Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

খবরের শিরোনামে কিছু ম্যাসেজ এসেছে। মুসলিমরা সব পারে কোন মানুষকে প্রভুভক্তি দিতে পারে না। তাদের মর্মবাণী খুব অল্পকথা কিন্তু খুব উচ্চকন্ঠ। “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, কোন আইকন নেই যাকে ওরকম ভক্তি করার মত। নবী মোহাম্মদ (সঃ) তাদের প্রাণের জন একজন মানুষ, যার হাত দিয়ে তারা এ পরম সত্য লাভ করেছে, বিশে^র অসাধারণ নির্দেশনামা ঐশীগ্রন্থ কুরআন তাদের হস্তগত হয়েছে। আজ চৌদ্দশত বছর থেকে যা অপরিবর্তনীয় হয়ে মানুষকে পথ নির্দেশ করছে। মুসলিমরা কখনোই তাদের নবীর পূজা করে না, তবে তাকে প্রাণদিয়ে ভালবাসে। 

ধর্মনিরপেক্ষ হিন্দু ভারত চায় মুসলিমরা তাদের ধর্মের আল্লাহর নির্দেশিত খাদ্য গরু খেতে পারবে না। করো জোড়ে গরুকে মা বলে ডাকতে হবে নইলে মরার বিপদ, এবং একজন মানুষ বন্দনার নামে ‘জয় শ্রী রাম’ বন্দনা গাইতেই হবে। গরুকে বাকীদের কেন মা মানতে হবে? ভারতে জয় শ্রীরাম এখন মুসলিম নিধনের বড় হাতিয়ার। যদিও তথ্য বলে ভারত উচ্চ মাত্রায়  গরুর মাংস  রপ্তানীকারক দেশ। আবার ঘুষের বিনিময়ে গরু পাচারে বিএসএফ জড়িত সিবিআইএর প্রতিবেদনে সে সত্যও উঠে এসেছে (অর্থ সূচক, কেএসআর, সূত্র আনন্দবাজার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০)। বাংলাদেশে গরু আদান প্রদানে জীবন দেয় বাংলাদেশীরা একতরফাভাবে কিন্তু বিএসএফ ও ভারতের অসাধু কর্মকর্তারা কাস্টমসসহ ভারতের সরকারী কর্মকর্তারাও জড়িত থেকে কোটি কোটি টাকা কামায়। বড় গরুকে বাছুর বানিয়ে নিলাম করে গরু প্রতি বিএসএফ পেতো ২,০০০ আর কাস্টমস ৫০০ টাকা। পকেট গরম করা ব্যবসা আর পিটুনী মার বাংলাদেশীদের, বর্ডারে লাগাতার মৃত লাশ তাদের ভাগের জমা। ভারতের গোরক্ষকদের আঘাত করে অতীতে বিবেকানন্দ বলেছিলেন,  তোমরা যে উপযুক্ত গরুর সন্তান, তোমাদের আচরণে তা স্পষ্ট। প্রচারে বন্ধুত্বের এসব গুলি বড় নির্মম! ১০ জুলাই ২০১৯ তাবরেজ আনসারী “জয় শ্রীরাম” না বলায় তাকে মারধর করা হয়। তারপর পুলিশ হেফাজতে চারদিন পর তার মৃত্যু হয়। তাকে তার পরিবারের কারো সাথে দেখাও করতে দেয়া হয়নি। জুন মাসেও এরকম অত্যাচারে অনেকেই বিধ্বস্ত হন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি জয় শ্রীরাম বলেছেন, তারপরও তার রক্ষা হয়নি। ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের অধর্মাচারের নমুনা, পশুরও একটি নীতি থাকে, কিন্তু এদের নীতি থাকতে নেই। জয়শ্রীরাম, বন্দেমাতারাম, শ্লোগানগুলি যথাক্রমে ভারত মাতা কি জয়, পাকিস্তান মুর্দাবাদ উল্লেখযোগ্য। পাকিস্তান তাদের চিরশত্রু কারণ এরা মুসলিম। কাশ্মীর, বাংলাদেশ বা অন্য যে কোন মুসলিম দেশ বাকী থাকবে কেন, প্রতিটি আদর্শে অটল থাকা মুসলিম দেশ ভারতের শত্রু। যেখানে তারা তাদের নিজ নিচুবর্ণের নাগরিককে শত্রু জ্ঞান করে, সেখানে বাকীদের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। আসামের বড়পেটা জেলাতে একদল মুসলিমের উপর হিন্দু টেররিস্টরা হামলে পড়ে। মোম্বাইতে ২৫ বছরের এক টেক্সিচালককে তার বিকল হওয়া টেক্সি ঠিক করার সময় তার উপর একযোগে হামলে পড়ে। একইভাবে কলকাতায় ১জন মাদ্রাসা শিক্ষক ট্রেনে ভ্রমণকালে নাজেহাল হন। তার ড্রেস ও দাঁড়ি নিয়ে টিটকারী চলে। তাকে একইভাবে শ্লোগান দিতে বললে তিনি অস্বীকৃতি জানান তখন তাকে তারা চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে তিনি মারা না গেলেও আহত হন (আনন্দবাজার পত্রিকা সূত্র) ।এসব শুধু রাস্তাঘাটে নয়, পার্লামেন্টেও চলছে এসব স্টানবাজি খেলা । 

গোরক্ষার নামে তারা বাড়তি লাই পেয়ে এসব করছে। হাট থেকে দুটো দুধেল গাই ৭৫,০০০ টাকায় কিনে ফিরছিলেন পেহলু খান। জয়পুর থেকে ওলওয়ার ফিরছেন তারা ছয়জন। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তারা হামলার শিকার কারণ তারা মুসলিম। চালক হিন্দু থাকাতে তার রক্ষে হয়। তাকে পালানোর নির্দেশ দেয়া হয়। বাকী পাঁচজন বেধড়ক মারের পর আহত হন। পেহলু খান মারা যান। গোমাতা কেনার সাধ তার চিরতরে পুরো হয়ে যায়। এ ঘটনা রাজস্থানের । মালদহ থেকে রাজসমন্ধে মজুরীর কাজে এ মুসলিম ভাইটি যাত্রা করলে পথে শম্ভুলাল রেগর পিছু নেয়। পরে ধারালো অস্ত্রে ধরাশায়ী করে তার দেহে আগুণ ধরায়। এর নাম ভারত আর তার মুসলিমরা। এ ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের। মালদহের জামাল মুমিন ট্রেন ধরেছেন হাওড়া থেকে, কয়জন যুবক তাকে জানালার কাছ থেকে উঠে যেতে নির্দেশ করে। বিস্মিত জামাল কিছু বুঝে উঠার আগেই শুরু হয় মার কিল ঘুষি। চলে ধর্মের বাক্যবাণ। সারা ভারত জুড়ে এ ধারার কেরিক্যাচার জোরেসোরে মোদির ভারতে চলমান। রাজস্থান থেকে বাংলা, হরিয়ানা থেকে কর্নাটক । গোরক্ষার নামে, মুসলিম, নিধন ভারতের বিরত্বের বাহাদুরী। ভারতের দৃষ্টিতে মুসলিমরা গরুরও অধম। ১৮৫৭ খৃষ্টাব্দের সিপাহী বিদ্রোহের ঠেলা সামাল দিতে গিয়ে ডিভাইড এন্ড রুলের নামে যে বিষবৃক্ষ পুতে গেছে বৃটিশ, ঐ তাপে আজ অবদি ভারত পুড়ছে। এর কারণ ভারতের বড় বড় বুদ্ধিজীবিরা ওতে বাড়তি তাপ দিয়েছেন। যে কাজ বাংলাদেশে বা অন্যত্র ঐমাপে হয় নি বলেই ভারত সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতায় কাঞ্চনজঙ্ঘা, হিমালয়ের চূড়া। ২০১০ থেকে মোদির ভারত লাফিয়ে আগাচ্ছে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ তে ৮৫টি হামলা হয়। আক্রান্ত হয়েছেন ২৮৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের। ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে মুসলিম নিধনের জয়জয়াকার। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, হরিয়ানা, ঝাড়খন্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, সবরাজ্যে একই নাটক চলমান। ২০১৭ সালে জলপাইগুড়ি থেকে কোচবিহারের তুফানগঞ্জে যাওয়ার পথে নুরুল ইসলাম , আনোয়ার হোসেন, ও হাফিজুল শেখ আক্রান্ত হলে, গাড়ী চালক নুরুল পালান কিন্তু বাকী দুজনের মৃত্যু হয় গণপ্রহারে। প্রশাসন এসব কাজে খুব বাধা দেয় না। ভোক্তভোগীরাসহ বাস্তবতা তাই প্রকাশ করে। বরং পুলিশ হেফাজতে মারা আরো সহজ হয়। মোদী সরাসরি উস্কানীতে না থাকলেও শাসক দলের নিরব সমর্থন ব্যতীত এসব হতো না। সম্প্রতি আরো একটি আচার বেড়েছে মানুষ নিধনের অস্ত্র হিসাবে গুজবে ছেলেধরা হিসাবে প্রচার চালিয়ে মানুষ নিধন করা হচ্ছে।

গো পূজার নামে মুসলিম নিধনের অসম্ভব এক খেলা ভারত সচল রেখেছে ধর্মনিরপেক্ষতার খোলসে। একই ভাবে ফ্রান্সেও ঐ খোলসের আড়ালে মুসলিমদের শিক্ষা দিতে তৎপর। মুসলিম দেশগুলোকে কিভাবে আসামী বানিয়ে গোটা দেশ ধ্বসিয়ে দেয়া হয়েছে তার উদাহরণ সবার জানা। অতীতের ঘটনাগুলি তার জ¦লজ্যান্ত প্রমাণ। বুশের ক্রুসেড নাম নেয়া ৯/১১এর হত্যাযজ্ঞের নিহতরা কার পাপে লাশ হয়েছে, আজকের বিশ^ তা জানে, লুকানো নেই। বুশেজ ওয়ার, মাইকেল ম্যুরের ফারেনহাইট ৯/১১, লুজ চেঞ্জ ৯/১১ এসবের উপর অসংখ্য প্রামাণ্য প্রতিবেদন ময়দান চষে বেড়াচ্ছে। ফ্রান্সে মতামতের স্বাধীনতা শিখাতে গিয়ে স্কুল শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি কাজটি করে নিজেও প্রশ্নবিদ্ধ। তারচয়ে কম বয়সের আবদৌলখ ছেলেটিও নিজের জীবনকে বেওকুফের মত মৃত্যুর দিকে ঠেলে ঘটনাস্থলেই পুলিশের গুলিতে মারা গেল। সমগ্র মুসলিম বিশ^ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে যখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো বাহাদুরী করে বলেন তিনি তার অবস্থান থেকে সরবেন না, ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ থামবে না, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। উল্টো তিনি বলেন মুসলিমরা গোটা বিশে^ বিচ্ছিন্নতাবাদকে জন্ম দিয়েছে, এরা সংকট তৈরী করছে। গোটা মুসলিম বিশে^ ফ্রান্সের পন্য বয়কটের হিড়িক পড়ে। বহুদিন থেকে বাংলাদেশ সংকটের কারণেও পন্য বয়কটের অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধেও। মুসলিমরাও এমন হতবুদ্ধ হয়ে পড়েছে যে তারা অনেক মুসলিম মনে করছে তারা নিজেরাই অপরাধী। এটি সারা বিশে^র সচেতনরা জানে ফলস ফ্লেগ নামের এক অপদেবতা গোটা দুনিয়া চষে বেড়াচ্ছে। দৃশ্যত দেখা যায় মুসলিমরা আসামী, যদিও এসব ফলস ফ্ল্যাগের গুটিবাজি মাত্র। বিনা কারণে মুসলিমদের কোনঠাসা করতে বহুদিন থেকে এ খেলা চলছে।

জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন স্বাধীন মতামতেরও একটি লিমিট থাকতে হবে। তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে এ কমিউনিটি এখন পর্যন্ত বিশে^ অনেক ধরণের বৈষম্যের শিকার। সঙ্গত কারণে আচরণে আরো সংযত থাকা জরুরী। তার দেশ ফ্রান্সের জনতার পাশে এভাবে মানবতার বানী নিয়ে হাজির হয়েছে। যে মাধুর্য্যতা ইমানুয়েল ম্যাক্রোর আচরণে ছিল না বরং উগ্রতা দিয়ে তিনি মুসলিম বিরোধী ভূমিকায় নামেন। উদ্ধত আচরণধারী ভারত সময় ক্ষ্যাপন না করেই ফ্রান্সের সাথে একাত্মতা জানিয়ে মাসতুতো ভাই হিসাবে একতার কথা জানিয়েছে। ড্যানিশ ডেইলি এসব প্রথম ছাপে ২০০৫ সালে। ফ্রান্সের চার্লি হেব্দো সেটি আবারও ছাপে ২০০৬ সালে। এসব ধারাবাহিক পূণমুদ্রন চলছে ২০১১, ২০১২, ২০১৫। ২০১৫তে এরকম ক্ষিপ্ত হয়ে দুজন মুসলিম ১২ জনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। ১১ জন মারা যান ও ১১ জন আহত হন। উল্লেখ্য একজন মুসলিম পুলিশও ঐ চার্লি হেব্দোর পক্ষে মারা যায়। উল্লেখ্য ১৬ই অক্টোবর ২০২০ সালে সম্প্রতি স্যামুয়েল প্যাটিকে হত্যা করে এক চেচেন তরুন কারণ শিক্ষক তার ছাত্রদের এসব কার্টুন হজম করা শিখাচ্ছিলেন। মানুষ যখন রাগে তখন হিতাহিত জ্ঞান হারায়। শিক্ষক কিন্তু স্থির মস্তিষ্কে এই কর্মটি করেন, যারা বেঁচে আছে তার ছাত্ররা, তারা ঐ শিক্ষক থেকে কি শিখলো? তারা তাদের বাকী জীবনে এই ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন কথা কেমন করে ভুলবে। তাদের প্রিয় শিক্ষকের ও তাদের প্রিয় সহপাঠির এই অকাল প্রস্থান দুটোই কি তাদের জীবনের একটি বড় ক্ষত হয়ে থাকবে না? অন্যের ছিদ্রান্বেষন করে মিথ্যার প্রচার করাই ধর্মনিরপেক্ষতা, মতামতের স্বাধীনতা, এটা কি একবিংশ শতাব্দীর শিক্ষকরা শিখাবেন? আল জাজিরার বরাতে জানা গেল ‘৮০%এরও বেশী ক্ষতিগ্রস্তরা মুসলিম’এটি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট জানেন। তারপরও কি উদ্দেশ্যে মিঃ ম্যাক্রো এমন উৎসাহী হয়ে মুসলিম বিরোধী অবস্থান নিয়ে উত্তপ্ত কড়াইতে ঘি ঢাললেন?

অনেকের মতে ভারত ও ফ্রান্সের মূলত এটি রাজনীতির খেলা। শাসক কুলের সামনে ঝুলে রাজনীতি ও ভোট। এসব সামান্য খড়কুটো মানুষের সামনে এনে শাসকবর্গ অনেক সময় ভোটের রাজনীতি করে থাকে। একদলকে হামলে অন্য দলকে জায়গা দেয়, এ নষ্ট কৌশল থেকে মানব জাতিকে সরে আসা সময়ের দাবী। মানবতার কল্যাণে সব দেশের জনতার স্বার্থে যা উৎকৃষ্ট, তাই গহণ করা উচিত শাসকবর্গের। রাজনীতির এই কপট নীচতা থেকে বের হয়ে এক বিশ^ সমাজ রচনা করতে পারলেই গোটা মানব জাতি উপকৃত হতো। ধর্মনিরপেক্ষতার নাম নিয়ে বিশে^ যা করা হচ্ছে তা নিন্দনীয়। ধর্মনিরপেক্ষ ভারত কি করছে? ধর্মকে পিটাচ্ছে, খুন জখম করছে। বিরোধী ধর্মের কোন মর্যাদা তারা করে না। ধর্মনিরপেক্ষতার নাম নেয়া এসব ভন্ডামীর অবসান হওয়া জরুরী। মানুষ তো পশু নয়। তার ধর্ম কেন সে পালন করতে পারবে না। জয়শ্রীরাম, বন্দেনাতরম, কার্টুন কেন হবে তাদের মানুষ নিধনের হাতিয়ার? বস্তুত এসব দেশে মানুষের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এসব কসরত। সবার আগে মানুষ হওয়াই শর্তের অংশ। যে বা যারা এসব সংকীর্ণ কাজ করছে, তারা কি মানুষের কাজ করছে? কমরেড এম এন রায় বহু আগেই অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “ইউরোপ মুসলমানদের থেকে শিক্ষা লাভ করে বর্তমান সভ্যতার নেতৃত্বে আসীন হয়েছে। আজো ইউরোপের উদার ও কৃতজ্ঞ প্রকৃতির চিন্তাবিদগণ অবনত মস্তকে এটি স্বীকার করে থাকেন। দুর্ভাগ্যবশতঃ ভারত ইসলামী চিন্তাধারার যথাযোগ্য সমাদর না করার দরুন লাভবান হতে পারে নাই কারণ তারা অস্পৃশ্যতার বেড়াজাল ভুলতে রাজি নয়। আজো ইচ্ছা করলে জাগরণের যুগে মানবতার ইতিহাসের ঐ গৌরবময় অধ্যায় হতে উভয় সম্প্রদায়ের লোকই অনুপ্রেরণা লাভ করতে পারেন” (The Historical Rule of Islam)।

ইসলামের সত্যকে ছড়িয়ে দেবার দায়িত্ব প্রতিটি মুসলিমের। আমাদের অপরিণামদর্শীতার কারণে আমরা এটি গোটা বিশে^ ছড়িয়ে দিতে পারি নাই। এ ব্যর্থতা আমাদের নিজেদের। ইসলাম ধর্ম একটি ব্যতিক্রমী ধর্ম, এটি শুধু মুসলিমদের একার ধর্ম নয়। এটি গোটা বিশে^র ধর্ম। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, ইহুদী, জৈন, পারসিক, শিখ সবার ধর্ম এটি, এটি বিশ^ধর্ম। এর মূল বাণী মানবতার বাণী। এ ধর্ম বড় শক্ত ধর্ম, ছুৎমার্গ নয়, ছুলেই জাত যায় না। এখানে কোন সংকীর্ণতা, অমানবিকতা নেই। মানুষ হিংসের বশবর্তী হয়ে এটি থেকে যোজন যোজন দূরে থেকেছে। যাদের একে লুফে নেবার কথা ছিল তারা হিংসের অনলে পুড়ে একে দূরে ঠেলে রেখে নিজেরাই গভীর অন্ধকারে পড়ে রইলো। যার কারণে তারা জানেও না যে এ ধর্মগ্রন্থে তারাও শরিক, এটি তাদেরও ধর্ম, এ নবী তাদেরও নবী। আমি কুরআনের সুরা সাবা থেকে একটি আয়াত সংযোজন করছি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, “আমি (আল্লাহ) তোমাকে (মোহাম্মদকে) সমগ্র মানব জাতির প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরুপে প্রেরণ করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না”। এই না জানার কারণেই মানুষ এত হিংস্র ও ভয়ংকর স্বরুপ নিয়েছে। তাই উদার চিত্তে আহবান করবো এটি এমন এক ধর্ম যেখানে সত্য ছাড়া মিথ্যার কোন বেসাতি নেই। এর সমস্ত গ্রন্থে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক সত্যতা লুকিয়ে ছড়িয়ে আছে। দুর্ভাগ্য ভারতবর্ষের মুসলিমরা ৭০০ বছর রাজত্ব করেছে কিন্তু সংকীর্ণতা জাতিভেদপ্রথার গোজেমেলে অবস্থানে ভারতবাসী আটকে পড়ে আছে আজ অবদি। মানবতাহীনতা মানুষের মৃত্যুর নিশানা। অতীতে কার্টুনের ভয়ংকর খেলায় ২০১৫ সালে লেখা কার্টুন এক হাস্যকর তামাশা | Nazma Mustafa’s Blog এ উৎসাহী পাঠকরা পড়তে পারেন। আত্মসচেতনতা ও মানবিকতা দিয়েই এর মোকাবেলা করা উত্তম, হিংসা ও সংকীর্ণতা দিয়ে নয়।

১ নভেম্বর ২০২০ সাল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখাটি আমার দেশ অনলাইন ইউকে থেকে নভেম্বরের ৯ তারিখ ২০২০ সংখ্যায় এসেছে। নীচে লিংক দেয়া হলো।

জয় শ্রীরাম ও কার্টুন মারণাস্ত্র

Tag Cloud

%d bloggers like this: