Articles published in this site are copyright protected.

Archive for the ‘Article’ Category

ইসকন হিন্দুত্ববাদের এক নবতর সংস্করণ

নাজমা মোস্তফা

(সংকট সময়ে একটি লেখা সাজালেও যখন করোনার মরোনায় ওলট পালট গোটা দুনিয়া, তাই থমকে দাঁড়ায় লেখাটি, দেয়া হয়নি। যদিও এটি দেয়ার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি)।

ধর্মের নামে একটি সংস্থা “ইসকন” (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসাসনেস) লালিত পালিত ও মোটাতাজা হয়ে খোলা ময়দানে সম্প্রতি সরবে হাজিরা দিচ্ছে বাংলাদেশে। ইসকন এক চিকন আস্তানা, সাজানো স্বাধীনতার শুরুতেই দেশ বিধ্বংসী এক গুটি, বাংলাদেশের কলিজাতে প্রোথিত হয়ে এর বিজ রুপিত আছে। কিছু জনরা চাইছে একে সাধুতার লেবাস পরিয়ে মানুষকে আরো ঘুম পাড়িয়ে রাখতে, হরে হরে সাধু সাধু কৃষ্ণ নামের আড়ালে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সচেতনরা দেখছেন ষড়যন্ত্রের বাঘ নখর। যেটি সাম্প্রতিক নানা ভাবে ওপেন হয়েছে। যদিও তারা বাঘনখর লুকিয়ে বলছে সাধু সাধুই আমাদের ধ্যান ধারণা। ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ এক মহৎ বানী! বলা হচ্ছে এটি ঐক্যের, সমতার মহান বানী! স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী ভারতীয় লুটপাটের শ্রী দেখে বিস্মিত মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলিল তার ক্ষোভ আচরণে, প্রতিবাদে, লিখিত আকারেও প্রকাশ করেছেন, এছাড়াও প্রত্যক্ষদর্শী ময়দানের বাসিন্দারাও সাক্ষী। পাকিস্তানের ফেলে যাওয়া কয়েক হাজার সামরিক বেসামরিক গাড়ী, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আরো সব মূল্যবান জিনিসপত্র ট্রাক বোঝাই ট্রেন বোঝাই করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, প্রাইভেট কারও রক্ষা পায়নি। যশোহর সেনানিবাসের প্রত্যেকটি অফিস তন্ন তন্ন করে, বাথরুমের ফিটিংসসহ সব খুটিনাটিও তারা লুট করেছে, ভিন্ন সীমান্তের অবস্থানও একই। সেদিন ভারতীয় জেনারেল দানবীরের আচরণে বিস্মিত মেজর জলিল, মনে হচ্ছিল তিনি যেন তার এক অধিনস্ত প্রজা মাত্র। খুলনা ত্যাগ করার সময় যখন বলা হলো ভারতীয়দের নির্দেশ ব্যতীত মেজর জলিল নড়তে পারবেন না। তখনই তাদের কু-মতলব তার কাছে বিদ্যুৎ গতিতে স্পষ্ট হয়ে যায়। সেদিন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতির নাড়ী বোঝার জন্য সামান্যতম ধৈর্যও তারা প্রদর্শন করেনি। মুক্তিযুদ্ধে অনেক অস্ত্র প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের টাকাতে কেনা হয়। সে অস্ত্র সম্পদ ছিল মুক্তিযুদ্ধের সম্পদ। মুক্তিযুদ্ধের সম্পদ ভারতীয়দের কাছে অর্পন করার কথা নয়, কিন্তু তারা ওটিই চাইছিল। সবকিছুই তারা নিয়ে যেতে উদ্যত। এসবের প্রতিবাদ করাতে মেজর জলিলকে গ্রেফতার করা হয়। একজন মুক্তিযোদ্ধার সাধের স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি হলেন প্রথম রাজবন্দী। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতীয়রা যুদ্ধে ময়দানে নামে, মাত্র ১৩ দিন চলে সে যুদ্ধ। এর মানে এটি নয় তারাই গোটা যুদ্ধের শক্তি! বরং বলতে হয় পাকিস্তানকে কবজা করতে এর আগে তারা বারে বারে অপারগ হয়ে ব্যর্থ ছিল। গোটা নয় মাস যুদ্ধ করেছে বাংলার প্রকৃত দামাল মুক্তিযোদ্ধারা। অনেক তথ্য স্পষ্ট করে ঐ সময়ে বর্তমান সময়কার ক্ষমতালোভী শাসকবর্গের প্রশ্নবিদ্ধ সম্পর্ক। এ জন্যই প্রায় পঞ্চাশ পার করেও টিকে থাকার ধান্ধায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গীতি গাইতে হয় তাদের। ক্ষমতান্ধ বেশীরভাগ নেতারা আরামে আয়েশে বিলাসে সময় পার করেছে। ৭১ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর তারিখে সকাল এগারোটায় ময়দানের মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলিলকে ভারতীয় সেনারা বন্দী করে। এ আচরণে চরম হতাশায় তার বিস্ময়কর ছন্দ প্রকাশ “রক্ত দিয়ে এ স্বাধীনতা আনলে তোমরা”!

৭১এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল জাতির স্বাধীনতা সমতা মানবিক মর্যাদার যুদ্ধ, ওটি কখনোই ধর্মযুদ্ধ ছিল না। ইসলাম শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানে বিশ^াসী সবদিন। স্বাভাবিক মানবিক কারণেই বাংলাদেশের ৯৫% গরিষ্ঠ সংখ্যক মুসলিম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রধান শক্তি। ধর্মনিরপেক্ষতা সেদিন কথায় কাজে দলিলে কোথাও ছিল না। সেটি খুব কৌশলে ইন্দিরা সরকার স্বাধীন বাংলাদেশে জুড়ে দেন ঠিক যেন অস্ত্র লুটপাটের মতই স্বাধীনতা পরবর্তী ৭২ সালে। এমনও প্রমাণিত ভারতের সংবিধানেও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ সংযোজিত হয় বাংলাদেশে সংযোজনেরও অনেক পরে। এই যদি হয় ভারতের মানসিকতা তার মানে বলতে হবে ভারত নিজেই সেদিনই প্রথম মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তির সময় থেকেই অফিসিয়ালী বাংলাদেশের সাথে পুনরায় লুটপাটের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের বিজ বপন করে। আওয়ামী লীগ জানতো জনতার মনোবৃত্তি, ধর্মনিরপেক্ষতার কথা শুনলে সব ভেস্তে যাবে। তাই ভুলেও এটি ৭০এর আগে বা পরে কখনো বলে নাই। ঐ নীতির ম্যান্ডেট নেয়ার সাহস তারা কখনোই দেখায় নাই। সেদিন থেকেই কপট নীতির দেশবিরোধী কিছু কাজকর্মে মানুষ বিতশ্রদ্ধ। যুদ্ধ পরবর্তী ২৫ বছরের শান্তি চুক্তি ছিল গোলামী চুক্তির নামান্তর। স্বাধীনতার শুরু থেকেই দাসত্ব চুক্তির আড়ালে কিভাবে লুটপাটের মহামেলা তৈরী করেছে তখনকার ক্ষমতায় থাকা দল। যার অনেক দাগ রেখা স্পষ্ট করে মেজর জলিল তার অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা গ্রন্থ রচনা করেন ১৯৮৮ সালে। আজ ২০১৯ সাল অবদি সেই একই ঘরোয়া লুটপাটের মহা মঞ্চনাটক ময়দানে বহমান চলমান আছে। এদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্মনীতি, সংস্কৃতি নিয়ে পাশর্^বর্তী দেশের অতিরিক্ত নাকগলানোর কায়দা লক্ষ্যনীয়। নির্বাচনসহ শেয়ার বাজার লুটপাট, ব্যাংক লুট, ক্যাসিনো বানিজ্যসহ হত্যা গুম খুনে তাদের সম্ভাব্যতা স্বাধীনতা পরবর্তী বর্তমান সময়ে ভয়ংকর খেলা সচেতনদের নজর কেড়েছে। খোদ ধর্মনিরপেক্ষ ভারত হচ্ছে মুসলিম নিধনের উত্তম ভাগাড়। মোদির ভারত সবার জন্য উদার হলেও মুসলিমদের জন্য কবর। এটিও লুকানো নয়, বরং স্পষ্ট। মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় নির্দেশ অনুমোদিত মাংস খেলেই এদের মারা যায়, একদম তক্তা পিটা মরণ। ভারতীয় মুসলিমদের একটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য তারা কখনোই মনে করে না পাকিস্তান বা বাংলাদেশ তাদের দেশ। জনম জনম থেকে তারা মনে করে ভারতই তাদের দেশ। যেখানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ হিন্দুরা রেখে ঢেকে আমতা আমতা করেও মানে ভারতই তাদের হিন্দুদেশ। প্রকৃত ইতিহাসে ভারতীয় মুসলিমরা অকাতরে দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, বাকী ভারতীয়রা অনেকটাই ব্যর্থ, এমনকি সংকীর্ণতায় ঢাকা মুসলিমদের কৃতকর্মকে স্বীকার করতেও কপটতা দেখিয়েছে।

ইতিহাস তথ্যে প্রমাণ, অনেকে বলেন বন্ধু ভারত তবে সংখ্যালঘু নির্যাতনের মিথ্যা কল্পকাহিনী ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক দেশ হিসাবে চিহ্নিতকরণে ভারতের ভূমিকা অনেক ব্যাপক ও কপটতায় ভরা। এটি ভারতের “র” এর অনেক বড় পরিকল্পিত লক্ষ্য, সাজানো পরিকল্পনার অংশ। এর সুবাদে বাবরী মসজিদ ইস্যুকে চাঙ্গা করার সাথে সাথে বাংলাদেশের হিন্দুরাও এ মিথ্যাচারে জড়িত থেকেছে। বাংলাদেশের ছয়টি জেলা নিয়ে বঙ্গভূমি আন্দোলনের নামে একটি হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ পায় (১৯৯২ সালের জুনে দৈনিক মিল্লাত এসবের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে)। এসব অপতৎপরতাতে ধরা পড়ে স্বাধীনতার পর থেকেই লোক দেখানো ত্রাণ তৎপরতার নামে ভারত বাংলাদেশে বঙ্গভূমি আন্দোলন শুরু করে। জানা যায় ঐ বঙ্গভূমি আন্দোলনের নেতা কালিদাস কর্মকার ভারত থেকে তিনটি ইট নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের তিন জায়গায়  তিনটি রাম মন্দির নির্মান করার জন্য। এর একটি হবে পাইকগাছায়। সরকারের হিন্দু সদস্যরা এর পিছনে ইন্ধনে ছিল আছে, হয়তো সামনেও থাকবে। বঙ্গভূমি আন্দোলনের সাথে ভারতের বিজেপি, বিশ^ হিন্দু পরিষদ, শিবসেনা, বজরঙ্গ দল এরা এক সূতায় গাঁথা। বাংলাদেশ বিরোধী কর্মে আরো জড়িত আছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি, প্রণব মঠ ও সেবাশ্রম, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, বাংলাদেশ সন্তু মহামন্ডল, বাংলাদেশে হিন্দু ফাউন্ডেশন, বিশ^ ধর্ম ও শান্তি সম্মেলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ চৈতন্য সাংস্কৃতিক সংঘ, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ, ইত্যাদি। এরা আবার নিয়মিত পত্রিকা বের করে। উল্লেখ্য, তাদের পত্রিকা অবিভক্ত ভারত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে।

সমাজ দর্পন এরকম এক পত্রিকার উদাহরণ। এর মাল মসালা বাংলাদেশে সহজলভ্য নয়, তাই কলকাতা থেকে ছাপিয়ে আনা হয়। এসবের সমন্বয় সাধন করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। বাইর থেকে মনে হবে “ইসকন” নিছক সাধু সাধু, আসলে এরা বাংলাদেশের পানি যা ভারতে জল, ঘোলা করে শিকার করছে। ইন্দিরা গান্ধী নিজেই এদের সহযোগিতা দিতে ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশকে পরাধীনতার শিকল পরার ছলাকলার নামে এসব করা হচ্ছে। সমাজ দর্পণের সম্পাদক হচ্ছেন শ্রী শিবশংকর চক্রবর্তী। কে এম দাস লেনস্থ ভোলাগিরি আশ্রম থেকে এটি প্রকাশিত হয়। এসব পুস্তিকা ও প্রচারপত্র বঙ্গভূমি আন্দোলনসহ অবিভক্ত ভারত প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে লালন করে। ইন্দিরা গান্ধী নিজেই এই সংস্থার পিছনে কাঠখড় পুড়িয়ে গেছেন, এ তথ্য বিলি করেন সংস্থার প্রধান বিজয়ানন্দজী বনগাঁর বঙ্গভূমিওয়ালাদের এক সম্মেলনে সব স্পষ্ট করেন। এর জন্য আওয়ামী সরকারকে বেছে নিয়ে বিধ্বংসী হিসাবে নির্দেশ চলেছে। স্বাধীনতার পর থেকেই এরা তৎপর। ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে ভারতীয় কর্মকর্তারা সরে পড়ে। এরা দলে দলে মঠ সেবাশ্রমের আড়ালে নিজেদের কাজ চালাচ্ছে “ইসকন” নামে। এদের সদর দফতর নদীয়া জেলার পাশে মায়াপুরে। এ সংগঠনের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে উস্কানীমূলক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা, উদ্দেশ্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করা। ৮৮ সালের মার্চে নেপালে অনুষ্ঠিত বিশ^ হিন্দু পরিষদের মহাসম্মেলনে ১৯০ জন বাংলাদেশী অংশ নিয়েছিল। এ ছাড়াও বিশে^র অন্য দেশ থেকেও প্রতিনিধিরা আসেন। ভারত থেকে বিশ^ হিন্দু পরিষদ ও বিজেপি ও বিশ^ হিন্দু পরিষদের কাজ বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের নামে মিথ্যাচারকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে। একইভাবে ভারতের প্রতিটি উগ্র হিন্দু পরিষদ বাংলাদেশে ও ভারতে এ কল্পিত হিন্দু নির্যাতনের প্রচার চালায়। নামে থাকছে (সাধু সাধু ভাব, ইন্টারনেশন্যাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ), এর প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন উদ্দেশ্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি। এই শিব শংকর বিশাল ব্যক্তি। তাদের কর্মকান্ড বিজেপির কর্মকান্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। বিশ^ হিন্দু পরিষদের এ সম্মেলন ৮৮ সালে মরিসাসে ও ৮৯ সালে ভারতের এলাহাবাদ, গোরখপুরে অনুষ্ঠিত হয় সব সম্মেলনেই শিবশংকরের তৎপরতা লক্ষ্যনীয়।

উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য করা নেপালের হিন্দু সম্মেলনের টার্গেটও কিন্তু বাংলাদেশ। লক্ষ্যনীয়, ঐ ‘ইসকন’ সম্মেলনের ১৫ নম্বর সিদ্ধান্তে বলা হয় রামের জন্মস্থান অযোধ্যা হিন্দুদের জন্মগত অধিকার, তাই এটি হিন্দুদের দিয়ে দিতে হবে। উল্লেখ্য ঐ স্থানে রাম নামে আদৌ কারো জন্ম হয়েছিল কি না সেটিও  প্রশ্নবিদ্ধ(?), কোনভাবেই স্পষ্ট নয়। খৃষ্টপূর্ব ১,০০০ বছর আগে বলা হয় রামের জন্ম যদিও কিন্তু প্রত্মতাত্মিক বিশেষজ্ঞদের গবেষনা বলে ঐ সময় ওখানে কোন মানব বসতিই ছিল না। মাত্র কয় শতক আগে তুলসী দাস রামচরিত লিখে গেছেন কিন্তু সেখানে একটি লাইনও খুঁজে পাওয়া যায় না যে বাবর মন্দির তোড়ে মসজিদ বানিয়েছেন। ভারত ও তাদের প্রাদেশিক সরকার তুলসী দাসের ৫০০শ তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে ১৯৯৭ সালে (উইকি সূত্র)। রাম নন, বরং বলা যায় বাবর আর তুলসী দাস সমসাময়িক, জন্ম কাহিনী লিখলেন আর মন্দির ভাঙ্গা এড়িয়ে গেলেন কি যুক্তিতে? বিবেকবান মানুষের জন্য একবিংশ শতকে যুক্তি বিহীন সব ধর্ম নামের অধর্ম অবস্থান বেমানান। যুক্তির মানদন্ডে তাকে টিকতে হবে, নয়তো তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে যাবে। যুগে যুগে সত্য ধর্মেও মিথ্যারা আসন গেড়ে বসে। মানুষের বিবেকের মসনদে অসত্যকে ময়দান থেকে বিদায় নিতেই হবে। স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতের সরকারী ইতিহাস সবসাজানো মিথ্যা ইতিহাস। সেখানে ভারতের ইতিহাসে শেখানো হয়েছে সিরাজ মাতাল, দুষ্ট লোভী ও নষ্ট ছিলেন। এসব ছিল নষ্ট কথা (ডাঃ সুরেন্দ্র নাথ সেন)। যদিও বেশির ভাগ হিন্দুরাই সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তির প্রমাণ পাওয়া যায় তবে এদের মাঝে ব্যতিক্রম ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ, অরবিন্দ ঠাকুর এরা সাম্প্রদায়িক ছিলেন না। “ইতিহাস রচনার প্রণালী”তে ডাঃ রমেশ চন্দ্র মজুমদার অনেক সত্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় সৌম্য সরকারের ইসকন মন্দিরে অর্ঘ্য প্রদান আতংক বাড়ায়। এর মূল কারণ ধর্মের নামে ইসকন জটিলতা। সিলেট, খাগড়াছড়ি, বরিশাল, বান্দরবন, চট্টগ্রাম, এভাবে সুবিধাজনক জায়গাগুলোকে ইসকন হামলে পড়েছে মুসলিমদের উপর। জীবন্ত মুসলিমরা হচ্ছে লাশের শিকার আর প্রিয়া সাহাদের মত নটরাজরা মিথ্যাচার করে নিজেদের পর্ণ কুটিরে নিজেরা আগুন দিয়ে সরকারের কাছ থেকে বেহিসাব ক্ষতিপূরণ লাভ করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে। ষড়যন্ত্রী হিন্দুরা বার বার অনাচারেও নিরাপদ থাকছে, সরকারের সীমাহীন নীরবতায় মুসলিমরা বিধ্বস্ত। একইভাবে রংপুরের ঘটনায় হিন্দুরা নিরাপদ আর মুসলিমরা কেউ প্রাণ হারিয়েছে, মামলা খেয়েছে ৫,০০০ মুসলিম, ক্ষতিপূরণ পেয়েছে শুধু হিন্দুরা (১৩ই নভেম্বর ২০১৭, দৈনিক ইনকিলাব)। এটি তারা বড় সময় থেকে করছে, এভাবে উপকৃত হয়েও সময়ে সময়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিবেক হারিয়ে মিথ্যাচার করতে পিছপা হয় না। এ হচ্ছে পরাধীনতার খোলসে স্বাধীন বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থান। অজানা কারণে মুসলিম ভুক্তভোগীদের খবর মিডিয়াতেও আসে কম। এ দেশে তাদের কথা ভাবারও যেমন কেউ নেই, বিপদে শোনারও কেউ নেই। ভারত তার সীমান্তের প্রতিবেশীদের হাতে ক্ষণে ক্ষণে বেদম প্রহার হজম করলেও আর ঐ খেদ মেটাতে একমাত্র বাংলাদেশের বর্ডারে মানুষ খুন করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে। কিন্তু ঐ মানচিত্রের মানুষগুলো এ ক্ষোভের কথা কখনোই ভুলে যাবে না, সেটি মনে রাখলে ভালো হতো। সারাক্ষণ পাকিস্তানকে মুখে মুখে শত্রু ঠাওরালেও ময়দানে হাতজোড় করে সমিহ করেই চলে, যা বাংলাদেশের জন্য কখনোই নয়। বাংলাদেশের আত্মমর্যাদাহীন অবস্থানের দায় মেরুদন্ডহারা শাসক বর্গের নিজের অর্জন।

ফিরে যাচ্ছি নেপালের সেই ইসকন সম্মেলনের সূত্রে। সেখানে ২৪ নম্বর সিদ্ধান্তে স্থির হয় এখানে এমন শক্তিশালী রেডিও স্থাপন হবে যেখান থেকে সারা বিশে^ বিভিন্ন ভাষাতে প্রচারণা চলবে। সম্মেলনের ৩৬ নাম্বারে বলা হয় গরু হত্যা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং গোহত্যা সমান মানুষ হত্যা রুপে চিহ্নিত করতে হবে। প্রকারান্তরে তারা বলতে চাচ্ছে মুসলিমরা গোহত্যাকারী, যুক্তিতে এর সোজাসাপটা অর্থ হচ্ছে এরা মানুষ হত্যাকারী। যদিও ভারত গরুর মাংস রপ্তানীতে শীর্ষে থেকেও মুসলিম নিধনে আগুয়ান! বাংলাদেশে প্রতিবছর হাজার হাজার মা বাবা গরুদের কি কারণে তারা কুরবানীর নামে বর্ডার পার করে দেয়। তখন তাদের ধর্ম কোন মাত্রায় থাকে? তাদের ধর্মযুক্তিতে গরু = মানুষ। কিন্তু মুসলিমদের ধর্মযুক্তিতে গরু = পশু, খাদ্য, বলা চলে প্রাণিজ ব্যঞ্জন। ভগবান, মা, দেবতা কিছুই নয়। ৭১ সালে ভারতে জেনারেল উবানের নেতৃতে মুজিব বাহিনী গঠনের উদ্দেশ্য ছিল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করা, স্বাধীনতা পরবর্তী এই মুজিব বাহিনী অনেক অপকর্মের হোতা। ১৯৮১ সালের ৩১ শে মে “র” এর পরিকল্পনা মাফিক চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে ঢাকার ইংরেজী ‘দি নিউ ন্যাশন’ পত্রিকায় বলা হয় “ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অনুমোদনক্রমে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে এবং নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে” (The New Nation 29 September, 1988, RAW planned to kill Ziaur Rahman.. স্মরন করার বিষয় ৮১ তে জিয়া হত্যার খবর, ২০০৯এ বিডিআর হত্যার খবরও ভারতই প্রথম প্রচার করে। এরকম অনেক ঘটনায় হত্যার আগের দিনই সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ, হত্যার খবর সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে আকাশবানী থেকে প্রচার করা হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নয়াদিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে জানতে চান যে, শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না? ভারতীয় আচরণ যেন চোরের মনে পুলিশ পুলিশ। জিয়ার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও স্বকীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে কৌশলগত নীতিমালার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়। জিয়া হত্যার দায়ে দুই পলাতক সেনা অফিসার দীর্ঘকাল ভারতে আশ্রয় পায়, এমন কি এখনো একজন কলকাতা নগরীতে ব্যবসা বানিজ্য করছেন (শাসছুর রহমান, বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক, সাপ্তাহিক বিচিত্রা, ২২ বর্ষ ৯ সংখ্যা)। জিয়াউর রহমানের হত্যার পর এরশাদ নাটের গুরু আসার পর থেকেই আবারো বিভিন্নরুপ এজেন্ডা চালু হয়। জিয়ার হাতে করা বাংলাদেশের অসামান্য অবদানকে ভারত ভালো চোখে দেখে নাই। যার ফলশ্রুতিতে আজ অবদি বাংলাদেশ ধুকে ধুকে মরছে (লেখকের এ নিবন্ধটি দৈনিক দিনকাল, ৩০ শে মে’৯৭ উপলক্ষ্যে বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত)। তথাকথিত বঙ্গভূমির ব্লু প্রিন্ট হচ্ছে একটি স্বাধীন হিন্দু রাষ্ট্র তৈরীর প্রথম চক্রান্ত। ভারতের তালপট্টি দখল, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, ও এরশাদের ক্ষমতায়ন একসূত্রে গাথা (আবু রুশদএর বাংলাদেশে ‘র’ গ্রন্থ, ১৬৫-১৭৯ পৃষ্ঠা )। ঐ বইটি গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা বাংলাদেশে ‘র’ আগ্রাসী মনোবৃত্তির স্বরুপ সন্ধানে সকল ভারতীয় ষড়যন্ত্র ওপেন করে দেখিয়েছে। প্রতিটি বাংলাদেশীর নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে ২৮৮ পৃষ্ঠার পুরো বইটি আগাগোড়া পড়া দরকার।

ইসলাম কারো ধর্মে অন্যায় হস্তক্ষেপের অধিকার স্বীকার করে না। কিন্তু ভারত শিকড় থেকে বড় সময় আজ অবদি সেটি রাখছে। শুদ্রকে স্পর্শ করলে কাপড়শুদ্ধ ধৌত ও উপবাস করতে হতো। চন্ডাল ছিল অম্পৃশ্য। ব্রাহ্মণদের সাথে কথা বললে ছায়া মাড়ালে প্রায়শ্চিত্য করতে হতো। যার সহজ হিসাবে বৌদ্ধ জৈনসহ ব্রাহ্মণ ছাড়া সবাই অচ্ছুৎ। নারীর কোন স্বাধীনতা থাকতে নেই। আজকে ভারতীয় নারীরা সম্পত্তির ভাগও পাচ্ছে, এর পিছনেও মুসলিমদের থেকে শেখা বুলিতে আজ সমৃদ্ধ। স্বামীর মৃত্যুর পর চিতায় গমন নারীর ঠিকানা। মুসলিম সংস্কৃতির সবকটি অর্জনে তারা ধন্য হলেও গো মাংস ভক্ষণ মুসলিমরা করে বলেই তাদের বিদ্বেষ চরমে।  অতীতে এত ছিল না, বর্তমানে বেড়েই চলেছে। রামেশচন্দ্র মজুমদারের বাংলাদেশের ইতিহাসের ১৮৯ পৃষ্ঠাতে বর্ণিত হয়েছে তাদের ধর্মের এমন সব নির্দেশনা এসেছে পুরানে, যুক্তি হিসাবে শ্লীলতা বজায় রেখে তা উল্লেখ করা যায় না। শ্রী মজুমদার আরো লেখেন, সে যুগের পন্ডিতগণ প্রামাণ্য গ্রন্থে প্রকাশ করেন, শুদ্রাকে ব্যবহার করা অসঙ্গত কিন্তু তার সাথে অবৈধ সহবাস করা ঐরকম নিন্দনীয় নয় (পৃ: ১৯৩)। তারা যাই বলতো তাই ছিল ঈশ^রবাক্য। সমুদ্র যাত্রাও ছিল প্রায়শ্চিত্যযোগ্য পাপ। ইতিহাস গবেষকরা এসব চেপে রাখা ইতিহাস সাম্প্রতিক উগলে বের করেছেন। তারপরও বেশীর ভাগ সাধকেরা এসব চেপে রেখে প্রশ্রয় দিয়ে গেছেন বলেই ভারতীয় জটিলতা শেষ হতে চায় না, একবিংশ অবদি চলমান। বাংলাদেশের কৃষকের ছেলেরা লেখাপড়া শিখবে সেটি সইতে পারেন নাই খোদ রবীন্দ্রনাথও। ধর্ম তাকে উদারতা শিখায় নাই, যেখানে নজরুল তাকে এ ক্ষেত্রে ছাড়িয়ে গেছেন যোজন যোজন দূর। তিনি চেয়েছেন হিন্দু মুসলিমদের পরস্পরের গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করতে। আর ঢাকাতে বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনে মক্কা ইউনিভার্সিটি / ফাক্কা ইউনিভার্সিটি বলে টিটকারী করা / কৃষকের ছেলেদের এসব দরকার নেই / জমিদার রবীবাবু উপসত্ব উঠাতে ব্যস্ত থাকলেও এদের জন্য কিছু করার কোন প্রয়োজনও বোধ করেন নাই বরং ম্লেচ্ছ যবন বলে বার বার গালি পেড়েছেন। এসব সংকীর্ণ সাধুদের অপরাধেই ভারত আজ অবদি মানবতার বিপক্ষ অবস্থানে আছে। ১৯২১ সালের ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্থাপনের এসব কষ্টকথা অসংখ্য লেখনীতে জীবন্ত হয়ে আছে। কিভাবে তারা সংঘবদ্ধভাবে মুসলিম বিরোধী ভূমিকা রেখেছে তা অকল্পনীয়, প্রায় দুইশত গণ্যমান্য হিন্দু ঢাকার প্রখ্যাত উকিল বাবু আনন্দ চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে যারা রাজনীতি করতেন না, কিন্তু মুসলিমদের বিরোধীতা করতে তারাও এগিয়ে আসেন। রাসবিহারী ঘোষ, আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও গুরুদাস বন্দোপাধ্যায়, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সবাই এক খোরে মাথা মোড়ানোর দল, সাথে কবি রবীন্দ্রনাথও থাকেন নেতৃত্বে।  এভাবে বাবু গিরীশচন্দ্র ব্যানার্জী, ডঃ স্যার রাসবিহারী ঘোষ এবং কলকাতা বিশ^দ্যিালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার আশুতোষ মুখার্জীর নেতৃত্বে এসব এলিটরা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ১৮ বার স্মারক লিপি দ্বারা বৃটিশ ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ এর উপর চাপ সৃষ্টি করেন (Calcutta University Commission report. Vol. IV পৃষ্ঠা ১১৩ পৃষ্ঠা ১১২, ১৫১ তে আরো বর্ণিত আছে)। ১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে ঢাকঢোল পিটিয়ে যে সভা হয় সেখানে সভাপতিত্ব করেন কবি রবীন্দ্রনাথ (অসংখ্য সূত্রে প্রমাণিত/ অধ্যাপক আব্দুন নূর (চ. বি) দৈনিক সংগ্রাম দ্রষ্টব্য ২৬ এপ্রিল ১৯৯৩ ইং)। এসব কারণে এটি প্রতিষ্ঠায় অনেক অর্থকষ্ট ও সংকট অতিক্রম করতে হয়। এর ব্যপ্তি ও শর্ত ছিল ক্ষমতা ও অধিকার হবে ঢাকা শহরের দশ মাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ (‘জীবনের স্মৃতিদ্বীপে’ ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার)। টিটকারীতে শুধু ঢাকা মক্কা হয়নি, বুড়িগঙ্গা নদী হয়েছে বৃদ্ধগঙ্গা নদী, যারা এখানে আসবে তারা হবে সবাই অসুর, দেও দানব। ঐ উক্তিটি ছিল ভান্ডারকরের, সেটিও ডক্টর রমেশচন্দ্র তার জীবনের স্মৃতিদ্বীপে উল্লেখ করেন। ঘটনাটি ঘটবে “কলিযুগে বৃদ্ধগঙ্গা নদীতীরে (হরতগ) নামে এক অসুর জন্ম গ্রহণ করবে। —- যারা অর্থলোভে পূর্ববর্তী আশ্রম ছেড়ে এই অসুরের আকর্ষণে বৃদ্ধগঙ্গার তীরে যাবে তারা ক্রমে অসুরত্ব প্রাপ্ত হবে ও অনেক দুর্দশাগ্রস্ত হবে। এটি প্রমাণিত পরবর্তীতে সেই অসুরেরা সদলে ঐখানে চাকুরী নিয়ে দেও দানবের স্বরুপ নেন। সংখ্যা বৃদ্ধি করেন। মুসলিমদের প্রতি তাদের ঘৃণা ও বৈরিতা যে কত গভীর ও তীব্র ছিল এসব তার প্রমাণ মাত্র। এই দেও দানবের সংখ্যা এতই বৃদ্ধি পায় যে, ভোটের সময় তারা অনায়াসে জিততে পারতো। সেটিও জীবনের স্মৃতিদ্বীপে লেখক উল্লেখ করেছেন। আবুল আসাদের লেখা ‘একশ বছরের রাজনীতি’ থেকে পাওয়া কথাগুলি বৃটিশ ভারত অধিকৃত প্রতিটি মানুষের জানার দরকার আছে। এসব চেপে রাখা ইতিহাস চাপাই আছে এর প্রধান কারণ হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক মুসলিমদের সীমাহীন হজমশক্তি। হিন্দুরা হলে এ নিয়ে সেই কবে লঙ্কাকান্ড বাধাতে যেত। সত্য মিথ্যা পাঠকের বিবেচনাতেই জমা রইলো। এসব চেপে রাখা ইতিহসের লজ্জাস্কর ভাসুরদের নাম কেউ সজ্ঞানে নেন না। কিন্তু ইতিহাস জানতে হলে সত্যকে বুঝতে হলে এর কোন পাঠই অবহেলার নয়। এ ইতিহাস জনতা নাড়ে না বলেই মিথ্যা ইতিহাসে রচিত কুরুক্ষেত্র সমান লঙ্কাযুদ্ধ বাবরি মসজিদ নিধনসহ একের পর এক ধ্বংস যুদ্ধ চলমান আছে। ইসকন একই ধারাবাহিকতা, যেটি আরো ভয়ংকর ও জটিল। ধর্মের নামে অসংখ্য অনাচারের নতুন আমদানী।

ইতিহাস কখনোই অবহেলার জিনিস নয়, সময় কথা বলে। থরে বিথরে মূল্যবান অতীতের জমা চাপা দিয়ে রাখা যা অতি উত্তাপে আগ্নেয় বিস্ফোরণে বিচ্ছুরিত হয়। আজ বাংলাদেশের সন্তান আবরাররা নিজ দেশের পক্ষে কথা বলতে পারে না, নির্দেশ আসে এদের মেরে ফেলতে। আবরার হত্যার পর বিশ^বিদ্যালয়ের ভিপি নূরদের উপর সদলবলে হামলা হয়। প্রশ্ন করা হয় তুমি কে? এর জবাব ছিল আমি কে, কিছুক্ষণ পরই বুঝবি। এটি ছিল ভিপি নূরকে ইসকন সদস্য সনজিৎ এর জবাব। অনেকেই বলছে সনজিৎ ইসকন সদস্য, আবরার হত্যায় জড়িত অমিত শাহও তাই। এসব কেমন ধারার একবিংশের ধর্মভাষা? ভাগ্যের ফেরে নুরুরা বেঁচে আছে। নতুন বছরে ২২ জানুয়ারীতে ৪ ছাত্রকে আবরারের মতই রাতে নির্যাতন করা হয়েছে হাতুড়ী রড লাঠি ও স্ট্যাম্প দিয়ে, এতে তারা মার খেতে খেতে অচেতন হয়ে থানায় সোপর্দ হয়। কারণ তারা জানে এতসব অপরাধের পরও অপরাধীরা নিরাপদ থাকবে। কে করবে এ রাষ্ট্রের বিচার, শিকড় থেকে শাখা প্রশাখা সর্বত্রই অন্যায় অবিচারে ঠাসা। মিথ্যার ময়দানে মেরুদন্ড ভাঙ্গা ভারতের পুতুল সরকার ক্ষমতায়। সব অংকই ২+২=৪ এর মতই স্পষ্ট। এখানে কোন গোজামিল নেই। জাতির প্রতিটি সদস্য আজ শত্রু ও বন্ধু চিনতে পারে। দখলদার সরকার সময় সময় নষ্ট সাধুদের মত উপদেশ বাণী ছুড়ে সাধুতার কসরতে বয়ান ছাড়ে। হতবুদ্ধ জনতারা হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারে না।

স্মরণ করার বিষয়, জিয়ার বদৌলতে ভারত ফেরত হাসিনার দেশে পদার্পনের মাত্র ১৩ দিনের মাথায় জিয়া হত্যার ঘটনা ঘটে। এরপর পরই শেখ হাসিনা সিলেট থেকে ফেরত আসার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে বোরখা পরে ভারতে পাড়ি দেয়ার সময় সীমান্তরক্ষীরা বাধ সাধে” (শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার ১২ বছর, দৈনিক দিনকাল ২০/৫০৯৩ সংখ্যা)। বিগত শতকে “র” এর ছত্রচ্ছায়ায় তসলিমা ইস্যুকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তোলা হয়েছে, হিন্দু নির্যাতনের মিথ্যাচারে বাংলাদেশকে আসামী করার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত হয়। ঐ পাশাপাশি সময়ে শেখ হাসিনাও নিজে কলকাতা গিয়ে সংখ্যালঘু নির্যাতনের মিথ্যাচারে বাড়তি যোগ করেন (দৈনিক যুগান্তর, কলকাতা ০৪-০৬-৮৭সংখ্যা)। চাকমাদের বিষয়েও একইভাবে শেখ হাসিনা মিথ্যাচার করেন (দৈনিক আদালত, কলকাতা ০৪-০৭-৮৭ সংখ্যা)। এসব মিথ্যা অভিযোগ ভারত সব সময়ই করতো, এসব রসদ পেয়ে দেশবিরোধী উস্কানীতে ভারত আরো বেশী তাল পায়। সিকিমের লেন্দুপ দর্জি বেওকুফের মত নিজ দেশ সিকিমকে দেউলিয়ার শেষ ধাপে ধ্বংস করে নিজেও ধ্বংস হয়। ভারতের প্রতিবেশীদের বেলায় একই ধারার ইতিহাস বার বার রচিত হচ্ছে। যার সহজ পরিণতিতে গোটা জাতির উপর মিথ্যাচারের তকমা সাটা হয়। মিথ্যাচারে মুজিবের কন্যার জুড়ি মেলা ভার, একটি জাতির জন্য এর চেয়ে বেশী লজ্জার আর কি হতে পারে? ভোটের আগে মধ্যরাতের ভোট তার উজ্জ¦ল উদাহরণ। এ অসাম্প্রদায়িক দেশকে সাম্প্রদায়িক বানানোর প্রাণান্তকর প্রচেষ্ঠায় সবদিন ভারত নিবেদিত। ইসলামের আদর্শকে সত্যকে যুক্তিকে মিথ্যারা ভয় পায়। ইসলামের ইতিহাসের গৌরবগাথায় বিমুগ্ধ জওহরলাল নেহরু এটি স্বীকার করে গেছেন তার লিখিত গ্রন্থ “Glimpses of World History (Delhi: Oxford University Press, 1989, Centennial Edition, pp. 141-145) যে কিভাবে এ ধর্মটি অতি অল্প দিনের মাঝে পূর্ব রোমান সা¤্রাজ্য ও পারস্যের সাসানীয় সা¤্রাজ্য, ইহুদী ও খৃষ্টানের করায়ত্ব জেরুজালেম তাদের দখলে যায়। গোটা সিরিয়া, ইরাক পারস্য সবাই তাদের আরব সা¤্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। এসব মিথ্যাচারের জোরে নয়, ন্যায়ের সত্যের আদর্শের সৎ শক্তির কাছে ওসব অঞ্চল পদানত হয়। ইসলামের সত্য হারিয়ে আওয়ামী লীগ জাতির উপর ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি আওড়ায়। প্রধানত ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে আওয়ামী লীগই, হরকতুল মার্কা অবাঞ্ছিত কিছু ধর্মধারীদের সহযোগিতায় তারা চেতনা ব্যবসা চালায়। আবার আওয়ামী লীগ নিজেদের প্রয়োজনে জামাতের সাথে আঁতাত গড়ে তোলতেও ইতস্তত করে না। কিন্তু জামাতের সাথে অন্যরা গেলে বাকীদের বেলা তালাক তালাক নিচতার জপমালা। আবার কাজ হাসিল হলে যে কাউকেই এমন কি নিজ দলের লোককেও তারা দূরে ছুড়ে ফেলে দেয় টয়লেট পেপারের মত। যে কোন অপকর্ম করিয়ে নিতে তাদের আটকায় না। ভারতেও কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত হয় না কিন্তু এরশাদ তার আমলে বাংলাদেশে জন্মাষ্টমীর ছুটি শুরু করেন। এরশাদও ছিলেন ভারতের দেরাদুনের স্পেশাল ট্রেনিংপ্রাপ্ত। ১০০% মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশ কাশ্মীর ও তাদের মুসলিমদের উপর কি অপরিসীম নির্যাতন বহাল রেখেছে ভারত। সৎ সাংবাদিকরা দেশে টিকতে পারেন না, অনেকের মন্তব্য এর কারণও ভারতের ঠেলা। দেশপ্রেমিকরা দেশে থাকলে দেশদ্রোহিতা করা কষ্টকর। যাদের মাথায় সামান্যতম দেশপ্রেম আছে তারা জানেন জিয়া কতটা দেশপ্রেমিক ছিলেন। প্রতিটি দেশপ্রেমিক তাদের চোখে রাজাকার, দালাল পাকিস্তানের সুহৃদ। এতে একটি ম্যাসেজ স্পষ্ট হয়। অবশ্যই বাংলাদেশের সুহৃদ হতে হবে পাকিস্তানকে। বাংলাদেশ কারো সাথে শত্রুতায় বিশ^াস করে না, তাহলে পাকিস্তানের সাথে শত্রুতা থাকবে কেন?

পশ্চিম পাকিস্তান কোন দিনও পূর্ব পাকিস্তানের শত্রু ছিল না। রাজনীতির ইতিহাস ঘাটলে ইতিহাসই সেটি বলে দেয়, কাউকে মুখ ফুটে বলতে হয় না। কোন কিছুই চাপা থাকে না। বর্ণভেদে জর্জরিত ভারত ইসলামের মহান মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের মুক্তির পথ ভেবে স্বজ্ঞানে ইসলামের ছায়াতলে আসে। নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর জন্মের অতি অল্প সময়ের মাঝেই এ ধর্মের মহৎ বাণী ভারত বর্ষে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে গোটা বিশে^ আমেরিকা, অষ্ট্রিয়া, ইংল্যান্ড, জাপান সর্বত্র মানুষ এ ধর্মের বাণীতে মুগ্ধ হয়ে এর মানবিকতায় মুগ্ধ হয়ে এ সত্যে আত্মাহুতি দেয়। মুর্শিদ কুলি খাঁর জন্মও বিখ্যাত ব্রাহ্মণ বংশে। সুলাইমান করনানীর সেনাপতি কালাপাহাড় সম্ভ্রান্ত কায়স্থ বংশীয় হিন্দু ছিলেন। বাংলার বার ভূইয়াদের অগ্রণী ঈসা খাঁর বাবার নাম কালীদাস, ব্রাহ্মণ থেকে ধর্মান্তরিত মুসলিম। ভারতীয় ঐতিহাসিকরা তাদের স্বরচিত ইতিহাসে মিথ্যাচার করে এটি প্রচার করে যে মুসলিমরা তলোয়ারের জোরে ভারতবর্ষ শাসন করেছে। এভাবে মিথ্যায় ভর করে তারা তাদের প্রকৃত বর্ণবাদী স্বরুপ প্রকাশ করে। ঐতিহাসিক শ্রী দাসগুপ্ত স্বীকার করেছেন, স্থানীয় অধিবাসীদের আরব বণিকদের সদ্ভাব বিদ্যমান থাকার কারণেই তাদের কর্মচারীরা এদের সংস্পর্শে এসে ঐ নতুন শাস্ত্র সম্বন্ধে জ্ঞাত হয় ও পরম উৎসাহে ঐ ধর্মে আত্মসমর্পণ করে। জনাব জৈনুদ্দিন লেখেন, ‘তুহফাতুল মুজাহিদিন’ গ্রন্থে হিন্দুরা মুসলিম হলে অন্যেরা তাকে আরো ঘৃণা করতো। কিন্তু একটি বিষয় মুসলিম হলে তারা সবার সাথে সমান মর্যাদা পেতো। এটা ছিল হিন্দুদের ইসলাম গ্রহণের প্রধান কারণ। (সূত্র: দাশগুপ্তের ভারতবর্ষ ও ইসলাম, পৃ: ১২৭-১২৮)। এসব কথা ডাঃ তারাচাঁদ বাবুও স্বীকার করেছেন। শ্রী দাশগুপ্ত আরো লিখেছেন, “বজ্র আটুনী ফসকা গেরো, হিন্দুরা যতই কঠোর হতে থাকে, মুসলিমরা ছিল ততোধিক বহুভাবে উদার” (ঐ পুস্তকের ৫৪ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)। ব্রাহ্মণরা বৌদ্ধদের প্রতি চরম অবিচার করতো, তারা তাদের মাথা ন্যাড়া করতো তাই তাদের ডাকা হতো নেড়ে বলে। ব্রাহ্মণদের অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে গেলে তারা দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করে। পরে ঐ নেড়ে অপনামটি মুসলিমদের উপরও ম্লেচ্ছ যবনের সাথে নেড়ে ধেড়ে বহু উপনাম হিন্দুরা সেটে দেয়। ভারতবর্ষে আরেক দল ছিলেন জৈন। এরাও ঠিক ঐভাবে দলে দলে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হয়েছে আবার অনেকে মৃত্যুবরণও করেছে। শ্রী দাশগুপ্ত বলেন, একবার একদিনে আট হাজার জৈনকে শূলে হত্যা করা হয়। কথাটি তামিল পূরানে উল্লেখিত আছে।

যে সরকার দেশের স্বার্থ দেখে না, সে কিভাবে সামাল দিবে প্রিয়া সাহার নাটক, জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে মামলা নাটক, হলি আর্টিজেনের মত মঞ্চনাটক, সব কিছুর সাথেই তাল দিতে হয়েছে মেরুদন্ডহারা সরকারকে। মোদিজির পুশইন নাটক সবই একসূত্রে গাঁথা মঞ্চনাটকের অংশ মাত্র। সব কিছুর উপর একজন পরম বিধাতা নিরব দ্রষ্টা ছিলেন আছেন থাকবেন, তাকে ভুললে চলবে কেন? বিপদ হচ্ছে তাকে খোলা চোখে দেখা যায় না, অন্তদৃষ্টি দিয়ে দেখতে হয়।  ভয়ে ও আতংকে সময় সময় আমছালা নিয়ে ইত্যবসরে অনেক চোর বাটপার মন্ত্রী মিনিষ্টারও বাংলাদেশ থেকে সপরিবারে পালাচ্ছে লুটাকম্বল নিয়ে। মুসলিম হয়েও যারা তাকে চেনে না, তাদের পরিচয়ও ময়দানের মানুষের কাছে স্পষ্ট করা হয়েছে। তাদের মুসলিম না বলে মোনাফিক বলা হয়েছে। সত্য সংগ্রামীদের অফুরান পাওনা জমছে, ষড়যন্ত্রীদের জন্য কাঁচকলা। ভগবানের ভগবতী আছে আল্লাহর কোন স্ত্রীলিংগ নেই। আল্লাহ নামের সেই বিধাতার কাছে সব আমের আর ছালার খবর তার হাড়িতে ছিল আছে থাকবে। সত্যসাধকদের ঐ একটি জায়গাতে একমাত্র ভরসা! বিবেকধারী মানুষ নামধারী অপকর্মী কেউ ছাড়া পাবে না, পাবার কথা নয় ঐ সত্য আদালতের ময়দানে, তবে শুধু পশু হতে পারলেই রক্ষা! গরুরা নিরাপদ, গরু মা-ই হোক আর পশুই হোক, তবে গো রক্ষকরা, গোসেবকরা নিরাপদ নন, নিজেদের জন্য নিজেরাই আপদ!

রচনাকাল: করোনার সংকট সময়ের শুরুতেই ২০ জানুয়ারী ২০২০ সাল।

 

 

ইসলামে ফতোয়া

নাজমা মোস্তফা

“ফতোয়া” শব্দটি সাধারণ অর্থে ধর্ম বিষয়ক অবস্থান নির্ণয় করতেই ব্যবহার করা হয়। এটি মুসলমানেরা তাদের ধর্মের নিয়ম কানুন হিসাবে দরকারে এর ব্যবহার করছেন। এ হিসাবে এর গুরুত্ব অনেক বেশী এবং ধর্মের সিলেবাস বলতে প্রধাণত মূল গ্রন্থটি স্বয়ং আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে, সেটি আল কুরআন। সে হিসাবে একমাত্র আল্লাহই হবেন প্রকৃত ফতোয়ার মালিক মোক্তার। ইসলাম অর্থ শান্তি, সালাম বা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ। এই মূল নীতির উপরই ইসলাম সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। এখানের নবী ছিলেন এ ধর্মটির এক প্রামান্য প্রতিনিধি এ কারণে যে তার মাধ্যমেই এ ধর্মটি আস্তে আস্তে সুদীর্ঘ ২৩ বছরে নাজেল হয়। তিনি ছিলেন এক জীবন্ত বাস্তবতা। তাকে জনতারা প্রধান নির্দেশক বলেই মানতো। তাই সেদিনের নেতা, লিডার বা নির্দেশক বলতে তার অনুসারীরা তাকেই বুঝতো। ইসলামের এ যাত্রা একদম সেদিন থেকেই শুরু হয়নি এটি শুরু হয় সেই প্রথম নবী আদম (আঃ) থেকেই। তাই এটি কোন নতুন ধর্ম নয়, এটি অনেক পুরানো ধর্ম। ধাপে ধাপে এটি আগায় এবং সবার শেষ ভারসন হিসাবে কুরআন আমাদের হাতে এসেছে এর পূর্ণতা নিয়ে মাত্র চৌদ্দশত বছরের কিছু আগে। এ গ্রন্থেই সে পরিপূর্ণতার সে আধুনিকতার সবটুকু বাণীই বিলি করা হয়েছে।

এরকম একজন নবী চলে যাবার পর পূর্বযুগেও দেখা গেছে তার অনুসারীরা অনেক অনাচার করেছে এমন কি সম্পূর্ণভাবে ভুলে গেছে তাদের পূর্ববর্তী সত্যকে এবং সম্পূর্ণ মিথ্যার মাঝে ধর্মকে দাঁড় করিয়ে মিথ্যা রুপরেখায় ধর্মকে সাজিয়ে নিয়েছে। সত্য বাণী এর মাঝে যত তাড়াতাড়ি পারে তারা ভুলে যায়, এটিই সব যুগেরই নীতি। ওদের থেকে আমাদের এ শেষগ্রন্থের ব্যতিক্রম এইটুকু যে এটি কেউ নড়াতে সরাতে বা বদল করতে পারবেনা, যা অতীতে এ কাজটি সবাই করেছে। এরকম একটি খবরের ধারণাতে শয়তান নামের ছলবাজ বেশ বড় একটি ধাক্কা খায়। কুরআন বলে “আর আমার বান্দাদের বলো যে তারা যেন কথা বলে যা সর্বোৎকৃষ্ট। নিঃসন্দেহ শয়তান তাদের মধ্যে বিরোধের উসকানি দেয়। শয়তান মানুষের জন্য নিশ্চয় প্রকাশ্য শত্রু” (বনি ইসরাইলএর ৫৩ আয়াত) তারপরও সে কিন্তু বসে নেই, সেটি কুরআন বলে। সে ব্যাপারে আমাদের তেমন কোন সচেতনতাও নেই। নবীর যুগে নবীই ছিলেন কুরআন প্রচারে নিবেদিত আর নবী মারা যাবার পরও ঐ সময়টিতে কুরআনের বাইরে কাউকে ফতোয়া দিতে দেখা যায়নি। একদম যে কেউ দেয়নি তাও নয়, তবে বড়ই শক্ত প্রহরা ছিল সে সময় তার প্রমাণ পাওয়া যায়, পরিপূর্ণ ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কাছাকাছি সময়টিতে কেউই এসব নিয়ে মোটেও ব্যবসা করতে পারত না। তাছাড়া প্রতিষ্ঠার যুগে আরবে কোরাইশের অত্যাচারে মুসলমানরা কি পরিমাণ যাতনার সময় কাটিয়েছেন তা যারা প্রকৃতই এর ভেতর ঢুকেছেন তারা এর খবর জানেন। তাছাড়া ইসলামের মহান মানবতার বানী, উদারতার চমক খুব অল্প সময়েই ভূগোলের অনেক বিরাট অংশ দখল করে নেয়। চরম অত্যাচারী জাতি আরবের কোরাইশদের করায়ত্বে থাকা গোটা মক্কা বিজিত হয় গর্বের সাথে দর্পের সাথে কোথাও সমস্ত আরবে এক ফোটা রক্তও ঝরেনি, বলা হয় রক্তপাতহীন বিজয়। ইসলাম এরকম একটি ফতোয়াবাজ অত্যাচারী ধর্ম হলে এর বানী এত দ্রুত কোন সময়ই বিরোধীদেরে কাছে টানতো না।

নবী গত হবার পরই ইসলামের শাসনভার পড়ে খলিফাদের হাতে। এরা প্রত্যেকেই ছিলেন সত্যের সৈনিক, তাদের অতন্দ্র প্রহরায় এসব অপরাধ মানুষ যখনই করেছে; একটু বাড়াবাড়ি করলেই কঠিন শাস্তি ভোগ করেছে। যার জন্য সে সময়টিতে এসব মনগড়া ফতোয়া দিতে মানুষ কখনোই উৎসাহ বোধ করতো না। সে সময় যদি কোন বিচারক কোন অন্যায় করতেন তাকেও বেত্রাঘাত করা হত, কঠিন শাস্তি পেতে হত। এটি যেন ছিল সে যুগের এক সহজ নিয়ম। নবম হিজরীতে তামীম নামের একজন খৃষ্টান সন্ন্যাসী, যিনি প্যালেষ্টাইনের অধিবাসী ছিলেন। ইসলাম গ্রহণ করার পর খৃষ্টানদের পুরানো বানোয়াট কাহিনী, জগতের সৃষ্টিতত্ত্ব এবং নবীগণের কেচ্ছা কাহিণী এসব তার নিজের সংস্কার ও বিশ্বাসমত মুসলমানদের মাঝে বর্ণনা করেন। এজন্য হযরত ওমর তাকে দোররা মারার হুকুম দিয়েছিলেন। মসজিদে প্রদীপ জ্বালাবার প্রথাও এই তামীম প্রথম প্রচলন করেন। হযরত ওসমানের শহীদ হবার পর তিনি সিরিয়ায় চলে যান (এসাবা ৮৩৩ নং ও একমাল প্রভৃতি)। এরকম নিরাপত্তায় এদের হাতে সংরক্ষিত একটি ধর্মের নাম ছিল ইসলাম, আল্লাহর ধর্ম। অনেক সময় কাব্য করে বলা হয় যে রাস্তা ছিল চুলের চেয়েও চিকন এবং ছুরির চেয়েও ধারালো, বাস্তবে এ এক সহজ সরল পথ। কবি গোলাম মোস্তফার সুরা ফাতিহার অনুবাদের ভাষায় “সরল সঠিক পূন্য পন্থা মোদেরে দাও গো বলি” কিন্তু ছলবাজের জন্য এটি বড়ই কঠিন, সত্য সাধকদের জন্য সহজ ধর্ম। এবার ধর্মীয় গবেষকদের চোখে পড়া গবেষনাতে পাওয়া কিছু মূল্যবান যুক্তি আনছি।

মোল্লা আলী কারী হানাফি “মউজুয়াতে কবির” পুস্তকে “ওয়াজকারীদের অবস্থা” থেকে সংগৃহীত তখনকার অবস্থা সম্বন্ধে আলোকপাত করা মাত্র কয়টি পয়েন্ট এখানে উদাহরণ হিসাবে আনছি।

(১)        হযরত আবু বকর ও ওমর কারো মুখে কোন হাদিস শুনলে বর্ণনাকারীকে সেই হাদিস সংক্রান্ত অন্য সাক্ষী উপস্থিত করতে আদেশ করতেন।

(২)       অধিকাংশ কথক ও ওয়ায়েজ তফসির ও তার রেওয়ায়েত এবং হাদিস ও তার মর্যাদার ক্রম সম্বন্ধে অজ্ঞ ছিলেন।

(৩)       এদের সম্বন্ধে একটি অসুবিধা এই যে এরা অজ্ঞ জনসাধারণের কাছে এমনভাবে কথা বলে যে, জ্ঞান বুদ্ধির দ্বারা যার মর্ম উদ্ধার করা অসম্ভব। অনেক সময় প্রামাণ্য ও সহী হলেও ঐ সব উক্তি দ্বারা নানা প্রকার বাতিল আকিদা ও ভ্রান্ত বিশ্বাস সৃষ্টি হয়ে যায়।

(৪)       ইমাম আহমদ কৃত মুসনাদে, সহী সনদে, তাবরানীতে ও অন্যান্য বহু হাদিস গ্রন্থে তামীমদারীর ঘটনা বিবৃত হয়েছে। তামীম হযরত ওমরের নিকট ওয়াজের অনুমতি চাইলে প্রথমে তিনি অনুমতি প্রদান করেননি। শেষে তার বিশেষ অনুরোধে, ওমর তাকে একবার মাত্র অনুমতি দিয়েছিলেন। সেই একবার অনুমতি দেয়ার পরই তাকে তা বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়া হয় এবং এ কৃত অপরাধের জন্য তাকে শাস্তি দেয়া হয়।

(৫)       আবু দাউদ ও নাসাই পুস্তকদ্বয়ে সহী সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, সাহাবীদের সময় খলিফা বা তার নির্বাচিত ব্যক্তিগণ ব্যতীত অন্যের পক্ষে এই প্রকার ওয়াজ করা নিষিদ্ধ ছিল।

(৬)      তাবরানীর এক রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে ইসরাইল বংশীয়রা এই প্রকার পৌরানিক গল্প গুজবে মত্ত হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।

(৭)       ইবনে মাজা ইবনে ওমর হতে বর্ণনা করেন যে, হযরতের বা আবুবকর ও ওমরের সময় এই সকল গল্পের প্রচলন ছিলনা। আখেরী জামানায় মুসলমানগণ ঐ সব গল্পে মজে যে ধ্বংস পেতে বসবে, হযরত তারও স্পষ্ট ইঙ্গিত করেছেন (তাবরানী)।

ইহুদী জাতি তালমুদের মোহে মজে তৌরাতকে ভুলে ছিল। এভাবে আজ তারা মূল তৌরাত থেকে বহু দূরে অবস্থান করছে। খৃষ্টানেরা যীশু সংক্রান্ত আজগুবী গল্পগুজবকেই আকড়ে প্রকৃত যীশুকে হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমান সময়টিতে ফতোয়া দেশে বিদেশে বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে একটি প্রচলিত আইনের মত চেপে বসেছে জনতার উপর। কথায় কথায় জনতাকে ফতোয়া দিতে দেখা যায়। এর সুফল কুফল দুটোই আছে, দু’টোই জনতাকে ভোগ করতে হয়।

ইসলাম আসে আজ থেকে ১৪০০ বছরেরও কিছু আগে। এটি এসেছিল এর আলোতে সবদিক আলোকিত করে দিতে এবং সকল অন্ধকার দূর করে দিতে। কিন্তু এটি ঠিক সেভাবে সঠিকভাবে পালন করা হয়নি। এর প্রধান কারণ মুসলমানরা এমন সব স্ববিরোধী সময় কাটিয়ে এসেছে এবং এখন মনে হয় অনেক অংকেই যেন ভুল রিডিং দিচ্ছে। মনে হচ্ছে কোথাও হয়তো কিছু ঘাপলা হয়েছে। এটি এমন বড় কিছু হয়তো না, তারপরও এটি খুঁজে দেখার কাজটি সঠিকভাবে করতে না পারলে নির্ঘাৎ আমরা গভীর তিমির অন্ধকারেই মিলিয়ে যাব। আর কাজটি সঠিকভাবে করতে পারলে উপকৃত হবারই কথা। সেই গলদ ধরতে পারলে সে শুদ্ধির কাজটিও করে নেয়া যায়। জং ধরা যন্ত্রাংশের মাঝে তেল দিতে হলে অবশ্যই আগে জেনে নিতে হবে কোন পার্টসএ সমস্যা হচ্ছে। একটি গতিশীল জিনিসের নির্ভেজাল গতির জন্য আমাদের কোন ইঞ্জিনে সমস্যা হচ্ছে সেটি আমাদের বিশেষজ্ঞদের অবশ্যই বুঝতে হবে। তারপর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যাবে, হয়তো সামান্য তেলই তাকে মসৃণ করে চলবার গতি ফিরিয়ে দিবে। ইতিহাসের সব কটি পাতা উল্টালেই দেখা যায় সব বেদনা হাসি কান্নার ধারাবিবরণী থরে বিথরে সাজানোই আছে। শুধু আশরাফুল মখলুকাতের সেই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীবটির সেই মগজটিকে খাটাতে হবে, যা আমাদের সবার সাথেই একটি করে আছে।

খলিফাদের সচেতন যুগ চলে গেলে পরেই শুরু হল আমাদের প্রকৃত যুদ্ধের যুগ। দেখা যায় হাদিস মুসলমানদের এক বিরল সংগ্রহ। কিন্তু এর সাথে সাথে জমা হতে থাকে—জাল হাদিস—আবু হানিফা তার যুগে এর একজন কড়া প্রহরী ছিলেন—-শিয়া——আলী—-সুন্নী—দলাদলি—খারেজী—ফাতেমী—-সুফী—সালাফি—সপ্তদশ ইমামে বিশ্বাসী—-দ্বাদশ ইমামে বিশ্বাসী—-আলাওয়ি—কাদিয়ানী—হাজার তরিকার দলাদলি। এখানের সবকটিই আমাদের ধর্ম ইসলামের খুব জরুর ক্ষতের চিহ্ন। এমন একটি সত্য ধর্মে এসব হতেই পারেনা। এক নবীর এক আল্লাহর, এক গ্রন্থের ধর্মে এসব বিভেদ থাকতেই পারেনা। এখানের আমরা সবাই এক মায়ের সন্তান। এ ব্যাপারে আল্লাহর বক্তব্য হচ্ছে “তাদের মত হয়ো না যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল ও মতভেদ করেছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী আসার পরেও। আর এরা এদের জন্য আছে কঠোর যন্ত্রণা” (সুরা আল ইমরানের ১০৪ আয়াত)”। এরকম আয়াত দেখার সাথে সাথে আমাদের সবারই ভয়ের উদ্রেক করার কথা। 

বিভেদের এ ত্রুটি প্রধাণত পূর্বেকার শাসক বর্গের ত্রুটি, এটি মোটেও ধর্মের বা কুরআনের নবীর বা তার সম্মানিত খলিফাদের ত্রুটি কখনোই নয়। এর শুরুটা তারাই করেছে যারা ধর্মকে ভাগ করেছিল। নিজেরা শোষকের আসনে বসেছিল এবং নিবেদিতপ্রাণ ধর্মের সঠিক অনুসারীকে সেদিন তারা কপট শাসনে হত্যা, গুম, বিষপান করিয়ে নিজের পথ পরিষ্কার করে। এসব কখনোই ইসলামের বিজয় যুগের কর্ম নয়। এসব ইসলামের কষ্টের পাতা উল্টালেই এসবের সন্ধান পাওয়া যায়। যদি মানুষ ঐ সঠিক গ্রন্থটির চৌধারে সঠিকভাবে থাকতো তবে তারা অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারত। যেমনটি তারা করেছিল অতীতে ইসলামের প্রাথমিক যুগে। তারপরও এত অনাচার যুগের ফাঁকে ফাঁকেও কিছু অসাধারণ কাজ হয়েছিল যা আজও জগতের বিস্ময় হয়ে আছে, ইউরোপের রেঁনেসা সম্ভব হয়েছিল যুক্তিবাদী বিজ্ঞানমনা মুসলিমদের জীবনধর্মী  কৃতকর্মের জন্য। ইতিহাস বলে মাঝের সময়টিতে মুসলমানরা তাদের চিন্তাকে শৃংখলিত করে ফেলে।

বর্তমানে সচেতন জনতারা গবেষনা, বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধান, সৃষ্টিশীল কাজ, উৎপাদনশীল কাজ যা মানুষের জীবনকে উন্নত করে তার চর্চা করে। এর বিনিময়ে মানুষ সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার প্রেরণা পায়। এসবের উপর দক্ষতার কারণেই মানুষ গোটা বিশ্বের যে কোন জায়গার অবস্থান যে কোন সময়ে আগে থেকেই ধারণা করতে পারে। মানুষ আজ উচ্চচাপ নিম্নোচাপ, বাতাসের গতিবেগ বরফ বৃষ্টি ভুমিকম্প, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্বন্ধে আগে থেকে ধারণা পেয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানের এ আলোর যুগে এটি বুঝা উচিত যে, এসব কেমন করে হচ্ছে। মানুষ তার সঠিক জ্ঞান বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়েছে বলেই সেই “ইকরা” অর্থাৎ “পড়” কথাটির উপযুক্ত মর্যাদা দান করার জন্যই মানুষ আজ এ পর্যন্ত আসতে পেরেছে। এত কিছুর মূল সূত্র সেই “ইকরা” এবং এর উপর চর্চা চালিয়ে যাওয়া। কুরআন সব সময়ই যুক্তির প্রচার করে, জ্ঞানের প্রচার করে, সঠিক সত্যই তার প্রধান অর্জন। ফতোয়া কিন্তু সব সময় সেটি করছে না কারণ সেটি ক্ষেত্রবিশেষে ধরা পড়ছে কুটিল মানুষের হাতের সাজানো এক মানবিক সৃষ্টি। মানুষের তৈরী “ফতোয়া” কখনোই আল্লাহর কোন বিধান নয়। আমার দোররা লেখাতে আমি দেখিয়েছি কিভাবে একে আল্লাহর বাণীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় অকুরআনীয় জিনিস দেদারসে প্রচার করা হচ্ছে ফতোয়ার মাধ্যমে এতে এটি প্রমাণিত হয় যে এসব দ্বারা শুধু যে ধর্মের বাণী ছড়ানো হচ্ছে সেটি যেমন সঠিক নয়, আবার এসব দ্বারা সঠিক কুরআনেরই প্রতিষ্ঠা হচ্ছে সেটিও সঠিক নয়। কুরআন প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে বেশী দরকার এর উপর আমল করার। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর এর ভাষ্যে ইহুদীরা নবী মোহাম্মদের কাছে একজন ইহুদী নারী ও পুরুষকে ব্যভিচারের অপরাধী হিসাবে ধরে আনে। তিনি তাদেরে পাথর মেরে মারার হুকুম দেন। (বোখারী ২৩ নং বই হাদিস নং ৪১৩) । যদি তিনি এর বিচার করতেন কুরআনের ভাষ্য মতে তবে অবশ্যই তিনি তাদেরে দোররা মারার নির্দেশ দিতেন। কিন্তু উল্লেখ্য এরা ইহুদীরা ঐ সময়টিতে তারা নিজেরাই ছিল নবী মোহাম্মদ(সঃ) এর জন্য একটি বিষফোঁড়া। আজও অনেকে শান্তির নবীকে শুধু ঐ মদীনার ইহুদীদের কারণে মনে করেন তিনি একজন যুদ্ধবাজ ছিলেন। যদিও এসব প্রকৃত ঘটনা নবীকে কখনোই যুদ্ধবাজ প্রমাণ করেনা। কিছু সংখ্যক ইউরোপীয় পন্ডিতেরা সেটিই দেখাতে চেয়েছেন, যার জের ধরে আজো মুসলমান গোটা বিশ্বে সন্ত্রাসী টেররিস্ট বা যুদ্ধবাজ। তাদের শাস্ত্র মতেই রাষ্ট্রের প্রধান হিসাবে তাদের বিচার করতে তিনি ন্যায়ত বাধ্য ছিলেন। তিনি সবদিন তার প্রতিটি কর্মেই সৎ থাকতে চেয়েছেন এবং থেকেছেনও। তিনি কোন সময়ই অন্যধর্মের উপর অযথা সংহারকারী ছিলেন না। তাদের ধর্মগ্রন্থকে তিনি অপমান করতে পারেন না। তাই তাদের বিচার তাদের ধর্মগ্রন্থ হিসাবেই হয়েছে।

এমন এক যুগে দেখা যায় মুসলমানরাই জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রকৃত দিশারী ছিল। এই মধ্যযুগীয় মুসলমানদের হাতেই ভূগোল, বিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র গৌরবের সাথে তার অতীত ঐতিহ্য আজও প্রচার করে তার প্রামাণ্যতা, যুক্তিভিত্তিকতা; এ সত্য কোন শত্রুও অস্বীকার করতে পারবেনা। কোন সে ক্ষমতার বলে মুসলমান সেই মধ্যযুগে এটি করতে পারলো যখন তারা জাহেলিয়াতের কবর থেকে উঠে দাঁড়িয়েছিল মাত্র। একটু পিছন ফিরে তাকান সচেতনরা; তবে স্মরণ রাখবেন একমাত্র সেখানে সে যুগে কিন্তু কোন ফতোয়া আজকের মত প্রতিষ্ঠা পায়নি। প্রতিকূল পরিবেশেও সে যুগে মানুষ হাতের কাছে পাওয়া ঐশীগ্রন্থের বানী অনুসরণ করে অনুসন্ধিৎসুরা এ বিজয় ছিনিয়ে এনেছে ঠিকই, মানুষ স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পেরেছে, আল্লাহর পথে জীবনকে উৎসর্গ করেছে, স্বাধীনভাবে অর্জন জমা করেছে। ইসলামের ইতিহাসে এ তথ্যটিও পাওয়া যায় যে, সে সময় যারা ফতোয়াবাজ ছিল খলিফাদের হাতে তাদেরে কিভাবে কঠিন বিচারের সম্মুখিন হতে হত যেটি বর্তমানের সময়টিতে তারা মোটেও এর মুখোমুখি হচ্ছে না। যার ফলে কখনো কখনো জনতার অনাচার থেকে ফতোয়াবাজদের অনাচার বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মানুষের প্রধান পাপ সত্য বিমুখীনতা। এর দায় মূলত পুরাপুরি বর্তমান যুগের মুসলমানকেও দেয়া যায় না। এপাপের গুরুভারে সেই পূর্ব যুগের কিছু সংখ্যক অনাচারী কপট শাসকবর্গের সম্মিলিত প্রয়াসের কারণে আজও আমরা পরবর্তীরা দিশেহারা। তারপরও বর্তমান সময়কার জনতাদের উপর ওটুকু দায়িত্ব অবশ্যই বর্তায় প্রকৃত সত্যকে বুঝে নেবার। তাদের বুঝা উচিত তারা কতটুকু অবিচার করে চলেছে তার সঠিক ধর্মের সিলেবাস নামের সেই মূল গ্রন্থটির উপর এবং তার নিজের বিবেকের উপর। রসুলের একটি হাদিস হচ্ছে বিবেকই তোমার শ্রেষ্ঠ অস্ত্র। সাহাবী মোয়াদকে যখন যুদ্ধের জন্য পাঠাবার চিন্তা করা হয় তখন প্রিয় নবীর একটি প্রশ্নের জবাবে সেনাপতির মুখ থেকে এরকম একটি বাণী শুনে তিনি যারপর নাই খুশী হয়েছিলেন। প্রশ্নটি ছিল তিনি কিভাবে সমস্যার সমাধান করবেন? সেনাপতি মোয়াদের জবাবটি ছিল প্রথমে তিনি খুঁজবেন আল্লাহর কুরআনের নির্দেশ সেখানে কিছু না পেলে তিনি দেখবেন রসুলের চলা থেকে কিছু জমা করতে পারেন কি না, তাও যদি না পান তখন তিনি তার বিবেককে অগ্রাধিকার দিবেন।

রেঁনেসা পূর্বযুগে খোদ ইউরোপবাসী গভীর ঘুমে অবচেতন ছিল কিন্তু ইতিহাসে প্রমাণ পাওয়া যায় একটি আলোর ধারা এরও আগে কোথাও জ্বলেছিল মানুষকে উদ্দীপিত করে দিতে কিন্তু সে সময়টিতে এ মুসলিমরাদের চেয়ে বেশী কেউ দক্ষ ছিলনা যে এর মূল্যবান বানী ধরে রাখবার ক্ষমতা রাখত। সে সময়টিতে মুসলমানরা সে শূণ্যস্থান পূরণ করে নিজেদের যোগ্য কর্মকৃতিত্বের বলে। উমাইয়া ও আব্বাসীয় শাসকেরা জ্ঞান বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা সাধনে অনেক সুশৃংখল কাজ করে যায়, যার ঋণ কখনো বর্তমান বিশ্ব অস্বীকার করতে পারবে না। এখানে ঐ সময়কার মুসলমান সম্বন্ধে ফিলিপ কে হিট্টির লেখা একটি কলাম আনছি। “আব্বাসীয় যুগের পর বিজ্ঞানের কোন বিভাগেই আর কোন উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয় নাই। আজকের মুসলমানরা কেবল তাদের নিজের বইএর উপর নির্ভর করলে তাদের সেই সুদূর একাদশ শতাব্দীর পূর্বপুরুষদের চেয়ে নীচেই তাদের স্থান হবে। চিকিৎসা, দর্শন, গণিত, উদ্ভিদবিদ্যা, ও অন্যান্য শাস্ত্রে মুসলমানরা একটি নির্দিষ্ট মান পর্যন্ত ওঠে। তারপর যেন মুসলিম জগতের মান স্তব্ধ হয়ে দাঁড়ায়। ধর্ম ও বিজ্ঞানঘটিত অতীত ঐতিহ্যের প্রতি অন্ধভক্তি আরব বুদ্ধিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে ফেলেছে; কেবল ইদানীং তারা শৃংখল ভাংতে শুরু করেছে” (আরব জাতির ইতিকথা, পৃষ্ঠা ১৪৩, ফিলিপ কে হিট্টি, অনুবাদে অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খাঁ) ।

ইসলামের ইতিহাস ঘাটলেও এ তথ্য পাওয়া যায় যখনই মুসলমান পৌরানিক গল্প, মিথ্যা, সত্য নয় এমন সব বাড়তি অর্জন, নিজেদের অপকর্মে স্থায়ীভাবে তাদের আমলে যোগ করে তারই চর্চা করতে থাকে। তখন থেকেই প্রকৃত পক্ষে প্রকাশ্যে তাদের হতাশার ব্যর্থতার কাল শুরু হতে থাকে। এর আগের বিজয় যুগের অসামান্য কৃতিত্ব বিশ্বকে চমৎকৃত করেছে। মাঝের পথে কিছু ছলবাজদের দ্বারা ধর্মটিতে অনেক ভাঙ্গন ধরে এবং এর অনেক সর্বনাশ হয়। এত কষ্টের ভেতর থেকেও ইসলামের ইতিহাস থেকে গজিয়ে উঠা আবু হানিফাদের মত গুণীজনরা ইসলামের মুমূর্ষু দশাকে জীবন্ত করে তোলেন। অপর পক্ষের কুটিলতা ধর্মটিকে যেভাবে বিদ্ধ করেছে, আহত করেছে ঠিকই তারপরও বিজয় অর্জিত হয়েছে আশাতীতভাবে। এ শৃংখলিত করণের প্রধান অস্ত্র আর কিছু নয় এটি শুধু “ধর্মের নামে বিলি করা ভুল ফতোয়া” । যেদিন থেকে এসব সৃষ্ট হয়ে পালিত হয় ও চর্চিত হয় সে দিন থেকে জড়তা আমাদেরে পেয়ে বসে।

আল্লামা এবনে খাল্লেদুন জগতে সর্বপ্রথম দার্শনিক হিসাবে ইতিহাসের সমালোচনা করেন, মোকাদ্দমা ইতিহাসের এক অনুপম সম্পদ। এর ভূমিকায় তিনি লেখেনঃ “আরবদিগের মধ্যে কোন শাস্ত্রগ্রন্থ বা জ্ঞান বিদ্যমান ছিল না । অসভ্যতা ও মূর্খতায় তারা আচ্ছন্ন ছিল। সৃষ্টিতত্ত্ব, তার পুরা কাহিনী, তার বৈচিত্র ও অন্যান্য বিষয়ে যখন তাদের জানবার দরকার পড়তো তখন তারা আপন প্রতিবাসী ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করতো। কিন্তু সে সময় আরবে যে সব ইহুদী বাস করতো, মূর্খতায় তারাও আরবদের সমান ছিল। ঐ শ্রেণীর জনসাধারণের পক্ষে তৌরাৎ সম্বন্ধে যেরূপ এবং যতটা জ্ঞানলাভ করা সম্ভব, তার অতিরিক্ত কিছুই তারা জানতো না।” তিনি আরো বলেন, “আমাদের লেখকগণ ঐ সকল কিংবদন্তি ও গল্প গুজব নকল করে তফসিরের কেতাবগুলিতে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এ সকল গল্পের মূল মূর্খ ও অজ্ঞ মরূপ্রান্তরবাসী ইহুদীদের নিকট থেকে গৃহীত। অথচ যারা তা নকল করছেন, তার সত্যাসত্য তারা পরীক্ষা করেও দেখেন নাই (মোকাদ্দমা এবনে খল্লেদুন)।

যে সকল সাহাবী খ্রীষ্টান ও ইহুদী ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাদের আর অপরের নিকট থেকে এসব গ্রহণের কোন আবশ্যকতা ছিল না। তাদের সংস্কার ও প্রবাদগুলি তাদের সংস্কার ও পৌরানিক কাহিনীগুলি—বহুস্থানে বিকৃত অবস্থায় নব দীক্ষিত মুসলমানদের মধ্যেও বিস্তার লাভ করেছিল। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, “কিন্তু অধিকাংশ লোকই ভ্রম প্রমাদ হতে মুক্তি পেতে পারেন না। ছাহাবীগণের মধ্যে এরূপ লোকও ছিলেন, যারা সময় সময় ভ্রম করতেন, তাদের পরবর্তী সময়েও এই অবস্থা। এই জন্য ছহী আখ্যায় যে সকল হাদিছ সঙ্কলিত হয়েছে তার মধ্যে এরূপ হাদিছ সবও আছে যা ভ্রম বলে পরিজ্ঞাত” (কেতাবুল তাওয়াচ্ছোল-৯৬পৃষ্ঠা) ।

হাজার ফতোয়া প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যদি একটি কুরআনের আয়াতকে কোনোভাবে অপমান করা হয় তা হলে একজন পরীক্ষকের কাছে সে ছাত্রের রিজাল্ট কি জমা করতে পারে সেটি কি পাঠকেরা ভেবে দেখেছেন? এবার নিজেদের পরিমন্ডলে ফতোয়ার ভুমিকা যদি দেখি তবে আঁতকে উঠতে হয়। আমরা মেয়েরা এসব ব্যাপারে কোন কথাই বলতে পারতাম না যদি ফতোয়া আমাদের অতীতে যেভাবে গাইড করতে শুরু করেছিল আমরা যদি সেভাবে চলতাম। হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতাম চারদেয়ালের ভিতরে, না কোন বিদ্যা অর্জন করতাম না আলোর রাস্তা খুঁজে পেতাম। যদিও সেদিন আমাদের সে রাস্তা ফতোয়া বন্ধ করতে পারে নি। আমার মায়ের মুখে শুনেছি সে সময়ে মুসলিম মেয়েদের লেখাপড়ার উপর ছিল প্রচন্ড আপত্তি। যার জন্য আমার নানা তাদেরে গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরিত করেন শুধু লেখাপড়া করার জন্য। আর আমরাও যে একদম এ আচারে বিদ্ধ হইনি তাও নই। আমরা নিজেদের জীবনেও এর অপপ্রয়োগ হতে দেখেছি আমার নিজের উপর তেমন প্রভাব না ফেললেও আমার সহপাঠি অনেকেই আছেন যারা এ কষ্টের মাঝে তাদের বেদনার কথা আমাকে জানিয়েছেন। সে হিসাবে আমি ভাগ্যবানদের একজন। আমার পূর্বপুরুষের আলোকিত চিন্তাধারা তাদের বিলি করা শিক্ষা আমাকে কিছুটা হলেও আলোর পথ দেখিয়েছে, জীবনকে পরখ করতে শিখিয়েছে। যে বান্ধবীটি তার শিক্ষা চালিয়ে যেতে পারে নি বলে এত আক্ষেপ করেছে আজ যথেষ্ঠ পরিণত বয়সে এসে পিছন ফিরে দেখলে তাদের কথা মনে পড়ে এবং তখন মনে হয় এ বেদনার কথা, এ কষ্টের কথা সবাইকে জানাই চড়া গলায়। আর এ কাজটি তারা করেছে একমাত্র ধর্মের নাম নিয়েই, ধর্মের আচার বলেই তারা এটি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে। আল্লাহর প্রথম বানী “ইকরা” অর্থাৎ “পড়” যেটি প্রচার করার কথা ছিল তাদের তারা এভাবে ঐশী বাণীর বিরুদ্ধে বেরিকেড তুলে ধরে।

ঐতিহাসিক আন্দালেসির ভল্যুয়ম ১, পৃষ্ঠা ৩৩৪-৩৪৮ পৃষ্ঠাতে যে তথ্যটি পাওয়া যায় সেখানে দেখা যায় শাসকবর্গের শাসন ক্ষমতা দখলের সময়কার অনাচার দেখে বেশ কিছু সংখ্যক সম্ভ্রান্ত মহিলা এসবের জবাব চাইছিলেন স্বয়ং রাষ্ট্রক্ষমতাতে অধিষ্ঠিত শাসক মোয়াবিয়ার কাছে। তখন তাদের সে জবাবে বিব্রত শাসক বার বার বদর, ওহুদ সিফফিন এর উদাহরণ টানার চেষ্টা করছিলেন। এ কথাটি প্রমাণ করে সে সমাজের মেয়েরাও রাজনৈতিক বিতর্কে জবাবদিহিতার দরকার মনে করেছেন যেখানে আজ চৌদ্দশত বছর পরও অনেক শিকলে মেয়েদেরে বেধে রাখা হয়েছে। একটি কথা আছে বেশী টাইট দিতে গেলে রশি ছিড়ে যায়। কিছু দিন আগে শুনা গেল কানাডাতে এক মেয়েকে তার বাবা শাস্তি দিতে গিয়ে মেরে ফেলেছে। এটি কখনোই ইসলাম নয়, এটি একটি দুর্ঘটনা। কিন্তু এরকম একটি দুর্ঘটনা যখন ইসলামের ঘর থেকে হয় তখন বাড়তি চিন্তা হয়। ইউরোপ আমেরিকান সমাজে অজস্র অনাচার হয় হচ্ছে তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না, নিছক খবরে স্থান পায়। ইসলামের সদস্যদের কৃত এরকম একটি উদাহরণ খোদ মুসলমানকেও চিন্তায় ফেলে দেয়। আর প্রতিপক্ষ তো একে বাড়তি ধারালো যুক্তি বলে মনের আনন্দে মিডিয়াতে জিনিসটি ছড়ায়। এটি আমাদের সুন্দরকে সত্যকে সবদিকেই বিধ্বস্ত করে। আমাদের অপরিনামদর্শীতার ক্ষতিকর প্রভাবে আমরা কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই সেটি সচেতনরা একটু ভেবে দেখবেন এবং প্রকৃত ইসলাম দরদীরা অবশ্যই সেটি পরখ করবেন। কুরআনের একদল টীকাকার ইহুদী ও খৃষ্টানদিগের পুস্তক পুস্তিকা ও বাচনিক কিংবদন্তিগুলোকে কিরূপ নির্মমভাবে কুরআনের তফসিরে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছেন। তার প্রমাণ হিসাবে একদল লোক ইহুদী ও খৃষ্টান দিগের অনুকরণে বলেছেন যে, কোরবানীর জন্য হযরত ইসমাইলকে নহে বরং হযরত ইসহাককে উপস্থাপিত করা হয়েছিল (জাদুল-মাআদ, ১ম খন্ড, ১৪-১৭ পৃষ্ঠা) । আর আমাদের শীতনিদ্রার গভীরতার কারণে আমরা এখনো ঘুমিয়ে আছি। দলে দলে ভাগ হয়ে ধর্মের নাম নিয়ে আমরাই আমাদের ভাইকে মারছি।

কিন্তু নবীর যুগে বা খলিফাদের যুগে বর্তমান সময়কার অনেক কিছুই সে সময় উপস্থিত ছিল না। আর আমাদের সত্যিকারের মুমিনদের সেই আলোকিত যুগকেই অনুসরণ করার কথা। “বক্রপথের যাত্রীরা সাবধান, আল্লাহ তোমাদের সম্বন্ধে গাফেল নন” (সুরা আল ইমরানের ৯৮ আয়াত) । আজকের যুগে দেখা যাচ্ছে সারা বিশ্ব জুড়ে ধর্ম নিয়ে দেশ নিয়ে অনেকেই বক্রপথে চিন্তা ভাবনা করছেন তাদের সবার জন্য এসব আল্লাহর নির্দেশনামা, হুশিয়ারীবাণী সন্দেহ নেই। তাদেরে অবজ্ঞা করে অন্য আরো ছলবাজদের অনুকরন কখনোই ধর্মের অঙ্গ হবার কথা নয়। সেটি একজন ফতোয়াবাজ, রাজনীতিবিদ, এককথায় অপকাজে উৎসাহী সবাইকেই আজ ভাবতে হবে। আমরা তপজপে ব্যস্ত থাকলেও ধর্মের মূল গবেষণাতে নেই, সত্যের পর্যালোচনা থেকে বর্তমানে আমাদের অবস্থান অনেক দূরে। তাই অনেক ভুলকে অনেকেই অজ্ঞতার কারণে মনে করে থাকেন এটিই ধর্ম। এখানে তাদের আন্তরিকতার পরিচয় যদিও পাওয়া যায় কিন্তু সঠিক বিবেককে কাজে না লাগানোর গলদের কারণে প্রকৃত সত্য থাকে বহু দূরে। আল্লাহর কাছে সঠিক সত্যের জন্য সাধনা করতে হবে, দোয়া চাইতে হবে, মধ্যপন্থা সিরাতুল মোস্তাকিমের সহজ সরল রাস্তায় চলবার জন্য প্রতিদিনকার প্রার্থনা যেটি প্রতিটি মুসলিম জনতা নামাজে বহুবার উচ্চারণ করে থাকেন তাকে মনের মাঝে গেঁথে বাস্তবে তারই প্রতিফলন ঘটাতে হবে। তা হলেই আমাদের এবাদত, সালাহ আল্লাহর দরগায় ত্বরায় গিয়ে পৌছাবে এবং আমাদের জন্য ইতিবাচক অর্জন জমা করে আনবে। অন্যথায় আমাদের প্রার্থণা উদ্দেশ্যহীন নিস্ফল প্রয়াস হিসাবে অরন্যে রোদন করেই যাবে।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: (লেখাটি বাংলাদেশে দৈনিক আমার দেশ থেকে ছাপে ২০১১ সালের ১২ মার্চ। লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সুরমাতে ১৮-২৪ মার্চ, ২০১১ সংখ্যাতে ছাপে)। এসব লেখা কখনোই পুরোনো হয়না। যুগের প্রয়োজনে এর অবদান সবদিনই মানুষকে জাগিয়ে তুলতে সহায়ক হয়। তাই ২০২০ সালের জুনের ৮ তারিখে লেখাটি আবার আপলোড করলাম আমার ব্লগে। আল্লাহ আমাদের প্রকৃত সিরাতুল মোসতাকিমের সরল সত্যের পথে পরিচালিত করুক।

 

 

 

 

আমরা কি আল্লাহর রমজান করছি?

নাজমা মোস্তফা

কুরআন গ্রন্থটি বিবেকবানদের জমা: শিরোনামের কথাটি খুব নতুনের মত শোনালেও এটি অনেক দিনের পুরানো কথা। আল্লাহ বলেন, “এ গ্রন্থে নিদর্শন রয়েছে বিচার বুদ্ধি থাকা মানুষের জন্য” (২:১৬৪ আয়াত)। মাত্র আমরা আমাদের করোনা ঈদ সারলাম যে যার মত। অদ্ভুত অভিনব মাত্রা যোগ হলো এবারের ঈদে। ঈদ পরপরই নাড়া পরে যায় শাওয়ালের রোজার তাগাদা আসতে থাকে চারপাশ থেকে। অনেক আগে আমার জীবনে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল এই ঈদ পরবর্তী রোজা নিয়ে। যাক সে কথা আর নাড়ছি না। এবারের নাড়া আমার সৌদি প্রবাসী এক বোনের ফেসবুকেও এর তাগাদা আসে। বোনটি আমার খুব প্রিয়। শত ব্যস্ততার মাঝেও মাঝে মাঝে যোগাযোগ মানে কথা হয়। আর বাকী সারা বছরই ইন্টারনেটে এটা ওটা দেয়া নেয়া চলেই। সে তার মত ইসলোমের দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছে অনেক দিন থেকেই। এবার কেন জানি নাড়তে গেলাম। এর কারণ তাকে আমি জাগিয়ে তুলতে চেষ্টা করলাম। ভালো করলাম কি মন্দ করলাম জানি না। আমার কর্তব্য মনে করেই করলাম। তার ফেসবুকে রমজান পরবর্তী ৬ রোজার উপর যে কমেন্ট করলাম সেটি এখানেও করছি। আমার যুক্তি ছিল, “এসব কথা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত নয়। কুরআন দ্বারা প্রমান করা না গেলে তা হাদিস হতে পারে না। প্রতিটি মুসলিমকে কুরআনে ফিরতেই হবে। এ ছাড়া মুসলিমদের সামনে পিছনে উপরে নীচে কোন মুক্তির রাস্তা নেই। পূর্ববর্তী ইহুদী জাতি এসব অপকর্ম করে ধ্বংস হয়েছে, আল্লাহ তাদেরে বলেছেন, এরা গাধার বোঝা বয়ে বেড়িয়েছে (সুরা জুমআহর ৫ আয়াত দ্রষ্টব্য)। মুসলিমদেরে বার বার সাবধান করা হয়েছে মুসলিমরা যেন তা না করে, এ আয়াতই তার প্রমাণ। ইহুদী জাতি এইভাবে তালমুদের মোহে মজিয়া তৌরাতকে বিস্মৃত হইয়াছে (মোস্তফা-চরিত, মোহাম্মদ আকরম খাঁ পৃষ্ঠা ৭৪)।  ধর্মকে বাড়ানোর কমানোর কোন অধিকার কারো নেই। কুরআনের হিসাবে যারা এসব করবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কাজেই কামনার অনুবর্তী হয়ো না পাছে তোমরা ভ্রষ্ট হও। আর যদি তোমরা বিকৃত করো অথবা ফিরে যাও, তবে নিঃসন্দেহ তোমরা যা করছো আল্লাহ হচ্ছেন তার পূর্ণ ওয়াকিফহাল।” (সুরা নিসার ১৩৫ আয়াত)। “তোমার প্রভুকে ডাকো বিনীত ও গোপনীয়তার সাথে। নিঃসন্দেহ তিনি সীমালংঘনকারীদের ভালোবাসেন না” (সুরা আল আরাফের ৫৫ আয়াত)। বোঝার সুবিধার জন্য এখানে কয়েকটি আয়াত আনলাম। আল্লাহ সবার সুমতি দিক, আর মূল সত্যে অটুট রাখুক। এর প্রতিউত্তরে বোনটি আমার হাদিসের গুরুত্ব বুঝিয়ে জবাব দিল। হাদিস অনুসরণ না করলে যদি আমরা ধ্বংস হয়ে যাই।

শাওয়ালের ছয় রমজান: এর পরের জবাব হিসাবে আমি লিখলাম। “আমি হাদিস অস্বীকার করছি না। কুরআনে যা বলা নেই, সে রকম নির্দেশ হাদিসে আসতে পারে না। নবী এমন কাজ জীবনেও করেন নাই। এমন ধৃষ্ঠতা তিনি কখনোই দেখান নাই। আল্লাহর নির্দেশের বাইরে তিনি কিছুই বাড়তি করেন নাই। পরবর্তী মানুষরা অনেক অনাচার করে কিন্তু নবী সেরকম অনাচার করেন নাই। আল্লাহ কুরআনে নবীকে উদ্দেশ্য করে সাবধান বাণী উচ্চারণ করেছেন আয়াত দ্রষ্টব্য। “সেক্ষেত্রে আমরা নিশ্চয় তোমাকে দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাতাম ইহজীবনে এবং দ্বিগুণ মৃত্যুকালে” (সুরা বনি ইসলাইলের ৭৫ আয়াত)। কুরআন বিচ্যুতির অপকর্ম করলে রসুলের জন্য দ্বিগুণ শাস্তি বরাদ্দ হবে, এককালে নয়, উভয়কালে ইহকাল ও পরকালে। এতে খুব সহজে বুঝা যায় এসব জইফ অর্থে দুর্বল হাদিস সাজানো হয়েছে। ঠিক একই কাজ করেছিল ইহুদীরা পূর্ববর্তী যুগে, যার কারণে তাদের হাত থেকে ধর্মটি ছিনিয়ে নেয়া হয় এবং এক দল নব্য গোত্র মুসলিমদের এটি দেয়া হয়। এসব নীতিতে কড়া থাকতে নবী বার বার সাবধান করে গেছেন। কিন্তু শেষ জামানার মানুষরা এসব ভুলে বসে আছে। এসব সাবধান বাণী কুরআনেও আছে। ইহুদীরা মনের মাধুরী দিয়ে তাদের মনগড়া তালমুদ সাজিয়েছিল। কুরআনে যদি একবারও বলা থাকতো যে তুমি এক মাস+ রোজা করো। সম্ভব হলে একজন পারলে সারা বছরই রোজা করতে পারে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু রসুলের নাম নিয়ে এটি প্রচার করার কোন যুক্তি নেই। উপরের আয়াত পড়ার পর কি মনে হয় রসুল এ কাজটি কখনো করবেন? যদি করতেন তবে তার জন্য দ্বিগুণ শাস্তি বরাদ্দ থাকতো, এটি কুরআনের বাণী। এসব হচ্ছে শেষ জামানায় ইসলাম ধ্বংসের নমুনা। সিলেবাস বাড়ালেই ধর্ম উত্তম হয়ে যায় না। এ জন্যই বলা হয়েছে প্রকৃত মুমিনের রাস্তা খুব কঠিন। সেখানে কোন বাহূল্য বা কমতি কোনটাই সমর্থণীয় নয়। এটি ফুলসিরাতের রাস্তা, সহজ সরল জটিলতামুক্ত। এ জন্যই তার নাম সিরাতুল মোসতাকিম। সুরা জুমার ২৩ আয়াতটি কুরআনের রক্ষাকবচ, পড়ে দেখো।” এরপর দেখলাম আমার মেইলেও সমপর্যায়ের শাওয়ালের রোজার বন্দনায় অনেক মেইল জমা হয়েছে। এটি আমার বোনের ত্রুটি ছিল না। এ আচরণ চলমান সমাজের অর্জন, ইউটিউবে দেখি সারি বাধা সব বন্দনা গেয়ে গেছেন ইউটিউবের ধর্মপ্রচারকরা। ইন্টারনেটের নতুন এ সুযোগে কেউ বসে নেই। ঘরে ঘরে তাদের বাণী পৌছে যাচ্ছে। সঠিক বাণী ছড়াতে পারলে ভালোই ছিল কিন্তু যদি ভুল ম্যাসেজ এভাবে ছড়ায় সেটি ইসলামের জন্য সুখের নয়।

বিচারিক ভাবনা: পরিক্ষক টিচার যদি বলেন তুমি ১০ চ্যাপ্টার পড়বে আর ছাত্র যদি বলে আমি ১২ চ্যাপ্টার পড়বো। স্যার কি খুশী হবেন না বিরক্ত হবেন সেটি আপনাদের ভাবনায় জমা রাখুন। আর যদি ঠিকই ঐ ১০ চ্যাপ্টার পড়ে ছাত্রের দেয়া প্রশ্নোত্তরে টিচার বেশী খুশী হবেন, না ঐ ১০ চ্যাপ্টারের বাইরে আরো প্রশ্নের বাইরে ৫ পৃষ্ঠা বাড়তি লিখে আসলে টিচার বেশী খুশী হবেন। সেটি মানবিক বিচারের ক্ষমতায় টিচাররা বিচার করুন। হাদিসের বরাতে এরকমও বলা হচ্ছে যে, ছয়টি রোজা না করলে বস্তুত প্রকৃত রোজার সওয়াবই পাওয়া যাবে না। কুরআন কোন মহাভারতের গ্রন্থ নয়, বাইবেল নয়, তৌরাত নয় যে যার যা ইচ্ছে তাই যোগ বিয়োগ করতে পারবেন। এটি একটি পরিপূর্ণ সংরক্ষিত অসাধারণ গ্রন্থ যার দ্বিতীয় উদাহরণ দুনিয়াতে নেই। পূর্ববর্তী ঐশীগ্রন্থ সব বিকৃত হয়েছে, শুধু মাত্র এটি ব্যতীত। আল্লাহর কড়া নিরাপত্তায় এটি সংরক্ষিত। এর অনুসারীরা এটি বদলানোর কোন সুযোগ পায় নাই। কিন্তু এর পাশাপাশি এমন ভাবে হাদিস সব রচিত হয়েছে যাতে দেখা যায় কুরআনের বস্তুনিষ্টতা অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষুন্ন হয়। এর গুরুত্ব কমাবার বা বাড়াবার অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। ইসলামে এই বাড়ানো কমানোকে বলা হয় বেদআত। আর রসুল বলেছেন, যারা বেদআত করবে তারা জাহান্নামে যাবে। যারা রসুলের নামে মিথ্যাচার করবে তারাও জাহান্নামে যাবে।

নবীর হাদিস ভাবনা ও ইতিহাস: আমরা জেনেছি জীবিত অবস্থায় রসুলের কথা কেউ লিখে রাখলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। জবাবে বলেছেন, তোমরা কি করছো আল্লাহর কিতাবের পাশাপাশি আর একটি সংযোজন করতে চাও? তার মানে এসব করতে নিষেধ করেছেন। তারপরও যেসব কথা আবুবকর ওমর আলী(রাঃ)গংরা যৎসামান্য লিখে রেখেছিলেন তা তারা পরবর্তীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে বা ভিন্ন উপায়ে ধ্বংস করে দেন। তারা সবচেয়ে বেশী ভয় পান যখন শোনতে পান যদি কেউ নবীর নামে মিথ্যা প্রচার করে তবে তার ঠিকানা নির্ঘাৎ জাহান্নাম। তাই প্রাথমিক যুগের সাহাবীরা এত ভীত ও শংকিত ছিলেন কারণ কুরআনের জন্মের সাথে বিশিষ্ট সাহাবীদের জন্মের ইতিহাস জড়িত ছিল। স্মরণ করার বিষয় সব সাহাবীই কিন্তু বিশেষ মর্যাদার এক কাতারের নন। সেখানে প্রাথমিক যুগের সাহাবীরা নবীর খুব কাছের ত্যাগী সহচর ছিলেন। বিশিষ্টরা জানতেন কুরআন কি আর জাহান্নাম কি? যার জন্য সাথে সাথে ওসব মিথ্যে হাদিস ময়দানে জমতে পারে নাই। বরং ২০০ বছরেরও পর এসব ময়দানের জমা, ততদিনে তারা প্রতিরোধকারীরা গত বিগত। তবে ঐ সময়ও অনেক প্রতারক মক্কা বিজয়ের পর এখানে এসে ঢোকে, যাদের সামনে অন্য কোন রাস্তা খোলা ছিল না। কিছু সংখ্যক আজীবনই ইসলামের শত্রু পক্ষ ছিল। ঐ সব ধূর্তরাই ইসলামের চাঁদোয়ার নিচে অবস্থান শক্ত করে শত্রুতা বহাল রাখে। এরা একদিকে মুসলিম অন্যদিকে মোনাফেক, কুরআন এদের স্বরুপ স্পষ্ট করে রেখেছে। এদের খারাপ অবস্থানের বড় প্রমাণ শিয়া সুন্নী বিভক্তি। এর দায় চতুর্থ খলিফা হযরত আলীরও নয় বা কোন নিবেদিতপ্রাণ মুসলিমেরও নয় কোন ভিন ধর্মীরও নয়; বরং সম্পূর্ণ দায় মুসলিম নামধারী মোনাফিকদের। সেদিন থেকে আজ অবদি মুসলিমদের দিশেহারা অবস্থান! এসব ষড়যন্ত্রীদের হাতেই ধর্ম প্রথম দু’ ভাগ হয়েছে। যারা প্রতিবাদকারী সঠিক মুসলিম ছিলেন তারা আজকের রাজনেতাদের ধর্মনেতাদের মত সেযুগেও নির্যাতীত হয়েছেন। ধুকে ধুকে মরেছেন। সব দিনই শক্তির তলানীতে স্বৈরাচারের কাজ এসব। এভাবে খুব কৌশলে মানুষকে মূল গ্রন্থ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

কুরআন বিরোধী হাদিসের উদাহরণ: কুরআন দ্বারা প্রমান হয় বিবি আয়েশার বিয়ে হয়েছে পরিপূর্ণ বয়সে অপরদিকে হাদিস দ্বারা প্রমাণ করা হয় ৬ বছরে। মুসলিম কয়জন বাবা মা আছেন তার ৬ বছরের মেয়ের বিয়ে দিবেন ? প্রশ্নটি জমা রাখলাম। এসব মিথ্যা হাদিস রচনা করে আল্লাহ, নবী, কনে আয়েশা, তার বাবা আবুবকরসহ এখানের সবাইকে অপমান করা হয়েছে। এটি একটি মিথ্যা হাদিস। ব্যভিচারের শাস্তি হিসাবে মিথ্যা হাদিস দ্বারা নারীদের পাথর ছুড়ে মারার বিধান আনা হয়েছে যা মূলত ইহুদীদের বিধান ছিল। কুরআনে এর সমার্থক পাথর মারার কোন কথা নেই, হাদিস দ্বারা আমরা আল্লাহর বৈরী শক্তি হয়ে দাড়াচ্ছি। উদাহরণ হিসাবে সুরা তওবার ৮০ আয়াতে দেখা যায় আল্লাহ মোনাফেকদের সম্বন্ধে বলেন, “তুমি ওদের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করো অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা না করো, – তুমি যদি তাদের জন্য সত্তুর বারও ক্ষমা প্রার্থণা করো আল্লাহ কখনো ওদের ক্ষমা করবেন না। এটি এই জন্য যে তারা আল্লাহতে ও তার রসুলের প্রতি অবিশ^াস পোষণ করে। আর আল্লাহ দুষ্কৃতিকারী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শণ করেন না।” এটি গেল কুরআনের ভাষ্য, এরা কিন্তু মুসলিম মোনাফিক এদের অন্তর আল্লাহর কাছে স্পষ্ট। এর উল্টো হাদিস রচনা করা হয়েছে, রসুল বলেছেন তিনি নাকি ঐ দুষ্কৃতিকারীর জন্য সত্তুরের বদলে একাত্তর বার দোয়া করবেন। আপনাদের কি মনে হয় রসুল বেয়াড়া অবাধ্য প্রকৃতির লোক ছিলেন!? যেখানে কুরআনে বার বার বলা হয়েছে তিনি একজন স্বভাব সুন্দর মানুষ। এসব হচ্ছে হাদিসের নামে অতি বাড়াবাড়ি, এ ধারার অসংখ্য হাদিস আছে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আর আল্লাহর জন্য ও নবীর জন্য গালির রসদ জমা করে চলেছে। এত এত স্কলাররা ময়দান গরম করেন, আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে ধর্মটিকে কে বা কারা দু’ভাগ করলো কেউ রা শব্দও করে না। কারণ কি? ঐ দিন থেকেই তো মুসলিমদের ঘুম হারাম হয়ে যাবার কথা ছিল। তাদের এত ঘুমানো কি মানায়? তার সহজ জবাব হচ্ছে মুসলিমরা ক্রমে চেতন হারিয়ে ফেলেছে। এদের তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে চলেছে ইবলিস। ভাইকে দিয়ে ভাইকে পেটাচ্ছে। বাড়তি গোলা বারুদ কামান বোমা ছাড়াই ইসলাম ধ্বসের কাজ এভাবে চলছে।ইবনে মাজা ইবনে ওমর হতে বর্ণনা করেন যে, হযরতের বা আবুবকরের ওমরের সময় এইসব গালগল্পের প্রচলন ছিল না। আখেরী জামানায় (পরবর্তী যুগে) মুসলমানগণ ঐসব গালগল্পে মজিয়া ধ্বংস পাইবে, হযরত তারও স্পষ্ট ইঙ্গিত করেন (তাবরানী)। 

প্রশ্নবিদ্ধ টেররিস্টের সঙ্গা: ফেসবুকে একটি ভাই একটি লিস্ট শেয়ার করেছেন ইতিহাসের সব বড় বড় হত্যাকারীরা অমুসলিম, কেউই মুসলিম নন। তারপরও মুসলিমরা টেররিস্ট হয় কেন? তথ্যটি ছিল (১) বুশ ১০ লাখ ৫০ হাজার মুসলিম হত্যা করেও টেররিস্ট হয় না। হিটলার ৬০ লাখ ইহুদী নিধন করেও অপরাধী নয়। জুসেফ স্ট্যালিন ২ কোটি হত্যা করে ও ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে অসুস্থ করে হত্যার পরও সে টেররিস্ট হয় না। মুসোলিনী ৪ লাখ হত্যা করেছে, সবাই খৃষ্টান, কিন্তু জঙ্গি হিসাবে চিহ্নিত কেন নয়? মাও সে তুং ১ কোটি ৫০ লাখ হত্যা করেও বৌদ্ধ জঙ্গি কেন নয়? অশোকা একজন হিন্দু ১ লাখ মানুষ হত্যা করেও হিন্দু জঙ্গি কেন নয়? অংসান সূচী লাখ লাখ রোহিঙ্গা হত্যা করে যাচ্ছে, ভারতের মোদি মুসলিম হত্যায় তার রক্ত এমনিতেই রঞ্জিত শতাব্দীর শুরু থেকেই, এখনো চলমান। ফেসবুকে এ প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তারপরও প্রথম বিশ^যুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধ, হিরোশিমা নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ, অষ্ট্রেলিয়ান আদীবাসী হত্যা, উত্তর দক্ষিণ আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ান আদীবাসী হত্যা, সবকটি অপকর্মের সাথে মুসলিম ছাড়া বাকী সম্প্রদায়রা জড়িত থাকলেও কেন মুসলিমদের দিকেই শুধু বুলেট নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এ জটিল প্রশ্ন ভাবনার উদ্রেক করার কথা। এ কথা কয়টি বহুদিন থেকে ফেসবুকে এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ায়। তারপরও এসব থেকে কি আমরা শিখতে পেরেছি কিছু?

মুসলিমদের অপকর্ম: মুসলিমদের বিরুদ্ধে বাকী দুনিয়া, বোকাদেরে আসামী সাজাতে পেরেছে খুব সহজে। কারণ আমরা নিজেই নিজের ভাই কিলাই। যাদের সেরা হবার কথা তারা তলানীতে কেন? আল্লাহর মূল গ্রন্থ ছেড়ে মানুষ রচিত গ্রন্থ নিয়ে তারা মশগুল। তারা গবেষণাতে নেই, চর্চাতে নেই। অর্থ না বুঝে তপজপ সমাধান নয়। কুরআন বিরোধী কাজকর্ম কেমন করে হয় এখানে? সঠিক পথে থাকলে সারা দুনিয়া সত্যের আলোতে বিস্ফারিত হতে এত দিন লাগার কথা নয়। নবী গত হবার নিকট সময়েই গোটা দুনিয়া আলোর ঝলকানি দেখেছে। ১৪০০ বছরের বেশী সময় পার করেও তারা আত্মবিস্মৃত জাতি আজ কিল ঘুষি থাপ্পড়ের শিকার। কুরআনের মূল্যায়ন না করে সবাই ফতোয়াবাজ। কুরআন বিবৃত করা আল্লাহর কাজ। নবীর মাধ্যমে আল্লাহ এটি বিবৃত করেছেন কুরআনে। প্রাথমিক যুগে কেউ কুরআনের বাইরে ফতোয়াবাজি করলে তাকে বেত্রাঘাত করা হতো। কুরআন ও সত্য ইতিহাস বিমুখতার পাপেই মুসলিমরা মার খাচ্ছে। রসুল পরবর্তী প্রাথমিক যুগের কল্যাণে যে বিজয় সারা দুনিয়াকে আলোকিত করতে থাকে, যার সফল পরিণতিতে ইউরোপে রেনেসার জোয়ার আসে। ইত্যবসরে মুসলিমদের ঘরে খরা শুরু হয়ে যায়। নকল মিথ্যাচারী কিতাব সৃষ্ট অপকর্মে মুসলিম মানস মুখ থুবড়ে পড়ে। অবাক করা তথ্য হচ্ছে বাকীরা জাগরণ আনতে পারলেও শয়তানের তালিয়াতে মুসলমিদের অবাধ বিজয়ের দ্বার রুদ্ধ হয়ে যায় অতি অল্প দিনে। যখন ষড়যন্ত্রীরা সূতা নাতা ঠিক করছে তখন ময়দানের প্রকৃত সাধুরা কারারুদ্ধ হয়ে মরেন। ঠিক যেন আজকের কারাগারে আটককৃত রাজনেতাদের মত। আমরা খবর রাখি নাই, ইমাম আবু হানিফার পরিণতি ওটিই ছিল।

মুসলিমদের ব্যর্থতা: কিন্তু পরবর্তী মুসলিমরা খুব সেটি জানেও না, নাড়েও না, এসব ইতিহাসের তলানীতে পড়ে আছে। আজ মুসলিমরা কুরআন শরিফের বদলে অন্যসব শরিফ নিয়ে ব্যস্ত, যাদু টোনা, তাবিজ কবজ, জিন ভূতের গরম ব্যবসায় ময়দান গরম। যুক্তিহীন অবিজ্ঞানই ধর্ম, যদিও কুরআনই একমাত্র বিজ্ঞানময় বুদ্ধিমানের ধর্ম। আজকে বুদ্ধিমানের চেয়ে বেওকুফের ভিড় এখানে বেশী। এরা আর কত শত বছর পর জাগবে, আল্লাহই ভালো জানে? কুরআনকে তারা দূরে তাকিয়ার উপর বস্তনীতে বেধে রাখে, যাতে এর সুধা পান করা না যায়। সব কৌশল এতে প্রয়োগ করতে ইবলিস কোন কার্পণ্য করে নাই। কথা ছিল অক্ষরে অক্ষরে ওটি হজম করার পালন করার। পৃথিবীর পশ্চাৎপদ জাতি হয় কেন মুসলিমরা?সহজ জবাব, এরা সত্যের সমাদর করে নাই। সঠিক পথে থাকলে তারা শিখরে থাকতো। গভীর অধঃপাতে তারা! ঝাড়ফুক, তুকতাক, যাদু টোনা, মানুষ ঠকানো, জিন ভূতের ব্যবসায় কেমনে কুরআন আসে? কুরআন মানা ও উন্নতির নমুনা কি এসব! গুণে দেখুন চৌদ্দশত + বছর সময়টা খুব কম নয়। ঈসা নবী গত হলে পর মাত্র ৬ শতকের মাথায় আর একজন নবী এসেছেন, তার নাম মুহাম্মদ। ধর্মটি পরিপূর্ণ হলেও ইত্যবসরে চারপাশ আবর্জনায় ভরে উঠেছে। কিন্তু আমরা নির্বিকার। কোন পরিশুদ্ধির কাজে আমরা নেই, জোড়াতালি দিয়ে ধর্ম চলছে পূর্ববর্তী সব বিকৃত ধর্মের সাথে ছন্দ মিলিয়ে। এর ভিন্ন কথা ছিল। এটি সেরাপথ, সেরা ধর্ম, তার আয়োজনও হবে সেরা। সবাই আকৃষ্ট হবে। আজ কেন আমরা অপরকে আকৃষ্ট করার শক্তি হারিয়ে ফেললাম? আমাদের অপরিপক্কতা, ব্যর্থতা কেন আমরা মাপছি না!

সত্যের সাথে মিথ্যে মিশাই: সুরা বাক্কারাহএর (২: ৪২ আয়াত) বিপরীত চলা, মিথ্যা হাদিস রচনা করে প্রথমে অপমান করা হয়েছে আল্লাহকে পরে নবীকে। হাদিস কালেকশনের সময় কথা ছিল যারা মিথ্যা হাদিস রচনাতে ধরা খাবে, তাদের কোন হাদিস গ্রহণযোগ্য হবে না। সেটি কিন্তু শর্তের মাঝে থাকলেও অনুসরণ করা হয়নি। যারা মিথ্যা হাদিসে ধরা খেয়ে মার খেয়েছে পর্যন্ত, তাদের হাদিস বাদ দেয়া হয়নি বরং বার বার নেয়া হয়েছে। স্কলাররাও জোর কদমে আগুয়ান। তারা এক ধারার আত্মবিশ^াসে আছেন যে যাই বলছেন সবই সেরা যদিও কুরআন বিরোধী কথা বলছেন তারপরও মনে করছেন উত্তম বলছেন! এভাবে আমরা মুসলিমরা মিথ্যার মাঝে ডুবে আছি আকন্ঠ। ফতোয়া দিয়ে রেখেছে আল্লাহ, এবং সেটি কুরআন। আজকাল প্রতিটি মানুষই ফতোয়ার মালিক। সুতরাং মুসলিমরা মার খাবে না তো খাবে কে? কুরআন শুধু মুসলিমদের পথ নির্দেশিকা নয়। এটি গোটা বিশে^র পথ নির্দেশিকা। কুরআন সম্বন্ধে আল্লাহ নবীকে নিশ্চিত করেছেন এ গ্রন্থ সম্বন্ধে তুমি সন্দিহান হবে না। এটি পরিপূর্ণ ও ব্যখ্যাকৃত আল্লাহ কর্তৃক। মানুষের ব্যাখার বাইরে এটি সত্য দিয়ে মোড়া (সুরা আল আনামের ১১৫ আয়াত)। এর পরের ১১৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন তুমি দুনিয়ার বাসিন্দাদের কথা শুনবে না, ওরা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। তারা অসার বিষয়ের অনুসরণ করে আর আন্দাজের উপর চলে। এখানে ঐ অসার ও আন্দাজের বিষয় থেকে আমাদেরও শিক্ষা নিতে হবে। মূল সত্যে আমাদেরও ফিরতে হবে। এসব আয়াত দ্বারা কুরআন আজো আমাদের জাগানোর বাণী প্রচার করে যাচ্ছে, আমাদের সম্বিত ফিরলে ভালো।

ফতোয়া: ফতোয়া বলছে শাওয়ালের ছয় দিনের রোজা না রাখলে তোমার মূল রমজানই মর্যাদা পাবে না । সুতরাং কোন অবস্থায়ই এটি ছাড় দেয়া উচিত নয়। এটি করলে যে কেউ সারা বছরের রমজানের সওয়াব পেয়ে যাবেন। মনে হচ্ছে সওয়াব বন্টনের নথিটা তারা পেয়ে গেছেন। এটি তাদের আলমারিতেই জমা আছে। অংকটাও খুব সহজ করে বক্তারা করে দিচ্ছেন।  কিভাবে ৩৬০ দিনের হিসাবে নেকীর ভান্ডার ভরে উঠবে। (৩০ X ১০) = ৩০০ + (৬ X ১০)= ৬০, সর্বমোট ৩৬০। অঙ্কিয় বিন্যাসের এই যোগফলে নিজেদের প্রতিভায় নিজেরাই মুগ্ধ!  এসব সূত্র কিন্তু কুরআন নয়, এসব মানুষ রচিত গ্রন্থ হাদিসের অর্জন, সম্পূর্ণ কুরআনের উল্টোকথা, বেয়াড়াকথা। সুরা বাক্কারাহএ রোজার আয়াতে স্পষ্ট কথা এসেছে। আল্লাহ স্পষ্ট করেই বলেন, তোমরা ৩০ দিন রোজা করবে, এটি নির্দেশিত হয়েছে নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনের জন্য (১৮৪ আয়াত)। এর পরের আয়াতেই রমজানকে সহজ করে বলা হয় তিনি তোমাদের কষ্ট দিতে চান না (১৮৫, ঐ)। হাদিস বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। তার কথায় কষ্ট কোন বিষয় নয়, এক মাস ৩০ দিনও কোন বিষয় নয়। বাড়াতে কমাতে হাদিসের এ প্রবণতা কেন? কার নির্দেশে এসব বাড়তি কমতি হয়েছে, সেটি কি সচেতনরা ভেবে দেখেছেন? (সুরা বাক্কারাহ এর :১৮৩/১৮৪, ১৮৫/ ১৮৬/ ১৮৭ আয়াত) এর উল্টো পথে হাটার এ ধৃষ্ঠতা হাদিস বেত্তারা কিভাবে অর্জন করলেন? আল্লাহর উদ্দেশ্য ছিল শাস্তি দেয়া বা কষ্ট দেয়া নয়, বরং মানুষকে সংযম শিক্ষা দেয়া, আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন (১৮৪, ঐ)। বলা হয়েছে ঐ মাসের দেখা পেলেই রোজা রাখবে। এটি খুব উত্তম শারিরীক মানসিক আত্মিক দিকেও উত্তম জমা। এটি তোমাকে (নবীকে) সুপথ দেখাতে সাহায্য করবে। বস্তুত এ আয়াতগুলিতে বলা হয়েছে এটি চরিত্র গঠনমূলক কিছু বিধান যা অনুসরণ করলে স্বভাব সুন্দর নবী ও তার অনুসারীরা আরো বেশী ভদ্র, সুশীল মানুষ হবে, বেয়াড়া নয়। এটি মানুষকে কোন অবাধ্যতা শিখাবে না। দেখা যায় কথায় কথায় ফতোয়াবাজরা সওয়াব বন্টনের একটি রেওয়াজ চালু করেছে, যেন তাদের এ কাজের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ভালো কাজে দশগুণ পূন্য বলে রেখেছে কুরআন আর বাকী হাদিস দিয়ে বেহেশতের গ্যারান্টি বিলি করা হচ্ছে, দশ গুণের বদলে ১০০ গুণ ৭০০ গুণ ৭০,০০০ গুণও করা হচ্ছে। তাদের এসব গুণ সংখ্যার বেহিসাব বৃদ্ধি দিনে দিনে বাড়ছেই। কমার কোন লক্ষণ নেই। আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুক। আমিন।

৩০ মে ২০২০ সাল।

 

ইবলিস অবিরাম: বিনাশের চেষ্টা, শুরু থেকেই।

নাজমা মোস্তফা

পরীক্ষা পাশ করতে এককালে ৩৩ ছিল মিনিমাম। মিনিমাম পাশের স্বপ্নে এখানে মাত্র ৩৩টি পয়েন্ট আনছি আমরা কিভাবে অধঃপতিত হচ্ছি তা স্পষ্ট করতে। লেখাটি প্রায় দেড় যুগ আগের লেখা। কোথাও ছাপা হয় নাই, আমার আগের অনলাইন সাইট ‘বাতিঘরে’ ও নয়। চলছে রমজান, পেটের ধান্ধা কম, তাই চিন্তাদের খুঁজে আনা। যেভাবে ওয়ায়েজরা সত্য মিথ্যা নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন, তাই সেটি সময়েরও দাবী। শুরু থেকে সত্য ধর্মটিকে বিরুদ্ধবাদীদের সাথে প্রচন্ডভাবে লড়তে হয়। গবেষণার প্রেক্ষিতে প্রাপ্ত কিছু তথ্য – আমাদের জগাখিচুড়ী দশার সন্ধানে চিন্তাশীলদের জন্য খোরাক আছে লেখাটিতে –

(১) প্রাথমিক যুগের ঐতিহাসিকগণ যা যখন ঘটেছে শুনেছেন সত্য হোক মিথ্যা হোক তারা তা লিপিবদ্ধ করে যান । প্রাথমিক যুগের নানা প্রকার সামাজিক ও রাজনৈতিক বিপ্লব এবং মুসলমান সমাজের আত্মকলহ ও গৃহযুদ্ধের ভীষণতার মধ্য হতে প্রাচীন ঐতিহাসিকগণ দেশের প্রত্যেক গ্রামের, প্রত্যেক মানুষের মুখে ইতিহাস ও হযরতের জীবনী সম্বন্ধে সঙ্গত অসঙ্গত যে বিবরণটুকু প্রাপ্ত হয়েছেন, তাই লিপিবদ্ধ করে যান। (মোস্তফা চরিত, মোহাম্মদ আকরাম খাঁ, পৃষ্ঠা-৭)

(২) কিন্তু আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি যে, পক্ষপাতশূণ্য ইতিহাস রচনার উপকরণ একমাত্র আমাদের নিকট ব্যতীত জগতের আর কোথাও বিদ্যমান নেই। যার ফলে লেখকগণের ব্যক্তিগত মত, সংস্কার ও বিশ্বাস বহু স্থলে প্রকৃত ইতিহাসকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। তারা যা শুনতে পেয়েছেন তার একটি বা একটুকও ঢেকে রেখে নিজেদের পুস্তকে লিপিবদ্ধ করেন নাই। এমন কি, যা দ্বারা হযরতের চরিত্রে দোষারূপ হতে পারে বা কুরআন সম্বন্ধে সংশয় উপস্থিত হতে পারে তাও তারা পুস্তকে স্থান দিতে কুন্ঠিত হন নাই। (সূত্র-ঐ)

(৩) এসব বেছে বেছে খ্রীষ্টান লেখকগণ নিজেদের পুস্তকে মহানন্দে স্থান দান করেন। এবং ঐ সূত্র ধরে কখনো যুক্তি তোলার চেষ্টা করেন কখনো বা কথার মাঝে আরো বেশী করে ঘোরপ্যাঁচের সৃষ্টি করেন।

(৪) বস্তুত সত্য মিথ্যা, বিশ্বাস্য অবিশ্বাস্য বাছাই করার দ্বায়িত্ব ছিল পরবর্তী লেখকদের। পরবর্তী লেখকরা তা করেন নাই বা হয়তো করা অনাবশ্যক মনে করেছেন। কালে মুসলমান সাহিত্য, ভূগোল, খগোল, দর্শন, বিজ্ঞান, হাদিস, তফসির, ফিকাহ, অছুল, সমস্তের পূর্ণতা যেন চরমভাবে হয়ে গেছে মনে করে সব মেনে নেয়। তারা আর কোন প্রকার সংশোধন, পরিবর্তন, পরিবর্জন, বা পরিবর্ধন সঙ্গত মনে করলো না। (ঐ-সূত্র)

(৬) কালে তারা ভাবতে থাকে এসব করা অন্যায়, যা আছে তাই মানবো। তাই দেখা যায় “আজ একজনকে আল্লাহ এক যেমন বিশ্বাস করতে হয় তেমনি ইহুদীদের অবিশ্বাস্য পুস্তক থেকে প্রাপ্ত ও কিংবদন্তির সুবাদে প্রাপ্ত ৩৩৩৩ হস্ত দীর্ঘ উজ-বেন-ওনকের কেচ্ছাও বিশ্বাস করতেই হবে। তুমি যেমন আল্লাহর ‘আরশ কুর্সিতে’ বিশ্বাস করবে, সেইরূপ তোমাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, “কো-কাফ-পাহাড়” (ককেসাস পর্বত) সমস্ত দুনিয়াকে বেষ্টন করে আছে এবং আছমানের প্রান্তগুলি তার উপর স্থাপিত হয়ে আছে, ইত্যাদি। বিশ্বাস না করলে তুমি মুসলমানই থাকতে পারবে না। প্রমাণঃ—“এয়ছাহি কহিল রাবী কেতাবে খবর”। (ঐ গ্রন্থ পৃষ্ঠা ৯)

(৭) উজ-বেক-ওনকের নানা প্রকার আজগুবী গল্প আমাদের ইতিহাস ও তফসিরে লেখা আছে। তার শরীরের দীর্ঘতা ৩৩৩৩ হাত, সমুদ্রে তার হাঁটু পানি, সে সমুদ্রের বড় বড় (সম্ভবতঃ তিমি) মাছগুলিকে সূর্যের গায়ে ঠেসে ধরে কাবাব করে খেত। নূহের বিখ্যাত তুফানের সময় যখন উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গের উপর দিয়ে পাহাড়ের মত ঢেউ বয়েছিল সে তুফানে তার মাত্র বুক পানি হয়েছিল। শেষে হযরত মুসা একখানি খুব লম্বা লাঠি নিয়ে লাফ দিয়ে নিজে বহূ উর্ধ্বে উঠে তার পায়ে গোড়ালির উপর আঘাত করেন। এত বড় যে উজ-বেক-ওনক, সেই আঘাতে ৩৫০০ বছর বয়সে তার হালাক হয়ে গেল। জালালুদ্দীন সয়ুতী তার অভ্যাস মত, এটা প্রমাণ করবার জন্যও একটি পুস্তিকা লিখেন। কিন্তু পূর্বকালের বিশ্বস্ত মোহাদ্দেসরা এই গল্পগুলিকে ‘মিথ্যা ও মৌজু’ বলে নির্দেশ করেছেন। এবনে যাওজী বলেছেনঃ “যে মিথ্যাবাদীরা আল্লাহর নামে এরূপ উপকথা রচনা করেছে, তাদের অপেক্ষা সেই সব মুসলমান পন্ডিতের অসম সাহসিকতা অধিকতর আশ্চর্যজনক, যারা এই হাদিছটির প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা না করে কোরআনের তফসির প্রভৃতিতে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এটি এবং এটির অনূরূপ বিবরণগুলি ধর্মদ্রোহী, খ্রীষ্টান ও ইহুদীদের রচিত গল্পমাত্র, এবং তারা যে এসকল গল্প রচনা করে নবী ও রসুলদেরে ঠাট্টা বিদ্রুপ করতো, তাতে কোন সন্দেহ নেই। (মাউজুআতে কবির, ৯৭ পৃষ্ঠা)

(৮) মাউজুয়াতে কবিরএ বর্ণিত এই শ্রেণীর মোহাদ্দেসদের অনুমান যে কতো সত্য, তার প্রমাণ হিসাবে নিচের বর্ণিত টি. পি. হিউজএর বর্ণিত তথ্য “Uj—the son of Ug, A giant who is said to have been born in the days of Adam—–. The Og of the Bible, concerning whom as Suyuti wrote a long book taken chiefly from Rabbinic tradition. (Edwal, Gesch 1. 306.) An apocryphal book of Og was condemned by Pope Gelasius. (Dec. V1. 13) Dictionary of Islam—p, 649. অর্থাৎ উজ-একজন উগ এর পুত্র, একটি দৈত্য যার জন্ম হয়েছিল হযরত আদমের সময়ে, – বাইবেলে বর্ণিত উজ্জ, যার সম্বন্ধে সয়ূতী একটি বই রচনা করেন রাবীদের গৎবাধা ধারাবাহিকতা থেকে (তথ্যসূত্র)। এই উজের উপর একটি দ্বিমুখী নিন্দাসূচক গ্রন্থ পোপ গ্যালেসিয়াস কর্তৃক রচিত হয় (সময় ও সূত্র) ডিকশনারী অব ইসলাম পৃষ্ঠা, ৬৪৯) ” উপরে এই বিবরণটিও এই ঘটনার সত্যতা তুলে ধরছে।

(৯) ঠিক এভাবেই প্রাচীন উপকথাও এসব কোন ফাঁকে ঢুকে পড়েছে ধর্মের অলিন্দে। ইসলাম ধর্ম এবং তার প্রবর্তক হযরত মোহাম্মদ(সঃ)কে জগতের সম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করার একমাত্র উদ্দেশ্যে যে সমস্ত লেখক নিজেদের শ্রম ও প্রতিভার অসদ্ব্যবহার করেছেন তারাও এই সত্যটিকে স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। উদাহরণ হিসাবে উইলিয়াম মুইরের উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি তার Life of Mohammad পুস্তকের ভুমিকায় বলেছেনঃ “There is probably in the world no other book which has remained twelve centuries with so pure a text” অর্থাৎ জগতে এরূপ পুস্তক সম্ভবতঃ আর একটিও নেই, (কুরআনের ন্যায়) দীর্ঘ দ্বাদশ শতাব্দী ধরে যার ভাষা সম্পূর্ণ অবিকৃতভাবে সংরক্ষিত হয়ে আসছে।

(১০) বিখ্যাত পন্ডিত Von Hammer বলেনঃ “We hold the Quran to be as surely Mohammad’s word as the Mohamedans hold it to the world of God.” অর্থাৎ মুসলমানরা যেরুপ নিশ্চিতভাবে কোরআনকে আল্লাহর বানী বলে বিশ্বাস করে থাকে, আমরাও ঠিক সেরূপ এটাকে (এই কুরআনকে) নিশ্চিতভাবে মোহাম্মদের বানী বলে বিশ্বাস করে থাকি।”

(১১) ইউরোপীয় লেখকগণের পুস্তকগুলি পাঠ করলে অজ্ঞতা, অসমসাহসিকতা ও গোড়ামিতে তাদের সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। হিডেনবার্গের প্রফেসর Weil কর্তৃক প্রণীত পুস্তক ১৮৪৩ খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। ওয়েল অপেক্ষাকৃত স্বাধীন ও ঐতিহাসিক ভাবসম্পন্ন হলেও কি কারণে জানি না, তার মনে এই সন্দেহ উপস্থিত হয় যে, “কেয়ামত বা মহাপ্রলয়ের ঘটনা ও শেষ বিচার মোহাম্মদের জীবন কালেই অনুষ্ঠিত হবে। এই মর্মের কয়েকটা আয়াত ‘কুরআনে’ ছিল। কিন্তু মোহাম্মদের মৃত্যু হয়ে গেলে যখন দেখা গেল যে, ঐ পদগুলি মিথ্যা হয়ে যাচ্ছে তখন নবীন সদস্য নেতারা কয়েকটি আয়াতের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করেন। মোহাম্মদও যে মরবেন এবং মৃত্যুর পর আবার তিনি (যিশুর ন্যায় স্বর্গ হতে) ফিরে আসবেন, লিখিত ও মুখস্ত কুরআনগুলিতে এই সব কথা যোগ করে ভক্তগনের বিশ্বাস তারা অক্ষুন্ন রাখবার চেষ্টা করেছিলেন”।

(১২) লিডেন ইউনিভার্সিটির আরবী অধ্যাপক (Professor C.Snouck Hurgronje) সন্নাউক হারগ্রোঞ্জে, গ্রন্থকার একজন গোড়া খ্রীষ্টান, আরবী সাহিত্যে ও ইসলামিক শাস্ত্রাদি অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্য তিনি জীবনভর সাধনা করেছেন। তিনি ছদ্মবেশে কয়েকমাস পর্যন্ত জেদ্দা ও মক্কায় অবস্থান করেন (১৮৮৪-৮৫) এবং হাজিদের সাথে তিনি হজ পর্বও সমাধা করেন। মুসলমান ধর্ম সম্বন্ধে আমেরিকায় তার বক্তৃতাগুলি ১৯১৬ সালের শেষভাগে মুদ্রিত হয়। যখন অধ্যাপক পল ক্যাসানোভা তার প্রথম সংস্করণ এর ৩৯৭ পৃষ্ঠাতে তিনিও ওয়েলএর অন্ধ অনুকরণে কুরআনের দুই আয়াতের বিশ্বস্থতায় সন্দেহ করেন। প্রফেসর হারগ্রোঞ্জ বলেন, Noldeke  আজ হতে ৫০ বৎসর পূর্বে তার Geschichte des Quran নামক পুস্তকে Mohammad et la fin du monde, parts, 1911. ঐ ভিত্তিহীন সন্দেহের মিটমাট করে গিয়েছেন।

(১৩) অধ্যাপক মহাশয় ক্যাসানোভার কথায় আশ্চর্যান্বিত হয়ে বলেন, In the Skeptical times there is very little that is above criticism, and one day or other we may expect to hear Mohammad never existed. The arguments of this can hardly be weaker than those of Casanova against the authenticity of the Qoran. (PS 16-17). অর্থাৎ আমাদের এই সন্দেহবাদের যুগে সমালোচনার অতীত বড় কিছু নাই। এবং একদিন না একদিন আমাদেরে এটাও হয়তো শুনতে হবে যে, কখনও মোহাম্মদ বলে কোন লোকের অস্তিত্বই ছিল না। এর যে যুক্তি, তা কুরআনের প্রামানিকতার বিরূদ্ধে ক্যাসানোভার যুক্তি অপেক্ষা কোন অংশেই দুর্বল হবে না। (১৬-১৭ পৃষ্ঠা)।

(১৪) ডাক্তার স্প্রেঙ্গারের ‘মোহাম্মদ চরিত’ যারা পাঠ করেছেন, তারা জানেন তিনি যে ইসলামের কত বড় শত্রু এবং এটিও সত্য যে তিনি আরবী ভাষায় পন্ডিত ছিলেন। তিনিও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, “There is no nation, nor has there been any which like them has during twelve centuries recorded the life of every man of letters. If the biographical records of Musalmans were collected, we should probably have accounts of the lives of half a million of distinguished persons.” অর্থাৎ পৃথিবীতে বর্তমান যুগে এমন কোন জাতি নাই, অথবা অতীত যুগেও এমন কোন জাতি ছিল না, যারা মুসলমানদের ন্যায় দীর্ঘ দ্বাদশ শতাব্দীর প্রত্যেক বিদ্বান, সাহিত্যিক ও লেখকদের জীবন চরিত লিপিবদ্ধ করে রাখতে সমর্থ হয়েছে। মুসলমানদের জীবন চরিত সংগৃহীত হলে আমরা খুব সম্ভব পাঁচ লক্ষ ব্যাক্তির জীবন চরিত প্রাপ্ত হতে পারতাম।”

(১৫) তখন খ্রীষ্টান ও ইহুদীদের থেকে রেওয়ায়েৎ গ্রহণও শরা অনুসারে বৈধ ছিল। এতে যে সকল ইহুদী ও খ্রীষ্টান প্রকাশ্যভাবে ইসলামের বিরূদ্ধাচারন করতে সাহসী হয় নাই অথচ তারা মনে মনে ইসলাম সম্বন্ধে যথেষ্ট বিদ্বেষ পোষন করতো তারা তাদের নিজেদের ধর্মে আসক্ত করার জন্য তাদের অনেক টিকা টিপ্পনী প্রচার করতো। উদাহরণ স্বরূপ এরূপ একজন হিসাবে আব্দুল্লাহ-এবন-আমর-এবন-আছের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। বিখ্যাত মোহাদ্দেস ছাখাভী তার সম্বন্ধে বলেনঃ “এরমুক যুদ্ধে ইহুদী ও খ্রীষ্টানদিগের বহু পুস্তক, তার হস্তগত হয়। তিনি সেই সব পুস্তক অবলম্বন করে বহু অজ্ঞাত ঘটনা বর্ণনা করতেন। এমন কি তার কোন কোন শিষ্য অনেক সময় তাকে বলতে বাধ্য হয়েছেন যে, হযরতের হাদিছ বর্ণনা করুন – ঐ সকল কেতাবের বিবরণ বর্ণনা করবেন না।”

(১৬) আল্লামা এবনে খাল্লেদুন জগতে সর্বপ্রথমে দার্শনিক হিসাবে ইতিহাসের সমালোচনা করেন, মোকাদ্দমা ইতিহাসের এক অনুপম সম্পদ। এর ভূমিকায় তিনি লেখেনঃ “আরবদিগের মধ্যে কোন শাস্ত্রগ্রন্থ বা জ্ঞান বিদ্যমান ছিল না। অসভ্যতা ও মূর্খতায় তারা আচ্ছন্ন ছিল। সৃষ্টিতত্ত্ব, তার পুরা কাহিনী, তার বৈচিত্র ও অন্যান্য বিষয়ে যখন তাদের জানবার দরকার পড়তো তখন তারা আপন প্রতিবাসী ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করতো। কিন্তু সে সময় আরবে যে সব ইহুদী বাস করতো, মূর্খতায় তারাও আরবদের সমান ছিল। ঐ শ্রেণীর জনসাধারণের পক্ষে তৌরাৎ সম্বন্ধে যেরূপ এবং যতটা জ্ঞানলাভ করা সম্ভব, তার অতিরিক্ত কিছুই তারা জানতো না।” তিনি আরো বলেন,“আমাদের লেখকগণ ঐ সকল কিংবদন্তি ও গল্প গুজব নকল করে তফসিরের কেতাবগুলিতে ঢুকিয়ে দিয়াছেন। আমরা পূর্বেই বলেছি যে, এ সকল গল্পের মূল মূর্খ ও অজ্ঞ মরূপ্রান্তরবাসী ইহুদীদের নিকট থেকে গৃহীত। অথচ তারা যা নকল করছেন, তার সত্যাসত্য পরীক্ষা করেও দেখেন নাই। (মোকাদ্দমা এবনে খল্লেদুন)

(১৭) অতিরঞ্জন-পটু লেখকগনের কৃপায় এবং অতিভক্ত মুসলমানদের কল্যাণে, কালে তাই ইসলামের সর্বাপেক্ষা আবশ্যক, বিশ্বাস্য ও অবশ্য মান্য অংশে পরিণত হয়ে যায়। এই দুরবস্থার শোচনীয় ও পূর্ণ পরিণতি দুই শতাব্দী পূর্ব হতে আরম্ভ হয়েছে। এমনকি আমরা এরূপ অনেক লোকও দেখেছি, যাদের জ্ঞানের সাথে তাদের বিশ্বাসের সামঞ্জস্য নেই। (মোস্তফা চরিত, মোহাম্মদ আকরম খাঁ, পৃষ্ঠা ৬৬)

(১৮) ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের বংশগত কিংবদন্তি ও প্রবাদ এবং তাহাদের বিশ্বাস ও সংস্কারগুলি ছাহাবীদের অধিকাংশের জানা ছিল। এ অবস্থায় ছাহাবী ও তাবেয়ীগণ ঐ সকল পুস্তক পুস্তিকায়, নিজেদের পরষ্পরাগত বিশ্বাস ও সংস্কারের এবং স্বদেশে এবং স্বসমাজে প্রচলিত জনশ্রূতি ও কিংবদন্তির উপর নির্ভর করে বহু অজ্ঞাত বিবরণ ও ভাবী ঘটনাদি গল্পচ্ছলে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু কালক্রমে ঘটনা বিপরিত হয়ে দাঁড়ায়। দেখা যায় হযরত ওমর কর্তৃক তৌরাতের নমুনা আনয়ন। (মোস্তফা চরিত, মোহাম্মদ আকরম খাঁ, পৃষ্ঠা ৫৬)

(১৯) যে সকল সাহাবী খ্রীষ্টান ও ইহুদী ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাদের আর অপরের নিকট থেকে এসব গ্রহণের কোন আবশ্যকতা ছিল না। তাদের সংস্কার ও প্রবাদগুলি তাদের সংস্কার ও পৌরানিক কাহিনীগুলি—বহুস্থানে বিকৃত অবস্থায় নব দীক্ষিত মুসলমানদের মধ্যেও বিস্তার লাভ করেছিল। শায়খুল ইসলাম ইমান ইবনে তাইমিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, “কিন্তু অধিকাংশ লোকই ভ্রম প্রমাদ হতে মুক্তি পেতে পারেন না। ছাহাবীগণের মধ্যে এরূপ লোকও ছিলেন, যারা সময় সময় ভ্রম করতেন, তাদের পরবর্তী সময়েও এই অবস্থা। এই জন্য ছহী আখ্যায় যে সকল হাদিছ সঙ্কলিত হয়েছে তার মধ্যে এরূপ হাদিছ সবও আছে যা ভ্রম বলে পরিজ্ঞাত”। (কেতাবুল তাওয়াচ্ছোল-৯৬পৃষ্ঠা)

(২০) সেই সময়কার খ্রীষ্টান লেখকগণ প্রচার করতে থাকেন যে, “আরবগণ মোহাম্মদ নামক একটি পুতুল প্রতিমার পূজা করতো। মোহাম্মদ নিজের জীবনকালে স্বহস্তে এই পুতুলটি নির্মাণ করেন এবং উহাকে অভঙ্গুর করার জন্য একটি পিশাচের সাহায্যে ও যাদুমন্ত্রের দ্বারা উহাতে একটি ভয়ঙ্কর রকমের শক্তি প্রবিষ্ট করিয়ে দেন যে, এই পুতুলটি খ্রীষ্টানদিগের প্রতি এমন আশ্চর্যজনক হিংসা ও ঘৃণার ভাব পোষন করতো যে, তাদের কেহ সাহস করে এই প্রতিমার নিকট যেতে চাইলেই কোন একটা গুরূতর বিপদে পড়তে হতো। এমন কি এটাও কথিত আছে যে, কোন পাখীও উহার উপর দিয়ে উড়ে গেলে সে সঙ্গে সঙ্গে মারা যেত। (History of Charles the Great, ৬-৭ পৃষ্ঠা, T. Rodd কর্তৃক অনুবাদিত (১৮১২) হতে গৃহীত।)

(২১) Father Jerome Dandini তার “A Voyage to Mount Lebanus” গ্রন্থে বলেন, “মোহাম্মদ মুসা নবী অপেক্ষা অধিকতর আশ্চর্যজনক কোন অলৌকিক কান্ড প্রদর্শণ করে নিজেকে তাহা অপেক্ষা বড় নবী বলে প্রতিপন্ন করার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠেন। এই জন্য তিনি কয়েকটি জলপূর্ণ পাত্র ভূগর্ভে লুকিয়ে রাখেন। কিন্তু কয়েকটি শুকর ঐ স্থানের মাটি খুঁড়ে ফেললে এবং ইহাতে মোহাম্মদের “বুজরূকি” দেখাবার সমস্ত অভিসন্ধিই নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে ক্রোধান্ধ হয়ে তিনি শুকরকে অপবিত্র ও তার মাংসকে নিষিদ্ধ বলে প্রচার করেন। (অষ্টম অধ্যায়)।

(২২) বিখ্যাত খ্রীষ্টান ধর্ম যাজক হেনরী স্মিথ রাণী এলিজাবেথের সময়কার লোক। তিনি স্বনামধন্য Roger of Wendover এর প্রমুখাৎ উল্লেখিত গল্পটির উল্লেখ করেন। “একদা পানোন্মত্ত অবস্থায় মোহাম্মদ তার প্রাসাদে বসে আছেন। এমন সময় তার পুরাতন রোগটির আশংকা করে তিনি খুব তাড়াতাড়ি সেখান থেকে উঠে গেলেন। যাওয়ার সময় সকলকে বলে গেলেন যে, কোন দেবদূতের আহ্বানে তিনি যাচ্ছেন। এ অবস্থায় কেহ যেন তার অনুসরণ না করে, অন্যথায় দেবদূতের কোপে পড়ে তিনি নিধন হবেন। রোগাক্রমনের ফলে মাটিতে পড়ে আঘাতপ্রাপ্ত না হন—এই উদ্দেশ্যে, অতপর তিনি একটা গোবরগাদার উপর উঠে বসেন। সে সময় তিনি সেখানে পড়ে ছটফট করতে থাকেন এবং তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে লাগলো। এসব দেখে এক পাল শূকর সেখানে ছুটে আসলো এবং তাকে খন্ড বিখন্ড করে ফেলে এবং এরূপে মোহাম্মদের জীবন লীলার অবসান হয়ে যায়। এ সময় শূকরের চিৎকার শুনে তার স্ত্রী ও অন্যান্য পরিজনবর্গ সেখানে ছুটে এসে দেখলেন যে, তাদের প্রভুর অধিকাংশ শূকর দল খেয়ে ফেলেছে। তখন তারা দেহের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে সেগুলোকে একটি স্বর্ণ-রৌপ্য খচিত কাঠের পেটিকার মধ্যে স্থাপন করে সকলে একত্রে ঘোষনা করে দিলেন যে, স্বর্গের দেবদূতেরা প্রভুর শরীরের অল্পাংশ মাত্র মর্ত্যবাসীদের জন্য রেখে আনন্দ কোলাহল সহকারে তার অধিকাংশ স্বর্গাধামে নিয়ে চলে গেছে। মুসলমান জাতির শূকরের প্রতি ঘৃণার মূল কারণ ইহাই। (পূর্ববর্তী গ্রন্থ, ১৯ পৃষ্ঠা)

(২৩) কুরআনের একদল টীকাকার ইহুদী ও খ্রীষ্টানদিগের পুস্তক পুস্তিকা ও বাচনিক কিংবদন্তিগুলোকে কিরূপ নির্মমভাবে কুরআনের তফসিরে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছেন। তার প্রমাণ হিসাবে একদল লোক ইহুদী ও খ্রীষ্টান দিগের অনুকরণে বলেছেন যে, কুরআনের  জন্য হযরত ইসমাইলকে নহে বরং হযরত এসহাককে উপস্থাপিত করা হয়েছিল। (জাদুল-মাআদ, ১ম খন্ড, ১৪-১৭ পৃষ্ঠা)

(২৪) স্যার উইলিয়াম মূর একজন ভদ্র ও উচ্চপদস্থ ইংরেজ। তার লিখিত Life of Mahomet   বা মোহাম্মদের জীবন চরিত নামক পুস্তকের দুটি সংস্করণ (১৮৫৭ ও ১৮৬১ সালে) প্রকাশিত হয়। এর শেষ সংস্করণ প্রচারিত হওয়ার পর ১৮৭০ খ্রীষ্টাব্দে স্বনামধন্য মহাত্মা সৈয়দ আহমদ সাহেব লন্ডন হতে Essays on the life of Muhammed নামক পুস্তক প্রকাশ করেন। মহাত্মা সৈয়দ বিশেষ করে মূর সাহেবের মিথ্যা ও প্রবঞ্চনা এবং তার উল্লেখিত সূত্রগুলির অকিঞ্চিৎকরতা অকাট্যরূপে প্রকাশ করেন। এরপর ১৮৭৭ খ্রীষ্টাব্দে মূর সাহেবের পুস্তকের এক নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়। মূর সাহেব কোন গুপ্ত ও গোপনীয় কারণে পূর্ব সংস্করনের আরবী ইতিহাস “Most of the notes, with all the reference to original authorities have been omitted —- throughout amended  (নতুন সংস্করনের ভুমিকা) । পূর্বের সবকিছুই একদম হজম করে দেন। এবং কেনই বা তা সংশোধিত হয়েছে তা সৈয়দ সাহেবের পুস্তকের সাথে মিলিয়ে দেখলে তবে বোঝা সম্ভব। তাই নীরবে সংশোধন করলেও তা প্রকাশ্যে স্বীকার করার সাহস হয় নি (মোহাম্মদ আকরম খাঁ, মোস্তফা চরিত, পৃষ্ঠা, ১৬৯)।

(২৫) হযরত বিশেষ তাগিদ সহকারে বলে যান যে, “সাবধান! খ্রীষ্টানেরা যেরূপ মরিয়মের পুত্র যীশুকে বাড়াতে বাড়াতে অসীম ও নিরাকার “পরম পিতার”আসনে বসিয়ে দিয়েছে। তোমরা যেন আমার সম্বন্ধেও সেরূপ অতিরঞ্জন করো না, আমি তো আল্লাহর একজন দাস ও তার বার্তাবহ আর কিছুই নহি (মোসলেম–মেশকাত-২৮) ।

(২৬) হযরতের শৈশবকালের অবস্থা বর্ণনা কালে মূর, মার্গোলিয়থ প্রভৃতি লেখকরা সবকিছুর মাঝেই একটা নতুনত্বের সন্ধান পান। মূর সাহেব হযরতের মৃগী রোগ প্রমাণ করার জন্য যে হিশামীর (মিথ্যা) বরাত দিয়েছিলেন, সেই হিশামিতেই এই বিবরণ বর্ণিত হয়েছে। মার্গোলিয়থ সাহেব কোন বরাত না দিয়েই বলেন, খাদিজার সহিত বিবাহের সময় খাদিজার বয়স কিছু অধিক ছিল বটে তবে যে ৪০ বৎসর হয় নাই, ইহা নিশ্চিত (মোস্তফা চরিত, ৬৬ পৃষ্ঠা) ।

(২৭) ইতিহাসের বিশুদ্ধতা রক্ষা করাও মুসলমানেরা ধর্মের অঙ্গীভূত বলে মনে করতেন। (বোখারী ও মোসলেমের হাদিছ বর্ণনা ও এছনাদ সংক্রান্ত পরিচ্ছদগুলি দ্রষ্টব্য) তারা প্রথম হতেই যেরূপ বিচক্ষনতা ও সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন জগতে তার তুলনা নেই। অমুসলিম লেখকগণ বিদ্বেষে অন্ধ হয়ে যে সকল মিথ্যা, জাল ও অপ্রামাণ্য হাদিস অবলম্বন করে হযরতের চরিত্রের ও ইসলামের শিক্ষার প্রতি দোষারূপ করে থাকেন, অতি সহজে তার স্বরূপ সন্ধান করা সম্ভব। এর প্রধান সূত্র কুরআন, দ্বিতীয় সূত্র বিশুদ্ধ ও বিশ্বস্থ হাদিছ এবং তৃতীয় সূত্র পরীক্ষিত ঐতিহাসিক বিবরণ। আমাদের তফসির ও ইতিহাসে অনেক বাজেমার্কা ও ভিত্তিহীন গল্পগুজবও বিদ্যমান আছে। পক্ষান্তরে ইহুদী, খ্রীষ্টান, পার্সিক প্রভৃতি জাতির অনেক সংস্কার ও বিশ্বাসও নানা কারণে ঐ সকল পুস্তকে এসে যুক্ত হয়ে গেছে। (ঐ গ্রন্থ, মোহাম্মদ আকরম খাঁ, পৃষ্ঠা ৭৮)

(২৮ ) বলা বাহূল্য যে, মদীনায় ইসলামের এই আশাতীত সফলতা দর্শনে আমাদের পরম বন্ধু খ্রীষ্টান লেখকরা যৎপরোনাস্তি মর্মাহত হলেন। মূর সাহেব একস্থানে বিলাপ করে বলেছেন, “আর তিনটা বৎসর যদি মোহাম্মদ এইরূপ অকৃতকার্য হতেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ইসলামের প্রদীপ নিভে যেত। (ঐ গ্রন্থ ৩১৫ পৃষ্ঠা)

(২৯) সকল যুগের সকল দেশের সকল জাতির সমগ্র ইতিহাস সমস্বরে উত্তর দেয় যে, “পুরোহিত ও যাজক সম্প্রদায়” সত্যের প্রধান বৈরীতা করেছে অতীতেও। তাই কুরআন এর প্রতিবাদে বলে যে এরা আল্লাহকে ত্যাগ করে নিজেদের পীর ফকির এবং যাজক পুরোহিতদেরে খোদা বানিয়ে নিয়েছে। মদীনায় এইরূপ কোন পুরোহিত বা যাজক জাতি ছিল না, কোন বড় দেব মন্দিরও ছিল না, কোন তীর্থস্থান ছিল না। কাজেই মদীনার পৌত্তলিকগণ কোরেশদের ন্যায় ইসলামের নাম শুনে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠে নাই।

(৩০) মূর সাহেব বিবি খাদিজা ও আবুতালেবের মৃত্যু বিবরণ লিপিবদ্ধ করার পর বড় আক্ষেপ করে বলেন,  A few more years of similar discouragement, and his chance of success was gone, অর্থাৎ আর কয়েকটা বৎসর মাত্র এইরূপে উৎসাহ ভঙ্গ হলেই মোহাম্মদের কৃতকার্যতার সম্ভাবনা থাকত না। (১১২ পৃষ্ঠা) মুসলমানগণ ও হযরত স্বয়ং নিরাপদে মদীনায় পৌছে যাচ্ছেন এই লক্ষ্য করে মহাত্মা মারগোলিয়থ যারপর নাই আফসোস করে বলছেন, Arabia would have remained pagan, had there be a man in Meccah who could strike a blow; who would act and be ready to accept the responsibility for acting. অর্থাৎ মক্কায় যদি এমন একটা লোক থাকতো, যে মুসলমানদের একটা আঘাত করতে পারতো এবং যে দ্বায়িত্ব গ্রহণ পূর্বক কাজ করতো তা হলে আরব দেশ পৌত্তলিক থেকে যেত (২০৭ পৃষ্ঠা, Mahomed.D.S.Margoliuth, London, 1906).

(৩১) হিজরতের সময়কার সেই স্মরণীয় ঘটনাটিতে মোহাম্মদ (সঃ) আপন সহচরকে বললেন—চিন্তিত হয়ো না, বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।(সুরা তওবার ৪০ আয়াত) যখন আবুবকরকে রসুল(সঃ) স্বান্তনা দিচ্ছিলেন এই আয়াতেও তার প্রমাণ বর্তমান। হাদিছেও বোখারী, মোসলেম, তিরমিজীতে এর স্বপক্ষ প্রমাণ বর্তমান। কিন্তু তারা খ্রীষ্টান লেখকেরা দেখলো মৃত্যুর বিভিষিকা দর্শনে ভীত হয়ে তিনি যীশু চিৎকার করতে লাগলেন, ‘প্রভু! তুমি আমাকে কেন ত্যাগ করলে?’ পদে পদে তাদের বাগাড়ম্বর, বাহূল্য অতিরঞ্জন লক্ষ্যনীয় তাদের লেখালেখিতে। মদীনায় হিজরতের পর প্রথম মসজিদের স্থান নির্বাচনের ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মূর সাহেব তার গ্রন্থে বলছেন, It was a stroke of policy. His residence would be hallowed in the eyes of the people as selected super naturally; while the jealousy which otherwise might arise from the quarter of one tribe being preferred before the quarter of another, would thus received decisive check, (p-180) অর্থাৎ সংক্ষেপে দাড়ায় আপনার গুরূত্ব বৃদ্ধির জন্য তিনি চালাকি দ্বারা গোলযোগ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য মদীনার অবস্থান নির্বাচন সম্বন্ধে এই প্রকার উক্তি করেছেন। ঐ যে কথায় বলে না দুর্জনের ছলের অভাব হয় না

(৩২) জুমআর নামায সম্বন্ধে মারগোলিয়থের  দাবী তিনি এটিকে কাল নির্নয়ের ভ্রম বলে লিখেন যে, The adoption of Friday as a sacred day come later, at the suggestion of a Medinese, and after the relation with the Jews had become satisfactory, (214-page)  কাল নির্নয়ের অছিলায় লেখক বিশেষ চাতুরতার সাথে তার পাঠকদেরে দেখাতে চান যে, প্রথমে ইহুদীদেরে সন্তুষ্ট করার জন্য হযরত তাদের সাব্বাত বা শনিবারকে পবিত্র দিবস বলে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু মদীনা আগমনের পরে বিরোধের কারণে শুক্রবার উপাসনার দিন সাব্যস্ত হলো। মসজিদ নির্মানের সময় মুসলমানদের সাথে সুর করে ছড়া পাঠের সময় মহানবী ওলট পালট করে ফেলছিলেন (এবন হেশাম ১-১৭৬)। এবনে হেশামে এই তথ্য থাকলেও যদিও এই আবৃতি যে সম্পূর্ণ নির্ভূল ছিল তা বুখারীর হাদিছ থেকেও জানা যায়। কিন্তু এখানেই মূর সাহেবেরা বেশ সূত্র পেয়ে গেলেন। মূর সাহেব এই সুযোগে হযরতের চরিত্রের উপর টেনে নিলেন যে, কবিতা ও ছন্দ সম্বন্ধে তার আদৌ কোন জ্ঞান নেই এটা দিয়ে তিনি তার স্বরচিত কুরআনের ছন্দবদ্ধ রচনার অক্ষমতা বুঝাতে চাচ্ছিলেন। এটা তার অন্য একটা চালাকি ছাড়া আর কিছু নয়।

(৩৩) এতকিছুর পরও একটি সত্যকে অবশ্যই সহজভাবে স্বীকার করতে হবে যে এর মধ্যে কিছু বিচক্ষণ পন্ডিত ব্যক্তি ছিলেন যারা সত্যের মানদন্ডে সঠিকের সমাদর করে গেছেন সর্বযুগেই। ষোড়শ শতাব্দীর শুরু থেকেই শুরু  হয়েছিল পাশ্চাত্যের লেখকদের ইসলামের প্রতি বিষোদগার। কিন্তু এদের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলেন গীবন, হীগিনস, কারলাইল ও ডেভেনপোর্ট। যাদের লেখা পড়লে স্পষ্টত জানা যায় যে, হযরত মোহাম্মদ(সঃ) সম্বন্ধে সত্য উদ্ধার ও অসত্যের প্রতিবাদ করার জন্য তারা চেষ্টার কোন ত্রুটি  করে নাই। এই শ্রেণীর ইংরেজ লেখকগণের সত্যনিষ্ঠা ও সৎসাহসের ফলেই ইসলাম ও মোহাম্মদ সম্বন্ধে পাশ্চাত্য জগতের বহু শতাব্দীর বদ্ধমূল ধারণা ও সংস্কারের ঘোর পরিবর্তন আরম্ভ হয় এবং আমাদের মতে ইউরোপে ইসলাম প্রচারের প্রথম সূচনা হয় এই সময় থেকেই। (তথ্য সূত্র মোস্তফা চরিত, ৯০ পৃষ্ঠা)

এরকম অনেক উদাহরণ আমাদের চারপাশে বর্তমান যাতে দেখা যায় কিভাবে ধর্মটির খিচুড়ীদশা ঘটানো হয়েছে। সম্ভবত শয়তান এ কাজটি তার নিজ দ্বায়িত্বে করেছে। সে এভাবেই তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে যাচ্ছে। মানুষকে সত্য থেকে ফিরিয়ে নিতে এ ধরণের খিচুড়ীদশা ধর্মটির সমূহ সর্বনাশ করেছে। আল্লাহর কালামের জায়গায় রসুলেরও নয় কখনো কখনো দেখা যায় সাহাবাদের নামে অনেক উল্টাসিধা কথা বদল করে সমাজে চালু করা হয়েছে। এ ধরণের কাজ যাদের হাত দিয়েই হোক না কেন এটা শয়তানের পাবন্দী বাড়িয়ে দিয়েছে নির্ঘাৎ। শয়তান বা ডেভিল মহানন্দে আলখেল্লার ভিতর থেকে সমাজটাকে কুরে কুরে খাচ্ছে ঠিক এভাবেই। এ লজ্জা এ সমাজের সচেতন অংশের ব্যর্থতা বৈ আর কিছু নয়! এটাই প্রমাণ করে আমাদের চেতনহীনতা কি পরিমান গভীরতর হতে পারে! কতটুকু আফিংখোর হলে আমরা এমন অধঃপাতে হারিয়ে যেতে পারি। আল-কুরআনে স্পষ্ট নির্দেশের পরও আমরা ইতস্তত করি আল্লাহর কথা শুনবো, কুরআন প্রতিষ্টা করবো নাকি কোথাও থেকে ধার করা কিছু ধারণা এনে ফাঁকতালে ঢুকিয়ে দেব! তাই প্রকারান্তরে দেখা যায় আমাদের হাত দিয়েই শয়তান তার বিজয়ের মালা বদল করে মহানন্দে তার লীলাখেলা চালিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা নেশার ঘোরে এমনই আচ্ছন্ন যে সেটুকু উপলব্ধি করার অনূভূতিটুকুনও যেন হারিয়ে ফেলেছি।

মূর, মারগালিয়থদের এসব গাজির পুথি বলতে গেলে শেষ হবার নয়। এবং তাদের সাথে সাথে কিছু সংখ্যক সৎ সন্ধানী লেখকদের উদাহরণ সত্যের এক নির্জলা প্রমাণ। মিথ্যারা কখনোই চক্রান্ত করে টিকতে পারে না। সর্বযুগেই সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী। আমাদের যাদের আজো নিদ কাটে নাই তাদের একটু চেতন ফেরানোর ও চিন্তা করা উচিত এসব ব্যাপার সম্বন্ধে। এ লেখাটি আমি মূর সাহেবের কুৎসার কারণেই লিখছি না শুধু, আমাদের অনেক অপরিনামদর্শিতার গলদ আছে তাই সর্বাগ্রে হোক নিজেদের সংশোধন সেটাই কাম্য। শ্রেষ্ঠ গ্রন্থটি ধারণ করে বসে থেকে আমরা যদি অন্ধত্ব, বোবাত্ব, পঙ্গুত্বের স্বীকার হই, তবে সে দুঃখ সে বেদনা রাখবার জায়গা কোথায়।  কথা ছিল মুসলিমদের এই গুরু দ্বায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করার,  স্মরণ রাখা উচিত – জবাবদিহিতার দায়ও তাদের অতিরিক্ত বটে!

সুসংগ্রহঃ

(ঐশী) গ্রন্থপ্রাপ্তদের মাঝে যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা এবং মুশরিকরা চায় না যে তোমাদের প্রভূর কাছ থেকে কোন কল্যান তোমাদের প্রতি নাযিল হয়, কিন্তু আল্লাহ তার করূণার জন্য যাকে ইচ্ছা করেন – মনোনীত করেন, আর আল্লাহ অপার কল্যাণের অধিকারী। (সুরা বাক্কারাহএর ১০৫ আয়াত)

তথ্যসূত্র:

(১) “Mahomed”. D.S.Margoliuth, London, 1906

(২) “Life of Mohammad” by Willium Muir.

(৩) Van Hammer 3rd edition 21 26 pages (cross ref Muhammad Akram Kha Mustafa Charit)

(৪) “Mukaddama” by Ibne Khalledun.

(৫) Dr Spranger’s “life of Muhammad”.

(৬) Father Jerome Dandini র “A Voyage to Mount Lebanus”.

(৭) স্যার সৈয়দ আহমদ সাহেবের লিখিত Essays on the life of Muhammed.

(৮) (মোসলেম–মেশকাত-২৮)

(৯) মাউজুয়াতে কবির ।

(১০) (জাদুল-মাআদ, ১ম খন্ড, ১৪-১৭ পৃষ্ঠা)।

(১১) (কেতাবুল তাওয়াচ্ছোল-৯৬পৃষ্ঠা)।

(১২) (History of Charles the Great, ৬-৭ পৃষ্ঠা, T. Rodd কর্তৃক অনুবাদিত (১৮১২) ।

(১৩)Father Jerome Dandini র “A Voyage to Mount Lebanus”।

(১৪) (এবন হেশাম ১-১৭৬)।

(১৫) মোহাম্মদ আকরাম খাঁ লিখিত “মোস্তফা চরিত”।

 

 

সরলে গরল ঢালি

নাজমা মোস্তফা

ইসলাম এ যাবত ধারাবাহিক খন্ডিত বিধানের পর একটি পূরিপূর্ণ বিধান নিয়েই আমাদের মাঝে নাজেল হয়েছে আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে। তার প্রতিটি কাজ, তার প্রতিটি আচরণে পরিপূর্ণ আকারে আমাদের নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর মাধ্যমে সুদীর্ঘ ২৩ টি বছরে সেই বিধান নেমে এসেছে থেমে থেমে, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় উদাহরণ হয়ে তা উজ্জ্বল জীবন্ত বাস্তবতার এক ব্যতিক্রমধর্মী দলিল এই কুরআন তার প্রমাণ হয়ে আছে।

কথা ছিল এই গ্রন্থটিকে আমাদের প্রধান সিলেবাস হিসাবে ধরে নিয়ে প্রতিটি জীবনের ছক আঁকবার। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্যি কথাটি হলো আজো পুরাপুরিভাবে আমরা এই গ্রন্থটির সঠিক মূল্যায়ন করতে প্রকৃতপক্ষে অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়েছি। এবার আমরা পরবর্তীরা কিভাবে এর থেকে ক্রমশঃ দূরে চলে গেছি তা একটু খতিয়ে দেখলে এ গলদটুকুন খুব সহজেই আঁচ করতে পারবো। আমরা বর্তমান সময়কার বেশীরভাগ মানুষ এখন আর ঐ গ্রন্থ অনুসারে মোটেও চলার প্রয়োজন বোধ করি না। এটি আমাদের বেশীর ভাগের কাছে একটি পুথিগ্রন্থ যা আমরা পালন না করলেও দিনরাত জপে থাকি, আর কিছু না পারলেও এ কাজটি আমরা অনেকেই করি তৃপ্তিভরে।

প্র্রথম নাজেলকৃত কথা হিসাবে “পড়’ কথার নির্দেশ পালন না করলেও আমাদের কর্তাব্যক্তিরা এই আয়াতের বিরূদ্ধেই বেরিকেড তুলেছেন এই সেদিনও। যদিও নারীপুরূষ সবার উপরই এ কথাটি এসেছে তবুও এই নারীশিক্ষা উনাদের কাছে সেদিনও ছিল এক দারূণ অনাচার। রমজানের আগে শবেবরাত হিসাবে যা পালন করা হয় তাও বাস্তবে দেখা যায় প্রকারান্তরে কালের ধারায় গড়ে উঠা আরেক আচার, যার সাথে সঠিক ইসলামের কোন সামঞ্জস্যতা নেই। এটা এক অভিনব সংস্কৃতি বিশেষ করে ঢাকায় যেভাবে এদিন পালন করতে দেখেছি তা রমজানের চেয়ে অনেকের কাছে এ রাতের গুরুত্বই অধিক। ওখানে ঢাকাতে শবেবরাত এবং ঈদপর্ব বেশীর ভাগ জনতাই পালন করতে ব্যস্ত, রমজানের দিকে জনতার নজর বরং কম।

পার্শ্ববর্তী সমাজের কোন আচার কোন ফাঁকতালে এসে ঢুকে পড়েছে আমাদের এই প্রাচ্যদেশীয় এক ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা বলে। বাস্তবিকই অনেকে মনে করে থাকেন এ রাত নাকি স্রষ্টার নির্ধারিত সারা বছরের বিলি বন্টনের রাত। সত্যিই যদি তাই হয় তবে বলতে হবে আমাদের জনতা সারা রাত জেগে খুব কম পাওনাই অর্জন করেন। তার চেয়ে দেখা যায় ভিন জাতি গোষ্ঠীর যারা এ রাত ঘুমিয়েই কাটায় তারাই বরং দাওটা মারে ভালই। বাস্তবে ইসলামে প্রতিটি দিনরাতই পূণ্যের এখানে শনি মঙ্গলের কোন পার্থক্য নেই। সব দিনরাতই স্রষ্টার দিন, সব দিনরাতই সমান। একরাতে পার পাওয়ার এ হিসাব কালের ধারায় গড়ে উঠা আরেক অনাচার। ইসলামে শুধু একটি রাতের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সেটি হলো শবে-কদর তার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনার কারণেই, এই দিন পবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআন প্রথম নাজেল হয়। তাই এই রাতটি সহস্র মাসের চেয়েও মূল্যবান বলে এই শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোরআনে ইঙ্গিত করা হয়েছে। যার সন্ধানে অনেকেই ইতেকাফ করে থাকেন। রমজানের শেষ দশ রাতের যে কোন একটি রাত এটি হতে পারে তাই অনেকেই এর সন্ধানে তৎপর থাকেন। কিন্তু সঠিক করে বলা নেই যে, এটা কোন রাত তবে এটা অবশ্যই সঠিক শেষ দশরাতের যে কোন একটি রাত।

এখন রমজান মাস চলছে। এই মাসটি নানা দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহ নেই। এরকম কোন ব্যবস্থা গোটা এই বিশ্বে আর দ্বিতীয় কোন জাতির মাঝে নেই। অবশ্যই এটি একটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা। কারণ এটা দেখানোর বা প্রদর্শন করার কোন বিষয় নয়। আল্লাহ এবং তার সৃষ্ট বান্দার মাঝে এক অলিখিত চুক্তি এই সময় কার্যকর থাকছে। চরম সংযমের মাধ্যমে সব ধরণের ভোগ থেকে আপন সত্ত্বাকে বাঁচিয়ে রাখা, এবং ঠিক স্রষ্টার নির্দেশ মত তারই নিয়ম অনুসারে সূর্যোদয় থেকে  সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই সংযম একই ধারায় কার্যকর। এটার অর্থ এই নয় যে এ দলের ঘরে খাদ্য নেই, অগাধ প্রাচুর্য রেখেও এই সমাজের জনতারা বহুবিধ মঙ্গলার্থে স্রষ্টার নির্দেশে এই অসম্ভব সুন্দর ও ব্যতিক্রমী কাজটি করে চলেছেন। এর সুফল শারীরিক মানসিক আত্মিক বহুধা অর্জণে ভরা। একজন মুমিন তার হৃদয় মন আত্মায় আল্লাহকে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করে। শুধু তাকে খুশী করতেই তার আদেশ পালন করতে তারা কিছুই খায় না। যাকে জীবনেও দেখে নাই, শুধু শুনেছে আর বিশ^াসে বিঁধেছে, সেটি কি পরিমাণ দৃঢ়, ভাবেন – না হলে একজন রোজা করতেই পারবে না। এটি শুধু উপবাস করা নয়, এটি আত্মার পরিশুদ্ধির ব্যায়াম। একজন ক্ষুধার্তের ক্ষুধা কি হতে পারে সেটি কেউ না জানলেও জানে, একজন রোজাদার। 

এটাই সঠিক ঈমান নির্ধারণের উত্তম মাধ্যম। কারণ একজনের ঈমান না থাকলে পৃথিবীর কোন শক্তি নেই তাকে এই কাজ করায়। তা ছাড়া সে যে কোন জিনিস যে কোন মুহূর্তে লুকিয়ে খেয়েও ফেলতে পারে বাহ্যিক দৃষ্টিতে তাও হয়তো কেউ ধরতেই পারবেন না। কিন্তু এতো কিছুর পরও যে লোকেরা খাচেছ না, সেই বিশ্বাসের মূল্য কত? এবার পবিত্র গ্রন্থ থেকে দু একটি আয়াত এখানে প্রয়োজনে আনছি।

“(এ রমজান বিধিবদ্ধ হচেছ) নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনের জন্য। কিন্তু তোমাদের মধ্যে যে কেউ অসুস্থ অথবা সফরে আছে সে সেইসংখ্যক (অন্য দিনগুলিতে পরে স্বাভাবিক অবস্থায়) রোজা রাখবে। আর যারা (বার্ধক্য, দীর্ঘস্থায়ী অসুখ, সারা বছর অবিরত ভ্রমন, গর্ভাবস্থা) এ অতি কষ্টসাধ্য বোধ করে (তাদের জন্য) প্রতিবিধান হলো একজন মিসকিনকে (সমান সংখ্যক দিনের জন্য) খাওয়ানো (বা রোজা ভাঙ্গার দিনগুলোর সমান সংখ্যক নিঃস্বকে একদিনের জন্য খাওয়ানো) কিন্তু যে কেউ স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে ভালো কাজ করে (যেমন মাসের শেষ দিকে ঈদের আনন্দ দানের জন্য ফিতরা আদায় করে) সেটি তার জন্য ভালো। আর যদি তোমরা (বিশেষ কষ্ট সহ্য করেও) রোজা রাখো তবে তোমাদের জন্য অতি উত্তম,—যদি তোমরা জানতে (রোজার মধ্যে আত্মসংযম, নিয়মানুবর্তিতা, ধর্মভীরুতা, ও সদা সতর্কতা অভ্যাসের মাধ্যমে চরিত্র গঠনের কতো না ভালো নিহিত আছে)” (সুরা বাকারাহ এর ১৮৪ আয়াত)।

“রমজান মাস এ মাসে কুরআন নাজেল (শুরু) হয়েছিল, মানব গোষ্ঠীর পথপ্রদর্শক হিসাবে, আর (পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর সর্বোত্তম জ্ঞানভান্ডার সহ ৯৮:৩) পথনির্দেশের স্পষ্ট প্রমাণরূপে, আর ফুরকান (অর্থাৎ ভালো মন্দ ও ন্যায় অন্যায় ভেদকারী গ্রন্থ)। কাজেই তোমাদের মেধ্যে যে কেউ (এই রমজান) মাসটির দেখা পাবে সে যেন এতে রোজা রাখে (এবং পানাহার, কামাচার, পাপাচার, পরিহারের দ্বারা সংযম সাধনার ও আত্মশুদ্ধির অভ্যাস করে)। আর যে অসুস্থ বা সফরে আছে সে সেই সংখ্যক অন্য দিনগুলোতে (রোজা রাখবে ২ঃ১৮৪) আল্লাহ তোমাদের জন্য সুবিধা (দিতে) চান, আর তিনি তোমাদের জন্য কষ্টকর অবস্থা চান না, আর (তিনি চান ) তোমরা যেনো (সারা মাসব্যাপী রোজা রেখে) এই সংখ্যা পূর্ণ করো। আর যাতে আল্লাহর মহিমা কীর্তন করো (তোমাদের আত্মসংযম ও আত্মশোধনের মাধ্যমে) যে পথনির্দেশ তিনি দিয়েছেন আর তোমরা যেন কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো (সুরা বাকারাহ এর ১৮৫আয়াত)।

রমজানের উপর নাজেলকৃত উপরের কথাগুলির সার সংগ্রহ করলে দেখতে পাই কটি কথা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো:
(১) অপারগতায় বা প্রয়োজনে রমজান পালনে ব্রতিক্রমী ব্যবস্থাও আছে।
(২) কষ্ট করে হলেও যদি সঠিক সময়ে রোজা করা যায় তবে বেশী ভাল।
(৩) জীবনে চলার পথে যখনই এর সাক্ষাৎ পাবে এর অনুসারীরা যেন তা পালন করে।
(৪) অসুস্থ বা সফরের রোজা পরে করে নিতে হবে। ছাড় দেয়া গেলেও কিন্তু মাফ নেই।
(৫) উপরের ব্যবস্থা কষ্টকর সন্দেহ নেই কিন্তু সুরা বাকারাহ এর ১৮৫ আয়াতেই প্রমাণ আল্লাহ তারপরও অযথা মানুষকে কষ্ট দিতে চান না।
(৬) যে স্বতঃ প্রণোদিত হয়ে ভাল কাজ করবে তা তার জন্য খুবই ভালো।

উপরের এই কয়টি কথা থেকে আমরা এটাই জানলাম যে রমজান এক ব্যতিক্রমী শিক্ষা মানব জীবনের জন্য এক আত্মিক প্রশিক্ষন ব্যবস্থা, শুধুই কষ্ট করানো এর উদ্দেশ্য নয়। মোটকথা এটার সঠিক উদ্দেশ্য মানুষকে সিরাতুল মোস্তাকিমের সঠিক শিক্ষা দেয়া, অন্য কিছু নয়। কিন্তু বাস্তবে আমরা আজ নানা দলে বিভক্ত। গোত্রে গোত্রে বিভক্ত হয়ে এক সত্যকে আমরা এক একজন এক একভাবে নিচিছ। আমাদের মাঝে দেখা যায় একটি বড় পরিবারের সদস্যরাও ক্রমে বিভক্ত হচ্ছেন সমঝোতার বিষয় নিয়ে, বিভেদ লেগে যায় এর বুঝার হেরফেরের জন্য। যদিও আমরা এক আল্লাহ ও এক রসুলের অনুসরনই করছি কিন্তু কার্যত আমরা কেন এত বিভক্ত আমাদের চিন্তায় চেতনায়। মনে হচ্ছে এর প্রধান কারণ আমরা মূল গ্রন্থে নেই বলেই। “নিঃসন্দেহ এটি (-শ্রেষ্ঠ স্বর্গীয় বাণী সম্বলিত এই কুরআন, ৫:৩, ৯৮:৩, সত্য মিথ্যা ও ন্যায় অন্যায়ের) সুমিমাংসাকারী বক্তব্য (১৭: ১২, ৮৯)। আর এটি কোন তামাশার জিনিস নয়”। (সুরা আত-ত্বারিক ১৩ ও ১৪ আয়াত)

সাম্প্রতিকমাসে প্রচারিত এই রমজানে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন পত্রিকার পাঠানো তথ্য থেকে কিছু সার তুলে ধরছি যা বর্তমান সময়ে মনে করা হয় ও পালন করা হয়।
(১) তারাবিহএর মাধ্যমে সারা কোরআন সমাপ্ত করা সুন্নত।
(২) এটা আমাদের ধর্মধারীদের বড় বিশ^াসের অংশ।
(৩) এই অপরিসীম কষ্ট করাটাই এই রমজান মাসের উদ্দেশ্য। মানুষকে কষ্ট করার শিক্ষা এটাতে স্পষ্ট।
(৪) বলা হয় তারাবিহ ছাড়া রোজা পরিপূর্ণ নয়। অনেককে বলতে শুনেছি অন্যথায় এটি শূণ্যে ঝুলে থাকে।
উপরে বর্ণিত ধারণার স¤পূর্ণটাই ভ্রান্তির উপর মানুষের মনগড়া কথা। কারণ এটা অবশ্যই কোন রসুলের সুন্নত নয়। আর রমজান উপলক্ষে এই বাড়তি কষ্ট উপরে বর্নিত কুরআন বিরুদ্ধ কথা। রমজান এক তৃপ্তির পাওনা, নিজেদের সৃষ্ট কষ্টের জন্য স্রষ্টাকে দোষ দেয়া সমিচীন নয়।

র্তমান সময়কার প্রেক্ষাপটে বলতে হচেছ ২: ১৮৫ আয়াতের হিসাবে ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য কষ্টকর অবস্থা চান না’ বিরোধীতাই করছেন প্রকারান্তরে বেশীরভাগ জনতা। তারাবিহ এবাদতকে বর্তমান সময়ে এমনভাবে ব্যবসা কেন্দ্রিক করা হয়েছে যা এই কয়টি জেনারশেন আগেও এমনটি মোটেও ছিল না, তা অনেকেই বলতে পারবেন। শুনেছি অনেক আলেম বাবারাও এভাবে মসজিদভিত্তিক ফরজ নামাজের মতন গুরুত্ব দিয়ে এই কিছু আগেও ঠিক এভাবে পড়তেন না। তখন অনেকের যুক্তি সৌদিতেও হচেছ। কিন্তু অবশ্যই এটাও স্মরণ করার বিষয় যে, আমাদের প্রধান সিলেবাস মৌলিক নির্দেশনা এসেছে কুরআনে, সৌদি আমাদের আদর্শ নয়।  সৌদ নামে কোন দেশে নবীও আসেন নাই, জাজিরাতুল আরবে নবীর জন্ম মৃত্যু চলা বলা। নবী অত্যন্ত সংযমী চরিত্রবান সুন্দর রুচির মানুষ ছিলেন। সত্যের সাথে মিথ্যে জুড়ে দেয়া আর মিথ্যার কোন বেসাতি তার ছিল না। কুরআনকে ডিঙ্গিয়ে তিনি কোন মনগড়া ব্যাখ্যা দেন নাই।

বেশীরভাগ পরিবারেই দেখা যাচেছ বৃদ্ধ বাবা এই বৃদ্ধাবস্থায়ই যার পর নাই কষ্ট করে রোজার সাথে খতম তারাবিহ, কেউ কেউ তারপরও এর ফাঁকে ফাঁকে শুনা যায় চিল্লাহ করছেন তিন দিনের, সাতদিনের (তাবলিগের অনুকরণে)। এই হলো বৃদ্ধ বাবার অবস্থা আর ঠিক তার পাশেই বেড়ে উঠা ছেলেটা বাবার এই অতিআচারের মাত্রায় বাড়াবাড়ি ভেবে পার্শ্ববর্তী সমাজ ব্যবস্থার প্রতিই আকৃষ্ট হচেছ, আস্তে আস্তে অনেক সন্তান দেখা যায় ধর্ম বিমূুখ হয়ে উঠে। সমাজের এই দুঃসহ অবস্থার মুখোমুখি আজকের বাস্তবতা। ছেলেমেয়ের হাতে অতিরিক্ত পড়ার চাপ, সামাজিকতার চাপ, বন্ধুত্বের হাতছানি তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না বাড়তি দুটি ঘন্টা এক নাগাড়ে এই নামে অপচয় করার। প্রকারান্তরে এখানে উভয়েই বাবা মা ও সন্তানেরা সবাই কম বেশী সত্যচ্যুতির শিকার। এটি যদি অবশ্য করণীয় হতোই তবে সেটি মাত্র দুটি শব্দেই আল্লাহ স্পষ্ট করে কুরআনে দিতেন। ‘তারাবিহ পড়’ বললেই শেষ হয়ে যেত। তাই মানুষ হয়ে খোদার উপর খোদকারী করা মনে হয় মানুষ জনমের জন্য সুখকর নয়। করোনা না আসলে এসব কথা বলার সুযোগও হয়তো হতো না। কিন্তু সত্য সন্ধানীকে সব সময় সত্যের পথেই হাটতে হবে। এ জন্যই বলা হয় সিরাতুল মোসতাকিমের রাস্তা সুক্ষ চুলচেরা বিশ্লেষনের সহজ সরল মধ্যপন্থা। চুলের চেয়েও চিকন ছুরির চেয়েও ধারালো।

বোখারীর বরাতে তারাবিহর জন্ম সংক্রান্ত দলিলে দেখা যায় এই এবাদতটিকে একটি বিদআত আকারে হাদিসেই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। অনেকের কাছে কথাটি নতুন শোনা গেলেও হযরত ওমরের বরাত দিয়ে একটি হাদিসে এভাবে এসেছে। এর আগে তারাবিহর কোন ইতিহাস নেই। সত্যিকার গবেষনায় দেখা যায় এটা হযরত ওমরের কথার সূত্রে ছুন্নতের সম পর্যায়ে টেনে আনা হয়েছে। এটিও স্মরণ করার বিষয় নবীর সুন্নত কুরআন ডিঙ্গিয়ে হয় না। আর যদি ওমরের সুন্নত পালন করতে বলা হয়, তবে সবার চিন্তাশক্তিকে প্রসারিত করতে হবে। মোহাম্মদ (সঃ) কিভাবে রমজানে রোজা পালন করতেন এই প্রশ্নটি বিবি আয়েশাকে করা হলে তার জবাব ছিল এরকম যে, আপনারা কি কোরআন পড়েন না? আর তার অন্য জবাবটি ছিল এরকম যে, রমজানে এবং গয়র রমজানে তিনি তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন। এবং বাস্তবিকই বোখারী শরিফে যা বলা হয়েছে তাতে দেখা যায় এটি ওমরের বরাতে যে নামাজ পড়ার কথা আসে সেটিও শেষ রাতের নামাজই ছিল। প্রকৃত পক্ষে তাহাজ্জুদ, যা উনি জীবনের অনেক সময় পালন করেছেন হোক রমজানে অথবা রমজানহীন সময়েও। আর এই তাহাজ্জুদের নামাজ এক বাড়তি ব্যবস্থা তাদের জন্য যারা আল্লাহর অতিরিক্ত নৈকট্য চায়। আপনি চাইলে আপনার জন্যও। বনি ইসরাইল সুরার ৭৯ আয়াতে বলা হয় রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ তোমার জন্য, আদায় কর অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে। এতে তুমি মাকামে মাহমুদাতে (উচ্চ প্রশংসিত স্থানে) পৌছতে পারবে। আবার সুরা মোজাম্মেলের ৬ আয়াতে বলা হয়েছে নিশ্চয় এবাদতের জন্য রাত্রিতে উঠা প্রবৃত্তির উচ্চমার্গের সহায়ক ও স্পষ্ট উচ্চারণেরও অনুকুল। এর অর্থ সমাজের শত জটিলতাকে একপাশে ঠেলে তুমি নিশ্চিন্তে তোমার আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য এখানে সময় ব্যয় করতে পার। এটি নবীর জন্য অতিরিক্ত জমা।

এতে দেখা যায় আমরা যদি সঠিকভাবে কুরআন অনুসরণ করি এবং রমজানে অতিরিক্ত এবাদতের ইচছা করলে আমরা হাদিস অনুসারে হলেও সেই তাহাজ্জুদই পড়বো এটাই মোহাম্মদ (সঃ) কর্তৃক করণীয় বিধান। তবে তিনি সাধারণের জন্য তা বাধ্যতামূলক করার কোন নির্দেশ দেন নি। আর এই ভয়ে দেখা যায় ঐ হাদিস মোতাবেকই ঐ সময়ে প্রথম দুই / তিন দিন কিছু লোক জমায়েত হয়ে উনার পিছনে নামাজ পড়লেও চতুর্থ দিনে তিনি বের হন নি এই ভয়ে যে শেষে জনতারা এটাকে ফরজের সমান মূল্যায়ন করে তুলবে। এই ঘটনাটাও তাহাজ্জুদেরই ঘটনা। কিন্তু আমাদের অতি উৎসাহীরা এটাকে প্রায় ফরজের সমপর্যায়ে নিয়ে এসেছেন যা নবী মোহাম্মদের কৃত বিধানের বিপরীত সন্দেহ নেই। এখানে প্রকারান্তরে নবীর আশংকাই বাস্তব হয়েছে। মানুষরা এটাকে আজ ঐ পর্যায়েই নিয়ে এসেছে। সুরা বনি ইসরাইলের ৭৯ আয়াতে ও সুরা মোজাম্মেলের ৬ আয়াতে তাহাজ্জুদ নামাজের কথা এসেছে যেটি নবী তার বাড়তি অর্জনের কারণে প্রশান্তির জন্য খোদার নির্দেশ। সম্পূর্ণ অক্ষরজ্ঞানহীন একটি মানুষকে বাড়তি দক্ষতায় বলিষ্ট করতে এসব অর্জন নবীর জন্য অত্যন্ত জরুরী ছিল। আমরা যারা নবীর মত আল্লাহর নৈকট্য চাই তারা সানন্দে ওটি করতে পারি।

জীবনের চরম এক ক্রান্তিকাল আমরা কাটাচিছ। অতি আহার যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক ঠিক তেমনি অপুষ্টি, অনাচার অতি মিতাচার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। সুস্বাস্থ্য রক্ষা করতে হলে সব সময় একজন সদস্যতে পরিপূর্ণ ডায়েট খেতে হবে। ধর্মেও ঠিক একইভাবে আমাদেরকে সিরাতুল মোসতাকিমের পথে চলতেই বলা হয়েছে আমরা যদি শুধুই ঘোরা পথে চলি, খানাখন্দক চড়াই উৎরাই পার হয়ে চললেই আমাদের লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট না হবারই সম্ভাবনা অতিরিক্ত। তাই সিরাতুল মোস্তাকিমের রাস্তা অতিআচারে ও অনাচারে দুটোতেই ক্ষতিগ্রস্থ হবে সন্দেহ নেই। এর লেবেল নির্ধারণ করা আছে শ্রেষ্ঠ গ্রন্থে। আর এই সাবধান বাণী এসেছে আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে এবং এই সাবধান বাণী হিসাবে স্মরণ করার মত বক্তব্য শ্রেষ্ঠ গ্রন্থে অনেকই আছে।

সত্যিকার বিজ্ঞানময় অতীব সুন্দর বাস্তবধর্মী জীবন্ত প্রাণবন্ত এই ধর্মটিকে বর্তমান ব্যবসায়িক ধর্মীয় সমাজ ব্যবস্থা কুরআন থেকে অনেক দূরে নিয়ে এসেছে। বাস্তব ধারণা বিবর্জিত কাল্পনিক ধ্যান ধারণায় ধর্মটিকে সব দিক থেকে অতিভৌতিক এক কিম্ভুতকিমাকার রূপে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা হচেছ। সর্ব রোগের সংহার নিরোধকারীরা এক শ্রেণীর সদস্যরা সারা বছরই ওৎ পেতে থাকেন আনাচে কানাচে সর্বত্র তাদের প্রচারে, তারা এটিকে ব্যবসার অঙ্গ হিসাবে ধরে নিয়েছেন। শেষ রাতের এবাদতকে মানুষ ব্যবসায়ীক মোড়ক দেবার জন্য আগ রাতে টেনে এনেছে। যদি তারাবিহ পড়তেই হয় তবে নবীর মতই পড়–ন। শেষ রাতে মনের মাধুরী মিশিয়ে একান্তে আপনি আল্লাহর সান্নিধ্যে সত্য সাধনা করুন। আগ রাতে ঐ নামাজকে টেনে এনে হযরত ওমরের বরাতে হাদিস আকারে প্রচার করে তার মুখ নিসৃত কথাটি ছিল, তোমরা একটি ভালো বিদআত করছো। রসুলের হাদিস ছিল তোমরা বিদআত করবে না, যারা বিদআত করবে তারা জাহান্নামে যাবে। জানতে হবে বিদআত কি? ধর্মের নামে নতুন সংযোজনকে বলা হয় বিদআত। হযরত ওমরের বরাতে বলা হলেও তিনি ঐ বিদআতে সেদিনও যোগ দেন নাই। বোখারীর হাদিসে স্পষ্ট তিনি নিজে মানুষের ঐ জোটবদ্ধ নামাজে যোগ দেন নাই। আজ প্রথম রোজা চলছে বিধায় আমি আজকেই করোনার রাতে জেগে সেটি নতুন করে ব্লগের জন্য রেডী করছি। যদিও এ লেখাটি আজ থেকে ১০ / ১২ বছর আগে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক দর্পণে এসেছিল।

ধর্মের পূর্ণতার পরও নানান ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ আমরা, এতে লাভের অঙ্কটা আমাদের জমছে কি? দেখা যাচেছ বৃদ্ধ বাবা নাকে মুখে ধর্ম ধর্ম করে আকন্ঠ আত্মাহুতি দিচেছন তার ঠিক পাশে বেড়ে উঠা সন্তানরা বাপের এসব কর্মকান্ডে ভ্রুকুঞ্চিত করে পশ্চিমা ধাচে বেড়ে উঠছে এবং ওদের দিকেই ঝুকে পড়ছে নানান কারণে। তার ধারণায় এই ব্যস্ত জীবনের ধারায় অতি আচার থেকে ওখানে মিতাচারের সন্ধান অনেক লোভনীয়। কিন্তু সঠিক সিরাতুল মোস্তাকিমের রাস্তায় চললে তার কখনোই বিভ্রান্ত হবার চান্স নেই। যুক্তি, বিজ্ঞান, ধর্ম, সত্য সবার একাত্মতা বরং প্রজন্মকে মুগ্ধ করতো, আকৃষ্ট করতো। একজন বৃদ্ধের এবাদত থেকে সঠিক বস্তুনিষ্ট এবাদত একজন যুবকের জন্য বেশী প্রয়োজন। বৃদ্ধ হলে সবাই কম বেশী এবাদত করেন মৃত্যুর বিভীষিকা চোখের সামনেই থাকে হয়তো বা। কিন্তু যদি একজন যুবক সঠিকভাবে সুনির্দিষ্ট কাজটি করতে পারে তবে সেটাই বড় ঈমানদারীর লক্ষণ, বড় পাওনা।

সিলেবাস শুধু বাড়ালেই লেখাপড়ার মানবৃদ্ধি হয় না বরং তাকে অর্থবহ বস্তুনিষ্ট ও বাস্তব জীবনমুখী করে তুলতে পারাই লেখাপড়ার উদ্দেশ্য। তাই অনেক সময় দেখা যায় অনেক লেখাপড়া করেও একজন একটা বিষয় নিয়ে কিছু লিখতে দিলে ব্যর্থ হন এটার কারণ লেখাপড়ার সাথে তার সঠিক একাত্মতা হয় নি, তাই। ধর্মটিও সে রকম যদি আমাদের আত্মায় অন্তরে না মিশে, প্রজন্মের নাক সিটকানো ভ্রুকুঞ্চনের শিকার হয় তবে, তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। শীঘ্রই এমন এক সময় আসবে যখন ধর্ম তার চলার গতি বাস্তবিকই হারিয়ে ফেলবে। আজ অনেকেই এটাকে স্থবির, জড় ও পঙ্গুত্বে আবদ্ধ করে রেখেছেন নানান কার্যকারণে।

ধর্মকে ব্যবসায়িক মোড়কে আবদ্ধ করতে এই কুরআনে নিষেধ করা হয়েছে। কোন আয়াত কেনাবেচার মূল্যে নির্ধারণ করতে হুশিয়ারী জানানো হয়েছে। ধর্ম কোন বিনিময়ের মাধ্যম হতে পারে না। এটা সবার আত্মার খোরাক, বেঁচে থাকার অবলম্বন। এটার কোন ব্যবসায়িক রূপ থাকতেই পারে না। কিন্তু বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে সর্বত্রই দেখা যায় এই রমজানের মাসে এটা একটা ব্যবসায়িক লেবাসে আকন্ঠ আবৃত যা কুরআনীয় দৃষ্টিতে অবশ্যই গোলমেলে। এটা জনতার উপর চেপে দেয়া এক বাড়তি আচার, যেখানে আল্লাহ মানুষকে কষ্ট দিতে না চাইলেও আজ জনতা একটি বাড়তি আচারের শিকার।

অতিধার্মিকতার নামে বাড়াবাড়ি ও অর্ধামিকতা দুটোই সিরাতুল মোস্তাকিমের বৈরী অবস্থান আর এই দুই রাস্তা থেকে মুমিনকে বিশুদ্ধতার দিকে নিবদ্ধ থাকতেই কুরআনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
(১) “তারা (এদিক ওদিক) দোল খাচেছ এর মাঝখানে—এদিকেও তারা নয়, ওদিকেও তারা নয়, আর যাকে আল্লাহ বিপথে চলতে দেন (হে মুহাম্মদ)! তুমি তার জন্য কখনো পথ পাবে না। (সুরা নিসার ১৪৩ আয়াত) (২)  “তারা ব্যতীত যারা (আন্তরিকতার সাথে) তওবা করে ও শোধরায়, আর আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে, আর তাদের ধর্মকে আল্লাহর জন্য বিশুদ্ধ করে,—তারা তবে মুমিনদের সাথে, (থাকবে) আর শীঘ্রই আল্লাহ মুমিনদের দিচেছন এক বিরাট পুরষ্কার”। (সুরা নিসার ১৪৬ আয়াত)

প্রকৃত সত্য সুন্দর ধর্মটিকে সত্য ও সুন্দরভাবে পালন করতে এবং সুন্দরভাবে ভবিষ্যত প্রজন্মের হাতে আমানত স্বরূপ রেখে যেতে পারাই সঠিক মুমিনের কাজ। সে হিসাবে আমাদের বর্তমান ও আগামী প্রজন্মরা গবেষক মন মানসিকতা নিয়ে যেন ব্যতিক্রমধর্মী এই শান্তির ধর্ম ইসলামকে আত্মায় অন্তরে গ্রহণ করতে পারে এটাই হোক কঠিন যুগসন্ধিক্ষণের এ সময়কার আমাদের সঠিক দিক নির্দেশনা।

One source link can help you: https://www.ittefaq.com.bd/lifestyle/146746/

সুসংগ্রহ:
“আমাদের প্রভু! আর আমাদেরকে তোমার প্রতি মুসলিম (স¤পূর্ণ আত্মসমর্পিত) করে রেখো, আর আমাদের সন্তান সন্ততিদের থেকে তোমার প্রতি মুসলিম উম্মত (তথা চির অনুগত শিষ্য মন্ডলী বানিয়ে রেখো, ২: ১১২; ৩: ১৮) আর আমাদের উপাসনা প্রণালী আমাদের দেখিয়ে দাও, আর আমাদের তওবা কবুল করো; নিঃসন্দেহ তুমি নিজেই (বারবার) তওবা কবুলকারী, অসীম কৃপানিধান। (সুরা বাকারাহ এর ১২৮ আয়াত)

বি দ্রষ্টব্য: আশা করবো উদার মন নিয়ে বিবেকের বিশ্লেষনে সত্যকে সহজভাবে গ্রহণ করবেন। এ লেখা যেন কারো মনে কোন বিভক্তি রেখা না টানে। করোনার এ সংকট সময়ে সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। সবার জন্য রমজান হোক আশায় ভরা জীবন সাধনা ও প্রাণবন্ত উদ্দীপনার জমা। প্রতিটি মুসলিম নারী পুরুষ এতেকাফ করবেন নিজের মত করে, শবেকদর আমাদের হাতে ধরা দেবে না, সেটি আমরা বলতে পারি না। আমরা আশরাফুল মকলুকাত। আমাদের জন্য আল্লাহর এত সাজগোজ  আল্লাহর সে সাধনা সার্থক করুন। এ আশায় আমার এ বছরের প্রথম শুরুর রমজান। রাত তিনটা। ৪/২৪/২০২০।

মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন মাজেদের ফাঁসি ও সংকটকথা

নাজমা মোস্তফা

সময়টি ২০২০ সাল মাসটি এপ্রিল, ভয়ংকর দানবীয় সংকট সময়। সারা দুনিয়ায় এক অদেখা দানব করোনা হামলে পড়েছে। এমন সংকটে কাকে খুশী করতে এরকম ফাঁসি। এমন সংকটেও চোরদের স্বভাব বদলায় নাই। ইউপি সদস্যদের বসত ঘরের মাটি খুঁজে সরকারী চাল উদ্ধার। প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে এসব চাল চুরির হিড়িক চলছে। সরকার সচরাচরের মত ছড়ি ঘোরাচ্ছে কেউ নিস্তার পাবে না, কিন্তু কেউ ধরা পড়ে নাই, কারো ফাঁসি হয় নাই। মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন মাজেদের মরদেহ ভোলাতে তার গ্রামের বাড়ীতে দাফন দেয়া হবে না, বাঙ্গালী জাতি কলঙ্কমুক্ত হলো, বলছেন আইজি প্রিজন। ক্যাপ্টেন মাজেদ গত ৭ এপ্রিল গ্রেফতার হয়েছেন, কোথায় কিভাবে, আছে পরাস্পর বিরোধী খবর, কেউ বলছে ভোরে গাবতলী থেকে আটক কেউ বলছে মিরপুর থেকে। ইত্যবসরে সব সমাধা হয়ে তিনি শায়িত আছেন নারায়নগঞ্জে শ^শুর বাড়ীতে। এবার কবরের গ্রাম্য মালিকরা দেশ মালিকাকে খুশী করতে বাড়তি চামচামির নজির রেখে লম্ফঝম্ফ দিচ্ছেন, লাশ সরিয়ে পানিতে ভাসিয়ে দিবেন। করোনা রোগীর চেয়েও বেশী ধরা পড়ছে ত্রাণের চাল চোর, বলেছেন রিজভী। এসব চোররা আকাশ থেকে পড়েনি, এদের আপনি চেনেন আমি চিনি, বলেছেন প্রবাসে থাকা অধ্যাপক আলী রিয়াজ। এরাই তারা যারা শেখ হাসিনার নামে মিলাদ বানায়, এ ধারার গ্রাম্য মালিকরা তুষ্ট বানিজ্যে বাড়তি ফায়দার লোভে ইনভেস্টমেন্ট করছে। কোন এক যুবলীগ মহিলা ফাঁসি শুনে ইন্নালিল্লাহ পড়লে তার উপর অশ্রাব্য বর্ষন শুরু হয়। ইন্নালিল্লাহ পড়ার অর্থ হচ্ছে আল্লাহকে স্মরণ করা ও নিজের মৃত্যুকে স্মরণ করা। নাকানী চুবানী খেয়ে যুবলীগ মহিলা বলেন তিনি এটি মাজেদের জন্য নয়, মুজিবের পরিবারের উপর পড়েছেন। ঐ দিন ১৫ই আগষ্ট সারা দেশবাসী একযোগে খুশী হয়েছিল, এটি সবাই জানে। মনে হচ্ছে যারা সেদিন ইন্নালিল্লাহ পড়তে ভুলে ছিলেন, আজ ৪৫ বছর পর, মাজেদের কল্যানে মুজিবের উপরও কিছু দোয়া বর্ষিত হলো। এটিও মন্দের ভালো।

কজন মুক্তিযোদ্ধাকে কেন খুন করা হলো। কেন মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধকারীদের বিচার হলো না। তার জবাব আজো গোটা জাতির কাছে স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ পূর্ববর্তী শেখ মুজিব গোটা জাতিকে উজ্জীবিত করে যুদ্ধের ঘোষণা ছাড়াই মাসিক ১৫০০ টাকার শর্তে নিজ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আড়ালে চলে গেলেন। মুজিবের পরিবার মেজর না হয়েও ৪০০ টাকা নয় বরং এর ৩/৪ গুণ বেশী বরাদ্দে আয়েশে সংকট সময় পার করে। বাকী জাতি ময়দানে অস্ত্রের মোকাবেলা করেছে, পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে মল্লযুদ্ধ করেছে, যুদ্ধের ময়দানের সব পাট সেরেছে। মুজিবের এই ছলনা সেদিন জাতি বুঝতে পারে নাই। তারা মনে করেছে পাকিস্তানী শাসকরা মুজিবকে ধরে নিয়ে গেছে। তিনি যে স্বেচ্ছায় ধরা দিয়েছেন এটি বর্তমানে অনেক গুনিজনের কলামে স্পষ্ট হচ্ছে হয়েছে। সে হিসাবে মুক্তিযুদ্ধ যে কি জিনিস সেটি মুজিব যেমনি টের পান নাই তার গোটা পরিবারও টের পায় নাই। জিয়া পরিবারসহ বাকী দেশবাসীর ঘাড়ের উপর দিয়ে ঘূর্নিঝড়ের মত এ তান্ডব বয়ে গেছে। যার খেসারতে পাকিস্তানী শাসককুলের হাতে নিগৃহীত মানুষরা দেশীয় দালালগং কর্তৃক বাড়তি অনিরাপত্তার শিকার হয়। এর বিচার করার দায় মুজিব বোধ করেন নাই, কারণ প্রকৃত যুদ্ধ ও তার তান্ডব তার বা তার পরিবারের জানা নেই। তার পরিবারেরও জানা থাকলে তারাও তাকে সতর্ক করতো যে এদের বিচার জরুরী। শেখ মুজিবের মৃত্যুকে অনেক বিদগ্ধ জনকে বলতে শুনেছি এটি এক ধরণের আত্মহত্যা। মুজিব এমন সব কান্ডকীর্তি করে বাংলাদেশীর জগত জীবনকে বিধ্বস্ত করে তুলেন যা তার পাওনা হয়ে আত্মহত্যার পর্যায় পড়ে। এসব তার দাম্ভিকতার জমা পাওনা, তার হাতের কামাই।

মুক্তিযোদ্ধা মেজর অবসরপ্রাপ্ত এম এ জলিলের ‘দাবী আন্দোলন দায়িত্ব’ গ্রন্থ থেকে বলছি, মুজিবের সে শাসনকালটি ছিল চরম দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিপূর্ণ, দুঃশাসনে ভরা একটি দুঃস্বপ্নের কাল। সেনাবাহিনী থেকে একটি ক্ষুদ্র বাহিনী জনগণ ছাড়াই ছুটে এসেছিল সেই দুঃশাসন মুছে ফেলতে। তাদের বীরত্ব জনগণের কাছে স্বীকৃত, জনগণের আকন্ঠ প্রশংসা কুড়িয়েছে সেদিনের সরকারবিরোধী নেতৃত্ব। দেশের আপামর জনগণ সেদিন সেই যাতনামূলক সুঃশাসন থেকে প্রতিনিয়ত মুক্তি কামনা করতো। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয়া, সব রাজনৈতিক দল বাতিল, গুন্ডা বাহিনীর এক ত্রাসের রাজত্ব দেশে কায়েম করে এক দলীয় শাসনের আওতায় ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে জেলায় জেলায় গভর্ণর নিয়োগ হয়ে গেলেই শাসকদল বাংলাদেশে যা ইচ্ছে তাই করতে পারবে। কোথাও কোন টু শব্দ নেই। যারা কথা বলতো তাদের ৭৪এর মার্চ থেকেই দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। — আকস্মিকভাবে ছুটে এল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে কতিপয় তরুণ অফিসার, এরা সকলেই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। এ ঘটনায় জাতি সরাসরি উপকৃত হয়েছে। জাতি এসব ১৫ই আগষ্ট সংগঠনকারীদেরকে নিছক হত্যাকারী হিসাবে মনে করে না, রক্ষাকারী হিসাবে গণ্য করে। — ৭২ থেকে ৭৫ যদি একটি ভয়ানক কালো সময় দুঃশাসন হিসাবে স্বীকার করি, নিঃসন্দেহে এরা ভাল কাজ করেছে এবং অভিনন্দনের দাবীদার নয় কি? — যারা দেশ ও জাতির দুর্ভোগ নিরসনের জন্য সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করে, তারা নিঃসন্দেহে অন্যদের তুলনায় সচেতন ও প্রশংসার দাবিদার (ঐ গ্রন্থ ১৭-১৯ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)।

আর একটি বইএর নাম উল্লেখ না করে পারছি না। মুজিবকন্যার ১৬ বছরের নিত্য সঙ্গি মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেন্টুর কথা। তিনি নিজের ফাঁসির দাবী জানিয়ে বই লিখে এসব বেদনার কথাই শুধু নয় শেখ মুজিব ও তার কন্যার ফাঁসির দাবী জানিয়ে গেছেন। এ দাবীর উপর একটি লেখা এখানেই আমার ব্লগে জমা আছে আপনারা চাইলে পড়তে পারেন। লেখার নাম ফাঁসির দন্ড চাওয়া ছিল একজন মুক্তিযোদ্ধার ঐতিহাসিক রায়”।

আর একজন সচেতন সমাজের এক সত্য সাধক ঐ চলমান ঘটনা দেখা ডাঃ এম এ শুকুরের একটি বই ‘হাতুড়ে’, ছদ্মনামে ছইফুল্লাহ নাম নিয়ে লেখা থেকে সামান্য কথা। বস্তুতঃ জীবনের প্রতি পদক্ষেপের মধ্যপথই হচ্ছে সত্যপথ। তাই বিচারের নামে নিরীহ নিরপরাধ লোকদের বিড়ম্বনা যেমন সমর্থনযোগ্য নয়, তেমনি ক্ষমার নামে জঘন্য অপরাধিকে ছেড়ে দেয়ার পক্ষে ওকালতি শুধু শান্তির পরিবেশকেই বিঘিœত করে মাত্র। একাত্তরে সংঘটিত বিপর্যয়ের মূল হোতা যারা, তাদের বিচার না করে অদৃষ্টের নিগড়ে আবদ্ধ লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ আর তাদের পরিবার পরিজনকে কেন যে তুরুফের তাসে পরিণত করা হলো তা ভাবতে অবাক লাগে। —- একথা অনস্বীকার্য্য যে একাত্তর সনের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এদেশে দু’টি সরকার চালু ছিল। জনগণের সমর্থন ও সহানুভূতি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার ভিন দেশে অবস্থান করেছিল এবং সাধারণ মানুষকে প্রাণের দায়েও জালিমের সহযোগিতা করতে হয়েছিল। সে হিসাবে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে আগাগোড়া ব্যাপারটিকে ক্ষমার চোখে পর্যালোচনা করা উচিত ছিল কিন্তু বাস্তব দূরদৃষ্টির অভাব ও প্রত্যক্ষ অবস্থা হতে দূরে অবস্থান হেতু ব্যাপারটিকে কার্যত জটিল থেকে জটিলতর করা হয়েছে এবং এতে আগাগোড়া লাভবান হয়েছে শুধুমাত্র আমাদের শত্রুরাই। — দেশাত্মবোধের অভাব আজ দুর্ভিক্ষের পর্যায়ে। তাই দেশকে পূজা করার লোকের ভিড়ে পথ চলা দায় কিন্তু দেশপ্রেমিক খুজে পাওয়া যায় না।

দেশকে ভালবাসা এবং দেশকে পূজা করা এক কথা নয়। দেশকে ভালবাসতে হলে দেশের মানুষের কল্যাণে নিজকে আত্মাহুতি দিতে হয়, পরন্তু মাকে যারা পূজা করে, নারীর অমর্যাদা করে তারাই সর্বাধিক! আমরা মাকে শ্রদ্ধা করি কিন্তু পূজা করি না, মার চরণতলে আমরা স্বর্গের কামনা করি বটে কিন্তু তথাপি তার চরণে মাথা পেতে দিই না। মানবাত্মার এই অমর্যাদাকে আমরা সৃষ্টির চরম বিপর্যয় বলে মনে করি। এরুপ অলীক অমানবতাকে আমাদের সমাজ তথা জাতীয় জীবনে আরোপের প্রতিটি চেষ্টাকে আমরা রুখে দাঁড়াবো, প্রয়োজন হলে সর্বস্ব পণ করেও। অদৃষ্টের পরিহাস, আজ ধর্মনিরপেক্ষতার নামে সত্য ও মিথ্যা, আলো ও অন্ধকার এবং ন্যায় ও অন্যায়কে সম স্তরে এনে দাঁড় করানো হয়েছে, অথচ ধর্ম আর ধার্মিকতাকে সাম্প্রদায়িকতায় আখ্যায়িত করে বিসর্জন দেবার প্রস্তুতি চলছে। দেশকে পূজা করার পদ্ধতি যারা আবিষ্কার করেছিল দেশের মানুষকে তারা সম্মান দিতে পারে নি। দেশের মানুষের ভাগ্য বিড়ম্বিত করে দেশের মাটিকে পূজা করার যে অলীক বিধান তা কিছু সংখ্যক শোষকের জন্য স্বর্গসুখ রচনা করতে সক্ষম হলেও কার্যতঃ মানুষকে তা সর্বহারার পর্যায়ে ঠেলে দেয়। উপরের কথাগুলি ডাঃ শুকুরের।

মুক্তিযোদ্ধা মাজেদকে বলা হচ্ছে আত্মস্বীকৃত, আজ যদি বিধাতার আদালত বসে, ঐ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন মাজেদকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ওহে মাজেদ মিয়া, এ অপকর্ম করলে কেন? মুক্তিযোদ্ধা মাজেদ কি বলবেন যে আমি খুনী। বাংলাদেশ লুটে খাওয়ার জন্য আমি এদের খুন করেছিলাম, সাধ ছিল গদিতে বসবো, টাকা লুট করবো, গুন খুন করবো রামদা, লগি বৈঠা, হাতুড়ীর পিটানী দেব। শেখ মুজিবের কন্যার কারণে পারলাম না, সে বিনা দ্বিধায় গদিতে বসে সরকার,  ক্রমাগত বছরের পর বছর এসব অপকর্ম করছে, তারপরও দোষী হচ্ছে না। সেদিন কি অবৈধ রাতের ভোটচোররা ছাড়া পাবে? গোলাম স্বভাবের মেরুদন্ডহারা জনতারা আজো ডাকাতের সাথে তালিয়া বাজিয়ে বলছে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেব। যেন দেশের মালিক মুজিবের কন্যা আর গ্রামের মালিক তার গ্রাম্য চেলাগুলি। লাশকে মাটিতে পুতলেই কি আর আকাশে উড়িয়ে দিলেই কি – সে তো মরে গেছে,  তার আত্মা যেখানে যাবার সেখানে চলে গেছে। মনে হয় যে নরকে উনি ছিলেন সেখান থেকে উনি ভালো আছেন, ভালো থাকবেন। ভালো থাকার যুক্তি হচ্ছে এ জন্য তার কৃতকর্ম প্রমাণ করে তিনি নিঃস্বার্থ ছিলেন দেশের জন্য। আত্ম চিন্তায় মগ্ন না থেকে বৃহত্তর কল্যানে আগা গোড়া জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি সাগরচুরিতেও নেই হরিলুটেও নেই। ফেরাউনের অত্যাচারে যখন মিশরের মাটি কাঁপছিল সেদিন মুসার কর্মকান্ড মুসাকে কলঙ্কিত করে নাই। নবী মুসা ছিলেন খুব শক্তিশালী মানুষ, একদিন ফেরাউনের এক দালাল দাপটি যখন একজনকে অত্যাচার ও লাঞ্ছিত করছিল,  তা দেখে তিনি সহ্য করতে না পেরে তাকে ঘুষি মারেন। এতে লোকটি মারা গেল। তখন তিনি বললেন এটি এই শয়তানের কাজের ফলে সংগঠিত হয়েছে। নিঃসন্দেহে সে এক শত্রু, প্রকাশ্যভাবে বিভ্রান্তকারী। তিনি এতই শক্তিশালী লোক ছিলেন যে তার এক ঘুষিতেই লোকটি ওক্কা পেল। পরক্ষণেই তিনি আল্লাহর কাছে চাইলেন নিঃসন্দেহে আমি আমার নিজের প্রতি অত্যাচার করে ফেলেছি। হে আল্লাহ এ জন্য আমাকে পরিত্রাণ করো। এবং তিনি (আল্লাহ) তাকে পরিত্রাণ করলেন। কারণ তিনি পরিত্রাণকারী অসীম কৃপানিধান। ঘটনাটি সুরা আল ক্বাসাস অর্থ কাহিনী সুরার ১৫/১৬ আয়াত। ১৭ আয়াতে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞা করলেন কখনোই অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক হবেন না। উপরের ব্যাখ্যাতে কুরআনের এ ভাষ্য থেকে আপনারা শয়তানকেও চিনে নেন।

যুক্তির কথা হচ্ছে নবী মুসা মানবতার কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় লোকটি মরে গেলেও এটি আল্লাহর কাছে পাপ নয়। এরকম আরো ঘটনা আছে এই কুরআনে বৃহত্তর স্বার্থে বৃহত্তর কল্যাণে করা ত্রুটিযুক্ত কাজও আল্লাহ ক্ষমার চোখে দেখে। বিধাতার দরবারে এদের জবাব শুনে আজকের বিচারকেদের উপর মুগোর নিক্ষিপ্ত হবে না, এটি বলার অবকাশ কম। মুক্তিযোদ্ধা মাজেদরা পুরষ্কৃত হবেন না, বলার কোনই অবকাশ নেই। মুজিব মারা যাবার পর তার নিজের লোকেরা বলেছে ফেরাউন নিপাত গেল। সে হিসাবে যারা এরকম জাতীয় সংকটে নিজের জীবনকে বিপন্ন করে এমন কাজ করে জাতি উদ্ধারের কাজ করেছে, তারা নবী মুসাদের মত সম্মানিত হবেন না, এটি কি কেউ হলফ করে বলতে পারবেন? আল্লাহ তো নিজেই বলে রেখেছে আমার বিচারে কোন অবিচার পাবে না। আমরা নিজেরা জানি ঐ সময় আপনাদের দলবাজরা সাধারণ নিরিহ মানুষকে ভয় দেখিয়ে আরও ২৫ বছর জবর দখলের হুমকিও দিত। সে হুমকি আজো বহাল আছে।  সারা জাতি সেদিন ভয়ে থর থর করে কেঁপেছে। যার জন্য জাতির কেউ কাঁদে নাই। সবাই ৯৯% মানুষ মনে মনে নয় প্রকাশ্যে খুশী, মহাখুশী হয়েছে। দুহাত তোলে বিধাতার দরগাহে দোয়া চেয়েছে, এ শাসককুলের অবসান হোক। আজো কেন আবার জনতারা সেটি চাইছে, মনে হচ্ছে চাইতে চাইতে করোনা ডেকে নিয়ে এসেছে। বিধাতা নিরবে সব পর্যবেক্ষণ করছে, কেউ ছাড়া পাবে না। অনাচার করে স্থায়ী পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই, অন্তত বিধাতার কাছে। আল্লাহ আমাদের সবার সুমতি দিক।

লেখার সময় ১৩ই এপ্রিল ২০২০ সাল।

খালেদার মুক্তি রহস্য আর করোনার জন্মরহস্য

নাজমা মোস্তফা

খালেদার মুক্তি রহস্য: ২৪ মার্চের খবরে প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খালেদাকে ছয় মাসের মুক্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাসায় থেকে চিকিৎসা নিবেন বিদেশে বা অন্য কোন হাসপাতালে যেতে পারবেন না। সরকার কপটতা থেকে সরতে অভ্যস্ত নয়। বিএনপির নেতা ফখরুল ইসলাম সরকারের নষ্ট রাজনীতির পরও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছেন, এতে অনেকে কষ্ট পেয়েছেন এর সহজ জবাব দেশের সচেতনরা মন্তব্য করছেন এটি পাওয়ার দাবীদার নন হাসিনা সরকার। সরকার কোন সম্মানিতকে সম্মান দিতে রাজি নয়। এর সবকটি দাগ লক্ষ্য করা গেছে জিয়াউর রহমানের পরিবারের উপর তার ব্যক্তি আক্রোশ হিংসা হিনমন্যতার পর্যায় থেকে। বাংলাদেশের ৬৫ বিদ্যালয়ে সোয়া এক কোটি ৩৬ লাখ শিশুকে সবক দিয়ে চিনাতে চেয়েছেন তার বাবাকে , আবার গিলাতেও চেয়েছেন তিনি জাতির বাবা। অবশ্য জাতির নিজ দলের বাধ্য সন্তানেরা নিজের জীবনকে বিপন্ন করে তাকে হত্যা করে। কন্যার বাণী হচ্ছে আমরা জেগে রইবো তার আদর্শ বুকে নিয়ে। মুজিবের কন্যা কি বাবার আদর্শ নিয়েই ২০২০ সাল অবদি রাতে ভোট সারছেন। আল্লাহ কি পারতো না করোনাকে আরো এক বছর ঠেকিয়ে রাখতে, তাহলে শান্তিতে সরকার বাবাবর্ষ পালন করতে পারতো। সরকারী প্রশ্রয়ে টকবাজ শাহরিয়ার নাজিম জয়ের শেখানো বুলি এতিম নাটক জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। উপরের আদেশের মত এক কোটি ৩৬ হাজার শিশুর মত সেদিনও শেখানো হয় আগুনলাগা বিল্ডিংএর পানির পাইপ চেপে ধরা হতদরিদ্র শিশুটি নিঃস্ব হলেও পুরষ্কারের টাকাটা সে খালেদাকে অপদস্থ করতে এতিম খানাতে দিবে। সরকারের জয়বাজদের থেকে কি ম্যাসেজ জাতি পেল। যেখানে হাসিনা সেখানে ভাইরাস ঢুকতে পারবে না। এতে বোঝা যায় ধান্ধাবাজরা কত নীচ, মুখর সরকার এসব ধরা খাওয়া চিত্রে সব সময় নিরব। এর অর্থ ভন্ড আউলিয়া দরবেশদের ডাবল ভন্ডামী প্রমাণিত। আদালত পেরোল সব ডিঙ্গিয়ে এতিমদের দোয়ায় মনে হচ্ছে খালেদা বিনা নোটিশে বেরিয়ে আসলেন।

আপোষহীন নেত্রী আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করেন নাই। খালেদাকে করোনা ভাইরাস ছাড়া কোনভাবেই বের করা সম্ভব হয়নি। ঐ ভাইরাসের চালিকা শক্তিকে চীন ইতালী হয়ে বাংলাদেশে আসতে হয়েছে। এতদিন অপেক্ষার পর সরকারের টনক নড়ে, সরকার ভুত দেখার মতই করোনার ধাক্কায় নড়ে। এক বোনের সাথে কথা বলছিলাম সে শংকা প্রকাশ করে কি জানি আমার ভয় হচ্ছে ইতমধ্যে যদি সরকার করোনার জীবানু পুশ করে থাকে খালেদা জিয়াকে। এই হচ্ছে দেশবাসীর বিশ^াস, সরকারের উপর। দেশবাসীর মত খালেদাও সরকারকে বিশ^াস  করতে পারেন না। তাই কোন চিকিৎসা নেন নাই। সরকারের স্বরুপ দেখে তার নিজের মানুষরাই চমকায়। করোনায় ধরাশায়ী হাসিনা বেকায়দায় না পড়লে ছাড়তেন না। অনেকেই বলাবলি করছে তিনি আড়ালে আবডালে বলেও বেড়াতেন যে, মরার সময় হলে ছাড়বো। হয়তো তিনি তার কপট বুদ্ধিতে বুঝতে পেরেছেন মৃত্যু নিকটে। ফেরাউনের মত শক্তিধররা যা চায় তাই করে। এ হচ্ছে অদেখা আল্লাহর করোনা কৌশল। খালেদাসহ জনতারা দুই ভাইরাসের সাথে লড়ছে। না চাইতেই খালেদার জন্য মেঘবৃষ্টি। খালেদা কি এতদিন খুকী ছিলেন, মার্চের ২৩ তারিখ বয়সটা হঠাৎ বেড়ে গেল। ভাই বোনের দাবীই যদি মানতো তবে তাদের দাবী ছিল উন্নত চিকিৎসার। ফেরাউন যখন চোখের সামনে মৃত্যু দেখে তখন নবী মুসাকে সম্মোধন করে বললো যে, আমি মুসার আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম। ওটি ছিল প্রতারণার মরণ দেখা ঈমান, তাই তার ঈমান গ্রহণযোগ্য হয় নি। তবে স্বান্তনা পুরষ্কার হিসাবে তাকে কিয়ামত অবদি রেখে দেয়া হয়েছে মানুষের নিদর্শন করে। বিজ্ঞান স্পষ্ট করেছে মিশরের মমিতে ফুটে উঠেছে ঐ কুরআনীয় প্রামাণ্যতা। আল্লাহ মুজিববর্ষকে বদলে করোনাবর্ষ করেছে, একবিংশ শতকের মোজেজা।

একজন নির্দোষ মানুষকে দোষী বানানোর রম্য রটনাও ন্যায়ের আদালতে অপরাধ। চাটুকার মন্ত্রী কাদের, মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এরা যেভাবে কোরাস সুরে অপকর্মী সরকারের পক্ষে বন্দনা গীতে রত থাকেন তা একমাত্র নীতিহীনদের মানায়। সাজা ছয়মাসের স্থগিতাদেশ অভিজ্ঞ হাসিনা তার প্রজ্ঞা ও দুরদৃষ্টি উদারনৈতিক মানবিকতার নজির। সরকারী ধূর্তামী দলবাজদের চোখে দূরদর্শীতা ও দিকদর্শন। বাক্যবাগিশ নেতার চাটুকারীতা ছাড়িয়েও দুই শর্তের ছুটি সরকারের সংকীণ প্রতারণার নজির। হাসিনা গলা অবদি অপরাধী রাতের ভোটে গদি দখলদার, নিজের সারি সারি মামলা সরিয়ে খালেদার উপর দৈত্যের মত ভর করে প্রজ্ঞাবান নীতিবান। কারাগারেও করোনা হামলা করেছে, কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়ে  মামলাবাজ সরকার প্রশ্নবিদ্ধ। শিকল ছাড়াই সরকার সব আইনকে স্তব্ধ করে রেখেছে। বিভিন্ন দেশ কারাবন্দীদের মুক্তি দিচ্ছে। সাঈদী একজন প্রমাণিত নির্দোষকে কষিয়ে বেধে অহংকারী কারুণ ফেরাউন সাদ্দাদ ভাবে সেই পৃথিবীর মালিক মোক্তার।

আদালতের বিষয় কি করে আজ ছলবাজ সরকারের বিষয় হয়ে গেল। প্যারোল প্যারোল বলে চিৎকাররত সরকার খালেদা জিয়াকে ঐ টেবলেট গিলাতে পারে নাই। গলার কাঁটা লম্বা ঠোঁটের বকের অনুপস্থিতিতেই ফাঁক পেয়ে সরকার উগলে বের করে। সরকার ও খালেদা জিয়া উভয়ের আমলনামার দাগসব অমোচনীয় দলিলের জমা, জিৎ হয়েছে আপোষহীন খালেদার। সরকারের দেউলিয়া রাজনীতি আদালতকে ডিঙ্গিয়ে অবশেষে ৪০১ ধারার দোহাই পাড়ে। মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি, বয়সের দোহাই ভাই বোনের দোহাই ঢাল হয়েছে। বয়স ও ভাইবোন আজ নতুন নয়, এসব অতীতেও ছিল আছে থাকবে, করোনাই নতুন। এমন সংকট সময়ে সরকার খালেদাকে করোনার ময়দানে শিথিল পুলিশ পাহারায় ছাড়ে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারার দায় বিএনপির নয়, পুরোটাই সরকারের, জামিন আটকে রাখার কপটতাও সরকারের, ভোট করতে না পারার কারসাজিও সরকারের। আদালতকে পঙ্গু করে পিরোজপুরের সাম্প্রতিক নাটক। জি কে শামিমেরও জামিনের ব্যবস্থা করা, যদিও ধরা খেয়ে থুককু বলা। সবই সরকারের খারাপ দলিল। লাশ ও ত্রাস করা সরকারের শিকার ইলিয়াস আলী, গার্মেন্টস নেতা আমিনুল ইমলাম হত্যা, চৌধুরী আলম, সাগররুণি, তনু, নয়নবন্ড, রেফাত-মিন্নী, আবরার, ফেলানী, এসব বছরের পর বছর হালকা গভীর দাগ চিহ্নমাত্র। আমরা ভুলে যাই, আল্লাহ ভুলে না।

সরকারের অস্তিত্ব সত্যিকার ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বটেই। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্টে হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে উড়িয়ে মারা ছকটিও ভোটডাকাতীর মতই আরেক নাটক। টকবাজ সুভাষ সিংহরা আত্মরক্ষার্থে শত অপকর্মে ঐ ফাঁকে দম ছাড়ে। তারা ভাগ্যবান তাদের নেত্রী এটি তাদের স্বার্থে বিডিআর ম্যাসেকারকে বিদ্রোহ সাজিয়ে ময়দানে রেখেছে। অনেক পরে হলেও তারেককে ফাঁসাতে গ্রেনেড টানা, জিয়া পরিবারের কলিজাতে কামড়ে দেবার সাড়াশি মিথ্যাচারী ঢাল। কিন্তু জাতি ইত্যবসরে জেনেছে প্রতিটি খুটিনাটি ঘটনা সাজানো নাটক তথ্য প্রমাণ সব অসংখ্য ময়দানে। এসব বিষয়েও সরকার প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থেকে গ্রেনেড হামলা ঘটিয়েছে। তারা টকশোতে এসব মিথ্যা ছাড়া প্রতিবাদের পয়েন্ট পায় না। তাদের নিজের কৃত অপকর্ম দিয়েই তারা টকশো গরম করে। ঝড়ে বক মরে, ফকিরের কেরামতি বাড়ার মতই সরকারের খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে কেরামতি বাড়ানোর ফুরসত নেই। আমেরিকাতে ৯/১১ ঘটেছে, কে ঘটিয়েছে তার থেকে বড় কথা এটি দুনিয়াতে ঘটে গেছে এবং একজন এটি ঘটিয়েছে। দুনিয়ায় কেউ এর বিচার না করলেও এর বিচার অবশ্যই হবে। মানুষ মরেছে, আগষ্টে বোমা হামলায় জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভিসহ অনেকে কেন মরেন, কিন্তু হাসিনার ছক করা নাটকে হাসিনা বেঁচে আছেন। আল্লাহকে দেখা যায় না কিন্তু তার বাণীকে দেখা যায় ছোঁয়া যায়। এটি স্পষ্ট করেছে এটি কোন তামাশার বস্তু নয়। মূল আসামী যেই হবেন রক্ষে নেই।

করোনার জন্মরহস্য: সরকারের এই আগষ্ট বোমার মতই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবাই সন্দেহ করছে করোনা কভিড ১৯ অস্ত্র এক সাজানো ঘরে তৈরী অস্ত্র। অনেক দুরন্তকে পাওয়া যায় নিজের সন্তানকে মেরে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে, তখন আইভিরা অর্ডারী লাশ হয়। আমেরিকার একজন গবেষক প্রফেসর ফ্রান্সিস বয়েল ইন্টারন্যাশনাল ল এর অধ্যাপক এ দাবী রাখেন জৈব মারণাস্ত্র তৈরী ও প্রচার হয়েছে মানুষকে সংক্রমন করতেই মানুষ দানবরা এসব করছে। স্মোকিং গান হয়ে এই ভয়ংকর মানবরচিত বায়োলজিক্যাল অস্ত্রটি নিয়ে তোলপাড় চলছে বেশ দিন থেকে। নর্থ ক্যারোলিনা ল্যাব থেকে সব দাগ চিহ্ন রেখেই এটি কিনে নিয়ে গেছে চায়না। কেউ মনে করছেন জনতার উপর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নিতে ক্ষমতান্ধ চীন এটি প্রয়োগ করেছে তার নিজ দেশে। তবে ফ্রান্সিস বয়েল বলছেন এটি এক্সিডেন্টলিও লিক হতে পারে। এন্টি ভাইরাল রিসার্চ করছে চীন এবং অসাবধানতায় সম্ভবত এটি ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রথম অবস্থায় এটি সম্বন্ধে সাবধান করলে কেন ঐ ডাক্তারের উপর কর্তৃপক্ষ মুখিয়ে উঠে এবং ধামাচাপায় থাকে। ৩০ ডিসেম্বর এর উপর কমেন্ট করাতে তাকে বরখাস্ত করা হয়, স্বজনরা বলছে তাকে মারা হয়। পরদিনই ১৫২৩ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসেন। শি জিনপিং বিষয়টি চেপে রাখেন। অন্য ডাক্তার (?) কয় সপ্তাহ থেকে নিখোঁজ। বায়োলজিক্যাল অস্ত্র তৈরী করছে মানুষ যখন মানুষ মারবে, এরাই দানব এরাই দুনিয়ার ইবলিস। চীন এবার তার উপর আরোপিত বিষয় ছুড়ে দিতে চাচ্ছে আমেরিকার উপর।ফ্রান্সিসের এ দাবী পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ সমর্থণ করছে। এর আর একটি বড় প্রমাণ প্রথম দিকে চীন সরকার এটি চেপে রাখার চেষ্টা করেছে শুরু থেকেই। কারণ চীন জানে এটি একসময় তাদের উপর আপতিত হতেই পারে। তাই আগাম আমেরিকাকে দায়ী করে রেখেছে। ২০১৮ সালে ফ্রান্সিস বয়েল সিরিয়ার উপরও ট্রাম্পের নামে প্রতিবাদ করেছেন। এখানে কাদা ছুড়াছুড়ির মাঝে মানবাধিকার কর্মী এই গবেষক ফ্রান্সিসের কথাই জোরালো ভাবে টিকছে। করোনা ভাইরাসকে চায়নিজ ভাইরাস বলছেন ট্রাম্প। তাদের আধিপত্য ও প্রচারণাকে বিস্তার করতে এটি চায়নার অস্ত্র, অনেকে বলছেন একে উহান ভাইরাস। অনেক আগেই একটি বই ১৯৮১ সালে রচিত অন্যটি ২০০৮ সালে রচিত, ওখানের তথ্য প্রমাণ রোগের প্রকোপ আচরণ এত সুক্ষভাবে মিলে যায় যে এটাকে এড়িয়ে যাবার উপায় নেই। বুঝা যায় এটি যেন একেবারে স্পষ্ট উহানের নামটি পর্যন্ত এসেছে এর প্রকৃতি স্বভাব খাপে খাপে মিলে যাবার মতই অবস্থান, সন্দেহের দিকেই মানুষ দলিল পাচ্ছে। সম্ভবত এর প্রতিষেধকও চীনের হাতে আছে, তারা ইতমধ্যে সেটি করেছেও। সপ্তাহে হাসপাতাল বানিয়ে ফেলা ও চিচিংফাঁক হয়ে আলীবাবা চল্লিশ চোরের আদলে সব বন্ধ দরজা খোলছে।

ঐ সুবাদে বই দুটি সিলভিয়া ব্রাউনীর লেখা ‘প্রেডিকশন্স এন্ড প্রফেসিস এবাউট দ্যা এন্ড অব ওয়ার্ল্ড’ও ডিন কনটজ এর লেখা ‘দ্যা আইজ অব ডার্কনেস’ এ করোনা ভাইরাসের রসদ বয়ে বেড়াচ্ছে। একদম হুবহু যেন উহান শহরের উদ্ভব হওয়া করোনা ভাইরাসের জন্ম রহস্য একটি সামরিক গবেষনাগারে লুকানো। এএফপির বরাতে প্রকাশ ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক ইসরাইলী কর্মকর্তা ড্যানি শোহাম যিনি এসব জীবানু অস্ত্র বিশেষজ্ঞের অভিযাগ করছেন, এ জীবানু কোভিড ১৯ চীনের উহান ইন্সটিউট অব মাইক্রোবায়োলজির গবেষনাগারে তৈরী হয়েছে। সাবেক প্রধানও চীনের দিকে আঙ্গুল তুলে লেফটেনেন্ট ড্যানি শোহাম এসব দাবি করেছেন। এবং তাদের আরো অস্ত্রাগার আছে, এটিও বলা হয়েছে। এটি চীনের গোপন জীবানু অস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট। মেডিক্যাল মাইক্রোবায়োলজিতে ডক্টরেট করেছেন ইসরাইলের সাবেক এই কর্মকর্তা। ১৯৭০ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের কাজ করা মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ^জুড়ে ইসরাইলের গোয়েন্দা শাখার জীবানু ও রাসায়নিক অস্ত্রের উর্ধতন বিশ্লেষক হয়ে কাজ করছেন। সুতরাং এসব কাজে সংশ্লিষ্টতা থাকায় তার সন্দেহকে একেবারে উড়িয়ে দেবার অবকাশ কম। অনেকের মাথায় প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক এর কারণ কি? কম্যুনিস্ট চীন বিশ^ পরাশক্তি হওয়ার বাসনায় নিমগ্ন। তারা যেভাবে অনৈতিকভাবে প্লাস্টিকের চাল সবজি ডিম এসব তৈরী করে মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে আর বিশ^ চেয়ে চেয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। অতীতেও জীবানু অস্ত্রের কথা উঠেছে বলা হয় এইডসও এরকম একটি জীবানু অস্ত্র মানুষ বিধ্বংসী অস্ত্র দিয়ে মানুষ মারা হচ্ছে।

বলতেই হবে মানুষের মত পশু দুনিয়াতে বিরল। ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য সবাই সময় সময় সন্দেহের তালিকায় থেকেছে। চিকনগুনিয়া ও ডেঙ্গুজ¦রও বলা হয় এভাবে সৃষ্ট জীবানু অস্ত্র মানব বিধ্বংসী অস্ত্র সময়ে সময়ে কিছু মানুষ রুপী পাশবিক আচার নির্ভর কাজ মানুষ করছে। অনেকেই মুসলিম দেশ ইরাক আর ইরানকে কবজা করতে ব্যস্ত কিন্তু তারা নিজেরা এসব করে বেড়াচ্ছে তার কোন ফয়সালা নেই। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কেউ নেই। কারণ যারা বিশ^ নিয়ন্ত্রণ করছে তারাই যদি এসবে রসদ যুগায় তবে এসব অপকর্মই পৃথিবীর ধ্বংস চট জলদি করে ফেলবে।

মানুষ আল্লাহকে দেখে না, ঠিক যেমন করোনাকে দেখে না বলে প্রথমে আঁচ করতে পারে নাই। অনেকের মনে সন্দেহ দানা বেঁধে আছে সত্যিকারের আল্লাহ বলে কোন শক্তি আছে কি না? কুরআন নিজেই সত্যতা যাচাই করার কোষাগার হয়ে শত প্রমাণ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । খাবারের হালাল হারাম নির্ধারণের মাপকাঠি চৌদ্দশত বছর আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে, কোন জিনিস মানুষ খাবে আর কোন জিনিস খাবে না। এর ক্ষতিকর দিকও ষ্পষ্ট করা হয়েছে। মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ভালো মন্দ আজ মানুষ জানছে। এসব অনুসরণ করলে লাভ মানুষের, আল্লাহর নয়। চীনারা এমন কোন কীট পতঙ্গ বাকী রাখে না, তারা সব খায়। বৌদ্ধরা বলা হয় অহিংসা নীতি পালন করে, কিন্তু তাদের বর্তমান আচার সমূহ ভয়ংকর নীতি ঘেরা সর্বভুক জাতি হিসাবে পরিচিত তারা ভয়ংকর স্বরুপে ময়দান চষে বেড়াচ্ছে। বেশীর ভাগ সময় এসব খাদ্যাভ্যাস তাদের সমূহ অনেক দূর্ভোগের কারণ। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষকরা এটাকে পশুর মাধ্যমে মানব শরীরে প্রবেশ করেছে বলেও মনে করছেন। রোগাক্রান্ত সংবাদকথা বিবিসি, বিবিসি বাংলা, ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস, লাইভ সায়েন্স, জন্স হপকিন্স বিশ^দ্যিালয়, দ্যা নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন সর্বত্র করোনা সম্পর্কীত অনেক তথ্যই আসছে।

আমাদের কেউ বলছেন এটি আল্লাহ থেকে আগত, আবার কেউ বলছেন এটি মানুষের সৃষ্ট। আমেরিকার ৯/১১ ও মনুষ্যসৃষ্ট গজব। প্রথম বিশ^যুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধও মানুষের সৃষ্ট গজব। মানুষকে আল্লাহ ইচ্ছে করে ধ্বংস করে না। মানুষ তার নিজের কৃতকর্মে ধ্বংসকাজ করছে, নিজেই বিধ্বস্ত হচ্ছে তার অপকর্মে। তাকে এসব করতে নিষেধ করা হয়েছে, কিন্তু তারা তা মানছে না। নীতি নৈতিকতার ধার ধারছে না। তারা একাই একশ মনে করে, ধরাকে সরাজ্ঞান করছে। করোনা দেখিয়ে দিচ্ছে মানুষ কত তুচ্ছ। হয়তো একদিন তারা ওটি করায়ত্ব করতে পারবে, তারপর তার চেয়ে বড়টা আসবে তাদের শিক্ষা দিতে। আজকের মুসলিমরা ধর্মের মূল থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে। এমন সত্য নির্যাস পাওয়ার পরও মানুষ শংকার মাঝে সময় পার করছে। আর যারা অনুসরণ করছে এমন সব জিনিস অনুসরন করে যার সাথে কুরআন বিরোধী কথাও তারা ধর্ম বলে চালায়। আল্লাহ বলেন, কুরআন তামাশার বস্তু নয় (৮৬:১৩/১৪)। এর বিধানে কোন ব্যতিক্রম নেই (৩৫ সুরার ৪৩ আয়াত)। এতে কোন অসামঞ্জস্য দেখবে না (৬৭: ৩/৪ আয়াত)। নাহলে পেতে প্রচুর গরমিল (৪ সুরার ৮২ আয়াত)। জানি চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী, তারপরও স্মরণ করলাম তাদের জন্য যারা এ থেকে উপকার জমা করবেন। আল্লাহর রহমতে সবাই করোনা থেকে নিরাপদ থাকুন।

লেখার সময় ৩১ মার্চ ২০২০।

করোনা কভিড – ১৯ ও বাংলাদেশ

নাজমা মোস্তফা

বাংলাদেশের জনতা করোনা: বিদেশ ফেরতরা বলছে বাংলাদেশে বিমানবন্দরে কোন ধরণের বাছ বিচার করা হচ্ছে না, করোনা কি জিনিস তা নিয়ে সবার অসচেতনতা ছিলই আর এখন সরকার সচরাচরের মত লুকোচুরি খেলছে। হয়তো সামনে লাশ গুম করবে, অসচেতন গাফেল সরকার মুজিব বন্দনাতে সময় পার করছিল। করোনা এদেশে এসেছে তার দাগ সরকার খোঁজে নাই, কেয়ারও করে নাই, নজর ছিল অন্যদিকে। তা ছাড়া অনেক তথ্য নিশ্চিত করছে সরকার চারপাশকে চাপে রাখছে করোনার কথা বলতে নিষেধ করছে। সচরাচরের মত অপরাধী সরকারের প্রচেষ্টা দেশের প্রতিটি সেক্টরের দোষ ঢাকার প্রচেষ্টা। যখন মুজিব বন্দনাতে বিদেশীরা আসবে না বললো তার আগ পর্যন্ত সরকার করোনার ধারেকাছেও নেই, বরং লুকাতে ব্যস্ত। গো বেক মোদি, কথাটি খুব সম্মানের বিষয় নয়, বরং লজ্জার। মোদির জন্য এ যাবত ৮ মার্চ পর্যন্ত সরকার ছিল পাগলপ্রায়। সারা দেশের মানুষ বিদ্রোহী হলেও, সরকারের হুমকি ধমকি বহাল ছিল। ভারত বাংলাদেশ উভয় পক্ষে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়, চুক্তির নামে ঝুলানো লোভের মূলা, তিস্তাকে বাদ রেখে ছলবাজী মেঘ কাটার গল্পও শোনানো হয়। নদীপথের যাতায়াত বাড়ানো ও চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহারের ভারতীয় লাভ জমা করতে মোদির উৎকন্ঠাও লুকানো থাকে নাই। ভারত কখনোই তার লাভের চুক্তি পাওনার জমা ভুলে না। একতরফা লাভে সবদিন আগুয়ান। বাংলাদেশকে তাদের দখলদারী অংশ মনে করে একতরফা লুটপাটের চুক্তি ও আলোচনা চলে। বেশীরভাগ সময় এর বেশী কিছু জানেও না বাংলাদেশীরা। মুসলিমরা মোদির চোখে বিষফোঁড়া। বাংলাদেশে মুসলিম আলেমদের প্রতিবাদের কাছে তার সব কপট কৌশল মুখ থুবড়ে পড়লো। মোদি গো বেকে বাধ্য হয় বহুদিন থেকে তার একতরফা অর্জন, এবার বাধ সাদলো বেরিকেড হয়ে দাঁড়ালো বাংলাদেশের জনতা ও করোনা।

সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদন:  সতর্ক সংকেত এসেছে বিশিষ্ট জনদের গবেষনা প্রতিবেদন থেকে। খুব সংক্ষেপে ঐ পরিসংখ্যান আনছি। বাংলাদেশের ব্রাক বিশ^বিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ^বিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ^বিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও এপিডেমিওলজিস্টদের লেখা এক গবেষনা প্রতিবেদনে এমন আশঙ্খা করা হয়েছে। শংকা প্রকাশ করা হয়েছে ৫ লাখেরও বেশী মানুষ মারা যেতে পারে। শংকায় ৮ মে থেকে এটি ছড়াতে থাকবে। ২৮ মে থেকে এটি ৮ কোটি ৯১লাখের উপর ভর করতে পারে। এদের এক অংশকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে। কিছুদের নিবিড় পরিচর্যার দরকারও পড়তে পারে। সর্বমোট ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা। মোট জনসংখ্যার ৮১% আক্রান্ত হতে পারে। তবে সরকারের তড়িত পদক্ষেপে সেটি কমতেও পারে। কত কমবে সেটি ব্যাখ্যাতে আসে নাই। তাদের হিসাব অনুযায়ী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৪৬৪০ জন রোগীর ৫৯জন হাসপাতালে নেয়া হবে ১২ জনের নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন পড়বে এবং মারা যাবে একজন। সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগীর সংখ্যা দেখা যেতে পারে মে মাসের ১১ তারিখে ১ কোটি ৪১ লাখেরও বেশী। ১৪ মে / ১৬ মে তে হাসপাতাল নিবিড় পরিচর্যাতে ছুটাছুটি শুরু হবে। দেখা যাবে ২৬ মে একদিনেই ৮০ হাজার ৭৯৬ জন মারা যেতে পারেন। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৮ মেতে একজন মারা যান মানে ততদিনে সারা দেশে ১,৬৮৫ জনের মধ্যে এ রোগ ছড়াবে। ৩১ মার্চ নাগাদ লক্ষণ দেখা যেতে পারে ২১ হাজার ৪৬১ জনের মধ্যে। হাসপাতাল দৌড়াদৌড়ি, নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর ৬ জন মারা যেতে পারে। গবেষকরা আশংকা প্রকাশ করছেন তারা যতটা বলছেন তার চেয়েও ভয়ংকর হতে পারে বাস্তব। বাংলাদেশে যেখানে বলা হচ্ছে ১ জন মারা গেছে এর সত্যতা কতটা নিশ্চিত, ধারণা করা হয় এর চেয়েও বেশী হতে পারে। নানান সতর্ক সংকেত ও বানী থেকে তাই মনে হচ্ছে সরকার এসব পরিসংখ্যানে ধামাচাপার চেষ্টায় আছে। পরিসংখ্যানটি ২০১১ সালের মানুষের বয়সের অনুপাতে সাজানো হয়। বর্তমানে বয়স্কদের সংখ্যা বেড়েছে, তাই মৃত্যুর শংকাও বাড়তে পারে। প্রতিবেদনটি যৌথভাবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ গবেষক দ্বারা করা হয়। এর মূল গবেষকরা লন্ডনের বিখ্যাত ইম্পোরিয়াল কলেজের গবেষকদের উদ্ভাবিত মডেলের আলোকে করা, পরবর্তীতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরিস্থিতির উপর প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। সংক্রামক রোগের উপর করা ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকদের কাজ খুবই উচ্চ মানসম্পন্ন। ঐ মডেল অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে প্রায় ৫ লাখ ও যুক্তরাষ্ট্রে ২২ লাখ মানুষ মারা যেতে পারে। উল্লেখ্য, এসব প্রকাশের পর যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এটি মোকাবেলায় বড় ধারার পরিবর্তন আনে। (নেত্র নিউজ থেকে ২১ মার্চ ২০২০। সুইডিশ সময় ১৮:২০)।

করোনার বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ নিন: যুগে যুগে অতীতেও মানুষ এভাবে সংক্রামক রোগের ভয়ংকর বিপদের মুখোমুখি হয়েছে। দুনিয়া যতই এক হচ্ছে ভাইরাস ততই ভয়ংকর স্বরুপ নিয়েছে। সততা মানবতা ও দক্ষতা দিয়ে জীবনে তার মোকাবেলা করা জরুরী। করোনা কেন হয় কিভাবে ছড়ায় এর মাঝে সবাই এটি জেনেছেন। যতদূর পারা যায় মানুষের সংস্পর্শ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা জরুরী। হাতের ছোঁয়াতে এটি ছড়াবার সম্ভাবনা থেকে আলাদা আলাদা দূরে থাকতে বলা হচ্ছে। যে কোন বিপদেই আল্লাহর সাহায্য চাওয়া বাঞ্ছণীয়। তারপরও শুধু সাহায্য চাইলেই মানুষ নিরাপদ, এমন কোন শর্ত নেই। কেউ কেউ বেয়াড়াপনা করে বলছেন মসজিদ ছাড়বো না, বেশী করে নামাজ পড়তে মসজিদে যাবেন। ধরে নিচ্ছেন এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি বেশী পাবেন। বস্তুত আল্লাহ বেওকুফের জন্য অনুদার। কারণ মানুষকে বিবেক দেয়া হয়েছে, সে যদি বিবেকের সঠিক ব্যবহার না করে বেওকুফী করে মরে তার দায় কেন আল্লাহ নিতে যাবে। মানুষকে আল্লাহ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব বানিয়েছে এ কারণে যে তারা তাদের মগজের সঠিক ব্যবহার করবে, যুক্তি দিয়ে জ্ঞান দিয়ে বুদ্ধি দিয়ে সঠিক সত্যকে গ্রহণ করবে। কেউ যদি স্বেচ্ছায় আগুণে ঝাপ দিয়ে বলে যে আল্লাহর হুকুমে তার কিছু হবে না। আগুণের ধর্ম পুড়িয়ে মারা, ঐ ধর্মটিও আগুণের স্বভাবের অংশ। তাই একজনকে বাঁচতে হলে আগুণকে তার ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। নবী মোহাম্মদ (সঃ)কে কুরাইশরা ১০০ উটের পুরষ্কারে তার মাথার দাম নির্ধারণ করার পরও ধরতে পারে নাই। কিন্তু তারা নবীর মাথার সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরে। নবীকে আল্লাহ সাহায্য করেছেন এটি সত্য এবং নবীও তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ঘটনার জটিলতা বুঝতে পেরে আগের রাতেই গৃহত্যাগ করে সওর পর্বত পর্যন্ত পৌছান। অতপর গুহার ভিতরে সূর্যদোয় পরে আত্মগোপন করে কপটদের দৃষ্টির আড়ালে গোপন থাকেন। অবশ্যই আল্লাহর অসীম রহমতে বেঁচে যান। উন্মত্ত কুরাইশরা তাকে মারতে গিয়েছে, তাদের ঘোড়ার পদভারে প্রকম্পিত পাহাড়ে ভয় পাওয়া নবী ও আবুবকর আল্লাহর সাহায্য চেয়েছেন। আল্লাহর সহযোগিতায় তারা গুহার অভ্যন্তরে নিরাপদ থেকেছেন। সবযুগেই নবী রসুলরা সাধু সজ্জনরা এভাবে আল্লাহর সাহায্য পেয়েছেন তার অর্থ এটি নয় যে তারা হাত পা ছেড়ে বসে ছিলেন আর আল্লাহ তাদেরে দৈব কৌশলে উদ্ধার করে মদিনায় পৌছে দেন। তারা নিজেরা দায়িত্বশীল ও কর্তব্য পরায়ন ছিলেন এবং আল্লাহর সহযোগিতা পেয়েছেন। মানুষ দাঁড়িয়ে বসে শুয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহর সাহায্য চাইতে পারে, প্রার্থণা করতে পারে। দেখা গেছে বৃটেনের এক পরিসংখ্যানে ২৫% মুসলিমরা মারা গেছে করোনায়। অনেকে এও মন্তব্য করছে তারা তাদের কিছু মনগড়া বেয়াড়া মনোবৃত্তির কারণে এ গড় হিসাবে ধরা খেয়েছে। যুক্তির ধর্ম ইসলাম যুক্তিহীন ভৌতিক ধর্ম নয়।

সরকারের রাজশিক গাফিলতি: বাংলাদেশ সরকার যেভাবে জন্মশতবর্ষ পালন করতে চেয়েছিল, দুনিয়া কাঁপানো করোনাকে একপাশে ঠেলে দিয়ে। একটি বিতর্কীত মানুষকে নিয়ে ঢলাঢলি করতে চেয়েছে সরকার, যারা আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে আক্রমণ করছে তাদের এনআরসি বিষয়ক আরএসএসরা। মন্ত্রী কাদের ধমকে উঠেন, নরেন্দ্র মোদির বিরোধীতা করতে লজ্জা করে না। লজ্জার কি বুঝেন কাদের? আত্মসচেতন জাতি কাদেরের থেকেও বহুগুণ বেশী সমঝদার। তারা বলেছেন করোনা বিএনপির রাজনীতি ও কারসাজি। বাংলাদেশের সরকার যেভাবে মরার উপর খাড়ার ঘাঁ মেরে মুজিব বর্ষকে পালনে নেমেছিল, বিদেশের ঋণে খাওয়া ঘি খোর ফকির দেশটির রাজশিক আচরণ অতীতেও বিতর্কীত হয়েছে বারে বারে। ইত্যবসরে করোনা এক ভয়ংকর গজব হয়ে হাজির হয়েছে। ক্ষমতায় অন্ধ সরকার কল্পনায় বাবা পূজায় ব্যস্ত সময় পার করেছে, বাস্তব দুনিয়া তাদের সামনে ছিল না। কল্পনার ফানুসে হাতির ঝিলের আতশবাজিতেও মুগ্ধ ব্যস্ত মুজিব পরিবার, পারিবারিক শতবর্ষ পালন করছে রাষ্ট্রীয় খরচে। সাত মেট্রিক টন = ১৭৫ মণ আতশবাজি বিদেশ থেকে কেনা হয়েছে, আলোকশয্যায় ঢাকা শহরের সাজ সাজ রব। উৎকন্ঠিত মোদির অগ্রদূত শ্রিংলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ঘুরে যান। উত্তাল সারাদেশ নারাজি মোদিতে, চিন্তার বলিরেখা কপালে। না হলে এ যাত্রা ঠেকায় কে? পত্রিকার শিরোনাম ‘গভীর রাতে মুজিব কন্যা তার পরিবার নিয়ে হাতির ঝিলে’।

মুখর মন্ত্রীরা, উপনির্বাচন তাদের শেষ দাগ: বিএনপির রিজভী বলছেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলাতে সরকার শুধু লিপ সার্ভিস দিচ্ছে। মুজিববর্ষের বন্যায় ভেসে যাওয়া তথ্য মন্ত্রী হাসান মাহমুদ উচ্ছাসের অতিশয্যে বলছেন, ‘বিএনপির সুযোগ ছিল মুজিব বর্ষে হত্যা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার’। এসব অপ্রাসঙ্গিক মিথ্যাচারী বাচাল নেতাদের সামনে এসে আজরাইল দরজাতে টোকা দিলেও তারা নিজেদের ত্রুটিও দেখে না বিপদও দেখে না। দেখে পরের বিপদ, ক্ষমতায় অন্ধ পরনিন্দায় অবিচল। একই ধাতে গড়া নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন পিছাতে রাজি না করোনা থেকেও ভয়ংকর তারা নিজেরা সরকারী দালাল। ইভিএম সম্বল করা দালালরা প্রার্থীদের বুথে ঢুকতে দেয়নি, ভোটাররা কেন্দ্রে যায়নি। গেটে পাহারা জোরদার ভোট দেয়া দূর অস্ত, ভোটকেন্দ্রে ঢোকার হুকুমই বাতিল সরকারী দম্ভ প্রমাণ হয়েছে এবারও। ওবায়দুল কাদের বলেছেন তারা করোনা থেকেও ভয়ংকর। জাতিকে এভাবে দুই ভাইরাসের সাথে লড়তে হচ্ছে। আগাম করোনা সংকেত থেকে সরকার কোন অর্জন জমা করেনি। সরকার নিশ্চিন্ত ছিল, মরবে তো গরীব বিরোধীরা, শক্তিমানদের মরার সুযোগ কম। আতশবাজীর তলানীতে ফূর্তির বছর কাটাবে। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের বাচাল প্রশাসন মুখর থেকেছে। মস্ত্রীদের কথা কখনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পর্যায়ের আবার অনেকের কথা কুফরি কালামের পর্যায়ে পড়ে। মন্তব্যগুলো লোম দাঁড় করিয়ে দেবে। করোনা নিয়ে বিএনপি জনগণকে আতঙ্কিত করছে, তথ্যমন্ত্রী। শেখ হাসিনা থাকতে করোনা আমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না নৌপরিবহন মন্ত্রী,  করোনা প্রতিরোধে ঢাকা বিমানবন্দরের মত ব্যবস্থা উন্নত দেশগুলোতেও নেই, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, শেখ হাসিনার মত নেত্রী পেয়েছি বলেই তা প্রতিরোধ করতে পারছি, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ ইতালী স্পেনের মত ভুল করবে না, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। করোনা মারাত্মক রোগ নয়, এটি সর্দি জ¦রের মত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, করোনার চেয়েও আওয়ামী লীগের শক্তি অনেক বড়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী, করোনা ভাইরাস মারাত্মক নয় ছোঁয়াচে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, করোনা নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা ইতালীর চেয়েও বেশী সফল বাংলাদেশ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী। উপরের দালালগুলোর প্রকৃতি ও আচরণ ইতিহাসে দলিল হয়ে থাকবে। দেখলাম এই দালালগুলোর অতিআচার ও অত্যাচারে জর্জরিত কর্মকান্ডে ইউরোপ বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস অর্ডার বাতিল করছে। তারা এ দলবাজ মিথ্যাচারী বকওয়াজগুলোকে বিশ^াস করে না। আরো কঠিন যুদ্ধ সামনে আসছে। সব নষ্টামীর খেসারত দিবে ঐ হতভাগা জাতি। আল্লাহ এদের মুখে লাগাম দিক। অবৈধ সরকার এসব দালাল পুষে, দেশ পরিচালনার নামে এসব ভাড়ামির জন্যই তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরা দলেবলে বহুদিন থেকে মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। কপটদের স্বভাব সাধারণত বদলায় না।  সবারই শংকা করোনায় ভর করে আরো বড় খেল জমা করবে দাগাবাজরা। মানুষের লাশ লুকোবে, গুম করবে গিলে ফেলবে সতি সবিত্রী ময়দানে তারপরও দেবীরুপে হাজিরা দেবে। মানুষ মেরে যে অবাধ অপকর্ম করার রাজনীতি উদোর পিন্ডি ভোদড় ঘাড়ে চাপানোর ছলবাজি কসরত চলছে, সাম্প্রতিক উপনির্বাচন তার সর্বশেষ প্রমান।

জাতি দুই ভাইরাস নিয়ে লড়ছে: সারা জাতির মতই খালেদা জিয়াও দুই শক্ত ভাইরাসের সাথে লড়ছেন। এক হাসিনা সরকার অন্য ময়দানের করোনা।  খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা রহমান সাংবাদিকদের বলেন ৫ মিনিটও দাঁড়াতে পারেন না খালেদা জিয়া (১২ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০) ৭৫ বয়স উর্ধ এ মহিলাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে যা করার সবই করা হচ্ছে। আদালতকে হাতের মুঠোয় নিয়ে উঠবস করানোর প্রমানও বর্তমান। সবদিকেই খালেদা জিয়া চরম ঝুকিতে আছেন! এ ঝুকিতে মুখর দলবাজ ছাড়া বাকী সারা দেশ একদিকে! ছলে বলে কলে কৌশলে সরকার চাইছে খালেদাকে হত্যা করতে এ অভিযোগ ইতমধ্যে উঠেছে, সারা জাতি তার স্বপক্ষে মিটিং মিছিল করছে তারপরও সরকার ধামাচাপাতেই জাতিকে গুম খুনে হত্যা করছে একইভাবে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকেও মৃত্যুর এজেন্ডা নিয়েছে। ইতালীর প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সমাধান শেষ, এখন বাকী একমাত্র আশা আকাশে, অদেখা বিধাতার দিকেই তিনি ইঙ্গিত করছেন। করোনার এ হুমকি এসেছে দৈব থেকে, সেটি মাথামোটাদের বুঝতে হবে। দৈবের সাথে ভন্ডামী মশকরা কান্ডে মানব জাতি সীমা ছাড়িয়ে গেছে, বাংলাদেশ সরকারও ছলাকলাতে শিরোমনি। তারপরও শেষ ভরসা আল্লাহর আদালতে নিভৃতে বিচার চাওয়া। সরকার জাতিকে উদ্ধার করবে, সে ভরসা জাতির সামনে কম। কোন ভাবে সংক্রমিত হলে ভীতি না ছড়িয়ে সঠিক পরিচর্চা নিজেকেই করতে হবে। এমন সংকটে কাছের বাকীরাও ভীত থাকবে। আত্মবিশ^াসী থেকে ভিটামিন সি খাওয়া, পানি জাতীয় লিকুইড খাওয়াসহ রোগের বিস্তার না ঘটানোর ব্যাপারে সংযত থাকতে হবে। দালাল মন্ত্রীদের নয় বরং বিশেষজ্ঞদের কথা শুনতে হবে। আল্লাহর সাহায্য চাইতে কার্পণ্য নয়, মনের দুর্বলতা মানুষকে তাড়াতাড়ি অসুস্থ করে, আবার সবল আত্মবিশ^াসে বিশ^াসী মানুষ আশার আলো জাগাতে পারে। এ জন্য বলা হয় মরার আগে না মরতে। কঠিন সংগ্রামী পরীক্ষাতে সারা দুনিয়া যেন এর মোকাবেলা করতে পারে এ দোয়া চাইছি আল্লাহর কাছে। ভয় দেখিয়ে আল্লাহ নির্ভয় করুক। সৎ ও সুন্দর পথে চলার তওফিক দান করুক।

লেখার সময়: ২২মার্চ, ২০২০ সাল।

 

সত্য ও  ন্যায়ে অটল থাকার নির্দেশ

নাজমা মোস্তফা

সরকার এমন এক অদ্ভুত জিরোটলারেন্সের নীতির উপর চলছে যেখানে সত্য প্রকাশ করা এই আজব রাজকন্যার দেশে নিষিদ্ধ। যে বা যারা এটি করবে তাদের জন্য হামলা মামলা কারাগার বরাদ্দ। এর খেসারত দিয়ে চলেছে দেশটির সবচেয়ে বেশী বেশী ক্রেডিটধারী পরিবারটি। তাদের অপরাধ তাদের জনগণ বেশী পছন্দ করে ও তারা সততার দাগ রেখে আজীবন চলতে পেরে জনতার অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছে । হিংসার  সংকীর্ণ মানসিকতায় ডাকাত সরকার তাদের উপরই শুধু নয় গোটা জাতির উপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। পাপিয়ার পাপ প্রকাশ করা যাবে না। এটি প্রকাশও বেআইনী অপরাধ বলে চিহ্নিত হচ্ছে। প্রতিটি অপরাধ একটির সাথে আরেকটি যুক্ত। টক অব দ্যা আশুলিয়াকে বলা হচ্ছে আশুলিয়ার পাপিয়া। আজকের লেখার শিরোনাম সত্য ও ন্যায়ে অটল থাকার নির্দেশ, মূলত এটি কোন অবৈধ মানুষ সরকারের নির্দেশ নয়। এক অদেখা শক্তি দুনিয়ার মালিক মোক্তার বলে আমরা যাকে জানি এটি তার নির্দেশ। সুরা নিসার ১৩৫ নাম্বার আয়াতে  বলা হয়েছে সত্য প্রকাশ করতে ও ন্যায় বিচারে দৃঢ় থাকতে। দরকারে নিজের বিরুদ্ধে অথবা পিতামাতার ও নিকটজনের বিরুদ্ধে গেলেও সেটি করতে হবে। কারণ এটি লুকানো সম্ভব না, এদের অপরাধীদের আল্লাহ জানে বেশী। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে মানুষ জাতিকে এ হুমকি দিয়ে রেখেছে আল্লাহ! যদিও ছলবাজরা এ কুরআনীয় নির্দেশ এড়িয়ে নকল রং ঢং বহাল রেখেছে শুধু মানুষকে প্রতারণা করবে বলে। এ নির্দেশ নারী পুরুষ আস্তিক নাস্তিক ধার্মিক অধার্মিক সবার জন্য। হে মানবজাতি বলে সম্মোধন করে কুরআন তার প্রতিটি কথা বার বার বলে রেখেছে।

বাংলাদেশে ৯০% মুসলিম ও ৯৯.৯% পার্সেন্ট ধার্মিকের দেশ হওয়ার পরও মিডিয়া কথা বলতে পারে না। ময়দান ঘেটে সত্যকে তুলে আনা সহজ কাজ নয়। অনেকের হয়তো মনে আছে কিছুদিন আগে বর্তমান হাসিনা সরকারের বয়ান, ‘একটি পত্রিকা আমি পড়ি না, পছন্দ করি না, নামটিও বলতে চাচ্ছি না।’ জানতে খুব ইচ্ছে করছিল সে মূল্যবান পত্রিকা কোনটি। ইত্যবসরে সব রাখ ঢাককে ধামাচাপা দিয়ে পাপিয়া নামধারী পাপিষ্ঠা নেত্রীর সাথে রাঘব বোয়ালগং ময়দানে হাজির। নতুন নতুন আশুলিয়ার পাপিয়া সাদিয়ারাও দলে দলে শরিক হচ্ছে। মার্চের ২ তারিখে পাপিয়ার মুখে আমলা এমপি ব্যবসায়ী সহ ৩০জনের কথা ওয়েস্টিন হোটেলের বরাতে প্রকাশিত হয়। এই  শামিমা নূর পাপিয়ার কূকীর্তি ছাপার অপরাধে মানবজমিন সম্পাদকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টএর আওতায় মামলা হয়েছে। নিউজ পেপারে লিস্টের সবার নাম না আসলেও ৩০ জন জড়িত কথাটির প্রকাশকথা সরকার সইতে নারাজ। সরকারের নীতি হচ্ছে তার দলের লুকানো কুকীর্তি ছাপা যাবে না। সেখানে সম্পাদককে অপমান করতে সরকার পিছপা নয়। সারা দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো শোরগোল তুলেছে সরকারের ঐ অপকর্মের বিরুদ্ধে। মানব জমিন যে সরকারের পছন্দের নয়, সেটি স্পষ্ট হল। ডাকাত সরকার নিজের পাপেই আকন্ঠ ডুবে আছে, সেখানে কিভাবে পাপিয়ার পাপ ঢাকবে সে চিন্তায় তাদের ঘুম হারাম হয়ে আছে। যারা সত্য বলে তাদেরে সইতে পারে না, ভয় পায় অপরাধী সরকার।

সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে সত্য প্রকাশ করা, সবাই এটি করতে সমান দক্ষ নয়। সৎ সাংবাদিকতার মর্যাদা যে কত উপরে সেটি বলার ভাষা নেই। সহজভাবে বলা হয় একজন সৎ ব্যক্তি মক্কা শরিফের সাথে তুলনীয়। মুসলিমরা তাদের শ্রেষ্ঠ অনুভূতি দিয়ে এভাবে বুঝায়। একজন দাগী আসামী আর একজন দায়িত্বশীল সম্পাদক, উভয়ের অবদান সমাজে দু রকম। একজন সম্পাদকের দায়িত্ব সমাজের প্রকৃত স্বরুপ জনতার সামনে স্পষ্ট করা আর আসামীদের কাজ সমাজ থেকে সব নীতি নৈতিকতা মুছে দেয়া। ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টএর আওতায় কি সরকার বা তার নিকটজনরা ধরা খায়? ইন্টারনেটের মুক্ত যুগে সাধারণ মানুষও জানছে চারপাশ থেকে অনেক সত্য অনেক মিথ্যা প্রতারণা ছলনায় ভরা লেনদেনের খবর, গোয়েন্দারাও নিশ্চয় এসব খবর পান, জানেন। এদের বিরুদ্ধে কি কখনো বিচার বরাদ্দ হয়েছে? এ কারণেই জিয়া ব্যতিক্রমী ছিলেন, তার জীবনে কোন দুর্নীতির দাগ কেউ অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পায়নি। সে সময় ঢাকাতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেই থাকতাম। একবার এক কারেন্টের মিস্ত্রীর মুখে জিয়া পরিবারের অবিশ^াস্য খবর শুনে বিস্মিত হয়েছি,  আজো অনেকেই ঐ সব প্রমাণ নিয়ে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছেন বলেই মনে করি। জিয়া পরিবারের সাথে খাওয়া ডাল করলা ও সাধারণ মাছের ঝোল তরকারীর ভাগিদারদের সাথেও কথা হয়েছে সময়ে সময়ে। জিয়া নিজ পরিবারের জন্যও কোন স্বজনপ্রিয়তার সুযোগ রাখেন নাই। শাহিন স্কুলে দশ বাচ্চার জন্য যে নিয়ম, জিয়ার কড়া হুকুম ছিল তার বাচ্চাদের জন্যও সমান নিয়ম থাকবে কোন ব্যতিক্রম তিনি হতে দেন নাই। আম জনতারা ময়দান থেকে এসব মহাত্মনদের থেকে অনেক শিখেছে, আজকাল সে সিলসিলা ময়দানে নেই। গলাডুবা অপরাধী স্বৈরাচার এরশাদ টাইটেলেই পরিচিত, সাথে তার রাজনীতির সহোদরা শেখ হাসিনার ক্রমাগত প্রশ্নাতীত বিতর্কীত অর্জনে জাতি হতবুদ্ধ!

বিষয়টি সত্য ও ন্যায়ে অটল থাকা। এর চুলচেরা বিশ্লেষণ বিবেকের জমা। শেখ হাসিনা নিজেও যে তারেককে হুমকি ধমকি দিলেন যে তোমার মাকে ছাড়া হবে না। তখন হাসিনার বিরুদ্ধে কেন মামলা হয় না ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টএর আওতায়? বিচার কি শুধু বিরোধী খালেদাগংদের জন্য জমা। শুরুতে মুজিব পরিবারের ব্যাংক লুটেও বিচার হয় নাই, দেরীতে ব্যাংক ডাকাতীরও বিচার হয় না। সমাজের সুধী জনদের বিস্ফোরক মন্তব্য সারা জাতি শুনছে। কিন্তু চোর ডাকাতের গায়ে ওসব লাগে না। যে দেশের নিয়ম নির্দোষের উপর বিচার বরাদ্দ হওয়া, প্রমাণ খালেদা জিয়া, মাহমুদুর রহমান, মইনুল হোসেন, শফিক রেহমানরা মামলায় জেল খাটেন! তাদের অপরাধ করতে হয় না, এদের মুখ স্ট্যাপল করতেই টিপে ধরা ধরপাকড় নাটক সাজা ও মুখ সিল করা। এরা জাতির ডাকাত নয়, এরা জাতির বিবেক! এমন কি ফরহাদ মজহারকেও ভয়, তাই রানা প্লাজার রেশমার আদলে নাটক মঞ্চায়ন। আগের দিন ভারতের নির্যাতীত সংখ্যালঘুদের পক্ষে মাহমুদুর রহমানের সাথে প্রতিবাদী সম্মেলন, চলে বিনাশের চেষ্টা! ভাগ্যিস বর্ডারে পাচারের আগে দৈবের সহযোগিতায় বেঁচে গেছেন ফরহাদ মজহার। ধড়পাকড়ের এ হুমকি শুধু কি ফরহাদ মজহারের জন্য, ঝিকে মেরে বৌকে শেখানো! বাকীদের অনিরাপত্তার হুমকি জমা রাখা। এরকম এক একটি ঘটনা নিয়ে বিশাল রম্য রচনা হতে পারে।

মুজিবনামায় এক সরব মুক্তিযোদ্ধা: সত্য ও ন্যায়ের বদলে স্বাধীনতা পাওয়ার পঞ্চাশে দেশ কেমন করে পঁচে গেল অনেক বিদগ্ধ জনরা পুরানো বুকচাপা বেদনা অন্তরে ধারণ করে দম ছাড়ছেন। যুদ্ধ যদি পঞ্চাশ পেরোয় যোদ্ধা তখন নিশ্চিত সত্তুর পঁচাত্তর পার করেন। বৃটেনে থাকা এরকম একজন মুক্তিযোদ্ধা জগলুল হোসেনের কিছু সত্য কথন জাতির পঞ্চাশপূর্ব অবস্থান নিশ্চিত করবে কিছুটা হলেও। লুন্ঠিত বিজয়ে এসবই প্রকৃত যুদ্ধচিত্র “মুজিবকে বঙ্গশত্রু উপাধী দিয়েছিলেন মতিয়া, মুজিবের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে ও জুতা বানাতে চেয়েছেন তিনি। বর্তমান হাসিনার সংসদের ইনু সেনা ট্যাংকে অস্ত্র ছুড়ে আনন্দ প্রকাশ করেন, মুজিবের জন্ম গ্রহণের সংবাদ শুনে নয়, বরং  মৃত্যু বরণের খবর শুনে। সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ শংকা প্রকাশ করেন শেখ মুজিব হত্যায় মুজিবের ভাগনা শেখ সেলিম জড়িত। শাহরিয়ার কবির লেখেন মুজিব এখন বঙ্গবন্ধু নন, বঙ্গশত্রু বা জনশত্রু। কর্ণেল তাহের তিনিও বিতশ্রদ্ধ মুজিবের উপর বলেন, মুজিবের লাশ বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করতে কারণ তার কবর হলে আওয়ামী লীগ মাজার বানাবে। মেননের দলের বিবৃতি, মুজিবের মৃত্যুতে জনগণ উল্লসিত, এ মৃত্যু সামান্যতম দুঃখ সমবেদনা জাগায়নি, জাগাতে পারে না। সেদিন মুজিব, তোফায়েল রক্ষীবাহিনীর প্রধানসহ অনেককেই সাহায্য চাইলে কেউ মুজিবের সাহায্যে আসে নাই সাহায্যও করে নাই। সেনাবাহিনীর প্রধান শফিউল্লাহ বুদ্ধি দেন, দেয়াল টপকে পালাতে। মৃত্যু পরবর্তী দোয়া করতে মানুষ পাওয়া যায় নি। লন্ডনে আওয়ামী সরকারের স্পিকার আব্দুল মালেক উকিলের মন্তব্য, দেশ ফেরাউনের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে। সাবেক স্পিকার ও বিদেশ আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী বলেন, একশবার মুজিবের ফাঁসি হলেও তার পাপমুক্তি হবে না। তার মৃতদেহ যখন সিড়িতে পড়েছিল তখন ফণিভূষণ মজুমদার ও মনোরঞ্জন ধরসহ ১৮ মন্ত্রীর ১০জন ও ৯জন প্রতিমন্ত্রীর ৮জন মোশতাক মন্ত্রীসভায় যোগ দেন। বাকীদের মধ্যে ৪জন কারাগারে যান আর ৩ জন বিদেশে ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আজকের শক্তিধর এইচ টি ইমাম। তার জানাজায় অংশ নেন ১৮জন। বিবিসিতেও শেখ হাসিনা এরকম ১০-১৮সংখ্যার কথা প্রকাশ করেন। এটি একজন মুক্তিযোদ্ধার পঞ্চাশের জমা!

 মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস জানা: এরকম অনেক খবর জমা আছে, যারা পরে জন্মেছেন মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনলেও জানেন কম, মিথ্যা ইতিহাসে সত্যরা হাপায়। আর যখন সরকার সব ধামাচাপায় জড়িত থাকে তখন কোন সত্যই জানা সহজ হয় না। একটি গ্রন্থ সূত্র থেকে: বাংলাদেশ সরকারের ভারতপন্থীদের নিয়ে গঠিত হয় রক্ষীবাহিনী তাদের কপট কার্য সিদ্ধি করতে। ১৯৭১ সালের অক্টোবরে যুদ্ধকালীন সময়ে ‘র’ এর নিয়ন্ত্রণে গোপন সাতদফা চুক্তি হয়। এ সাতটি চুক্তিতে স্বাধীনতা বিধ্বস্ত হয়। ভাবতে অবাক লাগে কিভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন ঐ শর্তে সায় দেন। এটি অবশ্য সত্য, তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি জনাব সৈয়দ নজরুল ইসলাম চুক্তি সাক্ষরের পর মূর্ছা যান। ঐ লিখিত সমঝোতাই হচ্ছে বাংলাদেশ রক্ষী বাহিনীর উৎসকথা। —- ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের গোয়েন্দা দফতর জানতে পারে যে কলকাতার ভবানীপুরে এক বাড়ীতে ভারতীয় গোয়েন্দা নিয়ন্ত্রণে ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামে এক গোপন সংগঠন কাজ করছে। উদ্দেশ্য পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করা। চিত্তরঞ্জন সুতার ও কালিদাস বৈদ্য তথাকথিত বঙ্গভূমির প্রবক্তা এর সাথে জড়িত। পরে এরা দুজনাই আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এমপি। মূলত এরা ‘র’ এর এজেন্ট হয়ে ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের এক পর্যায়ে ঐ দুজনসহ আরো এক হিন্দু আওয়ামীনেতা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশকে ভারতের অংশ করে রাখার প্রস্তাব রাখেন। এখানে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো জনাব হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি অবহিত করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জনাব চৌধুরীর মতে তারা কিছু সংখ্যালঘু নেতারা চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে সিকিম বানাতে” (জনাব মাসুদুল হক লিখিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘র’ এবং সিআইএর ভূমিকা দ্রষ্টব্য। আবু রুশদ এর ‘বাংলাদেশে র’ গ্রন্থেও আপনারা অনেক সূত্র কথা পাবেন। —- আবার সেই মুক্তিযোদ্ধা জগলুল ভাইএর স্মৃতিকথাতে ফিরছি। এই রক্ষী বাহিনী দিয়ে পাকিস্তান ফেরত “মুজিব সরকার ৩০ হাজার দেশপ্রেমিক হত্যা করেন। তাদের অপশাসনে নেমে আসে স্বাধীন দেশে নির্বিচার হত্যা, নিপীড়ন, নির্যাতন, লুন্ঠন, দখলবাজী সীমান্ত পাচার এসব রংবাজি বিভীষিকা। তাদের অপশাসনে লুন্ঠন, কালোবাজারী সীমান্তপাচারের ফলে ১৯৭৪ সালে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষে প্রত্যক্ষ ৫ লক্ষ ও পরোক্ষ ১০ লক্ষ হতভাগ্য ময়দানে মারা যায়। ক্ষমতার টিকিয়ে রাখার মসনদীয় স্বার্থে ভারতের কাছে সার্বভৌমত্ব জমা রাখার প্রচেষ্ঠায় সরকার হয় চরম জনবিচ্ছিন্ন। এমন সংকট সময়ে ক্ষমতাকে আরো শক্ত করে বেধে রাখতে তিনি বাকশাল চালু করে স্বৈরশাসকের ভূমিকায় নামেন। যেন ফের আইয়ুব ইয়াহইয়ার চেয়ে আরো ভয়ংকর রুপে ময়দানে আবির্ভুত মুজিবের বাকশাল!

আমরা তখন ঢাকাতে, সদ্যমুক্ত দেশে অর্থনীতির নাকানী চুবানি দশা! চাকরীর পাওনা টাকাতে মাস চলে না। নতুন সংসার প্রথম সন্তান কোলে এসেছে। ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যানের বরাতে জানানো হয়েছে মুজিব সরকার থেকে হুমকি এসেছে সবাইকে সই করতে হবে, নইলে চাকরী থাকবে না। আজো আমার কর্তা রস করে বলে, আমি এখনো বাকশাল কারণ আমি তো ওটি প্রত্যাহার করি নাই। গোটা দেশের এতবড় একজন নেতার এমন স্বৈরাচারী ক্ষমতার পরিবর্তন জাতির জন্য মৃত্যুবৎ ছিল। সন্ধ্যে হলে কেউ ঘর থেকে বেরুতো না। দিনেও চলাচল দুষ্কর ছিল। হাতবেগ টাকা পয়সা দুর্বৃত্তরা ছিনিয়ে নিত, আমার কর্তা এর শিকার হন দু দুবার। ডাকাতের মোকাবেলা করে বাসায় এসে হাপিয়ে বলে উঠেন, এদেশে থাকবো কেমনে? বিচার করার কেউ ছিল না। চারপাশে হুমকি ধমকিতে মুমূর্ষ জীবন। সরকার দলীয়রা হুমকি ধমকি দিয়ে বলতো ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকবো। নিরিহ মানুষগুলো আজকের অত্যাচারী নিরিহ বিরোধীর মতই সেদিনও কেঁপেছে কেঁদেছে! কি থেকে কি হয়ে গেল! স্বাধীনতার নামে এ কেমন পরাধীনতার শিকল পরলো এ জাতি! ১৯৭৫সালের ২৫ জানুয়ারী বাকশালী শাসনের শুরু। জাতীয় সংসদে মাত্র ১১ মিনিট স্থায়ী অধিবেশনে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাশ হয়। শেখ মুজিব সেদিন প্রধানমন্ত্রী থেকে আজীবন রাষ্ট্রপতি হন। সংসদীয় পদ্ধতি বাতিল হয়ে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতি প্রবর্তীত হয়। অন্য সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে দেশে বাকশাল নামের এক দল গঠন করেন শেখ মুজিব। মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়াসহ বাকী সব সংগঠন নিষিদ্ধ করে সরকার নিয়ন্ত্রিত চারটি দৈনিক ছাড়া সব সংবাদপত্র নিষিদ্ধ হয়। উল্লেখ্য পিতা ও কন্যা উভয়ের কাজেকর্মে অনেক মিল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যে বেদনায় দেশের মানুষ বিগত শতকে কেঁদেছে, আজো কেন সেই একই বেদনায় পুনরায় কাঁদছে? গোটা দুনিয়ার বিবেক নড়ছে প্রতিবাদ করছে, দেশের বিবেকরা সম্পাদকরা কি তড়পাতে তড়পাতেই মরবে? সত্য প্রকাশ করবে না? সচেতন বিবেকরা জবাব দিন, মুসলিম হয়েও ঐশী কলাম কুরআনকে এড়িয়ে যাবেন? এই কি ধর্ম ধারণ, সত্য ও ন্যায়ে অটল থাকার নির্দেশ পালন? আল্লাহ এমন সংকট সময়েও সবার সহায় হোক।

লেখার সময়: ১৫ই মার্চ ২০২০সাল। বি দ্রষ্টব্য: লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ সাপ্তাহিকে ১৮ মার্চ ২০২০ তারিখে ছাপে।

মুজিববর্ষ না মোদিবর্ষ?

নাজমা মোস্তফা

বাংলাদেশের আমলনামার দলিল: জাতি ভুলে গেছে কি না জানি না, বিগত সময়ে রবীন্দ্রবর্ষ পালনের বাড়াবাড়ি কি মাত্রায় ছিল। ভারতেও এমন ছিল না যতটা বাড়াবাড়ি বাংলাদেশে ছিল। একবিংশ শতকের শত ব্যস্ততার মাঝে এসব বর্ষ পালনের নিয়ম নীতি নতুন ম্যাসেজ বিলি করছে। মানুষ কি জাতির সম্মানিতজনদের ইতিহাস কম জানে? প্লাস মাইনাস করা মানেই মানুষকে দেবতা বা দেও বানানোর প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। সরকার তার কথার জালে বার বার আটকায়। গভীর রাতে ভোট সারা সরকার প্রধানমন্ত্রী বলেন দেশ সিঙ্গাপুর থেকেও শক্তিশালী, (১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০)। এ খবরের পাশের খবর বেসিক ব্যাংক দাঁড়াতে পারে না। খবরের এ ধারার জটিলতা কি আগের কথাকে খেলো করে না? শক্ত আটুনী ফসকা গেরো দিয়ে আসলটা বের হয়ে পড়ে। ২০২০ সালই যদি হয় মুজিববর্ষের জমা তবে সবচেয়ে কলঙ্কিত জমা হচ্ছে মুজিবকন্যার ইতিহাস বাংলাদেশের আমলনামাতে স্বর্নাক্ষরে লিখিত থাকবে। ঐ বছর উত্তাল বাংলাদেশে মরার উপর খাড়ার ঘাঁয়ের মত এসব পালন করেন তার অবৈধ পথে গদি দখলদার কন্যা সরকার। আল্লাহর আদালতে কোন অনাচারের জায়গা নেই। সরকার বলতে চায় সাত মার্চের ভাষণই স্বাধীনতার সারকথা! এর পরই দেশ মুক্ত স্বাধীন। মাঝখানের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ সব খেল তামাশা। শেখ মুজিবের কন্য শেখ হাসিনার কাছে ৪০০ টাকার মেজর জিয়াউর রহমানের অবদান স্বীকৃত নয়, এমন একটি মুক্তিযুদ্ধকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চান তিনি। সবাই জানে ১৫০০ টাকা ভাতা প্রাপ্ত মুজিব পরিবার পাকিস্তানী নিরাপত্তায় থেকেছেন। বাকী দেশ চরম অনিরাপত্তায় থাকার পরও মুক্তিযুদ্ধসহ গোটা জাতি এ রকম কথায় কলঙ্কিত হয়।  ঐ মানসিকতায়ই জিয়া পরিবার আজও তার কপট আক্রমণের স্বীকার। এসব আচরণ দাগ রাখা, ময়দানে লুকানো নেই। এ দেশের সব কৃতীত্ব একমাত্র তার বাবার, এমন আবদার মুজিবও করেন নাই। হাস্যকরভাবে বাকীরা দারোয়ান পিয়নের মত। আর্মি অফিসাররা তার দৃষ্টিতে নিকৃষ্ট। বিডিআর বিপর্যয়কে বিদ্রোহের নামে ৫৭ আর্মি আফিসার কেটে মেরেও তিনি নির্বিকার। মূল ত্যাগীদের বর্জন করা মুজিববর্ষ যেন পারিবারিক বর্ষ পালন। ইতিহাসকে অস্বীকার ও মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সরকার দেউলিয়াত্বের চূঁড়াতে। ভারতীয় ডিশের কালচারে নিমজ্জিত বাংলাদেশের ৯০% মুসলিম এ সংস্কৃতির ধারক নয়। এ হীন মানসিকতা জাতিকে আত্মমর্যাদাহীন করছে। ধর্ম ও রাজনীতি ভয়ংকরভাবে কলঙ্কিত হচ্ছে। বাংলাদেশী সংস্কৃতি কখনোই হিন্দু সংস্কৃতি নয়। নেতৃত্বের চেতনহীন মানসিকতা জাতিকে কলঙ্কিত করছে, জাতি পথ হারাচ্ছে।

দিল্লীতে মুসলিমরা মরছে: দিল্লী পুড়ছে। ভারত সরকার যা বলছে ৪২ মুসলিম মরছে, ক্রমেই এটি বাড়ছে ৫৩ অবদি, বাস্তবে যে কত মরছে সেটি একমাত্র আল্লাহ জানে। অতীতে শিখ হামলায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়। গুজরাটে দুই তিন হাজার নিহত হয়। মুসলিম নিধনে মোদি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে আজো সোচ্চার। ভারত চাইছে তার দেশে মুসলিমদের ধ্বসিয়ে দিতে। মেরে কেটে পুড়িয়ে, সচরাচরের মত মুসলিমদের হত্যা করে স্বৈরাচারী মোদি ভারত গণতন্ত্রের বড়াই করে। ষড়যন্ত্রীরা শুধু ভারতের ভিতরেই নয় পাশর্^বর্তী দেশের পরিবেশ বিষাক্ত করাও তাদের ষড়যন্ত্রের অংশ। ভারত এমন একটি দেশ যেখানে প্রায়শই মুসলিম প্রধান এলাকায় দাঙ্গা হয়। দিল্লী রাজধানী হওয়ার পরও নিস্তার নেই, সেখানেও দাঙ্গা। বাকী সারা দেশে কি হয় বা অতীতে কি হয়েছে, এসব হিন্দুত্ববাদের সহজ বাস্তবতা। ইতিহাস বলে মুসলিমরা বৃটিশ বিরোধী প্রবল প্রতিবাদী থেকে ভারতের অস্তিত্ব সংকটে অকাতরে প্রাণ দিয়েছে দলে দলে হাজারে হাজারে কখনো লাখে লাখে। জাতির অস্তিত্ব রক্ষার্থে এরা মরতে ভয় পায়নি। তারপরও সাম্প্রদায়িক ভারতে ২৫ শতাংশ মুসলিমরা ভিখারী। এদের চাকরী বাকরী নেই বললেই চলে। বড় জোর ২% ৩% এর গড় হিসাব। সাম্প্রতিক বড়জোর হয়তো দুই এক পার্সেন্ট বেড়েছে। মুসলিমরা চাকরি পায় না, লেখাপড়ার সুযোগও কম পায়। এই একবিংশ শতকেও তারা চরমভাবে নির্যাতীত কারণ এর পেছনের লিডাররা মুসলিম নিধনে তাদের কলকাঠি নেড়ে ইন্ধন দিয়ে গেছে দূর অতীত থেকে। মোদির পূর্বপুরুষ ও তাদের সজ্জনরা শতবর্ষ পালনকারী রবীন্দ্রনাথসহ তাদের বাঘ নখর লুকিয়ে মুসলিম নিধনকারী আগুনের যোগানদাতা, আজকের মোদি তারই ধারাবাহিকতা।

ভারতের সাম্প্রদায়িক আচরণ: মাত্র সেদিন দিল্লীর হামলাতে রাস্তাতে ছড়ানো ভাঙ্গা কাঁচের টুকরা, চারপাশে মানুষহীন এলাকা ও উল্টে থাকা সেন্ডেলের পরিবেশ বাস্তব চিত্র দুনিয়াকে জানান দিয়েছে। অতীতেও ভারত পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা গুজরাটেও বা অন্য যেকোন সময়েই বিশেষ বৈশিষ্ট। মুসলিম মরতে শুনলে তারা নড়ে না, বেশির ভাগ সময় নির্বিকার থাকে। এবারো একজন পুলিশও যায় নি এমন অভিযোগ উঠেছে। এ হচ্ছে হিন্দুত্ববাদী ভারতের অমানবিক আচরণ। অতীতের মতই মানবতা খসে পড়া মোদিরা মুসলিমদের সব অর্জনকে ঢেকে রাখতে পেরেছে বলেই তারা মুসলিম নিধনকে তাদের জীবনাচারের অংশ মনে করে। মুসলিমদের উজ্জল ইতিহাসকে তারা ঢেকে রেখে মিথ্যা ইতিহাস রচনা করে মানুষকে ভুলিয়ে রেখেছে শতাব্দী শতাব্দী। আমরা নিজেরাও যেসব ইতিহাস পড়েছি দৃশ্যত তাও সত্য ইতিহাস নয়। যতই সচেতনরা গবেষনা করছে ততই সত্য বেরিয়ে পড়ছে; প্রকৃত সত্য কত স্পষ্ট ও স্বচ্ছ ছিল কিন্তু তা ভারতে চেপে রাখা ইতিহাস।

মুসলিমরা মিথ্যা অপবাদের শিকার: ঐ মিথ্যা অপবাদের জোরে সারা বিশে^ মুসলিমরাই আক্রমণের শিকার। আজ ভারতের ২০ কোটি মুসলিম মৃত্যুর মুখোমুখি। মালয়েশিয়ার নির্বাসিত জাকির নায়েক বলেন, ভারতে মুসলিমরা নির্যাতীত হচ্ছে লুট হচ্ছে ঘর বাড়ী পুড়ানো হচ্ছে, চাকরীচ্যুত হচ্ছে। হিন্দু বাড়ীকে চিহ্নিত করে রাখা হয় যাতে মুসলিম ঘর চেনা যায়। ঠিক যেভাবে হিটলারী কায়দায়, ইসরাইলী কায়দায় চিহ্নিত করা হয়, ঠিক ওভাবেই করা হচ্ছে। মোদিকে দাওয়াত দেয়া মানে মুসলিমদের আরো অবমাননা করা। পাকিস্তানের ইমরান খানও তার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ভারতে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের নিরবতা চলছে। বাংলাদেশের জনতারা উচ্চকন্ঠ হয়ে ভারতীয় মুসলিমদের নিরাপত্তায় সোচ্চার হয়েছে। দিল্লীতে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সামনেই ভারত উলংগ। মোদির অনেক কসরতে সাজানো কারুকার্যকরা দেয়াল বস্তির দুর্গন্ধ সব আড়াল করেও উপচে পড়া দিল্লীর দুর্গন্ধ আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়লো। লাশের সংখ্যা বাড়ছে, হিন্দু মুসলিমরা জান বাঁচাতে ঘরে তালা দিয়ে ঘর ছেড়ে পালাচ্ছে। ভিন রাজ্য থেকে দাঙ্গাবাজ ভাড়া করে আনা হয়েছে, স্থানীয়রা চিনতে পারছে না। তাই তারা সংঘবদ্ধ হয়েছে।

মোদির রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী আচরণ: মোদির আচরণে ত্যক্ত বিরক্ত বাংলাদেশের জনতারা। ঢাকা ইউনিভার্সিটির ডাকসু নেতা নূর ও তার সহযাত্রীরা  প্রতিবাদ করছে। মুসলিম নিধনে মোদির বাঘ নখর বহু পুরানো, ক্ষমতা গ্রহণের আগ থেকেই মোদি সোচ্চার থেকেছেন গুজরাটে শতাব্দীর শুরুতে ২,০০০ এরও অধিক মুসলিম হত্যার মাঝে। ঐ সময় মোদির ভিসা আমেরিকাও বাতিল করে। ক্ষমতা আরোহন হাতজোড় করা মোদিকে খুনী মোদি থেকে মানুষ মোদি করলেও মোদি স্বরুপ ঢেকে রাখতে পারেন নাই। বাংলাদেশের মেজরিটি মানুষ চায় না মোদির পা এদেশে পড়–ক। ফ্যাঁসিবাদের আড়ালের কলকাঠি নাড়তে ভারতের সরকার মুখর, স্বাধীনতায় ভারতের অবদান থাকলেও স্বাধীনতা পরবর্তী ভারত বাংলাদেশের জন্য চরম বিড়ম্বনার দাগ রেখে চলেছে। মোদির মতই সরকারের সব সংকীর্ণতা খোলাসা হয়ে পড়ছে। এটি দেশের প্রতিটি সচেতন জনতা জানে ও বুঝে। আবরারকে মারতেও তাদের লম্বাহাতের দাগ, ছোট্ট দেশটিকে বিভক্ত করে রাখার পেছনেও ভারতের বাঘ নখর স্পষ্ট। ভিপি নূর কি ফের আবরারের মতই মরবে? তাকে মেরে ফেলার হুমকি চলছে কারণ সে ভারতের অনাচারের বিরুদ্ধে সরব। দশদিন পর ১১ তারিখের পর বস্তায় ভরে গুম করে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। যারা হুমকি ধমকিতে ছিল তারা অতীতেও হামলা করেছে। ভারতীয় জাতি মুখর হয়েছে মোদির সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে। তাদের প্রতিটি আচরণেই বাংলাদেশের কলিজাতে কামড় পড়ে, ভারত কখনোই অনুতপ্ত নয়। বর্ডারে মানুষ মারা, পানির ন্যায্য হিস্যা না দেয়া, দেশকে মরুকরণ করা, পানিতে মেরে কারবালা করা মোদি কিভাবে বাংলাদেশের বন্ধু হয়! আভ্যন্তরিন দুর্ভোগে ভারত বার বার জড়ায়! বাংলাদেশের ব্যাংক লুটেও কেন ভারত ও তার কর্মকর্তারা? এ হীনমন্যতার জবাব কি? বিতর্কীত মৃত্যু হত্যা গুম খুনে ভারত কেন জড়ায়? অবচেতন অবস্থায় বিএনপির সালাউদ্দিন ভারতে কেন উদ্ধার হয়, সুখরঞ্জন বালীরা কেন ভারতের কারাগারে, এসব সহজ কথা নয়, রাজনীতির জটিলতায় প্রশ্নবিদ্ধ ভারত লেজেগোবরে একাকার! স্বাধীনতায় সাহায্য করা মানে এটি নয় যে এ স্বাধীনচেতা জাতি ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে! বাংলাদেশের মানুষ মোদীর বিরুদ্ধে ঘৃণায় আকাশ বাতাস বিদীর্ণ করছে! মোদির ভারত প্রকাশ্যে বলছে মুসলিম আমাদের প্রথম শত্রু, হিন্দু বা বাকীরা নয়। বাংলাদেশের সরকারকেও এ দেশের মানুষ স্বীকার করে না বলেই ভোট চুরি করে গদিতে যায়। তখন ভারত নির্লজ্জের মত ঐ সরকারকে সহযোগিতা দিয়ে টিকিয়ে রাখার কসরত করে। আশ্চর্য হলেও সত্য মানুষ বুঝে ভারত তাদের বন্ধু নয়, শত্রু। সত্য কথাটি হচ্ছে মুজিবকন্যা ও মোদী উভয়ে উভয়ের কুটিল স্বার্থের বলি।

অবৈধ সরকারের মুজিববর্ষ: সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে ছবিসহ মুজিবপূজার রকমসকম করতে আইন করা হয়েছে। কি সাংঘাতিক কথা! এ পূজা না করলে কমপক্ষে ৭ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত শাস্তি নির্ধারিত। আইনের পেছনে কলকাঠি নড়ছে শক্তির তলানীতে, সততার ভিত্তি বাতিল, শপথের কথা তাদের মনে নেই। গভীর রাতে জনতার ভোট ছাড়াই গদিনশীন আবার সেই মুজিবেরই কন্যা। জোর করে ডান্ডাবাজি করে শ্রদ্ধা অর্জন করা যায় না। শ্রদ্ধা অন্তরের অন্তস্থল থেকে আসতে হবে। গুম, খুন লাল ঘোড়ার দাবড়ানিতে লাঠির গুতাতে শ্রদ্ধারা পালায়। জন্মশতবর্ষ হিসাবে ১৭ মার্চ থেকে এর পরের বছর ২৬ মার্চ পর্যন্ত এক বছর ৯ দিন চলবে এই জোরপূর্বক বন্দনা গীতি। এর মাঝে বগুড়াতে শিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠানে সব ছাত্রছাত্রীর মুজিব মুখোশ নাটক সমাপ্ত হয়েছে। এভাবে চলবে সারা বছর নগরসজ্জা, ভিডিও ডকুমেন্টারী, প্যাকেজ নির্মাণ, নটনৃত্য, ছবি, চাঁদাবাজি, ব্যানার পোস্টার, প্রদর্শনী, আলোকশয্যা। ধর্ম অবমাননাকারীরা বাড়তি সরকারী নিরাপত্তা পায় আবার সরকার বা তার অনাচারের উপর কেউ কিছু বললে বা মন্তব্য করলে বক্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক মামলা হয়। জেলা উপজেলা পর্যায়ে ৫০,০০০/ ২৫,০০০ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এ দেশের মালিক শুধু মুজিব কন্যা রাতের ভোটচোর  সরকার। ব্যাংকের টাকা তুলে ব্যাংক দেউলিয়া করে সাজ সাজ চলছে। আর মরহুম মুজিবের নামে জীবিত জনতারা জিম্মী হয়ে আছে। শেখ মুজিব যেদিন মারা যান সেদিনও মানুষ আকন্ঠ বিপদগ্রস্ত ছিল। মানুষ ভয়ংকর আতংকে সময় পার করেছে। মানুষের কাঁদবার কথা ছিল, কিন্তু কেউ কাঁদে নাই। দলের লোকেরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বলেছে দেশ মুক্ত হলো। এসব মিথ্যে নয়, জমা রাখা ইতিহাস। আপনারা উল্টে দেখুন, সময় ওভাবেই কথা বলেছে, কষ্ট জমা রেখেছে।

পারিবারিক বর্ষপালন: মুজিব বর্ষে দেশের গন্যমান্য ব্যক্তিরা নেই। তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম রব নেই, মুক্তিযোদ্ধা জাফর উল্লাহ নেই, কাদের সিদ্দিকীও নেই শুধু মোদির দরকার পড়েছে বড় বেশী না হলেই নয়, স্বাধীনতার অর্জনে খালেদার অবদান অল্প নয়। তিনি আজ মৃতবৎ বেঁচে আছেন। ইতিহাস অস্বীকার করার অবদানে ধন্য বর্তমান সরকারী প্রচেষ্টা। এর শুরুটা বিগত শতকে রাজনীতির নামে দেশ বিভক্ত করা রাজনীতি দিয়ে শুরু। যখন এটি করা হয় তখন সচেতনরা টের পেয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মন্তব্য স্কুল ফেরত বাচ্চারা ক্রমাগত ভুল ইতিহাস গেলাতে চাইলে মা বাবারা আৎকে উঠতেন! সময়টি বিগত শতকের শেষ দশকের কথা! দেশে আজ গণতন্ত্র নামে ধুয়ে মুছা আইয়ুবীয় প্রহসন বহু বেশী। এমন সব আচরণ করা হচ্ছে যা ঐ সময় আইয়ুব ইয়াহইয়ার পাকিস্তানেও করা হয়নি। ৪৭ থেকেও বহুগুণ বেশী পরাধীন দেশ আজ! মুজিব বর্ষ পালনে একচোখা নীতি ও জিয়ার প্রতি ৪০০ টাকার মেজর নামের ঘৃণ্য প্রচারণা জাতিকে কখনোই সমৃদ্ধ করবে না! মুজিবকে এভাবে উপরে তোলা সম্ভব নয়! এভাবে মানুষ দেবতা না হয়ে উল্টোটি হয়। এসব প্রচারণা মুজিবকে নয়, বরং জিয়াকে অসীম উচ্চতায় তুলে ধরছে।

কিছু প্রশ্ন: গভীর রাতে ভোটের দখলদার সরকার দেশ ধ্বংসের সব পাট চালু রেখেছে। সেজন্য তার শুধু মুসলিম নিধনকারী মোদির দরকার কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মূল নায়কদের দরকার নেই। ঐ যুদ্ধে মুজিব যেমনি ছিলেন না, তার মেয়ে হাসিনাও ছিলেন না। বাম ঘরানার নেতা জুনায়েদ সাকী প্রশ্ন রেখেছেন এটি কি মোদিবর্ষ নাকি মুজিববর্ষ, কোনটি? ভারত অপেক্ষায় ছিল ডনাল্ড ট্রাম্প চলে গেলে তারা মুসলিমদের উপর হামলা করবে। তবে তারা হেরেছে। ট্রাম্প থাকা অবস্থায়ই মানুষ মারা শুরু হয়। মুজিব পূজাতে দেখা যায় পরিবারের নিকট কিছু সদস্যদের, যারা অনেকেই বিভিন্নভাবে বিতর্কীত অবস্থানে চিহ্নিত! সরকার প্রচার করতে চায় জাতির পিতা শেখ মুজিব। কিন্তু মুসলিমরা সেটিও মানতে নারাজ। নবী ইব্রাহিম (আঃ) হচ্ছেন মুসলিমদের ধর্মপিতা। উন্নয়ন জপা আইয়ুব শাসক কি করে হাসিনার পথপ্রদর্শক, এটি জাতির বড় প্রশ্ন। বগুড়ার স্কুলে মুজিব মুখোশ ছিল দিপুমনিদের উচ্ছ্বাসের প্রকাশ। ৫৬ টাকা দামের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের টিস্যুবক্সেও মুজিবের ছবি। ছোট ক্লাস থেকে বাচ্চাদের তপজপ করানো হচ্ছে। কোন কোন স্কুলে ক্লাসে শত শত ছাত্রছাত্রীকে সাত মার্চের ভাষণ মুখস্ত করানো হচ্ছে। শেখ হাসিনা রেহানা জয় পুতুলরা তাদের নাতি পুতিরা কি ওটি মুখস্ত করেছেন?  আর একটি কথা, ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আ্যলীকে চেয়ার ছুড়ে মারার গল্প কেন শেখ মুজিবের অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে ঠাঁই পেল না? অনেক তথ্য প্রমান করে ঐ গ্রন্থ তার রচিত গ্রন্থ নয়। দুর্মূখেরা বলে ওটিও বর্তমান সরকারের গোজামিল! ইতিহাস খুঁড়ে সময় সব মিথ্যা পরিষ্কার করবে, যদি মানুষের বিবেক কার্যকর থাকে!  গলাবাজি মিথ্যাচার করে কখনোই ইতিহাস ভুগোল রাজনীতি হয় না। মুজিবের বড় অবদান বাকশাল করা আর এক বড় অবদান হাসিনার মত এক হযরত আউলিয়ার বাপ হওয়া! শেখ হাসিনা সারা জাতির সাথে প্রতারণা করে মিথ্যাচার করে গদি দখল করে এসব সাজিয়েছেন! ঘোলা পানিতে মাছ শিকার কতটুকু অর্থবহ হবে, আল্লাহই জানে ভালো। যারা মুক্তিযুদ্ধকে আব্বাযুদ্ধ বাবাযুদ্ধ ডেডীযুদ্ধ করতে চায়; নিঃসন্দেহে তারা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

বাংলাদেশ জন্মের জড়িতরা অবহেলিত: হাজার কামান বিমান ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে পতাকা তোলা সহজ ছিল না, বিদগ্ধ কথাটি ঐ পতাকাবাহীর। সেদিন কারফ্যু হরতালের মাঝে আ স ম রব মানচিত্র আঁকা পতাকা প্রথম তুলেন। সিরাজুল আলম খান, অসুস্থ শাহজাহান সিরাজ এরা কপট কষ্টে অতীত বলতে চান না এড়িয়ে যান কারণ সব লুন্ঠিত আজ, মুজিব পরিবারের পারিবারিক অনুষ্ঠান। আত্মত্যাগী জাতি খসে গেছে মুক্তিযুদ্ধ থেকে, তাদের গলে পরানো হয়েছে পরাধীনতার ডিজিটাল শিকল! আ স ম রবের হিসাবে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ই জানুয়ারী পর্যন্ত দেশটি স্বাধীন ছিল, এ নির্মল সত্য কথাটি জাতি জানুক বুঝুক শিখুক হজম করুক। মুজিব তার ছেলেদের বিয়েতে বিধ্বস্ত দেশের বুকে দাঁড়িয়ে সোনা মনিমুক্তা খচিত মুকুট পরিয়ে বিয়ের আয়োজন করেন, যেদিন ময়দানে সোরগোল ছিল বকুল ফুলের মালা দিয়ে যৌতুকবিহীন বিয়ে। জনতার নেতা শেখ মুজিব অতি অল্প দিনেই পাকিস্তান ফেরত প্রিয়নেতা সকল চিন্তাকে ছাড়িয়ে রাজাতে পরিণত হন। আজকের জন্মদিনে কেউ বলছেন ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ। ৪৫ বছর পর সেই রাজাকে দ্বিতীয় পূনর্জন্ম দিয়ে একই কায়দায় ৪০০ কোটির মুকুট পরানো কতটুকু বিবেচনার দাবী রাখে! মানুষের মন থেকে জাতির সম্মানিতদের দাগ মুছে আত্মপ্রচারের রাজনীতি মানুষের হৃদয়ে কতটুকু জায়গা করতে সক্ষম? এমন হলে যুগে যুগে রাজা বাদশাহ জমিদাররা নিজেদের ইতিহাস নিজেরাই গড়ে নিজের শক্তি দিয়ে জাতিকে কিনে গোলাম করে রাখতেন! চিন্তাকে প্রসারিত করলে এ জাতি তাদের বর্তমান বিড়ম্বনার সব জবাব অবশ্যই খুঁজে পাবে বলে আশা রাখি।

লেখার সময়: ০৮ মার্চ ২০২০ সাল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: জানতে পারলাম বাংলাদেশীরা মোদিকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।  মুজিববর্ষ না মোদিবর্ষ?। লেখাটি ১৩ মার্চ ২০২০ সালের সাপ্তাহিক দি রানার নিউজ এর কলামে নিউইয়র্ক থেকে ছাপা হয়

 

 

 

পিলখানার মৃত্যুমাসে যমদূত এনু রুপম ও পাপিয়া।

 

নাজমা মোস্তফা

আমি কে তোরা জানিস! হ্যাঁ জাতি জেনেছে। মক্ষিরানী পাপিয়া কে? কত তার ডাটবাট। রং রুপ টাকা মদ উলকি বিলাসিতা সুখ স্বর্গকে কাছ থেকে দেখা পাপীয়া, সাথে ১১ মন্ত্রী ৩৩ এমপিরা দলবাধা। নেতা নেত্রীরা নানান সুযোগ ভোগ করেছেন, টাকা লুটপাটেও রাখঢাকে সরকার অতিরিক্ত সচেতন। জাতি জানে এসব ঢেকে রাখাই সরকারের বেশী পছন্দ। এসব বাইরের লোক জানা লজ্জার , সঙ্গত কারণে এসব লুকিয়ে রাখা গদির জন্য বাঞ্ছনীয়। বিরোধীর দিকে খালেদার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করতে বাধা নেই। গদি রক্ষার্তে এসব জায়েজ। যেন মিথ্যে বলাটাই মদীনার সনদ, ধর্মপালন। টকশো মুখরা সব অপরাধের পক্ষ সাপোর্ট করা অপু উকিল পাপিয়ার অপরাধের আড়ালেও নিয়োগ বানিজ্যে জড়িত। এখানেও পাপিয়াকে কীট পতঙ্গ বলার পর দেখা যাচ্ছে অপু নিজেই কীট পতঙ্গের একজন। বলছেন এটি সমাজের কীট, আওয়ামীলীগের নয়। অপু উকিলরা এবং এরকম আরো বেশ কথক আছেন সারাক্ষন মিথ্যাচার করে প্রতিবাদ মুখর। এদের সবাই চেনেন, নাম না বললেও সারা দেশের মানুষ এদেরে জানেন চেনেন। সরকার বেকায়দায় পড়লে থলের বিড়াল একটি একটি করে ছাড়ে। আর বাহাদুরি করতে থাকে আমরাই ধরেছি। অনলাইনে অনৈতিক নারী ব্যবসায় প্রথম বাংলাদেশে পাপিয়া। ব্যংক লুটের খবর আগে যায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে তিনি চেপে যেতে বলেন। একভাবেই প্রভাবশালীদের লিস্ট গেছে তার কাছে তিনি নিশ্চয় এখনো চেপে রাখতে বলছেন, সেটি জাতি দেখছে। ভোক্তভোগীরা জানে, এভাবে নিকটজনদের কথা চেপে রাখা হয়। এভাবে সরকার মধু কই কই মানুষকে বিষ খাওয়াচ্ছে।

মফিজুর রহমান সুমন আর চমকলাগা মেকআপে সাজা পাপিয়ার অপকর্ম জানা ওয়েষ্টিনের তথ্য দিতে আপত্তি। নিশ্চিত ওয়েষ্টিনের হোটেল কর্তৃপক্ষ চাপের মুখে, ঠিক পুলিশ যেমন বলে চাপের মুখে! প্রভাবশালীর আনাগোনা সব জানা, ব্যাংক লুট যেভাবে প্রকাশ করা যায় না এসব কেমনে প্রকাশ করবে সব খানে সরকারের কালোদাগ লেগে আছে। মুখবাজ ওপু উকিলের নাম বারে বারে আসছে। টকশোতে তার মিথ্যাচারী মুখের তোড়ে বাকীরা কথা বলতে পারতেন না। তাই বিধাতা নিজ দায়িত্বে এসব কীটদের কীটত্ব স্পষ্ট করছে। কি ঢলাঢলির ছবি রে বাবা? তারপরও মুখে মাছি বসার উপায় নেই। আরেকজন নাজমা আক্তার উনিও কম যান না। নিজের ঢোল নিজে পিটা সত্যবাদী সদাচারী নরকের দানবদের জাতি চিনে নিন! এদের কারণেই শ্লোক সাজানো হয়েছে ‘চোরের মায়ের বড় গলা!’ আশ্চর্য্য হতে হয় যখন শুনতে হয় টকশোতে অপু উকিলরা বড় গলাতে হুমকি ধমকি দেয়, আর বলে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোটের মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায়। জাতি হাসবে না কাঁদবে সেটি বলার মত নয়। এত মিথ্যা এত প্রতারণা এত ছলনা জগত কেমন করে সহ্য করে! অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মাদক, চাঁদাবাজি, প্রতারণা  গাড়ীর ব্যবসা, এই টোকাই মানের পাপিয়া, ব্যবসায় বাজিমাত। জানা যাচ্ছে পাপিয়ার বাবা একজন গাড়ী চালক, আর মন্ত্রী এমপিরা পাপিয়ার গাড়ী চালাতে ব্যস্ত। হোটেল ওয়েস্টার্ণে যেখানে আরেক ধরা খাওয়া ছলবাজ রেশমাদের চাকরি হয়, সেখানে তার জন্য রুম বরাদ্দ থাকে। সমাজসেবার নামে এসব অসামাজিক কাজ করা। ঠিক যেরকম ধর্মের নাম নিয়ে মানুষকে প্রতারণা করা! কিছু রংঢ়ং ছাড়া প্রতারণা করা সম্ভব হয় না। তাই তাহাজ্জুদ, নামাজ, মদিনার সনদ। পাপিয়ার পাপের রাজ্যে ফুলের মত চরিত্রবানরা ছুটাছুটি করতেন। এরা কেউ হয়তো বলেই বসবেন হযরত পাপিয়া। নাসিম কড়া কথা শুনিয়েছেন, কিছু আগে এই নাসিমের হাসপাতাল বানিজ্যের অপকর্মে ইউটিউব মুখর ছিল, ডাক্তাররা কেঁদে বুক ভাসিয়েছেন। সবই শক্তির তলানীতে কদর্য কসরত। মদ আর উঠতি তরুনী রাখা ধর্মধারীদের নিয়ে তালিয়া বাজানো আর কত ধর্মের অবমাননা চলবে?

মানুষ যখন লজ্জাহীন হয়, তখন সে পশুরও অধম হয়। পাপিয়ারা শূণ্য থেকে উঠে আসা, আত্মমর্যাদা জ্ঞানের সুযোগ তাদের কম। বরং মাঝখানে সেলিব্রেটি জীবন যাপন, তার অগাধ ফাও পাওনা। পাপিয়া কি শুধু একাই চোর, সরকারওতো একই তালে কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়ে ব্যংককে দেউলিয়া করে দিয়েছে। সরকারের সব চেহারা একহারা এক ধাতে গড়া। পাপিয়ার সব লজ্জারা ওপেন। গরীব ঘরের মেয়েরা ছিল তার খদ্দের। কাদেরের ঘড়িও ময়দানে কথা বলেছে, তখনো সাধুতার পরিশ্রম তিনি করছেন। পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কলঙ্ক দৃশ্যমান ছিল না, যে খেল তারা দেখাচ্ছেন, অভিনব ক্যারিশমা! সাথে সরকারী প্রয়াস চলছে সবার মুখরতা, সাধুতার নিরলস পরিশ্রম, উপদেশ বিলি বন্টন, কিভাবে পানির কল ব্যবহার করবেন, লেখাপড়া করবেন করাবেন। সেলিম প্রধান, ক্যাসিনো বানিজ্য, থাইল্যান্ডে বার, অস্ত্র ব্যবসা মাদক, ইয়াবা, তদবির বানিজ্য চাঁদাবাজি, চাকরী বানিজ্য এক কথায় সব ধরণের অপকর্ম এদের কাজ। নীতিহীন শাসকদলের মনোরঞ্জনের জন্য এদের দরকার পড়েছে যুগে যুগে।

পাপিয়া মধুকরী দলেবলে প্রভাবশালী ঘেরা, উপরে উঠার সিড়ি মন্ত্রী এমপিরা। গিভ এন্ড টেক নীতিতে উভয়ে লুটপাটীয় উপকার জমা করেছেন। সরকার পাপিয়াদের দিয়েই দলেভারী। তাই দক্ষতার সাথে গভীর রাতে ভোট সারতে পারে। পাপিয়া ও সরকারের ভাষা একই। আমি কে তোরা জানিস! বাপের বেটি! এরকম বেটিরা প্রতিটি বাপের জন্য মরণ যাতনা। এ বেটিরা বড় সময় সমরাটদের বাঁচান, শুধু খালেদাদের মারেন। পাপিয়ার এক হাতে উষ্কি আঁকা কাবা মসজিদ অন্য হাতে শিবলিঙ্গের ছবি, কালির পূজা করেন, ঈমানের ভয়ংকর দুর্দশা। এটি কি ধর্ম না ব্যবসা! তৃণমূল পর্যায়ের এ নেত্রী দিশেহারা অগাধ সম্পদের নেশাতে পাগলপারা। রাজনীতির অগাধ সুযোগ আর নেতাদের বাসনা পুরণের খায়েশ থেকে লোভী পাপিয়ার উত্থান। তবে সরকার এদের রেখে ঢেকে রাখে। সরকার ধরি মাঝ না ছুঁই পানির সব রকম সকম জানে, এটি পরীক্ষিত সত্য। বিরোধী নির্দোষের জন্য ধড়পাকড়ে দক্ষ সরকার। পাপিয়ার বুকের পাটা দৃঢ়, কারণ তাদের খুঁজে পেতে সরকার দুধ কলা দিয়ে পুষে। তবে না জানার ভান করে সময় পার করে, উভয়ের কুটিল বাসনা পুরা হয়। অনাচারী সরকার পাপিয়ার পাপের সহযোগী। আমি কে আমাকে জানিস! পাপিয়া জানে সরকার তার সুহৃদ। বাংলাদেশব্যাংক সহ সব ব্যংক লুট হয়, প্রধানমন্ত্রী ঢেকে রাখেন। বিচারকে স্তব্ধ করে ক্ষমতাধর, মহা শক্তিশালী, যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন। সিনহাবাবুও সময়ে বগলে থাকে, কাজ শেষে কীটতূল্য সিনহা বাবুরা ডাস্টবিনের টিস্যু পেপার।

সারা জাতির জনতা খোয়াড়ে শ^াসরুদ্ধকর অবস্থানে, যেন তাড়া খাওয়া পশুকে ভয়ংকর হায়েনা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। পাপিয়াও এরকম এক খোয়াড়ের পশু। তার উপর হয়তো নির্দেশ ছিল, লুটেপুটে খাওয়ার পারমিশন ছিল, দলবাজদের সুযোগ সুবিধা তৈরী করার আদেশ ছিল। শাসকবর্গের খায়েশ পুরণ করতেই ফের খোয়াড়ের আসামী! নির্দোষ খালেদার বেরিকেড, আদালত কন্ট্রোল, জামিন বাতিল, ওয়েস্টিন হোটেলের মালিকের মুখে তালা, সবই সরকারী কারসাজি ছাড়া কিছু নয়। অপু উকিল নাজমা আক্তাররা টকশোর টকবাজ। আল্লাহ যে একজন আছে এ তার প্রমাণ; এসব ওপেন করছে অদেখা আল্লাহ যাকে চোখে দেখা যায় না। ২০০০ সাল থেকে পাপিয়ার স্বামী সুমনের উত্থান। এমন ডাকাত দলে পেয়ে সরকার মন্ত্রী এমপিরা মহাখুশী, বাক বাকুম সুরে ময়দানে সরব। হাসি হাসি করমর্দনরত পাপিয়া মন্ত্রী এমপিরা এককাতারে চলে দহরম মহরম। তারপরও আধা রাখি আধা ঢাকি বেশ সরকারের! যুবনেতা সুমন ২০০১ সালের চিহ্নিত খুনী, অতঃপর পদধারী। পাপিয়াদের পাপের লিস্ট মাফ পায় যুগ যুগ অবদি! প্রতিপক্ষ বিরোধীর জন্য বরাদ্দ সব যাতনা, মরলেও মামলা হাতকড়া লিস্ট করা বার বার। বিশ বছর ধরে লুটেরা সুমন, ফটোসেশন, ভিডিওফ্যাশন, ওদের  গুন্ডামীতে দেশ বাজিমাত। সরকার নীরব যেন বর্ডারের বিএসএফের গুলি পরবর্তী নিরবতা, খুবলে খাচ্ছে জনতার হাড়গোড় সব, দুই দশকেও এদের নাড়ে না। ভনিতা যত, প্রধানমন্ত্রীর বয়ান আমি ধরলাম; কারণ কি? ধরতে দুই দশক! সরকারের ডাকাত পছন্দ, তাই দলে ভিড়ায়, পদ বিলায়। কারণ রাতের ভোট সামলাতে এদের বিশাল কর্মী গোন্ডাবাহিনী ও বিশাল শোডাউনের খুউব দরকার । রাজা রানীর আদলে এরা মিছিল করে, জনতার কলিজা খুবলে খায়। সরকার পক্ষ বলে দুষ্টের অপকর্ম আমরা গ্রহণ করবো না। অপকর্ম করছে জানলেও এদের ধরা হয় না। থানা এদের বিরুদ্ধে কোন কেইস নেয় না।

সরকারই নির্দেশ জারি করেছে, বোবা মিডিয়া এবার সমানেই বহিষ্কৃত বহিষ্কৃত বলে চেচাচ্ছে। বহিষ্কৃত বললেই সব পাপ শেষ। জাতি তোমাদের জানছে, চিনছে বার বার, এত সহজে কি অপকর্ম থেকে বাঁচা যায়? তাহলে সব জাহান্নামীরাই হতো সব চেয়ে বড় সুবিধাবাদী ইহ ও পরকালে। প্রতিদিন আড়াই লাখ টাকার বিল শোধ, তিন কোটি টাকা তিন মাসের মদের বিল। ছবিতে মন্ত্রী তোফায়েল, কাদের, দীপু মনি, নেতানেত্রী সম আরো বসন্তের কোকিলরা যেন নিজেকে এমন এক চরিত্রবতীর সাথে ঢলাঢলি করতে পেরে ধন্য মনে করছেন, আর করবারই তো কথা! টাকা অস্ত্র চাকুরী পতিতা সবই লোভনীয় চরিত্রহীনদের জন্য। সবাই এক বাক্যে বলছে এক পাপিয়া নয়, দলে দলে পাপিয়ারা দেশ দখল করে আছে! সরকার সারাক্ষণ দেখে খালেদার দুই কোটি। পাপিয়ার ক্যাডার বাহিনী, ৩০,০০০ টাকার বদলে মেয়েদের উপর নির্যাতন ও পতিতা বানানোর কাজ। উপরতলার কর্তাদের মানুষ না চাইতেই উপহার সামগ্রীতে দামী দামী ঘড়ী স্যুট ঠেসে ধরে। পাপিয়া না চাইতেই ডজন রুশ নারী রেডী করে রাখে কর্তাবাবুদের জন্য। না চাইতে পাচ্ছে, না গিলে উপায় কি! যে বড় বড় নেতার নাম উঠছে, নড়ছে, দেখাও যাচ্ছে, ভাসুরদের লুকিয়ে রাখার কসরত চলছে। সরকার জাতি ধ্বংসের এজেন্ডা নিয়েছে! ধর্ম ও রাজনীতির সব মাত্রা ধ্বংস করাই কাজ। জাতির কাছে অদেখা বিধাতা বার বার স্পষ্ট করছে! বিধাতার আরশ থেকে টান পড়েছে বলেই পাপিয়া আজ খাঁচায়। 

তবে বিচার কতদূর সে আল্লাহ মালুম! চিত্র নায়ক সালমান শাহের তদন্তে ঘুষ চেয়েছে বাংলাদেশের পুলিশ। এটি হচ্ছে প্রশাসনের ছাতার তলে আসল পুলিশ চরিত্র। এদের এ চারিত্রিক বৈশিষ্টের দায় উপরের নির্দেশ কিন্তু বিধাতার না, এ চিত্র বিধ্বস্ত মানবতার! জাতি পাপিয়ার সাথে পাপিয়ার প্রতিপালককেও চিনেছে, জেনেছে। ভালো করেই চিনেছে। মক্ষীরানীদের ভিড়ে থাকা প্রজাপতি দেবতা সেতুমন্ত্রী কাদেরের জন্য বিদেশে চিকিৎসা বাধ্যতামূলত হলেও তিন বারের প্রধানমন্ত্রীর জন্য দখলী দেশে আলাদা নিয়ম। যে অভিনয় খেলা সরকার দন্ডহাতে খেলছে, এর পরিণতি পাপিয়ার থেকে ভালো কিছু নয়! বরং বহুগুণ বেশী বেশী অপরাধ, পাপিয়া কপট নেকড়ের হাতে ধরা খাওয়া রক্তাক্ত শিকার। প্রতি বছর ২৫ ফ্রেব্রুয়ারীতে পিলখানাতে যারা শ্রদ্ধা জানায় ঢাক ঢোল পিটিয়ে নাটকীয় ফুলের তোড়া দেয়, বিধাতা তাদের চেনেন, যারা এদের খুন করেছে; কেমন যেন হাস্যকর সবকিছু!! ১১ বছরেও স্বজনরা হতাশ! যে আকাশ ভেঙ্গে মাথার উপর পড়েছে, তার কোন সুরাহা নেই! বরং সেদিন থেকে দেশ ক্রমাগত মৃত্যুকূপের দিকে ধাবিত, ওটি ছিল ধারাবাহিক মরণের শুরু, মানুষ মরছে! বিচারের রায় নিভৃতে কাঁদছে, স্বজনরা অন্ধকারে! জাতির কাছে ওপেন সিক্রেট, সরকার লুকালেও প্রকৃত সত্য লুকানো নেই। ভুল ও জোড়াতালি মার্কা বাংলা বানানে একুশে পদক বিতরণ চলছে। ২০২০ সালের পিলখানার আগের দিন ২৪ ফ্রেব্রুয়ারী কীর্তিমান সরকারী দলের দুই ভাই এনু ও রুপমের বাসায় টাকার খণি আবিষ্কার, প্রতিটি নোট ১,০০০ টাকার। ৫ সিন্দুকে কয় ঘন্টা দুই মেশিনে চলে গণনা ২৭ কোটি ও বিভিন্ন দেশী বিদেশী টাকা ডলার সব। দেশ উন্নয়নের মহাসড়ক, আওয়ামীদের ঘরে ঘরে গড়ে উঠছে টাকার খনি। বেগ ভর্তি স্বর্ণালংকার, ৫ কোটি টাকার বন্ড, সাথে আরো এটা ওটা। মাত্র সেদিন সম্রাটদের ক্যাসিনো কান্ডে ময়দান গরম হয়ে মাঝে বন্ধ ছিল, সুনসান নিরবতা! সরকারপন্থী পত্রিকা বাংলাদেশ প্রতিদিন বলছে দৈবাৎ পাপিয়া ছিল এক দুর্ঘটনা, ফের সুনসান নিরবতা!  বড় কথা সব লুটেরাই সরকারী সহযোগী লম্বাহাত উন্নয়নের হিমালয় তারা। এসব তাদের উন্নয়নের প্রামাণ্য দলিল। যখন ধরা পড়ে তখনই বলা হয় এরা বহিষ্কৃত নয়তো এর আগ পর্যন্ত চলে এদের সাথে গলাগলি ঢলাঢলি ফটোসেশন ভিডিওফ্যাশন। ধৈর্য্য ধরা জাতি আর কত নির্বাক থাকবে, কত মৃত্যুর প্রহর কাটাবে? দৃষ্টি কাতর, কলম জড়িয়ে যাচ্ছে বিবেক যেন পথ খুঁজে পাচ্ছে না। কি করবে?

লেখার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ সাল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ কলামে ০৬ মার্চ ২০২০ সংখ্যায় ছাপা হয়।

ধর্মের নামে ধান্ধাবাজি

নাজমা মোস্তফা

বর্তমান সময়টিতে ২০২০ সালেও যে ভাবে ধর্মের বাড়াবাড়ি খুব বেশী চোখে পড়ছে। এর প্রধান কারণ ইউটিউবের বরাতে মানুষরা অনেক বেশী প্রচার করতে পারছে আর চৌদ্দশত বছর ধরে যেসব মিথ্যাচার করে মানুষ টিকে থাকতে পেরেছে বর্তমান সময়ে সেভাবে মানুষকে আর বশ করা যাচ্ছে না। মানুষের চোখ খোলে যাচ্ছে, মানুষ তার বিবেক দিয়ে তাড়িত হচ্ছে, বিবেক সম্পন্ন মানুষ সত্য মিথ্যে বুঝতে পারছে। যা কিছু আগেও মানুষ ধরতে পারতো না, আজ সেটি অনেক সহজে ধরা পড়ছে। কুরআন একটি ঐশী গ্রন্থ , এ গ্রন্থের বেশী বেশী অনুসরণ প্রচার পালন হলে, মানুষ প্রকৃত সত্যকে ময়দানে দেখতে পারতো, সকল মিথ্যাকে এড়িয়ে প্রকৃত সত্যকে গ্রহণ করতে পারতো। বাংলাদেশের মানুষ সত্যসন্ধানী এর প্রমাণ রেখেছে ২০২০ সালের তরুণরা। যখন তারা ডাঃ মিজানুর রহমানের ওয়াজের মাহফিলে কিছু সত্যের সন্ধান পেয়ে ঝাপিয়ে পড়ে, সরকারের মাথা থেকে পা অবদি গরম হয়ে যায় ভয়ে। তাই ঘাবড়ে যেয়ে খুব কৌশলে তাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয় বলে সবাই একবাক্যে বলাবলি করছে। এসব ওয়ায়েজরা সত্যের উপর দাঁড়িয়ে কাজ করছে দেখে অসৎ গভীর রাতের অবৈধ সরকারে কাঁপুনী জাগে। মিথ্যারা সব সময়ই সত্যকে ভয় পায়। ধর্মের ইতিহাস বলে নবী ইব্রহিমকে নমরুদ, মুসাকে ফেরাউন, ঈসাকে রোমান শাসকরা ও নবী মোহাম্মদকে আরবের কুরাইশরা প্রচন্ডভাবে ভয় পেয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের প্রতিপক্ষ তাদের মারতে গেছে। কিন্তু আল্লাহর প্রহরা এতই স্পষ্ট ছিল যে এরা প্রত্যেকেই প্রচন্ড শক্তিশালী থাকার পরও তাদের টিকিটিও নাড়তে পারে নাই। বরং তারা নিজেরাই ধ্বংস হয়ে অতীত ইতিহাসের সাথে মিশে গেছে। 

প্রথম শব্দ যা কুরআনে নাজেল হয়েছে সেটি হচ্ছে ‘পড়’ চোখ খুলে দেবার জন্য পড়াটাই প্রথম ও প্রধান শর্ত। অবশ্যই এ পড়া অর্থে জ্ঞানার্জন করাকেই উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আরবী ভাষাতে নাজেল হওয়া কুরআন চৌদ্দশত বছরেরও আগে আসা এ নির্দেশনামা। সকল অন্ধকার পার করে ঐ আলোর মশাল হাতে এরা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণেই অতি অল্প দিনের মাঝে ঐ আলোর ঝলকানিতে দুনিয়ার বড় অংশে এরা ছড়িয়ে পড়ে। সারা দুনিয়ার আলোর নাচন শুরু হয়ে যায়। কালে ঐ সূত্রে ইউরোপেও রেঁনেসার সূত্রপাত হয়। ওদিকে ইবলিসের চলমান অর্জনে ইত্যবসরে মূল ইসলামে অনেক অনাচার প্রবেশ করতে থাকে, সত্যের সাথে মিথ্যার সংযোজন হয়, কুরআনকে দূরে ঠেলে দিয়ে যখন মিথ্যার পাহাড় গড়ে নেয়া হয়, তখনই ঐ সত্যের ঝলকানীতে কালিমা জমতে থাকে। শুরু থেকেই সত্য ধর্মের সাথে বিরুদ্ধবাদী নষ্টরা লেগে ছিল, সত্যকে ধ্বংস করতে বদ্ধ পরিকর হয়ে খুব কৌশলে ধর্মের আলখেল্লার ভিতরে ঢুকে পড়ে নষ্টরা। এ প্রচেষ্টা নবীর সময় থেকেই প্রথম নয়, সৃষ্টির শুরুতে আদমের সময় থেকেই এ বিরুদ্ধ শক্তি প্রকট আকারে দুনিয়ার ময়দানে চষে বেড়াচ্ছে। ঐ বিরুদ্ধ শক্তির নাম ইবলিস। ঐ ইবলিসই মুসাকে তাড়িয়ে নিয়ে চলে নীলনদের উপকন্ঠে, ঈসাকে শুলে চড়ায়, ইব্রাহিমকে আগুণে ফেলে, শেষ নবীকে মক্কা থেকে তাড়িয়ে মদীনায় নিয়ে যায়, একের পর এক যুদ্ধ লাগিয়ে তাদের ধ্বংস করার সবকটি পায়তারা চালায়। মোট কথা ইবলিসের অবসর নেই, এ শক্তিশালী মাধ্যম চলমান, বহমান, সচল সবদিন। এদের হাতে সারা বিশে^ মুসলিমরা মার খাচ্ছে। সৃষ্টির শুরুতে আল্লাহ মানুষকে এ অবস্থার কথা অবগত করিয়েছেন, এটি ভুলে গেলে চলবে না।  

গবেষনার দৃষ্টিতে প্রতিপক্ষ ইবলিসকে স্পষ্ট করে চিনতে হবে একজন সচেতন বিবেকধারী মানুষকে। যার বিবেক সজাগ ভূমিকায় থাকবে, তার কাছে এরা ধরা পড়বেই। কুরআন কোন অসম্পূর্ণ গ্রন্থ নয়। যদি কেউ একে অসম্পূর্ণ মনে করেন তবে বুঝতে হবে তিনি ভুলের মাঝে আছেন, প্রকৃত সত্য থেকে দূরে অবস্থান করছেন। কুরআন নিজেই প্রচার করে এটি একটি পরিপূর্ণ গ্রন্থ। নবী ছিলেন ঐ সময়কার মুসলিমদের জন্য উদাহরণীয় কিন্তু কুরআন ব্যতীত ধর্মে কোন সংযোজন বিয়োজনের ক্ষমতা নবীর ছিল না, নবী ভুলেও কুরআন বিরোধী কোন কাজ করেন নাই। নবী এসেছিলেন ঐ অন্ধকার সমাজের সব বাতিলকে নষ্টকে দূর করতে। কিন্তু আজো দেখা যায় সমাজে কিভাবে ধর্মের নামে অন্ধকার জেকে বসে আছে মানুষের মন ও মগজে। যত অন্ধকার গ্রামে যাবেন কুসংস্কার তত বেশী করে উপলব্ধি করতে পারবেন, এসব কুসংস্কার ধর্মের নামেই সাজানো হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় আদম আর ইবলিসের ঘটনাটি স্পষ্ট করে কিভাবে ইবলিস মানব সম্প্রদায়কে পথহারা করেছে, করছে এবং সম্ভবত আরো করবে। একমাত্র লেখাপড়া করে অর্জন করা সুশিক্ষা মানুষকে আলোর পথ দেখাবে। সেটিও কুরআনেই বর্নিত হয়েছে। শুরু থেকেই মুসলিমরা আল্লাহতে আত্মসমর্পণ করে ঐ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছে বলেই অতি অল্প দিনের মাঝে তারা আকাশচুম্বী উচ্চতায় উঠতে পেরেছে।

যখনই কুরআন থেকে মানুষ দূরে সরতে থাকে, তখন থেকেই মুসলিম মানসে অন্ধকার জেকে বসে। উদাহরণ হিসাবে বলতে পারি, ইসলাম কবরের বাসিন্দা মেয়েদের কবর থেকে তুলে এনে ময়দানে হাজির করে মানুষের মর্যাদা দেয়। এতে ইবলিস অরফে দুষ্ট চক্র হাঁসফাঁস করতে থাকে। অতি অল্প দিনের মাঝে ইবলিস ফাঁক খুঁজতে থাকে কিভাবে ধর্মের অলিন্দে ভেজাল ঢোকানো যায়। এবং অতি অল্প দিনের মাঝেই ইবলিস সেটি করতে সক্ষম হয়। খুব কৌশলে নারীদের ফের কবরে পাঠাতে না পারলেও পুনরায় গৃহবন্দী করতে পেরেছে। কুরআন থেকে দূরে ঠেলে রেখে অসংখ্য মানবিক সংযোজন চলে জোরেসোরে। মানবিক সংযোজন তখনই ভয়ের যখন এটি কুরআনকে অবহেলা করে পাশ কাটিয়ে নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা দেয়। শতাব্দী পরে মানুষ প্রকৃত সত্যকে গুলিয়ে ফেললে ঐ মানবিক সংযোজনের উপর বেশী দখল ও প্রচার চলে। কিতাবের নামে নকলের পাহাড় জমে ইবলিসের পরিসর বাড়ে, আর ক্রমে মূল সিলেবাস কুরআনের পরিসর দিনে দিনে ময়দান থেকে দূরে সরতে থাকে। আল্লাহর জায়গার দখলদার হয় দু নাম্বারী পূজকরা। 

শিরক এমন এক পাপের নাম, যা করতে মুসলিমদের ১০০% নিষেধ করা হয়েছে। এটি মূর্তিপূজার সমতূল্য। কিন্তু অসংখ্য জনতা নামে মুসলিম, ঐ কঠিন পাপ শিরক করেও মনে করে তারা মুসলিম। প্রকারান্তরে এরাই মূর্তির পূজা না করেও মোশরেক নামে পরিচিত। মানুষ যখনই গবেষনা থেকে দূরে সরে গেছে, অন্ধকারে ডুবে গেছে, নারীদের শৃংখলিতকরণ পুনরায় আংশিক হলেও জায়গা করে নেয়। এর বড় প্রমান সৌদির মেয়েরা এই সেদিনও গাড়ী ড্রাইভের অনুমতি পায়নি কারণ তারা মূল ইসলামে নেই বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। নবীর প্রচারিত ইসলাম প্রতিষ্ঠিত থাকলে এতদিনে ইসলাম আকাশচুম্বী অবস্থানে পৌছে যেত। আজো দেখা যায় সৌদি আরব এমন এক দেশ যেদেশে নবী জন্ম নিয়েছেন। তবে ওটি সৌদি আরব ছিল না। সৌদ নামধারী দখলদার এক গোষ্ঠী কঠিন শর্তে শত অনাচারে মোড়া এক অভিনব পারিবারিক ধর্ম ব্যবস্থা অনুসরণ করছে বর্তমান সময়ে। এক একজন ১০০টা বিয়ে করছে শত শত সন্তান জন্ম দিচ্ছে, রাজতন্ত্র চালু করেছে, এসব নবীর অনুসৃত ধর্ম নয়। এসব তাদের মনগড়া অপকর্ম ঘেরা শক্তিমত্তার প্রমান সব। আজ সে দেশে মানুষ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে না। সত্যবাদী সাংবাদিককে কেটে টুকরো টুকরো করা হয় শক্তির তলানীতে। যেখানে ১০০% ইসলাম নেই। সৌদের শাসন শোষন বহাল কিন্তু মূল ইসলাম ১০০% আছে কখনোই বলা যাবে না। ইসলাম কখনোই অসংখ্য বিয়ের অনুমতি দেয়নি, ধর্মের নামে অনেক অনাচার সৌদিরা করছে তা কখনোই ইসলাম নয়। বিবেক সম্পন্ন মুসলিমদের সত্য সন্ধানী হতে হবে আর সেই কুরআনীয় সত্যের উপর অনড় থেকে কাজ করতে হবে, সেটিই প্রতিটি মুসলিমের উপর ধর্মের নির্দেশণা। আল্লাহ আমাদের সেই সহজ সরল সত্যে চলার তওফিক দান করুন।

রচনাকাল ২১ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০ সাল।

 

 

চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ

 নাজমা মোস্তফা

 

সময়টি শতাব্দীর শুরুর দশক পার করা। আজ থেকে আট বছর আগে লেখা কলামটি। পান্ডুলিপি হয়ে আমার খাতার নোটবুকে পড়েছিল। দশকের শুরুতেই ছিল পাগলা ঘন্টার তুমুল হল্লা। আজ জানুয়ারী মাস, তারিখটি ১৮, সালটা ২০১২এর শুরুর মাস। চলছেই একটির পর একটি। কত আর বলা যায় শিরোনাম সংবাদ প্রানকাড়া সব মৃত্যু ঘন্টার করুণ রাগিনী চারদিকে আকাশে বাতাসে প্রচন্ড বেগে বইছে। পৃথিবী নামের বলয় ভেদ করে যেন উগলে উঠছে মাটি ভেদ করে ফুসে উঠা ভিসুবিয়াসের জ্বালামুখ থেকে ভয়ানক সব লাভা জ্বলজ্বল করা। জমা হচ্ছে ই-মেইলরা হাজার হাজার,  তারপরও ডিলিট করা হয় না। সময় বড় অল্প, জমা রাখি পড়বো। পড়বার সময়ই বা কোথায়? সূর্যদোয় থেকে সূর্যাস্ত ঘন্টাতে কতই হয়? এর মাঝে সব জমা সামাল দিতে হবে। সংসার, কাজ, রান্না, পড়া, লেখা, চারপাশ দেখা। এক জোড়া হাতে মাত্র দশটি আঙ্গুল পিল পিল চলছে কিবোর্ডে যা এড়িয়ে যাবার উপায় নেই। দরকারী সবই ছুটে চলছে উর্ধ্বশ্বাসে। সারিবাধা সব কষ্টরা করছে বাস্তব জটলা। পত্রিকার ওয়েভ সাইটে ক্লিক করলেই উগলে বের হয় খবররা। থরে বিথরে সাজিয়ে রাখা। সত্যি ভাবতে অবাক লাগে জীবনটা কেমন যেন আসলের বদলে অদ্ভুত অন্য রকম এক পাওয়ার মাঝে বাড়তি ব্যস্ততা। বুদ্ধিধারীদের কেউ বা মন্তব্য করছে সমানে, আর মানুষ হাজার বছর উপরে পার করেও আজ ক্লান্ত। কেউ কেউ আকাশের তারাকে নিয়ে বেশী করে ভাবতে বলছে।

কিয়ামতের আগাম সংবাদ কি এটি? হয়তো বা! আজ আর লিখতে কাগজ লাগে না। সর্বত্র সাদা কাগজ সারাক্ষণ খালি পাওয়া যায় কম্পিউটারের ডেস্কটপে। প্রযুক্তি যে কত দিস্তা সেখানে ঢুকিয়ে রেখেছে, কেউ জানে না রেখেছে কয় মন কলমকালি সঙ্গোপনে। সবাই লিখছে দিনের পর দিন, যেন বছরের পর বছর চলছে তাদের যায় যায় দিন। কাকে রাখি কাকে ডিলিট করি, কুল পাই না। এ শতাব্দীর শুরুতে খোদ আমেরিকাতে এক ভয়ানক বিস্ফোরণ ৯/১১, তারিখটি আমেরিকার পুলিশ কল নাম্বারের সাথে মেলানো এক কঠিন ছকে আঁকা, প্লেন করে আঁকা ক্ষণটি। এর লেজ ধরে বিকল্প আসে আরো কত কত ওয়ান ইলেভেনরা, তাও ইতিহাসে যতনে জমা রাখা।

সমানেই শুনছি চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ

২০০৯ সাল, নতুন শতাব্দীর নয় বছরের ফেব্রুয়ারীর বিস্ফোরণ “বিডিআর বিদ্রোহ”

একটি স্বাধীন দেশের হৃদপিন্ডে যেন আকস্মিক মরণ কামড়!

“মাটি খুড়ে জঙ্গী খোঁজার ঘোষনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর”।

কলাম আসে “আগে চাঁদাবাজদের ধরুণ, পরে ভিন্ন কথা বলুন”।

সময়টি একদম মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মতনই, এক মার্চের কথা।

যশোর খুলনা ও সাতক্ষীরাতে হাইপ্রেসারও কিডনী রোগী বেড়েছে দারুণ।

পানিতে লবনাক্ততা বেড়েছে এটিই কারণ। যেভাবে পানির স্তর নামছে,

রাজশাহী ও চারপাশ মরূভূমির প্রস্তুতি নিচ্ছে। মরবার সাজ চলছে।

কি আশ্চর্য্য এ রকম প্রস্তুতিতে দিনে দিনে দেনা বাড়ছে, দেশটি আহত বিধ্বস্ত তিলে তিলে মুমূর্ষদশা। রুদ্র মূর্তি ধরেছে বনগাঁ থেকে বঙ্গোপসাগর। তারপরও কেন তোমরা অন্ধ থাকছো? নিজের বুদ্ধি বিবেককে কি এমন ভাবেই বন্ধক রাখতে হয়? এ যে মানবতার অপমান হবে বন্ধু! তোমার বিবেক কেন দেশমাতার বৈরীতায় মগ্ন? বিবেককে কেন পরের কারণে এমন বন্ধক রাখলে! এ যে লজ্জা! তাও কি বুঝো না?

জানো ওয়াশিংটন পোস্টে ১৯৯৭ সালের মার্চে আসে এক প্রতিবেদন। দূরে থেকেও কঠিন গোপন কথা বলে যা তোমরা অনেকেই জানছো না বুঝছো না; বোকার ভনিতা করছো। ওরা বলছে জানো কি, কখন থেকে বাংলাদেশের চরম সর্বনাশ শুরু হয়েছে, যখন ভারত গঙ্গার পানি সীমান্তে তার নিজের দিকে সরিয়ে নিয়েছে। ওরা পরিমাপ করেছে তোমাদের ক্ষতির পরিমাণ টাকার অঙ্কে, চার বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে; তারপরও বোঝ না বন্ধু! তুমি শিখলে না চতুরতা, বুদ্ধিমত্তা তোমার জিম্মী কেন আজো? বন্ধুর স্বরুপ সন্ধান করতে তোমার চল্লিশটি বছর লেগে গেল! তোমার একজোড়া চোখ তোমাকে সারাক্ষণ পথ দেখাচ্ছে, হাটতে শিখাচ্ছে, গাইতে শিখাচ্ছে, বলতে শিখাচ্ছে তারপরও তুমি কেন অন্ধ? এসব ভাবলে মাথার কষ্ট বাড়ে। “গোলাপী এখন ট্রেনে”র গোলাপী তো অন্ধ ছিল, চোখে দেখতো না। তুমি কি জবাব দিবে? তোমার চোখ থাকতেও তুমি অন্ধ! বিধাতার কাছে তোমার কি জবাব হবে?

আবারো শুনতে পাই চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ।

শুনছি সমানেই! উদ্ভট সব আওয়াজের সে বিস্ফোরণ কি কিয়ামতের আলাপন?

দেশের নেতৃস্থানীয়রা আজ আর মিথ্যা বলতে পিছে তাকায় না, ভয় পায় না।

কেন এমন হলো? মানুষ এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিচ্ছে, কোন পাত্তা দিচ্ছে না।

মানুষ আজ জেনে গেছে, শেষ জামানাতে এসব হবে কম বেশী সবাই জানে।

অপকর্মীরা আরো জানে এসব মিথ্যা বলার সব অধিকার তারা অর্জন করেছে,

২০১২, ধাপে ধাপে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠেছে দেশ চল্লিশ পার করেছে।

চল্লিশে সাধুরা সোমত্ত হয়, বুদ্ধিদিপ্ত পদক্ষেপ রাখতে ভয় পায় না

এমনই পূর্ণতা এ সংখ্যাতে এমনই স্বার্থকতা। বর্ডারে হতভাগা হতভাগীরা মরছে,

প্রধানেরা চুপ, মুখে রা নেই, যেন কিছুই হয়নি। গরীবের বাচ্চারা মরেছে, মরুক।

উল্টো ওদেরে ডেকে এনে মালা পরাচ্ছে সোনার সোহাগে বন্ধুত্ব বিলাচ্ছে এমন দুর্দীনে, কোষাগার শূণ্য। কিন্তু তাতে কি, এটি এমনই এক রোগ সবার জানা। গরীবের ঘোড়া রোগ হয় না? এমনই এক রোগে পেয়ে বসেছে। বাহারী এ জাতির ঘাড়ে চেপেছে হতাশার সংক্রমন, মহামারী রোগ। আর্সেনিকে অবশ একাংশ, খরা দারিদ্রতা হাঁ করে আছে। তারপরও রাজসভা অতি বেশী তৎপর, দুহাতে বিলানো হচ্ছে সম্মান সাধনা চলছে সপ্তরাগে, উচ্চাঙ্গে। ওদের অপকর্মের বদলে শাসানী নয়, এ যে মায়াময় বুলি! গরীবের ফেলনা মেয়ে ফেলানীকে বাড়তি জ্ঞান দেয়া হচ্ছে! সে তো মরেছে! তার দেখবার চোখ সে কবে গলে পঁচে ভর্তা হয়েছে! দেখছে বাকী জনতারা যারা আজো বেঁচে আছে, সামনে মৃত্যুর অপেক্ষায় সময় পার করছে

চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ সমানেই শুনছি।

মানব বন্ধনে রাস্তারা সারি বাধা, কি করবে এরা দিশেহারা!

তারপরও তারা কত লড়বে কত দশক কত যুগ কত শতাব্দী।

জেনেছি নয় মাসে যুদ্ধ শেষ, এবার কেউ কেউ বলছেন চল্লিশেও শেষ নয়।

ছাত্র নামধারী লীগনেতারা সকল প্রেরণার উৎস, পানিশূণ্য মাঠে লগি বৈঠায় তারা,

স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, যদিও জন্ম একাত্তর পার করা।

চাপাতি খুর দা পরখ করা। নব্য স্বাধীনতার নব্য রাজাকার এরা।

সুরঞ্জিতও বলছেন, “জাতি আজ দুভাগ হয়েছে” স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আর বিপক্ষের ধারা।

এসব সাজানো গোজামিল কথা, বলাটা সঠিক না।

সত্তুরে যখন আমরা তরুণ, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ছিল গোটা বাংলাদেশ আজ তারা বিভক্ত, দুই ধারা।

পুরানো মূল স্বাধীনতার শক্তিরা ৫০ পার হওয়া রিটায়ার্ড ধাপে তারা।

নতুন শক্তিরা বাংলার তরুণ, মিথ্যায় আগাগোড়া মোড়া। প্রজন্মরা জেনেছে একদিন তারা পিন্ডির নিগড় থেকে বের হয়েছে বিগত সত্তুরে। ফের দিল্লীর নিগড়ে ঢুকতে যাবে কোন খেদে? এটি কি কোন জাগ্রত বিবেক বলে? এতেই তাদের বাধ প্রতিবাধ, গড়ে তোলা ভিন্নধারা। চল্লিশ বছরেও এত তেড়ে উঠে নি জাতি অতীতে। এটি ঐ চল্লিশের দৃপ্ত চেতনা জাতির সামনে। আর একটি আগত মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি, এরা একবিংশের জাগ্রত জনতা!

অর্থনীতিবিদদেরও কপালে বলিরেখা। প্রশ্ন সোনালী দিন তো সামনে নয়

তবে কি এটি পেছনের হাটে ফেলে আসা? ডিজিটাল এ তো কথার কথা।

দেশ চলছে নগদ ছাপানো টাকাতে, যেন তলাহীন ঝুড়ির ঝাঝরা দশা।

পরীক্ষার পাশ ফেল আজ প্রশ্নাতীত, ফেল করেও চাকরি বাগায় ১৪৪ নেতা পাতিনেতা।

ভালো খবর আছে জমছে তলানীতে, তবে কেমনধারা যেন একহারা।

প্রধানমন্ত্রী আগামী কাল আগরতলা যাচ্ছেন। প্রাপ্তির পটে কিছু জমেছে

আগরতলায় সম্মানসূচক ডি-লিট মনে রাখবার, মুছে দিবার মত নয়।

তাইতো বলতেই হয় “এত কৃতজ্ঞতা কিভাবে ভুলা যায়”?

কিন্তু ফেলানীর সামনে সব কৃতজ্ঞতায় ভাটা পড়েছে!

কাঁটাতারে ঝূলতে থাকা উল্টে রাখা ফেলানীরা কি বড়বেশী অকৃতজ্ঞ?

কচি মেয়ের ধর্ষিত জীবন, হিসেবটা আবার করুণ – যারা বড়বেশী কৃতজ্ঞ!

 

বর্ডারে ফেনসিডিল, ইয়াবা, হিরোইন কত শত নতুন নাম না জানা মাল মশলা সমানেই আসছে।

ওরা গিলবে নাচবে মরবে। কাটাতাঁরের খাঁচাতে যারা আটকে আছে, কেমন মজা ওরা মরবেই?

যেন এক নতুন উপনিবেশ বাংলাদেশ, সেজেছে অপূর্ব বিবস্ত্র সাজ। মঞ্চে মঞ্চে উদ্যাম নৃত্য,

সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে যুব সমাজ ঘোলা জল সমানেই গিলছে, শিখছে নতুন বুলি, সবহারা উন্মত্ত।

সব হারানোর বেদনা ভুলার ঔষধ হাতের কাছেই, এরা ড্রাগাসক্ত।

ওপার থেকে দম্ভের আওয়াজে চিদাম্বরম গগৈ,

“বৃহৎ নদী বাঁধ নির্মাণ হবেই। ট্রানজিট করিডোর আমাদের চাই”।

কচি ছেলের বায়না, নতুন মা দিশেহারা এমন আবদারে উচ্ছ্বসিত;

অন্তরে প্রেমের ফল্গুধারা! তরুণেরা বেকার, নেই চাকরী

কথা ছিল প্রতি ঘরে একটি চাকরী, পাঁচ লাখ আজ চাকরীর ফেরারী

জনতারা কাঁদছে সমানেই বিলাপ করুণ সুরে, রহিয়া রহিয়া।

যারা দূরে আছি, বলো – কেমনে রাখি আখিবারে চাপিয়া?

 

এখনো শুনতে পাচ্ছি চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ

চাকরীর বাজার ভারতীয়দের হাতে, এটি কেন?

বাংলাদেশ কবে ভারত হলো? জানলাম না কেন?

যেদিন বিডিআর এর ৫৭ মেধাবী জোওয়ান মরলো ২০০৯এর ২৫ ফেব্রুয়ারীতে,

সেদিনই কি? আমরা কি জানতে পারি না?

এ কি আমাদের অপরাধ? ঐ মৃত্তিকাতে আজো ঘুমিয়ে আছে আমার স্বজন, আমার হৃদয় মন আত্মা।

দরিদ্র এক দঙ্গল মানুষের নাড়িভূড়ি ফালি ফালি করে খুবলে খাওয়া এ কেমন উন্মাদতা?

ঐ শাস্ত্রে কি পরহেজ করার বিধান বাতিল?

পরস্বঅপহরণ কি শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়?

পরের জীবন হরণে কি বাড়তি পূণ্য হয়?

সবার বিধাতা একজনই, হোক সাদা কালো পিত বাদামী

সবার রক্তের রং লাল, এক বিধাতার সন্তান তুমি আমি!

এক একটি প্রশ্নের এক একটি উত্তর হয় কিন্তু আজকের সব প্রশ্নের উত্তর এক

যেন সরল অঙ্ক খুব সোজা, “যুদ্ধাপরাধীর বিচার ঠেকাবার কসরত সব”।

 

তারপরও থেমে নেই, চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ সমানেই শুনছি। ফারাক্কা টিপাইমুখ ট্রানজিট, হামলা মামলা গুম সব সারিবাধা, এক বন্ধু ভাগ্যে পাওয়া অগাধ উপার্জন।  তত্ত্বাবধায়ক নামের এক নতুন জিগির আকাশে বাতাসে। একে সরাতেই হবে, মুছে দেয়া হয়েছে কৌশলে। এবার ইভিএমে ভোটগ্রহণে বাড়তি বিতন্ডা, তাও অকারণ নয়। দিল্লী হাইকোর্টও বলছে, এতে কারসাজির সুযোগ রয়েছে। ভোট চুরির সম্ভাবনা সামনে, অতএব সাধু সাবধান!

বিশ্বাস করেন চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ

খালেদা জিয়ার রোডমার্চ বনাম প্রধানমন্ত্রীর চ্যাংদোলা তত্ত্ব, কেন কথার এমন ছিরি!

প্রধানের বাংলাতে  মনে হয় আরো পড়াশুনা দরকার। ভাষার জন্য এত রক্ত ব্যথায় ভরা

এক উপনিবেশ একবিংশ শতকের শুরুতে মানচিত্র জুড়ে অপূর্ণতা।

এরকম সময়েও ফেনীর জয়নাল হাজারীর সব দন্ড মওকুফ হয়।

আরেক মরণ ফাঁদ তিতাস মৃতপ্রায়; একতরফা বন্ধুত্ব কাম্য নয়।

লন্ডন সেমিনারে অ্যামনেস্টি: বাংলাদেশ মানবিক পরিস্থিতি সুবিধার নয়।

পলোগ্রাউন্ড থেকে উচ্চধ্বনি উঠে, “এ দেশ কারো করদরাজ্য নয়”।

সুজনেরা বলছেন লোহা তপ্ত থাকতেই হাতুড়ি ঠুকতে হয়।

“চুক্তি যেন গলার কাঁটা” বক পন্ডিত নির্বিকার, আছে শুধু বড়াই

প্রথম আলোতে আর কালের কন্ঠে চলছে কুৎসিত লড়াই।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে লুটপাট, উচ্চ মূল্য বাজার, শেয়ার বাজারে ধ্বস,

স্বাধীনতা আজ পরাধীনতার লেবাস আটা, যেন এক উপনিবেশিক ফানুস।

আরো শুনতে চাও, বলবো আরো দুটি কথা! শুনতে চাও এ বেদনার উপাচার।

বেদনার ভারে উপচে পড়ছে চারধারে সঙ্গোপনে চেপে রাখা কষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় দলীয় আখড়া কেন? কেনই বা শিক্ষার পাশাপাশি জাতির ডুবার অঙ্গিকার?

একজন শিক্ষকের সামনে সন্তানসম ছাত্র তার; অনাগত ভবিষ্যত কেন এত ওজনহীন হালকা মূল্যহীন জমাট মাংসপিন্ড। এরা সবাই স্বার্থের পেছনে ছুটছে বলেই তারা একচোখা, দৃষ্টিহারা। চারপাশ আজ ঝাঝরা বিষফল ছড়ানো উত্তপ্ত আকাশ বাতাস, আগাম ভবিষ্যত অনেকেই অতীত লাশ। লাশের কপট ভারে বৃদ্ধ পিতার কাঁধ যেন টন টন বোঝার এক বরফগলা হিমালয়। পৃথিবী – তুমি কি ক্লান্ত আর বইতে পারছো না এ ক্লন্তির বোঝা? তবে কি কিয়ামত আগত, সামনে?  আমরা আতঙ্কিত!

যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল পোস্ট জানান দিয়েছে, আজ সারা বিশ্ব জানে বাংলাদেশের সীমান্ত আজ ইঁদুরের ফাঁদ “মৃত্যুর দেয়াল”। ইসরাইল ও ফিলিস্তিন থেকেও ভয়ঙ্কর এরা নির্যাতনে ছাড়িয়ে গেছে সবারে, চাঁদাবাজ ঘোষখোর বিএসএফ জোওয়ান। বিবিসির খবরে প্রকাশ ঘোষের টাকা চাইতে তারা হাবিবুরকে উলঙ্গ করেছে। আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে হাবিবুর কাঁদছে। ওরা নেকড়ের মত ঝাপিয়ে তৎপর শিকারের উপর। শিকারীর গোঙ্গানী শুনছে জনতারা ইউটিউবের চারপাশ থেকে। হিউমেন রাইটস ওয়াচ এক মানবাধিকার সংগঠন জানে কত রক্ত বইছে সীমান্তে কাঁটাতারের ফাঁক গলিয়ে। ঘুষের কত রকম উপার্জনের আয়োজন সেখানে। গত এক দশকে এক হাজার বাংলাদেশী বিএসএফের গুলিতে লাশেরা মুমূর্ষু মৃত। নির্যাতীতের সংখ্যা অফুরান, মোটেও হাজারে কুলাবার নয়, ওয়াচের মন্তব্য। তারা জোওয়ানরা হাবিবুরকেও মনে করেছিল মরে গেছে। তাই লাশ ছুড়ে ফেলে রাখে। বিধাতার দয়ার সৃষ্টি, তাই সে মরে নাই। মানচিত্রের ওপারে দিল্লীর প্রশাসন চিন্তিত, নিশ্চয় বিদেশী আইএসআই গোয়েন্দা জড়িত!

ওরা কতই না তৎপর কৌশলী! ভাগ্যিস এটি ফাঁস হলো আর ফাঁস না হওয়া

কত লাশেরা মিছিল করছে জনমানবহীন কাঁটাতারের সীমান্ত দেয়ালে।

মনে পড়ে বর্ডারে চেকিংএ গেলে, তারা কতই না টাকা খাবার ধান্ধা খোঁজে।

যদিও সীমান্ত খোলা, চোরাকারবারীরা সহজেই যেতে পারে বখরা দিলে।

কাঁটাতার এক অনাচার ফাঁদের নাম। বিচার শুধু ফেলানী আর হাবিবুরের জমা।

ঐ বিদেশীর গোয়েন্দা না থাকলেই কি বিধাতার ছবি কথা বলবে না, ঐ কিয়ামতের মাঠে?

ওরে পাষাণ! ঐ মাঠে কেউ ছাড়া পাবে না। হাতকড়া হাতে থাকবে সাথে সব জান ও মান।

জেনে রাখিস! ফেলানী ও হাবিবুরের থেকেও বহুগুণ কঠিন হবে তোদের পরিণাম।

পাঠক বন্ধু ! এক বিংশ শতকের এ নব্য উপনিবেশবাদের গল্প শোনার পরও

নিশ্চয় বিশ্বাস করতে কষ্ট সার! এতসব গল্প শুধু কবিতাই নয়,

সত্য কথন। হে বিধাতা! বন্ধ করো এ নির্যাতন। শুনছি সমানেই শুনছি

চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার ঢং ঢং মতন শব্দের আয়োজন।

 

কিছু নতুন খবর আছে কেউ বলছে চাঁদের বুকে ষ্টেশন হবে। এলিয়েনরা আছে ধারে কাছে। কিন্তু তারচেয়েও গুরুতর সমস্যা সামনে। দেশবাসীর সামনে এলিয়েন নয়,  জয়নাল হাজারীরা টুপি মাথায় দাঁড়ি মুখে একপায়ে দাঁড়িয়ে। এদের দেখলে গলা শুকিয়ে কাঠ হয় সাধারণ জনতার। তারা সাধারণেরা সন্ত্রাস চায় না, চায় বাঁচবার নিশ্চয়তা। জয়নাল হাজারীরা মাথায় টুপি আর দাঁড়ি রাখলেই কি সাত খুন মাফ হয়ে যায়! সারিবাধা সব অপরাধ ধুয়ে মুছে যায়! তবে সব দাাঁড়ি সমান নয়! দাঁড়িরও রকম সকম ভিন্ন নিয়মে গড়া, গাটছড়া বাধা! আমরা সাধারণেরা চেয়ে আছি শুধু অপলক দৃষ্টিতে, ২০১২ জানুয়ারী, তুমি বছরের শুরু, তুমি সাক্ষী থেকো। শুনছি সমানেই চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ। আট বছর আগের লেখাটি পড়লে মনে হয় যেন গতকালের কথা বলছি। শুনছি তো শুনছি সমানেই শুনছি। আল্লাহ এ জটিল সঙ্গিন সময়ে জাতিকে সঠিক পথ বাতলে দিক। আমিন।

মূল রচনাকাল ১৮ জানুয়ারী ২০১২।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ব্লগে ছাপা হয় ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০। এ চলমান সপ্তাহে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ থেকেও কলামটি ছাপা হয়।

 

সরকারের অংকে ভয়ংকর গরমিল

নাজমা মোস্তফা

খবরটি স্টাফ রিপোর্টার কৃত ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০তারিখ মিডিয়ার খবর। কে বা কারা চাইছে আবরার ফাহাদের বাবাকে আড়াল থেকে মামলা আপসে মিটমাট করে ফেলতে কল করছে। বিনা অপরাধে মৃত্যুর জবাব কিভাবে ফয়সালা হয় তাও আবার আপোষে? শক্তির তলানীতে এটি সংগঠিত হয়েছে, এর অনেক সাক্ষ্য প্রমাণে ওরকমই মনে হয়। ঘটনা ঘটিয়ে সরকারও সিসিটিভির দাগ মিটানোতে উঠে পড়ে লাগে। সরকারের অতি চাতুরী ছাত্র জনতার কাছে ধরাও পড়লো। সাত্তার নামের একজন টেলিফোনে আল্লাহর বাণী শুনিয়ে আপোস প্রস্তাব দিচ্ছে। নির্দোষ মেধাবী আবরার হত্যায় আল্লাহর কথা মনে পড়ে নাই, এবার দুর্বৃত্তের জীবন বাঁচাতে আল্লাহকে মনে পড়েছে! ২০১৯ সালের ৭ই অক্টোবর প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হত্যা করে, সচরাচর ধারাবাহিক হত্যা গুমের মতই স্বাভাবিক এসব হত্যাকান্ড।

‘বাংলাদেশের বেসরকারী খাতে ভারতীয় দাপট’ খবরের শিরোনাম। পোশাক শিল্প, বায়িং হাউজ, আইটি এবং সেবা খাতে ভারতীয় দাপট বেড়েই চলেছে। চীনা ও শ্রীলংকা এরপরে থাকলেও করোনা ভাইরাসে চীনের দাপট কিছু কমলেও ভারতীয় দাপট আরো বেড়ে যাবার আশংঙ্খা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে এক লাখেরও বেশী ভারতীয় কাজ করেন। অন্যদিকে বায়িং হাউজে এই সংখ্যা আরো আরো বেশী। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম, বিজ্ঞাপন, কনসালটেন্সি এসব খাতেও ভারতীয়রা রয়েছেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে কম করে হলেও পাঁচলাখ ভারতীয়রা কাজ করে। কিন্তু তাদের অধিকাংশেরই কোনো ওয়ার্ক পারমিট নেই। তারা টুরিস্ট ভিসায় আসে। আর তাদের বেতন অনেক বেশী। টুরিস্ট ভিসায় যারা কাজ করে তাদের আয়কর পুরো অর্থই অবৈধ পথে বাংলাদেশের বাইরে চলে যায়। সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্ট ও ভারতীয় কৌশলশর্ত জুড়ে দেয়ার কারণেও তাদের জনশক্তিকে কাজ দিতে হয়। ট্রাভেল এজেন্টদের বড় একটি অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে। সরকার এসব ব্যাপারে তৎপর নয় বরং চরম গাফলতি, দেশের স্বার্থকে খর্ব করছে।

বাংলাদেশের চাকরির বাজারে কর্মরত বিডিজবস ডটকমের পরিচালক ফাহিম মাশরুম বলেন, ‘বিদেশে কর্মীদের মাঝে ভারত সবার উপরে তারপর শ্রীলংকা, চীন থাইল্যান্ড। এদের দশভাগেরও ওয়ার্কপারমিট না থাকায় অবৈধভাবে কাজ করছে। তারা ভারত থেকে পেমেন্ট পায়। এ সিস্টেমও তারা ভারতীয়রা করে নিয়েছে।’ পোশাকখাতের বড় অংশ তাদের টেকনিশিয়ান ও ডিজাইনাররাই উঠায়। বিআইডিএস এর অর্থনীতিবিদ ডঃ নাজনীন আহমেদ জানান, ‘প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে যাচ্ছে। বাংলাদেশের টার্গেট ২০ বিলিয়ন ডলার। তার মানে আনা রেমিটেন্সের এক উল্লেখযোগ্য ভাগ তাদের পাতে যায়। এটি হচ্ছে বৈধ চ্যানেলের কথা। আর অবৈধ পথে কত যায় তার কোন হিসাব সরকারী খতিয়ানে নেই। সবচেয়ে বেশী যায় ভারত ও শ্রীলংকায়। একাউটেন্ট ও প্রশাসনিক কাজেও বাইরে থেকে লোক নিয়োগ দেয়া হয়’ (পোশাক শিল্পের এসব সূত্র: ডয়েচে ভেলের রিপোর্ট)।

এই হচ্ছে পোশাক শিল্পের বর্তমান দশা। উন্নয়নের ফানুসে সরকার সবকিছু রঙ্গিন চশমা চোখে মাপছে। কালার ব্লাইন্ড সরকার যেন সবকিছু ভুল অংকে ভুল ফিরিস্তিতে দেশবাসীকে বোঝাচ্ছে? আইবিটিআইএফ সভায় বস্ত্রমন্ত্রী ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ তারিখ বুধবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে প্রথমবারের মত দুই দেশের দুই দিন ব্যাপী সভা হয়। সভায় বলা হয়, উভয় দেশ উপকৃত হবে। কিন্তু প্রায় সব ব্যাপারে একতরফাভাবে পরনির্ভর মনেবৃত্তির সরকারের কাছ থেকে ঘাটতি মোকাবেলার ব্যাপারে জনগণের খুব একটি বিশ^াস জন্মাবার কথা নয়। কারণ কোন ব্যাপারেই সরকার কোন দক্ষতার দাগ দেখাতে পারে নাই। দেউলিয়া অর্থনীতির বোঝা কাঁধে নিয়ে পোশাক শিল্পকে খাদের কিনারায় নিয়ে দাঁড় করাতে সরকারের গাফিলতিও অস্বীকার করার উপায় নেই। যখন সরকারের অর্থমন্ত্রী সংসদে দাড়িয়ে বুক ফুলিয়ে সরকারের সুরে একই লাগামছাড়া মন্তব্য ছুড়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রচার করেন, “আমি বিশে^র এক নম্বর অর্থমন্ত্রী”(৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, আমাদের সময়)। শেয়ার বাজারের সীমাহীন ধ্বসের উপর দাঁড়িয়ে এ হুংকার যেন ‘সিংহ আমি বনের রাজা’র মতই অহংকারী ভারসন। অর্থমন্ত্রী এতই সুবোধ বালক যে, ব্যাংকের মালিক ডিরেক্টররা ঋণ নিয়ে বসে থাকলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেয়ার দরকার বোধ করেন না। মনে হয় উনার লজ্জা লাগে। ঠিক যেভাবে ভারতীয়রা মালামাল বিনা ট্রানজিটে পার হয়, শুনেছি বাংলাদেশ সরকার চাইতে লজ্জা পায়! দেশ থেকে কোটি কেটি হাজার কোটি টাকা পাচার হলেও অর্থমন্ত্রী কোন ব্যবস্থা নেন না। কি কারণে তার এমন নিরবতা, সেটি তিনি ভালো জানেন। তবে নিজের কাজেকর্মে স্বচ্ছতা না থাকলে অপরকেও সুবিধা দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না। শক্তির নীতিতে তারা দক্ষ, উল্টে পাল্টে দে মা, লুটেপুটে খাই!

সরকারের সব মন্ত্রীরা ঢোল পিটাতে পিটাতে ঢোল ক্ষয় হওয়ার শেষ ধাপে কিন্তু জনতারা যে যেদিকে পারে ময়দান ছেড়ে পালাতে চাইছে। এর কারণ কি? রোগীর লক্ষণ দেখে ডাক্তার রোগ নির্ণয় করে। কি কারণে তরুণদের এমন রোগ হলো সেটি নির্ণয় করা দরকার। এত সুখ সমৃদ্ধি উন্নয়ন মেগাপ্রজেক্ট রেখেও কেন তারা দেশ ছেড়ে পালাতে চাচ্ছে! আর ভারতীয়রা কিভাবে এখানে নিরাপত্তা পাচ্ছে! ওপরদিকে ভারত সরকার এনআরসির সোরগোল তুলেও ফায়দা লুটার মানসাঙ্কে ব্যস্ত। দেশটা কি শুধু অর্থমন্ত্রীর, সেতুমন্ত্রী কাদেরের, মন্ত্রী নাসিমের নাকি গভীর রাতে ভোট লুটেরা প্রধানমন্ত্রীর! জনতারা সব বেওয়ারিশ লাশ, খালেদার মতই। ডঃ কামাল সীমা ছাড়িয়ে গেছেন, বয়ানে কাদের (মানবজমিন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০), জিয়া এরশাদ খালেদা এ মাটির সন্তান নন, (শেখ হাসিনা, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০)। মন্ত্রী নাসিমের বয়ান ভোটারদের সাথে সম্পর্ক না থাকায় ভোটে তারা কেন্দ্রে আসেনি, নাসিম, (৫ ফেব্রুয়ারী, নয়াদিগন্ত), ‘বর্তমান সরকারের সময় বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত’ বয়ানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারা জাতি কমবেশী জানে, ইতিহাস এ মাটির দাগদেয়া সন্তান জন্ম কাহিনীর অনেক কথা জমা করে রেখেছে, যা শুনতে বাজে লাগে। এখানে  সবার কথার মাঝে বাস্তবতার চরম সংকট। এরা দলগতভাবে সত্যকথা ও কাজ ভুলেই গেছে। কথায় কথায় বেফাঁস মিথ্যা হাসির খোরাক জমায়! এসব দেশের সমাজ চিত্র ও অর্থনীতির একটু ছোঁয়া। আবরার হত্যা, খালেদার কারাগার, মন্ত্রীদের বাগাড়ম্বর, ভোটের মৃত্যুদশা, অর্থনীতির গোজামিল অংকদশা, সচেতনকে গভীরভাবে ভাবায়। এ যেন শত্রু ঘুনপোকারা মজ্জা চুষে খাচ্ছে আর দেশের অস্থিমজ্জা ঝরঝরে হচ্ছে। অদেখা বিধাতা ছাড়া আর বিচার চাইবার কোন জায়গা সামনে পিছনে ডানে বামে অবশিষ্ট নেই। তারপরও সবহারাদের বড় ভরসা আল্লাহ, যে ময়দানে বিচার চাইবার জায়গা কোনদিনও শেষ হবার নয়।

৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০।

বি দ্র: উপরের পুরো লেখাই নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ কলামে ছাপে ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ সালে।

ফাঁসির দন্ড চাওয়া ছিল একজন মুক্তিযোদ্ধার ঐতিহাসিক রায়

নাজমা মোস্তফা

কি কারণে একজন মুক্তিযোদ্ধা এরকম একটি আবদার করে বই লিখে গেলেন সেটি কি জাতিকে ভাবায় না? জাতির মগজ নামক শরীরের অঙ্গটি কর্মক্ষম থাকলে আর বিবেক কার্যকর থাকলে অবশ্যই তাদের ভাবতে হবে, একবার নয়, বার বার। কে কোন দল করে সেটি বিষয় নয় কে কে মানুষ সেটিই বিষয়। এখানে মানবিক ও পাশবিক বিবেচনা ছাড়া আর কোন প্রসঙ্গ নেই। এ মুক্তিযোদ্ধা সেদিন ২০২০ দেখেছিলেন বিধায় এমন রায় দিয়েছিলেন। এরা ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা। দেশপ্রেমের খাতায় এরা চিরজীবি। এদের পাওনা অফুরান, দুই জাহান ভরা স্বার্থক মানব সন্তান। ফাঁসি দেয়া ধান্ধাবাজরা বোকার মত দেউলিয়া হয়ে টিকছে, ক্ষমতার চেয়ার ব্যতীত এরা মানব হৃদয়ে কংকাল, অপরিচিত লাশের হাড় গোড় নয়তো ঘৃণ্য জীব। আকর্ষণ সম্মান দায়বদ্ধতা দয়া মায়া মমতা না হারালে কি কেউ ফাঁসির দন্ড চায়? মতিয়ুর রহমান রেন্টুর কাছে এরা কয় যুগ আগেই সর্বহারা হয়েছে। ক্ষমতার দাপটে অবৈধরা সব চাপা দিয়ে রেখেছে, বাজেয়াপ্ত করেছে। আজ এদের ময়দানের আচরণ স্পষ্ট করছে এরা গোটা জাতির কাছে নিঃস্ব দেউলিয়া হয়ে ধ্বংসের শেষ সীমানায় হাঁপাচ্ছে।

স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের সৎ সাহসী যোদ্ধারাই প্রকৃত বিজয়ী। জাতিকে বাঁচাতেই তাদের আত্মত্যাগী সততার দাগ চিহ্ন। তারপরও জাতি কেন মরছে হাটু পানিতে? বিদ্রোহী মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেন্টু তার বিদ্রোহের স্বাক্ষর রেখেছেন কাজে কথায় ও কালিতে। সরকার যা করছে, এটি তার বহু পুরানো জাত স্বভাব, ঐ মুক্তিযোদ্ধা বিগত শতকে অকপটে সব স্পষ্ট করে গেছেন। শেখ হাসিনার প্রাইভেট সেক্রেটারী তিনি নিজে ১৬ বছর ও তার স্ত্রী ৯ বছর একসাথে কর্মচারী কর্মকর্তা হয়ে থাকার পর এই তার পরিসংখ্যান। তথ্যবহুল বাস্তব ঘটনার প্রতিটি রাজনৈতিক জটিলতার খুটিনাটি সেখানে স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে।

নীচে মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেন্টুর বই “আমার ফাঁসি চাই” (প্রকাশকাল ১৯৯৯, স্বাধীনতা দিবস), ঐ গ্রন্থ থেকে বিগত শতকের ইতিহাস দেখা কিছু বাস্তব সত্য তুলে ধরছি। মূল গ্রন্থে অনেক বিস্তৃত আলোচনা এসেছে, বইটি ময়দানে নেই, তবে অনলাইনে আছে বাংলা ও ইংরেজীতে। ঐ লেখকের দুটি বইএর অন্যটি হচ্ছে “অন্তরালে হত্যাকারী খুনী প্রধানমন্ত্রী” (জীবনাতঙ্কে ছুটে বেড়ানো রেন্টুর ভাতিজা রাকেশ রহমানের ভিডিও তথ্য)। সরকারের সৎ সাহস থাকলে বই দুটি ময়দানে থাকতো, বাজেয়াপ্ত কেন হবে? রাকেশও এই কথা বলেন। সহজ অংক, তার মানে সরকারই দোষী, আর রেন্টুর অর্জন ইহ ও পরকালে জমছে বহুগুণে। সরকারের অপকর্মের ১৫ মামলা বাতিল, রেন্টুর চ্যালেঞ্জ করে লেখা বইও বাতিল! সরকারকে বাতিল করাই মুক্তির একমাত্র বিশুদ্ধ জবাব। এ বইটি পড়ার পর কোন বিবেকবান মানুষ সরকারের সাথে থাকতে পারে না। শেখ মুজিবের উত্তরসুরীরাই তাদের পূর্ব পুরুষের পরিচিতি ঈমান আকিদা সততা, যোগ্যতা, মানবিকতার পক্ষে বিপক্ষে দলিল স্পষ্ট করছে, এদের সুকর্ম অপকর্মের দায় পাপ পূণ্য সংগৃহীত হচ্ছে। কুরআনে সুরা বাকারাহর ২১৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন উৎপীড়ন হত্যার চেয়ে গুরুতর। তার মানে এরা হত্যার চেয়েও গুরুতর অপরাধ করছে। যোগ বিয়োগের হিসাবটি প্রজন্মকেই করতে হবে, জাতিও পরখ করতে পারে। যে কেউ বিগত সময়ের সব কার্যকারণ ও সাম্প্রতিক ২০২০ সালের ভোটের বাস্তবতা এর সাথে মিলিয়ে নিতে পারবেন। ঐ বইএর ১৩৮,১৩৯,১৪০ পৃষ্ঠা থেকে সামান্য সংগ্রহ দিলাম।

(১)        সম্পূর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সঠিক সময়ে স্বাধীনতা ঘোষণা না করায়, ত্রিশ লক্ষ মানুষকে নিহত হতে হয়, দুই লক্ষ মা বোনকে ধর্ষিত হতে হয়, এর দায়ে দায়ী শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসি চাই।

(২)       মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার অভিযোগে শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর বিচার চাই, শাস্তি চাই।

(৩)       মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছে, শেখ মুজিবর রহমানকে স্বাধীন দেশে ফিরিয়ে এনেছে, স্বাধীনতার পর ভারত থেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা না এনে, রাজাকার আলবদরসহ ভুয়া ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ (সার্টিফিকেট) দেয়ার অভিযোগে শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর বিচার চাই, শাস্তি চাই।

(৪)       ক্ষমা না চাইতেই স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার, আলবদরদের ঢালাওভাবে ক্ষমা ঘোষনা করার অপরাধে শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসি চাই।

(৫)       মহান বিপ্লবী নেতা কমরেড সিরাজ সিকদারকে বন্দি অবস্থায় বিনা বিচারে গুলি করে হত্যা করার অপরাধে শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসি চাই।

(৬)       সিরাজ সিকদারকে খুন করে পবিত্র পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে সিরাজ সিকাদার আজ কোথায় বলে দম্ভকারী শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসি চাই।

(৭)       জনগণের ভোট দেয়ার অধিকার, মিছিল করার অধিকার, দল করার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণসহ সংবিধানের মৌলিক অধিকার হরণ করে জাতির উপর একদলীয় (বাকশাল) শাসন শোষন চাপিয়ে দেয়ার অপরাধে শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর বিচার চাই, শাস্তি চাই।

বাবার পর মেয়ের উপর ক্ষ্যাপা মুক্তিযোদ্ধা রেন্টু। এসব কি বিনা কারণে, বিবেককে প্রশ্ন করেন।

(ক) শেখ হাছিনা ভারত থেকে দেশে এসে সন্ত্রাসী, চোরাকারবারী, কালোবাজারী, ঘোষখোরদের রাজনীতির চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছে এবং রাজনীতি থেকে সকল প্রকার নীতি আদর্শ ঝেটিয়ে বিদায় করে প্রতিষ্ঠিত করেছে নীতিহীন এক রাজনীতি, এই অপরাধে শেখ হাছিনার বিচার চাই শাস্তি চাই।

(খ) ভারতে বসে স্বাধীনতার ঘোষক মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করে এবং ১৯৮১ সালের ৩১শে মে তা বাস্তবায়িত করার অপরাধে শেখ হাছিনার ফাঁসি চাই।

(গ) ১৯৮২ সালে গনগণ কর্তৃক নির্বাচিত বিএনপি সরকার উৎখাত করে সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অপরাধে শেখ হাছিনার বিচার চাই, শাস্তি চাই।

(ঘ) সামরিক স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদকে হাতের মুঠোয় রাখার জন্য, ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা, ছাত্র আন্দোলনের নামে ’৮৩র মধ্য ফেব্রুয়ারী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র জাফর ও জয়নাল এবং ’৮৪এর ফেব্রুয়ারীতে সেলিম ও দেলোয়ার হত্যার অপরাধে শেখ হাছিনার ফাঁসি চাই।

(ঙ) ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে সার্ক শীর্ষ সম্মেলণ পন্ড করার জন্য হিন্দু মুসলমান সাম্প্রদায়িক রায়ট লাগিয়ে দেওয়ার অপরাধে শেখ হাছিনার বিচার চাই, শাস্তি চাই।

(চ) ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের মার্চ পর্যন্ত আন্দোলনের ইস্যু তৈরী করার জন্য ঢাকা শহরে ১০৩ জন নিরীহ অজ্ঞাতনামা সাধারণ মানুষকে খুন করার অপরাধে শেখ হাছিনার ফাঁসি চাই।

বইটি পড়া প্রতিটি বাংলাদেশীর অবশ্য অবশ্য কর্তব্য। স্বাধীনতার শুরু থেকেই এরা দাগী আসামী। জেলখানায় চার নেতার মৃত্যু কেন, এদের প্রতি এ অভিযোগও তিনি করেছেন। আলোচনার বদলে নিরবতা ষড়যন্ত্রকথা! শেখ মুজিব ইচ্ছাকৃতভাবেই পাকিস্তানীদের হাতে ধরা দেন! ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার বিপ্লব ছিল মুজিবের বাকশাল ও ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ!  ৮১ সালের ২৩শে ২৪শে মে টিএসসি তৃতীয় তলাতে কর্ণেল শওকত আলীর বয়ানে ছিল, “জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম গেলে —– মেজর জেনারেল মঞ্জুরের নেতৃত্বে জিয়া হত্যা হবে। এ হত্যাকান্ডের ব্যাপারে হাছিনা জ্ঞাত থেকে কাজ করতেও নির্দেশ দিয়েছেন। ধূর্ত এরশাদ মঞ্জুরকে ত্বরায় হত্যার নির্দেশ দিয়ে নিজের অপরাধ ঢাকে। এরশাদের দাগী অপরাধীরাই জেল থেকে খালাস পাওয়া ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ডাঃ মিলনকে হত্যা করে। ঢাকা শহরের গুন্ডা বদমাইশদের হাতে নগদ পাঁচলক্ষ টাকা দিয়ে লুট হয় ঢাকেশ্বরী মন্দীর, রামকৃষ্ণ মিশন, তাতিবাজার, শাখারিপট্টি, ——- সার্ক সম্মেলন পন্ড করা হয় হাছিনার নির্দেশে।  সচিবদেরে ন্যাংটা করে ফেলার নির্দেশও ছিল হাছিনার। একজন আলমকে সচিবদের ন্যাংটা করার দায়িত্ব দিলেন। (ঐ গ্রন্থ, ১৬২ পৃষ্ঠা)। জেনারেল নাসিম বীর বিক্রমকে শেখ হাছিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করার প্রস্তাব দেন। ২০শে মে ’৯৬এর ক্যু দে তা’র পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে ভারতীয় সেনা সমাবেশ কলাম থেকে “দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সেনাবাহিনীর শৃংখলা বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল নাসিমকে সেনাবাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান বিশ^াস বরখাস্ত করেন। প্রেসিডেন্ট যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলে এ দেশ ঐ দিনই একটি দেশের গোয়েন্দা ষড়যন্ত্রের ব্লু প্রিণ্টে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে দাঁড় করিয়ে দিতে পারতো (বাংলাদেশে ‘র’ আবু রুশদ পৃষ্ঠা ১৯২)। জনতার মঞ্চের আয়োজনে ও কলকাঠিতে শেখ হাছিনা। এক কথায় এ জাতির প্রতিটি দুর্যোগে দুর্ভোগে শেখ হাছিনা সরাসরি জড়িত। সমস্ত জাতি চোখ থাকতেও অন্ধ সিনেমার গোলাপীর মত পথ হাতড়ে চলেছে। এরপরও বাপ বেটির ঢোল কিভাবে পেটাবে বিবেকসম্পন্ন জনতা? প্রশ্ন সেটাই।তিহাস কথা কয়। কি কারণে একজন মুক্তিযোদ্ধা মরণের ভয় না করেও এমন প্রতিবাদ করে গেলেন, যখন ক্ষমতায় হাছিনা। যুগে যুগে জাতির স্যালুট এমন ত্যাগী মুক্তিযোদ্ধার পাওনা! ইসলামে একেই বলে জিহাদ, শত ষড়যন্ত্রেও সত্য প্রকাশ করার সাহস ঐ সব অসাধারণদের অর্জন। শুধু ইতিহাস কথা বলে না, বর্তমানও কথা বলছে। তার বাস্তব প্রমান সব জনতার চোখের সামনেই স্পষ্ট। একজন প্রাইভেট সেক্রেটারী হিসাবে ২২ বছর আগে দেখার শেষটা আর শুরুটা ৪০/৪১ বছর আগ থেকেই তিনি পরখ করছেন হাছিনার আচরণ গতিবিধি কাছ থেকে ঘরে থেকে। রেন্টু প্রথমে তার নিজের ফাঁসি চেয়ে বইএর নাম করেন। কারণ তিনি জেনেও এসব চেপে ছিলেন, এই অপরাধে! পরবতীতে যে দুজনের ফাঁসি চেয়েছিলেন তারা, বাপ বেটি! মুক্তিযোদ্ধা রেন্টুর রায়ে ফাঁসির আসামী!

(০২/০২/ ২০২০) = ফেব্রুয়ারীর ২, ২০২০।

 

Tag Cloud