Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

সম্প্রতি গত শুক্রবার রাতের প্রথম প্রহরে ইরানের জেনারেল কাসেম সুলাইমানি মার্কিণ সেনাদের হাতে নিহত হন। মুসলিম বিশে^ শিয়া সুন্নীরা উভয়েই বলেন তারা মুসলিম, কিন্তু কুরআন এরকম বিভক্তি স্বীকার করে না। সে হিসাবে এ বিভক্তি কখনোই ধর্ম ইসলাম কুরআন দ্বারা অনুমোদন পায় না। কুরআনে নবীকে বলা হয়েছে, ‘যারা ধর্মকে বিভক্ত করেছে তাদের ব্যাপারে তোমার কোন দায় নেই’ (আল আনআম এর ১৬০ আয়াত)। এই সুবাদে এক দলের বিরুদ্ধে লেলিয়ে আরেক দলকে কবজা করার যে নীতি তাকেও সমর্থন করা যায় না। এ যাবত এরা একে অন্যের গুটি হয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। আর মধ্যসত্ত্ব লোভীরা এর থেকে উপকৃত হচ্ছে। ইসলামের প্রতিটি মাথাকে ঠান্ডা রেখে ঘটনাগুলি বিশ্লেষণ জরুরী। সুন্নী অনেকেই বলেন শিয়ারাই একমাত্র দোষী। কিন্তু নীতির কথাটি প্রকৃত দোষী খোঁজা, পক্ষপাত নয়। সুন্নী দোষী হলে তাদেরও ধরা উচিত, নয়তো ন্যায়বিচার অসম্ভব।   

এবার যদি বর্তমান বিশ্বের সংঘাতময় অবস্থানের দিকে তাকাই, শিয়া সুন্নী চালের গুটি বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে স্বজাতি নিধনের উত্তম হাতিয়ার হয়ে। এত গভীর ক্ষতের পরও ইরাক ইরানের শিয়াদের মাঝে একটি গোত্রীয় একতা ছিলই, আমেরিকা এখানে পরস্পরের মাঝে বৈরী নীতি গ্রহণ করছে। আমেরিকা আরব বিশ্বে তার একটি অনুগত গোষ্ঠী গড়ে তুলতে চাচ্ছে ইরানের শিয়াদের বিরুদ্ধে। বোষ্টন ইউনিভার্সিটির একজন মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের শিক্ষক আগাষ্টাস নরটন এ মন্তব্যটি করেন। তার মতে একই সময়ে আমেরিকা চাচ্ছে বাগদাদের গরিষ্ঠ সংখ্যক শিয়াদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে, তার ভাষায় ‘আমি মনে করিনা এটি কোন স্থায়ী সমাধান’। পলিটিক্যাল সায়েন্সের প্যালেস্টাইনের গাজার এক প্রফেসর বলেন, ‘তোমরা ইতিহাসের বিরুদ্ধে কাজ করছো, সেখানে আরব ভূমিতে কখনো কোন শিয়া শাসক এই ১৪ শতাব্দীর মাঝে ছিলনা। শিয়ারা আরব বিশ্বে কখনো শাসন করেনি এবং এটিই তোমাদের সবচেয়ে বড় ভুল। যার জন্য তোমাদের অনেক বেশী মূল্য দিতে হবে। একই রকম মন্তব্য করে প্যালেস্টাইনের পলিটিক্যাল বিজ্ঞানী প্রফেসর শাহিন বলেন, ‘তোমরা ইতিহাসের বিরুদ্ধে কাজ করছো। তোমরা ধর্মের ইতিহাস আঁচ করতে পারো নি। সুতরাং যদি একটি নতুন অধ্যায় তোমরা রচনা করতে চাও নতুন পলিসি দ্বারা, অবশ্যই তার জন্য ইতিহাসকে দরকার। তখন তোমাদের পলিসি অবস্থানহীন শূন্যের উপর দাঁড়াবে’। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের মধ্যপ্রাচ্য ইতিহাসের প্রফেসর জোয়ান কোল বলেন, ‘আমি মনে করি বর্তমানের পলিসি সম্পূর্ণ নড়বড়ে অবস্থানে এগুচ্ছে যা প্রত্যেককে আমেরিকা বিরোধী করে তুলবে শেষ পর্যন্ত’। এখানে বেশ আগে করা কয়জন বিশেষজ্ঞ প্রফেসরের অভিমত তুলে ধরলাম।

এবার এর উপর আরো কিছু  তথ্য এখানে সংযোজন করবো যাতে মুসলিমরা  সঠিক সত্যে আসতে পারে। ইতিহাসের জটিলতায় এ বিভক্তি গড়ে উঠেছে, এর পিছনে ষড়যন্ত্রে কখনোই হযরত আলী নন, বরং ভয়ংকর দাগি আসামী জড়িত না থাকলে এরকম একটি একত্বের ধর্ম কুরআন বিরোধী অবস্থান নিয়ে দুভাগ হতে পারে না। মানুষের বিবেকের জন্যই সত্যের সাথে যেমন মিথ্যের দ্বন্ধ বাধে, তেমনি সচেতন বিবেকই সেটি স্পষ্ট করে। ঐ সময় ইসলামের ইতিহাসে রাজনৈতিক ছলচাতুরীর প্রমান ময়দানে স্পষ্ট। ধর্মের নামে, রাজনীতির নামে, রাজতন্ত্রের নামে, ধর্মের মূল থেকে সরাতে ষড়যন্ত্রীরা ইসলামের চরম সর্বনাশ করে তা চাপা দিয়ে রেখেছে, কৌশল আজ অবদি চলমান। যে ষড়যন্ত্রের চোটে একে একে খলিফাদের মৃত্যু, শেষ খলিফা আলী ও তার দুই সন্তান হাসান হোসেন ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের জটিলতায় ইহকাল ত্যাগ করেন। সেই একই ষড়যন্ত্রে হাজার বছর থেকে মুসলিমদেরে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। আর কয় শতাব্দী পার করে মুসলিমরা পথ পাবে? এসব কৃতকর্মে পরবর্তী মুসলিমরা ঐ সময়ে ক্ষ্যাপেছে যার কারণে ময়দানে আজকের যুগের পাথর নিক্ষেপের মত কঙ্কর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে, ঠিক আজ যেমনটি প্যালেস্টাইনে কাশ্মীরে হচ্ছে। সে সময় হাজার হাজার মুসলিমরা নিহত হয়েছেন, এরা কি সবাই শিয়া বলে মনে হয়? না, এরা সবাই ছিল ইসলামের অনুগত সত্যিকারের আত্মত্যাগী প্রাথমিক যুগের নিবেদিতপ্রাণ মুসলিম। গণতন্ত্র ধ্বংসকারী শাসক দল কৌশলে শাসন ক্ষমতা হাতে নিয়েই এসব কাজ করে। সব দায় চাপিয়ে দেয় নির্দোষ মুসলিমদের উপর, ক্ষমতার অপকৌশলে অপরাধী সবার চোখে ধূলো ছিটিয়ে মানুষকে আজ অবদি ধাঁ ধাঁ লাগিয়ে রেখেছে। অনেকটাই ঠিক আজকের বাংলাদেশের রাজনীতির মতই। সেক্ষেত্রে মার খাওয়া শিয়া বা সুন্নী উভয়ে একই কষ্টের বাহক। এখানে শিয়াসুন্নী আর গোটা বাংলাদেশী হচ্ছে মার খাওয়া মুসলিম, যদি তারা সচেতন হতো তবে দেশ ধর্ম দুটিই রক্ষা পেতো।  লাভ আর লাভ শুধু একটি বড় গুটিবাজ ধান্ধাবাজ দেশিবিদেশী চক্রের আর ক্ষতি পৃরো দেশ লাশের ময়দান, কখনো আওয়ামী বেশীরভাগ বিরোধী বিএনপি জামাত বা বেওয়ারিশ জনতা। ঠিক আজকের রাজনীতির আদলে ধর্মের এ নাটকও সাজানো হয়েছিল। গুটিবাজ সঙ্গত কারণেই বলতে হবে প্রশিক্ষিত ইবলিসের দোসর। সবার অগোচরে দুষ্ট এর ফাঁক গলিয়ে ধর্মে বিভেদ গড়ে কুরআন বিরোধী প্রয়াস চালায় খুব কৌশলে। আমরা জানি কুরআনে বার বার চিন্তাশীলদের চিন্তাকে প্রসারিত করতে বলা হয়েছে। এমন সংকট সময়ে প্রতিটি বিবেককে সজাগ থাকতে হবে।

সময়ের প্রেক্ষিতে যখন দুষ্টের চালটা প্রতিষ্ঠা পায়, তখন স্বাভাবিকভাবে ভাংগন খেলাটা সাজানো সহজ হয় কৌশলী হাতে। ময়দানে পোড় খাওয়া নিবেদিত প্রাণ মুসলিম (আজকের শিয়া সুন্নী উভয়ে) কোনঠাসা হয় আর অল্প গুটি কয় দালাল ষড়যন্ত্রী সরকারের আদর আহ্লাদ পায়। ঐ সময়ের কোনঠাসা মুসলিমরা পরবর্তী বিভক্ত শিয়া ও সুন্নী। ইতিহাসে পাওয়া যায় ইমাম আবু হানিফা অষ্টম শতাব্দীতে জন্ম নেয়া শিয়াদের নেতা জাফর আস সাদিকের প্রতি অনুগত ছিলেন। ইনি শিয়া ও সুন্নী উভয়ের সাথে সম্পর্কীত সমাজের সম্মানিত জন। তার মানে সুন্নী ইমাম আবু হানিফা শিয়াদের প্রতি অনুরক্ত, দরদী ও একদলের ছিলেন। এরা উভয়ে শিয়া ও সুন্নী নামে প্রচারিত হলেও এক ছিলেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী গড়ালে যখন বহু মিথ্যা সাজানো সম্ভব হয়, তখন ঐ সাজানো মিথ্যাচারে ওদের একাংশকে শিয়া নামকরণ করা হয় এবং এরা নানান বিভ্রান্তি জমা করে একই ভাবে পরবর্তী সুন্নীরাও সেই মিথ্যার বন্যায় অনেক বিভ্রান্তিকে ধর্মের অংশ মনে করতে থাকে। ধর্মের নামে অনেক মিথ্যা ছলবাজিকে ধর্মে ঢুকানো হয়, সেটি করে ঐ দুষ্ট চক্র। দুষ্টের একমাত্র উৎসাহ নিজের অপরাধ ঢেকে রাখা ও ঐ বিভক্তিকে বাকীদের গেলানো ও স্থায়ী করা। এভাবে আজও দেখা যায় এসব সাজানো মিথ্যাচারে কুরআন বিরোধী কথাও ধর্মের নামে পালিত হচ্ছে পরম উৎসাহে। হিংসার পরিবেশ তৈরী হলে শিয়ারা নিজেদের আলাদা করতে যেয়ে নকল ইমামতির পথ তৈরী করে। অন্যদিকে সুন্নীরা কালে শিয়া বিরোধী হতে গিয়ে মূল ষড়যন্ত্রীদের কপট কৌশলে ঐ দলে পড়ে যায়। ষড়যন্ত্রী তার নিজের নিরাপত্তার জন্য এ অসম্ভব কাজটিকে সম্ভব করে রাজশক্তি দ্বারা।

চিন্তা করুণ ২০০১ এ নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারের বোমার দায় হিসাবে ইরাককে দোষী সাব্যস্ত করা কতটা বেমানান, প্রমাণ ছাড়াও ইরাক আক্রমন সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তারপরও সচেতনরা কি করেছে? বড়জোর বক্তৃতা বিবৃতি, দু একটি সম্পাদকীয় কলাম আমেরিকা বৃটেনের কিছু সাংবাদিকেরা লিখে সত্য প্রকাশ করছে কিন্তু তাতে কি শাসকবর্গের কিছু হয়েছে? এর সূত্র ধরে কি বলা যায় যে একবিংশ শতাব্দীতে কোন মুসলিম ছিল না। ইরাকে আমেরিকার আক্রমন কোন সময়ই যুক্তিসঙ্গত হয়নি। এভাবেই শক্তির তলানীতে যুগে যুগে অনেক অনাচার, অনেক নকল জমা হয়েছে। রাজতন্ত্রের প্রবক্তা মুসলিম নামধারী কুরআন বিরোধী ষড়যন্ত্রীদের হাতে কোন জবাব নেই। শেষ বিচার দিনের ফয়সালায় সঠিক সমাধান অবশ্যই অপেক্ষায় আছে। ইতিহাস বা অনেক হাদিস তথ্যেও দেখা যায় হযরত ওমরের সময় দেখা গেছে একজন মহিলারও অনেক স্বাধিকার ছিল। স্বয়ং খলিফা ওমরের বিরুদ্ধেও বলতে পেরেছেন কারণ কুরআন নির্ভর ইসলাম তার সামনে ছিল। মৌলিক ইসলামে ভক্তির নামে অন্ধভক্তি প্রতারণা ছলনার কোন সুযোগ নেই। তাবিজ কবজ ঝাড় ফুকের কোন অবকাশ নেই। এত কিছুর পরও ষড়যন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এমন হাদিসও রচনা করা হয়েছে যে, ‘কোন সাহাবীর বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবেনা’। উল্লেখ্য এসব নবী পরবর্তী বহু বছর পরের ষড়যন্ত্রী সংযোজন। এটিও ষড়যন্ত্রের একটি শক্ত অংশ, শক্তির তলানীতেই সাজানো মিথ্যাচার। আল্লাহ স্বয়ং রসুলকে বলেছেন, “সেক্ষেত্রে আমরা নিশ্চয় তোমাকে দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাতাম ইহজীবনে এবং দ্বিগুণ মৃত্যুকালে” (সুরা বনি-ইসরাইলএর ৭৫ আয়াত)। কুরআন বলে, অপরাধ করলে রসুলের জন্য দ্বিগুণ শাস্তি। ষড়যন্ত্রীরা কি রসুল থেকেও বড়!

ইমাম হোসেনের কারবালার পরাজয় ছিল এই চক্রান্তকারীদের একটি সাজানো খেলা, সেটা শিয়া বা সুন্নী উভয়ের এক নিদারুন কষ্টকথা, দু’দলেরই সমান কষ্ট। সেখানে যদি শিয়ারা ষড়যন্ত্রীদের অসহযোগিতা দেখায় বা কড়া প্রতিবাদ জানায় সেটা খুবই যৌক্তিক, সুন্নীরাও প্রতিবাদী ছিল, সেদিন উভয়েই এক ও প্রতিবাদী ছিল। যদি সুন্নীরা প্রতিবাদী না থাকে, তবে তারা কি চেতনহারা? মাঝখানে ষড়যন্ত্রকারী সে ইন্ধনে তাপ দিয়ে দ্বৈত ভূমিকা পালন করে সুন্নী নামে ধর্মের একটি নতুন মডেল তৈরী করতে পেরেছে। যার ফলে এ দু’ভাইএর ভিতর যুগ যুগ অবধি হিংসা বিদ্বেষ ও তোষের আগুন তাজা রাখা সম্ভব হয়েছে। সবই করা হয়েছে শুধু দুষ্টের নিজের নিরাপত্তার জন্য। যার সবটাই সাজানো শয়তানের কুটচাল, শিয়া সুন্নী বিভেদ তৃতীয় পক্ষের স্বার্থে রচিত উপাখ্যান। তার কিছু ঐতিহাসিক সত্যতা আমি শাহরিয়ার শহীদের রচিত “ইসলামে বিভ্রান্তি ও বৃটিশ স্বীকারোক্তি” গ্রন্থ থেকে খুব সংক্ষেপে পয়েন্টগুলো তথ্যসহ তুলে ধরছি।

(১) মুয়াবিয়াই ইসলামকে দু’ভাগ হিসাবে বিভক্ত করার পূর্ণ সূচনা করেন আর তার ফলে বিকল্প ইসলামের গোড়াপত্তন করলো তারই লম্পট পুত্র ইয়াজিদ (২৮ পৃষ্ঠা)।

(২) উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াজিদ খলিফাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে প্রথম মদ্যপ ছিলেন। তার পানাসক্তি উত্তরাধিকারসূত্রে অর্জন করেন দ্বিতীয় আল-ওয়ালিদ (৭৪৩-৭৪৪খ্রীঃ) (২৮ পৃষ্ঠা)।

(৩) আবু সুফিয়ান (মোয়াবিয়ার বাবা) সঙ্গীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, দেখ, বহু কষ্টে ও সাধনার পর ক্ষমতা আমাদের হাতে এসেছে, এটাকে বলের ন্যায় বনি উমাইয়ার এক হাত থেকে অন্য হাতে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে এটি (খেলাফত) যেন, আর কোনদিন বনি হাশিমিদের ঘরে ফিরে না যায় (২৬ পৃষ্ঠা)।

(৪) ইমাম হাসান হতে খিলাফত জবরদখল করে নিয়ে মুয়াবিয়া রাজতন্ত্র গঠন করলেন এবং রাজতন্ত্র কন্টকমুক্ত করার জন্য ইমাম হাসানকে তারই স্ত্রীর মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করা হয়। ইমাম হাসানের শেষ ইচ্ছা ছিল, রসুল(সঃ)এর রওজার পাশে শায়িত হওয়ার কিন্তু মোয়াবিয়ার নির্দেশে লাশ মসজিদে নববীর পাশে আনলে মারওয়ানকে দিয়ে লাশের উপর তীর নিক্ষেপ করা হয় এবং সেখানে দাফন করতে দেয়া হয় না, দাফন হলো জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে। তারপর খলিফা তার লম্পট পুত্র ইয়াজিদকে খলিফা ঘোষণা করলেন ৫০ হিজরিতে (২৬ পৃষ্ঠা)।

(৫) মুয়াবিয়া তার সব প্রদেশের গভর্নরদের উপর এ নির্দেশ জারি করেন যে, “সকল মসজিদের খতিবগণ মিম্বর হতে আলীর উপর অভিসম্পাত দেওয়াকে যেন তাদের দায়িত্ব বলে মনে করেন”। ইয়াজিদের পিতা মুয়াবিয়াই ৪১ হিজরিতে জুমুআর নামাজের খুৎবায় আহলে বায়েতের প্রতি গালি দেয়ার রীতি প্রবর্তন করেন। ৭০ হাজারেরও বেশী মসজিদে জুমুআর নামাজের খুৎবায় হযরত আলী এবং তার পবিত্র বংশধরদের গালিগালাজসহ অভিসম্পাদ প্রদান করা হতো (২৭ পৃষ্ঠা)।

(৬) মুয়াবিয়ার গভর্নর যিয়াদ যখন কুফার মসজিদে খুৎবা দিতে দাঁড়ান (উদ্দেশ্য আলীকে গালিদান) তখন কিছু লোক তার প্রতি কঙ্কর নিক্ষেপ করে এর প্রতিবাদ জানায়। এতে তৎক্ষণাৎ মসজিদের দরজা বন্ধ করে ৩০ থেকে ৮০ জন লোকের হাত কেটে দেয়া হয়। হযরত আবু বকরের পুত্র মোহাম্মদ বিন আবু বকরকে হত্যা করে তার লাশ গাধার চামড়ায় ভরে জ্বালিয়ে দেয়া হলো (২৮ পৃষ্ঠা)।

(৭) ইয়াজিদ এক বিশাল সৈন্য বাহিনী মদীনায় প্রেরণ করেন। ইয়াজিদ তিন দিনের জন্য মদিনাকে হালাল করে দিলেন। রসুল (সঃ) এর বাড়ীকে পশুর আস্তাবল বানানো হলো। মদিনার পথে পথে গলিতে গলিতে মানুষের রক্তের স্রোত প্রবাহিত হলো। উক্ত মর্মান্তিক ঘটনায় মদিনায় শিশু ও মহিলা ব্যতীত বারো হাজার চারশো সাতানব্বই জন লোককে হত্যা করা হলো। মহিলাদের ধর্ষন করা হলো। ফলে একহাজার মহিলা অবৈধ সন্তান প্রসব করলো। যারা মারা যান তারা হলেন, মোহাজের, আনসার তাবেঈন, উলেমা ১৭০০জন, সাধারণ লোক ১০,০০০ জন, হাফেজ ৭০০ জন, কুরাইশ ৯৭ জন। এই সর্বোমোট ১২,৪৯৭ জন।

(৮) এতো গেল নিজেদের দলাদলির খবর। এর সূত্র ধরে বিরুদ্ধবাদী বৃটিশরা কিভাবে এর সুযোগ গ্রহন করে, তার উপরও প্রাপ্ত যথেষ্ট বক্তব্য এসেছে বইটিতে। এখানে এর কিছু উদাহরণ দেয়া হলো। “ওহে হ্যামফার তোমার পরবর্তী মিশনের জন্য দুটি কাজ। (১) মুসলমানদের দুর্বল জায়গার খোঁজ নিতে হবে। সেই দুর্বল জায়গা দিয়ে আমরা তাদের দেহে প্রবেশ করবো এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গ খুলে ফেলবো। বস্তুতপক্ষে শত্রুকে ঘায়েল করার এটাই পথ। (২) যে সময় তুমি এসকল দিক চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে তখন আমি যা বলেছি তা করবে। —-যখন তুমি মুসলমানদের রজ্জুহীন করতে সক্ষম হবে এবং একজনকে আরেকজনের বিরূদ্ধে বিবাদে লিপ্ত করতে সক্ষম হবে তখনই তুমি হবে সবচেয়ে সফল এজেন্ট এবং মন্ত্রনালয় থেকে অর্জন করবে একটি মেডেল” (৫২ পৃষ্ঠা)।

(৯) মন্ত্রনালয়ের কেউ একজন আমায় বললেন, “আপনার কাজ হচ্ছে মতভেদ উস্কে দেয়া, মুসলমানদের একতাবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে চিন্তা করা নয়” (৫৪ পৃষ্ঠা)।

(১০) আমাদের বিদায় অনুষ্ঠানে উপনিবেশ সমূহের মন্ত্রী আমাকে বলেন যে, “আমরা মদ ও নারীর সাহায্যে অবিশ্বাসীদের (তার মতে মুসলমান) হাত থেকে স্পেন দখল করে নিয়েছি। এই দুটি বিশাল শক্তি দিয়ে আমাদের হৃত সকল ভূখন্ড ফিরিয়ে আনতে হবে” আমি জানি মন্ত্রীর বক্তব্য কত সঠিক ছিল (৬২ পৃষ্ঠা)।

চিন্তাশীলদের খোরাক আছে তথ্যগুলোর মধ্যে। টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর ইরাকে শিয়া সুন্নীদের বিভেদকে বড় করে দেখিয়ে, কখনো লুক্কায়িত পারমানবিক স্থাপনার কথা, কখনো ক্যামিক্যাল মারণাস্ত্রের অপবাদে মিথ্যে করে হলেও জাতিকে চরম দন্ড দিতে হয়েছে। দেখা যাচ্ছে আবারও ইরানকে অনেক দিন থেকেই শাস্তির জন্য টার্গেট করা হচ্ছে। তার মানে এখানের বিষয় কখনোই শিয়া বা সুন্নী নয়, প্রতিষ্ঠিত শক্ত শাসক পক্ষের দৃষ্টিতে কখনো সুন্নী সাদ্দাম দোষী আবার কখনো শিয়া ইরান দোষী, এককথায় উভয়ই দোষী, এদের পাপ এরা মুসলিম। প্রথমে ক্রুসেড নাম দিয়ে শুরু করা বুশের যুদ্ধে বিধ্বস্থ দেশটির করুন পরিণতি কি ইসলামের দায়? এভাবে যুগে যুগে মানুষকে মূল থেকে দুরে সরিয়ে রাখার কাজটি করেছে ষড়যন্ত্রী পক্ষ, আল্লাহ যার নাম দিয়েছে ইবলিস। ইবলিস কিয়ামত পর্যন্ত বেঁচে থাকবে, অর্থাৎ ইবলিসকে মোকাবেলা করেই প্রকৃত মেধাবী মানুষকে বিজয় ছিনিয়ে নিতে হবে।

এরা চৌদ্দ শত বছর ধরে ধর্মটিকে রাজতন্ত্রের মোড়কে গণতন্ত্র থেকে দূরে রাখে। যার জন্য আজো সৌদি আরবে রাজতন্ত্র, রসুলের প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্র সেখানে মৃত। ইসলামে অপকৌশল হয়েছে যুগে যুগে এসবই তার প্রমাণ। হয়তো শিয়ারা বাস্তবে বেশী প্রতিবাদী থেকেছে, যদি তাই হয় সেটাও নৈতিকতার ক্ষেত্রে তারা ঠিক ছিল। আর প্রতিবাদ সুন্নীরা করে নাই বলেও কোন প্রমাণ নেই, কারণ ঐ সময় যারাই নিহত হয়েছেন তারা সবাই অবিভক্ত মুসলিম ছিলেন। সাধারণ জনতা এর গভীরে না ঢোকে শুধু নিজের রক্ত ঢেলে খেসারত দিয়ে গেল আজীবন। কুরআন স্মরণ করেই মুসলিমরা দেড় হাজার বছর পর হলেও  এক প্লাটফরমে আসতে পারে এটা কোন বিতন্ডার বিষয়ই নয় বরং নিজেদের অজ্ঞতার কারণে অযথাই এ দলাদলি। এ অজ্ঞতা জনিত ত্রুটিও কম নয়। আত্মসচেতন না থাকার কারণে পরিস্থিতির শিকার হয়ে খেসারত পুরোটাই দিচ্ছে শিয়া সুন্নীরা। আল্লাহ সঠিক সত্য মিথ্যার ফয়সালাকারী। তবে অবশ্যই প্রতিটি সচেতন মুসলিমদের ভাংগনের অপরাধ থেকে বের হয়ে কুরআনের একতার পথে চলতে হবে। মোয়াবিয়া গোত্রের এই শতাব্দী পূর্ব অপকর্মের খেসারত পৃথিবীর মুসলিমদেরে আজ অবদি দিতে হচ্ছে। রাজতন্ত্র নামের এই অপকর্ম এরাই চালু করে যা কখনোই ইসলামে স্বীকৃত নয়। গণতন্ত্রের এই পূণ্যের ভান্ডে কে কি কৌশলে এই এঁটো মিশিয়ে দিলো তা নির্ধারণ করতে আমরা আজও ব্যর্থ হচ্ছি। এ ক্ষোভ শুধু শিয়াদের একার ক্ষোভ নয়, এটি সুন্নীদেরও ক্ষোভ। শিয়া সুন্নী কথাটি ভুলে যেতে হবে, এরা সবাই এক আল্লাহর অনুসারী মুসলিম জনতার অংশ।

এ কষ্ট এই দু’দলেরই সমান কষ্ট। একতার পথ রচনা করতে হবে রক্তপাত দিয়ে নয়, সম্প্রিতী দিয়ে, অস্ত্র দিয়ে নয় – বরং কলম দিয়ে, কথা দিয়ে, যুক্তি দিয়ে, চোখ ফুটানো সত্যতা দিয়ে সবার দৃষ্টি খুলে দিতে হবে, সবার অন্ধত্ব ঘুচিয়ে দিতে হবে। প্রকৃত ইসলামে স্বরচিত বিধান বা কোন ব্যক্তিতন্ত্র চাপিয়ে দেয়া ইসলাম নয়। পরবতীতে শিয়ারাও ইমামতির নামে অনেক বিভ্রান্তি জড়ো করেছে। প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা ছিলো সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা। সেখানে কারো ব্যক্তিগত খেলাফত নির্ধারণের কোন জায়গা নেই, খলিফা হবেন জনগণের মনোনিত শাসক, জনগণের ভোটেই তিনি নির্বাচিত হবেন, যেমন হয়েছিলেন হযরত আবুবকর, ওমর, আলী, ওসমানরা । লেখক শাহরিয়ার শহীদের সাথে সুর মিলিয়ে বলছি, হযরতের বিদায় হজ্জের একটি বাণী ছিল এরকম, “যদি কোন নাককাটা কাফ্রি ক্রীতদাসকেও তার যোগ্যতার জন্য তোমাদের আমীর করে দেয়া হয়, তোমরা সর্বোতোভাবে তার অনুগত হয়ে থাকবে। তার আদেশ মান্য করবে”। উপরোক্ত উক্তিটি ছিল নবী মোহাম্মদ (সঃ)এর মুখ নিসৃত অমৃত বানী। তিনি সেখানের জনতার কাছ থেকে এই অঙ্গিকারটুকুও আদায় করেন যে যারা এখানে উপস্থিত নেই তাদের কাছে “আমার এ বানী তোমরা নিজ দায়িত্ব মনে করেই পৌছে দিও”। তাই আজ চৌদ্দশত বছর পর আমরা সে বানী আজও অবগত হচ্ছি কিন্তু পালনের ক্ষেত্রে মূল থেকে সরে এসেছি। আমরা যদি সঠিক মুসলিম হই তবে আমাদের উচিত কুরআন ফলো করা। যে কুরআন শেষ নবীর মারফতে দুনিয়াতে এসেছে। নবী প্রবর্তিত এই কুরআনের নীতিমালাই ইসলামের বিধান। মুখ্যত আমরা অনুসরণ করবো এই নবীকে। তার পরবর্তী আবুবকর, ওমর, আলী খলিফারা আদৌ কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন, সেটিই আমাদের বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত। এরা কি কখনো এরকম দলাদলীর মাঝে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন? এরা কি কেউ শিয়া বা সুন্নী ছিলেন?

বস্তুত পূর্ববর্তী যুগের সত্য সাধকরা যে বিজয়ডঙ্কা বাজিয়ে গেছেন, কোন অবস্থায় আমরা যেন তার অমর্যাদা না করি। এরা সবাই ছিলেন উৎকৃষ্ট মুমিন, আল্লাহর অনুগত বান্দা, কুরআনের প্রতিষ্ঠাতা, প্রয়োজনে রক্তের বিনিময়ে, ত্যাগের বিনিময়ে তারা সেটি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। আমরা আমাদের মূল ছেড়ে দিয়ে ডালপালা নিয়ে নাচানাচি করছি। কুরআনে যে বিভেদ সৃষ্টি করতে বার বার নিষেধ করা হয়েছে, আমরা সেটিই করে চলেছি। এসব বিচ্ছিন্নতা, দলাদলির কারণে ধর্মের সঠিক অনুসরণ না করে ফসল তুলতে পারছি খুব কম, যার ফলশ্রুতিতে আমাদের ধর্মের গৃহে আজ খরা, মন্দা, মহামারি, আকাল, দুর্ভিক্ষ অনেক বেড়েছে।

(১) বলো (হে মোহাম্মদ!) ‘মহাকাশমন্ডলীর ও পৃথিবীর কেউই গায়েব সম্বন্ধে জানেনা আল্লাহ ছাড়া’ (সুরা আন-নমল আয়াত ৬৫)।

(২) কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে যারা সীমালংঘন করেছে তাদের আবাস হচ্ছে আগুন। যতবার তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইবে তাদের তাতে ফিরিয়ে আনা হবে; আর তাদের বলা হবে: ‘আগুনের শাস্তি আস্বাদন করো যেটিকে তোমরা মিথ্যে বলতে’ (সুরা আস-সাজদাহ আয়াত ২০)।

(৩) বলো ‘আমি তো তোমাদের সতর্ক করি কেবল প্রত্যাদেশের দ্বারা: আর বধির লোকে আহ্বান শোনেনা। যখন তাদের সতর্ক করা হয় (সুরা আল-আম্বিয়া ৪৫ আয়াত)।

(৪) যে কেউ রসুলের আজ্ঞাপালন করে সে অবশ্যই আল্লাহর আজ্ঞাপালন করে। আর যে কেউ ফিরে যায় আমরা তোমাকে (মোহাম্মদকে) তাদের উপর রক্ষাকারীরুপে পাঠাই নি (সুরা আন-নিসার ৮০ আয়াত)।

(৫) আর যারা নিজের আত্মাকে ফাঁকি দেয় তাদের পক্ষে বিতর্ক করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ ভালবাসেন না তাকে যে বিশ্বাসঘাতক, পাপাচারি (সুরা আন-নিসার ১০৭ আয়াত)।

(৬) এ হবে না তোমাদের (মূর্তিপুজকদের) চাওয়া অনুসারে, আর গ্রন্থপ্রাপ্তদের চাওয়া অনুসারেও নয়। যে কেউ কুকর্ম করে তাই দিয়ে তার প্রতিফল দেয়া হবে আর তারজন্য সে আল্লাহকে ছাড়া পাবে না কোন বন্ধু, না কোন সহায় (সুরা আন-নিসার ১২৩ আয়াত)।

(৭) আর তাদের মতো হয়ো না  যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল আর মতভেদ করেছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী আসার পরেও। আর এরা – এদের জন্য আছে কঠোর যন্ত্রণা, যেদিন কতকগুলো চেহারা হবে ঝকঝকে আর কতকগুলো চেহারা হবে মিসমিসে (কালো); তারপর যাদের চেহারা কালো হবে তাদের ক্ষেত্র হবে আরও গুরুতর। তোমাদের জন্য নির্দেশাবলী সুস্পষ্ট করলাম যদি তোমরা বুঝতে পারো। (সুরা আল-ইমরানএর ১০৪ ও ১০৫ আয়াত)।

উপরে মাত্র ৭টি আয়াত জটিলতাকে খোলাসা করতে একটি না এনে সাতটি আনতে হলো। আর এটি কোন হালকা জিনিস নয়। গ্রন্থটি এখানের দু’দলেরই অনুকরণীয় সিলেবাসের অংশ। দেখা যাচ্ছে যারা এই গোপন গায়েবের, ইমামতির স্বতন্ত্র মিথ্যা দাঁড় করাচ্ছে এরা কঠিন আগুনের মুখোমুখি দাঁড়াবে, কারণ সহজ সরল ধর্মটিতে এসব নেই। ধর্মের নামে যা বাড়াবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব ইসলামে নেই, আল্লাহ ছাড়া কারো হাতে গায়েবের ক্ষমতা নেই। যারা সত্যকে অস্বীকার করে মিথ্যে প্রচার করে তাদের শাস্তি আগুন। একমাত্র সত্য বাণী আসে রসুলের মারফত প্রত্যাদেশের দ্বারা, ওহির দ্বারা, এখানে প্রত্যাদেশকৃত বাণীর জয় ঘোষিত হয়েছে। কুরআন আল্লাহর বাণী, নবীর স্বরচিত বাণী নয়। তাই নবীর আজ্ঞাপালন মানেও কুরআনের অনুসরণ, এটি আল্লাহর নির্দেশ। আর যদি কেউ ফিরে যায় আল্লাহ সে ক্ষেত্রে নবীকে কটাক্ষ করে বলছেন তাদেরে ফেরানোর দায়িত্ব তোমার নয়। “তাদের উপরে রক্ষাকারীরূপে নিযুক্ত করি নি, আর তুমি তাদের উপরে কার্যনির্বাহকও নও” (সুরা আনআমের ১০৮ আয়াত)। যারা মতভেদ ও বিচ্ছিন্নতায় ইন্ধন যোগায় তাদের অবস্থা হবে গুরুতর। এসবই আল্লাহর সুস্পষ্ট নির্দেশনা। আল্লাহ সবার জটিলতাকে সহজ করে দিক, এই কামনায়।

 

লেখাটির প্রকাশ সময়ের দাবী। জানুয়ারী ০৪, ২০২০ সাল।

মূল লেখাটি প্রায় ২০ বছর আগের জমা। একটি অপ্রকাশিত বই (শিয়া সুন্নী – পিছন ফিরে দেখা) এটি একটি চ্যাপ্টারের কিছু অংশ। মূল গ্রন্থটি ১৯টি চ্যাপ্টারে সাজানো। এর প্রতিটি চ্যাপ্টার দেড় হাজার বছরের শিয়া সুন্নীর সব জটিলকে স্পষ্ট করতে মূল ধর্ম ইসলাম ও কুরআনীয় বস্তুনিষ্ট সত্যের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে।

বি দ্রষ্টব্য: এ লেখাটি নিউইয়র্ক ভিত্তিক ‘দি রানার নিউজ’ সাপ্তাহিকে ১৭ জানুয়ারী ২০২০ সংখ্যায় ছাপা হয়।

Tag Cloud

%d bloggers like this: