Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

শিরোনামের কথাটি গবেষনার দৃষ্টিতে ধরা পড়া চরম সত্য কথার একটি। আদি সনাতন ধর্ম খুঁজলে একটি চরম সত্য ও সুন্দর সত্ত্বাই ধরা পড়ে। বাকী সবটাই বহুত্ববাদ নামের গোজামিল। ময়দানের দুর্বলরা এর ভোগের শিকার হয়েছে যুগে যুগে। সতিদাহের যন্ত্রণা নারীদের জন্য জমা করা। এটি যদি ধর্ম হতো তবে কেন বৃটিশকে পরিশুদ্ধির কাজ করতে হলো। বড়কবি রবীন্দ্রনাথ যে গতিতে বৃটিশ তোষামোদি বন্দনা করেছেন সে একই গতিতে ধর্মের নামে সতিদাহের নামে নষ্ট বন্দনা গীতি গেয়েছেন। তার মত মোড়লরা সংস্কারে হাত দেন নাই। উল্টো আরো সমাজ ধ্বসের রসদ জুগিয়ে গেছেন। সঙ্গত কারণেই আজও তাদের সমাজ তিমির অন্ধকারে ডুবে আছে। ঐ অপকর্মের খেসারত হিসাবে সারা বিশে^ ইসলাম ও মুসলিমরা আজ কার্তুজের সামনে। সত্যকে গ্রহণ করার মানসিকতায় তারা পিছিয়ে। এক হাতে তলোয়ার আর এক হাতে কুরআনের মিথ্যাচারে তারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এর বড় কারণ তাদের হিনমন্যতা আর ইসলামের সুমিষ্ট ভাব, তার ফজলি আম হওয়া।

ধর্ম যদি মিথ্যার উপর ভর করে দাঁড়ায় তবে তা আর ধর্ম থাকে না। সেটি হয় অধর্ম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন বাবরি মসজিদের নিচে কোন মন্দিরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এটি খবরের শিরোনাম (প্রথম আলো, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮)। খবরে প্রকাশ প্রতœতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ সুপ্রিয় ভার্মা ও জয়া মেনন মসজিদ ধ্বংসের ২৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে তারা হাফিংটন পোস্ট ডটইনের এক প্রতিবেদনে এটি স্পষ্ট করেন। ভারতের প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর এএসআই এ মিথ্যায় ধরা পড়েছে। ২০০৩ সালে বাবরি মসজিদ খননকালে এলাহাবাদ হাইকোর্টকে এএসআই জানায় মসজিদের নিচে একটি নয়, তিনটি রামমন্দিরের অস্তিত্ব পেয়েছে। সুপ্রিয় ভার্মা জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির প্রতœতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং জয়া মেনন শিব নাদার ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিভাগের প্রধান। তারা খননকাজ পর্যবেক্ষন করে ২০১০ সালে ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি নিবন্ধে লিখেছিলেন।  বিজেপি সরকারের চাপে ছিলেন প্রতœতত্ত্ববিদরা, সাম্প্রতিক এটি স্পষ্ট হয়। এই হচ্ছে মিথ্যা মন্দিরের পক্ষের যুক্তি। ঐ সময় অনুসন্ধানের নেতৃত্বে ছিলেন বি আর মানি। ২০১৬ থেকে মোদি সরকার তাকে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে বসায়। সুপ্রিয় ভার্মার মতে, বাবরী মসজিদের নিচে পুরোনো ছোট মসজিদ ছিল। এর পশ্চিম দেয়ালে, ৫০টি পিলার ও স্থাপত্যশৈলী তারই প্রমাণ। পশ্চিমের দেয়াল দেখলেই বোঝা যায় ঐ পাশে মুখ করে নামাজ পড়া হতো। এর কাঠামো মসজিদের মত, মন্দিরের মত নয়। এই যদি হয় ধর্মের ও ভগবান রামের অবস্থা তবে আফসোস ঐ সব অনুসারীদের জন্য যাদের মাথা পুরোটাই গোবর গণেশ হয়ে গেছে। অতিসার অতিবুদ্ধিতে অসার মূর্তিপূজকদের দুর্দশা দেখে হতবুদ্ধ গোটা মুসলিম সমাজ। এই তাদের সাধুতার নমুনায় ভন্ডামীর উদাহরণ। অতি ভক্তি চোরের লক্ষণের মতই করজোড়ে প্রণামের মহাত্য বুঝি তাই! গান্ধীজীর মুখে ছিল ‘যহি আল্লাহ সহি রাম, সবকো সম্মতি দে ভগবান।’ আল্লাহর সাথে রামের একাত্বতার সব গোমর ফাঁস! জিহাদের নাম নিয়ে সারা দুনিয়ায় সন্ত্রাসী বানিয়ে ছড়ানো হয় ঠিক বাবরী মসজিদের প্রতœতত্ত্বের মিথ্যা প্রচারের মতই। ষড়যন্ত্রী ত্রিশূল হাতে পেটে বিদ্ধ করলেও তারা সাধু, সন্ত্রাসী নয়। হাজার হাজার লাশ লুটিয়ে পড়লেও ঐ ত্রিশূল লুকানো থাকে, প্রচারিত নয়, দেখে না দেখার ভান সবার। প্রচারে থাকে শুধু ছলবাজ তলোয়ার আর সত্য কুরআন যাকে মিথ্যে দিয়ে সাজিয়ে প্রতিনিয়ত শান দেয়া হয়। ঐ শান দানে কবি সাহিত্যিকরা নেতা নেত্রীরা আগুয়ান ছিলেন, এটিই ইতিহাস ও বাস্তবতা।

২০১২ সালে একটি বই লিখেছিলাম, বইটির নাম “একই ধর্ম একই ধারা”, ৩৫০ পৃষ্ঠার এ বইটিতে দেখাবার চেষ্টা করেছি কিভাবে প্রধান তিনটি ধর্ম ইহুদী, খৃষ্টান ও ইসলাম এক সূতায় গাথা একেশ^র ধর্মের গোড়াটা। তাছাড়াও বাকী বৌদ্ধ, জৈন, হিন্দু শিখ ধর্মের গোড়াটাও ঐ এক জায়গায়ই প্রাথিত। সবকটি প্রধান ধর্মই একেশ^রবাদ। এখানে দুই তিনের কোন অস্তিত্ব নেই তারপরও এরা কালের ধারাতে তেত্রিশ কোটিতেও পৌছে গেছে বিনা বাধায়। এই স্থলন ঠিক বাবরী মসজিদের স্থলনের মতই অনৈতিকতা দিয়ে ভরা। যুগে যুগে মোদিবাজরা এভাবে ধর্মের সর্বনাশ করেছে, বারোটা চৌদ্দটা বাজিয়েছে। আজ এত স্বল্প পরিসরে এত বিশাল বিষয়টি খুব সংক্ষেপে তুলে ধরতে চাচ্ছি।

ইসলামের শুরুটা হযরত আদমের সময় থেকে। আদমের ১০৫৬ বৎসর পর নূহের আবির্ভাব, ইবনে আব্বাস ও আবুজর বর্ণনা করেছেন যে, আদম ও নূহের মাঝখানে দশ শতাব্দী অতিক্রান্ত হয়েছে (মুস্তাদরাক, হাকেম ও তিবরানী)। নূহের যুগেই ধর্ম ব্যবস্থা সত্যিকার অর্থে একটি বিশেষ রুপ লাভ করে। আদমের যুগ ছিল প্রস্তুতির যুগ। আদমের যুগে সহোদর ভাই বোনদের মাঝেও বিবাহ ব্যবস্থা চালু ছিল। প্রাচীন ভারতেও সহোদর ভ্রাতাদের সাথে বোনদের বিয়ে হত। তখন বিয়ে ছিল বাধ্যতামূলক (ভারতে বিবাহের ইতিহাস ১৫ ও ২৫ পৃষ্ঠা।) দশরথ জাতকে ভ্রাতার সঙ্গে ভগ্নির বিয়ের কথা শোনা যায়। (জাতক চতুর্থ খন্ড, ৭৫ পৃষ্ঠা টীকা)। নূহের যুগের প্লাবন, নৌকা নির্মাণ, নৌকা নিয়ে পর্বতে আশ্রয় লাভ, কুরআনে সূরা হূদের ৩৮, ৪১, ৪৫ ও সুরা মু’মিনুনে প্লাবন ও নৌকার উল্লেখ আছে। তৌরাতের আদি পুস্তকে ৭ও ৮ অধ্যায়ে এ ঘটনার বিবরণ দেখতে পাওয়া যায়। অনুরুপ শতপথ ব্রাহ্মণে, মহাভারতে এবং অথর্ববেদে মনু মহাপ্লাবন ও নৌকা নির্মাণ  ইত্যাদির ঘটনা হুবহু কুরআন ও বাইবেলের অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে। প্লাবন, নৌকা নির্মাণ, গিরিশৃঙ্গে গমন ও প্রাণীসমূহের বিনাশের কথা শতপথ ব্রাহ্মণের ১/৮/১/১-৬ শ্লোকে রয়েছে, প্রাণীর বিজ নিয়ে নৌকা যাত্রার কথা মহাভারতে ৩/১৮৭/৫২-৪ শ্লোকে বিবৃত হয়েছে। মনুর পুত্রের বিনষ্ট হওয়ার কথা মহাভারতের ১/৭৫/১৫.২-১৮ শ্লোক সমূহে দেখতে পাওয়া যায়। এসব বর্ণনায় নূহ এবং মনু যে অভিন্ন ব্যক্তি তাতে কোন সন্দেহ নেই। হযরত ইব্রাহিমও মূর্তিপূজকের ঘরে জন্ম নেন। পিতৃগৃহে প্রতিবাদী হয়েই তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে নিজেই ইসলামে আসেন। বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার শুরুতে যে বালবীর সে ইত্যবসরে ধর্মান্তরিত হয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে ঢিলের বদলে পাটকেল হিসাবে শত মসজিদ বানাচ্ছে।

আল্লাহ ইব্রাহিমকে গ্রহণ করেছিলেন বন্ধুরুপে (সূরা নিসার ৪:১২৫ আয়াত)। ইব্রাহিম এবং তার সত্যিকার অনুসারীদের মধ্যেই রয়েছে উৎকৃষ্ট আদর্শ (সুরা মুমতাহানাহ ৫,৭ আয়াত)। কুরআন বলে আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্মই হল ইসলাম (সুরা আল-ইমরান ২০ আয়াত)। ইব্রাহিমকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হলেও তিনি আল্লাহর রহমতে তা থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার পেয়েছিলেন। তেমনি উপনিষদ বলে, সর্বজবেন তন্ন শশাকদগ্ধম অর্থাৎ আগুন ব্রহ্মার একটি তৃণও দগ্ধ করতে পারলনা। (কেনো ৬/৫/৬)। বাল্যকালে আমি আমার হিন্দু বান্ধবীদের কাছে শুনেছি যখন ধর্ম শিক্ষা বা ইতিহাস পড়তাম তখন বলতো তাদের চড়ক পূজাতে ইব্রাহিমের মতই একজনকে আগুণে ছুঁড়ে দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা করতো। আমি অবাক বিস্ময়ে বোকার মতই তাদের গল্পকথা মনে পুষে রেখেছি, আজ মিলাচ্ছি।  উলেমাদের মধ্যে অনেকেই ইব্রাহিমকে ব্রহ্মা বলে স্বীকার করেছেন, যেমন আর্যদের মধ্য এশিয়া হতে ভারতে আগমন হতে এটুকু অনুমান করা যায় যে, আব্রাহাম বা ইব্রাহিমকে তারা ব্রহ্মা নাম দিয়ে পূজা করেছে। (তফসির সুরা ফাতেহা, মৌলানা শামছুল হক ফরিদপুরী কৃত, ৯০ পৃষ্ঠা)। সুরা আম্বিয়ার ৬৮ আয়াতে তাকে পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিতে আমরা দেখি। অতপর ঐ সুরার (৬৯-৭০ আয়াতে) তাকে আল্লাহ কর্তৃক নিরাপত্তা দেয়া হয়। এই ব্রহ্মা ও ইব্রাহিম যে একই ব্যক্তি এর মাঝে কোন দ্বিমত থাকার কথা নয়।  নবী ইব্রাহিম যিনি মূর্তি নিধন করেও নিস্তার পাননি। পরবর্তীরা তার মূর্তি গড়েও পূজা দিয়েছে মক্কাতেই, প্রমাণ পাওয়া যায় সেখানের ৩৬০টি মূর্তির মাঝে ইব্রাহিমের মূর্তিও ছিল। হিন্দু আর্যরা অহুরকে অশূরে পরিণত করে এবং ইরানীরা দেবকে দেও বানিয়ে ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে বলে সর্বত্র প্রমাণ পাওয়া যায়। এখানেও দেখা যায় আর্য ও ইরানীদের মাঝে একটি অব্যর্থ বন্ধনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে।

মহাভারতে বর্ণিত আছে ব্রহ্মা, যজ্ঞ, ব্রহ্মশালা, বলির জন্য যজ্ঞ পশু, এক ত্রিলোক বিশ্রুত কূপ, কেশচ্ছেদন, মোক্ষ (মক্কা) ঈশ^র, আশ্রম বায়তুল্লা (Comparative religion, p – 245, আল ফুরকান ডিসেম্বর ১৯৬৪)। শিব ব্রাহ্মণ আরবে গিয়ে উপাসনা করতেন (ঐ ৩৫ পৃষ্ঠা)। ডঃ সুনীতি চট্টোপাধ্যায় তার “অশাস্ত্রীয় পুরাণে” এই মক্কেশ্বর শিব সম্বন্ধে আলোচনা করেছেন (বাংলা একাডেমী পত্রিকা ৮/৪)। উপরের প্রতিটি অনুসঙ্গ ইসলামের হজ্জের সাথে সম্পর্কীত ও প্রমাণিত। ইসমাইলের অনুসারীরা পরবর্তীতে একের কথা গুলিয়ে ফেলে মূর্তিপূজা করেছে। ঠিক একইভাবে ইসহাকের অনুসারীরা এক আল্লাহকে ভুলে গিয়ে বাল দেবতার পূজা করেছে। সাধুদের সেলাই বিহীন ড্রেস (ইহরাম), উলুধ্বনি দেয়া, বিবাহে সাতপাক দেয়া রীতি সাতবার কাবা প্রদক্ষিণের অনুকরণে তারা আজও করে থাকে। উপনিষদের মতে স্বাস্থ্যবান সন্তান লাভ করতে হলে বা বেদ বুঝার মত জ্ঞান অর্জন করতে হলেও ষাড়ের মাংস খাওয়া জরুরী। প্রাচীনকালে অতিথিদের জন্যও গো বধ করার প্রচলন ছিল। তাই সংস্কৃত ভাষায় অতিথির অপর নাম গোঘনো (দুঃখিত, বানান বিভ্রাটের জন্য)। এ দ্বারা অতিথির আপ্যায়ন করার নিয়ম (বসিষ্ট সংহিতা)। অতএব দেখা যায় কুরআনে বর্ণিত হযরত ইব্রাহিমের গোমাংস দিয়ে আতিথেয়তায় ভারতীয়রাও এই চিরন্তন নিয়মেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু মোদির ভারতে উল্টো, গো হত্যা পাপ, মানুষ মুসলিম হত্যা পূণ্য।

প্লাবন কালের নূহকে বলা হত মনূহ বা মনু Nuh / Manu / Manuh দেখা যায় এখানে Nuh এর আগে Ma যুক্ত করা হয়। A+braham+a =  Brahma. ইব্রাহিমের প্রথমা স্ত্রী সারাহ বেদে যাকে বলা হয়েছে স্মরস্মতি Sarah + Wati – Saraswati.  যার অর্থ দাড়ায় সারাহ নামের একজন মহিলা, ওয়াতি অর্থ মহিলা। দেখা যায় সারাহ একজন সতি (গুণবতি মহিলা)। বেশ কিছু পন্ডিতেরা অথর্ববেদকে আব্রাহামের গ্রন্থ হিসাবে মানেন। নবী ইসমাইল ও ইসহাক যথাক্রমে অথর্ব এবং আঙ্গিরা নামে বেদে উল্লেখিত হয়েছেন। মুসলমান ঐতিহাসিকেরা একটি মতামত দান করেন যে শীশ নবী ও আইয়ুব নবীর কবর ভারতের অযোধ্যাতে উত্তর প্রদেশ রাজ্যে আছে। জট জটিলতায় তাদের মনু একজন নয়, বহু বহু মনুরা সেখানে আছেন।

প্রতিটি জনপদে যে নবী আসেননি তাও কুরআন আমাদেরে জানিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ বলেন, আমি ইচ্ছা করলে প্রতিটি জনপদে একজন করে সতর্ককারী প্রেরণ করতে পারতাম (সুরা ফুরকান ৫১ আয়াত)। আগের নবীরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। কিন্তু মহানবী মোহাম্মদ (সঃ)কে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য। বিশ্বের যে কোন স্থানে যারাই বাস করুক না কেন তারা সবাই এই শেষনবী মুহাম্মদ (সঃ) এর উম্মত। আসলে হিন্দুরা যে সনাতনের বড়াই করে মুসলিমদের ঘৃণা করার প্রবণতাকে জিইয়ে রেখেছে। এর দায় তাদের নষ্ট নেতৃত্বের যা খুব আগে ছিল না। তাদের নেতাদের কৃতিত্বে তারা নিজের বিবেককে এতই কপটবদ্ধ করে রেখেছে যে, শঠতা, প্রতারণা, হিংসা, মিথ্যাচার, মসজিদ ভাংগা, নিজেদের লাভ জমা করতে তারা নিজের মন্দিরও ভাঙ্গার আচার জমা করে রেখেছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে এ আচরণ হিন্দু সংখ্যালঘুরা বাংলাদেশেও করে দেখায়। দেশে ও বিদেশে অপকর্মে ধরা খাওয়া প্রিয়া সাহা তার সাম্প্রতিক বড় উদাহরণ। ধর্মের নামে সততার সব দাগ তারা মুছে দিতে কার্পণ্য করে না। তারা মনে করে অনড় মূর্তিরা তাদের রক্ষক হবে। এ অধর্ম দিয়ে ভগবান রামের বা অদেখা বিধাতার সামনে কোন সাহসে তারা সিনা টান করে দাঁড়াবে?

বাংলাদেশের মানুষ চিন্তাও করতে পারবে না ভারতের দাঙ্গার পরিসংখ্যান। তেজী নেতাদের কারণে কোন কোন বছর দাঙ্গা শত শত কোন বছরে হাজারও ছুঁয়েছে। গুজরাটের রক্ত: ভারতবর্ষের গর্ব না কলঙ্ক?  এরকম একটি ছক উৎসাহী পাঠক চাইলে সেটি পরখ করে নিতে পারেন।টি বিগত শতকের হিসাব। ইসলামের ঐ মশাল হাতে বাবর, শাহজাহান টিপু ছাড়া আরো অনেকেই ভারতবর্ষকে অসীম মর্যাদায় বিকশিত ও উন্নীত করেছিলেন। এরা অনেকেই ক্ষমতার পাগল ছিল না, ছিল আল্লাহর পাগল, সত্যের পাগল। কিন্তু খোদ রবীঠাকুরের চোখেও তারা ম্লেচ্ছ যবন নেড়ে ধেড়ে হয়ে রইলেন। তিনি এমনই সংকীর্ণ ছিলেন যে তার কাছে কুরআন মুহাম্মদ কিছুই দাগ কাটে নি। এরা বৃটিশ তোষণে নোবেল জমা করলেও ভারতের দূর্ভোগের দায় এদেরই। এরা জালিনওয়ালাবাগের অত্যাচার দেখেও বিক্ষুব্ধ হয়না, নাইট উপাধি স্যার টাইটেলের মায়া ত্যাগ করতে কুন্ঠিত থাকে। যার খেসারতে জনতারা বিক্ষুব্ধ হয়। বোকা নজরুলের মত এরা কারাগারে যায়না, উল্টো বিলেত তাদের নিরাপত্তা বলয় হয়। ঐতিহাসিক আর সি মজুমদার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, জাতিভেদে জর্জরিত হিন্দু সমাজ মুসলমান সমাজের সাম্য ও মৈত্রীর আদর্শ হতে অনেক কিছু শিক্ষা লাভ করতে পারত কিন্তু তারা তা করে নাই (বাংলাদেশের ইতিহাস, ৩২৮ পৃষ্ঠা)। ওরা ইসলামকে চিনলো না, মুসলিমদেরেও না। মুসলিমরা মহা ঐশীগ্রন্থ কুরআনকে অন্তরে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়া এক মহান জাতি। অবিস্মরনীয় এক মশাল তাদের হাতে, যার আলোতে গোটা বিশ^ আলোকিত হতে বাধ্য। এত বড় কথাটি বললাম কারণ এখানে কোন মিথ্যাচার নেই। এটি কোন মানুষের কথাও নয় এটি ঐশীগ্রন্থ ও ঐ কুরআনের বাণী ঐশীবাণী, সব ধর্মের গোড়ার কথা।

লেখার তারিখ: ১৮ই নভেম্বর ২০১৯।

 

বি: দ্রষ্টব্য: এ কলামটি ২২ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে নিউইয়র্ক ভিত্তিক সাপ্তাহিক ‘দি রানার নিউজ’ ছাপে।

Tag Cloud

%d bloggers like this: