Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

শেখ হাসিনা কথায় কথায় জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেন তার বাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। যেখানে বলা হয় ৩০ লাখ বুকের রক্ত ঢেলে এ দেশবাসী দেশ স্বাধীন করেছে সেখানে এরকম একটি কথা বলে হাসিনা নিজেকে সংকীর্ণভাবে উপস্থাপন করেন। সংকীর্ণ চিন্তায় মুক্তিযুদ্ধের সাথে তিনি তার বাবাকে ও সারা জাতিকে অপমান করতে কখনো কার্পণ্য করেন না। মুক্তিযুদ্ধ তার বাবার জানার বাইরেই হয়। তিনি জানতেনও না দেশটি ইতমধ্যে স্বাধীন হয়ে গেছে কারণ তিনি ছিলেন পাকিস্তানের কারাগারে, তাও আবার স্বেচ্ছায় কারাবরণ করেছিলেন। এর পক্ষে তথ্য উপাত্ত সর্বত্র ধারে কাছের অসংখ্য সূত্রে প্রমাণিত হয়ে আছে। প্রয়াত সিরাজুর রহমানের কাছে ৩০ লাখের ভাষ্যও জমা রাখা।

আত্মসচেতন না থাকা একটি জাতির মৃত্যুর লক্ষণ। ময়দানের দালাল ব্যক্তিগুলি  বার বার লাত্থি গোতা খাওয়ার পরও বলে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি এর বিচার করেন। পেট খাবাপ হলেও বলে বিচার করেন, মাথা ধরলেও বলে বিচার করেন। এই প্রধানমন্ত্রী নিজেই সব অপকর্মের মূল কার্যকারণ, যিনি নিজেই সকল দুর্যোগ দুর্ভোগের সূত্রকথা। তার কারণেই শাসন বিচার আইন সবই প্রশ্নবিদ্ধ। যেখানে ভাইরাস রোগের এমন বিস্তারে বিচার স্তব্ধ জটাবদ্ধ হয়ে আটকে আছে, সেখানে নির্যাতীতের পক্ষের বিচার আকাশ কুসুম কল্পনা মাত্র। তাকে কেউ সেধে কোন দায়িত্ব তুলে দেয় নাই। আগের রাতে ভোট চুরির গদি দখলদার হয়ে প্রতারণার খেলা খেলছেন। আর ইনিয়ে বিনিয়ে মান্নার কান্না আর রবের সরব হওয়া নিয়ে চুটকি কাটছেন।

ডাক্তাররা গোটা জাতির সেবক। সেখানে খালেদা জিয়ার জন্য নিয়োজিত প্রশ্নবিদ্ধ উর্দিপরা সরকারী চিকিৎসক কথা বলে হাসিনার শেখানো সুরে। উনার সাথে দেখা করতে হয় ১২টা একটার পরে। একজন ইনসুলিন নির্ভর রোগী কখনোই ১২টা পর্যন্ত নাটকের অপেক্ষায় থাকতে পারেন না। খালেদা জিয়া বলেন সকাল থেকে তাদের অপেক্ষায় থাকলেও তাদের দেখা মেলে না। এ হচ্ছে একজন তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসার দশা! এ মানসিকতার অবিশ^স্ত ডাক্তার যে কোন মুহূর্তে তার রোগীর জন্য ভয়ানক আতংক জমা করবে, এটি অবলীলায় বলা যায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিজ, হাইপারটেনশন, আর্থ্রাইটিজ, প্রতিটি জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া , নড়াচড়া করতে না পারা, আলামত নির্দেশ করে তিনি পঙ্গুত্বের দিকে যাচ্ছেন আর তারা সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে সরকারী দালালী চালিয়ে যাচ্ছে। সুস্বাস্থ্যের বানোয়াট সার্টিফিকেট বিলি করলেও আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে শংকায় থাকছে ! সত্যের অপলাপ করে সরকারী ডাক্তাররা ডাক্তারী বিদ্যেকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কষ্টের কথাটি হচ্ছে গোটা জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা ভুলে গেছে। সরকার তার নড়বড়ে গদি রক্ষার্থে সর্বত্র বেসুমার দালাল নিয়োগ দিয়েছে। উকিল মোক্তার ডাক্তার জমাদার পেশাদার সব কেনা দালালরা ময়দান গরম করছে। বাকী দেশ একদিকে আছে।

শোভন রব্বানীরা আওয়ামী লীগার হয়েও ধরা খায়। কারণ আবর্জনা বেশী হলে কিছু টয়লেট পেপার ডাস্টবিনের জন্য জমা হয়। দলবাজরা যখন সত্যের দাসত্ব করে না, তখন তারা বিবেকের কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ হয় না। অতীতে দেখা গেছে এরা নিজ দলের ছাত্র মেরে লাশ জমা করে আন্দোলন চাঙ্গা করে। মানুষের যখন মানিবকতা হারিয়ে যায় তখন তারা দেউলিয়া হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। জঙ্গলের বাঘ ক্ষুধার সময় তার বাচ্চাকে খেয়ে ফেলে। তাই এসব আচরনধারীকে পশুর তালিকায় রাখা হয়। পশুত্ব চর্চা ছাড়াও মানুষ আরো অনেক অপকর্ম করে বলেই তাদের জন্য বিচার বরাদ্দ, যদিও পশুর জন্য কোন বিচার বরাদ্দ নেই। মানুষকে বিবেক দেয়া হয়েছে বলেই পাপ পূণ্য সত্য মিথ্যার নিরিখে জবাবদিহিতার দায় রেখে বিচার মোকাবেলা করতে হবে তাদের। এসব কাজ করে প্রত্যেকে তাদের আমলনামা রেডি করছে, ফাইনাল পরীক্ষার জন্য। নীতিধর্মের কাজ হচ্ছে সব সময় অপরাধীকে চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপন পর বিচার করলেই দুষ্ট শাসক বিচারকের জন্য ফাঁসির রজ্জু রেডী হবে, দেরী নয়, সামনেই এবং শীঘ্রই। জাতির প্রতিটি ব্যক্তিকে জীবনের গভীর সত্যটি বুঝতে হবে। নয়তো সবাই শোভন, রব্বানী, সমরাট, সাকিবদের মতই ধরা খাবেন। এরা সরকারের চাটুকারী করেও বাঁচতে পারে নাই। এর বড় কারণ এরা সত্যকে নীতিকে মূল্যায়ন করেছে কম। এরা বৃহত্তর স্বার্থের কথা না ভেবে ব্যক্তি স্বার্থকেই বড় করে দেখেছে।

এখানে আবরার আর শোভন রব্বানি কিন্তু এক নয়। আবরারের পরিবারও আওয়ামী লীগ করতো কিন্তু রক্ত তর্পণের সময় লাল রক্ত হলেই হয়। তখন তারা শিবির বলে চালিয়ে দিতেও লজ্জাবোধ করে না। বিবেকের দংশনও তাদের নেই। দেশ বিপর্যস্ত আজ নতুন নয়, বহুদিন থেকে দেশ ডুবছে ক্রমে ক্রমে তলিয়ে যাচ্ছে, অনেক বড় বড় ক্রিকেটাররা  সেখানে টু শব্দটিও করে নাই, করতে পারে নাই, নিজ স্বার্থের উপরে দেশকে বড় করে দেখে নাই। এরা যত বড় ক্রিকেটার হোক, এরা আত্মসচেতন নয়। দেশ ডুবছে, তারা খেলছে। দেশ বড় না খেলা বড়? আবরার বড় না সাকিব বড়? মাশরাফিকে মানুষ শান্তিতে মাশাল্লাহ বলতে পারে নাই। কারণ তিনি নীতির কবর রচনা করে অনীতিকেই আলিঙ্গন করেছেন। তার মনুষ্যত্ব অল্প দামে বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি সজ্ঞানে নিজেকে বিক্রি হতে দিয়েছেন। একজন মহৎ সাধু হাজার দুষ্টের থেকেও হাজার গুণ মূল্যবান। সাধু যখন দুষ্টের দলে যোগ দেয় তখন সে আর সাধু থাকে না, হয় দুষ্টের সহচর। খেলা পাগল ক্রিকেটাররা তাদের বিবেককে বন্ধক রেখে ক্রিকেটের স্বার্থে কথা বলাতে তাদের ফাঁসিয়ে দেয়া হলো। দুই বছরের আগের অপরাধও হুড়মুড় করে ত্বরিত গতিতে সাকিবের গলায় চেপে বসে। নয়তো শত অপরাধও ঢাকা থাকে, ওপেন হয় না। অনেকে নামকরণ করছে সবজান্তা গোয়েন্দা লীগ। গোয়েন্দার নামে যা ইচ্ছে তাই তারা করতে পারে। সব গোয়েন্দার খবর প্রধানমন্ত্রীর জানা তবে পাপনের ক্যাসিনো খেলার খবর বাদে। সম্প্রতি এটি জেনে তিনি আকাশ থেকে ধপাস করে পড়েছেন।

অপরাধের শাস্তি বিরোধী নিরপরাধের জন্য জমা রাখা। খালেদা জিয়ার মত সারা জাতি ভোগছে, দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, ধুকে ধুকে মরছে। নুসরাত হত্যার পেছনের অপরাধী পুলিশ নিরাপদ। তাদের ধরা হয়না, অমিত সাহারা সাধারণত ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে। এদের ধরতে সরকারের কষ্ট হয়। নরসিংদীর মহিলা এমপি বুবলী মোট আটজনকে দিয়ে তার নিজের পরীক্ষা দেয়ার মত ইতিহাস তৈরী করতে পেরেছে। সেটিই দেশটির অস্তিত্ব সংকট স্পষ্ট করছে, যেন বিশাল এক পদ্মাসেতু। ময়দানে পরীক্ষা দেয়ার সময়ও ঘটনাটি সবাই দেখেছে কিন্তু কারো সাহস হয়নি স্পষ্ট করে এর প্রতিবাদ করতে। কারণ তিনি মহিলা সাংসদ। এ হচ্ছে দেশটির বর্তমান অবস্থা। যে দেশ গড়ে উঠেছিল  মুক্তিযুদ্ধের সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উপর ভিত্তি করে, সে দেশ আজ এই অবস্থায় মুমূর্ষু দশা পার করছে। চারদিক আন্ধার দেখছে। ইয়া নফসি ইয়া নফসি করছে!

লেখার সময়:  ৩ নভেম্বর ২০১৯ সাল।

বি দ্রষ্টব্য: লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত আগামী সপ্তাহের ৮ নভেম্বর ২০১৯ সংখ্যার “দি রানার নিউজ” কলামে ছাপা হয়।

 

Tag Cloud

%d bloggers like this: