Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

(পূর্ব প্রকাশের পর) (২)

মুসলিমরা এত গভীর ঘুমে যে তারা বাবরি মসজিদের রায়ে কোন বিচারপতির নাম উল্লেখ নেই, এটি সব মুসলিম জানেও না, বললেও বিশ^াস করে না। কত বড় প্রতারণা তাদের সাথে, মানে তারা আত্মসচেতন কম থাকার কারণে তাদের সব ক্রেডিট বিরোধীরা চাপা দিয়ে রাখতে পেরেছে। উল্টো কেউ কেউ মোদির স্বপক্ষে সমর্থণ করছেন সায় রায় দিচ্ছেন। এতে নির্দোষ বাবর বিনাকারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন। বাবর যদি অপকর্ম করেন তবে ৫ একর কেন, এক একরও তাকে দেয়া যায় না। ৫ একর এর মানে এটি তার পাওনা, আদালতী বিবেকের জমা। রঞ্জন গগৈ শেষ মুহূর্তে সত্য কথাটি স্পষ্ট করে বলেছেন চাইলেও পক্ষে রায় দিতে পারেন নাই। তাকে চুপ করে থাকতে হয়, এটি তিনি স্বীকার করে বিদেয় হন। তার মানে তিনি মিথ্যে রায় দিয়েছেন, এটি তিনি স্পষ্ট বলতে না পারলেও ঘুরিয়ে স্বীকার করেছেন। শোনা গেছে আফসোসও করছেন কষ্টও পাচ্ছেন। মিথ্যে রায় দিয়ে অনুশোচনা আর আক্ষেপ করলেই কি সব পাপ মুছে যাবে। ভারতে সংখ্যালঘুদের ন্যায় বিচার না পাওয়া এই বিচারই কি আজ নতুন? ইতিহাস তার অনেক বেদনা তুলে রেখেছে। দালাইলামা বিশ^কে শিয়া সুন্নী আহমদীয়া লড়াই দিয়ে মাপতে চাচ্ছেন। কিন্তু গভীর ইতিহাস বলে এর পেছনের ষড়যন্ত্রীরা সবাই এক পক্ষ যারা ইসলামকে কুনঠাসা করতে চায়। ওদের জোটবদ্ধ পরোক্ষ ইন্ধনে এসব লড়াই জীবন্ত রসদ পাচ্ছে। বেওকুফ শিয়া সুন্নী মুসলিমদের সেটি বোঝা উচিত ছিল।

বঙ্কিমের রচনায় বিষাক্ত সাম্প্রদায়িকতা ছিল ময়দানে স্পষ্ট। রবীন্দ্রনাথের চাপা সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে যে আঘাত করা হয়েছে সেটিও মুসলিমদের মনের কষ্ট বাড়িয়েছে। শরৎচন্দ্র তার সাহিত্যে অলক্ষ্যে মুসলিমদের প্রশংসা করেছেন, হিন্দুদেরে পথ দেখাতে এর প্রয়োজন ছিল। রবীন্দ্রনাথ প্রকাশ্যে সময় সুযোগে শেল বিদ্ধ করেছেন মুসলিমদের বুকে, হিন্দু লেখক সাহিত্যিকরা সংকীর্ণমনা, উদার নন এ সত্য অনেক হিন্দু সাহিত্যিকও অকপটে স্বীকার করেছেন। মুসলিমরা সব সময়ই উদারমনা, সাম্প্রদায়িকতা ও সংকীর্ণতা মুক্ত। কমেন্ট সেকশনে হিন্দুদের অনেক মন্তব্য পড়ে বুঝা যায় ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধে তারা জানেই না, আর জানলেও যা জানে মিথ্যা জানে। তাদের দোষ কি, তারা জানবেই বা কিভাবে। বড়র পিরিতিতে সব ঢেকে রাখা, শুধু বিদ্বেষ দিয়ে ভরা দিগ থেকে দিগন্ত। এতে উভয় সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মুসলিমরাও গবেষনা থেকে দূরে গিয়ে ধর্ম ও রাজনীতির আবর্জনার মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে আর সীমাহীন গঞ্জনা সহ্য করে যাচ্ছে। ইত্যবসরে আকাশে বাতাসে একটি ম্যাসেজ ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে ইসলাম তলোয়ার রক্ত ও সন্ত্রাস দিয়ে জেহাদের নাম নিয়ে হুমকির মাঝে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। মুশরিক ও মোনাফিকরা সত্যকে সহজভাবে গ্রহণ করবে না, সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে সেটি কিন্তু কুরআনে স্পষ্ট করে বলাই আছে। সম্বিৎহারা মুসলিমরা কুরআনকে তোতাপাখির মত আওড়ালেও এর মূল বাণীর ভেতর ঢুকেছে কম। নয়তো তারা এ গোটা বিশ^ প্রাথমিক যুগের মুসলিমদের মতই প্রাপ্তি ও প্রশান্তিতে দুনিয়া সয়লাব করে দিত মানবিকতা, উদারতা ও মহানুভবতা দিয়ে। ময়দানের এ মিথ্যাচারের জবাব দিতে কয়জন মুসলিম কলম ধরেছেন, ময়দানে নেমেছেন, সত্যকে স্পষ্ট করেছেন। যদি মুসলিমদের মাঝে কোন ভুল, মিথ্যা, পাপ, নষ্টামী থাকে সেটিও স্পষ্ট করার দায় মুসলিমদের। তারা বরং অকর্মণ্য জীবন যাপনের পর সীমাহীন প্রাপ্তির আশায় সময় পার করছেন। কিন্তু প্রচেষ্ঠা ব্যতীত প্রাপ্তি কি কখনো অর্জিত হয়? চেতনহীনরা কর্তব্য কর্ম রেখে গভীর ঘুমে কাল পার করছেন।

ইতিহাস প্রমাণ ভারতে যখন মুসলিমদের প্রতি হিন্দুদের বিদ্বিষ্ট করে ভয়ংকর করে তোলা হলো তখন জিন্নাদেরও টনক নড়লো তারা বুঝতে পারলেন আর কংগ্রেসের ঢোল পিটিয়ে লাভ নেই। বরং নিজেদের স্বতন্ত্র পথ নির্মাণ ব্যতীত আর কোন বিকল্প নেই। সুভাষ বসু হিন্দু হয়েও দেশ থেকে পলায়ন করতে বাধ্য হন। এটি তখনকার হঠাৎ নেতাদের ময়দান দখল করা নেতাদের কারসাজির বৃহত্তম অংশ। তার ঠাঁই হয় জার্মানীতে। এ কারণেই জওহরলাল নেহরু বন্দুকের গুলির সন্ধান করছিলেন সুভাষকে শায়েস্তা করতে মিথ্যাচারে তার মৃত্যু সংবাদও ছড়িয়ে দেয়া হয় বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। মিথ্যার উপর ভর করে দাঁড়ানো এসব অপরাধীর ক্ষমা পাওয়ার কথা নয়। ঐ মানুষটি গুমনামি বাবা হয়ে কিভাবে ছদ্মনামে ছদ্মবেশ ছিলেন। তার পাপ কি ছিল, তার পাপ ছিল তিনি দেশটির প্রকৃত স্বাধীনতা চেয়েছিলেন, যার জন্য এসব দেশে গোটা পাকভারত উপমহাদেশেই আজ অবদি প্রকৃত স্বাধীনতা আসে নাই। দেশ যদি স্বাধীন হয় তাহলে কেন কখনো সংখ্যালঘু নির্যাতন হয় কখনো সংখ্যাগুরু নির্যাতন হয়। এর জবাব কি? সুভাষ বসুর আজাদ হিন্দের বেশীরভাগ বড় নেতারাই মুসলিম ছিলেন। আজ ভারতের হিন্দুরা কথায় কথায় মুসলিম মেরে সাইজ করছে, জোর করে হরে কৃষ্ণ বলাচ্ছে ভারতে ও বাংলাদেশে, তার ধর্মের অনুমোদিত খাবারে বাধা দিচ্ছে। এভাবে তারা বাস্তবকে নীতিকে ইতিহাসকে অবজ্ঞা করছে, সত্যকে অস্বীকার করে মিথ্যা নিয়ে বাহাদুরী করছে। ন্যায় অন্যায় বোধ তাদের রহিত হয়েছে। সবাই একবাক্যে বলছে ভারতের আদালতে ইনসাফহীন বিচার হয়েছে।

সব অংকেই এটি স্পষ্ট ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল অবদান বড় সংখ্যায় সংখ্যালঘু মুসলিমরাই। কারণ তারা যে ঐশী শক্তি দ্বারা পরিচালিত হয় তারা সম্মানের মৃত্যুকে নিদ্বির্ধায় গ্রহণ করে। সংকীর্ণ হিন্দুত্ববাদ সবকিছুতেই সংকীর্ণ, মানীর মান দিতে অপারগ উল্টো চাপা দেয়ার খেলায় তারা জগৎসেরা। শুনতে ভালো না লাগলেও এটি স্পষ্ট করা সময়ের দাবী। সংখ্যায় মাত্র ৫% ব্রাক্ষ্মণ ১৫% কায়স্থ এই বর্ণ হিন্দুর যাতাকলে ভারত তাদের মনগড়া সাহিত্য, রাজনীতি ও কপট ষড়যন্ত্র দিয়ে প্রকৃত সত্যকে চাপা দিতে সক্ষম হয়েছে। রাজনীতির ইতিহাসে ধাপে ধাপে রজত, সুবর্ন ও হিরক জয়ন্তি পার হলেও তারা তাদের সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। এ লজ্জা ঢাকার কোন সুযোগ ভারতের নেই। আপাদমস্তক অপকর্মে আবৃত ভারতের সংকীর্ণতা তাদের মানসিক দেউলিয়াত্বকে স্পষ্ট করছে। একটি ইংরেজী বই “ The Rise of Islam and the Bengal Frontier (1204-1760)” by Richard M. Eaton” বইটি বাংলাতে অনুবাদ করেছেন হাসান শরীফ “ইসলামের অভ্যুদয় ও বাংলাদেশ” নামে। এটি তার উচ্চ শিক্ষার গবেষনার অংশ ছিল। ঐ গবেষনা পত্রে তিনি এটি ষ্পষ্ট করেন যে, এতদিন যা প্রচার করা হয়েছে ইসলামের নামে সবই ছিল চরম মিথ্যাচার। গোটা বিশ^ এই চৌদ্দশত বছর ধরে ঐ মিথ্যাচার নিয়ে ময়দান গরম করে রেখেছে। সপ্তম শতাব্দী থেকেই বিরুদ্ধবাদীরা ইসলামের পেছনে লেগেছে, এর সর্বনাশ করবে একে পৃথিবী থেকে নির্বংশ করবে। ঐ আরবের জাহেলিয়াতি থেকেই ঘরের শত্রু বিভীষণ হয়ে এরা বিচ্ছুরিত হয়েছে। ভিন ধর্মধারীরা ওদেরে লুফে নিয়েছে। গোটা বিশে^ ঐ থেকেই আজো ছলবাজি তলোয়ারী ইসলামের কার্টুন আঁকা হচ্ছে। প্রথম খলিফা আবু বকরের সোমত্ত্ব সম্ভ্রান্ত যোগ্যা সুশিক্ষিতা যোদ্ধা মেয়ে আয়েশার বিয়ে নিয়ে অতি দরদে মিথ্যা রসদে গোটা দুনিয়ার ছলবাজরা কেঁদে বুক ভাসিয়ে দিচ্ছে। যার মেয়ে তার খোঁজ নেই পাড়া পড়শির ঘুম নেই, এসব ধান্ধাবাজির নামে করা ষড়যন্ত্র খেলা।

এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাকী দুনিয়া খুশীতে তালিয়া বাজাচ্ছে। দালাইলামারা মহাপুরুষ সেজে মানবতার গড়া আদর্শটির দিকে কটু মন্তব্য ছুড়ার কাজ করবেন। ভাববার কথা এর পেছনের ঐশী শক্তি যদি মিথ্যা হতো তবে এরা নিজেরা সেই কবে ধ্বসে যেত। এরা এতই শক্তিধর যে গোটা দুনিয়া ধ্বসিয়ে দিতে একজোট হয়েছে কিন্তু তারপরও তারা টিকে আছে। তবে এটিও ঠিক তাদের টিকে থাকার মন্থর গতির কারণ দায়িত্বশীল মুসলিমদের পলায়নপর মনোবৃত্তি অনেকটা দায়ী। সব দায় কিছু অল্প শিক্ষিত মৌলভীদের হাতে ছেড়ে দিয়ে সক্ষম শিক্ষিতরা ধর্মনিরপেক্ষতার গ্যাড়াকলে পড়ে গেছেন। হিন্দুরা যেভাবে যুগে যুগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের নেতাদের সংকীর্ণতার জন্য। মুসলিমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঐ ধারার নেতৃত্বের কারণে তাদের মাঝে সংশয় ও আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়। ঐ খেসারতে নাস্তিকতা আস্থাহীনতা প্রগতির পথে বেরিকেড হয়ে দাঁড়ায়। গবেষনার দুয়ারে ভাটা পড়েছে, অপশক্তি স্বরাজ পেয়েছে, সবচেয়ে আধুনিক ধর্মটি হয়েছে পশ্চাৎপদতার আর এক নাম। রিচার্ড এম ইটন তার লেখনীতে এটি স্পষ্ট করেছেন যে এই বাংলাতে সহজ সরল মানুষগুলো ইসলামের মহতী সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে এসে জড়ো হয়েছে। নিচু শ্রেনীর হিন্দু ও বৌদ্ধরা এখানে চরম নিগৃহীত হয়ে যখন সময় পার করছিল ঠিক এরকম সময় এমন এক আলোর বিচ্ছুরণ দেখে পূর্ব বাংলার পূর্ব পুরুষরা ঐ সত্যকে আলিঙ্গন করে আজ সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম তারা। ঐ আলোকরশ্মির মূলভিত্তি ছিল এক আল্লাহর অনুগত জাতপাতহীন সমাজ ব্যবস্থা, মানুষে মানুষে সমতার একাত্বতা, সামাজিক মানবিক ও আত্মিক সম্পর্ক গড়ে দেয়ার এক অচিন্তনীয় ব্যবস্থা, ভাতৃত্বের এমন বন্ধন তাদেরে এক সূত্রে বেধে দেয়। বাংলাদেশের মূল বাসিন্দারা বেশীরভাগই নিচু শ্রেণীর হিন্দু বৌদ্ধ থেকে ধর্মান্তরিত মুসলিম।

প্রতিটি মিথ্যাকে পরিষ্কার করতেই নবী মুহাম্মদ (সঃ)এর আগমণ সেখানে মাদুলী, মূর্তি, মাজার, তাবিজ কবজ, ধূপ বাতি এসব বাতিল ঘোষিত হয় কারণ এসবই ছিল মিথ্যা বন্দনার মাধ্যম, উপাদান মাত্র। ভুলভাবে পীর পুরোহিত তাবিজ কবজ মন্দির মাজার ধূপ বাতি এক কাতারে দাঁড়িয়ে কালে জায়গা খুঁজে নিয়েছে। এটি উদারতার চিহ্ন নয়, বরং অজ্ঞানতাকে জিইয়ে রাখার কসরত মাত্র। প্রতিবারই নবীরা চলে যাবার পর মানুষ পথ হারায়। শেষ নবী গত হবার পরও সেটি হয়েছে। এটি যে পদস্থলন সেটি জানতে হবে মানতে হবে। । সত্যকে নিয়ে গবেষনার বিকল্প নেই। যতই এর উপর কাজ করা যাবে ততই এ থেকে অমৃত বের হয়ে আসবে। সামনে নিয়ে যেতে অপারগ হলেও তাকে পেছনে টানার কোন অধিকার সহজে মানা যায় না। এতে জাতি সমাজ পথ হারায়, বার বার হুটচ খায়।

ইসলামের শিয়া সুন্নী বিভেদ, এটি ষড়যন্ত্রী সৃষ্ট এক বিষফোঁড়া। কিছু মোনাফিক শিশুইসলামকে ধ্বংস করার জন্যই এর শুরুটা হয়েছে। যারা এটি সাজিয়েছে তারা আজো বুকফুলিয়ে ইতিহাসের ময়দানে নিজেদের জায়গা করে রেখেছে। এদের চিনতে না পেরে বোকার মত মুসলিমরা আজো তাদেরে স্যালুট সালাম দেয়। এজন্য সত্য বিরোধী শক্তির ইন্ধনে আজো এটি মোটাতাজা আছে জীবন্ত থেকেছে, কারণ আমরা বেঘোরে ঘুমাচ্ছি। হয়তো অনেকের কাছে মোদি নির্দোষ উপযুক্ত, ভাঙ্গো বাবরী ভাঙ্গো। ভারতের ইন্ধনে নেচে বেড়ানো শক্তিও মুসলিম জাকির নায়েককে শত্রু ভাবে, মুসলিম নেতা আকবরুদ্দিন ওয়াইসি বাদ যাবেন কেন। নায়েক ইত্যবসরে আকাশচুম্বি অপরাধী কারণ তারা এমন এক ইস্যুর উপর দাঁড়িয়ে আছেন যাকে দেশ বিদেশ আন্তর্জাতিক সবাই রুখতে চায়। এর খেসারত হিসাবে ৯৫% মুসলিম বাংলাদেশে দাবার গুটিতে জাকির নায়েকের পিসটিভি বন্ধ থাকে। সত্যকে ময়দানে টিকে থাকা কত দুঃসাধ্য, এসব তার উত্তম উদাহরণ, ইতিহাসের নির্মম পরিহাস!

তাজমহল নিয়ে ষড়যন্ত্র বহুদিন থেকে গুণগুনানী শুনছি, এবার মোদির ভারত ভাঙ্গার যুদ্ধে বাড়তি চেতনা পাবে, সবকটির উদ্দেশ্য এক মুসলিমরা হয় কবরস্থানে যাবে নয়তো পাকিস্তানে। সেটি তারা সব সময় প্রকাশ করে। মোদির ভারত কোন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র যেমন নয় তেমনি সমাজবাদি রাষ্ট্রও নয়। বরং কার্যত ভারত স্বাধীনতার শুরু থেকে আজো বর্ণহিন্দুদের চালে চালিত এক রাষ্ট্র। মোদি কোন বর্ণহিন্দু ব্রাক্ষ্মণ কিছুই নন। তারপরও তার দাপটের কারণে সংখ্যালঘু নির্যাতনে শুধু তার একাত্বতা পাওয়া গেছে, বর্ণহিন্দুর সাথে মিল ওখানেই। দক্ষিণ ভারতের মহীশূরের রাজা টিপু সুলতান সম্বন্ধে কর্নাটকে স্কুলের পাঠ্য ইতিহাসে এ যাবৎ যা উঠে এসেছে তা মুছে দেয়ার কথা ভাবছে বিজেপি সরকার। টিপুর জন্মজয়ন্তি আগেই বন্ধ করা হয়েছে। এবার বাকীটাও সরিয়ে ফেলার চেষ্টা চলেছে। মহীশূর বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাসের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সেবাস্টিয়ান যোসেফ বলেন, টিপু সুলতানকে ভারতীয় ইতিহাসের একজন খলনায়ক হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। মোদির ভারত টিপুকেও আজ গলাটিপে হত্যা করতে চাইছে। এদের অপরাধ এত উচ্চমার্গে পৌচেছে যে মনে হচ্ছে এরা অমনিতেই ধ্বসে পড়বে নিজের পাপেই এরা ইতিহাসে তলিয়ে যাবে। কথা না বলা একজন নিরব দর্শক সব পরখ করছে আর দুনিয়ার প্রতিটি জীব হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান জৈন শুদ্র চন্ডাল মুসলিম সবই তার সন্তান। তারা নির্যাতীত নিষ্পেষিত একটি ছোট পুরোহিত প্রজাতির ব্রাক্ষ্মণ গোষ্ঠীর কুপমন্ডুপ একদল জীবের কাছে জিম্মী সময় পার করছে।

বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে এখন বাকী ইতিহাস মোচনের কাজও তারা লিস্ট হাতে করবে বলেই ধারণা দিয়েছে। এখানে আমেরিকাতে দেখা যায় বহু বহু গীর্জা মুসলিমরা খৃষ্টানদের থেকে কিনে নিয়ে কোন হিংসার স্বাক্ষর না রেখেই পরষ্পরের বোঝাপড়ার মাঝে কড়িতে কিনে নিয়ে তাকে না ভেঙ্গেই মসজিদে রুপান্তরিত করছে। অদেখা বিধাতার এবাদতখানা এবাদতখানাই থাকে। শুধু মালিকানা বদল হয় যুক্তির কথাটি হচ্ছে মানুষ গীর্জার প্রতি আগ্রহ হারিয়েছে, সঙ্গত কারণেই মুসলিমরা এটি কিনে নিচ্ছে। খৃষ্টানরা সে সত্য স্বীকার করে নির্দ্বিধায়, সারা বিশ^ জানে মানে মানুষ আজ আর মিথ্যাকে আলিঙ্গন করতে বিবেকের কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ। ধর্মের বিবেকহীনতায়ও মানুষ কষ্ট পায়। বিবেকের কারণেই মানুষ ব্যতিক্রম, অসাধারণ ও মানবিক। নীতির কথাটি হচ্ছে “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা যেন তৃণ সম দহে” উভয়েই পাপ জমা করে। রবীন্দ্রনাথ হিন্দু জাগরণে এ সত্যটি  স্পষ্ট করেছেন যে মুসলিমরা যুদ্ধ করে মরে আর হিন্দুরা আত্মহত্যা করে মরে। সে হিসাবে একটি বিজয়ের মরণ আর অন্যটি পরাজয়ের মরণ। মুসলিমরা মরলে শহীদ বাঁচলে গাজি নীতিতে বিশ^াসী তারা সর্বাবস্থায় গর্ব জমা করে। ধর্মের নির্মল অর্জন তাদেরে এ অনুপম সৌন্দর্য ও সাহস দিয়েছে। এ কারণেই হাজার হাজার মুসলিমরা হাসতে হাসতে ফাঁসির কাষ্টে ঝুলেছে কিন্তু এদের জন্য একটি লাইনও বের হয়নি রবীন্দ্রনাথের মত বিখ্যাত কবির কলমের কালিতে। এর প্রধান কারণ ইসলাম মুসলিম কুরআন মুহাম্মদ তার সৃষ্টির মাঝে কোন ব্যতিক্রমী ভাবান্তর সৃষ্টি করতে পারে নি। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় বাংলার সুফি ভাবধারাতে তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন। ধারণা করি প্রকটভাবে তা স্বীকার করার মত মন মানসিকতার অভাব সম্ভবত তার ছিল। শুধু রবীন্দ্রনাথ একাই নন। যারাই হিন্দুত্ববাদীতা লালন করেছেন তারা বেশীরভাগই উদারতার ছাপ রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই প্রশ্নবিদ্ধ ভারত ও তার নৈতিক পতনের দায় তারা এড়াতে পারেন না। সম্প্রীতির সমতার মানবতার আদর্শের লালন না করে তারাই বরং যে বিদ্বেষের  রেশ সজ্ঞানে ভারতে পুতে গেছেন ঐ মর্মজ¦ালাতে ভারতবাসী আজও পুড়ছে ঐ মানসাংকে “আপনার মনে পুড়িয়া মরিছে গন্ধ বিধুর ধূপ।”

লেখার সময়। ২৭ নভেম্বর ২০১৯।

বি দ্রষ্টব্য: লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ‘দি রানার নিউজ’ সাপ্তাহিকে ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে ছাপা হয়।

Tag Cloud

%d bloggers like this: