Articles published in this site are copyright protected.

Archive for the ‘Islam’ Category

এখানে মোট ১০০ + + + লেখার লিংক দেয়া হলো। যে লেখাগুলি রাজনৈতিক পটে লেখা হয়েছে। বাংলাদেশ বড় সংকট সময় পার করছে। বাস্তব ঘটনার আলোকে এগুলি লিখা হয়েছে ময়দানের দাগ চিহ্ন দেখে। স্বাধীনতা পরবর্তী জাতি এত বিপর্যস্ত অবস্থান মোকাবেলা করে নি যা বর্তমানে একটি বড় সময় থেকে মোকাবেলা করে যাচ্ছে। লেখাগুলি বাংলাদেশীদের জীবনের সাথে অতোপ্রতোভাবে জড়িত। লেখাগুলি প্রতিটি সচেতন বাংলাদেশীর পড়া অত্যন্ত জরুরী। তাছাড়াও কিছু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাস্তব নির্যাতনের কিছু চিত্রও এখানে এসেছে। শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসাবে ইসলাম একটি জরূরী অধ্যায়, অস্বীকার করার উপায় নেই। তাতে কোন ভুল জড়িত থাকুক সেটি এখানের কোন সৎ নেতৃত্বই চাইবেন না। সঙ্গত কারণে সেটির মূল্যায়নও দরকার। 

ইমাম যখন ঈমান হারান / আলখাল্লার ভিতরে ইবলিসের বসবাস /  বৌদ্ধ ধর্মের শিকড়েও ইসলাম /  মানুষের রক্তে নদীরা লাল /  শিকড়হারা (?) রোহিঙ্গাদের ইতিহাস / সৌদি, কাতার, গণতন্ত্র, আরববসন্ত, ইসলাম – সন্ধানী বিশ্লেষণ  /  ফরহাদ মজহার, খালেদা জিয়ার বোতল, পুলিশ ও সরকার / পলাশির পতনের মূলে হিন্দু পরাশক্তি অতঃপর মীরজাফর /

বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন, ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব? , নিষিদ্ধ বৃক্ষ / ২০১১ সালের ৩১ মে (বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস) উপলক্ষে লেখা /  বাংলাদেশের কলিজাতে কামড়: লাশের মিছিলে জিয়া ও মঞ্জুর / মালালা ও নাবিলা: পশ্চিমা বিশে^র নাবলা কথা। মাদ্রাসার বই ও হিন্দু লেখক , ভুল শুধরে ফের ভুল / সত্য বলা ছাড়া আর কোন বিকল্প দেখছি না /  হাওর গিলছে ভারত পানি মাঙ্গা লালপানি মিলা / জাতীয় সংগীত মূর্তিবন্দনা থেকে মাতৃবন্দনা অদক্ষ হাতে দেশবন্দনা (conspiracy / politics) বাংলাদেশ কি আকবরের দীন-ই-এলাহীর উত্তরসুরি? / পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার / স্বাধীনতা হারাবার শংকা কেন জাগছে? / মাওলানা সাঈদীর বিচারে “গভমেন্ট গেছে পাগল হইয়া তারা একটা রায় চায়” /  ষড়যন্ত্রের ভূমিকম্প : সিকিম মানচিত্রের পরিবর্তন / মধ্যযুগীয় উপনিবেশ: রুখে দাও বাংলাদেশ  / প্রতিরক্ষা চুক্তির ফাঁদে লেজেগোবরে জঙ্গিবাংলাদেশ ভাসুরের নাম মুছতে ব্যাংকে আগুন সাথে জঙ্গি হামলা /  ২০০১ সালের ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ জানান দেয় বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশ / বিগত শতকের গুণ্ডামি আজ চলচ্চিত্রের ‘গুণ্ডে’ / ঢিলের বদলে পাটকেল আসে কখনও খোদায়ি কখনও মানবিক /  ১৯৮৩ সালে ভারতে বাংলাভাষীদের ওপর আরোপিত নেলীর ধ্বংসযজ্ঞ /  এরশাদ চিহ্নিত জোড়া প্রতারকের একজন / ওড়না বিতর্ক: / মুক্তমনা ধর্মনিরপেক্ষ ও নাস্তিক্যবাদের নামে পাঠ্যবই এ গভীর ষড়যন্ত্র /  কয়লার ময়লাতে সুন্দরবন গভীর শংকায়  / আটশ’ বছরপূর্ব ওলির বাণীতে মানচিত্রের অতীত ও ভবিষ্যত্ +সিইসি বিতর্ক পিপিলিকার পাখা /   ছবি যখন ডিজিটাল ভোটের কথা কয়! /  ইসলাম বাতিলের ধ্বনি / জাতি জাগো  / ধর্মনিরপেক্ষতা ষড়যন্ত্রীদের ধর্ম বটিকা ! / গোলামী বড়? / প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষা ধর্ম চাকরী / ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ / পড়শির মনমত  / পথ খুঁজছে নাগরিকত্ব হারানো / হিন্দু প্রলয়াম / কুরআন পুড়ানো, প্রতিমা ভাঙ্গা / আনন্দবাজার ও “র”সুন্দরবন শংকায় “ক্রুসেডার ১০০”সংকটে জেগে উঠ / রাজনীতির অগ্নুৎপাত / গণতন্ত্র কি / শহীদের প্রশ্নবিদ্ধ সংখ্যা  / জাতীয় সংগীত বিডিআর বিদ্রোহ / মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার মেজর (অবঃ) এম এ জলিল: অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা / আলামত সৃষ্টির না ধ্বংসের? ব্যাংক লুটে ৭২ – ৭৪, ২০১৬ / প্রস্থান হোক প্রধান দাবী /  চিন্তার বলিরেখা কপালে / দুজন সম্পাদক / জিহাদ জঙ্গি, জয়, লাশের দেশ / গুলশানের জমা / সরকারই জঙ্গী ওপেন সিক্রেট / কল্যানপুরের জঙ্গি / সার্বভৌমত্ব মাপুন / দুর্গা পূজা পলাশীর কলঙ্ক / সুরঞ্জিতনামা / সংকটে বাংলাদেশ / কণ্ঠে কাঁটার মালা লতার বেদনায় হালকা মলম / দুই বিদেশী হত্যা: সরকার ও ভারত /  অন্ধ আলোটা নিভিয়ে দাও / বিরোধীরা আন্দোলনে সরকার গণহত্যায় / সরকার অপকর্ম দেখে না /  বিএনপি সরকার পতনের লক্ষে একুশে আগষ্ট ২০০৪, সন্দেহ সন্ত্রাসীকে / ভারত সরকারের নির্বাচনী ব্যাঙ্ক ২০১৪ ডিসেম্বরের রাজনৈতিক হালখাতা / লাশের মিছিলে জিয়া ও মঞজুর / স্বৈরাচাররা দুর্গন্ধ ঢাকতে ব্যস্ত ভালবাসার নাস্তিক সংকট / বৈশাখ পূজা শবেবরাত ইলিশ মঙ্গলপ্রদীপ সমকামিতা মানবাধিকার / ২০১৬এর রমজানে সংযম সংকট /  আকবরের দীন-ই-এলাহী কি ? ষড়যন্ত্রে : সিকিম মানচিত্রের পরিবর্তন / গুজরাটের রক্ত: ভারতবর্ষের গর্ব না কলঙ্ক? / অযোধ্যার আগুনের সলতেটা কার /

ধর্ম ও গবেষনা মূলক লেখা: অনেক ক্ষেত্রে ভুল ভাবে ধর্মের  বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সেটি স্পষ্ট করতে ১৮ + লেখা সংযোজন করছি যে গুলি এর মাঝে ছাপা হয়েছে এই সাইটে। 

ইমাম যখন ঈমান হারান / সৌদি, কাতার, গণতন্ত্র, আরববসন্ত, ইসলাম – সন্ধানী বিশ্লেষণ /  বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন,  ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব?, নিষিদ্ধ বৃক্ষ২০১১ সালের ৩১ মে (বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস) উপলক্ষে লেখা / ইসলামে যুদ্ধ: ব্যাখ্যার নামে অপব্যাখ্যা / ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:মুতার যুদ্ধ ময়দানের কঠিন যুদ্ধ: ধর্ম ব্যবসা নয় / দোররা / কার্টুন এক হাস্যকর তামাশা  / সেক্যুলার বাংগালি মুসলিমের ধর্মহীনতা / ২০১৫ এর লাশের মিছিলে হজ বিপর্যয় / “মুতাহ” বিবাহ “আইএসআইএস”এক বিষ ফোঁড়ার নাম / মাকড়শার ঠুনকো বাসাখুতবা, তবলিগ জামাত, ইজতেমা ও কিছু কথা / জাকির নায়েক ও সৌদির এক ধর্ম প্রচারকের পুরষ্কার / ধর্মহারা লালনের জন্য ডেরা তৈরী করে কে বা কারা? / যুগের সত্য মোকাবেলায় হিন্দু সংস্কৃতির প্রস্তুতি / পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার। / তুরষ্কের অভ্যুত্থানে আযান ছিল বিপদের সাইরেন ধ্বনি / ইহুদীরা না ইসরাইলীয় না সেমেটিক, জায়নবাদী ইহুদীরা নবী ইব্রাহিমের নয়, হিটলারের অনুসারী / মধ্যযুগ বাংলাদেশে, ধর্মের নামে রাজ প্রতারণা / ইসলামের নারী

তাছাড়া কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণামূলক বিষয়ে বা সাহিত্যে ইতিহাসে যে নির্যাতনের অপকর্ম করা হয়েছে তারও কিছু ছোঁয়া থাকবে। এবারের লেখাগুলোতে ডজনখানেক লেখা সংযোজন করছি।  

মালালা ও নাবিলা: পশ্চিমা বিশে^র নাবলা কথা। শিকড়হারা রোহিঙ্গাদের ইতিহাস / সময়ের দাবী কাশ্মীর বাংলাদেশ থেকে ভারত হটাও কষ্টের যাতাকলে কাশ্মীর, শুনছি যুদ্ধের ধ্বনি / প্যালেস্টাইনীরা বিপন্ন বিধ্বস্ত জঙ্গী আক্রান্ত / গাজাতে অবরোধ, বিপন্ন মানবতা, সভ্যতার নিরবতা! / মীর মশাররফ হোসেনের “গাজী মিঁয়ার বস্তানী”কবিতার অংশ:প্রসঙ্গ গুজরাটের ধর্মান্ধতা: উচ্চবর্ণের হিংস্রতা / প্রসঙ্গ রবীন্দ্র: কবি জসিম উদ্দিনের দৃষ্টিতে শান্তিনিকেতন / সাহিত্যে সতিত্বহানীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বাংলাদেশে এইডসএর প্রকৃত অবস্থান অতংকজনক /  ফেলানী /

এখানে স্মৃতিচারণমূলক একটি লেখা সংযোজন করছি।

গণিভাই ও আমরা

১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৭।

Advertisements

ইমাম যখন ঈমান হারান

নাজমা মোস্তফা

দেখা যায় একজন ইমাম কিভাবে বিভ্রান্ত থেকে নাস্তিক হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে নবীর বিরুদ্ধে খড়গ তুলে সম্ভবত দেশ ত্যাগ করেছেন। তবে ইসলামের ড্রেস, দাড়ি, টুপি কিছুই ত্যাগ করেন নাই। কিছু ভিডিওতে দেখা যায় তিনি বারে বারে টুপি ঠিক করছিলেন। কি কষ্ট কি বেদনায় তিনি সত্যকে ছুঁড়ে দিলেন? তার খোঁজ করতে আমি তার সবকটি কথা মন দিয়ে শুনি। অতপর যা খুঁজে পেলাম তা স্পষ্ট করা সচেতন দায়িত্বের মাঝেই পড়ে। অতীতে আমি একজন ইমামকে পেয়েছি যিনি খৃষ্টান হয়ে যান এবং সার্বিক বিচারে তার মনে হয়েছে ধর্মের মাঝে খৃষ্টধর্মই সেরা, তাই তিনি ঐ ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন। উভয় ক্ষেত্রে আমার চোখে মনে হয়েছে এরা ইমাম হয়েছেন, সে হিসাবে এর উপর সুক্ষ গবেষনা করলে অনেক সত্য তারা উন্মোচন করতে পারতেন। তারা ধর্মের জটিলতাকে স্পষ্ট করতে পারতেন কিন্তু গবেষনার প্রকৃত রাস্তাতে তারা নেই। কারণ ছোটকাল থেকে তার মনে কিছু ধ্যান ধারণা সাটা ছিল যেটি তসলিমাগংদের মত জনরা তার মনে পুতে দিতে পেরেছিলেন, গোটা বিশে^ জঙ্গির তকমা শুনে সোমত্ত বয়সে এসে এ পাটে মনোযোগী হলেন। তিনি এমনই একজন ইমাম, যাকে কুরআনের উপর ভুল ব্যাখ্যাসহ আগে পরের বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে হুবহু নাস্তিকদের মতই আয়াতকে কোট করতে দেখে শুরুতেই এটি বুঝতে অসুবিধা হয় নি যে, তিনি হচ্ছেন নাস্তিকতায় বিশ^াসী। যে ভদ্রলোক তার সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন আরিফ রহমান, প্রায় একঘন্টার একটি সাক্ষাৎকার। তার বাচনভঙ্গি উপস্থাপনাও ছিল বেশ সুন্দর ও সাবলীল, এটিও স্পষ্ট হলো যে তিনি নিজেও নাস্তিক। উপস্থাপক তার ব্যাখ্যাতে স্পষ্ট করেন যে, নাস্তিকরা বিশ^াস করে যে ধর্মের গোড়া ধরে নাড়া দিতে পারলে ধর্মটি ভেঙ্গে যাবে এবং কালে এটি ধ্বংস হয়ে যাবে।

ইমামের নাম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, তার কথামত তিনি মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ১০ বছর বিভিন্ন মসজিদে ইমামতিসহ অনেক গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। তার নতুন নাম বিশ^াস মন্ডল। তিনি প্রথমে বেশ গোড়া মুসলিম ছিলেন, পরে তিনি ধীরে ধীরে বদলান। ধর্মের গোজামেলে ব্যাখ্যা তিনি মানতে পারেন নাই। যে কারণে হিন্দু খৃষ্টানরা অনেকেই ধর্মান্তরিত হয়, একই রকম যুক্তিতে তিনিও ধর্ম ত্যাগ করেন। প্রথম দিকে এসব প্রশ্ন মনে আসলে তিনি কারো সাথে শেয়ার করতেও পারতেন না, মানুষ তাকে সন্দেহের চোখে দেখতো এবং খারাপ মন্তব্য করতো। এতে তার অবস্থা ছিল দম বন্ধ হয়ে আসার মতই অবস্থা। তার যুক্তি হচ্ছে কুরআনের নির্দেশ ধর্ম ত্যাগ করলে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়। একজন ইমাম হিসাবে তার জানার কথা ছিল যে একজন নির্দোষ মানুষ হত্যারও কোন অনুমোদন কুরআনে নেই। কিন্তু তাতে নাস্তিক বিতর্ক জমবে কেন? প্রথমদিকে নাস্তিক বিরোধী হলেও সকল বিরোধীর লেখা তিনি পড়তেন আর নাস্তিকদের অনেক যুক্তি তার চিন্তার সাথে মিলে যেত। বাংলাদেশে যখন নাস্তিকরা জনতার হাত থেকে গনজাগরণ মঞ্চ দখল করে নেয়, তিনি ঐ থাবা বাবার বইসহ ওয়াশিকুর রহমান বাবুর লেখা পড়তেন। তিনি একটি কথা ব্যক্ত করেন তারা ভুল বলে নাই, তাদের কথার সাথে হাদিসের মিল পেয়েছেন। গর্ব করেই বলেন অর্থসহ কুরআন জানেন, পড়েছেন এবং হজম করেছেন। মাদ্রাসাতে অত্যাচার করিয়ে বাচ্চাদেরে কুরআন পড়ানো হয়, এবং এটি প্রচার করা হয় যেসব স্থানে তাদের বেত্রঘাতের শাস্তি দেয়া হয় ঐসব স্থান আগে বেহেশতে যাবে। তার ব্যাখ্যাতে আসে মাওলানা মানে আরবী উর্দু মাসায়ালা সব জানে। মুফতিরা ইসলামিক আইনও জানবে। একবার তিনি বলেন সংস্কারপন্থী ইসলামকে রিফর্ম করার চেষ্টা করেছি, কিছু ক্ষেত্রে ঢাকাতে হেফাজতের সাথেও যুক্ত ছিলেন। নূর হোসেন কাসেমী হেফাজতীর কাছে বা এরকম কিছু জনের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করলে তার আদর্শিক দ্বন্ধ হয় ওদের সাথে। অভিজিত, আশিকুর রহমান হত্যাকে অন্যায় বললে তারা সেটি মানতে নারাজ। সুন্নী হিসাবে তাদের যুক্তি হচ্ছে এর নাম ‘হেকমত’ মানে কৌশল। এসব ভুল হলেও ইসলামকে বাঁচাতে এটি করতে হবে। তার যুক্তিতে সুন্নী মতে নাস্তিক হত্যা, নবীর সুন্নত। আর শিয়ারা এ কৌশলকে বলে ‘তাকিয়া’ এবং ইসলামকে বাঁচাতে এটি বলতে হবে যে এটি ইহুদী খৃষ্টানের চক্রান্ত। মাদ্রাসাতে তারা এসব অপরাধে জড়িত না থাকলেও মনে করতো নাস্তিক নিধন সওয়াবের কাজ। এভাবে দ্বিচারিতা দেখে তিনি কালে নাস্তিকতার দিকে বেশী করে ঝোঁকে পড়েন। টুইন টাওয়ার হামলা হলে তারা লাদেনের পক্ষে ছিল, মিছিলও হয়েছে। এরপর দেখলাম তিনি ইতিহাস ধর্মের নামে অনেক কিছুই বলছেন তা সত্য ইতিহাস নয়।

তার যুক্তিতে বলছি কিছু ইতিহাস বা হাদিস গ্রন্থে বিভ্রান্তি থাকলে, সঠিক গবেষনাতে এসব স্পষ্ট হতো নকল হলে অবশ্যই ঝরে পড়তো। প্রতিটি গল্পকে তিনি ইসলাম বিরোধী হিসাবে তুলে ধরেন। নবী মুহাম্মদ নাকি সম্পদ লুট করার জন্য সিরিয়া থেকে বানিজ্য রসদ লুট করার নামে ৩১৩ জন সাহাবীকে প্রেরণ করেন। এই কথাটি কখনোই কুরআনে বলা নেই যে এরা লুটের উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন। সবাই জানে ১,০০০ কুরাইশের বিরুদ্ধে ৩১৩ জনকে লড়তে হয় বদর যুদ্ধে এবং তারা জিতে। এই ইমামের উচিত ছিল ঐসব ধর্মীয় গোজামিলের জবাব দেয়া যা ইত্যবসরে ময়দানে জমা হয়েছে। মূল ঘটনাটি ছিল হিজরতের এক বৎসর পর মক্কার এক প্রধান ব্যক্তি কুর্জ ইবন জাবের বহু সৈন্য নিয়ে মদীনার উপকূলস্থ কৃষিক্ষেত্রগুলির উপর আক্রমণ করে মুসলিমদের পশুপালগুলি নিয়ে যায় (এছাবা ৭৩৮৮নং)। অপ্রস্তুত অবস্থাতে থাকায় তারা মুসলিমদের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। মদীনায় হিজরত করার এক বছরের মধ্যেই মক্কার কুরাইশদের সাজ সাজ রবের খবর মদীনায় পৌছায়। এদিকে তাদের যুদ্ধ সরঞ্জামের আগাম সংবাদ অবগত হয়ে নবী মুহাম্মদ কিছু গুপ্তচর নিয়োগ করেন সঠিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য। হযরত আব্দুল্লাহ ইবন জাহশ নামে জনৈক মুসলিমের নেতৃত্বে একটি গুপ্তচর দল গঠন করে তাদেরে মক্কার পথে যাত্রা করতে বলেন। উল্লেখ্য, এ দলের সম্ভারের মাঝে ছিল ৪টি উট, আর আটজন মুসলিম (একাধিক সূত্র: এবন খাল্লেদুন ২-৩-৭১, এবন হেশাম ২-৭, কাবীর ২-৩৩১৭)। উল্লেখ্য পথিমধ্যে এদের একটি উট হারিয়ে গেলে তারা দুই জন ঐ উটের খোঁজে পথিমধ্যে থেকে যান আর বাকী থাকেন মাত্র ছয়জন। এই ইমাম তার কমন সেন্স ব্যবহারেরও দরকার মনে করেন নাই। কারণ একটি ক্ষুদ্র কাফেলার সংবাদ সংগ্রহের জন্য কি কখনোই ৩১৩জন সৈন্য প্রেরণ করা কোন বুদ্ধিমানের কাজ? তাদের যদি লুটের জন্যও প্রেরণ করেন ৩১৩ জনকে লাগবে কেন? অন্য যে কোন সূত্রে এসব গোজামেলে খবর আসলে এসব চরম মিথ্যাচারকে প্রতিরোধ না করে এই নাস্তিক ইমাম বাড়তি মিথ্যাচার সংযোজন করে চলেছেন। মুসলিমদের উপর নির্দেশ ছিল সব মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার থাকা। উল্লেখ্য এসব মিথ্যাচারের গল্প বহু যুগ থেকে ইউরোপীয় পন্ডিতেরা মূর্তিপূজক কুরাইশ, ইহুদী খৃষ্টান চক্র এর উপর সমানেই প্রচার প্রতিষ্ঠা করে চলেছে এসবের অনেক প্রমাণ ইতিহাসে বর্তমান। গবেষক মোহাম্মদ আকরম খাঁও এর উপর কাজ করে মন্তব্য করেন “বোখারী মুসলেম হাদিস গ্রন্থ সমূহে এই ঘটনার কোন আভাসই দেয়া হয় নাই। এতেও কিছু সন্দেহ আসে এর সত্যতা সম্বন্ধে। এটিও তারা প্রচার করে ঐ মুসলিমরা (মাত্র ৬ জন) দেখা যায় কুরাইশদেরে বিধ্বস্ত করে দেয়। বলা হয় তারা এই মুসলিমরা ওদের সন্ধান পায় মদীনা থেকে বেশ দূরে মক্কার একদম নিকটে, এ অপকর্ম করলো আর যুদ্ধবাজ কুরাইশরা আত্মরক্ষার সামান্যতম চেষ্টাও করে নাই! একটি তীরও নিক্ষেপ করে নাই! অতপর নওফেল ও তার সঙ্গিরা পলায়ন করে মক্কায় ফিরে যায়। (গবেষক তফসিরকারক মোহাম্মদ আকরম খাঁ তার মোস্তফা চরিত, পৃষ্ঠা ৩৯১ এ এর উপর বিসতৃত আলোচনা করেছেন)। ইমামের কথামত এর সুবাদে যুদ্ধ হয় কুরাইশরা ১,০০০ সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ করে। কিন্তু যুদ্ধ হয় বদরে, মক্কার প্রান্তে নয়। ইমাম সাহেবের মিথ্যাচার সবচেয়ে বেশী খাটে বহুদিন থেকে সাজানো ইতিহাস থেকে, বেশীর ভাগ কথা তিনি হাদিস সূত্র থেকে সংগ্রহ করেছেন, কুরআন থেকে নয়। প্রকৃত গবেষণা করলে প্রকৃত সত্যই তিনি খুঁজে পেতেন। সবচেয়ে বড় কথা তারপর তিনি প্রায়শই কুরআন নিয়ে যা প্রচার করেছেন, তাও কাটায় কাটায় সত্য নয়, শংকার সৃষ্টি করে। এসব অন্য সাধারণের জন্য মানা গেলেও একজন ইমাম হিসাবে তাকে মানা যায় না। এসব বিস্ফোরণের আগে তার আরো ভিতরে ঢুকার প্রয়োজন ছিল। এমন সব যুক্তি এখনো রয়েছে যা তার মোটেও জানা নেই, যার জন্য তিনি এত সহজে ধর্ম ত্যাগ করতে পেরেছেন। একবার শুনেছি তিনি চেয়েছিলেন ধর্মের সংস্কার। সংস্কার কি এমনভাবে করা যায় তিনি আল্লাহকে বলছেন মানুষ আল্লাহ। আবার করছেন আল্লাহর কুলখানি। যুবক আল্লাহ বৃদ্ধ আল্লাহ তার বিষয়বস্তু। সুরা ইখলাসের মত একটি ছোট্ট সূরার মর্মও যে ইমাম অর্জন আহরণ ও গ্রহণ করতে পারেন নাই, তার কাছে এর বেশী আশা করাও ঠিক নয়।

বোখারী সাহেবের একটি হাদিসে উটের মূত্র ও দুধ পান করাসহ তিনি পান মুহাম্মদ কর্তৃক মানুষ হত্যার ঘটনাতে উরাইনা গোত্রের লোকরা যখন রাখাল হত্যা করে পালিয়ে যায় তখন মুহাম্মদ তাদের হাত কাটলো, পা কাটলো, তারপর চোখে গরম লোহা ঢুকিয়ে তুলে ফেলে, মরুভূমিতে শুইয়ে রাখে। তারা পানি চাইলে তাদেরে পানি দিতে নিষেধ করেন। তখন থেকেই তার মনে হয়েছে এ তো নবী নয়, এ মানুষের পর্যায়েও পড়ে না। এসব তো কুরআনে নেই। বোখারী যদি কোন ভুল করেন তার দায় কেন নবীর উপর বর্তাবে বা আল্লাহর কুরআনের উপরই বা কেন পড়বে? ২০১৩ সালে তিনি বুঝলেন বিদ্রোহ করতেই হবে। টিভিতে অনেকে প্রোগ্রাম করতে আসা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেও দেখেছেন, তারাও এসব হাদিস বিশ^াস করতেন না। তবে সবার অন্তরেই ভয় ছিল ওসবের প্রতিবাদ করলে রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাবে, নিজের জীবন বিপন্ন হবে এবং সর্বোপরি পরিবার বিপদের ঝুকিতে পড়বে। এ তিন কারণে সবাই চুপ থাকে। তার উপর দুষ্ট মুহাম্মদ এসবের প্রতিরোধে ব্যবস্থাও করে গেছে সেটিও তিনি ব্যক্ত করেন। “মুনাফিকুন” নামে একটি সুরা আছে, কুরআনে বলা হয়েছে মুহাম্মদের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না, বলা হলে তাৎক্ষনিক কল্লা কাটা হতো। এ কথাটিই প্রমান করে তিনি কুরআন ভালো করে বুঝে পড়েন নাই, যদিও তিনি ইমাম। শুধু ধর্মের বুকে ছুরি বসাবার নিমিত্তে তিনি কিছু সার সংগ্রহ করেছেন মাত্র। তার কথামত হত্যার এ ধারাবাহিকতা চৌদ্দশত বছর থেকে চলে আসছে। তাই যারা এটি স্পষ্ট করতে আসবে তারা নিরাপত্তাহীন হবেই। মুহাম্মদ এটিও সাজায় যে এভাবে যারা নাস্তিক খুন করবে তারা ৭২টি হুর পাবে আর বাকীরা পাবে মাত্র ২টি। কুরআনে কোথাও এসব কথা বলা নাই। এরা মুসলিমরা মুখে এক কথা বলে বাস্তবে অন্য কাজ করে। উপস্থাপক তার কথা থেকেই এটি স্পষ্ট করেন যে তার মানে এখানে যারা ঢুকবে তাদের বের হওয়ার কোন রাস্তা নেই। এটিও স্পষ্ট হয় যে, ইসলাম এ যাবত টিকে আছে শুধু তাদের কঠিন নষ্ট আচরণের উপর নির্ভর করেই। উভয়ের বক্তব্যেও এটি স্পষ্ট হয় যে, বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে ইসলামের কারণে গোটা জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এরা যে দেশের প্রকৃত অবস্থান থেকে কত দূরে অবস্থান করছে এসব তার উত্তম নিদর্শণ। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে সততার সংকট, ইয়াবা সংকট, ড্রাগের সংকট, ইভটিজিংএর সংকট, রাজনীতির সংকট, ভোটহীন সরকারের সংকট, সব ক্ষেত্রে লুটের সংস্কৃতি দেশটির ধ্বসকে সহজ করে দিচ্ছে। এসব কিছুই ঐ ইমামকে আকৃষ্ট করতে পারে নাই। অনুষ্ঠানে বক্তা ও উপস্থাপক উভয়ের যুক্তি ছিল এসব ব্যাপারে সবার কথা বলা উচিত। পরবর্তীতে তারা এসবের উপর অনেক সিরিজ সাজাবে, সবাই যেন তা দেখে সেটি বার বার অনুরোধ করা হচ্ছিল এবং উপস্থিত দর্শক জনতার সংখ্যাও চারশ কখনো ছয়শ বলে প্রকাশ করা হয়। এটি ভালো লক্ষণ যে, অনেকেই উৎসাহ ভরে এসব জানতে সেখানে ভিড় করছে।

হাদিসের উৎপত্তি হয়েছে রাজনীতির জটিল প্রেক্ষাপটে। অন্য সাধারণেরা যেভাবে মনে করেন এটি ধর্ম বিকাশের জন্য সাজানো হয় এটি ঠিক এভাবে রচিত হয়নি। আজকের যুগে সুক্ষ্ম দৃষ্টির গবেষকরা এটি একবাক্যে মানছেন। ধর্মের নামে হাদিসে যদি কিছু মিথ্যা ঢুকে যায় সেটি স্পষ্ট করার বদলে এ ইমাম আরো কয়েকগুণ বেশী মিথ্যার মাত্রা বাড়িয়ে দিলেন। মানুষকে আল্লাহ সবচেয়ে সুন্দর গঠনে সৃষ্টি করেছেন কিন্তু তারপরও কিছু মানুষ এতই হীন পর্যায়ে থাকবে যে সে হবে পশুরও অধম। ক্ষুব্ধ ইমামকে ভাবতে হবে কথাটি কি ভুল? মানুষরা কি পশুর মতই কাজ করছে না? যদি না করতো তবে গোটা বিশ^ শান্তিতে ভরে থাকতো। কুরআনের কোন আয়াতেই ধর্মত্যাগের অপরাধে হত্যার  কোন নির্দেশ নেই। একই কথা অতীতে শুনেছিলাম ইসলাম থেকে ধর্ম ত্যাগী আয়ান হিরসী আলীর মুখে। সম্ভবত এরা এসব শুনে শুনে একে থেকে অন্যে রপ্ত করেছে তাই ইমাম হয়েও, আসল ম্যাসেজ সংগ্রহ করতে পারেন নাই। এসব কুরআনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট মিথ্যাচার। আল্লাহর আয়াতে তার বিশ^াস শূন্যের কোঠাতে, তাই আল্লাহর বাণীকে নবীর কৌশল বলে চালিয়ে দেন। সুরা আবাসা, সুরা আনফাল, সুরা আহজাবে মুহাম্মদের কৌশল, এভাবে সুরার নাম ধরে তিনি তার যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করেন। দেখা যায় তিনি বলতে চেয়েছেন ছলবাজ নবীর অনাচার রোধে আল্লাহ তার কথামতই সুরা সাজান। তিনি চাইলে কুরআন থেকে অমৃত খুঁজে বের করতে পারতেন। তা তিনি করেন নাই বরং কুরআন নিয়ে টিটকারী করতেই ব্যস্ত থেকেছেন আর মিথ্যা সংগ্রহ করতে পেরেছেন। আমি এর জবাবে মাত্র চারটি কুরআনের আয়াত আনছি পাঠকের দৃষ্টিকে স্বচ্ছ করতে “নিশ্চয়ই আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি শ্রেষ্ঠ সুন্দর আকৃতিতে। তারপর আমরা তাকে পরিণত করি হীনদের মধ্যে হীনতম; তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য তবে রয়েছে বাধা বিরতিহীন প্রতিদান” (সুরা তীনের ৪/৫ আয়াত)। “দুনিয়াতে ফ্যাসাদ বাধাতে চেয়ো না। নিঃসন্দেহ আল্লাহ ফ্যাসাদে লোকদের ভালবাসেন না” (সুরা আল-ক্বাসাসএর ৭৭ আয়াত)।  বলো “হে গ্রন্থধারীগণ! কেন তোমরা যারা ঈমান এনেছে তাদের আল্লাহর পথ থেকে প্রতিরোধ করো, তোমরা তার বক্রতা খোঁজ অথচ তোমরা সাক্ষী রয়েছ?” আর আল্লাহ গাফিল নন তোমরা যা করো সে সম্বন্ধে” (সুরা আল ইমরানের ৯৮ আয়াত)। “সেক্ষেত্রে আমরা নিশ্চয় তোমাকে (মুহাম্মদ) দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাতাম ইহজীবনে এবং দ্বিগুণ মৃত্যুকালে। তখন আমাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য কোন সাহায্যকারী পাবে না” (সুরা বনি-ইসরাইলএর ৭৫ আয়াত)। শেষের আয়াতে নবী অপরাধ করলে তার জন্যও কঠিন শাস্তির হুমকি রাখা হয়েছে।

মনে হচ্ছে ইমাম সাহেব মাওলানা, মুফতি ও হাফেজ হিসাবে নিজেকে প্রচার করছেন। কিন্তু সব কথার সার কথা হচ্ছে তিনি প্রকৃত ধর্ম সম্বেন্ধে স্বচ্ছ ধারণা অর্জন করতে পুরোপুরিই ব্যর্থ হয়েছেন। ধর্ম সম্বন্ধে তার জ্ঞানের অপূর্ণতা তাই দুর্বল অবস্থানের পরিচয় বিলি করছে। “আর সীমালংঘনকারীদের ক্ষেত্রে তারা তো জাহান্নামেরই ইন্ধন হয়েছে” (সুরা জিনের ১৫ আয়াত)। জেনেও না জানার ভান করছেন নাকি ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন, আল্লাহই মালুম।  আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ মন্তানী করছেন। যাক বড় কথা হচ্ছে ময়দানে বস্তুনিষ্ঠ কাজ করার অনেক ক্ষেত্রই ছিল যা তিনি করতে পারতেন। এসব সঠিকভাবে করতে পারলে ধর্মটি আরো জটিলতা থেকে মুক্ত হতে পারতো, সুন্দর পথ খুঁজে পেত। “রসুলের উপরে কোনো দ্বায়িত্ব নেই সুস্পষ্টভাবে পৌছানো ছাড়া” (সুরা আন-নূরএর ৫৪ আয়াত)। নবীর দায়িত্ব তিনি অবশ্যই সঠিকভাবে সমাপ্ত করেছেন। এ ধর্মের দায় শুধু নবীর একার নয়, এর দায় বাকীদের উপরও কমবেশী বর্তায়। যারা চৌদ্দশত বছর থেকে এখানে অবস্থান করছেন যা তাদের উপরও কাজ করার কথা ছিল। ইমাম আবু হানিফা কাজ করতে পারলে আপনাদের কি হলো, প্রকৃত কাজ না করে সত্য ধর্মে এঁটো মিশিয়ে দিচ্ছেন! তারা সত্যের জন্য জেলে গেছেন, কারাগারে জীবনপাত করেছেন তার খোঁজ করেছেন কখনো? নাস্তিকদের সাজানো পথে হেটেছেন অল্প পরিশ্রম দেখে ওটিকে সহজ মনে করে ও পথেই সেরা হবার স্বপ্ন দেখেছেন। এটি সম্পূর্ণ ভুল পথ। এ ধর্মে এ নাস্তিক ইমাম অনেক গলদের সন্ধান পেলেন কিন্তু সাগর সেচে মনিমুক্তা আহরণ করতে পারলেন না, এটি দুঃখজনক। নবী তার দায়িত্ব ঠিকই পুঙ্গানুপুঙ্গরুপে পালন করে গেছেন। কিন্তু পরবর্তীরা কেন ঐ কর্ম করতে চৌদ্দশত বছর থেকেও ব্যর্থ হয়ে আছেন, সেটি চিন্তা করার সময় বয়ে যাচ্ছে। আর কতকাল প্রহর গুণবেন আর অপকর্ম করে ময়দান গরম করবেন। বস্তুনিষ্ঠ কাজ করুন, সঠিক ধর্মের সত্যে সবাই ফিরুন। ভিন্ন ধর্ম থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসছে আর আপনি আপনার সমৃদ্ধ ময়দান ছেড়ে কেন দুর্ভোগের রাস্তায় যাবেন। সকল ব্যর্থতার বিপক্ষে আপনি সঠিক সত্যের সাধক হোন। সঠিক সত্যের সাধনা করুন, জিতুন। অল্প বিদ্যা ভয়ংকর কথাটি মনে রাখা খুব দরকার, আপনার বাহারি বক্তব্য শুনে এ কথাটি মনে হলো। ধর্মের গোড়ায় আছেন মনে করে এমন একটি নাড়া দিলেন তাতে মনে হচ্ছে ধর্ম আরো শক্ত হবে, ধ্বসে পড়বে না। হয়তো বাকীরা আরো সাবলীল  হয়ে চিন্তায় চলার পথ খুঁজে পাবে। যারা টুইন টাওয়ার ধ্বসিয়েছে, মুসলিমদের নকল আসামী বানিয়েছে, এর পর ইসলাম আরো তেজী ঘোড়ার মতই ছুটে চলেছে। এটি ঠিক মুসলিমরা শীত নিদ্রার কাল কাটাচ্ছে, সময় পার হচ্ছে আড়মোড় ভেঙ্গে জেগে উঠার। ইনশাআল্লাহ, গোটা বিশে^ ইসলামসহ বাকী বিশ^ই ঐ জাগরণে পথ খুঁজে নিবে। অতীতে ইসলামই রেঁনেসার মূল কলকাঠি ছিল। সেটি আপনি না মানলেও বিশ^ ইতিহাস অবশ্যই মানে। চোখ কান খোলা রেখে কান পেতে শুনুন, এর আওয়াজ পাবেন।

উনাকে প্রশ্ন করা হয় ইসলামের গোড়ার কথা, আরব দেশ, জাহেলিয়াতি আচার, ঈশ^র কথন, মুহাম্মদ কি মানুষ এসব। শেষের কথাটি শুনেই তিনি মুচকি হাসি দিয়ে বলেন, কোনভাবেই তাকে মানুষ বলা যায় না। মুহাম্মদ নিজেই এটি প্রচার করে, সুরা আনআমে বলা হয় মানুষ পশুরও অধম। তার চাচা লাহাবকে সে খারাপ বলে নাজিল করিয়েছে, গালাগালি করা সারা জীবন তার সাধনা ছিল। তার অনেক চাচা ছিলেন বাকী চাচাদের কথাও বলুন । তার দৃষ্টিতে জাহেলিয়াতি আচারের প্রচার সবই মিথ্যাচার। এসব প্রচারের উদ্দেশ্য হচ্ছে তার স্বরচিত ধর্ম প্রচারের বাহানা মাত্র। আর মুহাম্মদকে মানুষ তো দূরের কথা একে পশুও বলা যায় না। তারপর তিনি বলেন তর্কের খাতিরে মানলাম তিনি নবী তবে তার সমালোচনা করলেই সে কেন ঘাতক পাঠাতো। বলতো, যাও ওকে হত্যা করে আস। এসব বোখারীর হাদিসে সব আছে, এসব মাদ্রাসার পাঠ্যসূচীর অংশ। সে সরাসরি গুপ্তহত্যা করতো, ভন্ডামী নিজে শিখাতো, গুপ্ত হত্যার অনুমতি দিত, যারা সমালোচনা করতো তাদেরে সমালোচনার সুযোগ দিত না। কাব বিন অশরাফ, আবু রাফি, আসমা, আবু সাফফাত ১২০ বছরের এক বৃদ্ধকে হত্যার জন্য সে ঘাতক পাঠায়। সব সময় আল্লাহর নাম নিয়ে এসব অপরাধ করতো। বিশেষ করে বোখারীতে এসব আছে, এখানের প্রথম দুজন ধনী মানুষ এরা দূর্গে বসবাস করতো। তারপর তার অনুমতি নিয়ে দূতেরা সেখানে গিয়ে মিথ্যাচার করে ঘুমন্ত অবস্থায় ওদেরে হত্যা করে। ভন্ডামী ও মোনাফেকী শিখিয়েছে মুহাম্মদ নিজে, সুরা আনফালে কাফেরদের হত্যা করতে, ঘাড়ে ও জোড়ায় জোড়ায় আঘাত করতে বলেছে।

ওদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে আল্লাহ ওরকম রায় দিলেন। তিনি আল্লাহকে ফাঁসি দিতে চাচ্ছেন, থাবা বাবাদের মত তার কুলখানি করছেন। এর দায় নবীর ঘাড়ে বর্তায় না। তিনি আরো বলেন হাদিস বলেছে মাথায় আঘাত করতে। তার বক্তব্যে এটি বুঝা যায় মুহাম্মদ ও আল্লাহ, এ দুটি এক জিনিস। তার ভাষাতে সুরা আবাসায় সে কিছু কৌশল নিয়েছে, আল্লাহকে দিয়ে নিজেকে ধমক খাওয়ালো, সুরা আহজাবেও তাকে আল্লাহ দিয়ে ধমক খাওয়ালো। সে যখনই ভুল করে তখনই সাহাবীরা অসন্তুষ্ট হয়, ওটি সামাল দিতে ওসব সাজায়। হাফসার গৃহে গিয়ে সে মারিয়া কিবতিয়া নামে এক দাসীর সাথে শুয়ে থাকে। তাহরিম সুরা ও বোখারীতে এসব আছে। ধরা খেয়ে হাফসার কাছে দোষ স্বীকার করলো, সে অনুরোধ করে আয়েশার কাছে এসব বলবে না, হাফসা গিয়ে আয়েশাকে বলে দিল। ঠিক তখনই আল্লাহকে দিয়ে দাসীর সাথে হালাল করার আয়াত নাজেল করালো। প্রশ্নকর্তা বলেন মুহাম্মদের চরিত্রের অংশগুলোর যে অন্ধকার ও স্বেচ্ছাচারিতা ও যৌনতার বিষয় পাওয়া যায়, তাও কি পড়ানো হয়? উত্তরে বক্তা বলেন, আগে পরে ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হতো এসব প্রয়োজনে করতে হয়। আরবে তখন ইহুদী খৃষ্টান ও প্যাগানরা সে দেশে বসবাস করতো কি কারণে তাকে সেখানে পাঠানো হয় প্রশ্নটি করা হয়। তার জবাব ছিল কিছু সূত্রে জানা যায় খাদিজা ইহুদী ও কিছু সূত্রে খৃষ্টান ছিলেন, সে সময় আরবের বিশৃংখল দশা থেকে বাঁচাতে সে কৌশলে খাদিজার কাছ থেকে ওদের অনুসরণ করে অন্য নবীদের এখানে টেনে এনে তাকে শেষ নবী হিসাবে অন্যদেরও মূল্যায়ন করে কুরআন সাজায়। প্রথম দিকে মানুষ তাকে ভালো মনে করলেও সে পরে ক্ষমতা লাভের পর খারাপ মানসিকতার প্রয়োগ করে। রোমানদের পক্ষে চাটুকারীতা করে যার কারণে রুমানরা তাকে একটু সুযোগ দেয়, নয়তো ঐ সময়ই তাকে খৃষ্টানরা ধ্বংস করে দিত। সুরা হাদিদে বলে খৃষ্টানরা ভালো, ইহুদীদের সাথে তার দ্বন্ধ ছিল, তাই সে ৮০০ ইহুদীতে জবাই করে। খাইবারে ইহুদীদেরে বহিষ্কার করলো। সে খুব কৌশলী ছিল। প্রকৃত কুসেডের ইতিহাস ইমামের জানা নেই এসব তার প্রমাণ। তখন উপস্থাপক বলেন এটাকে বলে স্ট্রেটেজিক এলায়্যান্স। তাই খৃষ্টানরাও এসব বুঝতে পেরে তার বিরুদ্ধে পরে ক্রসেড এ যায়, এটি স্পষ্ট করেন উপস্থাপক।

এবারের প্রশ্ন ছিল আইয়ামে জাহেলিয়া কি খারাপ ছিল? নাচগান, কবিতা, এসবকে খারাপের দিকে নিয়ে একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা কতটুকু সত্য? এর জবাব ছিল এটি ছিল তার আর একটি কৌশল, যার উদ্দেশ্য ছিল ঐ ধর্মটি প্রতিষ্ঠা করা। ঐ সমাজ ছিল গোত্রবদ্ধ ব্যবস্থা, নানারকম দ্বন্ধও ছিল, যুদ্ধও ছিল যা মুহাম্মদ দেখেছে কিন্তু কোন না কোনভাবে সে নতুন ধর্ম দাঁড় করায়। প্রথম নিয়ত ভালো ছিল পরে ক্ষমতা লোভী ও ভয়ংকর হয়ে পড়ে। মুহাম্মদ নিজেই ছিল আইয়ামে জাহেলিয়ার চেয়েও ভয়ংকর। খাদিজা ছিলেন শীর্ষ ব্যবসায়ী। ইসলামের আমলে কি কোন মেয়ে ব্যবসায়ী পাওয়া যাবে? ইমরুল কায়েস ছিলেন সেরা কবি। পরে কেউ এরকম জাগে নাই কারণ মুহাম্মদ সবকিছু ধ্বংস করেছে। সংস্কৃতি, শিক্ষা, বিজ্ঞান, চর্চা এখানে এসব শূণ্য। মুসলিমদের দান বিশাল তারা এটি অনেক সময় বলে আবার পিছলে পড়ে, জবাব দিতে পারে না। প্রশ্ন আসে বিজ্ঞান কখন তাদের হাতছাড়া হয়? মনে হলো উপস্থাপক এটি অবগত প্রাথমিক যুগের মুসলিমদের বেশ কিছু অবদানের খবর জ্ঞাত, লন্ডন মিউজিয়ামে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন যা স্বীকার করেন। বক্তার জবাব ছিল কুরআন থেকে যদি বিজ্ঞান আসে তাহলে বিজ্ঞানীরা কি হাফেজ আর হাফেজরা কি বিজ্ঞানী? এটি ছিল তার জবাব। তার যুক্তিতে পরবর্তী চার খলিফারা খালি জেহাদ করেছে। খলিফা মামুন, হারুনুর রশিদের সময় গ্রীক দর্শন মুসলিম বিশে^ প্রভাব ফেলে। বাগদাদে গ্রীক দর্শন চলতো আব্বাসীয় আমলে।

এবার আল-জেবরা, আলকেমী, ইবনে সীনা, ইবনে জারির, এস্ট্রনমীতে মুসলিমদের অসাধারণ অবদান হিসাবে উপস্থাপক জানতে চান এগারো শ বছর আগে কেন তাদের পতন হলো? যদিও আমরা জানি তাদের পতন আজো হয়নি। তারাই জগতকে আজো এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। পতন হয়েছে মুসলিমদের, এর প্রমান এসব ইমামরা। ইমামের জবাব ছিল এরা কেউই ধর্মীয় মুসলিম নন। এখনও মুসলিমরা বিজ্ঞানীদের স্বীকার করে না। ওমর খৈয়াম ছিল খাটি নাস্তিক। তাদের হত্যার ফতোয়া দেয়া হয়। এসব তারা বলে না। ইসলাম অবশ্য টিকবে না। তখন দেখা যাবে বর্তমানের নাস্তিকদেরে তারাই গবেষক সাধক বলে মানবে। ঠিক তখনই উৎফুল্ল এক হিন্দু দর্শক গৌরব দে প্রশ্ন রাখেন। তার প্রশ্ন ছিল এসব মানুষ কিছুই জানে না, কিভাবে এসব মানুষকে জানানো যায়? জবাবে বক্তা মুসলিমদের মিথ্যাচারের নমুনা হিসাবে বলেন, বুড়ির পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখার মিথ্যা গল্প তারা মুসলিমরা শুনায়। তারা মানুষকে এ মিথ্যাচার দিয়ে ধর্মের ভিত গাড়ে। কেউ যদি এটি প্রমাণ করতে পারে, তিনি চ্যালেঞ্জ করেন। এটি একটি বানোয়াট হাদিস। মুহাম্মদের বর্বর চরিত্রের সাথে এ গল্প মিলে না। তিনি অনুরোধ করেন সবাই কুরআন ও বোখারীর হাদিস পড়বেন। কে এসব গল্পের উদগাতা, হরিণ একটি বাধা ছিল গাছের তলায়, এসবের উৎস কি? তার যুক্তি হচ্ছে নৃশংস ও যৌনতা পরায়ণ, নোংরা কথাই নবীর বিষয়ে আসে। এরকম একজন খারাপকে কেন মানুষ অনুসরণ করছে এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এর কারণ অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। সৌদির হজের কারণ রোজগার করা ধর্মীয় অর্জন, এরা লাভবান হচ্ছে। মুহাম্মদ ছিল দেশপ্রেমিক ও ধর্মের প্ল্যাটফর্ম তৈরী করে গেছে। সৌদির কারণে অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লতিফ সিদ্দিকীর হজ বিরোধী প্রসঙ্গও আসে এবং তার প্রশংসা করা হয়। ধর্মের কারণেই বাংলাদেশটি শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাদের দৃষ্টিতে এটি ছিল অসম্ভব সফল একটি আলোচনা, উভয়েই খুব খুশী তুষ্ট ও তৃপ্তিতে ভরা। জনতাদের বোখারী ও হাদিস পড়তে বলা হয়। পরবর্তী এপিসোডেও সবাইকে আসতে বলা হয়। মুসলিমরা শুধু কুরআন জপে এটিও তাদের একটি কৌশল ধরা হয় কারণ মানুষ অর্থ বুঝে পড়লে এ সত্য থেকে দূরে চলে যাবে তাই বলা হয় অর্থের দরকার নেই, শুধু জপো। কারণ ঠিক মত পড়লে কেউ মুসলিম থাকবে না।

এরপর দুটি ইউটিউব লিংক দেখলাম এসব মিথ্যাচারের জবাব হিসাবে মনজুর ইবনে আহমেদের কুরআনের বস্তুনিষ্ট উপস্থাপনা, খুবই ঝরঝরে ও স্পষ্ট সংক্ষিপ্ত বক্তব্য। আর একটি এপিসোডে জাকির মাহদিন ও আরিফুর রহমান আর একটি এপিসোড সাজান। নানা প্রতিবন্ধকতায় জাকির মাহদিন কোন বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন নাই। তবে তিনি একজন স্বশিক্ষিত যুবক গবেষক, ধর্ম দর্শন যুক্তিবিজ্ঞানে পারদর্শী। তার আলোচনাটিও চিন্তা জমা করার জন্য উদাহরণীয় মনে হয়েছে আমার কাছে, নাস্তিক আস্তিক বিষয়ে তিনি খুবই খোলামেলা ও ঝরঝরে বক্তব্য রাখেন। তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে, এসব মাদ্রাসার দিকে সুনজর দেয়া হয় না, সঠিক গবেষনার সুযোগ তাদের জন্য বরাদ্দ নেই। যার জন্য তারা কিছু জটিলতাতে ভোগলেও তাদের উন্নয়ন কল্পে সরকার পক্ষ থেকে তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় না। যার প্রেক্ষিতে এরা নানান জটিলতায় ভোগলেও, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। সমাজের সুযোগ সন্ধানীরা সব সময়ই এদেরে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখেন।

ইসলাম ধ্বংসের স্বপ্নে বিভোর হয়ে নাস্তিকরা সেই সুদূর সপ্তম শতাব্দী থেকেই লড়ে চলেছে এবং কয় কদম এগিয়েছে সেটি তারাই বিবেচনা করলে পাবে। তবে গবেষনা ব্যতিরেকে উত্তরণ অসম্ভব। এটি ছিল ইসলামের মত সত্য ধর্মের একটি উদাহরনীয় উৎস যেটি চালু রাখার উপর মৌল ইসলামে সব সময় জোর দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে খুব কৌশলে একটি বেশ বড় সময় থেকেই গবেষনাকে রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। উপরের আলোচনাটি থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ঐ ইমাম ইসলামকে অন্তর থেকে ধারণ করতে পারেন নাই। এমন কি মূল গ্রন্থ কুরআন থেকেও তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন। এর কারণটি কি হতে পারে? দেখা যায় তিনি বারে বারে তার এই অনাচারের জন্য কখনো কুরআনকে আবার কখনো বোখারীর হাদিসকে এনে উপস্থাপন করেন। তার মানে ঐ বোখারী থেকেই তিনি ভুল পথের রাস্তায় উঠে গেছেন। এ কথাটি তার মতে আরো অনেক সাথের ইমামদের থেকেও তিনি প্রাপ্ত হয়েছেন। বোখারীর হাদিস এসব সাজানো হয়েছে কুরআনকে বোঝার জন্য। এটি প্রমাণ করে ও এটি বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, ঐ বোখারীর হাদিসই তাকে সবচেয়ে বেশী বিভ্রান্ত করে ভুল পথে নিয়ে গেছে। এমন কি যে কুরআন গোটা বিশ^কে পথ দেখাতে সক্ষম তার বস্তুনিষ্ঠ উদাহরনীয় অবদানকেও তিনি ভুল ব্যাখ্যায় চিত্রিত করেছেন, হয়তো বোখারীর যুক্তিকে গ্রাহ্য করে। তার উচিত ছিল কুরআনকে গ্রাহ্য করার, বোখারীকে নয়। বোখারী একজন মানুষ, তিনি আল্লাহ নন। তার রচিত গ্রন্থ আল্লাহর গ্রন্থের সমকক্ষ নয়। কুরআন গ্রন্থের মর্যাদা অনেক উপরে। বোখারীর গ্রন্থ মানুষের রচিত সেখানে অনেক বিভ্রান্তি আসতেই পারে। তাকে আল্লাহর গ্রন্থের সমান করাটা ধর্মের নামে বড় অপরাধ। নবী ও আল্লাহ দুজন কখনোই সমান নয়। একজন  সৃষ্টিকর্তা একজন তার সৃষ্ট, সেটি বুঝতে ঐ ইমাম ভুল করেছেন। তার উত্থিত প্রশ্নের জবাব তার ধারে কাছেই ছিল কিন্তু তার সন্ধানে সঠিক গবেষণার উপাত্ত কম ছিল বিধায় তিনি পথ হারান, এটি তার দুর্ভাগ্য। চৌদ্দশত বছর আগেই ধর্মটি এসেছিল সমাজের সব অনাচার নির্মূল করতে কিন্তু দেখা যায় কালে যুগে যুগে বরং আরো বেশী অনাচার জমে গেছে এর ডালপালা ধরে। এসব স্পষ্ট করা সময়ের দাবী আর গবেষনা ব্যতীত তা সম্ভব নয়। উপরে ধর্মান্তরিত ইমামের কিছু প্রশ্ন বস্তুনিষ্ঠ অর্জন হতে পারে, তবে যেভাবে তিনি এর সমাধান রচনা করেছেন মিথ্যাচারেরও আশ্রয় নিয়েছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। সবকিছুই অর্জন নয়, অন্যের গলগ্রহ হয়ে তিনি কিছু পথহারাকে অনুসরণ করেছেন, সঠিক পথে হাটলে ধারণা হয় তিনি অনেক বড় অর্জন জমা করতে পারতেন।

তিনি আঁচই করতে পারেন নাই ঐশী গ্রন্থ কি কেন ও কার কাছে আসে। তিনি মনে করেছেন যে কেউ চাইলেই এরকম একটি গ্রন্থ রচনা করতে পারবে। তার জানা নেই উনিশ সংখ্যাটির অসাধারণ বিন্যাস সারা কুরআন জুড়ে। তিনি সুরা রচনা করছেন কিন্তু ঐ সংখ্যার বিন্যাস কি দেখাতে পারবেন?  নবী মুহাম্মদ যে কি ছিলেন, সেটির নির্বাচন যে আল্লাহ কর্তৃক ছিল সে বোধই এ লোকের মগজে নেই। এমন কি পূর্ববর্তী ধর্মগুলিও আল্লাহর সহযোগিতাতে এসেছে ও স্থান করে নিয়েছে। এসব ছিল অদেখা ¯আল্লাহর সাজানো, কোন মানুষের সাজানো নয়। নবীর জীবন সম্বন্ধে তার তেমন কোন ধারণা নেই। নবীর প্রথমা স্ত্রী কিভাবে একই সাথে খৃষ্টান ও ইহুদী ধর্মে শিক্ষিত হয়ে যান। আর হলেই বা তিনি কিভাবে ঐ বিদ্যে দিয়ে স্বামীকে সহযোগিতা দিয়ে এমন একজন বিশারদ তৈরী করে গেলেন যে, কুরআনের মত একটি গ্রন্থ রচনা করলেন যার একটি কথায়ও গোজামিল পায় না বর্তমানের বিজ্ঞান। নবীর প্রথমা স্ত্রী তার থেকে বয়সে ১৫ বছরের বড় ছিলেন, সবকটি বাচ্চাই ঐ নারীর পক্ষের। এবং তার জীবিতকালে তিনি কোন দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করেন নাই। শেষ বয়সের বাকী বিয়েগুলো তার বিরোধীদের জন্য মজার খোরাক হয়েছে এমনকি ইমামের মত একজনও এখানে এসে ধর্ণা দেন। একজন সাধুকে বারে বারে নিরাপত্তা দিয়েছে আল্লাহ তার বাণীতে, এটাকে তারা প্রচার করছে এসব নবী নিজে সাজিয়েছেন। ঐ বিতর্কীত ইমাম মনে করে থাকেন যে কুরআন একটি খারাপ মানুষের কৌশলে নিজ হাতে রচিত গ্রন্থ। এটিও কম না, এরকম একটি গ্রন্থও যদি নবী রচনা করেন যাকে কেউ হেলা করতে পারছে না। তার জয়গান কি এসব অল্প কথায় আটকানো যাবে?

তিনি নবীকে যুদ্ধবাজ খারাপ চরিত্রের লোক ধরে এগিয়েছেন। কিন্তু তার এটি জানা নেই নবীর সততার উদাহরণের কারণেই নবী আল্লাহর দৃষ্টি অর্জন করেছেন। দুনিয়াতে কেউ সাধ করে নবী হতে পারে না। হলে তার কঠিন শাস্তি হতো এটি কুরআন দ্বারাই স্বীকৃত। ইতিহাস বলে ইহুদীরা কয় পুরুষ থেকে অপেক্ষাতে ছিল একজন নবীর আগাম সংবাদ তাদের শাস্ত্রেও জমা ছিল। যার জন্য তারা খোদ মদীনাতেই এসে বসতি করতে থাকে। কিন্তু যখন দেখে এ নবী তাদের ঘর থেকে আসেন নাই, তখনই তারা ক্ষ্যাপে যায়। ধনী ইহুদীরা দূর্গে বাস করতো সেটি ঠিক নয়। কুরআইশের সাথে ষড়যন্ত্র করে ইহুদীরা মুসলিমদের বিরোধীতায় বারে বারেই মিথ্যাচারে ধরা খায়, তখন তারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দুর্গে বসবাস করতো। অপকর্মী ইহুদীরা মদীনা থেকে নির্বাসিত হয়ে খাইবারের দূর্গে সমবেত হয় এবং সেখানে ইহুদী রাজ্য গঠনের স্বপ্নে সাজ সাজ রবে নিয়োজিত ছিল এবং সাথে মক্কার পৌত্তলিকদের নিয়ে দল পাকাতে থাকে। ইহুদী প্রধানরা বহু অর্থব্যয়ে আরবের পৌত্তলিকদেরে প্রস্তুত করেছিল (বোখারী, ফৎহুল বারী ৭-২৪০ পৃষ্ঠা)। এছির ইবন রাজেম মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য গৎফান ও তার পাশের পৌত্তলিকদের সমবেত প্রচেষ্ঠাতে মুসলিমদেরে উত্যক্ত করা হয় (এবন হেশাম ৩-৮২প্রভৃতি)। খাইবারে ইহুদী ও খৃষ্টানগণ মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। গৎফানীয় পৌত্তলিকগণ ইহুদীদের সাথে মিলিত হয়ে সম্মিলিতভাবে মদীনা আক্রমণ করবে এবং ইহুদীগণ তার বিনিময়ে খাইবারের অর্ধেক খেজুর তাদেরে দান করে দিবে, এটিও স্থির হয়ে যায় (এই ঘটনাগুলি হালবী, খামিছ ও তাবকাত হতে সংকলিত হয়েছে)। প্রতিবারই তারা মুসলিমদের সাথে করা সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করে। প্রকৃত গবেষণাতে ধরা পড়ে নবী তখনও তাদের সাথে পুনরায় সন্ধি স্থাপনের চেষ্টা করেন কিন্তু ইহুদীরা যুদ্ধের প্রস্তুতিকেই স্বাগত জানায়। যার প্রেক্ষিতে তিনি যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন (তাবরী, খামিছ দ্রষ্টব্য)। ইহুদীরা দূর্গে বসবাস করে মুসলিমদের ক্রমাগত তীর নিক্ষেপ করে তাদেরে আহত করাসহ সমানেই আক্রমণ চালাতে থাকে। এতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, এরকম পরিস্থিতিতে আক্রমণের আদেশ দেয়া হয়।

ইহুদীরা চেয়েছিল পৌত্তলিকদের সহযোগিতায় মদীনার শিশু ইসলামকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে।  এবং ক্রমে মুসলিমরা দুর্গ চূড়াতে উঠে ইসলামের বিজয় কেতন উড়ায় এবং এভাবে সব দূর্গ মুসলিমদের কুক্ষিগত হয়। অগত্যা বাধ্য হয়ে ইহুদীরা তখন মুসলিমদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। ইতিহাস তথ্যে প্রকাশ ঐ যুদ্ধে ৯৩ ইহুদী যুদ্ধে মারা যায় এবং ১৫জন মুসলিম সেনা শাহাদত বরণ করেন। ইমাম ছাখাভী, ইমাম জাহরী প্রভৃতি মোহাদ্দিসগণ ঐ সব মিথাচারী নষ্ট গল্পকে মিথ্যা বাজেকথা ও অগ্রাহ্য বলে মত প্রকাশ করেছেন। সুক্ষ্মদর্শী ও ন্যায়নিষ্ঠ পন্ডিতগণ কখনোই এসব রেওয়াতকে গণনার মধ্যে আনেন নাই। দুঃখের বিষয় খৃষ্টান লেখকগণ এসব কুরআন হাদিসের বিশ^স্ততম ঘটনাকে বাদ দিয়া বাজে কথার উল্লেখ করতঃ মুসলিমদের উপর ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করতে কুন্ঠিত ও লজ্জিত হন নাই। ইহুদীরা সংবাদ পাঠায় যে কোন বিচারে তারা মুহাম্মদকে মানবে না। তারা মুহাম্মদকে চিনে না। তারা খন্দক যুদ্ধে আহত ছাআদের বিচার মানবে। অতপর ছাআদের উপর বিচারের ভার পড়ে। যে ৪০০ ইহুদী কে আসামী ধরা হয় এটিও তাদের বার বার বিশ^াসঘাতকতার ফল হিসাবে তাদের নির্বাচিত একজনের বিচারের মাধ্যমে এ রায় নির্ধারিত হয়। বাস্তবে যদিও মিথাচারীদের মত ঘটনাটি ওরকম ছিল না। উৎসাহী হলে ওটি জানতেও পড়তে পারেন। ইসলামে যুদ্ধ: ব্যাখ্যার নামে অপব্যাখ্যা

উপরের এ লেখা থেকে প্রকৃত সত্য জানতে পারবেন, তাই লিংক দেয়া হল। দেখা গেছে প্রকৃত ইহুদীর সংখ্যা ৪০০ নয় বরং এদের থেকে শুধু অপরাধীদের হত্যা করা হয় আর বাকীদের ছেড়ে দেয়া হয়। কুরআনের আয়াতেও সেটি স্পষ্ট হয়। এ রায় কখনোই নবীর নয়। ৮০০/৯০০ বলাটাও ছিল উপরের ৩১৩ জন লুটের জন্য প্রেরিত বলার মতই আরেক মিথ্যাচার ও অতিরঞ্জন, এসবও পূর্ববর্তী গবেষকরা পরিষ্কার করে গেছেন কিন্তু ঐ ইমামের এসব জানার ভাগ্য হয়নি। নবী রায় দিলে হয়তো পূর্বেকার মতই এবারও ক্ষমাই করে দিতেন। এতে মুসলিমরা আরো বেশী ক্ষতিগ্রন্ত হতো। এসব ক্ষেত্রে ইমাম চরম মিথ্যাচারীতার পরিচয় দিয়েছেন। আমি তাকে মিথ্যাচারী না বলে অজ্ঞ বলতে পারি তিনি অনাচারীদের শুনা কথায় বিশ^াস করে ‘চিলে কান নিয়ে চলে গেছে’ বলে দৌড়ে সামিল হয়েছেন। ধর্মের প্রকৃত পড়া তার নেই বলতেই হবে। তিনি সুপথের সন্ধান কম পেয়েছেন। সঠিক গবেষণার ধারে কাছে তিনি যেতে পারেন নাই। কুরআনের আয়াতই তার প্রতিটি বিতর্কের জবাব হতে পারে। কুরআনের নির্দেশ ছিল কুরআনকে কুরআন দিয়ে বিশ্লেষন করার, সেটি ইমামের জানার কথা ছিল কিন্তু তিনি তার ধারেকাছেও পৌছতে পারেন নাই। এসব তার অজ্ঞতার পরিচয় স্পষ্ট করছে। সর্বোপরি পূর্ববর্তী যুগের মাদ্রাসার মত শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত ক্ষেত্র ও গবেষণাতে ভরপুর করে তুলতে পারলে এসব জটিলতা অতি অল্পেই কেটে যেত। আজকের মুসলিমরা প্রকৃত ধর্মের সুমহান বাণীতে উজ্জ্বল হতে পারতো। যে গবেষনাহীনতার রেওয়াজ আনা হয়েছে তা ভেঙ্গে দিয়ে প্রকৃত গবেষণার দোয়ার খোলে দিলে নির্মল বাতাসে গোটা মুসলিম বিশ^ নির্ঘাৎ আলোকিত হতে বাধ্য।  

(রচনা কাল ৫ জানুয়ারী ২০১৮ সাল)।

Tag Cloud