Articles published in this site are copyright protected.

Archive for September, 2019

ভারত মিয়ানমার শঠতায় একাট্টা

নাজমা মোস্তফা

মানুষকে জোর জবরদস্তি করে ধর্মান্তর করা ধর্মের নিষেধ। জোর করা ছাড়া এ ধর্মের বানী প্রচার করার দায়িত্ব মুসলিমদের। তাই দৃশ্যত এ মহান ধর্মটির সুমহান ঐতিহ্য মাধুর্য্যে মোহিত হয়েই অত্যাচারের নিগড় থেকে নির্যাতীত মানুষরা যুগে যুগে ধর্মান্তরিত হয়ে এসেছে তাদের নিজেদের ইচ্ছায়। মুসলিমরা একে অন্যের ভাই। মুসলিমরা নেহরুর আজন্ম বৈরী হলেও পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর বক্তব্যে এ সত্যও উঠে এসেছে যে, মানুষ প্রথম গণতন্ত্রের স্বাদ গ্রহণ করে ইসলাম থেকেই। । — “নিজের উপর আস্থা এবং বিশ্বাস একটি বড় জিনিস। ইসলাম ধর্মের বাণী হচ্ছে, ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা সবাই ভাই ভাই। এতে করে লোক গণতন্ত্রের কতকটা আঁচ পায়। অতীতে খৃষ্টধর্ম যেরুপ বিকৃত হয়ে পড়েছিল তাতে এ ভাতৃত্বের বাণী কেবল আরব জাতিকেই নয়, অন্যান্য দেশের অধিবাসীদের মনেও সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছিল”। (বিশ্ব ইতিহাস প্রসঙ্গে, পন্ডিত জওহরলাল নেহরু, পৃষ্ঠা ১২৩)। সংকীর্ন চিন্তার মানুষরা এ সাড়া জাগানোকে সহজভাবে নিতে পারে নি বরং এর জবাবে তারা আজীবন বিদ্বেষের তাপে আগুণ দিয়ে যায়। যদিও এ ধর্মের বানী সবসময়ই সহনশীলতায় বিশ্বাসী। যার কারণেই মুসলমানরা অপর ধর্মধারীদের থেকে অনেক বেশী সহনশীল। কিন্তু বর্তমান সময়কার মিডিয়ার প্রচার কৌশলে সে প্রকৃত সত্য বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে। শাস্ত্র নাড়ার ক্ষমতা না থাকলেও হিন্দু ধর্মে নারীর সৃষ্টি হয়েছে স্বামীকে পূজো করবে বলে। স্বামী যদি মরেও যায় বা তাকে বিক্রি করে দেয় বা ত্যাগ করে তারপরও তাকে পুরুষের পূজো দিতে হবে (মনুসংহিতা ৯অঃ ৪৬ শ্লোক)। সন্তান জন্মদানে দেবরের ভুমিকাসহ সামাজিক বিধানকে অস্বীকার করে সকল ন্যায়ধর্মের কবর রচিত হয়েছে এসব আচারী ধর্মে। যার জন্য নির্যাতীতা নারীদের বলতে হয়, এ ধর্মে আচার আছে ভাই বিচার নেই। এভাবে উচ্চবর্ণ হিন্দুরা নিজেদের সুবিধামতনই শোষণ করার শাস্ত্র সাজিয়েছে, দেব দেবীরা শত অপকর্ম করলেও দেবতা থাকতে পারে। নারীকে মরার জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে, দরকারে সহমরণে যেতে হবে। কিন্তু ইসলামে এসব কিছু নেই। তারপরও কৌশলীরা সব অপবাদই সিলেবাসধারী মুসলিমদের উপর ঠেসে দিয়েছে। ইন্টারনেটে হিন্দুদের গালাগালিতে যে কেউ বিচলিত হতে পারেন। যাদের বড়াই করার কিছুই নেই তারা এমনভাবে মুসলিমদের পিছে লেগেছে জোকের মতই, এটি কি ন্যায়ধর্মের নমুনা? এসব খুটিনাটি হিসাবও মূল বিশ^কর্তার দৃষ্টি এড়াবার নয়।

আজকের দিনে যত মত তত পথ ছলনার প্রতারণার উৎস কথা। এর কারণ শত অনাচার দিয়ে সুপথ রচনা করা যায় না বরং সঠিক ন্যায় নীতির পথেই একমাত্র সুপথ রচিত হতে পারে। তাই সব ভুল নষ্ট পথেও মুক্তি মেলে কথাটি বড় ছলনার কথা। গোজামেলে মিথ্যাকে সামাল দিতেই এসব কথা বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশী খেদাও আন্দোলনে নেমেছে ভারত, ওদিকে হাজার হাজার ভারতীয়কে ইত্যবসরে ঠেলে দিয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যারা এদেশে চাকুরী করছে। কোন কৌশলে এ অসম্ভব সম্ভব হয়? বিগত শতক থেকেই শুনেছি পাঁচ লাখ এখন দেখছি উইকিপিডিয়াতে ২০০৯ এ পাঁচ লাখ সরকারী হিসাব আর বাকীটা তথৈবচ। আজ চলছে ২০১৯ একজন সচেতন বুঝতে পারেন, এর ব্যাপ্তি কতদূর গড়াতে পারে। মধ্যরাতে অপকর্মী চোর কখনো কখনো চেঁচিয়ে উঠে আর চোর চোর বলে চিল্লায়, যখন ধরা পড়ার সম্ভাবনা কাছে আসে ঠিক তখন। চোর এটি করে আত্মরক্ষার্থে যাতে কেউ তাকে চোর ঠাওরাতে না পারে। বিগত শতকে শুনেছিএ ধারার কিছু পুশইন পুশবেক নাটক সময়ে সময়ে হতো, যা নিয়েও ময়দান গরম হয়েছে। পুশইনএর উপর কবিতাও হয়েছে। বৃটিশের হাতে ভারত পাকিস্তান বন্টনের সময় থেকেই ভারতীয় বৃটিশ তোষণবাজরা পাকিস্তানের সাথে অনৈতিক বণ্টন যে করেছেন সেটি ঐতিহাসিক সত্য। তাদের পাওনা না বুঝিয়েই খেলা পন্ড করে বোকাদের পোকায় খাওয়া পাকিস্তান দেয়াটা কি মিথ্যা গুজব নাকি বৃটিশ ভারতের আভ্যন্তরিন বিষয় ছিল? ইতিহাস তলানীতে পড়ে কিন্তু ফসিল আকারে থেকে যায়, মরে না। তাই সময় সময় কথা বলে। এর উপর সচেতনরা অনেকেই জানেন। আর এসব কারণেই স্বাধীনতার পর থেকে দেশটিকে কবজা করতে ভারত বেশী সচেষ্ট থাকে। তা না হলে এমনও হতে পারে সদ্য মুক্ত দেশ তার অতীতের দেনা পাওনার হিসাব তুলে ধরতে পারে, প্রতারকদের কাছে সে হিসাবের ফয়সালা চাইতে পারে, সে ভয় তাদের ছিল আছে এবং থাকাটাই স্বাভাবিক। এ জন্যই কি ভারত চোর চোর বলে সারাক্ষণ চিল্লায়? মুসলিম ধর মার কাট এর নাম হচ্ছে অখন্ড ভারত তৈরীর প্রচেষ্ঠা। তারা মনে করে তাহলে মুসলিমরা চুপসে থাকবে আর হিসেব নিকেশ চাইবে না।

ইত্যবসরে ইসলাম সারা বিশে^ ছড়িয়ে গেছে আর মূর্তিপূজা ঐ গৃহকোণে আবদ্ধ হয়ে আছে। ঐ গৃহকোণও আজ ভঙ্গুর অবস্থায় কারণ মিথ্যা দিয়ে কি শাস্ত্রধর্ম টিকানো যায়? জাকির নায়েক কি কারণে আজ আসামী, কোন দোষ তারা প্রমাণ করতে পারে নি, তার মূল অপরাধ তিনি মুসলিম, কাশ্মীরীদের মত আসামী একজন। অপরাধীর সামনে সত্য বলা ও সত্য প্রচার করাও অপরাধ। নীতির ধর্ম ইসলাম এগিয়ে যাওয়ার মূল ধর মার কাটো নয়, বরং তার মানবিকতা, উদারতা মহানুভবতা, মধ্যপ্রচ্যের গন্ডি পেরিয়ে প্রবল বেগে স্ফুলিংগের মত গোটা বিশে^ ছড়িয়ে গেছে। সমস্ত বিশে^ মুসলিমদের মত এত সহনশীল জাতি আর দুটি নেই। প্রকৃত ইতিহাস বিশ্লেষণ ছাড়া এ সত্য লুক্কায়িত, ষড়যন্ত্রীরা দৃষ্টির আড়াল করে রেখেছে। ইহুদী খৃষ্টান হিন্দুদের মাঝেও অনেক সত্যবাদী আছেন যারা এ সত্যকে অকপটে স্বীকার করে গেছেন। যদিও এরা সংখ্যায় অল্প তারপরও ঐ অল্প সংখ্যাও ইতিহাসের কথা হয়েছে। সহজে সৎ চিন্তার মানুষ জন্মায় কম। কালে ভদ্রে সুভাষ চন্দ্র বোসরা জন্মালেও এদের তাড়িয়ে দেয়া হয় ময়দান থেকে। মিথ্যা গুজবে তাদের মেরে ফেলা হয়। আমরা জানি একজন সৎ হাজার অসৎ থেকেও ওজনদার। ইসলাম বিরোধীরা এক হয় তাড়াতাড়ি কারণ এদের প্রতিপক্ষ এক সততার আদর্শে বিশ^াসী। বাকীদের কাছে যত মত তত পথ, বহু সুবিধাবাদীর কুপথও তাদের কাছে সুপথ।

যখন বুদ্ধের আবির্ভাব হয়, তখন ভারতবর্ষে চলছিল ঈশ^রের নামে চরম অধপতনের যুগ। ৩৩ কোটি দেবতার পাপে টলটলায়মন ভারত বর্ষের স্বরুপ দেখে বিস্মিত বুদ্ধ সমাজ সংস্কারের নিমিত্তেই গৃহত্যাগ করেন। তিনি সেদিন পাগল ছিলেন না, ছিলেন সত্যান্বেষী এক সাধক।
তিনি কোনদিনও নাস্তিক ছিলেন না, কিন্তু এ সত্যসাধক অসীমের সন্ধান লাভ করেন। বিভ্রান্তরা তাকে কখনো বলেছে নাস্তিক কখনো বলেছে ঈশ^র কখনো বলেছে অবতার। যুগে যুগে এরা এসেছেন মানুষকে সুপথ দেখাতে আলোর মশাল হাতে এরা সমাজ থেকে মিথ্যা পুতুল পূজা, প্রেত পূজা, দূর করতেই কাজ করে গেছেন। সমাজ তাদের নিয়ে যা ইচ্ছে তাই করেছে করছে। কখনো বলেছে তিনি প্রাণী হত্যা নিষেধ করেছেন। আমিষভোজি বুদ্ধ মাছ মাংস খেতেন। তার মৃত্যু হয় চুন্দের দেয়া বিষ মিশ্রিত মাংস খেয়ে (উদ্বোধন, জৈষ্ঠ ১৩৭৮)। পরবর্তীতে শাসক অশোক নিরামিষ খাবারের প্রচলন করেন। মুখে এটি বললেও কার্যক্ষেত্রে বর্তমানে বৌদ্ধরা এমন এক জাতি যারা সর্বভুক, সব খায়। এদের অখাদ্য পৃথিবীকে কিছু নেই। এভাবে কালে এরা অনুসারীরা এসব সাধকদের সবদিকে কবর রচনা করেছে। আজকে মিয়ানমারের বৌদ্ধরা যা করে চলেছে তা গৌতম বুদ্ধকে কয় হাজার বার কবর দিয়ে দিয়েছে। কোন কোন পাঠে জানা যায় বৌদ্ধ চোর ছিলেন, নাস্তিক ছিলেন। জওহরলাল নেহরুও তার ডিসকভারী অব ইন্ডিয়া গ্রন্থে বলেছেন ভারতে নিচু জাতের কিছু দলিতমার্কা বৌদ্ধ ছিল। এভাবে তারা কালে বুদ্ধকে একদিকে যেমনি অবতার বানায় আবার তার অনুসারীকে দলিত শ্রেণীর বলে প্রচার চালায়।

ভারত আর মায়ানমার বাংলাদেশ বিরোধী অবস্থানে একাট্টা হয়ে কাজ করছে। কাজেকর্মে উভয়ের এই ঠেলাঠেলির বানিজ্যে এক ইস্যুকে ভয়ঙ্কর মিল দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, ভারত মায়ানমার বন্ধু, বাংলাদেশের বন্ধু তারা নয়। রোহিঙ্গাদের দেখে ভারত উৎসাহী হয়েছে, ঐ খেলা ফের খেলতে চাচ্ছে বাংলাদেশে, উভয় ক্ষেত্রে ভোক্তভোগী ধরা হয়েছে মুসলিমদেরে। এটি আর লুক্কায়িত নেই যে মুসলিমদের বাদ দিতেই ভারতে মোদির সাম্প্রতিক সময়ের এই এনআরসি মঞ্চায়ন এবং ধরা খাওয়া। আবার এটিও তারা খোলাসা করেছে এনআরসিতে আটকে যাওয়া হিন্দুদেরে তারা সামাল দিবে। মোদি ও বিজেপি তাদের নিজেদের স্বমূর্তি খোলে ধরেছে, কিছুই ঢাকা নেই। একইভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারও খোলাসা। ঐ এক নীতিতেই হিন্দুদের প্রত্যাবাসন এগিয়ে নিতে তৎপর মিয়ানমার, খবর বিবিসির। একই সাথে তারা রোহিঙ্গা মুসলিমদের গ্রাম ধ্বংস করে গুড়িয়ে দিয়ে তৈরী করছে পুলিশ ব্যারাক ও সরকারী ভবন। বিবিসি এরকম চারটি স্থাপনা খুঁজে পেয়েছে, স্যাটেলাইট কৃত ছবি থেকে যেখানে আগে ছিল রোহিঙ্গা মুসলিম বসতি। যদিও সরকারী কর্মকর্তা তা স্বীকার করছে না। বিবিসিসহ কিছু সংবাদ মাধ্যমকে তারা আমন্ত্রণ জানালেও ছবি তোলা, সাক্ষাৎকার নেয়া, নিজস্ব গাড়ী ব্যবহার ও প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি লক্ষ্যনীয়। অষ্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউট জানায়, ২০১৭ সালে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা গ্রামগুলির কমপক্ষে ৪০ ভাগ গ্রাম পুরোপুরি গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ‘মিয়ার জিন’ নামে এক রোহিঙ্গা গ্রাম বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। ‘ইন দিন’ নামে আর একটি গ্রামে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ১০ জন বন্দী মুসলিম পুরুষকে হত্যা করা হয়। অল্প বিস্তর অপরাধ যা তারা স্বীকার করে ‘ইন দিন’ তার একটি। এ গ্রামের তিন চতুর্থাংশই মুসলিম আর বাকীরা বৌদ্ধ। এখন সেখানে মুসলিমের কোন চিহ্ন নেই। অতীতে যেখানে মুসলিমরা থাকতো সেখানে তৈরী হয়েছে কাটাতারের বেড়া আর বিশাল সীমান্ত রক্ষী পুলিশের ব্যারাক। মিয়ানমার সরকারের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ, রোহিঙ্গা মুসলিমদের চলাফেরাতে স্বাধীনতা না দেয়া, সর্বোপরি নাগরিকত্ব অস্বীকারের মত বিষয়কে অমীমাংসিত রেখে রোহিঙ্গারা ফিরতে পারে না। ওখানে বাস্তুচ্যুত এক তরুণের ভাষ্যে জানা যায় বিনা অনুমতিতে কোন বিদেশীর সাথে কথা বলার অধিকার তাদের নেই। ২০১২ সাল থেকে মোট সাত বছর থেকে ক্যাম্পে আটকে পড়া ঐ তরুণের লেখাপড়ার কোন সুযোগ নেই। অনুমতি ব্যতীত ক্যাম্পের বাইরে যাবার অনুমতিও তার নেই। সে নিষেধ করে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গারা এ অবস্থায় কখনোই যেন না ফেরে, প্রকৃত সমস্যার সামধান না করে ফিরলে কোনভাবেই তাদের দুর্ভোগ কমার সুযোগ নেই।

হিন্দু শাস্ত্রের নীতি হচ্ছে সুরা খাও, পিও আর নারী নিয়ে আনন্দ কর। ইন্দ্রের ভালোবাসার কাজই ছিল দাসদের হত্যা করা। এসব ঋকবেদ শাস্ত্রের কথা। অনেক লেখাতে পাওয়া যায় মনুস্মৃতি লেখা হয় ছয়শত খৃষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে তার আগে নয়। তাহলে এটি স্পষ্ট করছে ইসলামের শেষ নবীর আগমনের সময়ই এর সংযোজন। বিবেকানন্দ, গান্ধী, রামকৃষ্ণ এরা বুঝতে পেরেছিলেন সহনশীলতা ছাড়া এ বিকৃত নীতিহীন ধর্মকে রক্ষার উপায় নেই, তাই তারা অন্য বর্ণহিন্দুদের থেকে অনেকটাই উদার থাকার চেষ্টা করে গেছেন। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ইসলাম ও খৃষ্টান ধর্মের অনুকরণে কিছুটা উদারতার দিকে গিয়ে ‘যত মত তত পথ’ বাতলে গেছেন। মূলত হিন্দু শাস্ত্রগুলি লুকিয়ে রাখা, এটি কোন শাস্ত্রের ধর্ম নয়, এটি হচ্ছে একরাশ আচারের ধর্ম। সেখানে নীতি থাকতে পারে অনীতিও সমান তালে সমাদৃত। একে অবশ্যই শুদ্ধ করতে হবে যত মত তত পথ নয় বরং হবে যত মত এক পথ। এক কর্তার এক পথ , ন্যায়ের পথ সততার পথ। একমাত্র এ সুপথে হয়তো ভারতবাসী মুক্তির স্বাদ পেতে পারে। বিবেকসম্পন্নরা এটি ভেবে দেখতে পারেন।
লেখার তারিখ = সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখ।

বি দ্র: লেখাটি ২০ সেপ্টেম্বর তারিখে ২০১৯ নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক রানার নিউজ সংখ্যায় ছাপা হয়েছে।

Advertisements

বাংলাদেশে লাখ লাখ ভারতীয়, এর জবাব কি?

নাজমা মোস্তফা

যুগে যুগে মুসলিমরা ষড়যন্ত্রীদের সাজানো অপবাদ মাথায় নিয়ে তলোয়ারের বদলে ইসলামধর্ম প্রচারের মিথ্যা জারিজুরি নিয়ে ঘুরছে, কোন প্রতিবাদ ছাড়াই। যদিও এ অপবাদ কোনভাবেই তাদের উপর বর্তায় না। এবার আসামের বোঝা চাপিয়ে দেয়ার যে গোপন বাসনা ভারত লালন করছে, কখনো কখনো তার অতি লোভী সাগরেদরা সেটি প্রকাশও করছেন, গিলে ফেলবেন অন্তত এক তৃতীয়াংশ খুলনা থেকে রংপুর সিলেট কিছু বাকী নেই। এর কারণ হচ্ছে এই বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র নীতির দাসত্ব মানসিকতা। কোন বিবেকহীন সরকার এভাবে বিক্রি হলে সে সরকার অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ দাগী আসামী, আর এমন অবস্থায় ভারতও কি ছাড় পাবে মানবতার আদালতে? ভারত একটি দেশ যদি এভাবে তার সর্বস্ব হারায় তবে এ বেঁচে থাকার অর্থ কি হতে পারে? ২০১০ সালের জানুয়ারীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লীতে যেসব চুক্তি করে এসেছেন, তা দেশবাসী আজো জানে না। ভবিষ্যতেও যাতে দেশবাসী জানতে না পারে তাই খানাখন্দ বন্ধ করতে সংবিধানও পরিবর্তন করা হয়েছে। ক্ষমতার অবৈধ দখল নেয়া হয়েছে। এভাবে সামান্য কয় পার্সেন্ট হিন্দুরা কিভাবে বাংলাদেশের সব সেক্টর দখল করে বসে থাকে? এতে কি ভারতের মানসিকতায় বিচারিক কোন জবাবদিহিতা থাকবে না? নাকি এটিও আভ্যন্তরিন ব্যাপার বলে চালিয়ে যাবে ভারত? হিন্দু শাস্ত্রে দেখি পরস্ত্রী হরণ বা পরস্ত্রী বরণ কোন অপরাধ নয়। শাস্ত্রে তাদের দেবদেবীরা তাই করেছেন। পরস্ব হরণও কি তারা আইনের চোখে ন্যায়কাজ বলে মনে করেন?

শিরোনামটি এ কারণে করা যেখানে বাংলাদেশ শত সমস্যায় জর্জরিত, সেখানে লাখ লাখ ভারতীয় কেন জাতির ঘাড়ে চেপে বসলো? একদল প্রচার চালাচ্ছে বাংলাদেশে প্রিয়াসাহাদের জায়গা হচ্ছে না এমন সংকটে ভারতের লাখ লাখ প্রিয়াসাহারা কেন সে দেশে জেকে বসেছে? অনেকে সন্দেহ করেন ঐ ২০১০ সালের গোপন চুক্তিতেই ভারত এসব অনাচার করার সব দাসখত করিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশের অবৈধ সরকার দিয়ে। ভারতের ময়দানে সারা বছর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কাটে মারে, একই ধারার সাম্প্রদায়িক অপরাধ একবার নয়, বারে বারেই হয়, আর বিচারের নামে চলে প্রহসন। প্রতিবেশীর সাথে সারাক্ষণ মাতবরী করে, তারা মনে করে তাদের এসব অপকর্ম কেউ দেখছে না। অন্তত এটি নিশ্চিত গরু বা মূর্তি ভগবান তো দেখবে না। এদিকে আকন্ঠ অপরাধে ডুবে থাকা মুজিবের কন্যা সরকারের গদি রক্ষার ভান ধরে আছেন, কেউ তারে ভোট দেয়নি, এটি সারা বিশ^ জানে। কোন বাছবিচার না করেই কি কারণে সর্বস্ব অকাতরে বিলিয়ে দেয়া ভারতকে, সেটি গোটা জাতির প্রশ্ন। ভারতের বোঝা উচিত দেশটি কি কারো একার সম্পত্তি? গরু ভারতের আরাধ্য পূজ্য হলেও বাংলাদেশের নয়, ওটি তাদের ভোগ্যপন্য, খাদ্য। তারা আল্লাহ নামের এক অদেখা শক্তির কাছে সব মামলা অপবাদ অনাচার নির্যাতনের বিষয় জমা রাখে আর বিশ^াস করে একমাত্র ঐ সত্যকে, দেরীতে হলেও পাওনাদাররা সুবিচার পাবে। তারা বিশ^াস করে নিজেরা অপরাধী হলে যেমনি শাস্তি পাবে ঠিক তেমনি অন্যেরা অপরাধী হলেও সে মাপে শাস্তি গোলাতে উঠাবে। এ কারণে শত নির্যাতনের পরও এরা মরতে ভয় পায় না। ফিলিস্তিনীরা কাশ্মীরীরা ময়দানে মরেও কিন্তু জিতে আর অনাচারীরা দৃশ্যত মনে হয় জিতছে কিন্তু এ বিজয় তাদের বিকলাঙ্গ করছে, ভিসুবিয়াসী অর্জনে অগ্নির জমা বাড়িয়ে চলছে। মধ্যযুগ নয় বরং একবিংশ শতকে পরস্ব হরণের এ খেলা কলঙ্ক হয়ে তাদের আমলনামাতে জমছে।

শত শত হাজার হাজার ভারতীয়রা বাংলাদেশে কাজ করছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয় ২০০৯ সালে কম পক্ষে পাঁচলক্ষ ভারতীয় বাংলাদেশে বসবাস করছে। তাদের বিভিন্ন এনজিও, গার্মিন্টস, টেক্সটাইল আইটিতে কাজ করছে এবং হুন্ডিতে তারা ভারতে টাকা পাঠাচ্ছে। এদেশ থেকে সর্বোচ্চ লিষ্টে পঞ্চম স্থানে থেকে ভারতীয়রা টাকা পাঠাচ্ছে। ২০১২ তে দেখা গেছে ৩.৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশী তারা ভারতে পাঠায়। তারা বাংলাদেশকে পঞ্চম রেমিটেন্সের দেশ হিসাবে সুবিধা নিচ্ছে। এটি হচ্ছে সরকারের হিসাব যেখান আনঅফিসিয়াল খবর আরো ব্যাপক। এদের বেশীর ভাগই ভ্রমণে আসে আর ফেরত যায় না (উইকিপিডিয়ার সূত্র) সংবাদ। লাখ লাখ ভারতীয়রা বেআইনীভাবে বাংলাদেশে বসবাস করছে এরা পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম থেকে এসে এখানে থেকে যাচ্ছে। এভাবে তারা সারাদেশের গ্রামে গঞ্জে আনাচে কানাচেও ছড়িয়ে আছে। ২০১৬ সালের জুলাইতে একসাথে চার হাজার ভারতীয় লোক এখানে অবস্থান নেয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে, বন্যা উপলক্ষে। (1) Jump up to:a b Sadeque, Syeda Samira. “Dhaka has a question: what about the illegal Indian immigrants in Bangladesh?”. Scroll.in. Retrieved 20 April 2017. (2) ^ Madhok, Diksha. “Bangladeshis in India sent back $6.6 billion last year—6% of their homeland’s GDP”. Quartz. Retrieved 20 April 2017. (3) “Flood-affected Indians take shelter in Bangladesh”. The Daily Star. 27 July 2016. Retrieved 20 April 2017.

প্রায় প্রতি সাপ্তাহেই বাংলাদেশে বর্ডারে মানুষ মরে, বিএসএফ এদেরে পাখির মতই মারে। আজকে ৬ সেপ্টেম্বর খবরে প্রকাশ চুয়াডাঙ্গাতে ও দামুড়হুড়া প্রতিনিধির বরাতে একজনের গরু ভারতের মাঠপাড়া থেকে তাড়িয়ে আনতে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করে। গরু তো গরুই, মানচিত্র কি বুঝে? সেটি কি গরু পূজক বিএসএফের সদস্যরা বুঝে না? একদিন না একদিন প্রতিটি রক্তের বদলা যে দিতে হবে, সে হিসাবে তারা নেই। পতাকা বৈঠকে তারা এ হত্যার কথাটি স্বীকার করেছে আর দুইদিন পর লাশ হস্তান্তর করেছে। দাস স্বভাবের সরকার নড়বে কেন? বাংলাদেশের ভাগ্যে জুটেছে অবৈধ সৎমা সরকার। শেয়ার মার্কেটের ২৭ হাজার কোটি টাকার গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা, ডেঙ্গু সবই ছিল সরকারী ভাষাতে গুজব। প্রিয়া সাহারা কার দালাল সেটি বুদ্ধিমানদের বুঝে নিতে হবে। সবই কঠিন চাদরে ঢেকে রাখা মিডিয়াতেও এসেছে। সম্প্রতিক সময়ের এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিষ্টার ফর সিটিজেনশিপ) বিজেপির জন্য বুমেরাং! এ ছিল খবরের শিরোনাম, প্রধানত তিন কারণে (১) আসামে এক কোটি বহিষ্কারের কল্পনার গল্পের সাথে বাস্তবের মিল নেই। (২) বাদপড়া ১৯ লাখের বড় অংশই হিন্দু (১১ লাখ হিন্দু + ৬ লাখ মুসলিম + দুই লাখ বিহারী নেপালী লেপচা) (৩) ঢাকা বা দিল্লী বলছে, এটি ভারতের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বিজেপির বহুদিনের ছক মুসলিমদের পায়ে জনম দড়ি দিবে, তারা এটিও বলছিল হিন্দু হলে তাদের ছাড় দেয়া হবে। এখন বিজেপি কি করে দেখা যাক কারণ বেশীরভাগই তাদের ভোটার। বিজেপি এ খেলা শুরু করেছিল ৪১ লাখ বাসিন্দার মাঝে ১৯ লাখ ছাড়া বাকী ২২ লাখ সম্মুখ ময়দানে রক্ষা পেল, গুয়াহাটির যুগশঙ্খ তাই বলছে। বিজেপি তাদের ছকে জিতে গেলে লাখ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়ে পড়তো। এর মধ্যে এটিও স্পষ্ট হয়েছে অনেকে অধিকারহারা হয়ে এর মাঝে আত্মহত্যা করেছে, পরিবারের একজন অধিকার পেলে অন্যজন ঝরে গেছে। বাপ পেলো তো ছেলে ঝরে গেল।

খুব সহজে একটি হিসাব মুসলিমরা যারা বহু প্রজন্মই সেখানে কাটাচ্ছে তারাই মানুষের মর্যাদা পায় না, সেখানে কোন সাহসে নব্য মুসলিমরা সেদেশে স্থায়ীভাবে বসতি করতে যাবে। হিন্দুরা যায়, এটি বলার অপেক্ষা রাখে না। তারা বেশীরভাগ হিন্দুরা মনে করে ভারত মাতা তাদের মাতৃভূমি না হলেও মূর্তিভূমি। যেখানে ভারতে মুসলিমদের এত অত্যাচারের পরও ভারতের মুসলিমরা ভুলেও দেশত্যাগের কথা মুখে আনে না। কারণ এরা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে কোন ধরণের অনাচার নির্যাতন ব্যতিরেকেই হিন্দুরা বাংলাদেশে টাকা অর্জন করে স্বর্ণ কিনে রাখে, টাকা জমায় আর অনেকে ভারতে পাঠায়। আবার অনেকে দুদেশেই লুটেপুটে খেতে পছন্দ করেন। কেন করে সেটি ঐ সব দুদোল্যমনা মানসিকতার প্রিয়াসাহারাই বলতে পারবেন। এখানে প্রিয়াসাহার ট্রাম্প নাটকের পর তার গ্রামের স্বজাতিরা এক বাক্যে বলেছে ওসব ছিল প্রিয়াসাহার সাজানো মিথ্যাচার। সে নিজেই তার লোকজন দিয়ে ভাঙ্গা পড়ো বাড়ীতে আগুন দিয়ে মুসলিমদের ফাঁসাতে এসব মোদিবাজী নাটক করেছে। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের বিরুদ্ধে সীমান্তের ওপারে মোদির এ নাটকের সাথে প্রিয়া সাহাদের এসব নাটক আর কতকাল চলবে? এরকম হাজার প্রশ্নের মুখোমুখি স্বাধীন একটি দেশ বাংলাদেশের মুসলিমরা কঠিন সময় পার করছে। লাখ লাখ ভারতীয়রা বেআইনীভাবে বাংলাদেশে থাকছে, এর দায় নিতে বেআইনী ভারতীয়দের জন্য বাংলাদেশী এনআরসি কি জরুরী নয়?
লেখার সময় = ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সাল।

বি দ্রঃ এ কলামটি সেপ্টম্বরের ১৩ তারিখ ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের “দি রানার নিউজ” এ ছাপা হয়।

হিন্দুরা আরবের কুরাইশ অনুগামী মূর্তিপূজক জাতি

নাজমা মোস্তফা

বাংলাদেশ এমন একটি সময় পার করছে এবং বড় সময় থেকে গোটা জাতিকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। সেটি দেশপ্রেমিক জনতারা বুঝতে পারলে মঙ্গল হতো। স্বাধীন দেশে বাস করেও মানুষ আজো কেন পরাধীনতার আতঙ্কে। জাতিকে যারা ভাগ করেছে আড়াল থেকে, সেটি বুঝতে জাতির এত সময় লাগার কথা ছিল না। এর ফাঁকে অন্যেরা বাংলাদেশীদের মাথাতে কাঠাল ভেঙ্গে খাচ্ছে। পূর্ব পাকিস্তানের অধিকারে এগিয়ে আসা ভারত ১৯৭১ সালে খুবই উৎসাহী ছিল কিন্তু ১৯৪৭ থেকে নির্যাতনের যাতাকলে পিষ্ট কাশ্মীরীদের প্রশ্নে তারা উল্টো। সেই ৭১ সালেই ভারতের নীতি থাকলে কাশ্মীরের প্রতি মানবিক আচরণ করতো। কেন করছে না, সেটি সময়ের বড় প্রশ্ন। কাশ্মীর বিচ্ছেদ্য অংশ না অবিচ্ছেদ্য অংশ তা নিয়ে ধান্ধাবাজি সময় পার করছে। এটি নিশ্চয় আজ স্পষ্ট যে পাকিস্তানকে ভেঙ্গে দু টুকরো করার স্বপ্নেই ভারত বিভোর ছিল সেদিন। সেদিন এ কথাটি মনে ছিল না যে ওটিও ছিল পাকিস্তানের আভ্যন্তরিন বিষয়, কিন্তু ভারত নাক গলায়। আগরতলা মামলা তার উদাহরণ হয়ে আছে। আজ স্বাধীনতার ৬ যুগ পর কেন কাশ্মীরী মুসলিমদের সাথে অমানবিক আচরণের ষ্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। এতদিন দেয়া নগন্যতম অধিকারও কেন কেড়ে নিচ্ছে। শুরু থেকেই সৈন্য ছাড়া কাশ্মীরকে সামলাতে অপারগ ভারত। কেন জবরদস্তি করে লাখ লাখ সৈন্য বহাল রেখে ও বৃদ্ধি করে মানুষকে বন্দুকের নলের সামনে দাবড়ানি দিতে হয় ভারতকে। এসব প্রমাণ করে ভারতের আচরণ ৬ যুগ থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। ভারত এমন একটি দেশ, নিচুবর্ণের হিন্দুদের ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠদের সাথে অমানবিক আচরণ করতে কখনোই বিচলিত হয়নি। সবদিনই তারা তাদের বিবেককে বন্ধক রেখে পরম নিশ্চিন্তে অপকর্মে তালিয়া বাজিয়ে গেছে। সময়ে সময়ে সরকারও সহযোগিতা দিয়ে গেছে।

১৯৩০ সালে একদল মুচি বা চামার গোষ্ঠীর ধৃষ্ঠতা হয়েছিল রাজপুত্রের মত পোষাক পরিয়ে তাদের এক বরকে ঘোড়ার পিঠে সওয়ার করানোর। আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে ঐ অপরাধে বর্ণ হিন্দুরা নির্যাতীতদের প্রতি তাদের এগারোটি নির্দেশমূলক আদেশ জারি করল।

(১) হাঁটুর নীচ পর্যন্ত কাপড় পরা যাবেনা।
(২) নারী পুরুষের স্বর্ণালঙ্কার পরিধান করা যাবেনা।
(৩) মেয়েরা জল বহন করবে শুধু মাটির পাত্রে, তামা বা পিতলের পাত্রে নয়।
(৪) ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করবেনা বা নিজেদেরকে শিক্ষিত করে তুলবেনা।
(৫) ছেলেমেয়েরা শুধু মিরাশদারদের গরু চরাবে।
(৬) পুরুষরা ও মেয়েরা মিরাশদারদের গোলাম হিসাবে কাজ করবে।
(৭) মিরাশদারদের কাছ থেকে জমি ইজারা নিয়ে চাষ করতে পারবেনা।
(৮) মিরাশদারদের কাছে নিজের জমি বিক্রি করবে খুব সস্তা দামে, অন্যথায় জলসেচের জন্য তাদেরকে কোন জল দেয়া হবেনা।
(৯) সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুরুষরা এবং মেয়েরা উপবাসী প্রায় হারে মিরাশদারদের কুলির কাজ করতে থাকবে।
(১০) অনুষ্ঠানাদিতে ভারতীয় সঙ্গিত ব্যবহার করা চলবে না।
(১১) বিবাহ মিছিলে ঘোড়া ব্যবহার করা যাবেনা, শুধু তাদের ঘরের দরজা পাল্কী হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে। এবং কোন অভিপ্রায়েই কোন যানবাহনের ব্যবহার করতে পারবেনা (“ভারতের নির্যাতিত শ্রেণী”, ডঃ বি, আ, আম্বেদকর এম.এ, পি.এইচ.ডি, এস.সি, বার.এট.ল)

উপরের আদেশগুলি দেখলে বোঝা যায় বর্ণহিন্দু কি জিনিস। ভারত বিভাগে এই বর্ণহিন্দুদের শক্ত হাত সচল ছিল বলেই মানুষের দুর্ভোগ আজ অবদি কমছে না। এভাবে এরা মানুষের মানবিক আচরণের বাইরে থেকে কাজ করে গেছে। যেখানে এ ধারার আচরণ করে তারা স্বজাতির সাথে। সেখানে ভিনধর্মী মুসলিমদের সাথে তারা কি আচরণ করতে পারে সেটি খুব সহজেই অনুমেয় । ৭৩ সাল অবদি কাশ্মীরীরা এসব ক্ষতচিহ্ন নিয়ে সময় পার করছে। সম্ভবত ভারতের বর্তমান শাসক মোদি হিন্দু উচ্চবর্ণের নন। কিন্তু তার শক্তির তলানীতে হিন্দুত্ববাদীরা ঐ চর্চাকে মোটাতাজা করতে নির্যাতনে অব্যাহত আছে। ২০০২ সালে গুজরাটে ২০০০এরও বেশী মুসলিম নিধনের কারিগর এই মোদিকে ভারতীয়রা গদিতে বসিয়েছে। এতেও ভারতীয় মানসিকতা স্পষ্ট হয় এই একবিংশ শতকেও। গরু নিয়েই তারা মুখর ও অবিচল, মানুষের দিকে তাদের নজর কম।

বিগত শতকের শেষ দিকে বেড়াতে গিয়েছিলাম ভারতের শিলচরে আমার মামার কাছে। মামী বললেন এখানে এক মেয়ে তোমার নাম করাতে খুব উৎফুল্ল হয়ে বললো সে তোমাকে চিনেছে। একদিন তোমাকে নিয়ে যাব তাদের বাসাতে। মেয়েটির নাম ইভা। আমি অবাক বিস্ময়ে বলি আমি চিনি একজন ইভাকে, কিন্তু সে কি আমার সেই চেনা ইভা, তাতো জানি না। একদিন গেলাম গিয়ে অবাক হয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরি। সত্যিই এ আমার পরিচিত সেই ইভা। ওর সহপাঠি শক্তি ভক্তিরা সবাই ধারেকাছে আছে, ভালো চাকরি করছে। কিন্তু দেখতে শুনতে লেখাপড়াতে ভালো হলেও যোগ্যতার কমতি না হলেও সে মুসলিম এ অপরাধে তার কোন সুগতি হয়নি অধগতি ছাড়া। তার কোন পথ নেই কোন বাঁচার ব্যবস্থা নেই। দিল্লীতে থাকা স্বজনদেরও একই অবস্থা। সেখানে মুসলিম হয়ে কাজ করা বড় কষ্টের তারা সারাক্ষণ সন্দেহ করে আর নানান অনাচার করে যাতে স্বচ্ছন্দে চাকরি করা যায় না। প্রধানত সেদেশে মুসলিমদের জন্য চাকরিই নেই, আর কেউ যোগ্যতা বলে পেলেও ধরে রাখতে পারে না। আমার ছোটবোন ইভা সেদিন তার মনের দুয়ার খোলে অনেক বেদনাঘন বিষয়ের বর্ণনা করে যায়। কথাচ্ছলে সে বলে তার পূর্বপুরুষ ভারতের বাসিন্দা। আমার পূর্বপুরুষও ভারতের বাসিন্দা হওয়াতে আমি বেড়াতে গিয়েছি। সে সুবাদে তাদের জায়গাজমি সবই ওখানে স্বাধীনতা পূর্ব থেকেই যা আজও আছে। চমৎকার একটি মেয়ে ইভার জীবন এখন আজ এই মুহূর্তে কি পর্যায়ে আছে আমি জানি না। তবে সময়ে সময়ে তার কথা মনে পড়ে যখন মুসলিমদের দুর্দশার কথা পড়ি জানি তখন তার কথাও মনে পড়ে, এক নিরব সাক্ষী পথ চলতে এরকম অনেক নির্যাতীতা মুসলিম মেয়ের কপট কষ্ট শুনেছি জেনেছি।

ডঃ আম্বেদকর পন্ডিত নেহরুর ক্যাবিনেট আইনমন্ত্রী ছিলেন। তাকে ভারতীয় শাসনতন্ত্রের রচয়িতা বলা হয়। তিনি অচ্ছুৎ সম্প্রদায়ের লোক। দক্ষিণ ভারতের আওরঙ্গাবাদ শহরের অচ্ছুৎ সম্প্রদায় মারহাটওয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ডঃ আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় রাখার পরিকল্পনা করায় মহারাষ্ট্রে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়। এই প্রয়াত ডঃ কর শৈশবে একবার তার বড়ভাইএর সাথে ট্রেনযোগে পাঞ্জাবের গুরগাঁও মেলায় যান। তাদের পিতা তখন সেখানে অবস্থান করছিলেন। কোন টাঙ্গাওয়ালা তাদেরকে রেলষ্টেশন থেকে শহরে পৌছতে রাজী হয়নি। কারণ তারা ছিল ছোটজাত। হাইস্কুলে ব্ল্যাকবোর্ডের কাছে যাবার তার অনুমতি ছিলনা। কারণ উচ্চবর্ণ হিন্দুর ছেলেরা ঐ ব্ল্যাকবোর্ডের কাছে তাদের টিফিন বক্স রাখতো। কলেজে সবার সাথে ক্যান্টিনে গিয়ে চা খেতে পারতেন না তিনি। কারণ ক্যান্টিন পরিচালনায় ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ। উচ্চশিক্ষা সমাপান্তে বারোদা স্টেইটে গেলে সেখানে কোন হোটেলে তাকে কামরা দেয়া হয় না। খাতায় নাম লিখতে গিয়েই বাধলো বিপত্তি। খাতা টেনে নেয়া হল। বারোদায় চাকরি পেলেন কিন্তু তারই চাপরাশি তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করল। বাড়ীওয়ালা তার পরিচয় জানতে পেরেই তার বাড়ী খালি করার নোটিশ দেয়। কলেজ সহকর্মী লেকচারার তার সোরাহী থেকে তাকে পানি দিতে অস্বীকার করে। সারাজীবন এই অমানবিক জীবন কাটানোর পর এই তিক্ততা থেকে মুক্তির অন্বেষায় তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। সে সাথে তিনি অচ্ছুৎদেরেও উপদেশ দিয়ে যান যে, “তোমরা বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করো নয়তো হিন্দুরা তোমাদের খেয়ে ফেলবে”। সর্ব বিষয়ে সুপন্ডিত এ ব্যক্তিটি জাতিতে নিচুবর্ণের সাহার শ্রেণীভুক্ত হওয়ায় বর্ণ হিন্দুদের দ্বারা যেভাবে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন সে লাঞ্ছণা থেকে বাঁচার জন্য তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন। পরে গান্ধির অনুরোধে তিন লাখ অনুসারীসহ বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। ডঃ বি আর আম্বেদকর ক্ষুব্ধ চিত্তে তার “এ্যানিহিলেশন অব কাষ্ট” বইতে লিখেছেন, “যদি তুমি জাত ব্যবস্থাকে ভাংতে চাও, তবে তোমাকে বেদ এবং শাস্ত্রগুলিকে – যা কোন যুক্তিকে স্বীকার করেনা, যা নৈতিকতাকে অস্বীকার করে ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিতে হবে। তোমাকে অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে স্মৃতি অনুসারী ধর্মকে”। অনেক তথ্য উপাত্ত বলে গান্ধী মুসলিম ঘেষা ছিলেন কিন্তু এখানে এটি স্পষ্ট তিনি আম্বেদকরের খুঁজে পাওয়া ইসলাম থেকে তাকে বৌদ্ধ ধর্মের দিকে ঘুরিয়ে দেন। যে বৌদ্ধরা আজকের দুনিয়ায় কলঙ্কিত অধ্যায় রচনা করছে, যদিও গৌতম বৌদ্ধ এমন ছিলেন না।

ডঃ আম্বেদকর ও তার ভাইকে দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে সংস্কৃত ভাষাটি শিখতে দেয়া হয়নি। ব্রাহ্মণদের ধারণা ছিল যে, দেবভাষা শিখে ফেললে হয়তো অস্পৃশ্য শুদ্রেরা নিষিদ্ধ গ্রন্থ বেদ পাঠ করে তা অপবিত্র করে ফেলতে পারে। একইভাবে দেয়া হয়নি ডঃ শহীদুল্লাহকে বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিস্ময়ের ব্যাপার হল, এরাই আবার বিদেশী ও বিধর্মী মনিষীদের বেদ সংক্রান্ত আলোচনা পাঠে অপরিসীম উৎফুল্ল হয়ে উঠতো। অথচ শুদ্রদেরে বেদ পাঠের অধিকার থেকে নির্লজ্জভাবে বঞ্চিত করে রেখেছিল। বাধ্য হয়েই ডঃ আম্বেদকরকে দ্বিতীয়ভাষা হিসাবে ফার্সি পড়তে হয়। লক্ষ্যনীয়, ফার্সি পড়তে তাদের কোন বাধার সম্মুখিন হতে হয়নি। ৪ জুন ১৯১৩ সালে উচ্চ শিক্ষা লাভ করার জন্য তিনি নিউইয়র্ক যান। আমেরিকাতে প্রত্যেকটি মানুষই সমান মর্যাদার অধিকারী। তিনি সকলের সঙ্গে একত্রে চলছেন, একই টেবিলে বসেছেন। এ যেন তার কাছে স্বর্গ লোকের ঘটনা। তখন তিনি বলেছিলেন, “আমি অস্পৃশ্য হয়ে জন্মেছি কিন্তু আমি অস্পৃশ্য হয়ে মরবোনা”। এই একবিংশ শতকেও ভারত কেন আজো ঘুমন্ত বিবেকের দাসত্ব করছে, আর কতকাল করবে?

মোদি ভারতে চরম মুসলিম জাতিবিধ্বংস নীতি শুধু করেছেন এ শতাব্দীর শুরু থেকে। এর দেড়যুগ পরও তিনি একবিন্দুও সরে আসেন নাই। গুজরাট অপকর্মের পর এই মোদিকে আমেরিকা নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছিল, সে গ্লানির কথা দুনিয়ার মানুষ ভুলে যায়নি। ১৯৪৭ থেকে ২০১৯ গোটা ভারতে হাজার হাজার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নামে মুসলিম নিধনের যে মহামেলা সময় সময় তারা চালাচ্ছেন, আজকের সবকটি অপকর্ম ঐ আগের ধারাবাহিকতার অংশ। আইয়ামে জাহেলিয়াত নামে পরিচিত আরবের কুরাইশরা এটি ষষ্ট শতাব্দীতে জোরে সোরে চালু করেছিল। হিন্দু নামে কোন ধর্ম নেই, সিন্ধু নদের নাম অনুসারে ভুলভাবে ধর্মের পরিচয় দেয়। তারা বলে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরানো ধর্মের নাম সনাতন ধর্ম। ইসলাম চৌদ্দশত বছর আগে এসেছে, কথাটি পুরোপুরি সত্য নয়। সময়টি শুরু নয় বরং শেষ, সর্বশেষ ইসলাম এসেছে ঐসময় আর শুরুটা সেই আদমের সময় থেকে। নবী আদম হচ্ছেন প্রথম প্রতিষ্ঠিত নবী। এর পরে কুরআনে বর্ণিত ২৫জন নবীর প্রমাণ মেলে। ইতিহাস ভূগোলে এরও প্রমাণ পাওয়া যায় এই আরবীয় বণিকেরা কালের ধারাতে সারা বিশে^ এমনকি ভারতেও ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামের সুখবর প্রায় নবী মোহাম্মদের সমসাময়িক সময়েই ভারতের উপকন্ঠে পৌছায়। কিন্তু আরব বণিকদের মারফতে ছড়িয়ে যাওয়া কুরাইশদের ঐ মূর্তিপূজা ভারতেও ছড়িয়ে পড়ে। গবেষনায় প্রাপ্ত নবী নূহের সময়কার অভিশপ্ত জাতির চালচিত্র ভারতীয়রা আজো ধারণ করে আছে। নূহের মহাপ্লাবনকে তারা নাম দিয়েছে জ¦ালা প্রলয়াম। আমরা জানি মুসার অবর্তমানে তার বিভ্রান্ত অনুসারীরা গরুর বাছুরের পূজা শুরু করে। “আর স্মরণ করো! আমরা মুসার সঙ্গে চল্লিশ রাত্রি নির্ধারিত করেছিলাম। তখন তোমরা বাছুরকে তার অনুপস্থিতিতে গ্রহণ করলে আর তোমরা হলে অন্যায়কারী (সুরা বাক্কারাহএর ৫১ আয়াত)।”এর প্রমাণ আজো কুরআনে ছড়িয়ে আছে। এভাবে মধ্য প্রাচ্যের মূর্তিপূজার দখলদার হয় ভারত, আর সনাতনের বড়াই করে সেই নবীদের অনুসারীদের উপর চড়াও হয়ে যুদ্ধ করছে একবিংশ শতক অবদি। এভাবে বিগত ষষ্ঠ শতকের কুরাইশদের আদলে আইয়ামে জাহেলিয়াতের মতই ইসলামের শিকড় বাকড় ধরে বাহবা কুড়াতে জগতের সব নিকৃষ্ট কাজ করে চলেছে তারা ধর্মের নামে। সে হিসাবে তারা কয়েক শতাব্দী পিছিয়ে পড়া ধর্মের দল। কয় শতক পূর্ব বর্বর ধর্ম নামের অধর্ম চালিয়ে সারা ময়দানে লঙ্কাকান্ড বাধিয়ে পুতুল পূজা বহাল রেখেছে। বিবেক সম্পন্ন মানুষ মাটির কাঠের ষ্টিলের পাথরের পুতুলের বদলে পশু গরুর বদলে বিবেকসম্পন্ন মানুষকে সম্মান করতে শিখুক, এটিই একবিংশ শতকের প্রত্যাশা হওয়া উচিত। আর এটি রপ্ত করতে না পারলে জাতি হবে বিবেকহারা কপট কদাকার ও কলঙ্কিত। মানুষের ময়দানে এক ও মানবিক হওয়াই সব কথার শেষ কথা।
৩১ আগষ্ট ২০১৯।
বি দ্র: লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ সাপ্তাহিকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে ছাপে।

Tag Cloud