Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

সরকার এমন এক অদ্ভুত জিরোটলারেন্সের নীতির উপর চলছে যেখানে সত্য প্রকাশ করা এই আজব রাজকন্যার দেশে নিষিদ্ধ। যে বা যারা এটি করবে তাদের জন্য হামলা মামলা কারাগার বরাদ্দ। এর খেসারত দিয়ে চলেছে দেশটির সবচেয়ে বেশী বেশী ক্রেডিটধারী পরিবারটি। তাদের অপরাধ তাদের জনগণ বেশী পছন্দ করে ও তারা সততার দাগ রেখে আজীবন চলতে পেরে জনতার অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছে । হিংসার  সংকীর্ণ মানসিকতায় ডাকাত সরকার তাদের উপরই শুধু নয় গোটা জাতির উপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। পাপিয়ার পাপ প্রকাশ করা যাবে না। এটি প্রকাশও বেআইনী অপরাধ বলে চিহ্নিত হচ্ছে। প্রতিটি অপরাধ একটির সাথে আরেকটি যুক্ত। টক অব দ্যা আশুলিয়াকে বলা হচ্ছে আশুলিয়ার পাপিয়া। আজকের লেখার শিরোনাম সত্য ও ন্যায়ে অটল থাকার নির্দেশ, মূলত এটি কোন অবৈধ মানুষ সরকারের নির্দেশ নয়। এক অদেখা শক্তি দুনিয়ার মালিক মোক্তার বলে আমরা যাকে জানি এটি তার নির্দেশ। সুরা নিসার ১৩৫ নাম্বার আয়াতে  বলা হয়েছে সত্য প্রকাশ করতে ও ন্যায় বিচারে দৃঢ় থাকতে। দরকারে নিজের বিরুদ্ধে অথবা পিতামাতার ও নিকটজনের বিরুদ্ধে গেলেও সেটি করতে হবে। কারণ এটি লুকানো সম্ভব না, এদের অপরাধীদের আল্লাহ জানে বেশী। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে মানুষ জাতিকে এ হুমকি দিয়ে রেখেছে আল্লাহ! যদিও ছলবাজরা এ কুরআনীয় নির্দেশ এড়িয়ে নকল রং ঢং বহাল রেখেছে শুধু মানুষকে প্রতারণা করবে বলে। এ নির্দেশ নারী পুরুষ আস্তিক নাস্তিক ধার্মিক অধার্মিক সবার জন্য। হে মানবজাতি বলে সম্মোধন করে কুরআন তার প্রতিটি কথা বার বার বলে রেখেছে।

বাংলাদেশে ৯০% মুসলিম ও ৯৯.৯% পার্সেন্ট ধার্মিকের দেশ হওয়ার পরও মিডিয়া কথা বলতে পারে না। ময়দান ঘেটে সত্যকে তুলে আনা সহজ কাজ নয়। অনেকের হয়তো মনে আছে কিছুদিন আগে বর্তমান হাসিনা সরকারের বয়ান, ‘একটি পত্রিকা আমি পড়ি না, পছন্দ করি না, নামটিও বলতে চাচ্ছি না।’ জানতে খুব ইচ্ছে করছিল সে মূল্যবান পত্রিকা কোনটি। ইত্যবসরে সব রাখ ঢাককে ধামাচাপা দিয়ে পাপিয়া নামধারী পাপিষ্ঠা নেত্রীর সাথে রাঘব বোয়ালগং ময়দানে হাজির। নতুন নতুন আশুলিয়ার পাপিয়া সাদিয়ারাও দলে দলে শরিক হচ্ছে। মার্চের ২ তারিখে পাপিয়ার মুখে আমলা এমপি ব্যবসায়ী সহ ৩০জনের কথা ওয়েস্টিন হোটেলের বরাতে প্রকাশিত হয়। এই  শামিমা নূর পাপিয়ার কূকীর্তি ছাপার অপরাধে মানবজমিন সম্পাদকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টএর আওতায় মামলা হয়েছে। নিউজ পেপারে লিস্টের সবার নাম না আসলেও ৩০ জন জড়িত কথাটির প্রকাশকথা সরকার সইতে নারাজ। সরকারের নীতি হচ্ছে তার দলের লুকানো কুকীর্তি ছাপা যাবে না। সেখানে সম্পাদককে অপমান করতে সরকার পিছপা নয়। সারা দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো শোরগোল তুলেছে সরকারের ঐ অপকর্মের বিরুদ্ধে। মানব জমিন যে সরকারের পছন্দের নয়, সেটি স্পষ্ট হল। ডাকাত সরকার নিজের পাপেই আকন্ঠ ডুবে আছে, সেখানে কিভাবে পাপিয়ার পাপ ঢাকবে সে চিন্তায় তাদের ঘুম হারাম হয়ে আছে। যারা সত্য বলে তাদেরে সইতে পারে না, ভয় পায় অপরাধী সরকার।

সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে সত্য প্রকাশ করা, সবাই এটি করতে সমান দক্ষ নয়। সৎ সাংবাদিকতার মর্যাদা যে কত উপরে সেটি বলার ভাষা নেই। সহজভাবে বলা হয় একজন সৎ ব্যক্তি মক্কা শরিফের সাথে তুলনীয়। মুসলিমরা তাদের শ্রেষ্ঠ অনুভূতি দিয়ে এভাবে বুঝায়। একজন দাগী আসামী আর একজন দায়িত্বশীল সম্পাদক, উভয়ের অবদান সমাজে দু রকম। একজন সম্পাদকের দায়িত্ব সমাজের প্রকৃত স্বরুপ জনতার সামনে স্পষ্ট করা আর আসামীদের কাজ সমাজ থেকে সব নীতি নৈতিকতা মুছে দেয়া। ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টএর আওতায় কি সরকার বা তার নিকটজনরা ধরা খায়? ইন্টারনেটের মুক্ত যুগে সাধারণ মানুষও জানছে চারপাশ থেকে অনেক সত্য অনেক মিথ্যা প্রতারণা ছলনায় ভরা লেনদেনের খবর, গোয়েন্দারাও নিশ্চয় এসব খবর পান, জানেন। এদের বিরুদ্ধে কি কখনো বিচার বরাদ্দ হয়েছে? এ কারণেই জিয়া ব্যতিক্রমী ছিলেন, তার জীবনে কোন দুর্নীতির দাগ কেউ অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পায়নি। সে সময় ঢাকাতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেই থাকতাম। একবার এক কারেন্টের মিস্ত্রীর মুখে জিয়া পরিবারের অবিশ^াস্য খবর শুনে বিস্মিত হয়েছি,  আজো অনেকেই ঐ সব প্রমাণ নিয়ে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছেন বলেই মনে করি। জিয়া পরিবারের সাথে খাওয়া ডাল করলা ও সাধারণ মাছের ঝোল তরকারীর ভাগিদারদের সাথেও কথা হয়েছে সময়ে সময়ে। জিয়া নিজ পরিবারের জন্যও কোন স্বজনপ্রিয়তার সুযোগ রাখেন নাই। শাহিন স্কুলে দশ বাচ্চার জন্য যে নিয়ম, জিয়ার কড়া হুকুম ছিল তার বাচ্চাদের জন্যও সমান নিয়ম থাকবে কোন ব্যতিক্রম তিনি হতে দেন নাই। আম জনতারা ময়দান থেকে এসব মহাত্মনদের থেকে অনেক শিখেছে, আজকাল সে সিলসিলা ময়দানে নেই। গলাডুবা অপরাধী স্বৈরাচার এরশাদ টাইটেলেই পরিচিত, সাথে তার রাজনীতির সহোদরা শেখ হাসিনার ক্রমাগত প্রশ্নাতীত বিতর্কীত অর্জনে জাতি হতবুদ্ধ!

বিষয়টি সত্য ও ন্যায়ে অটল থাকা। এর চুলচেরা বিশ্লেষণ বিবেকের জমা। শেখ হাসিনা নিজেও যে তারেককে হুমকি ধমকি দিলেন যে তোমার মাকে ছাড়া হবে না। তখন হাসিনার বিরুদ্ধে কেন মামলা হয় না ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টএর আওতায়? বিচার কি শুধু বিরোধী খালেদাগংদের জন্য জমা। শুরুতে মুজিব পরিবারের ব্যাংক লুটেও বিচার হয় নাই, দেরীতে ব্যাংক ডাকাতীরও বিচার হয় না। সমাজের সুধী জনদের বিস্ফোরক মন্তব্য সারা জাতি শুনছে। কিন্তু চোর ডাকাতের গায়ে ওসব লাগে না। যে দেশের নিয়ম নির্দোষের উপর বিচার বরাদ্দ হওয়া, প্রমাণ খালেদা জিয়া, মাহমুদুর রহমান, মইনুল হোসেন, শফিক রেহমানরা মামলায় জেল খাটেন! তাদের অপরাধ করতে হয় না, এদের মুখ স্ট্যাপল করতেই টিপে ধরা ধরপাকড় নাটক সাজা ও মুখ সিল করা। এরা জাতির ডাকাত নয়, এরা জাতির বিবেক! এমন কি ফরহাদ মজহারকেও ভয়, তাই রানা প্লাজার রেশমার আদলে নাটক মঞ্চায়ন। আগের দিন ভারতের নির্যাতীত সংখ্যালঘুদের পক্ষে মাহমুদুর রহমানের সাথে প্রতিবাদী সম্মেলন, চলে বিনাশের চেষ্টা! ভাগ্যিস বর্ডারে পাচারের আগে দৈবের সহযোগিতায় বেঁচে গেছেন ফরহাদ মজহার। ধড়পাকড়ের এ হুমকি শুধু কি ফরহাদ মজহারের জন্য, ঝিকে মেরে বৌকে শেখানো! বাকীদের অনিরাপত্তার হুমকি জমা রাখা। এরকম এক একটি ঘটনা নিয়ে বিশাল রম্য রচনা হতে পারে।

মুজিবনামায় এক সরব মুক্তিযোদ্ধা: সত্য ও ন্যায়ের বদলে স্বাধীনতা পাওয়ার পঞ্চাশে দেশ কেমন করে পঁচে গেল অনেক বিদগ্ধ জনরা পুরানো বুকচাপা বেদনা অন্তরে ধারণ করে দম ছাড়ছেন। যুদ্ধ যদি পঞ্চাশ পেরোয় যোদ্ধা তখন নিশ্চিত সত্তুর পঁচাত্তর পার করেন। বৃটেনে থাকা এরকম একজন মুক্তিযোদ্ধা জগলুল হোসেনের কিছু সত্য কথন জাতির পঞ্চাশপূর্ব অবস্থান নিশ্চিত করবে কিছুটা হলেও। লুন্ঠিত বিজয়ে এসবই প্রকৃত যুদ্ধচিত্র “মুজিবকে বঙ্গশত্রু উপাধী দিয়েছিলেন মতিয়া, মুজিবের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে ও জুতা বানাতে চেয়েছেন তিনি। বর্তমান হাসিনার সংসদের ইনু সেনা ট্যাংকে অস্ত্র ছুড়ে আনন্দ প্রকাশ করেন, মুজিবের জন্ম গ্রহণের সংবাদ শুনে নয়, বরং  মৃত্যু বরণের খবর শুনে। সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ শংকা প্রকাশ করেন শেখ মুজিব হত্যায় মুজিবের ভাগনা শেখ সেলিম জড়িত। শাহরিয়ার কবির লেখেন মুজিব এখন বঙ্গবন্ধু নন, বঙ্গশত্রু বা জনশত্রু। কর্ণেল তাহের তিনিও বিতশ্রদ্ধ মুজিবের উপর বলেন, মুজিবের লাশ বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করতে কারণ তার কবর হলে আওয়ামী লীগ মাজার বানাবে। মেননের দলের বিবৃতি, মুজিবের মৃত্যুতে জনগণ উল্লসিত, এ মৃত্যু সামান্যতম দুঃখ সমবেদনা জাগায়নি, জাগাতে পারে না। সেদিন মুজিব, তোফায়েল রক্ষীবাহিনীর প্রধানসহ অনেককেই সাহায্য চাইলে কেউ মুজিবের সাহায্যে আসে নাই সাহায্যও করে নাই। সেনাবাহিনীর প্রধান শফিউল্লাহ বুদ্ধি দেন, দেয়াল টপকে পালাতে। মৃত্যু পরবর্তী দোয়া করতে মানুষ পাওয়া যায় নি। লন্ডনে আওয়ামী সরকারের স্পিকার আব্দুল মালেক উকিলের মন্তব্য, দেশ ফেরাউনের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে। সাবেক স্পিকার ও বিদেশ আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী বলেন, একশবার মুজিবের ফাঁসি হলেও তার পাপমুক্তি হবে না। তার মৃতদেহ যখন সিড়িতে পড়েছিল তখন ফণিভূষণ মজুমদার ও মনোরঞ্জন ধরসহ ১৮ মন্ত্রীর ১০জন ও ৯জন প্রতিমন্ত্রীর ৮জন মোশতাক মন্ত্রীসভায় যোগ দেন। বাকীদের মধ্যে ৪জন কারাগারে যান আর ৩ জন বিদেশে ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আজকের শক্তিধর এইচ টি ইমাম। তার জানাজায় অংশ নেন ১৮জন। বিবিসিতেও শেখ হাসিনা এরকম ১০-১৮সংখ্যার কথা প্রকাশ করেন। এটি একজন মুক্তিযোদ্ধার পঞ্চাশের জমা!

 মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস জানা: এরকম অনেক খবর জমা আছে, যারা পরে জন্মেছেন মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনলেও জানেন কম, মিথ্যা ইতিহাসে সত্যরা হাপায়। আর যখন সরকার সব ধামাচাপায় জড়িত থাকে তখন কোন সত্যই জানা সহজ হয় না। একটি গ্রন্থ সূত্র থেকে: বাংলাদেশ সরকারের ভারতপন্থীদের নিয়ে গঠিত হয় রক্ষীবাহিনী তাদের কপট কার্য সিদ্ধি করতে। ১৯৭১ সালের অক্টোবরে যুদ্ধকালীন সময়ে ‘র’ এর নিয়ন্ত্রণে গোপন সাতদফা চুক্তি হয়। এ সাতটি চুক্তিতে স্বাধীনতা বিধ্বস্ত হয়। ভাবতে অবাক লাগে কিভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন ঐ শর্তে সায় দেন। এটি অবশ্য সত্য, তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি জনাব সৈয়দ নজরুল ইসলাম চুক্তি সাক্ষরের পর মূর্ছা যান। ঐ লিখিত সমঝোতাই হচ্ছে বাংলাদেশ রক্ষী বাহিনীর উৎসকথা। —- ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের গোয়েন্দা দফতর জানতে পারে যে কলকাতার ভবানীপুরে এক বাড়ীতে ভারতীয় গোয়েন্দা নিয়ন্ত্রণে ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামে এক গোপন সংগঠন কাজ করছে। উদ্দেশ্য পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করা। চিত্তরঞ্জন সুতার ও কালিদাস বৈদ্য তথাকথিত বঙ্গভূমির প্রবক্তা এর সাথে জড়িত। পরে এরা দুজনাই আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এমপি। মূলত এরা ‘র’ এর এজেন্ট হয়ে ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের এক পর্যায়ে ঐ দুজনসহ আরো এক হিন্দু আওয়ামীনেতা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশকে ভারতের অংশ করে রাখার প্রস্তাব রাখেন। এখানে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো জনাব হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি অবহিত করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জনাব চৌধুরীর মতে তারা কিছু সংখ্যালঘু নেতারা চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে সিকিম বানাতে” (জনাব মাসুদুল হক লিখিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘র’ এবং সিআইএর ভূমিকা দ্রষ্টব্য। আবু রুশদ এর ‘বাংলাদেশে র’ গ্রন্থেও আপনারা অনেক সূত্র কথা পাবেন। —- আবার সেই মুক্তিযোদ্ধা জগলুল ভাইএর স্মৃতিকথাতে ফিরছি। এই রক্ষী বাহিনী দিয়ে পাকিস্তান ফেরত “মুজিব সরকার ৩০ হাজার দেশপ্রেমিক হত্যা করেন। তাদের অপশাসনে নেমে আসে স্বাধীন দেশে নির্বিচার হত্যা, নিপীড়ন, নির্যাতন, লুন্ঠন, দখলবাজী সীমান্ত পাচার এসব রংবাজি বিভীষিকা। তাদের অপশাসনে লুন্ঠন, কালোবাজারী সীমান্তপাচারের ফলে ১৯৭৪ সালে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষে প্রত্যক্ষ ৫ লক্ষ ও পরোক্ষ ১০ লক্ষ হতভাগ্য ময়দানে মারা যায়। ক্ষমতার টিকিয়ে রাখার মসনদীয় স্বার্থে ভারতের কাছে সার্বভৌমত্ব জমা রাখার প্রচেষ্ঠায় সরকার হয় চরম জনবিচ্ছিন্ন। এমন সংকট সময়ে ক্ষমতাকে আরো শক্ত করে বেধে রাখতে তিনি বাকশাল চালু করে স্বৈরশাসকের ভূমিকায় নামেন। যেন ফের আইয়ুব ইয়াহইয়ার চেয়ে আরো ভয়ংকর রুপে ময়দানে আবির্ভুত মুজিবের বাকশাল!

আমরা তখন ঢাকাতে, সদ্যমুক্ত দেশে অর্থনীতির নাকানী চুবানি দশা! চাকরীর পাওনা টাকাতে মাস চলে না। নতুন সংসার প্রথম সন্তান কোলে এসেছে। ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যানের বরাতে জানানো হয়েছে মুজিব সরকার থেকে হুমকি এসেছে সবাইকে সই করতে হবে, নইলে চাকরী থাকবে না। আজো আমার কর্তা রস করে বলে, আমি এখনো বাকশাল কারণ আমি তো ওটি প্রত্যাহার করি নাই। গোটা দেশের এতবড় একজন নেতার এমন স্বৈরাচারী ক্ষমতার পরিবর্তন জাতির জন্য মৃত্যুবৎ ছিল। সন্ধ্যে হলে কেউ ঘর থেকে বেরুতো না। দিনেও চলাচল দুষ্কর ছিল। হাতবেগ টাকা পয়সা দুর্বৃত্তরা ছিনিয়ে নিত, আমার কর্তা এর শিকার হন দু দুবার। ডাকাতের মোকাবেলা করে বাসায় এসে হাপিয়ে বলে উঠেন, এদেশে থাকবো কেমনে? বিচার করার কেউ ছিল না। চারপাশে হুমকি ধমকিতে মুমূর্ষ জীবন। সরকার দলীয়রা হুমকি ধমকি দিয়ে বলতো ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকবো। নিরিহ মানুষগুলো আজকের অত্যাচারী নিরিহ বিরোধীর মতই সেদিনও কেঁপেছে কেঁদেছে! কি থেকে কি হয়ে গেল! স্বাধীনতার নামে এ কেমন পরাধীনতার শিকল পরলো এ জাতি! ১৯৭৫সালের ২৫ জানুয়ারী বাকশালী শাসনের শুরু। জাতীয় সংসদে মাত্র ১১ মিনিট স্থায়ী অধিবেশনে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাশ হয়। শেখ মুজিব সেদিন প্রধানমন্ত্রী থেকে আজীবন রাষ্ট্রপতি হন। সংসদীয় পদ্ধতি বাতিল হয়ে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতি প্রবর্তীত হয়। অন্য সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে দেশে বাকশাল নামের এক দল গঠন করেন শেখ মুজিব। মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়াসহ বাকী সব সংগঠন নিষিদ্ধ করে সরকার নিয়ন্ত্রিত চারটি দৈনিক ছাড়া সব সংবাদপত্র নিষিদ্ধ হয়। উল্লেখ্য পিতা ও কন্যা উভয়ের কাজেকর্মে অনেক মিল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যে বেদনায় দেশের মানুষ বিগত শতকে কেঁদেছে, আজো কেন সেই একই বেদনায় পুনরায় কাঁদছে? গোটা দুনিয়ার বিবেক নড়ছে প্রতিবাদ করছে, দেশের বিবেকরা সম্পাদকরা কি তড়পাতে তড়পাতেই মরবে? সত্য প্রকাশ করবে না? সচেতন বিবেকরা জবাব দিন, মুসলিম হয়েও ঐশী কলাম কুরআনকে এড়িয়ে যাবেন? এই কি ধর্ম ধারণ, সত্য ও ন্যায়ে অটল থাকার নির্দেশ পালন? আল্লাহ এমন সংকট সময়েও সবার সহায় হোক।

লেখার সময়: ১৫ই মার্চ ২০২০সাল। বি দ্রষ্টব্য: লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ সাপ্তাহিকে ১৮ মার্চ ২০২০ তারিখে ছাপে।

Tag Cloud

%d bloggers like this: