Articles published in this site are copyright protected.

Archive for the ‘Article’ Category

একটি মৃত্যু ও সারিবাঁধা প্রশ্ন

নাজমা মোস্তফা

মানুষ অনেক সত্যকে চাপা দিয়ে রাখে খুব কৌশলে, কিন্তু দেখা যায় কৌশলী কোনো এক সত্তা সেটির জট অনেক পরে হলেও খুলে দেয়। কোনো সত্যই চিরদিনের জন্য চাপা থাকে না। মাঝে কয়টি বছর হয়তো জনতা এর বাস্তবতা থেকে দূরে থাকে। ভুল খবরে সবাই বিশ্বাসী হয়ে ওঠে। গোটা বিশ্বে টেররিস্টের গুঞ্জন আকাশে-বাতাসে। একবিংশ শতকে এটি বেশ মোটাতাজা খবর বলা চলে। কোণঠাসা হয়ে পড়া মুসলমান পরিচয়ের জনতা এর জরুর আসামি। কিন্তু বাস্তবের সন্ত্রাসীরা যেন আর মিডিয়াতে কোনোভাবেই জায়গা করতে পারে না। দেরিতে হলেও যখন দখিনা বাতাস কিছু ছিটেফোঁটা প্রমাণ আমাদের দুয়ারে এনে পৌঁছে দেয়, তখন তা অবশ্যই মনকে নাড়া দেয়। এটি সত্য যে, নিশ্চয় কে বা কারা এর পেছনে দিবারাত্র কাঠখড় পুড়িয়ে যাচ্ছে, ইন্ধন জোগাচ্ছে। এরা সাধারণের চোখে ধরা পড়ে না বেশিরভাগ মিডিয়ার কারসাজিতে। তবে মিডিয়াতে যেটি খুব সোচ্চার হয়ে আসে, তার সুবাস-কুবাস সবই ছড়ায় খুব দ্রুত। একটি খবর ছড়াতে আজ মুহূর্তও সময় লাগে না। গোটা বিশ্বে জঙ্গি টেররিস্ট নামের জটিল প্রচারে সবাই বেশ সিদ্ধ। মনে মনে সবার জানা, কারা আজ টেররিস্ট। কিন্তু যখন অপর পিঠে হালকা মেজাজের কিছু গভীর জটিল খবরও ধরা পড়ে, তার পরও সেটি বেশ চাপা থাকে। না হলে কোনো সত্য চাপা থাকে না, থাকতে পারে না। যদি সেটি চাপা থাকে তাহলে বুঝতে হবে, এসব ছলবাজি দুনিয়ার কৌশলমাত্র। আজ এরকম একটি চাপা দেয়া অতীত কথা আলোচনা করব, যা সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে। 

একটি মৃত্যু যার প্রায় আট বছর হতে চলছে, যিনি ছিলেন একজন সংগ্রামী মানুষ, একটি নির্যাতিত জনপদের মুক্তির জন্য নিবেদিতপ্রাণ এক সত্তা—তার নাম ইয়াসির আরাফাত। ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনতার সপক্ষে আন্দোলনরত এ ব্যক্তির সংগ্রামী জীবনের কথা বর্তমান সময়কার সচেতন মানুষ কম-বেশি সবাই জানেন। ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান এবং পশ্চিম তীরের হেডকোয়ার্টার্সের কাছেই তাকে সমাহিত করা হয়। যখন তিনি মারা যান, তখন শোনা যায় লিভার সিরোসিসে তিনি মারা যান। কিন্তু অতি সমপ্রতি কিছু গবেষকের কাছে ভিন্ন খবর ঠাঁই পাচ্ছে। খবরে ধারণা করা হচ্ছে, ফিলিস্তিনের এ নেতা পলোনিয়াম বিষে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আল জাজিরা টিভি চ্যানেল রিপোর্ট করে, বিজ্ঞানীরা তার ব্যবহার্য জিনিসপত্রের মাঝে অব্যাখ্যাকৃত অস্বাভাবিক পলোনিয়াম ২১০-এর সন্ধান পান। কাতারের সংবাদ সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে আল জাজিরা ৪ জুলাই এটি প্রচার করে। সুইস গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত লসেইন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণাতে ধরা পড়ে, উচ্চমানের পলোনিয়াম তার ব্যবহার করা জিনিসপত্র, যেমন—কাপড়চোপড়, টুথব্রাশ, তার মাথার বস্ত্রাবরণ, আন্ডারওয়্যার এসবের মাঝে পাওয়া যায়। এই ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ড. ফ্রাংকইস বচোড টিভি চ্যানেলকে বলেন, আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, ব্যাখ্যা না করা উচ্চমাত্রার অসাধারণ পলোনিয়াম ২১০-এর বায়োলজিক্যাল ফ্লুইডের প্রমাণ এ গবেষণাতে ধরা পড়েছে। এই সংস্থার লসেইন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এখন আরাফাতের শরীর, হাড় ও তার কবরের মাটি পরীক্ষা করার কথা বলছেন। এদিকে আরাফাতের বিধবা স্ত্রী সুহা ফিলিস্তিনি সংস্থার কাছে এসব পরীক্ষার অনুমোদন চেয়েছেন। সুহা আরও বলছেন, এতে তার বুকের ওপর কিছু চাপ কমবে। অন্তত ফিলিস্তিনি জনগণ, আরব ও মুসলমানদের বোঝানো যাবে যে, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত অপরাধমূলক মৃত্যু। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ইয়াসির আরাফাতের দেহ পরীক্ষা না করার কোনো কারণ থাকতে পারে না, তার বিষক্রিয়ায় মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 


আরাফাত ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে মারা যান। সেখানে চারদিকে গুজব ছিল যে, তিনি লিভার সিরোসিসে বা ক্যানসারে বা এইডসে মারা গেছেন। ওই পরীক্ষার সঙ্গে জড়িত সুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিনের প্রধান প্যাট্রিস ম্যানজিন বলেন, তার কোনো লিভার সিরোসিস হয়নি, কোনো ক্যানসারের লক্ষণ পাওয়া যায়নি, লিউকিউমিয়া, এইচআইভি বা এইডসও ছিল না। খবরে প্রকাশ, তিনি মারা যাওয়ার আগে ওজন হারানোর সমস্যা, ভীষণ বমিপ্রবণতা এবং ডায়রিয়ায় ভুগছিলেন। এখানকার সবক’টি লক্ষণই ওই বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাকেই সুস্পষ্ট করছে। জানা যায়, আলেকজান্ডার লিটভিনেস্কো নামে একজন রাশিয়ান সিকিউরিটি এজেন্ট ২০০৬ সালে একই রকম জটিলতা নিয়ে মারা যান ওই পলোনিয়াম বিষক্রিয়ার কারণে। এ ঘটনাটিও ইয়াসির আরাফাত মারা যাওয়ার মাত্র দু’বছর পরের ঘটনা। এটিও আল জাজিরা টিভি চ্যানেলের খবরে উল্লেখ করা হয়। ২০০৬ সালে মারা গেলে তার ব্যবহার করা জিনিসপত্রে উচ্চমাত্রায় এ তেজস্ক্রিয় বিষের সন্ধান পাওয়া যায়। 


ব্রিটিশ সাংবাদিক জর্জ গ্যালওয়ে নীতির প্রশ্নে সত্য প্রচারের কারণে এর গভীরে ঢুকতে তত্পর থেকেছেন। তিনি একাধারে সাংবাদিক, রাজনীতিক ও গ্রন্থকার। তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার জীবনের এক বড় অংশ এ ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন। এ বিষ পারমাণবিক বিষক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত একটি বিষ। সঙ্গত কারণেই এটি যে কারও কাছেই থাকার কথা নয়। যারা পারমাণবিক অস্ত্রে সক্রিয় ক্ষমতা অর্জন করেছে, একমাত্র তারাই এটি প্রয়োগ করতে পারে। জর্জ গ্যালওয়ে এটিও সুস্পষ্ট করেন—মাত্র কিছু আগে ইসরাইলের এরিয়েল শ্যারন ও এহুদ এলমার্ট এটি প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইয়াসির আরাফাতের কোনো ক্ষতি করতে না পারার যে ওয়াদা ছিল, সেটি এর মাঝে শিথিল নয়, একদম বাতিল হয়েছিল। এমন কি শ্যারন এটিও সুস্পষ্ট করেন যে ইসরাইলের কোনো কর্মকাণ্ডের জবাবে ফিলিস্তিনের ওই নেতার কোনো বীমার পলিসিও কার্যকর নয়। এগুলো সবই প্রশ্ন; শুধু এটিই নয়, আরও বহু প্রশ্ন জমেছে এরই মাঝে। এগুলো হচ্ছে, ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল—বছর হিসেবে আজকের যুগে এটি খুব কম সময় নয়। কেন এতবড় একটি সময়ের কালক্ষেপণ? ফ্রান্স কেন এটি সে সময় খতিয়ে দেখার দরকার বোধ করল না? একজন স্বনামধন্য নেতার বিষয়টি কেন পোস্টমর্টেমের পর্যায় পর্যন্ত গেল না? কী কারণে ওইসব রক্তের, প্রস্রাবের, ঘামের সব রিপোর্ট ধ্বংস করা হলো? যদিও ফ্রান্সের গতানুগতিক নিয়মে তারা এসব দশ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখে—এক্ষেত্রে কেন তার ব্যতিক্রম হলো? কী কারণে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে এতই নীরব ভূমিকা পালন করছে এসব সারিবাঁধা প্রশ্ন গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলের সঙ্গে আরও প্রশ্নের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। তবে ফিলিস্তিনের জনতা তাদের ৭৫ বছর বয়স্ক প্রয়াত নেতার প্রকৃত খবর জানতে চায়। আমরাও বাকি বিশ্বের জনতা সত্য উদঘাটনের অপেক্ষাতে উন্মুখ হয়ে রইলাম। 

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2012/07/21/155381,

বি:দ্র: এখানে লিংক এড্রেসটি কার্যকর নয়। তারপরও সত্যটি জুড়ে দেয়া হয়েছে এ লেখাটি অনলাইন আমারদেশে ছাপা হয়েছে ২০১২ সালের জুলাই মাসের ২১ তারিখে। বর্তমানে এমন এক জটিল বিষয় জাতির সামনে অপেক্ষমান। এ জাতি ভয়ের প্রহরকাল কাটাচ্ছে। তাদের ভুলো মনে অনেক কিছুই হারিয়ে যায় , যা সঠিক নয়। জাতির সচেতনতার লক্ষণ নয়। একবার নয়, বার বার ভাবুন। সঠিক কাজটি করেন। চারপাশে চাউর হয়েছে খালেদা জিয়াকে স্লোপয়জনিং করা হয়েছে। এটি সম্ভবত যা রটে তা অনেকটাই বটে। নাহলে সরকার এত ভয় পায় কেন খালেদাকে বিদেশে নিতে। এ অল্প কথায়ই সব প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হবার কথা।

রমজান ও মেয়েদের মাসিক

নাজমা মোস্তফা

প্রাণবন্ত করে রাখার কৌতুক নিয়ে নয় বরং গুরুগম্ভির ইস্যু নিয়ে এবার হাজির হয়েছেন আমাদের অনলাইনের এক্টিভিস্ট গনিভাই। আমার জীবনে এক ডজন সত্য গল্পের জমা আছে সেখানে কলেজে পড়াকালীন একটি লেখা আমার ব্লগেও আছে, গল্পের নাম “গণিভাই ও আমরা”। আজকের উপস্থাপনা নিয়ে হাজির হয়েছেন আজকের অনলাইনের গণিভাই; বিষয়টি হচ্ছে মেয়েদের মাসিক অবস্থানে মেয়েরা কি করছেন বা করবেন বা কোনটি কিভাবে যুক্তিযুক্ত। তিনি অনলাইনে পাওয়া একটি লেখার উদ্ধৃতি দিয়ে ঐ লিংক এড্রেসসহ বিষয়টির উপর ব্যাখ্যা লেখাটিও তুলে ধরেছেন। এর জবাবে দুজন ভাই তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। আমারও ইচ্ছে দুটো কথা বলার কারণ বিষয়টি নারী বিষয়ক, এবং এতে আমার স্ব-স্বার্থ জড়িত। আল্লাহর নামেই এ লেখার বা চিন্তার শুরু, “সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি তার বান্দার কাছে এই কিতাব অবতারণ করেছেন, আর তিনি এতে কোন কুটিলতা রাখেন নি” (সুরা আল-কাহফএর ১ আয়াত)।

আমি বেশ উৎসাহ নিয়ে মূল লেখাটি পড়লাম। এর পর মনে হলো এর উপর কিছু বলা জরুরী। কারণ আমি নিজে একটি মেয়ে আর এর উপর আমার চিন্তা ভাবনা আছেই, সর্বোপরি আমি কি করছি বা করেছি সেটি অবশ্যই রাখঢাক না নিয়েই স্পষ্ট করা সততার পরিচায়ক। হয়তো অন্য কেউ এখান থেকে ইতিবাচক কিছু পেয়ে উপকৃত হতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আজীবন একজন ধার্মিক মানুষ আগাগোড়া এবং সেটি অল্প বয়স থেকেই। মায়ের শাসন না মেনে তসলিমা বেঁকে বসেছিলেন, উল্টো মাকে নিয়ে তার বিদ্যার বাহাদুরী করেছেন। হয়তো তার বাবাও সেখানে সায় দিয়ে গেছেন বেচারী মা সেদিন বেকায়দায় পড়েছিলেন। আমি আবার উল্টো তসলিমার মতই ডাক্তার বাবার মেয়ে যদিও আমি তসলিমার মত ডাক্তার নই। বাবা মায়ের উভয়ের নির্দেশণায় খুব শৃংখলার মাঝে যুক্তির মাধ্যমে সব প্রশ্নের যুৎসই উত্তর পেয়ে পেয়ে বেড়ে উঠেছি। যখনই কোন প্রশ্নে বাধাগ্রস্ত হয়েছি, যুক্তিবাদী ধর্মে অভিজ্ঞ বাবা আমাকে খুব নিঁখুত ভাবে দেখিয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে বুঝিয়ে দিতেন। এসবের উপর আমার বেশ গল্প কবিতা সবই আছে। যাক মূল কথায় আসি। রমজানে আমরা কি করেছি? ছোটকালেই সেহরীতে না উঠতে পারলে কেউ না ডাকলে খুব রাগারাগি মন খারাপ করতাম। তারপরও সবকটি নয় মাঝে মাঝে রোজা করছি, সেই ছোটকাল থেকেই বাবা মায়ের দেখাদেখি। সিলেটের মেয়ে হিসাবে ছোটকাল থকেই আমাদের ধারে কাছের প্রাপ্তবয়স্ক নিকটজনকে কখনোই রমজানে দিনের বেলা খেতে দেখিনি। এরকম এক ইসলামিক নিয়মের পরিবেশে আমার বেড়ে উঠা।

যখন বারো বছর বয়স আমি তখন ক্লাস এইটে, ঐ বছরই আমি সবকটি রোজা রাখি প্রথম বারের মত। বাবার আহলাদি মেয়ে সেই কচি মেয়ে সবকটি রোজাই করি। আমার সাথের অনেকেই আমার মত বয়সে সবকটি রাজা করেননি। আমি যখন ঢাকাতে কয়েক তলা উপরে, তখন রাতে সেহরী খেতে উঠলে চারপাশে দেখতাম প্রায় প্রতিটি বাসাতেই নিঃশব্দ নিরবতা। দুএক বাসাতে টিম টিম আলো জ¦লতো। খবর নিলে জানতাম সে বাসাতে বুয়া রোজা করে। কাছ থেকে ঢাকার দেখা রোজা আমার কাছে হতাশাজনক। এবার মূল কথায় যাই। এমনও হয়েছে আমাদের মাসিক হলে আমরা রোজাগুলি ভাংতাম আর ফের রোজার পর পরই আবার রেখে নিতাম। মা খালা ফুফুরাও তাই করতেন, আমরাও তাই করেছি। মফস্সল অঞ্চলে আমাদের সময়ে খোলামেলা পরিবেশ, আত্মীয় পরিজনরা সারাক্ষণ আসা যাওয়া করতো। সেখানে চাচা, চাচাতো ভাই ফুফা, ফুফাতো ভাইরা সমানেই আসা যাওয়া করতেন যখন তখন। তাছাড়া বাসা বাড়ীর কাজের লোকেরা, ফকির মিসকিনসহ অসংখ্য মানুষ যে কেউ আসতে পারে। আমাদের দোয়ার বা গেট খোলা থাকতো। সঙ্গত কারণেই রমজানের দিনে প্রকাশ্যে খাওয়াকে এক ধরণের বেইজ্জতি লজ্জার কাজ বলে মনে করতাম। আমি আগেই বলেছি প্রাপ্তবয়ষ্ক আমার কোন নিকটজনকে আমি জীবনেও রোজা ভাংতে দেখিনি। আমার আম্মা বলতেন রোজা যখন হবে না, তখন রোজা ভেংগে ফেলাই উত্তম। একটু পানি খেয়ে হলেও ভেংগে ফেলতাম। যাক এভাবে সারা দিন না খেয়ে রোজা করেই হয়তো একটু পানি খেয়ে রোজা ভাংতাম দিনের কোন এক সময় আবার রোজার শেষে ঐ পানি খাওয়া ভাংগা রোজাগুলি আবার রাখতাম। এভাবে চলছিল সম্ভবত সাল তারিখ মনে নেই, যখন ৩০ বছর প্রায় আমি তখন বিবাহিতা দু ছেলের মা।

আমার ডাক্তার বাবা তার রোগী ছাড়াও সমাজের সমূহ দুর্ভোগ নিয়ে প্রচন্ড ভাবতেন। ফাঁকে ফাঁকে এসব নিয়ে গবেষনাও করতেন, পড়াশুনা করতেন, লিখতেনও। তার প্রকাশিত অনেকগুলো বই আছে। সেবার আমি ঢাকা থেকে বাপের বাড়ী গিয়েছি। সেখানে মায়ের কাছেই শুনি এবং বাবাকেও বলতে শুনি। আমার বাবার যুক্তি ছিল তোমরা মেয়েরা রমজানে একদিকে খাও না, সারা মাস সবকটি রোজা করো আবার রাখো। কেন জানি আমার মনে হচ্ছে কুরআনিক বিশ্লেষনে এর উত্তর খুব সোজা। তিনি কুরআন থেকে খূঁটিয়ে খুঁটিয়ে সবকটি আয়াত দিয়ে খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দেখালেন তোমাদের রোজা দুবার রাখার কোন যুক্তি নেই। যেখানে আজ দেখছি কুরআনের আয়াত দিয়ে মেয়েদের জন্য নামাজকে মাফ করে দেয়া হয়নি। কিন্তু ছোটকাল থেকেই হাদিস জেনেছি এটি মাফ। হাদিসে রোজা মাফ এমন কথা বলা নেই। তাই সবাই ভাংগা রোজা পরে রাখার বিধান মানেন। কিন্তু সত্য হচ্ছে রোজা নামাজ ভাংতে আল্লাহ কুরআনে কোথাও বলে নাই। বরং আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ঐ সময় রোজা রাখতে পারলে বেশী পূণ্য সঞ্চয় হবে। কারণ এটি মেয়েদের এক ধরণের শারীরিক অসুস্থতা ঠিক নয়, কিছু বিপর্যয় যাকে অনেকে প্রচার করেছেন তারা অপবিত্র থাকে। কুরআনে একে অপবিত্র বলে কোথাও উল্লেখ করে নাই। যদি আমরা অসুস্থতাও ধরি তাহলে রমজানের আয়াতে বলা হয়েছে অসুস্থ অবস্থায় রোজা রাখতে পারলে বেশী পূণ্য হবে। সেই দিন থেকে আজ অবধি আমার সবকটি রোজাই রাখা, আমার জীবনে আর কোন ভাংগা রোজা নাই। ঐদিন থেকে আমি দুবার রোজা পালনের জটিলতা থেকে মুক্ত হই। এমনকি আমার ছোট ছেলের জন্মের পর আমি পুরো একমাস রোজা পালন করি। উল্লেখ্য ঐ সময় আমি রমজানের পরপরই সবকটি ভাংগা রোজা রেখে নেই। বাবার ঐ চিন্তাশীল কুরআন বিশ্লেষনের পাওনা আমার দু ছেলের জন্মের পর পাওয়া।

http://www.islamhelpline.net/answer/358/can-woman-fast-and-pray-during-menses-period

Fasting of women during menstruation periods

গণিভাইএর লেখাটির জবাব দিতে গিয়ে উপরের এ সাইটটির সন্ধান পাই। এখানে প্রশ্ন করা হয় একজন মেয়ে তার মাসিকের সময় কিভাবে রমজান করবে? উত্তরে বলা হয় মেয়েরা অন্য সবার মতই রমজান পালন করবে। এমনকি তাদের মাসিকের সময়ও। সুরা বাক্কারাহএর ১৮৭ আয়াতের হিসাবে বলা হয় রমজানে খাওয়া পান করা ও সহবাস করা যাবে না। একমাত্র দুটি ধারার মানুষ পাওয়া যায় যারা রোজা ভাংতে পারে এবং পরে অবশ্যই এর প্রতিবিধান করতে হবে। তারা হচ্ছে অসুস্থ ও ভ্রমণরত জনতারা। মাসিকের সময় কুরআন কোথাও রোজা ভাংতে বলে নাই বা ঐ ধারার কোন অনুমতিও দেয়নি। যেসব মতামত প্রচারিত হয় তার কোন সূত্র কুরআনে নেই এমন কি এর পক্ষে নবীর কোন উদাহরণও নেই। এ ছাড়াও কিছু মেয়েরা এ সময় অনেক বেশী জটিলতার মাঝে পড়েন। তাদেরে বাড়তি ঔষধ গ্রহণ করতে হয়। এরকম অবস্থায় তাদের অসুস্থ ধরা হয়। এবং তারা ঐ ভাংগা রোজাগুলি রমজানের পরে রাখতে পারেন। আর একটি সমাধান এই সব অসুস্থ মেয়েদের জন্য তারা ব্যথানাশক ঔষধ বা ইনজেকশন নিতে পারেন। যেখানে ঐসব ইনজেকশনে কোন পুষ্টি উপাদান থাকবে না, শুধু ব্যথানাশক হবে। এভাবে সব রোজাই মহিলারা রাখতে পারেন। আল্লাহ কুরআনে স্পষ্ট করেন তিনি মানুষকে অযথা কষ্ট দিতে চাননা (সুরা মায়েদা ৬ আয়াত দ্রষ্টব্য)। নীচে অনলাইনে ঐ সূত্রের পুরো লেখাটি চাইলে যে কেউ পড়ে নিতে পারেন।

http://www.islamandquran.org/research/fasting-and-prayer-during-menstruation-and-postpartum-periods.html

কুরআন থেকে:

(১)           বলো (হে মুহাম্মদ!) আমি তোমাদের বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার রয়েছে, আর অদৃশ্য সম্বন্ধেও আমি জানি না, আর আমি তোমাদের বলি না যে, আমি নিশ্চয়ই একজন ফেরেশতা, আমার কাছে যা প্রত্যাদিষ্ট হয় আমি শুধু তারই অনুসরণ করি বলো “অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি একসমান? তোমরা কি তবু অনুধাবন করবে না?” (সুরা আল-আনআমের ৫০ আয়াত)।

(২)           আর আমরা অবশ্যই লোকদের জন্য এই কুরআনে সব রকমের দৃষ্টান্ত বিশদভাবে বর্ণনা করেছি কিন্তু অধিকাংশ মানুষই প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া আর সব কিছুতেই অসম্মত। (সুরা বনি ইসরাইলের ৮৯আয়াত)।

(৩)          ওহে যারা ঈমান এনেছ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো তবে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন, আর তিনি তোমাদের পদক্ষেপ সুদৃঢ় করবেন। (সুরা মুহাম্মদএর ৭ আয়াত)

(৪)           নিঃসন্দেহ এটি সুমীমাংসাকারী বক্তব্য। আর এটি কোন তামাশার জিনিস নয়। (সুরা আত-ত্বারিকএর ১৩, ১৪ আয়াত)।

(৫)          বস্তুত এটি হচ্ছে সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী তাদের হৃদয়ে যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে। আর অন্যায়কারী ব্যতীত অন্য কেউ আমাদের নির্দেশাবলী অস্বীকার করে না। (সুরা আল-আনকাবুত এর ৪৯ আয়াত)

উপরে হাদিস থেকে নয় বরং কুরআন থেকে পাঁচটি আয়াত আনলাম। যতদূর জানি হাদিসের কারণে আমরা মেয়েরা জেনে এসেছি মাসিকের সময়টিতে  মেয়েদের রমজান মাফ করে দেয়া হয়েছে। যখন কুরআনে এর উপর কোন কথা নেই তখন এটি শতভাগ স্পষ্ট খোদার উপর খোদকারী নবী কখনোই করবেন না, করতে পারেন না। কিন্তু প্রচলিত হাদিসে তাই বলা আছে। নাহলে এমন বাড়াবাড়ি হলে আল্লাহ নবীর কন্ঠনালী ছিড়ে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছে কুরআনে। আমার বিশ্লেষন হচ্ছে সমাজের যত বাড়তি সংযোজন সবই করা হয়েছে হাদিস দ্বারা। কুরআন দ্বারা সবকিছুকে সহজ সরল করে রাখা হয়েছে আর হাদিস দ্বারা বহু বহু সরলকে জটিল করা হয়েছে। এর মূল কারণ কুরআন আল্লাহর নির্দেশ আর হাদিস রসুলের নামে পরবর্তী মানবিক সংযোজন। কুরআন বিরোধী কথা রসুলের ব্যাখ্যা হতে পারে না। বরং বলা চলে এটি তৃতীয় পক্ষের বাড়তি সংযোজন ছাড়া আর কিছু নয়। আল্লাহর কড়া নির্দেশ নবীকে অনুসরণ করতে, তার মানে এই কুরআনকে কুরআইশ আরবরা মানতো না, বলতো এ নবী পাগল যাদুকর কবি। তাকে অনুসরণ করো না, এভাবে তারা কুরআনকে স্বীকার করতো না। কিন্তু আল্লাহ বার বার নবীকে অনুসরণ করতে বলেছেন মানে এই নবীর মাধ্যমে প্রেরিত কুরআনকে কঠিনভাবে লাইন বাই লাইন পালন করতে বলেছেন। তার শাব্দিক ভাব গ্রহণ করে ও কিছু আয়াতের রুপক ভাবকে নিয়ে যুক্তির গ্রন্থকে যুক্তি দিয়ে বুঝার তাগাদা দিয়েছেন। সঠিকভাবে বুঝতে হলে কুরআনকে কুরআন দিয়ে বিশ্লেষণ করতেও বলা হয়েছে। একই বিষয়ে অনেক আয়াত আছে। সেটি পরখ করতে হবে। কিন্তু ইবলিসের বিজয় ঘটাতে মানুষ পথভ্রষ্ট হয়েছে, প্রমাণ এসব কুরআন বিরোধী কথা। কুরআন একটি পরিপূর্ণ গ্রন্থ যে বা যারা মনে করে থাকেন এটি পরিপূর্ণ নয়। এটি তাদের কুরআন বোঝার গলতি। ইবলিস ছিদ্রহীন কুরআনে প্রবেশ করতে পারেনি কিন্তু হাদিস দ্বারা সেখানে ঢুকতে পেরেছে। এর প্রমাণ হাদিসের অপরিসীম ধরা খাওয়া ও তার দু’নাম্বারী পরিচয় স্পষ্ট হওয়া। মেয়েদের পাথর ছুড়ে হত্যা করার বিধান, বানরের উপর রজমের শাস্তি, সবই ইবলিস দ্বারা সম্ভব হয়েছে। যে কেউ বলতে পারেন আমি হাদিসকে অবহেলা করছি। কুরআন অনুমোদিত হাদিস অস্বীকার করার দুঃসাহস কারো হবার কথা নয়। সহজ কথা হচ্ছে যা কুরআন স্পষ্ট করেছে সেটি হাদিস দ্বারা জটিলতা সৃষ্টি করা ইবলিসের কাজ। এভাবে মানুষ মূল থেকে সরে গেছে। এ ধারার গোজামিলে চিন্তা কারো করা উচিত নয়। দুর্বৃত্ত ইবলিসের সাথে আল্লাহর ফয়সালা হয়েছে সে কিয়ামত পর্যন্ত তার অনুগত বান্দাদের পথহারা করবে তবে এটিও তার জানা সে প্রকৃত মুমিন অনুসারীকে জীবনেও পথহারা করতে পারবে না। কুরআন জানি না বলবো না, জীবনের অনেক বড় সময় এই গ্রন্থ নিয়ে নাড়াচাড়া করে চলেছি। অনেকে মূল সত্য এড়িয়ে যান এ কথাটি বলে আল্লাহ ভালো জানেন। অবশ্যই আল্লাহ ভালো জানেন, তবে আল্লাহ সেটি চেপে যাননি বা গোপন করেন নি। বরং তার বানী সব জটিলকে স্পষ্ট করতেই নাজেল হয়েছে। 

অতীতে তসলিমা নাসরিন মন্তব্য করেছিলেন কুরআন একটি অশ্লীল গ্রন্থ এর কারণ সুরা বাক্কারাহএর একটি আয়াত। আয়াতটি ছিল এখানের উল্লেখিত বিষয়টি। বাণীটি, “(হে মুহাম্মদ) তারা তোমাকে ঋতুকাল (চলাকালে সহবাস) সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করছে। বলো, ‘এটি (ঋতুকালে সহবাস) অনিষ্টকর  কেননা এতে নারীর জরায়ুতে এন্ডোমেট্রাইসিস রোগ হতে পারে, আর এটা পরিচ্ছন্ন থাকার দিক দিয়েও অশোভন); কাজেই ঋতুকালে স্ত্রীদের (সাথে সহবাস) থেকে আলাদা থাকবে; এবং তাদের নিকটবর্তী হয়ো না যে পর্যন্ত না তারা পরিষ্কার হয়ে যায় (আর সেজন্য ঋতুকালে দাম্পত্য সম্পর্ক ছেদপড়া অবস্থায় তখন বিবাহবিচ্ছেদ বৈধ নয়, ৬৫:১) তারপর যখন তারা (মাসিক ঋতুস্রাবের পরে) নিজেদের পরিষ্কার করে নেয় তখন  তোমাদের দাম্পত্য জীবনের সুফর উপভোগ করার জন্য) তাদের সঙ্গে মিলিত হও যেভাবে আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। নিঃসন্দেহ আল্লাহ ভালবাসেন তাদের যারা তাঁর (নির্দেশের) দিকে ফেরে, আর তিনি ভালবাসেন পরিচ্ছন্নতা রক্ষাকারীদের।” বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ অনুবাদটি ডাঃ জহুরুল হকের অনুবাদ থেকে নেয়া। 

কুরআন বলেছে, তুমি বেশীরভাগ মানুষকে অনুসরণ করবে না, তাহলে তুমি পথভ্রষ্ট হবে। বিবি মরিয়মকে বলা হয়েছে, “(প্রসব বেদনা নিরসনের জন্য) খেজুর গাছকে তোমার দিকে টানো, এতে পাকা খেজুরও পড়বে” (পুষ্টিতে সহায়ক হবে)। যদি লোকজন দেখতে পাও তবে বলো, আমি পরম করুনাময়ের জন্য রোজা রাখার মানত করেছি, আমি আজ কারো সঙ্গে কথাবার্তা বলবো না”। সুরা মরিয়মের ২৫/২৬ আয়াতে দেখা যায় প্রসব কালিন তাকে কি নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং রোজা পালন করতেও বলা হয়েছে ঐ অবস্থায়। এতে এটিও স্পষ্ট হয়, এমতাবস্থায়ও রমজান পালনে কোন অসুবিধে নেই। মুসলিমরা যখন তাদের মূলগ্রন্থ থেকে ছিটকে দূূরে চলে যায় সেদিন থেকেই তাদের জীবনে ধ্বস নামতে শুরু করেছে। ইসলামের বিপর্যয় তখন থেকেই আজ অবধি চলছে। কুরআনের বানী এতই অর্থবহ যে এর প্রতিটি কথা যে কত মূল্যবান সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু বেশীরভাগ মুসলিমরা এটি না বোঝেই জপে থাকে। বোঝার দরকার মনেও করেনা, গরজও দেখায় না। বলে একে সত্তুর নেকি অপেক্ষায়, সবই মানবিক সংযোজিত হাদিসের বদান্যতা। আল্লাহ বলে ভালো কাজে একে দশ পূণ্য দেয়া হবে, হাদিস বলে একে সত্তুর। আল্লাহ থেকে ষাটগুণ বেশী বলাই ইবলিসের কাজ। এ জন্যই বলা হয় এ রাস্তা বড় কঠিন চুলের চেয়ে চিকন আর ছুরির চেয়েও ধারালো। এটি সবাই হজম করতে পারে না। একমাত্র সত্যানুসন্ধানীরা একে লুফে নেয়। তারাই প্রকৃত সত্যের সমঝদাতা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার সঠিক বানী বোঝার ও সঠিকভাবে তা পালনে সাহায্য করুক। মনে রাখতে হবে এ ধর্মের নাম সিরাতুল মোসতাকিম। সহজ সরল ধর্ম, জটিল হলেই কঠিন হলেই ধর্ম নয়, বরং ওটি হবে বাতিল ধর্ম। আল্লাহর সাবধান বাণী, ইহুদীরা গাধার বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে, পরবর্তী মুসলিমরা যেন তা না করে। কিন্তু এটি সত্য আমরাও ঐ বোঝার ভার দিয়ে কুরআনকে অবজ্ঞা করি, কুরআনকে দূরে ঠেলি ও নিজেরাও সত্য থেকে দূরে অবস্থান করি। 

২৬ অক্টোবর ২০২১ সাল, রাত একটা।

বিশেষ নোট:

বিগত ২৬ অক্টোবর ২০২১ এর লেখাটি অনলাইনের ইমেইলের জন্য সাজাই। এখন মনে হচ্ছে এ জরুরী বিষয়টিও আমি আমার ব্লগে দেব, যদি এসব সত্য কাউকে নাড়া দেয়। ইসলামের প্রাথমিক বিজয় যুগের পর মুসলিমরা ক্রমে গবেষণাহীন জাতিতে পরিণত হয় যার কারণে বহু বহু জটিলতা এখানে এসে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। বলা হয় কুরআন নিয়ে কথা বলা নাজায়েজ। মানবদেহ ছেড়াফাড়া করাও বিতর্কীত কাজ বলে প্রচার করা হয়। কুরআনকে দূরে সরিয়ে দিয়ে এর নামে আরবী অক্ষরে লেখা তাবিজ কবজের ব্যবসার জোর প্রচার চালানোই ধর্মকথা। এসব ফতোয়া নাজেলের পর থেকেই মানব দেহ ছেড়ে বানর বা ভিন্ন প্রজাতি নিয়ে গবেষনা শুরু হয়। মূল কথা তখন থেকে আল্লাহর নির্দেশকে শৃংখলিত করা হয়। ফতোয়া, জায়েজ নাজায়েজ যখন মানুষের মানবিক কসরতে ধর্মের গন্ডিতে জমা হয়, মানুষ পথ হারায়। বিজ্ঞের নামে অজ্ঞতার চাষ করতেই মানুষ মনোযোগী হয়ে পড়ে। আল্লাহ সাবধান বাণী ছিল ইবলিস সম্বন্ধে, সে সাবধান বানীর বিপরীতে ইবলিস প্রথমে বসে, পরে শোয়ার জায়গা করতে পারে ভালো মাপে। ধর্ম আজ পঙ্গুত্বের শিকার, মানুষ আল্লাহর নির্দেশিত মূল বানী থেকে ছিটকে যোজন যোজন দূরে চলে যায়, এভাবেই পথ হারায়। বর্তমানের মুসলিমরা প্রায় পনেরোশত বছর আগের আদর্শহারা গোষ্ঠীর অংশমাত্র, শেষ দৃশ্য পতনের অপেক্ষায় সময় পার করছে।

আজকের তারিখ ১৩ই নভেম্বর, ২০২১ সাল, রাত ১০টা।

কুরআন হনুমানের নয়, মানুষের জন্য এক অনন্য দলিল

ডাঃ এম এ শুকুরের ‘হাতুড়ে’ গ্রন্থ থেকে

বিশেষ দ্রষ্টব্য: মরহুম ডাঃ শুকুরের বিগত শতকের লেখা থেকে নেয়া।

আমরা একে অপরকে ‘দালাল’ বলে আখ্যায়িত করছি কিন্তু আর নয় এবার থেকে আমাদেরে এই জাতীয় কর্কট রোগের প্রতিষেধক খুঁজে নিতে হবে। ১৭৫৭ সালের ৭ই জুন পলাশীর আম বাগানে দেশী বিদেশী শোষকদের খপ্পরে পড়ে বাংলা তথা ভারত বর্ষের ইতিহাসে যে বিপর্যয় নেমে এসেছিল, আজ দু’শ বছর পরেও আমরা সেই বুদ্ধিহীনতার জটাজাল থেকে মুক্তি পাইনি। দেড়শ’ বছরের বিদেশী শাসন ও স্বদেশী শোষনের পর বাংলার এক কৃতী সন্তান এই শতাব্দীর প্রথম দিকে দিল্লীর শাসকের শুভ দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ফলে বঞ্চিত এপার বাংলাকে নতুন করে গড়ে তোলার শুভ প্রেরণায় ১৯০৫ সালে ঢাকাকে কেন্দ্র করে গঠিত হলো নতুন প্রদেশ ‘পূর্ব বাংলা’। এতে বাংলা ও ভারতের যাবতীয় শোষকেরা ‘হায় হায় করে আর্তনাদ করে উঠেছিল। বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদে শিহরিয়া উঠেছিলেন আমাদের বাঙ্গালী ভাইয়েরাও। এর ফলে সর্ব ভারতীয় শোষকদের কুটিল চক্রান্ত আর বাঙ্গালীদের সক্রিয় আন্দোলনের জোয়ারে বাংগালের বাঁচার তাগিদে গড়া সুখ স্বপ্ন আতুড় ঘরেই মারা যায়। মানুষের চেয়ে মাটির মূল্য যাদের কাছে বেশী, তাদেরই হল জয়। রাজ আদেশে ১৯১১ সনে আবার এপার বাংলা ওপার বাংলা একত্রিত হল। বাংলার পাট ও বাংলার চাষীর ভাগ্যকে আবার বেধে নেয়া হল ডান্ডি ও কলকাতার পাটকলের চিমনীর পাশে লটকানো বেরোমিটারের সাথে। শোষকদের চোখেমুখে স্বস্তির আমেজ ফিরে এল।

কিন্তু অদৃষ্টের কি নির্মম পরিহাস! ১৯৪৭ সনে ঐ বাংগালীরাই আবার অম্লান বদনে বঙ্গমাতাকে দু’টুকরা করে দিয়ে গেল। বাংগালের হাহুতাশ আর করুণ মিনতিকে তারা পাই ক্রান্তিরও দাম দিল না। বস্ততঃ দুটি ভিন্নধর্মী জীবন প্রবাহের শোচনীয় বিচ্ছেদের করুণ কাহিনীর অমর সাক্ষী হয়ে রইল ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্টের মধ্যরাত্রি। এক হাজার বছর একত্রে থেকেও তারা দেশও জাতি, মন ও মানুষ এমনকি জীবন ও মৃত্যু সম্বন্ধে একে অপর থেকে বহু যোজন দূরে পড়ে রইল এপারের বাংগাল ও অপারের বাংগালী আর কোনদিন একত্র হবে কিনা সে প্রশ্ন ভাবীকালের, আমরা শুধু আমাদের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার মাত্র এটুকুই জেনে গেলাম যে আলো এবং অন্ধকার, সত্য আর অবাস্তব একসাথে থাকতে পারে না। জোর করে বেধে নিলে তারা একদিন জোর করেই পৃথক হয়ে যায় এবং এই বিচ্ছেদের সময় প্রলয় ঘটে।

কার্যতঃ ভারতবর্ষের মূল সমস্যার সঠিক সমাধান কেউ দিতে পারলে না, হাতুড়ে ব্যবস্থায় শুধু অঙ্গচ্ছেদই ঘটালে। জিন্না-গান্ধী লীগ-কংগ্রেস সবাইকে ফুলে আর গানে বন্দনা করলো ভারতবাসীরা, তবু তাদের মুক্তি রইলো লক্ষ যোজন দূরে। জয় হল সাম্প্রদায়িকতার, আর স্বরাজ পেল দু®কৃতিকারী। সাধারণ নিরীহ নাগরিকরা না পেল অর্থনৈতিক মুক্তি, না পেল সসম্মানে বেঁচে থাকার কোন শান্তিময় আশ্বাস। শোষকের স্বার্থে জাতি ধর্ম আর ভাষা বিদ্বেষের অসফল নেশায় বিভ্রান্ত করে রাখা হল সাধারণ মানুষেদের।

বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রথম বিশ্ব সমরের ধাক্কায় কম্পিত হল জগত, শঙ্কিত হল ভারতবাসীরাও। খেলাফত আন্দোলনের দুরন্ত জোয়ারে কেঁপে উঠছিল ইংলন্ডের রাজার আসনখানিও। ঐ সময়ে নেটাল ডারবানে নির্যাতীত ভারতবাসীর পক্ষে ওকালতি করে ঘরে ফিরেছেন এক তরুণ বারিষ্টার। তার নেতৃত্বে গোটা ভারতের আপামর জনতা এগিয়ে এল। কিন্তু নতুন যুগের মুক্ত মানুষের মুক্তির পক্ষে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ালে পুরাতন ভেদবুদ্ধি ও আচার সর্বস্বতা। তার পুরো সুযোগ গ্রহণ করলো বিদেশী শাসকেরা। তাই বিভেদের প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে মানুষ এখানে আর মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে সক্ষম হলো না। বারিষ্টার খুলে নিলেন তার কোট প্যান্ট, গায়ে জড়ালেন ধূতি, তাও আবার খাটো করে তুলে নিলেন হাটুর উপরে এবং গ্রহণ করলেন নিরামিষ, মৌন আর উপবাসকে জীবনের ব্রতরুপে। সমস্যার বাস্তব কোন সমাধান না দিয়ে মানুষরে ভগবান হয়েই রইলেন তিনি।

নিজে আইনের বিশারদ হয়েও প্রাণ ভরে গাইলেন ‘রামধূন’।

“রঘুপতি রাঘব রাজা রাম, পতিত পাবন সীতা রাম।

ঈশ্বর, আল্লা তেরা নাম, জয় সীতা রাম, সীতা রাম।

যহি আল্লাহ সহি রাম, সবকো সন্মতি দে ভগবান।

রঘুপতি রাঘব রাজারাম, পতিত পাবন সীতা রাম।”

আশ্চর্য্য! স্র্রষ্টা এবং সৃষ্টিতে, এমনকি ঈশ্বর, আল্লাহ ও অযোধ্যার রাজা রামচন্দ্রকে যিনি একাকার করে দিতে পারেন, ভারতবাসীর মুক্তি নাইবা এল, ভারতীয় দর্শনের মুক্তি তো তারই হাতে। তাই শেষ পর্যন্ত জয় হল শোষকের এবং সাধারণ মানুষ যে তিমিরেই ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গেল। মুল্লা পুরোহিত এক বাক্যে চিৎকার করে উঠল, ‘মহাত্মাজী কি জয়!’ ফলে মানুষের আর্থিক তথা আত্মিক মুক্তি হল চরমভাবে বাধাগ্রস্ত। এবং পৌরিহিত্যবাদ প্রতিষ্ঠা নিল এক নতুনতর আধুনিক কৌশলে, এক অব্রাহ্মণকে সামনে শিখন্ডি খাড়া করে। তেত্রিশ কোটি দেবতার পাশে যুক্ত হল আরো একটি নাম, আরো এক নতুন ভগবান, – শুধু ব্রাহ্মণ্যবাদের নড়বড়ে ভিতকে শেষ বারের মত রিপেয়ার করার জন্য। 

পরিণামে ভারত বিভাগ হল অবধারিত, খন্ডিত হল বাংলা এবং চূর্ণ বিচূর্ণ হল পঞ্চনদের দেশ পাঞ্জাব। দেশীয় রাজ্য কাশ্মীরকে উপমহাদেশে এক রাজনৈতিক বিসুবিয়াসে তাপিত করে রাখা হল যার হাপরের আগুন জ্বালিয়ে রাখার তাগিদে কোটি কোটি মানুষের কপাল পুড়ে ছাই হয়ে গেল। পয়ষট্টি সালের যুদ্ধে যখন উভয় পক্ষ ‘কেহ কারে নাহি পারে সমানে সমান’ হয়ে ক্ষত বিক্ষত হল তখন উভয়ের আন্তর্জাতিক মুরব্বিরা তাদের ডেকে নিয়ে একে অপরকে দিয়ে উভয়ের কান মলে লাল করে দিলেন। লাঞ্ছিত পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ছদরে রিয়াসতের মাঝে আস্তিন টানাটানি হল, এদিকে ভারতীয় প্রধান মন্ত্রীর হার্টফেল করা লাশ নিয়ে নীরবে ফিরে এল দিল্লীতে।

একটি কথা আছে, দুরাত্মা বাইরে মার খেলে ঘরে আসি বউকে পিটায়। আমাদেরও হল তাই। তৈরী হল আগরতলা মামলার মাল মসলা, আর তারই আগুনে জ্বলেপুড়ে ছাই হল পিন্ডির স্বৈরতন্ত্রের মসনদখানি। এর পরে এখানে যা হল তাকে একটি ছোটখাট আঞ্চলিক কিয়ামত বলা চলে। তারই তান্ডবে লাল হল মাটি, বিদীর্ণ হল আকাশ আর তছনছ হল উপমহাদেশের গোটা ইতিহাসসহ তার ভৌগলিক পরিসীমা। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ সূর্যাস্তের পর যে প্রলয়ের সূচনা হল তার শেষ কোথায় তা মানুষের পক্ষে বলা আজো সম্ভব হয়নি। আমরা যত্রতত্র জাতীয়তার নামে আকাশ ফাঁটা আর্তনাদ শুনি অথচ কার্যক্ষেত্রে দেশাত্মবোধের অভাব আজ দুর্ভিক্ষের পর্যায়ে। তাই দেশকে পূজা করার লোকের ভিড়ে পথ চলা দায় কিন্তু দেশপ্রেমিক খঁঁুঁজে পাওয়া যায় না।

দেশকে ভালবাসা এবং দেশকে পূজা করা এক কথা নয়। দেশকে ভালবাসতে হলে দেশের মানুষের কল্যাণে নিজকে আত্মাহুতি দিতে হয়, পরন্তু মাকে যারা পূজা করে নারীর অমর্যাদা করে তারাই সর্বাধিক! আমরা মাকে শ্রদ্ধা করি কিন্তু পূজা করি না, মার চরণতলে আমরা স্বর্গের কামনা করি বটে কিন্তু তথাপি তার চরণে মাথা পেতে দিই না। মানবাত্মার এই অমর্যাদাকে আমরা সৃষ্টির চরম বিপর্যয় বলে মনে করি। এরুপ অলীক অমানবতাকে আমাদের সমাজ তথা জাতীয় জীবনে আরোপের প্রতিটি চেষ্টাকে আমরা রুখে দাঁড়াবো, প্রয়োজন হলে সর্বস্ব পণ করেও। অদৃষ্টের পরিহাস, আজ ধর্মনিরপেক্ষতার নামে সত্য ও মিথ্যা, আলো ও অন্ধকার এবং ন্যায় ও অন্যায়কে সম স্তরে এনে দাঁড় করানো হয়েছে, অথচ ধর্ম আর ধার্মিকতাকে সাম্প্রদায়িকতায় আখ্যায়িত করে বিসর্জন দেবার প্রস্তুতি চলছে।

দেশকে পূজা করার পদ্ধতি যারা আবিষ্কার করেছিল দেশের মানুষকে তারা সম্মান দিতে পারে নি। দেশের মানুষের ভাগ্য বিড়ম্বিত করে দেশের মাটিকে পূজা করার যে অলীক বিধান তা কিছু সংখ্যক শোষকের জন্য স্বর্গসুখ রচনা করতে সক্ষম হলেও কার্যতঃ মানুষকে তা সর্বহারার পর্যায়ে ঠেলে দেয়। (ডাঃ এম এ শুকুর রচিত ‘হাতুড়ে’ বই থেকে নেয়া)।

সেই লোমহর্ষক দিনগুলির কথা। সীমান্তে তখনো যুদ্ধ চলছিল। মাটিতে দৈত্য দানবের অত্যাচার আর আকাশ থেকে আগুনে বোমা পড়ার ভয়ে শহর থেকে কটি পরিবার এসে আমার গ্রামের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছিল। ঐ সাথে আমার এক বন্ধুও এসেছিলেন। দু’জনে প্রায়ই আলাপ হত একথা সেকথা অনেক কথা। ঐ সময়ে আমার হাতে ছিল একখানি বই। নাম তার ‘হেরার আলো’। বইটির ঐ নামে আমার বন্ধু আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাই তার প্রথম অংশ ‘আবার তোরা মানুষ হ’ নামে প্রকাশিত হয়েছিল। আজকের এই ষড়দর্শন তারই অবশিষ্ট অংশ, ষড়দর্শনের কিছু কথা নীচের এ অংশ ।

ষড়দর্শন থেকে

৪/৮২ ‘তারা কি কুরআন গবেষণা করে না? এবং ইহা যদি বিশ্বস্রষ্টা ছাড়া আর কারো নিকট হতে আসত তবে তারা এতে অনেক অসামঞ্জস্য পেত’।

দ্বিতীয়। নিজের ধর্ম আর অপরের ধর্ম বলে কোন কথা সত্যপথিকের অভিধানে থাকতে পারেনা। নিজের ধর্ম আর নিজের গুরুতে সর্বসত্য নিহিত এরুপ অভিমত সত্যানুসন্ধানের সহায়ক নয়। পরন্তু সর্বদেশে সর্বযুগে যে সব সত্যসাধক এসেছেন তারা মূলতঃ একই উৎসের বিভিন্ন ধারামুখ, তাই তারাও সমভাবে সম্মানিত।

তৃতীয়। এই নিয়ম পূর্বতন প্রতিটি বাণীচিরন্তনী বা ঐশী গ্রন্থের বেলা সমভাবে প্রযোজ্য। এ সকল গ্রন্থ একারণেই পরিত্যাজ্য নয় যে মানুষের অন্যায় হস্তক্ষেপে অনেক অসত্যের প্রলেপ প্রযুক্তি সত্ত্বেও তাতে এখনো অকুলষিত সত্য অবশিষ্ট আছে। শোষকের স্বার্থে আঘাত করে নাই এমন সব বানীকে তারা কলুষিত করেনি এবং তাই তা এখনও অক্ষত আছে। ফলে মানুষের চলার পথে আজো তা আলো দিতে সক্ষম আংশিকভাবে হলেও। একারণে চরম সত্যের সন্ধানে পূর্বতন শাস্ত্র সমূহের অন্তর্নিহিত সত্য সত্যানুসন্ধানীর জন্য বিশেষ সহায়ক।

চতুর্থ। নবীরা নিষ্পাপ, কারণ তারা সুনির্বাচিত ও সুনিয়ন্ত্রিতও।

পঞ্চম। সৃষ্টিধর্ম সম্বন্ধে অধিকাংশ বর্ণনায় একথা অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে, যেসব অকুরআনীয় অলীক মতবাদ কুরআনের নামে ভাষ্যকারেরা প্রচার করেছেন তার জন্য কুরআন দায়ী কিনা? সৃষ্টি ধর্ম সম্বন্ধে কুরআনের অভিমত সুস্পষ্ট। আল-কুরআন জোড়াহীন সৃষ্টি স্বীকার করেনা। কুরআন আরো বলে যে প্রতিটি প্রাণী মরণশীল। নির্দিষ্ট আয়ু সীমায় প্রত্যেককে মৃত্যু বরণ করতে হবে। তদুপরি সৃষ্টার বিধানে কারো জন্য সৃষ্টিধর্ম পরিবর্তনের কোন বিধান নাই। জন্ম মৃত্যু ও ন্যায় নীতি শৃঙ্খলার প্রশ্নে কুরআনের এই সুস্পষ্ট নীতিমালাকে জানা কুরআনের সত্যকে জানার জন্য অপরিহার্য।

নবীরাও মানুষ, কিন্তু তারা সুনির্বাচিত এবং সুনিয়ন্ত্রিত। তদুপরি তারা প্রত্যাদেশ প্রাপ্ত। তাদের জন্ম মৃত্যু দেহ মনে কোন অস্বাভাবিকতা থাকার কথা নয়। অতিরঞ্জন বিলাসীদের ভাবাবেগদুষ্ট মিঠে দুশমনী থেকে নবীদের জীবনকে বাঁচাতেই হবে। শুধু সত্যের কারণেই নয় বরং নিজের মাঝে নিজের অফুরন্ত শক্তিকে আবিষ্কারের জন্যও। অপরের মাঝে অকারণ অস্বাভাবিকতা আবিষ্কারের প্রবণতা চিরদিন মানুষকে দুর্বল হীনমন্য ও অদৃষ্টবাদী করেছে। এই দুর্বলতার অভিশাপ থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে হবে এবং নিজের মাঝে অফুরন্ত শক্তির উৎসকে জেনে নিতে হবে।

ষষ্ঠ। ইন্টারপ্রিটেশন বা অনুবাদের জন্য কুরআনের নিজস্ব ফরমুলা আছে। এই ফরমুলাকে সামনে রেখে যারা কুরআন বা যে কোন নীতি শাস্ত্রকে অনুবাদ করতে বসে, তাদের কাজে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা কম। কিন্তু এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে যারা পূর্বপরিকল্পিত অযৌক্তিক বিজ্ঞান বিরোধী মতবাদকে মূলধন করে সংস্কারাচ্ছন্ন মন নিয়ে অনুবাদ করতে চায় তারা পদে পদে ভুল করে এবং এইভাবে তারা বেদকে অবেদে, কুরআনকে অকুরআনে, এবং বাইবেলকে প্রহসনে রুপান্তরিত করেছে। ইন্টারপ্রিটেশনের এই নীতিমালাকে মেনে নিলে কুরআন একটি কম্পুটারের যে কোন বক্তব্য তা শাস্ত্র হউক আর অশাস্ত্রই হোক তার সত্যাসত্য নির্দ্ধারণে সম্পূর্ণ সক্ষম।        

৩/৬‘ তিনিই সেই যিনি তোমার কাছে এই পুস্তক অবতীর্ণ করেছেন, যার কিছু সংখ্যক আয়াত মুহরুম (সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন), এই গুলি পুস্তকের মূল অংশ এবং অন্য গুলি মুতাশাবেহা (রুপক); যাদের অন্তরে সত্যলংঘন প্রবণতা আছে শুধু তারাই কোন্দল ও ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে যা রুপক তার অনুসরণ করে। স্রষ্টা ছাড়া অন্য কেহ এর ব্যাখ্যা জানেনা আর যারা জ্ঞানে সুগভীর; তারা বলে আমরা বিশ্বাস করি, সমস্তই আমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে আগত এবং জ্ঞানী ছাড়া অন্যেরা সুশিক্ষা গ্রহণ করেনা’।

মুহরুম আয়াত সমূহ সত্যের মূলভিত্তি। এবং মুশতাবেহা (রুপক) আয়াত সমূহ বিস্তারিত ব্যাখ্যার কারণেই। মুহরুম আয়াতের সুস্পষ্ট আলোকে যেকোন রুপক আয়াতের বক্তব্য এমনকি হাদিসসহ যে কোন শাস্ত্রের সত্যাসত্য নির্ধারণ করা অতিমাত্রায় সহজ। পরন্তু রুপক আয়াতের অনুবাদে মুহরুম আয়াতের সুস্পষ্ট নির্দেশ সমূহকে অবজ্ঞা করলে স্বভাবতঃ বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। ধর্মশাস্ত্র সমূহের যেকোন অভিমত তা যদি কুরআনের মুহরুম আয়াতের বক্তব্যের পরিপন্থি হয় তবে তাকে দ্বিধাহীনভাবে পরিত্যাগ করতে হবে। কুরআনের মূল বক্তব্যে কোন অসামঞ্জস্য নেই। তাই ভাষ্যকারের অজ্ঞানতা ও মনোবৈকল্যের জন্য কুরআন দায়ী হতে পারেনা।

ভাষ্যকার তার নিজের অভিমত ব্যক্ত করবেন না এমন কোন কথা নয় কিন্তু সত্যের বিকৃতি ঘটানোর কারো কোন অধিকার নেই। রুপক আয়াতে মুহরুম আয়াতের বক্তব্য বিরোধী ইন্টারপ্রিটেশন মূলতঃ কারা করে এবং কি উদ্দেশ্যে করে থাকে কুরআন উপরোক্ত আয়াতের মাধ্যমে তাও সুস্পষ্টভাবে ঘোষনা করেছে। আল-কুরআন নিজেই এক অস্বাভাবিক রহস্য। গ্রন্থ হিসাবে অনন্য এই দাবী কুরআনের নিজস্ব। এর যে কোন বাণীর তাৎপর্য তাই অসাধারণ এবং তার গভীরতা বিস্ময়কর। তার প্রতিটি কথার নিহিত সত্য শাশ্বত ও সনাতন এবং সর্বযুগের জন্য তা সমভাবে প্রযোজ্য। এখানেই অন্য গ্রন্থের সাথে তার মৌলিক পার্থক্য। পরিপূর্ণ জীবনবিধান রুপে একমাত্র কুরআন এই দাবী করতে পারে, অন্যে তা পারেও না, করেও নাই।

৫/৩—-‘আজ এই দিনে তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জীবনবিধান রুপে মনোনীত করলাম।’

কুরআনের ব্যাপারে একটি কথা অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য। এর বিধান সর্বযুগের উপযোগী যে কোন সমস্যা সমাধানের দাবী রাখে। কিন্তু যে বিশ্বনবী এই মহাগ্রন্থের বাণীবাহক, কুরআনের এমন অনেক তথ্য আছে যার তাৎপর্য সেযুগে অজানা ছিল। এর মাঝে এমন অনেক সত্য আজো অজানা এবং অনাবিস্কৃত আছে যা যেমন আপনিও জানেন না তেমনি আমিও জানিনা। এ কারণে এর ইজতিহাদ বা গবেষণা যুগ যুগ ধরে চলতে থাকবে এবং কোন দিন এই গবেষণার দুয়ার বন্ধ হতে পারেনা। ইজতিহাদ বা গবেষণার দ্বার বন্ধ করে দেয়া আর তার শ্বাশত সত্য রুপকে অস্বীকার করা একই কথা। 

একটি কথা প্রায়ই শোনা যায় যে কুরআনের অনুসারীরা তরবারীর জোরে সত্য প্রচার করেছেন। কিন্তু কুরআনের সুস্পষ্ট ঘোষনা ‘লা ইকরাহা ফিদ্দিন’ এবং ‘লাকুম দিনুকুম ওলিয়াদিন’ সম্পূর্ণ এর বিপরীত কথা। আত্মরক্ষার্থে তরবারীর প্রয়োজনকে কুরআন কোনদিন অস্বীকার করেনা বরং জেহাদ বা সংগ্রামকে জীবনের এক পবিত্র কর্তব্য বলে মনে করে। তরবারীর প্রয়োজন সর্বযুগে অনস্বীকার্য, ন্যায়নীতি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কারণে তো বটেই- এমনকি সত্য ও শান্তিকে টিকিয়ে রাখার জন্যও। ইসলাম প্রকৃতির ধর্ম। তাই উহা যেমন কাপুরুষতাকে সমর্থন করে না তেমনি সীমা লংঘনকারীকেও সমভাবে ঘৃনার চোখে দেখে।

কু’রআনের সমালোচকেরা আরোও বলে থাকেন যে কু’রআনের বক্তব্যে অসংখ্য পুনরুক্তি বিদ্যমান। মূলতঃ কুরআন যার কাছে অবতীর্ণ হয়েছিল সত্যকে জানার কারণে তার নিজের জন্য প্রথম প্রত্যাদিষ্ট পাঁচটি আয়াতই যথেষ্ট ছিল। মহানবীর কাছে প্রত্যাদিষ্ট এই পাঁচটি মহাবাক্যে সেদিন একদিকে যেমন তার নবীত্বের নিয়োগনামা ছিল, তেমনি তার পরবর্তি তেইশ বছরে অবতীর্ণ সকল সত্যের পরিপূর্ণ নির্যাসও তাতে বিদ্যমান ছিল। মূলহিমের কাছে প্রথম প্রত্যাদিষ্ট ওহি শিক্ষা ইলহামের গুরুত্ব তাই অপরিসীম। এটি একদিকে যেমন সত্যের চরম প্রকাশ, অন্যদিকে তা পরোক্ষভাবে মূলহিমকে তার মিশনের রুপরেখা জানিয়ে দেয়।

প্রথম প্রত্যাদেশের পর বেশ কিছুদিন বিশ্বনবীর কাছে ওহি আসেনি। এরপরে সুদীর্ঘ তেইশ বছরে খন্ড খন্ড প্রকাশের মাধ্যমে একখানি পরিপূর্ণ জীবন বিধান অবতীর্ণ হয়। তাতে পূনরুক্তি বিদ্যমান ছিল ইহা অনস্বীকার্য। সত্যকে জানার জন্য পুনরুক্তির কোন প্রয়োজন ছিল না বাণীবাহকের নিজের জন্য কিন্তু আমার মত অজ্ঞানজনের জন্য তার প্রয়োজন ছিল। আর প্রয়োজন ছিল মূল বক্তব্যকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেবারও।

কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা কি সত্যকে পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করে নিতে সক্ষম হয়েছি? আমরা কি আমাদের কর্মধারায় সত্যের পরিবর্তে অসত্য, জ্ঞানের বিরুদ্ধে অজ্ঞানতা এবং শান্তি শৃঙ্খলার নামে উশৃঙ্খলতার আমদানী করে সমাজ ও জাতির জীবনকে ব্যর্থ ও দুর্বিসহ করে দেই নি? কুরআন একখানি রহস্য। তার মাঝে দু’টি রহস্যঘেরা শব্দ আছে। মানুষের জন্য কুরআনের প্রথম আদেশ ‘ইকরা’ এবং প্রথম নিষেধ ‘লা-তাকরাবা’। কুরআন তার এই প্রথম আদেশের মাধ্যমে যেমন সারা মানব জাতিকে জ্ঞান সাধনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছিল ঠিক তেমনি তার প্রথম নিষেধের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষকে জগতের সকল অকল্যাণ থেকে পরিত্রাণের উপায়ও জানিয়ে দিয়েছিল। অজ্ঞান মানুষ তার কোনটিকেই গ্রহণ করতে পারেনি। সঠিকভাবে, হয় অহমিকার দম্ভে নয়তো বিশ্বাসের অভাবে।

কু’রআনের এই একটি আদেশ আর এই একটি নিষেধকে যদি মানুষ মনে প্রাণে গ্রহণ করে নিতে পারত তবে জগত অনেক অনেক দিন আগেই স্বর্গের সুষমায় ভরে উঠতো। কু’রআনকে যারা পুনরুক্তির দোষে অভিযুক্ত করে থাকে, পরিহাসের ব্যাপার এই যে তাদের রচিত দর্শনে শুধু হেয়ালী মাখা পুনরুক্তি ছাড়া আর কিছুই খুজে পাওয়া যায় না।

সত্যকে জানতে হলেঃ

অসত্য অন্যায় অনাচার ও অজ্ঞানতার একটি মাত্র ঔষধ আছে এবং তা হল ‘ইকরা’ বা জ্ঞান সাধনা করা। ক’টি অক্ষরজ্ঞান হলেই জ্ঞানী হওয়া যায় না। শিক্ষার সাথে তাই দীক্ষারও একান্ত প্রয়োজন। এ কারণে যুগে যুগে আগত সত্যসাধকদের আনীত সকল সত্যকে সমমর্যাদায় মেনে নিতে হবে। জাতি বর্ণ গোত্র ও ভাষা নির্বিশেষে প্রতিটি সত্যকে মানুষের সম্পদরুপে গণ্য করে বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করতে হবে। সত্যকে পুরোপুরি জানতে হলে শেষটুকু জানতেই হবে। একারণে কুরআনকে অবশ্যই জানতে হবে।

‘আল-হক্ব’ বা ‘সত্য’ কুরআনের অপর এক নাম। চরম সত্যের শাণিত নির্যাস এটি। সুতরাং তাকে জানতে হলে বা তাকে বুঝতে হলে অন্ধ বিশ্বাস ও বাইবেলীয় বিভ্রান্তিকে পরিহার করতে হবে। একথা অনস্বীকার্য যে খ্রীষ্টধর্ম যীশুর প্রবর্তিত ধর্ম নয় বরং যারা তাকে হত্যা করে তার প্রবর্তিত সত্যকে নির্মুল করার প্রচেষ্ঠায় মত্ত ছিল তাদেরি কপট কুটিল চক্রান্তে পরবর্তিকালে সৃষ্টি হয় বর্তমান বাইবেল ও খ্রীষ্টধর্ম। তাতে সত্য নাই একথা বলবনা বরং কিছু সত্য আর কিছু কল্পনার মিশ্রিত এমন এক তত্ত্ব গাথা সেখানে রচিত হয়েছে যা আর যাই হউক না কেন মানুষের পথচলার বিধান তা হতে পারেনা।

চরম সত্যকে জানতে হলে কু’রআনকে অবশ্যই মানতে হবে। কিন্তু কু’রআনকে জানতে চাইলে পাদ্রী পুরোহিতের মাধ্যমে তা সম্ভব নয়। একারণে কুরআনের নিজস্ব পথে আসতে হবে। কুরআন নিজেই তার তত্ত্বকথা প্রকাশে সক্ষম। ‘কুরআন নিজেই কুরআনের ভাষ্য’ এই কথাতে কোন অতিরঞ্জন নেই। সত্যকে জানতে হলে স্রষ্টাকে জানতে হবে। জানতে হবে তার বাণী বাহককে এবং মানবসৃষ্টির পশ্চাতে বিশ্বস্রষ্টার সৃষ্টি পরিকল্পনার উদ্দেশ্যকেও। কুরআন মূলতঃ এমন কোন গ্রীকদর্শন নয় যে কেউ জানতে চাইলে তা বুঝতে পারবে না। এই পুস্তক অবতীর্ণ হয়েছিল এক অতি সাধারণ অক্ষরজ্ঞানহীন সত্য সাধকের কাছে। তাকে জানতে হলে অগাধ জ্ঞানের প্রয়োজন হবে এমন কোন কথা নয় বরং প্রয়োজন সত্যপ্রীতির এবং প্রয়োজন সত্যনিরপেক্ষ যুক্তিভিত্তিক মন ও মানসিকতার।

প্রথমত কুরআনকে জানতে হলে তার নিজস্ব গতিধারাকে বুঝতে হবে, জানতে হবে তার পরিভাষাকেও। কুরআন সত্যের শাণিত নির্যাস। তার বাণী সমূহের মাঝে কোন পরষ্পর অসংলগ্নতা নেই। পরম সত্যময়ের বাণী তা, তাই তাতে অসামঞ্জস্য থাকতে পারেনা। একারণে কুরআনের নিজস্ব আয়াত সমূহের মাঝে একের দ্বারা অপরটির মন্সুখ বা বাতিল হওয়ার থিওরী সর্বোতোভাবে পরিত্যাজ্য। কুরআনের ধারাকে যেজন জানে না, কুরআন অবতরণের উদ্দেশ্য বুঝেনা, তার উৎসমুখ বা তার বাণীবাহককে যারা চিনেনা এমন সব অজ্ঞানেরাই কুরআনের ভিতরে মন্সুখ আয়াতের সন্ধান খুজে। কার্যতঃ পরিপূর্ণ জীবন বিধানরুপে আলকুরআন র্প্বূবর্তী শাস্ত্রসমূহকে মন্সুখ বা বাতিল ঘোষনা করেছে, তার নিজস্ব কোন আয়াত বা বানীকে নয়।

উপরের অংশ ডাঃ এম এ শুকুরের লেখা বই থেকে টুকে নেয়া।

কুরআন হনুমানের নয়, মানুষের জন্য এক অনন্য দলিল

নীচের অংশ নাজমা মোস্তফার, সাম্প্রতিক ঘটনার আলোকে কুরআন অবমাননার উপর ব্যাখ্যা।

বাংলাদেশে সত্য ময়দান থেকে হারিয়ে গেছে বললে ভুল হবে না। মানুষ যেন আইয়ামে জাহেলিয়াত পার করছে। কে মরছে কে মারছে তার কোন হিসাব নেই। অপরাধী ধরা খায় না যারা প্রতিবাদ করে তারাই সাধারণত ধরা খায়। সাধারণত শক্তির ছায়াতলে সরকার একের পর এক লংকা কান্ড ঘটাচ্ছে। বিদেশী গনমাধ্যম আলজাজিরা যা বের করেছে তার উপর তারা পুরষ্কৃতও হয়েছে। লাজ লজ্জা হারিয়ে সরকার দুর্বৃত্তায়নে তারপরও পিছপা নয়। হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে সরকার তার সব অনাচার ঢাকতে এসব ক্রমাগত করে যাচ্ছে। ১৯৯৬ থেকে এদেশে যত দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে, এসব হয়েছে আওয়ামী ছত্রচ্ছায়ায়। এর প্রমান হিসাবে বই লিখে গেছেন শেখ হাসিনার প্রাইভেট সেক্রেটারী মতিয়ুর রহমান রেন্টু। তিনি এমনভাবে তার নিজের ফাঁসি দাবী করেছেন কারণ এসব ঘটনা অনেকটা ঘটেছে তার ছত্রচ্ছায়ায়। তার চোখের সামনে তার জানার পরও এসব ঘটেছে। যার জন্য তিনি তার নিজের ফাঁসি দাবী করেছেন আগে পরে শেখ মুজিবসহ তার কন্যার ফাঁসি দাবী করেছেন। শেখ মুজিবের আজ কোন সম্মান অবশিষ্ট নেই। যা কিছু বাকী ছিল তার শেষ করে দিল তার পরবর্তী প্রজন্মরা। সবাই লুটেরা, দলে দলে তারা আজ আসামী হচ্ছে। গোটা বিশ^ তা পরখ করছে। ২১ শে আগষ্টের সাজানো বোমাবাজীর নাটকে যারা মারা গেছেন তাদের সবার হত্যার আসামী সরকার নিজে। দুর্ভাগী আইভি কাকতালীয় লাশের শিকার হন। কিন্তু মূল আসামী আজ অবধি নাটক করে যাচ্ছেন। এরপর রামুর বৌদ্ধ মন্দির, যশোহরে হিন্দু হত্যাকান্ড, অতীতে বিশ^জিৎ হত্যাকান্ড, কর্ণেল শহীদ খানও  এসেব অসংখ্য তথ্য তুলে ধরেন। হিন্দুদের সব সময় তিনি ট্রামকার্ড হিসাবে ব্যবহার করেন, তার প্রমাণ সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। হিন্দুরাও কপট স্বার্থ লাভ করতে এসব সরকারী কিল খেয়ে কিল চুরি করে। অবশ্যই শেয়ার পায় বড়মাপে, সাধারণতঃ সাহসের পরিচয়ে সত্য উন্মোচন করে না। এটি দুঃখজনক। তাহলে দেশের দুর্ভোগ অনেক কমে আসতো।

ওরা ৮০ মিলিয়ন ডলার খেয়েছে দেশের সাইবার সন্ত্রাসীদের তালিকায় হাসিনা পুত্র কন্যা বারে বারে এসে যায়। এসবব তথ্য ফাঁস ক্যাপ্টেন শহীদ ইউটিউবে প্রকাশিত হয়। (অক্টোবর ১৪, ২০২১ তারিখে)। এর আগেও বহুবার এসব কথা আলোচিত হয়েছে, আমেরিকার বাংলা পত্রিকাতে বড় কলামে ছেপেছে। তাছাড়া শেখ পরিবারের চৌদ্দগোষ্ঠীর অপকর্মের রেকর্ড আজ প্রতিটি দুয়ারে কড়া নেড়ে এর সত্যতা জানান দিচ্ছে। আমরা জানি শত অনাচার ছাপিয়েও সত্য উঠে আসে। শেখ হাসিনা বুঝতে পারেন নাই যে তার প্রাইভেট সেক্রেটারীই তার বারোটা বাজিয়ে যাবে। তার নাম ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। এই সাম্প্রতিক কুরআন অবমাননা করার ঘটনায় সচরাচরের মত এক সুবোধ পাঞ্জাবী পরা এক সুবোধকে আনা হয়েছে। সবাই কমেন্ট করছে এসব একই নাটকের পনরাবৃত্তি। আজ অক্টোবরের ১৪ তারিখে ২০২১ আর একজন ভারতীয় নাগরিককে পাওয়া গেছে যিনি বাংলাদেশে ধরা খেয়েছেন তিনি বাংলাদেশে বড় পদে বসা ভারতীয় নাগরিক। এসব একই ধারাতে তার কৌশলী নাটক। ৯০% মুসলিমের দেশে ৫০% কখনো ৮০% হিন্দুরা উচ্চপদ দখল করে আছে। এসব বিষয় উঠে আসে কনক সরোয়ার নিউজ লাইভ মাহমুদুর রহমান ইউটিউবের সূত্রে। বাংলাদেশে যা হচ্ছে তা ভারতীয় ইন্ধনে হাসিনার সাজানো নাটক মাত্র। সিকিমের লেন্দুপ দর্জির আদলে তিনি দম ছাড়ছেন। প্রচার চালাচ্ছেন এদেশের জনতারা উগ্রবাদী সন্ত্রাসী দাঙ্গাবাজ। যেখানে নীরিহ মানুষ না খেয়ে মরছে, আত্মহত্যা করছে সেদিকে দখলদার রাতে ভোট করা অবৈধ সরকারের নজর নেই। বরং এর ওপর পিঠে তিনি লুটপাটের মহামেলা সাজিয়ে উন্নয়নের ফিরিস্তি নামের টেবলেট গেলাতে চাচ্ছেন ক্ষুধার্থ দেশবাসীকে। অসাম্প্রদায়িকতার বিস্ময়কর নজিরে ধন্য এ দেশ। যেখানে কখনোই এ ধারার ঘটনা এ দেশে ঘটে না, সেখানে তার ছত্রচ্ছায়ায় আজ এসব ঘটছে অনায়াসে।

কুমিল্লার এক মন্দিরে হনুমানের কোলে কুরআন রাখা। মুসলিমরা খুশী হও, মন খারাপ না করে ধৈর্য্য ধরাই বড় পূন্যের কাজ। ক্ষতি জমা করবে করছে ষড়যন্ত্রীরাই। এসব নতুন নয়, বিগত শতকের ৯৬ থেকেই এর শুরুটা। ব্যাংক লুটপাট, শেয়ার ধ্বংস, নীতি নৈতিকতা ধ্বংস, গুম খুন ধর্ষণের মহামেলা এ ময়দান আজ। সাগর রুণির ছেলে মেঘের কান্না সমানেই আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে বিলাপ করছে। সংলগ্ন চত্বরে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায় অতীতে কোনদিন এখানে পুলিশকে পাহারা দিতে হয়নি। তবে এবার ঘটনার দিন রাত থেকেই পুলিশের আনাগোনা বেড়ে যায়। এটি তাদের নজরে আসে। এতে বোঝা যায় এটি পুলিশকে জানান হয়েছে চালবাজরাই করেছে। সঙ্গত কারণেই পুলিশ আসা যাওয়া শুরু করেছে। তারপরও কেন পুলিশ আসামী ধরতে পারলো না। তাহলে বলতে দ্বিধা নেই এটিও বলা যায় হয়তো পুলিশই নির্দোষদেরে যেভাবে ইয়াবা পকেটে গুঁজে দিয়ে ঘটনা সাজায়, ওভাবেই এটি ঘটিয়েছে।  ঠিক মুক্তাঙ্গনে যেভাবে বোমা নাটকটি সাজানো হয়েছিল এবং ঘটনার কয়েক বছর পর এটি তারেক জিয়ার উপর লেপে দেয়া হয়। ঐ ঝড়ে আইভি দলবলসহ জান খোয়ালেন আর চালবাজ ফকিরের কেরামতি বাড়লো। সত্যের দায়িত্ব যে অদেখার হাতে, তার কাছ থেকে কেউ সত্যকে লুকাতে পারবে না। তবে সাময়িক হয়তো পারবে, তবে চিরকাল ওটি চাপা থাকবে না। ইসলাম ধর্ম ও তার গ্রন্থ কুরআন অসামান্য সত্য বাণীতে ভরপুর। যাদের বিশ^াসের কমজোরী তারাই এসব নাটক সাজাতে পারে। এরাই ধর্ম নিয়ে নষ্ট ব্যবসা করে। তাহাজ্জুদ নাটক প্রচার করে বেড়ায়। কুরআনেই এদের বিরুদ্ধে কঠোর বানী উচ্চারিত হয়েছে। এসব লোকদেখানো ধর্ম ধারীকে কঠোর ভাষাতে কুরআনেই তিরষ্কার করা হয়েছে। আজ অনেক হিন্দুরাও জানে এর প্রকৃত মর্যাদা কতটুকু। স্বজ্ঞানে কোন হিন্দুও এ অপকর্ম করবে না। বাবরী মসজিদ ভেঙ্গেছে দানব হিন্দুরা কিন্তু এর মাঝ থেকে ঐ দানবদের থেকে এক সাধক বালবীর বেরিয়ে এসে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তিনিও সাম্প্রতিক মারা গেছেন, অনেকে সন্দেহ করছে তাকেও মারা হয়েছে। তার অর্জন কেউ কমাতে পারবে না। যারা তাকে হত্যা করেছে তারাই সর্বহারার দলে নাম লিখাচ্ছে। আর বালবীরের নাম বিধাতার ইতিহাসে মানবতার ইতিহাসে চিরদিন আলো ছড়াবে। কালের কন্ঠ পত্রিকায় ভয়ানক রিপোর্ট প্রকাশ ১৬ বছরে ১১ লক্ষ কোটি টাকা পাচার (১৩ অক্টোবর ২০২১)। সাম্প্রতিক নিকট অতীতে আল জাজিরার ডকুমেন্টারী রিপোর্টের ভিত্তিতে “All the Prime Minister’s Men” ডিআইজি এওয়ার্ড  পেয়েছে, নেত্র নিউজের ১৩ অক্টোবরের রিপোর্টে প্রকাশ। ইতালী ভিত্তিক এই সংস্থা এর অসাধারণ উপস্থাপনার প্রশংসা করেছে, সংবাদটি সাউথ এশিয়া জার্নাল প্রকাশ করেছে। এর নিখুত দক্ষ উপস্থাপনা জার্নালিজমের এক অনন্য দলিল হয়ে থাকবে। একজন হুইসেল ব্লেয়ারের সাহসিকতায় দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের খোঁজে ছবি তোলার অনেক খুটিনাটি তথ্য ও যোগসূত্র তাদের নিঁখুত উপস্থাপনায় উঠে এসেছে। এ অসাধারণ তদন্তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাথে যুক্ত একটি অপরাধী পরিবার কিভাবে একটি রাষ্ট্র দখল করতে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে মিলে এ দুর্বৃত্তায়ন করতে পেরেছে এ এক অনন্য ইতিহাসের দলিল হয়ে থাকবে। পুরষ্কারের এ অনুষ্ঠানটি হয় ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর তারিখে।

যে মুজিবকে একদিন ৭১ সালে বাংলাদেশের ৭ কোটি বাঙ্গালী অগাধ বিশ^াসে পথ চলা শুরু করেছিল, আজ ২১ সালে তাদের গোটা পরিবারের এমন সাগরচুরি গোটা জাতিকে হতবুদ্ধ করেছে। কুরআন জ্ঞানহীনতার কারণেই মানুষ পথ হারায়। শুধু এই গ্রন্থের মর্যাদা রাখতে শিখলে মানুষকে এত অধঃপাতে নামতে হতো না। হোক হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খৃষ্টান জৈন সবারই এ গ্রন্থ অনুসরণ অনুকরণ করা উচিত, তার নিজের স্বার্থে। যে এর অনুসরণ করবে, সেই অসীমের সন্ধান পাবে। তার হারাবার কিছু থাকবে না। আর যারা এর অপমান করবে একে নিয়ে মিথ্যাচার করবে এ অপকর্মের শাস্তি কত গভীর হবে সেটি সহজেই অনুমেয়।

১৪ অক্টোবর ২০২১ সাল।

রাত ১১.৩৭ মিনিট।

কুরআন নিয়ে ব্যবসা কুরআনে নিষিদ্ধ

নাজমা মোস্তফা

কুরআনের কথাকে অবহেলার সুযোগ নেই: আজ ২২ এপ্রিল, মনটা বেশ ভালো আমার ব্যক্তিগত কিছু কারণে যদিও বৃহত্তর পরিসরে আমার মন খারাপ হবারই কথা। আজকের কুরআনের নির্দেশিত কথার উপর যদি মুসলিমরা নিবিষ্ট থাকতো তবে তারা বিশ^ জয় করে অনেক এগিয়ে যেত। কুরআনকে গুরুত্¦হীন করেছে মানবসৃষ্ট কিছু জটিলতা যা বারে বারে সচেতনকে বিচলিত করে। ধর্ম প্রচারের জায়গা আগে ছিল ময়দান, এখন ইউটিউবে ব্যবসা তুঙ্গে। গার্লস স্কুলে যখন পড়তাম তখন স্যার ম্যাডামরা ওয়াজ শুনলেই ছুটি দিয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ী চলে যেতে বলতেন। আমরা হুড়া–হুড়ি করে স্কুল থেকে ফিরতাম। আমরা জানতাম মেয়েদের দেখলেই আক্রমণাত্মক কথা হত নারী শিক্ষার উপর, সময় আজ বদলেছে। মেয়েদের প্রতি ওয়ায়েজদের এই হীনমন্যতা আমাদের কষ্ট দিত। এসবের কারণ ধর্ম বদলায়নি তবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ মূল সত্যকে সমাদর করতে শিখছে, মিথ্যা দূরিভূত হচ্ছে।  দেখা যাচ্ছে যুগে যুগে ধর্ম বাহকরাই গোজামিল তৈরী করেছে।  আল্লাহর দেয়া সিরাতাল মোসতাকিম, সহজ সরল পথকে জটিল করা হয়েছে। ধর্মটি নাজেল হয় গ্যারান্টিসহ স্থায়ী সিলমোহর মারা যার কোনদিকেই বাড়ানো কমানোর সুযোগ নেই। এত কড়া নিরাপত্তার পরও শত্রুপক্ষ বসে নেই। তারা সমানেই  জটিল থেকে জটিলতর সমস্যা সৃষ্টি করে চলেছে। “আর তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকারকে স্বল্প মূল্যে বিনিময় করো না (অর্থাৎ সামান্য প্রার্থিব মুনাফা লাভের জন্য তোমাদের ওয়াদার বরখেলাফ করোনা)। নিঃসন্দেহ যা আল্লাহর কাছে রয়েছে তা তোমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ, যদি তোমরা জানতে”(আন নহল সুরার ৯৫ আয়াত)। কুরআন অনুসরণ করার উৎসাহ জনক অসংখ্য কথা আছে কুরআনে, যা তার অনুসারীকে অনুপ্রাণিত করে। আল্লাহর প্রতিপক্ষ ইবলিস বসে নেই। সে লড়ে চলেছে আদমকে পথহারা করতে। উপরের আয়াতে এটি স্পষ্ট, আল্লাহর জানা মানুষ এ অপরাধ করবে, তাই আগাম নিষেধ বাণী দিয়ে রাখা।  

গল্পের আদলে ইবলিসের প্রবেশ: কুরআনের মূল কলিমার বানী হচ্ছে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট ও বার্তাবাহী অল্পকথা। যুগে যুগে নবীরা এসেছেন ধরাতে আল্লাহর বাণীকে মানুষের কাছে পৗছে দিতে। আল্লাহর কোন শরিক নেই। কেউ এ অপরাধ করলে সেটি এমন বড় পাপ যার কোন মাপ নেই, সেরা পাপ। তার মানে কুরআনের চেয়ে স্পষ্ট নির্দেশ কোথাও নেই। কুরআনকে দূরে ঠেলে গালগল্প সব বাড়াবাড়ির অংশ। ধর্মের নামে প্রচলিত গোপাল ভাড়ের গল্পের আদলে সত্য বা মিথ্যা গল্প আমরা সমঝদারের মত শুনি। মাত্র শোনা আজকার গল্প, বিবি আয়েশা ছিলেন খুব দুরন্ত টাইপের মেয়ে তাই তার বাপকে মানুষ বলতো ঐ লাফানো বকরির বাচ্চার বাপ। যে জন্য তার আসল নাম হারিয়ে টিকে আবু বকর অর্থাৎ বাচ্চা উটণীর বাপ। হয়তো গল্পের সবটাই মিথ্যে নয়, বেশীরভাগ গল্প  অর্ধসত্য। অর্থ সত্য এমন এক জিনিস যা মিথ্যার থেকেও ভয়ংকর। এই ওসিলায় ইবলিস আমাদের সত্যাঙ্গণে ঢুকে তার বসার পরে শোয়ার ব্যবস্থা করে নিতে পারে। আরবের কালচার হচ্ছে বড় সন্তানের নামে মা বাবাকে সম্মোধন করা। সন্তানের নাম ধরে বাপ মাকে ডাকা হতো। বিবি আয়েশা কোন সময়ই বড় মেয়ে ছিলেন না, তার বড় বোনের নাম ছিল আসমা।  উল্লেখ্য এসব মিথ্যাবাজি করে বিবি আয়েশাকে দুরন্ত দুর্বৃত্ত বানানোর পায়তারা চালানো হয়েছে। কুরআন সাবধান করেছে বারে বারে প্রকাশ্য শত্রু থেকে, যারা সত্যের সাথে মিথ্যে মিশায়।

মূলের উপর নিবিষ্ট থাকুন: পুরুষ শাসিত সমাজকে সত্যে ফিরতে হবে। আর নারী সমাজকে সত্যটা চিনতে হবে। উভয়ের পরিশুদ্ধি ও প্রকৃত মানুষ হওয়া দরকার। অতীত ধর্মসমূহও একটি সময় পার করার পর অধর্মে রুপান্তরিত হয়েছে অতীতে। কারণ ঐশী নির্দেশের পাশে মানবিক সংযোজন একে ইবলিসের ধর্মে পরিবর্তন করে। “কুরআনের বানী স্বল্পমূল্যে বিনিময় না করার কড়া নির্দেশ কুরআন প্রচার করে। এর মানে এ নিয়ে ব্যবসা নিষিদ্ধ। এ মূল্যবান গ্রন্থটি গ্রহণ লালন পালন করতে হবে প্রতিটি মুসলিমকে অন্তর থেকে, সম্মান দেখাতে হবে প্রতিটি কথাকে, গবেষনা করতে হবে প্রতিটি সত্যকে। সহজ উত্তর হচ্ছে এটি আত্মায় অন্তরে বুঝে হজম করতে হবে। কিন্তু দেড় হাজার বছরের আদর্শলেখা লক্ষ্য করা যাচ্ছে একে হজম করায় অনুসারীদের গরজ এতই কম যেন বলা চলে তলানীতে। গোটা মুসলিম বিশে^র অবুঝ সম্প্রদায় যারা আরবী বুঝে কম, তারা অর্থ না বোঝেই জপে। অতপর বস্তনীতে বেধে নাগালের বাইরে দূরে তাকিয়ার উপর রাখে। যেন ব্রাহ্মণ ছাড়া ছুতে মানা। টেবিলের উপরে থাকলে উৎসাহী পাঠক সত্যকে উদ্ধার করে ফেলতে পারে। ইবলিস এটি মানবে কেন?  বাড়াবাড়ি অতি ধার্মিকতা লোক দেখানো আদিখ্যেতা ইবলিস দুর্বৃত্ত চরিত্র। যুক্তি দেখানো হয় এতে পূণ্য বেশী। ঠিক যেভাবে ফুসলিয়ে আদমকে গন্দুম খাইয়ে আজীবন বেহেশতে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। লোভে পড়ে আদম ও হাওয়া তাদের শর্ত ভুলে বিপদের গর্তে পা রাখেন। ঐ ধরা পড়ার ধারাবাহিতায় আমরা আদম প্রজন্ম আজো ময়দানে। দেড় হাজার বছর আগের কুরআনের অর্ডার, এ গ্রন্থ স্বল্প দামে বিনিময়যোগ্য নয়। এটি মুখের কথা নয়, আল্লাহর আদেশ। কিন্তু মুসলিমরা এ কথা মানেন না, এড়িয়ে যান বলেই ব্যবসা চলে জোরকদমে। একজন বলে একদল শুনে। এ নিয়ে ব্যবসা করলে এর বারোটা বাজবে, এটি আল্লাহর জানা। তাই  ঐ নিষেধ না মেনে তারা সেই বারোটা বাজাচ্ছেন। যার যা মুখে আসে শিরোনাম দিচ্ছে ‘এই দোয়া একবার পড়েন সব পাপ মাফ হয়ে যাবে’ এই কাজ করেন যা চাইবেন তাই পাবেন।’  যেন ট্রেনের ফেরিওয়ালা লোকঠকানো পুরিয়া বিক্রি করছে। অসংখ্য অসংখ্য মিথ্যা কথা এভাবে বিবৃত হচ্ছে।

সাবধান বাণী: কুরআনের সাবধান বাণী ইহুদীদের পথে হাটবে না। ওরা এসব করে ধর্মের বারোটা বাজিয়েছে। এরাও ওপথেই যাবে, গাধার বোঝা বইবে। তাদের ঠেকায় কে? নিষিদ্ধ এসব গাধার গল্প অনুসরণ করতে কুরআন দ্বারা নিষেধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে গাধার আওয়াজ সবচেয়ে নিকৃষ্ট। আর তার পিঠের বোঝা ধর্মের আদলে তালমুদের নামে ইহুদীরা যা সাজিয়েছিল তা উৎকৃষ্ট বর্জ পদার্থ। ও পথে হাটা বারণ। সাবধানী সংকেত কথা না মানলে তোমাদের থেকেও উন্নত কোন গোষ্ঠীর হাতে এর গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হবে। ঠিক যেমনটি ইসরাইলীদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আরবদেরে দেয়া হয়েছিল। মানুষ তার বিবেকের কারণে আল্লাহর কাছে দায়বদ্ধ আমৃত্যু। যে দায় পশুদের নেই। কুরআনের গভীর বস্তুনিষ্ঠতা তার অল্প চুম্বককথার মাঝে। আল্লাহর আদেশ  এ বানীসব অল্পদামে বিনিময় করা হারাম, নিষিদ্ধ। এ নিষিদ্ধ মানলে সবাই নিজে থেকেই এটি জানতে মানতে উদ্যোগী হতো। এখন মুসলিমদের নিজের গরজ কম, কারণ সব দায় জমা রাখা অশিক্ষিত অল্প শিক্ষিত অর্ধ শিক্ষিত মানুষগুলোর জিম্মায়; তারা যাই বলছে তাই ধর্ম হয়ে আছে। ধরা হয় ওরাই ধর্মের মালিক মোক্তার। শিক্ষিতরা অনেকে এর দায় তাদেরে দিয়ে রেখেছেন। আর শ্রোতারা একদল বেওকুফে রুপান্তরিত হয়েছে।  জবাব একটাই কুরআন বুঝে পড়েন আর সেটি পালন করেন। কুরআনে যা আছে তা রপ্ত করেন। যা নেই সেটির জন্য আপনি দায়বদ্ধ নন। আতিউল্লাহ ও আতিউর রসুল কথার অর্থ হচ্ছে ময়দানে যে গ্রন্থটি এসেছে রসুলের হাত দিয়ে ওটি আল্লাহর গ্রন্থ আল্লাহর বাণী আল্লাহর হাদিস, ওটি আগাগোড়া পড়বেন, মানবেন, পালন করবেন। তিনি যেভাবে দেখিয়ে গেছেন সেটি যা আজো বলবৎ আছে শুধু এটুকু প্রতিষ্ঠা করে দেখেন জগত কত দ্রুত সত্যতে বিস্ফারিত হয়। আর মানুষ আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সম্প্রদায়, আল্লাহর নির্দেশ পালনকারীরা।

বিদায় হজ্জেও ইবলিস: ইবলিস তার সব প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তার কসরত দেখেন। বিদায় হজ্জ্বের ভাষণকে ভিত্তি করে তিনকথা আসার কারণও ইবলিস (১) তোমরা দুটি জিনিস কুরআন ও হাদিস ধরে থাকবে। (২) কুরআন, হাদিস ও আহলে বায়াতকে ধরে থাকবে। (৩) আর একদল এটি মানে যে কুরআন আঁকড়ে থাকবে। ইবলিসও জানে রসুল ধান্ধাবাজ ছিলেন না। সত্য ছাড়া মিথ্যা কথা তিনি বলেন নাই। ঐ সময় কুরআন ছাড়া রসুলের দেখাবার মত কিছু সামনে ছিল না। আর দ্বিতীয়টি রসুল বলেন নাই কারণ কোন পারিবারিক ধর্ম স্থাপন করতে নবীদের পাঠানো হয়নি। আর একদল এটি মানে যে, আল্লাহর গ্রন্থের কথাই অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। কারণ ঐ সময় ময়দানে একমাত্র কুরআনের ঐ নির্দেশ আদেশবাণীসমূহ ছিল। সুবিধাবাদীরা কুরআনকে পিছনে ফেলতে কুরআন ছাড়া বাকী দুটি নিয়ে যুগ যুগ থেকে তুমুল লড়াই করছে। নিজেরা নিজেদের দুটি নামকরণও করেছে দুইনামে। এটিও কুরআনের আদেশ ধর্মকে ভাগ করবে না। এরা ভাগ করে আল্লাহর আদেশকে অমান্য করেছে। তাদের কাজই ইবলিসকে অনুসরণ করা। আল্লাহর প্রতিটি আদেশ নির্দেশকে অবহেলা করেই তারা আছে। কারণ আজকে তারা ধরা খাচ্ছে অসংখ্য কথাই তারা কুরআনের বিরুদ্ধে ধর্মকে সাজিয়েছে।   

শয়তানের খপ্পরে ইসলাম: আদমকে যে সাবধান বাণী দেয়া হয়েছিল শয়তান নামের প্রকাশ্য শত্রু থেকে দূরে থাকতে, বিবেক খাটালেই শয়তানকে চেনা যায়। পরবর্তী অনুসারীরা কতটুকু মানছেন? মুসলিমরা যদি তা না মানে তবে মুক্তি হনুজ দূর অস্ত। শবে বরাত পালন করা নিয়ে সন্দেহের দোলাচলে প্রাচ্যের মুসলিমরা দেড় হাজার বছর পরও। অন্যের ধার করা এবাদতে মগ্ন তারা। তারাবি পড়বেন নাকি কমাবেন নাকি বাদ দেবেন। আল্লাহর যদি নির্দেশ হয় তবে কমাবেন কেন, আর আল্লাহর নির্দেশ না থাকলে এত জামাত করে সাজ সাজ রবে পড়বেন কেন। যে কোন বিপদ আপদে সেজদার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাইলে মন প্রশান্ত হয়। আর আল্লাহর সাথে বেতার যোগাযোগের উত্তম মাধ্যম নামাজ, যা সেজদার মাধ্যমে করা যায়, সর্বশ্রেষ্ঠ আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া। এটি এমন একটি শারীরিক কসরত যা মানুষের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট অঙ্গ মাথাকে মাটিতে ছুঁইয়ে আল্লাহতে আত্মসর্পণ করা হয়। আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ ছাড়া মনগড়া সাজানো এবাদত করলে তা বিদআত হয়ে যাবে। তখন এটি হবে ধর্মের নামে অতিরিক্ত সংযোজন, নিষিদ্ধ কাজ। এর উদাহরণ হাদিসেও আছে যে ফরজ হওয়ার ভয়ে রসুল তৃতীয় দিনে ঘর থেকে বের হন নাই। কিন্তু বর্তমানের মুসলিমরা ঐ নিষিদ্ধকে সিদ্ধ করেছে। বিগত শতকে জেনেছিলাম প্রত্যক্ষ সাক্ষীর বরাতে রমজানে তারাবি নামাজ পড়া লোকটি মাঠে গিয়ে ধরা পড়ে পড়শি মহিলার হাতে। তাকে বলা হলো, শুনেছি তুমি প্রতিরাতে তারাবিতে যাও, আবার রোজা করছো না- কারণ কি? জবাবে সে বলে মাগো, আমি কৃষক মানুষ কাজ করি রোজা করতে পারিনা কিন্তু গ্রামের মানুষের ভয়ে তারাবিতে যাই। তার মানে রোজা আর তারাবি নিয়ে মশকরা করছে, ধর্ম পালন নয় বরং জিম্মী জীবন যাপন করছে।

কুরআনের বস্তুনিষ্টতা: এই রোজা সম্বন্ধেও সব ষ্পষ্ট ঝরঝরে কথা এসেছে কুরআনে, কোন ধামাচাপা নেই। সারা জীবন দেখেছি আজীবন রোজা করা মানুষরা কোন অবস্থায়ও রোজা ভাঙ্গেন না। কারণ তারা এতই অভ্যস্ত হয়ে যান যে ওটি দরকারেও ভাঙ্গতে চাননা। আর বেশীরভাগ ক্ষেত্রে উপোস করলে মানুষের শারীরিক মানসিক উভয় ক্ষেত্রে অশেষ কল্যাণ হয়। আজকাল সমানেই ডাক্তাররা উপোস থাকার পরামর্শ দেন। কুরআন অপূর্ণ গ্রন্থ নয়, আল্লাহর কথামত এটি পরিপূর্ণ। কিন্তু ইবলিসীয় ধারণা বলে এটি অপূর্ণ, একে পূর্ণতা দিতে হবে বাকী গোজামিল দিয়ে। আল্লাহকে বিশ^াস না করে মাতবরি করে খোদার উপরে খোদকারী করার কোন যুক্তি নেই। কুরআন পড়ে সত্যটা জানা মানা ফরজ কাজ। বিবি আয়েশাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল রমজানে রসুল কিভাবে নামাজ পড়তেন। জবাবে তিনি বলেছিলেন আপনারা কি কুরআন পড়েন না? এটিও একটি বিশ^াসযোগ্য হাদিস। এরকম একটি জবাবের পরও মুসলিমরা পথ পায় না। মিথ্যায় ঘোরপাক খায়, কারণ ইবলিসের গ্যাড়াকলে পড়ে গেছে তারা। কুরআনের আয়াত হচ্ছে ৬২৩৭, ৬৬৬৬ নয়। আর এর ব্যাখ্যার নামে সংযোজন ঘটানো হয়েছে মানুষের লক্ষ লক্ষ সহি জইফ মনগড়া কথা। যার অধিকাংশই আল্লাহর হাদিসের বাণীর বিরুদ্ধে সাজানো হয়েছে। বলা হয় এসব সহি, কে তা সহি করলো? আল্লাহ ছাড়া এসব সহি বলার অধিকার কারো আছে কি? ইমাম আবু হানিফা তার জীবনে এসব বানোয়াট হাদিসের বিরুদ্ধে লড়াই করে কারাগারে বন্দী থেকে মুমূর্ষভাবে মারা যান শাসককুলের হাতে যারা ঐ সময় ব্যস্ত ছিল এসব নষ্ট হাদিস রচনায়। সত্য সাধনায় অটল থাকায় তাকে বিষপানে হত্যা করা হয়। ঠিক যেমন বাংলাদেশে আজকের শাসককুল তার কপট হাতে নির্দোষ মানুষকে ধমকাচ্ছে, গুম খুন করছে, হামলা মামলা করছে। ইসলামের ইতিহাসে এর জ¦লজ্যান্ত উদাহরণ সাধক ইমাম আবু হানিফা ও তার উৎস্বর্গীকৃত সাধক জীবন ঐ রকম অত্যাচারী শাসকের কুপে পড়ে বিষপানে তাকে হত্যা করা হয়, এসব রক্ত বৃথা যেতে পারে না। যে কোন মানুষই সহি হাদিস চিহ্নিত করতে পারবেন, যদি তার কুরআন জানা থাকে। সে খুব দ্রুতই বলে দিতে পারবে যে, এটি কুরআন বিরুদ্ধ কথা। কুরআন না জানলে সেটি বলা সম্ভব নয়। কুরআনের ব্যাখ্যা কুরআন দিয়ে বিচার করতে হবে কারণ এক একটি বিষয়ে কুরআনেই যুক্তি দেয়া হয়েছে যা একটি কথাকে অন্য কথা দ্বারা প্রতিষ্ঠা করা যায়, শক্ত ভিত্তি গড়া যায়। এটি কি বিশ^াসযোগ্য কথা যে আল্লাহ তার কাজে এত অগোছালো ও অসম্পূর্ণ। যার পূর্ণতায় আসতে হবে এক গোষ্ঠী অগ্নি উপাসক থেকে উদ্ভুত পারসী সমাজের দলবদ্ধ গোষ্ঠীকে। ইতিহাসে এটিও জেনেছি ঐ সময় এদের উত্থানের সময় মানুষ বিদ্রোহ করেছে। কিন্তু শক্তির তলানিতে তাদের দাপটের সাথে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। যে কেউ বলুক যে কথা কুরআনের সাথে যায় এমন অনুমোদিত কথাকে মানতে কোন অসুবিধা নেই। তাই বলে হাজার হাজার লাখ লাখ মিথ্যাচারে ভরা কুরআন বিরুদ্ধ মত ও পথ কেন একবিংশ শতকের মুসলিমকে মানতে হবে। আল্লাহ কিয়ামতের দিনে কুরআনের বাইরে কোন কাজের জন্য কাউকে প্রশ্ন করবে না; করতে পারে না। একবার এক বোন প্রশ্ন রেখেছিল, ‘আমি বোরখা পড়ছি না, শেষ কালে কিয়ামতের ময়দানে কি জবাব দিব?’ উত্তরে আমি বলি, ‘আল্লাহ তো কোথাও বোরখা পরতে বলে নাই। বেশী বিপদে পড়লে এই ভাবীকে দেখিয়ে দিও। তোমার সে বিপদের দিনে সে দায় নিতে আমি রাজি আছি। তবে আমার কথা হচ্ছে কুরআনের নির্দেশ অনুসরণ ও পালন করতে হবে।’ 

ব্যাখ্যার নামে অপব্যাখ্যা: সুরা নিসার ২৪ আয়াতে বলা হয়েছে দাসীদেরও বিয়ে করা যায় তবে মোহরানা দিতে হবে। প্রাথমিক ইসলামের যুগে অনেক বিদুষী দাসীরা ছিলেন যারা সহজলভ্য ও ধর্ম জ্ঞানে গুণি ছিলেন। আয়াতে এরকম কোন মুতা বিয়ের অনুমোদন নেই। কিন্তু কুরআন বিরোধী দালাল পক্ষ ভুল জিনিস ধর্মের নামে এসব মুতা বিয়ের প্রতিষ্ঠা চালায়। আর বোকা মানুষগুলো কুরআন না জানার কারণে ভুল ভাল হাততালি দেয়। ছলে বলে কলে কৌশলে কখনো হযরত ওমরের বরাতে হালাল বলে প্রচার করে। যদি কুরআনে স্পষ্ট দলিল না থাকে নবীর নামেও একে হালাল করা সম্ভব নয় । আর সুরা নিসার ২৪ আয়াতে এসব মুতা বিয়ের কোন সামান্যতম যুক্তি নেই। ইবলিস এভাবে ময়দানে বারে বারে জায়গা করে নেয়, দু’নাম্বারী ধান্ধাতে মূল গ্রন্থের ব্যাখ্যা নয় বরং অপব্যাখ্যা করে। এভাবে ইবলিস ময়দানে প্রবেশের সুযোগ লুফে নিয়েছে। কারণ মূল গ্রন্থ কুরআনে প্রবেশের অনুমোদন পায়নি, সে সুযোগমত মিথ্যে বানোয়াট ও জইফ দুর্বল নামে হাদিস রচনা করে তাফসিরের রেওয়ায়েতেও ঢুকিয়ে দিয়েছে। কেউ বলছেন চার বিয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, মুতা বিয়ের অনুমোদন আছে। এসবই বলছেন কুরআনকে এড়িয়ে গিয়ে কারণ একমাত্র বানোয়াট হাদিস দ্বারা এসব যুক্তি টেকানো যায়। তবে কুরআন দ্বারা এসব কথা টেকে না। কারণ কুরআন যদিও চার বিয়ের অনুমোদন দেয় কিন্তু পরের আয়াতেই বলে এটি অসম্ভব তোমরা চারের মাঝে সমতা বজায় রাখতে পারবে না, সমতা রাখার বড় শর্ত জুড়ে দিয়ে এক বিয়েই উত্তম ফয়সালা দেয়া হয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে প্রয়োজনে একাধিক বিয়ে করা যাবে তবে ঐ শর্তসহ।

বিদায় হজ্জ্বের মনগড়া ব্যাখ্যা: কৌশলী ইবলিসের কান্ডকারখানা ভয়ংকর! ব্যাখ্যার নামে কুরআনকে অবহেলা করে মনগড়া ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হয়েছে। নবী জীবনেও এসব করতে পারেন না, একমাত্র ইবলিস পারে। আল্লাহ বলেছেন কুরআন পরিপূর্ণ গ্রন্থ, কুরআনের ব্যাখ্যা কুরআন নিজেই। আল্লাহর ব্যাখ্যার জন্য নবী নন, তিনি ময়দানের উদাহরণ। তার নামে কুরআনের পাশে গ্রন্থ রচনার অনুমোদন কুরআন দেয় না। তাই তার জীবিতকালে তিনি তার নামে কিছু লিখে রাখতে নিষেধ করেছেন। এটিও আমরা জেনেছি দুচার কথা লিখে রাখলেও তা আবুবকর ওমর(রাঃ) রা পুড়িয়ে ফেলেন। আল্লাহ কুরআনে স্পষ্ট করেছেন তিনি একজন বানিবাহক মাত্র, একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নন। আল্লাহর কালাম ব্যতীত নবীর বাড়তি কোন কথা নেই। এমন হলে সেটি কঠিন পাপ বলে বিবেচিত হবে। এবং কুরআনের হিসাবে ধরা পড়লে বলা হয়েছে তার কন্ঠনালী ছিড়ে ফেলা হবে। কিন্তু এখন আমরাই পাই অসংখ্য কুরআনহীন কথা হাদিসের নামে চলছে। নবী কন্ঠনালী ছিড়ার অপরাধ করবেন, এটি কি মানা যায়? এমন কথাও হাদিসে আছে আল্লাহর কালাম ছাড়া সাংসারিক কাজে তার ভুল হতে পারে, ওটি অনুকরনীয় নয়। কুরআন ছাড়া বাকীটা সাংসারিক কথা কাজকে গ্রহণ না করতে বলেছেন। তবে ইবলিস ঐ ছুতায় ইসলাম ধ্বংসের এজেন্ডায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।  

মানবিক সংযোজনে শর্ত পালিত হয়নি: যারা হাদিস কালেকশন ও পরিশুদ্ধির কাজ করেছিলেন সেখানে শর্ত ছিল একবার মিথ্যাচারে ধরা খাবে তাদের থেকে কোন হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়, শর্ত  বলা হলেও দেখা যায় এসব ধরা খাওয়া অপরাধীর কাছ থেকেও হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ হাদিস এসেছে এবং আজকের মুসলিম সমাজ তা পালন করে ধর্মের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে। ধর্মকে অল্প দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই, কুরআন এটি রুখে দিয়েছে তার আয়াত দিয়ে। কিন্তু ওয়াজেয়ানরা এটি তাদের গলাবাজি ও হুমকি দিয়ে প্রতিষ্ঠার পক্ষে কুরআন বিরোধী অবস্থানে ছিলেন আছেন, সহজে যাবেন না। এদের কাজ কুরআনের বক্তব্যকে উল্টে দেয়। প্রথম অস্ত্র কুরআনকে ধ্বংস করতে প্রায় চৌদ্দশত বছর থেকে তারা ইবলিসের পক্ষ হয়ে লড়ছে। নবী মাটির তৈরী না নূরের তৈরী। নবী যদি স্বর্ণের তৈরী হন তাতে জনতার লাভ বা ক্ষতি কি? কুরআন তাকে মানুষ বলে স্পষ্ট করলেও ইবলিস অশান্ত, সে তার নিজের ব্যাখ্যা নিজে দেয়। কারণ তাকে মানুষ নবীকে অতিমানুষ অতিভৌতিক করতেই হবে। আরো প্রচার করে নবীর কোন ছায়া ছিল না। তাই যদি হবে তবে বদর ওহুদ খন্দক যুদ্ধের কি কোন দরকার ছিল? মূর্তিপূজক কুরাইশদের যুদ্ধের ডাকে নবী তাদের রোদে ডেকে নিলে, যুদ্ধ সেখানেই শেষ হতো। তখন তারা তাকে দেবতার আসনে বসিয়ে ৩৬০ মূর্তির সাথে আর একটি দেবতা যোগ করতো। কুরআন দিয়ে কোন অনাচার টিকানো যায় না, যখনই নবীর নামে মনগড়া মিথ্যা এনে দাঁড় করা হয় তখনই ইসলাম একটি প্রতিবন্দী ধর্ম হয়ে যায়। আর এসব প্রতারণাকে তারা বলছে কুরআনের ব্যাখ্যা। ব্যাখ্যার জন্য তাদের লাগবে কেন? ব্যাখ্যাদাতা হিসাবে আল্লাহই শ্রেষ্ঠ উৎকৃষ্ট ও যথেষ্ট। 

কুরআনের সত্যটা জানুন: ধর্ম অমূল্য ধন, সেটি অল্প দামে বিক্রির কাতারে কেন? যাদের সামনে কোন গবেষণা নেই, চিন্তা চেতনা নেই। ধর্ম মানুষকে যখন যুক্তির বদলে বেওকুফ বানায় তখন তারা তাবিজ কবজে যুক্তি খুঁজে পায়। মানুষকে প্রতারণা করে জিন চালান দেয়, প্রেত চালান দেয়। কিছু প্রশ্ন শুনলে হাসি পায়, দাঁত ব্রাশ করা কি জায়েজ? এটি আমাদের দু বছরের বাচ্চাও বুঝে কিন্তু বেওকুফ ধার্মিকরা বুঝে না। কুরআনকে অল্প মূল্যে বিক্রি করো না কথাটি কোন ওয়াজেয়ানরা মানেন না বলেই ধর্মের এত নাকানী চুবানি দশা। তারা ভুলেও বলেন না আপনারা কুরআন বুঝে পড়েন। তাদের ছাত্ররাও বুঝে পড়ে না, অনেকে নিজেরাও তেমন কিছু জানেনা বলেই তাদের মনগড়া গাঁজাখুরী কথাকে ধর্ম বলে চালায়। ১১৪টি সুরার এক বিরাট সংস্করণ কুরআন । আমাদের বাচ্চারা ছাত্ররা এর চেয়েও ভয়ংকর বড় বড় বই পড়ে অভ্যস্ত। মানুষকে প্রথমে কুরআন জানতে হবে। রসুলের নামে প্রচারিত হাদিস সত্য না মিথ্যা তা কুরআন না জানলে কেউ বুঝতেও পারবে না। কারণ যখনই কুরআন বিরুদ্ধে কথা হাদিসে আসবে সে খুব সহজে ধরতে পারবে এ কথাটি কুরআন বিরুদ্ধ কথা, যদি তার কুরআন জানা থাকে। কিন্তু ঐ প্রয়াস মুসলিমরা কস্মিনকালেও করেন না। এ জন্য ভুলের মাঝে পা থেকে মাথা ডুবিয়ে আছে তারা। তাহলে ধর্মের সব জটিলতা সহজ হয়ে যেত। মানুষ সুপথ সহজেই খুঁজে পেত।

ফতোয়ার মালিক আল্লাহ: জানা যায় মুনশিরা মুফতিরা ফতোয়া দেন। এটি অনেক জটিল বিষয় এ কারণে যে, এ কাজটি স্বয়ং আল্লাহর কাজ। কুরআন একমাত্র আল্লাহর ফতোয়া বই। সে হিসাবে ফতোয়া কোন মানুষ করার কথা নয়। এটি খোদার উপর খোদকারী। প্রাথমিক যুগে কেউ ফতোয়া দিলে তাকে বেত্রাঘাত করা হতো। হযরত ওমরের সময়ে তামিমদারী নামে এক ধৃষ্টান ধর্মান্তরিতকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হয় তার মিথ্যা ফতোয়াবাজির জন্য। যেখানে আল্লাহ চৌদ্দশত বছর আগে তার ফতোয়া বিলি করেছে, সেখানে কোন সংযোজন বিয়োজনের কোন সুযোগ নেই। যে বা যারা এ কাজটি নিজের মনগড়া ব্যাখ্যাতে করবে তারা বেদআত করবে। আর নবী বার বার বলেছেন যদি কেউ বেদআত করে, তবে সে জাহান্নামে যাবে। ঐ জাহান্নামে যাবার কাজটি বেশীর ভাগ প্রচারকরা দল বেধে করে চলেছেন। একমাত্র কুরআন মুসলিমদের একতাবদ্ধ করতে পারে। ইহকালে ও পরকালের দুটি বেহেশতের নিশ্চয়তা দিতে পারে। এ গ্রন্থ চিন্তাশীলের চিন্তার খোরাক ছাড়া আর কিছু নয়; এটি উচ্চ মানসম্পন্ন শিক্ষিতদের সিলেবাস। এ জটিলকে সহজ করে বোঝার সব ক্ষমতা তারা রাখেন। বাংলাদেশে কাজের মেয়েরা কাজ করে আর বিবি সাহেবরা স্কুলে বাচ্চা নিয়ে যান আর গালগল্পে সময় পার করতেন। এসব আমাদের সময়কার কথা বলছি। আমার কাছে মনে হতো এই মায়েদের মেধাগুলির অপচয় হচ্ছে এভাবে। সেখানে তারা বই পড়তে পারতো কিছু লিখতে পারতো,গবেষনামূলক  ধর্ম চর্চা করতে পারতো। পরচর্চা ও শাড়ী চর্চায়ই তারা মূলত করে সময় পার করতো। মৌলভীদের উচিত নামাজ পড়ানোকে পেশা হিসাবে না নিয়ে জীবন ধারণের জন্য ভিন্ন পেশা বেছে নেয়া। নামাজ পড়িয়ে কেন টাকা নিবেন। আপনার নিজের নামাজই তো আপনি পড়ছেন। আবার এর বিনিময় নিচ্ছেন, পেশা হিসাবে নেয়াতে সত্য মিথ্যা জুড়ে ব্যবসা করছেন। কখনো প্রতারণাও করছেন, উপরের আয়াতে ধরা খেলে আপনি লাজওয়াব!

শেষকথা: সম্প্রতি ‘তসলিমার কলামের জবাব’ গ্রন্থটির পিডিএফ দিয়েছি (https://nazmamustafa.files.wordpress.com/2021/04/taslimar-kolamer-jobab-book.pdf) আমার ব্লগের বুক সেকশনে। নাস্তিক্য ধারায় ইসলাম ধ্বংসের এজেন্ডা নিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত পথহারা করতে কাজ চলছে বিগত শতক থেকেই। ঐ সময়ে এর জবাবে এটি লেখা, মনে পড়ে ২৫/২৬ বছর আগে আমার হাই¯স্কুলের শিক্ষিকা প্রশ্ন রেখেছিলেন কুরআন না বুঝে পড়লে কেন পূণ্য হবে না। জবাবে বলেছিলাম আপা, আপনিই বিচার করেন একজন শিক্ষিকা আপনি, আপনি কি আপনার ছাত্রকে মার্ক দেবেন যদি সে না বোঝেই পড়ে বা জবাবও সেভাবে দেয়। আমার মতে সে কোন পূণ্য অর্জন করবে না, ফলাফল অশ^ডিম্ব। কুরআন খুবই শ্রুতিমধুর ও প্রাণকাড়া ছন্দময় বলেই আমরা অতি অল্পে এটি মুখস্ত করতে পারি। এটি মুখস্ত করাও জরুরী তাহলে আমাদের একতার সমন্বয় থাকে। এটি মুখস্ত করার জন্যই এটি এত শ্রুতিমধুর করে সাজানো হয়েছে এবং এটি খুব অল্পেই রপ্তও করা যায়। এর প্রমাণ আমরা নিজেরা তা রপ্ত করেছি। তারপরও অর্থ বোঝে তার মর্ম উদ্ধার করা জরুরী। দেখা যায় ধর্ম আলোচনায় কুরআনের কথার চেয়ে রসুলের নামে প্রচলিত কুরআন বিরোধী কথাই বেশী প্রচারিত হয়। কুরআনই আল্লাহর কালাম, আল্লাহর হাদিস। সাধারণত সমাজের অযোগ্যরা ইমামতি করে, যদিও ইসলামের রীতি অনুসারে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে ইমামতি করতে হয়। স্কুলে ওয়ান থেকে পাঠ্য তালিকায় কুরআন আবিশ্যকভাবে থাকা উচিত। একে অর্থসহ সবার কাছে এর ম্যাসেজ পৌছে দিতে হবে। পরিপূর্ণ জীবনে সেই হবে ইমাম, হতে পারে ডাক্তার হতে পারে ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে অধ্যাপক ব্যারিষ্টার। কুরআন প্রতিষ্ঠা পেলে সমস্ত সমাজ সভ্যতা এমন উচ্চতায় পৌছে যাবে পৃথিবীর কোন শক্তি নেই মুসলিমদের পেছনে ঠেলার। সমস্ত বিশ^ ছুটে আসবে ঐ সত্যে আত্মাহুতি দিতে। সময় থাকতে সঠিক কাজ করুন। ইহ ও পরকাল ঝরঝরে কেন করবেন? বর্তমানের ইমামরা সৎ ভাবে বাঁচার জন্য যে কোন পেশা বেছে নেন। প্রতিটি বাচ্চাকেও ঐ শিক্ষায় শিক্ষিত করেন। বাচ্চাদেরে ধর্মের বস্তুনিষ্টতা সুন্দর করে বুঝিয়ে শেখান ছোটকাল থেকে যা ইহ পরকালের জীবন গঠনের হাতিয়ার। তবেই কাটবে জটিলতা; বর্তমান সমাজের ঘুনেধরা মিথ্যায় ভরা জীবন ব্যবস্থা আর নয়, পরিপূর্ণ কুরআন ভিত্তিক সত্য ধর্মের নির্দেশনায় মনোযোগী হন। সহজ সরল জটিলতা পরিহার করা সুরা ফাতিহার পূণ্যে গড়া জীবন হোক, আমাদের চলার পথ। যদি কবিতার ছন্দে বলি – এটিই আমার শেষকথা।

“অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি বিচার দিনের স্বামী,

যতগুণ গান হে চির মহান তুমিই অন্তর্যামী।

দ্যুলোকে ভূলোকে সবারে ছাড়িয়া তোমারি চরণে পড়ি লুটাইয়া,

তোমারি সকালে যাচি হে শকতি, তোমারি করুণাকামী।

সরল সঠিক পূণ্য পন্থা মোদেরে দাও গো বলি,

চালাও সে পথে যে পথে তোমার প্রিয়জন গেছে চলি।

যে পথে ভ্রান্তি চির অভিশাপ, যে পথে ভ্রান্তি চির পরিতাপ

হে মহাচালক! মোদেরে কখনো করো না সেপথ গামী।

২৩ এপ্রিল ২০২১।  

২০২১এর রমজান ও আমার চিন্তা


নাজমা মোস্তফা

২০২০এর রমজানের ৩১ মে তারিখে আমার ব্লগে একটি লেখা আপলোড করেছিলাম। লেখাটির শিরোনাম ছিল “আমরা কি আল্লাহর রমজান পালন করছি?” আজ ২০২১এর রমজান শুরু হয়েছে আজ রাতেই এপ্রিলের ১৩ তারিখে আমরা প্রথম সেহরী দিয়ে এবারের রোজা শুরু করবো। প্রতিটি কাজই যখন এবাদতের অংশ, তখন প্রতিটি সুচিন্তা আমাদের পথ দেখায় যেখানে প্রতিটি কুচিন্তা মানুষকে পথহারা ও বিভ্রান্ত করে। খোলামনে ভাবলে বোঝা যায় বাংলাদেশীরা খুব ভয়ংকর খারাপ সময় পার করছে। রাজনীতি ও ধর্ম দুটোই কেমন যেন গোলমেলে ঠেকছে। অনেকে বলবেন রাজনীতির সাথে ধর্ম মেলানোতেই এ গন্ডগোল। আমি মনে করি কথাটি ঠিক নয়। কারণ ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে এ দুয়ের সংমিশ্রণ হয়েছে আল্লাহর আদেশে ও নবীর কর্মকান্ডে। ইসলামের ইতিহাস বলে মসজিদই ছিল ইসলামের প্রথম পার্লামেন্ট হাউস। সেখান থেকেই দেশের সমাজের সব সমস্যা আলোচিত হতো ও সমাধান আসতো। হাতের কাছেই ছিল খোদা প্রদত্ত সিলেবাস। তা খেজুর পাতায় লিখা হোক আর সাহাবাদের অন্তরেই খোদাই করা হোক। সেটি বদলাবার বা ওদলবদল করার কোন সুযোগ কোনদিনও ছিল না। এর কারণ ঐ দিন থেকেই এটি মানুষের মুখে মুখে অবস্থান নিয়েছে। আরবের বাসিন্দারা তাদের নিজ ভাষাতে এটি রপ্ত করেছে, আর রপ্ত করার সাথে সাথে তারা সেটি বুঝতেও পেরেছে। বিপদ হয়েছে অন্য ভাষাভাষীদের তারা সুরা রপ্ত করলেও ওর অর্থ বুঝতে পারছে কম। তবে প্রতিটি সুরার সাথে সাথে ঘটনা জানা থাকলে অতি অল্পেই ওসবও রপ্ত করা যায়। বিশেষ করে নামাজে যেসব সুরা আমরা ব্যবহার করি তা অর্থ না জেনে নামাজ পড়ার কোন যুক্তি হয় না। লেখাপড়া জানা প্রতিটি মানুষকে এটি অর্থ বুঝে রপ্ত করলে নামাজের আগ্রহ ও একাত্মতা বহুগুণ বাড়ে। গতবছরের লেখাতে আমি দেখিয়েছি আমাদের অনেকেই আল্লাহর নির্দেশিত রোজার পাশে রসুলের নামে নির্দেশিত আরো বাড়তি কিছু রোজায় অভ্যস্ত হয়ে আছেন, ছিলেন হয়তো আরো বড় সময় থাকবেন।

কারো কারো মতে রোজার আগে ছয় ও পিছে ছয় আর কেউ কেউ বলেন শুধু শেষের ছয় রোজা রাখার বিধান রাখা হয়েছে যার কোন দাগ কুরআনে নেই। এই ছয় রোজা আমার জীবনের মোড় লেখালেখির দিকে ঘুরিয়ে দেবার এক মহাসোপান। ঐ ঘটনাই আমাকে অনুপ্রেরণা দেয় লেখালেখিতে ঢুকতে ঐ বিষয়েও একটি লেখা আছে যার নাম হচ্ছে ‘হোঁচট’। যদিও চিন্তার চলা আমার অনেক আগে থেকেই। সাম্প্রতিক সময়ে মামুনুল হক নামে এক হেফাজত কর্তাব্যক্তির অনেক উল্টাসিধা কাজের সুবাদে সৃষ্ট জটিলতা থেকে গোটা দেশে তুলকালাম কান্ড ঘটছে। অনেক সূত্র তথ্য বলছে এসব কান্ড সরকারই ঘটাচ্ছে, নিজের পাপ লুকাতে এসব অপকর্ম সাজানো হচ্ছে। মনে হচ্ছে কেহ কারে নাহি পারে সমানে সমান। কিছু আগে অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের অবৈধ সরকারের অপকীর্তির মহা মহা সংকট কথা আল জাজিরা প্রকাশ করে একদম দেশকে উলংগ করে দিয়েছে। এদেশে কোন নীতি নৈতিকতা আর বাকী থাকে নাই। ২০০৯ সাল থেকেই শুরুতে নিজ দেশের বিডিআর হত্যা ঘটিয়ে শেখ মুজিবের কন্যা সরকার অপকর্মে ও মিথ্যাচারে এমন কিছু বাকী রাখেন নাই যা তিনি করেননি। বর্তমানে দিনের ভোট হয় রাতে, কোন বৈধতা নেই। মানুষ আজকাল ভোট দিতে যায় না। ওটি কন্যা সরকার গিলে হজম করে দিয়েছেন। আবার প্রতারণার হাতিয়ার হিসাবে কথায় কথায় লজ্জাস্কর ভাবে জায়নামাজ খোঁজা নামাজ পড়া তাহাজ্জুদ পড়া কুরআন তেলাওয়াত করার গল্প করেন, এসব বলে নিজেকে মুসলিম বলে জাহির করার চেষ্টা করেন। কেউ তাকে অমুসলিম বলে না, তারপরও কেন করেন জানি না। এর একমাত্র কারণ এরা কুরআন বুঝে কখনোই পড়েন না। পড়লে আল্লাহ যেখানে এসব না করতে আদেশ দিয়েছে সেখানে তাদের এসব করার কথা ছিল না। এরা আসলে বর্ণচোরা ধর্ম ব্যবসায়ী, রাজনীতির আড়ালে এটি তাদের বর্ণচোরা ব্যবসা। কন্যা সরকার সমানেই অনাচারে মিথ্যায় ধরা খাচ্ছেন কিন্তু তিনি এসব নিয়ে নীতি নৈতিকতার বিষয়ে মোটেও ভাবেন না। ভাবখানা এমন যেন খোদা প্রদত্ত কোন এজেন্ডাতে তারা ধর্ম নিয়ে মাঠে আছেন। এ জন্যই বলছি ধর্মটি সবার হাতের পুতুল নাচের বিষয় কি? সহজভাবে অনেকেই বলেন এসব মনে হচ্ছে রোজ কিয়ামতের আলামত মাত্র। সবার মুখে ধর্ম আর কাজে অধর্ম খোদ অবৈধ প্রধানমন্ত্রীসহ। আমি হোঁচট খেয়েছিলাম আজ থেকে ২৫ বছর আগের রমজান পার করা সময়ের ঐ হোঁচট আমার গতি ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সেদিন থেকে আজ অবদি আমি কমবেশী লিখছি, থামি নাই।

গতবছরের লেখাটির উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর নির্দেশিত রোজা কি আমরা করছি? আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে আমি নিতান্ত একজন সাধারণ চিন্তাশীল ছিলাম, লেখিকা ছিলাম না মোটেও। তবে তুখোড় কারো ঝগড়ার জবাব দিবার মত রসদ আমার জমা ছিল না। আজ একটি কঠিন সত্য প্রকাশ করছি বাহাদুরী বা কৃপণতা প্রকাশ করছি না মোটেও। আমি যখন ক্লাস এইটে পড়ি সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত জীবনেও কোন রোজা আমার বাকী নেই। আমি সবকটি রোজা পালন করেছি। কোন রোজা ভাংলেও সেটি আমি পরবর্তীতে রোজা শেষ হওয়ার নিকট সময়েই রেখেছি। কিন্তু জীবনেও এর বাইরে আর বাড়তি কোন রোজা রাখি নাই। আমার পূণ্য হোক আর পাপ হোক এটি আমার কৃতকর্ম। রোজার এই বস্তুনিষ্ঠতা এটি আমার আত্মবিশ^াস গড়ে দিয়েছে। আমি যদি মিথ্যা বলি আমি জানি তার দন্ড কত কঠিন হবে আর সত্যটা বলা দরকার তাই বলছি। একবার আমরা সমবয়সী সহপাঠিরা প্রায় পাঁচ সাতজন এক হয়েছি রোজার পর পরই। প্রশ্ন উঠেছে কে কয়টি রোজা রেখেছো? ওখানে অনেকেই আমার বড় আপা খালা, তারা আমার থেকেও অনেক কম রেখেছেন, কেউই সবকটি রোজা রাখেন নাই। আমার নিজেরই লজ্জা লাগলো, কেউ বললো আমি সাতটি কেউ বলে আমি পাঁচটি, সামনে পরীক্ষা, আমি হু বলে এমনভাবে মাথা নাড়ি যে তোমাদের মতই। স্পষ্ট কথাটি হচ্ছে আমি সেদিন গর্ব করে বলতে পারি নাই, যে আমি সবকটি রেখেছি।

তাই সংসার জীবনে পরবর্তীতে যখন ঢুকি তখন ঢাকাতে পাড়ার এক ভাবীর ছোবলে আমি এমনই আহত হই যে আমার জীবন স্থবির হয়ে পড়ে। কয়টি দিন আমার কেটেছে এরকম কষ্ট আমি জীবনেও পাই নাই। বিষয়টি ছিল রোজার পরের ঐ ছয় রোজা রাখা মহিলা রোজা মুখে আমার উপর হামলে পড়েন যেন আস্ত গিলে খাবেন। আমি হাসিমুখে বলেছিলাম রোজা শেষ এখন আবার কিসের রোজা। আমি তার ঐ রোজা সম্বন্ধে জানি না বলেই তার এত হামলে পড়া। জবাবে আমি বলি জানি না রে ভাই। আমি জীবনেও রোজা বাকী রাখি নাই আর বাড়তি কোন রোজাও করি নাই। তখন মহিলা আমাকে টিটকারী দিয়ে বলেন, আপনি তো বেহেশতে চলে যাবেন। আমি মনের বেদনা মনেই চেপে রেখে বলি আল্লাহ কবুল করুক। এতে মহিলা আরো বেশী রেগে যান। তার হিসেব মত আমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে কারণ আমি ঐ ছয় রোজার কথা জানিইনা আর তিনি জানেন। জানি না আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছে কি না, তবে এসব আমার জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনা। যখন প্রায় বেশ দিন গড়িয়ে যাচ্ছে কোন কাজই করতে পারি না, ঐ কষ্টে আমি এতই আহত বিধ্বস্ত হয়েছি যে বলার মত না। এর বড় কারণ আমাকে জীবনেও কেউ এভাবে সাক্ষাৎ ছোবল মারে নাই। বাসায় এসে কর্তাকে বড় ছেলেকে বলেছি তারপরও মনে শান্তি পাইনা। হঠাৎ কি মনে করে টেবিলে কাগজ কলম নিয়ে বসি আর গড় গড় করে আদ্যপান্ত সব লিখে নেই, ঐদিন কি ঘটেছিল, লেখা শেষ হলে আমি ওটি চাপা দিয়ে রেখে দেই। মনের অলক্ষ্যেই বুঝি মনটা হাল্কা হয়ে যায়। আমি আমার দৈনন্দিনের কাজে নেমে পড়ি। ঐসময় আমার বড় ছেলে বাহির থেকে ঘরে ঢুকেই কাগজটি উল্টে দেখে সে গড় গড় করে ওটি পড়ে নেয়। এবং ঐ কাগজ নিয়েই আমার কাছে ছুটে যায় আর বলে ‘আম্মু তুমি লিখছো না কেন? তোমার কষ্টটি আমি শুনেছি তোমার মুখে আর তোমার লেখাটি দেখে ভাবছি তুমি লিখছো না কেন?’ ঐটি আমার আজকের লেখার হাতে খড়ি দুর্ঘটনার বদৌলতে পাওয়া পুরস্কার। আমার ছেলের অনুপ্রেরণা আমার আজকের লেখার কৃতিত্ব তার বড় পাওনা। সাথে ছিল বাবার সুপ্ত অনুপ্রেরণা।

https://wordpress.com/post/nazmamustafa.wordpress.com/6018

গত বছরের রমজানের লেখাটি আবারো অনুরোধ করবো লিংকটি আবারো দিলাম, সেটি পড়তে অনুরোধ করবো। মুসলিমদের অপকর্ম ব্যর্থতা ও মূল সত্য কুরআনকে এড়িয়ে চলাই কি ইসলাম? ওটি পরখ করেন, পড়েন। আল্লাহকে অন্তরে ধারণা করেন, কুরআনকে বুকে ঠাঁই দেন, শুধু মুখে নয়। বেশীর ভাগ মানুষ কুরআন জপেন মানেনও না, পালনও করেন না। মনে করেন জপেই শেষ। শিক্ষিতরা একথা বলে পার পাবেন না। আপনার চক্ষু কর্ণ হাত কেউই নিরাপদ নয়। আপনার বিপক্ষে প্রতিটি অঙ্গ রায় দেবে। আল্লাহর কালামের চেয়ে বড় অন্য কিছুই হতে পারে না। আগে আল্লাহকে প্রতিষ্ঠা করবেন তার বাইরে যা করবেন তা, অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। কারণ সেটি নির্দেশ নয়। তার নাম বিদআত। বিদআত কি? যা ধর্ম নয়, ধর্মের নামে বাড়তি সংযোজন করতে নিষেধ করা হয়েছে। এটি নবীর কড়া নিষেধ ছিল। ইহুদীরা এভাবে ধ্বংস হয়েছে, আমরা যেন বাঁচি। ঐ নির্দেশ কুরআনে এসেছে। অনুরোধ করছি কুরআন পড়েন, জানেন, বুঝে পালন করেন। ঐ কুরআন প্রতিষ্ঠার জন্য নবী এসেছিলেন, তিনি কুরআনকে পাশ কাটিয়ে ভিন্ন কথা বলতেই পারেন না। অসম্ভব, কুরআনের বাইরে ভিন্ন কথা বললে কুরআন বলে তাকে মোকাবেলা করতে হবে দ্বিগুণ শাস্তি তার জীবিত অবস্থায় ও মৃত্যুকালে (বনি ইসরাইলের ৭৫ আয়াত)। মুসলিমরা কিভাবে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে এর উদাহরণ ময়দানে সবাই দেখছেন। সরকারসহ জনতারা অনেকেই ধর্মের নাম নিয়ে অনেক কিছু করছে এসব ধর্ম নয়। কুরআন দ্বারা কোন অপকর্ম প্রমাণ করা যায় না, এটি অসম্ভব। কিছু তফসিরকারক বলেন নবী হযরত ইব্রাহিম (আঃ) মিথ্যা বলেছেন। যারা এটি বলে এরা কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা করে। সত্যটি হচ্ছে বালক ইব্রাহিম ঐ সময় বড় মূর্তিটাকে ভাঙ্গেন নাই এবং কুঠারটি তার কাঁধে রাখেন। তারা তাকে প্রশ্ন করলে তিনি মিথ্যাচার করেন নাই বরং উল্টো বলেন, বড়টি তো দাঁড়িয়ে রয়েছে তাকে জিজ্ঞেস করো। সে বলতে পারে না? তিনি চেয়েছেন তাদের অন্ধদের চক্ষু খুলে দিতে। যে মূর্তি তার নিজেকে প্রতিরোধ করতে পারে না সে কিভাবে তোমাদের প্রতিরোধ করবে।

মানুষের স্বরচিত হাদিস দ্বারা তারা প্রমাণ করে দেয় রসুলের নামে প্রচারিত হাদিসে মিথ্যা বলা জায়েজ। তার সহজ জবাব এসব বাতিল হাদিস সৃষ্ট হয়েছে ইসলামের মূল সত্যকে ধ্বংস করার জন্য। ঐ সময়ও যারা ইহুদী খৃষ্টান থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলামে এসেছে তারা এসব গালগল্প হাদিসের বরাতে ঢুকিয়ে দিয়েছে মানুষকে সত্য থেকে বিচ্যুত করতে এটি তারা করেছে, ইতিহাস গবেষণা তাই স্পষ্ট করছে। অনেকে অতীত ধর্মকে ভুলে না গিয়ে ওসব ঢুকিয়ে দেয় চেতনে অবচেতনে।

ইসলামের সুক্ষ্ম গবেষক মোহাম্মদ আকরম খাঁর মোস্তফা চরিত থেকে উদ্ধৃত করছি। সাহাবীগণ যা বলেছেন বা করেছেন তার জন্য সাহাবীগণই দায়ী; হযরতের বা ইসলামে তার জন্য কোন জওয়াবদিহিতা নেই (৬০, ৬১ পৃষ্ঠা)। ‘আলায়ী বলেন, সকল দলের অপেক্ষা অধিক অনিষ্টকারী তারা যারা খুব পরহেজগারী দেখিয়ে থাকে’ (ইমাম আলায়ী সুফিদের কথা বলে দেখিয়েছেন, কিভাবে তারা অসংখ্য মিথ্যা হাদিস রচনা করেন, পৃষ্ঠা৬২)। এভাবে জানা যায় যা সাহাবীগনের নামে বা স্বয়ং হযরতের উক্তি বলে কথিত হয়েছে যদিও সেগুলি অসংলগ্ন, অবিশ^াস্য ও অপ্রামাণিক”(৬৩ পৃষ্ঠা)। ‘জ্ঞান ও যুক্তি দ্বারা আমরা এই শ্রেণীর হাদিস গুলি আবার বাছাই করে নিতে পারি (ফওজুল কবির, মোহাম্মদী প্রেস, ৪১ পৃষ্ঠা, মোস্তফা চরিত ৬৪ পৃষ্ঠা)। ‘আর একটা গুঢ় তত্ত্ব এই যে, ইহুদী ও খৃষ্টানদের নিকট থেকে (আগত বিশ^াস সংস্কার ও কিংবদন্তিগুলি) প্রচুরভাবে আমাদের ধর্মে প্রবেশ করেছে। কিন্তু আমাদের স্বীকৃত শাস্ত্রীয় বিধান এটি যে, ইহুদী ও খৃষ্টানদের বর্ণনাগুলিকে সত্য ও মিথ্যা কোন প্রকার বলিও না।’ এই শাস্ত্রীয় বিধান থাকার পরও লেখকগণ ঐ সকল বিবরণকে সত্যরুপে গ্রহণ ও বর্ণনা করেছেন (ঐ ফওজুল কবির সূত্র)। এ প্রসঙ্গে ইবনে খাল্লেদুন বলেছেন: ‘আমাদের লেখকগণ ঐ সকল কিংবদন্তি ও গল্প গুজব নকল করে তফসিরের কেতাবগুলোতেও ভরে তুলেছেন। আগেই বলা হয়েছে এসব গল্পের মূল মূর্খ ও অজ্ঞ মরু প্রান্তরবাসী ইহুদীদিগের নিকট থেকে গৃহীত। অথচ তারা যা নকল করেছেন তার সত্যাসত্যও তারা পরীক্ষা করে দেখেন নাই মোকদ্দমা ইবনে খাল্লেদুন) (মোস্তফা চরিত ৬৪/৬৫ পৃষ্ঠা)।

ইমাম আহমদ ইবন হাম্বলের একটি উক্তি বিখ্যাত কালবী ও মোকালেতের তাফসির প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত আগা গোড়াই মিথ্যায় ভরা। তিনি ঐসব তাফসির পড়াও হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছিলেন। কথা ছিল জাল ও দূর্বল হাদিস চিহ্নিত করণের কিন্তু পরবর্তীরা এর উপর আরোপিত কঠোর আদেশ পালন করেন নাই। (ঐ গ্রন্থ, ৬৮ পৃষ্ঠা)।

কে বা কারা এসব অপকর্মে জড়িত থেকেছে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। (ঐ গ্রন্থ, ৬৯ পৃষ্ঠা)।


(১) জিন্দিকগণ: এরা ধর্মের সর্বনাশ করতে বহু সংখ্যক হাদিস জাল করেছেন, এরা মূলত পার্সিক ধর্মাবলম্বি। এরা ইসলামে আসলেও ইসলামের ক্ষতি করতে তাদের পূর্ববর্তী বিশ^াসের উপরই কাজ করে। বর্তমানে প্রচলিত অনেক বেদআতের মূল এরাই।
(২) অতি পরহেজগারগণ: (সওয়াব ও ফজিলতের আশায়)
(৩) মোকাল্লেদগণ: নিজ মাযহাবের নামে ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অসংখ্য জাল হাদিস রচনা করেন
(৪) মোসাহেবগণ: রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে রাজা বাদশাহ আমির ওমরাহ প্রভুর সমর্থণে মিথ্যা হাদিস রচনা করেন
(৫) ওয়ায়েজগণ: ওয়াজের অভিনবত্ব ও চমৎকারিত্ব প্রদর্শণ করতে ওয়াজ ব্যবসায়ীরা আজগুবী প্রচারে এসব মিথ্যা হাদিস প্রচার করেন।


হযরতের জীবনকালে মিথ্যা, জেনা, চুরি মদপান, ও নরহত্যা ইত্যাদি হারাম কার্য কোন সাহাবী কর্তৃক কখনো ঘটে নাই, এ কথা কি কেউ বলতে পারেন? এসব সাহাবী নরনারীদের দন্ডভোগের কথা কি হাদিসে বর্ণিত হয় নাই? জিজ্ঞাসা করি, ওসমান, তালহা, জুবের, এসব সাহাবীদেরে হত্যা করা, পরস্পর যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হওয়া এবং সাহাবীদের হাতেই বহু সংখ্যক সাহাবী হত্যা – এসব কি ইসলামে অনুমোদিত হালাল ও পূণ্য কার্য? (কুরআন ও বহু সহি হাদিসে এর উল্লেখ আছে) (ঐ গ্রন্থ ৫৮ পৃষ্ঠা)।

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া এ প্রসঙ্গে বলেছেন, সাহাবীদের মধ্যে এরুপ লোকও ছিলেন, যারা সময় সময় ভ্রম করতেন, তাদের পরবর্তী সময়েও এই অবস্থা। এজন্য সহী আখ্যায় যেসব হাদিস সংকলিত হয়েছে, তার মধ্যে এরুপ হাদিসও আছে, যা ভ্রম বলে পরিজ্ঞাত (কেতাবুল তাওয়াচ্ছোল ৯৬ পৃষ্ঠা)। সাহাবীদের ভক্তি করতে অন্ধভক্তি করতে ইসলাম বলে না। বিবেকবর্জিত এসব বিশ^াসই হচ্ছে নরপূজার ভিত্তি। তারা বাড়াবাড়ি করতে করতে এমন কথাও বলে যে আল্লাহর পক্ষেও মিথ্যা বলা সম্ভব কারণ তিনি সব পারেন (ঐ গ্রন্থ ৫৮ পৃষ্ঠা)। এরকম অবস্থায় একজন সত্যনিষ্ট মুসলিমকে খুঁজে দেখতে হবে সহি হাদিস হবে মাত্র সেটি যা কুরআন দ্বারা অনুমোদন পায়, নয়তো তা সহি বলে গন্য হবার নয়। কুরআনে নেই এবং স্বপক্ষের কোন কথা কখনোই বলা সঠিক নয় যে এটি নবী মোহাম্মদ বলেছেন, তার ভিত্তি একমাত্র কুরআন। সত্যকে সন্ধান করতে অসংখ্য যুক্তিসমূহ ময়দানে থাকলেও এর সমাদর করা উৎসাহী খুব কম। বাইবেল ও কুরআনে বর্ণিত ঐ গল্পের আদম ও ইবলিসের রুপক গল্পের ইশারা সেই সত্যটি স্পষ্ট করছে। ইবলিস কিভাবে আল্লাহর সাথে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে জিতছে, এসব তারই ইঙ্গিত বহন করছে। তবে আল্লাহ তাকে জবাবে বলেছেন আমার প্রকৃত অনুসারী যারা তাদের তুমি কখনোই তোমার দলে ভিড়াতে পারবে না। একমাত্র এই জায়গায় ইবলিস হতাশ হবে। আল্লাহ আমাদের নবীকে বলেন, “তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না যারা আল্লাহর বাণী প্রত্যাখ্যান করে, পাছে তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যকার হয়ে যাও” (সুরা ইউনুসের ৯৫ আয়াত)। আল্লাহ যা নবীকে বলেছেন, তা কি আমাদেরেও বলা হয়নি? প্রশ্নটি সবার সামনে রেখে লেখাটি এখানেই শেষ করছি।

সবাই ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন।
রমজান মোবারক।
এপ্রিলের ১৩ তারিখ ২০২১। রাত তিনটা।

তসলিমার কলামের জবাব

নাজমা মোস্তফা

বিশেষ দ্রষ্টব্য: তসলিমার কলামের জবাব গ্রন্থটির পুরো পিডিএফ দিয়ে দিয়েছি আমার বুক কলাম সেকশনে।

উৎসাহী পাঠকরা খুঁজে নিবেন বাংলাদেশের নাস্তিকতা বনাম মূর্খতা কিভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সাজানো হয়েছে বিগত শতকে আর ময়দান উত্তপ্ত করা হয়েছে। যার খেসারত আজো মানুষ দিয়ে যাচ্ছে, ময়দান আজও ক্ষরা জরাগ্রস্ত, ইসলাম ধ্বংসের পায়তারা দ্বিতীয় স্বাধীনতার শুরুর কাল থেকে চলছে, চলবে। আপনারা জেগে উঠুন, সত্যকে জানুন। এটি প্রতিটি জনতার ফরজ কাজের একটি সত্যকে জানা ও নিজের বিবেকের নির্দেশ মেনে সঠিক কাজ করা।

প্রকাশিকাঃ

নাজমা মোস্তফা

প্রচ্ছদঃ এহতেশাম মোস্তফা,

বইটির প্রচ্ছদ উপরে আমার বুক্স আইকনে আছে।

৬২/সি ইউনিভার্সিটি কোয়ার্টার

নীলক্ষেত ঢাকা- ১০০০

ফোন ৮৬৯৬৩৯

প্রকাশকালঃ জুলাই ১৯৯৬ ইং

কম্পিউটার কম্পোজঃ অপূর্ব কম্পিউটার।

মুদ্রণেঃ অপূর্ব প্রিন্টার্স

১৯০, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।

ফোনঃ ৮৬৩১১৩

মূল্য ৬০.০০ টাকামাত্র।

সূচীপত্র:

(১) কুসংস্কারের জঞ্জালে জ্বলছি মোরা (ক)

(২) কুসংস্কারের জঞ্জালে জ্বলছি মোরা (খ)

(৩) নির্বাচিত কলামের নির্যাতিত নারী

(৪) ইসলামের ইজ্জত ইরানের নারী

(৫) পাশ্চাত্যে নারী

(৬) অনেকের চোখে

(৭) ভারতে মিশ্র বিয়ের প্রস্তাব

(৮) যুক্তির মাধ্যমে মুক্তির অন্বেষায়

(৯) তসলিমার তমসার তন্দ্রা কি কাটবে?

(১০) ভিন্ন সম্প্রদায়ের মনিষীদের দৃষ্টিতে

(১১) সংকীর্ণতার গন্ডিতে বাধা ধর্মের মহানুভবতা

(১২) ইসলামে বিয়ে 

(১৩) উত্তরাধিকারের গ্যাড়াকলে নাসরিন

(১৪) রসুল(সঃ)এর বিয়ে

(১৫) ইসলামের পর্দায় তসলিমার লজ্জা

(১৬) পর্দার আয়াত

(১৭) তসলিমা নাসরিনের উত্থানের নেপথ্যে কিছু তথ্য

(১৮) শিকড়ের সন্ধানে

(১৯) ইসলামপূর্ব জগতের অবস্থা

(২০) উপসংহার

উৎসর্গ:

যারা আমায় তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন, সত্যের দীপশিখা জ্বালিয়ে জীবনকে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছেন, সেই পরম শ্রদ্ধেয় বাবা-মা এর প্রতি উৎসর্গ করলাম আমার এই প্রয়াসটুকু। আমার সুকর্মের অংশীদার তারাও। আল্লাহ তাঁদের অনন্ত জীবন মহাআনন্দের করুক। আজ বাস্তবের সংকীর্ণতার বাইরে তাদের বসবাস। জীবনের অনেক হতাশার রাস্তায় আলো জ্বালতে আজীবন প্রাণান্তর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এই দুই জোড় মানিক আমার। স্রষ্টার আপনার হোন, আদরের হোন, সম্মানের অংশীদার হোন আমার বাবা-মা।

ভূমিকা :

     ধর্মের মৌলিক জিনিসকে অবজ্ঞা করে সমাজের নানান ত্রুটি বিচ্যুতিই ধর্মের অঙ্গ হিসাবে সমাজের সর্বত্র অনাচার হয়ে ছড়িয়ে আছে আর আমাদের সমাজপতিরা তার প্রতিবাদ না করে বরং প্রতিপালনই করে থাকেন। সে কারণেই আজ এসব তসলিমাদের আবির্ভাব। যুগে যুগে ধর্মের নামেই অধর্মের সৃষ্টি হয়েছে, আর এ অধর্মের অনাচারকে ঠেকাতে এগিয়ে এসেছে কঠিন হাতে এক শান্তির ধর্ম-ইসলাম।

     ইসলামকে নিয়েও ব্যবসা কম হয় নি, এখনও হচেছ, হয়তো আরও হবে। তবু অবশ্যই এই শান্তির ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হবে সারা বিশ্বময়-এ কুরআনেরই ভাবষ্যদ্বানী।

     তসলিমা এবং তারই সহযোগী বেশ কিছু বিশেষ ব্যক্তিত্বের নাস্তিকতার জবাব এই গ্রন্থখানি। সে হিসাবে তাদের অনেক ভুল, বিভ্রান্তির জবাবে আমার এ সামান্য প্রয়াসটুকু যেন তসলিমাসহ গোটা বিশ্বের হতাশার মাঝে আলোর সঞ্চার ঘটায় এ আকাঙখা রেখেই এ লেখার উপস্থাপনা।

     নাসরিনের ভাষায় ইসলাম একটি বিতর্কিত বাজে উপাখ্যান। যার প্রতিবাদ করতে বসেই আমার এ বই লেখা। তাই এ উপাখ্যান যে বাজে নয়, তা প্রমাণ করতে অবশ্য আরো আরো গুণীজনদের সাহায্য সহযোগিতা আমাকে প্রমাণ স্বরূপ খাড়া করতে হয়েছে। যার কারণে অনেক সময় অনেক বিজ্ঞ জনের জ্ঞানগর্ভ কথা ও তথ্য সংগ্রহ করেছি আমার বক্তব্যকে আরো বস্তুনিষ্ট ও জোরালো করার জন্যই।

     তাছাড়া আলহাজ্জ ডাঃ জহুরুল হকের ‘সহজ সঠিক বাংলা কুরআন’ থেকে তসলিমার বিতর্কিত বেশ কিছু আয়াতের বাংলা তরজমা সুবিন্যস্তভাবে দেয়ার চেষ্টা করেছি। তাছাড়া আরো আরো তরজমা থেকেও আমি উদ্ধৃতি টেনেছি। ডাঃ হকের তরজমা কিছুটা বিশ্লেষণধর্মী হওয়াতে পাঠকের বুঝার সুবিধার্থে আমি এটার সাহায্য নিয়েছি। ‘নির্বাচিত কলামের’ প্রতিটি আয়াত যেগুলোকে নিয়ে নাসরিন খেলো কথাবার্তা বলেছেন তা আমি অবশ্যই এখানে এনেছি। তাছাড়া বিয়ে, তালাক, পর্দা ও উত্তরাধিকারের নানান ত্রুটি বিচ্যুতি তুলে ধরার কারণে কুরআনের দৃষ্টিতে পাঠকের কাছে এসব কিছুর একটা ধারণা দেয়ার জন্য আমি অনেক সময় যথেষ্ট সংখ্যক কুরআনের উদ্ধৃতি টানতে বাধ্য হয়েছি।

     আমার এ লেখা শুধু তসলিমার প্রতিবাদ করাই মুখ্য উদ্দেশ্য নয়, আমার মূল লক্ষ্য আমার দেশের উঠতি তরুণ তরুণীর আশায়ভরা অনাগত ভবিষ্যত; যার দিকে আমরা তাদের সুন্দর জীবনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। বিজয় স্মরণীর মাঠের গত বইমেলার ‘মন্তব্য পুস্তিকাতে’ আমার দেশের তরুণদের কিছু মন্তব্য আমাকে বেদনাহত করে যার ফলশ্রুতিতে আমি আরো বেশী করে অনুপ্রাণিত হই বইটি লেখার কাজে হাত দিতে। তাই আমার টার্গেট তসলিমা নন, বরং আগত প্রজন্ম। প্রগতির নামে গতিহীনতার শিকার যেন না হয় আমাদের প্রজন্ম। বিভ্রান্ত যুক্তির মানদন্ডে প্রকৃত যুক্তির মাপকাঠিতে বিচার করার বোধ তাদের মাঝে বিকাশ লাভ করুক, এই কামনায় আমার এ প্রয়াসটুকু শুধু তাদের জন্য। খুব স্বল্প সময়ের আয়োজনে আমার এ লেখার প্রথম সংস্করণে ত্রুটি বিচ্যুতি থাকা স্বাভাবিক। আমি আশা করি আপনাদের সুবিবেচনাই আমার মূল্যায়নের মাপকাঠি হবে। আল্লাহ হাফিজ।

নাজমা মোস্তফা।

শেখ হাসিনার রাজনীতির পোস্ট মর্টেম

নাজমা মোস্তফা

যে ধারা চালু করেছিলেন শেখ মুজিব নিজে, সেটি ধরে রেখেছেন তার কন্যা আজ অবধি। ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবারে সিটি নির্বাচনের দিন হঠাৎ ৭/৮/৯ (?) বাসে আগুন দেয় কে বা কারা। কয়েকটা রং এর বাস পুড়তে দেখলাম। এর মাঝে জনতার কেউ একজন বেশ চড়া গলাতে বলতে শুনলাম এক বাসের সাথে অন্য বাসের ধাক্কা লেগে আগুন ধরেছে। মূল সত্যকে এড়াতে এরা সরকারের পোষা দালাল, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নিয়োগপ্রাপ্ত। এ ঘটনায় শাহবাগ, পল্টন, মতিঝিল, বংশাল, কলাবাগান, কাঁটাবন, সূত্রাপুর, গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজার ও প্রেস ক্লাব, খিলক্ষেত ও তুরাগ আক্রান্ত। বিভিন্ন থানায় ৯ মামলায় ২৮ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এভাবে গোটা ঢাকাতে স্থানে স্থানে বাসে আগুন দেয়া হয়, ৩২ জন ধড়পাকড় আসামী সেই শনিবারের বিকেল অবধি, এদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। দুইশ জনকে আসামী টার্গেট করে এসব কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সরকার। প্রায় সবাই বিরোধী দলের নেতাকর্মী। ১১টি মামলায় ৪৮ জন করে বিএনপির কর্মীরা কারাগারে রয়েছেন। ১০টি মামলার বাদী হচ্ছে পুলিশ ও একটি মামলা করেছেন এক পরিবহনের মালিক ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া, তিনি যদিও বাদী কিন্তু ঐ মামলার কোন খবর জানেন না। দুলাল বলেন সব করেছে খিলক্ষেত থানার পুলিশ, সেখানে ১১৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। সবই হাসিনার গোঁজামিল আর নাটুকেপনা (প্রথম আলো, ১৬ নভেম্বরে খবর প্রাপ্ত)। বাদী দুলাল মিয়া বলেন, তিনজন যুবক এসে পেট্রোল দিয়ে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মামলার বাদী বলেন, পুলিশ বলছে, শুধু একটি সই দেন আমরা গাড়ীর ব্যবস্থা করবো। তিনি শুনেছেন তার ড্রাইভারের কাছে তিনি এসব দেখেন নাই। সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাকও আসামী তিনিও কভিডাক্রান্ত, ছাত্রনেতা জুয়েল কভিড আক্রান্ত, চেন্নাই হাসপাতালে আরেক ছাত্র নেতা, ভর্তিকৃত রোগী এরা সবাই মামলার আসামী। কোন সময় ক্ষ্যাপন না করেই আওয়ামী সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সচরাচরের মত বয়ানে বলেন ‘হঠাৎ নাশকতা প্রমাণ করে বিএনপি সন্ত্রাসী পন্থা পরিহার করে নাই। করোনার এই কঠিন সময়েও জনতাকে সাথে নিয়ে তার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিবে আওয়ামী লীগ।’ একের পর এক হত্যা গুম খুন ধর্ষণের রানী সেজে অবৈধ গদি দখলদার নির্লজ্জ হাসিনা যুগ পার করছেন। তারও আগেপিছে কখনোই তার অনাচার থেমে নেই, তবে কপট মিথ্যা শক্তির বলে কিছু দিন ধামাচাপা দিয়ে রাখতে পেরেছেন বলেই আজো কিছু বোকারা তার পিছে ঘটি ধরে আছে। মানুষ যদি সচেতন হতো তবে কোন সৎ মুসলিম অন্তত তাকে অনুসরণ করতে পারতো না, কারণ এসব আদর্শহীনতা ঈমান ও সততার সাথে যায় না। এর প্রধান কারণ এদের বাপ বেটি মুজিব ও হাসিনার মাঝে নেতৃত্বে সততার চরম অভাব। আওয়ামী লীগের কামরুল ইসলামের টিভি চ্যানেল সময় টিভিও সাথে সাথে এ খবর প্রচার করে, ‘আবারো বিএনপি ফিরেছে অগ্নিসংযোগের রাজনীতিতে।’ হাসিনার হুকুমে সব অপকর্ম হয়। তার নিজের নিরাপত্তাকর্মী মেজর সিনহাকে মেরে জনতার আন্দোলনকে সামলাতে আইএসপিআর নাকে খত দিয়ে বলেছিল আর কোন গুম খুন হবে না। এ কথাই প্রমাণ তাদের দীর্ঘদিনের অসংখ্য মনগড়া গুম খুনের নাটকীয়তা। এরপরও খুন ধর্ষণ কিন্তু চলছে, বন্ধ হয়নি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বদ্যিালয়ের সেঞ্চুরি করা মানিক হাসিনারই আদর্শের ধ্বজাধারী সন্তান। 

বাস পোড়ার সাথে সাথে বিশেষজ্ঞরাসহ অনেকেই সরকারকে সন্দেহ করেছেন, এসব কাজ সরকার ছাড়া কেউ করবে না। অনেকেই কমেন্টে এর কারণ বিশ্লেষণ করছেন। নিজের নাক কেটে তিনি পরের যাত্রা ভঙ্গের দক্ষতায় একজন তুখোড় মহিলা। বাস পোড়ানোর সাথে সাথেই বিএনপির অফিস ঘেরাও করে রাখা, ধড়পাকড় করা পুলিশের উপর নির্দেশ থাকে আগে থেকেই। সবাই জানে এসব সরকারের পরিকল্পিত পাতা ফাঁদ। ধড়পাকড়ের এসব লিস্ট আগেই রেডি থাকে। কাকে কাকে খুন করবে কাকে কাকে আসামী বানাবে। তারা প্রচার করে গোয়েন্দা খবরে প্রাপ্ত হয়ে তারা এসব করছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কখনোই হাসিনার গোয়েন্দারা সঠিক খবর পায় না। মনগড়া খবর ব্যতীত তারা বিডিআর জটিলতার খবরও পায় না। গতকাল যে ধরা পড়া মূল আসামীগংদের একজন মারুফ নামের ছেলেটি ধরা খেল ফেইসবুকে ইউটিউবে তার মুখ থেকে সব খবর দেশবাসী জানলো, এ সব দাগী আসামীদের খবর গোয়েন্দারা পায় না। প্রথমে সে বলতে চায় নাই, পরে জনতার তোপে পড়ে বলতে বাধ্য হয়। তারা ১৫/২০ জনের একটি দল সারা ঢাকা চষে বেড়ায় এবং আগুন দেয়, এ ধারার কিশোর ছেলেদের দিয়ে এসব গুণ্ডামি করানো হচ্ছে। সে অকপটে সব গড়গড় করে বলে দেয়, নিজের জান বাঁচাতে। ঘটনার একটু পরই ফেইসবুকের মাধ্যমে ভিডিওটি পাই। পরদিন দেখি ছাত্র পরিষদের মশিউরের মুখে পুরো ঘটনাটি ইউটিউবে। গোয়েন্দারা শুধু শেখ হাসিনা যা সাজিয়ে দেন, তাই প্রচার করতে পারে। অন্য প্রকৃত গোয়েন্দা খবর তাদের জন্য প্রকাশের অনুমতি নেই। মেজর দেলোয়ার হোসেন এটি স্পষ্ট করেন এদেশের প্রতিটি অপকর্ম সাজানো হয় ভারতের পরিকল্পনাতে আর ঘটানো হয় বাংলাদেশে। তা ছাড়া বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা মানুষ বহুদিন থেকে লক্ষ্য করছে ও তার প্রমাণ পাচ্ছে। কারণ এতে ভারতের নির্বাচনও প্রভাবিত হবে। দেশ চরম ভঙ্গুর অবস্থানে সময় পার করছে। মিথ্যা প্রচারের জারিজুরির উপর দেশ চলছে। উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসছে, এটিও হাসিনার সম্পূর্ণ মিথ্যাচারী প্রচারণা। কংক্রিটের গাঁথুনি হচ্ছে রডের বদলে বাঁশের ফালি দিয়ে। রাস্তার পিচ উঠে যায় অতি অল্প সময়ে। ব্যাংক খালি করা, রিজার্ভ চুরি, শেয়ার ধ্বস, সবদিকে এ সরকার দেশটির মেরুদণ্ড একদম ভেঙ্গে ঝরঝরে করে দিয়েছে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। কথা হচ্ছে এসব সম্পত্তি নষ্টের জঙ্গিপনার কোন দিনই বিচার হয়নি। বিগত শতকে এই আওয়ামীদের ষড়যন্ত্রী ইন্ধনে ১৭৩ দিন দেশে হরতাল হয়েছিল। এতে যে শত শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে, গাড়ী পোড়ানো হয়েছে, মানুষ হত্যা করে তারা লাশের রাজনীতি করেছে। এর কোন বিচারও হয়নি, তবে এদের বিচার জমা খাতায় থাকবে। আওয়ামী নাম নিয়ে যে বা যারা এসবে রসদ যুগিয়ে যাচ্ছেন এদেরকে ইহ ও পরকালেও এর খেসারত বহন করতে হবে। প্রতিটি অপকর্মের চুল পরিমাণ বিচার অপকর্মীকে বইতে হবেই, এর থেকে পালিয়ে যাবার কোন সুযোগ নেই। বিগত এক লেখাতে ‘অবৈধ সরকারের আয়নাবাজি’ নামে তাদের দাগাবাজির এক চিত্র তুলে ধরেছিলাম। আজো সেই সূত্রে পাওয়া আরো কিছু কথা না বলে পারছি না। এসব তাদের সাজানো সারিবাঁধা অনাচারের অল্প কিছু মাত্র। 

মুজিবের মেয়ে বাংলাদেশে যা করছেন তা অকস্মাৎ কোন ঘটনা নয়। তার বাবা শেখ মুজিবও মুক্তিযুদ্ধে যেমন ছিলেন না তেমনি রক্ষীবাহিনী নামের এক দানব বাহিনীর মাধ্যমে স্বাধীন একটি দেশের মানুষকে ভয়ংকর দুর্যোগের দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। ঐ সময় ভারতীয় বাহিনী এ দেশ থেকে গেলেও মানুষ ঐ দানবদের সাথে দেশীয় দানবদের আক্রমণে বিধ্বস্ত হতে থাকে। এটি শুধু ভারতের মেজর জেনারেল উবানের নেতৃত্বেই গঠিত হয় নাই অনেক ভারতীয়রাও এখানে সরাসরি যুক্ত থেকে দেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম চালু রাখেন বলে জানা যায়। মুজিবের কর্তৃত্বের সাথে ওটি খুব মিলে যায়, তাই জাতীয় রক্ষী বাহিনী এক্ট নামে ১৯৭২ সালে মুজিব এটি জারি করেন। যিনি চাইতেন না কোন বিরোধী দল থাকুক, সচেতনদের লেখনীতে উঠে এসেছে পাঁচটির বেশী বিরোধী আসন দিতে তিনি নারাজ ছিলেন। অপকর্মের অবাধ স্বাধীনতা নিয়ে রক্ষী বাহিনী গোটা জাতির উপর হামলে পড়ে। ঘটনার ধারাবাহিকতায় যদিও জিয়াউর রহমানের সুবাদে শেখ হাসিনা এদেশে এসে মুজিবের হাতে বিলুপ্ত মৃত আওয়ামী লীগকে কবর থেকে তুলে আবারো রাজনীতি শুরু করেন। বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের সুযোগও করে দেন জিয়াউর রহমান। আকারে ইঙ্গিতে বেশ-ভূষায় তিনি কান্নাকাটি করে সরল মানুষদের দ্বিতীয়বারের মত প্রতারণায় নামেন। সহজ সরল মানুষরা তাকে গ্রহণ করেছিল কিন্তু তিনি তাদের সে সরলতার কোন মর্যাদা দেননি। “তোমরা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকিও কৃতঘ্ন হইও না (আল কুরআন)।” আদেশকৃত এ কথা থেকে বুঝা যায় কৃতঘ্ন বা অকৃতজ্ঞ হওয়া একটি মানুষ ভয়ংকর অধঃপতিত নিকৃষ্ট জীব মাত্র। শেখ হাসিনা ভারত থেকে যার মদদে ফেরত আসেন, এসেই তার বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করে তার মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে এ মাটিতে পদার্পণ করেন। তিনি প্রায়শ বলেন জিয়াউর রহমানই তার বাবাকে হত্যা করেছেন, এ কথাটি তার ঐসব বিধ্বংসী ষড়যন্ত্রের অংশ মাত্র। হাসিনা তার শাসনামলে যত মিথ্যাচার করেছেন, তার কোন ইয়ত্তা নেই। কোন কোন রসিক জন আবার মিথ্যাচার সিরিয়েলি লিপিবদ্ধ করেছেন। লিখিত আকারে তা চিহ্নিত ও বর্ণিত আছেই জনতার আদালতে। ভারতফেরত হাসিনার কয়টি বড় অপকর্ম আনছি একটি লিখিত দলিল থেকে। যা তার প্রাইভেট সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান রেন্টু নিজের ফাঁসি চেয়ে জাতিকে সচেতন করে গেছেন যাতে এ জাতি বাঁচে। নীচে তার পৃষ্ঠাসহ ঘটনার সামান্য উল্লেখমাত্র। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে বইটি বাজেয়াপ্ত করে রেখেছে সরকার যার জন্য মানুষ বইটির ভিতরে ঢোকার সময় সুযোগ পেয়েছে কম। সরকারের বুকের পাটা নেই ঐসব প্রকাশিত খবরাদি মোকাবেলা করার, ঐ হাসিনা সরকারের আমলেই তিনি বইটি ছাপেন এ যুক্তিতে তার প্রতিটি কথাই তথ্য ও যুক্তি দিয়ে সত্যে মোড়া। আর প্রতিটি ব্যাখ্যাকৃত ঘটনাই প্রমাণ করে এর সত্যতা কত জীবন্ত ও স্পষ্ট, বাংলাদেশের রাজনীতি বুঝতে হলে এটি প্রতিটি বাংলাদেশীর পড়া উচিত। “আমার ফাঁসি চাই” গ্রন্থ থেকে সামান্য দাগ সমূহ।   

(১) ৮৩ এর মধ্য ফেব্রুয়ারির ছাত্র হত্যা ছিল টাকার বিনিময়ে করা হাসিনার অর্ডারি লাশ (৪৬ পৃষ্ঠা)। গুলিবিদ্ধ জয়নাল ও জাফরের লাশ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে, এ লাশের কোন বিচার পায়নি ছাত্ররা। বরং উল্টো হাসিনা এরশাদের সাথে শর্তবদ্ধ সমঝোতা করে ছাত্রদের বিরুদ্ধে একশন নিতে উৎসাহ যোগান। জানা গেল অজ্ঞাত পরিচয়ের সাথে (?) তিনি কালো বোরকা পরে অজ্ঞাত স্থানে গিয়েছেন (৪৯ পৃষ্ঠা)। অতঃপর ৮৪ সালে ঐ একই কায়দায় রুদ্ধদ্বার কক্ষে ছাত্র আন্দোলনের নামে পৈশাচিকতার মহড়া মিটিং ডাকেন। এভাবে হাসিনার সহযোগিতায় চলমান থাকে এরশাদের প্রতাপী মসনদীয় স্বৈরশাসন। টাকার বিনিময়ে রায়ট পুলিশের গুলিতে ট্রাকের চাকায় পিষে হত্যা করা হয় সেলিম ও দেলোয়ারকে। এক দানবীর নির্দেশে তাদের মায়ের বুক খালি করে তারা রাস্তায় লুটিয়ে মরে। এমন খবরে পুলকিত নেত্রী আবারো ছুটেন লং ড্রাইভে (৫১ পৃষ্ঠা)।  

(২) পরপর ছাত্র হত্যায় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা আন্দোলনে যেতে চাইলে আশ্বস্ত করে হাসিনা বলেন, “আমাদের শত্রু ছিল জিয়া, এরশাদ নয়। আবারো আমাদের মূল শত্রু বিএনপি, জিয়া তো শেষ। এরশাদ মাত্র ক্ষমতা ধরে রেখেছে। আমরা এরশাদের বিরুদ্ধে সরাসরি যাব না। আমাদের এখন প্রধান কাজ বিএনপিকে চিরতরে শেষ করে দেয়া। এভাবে এ জাতির ঘাড়ে এরশাদ নামের একটি দুর্বৃত্ত স্বৈরশাসক দাঁড় করিয়ে দেন শেখ হাসিনা (৫০, ৫২ পৃষ্ঠা)। ৮৬ এর নির্বাচন প্রক্রিয়া, দেশ দুই দলে ভাগ হলো। হাসিনার দল তার নিজের দেয়া বেইমানের তকমা লাগিয়ে সমঝোতা করে এরশাদের সাথে নির্বাচন করে, আর খালেদার দল আপোষহীন আন্দোলনে অনড় থাকে। 

(৩) হাসিনার বলা ও খেলা ছিল আন্দোলন আন্দোলন খেলা। থাকেন খালেদার পিছন পিছন ভান করেন আন্দোলন করছেন, নাম লাগান মাত্র; ছাত্রদেরকেও সেই নির্দেশ দেন (৫৭ পৃষ্ঠা)। ছাত্রলীগদের এভাবে দানবরুপে প্রতারকরুপে গড়ে তোলেন হাসিনা। সেদিন নেতৃত্বে থাকেন খালেদা জিয়া আর জীবন দেয় বুকে “স্বৈরাচার নিপাত যাক” আর পিঠে “গণতন্ত্র মুক্তি পাক” খচিত নূর হোসেন (ঐ)।  

(৪) ১৯৯১ সালে অবাধ স্বচ্ছ একটি নির্বাচনের পর খালেদা জিয়া জিতলেন। খালেদার বিজয়ের পর হাসিনা বললেন তাকে তিনি একদণ্ড শান্তিতে থাকতে দিবেন না। যেমন বলা তেমন কাজ। প্রথমে অভিযোগ তুললেন সূক্ষ্ম কারচুপির, ১৭৩ দিনের হরতাল তার বাস্তবতা। এরপর হাসিনার পদত্যাগ নাটক ও তার মিথ্যাচারিতা সবই তার ধারাবাহিকতা চলছে আজ অবধি। এই হাসিনা নিজেও এক স্বৈরশাসকের কঙ্কাল হয়ে বেঁচে আছেন; কারো দৃষ্টিতে মাফিয়া রানী, লেডী হিটলার, মিথ্যা প্রচারের নায়ক গোয়েবলসএর অনুসারী আজ অবধি।

(৫) এরশাদ আর জিয়ার মাঝে কি তুলনা চলে? না চলে না। জিয়া ছিল এ জাতীর অস্তিত্ব, প্রাণ, জীবন দানের অসাধারণ এক অর্জন। হাসিনার সাহসে কুলায় নাই গদিতে যাবার, তাই ক্ষমতালোভী এরশাদকে এগিয়ে দেয়, স্বৈরশাসকের তকমা লাগিয়ে, যেন নব্য আইয়ুব খান। হাসিনা রইলেন পিছে এরশাদের বোন হয়ে, আইয়ুবের তৃতীয় প্রেতাত্মা হয়ে। 

(৬) কারো ভালো বা অর্জনকে তিনি সইতে পারেন না। তাই জাহানারা ইমামও তার চোখের শূল ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধেও তিনি মিথ্যাচার প্রচারে অবদান রাখেন (৬৩ পৃষ্ঠা)।

 (৭) বাংলাদেশে হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ যুগ যুগ ব্যাপী বর্তমান। এর গোড়াতে বিষ ঢালেন শেখ হাসিনা। তিনি কৌশলে হিন্দু মুসলিম রায়ট লাগান যেখানে মুসলিমরা প্রহরা দিয়ে হিন্দুদের নিরাপত্তা দিয়েছে সেখানে তিনি নিজে টাকা খরচ করে হিন্দু মুসলিম রায়ট লাগান, এতে বিশ্ব জানলো বাংলাদেশের মুসলিমরা হিন্দু নির্যাতন করে। এর জন্য ঢাকা শহরের সব গুণ্ডা বদমাশদের হাতে নগদ ৫ লক্ষ টাকা তুলে দেয়া হয় (৯২ এর হিন্দু মুসলিম রায়ট ৬৩ পৃষ্ঠা)। বললেন, এখনই রায়ট লাগাতে পারলে সার্ক সম্মেলনও পণ্ড হয়ে যাবে। এসব ষড়যন্ত্রে বাড়তি সচেতনতা হিসাবে নিজের টেলিফোন ব্যবহার না করে পাশের চাচাতো চাচা শেখ হাফিজুর রহমানের বাসা থেকে কল করা হয় (৬৪ পৃষ্ঠা)। পাঁচ লক্ষ টাকা ছাড়াও নগদে কড়কড়ে কয়েকটি করে এক শত টাকার নোট দাঙ্গাবাজদের হাতে গুজে দেয়া হয়। হিন্দুরাও বাড়তি সুবিধা পেতে কিল খেয়ে কিল হজম করতো। যারা তাদের মারে, তারা উল্টো নির্দোষদের দিকে আঙ্গুল দেখাতো হাসিনাকে সুহৃদ ভেবে। এতে তারা কিলও খেতো আবার লাভের গুড়ও তারা জমাতো। বাকী কিলগুলো পড়তো নিরপরাধ মুসলিমদের উপর। ওরা নির্দোষ মুসলিমরা নানা ভৎর্সনা লাভ করতো আর একুল ওকুল হারিয়ে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে থাকতো। শুরু হলো হৈ হৈ করে শিববাড়ী মন্দির, ঢাকেশ্বরী মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন, তাতি বাজার, শাঁখারি পট্টি, বাংলাবাজার, মালাকাটোলা, মিলব্যারেক, গুসাইবাড়ী, নারিন্দা, টিকাটুলি ও ইসলামপুরে চলে টাকার অঙ্কে খেল খতম কাজ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও এর ঢাকা আসা বন্ধ হয়। সার্ক সম্মেলন পণ্ড হয় (৬৫ পৃষ্ঠা)।

 (৮) কোকোর মৃত্যুর পর বিধ্বস্ত খালেদার উপর অভিযোগ তিনি কেন হাসিনার সাথে দৌড়ে বের হয়ে এলেন না। ধারণা সেদিন হাসিনা খুব উৎফুল্ল ছিলেন কারণ তিনি নিজ দলের ছাত্ররা মরলেও উৎফুল্ল থেকে মিষ্টি বিতরণে আগ্রহী হন। ওদিকে সেদিন অসুস্থ মুমূর্ষু মা খালেদা জিয়া পুত্রের মৃত্যু শোকে কাতর থেকে ডাক্তারের নির্দেশে বিশ্রামে ছিলেন। ঐ সময়ই কেন হাসিনাকে আসতে হলো! তার কি উচিত ছিল না সময় নির্ধারণ করে সঠিক সময়ে তাকে দেখতে আসা। টকশোতে সব সময় কিছু দালালকে সমস্ত দেশ লুটপাটের জবাবে এই কয়টি কথাকে ঢাল হিসাবে দাঁড় করাতে দেখি। কারণ হাসিনার অপকর্মের কোন জবাব তাদের জানা নেই, এই দু তিনটি সাজানো নাটক ছাড়া। একটি হলো খালেদা কেন দৌড়ে বের হলেন না। আর তারেক ও তার মা কিভাবে বোমা মেরে হাসিনাকে মারতে গেলেন? কেন সারা দেশে একযোগে বোমা ফুটলো? কেনো তাকে ১৯ বার মারার চেষ্টা হলো। এসব সত্য হলে মানুষ সবার আগে এরশাদকেও মারতে যেত। কিন্তু এরশাদকে তারা একবারও মারতে গেল না। কারণটি কি? এক কথায় সহজ উত্তর এসবই মিথ্যা বলাতে পারদর্শী হাসিনার নিজ হাতে সাজানো নাটক। যেন টকবাজরা বলতে চায় ঐ দিন খালেদা দৌড়ে বের হলে আর হাসিনাকে মারতে এই ২০০৪ এর বোমা নাটক না হলেই তারা নির্দোষ বলে গণ্য হতেন। সমস্ত জাতি জানে অসংখ্য প্রশ্নবিদ্ধ আচরণে শেখ হাসিনা এসব নাটকের অংশ সজীব রেখেছেন। তার শত শত অপকর্মকে ঢেকে রাখার জন্যই এসব মিথ্যা নাটকের অবতারণা। নিজ হাতে বোমা মারার সব সূতানাতা ঠিক করে বহু পরে তারেক জিয়ার নাম জড়িয়ে অভিযোগ তোলেন। আর মৃত ছেলের মাকে দেখতে কি সত্যিই হাসিনা উদগ্রীব ছিলেন, এটি কি তাই ছিল? কিন্তু ঘটনার ধারাবাহিতা বলে তার কারসাজিতে সত্যটা হচ্ছে তার দুই ছেলেকেই হাসিনা মারতে চেয়েছিলেন! অত্যাচারে নিগ্রহে এক ছেলে মরেছে আর অন্য ছেলে আজো ভিন দেশে লড়ে যাচ্ছে আর মায়ের মন ঐ দুর্বৃত্তকে দেখে খুশীতে নেচে উঠবে! কোকোর কথা থাক আমরা জানি খোদ হাসিনা তার স্বামীর সাথেও মানবিক আচরণ করেন নাই। এটি অনেকেই জানেন তাকে বহুদিন গৃহবন্দী করে রেখেছিলেন। মেয়ে পুতুলের বিয়ের দিনে ডঃ ওয়াজেদের অমতে বিয়ে হওয়াতে খালেদা জিয়ার সাথে মাত্র ৩/৪ মিনিটের জন্য দেখা হলেও হাসিনার সাথে তার কোন কুশলাদি হয়নি, তিনি খালেদা জিয়ার সাথেই বের হয়ে গেলেন (৭৫ পৃষ্ঠা)। তিনি যে কত ভদ্র ও সুশীল এ থেকেই প্রমাণ পাওয়া যায় কোকোর জন্য তিনি কতই না নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন, যেখানে স্বামীই মানুষের মর্যাদা পান নাই! ডঃ ওয়াজেদ এটি বুঝতে পেরেছিলেন হাসিনার হাত দিয়ে দেশ ভীষণ সংকটের মাঝে পড়েছে। এসব কথা তিনি বার কয়েক উচ্চারণও করেছেন। সাথে সাথে গৃহবন্দিত্বই তার ভাগে জমা হয়েছে, এসব অনেকেই জানেন, দৈবাৎ হয়েও মিডিয়াতে এসেছে।

 (৯) সেক্রেটারীয়েটের একজন কর্মচারীকে কিভাবে দিগম্বর করা হয়েছিল তাকি ভুলে গেছেন দেশবাসী? ওটিও ছিল হাসিনার নির্দেশে করা, একজন অসুস্থ মানুষ না হলে এসব কোন সুস্থ মানুষ করতে পারে না। তিনি অনেক টাকা খরচ করে ওটি করিয়েছিলেন (৮১ পৃষ্ঠা)। এটিও সত্য আদালত তাকে রং হেডেড তকমা দিয়েছিল। (খাতা কলম গোলাবারুদ ও দিগম্বর কাহিনী শিরোনামে ৮২ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য), ১২ ডিসেম্বর ১৯৯৪ সাল। মঞ্চে উঠেছেন বিরোধী নেত্রী হাসিনা। মঞ্চে শুধু ছাত্রনেতারা ও হাসিনা নিজে, সেদিন কোন নেতা নেই, তারা নীচে বসা। ছাত্রদের হাতে নাটকীয় ভঙ্গিতে খাতা কলম তুলে দিয়ে এক অসাধারণ পরিবেশ তৈরি করা হলো। আর উদাও আহবান করা হলো পূর্ণ উদ্যমে পড়াশুনা করো। ফটো সাংবাদিকদের ক্লিক ক্লিক শব্দে চারদিক ঝলসে উঠলো। ঐদিনই বিকেল তিনটায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের লাইব্রেরী কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা অজয় কর, পঙ্কজ, হিমাংশু দেবনাথ, জ্যোতির্ময় সাহা, ত্রিবেদী ভৌমিক, ও আলমসহ মোট ৯ জনকে ডেকে গোলাবারুদ ও অস্ত্রসহ কেনার জন্য ১ লক্ষ টাকা হাসিনা দেন। বলেন, আগামী ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করার পর তোমরা ঢাকা শহরসহ সারা দেশে নজিরবিহীন ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবে। খালেদা জিয়ার পতন না হওয়া পর্যন্ত এসব চলবে। দৈনিক ৫/১০টা লাশ তোমাদের ফেলতেই হবে। নইলে জিয়ার পতন হবে না। গোলাবারুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে বাইরে রাখবে, নয়তো পুলিশ পেয়ে যাবে। হরতালের দিনেও সচিবরা কার্যালয়ে হেটে যায় ঐ দিন তোমরা ওৎ পেতে থাকবে এবং তাদের কাপড় খুলে নিয়ে তাদের অপদস্থ করে দিগম্বর করে দিবে। ৯ জনকে দুদলে ভাগ করে দিয়ে একদলকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের দায়িত্বে ও অন্য দলকে সচিবকান্ড ঘটাতে নির্দেশ দেন। পর পর অনেক হরতালেই তারা সফল হতে না পারলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং শর্তের হুমকি দেন। শর্ত হচ্ছে এটি করতে না পারলে তাদের দেয়া এ বাবদ টাকা ফেরত দিতে হবে, মানে এটি করতেই হবে। অতঃপর আলম নামের মহা গুণধর (?) হাসিনার ছেলে সেটি করতে পারলে তিনি আনন্দে নেচে উঠে বলেন তাকে নিয়ে এসো, মিষ্টি খাবো তার সাথে। ততক্ষণে আলম শ্রী ঘরে (৮২/৮৩)। 

(১০) দিনাজপুরে ইয়াসমীন নাটককে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ভয়ংকর রূপ দানেও হাসিনার হাত ছিল। সেখানেও তিনি অজস্র টাকা ঢেলে একে ফলপ্রসূ করেন। নগদে ২০ লাখ টাকা দেয়া হয় এবং প্রয়োজনে আরো পৌঁছে দেয়া হবে কাজ পুরোপুরি হলে। এসব কাজে সন্দেহ এড়াতে হাসিনা সব সময় ঐ চাচার ফোনই ব্যবহার করতেন। খালেদার সময়ে দিনাজপুরে এক ইয়াসমীনের বদলে পুলিশের গুলিতে নিহত ৭ লাশ জমা করে বিবেচক খালেদাকে তিনি বেকায়দায় ফেলেন। সাথে সাথে তিনি দিনাজপুরে ছুটে গিয়ে মানুষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়ে কিছু মায়াময় বুলি আওড়ে ঢাকাতে ফেরত এসে বললেন, যত গুড় (টাকা!) তত মিঠা হয়নি (৮১ পৃষ্ঠা)। 

(১১) তিনি এমন একজন নেত্রী যিনি তার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিতেন এবার ‘পুলিশের লাশ চাই, মিলিটারির লাশ চাই’ (৮৩ পৃষ্ঠা)। বড় অংকের টাকা খরচ করেও সেটি ঘটানো হয়। এভাবে শত শত মানুষকে তিনি অর্ডার দিয়ে হত্যা করেন। এমনকি এসব বলে শেষ করার মতো নয়। তিনি বলেন জিয়া মুজিবকে মেরেছেন বস্তুত সত্য হচ্ছে তিনি জিয়ার মৃত্যুর পারোয়ানা নিয়ে ভারত থেকে আসেন। আর পরবর্তীতে তিনি খালেদাকে হত্যা করতেও আগাম টাকা বায়না করেন। জাতি ঘুমিয়ে আছে বলে সত্যটা জানে কম। 

(১২) এবার ঐ ভয়ংকর অসুস্থ মহিলাটির প্রকৃত স্বরূপ স্পষ্ট করতে হলে ঐ মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান রেন্টুর পুরো বইকে এনে হাজির করতে হবে। এবার শেষ একটি কথা তার দুর্বৃত্তায়নের কথা বলে আজকের ডজন নম্বর শেষ করবো। যখন তিনি এসব কাজ করে সারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারছিলেন আর গোটা দেশ এর জন্য বিরোধী খালেদাকে দোষ দিচ্ছিল। আজো অনেককে বলতে শুনি এ দুটি দলই সমান সমান, বস্তুত এরা আচরণে এতই পরস্পর বিরোধী যে এদেরকে এক পাল্লায় মাপা বেমানান। দুজন দু পাড়ের বাসিন্দা। তিনি নিজে অর্ডার দিয়ে লাশ ফেলতেন আবার পরোক্ষনেই রুমালে গ্লিসারিন মেখে দৌড়ে মেডিক্যালে ছুটে যেতেন আর চোখে রুমাল ধরে রাখতেন, ক্লিক ক্লিক শব্দে সাংবাদিকরা ছবি তুলতেন আর মুজিব কন্যা অপার আনন্দ বুকে নিয়ে লাশের বোঝা ঠেলে নিজের বিলাস ঘরে ফিরতেন। আনন্দের আতিশয্যে এতই উৎফুল্ল থেকেছেন যে কারো অপেক্ষা না করেই হাসিনা নিজেই স্কুটারে আগুন দেন। দেখুন ৮৫ পৃষ্ঠায় ইতিহাস কি ভাবে কথা বলতে জানে। এ মহিলা নিজেই গাড়ীতে আগুন ধরানোর মত মেধার অধিকারী তিনি। এ জন্যই সব সম্মানিত জনদের বিরুদ্ধে গাড়ীতে আগুন দেয়ার মামলা, পেট্রোল বোমার মামলা দিতে তিনি পিছপা হন না। সব কর্মেই তার হাত লম্বা। তাহাজ্জুদের নামাজ ও মদীনার সনদে দেশ চালাবার প্রতিশ্রুতি দেন, প্রায়শই নামাজের বাহাদুরী, হজের পাগড়ি পরে নিজেকে ধার্মিক প্রচার চালান। সারাক্ষণ কথায় কথায় জায়নামাজ খোঁজা তার স্বভাবের অংশ, এসব জাতিকে শোনান। সহজ সরল দেশবাসীকে প্রতারণা করাই যাদের একমাত্র ধ্যান ধারণা কৌশল। এরাই ধার্মিক না হয়েও প্রকৃতপক্ষে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে আর সারাক্ষণ বাকী ধার্মিকদেরকে টিটকারি করে কপট মন্তব্য করে। 

১৫ নভেম্বর ২০২০

বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখাটি আমার দেশ অনলাইনে আজ ১৯ নভেম্বর ছেপেছে।

জয় শ্রীরাম ও কার্টুন মারণাস্ত্র

নাজমা মোস্তফা

খবরের শিরোনামে কিছু ম্যাসেজ এসেছে। মুসলিমরা সব পারে কোন মানুষকে প্রভুভক্তি দিতে পারে না। তাদের মর্মবাণী খুব অল্পকথা কিন্তু খুব উচ্চকন্ঠ। “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, কোন আইকন নেই যাকে ওরকম ভক্তি করার মত। নবী মোহাম্মদ (সঃ) তাদের প্রাণের জন একজন মানুষ, যার হাত দিয়ে তারা এ পরম সত্য লাভ করেছে, বিশে^র অসাধারণ নির্দেশনামা ঐশীগ্রন্থ কুরআন তাদের হস্তগত হয়েছে। আজ চৌদ্দশত বছর থেকে যা অপরিবর্তনীয় হয়ে মানুষকে পথ নির্দেশ করছে। মুসলিমরা কখনোই তাদের নবীর পূজা করে না, তবে তাকে প্রাণদিয়ে ভালবাসে। 

ধর্মনিরপেক্ষ হিন্দু ভারত চায় মুসলিমরা তাদের ধর্মের আল্লাহর নির্দেশিত খাদ্য গরু খেতে পারবে না। করো জোড়ে গরুকে মা বলে ডাকতে হবে নইলে মরার বিপদ, এবং একজন মানুষ বন্দনার নামে ‘জয় শ্রী রাম’ বন্দনা গাইতেই হবে। গরুকে বাকীদের কেন মা মানতে হবে? ভারতে জয় শ্রীরাম এখন মুসলিম নিধনের বড় হাতিয়ার। যদিও তথ্য বলে ভারত উচ্চ মাত্রায়  গরুর মাংস  রপ্তানীকারক দেশ। আবার ঘুষের বিনিময়ে গরু পাচারে বিএসএফ জড়িত সিবিআইএর প্রতিবেদনে সে সত্যও উঠে এসেছে (অর্থ সূচক, কেএসআর, সূত্র আনন্দবাজার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০)। বাংলাদেশে গরু আদান প্রদানে জীবন দেয় বাংলাদেশীরা একতরফাভাবে কিন্তু বিএসএফ ও ভারতের অসাধু কর্মকর্তারা কাস্টমসসহ ভারতের সরকারী কর্মকর্তারাও জড়িত থেকে কোটি কোটি টাকা কামায়। বড় গরুকে বাছুর বানিয়ে নিলাম করে গরু প্রতি বিএসএফ পেতো ২,০০০ আর কাস্টমস ৫০০ টাকা। পকেট গরম করা ব্যবসা আর পিটুনী মার বাংলাদেশীদের, বর্ডারে লাগাতার মৃত লাশ তাদের ভাগের জমা। ভারতের গোরক্ষকদের আঘাত করে অতীতে বিবেকানন্দ বলেছিলেন,  তোমরা যে উপযুক্ত গরুর সন্তান, তোমাদের আচরণে তা স্পষ্ট। প্রচারে বন্ধুত্বের এসব গুলি বড় নির্মম! ১০ জুলাই ২০১৯ তাবরেজ আনসারী “জয় শ্রীরাম” না বলায় তাকে মারধর করা হয়। তারপর পুলিশ হেফাজতে চারদিন পর তার মৃত্যু হয়। তাকে তার পরিবারের কারো সাথে দেখাও করতে দেয়া হয়নি। জুন মাসেও এরকম অত্যাচারে অনেকেই বিধ্বস্ত হন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি জয় শ্রীরাম বলেছেন, তারপরও তার রক্ষা হয়নি। ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের অধর্মাচারের নমুনা, পশুরও একটি নীতি থাকে, কিন্তু এদের নীতি থাকতে নেই। জয়শ্রীরাম, বন্দেমাতারাম, শ্লোগানগুলি যথাক্রমে ভারত মাতা কি জয়, পাকিস্তান মুর্দাবাদ উল্লেখযোগ্য। পাকিস্তান তাদের চিরশত্রু কারণ এরা মুসলিম। কাশ্মীর, বাংলাদেশ বা অন্য যে কোন মুসলিম দেশ বাকী থাকবে কেন, প্রতিটি আদর্শে অটল থাকা মুসলিম দেশ ভারতের শত্রু। যেখানে তারা তাদের নিজ নিচুবর্ণের নাগরিককে শত্রু জ্ঞান করে, সেখানে বাকীদের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। আসামের বড়পেটা জেলাতে একদল মুসলিমের উপর হিন্দু টেররিস্টরা হামলে পড়ে। মোম্বাইতে ২৫ বছরের এক টেক্সিচালককে তার বিকল হওয়া টেক্সি ঠিক করার সময় তার উপর একযোগে হামলে পড়ে। একইভাবে কলকাতায় ১জন মাদ্রাসা শিক্ষক ট্রেনে ভ্রমণকালে নাজেহাল হন। তার ড্রেস ও দাঁড়ি নিয়ে টিটকারী চলে। তাকে একইভাবে শ্লোগান দিতে বললে তিনি অস্বীকৃতি জানান তখন তাকে তারা চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে তিনি মারা না গেলেও আহত হন (আনন্দবাজার পত্রিকা সূত্র) ।এসব শুধু রাস্তাঘাটে নয়, পার্লামেন্টেও চলছে এসব স্টানবাজি খেলা । 

গোরক্ষার নামে তারা বাড়তি লাই পেয়ে এসব করছে। হাট থেকে দুটো দুধেল গাই ৭৫,০০০ টাকায় কিনে ফিরছিলেন পেহলু খান। জয়পুর থেকে ওলওয়ার ফিরছেন তারা ছয়জন। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তারা হামলার শিকার কারণ তারা মুসলিম। চালক হিন্দু থাকাতে তার রক্ষে হয়। তাকে পালানোর নির্দেশ দেয়া হয়। বাকী পাঁচজন বেধড়ক মারের পর আহত হন। পেহলু খান মারা যান। গোমাতা কেনার সাধ তার চিরতরে পুরো হয়ে যায়। এ ঘটনা রাজস্থানের । মালদহ থেকে রাজসমন্ধে মজুরীর কাজে এ মুসলিম ভাইটি যাত্রা করলে পথে শম্ভুলাল রেগর পিছু নেয়। পরে ধারালো অস্ত্রে ধরাশায়ী করে তার দেহে আগুণ ধরায়। এর নাম ভারত আর তার মুসলিমরা। এ ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের। মালদহের জামাল মুমিন ট্রেন ধরেছেন হাওড়া থেকে, কয়জন যুবক তাকে জানালার কাছ থেকে উঠে যেতে নির্দেশ করে। বিস্মিত জামাল কিছু বুঝে উঠার আগেই শুরু হয় মার কিল ঘুষি। চলে ধর্মের বাক্যবাণ। সারা ভারত জুড়ে এ ধারার কেরিক্যাচার জোরেসোরে মোদির ভারতে চলমান। রাজস্থান থেকে বাংলা, হরিয়ানা থেকে কর্নাটক । গোরক্ষার নামে, মুসলিম, নিধন ভারতের বিরত্বের বাহাদুরী। ভারতের দৃষ্টিতে মুসলিমরা গরুরও অধম। ১৮৫৭ খৃষ্টাব্দের সিপাহী বিদ্রোহের ঠেলা সামাল দিতে গিয়ে ডিভাইড এন্ড রুলের নামে যে বিষবৃক্ষ পুতে গেছে বৃটিশ, ঐ তাপে আজ অবদি ভারত পুড়ছে। এর কারণ ভারতের বড় বড় বুদ্ধিজীবিরা ওতে বাড়তি তাপ দিয়েছেন। যে কাজ বাংলাদেশে বা অন্যত্র ঐমাপে হয় নি বলেই ভারত সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতায় কাঞ্চনজঙ্ঘা, হিমালয়ের চূড়া। ২০১০ থেকে মোদির ভারত লাফিয়ে আগাচ্ছে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ তে ৮৫টি হামলা হয়। আক্রান্ত হয়েছেন ২৮৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের। ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে মুসলিম নিধনের জয়জয়াকার। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, হরিয়ানা, ঝাড়খন্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, সবরাজ্যে একই নাটক চলমান। ২০১৭ সালে জলপাইগুড়ি থেকে কোচবিহারের তুফানগঞ্জে যাওয়ার পথে নুরুল ইসলাম , আনোয়ার হোসেন, ও হাফিজুল শেখ আক্রান্ত হলে, গাড়ী চালক নুরুল পালান কিন্তু বাকী দুজনের মৃত্যু হয় গণপ্রহারে। প্রশাসন এসব কাজে খুব বাধা দেয় না। ভোক্তভোগীরাসহ বাস্তবতা তাই প্রকাশ করে। বরং পুলিশ হেফাজতে মারা আরো সহজ হয়। মোদী সরাসরি উস্কানীতে না থাকলেও শাসক দলের নিরব সমর্থন ব্যতীত এসব হতো না। সম্প্রতি আরো একটি আচার বেড়েছে মানুষ নিধনের অস্ত্র হিসাবে গুজবে ছেলেধরা হিসাবে প্রচার চালিয়ে মানুষ নিধন করা হচ্ছে।

গো পূজার নামে মুসলিম নিধনের অসম্ভব এক খেলা ভারত সচল রেখেছে ধর্মনিরপেক্ষতার খোলসে। একই ভাবে ফ্রান্সেও ঐ খোলসের আড়ালে মুসলিমদের শিক্ষা দিতে তৎপর। মুসলিম দেশগুলোকে কিভাবে আসামী বানিয়ে গোটা দেশ ধ্বসিয়ে দেয়া হয়েছে তার উদাহরণ সবার জানা। অতীতের ঘটনাগুলি তার জ¦লজ্যান্ত প্রমাণ। বুশের ক্রুসেড নাম নেয়া ৯/১১এর হত্যাযজ্ঞের নিহতরা কার পাপে লাশ হয়েছে, আজকের বিশ^ তা জানে, লুকানো নেই। বুশেজ ওয়ার, মাইকেল ম্যুরের ফারেনহাইট ৯/১১, লুজ চেঞ্জ ৯/১১ এসবের উপর অসংখ্য প্রামাণ্য প্রতিবেদন ময়দান চষে বেড়াচ্ছে। ফ্রান্সে মতামতের স্বাধীনতা শিখাতে গিয়ে স্কুল শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি কাজটি করে নিজেও প্রশ্নবিদ্ধ। তারচয়ে কম বয়সের আবদৌলখ ছেলেটিও নিজের জীবনকে বেওকুফের মত মৃত্যুর দিকে ঠেলে ঘটনাস্থলেই পুলিশের গুলিতে মারা গেল। সমগ্র মুসলিম বিশ^ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে যখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো বাহাদুরী করে বলেন তিনি তার অবস্থান থেকে সরবেন না, ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ থামবে না, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। উল্টো তিনি বলেন মুসলিমরা গোটা বিশে^ বিচ্ছিন্নতাবাদকে জন্ম দিয়েছে, এরা সংকট তৈরী করছে। গোটা মুসলিম বিশে^ ফ্রান্সের পন্য বয়কটের হিড়িক পড়ে। বহুদিন থেকে বাংলাদেশ সংকটের কারণেও পন্য বয়কটের অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধেও। মুসলিমরাও এমন হতবুদ্ধ হয়ে পড়েছে যে তারা অনেক মুসলিম মনে করছে তারা নিজেরাই অপরাধী। এটি সারা বিশে^র সচেতনরা জানে ফলস ফ্লেগ নামের এক অপদেবতা গোটা দুনিয়া চষে বেড়াচ্ছে। দৃশ্যত দেখা যায় মুসলিমরা আসামী, যদিও এসব ফলস ফ্ল্যাগের গুটিবাজি মাত্র। বিনা কারণে মুসলিমদের কোনঠাসা করতে বহুদিন থেকে এ খেলা চলছে।

জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন স্বাধীন মতামতেরও একটি লিমিট থাকতে হবে। তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে এ কমিউনিটি এখন পর্যন্ত বিশে^ অনেক ধরণের বৈষম্যের শিকার। সঙ্গত কারণে আচরণে আরো সংযত থাকা জরুরী। তার দেশ ফ্রান্সের জনতার পাশে এভাবে মানবতার বানী নিয়ে হাজির হয়েছে। যে মাধুর্য্যতা ইমানুয়েল ম্যাক্রোর আচরণে ছিল না বরং উগ্রতা দিয়ে তিনি মুসলিম বিরোধী ভূমিকায় নামেন। উদ্ধত আচরণধারী ভারত সময় ক্ষ্যাপন না করেই ফ্রান্সের সাথে একাত্মতা জানিয়ে মাসতুতো ভাই হিসাবে একতার কথা জানিয়েছে। ড্যানিশ ডেইলি এসব প্রথম ছাপে ২০০৫ সালে। ফ্রান্সের চার্লি হেব্দো সেটি আবারও ছাপে ২০০৬ সালে। এসব ধারাবাহিক পূণমুদ্রন চলছে ২০১১, ২০১২, ২০১৫। ২০১৫তে এরকম ক্ষিপ্ত হয়ে দুজন মুসলিম ১২ জনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। ১১ জন মারা যান ও ১১ জন আহত হন। উল্লেখ্য একজন মুসলিম পুলিশও ঐ চার্লি হেব্দোর পক্ষে মারা যায়। উল্লেখ্য ১৬ই অক্টোবর ২০২০ সালে সম্প্রতি স্যামুয়েল প্যাটিকে হত্যা করে এক চেচেন তরুন কারণ শিক্ষক তার ছাত্রদের এসব কার্টুন হজম করা শিখাচ্ছিলেন। মানুষ যখন রাগে তখন হিতাহিত জ্ঞান হারায়। শিক্ষক কিন্তু স্থির মস্তিষ্কে এই কর্মটি করেন, যারা বেঁচে আছে তার ছাত্ররা, তারা ঐ শিক্ষক থেকে কি শিখলো? তারা তাদের বাকী জীবনে এই ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন কথা কেমন করে ভুলবে। তাদের প্রিয় শিক্ষকের ও তাদের প্রিয় সহপাঠির এই অকাল প্রস্থান দুটোই কি তাদের জীবনের একটি বড় ক্ষত হয়ে থাকবে না? অন্যের ছিদ্রান্বেষন করে মিথ্যার প্রচার করাই ধর্মনিরপেক্ষতা, মতামতের স্বাধীনতা, এটা কি একবিংশ শতাব্দীর শিক্ষকরা শিখাবেন? আল জাজিরার বরাতে জানা গেল ‘৮০%এরও বেশী ক্ষতিগ্রস্তরা মুসলিম’এটি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট জানেন। তারপরও কি উদ্দেশ্যে মিঃ ম্যাক্রো এমন উৎসাহী হয়ে মুসলিম বিরোধী অবস্থান নিয়ে উত্তপ্ত কড়াইতে ঘি ঢাললেন?

অনেকের মতে ভারত ও ফ্রান্সের মূলত এটি রাজনীতির খেলা। শাসক কুলের সামনে ঝুলে রাজনীতি ও ভোট। এসব সামান্য খড়কুটো মানুষের সামনে এনে শাসকবর্গ অনেক সময় ভোটের রাজনীতি করে থাকে। একদলকে হামলে অন্য দলকে জায়গা দেয়, এ নষ্ট কৌশল থেকে মানব জাতিকে সরে আসা সময়ের দাবী। মানবতার কল্যাণে সব দেশের জনতার স্বার্থে যা উৎকৃষ্ট, তাই গহণ করা উচিত শাসকবর্গের। রাজনীতির এই কপট নীচতা থেকে বের হয়ে এক বিশ^ সমাজ রচনা করতে পারলেই গোটা মানব জাতি উপকৃত হতো। ধর্মনিরপেক্ষতার নাম নিয়ে বিশে^ যা করা হচ্ছে তা নিন্দনীয়। ধর্মনিরপেক্ষ ভারত কি করছে? ধর্মকে পিটাচ্ছে, খুন জখম করছে। বিরোধী ধর্মের কোন মর্যাদা তারা করে না। ধর্মনিরপেক্ষতার নাম নেয়া এসব ভন্ডামীর অবসান হওয়া জরুরী। মানুষ তো পশু নয়। তার ধর্ম কেন সে পালন করতে পারবে না। জয়শ্রীরাম, বন্দেনাতরম, কার্টুন কেন হবে তাদের মানুষ নিধনের হাতিয়ার? বস্তুত এসব দেশে মানুষের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এসব কসরত। সবার আগে মানুষ হওয়াই শর্তের অংশ। যে বা যারা এসব সংকীর্ণ কাজ করছে, তারা কি মানুষের কাজ করছে? কমরেড এম এন রায় বহু আগেই অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “ইউরোপ মুসলমানদের থেকে শিক্ষা লাভ করে বর্তমান সভ্যতার নেতৃত্বে আসীন হয়েছে। আজো ইউরোপের উদার ও কৃতজ্ঞ প্রকৃতির চিন্তাবিদগণ অবনত মস্তকে এটি স্বীকার করে থাকেন। দুর্ভাগ্যবশতঃ ভারত ইসলামী চিন্তাধারার যথাযোগ্য সমাদর না করার দরুন লাভবান হতে পারে নাই কারণ তারা অস্পৃশ্যতার বেড়াজাল ভুলতে রাজি নয়। আজো ইচ্ছা করলে জাগরণের যুগে মানবতার ইতিহাসের ঐ গৌরবময় অধ্যায় হতে উভয় সম্প্রদায়ের লোকই অনুপ্রেরণা লাভ করতে পারেন” (The Historical Rule of Islam)।

ইসলামের সত্যকে ছড়িয়ে দেবার দায়িত্ব প্রতিটি মুসলিমের। আমাদের অপরিণামদর্শীতার কারণে আমরা এটি গোটা বিশে^ ছড়িয়ে দিতে পারি নাই। এ ব্যর্থতা আমাদের নিজেদের। ইসলাম ধর্ম একটি ব্যতিক্রমী ধর্ম, এটি শুধু মুসলিমদের একার ধর্ম নয়। এটি গোটা বিশে^র ধর্ম। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, ইহুদী, জৈন, পারসিক, শিখ সবার ধর্ম এটি, এটি বিশ^ধর্ম। এর মূল বাণী মানবতার বাণী। এ ধর্ম বড় শক্ত ধর্ম, ছুৎমার্গ নয়, ছুলেই জাত যায় না। এখানে কোন সংকীর্ণতা, অমানবিকতা নেই। মানুষ হিংসের বশবর্তী হয়ে এটি থেকে যোজন যোজন দূরে থেকেছে। যাদের একে লুফে নেবার কথা ছিল তারা হিংসের অনলে পুড়ে একে দূরে ঠেলে রেখে নিজেরাই গভীর অন্ধকারে পড়ে রইলো। যার কারণে তারা জানেও না যে এ ধর্মগ্রন্থে তারাও শরিক, এটি তাদেরও ধর্ম, এ নবী তাদেরও নবী। আমি কুরআনের সুরা সাবা থেকে একটি আয়াত সংযোজন করছি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, “আমি (আল্লাহ) তোমাকে (মোহাম্মদকে) সমগ্র মানব জাতির প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরুপে প্রেরণ করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না”। এই না জানার কারণেই মানুষ এত হিংস্র ও ভয়ংকর স্বরুপ নিয়েছে। তাই উদার চিত্তে আহবান করবো এটি এমন এক ধর্ম যেখানে সত্য ছাড়া মিথ্যার কোন বেসাতি নেই। এর সমস্ত গ্রন্থে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক সত্যতা লুকিয়ে ছড়িয়ে আছে। দুর্ভাগ্য ভারতবর্ষের মুসলিমরা ৭০০ বছর রাজত্ব করেছে কিন্তু সংকীর্ণতা জাতিভেদপ্রথার গোজেমেলে অবস্থানে ভারতবাসী আটকে পড়ে আছে আজ অবদি। মানবতাহীনতা মানুষের মৃত্যুর নিশানা। অতীতে কার্টুনের ভয়ংকর খেলায় ২০১৫ সালে লেখা কার্টুন এক হাস্যকর তামাশা | Nazma Mustafa’s Blog এ উৎসাহী পাঠকরা পড়তে পারেন। আত্মসচেতনতা ও মানবিকতা দিয়েই এর মোকাবেলা করা উত্তম, হিংসা ও সংকীর্ণতা দিয়ে নয়।

১ নভেম্বর ২০২০ সাল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখাটি আমার দেশ অনলাইন ইউকে থেকে নভেম্বরের ৯ তারিখ ২০২০ সংখ্যায় এসেছে। নীচে লিংক দেয়া হলো।

জয় শ্রীরাম ও কার্টুন মারণাস্ত্র

কার্টুন এক হাস্যকর তামাশা

নাজমা মোস্তফা

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: কার্টুন এক হাস্যকর তামাশা পুরোনো লেখাটি উপরে আনলাম বর্তমান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর সাম্প্রতিক পদক্ষেপের উপর নির্ভর করে। এটি পুরোনো লেখা, আজকের নয়)।

ফ্রান্সের প্যারিসে নবী মোহাম্মদ (সঃ)কে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কার্টুন এঁকে যে হাস্যকর তামাশার সূত্রপাত হয় তা অনেক দূর গড়ায়। শুধু এটিই নয়, প্রায়ই বেশ ক বছর থেকে এসব হচ্ছে। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে মুসলিম বিরোধী মূভি “ইনোসেন্স অব মুসলিমস” মূভ্যিটি সারা মুসলিম বিশে^ বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন একটি কলাম লিখেছিলাম “ইনোসেন্স অব মুসলিমস: এক উদভ্রান্ত পাগলা ঢিলের নাম” শিরোনামে। প্রায়ই এসব হয় এবং হচ্ছে, ডেনিশ কার্টুন সাম্প্রতিক সময়ের কার্টুন এসব নিয়ে নাস্তিকদের সাইটে সারা বছরই কলমের মল্লযুদ্ধ লেগে আছে ইসলামিস্টদের সাথে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কখনো মুসলিমরা বিরোধীকে আঘাত করছেন কখনোবা তারা নিজেরাও নিহত হচ্ছেন। কথা হচ্ছে ফাস্টবয়কে লাস্টবয়রা সবদিনই ঘৃণা করে এবং করবে। এতে ক্ষিপ্ত না হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তির মাঝে জবাব দেয়াই উত্তম বলে মনে করি। কারণ যার কাছে যুক্তি সে জিতবেই, তার হারার কোনই সম্ভাবনা নেই। ফ্রান্সের কার্টুনিস্ট চার্লি হেবদো তার ম্যাগাজিনে এক গুচ্ছ কার্টুন এঁকে সারা বিশে^ বেশ বড় রকমের নাড়া তৈরী করতে সক্ষম হয়। এ রোগ ২০১১, ২০১২, ২০১৫ ক্রমেই এসব হচ্ছে একের পর এক, গোটা বিশ^ দেখছে। সাম্প্রতিক সময়ে ২রা জানুয়ারীর ২০১৫ তে দেখা যায় দুজন লোক সশস্ত্র সাজে সজ্জিত হয়ে এক নাগাড়ে ঐ কার্টুনিস্টসহ তার সাথের আরো ১২জন মানুষকে প্রকাশ্য ময়দানে গুলি করে বসে। প্রথমে ১১জন মারা যায় এবং সেখানে আরো ১১জন আহত হয়। ঠিক ঐ সময় সেখানে একজন ফ্রেন্স মুসলিম পুলিশও ঐ বিতন্ডাতে চার্লি হেবদোর পক্ষে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে খুন হয়। মিডিয়া সমান গলাতে প্রচার করছে এসব করেছে মুসলিম টেররেস্ট জঙ্গিরা।

ওদিকে ১১ই জানুয়ারীতে ৪০টি দেশে হর্তাকর্তাসহ এর প্রতিবাদে জড়ো হন প্যারিসের সব মিলে প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন মানুষ। সেদিন তাদের সবার হাতের পতাকাতে একটি ম্যাসেজই ছিল “জে স্যুট চার্লি” এর অর্থ হচ্ছে “আমি চার্লি।” এর পর প্রায় এক মাস পর ১১ই ফেব্রুয়ারীতে নর্থ ক্যারোলিনার ইউনিভার্সিটি টাউন অব চ্যাপেল হিলে তিনজন মুসলিম নিহত হয় যাদের মাঝে এক দম্পতি স্বামী স্ত্রীসহ তিনজন, তৃতীয়জন ঐ মেয়েটির বোন একসাথে একজন সন্ত্রাসীর হাতে মারা যায়। এর ধারাবাহিকতায় ৪৬ বছরের স্টিফেন হিক্সকে আক্রমণকারী হিসাবে পুলিশ আটক করে। এসব ঘটনার পর আমার মনে ঐ কার্টুন দেখার বিষয়ে কিছু উৎসাহ তৈরী হয় যার প্রেক্ষিতে আমি ওগুলো খুঁজতে থাকি। যদিও ফ্রেন্স ভাষা না জানাতে তাদের প্রতিটি কথার অর্থ আমি বুঝতে পারিনি, তবে কিছু ধারনা পাই কিছু কার্টুনের আকার ইঙ্গিত দেখে। দু একটি ছবি দেখার পর আমার এসব দেখার উৎসাহ কমে আসে। কারণ সেই পুরনো একই খেলা কত আর শোনা যায় বা দেখা যায়, জনম জনম থেকে সেই এক সাপের নাচন খেলা, ওসব দেখতে কি আর মন চায়? মনে হলো মিডিয়া, চার্লি ও অন্যান্য কার্টুনিস্টরা যা করছে, এসব কত যে বড় রকমের হাস্যাস্পদ কাজ তারা করছে, সেটি তারা নিজেরাও চিন্তা করতে পারছে না। এটা অনেকটা মিথ্যার সাথে যুদ্ধ করার মত, ছায়ার সাথে যুদ্ধ করার মত ব্যাপার। ইতিহাসে প্রমান পাওয়া যায় কিছু জনেরা নবী ইসা (আঃ)কে বাস্টার্ড গালি দিয়ে চরম প্রশান্তি অর্জন করেছে। তখনকার ইহুদী রাব্বিরা তাকে শূলে চড়ায়, তাদের দাবী অনুযায়ী তাকে ক্রুশে চড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঐ ঘটনার আলোকে মানুষটিকে টিটকারী মশকরা করার কোন কমতি তারা রাখে নাই। থুথু ছিটিয়েছে, মাথায় কাটার মালা পরিয়েছে, বাস্টার্ড বলে গালি দিয়েছে, একই  আদর্শের দিশা ধরে ভিন্ন আরেকদল যখন নবী মোহাম্মদ (সঃ)কে একজন যুদ্ধবাজ, নারী নির্যাতনকারী বা নারী লোভী হিসাবে উপস্থাপন করে চরম তৃপ্তি পেতে চায়। যখন একজন সম্মানিতকে কোনভাবেই অবদমিত অপমানিত করার সুযোগ থাকে না, তখন অসুস্থ জনতারা মনের স্বান্তনার জন্য এসব অপবাদকে মুখরোচক হিসাবে গ্রহণ করে, আর ওতেই স্বান্তনা পেতে চায়। বস্তুত এসব করে তারা নিজের অন্তরের হিংসার ক্ষতের উপর প্রলেপ লেপে দিতে চায়।

ধর্ম এক চরম মিথ্যাচার, এ বিতন্ডার কোন সুযোগ নেই। এর প্রধান প্রমান হচ্ছে এক ধর্মের সাথে অন্য ধর্মের একাত্বতা। ইহুদী খৃষ্টান আর ইসলাম, ধর্মের যোগসূত্রে বাধা এরা তিন। সোজা করে তাকালেই দেখা যায় এরা সবাই এক ঘরের মানুষ, মূলত এরা এক আলোর দিশারী। এমনও দেখা গেছে যারা যৌবনে ধর্ম মানেনি তারাই প্রৌঢ় হলেই ধর্মের ঘাড়ে ভর করে দাঁড়াতে চেয়েছে। কিন্তু যখন গায়ে শক্তি থেকেছে তখনই শক্তির বাহাদুরিতে ধর্মকে অবজ্ঞা করেছে বহু বেশী, হয়েছে নাস্তিক। ধর্মের এ বিতন্ডা দেখে নাস্তিকতায় স্বান্তনা খুঁজেছে অনেকে, এ হচ্ছে বোকামীর ধর্ম দর্শন। দেখা যায় ইসলামকে প্রতিপক্ষ জেনে সেই সপ্তম শতাব্দী থেকে চলছে এসব লড়াই। আজ এত পরেও সেটি শেষ না হয়ে বরং যেন দিনে দিনে মহিরুহ হয়ে উঠছে। তাই মহিরুহের অবস্থানকে স্পষ্ট করার দায়িত্ব ছিল আমাদের প্রতিটি ধর্মধারীর। যারা এর পেছনে রসদ যুগিয়ে চলেছে, তাদের স্বযতœ তদারকিতে এটি বেড়েই চলেছে। আর যাদের দায়িত্ব ছিল এসব জটিলকে খোলাসা করার তারা দিনে দিনে ধর্মের মূল গবেষনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বরং উল্টো বিরোধীকে রসদ যুগিয়ে গেছে। এরকম বহু উদাহরণ চারপাশে ছড়ানো আছে।  এ শতকের শুরুতে ৯/১১ এ ঘটে ভিন্ন রকম যুদ্ধের সূচনাপর্ব। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বুশ একে “ক্রুসেড” বলে ডাক দিলেও প্রতিবাদ উঠলে তাকে ‘সরি’ বলতে হয়েছে। কিন্তু প্রথমে সময় ক্ষ্যাপন না করে তিনি ক্রুসেডের ডাক দেন। সভ্যতার যে সংকটের আশংকা করেছে সচেতনরা, তারা ওটি নির্মুল করতে আজ নতুন করে ভাবছে কিভাবে প্রত্যেকের ই-মেইল ইন্টারনেট চেক করবে। এতে মানুষের প্রাইভেসির মাত্রাটি একদম শূন্যের কোঠাতে নেমে আসবে, সন্দেহ নেই। তারপরও কি যুদ্ধকে সামাল দেয়া যাবে বলে মনে হয়, যদি না এসব মিথ্যা ক্যারিক্যাচার বন্ধ হয়?

বিগত শতকে হিটলার (অনেকের ধারণা মতে ৬০ লাখ) ইহুদী নিধন করে সহজ একটি সমাধান করতে চান। এতে কতদূর যে সমাধান হয়েছে তা ইতিহাসই সাক্ষী। বরং এক হিটলারের বদলে গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে ইহুদীরাই পরবর্তী বিশে^র হিটলার হয়ে নতুন জন্মে ফিলিস্তিনের কলিজাতে কামড় দিয়ে চলেছে। যদিও ফিলিস্তিনিরা এর জন্য মোটেও দায়ী নয়, জার্মান হিটলারের দায় তাদের ঘাড়ে চাপার কথা নয়, কিন্তু অবিবেচকের মত বিশ^ মোড়লরা এ ব্যাপারে চরম অনাচার করে বিধাতার দরগাহে খুব বড়দাগেই আজকের দন্ডধারী আসামী। বড়কর্তারা যারা শুরু থেকেই এর পেছনে তেল যুগিয়েছে তাদের ঘাড়েই এর দায় বর্তায়। সেখানে দেখা যায় নিরপরাধ প্যালেষ্টিনিয়ানদের শিশু, মেয়ে, মহিলা, পুরুষ কারো মুক্তি মেলেনি, ঐসব দানব স্বরুপ পরবর্তী ইহুদীদের অত্যাচার থেকে। তাদেরে স্বগৃহ থেকে বের করে নিয়ে সর্বস্ব লুন্ঠন করে পথে বসিয়েছে, এমন অনাচার নাই যা তারা করে নাই। জাতিসংঘ নির্ধারিত স্কুলেও হামলে পড়তে তাদের বাধে নাই। বাড়ির মূল কর্তাকে বের করে নিয়ে গোটা বিশ^ থেকে ছন্নচ্ছাড়া ইহুদীদেরে ধরে ধরে এনে নতুন বসতি গড়ে তোলে। যেন এরকম, আমাদের পূর্ব পুরুষেরা আরবে বাস করতেন, এর পর আমরা গোটা বিশে^ ছড়িয়ে পড়লেও কৌশলবাজরা ধরে ধরে আমাদেরে এনে ফের আরব ভ’মিতে বসিয়ে দেয়, আর মূল আরববাসীকে তাদের পূর্ব পুরুষের ভিটাবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দেয়। বিবেকের কাছে এটি যেমন একটি অনাচারি কাজ হবে, ইহুদীদেরে ইসরাইলে বসিয়ে দেয়া ওরকমই একটি বড় অনাচারের উৎকৃষ্ট নমুনা মাত্র। নবী ইসা এসেছিলেন একজন আঞ্চলিক নবী হয়ে বাইবেলের হিসাবেও ইহুদীদের হারানো গোত্রের সন্ধানকর্তা হিসাবে এসেছিলেন, তিনি ছিলেন আঞ্চলিক নবী। এরা মূলত নবী মুসা(আঃ)এর অনুসারীরা এভাবে ক্রমে সারা বিশে^ এখানে ওখানে ছড়িয়ে পড়ে। তাই বাইবেল বলে, “তিনি (জিসাস ক্রাইস্ট) উত্তরে বলেন, ইসরাইল কুলের হারানো মেষ ছাড়া আর কারো নিকট আমি প্রেরিত হই নাই” (বাইবেল, ম্যাথ্যু ১৫:২৪ আয়াত)। দেখা যায় যে মুসার অনুসারী ইহুদীদের খুঁজে দেখার কাজে তিনি এসেছিলেন, তারাই তাকে এর মাঝেই শুলে চড়ায়। এরা বিভ্রান্ত হয়েছিল বলেই পরবর্তী নবী ঈসা (আঃ)কে আসতে হয়। এবং নবী ঈসার অনুসারীরাও বিভ্রান্ত হয়েছিল বলে তারও পরবর্তী আর একজনকে আসতে হয়, তিনি হচ্ছেন শেষ নবী মোহাম্মদ (সঃ)। তার হতেই ধর্ম পূর্ণতা লাভ করে। আল্লাহ বলেন, “যারা অবিশাস পোষন করে তারা আজকের দিনে তোমাদের ধর্ম সম্বন্ধে হতাশ হয়েছে, কাজেই তাদের ভয় করো না, বরং ভয় করো আমাকে। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম ব্যবস্থা পূর্ণ করলাম” (সুরা মায়েদার ৩ আয়াত)। ধারাবাহিক ২৩ বছরে ধর্মটি এভাবে পূর্ণতা পায়। তারপরও এর মাঝে কোন জটিলতা ধরা পড়লে বা তৈরী হলে তাও ঐ কুরআনের প্রথম বাণী “পড়” কথার অনুসরণে ধর্মধারী জনগণকেই প্রয়োজনে চর্চা গবেষনা করে সঠিককে বেছে নিতে হবে এবং তারই সাধনা করতে হবে। বিদায় হজে¦র বাণীতে ছিল মিথ্যা ‘চিরতরে দূরিভূত হয়েছে’।

প্রায় দুই হাজার বছর পরের ইতিহাসে সারা বিশ^ থেকে ইহুদীদেরে ধরে এনে প্যালেস্টাইনে ঠাঁই দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে বৃটিশ এমপি মিঃ ডেভিড ওয়ার্ড ইসরাইলী প্রাইম মিনিস্টারের বেনজামিন নেতানিয়াহুর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঐ প্যারিস সংহতিতে ২০১৫ সালের জানুয়ারীর ১১ তারিখে। এবং তিনি শুধু প্রতিবাদই করেন নাই তার প্লেকার্ডের বানী ছিল “জে স্যুট প্যালেস্টাইন” “আমি প্যালেস্টাইনী” ছিল তার প্রতিবাদের শ্লোগান। গাজার হামলার প্রতিবাদে তিনি বলেন, “আমি যদি তখন গাজাতে থাকতাম, আমি ইসরাইলের প্রতি রকেট নিক্ষেপ করতাম”। ৬০ বছরেরও বেশী সময় থেকে প্যালেস্টাইনীরা এ মার খেয়ে যাচ্ছে। যদিও সমস্ত বিশে^র সুজনদের মেধাবীদের শরীরের উপর বিবেক নামের মস্তিষ্কটি আজো সচল আছে এবং ছিল। যে ধর্ম দিয়ে বিরুদ্ধবাদীরা ইসলামের জনতাকে পাগল ঠাওর করতে চাচ্ছেন মুক্তির রাস্তা খুঁজতে এমন জটিল সময়ে সে গ্রন্থ থেকে কিছু বানী আনছি। সে গ্রন্থে পাওয়া যায় খৃষ্টানরাই মুসলিমের সবচেয়ে কাছের স্বজন। আর ইসলামের শুরু থেকেই এর সর্বনাশ  ও ধ্বংস সাধনে ইহুদীরা অতোপ্রতোভাবে জড়িত থাকার ইতিহাস পাওয়া যায় সর্বত্র। নবী মোহাম্মদকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রের সাথে তারা বারে বারে জড়িত থেকেছে। এসব আচরণের কিছু দাগ চিহ্নও পবিত্র গ্রন্থ কুরআনে পাওয়া যায়। এতে ইহুদীদের কপটতা ও খৃস্টানের সহজতা ধরা পড়ে (সুরা মাইদাহ এর ৮২ আয়াত)। অতীতে ইহুদীরাই নবী ইসাকে অর্থাৎ জিসাসকে নিয়ে মশকরা করেছে আর আজকে তারা দুদলই (ইহুদী ও খৃষ্টান) নবী মোহাম্মদকে নিয়ে মশকরা করছে, আর নাস্তিক্য ধারার কারণে এসব বেড়ে চলেছে। যদিও ধর্মের একত্ব যেখানে লক্ষ্য করা যায়, সেখানে এসব হবার কথা ছিল না।

(কুরআনে সুরা নিসার ৫ ও ৬ আয়াতে) দেখা যায় আল্লাহর নির্দেশ এসেছে কিভাবে সংশ্লিষ্টরা একজন সাধারণ মুসলিম অনাথের প্রতি যতœবান হবেন। সেখানে বলা হয় তাদেরে যতœ নিতে হবে যতদিন না তারা বিবাহযোগ্যা হয়ে উঠে ততদিন তাদের দেখভাল করতে হবে, তাদের সহায় সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে তা নষ্ট করা যাবে না। অতপর তাদের সম্পত্তি তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। সবার শেষে সাবধান বাণী হিসাবে বলা হয় হিসাব রক্ষক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। ইসলামের এরকম একটি নির্দেশের পর কেমন করে নবী মোহাম্মদ (সঃ) একজন ৬ বা ৯ বছরের মেয়েকে বিয়ে করতে পারেন বলে যা চৌদ্দশত বছর পরও বিরোধীর জ¦ালা হয়ে জ¦লছে। ধারাবাহিকভাবে সমাজে এ নিয়ে বিতন্ডা তৈরী করা হচ্ছে। সবার উপর আবু বকর ছিলেন বিবি আয়েশার বাবা, বাবার কষ্টের চেয়েও আজকের বিরোধীর কষ্ট যেন বহুগুণ বেশী। তিনি এমন একজন বিচক্ষণ সাহাবা (নবীর সহচর) যাকে নবীর পরই খলিফার মর্যাদা দেয়া হয়। এতে কি এসব স্পষ্ট হয় না, এসবই বিরুদ্ধবাদীদের অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়? সবচেয়ে বড় কথা নবী মোহাম্মদ(সঃ) ২৫ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত এক স্ত্রী বিবি খাদিজা ছাড়া আর কারো পানি গ্রহণ করেননি। ঐ সময় তার ঘরে চার চারজন মেয়ে ফাতেমা, কুলসুম, রোকেয়া, জয়নব এদের রক্ষণাবেক্ষনের জন্যও একজন বুদ্ধিমতি যোগ্য অভিভাবকের সংবাদ নিয়ে খাওলাহ নামের এক মহিলা বিবি আয়েশার নাম উচ্চারণ করে বিয়ের পয়গাম নিয়ে আসেন, তখন নবীর ৫৫ বছরে ঐ বিয়ে হয়। এসব ক্ষেত্রে যে বা যারা আরবী ভাষাটি জানেন তারা ভাল করেই জানেন “বিকর” শব্দটি কখনোই কোন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর জন্য বা নয় বছরের বাচ্চার জন্য ব্যবহার হয় না। এটি একমাত্র তার জন্যই ব্যবহার হয়েছে যে এরি মাঝে বিবাহযোগ্যা (তাইয়্যিবা) হয়ে উঠেছে। আমি দেখেছি অনেক মুসলমানও বিষয়টি ভালো করে জানেন না। অনেকে সহিহ হাদিসের দোহাই দিয়ে এরকম কুরআন বিরোধী মিথ্যার প্রচার করে ধর্মের বারোটা বাজিয়ে চলেছেন, যার ইন্ধনে গোটা বিশে^ লঙ্কাকান্ড চলছে। সহি হাদিসের বড় শর্ত হচ্ছে তা কুরআন বিরোধী হতে পারবে না। কোন হাদিস কুরআন বিরোধী হলে, তা বাতিল বলে গন্য হবে, এটি হাদিসের প্রধান শর্ত। সারা বিশ^ই আজ বিবি আয়েশার মা বাবা সেজে যুদ্ধের মাঠে নেমেছে। বিবি আয়েশা আজ তাদের হাতের গিনিপিগ। আর বিরোধীরা মহা উৎসাহে এসবের উপর নটনৃত্য চালিয়ে যাচ্ছে। কার্টুন রচিত হচ্ছে এসব ভুলের উপরই রঙ্গমেলা চলছে, কলমের কালিতে কার্টুনের আঁকিবুকিতে ওটিই ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। 

দেখা যায় বেশীর ভাগ কার্টুনের ক্যারিকেচার হচ্ছে বহু বিবাহ, বিবি আয়েশার বিয়ে, যুদ্ধবাজ ধর্ম এসব নিয়ে বিতন্ডা। আমরা সবাই জানি বাইবেলে বহু বিবাহ একটি সাধারণ ঘটনা। নবী ইব্রাহিমের দু সন্তান ইসমাইল ও ইসহাক দু মায়ের দু সন্তান। তাই বলে ওসব নিয়ে ইসলামে কোন বিতন্ডা করতে দেখা যায় না বা কোন বিতন্ডা বাধে না। ইসলামের বক্তব্যও এক বিয়েতেই টিকে, সুরা নিসার ৩ আয়াতে শর্ত হচ্ছে একাধিক  স্ত্রী থাকলে সবার সাথে সমতা রাখতে হবে, এবং সেটি জটিল। তোমরা একাধিকের সাথে সমতা রাখতে পারবে না (৪:১২৯) তাহলে একজনকেই এবং এটিই বেশী সঙ্গত” (সুরা নিসার ৩ আয়াত)। ইসলামের শক্তি প্রবল বলেই হয়তো মিথ্যা গল্প জুড়ে কুরআন, মোহাম্মদ, ও ইসলাম নিয়ে মশকরা করার লোকের বিধর্মী বা নাস্তিকের কোন কমতি নেই এ পৃথিবীতে, কোন যুগেই এদের কমতি হয়নি। বেশীর ভাগ বিতন্ডাকারীদের কথা হচ্ছে বিবি আয়েশার বিয়ে হয়েছে ৬ বছর বয়সে আর ঘরে তোলা হয়েছে ৯ বছর বয়সে। গোটা বিশে^ এরকম অনেক কর্ম অপকর্ম আছে যার কোন অভাব নেই কিন্তু ইসলামকে নিয়ে এ ক্যারিকেচার যেন কিয়ামত পর্যন্তই চলবে। সেদিন যখন কার্টুন খুঁজতে থাকি তখন দুটি আঁকিবুকি আমার কাছে স্পষ্ট হয় একটি চাকাওয়ালা বাহনে দেখা যায় নবী মোহাম্মদ (সঃ) ও ছয় বছরের বাচ্চা আয়েশা বসে আছেন এবং ছবিতে টেগ লাগানো আছে যে মোহাম্মদ ও তার কনে আয়েশা এরকম কিছু একটা। অন্য একটি ছবিতে এক মুসলিম সম্ভবত নবী স্বয়ং কুরআন হাতে দাঁড়িয়ে আর দূর থেকে সেখানে শেলের মত কিছু এসে কুরআনকে বিদ্ধ করছে। যেন কুরআনের সাথে যুদ্ধ চলছে, অস্ত্রের যুদ্ধ। আজ থেকে প্রায় বারো তেরো বছর আগে ইন্টারনেটে নাস্তিকের সাথে যুদ্ধ করতে যেয়ে এর জবাবে ১৬ টি পয়েণ্টের ভিত্তিতে যুক্তি  খুঁজে পাই যেখানে প্রমাণিত হয় যে, বিবি আয়েশার বিয়ে মোটেও ৬বা ৯ বছরে হয় নি, বরং বিয়েটি হয় ১৯ বছর বয়সে তার বহুবিধ প্রমান পাওয়া যায়। কিভাবে মিথ্যার সাথে আজ চৌদ্দ শতাব্দী পরও তারা যুদ্ধ করে চলেছে, যেন ছায়ার সাথে যুদ্ধ করছে। ওখান থেকে শুধু কুরআনের যুক্তিটুকুই যথেষ্ট মনে করে আনছি, কারণ এটি আল্লাহর বানী। “আর এতিমদের পরীক্ষা করে দেখবে যে পর্যন্ত না তারা বিবাহ বয়সে পৌছে যায়, তারপর যদি তাদের মধ্যে বিচারবুদ্ধি দেখতে পাও তবে তাদের সম্পত্তি তাদের হস্তার্পন করবে, আর তা মাত্রাতিরিক্তভাবে ও তাড়াহুড়া করে খেয়ে ফেলো না পাছে তারা বড় হয়ে যাবে (এই আশঙ্কায়) আর যে অবস্থাপন্ন সে যেন বিরত থাকে, আর যে গরীব সে ন্যায়সংগতভাবে খায়। তারপর যখন তোমরা তাদের সম্পত্তি তাদের ফিরিয়ে দাও তখন তাদের সামনে সাক্ষী ডাকো। আর হিসাবরক্ষকরুপে আল্লাহ যথেষ্ট” (সুরা নিসার ৬ আয়াত)।

বাকী অনেক হাদিস ও ঐতিহাসিক যুক্তিতেও এসব বানোয়াট কথা টিকে না। এবন হেশাম, হালবি, এয়াবা প্রভৃতিতে পাওয়া যায় বিবি আয়েশা (রাঃ) সমরক্ষেত্রে উপস্থিত থেকে সৈনিকদের সেবা শুশ্রুষা করেন। বিবি আয়েশা বদর যুদ্ধের ময়দানে সেবা শুশ্রুষা করেন। ইতিহাসে বা হাদিসে পাওয়া যায় প্রত্যক্ষ যুদ্ধের ময়দানে অংশ নেয়ার একটি বয়স নির্ধারিত আছে ১৫ বছরের নীচে কেউ যুদ্ধে যোগ দিতে পারতো না। এমতাবস্তায় তিনি ৬ বছরের বা ৯ বছরের হলে কেমন করে বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবেন। এরকম কোন যুক্তিতেই এসব টিকে না যে বিবি আয়েশার বয়স ৬ বা ৯ ছিল। সুক্ষ্মভাবে প্রতিটি কার্টুনের নষ্টামির স্পষ্ট জবাব দেয়া সম্ভব। তা না করে মিছামিছি খন্ডযুদ্ধ করার কোন মানে নেই। কারণ তা হলে ওতে অসহিষ্ণুতার উদাহরণ তৈরী হয়। মুসলমানকে ধৈর্য্য ধারণ করতে শক্ত করেই বলা হয়েছে। বিনিময়ে তাদের জন্য অফুরান পাওনা জমা আছে। সবার উপর মানুষকে কুরআনে বলা হয় আশরাফুল মকলুকাত। মানে মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। আর এই শ্রেষ্ঠ জীবের স্বীকৃতি স্বরুপ মাথাটি তার প্রতিটি সুকর্মের প্রকৃত যোগানদাতা। তাই কাউকে নিয়ে মশকরা করার পূর্বে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার পূর্বে দরকার তার মূল ইতিহাসকে জানার। ঘটনার মূল গোড়াতে না পৌছে শুধু ডালপালা নিয়ে নাড়াচাড়া করলে ডাল ভেঙ্গে হাত পা ভাঙ্গার সমূহ সম্ভাবনাকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। তারা ইহকালে কোনদিনও সফল হতে পারবে না। ধৈর্য্য ও সবরের আয়াতটি হচ্ছে: “তারাই শ্রেষ্ট যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করছে ও পরষ্পরকে সততা অবলম্বনে উপদেশ দিচ্ছে এবং পরষ্পরকে ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দিচ্ছে” (সুরা আল আসরের ৩ আয়াত)। ধৈর্যের মাধ্যমে জটিলকে মোকাবেলা করার আহবান জানিয়ে এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ।

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫।

অবৈধ সরকারের আয়নাবাজি

নাজমা মোস্তফা

বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতি সচেতন, যদিও বারে বারে কপট নষ্ট রাজনীতির কাছে মার খাচ্ছে। ময়দানে সাধু আর শয়তান যদি লড়েসাধুর নাকানি-চুবানি দশা কমে নাবরং অতি সাধুতার নীরবতায় সেটি বাড়ে। অতি সাধু থাকাও জাতির জন্য বড় সংকট তৈরি করে। স্বাধীনতার পর থেকেই ময়দানে এ জাতি যুদ্ধ থেকেও বড় লড়াই লড়ছে যা তারা অতীতে কখনোই মোকাবেলা করে নাই। যখন বাংলাদেশে ছিলাম তখন একজন খৃষ্টান সম্প্রদায়ের ফ্রিজ মেকানিক ছিলেন তার নাম ছিল পিটার গোমেজ। স্বভাব সুন্দর মানুষটিকে আজো হয়তো অনেকে তার নাম জানবেন। সব সময় বাংলাদেশের রাজনীতির বিতণ্ডা দেখে অকপটে বলতেন আমরা এখন থেকে পাকিস্তান আমলেই ভালো ছিলাম। কারণ পাকিস্তানেও রাষ্ট্র পরিচালনাতে কিছু নীতি নৈতিকতা ছিল যা বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে চোখে পড়ে না। ঐ সময়ও দেশে মানুষ নিরাপদ থেকেছেশান্তিতে বসবাস করেছে। আজ স্পষ্ট করবো, কিভাবে নিকট সময়ে রাজনীতিকে কলঙ্কিত করা হয়েছে কিছু চিহ্নিত মিডিয়াতে মনগড়া মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে। সত্যকে স্পষ্ট করা কুরআনের নির্দেশসঙ্গত কারণে এসব স্পষ্ট করা জরুরী।

(১) ভুয়া ভিডিও দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছেন শেখ হাসিনার উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকনপ্রচারিত ৩ জুন ২০১৮ তারিখ। ১৯ সেকেন্ডের এই ভিডিওটির শিরোনাম “ম্যাডাম জিয়ার মুখেই শুনুন” নামের ভিডিওতে শোনা যায় খালেদা জিয়া বলছেন, “আপনারা যতই বলেন আন্দোলন আন্দোলনঢাকায় সেভাবে করা সম্ভব হয়নি। এখানে পরিবারের মধ্যে গণ্ডগোল আছে। তারেক রহমানকে তো আপনারা ভালো করেই চেনেনবউ এর সঙ্গেও গণ্ডগোল। বউও চায় ক্ষমতাসেও চায় ক্ষমতা।”

(২) ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে সংসদে শেখ হাসিনা দাবী করেন জিয়া পরিবারের ১২ মিলিয়ন ডলার পাচারের একটি প্রতিবেদন তার হাতে এসেছে। এর কিছু দিন পর শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর ওয়েবসাইট ওবজারভার ডটকম ও জনকণ্ঠ নামের (প্রশ্নবিদ্ধ পত্রিকা) দাবী করে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে জিয়া পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রচার করেছে। তিনি তার ওয়েবসাইটেআরব ভিত্তিক টিভি চ্যানেল গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক ও ক্যানাডিয়ান টেলিভিশন দ্য ন্যাশনাল এসব সূত্রের কথা উল্লেখ করেন। জনকণ্ঠও উৎস হিসাবে দুবাই ভিত্তিক টেলিভিশন ও বাংলাদেশ প্রেস অনলাইন এর নাম উল্লেখ করে। ৩০ শে নভেম্বর সোবহান চৌধুরী “খালেদা জিয়ার দুর্নীতি” (Khaleda’s corruption)  শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করেনসূত্র হিসাবে উল্লেখ করেন দুবাই ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেলটিকে।

(৩) জনকণ্ঠ(?) ৯ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে একটি খবর ছাপে যে খালেদা ও তারেক সৌদি বিনিয়োগের মুনাফায় জঙ্গী তৎপরতায় যুক্ত থাকলেও ভারত ও সৌদির যৌথ তৎপরতার দুর্নীতি বিরোধী তদন্তে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের জড়িত থাকার প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে। উল্লেখ্য খালেদা ও তারেক যথাক্রমে ১২শ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছেন যার এক অংশ যেত জঙ্গী অর্থায়নে ও মৌলবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতায়।

(৪) সৈয়দ বোরহান কবিরের ‘বাংলা ইনসাইডার’ এসব কাজে অগ্রপথিক। তিনি তার ‘বাংলা-ইনসাইডার ডট কমে’ প্রচার করেন দুর্নীতিতে জিয়া পরিবার বিশ্বে তৃতীয় (১০ অক্টোবর ২০১৭)। প্রথম হলেন পাকিস্তানের মুসলিম লীগের সভাপতি নেওয়াজ শরিফ ৪০০ কোটি ডলারদ্বিতীয় উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন আর তৃতীয় বেগম খালেদা জিয়া ২৫০ কোটি ডলার অবৈধ সম্পদ।

(৫) মুখরা প্রধানমন্ত্রী তার চরদের দ্বারা এসব সাজালেও যখন বাংলাদেশের মিডিয়া নীরব ছিল তখন তিনি সাংবাদিকদের উপর বিষোদগার করে বলেন আমরা তন্ন তন্ন করে দেখেছি শুধু দুটি চ্যানেল ও দুটি পত্রিকা নিউজটা করেছে। তার কিছু পালিত সাংবাদিক আছেন যারা সারাক্ষণ টকশো গরম করে রাখেনএটি জাতি দেখে ও জানে। তিনি বাকীদের ঘুষ খাওয়ার খোটা দেনতখন অনলাইন সংবাদ সংস্থা বিডিনিউজ২৪ ডটকম ও সাংবাদিক গোলাম মর্তুজা জবাবে জানান শেখ হাসিনার সূত্রগুলোর প্রকৃত কোন সন্ধান না পাওয়ায় তারা এসব এড়িয়ে গেছেন। তারপরও কিছু পত্রিকা এসব ভুয়া খবর ছাপিয়েছে সরকারী দাপটে। সরজমিনে এমনও দেখা গেছে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর ভিডিওতে বক্তার উচ্চারিত কথার সাথে ঠোটের অমিল। তাকে বার বার সূত্রের ঠিকানা দিতে বললেও তিনি নীরব থাকেন। উল্টো আদালতের শরণাপন্ন হবার যুক্তি দেখান। তারা জানে আদালত তাদের মামলাও নেবে নানড়বেও না।

(৬) এসব প্রতিবেদনে তারেককে খুব শক্তভাবে আক্রমণ করা হয়। বলা হয় জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান প্রতিটি সরকারী ক্রয় ও নিয়োগে ঘুষ গ্রহণ করতেন। তারেক নিজেই ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অস্থিতিশীলতা ও দুর্নীতির যোগানদাতা। দুর্নীতিগ্রস্ত থাকার পরও তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে মুক্তি দিয়েছে চিকিৎসা করার জন্য। তারেক রহমান বড় বড় ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করতেনবিদেশী প্রতিষ্ঠান থেকেও তিনি কমিশন আদায় করতেন। এসব ছিল তার নিয়মিত ব্যবসাতারেক ও তার ভাই কোকোর ঘুষ গ্রহণের কথা এসেছে। বিদেশী কোম্পানিকে ডলারে আর দেশী কোম্পানিতে টাকাতে ঘুষ নিতেন। জিয়া অরফানেজ থেকে তিনি ৪১ লাখ ৫০ হাজার ডলার ঘুষ নিয়েছেন। এতে বাংলাদেশ আমেরিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমেরিকার দৃষ্টিতে মুসলিম মডারেট হিসাবে দেশকে বিনষ্ট করেছে।

(৭) এসব বিনিয়োগের তথ্য কিভাবে সামনে আসলো তার যুক্তি হিসাবে বলা হয় ভারতের সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা শান্তানু মুখার্জি তার ৬ ডিসেম্বর তারিখে প্রকাশিত প্রবন্ধে বলেনতারেক রহমান দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত লাখ লাখ ডলার বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করেছেন। এর এক বড় অংশ বিনিয়োগ করা হয়েছে সৌদি আরব ও পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশে। ভারতের নিরাপত্তা ধ্বংসে তিনি আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাফিয়া চক্রে জড়িত থেকে ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় জড়িত। বিএনপি জামাতের সময় থেকেই এরা মৌলবাদ ও সন্ত্রাসকে লালন করে।

(৮) অল্প দামে কেনা সংবাদগুলি দালালদের সাজানো। এ ছাড়াও “খালেদার মানি লন্ডারিং নিয়ে বোমা ফাটালো আন্তর্জাতিক মিডিয়া” (৩০ নভেম্বর ২০১৭বাই অবজারভার বিডি ডট কম)/ আটক সৌদি শাহজাদাদের দুর্নীতির সঙ্গে খালেদা তারেকের নাম? (৩০ নভেম্বর ২০১৭জনকণ্ঠ)/ বিএনপি নেতাদের বিদেশে থাকা সম্পদের তদন্ত চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী” (১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭বাংলা ট্রিবিউন)। প্রণব মুখার্জিরা বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে কিভাবে এ দেশের কলিজাতে কামড় দিয়ে ভারত

বন্দনা কাজে জড়িত থেকেছেনতা তার গ্রন্থে তিনি নিজেই স্পষ্ট করেছেন। আজ অক্টোবরের ১৪ তারিখে দেখি ভিপি নূরকে ধর্ষক বানাতে শেখ হাসিনার ঐ উপ সচিব আশরাফুল আলম খোকন লাইভে কমেন্ট করে তাকে ধর্ষক বানানোর প্রক্রিয়াতে জড়িত আছেন। যিনি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যায় শক্তদাগে জড়িত।

(৯) ভারত খুব সহজে বাংলাদেশের কিছু মুসলিম মোহাজিরকে তাদের দালাল বলে অপকর্ম করাতোএদের একজন ছিলেন এরশাদ। দালালীতে তাঁর সম্পৃক্ততার অনেক তথ্য প্রমাণ রয়েছে। আর প্রিয়া সাহার মত বেশ কিছু হিন্দুরা গোপনে বা প্রকাশ্যেই দেশবিধ্বংসী কাজ করে চলেছে। এর কারণ এদের দলে ভিড়ানো ভারতের জন্য বেশী সহজ। তারা অনেকে থাকে এ দেশে আর সম্পদ পাচার করে ভারতে। এরা প্রকৃতই নির্বোধসারা জীবন নিজের সাথে, দেশের সাথে প্রতারণা করে গেল। যে কোন মানুষই যারা এসব করছে তারা বিবেকের কাছে চিরস্থায়ী ইহ ও পরকালের আসামী।

লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এই তথ্য প্রমাণগুলি সব সময় ভারত বন্দনা ও বাংলাদেশকে জঙ্গি দেশ হিসাবে তুলে ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সম্পাদিত দ্য ডেইলি অবজারভারে ১ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে আরব ভিত্তিক টিভি চ্যানেলের সূত্রে গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক (জিআইএন) (এ নামে কোন গণমাধ্যম পাওয়া যায় নি) ও কানাডার টিভি চ্যানেল দ্য ন্যাশনাল এর কথা বলে (ওরকম সংবাদ মাধ্যমও পাওয়া যায়নি। কানাডার টিভি চ্যানেল পাওয়া গেলেও সেখানে খালেদা সংক্রান্ত কোন খবর পাওয়া যায়নি। আমরা জানি ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্টের বোমা হামলায় তারেক রহমানকে প্রথমে যুক্ত না করলেও বহু পরে তাকে আসামী করা হয়। ঐ হামলাটিও ছিল হাসিনার মনগড়া সাজানো মানুষ নিধনের ভয়ংকর হত্যাযজ্ঞ। এর উপর প্রামাণ্য লেখাও (https://nazmamustafa.wordpress.com/2015/08/24/একুশে-আগষ্ট-২০০৪-সচেতনের/) আমার ব্লগে (Nazma Mustafa’s Blog) বর্তমান। ১৯৯৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তারিখে দলবলসহ প্রথমে প্লেনে ও পরে ট্রেনে উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পথে মদন নামে তার এক কর্মচারীর পরামর্শে পিস্তল দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয় অন্য কামরাতে ঘুমে ঢলে পড়া সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে। হাস্যরসের মাধ্যমে হাসিনার নির্দেশে প্রচার করা হয় তাকে মারার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এভাবে তিনি প্রায়শই বলতেন তাকে ১৯ বার মারার চেষ্টা করা হয়েছে। ঐ ঘটনায় পরদিন হরতাল ডাকা হয়। ঐ সময় এভাবে ১৭৩ দিন হরতাল হয় (আমার ফাঁসি চাইমতিউর রহমান রেন্টুর ৭৩,৭৪,৭৫ পৃ: দ্রষ্টব্য)।

আয়নাবাজিতে খুব দক্ষ অবৈধ পথে আসা এই সরকার। কথায় কথায় সম্মানিত লোকজনকে কটাক্ষ করা, মানুষকে আক্রমণ করে কথা বলা তাঁর স্টাইল। শুনেছি বিদ্যুতের স্লিপে নাকি লেখা থাকে “শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ”প্রতিবছর প্রশ্ন ফাঁস যে সরকারের অর্জন তারা প্রচার করে “শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশশেখ হাসিনার বাংলাদেশ”। সাংবাদিকরা ধমক খায় নসিহত শুনে “আমি তো পত্রিকা পড়ে দেশ চালাই নাদেশকে ভালোবেসে দেশ চালাইবাবার কাছ থেকে শিখেছি।” অবাক হয়ে ভাবি শেখ মুজিব তার মেয়েকে এসব আয়নাবাজি কি সত্যিই শিখিয়ে গেছেন?

১৪ অক্টোবর ২০২০ সাল।

ডাকাতের কবলে দেশ

নাজমা মোস্তফা
এককালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হতো বলে শুনেছি। এরপর স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে একে ডাকাতের গ্রাম বলতেও শুনেছি। এখন দেখছি গোটা দেশই ডাকাতের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ এর রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ডাকাতি হয়। অসংখ্য অঘটনের পর এ কাজটি মাত্র এক ধাপ ডাকাতি। এ ধারার অসংখ্য ডাকাতির নমুনা দেশে চলমান আছে। এটি ঘটানো হয় সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ঠিক এমন সময়, যখন এর মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ, আমেরিকা ও ফিলিপাইনে সরকারী ছুটি কার্যকর ছিল। যার জন্য হ্যাকাররা একটি বাড়তি সময় পায়। রিজার্ভ চুরির কথা অনেকেই অনেক কিছু জেনেছেন। সম্প্রতি মেজর দেলোয়ারের ইউটিউবে প্রকাশিত বক্তব্য থেকেও জাতি আবারো জানলো রাকেশ আস্থানা গুটি চালকে পাকাপোক্ত করার উত্তম হাতিয়ার ছিল । এটি অনেকেই জানতেন, তার আচরণে অনেক আপত্তিকর অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। তারপরও মেজর দেলোয়ারের বলাটা বাড়তি দলিল হয়ে রইলো। রাকেশ আস্থানা হাসিনাপুত্র জয়ের বন্ধু। কয় দিন পর পর জয় ফেইসবুকে এটা ওটা চমক লাগানো কথা লিখেন। ২০১৮ সালের ২৩ মে “The Diplomat” ম্যাগাজিনে একটি কলাম লিখেন যার শিরোনাম ছিল, “Bangladesh: ‘Disappeared’ Reappear All the Time”। এখানে তিনি বলতে চেয়েছেন বাংলাদেশে একটিও গুমের ঘটনা ঘটেনি। সব মিথ্যা, বানোয়াট, রূপকথা ও গালগল্প মাত্র। তার ভাষায় বিরোধীরা সব অপরাধী হওয়াতে তারা লুকিয়ে থাকে এবং সফল পুলিশরা তা খুঁজে বের করতে সমর্থ হয়। এই পুলিশ বাহিনী এতই দক্ষ যে জাতিসংঘ নাকি যার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। জয় তার মা অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর মতই মুখর।

কিছু খবরের শিরোনাম : যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলা খারিজ (২৩ 

মার্চ ২০১৯)। একে একে অবসরে যাচ্ছেন সন্দেহভাজনরা (৪ ফেব্রুয়ারি বণিকবার্তা)। দশটি কেলেঙ্কারিতে ২২,৫০২ কোটি টাকা লোপাট (৯ ডিসেম্বর ২০১৯)। বাংলাদেশ ব্যাংকের অদক্ষতা ও অবহেলাতে অর্থচুরি (১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ প্রথম আলো)। শীর্ষ আট কর্মকর্তা দায়ী (১৪ জানুয়ারি ২০১৯ যুগান্তর)।Bangladesh Bank heist was state sponsored: US official (31 March 2018) এটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রিজার্ভ চুরি: এফবিআই ১০ মার্চ ২০১৮) নয়া দিগন্ত। রিজার্ভ চুরির হোতারা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভিতরেই আছে (২৩ মার্চ ২০১৮) বিবিসি বাংলা। রিজার্ভ চুরির সাথে জড়িতরা চিহ্নিত (৮ নভেম্বর ২০১৭) যুগান্তর। রিজার্ভ চুরির হোতারা ভারতে (২৮ অক্টোবর ২০১৭) দৈনিক আমাদের সময়। রাকেশ আস্থানার উপস্থিতির রহস্য ভাংতে পারছে না সিআইডি (২৪ জুলাই ২০১৭) বণিক বার্তা। বিশেষজ্ঞদের অভিমত: ব্যাংকিং খাতে লুটপাটে সহযোগিতা করছেন অর্থমন্ত্রী (৪ জুন ২০১৭) সম্পাদক ডটকম। সবার শেষে একটি কলাম ছাপা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির দায়ে ফিলিপিন্স ব্যাংক কর্মকর্তার কারাদণ্ড, বাংলাদেশে এই মামলার অগ্রগতি কতদূর? (১০ জানুয়ারি ২০১৯) বিবিসি বাংলা।

এর সুবাদে ডঃ ফরাস উদ্দিনের তদন্ত প্রতিবেদন বলে গভর্নর আতিউর রহমান গর্হিত কাজ করেছেন রিজার্ভ চুরির ঘটনাকে চেপে রেখে। চুরি হয় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। তদন্তে আট কর্মকর্তাকে অপকর্ম, গাফিলতি ও অবহেলার জন্য দায়ী করা হয়েছে বলে শোনা যায়। আমরা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের বরাতে শুনেছি যে, এসব প্রকাশ করা হবে না। গণমাধ্যমে বিভিন্নভাবে তাদের নাম প্রকাশিত হলেও অপরাধীরা বহাল তবিয়তে কর্মরত আছেন, বরং অনেকের পদোন্নতি হয়েছে। ২০১৫ সালের আগস্ট-অক্টোবর থেকেই সুইফটটি অরক্ষিত করে রাখা হয়। সম্প্রতি তদন্ত প্রতিবেদনটির মূল অংশ যুগান্তরের হাতে

আসাতে কিছুটা জানা গেল। রিজার্ভ চুরিতে অন্তত দুইজন কর্মকর্তা সম্পর্কে গভীর সন্দেহ রয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেমকে জানানো হলে তিনি সরকারকে অবহিত করতে লিখিত দেন। তারপরও গভর্নর আতিউর রহমান এ নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশ দেন। ঐ সময় আমরা গভর্নরের মুখে শুনেছি তিনি বলেছেন যে, প্রথমেই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানালে তিনি এটি চেপে রাখতে বলেন। সুইফটের নিরাপত্তা বেষ্টনী সরিয়ে ফেলা হয় ২০১৫ থেকেই, আগেই বলেছি। গণমাধ্যমে পরবর্তীতে প্রকাশিত হয়, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলা খারিজ হয়ে যায়। নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাউদার্ন ডিসট্রিক্ট কোর্ট গত ২০ মার্চ বাংলাদেশ পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি বিধায় এটি খারিজ করে।

২০১৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি (শুক্র ও শনিবার) ছিল বাংলাদেশের সাপ্তাহিক ছুটি। ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সাপ্তাহিক ছুটি, আর ৬, ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের সাপ্তাহিক ছুটি ও চীনা নববর্ষের সাপ্তাহিক ছুটি। ফরাস উদ্দিন কমিটির প্রতিবেদন কোন কারণে অকার্যকর থেকেছে। অনেকটাই বিডিআর বিদ্রোহের মত এই ঘটনারও তদন্ত রিপোর্ট গোপন রাখার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। উল্লেখ্য গত দশ বছরে ব্যাংকিং খাতে ১০টি বড় কেলেঙ্কারির ঘটনায় ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে। এসব ঘটেছে সরকারী ব্যাংক সমূহে। সোনালী ব্যাংকের হল-মার্ক দিয়ে শুরু হলেও জনতা ব্যাংকে বড় ধ্বস নামে। এভাবে বেসিক ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংকের অনিয়ম আর দুর্নীতির ঘটনা অনেক লাগাতার দুর্ভোগের সাথে জড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ, উন্নয়নের জারিজুরি। প্রশ্ন হচ্ছে বিডিআর বিদ্রোহ নাম দিয়ে বিডিআর ধ্বংসের যে বিশাল ঘটনা সংগঠিত হয়েছে, তারপর আর এ সরকারকে বিশ্বাস করার কিছু নেই। একের পর এক দুর্ঘটনা এসব প্রশ্নকে বাড়তি যুক্তি হিসেবে সামনে নিয়ে

আসছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গভর্নর আতিউর রহমানের গোপনীয়তা এবং বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার কসরত হিসাবে দেশবাসীকে না জানিয়ে ঐ সময়ই তার ভারত ভ্রমণ জাতিকে আরও স্তম্ভিত করেছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা হলো, এমন দুর্ভোগেও বাংলাদেশ ব্যাংক আভ্যন্তরীণ কোন তদন্ত কমিটি গঠন বা বিভাগীয় কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফিলিপিনের কিছু কর্মকর্তা বিশ্বাস করেন, যারা এ অপরাধের সূচনা করেছিল তারা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরের লোক। সিআইডি বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন অনেকেই শুধু গাফেল ছিলেন না, বরং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থেকে সরাসরি অপরাধেও জড়িত। নাম প্রকাশ না করেও একজন কর্মকর্তা বলেন, উচ্চ পর্যায়ের অনেকেই জড়িত। এদের অপরাধ তদন্তেও ধরা পড়েছে, আসামী ধরা পড়লে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ফেঁসে যাবেন। দৈনিক আমাদের সময় বলেছে, চুরির মূল হোতারা ভারতে অবস্থান করছেন। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ ডেইলি মেইল অনলাইন এক প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করেছে। এরা অর্থ হাতিয়ে নেয়ার জন্য এক বছরেরও বেশী সময় থেকে একাধিক ব্যক্তির পরিকল্পনাতে ছক করে তা বাস্তবায়ন করে (২৮ অক্টোবর ২০১৭)।

অনেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চায়। এ সরকারের কাছে কিসের বিচার? সে নিজেই অপরাধী। সচেতনদের ধারণা সরকার নিজেই মেজর সিনহাকে মেরেছে, সাগর-রুনিকে হত্যা করেছে, বিডিআর বিদ্রোহের নামে বিডিআরকে ধ্বংস করেছে। সরকার অবৈধ পথে এসেছে, উদ্দেশ্য গদি ধরে রাখা আর ঐসব কাজ সমাধা করা। খালেদা জিয়া একজন গৃহবধূ থেকে অসাধারণ অর্জন দিয়ে তার রাজনীতির ময়দানকে আলোয় আলোয় ভরিয়ে দিতে পেরেছেন বলেই হাসিনার মনের জ্বালা দ্বিগুণ থেকে বহুগুণ। সদিচ্ছা থাকলে মানবিকতার চাষ করলে এই মুজিব কন্যাও জনতার বুকে স্থায়ী আসন গাড়তে পারতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। মিথ্যায় মিথ্যায় তার রাজনীতির শুরু থেকে শেষ। অতীতে তিনি রাজনীতিতে কখনোই ছিলেন না। জাতি জানেন সব। তারপরও তিনি বলেন তিনি নাকি ইডেন কলেজেই ছাত্রলীগের নেত্রী ছিলেন। এসব যে মিথ্যাচার ছিল সেটিও মুক্তিযোদ্ধা রেন্টুর গ্রন্থে স্পষ্ট। আর যারা ময়দানে আছেন তারা কি সত্যটা জানেন না? নিজের ডাকাতি ঢাকতে সারাক্ষণ প্রতিপক্ষকে এতিমের টাকা চোর, এতিমের টাকা চোর বলে লাফালাফি করে নিজের ডাকাতদের উপঢৌকন ঘুষ দিয়ে সামলাবার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিভাবে ভৌতিক দানবরা ইলিয়াস আলী, সালাউদ্দিন, চৌধুরী আলমদের মত শত শত রাজনৈতিক কর্মীকে গুম করে? অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর বুদ্ধিলোপ পাবার এসব বুদ্ধি কিভাবে তার মগজে ঢুকলো? এটি ঠিক, অনেক দিন থেকে বাংলাদেশে রামরাজত্ব কায়েম রাখতে পেরেছেন মুজিবকন্যা হাসিনা। পারবেন কি আজীবন এটি টিকিয়ে রাখতে? তার বিবেক কেমন করে এত অধঃপাতে নামলো? আর বর্তমানে চরম ধ্বংসের শেষ অপেক্ষার সময় পার হচ্ছে। তার পরিচয় তিনি নিজে, হিংসার এক কুশপুত্তলিকা। তার প্রতিটি কথাই হিংসার বাণী ছড়ায়, এর জবাব তিনি নিজেই ব্যতিক্রমী উদাহরণ। অপকর্মকারিরা বার বার অপকর্ম করে। হয়তো এর কারণ এরা শিখে না সৎকর্ম কি? অবস্থার প্রেক্ষিতে ক্রুদ্ধ হাসিনার একমাত্র যুক্তি ঐ একটাই; জাতিকে কেন জিয়াউর রহমান একবার নয়, বরং বার বার উদ্ধার করতে ময়দানে! এ জাতির উদ্ধার হওয়া দেখতে তারা অভ্যস্ত নয়, তারা বিড়ম্বনা চায়। হাসিনার সহোদররা শেখ কামাল শেখ জামালরা অস্ত্র হাতে ময়দান গরম করে রাখতেন। ধারণা হয়, ওদের দাপট বহাল থাকলে এতদিনে দেশ অতল গহ্বরে নিপতিতই হতো। চরম হিংসুটে মানসিকতায় শেখ হাসিনার সব কাজের বড় কাজ দেশের সবচেয়ে প্রথম ও প্রধান যোগ্য পরিবারকে ডাকাত বানাতেই হবে। তার পরিবারের সদস্যরা বহির্বিশ্বে কারাগারের আসামী হয়ে সময় পার করছে। বাংলাদেশের মিডিয়া এসব সত্য প্রকাশের অধিকার হারিয়েছে। তারপরও ঐ প্রধানমন্ত্রীর টনক নড়ে না। এবারও ৪৮ বছরের সমান ব্যাংকঋণ এ বছরই নেবে সরকার (৬ মার্চ ২০২০) সূত্র: দেশ রূপান্তর। তারপরও কি জোটবদ্ধ ডাকাতদের হাত থেকে এ জাতির শেষ রক্ষা হবে? বাংলাদেশের ৯০% মুসলিমরা আল্লাহর উপর ভরসা হারাতে পারে না। তাই এসব ফেরাউনের অত্যাচারে যুগে যুগে দেশ-সমাজ পতিত হয়েছে, তারপরও মানুষ মাথা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে, মুক্তির স্বপ্ন দেখেছে। আজও তার ব্যতিক্রম হবে কেন? মানুষ বাঁচবার আশায় বুক বেধে আছে।

চেতনার বরপুত্ররা বীরধর্ষক

নাজমা মোস্তফা

পাকিস্তানী সৈন্যের হাতে যারা সম্ভ্রম হারিয়েছেন তাদের বলা হয়েছে বীরাঙ্গনা। বর্তমানের বীর ধর্ষকরা রাজনীতির সৃষ্ট দানব। এদের বিবেক যেমন মরে গেছে, লাজ লজ্জাও মরে গেছে, যাদের কোন হায়া লাজ বলে কিছু বাকী নেই, থাকলে অন্তত দানবদের নেত্রী পদত্যাগ করে জাতিকে মুক্তি দিতেন। এরা জাতিকে জিম্মী করে রেখেছে, এর ধারাবাহিকতা স্বাধীনতার শুরু থেকেই চলমান। ৭২-৭৫ বিধ্বস্ত দেশের বিধ্বস্ত দশা। জাসদের ৩০,০০০কে হত্যা করেছে আওয়ামী রক্ষীবাহিনী। আজকের চুরি ডাকাতী, গুম, গায়েবী মামলা, সর্বোপরি ধর্ষণ এসব হাসিনার লালিত প্রশ্রয়ে অর্জিত অপকর্মের ধারাবাহিকতা। যে কাজ অতীতে তার সোহদর ভাইরা ময়দানে করেছেন, মানুষ মুখ খুলার সাহস করে নাই, আজকের ব্যাংক ডাকাতীর শুরুটাও হাসিনার সহোদর জড়িত ছিলেন। ব্যংক লুট ছিল তাদের বড় অর্জন, মিডিয়াতেও ওটি আসে। ভোটচুরি, করোনাচুরি, তেলচুরি, ডাল চুরি, বালিশ চুরি, পর্দাচুরি, গোটা দেশ চুরি। তাই বলতে হয়, শেখ হাসিনা একা নয়,  তার বাবাও তার ভাইয়েরাও ঐ পথে হেটেছেন। বাবা চুরিতে না থাকলেও চোরদের প্রশ্রয় দিয়েছেন। যার বাস্তব খেসারতে ১৫ই আগষ্ট তারিখে তাদের হত্যাটি ছিল অনেকটাই তাদের অপকর্মের অর্জন, অনেকটা তাদের নিজের আত্মহত্যা। যার জন্য কপট বেদনায় বিবর্ণ জাতি কাঁদে নাই, কাঁদতে পারে নাই। আজ ঐ মুজিবের কন্যা ঐ এক আদর্শহীন পথেই হাটছেন। ব্যক্তির সামনে জাতির সামনে সমাজের সামনে আদর্শ থাকতে হয়, না হলে জাতি আগাতে পারে না। সে আদর্শ যদি ডাকাতকে ধরা হয় তবে সে জাতি পুরোটাই ডাকাত হতে বাধ্য। সবচেয়ে বড় কথা জাতি দেরীতে হলেও বুঝতে পারছে, সে আদর্শ নেতৃত্ব ঐ মুজিব পরিবারের মাঝে ছিল না কোনকালেই। এরা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের শিকার। এরা ক্ষমতা পেলেও ধরে রাখতে পারে নাই বরং লোভের বশবর্তী হয়ে সংকীর্ণতায় আকন্ঠ ডুবেছে।

১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন মানিক ধর্ষণের সেঞ্চুরী করে সমালোচনার ঝড় তুলেছিলেন। এরাই তারা যারা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি হয়। এটি তাদের বড় প্রমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নামের নাটক এসব। । সিলেটসহ সারা দেশে এ রক্তক্ষরণে প্রতিটি হৃদয়ে চলছে রক্তক্ষরণ। সিলেট এমসি কলেজ এমন একটি জায়গা,  যে কারো মনে হতে পারে ওখানে একটু ঘুরে আসি। এমসি কলেজে থাকে ছাত্রলীগের সরকারী দানবেরা, তারা অপকর্মের ময়দান তরতাজা রেখেছে সেটি জানা ছিল না এলাকার ঐ নব দম্পতির। তারা মনে করেছিল তাদের চিরচেনা সোনার দেশের পাহাড়ী সৌন্দর্য্যে ঘেরা সিলেটের সবুজে একটু ঘুরে আসি। তারা অংক কষতে পারে নি যে এর মাঝে যে বিষধর সাপ লুকিয়ে ছিল ঐ সবুজের চত্বরে সরকারী প্রহরায় তারা দংশন করতে পারে। অনেকে শেখ মুজিবের সুনাম ধরা রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। কেন বললাম এ কথা, কারণ শেখ মুজিব নিজেও ছিলেন এমন এক নেতা তাকে নষ্ট নীতিহীন পথে হাটতে দেখা গেছে। যার খেসারতে তাকে প্রাণ খোয়াতে হয়। এর প্রমাণ হিসাবে ভুক্তভোগী সিনিয়র সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হাবিব সাংবাদিক কনোক সারোয়ারের সাথে এ বিষয়টি স্পষ্ট করেন এক ইউটিউবে। যদি সুযোগ পান ওটি দেখবেন প্রতিটি বাংলাদেশের মানুষের এটি জানা দরকার। এ ছাড়া এসব সত্য অনেক লেখনীতেও স্পষ্ট হয়েছে। কোন সত্যকেই বেশী দিন চাপা দিয়ে রাখা যায় না। যদিও সেনাপ্রধাণের পদটি ছিল জিয়ার পাওনা কিন্তু কোন এক অজানা কারণে শেখ মুজিব তাকে না দিয়ে তার অধস্তন অযোগ্য শফিউল্লাহকে সেনাপ্রধান নিয়োগ দেন। এখানেই মুজিবের দ্বিচারিতার এক নজির ইতিহাসে দাগ হয়ে আছে।

১৯৭৫ সালে জিয়া উপসেনাপ্রধান ছিলেন, জিয়া সেনাপ্রধান থাকলে মুজিব হত্যা ঘটতো না। মুজিব তার লাগামছাড়া সন্তানদেরে বাগে রাখেন নাই। এদের অত্যাচারে মানুষ নিগৃহীত হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা ভারত ফেরত এসে জিয়ার নামে মিথ্যাচারীতা প্রচারের উপর জোর দেন। তার ছাত্রনেতাদের নির্দেশ দেন সারাক্ষণ বলতে থাকবে ‘এই জিয়া সেই জিয়া নয়’। তখনকার সময় এসব নিয়ে ছাত্রদের মাঝেও চরম হাসাহাসি হয়। মুক্তিযোদ্ধা রেন্টুর গ্রন্থ (অবশ্য পাঠ্য সবার জন্য) এসব অনেক খুটিনাটি স্পষ্ট করেছে। একমাত্র জিয়াউর রহমান ঐ মুজিব হত্যার পরবর্তী শপথের অনুষ্ঠানে যোগদান করেন নাই বরং তার জনপ্রিয়তায় ক্ষমতা গ্রহণ তার উপর অর্পিত হয়েছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এসেই মিথ্যাচার শুরু করেন আর জিয়াকে মুজিবের খুনী বলে প্রচার চালাতে থাকেন, যেটি তিনি আজ অব্দি বহাল রেখেছেন। আর্মির চেইন অব কমান্ড বজায় থাকবে না এ বিষয় জেনেও শেখ মুজিব কপটতার আশ্রয় নিয়ে জিয়ার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে সেনাপ্রধান না বানিয়ে কয়েক ধাপ পেছনের মানুষকে শফিউল্লাহকে সেনাপ্রধান বানান। ঐ সময় কর্ণেল শফিউল্লাহও নিজে এটি মেনে নিতে ইতস্তত করেন। এই জিয়া যে কি জিয়া সেটিও খুব কম মানুষ জানে। ১৯৬৫ সালে জিয়াউর রহমান ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে যে সম্মান অর্জন করেন সেটিও ভারতের জন্য সুখকর ছিল না। পাঞ্জাবের খেমখারান সেক্টরে  সেখানেও জিয়াউর রহমান বাড়তি সম্মানের অধিকারী। তাই হাসিনার শত মিথ্যাচারকে মানুষ প্রকৃত সত্যের সাথে মিলাতে পারে না। যার খেসারতে সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ ঐ জটিল অবস্থা মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হন। মিলিটারী উইকি থেকে একটি প্যারা “Ziaur Rahman himself won the distinguished and prestigious Hilal-e-Jurat (10) (Cresent of Courage), medal, Pakistan’s second highest military award, and his unit won 2 Sitara-e-Jurat (Star of Courage) medals, the third highest military award, and 9 Tamgha-e-Jurat (Medal of Courage) medals, fourth highest award from the army for their brave roles in the 1965 war with India. In 1966, Zia was appointed military instructor at the Pakistan Military Academy, later going on to attend the prestigious Command and Staff College in Quetta, Pakistan, where he completed a course in command and tactical warfare (https://military.wikia.org/wiki/Ziaur_Rahman).  যাদের জানার অভ্যাস কম, আর যারা মিথ্যা জানেন তাদের জন্য নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে এসব জানা খুব জরুরী। ১৯৬৫ সালের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে জিয়ার অবদানকে খাটো করে দেখেছে মুজিব পরিবার বাবা থেকে কন্যা। শেখ হাসিনা মিথ্যাচার না করলে এসব কখনোই নাড়া হতো না। কারণ উভয়েই জাতির শ্রদ্ধার্ঘ।

২০১৬ সালে প্রকাশ্য দিনদুপুরে জনতার সামনে মহিলা কলেজের ছাত্রীকে চাপাতি দিয়ে কুপায় ছাত্রলীগের বদরুল। তার চিৎকারে জনতার তোপের মুখে পড়লেও বিধ্বস্ত দেহ নিয়ে মৃত্যুর সাথে লড়ে প্রাণে বাঁচেন এই খাদিজা। এদের কর্মকান্ড বলতে গেলে গোটা কলামই চেতনাবাজদের  দিয়ে ভরে যাবে। এরা খুব সাহসী সরকারের মতই অপকর্মে তোখড়, শত অপরাধ দেখেও যারা না দেখার ভান করে তারা ঐ নেত্রীর সব চুরির, অপকর্মের দায়ভার অবশ্যই নিজের কাঁধে বইবে। পুলিশ, রাষ্ট্রপতি, সাঙ্গোপাঙ্গো সবাইকে এ দায়ভার সমানভাবে বইতে হবে। তারা সৎ থাকলে সহজেই পদত্যাগ করতে পারতেন। তলারটাও খাবেন উপরেরটাও খাবেন আর দুইজাহানে ডুগডুগি বাজাবেন, তাতো হয় না। শেখ মুজিব পাকিস্তান আমলে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীকে চেয়ার ছুঁড়ে মারেন ১৯৫৮ সালে, যার খেসারতে তাকে মৃত্যু বরণ করতে হয়। অনেকে গর্ব করেন তার আত্মজীবনী নিয়ে, এ কথাটি স্পষ্ট করা হয়নি কেন তার আত্মজীবনীতে যদি সত্যই এটি তিনি রচনা করেন আর সত্যবাদী হন তবে এটি তার বলা উচিত ছিল। এতে বোঝা যায় এদের অবস্থান কিভাবে সত্য এড়িয়ে মিথ্যায় ভরা। একদিন শেখ মুজিব গোটা জাতির প্রাণের নেতা ছিলেন। বাংলাদেশে নির্দোষকে দোষী করার সংস্কৃতি হাসিনা তার অবৈধ গদি দখলের সাথে জায়েজ করে নিয়েছেন। ঠিক যেমন গায়েবী মামলাকে জায়েজ করেছেন। গুম খুনকে জায়েজ করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষিত হন। ছাত্রীর বক্তব্যে প্রকাশ এক শক্ত সামর্থ শক্তিমান ক্ষমতাধর যুবক তার ধর্ষক, যাকে সে জীবনেও ভুলবে না। সেই শক্তিমান যুবককে বাঁচাতে কোন এক প্রতিবন্দীকে ধরে কারাগারে পুরিয়ে দিয়ে নাটক চলছে। আসামী রাস্তার এক টোকাই জীর্ণ শীর্ণ ব্যক্তি এক মানুষ নামধারী ফসিল নামের কঙ্কাল মজনু তাদের জালে ধরা পড়েছে। যখন বিচারের জন্য কারাগার থেকে আনা হচ্ছিল। সে হাতপা ছুঁড়ে মাটিতে গড়াগড়ি আর বিকট কান্নারত, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিল। মন্তব্য কলামে সরকারের এসব নাটকের উপর শত শত ধিক্কার পড়ে। একমাত্র আওয়ামী সরকারী দালাল ভিডিও ফুটেজে বলেন, তার আচরণ প্রমান করে সে আসামী। এরা রাজনীতির সাথে সাথে তাদের বিবেককেও বন্ধক রেখেছে। ভাবতে অবাক লাগে এরা মৃত্যুভয়ে মোটেও কাতর নয়, যদিও তারা অমর নয়। একটি প্রতিবন্দীকে এনে দাঁড় করিয়ে ঐ ছাত্রীকে অপমান করা হয় প্রথমত তাকে ধর্ষন করার রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য, দ্বিতীয়ত  একজন নির্দোষকে অপরাধী করে তাকে অপদস্ত করা হয়, বাড়তি মনোকষ্ট দেয়া হয়। নিজের ডাকাতদের বাঁচাতে ছাত্রীটিকে এমন এক মেরুদন্ডহারা করা হয়, যে তার মুখের বুলিকে হাস্যকর করা হয়। প্রমান হয় ঐ মেয়ে প্রতিবন্দীরও অধম, সে প্রতিবাদ করলো কেমনে?  ছাত্রীও সম্ভবত বাকহারা জিম্মী দশাতে, কইতে নারি সইতে নারি অবস্থানে এ লজ্জা সারা জাতির শিক্ষার মুখে হাতুড়ীপিটে রাজনীতির কপট অবস্থানকে সবার সামনে তুলে ধরছে।

খবরে প্রকাশ এমসি কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, সব কথা বলতে পারেন না, মুখে তালা দিয়ে রাখেন। ডেইলী ষ্টারের কাছে এক সাক্ষাৎকারে (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০) অধ্যক্ষ সালেহ আহমদের সাথে কথা হয়। এই ছাত্রবাসই ২০১২ সালে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় । তিনি বলেন বিচারের ভার তাদের নয়। তাদের সীমাবদ্ধতা আছে, সে হিসাবে তারা অসহায়। একজন কলেজের অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলে দেয়া হয়েছিল, পত্রিকা মারফতে এসব জাতি জানে। আগুনে হল পুড়ে যাওয়ারও কোন বিচায় হয়নি। বরং তখন থেকেই এরা হলটি জবর দখল করে রেখেছে। যারা সম্পৃক্ত এদের একজন ছাড়া বাকীরা চার থেকে পাঁচ বছরের পুরোনো ছাত্র। এসব অপকর্মের তদন্তও প্রকাশিত হয় না এবং কোন পদক্ষেপও নেয়া হয় না। এসব প্রশ্নের কোন জবাবদিহিতা অধ্যক্ষের জানা নেই। অধ্যক্ষের মনেও একই প্রশ্ন, কেন এসবের কোন সুরাহা হয় না। যেখানে অধ্যক্ষের সাহসে কুলায় না, সেখানে দারোয়ান কোন ছার! অবৈধ শুধু সরকার নয়, গোটা প্রশাসনেই এই অবৈধ অস্তিত্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এমসি কলেজ ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত অনেক পুরোনো কলেজ, ১৯২০ সালে নির্মিত ছাত্রাবাসে ২০১২ সালের ৮ জুলাই পুড়ে ছাত্রাবাস আওয়ামী ক্ষমতার দম্ভে। পরে নতুন নির্মিত ভবন ফের আওয়ামী লীগের দখলে, সারা দেশের মতই অবৈধ জবরদখলীসত্ত্ব। করোনার কারণে এটি বন্ধ থাকলেও ছাত্রলীগ নেতারা সেখানে আসন গেড়ে হোষ্টেল সুপারের বাংলো দখল করে থাকে। দলবল নিয়ে আড্ডা দেয়, ইয়াবা গেলে, নারীকেলী চলে।  হবিগঞ্জ, বালাগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ধিরাই, জগন্নাথপুর, জকিগঞ্জের ছাত্ররা ধর্ষক। প্রথম আলোর (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০) বরাতে জানা যায় ২০১২ সালে ৪২টি কক্ষ পুড়িয়ে দেয় এবং এরপর ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর এটি উদ্বোধনের পর থেকেই ছাত্রলীগ এককভাবে এখানে কর্তৃত্ব করে আবাসিক ছাত্রদের সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। যদিও এমসি কলেজে তাদের কোন কমিটি নেই। ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই তাদের দুই দলে আধিপত্য বিস্তারে আবারো ছাত্রাবাস ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ঐ সময় ২৯ জুলাই তারিখে পুনরায় ছাত্রাবাস খোলা হয়। এর পর ৬ আগষ্ট পুনরায় ঐ ৭ নম্বর ব্লকের কয়েকটি কক্ষ ও নতুন ভবন দখলের তৎপরতার মুখে আবারো বন্ধ করে দেয়া হয়। সংক্ষেপে এরা সরকারের মতই অতিরোধ্য অপকর্মী। ছলে বলে কলে কৌশলে হলেও তাদের একক কর্তৃত্ব চাইই। এভাবে শাহজালালের পবিত্র ভূমি আজ দানবদের দখলে।

স্বামীর কাছ থেকে তারা মেয়েটিকে ধরে নিয়ে যায়। স্বামীর শত চিৎকারও দুর্বৃত্তদেরে ঠেকানো যায় নি। তাদের সাহস দিনে দিনে বেড়েই চলেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে তারা এসব কর্মকান্ডের এজেন্ডা নিয়ে বেড়ায়। তাদের ইচ্ছে হলে আগুন দিবে, ইচ্ছে হলে ধর্ষণ করবে। এ দেশে তাদের অবৈধ সরকারই সব সামাল দিবে, তা তারা জানে। এরা অপকর্ম করে বারে বারে পুরষ্কৃত হয় সরকার দ্বারা। যারা মানুষ পেটাবে, ধর্ষণ করবে তারাই তো সোনার ছেলে (মানিকদের) অবৈধ সরকারের বেশী দরকার, গদি রাখার ইঞ্জিনিয়ার তারা। এরাই সুবর্ণ চরের চার সন্তানের মাকে বিনা বিচারে ধর্ষণ করে। কারণ ঐ মেয়ে সরকারকে ভোট দেয় নি। যদিও তাদের গদিতে যেতে ভোট লাগে না, আগের রাতেই ভোট সারে। কিন্তু প্রতিপক্ষ অন্যরা কেন একটি ভোট পাবে সেটি তারা সইতে পারে না। শেখ মুজিব তার ছেলেদের বিচার করেন নাই, যেদিন তারা খুন গুম ধর্ষণ অপকর্ম করে ময়দান গরম করেছিল। তারা নাকি ছিল রাজপুত্র, সাত খুন মাপ। ঐ সময়ে ময়দানে থাকা আমরা এসব তখনও লোকমুখে শুনে অভ্যস্ত ছিলাম। রাজধানীতে সন্ধ্যের পর সাধারণত মানুষ রাস্তায় নামতো না। কেউ ব্রিফ কেইস হাতে চলাফেরা করতো না। দিনে দুপুরেও ভয়ে কাটাতো। ১৯৭৪এর দুর্ভিক্ষে মানুষে আর কুকুরে কামড়াকামড়ি করে খাবার খেয়েছে। এসব অবর্ণনীয় সমাজ চিত্র বর্ণনা করতেও কষ্ট হয়। শেখ মুজিব কেমন করে যেন আগাগোড়া বদলে গেলেন তার আগের সব ভাব মর্যাদাতে ভাটা পড়লো। কঙ্কালসার মানুষের দিকে নজর না দিয়ে তিনি তার যুবরাজদের সোনার মুকুট পরিয়ে বিয়ের বাহাদুরীতে ছেলেবৌদের রাজরানী বানাতে ব্যস্ত। আর বাকীরা বকুল ফুলের মালা দিয়ে বিয়ে করবে, স্লোগানে স্লোগানে বাকীদের জন্য সুবাক্য জমা ছিল। 

অনেকেই বলছেন ইসলামের আইন প্রয়োগ করা হোক। কুরআনের আইনে এদের ১০০ বেত্রাঘাত করার কথা। আর সেটি হবে প্রকাশ্য ময়দানে। দারোয়ানকে সাসপেন্ড করা ও শিক্ষককে সাময়িক অবসরে দেয়া খুব সহজ কিন্তু আসল ডাকাতের বিচার হয়নি বলেই দেশ এ পর্যায়ে এসেছে। কোনদিনই সঠিক ধর্মের প্রয়োগ হয়নি। হয়েছে ধর্মহীনতার চাষ, সত্য ইসলাম জানা না থাকলে তাহাজ্জুদের মিথ্যে ফাঁকিবাজি দিয়ে আর কতদিন চলে! বাংলাদেশের এসব অনাচারের বিচার শেখ মুজিব করেন নাই বলেই তাকেও মেজর ডালিমদের হাতে প্রাণ হারাতে হয়। এ কথাটি একবাক্যে দেশের সবাই বলে, আমরাও শুনে শুনে ধাতস্থ হয়েছি। সারা দেশে অস্থির রাজনীতি, বিশ^বিদ্যালয়কে বলা হতো ডাকাতের গ্রাম। আর সেখানে বর্তমানে যারা অপকর্ম করছে তাদের নামই লিষ্টের ধারাবাহিকতায় সবদিন শিখরে। এর কারণ নেতাদের অতি আহ্লাদে সোনার ছেলেরা নীতিহীনতার ফসল ফলাতো দাপটের সাথে। জাহাঙ্গীরনগর ভার্সিটির মানিক ধর্ষণের শত সেঞ্চুরী করে মিষ্টি বিলাতে লজ্জিত নয়, সে দেশের নেতৃত্বে যখন আওয়ামী লীগ। এটি কি ছিল শেখ মুজিবের আদর্শ বাস্তবায়ন?

যে বা যারা সরকারের পক্ষে চড়া গলাতে গলাবাজি করছে তারাও এর শরিক শক্তি। একদিন এ দেশের শতভাগ মানুষ ঐ দলকে সাপের্ট করেছিল এটি ধ্রুব সত্য কথা!  কিন্তু ক্রমে ক্রমে বিবেক সম্পন্নরা সেখান থেকে সটকে বেরিয়ে যায়। খালেদাকে কারাগারে রেখে হাসিনার ভোট গ্রহণ। সবাই এটি স্বীকার করছে যে শত শত কোটি কোটি মানুষের হক কেটে খেয়ে হাসিনা ধার্মিকতার ভান করে টিকে আছেন। যেখানে একটি মানুষকে অন্যায়ভাবে আঘাত করার অধিকার দেয় না যে ধর্মে, সেখানে কোটি কোটি জনতার হক নষ্ট করে তাহাজ্জুদধারী নামাজী হাসিনার বিবেকের কোন কষ্ট নেই। চলছে ধর্মের নামে মিথ্যা জারিজুরি। বাস্তবতা বর্জিত চাটুকার রাখাল ছেলে আতিয়ুর রহমানের হাতে দেশ আজ ফকিরের ঝুলা / বাংলাদেশে ধর্ষণের বিচার হয় না। হলে স্বাধীনতার শুরুতেই  শেখ কামালদের বিচার হতো। যা আজো মানুষ ভুলে নাই ঐ তাপে দীর্ঘশ^াস ফেলছে আর ভোক্তভোগীরা দেশছেড়ে বহির্বিশে^ দম ছাড়ছে। আকাশে বাতাসে এসব কথা ছড়িয়ে আছে। ঐ প্রতাপীদের বোনই ক্ষমতার দাপটে, মানুষ সত্য বলতে ভয় পায় না, শুধু আত্মরক্ষার্থে সামনে বলে না। সবার আমলনামা সবার গলাতে বাঁধা আছে। ওটি লুকাবার সাধ্য কারো নেই। মনে করতে হবে বাংলাদেশ ৯০% মুসলিমদের দেশ সেখানে এর কঠোর বিচার প্রয়োগ করতেই হবে। ধর্ম যার যার উৎসব সবার বলার কোন সুযোগ নেই।

শেষ কথা:  কুরআন আল্লাহর কালাম। একে এড়ানোর  সাধ্য কারো নেই। মুসলিমদের উপর নির্দেশ একে অনুসরণ করা ফরজ, অবশ্য করনীয় কাজ। মাত্র একটি আয়াত আনছি (সুরা নিসার ২৫আয়াত দ্রষ্টব্য) “ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের দুজনের প্রত্যেককে একশ’বেত্রাঘাতে চাবুক মার। আর আল্লাহর বিধান পালনে তাদের প্রতি অনুকম্পা যেন তোমাদের পাকড়াও না করে। যদি তোমরা বিশ^াস করো। (তবে যদি কোন সতি সাধ্বী ধর্ষিতা হয় তবে শাস্তি পাবে ধর্ষণকারী, নিরপরাধীর উপর শাস্তি বর্তাবে না। আর মুমিনদের দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে (যাতে দর্শকরাও এ ধরণের পাপাচারকে ভয় করে চলে । এটি কুরআনের নির্দেশ। তবে সেঞ্চুরী বাজদের অপরাধ ঐ মাপে শতগুণ বাড়বে এটি নিশ্চিত। তবে কমার কোন সুযোগ নেই। নীতির কথা হচ্ছে এসব মূল বাণী থেকে দূরে সরে থাকলে মানুষ চিরকালীন ধর্ষক হয়ে থাকবে, সত্যিকারের মানুষ হতে পারবে না। সে যদি মানুষই না হয় তবে তার নামাজ, তাহাজ্জুদ লোকদেখানো এবাদতের কোন মর্যাদা নেই। তাদের কুরআন মানতে হবে বুঝতে হবে পালন করতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই। এদের এসব করতে নিষেধ করেছে কুরআন। মানুষকে প্রতারণা করতে কিছু প্রতারকরা ভিন্ন কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। এদের জন্য কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে। কুরআন অনুমোদন ও নিষেধ দুটোই স্পষ্ট করে রেখেছে। এর ব্যত্যয় করা মানে আল্লাহকে অস্বীকার করা। এক শ্রেণী ধর্মকে প্রতারণার কৌশল হিসাবে নেয়। দিনে দিনে সরকারের এ প্রতারণার দেনা বেড়েই চলেছে। ভোটচুরি, সাগরচুরি, থেকে এখন হচ্ছে ইজ্জতচুরি। আর কিছু অবশিষ্ট নেই বাংলাদেশীদের, এটি তাদের সর্বশেষ লুন্ঠন। আল্লাহ তার রহমত দ্বারা বাংলাদেশের মানুষকে এ জাহেলিয়াতের পথ থেকে সঠিক পথে নিয়ে আসুক, এ কামনা করছি।  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০।

সিরাজ সিকদার থেকে সিনহা রাশেদ খান বলির পাঠা

নাজমা মোস্তফা

প্রায় ৪৯/৫০ বছর আগে যখন লাল ঘোড়া দাবড়িয়ে মানুষ হত্যা করার নামে ক্রস ফয়ারের শুরুটা সিরাজ সিকদার দিয়ে শুরু হলো অতপর রক্ষী বাহিনী ও হাজার হাজার লাশের গোপন কান্না কি প্রাকস্বাধীনতার ভালবাসার গান দিয়ে ঢাকা যাবে? প্রাক স্বাধীনতার সোরগোলে আমরাও ছিলাম। আজকে বিদগ্ধ জনরা তাদের মেকী ভালোবাসার কান্না দিয়ে কি এসব দগদগে ঘাঁ এর ক্ষত মেটাতে পারবেন? প্রশ্নটি বাংলাদেশের সচেতন মানব সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন রেখে অনেক দিন পর কলামটি লিখছি। একের পর এক মারদাঙ্গা সারাদেশে লেগে আছে, কারণ সরকার অবৈধ, আচার সেখানে বৈধতা পায় না। প্রতিটি বিতর্কীত প্রশ্নবিদ্ধ মৃত্যুকে জায়েজ করতে চান হাসিনা তার বাপের পরিবারের মৃত্যু দিয়ে। বারে বারে আসামী ধরে ধরে বাপের বিচার করেও তার সাধ মেটে নি। তিনি কখনোই তার বাপের ভাইএর অপরাধ গুনেন না। ধরে নেন এরা মহাপুরুষ। তিনি কি জানেন তার ভাইদের ‘কামালনামা’ আজও ইন্টারেনেটে রাজত্ব করছে, দম ছাড়ছে পূর্ব থেকে পশ্চিম মাতিয়ে বেড়াচ্ছে। তার ভাইদের যুগে বাপের দুর্দন্ড প্রতাপ আছর করে গুণধর ভাই কামালের উপর, তার দাপটে নারীরা দুর্বলরা নীরিহরা নির্যাতীত হন। যার খেসারত আজ অবদি দেশে ঐসব প্রেতাত্মারা ঘুরছে দাপট দেখাচ্ছে, ময়দানের ঐসব অপকর্ম রাজভোগ হয়ে আছে। সেদিন যদি শেখ মুজিব তার দুর্বৃত্ত ছেলেদের কঠিন ভাবে রাশ ধরে টান দিতেন। সারা জাতি তাকে মাথায় তুলে রাখতো। বিশ^বিদ্যালয় পাড়া তখন থেকে তাদের কপট রাজত্বে থরথর করে কেঁপেছে। যার জন্য তাদের মৃত্যুতে দেশের মানুষ কাঁদে নাই। উল্টো খুশী হয়ে দম ছেড়েছে ‘ফেরাউন নিপাত গেল’। অপকর্মে নির্যাতনে আজকের মতই মানুষ ৫০ পূর্ব দেশের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। আজও যদি ৭৫এর পালাবদল হয় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে, এটি আওয়ামী দলবলসহ সবাই জানে। মুজিবকে হত্যা করা হবে এটি মানুষ স্বপ্নেও ভাবে নাই। কল্পনায়ও দেখে নাই। যে ঘটনা সচরাচর তেমন শোনা যায় না। খুবই সুক্ষ্মদর্শী ছাড়া এটি অনেকের প্রায় অজানা, এসব জটিল সত্যকে সাধারণের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। একটু মন দিয়ে শুনুন, অনেক তথ্য এটি স্পষ্ট করে, সেদিন মেজর ডালিমরা শেখ মুজিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে যায়নি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তাকে বন্দী করে জবাবদিহিতার মুখোমুখি দাঁড় করানো। আপনারা বলবেন তাহলে মাজেদরা কেন বললেনা না। যারা দাপটিদের হাতে বন্দী সেখানে মৃত্যু মুখেও কি সত্য বলার সুযোগ ছিল? এসবই বিবেকের জমা। এখানে বিচারে তাই বলা যাবে, যা বলাতে চায় সরকার। কিন্তু সত্য হচ্ছে সেদিন শেখ মুজিব দর্পের উপর, আছর করা কামাল জামালরা চৌকশ অস্ত্র পরিদর্শণে দক্ষতায় ময়দান কাঁপানো অসংখ্য অঘটন ঘটন পটিয়সী ছিলেন। তাদের হাতের কাছেই ছিল অস্ত্রের ভান্ডার। যার বিরুদ্ধে তাদের পরিবার কোন প্রতিরোধ গড়ে নি। কেন তাদের পরিবার সন্তানদের এমন আশকারা দিল, তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া হয় আর শেখ হাসিনা মাঝে মাঝে মিথ্যাচার করেন তার ভাইদের নামে। মিথ্যা কথা তাদের মুখে কখনোই আটকায় না। তারা ধরে নিয়েছে তারা দেশের জমিদারের সন্তান, তাই সবই তাদের কাছে ছেলের হাতের মোয়া। মুজিবের সন্তানেরাই প্রথমে ঐ দাপটের বন্যায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গুলি ছোড়ে। যার প্রেক্ষিতে মেজর ডালিমরাও অস্ত্র হাতে নিজের মেজাজ সামাল দিতে অপারগ হয়। এসব তখন ধারেকাছের বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা থেকেও স্পষ্ট হয়েছে। ঘাটেন, ঐ সত্য সবদিন ছিল আছে, শুরু থেকেই মানুষ এটি জেনেছে, যারা এর সন্ধান করেছে। “অতি বাড় বেড়ো না ঝড়ে পড়ে যাবে, অতি ছোট হয়ো না ছাগলে মোড়াবে”। যখন কামালরা অতি বাড় বাড়লো তখন ডালিমরা ভাবলো আমাদের কেন ছাগলে মোড়াবে। ঠিক তখনই তারা সিদ্ধান্ত নিল এদের একজনকেও ছাড় দেয়া হবে না। তাই শিশু রাসেলও হয় তাদের অস্ত্রবাজ ভাইদের অপকর্মের ধারাবাহিক শিকার। এটি জাতির প্রতিটি সদস্যের জানা দরকার। তাই বিদগ্ধ জনকে বলতে শুনেছি এদের হত্যা করা হয়নি, এরা আত্মহত্যা করেছে। কামালের জন্য মায়াকান্না আর রাসেলের জন্য কুম্ভিরাশ্রু ফেলার আগে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে সবার সামনে তুলে ধরা জরুরী। এসব মৃত্যুর দায় তাদের নিজেদের।

লক্ষ্য করার মত বিষয়, সিনহার মাকে স্বান্তনা কল করে শেখ হাসিনা তার নিজ পরিবারের হত্যাকে ত্বড়িতে নিয়ে আসতে ভুলেন না। সে হিসাবে তিনি ঐ হত্যা দিয়ে একে জায়েজ করার একটি অপচেষ্টা করেন। আমিও আপনার মত, বলার মানে এত কি সহজ? সিনহা কারো উপর অন্যায় খবরদারী করেছে বলে জানা যায় নাই। কারো উপর লাল ঘোড়া দাবড়ায় নাই। বরং জানা যাচ্ছে ঐ লাল ঘোড়ার দাবড়ানির জেরে তাকে প্রাণ হারাতে হয়েছে কি না সে শংকা সচেতন দেশবাসীরা করছে। গোটাদেশ আজ নন্দলাল প্রদীপদের দখলে। ঠিক যেভাবে মিরজাফর ছিল ময়দানের দৃশ্যতঃ নিমকহারাম। বাকী জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদি, রায়বল্লভরা পিছন থেকে তলানী ঝাঝরা করার মহরত চালালেও হাদা মিরজাফর ছিল পালের গোদা। বাকীদের সব অপকর্ম কাঁধে নিয়ে আজীবন গালির বোঝা কাঁধে নিয়ে তার পরিজন আজো অপরাধী হয়ে ঐ লজ্জায় বিবর্ণ জীবন কাটাচ্ছে। প্রদীপ কুমার দাসরা শত অপরাধেও ধরা পড়ে না, বরং বাড়তি পদক পায়। জানা যায় প্রদীপ বিএনপির যুগে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ঘুপটি মেরে বসে ছিল, সুযোগের অপেক্ষায়। অতপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে উনি চারাগাছ থেকে মহিরুহ হয়ে উঠেন উপযুক্ত পরিচর্যা পেয়ে। মুসলিম মেজরিটি দেশে হিন্দু হয়েও নিয়োগ পান বিএনপির যুগে। এটিও প্রমাণ করে হিন্দুরা কোন যুগেই অবহেলিত নন, তারা চাকরি পায়, যা ভারতের জন্য মুসলিমদের চাকরি স্বপ্ন। বরং সাম্প্রতিক আচরণগত বৈশিষ্ট্য বলে এরা বেশীরভাগ ভিন দেশের দালাল, সময় সুযোগ পেলে কলিজাতে কামড় বসায়। বাংলাদেশে মুসলিমরাও বসান, তবে সংখ্যালঘু বলে কোন সময়ই ভীত নন, বরং কামড়ে বর্তমান সময়ে তারা অতিরিক্ত সরব, অতিরিক্ত যামাই আদর ও পরিচর্যাপ্রাপ্ত এরা। গরীব সাধারণ জনতা যারা প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য দিচ্ছেন, যা তারা দেখেছেন তাই বলেছেন। এর পর থেকে তারা হুমকি ধমকির শিকারও হচ্ছেন। প্রদীপরা হত্যার পরও যামাই আদর পায়, কারাগারেও তাদের জন্য থাকে ভিন ব্যবস্থা। বরং তার দালালগং কর্তৃক অসহায় জনতারা হুমকির শিকার হচ্ছে। মানুষ নিধনে দক্ষ এ প্রদীপ সেজদারত এক মুসল্লী / ইমাম হত্যা করেও মহান থাকে, পদোন্নতি পায়। এর বড় কারণ সেজদারত ব্যক্তি যদি বিএনপি বা জামায়াতের মানুষ হয় তবে সরকারের জন্যও খুশীর সংবাদ। তখনই সরকার বুঝে প্রদীপরা সরকারের উন্নয়নের স্বপক্ষে কাজ করছে। সহজভাবে বলা যায় ভারতের স্বপক্ষে কাজ করছে। ৩১ জুলাই কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে ৩৬/৩৭ বছরের মেজর গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষীর ভাষ্যে বাহারছড়ার ওসি লিয়াকত হোসেন চারটি গুলি করে, তার সাথে কোন কথা না বলেই। লিয়াকত হোসেনের এটি প্রথম ক্রসফায়ার নয়, জানা যায় এটি ১৬৭তম। সাধু সজ্জনরাই এদের শিকার। মাদক নির্মূৃলের নামে এদের মাদক ধরিয়ে দিয়ে অপরাধী বানিয়ে ক্রস ফায়ার দেয়। সম্ভবত এটি শুধু প্রদীপের এজেন্ডা নয়, এটি অবৈধ পথে আসা সরকারের প্রতিটি অতীত এজেন্ডার সাথে খাপে খাপে মিলে।

প্রশিক্ষিত সুশিক্ষিত রাওয়া ক্লাবের সদস্য সিনহা নিজেও। এর পার্টনাররাই এখন তাকে বাঁচাতে নাটক করে বেড়াচ্ছে সারা দেশে। অন্য আসামীর মত তড়িঘড়ি প্রদীপকে রিমান্ড দেয়া হয় নাই। কারণ মানুষ এসব নিয়ে প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠে। ৯৬ সালে ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে প্রদীপ চাকরি পায়। অতপর সুযোগমত ১৭টি পরিবারকে নির্যাতন করে ভারতে পাঠায়। স্মরণ করার বিষয় হচ্ছে সচরাচর এসব ঘটনা বাংলাদেশে যদিও কম হয়, তারপরও যদি হয় এসব অপরাধ হয় আওয়ামী সরকারের সময়ে এবং দোষ চাপানো হয় বিএনপি জামাতের উপর। এটি তাদের আর একটি অপকৌশল, সাম্প্রতিক সময়ের প্রিয়া সাহা তার এক উত্তম উদাহরণ। তিনি ডনাল্ড ট্রাম্পএর কাছে আবদার রেখেছেন মৌলবাদী মুসলিমরা তাদেরকে দেশে থাকতে দিচ্ছে না। এটিও মিডিয়াতে স্পষ্ট হয়েছে ইউটিউবের বদৌলতে যে তার এক ভাঙ্গা ছাপড়া ঘরে আগুন দিয়ে তিনি মুসলিমদের অপরাধী সাজান। যার প্রমাণ তার প্রতিবেশী হিন্দুরা বলেও দিয়েছে তার নিজের সাজানো আগুন কিভাবে নীরিহ মানুষ হয়রানির অপকৌশল মাত্র। সরকারও তড়িঘড়ি হাজিরা তহবিল নিয়ে সাধুতার ভানে লেগে যায়, মুসলিম নিধনে সোচ্চার আর তাদের সুরক্ষায় সচেষ্ট। শুরু হয় প্রতিপক্ষের প্রতি বিষোদগার, এর নাম বাংলাদেশ। খারাপ সবার জন্যই খারাপ, বোনের সম্পত্তি কেড়ে নেয়াতেও প্রদীপ ওস্তাদ, বৌ নির্যাতনেও দক্ষ,  এক পুলিশ তার স্ত্রীকে সহযোগিতা দিলে তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তার কথা, “— (?) অমুক এ্যামবেসির পেছনের দরজা বন্ধের দিনও তার জন্য খোলা থাকে”। জানা যায় তার সম্পত্তির পরিমাণ ৩,০০০ কোটি টাকা। অযোগ্যরা যখন দেশ চালায় তখন এসব ঘটনা, অযোগ্যতাই বড় যোগ্যতা। তার এতই শক্তি যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। সে সিনিয়র লেভেল থেকে শত অপকর্মেও আশ^াস পায়। যে দেশের এ্যামবেসি তার জন্য খোলা থাকে, ধারণা হয় তার পাসপোর্ট থাকবে এটি বিশ^সযোগ্য কথা। পাঠক, চিন্তা করুন আর সত্যকে স্পষ্ট করুন।

(১) প্রধানমন্ত্রী এ যাবৎ অনেক হত্যাকান্ডেই আশ^াস দিয়েছেন, যদিও এসব কথার কথা। যে অপকর্ম ঘটায় তার আশ^াস কি কার্যকর হয়?
(২) সাগর রুণি, মেঘ/ ইলিয়াস আলী / চৌধুরী আলম / তনু/ আবরার/ সিনহা। একই ধারার বলির পাঠা, সরকারের আশ^াসভরা অপকর্ম ।
(৩) ইলিয়াস কোবরা আর এক অভিনেতাকে টেনে আনা হয়েছে। ইলিয়াস কোবরা, তার বাগানবাড়ি, ছয়বার এসএমএস, তারপরও সরকারই প্রশ্নবিদ্ধ?
(৪) বাংলাদেশ প্রতিদিন সরকার পন্থী একটি পত্রিকা ও তার প্রতিবেদন ঐ কোবরা নাটকের অবতারণ, প্রবল প্রতিবাদী কোবরা।
(৫) স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ যারা গড়তে অবদান রেখেছেন তারাও হচ্ছেন ওখানের লাশ। শেষ উদাহরণ রাশেদ খান সিনহা।
(৬) সর্বোচ্চ পদকসহ (২০১৯ সালে) ৬টি পদক লাভ করেন প্রদীপ কুমার। স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভে ২০৪ লাশ।
(৭) লাশ হবার আগে ১০/১২ দিন রাখা হতো থানা হাজতে।
(৮) প্রদীপ গায়েবী হামলা, ও অগ্নিসংযোগের হুমকি দিতেন। প্রশাসন শুনেও না শোনার ভান করে থাকতো নীরব।
(৯) জনতার স্ত্রীদের অভিযোগ নির্দোষ স্বামীদের ঘর থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হতো।
(১০) সেদিন মসজিদের মাইকে প্রচার করা হয় ডাকাত দল আসছে। সিনহাকে এভাবে ডাকাত সাজানো হয়।
(১১) প্রদীপ দশ বছরে ভয়ানক দানব, উন্নয়নের মহাসড়ক বাহারছড়ার পোস্টে নিয়োগ ।
(১২) নির্যাতীতদের মামলার আসামীদের সাথে চাঁদাবাজির ব্যবসা তার। থাকেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
(১৩) রাষ্ট্রীয় মদদে এরা বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এসব বাংলাদেশের উন্নয়নের রোজনামচা, দরিদ্র প্রদীপ আজ ধনাঢ্য কুমীর।
(১৪) ধুমপান না করা একজন সিনহা মৃত্যুর আগে মাদকসেবী ইয়াবাখোর হিসাবে প্রদীপের আসামী।
(১৫) প্রথমে ওরা অভিযোগ তোলে সিনহা অস্ত্র তাক করে তাদের গুলি করেন, পরে বলে ইয়াবা পাওয়া গেছে।
(১৬) একজন এসপি ফোনে দুর্বৃত্তকে শিখিয়ে দেন কিভাবে কি বলতে হবে। কম্পিউটারের সব তথ্য সরানো হলো, কেন?
(১৭) বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিকের নিউজ অল্প সময়ে বদলে যায় (১০ আগষ্ট ২০২০)। প্রথমটি বদলে অন্যটি।
(১৮) নাটকের পর নাটক সাজছে। শুরু হয়েছে সংবিধান থেকে ইসলাম মুছে দেবার নাটক।
(১৯) অপকর্ম ঢাকার এসব কৌশল নীতি, নতুন অপকর্ম এনে পুরোনোটা ঢেকে রাখা।

(২০) তাই সিনহাকে মুছার পরও তারচেয়ে বড় ‘ইসলাম’ আজ ময়দানে মুছার অপেক্ষায়।

(২১) সরকারের শক্তির তলানীতে এসব হচ্ছে না, বলার কি কোন ফুসরত আছে?

(২২) ৩১ জুলাই ২০২০ একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সিনহাকে হত্যা করা হয়। এর মাত্র চারদিন আগে ২৬ জুলাই তারিখে সিনহা তার বড়বোনকে গভীর কিছু সত্য প্রকাশ করেন। যা একমাত্র বাংলা নিউজ ৭১ ইউটিউব চ্যানেল প্রচার করেছে, অনেকেই এর মোড় ভিন্ন খাতে নিতে কোবরা, শিপ্রা, সিফাত, ইয়াবা, প্রচার করছেন। যে কঠিন সত্য বের হয়ে পড়েছে ঐ ইউটিউব চ্যানেলে সেটি শত ইলিয়াস কোবরার নাটক থেকেও মূল্যবান। সিনহার জন্মদিনে তিনি তার বড়বোনের কাছে প্রকাশ করেন, যা অতীতে তিনি কখনোই বলেন নাই। চাকরী থেকে অবসর নেয়ার যা খবর এতদিন থেকে প্রচারিত ছিল, ওটি ছিল মিথ্যা, তাকে সম্ভবত চাকরী থেকে অবসর নিতে বাধ্য করা হয়। এবং তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) এর দায়িত্বে নিয়োজিত একজন কর্মকর্তা। গত দেড় বছর থেকে তিনি এ ব্যাপারে মুখ খুলেন নি। এখন এসব রিপোর্ট গোয়েন্দাদের হাতে, তাদের ফোনকল লিস্ট থেকে এসব ঘটনা জানা গেছে। সেই সুবাদে তিনি এই মেধাবী মানুষটি অনেক খবর জানতেন বলেই ঐ জানাটাই তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে তিনি শংকা প্রকাশ করেন তার বোনের কাছে। এটি প্রকাশের পঞ্চম দিনেই তাকে হত্যা করা হয়। এ জন্যই প্রদীপকে সমানেই বলতে শোনা গেছে আমার কিছুই হবে না। কারণ সে সব ধরণের নিরাপত্তায় আশ^াস প্রাপ্ত। মূল আসামী প্রদীপ নয়, প্রদীপ হচ্ছে হুকুমের আসামী। মূল আসামীকে ধরে বাক্কারাহ সুরার ৪২ আয়াতটিকে প্রতিষ্ঠা করেন। এসব সত্য মদীনার সনদে সবদিন পালিত হয়েছে। বাংলা নিউজ একাত্তর যা ইতমধ্যে প্রকাশ করেছে, তার সঠিক মূল্যায়ন করেন।

(২৩) কম্পিউটারের সব তথ্য যারা সরিয়েছে একই উদ্দেশ্যে সাগর রুণি সাংবাদিকদের তথ্য সরিয়ে তাদের খুন করা হয় ঠিক সিরাজ সিকদারের মতই। ৪৮ ঘন্টার মুচলেকা দেয়া সরকার যা লুকাতে চেয়েছে, তাই আজ অবদি লুকিয়ে রেখেছে। বিডিআর হত্যা করে যে সব তদন্তকে চাপা দিয়ে রাখতে চেয়েছে, তাই আজ অবদি করতে পেরেছে। সর্বশেষ সিনহা মরার পর তারা বলছে আর ক্রসফায়ার হবে না। এটাই শেষ; তার মানে তারা স্বীকার করছে আগের সব মৃত্যু তারা তাদের মদদে ঘটিয়েছে। সিরাজ সিকদারের মৃত্যু থেকে শুরু থেকে শেষ সব দায় তারা তাদের কাঁধে বহন করে নিয়েছে বলাটা দোষের হবে না। সর্বপরি সিনহা মৃত্যুর চার দিন আগে প্রকট সত্যটি বলে গেছেন।

(২৪) অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করলেও তার ক্ষমতা দেখাতে, সাম্প্রতিক চুক্তিতে ভারতীয় পন্য বাংলাদেশের আগে অগ্রাধিকার পাবে সেটি গত দুই বছর আগেই করা হয়েছে, কিন্তু দেশবাসীর জানা ছিল না। মুজিবের কন্যা সব সময় বলতেন আমার উপর ভরসা রাখবেন। আমি দেশ বিরোধী কিছু করবো না। সবচেয়ে বড় কথা তিনি দেশের বিপক্ষে কাজ করেন। সব কাজই প্রতিবেশীর স্বার্থে দেশ বিক্রির পক্ষের উদাহরণ হয়ে থাকে। উল্টাপাল্টা বলতে বলা তাদের নীতির অংশ, যেন তারা সত্য কথা বলতেই ভুলে গেছে।

(২৫) সবশেষ নাটক কোবরা থেকে সরে এসে সংবিধান থেকে ইসলাম মুছে দেয়ার নাটক। সবাই সোচ্চার হোন, ৯৫% মুসলিম দেশে কেন মুজিবকে ছাড়িয়ে ইন্দিরা বন্দনার নীতি? সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষ কথাটি সরান। এটি ইন্দিরা গান্ধীর এজেন্ডা ছিল, মুজিবের নয়। মুজিবের ছয় দফাতে এসব বিন্দু বিসর্গও ছিল না। ভারত তার দেশে স্থাপনের আগে ১৯৭২ সালে এটি বাংলাদেশের সংবিধানে সংযোজন ঘটায়। পরে তাদের সংবিধানে সংযোজিত হয়, বাংলাদেশের পর। ভারত  সংখ্যালঘু মুসলিম নিধনে জগতসেরা। ধর্মনিরপেক্ষ তাদের শুধু সংবিধানে থাকলেও এটি পালিত করার দায় তাদের নেই। মুসলিম মরতে দেখলে তাদের প্রশাসন পুলিশ থাকে নীরব। মুসলিমরা তাদের ধর্ম পালন করবে কি, ধর্ম অনুমিত খাবারও খেতে পারে না। ৭১ পরবর্তী বাংলাদেশটি মুক্ত হোক এ পরাধীনতার নিগড় থেকে, এ কামনা প্রতিটি দেশপ্রেমিকের। প্রতিটি মিরজাফর উঁমিচাঁদ রায়বল্লভ, রায় দুর্লভ, ইয়ার লতিফ, ঘসেটি বেগমরা চায় দেশ ডুবুক, ধ্বংস হোক। দু’দলের দুটি গন্তব্য। একদল হবে আগুণের বাসিন্দা, অন্যদল ফুটন্ত ফুল বাগানের বাসিন্দা। তবে সততায় দাগ রেখে অটল থেকে কাজ করে যাওয়াই সততার নীতি। তাদের কর্মই তাদের স্থান নির্ধারণ করবে। সত্যের পথে যারা থাকে, তাদের হতাশার কিছু নেই। শত কষ্টের পরও তারাই হবে আ’লা, তারাই জগতসেরা।

২১ আগষ্ট ২০২০।

রেশমা ও সুমন নাটকের ভয়ংকর মিল

 

না জ মা মো স্ত ফা   ১৯ মে ২০১৩, ২১:৫৭ অপরাহ্ন (আমারদেশে ছাপা হয়েছিল)।

ভূমিকাটি (২০২০ সালের ১৯ জুন তারিখে লেখা): সাম্প্রতিক বাংলাদেশে সুমন নামের একজন পুরুষ লঞ্চ ডুবির পর বাংলাদেশে ১৩ দিন পানির নীচে বেঁচে ছিল। এসব ঘটনা কিভাবে বর্তমান সরকারের সহযোগিতা পায় সেটি জমা প্রশ্নের সংগ্রহে থাক। একবিংশ শতকের মাথা মোটা সরকার মানুষকে এভাবে গভীর রাতের ভোটকে গেলাতে চাচ্ছে। মানে এ দেশের সবকিছুই অলৌকিক, কাকতালীয় ভৌতিক। হয়তো বা দৈবের ইচ্ছার ফসল, জনগণকে সত্যের বদলে মিথ্যা গেলানোর এসব প্রানান্তকর প্রয়াস মাত্র। ধর্মের নামে অনেকে এসব গিলে। কিন্তু ইসলাম ধর্মে এসব অতিভৌতিকতা মিথ্যাচার যায় না। শুধু মাত্র যারা ধর্ম জানে না, তারাই এসব ধর্ম নাটক সাজায়, বানায় ও ছড়ায়। ভয়ংকর অবস্থা চলছে দেশটিতে। লাখ কেউ হিসাব করে না কোটিতে সব চলছে। দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রতিদিনের খরচ হচ্ছে ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকা (অনেকের টকশো সূত্র)। যার যাকে ইচ্ছে গুম করতে পারে মেরে ফেলতে পারে, বিনা পরিশ্রমে। শক্তিমানদের থেকে সহযোগিতা পায়, মনে হয় যেন এটি নিশ্চিত। প্রশ্ন কার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলবেন। গোড়াতেই গলদ। গোড়াই এসব সাজাচ্ছে। কভিড ১৯এ যারা স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বুলি কপচাচ্ছেন, সবই এক মিথ্যাকে অন্য মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখার কসরত মাত্র। দুর্ভাগ্যের কথাটি হচ্ছে শেখ মুজিবের কন্যা যিনি এই অবৈধ রাতের অন্ধকারে ছলবাজি ভোটের সরকার। গুম,খুন, অবিচার অনাচারের সব পাঠই দেশে কদর পাচ্ছে। একবিংশ শতকে একটি দেশ আছে যেখানে মিথ্যারা চড়া গলাতে ১৬/১৭ কোটি মানুষকে (অবশ্যই এদের বিবেক আছে) ভেড়া বানিয়ে রেখেছে। আর তার দলবলরা এটিও প্রচার করে যে, ঐ মহিলাটিই ঐ দেশের একমাত্র পুরুষ। ভূমিকাটি না দিয়ে উপায় ছিল না। নীচের লেখাটি আজ থেকে ৭ বছর আগে ছাপা হয় “ইলিয়াস, সাগররুনিরা মৃত : সুখরঞ্জন ও রেশমারা কতটুকু নিরাপদ? ” । সরকারী প্রতারণার একই নজির।

সবার আগে বলছি ইলিয়াস আলীর কথা। তার অপরাধ দেশের জন্য মাথা উঁচু করেছিলেনটিপাই মুখের নামে একটি জাগরণ তৈরি করেছিলেন। দেরিতে হলেও তার পাওনা তিনি পাবেন আশা করি । নিউইয়র্ক থেকে আবু জাফর মাহমুদ সম্পাদকের লেখনীতে ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল এটি বিবৃত হয়েছে যে, তাকে ও তার ড্রাইভারকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে ফরিদপুর গোয়ালন্দ ঘাটে। বিশাল বেশ্যা পল্লীর পেছনে নদীর দিকে নেমে যাওয়া ঢালুর ছাপরা ঘরে। ১৮ এপ্রিল ভোর সাড়ে চারটায় ঘাতকরা তাদের এ কাজ শেষ করে। পর পর বিদেশি দুটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা এ তথ্য বিলি করার পর সরেজমিনে এটি নিশ্চিত করেছে অন্য অনুসন্ধানীরা। তাদের হত্যা করতে নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়েছে। অভিজ্ঞ ঘাতকরা সোজা পৌঁছে যায় তাদের গন্তব্য ঘাটে। ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে একজন তরতাজা উদ্দীপ্ত মানুষকে। কম সময়ে সেটি তারা সারতে পেরেছে তত্পরতার সঙ্গে। বাকি কিছু অপোড়া হাড়হাড্ডি ও কিছু দাগ-চিহ্ন ছুড়ে ফেলে দেয়া হয় পদ্মার মরা বুকে। ইলিয়াসের জন্য সিরিয়াস জাতি কিছুই করতে পারল না। একই ভাবে মারা যান হতভাগ্য ছেলে মেঘের মাবাবা সাগররুনী নামের মানিকজোড়। আর এদিকে একজন সম্পাদক দ্বিতীয়বারের মতো এক মাসের বেশি সময় ধরে ধুঁকে ধুঁকে কারাগারে বন্দিসবাই কি ওই অপেক্ষায় কাল কাটাচ্ছেন যেইলিয়াসের পরিণতিই হোক এক এক করে সমাজের সব সম্পাদকরাজনীতিক  সাংবাদিকের?
এমন না যে এসব কথার কথা। আন্তর্জাতিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবরণেও তা ধরা পড়ছে। বাংলাদেশের মানবাধিকারের প্রসঙ্গে ‘অধিকার’ নামের এক সংস্থা বস্তুনিষ্ঠ কাজের ক্ষেত্রে বেশ কৃতিত্বের দাবি রাখে। ৬ মে রাতের কোরআন পোড়ানো ও সেখানে আগুন দেয়ার যে বিবরণ ভিডিও ফুটেজেও আমরা দেখেছি দাপুটেদের উল্লাস আর বর্বরতা, এক্ষেত্রেও সরকার আবার নাকি সুরে উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর তার সেই স্বভাবসিদ্ধ পুরনো খেলায় বড় গলায় মেতে আছে। গোটা দেশের বেশিরভাগ মিডিয়া যেন করে চলেছে জনগণের নয়, সরকারের গোলামি। এত অনাচারের ভার সইতে না পেরে তাই প্রত্যক্ষদর্শীরা নিজের একার কম শক্তি নিয়েও সজোরে প্রতিবাদ করছে। আলজাজিরার ফুটেজে দেখিএক বোবা আবদুল জলিল হাতপা ঘুরিয়ে গলায় জবাইয়ের ইঙ্গিত বারবার করে দেখাচ্ছেআর হেফাজতি সদস্যদের লাশ খোঁড়া জমিতে সদ্য পোঁতা বিশাল কবরগাহ দেখিয়ে দিচ্ছে। ধারণা ছিলবোবা তো কাউকে কিছু বলবে না।

তারপরও বোবা কথা যেটুকু বলেছেওতেই অনেক মৃত্যু রহস্য ঝরঝরে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিটি মানুষ যদি চিন্তা করে এ ঝড় যদি তার নিজের ওপর দিয়ে যেত, তবে কেমন হতো? কেমন করে তারা সত্যকে গোপন করে যাচ্ছে; প্রকারান্তরে তারা বিধাতার বিরোধীপক্ষ, সব সুনীতির বিরোধিতা করছে।
সম্প্রতি একটি নামের মা অন্তে প্রথম রেশটি শেষ হয়েও শেষ হচ্ছে না, তার পুরো নাম রেশমা। তার কারণ হচ্ছে, সে বেশ প্রশ্নের পাহাড় তৈরি করতে পেরেছে। সবাই ধ্বংসযজ্ঞে মরছে, আর সে অমর হয়ে কাপড় পাল্টাচ্ছেম্যাচিং করছেকারণ সে (ধারণা হয়জানত যেতাকে উদ্ধারে আসবে স্যাররাইভাইরা সেদিন পাত্তাও পাবে না। রেশমার চাকরির মেয়াদ একমাসও হয়নিবিল্ডিং ধসের ১৭ দিন পর এক অবিস্মরণীয় উদগীরণ। তার আটকে পড়া ১৭ দিন ছিল মন্দের ভালোকাটছিল শুকনো চার পিস কখনও শুনি চার প্যাক বিস্কুট আর পানিতেকখনও শুনি শুকনো খাবারে। ম্যাচিং সালোয়ারকামিজ যে করেই হোক কংক্রিটের চাপা থেকেও উদ্ধারে সে সক্ষম হয়েছে। কেউ বলছে হেঁটে হেঁটে ড্রেস খুঁজে নিয়ে শুয়ে শুয়ে বড় কষ্ট করে পরেছে। তার মনোবল তারপরও মোটেও ভেঙে পড়েনি। সে ছিল ঝরঝরে ছিমছাম। কোনো অধামাস পার করা দুর্ভিক্ষের ছাপ পড়েনি তার অলৌকিক অ্যাডভেঞ্চারের ওই দেয়ালচাপা শরীরে। বারবার তাকে প্রসঙ্গ পাল্টে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিতে দেখা যায়। কখনও দালানে কখনও মসজিদতাতেই বাঁচে তার প্রাণ। গত শতকে রওশন এরশাদের সন্তান জন্মদানকালে বেশ চটকদার গল্পকথা শুনেছিলাম। ছিলাম ঢাকায়। মহিলারা বলেন, ‘বাবারে, রাজকীয় লোকের সন্তান মনে হয় লুকানোই থাকে। এই তো সেদিন দেখলাম কতই না বাহারি সাজে মহিলাকে মিডিয়াতে, স্কিনটাইট বডি, আজ আবার এ কী কথা শুনি মন্থরার মুখে! রেশমা তুমি কি ভাগ্যবতী না হতভাগী, জানি না। হয়তো নিকট ভবিষ্যতে তোমাকে খুন করা হবে, নয়তো বিদেশে পাড়ি দেবে তুমি, নয়তো বর্ডারে ধরা খাবে। আশা করি, এটি আগাম ধারণা করাতে দোষ হওয়ার কথা নয়।

রেশমাকে খোদ প্রধানমন্ত্রী তার গায়ের চাদর খুলে দেন। দেখা যায় রাতের চাদরে ঢাকা অন্ধকারে মানুষ মারলেও কিছু দয়ামায়া যে এখনও অবশিষ্ট আছে, তার প্রমাণ মনে হয় এসব। তবে সবার জন্য এটি নয়, শুধু সেভাবে লৌকিকতার সীমানা এড়িয়ে আসতে পারলে ওই রেশমার মতো একজনের জন্য শুধু। কীভাবে কী হলো বলতে অপারগ রেশমা। জানানো হচ্ছে গল্পের রেসের মা জ্ঞান হারিয়ে ছিল। এক লেখাতে পাই ১৭ দিন পর এক ইট কংক্রিটের ভেতর থেকে এক পোশাককন্যার আবির্ভাব। মাত্র ক’দিন আগে কাজে যোগদান করে, তার কাছে ছিল শুকনো খাবার (১৭ দিনের?) কেউ বলছেনমসজিদে পাওয়া গেছেকেউ বলছেন দোতলায়। কথায় হরেক রকম রকমের ভার্সন পাওয়া গেছে। উদ্ধার পাওয়া রেশমা বাংলানিউজকে বলে ১৭ দিন পানি খেয়ে বেঁচেছে। নিচতলায় আটকালেও পরে নামাজ ঘরে চলে যায়। উপর থেকে উদ্ধারকর্মীদের পাঠানো বোতল দুটি কোনোভাবে সংগ্রহ করে। সেই থেকে প্রতিদিন অল্প অল্প পানে জীবন বাঁচে। দ্বিতীয় ভার্সন—এভাবে চলে ১৫ দিন আর বাকি থাকে মাত্র দু’দিন উপবাসে। তৃতীয় ভার্সন—মেয়েটির বরাতে মেজর মোয়াজ্জেম সাংবাদিকদের বলেন, ধসে পড়ার দিনও সে কোনো খাবার নিতে পারেনি। কেবল হাত ব্যাগে ছোট্ট চার প্যাক বিস্কুট ছিল। সেগুলোই অল্প অল্প করে খেয়েছে। উদ্ধারের পর অবাক-বিস্ময়ের শেষ ধাপে পৌঁছেন অনেকেই। কোনো ছাপই নেই তার পোশাকে অবয়বেজামাকাপড় অক্ষত।  কোনো ভৌতিক ব্যাপার নয় তো? ওহ! জানা গেল উদ্ধারকর্মীর বরাতে, অনেক শুকনো খাবার পড়ে ছিল যে, তা-ও সে খেতে পারেনি। চতুর্থ ভার্সন সবশেষে সাংবাদিকের ভাষ্যে রেশমা ২ বোতল পানিতে ও ৪ পিস বিস্কুটে এসে ঠেকেছে। মায়াবিণীর একদম শেষের এক কথাজাস্ট একটু পানি খাইছিআর কিছু খাইনি দিয়ে কেটেছে ১৭ দিন। এ জটিল উদ্ভাবন কেমনে হলো? মনোয়ার নামের এক কিশোরের নজরে পড়ে প্রথম, ১৭ দিন পানি পান করা রেশমার পাইপ নাড়াচাড়া। সে বলেছিল ‘ভাই আমারে বাঁচান।’ শেষে কর্তাদের দেখে সে বলে, ‘স্যার, আমাকে বাঁচান।’ স্যারটি হচ্ছেন ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুর রাজ্জাক। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগলেও মেজর মোয়াজ্জেমরা প্রশ্নহীন। অনেকের জেগে ওঠা প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ভেতরে ধুলোবালি ছিল নাতাই কাপড়চোপড় পরিষ্কার। বাংলাদেশের ধুলো দেশবাসী কমবেশি নিশ্চয় জানেন। সাধারণ কয়তলা উপরে সাজানোগোছানো ঘরেও থাকে ধুলোর আস্তরণ থরেবিথরে। এক ঝাড়ে যায় না। তাকে পরিষ্কার করতে হলে রেশমাসুদ্ধ দশ ঝাড় দিতে হবে।
পরে আরও ভিন্ন ভার্সনের সন্ধান পাওয়া যায়। তা আরও ভয়ানক। একটি হচ্ছে অন্য মৃতদেহ থেকে কাপড় খুলে পরেছে রেশমা। কী ভয়ানক তার ১৭ দিনে না খাওয়া শরীরে এত ক্ষমতাধৈর্যসাহস বা মৃতের কাপড় খুলে পরার গল্পের প্লট কে জোগাল  —বিধাতা না সরকার? তারপর বলা হলো রানা প্লাজার দোকানের তাক থেকে কাপড় এনে অদলবদল করে পরেছে রেশমা !বেশ মাবেশ মা, তাহলে বেশ ভালোই ছিলে মা! মনে পড়ে আমার ছোটবেলায় এক ছোট বোন বড় আপামণির বিয়েতে আপুর কান্না দেখে বলেছিল, আপু কেন এত কাঁদছে? আমাকে এত কাপড়-গয়না দিলে আমি একরত্তিও কাঁদব না। রেশমার এ অবস্থায় কী বলা উচিত, বুদ্ধিতে আসছে না। তবে সে দেখি বলছে আর কখনও গার্মেন্টসে কাজ করবে না। এসব সত্যি হলে সে কাজ আর করল কোথায়করল মঞ্চ নাটক। হাঁটা-চলার কোনো সুযোগ ছিল না। সে ১৭ দিন শুয়ে ছিল ৩-৪ ফুট দেয়ালচাপার গভীর অন্ধকারে। তাহলে সে কেমন করে মসজিদে গেল আর দোকান খুঁজে পেল? তার জামা কাপড় ছিঁড়ে যায়, পরনে কোনো কাপড় ছিল না। উদ্ধারের দিন টর্চলাইট দিয়ে কাপড় খুঁজে এনে পরে তারপর উদ্ধার হয়। নাটক বেশ জমেছে মনে হচ্ছে। সে এ চিন্তাও করেছে কেমন করে বের হবে। সে তো মেয়ে, ছেলে নয়! নাটকের ডায়ালগ একদম তুঙ্গে। এক রসিকজনা কর্নেল আরশাদের বরাতে বলেনসে কাপড়ের মার্কেটে গিয়ে পড়েআর সেখান থেকে শুয়ে শুয়ে পরে নেয় পছন্দের কাপড়টি। সে নিশ্চয় পছন্দ করেই নেয়বরং সঙ্গে মাবোনদের জন্য আরও টি নিতে পারত। ১৭ দিনের আধমরার এ ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা একদম নতুন; তাই কেমন করে কী বলতে হবে, কোনটা খাপে খাপে মিলবে, তা তার জানা ছিল না। তাই অনেকের কাছে কিছু বেখাপ্পা ঠেকছে। চার পিস বিস্কুট বা শুধু পানিতে বা দুই বোতল পানিতে এত ঝরঝরে থাকা যে কেউ টেস্ট করে নিতে পারেন আর সাত্ত্বিক মুসলিমরা এ পরীক্ষা দেন প্রতি বছরে একবার। একদিন ক’ঘণ্টার না খাওয়াতেই অনেকে খেই হারিয়ে ফেলেন, আর সে তো আধা রমজানেরও বেশি কাটিয়ে দিল সাহরিইফতারবিহীনরাতের খাবারও অনুপস্থিত। তারপরও সতেজ থাকারেশমার ঈমানদারির সঙ্গে পৃথিবীর কোনো মানুষের এঁটে উঠবার কথা নয়। অলৌকিক ঈমানদারি ফুটে উঠেছে তার বিরল এ ক্যারিশম্যাটিক শরীরে।

তার কাটা চুল নাকি সে ইট দিয়ে কেটেছে। তারপরও নাদানরা কত কিছু লক্ষ করেছে! কেউ বলছে নখও একদানা লম্বা হলো না কেমনেদাঁতও হলুদ হলো নাঝকঝকে পরিষ্কার; একই অঙ্গে এত রূপ কেমনে আটকায়? সে মাঝে মঝেহেসেছে, মনের কাছে না হেসে তার উপায়ও নেইসবাইকে এমন বোকা বানাতে মে মাসই ধরা খেলএপ্রিলে নয়। বাংলাদেশীরা এবার মে মাসের বোকা সাজল। তার সামনে অনেক মানুষ মারাও গেল, উদ্ধারও হলো, কিন্তু সে কেন ওই সময় আওয়াজ করল না? এর কোনো উত্তর তার জানা ছিল না। ফ্যাল ফ্যাল করে চাওয়া ছাড়া অন্য জবাব ছিলমরা’ । ১৭ দিন গত হলে পর তার আওয়াজ নিঃশেষ না হয়ে বরং সেদিনের বলিষ্ঠ আওয়াজই পৌঁছে জনতার কানে। তা-ও সাধারণ আনোয়ার-মনোয়ার নয়, একদম মেজর মোয়াজ্জেম বা হর্তাকর্তারা সেখানে কী পাহারা দিচ্ছিলেন, ইট-পাথর নাকি রড-ধুলো? জীবন্ত মানুষ তো থাকার কথাও নয়, তখন কার্যত বেশি শ্রমিকেরই থাকার কথা। এ ধরনের শত বিষয় প্রশ্নবোধক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

পৃথিবীতে মিথ্যাকে সত্য বানানোর মতো কঠিন কাজ আর দুটি নেইবরং এক্ষেত্রে সত্যকে উদ্ঘাটন করা খুব সহজ কাজ। বাস্তবিকই সে হিসেবে বর্তমান সরকার অনেক কঠিন কাজ করছে। বিডিআরসাগর রুনীইলিয়াস আলীসুখরঞ্জন, ধরনের হরেক সত্যকে মিথ্যা করে সাজানোতে যে মেধা পরিশ্রম সরকারকে ব্যয় করতে হচ্ছেতার তুলনা নেই। এটি প্রায় অসম্ভব কাজ সরকার করছে। সোনার পাথরবাটি আর কী!

রেশমার চোখে কোনো মলীনতা কারও চোখে ধরা পড়েনি। সেটি সবাই দেখেছেছবিতে ভিডিওতে সেটি খুবই সুস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এটি লুকানোর সাধ্য নেই। বোঝা যাচ্ছে, মরুর লু হাওয়া বা ধসের তাণ্ডব তার ওপর দিয়ে মোটেও যায়নি, বরং বলা চলে বয়ে গেছে বেহেশতের হিমেল হাওয়া। এপ্রিল-মে’র গরমে তার সিদ্ধ হয়ে যাওয়ার কথা।মেজর জেনারেল সারোয়ার্দী সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে বলছেন, তার সঙ্গের তিন পোশাক শ্রমিককে আগেই উদ্ধার করা হয়—যারা ছিল মৃত। তা হলে সে কেমন করে জীবিত থেকেও উদ্ধার হতে এত সময় নিল? কোথায় ছিল সেরানা প্লাজার দোকানে ড্রেস খুঁজতেনা অন্য কোথাও! এত তেজস্বী শক্তিধর, এত বড় ধসও তার সামনে কিছুই নয়, রেশমা কিন্তু কোথায় কাজ করত তা বলতে পারে না—আটকে যায়। স্মৃতি তার বিলুপ্ত নয় মোটেও। বাকি সবই মনে আছে—প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে যান তাকে দেখতেশুনেছি কে জানি বললসে নাকি দেখতে চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কী সম্পর্ক ছিল, জানি না; সহজভাবে সব অঙ্ক মিললে কোনো কথা ছিল না। কিন্তু অঙ্ক গোঁজামেলে হওয়ায় সবকিছুই যেন ঝাপসা লাগছে। অলৌকিক রেশমা শুধু একটি কথা বলছে, আল্লাহর ইচ্ছায়। উদ্ধার কাজে থাকেন জেনারেল সরোয়ার্দী। কী অসাধারণ এ অভিযান, যেন ১৯৬৯ সালের চন্দ্রাভিযানকেও হার মানাবে! জানলাম, তার অলৌকিক অভিযানের সম্মানে আবার নারায়ে তাকবিরও দেয়া হয়।কিন্তু বিধাতা মানুষের জন্য এসব টিটকারির জবাবে কিছু কথা বলে রেখেছেন। মেজর জেনারেল হর্তাকর্তারা এটি স্মরণ রাখবেন। সে সময় মিডিয়ার কেউ ছিল না। সেনা অফিসার রাজ্জাক বলেন, তিনি মিডিয়ার লোকেদের ভবনের উপরে নিয়ে যান আর এ ফাঁকে অলৌকিক অভূতপূর্ব এ কাণ্ড ঘটে যায়।সে ১৭ দিন পানি খেয়ে বেঁচে ছিল, আর পাশের লোকরা পানি না পেয়ে অনেক আগেই মরেছে এবং উদ্ধারও হয়েছে। সবই বিবেককে আহত করছে।

সবাই তার জন্য অতিমাত্রায় কাতর ও ব্যস্ত, কিন্তু সে হিসাবে রেশমা মোটেও ব্যস্ত বা ক্লান্ত নয়। একটি ছবিতে দেখি, সে তার নিজ হাত দিয়েই কিছু চেপে ধরেছে নাকের কাছটায়। বলা চলে, সে অনুপাতে সে বেশ উত্ফুল্ল, ছিমছাম, হৃষ্টপুষ্ট। বেশ নাদুসনুদুস রেশমা, হাঁটাচলাতেও ভালো অভ্যস্ত, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দূরে ঠেলে রাখলে। কেউবা বলছে একমাত্র গাঁজাখোর এ গল্প বিশ্বাস করবে আগে-পরে, আর বিবেকবানরা প্রথমে সহজ অঙ্ক হিসেবে ধরে নিলেও পরে হোঁচটে আটকাবেন। গোলক ধাঁধা নামের চক্করে দেখবেন ‘মাথা যে ঘোরে!’ মিডিয়ার সামনে আসতে প্রস্তুতির রেশ ধরে রেশমার বেশ সময় লাগে। সাংবাদিকদের দেয়া হয় নানা বিধিনিষেধ। অর্ধশত উপস্থিত হলেও প্রশ্ন করার সুযোগ পান অতি ভাগ্যবান তিনজন সিলেক্টেড সাংবাদিক। ১টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষার পর তারা তার সুযোগ পান। হাঁটতে বসতে জাতি লাথিগুঁতো খেলেও রেশমার মর্যাদা কোথায় পৌঁছেছে বুঝতে কারও অসুবিধা হবে না! মেজররা একপায়ে দাঁড়া। মেজর মোতৌহিদউজজামান কে কী প্রশ্ন করবেনতার তালিকা তৈরি করেন। মেজর জামান বারবার সতর্ক করে দেন যেএকটির বেশি প্রশ্ন করা যাবে না। সাংবাদিকেদের মনেও প্রশ্ন, এত লাশের সারিতে এ মেয়েকে নিয়ে কেন এত বাড়াবাড়ি? আড়ালেআবডালে সরিয়ে রাখার একটি প্রয়াস লক্ষ করা যাচ্ছে। কত ছেঁড়াল্যাংড়ালুলা পড়ে রইল সারাদেশেআর  সুস্থ মেয়ে দিব্যি বিস্কুটপানি খেয়ে আছেতার জন্য এত আদিখ্যেতা করার কী অর্থ থাকতে পারে? মেজর তৌহিদ-উজ-জামান অনেক প্রশ্নের জবাবে বলেছেনও, এসব কিছু প্রশ্নের উত্তর সংবাদ সম্মেলনে দেয়া সম্ভব নয়। এটি ছিল বিপাকে পড়া জামান সাহেবের জবাব। এটি তিনি আলাদাভাবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের জানাবেন, এটি জানে শুধু আইএসপিআর। প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় রেশমার মা-বাবা বা অন্য কাউকে দেখা যায়নি। তার আচরণে কখনোই তাকে কাতর বা ভীত মনে হয়নি। কিন্তু সেনা কর্মকর্তা ও চিকিত্সকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তার আচরণকে সামাল দিতে পেছন থেকে নার্স আইরিনকে তার ঘাড়ে চাপা সঙ্কেত দিয়ে তাকে সামাল দিতে হচ্ছে। যাবার সময় সে হাসিখুশিভাবে সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে দেখায়।

সুখ রঞ্জনের মুখের কথা ইউটিউবে সাক্ষীর বক্তব্য হিসেবে শুনে থাকবেন দেশের ভেতরের-বাইরের সচেতনরা; কারণ বিষয়টি বিশ্ব নাড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের গেট থেকে তাকে অপহরণ করে সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন অপহরণ করে তাকে ভারত সীমান্তে ঠেলে দেয়। কারাগারে থেকেই তিনি তার আদ্যপান্ত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। ইংরেজি দৈনিক নিউএজ এক অনুসন্ধানী কাজে এটি উন্মোচন করতে সক্ষম হয়। এটি লিখে পাঠান ডেভিড বার্গম্যান। বালী ছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীর একজন সাক্ষী। আদালতে এসেছিলেন গত ৫ নভেম্বরে। পিরোজপুরের হিন্দু সম্প্রদায়ের  সাক্ষী সত্য প্রকাশেই উত্সাহী ছিলেনবিধায় সাক্ষীকে  প্রক্রিয়ায় সরকার আস্ত গিলে ফেলে। আদালত চত্বর থেকে তাকে তুলে নিয়ে পুলিশের গাড়িতে করে ডিবির অফিসে নেয়া হয়। অপহরণ করে পার হয় বিএসএফের দোরগোড়ায়। ওরা খুব সহজে বাংলাদেশী মানুষকে মেরে ধরে গুলি করে হজম করতে পারে। গত  এপ্রিল ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে দেশটির ফরেনার অ্যাক্ট ১৯৪৬এর অধীনে কলকাতার একটি আদালত বালীকে ১০৫ বা ১১০ দিনের কারাদণ্ড দেয়। সুখরঞ্জন বালীর ভাই বিশা বালীকে হত্যার অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীর ফাঁসির রায় হয়। এটি এমন এক রায়যেটি মৃতের আপন ভাইও  মিথ্যা সায় দিতে রাজি নয়। সেটি আমরা ইউটিউবেও দেখেছি। সেখানে তার আরও সদস্যদের একই বক্তব্য। তাই যত বিভেদের ফ্যাকড়া বিঁধেছে। বালী বলেনঅফিসের লোকজন পুলিশের পোশাকে ছিলকিন্তু তাকে অপহরণ করে সাদা পোশাকের লোক। দুটি ক্ষেত্রেই ইলিয়াস  বালীর অপহরণে এক ধরনের দাগচিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে। বিচারের নামে প্রহসন আর কত হবে? বাংলাদেশে তাকে মারার হুমকিও দেয়া হয়—এভাবে যে, সাইদীকে ফাঁসি দেয়া হবে এবং তাকে হত্যা করা হবে।

দেশের আইন এমন পর্যায়ে গেছে যে বাদীআসামি দুজনাই ফাঁসিতে ঝুলবেন; শুধু বিচারক বেঁচে রইবেন তার নষ্টের প্রতাপী দলবল নিয়ে। নিউইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নিজস্ব ওয়েবসাইটে পোস্ট করা এক প্রতিবেদনে খবরটি প্রকাশিত হয় ১৬ মে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একজন সাক্ষীকে এভাবে অপহরণ করার ঘটনা মারাত্মক উদ্বেগের বিষয়। এ পুরো বিচার প্রক্রিয়া, এর বিচারকরা এবং বাংলাদেশ সরকারের বিষয়ে আমাদের মারাত্মকভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।’ এক খবরে দেখি তাকে পুশব্যাকের চেষ্টা করা হচ্ছে, আর আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ সবাই আতঙ্কে আছে। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) ভারতীয় অফিসের সঙ্গে সুখরঞ্জন বালীর সাক্ষাত্ হওয়ার আগে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো উচিত হবে না—এ খবরেও ওই সংস্থা আতঙ্কে আছে। বিবিসির বাংলা অনলাইন ভার্সনেও ট্রাইব্যুনাল চত্বর থেকে নিখোঁজ হওয়া সুখরঞ্জন আলোচনায় এসেছেন। বালীই উদ্যোগী হয়ে নিজেকে ওপেন করেন। এর জন্য সেখানকার একজন জেল কর্মকর্তা সহযোগিতা দেন। যার খেসারত হিসাবে শাস্তির গুরুদণ্ড এবার ওই জেল কর্মকর্তাকেও গুনতে হবে। তার ব্যাপারেও হিউম্যান রাইটসের এগিয়ে যাওয়া উচিত।

বর্তমানে শাসকপক্ষের কিছু বৈশিষ্ট্যএরা সব হ্যাঁকে না করতে পারেআবার সব নাকে হ্যাঁ করতে পারে। যেমন প্রধানমন্ত্রীর বায়না বিরোধী নেত্রী তাকে গ্রেনেডে মারতে চান। কিন্তু তিনি সবসময়ই ছাত্রনেতাসহ দলেবলে পুলিশি দেশের হুমকিতে ওই গ্রেনেড নিয়ে দেশময় কর্তৃত্ব করে বেড়াচ্ছেন। আর একটি কথা বহু আগে থেকেই শোনা যায়, সেটি হচ্ছে লাশের রাজনীতি। সম্প্রতি (২০১৩ সালে) লাশ আর লাশনীতিই শক্তিধর জীবনের এক অমোঘ নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রামুতে হিন্দুমন্দিরে হামলা—শক্তিধররা সবখানেই এ ধ্বংস নীতিতে জড়িত। সুখরঞ্জন বালী হিন্দু না মুসলিম, সেটি বড় হয়ে দেখা দেয়নি। সুখরঞ্জন বালী এক সত্যনিষ্ঠ দরিদ্র মানুষ। বড় বড় কর্তাদের কাছে তিনি কিছুই নন। কিন্তু তার অন্তরে একটি সত্ মানুষ যে ঘুমিয়ে আছে, তা তাকে কলকাতার কারাগারে রাখলেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। কাল একজন বলছিলেন, সুখরঞ্জন বালী ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত। তারপরও তিনি সত্যের কারণে শক্ত থাকতে পেরেছেন। এটি অনেক সাহসের কথা। বিএসএফের কর্মকর্তারা তাকে নির্যাতন করে। সে হিন্দু বলে কি তাকে সেখানে পাঠানো হলো—এর যুক্তি কী? চার ব্লগারকে আমেরিকা পাঠানোর পাঁয়তারা চলছে। সরকার কেন সুখরঞ্জনকেও আমেরিকা পাঠাল নাসেটি ভাবছি। ইলিয়াস আলীর অবস্থা আরও করুণ। তাকেও আমেরিকা না পাঠিয়ে পরপারে পাঠিয়ে দেয়া হলো কেন? সরকার নিজেই বলছে আতঙ্কে আছে। তত্ত্বাবধায়ক এলে নাকি ফের কারাগারে ঢুকতে হবে। সরকারের কারাগারে ঢোকানোর অনেক রসদ এযাবত্ সরকার নিজের উদ্যোগে তৈরি করে রেখেছে। কারাগারে যাওয়ার জন্য আর তত্ত্বাবধায়কের অপেক্ষা করতে হবে না। তাকে এমনিতেই ঢোকানো যাবে।

চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। তারপরও বলি। যারাই সত্য উন্মোচন করছেন, তারা পুণ্যের কাজ করছেন, যা তাকে ব্যতিক্রমী অর্জনধারী করে তুলবে। সুখরঞ্জন বালীরা ওই দলে ঢুকছেন। আর যারা অপরাধ ঢেকে রাখছেন, তারাও কর্মকর্তার সমান পাপের অধিকারী হয়ে থাকবেন। ঐশী নির্দেশ তাই জানান দিচ্ছে। আর সত্যকে তোমরা মিথ্যার পোশাক পরিয়ো না বা সত্যকে গোপন করো নাযা তোমরা জানো (সুরা বাকারার ৪২ আয়াত) তাই জেনেশুনে সত্য গোপন না করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এযাবত্ সাংবাদিকতার নামে, বা যে কোনোভাবে সত্য প্রকাশে অবদান রাখছেন বা সত্য উদ্ঘাটনে কাজ করছেন, তারা প্রকৃতই বিধাতার একনিষ্ঠ সৈনিক। সুখরঞ্জন বালীও তাদের একজন।
১৭ মে ২০১৩

ইসকন হিন্দুত্ববাদের এক নবতর সংস্করণ

নাজমা মোস্তফা

(সংকট সময়ে একটি লেখা সাজালেও যখন করোনার মরোনায় ওলট পালট গোটা দুনিয়া, তাই থমকে দাঁড়ায় লেখাটি, দেয়া হয়নি। যদিও এটি দেয়ার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি)।

ধর্মের নামে একটি সংস্থা “ইসকন” (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসাসনেস) লালিত পালিত ও মোটাতাজা হয়ে খোলা ময়দানে সম্প্রতি সরবে হাজিরা দিচ্ছে বাংলাদেশে। ইসকন এক চিকন আস্তানা, সাজানো স্বাধীনতার শুরুতেই দেশ বিধ্বংসী এক গুটি, বাংলাদেশের কলিজাতে প্রোথিত হয়ে এর বিজ রুপিত আছে। কিছু জনরা চাইছে একে সাধুতার লেবাস পরিয়ে মানুষকে আরো ঘুম পাড়িয়ে রাখতে, হরে হরে সাধু সাধু কৃষ্ণ নামের আড়ালে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সচেতনরা দেখছেন ষড়যন্ত্রের বাঘ নখর। যেটি সাম্প্রতিক নানা ভাবে ওপেন হয়েছে। যদিও তারা বাঘনখর লুকিয়ে বলছে সাধু সাধুই আমাদের ধ্যান ধারণা। ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ এক মহৎ বানী! বলা হচ্ছে এটি ঐক্যের, সমতার মহান বানী! স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী ভারতীয় লুটপাটের শ্রী দেখে বিস্মিত মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলিল তার ক্ষোভ আচরণে, প্রতিবাদে, লিখিত আকারেও প্রকাশ করেছেন, এছাড়াও প্রত্যক্ষদর্শী ময়দানের বাসিন্দারাও সাক্ষী। পাকিস্তানের ফেলে যাওয়া কয়েক হাজার সামরিক বেসামরিক গাড়ী, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আরো সব মূল্যবান জিনিসপত্র ট্রাক বোঝাই ট্রেন বোঝাই করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, প্রাইভেট কারও রক্ষা পায়নি। যশোহর সেনানিবাসের প্রত্যেকটি অফিস তন্ন তন্ন করে, বাথরুমের ফিটিংসসহ সব খুটিনাটিও তারা লুট করেছে, ভিন্ন সীমান্তের অবস্থানও একই। সেদিন ভারতীয় জেনারেল দানবীরের আচরণে বিস্মিত মেজর জলিল, মনে হচ্ছিল তিনি যেন তার এক অধিনস্ত প্রজা মাত্র। খুলনা ত্যাগ করার সময় যখন বলা হলো ভারতীয়দের নির্দেশ ব্যতীত মেজর জলিল নড়তে পারবেন না। তখনই তাদের কু-মতলব তার কাছে বিদ্যুৎ গতিতে স্পষ্ট হয়ে যায়। সেদিন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতির নাড়ী বোঝার জন্য সামান্যতম ধৈর্যও তারা প্রদর্শন করেনি। মুক্তিযুদ্ধে অনেক অস্ত্র প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের টাকাতে কেনা হয়। সে অস্ত্র সম্পদ ছিল মুক্তিযুদ্ধের সম্পদ। মুক্তিযুদ্ধের সম্পদ ভারতীয়দের কাছে অর্পন করার কথা নয়, কিন্তু তারা ওটিই চাইছিল। সবকিছুই তারা নিয়ে যেতে উদ্যত। এসবের প্রতিবাদ করাতে মেজর জলিলকে গ্রেফতার করা হয়। একজন মুক্তিযোদ্ধার সাধের স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি হলেন প্রথম রাজবন্দী। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতীয়রা যুদ্ধে ময়দানে নামে, মাত্র ১৩ দিন চলে সে যুদ্ধ। এর মানে এটি নয় তারাই গোটা যুদ্ধের শক্তি! বরং বলতে হয় পাকিস্তানকে কবজা করতে এর আগে তারা বারে বারে অপারগ হয়ে ব্যর্থ ছিল। গোটা নয় মাস যুদ্ধ করেছে বাংলার প্রকৃত দামাল মুক্তিযোদ্ধারা। অনেক তথ্য স্পষ্ট করে ঐ সময়ে বর্তমান সময়কার ক্ষমতালোভী শাসকবর্গের প্রশ্নবিদ্ধ সম্পর্ক। এ জন্যই প্রায় পঞ্চাশ পার করেও টিকে থাকার ধান্ধায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গীতি গাইতে হয় তাদের। ক্ষমতান্ধ বেশীরভাগ নেতারা আরামে আয়েশে বিলাসে সময় পার করেছে। ৭১ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর তারিখে সকাল এগারোটায় ময়দানের মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলিলকে ভারতীয় সেনারা বন্দী করে। এ আচরণে চরম হতাশায় তার বিস্ময়কর ছন্দ প্রকাশ “রক্ত দিয়ে এ স্বাধীনতা আনলে তোমরা”!

৭১এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল জাতির স্বাধীনতা সমতা মানবিক মর্যাদার যুদ্ধ, ওটি কখনোই ধর্মযুদ্ধ ছিল না। ইসলাম শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানে বিশ^াসী সবদিন। স্বাভাবিক মানবিক কারণেই বাংলাদেশের ৯৫% গরিষ্ঠ সংখ্যক মুসলিম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রধান শক্তি। ধর্মনিরপেক্ষতা সেদিন কথায় কাজে দলিলে কোথাও ছিল না। সেটি খুব কৌশলে ইন্দিরা সরকার স্বাধীন বাংলাদেশে জুড়ে দেন ঠিক যেন অস্ত্র লুটপাটের মতই স্বাধীনতা পরবর্তী ৭২ সালে। এমনও প্রমাণিত ভারতের সংবিধানেও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ সংযোজিত হয় বাংলাদেশে সংযোজনেরও অনেক পরে। এই যদি হয় ভারতের মানসিকতা তার মানে বলতে হবে ভারত নিজেই সেদিনই প্রথম মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তির সময় থেকেই অফিসিয়ালী বাংলাদেশের সাথে পুনরায় লুটপাটের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের বিজ বপন করে। আওয়ামী লীগ জানতো জনতার মনোবৃত্তি, ধর্মনিরপেক্ষতার কথা শুনলে সব ভেস্তে যাবে। তাই ভুলেও এটি ৭০এর আগে বা পরে কখনো বলে নাই। ঐ নীতির ম্যান্ডেট নেয়ার সাহস তারা কখনোই দেখায় নাই। সেদিন থেকেই কপট নীতির দেশবিরোধী কিছু কাজকর্মে মানুষ বিতশ্রদ্ধ। যুদ্ধ পরবর্তী ২৫ বছরের শান্তি চুক্তি ছিল গোলামী চুক্তির নামান্তর। স্বাধীনতার শুরু থেকেই দাসত্ব চুক্তির আড়ালে কিভাবে লুটপাটের মহামেলা তৈরী করেছে তখনকার ক্ষমতায় থাকা দল। যার অনেক দাগ রেখা স্পষ্ট করে মেজর জলিল তার অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা গ্রন্থ রচনা করেন ১৯৮৮ সালে। আজ ২০১৯ সাল অবদি সেই একই ঘরোয়া লুটপাটের মহা মঞ্চনাটক ময়দানে বহমান চলমান আছে। এদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্মনীতি, সংস্কৃতি নিয়ে পাশর্^বর্তী দেশের অতিরিক্ত নাকগলানোর কায়দা লক্ষ্যনীয়। নির্বাচনসহ শেয়ার বাজার লুটপাট, ব্যাংক লুট, ক্যাসিনো বানিজ্যসহ হত্যা গুম খুনে তাদের সম্ভাব্যতা স্বাধীনতা পরবর্তী বর্তমান সময়ে ভয়ংকর খেলা সচেতনদের নজর কেড়েছে। খোদ ধর্মনিরপেক্ষ ভারত হচ্ছে মুসলিম নিধনের উত্তম ভাগাড়। মোদির ভারত সবার জন্য উদার হলেও মুসলিমদের জন্য কবর। এটিও লুকানো নয়, বরং স্পষ্ট। মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় নির্দেশ অনুমোদিত মাংস খেলেই এদের মারা যায়, একদম তক্তা পিটা মরণ। ভারতীয় মুসলিমদের একটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য তারা কখনোই মনে করে না পাকিস্তান বা বাংলাদেশ তাদের দেশ। জনম জনম থেকে তারা মনে করে ভারতই তাদের দেশ। যেখানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ হিন্দুরা রেখে ঢেকে আমতা আমতা করেও মানে ভারতই তাদের হিন্দুদেশ। প্রকৃত ইতিহাসে ভারতীয় মুসলিমরা অকাতরে দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, বাকী ভারতীয়রা অনেকটাই ব্যর্থ, এমনকি সংকীর্ণতায় ঢাকা মুসলিমদের কৃতকর্মকে স্বীকার করতেও কপটতা দেখিয়েছে।

ইতিহাস তথ্যে প্রমাণ, অনেকে বলেন বন্ধু ভারত তবে সংখ্যালঘু নির্যাতনের মিথ্যা কল্পকাহিনী ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক দেশ হিসাবে চিহ্নিতকরণে ভারতের ভূমিকা অনেক ব্যাপক ও কপটতায় ভরা। এটি ভারতের “র” এর অনেক বড় পরিকল্পিত লক্ষ্য, সাজানো পরিকল্পনার অংশ। এর সুবাদে বাবরী মসজিদ ইস্যুকে চাঙ্গা করার সাথে সাথে বাংলাদেশের হিন্দুরাও এ মিথ্যাচারে জড়িত থেকেছে। বাংলাদেশের ছয়টি জেলা নিয়ে বঙ্গভূমি আন্দোলনের নামে একটি হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ পায় (১৯৯২ সালের জুনে দৈনিক মিল্লাত এসবের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে)। এসব অপতৎপরতাতে ধরা পড়ে স্বাধীনতার পর থেকেই লোক দেখানো ত্রাণ তৎপরতার নামে ভারত বাংলাদেশে বঙ্গভূমি আন্দোলন শুরু করে। জানা যায় ঐ বঙ্গভূমি আন্দোলনের নেতা কালিদাস কর্মকার ভারত থেকে তিনটি ইট নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের তিন জায়গায়  তিনটি রাম মন্দির নির্মান করার জন্য। এর একটি হবে পাইকগাছায়। সরকারের হিন্দু সদস্যরা এর পিছনে ইন্ধনে ছিল আছে, হয়তো সামনেও থাকবে। বঙ্গভূমি আন্দোলনের সাথে ভারতের বিজেপি, বিশ^ হিন্দু পরিষদ, শিবসেনা, বজরঙ্গ দল এরা এক সূতায় গাঁথা। বাংলাদেশ বিরোধী কর্মে আরো জড়িত আছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি, প্রণব মঠ ও সেবাশ্রম, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, বাংলাদেশ সন্তু মহামন্ডল, বাংলাদেশে হিন্দু ফাউন্ডেশন, বিশ^ ধর্ম ও শান্তি সম্মেলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ চৈতন্য সাংস্কৃতিক সংঘ, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ, ইত্যাদি। এরা আবার নিয়মিত পত্রিকা বের করে। উল্লেখ্য, তাদের পত্রিকা অবিভক্ত ভারত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে।

সমাজ দর্পন এরকম এক পত্রিকার উদাহরণ। এর মাল মসালা বাংলাদেশে সহজলভ্য নয়, তাই কলকাতা থেকে ছাপিয়ে আনা হয়। এসবের সমন্বয় সাধন করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। বাইর থেকে মনে হবে “ইসকন” নিছক সাধু সাধু, আসলে এরা বাংলাদেশের পানি যা ভারতে জল, ঘোলা করে শিকার করছে। ইন্দিরা গান্ধী নিজেই এদের সহযোগিতা দিতে ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশকে পরাধীনতার শিকল পরার ছলাকলার নামে এসব করা হচ্ছে। সমাজ দর্পণের সম্পাদক হচ্ছেন শ্রী শিবশংকর চক্রবর্তী। কে এম দাস লেনস্থ ভোলাগিরি আশ্রম থেকে এটি প্রকাশিত হয়। এসব পুস্তিকা ও প্রচারপত্র বঙ্গভূমি আন্দোলনসহ অবিভক্ত ভারত প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে লালন করে। ইন্দিরা গান্ধী নিজেই এই সংস্থার পিছনে কাঠখড় পুড়িয়ে গেছেন, এ তথ্য বিলি করেন সংস্থার প্রধান বিজয়ানন্দজী বনগাঁর বঙ্গভূমিওয়ালাদের এক সম্মেলনে সব স্পষ্ট করেন। এর জন্য আওয়ামী সরকারকে বেছে নিয়ে বিধ্বংসী হিসাবে নির্দেশ চলেছে। স্বাধীনতার পর থেকেই এরা তৎপর। ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে ভারতীয় কর্মকর্তারা সরে পড়ে। এরা দলে দলে মঠ সেবাশ্রমের আড়ালে নিজেদের কাজ চালাচ্ছে “ইসকন” নামে। এদের সদর দফতর নদীয়া জেলার পাশে মায়াপুরে। এ সংগঠনের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে উস্কানীমূলক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা, উদ্দেশ্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করা। ৮৮ সালের মার্চে নেপালে অনুষ্ঠিত বিশ^ হিন্দু পরিষদের মহাসম্মেলনে ১৯০ জন বাংলাদেশী অংশ নিয়েছিল। এ ছাড়াও বিশে^র অন্য দেশ থেকেও প্রতিনিধিরা আসেন। ভারত থেকে বিশ^ হিন্দু পরিষদ ও বিজেপি ও বিশ^ হিন্দু পরিষদের কাজ বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের নামে মিথ্যাচারকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে। একইভাবে ভারতের প্রতিটি উগ্র হিন্দু পরিষদ বাংলাদেশে ও ভারতে এ কল্পিত হিন্দু নির্যাতনের প্রচার চালায়। নামে থাকছে (সাধু সাধু ভাব, ইন্টারনেশন্যাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ), এর প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন উদ্দেশ্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি। এই শিব শংকর বিশাল ব্যক্তি। তাদের কর্মকান্ড বিজেপির কর্মকান্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। বিশ^ হিন্দু পরিষদের এ সম্মেলন ৮৮ সালে মরিসাসে ও ৮৯ সালে ভারতের এলাহাবাদ, গোরখপুরে অনুষ্ঠিত হয় সব সম্মেলনেই শিবশংকরের তৎপরতা লক্ষ্যনীয়।

উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য করা নেপালের হিন্দু সম্মেলনের টার্গেটও কিন্তু বাংলাদেশ। লক্ষ্যনীয়, ঐ ‘ইসকন’ সম্মেলনের ১৫ নম্বর সিদ্ধান্তে বলা হয় রামের জন্মস্থান অযোধ্যা হিন্দুদের জন্মগত অধিকার, তাই এটি হিন্দুদের দিয়ে দিতে হবে। উল্লেখ্য ঐ স্থানে রাম নামে আদৌ কারো জন্ম হয়েছিল কি না সেটিও  প্রশ্নবিদ্ধ(?), কোনভাবেই স্পষ্ট নয়। খৃষ্টপূর্ব ১,০০০ বছর আগে বলা হয় রামের জন্ম যদিও কিন্তু প্রত্মতাত্মিক বিশেষজ্ঞদের গবেষনা বলে ঐ সময় ওখানে কোন মানব বসতিই ছিল না। মাত্র কয় শতক আগে তুলসী দাস রামচরিত লিখে গেছেন কিন্তু সেখানে একটি লাইনও খুঁজে পাওয়া যায় না যে বাবর মন্দির তোড়ে মসজিদ বানিয়েছেন। ভারত ও তাদের প্রাদেশিক সরকার তুলসী দাসের ৫০০শ তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে ১৯৯৭ সালে (উইকি সূত্র)। রাম নন, বরং বলা যায় বাবর আর তুলসী দাস সমসাময়িক, জন্ম কাহিনী লিখলেন আর মন্দির ভাঙ্গা এড়িয়ে গেলেন কি যুক্তিতে? বিবেকবান মানুষের জন্য একবিংশ শতকে যুক্তি বিহীন সব ধর্ম নামের অধর্ম অবস্থান বেমানান। যুক্তির মানদন্ডে তাকে টিকতে হবে, নয়তো তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে যাবে। যুগে যুগে সত্য ধর্মেও মিথ্যারা আসন গেড়ে বসে। মানুষের বিবেকের মসনদে অসত্যকে ময়দান থেকে বিদায় নিতেই হবে। স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতের সরকারী ইতিহাস সবসাজানো মিথ্যা ইতিহাস। সেখানে ভারতের ইতিহাসে শেখানো হয়েছে সিরাজ মাতাল, দুষ্ট লোভী ও নষ্ট ছিলেন। এসব ছিল নষ্ট কথা (ডাঃ সুরেন্দ্র নাথ সেন)। যদিও বেশির ভাগ হিন্দুরাই সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তির প্রমাণ পাওয়া যায় তবে এদের মাঝে ব্যতিক্রম ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ, অরবিন্দ ঠাকুর এরা সাম্প্রদায়িক ছিলেন না। “ইতিহাস রচনার প্রণালী”তে ডাঃ রমেশ চন্দ্র মজুমদার অনেক সত্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় সৌম্য সরকারের ইসকন মন্দিরে অর্ঘ্য প্রদান আতংক বাড়ায়। এর মূল কারণ ধর্মের নামে ইসকন জটিলতা। সিলেট, খাগড়াছড়ি, বরিশাল, বান্দরবন, চট্টগ্রাম, এভাবে সুবিধাজনক জায়গাগুলোকে ইসকন হামলে পড়েছে মুসলিমদের উপর। জীবন্ত মুসলিমরা হচ্ছে লাশের শিকার আর প্রিয়া সাহাদের মত নটরাজরা মিথ্যাচার করে নিজেদের পর্ণ কুটিরে নিজেরা আগুন দিয়ে সরকারের কাছ থেকে বেহিসাব ক্ষতিপূরণ লাভ করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে। ষড়যন্ত্রী হিন্দুরা বার বার অনাচারেও নিরাপদ থাকছে, সরকারের সীমাহীন নীরবতায় মুসলিমরা বিধ্বস্ত। একইভাবে রংপুরের ঘটনায় হিন্দুরা নিরাপদ আর মুসলিমরা কেউ প্রাণ হারিয়েছে, মামলা খেয়েছে ৫,০০০ মুসলিম, ক্ষতিপূরণ পেয়েছে শুধু হিন্দুরা (১৩ই নভেম্বর ২০১৭, দৈনিক ইনকিলাব)। এটি তারা বড় সময় থেকে করছে, এভাবে উপকৃত হয়েও সময়ে সময়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিবেক হারিয়ে মিথ্যাচার করতে পিছপা হয় না। এ হচ্ছে পরাধীনতার খোলসে স্বাধীন বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থান। অজানা কারণে মুসলিম ভুক্তভোগীদের খবর মিডিয়াতেও আসে কম। এ দেশে তাদের কথা ভাবারও যেমন কেউ নেই, বিপদে শোনারও কেউ নেই। ভারত তার সীমান্তের প্রতিবেশীদের হাতে ক্ষণে ক্ষণে বেদম প্রহার হজম করলেও আর ঐ খেদ মেটাতে একমাত্র বাংলাদেশের বর্ডারে মানুষ খুন করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে। কিন্তু ঐ মানচিত্রের মানুষগুলো এ ক্ষোভের কথা কখনোই ভুলে যাবে না, সেটি মনে রাখলে ভালো হতো। সারাক্ষণ পাকিস্তানকে মুখে মুখে শত্রু ঠাওরালেও ময়দানে হাতজোড় করে সমিহ করেই চলে, যা বাংলাদেশের জন্য কখনোই নয়। বাংলাদেশের আত্মমর্যাদাহীন অবস্থানের দায় মেরুদন্ডহারা শাসক বর্গের নিজের অর্জন।

ফিরে যাচ্ছি নেপালের সেই ইসকন সম্মেলনের সূত্রে। সেখানে ২৪ নম্বর সিদ্ধান্তে স্থির হয় এখানে এমন শক্তিশালী রেডিও স্থাপন হবে যেখান থেকে সারা বিশে^ বিভিন্ন ভাষাতে প্রচারণা চলবে। সম্মেলনের ৩৬ নাম্বারে বলা হয় গরু হত্যা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং গোহত্যা সমান মানুষ হত্যা রুপে চিহ্নিত করতে হবে। প্রকারান্তরে তারা বলতে চাচ্ছে মুসলিমরা গোহত্যাকারী, যুক্তিতে এর সোজাসাপটা অর্থ হচ্ছে এরা মানুষ হত্যাকারী। যদিও ভারত গরুর মাংস রপ্তানীতে শীর্ষে থেকেও মুসলিম নিধনে আগুয়ান! বাংলাদেশে প্রতিবছর হাজার হাজার মা বাবা গরুদের কি কারণে তারা কুরবানীর নামে বর্ডার পার করে দেয়। তখন তাদের ধর্ম কোন মাত্রায় থাকে? তাদের ধর্মযুক্তিতে গরু = মানুষ। কিন্তু মুসলিমদের ধর্মযুক্তিতে গরু = পশু, খাদ্য, বলা চলে প্রাণিজ ব্যঞ্জন। ভগবান, মা, দেবতা কিছুই নয়। ৭১ সালে ভারতে জেনারেল উবানের নেতৃতে মুজিব বাহিনী গঠনের উদ্দেশ্য ছিল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করা, স্বাধীনতা পরবর্তী এই মুজিব বাহিনী অনেক অপকর্মের হোতা। ১৯৮১ সালের ৩১ শে মে “র” এর পরিকল্পনা মাফিক চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে ঢাকার ইংরেজী ‘দি নিউ ন্যাশন’ পত্রিকায় বলা হয় “ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অনুমোদনক্রমে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে এবং নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে” (The New Nation 29 September, 1988, RAW planned to kill Ziaur Rahman.. স্মরন করার বিষয় ৮১ তে জিয়া হত্যার খবর, ২০০৯এ বিডিআর হত্যার খবরও ভারতই প্রথম প্রচার করে। এরকম অনেক ঘটনায় হত্যার আগের দিনই সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ, হত্যার খবর সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে আকাশবানী থেকে প্রচার করা হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নয়াদিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে জানতে চান যে, শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না? ভারতীয় আচরণ যেন চোরের মনে পুলিশ পুলিশ। জিয়ার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও স্বকীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে কৌশলগত নীতিমালার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়। জিয়া হত্যার দায়ে দুই পলাতক সেনা অফিসার দীর্ঘকাল ভারতে আশ্রয় পায়, এমন কি এখনো একজন কলকাতা নগরীতে ব্যবসা বানিজ্য করছেন (শাসছুর রহমান, বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক, সাপ্তাহিক বিচিত্রা, ২২ বর্ষ ৯ সংখ্যা)। জিয়াউর রহমানের হত্যার পর এরশাদ নাটের গুরু আসার পর থেকেই আবারো বিভিন্নরুপ এজেন্ডা চালু হয়। জিয়ার হাতে করা বাংলাদেশের অসামান্য অবদানকে ভারত ভালো চোখে দেখে নাই। যার ফলশ্রুতিতে আজ অবদি বাংলাদেশ ধুকে ধুকে মরছে (লেখকের এ নিবন্ধটি দৈনিক দিনকাল, ৩০ শে মে’৯৭ উপলক্ষ্যে বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত)। তথাকথিত বঙ্গভূমির ব্লু প্রিন্ট হচ্ছে একটি স্বাধীন হিন্দু রাষ্ট্র তৈরীর প্রথম চক্রান্ত। ভারতের তালপট্টি দখল, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, ও এরশাদের ক্ষমতায়ন একসূত্রে গাথা (আবু রুশদএর বাংলাদেশে ‘র’ গ্রন্থ, ১৬৫-১৭৯ পৃষ্ঠা )। ঐ বইটি গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা বাংলাদেশে ‘র’ আগ্রাসী মনোবৃত্তির স্বরুপ সন্ধানে সকল ভারতীয় ষড়যন্ত্র ওপেন করে দেখিয়েছে। প্রতিটি বাংলাদেশীর নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে ২৮৮ পৃষ্ঠার পুরো বইটি আগাগোড়া পড়া দরকার।

ইসলাম কারো ধর্মে অন্যায় হস্তক্ষেপের অধিকার স্বীকার করে না। কিন্তু ভারত শিকড় থেকে বড় সময় আজ অবদি সেটি রাখছে। শুদ্রকে স্পর্শ করলে কাপড়শুদ্ধ ধৌত ও উপবাস করতে হতো। চন্ডাল ছিল অম্পৃশ্য। ব্রাহ্মণদের সাথে কথা বললে ছায়া মাড়ালে প্রায়শ্চিত্য করতে হতো। যার সহজ হিসাবে বৌদ্ধ জৈনসহ ব্রাহ্মণ ছাড়া সবাই অচ্ছুৎ। নারীর কোন স্বাধীনতা থাকতে নেই। আজকে ভারতীয় নারীরা সম্পত্তির ভাগও পাচ্ছে, এর পিছনেও মুসলিমদের থেকে শেখা বুলিতে আজ সমৃদ্ধ। স্বামীর মৃত্যুর পর চিতায় গমন নারীর ঠিকানা। মুসলিম সংস্কৃতির সবকটি অর্জনে তারা ধন্য হলেও গো মাংস ভক্ষণ মুসলিমরা করে বলেই তাদের বিদ্বেষ চরমে।  অতীতে এত ছিল না, বর্তমানে বেড়েই চলেছে। রামেশচন্দ্র মজুমদারের বাংলাদেশের ইতিহাসের ১৮৯ পৃষ্ঠাতে বর্ণিত হয়েছে তাদের ধর্মের এমন সব নির্দেশনা এসেছে পুরানে, যুক্তি হিসাবে শ্লীলতা বজায় রেখে তা উল্লেখ করা যায় না। শ্রী মজুমদার আরো লেখেন, সে যুগের পন্ডিতগণ প্রামাণ্য গ্রন্থে প্রকাশ করেন, শুদ্রাকে ব্যবহার করা অসঙ্গত কিন্তু তার সাথে অবৈধ সহবাস করা ঐরকম নিন্দনীয় নয় (পৃ: ১৯৩)। তারা যাই বলতো তাই ছিল ঈশ^রবাক্য। সমুদ্র যাত্রাও ছিল প্রায়শ্চিত্যযোগ্য পাপ। ইতিহাস গবেষকরা এসব চেপে রাখা ইতিহাস সাম্প্রতিক উগলে বের করেছেন। তারপরও বেশীর ভাগ সাধকেরা এসব চেপে রেখে প্রশ্রয় দিয়ে গেছেন বলেই ভারতীয় জটিলতা শেষ হতে চায় না, একবিংশ অবদি চলমান। বাংলাদেশের কৃষকের ছেলেরা লেখাপড়া শিখবে সেটি সইতে পারেন নাই খোদ রবীন্দ্রনাথও। ধর্ম তাকে উদারতা শিখায় নাই, যেখানে নজরুল তাকে এ ক্ষেত্রে ছাড়িয়ে গেছেন যোজন যোজন দূর। তিনি চেয়েছেন হিন্দু মুসলিমদের পরস্পরের গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করতে। আর ঢাকাতে বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনে মক্কা ইউনিভার্সিটি / ফাক্কা ইউনিভার্সিটি বলে টিটকারী করা / কৃষকের ছেলেদের এসব দরকার নেই / জমিদার রবীবাবু উপসত্ব উঠাতে ব্যস্ত থাকলেও এদের জন্য কিছু করার কোন প্রয়োজনও বোধ করেন নাই বরং ম্লেচ্ছ যবন বলে বার বার গালি পেড়েছেন। এসব সংকীর্ণ সাধুদের অপরাধেই ভারত আজ অবদি মানবতার বিপক্ষ অবস্থানে আছে। ১৯২১ সালের ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্থাপনের এসব কষ্টকথা অসংখ্য লেখনীতে জীবন্ত হয়ে আছে। কিভাবে তারা সংঘবদ্ধভাবে মুসলিম বিরোধী ভূমিকা রেখেছে তা অকল্পনীয়, প্রায় দুইশত গণ্যমান্য হিন্দু ঢাকার প্রখ্যাত উকিল বাবু আনন্দ চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে যারা রাজনীতি করতেন না, কিন্তু মুসলিমদের বিরোধীতা করতে তারাও এগিয়ে আসেন। রাসবিহারী ঘোষ, আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও গুরুদাস বন্দোপাধ্যায়, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সবাই এক খোরে মাথা মোড়ানোর দল, সাথে কবি রবীন্দ্রনাথও থাকেন নেতৃত্বে।  এভাবে বাবু গিরীশচন্দ্র ব্যানার্জী, ডঃ স্যার রাসবিহারী ঘোষ এবং কলকাতা বিশ^দ্যিালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার আশুতোষ মুখার্জীর নেতৃত্বে এসব এলিটরা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ১৮ বার স্মারক লিপি দ্বারা বৃটিশ ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ এর উপর চাপ সৃষ্টি করেন (Calcutta University Commission report. Vol. IV পৃষ্ঠা ১১৩ পৃষ্ঠা ১১২, ১৫১ তে আরো বর্ণিত আছে)। ১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে ঢাকঢোল পিটিয়ে যে সভা হয় সেখানে সভাপতিত্ব করেন কবি রবীন্দ্রনাথ (অসংখ্য সূত্রে প্রমাণিত/ অধ্যাপক আব্দুন নূর (চ. বি) দৈনিক সংগ্রাম দ্রষ্টব্য ২৬ এপ্রিল ১৯৯৩ ইং)। এসব কারণে এটি প্রতিষ্ঠায় অনেক অর্থকষ্ট ও সংকট অতিক্রম করতে হয়। এর ব্যপ্তি ও শর্ত ছিল ক্ষমতা ও অধিকার হবে ঢাকা শহরের দশ মাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ (‘জীবনের স্মৃতিদ্বীপে’ ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার)। টিটকারীতে শুধু ঢাকা মক্কা হয়নি, বুড়িগঙ্গা নদী হয়েছে বৃদ্ধগঙ্গা নদী, যারা এখানে আসবে তারা হবে সবাই অসুর, দেও দানব। ঐ উক্তিটি ছিল ভান্ডারকরের, সেটিও ডক্টর রমেশচন্দ্র তার জীবনের স্মৃতিদ্বীপে উল্লেখ করেন। ঘটনাটি ঘটবে “কলিযুগে বৃদ্ধগঙ্গা নদীতীরে (হরতগ) নামে এক অসুর জন্ম গ্রহণ করবে। —- যারা অর্থলোভে পূর্ববর্তী আশ্রম ছেড়ে এই অসুরের আকর্ষণে বৃদ্ধগঙ্গার তীরে যাবে তারা ক্রমে অসুরত্ব প্রাপ্ত হবে ও অনেক দুর্দশাগ্রস্ত হবে। এটি প্রমাণিত পরবর্তীতে সেই অসুরেরা সদলে ঐখানে চাকুরী নিয়ে দেও দানবের স্বরুপ নেন। সংখ্যা বৃদ্ধি করেন। মুসলিমদের প্রতি তাদের ঘৃণা ও বৈরিতা যে কত গভীর ও তীব্র ছিল এসব তার প্রমাণ মাত্র। এই দেও দানবের সংখ্যা এতই বৃদ্ধি পায় যে, ভোটের সময় তারা অনায়াসে জিততে পারতো। সেটিও জীবনের স্মৃতিদ্বীপে লেখক উল্লেখ করেছেন। আবুল আসাদের লেখা ‘একশ বছরের রাজনীতি’ থেকে পাওয়া কথাগুলি বৃটিশ ভারত অধিকৃত প্রতিটি মানুষের জানার দরকার আছে। এসব চেপে রাখা ইতিহাস চাপাই আছে এর প্রধান কারণ হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক মুসলিমদের সীমাহীন হজমশক্তি। হিন্দুরা হলে এ নিয়ে সেই কবে লঙ্কাকান্ড বাধাতে যেত। সত্য মিথ্যা পাঠকের বিবেচনাতেই জমা রইলো। এসব চেপে রাখা ইতিহসের লজ্জাস্কর ভাসুরদের নাম কেউ সজ্ঞানে নেন না। কিন্তু ইতিহাস জানতে হলে সত্যকে বুঝতে হলে এর কোন পাঠই অবহেলার নয়। এ ইতিহাস জনতা নাড়ে না বলেই মিথ্যা ইতিহাসে রচিত কুরুক্ষেত্র সমান লঙ্কাযুদ্ধ বাবরি মসজিদ নিধনসহ একের পর এক ধ্বংস যুদ্ধ চলমান আছে। ইসকন একই ধারাবাহিকতা, যেটি আরো ভয়ংকর ও জটিল। ধর্মের নামে অসংখ্য অনাচারের নতুন আমদানী।

ইতিহাস কখনোই অবহেলার জিনিস নয়, সময় কথা বলে। থরে বিথরে মূল্যবান অতীতের জমা চাপা দিয়ে রাখা যা অতি উত্তাপে আগ্নেয় বিস্ফোরণে বিচ্ছুরিত হয়। আজ বাংলাদেশের সন্তান আবরাররা নিজ দেশের পক্ষে কথা বলতে পারে না, নির্দেশ আসে এদের মেরে ফেলতে। আবরার হত্যার পর বিশ^বিদ্যালয়ের ভিপি নূরদের উপর সদলবলে হামলা হয়। প্রশ্ন করা হয় তুমি কে? এর জবাব ছিল আমি কে, কিছুক্ষণ পরই বুঝবি। এটি ছিল ভিপি নূরকে ইসকন সদস্য সনজিৎ এর জবাব। অনেকেই বলছে সনজিৎ ইসকন সদস্য, আবরার হত্যায় জড়িত অমিত শাহও তাই। এসব কেমন ধারার একবিংশের ধর্মভাষা? ভাগ্যের ফেরে নুরুরা বেঁচে আছে। নতুন বছরে ২২ জানুয়ারীতে ৪ ছাত্রকে আবরারের মতই রাতে নির্যাতন করা হয়েছে হাতুড়ী রড লাঠি ও স্ট্যাম্প দিয়ে, এতে তারা মার খেতে খেতে অচেতন হয়ে থানায় সোপর্দ হয়। কারণ তারা জানে এতসব অপরাধের পরও অপরাধীরা নিরাপদ থাকবে। কে করবে এ রাষ্ট্রের বিচার, শিকড় থেকে শাখা প্রশাখা সর্বত্রই অন্যায় অবিচারে ঠাসা। মিথ্যার ময়দানে মেরুদন্ড ভাঙ্গা ভারতের পুতুল সরকার ক্ষমতায়। সব অংকই ২+২=৪ এর মতই স্পষ্ট। এখানে কোন গোজামিল নেই। জাতির প্রতিটি সদস্য আজ শত্রু ও বন্ধু চিনতে পারে। দখলদার সরকার সময় সময় নষ্ট সাধুদের মত উপদেশ বাণী ছুড়ে সাধুতার কসরতে বয়ান ছাড়ে। হতবুদ্ধ জনতারা হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারে না।

স্মরণ করার বিষয়, জিয়ার বদৌলতে ভারত ফেরত হাসিনার দেশে পদার্পনের মাত্র ১৩ দিনের মাথায় জিয়া হত্যার ঘটনা ঘটে। এরপর পরই শেখ হাসিনা সিলেট থেকে ফেরত আসার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে বোরখা পরে ভারতে পাড়ি দেয়ার সময় সীমান্তরক্ষীরা বাধ সাধে” (শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার ১২ বছর, দৈনিক দিনকাল ২০/৫০৯৩ সংখ্যা)। বিগত শতকে “র” এর ছত্রচ্ছায়ায় তসলিমা ইস্যুকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তোলা হয়েছে, হিন্দু নির্যাতনের মিথ্যাচারে বাংলাদেশকে আসামী করার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত হয়। ঐ পাশাপাশি সময়ে শেখ হাসিনাও নিজে কলকাতা গিয়ে সংখ্যালঘু নির্যাতনের মিথ্যাচারে বাড়তি যোগ করেন (দৈনিক যুগান্তর, কলকাতা ০৪-০৬-৮৭সংখ্যা)। চাকমাদের বিষয়েও একইভাবে শেখ হাসিনা মিথ্যাচার করেন (দৈনিক আদালত, কলকাতা ০৪-০৭-৮৭ সংখ্যা)। এসব মিথ্যা অভিযোগ ভারত সব সময়ই করতো, এসব রসদ পেয়ে দেশবিরোধী উস্কানীতে ভারত আরো বেশী তাল পায়। সিকিমের লেন্দুপ দর্জি বেওকুফের মত নিজ দেশ সিকিমকে দেউলিয়ার শেষ ধাপে ধ্বংস করে নিজেও ধ্বংস হয়। ভারতের প্রতিবেশীদের বেলায় একই ধারার ইতিহাস বার বার রচিত হচ্ছে। যার সহজ পরিণতিতে গোটা জাতির উপর মিথ্যাচারের তকমা সাটা হয়। মিথ্যাচারে মুজিবের কন্যার জুড়ি মেলা ভার, একটি জাতির জন্য এর চেয়ে বেশী লজ্জার আর কি হতে পারে? ভোটের আগে মধ্যরাতের ভোট তার উজ্জ¦ল উদাহরণ। এ অসাম্প্রদায়িক দেশকে সাম্প্রদায়িক বানানোর প্রাণান্তকর প্রচেষ্ঠায় সবদিন ভারত নিবেদিত। ইসলামের আদর্শকে সত্যকে যুক্তিকে মিথ্যারা ভয় পায়। ইসলামের ইতিহাসের গৌরবগাথায় বিমুগ্ধ জওহরলাল নেহরু এটি স্বীকার করে গেছেন তার লিখিত গ্রন্থ “Glimpses of World History (Delhi: Oxford University Press, 1989, Centennial Edition, pp. 141-145) যে কিভাবে এ ধর্মটি অতি অল্প দিনের মাঝে পূর্ব রোমান সা¤্রাজ্য ও পারস্যের সাসানীয় সা¤্রাজ্য, ইহুদী ও খৃষ্টানের করায়ত্ব জেরুজালেম তাদের দখলে যায়। গোটা সিরিয়া, ইরাক পারস্য সবই আরব সা¤্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। এসব মিথ্যাচারের জোরে নয়, ন্যায়ের সত্যের আদর্শের সৎ শক্তির কাছে ওসব অঞ্চল পদানত হয়। ইসলামের সত্য হারিয়ে আওয়ামী লীগ জাতির উপর ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি আওড়ায়। প্রধানত ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে আওয়ামী লীগই, হরকাতুল মার্কা অবাঞ্ছিত কিছু ধর্মধারীদের সহযোগিতায় তারা চেতনা ব্যবসা চালায়। আবার আওয়ামী লীগ নিজেদের প্রয়োজনে জামাতের সাথে আঁতাত গড়ে তোলতেও ইতস্তত করে না। কিন্তু জামাতের সাথে অন্যরা গেলে বাকীদের বেলা তালাক তালাক নিচতার জপমালা। আবার কাজ হাসিল হলে যে কাউকেই এমন কি নিজ দলের লোককেও তারা দূরে ছুড়ে ফেলে দেয় টয়লেট পেপারের মত। যে কোন অপকর্ম করিয়ে নিতে তাদের আটকায় না। ভারতেও কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত হয় না কিন্তু এরশাদ তার আমলে বাংলাদেশে জন্মাষ্টমীর ছুটি শুরু করেন। এরশাদও ছিলেন ভারতের দেরাদুনের স্পেশাল ট্রেনিংপ্রাপ্ত। ১০০% মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশ কাশ্মীর ও তাদের মুসলিমদের উপর অপরিসীম নির্যাতন বহাল রেখেছে ভারত। সৎ সাংবাদিকরা দেশে টিকতে পারেন না, অনেকের মন্তব্য এর কারণও ভারতের ঠেলা। দেশপ্রেমিকরা দেশে থাকলে দেশদ্রোহিতা করা কষ্টকর। যাদের মাথায় সামান্যতম দেশপ্রেম আছে তারা জানেন জিয়া কতটা দেশপ্রেমিক ছিলেন। প্রতিটি দেশপ্রেমিক তাদের চোখে রাজাকার, দালাল পাকিস্তানের সুহৃদ। এতে একটি ম্যাসেজ স্পষ্ট হয়। অবশ্যই বাংলাদেশের সুহৃদ হতে হবে পাকিস্তানকে। বাংলাদেশ কারো সাথে শত্রুতায় বিশ^াস করে না, তাহলে পাকিস্তানের সাথে শত্রুতা থাকবে কেন?

পশ্চিম পাকিস্তান কোন দিনও পূর্ব পাকিস্তানের শত্রু ছিল না। রাজনীতির ইতিহাস ঘাটলে ইতিহাসই সেটি বলে দেয়, কাউকে মুখ ফুটে বলতে হয় না। কোন কিছুই চাপা থাকে না। বর্ণভেদে জর্জরিত ভারত ইসলামের মহান মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের মুক্তির পথ ভেবে স্বজ্ঞানে ইসলামের ছায়াতলে আসে। নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর জন্মের অতি অল্প সময়ের মাঝেই এ ধর্মের মহৎ বাণী ভারত বর্ষে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে গোটা বিশে^ আমেরিকা, অষ্ট্রিয়া, ইংল্যান্ড, জাপান সর্বত্র মানুষ এ ধর্মের বাণীতে মুগ্ধ হয়ে এর মানবিকতায় মুগ্ধ হয়ে এ সত্যে আত্মাহুতি দেয়। মুর্শিদ কুলি খাঁর জন্মও বিখ্যাত ব্রাহ্মণ বংশে। সুলাইমান করনানীর সেনাপতি কালাপাহাড় সম্ভ্রান্ত কায়স্থ বংশীয় হিন্দু ছিলেন। বাংলার বার ভূইয়াদের অগ্রণী ঈসা খাঁর বাবার নাম কালীদাস, ব্রাহ্মণ থেকে ধর্মান্তরিত মুসলিম। ভারতীয় ঐতিহাসিকরা তাদের স্বরচিত ইতিহাসে মিথ্যাচার করে এটি প্রচার করে যে মুসলিমরা তলোয়ারের জোরে ভারতবর্ষ শাসন করেছে। এভাবে মিথ্যায় ভর করে তারা তাদের প্রকৃত বর্ণবাদী স্বরুপ প্রকাশ করে। ঐতিহাসিক শ্রী দাসগুপ্ত স্বীকার করেছেন, স্থানীয় অধিবাসীদের আরব বণিকদের সদ্ভাব বিদ্যমান থাকার কারণেই তাদের কর্মচারীরা এদের সংস্পর্শে এসে ঐ নতুন শাস্ত্র সম্বন্ধে জ্ঞাত হয় ও পরম উৎসাহে ঐ ধর্মে আত্মসমর্পণ করে। জনাব জৈনুদ্দিন লেখেন, ‘তুহফাতুল মুজাহিদিন’ গ্রন্থে হিন্দুরা মুসলিম হলে অন্যেরা তাকে আরো ঘৃণা করতো। কিন্তু একটি বিষয় মুসলিম হলে তারা সবার সাথে সমান মর্যাদা পেতো। এটা ছিল হিন্দুদের ইসলাম গ্রহণের প্রধান কারণ। (সূত্র: দাশগুপ্তের ভারতবর্ষ ও ইসলাম, পৃ: ১২৭-১২৮)। এসব কথা ডাঃ তারাচাঁদ বাবুও স্বীকার করেছেন। শ্রী দাশগুপ্ত আরো লিখেছেন, “বজ্র আটুনী ফসকা গেরো, হিন্দুরা যতই কঠোর হতে থাকে, মুসলিমরা ছিল ততোধিক বহুভাবে উদার” (ঐ পুস্তকের ৫৪ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)। ব্রাহ্মণরা বৌদ্ধদের প্রতি চরম অবিচার করতো, তারা তাদের মাথা ন্যাড়া করতো তাই তাদের ডাকা হতো নেড়ে বলে। ব্রাহ্মণদের অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে গেলে তারা দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করে। পরে ঐ নেড়ে অপনামটি মুসলিমদের উপরও ম্লেচ্ছ যবনের সাথে নেড়ে ধেড়ে বহু উপনাম হিন্দুরা সেটে দেয়। ভারতবর্ষে আরেক দল ছিলেন জৈন। এরাও ঠিক ঐভাবে দলে দলে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হয়েছে আবার অনেকে মৃত্যুবরণও করেছে। শ্রী দাশগুপ্ত বলেন, একবার একদিনে আট হাজার জৈনকে শূলে হত্যা করা হয়। কথাটি তামিল পূরানে উল্লেখিত আছে।

যে সরকার দেশের স্বার্থ দেখে না, সে কিভাবে সামাল দিবে প্রিয়া সাহার নাটক, জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে মামলা নাটক, হলি আর্টিজেনের মত মঞ্চনাটক, সব কিছুর সাথেই তাল দিতে হয়েছে মেরুদন্ডহারা সরকারকে। মোদিজির পুশইন নাটক সবই একসূত্রে গাঁথা মঞ্চনাটকের অংশ মাত্র। সব কিছুর উপর একজন পরম বিধাতা নিরব দ্রষ্টা ছিলেন আছেন থাকবেন, তাকে ভুললে চলবে কেন? বিপদ হচ্ছে তাকে খোলা চোখে দেখা যায় না, অন্তদৃষ্টি দিয়ে দেখতে হয়।  ভয়ে ও আতংকে সময় সময় আমছালা নিয়ে ইত্যবসরে অনেক চোর বাটপার মন্ত্রী মিনিষ্টারও বাংলাদেশ থেকে সপরিবারে পালাচ্ছে লুটাকম্বল নিয়ে। মুসলিম হয়েও যারা তাকে চেনে না, তাদের পরিচয়ও ময়দানের মানুষের কাছে স্পষ্ট করা হয়েছে। তাদের মুসলিম না বলে মোনাফিক বলা হয়েছে। সত্য সংগ্রামীদের অফুরান পাওনা জমছে, ষড়যন্ত্রীদের জন্য কাঁচকলা। ভগবানের ভগবতী আছে আল্লাহর কোন স্ত্রীলিংগ নেই। আল্লাহ নামের সেই বিধাতার কাছে সব আমের আর ছালার খবর তার হাড়িতে ছিল আছে থাকবে। সত্যসাধকদের ঐ একটি জায়গাতে একমাত্র ভরসা! বিবেকধারী মানুষ নামধারী অপকর্মী কেউ ছাড়া পাবে না, পাবার কথা নয় ঐ সত্য আদালতের ময়দানে, তবে শুধু পশু হতে পারলেই রক্ষা! গরুরা নিরাপদ, গরু মা-ই হোক আর পশুই হোক, তবে গো রক্ষকরা, গোসেবকরা নিরাপদ নন, নিজেদের জন্য নিজেরাই আপদ!

রচনাকাল: করোনার সংকট সময়ের শুরুতেই ২০ জানুয়ারী ২০২০ সাল।

 

 

Tag Cloud