Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

পাকিস্তানী সৈন্যের হাতে যারা সম্ভ্রম হারিয়েছেন তাদের বলা হয়েছে বীরাঙ্গনা। বর্তমানের বীর ধর্ষকরা রাজনীতির সৃষ্ট দানব। এদের বিবেক যেমন মরে গেছে, লাজ লজ্জাও মরে গেছে, যাদের কোন হায়া লাজ বলে কিছু বাকী নেই, থাকলে অন্তত দানবদের নেত্রী পদত্যাগ করে জাতিকে মুক্তি দিতেন। এরা জাতিকে জিম্মী করে রেখেছে, এর ধারাবাহিকতা স্বাধীনতার শুরু থেকেই চলমান। ৭২-৭৫ বিধ্বস্ত দেশের বিধ্বস্ত দশা। জাসদের ৩০,০০০কে হত্যা করেছে আওয়ামী রক্ষীবাহিনী। আজকের চুরি ডাকাতী, গুম, গায়েবী মামলা, সর্বোপরি ধর্ষণ এসব হাসিনার লালিত প্রশ্রয়ে অর্জিত অপকর্মের ধারাবাহিকতা। যে কাজ অতীতে তার সোহদর ভাইরা ময়দানে করেছেন, মানুষ মুখ খুলার সাহস করে নাই, আজকের ব্যাংক ডাকাতীর শুরুটাও হাসিনার সহোদর জড়িত ছিলেন। ব্যংক লুট ছিল তাদের বড় অর্জন, মিডিয়াতেও ওটি আসে। ভোটচুরি, করোনাচুরি, তেলচুরি, ডাল চুরি, বালিশ চুরি, পর্দাচুরি, গোটা দেশ চুরি। তাই বলতে হয়, শেখ হাসিনা একা নয়,  তার বাবাও তার ভাইয়েরাও ঐ পথে হেটেছেন। বাবা চুরিতে না থাকলেও চোরদের প্রশ্রয় দিয়েছেন। যার বাস্তব খেসারতে ১৫ই আগষ্ট তারিখে তাদের হত্যাটি ছিল অনেকটাই তাদের অপকর্মের অর্জন, অনেকটা তাদের নিজের আত্মহত্যা। যার জন্য কপট বেদনায় বিবর্ণ জাতি কাঁদে নাই, কাঁদতে পারে নাই। আজ ঐ মুজিবের কন্যা ঐ এক আদর্শহীন পথেই হাটছেন। ব্যক্তির সামনে জাতির সামনে সমাজের সামনে আদর্শ থাকতে হয়, না হলে জাতি আগাতে পারে না। সে আদর্শ যদি ডাকাতকে ধরা হয় তবে সে জাতি পুরোটাই ডাকাত হতে বাধ্য। সবচেয়ে বড় কথা জাতি দেরীতে হলেও বুঝতে পারছে, সে আদর্শ নেতৃত্ব ঐ মুজিব পরিবারের মাঝে ছিল না কোনকালেই। এরা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের শিকার। এরা ক্ষমতা পেলেও ধরে রাখতে পারে নাই বরং লোভের বশবর্তী হয়ে সংকীর্ণতায় আকন্ঠ ডুবেছে।

১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন মানিক ধর্ষণের সেঞ্চুরী করে সমালোচনার ঝড় তুলেছিলেন। এরাই তারা যারা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি হয়। এটি তাদের বড় প্রমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নামের নাটক এসব। । সিলেটসহ সারা দেশে এ রক্তক্ষরণে প্রতিটি হৃদয়ে চলছে রক্তক্ষরণ। সিলেট এমসি কলেজ এমন একটি জায়গা,  যে কারো মনে হতে পারে ওখানে একটু ঘুরে আসি। এমসি কলেজে থাকে ছাত্রলীগের সরকারী দানবেরা, তারা অপকর্মের ময়দান তরতাজা রেখেছে সেটি জানা ছিল না এলাকার ঐ নব দম্পতির। তারা মনে করেছিল তাদের চিরচেনা সোনার দেশের পাহাড়ী সৌন্দর্য্যে ঘেরা সিলেটের সবুজে একটু ঘুরে আসি। তারা অংক কষতে পারে নি যে এর মাঝে যে বিষধর সাপ লুকিয়ে ছিল ঐ সবুজের চত্বরে সরকারী প্রহরায় তারা দংশন করতে পারে। অনেকে শেখ মুজিবের সুনাম ধরা রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। কেন বললাম এ কথা, কারণ শেখ মুজিব নিজেও ছিলেন এমন এক নেতা তাকে নষ্ট নীতিহীন পথে হাটতে দেখা গেছে। যার খেসারতে তাকে প্রাণ খোয়াতে হয়। এর প্রমাণ হিসাবে ভুক্তভোগী সিনিয়র সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হাবিব সাংবাদিক কনোক সারোয়ারের সাথে এ বিষয়টি স্পষ্ট করেন এক ইউটিউবে। যদি সুযোগ পান ওটি দেখবেন প্রতিটি বাংলাদেশের মানুষের এটি জানা দরকার। এ ছাড়া এসব সত্য অনেক লেখনীতেও স্পষ্ট হয়েছে। কোন সত্যকেই বেশী দিন চাপা দিয়ে রাখা যায় না। যদিও সেনাপ্রধাণের পদটি ছিল জিয়ার পাওনা কিন্তু কোন এক অজানা কারণে শেখ মুজিব তাকে না দিয়ে তার অধস্তন অযোগ্য শফিউল্লাহকে সেনাপ্রধান নিয়োগ দেন। এখানেই মুজিবের দ্বিচারিতার এক নজির ইতিহাসে দাগ হয়ে আছে।

১৯৭৫ সালে জিয়া উপসেনাপ্রধান ছিলেন, জিয়া সেনাপ্রধান থাকলে মুজিব হত্যা ঘটতো না। মুজিব তার লাগামছাড়া সন্তানদেরে বাগে রাখেন নাই। এদের অত্যাচারে মানুষ নিগৃহীত হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা ভারত ফেরত এসে জিয়ার নামে মিথ্যাচারীতা প্রচারের উপর জোর দেন। তার ছাত্রনেতাদের নির্দেশ দেন সারাক্ষণ বলতে থাকবে ‘এই জিয়া সেই জিয়া নয়’। তখনকার সময় এসব নিয়ে ছাত্রদের মাঝেও চরম হাসাহাসি হয়। মুক্তিযোদ্ধা রেন্টুর গ্রন্থ (অবশ্য পাঠ্য সবার জন্য) এসব অনেক খুটিনাটি স্পষ্ট করেছে। একমাত্র জিয়াউর রহমান ঐ মুজিব হত্যার পরবর্তী শপথের অনুষ্ঠানে যোগদান করেন নাই বরং তার জনপ্রিয়তায় ক্ষমতা গ্রহণ তার উপর অর্পিত হয়েছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এসেই মিথ্যাচার শুরু করেন আর জিয়াকে মুজিবের খুনী বলে প্রচার চালাতে থাকেন, যেটি তিনি আজ অব্দি বহাল রেখেছেন। আর্মির চেইন অব কমান্ড বজায় থাকবে না এ বিষয় জেনেও শেখ মুজিব কপটতার আশ্রয় নিয়ে জিয়ার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে সেনাপ্রধান না বানিয়ে কয়েক ধাপ পেছনের মানুষকে শফিউল্লাহকে সেনাপ্রধান বানান। ঐ সময় কর্ণেল শফিউল্লাহও নিজে এটি মেনে নিতে ইতস্তত করেন। এই জিয়া যে কি জিয়া সেটিও খুব কম মানুষ জানে। ১৯৬৫ সালে জিয়াউর রহমান ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে যে সম্মান অর্জন করেন সেটিও ভারতের জন্য সুখকর ছিল না। পাঞ্জাবের খেমখারান সেক্টরে  সেখানেও জিয়াউর রহমান বাড়তি সম্মানের অধিকারী। তাই হাসিনার শত মিথ্যাচারকে মানুষ প্রকৃত সত্যের সাথে মিলাতে পারে না। যার খেসারতে সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ ঐ জটিল অবস্থা মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হন। মিলিটারী উইকি থেকে একটি প্যারা “Ziaur Rahman himself won the distinguished and prestigious Hilal-e-Jurat (10) (Cresent of Courage), medal, Pakistan’s second highest military award, and his unit won 2 Sitara-e-Jurat (Star of Courage) medals, the third highest military award, and 9 Tamgha-e-Jurat (Medal of Courage) medals, fourth highest award from the army for their brave roles in the 1965 war with India. In 1966, Zia was appointed military instructor at the Pakistan Military Academy, later going on to attend the prestigious Command and Staff College in Quetta, Pakistan, where he completed a course in command and tactical warfare (https://military.wikia.org/wiki/Ziaur_Rahman).  যাদের জানার অভ্যাস কম, আর যারা মিথ্যা জানেন তাদের জন্য নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে এসব জানা খুব জরুরী। ১৯৬৫ সালের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে জিয়ার অবদানকে খাটো করে দেখেছে মুজিব পরিবার বাবা থেকে কন্যা। শেখ হাসিনা মিথ্যাচার না করলে এসব কখনোই নাড়া হতো না। কারণ উভয়েই জাতির শ্রদ্ধার্ঘ।

২০১৬ সালে প্রকাশ্য দিনদুপুরে জনতার সামনে মহিলা কলেজের ছাত্রীকে চাপাতি দিয়ে কুপায় ছাত্রলীগের বদরুল। তার চিৎকারে জনতার তোপের মুখে পড়লেও বিধ্বস্ত দেহ নিয়ে মৃত্যুর সাথে লড়ে প্রাণে বাঁচেন এই খাদিজা। এদের কর্মকান্ড বলতে গেলে গোটা কলামই চেতনাবাজদের  দিয়ে ভরে যাবে। এরা খুব সাহসী সরকারের মতই অপকর্মে তোখড়, শত অপরাধ দেখেও যারা না দেখার ভান করে তারা ঐ নেত্রীর সব চুরির, অপকর্মের দায়ভার অবশ্যই নিজের কাঁধে বইবে। পুলিশ, রাষ্ট্রপতি, সাঙ্গোপাঙ্গো সবাইকে এ দায়ভার সমানভাবে বইতে হবে। তারা সৎ থাকলে সহজেই পদত্যাগ করতে পারতেন। তলারটাও খাবেন উপরেরটাও খাবেন আর দুইজাহানে ডুগডুগি বাজাবেন, তাতো হয় না। শেখ মুজিব পাকিস্তান আমলে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীকে চেয়ার ছুঁড়ে মারেন ১৯৫৮ সালে, যার খেসারতে তাকে মৃত্যু বরণ করতে হয়। অনেকে গর্ব করেন তার আত্মজীবনী নিয়ে, এ কথাটি স্পষ্ট করা হয়নি কেন তার আত্মজীবনীতে যদি সত্যই এটি তিনি রচনা করেন আর সত্যবাদী হন তবে এটি তার বলা উচিত ছিল। এতে বোঝা যায় এদের অবস্থান কিভাবে সত্য এড়িয়ে মিথ্যায় ভরা। একদিন শেখ মুজিব গোটা জাতির প্রাণের নেতা ছিলেন। বাংলাদেশে নির্দোষকে দোষী করার সংস্কৃতি হাসিনা তার অবৈধ গদি দখলের সাথে জায়েজ করে নিয়েছেন। ঠিক যেমন গায়েবী মামলাকে জায়েজ করেছেন। গুম খুনকে জায়েজ করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষিত হন। ছাত্রীর বক্তব্যে প্রকাশ এক শক্ত সামর্থ শক্তিমান ক্ষমতাধর যুবক তার ধর্ষক, যাকে সে জীবনেও ভুলবে না। সেই শক্তিমান যুবককে বাঁচাতে কোন এক প্রতিবন্দীকে ধরে কারাগারে পুরিয়ে দিয়ে নাটক চলছে। আসামী রাস্তার এক টোকাই জীর্ণ শীর্ণ ব্যক্তি এক মানুষ নামধারী ফসিল নামের কঙ্কাল মজনু তাদের জালে ধরা পড়েছে। যখন বিচারের জন্য কারাগার থেকে আনা হচ্ছিল। সে হাতপা ছুঁড়ে মাটিতে গড়াগড়ি আর বিকট কান্নারত, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিল। মন্তব্য কলামে সরকারের এসব নাটকের উপর শত শত ধিক্কার পড়ে। একমাত্র আওয়ামী সরকারী দালাল ভিডিও ফুটেজে বলেন, তার আচরণ প্রমান করে সে আসামী। এরা রাজনীতির সাথে সাথে তাদের বিবেককেও বন্ধক রেখেছে। ভাবতে অবাক লাগে এরা মৃত্যুভয়ে মোটেও কাতর নয়, যদিও তারা অমর নয়। একটি প্রতিবন্দীকে এনে দাঁড় করিয়ে ঐ ছাত্রীকে অপমান করা হয় প্রথমত তাকে ধর্ষন করার রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য, দ্বিতীয়ত  একজন নির্দোষকে অপরাধী করে তাকে অপদস্ত করা হয়, বাড়তি মনোকষ্ট দেয়া হয়। নিজের ডাকাতদের বাঁচাতে ছাত্রীটিকে এমন এক মেরুদন্ডহারা করা হয়, যে তার মুখের বুলিকে হাস্যকর করা হয়। প্রমান হয় ঐ মেয়ে প্রতিবন্দীরও অধম, সে প্রতিবাদ করলো কেমনে?  ছাত্রীও সম্ভবত বাকহারা জিম্মী দশাতে, কইতে নারি সইতে নারি অবস্থানে এ লজ্জা সারা জাতির শিক্ষার মুখে হাতুড়ীপিটে রাজনীতির কপট অবস্থানকে সবার সামনে তুলে ধরছে।

খবরে প্রকাশ এমসি কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, সব কথা বলতে পারেন না, মুখে তালা দিয়ে রাখেন। ডেইলী ষ্টারের কাছে এক সাক্ষাৎকারে (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০) অধ্যক্ষ সালেহ আহমদের সাথে কথা হয়। এই ছাত্রবাসই ২০১২ সালে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় । তিনি বলেন বিচারের ভার তাদের নয়। তাদের সীমাবদ্ধতা আছে, সে হিসাবে তারা অসহায়। একজন কলেজের অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলে দেয়া হয়েছিল, পত্রিকা মারফতে এসব জাতি জানে। আগুনে হল পুড়ে যাওয়ারও কোন বিচায় হয়নি। বরং তখন থেকেই এরা হলটি জবর দখল করে রেখেছে। যারা সম্পৃক্ত এদের একজন ছাড়া বাকীরা চার থেকে পাঁচ বছরের পুরোনো ছাত্র। এসব অপকর্মের তদন্তও প্রকাশিত হয় না এবং কোন পদক্ষেপও নেয়া হয় না। এসব প্রশ্নের কোন জবাবদিহিতা অধ্যক্ষের জানা নেই। অধ্যক্ষের মনেও একই প্রশ্ন, কেন এসবের কোন সুরাহা হয় না। যেখানে অধ্যক্ষের সাহসে কুলায় না, সেখানে দারোয়ান কোন ছার! অবৈধ শুধু সরকার নয়, গোটা প্রশাসনেই এই অবৈধ অস্তিত্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এমসি কলেজ ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত অনেক পুরোনো কলেজ, ১৯২০ সালে নির্মিত ছাত্রাবাসে ২০১২ সালের ৮ জুলাই পুড়ে ছাত্রাবাস আওয়ামী ক্ষমতার দম্ভে। পরে নতুন নির্মিত ভবন ফের আওয়ামী লীগের দখলে, সারা দেশের মতই অবৈধ জবরদখলীসত্ত্ব। করোনার কারণে এটি বন্ধ থাকলেও ছাত্রলীগ নেতারা সেখানে আসন গেড়ে হোষ্টেল সুপারের বাংলো দখল করে থাকে। দলবল নিয়ে আড্ডা দেয়, ইয়াবা গেলে, নারীকেলী চলে।  হবিগঞ্জ, বালাগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ধিরাই, জগন্নাথপুর, জকিগঞ্জের ছাত্ররা ধর্ষক। প্রথম আলোর (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০) বরাতে জানা যায় ২০১২ সালে ৪২টি কক্ষ পুড়িয়ে দেয় এবং এরপর ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর এটি উদ্বোধনের পর থেকেই ছাত্রলীগ এককভাবে এখানে কর্তৃত্ব করে আবাসিক ছাত্রদের সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। যদিও এমসি কলেজে তাদের কোন কমিটি নেই। ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই তাদের দুই দলে আধিপত্য বিস্তারে আবারো ছাত্রাবাস ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ঐ সময় ২৯ জুলাই তারিখে পুনরায় ছাত্রাবাস খোলা হয়। এর পর ৬ আগষ্ট পুনরায় ঐ ৭ নম্বর ব্লকের কয়েকটি কক্ষ ও নতুন ভবন দখলের তৎপরতার মুখে আবারো বন্ধ করে দেয়া হয়। সংক্ষেপে এরা সরকারের মতই অতিরোধ্য অপকর্মী। ছলে বলে কলে কৌশলে হলেও তাদের একক কর্তৃত্ব চাইই। এভাবে শাহজালালের পবিত্র ভূমি আজ দানবদের দখলে।

স্বামীর কাছ থেকে তারা মেয়েটিকে ধরে নিয়ে যায়। স্বামীর শত চিৎকারও দুর্বৃত্তদেরে ঠেকানো যায় নি। তাদের সাহস দিনে দিনে বেড়েই চলেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে তারা এসব কর্মকান্ডের এজেন্ডা নিয়ে বেড়ায়। তাদের ইচ্ছে হলে আগুন দিবে, ইচ্ছে হলে ধর্ষণ করবে। এ দেশে তাদের অবৈধ সরকারই সব সামাল দিবে, তা তারা জানে। এরা অপকর্ম করে বারে বারে পুরষ্কৃত হয় সরকার দ্বারা। যারা মানুষ পেটাবে, ধর্ষণ করবে তারাই তো সোনার ছেলে (মানিকদের) অবৈধ সরকারের বেশী দরকার, গদি রাখার ইঞ্জিনিয়ার তারা। এরাই সুবর্ণ চরের চার সন্তানের মাকে বিনা বিচারে ধর্ষণ করে। কারণ ঐ মেয়ে সরকারকে ভোট দেয় নি। যদিও তাদের গদিতে যেতে ভোট লাগে না, আগের রাতেই ভোট সারে। কিন্তু প্রতিপক্ষ অন্যরা কেন একটি ভোট পাবে সেটি তারা সইতে পারে না। শেখ মুজিব তার ছেলেদের বিচার করেন নাই, যেদিন তারা খুন গুম ধর্ষণ অপকর্ম করে ময়দান গরম করেছিল। তারা নাকি ছিল রাজপুত্র, সাত খুন মাপ। ঐ সময়ে ময়দানে থাকা আমরা এসব তখনও লোকমুখে শুনে অভ্যস্ত ছিলাম। রাজধানীতে সন্ধ্যের পর সাধারণত মানুষ রাস্তায় নামতো না। কেউ ব্রিফ কেইস হাতে চলাফেরা করতো না। দিনে দুপুরেও ভয়ে কাটাতো। ১৯৭৪এর দুর্ভিক্ষে মানুষে আর কুকুরে কামড়াকামড়ি করে খাবার খেয়েছে। এসব অবর্ণনীয় সমাজ চিত্র বর্ণনা করতেও কষ্ট হয়। শেখ মুজিব কেমন করে যেন আগাগোড়া বদলে গেলেন তার আগের সব ভাব মর্যাদাতে ভাটা পড়লো। কঙ্কালসার মানুষের দিকে নজর না দিয়ে তিনি তার যুবরাজদের সোনার মুকুট পরিয়ে বিয়ের বাহাদুরীতে ছেলেবৌদের রাজরানী বানাতে ব্যস্ত। আর বাকীরা বকুল ফুলের মালা দিয়ে বিয়ে করবে, স্লোগানে স্লোগানে বাকীদের জন্য সুবাক্য জমা ছিল। 

অনেকেই বলছেন ইসলামের আইন প্রয়োগ করা হোক। কুরআনের আইনে এদের ১০০ বেত্রাঘাত করার কথা। আর সেটি হবে প্রকাশ্য ময়দানে। দারোয়ানকে সাসপেন্ড করা ও শিক্ষককে সাময়িক অবসরে দেয়া খুব সহজ কিন্তু আসল ডাকাতের বিচার হয়নি বলেই দেশ এ পর্যায়ে এসেছে। কোনদিনই সঠিক ধর্মের প্রয়োগ হয়নি। হয়েছে ধর্মহীনতার চাষ, সত্য ইসলাম জানা না থাকলে তাহাজ্জুদের মিথ্যে ফাঁকিবাজি দিয়ে আর কতদিন চলে! বাংলাদেশের এসব অনাচারের বিচার শেখ মুজিব করেন নাই বলেই তাকেও মেজর ডালিমদের হাতে প্রাণ হারাতে হয়। এ কথাটি একবাক্যে দেশের সবাই বলে, আমরাও শুনে শুনে ধাতস্থ হয়েছি। সারা দেশে অস্থির রাজনীতি, বিশ^বিদ্যালয়কে বলা হতো ডাকাতের গ্রাম। আর সেখানে বর্তমানে যারা অপকর্ম করছে তাদের নামই লিষ্টের ধারাবাহিকতায় সবদিন শিখরে। এর কারণ নেতাদের অতি আহ্লাদে সোনার ছেলেরা নীতিহীনতার ফসল ফলাতো দাপটের সাথে। জাহাঙ্গীরনগর ভার্সিটির মানিক ধর্ষণের শত সেঞ্চুরী করে মিষ্টি বিলাতে লজ্জিত নয়, সে দেশের নেতৃত্বে যখন আওয়ামী লীগ। এটি কি ছিল শেখ মুজিবের আদর্শ বাস্তবায়ন?

যে বা যারা সরকারের পক্ষে চড়া গলাতে গলাবাজি করছে তারাও এর শরিক শক্তি। একদিন এ দেশের শতভাগ মানুষ ঐ দলকে সাপের্ট করেছিল এটি ধ্রুব সত্য কথা!  কিন্তু ক্রমে ক্রমে বিবেক সম্পন্নরা সেখান থেকে সটকে বেরিয়ে যায়। খালেদাকে কারাগারে রেখে হাসিনার ভোট গ্রহণ। সবাই এটি স্বীকার করছে যে শত শত কোটি কোটি মানুষের হক কেটে খেয়ে হাসিনা ধার্মিকতার ভান করে টিকে আছেন। যেখানে একটি মানুষকে অন্যায়ভাবে আঘাত করার অধিকার দেয় না যে ধর্মে, সেখানে কোটি কোটি জনতার হক নষ্ট করে তাহাজ্জুদধারী নামাজী হাসিনার বিবেকের কোন কষ্ট নেই। চলছে ধর্মের নামে মিথ্যা জারিজুরি। বাস্তবতা বর্জিত চাটুকার রাখাল ছেলে আতিয়ুর রহমানের হাতে দেশ আজ ফকিরের ঝুলা / বাংলাদেশে ধর্ষণের বিচার হয় না। হলে স্বাধীনতার শুরুতেই  শেখ কামালদের বিচার হতো। যা আজো মানুষ ভুলে নাই ঐ তাপে দীর্ঘশ^াস ফেলছে আর ভোক্তভোগীরা দেশছেড়ে বহির্বিশে^ দম ছাড়ছে। আকাশে বাতাসে এসব কথা ছড়িয়ে আছে। ঐ প্রতাপীদের বোনই ক্ষমতার দাপটে, মানুষ সত্য বলতে ভয় পায় না, শুধু আত্মরক্ষার্থে সামনে বলে না। সবার আমলনামা সবার গলাতে বাঁধা আছে। ওটি লুকাবার সাধ্য কারো নেই। মনে করতে হবে বাংলাদেশ ৯০% মুসলিমদের দেশ সেখানে এর কঠোর বিচার প্রয়োগ করতেই হবে। ধর্ম যার যার উৎসব সবার বলার কোন সুযোগ নেই।

শেষ কথা:  কুরআন আল্লাহর কালাম। একে এড়ানোর  সাধ্য কারো নেই। মুসলিমদের উপর নির্দেশ একে অনুসরণ করা ফরজ, অবশ্য করনীয় কাজ। মাত্র একটি আয়াত আনছি (সুরা নিসার ২৫আয়াত দ্রষ্টব্য) “ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের দুজনের প্রত্যেককে একশ’বেত্রাঘাতে চাবুক মার। আর আল্লাহর বিধান পালনে তাদের প্রতি অনুকম্পা যেন তোমাদের পাকড়াও না করে। যদি তোমরা বিশ^াস করো। (তবে যদি কোন সতি সাধ্বী ধর্ষিতা হয় তবে শাস্তি পাবে ধর্ষণকারী, নিরপরাধীর উপর শাস্তি বর্তাবে না। আর মুমিনদের দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে (যাতে দর্শকরাও এ ধরণের পাপাচারকে ভয় করে চলে । এটি কুরআনের নির্দেশ। তবে সেঞ্চুরী বাজদের অপরাধ ঐ মাপে শতগুণ বাড়বে এটি নিশ্চিত। তবে কমার কোন সুযোগ নেই। নীতির কথা হচ্ছে এসব মূল বাণী থেকে দূরে সরে থাকলে মানুষ চিরকালীন ধর্ষক হয়ে থাকবে, সত্যিকারের মানুষ হতে পারবে না। সে যদি মানুষই না হয় তবে তার নামাজ, তাহাজ্জুদ লোকদেখানো এবাদতের কোন মর্যাদা নেই। তাদের কুরআন মানতে হবে বুঝতে হবে পালন করতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই। এদের এসব করতে নিষেধ করেছে কুরআন। মানুষকে প্রতারণা করতে কিছু প্রতারকরা ভিন্ন কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। এদের জন্য কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে। কুরআন অনুমোদন ও নিষেধ দুটোই স্পষ্ট করে রেখেছে। এর ব্যত্যয় করা মানে আল্লাহকে অস্বীকার করা। এক শ্রেণী ধর্মকে প্রতারণার কৌশল হিসাবে নেয়। দিনে দিনে সরকারের এ প্রতারণার দেনা বেড়েই চলেছে। ভোটচুরি, সাগরচুরি, থেকে এখন হচ্ছে ইজ্জতচুরি। আর কিছু অবশিষ্ট নেই বাংলাদেশীদের, এটি তাদের সর্বশেষ লুন্ঠন। আল্লাহ তার রহমত দ্বারা বাংলাদেশের মানুষকে এ জাহেলিয়াতের পথ থেকে সঠিক পথে নিয়ে আসুক, এ কামনা করছি।  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০।

Tag Cloud

%d bloggers like this: