Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

কুরআন গ্রন্থটি বিবেকবানদের জমা: শিরোনামের কথাটি খুব নতুনের মত শোনালেও এটি অনেক দিনের পুরানো কথা। আল্লাহ বলেন, “এ গ্রন্থে নিদর্শন রয়েছে বিচার বুদ্ধি থাকা মানুষের জন্য” (২:১৬৪ আয়াত)। মাত্র আমরা আমাদের করোনা ঈদ সারলাম যে যার মত। অদ্ভুত অভিনব মাত্রা যোগ হলো এবারের ঈদে। ঈদ পরপরই নাড়া পরে যায় শাওয়ালের রোজার তাগাদা আসতে থাকে চারপাশ থেকে। অনেক আগে আমার জীবনে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল এই ঈদ পরবর্তী রোজা নিয়ে। যাক সে কথা আর নাড়ছি না। এবারের নাড়া আমার সৌদি প্রবাসী এক বোনের ফেসবুকেও এর তাগাদা আসে। বোনটি আমার খুব প্রিয়। শত ব্যস্ততার মাঝেও মাঝে মাঝে যোগাযোগ মানে কথা হয়। আর বাকী সারা বছরই ইন্টারনেটে এটা ওটা দেয়া নেয়া চলেই। সে তার মত ইসলোমের দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছে অনেক দিন থেকেই। এবার কেন জানি নাড়তে গেলাম। এর কারণ তাকে আমি জাগিয়ে তুলতে চেষ্টা করলাম। ভালো করলাম কি মন্দ করলাম জানি না। আমার কর্তব্য মনে করেই করলাম। তার ফেসবুকে রমজান পরবর্তী ৬ রোজার উপর যে কমেন্ট করলাম সেটি এখানেও করছি। আমার যুক্তি ছিল, “এসব কথা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত নয়। কুরআন দ্বারা প্রমান করা না গেলে তা হাদিস হতে পারে না। প্রতিটি মুসলিমকে কুরআনে ফিরতেই হবে। এ ছাড়া মুসলিমদের সামনে পিছনে উপরে নীচে কোন মুক্তির রাস্তা নেই। পূর্ববর্তী ইহুদী জাতি এসব অপকর্ম করে ধ্বংস হয়েছে, আল্লাহ তাদেরে বলেছেন, এরা গাধার বোঝা বয়ে বেড়িয়েছে (সুরা জুমআহর ৫ আয়াত দ্রষ্টব্য)। মুসলিমদেরে বার বার সাবধান করা হয়েছে মুসলিমরা যেন তা না করে, এ আয়াতই তার প্রমাণ। ইহুদী জাতি এইভাবে তালমুদের মোহে মজিয়া তৌরাতকে বিস্মৃত হইয়াছে (মোস্তফা-চরিত, মোহাম্মদ আকরম খাঁ পৃষ্ঠা ৭৪)।  ধর্মকে বাড়ানোর কমানোর কোন অধিকার কারো নেই। কুরআনের হিসাবে যারা এসব করবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কাজেই কামনার অনুবর্তী হয়ো না পাছে তোমরা ভ্রষ্ট হও। আর যদি তোমরা বিকৃত করো অথবা ফিরে যাও, তবে নিঃসন্দেহ তোমরা যা করছো আল্লাহ হচ্ছেন তার পূর্ণ ওয়াকিফহাল।” (সুরা নিসার ১৩৫ আয়াত)। “তোমার প্রভুকে ডাকো বিনীত ও গোপনীয়তার সাথে। নিঃসন্দেহ তিনি সীমালংঘনকারীদের ভালোবাসেন না” (সুরা আল আরাফের ৫৫ আয়াত)। বোঝার সুবিধার জন্য এখানে কয়েকটি আয়াত আনলাম। আল্লাহ সবার সুমতি দিক, আর মূল সত্যে অটুট রাখুক। এর প্রতিউত্তরে বোনটি আমার হাদিসের গুরুত্ব বুঝিয়ে জবাব দিল। হাদিস অনুসরণ না করলে যদি আমরা ধ্বংস হয়ে যাই।

শাওয়ালের ছয় রমজান: এর পরের জবাব হিসাবে আমি লিখলাম। “আমি হাদিস অস্বীকার করছি না। কুরআনে যা বলা নেই, সে রকম নির্দেশ হাদিসে আসতে পারে না। নবী এমন কাজ জীবনেও করেন নাই। এমন ধৃষ্ঠতা তিনি কখনোই দেখান নাই। আল্লাহর নির্দেশের বাইরে তিনি কিছুই বাড়তি করেন নাই। পরবর্তী মানুষরা অনেক অনাচার করে কিন্তু নবী সেরকম অনাচার করেন নাই। আল্লাহ কুরআনে নবীকে উদ্দেশ্য করে সাবধান বাণী উচ্চারণ করেছেন আয়াত দ্রষ্টব্য। “সেক্ষেত্রে আমরা নিশ্চয় তোমাকে দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাতাম ইহজীবনে এবং দ্বিগুণ মৃত্যুকালে” (সুরা বনি ইসলাইলের ৭৫ আয়াত)। কুরআন বিচ্যুতির অপকর্ম করলে রসুলের জন্য দ্বিগুণ শাস্তি বরাদ্দ হবে, এককালে নয়, উভয়কালে ইহকাল ও পরকালে। এতে খুব সহজে বুঝা যায় এসব জইফ অর্থে দুর্বল হাদিস সাজানো হয়েছে। ঠিক একই কাজ করেছিল ইহুদীরা পূর্ববর্তী যুগে, যার কারণে তাদের হাত থেকে ধর্মটি ছিনিয়ে নেয়া হয় এবং এক দল নব্য গোত্র মুসলিমদের এটি দেয়া হয়। এসব নীতিতে কড়া থাকতে নবী বার বার সাবধান করে গেছেন। কিন্তু শেষ জামানার মানুষরা এসব ভুলে বসে আছে। এসব সাবধান বাণী কুরআনেও আছে। ইহুদীরা মনের মাধুরী দিয়ে তাদের মনগড়া তালমুদ সাজিয়েছিল। কুরআনে যদি একবারও বলা থাকতো যে তুমি এক মাস+ রোজা করো। সম্ভব হলে একজন পারলে সারা বছরই রোজা করতে পারে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু রসুলের নাম নিয়ে এটি প্রচার করার কোন যুক্তি নেই। উপরের আয়াত পড়ার পর কি মনে হয় রসুল এ কাজটি কখনো করবেন? যদি করতেন তবে তার জন্য দ্বিগুণ শাস্তি বরাদ্দ থাকতো, এটি কুরআনের বাণী। এসব হচ্ছে শেষ জামানায় ইসলাম ধ্বংসের নমুনা। সিলেবাস বাড়ালেই ধর্ম উত্তম হয়ে যায় না। এ জন্যই বলা হয়েছে প্রকৃত মুমিনের রাস্তা খুব কঠিন। সেখানে কোন বাহূল্য বা কমতি কোনটাই সমর্থণীয় নয়। এটি ফুলসিরাতের রাস্তা, সহজ সরল জটিলতামুক্ত। এ জন্যই তার নাম সিরাতুল মোসতাকিম। সুরা জুমার ২৩ আয়াতটি কুরআনের রক্ষাকবচ, পড়ে দেখো।” এরপর দেখলাম আমার মেইলেও সমপর্যায়ের শাওয়ালের রোজার বন্দনায় অনেক মেইল জমা হয়েছে। এটি আমার বোনের ত্রুটি ছিল না। এ আচরণ চলমান সমাজের অর্জন, ইউটিউবে দেখি সারি বাধা সব বন্দনা গেয়ে গেছেন ইউটিউবের ধর্মপ্রচারকরা। ইন্টারনেটের নতুন এ সুযোগে কেউ বসে নেই। ঘরে ঘরে তাদের বাণী পৌছে যাচ্ছে। সঠিক বাণী ছড়াতে পারলে ভালোই ছিল কিন্তু যদি ভুল ম্যাসেজ এভাবে ছড়ায় সেটি ইসলামের জন্য সুখের নয়।

বিচারিক ভাবনা: পরিক্ষক টিচার যদি বলেন তুমি ১০ চ্যাপ্টার পড়বে আর ছাত্র যদি বলে আমি ১২ চ্যাপ্টার পড়বো। স্যার কি খুশী হবেন না বিরক্ত হবেন সেটি আপনাদের ভাবনায় জমা রাখুন। আর যদি ঠিকই ঐ ১০ চ্যাপ্টার পড়ে ছাত্রের দেয়া প্রশ্নোত্তরে টিচার বেশী খুশী হবেন, না ঐ ১০ চ্যাপ্টারের বাইরে আরো প্রশ্নের বাইরে ৫ পৃষ্ঠা বাড়তি লিখে আসলে টিচার বেশী খুশী হবেন। সেটি মানবিক বিচারের ক্ষমতায় টিচাররা বিচার করুন। হাদিসের বরাতে এরকমও বলা হচ্ছে যে, ছয়টি রোজা না করলে বস্তুত প্রকৃত রোজার সওয়াবই পাওয়া যাবে না। কুরআন কোন মহাভারতের গ্রন্থ নয়, বাইবেল নয়, তৌরাত নয় যে যার যা ইচ্ছে তাই যোগ বিয়োগ করতে পারবেন। এটি একটি পরিপূর্ণ সংরক্ষিত অসাধারণ গ্রন্থ যার দ্বিতীয় উদাহরণ দুনিয়াতে নেই। পূর্ববর্তী ঐশীগ্রন্থ সব বিকৃত হয়েছে, শুধু মাত্র এটি ব্যতীত। আল্লাহর কড়া নিরাপত্তায় এটি সংরক্ষিত। এর অনুসারীরা এটি বদলানোর কোন সুযোগ পায় নাই। কিন্তু এর পাশাপাশি এমন ভাবে হাদিস সব রচিত হয়েছে যাতে দেখা যায় কুরআনের বস্তুনিষ্টতা অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষুন্ন হয়। এর গুরুত্ব কমাবার বা বাড়াবার অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। ইসলামে এই বাড়ানো কমানোকে বলা হয় বেদআত। আর রসুল বলেছেন, যারা বেদআত করবে তারা জাহান্নামে যাবে। যারা রসুলের নামে মিথ্যাচার করবে তারাও জাহান্নামে যাবে।

নবীর হাদিস ভাবনা ও ইতিহাস: আমরা জেনেছি জীবিত অবস্থায় রসুলের কথা কেউ লিখে রাখলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। জবাবে বলেছেন, তোমরা কি করছো আল্লাহর কিতাবের পাশাপাশি আর একটি সংযোজন করতে চাও? তার মানে এসব করতে নিষেধ করেছেন। তারপরও যেসব কথা আবুবকর ওমর আলী(রাঃ)গংরা যৎসামান্য লিখে রেখেছিলেন তা তারা পরবর্তীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে বা ভিন্ন উপায়ে ধ্বংস করে দেন। তারা সবচেয়ে বেশী ভয় পান যখন শোনতে পান যদি কেউ নবীর নামে মিথ্যা প্রচার করে তবে তার ঠিকানা নির্ঘাৎ জাহান্নাম। তাই প্রাথমিক যুগের সাহাবীরা এত ভীত ও শংকিত ছিলেন কারণ কুরআনের জন্মের সাথে বিশিষ্ট সাহাবীদের জন্মের ইতিহাস জড়িত ছিল। স্মরণ করার বিষয় সব সাহাবীই কিন্তু বিশেষ মর্যাদার এক কাতারের নন। সেখানে প্রাথমিক যুগের সাহাবীরা নবীর খুব কাছের ত্যাগী সহচর ছিলেন। বিশিষ্টরা জানতেন কুরআন কি আর জাহান্নাম কি? যার জন্য সাথে সাথে ওসব মিথ্যে হাদিস ময়দানে জমতে পারে নাই। বরং ২০০ বছরেরও পর এসব ময়দানের জমা, ততদিনে তারা প্রতিরোধকারীরা গত বিগত। তবে ঐ সময়ও অনেক প্রতারক মক্কা বিজয়ের পর এখানে এসে ঢোকে, যাদের সামনে অন্য কোন রাস্তা খোলা ছিল না। কিছু সংখ্যক আজীবনই ইসলামের শত্রু পক্ষ ছিল। ঐ সব ধূর্তরাই ইসলামের চাঁদোয়ার নিচে অবস্থান শক্ত করে শত্রুতা বহাল রাখে। এরা একদিকে মুসলিম অন্যদিকে মোনাফেক, কুরআন এদের স্বরুপ স্পষ্ট করে রেখেছে। এদের খারাপ অবস্থানের বড় প্রমাণ শিয়া সুন্নী বিভক্তি। এর দায় চতুর্থ খলিফা হযরত আলীরও নয় বা কোন নিবেদিতপ্রাণ মুসলিমেরও নয় কোন ভিন ধর্মীরও নয়; বরং সম্পূর্ণ দায় মুসলিম নামধারী মোনাফিকদের। সেদিন থেকে আজ অবদি মুসলিমদের দিশেহারা অবস্থান! এসব ষড়যন্ত্রীদের হাতেই ধর্ম প্রথম দু’ ভাগ হয়েছে। যারা প্রতিবাদকারী সঠিক মুসলিম ছিলেন তারা আজকের রাজনেতাদের ধর্মনেতাদের মত সেযুগেও নির্যাতীত হয়েছেন। ধুকে ধুকে মরেছেন। সব দিনই শক্তির তলানীতে স্বৈরাচারের কাজ এসব। এভাবে খুব কৌশলে মানুষকে মূল গ্রন্থ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

কুরআন বিরোধী হাদিসের উদাহরণ: কুরআন দ্বারা প্রমান হয় বিবি আয়েশার বিয়ে হয়েছে পরিপূর্ণ বয়সে অপরদিকে হাদিস দ্বারা প্রমাণ করা হয় ৬ বছরে। মুসলিম কয়জন বাবা মা আছেন তার ৬ বছরের মেয়ের বিয়ে দিবেন ? প্রশ্নটি জমা রাখলাম। এসব মিথ্যা হাদিস রচনা করে আল্লাহ, নবী, কনে আয়েশা, তার বাবা আবুবকরসহ এখানের সবাইকে অপমান করা হয়েছে। এটি একটি মিথ্যা হাদিস। ব্যভিচারের শাস্তি হিসাবে মিথ্যা হাদিস দ্বারা নারীদের পাথর ছুড়ে মারার বিধান আনা হয়েছে যা মূলত ইহুদীদের বিধান ছিল। কুরআনে এর সমার্থক পাথর মারার কোন কথা নেই, হাদিস দ্বারা আমরা আল্লাহর বৈরী শক্তি হয়ে দাড়াচ্ছি। উদাহরণ হিসাবে সুরা তওবার ৮০ আয়াতে দেখা যায় আল্লাহ মোনাফেকদের সম্বন্ধে বলেন, “তুমি ওদের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করো অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা না করো, – তুমি যদি তাদের জন্য সত্তুর বারও ক্ষমা প্রার্থণা করো আল্লাহ কখনো ওদের ক্ষমা করবেন না। এটি এই জন্য যে তারা আল্লাহতে ও তার রসুলের প্রতি অবিশ^াস পোষণ করে। আর আল্লাহ দুষ্কৃতিকারী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শণ করেন না।” এটি গেল কুরআনের ভাষ্য, এরা কিন্তু মুসলিম মোনাফিক এদের অন্তর আল্লাহর কাছে স্পষ্ট। এর উল্টো হাদিস রচনা করা হয়েছে, রসুল বলেছেন তিনি নাকি ঐ দুষ্কৃতিকারীর জন্য সত্তুরের বদলে একাত্তর বার দোয়া করবেন। আপনাদের কি মনে হয় রসুল বেয়াড়া অবাধ্য প্রকৃতির লোক ছিলেন!? যেখানে কুরআনে বার বার বলা হয়েছে তিনি একজন স্বভাব সুন্দর মানুষ। এসব হচ্ছে হাদিসের নামে অতি বাড়াবাড়ি, এ ধারার অসংখ্য হাদিস আছে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আর আল্লাহর জন্য ও নবীর জন্য গালির রসদ জমা করে চলেছে। এত এত স্কলাররা ময়দান গরম করেন, আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে ধর্মটিকে কে বা কারা দু’ভাগ করলো কেউ রা শব্দও করে না। কারণ কি? ঐ দিন থেকেই তো মুসলিমদের ঘুম হারাম হয়ে যাবার কথা ছিল। তাদের এত ঘুমানো কি মানায়? তার সহজ জবাব হচ্ছে মুসলিমরা ক্রমে চেতন হারিয়ে ফেলেছে। এদের তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে চলেছে ইবলিস। ভাইকে দিয়ে ভাইকে পেটাচ্ছে। বাড়তি গোলা বারুদ কামান বোমা ছাড়াই ইসলাম ধ্বসের কাজ এভাবে চলছে।ইবনে মাজা ইবনে ওমর হতে বর্ণনা করেন যে, হযরতের বা আবুবকরের ওমরের সময় এইসব গালগল্পের প্রচলন ছিল না। আখেরী জামানায় (পরবর্তী যুগে) মুসলমানগণ ঐসব গালগল্পে মজিয়া ধ্বংস পাইবে, হযরত তারও স্পষ্ট ইঙ্গিত করেন (তাবরানী)। 

প্রশ্নবিদ্ধ টেররিস্টের সঙ্গা: ফেসবুকে একটি ভাই একটি লিস্ট শেয়ার করেছেন ইতিহাসের সব বড় বড় হত্যাকারীরা অমুসলিম, কেউই মুসলিম নন। তারপরও মুসলিমরা টেররিস্ট হয় কেন? তথ্যটি ছিল (১) বুশ ১০ লাখ ৫০ হাজার মুসলিম হত্যা করেও টেররিস্ট হয় না। হিটলার ৬০ লাখ ইহুদী নিধন করেও অপরাধী নয়। জুসেফ স্ট্যালিন ২ কোটি হত্যা করে ও ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে অসুস্থ করে হত্যার পরও সে টেররিস্ট হয় না। মুসোলিনী ৪ লাখ হত্যা করেছে, সবাই খৃষ্টান, কিন্তু জঙ্গি হিসাবে চিহ্নিত কেন নয়? মাও সে তুং ১ কোটি ৫০ লাখ হত্যা করেও বৌদ্ধ জঙ্গি কেন নয়? অশোকা একজন হিন্দু ১ লাখ মানুষ হত্যা করেও হিন্দু জঙ্গি কেন নয়? অংসান সূচী লাখ লাখ রোহিঙ্গা হত্যা করে যাচ্ছে, ভারতের মোদি মুসলিম হত্যায় তার রক্ত এমনিতেই রঞ্জিত শতাব্দীর শুরু থেকেই, এখনো চলমান। ফেসবুকে এ প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তারপরও প্রথম বিশ^যুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধ, হিরোশিমা নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ, অষ্ট্রেলিয়ান আদীবাসী হত্যা, উত্তর দক্ষিণ আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ান আদীবাসী হত্যা, সবকটি অপকর্মের সাথে মুসলিম ছাড়া বাকী সম্প্রদায়রা জড়িত থাকলেও কেন মুসলিমদের দিকেই শুধু বুলেট নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এ জটিল প্রশ্ন ভাবনার উদ্রেক করার কথা। এ কথা কয়টি বহুদিন থেকে ফেসবুকে এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ায়। তারপরও এসব থেকে কি আমরা শিখতে পেরেছি কিছু?

মুসলিমদের অপকর্ম: মুসলিমদের বিরুদ্ধে বাকী দুনিয়া, বোকাদেরে আসামী সাজাতে পেরেছে খুব সহজে। কারণ আমরা নিজেই নিজের ভাই কিলাই। যাদের সেরা হবার কথা তারা তলানীতে কেন? আল্লাহর মূল গ্রন্থ ছেড়ে মানুষ রচিত গ্রন্থ নিয়ে তারা মশগুল। তারা গবেষণাতে নেই, চর্চাতে নেই। অর্থ না বুঝে তপজপ সমাধান নয়। কুরআন বিরোধী কাজকর্ম কেমন করে হয় এখানে? সঠিক পথে থাকলে সারা দুনিয়া সত্যের আলোতে বিস্ফারিত হতে এত দিন লাগার কথা নয়। নবী গত হবার নিকট সময়েই গোটা দুনিয়া আলোর ঝলকানি দেখেছে। ১৪০০ বছরের বেশী সময় পার করেও তারা আত্মবিস্মৃত জাতি আজ কিল ঘুষি থাপ্পড়ের শিকার। কুরআনের মূল্যায়ন না করে সবাই ফতোয়াবাজ। কুরআন বিবৃত করা আল্লাহর কাজ। নবীর মাধ্যমে আল্লাহ এটি বিবৃত করেছেন কুরআনে। প্রাথমিক যুগে কেউ কুরআনের বাইরে ফতোয়াবাজি করলে তাকে বেত্রাঘাত করা হতো। কুরআন ও সত্য ইতিহাস বিমুখতার পাপেই মুসলিমরা মার খাচ্ছে। রসুল পরবর্তী প্রাথমিক যুগের কল্যাণে যে বিজয় সারা দুনিয়াকে আলোকিত করতে থাকে, যার সফল পরিণতিতে ইউরোপে রেনেসার জোয়ার আসে। ইত্যবসরে মুসলিমদের ঘরে খরা শুরু হয়ে যায়। নকল মিথ্যাচারী কিতাব সৃষ্ট অপকর্মে মুসলিম মানস মুখ থুবড়ে পড়ে। অবাক করা তথ্য হচ্ছে বাকীরা জাগরণ আনতে পারলেও শয়তানের তালিয়াতে মুসলমিদের অবাধ বিজয়ের দ্বার রুদ্ধ হয়ে যায় অতি অল্প দিনে। যখন ষড়যন্ত্রীরা সূতা নাতা ঠিক করছে তখন ময়দানের প্রকৃত সাধুরা কারারুদ্ধ হয়ে মরেন। ঠিক যেন আজকের কারাগারে আটককৃত রাজনেতাদের মত। আমরা খবর রাখি নাই, ইমাম আবু হানিফার পরিণতি ওটিই ছিল।

মুসলিমদের ব্যর্থতা: কিন্তু পরবর্তী মুসলিমরা খুব সেটি জানেও না, নাড়েও না, এসব ইতিহাসের তলানীতে পড়ে আছে। আজ মুসলিমরা কুরআন শরিফের বদলে অন্যসব শরিফ নিয়ে ব্যস্ত, যাদু টোনা, তাবিজ কবজ, জিন ভূতের গরম ব্যবসায় ময়দান গরম। যুক্তিহীন অবিজ্ঞানই ধর্ম, যদিও কুরআনই একমাত্র বিজ্ঞানময় বুদ্ধিমানের ধর্ম। আজকে বুদ্ধিমানের চেয়ে বেওকুফের ভিড় এখানে বেশী। এরা আর কত শত বছর পর জাগবে, আল্লাহই ভালো জানে? কুরআনকে তারা দূরে তাকিয়ার উপর বস্তনীতে বেধে রাখে, যাতে এর সুধা পান করা না যায়। সব কৌশল এতে প্রয়োগ করতে ইবলিস কোন কার্পণ্য করে নাই। কথা ছিল অক্ষরে অক্ষরে ওটি হজম করার পালন করার। পৃথিবীর পশ্চাৎপদ জাতি হয় কেন মুসলিমরা?সহজ জবাব, এরা সত্যের সমাদর করে নাই। সঠিক পথে থাকলে তারা শিখরে থাকতো। গভীর অধঃপাতে তারা! ঝাড়ফুক, তুকতাক, যাদু টোনা, মানুষ ঠকানো, জিন ভূতের ব্যবসায় কেমনে কুরআন আসে? কুরআন মানা ও উন্নতির নমুনা কি এসব! গুণে দেখুন চৌদ্দশত + বছর সময়টা খুব কম নয়। ঈসা নবী গত হলে পর মাত্র ৬ শতকের মাথায় আর একজন নবী এসেছেন, তার নাম মুহাম্মদ। ধর্মটি পরিপূর্ণ হলেও ইত্যবসরে চারপাশ আবর্জনায় ভরে উঠেছে। কিন্তু আমরা নির্বিকার। কোন পরিশুদ্ধির কাজে আমরা নেই, জোড়াতালি দিয়ে ধর্ম চলছে পূর্ববর্তী সব বিকৃত ধর্মের সাথে ছন্দ মিলিয়ে। এর ভিন্ন কথা ছিল। এটি সেরাপথ, সেরা ধর্ম, তার আয়োজনও হবে সেরা। সবাই আকৃষ্ট হবে। আজ কেন আমরা অপরকে আকৃষ্ট করার শক্তি হারিয়ে ফেললাম? আমাদের অপরিপক্কতা, ব্যর্থতা কেন আমরা মাপছি না!

সত্যের সাথে মিথ্যে মিশাই: সুরা বাক্কারাহএর (২: ৪২ আয়াত) বিপরীত চলা, মিথ্যা হাদিস রচনা করে প্রথমে অপমান করা হয়েছে আল্লাহকে পরে নবীকে। হাদিস কালেকশনের সময় কথা ছিল যারা মিথ্যা হাদিস রচনাতে ধরা খাবে, তাদের কোন হাদিস গ্রহণযোগ্য হবে না। সেটি কিন্তু শর্তের মাঝে থাকলেও অনুসরণ করা হয়নি। যারা মিথ্যা হাদিসে ধরা খেয়ে মার খেয়েছে পর্যন্ত, তাদের হাদিস বাদ দেয়া হয়নি বরং বার বার নেয়া হয়েছে। স্কলাররাও জোর কদমে আগুয়ান। তারা এক ধারার আত্মবিশ^াসে আছেন যে যাই বলছেন সবই সেরা যদিও কুরআন বিরোধী কথা বলছেন তারপরও মনে করছেন উত্তম বলছেন! এভাবে আমরা মুসলিমরা মিথ্যার মাঝে ডুবে আছি আকন্ঠ। ফতোয়া দিয়ে রেখেছে আল্লাহ, এবং সেটি কুরআন। আজকাল প্রতিটি মানুষই ফতোয়ার মালিক। সুতরাং মুসলিমরা মার খাবে না তো খাবে কে? কুরআন শুধু মুসলিমদের পথ নির্দেশিকা নয়। এটি গোটা বিশে^র পথ নির্দেশিকা। কুরআন সম্বন্ধে আল্লাহ নবীকে নিশ্চিত করেছেন এ গ্রন্থ সম্বন্ধে তুমি সন্দিহান হবে না। এটি পরিপূর্ণ ও ব্যখ্যাকৃত আল্লাহ কর্তৃক। মানুষের ব্যাখার বাইরে এটি সত্য দিয়ে মোড়া (সুরা আল আনামের ১১৫ আয়াত)। এর পরের ১১৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন তুমি দুনিয়ার বাসিন্দাদের কথা শুনবে না, ওরা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। তারা অসার বিষয়ের অনুসরণ করে আর আন্দাজের উপর চলে। এখানে ঐ অসার ও আন্দাজের বিষয় থেকে আমাদেরও শিক্ষা নিতে হবে। মূল সত্যে আমাদেরও ফিরতে হবে। এসব আয়াত দ্বারা কুরআন আজো আমাদের জাগানোর বাণী প্রচার করে যাচ্ছে, আমাদের সম্বিত ফিরলে ভালো।

ফতোয়া: ফতোয়া বলছে শাওয়ালের ছয় দিনের রোজা না রাখলে তোমার মূল রমজানই মর্যাদা পাবে না । সুতরাং কোন অবস্থায়ই এটি ছাড় দেয়া উচিত নয়। এটি করলে যে কেউ সারা বছরের রমজানের সওয়াব পেয়ে যাবেন। মনে হচ্ছে সওয়াব বন্টনের নথিটা তারা পেয়ে গেছেন। এটি তাদের আলমারিতেই জমা আছে। অংকটাও খুব সহজ করে বক্তারা করে দিচ্ছেন।  কিভাবে ৩৬০ দিনের হিসাবে নেকীর ভান্ডার ভরে উঠবে। (৩০ X ১০) = ৩০০ + (৬ X ১০)= ৬০, সর্বমোট ৩৬০। অঙ্কিয় বিন্যাসের এই যোগফলে নিজেদের প্রতিভায় নিজেরাই মুগ্ধ!  এসব সূত্র কিন্তু কুরআন নয়, এসব মানুষ রচিত গ্রন্থ হাদিসের অর্জন, সম্পূর্ণ কুরআনের উল্টোকথা, বেয়াড়াকথা। সুরা বাক্কারাহএ রোজার আয়াতে স্পষ্ট কথা এসেছে। আল্লাহ স্পষ্ট করেই বলেন, তোমরা ৩০ দিন রোজা করবে, এটি নির্দেশিত হয়েছে নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনের জন্য (১৮৪ আয়াত)। এর পরের আয়াতেই রমজানকে সহজ করে বলা হয় তিনি তোমাদের কষ্ট দিতে চান না (১৮৫, ঐ)। হাদিস বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। তার কথায় কষ্ট কোন বিষয় নয়, এক মাস ৩০ দিনও কোন বিষয় নয়। বাড়াতে কমাতে হাদিসের এ প্রবণতা কেন? কার নির্দেশে এসব বাড়তি কমতি হয়েছে, সেটি কি সচেতনরা ভেবে দেখেছেন? (সুরা বাক্কারাহ এর :১৮৩/১৮৪, ১৮৫/ ১৮৬/ ১৮৭ আয়াত) এর উল্টো পথে হাটার এ ধৃষ্ঠতা হাদিস বেত্তারা কিভাবে অর্জন করলেন? আল্লাহর উদ্দেশ্য ছিল শাস্তি দেয়া বা কষ্ট দেয়া নয়, বরং মানুষকে সংযম শিক্ষা দেয়া, আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন (১৮৪, ঐ)। বলা হয়েছে ঐ মাসের দেখা পেলেই রোজা রাখবে। এটি খুব উত্তম শারিরীক মানসিক আত্মিক দিকেও উত্তম জমা। এটি তোমাকে (নবীকে) সুপথ দেখাতে সাহায্য করবে। বস্তুত এ আয়াতগুলিতে বলা হয়েছে এটি চরিত্র গঠনমূলক কিছু বিধান যা অনুসরণ করলে স্বভাব সুন্দর নবী ও তার অনুসারীরা আরো বেশী ভদ্র, সুশীল মানুষ হবে, বেয়াড়া নয়। এটি মানুষকে কোন অবাধ্যতা শিখাবে না। দেখা যায় কথায় কথায় ফতোয়াবাজরা সওয়াব বন্টনের একটি রেওয়াজ চালু করেছে, যেন তাদের এ কাজের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ভালো কাজে দশগুণ পূন্য বলে রেখেছে কুরআন আর বাকী হাদিস দিয়ে বেহেশতের গ্যারান্টি বিলি করা হচ্ছে, দশ গুণের বদলে ১০০ গুণ ৭০০ গুণ ৭০,০০০ গুণও করা হচ্ছে। তাদের এসব গুণ সংখ্যার বেহিসাব বৃদ্ধি দিনে দিনে বাড়ছেই। কমার কোন লক্ষণ নেই। আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুক। আমিন।

৩০ মে ২০২০ সাল।

 

Tag Cloud

%d bloggers like this: