Articles published in this site are copyright protected.

Archive for November, 2018

রাজনীতি – ষড়যন্ত্র, ধর্ম, আন্তর্জাতিক ও স্মৃতিচারণ। এখানে মোট = ১৩৬ + লেখার লিংক দেয়া হলো

/a>
এখানে মোট ১৩৬ + + লেখার লিংক দেয়া হলো।  বেশীরভাগ লেখাগুলি রাজনৈতিক পটে লেখা হয়েছে। বাংলাদেশ বড় সংকট সময় পার করছে। বাস্তব ঘটনার আলোকে এগুলি লিখা হয়েছে ময়দানের দাগ চিহ্ন দেখে। স্বাধীনতা পরবর্তী জাতি এত বিপর্যস্ত অবস্থান মোকাবেলা করে নি যা বর্তমানে একটি বড় সময় থেকে মোকাবেলা করে যাচ্ছে। লেখাগুলি বাংলাদেশীদের জীবনের সাথে অতোপ্রতোভাবে জড়িত। লেখাগুলি প্রতিটি সচেতন বাংলাদেশীর পড়া অত্যন্ত জরুরী। তাছাড়াও কিছু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাস্তব নির্যাতনের কিছু চিত্রও এখানে এসেছে। শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসাবে ইসলাম একটি জরূরী অধ্যায়, অস্বীকার করার উপায় নেই। তাতে কোন ভুল জড়িত থাকুক সেটি এখানের কোন সৎ নেতৃত্বই চাইবেন না। সঙ্গত কারণে সেটির মূল্যায়নও দরকার। 

 

সত্য ইতিহাস আজ মিথ্যায় মোড়া / হিন্দুরা আরবের কুরাইশ অনুগামী মূর্তিপূজক জাতি /বাংলাদেশে লাখ লাখ ভারতীয়, এর জবাব কি? / বাংলাদেশ গ্রাসের প্রচেষ্টায় ভারতীয় ‘র’ / বিপর্যস্ত ইতিহাস কাশ্মীর হায়দ্রাবাদ বাংলাদেশ / ভারতের ভাগ্যাকাশে শতাব্দীর দুর্গ্রহ /<দাদাগিরির দাবড়ানি / এরশাদ ও তার স্বৈর স্বজন হাসিনা / ট্রেনে শেখ হাসিনার মদনীয় হামলা / মুরসী বনাম খালেদা জিয়া / আওয়ামী লীগ এরা কারা, এরা কি মানুষ?/ মর্মাহত ও বিব্রত হওয়াই কি সিইসির একমাত্র সমাধান? / ঐশী গ্রন্থ কুরআন থেকে মানব ও দানব চেনা সময়ের বড় দাবী / 

ভোটের আগেই ভোট ডাকাতী ছায়া সরকারের নড়াচড়া / বিচারের নামে অদেখা বিচারককে দয়া করে ভুলে যাবেন না / ধর্ম ও রাজনীতিতে প্রশ্নবিদ্ধ বাংলাদেশ ও সৌদি / ইমাম যখন ঈমান হারান / আলখাল্লার ভিতরে ইবলিসের বসবাস /  বৌদ্ধ ধর্মের শিকড়েও ইসলাম /  মানুষের রক্তে নদীরা লাল /  শিকড়হারা (?) রোহিঙ্গাদের ইতিহাস / সৌদি, কাতার, গণতন্ত্র, আরববসন্ত, ইসলাম – সন্ধানী বিশ্লেষণ  /  ফরহাদ মজহার, খালেদা জিয়ার বোতল, পুলিশ ও সরকার / পলাশির পতনের মূলে হিন্দু পরাশক্তি অতঃপর মীরজাফর /

বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন, ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব? , নিষিদ্ধ বৃক্ষ / ২০১১ সালের ৩১ মে (বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস) উপলক্ষে লেখা /  বাংলাদেশের কলিজাতে কামড়: লাশের মিছিলে জিয়া ও মঞ্জুর / মালালা ও নাবিলা: পশ্চিমা বিশে^র নাবলা কথা। মাদ্রাসার বই ও হিন্দু লেখক , ভুল শুধরে ফের ভুল / সত্য বলা ছাড়া আর কোন বিকল্প দেখছি না /  হাওর গিলছে ভারত পানি মাঙ্গা লালপানি মিলা / জাতীয় সংগীত মূর্তিবন্দনা থেকে মাতৃবন্দনা অদক্ষ হাতে দেশবন্দনা (conspiracy / politics) বাংলাদেশ কি আকবরের দীন-ই-এলাহীর উত্তরসুরি? / পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার / স্বাধীনতা হারাবার শংকা কেন জাগছে? / মাওলানা সাঈদীর বিচারে “গভমেন্ট গেছে পাগল হইয়া তারা একটা রায় চায়” /  ষড়যন্ত্রের ভূমিকম্প : সিকিম মানচিত্রের পরিবর্তন / মধ্যযুগীয় উপনিবেশ: রুখে দাও বাংলাদেশ  / প্রতিরক্ষা চুক্তির ফাঁদে লেজেগোবরে জঙ্গিবাংলাদেশ ভাসুরের নাম মুছতে ব্যাংকে আগুন সাথে জঙ্গি হামলা /  ২০০১ সালের ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ জানান দেয় বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশ / বিগত শতকের গুণ্ডামি আজ চলচ্চিত্রের ‘গুণ্ডে’ / ঢিলের বদলে পাটকেল আসে কখনও খোদায়ি কখনও মানবিক /  ১৯৮৩ সালে ভারতে বাংলাভাষীদের ওপর আরোপিত নেলীর ধ্বংসযজ্ঞ /  এরশাদ চিহ্নিত জোড়া প্রতারকের একজন / ওড়না বিতর্ক: / মুক্তমনা ধর্মনিরপেক্ষ ও নাস্তিক্যবাদের নামে পাঠ্যবই এ গভীর ষড়যন্ত্র /  কয়লার ময়লাতে সুন্দরবন গভীর শংকায়  / আটশ’ বছরপূর্ব ওলির বাণীতে মানচিত্রের অতীত ও ভবিষ্যত্ +সিইসি বিতর্ক পিপিলিকার পাখা /   ছবি যখন ডিজিটাল ভোটের কথা কয়! /  ইসলাম বাতিলের ধ্বনি / জাতি জাগো  / ধর্মনিরপেক্ষতা ষড়যন্ত্রীদের ধর্ম বটিকা ! / গোলামী বড়? / প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষা ধর্ম চাকরী / ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ / পড়শির মনমত  / পথ খুঁজছে নাগরিকত্ব হারানো / হিন্দু প্রলয়াম / কুরআন পুড়ানো, প্রতিমা ভাঙ্গা / আনন্দবাজার ও “র”সুন্দরবন শংকায় “ক্রুসেডার ১০০”সংকটে জেগে উঠ / রাজনীতির অগ্নুৎপাত / গণতন্ত্র কি / শহীদের প্রশ্নবিদ্ধ সংখ্যা  / জাতীয় সংগীত বিডিআর বিদ্রোহ / মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার মেজর (অবঃ) এম এ জলিল: অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা / আলামত সৃষ্টির না ধ্বংসের? ব্যাংক লুটে ৭২ – ৭৪, ২০১৬ / প্রস্থান হোক প্রধান দাবী /  চিন্তার বলিরেখা কপালে / দুজন সম্পাদক / জিহাদ জঙ্গি, জয়, লাশের দেশ / গুলশানের জমা / সরকারই জঙ্গী ওপেন সিক্রেট / কল্যানপুরের জঙ্গি / সার্বভৌমত্ব মাপুন / দুর্গা পূজা পলাশীর কলঙ্ক / সুরঞ্জিতনামা / সংকটে বাংলাদেশ / কণ্ঠে কাঁটার মালা লতার বেদনায় হালকা মলম / দুই বিদেশী হত্যা: সরকার ও ভারত /  অন্ধ আলোটা নিভিয়ে দাও / বিরোধীরা আন্দোলনে সরকার গণহত্যায় / সরকার অপকর্ম দেখে না /  বিএনপি সরকার পতনের লক্ষে একুশে আগষ্ট ২০০৪, সন্দেহ সন্ত্রাসীকে / ভারত সরকারের নির্বাচনী ব্যাঙ্ক ২০১৪ ডিসেম্বরের রাজনৈতিক হালখাতা / লাশের মিছিলে জিয়া ও মঞজুর / স্বৈরাচাররা দুর্গন্ধ ঢাকতে ব্যস্ত ভালবাসার নাস্তিক সংকট / বৈশাখ পূজা শবেবরাত ইলিশ মঙ্গলপ্রদীপ সমকামিতা মানবাধিকার / ২০১৬এর রমজানে সংযম সংকট /  আকবরের দীন-ই-এলাহী কি ? ষড়যন্ত্রে : সিকিম মানচিত্রের পরিবর্তন / গুজরাটের রক্ত: ভারতবর্ষের গর্ব না কলঙ্ক? / অযোধ্যার আগুনের সলতেটা কার /

ধর্ম গবেষনা মূলক লেখা: অনেক ক্ষেত্রে ভুল ভাবে ধর্মের  বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সেটি স্পষ্ট করতে ১৮ + লেখা সংযোজন করছি যে গুলি এর মাঝে ছাপা হয়েছে এই সাইটে। 

ঐশী গ্রন্থ কুরআন থেকে মানব ও দানব চেনা সময়ের বড় দাবীবিবি আয়েশার বিয়ে / ইমাম যখন ঈমান হারান / সৌদি, কাতার, গণতন্ত্র, আরববসন্ত, ইসলাম – সন্ধানী বিশ্লেষণ /  বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন,  ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব?, নিষিদ্ধ বৃক্ষ২০১১ সালের ৩১ মে (বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস) উপলক্ষে লেখা / ইসলামে যুদ্ধ: ব্যাখ্যার নামে অপব্যাখ্যা / ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:মুতার যুদ্ধ ময়দানের কঠিন যুদ্ধ: ধর্ম ব্যবসা নয় / দোররা / বৌদ্ধ ধর্মের শিকড়েও ইসলাম: /  কার্টুন এক হাস্যকর তামাশা  / সেক্যুলার বাংগালি মুসলিমের ধর্মহীনতা / ২০১৫ এর লাশের মিছিলে হজ বিপর্যয় / “মুতাহ” বিবাহ “আইএসআইএস”এক বিষ ফোঁড়ার নাম / মাকড়শার ঠুনকো বাসাখুতবা, তবলিগ জামাত, ইজতেমা ও কিছু কথা / জাকির নায়েক ও সৌদির এক ধর্ম প্রচারকের পুরষ্কার / ধর্মহারা লালনের জন্য ডেরা তৈরী করে কে বা কারা? / যুগের সত্য মোকাবেলায় হিন্দু সংস্কৃতির প্রস্তুতি / পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার। / তুরষ্কের অভ্যুত্থানে আযান ছিল বিপদের সাইরেন ধ্বনি / ইহুদীরা না ইসরাইলীয় না সেমেটিক, জায়নবাদী ইহুদীরা নবী ইব্রাহিমের নয়, হিটলারের অনুসারী / মধ্যযুগ বাংলাদেশে, ধর্মের নামে রাজ প্রতারণা / ইসলামের নারী

তাছাড়া কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণামূলক বিষয়ে বা সাহিত্যে ইতিহাসে যে নির্যাতনের অপকর্ম করা হয়েছে তারও কিছু ছোঁয়া থাকবে। এবারের লেখাগুলোতে ডজনখানেক লেখা সংযোজন করছি।  

মালালা ও নাবিলা: পশ্চিমা বিশে^র নাবলা কথা। শিকড়হারা রোহিঙ্গাদের ইতিহাস / সময়ের দাবী কাশ্মীর বাংলাদেশ থেকে ভারত হটাও কষ্টের যাতাকলে কাশ্মীর, শুনছি যুদ্ধের ধ্বনি / প্যালেস্টাইনীরা বিপন্ন বিধ্বস্ত জঙ্গী আক্রান্ত / গাজাতে অবরোধ, বিপন্ন মানবতা, সভ্যতার নিরবতা! / মীর মশাররফ হোসেনের “গাজী মিঁয়ার বস্তানী”কবিতার অংশ:প্রসঙ্গ গুজরাটের ধর্মান্ধতা: উচ্চবর্ণের হিংস্রতা / প্রসঙ্গ রবীন্দ্র: কবি জসিম উদ্দিনের দৃষ্টিতে শান্তিনিকেতন / সাহিত্যে সতিত্বহানীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বাংলাদেশে এইডসএর প্রকৃত অবস্থান অতংকজনক /  ফেলানী /

এখানে স্মৃতিচারণমূলক একটি লেখা সংযোজন করছি।

গণিভাই ও আমরা

১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৭।

 

Advertisements

ধর্ম ও রাজনীতিতে  প্রশ্নবিদ্ধ  বাংলাদেশ ও সৌদি

নাজমা মোস্তফা

কুরআন এমন একটি গ্রন্থ ও পথ নির্দেশিকা যে, ওখান থেকে যে যতই গবেষনা করবে ততই অমৃত বের হয়ে আসবে। মনের মাঝে কথাটি ঘুরপাক খাচ্ছিল, সারা বিশে^ কেন মুসলিমরা এত মার খাচ্ছে। সেদিন একজনের সাথে কথা বলছি, তখন তার যুক্তি হচ্ছে মুসলিমরা ঠিক মতন নামাজ কালাম করছে না, নিজে মানছে না, শিখছে না বাচ্চাদেরেও শিখাচ্ছে না, যার কারণে সারা বিশে^ মুসলিমরা মার খাচ্ছে। কিন্তু আজো শুক্রবারে দেখা যায় মানুষের ভিড়ে মসজিদে জায়গা পাওয়া দায়। তার মানে মানুষরা ঠিকই নামাজ পড়ছে অন্তত এটি বলার অবকাশ নেই যে, চার্চ গুলির মত মসজিদের এত দৈন্যদশা এখনো হয়নি। মনে হচ্ছে মুসলিমরা অংকে ভুল করছে বলেই ভুল রিডিং জমা করছে। ঈমান আনার পরও একজন মুসলিম অনায়াসে মিথ্যাচার করছে, অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। কিছু মানুষ মনে করে শত অপরাধ করেও নামাজ কালাম তপজপ করলেই চলবে। তপজপে পাওয়া পূণ্যের ঠেলাতে সব পাপ ধুয়ে যাবে। এমন কি কিছু সংকীর্ণ ধর্মব্যবসায়ী আলেমরা ধর্মের নামেও এসব প্রচারে উদ্বুদ্ধ করেন। তারা প্রচার করেন কুরআন বুঝা অনেক কঠিন, আমাদের কাছে আসেন। তুলনামূলক ধর্মের গবেষক ও বক্তা জাকির নায়েকের ব্যতিক্রমী যুক্তিপূর্ণ কথাবার্তার পরও এসব সংকীর্ণরা বিজ্ঞের ভূমিকায় খেলো কথাবার্তা বলে নিজেকে অনেক অভিজ্ঞ জানান দিতে চায়। তাদের দৃষ্টিতে তিনি হচ্ছেন ইহুদী খৃষ্টানের দালাল, কারণ তিনি আলখেল্লা না পরে কোট টাই পরেন। এরা ধর্মকে কখনো তাবিজ কবজের ভিতরে কখনো আলখেল্লার ভেতরে জায়গা করে দিয়েছে। আল্লাহর কম্পিউটার ও অংকীয় বিন্যাসে কাঠমোল্লারা খুব সহজে ধরা খাবে। তাদের ধ্যান ধারণায় যেমনি কুরআন রচিত হয়নি। ঠিক সেভাবে শেষ বিচারের হিসাবটাও মাজার তাবিজ দ্বারা বিন্যাস করা যাবে না। সেখানে তাদের ধর্মজ্ঞানের এই দৈন্যদশা দেখলে বাস্তবিকই কষ্ট হয়। বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠরা মুসলিম কিন্তু প্রতারণা, শঠতা, মিথ্যাচারেও তারা গরিষ্ঠ সংখ্যক। এটি কেন হবে? মুসলিম নামধারী সরকার ও তার দলবল এমন সব মিথ্যাচার করছে তখন মনে হয় না এরা বিশ^াসে মুসলিম!

জালেম ও অত্যাচারী শাসকের মোকাবেলাতে সত্য প্রচার, সত্য কথন হচ্ছে সেরা ধর্মধারীর লক্ষণ।  আপনারা হয়তো শুনেছেন সাম্প্রতিক একটি সংবাদ সৌদির বর্তমান যুবরাজ সালমান কিলিং মিশনে জড়িত থেকে ফেঁসে যাচ্ছেন। কারণ কিলিং মিশনে জড়িত তার ঘনিষ্ঠদের ছবিসহ সবকিছুই ওপেন হয়ে পড়েছে। বলা চলে অনেকটা সত্য যুগের মতই অবস্থা, চারপাশে কোন অপকর্মই আর ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। সিসেম ফাঁকের মত সবকিছুই ওপেন হয়ে পড়ে খুব তাড়াতাড়ি। সালমান যুবরাজ হলেও আমাদের নবী মোহাম্মদ (সঃ) কোনদিনও যুবরাজ ছিলেন না। তিনি ছিলেন আব্দুল্লাহর বেটা মা আমিনার গর্ভে জন্ম নেয়া আহমদ, মোহাম্মদ নামের একজন সাধারণ আরব। তার জীবনের ব্রত ছিল সততা, নীতি নৈতিকতা। যেখানে এসব যুবরাজদের কৃতকর্ম এসবের ধারেকাছেও নেই। নৈতিকতার প্রতিটি পাটকে কবর দিয়ে সেই দীনহীন নবীর পদটিই এরা ধরে রেখেছে স্বৈরতন্ত্রের আদলে। এখানে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জবাবদিহিতার বালাই নেই, স্বেচ্ছাচারিতার দোহাই দিয়ে তারা স্বৈরশাসক হয়ে যা ইচ্ছে তাই করছে। ইসলাম হচ্ছে কঠিন নিয়মের সততার নীতির ডোরে বাধা শান্তির ধর্ম। তাদের নিজেদের গদির সুবিধার জন্য তারা সব সময়ই একটি কৃত্রিম বিভেদকে জিইয়ে রাখার পক্ষপাতি। বিভেদের নাম হচ্ছে শিয়া ও সুন্নী। তারপর শিয়া আর সুন্নী হওয়ার যে বিভেদ তাও মূল গ্রন্থ কুরআনে স্বীকৃত নয়। কারণ আল্লাহ কুরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন যারা আমার ধর্মকে ভাগ করবে তাদের ফয়সালা আমার কাছে। তাদের জন্য নির্ধারিত আছে কঠোর যন্ত্রণা। ইসলামই গণতন্ত্রের পথিকৃত, কিন্তু গণতন্ত্রকে সেখান থেকে খুব কৌশলে মুছে দেয়া হয়েছে। সেটি আজকালের কথা নয়, ইতিহাসের তলানীতে পড়ে আছে ঐসব বেদনা। আজ ওসব নাড়ছি না। বলছি একজন জার্নালিস্ট খাশোগী হত্যার করুণ গল্প।

চারপাশে মানুষের আচার আচরণ  লক্ষ্য করলে মনে হয় মানুষের চেয়ে ভয়ংকর আর কোন জীব নেই। ৩৩ বছর বয়সের যুবরাজের বিলাস বৈভব আর ধরাকে সরাজ্ঞান করার যে পায়তারা তা দেখলে আত্মা শিউরে উঠে। আরব সাংবাদিক খাশোগীকে হত্যার কারণ হচ্ছে তার অনুসন্ধানী সত্য প্রচারে যুবরাজ ধরা খেয়েছেন। এতে কথিত যুবরাজের খপ্পর থেকে জান বাঁচাতে দেশত্যাগ করেও তার শেষ রক্ষা হয়নি। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর খাশোগীর শেষ কলামেও বক্তব্যটি উঠে এসেছে। বক্তব্যে ছিল যে আরব বিশে^র জনগণের সামনে একটি লোহার পর্দা লাগানো আছে। এটি বাইরের কেউ লাগায়নি বরং ক্ষমতার জন্য দ্বন্ধে¦ লিপ্ত আরব নেতারাই লাগিয়েছেন। জনতার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবী জানান খাশোগী। তিনি ছিলেন মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টের নিয়মিত লেখক, তার শেষ কলামে এসব গভীর কথা উঠে এসেছে (বিবিসি)। এতে খাশোগী বলেন আরব বিশে^র মানুষ হয় খবর পায় না অথবা ভুল খবর পায়। অনেক ধানাই পানাইএর পর সম্প্রতি সৌদি স্বীকার করছে তাদের এ অপকর্মের কথা। বাংলাদেশেও বেশ বড় সময় থেকে মানুষের মুখে কুলুপ সেটে দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিক সাগর-রূণি হত্যা, মাহমুদুর রহমান নির্যাতন, শফিক রেহমান, শহিদুল আলমসহ অসংখ্য সাংবাদিক, রাজনেতারা মিডিয়াসহ আক্রান্ত হয়েছেন, হচ্ছেন। তবে পার্থক্য হচ্ছে বাংলাদেশে করছে গণতন্ত্রের তকমা লাগিয়ে আর সৌদিরা করছে রাজতন্ত্রের তকমা লাগিয়ে।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র বস্তাবন্দী, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাকে কোটি জনতার পক্ষে জনগণ এক হয়েছে। সরকার এ ঐক্য দেখে ভীতিকর আচরণ স্পষ্ট করছে। ধড়পাকড়, রিমান্ড, গুম জোরদার করা হয়েছে। যা দেখে ঐক্যের নেতা ডঃ কামাল বলছেন সরকার এমন আচরণ করছে জানোয়ারও এমন আচরণ করে না।  রাস্তায় রাস্তায় প্রতিরোধ, ব্যারিকেড, যান চলাচল বন্ধ ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করার পরও লাখ লাখ মানুষ সমবেত হয়েছে। নেতাদের দাবী স্বৈরাচার থেকে মুক্তি, গনতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবী, অবাধ স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, ডাকাতের হাত থেকে দেশ রক্ষার দাবী, স্বাধীনভাবে কথা বলার দাবী, জোর করে ক্ষমতা আকড়ে থাকা সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানোর কসরত চালিয়ে যাওয়ার দাবী। কি ভয়ংকর আর লজ্জাস্কর অবস্থান দেশে বিরাজমান তা বলতেও জাতির জন্য লজ্জার কারণ। উন্নয়নের নামে মেগা প্রজেক্ট আর মেগা দূর্নীতি চলছে তার নিজ দলের মাঝেই সীমাবদ্ধ এ উন্নয়ন। বিরোধী নেতৃকে আগেই কারাগারে মিথ্যা মামলায় ছলে বলে ঢোকানো হয়েছে। এবার জনসভা শেষে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোক্তাদিরকে গ্রেফতার করা হয়।  এ সরকারের সৃষ্ট মহা মহা সংকটের পরও তারা চায় আর একটি অবৈধ নির্বাচন। বিনাভোটের একতরফা নির্বাচন। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে জনগণ তাদেরে ভোট দেয় না। তাই জোর করে সিলমারা ছাড়া ভোটে যাওয়ার আর দ্বিতীয় রাস্তা তাদের জানা নাই। তাই খুজে বের করেছে ইভিএম পদ্ধতি হলে তাদের সুবিধা হয়। নিজেদের অপকর্ম ঢেকে নিরাপদ রাখতে করা হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যাতে কোন সাংবাদিক ভুলেও তাদের অপকর্ম ফাঁস করে না দেয়। তথ্যমন্ত্রী গলা ছেড়ে বলছেন হলুদ সাংবাদিকতা রোধ করতে এসব করা হচ্ছে। সঙ্গত কারণেই তারা বড় সময় থেকেই ইবলিসের দোসর সেজেছে। বিশেষজ্ঞরা কলাম  লিখছেন, সরকার ছাড়া দেশে আর কেউ স্বাধীন নেই। সাংবাদিকরা কথা বললে মামলা হচ্ছে, একের পর এক ধড়পাকড় করেই এ যাবৎ সরকার টিকে আছে। বিপন্ন মানুষরা ভয়ংকর সময় পার করছে। সরকারের আস্থাভাজন ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিও তার গোপন ষড়যন্ত্রের সব খবর উজার করে বই লিখছেন। এ সরকারের অপকর্ম এভাবে আগেও উন্মোচিত হয়েছে, আজো হচ্ছে, তাই মানুষ আজ ১০০%ই সচেতন।

গত ২২ অক্টোবরের চট্টগ্রাম ব্যুরোর খবরে প্রকাশ ডেঙ্গুতে গত বছরে নিহত বিরোধী পক্ষের বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন পুলিশের উপর ককটেল ছুড়েছেন। অন্যজন আবুধাবিতে অবস্থান করা সত্ত্বেও নগরীর পাঁচলাইশে গোপন বৈঠক করেছেন। অন্য আরেকজন রাত চারটায় এডভোকেট রেললাইনে বসে পুলিশকে গুলি ছুঁড়েছেন। এমন কি ৯০ বছরের বৃদ্ধাও বাদ নাই, পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিও পুলিশের আসামী। এসব হচ্ছে সরকারের পক্ষে সাজানো লিস্ট ধরে করা গায়েবী মামলা। সামনে নির্বাচন তাই হাজার হাজার আসামী আর শত শত গ্রেফতার, বাকীরা পলাতক থেকে ভয়ংকর সময় পার করছেন। এটি শুধু আজই প্রথম নয়, এসব এদেশবাসীর ভাগের জমা বহুদিন থেকে। বলা হচ্ছে সাম্প্রতিক তারেক জিয়ার রায় ঠেকাতে এসব নাশকতা করছে সব বিরোধী পক্ষের লোক। গায়েবী ভৌতিক মামলায় দেশ সয়লাব। মরা লাশ হয়েও রক্ষা মিলছে না। ভুক্তভোগীরা বলছে ওখানে কোন ঘটনাই ঘটে নাই কিন্তু থানার ওসি প্রণব কুমার চৌধুরী দাবী করছেন সেখানে এসব ঘটনা ঘটেছে। ঐ মামলাতে ৫৮ জন বয়োবৃদ্ধ আসামী, গভীর রাতে শুধু তরুণই নয়, বয়ষ্করাও লিস্টবদ্ধ, যেন দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ করতো। ঘটনাটির উল্লেখ করলাম এ কারণে যে, এ হচ্ছে মুসলিম অধ্যুষিত একটি অঞ্চলের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দুর্দশার বিবরণ। ২০১৪ সালে অবৈধ সরকারের সেরা ভোট ডাকাতীর পর সম্প্রতি পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের নামে যে রসরঙ্গ চলছে, তা দেশবাসীর জানা। গায়ে মানে না আপনি মোড়ল সেজেই সরকার এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। বৈধ পথে হেটে সংবিধান নির্বাচন কমিশনারের উপর যে অধিকার ও দায়িত্ব অর্পন করেছে সেটি যদি তারা স্বাধীনভাবে করতে পারতো, তবে দেশকে এত রাজনৈতিক জটিলতায় পড়তে হতো না।

এ উভয় মুসলিম অধ্যুষিত দেশের এসব কি কখনো ইনসানের কাজ হতে পারে, এসব হচ্ছে ইবলিসের কাজ। পাঠক  লক্ষ্য করবেন আদম আর ইবলিসের গল্পটি বাইবেলে কুরআনে এসেছে। পৃথিবীতে খলিফা সৃষ্টির শুরুর সময়কার ধারণার উপর গল্পটি সাজানো। বিধাতার উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীতে খলিফা প্রেরণ আর সে উদ্দেশ্যেই এর অবতারণা। এ গল্পটির উপর গবেষনা করার বৃহৎ অপশন থাকার পরও অনেকেই গল্পের সঠিক বিশ্লেষনে না গিয়ে ভুল পথে রাস্তা মাপেন। এর থেকে জিন ভুতের গল্পে জড়িয়ে বিশাল মিথ্যার সরস গল্প সাজিয়ে কুসংস্কারের লালন করা হয়। কিয়ামত পর্যন্ত আদম জাতি আর ইবলিস জাতি এ দুটি সত্ত্বার প্রয়োজন অত্যন্ত বেশী, এ দুটি সত্ত্বা ব্যতীত মানব প্রকৃতি বিচার অসম্ভব। কুরআন বার বার এটি স্পষ্ট করেছে এদের উভয়ের দুটি স্বরুপ, উভয়কে কঠিন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। একজন মাটির মত নরম স্বভাবের, একজন আগুনের মত উগ্র স্বভাবের। এখানেই এ দুয়ের পার্থক্য। উভয়েই এক জিনিসই খায় উভয়ের নবীও এক। তারপরও মানুষ এদের সঠিকভাবে চিনতে ব্যর্থ হয়েছে। এরা আরবের ময়দানে যেমন আছে এরা আমেরিকার ময়দানেও আছে আর বাংলাদেশে তো বিশাল আস্তানা গেড়ে মাদুর পেতে মজলিস গরম করছে। এদের স্বরুপ দেখে এদেরে চিনে নিন। তবে আশার কথা হচ্ছে কিছু তফসিরকারকরা এর উপর গবেষনার ভিত্তিতে বস্তুনিষ্ঠ কাজ করে গেছেন এদের একজনের নাম মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ। তিনি অসংখ্য যুক্তি তর্কের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করেছেন যে এসব মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়। “যারা ইমান এনেছে তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর পথে আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা তাগুতের পথে যুদ্ধ করে; অতএব শয়তানের সাঙ্গোপাঙ্গদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। নিঃসন্দেহ শয়তানের চক্রান্ত চির দুর্বল ”(সুরা নিসার ৭৬ আয়াত)। আপনাদের চিন্তার দরজাকে খুলে দিন, প্রতিটি জটিল আপনাদের সামনে দিবালোকের মত স্পষ্ট হবে। আল্লাহ আমাদের  ইবলিসের পথে নয়, বরং মানুষের পথে চলার তওফিক দান করুন।   

২৫ অক্টোবর ২০১৮ সাল।

বি দ্র: লেখাটি নিউইয়র্ক ভিত্তিক সাপ্তাহিক রানার পত্রিকাতে এসেছে ০২ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে।

 

 

রাজনীতিতে শেষ কথা নেই; এটি রাজনেতাদের শঠতার সারকথা

নাজমা মোস্তফা

আল্লাহ ছাড়া সব কিছুরই শেষ ও শুরু আছে। একটি কথা সংকটে একটু বেশী শোনা যায়, বলা হয় রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কোন কথা নেই। এটি কোন শাস্ত্রবাণী নয়, এটি সুবিধাভোগী মানুষের কপট স্বার্থে রচিত একটি অপকাজ বহাল রাখার হাতিয়ার মাত্র। শুনতে শুনতে অনেকে মনে করেন এটি মনে হয় কোন বিরাট বাণী। আসলে যে বা যারা এসব কথা ছড়ায় এরা মূলত কুপথে হাটা নীতিহীন মানুষ। এরা সমাজের শৃংখলায় বিশ^াসী নয়। রাজনীতিকে সংনীতিতে, সত্যকে মিথ্যাতে রুপান্তরিত করতেই এসব যুক্তি সবদিনই দেখায় দুর্বৃত্ত। বছরের পর বছর অবৈধ ও ডাকাত সরকার বলছে বিএনপির সাথে সংলাপ কখনোই নয়। ঐ নীতির অজুহাতেই এবার সংলাপে বসেছে, তাই এত দুর্বৃত্তায়নের পরও এরকম একটি কথা না বললে আর ইজ্জত টিকে না। এভাবেই শেষ কথা নেই বলে দুর্বৃত্তায়নের ক্ষেত্রকে অনুমোদন দেয়া হয়। ধর্মেই হোক আর রাজনীতিতেই হোক দুর্বৃত্ত দুর্বৃত্তই। দুর্বৃত্তের নিজের গড়া নষ্ট ফলমুলাতে সেটি কখনোই শুদ্ধ হবার কথা নয়। আওয়ামী লীগের এককালের নেতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীই স্পষ্ট করছেন ধড়পাকড়রত সাম্প্রতিক সময়ের প্রতিটি পুলিশ গড়ে ১০ লাখ টাকা ঘোষের বিনিময়ে চাকরী পেয়েছে। এসবই শর্তসাপেক্ষ অবৈধ পথের জমা।

এরপরও বলা হয় আলোচনা অব্যাহত থাকবে। যারা কখনোই সংলাপে যাবে না তারা অবার বলে সংলাপ নামের সং+আলাপ অব্যাহত থাকবে। যদিও সংক্ষেপে বলা যায় ফলাফল শূণ্য। গরীবের ঘোড়ারোগ হিসাবে খ্যাত খাবারের ম্যানুতে চিজকেক আর গরম লোভনীয় বাহারী প্রচারেই তারা ব্যস্ত। পরোক্ষ এসবও ছিল প্রতারণার প্রচারনার ভিন্ন কৌশল মাত্র। গণভবনের ঐ খাবারের মেনু ভাইরাল হয়ে যায়, কি কারণে, উদ্দেশ্যমূলকই এসব ছড়ানো হয়। মোটা মাথার রাজনেতারা মনে করেছেন গালাগাল করলেই এতিমরা তেড়ে আসবে, খাবারের ম্যানু দেখে বুভুক্ষ জাতি হাততালি দিবে। সংলাপ অর্থ আলাপ, কথোপকথন, নাটকের চরিত্রসমূহের পরষ্পরের সাথে কথোপকথন। দর্শককে আনন্দ দিতে এভাবে নাটক রচিত হয় মঞ্চে ম্যুভিতে, কিন্তু ভুয়া সংলাপে কষ্ট জমা হয় মাত্র – নাটকও রচিত হয় না। সেদিনের সংলাপ কি ছিল সং করার আলাপ? এরা স্বৈরাচারী পূর্বসুরী পাকিস্তান সময়কালীন ইয়াহইয়া সরকারের মত সময় ক্ষ্যাপন নাটক করেছে মাত্র।

ধর্মে অপকর্ম করার সুযোগ তৈরী করতে কিছু মিথ্যা হাদিস তৈরী করেছে ধর্মের নামে ষড়যন্ত্রী সংরা। যদিও নিবেদিতরা সবদিনই এর বিরুদ্ধে খড়গ হাতে ছিল সারাক্ষণ। তখনও একই পদ্ধতিতে তাদেরে জেলে ঢুকিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করা হয়, কখনো খুন করা হয় কখনো বিষ পান করানো হয়, ইতিহাস এসবের নীরব সাক্ষী। বর্তমানে গোটা দেশ অপকর্মে সয়লাব। উন্নয়নের নামে অপকর্ম করছে আর সারা দেশে ব্যাঙ্ক লুপাট হচ্ছে। এত জনঅধ্যুষিত একটি দেশের চালিকা শক্তি মূলত দেশের মানুষ। সরকার সারাক্ষণ বিরোধীর বিপক্ষে নিজেই তার সাজানো রায়ের নির্দেশের পক্ষে প্রকাশ্য বক্তব্য রাখে। এমন অবস্থায়ও আদালত থেকে সরকারের বিরুদ্ধে কোন আপত্তি জানানো হয়না। ধারণা সবার অদালতেরও হাতপা বান্ধা, বাংলাদেশের মেরুদন্ডহারা বিচারকদের এ অসহায় অবস্থান নিয়ে মানুষের মাঝে শংকা শতভাগ! কেউ সাহস দেখালে তাকে দেশছাড়া করা হয় এমন উদাহরণ ময়দানে বহু। সরকার নিজে বৈধ নয় বলেই সব অনাচার করতে পারছে, কোন মানবিক বিবেকের দংশনও তাদের নেই। মানুষ বুঝে এভাবে সরকার নিজের শঠতা দিয়ে আদালতকে প্রভাবিত করছে।

অজ্ঞদের ধর্ম বোঝাতে হরিণের গল্প অজ্ঞরাই সাজায়। হরিণ একটি বান্ধা ছিল গাছের তলায়, কথা বলে নবীর সাথে। হরিণের জন্য কোন ধর্ম আসে নাই। নবী হরিণের নবী ছিলেন না, ছিলেন মানুষের নবী, মানুষের পথপ্রদর্শক, বানীবাহক। প্রকাশ্য ময়দানে দিনে দিবালোকে তিনি সংগ্রাম করে জীবনকে কষ্টিপাথরে যাচাই করে ধর্মটিকে মানুষের সামনে তুলে ধরেন। মূল গ্রন্থ কুরআন এমনভাবে সিল করা সেখানে এঁটো মিশানোর কোন উপায় নেই দেখে ইবলিস বসে থাকে নাই, সে কৌশলে দ্বিতীয় গ্রন্থের নামে জ¦াল হাদিস তৈরী করে সময় সুযোগে ওখানে ঢুকিয়ে দেয়। তাই কোন যুগেই ইবলিসকে তার বাহ্যিক লেবাস দেখে মানুষ চিনতে পারে নাই। বরং বোঝা যায় হয়তো বড় হুজুর বলে বড় আসনটি পেতে দিয়েছে। সে যে এভাবে ময়দানে ঢুকে কাজ করবে এর ইঙ্গিত কুরআনে আজো আছে, অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই বিবেক সম্পন্ন মানুষকে এদের পরখ করতে হবে জানতে হবে চিনতে হবে। সঙ্গত কারণেই তার বাইরের স্বরুপের সাথে ভেতরের আসল স্বরুপকে মেলাতে হবে মন ও মগজ দিয়ে।

রাজনীতিতে খালেদা ও হাছিনা উভয়ে স্বভাবে আচরণে, দেখতে, মানসিকতায় দুজন এতই দু রকমের যে সেটি আর স্পষ্ট করার দরকার নেই। মনে হচ্ছে দেশের জনগণ সে বিশ্লেষণটি পার্থক্যটি করতে সক্ষম হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রিজভী হাওলাদার তার রাজনৈতিক মাএর বেদনায় কাফনের কাপড় গায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের জনসভাতে বুকে তার লেখা ছিল, “জেলে নিলে আমায় নে আমার মাকে ছেড়ে দে” মাথায় লেখা ছিল, “দাবি একটাই খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই”। এভাবে লুঙ্গি পরে মায়ের বন্দনা গাইছে বাংলাদেশের এতিমরা। সরকারের হিসাব ছিল এতিমরা মারমুখি হয়ে খালেদার দিকে তেড়ে আসবে, ওদিকে খোদ সরকার মুখে ফেনা তুলছে এতিমের টাকা খেয়েছে। যতই সরকার এতিমের টাকার দোহাই দিচ্ছে, ততই জাতির এতিমরা সংঘবদ্ধ হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে নিরব বিদ্রোহ করছে, কঠিন জবাব দিচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন রাস্তাঘাট যানবাহন সব বন্ধ করেও কোন দিশা পাচ্ছে না সরকার। সব বাধা অতিক্রম করে ক্ষুধার্থ এতিমরা পায়ে হেটে ময়দানে ঝাপিয়ে পড়ছে। আজ যারা মুক্তিযুদ্ধের নামে নষ্ট ব্যবসা করছে ক্ষুধার্থ এতিমরা তার জবাব দিচ্ছে। ৭১এর দিনগুলোর মতই তারা চায় সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার। ভোটের অধিকার হারা জনতারা আজ ঐ ঘটনার ৪৭ বছর পর আবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ধর্ম বা ধর্মনিরপেক্ষতা তাদের দাবী নয়। তারা চায় মানুষের মর্যাদা নিয়ে মানবিক মর্যাদায় বাঁচার অধিকার। যে অধিকারের লক্ষ্যে তারা খালেদার কাছে ভরসা রাখতে পারলেও বর্তমান সরকারের অপকর্মে তারা বাক্যহারা। সত্যনিষ্ট ক্ষুধার্থ মানুষ আজ এক হয়েছে। তড়িঘড়ি জনগণকে বিদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে তফসিল ঘোষনা করে সরকার তার স্বরুপকে আরো সুষ্পষ্ট করছে। অবৈধ পথই তার একমাত্র পথ, বাঁচুক বা মরুক।

জনসভাতে অনুমতিও সহজে মেলে না, চট্টগ্রামে দেয় মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে তাও লালদিঘির বড় চত্বরে নয়, বিএনপির অফিসের সামনে ২৫ শর্তে ২৭ অক্টোবর, সাথে চলে ধড়পাকড়ক। ঐ দিন রাত ১২টা পর্যন্তও মঞ্চ তৈরীতে হুমকি ধমকি দিয়ে, নেতাদের হোটেল বুকিং বাতিল করা হয়েছে। ২৫ শর্ত যেন কিয়ামতের ময়দানের পুলসিরাত পার হওয়া। সরু রাস্তায় একপাশে তারা হাটতে পারে কিন্তু বাকী অংশে স্বাভাবিক যানবাহন চলতে দিতে হবে। তারপরও এরা ঐ ফুলসিরাত পার হয়েও সংঘবদ্ধ হয়েছে কাজির দেউড়িতে। আবার বিকেল ৫টার মাঝেই সব শেষ করতে হবে। রাজশাহীতেও শর্তের বেড়াজাল। এমন আচরণ করছে অবৈধ এ সরকার যেন এ দেশের একমাত্র মালিক তারা, যারা নষ্ট পথে এখানে এসে শক্তির দন্ডটি হাতে তুলে নিয়েছে। অন্ধকারই আলোকে স্পষ্ট করে তুলেছে। অন্ধকার থাকাতেই মানুষ ভালো করে আলোকে বুঝতে পারছে, হজম করতে পারছে। সবচেয়ে স্পষ্ট কথাটি হচ্ছে ময়দানের এতিমরাই এ রায় দিচ্ছে উচ্ছস্বিত উল্লসিত হয়ে কি ঢাকাতে, কি চট্টগ্রামে কি রাজশাহীতে, দেশের প্রতিটি আনাচে কানাচে তাদের ক্ষুধার্থ মন প্রতিবাদী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

ডাঃ কামালরা প্রধানমন্ত্রীকে জাগানোর চেষ্টা করছেন কিন্তু তার কুম্ভকর্নের ঘুম ভাংগে নাই, হয়তো আমরণ ভাংবে না। ভাংলেই তো সব শেষ হয়ে যাবে। তাই সে জেগে ঘুমানোর ভান করে আছে। একদিন যারা দলে দলে আওয়ামী লীগ করেছেন তারাই শেষে ঐ অপকর্মের আদর্শ সংকট যোগান দিতে না পেরে পরবর্তীতে বিএনপির আদর্শে ঝাপিয়ে পড়েন। এদেশের বিএনপির প্রায় সবাই একদিন আওয়ামী লীগে ছিলেন। এসব হচ্ছে ইতিহাসে এ দুটি দলের গোড়ার কথা। লীগের আদর্শে বড় আকারে তাদের সৃষ্ট নষ্ট ফাঁক ধরা পড়ে। এদের আদর্শে সংকট ছিল, মুক্তিযুদ্ধের মূল তিন আদর্শ সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারে তারা প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে নাই। এরা ক্রমে হয়ে পড়ে ক্ষমতালোভী আদর্শহীনতার অনুসারী। তখন সঙ্গত কারণেই দলে দলে সচেতন মানুষরা ওখান থেকে ছিটকে বের হয়ে বিএনপিতে যোগদান করে। জিয়া হত্যার মাধ্যমে নতুন স্বৈরাচারের সাথে হাত লাগায়  হাছিনার  লীগের রাজনীতি। সমাজে ভুল ফরমুলা চালু করা হয় বলা হয় রাজনীতির কোন শেষ কথা নেই, ঐ নামে যখন যা ইচ্ছে তাই বলা যায়, করা যায়। এ হচ্ছে মগের মুল্লুক। নীতি নৈতিকতাকে ধ্বংস করতে স্বৈরাচারও বন্ধু হয়, নিজেও স্বৈরাচার হওয়া যায় কারণ রাজনীতির কোন শেষ নেই। সংলাপ করবোনা বলেও সংলাপ করা যায়। স্বৈরাচারের সাথে হাত মিলালে হবে বেঈমান বলেই সে ঐ বেঈমানীতে অংশ গ্রহণ করতে পারে। এমন সব খেলা দেখে দেখে বুভুক্ষের প্রতিনিধি রিজভী হাওলাদাররা জীবন বাজি রেখে সত্যকে পরখ করে নেয়। ছলবাজদের জন্যই এসব প্রতারণার কৌশল রাজনীতিতে কোন শেষ কথা নেই। কারণ তাদের অপকর্মের কোন সীমাসরহদ নেই, তাই তাদের নীতিরও শেষ কথা বলে কিছু নেই।

৯ নভেম্বর ২০১৮।

বি দ্র: লেখাটি ১৪ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত “দি রানার নিউজ” এ ছাপা হয়েছে।

ভোটের আগেই ভোট ডাকাতী ছায়া সরকারের নড়াচড়া

নাজমা মোস্তফা

২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী তারিখে আমার ব্লগে একটি লেখা লিখেছিলাম “সিইসি বিতর্কে মনে পড়ছে পিপিলিকার পাখা উঠে মরিবার তরে” এই বর্তমানের সিইসির উত্থান ও কৃতকর্মের উপর। লেখাটি পড়লে পুরানো অনেক খানা খন্দকের ইতিহাস স্পষ্ট হবে। ৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় মহিউদ্দিন খান আলমগীরের ডাকে জনতার মঞ্চ ছিল একটি দেশ বিধ্বংসী জটিল মঞ্চনাটক, সরকারী চাকুরীরা শৃংখলা ভেঙ্গে ঐ অনাচারে হাত লাগায়। ওদের ২০৮ জনের মাঝে মাত্র ৮৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। পরে ছলে বলে তারা ঐ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়ে জাতি ধ্বংসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে মোটাদাগে নাম খোদাই করে আজো রাজনীতিতে সচল আছে। ৯৬ সালে এই নুরুল হুদা কুমিল্লার ডিসি ছিলেন। কুমিল্লা কালেকটরেট থেকে তিনি তখন প্রধানমন্ত্রী খালেদার ছবি সরিয়ে দেন। সেখান থেকে ছিটকে জনতার মঞ্চে এসে তিনি দেশবিধ্বংসী অপকর্মে শরিক হোন (৩০ মার্চ ৯৬ সালে দৈনিকগুলোতে এসব খবর ছাপে)। ঐ সময়ে ১২ জুনের নির্বাচনের আগে হাইকোর্টে রিটের ১৬৩৫ নম্বর রিটে তার অপকর্মের উল্লেখ বর্তমান। তার রাজনৈতিক আচরণে এখন পর্যন্ত কোন ওদলবদল লক্ষ্য করা যায়নি। বিএনপি সরকারের মাধ্যমে ৯১-৯৬ সালে যেসব আওয়ামীপন্থীদেরকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে বসানো হয়েছিল এরাই পরবর্তীতে জনতার মঞ্চের অপকর্মে হাত লাগায়। ৮০ সালে জিয়াউর রহমানও তাকে বিজেএমসির এসিস্টেন্ট ম্যানেজার থেকে বঙ্গভবনে সেকশন অফিসার নিয়োগ দিলে তিনি আড়াই বছর সেখানে কর্মরত ছিলেন।

কিন্তু তার আচরণের কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। এরা থাকাতে জাতির ধ্বংস দ্রুত ত্বরান্বিত হয়। শৃংখলা ভংগের সব দলিল মাড়িয়ে ২০০৯এ এসে হাছিনা সরকার তার চাকরি ফেরতসহ দুটি উপঢৌকনসহ সব দায় দেনা দিয়ে আরো ধন্য করে রাখেন। তখন তাকে দুটি পদোন্নতি দেয়া হয় অতিরিক্ত সচিব ও সচিব হিসাবে। নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ইউনুসের বিরুদ্ধে বয়স বিপদজনক হলেও ২০০৫এ অবসরের বয়সে হুদার বয়স বিপদজনক হয়নি। এখানে হাছিনা সরকার নিজের কপট স্বার্থে সব অপকর্মে যেমন যোগান দিতে পারেন একইভাবে সেটি ছাড় দিতেও পারেন। এর বদৌলতে সরকার হুদার জন্য ডাবল প্রমোশনের দাওমারা রেকর্ড আগেই জমা করে  রেখেছে। এসবের কারণ তিনি আগাগোড়াই একজন প্রাক্তন ছাত্রলীগ ও ভারতের প্রশিক্ষিত মুজিব বাহিনীর সদস্য, জনতার মঞ্চ নায়ক, জটিল দেশ বিধ্বংসী অংকের নাটকীয় সদস্য।

সারাদেশ থেকে গুন্ডাবাহিনীর পেছনে নিয়োগ বানিজ্য হচ্ছে আওয়ামী হাছিনা লীগের এক বড় প্রজেক্ট। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভোটের দিন যেন চুরি ডাকাতীর একটি দিনে পর্যবসিত হয়। তফসিল ঘোষনার পর থেকেও তেমন কোন নিরপেক্ষতার ছাপ চোখে পড়ার মত পালিত হচ্ছে না। পল্টনের ঘটনাতে যা ঘটানো হলো সেটি অবশ্যই বিতর্কীত। আওয়ামীরা যখন মহড়া প্রদর্শন করে তখন তারা নীরবতা পালন করতে পারলেও বিএনপির মহড়া সইবার মত সহনশীলতা তারা দেখাতে পারে নাই। ঐ দিন পুলিশকে লেলিয়ে দেয়া হয় সরকারকে তুষ্ট করতে। বিরোধীর জন্য অন্য হিসাব। ওদের উপর গাড়ী তোলে দেয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা করতে দেরী করা হয় না। যেখানে আওয়ামী লীগে মানুষ খুন হলেও তারা নীরব থাকে। প্রশাসন নিরব ভূমিকায় থাকে, অতীতেও আজো। তারপর শুরু হবে ধড়পাকড়ের আসল মহড়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এরা একজনকে হাতপা বেধে আর একজনকে হাত পা খোলা রেখে পুকুরে নামিয়েছে সাঁতার কাটতে। বেশ কয় বছর থেকেই রাজনৈতিক ইনুরা বেফাঁস মুখে বার বার বলে চলেছেন যে খালেদাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা হবে, জেলে পুরা হবে। যার সূত্র ধরে রাজনেতাদের হাজার হাজার ছলের মামলা আর প্রতি সপ্তাহে হাজিরা নাটক। হাছিনা নিজে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কিন্তু আচরণ গত স্বচ্ছতা তার কাজেকর্মে নেই। তার ডকুমেন্টারী প্রচারও সরকারী ছত্রচ্ছায়ায় এসব প্রচার ভোটের আগে নিজ হাতে করা অপকর্মের আর এক নমুনা মাত্র। 

ওদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে করা তারেক রহমানের ভোটের আগে নেতাকর্মীদের সাথে করা স্কাইপি যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে। পারলে যেন তার হাতপা গুড়ো করে দেয়। অতীতে ১/১১এর সময় ঐ কাজ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে করিয়েছে তারা, তারপরও শান্তি নেই। তারেক রহমানকে সরকারের এতই ভয় যে নির্বাচন কমিশনও দেখা যাচ্ছে ঐ আওয়ামী পথেই হাটছে। বিএনপি অভিযোগ করছে পুরো বিএনপি অফিসেই ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে। সরকার যদি জড়িত না থাকে তবে সরকারের মনমত কাজ কেমন করে হয়? সরকার অতীতের মতই তার অনৈতিক আচরণ বহাল রেখেছে। সবচেয়ে বড় কথা নির্বাচন কমিশন একটি চিহ্নিত দালাল, কোন কার্যকরী পদক্ষেপই তারা নিচ্ছে না। এমন ভাবে আচরণ করছে যেন তারা ছাত্রলীগেরই নেতা হিসাবে কাজ করছে। সাদা পোশাকে পুলিশ যা ইচ্ছে তাই করছে আবার ধড়পাকড়ের পর সেটি স্বীকারও করছে না। যদিও হাইকোর্টে নির্দেশ আছে এভাবে কোন মানুষকে অন্যায়ভাবে আটক করা যাবে না। কিন্তু তারা সাদা পোশাকে অনাচারের নামে এসব করে চলেছে। বলা চলে সবকিছু আগের মতই আছে। পরিস্থিতির তেমন কোন পরিবর্তন নেই। আজকের খবরে প্রকাশ ভোটের দিনে সেনাবাহিনী বৃটিশ পার্লামেন্টের সেনাদের মত মূর্তিমান দাড়িয়ে থাকবে। নড়বে না, কোন ছবি তুলবে না কোন পদক্ষেপ নিতে পারবে না। এসব আচরণে কি মনে হয়? সরকার কি তার আচরণ থেকে সরে এসেছে? মোটেও না, বারে বারে মনে হচ্ছে মাহমুদুর রহমানের কথা, তিনি ময়দান থেকে হাতে কলমে শিক্ষাপ্রাপ্ত মানুষ। অনেক দিন থেকেই বারে বারে বলে চলেছেন যে আন্দোলনের বিকল্প কিছু নেই। এ সরকারকে বিশ^াস করার মত কিছু অবশিষ্ট নেই। যদিও ওবায়দুল কাদেররা শেষ বারের মত আর একবার চেষ্টা করতে বলছেন।

আর একটি পাতানো নির্বাচনের পক্ষে হাটছে নির্বাচন কমিশন” শিরোনামে খবর ছেপেছে (অনলাইন বিডিডটনেট, ২১ নভেম্বর)। সারা দেশে ৪১ হাজার প্রিসাইডিং অফিসার, ২ লাখ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও চার লাখ পোলিং অফিসারের তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ। নির্বাচন কমিশন এসব লিক হওয়া ষড়যন্ত্রের প্রস্তুতিতে নীরবতা বা অস্বীকার করছে। পুলিশ বাহিনীতে কোন রদবদল এখনো হয়নি। পুলিশের মনমত যা করা হবে তার ছক আঁকতে গত সোমবার পুলিশ বাহিণীর একদল সরকারী অনুগত কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক করে এসেছেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বসে ভোট কারচুপির ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলছেন বিএনপির নেতা ফখরুল (২০ নভেম্বর)। এরকম একটি কথায় অনেক চিন্তার জমা লুকানো আছে। এমপি মন্ত্রীদের দুর্নীতি ঢাকতেই আয়কর রিটার্ণ দাখিলের বিধান রদ, চারপাশে অনেক যুক্তি আসছে একতরফা ও প্রহসনমূলক নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন, বিএনপির নেতা রিজভীও সেটি স্পষ্ট করছেন অনেক যুক্তি প্রমানসহ। এভাবে বিরোধীপক্ষকে এখনো কোনঠাসা করার পায়তারা চলছে, সাথে চলছে পুলিশের একতরফা কোনঠাসা আচরণ। তার মানে বোঝাই যাচ্ছে লেবেল প্লেইং এর কি দশা! এর জবাবে অপকর্মী হাছান মাহমুদদের কাছে কোন সদুত্তর নেই বলেই পাগলের প্রলাপ ছেড়ে বলছেন, রিজভী অদ্ভুত এক প্রাণীতে রুপান্তরিত হয়েছেন। সরকার এতই পঁচে গেছে যে, এই সেদিনও মাহমুদুর রহমানকে কিভাবে আহত করলো যেন নেকড়ের কবলে পড়েছিলেন গভীর জঙ্গলে (আদালত চত্বরে)। একইভাবে মইনুল হোসেনকে কিভাবে আদালতে হামলা করা হয়, এসব নিয়ে কোন সময়ই হাছান মাহমুদরা বলেন না যে এরা নেকড়ে নামের প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। এ সরকারের অধীনে কোন সুষ্ঠ নির্বাচন হতেই পারে না। ওদিকে বদরুদ্দোজা এরশাদের সাথে মিশে ভিন্ন নাটক চলছে, ভারতের শ্রীংলার সাথে বৈঠক হচ্ছে। সত্য যুগ সবার স্বরুপ স্পষ্ট করছে দিবালোকের মত। কারো সুবাস কুবাস লুকিয়ে রাখার ফুরসত নেই। নারায়নগঞ্জের জেলা বিএনপির সেক্রেটারি জেলগেট থেকে গ্রেফতার হচ্ছেন (২১ নভেম্বর ২০১৮)। ভারত বাংলাদেশের সব দুর্ভোগের জন্য বড়দাগে দায়ী। শ্রীংলারা তাদের আচরণকে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধেই ইন্ধন দিয়েছেন এর প্রমাণ সবার হাতে হাতে। আজও তারা নড়াচাড়া বহাল রেখেছে।

দূর আমেরিকা থেকে হাছিনাপুত্র জয় হুঙ্কার ছাড়ছেন প্রতিটি বিএনপিকে জেলে পুরতে হবে। অতি কথায় পারদর্শী ওবায়দুল কাদের এবারের মত অবৈধ নেতার পক্ষে ওকালতি করে গেছেন এবার নাকি নেত্রী বাজিমাত করে সততা দেখাবেন। এ কথার আড়ালে তিনি বলতে চাইছেন এতদিন যে সততা তিনি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন, এবার দেখাবেন। বদিরা দুর্গন্ধে ময়দান এতই বিনষ্ট করে দিয়েছে এখন বলা হচ্ছে তাদের বউদেরে আনা হবে। তাহলে বিষয়টি কি হবে। বদি নিজে নষ্ট এবার তার বউও ঐ নষ্টের দলে দলিলদস্তাবেজসহ শরিক। বদিদের দুর্গন্ধে বউরা কিভাবে নির্মল থাকবেন, এক হাড়ির ভাত তারা খাচ্ছেন, সেটি হারাম হলে দুজনাই সেটি ভক্ষণ করছেন। এ শুদ্ধিতে কি জাতি উপকার জমা করতে পারবে বলে মনে হয়?  গোটাদেশ এসব চেয়ে চেয়ে দেখছে, রিজভীদের চিৎকার, নির্বাচন সামনে রেখে নেতাদের ধড়পাকড় চালু আছে, বলা হচ্ছে সরকার সচল নয়, কিন্তু সরকারের চেলাচামুন্ডরা বসে নেই, লেবেল প্লেইং ফিল্ড তৈরী করবে কি, অনাচার বহাল রেখে চলেছে। নাহলে তফসিল ঘোষণার পর কেমন করে ধড়পাকড় চলে। সরকারী বাজেটে চারটি প্রেক্ষাপটে তার এত অপকর্মের পরও তার নামে ডকুমেন্টারী প্রচার করা হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহার কি এসব নয়?

(২১ নভেম্বর ২০১৮, অ্যানালাইসিস বিডি) মারফতে একটি খবর জানা যায় “ভোট ডাকাতীর ভয়াবহ ষড়যন্ত্র ফাঁস!” ইতিমধ্যে দুটি গোপন ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে গেছে প্রিসাইডিং অফিসারের তালিকা পাঠানো হয়েছে যার মধ্যে ৮৫% থেকে ৯০% হচ্ছে আওয়ামী লীগের অনুসারী। এসবের মানে কি? জানা গেছে, গত ১৩ নভেম্বর রিটার্নিং অফিসারদেরকে ঢাকাতে এনে ব্রিফ করেছে দালাল নির্বাচন কমিশন। ব্রিফিং শেষে রিটার্নিং অফিসাররা গোপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনার কার্যালয়ে চলে যান। বিএনপি এর উপর অভিযোগ দায়ের করেছে। সেখানে গোপন বৈঠক হয় ঠিক বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার আগে ও পরে যেভাবে বৈঠকের পর বৈঠকের খোঁজ পাওয়া যায়। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের গোপন তালিকার তথ্য প্রকাশ হয়ে গেছে খুলনার হরিণটানা থানায়।  সেখানে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৪ জন শিক্ষকের নাম। এদের ভিতরে ৬৩জনই অর্থাৎ ৮৫%ই আওয়ামী লীগ সমর্থক। ছয়জন বা ৮ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক। একজন শিক্ষক কোন দল করেন না বলে পুলিশের ঐ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত রোববার খুলনার হরিণটানা থানা পুলিশ থেকে এক মেইল বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এতসব আলামতে আসন্ন কিয়ামতের খবর স্পষ্ট হচ্ছে। তবে মনে রাখার বিষয় বাস্তবে কিয়ামত কাউকে ছাড়বে না, যদিও সময়ে সদস্যদের সেটি মনেই থাকে না। বলা হচ্ছে সরকার কার্যকর নয়, তফসিল ঘোষণা হয়েছে সব করছে নির্বাচন কমিশন। এসব কি নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা জবাব দিন জনগণসহ সচেতনরা। নির্বাচন কমিশনের পেছনে বসে কলকাঠি নাড়ছে একটি ভৌতিক ছায়া সরকার।

২১ নভেম্বর ২০১৮ সাল।

Tag Cloud