Articles published in this site are copyright protected.

 

নাজমা মোস্তফা

কাশ্মীর নিয়ে দাদাদের দাদাগিরি + দুটি কলাম আছে আমার ব্লগেই। এটি চরম বিতর্কীত বর্তমানে না পৌছালেও বিতর্ক সংঘাত ছিল বলেই আমার ব্লগে অতীতেই জায়গা দখল করে। নেড়া বেলতলাতে একবারই যায় কিন্তু মুসলিমরা কেন সেখানে বার বার যাচ্ছে, বুঝে আসছে না। এ তাদের অতিরিক্ত উদারতা বনাম অতিরিক্ত অসাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তি তাদের ভোগান্তিতে ফেলেছে।

হায়দ্রাবাদ: স্বাধীনতার শুরু থেকেই ভারত সাম্প্রদায়িক উস্কানীতে মোটা দাগেই জড়িয়ে ছিল। কাশ্মীর, হায়দ্রাবাদ পাকিস্তান তার জনমের শত্রু, কারণ এরা মুসলিম প্রধান দেশ। হায়দ্রাবাদ ও মুসলিম বলেই গণহত্যা চালিয়ে তাদের স্বাধীনতা হরণ করে ভারত। ১৯৪৭ সালে দেশটি স্বাধীন হয় এর পরের বছরই ৪৮ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর ভারতের শেষ স্বাধীন সালতানাতের অবসান ঘটে ভারতের সৈন্য বাহিনীর ব্যাপক গণহত্যার মাধ্যমে সন্ত্রাসী কায়দায়। একে কি বিজয় করা বলে? দাক্ষিণাত্য নামে পরিচিত এ সালতানাতের শাসক ওসমান আলী খান নিজামউল মুলক হামলার ছয় দিন প্রবল প্রতিরোধ চালিয়ে যান। শেষে ব্যাপক রক্তপাত এড়াতে আত্মসমর্পণ করে ২২৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটান। ব্যাপক বিস্তৃত ভূখন্ডের অধিকারী হায়দ্রাবাদ ৪৭ সালে এই মুসলিম রাষ্ট্রটি ভারতীয় স্বাধীনতা অনুযায়ী ভারত বা পাকিস্তানে যোগ না দিয়ে স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ভারতের তথাকথিত নেতারা সামরিক শক্তির জোরে জোর করে দেশটিকে ভারতের অন্তর্ভূক্ত করে নেয়। এ ঘটনার তদন্ত হওয়ার কথা থাকলেও আজ অবদি তা প্রকাশিত নয়।  যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পরও জনতারা হত্যা ও নির্যাতন থেকে রক্ষা পায়নি। কিংকর্তব্য বিমুখ জনতাকে হাজারে হাজারে হত্যা করা হয় এবং উচ্ছেদ করা হয় কয়েক লাখকে। সন্ত্রাস দমনের নামে এসব নারকীয় কাজ করা হয় ( ১৯৫০ সালে প্রকাশিত “দ্যা মিডল ইস্ট জার্নাল, খন্ড ৪)। ভারত যেন পাশর্^বর্তীদের সাথে লোভী নেকড়ের ভূমিকা পালন করে চলেছে। ৭৫ সালেই সিকিমকে আত্মস্থ করে উদরে ঢোকায়। কাশ্মীরের দিকে তীর্যক দৃষ্টি দিয়ে রেখেছে শুরু থেকেই। শুধু উদরে ঢোকানোর অপেক্ষায় ছিল এ যাবত।

কাশ্মীর: অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করে কাশ্মীরীদের স্বায়ত্বশাসন বাতিল করে তাদের সব সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একতরফা দাদাগিরির বড়দাগ রেখেছে। এভাবে একতরফা পদক্ষেপে সম্প্রতি সৈন্য সংখ্যা বেড়ে ৭ লক্ষাধিক সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশাল বহরের স্বশস্ত্র সৈন্যের মোকাবেলা করতে পাথর ছুড়লেও বিপদ, তাদের ঘরে তল্লাশী চলছে। ঈদের নামাজও পড়তে পারে নাই জনতারা। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখেও ছিল এবারের মতই ঈদের দিন। রক্তাক্ত কাশ্মীরে সেদিনও ছিল না কোন ঈদের আনন্দ। সত্য অস্বীকারকারী ধর্মধারীর কাছে মানুষ খুব কম নিরাপদ বলেই এসব ময়দানের প্রমাণ। “কাশ্মীর ভারতের নয়, হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়” ১৭ অক্টোবর ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়। জম্মু কাশ্মীরের হাইকোর্ট এ রায় দিয়েছে, সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী এ ঘোষনা দেয় হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয় এটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র, এটি কখনোই ভারতের সাথে একীভূত হবে না। এ বিষয়ে হুরিয়াত নেতা শিব্বির আহমদ বলেন, বিভক্তির আগেও কাশ্মীর ভারতের অংশ ছিল না। এখানো ভারতের অংশ হতে দেবো না (উৎস: জিওটিভি)। পাঠক আপনাদের কি মনে আছে ২০০১ সালে ভারতে কিভাবে অন্যায়ভাবে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী নেতার ফাঁসি কার্যকর করে। গার্ডিয়ানে মানবাধিকার কর্মী অরুন্ধতী রায়ের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল “ আফজাল গুরুর ফাঁসি ভারতীয় গণতন্ত্রের কলঙ্ক” এই শিরোনামে তিনি ভারতের স্বরুপ তুলে ধরেন। কাশ্মীরীদের আরেক মৃত্যুঞ্জয় বোরহান ওয়ানী কিভাবে মানুষের মনে স্ফুলিংগ হয়ে আছেন তা কাশ্মীরীরা জানে। তিনি যে কাশ্মীরের প্রতীক হয়েছেন সেটি স্বীকার করে ভারতীয় সাবেক গোয়েন্দা প্রধান গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আপনারা তাকে সন্ত্রাসী মনে করেন। কিন্তু অচীরেই ধারণার অতীত এই বোরহান ওয়ানীই এই কাশ্মীরীদের আদর্শ বলে প্রতিষ্ঠা পাবে। তিনি ইতমধ্যে এ বিরোধ নিস্পত্তির জন্য পাকিস্তানের সাথে আলোচনার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন (আমাদের সময়.কম ০২-০৯-২০১৬)। সময়ে ইতিহাসও কথা বলে।

 ভারতের কপটতা: কাশ্মীরীদের দমন করতে মোদি সরকার চার কৌশল নিচ্ছে। শুরুতে নেতাদের গৃহবন্দীত্ব আছেই / বুলেট তো নেই, পাথরও যাতে ছুড়তে না পারে পরিবার প্রতি তার বন্ড সই নিবে / প্রভাবশালী ও ধর্মধারীদের নজরদারীতে রাখবে / সন্ত্রাস দমনের নামে সেনা বাহিনীর ডোজ দিবে। ডিভাইড এন্ড রোলের অনুসারী হয়ে এরা কাশ্মীরী যুবকদের নিয়ে ভাঙ্গনের খেলাও খেলেছে তারা যেন তাদের মাঝে বৈরীতা লালন করা যায়। একটি ভিডিওতে এটিও দেখা যায় পুলিশের চাকরীতে যেতে তাদের নিরুৎসাহী করা হতো এমনভাবে যে বলা হতো যারা পুলিশে যোগ দিবে তারা নিজেদের মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে। তারাই গণতন্ত্রের বুলি কপচায় আর ধর্ম নিরপেক্ষতার মানুষ ঠকানোর গানা গায়। কাশ্মীর নিয়ে যে খেলা ভারত খেলছে, সেটি আজ নতুন নয়। বৃটিশ গমনের পর থেকেই চলছে ঐ কলকাঠি নিয়ে নাটক। কাশ্মীরে গনভোট করার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ভারতের থাকলেও সে প্রতিশ্রুতি ভারত রক্ষা করেনি। এ না করার কোন লজ্জায় তারা নেই বরং আরো বড় অপরাধে হাত দাগিয়ে চলেছে। ৩৭০ ধারা বাতিল করে তাদের খাঁচাবন্দী করার সকল প্রক্রিয়া জোরেসোরে চালাচ্ছে যেন মধ্যযুগীয় ময়দানে তারা দম ছাড়ছে। একটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলকে উদরস্থ করতে কাশ্মীর হয়েছে ভারতের আভ্যন্তরিণ বিষয়। অতি লোভে তাঁতি নষ্ট একটি কথা আছে। সারা ভারতে এভাবে দক্ষিণে তামিল নাড়– আন্দোলন, পশ্চিমে খালিস্তান, পূর্বে মিজো ও নাগা সমস্যা, আসামের বিদেশী হঠাও আন্দোলন এসব তাদের সাজানো সময়ের বিষফোঁড়া। কঠিন সময় জানান দিচ্ছে হয়তো নিকট সময়ে জগতের সব নির্যাতীতরা তাদের দাবীতে সোচ্চার হবে। কারো ব্যক্তি স্বার্থে নয় বরং দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের অধিকার নিয়ে বাঁচার তাগিদেই এটি করতে হবে। শাহজালালের পূণ্যভূমিকে খুব কৌশলে তারা উভয় পারে দ্বিখন্ডিত করে রেখেছে। ঐশী নির্দেশেই সত্য প্রচারের উদ্দেশ্যে সাধক শাহজালালের অবস্থানকেও তারা খন্ডিত করেছে নিজের কপট স্বার্থে। আর তারা সেটি করেছে কোন এক লায়লাতুল কদরের সম্মানিত রাতে। ইসলামে কোন রাত দিনের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। কুরআনে শুধু একটি রাতই আল্লাহ কর্তৃক হাজার মাসের সেরা বলেই চিহ্নিত।

ভারতের কারসাজি: ১৯৪৭ সালে কুমিল্লার কংগ্রেস নেতা আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী নেহরুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন কংগ্রেস এখন কেন  পার্টিশন মেনে নিচ্ছে। জবাবে নেহরু বলেন, কংগ্রেস কখনোই অতীতে এটি মেনে নেয়নি। কখনো ইচ্ছের বিরুদ্ধেও পরিস্থিতি বুঝে কিছু মেনে নিতে হয়। আমরা ভারত বিভাগ মেনে নিয়েছি শুধু বাংলা ও পাঞ্জাবের বিভাগের স্বার্থে। কারণ এ পথেই আমরা অখন্ড ভারত ফিরত পাব। এভাবে ভারত উপমহাদেশে  লেন্দুপ দর্জিদের মত গোলাম কিনে কাজ হাসিল করছে বড় সময় থেকে। কিন্তু মুসলিমদের জন্য তার দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিই পবিত্র আমানত। বড়কে অনেক সময় উদারও হতে হয়। কিন্তু ভারত সব সময় কপট, ক্ষুদ্র নীচতায় আক্রান্ত বড় নয় বরং নিকৃষ্ট। তসলিমা ভারতীয় দালালি করে দেশদ্রোহী অবস্থান নিয়েছেন। কবিতায় হলেও তিনি চেয়েছেন অন্যায়ভাবে মানচিত্র মুছে দিতে। ধর্ম নিধনের নামে তিনিও মানচিত্রের উপর হামলা করেছেন কলম দিয়ে। প্রথম থেকে ভারত সুযোগ খুঁজছিল পাকিস্তান ভাঙ্গার। সুযোগ হাতে এসে যায় দুই পাকিস্তানের গ্যাড়াকলে শেখ মুজিবের আগরতলা ষড়যন্ত্র সেটি সহজ করে দেয়। ভারতীয় লেখক অশোক রায়না তার বই “ইনসাইড ‘র’ বইতে এর ইঙ্গিত করেছেন। পূর্ব পাকিস্তানের খাজা নাজিম উদ্দিন, শহীদ সোহরাওয়ার্দীরাও তা বুঝেছিলেন বলেই পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে মিশে একাত্ম হয়েছিলেন। বহু শতাব্দী আগে জন্ম নেয়া দরবেশ নিয়ামত উল্লাহ ওয়ালীও এ ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন যে একজন মুসলিম নামধারী ব্যক্তির কারণে একটি মুসলিম দেশ বিভক্ত হয়ে যাবে দুই ঈদের মাঝখানে। কঠিন হলেও এটি বাস্তবতা যে ওলির কথার যুক্তিতে এ ষড়যন্ত্রের জালে আটকে যান শেখ মুজিবুর রহমান। এবং সেটি ছিল পাকিস্তানের ভাঙ্গনের ইতিহাস। ভারত ইসরাইলকেও তার পথ প্রদর্শক হিসাবে নিয়েছে বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন। ঐ উদ্দেশ্যে অতি সাম্প্রতিক ভারতও ইসরাইলের অতি দহরম মহরমও ময়দানে স্পষ্ট। তাদের মাঝে ফিলিস্তিন আদলে কাশ্মীরে আক্রমণের ক্ষেত্র তৈরী করছে ভারত তার ওস্তাদ ইসরাইলের কাছ থেকে, ইউকে থেকে জার্নালিস্ট  রবার্ট ফিস্কও ঐ মন্তব্যই করছেন। 

বাংলাদেশ:  স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে অনেক মিথ্যাচার হয়েছে, আজও হচ্ছে, চলমান এসব মিথ্যাচার সরকারী মদদেও চলছে বেশ বড় সময় থেকে। অতীতে পলাশীর পরও ভারত তার ইতিহাসকে নিজের মতই আগলে রেখে মিথ্যাকে যামাই আদরে লালন করেছে। জানতে হবে কেমন অন্যায়ে ভর করে তারা বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে সিলেটের সাথে করিমগঞ্জ মহকুমাকে অন্যায়ভাবে কেটে নেয়। কাশ্মীর ও ত্রিপুরা রাজ্যকে ভারতভুক্ত করার পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রকে বাস্তবে রুপদানও ছিল ভারতীয় স্বার্থে। জালালাবাদকে এভাবে দ্বিখন্ডিত করণ ভারতীয় কারসাজির অংশ।  খন্ডিত কাশ্মীর সাজানো হয়েছে যেন উভয়ে উভয়কে ধ্বংস করে দেয়। এসবই তথাকথিত রেডক্লিফ রোয়েদাদের নামে অন্যায় সীমানা বন্টনের লুক্কায়িত জারিজুরি আজ উন্মোচন জরুরী। এসব জটিলতা অতীতে কৃত ষড়যন্ত্রমূলক সব অন্যায়কে স্পষ্ট করে তুলছে। আজ সময় এসেছে সব অনাচারের বিরুদ্ধে বিশে^র সচেতনদের মাথা উঁচু করে সত্যের জন্য সম্মুখ ময়দানে দাঁড়াতে হবে। প্রতিটি হিসেব কড়ায় গন্ডায় বুঝে নিতে হবে। অতীতে দিল্লীর বর্ণবাদী শাসককুলের সাজানো সব জটিলতা একতরফাভাবে মুসলিমদের প্রতিপক্ষ করে রেখেছে বড়মাপে। যার সহজ পরিণতিতে তারা সবদিন সত্যের মুখে সিলগালা দিয়ে চেপে রেখেছে। ভারতের লেখক গোলাম আহমাদ মর্তুজার মুখ বন্ধ করতে তার গবেষনামূলক সব লেখনী বাজেয়াপ্তের খাতায় ছিল যুগ যুগ অবদি। ভারত নিতে জানে দিতে জানে কম। যার জন্য আজ বাংলাদেশে ট্রানজিট দাবী, জমি দাবী, সুন্দরবন, কত আবদার দাবী আর দাবী, এই ছোট্ট দেশটির উপর যেন এখানে তাদের বাপ দাদার মৌরসী সত্ত্ব জমা আছে। ইউরোপে ট্রানজিট ব্যবস্থা চালু আছে, মানে সেখানে ভারতের মত সন্ত্রাসী দাদাগিরি কি হচ্ছে এসব নিয়ে? স্বাধীনতার পর পরই ভারত সদ্য বিধ্বস্ত দেশটিতে যে লুটপাট চালিয়েছে তা পরখ করেছি আমরা সীমান্ত বসবাসরত বাসিন্দারা আর মেজর জলিলের লিখিত “অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” গ্রন্থে তার অনেক দাগ জমা আছেই। সঠিক বিচার হলে ভারতের নিজের পাপে নিজেরই গলাতে ফাঁসি চড়ানোর কথা। কিন্তু দেবতার দেশে সুবিচারের আশা করাও বৃথা।  কাশ্মীরকে খাঁচাবন্দী করার কারণ ওরা মুসলিম। ঢালাওভাবে সকল হিন্দুদের দোষ দিতে না চাইলেও বেশীর ভাগ হিন্দুরাই সাম্প্রদায়িক ও সংকীর্ণ। এটি হিন্দুরাও স্বীকার করতে বাধ্য। কেন তারা এমন জানি না। ধারণা করি হয়তো তাদের ধর্ম সুপথ দেখানোর বদলে সংকীর্ণ করতেই বেশী অবদান রেখেছে। যেখানে ইসলামে সেটি কখনো কোনভাবেই হয়নি, উদারতা, মানবতাই এ ধর্মের মূল শিক্ষা। বাংলাদেশে ফারাক্কা ফোঁড়া, পানিচুক্তির নামে পানি শূণ্যতা, পাখির আদলে সীমান্তহত্যা, সীমান্তে ফেনসিডিল, ইয়াবা বানিজ্য,  তাদের সীমান্তে এসব কারখানা তৈরী, মানুষ হত্যার গরু রাজনীতি সবই আতংকজনক। এত করেও সব অপরাধ বাংলাদেশের, তাই কাটাতারের ডিজিটাল বেড়া, প্রতিনিয়ত লাশের জমা ফেলানীদের ভাগে। এসব  সুশিক্ষার সুবিচারের প্রমাণ দেয় না। একজন নিবর দর্শক বিধাতা নিশ্চয় আছেন, এসব হিসাবে নিবেন বলেই ভরসা রাখি। তারপরও মুসলিমদের অতিরিক্ত সচেতন হওয়া সময়ের বড় দাবী। কেউ কারো অর্জন মুখে তুলে দেয় না, সেটি আত্মবিশ^াসের ও সততার মানদন্ডে হলেও নিজেদের করতে হয়। আর দুষ্টরা মনের দিকে থাকে দুর্বল কারণ তারা অপরাধী অনাচারী। তারপরও অনাচার করেও কখনো কখনো জেতা যায়, যুগে যুগে অত্যাচারী শাসকেরা যেমন জিতেছে তেমনি বিবেচক, সত্যনিষ্টরা কষ্ট হলেও ময়দান উজালা করেছে। তবে সত্যের পথটি সবদিনই অনেক কষ্টের ও প্রাপ্তির অর্জনের বিজয়ের সর্বোপরি রক্ত ঝরিয়ে কেনা শান্তির সন্দেহ নেই।

১৮ ই আগষ্ট ২০১৯।

বি দ্র: ২৩ আগষ্ট ২০১৯ তারিখে নিউইয়র্ক ভিত্তিক “দি রানার নিউজ” কলামটি ছাপে।

Tag Cloud

%d bloggers like this: