Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

আদমের সময় থেকেই ইবলিস ময়দানে উপস্থিত। বাংলাদেশের দখলদার সরকার বিরোধী দমনে যতই শক্তি দেখাক নিজ দলের পোষ্য সম্রাট সন্ত্রাসীদের কাছে সরকার রাজা নয়, প্রজা। কারণ এরাই অবৈধ দখলদারীত্ব সরকারের চালিকাশক্তি। সাত দেহরক্ষী নিয়ে চলা মাত্র একজন যুবলীগ নেতা জি কে শামিমরা অবৈধ সরকারের চালিকাশক্তি হয়ে প্রতিদিন ৫ লক্ষ টাকা ভাগ দিত আইন শৃংখলা বাহিনীকে, প্রতি মাসে ২৫ কোটি টাকা মন্ত্রী এমপিকে, ঠিকাদারী কাজ দেয়ার জন্য একজন প্রকৌশলীকে দিতে হয় মাত্র ১২ কোটি টাকা। এভাবে ৫ বছর চলছে, এদের পিঠ চাপড়ে বাহবা দিতে হয়েছে অবৈধ প্রশাসনকে। গদি টেকাতে নিজ দেশের মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে প্রতিবেশী দেশ বিধ্বংসী অপকর্ম ও বর্ডারে লাশ যোগানদারদের পাতে টন টন ৫০০ টন লোভনীয় উপহার তুলে দিতে হয়। মূল দুষ্টদের বাঁচাতে দখলদারীত্ব টিকাতে প্রধানমন্ত্রী দেশসেবার নামে যা ইচ্ছে তাই বলে বেড়াতে পারেন, তার মুখে লাগাম দেয়ার কেউ নেই। জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে, বলতেও প্রধানমন্ত্রীর মুখে আটকায় না। সারা দেশে একই সমাচার, ডাকাত ধরা পড়ছে, দ্বিগুণ উৎসাহে তারা প্রচার করছে অপদখলের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। এরা এমন এক তরবারী এটি ধারেও কাটে আবার ভারেও কাটে, এ চাকুর দুদিকেই প্রচন্ড ধার। জাহান্নামের তালিকা হাতেও খুশীতে তালিয়া বাজায়, ইবলিসের সর্দার হতে পারছে ঐ খুশীতে। এরা গঙ্গার পানিতে ধোয়া তুলসিপাতা, সার্টিফিকেট নিজেদের করা।

শিকড় থেকে শাখা প্রশাখা কান্ড মূল সব এক ইবলিস প্রজাতি। তৃণমূল থেকে চূড়াতে পৌছা ৯৫% মুসলমানের দেশ আজ আইয়ামে জাহেলিয়াতের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে অনেক অনেক আগে, লগি বৈঠাতে ইবলিসের জগতসেরা তারা। শেষ জামানার এ এক অসাধারণ নমুনা। প্রিয় নবী মোহাম্মদ (সঃ) নিজেই ছিলেন একজন শেষ জামানার নবী, তার পরে আর নবী নেই। তাই সে হিসাবে তিনি শেষ ধ্বংসের নিকট সময়ের নবী। এদের প্রভাবে তার স্বগোত্রীয় মুসলিমরা সততা, নীতি আদর্শের কথা ভুলে গেছে, শেষ সময়ে এরা কুরাইশের আদলে ময়দানে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। বদর ওহুদ খন্দক চলছে। ডোবাতে কুচি কুচি করে টাকা কেটে কেটে ফেলা এক দুই বস্তা নয় কাড়ি কাড়ি গাড়ি গাড়ি বস্তা। একটি বাবার মেয়ে তার বাবার নাম ডুবিয়ে সারা জাতিকে নিয়ে এমন এক খেলায় মত্ত যেখানে এ ধর্মের সব দাগ চিহ্ন নীতি নৈতিকতা শেষ অবস্থানে। বাকী দেশের ভেতরে ধড়পাকড়ের মঞ্চ নাটক চলছে। বর্তমান সময়ে ইবলিস এদেশে আটকায় না, অবাধ স্বাধীনতা সুখ সম্ভোগে সময় পার করছে। একই সময়ে সাধুরা এদেশে ইজ্জত নিয়ে বাস করতে পারছেন না। এমন সংকটেও যে পুলিশ সদস্য সত্য প্রকাশ করছে তার চাকরি চলে যাচ্ছে, আবার ঐ পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায়ই শক্তির তলানীতে নেপালী ভাড়াটে জোয়াড়েরা নিজদেশে স্বসম্মানে সমস্যা মুক্ত হয়ে চলে যেতে পারে। বালিশ উঠছে পর্দা পড়ছে, সবখানে কোটি কোটি টাকার খেলা। দুষ্টদের সাওয়ালরা ফোনে সাধুদেরে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। ইবলিস যা কিছু করবে, তার সব কিছুই করা হচ্ছে এই বাংলাদেশে। যুগে যুগে শক্তির তলানীতে ইবলিসরা এভাবে কাজ করে গেছে, এ খবর দেড় হাজার বছর আগেই দেয়া হয়েছে। ইবলিসরা ছলে বলে কলে কৌশলে রাজ ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। কুরআন এদের পরিচয় স্পষ্ট করেছে এরা হবে অহংকারী অগ্নিমূর্তি, আচরণ দেখে ইবলিস চেনা যায়। এই ইবলিসদের কারণে ইমাম আবু হানিফা শান্তিতে মরতেও পারেন নাই, কারাগারে অবর্ণনীয় নির্যাতনে মারা গেছেন।

এভাবে ধর্মের সিলেবাসে দুষ্টের কৃতকর্মের জমা নির্দিষ্ট করা আছেই, যদিও চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। আল্লাহর কথা দিয়েই শিষ্টাচারী মানুষদের স্মরণ করিয়ে দেই, আল্লাহ সব জানেন যা তারা লুকায় ও প্রকাশ করে (সুরা বাক্কারাহএর ৭৭ আয়াত)। এদের মাঝে নিরক্ষর তারা যারা উপকথার বেশী জানে না, এবং আন্দাজের উপর চলে (ঐ, ৭৮ আয়াত)। তাদের জীবনে মন্দ অর্জন করবে, যে অর্জনে পাপ তাদের ঘিরে ধরবে, এরা হচ্ছে আগুণের বাসিন্দা, তাতে থাকবে দীর্ঘকাল (ঐ, ৮১ আয়াত)। যারা আখেরাতের বদলে ইহকাল খরিদ করে অপকর্ম করছে তাদের উপর শাস্তি লাঘব করা হবে না, কোন সাহায্যও দেয়া হবে না (ঐ, ৮৬ আয়াত)। এসব বাণী দুর্বৃত্ত ছাড়া আর কেউ অস্বীকার করবে না (ঐ, ৯৯) আয়াত)। সামনে এমন দিন আসছে যখন কেউ কাউকে সাহায্য করতে পারবে না, কারো সুপারিশে কোন কাজ হবে না। এরা সাহায্যও পাবে না (ঐ, ১২৩ আয়াত)। এটি ঠিক অবিশ^াসীকে ক্ষনিকের জন্য ভোগ করতে দেয়া হবে। তারপর তাদের তাড়িয়ে নেয়া হবে আগুণের নিকৃষ্ট গন্তব্যের শাস্তির দিকে (ঐ, ১২৬ আয়াত)। পূর্ব পশ্চিমে মুখ ফেরানোর নাম ধর্ম নয় (ঐ, ১৭৭ আয়াত)। আল্লাহ খুব দয়ালু তবে প্রতিফল দানে বড়ই কঠোর (আর ইমরানের ১১ আয়াত)। গ্রন্থধারীদের মাঝে এমন লোকও আছে যার কাছে একগাদা জিনিস গচ্ছিত রাখলে সে ফিরিয়ে দেবে আবার এমন লোকও আছে যে তার বিপরীত কিছুই ফিরিয়ে দিবে না (ঐ, ৭৫ আয়াত)। গ্রন্থধারীও সত্যের সাথে মিথ্যাকে মিশায় আর জেনে শুনে সত্য লুকায় (ঐ, ৭১ আয়াত)।

মেগা দুনীতির জবাব দেয়া হবে মেগা শাস্তি দ্বারা। কোন মানুষ এরকম বিচার করতে সক্ষম নয়, প্রতিদান দিতেও সক্ষম নয়। কারণ বলা হয়েছে সেদিন বালি পরিমাণও কারো প্রতি অবিচার করা হবে না। বালিশ দূর্নীতি, পর্দা দুর্নীতি, রেলওয়ে প্রকল্পের দুর্নীতি, পুলিশ, আইন বিচার বিভাগকে কবজা করার মিথ্যাচারী দুনীর্তি, গুম খুন, চাঁদাবাজি, ক্যাসিনো বানিজ্য, ধর্ষণ, মজুতদারী, নেশাখোরী, লুটপাট, প্রশিক্ষণের নামে আনন্দ ভ্রমণ, জনতার সম্পদ তসরুফ, সব পাই পাই হিসাব দিতে হবে সোনাচান্দ পাখিদের। জাতির মেগা সাধুরা ময়দানে নেই দেখেই মহা আয়োজনে এরা জাতির অর্থনীতিকে খুবলে খুবলে খাচ্ছে। আমরা মানুষরা প্রতিনিধিত্ব করছি আল্লাহর, আমরাই তার খলিফা তার আদেশ মানছি, তার সার্বভৌমত্ব স্বীকার করছি। সব পাই পাই হিসাব তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। আদম আর ইবলিসের গল্পটি দিয়ে মানব জীবনের শুরুতে আল্লাহ এ গল্প বলে দুনিয়ার খেলা শুরু করেছেন। এখানে এ দুজনার গল্প সাজানোর পেছনে বিধাতা গভীর প্রজ্ঞার মাধ্যমে বিবেক সম্পন্ন মানব সম্প্রদায়ের চিন্তাশীলদের কাছে ম্যাসেজ বিলি করেছেন আর বারে বারে বলেছেন তোমাদের উভয়ের বিচার হবে। এটিও স্পষ্ট করা হয়েছে বেশীর ভাগ মানুষ হবে ইবলিসের অনুসারী অল্প মানুষ থাকবে সৎপথ প্রাপ্ত সুপথের কারিগর ধৈর্যশীল সততায় অটল। ইবলিস তাদেরে কারাগারে ঢুকায় বারে বারে। ইবলিস ভালো করেই জানে তার পরিণতি কত ভয়ঙ্কর! একদিন ছুটির ঘন্টা বেজে উঠলে সব পন্ড করে খেলা শেষ ঘোষনা করা হবে যদিও আমরা জানি না সেটি কখন হবে। তবে বলা হয়েছে, বেশী দূরে নয়, হঠাৎ করেই এটি সংগঠিত হবে কেউ ধারণাও করতে পারবে না। কুরআনের শপথ নিয়ে কথাগুলি বললাম সুরা ইয়াসিনের দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে এটি এমন ‘একটি গ্রন্থ যেটি জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ। বিবেক সম্পন্ন মানুষরা যেন তাদের বিবেক দ্বারা পরিচালিত হয় এ আশায় কলামটি শেষ করছি।

লেখার তারিখ= ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯।

বি দ্র: এ লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক দি রানার নিউজ সংখ্যায় ৪ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে ছাপা হয়।

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: