Articles published in this site are copyright protected.

Archive for August, 2019

বিপর্যস্ত ইতিহাস কাশ্মীর হায়দ্রাবাদ বাংলাদেশ

 

নাজমা মোস্তফা

কাশ্মীর নিয়ে দাদাদের দাদাগিরি + দুটি কলাম আছে আমার ব্লগেই। এটি চরম বিতর্কীত বর্তমানে না পৌছালেও বিতর্ক সংঘাত ছিল বলেই আমার ব্লগে অতীতেই জায়গা দখল করে। নেড়া বেলতলাতে একবারই যায় কিন্তু মুসলিমরা কেন সেখানে বার বার যাচ্ছে, বুঝে আসছে না। এ তাদের অতিরিক্ত উদারতা বনাম অতিরিক্ত অসাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তি তাদের ভোগান্তিতে ফেলেছে।

হায়দ্রাবাদ: স্বাধীনতার শুরু থেকেই ভারত সাম্প্রদায়িক উস্কানীতে মোটা দাগেই জড়িয়ে ছিল। কাশ্মীর, হায়দ্রাবাদ পাকিস্তান তার জনমের শত্রু, কারণ এরা মুসলিম প্রধান দেশ। হায়দ্রাবাদ ও মুসলিম বলেই গণহত্যা চালিয়ে তাদের স্বাধীনতা হরণ করে ভারত। ১৯৪৭ সালে দেশটি স্বাধীন হয় এর পরের বছরই ৪৮ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর ভারতের শেষ স্বাধীন সালতানাতের অবসান ঘটে ভারতের সৈন্য বাহিনীর ব্যাপক গণহত্যার মাধ্যমে সন্ত্রাসী কায়দায়। একে কি বিজয় করা বলে? দাক্ষিণাত্য নামে পরিচিত এ সালতানাতের শাসক ওসমান আলী খান নিজামউল মুলক হামলার ছয় দিন প্রবল প্রতিরোধ চালিয়ে যান। শেষে ব্যাপক রক্তপাত এড়াতে আত্মসমর্পণ করে ২২৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটান। ব্যাপক বিস্তৃত ভূখন্ডের অধিকারী হায়দ্রাবাদ ৪৭ সালে এই মুসলিম রাষ্ট্রটি ভারতীয় স্বাধীনতা অনুযায়ী ভারত বা পাকিস্তানে যোগ না দিয়ে স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ভারতের তথাকথিত নেতারা সামরিক শক্তির জোরে জোর করে দেশটিকে ভারতের অন্তর্ভূক্ত করে নেয়। এ ঘটনার তদন্ত হওয়ার কথা থাকলেও আজ অবদি তা প্রকাশিত নয়।  যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পরও জনতারা হত্যা ও নির্যাতন থেকে রক্ষা পায়নি। কিংকর্তব্য বিমুখ জনতাকে হাজারে হাজারে হত্যা করা হয় এবং উচ্ছেদ করা হয় কয়েক লাখকে। সন্ত্রাস দমনের নামে এসব নারকীয় কাজ করা হয় ( ১৯৫০ সালে প্রকাশিত “দ্যা মিডল ইস্ট জার্নাল, খন্ড ৪)। ভারত যেন পাশর্^বর্তীদের সাথে লোভী নেকড়ের ভূমিকা পালন করে চলেছে। ৭৫ সালেই সিকিমকে আত্মস্থ করে উদরে ঢোকায়। কাশ্মীরের দিকে তীর্যক দৃষ্টি দিয়ে রেখেছে শুরু থেকেই। শুধু উদরে ঢোকানোর অপেক্ষায় ছিল এ যাবত।

কাশ্মীর: অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করে কাশ্মীরীদের স্বায়ত্বশাসন বাতিল করে তাদের সব সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একতরফা দাদাগিরির বড়দাগ রেখেছে। এভাবে একতরফা পদক্ষেপে সম্প্রতি সৈন্য সংখ্যা বেড়ে ৭ লক্ষাধিক সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশাল বহরের স্বশস্ত্র সৈন্যের মোকাবেলা করতে পাথর ছুড়লেও বিপদ, তাদের ঘরে তল্লাশী চলছে। ঈদের নামাজও পড়তে পারে নাই জনতারা। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখেও ছিল এবারের মতই ঈদের দিন। রক্তাক্ত কাশ্মীরে সেদিনও ছিল না কোন ঈদের আনন্দ। সত্য অস্বীকারকারী ধর্মধারীর কাছে মানুষ খুব কম নিরাপদ বলেই এসব ময়দানের প্রমাণ। “কাশ্মীর ভারতের নয়, হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়” ১৭ অক্টোবর ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়। জম্মু কাশ্মীরের হাইকোর্ট এ রায় দিয়েছে, সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী এ ঘোষনা দেয় হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয় এটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র, এটি কখনোই ভারতের সাথে একীভূত হবে না। এ বিষয়ে হুরিয়াত নেতা শিব্বির আহমদ বলেন, বিভক্তির আগেও কাশ্মীর ভারতের অংশ ছিল না। এখানো ভারতের অংশ হতে দেবো না (উৎস: জিওটিভি)। পাঠক আপনাদের কি মনে আছে ২০০১ সালে ভারতে কিভাবে অন্যায়ভাবে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী নেতার ফাঁসি কার্যকর করে। গার্ডিয়ানে মানবাধিকার কর্মী অরুন্ধতী রায়ের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল “ আফজাল গুরুর ফাঁসি ভারতীয় গণতন্ত্রের কলঙ্ক” এই শিরোনামে তিনি ভারতের স্বরুপ তুলে ধরেন। কাশ্মীরীদের আরেক মৃত্যুঞ্জয় বোরহান ওয়ানী কিভাবে মানুষের মনে স্ফুলিংগ হয়ে আছেন তা কাশ্মীরীরা জানে। তিনি যে কাশ্মীরের প্রতীক হয়েছেন সেটি স্বীকার করে ভারতীয় সাবেক গোয়েন্দা প্রধান গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আপনারা তাকে সন্ত্রাসী মনে করেন। কিন্তু অচীরেই ধারণার অতীত এই বোরহান ওয়ানীই এই কাশ্মীরীদের আদর্শ বলে প্রতিষ্ঠা পাবে। তিনি ইতমধ্যে এ বিরোধ নিস্পত্তির জন্য পাকিস্তানের সাথে আলোচনার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন (আমাদের সময়.কম ০২-০৯-২০১৬)। সময়ে ইতিহাসও কথা বলে।

 ভারতের কপটতা: কাশ্মীরীদের দমন করতে মোদি সরকার চার কৌশল নিচ্ছে। শুরুতে নেতাদের গৃহবন্দীত্ব আছেই / বুলেট তো নেই, পাথরও যাতে ছুড়তে না পারে পরিবার প্রতি তার বন্ড সই নিবে / প্রভাবশালী ও ধর্মধারীদের নজরদারীতে রাখবে / সন্ত্রাস দমনের নামে সেনা বাহিনীর ডোজ দিবে। ডিভাইড এন্ড রোলের অনুসারী হয়ে এরা কাশ্মীরী যুবকদের নিয়ে ভাঙ্গনের খেলাও খেলেছে তারা যেন তাদের মাঝে বৈরীতা লালন করা যায়। একটি ভিডিওতে এটিও দেখা যায় পুলিশের চাকরীতে যেতে তাদের নিরুৎসাহী করা হতো এমনভাবে যে বলা হতো যারা পুলিশে যোগ দিবে তারা নিজেদের মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে। তারাই গণতন্ত্রের বুলি কপচায় আর ধর্ম নিরপেক্ষতার মানুষ ঠকানোর গানা গায়। কাশ্মীর নিয়ে যে খেলা ভারত খেলছে, সেটি আজ নতুন নয়। বৃটিশ গমনের পর থেকেই চলছে ঐ কলকাঠি নিয়ে নাটক। কাশ্মীরে গনভোট করার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ভারতের থাকলেও সে প্রতিশ্রুতি ভারত রক্ষা করেনি। এ না করার কোন লজ্জায় তারা নেই বরং আরো বড় অপরাধে হাত দাগিয়ে চলেছে। ৩৭০ ধারা বাতিল করে তাদের খাঁচাবন্দী করার সকল প্রক্রিয়া জোরেসোরে চালাচ্ছে যেন মধ্যযুগীয় ময়দানে তারা দম ছাড়ছে। একটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলকে উদরস্থ করতে কাশ্মীর হয়েছে ভারতের আভ্যন্তরিণ বিষয়। অতি লোভে তাঁতি নষ্ট একটি কথা আছে। সারা ভারতে এভাবে দক্ষিণে তামিল নাড়– আন্দোলন, পশ্চিমে খালিস্তান, পূর্বে মিজো ও নাগা সমস্যা, আসামের বিদেশী হঠাও আন্দোলন এসব তাদের সাজানো সময়ের বিষফোঁড়া। কঠিন সময় জানান দিচ্ছে হয়তো নিকট সময়ে জগতের সব নির্যাতীতরা তাদের দাবীতে সোচ্চার হবে। কারো ব্যক্তি স্বার্থে নয় বরং দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের অধিকার নিয়ে বাঁচার তাগিদেই এটি করতে হবে। শাহজালালের পূণ্যভূমিকে খুব কৌশলে তারা উভয় পারে দ্বিখন্ডিত করে রেখেছে। ঐশী নির্দেশেই সত্য প্রচারের উদ্দেশ্যে সাধক শাহজালালের অবস্থানকেও তারা খন্ডিত করেছে নিজের কপট স্বার্থে। আর তারা সেটি করেছে কোন এক লায়লাতুল কদরের সম্মানিত রাতে। ইসলামে কোন রাত দিনের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। কুরআনে শুধু একটি রাতই আল্লাহ কর্তৃক হাজার মাসের সেরা বলেই চিহ্নিত।

ভারতের কারসাজি: ১৯৪৭ সালে কুমিল্লার কংগ্রেস নেতা আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী নেহরুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন কংগ্রেস এখন কেন  পার্টিশন মেনে নিচ্ছে। জবাবে নেহরু বলেন, কংগ্রেস কখনোই অতীতে এটি মেনে নেয়নি। কখনো ইচ্ছের বিরুদ্ধেও পরিস্থিতি বুঝে কিছু মেনে নিতে হয়। আমরা ভারত বিভাগ মেনে নিয়েছি শুধু বাংলা ও পাঞ্জাবের বিভাগের স্বার্থে। কারণ এ পথেই আমরা অখন্ড ভারত ফিরত পাব। এভাবে ভারত উপমহাদেশে  লেন্দুপ দর্জিদের মত গোলাম কিনে কাজ হাসিল করছে বড় সময় থেকে। কিন্তু মুসলিমদের জন্য তার দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিই পবিত্র আমানত। বড়কে অনেক সময় উদারও হতে হয়। কিন্তু ভারত সব সময় কপট, ক্ষুদ্র নীচতায় আক্রান্ত বড় নয় বরং নিকৃষ্ট। তসলিমা ভারতীয় দালালি করে দেশদ্রোহী অবস্থান নিয়েছেন। কবিতায় হলেও তিনি চেয়েছেন অন্যায়ভাবে মানচিত্র মুছে দিতে। ধর্ম নিধনের নামে তিনিও মানচিত্রের উপর হামলা করেছেন কলম দিয়ে। প্রথম থেকে ভারত সুযোগ খুঁজছিল পাকিস্তান ভাঙ্গার। সুযোগ হাতে এসে যায় দুই পাকিস্তানের গ্যাড়াকলে শেখ মুজিবের আগরতলা ষড়যন্ত্র সেটি সহজ করে দেয়। ভারতীয় লেখক অশোক রায়না তার বই “ইনসাইড ‘র’ বইতে এর ইঙ্গিত করেছেন। পূর্ব পাকিস্তানের খাজা নাজিম উদ্দিন, শহীদ সোহরাওয়ার্দীরাও তা বুঝেছিলেন বলেই পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে মিশে একাত্ম হয়েছিলেন। বহু শতাব্দী আগে জন্ম নেয়া দরবেশ নিয়ামত উল্লাহ ওয়ালীও এ ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন যে একজন মুসলিম নামধারী ব্যক্তির কারণে একটি মুসলিম দেশ বিভক্ত হয়ে যাবে দুই ঈদের মাঝখানে। কঠিন হলেও এটি বাস্তবতা যে ওলির কথার যুক্তিতে এ ষড়যন্ত্রের জালে আটকে যান শেখ মুজিবুর রহমান। এবং সেটি ছিল পাকিস্তানের ভাঙ্গনের ইতিহাস। ভারত ইসরাইলকেও তার পথ প্রদর্শক হিসাবে নিয়েছে বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন। ঐ উদ্দেশ্যে অতি সাম্প্রতিক ভারতও ইসরাইলের অতি দহরম মহরমও ময়দানে স্পষ্ট। তাদের মাঝে ফিলিস্তিন আদলে কাশ্মীরে আক্রমণের ক্ষেত্র তৈরী করছে ভারত তার ওস্তাদ ইসরাইলের কাছ থেকে, ইউকে থেকে জার্নালিস্ট  রবার্ট ফিস্কও ঐ মন্তব্যই করছেন। 

বাংলাদেশ:  স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে অনেক মিথ্যাচার হয়েছে, আজও হচ্ছে, চলমান এসব মিথ্যাচার সরকারী মদদেও চলছে বেশ বড় সময় থেকে। অতীতে পলাশীর পরও ভারত তার ইতিহাসকে নিজের মতই আগলে রেখে মিথ্যাকে যামাই আদরে লালন করেছে। জানতে হবে কেমন অন্যায়ে ভর করে তারা বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে সিলেটের সাথে করিমগঞ্জ মহকুমাকে অন্যায়ভাবে কেটে নেয়। কাশ্মীর ও ত্রিপুরা রাজ্যকে ভারতভুক্ত করার পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রকে বাস্তবে রুপদানও ছিল ভারতীয় স্বার্থে। জালালাবাদকে এভাবে দ্বিখন্ডিত করণ ভারতীয় কারসাজির অংশ।  খন্ডিত কাশ্মীর সাজানো হয়েছে যেন উভয়ে উভয়কে ধ্বংস করে দেয়। এসবই তথাকথিত রেডক্লিফ রোয়েদাদের নামে অন্যায় সীমানা বন্টনের লুক্কায়িত জারিজুরি আজ উন্মোচন জরুরী। এসব জটিলতা অতীতে কৃত ষড়যন্ত্রমূলক সব অন্যায়কে স্পষ্ট করে তুলছে। আজ সময় এসেছে সব অনাচারের বিরুদ্ধে বিশে^র সচেতনদের মাথা উঁচু করে সত্যের জন্য সম্মুখ ময়দানে দাঁড়াতে হবে। প্রতিটি হিসেব কড়ায় গন্ডায় বুঝে নিতে হবে। অতীতে দিল্লীর বর্ণবাদী শাসককুলের সাজানো সব জটিলতা একতরফাভাবে মুসলিমদের প্রতিপক্ষ করে রেখেছে বড়মাপে। যার সহজ পরিণতিতে তারা সবদিন সত্যের মুখে সিলগালা দিয়ে চেপে রেখেছে। ভারতের লেখক গোলাম আহমাদ মর্তুজার মুখ বন্ধ করতে তার গবেষনামূলক সব লেখনী বাজেয়াপ্তের খাতায় ছিল যুগ যুগ অবদি। ভারত নিতে জানে দিতে জানে কম। যার জন্য আজ বাংলাদেশে ট্রানজিট দাবী, জমি দাবী, সুন্দরবন, কত আবদার দাবী আর দাবী, এই ছোট্ট দেশটির উপর যেন এখানে তাদের বাপ দাদার মৌরসী সত্ত্ব জমা আছে। ইউরোপে ট্রানজিট ব্যবস্থা চালু আছে, মানে সেখানে ভারতের মত সন্ত্রাসী দাদাগিরি কি হচ্ছে এসব নিয়ে? স্বাধীনতার পর পরই ভারত সদ্য বিধ্বস্ত দেশটিতে যে লুটপাট চালিয়েছে তা পরখ করেছি আমরা সীমান্ত বসবাসরত বাসিন্দারা আর মেজর জলিলের লিখিত “অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” গ্রন্থে তার অনেক দাগ জমা আছেই। সঠিক বিচার হলে ভারতের নিজের পাপে নিজেরই গলাতে ফাঁসি চড়ানোর কথা। কিন্তু দেবতার দেশে সুবিচারের আশা করাও বৃথা।  কাশ্মীরকে খাঁচাবন্দী করার কারণ ওরা মুসলিম। ঢালাওভাবে সকল হিন্দুদের দোষ দিতে না চাইলেও বেশীর ভাগ হিন্দুরাই সাম্প্রদায়িক ও সংকীর্ণ। এটি হিন্দুরাও স্বীকার করতে বাধ্য। কেন তারা এমন জানি না। ধারণা করি হয়তো তাদের ধর্ম সুপথ দেখানোর বদলে সংকীর্ণ করতেই বেশী অবদান রেখেছে। যেখানে ইসলামে সেটি কখনো কোনভাবেই হয়নি, উদারতা, মানবতাই এ ধর্মের মূল শিক্ষা। বাংলাদেশে ফারাক্কা ফোঁড়া, পানিচুক্তির নামে পানি শূণ্যতা, পাখির আদলে সীমান্তহত্যা, সীমান্তে ফেনসিডিল, ইয়াবা বানিজ্য,  তাদের সীমান্তে এসব কারখানা তৈরী, মানুষ হত্যার গরু রাজনীতি সবই আতংকজনক। এত করেও সব অপরাধ বাংলাদেশের, তাই কাটাতারের ডিজিটাল বেড়া, প্রতিনিয়ত লাশের জমা ফেলানীদের ভাগে। এসব  সুশিক্ষার সুবিচারের প্রমাণ দেয় না। একজন নিবর দর্শক বিধাতা নিশ্চয় আছেন, এসব হিসাবে নিবেন বলেই ভরসা রাখি। তারপরও মুসলিমদের অতিরিক্ত সচেতন হওয়া সময়ের বড় দাবী। কেউ কারো অর্জন মুখে তুলে দেয় না, সেটি আত্মবিশ^াসের ও সততার মানদন্ডে হলেও নিজেদের করতে হয়। আর দুষ্টরা মনের দিকে থাকে দুর্বল কারণ তারা অপরাধী অনাচারী। তারপরও অনাচার করেও কখনো কখনো জেতা যায়, যুগে যুগে অত্যাচারী শাসকেরা যেমন জিতেছে তেমনি বিবেচক, সত্যনিষ্টরা কষ্ট হলেও ময়দান উজালা করেছে। তবে সত্যের পথটি সবদিনই অনেক কষ্টের ও প্রাপ্তির অর্জনের বিজয়ের সর্বোপরি শান্তির সন্দেহ নেই।

১৮ ই আগষ্ট ২০১৯।

বি দ্র: ২৩ আগষ্ট ২০১৯ তারিখে নিউইয়র্ক ভিত্তিক “দি রানার নিউজ” কলামটি ছাপে।

Advertisements

ভারতের ভাগ্যাকাশে শতাব্দীর দুর্গ্রহ

নাজমা মোস্তফা

আজকের কলামের নামটি আমি ধার নিয়েছি একজনের  বই থেকে, রাজনীতি সচেতন এ ব্যক্তির লিখিত গ্রন্থ থেকে কিছু তথ্য দিয়েই লেখাটি সাজাবো। সাম্প্রতিক সময়ে  দেশে কিছু মানুষ যে দেশবিরোধী ভূমিকায় নেমেছে তাতে চারপাশ মুখরিত। সেখানে প্রিয়াসাহা একা নন, ঐ এক লাইনে ইসকন সংগঠনের ছাউনিতে দেশে মুসলিম ধর্মান্তকরণের কাজ চলছে জোরেসোরে প্রকাশ্য ময়দানে। সারা দেশে এদের অসংখ্য সংগঠন গোপনে ও প্রকাশ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে আকাম কুকাম চালিয়ে যাচ্ছে। শিশুদের খাদ্য বিতরণের মাধ্যমে প্রকাশ্যে হরিবল, জয় শ্রীরাম হরেকৃষ্ণ হরে হরে হরেরাম বন্দনাও চালাচ্ছে। পীযুষ বন্দোপাধ্যায়, রানাদাস গুপ্ত, রামেন্দু মজুমদার, সুভাষ সিংহ, এসকে সিনহা এরা সবাই এমনভাবে এসব রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছেন যা অনেক বিতর্কীত অবস্থানকে স্পষ্ট করছে। আজকের বাংলাদেশে হিন্দু বনাম ছাত্রলীগ নেতারাও সন্ত্রাসীতে আগুয়ান, লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলাগুলিতে অসংখ্য আহত নিহত। ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামলদত্তকেও অনেক সময় বিতর্কীত অবস্থানে দেখা যায়। ৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বরের বরাতে হাসিনা হত্যার মিথ্যা হামলা সংবাদও ঐ পত্রিকাই বিলি করে। ইতিহাস বলে অতীতে একটি গোপন সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন চিত্তরঞ্জন সুতার ও কালিদাস বৈদ্য, তখন তাদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশলে জড়িত থাকা। পুনরায় বঙ্গভূমি আন্দোলন নামে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করা ও ভাঙ্গার আর এক কৌশলে তারা জড়িত। ৭১ সালে যুদ্ধ চলাকালীন সময়েই তিন সংখ্যালঘু নেতা আওয়ামী ছত্রচ্ছায়ায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার কাছে বাংলাদেশকে ভারতের অংশ করে রাখার আবদার রাখেন। (হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর সাক্ষাৎকার, জনাব মাসুদুল হক লিখিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা র এবং সিআইএর ভূমিকা)। উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হচ্ছে ঐ সময় সরকার জেনেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি এমন কি জনাব চৌধুরী এটিও উল্লেখ করেন যে, তারা চেয়েছিল বাংলাদেশকে সিকিম বানাতে। এবার বুঝেন এরা কি ধারার দেশপ্রেমিক! এরা ভারতীয় সংবিধানের চারনীতিতেই বিশ^াসী থেকেছে, ভারতপন্থী হাসিনার আওয়ামী লীগকে ভারত নগদে কিনে, ভোটের খরচ জোগায়। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের আত্মসচেতনহীন দল, একদিন যারা পাকিস্তানের ও বাংলাদেশের আন্দোলনের শিকড়ে ছিল কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ থেকে অনেকটা পথহারা।   

ভারত ৭১ সালে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারকে গোপন সাত দফা চুক্তিতে বাধ্য করে। কথিত আছে ঐ চুক্তিতে স্বাক্ষর দেয়ার পর তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অজ্ঞান হয়ে যান। এরপর ৭২ সালের মার্চে পঁচিশ বছর মেয়াদী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার নামকরণ করা হয় মৈত্রী চুক্তি যাকে জনগণ পর্যবেক্ষণ করেছে গোলামী চুক্তি নামে। ৭৪ সালের ১৬ মের সীমানা চুক্তি লংঘন করে ভারত আঙ্গোরপোতা বেরুবারী দখল করে রাখে। ৭৫এর পট পরিবর্তনের পর শান্তিবাহিনী তৈরী করা ও বঙ্গভূমি আন্দোলন সবই এক উদ্দেশ্যে তৈরী করা হয় র এর ইঙ্গিতে। এই র গঠনের মাত্র তিন বছরের মাথায় এ দেশকে ভেঙ্গে বাংলাদেশ অপারেশনের মাধ্যমে খুব কৌশলে দু টুকরো করে ।

কাশ্মীরে ভয়ংকর অবস্থা চলছে। তাদের দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সর্বত্র যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করেছে অনুচ্ছেদ ৩৫ কেড়ে নেয়া হয়েছে, সবকিছু হয়েছে গোপনে গোপনে। যেন একটি সংসার ভাঙ্গার মতই হঠাৎ করেই খুঁড়িয়ে চলা বিধ্বস্ত সংসারটির মাথায় বজ্রাঘাত করা হলো। পুরো কাশ্মীর এখন এক জিন্দা কারাগার। ঢাকাতে এক কাশ্মীরী ছেলের মুখের বয়ান শুনছিলাম সে বলছে প্রতিদিন ভারতীয় সৈন্যরা হাজারেরও বেশী মহিলাকে ধর্ষণ করছে। বিগত শতকে রচিত নিজ জন্মভূমি ফেলে আসা এক পাকিস্তানী + বাংলাদেশীর লেখনী থেকে চিন্তাশীলদের জন্য কিছু খন্ডিত তথ্য তুলে ধরছি। বইটির নাম সত্যম সুন্দরম, লেখক ডাঃ এম এ শুকুর। 

তার বইএর একটি অধ্যায়ের নাম ছিল ভারতের ভাগ্যাকাশে শতাব্দীর দুর্গ্রহ: “স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়, পরধর্ম ভয়াবহ” এই মহাবাক্যটি ভারতবর্ষের ধর্ম ও সংস্কৃতির রক্ষাকবচ হিসাবে সার্থকভাবে কাজ করেছে এবং শতাব্দীর পর শতাব্দীব্যাপী বাইরের সত্যকে হয় রুখে দাঁড়িয়েছে, নয় আপনার মধ্যে আত্মস্থ করেছে। আপন রক্ষণশীল ব্যবস্থা ও দার্শনিক শক্তিতে বাইরের প্রভাবকে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সে যে শুধু বাইরের সত্যকে রুখেছে তাই না বরং ভেতরের দ্রোহকেও নিস্তেজ করে দিতে সক্ষম হয়েছে। বিশে^র ধর্ম জগতে এই কথার বিপরীতে আর একটি কথা আছে – লা ইকরাহা ফিদ্বিন – অর্থাৎ ধর্মে জোর জবরদস্তি নাই, কারণ সত্য ও মিথ্যার সীমারেখা সুস্পষ্ট।

গরু একটি চতুষ্পদ জন্তু, মানুষের অতি উপকারী জীব। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ এর মাংস খায়। এই ভারতবর্ষেও প্রাচীন মহাভারতের যুগে পর্যন্ত গোমাংসের প্রচলন ছিল। এমনকি কোন বিশিষ্ট অতিথির আগমনে গোবৎসের মাংস প্রদান অত্যন্ত সম্মানজনক বলে গণ্য হত। পন্ডিত জওহরলাল নেহরু লিখিত Discovery of India বা ভারত আবিষ্কার বইএর ১০৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য। “The eating of beef previously countenanced, is later absolutely prohibited. In the Mahabharath there are references to beef or veal being offered to honored guests” পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে এটি প্রচলিত খাদ্য। যদিও খাদ্যাখাদ্যের বিচার সব সমাজেই আছে। কোন কোন জাতি এ ব্যাপারে বিচারহীন। এরা সাপ, ব্যাঙ, শিয়াল, কুকুর যাবতীয় জীবজন্তু জীবিত এমন কি মৃতও ভক্ষণ করে। নিজ ইচ্ছা অনুসারে খাদ্য গ্রহণের স্বাধীনতা সকলেরই থাকার কথা। একমাত্র সামাজিক স্বাস্থ্য হানির কারণ ব্যতীত অন্যের সেখানে বাধা দেয়ার কোন যুক্তি নেই। এবং এইভাবে বাধাদান মানুষের মৌলিক অধিকার তথা স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের সামিল। এদেশে যেদিন থেকে গরুকে দেবতা জ্ঞান করা হয়েছে সেদিন থেকে এটি অতি উপকারী প্রাণী সময়ে সময়ে মানুষের নিরাপত্তার জন্যে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই  অমানুষিক সমাজ চিত্রই সেদিন শাহজালাল নামে এক ফকিরকে করেছিল মর্মাহত ও উদ্বেলিত।

অনেকে বলে থাকেন মুসলিমরা তরবারীর জোরে সত্য প্রচার করেছে। আত্মরক্ষার জন্য তরবারীর প্রয়োজন অনস্বীকার্য। এর প্রয়োজন চিরদিন ছিল চিরদিন থাকবে। কিন্তু মহাসত্যের শাণিত যুক্তির তরবারী  তাদেরে যে অসীম শক্তিধরের শক্তিতে শক্তিমান করেছিল তার সামনে মিথ্যা ঘুনেধরা কুযুক্তির অনুশাসন টিকে থাকতে পারে না। অতীতেও যেমন পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। ধাতব তরবারী মিথ্যাকে সাময়িক আশ্রয় দিতে পারে কিন্তু চিরকাল মিথ্যাকে জিইয়ে রাখা সম্ভব নয়। পৃথিবীতে গোটা মানব জাতির জন্য এক একান্নবর্তী পরিবারের কল্পনা করতে আজ মানুষ বাধ্য হচ্ছে। এবং এই প্রথম পৃথিবীকে “এক পৃথিবী এক জাতি এক সংস্থা” হিসাবে মেনে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে মানুষের কল্যান তথা বিশ^ শান্তি আজ আর একক প্রচেষ্ঠায় সম্ভব নহে।

এই শতাব্দীর প্রারম্ভে স্বাধীনতা উত্তর মিশরের জাতীয়নেতা জগলুল পাশা যে উদার মন নিয়ে সংখ্যালঘুদের মনে নিরাপত্তার আশ^াস দেন দুর্ভাগ্যক্রমে ভারতবর্ষে তেমন মনোভাবের একান্ত অভাব ছিল। আমাদের নেতৃবৃন্দের উভয় পক্ষই সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির উপরে উঠতে সক্ষম হয়নি। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪০ পর্যন্ত সময়ে ভারতীয় রাজনীতিতে যে ধর্মচাঞ্চল্য আসে তাতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং নিখিল ভারত মুসলিম লীগ দুটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্ধী দলরুপে  প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৪০ সনে লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগ কাউন্সিল অধিবেশনে ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে স্বাধীন সার্বভৌম পৃথক রাষ্ট্র গঠনের দাবীতে প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। ইতিমধ্যে ইউরোপ তথা সারা বিশ^ জুড়ে দ্বিতীয় বিশ^ সমরের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।

এই সময় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে বিপুল ভোটাধিক্যে সভাপতি নির্বাচিত হন সুভাষ চন্দ্র বোস। কিন্তু এই নির্বাচন কংগ্রেস হাই কমান্ডের মনঃপুত না হওয়ায় সুভাষকে পদত্যাগ করতে হয়। ভারত উপমহাদেশে গণতন্ত্র একাধিক বার বঙ্গ বিরোধে পর্যবসিত হয়েছে। এই দুঃখজনক ঘটনা তারই এক জলন্ত দৃষ্টান্ত। সুভাষ একই সময়ে ইংরেজ শাসক ও কংগ্রেস নেতৃত্বের কোপে পতিত হন। কিন্তু আগুনকে ছাইচাপা দিয়ে রাখা যায়না। তিনি সবার চোখে ধুলো দিয়ে বিদেশে পলায়ন করেন। এখানে জার্মানী ও পরে জাপান থেকে ভারতের বাইরে অবস্থানরত ভারতীয়দের সাহায্যে তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করে বৃটিশের বিরুদ্ধে সক্রিয় সামগ্রিক বিদ্রোহ শুরু করেন। যুদ্ধে ভারতবর্ষ স্বাভাবিকভাবে ইংরেজের পক্ষে জড়িয়ে পড়ে। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস ১৯৪২ সনে “ভারত ছাড়” আন্দোলন আরম্ভ করে। ভারত সরকার মিঃ গান্ধীসহ অধিকাংশ কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করে নেয়।

হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে আনবিক বোমা নিক্ষিপ্ত হয় এবং জাপান আত্মসমর্পণ করে। জাপানের সক্রিয় সাহায্যে প্রতিষ্ঠিত আজাদ হিন্দ বাহিনী স্বাভাবিক ভাবেই পর্য্যুদস্ত হয় এবং বার্মা ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পরিব্যাপ্ত হাজার হাজার আজাদ হিন্দ সৈন্য ইংরেজের হাতে বন্দী এবং বিচারের জন্য স্বদেশে আনীত হয়। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন (?)। সেদিন ঐ মিথ্যা প্রচার করা হয় কিন্তু (আজ আমরা জানছি তিনি সেদিন নিহত হন নাই, ওটি ছিল ভারতীয় আর এক চানক্য চাল)। ভারত গগনের এক অতি উজ্জল তারকা এভাবে ঝরে গেল নিভৃতে রাজনীতির অঙ্গন থেকে চিরদিনের জন্য।

সুভাষ বোস ছিলেন ভারতীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মহান দূত। বসু পরিবার চিরদিন তাদের অসাম্প্রদায়িকতার জন্য খ্যাত কিন্তু সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তারা কোনদিন পাত্তা পায়নি। ভারত বিভাগের দাবী মূলতঃ মুসলিম লীগের,পাঞ্জাব ও বঙ্গবিভাগের দাবী কংগ্রেসের। মোটকথা ভাগাভাগির ব্যারিষ্টারী প্রতিযোগিতায় একে অপরকে টেক্কা দিয়ে ১৯৪৭সনের ১৪ই আগষ্ট মধ্য রাত্রিতে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্মলাভ করে। রহস্যজনক হলেও সত্য ঐ রাত্রি ছিল “লায়লাতুল কদর” অত্যাশ্চর্য্য সৃষ্টি রহস্যের রাত্রি এটি। এই রাত্রির মহিমা ত্রিশ সহস্র রাত্রির চেয়েও শুনেছি শ্রেয়। ঘটনা পরষ্পরার সমন্বয়ে এতে কি রহস্য ছিল জানি না। আমরা ইতিহাসের নীরব দর্শক মাত্র। গত দুই হাজার বৎসরের মধ্যে ভারতবর্ষ অন্তত চারবার একত্রিত হয়েছে এবং বারে বারে খন্ডিত হয়েছে। ভবিষ্যতের খবর কারো জানার কথা নয়। জিন্নাহ প্রথম জীবনে খাঁটি কংগ্রেস কর্মী ছিলেন। ১৯৪০ সনে ভারত বিভাগের প্রস্তাব মূলতঃ কোন ব্যক্তির নয়, ওটি ছিল নিখিল ভারত মুসলীম লীগ কাউন্সিলের। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন শেরে বাংলা ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি প্রমুখ বহু ভারতীয় জননেতার আহবান এই প্রস্তাবে ছিল। গোলটেবিল বৈঠকে গৃহীত তার বলিষ্ট নীতি এবং উপরোক্ত মুসলিম সর্বদল সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি বাস্তবায়নের জন্য মিঃ জিন্নাহর আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে তিনি ভারতীয় মুসলিমদের এক বৃহদাংশের মনে এমন প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন যে ১৯২৯ থেকে ১৯৪৮ সনে তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সুদীর্ঘ ২০ বৎসর তিনি এই উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে একমাত্র ভরসাস্থল বলে বিবেচিত হয়েছেন।

যে শক্তি সুভাষ বোসের মত জননেতার ব্যক্তিত্বকে সহ্য করতে পারে নি, সেই শক্তিই পারেনি ফজলূল হকের প্রতিভার স্বীকৃতি দিতে। সেদিন ভারতের পূর্বাঞ্চলে এক আঞ্চলিক মানব গোষ্ঠীর স্বায়ত্ত্বশাসন সহ তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার লাভের সম্ভাবনাকে সুনজরে দেখতে না পারায় এর অদূরদর্শী পরিণাম হিসাবে নেতৃবৃন্দকে গ্রুপিং প্ল্যান প্রত্যাখ্যানে প্ররোচিত করে ভারত বিভাগকে অবধারিত করে তুলেছিল। উদোরপিন্ডি ভুদোর ঘাড়ে ফেলে কোন লাভ নেই, ইতিহাস একদিন এর নিরপেক্ষ বিচার অবশ্যই করবে। ইতিহাস পাঠককে বলতে শুনেছি, মতিলাল নেহরু যদি ১৯২৯ সনে জিন্নাহর চৌদ্দদফাকে মেনে নিতে পারতেন, তৎকালীন ভারতীয় মুসলিমদের মনে সংখ্যাগুরুর ভীতি দূরীকরনে তা সার্থক ভাবে কার্যকরী হত। ঠিক সেইভাবে কেবিনেট মিশনের গ্রুপিং প্ল্যানকে নাকচ করে দিয়ে তারই পুত্র নেহরু ভারত বিভাগকে অবধারিত করে দিয়েছিলেন এরই দুই দশক পরে। পাকিস্তান রাষ্ট্র ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেল। সুক্ষ্মভাবে দেখলে শুধু পাকিস্তান নয়, বিশে^র প্রতিটি মুসলিম রাষ্টে এই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চরম অভাব। গণতন্ত্রের অবমাননার কারণেই সারা মুসলিম জাহান আজ বিধাতার অভিশাপে অভিশপ্ত।

বেদ:-

অধিকাংশ হিন্দুই বিশ^াস করেন যে বেদ প্রত্যাদিষ্ট শাস্ত্র। বেদের শিক্ষায় পৌত্তলিকতা বা দেবদেবী ছিল না, দেব মন্দিরও ছিল না। বৈদিক যুগে আর্যরা কৃষিজীবি ছিল। জীবন সম্বন্ধে তারা খুব সক্রিয় ছিল। তারা পরকালে বিশ^াস করত এবং একেশ^রবাদী ছিল। নাস্তিকতা, বহুদেববাদ এমন কি অদ্বৈতবাদ পরবর্তী যুগের সৃষ্টি। অনেকের মতে ভারতীয় সংস্কৃতিতে পুতুল পূজার আমদানী হয় গ্রীস থেকে। পুতুল বা প্রতীক পূজার সম্পূর্ণ বিরোধী ছিল বৈদিক বা আর্যধর্ম। ভারতীয় আদিম অধিবাসীদের মধ্যে যদিও পুতুল বা প্রতীক পূজার প্রচলন ছিল তথাপি এটি ব্যাপক ছিল না। বৌদ্ধধর্ম প্রথমতঃ পৌত্তলিকতার ঘোর বিরোধী ছিল। কিন্তু কালে গ্রীক চিত্রকলা এবং সুন্দর দেবমূর্তি সমূহ ভারতীয় চিন্তার রাজ্যে প্রভাব বিস্তার করে। পরিণামে ভারতবাসীরা পূজা পার্বন আর দেবমূর্তিকে এমনভাবে গ্রহণ করেছে যে আজ পুরোহিত আর দেবমূর্তিকে বাদ দিলে কোন কিছু হয়তো অবশিষ্ট থাকবে না।

খৃষ্ট জন্মের প্রায় ৮০০ বছর আগে ভারতীয় চিন্তাধারাকে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছে এতে। পরিণামে এই উপনিষদই বৌদ্ধমত এবং বেদান্তদর্শনের অদ্বৈতবাদের সূচনা করেছিল। এভাবে কালে ভারতে বুদ্ধ ধর্মের স্বাভাবিক মৃত্যুতে মূলতঃ কোন অস্বাভাবিকতা ছিল না। একটু ভাবলেই অবাক হতে হয় যে কি অদ্ভুত ভাবে মন্দির, কুলগুরু, দীক্ষামন্ত্র, এরা সবাই মিলে হিন্দু জাতিটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। —- এ দেশের মাটিরই এমন গুণ, যিনিই এসে ভগবানের একটু খবর দিলেন, তিনিই ভগবান হয়ে গিয়ে মন্দিরে মন্দিরে পূজিত হতে লাগলেন। তিনি যা দিতে এসেছিলেন তা তোমরা গ্রহণ করলে কি না, তার উপদেশকে জটিল কুটিল গ্রন্থিল ব্যাখ্যার গুরুভারে অতলে তলিয়ে দিলে, এর কোন হিসাব নিকাশও হল না। —-যুগের প্রয়োজনে যুগে যুগে দেবতার সৃষ্টি হয়েছিল। আজ আবার যুগের প্রয়োজনেই বহু দেবতার বিদায় নেবার সময় হয়ে এসেছে। ওঁঙ্কার থেকে উৎপত্তি হয়েছে কোটি কোটি দেবতার, আবার সেখানেই হবে নিষ্পত্তি। আর্য্যরা মূলতঃ একেশ^রবাদী ছিল, তারা দেবদেবী বা মূর্তিপূজক ছিল না। তাই এটি সহজেই অনুমেয় যে পরবর্তীদের দ্বারা বেদের সত্য শিক্ষায় মিথ্যার প্রলেপ দেয়া হয়েছে। জগতের কোন প্রাচীন শাস্ত্রই এবম্বিধ কারসাজি থেকে রেহাই পায়নি, বেদও তার ব্যতিক্রম নয়।

আধুনিক জগতে সর্বাধিক উচ্চারিত যে তিনটি নীতি আদর্শ তা হচ্ছে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা। জোট-নিরপেক্ষতাই হউক আর ধর্ম-নিরপেক্ষতাই হোক আদতে সর্বত্র নিরপেক্ষতার অভাব পরিদৃষ্ট। একারণেই আজ জাতির জীবনেও মুনাফিকী আবশ্যক ভাবে পরিত্যাজ্য। ধর্ম বর্ণ গোত্র ও ভাষা যেন কোন নাগরিকের অনিরাপত্তা এবং অন্য নাগরিকের বিশেষ সুবিধা ও সুযোগের কারণ না হয়। রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রযন্ত্র যদি ধর্ম বর্ণ গোত্র ও ভাষার দ্বারা প্রভাবিত হয় তবে সেই রাষ্ট্র কিছু সংখ্যক মানুষের সহজ আবাস রুপে গণ্য হতে পারে না। বাংলার মানুষের সরলতা, হৃদয়ের উষ্ণতা ও ভাব প্রবণতাকে অন্যেরা গ্রহণ করেছে আমাদের জাতীয় দুর্বলতা হিসাবে। ফলে গত এক হাজার বছর ধরে এদেশের মানুষ শুধু পরের বেগারই খেটেছে, হাসি হাসি কথার আড়ালে তারা কোনদিন চিনতে পারে নি তাদের বন্ধুবেশী শোষককে।

অধিকার সচেতন জনতা এই শাসন শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে যখনি সংগ্রাম শুরু করেছে উপনিবেশবাদিরা তখন এসব আন্দোলনকে দাবিয়ে দিতে চাইছে তাদের আভ্যন্তরীন সমস্যার অজুহাত তোলে। দেখা যায় ষড়যন্ত্রী রাষ্ট্রই আবার অন্যত্র অন্য জনপদে মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সোল্লাসে গর্বভরে দলিত মথিত করে চলে যায়। সুষ্পষ্ট নীতি আদর্শের অভাব আজ সর্বত্র তীব্রতর। সাম্প্রতিক কালের বিশ^ময় অশান্তির একটি মূল কারণ এই রাজনৈতিক আদর্শহীনতা। আজকের পৃথিবীতে মানুষ একবিশ^ গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অথচ একদিকে তুমি একবিশ^ গঠনের মহান মন্ত্র আওড়াবে, অন্যদিকে আভ্যন্তরীন সমস্যার জিকির তুলে মানুষের স্বাধীনতা হরণ করবে, ভবিষ্যত পৃথিবী তোমার এই সাধু শয়তানি খেলা মেনে নেবে কেন? তাই জনগণের অকল্যাণে যাতে গণতন্ত্র ব্যবহৃত না হয়, সেজন্য আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার সহ মানুষের সার্বিক সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে নিতেই হবে আগামী দিনের মানুষকে।

স্রষ্টাকে যে স্বীকার করেনা তাকে কাফির বলব না বরং কাফির তাকেই বলব যেজন সত্যকে অস্বীকার করেছে এবং অন্যায় অত্যাচারে মানুষকে জর্জরিত করে মানবতাকে পর্যুদুস্ত করেছে। স্রষ্টার আদালতে তার কি হবে জানিনা তবে মানুষের যদি কোন সত্যিকার আদালত থাকে তবে তাকে সেখানে আসামীর কাটগড়ায় দাঁড়াতেই হবে। উপরের অংশটি ডাঃ এম এ শুকুরের গ্রন্থ থেকে খন্ডিতভাবে টুকে নেয়া ।

(লেখাটির রচনাকাল ৮ আগষ্ট ২০১৯ সাল)।

নিউইয়র্ক ভিত্তিক দি রানার নিউজ এ কলামটি ছাপা হয় ১৬ আগষ্ট ২০১৯ তারিখে।

রাজনীতি – ষড়যন্ত্র, ধর্ম, আন্তর্জাতিক ও স্মৃতিচারণ। এখানে মোট = ১৩০ + লেখার লিংক দেয়া হলো

রাজনীতি – ষড়যন্ত্র, ধর্ম, আন্তর্জাতিক ও স্মৃতিচারণ। এখানে মোট = ১৩০ + লেখার লিংক দেয়া হলো

দাদাগিরির দাবড়ানি

নাজমা মোস্তফা

পড়শি বলা হয় তাকে যে সবচেয়ে কাছে থাকে, আপদে বিপদে সাহায্যকারী, মূল্যবান নিকট প্রতিবেশী। অনেক শাস্ত্রেই পড়শির মান মর্যাদা অনেক। তার ডাকে সাড়া দিতে হয়, তার সাথে ভালো ব্যবহার করতে হয়। প্রয়োজনে নিজের খাবারটাও তাকে শেয়ার করতে হয়, নাহলে ধর্ম টিকে না। কিন্তু দাদাবাবুদের ধর্মে ওসবের মূল্যায়ন কেন জানি এত নীচে নেমে গেছে যে বলার মত না। পড়শির আচরণ বিতর্কীত হলে জীবন অরক্ষিত হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে।

১৩ জুলাই ২০১৯ রয়টার্সের একটি খবর “কাশ্মীরে হিন্দু বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা বিজেপির”। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরে হিন্দু সংখ্যা বাড়াতে এ প্রয়াস। কাশ্মীর উপত্যকা ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই দাবী করে। এ নিয়ে দুবার যুদ্ধও হয়। সেখানে ৭০ লাখ মানুষের মাঝে ৯৭% মুসলিম। হাজার হাজার ভারতীয় সৈন্য তাদের সামাল দিতে ব্যস্ত। গত তিন দশকে ৫০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। হিন্দু পুনর্বাসনের এজেন্ডা বিজেপির বহুদিনের স্বপ্ন। এ অঞ্চলের স্বাধীনতাকামীরা এটাকে ফিলিস্তিন অঞ্চলে ইসরাইলী বসতির সাথে তুলনা করছে। সঙ্গত কারণে পরিস্থিতি গরম হচ্ছে পুলিশের তৎপরতা বেড়েই চলেছে। মুসলিমদের উপর খড়গও বাড়ছে। স্বাধীনতাকামী হুররিয়াতের ওমর ফারুকি বলেন, এসব করে এ উপত্যকাকে হত্যা করা হবে।

দেখা গেছে অতীতেও সংকীর্ণতার উদাহরণ রেখেছে সমাজের নামী দামীরাও। মুসলিম প্রধান কাশ্মীরে হিন্দু বসতি স্থাপন করে শায়েস্তা করার মত একই ধারার প্রবণতা রবীবাবুও এককালে দেখিয়েছিলেন। শিয়ালদহ জমিদারী এলাকায় যেখানে প্রায় সব প্রজাই মুসলিম সেখানে গরু কুরবানী নিষিদ্ধ করা এবং একতরফা খাজনা বাড়িয়ে তা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে সেখানে নমশুদ্র প্রজাপত্তন করেছিলেন খোদ রবীন্দ্রনাথ নিজে (বাংলা একাডেমীর ত্রৈমাসিক উত্তরাধিকার ১৩৯৩ দ্রষ্টব্য), এসবে কি তার বিশাল মনের উদার সুকর্মের কোন প্রমাণ ফুটে? বরং বলা যায় এরাই বিজেপির মতই বড়দাগের আসামী, এ যাবৎ তোষের ঐ আগুনে এরা যুগে যুগে তা দিয়ে গেছে। মুসলিম বিদ্বেষী অসংখ্য প্রমাণ কবির লেখনীতে জমা আছে। তবে কৌশলে আজকাল ওসব চেপে রাখা। পূর্ব বাংলার মুসলিমরা যাতে শিক্ষিত হতে না পারে সেজন্য ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় সৃষ্টির বিরোধীতা করতে একের পর এক ১৮ বার স্মারক লিপি দেয়ার নেতা আর গড়ের মাঠের বিশাল প্রতিবাদ সভার সভাপতি রবীবাবু। বাংলাদেশের মানুষগুলো অতিরিক্ত অসাম্প্রদায়িক যার জন্য তারা ঘোলের জল বেশী খাচ্ছে। অকারণে অতি ভক্তি কোন ভালো গুন নয়। ইতিহাস বিমুখীনতা ইতিহাস না জানা বড় অপরাধ, এসব জাতিকে সুপথ না দেখিয়ে পথহারা করে।

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন কট্টরপন্থী এক সাম্প্রদায়িক মানুষ যাদের কুটিল নেতৃত্বের কারণে ভারত আজ অবদি তুষের আগুণে পুড়ছে। কিন্তু মিথ্যার দালাল নষ্টরা মানুষকে বিভ্রান্তির পথে ঘুরায় সত্যকে চাপা দেয়, মিথ্যায় রসদ জোগায় সবদিন। দুর্গন্ধ ঢেকে রাখলেও আগুনের হলকা আজও বহাল, প্রমাণ হয়ে মানুষের রক্ত গঙ্গা বইছে। এই বিজেপি কর্মকান্ড ঐ একসূত্রে বাঁধা গাটছড়ার আর এক নাম। এরা কবিতায় বড় কবি হলেও ময়দানে সুকর্মে ভয়ংকর কৃপণ। আজও ঐ ধারাবাহিকতা চলমান; সংকীর্ণ অমানবিক, অনুদার, সাম্প্রদায়িক, কুটিল আচরণ ধন্য তারা। যেখানে মুসলিম লেখক কবি সাহিত্যিকরা দার্শণিক সমাজপতিরা ওটি শিখেনি বলেই তাদের আচরণ সবদিন উদার মানবিক।

কাটাতারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে নানা কৌশলে ঠিকই অস্ত্র আসছে (১৪ জুলাই, মানবজমিন)। যদিও ফেলানীরা আটকে যায়, গুলি খায়, বিচার পায় না। স্বাধীনতার দাসসুলভ খেসারত এসব। সীমান্তের গরীব ভারতীয়রা অল্প টাকায় এসব অস্ত্র কারবারীদের হাতে পৌছে দেয়। অস্ত্র প্রস্তুতের জন্য গড়ে উঠেছে ছোট ছোট কারখানা, অল্প টাকাতেই অল্প দামের প্রতিবেশী চোষার ব্যবসা চলছে। কাঁটাতারের বেড়া যেন বলছে সব বাংলাদেশীরা চোর বাটপার, সীমান্তের ওপারে যারা থাকেন সব সাধু। তাদের এ ছলনার সাজগোজ সুর সুর করে চলে যায় অপরাধীর হাতে, এসব হচ্ছে সোনাবন্ধুর স্বাধীনতা নামের কারসাজি। এভাবে দুধকলা দিয়ে সাপ পোষে দেশটির মজ্জা চোষে খাচ্ছে, ইয়াবা গেলাচ্ছে, ফেনসিডিল, পাতার বিড়ি আর কি চাই যত ধরণের ধ্বংসাত্মক জীবন বাজি রাখা অপদার্থ সবই গিলছে বাংলাদেশীরা। ভারত এটি কেন করছে এর মূল কারণ এরা নীতির বদলে চলে চানক্য তালে, যত পার শোষন নির্যাতন চালিয়ে যাও আর নিজের আখের গোছাও। আল্লাহর ভয় কম, হয়তো তাদের ভরসা তেত্রিশ কোটি দেবদেবীরা তাদের সামাল দিবে। কিন্তু ইসলামে অপরাধীর জন্য কোন ছাড় নেই। আল্লাহর বেটাবেটি কেউ নেই, দেবদেবীও নেই। শুধু এ কারণেই মুসলিমদের বড় পার্সেন্ট অসাম্প্রদায়িক, নিজের ভয়ঙ্কর পরিণতি গুণে নিজেরা শংকিত হয়। আর বাকীরা যারা শুধু নামে মুসলিম কাজে মোনাফিক, মোনাফিকের ঈমান নড়বড়ে তাই পাপ করে উৎসাহ নিয়ে। মুমিন, মুসলিম, মুনাফিক এরা তিন ধারায় চিহ্নিত। মুমিনরা উৎকৃষ্ট, মোনাফিকরা নিকৃষ্ট।

সাগরে বাংলাদেশী জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ, দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারতীয়রা (১৩ জুলাই ২০১৯, নয়া দিগন্ত, শরণখোলা, বাগেরহাট সংবাদদাতা)। অন্যের সম্পদে একমাত্র ডাকাতের ভাগ থাকে। কোন সুস্থ জাতি মানুষের এটি ভাবা সুস্থতার লক্ষণ নয়। ভারত মূর্তিপূজক জাতি হলেও একজন নিরব দ্রষ্টা যে সব অবলোকন করছেন সেটি আস্তিক মূর্তিপূজক সবার জানা। ফেসবুকে গরুর গোশত খাওয়ার ছবি দেয়ায় ভারতে মুসলিম যুবকের ওপর হামলা, (নয়াদিগন্ত, ১৩ জুলাই ২০১৯)। তার মানে ভারত এমন অদ্ভুত গণতন্ত্রের দেশ যেখানে একজন মুসলিম নাগরিক আল্লাহর নির্দেশিত পথে খাবার খাওয়ার অনুমতিও তার নেই। এ ধারার খবর প্রায়ই দৃষ্টিগোচর হয়। এটি করে বাংলাদেশে হিন্দুদের পূজা পার্বন বন্ধ করে দেয়ার ম্যাসেজ কি তারা বিলি করছে? তাদের বার বার ভাবা উচিত মহান বাংলাদেশীরা কত সহনশীল ও উন্নত আচরণধন্য, যেন ধৈর্য্যের হিমালয় এরা।

হিন্দু মুসলিম এ দুটি ধর্ম নিয়ে স্বাধীনতার আগে থেকেই ভারতীয় উগ্রবাদীরা দাঙ্গাবাজ। সম্প্রতি বয়সে কিছু বড় ছেলেরা ছোটদের কাছ থেকে তাদের খেলার ক্রিকেট ব্যাট কেড়ে নেয় এবং ‘জয় শ্রীরাম” শ্লোগান দিতে অস্বীকার করলে ঐ ব্যাট দিয়েই তাদের মারা হয়, এতে কয়েকজন ছাত্রের মাথা ফেটে যায়। কথা হচ্ছে এতে কি ধর্মে শ্রীরামের বিজয় লাভ হয়? ভারত কেন যেন তার সংকীর্ণতাকে পরিহার করতে পারে না, লজ্জাস্কর ভাবে ধরা খায়, বারে বারে। অপরাধের দাগী আসামীরা ময়দান চষে মজা নিচ্ছে। দেখা যায় এসব হচ্ছে মানুষের পাশবিক আচরণ। ট্রেনে উঠে জয় শ্রীরাম বলে দলবেধে যাত্রীদের মারধর করা, উত্তপ্ত বীরভূমের বাতাসপুর স্টেশন, উত্তপ্ত হয় মুর্শিদাবাদের কান্দি। তারা চায় তাদের অনুমোদিত ভোগ্যপণ্য মুত্র গোবর এসব মুসলিমরা খাবে আর শ্রীরামের গানা গাইবে! এর নাম কি ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র? বকধার্মিক মোদির সরকার হিন্দু ধর্মকেও কবরস্থ করছে। ভারতের খান্ডওয়া নামক জায়গায় গরু বহনের অভিযোগে ২৪ জনের একটি দলকে হেনস্থা করা, কান ধরে উঠবস করানো ও জোর করে ‘গো মাতা কি জয়’ বলানো। মুসলিমদের পরকাল থাকলেও পরজন্ম যেমন নেই, কীট পতঙ্গ গরু ছাগল হওয়ার সুযোগও তাদের নেই। স্বভাবতই গরু তাদের উৎকৃষ্ট প্রাণিজ খাদ্য এবং সেটি বিধাতা প্রদত্ত। কিন্তু মোদির ভারতে বিধাতাও প্রশ্নবিদ্ধ!

বলা হয় ভারত একটি গণতন্ত্রী রাষ্ট্র। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ভারতের সহযোগিতায় সেই কবে চুলায় গেছে। ভারত সবদিনই প্রতিবেশী গঞ্জনাকারী হিসাবে নামকরা অবস্থানে আছে। বছর কয় আগে ভারতের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদে এটি ষ্পষ্ট করেন যে, তাদের প্রথম সংবিধানে সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল না। পরে ভারতের স্বাধীনতার ২৯ বছর পর ১৯৭৬ সালে তাদের সংবিধানের ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে সেটি সংযোজন করা হয়। এ হচ্ছে তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার নমুনা। মনে রাখার বিষয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোনদিনও ধর্মনিরপেক্ষতার খোলসে হয়নি। প্রায়শ অনেককে বলতে শুনি মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতার উপর, এটি একটি চরম মিথ্যা কথা। মুক্তিযুদ্ধে ধর্ম কোন ফ্যাক্টর ছিল না। এটি মূলত ছিল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান এ দুয়ের ভাগাভাগির লড়াই। পাকিস্তানীদের সাথে বিরোধ ছিল অর্থনৈতিক বিরোধ, ধর্মের কোন বিরোধ এদের মাঝে ছিল না। কিন্তু কৌশলী ইন্দিরা সেটি এ দেশের ঘাড়ে ষড়যন্ত্রের নামে যুক্ত করে দেন ১৯৭২ সালে, নিজ দেশ ভারতেরও চারবছর আগে। এসব ষড়যন্ত্রের সূতা নাতা সচেতনকে সবদিন ভাবায়। সাম্য, ন্যায়পরায়ণতা, মানবিক মর্যাদা এসব ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল নীতি। যদিও ভারতীয় অনুকরণের ধর্মনিরপেক্ষতা হচ্ছে ইন্দিরার চাপিয়ে দেয়া নীতি যার কঠোর প্রতিবাদ করে গেছেন মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলিল তার গ্রন্থে। সচেতনের জন্য থরে বিথরে রসদও জমা আছে সেখানে। মেজর জলিল নিজে ছিলেন প্রথম রাজনৈতিক বন্দী, প্রথম বিজয় দিবসে বুঝতে পারেন স্বাধীনতার মর্মজ¦লা কত বিভৎস ও ভয়ংকর হয়ে জাতির জন্য অপেক্ষা করছে। দূরদৃষ্টির অধিকারী ঐ মুক্তিযোদ্ধার লেখা বইটির নামকরণই দেশটির বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করে ম্যাসেজ বিলি করে যাচ্ছে, বইটির নাম “অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” ।

২০ ই জুলাই ২০১৯।

 

 

 

Tag Cloud