Articles published in this site are copyright protected.

Archive for January, 2019

আওয়ামী লীগ এরা কারা, এরা কি মানুষ?

নাজমা মোস্তফা

শিরোনামের নামটি কঠিন শুনালেও এটি বাস্তবতা। এ নামটি ছিল তাদের নিজের অর্জন। মুসলিমদের বিশ^াসকে বলা হয়  ঈমান, এর উপর ভর করে তাদের জীবন চলে। তাদের ধর্মের নাম হচ্ছে ইসলাম, অর্থ শান্তির ধর্ম, আত্মসমর্পণের ধর্ম, তারা এক আল্লাহতে ঈমান জমা রাখে। এ আত্মসমর্পণ কোন নকল শক্তির কাছে নয় বরং অদেখা আল্লাহর কাছে সমর্পণ। কোনদিন তাকে তারা দেখেও নাই, তারপরও ঐ জমা আত্মায় অন্তরে বাধা। দেখা যায় যখনই কেউ মিথ্যা কথা বলে, তাদের বলা হয় বে-ঈমান। দেশীয় বাংলাভাষীরা মিথ্যুকদেরে এ নামে ডাকে। যদিও এ ধর্মের শুরু থেকেই এদের পিছু নেয় শত্রু পক্ষ। ওরাই এদের নতুন নামকরণ করতে চায় টেররিষ্ট অর্থে সন্ত্রাসী হিসাবে, এটিও আর একটি পরাশক্তির গভীর মিথ্যাচারের ষড়যন্ত্রী নমুনা। এ ধারা চলে আসছে প্রথম থেকেই যুগে যুগে প্রতিপক্ষ ফেরাউন নমরুদ সাদ্দাদ কুরাইশ ও দেশী বিদেশী সত্য বিরোধী অপশক্তি। এরা কোন যুগেই সত্যের শক্তিকে নীতিকে সইতে পারেনি। যুগে যুগে এ সত্য ধর্মকে কোনঠাসা করতেই এ অপকর্ম চলছে সেই চৌদ্দশত বছর বা তারো বহু আগে থেকেই। দূর্বল ও নড়বড়ে ঈমানের মানুষরা অকপটে মিথ্যাচার করে চলে, এত বড় অনাচারেও কোন শংকা বা পাপবোধ তাদের জাগে না। এর কারণ এরা বিতাড়িত এরা সত্যের শত্রু। এদের আরেক নাম মোনাফেক। কুরআনে ঐ নামে একটি সুরাও আছে, এরা এই ধর্মের ভিতরেই বসবাস করেও পরিশুদ্ধ নয়। তাদের কৃতকর্মই স্পষ্ট করে এরা কারা। এরা প্রকৃত অর্থে স্বভাবে শুদ্ধ, মুমিন ও সৎ মানুষ নয়। নীচের এ মিছিলটিতে ক্লিক করে দেখে নিন। এটি ১৯৬৯এর আন্দোলনের ছবি নয়, এটি হচ্ছে ২০১৮ সালের জনতার গণজোয়ারের চিত্র।

                           এই মিছিলটি দেখুন আপনার চোখ জোড়ায়ে যাবে

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরী করলেও ঐ যুদ্ধে শরিক ছিলেন না শেষ মুজিব নিজে বা তার মেয়ে। কিন্তু কিছু সময় গড়ালে তিনি এমন সব কর্মের পরিচয় রাখেন যাতে জাতি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে, গণতন্ত্রকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করে স্বৈরতন্ত্রের দিকেই ঝুকে পড়েন। প্রেসিডেন্ট আইয়ুবকে সরিয়ে তিনিই যেন আইয়ুবের দোসর হয়ে উঠেন। এক সাধুকে বলতে শুনতাম তিনি বলতেন শেখ মুজিব নিজে আত্মহত্যা করেছেন। তার কর্ম তার চাটুকারদের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি তাকে ঐ পরিণতির দিকে ছুড়ে দেয়। যার জন্য আওয়ামী লীগের সদস্যরাই তাকে ঐ শাস্তি দেয়, তারাই তাকে ফেরাউন বলে ডাকে। মুজিব ও জিয়া দুজনাই ছিল এ জাতির অনেক সম্মানীত জন। শেখ মুজিবের মৃত্যুর বেশ পর বিএনপির জন্ম হয়। মানুষ মরলেই বলা হয় একজনের আমলনামা তার সামনে এসে দাড়ায়। প্রায়শই মরার দিনই অন্য সাধারণ মানুষ বলে দেয় লোকটি কেমন ছিল।

 লালখান বাজার সুষ্ঠ নির্বাচনের নমুনা দেখুন জনগনের আহাজারি

 

২০১৮এর ভোটের দুটি কথা: নির্বাচনের প্রশ্নবিদ্ধ ফল নিয়ে উদ্বেগ টিআইবির, বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবী। বিরোধীরা নির্বাচন বর্জন করেছে। ডয়চে ভেলে  ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮ তারিখের বক্তব্যে প্রকাশ ভোটে বাক্স ভরেছে, কিন্তু ভোটারকে ভোট দিতে হয়নি। সত্য দেখব না, শুধু বলব সব ঠিক – চমৎকার সুষ্ঠু। খুলনা ১ আসনের মোট ভোটার থেকে ২২ হাজার ৪১৯ ভোট বেশী পড়ে গেছে (তড়িঘড়ির বেখেয়ালে ডাকাতির দাগ)। বিবিসি বাংলার প্রমাণ ব্যালট বাক্স অর্ধেক ভরে ধরা খাওয়া। প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগকে অস্বীকার করে নির্বাচন কমিশন বলেন এসব অসত্য। ভোটাররা গোপনকক্ষ পায়নি। নির্বাচনের আগে সাংবাদিকদের পেটানো, গাড়ী ভাংচুর দৈবক্রমে সেটিও টিভিতে ধরা খেয়ে যায়, পত্রিকায়ও আসে। নির্বাচনের দিন তাদের এটি নেই সেটি নেই বাহানার আড়ালে ভোটকে জনতার কাছ থেকে ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকদের থেকেও দূরে সরিয়ে রাখা হয়। তারা নাজেহাল হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সাংবাদিকদের হাতে অপকর্মে ধরা না খাওয়ার তৎপরতায় ছিলেন। বিদেশী পর্যবেক্ষকদের সহযোগিতার বদলে নানান প্রতিবন্ধকতার যোগান দিতেই তিনি ব্যস্ত ছিলেন। ভিসা বাতিল করে আগেই তাদের রুদ্ধ করা হয়। যারা এসেছিলেন মোবাইল জটিলতায় ইন্টারনেট হীনতায় তারাও বেকায়দায়,  সম্প্রতি স্পষ্ট হয়েছে যে ওসবও সরকারের সাজানো পর্যবেক্ষক দল,  মিডিয়ার মুখ সিল করে রাখা হয়েছে বিরাট অঙ্কে।   যাক হাসিনা ও তার পরিবারের লোকজন খুব খুশী। বিজয়ের মাসে বাড়তি বিজয় দেখছেন। এত কিছুর পরও অদেখা বিধাতাকে সরকার বা তার দলবল হিসাবে নেয়নি। সুরা ক্বাফের ১৮ আয়াতে বলা হয়েছে “সে কোন কথাই উচ্চারণ করে না যার জন্য তার নিকটেই এক তৎপর প্রখর প্রহরী নেই” (সুরা ক্বাফ এর ১৮ আয়াত)। সরকার নকল ভোটে বিজয় জিতে নেয়াতে মহাখুশী, কিন্তু মদীনার সনদে এসব অনাচার স্বীকার করে না। জনতার ভোট ডাকাতী করে গদির লোভ ইসলামের গন্ডিতে স্বীকৃত নয়।

দক্ষ চোরের সাথে সাধুদের এক পাল্লাতে মাপা যায় না। তাই বলে একজন তার সাধুতা ছেড়ে দিয়ে চোরের বা ডাকাতের দলে মিশে যেতে পারে না। ইসলাম কখনোই ডাকাতের সাথে হেরে যায় নি। এবারও বাংলাদেশের জনতারা হারে নাই, হেরেছে শয়তানি শক্তি, সরকার সমস্ত জাতির সামনে একদম উলংগ হয়ে পড়েছে। নীতি হচ্ছে কেউ চোরের সাথে হেরে গেলে, তাকে আরো কঠিন মনোবলে মনকে শক্ত করতে হবে। সম্প্রতি ইলেকশন হয়ে গেল, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যার বিচার ব্যবস্থা, সাংবাদিকতা, শিক্ষা ব্যবস্থা, মিডিয়া সবই ভয়ংকরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও শৃংখলিত। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও আজো ভারতের ইন্ধনে দেশটি বিধ্বংস অবস্থানের দিকে ছুটেছে। ভারতের অতি নাচানাচি স্পষ্ট দেখা যায়। এদেশের কোন খানেই ন্যায়বিচার বা সুষ্ঠ অবস্থানের উপায় নেই। জাতিকে সাইরেন ধ্বনি বাজিয়ে শুনিয়েছেন অনেকেই, এর একজন হচ্ছে মতিয়ুর রহমান রেন্টু, বিগত শতকে তিনি তার জীবন্ত লাশের উপরে বুকে বল নিয়ে অকপটে এ সত্য বিলি করে নিজের ফাঁসি চেয়ে বই লিখেছেন “আমার ফাঁসি চাই”। এত জানার পরও সজ্ঞানে নিরবতার শাস্তি স্বরুপ তিনি তার নিজের ফাঁসি প্রথমে চান, পরে মুজিব ও তার কন্যার ফাঁসি জোর গলাতে চেয়েছেন। ঐ সময় বিগত শতকেই তার এ হুকুমনামা তিনি জারি করেছেন আর এবার ২০১৮ পর্যন্ত অপরাধির ফাঁসি হাজার বার কার্যকর করলেও কম হবে মনে হয়।

রেন্টুর মতই বিদগ্ধ জন এদের একজন হচ্ছেন সিলেটের একজন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি তার ফেসবুকে এভাবে বেশ কিছু কষ্টের কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, কি লাভ হলো আমি সারা জীবন অপকর্ম করেছি ঐ দলবাজী করতে গিয়ে নিজের নীতিকে বিসর্জন দিয়েছি। জীবনে নিজের জন্য তেমন কিছুই করলাম না, কিন্তু এর ফাঁকে তিনি তার সততাকে যে ভয়ংকরভাবে কবর দিয়ে গেছেন ঐ আক্ষেপ ফুটে উঠেছে তার কথাতে, তারিখটি এ বছরের জুলাই ৩১, ২০১৮। কিভাবে তারা অপকর্ম করতেন আর ভুলভাবে মানুষকে বেশী ভোট পাইয়ে দিতেন তা স্পষ্ট করেন। তিনি স্বীকার করেন এভাবে তিনি জীবনে অনেক খারাপ করেছেন। এবার ভাবছেন কি লাভ করেছেন এসব করে। বাঘ যখন ক্ষুধা পায় তখন তার বাচ্চা সে খেয়ে ফেলে। এটি আওয়ামী লীগও করে সময়ে সময়ে আমরা জানি, এটি আওয়ামী বাঘের স্বভাব। হয়তো এরকম কোন কষ্ট থেকেই তিনি এ আক্ষেপ করেছেন। আল্লাহকে হাজির নাজির জেনেই আমি এ কলামটি লিখছি। তাই আমার যুক্তিতে প্রতিটি দেশবাসীকে সাক্ষী রেখেই সত্যের স্বপক্ষে থাকতে অনুরোধ করছি। আপনারা যে দলই করেন মিথ্যার বেসাতি করে বাঁচতে পারবেন না। যদিও মনে করছেন আজ দন্ডের জোরে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন, আল্লাহ বলেন, আমি তোমাদের কন্ঠ শিরার আরো নিকটে রয়েছি (সুরা ক্বাফএর ৫০: ১৬ আয়াত)। আপনার প্রতিটি কৃতকর্মই সিসিটিভির আওতায় আছে। অতি বাড়াবাড়ির সুযোগ বড় অল্প দিনের। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারও ধর্মের খানাখন্দক চষে বেড়ায় নাই, নইলে তারাও শংকিত হত তাদের এ নিকট জনের এতসব আস্ফালন দেখে। নাহলে তারা নিজেরাও বাঁচতেন তাকেও বাঁচাতেন।

রেন্টুর বই থেকে আমরা জানি জাফর ও জয়নাল দুজন ছাত্র শেখ হাসিনার বহু আকাঙ্খিত লাশ। সেলিম ও দেলোয়ার রায়ট পুলিশের লরির চাকার নীচের লাশের জমা। ছাত্রলীগের এসব নেতার মৃত্যুতে পুলকিত নেত্রী বলে উঠেন “সাবাস”! নেত্রীর কথা জিয়া তো শেষ! এরশাদ নয় বিএনপিকে চিরতরে শেষ করে দেয়া আমাদের কাজ। কারণ জাতি বিধ্বংসী ঐ প্লেন নিয়ে তিনি মাঠে নেমেছেন, অন্যদের দাবার গুটি হয়ে। এবারের মাঠেও সম্ভবত ভোটের দিনেই কিছু আওয়ামী লীগের মানুষ মারা যায়, আমার কেন জানি মনে হয়েছে এদেরে মেরে ফেলার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছে যার জন্য আগে থেকেই বলা হচ্ছিল যে হাসপাতালগুলি রেডি করে রাখা হয়েছে। আর ঐক্যফ্রন্টের যারা মারা যাচ্ছে এদের মারা যাওয়াটা তাদের বহুদিনের এ খুনীদের ধারাবাহিক পরিকল্পনার অংশ। আর আওয়ামীরা কিছু মারা না গেলে অন্যদেরে দেখানো যায় না বিরোধী জোট খারাপ, আক্রমণাত্মক আচরণ করছে। তবে কোন সময়ই মনে হয়না ঐক্যফ্রন্টের কোন ছেলেপেলে ইচ্ছাকৃত এসব করবে। কারণ এদের নেতারা খুবই পরিশীলিত আচরণের অধিকারী, তারা একজনও তাদের শিষ্যদেরে এসব ট্রেনিং দিবেন না, বরং বারে বারেই তাদের দলের সদস্যদের শান্ত থাকার কথাই বলতে শুনেছি। বরং বলা যায় এরা আগাগোড়া যে কঠিন সংযমের পরিচয় দিল, তার জন্য তারা আল্লাহর কাছে অবশ্যই বহুগুণে পুরষ্কৃত হবে। এরা মরলেও মহা সম্মানের ভাগিদার হবে। তবে সরকারী দলের সদস্যদের ভাগে সে সিকে ছিড়ার কোন যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। বিবেককে প্রশ্ন করলেই সঠিক উত্তরটি পেয়ে যাবেন।

কিন্তু হাসিনা যে তার দলবলকে খুনের হত্যার এসব ট্রেনিং দেন, এটি স্পষ্ট। লগি বৈঠার তান্ডব নৃত্যের প্রকাশ্য মার সবই আল্লাহর সিসিটিভিতে জমা আছে, আর এসব প্রচার মিডিয়াও লুকাতে পারে নাই। এমন কি এই ভোটেও তিনি প্রকাশ্যে বলে বেড়ান যে টাকা নিবে ধানের শীষ থেকে আর ভোট দিবে নৌকায়। একজন নেতার মুখে এমন কথাই স্পষ্ট নির্দেশ করে তাকে কোন দলে ফেলা যায়, এবং তার অপরাধ থেকে সরে যাওয়ার আর কোন অবকাশ নেই। ওটি লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে সাথে সাথে তিনি যাই তার মুখ দিয়ে বের করেছেন সাথে সাথে তা আল্লাহর স্পষ্ট নজরদারীতে এসে গেছে।  রেন্টুর মত হাসিনার আর এক দোসর সিনহা বাবুও অকপটে ঐ সত্য স্বীকার করেছেন তার “দ্যা ব্রকেন ড্রিম” ভাঙ্গা স্বপ্নের বইটিতে। এখানেও অনেক অপরাধের সহযোগী হলেও সরকারের বিরুদ্ধে অনেক বিতর্কীত অপকর্মী কথাই তিনি বলার চেষ্টা করেছেন।

এভাবে আওয়ামী লীগের অনেক বিদগ্ধ জন আছেন যারা অপকর্মের সাথে নিজেকে বড় সময় মেলাতে পারেন নাই। এদের একজন হচ্ছেন রেজা কিবরিয়া, গোলাম মওলা রনি, সুলতান মনসুর আর অতীতে ঐ দলকে গুড বাই জানিয়েছেন প্রায় প্রতিটি বিএনপির সদস্যরাই। কারণ প্রাজ্ঞ অভিজ্ঞরা একদিন সবাই আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় রাজনীতি করলেও স্বাধীনতার শুরুর সময় থেকেই ওদের অনাচার দেখে দেখে অতিষ্ট হয়ে ওখান থেকে ছিটকে দূরে সরে যান। প্রথম মুজিবকে মালা দিলেও শেষের মুজিবকে দেখে মানুষ কষ্ট পেয়েছে। কারণ ওদের আদর্শের সাথে নীতির সাথে অনুসারীদের মেলে নাই। ঐ কারণেই তারা ছিটকে বের হয়ে যায়। আর যারা কোন আদর্শের তোয়াক্কা করে না তারা কিছু বেতালরা আজও ওখানে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। তবে কেন জানি মনে হয় এই থেকে যাওয়া মানুষরা সংখ্যায় বড় অল্প। সারা দেশে তাদের এবারের ভোট ডাকাতী এর একটি বড় প্রমাণ। ঐ পশ্চাৎপদ দলের সদস্যরা খুব বেশী নেই। দেশের জনতারা বেশীর ভাগ বিবেকসম্পন্ন মানুষ, সুস্থ মানুষ। কথাটি আমার যুক্তিতে নয়, আমি কুরআনের যুক্তিতে বলার চেষ্টা করেছি। বিবেচনা আপনাদের আপনারাই এটি ঠিক করে নিবেন। কারণ তাদের আচরণই তাদের ঠিকানা বাতলে দিয়েছে। এটি নির্ধারণ করার সাধ্য আপনার আমার কারো নেই। প্রত্যেকের আমলনামাই নির্ধারণ করবে তিনি কোন দলে যাবেন।

মাশরাফি একজন স্বনামধন্য খেলোয়াড়। তিনি খেলোয়ার হলেও তার মানবিক সচেতনতা কম না হলে তিনি এরকম একটি অপকর্মী দলে ভিড়তেন না। এতে তিনি জাতিকে আরো পেছনের দিকে টেনে নিতে অবদান রাখলেন। তিনিও আশরাফুল মখলুকাত থেকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হওয়ার কারণেই তার বিবেকও জড়িত। তাই স্বভাবতই সঠিক অর্জন জমা করতে হলে তাকেও সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। সেটি করতে তিনি ব্যর্থ হলে এর খেসারতও তাকে মাপতে হবে। এ দলের অপকর্মের ভারও তার ঘাড়ে কমবেশী বর্তাবে, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। আমি জানি না কিভাবে তিনি এত দানব নৃত্যের মাঝে বিজয় উল্লাস করছেন? তিনি বুঝতেও পারছেন না কি খেলাতে তিনি নেমেছেন, তাকে তার নেত্রীর জাতি বিরোধী সকল অপকর্মের জন্য সকল অপরাধ স্বীকার করার উদ্যোগ নিতে হবে। অতীতে প্রাইভেট সেক্রেটারী (কর্মচারী) রেন্টু বারে বারে এটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন, প্রথম যুগে নিশ্চয় তিনি বড় করে প্রতিবাদ করতে পারেন নাই বলে তিনিও ঐ সব অপকর্মের সহযোগী থেকেছেন এবং ১৯ বছর পার করতে পেরেছেন সহযোগী হিসাবে। শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরে এসে অন্তত নিজেকে একজন মানুষ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। যদিও আল্লাহর বিচার খুবই সুক্ষ্ম হবে, এখানে কারো প্রতি কোন অবিচার করা হবে না। সবার প্রতিফল সঠিকভাবে পাওনা হবে।

মতিয়ুর রহমান অনেক অদেখা স্পষ্ট করে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তার বইতে। সবচেয়ে বড় কথা একদিন সবাইকে তাদের প্রতিটি কর্মের ও অপকর্মের জবাব দিতে হবে। আজও যদি ঐ অপকর্মীরা ফিরেও আসে তবু একজন নির্মল মানুষের ভালো মানুষের মত তারা বিবেচিত হবে না কোনদিনও। তারপরও ফিরে আসলে অন্তত তারা হয়তো মানুষের দলে নাম লেখাতে পারবে। ঐদিন কোন লীগের সার্টিফিকেট তাকে পথ দেখাবে না। মেয়েরা শত ব্যস্ততার মাঝেও ভোট দিতে গিয়েও ভোট দিতে পারে নাই। হাসিনাকে গালি দিতে দিতে ভোটের সেন্টার থেকে ফিরে গেছে।  দেখলাম আনসার অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জানা গেল কিছু বেকারকে দুদিনের জন্য ভাড়া করা হয়েছে এ কাজটি করার জন্য। একটি সেন্টারে দেখলাম তিনজন মহিলা অবিরামভাবে সিল মারছেন। ভোটের শুরুতেই চট্টগ্রামের লালখানবাজারে ভোটে ভরা একাধিক বাক্স নিয়ে ছুটাছুটি করার সময় ধড়া পড়ে মানুষের দৃষ্টির মাঝে, ইনি ছিলেন বিবিসির এক সংবাদদাতা, তারা মনে করেছে তিনি তাদের গুন্ডা দলের নেতা। তাই ভোটের আগেই নিশ্চিন্তে সকাল সাড়ে সাতটাতে সব কিছু ঠিকঠাক করছিল ঐ অবস্থায় ধরা খায়, নয়তো তারা তাকে কোনসময়ই ভিতরে ঢুকতে দিত না। এসব হচ্ছে নিরব দ্রষ্টা আল্লাহর কাজ। কোন কিছুই লুকানো যায় না। যেটি দৈবাৎ এক দুর্ঘটনার মতই অনেক না বলা কথা স্পষ্ট করেই বলে দেয়। ডাঃ কামালসহ সবাই বলছিলেন আগের রাত থেকেই তারা সারা দেশ থেকে এসব খবর পাচ্ছিলেন অসংখ্য জায়গা থেকে। কারণ বহুল অধ্যুষিত মানুষের দেশ কোন অপকর্মই লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। এভাবে সবই ওপেন হয়ে পড়ে। কিন্তু এরকম যে হতে পারে অত গভীরে এসব সাধুরা প্রবেশ করেন নাই। এখন দেখা যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি সেন্টারে একই আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। অনেক সেন্টারে দেখা যায় মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে ঠিক কিন্তু লাইন হাটছে না। এরা মূর্তির মত নকল লাইন হয়ে আছে।

নির্বাচন কমিশনের কথা ছিল সেনাবাহিনী মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকবে। যদিও সবাই মনে করেছে এরা কিছুটা হলেও কাজ করবে কিন্তু না, দেখা গেল ওরা ঠিকই মূর্তির মতই অকর্মা হয়ে রইলো, চিরদিনের কলঙ্ক কাঁধে নিয়ে এরা জাতির নপুংসক প্রজাতি নামক এক কলঙ্ক দাগ হয়ে চিহ্নিত হয়ে রইলো। ষড়যন্ত্রকারী সরকারের কোন বাসনাই কিন্তু লুকানো থাকে নাই, সব খোলাসা হয়ে পড়েছে তাদের নেতাদের অতিকথনের সুযোগে। এমনকি কিভাবে বিশৃংখলা তৈরী করা হবে কিভাবে বিএনপি এখানে টিকে থাকতে পারবে না, ভোট বর্জন করবে এটি শুধু নেতারা নয়, প্রধানমন্ত্রীও সমান সুরে গানা গেয়েছেন সারা সময় তার স্বভাব সুলভ পরনিন্দায় ভরা চিকন সুরে।  এমন সব অপকর্ম তারা করবে সবই তাদের ছক আঁকাই ছিল। এটা নাই ওটা নাই বলে তাদের ভোট দিতে দেয়া হয় নাই। কোনভাবে কেউ ভোট দিতে চাইলে তাদের আগে বলতে হয় কাকে ভোট দিবে। আর ধানের শীষ জানলেই তাদের বের করে দেয়া হয়, বলা হয় তোমার ভোট দেয়ার দরকার নেই, আমরাই দিয়ে দেব। প্রায় সব কেন্দ্রেই এই অভিযোগ ছিল যে, ধানের শীষের কোন এজেন্টকে টিকে থাকতে দেয়া হয়না। এরা বেশীর ভাগই মুসলিম ঘরের সন্তান। হতে পারে কিছুরা অন্য ধর্মাবলম্বীও। কিন্তু কথা হচ্ছে এরা ধর্মটি মোটেও শিখে নাই বলেই এমন পশুবৎ আচরণ করতে পেরেছে। আজ তারা যা করলো তাতে তারা দেখিয়ে দিল তারাই হচ্ছে সমাজের শয়তান শক্তি, জিন শক্তি ও ইবলিস শক্তি। আমার বিগত কলামের নামটি ছিল কুরআনের দৃষ্টিতে এদের খুঁজে দেখা। ঐশী গ্রন্থ কুরআন থেকে মানব ও দানব চেনা সময়ের বড় দাবী  তবে আশার কথা হচ্ছে এরা সমাজের অতি ক্ষুদ্র একটি দল যারা ঐ অপনামে নাম লিখিয়েছে। এবং কুরআনের হিসাবে দেখা যায় এরা প্রত্যেকেই হবে জাহান্নামের বাসিন্দা। দুনিয়াতে যদি এদের পরিচিতি এভাবে স্পষ্ট হয়ে যায় তবে আক্ষেপ ওদের জন্য যারা ঐ দলে নাম উঠালো।

মক্কা বিজয় পূর্ব হুদায়বিয়ার সন্ধির পর মুসলিমরা অনেকেই নাখোশ ছিলেন পাছে তারা কি দূর্বলতার ছাপ রাখলেন কিনা? কারণ তাদের ঐ বৎসর হজ¦ করতে দেয়া হলো না। বলা হলো এবার চলে যাও, এই হজ¦ করতে না পেরে ফিরে আসাতে তারা নিজেদের অপমান মনে করেন কিন্তু আল্লাহ তাদের স্পষ্ট করিয়ে দেন যে, এটি হচ্ছে তোমাদের ফাৎহুল মুবিন। মানে মহান বিজয়। আপনারা আজ যদি নিজেরা শুদ্ধ থাকেন ও ঐ শয়তান দলকে চিহ্ণিতও করতে পারেন তবে এটিও আপনাদের জন্য অনেক বড় বিজয়, নিজেকে ইহ ও পরকালে জয় করার বিজয়। এই ভোট চুরির খবর সবার মুখে মুখে মনে হচ্ছে ১৭ কোটি মানুষই এটি স্বীকার করতে বাধ্য, এমন কি যারা এসব কর্মে হাত দাগিয়েছে ঐসব আওয়ামীরাও অকপটে এ সত্য স্বীকার করছে। কারণ তারাও ময়দানের বিবেক, তারাও যখন রেন্টুদের ও বাকীদের মত ক্ষুব্ধ হবে তখন অকপটে সব সত্য প্রকাশ করে দিবে তাদের সঠিক বিবেকের তাড়নায়। আমি আশা করবো আওয়ামী লীগের ঐসব নষ্ট আদর্শের লোকগুলি যেন আমার ঐ কলামটি পড়ার সুযোগ পায়। তাহলে অন্তত তারা বুঝতে পারবে তাদের পরিচয় আল্লাহ কুরআন শরিফে স্পষ্ট করে দিয়েছেন কিন্তু তারা ঘুমের ঘোরে আছে আর নাটক করে বেড়াচ্ছে কিন্তু হাতে সময় বড় অল্প।

অতি অল্প সময়ের মাঝেই আমাদের ফিরে যেতে হবে আমাদের অন্য এক ঠিকানায়। ইত্যবসরে সময় অনেক পার হয়েছে, ভোটের দিনও ১৬/১৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ দেখতে মানুষ কিন্তু আচরণে মানুষ নয়, মানুষ বলার কোন উপায় নেই।  এবারের নির্বাচন প্রমাণ করে দিল ২০১৪ সালের বিএনপির ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত ছিল কত সঠিক সিদ্ধান্ত, এ ক্ষেত্রেও খালেদা জিয়া গোটা বিশে^র কাছে এগিয়ে গেলেন আর আল্লাহর আদালতে সত্য পথের পথিকরা সবদিনই সম্মানের। শাস্ত্র মতেও দুই জাহানে এদের হারাবার কিছু নেই। আপনারা নিশ্চয় জানেন প্রাক ইসলামিক যুগে একজন শাসকও অকপটে গিয়ে কাজির বিচারে হাজির হতেন এবং কাজির বিচারের শাস্তি সাদরে মাথা পেতে নিতেন এর কারণ হচ্ছে তারা ভয় পেতেন যে সামনের আসল বিচারটি হবে আরো বহুগুণ ভয়ংকর সুক্ষ্ম বস্তুনিষ্ট এবং কারচুপিমুক্ত। তাই তারা সজ্ঞানে কখনোই অপকর্ম করতেন না, তারপরও সামান্য অপকর্ম চোখে পড়লেই তা শুধরে নেয়ার চেষ্টা করতেন। এটি হচ্ছে তাদের সঠিক সাধুতার প্রমাণ। এটিই একমাত্র ধর্ম যে ধর্মের প্রথম বাণীটি ছিল “পড়”। যে কাজটি মুসলিমরা সঠিকভাবে চর্চা করে নাই বলেই আজও জানে না ধর্মের বাণীতে কি লিপিবদ্ধ রয়েছে। সুক্ষ্মভাবে এটি জানলে পরিবার পরিজনসহ দেশের কোন সদস্যই পুলিশ, সাংবাদিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, খেলোয়াড়, রাজনেতা, শ্রমিক, কৃষক কেউই পথ হারাবার শংকায় পড়তেন না। অন্তত নিজেরাই নিজেদের সঠিক পথটি বেছে নিতে পারতেন। এর জন্য পিইএচডি ডিগ্রি নেয়ার দরকার ছিল না। দরকার ছিল মাত্র একটি সুশিক্ষিত সৎ বিবেকের। তাই বলা চলে ময়দানে যারা দৃশ্যত হেরেছে তারাই প্রকৃত বিজয় লাভ করেছে, দুই জাহানে তারা সুকর্মী ও সম্মানের ভাগিদার হওয়ার দাবী রাখে।

আজ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, বছরের শেষ দিন।

 

 

 

Advertisements

Tag Cloud