Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

গ্রামের অসৎ মোড়ল অনেক দিনের গভীর প্রচেষ্টা ছাড়া গ্রামের নীরিহ মানুষটির ভিটেমাটি দখল করতে পারে না। এর জন্য তার কুটিল কপট আচরণ দিয়ে ক্রমে ক্রমে ধূর্ত মোড়ল এগিয়ে যায়। একটি দেশকে গোটা গিলতে হলে একই কায়দায় ময়দান মাপতে হয়। ইত্যবসরে মোড়ল যদি দু একটি গিলে থাকে তবে তার সাহস ও লোভ দিনে দিনে বাড়ে। তবে অতি লোভে তাঁতি নষ্ট বলেও একটি কথা আছে। ভারতের কুবুদ্ধি শেষ পর্যন্ত না বুদ্ধিলোপের পর্যায়ে যায়, সেটি সময় স্পষ্ট করবে। একটি সাজানো বাগানে পাগলা হাতির আক্রমন হলে সে বাগানের কি অবস্থা সহজে অনুমেয়। ঘটনাটি ওরকমই একটি কিছু। একটি বইএর উদাহরণ টানবো খুব সংক্ষেপে যেখানে এ শতাব্দীর শুরুতেই প্রথম প্রকাশিত হয় ১ ফেব্রুয়ারী ২০০১সালে বইটি ময়দানে এসেছিল, কিছু তীর্যক আলো হয়তো ফেলেছিল কিছু সচেতনদের কাছে। খুব সংক্ষেপে বাংলাদেশের পরম বন্ধু নামীয় সোনাবন্ধুর অনেক কার্যক্রম স্পষ্ট হয় শিরোনাম থেকে। সময় অল্প, কথা বেশী। স্বভাবতই শিরানামেও অনেক খবর প্রকাশ পায়। দেড় যুগ আগের এ সাইরেন ধ্বনির পরও যারা ঘুমিয়ে থাকে আর অন্ধের মত দলবাজি করে জাতির বারোটা বাজায় এর দায় প্রতিটি অন্ধ দলবাজের উপর অবশ্যই বর্তায়। যতদূর জানি এর প্রচার সীমিত, কারণ একটি দলকে অল্প দামে কিনে নিয়ে দেশের ভিতরে শক্ত দালাল প্রতিরোধের কাজ করছে। শেখ মুজিব ইন্দিরার কবজায় থাকেন নাই, এই অজুহাতে তাকেও ময়দান থেকে সাফ করা হয়। ‘র’ এর কৌশলই সব সময় উদোর পিন্ডি ভোদর ঘাড়ে চাপানো। তাই অনেকেই এক তরফা আমেরিকার দিকে আঙ্গুল দেখান। এরশাদও র এর বড় দালাল ছিলেন। স্বাধীনতার আর এক নায়ক জিয়ার কারণে এ দেশ উন্নতির শিখরে পৌছে যাচ্ছে দেখে ইত্যবসরে বেরিকেড উঠে, তাকে হত্যার মাধ্যমে দেশ থেকে উন্নতির বিজ উপড়ে ফেলা হয়। ইন্দিরা গান্ধী সবদিন বাংলাদেশ সৃষ্টিতে আতঙ্কে ছিলেন পাকিস্তান ভেঙ্গে আবার যদি দুই পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়ে যায়। বিচিত্র কি, হয়তো সেটিই হতে যাচ্ছে। লায়লাতুল কদরের রাতে বিশ^ বিধাতা হয়তো দুই পাকিস্তানের সৃষ্টি করে দিলেন খুব কৌশলে। ভারতের নির্দেশে করা আওয়ামীদের পাকিস্তান তসবির মূল কারণ তাদের নব্য প্রভু ও নিজেদের অপকর্ম ঢাকা।

বাংলাদেশে ‘র’এর তৎপরতায় কাদেরিয়া বাহিনীর সৃষ্টি, শান্তি বাহিনী গঠন, সশস্ত্র বাহিনীতে পুনরুত্থান ঘটানো, প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যায় ভারতীয় ‘র’ জড়িত। মুজিব হত্যায় ভারত জড়িত নয় বলা কঠিন। অনেক আকার ইঙ্গিত স্পষ্ট করে এতেও ভারতের ইন্ধন রয়েছে। নিজেদের সুবিধা আদায় করতে মূল ৯৫,০০০ যুদ্ধপরাধীর বিচার ভারতই হতে দেয় নি। নিকট সময়ের যুদ্ধপরাধীর নামে যে বিচার, মূলত এদেশ থেকে ইসলাম নিধনের ধারাবাহিকতার অংশ ওটি ছিল। আর পরবর্তীতে ভারতের তালপট্টি দখল, এরশাদকে ক্ষমতায়নেও র, কাল্পনিক শেখ হাসিনার সংখ্যালঘু নির্যাতনের কাহিনী সাজানোয় তৃতীয় শক্তির হাত স্পষ্ট। ঐ সময় সরকারের ভিতরে বাইরে ৩০,০০০ র এজেন্ট তৎপর ছিল, শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস সৃষ্টিতেও ভারত, বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রীদের ভারতীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার প্রচেষ্টা, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসেও ‘র’, মিলিটারীতেও ‘র’ এর অনুপ্রবেশ, দেশের গোপন তথ্য প্রচার, এসব গুপ্তচরবৃত্তিতে রাজশাহী তে ‘র’ এর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তিতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ নেতা গ্রেফতার, দুই বাংলা একত্রিকরণের অপপ্রচার, বাংলাদেশকে খন্ড খন্ড করায় উস্কানী দান, একটি বিশেষ দলকে নির্বাচনের বৈতরনী চালানো। পুশব্যাক পুশইন ইস্যু, ভারতীয় নাগরিকের গোপন অনুপ্রবেশ ও তার প্রমাণসহ ধরা খাওয়া, অতপর বাংলাদেশে ‘র’এর ৬০,০০০ এজেন্ট, ঐ সহযোগিতায় খালেদার শাসনে থাকা অবস্থায় কাল্পনিক সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলেন শেখ হাসিনা, গারোল্যান্ড আন্দোলন, ‘র’এর সাথে বিবিসির কানেকশনে বাংলাদেশকে ভারতের সাথে মিশে যাবার উপদেশ বিলি করা, (৬ ডিসেম্বর ৯০-২৭ মার্চ ৯১ ) বিশৃংখল পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ, একটি পরাজিত দলকে ‘র’ এর সাড়ে ৪ কোটি দান, বাংলাদেশে মোহাজির সংঘ: বঙ্গভূমি নামে সমান্তরালে নতুন ষড়যন্ত্র, চট্টগ্রামে বন্দরটিলা নৌ ঘাটিতে বিশৃংখলা সৃষ্টিতে ইন্ধন দান, রাজীব গান্ধী হত্যায় বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভারতীয় অপপ্রচার, বাংলাদেশে বিশৃংখলা সৃষ্টির চক্রান্ত, প্রয়োজনে বেগম খালেদাকে হত্যার পথে এগিয়ে যাওয়া, জন্মাষ্টমীর মিছিলে হামলা ও দুর্গাপূজা নিয়ে চক্রান্ত, বারে বারে বঙ্গভূমি আন্দোলন, বঙ্গসেনা সদস্যদের বাংলাদেশে প্রবেশ, বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকের গোপন অনুপ্রবেশ, সিলেটে স্থায়ী বাসিন্দা হিন্দিতে কথা বলে- ওরা কারা, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির তৎপরতা, বেগম জিয়ার “ফারাক্কা ভাষন ও ‘র’এর ৪ শত কোটি টাকার বাজেট, বাংলাদেশে ‘র’ তৎপরতা ও বিজেপি, জাপানি পূজি বিনিয়োগ ও হরতাল ধর্মঘট যোগসূত্র, অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন বিএনপি সরকারের পতন ঘটাতে বিপুল অস্ত্র আমদানীর ষড়যন্ত্র, ২ মে ৯৬ সালে কু করার পরিপ্রিক্ষিত, ঐ সময় সীমান্তে ভারতীয় সেনা মোতায়েন, টাকা দেবে ‘র’ আওয়ামী টার্গেট ২০০ আসন, জনমত ভারতের অনুকুলে নিতে ভুল প্রচারণা ও পত্রপত্রিকতায় ভুল তথ্য উপস্থাপন প্রক্রিয়া, ৯৫-৯৬ সালে বিএনপি সরকারের পতনের আন্দোলনে ‘র’এর বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরা নাশকতামূলক তৎপরতা চালায়, চীন পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশেও বেতার যোগাযোগ ও টেলিফোনে আড়ি পাতে ‘র’ প্রশাসন। ব্যবসা খাতে এজেন্টদের মাধ্যমে সংগ্রহ করছে আগাম তথ্য, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা পালনে ‘র’ তৎপরতা, স্পর্শকাতর পদেও এরা পরিবর্তন ঘটায়, এনজিও গবেষনামূলক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের সরকারের বিরুদ্ধেও ‘র’ গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়ে যাচ্ছে, রেস্টুরেন্ট কম্পিউটার ফার্মের আড়ালে চলছে ‘র’এর তথ্যসংগ্রহ আদানপ্রদান, কর্মকর্তারা আসছেন ছদ্ম পরিচয়ে, একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের অনেকেই বিনা ভিসাতে ভারতে থাকতেন, চারদলীয় জোটের আন্দোলন নস্যাত, রাজনীতি নিয়ন্ত্রণেও ‘র’, বাংলাদেশে সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে ভারতের অপপ্রচার ও আইএসআই কানেকশনের চেষ্টা। এভাবে গোটা দেশটিকে আগ্নেয় বিস্ফোরণের আখড়া বানিয়ে রেখেছে বন্ধু নামীয় কৌশলীরা।

আমি উপরে মাত্র কয়টি শিরোনাম ছুঁয়ে গেলাম, এর ভেতরে ঢুকলে আপনারা আতঙ্কিত হবেন। বিগত সময়ে যে হরতালের মহামারী ছিল যা প্রধানত আওয়ামী লীগই করতো সবই তাদের অতি তৎপরতায় সংগঠিত হয়। মিডিয়া অন্ধ বোবার পার্ট প্লে করছে, ধারে কাছে উপরে নীচে সর্বত্র শক্তিশালী দালালরা সক্রিয়। আত্মায় অন্তরে এ জাতি বিক্রি হয়ে গেছে। এখন বিদ্রোহ করা ছাড়া দেশবাসীর সামনে আর কোন পথ দেখছি না। পকিস্তান, জামায়াত, রাজাকার সর্পাতঙ্কে রেখে জাতিকে ফেনসিডিল, ইয়াবা, ষ্টার জলসা টেবলেট দিয়ে ঘুমিয়ে রাখা হয়েছে, ঐ ফাঁকে ঘাড় মটকাতে আসছে আসল দানব রাজাকার। এ যাবত স্বাধীনতা উত্তর দেশে যত বিশৃংখলা তৈরী হয়েছে তার বেশির ভাগই এদের সাজানো কারসাজি। দুই বিড়ালে যখন ঝগড়া লাগে তখন তৃতীয় পক্ষ পানি ছিটিয়ে দিলে ঝগড়াটি তুঙ্গে উঠে। একটি মনে করে অন্যটি তার উপর মুত্রত্যাগ করেছে। বাংলাদেশে এভাবে একদলকে কিনে নিয়ে অন্যদলের উপর ডিভাইড এন্ড রুল চালানো হয়েছে তৃতীয় শক্তি দ্বারা। সারা দেশে অনাচারের বিস্তার ঘটিয়ে দেশের স্থিতীশীলতাকে স্তব্ধ করে গোটা জাতিকে দু টুকরো করা হয়েছে। আর চরম বিশৃংখলায় বেওকুফ দুই বিড়াল চরম উৎসাহে ঝগড়া চালিয়ে যাচ্ছে। অবস্থার প্রেক্ষিতে গড়ে উঠেছে একদল দেশপ্রেমিক আর একদল দেশদ্রোহী। এই সুযোগে মোড়লরা তাদের দেশের জন্য সব উপাত্ত সুযোগ মনের মাধূরী দিয়ে সাজিয়ে নিয়েছে। আদর্শহীনতার কারণে পলাতক মানসিকতার জনতারা জেনেও কপট স্বার্থে চুপ থাকে। যেমন এদেশে শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস, সংখ্যালঘুদের ইস্যু নিয়ে মিথ্যা নাটক সাজানো, গার্মেন্টসএ নানান ষড়যন্ত্র, দেশেকে খন্ড খন্ড করার প্রচেষ্ঠায় বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন, চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার অভিপ্রায়ে শান্তির নামে অশান্তির বিজ বপন, নিশ্চয় বিধাতার আদালতে সব জমা থাকবে। এভাবে সবার নাকের ডগা দিয়ে জাতির মজ্জা চোষে চলেছে ভারত বড় সময় থেকেই। লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে সংস্কৃতির নামে দল বেধে তারা এদেশে আসে, আর দেশের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীরা দিশা হারিয়ে মাটি পেতে বসে এসব দেখে, যেন বাপের জনমে পালা গানও শুনে নাই। উপরে যা বললাম তা খুব কমই বললাম, প্রতিটি শিরোনামের ভিতরে ভয়ংকর ভূমিকম্পসম আগ্নেয় বিস্ফোরণ জমা হয়ে আছে। দেশের মাথা মোটা নারী সদস্যরা নাকি তাদের ঐ ষ্টার জলসার যাত্রাগান না দেখলে ঘুম হয় না। মানুষকে অভিযোগ করতে শুনি ঐ সব পালাগান শুনে শুনে ঘরে ঘরে অশান্তির দাবানল। মনে রাখবেন আদর্শ বড় কঠিন জিনিস, যেটি মুসলিম সমাজ ধারণ করে আছে। ওদের তালে পড়ে আজ তারা নিজের সর্বস্ব বিকিয়ে দিচ্ছে। এতে ইহকাল পরকাল সবই ঝরঝরে করে নিজেকে ধ্বংস করছে।

বইটি সাবেক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা নিয়ে সাজানো হয়েছে বাংলাদেশে ‘র’ আগ্রাসী গুপ্তচরবৃত্তির স্বরুপ সন্ধান লেখক আবু রুশদ। আপনারা দেখবেন বাংলাদেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে কিছু কেনা দালাল টকশো, সাংবাদিক, লেখক দেশের প্রতিটি সেক্টরেই আছে, তাদের আচরণ দেখেই চিনে নিবেন। এরা বাংলাদেশের খায় ঠিকই কিন্তু এরা ভিন দেশের দালাল। সামান্য কুলি মজুর থেকে সকল ক্ষেত্রে এরা ঢুকে পড়েছে। এরা নিমকহারাম মোনাফিক প্রজাতির একটি বড় দল দেশে তৈরী হয়েছে শক্ত মাপে। এদেরে ইত্যবসরে চিনেন জানেন কারণ এদের কথাবার্তা শুনলেই বুঝে নিবেন । এরা কখনোই বাংলাদেশের স্বার্থ দেখে না। এদের প্রধান কাজ হচ্ছে ভারতের স্বার্থ দেখা। এর নাম স্বাধীনতায় ভারতের সহযোগিতা। আপনাদের কি মনে আছে প্রয়াত সুরঞ্জিত বাবুকে। তিনি প্রকাশ্য ময়দানে কিভাবে সবার নাকের ডগা দিয়ে বিদেশীদের দালালী করে গেছেন, দেশদ্রোহী কাজ করেছেন বিবেকহারা সরকারের ছায়াতলে বসে। আজ বিধাতার আদালতে গেছেন, বিচারের ভার ওখানেই জমা হবে। কিন্তু যারা বেঁচে আছেন তারা আর কত লম্বা ঘুম দিবেন? সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রকাশ্য ময়দানে ভারতের তথাগত রায়দের সাথে প্রচারে যুক্ত থেকে হিন্দুদের আওয়ামী করণের ডাক দিতেন। একইভাবে সিনহাবাবুও ইসকনসহ দেশ বিধ্বংসী নাটকে কমবেশী ছিলেন। সুতরাং এরা অনেকেই দেশের খায় কিন্তু গুণ গায় ভিন দেশের। সহজে বলা যায় এরা জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, রায়বল্লভের বংশধারা। এরা মনের দিক থেকে বাংলাদেশের কেউ নয়। এরা জেনে না জেনেই প্রধান থেকে পিয়ন অল্প দামে কেনা গোলাম মিরজাফর। চিহ্নিত প্রিয়া সাহাগংরা দেশের কি কেউ? এরা জাতির দেউলিয়াত্বের জন্য বড় দাগে দায়ী। সত্য প্রকাশ করা ঈমানী দায়িত্ব, দেখা যায় ঐ ঈমানী দায়িত্ব পালন করেছেন ঐ বইএর লেখক এ শতকের শুরুতেই। আজ তার ২০ বছর পূর্তির সময় আমি এ কলামটি লিখছি বাংলাদেশীরা যে দেশটি স্বাধীন করেছিল বিগত শতকের একাত্তুরে, সেদিনই ময়দান থেকে ভারতীয়রা কপটতার আশ্রয় নিয়ে গোটা যুদ্ধ লুট করে নেয়। এদের অনেক অপকর্মে বিতশ্রদ্ধ হয়ে মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলিল বেদনার বহি প্রকাশ ঘটিয়ে অনেক বই লিখে রেখে গেছেন, এর একটির নাম “অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা”। তিনি বুঝতে পেরেছেন বলেই এমন সত্যটি অকপটে বিলি করে গেছেন। এরকম আরো অনেক মুক্তিযোদ্ধা আজো বেঁচে বর্তে আছেন যারা এ যাতনার কপট কষ্টে ধুকে ধুকে মরছেন।

এসব বই জাতির জন্য ছিল অমূল্য সম্পদ। বলা হয় দেশপ্রেম ঈমানের অংশ। তার মানে মুসলিম যারা বেকায়দায় পা ফেলেছেন বলতে হবে তারা ঈমান হারিয়েছেন। বাংলাদেশের টকশো গুলো শুনলেই দেখবেন একদল মানুষ কিভাবে বন্য আচরণ করে চলছে, কোনভাবেই তারা জাতির ইতিবাচক কথা কাজ চিন্তা করতেই পারে না, অপারগ তারা। এদের দেখলে চেনা যায়, তাদের অঙ্গভঙ্গি তাদের পরিচিতি স্পষ্ট করে দেয়। যাদের অন্তরে আসল দেশপ্রেম আছে তারা নকলদের চিনতে পারবেন আর যাদের ওটি নেই বুঝে নিন তারা ওদের মাঝে এর মধ্যেই বিলিন হয়ে গেছে। এ আত্মবিক্রিত দেশদ্রোহীরা যেন অপকর্মের তলাহীন ঝুড়ির ময়দানে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। হাসিনাকে হত্যার যে গল্প এযাবৎ চালানো হয়েছে সবই চরম মিথ্যাচার, বরং খালেদা জিয়াকে হত্যার এজেন্ডা ভারতের ছিল। কারণ এর প্রমান দাগ সর্বত্র আজো স্পষ্ট। তাদের কেনা দালালরা আছে বলেই আজ ভারতের নেতা নেত্রীরা দাবী করছে খুলনা থেকে সিলেট পর্যন্ত এক তৃতীয়াংশ ভারতকে দিতে হবে। ১৭ আগষ্ট শিলচর থেকে প্রকাশিত ‘সাময়িক প্রসঙ্গে’ গৌহাটিতে সুব্রানিয়াম স্বামী এ মন্তব্য করেন। এটি মুখ ফসকে বলা মনে করার কারণ নেই। মনে কি পড়ে অনেক আগে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের মূখ্যমন্ত্রী বলে এক অপরুপ কৌশলী নাটক করা হয়েছিল। সবই ঐ মোড়লীয় কপটতা! এরা এভাবেই আগায়। এভাবে এ দেশকে অস্থিতিশীল রাখা হয়েছে বড় সময় থেকে, সচেতনরা সাইরেন ধ্বনি বাজিয়েছে এর মাঝেও, এদের আর একটি সাইরেন হচ্ছে “আমার ফাঁসি চাই”। এ লেখক আগে নিজের ফাঁসি চেয়েছেন কারণ অনেক অপকর্ম নিজ চোখে দেখে জেনে শুনেও কথা বলেন নাই, আঁচ করতে পারেন নাই এর গভীরতা কত ভয়ংকর হবে, ঐ অপরাধে তিনি তার নিজের ফাঁসি চান সবার আগে। আজ মনে হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেন্টুর একার নয়, গোটা জাতির ফাঁসির সময় এসেছে। গোটা জাতিই ফাঁসিতে যাবেন নাকি বিবেক খাটাবেন সেটি জাতীর বিবেচনা। জেনে শুনে মিথ্যার প্রচার নিন্দনীয়, সত্য স্পষ্ট করা মানবিক দায়িত্বের অংশ বলেই মানি।

ইতিহাস কথা বলে, ভারতীয় উপমহাদেশে ক্ষমতালোভী স্বার্থপর দালালদের কারণে ২০০ বছরের জন্য সিরাজের মসনদসহ গোটা উপমহাদেশ ছিনিয়ে নেয় বৃটিশরা। আজও কি এই একবিংশ শতকে ১৭কোটি বাংলাদেশী সেই একই বেওকুফের ভূমিকা পালন করবে? গোটা কাশ্মীর আজ কপটের কারাগারে। চারপাশে বিশ^াসঘাতকরা দম ছাড়ছে, সমস্ত জাতির মজ্জার মাঝে বিষাক্ত ভাইরাস মিশে গেছে। চেতনহারা জাতিকে আল্লাহও পথ দেখায় না। আত্মসচেতন থাকা প্রতিটি নাগরিকের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। টাকার রং না দেখে উদরে ঢোকানো আগুন গেলার সমান। মুমিন ছাড়া বেশীর ভাগ মানুষ এটি বিবেচনা করে না বলেই চোর ডাকাতের আদলে এসব দালালদের সুইস ব্যাঙ্কে টাকার পাহাড় জমে। ছলবাজদের কোন এবাদত আল্লাহর নিকটে পৌছাবে না। ধর্মের মূল গ্রন্থ দিয়েই এটি সিল করে দেয়া। বলা হয়েছে এদের লোক দেখানো এবাদতের কোন প্রয়োজন নেই। ঈমানদারের প্রতিটি সৎ চিন্তাই এবাদতের অংশ, এটি মনে রাখবেন। শুধু পশ্চিমে মাথা ঝুকালেই এবাদত হয় না, উদ্দেশ্যহীন লোক দেখানো মানুষ ঠকানোর এবাদতের মূল্য শূণ্য। যারা দেশদ্রোহী কাজ করেন, এরা পশুরও অধম। এরা বিচার দিবসকে মিথ্যা মনে করে। এরা বিবেকহারা মানুষ নামের অযোগ্য । যারা বিশ^াস করেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে বিরাট পুরষ্কার (সুরা তীন ৬ আয়াত)। শর্তগুলো পরখ করুন, যেখানে কুরআনে বলা হয়েছে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান, সর্বদ্রষ্টা। যারা মিথ্যারোপ করে ও সৎ পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় জাহান্নামের আগুণের খোরাক তারাই। ঐ পাপীদের কেশগুচ্ছ ধরে আনা হবে, পাপীরা তাদের নেতাদের অভিভাবকদের ডেকে আনুক তারপর দেখবে তাদের পরিণতি কত ভয়ংকর সত্য হয় (সুরা আলাক ৯৬ সুরা)। পাঠক একটি কথা মনে রাখবেন যাদের টাকা দিয়ে কেনা যায় না, তারাই জগতের সেরা মূল্যবান মানুষ। যারা অতি অল্প দামে বিক্রি হয়ে যায় তারা সমাজের সব চেয়ে নিকৃষ্ট জীব, কীটসদৃশ।

কুরআন বলে “যদি তোমাদের মধ্যে কুড়ি জন ধৈর্য্যশীল থাকে, তবে তারা দু’শ জনকে পরাজিত করবে, আর যদি তোমাদের মধ্যে একশতজন থাকে তবে তারা পরাজিত করবে যারা অবিশ^াস পোষণ করে তাদের এক হাজার জনকে, যেহেতু তারা হচ্ছে একটি সম্প্রদায় যারা বুঝে না (সুরা আনফালের ৬৫ আয়াত)। শুধু শর্ত হচ্ছে সৎকর্মশীল হওয়া, এরা সংখ্যায় অল্প হলেও তারা জিতবে। কুরআনীয় বন্টন একে সত্তুর নয়, একে দশ। শেষ ঘন্টা বাজার এ সঙ্গীন সময়ে কুরআনহারা (কিন্তু কিতাব নির্ভর) সংগ্রামী এ জাতিকে মূল কুরআনে ফিরে আসার আহবান জানাই আর প্রকৃত সত্যের উপর ভর করে দাঁড়াবার ঐশী ক্ষমতায় ভর করে এগিয়ে যাবার কথাটুকুই স্মরণ করিয়ে সকল দাসত্ব থেকে মুক্ত হবার ডাক দিয়ে আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আল্লাহই এ জাতির একমাত্র ভরসা।
লেখার সময়, ২৩ আগষ্ট ২০১৯।
বি দ্র: লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ থেকে শুক্রবার, ৩০ আগষ্ট ২০১৯ তারিখে ছাপা হয়।

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: