Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী তারিখে আমার ব্লগে একটি লেখা লিখেছিলাম “সিইসি বিতর্কে মনে পড়ছে পিপিলিকার পাখা উঠে মরিবার তরে” এই বর্তমানের সিইসির উত্থান ও কৃতকর্মের উপর। লেখাটি পড়লে পুরানো অনেক খানা খন্দকের ইতিহাস স্পষ্ট হবে। ৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় মহিউদ্দিন খান আলমগীরের ডাকে জনতার মঞ্চ ছিল একটি দেশ বিধ্বংসী জটিল মঞ্চনাটক, সরকারী চাকুরীরা শৃংখলা ভেঙ্গে ঐ অনাচারে হাত লাগায়। ওদের ২০৮ জনের মাঝে মাত্র ৮৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। পরে ছলে বলে তারা ঐ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়ে জাতি ধ্বংসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে মোটাদাগে নাম খোদাই করে আজো রাজনীতিতে সচল আছে। ৯৬ সালে এই নুরুল হুদা কুমিল্লার ডিসি ছিলেন। কুমিল্লা কালেকটরেট থেকে তিনি তখন প্রধানমন্ত্রী খালেদার ছবি সরিয়ে দেন। সেখান থেকে ছিটকে জনতার মঞ্চে এসে তিনি দেশবিধ্বংসী অপকর্মে শরিক হোন (৩০ মার্চ ৯৬ সালে দৈনিকগুলোতে এসব খবর ছাপে)। ঐ সময়ে ১২ জুনের নির্বাচনের আগে হাইকোর্টে রিটের ১৬৩৫ নম্বর রিটে তার অপকর্মের উল্লেখ বর্তমান। তার রাজনৈতিক আচরণে এখন পর্যন্ত কোন ওদলবদল লক্ষ্য করা যায়নি। বিএনপি সরকারের মাধ্যমে ৯১-৯৬ সালে যেসব আওয়ামীপন্থীদেরকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে বসানো হয়েছিল এরাই পরবর্তীতে জনতার মঞ্চের অপকর্মে হাত লাগায়। ৮০ সালে জিয়াউর রহমানও তাকে বিজেএমসির এসিস্টেন্ট ম্যানেজার থেকে বঙ্গভবনে সেকশন অফিসার নিয়োগ দিলে তিনি আড়াই বছর সেখানে কর্মরত ছিলেন।

কিন্তু তার আচরণের কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। এরা থাকাতে জাতির ধ্বংস দ্রুত ত্বরান্বিত হয়। শৃংখলা ভংগের সব দলিল মাড়িয়ে ২০০৯এ এসে হাছিনা সরকার তার চাকরি ফেরতসহ দুটি উপঢৌকনসহ সব দায় দেনা দিয়ে আরো ধন্য করে রাখেন। তখন তাকে দুটি পদোন্নতি দেয়া হয় অতিরিক্ত সচিব ও সচিব হিসাবে। নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ইউনুসের বিরুদ্ধে বয়স বিপদজনক হলেও ২০০৫এ অবসরের বয়সে হুদার বয়স বিপদজনক হয়নি। এখানে হাছিনা সরকার নিজের কপট স্বার্থে সব অপকর্মে যেমন যোগান দিতে পারেন একইভাবে সেটি ছাড় দিতেও পারেন। এর বদৌলতে সরকার হুদার জন্য ডাবল প্রমোশনের দাওমারা রেকর্ড আগেই জমা করে  রেখেছে। এসবের কারণ তিনি আগাগোড়াই একজন প্রাক্তন ছাত্রলীগ ও ভারতের প্রশিক্ষিত মুজিব বাহিনীর সদস্য, জনতার মঞ্চ নায়ক, জটিল দেশ বিধ্বংসী অংকের নাটকীয় সদস্য।

সারাদেশ থেকে গুন্ডাবাহিনীর পেছনে নিয়োগ বানিজ্য হচ্ছে আওয়ামী হাছিনা লীগের এক বড় প্রজেক্ট। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভোটের দিন যেন চুরি ডাকাতীর একটি দিনে পর্যবসিত হয়। তফসিল ঘোষনার পর থেকেও তেমন কোন নিরপেক্ষতার ছাপ চোখে পড়ার মত পালিত হচ্ছে না। পল্টনের ঘটনাতে যা ঘটানো হলো সেটি অবশ্যই বিতর্কীত। আওয়ামীরা যখন মহড়া প্রদর্শন করে তখন তারা নীরবতা পালন করতে পারলেও বিএনপির মহড়া সইবার মত সহনশীলতা তারা দেখাতে পারে নাই। ঐ দিন পুলিশকে লেলিয়ে দেয়া হয় সরকারকে তুষ্ট করতে। বিরোধীর জন্য অন্য হিসাব। ওদের উপর গাড়ী তোলে দেয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা করতে দেরী করা হয় না। যেখানে আওয়ামী লীগে মানুষ খুন হলেও তারা নীরব থাকে। প্রশাসন নিরব ভূমিকায় থাকে, অতীতেও আজো। তারপর শুরু হবে ধড়পাকড়ের আসল মহড়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এরা একজনকে হাতপা বেধে আর একজনকে হাত পা খোলা রেখে পুকুরে নামিয়েছে সাঁতার কাটতে। বেশ কয় বছর থেকেই রাজনৈতিক ইনুরা বেফাঁস মুখে বার বার বলে চলেছেন যে খালেদাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা হবে, জেলে পুরা হবে। যার সূত্র ধরে রাজনেতাদের হাজার হাজার ছলের মামলা আর প্রতি সপ্তাহে হাজিরা নাটক। হাছিনা নিজে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কিন্তু আচরণ গত স্বচ্ছতা তার কাজেকর্মে নেই। তার ডকুমেন্টারী প্রচারও সরকারী ছত্রচ্ছায়ায় এসব প্রচার ভোটের আগে নিজ হাতে করা অপকর্মের আর এক নমুনা মাত্র। 

ওদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে করা তারেক রহমানের ভোটের আগে নেতাকর্মীদের সাথে করা স্কাইপি যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে। পারলে যেন তার হাতপা গুড়ো করে দেয়। অতীতে ১/১১এর সময় ঐ কাজ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে করিয়েছে তারা, তারপরও শান্তি নেই। তারেক রহমানকে সরকারের এতই ভয় যে নির্বাচন কমিশনও দেখা যাচ্ছে ঐ আওয়ামী পথেই হাটছে। বিএনপি অভিযোগ করছে পুরো বিএনপি অফিসেই ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে। সরকার যদি জড়িত না থাকে তবে সরকারের মনমত কাজ কেমন করে হয়? সরকার অতীতের মতই তার অনৈতিক আচরণ বহাল রেখেছে। সবচেয়ে বড় কথা নির্বাচন কমিশন একটি চিহ্নিত দালাল, কোন কার্যকরী পদক্ষেপই তারা নিচ্ছে না। এমন ভাবে আচরণ করছে যেন তারা ছাত্রলীগেরই নেতা হিসাবে কাজ করছে। সাদা পোশাকে পুলিশ যা ইচ্ছে তাই করছে আবার ধড়পাকড়ের পর সেটি স্বীকারও করছে না। যদিও হাইকোর্টে নির্দেশ আছে এভাবে কোন মানুষকে অন্যায়ভাবে আটক করা যাবে না। কিন্তু তারা সাদা পোশাকে অনাচারের নামে এসব করে চলেছে। বলা চলে সবকিছু আগের মতই আছে। পরিস্থিতির তেমন কোন পরিবর্তন নেই। আজকের খবরে প্রকাশ ভোটের দিনে সেনাবাহিনী বৃটিশ পার্লামেন্টের সেনাদের মত মূর্তিমান দাড়িয়ে থাকবে। নড়বে না, কোন ছবি তুলবে না কোন পদক্ষেপ নিতে পারবে না। এসব আচরণে কি মনে হয়? সরকার কি তার আচরণ থেকে সরে এসেছে? মোটেও না, বারে বারে মনে হচ্ছে মাহমুদুর রহমানের কথা, তিনি ময়দান থেকে হাতে কলমে শিক্ষাপ্রাপ্ত মানুষ। অনেক দিন থেকেই বারে বারে বলে চলেছেন যে আন্দোলনের বিকল্প কিছু নেই। এ সরকারকে বিশ^াস করার মত কিছু অবশিষ্ট নেই। যদিও ওবায়দুল কাদেররা শেষ বারের মত আর একবার চেষ্টা করতে বলছেন।

আর একটি পাতানো নির্বাচনের পক্ষে হাটছে নির্বাচন কমিশন” শিরোনামে খবর ছেপেছে (অনলাইন বিডিডটনেট, ২১ নভেম্বর)। সারা দেশে ৪১ হাজার প্রিসাইডিং অফিসার, ২ লাখ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও চার লাখ পোলিং অফিসারের তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ। নির্বাচন কমিশন এসব লিক হওয়া ষড়যন্ত্রের প্রস্তুতিতে নীরবতা বা অস্বীকার করছে। পুলিশ বাহিনীতে কোন রদবদল এখনো হয়নি। পুলিশের মনমত যা করা হবে তার ছক আঁকতে গত সোমবার পুলিশ বাহিণীর একদল সরকারী অনুগত কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক করে এসেছেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বসে ভোট কারচুপির ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলছেন বিএনপির নেতা ফখরুল (২০ নভেম্বর)। এরকম একটি কথায় অনেক চিন্তার জমা লুকানো আছে। এমপি মন্ত্রীদের দুর্নীতি ঢাকতেই আয়কর রিটার্ণ দাখিলের বিধান রদ, চারপাশে অনেক যুক্তি আসছে একতরফা ও প্রহসনমূলক নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন, বিএনপির নেতা রিজভীও সেটি স্পষ্ট করছেন অনেক যুক্তি প্রমানসহ। এভাবে বিরোধীপক্ষকে এখনো কোনঠাসা করার পায়তারা চলছে, সাথে চলছে পুলিশের একতরফা কোনঠাসা আচরণ। তার মানে বোঝাই যাচ্ছে লেবেল প্লেইং এর কি দশা! এর জবাবে অপকর্মী হাছান মাহমুদদের কাছে কোন সদুত্তর নেই বলেই পাগলের প্রলাপ ছেড়ে বলছেন, রিজভী অদ্ভুত এক প্রাণীতে রুপান্তরিত হয়েছেন। সরকার এতই পঁচে গেছে যে, এই সেদিনও মাহমুদুর রহমানকে কিভাবে আহত করলো যেন নেকড়ের কবলে পড়েছিলেন গভীর জঙ্গলে (আদালত চত্বরে)। একইভাবে মইনুল হোসেনকে কিভাবে আদালতে হামলা করা হয়, এসব নিয়ে কোন সময়ই হাছান মাহমুদরা বলেন না যে এরা নেকড়ে নামের প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। এ সরকারের অধীনে কোন সুষ্ঠ নির্বাচন হতেই পারে না। ওদিকে বদরুদ্দোজা এরশাদের সাথে মিশে ভিন্ন নাটক চলছে, ভারতের শ্রীংলার সাথে বৈঠক হচ্ছে। সত্য যুগ সবার স্বরুপ স্পষ্ট করছে দিবালোকের মত। কারো সুবাস কুবাস লুকিয়ে রাখার ফুরসত নেই। নারায়নগঞ্জের জেলা বিএনপির সেক্রেটারি জেলগেট থেকে গ্রেফতার হচ্ছেন (২১ নভেম্বর ২০১৮)। ভারত বাংলাদেশের সব দুর্ভোগের জন্য বড়দাগে দায়ী। শ্রীংলারা তাদের আচরণকে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধেই ইন্ধন দিয়েছেন এর প্রমাণ সবার হাতে হাতে। আজও তারা নড়াচাড়া বহাল রেখেছে।

দূর আমেরিকা থেকে হাছিনাপুত্র জয় হুঙ্কার ছাড়ছেন প্রতিটি বিএনপিকে জেলে পুরতে হবে। অতি কথায় পারদর্শী ওবায়দুল কাদের এবারের মত অবৈধ নেতার পক্ষে ওকালতি করে গেছেন এবার নাকি নেত্রী বাজিমাত করে সততা দেখাবেন। এ কথার আড়ালে তিনি বলতে চাইছেন এতদিন যে সততা তিনি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন, এবার দেখাবেন। বদিরা দুর্গন্ধে ময়দান এতই বিনষ্ট করে দিয়েছে এখন বলা হচ্ছে তাদের বউদেরে আনা হবে। তাহলে বিষয়টি কি হবে। বদি নিজে নষ্ট এবার তার বউও ঐ নষ্টের দলে দলিলদস্তাবেজসহ শরিক। বদিদের দুর্গন্ধে বউরা কিভাবে নির্মল থাকবেন, এক হাড়ির ভাত তারা খাচ্ছেন, সেটি হারাম হলে দুজনাই সেটি ভক্ষণ করছেন। এ শুদ্ধিতে কি জাতি উপকার জমা করতে পারবে বলে মনে হয়?  গোটাদেশ এসব চেয়ে চেয়ে দেখছে, রিজভীদের চিৎকার, নির্বাচন সামনে রেখে নেতাদের ধড়পাকড় চালু আছে, বলা হচ্ছে সরকার সচল নয়, কিন্তু সরকারের চেলাচামুন্ডরা বসে নেই, লেবেল প্লেইং ফিল্ড তৈরী করবে কি, অনাচার বহাল রেখে চলেছে। নাহলে তফসিল ঘোষণার পর কেমন করে ধড়পাকড় চলে। সরকারী বাজেটে চারটি প্রেক্ষাপটে তার এত অপকর্মের পরও তার নামে ডকুমেন্টারী প্রচার করা হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহার কি এসব নয়?

(২১ নভেম্বর ২০১৮, অ্যানালাইসিস বিডি) মারফতে একটি খবর জানা যায় “ভোট ডাকাতীর ভয়াবহ ষড়যন্ত্র ফাঁস!” ইতিমধ্যে দুটি গোপন ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে গেছে প্রিসাইডিং অফিসারের তালিকা পাঠানো হয়েছে যার মধ্যে ৮৫% থেকে ৯০% হচ্ছে আওয়ামী লীগের অনুসারী। এসবের মানে কি? জানা গেছে, গত ১৩ নভেম্বর রিটার্নিং অফিসারদেরকে ঢাকাতে এনে ব্রিফ করেছে দালাল নির্বাচন কমিশন। ব্রিফিং শেষে রিটার্নিং অফিসাররা গোপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনার কার্যালয়ে চলে যান। বিএনপি এর উপর অভিযোগ দায়ের করেছে। সেখানে গোপন বৈঠক হয় ঠিক বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার আগে ও পরে যেভাবে বৈঠকের পর বৈঠকের খোঁজ পাওয়া যায়। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের গোপন তালিকার তথ্য প্রকাশ হয়ে গেছে খুলনার হরিণটানা থানায়।  সেখানে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৪ জন শিক্ষকের নাম। এদের ভিতরে ৬৩জনই অর্থাৎ ৮৫%ই আওয়ামী লীগ সমর্থক। ছয়জন বা ৮ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক। একজন শিক্ষক কোন দল করেন না বলে পুলিশের ঐ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত রোববার খুলনার হরিণটানা থানা পুলিশ থেকে এক মেইল বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এতসব আলামতে আসন্ন কিয়ামতের খবর স্পষ্ট হচ্ছে। তবে মনে রাখার বিষয় বাস্তবে কিয়ামত কাউকে ছাড়বে না, যদিও সময়ে সদস্যদের সেটি মনেই থাকে না। বলা হচ্ছে সরকার কার্যকর নয়, তফসিল ঘোষণা হয়েছে সব করছে নির্বাচন কমিশন। এসব কি নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা জবাব দিন জনগণসহ সচেতনরা। নির্বাচন কমিশনের পেছনে বসে কলকাঠি নাড়ছে একটি ভৌতিক ছায়া সরকার।

২১ নভেম্বর ২০১৮ সাল।

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: