Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

কি কারণে একজন মুক্তিযোদ্ধা এরকম একটি আবদার করে বই লিখে গেলেন সেটি কি জাতিকে ভাবায় না? জাতির মগজ নামক শরীরের অঙ্গটি কর্মক্ষম থাকলে আর বিবেক কার্যকর থাকলে অবশ্যই তাদের ভাবতে হবে, একবার নয়, বার বার। কে কোন দল করে সেটি বিষয় নয় কে কে মানুষ সেটিই বিষয়। এখানে মানবিক ও পাশবিক বিবেচনা ছাড়া আর কোন প্রসঙ্গ নেই। এ মুক্তিযোদ্ধা সেদিন ২০২০ দেখেছিলেন বিধায় এমন রায় দিয়েছিলেন। এরা ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা। দেশপ্রেমের খাতায় এরা চিরজীবি। এদের পাওনা অফুরান, দুই জাহান ভরা স্বার্থক মানব সন্তান। ফাঁসির আসামীরা বোকার মত দেউলিয়া হয়ে টিকছে, ক্ষমতার চেয়ার ব্যতীত এরা মানব হৃদয়ে কংকাল, অপরিচিত লাশের হাড় গোড় নয়তো ঘৃণ্য জীব। আকর্ষণ সম্মান দায়বদ্ধতা দয়া মায়া মমতা না হারালে কি কেউ ফাঁসির দন্ড চায়? মতিয়ুর রহমান রেন্টুর কাছে এরা কয় যুগ আগেই সর্বহারা হয়েছে। ক্ষমতার দাপটে অবৈধরা সব চাপা দিয়ে রেখেছে, বাজেয়াপ্ত করেছে। আজ এদের ময়দানের আচরণ স্পষ্ট করছে এরা গোটা জাতির কাছে নিঃস্ব দেউলিয়া ধ্বংসের শেষ সীমানায় হাঁপাচ্ছে।

স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও সৎ সাহসী যোদ্ধারাই প্রকৃত বিজয়ী। জাতিকে বাঁচাতেই তাদের আত্মত্যাগী সততার দাগ চিহ্ন। তারপরও জাতি কেন মরছে হাটু পানিতে? বিদ্রোহী মুক্তিযোদ্ধা তার বিদ্রোহের স্বাক্ষর রেখেছেন কাজে কথায় ও কালিতে। সরকার যা করছে, এটি তার বহু পুরানো জাত স্বভাব, ঐ মুক্তিযোদ্ধা বিগত শতকে স্পষ্ট করে গেছেন। শেখ হাসিনার প্রাইভেট সেক্রেটারী ১৯ বছর একসাথে কর্মচারী কর্মকর্তা হয়ে থাকার পর এই তার পরিসংখ্যান। তথ্যবহুল বাস্তব ঘটনার প্রতিটি রাজনৈতিক জটিলতার খুটিনাটি সেখানে স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে।

নীচে মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেন্টুর বই “আমার ফাঁসি চাই” (প্রকাশকাল ১৯৯৯, স্বাধীনতা দিবস), ঐ গ্রন্থ থেকে বিগত শতকের ইতিহাস দেখা কিছু বাস্তব সত্য তুলে ধরছি। মূল গ্রন্থে অনেক বিস্তৃত আলোচনা এসেছে, বইটি ময়দানে নেই, তবে অনলাইনে আছে বাংলা ও ইংরেজীতে। ঐ লেখকের দুটি বইএর অন্যটি হচ্ছে “অন্তরালে হত্যাকারী খুনী প্রধানমন্ত্রী” (জীবনাতঙ্কে ছুটে বেড়ানো রেন্টুর ভাতিজা রাকেশ রহমানের ভিডিও তথ্য)। সরকারের সৎ সাহস থাকলে বই দুটি ময়দানে থাকতো, বাজেয়াপ্ত কেন হবে? রাকেশও এই কথা বলেন। সহজ অংক, তার মানে সরকারই দোষী, আর রেন্টুর অর্জন ইহ ও পরকালে জমছে বহুগুণে। সরকারের অপকর্মের ১৫ মামলা বাতিল, রেন্টুর চ্যালেঞ্জ করে লেখা বইও বাতিল! সরকারকে বাতিল করাই মুক্তির একমাত্র বিশুদ্ধ জবাব। এ বইটি পড়ার পর কোন বিবেকবান মানুষ সরকারের সাথে থাকতে পারে না। শেখ মুজিবের উত্তরসুরীরাই তাদের পূর্ব পুরুষের পরিচিতি ঈমান আকিদা সততা, যোগ্যতা, মানবিকতার পক্ষে বিপক্ষে দলিল স্পষ্ট করছে, এদের সুকর্ম অপকর্মের দায় পাপ পূণ্য সংগৃহীত হচ্ছে। কুরআনে সুরা বাকারাহর ২১৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন উৎপীড়ন হত্যার চেয়ে গুরুতর। তার মানে এরা হত্যার চেয়েও গুরুতর অপরাধ করছে। যোগ বিয়োগের হিসাবটি প্রজন্মকেই করতে হবে, জাতিও পরখ করতে পারে। যে কেউ বিগত সময়ের সব কার্যকারণ ও সাম্প্রতিক ২০২০ সালের ভোটের বাস্তবতা এর সাথে মিলিয়ে নিতে পারবেন। ঐ বইএর ১৩৮,১৩৯,১৪০ পৃষ্ঠা থেকে সামান্য সংগ্রহ দিলাম।

(১)        সম্পূর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সঠিক সময়ে স্বাধীনতা ঘোষণা না করায়, ত্রিশ লক্ষ মানুষকে নিহত হতে হয়, দুই লক্ষ মা বোনকে ধর্ষিত হতে হয়, এর দায়ে দায়ী শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসি চাই।

(২)       মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার অভিযোগে শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর বিচার চাই, শাস্তি চাই।

(৩)       মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছে, শেখ মুজিবর রহমানকে স্বাধীন দেশে ফিরিয়ে এনেছে, স্বাধীনতার পর ভারত থেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা না এনে, রাজাকার আলবদরসহ ভুয়া ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ (সার্টিফিকেট) দেয়ার অভিযোগে শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর বিচার চাই, শাস্তি চাই।

(৪)       ক্ষমা না চাইতেই স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার, আলবদরদের ঢালাওভাবে ক্ষমা ঘোষনা করার অপরাধে শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসি চাই।

(৫)       মহান বিপ্লবী নেতা কমরেড সিরাজ সিকদারকে বন্দি অবস্থায় বিনা বিচারে গুলি করে হত্যা করার অপরাধে শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসি চাই।

(৬)       সিরাজ সিকদারকে খুন করে পবিত্র পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে সিরাজ সিকাদার আজ কোথায় শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসি চাই।

(৭)       জনগণের ভোট দেয়ার অধিকার, মিছিল করার অধিকার, দল করার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণসহ সংবিধানের মৌলিক অধিকার হরণ করে জাতির উপর একদলীয় (বাকশাল) শাসন শোষন চাপিয়ে দেয়ার অপরাধে শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর বিচার চাই, শাস্তি চাই।

বাবার পর মেয়ের উপর ক্ষ্যাপা মুক্তিযোদ্ধা রেন্টু। এসব কি বিনা কারণে, বিবেককে প্রশ্ন করেন।

(ক) শেখ হাছিনা ভারত থেকে দেশে এসে সন্ত্রাসী, চোরাকারবারী, কালোবাজারী, ঘোষখোরদের রাজনীতির চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছে এবং রাজনীতি থেকে সকল প্রকার নীতি আদর্শ ঝেটিয়ে বিদায় করে প্রতিষ্ঠিত করেছে নীতিহীন এক রাজনীতি, এই অপরাধে শেখ হাছিনার বিচার চাই শাস্তি চাই।

(খ) ভারতে বসে স্বাধীনতার ঘোষক মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করে এবং ১৯৮১ সালের ৩১শে মে তা বাস্তবায়িত করার অপরাধে শেখ হাছিনার ফাঁসি চাই।

(গ) ১৯৮২ সালে গনগণ কর্তৃক নির্বাচিত বিএনপি সরকার উৎখাত করে সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অপরাধে শেখ হাছিনার বিচার চাই, শাস্তি চাই।

(ঘ) সামরিক স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদকে হাতের মুঠোয় রাখার জন্য, ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা, ছাত্র আন্দোলনের নামে ’৮৩র মধ্য ফেব্রুয়ারী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র জাফর ও জয়নাল এবং ’৮৪এর ফেব্রুয়ারীতে সেলিম ও দেলোয়ার হত্যার অপরাধে শেখ হাছিনার ফাঁসি চাই।

(ঙ) ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে সার্ক শীর্ষ সম্মেলণ পন্ড করার জন্য হিন্দু মুসলমান সাম্প্রদায়িক রায়ট লাগিয়ে দেওয়ার অপরাধে শেখ হাছিনার বিচার চাই, শাস্তি চাই।

(চ) ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের মার্চ পর্যন্ত আন্দোলনের ইস্যু তৈরী করার জন্য ঢাকা শহরে ১০৩ জন নিরীহ অজ্ঞাতনামা সাধারণ মানুষকে খুন করার অপরাধে শেখ হাছিনার ফাঁসি চাই।

বইটি পড়া প্রতিটি বাংলাদেশীর অবশ্য অবশ্য কর্তব্য। স্বাধীনতার শুরু থেকেই এরা দাগী আসামী। জেলখানায় চার নেতার মৃত্যু কেন, এদের প্রতি এ অভিযোগও তিনি করেছেন। আলোচনার বদলে নিরবতা ষড়যন্ত্রকথা! শেখ মুজিব ইচ্ছাকৃতভাবেই পাকিস্তানীদের হাতে ধরা দেন! ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার বিপ্লব ছিল মুজিবের বাকশাল ও ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ!  ৮১ সালের ২৩শে ২৪শে মে টিএসসি তৃতীয় তলাতে কর্ণেল শওকত আলীর বয়ানে ছিল, “জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম গেলে —– মেজর জেনারেল মঞ্জুরের নেতৃত্বে জিয়া হত্যা হবে। এ হত্যাকান্ডের ব্যাপারে হাছিনা জ্ঞাত থেকে কাজ করতেও নির্দেশ দিয়েছেন। ধূর্ত এরশাদ মঞ্জুরকে ত্বরায় হত্যার নির্দেশ দিয়ে নিজের অপরাধ ঢাকে। এরশাদের দাগী অপরাধীরাই জেল থেকে খালাস পাওয়া ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর মিলন হত্যা করে। ঢাকা শহরের গুন্ডা বদমাইশদের হাতে নগদ পাঁচলক্ষ টাকা দিয়ে লুট হয় ঢাকেশ্বরী মন্দীর, রামকৃষ্ণ মিশন, তাতিবাজার, শাখারিপট্টি, ——- সার্ক সম্মেলন পন্ড করান হাছিনা। সচিবদেরে ন্যাংটা করে ফেলার নির্দেশও ছিল হাছিনার। একজন আলমকে সচিবদের ন্যাংটা করার দায়িত্ব দিলেন। (ঐ গ্রন্থ, ১৬২ পৃষ্ঠা)। জেনারেল নাসিম বীর বিক্রমকে শেখ হাছিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করার প্রস্তাব দেন। ২০শে মে ’৯৬এর ক্যু দে তা’র পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে ভারতীয় সেনা সমাবেশ কলাম থেকে “দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সেনাবাহিনীর শৃংখলা বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল নাসিমকে সেনাবাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান বিশ^াস বরখাস্ত করেন। প্রেসিডেন্ট যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলে এ দেশ ঐ দিনই একটি দেশের গোয়েন্দা ষড়যন্ত্রের ব্লু প্রিণ্টে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে দাঁড় করিয়ে দিতে পারতো (বাংলাদেশে ‘র’ আবু রুশদ পৃষ্ঠা ১৯২)। জনতার মঞ্চের আয়োজনেও কলকাঠিতে শেখ হাছিনা। এক কথায় এ জাতির প্রতিটি দুর্যোগে দুর্ভোগে শেখ হাছিনা সরাসরি জড়িত। সমস্ত জাতি চোখ থাকতেও অন্ধ সিনেমার গোলাপীর মত পথ হাতড়ে চলেছে। এরপরও বাপ বেটির ঢোল কিভাবে পেটাবে বিবেকসম্পন্ন জনতা? প্রশ্ন সেটাই। ইতিহাস কথা কয়। কি কারণে একজন মুক্তিযোদ্ধা মরণের ভয় না করেও এমন প্রতিবাদ করে গেলেন, যখন ক্ষমতায় হাছিনা। যুগে যুগে জাতির স্যালুট এমন ত্যাগী মুক্তিযোদ্ধার পাওনা! ইসলামে একেই বলে জিহাদ, শত ষড়যন্ত্রেও সত্য প্রকাশ করার সাহস ঐ সব অসাধারণদের অর্জন। শুধু ইতিহাস কথা বলে না, বর্তমানও কথা বলছে। তার বাস্তব প্রমান সব জনতার চোখের সামনেই স্পষ্ট। একজন প্রাইভেট সেক্রেটারী হিসাবে ২২ বছর আগে দেখার শেষটা আর শুরুটা ৪০/৪১ বছর আগ থেকেই তিনি পরখ করছেন হাছিনার আচরণ গতিবিধি কাছ থেকে ঘরে থেকে। রেন্টু প্রথমে তার নিজের ফাঁসি চেয়ে বইএর নাম করেন। কারণ তিনি জেনেও এসব চেপে ছিলেন, এই অপরাধে! পরবতীতে যে দুজনের ফাঁসি চেয়েছিলেন তারা, বাপ বেটি! মুক্তিযোদ্ধা রেন্টুর রায়ে ফাঁসির আসামী!

(০২/০২/ ২০২০) = ফেব্রুয়ারীর ২, ২০২০।

 

Tag Cloud

%d bloggers like this: