Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

(পূর্ব প্রকাশের পর)

বাংলার সবুজ চত্বরে ইসলাম: নবীর জন্ম ৫৭০ সালে। ঐ সময়ও আরব বণিকরা এদেশে আসতো। তাদের বানিজ্য সম্ভারের সাথে ধর্মও বাংলার সবুজ মাঠে এসেছে। ইসলামের আগে ঐ দেশের পৌত্তলিক মূর্তিগুলি আজ অবদি ঘরে ঘরে পূজিত হচ্ছে যা আমার অন্য কলামে এসেছে। বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের ‘মজেদের আড়া’ গ্রামে প্রাচীন একটি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ থেকে একটি ইট পাওয়া যায় যাতে লেখা ছিল আরবী হিজরী ৬৯ সাল (৬২২+৬৯) মানে ৬৯১ সালের প্রমাণসহ কলেমার বাণীটি খোদাই করা। রংপুর জেলার ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মামা, মা আমেনার চাচাতো ভাই আবু ওয়াক্কাস (রা.) ৬২০ থেকে ৬২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার করেন (পৃ. ১২৬)। এতে প্রমাণিত হয় নবী পরবর্তী খলিফাদের পর সাহাবীদের যুগেই বাংলার সবুজ মাটিতে ইসলামের নাড়া পড়ে যায়। এতে বুঝা যায় ইসলাম আর বাংলাদেশের নিবিড় বন্ধন প্রায় শুরু থেকেই।

কেন মুসলিমরা লেখাপড়াতে পিছিয়ে থাকলো: আমরা জেনেছি লেখা এবং পড়ার নির্দেশ ছিল ইসলামের প্রথম বাণী। ওটি কখন কেন কিভাবে রুদ্ধ হয়ে গেল, সেটিও চিন্তার বিষয়। জেনারেল শ্লীম্যান মোগল যুগের শিক্ষার উচ্চমানের প্রশংসায় বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিমরা যেভাবে এগিয়ে গেছে পৃথিবীর খুব কম সম্প্রদায়ের মাঝে সেরুপ হয়েছে। কারণ তাদের মাঝে যে ব্যক্তি কুড়ি টাকা মাইনে পায় সে তার পুত্রের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের সমান শিক্ষার ব্যবস্থা করতো। অক্সফোর্ড থেকে যে জ্ঞান নিয়ে যুবকরা বের হতো মুসলিম যুবকরা সাত বৎসর সে জ্ঞান আহরণ করে মাথায় শিরস্ত্রাণ পরিধান করতো। সে অনর্গল সক্রেটিস, এরিস্টটল, প্লেটো, হিপোক্রেটিস, গেলেন ও ইবনে সিনা সম্বন্ধে আলোচনা করতে পারে” (বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস ১৭৫৭-১৯৪৭, এম এ রহিম, ১১১-১১২ পৃষ্ঠা)। উইলিয়াম হান্টারও স্বীকার করেছেন মুসলিমদের শিক্ষা ব্যবস্থা ঐ যুগের সমসাময়িক সবার চেয়ে উৎকৃষ্টতর ছিল (হান্টার প্রাগুক্ত ১৭০; মল্লিক প্রাগুক্ত ১৫০)।

মুসলিমদের জন্য চরম বৈরী পরিবেশ: যে জাতি চরম বৈরী পরিবেশে লড়াই করে টিকে তারা তলোয়ার দিয়ে হুমকির জোরে অপকর্ম করে টিকে না বরং ঐক্য সততা মানবতার ব্যতিক্রমী অর্জনে টিকার সাহস রাখে। বৃটিশ পিরিয়ডে পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলায় শিক্ষার প্রতি সরকারের সীমাহীন উদাসীনতা অনেকের লেখাতে ফুটে উঠেছে। ঐ সময় মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া মুসলিম জমিদারদের আর্থিক অসঙ্গতি শিক্ষা গ্রহণে  বাধাগ্রস্ত করে। শিক্ষা, চাকুরী, জমি বাজেয়াপ্তকরণ, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রয়োগ এসব নানা ইস্যুতে মার খাওয়া মুসলিমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৃটিশ গভমেন্ট এর দ্বারা বাংলার মুসলমানদের আঘাত করে (হান্টার ৫৩-৫৪পৃ:)(বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস, এম এ রহিম ৫০ পৃ:)। এ অবস্থায় জমির প্রকৃত মালিকদের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে এক শ্রেণীর বাবুদেরে সেটি দেয়া হয় যারা ঘুষ ও অন্যান্য অবৈধ উপায়ে ধনী হয়েছে (মল্লিক, প্রাগুক্ত ৩৪)। জেমস ও কেনেলী মন্তব্য করেছেন, রাজস্ব বিভাগের সামান্য কর্মচারীদেরে জমিদারীর মালিকানা দেয়া হয় ও অর্থ সংগ্রহ করার নানান সুযোগ দেয়া হয় যাতে মুসলমরা বঞ্চিত থাকে (হান্টার ৫৪-৫৫)। ঐ সময় সকল শিক্ষক ছিল হিন্দু এবং এডাম ঐ সময়ের পাঠ্য তালিকার উল্লেখ করে বলেন, প্রতিদিন সকালে হাটু গেড়ে নত মস্তকে সরস্বতী বন্দনা আবৃতি করতে হতো। পত্রলিখা মনসামঙ্গল এসব পাঠ্যতালিকাভুক্ত ছিল (এম এ রহিম বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস ১১৬, এ আর মল্লিক ১৬৪-১৬৫)। অপরদিকে কিছু মিশনারী স্কুল স্থাপিত হলেও সেখানে খৃষ্টধর্মীয় বই বাধ্যতামূলক পাঠ্য তালিকার অংশ ছিল অবস্থাদৃষ্টে পুনরায় মুসলিমরা মূর্তিপূজা ও খৃষ্টান তৃত্ত্ববাদের শিক্ষা নিতে বাধ্য ছিল। স্বভাবতই মুসলিমরা ঐ পাঠের প্রতি আগ্রহ হারায় (ঐ গ্রন্থ ১১৮)। হিন্দু কলেজ নাম দিয়ে কলেজ স্থাপিত হয় যেখানে শুধু হিন্দুরা পড়ার সুযোগ পেতো। মিশনারিজরাও চাইতো হিন্দুরা ইংরেজী শিখুক তাহলে তারা তাদের মূর্তিপূজার অসারতা বুঝতে পারবে এবং ধর্মান্তরিত হয়ে খৃষ্টান হবে ((ঐ, আর সি মজুমদার ৩২, ৪৮)। এককথায় লেখাপড়ার পরিবেশকে সবদিক থেকেই কঠিন করে তোলা হয় একেতো আর্ধিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে পড়া মুসলিমরা লেখাপড়ার খরচ বহন করতে অপারগ ছিল এবং বাংলা পাঠ্যপুস্তক সব দেবদেবী ও পৌরাণিক কাহিনীতে পূর্ণ ছিল (জে লং, এডামস, সেকেন্ড রিপোর্ট, ৯৭-৯৯)। এ সম্বন্ধে ই, সি, বেইলী বলেন, শিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তন করার সময় তাদের সংস্কার বা শিক্ষার প্রতি কোনরুপ প্রয়োজনের প্রতি সরকার বিবেচনা করে নাই। শিক্ষা ব্যবস্থা তাদের স্বার্থের পরিপন্থী ও সামাজিক রীতিনীতির প্রতিকূল হয়ে পড়ে (হান্টার ১৭৩-১৭৫, মল্লিক ২৭৪-৮, ৩২৫)। বেইলী এটি স্পষ্ট করেন যে তাদের প্রাদেশিক ভাষা ও হিন্দু শিক্ষক উভয়ই তাদের জন্য অগ্রহণযোগ্য। সর্বোপরি ধর্ম শিক্ষার কোন সুযোগ নেই। যেখানে মুসলিমরা শিক্ষার সাথে ধর্মীয় শিক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতো (সূত্র: ঐ)। চার্লস গ্রান্ড ১৭৯২ সালে পার্লামেন্টে বলেন, ‘প্রকৃতি সম্বন্ধে সত্যিকারের জ্ঞান বিচ্যুরিত হলে হিন্দু ধর্মের ভিত্তি খসে পড়বে এবং ক্রমে খৃষ্টধর্ম সেখানে জায়গা করে নিবে” (হিস্ট্রি অব ফিডম মুভমেন্ট, ২য় খন্ড ১ম ভাঃ, ২৫২)।

মীর এহিয়া চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য যা দান করে যান, পরে তা বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং এ বিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্র শিক্ষক ছিল হিন্দু তথাপি এ বিদ্যালয় থেকেও দরিদ্র মুসলিম ছাত্ররা কোনরুপ আর্থিক সুবিধা পায় নাই (হান্টার ১৭৩-১৭৫, মল্লিক ২২৬-৪৩, ২৪৯-৭৪)। কলকাতায় স্কুল কলেজ স্থাপিত হয়, মুসলিমরা কম থাকার কারণে সেখানেও মুসলিমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের শিক্ষার প্রতি সরকার উদাসীন ছিল। ঐ সময় বাংলার মুসলিম জমিদারদের সবদিকে দূর্বল করা হয়। অপর দিকে হিন্দু জমিদারগণ যারা কলকাতায় ছিল তারা অনেকে পশ্চিম বাংলায় তাদের সম্প্রদায়ের জন্য স্কুল স্থাপন করেন। ঠাকুর পরিবার ও আরো অনেক হিন্দু জমিদারের পূর্ব বাংলায় জমিদারী ছিল তারা কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে বাস করতেন এবং সেখানে স্কুল স্থাপন করলেও পূর্ব বাংলায় কোন স্কুল স্থাপন করেন নাই। এখান থেকে লাভে মূলে কঠিন নির্যাতন করেও (কখনো বছরে দুইবার) খাজনার নামে উপসত্ত্ব তুলে নিয়েছেন। তারা অনেকেই পূর্ব বাংলার কৃষক সন্তানদের শিক্ষার বিরোধী ছিলেন। এর কারণ তারা মনে করতেন প্রজারা শিক্ষিত হলে জমিদারীতে তাদের কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়বে (হান্টার ১৭৩-১৭৫, মল্লিক ২২৬-৪৩, ২৪৯-৭৪)। 

বৃটিশ পূর্ব ভারতবর্ষে মাদ্রাসা শিক্ষা খুব উন্নত মানের ছিল। হিন্দু শিক্ষক অপেক্ষা মুসলিম শিক্ষকরা অধিক যোগ্য ছিলেন। এডাম মন্তব্য করেন, “যদি বাঘা, বোহার, চাঙ্গারিয়া, ও মুর্শিদাবাদের মাদ্রাসাগুলি ভালভাবে পরিচালিত হতো তাহলে তারা উচ্চমানের শিক্ষাকেন্দ্রে উন্নীত হতো” ( জে  লেং, ১১-১৬, ৪৮-৭৩, ২১৫-৩২৭)। হিন্দুদের পরিচালিত স্কুলে মুসলিমদের পড়ার কোন সুযোগ ছিল না। তাছাড়া সরকার মুসলিমদের প্রতি উদাসীন। কোম্পানীর শাসকগণ নিষ্কর জমি বাজেয়াপ্ত করে। মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলির দান সম্পত্তি তারা অন্য কাজে লাগায়। এডাম সরকারের এ কাজের সমালোচনা করে বলেন, সরকার যদি এ দানের সম্পত্তিগুলি তাদের আসল উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতো তবে মুসলিমরা একটু হলেও উপকৃত হতো (মল্লিক ১৬৪, ২৯১-৯২, জে লং ২১৭)। ১৮০৬ সালে হাজি মুহম্মদ মহসিন ওয়াকফ সম্পত্তি মুসলিম ছাত্রদের জন্য দান করে যান কিন্তু তারা সেটি না করে ভিন্নভাবে ব্যবহার করে (মল্লিক, তৃতীয় অধ্যায় দ্রষ্টব্য)।

কেন হিন্দু বৃটিশ একতরফা মুসলিম বিরোধী হয়ে উঠলো, এর উত্তরও সোজা। বৃটিশদের ভয়ের কারণ মুসলিমদের আদর্শগত অবস্থান,  হিন্দুদের পথহারা করতে রসদ জুগিয়েছে বর্ণ হিন্দু নামের খুব অল্প সংখ্যক সুবিধাভোগী ব্রাক্ষ্মণ, যারা মূলত বাকী সব মানুষকেই সাধারণ হিন্দুকেও অমানুষ মনে করতো। নিজ জাতির বাকীদেরে তারা নিচবর্ণ চিহ্নিত করে স্বরচিত বিধানে নিজেকে দেবতার আশির্বাদ পাওয়া বলে প্রচার চালাতো। তবে এটি ঠিক পরবর্তীতে অতি চর্চাতে তারা সেটি বাকী হিন্দুদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে পেরেছে। এ মিথ্যাচারিতা কুসংস্কারাচ্ছন্ন হিন্দুদের অনেক ক্ষেত্রেই মুসলিম বিরোধী করতে পেরেছে। যতদূর ঘেটেছি মুসলিমদের উদারতা ও মানবতার পরিচর্চার কারণেই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা জিরো অবস্থানে। যা আছে তা হিন্দুরাও স্বীকার করবে তা মিথ্যাচারের নামান্তর। শাস্ত্র সাধারণ হিন্দুর ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এ সুযোগে স্বরচিত বিধানে তারা ধর্মের নামে হিংসার চর্চা যোগ করেছে, সাধারণ হিন্দুরা হয়েছে শুদ্র অচ্ছুৎ আর মুসলিমরা হয়েছে ম্লেচ্ছ যবন অচ্ছুৎ, বৌদ্ধরা হয়েছে নেড়ে। এদের ধরো, মারো, কাটো। বিশেষ করে মুসলিমকে, কাটাকাটির কাজটিও সেরেছে শুদ্র অচ্ছুৎ দিয়ে। কারণ তার চিন্তাশক্তির দৈন্যতায় সে নিজেই অস্তিত্বহীন মেরুদন্ডহীন। সে জেনেছে এটি করলে ধর্ম পালন হবে, হয়তো পাপী জীবনে কিছু জমবে। যদি তাদের বিবেক স্বচ্ছ থাকতো, কড়া পাহারায় থাকতো তবে এসব অনাচার হতো না। যে সাধুরা মিথ্যাচারে তা দিয়েছে সাধারণ হিন্দুরা ওদেরে বিশ^াস করেছে। এভাবে “স্বধর্মে নিধনং শ্রেয় পরধর্ম ভয়াবহ” কথাটি মানুষকে মূল সত্য থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। যার জন্য মানুষ ক্রমেই ভাংছে মরছে মারছে ছোট থেকে ছোট হচ্ছে। এতো গেল ভারতবর্ষের মুসলিম দুর্গতির কারণ।

ধর্ম ও ইতিহাস বলে কিছু ক্ষেত্রে হিন্দু মুসলিম দুই জাতি একতার সুরে এক হয়েছে। পূজার উপকরণ হিসাবে ফুল, বেলপাতা, চন্দন, ধুপ ধোনা, মোমবাতি, মাদুলী, তাবিজ কবজ, ঝাড় ফুক, তুক তাক, তন্ত্র মন্ত্র ভুত প্রেত দেও দানব মূলত এসব হিন্দু সমাজের আচার। দুনিয়া থেকে এসব মিটিয়ে দিতেই নবীদের আগমণ এ পৃথিবীতে। নিরাকারের আদেশকে দূরে ঠেলে দিয়ে যুক্তিহীন ভাবে কাঠের মাটির মূর্তি পূজকরা জায়গা করে নেয়।  প্রতিটি ধর্মে আজো খুঁজলে প্রকৃত সত্য পাওয়া যায় যেখানে এসব কাজ নিষিদ্ধ। তারপরও তারা শাস্ত্র বিরোধী কাজ করছে। তুলনামূলক ধর্মের গবেষনায় এসব স্পষ্ট করা। ওদিকে ইত্যবসরে যারা ধর্মান্তরিত হয়ে এসেছে অনেকেই পূর্ববর্তী মিথ্যাকে কুসংস্কারের আকারে এখানেও নিয়ে এসে পালন করে। ইত্যবসরে মাজার পূজার আকারে মূর্তিপূজার ভিত্তি দাঁড়িয়ে যায়। মহাআনন্দে উভয় সমাজের লোকরা সেখানে বাতি ধুপ দিতে যায়, উভয়েই এক পাপে ধরা খায়। কুরআনে এ উভয় সম্প্রদায়কে বলা হয় মোশরেক। মুসলিমদের অন্য আর একদল লোক আছে যারা আল্লাহকে কাজে ও কথায় মানে বললেও উল্টো পথে চলে, তাদের আচরণ তাদের পরিচিতি স্পষ্ট করে। সে অনায়াসে নীতিবিরোধী অপকর্ম করে, মনে হয় সে কাউকে পরোয়া করে না এরা হচ্ছে মোনাফেক। তাছাড়া যে মুসলিমরা কথায় ও কাজে সৎকাজ করে সৎ পথে চলে তারা প্রধানত মুমিন, প্রকৃত ইসলাম অনুসারী। একজন মোনাফিক মুশরিক হিন্দুর মন্দির ভাংতে পারে কিন্তু একজন মুমিন কখনোই সেটি করতে পারে না এবং করলে সে তার পদ হারাবে। এটি তার সারা জীবনের একমাত্র অর্জন। সে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ঐ পথের সাধনায় সময় পার করে, শিশুকাল থেকে সততার মানবতার ট্রেনিং পায় ও নেয়। যারা এটি নিতে চাইলেও ভুল পথে হাটে  তারা অনেক সময় পথ হারায়। উদাহরণ হিসাবে তসলিমা নাসরিন, হুমায়ুন আজাদের কথা বলতে পারি। এরা শিশুকাল থেকে বিকৃত ইসলাম দ্বারা লালিত হয়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন, তাবিজ কবজ, ঝাড় ফুক, তুক তাক, তন্ত্র মন্ত্র দ্বারা সত্য ও মিথ্যাকে গুলিয়ে ফেলেছেন।

ইতিহাসে প্রমাণ পাওয়া যায় কিছু খৃষ্টান ইহুদী, গ্রীক, পার্সিক ধর্মান্তরিত মুসলিম হয়ে পূর্ববর্তী অনেক মিথ্যা আচারকে এখানে নিয়ে আসেন। এদের একজন ইতিহাসখ্যাত মনছুর হাল্লাজ (‘মোস্তফা চরিত’ মোহাস্মদ আকরম খাঁ, পৃষ্ঠা ৭৪)। খলিফাদের যুগে এসবের সুযোগ ছিল না। ইবনে মাজা ইবনে ওমর হতে নবীর কঠোর সাবধান বানী উচ্চারণ করেন যে, আখেরী জামানায় মুসলিমরা ঐসবে ডুবে ধ্বংস হতে থাকবে (তাবরানী)। খলিফাদের যুগে এসবের সুযোগ ছিল না কিন্তু পরবর্তী যুগে এমন কি বর্তমান যুগে এর উপর মহামারী চলছে। সত্যসাধকদের সাথে সচেতন হিসাবে বলবো অন্ধবিশ^াস জ্ঞান নয়, কুসংস্কার ভক্তি নয়, যুক্তিহীন কাজ এবাদত নয়। ধর্ম যদি মানুষকে পরিশুদ্ধ না করে পথহারা করে, সেটি ধর্ম নয়।  

(চলবে)

বি দ্র: লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত  “দি রানার নিউজ” ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ সংখ্যায় ছাপে।

 

Tag Cloud

%d bloggers like this: