Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

প্রাণবন্ত করে রাখার কৌতুক নিয়ে নয় বরং গুরুগম্ভির ইস্যু নিয়ে এবার হাজির হয়েছেন আমাদের অনলাইনের এক্টিভিস্ট গনিভাই। আমার জীবনে এক ডজন সত্য গল্পের জমা আছে সেখানে কলেজে পড়াকালীন একটি লেখা আমার ব্লগেও আছে, গল্পের নাম “গণিভাই ও আমরা”। আজকের উপস্থাপনা নিয়ে হাজির হয়েছেন আজকের অনলাইনের গণিভাই; বিষয়টি হচ্ছে মেয়েদের মাসিক অবস্থানে মেয়েরা কি করছেন বা করবেন বা কোনটি কিভাবে যুক্তিযুক্ত। তিনি অনলাইনে পাওয়া একটি লেখার উদ্ধৃতি দিয়ে ঐ লিংক এড্রেসসহ বিষয়টির উপর ব্যাখ্যা লেখাটিও তুলে ধরেছেন। এর জবাবে দুজন ভাই তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। আমারও ইচ্ছে দুটো কথা বলার কারণ বিষয়টি নারী বিষয়ক, এবং এতে আমার স্ব-স্বার্থ জড়িত। আল্লাহর নামেই এ লেখার বা চিন্তার শুরু, “সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি তার বান্দার কাছে এই কিতাব অবতারণ করেছেন, আর তিনি এতে কোন কুটিলতা রাখেন নি” (সুরা আল-কাহফএর ১ আয়াত)।

আমি বেশ উৎসাহ নিয়ে মূল লেখাটি পড়লাম। এর পর মনে হলো এর উপর কিছু বলা জরুরী। কারণ আমি নিজে একটি মেয়ে আর এর উপর আমার চিন্তা ভাবনা আছেই, সর্বোপরি আমি কি করছি বা করেছি সেটি অবশ্যই রাখঢাক না নিয়েই স্পষ্ট করা সততার পরিচায়ক। হয়তো অন্য কেউ এখান থেকে ইতিবাচক কিছু পেয়ে উপকৃত হতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আজীবন একজন ধার্মিক মানুষ আগাগোড়া এবং সেটি অল্প বয়স থেকেই। মায়ের শাসন না মেনে তসলিমা বেঁকে বসেছিলেন, উল্টো মাকে নিয়ে তার বিদ্যার বাহাদুরী করেছেন। হয়তো তার বাবাও সেখানে সায় দিয়ে গেছেন বেচারী মা সেদিন বেকায়দায় পড়েছিলেন। আমি আবার উল্টো তসলিমার মতই ডাক্তার বাবার মেয়ে যদিও আমি তসলিমার মত ডাক্তার নই। বাবা মায়ের উভয়ের নির্দেশণায় খুব শৃংখলার মাঝে যুক্তির মাধ্যমে সব প্রশ্নের যুৎসই উত্তর পেয়ে পেয়ে বেড়ে উঠেছি। যখনই কোন প্রশ্নে বাধাগ্রস্ত হয়েছি, যুক্তিবাদী ধর্মে অভিজ্ঞ বাবা আমাকে খুব নিঁখুত ভাবে দেখিয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে বুঝিয়ে দিতেন। এসবের উপর আমার বেশ গল্প কবিতা সবই আছে। যাক মূল কথায় আসি। রমজানে আমরা কি করেছি? ছোটকালেই সেহরীতে না উঠতে পারলে কেউ না ডাকলে খুব রাগারাগি মন খারাপ করতাম। তারপরও সবকটি নয় মাঝে মাঝে রোজা করছি, সেই ছোটকাল থেকেই বাবা মায়ের দেখাদেখি। সিলেটের মেয়ে হিসাবে ছোটকাল থকেই আমাদের ধারে কাছের প্রাপ্তবয়স্ক নিকটজনকে কখনোই রমজানে দিনের বেলা খেতে দেখিনি। এরকম এক ইসলামিক নিয়মের পরিবেশে আমার বেড়ে উঠা।

যখন বারো বছর বয়স আমি তখন ক্লাস এইটে, ঐ বছরই আমি সবকটি রোজা রাখি প্রথম বারের মত। বাবার আহলাদি মেয়ে সেই কচি মেয়ে সবকটি রোজাই করি। আমার সাথের অনেকেই আমার মত বয়সে সবকটি রাজা করেননি। আমি যখন ঢাকাতে কয়েক তলা উপরে, তখন রাতে সেহরী খেতে উঠলে চারপাশে দেখতাম প্রায় প্রতিটি বাসাতেই নিঃশব্দ নিরবতা। দুএক বাসাতে টিম টিম আলো জ¦লতো। খবর নিলে জানতাম সে বাসাতে বুয়া রোজা করে। কাছ থেকে ঢাকার দেখা রোজা আমার কাছে হতাশাজনক। এবার মূল কথায় যাই। এমনও হয়েছে আমাদের মাসিক হলে আমরা রোজাগুলি ভাংতাম আর ফের রোজার পর পরই আবার রেখে নিতাম। মা খালা ফুফুরাও তাই করতেন, আমরাও তাই করেছি। মফস্সল অঞ্চলে আমাদের সময়ে খোলামেলা পরিবেশ, আত্মীয় পরিজনরা সারাক্ষণ আসা যাওয়া করতো। সেখানে চাচা, চাচাতো ভাই ফুফা, ফুফাতো ভাইরা সমানেই আসা যাওয়া করতেন যখন তখন। তাছাড়া বাসা বাড়ীর কাজের লোকেরা, ফকির মিসকিনসহ অসংখ্য মানুষ যে কেউ আসতে পারে। আমাদের দোয়ার বা গেট খোলা থাকতো। সঙ্গত কারণেই রমজানের দিনে প্রকাশ্যে খাওয়াকে এক ধরণের বেইজ্জতি লজ্জার কাজ বলে মনে করতাম। আমি আগেই বলেছি প্রাপ্তবয়ষ্ক আমার কোন নিকটজনকে আমি জীবনেও রোজা ভাংতে দেখিনি। আমার আম্মা বলতেন রোজা যখন হবে না, তখন রোজা ভেংগে ফেলাই উত্তম। একটু পানি খেয়ে হলেও ভেংগে ফেলতাম। যাক এভাবে সারা দিন না খেয়ে রোজা করেই হয়তো একটু পানি খেয়ে রোজা ভাংতাম দিনের কোন এক সময় আবার রোজার শেষে ঐ পানি খাওয়া ভাংগা রোজাগুলি আবার রাখতাম। এভাবে চলছিল সম্ভবত সাল তারিখ মনে নেই, যখন ৩০ বছর প্রায় আমি তখন বিবাহিতা দু ছেলের মা।

আমার ডাক্তার বাবা তার রোগী ছাড়াও সমাজের সমূহ দুর্ভোগ নিয়ে প্রচন্ড ভাবতেন। ফাঁকে ফাঁকে এসব নিয়ে গবেষনাও করতেন, পড়াশুনা করতেন, লিখতেনও। তার প্রকাশিত অনেকগুলো বই আছে। সেবার আমি ঢাকা থেকে বাপের বাড়ী গিয়েছি। সেখানে মায়ের কাছেই শুনি এবং বাবাকেও বলতে শুনি। আমার বাবার যুক্তি ছিল তোমরা মেয়েরা রমজানে একদিকে খাও না, সারা মাস সবকটি রোজা করো আবার রাখো। কেন জানি আমার মনে হচ্ছে কুরআনিক বিশ্লেষনে এর উত্তর খুব সোজা। তিনি কুরআন থেকে খূঁটিয়ে খুঁটিয়ে সবকটি আয়াত দিয়ে খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দেখালেন তোমাদের রোজা দুবার রাখার কোন যুক্তি নেই। যেখানে আজ দেখছি কুরআনের আয়াত দিয়ে মেয়েদের জন্য নামাজকে মাফ করে দেয়া হয়নি। কিন্তু ছোটকাল থেকেই হাদিস জেনেছি এটি মাফ। হাদিসে রোজা মাফ এমন কথা বলা নেই। তাই সবাই ভাংগা রোজা পরে রাখার বিধান মানেন। কিন্তু সত্য হচ্ছে রোজা নামাজ ভাংতে আল্লাহ কুরআনে কোথাও বলে নাই। বরং আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ঐ সময় রোজা রাখতে পারলে বেশী পূণ্য সঞ্চয় হবে। কারণ এটি মেয়েদের এক ধরণের শারীরিক অসুস্থতা ঠিক নয়, কিছু বিপর্যয় যাকে অনেকে প্রচার করেছেন তারা অপবিত্র থাকে। কুরআনে একে অপবিত্র বলে কোথাও উল্লেখ করে নাই। যদি আমরা অসুস্থতাও ধরি তাহলে রমজানের আয়াতে বলা হয়েছে অসুস্থ অবস্থায় রোজা রাখতে পারলে বেশী পূণ্য হবে। সেই দিন থেকে আজ অবধি আমার সবকটি রোজাই রাখা, আমার জীবনে আর কোন ভাংগা রোজা নাই। ঐদিন থেকে আমি দুবার রোজা পালনের জটিলতা থেকে মুক্ত হই। এমনকি আমার ছোট ছেলের জন্মের পর আমি পুরো একমাস রোজা পালন করি। উল্লেখ্য ঐ সময় আমি রমজানের পরপরই সবকটি ভাংগা রোজা রেখে নেই। বাবার ঐ চিন্তাশীল কুরআন বিশ্লেষনের পাওনা আমার দু ছেলের জন্মের পর পাওয়া।

http://www.islamhelpline.net/answer/358/can-woman-fast-and-pray-during-menses-period

Fasting of women during menstruation periods

গণিভাইএর লেখাটির জবাব দিতে গিয়ে উপরের এ সাইটটির সন্ধান পাই। এখানে প্রশ্ন করা হয় একজন মেয়ে তার মাসিকের সময় কিভাবে রমজান করবে? উত্তরে বলা হয় মেয়েরা অন্য সবার মতই রমজান পালন করবে। এমনকি তাদের মাসিকের সময়ও। সুরা বাক্কারাহএর ১৮৭ আয়াতের হিসাবে বলা হয় রমজানে খাওয়া পান করা ও সহবাস করা যাবে না। একমাত্র দুটি ধারার মানুষ পাওয়া যায় যারা রোজা ভাংতে পারে এবং পরে অবশ্যই এর প্রতিবিধান করতে হবে। তারা হচ্ছে অসুস্থ ও ভ্রমণরত জনতারা। মাসিকের সময় কুরআন কোথাও রোজা ভাংতে বলে নাই বা ঐ ধারার কোন অনুমতিও দেয়নি। যেসব মতামত প্রচারিত হয় তার কোন সূত্র কুরআনে নেই এমন কি এর পক্ষে নবীর কোন উদাহরণও নেই। এ ছাড়াও কিছু মেয়েরা এ সময় অনেক বেশী জটিলতার মাঝে পড়েন। তাদেরে বাড়তি ঔষধ গ্রহণ করতে হয়। এরকম অবস্থায় তাদের অসুস্থ ধরা হয়। এবং তারা ঐ ভাংগা রোজাগুলি রমজানের পরে রাখতে পারেন। আর একটি সমাধান এই সব অসুস্থ মেয়েদের জন্য তারা ব্যথানাশক ঔষধ বা ইনজেকশন নিতে পারেন। যেখানে ঐসব ইনজেকশনে কোন পুষ্টি উপাদান থাকবে না, শুধু ব্যথানাশক হবে। এভাবে সব রোজাই মহিলারা রাখতে পারেন। আল্লাহ কুরআনে স্পষ্ট করেন তিনি মানুষকে অযথা কষ্ট দিতে চাননা (সুরা মায়েদা ৬ আয়াত দ্রষ্টব্য)। নীচে অনলাইনে ঐ সূত্রের পুরো লেখাটি চাইলে যে কেউ পড়ে নিতে পারেন।

http://www.islamandquran.org/research/fasting-and-prayer-during-menstruation-and-postpartum-periods.html

কুরআন থেকে:

(১)           বলো (হে মুহাম্মদ!) আমি তোমাদের বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার রয়েছে, আর অদৃশ্য সম্বন্ধেও আমি জানি না, আর আমি তোমাদের বলি না যে, আমি নিশ্চয়ই একজন ফেরেশতা, আমার কাছে যা প্রত্যাদিষ্ট হয় আমি শুধু তারই অনুসরণ করি বলো “অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি একসমান? তোমরা কি তবু অনুধাবন করবে না?” (সুরা আল-আনআমের ৫০ আয়াত)।

(২)           আর আমরা অবশ্যই লোকদের জন্য এই কুরআনে সব রকমের দৃষ্টান্ত বিশদভাবে বর্ণনা করেছি কিন্তু অধিকাংশ মানুষই প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া আর সব কিছুতেই অসম্মত। (সুরা বনি ইসরাইলের ৮৯আয়াত)।

(৩)          ওহে যারা ঈমান এনেছ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো তবে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন, আর তিনি তোমাদের পদক্ষেপ সুদৃঢ় করবেন। (সুরা মুহাম্মদএর ৭ আয়াত)

(৪)           নিঃসন্দেহ এটি সুমীমাংসাকারী বক্তব্য। আর এটি কোন তামাশার জিনিস নয়। (সুরা আত-ত্বারিকএর ১৩, ১৪ আয়াত)।

(৫)          বস্তুত এটি হচ্ছে সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী তাদের হৃদয়ে যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে। আর অন্যায়কারী ব্যতীত অন্য কেউ আমাদের নির্দেশাবলী অস্বীকার করে না। (সুরা আল-আনকাবুত এর ৪৯ আয়াত)

উপরে হাদিস থেকে নয় বরং কুরআন থেকে পাঁচটি আয়াত আনলাম। যতদূর জানি হাদিসের কারণে আমরা মেয়েরা জেনে এসেছি মাসিকের সময়টিতে  মেয়েদের রমজান মাফ করে দেয়া হয়েছে। যখন কুরআনে এর উপর কোন কথা নেই তখন এটি শতভাগ স্পষ্ট খোদার উপর খোদকারী নবী কখনোই করবেন না, করতে পারেন না। কিন্তু প্রচলিত হাদিসে তাই বলা আছে। নাহলে এমন বাড়াবাড়ি হলে আল্লাহ নবীর কন্ঠনালী ছিড়ে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছে কুরআনে। আমার বিশ্লেষন হচ্ছে সমাজের যত বাড়তি সংযোজন সবই করা হয়েছে হাদিস দ্বারা। কুরআন দ্বারা সবকিছুকে সহজ সরল করে রাখা হয়েছে আর হাদিস দ্বারা বহু বহু সরলকে জটিল করা হয়েছে। এর মূল কারণ কুরআন আল্লাহর নির্দেশ আর হাদিস রসুলের নামে পরবর্তী মানবিক সংযোজন। কুরআন বিরোধী কথা রসুলের ব্যাখ্যা হতে পারে না। বরং বলা চলে এটি তৃতীয় পক্ষের বাড়তি সংযোজন ছাড়া আর কিছু নয়। আল্লাহর কড়া নির্দেশ নবীকে অনুসরণ করতে, তার মানে এই কুরআনকে কুরআইশ আরবরা মানতো না, বলতো এ নবী পাগল যাদুকর কবি। তাকে অনুসরণ করো না, এভাবে তারা কুরআনকে স্বীকার করতো না। কিন্তু আল্লাহ বার বার নবীকে অনুসরণ করতে বলেছেন মানে এই নবীর মাধ্যমে প্রেরিত কুরআনকে কঠিনভাবে লাইন বাই লাইন পালন করতে বলেছেন। তার শাব্দিক ভাব গ্রহণ করে ও কিছু আয়াতের রুপক ভাবকে নিয়ে যুক্তির গ্রন্থকে যুক্তি দিয়ে বুঝার তাগাদা দিয়েছেন। সঠিকভাবে বুঝতে হলে কুরআনকে কুরআন দিয়ে বিশ্লেষণ করতেও বলা হয়েছে। একই বিষয়ে অনেক আয়াত আছে। সেটি পরখ করতে হবে। কিন্তু ইবলিসের বিজয় ঘটাতে মানুষ পথভ্রষ্ট হয়েছে, প্রমাণ এসব কুরআন বিরোধী কথা। কুরআন একটি পরিপূর্ণ গ্রন্থ যে বা যারা মনে করে থাকেন এটি পরিপূর্ণ নয়। এটি তাদের কুরআন বোঝার গলতি। ইবলিস ছিদ্রহীন কুরআনে প্রবেশ করতে পারেনি কিন্তু হাদিস দ্বারা সেখানে ঢুকতে পেরেছে। এর প্রমাণ হাদিসের অপরিসীম ধরা খাওয়া ও তার দু’নাম্বারী পরিচয় স্পষ্ট হওয়া। মেয়েদের পাথর ছুড়ে হত্যা করার বিধান, বানরের উপর রজমের শাস্তি, সবই ইবলিস দ্বারা সম্ভব হয়েছে। যে কেউ বলতে পারেন আমি হাদিসকে অবহেলা করছি। কুরআন অনুমোদিত হাদিস অস্বীকার করার দুঃসাহস কারো হবার কথা নয়। সহজ কথা হচ্ছে যা কুরআন স্পষ্ট করেছে সেটি হাদিস দ্বারা জটিলতা সৃষ্টি করা ইবলিসের কাজ। এভাবে মানুষ মূল থেকে সরে গেছে। এ ধারার গোজামিলে চিন্তা কারো করা উচিত নয়। দুর্বৃত্ত ইবলিসের সাথে আল্লাহর ফয়সালা হয়েছে সে কিয়ামত পর্যন্ত তার অনুগত বান্দাদের পথহারা করবে তবে এটিও তার জানা সে প্রকৃত মুমিন অনুসারীকে জীবনেও পথহারা করতে পারবে না। কুরআন জানি না বলবো না, জীবনের অনেক বড় সময় এই গ্রন্থ নিয়ে নাড়াচাড়া করে চলেছি। অনেকে মূল সত্য এড়িয়ে যান এ কথাটি বলে আল্লাহ ভালো জানেন। অবশ্যই আল্লাহ ভালো জানেন, তবে আল্লাহ সেটি চেপে যাননি বা গোপন করেন নি। বরং তার বানী সব জটিলকে স্পষ্ট করতেই নাজেল হয়েছে। 

অতীতে তসলিমা নাসরিন মন্তব্য করেছিলেন কুরআন একটি অশ্লীল গ্রন্থ এর কারণ সুরা বাক্কারাহএর একটি আয়াত। আয়াতটি ছিল এখানের উল্লেখিত বিষয়টি। বাণীটি, “(হে মুহাম্মদ) তারা তোমাকে ঋতুকাল (চলাকালে সহবাস) সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করছে। বলো, ‘এটি (ঋতুকালে সহবাস) অনিষ্টকর  কেননা এতে নারীর জরায়ুতে এন্ডোমেট্রাইসিস রোগ হতে পারে, আর এটা পরিচ্ছন্ন থাকার দিক দিয়েও অশোভন); কাজেই ঋতুকালে স্ত্রীদের (সাথে সহবাস) থেকে আলাদা থাকবে; এবং তাদের নিকটবর্তী হয়ো না যে পর্যন্ত না তারা পরিষ্কার হয়ে যায় (আর সেজন্য ঋতুকালে দাম্পত্য সম্পর্ক ছেদপড়া অবস্থায় তখন বিবাহবিচ্ছেদ বৈধ নয়, ৬৫:১) তারপর যখন তারা (মাসিক ঋতুস্রাবের পরে) নিজেদের পরিষ্কার করে নেয় তখন  তোমাদের দাম্পত্য জীবনের সুফর উপভোগ করার জন্য) তাদের সঙ্গে মিলিত হও যেভাবে আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। নিঃসন্দেহ আল্লাহ ভালবাসেন তাদের যারা তাঁর (নির্দেশের) দিকে ফেরে, আর তিনি ভালবাসেন পরিচ্ছন্নতা রক্ষাকারীদের।” বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ অনুবাদটি ডাঃ জহুরুল হকের অনুবাদ থেকে নেয়া। 

কুরআন বলেছে, তুমি বেশীরভাগ মানুষকে অনুসরণ করবে না, তাহলে তুমি পথভ্রষ্ট হবে। বিবি মরিয়মকে বলা হয়েছে, “(প্রসব বেদনা নিরসনের জন্য) খেজুর গাছকে তোমার দিকে টানো, এতে পাকা খেজুরও পড়বে” (পুষ্টিতে সহায়ক হবে)। যদি লোকজন দেখতে পাও তবে বলো, আমি পরম করুনাময়ের জন্য রোজা রাখার মানত করেছি, আমি আজ কারো সঙ্গে কথাবার্তা বলবো না”। সুরা মরিয়মের ২৫/২৬ আয়াতে দেখা যায় প্রসব কালিন তাকে কি নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং রোজা পালন করতেও বলা হয়েছে ঐ অবস্থায়। এতে এটিও স্পষ্ট হয়, এমতাবস্থায়ও রমজান পালনে কোন অসুবিধে নেই। মুসলিমরা যখন তাদের মূলগ্রন্থ থেকে ছিটকে দূূরে চলে যায় সেদিন থেকেই তাদের জীবনে ধ্বস নামতে শুরু করেছে। ইসলামের বিপর্যয় তখন থেকেই আজ অবধি চলছে। কুরআনের বানী এতই অর্থবহ যে এর প্রতিটি কথা যে কত মূল্যবান সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু বেশীরভাগ মুসলিমরা এটি না বোঝেই জপে থাকে। বোঝার দরকার মনেও করেনা, গরজও দেখায় না। বলে একে সত্তুর নেকি অপেক্ষায়, সবই মানবিক সংযোজিত হাদিসের বদান্যতা। আল্লাহ বলে ভালো কাজে একে দশ পূণ্য দেয়া হবে, হাদিস বলে একে সত্তুর। আল্লাহ থেকে ষাটগুণ বেশী বলাই ইবলিসের কাজ। এ জন্যই বলা হয় এ রাস্তা বড় কঠিন চুলের চেয়ে চিকন আর ছুরির চেয়েও ধারালো। এটি সবাই হজম করতে পারে না। একমাত্র সত্যানুসন্ধানীরা একে লুফে নেয়। তারাই প্রকৃত সত্যের সমঝদাতা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার সঠিক বানী বোঝার ও সঠিকভাবে তা পালনে সাহায্য করুক। মনে রাখতে হবে এ ধর্মের নাম সিরাতুল মোসতাকিম। সহজ সরল ধর্ম, জটিল হলেই কঠিন হলেই ধর্ম নয়, বরং ওটি হবে বাতিল ধর্ম। আল্লাহর সাবধান বাণী, ইহুদীরা গাধার বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে, পরবর্তী মুসলিমরা যেন তা না করে। কিন্তু এটি সত্য আমরাও ঐ বোঝার ভার দিয়ে কুরআনকে অবজ্ঞা করি, কুরআনকে দূরে ঠেলি ও নিজেরাও সত্য থেকে দূরে অবস্থান করি। 

২৬ অক্টোবর ২০২১ সাল, রাত একটা।

বিশেষ নোট:

বিগত ২৬ অক্টোবর ২০২১ এর লেখাটি অনলাইনের ইমেইলের জন্য সাজাই। এখন মনে হচ্ছে এ জরুরী বিষয়টিও আমি আমার ব্লগে দেব, যদি এসব সত্য কাউকে নাড়া দেয়। ইসলামের প্রাথমিক বিজয় যুগের পর মুসলিমরা ক্রমে গবেষণাহীন জাতিতে পরিণত হয় যার কারণে বহু বহু জটিলতা এখানে এসে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। বলা হয় কুরআন নিয়ে কথা বলা নাজায়েজ। মানবদেহ ছেড়াফাড়া করাও বিতর্কীত কাজ বলে প্রচার করা হয়। কুরআনকে দূরে সরিয়ে দিয়ে এর নামে আরবী অক্ষরে লেখা তাবিজ কবজের ব্যবসার জোর প্রচার চালানোই ধর্মকথা। এসব ফতোয়া নাজেলের পর থেকেই মানব দেহ ছেড়ে বানর বা ভিন্ন প্রজাতি নিয়ে গবেষনা শুরু হয়। মূল কথা তখন থেকে আল্লাহর নির্দেশকে শৃংখলিত করা হয়। ফতোয়া, জায়েজ নাজায়েজ যখন মানুষের মানবিক কসরতে ধর্মের গন্ডিতে জমা হয়, মানুষ পথ হারায়। বিজ্ঞের নামে অজ্ঞতার চাষ করতেই মানুষ মনোযোগী হয়ে পড়ে। আল্লাহ সাবধান বাণী ছিল ইবলিস সম্বন্ধে, সে সাবধান বানীর বিপরীতে ইবলিস প্রথমে বসে, পরে শোয়ার জায়গা করতে পারে ভালো মাপে। ধর্ম আজ পঙ্গুত্বের শিকার, মানুষ আল্লাহর নির্দেশিত মূল বানী থেকে ছিটকে যোজন যোজন দূরে চলে যায়, এভাবেই পথ হারায়। বর্তমানের মুসলিমরা প্রায় পনেরোশত বছর আগের আদর্শহারা গোষ্ঠীর অংশমাত্র, শেষ দৃশ্য পতনের অপেক্ষায় সময় পার করছে।

আজকের তারিখ ১৩ই নভেম্বর, ২০২১ সাল, রাত ১০টা।

Tag Cloud

%d bloggers like this: