Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

ধারাবাহিক দুর্যোগের দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। গোটা জাতি এমন আচরণে নিঃসন্দেহ শংকিত। বাংলাদেশের মানুষ কি ফিলিস্তিনের ময়দানে ইসরাইলের বুলেটের মুখোমুখি আজ? একটি ভয়ংকর দুর্যোগ ময়দানে ঘটলে অতি সত্ত্বর পরেরটিও দেরী না করেই ঘটে যায়। পরবর্তী যেটি আসে সেটি যেন আরো বড় হয়ে আসে, আগেরটিকে ভুলিয়ে দেয়ার এটি মোক্ষম অস্ত্র। এক আবরারের পিছে শত শত আবরার আহত বিধ্বস্ত হয় আর একহালিএকজন (?) ইমাম আবরারের পথ ধরে লাশ হয়, পুলিশসহ দুই থেকে তিন শত আহত হয় । ভোলায় লাশেরা মিছিল করছে আর সচরাচরের মত দালাল মিডিয়ার কিছু সিলেক্টেড ব্যক্তি শিবির শিবির বলে চেঁচায়। পুলিশের মারমুখি আচরণ দেশবাসীকে আরো বিস্মিত করছে। পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর অবস্থান পার করছে। বেশ আগে দেখা গেছে অপরিচিত জনতারা ভিন্ন ভাষার লোকেরা পুলিশের চাকরী নিচ্ছে। খবরে প্রকাশ ইসকন নামে হিন্দুত্ববাদীদের এক সংস্থার শংকিত আচরণে দেশের মানুষ বারে বারে নানান সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। সংখ্যাগুরু মুসলিমদের দেশে এ সংস্থা শিশুদের হরেকৃষ্ণ হরে হরে বোল ছড়ানোর মঞ্চ নাটক, প্রিয়াসাহার অভিনব আস্ফালন, তার ভাঙ্গা পড়োবাড়ীতে তার নিজের দেয়া আগুন, সম্প্রতি বিপ্লব চন্দ্রের ফেসবুক আইডি থেকে আল্লাহ ও নবীকে নিয়ে কটুক্তির রেশ ধরে বিশৃংখলা বাংলাদেশে।

দেশের সংখাগরিষ্ট মুসলিমরা আজ  ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের মতই হিন্দুত্ববাদের মারমুখি আক্রমণে কেন? ভারতে হিন্দুরা উগ্রতাকে লালন করে বলে বাংলাদেশে কেন হিন্দুরা উগ্রতার পথ ধরবে? ঠিক এরকম সময়ে বাংলাদেশের পুলিশ কি কারণে অসাম্প্রদায়িক মুসলিমদের উপর হামলে পড়ে। অবস্থা দৃষ্টে ধর্মের নামে ভয়ংকর ম্যাসেজ মানুষের কাছে যাচ্ছে। এ দেশের মানুষ অতিরিক্ত অসাম্প্রদায়িক, এ তথ্যটি সারা বিশে^ সমাদৃত। ঐ নিরীহ গোষ্ঠীকেই এখন টার্গেট করা হচ্ছে কি কারণে? এমন একটি ঘটনার পরও চট্টগ্রামে মাদ্রাসার পাশে থাকা মন্দিরকে সুরক্ষার আগাম ব্যবস্থা করে মাদ্রাসার ছাত্ররাই। এ সুরক্ষা আজ নতুন নয়। মুসলিমরা এরকম সুরক্ষা দিয়ে আসছে যুগ যুগ অবদি। ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গা হয় কিন্তু এরা ধৈর্যের পাহাড় গড়ে বড়জোর মিছিল করে প্রতিবাদ জানায়। তবে এটি ঠিক রাজনীতিকে নিজেদের দখলে রাখতে সবদিনই কিছু অসৎ নেতৃত্ব হিন্দুদেরে দাবার গুটির মত ব্যবহার করে এবং বেশির ভাগ হিন্দুরাও জেনেও না জানার ভান করে ওদের দাবার গুটি হয়ে নিজেদের জন্য লাভ জমা করে। লাভ এটিই জমে ইচ্ছেমত মুসলিমদের ফাঁসানো যায়। এসবের অনেক খবর ময়দানে আসলেও মিডিয়াতে জায়গা হয় কম। সে হিসাবে বাংলাদেশের গরিষ্ট মুসলিমরা ভারতের লঘিষ্ট মুসলিমদের মতই অনেক ক্ষেত্রে নিগৃহীত, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে এখানে হিন্দুরা আছে রাজসুখে, এটি সর্বজন স্বীকৃত।

আর একটি খবর চোখে পড়ার মত কিছু হিন্দুর বাড়ী ভাংচুর করা হয়, ভিডিওতে দেখি ও শুনি একদল অপরিচিত সন্ত্রাসী দ্বারা এটি করানো হয়। এ কান্ডটি বড় সময় থেকেই বর্তমান সরকারী দল করে এসেছে বিরোধীদলকে ফাঁসাতে ঠিক পেট্রোল বোমা ছোড়ার মত। নিরপরাধ বিরোধীর উপর দোষ চাপাতে তারা এটি করেছে অতীতে বারে বারে। বার্ণ ইউনিটে ভুক্তভোগী অসহায় গীতা রাণীরা এসব ষড়যন্ত্রের জবাব প্রধানমন্ত্রীর মুখের উপর ছুঁড়ে দিয়েছে। জাতি এসব ভুলে যায়নি। নিজেদের ছত্রচ্ছায়ায় হিন্দু পরিবহন সেক্টরের মালিকের বাসে আগুণ ধরে, প্রিয়া সাহাদের আগুণের মতই আগুন দেয়া হয় নির্দোষ মুসলিমদের ফাঁসাতে। এসব আজ লুকানো নেই। একই খেলা বার বার খেলা হচ্ছে। ন্যাড়াদের বেলতলাতে একবারই যাবার কথা কিন্তু বর্তমান সময়ে জনতাদের বার বার বেলতলাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদের জীবনের দফারফা করতে। অজ্ঞাত পাঁচ হাজার ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে পুলিশের মামলা (বিবিসি বাংলা) হলেও মূল সন্দেহভাজন বিপ্লব বা জড়িত কে বা কারা তারা এখনো নিরাপদ অধরা, প্রকাশিত নয়। প্রকৃত আসামী ধরা পড়বে কি না বলা কষ্ট। ময়দানের সচেতনরা জাতির বিবেকরা এমন সংকট সময়েও অকপটে সত্য স্পষ্ট করছেন যদিও সরকার সবাইকে বেওকুফই মনে করছে। ১৮তারিখে পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে শরিফ ইমন নামের দুই মুসলিম হচ্ছে মূল হ্যাকার। এটি বলা হলেও তাদের কোন অস্তিত্ব আজ অবদি নেই। পরে হয়তো জঙ্গি নাটকের মত ক্রস ফায়ারে এনে কোন নিরপরাধ সন্তানের মায়ের কোল খালি করা হবে।

অনেকেরই সন্দেহ এসবই ভারতীয় নাটকের অংশ। বিনামূল্যে পানি বিনামূল্যে ট্রানজিট বিনামূল্যে লাশ, সবই ৭১এর স্বাধীণতার অর্জন। ডাঃ জাফর উল্লাহ স্পষ্ট করেই বলেন ভোলার ঘটনাটি ঘটিয়েছে ভারতের “র”। তিনি বলেন উত্তপ্ত জনতা প্রশ্ন করলে ভারতের “র” এটি ঘটায় ঠিক রাশিয়া একদিন তার দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন ও পাশর্^বর্তীদের আক্রমণে বিধ্বস্ত হয় ও ভাঙ্গে। আজ পাশর্^বর্তী দেশ ভারতেও সে রকম আশঙ্কা বিচিত্র নয়। প্রধানমন্ত্রী ভারতে কি পেলেন কি দিলেন প্রশ্নে বিদ্ধ হওয়াতেই আবরারকে হত্যা করা হয়। তারপর আসে ভোলার কাহিনী। ভারত চুক্তির জটিলতা থেকে মানুষকে সরাতে এসব একের পর এক ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এর সবই পূর্ব পরিকল্পিত। ১৯৪৭ থেকেই বৃটিশ পরবর্তী শুরু থেকেই ভারত কাশ্মীরের মুসলিমদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে একইভাবে। তারা জাতিসংঘের নির্দেশ মত সেদেশে নির্বাচনও দিচ্ছে না। সম্প্রতি এসব স্পষ্ট করেন মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ জাফর উল্লাহ। অমিত সাহা বলেছে বড় ভাইএর নির্দেশে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে। এমন সংকট সময়ে মন্দির রক্ষার্থে মুসলিম সৈনিকরা পাহারা দিচ্ছে। বস্তুত এটিই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা। একটি দেশের প্রতিটি মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে হবে। এটিই ইসলামের সততা ও সৌন্দর্য্য।

একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় সার্ট প্যান্ট পরিহিত কিছু গোন্ডা প্রকৃতির লোক ঢোকে নীচ থেকে লাঠি ছুড়ে ছুড়ে দিচ্ছিল মসজিদের দোতলায়। এবং পরবর্তীতে উপরে উঠে দাঙ্গার স্বরুপে নামে। ঠিক এরকম সময়ে কিছু মুসল্লিরা চিৎকার করে করে তাদের বাধা দেবার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। সেটিও স্পষ্ট দেখা গেছে। এটি সঠিক তদন্ত হলে অবশ্যই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তবে তদন্তের নামে যদি অতীতের মতই একতরফা তদন্ত হয় পেট্রোল বোমার মত, বিএনপি সরকারের পতনের লক্ষ্যে যেভাবে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সম্মুখে মুফতি হান্নানদের দিয়ে বোমা হামলা করে আইভিসহ নিজদলের ২৪ জনকে হত্যা করা হয় ও ৫০০ জন আহত হয়। মৃত্যুর আগে হুজি নেতা মুফতি হান্নান এ সত্য প্রকাশ করে যান (১৪-০৫-২০১০ তারিখ, প্রথম আলোর বরাতে প্রকাশ)।  দরকারে সেটি পড়তে পারেন। (বিএনপি সরকার পতনের লক্ষে একুশে আগষ্ট ২০০৪, সচেতনের সন্দেহ প্রতিষ্ঠিত সন্ত্রাসীর দিকে!)

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় তদন্ত ব্যতিরেকে অকস্মাৎ সরকার কেন অপরাধীর পক্ষে যোগ দেয়? এতে স্বভাবতই পুলিশের বন্দুক হুমড়ি খেয়ে পড়ে নির্দোষ মানুষ খুন করতে, হোক না এটি জনতার শাস্তিপূর্ণ মিছিল। কখন কিভাবে শাস্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অশান্ত হলো, কার ইন্ধনে সেটি খুঁজে দেখা জরুরী। পরপর কয়টি ঘটনায়ই একই ম্যাসেজ বিলি করছে। বুলেট কেন কিভাবে কি কারণে এবং কখন হয় প্রতিবাদের অস্ত্র? সোস্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় কিভাবে একজন সাংবাদিক উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাকে মিথ্যা বানোয়াট গল্প শিখিয়ে দিচ্ছে আর পরক্ষণেই পুলিশ কর্মকর্তা তোতাপাখির মত তা গড়গড় করে জনসমক্ষে প্রকাশ করছে। বেসামাল গদি দখলদার প্রধানমন্ত্রীও দেরী না করে পুলিশের অনুকরণে সেই সাংবাদিকের গল্পের অনুকরণে ময়দানে হাজিরা দেন। প্রচারে তিনি মুখর সবদিন। ঠিক যেন আবরার হত্যার সিসিটিভির লুকোনোর গল্পে তিনি যেমনি ছাত্রদের সামনে ধরা খান। সেদিন প্রশাসন চাইছিল সিসিটিভির ফুটেজ লুকিয়ে নিতে, সেটিও ভাইরাল হয়েছিল, প্রতিবাদী ছাত্ররা এটি স্পষ্ট করেছিল। একটি জিনিস সব সময় প্রধানমন্ত্রী অপরাধীকে বাঁচাতে ঢাল হয়ে দাঁড়ান। সেটি ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ থেকেই জাতি ময়দানে স্পষ্টভাবে পরখ করছে। ২০০৬ সালে লগি বৈঠা দিয়ে প্রকাশ্যে মানুষ মারার নীল নকশায় শেখ হাসিনার নির্দেশে যে তান্ডব হয়েছিল আজো তা মনে হলে জনতার বিবেক শিউরে উঠে। বিচিত্র কি ফেসবুকের বিপ্লব হয়তো ছিল শিকার ধরার টোপ। অল্প দামে কেনা কাকতাড়–য়া, মুফতি হান্নানের মত কেনা গোলাম, অল্প দামে কেনা শিকারের টোপ।  

এদেশে ভয়ংকর অপরাধ সমূহের বিচার মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে, সুপথ পায় না। আদ্যপান্ত গোটা ঘটনায় মনে হচ্ছে অবশ্যই ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। অপরাধী বিপ্লবকে শত পার্সেন্ট নিরাপত্তা দেয়া হলেও প্রতিবাদী আলেমদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে, মৃত্যুই তাদের করুণ পরিণতি। তদন্তের অগেই সরকারী সাফাই তদন্তের কবর নিশ্চিত করে। অবশ্যই আগের পরের সব ফাইলই জমা আছে থরে বিথরে অদেখা বিধাতার আদালতে। একটি বুলেটের চেয়েও একটি নিরপরাধ মানুষের জীবনের দাম অনেক অনেক গুণ বেশী। 

লেখার সময় ২৬ অক্টোবর ২০১৯ সাল।

বি দ্রষ্টব্য: নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘দি রানার নিউজ’ কলামে ১ নভেম্বর শুক্রবার ২০১৯ এ লেখাটি ছাপা হয়।

Tag Cloud

%d bloggers like this: