Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

বাংলাদেশের জনতা করোনা: বিদেশ ফেরতরা বলছে বাংলাদেশে বিমানবন্দরে কোন ধরণের বাছ বিচার করা হচ্ছে না, করোনা কি জিনিস তা নিয়ে সবার অসচেতনতা ছিলই আর এখন সরকার সচরাচরের মত লুকোচুরি খেলছে। হয়তো সামনে লাশ গুম করবে, অসচেতন গাফেল সরকার মুজিব বন্দনাতে সময় পার করছিল। করোনা এদেশে এসেছে তার দাগ সরকার খোঁজে নাই, কেয়ারও করে নাই, নজর ছিল অন্যদিকে। তা ছাড়া অনেক তথ্য নিশ্চিত করছে সরকার চারপাশকে চাপে রাখছে করোনার কথা বলতে নিষেধ করছে। সচরাচরের মত অপরাধী সরকারের প্রচেষ্টা দেশের প্রতিটি সেক্টরের দোষ ঢাকার প্রচেষ্টা। যখন মুজিব বন্দনাতে বিদেশীরা আসবে না বললো তার আগ পর্যন্ত সরকার করোনার ধারেকাছেও নেই, বরং লুকাতে ব্যস্ত। গো বেক মোদি, কথাটি খুব সম্মানের বিষয় নয়, বরং লজ্জার। মোদির জন্য এ যাবত ৮ মার্চ পর্যন্ত সরকার ছিল পাগলপ্রায়। সারা দেশের মানুষ বিদ্রোহী হলেও, সরকারের হুমকি ধমকি বহাল ছিল। ভারত বাংলাদেশ উভয় পক্ষে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়, চুক্তির নামে ঝুলানো লোভের মূলা, তিস্তাকে বাদ রেখে ছলবাজী মেঘ কাটার গল্পও শোনানো হয়। নদীপথের যাতায়াত বাড়ানো ও চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহারের ভারতীয় লাভ জমা করতে মোদির উৎকন্ঠাও লুকানো থাকে নাই। ভারত কখনোই তার লাভের চুক্তি পাওনার জমা ভুলে না। একতরফা লাভে সবদিন আগুয়ান। বাংলাদেশকে তাদের দখলদারী অংশ মনে করে একতরফা লুটপাটের চুক্তি ও আলোচনা চলে। বেশীরভাগ সময় এর বেশী কিছু জানেও না বাংলাদেশীরা। মুসলিমরা মোদির চোখে বিষফোঁড়া। বাংলাদেশে মুসলিম আলেমদের প্রতিবাদের কাছে তার সব কপট কৌশল মুখ থুবড়ে পড়লো। মোদি গো বেকে বাধ্য হয় বহুদিন থেকে তার একতরফা অর্জন, এবার বাধ সাদলো বেরিকেড হয়ে দাঁড়ালো বাংলাদেশের জনতা ও করোনা।

সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদন:  সতর্ক সংকেত এসেছে বিশিষ্ট জনদের গবেষনা প্রতিবেদন থেকে। খুব সংক্ষেপে ঐ পরিসংখ্যান আনছি। বাংলাদেশের ব্রাক বিশ^বিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ^বিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ^বিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও এপিডেমিওলজিস্টদের লেখা এক গবেষনা প্রতিবেদনে এমন আশঙ্খা করা হয়েছে। শংকা প্রকাশ করা হয়েছে ৫ লাখেরও বেশী মানুষ মারা যেতে পারে। শংকায় ৮ মে থেকে এটি ছড়াতে থাকবে। ২৮ মে থেকে এটি ৮ কোটি ৯১লাখের উপর ভর করতে পারে। এদের এক অংশকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে। কিছুদের নিবিড় পরিচর্যার দরকারও পড়তে পারে। সর্বমোট ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা। মোট জনসংখ্যার ৮১% আক্রান্ত হতে পারে। তবে সরকারের তড়িত পদক্ষেপে সেটি কমতেও পারে। কত কমবে সেটি ব্যাখ্যাতে আসে নাই। তাদের হিসাব অনুযায়ী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৪৬৪০ জন রোগীর ৫৯জন হাসপাতালে নেয়া হবে ১২ জনের নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন পড়বে এবং মারা যাবে একজন। সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগীর সংখ্যা দেখা যেতে পারে মে মাসের ১১ তারিখে ১ কোটি ৪১ লাখেরও বেশী। ১৪ মে / ১৬ মে তে হাসপাতাল নিবিড় পরিচর্যাতে ছুটাছুটি শুরু হবে। দেখা যাবে ২৬ মে একদিনেই ৮০ হাজার ৭৯৬ জন মারা যেতে পারেন। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৮ মেতে একজন মারা যান মানে ততদিনে সারা দেশে ১,৬৮৫ জনের মধ্যে এ রোগ ছড়াবে। ৩১ মার্চ নাগাদ লক্ষণ দেখা যেতে পারে ২১ হাজার ৪৬১ জনের মধ্যে। হাসপাতাল দৌড়াদৌড়ি, নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর ৬ জন মারা যেতে পারে। গবেষকরা আশংকা প্রকাশ করছেন তারা যতটা বলছেন তার চেয়েও ভয়ংকর হতে পারে বাস্তব। বাংলাদেশে যেখানে বলা হচ্ছে ১ জন মারা গেছে এর সত্যতা কতটা নিশ্চিত, ধারণা করা হয় এর চেয়েও বেশী হতে পারে। নানান সতর্ক সংকেত ও বানী থেকে তাই মনে হচ্ছে সরকার এসব পরিসংখ্যানে ধামাচাপার চেষ্টায় আছে। পরিসংখ্যানটি ২০১১ সালের মানুষের বয়সের অনুপাতে সাজানো হয়। বর্তমানে বয়স্কদের সংখ্যা বেড়েছে, তাই মৃত্যুর শংকাও বাড়তে পারে। প্রতিবেদনটি যৌথভাবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ গবেষক দ্বারা করা হয়। এর মূল গবেষকরা লন্ডনের বিখ্যাত ইম্পোরিয়াল কলেজের গবেষকদের উদ্ভাবিত মডেলের আলোকে করা, পরবর্তীতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরিস্থিতির উপর প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। সংক্রামক রোগের উপর করা ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকদের কাজ খুবই উচ্চ মানসম্পন্ন। ঐ মডেল অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে প্রায় ৫ লাখ ও যুক্তরাষ্ট্রে ২২ লাখ মানুষ মারা যেতে পারে। উল্লেখ্য, এসব প্রকাশের পর যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এটি মোকাবেলায় বড় ধারার পরিবর্তন আনে। (নেত্র নিউজ থেকে ২১ মার্চ ২০২০। সুইডিশ সময় ১৮:২০)।

করোনার বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ নিন: যুগে যুগে অতীতেও মানুষ এভাবে সংক্রামক রোগের ভয়ংকর বিপদের মুখোমুখি হয়েছে। দুনিয়া যতই এক হচ্ছে ভাইরাস ততই ভয়ংকর স্বরুপ নিয়েছে। সততা মানবতা ও দক্ষতা দিয়ে জীবনে তার মোকাবেলা করা জরুরী। করোনা কেন হয় কিভাবে ছড়ায় এর মাঝে সবাই এটি জেনেছেন। যতদূর পারা যায় মানুষের সংস্পর্শ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা জরুরী। হাতের ছোঁয়াতে এটি ছড়াবার সম্ভাবনা থেকে আলাদা আলাদা দূরে থাকতে বলা হচ্ছে। যে কোন বিপদেই আল্লাহর সাহায্য চাওয়া বাঞ্ছণীয়। তারপরও শুধু সাহায্য চাইলেই মানুষ নিরাপদ, এমন কোন শর্ত নেই। কেউ কেউ বেয়াড়াপনা করে বলছেন মসজিদ ছাড়বো না, বেশী করে নামাজ পড়তে মসজিদে যাবেন। ধরে নিচ্ছেন এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি বেশী পাবেন। বস্তুত আল্লাহ বেওকুফের জন্য অনুদার। কারণ মানুষকে বিবেক দেয়া হয়েছে, সে যদি বিবেকের সঠিক ব্যবহার না করে বেওকুফী করে মরে তার দায় কেন আল্লাহ নিতে যাবে। মানুষকে আল্লাহ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব বানিয়েছে এ কারণে যে তারা তাদের মগজের সঠিক ব্যবহার করবে, যুক্তি দিয়ে জ্ঞান দিয়ে বুদ্ধি দিয়ে সঠিক সত্যকে গ্রহণ করবে। কেউ যদি স্বেচ্ছায় আগুণে ঝাপ দিয়ে বলে যে আল্লাহর হুকুমে তার কিছু হবে না। আগুণের ধর্ম পুড়িয়ে মারা, ঐ ধর্মটিও আগুণের স্বভাবের অংশ। তাই একজনকে বাঁচতে হলে আগুণকে তার ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। নবী মোহাম্মদ (সঃ)কে কুরাইশরা ১০০ উটের পুরষ্কারে তার মাথার দাম নির্ধারণ করার পরও ধরতে পারে নাই। কিন্তু তারা নবীর মাথার সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরে। নবীকে আল্লাহ সাহায্য করেছেন এটি সত্য এবং নবীও তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ঘটনার জটিলতা বুঝতে পেরে আগের রাতেই গৃহত্যাগ করে সওর পর্বত পর্যন্ত পৌছান। অতপর গুহার ভিতরে সূর্যদোয় পরে আত্মগোপন করে কপটদের দৃষ্টির আড়ালে গোপন থাকেন। অবশ্যই আল্লাহর অসীম রহমতে বেঁচে যান। উন্মত্ত কুরাইশরা তাকে মারতে গিয়েছে, তাদের ঘোড়ার পদভারে প্রকম্পিত পাহাড়ে ভয় পাওয়া নবী ও আবুবকর আল্লাহর সাহায্য চেয়েছেন। আল্লাহর সহযোগিতায় তারা গুহার অভ্যন্তরে নিরাপদ থেকেছেন। সবযুগেই নবী রসুলরা সাধু সজ্জনরা এভাবে আল্লাহর সাহায্য পেয়েছেন তার অর্থ এটি নয় যে তারা হাত পা ছেড়ে বসে ছিলেন আর আল্লাহ তাদেরে দৈব কৌশলে উদ্ধার করে মদিনায় পৌছে দেন। তারা নিজেরা দায়িত্বশীল ও কর্তব্য পরায়ন ছিলেন এবং আল্লাহর সহযোগিতা পেয়েছেন। মানুষ দাঁড়িয়ে বসে শুয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহর সাহায্য চাইতে পারে, প্রার্থণা করতে পারে। দেখা গেছে বৃটেনের এক পরিসংখ্যানে ২৫% মুসলিমরা মারা গেছে করোনায়। অনেকে এও মন্তব্য করছে তারা তাদের কিছু মনগড়া বেয়াড়া মনোবৃত্তির কারণে এ গড় হিসাবে ধরা খেয়েছে। যুক্তির ধর্ম ইসলাম যুক্তিহীন ভৌতিক ধর্ম নয়।

সরকারের রাজশিক গাফিলতি: বাংলাদেশ সরকার যেভাবে জন্মশতবর্ষ পালন করতে চেয়েছিল, দুনিয়া কাঁপানো করোনাকে একপাশে ঠেলে দিয়ে। একটি বিতর্কীত মানুষকে নিয়ে ঢলাঢলি করতে চেয়েছে সরকার, যারা আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে আক্রমণ করছে তাদের এনআরসি বিষয়ক আরএসএসরা। মন্ত্রী কাদের ধমকে উঠেন, নরেন্দ্র মোদির বিরোধীতা করতে লজ্জা করে না। লজ্জার কি বুঝেন কাদের? আত্মসচেতন জাতি কাদেরের থেকেও বহুগুণ বেশী সমঝদার। তারা বলেছেন করোনা বিএনপির রাজনীতি ও কারসাজি। বাংলাদেশের সরকার যেভাবে মরার উপর খাড়ার ঘাঁ মেরে মুজিব বর্ষকে পালনে নেমেছিল, বিদেশের ঋণে খাওয়া ঘি খোর ফকির দেশটির রাজশিক আচরণ অতীতেও বিতর্কীত হয়েছে বারে বারে। ইত্যবসরে করোনা এক ভয়ংকর গজব হয়ে হাজির হয়েছে। ক্ষমতায় অন্ধ সরকার কল্পনায় বাবা পূজায় ব্যস্ত সময় পার করেছে, বাস্তব দুনিয়া তাদের সামনে ছিল না। কল্পনার ফানুসে হাতির ঝিলের আতশবাজিতেও মুগ্ধ ব্যস্ত মুজিব পরিবার, পারিবারিক শতবর্ষ পালন করছে রাষ্ট্রীয় খরচে। সাত মেট্রিক টন = ১৭৫ মণ আতশবাজি বিদেশ থেকে কেনা হয়েছে, আলোকশয্যায় ঢাকা শহরের সাজ সাজ রব। উৎকন্ঠিত মোদির অগ্রদূত শ্রিংলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ঘুরে যান। উত্তাল সারাদেশ নারাজি মোদিতে, চিন্তার বলিরেখা কপালে। না হলে এ যাত্রা ঠেকায় কে? পত্রিকার শিরোনাম ‘গভীর রাতে মুজিব কন্যা তার পরিবার নিয়ে হাতির ঝিলে’।

মুখর মন্ত্রীরা, উপনির্বাচন তাদের শেষ দাগ: বিএনপির রিজভী বলছেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলাতে সরকার শুধু লিপ সার্ভিস দিচ্ছে। মুজিববর্ষের বন্যায় ভেসে যাওয়া তথ্য মন্ত্রী হাসান মাহমুদ উচ্ছাসের অতিশয্যে বলছেন, ‘বিএনপির সুযোগ ছিল মুজিব বর্ষে হত্যা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার’। এসব অপ্রাসঙ্গিক মিথ্যাচারী বাচাল নেতাদের সামনে এসে আজরাইল দরজাতে টোকা দিলেও তারা নিজেদের ত্রুটিও দেখে না বিপদও দেখে না। দেখে পরের বিপদ, ক্ষমতায় অন্ধ পরনিন্দায় অবিচল। একই ধাতে গড়া নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন পিছাতে রাজি না করোনা থেকেও ভয়ংকর তারা নিজেরা সরকারী দালাল। ইভিএম সম্বল করা দালালরা প্রার্থীদের বুথে ঢুকতে দেয়নি, ভোটাররা কেন্দ্রে যায়নি। গেটে পাহারা জোরদার ভোট দেয়া দূর অস্ত, ভোটকেন্দ্রে ঢোকার হুকুমই বাতিল সরকারী দম্ভ প্রমাণ হয়েছে এবারও। ওবায়দুল কাদের বলেছেন তারা করোনা থেকেও ভয়ংকর। জাতিকে এভাবে দুই ভাইরাসের সাথে লড়তে হচ্ছে। আগাম করোনা সংকেত থেকে সরকার কোন অর্জন জমা করেনি। সরকার নিশ্চিন্ত ছিল, মরবে তো গরীব বিরোধীরা, শক্তিমানদের মরার সুযোগ কম। আতশবাজীর তলানীতে ফূর্তির বছর কাটাবে। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের বাচাল প্রশাসন মুখর থেকেছে। মস্ত্রীদের কথা কখনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পর্যায়ের আবার অনেকের কথা কুফরি কালামের পর্যায়ে পড়ে। মন্তব্যগুলো লোম দাঁড় করিয়ে দেবে। করোনা নিয়ে বিএনপি জনগণকে আতঙ্কিত করছে, তথ্যমন্ত্রী। শেখ হাসিনা থাকতে করোনা আমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না নৌপরিবহন মন্ত্রী,  করোনা প্রতিরোধে ঢাকা বিমানবন্দরের মত ব্যবস্থা উন্নত দেশগুলোতেও নেই, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, শেখ হাসিনার মত নেত্রী পেয়েছি বলেই তা প্রতিরোধ করতে পারছি, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ ইতালী স্পেনের মত ভুল করবে না, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। করোনা মারাত্মক রোগ নয়, এটি সর্দি জ¦রের মত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, করোনার চেয়েও আওয়ামী লীগের শক্তি অনেক বড়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী, করোনা ভাইরাস মারাত্মক নয় ছোঁয়াচে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, করোনা নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা ইতালীর চেয়েও বেশী সফল বাংলাদেশ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী। উপরের দালালগুলোর প্রকৃতি ও আচরণ ইতিহাসে দলিল হয়ে থাকবে। দেখলাম এই দালালগুলোর অতিআচার ও অত্যাচারে জর্জরিত কর্মকান্ডে ইউরোপ বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস অর্ডার বাতিল করছে। তারা এ দলবাজ মিথ্যাচারী বকওয়াজগুলোকে বিশ^াস করে না। আরো কঠিন যুদ্ধ সামনে আসছে। সব নষ্টামীর খেসারত দিবে ঐ হতভাগা জাতি। আল্লাহ এদের মুখে লাগাম দিক। অবৈধ সরকার এসব দালাল পুষে, দেশ পরিচালনার নামে এসব ভাড়ামির জন্যই তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরা দলেবলে বহুদিন থেকে মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। কপটদের স্বভাব সাধারণত বদলায় না।  সবারই শংকা করোনায় ভর করে আরো বড় খেল জমা করবে দাগাবাজরা। মানুষের লাশ লুকোবে, গুম করবে গিলে ফেলবে সতি সবিত্রী ময়দানে তারপরও দেবীরুপে হাজিরা দেবে। মানুষ মেরে যে অবাধ অপকর্ম করার রাজনীতি উদোর পিন্ডি ভোদড় ঘাড়ে চাপানোর ছলবাজি কসরত চলছে, সাম্প্রতিক উপনির্বাচন তার সর্বশেষ প্রমান।

জাতি দুই ভাইরাস নিয়ে লড়ছে: সারা জাতির মতই খালেদা জিয়াও দুই শক্ত ভাইরাসের সাথে লড়ছেন। এক হাসিনা সরকার অন্য ময়দানের করোনা।  খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা রহমান সাংবাদিকদের বলেন ৫ মিনিটও দাঁড়াতে পারেন না খালেদা জিয়া (১২ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০) ৭৫ বয়স উর্ধ এ মহিলাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে যা করার সবই করা হচ্ছে। আদালতকে হাতের মুঠোয় নিয়ে উঠবস করানোর প্রমানও বর্তমান। সবদিকেই খালেদা জিয়া চরম ঝুকিতে আছেন! এ ঝুকিতে মুখর দলবাজ ছাড়া বাকী সারা দেশ একদিকে! ছলে বলে কলে কৌশলে সরকার চাইছে খালেদাকে হত্যা করতে এ অভিযোগ ইতমধ্যে উঠেছে, সারা জাতি তার স্বপক্ষে মিটিং মিছিল করছে তারপরও সরকার ধামাচাপাতেই জাতিকে গুম খুনে হত্যা করছে একইভাবে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকেও মৃত্যুর এজেন্ডা নিয়েছে। ইতালীর প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সমাধান শেষ, এখন বাকী একমাত্র আশা আকাশে, অদেখা বিধাতার দিকেই তিনি ইঙ্গিত করছেন। করোনার এ হুমকি এসেছে দৈব থেকে, সেটি মাথামোটাদের বুঝতে হবে। দৈবের সাথে ভন্ডামী মশকরা কান্ডে মানব জাতি সীমা ছাড়িয়ে গেছে, বাংলাদেশ সরকারও ছলাকলাতে শিরোমনি। তারপরও শেষ ভরসা আল্লাহর আদালতে নিভৃতে বিচার চাওয়া। সরকার জাতিকে উদ্ধার করবে, সে ভরসা জাতির সামনে কম। কোন ভাবে সংক্রমিত হলে ভীতি না ছড়িয়ে সঠিক পরিচর্চা নিজেকেই করতে হবে। এমন সংকটে কাছের বাকীরাও ভীত থাকবে। আত্মবিশ^াসী থেকে ভিটামিন সি খাওয়া, পানি জাতীয় লিকুইড খাওয়াসহ রোগের বিস্তার না ঘটানোর ব্যাপারে সংযত থাকতে হবে। দালাল মন্ত্রীদের নয় বরং বিশেষজ্ঞদের কথা শুনতে হবে। আল্লাহর সাহায্য চাইতে কার্পণ্য নয়, মনের দুর্বলতা মানুষকে তাড়াতাড়ি অসুস্থ করে, আবার সবল আত্মবিশ^াসে বিশ^াসী মানুষ আশার আলো জাগাতে পারে। এ জন্য বলা হয় মরার আগে না মরতে। কঠিন সংগ্রামী পরীক্ষাতে সারা দুনিয়া যেন এর মোকাবেলা করতে পারে এ দোয়া চাইছি আল্লাহর কাছে। ভয় দেখিয়ে আল্লাহ নির্ভয় করুক। সৎ ও সুন্দর পথে চলার তওফিক দান করুক।

লেখার সময়: ২২মার্চ, ২০২০ সাল।

 

Tag Cloud

%d bloggers like this: