Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

শান্তিময় দাসত্ব থেকে অশান্ত ভয়ের স্বাধীনতা উত্তম। উক্তিটি থমাস জেফারসনের। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর উত্তম উদাহরণ হিসাবে বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে একটি সাউথএশিয়া জার্নালে প্রকাশিত “Bangladesh: An Enslaved Nation? (Part 1) November 30, 2019 by R. Chowdhury লেখাটি ছাপে। যুদ্ধ ও গুলি ছাড়াই কিভাবে ভারত তার উদরে দেশটিকে ঢুকিয়ে দেয়ার সব কসরত সার্থকভাবে করছে তার চিত্র ফুটে উঠেছে ঐ লেখাটিতে। ৯০% মুসলিমদের দেশটিতে ভারতীয় সংস্কৃতির ভাগাড় করাসহ বাংলাদেশের এ দাস সরকার গণতন্ত্রের পথিকৃত তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে শিকল পরিয়ে রেখেছে। কোন মানুষ ছাত্র নেতা শিক্ষক সাংবাদিক রাজনীতিবিদ স্বাধীনভাবে নিজের কষ্টও ব্যক্ত করতে পারে না। আজো মনে পড়ে স্বাধীনতা পরবর্তী ২৫ বছর চুক্তিটি জানতাম গোলামী চুক্তি হিসাবে, কিন্তু এটাকে ঘুরিয়ে প্রচার করা হতো মৈত্রী চুক্তি নামে। গোলামীর ঐ দড়ি সেদিনই সচেতনরা টের পায়। এর মূল শর্তগুলি বেশ ঢাকা ছিল। মানুষ দোটানার মাঝে ছিল দাসত্ব না মৈত্রী। আমার মনে পড়ে ঐ সময় এর উপর একটি লেখা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলার এক শিক্ষক আব্দুস সাত্তার সাহেব এর উপর তার নিজের লেখা একটি কপি দিয়েছিলেন, আমি খুব সযতনে সেটি আমার ফাইলে রেখেছিলাম। পরে কোনভাবে সেটি হারিয়ে ফেলি অন্য কিছু জরুরী কাগজপত্রের সাথে। ৭১ পরবর্তী এমন কোন আচরণ চোখে পড়ে নাই, যাতে ভারতকে পরম বন্ধু মনে করা যায়। বরং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা চোখে পড়েছে। অবৈধ দখলদার সরকার টিকে আছে তাদের সহযোগিতায়। যার কারণে শত অনাচারেও প্রতিবাদ প্রতিরোধ না করে সীমাহীন নীরবতা বাংলাদেশকে বিপন্ন করেছে। বাংলাদেশ আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা শাসক থমাস জেফারসন মানুষের জন্য স্বাধীনতার যে স্বপ্ন দেখতেন সেটি আজ মুজিব কন্যা পুরোটাই ধ্বংস করে দিয়ে বাংলাদেশের জন্য সংকট সৃষ্টি করে চলেছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি যে কত ভয়ংকর বিপন্ন সেটি একটি কলামে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। এমন পরাধীনতা পাকিস্তান আমলেও জাতি পরখ করে নাই, বৃটিশ আমলেও না। দেখা গেছে বৃটিশরা সাক্ষী মারা গেলে প্রমাণের অভাবে দোষী ব্যক্তিকেও ছেড়ে দিয়েছে। আর এ সরকারের সময় ফাঁসির রায় প্রাপ্ত মানুষকে দোষী হিসাবে পাকাপোক্ত করতে কারাগারের এজলাশেও মাথায় জঙ্গি টুপি পরানো যায়। যাকে তাকে জঙ্গি সাজানো যায়, হাটে ঘাটে মাঠে কেউ নিরাপদ নয়। লাশ গুম হত্যা রক্ত জঙ্গিপনা চাপানো যায় যে কোন নির্দোষের ঘাড়ে এ যেন মগের মুলুক।   

 

ভারতের সাথে কি চুক্তি হয়েছে বিএনপি জানতে চাইলেও সরকার নড়ে নাই। এবার তারা তথ্য প্রযুক্তিতে মামলা করবেন বলে ঠিক হয়েছে। তারা যা চুক্তি করেছে তাতে ন্যুনতম অর্জন না রেখেই একতরফা চুক্তি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার, ফেনী নদীর পানির ব্যবহার, ট্রেন যোগাযোগে বাংলাদেশের ভারতের বিশাল ব্যয়ভার আমদানী রপ্তানীর সব খতিয়ান বাংলাদেশের উপর জেকে বসে, বিনা শুল্কে ট্রানজিট সুবিধা, ফেনী নদীর চুক্তিতে বিপর্যস্ত হবে মোহুরীর সেচ প্রকল্প, মৎস্য শিল্প ধ্বংস গুণছে, পরিবেশ হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে। চুক্তির আগ থেকেই সুবিধাবাদী ভারত বাঁধ দিয়ে সারা দেশ শুকিয়ে খরাতে বিরান করে রাখতে সাহায্য করে থাকে, সেখানে ভারতকে এমন অবারিত বাংলাদেশ সরকারের অপ্রকাশিত লুকানো দান, বিএনপির মামলার সংখ্যা ২৬ লাখ থেকে ৩৫ লাখে পৌচেছে। টিউলিপের বরাতে কম্পিউটার কেনার গোজামেল কথার স্পষ্ট জবাব দেন বিএনপির বক্তারা। আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের দ্বিগুণ দামে কেনা সব কম্পিউটার কেনাতে কোম্পানীর স্বার্থকেই বড় করে দেখা হয়েছে। সেটি মূলত বাংলাদেশের স্বার্থবিরুদ্ধে চুক্তির অংশ ছিল। যেখানে পরবর্তীতে বিএনপি সরকার ন্যায্যমূল্যে কম্পিউটার কিনেছিল। পরে চুক্তি মাফিক ৫০ কোটি টাকা নেদারল্যান্ড সরকার দেয়নি। কথাছিল ঐ ক্ষতিপূরণ তাদের দেয়ার।  নেদারল্যান্ডসের নামে যে মিথ্যাচার গল্প প্রধানমন্ত্রী সাজিয়েছেন তার জবাব দেয়া হয় এভাবে। উপর্যুপরি তিনি তার সব অপকর্ম ঢাকার প্রয়াস চালান। সে চুক্তি কেন বাতিল হয়, দুর্নীতির প্রধান ৩ বড় কারণে ওটি বাতিল হয়, প্রধানমন্ত্রীর বোনের মেয়ে টিউলিপ নামের জন্য নয়। তার সবকটি কারণ বিএনপির রিজভী স্পষ্ট করেন। ওটিও ছিল আজকের মতই করা দুর্নীতি ও স্বার্থবিরোধী চুক্তির ধারাবাহিক নমুনার অংশ। দেশের স্বার্থের বিপরীতে উচ্চদামে করা কম্পিউটার চুক্তি, ডঃ মশিয়ুর রহমান ছুটির দিনে ঐ চুক্তি করেন ১০,০০০ কম্পিউটার কেনা হয় উভয় দেশের শেয়ারে। পরে গোজামিল সামলাতে ক্ষতিপূরণ উসল না করে উল্টো তাদের আমলে মোঃ আলী সরকার ২ মিলিয়ন ১৩০ হাজার ইউরো পৌছে দেন কঠোর গোপনীয়তার সাথে। তবে বাতিল হওয়ার কারণে সম্ভবত বাংলাদেশের ভাগে কোন প্রাপ্তি জমে নাই। মোট কথা হচ্ছে টিউলিপ নাটকের যে অবতারণা হাসিনা করেছিলেন, সেটি ধোপে টেকে নি।

 

কিছু দিন আগে ভারতের সংবাদ মাধ্যমেও দেখলাম মোদির নির্দেশে মানুষ মুসলিমদের দোষী সাব্যস্ত করতে লুঙ্গি পরে ট্রেনে আগুন দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা সেটি অনেক সভাতে প্রকাশ করে জনতাকে সাবধান করছিলেন। যার কারণে এরা হাতেনাতে ধরাও পড়ে, যার জন্য এটি বলা সম্ভব হচ্ছে। ধরা না পড়লে মুসলিমরাই স্থায়ী আসামী হতো। ২০০২ সালে করা গুজরাটের ঐ আগুনও ওরকমই ছিল। যার জের ধরে ২/৩০০০ মুসলিমকে ময়দানে মারা হয়, কত নারী সম্ভ্রম হারায়, লাশ হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার এসব ঘটনা ভারতের নিত্যদিনের ঘটনা। সেখানে হাজার হাজার দাঙ্গা হয়, যা ভাবতেও গাঁ শিউরে উঠে। নিউজ টিভির খবর ও প্রথম আলোর বরাতে প্রকাশ ৩৫,০০০ কোটি টাকা নিয়ে চম্পট প্রশান্ত কুমার হাওলাদার। ২০১৪ সালের আগে পরের লুটপাটের এ মহানায়ক অতীতেও সব ধরণের সাহায্য সহযোগিতাও পেয়েছেন সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। তিনি একা নন, তার পারিবারিক দলবল নিয়ে এসব করছেন। এত করেও অর্থসহ পালিয়ে যেতে পেরেছেন সার্থকভাবে। গত দশ বছরে দেড় হাজারেরও বেশী বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের নামে এসব আরো সহজ হয়েছে। ভুক্তভোগীর হিসাব মত এটি ২,০০০ এরও বেশী। ভিন্ন মতের কারণে ৩৫লাখের বিরুদ্ধে মামলা, গুম ১,০০০ গ্রেফতার খুন খুব সহজ বাস্তবতা। প্রতিবাদে কাউকে রাস্তায় নামতে দেয়া হয়না, কার্যালয় ঘিরে রাখা হয়। কারণ নীতিহারা সরকারের ভিত নড়বড়ে। মানুষ দেখলে ভয় পায়। মানবাধিকার লংঘন করা সরকার পাশবিক বলেই ক্ষমতা ধরে আছে। ফাঁকে ফাঁকে উপদেশ বিলির নাটক চলমান আছে। একদিনের আওয়ামী নেতা ডাঃ কামাল বলেন, ৪৮ বছর পর একটি স্বাধীন দেশে মানুষকে লড়তে হচ্ছে অস্তিত্ব রক্ষার্থে। আইনের কর্তা মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বিচারক নিয়োগের আগে কোন তদন্ত হয় না, আর নিয়োগে কোন আইন মানা হয় না। সব কাজেই কি অপরিসীম দক্ষ এ সরকার এ তার নমুনা মাত্র! তারপরও সরকার বলতেই পারে এসব মদীনার সনদের অংশ।

 

মজনু নামটি খাসা, এরা সময় সুযোগে ভার্সিটির লাইলিদের ধর্ষণ করে। সাম্প্রতিক সময়ে এটি সরকারী পাগলামি মঞ্চনাটকের অরেক নমুনা। মুখ দাতঁ বের করে রাখা এ প্রতিবন্ধীকে জাহাঙ্গির বিশ^দ্যিালয়ের সেঞ্চুরী করা মানিকের সাথে দেখতে অভ্যস্ত সরকার। শতবার ধর্ষনকারী মানিক নিরাপদ থেকেছে, বিচার বরাদ্দ হয়নি, বরং অনেক তথ্যে সরকারী প্রমোট পেয়েছে। দাঁত কেলিয়ে থাকা হাঁ করা মজনু মিয়ার রক্ষে নেই, ডিএনএর প্রমাণ সরকারের হাতে। চরম অসুস্থ খালেদা জিয়ার সুস্থ সার্টিফিকেটও সরকারের হাতে। এটিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রেডি রেখেছে, গড়গড় বলে দেয়। ডিজিট্যাল বাংলাদেশে ল্যাবেও দৌড়ানোর গরজ কম, কারণ দেশ উন্নয়নের মহাসড়ক। বিনাভোটের সরকার গদিতে। আজ ২৬ জানুয়ারী দেখলাম প্রধানমন্ত্রী বলছেন খেলাধুলার মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক গড়ে তুলতে চাই। মানবিক অর্জণে শূন্যের কোঠায় নেমে সারা দেশ রসাতলে গিয়েও যদি খেলাই জাতির একমাত্র টিকে থাকার মানদন্ড হয়, তবে এ জাতির মরণ বড়ই সন্নিকটে, যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এ দেশে এ খেলায়াড় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কারো চাওয়া পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। ময়নাতদন্ত, ডিএনএ, ইভিএম, হলি আর্টিজেন, জঙ্গি নাটক সবই সহজভাবে এ মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশের সরকারের পক্ষে সাজানো সম্ভব। এর মাঝে ভারতের অমিত সাহা ও মোদির নাটকে যে ভেজাল ছিল সেটি সম্প্রতি স্পষ্ট হয়। জাকির নায়েকের স্বীকারুক্তিতে জানা যায় বোঝাপড়ার শর্তবদ্ধ প্রস্তাব মোদি দিয়েছেন জাকির নায়েককে, শর্ত হচ্ছে কাশ্মীর শোডাউনকে পজিটিভ ধরে স্বীকার করে সুকর্ম বললে তার বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করে তাকে নির্দোষ করতে তিনি রাজি। তখন তিনি হবেন ধুয়ো তুলসি পাতা, ফুলের মত পবিত্র একজন। ঐ প্রস্তাবইতো জাকির নায়েককে ধুয়ে ফুলের মত পবিত্র করে দিল! এতেই জাকির নায়েকের নির্মলতা ও স্বচ্ছতা স্পষ্ট ।  মোদি হাসিনার সবই ছিল সাজানো হামলা মামলা! একজন সত্য সেবককে মিথ্যায় ফাঁসিয়ে কবরের পাশে কুরআন তিলাওয়াত করলে কি আল্লাহ সাত খুন মাফ করে দিবে বলে মনে হয়। সিরাতুল মোসতাকিম’ অর্থে সহজ সরল ধর্ম হলেও সত্য বিরোধী মানবিক নীতি বিরোধী প্রতিটি আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এ ধর্মে। । কষ্টের কথাটি হচ্ছে পিস টিভি বন্ধের নাটকে মোদির সাথে আমাদের মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও মোদি নষ্ট করে ছাড়লেন! মোদি ভিন দেশের কর্তা, তার সাথে তালিয়া বাজাতে সরকার কেন তার স্বকীয়তা অস্তিত্ব সবই হারায়। এখানে তারা উভয়েই এক খোরে মাথা মোড়ানোর দল। এরা দোষী এটি প্রমাণ করতে আর কয়টি সিল সার্টিফিকেট লাগবে? সর্বাঙ্গে এত দুর্গন্ধ কেন?  ফুলের মত পবিত্র করার একটি দাগও কেন বাংলাদেশ সরকারের নেই? সব নষ্ট নাটকের প্লাবনে ভরা। আবারো নির্বাচন আবারো ধরা খাওয়া। চরিত্র হারানোর দায় সরকারের চেয়ে বেশী আর কোন প্রতিবন্ধী মজনুর আমলনামায় আছে কি? 

লেখার সময়: ২৫ অক্টোবর ২০২০ সাল।

বি দ্র: উপরের পুরো লেখাই নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ কলামে ছাপে জানুয়ারীর ২৪ তারিখ ২০২০ সালে।

 

Tag Cloud

%d bloggers like this: