Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

(২০২০ এর ছন্দকথা)

কিছু সত্য কথা, জানাবো ষ্পষ্ট কিছু ব্যাথাময় বার্তা। বাংলাদেশকে অশান্ত করতে ‘র’ শান্তিবাহিনী গড়ে।

গুপ্তচরবৃত্তি, চোরাকারবারি, নাশকতায় রত, কৌশল যত, সীমান্তের বাইরে নয় ভিতরে বসবাস অবিরত।

ইন্দিরা গান্ধী চাননি ভারতের পূবদিকে সূর্যের মত শক্তিশালী দেশের উদয়। ভাঙ্গা জরুরী, হাতুড়ী ছাড়াই কসরত,

অতপর মগজের লালিত সন্তান ‘র’এর উদয়। ভাঙ্গো পাকিস্তান, মেরুদন্ডহীন দেশ গড়ার অর্ডার জাতকের উপর।

তড়িঘড়ি ৭১ এ, চুক্তি স্বাধীনতার শুরুতেই ২৫ বছরের শিকল, শান্তি চুক্তির নামে করা গোলামী অবিকল।

‘এই শিকল পরা ছল মোদের এই শিকল পরা ছল, এই শিকল পরেই শিকল তোদের করবো রে বিকল।’

বাঁচবার জন্য কবিতার দরকার, কিন্তু শিকল কেন আবার? প্রতারণা কেন বারে বার, জবাবটাও দরকার।

তখনও নজরুল জীবিত ময়দানে বাকহারা, নয়তো তখনই জাতি জেনে যেত, তার হুঙ্কারে শিকল ছিন্ন হতো।

ইন্দিরা জানতেন এদের চেতনা শক্ত! মূর্তি নয় ঈশ^র গরু নয় মা তাদের, এক অদেখা আল্লাহতে ভক্ত।

গরু তাদের খাদ্য মূর্তি কখনো খেলনা। অন্তরে বিধাতার পদচিহ্ন এঁকে দিয়েছে, দুখুর সত্য সাধনা। 

কাশ্মীর দাপটের তলানীতে চেপে রাখা, সিকিম গিলে হজম, হায়দ্রাবাদও উদরে।

বাংলাদেশের কথা ভেবে কাঁপুনী জাগে। ঐ কাঁপুনীতেই ‘র’এর জন্ম আতুড় ঘরে মায়ের তদারকিতে,

কাশ্মীরের পরেই সাত রাজ্য সাত বোনের কান্না সোরগোল, ভাংগনের গুঞ্জন ময়দানে,

কাশ্মীরী মুসলিম আফজাল গুরু ফাঁসিতে, বিচার নয় প্রহসন, চলে খুশীর কপট নাচন।

জোরপূর্বক পাকিস্তান খন্ডনের অপরাধ মনের মাঝে আজো কাঁপন জাগায়।

খালেদায় কাঁপুণী আজ নতুন নয়। সময়টা ১৯৯৩ খালেদা কলকাতা দমদম বিমান বন্দরে।

খালেদার ইমেজে ভারত সংকটে। সাংবাদিকেরা উৎসুক।

জানানো হয় খালেদা ইচ্ছুক নন। দেখা করবেন না। উৎসুকরা আশাহত ভারতীয় যোগ।

খালেদা এক মানুষ আর ভারত এক দেশ। এত ছোট হওয়া, খালেদার ভয়ে মিথ্যা বলা?

তাদের ভয় খালেদাকে, সবদিন আজো এবং বিগত শতকেও।

পশ্চিমবঙ্গের বাঙ্গালীরাও যদি ‘দিল্লী হঠাও’ সুর তোলে!

তাদের অসংখ্য ভয়! সাত বোন যদি স্বাধীনতা চায়!

যদি বাংলাদেশ হয় পথ প্রদর্শক, শিক্ষক, দৃষ্টান্ত এক। তারা চায় এদের নির্জীব করে রাখতে,

মূর্তিপূজা আর মাতৃবন্দনা আচার, যদিও নারীরা শুদ্রানী এ পূজার বিচার।

ইয়াবা ফেনসিডিল কার জন্য?

ভারত বলে বাংলাদেশে সৈন্যের দরকার শূণ্য।

তাই বিডিআর মুছার আবদার নাম পাল্টাবার

বিডিআর আজ বিজিবি, দেশবাসী জানে না, কেন? অতীতে অনেক রাজনীতিবিদের ছিল শংকা,

প্রয়াত শ্রী জয় প্রকাশ নারায়নের মন্তব্য, বাংলাদেশ সৃষ্টি যদি আরেক পাকিস্তান সৃষ্টির আশংকা!

‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’। মদ গাজার মাতম উঠুক, কলেমা ছেড়ে রামধন গাইতে শিখুক।

‘যহি আল্লাহ সহি রাম’ তাদের কাছে সব সমান। আল্লাহর সাথে রামের সমতা বড়ই বেমামান!

পশুও মা হয় কিন্তু মুসলিম কখনোই মানুষ হয় না, দেবতার আদালতে।

এযাবৎ বলেছ মুসলিম অচ্ছুৎ ছোটলোক ম্লেচ্ছ, ছুলে জাত যায়!

গরুর নামে মুসলিম পিটায়! বিবেকরা শবমিছিলে মৃত পরলোকে গেছে।

পরজন্মে কীট পতঙ্গ রুপে গরুরও অধম হয়ে জন্মাবে। তারপরও জট খুলবে না?

নিকৃষ্ট আচরণ! মুসলিমরা অনুমোদিত খাদ্যে বঞ্চিত, প্রহৃত, লাঞ্ছিত সবে!

বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র মুজিব বলেছিলেন সেই কবে।

মানেক শ জানতেন, অনুপ্রেরণায় তারা যাবে ভারতের চেয়ে মক্কা ও মদীনায়।

প্রেরণার জায়গা পাকিস্তানও হতে কতক্ষন? অবশ্যই মানেক শ, তাতো মিথ্যে না!

ভারত চায় এদের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিতে, ভারতের উপর নির্ভরশীল রাখতে।

এমন হলে মেনে নিলে স্বাধীনতা ছাড়াই ৭১, পাকিস্তানেরই পদলেহন মন্দের ভালো হতো।

তাহলে ভারতের নাক গলানোর সুযোগ না হতো । মেজর জলিলের হুঙ্কারে ভারত বুঝেছিল,

এদের বাগে আনা সোজা না। চিন্তায় কপাল কুঁচকায়। তারপরও দাদারা বসে নেই, কম করে নাই।

আবরার, নূর, শত গুম খুন একপাশে রাখা এত অবিচার কত বলা যায়, এমন সমাচার।

মন মন টন টন উপচে পড়া কষ্টের জীবন ! শান্তিবাহিনী, বঙ্গসেনা, মোহাজির সংঘ, আরো কত কি?

যুদ্ধ তো পুরোটাই লুট করেছে দাদারা! কি লজ্জা?

যুদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধারা আর আত্মসমর্পণের দলিল তৈরী করে তারা!

কোনদিন কি তারা বিবেকের কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে?

এটি নীতি নৈতিকতার কথা, যুক্তির কথা ধর্মের কথা, তারা ভুলেই গেছে।

নজরুল সেই কবে বোবা অথর্ব, মৃতবৎ বোধের অতীত শিশুবৎ, তখনও জীবন্ত ফসিল এক।

শফি চাকলাদারের “কাফেরের তলোয়ার চাও কতল করিতে আমারে” –

মনে করিয়ে দেয় তার বাকহীনতার কথা। সবই তো গোপন করে রাখা!

কথাগুলি চাকলাদারের নয়, নজরুলের মার খাওয়ার পর আর বাকহারার আগের কথা।

কত মার খাবে বাছারা, সবার সাথে মানবতার কথা বলেছে, মানচিত্রের মর্যাদা চেয়েছে।

বন্ধুর বেশে তোমরা মানচিত্রে হামলে পড়লে শতাব্দীর শুরুতে! ভাবলে ম্লেচ্ছ যবন এরা!

ঠিক তোমাদের গুরুদেবের মতন। কষ্ট চেপে কত শত লাশ ময়দানে জানাজার অপেক্ষায়?

এত লোভ প্রতিবেশীর ভিটার পরে? সব ফুটেজ নিরব প্রতিবাদ জমছে প্রকৃতির পাতায়, 

পার পাবে না কর্তারা! শুধু মসজিদ নয়, মন্দিরের হিসেবও নেয়া হবে কড়ায় গন্ডায়!

বাবর আওরঙ্গজেবরা কত মন্দির গড়েছিল, সব ভুলে বসে আছ, ফুটেজ তো সংরক্ষিত খাতায়।

রাম পুনিয়ানীকে জিজ্ঞেস করে কিছুটা জানো। গোলাম আহমেদ মর্তোজা এখানো সংগ্রামরত।

সত্য বলতে শিখো, যত বড় পান্ডিত্যই থাক, মিথ্যার কোন পাওনা নেই। পুরষ্কার সত্যের জমা, দুই জনমে।

বাকীরা ব্যর্থ, বিধ্বস্ত, বাতিল, সর্বহারা। যত লাঞ্ছিত বঞ্চিত সবাই সারিবদ্ধ হও। পুরষ্কার গোলাতে উঠাও।

একটু গদ্যকথা শুনাই। বেমানান নয় মোটেও, তবে প্রবঞ্চনার কথা কিছু আছে ওখানেও।

 

১৯৯১ সাল নির্বাচনের সময় আনন্দবাজার গোষ্ঠীর সাপ্তাহিক সানন্দার সাম্পাদিকা অপর্ণা সেন, বাংলাদেশে আসেন। সানন্দা একটি সাপ্তাহিক আর বাংলাদেশ এক দেশ, দুয়ের ফারাক আকাশ পাতাল। কিন্তু সানন্দা সম্পাদিকা (একদিন এ দেশ তারও ছিল!) বাংলাদেশে  নির্বাচনের খোঁজে (?)। বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ না করে তড়িঘড়ি ছুটে যান অপেক্ষমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতের জন্যে। বস্তুত ঐ নির্বাচনে শেখ হাসিনা হেরেছিলেন, ঐ ছুটে যাওয়া ছিল কপট সংকীর্ণ রাজনীতির কতকথা। আর পরবর্তী নির্বাচনেও ভারতের অন্যায় সাহায্য ও সহযোগিতা ব্যতীত শেখ হাসিনার জেতার সম্ভাবনা কতটা পূর্ণ আর কতটা শূণ্য সেটি পাঠকরাই জানেন ভালো। অর্পণা সেনকে অনেকেই বাংলাদেশের মেয়ে মনে করে আহ্লাদে আটকানা! কিন্তু অর্পণারা দর্পণে কি তাদের চেহারা দেখেন? তাদের আচরণ সংকীর্ণ স্বার্থে গোলামী ও দাসত্ব শেখার প্রশিক্ষণ। সত্যকে ঠেলে দিয়ে মিথ্যার সাথে বসতি। কঠিন সত্য কথা বেমানান শুনালেও সত্য প্রকাশ যুগের মানবতার দাবী। নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে সেটিও বিবেচনা করার সময় বাংলাদেশের! রবীন্দ্রনাথ সবার গলার তাবিজ, কিন্তু মুসলিমদেরে মানুষ না ভেবে বারে বারে ম্লেচ্ছ যবন ডাকে, তাতেও কি মুসলিমরা সম্মানিত? মুসলিমদের উদার সভ্যতা তাদের সংকীর্ণতা শেখায়নি। ধন্য তাদের বদান্যতা মহানুভবতা আন্তরিকতা! কিন্তু ইতিহাস তো সবাইকে জানতে হবে মানতে হবে! একে অস্বীকার করার সাধ্য কারো নেই! সঙ্গত কারণেই শত কষ্টকে চেপে রেখেও দুটো সত্য কথা বলা, যা সবার জানা, একটু ঝালাই করা। সবার সুমতি হোক, সবার সুগতি হোক। সবাই তাদের স্বাধীনতা বজায় রেখে মানুষ হয়ে বাঁচুক। পরম মালিকের কাছে এ প্রার্থণা জমা রেখে বছরের শুরুতে এ ছন্দকথা, শেষ করছি এখানেই। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

০১/০১/২০২০

রাত ১টা ০২ মিনিটে: নতুন বছরের নতুন দিনের শুরুর সময়ে

 

 

Tag Cloud

%d bloggers like this: