Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

মিয়ানমারের অমানবিকতার পর বৌদ্ধদের স্বরুপ উন্মোচন দরকার হয়ে পড়েছে। সোয়া দুই হাজার বৎসর আগের মহাপুরুষ গৌতমবুদ্ধের অনুসারীরুপে পরিচিত বৌদ্ধরা আজ দু’ভাগে বিভক্ত, হীনযান ও মহাযান। প্রথম দল নাস্তিক আর দ্বিতীয় দল আস্তিক। খৃষ্টীয় প্রথম শতাব্দীর শেষ দিকে চীনেও বৌদ্ধ প্রভাব বিস্তার লাভ করে। এর মাঝে শত বর্ষ পার হওয়া বৌদ্ধধর্ম এক অদভুত আকার ধারণ করে বসে। ভারতবাসীর মন ও মগজে তখন শত শত ভূত প্রেত দেও দানব ঠাকুর দেবতা পিশাচ পিশাচিনী ঘেরা সমাজ ৩৩ কোটি দেবতার পাপে টলটলায়মান ছিল। এর কুপ্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত করতেই গৌতম বুদ্ধ কঠোর হাতে এসব অনাচার থেকে বের হওয়ার জন্য তাদের সে সময়ের প্রতিষ্ঠিত প্রচারিত ঈশ্বরবাদ ও তাদের নীতিবাদের প্রতিবাদ করেছিলেন। যার স্বাভাবিক ফলশ্রুতিতে তিনি পরিবর্তিত হলেন একজন নাস্তিক হিসাবে এবং কখনো পরবর্তীতে তিনি পূজিত হন স্বয়ং ঈশ্বর হিসাবেও। একই ফলাফল যুগে যুগে তার পরবর্তী বিভ্রান্ত অনুসারীরা জমা করে ঠিক একই ভাবে যারা এককালে ঈসা নবী ও ইব্রাহিম নবীকেও পূজা দিয়েছিল। অশ্বস্থ বৃক্ষের নিচে তিনি কি করতে গিয়েছিলেন? ধারণা করা হয় এই মেডিটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এরা অসীমের কাছে পৌছতে পেরেছিলেন , অসীম তার সন্ধানে একাত্মতা ঘোষনা করেছে। এভাবে এরা বিশেষভাবে জ্ঞান অর্জন করেন। যে বা যারা এ জ্ঞান অর্জন করেন নাই, তারা অনেক সময় এসব অস্বীকার করেন। কিন্তু সাধুরা যখন সত্যের সন্ধান পান তারা কোনভাবেই সত্যকে অস্বীকার করতে পারেন না। প্রচারিত ধর্মশাস্ত্রে এসব জ্ঞানের অর্জনকে স্বীকার করার অজস্র যুক্তি বর্তমান। ঐ সময় ভারবর্ষ তার যোগ বিয়োগের সবকিছুর একত্রিকরণ করে ফেলে। এবার শুরু হল ‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি’ বলতে তাদের সামান্যতম কুন্ঠিত হতে হয়নি, চলতে থাকে জোরে সোরে স্বয়ং বুদ্ধের পূজা অর্চনা।

ভারতবর্ষের চরম দুর্দিনে দুঃসময়ে তার জন্ম হয়েছিল এটি সুস্পষ্ট। চারপাশে অনাচার দেখে ক্লান্ত বুদ্ধ গৃহত্যাগী হন। আজকে একবিংশ শতকে ভারতের গুরুরা ধর্মের নামে নারী নির্যাতন করছে অপকর্মের এমন কিছু নেই যা তারা করে না, তারা নাম নিয়েছে ঈশ^র। সাম্প্রতিক ধর্মগুরু রাম রহিম সিং ছলবাজ সাধক এ ধারায় প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে ধর্ম ব্যবসা চালায়। তাদের গোপন সুড়ঙ্গ মহিলা হোস্টেল সাধ্বী নিবাস অবধি ছোঁয়। অন্য সুড়ঙ্গ পাঁচ কিলোমিটার লম্বা। সেখানে খোঁজ মিলে বিস্ফোরক কারখানাও। অবিশ^াস্য দামে বিক্রি হয় ঈশ^রের প্রসাদ যা তারা নিজেরাই ফলায়। একটি কাঁচা মরিচের দাম পড়ে এক হাজার রুপি, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এসব কেনে বিবেকহারা মাথাবিক্রি করা সদস্যরা। এ ধারাতে সারা ভারতে নানা ভঙ্গির সাধুরা সচল। কুসংস্কার জীবন্ত ও দুরন্ত গতিতে বহমান, মন্দিরের সামনে গলায় মালা পরা কাপড়হীন নেংটিপরা গুরু, মাটিতে শুয়ে পড়া নারীদের পিঠে হাটলেই নারীরা গর্ভবতী হচ্ছেন, সন্তানহীন মায়েরা এসব ‘একাদশী’ নামের উৎসবে শরিক হন। সন্তান জন্ম দিতে না পারলেও বিশ^াস কমে না, এসব হচ্ছে ধান্ধাবাজ সাধুর বাস্তব অবস্থা (জুলাই ১৫, ২০১৭)। নিজেদের বানানো মন্দির প্রাঙ্গনেই এসব সাধুদের দেহ ব্যবসা চলে। দারিদ্রতা, অশিক্ষা কুশিক্ষা ও কুসংস্কারের কারণে সবদিনই ভারত ভন্ড ধর্ম গুরুদের বিচরণ ক্ষেত্র হয়ে ছিল আজো আছে। বিচারকরা বলছেন ধর্ম গুরু রাম রহিমের আচরণ জঙ্গলের জানোয়ারের মত। ভক্তরা নিজের বাপ মা থেকেও তাকে বড় বলে মানে। ভক্তদের মুখে জানা যায় তিনি তাদেরে সুবাক্য শোনান কিন্তু নিজে এমন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন যে তারা বিশ^াস করতে পারছে না। এটি সবদিনই প্রতারকের বড় কৌশল, যার জন্য বলা হয় অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।

প্রতিবাদী ধর্ষিতার পক্ষ থেকে এসব জানার পর আজ সাধুবাবা কারাগারে। তবে শোনা যায় তার আদর সোহাগের কমতি সেখানেও নেই। তবে অপকর্ম করার পক্ষে তার কিছু সুযুক্তি ছিল। তার যুক্তিগুলো প্রতিটি বিবেচক মূর্তি পূজকের ভাববার কথা!  শ্রীকৃষ্ণও ঈশ^র, তার ৩৬০ জন প্রেমলীলার গোপী থাকলে তার বেলায় আপত্তি কেন? তার যুক্তি তার ক্ষমতা অনেক, পিস্তল দিয়ে খুন করতে পারেন, ভক্ত পরিবারের সবাই তার অনুগত, কেউ প্রতিবাদও করবে না, সরকারেও তার প্রভাব প্রকট, তারাও ঈশ^রকে স্যালুট দিয়ে চলে, মূখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রের মন্ত্রীরাও তার প্রতি ভক্তি দেখান। খুনের হুমকি দেন একবিংশ শতকের এসব ভারতীয় ঈশ^ররা। ডেরা ম্যানেজার ফকিরচাঁদকে খুন করলেও এখন পর্যন্ত কেউ কোন কুল কিনারা করতে পারে নাই, ঈশ^রের এতই ক্ষমতা!  

উপরের এসব কথার ভিত্তিতেই ধারণা করা যায় যে তিনি গৌতম বৌদ্ধ যখন জন্ম নেন, তখন সেখানের অবস্থা কেমন ছিল?  সাধক বুদ্ধ প্রকৃত জগতের মালিক সম্বন্ধে ভাল ধারণা লাভ করেন। এবং সাধক নামধারী সেই যুগের সব প্রতারক ব্রাহ্মণেরা যা প্রচার করতো তা ছিল খাদযুক্ত, ভুলেভরা যার কারণেই তার বিবেক নড়েচড়ে উঠে। তাই খাটি সোনার যুক্তি দেখাতে গিয়ে তিনি তাদেরে যুক্তি দিয়ে বুঝাতেন। এতে তারা একদল মনে করলো তিনি নাস্তিক, অন্যরা এটি প্রচার করতে লাগলো তিনি হিন্দুর অবতার, কেউ বা প্রচার করলো তাকে ধান্ধাবাজ তস্কর। বৌদ্ধরা প্রার্থণার প্রারম্ভে তিনবার পাঠ করে –“নমো তস্সো ভগবতো অহরতো সম্মা সাম্বুদ্ধস্সো” অর্থাৎ পবিত্র মহাজ্ঞানী প্রভুর প্রশংসা হোক। হিন্দু ধর্মের অশ্বমেদ, গোমেদ এমনকি নরমেদ যজ্ঞের ভয়াবহ রীতির পর মহাত্মা গৌতম আনলেন অহিংসার মূল মন্ত্র। অহেতুক প্রাণী হত্যা মহাপাপ বলে তিনি ঘোষনা করলেন। স্বভাবতই সে সমাজের এই ভয়ানক কুৎসিত রুপ দর্শনে তার মহান হৃদয় ব্যথিত হয়ে উঠে। তিনি প্রচার করতে লাগলেন অহিংসার নীতি, তথাকথিত ধর্মের নামে ভারতের ভয়ংকর হিংসা ধারার নীতিসকল তাকে এসব নীতি গ্রহণে উজ্জীবিত করে সন্দেহ নেই। বিকৃত বিবর্তনের তালে পড়ে পরবর্তীদের কারসাজিতে যীশু যেমন তিন ঈশ্বরের অন্যতম হয়েছেন, তেমনি বিকৃত শিক্ষার পরিণতিতে গৌতম হয়েছেন নাস্তিক। প্রকৃতপক্ষে যীশুও যেমন ঈশ্বরত্বের দাবী করেননি তেমনি মহাত্মা গৌতমও নাস্তিক ছিলেননা, ঈশ^রত্বের দাবীও করেন নাই। ভারতীয়রা ঈশ্বরের অস্তিত্বে অবিশ্বাসকারী হিসাবে নয় বরং বেদে অবিশ্বাসকারীকে নাস্তিক আখ্যা দিয়েছে। প্রমাণ দেখুন যথা নাস্তিকো বেদ নিন্দক (মনু ২/১১) যেহেতু গৌতমবুদ্ধ বর্তমান দুর্বোধ্য বেদকে প্রকৃত বেদ বলে স্বীকার করতেন না তাই বিরুদ্ধবাদী নিন্দুকেরা তাকে নাস্তিক আখ্যায় ভূষিত করেছে। সম্রাট অশোকের শিলালিপিগুলির মধ্যে এখনও ঈশানার (ঈশ্বরের) উল্লেখ রয়েছে (জগন্নাথ থেকে বিশ মাইল দূরে ধাওলীতে প্রাপ্ত অশোকলিপি)। ঈশানা অর্থ যে ঈশ্বর তা পন্ডিতেরাও স্বীকার করেছেন (Sanskrit-English Dictionary by Shivram Apte) । সমাজ থেকে পুতুল পূজা, নর পূজা, প্রেতপূজা দূর করতেই যুগে যুগে এসব সাধকরা আজীবন সাধনা করে যান। তাদের এত অবদানের পরও লক্ষ্য করা যায় এদের অবর্তমানে পরবর্তীরা ঐ নিষিদ্ধ অনাচারের উপরই জীবন পাত করেন। বুদ্ধ দেবের প্রতিষ্ঠিত প্রধান নীতি ছিল ‘অহিংসা’ আহারের জন্য বা ঠাকুর দেবতার জন্য কোন প্রাণ হত্যা না করার নির্দেশ থাকলেও পরবর্তী তার অনুসারী বৌদ্ধরা সর্বভুকের প্রতিযোগিতায় জগতকে ছাড়িয়ে যায়। পশু পাখি সরিসৃপের মাঝে বৌদ্ধদের অভক্ষ্য কি কিছু আছে? ‘তাও’ মতবাদের সাথে মিশে সেটি এক অদভুত রুপলাভ করে যা প্রকৃতই সাধক বৌদ্ধের কবর রচনা করে। তাই শুধু মায়ানমারই বুদ্ধকে আজ  নতুন কবর দিচ্ছে না, তার কবর বারে বারেই অতীতে এভাবে রচিত হয়েছে।

জানা যায় আজকাল বৌদ্ধরা মাংস খাওয়া অবৈধ জ্ঞান করেন। অথচ গৌতম বুদ্ধ স্বয়ং এবং তার শিষ্যরা সবাই মাংস খেতেন। (প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাস, ৭৭ পৃষ্ঠা)। জাতকের ভূমিকায় স্বীকার করা হয়েছে, বৌদ্ধরা অহিংসা পরায়ণ হলেও মৎস্য ও মাংস গ্রহণ করতেন। (ঐ, ৩১১ পৃষ্ঠা) শুধু তাই নয়, বুদ্ধদেব চুন্দের দেয়া বিষ মিশ্রিত মাংস খেয়েই মৃত্যু বরণ করেছিলেন (উদ্বোধন, জৈষ্ঠ, ১৩৭৮)। এখানেই প্রমান তিনি যদি ঈশ^রই হতেন তবে এরকম মৃত্যু কেন হবে তার? ভারতের ঈশ^র ধর্মগুরু রাম রহিম সিংই বা কেন কারাগারে? মোদির ভারত মানুষ হত্যা করতে ইতস্তত করে না কিন্তু গরু হত্যাকে অপরাধ মানে। বিশ^ জোড়া তাদের গরুর মাংসের ব্যবসা তারপরও মুসলিমদের তটস্থ করতে ভিন্ন ব্যবস্থা তাদের। পশুরও অধম এসব কর্মকান্ড তাদের হীনমন্যতাকে বিশে^র কাছে স্পষ্ট করছে। বুদ্ধ আমিষ খেতেন, নিরামিষ আহারের প্রবর্তন করেছিলেন সম্রাট অশোক (উদ্বোধন, পৌষ ১৩৭৮)। ভারতে কখনো বৌদ্ধকে চোর ও বৌদ্ধগণ নাস্তিক দুটোই প্রচার করা হয়েছে। হিন্দুদের প্রচার মাধ্যমে এখানের নেতিবাচক ঊভয় অর্জনকেও হাতিয়ার হিসাবে নেয়া হয়েছে। জওহরলাল নেহরু তার ডিসকভারী অব ইন্ডিয়াতে বলেন, “ভারতে নিচুস্তরের দলিত মার্কা অল্প সংখ্যক বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী বিদ্যমান”। তারা কৌশলে গৌতম বুদ্ধকে অবতার বানায় এবং তার অনুসারীরা দলিত শ্রেণীর বলেও পরিগণিত করা হয় ঠিক এভাবে। অস্পৃশ্য সম্প্রদায়ের যে সাধারণ নিয়ম ছিল সেটি এখানেও তারা প্রয়োগ করে যে, “যারা বৌদ্ধগণকে স্পর্শ করবে তাদের ¯œান (সর্বাঙ্গ ধৌত) করতে হবে”। একই নিয়ম তারা মুসলমানদের বেলায়ও প্রয়োগ করতে আমরা দেখেছি। এরা সবাই তাদের কাছে ‘মালেচা’ বা অসূচি। পূর্ববর্তী ধর্মধারীদের জটিল এসব কান্ডজ্ঞানহীন অধার্মিকতার ফলস্বরুপ পরবর্তী কিছু নতুন ধর্মের সুত্রপাত হয়। যার প্রেক্ষিতে এদের জবাব হিসাবে ক্রমে বৌদ্ধধর্ম, শিখধর্ম ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠা পায়। খোদ মুসলমানরা মূর্তি গড়ার ব্যাপারে সবদিনই কড়া প্রহরায় থেকেছে তারপরও তাদের শিরক করায় তারা শত পার্সেন্ট শুদ্ধতা বজায় রাখতে পারেনি। তাদের একদল শিরকের নামে মূর্তি দূরে রাখলেও পীর পুরোহিতকে পূজা দেবার নামে এক ঘৃণ্য শিরকী প্রথা সমাজে চালু করেছে। পার্শ্ববর্তী সমাজের ছোয়াতে তারাও এ ক্ষেত্রে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিন্দু সমাজের সাধু নামের কিছু ব্যক্তিরা এবং মুসলমান সমাজের পীর নামে কিছু ব্যক্তিরা ধর্মের নামে এ কু-প্রথা সমাজে চালু করেছে। প্রকৃত একেশ^রবাদী ইসলাম এসব অস্বীকার করে।

কুরআন এমন একটি ফরমুলা গ্রন্থ যেখানে গবেষনার উপাত্ত লুকিয়ে আছে চক্ষুষ্মানদের জন্য। সেই কুরআন’ নামের ফরমুলা গ্রন্থ থেকে দু’টি আয়াত এনে এই মহাপুরুষ সম্মন্ধে বক্তব্য আনছি। । কিছু তফসিরকারকেরা তাকে ওখানে খুঁজে পেয়েছেন, লক্ষ্য করুন আয়াত দু’টি। “আর স্মরণ করো ইসমাইল ও ইয়াসাআ ও যুল কিফলকে কারণ তারা সবাই ছিলেন সজ্জনদের অন্যতম। (সুরা স্বাদ ৪৮ আয়াত)। “আর ইসমাইল ও ইদরীস ও যুল কিফল – সবাই ছিলেন অধ্যবসায়ীদের মধ্যকার। আর তাদের আমরা প্রবেশ করিয়েছিলাম আমাদের করুণাভান্ডারে। নিঃসন্দেহ তারা ছিলেন সৎকর্মীদের অন্তর্ভূক্ত” (সুরা আম্বিয়া ৮৫/৮৬ আয়াত)। আম্বিয়া অর্থাৎ “নবীগণ” উভয় সুরাতেই জুল কিফল নামে এক সজ্জনের কথা উচ্চারিত হয়েছে। স্মরণ করার বিষয় হচ্ছে গৌতম বুদ্ধ কিন্তু কপিলাবস্তুর বাসিন্দা ছিলেন। তফসিরকারক  তাকে কপিলাবস্তুর বাসিন্দা বুদ্ধ বলেই গ্রহণ করেছেন।  (অনুবাদে আলহাজ ডাঃ জহুরুল হক)। এ ধর্মটি খৃষ্টধর্মেরও কয়েকশ বছর আগের ধর্ম। যৌবনে নবী ঈসা(আঃ)ও এ সাধকের সন্ধানে ভারতবর্ষ পর্যন্ত গিয়েছেন এর সন্ধান ইতিহাসে পাওয়া যায়। ইসলাম ধর্মের যে ঐতিহাসিক যোগসূত্র পাওয়া যায় সেখানে দেখা যায় ইহুদী, খৃষ্টান, ইসলাম, বৌদ্ধ, এ চার ধর্মের সূত্র সন্ধান এক সূত্রে গাঁথা। শিখ ধর্মও ইসলামের সাথে একাত্বতায় অসংখ্য যুক্তিতে ভরা। আমি আমার “একই ধর্ম একই ধারা” গ্রন্থটিতে দেখিয়েছি কি ভাবে ধর্মগুলি ইসলামের সাথে একাত্বতা দেখিয়ে গেছে। কিন্তু কান্ডজ্ঞানহীন ধর্মধারীরা সারা জীবনই মুসলিম বিদ্বেষে আকন্ঠ ডুবে নরকের দিকেই ছুটে চলেছে যুগ যুগ অবধি। সূচী আজ মুসলিম নিধনকে কল্যাণের কাজ মনে করছেন কিন্তু তার গবেষনাহীন জীবন ধারাতে এ মহৎ চিন্তার কি কোনই সূযোগ নেই যে এরাই এ জাতি গোষ্ঠীই তাদের প্রকৃত মানুষের পথ দেখাতে সক্ষম। তারা আজ যে পশুর স্বরুপে উদ্ভট রুপ ধারণ করে জাহান্নামের নরকের ব্যবসা করছে, এর সুক্ষ্ম বিচার তাদের সামনেই কয় কদম এগুলেই অবশ্যই অপেক্ষা করছে একজন নিরপেক্ষ বিচারকের প্রকৃত আদালতে! রোহিঙ্গারা এ পৃথিবীর সন্তান, কোন মনুষ্য সন্তানকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার অধিকার কারো নেই। এর দায় থেকে কেউ মুক্তি পাবে না, পেতে পারেন না। কুরআন থেকে আরো কয়টি আয়াত এনে লেখাটি এখানেই শেষ করবো। আল্লাহ সবার সুমতি দিন।

বস্তুতঃ ‘আদ-এর ক্ষেত্রে (৭ঃ৬৫) তারা তখন পৃথিবীতে যুক্তি ব্যতিরেকে অহঙ্কার করতো, আর বলতোঃ “আমাদের চেয়ে বলবিক্রমে বেশী শক্তিশালী কে আছে?” তারা কি তবে দেখতে পায় নি যে, আল্লাহ যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের চেয়ে বলবিক্রমে অধিক বলীয়ান? আর তারা আমাদের নির্দেশাবলী সম্বন্ধে বাদ-প্রতিবাদ করতো। সেজন্য আমরা তাদের উপরে পাঠিয়েছিলাম এক ভয়ঙ্কর ঝড়তুফান” (সুরা হামীম-সাজদাহএর১৫,১৬ আয়াত)। অনেক পরে হলেও অত্যাচারীদের ধ্বংস অনিবার্য। উদাহরণ হিসাবে কুরআন থেকে অতীত যুগের আ’দ জাতির উদাহরণ আনলাম। “বস্তুতঃ চোখ তো অন্ধ নয়, কিন্তু অন্ধ হচ্ছে হৃদয় যা রয়েছে বুকের ভেতরে” (সুরা হজ্বএর ৪৬ আয়াত)। “নিঃসন্দেহ ক্বারূণ ছিল মুসার স্বজাতির মধ্যেকার, কিন্তু সে তাদের বিরূদ্ধে বিদ্রোহ করলো। আর আমরা তাকে ধনভান্ডারের এতসব দিয়েছিলাম যে তার চাবিগুলো একদল বলবান লোকের বোঝা হয়ে যেত। দেখো! তার লোকেরা তাকে বললে; গর্ব করো না, নিঃসন্দেহ আল্লাহ দাম্ভিকদের ভালবাসেন না” (সুরা আল-ক্বাসাসএর ৭৬ আয়াত)। “দুনিয়াতে ফ্যাসাদ বাধাতে চেয়ো না। নিঃসন্দেহ আল্লাহ ফেসাদে লোকদের ভালবাসেন না” (সুরা আল-ক্বাসাসএর ৭৭ আয়াত)।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সাল।

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: