Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

খবরটি স্টাফ রিপোর্টার কৃত ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০তারিখ মিডিয়ার খবর। কে বা কারা চাইছে আবরার ফাহাদের বাবাকে আড়াল থেকে মামলা আপসে মিটমাট করে ফেলতে কল করছে। বিনা অপরাধে মৃত্যুর জবাব কিভাবে ফয়সালা হয় তাও আবার আপোষে? শক্তির তলানীতে এটি সংগঠিত হয়েছে, এর অনেক সাক্ষ্য প্রমাণে ওরকমই মনে হয়। ঘটনা ঘটিয়ে সরকারও সিসিটিভির দাগ মিটানোতে উঠে পড়ে লাগে। সরকারের অতি চাতুরী ছাত্র জনতার কাছে ধরাও পড়লো। সাত্তার নামের একজন টেলিফোনে আল্লাহর বাণী শুনিয়ে আপোস প্রস্তাব দিচ্ছে। নির্দোষ মেধাবী আবরার হত্যায় আল্লাহর কথা মনে পড়ে নাই, এবার দুর্বৃত্তের জীবন বাঁচাতে আল্লাহকে মনে পড়েছে! ২০১৯ সালের ৭ই অক্টোবর প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হত্যা করে, সচরাচর ধারাবাহিক হত্যা গুমের মতই স্বাভাবিক এসব হত্যাকান্ড।

‘বাংলাদেশের বেসরকারী খাতে ভারতীয় দাপট’ খবরের শিরোনাম। পোশাক শিল্প, বায়িং হাউজ, আইটি এবং সেবা খাতে ভারতীয় দাপট বেড়েই চলেছে। চীনা ও শ্রীলংকা এরপরে থাকলেও করোনা ভাইরাসে চীনের দাপট কিছু কমলেও ভারতীয় দাপট আরো বেড়ে যাবার আশংঙ্খা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে এক লাখেরও বেশী ভারতীয় কাজ করেন। অন্যদিকে বায়িং হাউজে এই সংখ্যা আরো আরো বেশী। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম, বিজ্ঞাপন, কনসালটেন্সি এসব খাতেও ভারতীয়রা রয়েছেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে কম করে হলেও পাঁচলাখ ভারতীয়রা কাজ করে। কিন্তু তাদের অধিকাংশেরই কোনো ওয়ার্ক পারমিট নেই। তারা টুরিস্ট ভিসায় আসে। আর তাদের বেতন অনেক বেশী। টুরিস্ট ভিসায় যারা কাজ করে তাদের আয়কর পুরো অর্থই অবৈধ পথে বাংলাদেশের বাইরে চলে যায়। সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্ট ও ভারতীয় কৌশলশর্ত জুড়ে দেয়ার কারণেও তাদের জনশক্তিকে কাজ দিতে হয়। ট্রাভেল এজেন্টদের বড় একটি অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে। সরকার এসব ব্যাপারে তৎপর নয় বরং চরম গাফলতি, দেশের স্বার্থকে খর্ব করছে।

বাংলাদেশের চাকরির বাজারে কর্মরত বিডিজবস ডটকমের পরিচালক ফাহিম মাশরুম বলেন, ‘বিদেশে কর্মীদের মাঝে ভারত সবার উপরে তারপর শ্রীলংকা, চীন থাইল্যান্ড। এদের দশভাগেরও ওয়ার্কপারমিট না থাকায় অবৈধভাবে কাজ করছে। তারা ভারত থেকে পেমেন্ট পায়। এ সিস্টেমও তারা ভারতীয়রা করে নিয়েছে।’ পোশাকখাতের বড় অংশ তাদের টেকনিশিয়ান ও ডিজাইনাররাই উঠায়। বিআইডিএস এর অর্থনীতিবিদ ডঃ নাজনীন আহমেদ জানান, ‘প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে যাচ্ছে। বাংলাদেশের টার্গেট ২০ বিলিয়ন ডলার। তার মানে আনা রেমিটেন্সের এক উল্লেখযোগ্য ভাগ তাদের পাতে যায়। এটি হচ্ছে বৈধ চ্যানেলের কথা। আর অবৈধ পথে কত যায় তার কোন হিসাব সরকারী খতিয়ানে নেই। সবচেয়ে বেশী যায় ভারত ও শ্রীলংকায়। একাউটেন্ট ও প্রশাসনিক কাজেও বাইরে থেকে লোক নিয়োগ দেয়া হয়’ (পোশাক শিল্পের এসব সূত্র: ডয়েচে ভেলের রিপোর্ট)।

এই হচ্ছে পোশাক শিল্পের বর্তমান দশা। উন্নয়নের ফানুসে সরকার সবকিছু রঙ্গিন চশমা চোখে মাপছে। কালার ব্লাইন্ড সরকার যেন সবকিছু ভুল অংকে ভুল ফিরিস্তিতে দেশবাসীকে বোঝাচ্ছে? আইবিটিআইএফ সভায় বস্ত্রমন্ত্রী ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ তারিখ বুধবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে প্রথমবারের মত দুই দেশের দুই দিন ব্যাপী সভা হয়। সভায় বলা হয়, উভয় দেশ উপকৃত হবে। কিন্তু প্রায় সব ব্যাপারে একতরফাভাবে পরনির্ভর মনেবৃত্তির সরকারের কাছ থেকে ঘাটতি মোকাবেলার ব্যাপারে জনগণের খুব একটি বিশ^াস জন্মাবার কথা নয়। কারণ কোন ব্যাপারেই সরকার কোন দক্ষতার দাগ দেখাতে পারে নাই। দেউলিয়া অর্থনীতির বোঝা কাঁধে নিয়ে পোশাক শিল্পকে খাদের কিনারায় নিয়ে দাঁড় করাতে সরকারের গাফিলতিও অস্বীকার করার উপায় নেই। যখন সরকারের অর্থমন্ত্রী সংসদে দাড়িয়ে বুক ফুলিয়ে সরকারের সুরে একই লাগামছাড়া মন্তব্য ছুড়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রচার করেন, “আমি বিশে^র এক নম্বর অর্থমন্ত্রী”(৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, আমাদের সময়)। শেয়ার বাজারের সীমাহীন ধ্বসের উপর দাঁড়িয়ে এ হুংকার যেন ‘সিংহ আমি বনের রাজা’র মতই অহংকারী ভারসন। অর্থমন্ত্রী এতই সুবোধ বালক যে, ব্যাংকের মালিক ডিরেক্টররা ঋণ নিয়ে বসে থাকলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেয়ার দরকার বোধ করেন না। মনে হয় উনার লজ্জা লাগে। ঠিক যেভাবে ভারতীয়রা মালামাল বিনা ট্রানজিটে পার হয়, শুনেছি বাংলাদেশ সরকার চাইতে লজ্জা পায়! দেশ থেকে কোটি কেটি হাজার কোটি টাকা পাচার হলেও অর্থমন্ত্রী কোন ব্যবস্থা নেন না। কি কারণে তার এমন নিরবতা, সেটি তিনি ভালো জানেন। তবে নিজের কাজেকর্মে স্বচ্ছতা না থাকলে অপরকেও সুবিধা দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না। শক্তির নীতিতে তারা দক্ষ, উল্টে পাল্টে দে মা, লুটেপুটে খাই!

সরকারের সব মন্ত্রীরা ঢোল পিটাতে পিটাতে ঢোল ক্ষয় হওয়ার শেষ ধাপে কিন্তু জনতারা যে যেদিকে পারে ময়দান ছেড়ে পালাতে চাইছে। এর কারণ কি? রোগীর লক্ষণ দেখে ডাক্তার রোগ নির্ণয় করে। কি কারণে তরুণদের এমন রোগ হলো সেটি নির্ণয় করা দরকার। এত সুখ সমৃদ্ধি উন্নয়ন মেগাপ্রজেক্ট রেখেও কেন তারা দেশ ছেড়ে পালাতে চাচ্ছে! আর ভারতীয়রা কিভাবে এখানে নিরাপত্তা পাচ্ছে! ওপরদিকে ভারত সরকার এনআরসির সোরগোল তুলেও ফায়দা লুটার মানসাঙ্কে ব্যস্ত। দেশটা কি শুধু অর্থমন্ত্রীর, সেতুমন্ত্রী কাদেরের, মন্ত্রী নাসিমের নাকি গভীর রাতে ভোট লুটেরা প্রধানমন্ত্রীর! জনতারা সব বেওয়ারিশ লাশ, খালেদার মতই। ডঃ কামাল সীমা ছাড়িয়ে গেছেন, বয়ানে কাদের (মানবজমিন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০), জিয়া এরশাদ খালেদা এ মাটির সন্তান নন, (শেখ হাসিনা, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০)। মন্ত্রী নাসিমের বয়ান ভোটারদের সাথে সম্পর্ক না থাকায় ভোটে তারা কেন্দ্রে আসেনি, নাসিম, (৫ ফেব্রুয়ারী, নয়াদিগন্ত), ‘বর্তমান সরকারের সময় বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত’ বয়ানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারা জাতি কমবেশী জানে, ইতিহাস এ মাটির দাগদেয়া সন্তান জন্ম কাহিনীর অনেক কথা জমা করে রেখেছে, যা শুনতে বাজে লাগে। এখানে  সবার কথার মাঝে বাস্তবতার চরম সংকট। এরা দলগতভাবে সত্যকথা ও কাজ ভুলেই গেছে। কথায় কথায় বেফাঁস মিথ্যা হাসির খোরাক জমায়! এসব দেশের সমাজ চিত্র ও অর্থনীতির একটু ছোঁয়া। আবরার হত্যা, খালেদার কারাগার, মন্ত্রীদের বাগাড়ম্বর, ভোটের মৃত্যুদশা, অর্থনীতির গোজামিল অংকদশা, সচেতনকে গভীরভাবে ভাবায়। এ যেন শত্রু ঘুনপোকারা মজ্জা চুষে খাচ্ছে আর দেশের অস্থিমজ্জা ঝরঝরে হচ্ছে। অদেখা বিধাতা ছাড়া আর বিচার চাইবার কোন জায়গা সামনে পিছনে ডানে বামে অবশিষ্ট নেই। তারপরও সবহারাদের বড় ভরসা আল্লাহ, যে ময়দানে বিচার চাইবার জায়গা কোনদিনও শেষ হবার নয়।

৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০।

বি দ্র: উপরের পুরো লেখাই নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ কলামে ছাপে ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ সালে।

Tag Cloud

%d bloggers like this: