মুসলিম তুরষ্কের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি আড়ালে লুক্কায়িত একটি ইহুদী সাব্বাতিয়ান গোত্রের সদস্য, তিনি ছিলেন একজন মিথ্যাচারী ইহুদী মাসিহ সাব্বাতি সেভীর উত্তর পুরুষ। ১৭শতাব্দীর একজন মিথ্যা দাবীদার মাসিহর অনুসারী। ইসলামি শিক্ষায় তিনি শিক্ষিতও নন। তার বাবা ইহুদী, মা মুসলিম হলেও তিনি মায়ের অনুগত ছিলেন না। তার ধুর্ততার নজির হচ্ছে দেশবাসীকে আড়ালে রাখার জন্য তিনি তার মূল পরিচিতি আড়াল করে রাখেন এবং মুসলিম নামকেই হাই লাইট করে মুসলিম পরিচিতির আড়ালে কাজ সারেন। তিনি ছিলেন উসমানিয়া খেলাফতের ধ্বংসের উপর মূল ইসলাম ধ্বংসের রুপকার। চেইন স্মোকার মদ্যপানে আসক্ত এ ব্যক্তিটির প্রতিটি কর্মকান্ডই ইসলামের সাথে বেমানান।

মোস্তফা কামালের ইসলাম বিধ্বংসী ভূমিকা: ইসলামকে মুছে দিতে তার ভূমিকা ছিল জটিল। তার যুক্তি ছিল আমরা আমাদের দেশের আইন আকাশ থেকে পাই নাই, মানে ওহি নির্ভর নয়। তিনি শক্তির দাপটে সরকারী আদেশবলে মসজিদের নামাজের কার্পেট উঠিয়ে দেন। সেখানে কাঠের পাটাতন ব্যবহার করতে বাধ্য করেন। Turks had been ordered by their stern dictator, Mustafa Kemal Pasha who made them drop the veil and the fez (TIME, Feb. 15, 1926 et. seq.), that beginning with Ramadan they must no longer call their god by his Arabic name, Allah (Time January 9, 1933, p.64). যুগান্তরকারী পদক্ষেপ হিসাবে কৌশলে ট্রাডিশনাল ঐতিহ্যবাহী তূর্কী টুপির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়, মহিলাদের মাথা না ঢাকার নির্দেশ দেয়া হয়। মসজিদের ইমামদেরকে তার ইচ্ছামাফিক বিশেষ প্রদ্ধতিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। মসজিদে জুতা নিয়ে প্রবেশাধিকার করার রেওয়াজ চালু করা হয়। মসজিদে ঢোকার আগে জুতা খোলার আগের রেওয়াজ বাতিল ঘোষিত হয়। মসজিদে স্থানে স্থানে বাদ্যযন্ত্রসহ গান বাজনার অনুমোদন রাখা হয়। মুসলমানের মূল বাণী আজানের সুললিত বাণী “আল্লাহু আকবার” নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। “Islam, this theology of an immoral Arab, is a dead thing.” Possibly it might have suited tribes of nomads in the desert. It was no good for a modern progressive State (Grey Wolf, Mustafa Kemal: An Intimate Study of a Dictator, H.C. Armstrong, 1934). প্রচার করা হয় অনৈতিক আরবের ধর্ম একটি মৃত বিষয়। এটি মরুভূমির  শাসন হতে পারে, সভ্য মানুষের নয়। Kemal cared nothing about Allah; he was interested in himself and in Turkey. He hated Allah and made him responsible for Turkey’s misfortune. It was Allah’s tyrannical rule that paralyzed the hands of the Turk. But he knew that Allah was real to the Turkish peasant ….. Then, after Allah had served Kemal’s purpose, he could discard him. (Emil Lengyel, 1941, p.134). এখানের বক্তব্য স্পষ্ট করছে কামাল আল্লাহকে পরোয়া করেন না। তিনি তার নিজের ও তুরষ্কের দিকে নজর দিয়েছেন। আল্লাহকে তুরষ্কের দুর্যোগের কারণ মনে করেন। তবে এটি তিনি জানতেন যে তুরস্কবাসীর কাছে আল্লাহ কি? — তাই ছলনার আড়ালে মুসলিম খোলসের দরকার ছিল তার। তিনি এটিও জানতেন যে তার উদ্দেশ্য সিদ্ধি হয়ে গেলে তিনি ঐ আল্লাহকে দূরে ছুড়ে দেবেন। It was not to be the reformed Islamic state for which the Faithful were waiting: it was to be a strictly lay state, with a centralized Government as strong as the Sultan’s, backed by the army and run by his own intellectual bureaucracy (Ataturk, The rebirth of a Nation, Lord Kinross, 1965, p 437). এটি সংস্কারিত ইসলাম ছিল না, যা বিশ^াসী মুসলিমরা ভেবেছিল। সুলতানি শাসনের কেন্দ্রীয় কাঠামোর উপর ভর করে হলেও এর পেছনে ছিল সেনাশাসন এবং তার মনগড়া ধ্যাণধারণাই ছিল ঐ শাসনের ভিত্তিমূল (আতাতূর্ক, দ্যা রিবার্থ অব এ ন্যাশন, লর্ড কিনরস, ১৯৬৫, পৃষ্ঠা ৪৩৭)।  ঐ গ্যাড়াকলে পড়েই দিনের পর দিন তুরস্ক হামাগুড়ি দিচ্ছে, মূল ইসলামের সত্যের সাথে ছলবাজের লড়াই চলছে যুগের পর যুগ।

ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। তুরষ্কের জনতারা জানে অভ্যুত্থানের অর্থ কি? ধর্ম হারানোর ক্ষতি কত গভীর ছোঁয়। সেকুলার নাটকের মূল অর্থ কি হতে পারে? সেনা ক্যুএর উর্দির নিচে কত বিভৎস রুপ থাকতে পারে। সরকারী দল বিরোধী দল সবারই কম বেশী জানা। যে “আল্লাহু আকবর” ধ্বনিতে আজকে এরদোয়ান জাতিকে এক মন্ত্রে উদবুদ্ধ  করে যে একতার ডাক দেন, সে ব্যতিক্রমী আযান ধ্বনিটি নিষিদ্ধ ছিল মোস্তফা কামালের রাজত্বে। তার বদলে জনতাকে বলতে বাধ্য করা হয় তূর্কীতে “তানরী উলুদুর” আরবীর বদলে তূর্কীতে ঐ নামেই মানুষকে মসজিদের আজান দিতে বাধ্য করে এক রমজানে। এর মূল কারণ ছিল বিশ^মুসলিম ঐক্যে ফাটল ধরানো। সবচেয়ে বড় কথা একটি মুসলিম জাতিকে এভাবে নষ্ট শৃংখলে বেধে দিতে সমস্ত জাতিকে যে কি পরিমাণ নির্যাতন পোহাতে হয়, তা একমাত্র ভোক্তভোগীরাই জানে। ইহুদী মসিহ সাব্বাতি সেভীর অনুসারী থাকার স্বীকৃতি কামাল নিজেই স্বীকার করেছেন।

“The Biggest Crises in the History of the “Secular” Republic”  English newspaper the Daily Telegraph wrote about Mustafa Kemal the 11. of November 1983: Mustafa Kemal’s death was a great death to our country. He as the only dictator with his instinct was a true English ally. It was this triangle which abolished the Khilafah – the English, the Jews and Mustafa Kemal who was both a Jew and an English agent. They made and worked on a clever plan, hiding their innermost motives to abolish the Khilafah and remove Islam to the last. কামালের মৃত্যুতে ইংরেজী দৈনিক টেলিগ্রাফের বরাতে ১৯৮৩ সালের ১১ই নভেম্বর কলাম ছাপে। তুরষ্কের সেকুলার রিপাবলিককে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধরণের বিপর্যয়ই ধরা হয় শিরোনামে।  মোস্তফা কামালের মৃত্যু আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি। তিনিই একমাত্র স্বৈরশাসক যিনি ছিলেন আমাদের অবিস্মরনীয় বনধু।ইংরেজ, ইহুদী মোস্তফা কামালের এই ত্রিমুখী চক্র তুরষ্কের খেলাফতকে ধ্বংস করে। মোস্তফা কামাল ইহুদী এবং ইংরেজের বনধু, দুটোই। তারা এ কপট ষড়যন্ত্র করে, নিজেদের উদ্দেশ্যকে ঢেকে রেখে খেলাফতকে ধ্বংস করে সর্বোপরি ইসলামকেই ধ্বংস করে। এসব লেখাতে স্পষ্ট হয় যে মোস্তফা কামাল ছিলেন একজন ছদ্মবেশী ইহুদী। তার পূর্ব পুরুষরা স্পেনিশ বিতন্ডাতে ওসমানী সাম্রাজ্যে আশ্রিত ছিল। ঐ আশ্রিত ইহুদীরাই খেলাফতের মরণ কামড়ের জন্য দাগী আসামী। যখন সুলতান আব্দুল হামিদ ঋণের ভুর্তকী হিসাবে ইহুদীদের প্যালেস্টাইন দিতে অস্বীকার করেন। এটি ছিল অকৃতজ্ঞ ইহুদী জাতির পক্ষ থেকে আশ্রিতের প্রতিদান। আজও প্যালেস্টাইনের মুসলিমরা নির্যাতনের পাটাতনে দাঁড়িয়ে সময় পার করছে।

টাইমে ছাপা হওয়া কলামে আসে (টাইম জানুয়ারী ৯,১৯৩৩, পৃষ্ঠা ৬৪)।  “Jewish Dictator Ataturk rules in Muslim Turkey!” TIME, January 9, 1933, page 64: Turkey since 1923. The changes: ……… For a hundred years Christian missionaries have struggled hopelessly to capture the hearts of the Caliph-awed Turks- ( TIME, February 15, 1926, page 15-16) “When a venerable member of the Cabinet suggested that it was unseemly for Turkish ladies to dance in public, he threw a Koran at him and chased him out of his office with a stick. – (Grey Wolf, Mustafa Kemal: An Intimate Study of a Dictator, H.C. Armstrong, 1934) (Joachim Prinz’s “The Secret Jews”, page 122). “ইহুদী স্বৈরশাসক আতাতুর্ক মুসলিম তুরষ্ক শাসন করছে!” কলামটির শিরোনাম। তুরষ্ক ১৯২৩ থেকেই শত বছর যাবত খৃষ্টানরা অনেক হতাশজনকভাবে সংকটে ছিল খলিফা নির্ভর তুরষ্ককে কবজায় নেয়ার জন্য। (টাইম, ফেব্রুয়ারী ১৫, ১৯২৬, পৃষ্ঠা ১৫-১৬ ) “যখন পার্লামেন্টের একজন সম্মানিত সদস্য প্রস্তাব রাখেন যে, এটি তুরষ্কের মহিলাদের জন্য বেমানান যে তারা প্রকাশ্য ময়দানে সাধারণের সামনে নাচবে। তখন কামাল তার দিকে কুরআন ছূঁড়ে মারেন এবং তাকে অফিস থেকে লাঠি দ্বারা বিতাড়িত করেন (গ্রে উলফ, মোস্তফা কামাল, “এর ইনটিমেট স্টাডি অব এ ডিকটেটর” এইচ সি আর্মষ্ট্রং, ১৯৩৪)  জোয়াচিম প্রিনজেস “দি সিক্রেট জুজ, পৃষ্ঠা ১২২)।

মোস্তফা কামালের বিশ^াস ছিল মুসলিমরা যখন ঐ ধর্মের শিকল থেকে বের হতে পারবে, একমাত্র তখনই তারা উন্নতির শিখরে পৌছতে পারবে। ধর্ম হচ্ছে দূর্বলের হাতিয়ার, এটি ছিল তার কথা। তুরষ্কের পিতা নামধারী ব্যক্তিত্বই ইসলামকে সম্পূর্ণভাবে শিকড় থেকে ধ্বংস করে। ১৯২৪ সালের ৩ মার্চ মোস্তফা কামাল এসেম্বলিতে একটি বিল পাশ করান যেখানে স্থায়ীভাবে তুরষ্ক হবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক থাকবে না। কিন্তু ইতিহাস বলে ধর্ম বলে ইসলামের সংসদ ভবনই ছিল মসজিদ। মসজিদ শুধু নামাজের জায়গা নয়, একটি সমাজের সব সমস্যার সমাধানে মসজিদের অগ্রণী ভূমিকা থাকার কথা ছিল কিন্তু, সমাজে সেটি ওভাবে গড়ে উঠেনি। মসজিদকে শক্তির তলানীতে কবজা করা মানে ইসলামকে শৃংখলিত করা। অজ্ঞরা কখনোই ইসলামের কান্ডারী হওয়ার কথা নয়, সমাজের সব চেয়ে সম্মানিত মুসলিম ব্যক্তিত্বই বিচারিক পর্যায় পার হয়ে ইমামতির দায়িত্ব দেয়া উচিত যাতে তিনি উপযুক্ত কান্ডারীর ভূমিকা রাখতে পারেন। আব্দুল মালেক যখন খলিফা নিয়োজিত হন তখন মোস্তফা কামাল পাশা তার পেছনে আনুষ্ঠানিক ব্যয়ে রাজি ছিলেন না। তার যুক্তি খলিফার কোন শক্তি থাকবে না। খলিফা একজন নামমাত্র হিসাবে থাকবেন। যখন তার ভাতা বৃদ্ধির আবেদন করেন তখন তার যুক্তি ছিল এটি তার অফিসটি হবে একটি পড়ো বাড়ীর উদাহরণ মাত্র। এর টিকে থাকার কোন অধিকার নেই। তার কথায় এ আবেদন পত্র আমার সেক্রেটারীদের কাছে একটি অসম্মানপত্র মাত্র।

Scientific Miracles Of The Quran║Mind-Blowing Facts║All parts 1-17 English [Full Documentary]

 

কপট কৌশলে কামাল রাজনৈতিক ইসলামের যুক্তি উড়িয়ে দেন। তার দৃষ্টিতে সব দোষ ইসলামের, ওকে রূখতেই হবে মনে করে তিনি ঐ কাজে মনোনিবেশ করেন। ধর্মশিক্ষাকে সব সেক্টর থেকে বিদায় দেন। পশ্চিমের আরাধ্য সাধনায় মনোনিবেশ করে সকল অতীত ঐতিহ্য ভুলে নব্য পাশ্চাত্যের প্রবক্তা হয়ে উঠেন। মসজিদ, মাদ্রাসা, ইসলামী ওয়াকফ সম্পদ বাতিল করাসহ, সব মুছে দেন। ফেজ টুপি, পাগড়ি  নিষিদ্ধ করে হেট পরার প্রচলন করেন। হিজাবকে নিয়ে ঠাট্টা তামাশা শুরু করে প্রকাশ্যে সেটি পরা নিষিদ্ধ করেন। হিজরী ক্যালেন্ডার বাতিল করে খৃষ্টমাস ক্যালেন্ডার চালু করেন। সাপ্তাহিক শুক্রবারের ছুটি বাতিল করেন। বলা হলো এসব স্যাকুলার দর্শন “ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ” । তার দৃষ্টিতে নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর অনুকরণে তূর্কী জাতির অনুসরণ করার কোন যুক্তি নেই, তার লিখিত Medidni Bilgiler (সভ্যতার কথা, মোস্তফা কামাল) এসব প্রমাণ। তূর্কী ভাষাটি ছিল আরবী ফার্সি মেশানো ভাষা। খুব সহজে তারা এটি রপ্ত করতে পারতো। তারা সুক্ষ্মভাবে খুঁজে খুঁজে এসব শব্দকে ভাগাড়ে ফেলে দিয়ে ল্যাটিন হরফের সমাদরে ভরে তোলে সবকিছু। ৯৯% মুসলিমের দেশটি তূর্কী রিপাবলিকান ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক হবে না, আইনের শর্তে থাকলেও কামালের কৌশলী (?) চালে সব উল্টে যায়। খলিফা আব্দুল মজিদ হালকা ধাক্কাতে উৎখাত হন। ঐ সময় ভারত বর্ষেও নাড়া পড়ে, খেলাফত আন্দোলনের ডাকে পাগল করে তুলে মুসলিম কবি নজরুলকেও। যুদ্ধের ডাকে তিনি ছুটে যান, ঐ সূত্রের গানও তার কবিতায় জমে। ইহুদী বাবার ছেলে কামাল কৌশলে সব দায় চাপিয়ে দেন রাজনৈতিক ইসলামের ঘাড়ে। ওকে রূখতেই চল্লিশ পঞ্চশ ষাটের দশকে তুর্কী ছেলেপেলে ধর্মকে পুরোপুরি ভুলতে বসে। মনের গোপন কষ্ট জমা করে প্রকৃত মুসলিমরা প্রহর কাটাতে থাকেন। যার সহজ পরিণতিতে প্রতিটি দশকেই ঐ সময় ক্যু হতে থাকে।

তুরষ্কের প্রেক্ষাপট বুঝার জন্য কিছু ভূমিকার দরকার ছিল, তাই পাঠকের অবগতির জন্য কিছু অতীত দেখা। যখন ওসমানিয়া সাম্রাজ্য হেলে পড়ে তখন ঐ আনাতোলিয়ান নামের একটি অংশের হাল কষে ধরেন কামাল। উৎফুল্ল জনতা ধরে নেয় তিনিই “কামাল তুনে কামাল কিয়া ভাই ”।  কিন্তু ইতিহাস অপর পিঠে গবেষনা তথ্যে পাওয়া যায় তিনি ছিলেন ইহুদী প্রজন্ম (নিউইয়র্কের ইহুদী পত্রিকায় হিলেল হালকিনের প্রকাশিত কলাম, জানুয়ারী ২৮,১৯৯৪)। ইসলাম ধ্বংসে হাত দাগানো শক্ত ব্যক্তিত্ব। মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশে এ কাজ কোন সময়ই সহজ নয়। তাই তাকে কিছু কৌশলের আশ্রয় নিতে হয়। আর সে কৌশলটি ছিল ধর্মনিরপেক্ষ এজেন্ডাকে সামনে তোলে ধরা। সাব্বাতি সেভি নামের এক ব্যক্তি ১৬৬৬ সালে মসিহএর দাবী নিয়ে আবির্ভুত হন।   গবেষনাতে দেখা যায় তিনি শুধু অমুসলিমই ছিলেন না, তিনি প্রকৃত মুসার অনুসারীও নন, ইহুদীদের এক পথহারা মসিহএর অনুসারী ও বংশধর ছিলেন। এসব শুধু তার পারিবারিক সূত্রেই নয়, তার বক্তব্যেও এর উল্লেখ পাওয়া যায়। ইহুদীরা মনে করতো তুরষ্ক ইসরাইলের একটি প্রদেশ। ১৮৮১ সালে তার জন্ম এবং ১৯৩৮ খৃষ্টাব্দে তার মৃত্যু।

তুরষ্কে ইসলামের নতুন জন্মে এরদোয়ান: রেসিপ তায়িপ এরদোয়ান ১৯৫৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারীতে জন্মগ্রহণ করেন,  যিনি ২০০৩ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ছিলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং ২০১৪ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসাবে আছেন। হাইস্কুলে পড়া অবস্থায় তিনি ইসলামের একজন তুখোড় বক্তা ছিলেন, পরে তিনি পেশাদার ফুটবল খেলাতেও পারদর্শী ছিলেন। তার বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষার সময় সেখানে বিভিন্ন ইসলামিক ব্যক্তিত্ব দ্বারা তিনি অনুপ্রাণিত হন। এদের একজন নেকমেতিন এরবাকান (আরবাকান), একজন যুদ্ধফেরত ইসলামিক রাজনীতিবিদ। তার প্রচারিত পার্টিতেও এরদোয়ান খুবই সোচ্চার ছিলেন। এরকম সময়ে তুরষ্কে এরবাকান ১৯৯৭ সালে আবার ধর্মে রাজনীতি নিষিদ্ধের আওতায় আসেন। ১৯৯৪ সালে এরদোয়ান ওয়েলফেয়ার পার্টির ছত্রচ্ছায়ায় ইস্তাম্বুলের নির্বাচিত মেয়র পদ অধিকার করেন। এতে বিরোধীরা ক্ষুদ্ধ হলেও এরদোয়ান তার দক্ষতার পরিচয় দেন। তিনি  নগরে মসজিদ নির্মানের প্রতিবন্ধকতারোধে ও নগরীতে এলকোহল বিক্রি বন্ধের উপর জোর দেন। আত্মবিশ্শাসী এরদোয়ান শত্রু পক্ষের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জন্য এক বিরাট প্রতিরোধ প্রতিবন্ধক। ১৯৯০ সালে যুবক এরদোগান ইস্তাম্বুলের রাজনৈতিক ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ও সফল মেয়র হিসাবে সেনিটেশন, পানি সমস্যা, ট্রাফিক সমস্যায় জাতির জন্য ব্যতিক্রমী সফলতা নিয়ে আসেন। তিনি তখন ছিলেন একজন তরুণ মুসলিম পার্টি সদস্য। ১৯৯৮ সালে এক মিলিটারী ধর্ম নিরপেক্ষবাদী ষড়যন্ত্রে ইসলামিক আন্দোলন থেকে উচ্ছেদ হন। এ সময় ইসলামের উপর তার লিখিত একটি কবিতার জন্য তাকে শাস্তি স্বরুপ ১০ মাস জেলের ঘানি টানতে হয়। যুগে যুগে সত্য সাধকদের সুযোগ সন্ধানীরা কৌশলে তাদের আক্রমন করেছে। বিভিন্ন এথনিক গোষ্ঠীর ৯৯% মুসলিম অধ্যুষিত তুরষ্কের বাসিন্দারা মুসলিম নামেই পরিচিত, বাকীরা খৃষ্টান। অল্প সময় বাদে বলা চলে ১৯২৩-২০০২ পর্যন্ত চলে ঐ মোস্তফা কামালের যুগ। যেখানে বিকৃত ইসলামকে স্থানান্তর করা হয় ইসলামের আড়ালে ধর্মনিরপেক্ষ অবয়বে। মাঝের সময়ে তুরষ্কের মুসলিমরা হয়ে পড়ে ভিন্ন রকম এক যাতনার মুখোমুখি। আমরা ইদানিং এরদোয়ান বিরোধীও দেখছি, এটি ঐ বাতিল খোড়ারোগের পুনরাবির্ভাব ছাড়া আর কিছু নয়। আমাদের কিছু বিভ্রান্ত লেখকরাও ঐ কামালের স্বগোষ্ঠীর তালিতে তালি দিয়ে যাচ্ছেন, যারা বহুদিন থেকে সরব আছেন বাংলাদেশটিকেও ঐ কামালীয় অবয়বে মুড়ে দিতে।  তুরষ্কে বিগত শতকের খোড়ারোগে আবারো আক্রান্ত করার সুযোগ থাকার সম্ভাবনাকে মোটেও উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই অতি অবশ্যই এরদোয়ানকে কঠিন ও বাস্তবধর্মী হতেই হবে। কৌশলীরা কিয়ামত পর্যন্তই প্রবল হওয়ার চেষ্ঠা চালিয়ে যাবে।

উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের পার্টি একেপার্টি ২০০২এ ক্ষমতায় আসে। মুছে যাওয়া ইসলামকে মানুষ ময়দানে দেখে। ইসলামের এ নব আবিষ্কারের কৃতিত্ব এরদোয়ানকে দিতে জাতি কুন্ঠিত হয়নি, আধুনিক তুরষ্কের মুসলিমরা ঘরে ফেরার স্বাদ পায় নতুন করে। এরদোয়ানই প্রথম ইসলামিস্ট নেতা যিনি জাতিকে একদিকে যেমন সমৃদ্ধি এনে দিয়েছেন, ঠিক তেমনি জাতিকে তার বহুদিনের আত্মার খোরাক অস্তিত্বের সংকট থেকে নৈতিকতার মানদন্ডে ধর্মের পরিবেশ ফিরিয়ে দিয়ে জাতির জন্য প্রকৃত মুক্তির দিশা সহজ করে দিয়েছেন। ফাউন্ডিং ফাদার কামাল আতাতূর্ককেও মানুষ মুসলিম ধরেই আগায়, যদিও তাদের সে বিশ্শাসে বিষ ঢেলে দিয়েছিলেন কামাল। তাদের মনের অজান্তেই সেটি ইহুদী ছলনার সাথে মিশে যায় বলেই তুরষ্কের জনগণকে বেশ বড় সময় থেকেই কঠিন সময় পার করতে হয়।

নতুন প্রেসিডেন্টের নতুন প্যালেস: এ নিয়েও কিছু বিতর্ক জমছে। বিরোধীরা বসে নেই, প্রতিটি সুযোগের ব্যবহার তারা করবে। এরদোয়ান তার পুরোনো প্রাসাদের জটিলতা কাটাতে এটিও তার প্রশাসনের এক সংযোজন বলা চলে। এরদোয়ানের এ বিরাট প্যালেস বিরুদ্ধবাদীদের এক ব্যতিক্রমী রসদ হিসাবে কি প্রচার পাচ্ছে? তবে বিরুদ্ধবাদীরা কটু মন্তব্যে পিছিয়ে নেই। এটি ঐ রাষ্ট্রের সম্পদ, তার শক্ত ভিত্তির পরিচিতি প্রকাশ করছে। যদি ঐ প্যালেসে জাতির মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, বহাল থাকে তাতে লুটপাটের চেয়ে এটি নিশ্চয়ই একটি স্থায়ী বিনিয়োগ, স্থায়ী ইনভেস্টমেন্ট। ইস্তাম্বুল গ্যাজেটের এডিটর ডঃ কেন এরিমটান তার কলামে কুরআনের সুরা বাক্কারাহএর ২৫৪ নাম্বার আয়াত দিয়ে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। “ওহে যারা ঈমান এনেছ! আমরা তোমাদের যে রিযেক দিয়েছি তা থেকে তোমরা খরচ করো সেই দিন আসার আগে যেদিন দরদস্তুর করা চলবে না, বা বন্ধুত্ব থাকবে না, বা সুপারিশ থাকবে না।  আর অবিশ্শাসীরা, তারাই অন্যায়কারী।” এরদোয়ান এক বকতৃতাতে বলেন, ১১৭৮ খৃঃ কলাম্বাসের আগমনের ৩১৪ বছর আগেই মুসলিম নাবিকেরা আমেরিকা পৌছায়। খৃষ্টপার কলাম্বাস তার স্মরণিকাতে স্বীকার করেন যে, কিউবার উপকন্ঠে পাহাড়ের চূড়াতে একটি মসজিদের উপস্থিতি ইসলামের সাক্ষ্য হয়ে ছিল। আমেরিকা আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সাথে যুক্ত ডঃ ইউসুফ মরুহ বলেন, দশম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মুসলিমরা আমেরিকা আবিষ্কার করে। ঐ অতীতকে মনে করে ভবিষ্যতে ঐ স্থানে একটি মসজিদ তৈরীর ইচ্ছাও এরদোয়ান প্রকাশ করেন। তুরষ্কের অটোমান সুলতানদের ও একেপার্টির ঐতিহাসিক ভূমিকা তাকে ঐ কাজটি করার ইচ্ছায় উদ্বুদ্ধ করছে।

অভ্যুত্থানের পর পরই এরদোয়ানের প্যালেসকে হাই লাইট করে প্রচার করলো নিউইয়র্ক টাইমস। অনেকে দেখছেন মন্তব্য করছেন উল্টাসিধা। এ কৃতিত্ব এরদোয়ান সরকারেরই, এরদোয়ান অন্য লুটেরার মত এসব বগলদাবা করে সুইস ব্যাঙ্কে জমা করছেন নাা। এরদোয়ান বা তুরষ্ক হচ্ছে ওসমানিয়া সামাজ্যের নব আবিষ্কার, যা দেখে প্রতিটি ষড়যন্ত্রী মনই শংকিত হবে, যারা অন্যের ভালো চায় না। সৌদির স্বৈরতন্ত্রে যাদের অরুচি নেই কিন্তু তুরষ্কের গণতন্ত্রে কেন বিচলিত? গোটা জাতির অভ্যুত্থান এরদোয়ানের স্বপক্ষে স্পষ্ট ম্যাসেজ বিলি করছে, তারপরও পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম কিছু ক্ষেত্রে কেন প্রশ্নবিদ্ধ?  দোয়া করি বাকী বিশ্শের মনের মতই মডারেট, যুক্তিনির্ভর রেডিক্যাল, টলারেন্ট অসংখ্য গুণাবলিতে ভরা শতধাবিভক্ত নয়, এক জাতি গোষ্ঠী তুরষ্কে নতুন উদ্যমে বেড়ে উঠুক। নাজিমুদ্দীন আরবাকান ছিলেন আগেকার সংগ্রামী জনতার অংশ। ঐ সময়ের আরবাকানের অনুগত অনুসারী ছিলেন আজকের এরদোয়ান, গুলেন।  ১৯৯৭ সালে ৮ মাসের মাথাতে আরবাকানকে উৎখাত করা হয়। এভাবে বারে বারে মার খেতে খেতে আজকের একেপার্টি। ২০০২ থেকে আজ পর্যন্ত স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নিরংকুশ বিজয়ই এরদোয়ানের অবস্থানকে এতদূর এনেছে। ইসলামের আলো আল্লাহর আলো হলে এটি নিভে যেতে পারে না। এটি শত অনাচারের পরও জ¦লবেই।

ময়দানে ষড়যন্ত্র করা ছিল ইবলিসের ধর্মীয়  ঐতিহাসিক শর্ত: কামালের কৌশল ছিল ইসলামকে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল। বস্তুত ইসলাম রাজনীতি নিয়েই বেড়ে উঠে। একে আলাদা করলে সেটি আর ইসলাম থাকে না। প্রাক ইসলামের মসজিদ হচ্ছে ইসলামের সংসদ, সেটি ভুলে গেলে চলবে না। প্রতিটি নির্যাতনের প্রতিটি সমস্যার সমাধান, প্রতিটি রাজনৈতিক সমাধানও ইসলামিক উপায়েই সারতে হবে,  তাই মুসলিমদের উপর কুরআনের নির্দেশ। একে খন্ডিত করলে আর ইসলাম থাকে না। ইসলাম থেকে অন্য সব ধর্ম আলাদা হতে পারে,  কিন্তু ইসলাম আল্লাহর প্রদর্শিত বাণী দ্বারা পরিচালিত, কুরআনের অবজ্ঞা করা বা এর থেকে সরে আসা মানেই ধর্মকে ধ্বংস করা। ইসলামের অনুসারীদের কখনোই জুলুমকে মাথা পেতে নেয়ার কথা নয়। জালিম শাসকের প্রতি সামনা সামনি প্রতিবাদ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, এর নামই জিহাদ। জুলুমের প্রতিবাদ করতে না পারলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করতে হবে,  যদিও এটি দুর্বল ঈমানের লক্ষণ। কাফের, জালেম ও দুস্কৃতিকারী হচ্ছে নষ্ট মানুষের বিশেষণ। যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে আর আল্লাহর নাজেল হওয়া জিনিসের বিচার করে না, তারাই কাফির (সুরা: ৫:৪৪), যারা আল্লাহর আইনে শাসন করে না, তারা অন্যায়কারী জালেম (সুরা: ৫: ৪৫) আর যারা আল্লাহর আইনে বিচার করে না তারা নিজেরাই দৃস্কৃতিকারী (সুরা: ৫:৪৭)। গোটা মধ্য প্রাচ্যের ইতিহাসে গণতন্ত্র দেখাতে পেরেছে তুরষ্ক, যদিও এর মাঝে পশ্চিমা তীর্যকতাও চোখে পড়ছে। মূল ইসলামে স্বৈরতন্ত্র অনুপস্থিত। যেদিন থেকে এর আমদানি হয়েছে সেদিন থেকে এর এক অংশ নষ্ট খোলসে ঢাকা পড়ে গেছে। প্রকৃত ইসলামকে মুক্ত করতে হলে স্বৈরতন্ত্রকে ঝেটিয়ে বিদেয় করতে হবে। এই স্বৈরতন্ত্রই ধর্মটিকে বিভক্ত করতে সাহায্য করেছে, সেদিন থেকেই মনগড়া আচার ময়দানে ঢুকার অবকাশ তৈরী হয়েছে। এসব কিছুই প্রকৃত গবেষনা দিয়ে ময়দান থেকে বিদায় করতে হবে। শিয়া সুন্নীর মত বিতন্ডাকে উসকে দিয়েছে ইসলামের বৈরী শক্তি, যারা এর ধ্বংস চায়। যারা প্রকৃতই ইসলামের শত্রু।

২০০৩ থেকে যে যাত্রা শুরু করেছে তুরষ্ক, সুদীর্ঘ সময়ের মার খাওয়ার পরও যেন তারা সত্যকে হজম করতে পারায় আরো দক্ষতা দেখায়। জয়েল রিচার্ডসনের কলামে ও বাকী অনেকের কলামেও একটি বহুদিনের বিতর্কীত পয়েন্ট উঠে এসেছে। মুসলিম মাসিহ হিসাবে মাহদীর আগমন। তার বইএর নাম The Islamic Antichrist: The Shocking Truth about the Real Nature of the Beast. এ স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে মনগড়া কোন অভ্যুত্থান বা প্রচেষ্ঠা কি ঐশ^রিক অর্জন জমা করতে পারবে?  ঐ স্বপ্নকে বাস্তবে ময়দানে দেখতে হলে ওকে আল্লাহর  গডের বা যোহোভার গ্রন্থে স্পষ্ট দাগ থাকতে হবে। মুসলিম বিশ^কে দুভাগ করা হয়েছে ইরানী ও আরবী অবয়বে। এ বিভেদ কুরআন বা ইসলাম স্বীকার করে না। সঙ্গত কারণেই এদের এক হতে হবে। সত্য ব্যতিরেকে সব বাতিলকে ফেলে দিতে হবে। “একতাই বল” হবে ময়দানের জাগরণের বাণী। উভয়ের সৎ গুণাবলিকে একত্রিত করতে হবে। উভয় দলকে জাহান্নামের লেলিহান শিখা থেকে উদ্ধার করতে হবে, মুসলিমদেরেই এতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

শাহরিয়ার শহীদের রচিত “ইসলামে বিভ্রান্তি ও বৃটিশ স্বীকারোক্তি” গ্রন্থ থেকে কিছু ঐতিহাসিক সত্যের নজির ও কিছু তথ্যভিত্তিক উদাহরণ তুলে ধরছি। (১) মুসলমানদের দুর্বল জায়গার খোঁজ নিতে হবে। সেই দুর্বল জায়গা দিয়ে আমরা তাদের দেহে প্রবেশ করবো এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গ খুলে ফেলবো। বস্তুতপক্ষে শত্রুকে ঘায়েল করার এটাই পথ। (২) যে সময় তুমি এসকল দিক চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে তখন আমি যা বলেছি তা করবে। —-যখন তুমি মুসলমানদের রজ্জুহীন করতে সক্ষম হবে এবং একজনকে আরেকজনের বিরূদ্ধে বিবাদে লিপ্ত করতে সক্ষম হবে তখনই তুমি হবে সবচেয়ে সফল এজেন্ট এবং মন্ত্রনালয় থেকে অর্জন করবে একটি মেডেল”। (৫২ পৃষ্ঠা) মন্ত্রনালয়ের একজন বললেন, “আপনার কাজ হচ্ছে মতভেদ উস্কে দেয়া, মুসলমানদের একতাবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে চিন্তা করা নয়” (৫৪ পৃষ্ঠা)। আমাদের বিদায় অনুষ্ঠানে উপনিবেশ সমূহের মন্ত্রী আমাকে বলেন যে, “আমরা মদ ও নারীর সাহায্যে অবিশ্বাসীদের (মুসলমানদের) হাত থেকে স্পেন দখল করে নিয়েছি। এই দুটি বিশাল শক্তি দিয়ে আমাদের হৃত সকল ভূখন্ড ফিরিয়ে আনতে হবে” আমি জানি মন্ত্রীর বক্তব্য কত সঠিক ছিল (ঐ, ৬২ পৃষ্ঠা)।

সাম্প্রতিক তুরষ্কের এ ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পেছনে কে বা কারা জড়িত,  তার নজিরসহ কিছু প্রমাণ এর মাঝে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিন যিনি বন্ধুর ভূমিকাতে ছিলেন কোন কারণে আজ তার বিচ্যুতি হয়েছে। দৃশ্যত দুজনাই ইসলামের অনুসারী কিন্তু ইসলামের মূল রাস্তা আর অপরাধীর রাস্তা কখনোই এক নয়। আদম আর ইবলিস দুজনাই আল্লাহর ভক্ত ছিলেন,  কিন্তু দু’জনাই এক পথের পথিক নন। এরা অপরাধীরা এভাবে যুগে যুগে বিভেদকে জিইয়ে রেখেছে। সময় এসেছে একতার পথে চলার, আর বিভেদের গ্যাপটিকে স্পষ্ট করে তোলারও। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের শিকড়সূত্র স্পষ্ট করেছে তুরষ্ক ভিত্তিক পত্রিকা “ইয়ানি সাফাক” সাবেক ইউএস কমান্ডার জেনারেল জন এফ ক্যাম্পবেলকে তবে যুক্তরাষ্ট্র এটি অস্বীকার করছে। ঐ বরাতে ফেতুল্লা গুলেনের সূত্রকথাই প্রকাশিত হয়েছে যিনি আমেরিকা সরকারের নিরাপত্তায় পেনসিলভেনিয়াতে আছেন। শুরু থেকেই এরদোয়ান তাকে সন্দেহ করছিলেন আর এর জবাবে তিনি নির্দোষ জানিয়ে উল্টো মন্তব্য করেন যে, এসব এরদোয়ান সরকারের সাজানো নকল অভ্যুত্থান। যদি তাই হয়, তবে ২৪০-২৪৬ জনের হত্যা ও ২,০০০-২১০০ জনেরও বেশী আহতের উপর দিয়ে এরকম একটি অভ্যুত্থান ঘটিয়ে গুলেন জাতি বিরোধী, ধর্ম বিরোধী, নীতি বিরোধী, ইসলাম বিরোধী কাজ করলেন। এখানে গুলেন ও তাকে সহযোগিতা গোটা বিশে^ প্রশ্ন জমা করেছে। এরপরও কিছু জনেরা গুলেন প্রেমিক হচ্ছেন হতে পারে এর মূল কারণ তারা ইসলাম প্রেমিক নন, বরং বিদ্বেষী। এটি সফল হলে অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়ানো তুরষ্ককে নর্দমায় ফেলে দেবার প্রক্রিয়া অবশ্যই সহজ হতো এবং তুরষ্ক ও এর জনগণ অতল গহবরে নিপতিত হত। অনেকের চোখে এতে এরদোয়ান গহবরে পড়তেন, কিন্তু বাস্তবে ইসলামকে গহবরে ফেলার প্রক্রিয়া এটি ছিল না, বলার সুযোগ কম। এখন অভ্যুত্থান পরবর্তী বেশ শক্ত পদক্ষেপ নেয়াতে অনেকেই মনোক্ষুন্ন হচ্ছেন, এতে তাদের স্বরুপ স্পষ্ট হয়ে পড়ছে। কিন্তু একটি জেগে উঠা সচেতন জাতি ধ্বংসের এসব কৌশল নিঃসন্দেহে মানবতার বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে!  অভ্যুত্থানে ষড়যন্ত্রকারীদের  ২ বিলিয়নেরও বেশী ডলার বিলি করা হয়। যুগে যুগে ষড়যন্ত্রীরা এ ধর্মে বিভেদের সুযোগ নিয়েছে, নিচ্ছে, ভবিষ্যতে আরো নিবে। সুফিবাদের নামে, তরিকার নামে নকশাবন্দীর নামে এসব বিভেদ আরো চাঙ্গা হচ্ছে, মুসলিম নামধারী গুলেনের নীতি এসব তরিকার অনুসারী। এসব ছলনার রাস্তা থেকে প্রকৃত মুসলিমকে বের হয়ে আসতে হবে। কুরআন বলে, যারা মূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয় ও মতভেদ করে, স্পষ্ট বানী আসার পরও, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে শাস্তি ও কঠোর যন্ত্রণা (আল ইমরান ১০৪ আয়াত)। আল্লাহর বিচারেও এরা আসামী, রাষ্ট্রের বিচারও এদের জন্য বরাদ্দ থাকা অনৈতিক হওয়ার কথা নয় বরং উপযুক্ত।

একক ইসলামে বিভক্তি অনৈসলামিক: এক ইসলামের দুই বা শত শত বিভাগ হতে পারে না, এসব অনৈসলামিক। তারপরও শোনা যায় এশীয়, আফ্রিকান,রাশেদী, উমাইয়া, আব্বাসীয়, উসমানী, আধুনিক, আরবীয়, তূর্কী, মালয়, সুন্নী, শিয়া, জিহাদী, বিপ্লবী, রেডিক্যাল, প্রতিক্রিয়াশীল, ডানপন্থী, বামপন্থী, লিবারেল, গোঁড়া, সূফিবাদ, রাজনৈতিক, মৌলবাদী, আধ্যাত্মিক, পার্থিব, ঐশ^রিক, এখানে ২৬টি নাম করলাম যা অনেকেই অনেক বক্তব্যে প্রচার করেন। এসব প্রত্যেকটি বিভাগ ষড়যন্ত্রী পক্ষের সাজানো ভাগ। কোন মুসলিমকে ঐসব হাইলাইট করে প্রচার করা মানে কুরআনের  সুরা ইমরানের ১০৪ আয়াতের কঠিন শাস্তির মাঝে পড়ে যাওয়া। ইসলাম একক রুপে আবির্ভূত হয়েছে সব দিন সব সময়। এক আল্লাহ, এক রসুলের হাতে ও এক গ্রন্থের শক্ত নির্দেশনা নিয়ে আসা সিলেবাসের ধর্মটির দুটি রুপ হতেই পারে না। এসব আলাদা বিভাগ হিসাবে প্রচার করা অনৈসলামিক কাজ, ও পথে চললে শক্ত শাস্তির মোকাবেলা করতে হবে। ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ^ যুদ্ধের পর পরই উসমানীয় খলিফার দুর্যোগ এর মূলে নিশ্চয় অসংখ্য কারণ ছিল। সেটি যুগের তাগাদায় গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন, করছেন, করবেন। শক্তিমান বৃটিশ, রুশ, গ্রীকরা দূর্বল অসুস্থ হয়ে পড়া দেশটিকে ভাগ বন্টন করে নেয়।

নিউইয়র্কে একবার এরদোয়ান বলেছিলেন,  মুসলিম বিশে^র ইরাক, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, বলকান সমস্যার উদ্ভব ঘটে উসমানী খিলাফতের অবলুপ্তির পর। এরদোয়ান মেয়েদের ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন। তবে অতি স্বাধীনতার বলয়ে ঢুকে হতাশা ও ভোগবাদীর দিকে না ঝুকতেও সাবধান করেন। ধার্মিকতা মানুষকে মর্যাদাবান করে, অপমান নয়, এ বোধ জাগাতে তিনি তার জনতাকে উৎসাহিত করেছেন, মায়েদের মর্যাদা রক্ষার্থে মানবিক ও নৈতিক সব রাস্তা বাতলে দিয়েছেন। যেখানে কামাল এক দঙ্গল ধর্মহীন সেক্যুলার গড়তে ব্যস্ত থেকেছেন, সেখানে এরদোয়ান চেয়েছেন একদল মানুষ নামের নৈতিকতায় পোক্ত আল্লাহভক্ত  নির্মল মানুষ গড়তে। মদের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হয়েছে এবং গভীর রাত্রে এসব বিক্রি বন্ধ হয়েছে,  বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রবর্তিত নিয়ম কানুন রক্ষা করার প্রচেষ্ঠাও তিনি গ্রহণ করেছেন। কামালের প্রচেষ্ঠা ছিল জোর জবরদস্তি করে শক্তির তলানীতে ক্ষমতা ধরে রাখা। যেখানে তিনি তার জাতিকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে পেরেছেন, সাথে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বাদ এনে দিয়েছেন, শুধু ধর্ম নয় বরং ঐ অর্থনৈতিক মুক্তিই মানুষকে আশ^স্ত করেছে সবচেয়ে বেশী। লুট পাটের অনৈতিক বানিজ্য এখানে দূর্বল, স্বভাবতই অর্থনীতির বিজয় ঘোষিত হবেই। আল্লাহ ভীরু জনতারা সবদিনই বিশে^র ত্রাস। বিশে^র কোন করাপ্ট শক্তিই এদের সামনে দাঁড়াতে অপারগ। এখানে চাঁদাবাজি, লুটপাটের বানিজ্য  জন্মাতে পারে না। যার জন্যই তুরষ্ক আজ সানৈ সানৈ গতিতে এগিয়ে যেতে পেরেছে। ২০০৫ এ যে মাথাপিছু আয় ছিল ৬ হাজার মার্কিন ডলার, সেটি ২০১৩ সালে বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার মার্কিন ডলার, খোদ বিশ^ ব্যাঙ্কের হিসাবে। বহু যুগের নিষ্পেষনে থাকা তুরষ্ক জাতি আজ মুক্তির স্বাদ পেয়েছে যদিও চারপাশে নাগিনীরা ফেলছে বিষাক্ত নিঃশ^াস। সাক্ষরতার হার প্রায় ৯৯%, একদল সুশিক্ষিত জনতা গোটা বিশ^কেই পথ প্রদর্শন করতে সক্ষম। অনেক সমাজে দেখা যায় মানুষ শিক্ষিত থাকে বটে তবে সেটি সবার সুশিক্ষা নাও হতে পারে, অনেকেই কুশিক্ষিত থাকে।

প্রতিষ্ঠিত ইসলামকে শিয়া ও সুন্নীতে দুভাগ করা এ ধর্মের প্রথম বড় অপরাধ। তারপর হয়েছে শত শত তরিকার নামে সুফিবাদের তলানীতে এমন সব বিতর্কীত আচরণ এখানে এনে ঢুকানো হয়েছে, এসব প্রকৃত কুরআনিক ইসলামের সাথে সবদিন সাংঘর্ষিক।  জানা যায় অভ্যুত্থানের সন্দেহভাজন ফেতুল্লাহ গুলেন ঐ শিরকধারী বিতর্কীত সুফিবাদের অনুসারী যারা প্রকারান্তরে মূল ইসলামের অপশক্তি। যারা এসব অনুসরণে আছে এরা বেশীরভাগই বিতর্কীত অবস্থানে টিকে আছে। এরা একমুখে তাকওয়ার কথা বলে আবার পরক্ষণেই আল্লাহর তাকওয়া ছেড়ে মানুষের কাছে মাথা বিকিয়ে দেয়। অনেকের যুক্তি মওলানা রুমি, মনসুর হাল্লাজ এরা সুফিবাদের  প্রবক্তা, কিন্তু তারা কেউ নবী নন, প্রবক্তা হওয়ার স্বরচিত পথ এভাবে হতে পারে না। ইসলামে এসব নিষিদ্ধ। ধর্মটি আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ ব্যতীত হালকাভাবে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া অনেক বিতর্কীত অনুসারীদের কর্মকান্ড কুরআন দ্বারা স্বীকৃত নয়, বরং প্রচন্ডভাবে সাংঘর্ষিক। কুরআনে বলা হয়েছে এরা ধর্মের নামে মরিচিকার পিছে ঘুরছে (সুরা নূরের ৩৯ আয়াত)। এদের উপার্জন কোন কাজে আসবে না (সুরা ইব্রাহিম ১৮ আয়াত)। এরাই মিথ্যাবাদী, এদের অনুসরণ করতে বারে বারে নিষেধ করা হয়েছে (সুরা আনকাবুতের ১২,১৩,৪১ ও আন’আমের ৭০ আয়াত)।

জীবনে নীতি নৈতিকতা সবদিন আপদ ঠেকে কামাল গংদের কাছে। কুরআনে এসব দৃষ্টিহীনকে বলা হয়েছে অন্ধ, পথহারার দল। বলা হয়েছে এরা মোহর মারা দলের মানুষ, চোখ থাকতেও এরা অন্ধ।  কৌশলী মোস্তফা কামাল পাঠ্যবইকে সম্পূর্ণ নিজের মত করে পালটে দিয়েছিলেন, একই খেলা চলছে বাংলাদেশে সিলেবাস পরিবর্তন করে প্রতি সেক্টরকে প্রতিবন্দী বানিয়ে দেয়া হয়েছে এর মাঝেই। বাংলাদেশেও নৈতিক ধ্বসের মড়ক চলছে শিক্ষা সেক্টরসহ সর্বত্র, মানুষ নয়, দেশ গড়ছে অমানুষ ডাকাত। ইসলাম একক রুপে আবির্ভূত হয়েছে সব দিন সব সময়। এমন কি যখন আগের নবীদের কাছে ওটি আসে, তখনও এটি ঠিকই ছিল ঐ এক শক্তির উপর দাঁড়ানো।  পরবর্তীরা গ্রন্থে সংযোজন বিয়োজন করেছেন বলেই পরবর্তী সংস্করণের দরকার জরুরী হয়। “আমরাই এর অবতরণকারী ও এর সংরক্ষণকারী / এ হচ্ছে সম্মানিত কুরআন, আছে সুরক্ষিত ফলকে” (সুরা আল-হিজরএর ৯/৮, আল-বুরুজ ২১/২২ আয়াত)।  আল্লাহ গ্যারান্টির প্রমাণ্যতা হিসাবে আজ চৌদ্দশত বছরেরও বেশ পরেও এটি অপরিবর্তীত। এ অপরিবর্তন ধর্মটির সবচেয়ে বড় বিস্ময়। হাজার হাজার কোটি কোটি মানুষ তা ঠোটস্থ কন্ঠস্থ মুখস্থ করে রেখেছে। সর্বক্ষেত্রে প্রতিটি অন্তস্থলে এটি হৃদয়ঙ্গম করাই সময়ের বড় দাবী। তুরষ্ক যেন আজকের হতাশার পৃথিবীর রোলমডেল, আলোকবর্তিকা। আল্লাহ মানব জাতির সহায় হোক ও সুমতি দিক।

নাজমা মোস্তফা, ২ আগষ্ট, ২০১৬ সাল।

Tag Cloud