Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

যুগে যুগে মুসলিমরা ষড়যন্ত্রীদের সাজানো অপবাদ মাথায় নিয়ে তলোয়ারের বদলে ইসলামধর্ম প্রচারের মিথ্যা জারিজুরি নিয়ে ঘুরছে, কোন প্রতিবাদ ছাড়াই। যদিও এ অপবাদ কোনভাবেই তাদের উপর বর্তায় না। এবার আসামের বোঝা চাপিয়ে দেয়ার যে গোপন বাসনা ভারত লালন করছে, কখনো কখনো তার অতি লোভী সাগরেদরা সেটি প্রকাশও করছেন, গিলে ফেলবেন অন্তত এক তৃতীয়াংশ খুলনা থেকে রংপুর সিলেট কিছু বাকী নেই। এর কারণ হচ্ছে এই বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র নীতির দাসত্ব মানসিকতা। কোন বিবেকহীন সরকার এভাবে বিক্রি হলে সে সরকার অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ দাগী আসামী, আর এমন অবস্থায় ভারতও কি ছাড় পাবে মানবতার আদালতে? ভারত একটি দেশ যদি এভাবে তার সর্বস্ব হারায় তবে এ বেঁচে থাকার অর্থ কি হতে পারে? ২০১০ সালের জানুয়ারীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লীতে যেসব চুক্তি করে এসেছেন, তা দেশবাসী আজো জানে না। ভবিষ্যতেও যাতে দেশবাসী জানতে না পারে তাই খানাখন্দ বন্ধ করতে সংবিধানও পরিবর্তন করা হয়েছে। ক্ষমতার অবৈধ দখল নেয়া হয়েছে। এভাবে সামান্য কয় পার্সেন্ট হিন্দুরা কিভাবে বাংলাদেশের সব সেক্টর দখল করে বসে থাকে? এতে কি ভারতের মানসিকতায় বিচারিক কোন জবাবদিহিতা থাকবে না? নাকি এটিও আভ্যন্তরিন ব্যাপার বলে চালিয়ে যাবে ভারত? হিন্দু শাস্ত্রে দেখি পরস্ত্রী হরণ বা পরস্ত্রী বরণ কোন অপরাধ নয়। শাস্ত্রে তাদের দেবদেবীরা তাই করেছেন। পরস্ব হরণও কি তারা আইনের চোখে ন্যায়কাজ বলে মনে করেন?

শিরোনামটি এ কারণে করা যেখানে বাংলাদেশ শত সমস্যায় জর্জরিত, সেখানে লাখ লাখ ভারতীয় কেন জাতির ঘাড়ে চেপে বসলো? একদল প্রচার চালাচ্ছে বাংলাদেশে প্রিয়াসাহাদের জায়গা হচ্ছে না এমন সংকটে ভারতের লাখ লাখ প্রিয়াসাহারা কেন সে দেশে জেকে বসেছে? অনেকে সন্দেহ করেন ঐ ২০১০ সালের গোপন চুক্তিতেই ভারত এসব অনাচার করার সব দাসখত করিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশের অবৈধ সরকার দিয়ে। ভারতের ময়দানে সারা বছর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কাটে মারে, একই ধারার সাম্প্রদায়িক অপরাধ একবার নয়, বারে বারেই হয়, আর বিচারের নামে চলে প্রহসন। প্রতিবেশীর সাথে সারাক্ষণ মাতবরী করে, তারা মনে করে তাদের এসব অপকর্ম কেউ দেখছে না। অন্তত এটি নিশ্চিত গরু বা মূর্তি ভগবান তো দেখবে না। এদিকে আকন্ঠ অপরাধে ডুবে থাকা মুজিবের কন্যা সরকারের গদি রক্ষার ভান ধরে আছেন, কেউ তারে ভোট দেয়নি, এটি সারা বিশ^ জানে। কোন বাছবিচার না করেই কি কারণে সর্বস্ব অকাতরে বিলিয়ে দেয়া ভারতকে, সেটি গোটা জাতির প্রশ্ন। ভারতের বোঝা উচিত দেশটি কি কারো একার সম্পত্তি? গরু ভারতের আরাধ্য পূজ্য হলেও বাংলাদেশের নয়, ওটি তাদের ভোগ্যপন্য, খাদ্য। তারা আল্লাহ নামের এক অদেখা শক্তির কাছে সব মামলা অপবাদ অনাচার নির্যাতনের বিষয় জমা রাখে আর বিশ^াস করে একমাত্র ঐ সত্যকে, দেরীতে হলেও পাওনাদাররা সুবিচার পাবে। তারা বিশ^াস করে নিজেরা অপরাধী হলে যেমনি শাস্তি পাবে ঠিক তেমনি অন্যেরা অপরাধী হলেও সে মাপে শাস্তি গোলাতে উঠাবে। এ কারণে শত নির্যাতনের পরও এরা মরতে ভয় পায় না। ফিলিস্তিনীরা কাশ্মীরীরা ময়দানে মরেও কিন্তু জিতে আর অনাচারীরা দৃশ্যত মনে হয় জিতছে কিন্তু এ বিজয় তাদের বিকলাঙ্গ করছে, ভিসুবিয়াসী অর্জনে অগ্নির জমা বাড়িয়ে চলছে। মধ্যযুগ নয় বরং একবিংশ শতকে পরস্ব হরণের এ খেলা কলঙ্ক হয়ে তাদের আমলনামাতে জমছে।

শত শত হাজার হাজার ভারতীয়রা বাংলাদেশে কাজ করছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয় ২০০৯ সালে কম পক্ষে পাঁচলক্ষ ভারতীয় বাংলাদেশে বসবাস করছে। তাদের বিভিন্ন এনজিও, গার্মিন্টস, টেক্সটাইল আইটিতে কাজ করছে এবং হুন্ডিতে তারা ভারতে টাকা পাঠাচ্ছে। এদেশ থেকে সর্বোচ্চ লিষ্টে পঞ্চম স্থানে থেকে ভারতীয়রা টাকা পাঠাচ্ছে। ২০১২ তে দেখা গেছে ৩.৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশী তারা ভারতে পাঠায়। তারা বাংলাদেশকে পঞ্চম রেমিটেন্সের দেশ হিসাবে সুবিধা নিচ্ছে। এটি হচ্ছে সরকারের হিসাব যেখান আনঅফিসিয়াল খবর আরো ব্যাপক। এদের বেশীর ভাগই ভ্রমণে আসে আর ফেরত যায় না (উইকিপিডিয়ার সূত্র) সংবাদ। লাখ লাখ ভারতীয়রা বেআইনীভাবে বাংলাদেশে বসবাস করছে এরা পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম থেকে এসে এখানে থেকে যাচ্ছে। এভাবে তারা সারাদেশের গ্রামে গঞ্জে আনাচে কানাচেও ছড়িয়ে আছে। ২০১৬ সালের জুলাইতে একসাথে চার হাজার ভারতীয় লোক এখানে অবস্থান নেয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে, বন্যা উপলক্ষে। (1) Jump up to:a b Sadeque, Syeda Samira. “Dhaka has a question: what about the illegal Indian immigrants in Bangladesh?”. Scroll.in. Retrieved 20 April 2017. (2) ^ Madhok, Diksha. “Bangladeshis in India sent back $6.6 billion last year—6% of their homeland’s GDP”. Quartz. Retrieved 20 April 2017. (3) “Flood-affected Indians take shelter in Bangladesh”. The Daily Star. 27 July 2016. Retrieved 20 April 2017.

প্রায় প্রতি সাপ্তাহেই বাংলাদেশে বর্ডারে মানুষ মরে, বিএসএফ এদেরে পাখির মতই মারে। আজকে ৬ সেপ্টেম্বর খবরে প্রকাশ চুয়াডাঙ্গাতে ও দামুড়হুড়া প্রতিনিধির বরাতে একজনের গরু ভারতের মাঠপাড়া থেকে তাড়িয়ে আনতে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করে। গরু তো গরুই, মানচিত্র কি বুঝে? সেটি কি গরু পূজক বিএসএফের সদস্যরা বুঝে না? একদিন না একদিন প্রতিটি রক্তের বদলা যে দিতে হবে, সে হিসাবে তারা নেই। পতাকা বৈঠকে তারা এ হত্যার কথাটি স্বীকার করেছে আর দুইদিন পর লাশ হস্তান্তর করেছে। দাস স্বভাবের সরকার নড়বে কেন? বাংলাদেশের ভাগ্যে জুটেছে অবৈধ সৎমা সরকার। শেয়ার মার্কেটের ২৭ হাজার কোটি টাকার গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা, ডেঙ্গু সবই ছিল সরকারী ভাষাতে গুজব। প্রিয়া সাহারা কার দালাল সেটি বুদ্ধিমানদের বুঝে নিতে হবে। সবই কঠিন চাদরে ঢেকে রাখা মিডিয়াতেও এসেছে। সম্প্রতিক সময়ের এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিষ্টার ফর সিটিজেনশিপ) বিজেপির জন্য বুমেরাং! এ ছিল খবরের শিরোনাম, প্রধানত তিন কারণে (১) আসামে এক কোটি বহিষ্কারের কল্পনার গল্পের সাথে বাস্তবের মিল নেই। (২) বাদপড়া ১৯ লাখের বড় অংশই হিন্দু (১১ লাখ হিন্দু + ৬ লাখ মুসলিম + দুই লাখ বিহারী নেপালী লেপচা) (৩) ঢাকা বা দিল্লী বলছে, এটি ভারতের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বিজেপির বহুদিনের ছক মুসলিমদের পায়ে জনম দড়ি দিবে, তারা এটিও বলছিল হিন্দু হলে তাদের ছাড় দেয়া হবে। এখন বিজেপি কি করে দেখা যাক কারণ বেশীরভাগই তাদের ভোটার। বিজেপি এ খেলা শুরু করেছিল ৪১ লাখ বাসিন্দার মাঝে ১৯ লাখ ছাড়া বাকী ২২ লাখ সম্মুখ ময়দানে রক্ষা পেল, গুয়াহাটির যুগশঙ্খ তাই বলছে। বিজেপি তাদের ছকে জিতে গেলে লাখ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়ে পড়তো। এর মধ্যে এটিও স্পষ্ট হয়েছে অনেকে অধিকারহারা হয়ে এর মাঝে আত্মহত্যা করেছে, পরিবারের একজন অধিকার পেলে অন্যজন ঝরে গেছে। বাপ পেলো তো ছেলে ঝরে গেল।

খুব সহজে একটি হিসাব মুসলিমরা যারা বহু প্রজন্মই সেখানে কাটাচ্ছে তারাই মানুষের মর্যাদা পায় না, সেখানে কোন সাহসে নব্য মুসলিমরা সেদেশে স্থায়ীভাবে বসতি করতে যাবে। হিন্দুরা যায়, এটি বলার অপেক্ষা রাখে না। তারা বেশীরভাগ হিন্দুরা মনে করে ভারত মাতা তাদের মাতৃভূমি না হলেও মূর্তিভূমি। যেখানে ভারতে মুসলিমদের এত অত্যাচারের পরও ভারতের মুসলিমরা ভুলেও দেশত্যাগের কথা মুখে আনে না। কারণ এরা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে কোন ধরণের অনাচার নির্যাতন ব্যতিরেকেই হিন্দুরা বাংলাদেশে টাকা অর্জন করে স্বর্ণ কিনে রাখে, টাকা জমায় আর অনেকে ভারতে পাঠায়। আবার অনেকে দুদেশেই লুটেপুটে খেতে পছন্দ করেন। কেন করে সেটি ঐ সব দুদোল্যমনা মানসিকতার প্রিয়াসাহারাই বলতে পারবেন। এখানে প্রিয়াসাহার ট্রাম্প নাটকের পর তার গ্রামের স্বজাতিরা এক বাক্যে বলেছে ওসব ছিল প্রিয়াসাহার সাজানো মিথ্যাচার। সে নিজেই তার লোকজন দিয়ে ভাঙ্গা পড়ো বাড়ীতে আগুন দিয়ে মুসলিমদের ফাঁসাতে এসব মোদিবাজী নাটক করেছে। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের বিরুদ্ধে সীমান্তের ওপারে মোদির এ নাটকের সাথে প্রিয়া সাহাদের এসব নাটক আর কতকাল চলবে? এরকম হাজার প্রশ্নের মুখোমুখি স্বাধীন একটি দেশ বাংলাদেশের মুসলিমরা কঠিন সময় পার করছে। লাখ লাখ ভারতীয়রা বেআইনীভাবে বাংলাদেশে থাকছে, এর দায় নিতে বেআইনী ভারতীয়দের জন্য বাংলাদেশী এনআরসি কি জরুরী নয়?
লেখার সময় = ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সাল।

বি দ্রঃ এ কলামটি সেপ্টম্বরের ১৩ তারিখ ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের “দি রানার নিউজ” এ ছাপা হয়।

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: