Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

বাংলাদেশের আমলনামার দলিল: জাতি ভুলে গেছে কি না জানি না, বিগত সময়ে রবীন্দ্রবর্ষ পালনের বাড়াবাড়ি কি মাত্রায় ছিল। ভারতেও এমন ছিল না যতটা বাড়াবাড়ি বাংলাদেশে ছিল। একবিংশ শতকের শত ব্যস্ততার মাঝে এসব বর্ষ পালনের নিয়ম নীতি নতুন ম্যাসেজ বিলি করছে। মানুষ কি জাতির সম্মানিতজনদের ইতিহাস কম জানে? প্লাস মাইনাস করা মানেই মানুষকে দেবতা বা দেও বানানোর প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। সরকার তার কথার জালে বার বার আটকায়। গভীর রাতে ভোট সারা সরকার প্রধানমন্ত্রী বলেন দেশ সিঙ্গাপুর থেকেও শক্তিশালী, (১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০)। এ খবরের পাশের খবর বেসিক ব্যাংক দাঁড়াতে পারে না। খবরের এ ধারার জটিলতা কি আগের কথাকে খেলো করে না? শক্ত আটুনী ফসকা গেরো দিয়ে আসলটা বের হয়ে পড়ে। ২০২০ সালই যদি হয় মুজিববর্ষের জমা তবে সবচেয়ে কলঙ্কিত জমা হচ্ছে মুজিবকন্যার ইতিহাস বাংলাদেশের আমলনামাতে স্বর্নাক্ষরে লিখিত থাকবে। ঐ বছর উত্তাল বাংলাদেশে মরার উপর খাড়ার ঘাঁয়ের মত এসব পালন করেন তার অবৈধ পথে গদি দখলদার কন্যা সরকার। আল্লাহর আদালতে কোন অনাচারের জায়গা নেই। সরকার বলতে চায় সাত মার্চের ভাষণই স্বাধীনতার সারকথা! এর পরই দেশ মুক্ত স্বাধীন। মাঝখানের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ সব খেল তামাশা। শেখ মুজিবের কন্য শেখ হাসিনার কাছে ৪০০ টাকার মেজর জিয়াউর রহমানের অবদান স্বীকৃত নয়, এমন একটি মুক্তিযুদ্ধকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চান তিনি। সবাই জানে ১৫০০ টাকা ভাতা প্রাপ্ত মুজিব পরিবার পাকিস্তানী নিরাপত্তায় থেকেছেন। বাকী দেশ চরম অনিরাপত্তায় থাকার পরও মুক্তিযুদ্ধসহ গোটা জাতি এ রকম কথায় কলঙ্কিত হয়।  ঐ মানসিকতায়ই জিয়া পরিবার আজও তার কপট আক্রমণের স্বীকার। এসব আচরণ দাগ রাখা, ময়দানে লুকানো নেই। এ দেশের সব কৃতীত্ব একমাত্র তার বাবার, এমন আবদার মুজিবও করেন নাই। হাস্যকরভাবে বাকীরা দারোয়ান পিয়নের মত। আর্মি অফিসাররা তার দৃষ্টিতে নিকৃষ্ট। বিডিআর বিপর্যয়কে বিদ্রোহের নামে ৫৭ আর্মি আফিসার কেটে মেরেও তিনি নির্বিকার। মূল ত্যাগীদের বর্জন করা মুজিববর্ষ যেন পারিবারিক বর্ষ পালন। ইতিহাসকে অস্বীকার ও মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সরকার দেউলিয়াত্বের চূঁড়াতে। ভারতীয় ডিশের কালচারে নিমজ্জিত বাংলাদেশের ৯০% মুসলিম এ সংস্কৃতির ধারক নয়। এ হীন মানসিকতা জাতিকে আত্মমর্যাদাহীন করছে। ধর্ম ও রাজনীতি ভয়ংকরভাবে কলঙ্কিত হচ্ছে। বাংলাদেশী সংস্কৃতি কখনোই হিন্দু সংস্কৃতি নয়। নেতৃত্বের চেতনহীন মানসিকতা জাতিকে কলঙ্কিত করছে, জাতি পথ হারাচ্ছে।

দিল্লীতে মুসলিমরা মরছে: দিল্লী পুড়ছে। ভারত সরকার যা বলছে ৪২ মুসলিম মরছে, ক্রমেই এটি বাড়ছে ৫৩ অবদি, বাস্তবে যে কত মরছে সেটি একমাত্র আল্লাহ জানে। অতীতে শিখ হামলায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়। গুজরাটে দুই তিন হাজার নিহত হয়। মুসলিম নিধনে মোদি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে আজো সোচ্চার। ভারত চাইছে তার দেশে মুসলিমদের ধ্বসিয়ে দিতে। মেরে কেটে পুড়িয়ে, সচরাচরের মত মুসলিমদের হত্যা করে স্বৈরাচারী মোদি ভারত গণতন্ত্রের বড়াই করে। ষড়যন্ত্রীরা শুধু ভারতের ভিতরেই নয় পাশর্^বর্তী দেশের পরিবেশ বিষাক্ত করাও তাদের ষড়যন্ত্রের অংশ। ভারত এমন একটি দেশ যেখানে প্রায়শই মুসলিম প্রধান এলাকায় দাঙ্গা হয়। দিল্লী রাজধানী হওয়ার পরও নিস্তার নেই, সেখানেও দাঙ্গা। বাকী সারা দেশে কি হয় বা অতীতে কি হয়েছে, এসব হিন্দুত্ববাদের সহজ বাস্তবতা। ইতিহাস বলে মুসলিমরা বৃটিশ বিরোধী প্রবল প্রতিবাদী থেকে ভারতের অস্তিত্ব সংকটে অকাতরে প্রাণ দিয়েছে দলে দলে হাজারে হাজারে কখনো লাখে লাখে। জাতির অস্তিত্ব রক্ষার্থে এরা মরতে ভয় পায়নি। তারপরও সাম্প্রদায়িক ভারতে ২৫ শতাংশ মুসলিমরা ভিখারী। এদের চাকরী বাকরী নেই বললেই চলে। বড় জোর ২% ৩% এর গড় হিসাব। সাম্প্রতিক বড়জোর হয়তো দুই এক পার্সেন্ট বেড়েছে। মুসলিমরা চাকরি পায় না, লেখাপড়ার সুযোগও কম পায়। এই একবিংশ শতকেও তারা চরমভাবে নির্যাতীত কারণ এর পেছনের লিডাররা মুসলিম নিধনে তাদের কলকাঠি নেড়ে ইন্ধন দিয়ে গেছে দূর অতীত থেকে। মোদির পূর্বপুরুষ ও তাদের সজ্জনরা শতবর্ষ পালনকারী রবীন্দ্রনাথসহ তাদের বাঘ নখর লুকিয়ে মুসলিম নিধনকারী আগুনের যোগানদাতা, আজকের মোদি তারই ধারাবাহিকতা।

ভারতের সাম্প্রদায়িক আচরণ: মাত্র সেদিন দিল্লীর হামলাতে রাস্তাতে ছড়ানো ভাঙ্গা কাঁচের টুকরা, চারপাশে মানুষহীন এলাকা ও উল্টে থাকা সেন্ডেলের পরিবেশ বাস্তব চিত্র দুনিয়াকে জানান দিয়েছে। অতীতেও ভারত পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা গুজরাটেও বা অন্য যেকোন সময়েই বিশেষ বৈশিষ্ট। মুসলিম মরতে শুনলে তারা নড়ে না, বেশির ভাগ সময় নির্বিকার থাকে। এবারো একজন পুলিশও যায় নি এমন অভিযোগ উঠেছে। এ হচ্ছে হিন্দুত্ববাদী ভারতের অমানবিক আচরণ। অতীতের মতই মানবতা খসে পড়া মোদিরা মুসলিমদের সব অর্জনকে ঢেকে রাখতে পেরেছে বলেই তারা মুসলিম নিধনকে তাদের জীবনাচারের অংশ মনে করে। মুসলিমদের উজ্জল ইতিহাসকে তারা ঢেকে রেখে মিথ্যা ইতিহাস রচনা করে মানুষকে ভুলিয়ে রেখেছে শতাব্দী শতাব্দী। আমরা নিজেরাও যেসব ইতিহাস পড়েছি দৃশ্যত তাও সত্য ইতিহাস নয়। যতই সচেতনরা গবেষনা করছে ততই সত্য বেরিয়ে পড়ছে; প্রকৃত সত্য কত স্পষ্ট ও স্বচ্ছ ছিল কিন্তু তা ভারতে চেপে রাখা ইতিহাস।

মুসলিমরা মিথ্যা অপবাদের শিকার: ঐ মিথ্যা অপবাদের জোরে সারা বিশে^ মুসলিমরাই আক্রমণের শিকার। আজ ভারতের ২০ কোটি মুসলিম মৃত্যুর মুখোমুখি। মালয়েশিয়ার নির্বাসিত জাকির নায়েক বলেন, ভারতে মুসলিমরা নির্যাতীত হচ্ছে লুট হচ্ছে ঘর বাড়ী পুড়ানো হচ্ছে, চাকরীচ্যুত হচ্ছে। হিন্দু বাড়ীকে চিহ্নিত করে রাখা হয় যাতে মুসলিম ঘর চেনা যায়। ঠিক যেভাবে হিটলারী কায়দায়, ইসরাইলী কায়দায় চিহ্নিত করা হয়, ঠিক ওভাবেই করা হচ্ছে। মোদিকে দাওয়াত দেয়া মানে মুসলিমদের আরো অবমাননা করা। পাকিস্তানের ইমরান খানও তার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ভারতে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের নিরবতা চলছে। বাংলাদেশের জনতারা উচ্চকন্ঠ হয়ে ভারতীয় মুসলিমদের নিরাপত্তায় সোচ্চার হয়েছে। দিল্লীতে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সামনেই ভারত উলংগ। মোদির অনেক কসরতে সাজানো কারুকার্যকরা দেয়াল বস্তির দুর্গন্ধ সব আড়াল করেও উপচে পড়া দিল্লীর দুর্গন্ধ আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়লো। লাশের সংখ্যা বাড়ছে, হিন্দু মুসলিমরা জান বাঁচাতে ঘরে তালা দিয়ে ঘর ছেড়ে পালাচ্ছে। ভিন রাজ্য থেকে দাঙ্গাবাজ ভাড়া করে আনা হয়েছে, স্থানীয়রা চিনতে পারছে না। তাই তারা সংঘবদ্ধ হয়েছে।

মোদির রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী আচরণ: মোদির আচরণে ত্যক্ত বিরক্ত বাংলাদেশের জনতারা। ঢাকা ইউনিভার্সিটির ডাকসু নেতা নূর ও তার সহযাত্রীরা  প্রতিবাদ করছে। মুসলিম নিধনে মোদির বাঘ নখর বহু পুরানো, ক্ষমতা গ্রহণের আগ থেকেই মোদি সোচ্চার থেকেছেন গুজরাটে শতাব্দীর শুরুতে ২,০০০ এরও অধিক মুসলিম হত্যার মাঝে। ঐ সময় মোদির ভিসা আমেরিকাও বাতিল করে। ক্ষমতা আরোহন হাতজোড় করা মোদিকে খুনী মোদি থেকে মানুষ মোদি করলেও মোদি স্বরুপ ঢেকে রাখতে পারেন নাই। বাংলাদেশের মেজরিটি মানুষ চায় না মোদির পা এদেশে পড়–ক। ফ্যাঁসিবাদের আড়ালের কলকাঠি নাড়তে ভারতের সরকার মুখর, স্বাধীনতায় ভারতের অবদান থাকলেও স্বাধীনতা পরবর্তী ভারত বাংলাদেশের জন্য চরম বিড়ম্বনার দাগ রেখে চলেছে। মোদির মতই সরকারের সব সংকীর্ণতা খোলাসা হয়ে পড়ছে। এটি দেশের প্রতিটি সচেতন জনতা জানে ও বুঝে। আবরারকে মারতেও তাদের লম্বাহাতের দাগ, ছোট্ট দেশটিকে বিভক্ত করে রাখার পেছনেও ভারতের বাঘ নখর স্পষ্ট। ভিপি নূর কি ফের আবরারের মতই মরবে? তাকে মেরে ফেলার হুমকি চলছে কারণ সে ভারতের অনাচারের বিরুদ্ধে সরব। দশদিন পর ১১ তারিখের পর বস্তায় ভরে গুম করে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। যারা হুমকি ধমকিতে ছিল তারা অতীতেও হামলা করেছে। ভারতীয় জাতি মুখর হয়েছে মোদির সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে। তাদের প্রতিটি আচরণেই বাংলাদেশের কলিজাতে কামড় পড়ে, ভারত কখনোই অনুতপ্ত নয়। বর্ডারে মানুষ মারা, পানির ন্যায্য হিস্যা না দেয়া, দেশকে মরুকরণ করা, পানিতে মেরে কারবালা করা মোদি কিভাবে বাংলাদেশের বন্ধু হয়! আভ্যন্তরিন দুর্ভোগে ভারত বার বার জড়ায়! বাংলাদেশের ব্যাংক লুটেও কেন ভারত ও তার কর্মকর্তারা? এ হীনমন্যতার জবাব কি? বিতর্কীত মৃত্যু হত্যা গুম খুনে ভারত কেন জড়ায়? অবচেতন অবস্থায় বিএনপির সালাউদ্দিন ভারতে কেন উদ্ধার হয়, সুখরঞ্জন বালীরা কেন ভারতের কারাগারে, এসব সহজ কথা নয়, রাজনীতির জটিলতায় প্রশ্নবিদ্ধ ভারত লেজেগোবরে একাকার! স্বাধীনতায় সাহায্য করা মানে এটি নয় যে এ স্বাধীনচেতা জাতি ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে! বাংলাদেশের মানুষ মোদীর বিরুদ্ধে ঘৃণায় আকাশ বাতাস বিদীর্ণ করছে! মোদির ভারত প্রকাশ্যে বলছে মুসলিম আমাদের প্রথম শত্রু, হিন্দু বা বাকীরা নয়। বাংলাদেশের সরকারকেও এ দেশের মানুষ স্বীকার করে না বলেই ভোট চুরি করে গদিতে যায়। তখন ভারত নির্লজ্জের মত ঐ সরকারকে সহযোগিতা দিয়ে টিকিয়ে রাখার কসরত করে। আশ্চর্য হলেও সত্য মানুষ বুঝে ভারত তাদের বন্ধু নয়, শত্রু। সত্য কথাটি হচ্ছে মুজিবকন্যা ও মোদী উভয়ে উভয়ের কুটিল স্বার্থের বলি।

অবৈধ সরকারের মুজিববর্ষ: সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে ছবিসহ মুজিবপূজার রকমসকম করতে আইন করা হয়েছে। কি সাংঘাতিক কথা! এ পূজা না করলে কমপক্ষে ৭ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত শাস্তি নির্ধারিত। আইনের পেছনে কলকাঠি নড়ছে শক্তির তলানীতে, সততার ভিত্তি বাতিল, শপথের কথা তাদের মনে নেই। গভীর রাতে জনতার ভোট ছাড়াই গদিনশীন আবার সেই মুজিবেরই কন্যা। জোর করে ডান্ডাবাজি করে শ্রদ্ধা অর্জন করা যায় না। শ্রদ্ধা অন্তরের অন্তস্থল থেকে আসতে হবে। গুম, খুন লাল ঘোড়ার দাবড়ানিতে লাঠির গুতাতে শ্রদ্ধারা পালায়। জন্মশতবর্ষ হিসাবে ১৭ মার্চ থেকে এর পরের বছর ২৬ মার্চ পর্যন্ত এক বছর ৯ দিন চলবে এই জোরপূর্বক বন্দনা গীতি। এর মাঝে বগুড়াতে শিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠানে সব ছাত্রছাত্রীর মুজিব মুখোশ নাটক সমাপ্ত হয়েছে। এভাবে চলবে সারা বছর নগরসজ্জা, ভিডিও ডকুমেন্টারী, প্যাকেজ নির্মাণ, নটনৃত্য, ছবি, চাঁদাবাজি, ব্যানার পোস্টার, প্রদর্শনী, আলোকশয্যা। ধর্ম অবমাননাকারীরা বাড়তি সরকারী নিরাপত্তা পায় আবার সরকার বা তার অনাচারের উপর কেউ কিছু বললে বা মন্তব্য করলে বক্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক মামলা হয়। জেলা উপজেলা পর্যায়ে ৫০,০০০/ ২৫,০০০ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এ দেশের মালিক শুধু মুজিব কন্যা রাতের ভোটচোর  সরকার। ব্যাংকের টাকা তুলে ব্যাংক দেউলিয়া করে সাজ সাজ চলছে। আর মরহুম মুজিবের নামে জীবিত জনতারা জিম্মী হয়ে আছে। শেখ মুজিব যেদিন মারা যান সেদিনও মানুষ আকন্ঠ বিপদগ্রস্ত ছিল। মানুষ ভয়ংকর আতংকে সময় পার করেছে। মানুষের কাঁদবার কথা ছিল, কিন্তু কেউ কাঁদে নাই। দলের লোকেরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বলেছে দেশ মুক্ত হলো। এসব মিথ্যে নয়, জমা রাখা ইতিহাস। আপনারা উল্টে দেখুন, সময় ওভাবেই কথা বলেছে, কষ্ট জমা রেখেছে।

পারিবারিক বর্ষপালন: মুজিব বর্ষে দেশের গন্যমান্য ব্যক্তিরা নেই। তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম রব নেই, মুক্তিযোদ্ধা জাফর উল্লাহ নেই, কাদের সিদ্দিকীও নেই শুধু মোদির দরকার পড়েছে বড় বেশী না হলেই নয়, স্বাধীনতার অর্জনে খালেদার অবদান অল্প নয়। তিনি আজ মৃতবৎ বেঁচে আছেন। ইতিহাস অস্বীকার করার অবদানে ধন্য বর্তমান সরকারী প্রচেষ্টা। এর শুরুটা বিগত শতকে রাজনীতির নামে দেশ বিভক্ত করা রাজনীতি দিয়ে শুরু। যখন এটি করা হয় তখন সচেতনরা টের পেয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মন্তব্য স্কুল ফেরত বাচ্চারা ক্রমাগত ভুল ইতিহাস গেলাতে চাইলে মা বাবারা আৎকে উঠতেন! সময়টি বিগত শতকের শেষ দশকের কথা! দেশে আজ গণতন্ত্র নামে ধুয়ে মুছা আইয়ুবীয় প্রহসন বহু বেশী। এমন সব আচরণ করা হচ্ছে যা ঐ সময় আইয়ুব ইয়াহইয়ার পাকিস্তানেও করা হয়নি। ৪৭ থেকেও বহুগুণ বেশী পরাধীন দেশ আজ! মুজিব বর্ষ পালনে একচোখা নীতি ও জিয়ার প্রতি ৪০০ টাকার মেজর নামের ঘৃণ্য প্রচারণা জাতিকে কখনোই সমৃদ্ধ করবে না! মুজিবকে এভাবে উপরে তোলা সম্ভব নয়! এভাবে মানুষ দেবতা না হয়ে উল্টোটি হয়। এসব প্রচারণা মুজিবকে নয়, বরং জিয়াকে অসীম উচ্চতায় তুলে ধরছে।

কিছু প্রশ্ন: গভীর রাতে ভোটের দখলদার সরকার দেশ ধ্বংসের সব পাট চালু রেখেছে। সেজন্য তার শুধু মুসলিম নিধনকারী মোদির দরকার কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মূল নায়কদের দরকার নেই। ঐ যুদ্ধে মুজিব যেমনি ছিলেন না, তার মেয়ে হাসিনাও ছিলেন না। বাম ঘরানার নেতা জুনায়েদ সাকী প্রশ্ন রেখেছেন এটি কি মোদিবর্ষ নাকি মুজিববর্ষ, কোনটি? ভারত অপেক্ষায় ছিল ডনাল্ড ট্রাম্প চলে গেলে তারা মুসলিমদের উপর হামলা করবে। তবে তারা হেরেছে। ট্রাম্প থাকা অবস্থায়ই মানুষ মারা শুরু হয়। মুজিব পূজাতে দেখা যায় পরিবারের নিকট কিছু সদস্যদের, যারা অনেকেই বিভিন্নভাবে বিতর্কীত অবস্থানে চিহ্নিত! সরকার প্রচার করতে চায় জাতির পিতা শেখ মুজিব। কিন্তু মুসলিমরা সেটিও মানতে নারাজ। নবী ইব্রাহিম (আঃ) হচ্ছেন মুসলিমদের ধর্মপিতা। উন্নয়ন জপা আইয়ুব শাসক কি করে হাসিনার পথপ্রদর্শক, এটি জাতির বড় প্রশ্ন। বগুড়ার স্কুলে মুজিব মুখোশ ছিল দিপুমনিদের উচ্ছ্বাসের প্রকাশ। ৫৬ টাকা দামের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের টিস্যুবক্সেও মুজিবের ছবি। ছোট ক্লাস থেকে বাচ্চাদের তপজপ করানো হচ্ছে। কোন কোন স্কুলে ক্লাসে শত শত ছাত্রছাত্রীকে সাত মার্চের ভাষণ মুখস্ত করানো হচ্ছে। শেখ হাসিনা রেহানা জয় পুতুলরা তাদের নাতি পুতিরা কি ওটি মুখস্ত করেছেন?  আর একটি কথা, ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আ্যলীকে চেয়ার ছুড়ে মারার গল্প কেন শেখ মুজিবের অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে ঠাঁই পেল না? অনেক তথ্য প্রমান করে ঐ গ্রন্থ তার রচিত গ্রন্থ নয়। দুর্মূখেরা বলে ওটিও বর্তমান সরকারের গোজামিল! ইতিহাস খুঁড়ে সময় সব মিথ্যা পরিষ্কার করবে, যদি মানুষের বিবেক কার্যকর থাকে!  গলাবাজি মিথ্যাচার করে কখনোই ইতিহাস ভুগোল রাজনীতি হয় না। মুজিবের বড় অবদান বাকশাল করা আর এক বড় অবদান হাসিনার মত এক হযরত আউলিয়ার বাপ হওয়া! শেখ হাসিনা সারা জাতির সাথে প্রতারণা করে মিথ্যাচার করে গদি দখল করে এসব সাজিয়েছেন! ঘোলা পানিতে মাছ শিকার কতটুকু অর্থবহ হবে, আল্লাহই জানে ভালো। যারা মুক্তিযুদ্ধকে আব্বাযুদ্ধ বাবাযুদ্ধ ডেডীযুদ্ধ করতে চায়; নিঃসন্দেহে তারা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

বাংলাদেশ জন্মের জড়িতরা অবহেলিত: হাজার কামান বিমান ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে পতাকা তোলা সহজ ছিল না, বিদগ্ধ কথাটি ঐ পতাকাবাহীর। সেদিন কারফ্যু হরতালের মাঝে আ স ম রব মানচিত্র আঁকা পতাকা প্রথম তুলেন। সিরাজুল আলম খান, অসুস্থ শাহজাহান সিরাজ এরা কপট কষ্টে অতীত বলতে চান না এড়িয়ে যান কারণ সব লুন্ঠিত আজ, মুজিব পরিবারের পারিবারিক অনুষ্ঠান। আত্মত্যাগী জাতি খসে গেছে মুক্তিযুদ্ধ থেকে, তাদের গলে পরানো হয়েছে পরাধীনতার ডিজিটাল শিকল! আ স ম রবের হিসাবে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ই জানুয়ারী পর্যন্ত দেশটি স্বাধীন ছিল, এ নির্মল সত্য কথাটি জাতি জানুক বুঝুক শিখুক হজম করুক। মুজিব তার ছেলেদের বিয়েতে বিধ্বস্ত দেশের বুকে দাঁড়িয়ে সোনা মনিমুক্তা খচিত মুকুট পরিয়ে বিয়ের আয়োজন করেন, যেদিন ময়দানে সোরগোল ছিল বকুল ফুলের মালা দিয়ে যৌতুকবিহীন বিয়ে। জনতার নেতা শেখ মুজিব অতি অল্প দিনেই পাকিস্তান ফেরত প্রিয়নেতা সকল চিন্তাকে ছাড়িয়ে রাজাতে পরিণত হন। আজকের জন্মদিনে কেউ বলছেন ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ। ৪৫ বছর পর সেই রাজাকে দ্বিতীয় পূনর্জন্ম দিয়ে একই কায়দায় ৪০০ কোটির মুকুট পরানো কতটুকু বিবেচনার দাবী রাখে! মানুষের মন থেকে জাতির সম্মানিতদের দাগ মুছে আত্মপ্রচারের রাজনীতি মানুষের হৃদয়ে কতটুকু জায়গা করতে সক্ষম? এমন হলে যুগে যুগে রাজা বাদশাহ জমিদাররা নিজেদের ইতিহাস নিজেরাই গড়ে নিজের শক্তি দিয়ে জাতিকে কিনে গোলাম করে রাখতেন! চিন্তাকে প্রসারিত করলে এ জাতি তাদের বর্তমান বিড়ম্বনার সব জবাব অবশ্যই খুঁজে পাবে বলে আশা রাখি।

লেখার সময়: ০৮ মার্চ ২০২০ সাল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: জানতে পারলাম বাংলাদেশীরা মোদিকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।  মুজিববর্ষ না মোদিবর্ষ?। লেখাটি ১৩ মার্চ ২০২০ সালের সাপ্তাহিক দি রানার নিউজ এর কলামে নিউইয়র্ক থেকে ছাপা হয়

 

 

 

Tag Cloud

%d bloggers like this: