Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

এখানে আমার দুটি লেখার শিরোনাম। প্রথম শিরোনামটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য জমা এক ভয়ংকর সংকেত। ক্রমাগত অনাচার দেশে চলমান আছে ও ধামাচাপায়ও সমান তালে তালিয়া বাজানো হচ্ছে। এর পরে আনবো ২০১২ সালে আমার দেশে ছাপা হওয়া একটি মৃত্যু ও সারিবাধা প্রশ্ন ও ধামাচাপা সংবাদ। পাঠক উপরের অংশটি পড়ে নীচের অংশটি মেলাতে ভুলবেন না। বাংলাদেশের বিএনপির নেতা ও জনতারা তাদের দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার নামে স্লোপয়জনিংএর আশংকা করছেন।  দলের সিনিয়র মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ০৪ এপ্রিল ২০১৯ বৃহষ্পতিবার এ আশংকা ব্যক্ত করেছেন, মুখ সিলকরা মিডিয়াও এটি প্রকাশ করেছে।  সরকার  থেকে যা বলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। তাদের চিহ্নিত ডাক্তারদের বক্তব্যও সঠিক নয়। যেখানে কারাগারে গেলে ঐ ডাক্তাররা বলেন তিনি গুরুতর অসুস্থ আবার হাসপাতালে আসলে পরে পরিচালক বলে দিলেন তার অসুস্থতা গুরুতর নয়। সবার শংকা সরকারের চাপে কর্তৃপক্ষ এমন করছেন চাকরী ও পদ ধরে রাখার খাতিরে, খালেদা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে ‘রাজার হালে আছেন’ বলতে মুখে বাধে না তার। ঐ যুক্তির পক্ষে অর্ডারী কর্তৃপক্ষও হাটি হাটি পা রাখছে। এ আচরণ অবৈধ পথের অর্জনধারী সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট। আদালত, হাসপাতালেও সরকারী হস্তক্ষেপের নজির এসব। আবরার হত্যায় অপরাধীর পক্ষে সিসিটিভির ফুটেজে ধামাচাপায়ও মুখর প্রতিবাদী প্রধানমন্ত্রী। তিনি একবার নন, বার বার ধরা খান তবে কোন লজ্জাবোধ করেন না।

গত সোমবার ২৩ ডিসেম্বার ২০১৯ কারাগার থেকে হাসপাতালে আসার এক ঘন্টা পরই বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম মাহবুবুল হক সংবাদ ব্রিফিংএ বলেছিলেন, চিকিৎসা শুরু হয়েছে উনি সুস্থ আছেন। রিজভীর দাবী কোন ধরণের উন্নত চিকিৎসা তাকে দেয়া হয়নি। তার ফ্রোজেন শোল্ডারসহ ডানহাত বামহাত নাড়ার শক্তি রহিত হচ্ছে, হাটতে পারছেন না। যেখানে গত বছর ফ্রেব্রুয়ারীতে তিনি কারাগারে গেলেন নিজে হেটে, আজ তাকে হুইল চেয়ার ব্যবহার করতে হয়। রিজভীদের ভয় সরকার কারাগারের ভিতরই কি স্লোপয়জনিংএর কোন ব্যবস্থা করছে কি না। না হলে কেনো তিনি এভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়ছেন। আমরা শুনছি তার ব্লাড সুগার নামছে না, ১৬/১৭ উঠে, খুব একটা নামে না। সরকার ও তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা কি যে করছে তার প্রমাণ গত বনানী এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের সময় কিভাবে সেই শিশু ছেলেটিকে সরকারী প্রপাগান্ডাতে নামানো হলো সেটি জাতি দেখেছে। মুখ দিয়ে বলানো হলো টাকাগুলি এতিম খানাতে দিয়ে দিবে, এর কারণও খালেদা। শয়নে স্বপনে ঐ জপমালা সরকারের পুথিবিদ্যা। মাইক হাতে নিলেই তাকে চপলা বালিকার মত এসব আবোলতাবোল বলতে শুনা যায়। মানুষ শুনে আর ধিক্কার দেয়। এটি হচ্ছে চলমান বাংলাদেশ ও তার রাজনীতির এক উদাহরণীয় প্রমাণ। সত্য ও মিথ্যার দ্বন্ধ ময়দানে প্রকট, এরা চায় গোটা জাতি মিথ্যুক হোক, শুধু তারা কিছু দলদাস টিকে থাকুক, বাকীরা ধ্বসে যাক। পুলিশ প্রশাসন আদালত হাসপাতাল কোথাও কোন মানবতা কার্যকর নয়, সর্বত্র পাশবিকতা। আরবাররা লাশ আর নূরেরা মৃত্যুর ময়দানে। নূরেরা বেঁচে যাওয়াতে তারা বাড়তি নাটক করতেও ভুলে না, নির্লজ্জের মত মাথায় হাত বুলিয়ে তারা প্রতারণা ঢাকতে ছুটে যায়। মূল দাগীগুলোকে সহজে ধরে না, বরং বাঁচানোর কসরত চালায়। বেকায়দায় পড়লে প্রতিবন্দি মজনুদের দিয়ে নাটক চলমান রাখে। গদি রক্ষার কিছু দরদ দেখাতে চাইলেও ভেতরের কপটতা ঢাকা থাকে না, দালালীটাও দেখা যায়, শোনাও যায়। অল্প সময়ের জন্যও তারা দালালী থেকে সরে না। এরা এভাবে গোটা জাতিকে স্লোপয়জনিং দিয়ে অবচেতন করে রেখেছে। এক আল্লাহর অলৌকিক সাহায্য ছাড়া এ জাতির বাঁচার সুযোগ প্রায় শূণ্যের কোঠায়, উদ্বেগে উৎকন্ঠায় জাতি জটিল সময় পার করছে। লেখার সময় ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯।

 

একটি মৃত্যু সারিবাঁধা প্রশ্ন

মানুষ অনেক সত্যকে চাপা দিয়ে রাখে খুব কৌশলে, কিন্তু দেখা যায় কৌশলী কোনো এক সত্তা সেটির জট অনেক পরে হলেও খুলে দেয়। কোনো সত্যই চিরদিনের জন্য চাপা থাকে না। মাঝে কয়টি বছর হয়তো জনতা এর বাস্তবতা থেকে দূরে থাকে। ভুল খবরে সবাই বিশ্বাসী হয়ে ওঠে। গোটা বিশ্বে টেররিস্টের গুঞ্জন আকাশে-বাতাসে। একবিংশ শতকে এটি বেশ মোটাতাজা খবর বলা চলে। কোণঠাসা হয়ে পড়া মুসলমান পরিচয়ের জনতা এর জরুর আসামি। কিন্তু বাস্তবের সন্ত্রাসীরা যেন আর মিডিয়াতে কোনোভাবেই জায়গা করতে পারে না। দেরিতে হলেও যখন দখিনা বাতাস কিছু ছিটেফোঁটা প্রমাণ আমাদের দুয়ারে এনে পৌঁছে দেয়, তখন তা অবশ্যই মনকে নাড়া দেয়। এটি সত্য যে, নিশ্চয় কে বা কারা এর পেছনে দিবারাত্র কাঠখড় পুড়িয়ে যাচ্ছে, ইন্ধন জোগাচ্ছে। এরা সাধারণের চোখে ধরা পড়ে না বেশিরভাগ মিডিয়ার কারসাজিতে। তবে মিডিয়াতে যেটি খুব সোচ্চার হয়ে আসে, তার সুবাস-কুবাস সবই ছড়ায় খুব দ্রুত। একটি খবর ছড়াতে আজ মুহূর্তও সময় লাগে না। গোটা বিশ্বে জঙ্গি টেররিস্ট নামের জটিল প্রচারে সবাই বেশ সিদ্ধ। মনে মনে সবার জানা, কারা আজ টেররিস্ট। কিন্তু যখন অপর পিঠে হালকা মেজাজের কিছু গভীর জটিল খবরও ধরা পড়ে, তার পরও সেটি বেশ চাপা থাকে। না হলে কোনো সত্য চাপা থাকে না, থাকতে পারে না। যদি সেটি চাপা থাকে তাহলে বুঝতে হবে, এসব ছলবাজি দুনিয়ার কৌশলমাত্র। আজ এরকম একটি চাপা দেয়া অতীত কথা আলোচনা করব, যা সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে।

একটি মৃত্যু যার প্রায় আট বছর হতে চলছে, যিনি ছিলেন একজন সংগ্রামী মানুষ, একটি নির্যাতিত জনপদের মুক্তির জন্য নিবেদিতপ্রাণ এক সত্তা তার নাম ইয়াসির আরাফাত। ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনতার সপক্ষে আন্দোলনরত এ ব্যক্তির সংগ্রামী জীবনের কথা বর্তমান সময়কার সচেতন মানুষ কম-বেশি সবাই জানেন। ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান এবং পশ্চিম তীরের হেডকোয়ার্টার্সের কাছেই তাকে সমাহিত করা হয়। যখন তিনি মারা যান, তখন শোনা যায় লিভার সিরোসিসে তিনি মারা যান। কিন্তু অতি সমপ্রতি কিছু গবেষকের কাছে ভিন্ন খবর ঠাঁই পাচ্ছে। খবরে ধারণা করা হচ্ছে, ফিলিস্তিনের এ নেতা পলোনিয়াম বিষে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আল জাজিরা টিভি চ্যানেল রিপোর্ট করে, বিজ্ঞানীরা তার ব্যবহার্য জিনিসপত্রের মাঝে অব্যাখ্যাকৃত অস্বাভাবিক পলোনিয়াম ২১০-এর সন্ধান পান। কাতারের সংবাদ সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে আল জাজিরা ৪ জুলাই এটি প্রচার করে। সুইস গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত লসেইন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণাতে ধরা পড়ে, উচ্চমানের পলোনিয়াম তার ব্যবহার করা জিনিসপত্র, যেমন কাপড়চোপড়, টুথব্রাশ, তার মাথার বস্ত্রাবরণ, আন্ডারওয়্যার এসবের মাঝে পাওয়া যায়। এই ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ড. ফ্রাংকইস বচোড টিভি চ্যানেলকে বলেন, আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, ব্যাখ্যা না করা উচ্চমাত্রার অসাধারণ পলোনিয়াম ২১০-এর বায়োলজিক্যাল ফ্লুইডের প্রমাণ এ গবেষণাতে ধরা পড়েছে। এই সংস্থার লসেইন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এখন আরাফাতের শরীর, হাড় ও তার কবরের মাটি পরীক্ষা করার কথা বলছেন। এদিকে আরাফাতের বিধবা স্ত্রী সুহা ফিলিস্তিনি সংস্থার কাছে এসব পরীক্ষার অনুমোদন চেয়েছেন। সুহা আরও বলছেন, এতে তার বুকের ওপর কিছু চাপ কমবে। অন্তত ফিলিস্তিনি জনগণ, আরব ও মুসলমানদের বোঝানো যাবে যে, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত অপরাধমূলক মৃত্যু। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ইয়াসির আরাফাতের দেহ পরীক্ষা না করার কোনো কারণ থাকতে পারে না, তার বিষক্রিয়ায় মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

আরাফাত ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে মারা যান। সেখানে চারদিকে গুজব ছিল যে, তিনি লিভার সিরোসিসে বা ক্যানসারে বা এইডসে মারা গেছেন। ওই পরীক্ষার সঙ্গে জড়িত সুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিনের প্রধান প্যাট্রিস ম্যানজিন বলেন, তার কোনো লিভার সিরোসিস হয়নি, কোনো ক্যানসারের লক্ষণ পাওয়া যায়নি, লিউকিউমিয়া, এইচআইভি বা এইডসও ছিল না। খবরে প্রকাশ, তিনি মারা যাওয়ার আগে ওজন হারানোর সমস্যা, ভীষণ বমিপ্রবণতা এবং ডায়রিয়ায় ভুগছিলেন। এখানকার সবক’টি লক্ষণই ওই বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাকেই সুস্পষ্ট করছে। জানা যায়, আলেকজান্ডার লিটভিনেস্কো নামে একজন রাশিয়ান সিকিউরিটি এজেন্ট ২০০৬ সালে একই রকম জটিলতা নিয়ে মারা যান ওই পলোনিয়াম বিষক্রিয়ার কারণে। এ ঘটনাটিও ইয়াসির আরাফাত মারা যাওয়ার মাত্র দু’বছর পরের ঘটনা। এটিও আল জাজিরা টিভি চ্যানেলের খবরে উল্লেখ করা হয়। ২০০৬ সালে মারা গেলে তার ব্যবহার করা জিনিসপত্রে উচ্চমাত্রায় এ তেজস্ক্রিয় বিষের সন্ধান পাওয়া যায়।

ব্রিটিশ সাংবাদিক জর্জ গ্যালওয়ে নীতির প্রশ্নে সত্য প্রচারের কারণে এর গভীরে ঢুকতে তৎপর  থেকেছেন। তিনি একাধারে সাংবাদিক, রাজনীতিক ও গ্রন্থকার। তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার জীবনের এক বড় অংশ এ ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন। এ বিষ পারমাণবিক বিষক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত একটি বিষ। সঙ্গত কারণেই এটি যে কারও কাছেই থাকার কথা নয়। যারা পারমাণবিক অস্ত্রে সক্রিয় ক্ষমতা অর্জন করেছে, একমাত্র তারাই এটি প্রয়োগ করতে পারে। জর্জ গ্যালওয়ে এটিও সুস্পষ্ট করেন মাত্র কিছু আগে ইসরাইলের এরিয়েল শ্যারন ও এহুদ এলমার্ট এটি প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইয়াসির আরাফাতের কোনো ক্ষতি করতে না পারার যে ওয়াদা ছিল, সেটি এর মাঝে শিথিল নয়, একদম বাতিল হয়েছিল। এমন কি শ্যারন এটিও সুস্পষ্ট করেন যে ইসরাইলের কোনো কর্মকাণ্ডের জবাবে ফিলিস্তিনের ওই নেতার কোনো বীমার পলিসিও কার্যকর নয়। এগুলো সবই প্রশ্ন; শুধু এটিই নয়, আরও বহু প্রশ্ন জমেছে এরই মাঝে। এগুলো হচ্ছে, ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল বছর হিসেবে আজকের যুগে এটি খুব কম সময় নয়। কেন এতবড় একটি সময়ের কালক্ষেপণ? ফ্রান্স কেন এটি সে সময় খতিয়ে দেখার দরকার বোধ করল না? একজন স্বনামধন্য নেতার বিষয়টি কেন পোস্টমর্টেমের পর্যায় পর্যন্ত গেল না? কী কারণে ওইসব রক্তের, প্রস্রাবের, ঘামের সব রিপোর্ট ধ্বংস করা হলো? যদিও ফ্রান্সের গতানুগতিক নিয়মে তারা এসব দশ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখে এক্ষেত্রে কেন তার ব্যতিক্রম হলো? কী কারণে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে এতই নীরব ভূমিকা পালন করছে এসব সারিবাঁধা প্রশ্ন গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলের সঙ্গে আরও প্রশ্নের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। তবে ফিলিস্তিনের জনতা তাদের ৭৫ বছর বয়স্ক প্রয়াত নেতার প্রকৃত খবর জানতে চায়। আমরাও বাকি বিশ্বের জনতা সত্য উদঘাটনের অপেক্ষাতে উন্মুখ হয়ে রইলাম।

বি দ্র: উপরের পুরো লেখাই নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ কলামে ছাপে জানুয়ারীর ১৭ তারিখ ২০২০ সালে। তবে নীচের লেখাটি  ২০১২ সালের জুনের ২১ তারিখ আমার দেশ পত্রিকার অনলাইনে ছাপা হয়।

Tag Cloud

%d bloggers like this: