Articles published in this site are copyright protected.

Archive for September, 2017

বৌদ্ধ ধর্মের শিকড়েও ইসলাম:

নাজমা মোস্তফা

মিয়ানমারের অমানবিকতার পর বৌদ্ধদের স্বরুপ উন্মোচন দরকার হয়ে পড়েছে। সোয়া দুই হাজার বৎসর আগের মহাপুরুষ গৌতমবুদ্ধের অনুসারীরুপে পরিচিত বৌদ্ধরা আজ দু’ভাগে বিভক্ত, হীনযান ও মহাযান। প্রথম দল নাস্তিক আর দ্বিতীয় দল আস্তিক। খৃষ্টীয় প্রথম শতাব্দীর শেষ দিকে চীনেও বৌদ্ধ প্রভাব বিস্তার লাভ করে। এর মাঝে শত বর্ষ পার হওয়া বৌদ্ধধর্ম এক অদভুত আকার ধারণ করে বসে। ভারতবাসীর মন ও মগজে তখন শত শত ভূত প্রেত দেও দানব ঠাকুর দেবতা পিশাচ পিশাচিনী ঘেরা সমাজ ৩৩ কোটি দেবতার পাপে টলটলায়মান ছিল। এর কুপ্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত করতেই গৌতম বুদ্ধ কঠোর হাতে এসব অনাচার থেকে বের হওয়ার জন্য তাদের সে সময়ের প্রতিষ্ঠিত প্রচারিত ঈশ্বরবাদ ও তাদের নীতিবাদের প্রতিবাদ করেছিলেন। যার স্বাভাবিক ফলশ্রুতিতে তিনি পরিবর্তিত হলেন একজন নাস্তিক হিসাবে এবং কখনো পরবর্তীতে তিনি পূজিত হন স্বয়ং ঈশ্বর হিসাবেও। একই ফলাফল যুগে যুগে তার পরবর্তী বিভ্রান্ত অনুসারীরা জমা করে ঠিক একই ভাবে যারা এককালে ঈসা নবী ও ইব্রাহিম নবীকেও পূজা দিয়েছিল। অশ্বস্থ বৃক্ষের নিচে তিনি কি করতে গিয়েছিলেন? ধারণা করা হয় এই মেডিটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এরা অসীমের কাছে পৌছতে পেরেছিলেন , অসীম তার সন্ধানে একাত্মতা ঘোষনা করেছে। এভাবে এরা বিশেষভাবে জ্ঞান অর্জন করেন। যে বা যারা এ জ্ঞান অর্জন করেন নাই, তারা অনেক সময় এসব অস্বীকার করেন। কিন্তু সাধুরা যখন সত্যের সন্ধান পান তারা কোনভাবেই সত্যকে অস্বীকার করতে পারেন না। প্রচারিত ধর্মশাস্ত্রে এসব জ্ঞানের অর্জনকে স্বীকার করার অজস্র যুক্তি বর্তমান। ঐ সময় ভারবর্ষ তার যোগ বিয়োগের সবকিছুর একত্রিকরণ করে ফেলে। এবার শুরু হল ‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি’ বলতে তাদের সামান্যতম কুন্ঠিত হতে হয়নি, চলতে থাকে জোরে সোরে স্বয়ং বুদ্ধের পূজা অর্চনা।

ভারতবর্ষের চরম দুর্দিনে দুঃসময়ে তার জন্ম হয়েছিল এটি সুস্পষ্ট। চারপাশে অনাচার দেখে ক্লান্ত বুদ্ধ গৃহত্যাগী হন। আজকে একবিংশ শতকে ভারতের গুরুরা ধর্মের নামে নারী নির্যাতন করছে অপকর্মের এমন কিছু নেই যা তারা করে না, তারা নাম নিয়েছে ঈশ^র। সাম্প্রতিক ধর্মগুরু রাম রহিম সিং ছলবাজ সাধক এ ধারায় প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে ধর্ম ব্যবসা চালায়। তাদের গোপন সুড়ঙ্গ মহিলা হোস্টেল সাধ্বী নিবাস অবধি ছোঁয়। অন্য সুড়ঙ্গ পাঁচ কিলোমিটার লম্বা। সেখানে খোঁজ মিলে বিস্ফোরক কারখানাও। অবিশ^াস্য দামে বিক্রি হয় ঈশ^রের প্রসাদ যা তারা নিজেরাই ফলায়। একটি কাঁচা মরিচের দাম পড়ে এক হাজার রুপি, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এসব কেনে বিবেকহারা মাথাবিক্রি করা সদস্যরা। এ ধারাতে সারা ভারতে নানা ভঙ্গির সাধুরা সচল। কুসংস্কার জীবন্ত ও দুরন্ত গতিতে বহমান, মন্দিরের সামনে গলায় মালা পরা কাপড়হীন নেংটিপরা গুরু, মাটিতে শুয়ে পড়া নারীদের পিঠে হাটলেই নারীরা গর্ভবতী হচ্ছেন, সন্তানহীন মায়েরা এসব ‘একাদশী’ নামের উৎসবে শরিক হন। সন্তান জন্ম দিতে না পারলেও বিশ^াস কমে না, এসব হচ্ছে ধান্ধাবাজ সাধুর বাস্তব অবস্থা (জুলাই ১৫, ২০১৭)। নিজেদের বানানো মন্দির প্রাঙ্গনেই এসব সাধুদের দেহ ব্যবসা চলে। দারিদ্রতা, অশিক্ষা কুশিক্ষা ও কুসংস্কারের কারণে সবদিনই ভারত ভন্ড ধর্ম গুরুদের বিচরণ ক্ষেত্র হয়ে ছিল আজো আছে। বিচারকরা বলছেন ধর্ম গুরু রাম রহিমের আচরণ জঙ্গলের জানোয়ারের মত। ভক্তরা নিজের বাপ মা থেকেও তাকে বড় বলে মানে। ভক্তদের মুখে জানা যায় তিনি তাদেরে সুবাক্য শোনান কিন্তু নিজে এমন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন যে তারা বিশ^াস করতে পারছে না। এটি সবদিনই প্রতারকের বড় কৌশল, যার জন্য বলা হয় অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।

প্রতিবাদী ধর্ষিতার পক্ষ থেকে এসব জানার পর আজ সাধুবাবা কারাগারে। তবে শোনা যায় তার আদর সোহাগের কমতি সেখানেও নেই। তবে অপকর্ম করার পক্ষে তার কিছু সুযুক্তি ছিল। তার যুক্তিগুলো প্রতিটি বিবেচক মূর্তি পূজকের ভাববার কথা!  শ্রীকৃষ্ণও ঈশ^র, তার ৩৬০ জন প্রেমলীলার গোপী থাকলে তার বেলায় আপত্তি কেন? তার যুক্তি তার ক্ষমতা অনেক, পিস্তল দিয়ে খুন করতে পারেন, ভক্ত পরিবারের সবাই তার অনুগত, কেউ প্রতিবাদও করবে না, সরকারেও তার প্রভাব প্রকট, তারাও ঈশ^রকে স্যালুট দিয়ে চলে, মূখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রের মন্ত্রীরাও তার প্রতি ভক্তি দেখান। খুনের হুমকি দেন একবিংশ শতকের এসব ভারতীয় ঈশ^ররা। ডেরা ম্যানেজার ফকিরচাঁদকে খুন করলেও এখন পর্যন্ত কেউ কোন কুল কিনারা করতে পারে নাই, ঈশ^রের এতই ক্ষমতা!  

উপরের এসব কথার ভিত্তিতেই ধারণা করা যায় যে তিনি গৌতম বৌদ্ধ যখন জন্ম নেন, তখন সেখানের অবস্থা কেমন ছিল?  সাধক বুদ্ধ প্রকৃত জগতের মালিক সম্বন্ধে ভাল ধারণা লাভ করেন। এবং সাধক নামধারী সেই যুগের সব প্রতারক ব্রাহ্মণেরা যা প্রচার করতো তা ছিল খাদযুক্ত, ভুলেভরা যার কারণেই তার বিবেক নড়েচড়ে উঠে। তাই খাটি সোনার যুক্তি দেখাতে গিয়ে তিনি তাদেরে যুক্তি দিয়ে বুঝাতেন। এতে তারা একদল মনে করলো তিনি নাস্তিক, অন্যরা এটি প্রচার করতে লাগলো তিনি হিন্দুর অবতার, কেউ বা প্রচার করলো তাকে ধান্ধাবাজ তস্কর। বৌদ্ধরা প্রার্থণার প্রারম্ভে তিনবার পাঠ করে –“নমো তস্সো ভগবতো অহরতো সম্মা সাম্বুদ্ধস্সো” অর্থাৎ পবিত্র মহাজ্ঞানী প্রভুর প্রশংসা হোক। হিন্দু ধর্মের অশ্বমেদ, গোমেদ এমনকি নরমেদ যজ্ঞের ভয়াবহ রীতির পর মহাত্মা গৌতম আনলেন অহিংসার মূল মন্ত্র। অহেতুক প্রাণী হত্যা মহাপাপ বলে তিনি ঘোষনা করলেন। স্বভাবতই সে সমাজের এই ভয়ানক কুৎসিত রুপ দর্শনে তার মহান হৃদয় ব্যথিত হয়ে উঠে। তিনি প্রচার করতে লাগলেন অহিংসার নীতি, তথাকথিত ধর্মের নামে ভারতের ভয়ংকর হিংসা ধারার নীতিসকল তাকে এসব নীতি গ্রহণে উজ্জীবিত করে সন্দেহ নেই। বিকৃত বিবর্তনের তালে পড়ে পরবর্তীদের কারসাজিতে যীশু যেমন তিন ঈশ্বরের অন্যতম হয়েছেন, তেমনি বিকৃত শিক্ষার পরিণতিতে গৌতম হয়েছেন নাস্তিক। প্রকৃতপক্ষে যীশুও যেমন ঈশ্বরত্বের দাবী করেননি তেমনি মহাত্মা গৌতমও নাস্তিক ছিলেননা, ঈশ^রত্বের দাবীও করেন নাই। ভারতীয়রা ঈশ্বরের অস্তিত্বে অবিশ্বাসকারী হিসাবে নয় বরং বেদে অবিশ্বাসকারীকে নাস্তিক আখ্যা দিয়েছে। প্রমাণ দেখুন যথা নাস্তিকো বেদ নিন্দক (মনু ২/১১) যেহেতু গৌতমবুদ্ধ বর্তমান দুর্বোধ্য বেদকে প্রকৃত বেদ বলে স্বীকার করতেন না তাই বিরুদ্ধবাদী নিন্দুকেরা তাকে নাস্তিক আখ্যায় ভূষিত করেছে। সম্রাট অশোকের শিলালিপিগুলির মধ্যে এখনও ঈশানার (ঈশ্বরের) উল্লেখ রয়েছে (জগন্নাথ থেকে বিশ মাইল দূরে ধাওলীতে প্রাপ্ত অশোকলিপি)। ঈশানা অর্থ যে ঈশ্বর তা পন্ডিতেরাও স্বীকার করেছেন (Sanskrit-English Dictionary by Shivram Apte) । সমাজ থেকে পুতুল পূজা, নর পূজা, প্রেতপূজা দূর করতেই যুগে যুগে এসব সাধকরা আজীবন সাধনা করে যান। তাদের এত অবদানের পরও লক্ষ্য করা যায় এদের অবর্তমানে পরবর্তীরা ঐ নিষিদ্ধ অনাচারের উপরই জীবন পাত করেন। বুদ্ধ দেবের প্রতিষ্ঠিত প্রধান নীতি ছিল ‘অহিংসা’ আহারের জন্য বা ঠাকুর দেবতার জন্য কোন প্রাণ হত্যা না করার নির্দেশ থাকলেও পরবর্তী তার অনুসারী বৌদ্ধরা সর্বভুকের প্রতিযোগিতায় জগতকে ছাড়িয়ে যায়। পশু পাখি সরিসৃপের মাঝে বৌদ্ধদের অভক্ষ্য কি কিছু আছে? ‘তাও’ মতবাদের সাথে মিশে সেটি এক অদভুত রুপলাভ করে যা প্রকৃতই সাধক বৌদ্ধের কবর রচনা করে। তাই শুধু মায়ানমারই বুদ্ধকে আজ  নতুন কবর দিচ্ছে না, তার কবর বারে বারেই অতীতে এভাবে রচিত হয়েছে।

জানা যায় আজকাল বৌদ্ধরা মাংস খাওয়া অবৈধ জ্ঞান করেন। অথচ গৌতম বুদ্ধ স্বয়ং এবং তার শিষ্যরা সবাই মাংস খেতেন। (প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাস, ৭৭ পৃষ্ঠা)। জাতকের ভূমিকায় স্বীকার করা হয়েছে, বৌদ্ধরা অহিংসা পরায়ণ হলেও মৎস্য ও মাংস গ্রহণ করতেন। (ঐ, ৩১১ পৃষ্ঠা) শুধু তাই নয়, বুদ্ধদেব চুন্দের দেয়া বিষ মিশ্রিত মাংস খেয়েই মৃত্যু বরণ করেছিলেন (উদ্বোধন, জৈষ্ঠ, ১৩৭৮)। এখানেই প্রমান তিনি যদি ঈশ^রই হতেন তবে এরকম মৃত্যু কেন হবে তার? ভারতের ঈশ^র ধর্মগুরু রাম রহিম সিংই বা কেন কারাগারে? মোদির ভারত মানুষ হত্যা করতে ইতস্তত করে না কিন্তু গরু হত্যাকে অপরাধ মানে। বিশ^ জোড়া তাদের গরুর মাংসের ব্যবসা তারপরও মুসলিমদের তটস্থ করতে ভিন্ন ব্যবস্থা তাদের। পশুরও অধম এসব কর্মকান্ড তাদের হীনমন্যতাকে বিশে^র কাছে স্পষ্ট করছে। বুদ্ধ আমিষ খেতেন, নিরামিষ আহারের প্রবর্তন করেছিলেন সম্রাট অশোক (উদ্বোধন, পৌষ ১৩৭৮)। ভারতে কখনো বৌদ্ধকে চোর ও বৌদ্ধগণ নাস্তিক দুটোই প্রচার করা হয়েছে। হিন্দুদের প্রচার মাধ্যমে এখানের নেতিবাচক ঊভয় অর্জনকেও হাতিয়ার হিসাবে নেয়া হয়েছে। জওহরলাল নেহরু তার ডিসকভারী অব ইন্ডিয়াতে বলেন, “ভারতে নিচুস্তরের দলিত মার্কা অল্প সংখ্যক বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী বিদ্যমান”। তারা কৌশলে গৌতম বুদ্ধকে অবতার বানায় এবং তার অনুসারীরা দলিত শ্রেণীর বলেও পরিগণিত করা হয় ঠিক এভাবে। অস্পৃশ্য সম্প্রদায়ের যে সাধারণ নিয়ম ছিল সেটি এখানেও তারা প্রয়োগ করে যে, “যারা বৌদ্ধগণকে স্পর্শ করবে তাদের ¯œান (সর্বাঙ্গ ধৌত) করতে হবে”। একই নিয়ম তারা মুসলমানদের বেলায়ও প্রয়োগ করতে আমরা দেখেছি। এরা সবাই তাদের কাছে ‘মালেচা’ বা অসূচি। পূর্ববর্তী ধর্মধারীদের জটিল এসব কান্ডজ্ঞানহীন অধার্মিকতার ফলস্বরুপ পরবর্তী কিছু নতুন ধর্মের সুত্রপাত হয়। যার প্রেক্ষিতে এদের জবাব হিসাবে ক্রমে বৌদ্ধধর্ম, শিখধর্ম ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠা পায়। খোদ মুসলমানরা মূর্তি গড়ার ব্যাপারে সবদিনই কড়া প্রহরায় থেকেছে তারপরও তাদের শিরক করায় তারা শত পার্সেন্ট শুদ্ধতা বজায় রাখতে পারেনি। তাদের একদল শিরকের নামে মূর্তি দূরে রাখলেও পীর পুরোহিতকে পূজা দেবার নামে এক ঘৃণ্য শিরকী প্রথা সমাজে চালু করেছে। পার্শ্ববর্তী সমাজের ছোয়াতে তারাও এ ক্ষেত্রে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিন্দু সমাজের সাধু নামের কিছু ব্যক্তিরা এবং মুসলমান সমাজের পীর নামে কিছু ব্যক্তিরা ধর্মের নামে এ কু-প্রথা সমাজে চালু করেছে। প্রকৃত একেশ^রবাদী ইসলাম এসব অস্বীকার করে।

কুরআন এমন একটি ফরমুলা গ্রন্থ যেখানে গবেষনার উপাত্ত লুকিয়ে আছে চক্ষুষ্মানদের জন্য। সেই কুরআন’ নামের ফরমুলা গ্রন্থ থেকে দু’টি আয়াত এনে এই মহাপুরুষ সম্মন্ধে বক্তব্য আনছি। । কিছু তফসিরকারকেরা তাকে ওখানে খুঁজে পেয়েছেন, লক্ষ্য করুন আয়াত দু’টি। “আর স্মরণ করো ইসমাইল ও ইয়াসাআ ও যুল কিফলকে কারণ তারা সবাই ছিলেন সজ্জনদের অন্যতম। (সুরা স্বাদ ৪৮ আয়াত)। “আর ইসমাইল ও ইদরীস ও যুল কিফল – সবাই ছিলেন অধ্যবসায়ীদের মধ্যকার। আর তাদের আমরা প্রবেশ করিয়েছিলাম আমাদের করুণাভান্ডারে। নিঃসন্দেহ তারা ছিলেন সৎকর্মীদের অন্তর্ভূক্ত” (সুরা আম্বিয়া ৮৫/৮৬ আয়াত)। আম্বিয়া অর্থাৎ “নবীগণ” উভয় সুরাতেই জুল কিফল নামে এক সজ্জনের কথা উচ্চারিত হয়েছে। স্মরণ করার বিষয় হচ্ছে গৌতম বুদ্ধ কিন্তু কপিলাবস্তুর বাসিন্দা ছিলেন। তফসিরকারক  তাকে কপিলাবস্তুর বাসিন্দা বুদ্ধ বলেই গ্রহণ করেছেন।  (অনুবাদে আলহাজ ডাঃ জহুরুল হক)। এ ধর্মটি খৃষ্টধর্মেরও কয়েকশ বছর আগের ধর্ম। যৌবনে নবী ঈসা(আঃ)ও এ সাধকের সন্ধানে ভারতবর্ষ পর্যন্ত গিয়েছেন এর সন্ধান ইতিহাসে পাওয়া যায়। ইসলাম ধর্মের যে ঐতিহাসিক যোগসূত্র পাওয়া যায় সেখানে দেখা যায় ইহুদী, খৃষ্টান, ইসলাম, বৌদ্ধ, এ চার ধর্মের সূত্র সন্ধান এক সূত্রে গাঁথা। শিখ ধর্মও ইসলামের সাথে একাত্বতায় অসংখ্য যুক্তিতে ভরা। আমি আমার “একই ধর্ম একই ধারা” গ্রন্থটিতে দেখিয়েছি কি ভাবে ধর্মগুলি ইসলামের সাথে একাত্বতা দেখিয়ে গেছে। কিন্তু কান্ডজ্ঞানহীন ধর্মধারীরা সারা জীবনই মুসলিম বিদ্বেষে আকন্ঠ ডুবে নরকের দিকেই ছুটে চলেছে যুগ যুগ অবধি। সূচী আজ মুসলিম নিধনকে কল্যাণের কাজ মনে করছেন কিন্তু তার গবেষনাহীন জীবন ধারাতে এ মহৎ চিন্তার কি কোনই সূযোগ নেই যে এরাই এ জাতি গোষ্ঠীই তাদের প্রকৃত মানুষের পথ দেখাতে সক্ষম। তারা আজ যে পশুর স্বরুপে উদ্ভট রুপ ধারণ করে জাহান্নামের নরকের ব্যবসা করছে, এর সুক্ষ্ম বিচার তাদের সামনেই কয় কদম এগুলেই অবশ্যই অপেক্ষা করছে একজন নিরপেক্ষ বিচারকের প্রকৃত আদালতে! রোহিঙ্গারা এ পৃথিবীর সন্তান, কোন মনুষ্য সন্তানকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার অধিকার কারো নেই। এর দায় থেকে কেউ মুক্তি পাবে না, পেতে পারেন না। কুরআন থেকে আরো কয়টি আয়াত এনে লেখাটি এখানেই শেষ করবো। আল্লাহ সবার সুমতি দিন।

বস্তুতঃ ‘আদ-এর ক্ষেত্রে (৭ঃ৬৫) তারা তখন পৃথিবীতে যুক্তি ব্যতিরেকে অহঙ্কার করতো, আর বলতোঃ “আমাদের চেয়ে বলবিক্রমে বেশী শক্তিশালী কে আছে?” তারা কি তবে দেখতে পায় নি যে, আল্লাহ যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের চেয়ে বলবিক্রমে অধিক বলীয়ান? আর তারা আমাদের নির্দেশাবলী সম্বন্ধে বাদ-প্রতিবাদ করতো। সেজন্য আমরা তাদের উপরে পাঠিয়েছিলাম এক ভয়ঙ্কর ঝড়তুফান” (সুরা হামীম-সাজদাহএর১৫,১৬ আয়াত)। অনেক পরে হলেও অত্যাচারীদের ধ্বংস অনিবার্য। উদাহরণ হিসাবে কুরআন থেকে অতীত যুগের আ’দ জাতির উদাহরণ আনলাম। “বস্তুতঃ চোখ তো অন্ধ নয়, কিন্তু অন্ধ হচ্ছে হৃদয় যা রয়েছে বুকের ভেতরে” (সুরা হজ্বএর ৪৬ আয়াত)। “নিঃসন্দেহ ক্বারূণ ছিল মুসার স্বজাতির মধ্যেকার, কিন্তু সে তাদের বিরূদ্ধে বিদ্রোহ করলো। আর আমরা তাকে ধনভান্ডারের এতসব দিয়েছিলাম যে তার চাবিগুলো একদল বলবান লোকের বোঝা হয়ে যেত। দেখো! তার লোকেরা তাকে বললে; গর্ব করো না, নিঃসন্দেহ আল্লাহ দাম্ভিকদের ভালবাসেন না” (সুরা আল-ক্বাসাসএর ৭৬ আয়াত)। “দুনিয়াতে ফ্যাসাদ বাধাতে চেয়ো না। নিঃসন্দেহ আল্লাহ ফেসাদে লোকদের ভালবাসেন না” (সুরা আল-ক্বাসাসএর ৭৭ আয়াত)।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সাল।

Advertisements

মানুষের রক্তে নদীরা লাল

নাজমা মোস্তফা

বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতা পরবর্তী চরম সংকট সময় পার করছে। গণতন্ত্রের নাম খাতায় থাকলেও শাসককুলের আচরণে অনুপস্থিত। গণতন্ত্রের মিথ্যাচারে চরম অবৈধ পথেই তাদের থাকা, বেঁচে থাকা, আর চলা। মিথ্যাচার হচ্ছে সব কুশাসকের শ্রেষ্ঠ ঢাল। মনে হয় কথায় কথায় শাসককুলের মুখে মিথ্যাচারী বুলি শুনতে শুনতে মানুষ বাস্তব সত্য ইতিহাস ভুলতে বসেছে। জাতির সচেতনরা মাঝে মাঝে শত মিথ্যাচারকে দূরে ঠেলে সত্যকে নেড়ে চেড়ে দেখান। বাংলাদেশের ইতিহাসে মোট তিনবার সামরিক আইন জারি হয়েছিল। প্রথমবার একজন রাজনীতিবিদ আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক সেনাপ্রধান ছিলেন কে এম শফিউল্লাহ দ্বিতীয়বার একজন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আর সেনাপ্রধান ছিলেন ৩ নভেম্বরে অভ্যুত্থান করা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ। আর তৃতীয়বার হচ্ছেন স্বৈরশাসক লেজে হোমো এরশাদ। অনেককে অনেক সময় বলতে শোনা যায় এরশাদ তুলনামূলক সাধু,  জোড়া প্রতারকের একজন শক্ত সাগরেদ এরশাদ, চরম ধূর্ত ও আদর্শহীন নেতৃত্ব। দেশের সর্বনাশের জন্য তার অবদান কোন অংশে কম নয়। আমরণ তিনি শয়তানিতেই তালিয়া বাজিয়েছেন, এখনো বাজাচ্ছেন ভবিষ্যতেও বাজাবেন। এতে কোন ব্যত্যয় নেই, জাতি সাবধান! তার সময়ে তিনি নিজেই ছিলেন সেনাপ্রধান, জবরদখল করে ক্ষমতা হাতিয়ে নেন। গণতন্ত্রের নাম পাল্টিয়ে বর্তমান হাসিনা শাসক উন্নয়নের অপকৌশলে দেশটির মজ্জা বের করে দিয়েছেন বললে ভুল হবে না। বাংলাদেশের মানুষ বাকহারা, সবচেয়ে বেশী জীবনের নিরাপত্তাহীনতার শিকার। দৃশ্যত এরশাদ সবচেয়ে বড় স্বৈরশাসক আর শত অপকর্মের যোগানদাতা হাসিনা সরকার তার অনুসারী বড় সাগরেদ। তারা দুজনা মিলে দেশটির চরম অবক্ষয়ের ইতিহাস গড়তে কার্পণ্য করেন নাই। দুজনাই ভারতের শক্ত বন্ধু, বাংলাদেশের বৈরীতায় প্রশ্নবিদ্ধ তাদের দালালী কর্মকান্ড। শুরুতে ভারতীয় স্টাইলেই সরকার রোহিঙ্গাদের পুশবেক করা শুরু করেছিল।বলতে দ্বিধা নেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুরুতে অবহেলা দেখালেও বাংলাদেশের শাসককুলের সাহস যুগিয়েছে তুরষ্ক সরকারের মানবতার আশ্রয়ের ডাক। দেরী না করেই তারা ছুটে এসেছেন সাহায্যার্থে, যদিও ভেংচি কেটে কিছু বেয়াড়া ধরা খাওয়া দালালরা নিজের অপকর্ম ঢাকার ব্যর্থ চেষ্ঠা করেছে।

রোহিঙ্গা একদল মানুষের নাম, আজ তাদের মানুষ বলে স্বীকার করছে না এককালের সাধক বুদ্ধের অনুসারীরা। একবিংশ শতকে এসে এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। শান্তির উপর নোবেল বিজয়ের অসার বাস্তবতাকে টিটকারী মারছে ২০১৭এর বার্মা ও তার নেত্রী সূচী। সম্ভবত সাধক বুদ্ধের উপর কোন চর্চা নেই এদের, বাবা মা হারিয়ে ১১০০ রোহিঙ্গা শিশু এসে ভিড়েছে বাংলাদেশে। সূচী মায়ের জাত হলেও মানবতা ও মাতৃত্ব তার মাঝে আছে বলে কোন প্রমান তিনি দাঁড় করাতে পরেন নাই। এটি স্পষ্ট নোবেলের মুখে চুনকালি লেপে দিলেন তিনি। খোপাতে ফুল গোজা সূচী মানুষ নন, দৈত্য দানব, জিন, ভুত এরকম কিছু প্রমান করতেই কি তার এত তৎপরতা? একটি দেশের এক তৃতীয়াংশ ৩,৮০০০০ পলাতক এদের অপকর্মে। এরা আকারেই মানুষ কিন্তু আচরণে অশিক্ষিত বর্বর! ১৯৪৮এর আগের পৃথিবী তারা চেনে না, এর অস্তিত্ব তারা স্বীকার করছে না। পৃথিবীর মানুষদেরে জাগতে হবে এবং দুনিয়াতেই এ রকম অপকর্মীদের কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একজন অপরাধীকে একবার ফাঁসি দেয়া যায় কিন্তু এর উপযুক্ত বিচারে তাকে কয়বার ফাঁসি দিলে সুবিচার হবে সেটি সভ্য পৃথিবীর মানুষকে ভাবতে হবে। ২০০০ সালে টুইন টাওয়ার ধ্বসানো হয় খুব কৌশলে যাতে মুসলমানকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়। মাইকেল মূরের “ফারেনহাইট নাইন ইলেভেন” থেকে শুরু করে অসংখ্য গবেষনাতে, ম্যূভিতে আজ এটি অপেন সিক্রেট যে এটি ঘটানো হয়েছে একদল নির্দোষকে আসামী করতে। প্যালেস্টাইনের মুসলিম নিধন, কাশ্মীরের মুসলিম নিধন, ভারতের মুসলিম নিধন একের পর এক অদভুত খেলার শিরোনাম ‘মুসলিম নিধন করা’, কেউ বলছেন এদের পাঠিয়ে দাও মঙ্গলে। ভারত বাংলাদেশের বন্ধু এটি প্রমান করা খুব কষ্ট, প্রায় অসম্ভব। মোদিজি খুব মজাসে হাত মেলালেন সূচীর সাথে। বাংলাদেশের হিন্দু প্রভাবিত অনেকের ফেসবুক স্টেটাসে জানলাম তারাও বেজায় খুশী রোহিঙ্গা নিধনে। এরা তো মোদিরই জাত ভাই, তাই এটি তারা প্রমাণ করে দেখালেন। এসব ধর্মধারীদের উচিত ধর্ম নিয়ে ব্যবসা নয়, বরং মানবতার চাষ করলে তারা ইহ ও পরকালে উপকার জমা করতে পারতো। মানুষের জন্য বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস গড়তে পারতো। 

প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে নিষ্ঠাবান মুসলিম ছাড়া গোটা বিশ^ মদ ও মাদকে আকন্ঠ থেকেছে আজীবন। এবার খুব কৌশলে ঐ হারাম খাদ্যকে মুসলিমদের জন্য ভোগ্যপন্য করা হচ্ছে। যাতে এরা আত্মায় ও অন্তরে ধ্বসে পড়ে। প্রতিটি জাতিতে গোষ্ঠীতে মুসলিমদেরে জাগতে হবে, নিজেদের আমলনামা নিয়ে, আদর্শ নিয়ে, মানবিকতা নিয়ে নৈতিকতা নিয়ে শক্ত হয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ঠিক তখনই বিধাতার অপরিসীম সাহায্য সহযোগিতার দাবিদার হবে মুসলিমরা। ভারতের স্বার্থে আর মায়ানমারের স্বার্থকে জলাঞ্জলী দিয়ে ফেনসিডিল, ইয়াবার ব্যবসার গোমর ফাঁক করে ঘরে ঘরে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যেখানে সমস্ত জাতি আজ ইয়াবার নেশাতে বুঁদ হয়ে আছে আর প্রতিটি ষড়যন্ত্রী সরকারের সাগরেদরা আঙ্গুল ফুলে কালাগাছ হতে চুটিয়ে ব্যবসা করছে। বাংলাদেশের সরকার ও তার চামুন্ডারা ব্যস্ত টাকা গড়ার কাজে,  এদের রশিতে খুব ঢিল করে রাখা, অবৈধ রোজগারই অসৎ পথে আসা সরকারের বড় ভরসা। কুপথে যারা হাটে এদের কোন ধর্ম থাকে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাবে ৩০ লাখ, যদিও বেসরকারী হিসাবে আরো বেশী বাংলাদেশীরা এসব মাদকে আসক্ত। সরকার ও তার সাগরেদরা নিজেদের সাজানো নাটকে জঙ্গিনামার প্রচার করছে ধার্মিকরা খারাপ, তারাই জঙ্গি। তার মানে যারা ইয়াবা সেবী ফেনসিডিল সেবী তারাই সোনার বরপুত্র। সরকারী নটবরদের টাকার গরম বেড়েই চলেছে। এরা আসামী হলেও কারাগার আটকায় না, কারণ রশিতে ঢিল দিয়ে রাখা। বরং দেখা যায় এরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রমোদভ্রমনে সাগর পারে ফুরফুরে হাওয়া খেয়ে বেড়ায় ইয়াবাখোর বদিরা। জাতির জন্য কি লজ্জার কথা এসব! 

সাম্প্রতিক হিসাবে গড়ে প্রতিদিন ২০ কোটি ব্যয় হলে মাসে খরচ হয় ৬০০, কোটি টাকার ইয়াবা (আমাদের সময়)। নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই মনের সুখে এসব গিলছে। অসৎ পথের অর্জনের হিসাব দুনিয়াতেই হয়ে যায়, যদিও অসচেতন মা বাবা গুরুজনরা সেটি চিন্তা করেন কম। মরার পরের বিচার অবশ্য বরাদ্দ আছেই, দুনিয়ার বিচারই কি কম হয়? পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে ঐশী বাংলাদেশের একটি মাইল ফলক এঁকে রেখেছে। মা বাবাকে খুন করে কতদূর অধঃপাতে সে যেতে পেরেছে। প্রতিটি ইয়াবাসেবীকে এক একজন ঐশী ভাবলে জাতির পরিণতি কি ভয়ঙ্কর পর্যায় পার করছে, সেটি বুঝতে বেশী সময় লাগে না। এ থেকে নিস্তারের সবচেয়ে সহজ সমাধান হচ্ছে নৈতিকতার চাষ করা। সূচীর মায়ানমারের চলমান পাশবিক রাস্তা মানুষের রাস্তা নয়। যুগে যুগে সূচীরা যেভাবে সমাজে নেতিবাচক ধ্বস নামাতে পেরেছেন অপরদিক সাধক বুদ্ধ, জগতের সাধু নামের এক একজন ব্যক্তির অর্জনেই জগতের চেহারা বদলে গেছে, ইতিবাচক অর্জনে জগত ধন্য হয়েছে শতাব্দী শতাব্দী অবদি।

বাংলাদেশ এসব ইয়াবা মাদক উৎপাদন করছে না। ভারত মিয়ানমারসহ আরো বহু দেশ এসব উৎপাদন করে, আর বর্ডার দিয়ে এসব আবর্জনা বাংলাদেশে ঢুকে। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদী থেকে সীমান্ত অঞ্চল জুড়ে ইয়াবা পাচারের সবচেয়ে বড় রমরমা ব্যবসা। দেশের ৩২ টি জেলা ও ১৩২টি উপজেলার সাথে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকমের বরাতে মিয়ানমারের আটটি সংগঠন সীমান্তে ৩৭টি  ইয়াবা কারখানায় মালিকানায় নাসাকা। তারা ১৩ ধরনের ইয়াবা মরণবড়ি তৈরী করে। ডিলার সাবডিলার সব রেডী করা আছে। ৩০ লাখ পিস ইয়াবা পৌছে যায় প্রতিদিন মুখোশধারী ইয়াবা সিন্ডিকেটের মিয়ানমারের ১৭চোরাচালানি ডিলারদের কাছে। এরপর আছে সাবডিলাররা। ১৯৯০ সালে এসব ব্যবসার শুরু থাইল্যান্ডে। মায়ানমারের প্রশাসনের মদদে থাইল্যান্ড থেকে কাঁচামাল এনে সে দেশের অভ্যন্তরে কারখানা স্থাপন করা হয়। এখানে টেকনাফের দুটি ইয়াবা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চিহ্নিত ১৭ জন দিয়ে চলে ব্যবসা। দুটির একটি টেকনাফের স্থানীয় সংসদ সদস্যের পাঁচভাই, এপিএস, ভাগ্নে ও তালতো ভাইয়ের খবর গোয়েন্দাদের হাতে ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। অন্যটির খবর এখনও ঢেকে রাখা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যাদের তথ্য ফাঁস হয়েছে তারা হচ্ছেন আওয়ামী সংসদ সদস্য আব্দুর রহামন বদি, তার পাঁচভাই যথাক্রমে আবদুস শুক্কুর/আব্দুল আমিন/ মজিবুর রহমান/ শফিক/ ফয়সাল, শাহেদুর রহমান নিপু বদির ভাগনা, কামরুল হাসান রাসেল বদির ফুপাতো ভাই। এসব হচ্ছে বাংলাদেশের অবৈধ পথে আসা সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বদিময় বদ খবর। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে এরকম একজন আসামীকে কারাগার থেকে কিভাবে বরণ করা হয় ২০০ তোরণ দিয়ে, সে সব ছবি জনতার ভুলার কথা নয়, ছবিতে দেখা যায় বেহায়া লোকটি হাসিমুখে গলাতে মালা নিয়ে ময়দানে এসেছে। দুদকের মামলায় মাত্র তিন মাসের কারাদন্ড হলেও মাত্র ১৮দিনে বের হয়ে আসে বদিরাজ। নয়ন বাবুর চিকন দৃষ্টিতে ধরা পড়া বদির আসল খবর হচ্ছে ঐ সময় বদি এসব ম্যানেজ করে অতি কম পরিশ্রমে, মাত্র ১১০০ কোটি টাকা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাথে বদির সমঝোতা হয়। যার স্বাভাবিক পরিণতিতেই খোলা পায়ে প্রধানমন্ত্রীর সাগর সঙ্গমে প্রমোদ ভ্রমনে বদিকেও তালিয়া বাজাতে দেখা যায়। ফেসবুকের বদৌলতে মিডিয়ার প্রচারে অনেকেই এসব দেখেছেন নিশ্চয়।

দেশে তো আছেন অনেক ভাড়, বিদেশেও কিছু ভাড় সাংবাদিকরা অনেক ভাড়ামির উদাহরণ রাখছেন তাদের লেখনীতে। প্রধানমন্ত্রী হাসিনাই একমাত্র নেতা যিনি রোহিঙ্গা সমাধানে কাজ করতে পারেন। তার রক্তেই নাকি সমাধান জোড়া। তাদের কর্নকুহরে এসব বদিনামা ঢোকে না। তাদের চোখে সব সময় নকল চশমা; দেখেন শুধু জামায়াত আর পাকি, জামায়াত নির্ভর রবীন্দ্রসঙ্গিত ভক্তদের কথা বলে জামায়াত পাকিকে ঘৃণা করলেও রবীন্দ্র প্রীতিকে স্পষ্ট করতে এরা ভুলেন না।  ২০১৪ সালে প্রথম আলোতে এক খবরে প্রকাশ ৬ বছরে বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশ করেছে ৭৭ গুণ। এর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মুসলিম প্রধান একটি দেশে এসব কেন? কি কারণে বাবা মারা অভিভাবকেরা, কর্তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন? বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের রিজার্ভ লুটের কথা মনেই নেই প্রধানমন্ত্রীর কিন্তু সিনহা সংকটের সমসাময়িক সময়ে জুড়ে দেন বিএনপির সম্পদের হিসাব নিয়ে তিনি সংসদে মুখর আর ছবিতে তার তালিয়াখোর বদিরা বত্রিশ দাঁত বের করে হেসে কুটিকুটি। সবকটাই লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে এক খোরে মাথা মোড়ানোর দল। সাগর চুরির সব খবর জাতি কমবেশী জানেই। তদন্ত হয়েছে কিন্তু চোররা এতই শক্তিমান যে তাদের নাম নাকি প্রকাশ করা যাবে না, আপত্তি আছে, তাদের অর্থমন্ত্রীই বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শাক দিয়ে কত আর মাছ ঢাকবেন। বেহায়াপনার সীমা অতীতে তার দলের প্রয়াত সুরঞ্জিতবাবুরা দেখিয়ে গেছেন, তারা আর বাদ যাবেন কেন? সখ করেই মানুষের মুখে বারে বারেই কথা তুলে দিচ্ছেন। মানুষ তাদেরে ভালোই চিনে গেছে।

ট্রাম্পএর মত বাংলাদেশের হিন্দুরাও প্রকাশ্যে ফেসবুকে মুসলিম পছন্দ করছেন না, অনেকে চাইছেন ভারতের জন্য একটি এপ্রিল ফুল। ভারতকে কাছের মনে করেন। কলেজে পড়াকালীন একদিন আমাদের ইংরেজী শিক্ষক জিতেন স্যার কুরআনের বিরুদ্ধে কটি কড়া কথা বলেছিলেন যে, এর মাঝে ঘাপলা আছে। সদ্য স্বাধীন দেশে কথাটি শুনে খুশীতে দেখি হোষ্টেলে আমাদের সবকটি হিন্দু বান্ধবীরা একজোট হয়ে কানাঘুষা করছে আর আমরা গুটিকয় মুসলিম বান্ধবীরা মনমরা হয়ে সে আঘাতটিকে বুকে চেপে ধরে এ ওর মুখপানে তাকাচ্ছিলাম মাত্র। আশ্চর্য মনে হলেও এটি বাস্তবতা, মোদি সূচীর সমর্থণে বাংলাদেশের হিন্দুরাও প্রতিনিধি পাঠিয়েছে সেইসাথে ফেরত প্রতিনিধিকে ফুলের মালায় বরণও করেছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদেরে পড়তে দেয়া হয় না। মেরুদন্ড ভেঙ্গে পড়ার সব কাজে তাদের সরকারের হাত শক্ত, ভারতের ক্ষেত্রের সাথে এসব আচরণে তাদের মিল অনেক। রোহিঙ্গা ছেলেমেয়ে পড়তে পারে না। এনটিভির অনলাইন সাক্ষাৎকারে এসব স্পষ্ট হয়েছে উচ্চশিক্ষার প্রশ্নই আসে না। মুসলিমদের এভাবে শিকল পরানোর এসব অভিনব কৌশল মাত্র। ইরাক কোন হুমকি ছিল না বরং ভুল ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা রিপোর্ট, ইরাক ধ্বংসের জন্য এ মিথ্যাটি তখন জরুরী ছিল। খারাপ হোক ভালো হোক তাদের শাসককে ফাঁসি দেয়ার জন্য এসব মিথ্যা যুক্তি তৈরী করা হয় এভাবে। সূচীও ঐ মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন বলছেন ওরা মিথ্যা উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। মায়ানমারে এসব কিছুই হচ্ছে না। সূচীর কাছে রোহিঙ্গারা টেররিস্ট, মোদিও দৌড়ে গিয়ে একাত্বতা জানিয়েছেন। মোদির রাজ্যে গরুর চেয়ে অল্প দামে মুসলিমরা বিকায়। হিন্দুরাও মিয়ানমারে নির্যাতীত হচ্ছে এবার শুনি সেটি আর এক বড় চাল। এরা মিয়ানমারের পক্ষে বন্দনা সঙ্গিতে ষড়যন্ত্রী হয়ে একত্রে জড়িত। নিজেরাই মুসলিম বেশ ধরে আগুন দিচ্ছে আর সরকারী সহযোগিতায় প্রচার করছে এসব রোহিঙ্গাদের ষড়যন্ত্র। সব শিয়ালের এক রা। 

মোদির দেশে ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে স্কুলপাঠ্যে ভারতের একটি বড় অংশে সচল থাকা তিনশ বছরের মোগল ইতিহাসকে বাদ দেয়া হচ্ছে (৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। এর কারণ মোগলরা মুসলিম। শূণ্যস্থানকে পূরণ করা হচ্ছে মারাঠা দস্যু শিবাজীকে দিয়ে। মূর্তিহীন হিন্দু ধর্ম ক্রমে মূল সত্য থেকে সরে এসে আগাগোড়া মূর্তিনির্ভর মিথ্যা জগাখিচুড়ী আচারধর্মী কর্মকান্ডে জড়িয়ে যায়। খবরে প্রকাশ ভারতে হিন্দুত্ববাদকে নিয়ে কোন প্রশ্ন করলেই সাংবাদিকরা হত্যার শিকার হন (বিবিসি, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অসাম্প্রদায়িক বামপন্থী বুদ্ধিজীবি সাহিত্যিক গোলাম সামদানী কোরায়শী ময়মনসিংহে ব্যাপক ইসলাম প্রচার সম্পর্কে বলেন,  “এগার সিন্ধুর দুর্গের সম্মুখে মানসিংহের সঙ্গে ঈসা খাঁর ইতিহাসখ্যাত বিখ্যাত সেই যুদ্ধ ও সন্ধি স্থাপিত হয়। ভগ্ন তরবারীর প্রতি বীরোচিত সৌজন্যের যে পরিচয় ঈসা খাঁ রেখে গেছেন তা ময়মনসিংহবাসীর সম্মুখে এক অত্যুজ্জল আদর্শ হিসাবে বিরাজ করছে। — হত্যার বৈধ সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও বাঙ্গালী বীর হত্যা করেন নি, তাই বিশ্বের বীরশ্রেষ্ঠদের অন্যতম তিনি। মোগল সেনাপতি আফজাল খাঁর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধের সাহস না থাকায় কাপুরুষ শিবাজী আপস আলোচনার নাম করে তাঁবুতে ডেকে এনে নিরস্ত্র আসহায় অবস্থায় আতর্কিত আক্রমণ করে আফজাল খাঁকে হত্যা করেছিলেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “সোনার বাংলা” রচয়িতা বাঙ্গালী বীর ঈসা খাঁকে ফেলে মারাঠা দস্যু শিবাজীকে নিয়ে কবিতা লিখলেন এবং প্রমাণ করলেন বিশ্বকবি হলেও মূলত তিনি হিন্দুদেরই কবি” (ময়মনসিংহের সাহিত্য ও সংস্কৃতি: গোলাম সাদমানী কোরায়শী : জেলা বোর্ড ময়মনসিংহ ১৯৭৮, পৃষ্ঠা ৯)। ভারতের সাবেক উপরাষ্ট্রপতির স্ত্রী সালমা আনসারীর মাদ্রাসার পানির ট্যাঙ্কে বিষ প্রয়োগ করার সময় এক ছাত্রের চোখে পড়ে যাওয়াতে বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। মানুষ কতদূর ভয়ংকর হলে এসব করতে পারে, এটি তার নমুনা মাত্র (উৎস: পরিবর্তন সেপ্টেম্বর ১৮,২০১৭,)। গরু পূজকের দেশে মানুষের এই মর্যাদা। মিয়ানমারের সেনা প্রধান রোহিঙ্গা নিধনে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে চলেছেন। আনন্দবাজার পত্রিকার রিপোর্টে প্রকাশ বিজেপি নেত্রী বেনজির আরফান রোহিঙ্গাদের জন্য দোয়া কামনায় তাকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আগামী তিনদিনের মধ্যে তাকে কারণ দর্শানোর জন্য দল থেকে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশী জেলেরা বলছে, বিদেশী ট্রলারের দৌরাত্ম্যে দেখে মনে হয় ইলিশের মালিক ভারত ও মিয়ানমার। তারা একসাথে ৩০/৪০ টি ট্রলার নিয়ে সীমানা লংঘন করে বাংলাদেশ জলসীমায় ঢুকে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। অত্যাধুনিক যন্ত্র দ্বারা সাগরের তলদেশের মাছ দেখে জাল ফেলে নিয়ে যায় তারা। ধরা পড়লেও দ্রুত পালাবার সব রাস্তা তারা রপ্ত করেই কাজ সমাধা করে (আগষ্ট ১৫, ২০১৭)। পশ্চিমবঙ্গে মৌরলার চেয়ে কম দামে মিলছে অঢেল ইলিশ কলকাতা প্রতিনিধি (৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭)।  ২৫ আগষ্টের পর থেকে কয়েকবার ড্রোন বাংলাদেশের আকাশসীমা লংঘন করে, এবার ১০,১২, ও ১৪ সেপ্টেম্বর আবারও আকাশসীমা লংঘন করাতে আবারও প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। মোদির হিন্দুত্ববাদের সাথে সাম্প্রতিক বৌদ্ধ মায়ানমারের আদর্শ একদম একাত্ম হয়ে মিলে গেছে।

মিয়ানমারের বৌদ্ধরা সাধক বৌদ্ধের কবর রচনা করে দিয়েছে। কি পরিমান যে ভয়ংকর তারা হয়েছে মনে হচ্ছে তারা পশুকেও হার মানাবে। ওদের নির্যাতনের ভয়ংকর কতকথা আমি তেমন নাড়ছি না। সর্বত্র এর প্রমান জীবন্ত হয়ে আছে। আশি^ন ভিরাথু (ওয়ারাথু) নামে এক ভিক্ষু “নাইন সিক্স নাইন” নামে একটি আন্দোলন শুরু করেছেন, রাষ্ট্রীয় ইন্ধনে তা পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বরতার নজির তৈরী করে চলেছে। বৃটিশ পরবর্তী বার্মাতে আগাম চ্যালেঞ্জের আশংকাতে রোহিঙ্গাদের একদল জিন্নাহর সাথে পূর্ব পাকিস্তানের সাথে নিয়ে নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু তখনকার শাসক সূচীর বাবা অং সান জিন্নাহকে সমতার কথা বলে ও পথে আগাতে বাধা দেন। কিন্তু পরের ইতিহাস বলে তারা তাদের কথা থেকে ক্রমে সরে আসে। মুসলিমরা একেশ^রবাদী অনুসারী সব সময় এক আল্লাহকে স্মরণ করে সব কাজে আগানো তাদের নীতি। অনেকে “বিসমিল্লাহ” এর অর্থ ‘আল্লাহর নামে শুরু করলাম’ না বলে এ সংখ্যাটি ব্যবহার করেন। সে হিসাবে অনেকে দেখা যায় সেভেন এইট সিক্স অর্থাৎ ৭৮৬ এ সংখ্যাটি বিসমিল্লাহর পরিবর্তে ব্যবহার করেন। কেন ব্যবহার করেন তার কোন উপযুক্ত ব্যাখ্যা নেই। এসব কোন ধর্মের নির্দেশও নয়। কুরআনের আয়াতকে এভাবে সংক্ষেপ করার কোন বিধানও কারো জানা নেই। কুরআন হাদিসেও এর উপর কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় নি। এসব কালের অবগাহনে বেড়ে উঠা মনগড়া আচার বলা যেতে পারে। আশি^ন ওয়ারাথু ঐ ৭৮৬ সংখ্যার বিপক্ষে তার “নাইন সিক্স নাইন” যুদ্ধ চালু করেছেন। তিনি মনে করছেন এ দিয়ে তিনি মুসলিম নিধন চালু করে অভিনব কৃত্তিমান অবদান রাখছেন।

এক রাখাইন বালকের বাণী “আমি রাখাইনে সুখী ছিলাম না, আমাদের কোন স্বাধীনতা ছিল না, আমার দোকান থেকে অন্য কোথাও আমি পণ্য সরবরাহ করতে পারতাম না। নিষেধাজ্ঞার মাঝে জীবন কঠিন ছিল, সেনাবাহিনী গ্রামে ঢুকে গুলি করে হত্যা শুরু করে। বিক্ষুব্ধ এক প্রতিবেশী ছুরি হাতে প্রতিবাদী হয়ে আমার সামনে গুলি খেয়ে মরে। অনেক বছর ধরে এসব মারধর চলছে। বাঁচতে না পেরে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছি। শুধু একটি লুঙ্গি নিয়ে গ্রাম ছেড়েছি। যারা ওখানে রয়েছে তাদের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে আছি।” স্যাটেলাইটের ছবি থেকে নিউইয়র্ক ভিত্তিক হিউম্যান রাইটসওয়াচ বলছে রোহিঙ্গাদের ২১৪টি গ্রাম ধ্বংস করা হয়েছে, এবং এ ধ্বংসের ব্যাপকতা বেড়েই চলেছে। তারা যাতে বাড়ীতে না ফিরতে পারে তার সব ব্যবস্থা করছে সৈন্যরা। স্থানে স্থানে মাইন পুতে রাখছে, রোহিঙ্গারা এসব মাইনে পড়েও মরছে সমানেই। আর ঠিক এরকম সময়ে সূচী বলে চলেছেন তার জানা নেই কেন রোহিঙ্গারা দেশ ছাড়ছে।  কয়টি ছবির ভুল ব্যাখ্যা পেয়ে কিছু দেশ বিরোধী দালাল জনেরা মিয়ানমারের হয়ে গানা গাইতে তৎপর, এটি দুঃখজনক। বাংলাদেশের বর্ডারে চলছে বর্মি নারী শিশু পুরুষের মৃত্যুর মহোৎসব আর দেশটির ভিতরে চলছে সরকারী তান্ডবে গুম হত্যার মহোৎসব।

বাংলাদেশে টিআইবি রিপোর্টে বলা হচ্ছে দুর্নীতিবাজদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে। দুই বছরে বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড ৩৮৭টি (১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। ভিতরের মানুষরা বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে কোথায় আছে বা কোথায় মিলাচ্ছে কেউ বলতে পারে না। সম্প্রতি বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমানও গায়েব বেশ দিন থেকে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত হাইকমিশনার জাইদ রা’দ আল হুসেইন রোহিঙ্গাদের এ নিপীড়নকে জাতিগত নির্মূলের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ বলে অভিহিত করেছেন। দশকের পর দশক থেকে এ নির্যাতন চালানো হচ্ছে। জিয়াউর রহমানের সময়ও এ ইস্যু নিয়ে তৎপরতা শুরু হলে তখন এর জবাবে শক্ত অবস্থান নেয়া হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। খালেদা জিয়ার সময়ও এ ইস্যুকে অতীতে উসকে দেয়া হয়, তবে বেশী আগানো যায় নি। এখন অবৈধ পথে আসা সরকার নিজেই নড়বড়ে, তার শক্ত অবস্থান সব সময়ই প্রশ্নবিদ্ধ! ১৯৭৭ সাল থেকে ৭৮ সালের মধ্যে এক অতিভৌতিকতা মায়ানমার সরকারের মাঝে জন্মলাভ করে ক্রমে এ সহিংসতার বিকাশ ঘটে। ৮২ সালে তাদের দেশের রাখাইন সম্প্রদায়ের সব নাগরিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। ৯৪ সাল থেকে নবজাতকরাও আর স্বীকৃত হয় না। ২০১৪এর আদমশুমারী থেকে রোহিঙ্গদের বাদ রাখা হয়। মানবাধিকারকর্মী ও বার্মিজ রোহিঙ্গা অরগেনাইজেশন ইউকের প্রেসিডেন্ট তুন খিন জানান, তারা তাদের নিজ দেশে শান্তিতে বসবাস করতে চায়। অন্য দেশে থাকার ইচ্ছ তাদের নেই, তবে জান বাঁচাতে আজ তারা পরবাসী (রয়টার্স অবলম্বনে)।

বাংলাদেশের প্রশ্নবিদ্ধ সরকারের কর্মকান্ড চরম দুর্যোগেও চরম প্রশ্নবিদ্ধ। ইংলান্ডে, ইন্দোনেশিয়া, তুরষ্কসহ সব দেশ থেকে ত্রাণ সামগ্রি পাঠানো হচ্ছে, ইত্যবসরে এক গোষ্ঠী তাদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি বানাতে তৎপরতা চালাচ্ছে। দেশের ভিতরে যে কাজটি বেশ দিন থেকে সরকার সদলবলে করছে সেটি কৌশলে রোহিঙ্গাময় ছড়িয়ে দেয়াও হয়তো সহজ হবে। কিন্তু জনগণ তৎপর থাকলে কোন ষড়যন্ত্রই টিকবে না। সরকারের আচরণে নিজ জনগণের জন্য মানবতাবোধের পরিচয় নেই বলেই বারে বারে প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে রোহিঙ্গা প্রশ্নে সরকার কতটুকু মানবিক হবে সেটিতেও সরকার কেন যেন ধরা পড়ে যাচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে ২২ ট্রাক ত্রাণ নেয়া হলে সেটি সরকার কবজা করে নেয়, এর চেয়ে হীনমণ্য কাজ আর কি হতে পারে? সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় এসব তাদের গামলায় ঢালতে হবে। এরা পারে না এমন কোন কাজ নেই। এসব অপকর্ম করেই তারা ইতিহাসে শক্ত দাগ রাখছে। মৃতবৎ গণতন্ত্রের মাঝে এর বেশী আশা করাই বৃথা। লুটপাটের বাইরে এ সরকার বুঝে না কিছুই। সম্প্রতি মাহমুদুর রহমানের এক বক্তব্যে এটি স্পষ্ট করেই বলা হয়, তিন দেশেই হত্যাকারীরা ক্ষমতার দন্ড ধরে দাঁড়িয়ে আছে। এরা যথাক্রমে ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। তিনজনের হাতেই টকটকে রক্তের দাগ জমাট বেধে আছে। সত্যকে খুন করে এরা দন্ড ধরে আছে। আচরণে এক হওয়াতে তিনজনাই কিন্তু কমবেশী এক পথে হাটে। এর সন্ধানে যুক্তি সবার চোখেই পড়বে। সবার উদ্যেশ্য এক, পৃথিবীর মানুষকে ইসলাম বিরোধী মুসলিম বিরোধী করা। ভারতে বেশ বড় সময় থেকে চালানো হচ্ছে মিথ্যাচার যে মোগল আমলে বৌদ্ধদের উপর অন্যায় অত্যাচার চালানো হয়, যার সবটাই মিথ্যাচার। যারা সঠিক ইতিহাসের উপর গবেষণা করেছেন তাদেরে তারা চেপে রেখেছে যুগ যুগ অবধি। মিথ্যা ইতিহাস দিয়ে বৌদ্ধদেরেও উস্কানী দেয়া হয়েছে। ভারতের এরকম প্রচারযন্ত্রের কর্মকান্ড বার্মাতেও সক্রিয় আছে। ৭৭, ৯১ ও ২০১২ তে তাদের রোহিঙ্গা বিতাড়ন অপকর্ম সাক্ষী হয়ে আছে। মিয়ানমারের  উগ্র নেতাকে “বুদ্ধিষ্ট টেররিষ্ট” আখ্যা দিয়ে কলাম বের করেছে টাইম ম্যাগাজিন ২০১৩ সালে।

এদিকে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে সরকার যা করছে মুসলিম নিধনে ও ইসলাম ধ্বংসে মনে হচ্ছে বড় সোল এজেন্ট হয়েই কাজ করছে। মুসলিম নিধনের এ কৌশল ছড়িয়ে দেয়ার পিছনে অনেকেই সক্রিয়। শ্রীলংকাতেও এর তৎপরতা বাড়ানোর কসরত চলছে। আর এর যোগসাজসে রাখঢাক না রেখেই স্বয়ং মোদিজি তার কর্মকান্ড নিয়ে ময়দানে হাজির, এতে আর বিভ্রান্ত হবার কিছু নেই। যতই ভনিতা করেন মূল সত্য এখানেই প্রকাশিত হয়ে আছে। দেখা যায় অসহায় মুসলিম নিধনে তারা কাছের দূরের সবাই এক। ইনসান আর শয়তান সব সময়ই দুটি পক্ষ। এটি নিশ্চয় সবার জানা হয়ে গেছে যে এদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরমর্শ দিচ্ছে ইসরাইল। ফিলিস্তিন কাশ্মীর সব খানেই শত্রুপক্ষ একটি জায়গায় এসে আটকে যায়। সরকার এতই বিতর্কীত যে রোহিঙ্গাদের ত্রাণও তাদের দিতে হচ্ছে বিএনপির ত্রাণ লুট করে। বাংলাদেশেই তার সাগরেদদের অতি অসৎ কর্মকান্ডে, ভারতের পানিতে আসা বন্যার খেসারতে দুর্ভিক্ষের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। এত সংকটেও চাল নিয়ে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের সাথে বন্ধুত্বের চাল চালছে। একদিকে তারা বর্ডারে হুমকি দিচ্ছে আর দুর্বল পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দেশ বন্দুত্বের সুরে মেরুদন্ডহীন চালবাজি তেল মারছে। সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে হয়, তারা যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে আর বিনিময়ে বাংলাদেশ তাদের পিঠে তেল মালিশ করবে এ কেমন কুটনীতি? এখানে কুটনীতিও নেই সততাও নেই, নীতি নৈতিকতাও নেই। এ বছরের মে মাসে বাংলাদেশকে সৌদি সরকার রমজানে ৫০ টন খেজুর উপহার দেয়। এতে অনেকেই বলছেন খেজুর তো দূরে থাকুক আমরা নামগন্ধও পাই নাই। সবই নিশ্চয়ই সাবাড় করে দিয়েছে সরকারী কোষাগারের গামলার মালিকেরা। এই খেজুরের হিসাব নিয়েই সরকারের প্রতিটি সদস্য শেষ ময়দানে ছ্যারাবেরা অবস্থাতে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই গেল। সেতু মন্ত্রী বলেন, ১২ লক্ষকে হাসিনা নাকি ত্রাণ দিয়ে আসলেন। জনতারা প্রশ্ন রাখছে ৩ লক্ষের পরের বাকী ৯ লক্ষ ত্রাণও কি তারা সরকারী কোষাগার থেকে লুট করে নিল এই সুযোগে? প্রধানমন্ত্রী বলেন তিনি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়ান। ত্রাণের টাকা গিলেও তোফায়েল আহমদ বলছেন, খালেদা জিয়া মানবিক হলে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতেন।  বিচার বিবেচনা আপনাদের জনতার কাছে রইলো। এরা নাকি দেশ চালাচ্ছে, লাগামহীন এক দঙ্গল লুটেরার হাতে দেশ বেসামাল।

২৫ আগষ্ট থেকে রোহিঙ্গা নিধন খেলা শুরু করে খুব দ্রুততার সাথে ২৭, ২৮ ও সেপ্টেম্বরের ১, ১০, ১১,১৫ তারিখে কয়েক দফা বাংলাদেশের আকাশ সীমা লংঘন করে মিয়ানমার, কিন্তু জবাবে দুর্বল পররাষ্ট নীতির কারণে বাংলাদেশ নিকৃষ্ট মানের পররাষ্টনীতির আচরণ করছে। তার মানে বলছি না যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে, তবে আত্মসম্মান বজায় রাখার মত আচরণ আশা করে দেশবাসী। উদাহরণ হিসাবে ২০১৪ সালে বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান নিহত হন মিয়ানমারের বর্ডার গার্ডের গুলিতে। এরপরই একজন জেলে তাদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। সবারই মনে থাকার কথা, তাদের ট্রলার দিয়ে বিজিবির নায়েক রাজ্জাককে জোর করে তুলে নেয়। ভুলে যাবার কথা নয়, ফেসবুকে, অনলাইনে বন্দী অবস্থার ঐ অপমানের ছবি জাতি দেখেছে। ২০১৩ তে নাফ নদী থেকে ২১ জেলেকে তারা ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমারের নাসাকা বাহিনী, এর পর মুক্তিপণও দাবী করে। ২০১৩ সালের মার্চে ৩ পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমার। যদিও ২০০০ সালে নাফ যুদ্ধে বাংলাদেশ বাহিনী জয়লাভ করে মাত্র আড়াই হাজার সেনা দিয়ে। যেখানে মায়ানমারের সৈন্য ছিল প্রায় ২০-৩০ হাজার, তারা নিহত হয় ৬০০, জয় লাভ করে বাংলাদেশ, বার্মার প্রেসিডেন্ট ক্ষমা চেয়ে রণে ভঙ্গ দেন (সূত্র নয়নচ্যাটার্জিডটকম)। তবে বর্তমানে অবৈধ হয়ে টিকে থাকা সরকার সেদিন করেছে ভাসি, তার সার্বিক দুর্বল চিত্ত আচরণে সে রণতেজ তার নেই।

এবার একজন ওজনদার মানুষের কথা আমরা কিছু শুনি। যার ছত্রচ্ছায়ায় ২০০১এ ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল সেদিনও বিজয় জমেছিল বাংলাদেশের ভাগে। যদিও জাতির করুণ কষ্ট লেপ্টে গেছে দুষ্ট চক্রের মিলিত প্রচেষ্ঠাতে জাতির কলিজাতে বিডিআর বিদ্রোহ নামে ২০০৯ সালে; ওটি ছিল বিডিআর ধ্বংসের নামে জাতি ধ্বংসের নষ্ট মরণ খেলা। আজকের সংকটেও ঐ রিটায়ার্ড মেজর জেনারেল কিছু বুদ্ধি বাতলে দিয়েছেন, দুর্জন কি সুজনের বুদ্ধি নিবে? তারপরও দেশ ও বিশ^বাসীর কাছে এটি তুলে ধরতেই তার বক্তব্যটি খুব সংক্ষেপে আনছি। তার নাম (অবঃ) আ.ল.ম ফজলুর রহমান (৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। পাকিস্তানের পশ্চিম পাশে আফগানিস্তানকে নিয়ে যে ধ্বংস যজ্ঞ চালু হয়েছিল, এখানেও এরকম কিছু হতে কতক্ষণ? একইভাবে বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্তে রোহিঙ্গা মিয়ানমার। ভারত ও চীনের টানাপোড়ান চলছে। মিয়ানমার সামরিক শাসকেরা সূচীকে অকার্যকর করতেই রোহিঙ্গাকে দাবার গুটির মতই ব্যবহার করছে। রোহিঙ্গা ঠেলাঠেলিতে সেনাবাহিনী বেশ প্রসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে মায়ানমারের কাছে। আর সে দেশের সেনাবাহিনী চায় রোহিঙ্গা সমস্যার জঙ্গিকরণ হোক। (শোনা যাচ্ছে ভারতীয় তৎপরতায় বাংলাদেশের ভারত নির্ভর মিডিয়া শুরু করে দিয়েছে রোহিঙ্গা নিয়ে জঙ্গিগীতি )। হয়তো বলা যায় না, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগেনাইজেশনকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীও পৃষ্টপোষকতায় বিদেশী কোন শক্তির মদদে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে তারা দেশের ভিতরে সীমিত আকারে সেনাবাহিনী ও সীমান্ত পুলিশের উপর আক্রমণ করে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের জঙ্গিকরণ করতে পারে।  এতে একটি মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশকে টেনে এনে আর একটি আফগানিস্তানের সৃষ্টি করে ভারতীয় কৌশলগত লাভ জমা করার কসরত হতে পারে। তখন ঐ অস্থিতিশীল মিয়ানমার চীনের জন্য আর এক আফগানিস্তান হয়ে আভির্ভূত হবে। রোহিঙ্গা সমস্যাতে বাংলাদেশকে জড়াতে পারলে এর অবস্থান হবে আফগানিস্তানের পাশের পাকিস্তানের মত। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের গান ইত্যবসরে সরকার শুরু করে দিয়েছে তার বেঁচে থাকার ঢাল হিসাবে এর ব্যবহার করছে তার ইচ্ছামত, এবার শুরু হবে পুরোদমে বহুগুণ তেজে। বাংলাদেশ তার অনেক অঙ্কেই গোজামিলের সম্মুক্ষীণ হবে। এমতাবস্তায় সমাধান হিসাবে তিনি বলছেন, (১) যত শীঘ্র সম্ভব বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মাঝে একটি কার্যকরী ব্যবস্থাতে গিয়ে এ সিদ্ধান্তে পৌছাতে হবে যে আরাকানে যাতে কোনভাবেই জঙ্গীবাদের উত্থান না ঘটে, এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। (২) এর জন্য জরুরী ভিত্তিতে মিয়ানমারের সাথে একটি চুক্তিতে উপনিত হওয়া দরকার। (৩) এরা লক্ষ লক্ষ জনতারা যাতে তাদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মিয়ানমারের নাগরিক হিসাবে জীবন ধারণ করতে পারে, এ ব্যাপারে মিয়ানমারের সরকারের সাথে কার্যকরী ব্যবস্থা করা বাংলাদেশের জন্য জরুরী। (৪) যত শীঘ্র সম্ভব শান্তিই সমাধান, যুদ্ধ কখনোই কোন সমাধান নয়। মিয়ানমার চাইছে বাংলাদেশ যুদ্ধে জড়াক। কারণ এটি করতে পারলে বাকী রোহিঙ্গাদেরেও বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া সহজ হবে। বাংলাদেশকে দুর্বল করতে পারলে তারা আর রোহিঙ্গা নিয়ে কোন ইতিবাচক কাজ করতে পারবে না। ইতিমধ্যে চীন রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ রিজ্যুলেশনে ভেটো দিয়েছে, মনে হচ্ছে এটি করেছে চীন এ জন্য যে তারা আমেরিকা ও ভারতকে মিয়ানমার ইস্যু থেকে বিরত রাখতে চায়। বাংলাদেশকে মনে রাখতে হবে তার সাথে চীনের ২৪ বিলিয়নের বিনিয়োগ আছে। এ হিসাবে চীনের সাথে তৎপরতা বাড়ানো জরুরী। যদি চীন এর সমাধানে কোন ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গা মুসলিমদেরে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়াও দরকার। প্রয়োজনে এদের সামরিক প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, সামরিক সহায়তা দিয়ে রাখাইন প্রদেশ স্বাধীন করতে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশ একটি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। চীনমুখী কুটনীতিই একমাত্র উপযুক্ত সমাধান বলেই মনে হচ্ছে। তবে এটিও ঠিক প্রয়োজনে সমর প্রস্তুতির কোন বিকল্প নেই। সে সামর্থ ও সাহস মাথায় রাখতে হবে। যাতে মিয়ানমার সংযত অচরণ করতে বাধ্য থাকে। (লেখক, সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ রাইফেলস বিডিআর (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি)। চাল দিয়ে চালেসমাতির বদলে নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে সম্মানজনক রাস্তার বাস্তব ভিত্তিক কুটনৈতিক তৎপরতা বহাল রাখতে হবে।

এ সমস্যার সমাধান না করলে অচিরেই মায়ানমারকে ইরাক ও আফগানিস্তানের ভাগ্য বরণ করতে হবে বলে মনে করেন তুরষ্কের রাজনীতিবিদ হাসান বিতমেজ (১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিএনএন)। তিনি বলেন রোহিঙ্গা সমস্যায় মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের মদদ থাকতে পারে এবং মায়ানমার এর সমাধান না করলে ফের ২০০০ এর পুনরাবির্ভাব হবার আশংকা থেকে যাবে। নিজ দেশের সমস্যার সমাধানে মায়ানমারের উদ্যোগ নেয়া জরুরী। আন্তর্জাতিক শক্তি সম্পদ ও অর্থনৈতিক করিডোর হওয়ার কারণে এখানে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র সবার হস্তক্ষেপ ও স্বার্থসিদ্ধির অঞ্চল হয়ে উঠেছে। ২০০৪ সালে রাখাইনে বিশাল শক্তি সম্পদ উন্মোচিত হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই বেইজিং মায়ানমার থেকে গ্যাস সরবরাহের সুযোগ করে নেয় যার বদৌলতে তারা মধ্যপ্রাচ্যে ও আফ্রিকাতে তেল সরবরাহ করে। ভারতের সঙ্গেও তাদের বিনিয়োগ সীমান্ত ইস্যু ও অর্থনৈতিক চুক্তি রয়েছে। ২০০০ সালে ইরাকের যে করুণ পরিণতি হয় সেটি সবার সামনেই উদাহরণ হয়ে আছে। এটি ভুলে যাওয়া কারো উচিত নয়। সহজ কথায় বলা যায় এদের ব্যক্তি স্বার্থের কাছে বারে বারেই মুসলিমদের জিম্মী করা হয়েছে। হাসান বিতমেজ আশা প্রকাশ করেন, ২৫ আগষ্ট থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে শুরু হওয়া নতুন জাতিগত নিধনের বিষয়ে মায়ানমার আলোচনা ও কুটনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও তুরষ্কের নেতৃত্বে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতায় এর সমাধান সম্ভব। তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট রিসেফ তায়েফ এরদোগান মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে এর স্বপক্ষে ইতিবাচক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।

সচেতন পর্যবেক্ষকরা বলছেন কাঁচা টাকার লোভে রোহিঙ্গাদের প্রতি সরকারী দরদ। খবরে প্রকাশ এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশীদের হিসাবে এক হাজার কোটি টাকার বেশী অর্থ জমা হয়েছে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে। বেশ কিছু কার্যকারণও তার স্বপক্ষে যুক্তি বিলি করছে। রোহিঙ্গা বিলি বন্টনে, এখানেও ইয়াবা এমপি বদিরাজ হাজির, টাকার গন্ধে এমন দুর্যোগেও তাদের মন ভরপুর। চারদিকে শোনা যাচ্ছে রিলিফ চুরি, শরণার্থিদের স্বর্ণালংকার, গরুছাগল, শূণ্য হাতে আসার পরও যা কিছু পাচ্ছে সম্পদ লুটপাটে হাত বাড়াচ্ছে যুবতীদের ইজ্জত একটি বাড়তি পাওনা, এসব জমছে সরকারী অবৈধ সরকারী পাষন্ডদের তান্ডবের অংশ হয়ে। মিডিয়াতে সরকারী কান্নার ছবিতে আবেগ প্রবণ প্রচারও আছে, কোনটারই কমতি নেই। রিলিফ বিতরণে সেনাবাহিনীকে দেয়ার আবেদন উঠেছে কিন্তু এখনো সরকারের ঐ দিকে মন নেই। স্বার্থপর এ সরকারের চোখ থাকে সব সময় তার নিজের পকেটের দিকে। নিজেরটা সংরক্ষনই বড় কথা, যেখানে রিজার্ভ চুরি কোন বিষয়ই নয় তাদের কাছে, সেই তারা রোহিঙ্গার প্রতি দায়িত্বশীল হবার যুক্তি কতটুকু মর্যাদা পাবে সেটিই বড় প্রশ্ন? দেশে দুর্ভিক্ষের মর্মর ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। প্রতিটি মেগা সাইজ লুটপাটের পরই এমন ভয়ংকর বিপদ নেমে আসে জাতিতে গোষ্ঠীতে, অতীতে ৭৪ এর ভয়াল দুর্ভিক্ষ নামের উদাহরণীয় বিপদ সংকেত জমা আছেই।

একটি সত্যকে স্পষ্ট করে তুলেছেন তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। জাতিসংঘ অকার্যকর করে রেখেছে তার নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসংঘ একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে মানুষ আশায় বুক বেধে ফরিয়াদ জানাবার জায়গা মনে করে। যদিও এর কিছু নেতিবাচক অর্জন থাকার কারণে এর কার্যকারীতা কম, জাতিসংঘ সঠিক কাজটি সঠিক সময়ে করতে পারে না। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ হচ্ছে চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র, এরা ভেটো দিয়ে যে কোন কাজকে স্তব্ধ করে দেয়, যার জন্য জাতিসংঘ ইতিবাচক কাজ তেমন কিছুই করতে পারে না। এরদোয়ান এর সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসাবে সিরিয়া যুদ্ধের উদাহরণ তুলে ধরেন। এ যুদ্ধ হাজার হাজার মানুষের প্রাণ হরণ করেছে, লক্ষ লক্ষ মানুষকে ঘরছাড়া করেছে, তারপরও রাশিয়ার সহযোগিতায় সিরিয়ার দানব ধরা খায় না। এসব গোজামেল থেকে দুনিয়াকে বাঁচাতে হলে এসব মানুষের তৈরী নকল ভেজালকে প্রকৃত মানবিক, সত্য সুন্দরের আলোকে গড়ে তুলা ছাড়া বিকল্প আর কিছু নেই। শক্তির দন্ড হাতে যারা মিথ্যাচারে রত তাদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা উচিত। দুনিয়াতে এসব অনাচারকে জিইয়ে রাখার বড় মোজেজাই এসব। 

সব কথার সার কথা হচ্ছে ঈমানদার হওয়া ও পৃথিবীর অদেখা মালিককে ভয় করা। সে সব খুটিনাটি ফাইলবদ্ধ করছে, ঐ খাতায় উঠানো নাম মিটিয়ে দেয়ার কোন রাবার, ইরেজার আবিষ্কার হয়নি যা দিয়ে ওটি মুছা যাবে। আপনি বিধাতাকে দেখেন না, তার মানে এটি নয় যে বিধাতা আপনাকে দেখছে না। আপনার চুলচেরা বিশ্লেষন পর্যবেক্ষণ সব লিপিবদ্ধ হচ্ছে বিধাতার কম্পিউটারে। সবার স্মরণ রাখলে ভালো হয়, অন্তত মুসলিমদের এটি স্মরণ রেখে চলা সব সময়ের দাবী। কয়টি আয়াত দিয়েই লেখাটি শেষ করবো। “স্মরণ রেখো, দুইজন গ্রহণকারী গ্রহণ করে চলেছেন ডাইনে ও বাঁয়ে” (সুরা ক্বাফএর ১৭ আয়াত)। “সে কোন কথাই উচ্চারণ করে না যার জন্য তার নিকটেই এক তৎপর প্রখর প্রহরী নেই” (সুরা ক্বাফএর ১৮ আয়াত)। “তিনি জানেন চোখগুলোর চুপিসারে চাওয়া আর যা বুকগুলো লুকিয়ে রাখে” (সুরা আল-মুমিনএর ১৯ আয়াত)। “ওহে যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহর জন্য দৃঢ় প্রতিষ্ঠাতা হও, ন্যায় বিচারে সাক্ষ্যদাতা হও, আর কোনো লোকদলের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের যেনো ন্যায়াচরণ করতে বাধা না দেয়, প্ররোচিত না করে। ন্যায়াচরণ করো, এটিই হচ্ছে ধর্মভীরূতার নিকটতর। আর আল্লাহকে ভয়শ্রদ্ধা করো। নিঃসন্দেহ তোমরা যা করছো, আল্লাহ তার পূর্ণ-ওয়াকিবহাল”(সুরা আল-মাইদাহ ৮ আয়াত)।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সাল।

Tag Cloud