Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

আল্লাহ ছাড়া সব কিছুরই শেষ ও শুরু আছে। একটি কথা সংকটে একটু বেশী শোনা যায়, বলা হয় রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কোন কথা নেই। এটি কোন শাস্ত্রবাণী নয়, এটি সুবিধাভোগী মানুষের কপট স্বার্থে রচিত একটি অপকাজ বহাল রাখার হাতিয়ার মাত্র। শুনতে শুনতে অনেকে মনে করেন এটি মনে হয় কোন বিরাট বাণী। আসলে যে বা যারা এসব কথা ছড়ায় এরা মূলত কুপথে হাটা নীতিহীন মানুষ। এরা সমাজের শৃংখলায় বিশ^াসী নয়। রাজনীতিকে সংনীতিতে, সত্যকে মিথ্যাতে রুপান্তরিত করতেই এসব যুক্তি সবদিনই দেখায় দুর্বৃত্ত। বছরের পর বছর অবৈধ ও ডাকাত সরকার বলছে বিএনপির সাথে সংলাপ কখনোই নয়। ঐ নীতির অজুহাতেই এবার সংলাপে বসেছে, তাই এত দুর্বৃত্তায়নের পরও এরকম একটি কথা না বললে আর ইজ্জত টিকে না। এভাবেই শেষ কথা নেই বলে দুর্বৃত্তায়নের ক্ষেত্রকে অনুমোদন দেয়া হয়। ধর্মেই হোক আর রাজনীতিতেই হোক দুর্বৃত্ত দুর্বৃত্তই। দুর্বৃত্তের নিজের গড়া নষ্ট ফলমুলাতে সেটি কখনোই শুদ্ধ হবার কথা নয়। আওয়ামী লীগের এককালের নেতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীই স্পষ্ট করছেন ধড়পাকড়রত সাম্প্রতিক সময়ের প্রতিটি পুলিশ গড়ে ১০ লাখ টাকা ঘোষের বিনিময়ে চাকরী পেয়েছে। এসবই শর্তসাপেক্ষ অবৈধ পথের জমা।

এরপরও বলা হয় আলোচনা অব্যাহত থাকবে। যারা কখনোই সংলাপে যাবে না তারা অবার বলে সংলাপ নামের সং+আলাপ অব্যাহত থাকবে। যদিও সংক্ষেপে বলা যায় ফলাফল শূণ্য। গরীবের ঘোড়ারোগ হিসাবে খ্যাত খাবারের ম্যানুতে চিজকেক আর গরম লোভনীয় বাহারী প্রচারেই তারা ব্যস্ত। পরোক্ষ এসবও ছিল প্রতারণার প্রচারনার ভিন্ন কৌশল মাত্র। গণভবনের ঐ খাবারের মেনু ভাইরাল হয়ে যায়, কি কারণে, উদ্দেশ্যমূলকই এসব ছড়ানো হয়। মোটা মাথার রাজনেতারা মনে করেছেন গালাগাল করলেই এতিমরা তেড়ে আসবে, খাবারের ম্যানু দেখে বুভুক্ষ জাতি হাততালি দিবে। সংলাপ অর্থ আলাপ, কথোপকথন, নাটকের চরিত্রসমূহের পরষ্পরের সাথে কথোপকথন। দর্শককে আনন্দ দিতে এভাবে নাটক রচিত হয় মঞ্চে ম্যুভিতে, কিন্তু ভুয়া সংলাপে কষ্ট জমা হয় মাত্র – নাটকও রচিত হয় না। সেদিনের সংলাপ কি ছিল সং করার আলাপ? এরা স্বৈরাচারী পূর্বসুরী পাকিস্তান সময়কালীন ইয়াহইয়া সরকারের মত সময় ক্ষ্যাপন নাটক করেছে মাত্র।

ধর্মে অপকর্ম করার সুযোগ তৈরী করতে কিছু মিথ্যা হাদিস তৈরী করেছে ধর্মের নামে ষড়যন্ত্রী সংরা। যদিও নিবেদিতরা সবদিনই এর বিরুদ্ধে খড়গ হাতে ছিল সারাক্ষণ। তখনও একই পদ্ধতিতে তাদেরে জেলে ঢুকিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করা হয়, কখনো খুন করা হয় কখনো বিষ পান করানো হয়, ইতিহাস এসবের নীরব সাক্ষী। বর্তমানে গোটা দেশ অপকর্মে সয়লাব। উন্নয়নের নামে অপকর্ম করছে আর সারা দেশে ব্যাঙ্ক লুপাট হচ্ছে। এত জনঅধ্যুষিত একটি দেশের চালিকা শক্তি মূলত দেশের মানুষ। সরকার সারাক্ষণ বিরোধীর বিপক্ষে নিজেই তার সাজানো রায়ের নির্দেশের পক্ষে প্রকাশ্য বক্তব্য রাখে। এমন অবস্থায়ও আদালত থেকে সরকারের বিরুদ্ধে কোন আপত্তি জানানো হয়না। ধারণা সবার অদালতেরও হাতপা বান্ধা, বাংলাদেশের মেরুদন্ডহারা বিচারকদের এ অসহায় অবস্থান নিয়ে মানুষের মাঝে শংকা শতভাগ! কেউ সাহস দেখালে তাকে দেশছাড়া করা হয় এমন উদাহরণ ময়দানে বহু। সরকার নিজে বৈধ নয় বলেই সব অনাচার করতে পারছে, কোন মানবিক বিবেকের দংশনও তাদের নেই। মানুষ বুঝে এভাবে সরকার নিজের শঠতা দিয়ে আদালতকে প্রভাবিত করছে।

অজ্ঞদের ধর্ম বোঝাতে হরিণের গল্প অজ্ঞরাই সাজায়। হরিণ একটি বান্ধা ছিল গাছের তলায়, কথা বলে নবীর সাথে। হরিণের জন্য কোন ধর্ম আসে নাই। নবী হরিণের নবী ছিলেন না, ছিলেন মানুষের নবী, মানুষের পথপ্রদর্শক, বানীবাহক। প্রকাশ্য ময়দানে দিনে দিবালোকে তিনি সংগ্রাম করে জীবনকে কষ্টিপাথরে যাচাই করে ধর্মটিকে মানুষের সামনে তুলে ধরেন। মূল গ্রন্থ কুরআন এমনভাবে সিল করা সেখানে এঁটো মিশানোর কোন উপায় নেই দেখে ইবলিস বসে থাকে নাই, সে কৌশলে দ্বিতীয় গ্রন্থের নামে জ¦াল হাদিস তৈরী করে সময় সুযোগে ওখানে ঢুকিয়ে দেয়। তাই কোন যুগেই ইবলিসকে তার বাহ্যিক লেবাস দেখে মানুষ চিনতে পারে নাই। বরং বোঝা যায় হয়তো বড় হুজুর বলে বড় আসনটি পেতে দিয়েছে। সে যে এভাবে ময়দানে ঢুকে কাজ করবে এর ইঙ্গিত কুরআনে আজো আছে, অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই বিবেক সম্পন্ন মানুষকে এদের পরখ করতে হবে জানতে হবে চিনতে হবে। সঙ্গত কারণেই তার বাইরের স্বরুপের সাথে ভেতরের আসল স্বরুপকে মেলাতে হবে মন ও মগজ দিয়ে।

রাজনীতিতে খালেদা ও হাছিনা উভয়ে স্বভাবে আচরণে, দেখতে, মানসিকতায় দুজন এতই দু রকমের যে সেটি আর স্পষ্ট করার দরকার নেই। মনে হচ্ছে দেশের জনগণ সে বিশ্লেষণটি পার্থক্যটি করতে সক্ষম হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রিজভী হাওলাদার তার রাজনৈতিক মাএর বেদনায় কাফনের কাপড় গায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের জনসভাতে বুকে তার লেখা ছিল, “জেলে নিলে আমায় নে আমার মাকে ছেড়ে দে” মাথায় লেখা ছিল, “দাবি একটাই খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই”। এভাবে লুঙ্গি পরে মায়ের বন্দনা গাইছে বাংলাদেশের এতিমরা। সরকারের হিসাব ছিল এতিমরা মারমুখি হয়ে খালেদার দিকে তেড়ে আসবে, ওদিকে খোদ সরকার মুখে ফেনা তুলছে এতিমের টাকা খেয়েছে। যতই সরকার এতিমের টাকার দোহাই দিচ্ছে, ততই জাতির এতিমরা সংঘবদ্ধ হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে নিরব বিদ্রোহ করছে, কঠিন জবাব দিচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন রাস্তাঘাট যানবাহন সব বন্ধ করেও কোন দিশা পাচ্ছে না সরকার। সব বাধা অতিক্রম করে ক্ষুধার্থ এতিমরা পায়ে হেটে ময়দানে ঝাপিয়ে পড়ছে। আজ যারা মুক্তিযুদ্ধের নামে নষ্ট ব্যবসা করছে ক্ষুধার্থ এতিমরা তার জবাব দিচ্ছে। ৭১এর দিনগুলোর মতই তারা চায় সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার। ভোটের অধিকার হারা জনতারা আজ ঐ ঘটনার ৪৭ বছর পর আবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ধর্ম বা ধর্মনিরপেক্ষতা তাদের দাবী নয়। তারা চায় মানুষের মর্যাদা নিয়ে মানবিক মর্যাদায় বাঁচার অধিকার। যে অধিকারের লক্ষ্যে তারা খালেদার কাছে ভরসা রাখতে পারলেও বর্তমান সরকারের অপকর্মে তারা বাক্যহারা। সত্যনিষ্ট ক্ষুধার্থ মানুষ আজ এক হয়েছে। তড়িঘড়ি জনগণকে বিদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে তফসিল ঘোষনা করে সরকার তার স্বরুপকে আরো সুষ্পষ্ট করছে। অবৈধ পথই তার একমাত্র পথ, বাঁচুক বা মরুক।

জনসভাতে অনুমতিও সহজে মেলে না, চট্টগ্রামে দেয় মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে তাও লালদিঘির বড় চত্বরে নয়, বিএনপির অফিসের সামনে ২৫ শর্তে ২৭ অক্টোবর, সাথে চলে ধড়পাকড়ক। ঐ দিন রাত ১২টা পর্যন্তও মঞ্চ তৈরীতে হুমকি ধমকি দিয়ে, নেতাদের হোটেল বুকিং বাতিল করা হয়েছে। ২৫ শর্ত যেন কিয়ামতের ময়দানের পুলসিরাত পার হওয়া। সরু রাস্তায় একপাশে তারা হাটতে পারে কিন্তু বাকী অংশে স্বাভাবিক যানবাহন চলতে দিতে হবে। তারপরও এরা ঐ ফুলসিরাত পার হয়েও সংঘবদ্ধ হয়েছে কাজির দেউড়িতে। আবার বিকেল ৫টার মাঝেই সব শেষ করতে হবে। রাজশাহীতেও শর্তের বেড়াজাল। এমন আচরণ করছে অবৈধ এ সরকার যেন এ দেশের একমাত্র মালিক তারা, যারা নষ্ট পথে এখানে এসে শক্তির দন্ডটি হাতে তুলে নিয়েছে। অন্ধকারই আলোকে স্পষ্ট করে তুলেছে। অন্ধকার থাকাতেই মানুষ ভালো করে আলোকে বুঝতে পারছে, হজম করতে পারছে। সবচেয়ে স্পষ্ট কথাটি হচ্ছে ময়দানের এতিমরাই এ রায় দিচ্ছে উচ্ছস্বিত উল্লসিত হয়ে কি ঢাকাতে, কি চট্টগ্রামে কি রাজশাহীতে, দেশের প্রতিটি আনাচে কানাচে তাদের ক্ষুধার্থ মন প্রতিবাদী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

ডাঃ কামালরা প্রধানমন্ত্রীকে জাগানোর চেষ্টা করছেন কিন্তু তার কুম্ভকর্নের ঘুম ভাংগে নাই, হয়তো আমরণ ভাংবে না। ভাংলেই তো সব শেষ হয়ে যাবে। তাই সে জেগে ঘুমানোর ভান করে আছে। একদিন যারা দলে দলে আওয়ামী লীগ করেছেন তারাই শেষে ঐ অপকর্মের আদর্শ সংকট যোগান দিতে না পেরে পরবর্তীতে বিএনপির আদর্শে ঝাপিয়ে পড়েন। এদেশের বিএনপির প্রায় সবাই একদিন আওয়ামী লীগে ছিলেন। এসব হচ্ছে ইতিহাসে এ দুটি দলের গোড়ার কথা। লীগের আদর্শে বড় আকারে তাদের সৃষ্ট নষ্ট ফাঁক ধরা পড়ে। এদের আদর্শে সংকট ছিল, মুক্তিযুদ্ধের মূল তিন আদর্শ সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারে তারা প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে নাই। এরা ক্রমে হয়ে পড়ে ক্ষমতালোভী আদর্শহীনতার অনুসারী। তখন সঙ্গত কারণেই দলে দলে সচেতন মানুষরা ওখান থেকে ছিটকে বের হয়ে বিএনপিতে যোগদান করে। জিয়া হত্যার মাধ্যমে নতুন স্বৈরাচারের সাথে হাত লাগায়  হাছিনার  লীগের রাজনীতি। সমাজে ভুল ফরমুলা চালু করা হয় বলা হয় রাজনীতির কোন শেষ কথা নেই, ঐ নামে যখন যা ইচ্ছে তাই বলা যায়, করা যায়। এ হচ্ছে মগের মুল্লুক। নীতি নৈতিকতাকে ধ্বংস করতে স্বৈরাচারও বন্ধু হয়, নিজেও স্বৈরাচার হওয়া যায় কারণ রাজনীতির কোন শেষ নেই। সংলাপ করবোনা বলেও সংলাপ করা যায়। স্বৈরাচারের সাথে হাত মিলালে হবে বেঈমান বলেই সে ঐ বেঈমানীতে অংশ গ্রহণ করতে পারে। এমন সব খেলা দেখে দেখে বুভুক্ষের প্রতিনিধি রিজভী হাওলাদাররা জীবন বাজি রেখে সত্যকে পরখ করে নেয়। ছলবাজদের জন্যই এসব প্রতারণার কৌশল রাজনীতিতে কোন শেষ কথা নেই। কারণ তাদের অপকর্মের কোন সীমাসরহদ নেই, তাই তাদের নীতিরও শেষ কথা বলে কিছু নেই।

৯ নভেম্বর ২০১৮।

বি দ্র: লেখাটি ১৪ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত “দি রানার নিউজ” এ ছাপা হয়েছে।

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: