Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

বর্তমান সময়টিতে ২০২০ সালেও যে ভাবে ধর্মের বাড়াবাড়ি খুব বেশী চোখে পড়ছে। এর প্রধান কারণ ইউটিউবের বরাতে মানুষরা অনেক বেশী প্রচার করতে পারছে আর চৌদ্দশত বছর ধরে যেসব মিথ্যাচার করে মানুষ টিকে থাকতে পেরেছে বর্তমান সময়ে সেভাবে মানুষকে আর বশ করা যাচ্ছে না। মানুষের চোখ খোলে যাচ্ছে, মানুষ তার বিবেক দিয়ে তাড়িত হচ্ছে, বিবেক সম্পন্ন মানুষ সত্য মিথ্যে বুঝতে পারছে। যা কিছু আগেও মানুষ ধরতে পারতো না, আজ সেটি অনেক সহজে ধরা পড়ছে। কুরআন একটি ঐশী গ্রন্থ , এ গ্রন্থের বেশী বেশী অনুসরণ প্রচার পালন হলে, মানুষ প্রকৃত সত্যকে ময়দানে দেখতে পারতো, সকল মিথ্যাকে এড়িয়ে প্রকৃত সত্যকে গ্রহণ করতে পারতো। বাংলাদেশের মানুষ সত্যসন্ধানী এর প্রমাণ রেখেছে ২০২০ সালের তরুণরা। যখন তারা ডাঃ মিজানুর রহমানের ওয়াজের মাহফিলে কিছু সত্যের সন্ধান পেয়ে ঝাপিয়ে পড়ে, সরকারের মাথা থেকে পা অবদি গরম হয়ে যায় ভয়ে। তাই ঘাবড়ে যেয়ে খুব কৌশলে তাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয় বলে সবাই একবাক্যে বলাবলি করছে। এসব ওয়ায়েজরা সত্যের উপর দাঁড়িয়ে কাজ করছে দেখে অসৎ গভীর রাতের অবৈধ সরকারে কাঁপুনী জাগে। মিথ্যারা সব সময়ই সত্যকে ভয় পায়। ধর্মের ইতিহাস বলে নবী ইব্রহিমকে নমরুদ, মুসাকে ফেরাউন, ঈসাকে রোমান শাসকরা ও নবী মোহাম্মদকে আরবের কুরাইশরা প্রচন্ডভাবে ভয় পেয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের প্রতিপক্ষ তাদের মারতে গেছে। কিন্তু আল্লাহর প্রহরা এতই স্পষ্ট ছিল যে এরা প্রত্যেকেই প্রচন্ড শক্তিশালী থাকার পরও তাদের টিকিটিও নাড়তে পারে নাই। বরং তারা নিজেরাই ধ্বংস হয়ে অতীত ইতিহাসের সাথে মিশে গেছে। 

প্রথম শব্দ যা কুরআনে নাজেল হয়েছে সেটি হচ্ছে ‘পড়’ চোখ খুলে দেবার জন্য পড়াটাই প্রথম ও প্রধান শর্ত। অবশ্যই এ পড়া অর্থে জ্ঞানার্জন করাকেই উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আরবী ভাষাতে নাজেল হওয়া কুরআন চৌদ্দশত বছরেরও আগে আসা এ নির্দেশনামা। সকল অন্ধকার পার করে ঐ আলোর মশাল হাতে এরা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণেই অতি অল্প দিনের মাঝে ঐ আলোর ঝলকানিতে দুনিয়ার বড় অংশে এরা ছড়িয়ে পড়ে। সারা দুনিয়ার আলোর নাচন শুরু হয়ে যায়। কালে ঐ সূত্রে ইউরোপেও রেঁনেসার সূত্রপাত হয়। ওদিকে ইবলিসের চলমান অর্জনে ইত্যবসরে মূল ইসলামে অনেক অনাচার প্রবেশ করতে থাকে, সত্যের সাথে মিথ্যার সংযোজন হয়, কুরআনকে দূরে ঠেলে দিয়ে যখন মিথ্যার পাহাড় গড়ে নেয়া হয়, তখনই ঐ সত্যের ঝলকানীতে কালিমা জমতে থাকে। শুরু থেকেই সত্য ধর্মের সাথে বিরুদ্ধবাদী নষ্টরা লেগে ছিল, সত্যকে ধ্বংস করতে বদ্ধ পরিকর হয়ে খুব কৌশলে ধর্মের আলখেল্লার ভিতরে ঢুকে পড়ে নষ্টরা। এ প্রচেষ্টা নবীর সময় থেকেই প্রথম নয়, সৃষ্টির শুরুতে আদমের সময় থেকেই এ বিরুদ্ধ শক্তি প্রকট আকারে দুনিয়ার ময়দানে চষে বেড়াচ্ছে। ঐ বিরুদ্ধ শক্তির নাম ইবলিস। ঐ ইবলিসই মুসাকে তাড়িয়ে নিয়ে চলে নীলনদের উপকন্ঠে, ঈসাকে শুলে চড়ায়, ইব্রাহিমকে আগুণে ফেলে, শেষ নবীকে মক্কা থেকে তাড়িয়ে মদীনায় নিয়ে যায়, একের পর এক যুদ্ধ লাগিয়ে তাদের ধ্বংস করার সবকটি পায়তারা চালায়। মোট কথা ইবলিসের অবসর নেই, এ শক্তিশালী মাধ্যম চলমান, বহমান, সচল সবদিন। এদের হাতে সারা বিশে^ মুসলিমরা মার খাচ্ছে। সৃষ্টির শুরুতে আল্লাহ মানুষকে এ অবস্থার কথা অবগত করিয়েছেন, এটি ভুলে গেলে চলবে না।  

গবেষনার দৃষ্টিতে প্রতিপক্ষ ইবলিসকে স্পষ্ট করে চিনতে হবে একজন সচেতন বিবেকধারী মানুষকে। যার বিবেক সজাগ ভূমিকায় থাকবে, তার কাছে এরা ধরা পড়বেই। কুরআন কোন অসম্পূর্ণ গ্রন্থ নয়। যদি কেউ একে অসম্পূর্ণ মনে করেন তবে বুঝতে হবে তিনি ভুলের মাঝে আছেন, প্রকৃত সত্য থেকে দূরে অবস্থান করছেন। কুরআন নিজেই প্রচার করে এটি একটি পরিপূর্ণ গ্রন্থ। নবী ছিলেন ঐ সময়কার মুসলিমদের জন্য উদাহরণীয় কিন্তু কুরআন ব্যতীত ধর্মে কোন সংযোজন বিয়োজনের ক্ষমতা নবীর ছিল না, নবী ভুলেও কুরআন বিরোধী কোন কাজ করেন নাই। নবী এসেছিলেন ঐ অন্ধকার সমাজের সব বাতিলকে নষ্টকে দূর করতে। কিন্তু আজো দেখা যায় সমাজে কিভাবে ধর্মের নামে অন্ধকার জেকে বসে আছে মানুষের মন ও মগজে। যত অন্ধকার গ্রামে যাবেন কুসংস্কার তত বেশী করে উপলব্ধি করতে পারবেন, এসব কুসংস্কার ধর্মের নামেই সাজানো হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় আদম আর ইবলিসের ঘটনাটি স্পষ্ট করে কিভাবে ইবলিস মানব সম্প্রদায়কে পথহারা করেছে, করছে এবং সম্ভবত আরো করবে। একমাত্র লেখাপড়া করে অর্জন করা সুশিক্ষা মানুষকে আলোর পথ দেখাবে। সেটিও কুরআনেই বর্নিত হয়েছে। শুরু থেকেই মুসলিমরা আল্লাহতে আত্মসমর্পণ করে ঐ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছে বলেই অতি অল্প দিনের মাঝে তারা আকাশচুম্বী উচ্চতায় উঠতে পেরেছে।

যখনই কুরআন থেকে মানুষ দূরে সরতে থাকে, তখন থেকেই মুসলিম মানসে অন্ধকার জেকে বসে। উদাহরণ হিসাবে বলতে পারি, ইসলাম কবরের বাসিন্দা মেয়েদের কবর থেকে তুলে এনে ময়দানে হাজির করে মানুষের মর্যাদা দেয়। এতে ইবলিস অরফে দুষ্ট চক্র হাঁসফাঁস করতে থাকে। অতি অল্প দিনের মাঝে ইবলিস ফাঁক খুঁজতে থাকে কিভাবে ধর্মের অলিন্দে ভেজাল ঢোকানো যায়। এবং অতি অল্প দিনের মাঝেই ইবলিস সেটি করতে সক্ষম হয়। খুব কৌশলে নারীদের ফের কবরে পাঠাতে না পারলেও পুনরায় গৃহবন্দী করতে পেরেছে। কুরআন থেকে দূরে ঠেলে রেখে অসংখ্য মানবিক সংযোজন চলে জোরেসোরে। মানবিক সংযোজন তখনই ভয়ের যখন এটি কুরআনকে অবহেলা করে পাশ কাটিয়ে নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা দেয়। শতাব্দী পরে মানুষ প্রকৃত সত্যকে গুলিয়ে ফেললে ঐ মানবিক সংযোজনের উপর বেশী দখল ও প্রচার চলে। কিতাবের নামে নকলের পাহাড় জমে ইবলিসের পরিসর বাড়ে, আর ক্রমে মূল সিলেবাস কুরআনের পরিসর দিনে দিনে ময়দান থেকে দূরে সরতে থাকে। আল্লাহর জায়গার দখলদার হয় দু নাম্বারী পূজকরা। 

শিরক এমন এক পাপের নাম, যা করতে মুসলিমদের ১০০% নিষেধ করা হয়েছে। এটি মূর্তিপূজার সমতূল্য। কিন্তু অসংখ্য জনতা নামে মুসলিম, ঐ কঠিন পাপ শিরক করেও মনে করে তারা মুসলিম। প্রকারান্তরে এরাই মূর্তির পূজা না করেও মোশরেক নামে পরিচিত। মানুষ যখনই গবেষনা থেকে দূরে সরে গেছে, অন্ধকারে ডুবে গেছে, নারীদের শৃংখলিতকরণ পুনরায় আংশিক হলেও জায়গা করে নেয়। এর বড় প্রমান সৌদির মেয়েরা এই সেদিনও গাড়ী ড্রাইভের অনুমতি পায়নি কারণ তারা মূল ইসলামে নেই বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। নবীর প্রচারিত ইসলাম প্রতিষ্ঠিত থাকলে এতদিনে ইসলাম আকাশচুম্বী অবস্থানে পৌছে যেত। আজো দেখা যায় সৌদি আরব এমন এক দেশ যেদেশে নবী জন্ম নিয়েছেন। তবে ওটি সৌদি আরব ছিল না। সৌদ নামধারী দখলদার এক গোষ্ঠী কঠিন শর্তে শত অনাচারে মোড়া এক অভিনব পারিবারিক ধর্ম ব্যবস্থা অনুসরণ করছে বর্তমান সময়ে। এক একজন ১০০টা বিয়ে করছে শত শত সন্তান জন্ম দিচ্ছে, রাজতন্ত্র চালু করেছে, এসব নবীর অনুসৃত ধর্ম নয়। এসব তাদের মনগড়া অপকর্ম ঘেরা শক্তিমত্তার প্রমান সব। আজ সে দেশে মানুষ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে না। সত্যবাদী সাংবাদিককে কেটে টুকরো টুকরো করা হয় শক্তির তলানীতে। যেখানে ১০০% ইসলাম নেই। সৌদের শাসন শোষন বহাল কিন্তু মূল ইসলাম ১০০% আছে কখনোই বলা যাবে না। ইসলাম কখনোই অসংখ্য বিয়ের অনুমতি দেয়নি, ধর্মের নামে অনেক অনাচার সৌদিরা করছে তা কখনোই ইসলাম নয়। বিবেক সম্পন্ন মুসলিমদের সত্য সন্ধানী হতে হবে আর সেই কুরআনীয় সত্যের উপর অনড় থেকে কাজ করতে হবে, সেটিই প্রতিটি মুসলিমের উপর ধর্মের নির্দেশণা। আল্লাহ আমাদের সেই সহজ সরল সত্যে চলার তওফিক দান করুন।

রচনাকাল ২১ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০ সাল।

 

 

Tag Cloud

%d bloggers like this: