Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

সময়টি ২০২০ সাল মাসটি এপ্রিল, ভয়ংকর দানবীয় সংকট সময়। সারা দুনিয়ায় এক অদেখা দানব করোনা হামলে পড়েছে। এমন সংকটে কাকে খুশী করতে এরকম ফাঁসি। এমন সংকটেও চোরদের স্বভাব বদলায় নাই। ইউপি সদস্যদের বসত ঘরের মাটি খুঁজে সরকারী চাল উদ্ধার। প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে এসব চাল চুরির হিড়িক চলছে। সরকার সচরাচরের মত ছড়ি ঘোরাচ্ছে কেউ নিস্তার পাবে না, কিন্তু কেউ ধরা পড়ে নাই, কারো ফাঁসি হয় নাই। মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন মাজেদের মরদেহ ভোলাতে তার গ্রামের বাড়ীতে দাফন দেয়া হবে না, বাঙ্গালী জাতি কলঙ্কমুক্ত হলো, বলছেন আইজি প্রিজন। ক্যাপ্টেন মাজেদ গত ৭ এপ্রিল গ্রেফতার হয়েছেন, কোথায় কিভাবে, আছে পরাস্পর বিরোধী খবর, কেউ বলছে ভোরে গাবতলী থেকে আটক কেউ বলছে মিরপুর থেকে। ইত্যবসরে সব সমাধা হয়ে তিনি শায়িত আছেন নারায়নগঞ্জে শ^শুর বাড়ীতে। এবার কবরের গ্রাম্য মালিকরা দেশ মালিকাকে খুশী করতে বাড়তি চামচামির নজির রেখে লম্ফঝম্ফ দিচ্ছেন, লাশ সরিয়ে পানিতে ভাসিয়ে দিবেন। করোনা রোগীর চেয়েও বেশী ধরা পড়ছে ত্রাণের চাল চোর, বলেছেন রিজভী। এসব চোররা আকাশ থেকে পড়েনি, এদের আপনি চেনেন আমি চিনি, বলেছেন প্রবাসে থাকা অধ্যাপক আলী রিয়াজ। এরাই তারা যারা শেখ হাসিনার নামে মিলাদ বানায়, এ ধারার গ্রাম্য মালিকরা তুষ্ট বানিজ্যে বাড়তি ফায়দার লোভে ইনভেস্টমেন্ট করছে। কোন এক যুবলীগ মহিলা ফাঁসি শুনে ইন্নালিল্লাহ পড়লে তার উপর অশ্রাব্য বর্ষন শুরু হয়। ইন্নালিল্লাহ পড়ার অর্থ হচ্ছে আল্লাহকে স্মরণ করা ও নিজের মৃত্যুকে স্মরণ করা। নাকানী চুবানী খেয়ে যুবলীগ মহিলা বলেন তিনি এটি মাজেদের জন্য নয়, মুজিবের পরিবারের উপর পড়েছেন। ঐ দিন ১৫ই আগষ্ট সারা দেশবাসী একযোগে খুশী হয়েছিল, এটি সবাই জানে। মনে হচ্ছে যারা সেদিন ইন্নালিল্লাহ পড়তে ভুলে ছিলেন, আজ ৪৫ বছর পর, মাজেদের কল্যানে মুজিবের উপরও কিছু দোয়া বর্ষিত হলো। এটিও মন্দের ভালো।

কজন মুক্তিযোদ্ধাকে কেন খুন করা হলো। কেন মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধকারীদের বিচার হলো না। তার জবাব আজো গোটা জাতির কাছে স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ পূর্ববর্তী শেখ মুজিব গোটা জাতিকে উজ্জীবিত করে যুদ্ধের ঘোষণা ছাড়াই মাসিক ১৫০০ টাকার শর্তে নিজ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আড়ালে চলে গেলেন। মুজিবের পরিবার মেজর না হয়েও ৪০০ টাকা নয় বরং এর ৩/৪ গুণ বেশী বরাদ্দে আয়েশে সংকট সময় পার করে। বাকী জাতি ময়দানে অস্ত্রের মোকাবেলা করেছে, পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে মল্লযুদ্ধ করেছে, যুদ্ধের ময়দানের সব পাট সেরেছে। মুজিবের এই ছলনা সেদিন জাতি বুঝতে পারে নাই। তারা মনে করেছে পাকিস্তানী শাসকরা মুজিবকে ধরে নিয়ে গেছে। তিনি যে স্বেচ্ছায় ধরা দিয়েছেন এটি বর্তমানে অনেক গুনিজনের কলামে স্পষ্ট হচ্ছে হয়েছে। সে হিসাবে মুক্তিযুদ্ধ যে কি জিনিস সেটি মুজিব যেমনি টের পান নাই তার গোটা পরিবারও টের পায় নাই। জিয়া পরিবারসহ বাকী দেশবাসীর ঘাড়ের উপর দিয়ে ঘূর্নিঝড়ের মত এ তান্ডব বয়ে গেছে। যার খেসারতে পাকিস্তানী শাসককুলের হাতে নিগৃহীত মানুষরা দেশীয় দালালগং কর্তৃক বাড়তি অনিরাপত্তার শিকার হয়। এর বিচার করার দায় মুজিব বোধ করেন নাই, কারণ প্রকৃত যুদ্ধ ও তার তান্ডব তার বা তার পরিবারের জানা নেই। তার পরিবারেরও জানা থাকলে তারাও তাকে সতর্ক করতো যে এদের বিচার জরুরী। শেখ মুজিবের মৃত্যুকে অনেক বিদগ্ধ জনকে বলতে শুনেছি এটি এক ধরণের আত্মহত্যা। মুজিব এমন সব কান্ডকীর্তি করে বাংলাদেশীর জগত জীবনকে বিধ্বস্ত করে তুলেন যা তার পাওনা হয়ে আত্মহত্যার পর্যায় পড়ে। এসব তার দাম্ভিকতার জমা পাওনা, তার হাতের কামাই।

মুক্তিযোদ্ধা মেজর অবসরপ্রাপ্ত এম এ জলিলের ‘দাবী আন্দোলন দায়িত্ব’ গ্রন্থ থেকে বলছি, মুজিবের সে শাসনকালটি ছিল চরম দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিপূর্ণ, দুঃশাসনে ভরা একটি দুঃস্বপ্নের কাল। সেনাবাহিনী থেকে একটি ক্ষুদ্র বাহিনী জনগণ ছাড়াই ছুটে এসেছিল সেই দুঃশাসন মুছে ফেলতে। তাদের বীরত্ব জনগণের কাছে স্বীকৃত, জনগণের আকন্ঠ প্রশংসা কুড়িয়েছে সেদিনের সরকারবিরোধী নেতৃত্ব। দেশের আপামর জনগণ সেদিন সেই যাতনামূলক সুঃশাসন থেকে প্রতিনিয়ত মুক্তি কামনা করতো। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয়া, সব রাজনৈতিক দল বাতিল, গুন্ডা বাহিনীর এক ত্রাসের রাজত্ব দেশে কায়েম করে এক দলীয় শাসনের আওতায় ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে জেলায় জেলায় গভর্ণর নিয়োগ হয়ে গেলেই শাসকদল বাংলাদেশে যা ইচ্ছে তাই করতে পারবে। কোথাও কোন টু শব্দ নেই। যারা কথা বলতো তাদের ৭৪এর মার্চ থেকেই দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। — আকস্মিকভাবে ছুটে এল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে কতিপয় তরুণ অফিসার, এরা সকলেই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। এ ঘটনায় জাতি সরাসরি উপকৃত হয়েছে। জাতি এসব ১৫ই আগষ্ট সংগঠনকারীদেরকে নিছক হত্যাকারী হিসাবে মনে করে না, রক্ষাকারী হিসাবে গণ্য করে। — ৭২ থেকে ৭৫ যদি একটি ভয়ানক কালো সময় দুঃশাসন হিসাবে স্বীকার করি, নিঃসন্দেহে এরা ভাল কাজ করেছে এবং অভিনন্দনের দাবীদার নয় কি? — যারা দেশ ও জাতির দুর্ভোগ নিরসনের জন্য সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করে, তারা নিঃসন্দেহে অন্যদের তুলনায় সচেতন ও প্রশংসার দাবিদার (ঐ গ্রন্থ ১৭-১৯ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)।

আর একটি বইএর নাম উল্লেখ না করে পারছি না। মুজিবকন্যার ১৬ বছরের নিত্য সঙ্গি মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেন্টুর কথা। তিনি নিজের ফাঁসির দাবী জানিয়ে বই লিখে এসব বেদনার কথাই শুধু নয় শেখ মুজিব ও তার কন্যার ফাঁসির দাবী জানিয়ে গেছেন। এ দাবীর উপর একটি লেখা এখানেই আমার ব্লগে জমা আছে আপনারা চাইলে পড়তে পারেন। লেখার নাম ফাঁসির দন্ড চাওয়া ছিল একজন মুক্তিযোদ্ধার ঐতিহাসিক রায়”।

আর একজন সচেতন সমাজের এক সত্য সাধক ঐ চলমান ঘটনা দেখা ডাঃ এম এ শুকুরের একটি বই ‘হাতুড়ে’, ছদ্মনামে ছইফুল্লাহ নাম নিয়ে লেখা থেকে সামান্য কথা। বস্তুতঃ জীবনের প্রতি পদক্ষেপের মধ্যপথই হচ্ছে সত্যপথ। তাই বিচারের নামে নিরীহ নিরপরাধ লোকদের বিড়ম্বনা যেমন সমর্থনযোগ্য নয়, তেমনি ক্ষমার নামে জঘন্য অপরাধিকে ছেড়ে দেয়ার পক্ষে ওকালতি শুধু শান্তির পরিবেশকেই বিঘিœত করে মাত্র। একাত্তরে সংঘটিত বিপর্যয়ের মূল হোতা যারা, তাদের বিচার না করে অদৃষ্টের নিগড়ে আবদ্ধ লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ আর তাদের পরিবার পরিজনকে কেন যে তুরুফের তাসে পরিণত করা হলো তা ভাবতে অবাক লাগে। —- একথা অনস্বীকার্য্য যে একাত্তর সনের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এদেশে দু’টি সরকার চালু ছিল। জনগণের সমর্থন ও সহানুভূতি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার ভিন দেশে অবস্থান করেছিল এবং সাধারণ মানুষকে প্রাণের দায়েও জালিমের সহযোগিতা করতে হয়েছিল। সে হিসাবে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে আগাগোড়া ব্যাপারটিকে ক্ষমার চোখে পর্যালোচনা করা উচিত ছিল কিন্তু বাস্তব দূরদৃষ্টির অভাব ও প্রত্যক্ষ অবস্থা হতে দূরে অবস্থান হেতু ব্যাপারটিকে কার্যত জটিল থেকে জটিলতর করা হয়েছে এবং এতে আগাগোড়া লাভবান হয়েছে শুধুমাত্র আমাদের শত্রুরাই। — দেশাত্মবোধের অভাব আজ দুর্ভিক্ষের পর্যায়ে। তাই দেশকে পূজা করার লোকের ভিড়ে পথ চলা দায় কিন্তু দেশপ্রেমিক খুজে পাওয়া যায় না।

দেশকে ভালবাসা এবং দেশকে পূজা করা এক কথা নয়। দেশকে ভালবাসতে হলে দেশের মানুষের কল্যাণে নিজকে আত্মাহুতি দিতে হয়, পরন্তু মাকে যারা পূজা করে, নারীর অমর্যাদা করে তারাই সর্বাধিক! আমরা মাকে শ্রদ্ধা করি কিন্তু পূজা করি না, মার চরণতলে আমরা স্বর্গের কামনা করি বটে কিন্তু তথাপি তার চরণে মাথা পেতে দিই না। মানবাত্মার এই অমর্যাদাকে আমরা সৃষ্টির চরম বিপর্যয় বলে মনে করি। এরুপ অলীক অমানবতাকে আমাদের সমাজ তথা জাতীয় জীবনে আরোপের প্রতিটি চেষ্টাকে আমরা রুখে দাঁড়াবো, প্রয়োজন হলে সর্বস্ব পণ করেও। অদৃষ্টের পরিহাস, আজ ধর্মনিরপেক্ষতার নামে সত্য ও মিথ্যা, আলো ও অন্ধকার এবং ন্যায় ও অন্যায়কে সম স্তরে এনে দাঁড় করানো হয়েছে, অথচ ধর্ম আর ধার্মিকতাকে সাম্প্রদায়িকতায় আখ্যায়িত করে বিসর্জন দেবার প্রস্তুতি চলছে। দেশকে পূজা করার পদ্ধতি যারা আবিষ্কার করেছিল দেশের মানুষকে তারা সম্মান দিতে পারে নি। দেশের মানুষের ভাগ্য বিড়ম্বিত করে দেশের মাটিকে পূজা করার যে অলীক বিধান তা কিছু সংখ্যক শোষকের জন্য স্বর্গসুখ রচনা করতে সক্ষম হলেও কার্যতঃ মানুষকে তা সর্বহারার পর্যায়ে ঠেলে দেয়। উপরের কথাগুলি ডাঃ শুকুরের।

মুক্তিযোদ্ধা মাজেদকে বলা হচ্ছে আত্মস্বীকৃত, আজ যদি বিধাতার আদালত বসে, ঐ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন মাজেদকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ওহে মাজেদ মিয়া, এ অপকর্ম করলে কেন? মুক্তিযোদ্ধা মাজেদ কি বলবেন যে আমি খুনী। বাংলাদেশ লুটে খাওয়ার জন্য আমি এদের খুন করেছিলাম, সাধ ছিল গদিতে বসবো, টাকা লুট করবো, গুন খুন করবো রামদা, লগি বৈঠা, হাতুড়ীর পিটানী দেব। শেখ মুজিবের কন্যার কারণে পারলাম না, সে বিনা দ্বিধায় গদিতে বসে সরকার,  ক্রমাগত বছরের পর বছর এসব অপকর্ম করছে, তারপরও দোষী হচ্ছে না। সেদিন কি অবৈধ রাতের ভোটচোররা ছাড়া পাবে? গোলাম স্বভাবের মেরুদন্ডহারা জনতারা আজো ডাকাতের সাথে তালিয়া বাজিয়ে বলছে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেব। যেন দেশের মালিক মুজিবের কন্যা আর গ্রামের মালিক তার গ্রাম্য চেলাগুলি। লাশকে মাটিতে পুতলেই কি আর আকাশে উড়িয়ে দিলেই কি – সে তো মরে গেছে,  তার আত্মা যেখানে যাবার সেখানে চলে গেছে। মনে হয় যে নরকে উনি ছিলেন সেখান থেকে উনি ভালো আছেন, ভালো থাকবেন। ভালো থাকার যুক্তি হচ্ছে এ জন্য তার কৃতকর্ম প্রমাণ করে তিনি নিঃস্বার্থ ছিলেন দেশের জন্য। আত্ম চিন্তায় মগ্ন না থেকে বৃহত্তর কল্যানে আগা গোড়া জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি সাগরচুরিতেও নেই হরিলুটেও নেই। ফেরাউনের অত্যাচারে যখন মিশরের মাটি কাঁপছিল সেদিন মুসার কর্মকান্ড মুসাকে কলঙ্কিত করে নাই। নবী মুসা ছিলেন খুব শক্তিশালী মানুষ, একদিন ফেরাউনের এক দালাল দাপটি যখন একজনকে অত্যাচার ও লাঞ্ছিত করছিল,  তা দেখে তিনি সহ্য করতে না পেরে তাকে ঘুষি মারেন। এতে লোকটি মারা গেল। তখন তিনি বললেন এটি এই শয়তানের কাজের ফলে সংগঠিত হয়েছে। নিঃসন্দেহে সে এক শত্রু, প্রকাশ্যভাবে বিভ্রান্তকারী। তিনি এতই শক্তিশালী লোক ছিলেন যে তার এক ঘুষিতেই লোকটি ওক্কা পেল। পরক্ষণেই তিনি আল্লাহর কাছে চাইলেন নিঃসন্দেহে আমি আমার নিজের প্রতি অত্যাচার করে ফেলেছি। হে আল্লাহ এ জন্য আমাকে পরিত্রাণ করো। এবং তিনি (আল্লাহ) তাকে পরিত্রাণ করলেন। কারণ তিনি পরিত্রাণকারী অসীম কৃপানিধান। ঘটনাটি সুরা আল ক্বাসাস অর্থ কাহিনী সুরার ১৫/১৬ আয়াত। ১৭ আয়াতে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞা করলেন কখনোই অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক হবেন না। উপরের ব্যাখ্যাতে কুরআনের এ ভাষ্য থেকে আপনারা শয়তানকেও চিনে নেন।

যুক্তির কথা হচ্ছে নবী মুসা মানবতার কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় লোকটি মরে গেলেও এটি আল্লাহর কাছে পাপ নয়। এরকম আরো ঘটনা আছে এই কুরআনে বৃহত্তর স্বার্থে বৃহত্তর কল্যাণে করা ত্রুটিযুক্ত কাজও আল্লাহ ক্ষমার চোখে দেখে। বিধাতার দরবারে এদের জবাব শুনে আজকের বিচারকেদের উপর মুগোর নিক্ষিপ্ত হবে না, এটি বলার অবকাশ কম। মুক্তিযোদ্ধা মাজেদরা পুরষ্কৃত হবেন না, বলার কোনই অবকাশ নেই। মুজিব মারা যাবার পর তার নিজের লোকেরা বলেছে ফেরাউন নিপাত গেল। সে হিসাবে যারা এরকম জাতীয় সংকটে নিজের জীবনকে বিপন্ন করে এমন কাজ করে জাতি উদ্ধারের কাজ করেছে, তারা নবী মুসাদের মত সম্মানিত হবেন না, এটি কি কেউ হলফ করে বলতে পারবেন? আল্লাহ তো নিজেই বলে রেখেছে আমার বিচারে কোন অবিচার পাবে না। আমরা নিজেরা জানি ঐ সময় আপনাদের দলবাজরা সাধারণ নিরিহ মানুষকে ভয় দেখিয়ে আরও ২৫ বছর জবর দখলের হুমকিও দিত। সে হুমকি আজো বহাল আছে।  সারা জাতি সেদিন ভয়ে থর থর করে কেঁপেছে। যার জন্য জাতির কেউ কাঁদে নাই। সবাই ৯৯% মানুষ মনে মনে নয় প্রকাশ্যে খুশী, মহাখুশী হয়েছে। দুহাত তোলে বিধাতার দরগাহে দোয়া চেয়েছে, এ শাসককুলের অবসান হোক। আজো কেন আবার জনতারা সেটি চাইছে, মনে হচ্ছে চাইতে চাইতে করোনা ডেকে নিয়ে এসেছে। বিধাতা নিরবে সব পর্যবেক্ষণ করছে, কেউ ছাড়া পাবে না। অনাচার করে স্থায়ী পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই, অন্তত বিধাতার কাছে। আল্লাহ আমাদের সবার সুমতি দিক।

লেখার সময় ১৩ই এপ্রিল ২০২০ সাল।

Tag Cloud

%d bloggers like this: