Articles published in this site are copyright protected.

 নাজমা মোস্তফা

 

সময়টি শতাব্দীর শুরুর দশক পার করা। আজ থেকে আট বছর আগে লেখা কলামটি। পান্ডুলিপি হয়ে আমার খাতার নোটবুকে পড়েছিল। দশকের শুরুতেই ছিল পাগলা ঘন্টার তুমুল হল্লা। আজ জানুয়ারী মাস, তারিখটি ১৮, সালটা ২০১২এর শুরুর মাস। চলছেই একটির পর একটি। কত আর বলা যায় শিরোনাম সংবাদ প্রানকাড়া সব মৃত্যু ঘন্টার করুণ রাগিনী চারদিকে আকাশে বাতাসে প্রচন্ড বেগে বইছে। পৃথিবী নামের বলয় ভেদ করে যেন উগলে উঠছে মাটি ভেদ করে ফুসে উঠা ভিসুবিয়াসের জ্বালামুখ থেকে ভয়ানক সব লাভা জ্বলজ্বল করা। জমা হচ্ছে ই-মেইলরা হাজার হাজার,  তারপরও ডিলিট করা হয় না। সময় বড় অল্প, জমা রাখি পড়বো। পড়বার সময়ই বা কোথায়? সূর্যদোয় থেকে সূর্যাস্ত ঘন্টাতে কতই হয়? এর মাঝে সব জমা সামাল দিতে হবে। সংসার, কাজ, রান্না, পড়া, লেখা, চারপাশ দেখা। এক জোড়া হাতে মাত্র দশটি আঙ্গুল পিল পিল চলছে কিবোর্ডে যা এড়িয়ে যাবার উপায় নেই। দরকারী সবই ছুটে চলছে উর্ধ্বশ্বাসে। সারিবাধা সব কষ্টরা করছে বাস্তব জটলা। পত্রিকার ওয়েভ সাইটে ক্লিক করলেই উগলে বের হয় খবররা। থরে বিথরে সাজিয়ে রাখা। সত্যি ভাবতে অবাক লাগে জীবনটা কেমন যেন আসলের বদলে অদ্ভুত অন্য রকম এক পাওয়ার মাঝে বাড়তি ব্যস্ততা। বুদ্ধিধারীদের কেউ বা মন্তব্য করছে সমানে, আর মানুষ হাজার বছর উপরে পার করেও আজ ক্লান্ত। কেউ কেউ আকাশের তারাকে নিয়ে বেশী করে ভাবতে বলছে।

কিয়ামতের আগাম সংবাদ কি এটি? হয়তো বা! আজ আর লিখতে কাগজ লাগে না। সর্বত্র সাদা কাগজ সারাক্ষণ খালি পাওয়া যায় কম্পিউটারের ডেস্কটপে। প্রযুক্তি যে কত দিস্তা সেখানে ঢুকিয়ে রেখেছে, কেউ জানে না রেখেছে কয় মন কলমকালি সঙ্গোপনে। সবাই লিখছে দিনের পর দিন, যেন বছরের পর বছর চলছে তাদের যায় যায় দিন। কাকে রাখি কাকে ডিলিট করি, কুল পাই না। এ শতাব্দীর শুরুতে খোদ আমেরিকাতে এক ভয়ানক বিস্ফোরণ ৯/১১, তারিখটি আমেরিকার পুলিশ কল নাম্বারের সাথে মেলানো এক কঠিন ছকে আঁকা, প্লেন করে আঁকা ক্ষণটি। এর লেজ ধরে বিকল্প আসে আরো কত কত ওয়ান ইলেভেনরা, তাও ইতিহাসে যতনে জমা রাখা।

সমানেই শুনছি চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ

২০০৯ সাল, নতুন শতাব্দীর নয় বছরের ফেব্রুয়ারীর বিস্ফোরণ “বিডিআর বিদ্রোহ”

একটি স্বাধীন দেশের হৃদপিন্ডে যেন আকস্মিক মরণ কামড়!

“মাটি খুড়ে জঙ্গী খোঁজার ঘোষনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর”।

কলাম আসে “আগে চাঁদাবাজদের ধরুণ, পরে ভিন্ন কথা বলুন”।

সময়টি একদম মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মতনই, এক মার্চের কথা।

যশোর খুলনা ও সাতক্ষীরাতে হাইপ্রেসারও কিডনী রোগী বেড়েছে দারুণ।

পানিতে লবনাক্ততা বেড়েছে এটিই কারণ। যেভাবে পানির স্তর নামছে,

রাজশাহী ও চারপাশ মরূভূমির প্রস্তুতি নিচ্ছে। মরবার সাজ চলছে।

কি আশ্চর্য্য এ রকম প্রস্তুতিতে দিনে দিনে দেনা বাড়ছে, দেশটি আহত বিধ্বস্ত তিলে তিলে মুমূর্ষদশা। রুদ্র মূর্তি ধরেছে বনগাঁ থেকে বঙ্গোপসাগর। তারপরও কেন তোমরা অন্ধ থাকছো? নিজের বুদ্ধি বিবেককে কি এমন ভাবেই বন্ধক রাখতে হয়? এ যে মানবতার অপমান হবে বন্ধু! তোমার বিবেক কেন দেশমাতার বৈরীতায় মগ্ন? বিবেককে কেন পরের কারণে এমন বন্ধক রাখলে! এ যে লজ্জা! তাও কি বুঝো না?

জানো ওয়াশিংটন পোস্টে ১৯৯৭ সালের মার্চে আসে এক প্রতিবেদন। দূরে থেকেও কঠিন গোপন কথা বলে যা তোমরা অনেকেই জানছো না বুঝছো না; বোকার ভনিতা করছো। ওরা বলছে জানো কি, কখন থেকে বাংলাদেশের চরম সর্বনাশ শুরু হয়েছে, যখন ভারত গঙ্গার পানি সীমান্তে তার নিজের দিকে সরিয়ে নিয়েছে। ওরা পরিমাপ করেছে তোমাদের ক্ষতির পরিমাণ টাকার অঙ্কে, চার বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে; তারপরও বোঝ না বন্ধু! তুমি শিখলে না চতুরতা, বুদ্ধিমত্তা তোমার জিম্মী কেন আজো? বন্ধুর স্বরুপ সন্ধান করতে তোমার চল্লিশটি বছর লেগে গেল! তোমার একজোড়া চোখ তোমাকে সারাক্ষণ পথ দেখাচ্ছে, হাটতে শিখাচ্ছে, গাইতে শিখাচ্ছে, বলতে শিখাচ্ছে তারপরও তুমি কেন অন্ধ? এসব ভাবলে মাথার কষ্ট বাড়ে। “গোলাপী এখন ট্রেনে”র গোলাপী তো অন্ধ ছিল, চোখে দেখতো না। তুমি কি জবাব দিবে? তোমার চোখ থাকতেও তুমি অন্ধ! বিধাতার কাছে তোমার কি জবাব হবে?

আবারো শুনতে পাই চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ।

শুনছি সমানেই! উদ্ভট সব আওয়াজের সে বিস্ফোরণ কি কিয়ামতের আলাপন?

দেশের নেতৃস্থানীয়রা আজ আর মিথ্যা বলতে পিছে তাকায় না, ভয় পায় না।

কেন এমন হলো? মানুষ এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিচ্ছে, কোন পাত্তা দিচ্ছে না।

মানুষ আজ জেনে গেছে, শেষ জামানাতে এসব হবে কম বেশী সবাই জানে।

অপকর্মীরা আরো জানে এসব মিথ্যা বলার সব অধিকার তারা অর্জন করেছে,

২০১২, ধাপে ধাপে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠেছে দেশ চল্লিশ পার করেছে।

চল্লিশে সাধুরা সোমত্ত হয়, বুদ্ধিদিপ্ত পদক্ষেপ রাখতে ভয় পায় না

এমনই পূর্ণতা এ সংখ্যাতে এমনই স্বার্থকতা। বর্ডারে হতভাগা হতভাগীরা মরছে,

প্রধানেরা চুপ, মুখে রা নেই, যেন কিছুই হয়নি। গরীবের বাচ্চারা মরেছে, মরুক।

উল্টো ওদেরে ডেকে এনে মালা পরাচ্ছে সোনার সোহাগে বন্ধুত্ব বিলাচ্ছে এমন দুর্দীনে, কোষাগার শূণ্য। কিন্তু তাতে কি, এটি এমনই এক রোগ সবার জানা। গরীবের ঘোড়া রোগ হয় না? এমনই এক রোগে পেয়ে বসেছে। বাহারী এ জাতির ঘাড়ে চেপেছে হতাশার সংক্রমন, মহামারী রোগ। আর্সেনিকে অবশ একাংশ, খরা দারিদ্রতা হাঁ করে আছে। তারপরও রাজসভা অতি বেশী তৎপর, দুহাতে বিলানো হচ্ছে সম্মান সাধনা চলছে সপ্তরাগে, উচ্চাঙ্গে। ওদের অপকর্মের বদলে শাসানী নয়, এ যে মায়াময় বুলি! গরীবের ফেলনা মেয়ে ফেলানীকে বাড়তি জ্ঞান দেয়া হচ্ছে! সে তো মরেছে! তার দেখবার চোখ সে কবে গলে পঁচে ভর্তা হয়েছে! দেখছে বাকী জনতারা যারা আজো বেঁচে আছে, সামনে মৃত্যুর অপেক্ষায় সময় পার করছে

চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ সমানেই শুনছি।

মানব বন্ধনে রাস্তারা সারি বাধা, কি করবে এরা দিশেহারা!

তারপরও তারা কত লড়বে কত দশক কত যুগ কত শতাব্দী।

জেনেছি নয় মাসে যুদ্ধ শেষ, এবার কেউ কেউ বলছেন চল্লিশেও শেষ নয়।

ছাত্র নামধারী লীগনেতারা সকল প্রেরণার উৎস, পানিশূণ্য মাঠে লগি বৈঠায় তারা,

স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, যদিও জন্ম একাত্তর পার করা।

চাপাতি খুর দা পরখ করা। নব্য স্বাধীনতার নব্য রাজাকার এরা।

সুরঞ্জিতও বলছেন, “জাতি আজ দুভাগ হয়েছে” স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আর বিপক্ষের ধারা।

এসব সাজানো গোজামিল কথা, বলাটা সঠিক না।

সত্তুরে যখন আমরা তরুণ, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ছিল গোটা বাংলাদেশ আজ তারা বিভক্ত, দুই ধারা।

পুরানো মূল স্বাধীনতার শক্তিরা ৫০ পার হওয়া রিটায়ার্ড ধাপে তারা।

নতুন শক্তিরা বাংলার তরুণ, মিথ্যায় আগাগোড়া মোড়া। প্রজন্মরা জেনেছে একদিন তারা পিন্ডির নিগড় থেকে বের হয়েছে বিগত সত্তুরে। ফের দিল্লীর নিগড়ে ঢুকতে যাবে কোন খেদে? এটি কি কোন জাগ্রত বিবেক বলে? এতেই তাদের বাধ প্রতিবাধ, গড়ে তোলা ভিন্নধারা। চল্লিশ বছরেও এত তেড়ে উঠে নি জাতি অতীতে। এটি ঐ চল্লিশের দৃপ্ত চেতনা জাতির সামনে। আর একটি আগত মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি, এরা একবিংশের জাগ্রত জনতা!

অর্থনীতিবিদদেরও কপালে বলিরেখা। প্রশ্ন সোনালী দিন তো সামনে নয়

তবে কি এটি পেছনের হাটে ফেলে আসা? ডিজিটাল এ তো কথার কথা।

দেশ চলছে নগদ ছাপানো টাকাতে, যেন তলাহীন ঝুড়ির ঝাঝরা দশা।

পরীক্ষার পাশ ফেল আজ প্রশ্নাতীত, ফেল করেও চাকরি বাগায় ১৪৪ নেতা পাতিনেতা।

ভালো খবর আছে জমছে তলানীতে, তবে কেমনধারা যেন একহারা।

প্রধানমন্ত্রী আগামী কাল আগরতলা যাচ্ছেন। প্রাপ্তির পটে কিছু জমেছে

আগরতলায় সম্মানসূচক ডি-লিট মনে রাখবার, মুছে দিবার মত নয়।

তাইতো বলতেই হয় “এত কৃতজ্ঞতা কিভাবে ভুলা যায়”?

কিন্তু ফেলানীর সামনে সব কৃতজ্ঞতায় ভাটা পড়েছে!

কাঁটাতারে ঝূলতে থাকা উল্টে রাখা ফেলানীরা কি বড়বেশী অকৃতজ্ঞ?

কচি মেয়ের ধর্ষিত জীবন, হিসেবটা আবার করুণ – যারা বড়বেশী কৃতজ্ঞ!

 

বর্ডারে ফেনসিডিল, ইয়াবা, হিরোইন কত শত নতুন নাম না জানা মাল মশলা সমানেই আসছে।

ওরা গিলবে নাচবে মরবে। কাটাতাঁরের খাঁচাতে যারা আটকে আছে, কেমন মজা ওরা মরবেই?

যেন এক নতুন উপনিবেশ বাংলাদেশ, সেজেছে অপূর্ব বিবস্ত্র সাজ। মঞ্চে মঞ্চে উদ্যাম নৃত্য,

সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে যুব সমাজ ঘোলা জল সমানেই গিলছে, শিখছে নতুন বুলি, সবহারা উন্মত্ত।

সব হারানোর বেদনা ভুলার ঔষধ হাতের কাছেই, এরা ড্রাগাসক্ত।

ওপার থেকে দম্ভের আওয়াজে চিদাম্বরম গগৈ,

“বৃহৎ নদী বাঁধ নির্মাণ হবেই। ট্রানজিট করিডোর আমাদের চাই”।

কচি ছেলের বায়না, নতুন মা দিশেহারা এমন আবদারে উচ্ছ্বসিত;

অন্তরে প্রেমের ফল্গুধারা! তরুণেরা বেকার, নেই চাকরী

কথা ছিল প্রতি ঘরে একটি চাকরী, পাঁচ লাখ আজ চাকরীর ফেরারী

জনতারা কাঁদছে সমানেই বিলাপ করুণ সুরে, রহিয়া রহিয়া।

যারা দূরে আছি, বলো – কেমনে রাখি আখিবারে চাপিয়া?

 

এখনো শুনতে পাচ্ছি চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ

চাকরীর বাজার ভারতীয়দের হাতে, এটি কেন?

বাংলাদেশ কবে ভারত হলো? জানলাম না কেন?

যেদিন বিডিআর এর ৫৭ মেধাবী জোওয়ান মরলো ২০০৯এর ২৫ ফেব্রুয়ারীতে,

সেদিনই কি? আমরা কি জানতে পারি না?

এ কি আমাদের অপরাধ? ঐ মৃত্তিকাতে আজো ঘুমিয়ে আছে আমার স্বজন, আমার হৃদয় মন আত্মা।

দরিদ্র এক দঙ্গল মানুষের নাড়িভূড়ি ফালি ফালি করে খুবলে খাওয়া এ কেমন উন্মাদতা?

ঐ শাস্ত্রে কি পরহেজ করার বিধান বাতিল?

পরস্বঅপহরণ কি শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়?

পরের জীবন হরণে কি বাড়তি পূণ্য হয়?

সবার বিধাতা একজনই, হোক সাদা কালো পিত বাদামী

সবার রক্তের রং লাল, এক বিধাতার সন্তান তুমি আমি!

এক একটি প্রশ্নের এক একটি উত্তর হয় কিন্তু আজকের সব প্রশ্নের উত্তর এক

যেন সরল অঙ্ক খুব সোজা, “যুদ্ধাপরাধীর বিচার ঠেকাবার কসরত সব”।

 

তারপরও থেমে নেই, চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ সমানেই শুনছি। ফারাক্কা টিপাইমুখ ট্রানজিট, হামলা মামলা গুম সব সারিবাধা, এক বন্ধু ভাগ্যে পাওয়া অগাধ উপার্জন।  তত্ত্বাবধায়ক নামের এক নতুন জিগির আকাশে বাতাসে। একে সরাতেই হবে, মুছে দেয়া হয়েছে কৌশলে। এবার ইভিএমে ভোটগ্রহণে বাড়তি বিতন্ডা, তাও অকারণ নয়। দিল্লী হাইকোর্টও বলছে, এতে কারসাজির সুযোগ রয়েছে। ভোট চুরির সম্ভাবনা সামনে, অতএব সাধু সাবধান!

বিশ্বাস করেন চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ

খালেদা জিয়ার রোডমার্চ বনাম প্রধানমন্ত্রীর চ্যাংদোলা তত্ত্ব, কেন কথার এমন ছিরি!

প্রধানের বাংলাতে  মনে হয় আরো পড়াশুনা দরকার। ভাষার জন্য এত রক্ত ব্যথায় ভরা

এক উপনিবেশ একবিংশ শতকের শুরুতে মানচিত্র জুড়ে অপূর্ণতা।

এরকম সময়েও ফেনীর জয়নাল হাজারীর সব দন্ড মওকুফ হয়।

আরেক মরণ ফাঁদ তিতাস মৃতপ্রায়; একতরফা বন্ধুত্ব কাম্য নয়।

লন্ডন সেমিনারে অ্যামনেস্টি: বাংলাদেশ মানবিক পরিস্থিতি সুবিধার নয়।

পলোগ্রাউন্ড থেকে উচ্চধ্বনি উঠে, “এ দেশ কারো করদরাজ্য নয়”।

সুজনেরা বলছেন লোহা তপ্ত থাকতেই হাতুড়ি ঠুকতে হয়।

“চুক্তি যেন গলার কাঁটা” বক পন্ডিত নির্বিকার, আছে শুধু বড়াই

প্রথম আলোতে আর কালের কন্ঠে চলছে কুৎসিত লড়াই।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে লুটপাট, উচ্চ মূল্য বাজার, শেয়ার বাজারে ধ্বস,

স্বাধীনতা আজ পরাধীনতার লেবাস আটা, যেন এক উপনিবেশিক ফানুস।

আরো শুনতে চাও, বলবো আরো দুটি কথা! শুনতে চাও এ বেদনার উপাচার।

বেদনার ভারে উপচে পড়ছে চারধারে সঙ্গোপনে চেপে রাখা কষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় দলীয় আখড়া কেন? কেনই বা শিক্ষার পাশাপাশি জাতির ডুবার অঙ্গিকার?

একজন শিক্ষকের সামনে সন্তানসম ছাত্র তার; অনাগত ভবিষ্যত কেন এত ওজনহীন হালকা মূল্যহীন জমাট মাংসপিন্ড। এরা সবাই স্বার্থের পেছনে ছুটছে বলেই তারা একচোখা, দৃষ্টিহারা। চারপাশ আজ ঝাঝরা বিষফল ছড়ানো উত্তপ্ত আকাশ বাতাস, আগাম ভবিষ্যত অনেকেই অতীত লাশ। লাশের কপট ভারে বৃদ্ধ পিতার কাঁধ যেন টন টন বোঝার এক বরফগলা হিমালয়। পৃথিবী – তুমি কি ক্লান্ত আর বইতে পারছো না এ ক্লন্তির বোঝা? তবে কি কিয়ামত আগত, সামনে?  আমরা আতঙ্কিত!

যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল পোস্ট জানান দিয়েছে, আজ সারা বিশ্ব জানে বাংলাদেশের সীমান্ত আজ ইঁদুরের ফাঁদ “মৃত্যুর দেয়াল”। ইসরাইল ও ফিলিস্তিন থেকেও ভয়ঙ্কর এরা নির্যাতনে ছাড়িয়ে গেছে সবারে, চাঁদাবাজ ঘোষখোর বিএসএফ জোওয়ান। বিবিসির খবরে প্রকাশ ঘোষের টাকা চাইতে তারা হাবিবুরকে উলঙ্গ করেছে। আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে হাবিবুর কাঁদছে। ওরা নেকড়ের মত ঝাপিয়ে তৎপর শিকারের উপর। শিকারীর গোঙ্গানী শুনছে জনতারা ইউটিউবের চারপাশ থেকে। হিউমেন রাইটস ওয়াচ এক মানবাধিকার সংগঠন জানে কত রক্ত বইছে সীমান্তে কাঁটাতারের ফাঁক গলিয়ে। ঘুষের কত রকম উপার্জনের আয়োজন সেখানে। গত এক দশকে এক হাজার বাংলাদেশী বিএসএফের গুলিতে লাশেরা মুমূর্ষু মৃত। নির্যাতীতের সংখ্যা অফুরান, মোটেও হাজারে কুলাবার নয়, ওয়াচের মন্তব্য। তারা জোওয়ানরা হাবিবুরকেও মনে করেছিল মরে গেছে। তাই লাশ ছুড়ে ফেলে রাখে। বিধাতার দয়ার সৃষ্টি, তাই সে মরে নাই। মানচিত্রের ওপারে দিল্লীর প্রশাসন চিন্তিত, নিশ্চয় বিদেশী আইএসআই গোয়েন্দা জড়িত!

ওরা কতই না তৎপর কৌশলী! ভাগ্যিস এটি ফাঁস হলো আর ফাঁস না হওয়া

কত লাশেরা মিছিল করছে জনমানবহীন কাঁটাতারের সীমান্ত দেয়ালে।

মনে পড়ে বর্ডারে চেকিংএ গেলে, তারা কতই না টাকা খাবার ধান্ধা খোঁজে।

যদিও সীমান্ত খোলা, চোরাকারবারীরা সহজেই যেতে পারে বখরা দিলে।

কাঁটাতার এক অনাচার ফাঁদের নাম। বিচার শুধু ফেলানী আর হাবিবুরের জমা।

ঐ বিদেশীর গোয়েন্দা না থাকলেই কি বিধাতার ছবি কথা বলবে না, ঐ কিয়ামতের মাঠে?

ওরে পাষাণ! ঐ মাঠে কেউ ছাড়া পাবে না। হাতকড়া হাতে থাকবে সাথে সব জান ও মান।

জেনে রাখিস! ফেলানী ও হাবিবুরের থেকেও বহুগুণ কঠিন হবে তোদের পরিণাম।

পাঠক বন্ধু ! এক বিংশ শতকের এ নব্য উপনিবেশবাদের গল্প শোনার পরও

নিশ্চয় বিশ্বাস করতে কষ্ট সার! এতসব গল্প শুধু কবিতাই নয়,

সত্য কথন। হে বিধাতা! বন্ধ করো এ নির্যাতন। শুনছি সমানেই শুনছি

চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার ঢং ঢং মতন শব্দের আয়োজন।

 

কিছু নতুন খবর আছে কেউ বলছে চাঁদের বুকে ষ্টেশন হবে। এলিয়েনরা আছে ধারে কাছে। কিন্তু তারচেয়েও গুরুতর সমস্যা সামনে। দেশবাসীর সামনে এলিয়েন নয়,  জয়নাল হাজারীরা টুপি মাথায় দাঁড়ি মুখে একপায়ে দাঁড়িয়ে। এদের দেখলে গলা শুকিয়ে কাঠ হয় সাধারণ জনতার। তারা সাধারণেরা সন্ত্রাস চায় না, চায় বাঁচবার নিশ্চয়তা। জয়নাল হাজারীরা মাথায় টুপি আর দাঁড়ি রাখলেই কি সাত খুন মাফ হয়ে যায়! সারিবাধা সব অপরাধ ধুয়ে মুছে যায়! তবে সব দাাঁড়ি সমান নয়! দাঁড়িরও রকম সকম ভিন্ন নিয়মে গড়া, গাটছড়া বাধা! আমরা সাধারণেরা চেয়ে আছি শুধু অপলক দৃষ্টিতে, ২০১২ জানুয়ারী, তুমি বছরের শুরু, তুমি সাক্ষী থেকো। শুনছি সমানেই চারপাশে শুধু হাহাকার আর পাগলা ঘন্টার শব্দ। আট বছর আগের লেখাটি পড়লে মনে হয় যেন গতকালের কথা বলছি। শুনছি তো শুনছি সমানেই শুনছি। আল্লাহ এ জটিল সঙ্গিন সময়ে জাতিকে সঠিক পথ বাতলে দিক। আমিন।

মূল রচনাকাল ১৮ জানুয়ারী ২০১২।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ব্লগে ছাপা হয় ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০। এ চলমান সপ্তাহে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ থেকেও কলামটি ছাপা হয়।

 

Tag Cloud

%d bloggers like this: