Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করতে তারেক রহমানকে নিয়ে একের পর এক নাটক বহাল রেখেছে বিগত অবৈধ সরকার। সম্প্রতি ভারতের দৈনিক যুগশঙ্খ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখের বরাতে জানা যায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এসব প্রেপাগান্ডা ছিল বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক। পত্রিকার প্রথম পাতাতে বড় হরফে লেখা “উলফা নেতাদের আশ্রয়ের অভিযোগ – খালেদা পুত্র তারেক জিয়াকে ক্লিনচিট পরেশ ও অনুপের।” তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তা ছিল মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসুত। এসব উল্লেখ করে উলফার কমান্ডার ইন চিফ পরেশ বড়–য়া ও সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া বক্তব্য দেন। দেখা যায় এ যাবত যত অপরাধে তারেক রহমানকে আসামী করা হয়েছে সবই বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক সরকারের নীলনকশা। চারদিকে গনজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে জনতার, যদিও তারা নির্বাচনী কাজে কোনভাবেই অংশ গ্রহণ করতে পারছে না। পুলিশ ও হলুদ সাংবাদিকরা দাসের মতই সংঘবদ্ধ প্রচারণার অংশ হয়ে বিরোধী পিটুনী ও মামলাতে ভোটের কাজ সারছে। অনেকেই আশংকা প্রকাশ করছেন ডঃ কামালকে মেরে ফেলতেও পারে। ২০ ডিসেম্বরে  নীতিহীন প্রধানমন্ত্রীর অভিনব ভোট ভিক্ষার প্রচার এভাবে ‘বিএনপি জামায়াতের টাকা নিবেন আর ভোট দিবেন নৌকাকে, এটি এখনকার আওয়ামী স্লোগান।’ ঐ প্রচারে তিনি বলেন, বিএনপির দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং, অস্ত্র চোরাচালান, অর্থ আত্মস্মাৎ মনোনয়ন বানিজ্য ও এতিমের টাকা চুরি। অবৈধ এ সরকারের পুরো অস্তিত্বই অবৈধ, এ কয়টি মিথ্যাচারী গীবত ছাড়া তার হাতে আর কোন উপাদান নেই বিরোধীর বিপক্ষে খরচ করার। যদিও সর্বোপরি এদের অপরাধের চলমান ধারাবাহিকতার সীমা পরিসীমা নেই। এমন কি সিইসির কর্মকান্ড তাই স্পষ্ট করছে, কোন পরিবর্তন ব্যতীত। ভয়ংকর এসপি হারুণ এখন নারায়নগঞ্জে। ইউটিউবে পাওয়া যায় তার অপকর্মের ধারাবাহিক রোজনামচা। আপত্তি উঠলেও তার পদোন্নতি হয়, গাজীপুর ও খুলনা ভোটের ডাকাতী, কুপিয়ে হত্যা ও অনেক অপকর্মের পরও পূনর্বহাল ও সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চয়ই ভয়ংকর ম্যাসেজ বিলি করছে। গনজাগরণের মঞ্চ নায়ক নুরুল হুদাকে রিক্রুট করার যুক্তি নিশ্চয় এখন জাতির কাছে সুস্পষ্ট হচ্ছে! এ দেশে সবাই আইন মানলেও দুঃখের বিষয় হচ্ছে বিগত সরকার ও তার দল কোন অংশেই আইন মানে না, না অতীতে না বর্তমানে। ভবিষ্যতে মানার কোন অবকাশও নেই। এর মাঝে সরকার বড় অংকের টাকাতে কিনে রেখেছে পুলিশসহ দলদাস সংবাদিকদের। ওদিকে ক্যাডারদের দিয়ে বিরোধী নেতাকমীদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

শত নির্যাতনে আক্রান্ত আকন্ঠ জাতির মাঝ থেকে অসীম সাহসী নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন লেবেল প্লেইং ফিল্ড বলে কিছু নেই। ঠিক তখন জবাবে আওয়ামী লীগের এককালীন দলদাস রাতকানা দিনকানা নুরুল হুদা হাসিনার আদলে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াই মিথ্যাচার করছেন। সমস্ত জাতি একবাক্যে মাহবুব তালুকদারকে সমর্থন করছে। মনে হচ্ছে বিরোধীদের এমন কেউ নেই যে হামলা থেকে বেঁচে আছেন। শামিম ওসমান সময়ে সময়ে দুই হাতে অপকর্ম করে আবার আল্লাহর নাম নেন। তারা মনে করে এতে সাত খুন মাফ হয়ে যাবে। ডাকাতও নিশ্চয় ডাকাতির আগে আল্লাহর নাম নেয়। এসব কিসের লক্ষণ? মুখের কথার সাথে আচরণের মিল না থাকলে তার সঠিক পরিচয় আপনাদের খুঁজে নিতে হবে। সিনহা বাবু সম্প্রতি একটি ম্যাসেজে বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন গত বিগত, অস্তিত্ব সংকট, বাংলাদেশের মানচিত্র সংকট, হাসিনা সরকারকে ভোট দিলে হিন্দু নির্যাতন বাড়বে, আমেরিকার অবরোধ আশংকার প্রতি সিনহা আহবান জানিয়েছেন। এদিকে খবরে প্রকাশ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারত থেকে অস্ত্র আসছে। হাসিনার ভিডিও কনফারেন্সএর মাধ্যমে গণ ভবন থেকে ভোটের প্রচার করাটা কি ধারার কৌশল সেটি আপনারা বুঝছেন নিশ্চয়? শেষ পর্যায়েও দৃষ্টিগোচর হচ্ছে আদালত, গণভবন ও ভারতীয় অস্ত্র আসার পরও বাড়তি সাহায্য সহযোগিতাও চাওয়া হচ্ছে।

পুলিশের গুলিতে অন্ধ হওয়া বিএনপির নেত্রীর আহাজারি আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে তুলছে। ব্যারিষ্টার খোকনকে গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি ক্ষোভে বলেছিলেন আমার মানুষকে গুলি করছেন কেন, বরং আমাকে করেন। ঠিক তখনই তাকে সামনে পেছনে পর পর সাতটি গুলি করে দেয়। তিনি বলছিলেন সোনাইমুড়িতে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আওয়ামীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে আর হুমকি ধমকি দিচ্ছে, তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ার কেউ নেই। সারা দেশে বিচারহীন এক তরফা হুমকি ধমকি চলছে সরকারের পক্ষে। একই অবস্থা সারা দেশে। ধূর্ত অবৈধ প্রধানমন্ত্রী অতীতের মতই আজও আগেভাগে যা তিনি অপকর্ম করবেন তা আগাম বলে বেড়ান অন্যের নামে। তার এসব হাস্যরসাত্মক কয়টি আচরণ সম্প্রতি তিনি প্রকাশ করেছেন, এর একটি হচ্ছে বিরাধীরা নাকি কালো কোট পরে ঐ দিন অপকর্ম করবে, ফল্স বেলট পেপারও তারা ছাপাবে, এ দুটি খবর তিনি জেনেছেন। ২০০৪এর ২১ শে আগষ্টে তার নিজের সাজানো হামলার আগেই তিনি বোমা হামলার বিরুদ্ধে এভাবে হুমকি ধমকির অভিনয় বহাল রাখেন। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া গায়িকা কনক চাঁপা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অপকর্মের কারণে তিনি যদি লাশ হয়ে পড়েন তবে ঐ নিরাপত্তা নিয়ে তিনি কি করবেন? হুমকি ধমকির কোন প্রমান নেই বলে প্রতিপক্ষের সিইসি দলদাসরা তা উড়িয়ে দিচ্ছে। কনক চাঁপাকে অনুসরণ করা হচ্ছে, তাকে কি গুম করা হবে, এ ভয়ে তিনি শংকা প্রকাশ করছেন। নালিশ দিলে বলা হচ্ছে ঘটলে পরে জানাতে হবে, তার মানে ঘটনা ঘটানোর জন্য অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে। সমানেই ঘটছে, কিন্তু কেউ তাতে কানও দিচ্ছে না, নিদেন পক্ষে বলা হচ্ছে তদন্ত চলছে, যদিও ব্যবস্থা নিতে কখনোই দেখা যাচ্ছে না। তাহসিনা রুশদি লুনার মনোনয়ন তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অপরদিকে বেশ কিছু সিলেব্রেটিরা তাদের কেরিয়ার টিকিয়ে রাখতে ছলের নৌকায় পা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন বলেই পর্যবেক্ষকরা পরিসংখ্যান দিচ্ছেন। নয়তো কনক চাঁপার মত জীবন বিধ্বংসী ষড়যন্ত্র তাদের মোকাবেলা করতে হবে। ছলে বলে কলে কৌশলে এসব সারা দেশে চলছে। সারা জাতি এসব চাক্ষুষ দেখলেও দিনকানা সিইসি নুরুল হুদা তা এড়িয়ে চলেন। আমাদের সময় প্রতিনিধির বরাতে ২০ ডিসেম্বর পাওয়া খবরে প্রকাশ বরিশাল ৪ আসনে সরকারী দল ছাড়া বাকীরা অনিরাপদ। প্রশাসনের সহায়তায় সন্ত্রাসের রাজত্ব বহাল রয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন তার পা ভেঙ্গে দিয়েছে। জীবনের নিরাপত্তা চাইতে তিনি ষ্ট্রেচারে করে ভাঙ্গা পা নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের কাছে নিরাপত্তা চাইতে যান। তখন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা তাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। দৃশ্যত প্রশাসন শক্তভাবে বিগত অবৈধ সরকারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। এখন বিরোধীর বিরুদ্ধে লীগের সাথে পুলিশও জাতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি আইন শৃংখলা বাহিনী অগ্রিম নির্বাচনের আগে টাকা পাচ্ছে নির্বাচন কমিশন থেকে। তথ্য প্রমাণসহ মিডিয়ায় প্রকাশ বিএনপির ৮৪ নির্বাচনী এলাকায় ভাংচুর আগুন, ৪৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা। কামাল রব মেজর হাফিজ, রেজা কিবরিয়াসহ সবাই আক্রমন ও হুমকির শিকার।

উপরের এসব ভয়ংকর অবস্থান জাতির জন্য চিন্তার জমা। এর কারণ কি “আশরাফুল মকলুকাত” অর্থাৎ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব নামধারী দলের মাঝে কারা এটি করতে পারে সেটি আপনারা নিজ বিবেচনায় খুঁজে নিন। এদেশে বিচার ব্যবস্থা এত দুর্বল হয়ে পড়লো কেন? এত নির্দোষ কেমন করে কারাগারে ঢোকে, আর যারা অন্যায় করে সাধুদের বিরুদ্ধে মামলা করছে, ঐ অপরাধেই তো প্রকৃত আসামীদের একযোগে ফাঁসি হওয়া উচিত। সব ধরণের অনাচার তারা বহাল রেখেছে, লেভেল প্লেইং ফিল্ডও যেখানে তৈরী হয় নাই, তারপরও এসব ভাড়ামিতে তারা সক্রিয়। তারা সমানেই মশকরা করা বক্তব্য ছাড়ছে, তাদের মিছিলও নেই মানুষও নেই। তবে বিরোধীকে ধড়পাকড় বহাল রেখেছে শুধু। আজকের ২০ ডিসেম্বরে কাদেরের মন্তব্য হচ্ছে “সরে দাঁড়ানোর অজুহাত খুঁজছে বিএনপি”। যেখানে একই দিনের খবর হচ্ছে ‘হামলা মামলার ভয়ে ঘরছাড়া ধানের শীষের নেতাকর্মীরা’। যে দলটি গণতন্ত্র ফিরাতে অবৈধ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ভোটের জন্য জীবন পাত করে চলছে, আর তারা বিরোধীকে হামলা ও মামলা দিয়ে মিথ্যাচারে ঠেসে দিয়ে গোটা দেশটিকে কারাগার বানিয়ে তুলছে। বছরের ৩৬০ দিন এরা এতই মিথ্যাচারে অভ্যস্ত, তার অনুগত নেত্রীর আদলে তাদের অপকর্ম সব সময় দৃষ্টিগোচর হয়। এর উদাহরণ হিসাবে কুরআনে আল্লাহ বলেন, “সে কোন কথাই উচ্চারণ করে না যার জন্য তার নিকটেই এক তৎপর প্রখর প্রহরী নেই” (সুরা ক্বাফ এর ১৮ আয়াত)। প্রতিটি মানুষের প্রতিটি কাজ কথা যে রেকর্ড হয় ঐ খবর তার জানা নেই। মনে রাখা উচিত দুনিয়া কোন মজার খেলা নয়, বিবেকসম্পন্ন মানুষের জন্য এটি একটি কঠিন অগ্নি পরীক্ষার ময়দান। “প্রতীক্ষা কর, অচীরেই তোমরা জানতে পারবে কারা সঠিক পথের লোক এবং কারা প্রেরণাপ্রাপ্ত” (সুরা ত্বাহা ১৩৫ আয়াত)। এটি ভোটের রিজাল্ট নয়, এটি হচ্ছে দুনিয়ার বিচারে প্রকৃত ন্যায় বিচার পরবর্তী রিজাল্টের হিসাব।

অবৈধ পথে আসা ক্ষমতা ধরে রাখা প্রধানমন্ত্রী হাসিনা হুমকির পর হুমকি দিয়েও আজো নানান কুমন্তব্য ছুঁড়ে মারছেন। তিনি বিশিষ্টজনদের দিকে তীর ছুড়ে বলছেন এরা সুশাসন দিতে পারবে কি? তিনি নিজে কি সুশাসন দিতে পেরেছেন, সে চিন্তা তার মাথাতে নেই। এদের আচরণে ত্যক্ত বিরক্ত অশীতিপর ময়দানে যোদ্ধরত ডঃ কামাল হোসেন কেন ‘খামোশ’ বললেন, তা তিনি সইতে পারছেন না, তার অল্প দামে কেনা সাংবাদিক চেলারাই ছিল ‘খামোশ’ জমার প্রশ্নকারী! এরা তাদের দ্বিমুখী বিতর্কীত আচরণে দুই জাহানেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে আল্লাহর ময়দানে। মানুষ যাদের চোখ কান খোলা, তারা ভালো করেই জানে হাসিনার সুশাসনের নমুনা! মতিয়ুর রহমান রেন্টু তার দেড় যুগ খুব কাছ থেকে পরখ করা প্রাইভেট সেক্রেটারী সব অকপটে হড়হড় করে বলে দিয়েছেন, যদিও ঐ সময়ে ক্ষমতায় থাকা সরকার কৌশলে সেটিও চেপে রেখেছে, জনতার চোখ থেকে সরিয়ে রেখে। হয় জ¦ালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে সব মুদ্রিত কপি, যদিও অসীম সাহসী রেন্টু ভয় পান নাই, সততার ভরসাতে তিনি অকপটে ঐ দাম্ভিক অপকর্মী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীনই তা প্রকাশ করেন। জাতির দুর্যোগ সামনে দেখতে পেয়ে তিনি সত্য প্রকাশে যে সৎ সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, তাতে তিনি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য, আল্লাহর আদালতেও তিনি পুরষ্কৃত হবেন। মাহবুব তালুকদার সত্য বলেছেন, ওদিকে নিকৃষ্ঠ আচরণধন্য একজন নুরুল হুদা মানব থেকে সাক্ষাৎ দানবে পরিণত হয়েছেন। ওদের মানুষের বিবেক মরে গেছে, আছে শুধু দানবের স্বভাবটুকু ধিকি ধিকি জ¦লছে, অপেক্ষারত ইহ ও পরকালের শেষ ফলের অপেক্ষায়।

বর্তমান সিইসির কথার সাথে কাজের কোন মিল নেই। সাম্প্রতিক সময়ে হাসিনার ফাঁস হওয়া ফোনালাপ কি প্রকাশ করছে, বিগত শতকে ফাঁস হওয়া ঐ রেন্টুর কথাকেই স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর করে চলেছে। দেখা যায় উন্নয়নের বারোটা বাজিয়েছে হাসিনা সরকার, পৃথিবীর ব্যয়বহুল সেতু আর রাস্তা যা বানানোর আগেই ধ্বসে পড়ছে, সুযোগে সব টাকা ঢুকছে, দেশে বিদেশে দাগ চিহ্নিত চোরের খনিতে। কোট কাছারি কানায় কানায় বিরোধীর হামলা মামলাতে টইটম্বুর। ময়দান থেকে পোস্টার ছিড়ে ফেলছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা, মানুষ মন্তব্য করছে পোষ্টারের দরকার নেই, সবার অন্তরে ধানের শীষ সাটা আছে । সিইসি হচ্ছে সরকারী গোলাম, মন্তব্য কলামে গা ছমছম করা জবাব, কারণ তার আচরণ হচ্ছে চরম দলদাসসম। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)র পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের মতে নির্বাচন কমিশনার পাথরের মূর্তিতে পরিণত হয়েছে। মুখে বলছেন মর্মাহত ও বিব্রত। এতেই কি এ বিতর্কীত মানুষটির সব দায় শোধ হয়ে যাবে? জাতি জানে উনার অতীত কর্ম ও অপকর্ম। মেয়র প্রার্থীরা বলছেন, এসব হচ্ছে নির্বাচনের নামে ছেলেখেলা। জোনায়েদ সাকী বলছেন মানুষ এখন কথা বলতেও ভয় পায়। ওবায়দুল কাদের বলছেন আমি ভোট ছিনতাই করবো না। বাহ! একদম সত্য যুগ এসে পড়লো যেন। এতকাল তিনি ঠাকুর ঘরের কলা ছিনতাই করেছেন। অতীতের ছিনতাইকারী কিভাবে স্বভাব পাল্টাবে, যদিও তাদের আচরণে সুবোধ হওয়ার কোন লক্ষন নেই।  পিলখানা হত্যাকান্ডে তিন প্রধানকে যমুনার একটি কক্ষে আটকে রেখে বিডিআর বিদ্রোহকে কার্যকর করেছিলেন শেখ হাসিনা, বিডি পলিটিকো এ সংবাদ বিলি করেছে (১৫ ডিসেম্বর ২০১৮)। উল্লেখ্য ৫৭জন অসাধারণ মেধা সম্পন্ন চৌকশ সেনা অফিসারদের মেরে এ সরকার তার হাত রঞ্জিত করেছে। সর্বোমোট ৭৪ জন সেনাঅফিসার ও এর সাথে পরবর্তীতে অসংখ্য ব্যক্তিকে ঠান্ডা মাথায় শত্রু নির্মুলের নামে বিচারের ওছিলায় হত্যা করে। পরবর্তীতে বিচারের নামে ৮০০জনকে দন্ডিত, ১৫৩ জনকে ফাঁসি ও ৫০ জনকে হত্যা করা হয়। এটি ছিল বিগত সময়ে সরকারের শুরুটা আর পরবর্তী বড় সময় থেকেই চলে দেশ বিধ্বংসী নাটকীয় খেলার মহঢ়া । সরকার কোনভাবেই ক্ষমতা ছাড়তে চাচ্ছে না, এর বড় কারণ অন্যেরা কম জানলেও অপরাধী তার অপকর্ম নিজেরা জানে সবচেয়ে বেশী, ঐটি স্মরণ করেই ভয়ে চুপসে যাচ্ছে। পোলাও কোর্মা খেতে তো ভালোই লাগে কিন্তু অতি ভোজনে বদহজম হলে সেটি হয় বেশ পরে। ঐ বদ হজমের সময়টি বিগত সময়ের অবৈধ এ সরকার বড় সময় থেকে পার করছে।

পাঠক, মনে রাখবেন ধর্ম নিরপেক্ষতার সাথে মুক্তিযুদ্ধের কোন সম্পর্ক নেই। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের জীবনে ভারতীয় স্বার্থের আওয়ামী সংযোজন। ২০১৮ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয় দিবসে শহিদ মিনারেও হামলা, আওয়ামী লীগের বেপরোয়া হামলাতে দেড় শতাধিক আহত, ৩০ যানবাহন ভাংচুর, এসব কাজে চাপাতি রামদা তাদের হাতের পাঁচ। আওয়ামী তরুণরা দালাল হয়ে ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে আজো তৎপর। তারা চায় বাংলাদেশের বিনিময়ে দেশ থেকে নীতিকে সত্যকে ধর্মকে বাতিল করতে। গত মাত্র আট দিনে ২২৪১ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয় (১৭ই ডিসেম্বরেরর খবর)। তারা নিজেরাই হামলা করে আবার হামলাকারীদের উপর পরে মামলাও করে, দুটোই তাদের দখলে। ৩০০ আসনেই হামলা হয়েছে, বলেছেন রিজভী। দশ কেলেঙ্কারীতে লোপাট দেশের ২২,৫০২ কোটি টাকা (০৯ ডিসেম্বর ২০১৮) মিডিয়ার খবর। সম্প্রতি অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর ষড়যন্ত্র ফাঁস দেখা যাচ্ছে ইউটিউবে। মইনুল হোসেনকে একটা মামলা খসে গেলে ভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর তাগাদাও এসেছিল, অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে। প্রচারণার সময় কর্ণেল ওলির ছেলের আঙ্গুল কর্তন করা হয়। বিরোধীদের উপর হামলা ক্রমিক গতিতে বেড়েই চলেছে, ছিল আছে থাকছে, ইসি মাঝে মাঝে লজ্জিত ও মর্মাহত মাত্র, এ পর্যন্তই, কোন পদক্ষেপ নিতে সক্ষম নন। কামাল হোসেন বেঁচে থাকা নিয়ে শংকা প্রকাশ  করে বলছেন, যদি মরেও যান তার লাশটা রেখে আঙ্গুল নিয়ে হলেও যেন ভোটটি দেয়া হয়। এ কথার মাঝেই একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষের কঠিন বাস্তবতা ও পরিবেশ পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট ফুটে উঠছে। পোষ্টার থাকবে শুধু একদলের আর কারো নয়। ইবলিসের আচরণের সাথে এদের আচরণের মিল কি জাতি পাচ্ছেন না? আল্লাহ কুরআনে এটি ষ্পষ্ট করেছেন এরা কোন লুক্কায়িত শক্তি নয়, এরা প্রকাশিত শক্তি। তোমাদের ধারে কাছে এরা বিচরণ করবে এদের আচরণ দেখে এদের চিনে নিতে হবে। সবার উপর এটিও বলা হয় যে, শয়তানের চাল বড়ই দুর্বল (সুরা নিসার ৭৬ আয়াত)।

ডিসেম্বরের ৮ তারিখ ২০১৮ সাল।

 

 

 

 

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: