Articles published in this site are copyright protected.

মক্কা হচ্ছে গোটা মুসলিম বিশে^র মিলন কেন্দ্র। এর পরিচালনার নেতৃতে যারা থাকবে, সবার প্রতি তাকে সমান দৃষ্টিতে বহুমুখী তৎপরতার দৃষ্টান্ত রাখতেই হবে। প্রতিটি মুসলিম সদস্য, দেশ গোষ্ঠী এর বড় দাবিদার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি চরম ঘোলাটে অবস্থানে পৌচেছে যা এশিয়ার জন্য শুধু নয়, গোটা বিশে^র জন্য ভূকম্পনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্রাম্পএর সফল সৌদি ভ্রমণে অনেকে অমেরিকার অস্ত্র বিক্রির সফলতা লক্ষ্য করেছেন। কিন্তু এর পর পরই সৌদির কিছু কর্মকান্ডের প্রেক্ষিতে বর্তমান বিতন্ডা অনেক উচ্চাঙ্গে ময়দান গরম করছে। অনেকেই সৌদিকে মাইল ফলক হিসাবে ধরেন কিন্তু বাস্তবে সৌদি ইসলামের সুমহান ঐতিহ্য তুলে ধরে রাখতে এযাবত কতটুকু সমর্থ হয়েছে, সেটি পর্যালোচনার সময় পার হচ্ছে। অতি সম্প্রতি ইউটিউবে মেহদী হাসানের একটি ডিবেটের জবাব দেখছিলাম, তিনি খুব স্পষ্টভাবে বাস্তবতা তুলে ধরেন। তার জবাবেও (নীচে ভিডিওটি দ্রষ্টব্য) এটি স্পষ্ট হয়, ১৪০০ বছর আগের বিশ^ভাতৃত্বের অসাধারণ ইসলাম আর বর্তমান সৌদি আরব বনাম ইসলামকে তুলে ধরেন। সম্প্রতি সৌদির কর্মকান্ডের উপর পক্ষে বিপক্ষে কথা উঠেছে। আরব ঐক্য বজায় রাখার উপরে মুসলিম ব্রাদারহুডসহ তুরষ্কের এরদোয়ানও সরব হয়েছেন। প্রতিটি সচেতনের মাথায় রাখা উচিত জাজিরাতুল আরব কেন কখন কিভাবে সৌদি আরবে রুপান্তরিত হয়। এসব জানতে হলে অবশ্যই শিকড়ের সন্ধান করতে হবে। একমাত্র শিকড়ের সন্ধানেই মৌল ইসলামের সহজ আবিষ্কার সম্ভব। সৌদি যে সংকীর্ণতার দিকে নিজের পরিচয়কে স্পষ্ট করছে, এতে বিশ^ মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর সমাধানের চিন্তা করতে হবে। অনেকে মনে করেন সৌদি যা বলবে যা করবে তাই হবে মুসলিম বিশে^র পথনির্দেশিকা। যারা ইসলামকে এভাবে চিন্তা করেন তারা মূল ইসলামের পরিচয় নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছেন। ইসলাম নির্ধারণ করার প্রধান মাপকাঠি প্রধানত ঐশী নির্দেশিকা আল কুরআন দ্বারা নির্ধারিত ও প্রদর্শিত হয়ে আছে। আজ থেকে চৌদ্দশত বছরেরও আগে এটি গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ হয়েছে এবং সেদিন থেকে এটিই সকল বিতর্কের উর্ধে একমাত্র বিশ^াসযোগ্য পথনির্দেশিকা। আজো প্রতিটি মুসলিম এ থেকে মুখস্ত করেন আর তখনকার বেশীর ভাগ মুসলিমরা এটি আগাগোড়া মুখস্ত করে নিতেন। তাদের নিজের ভাষাতে নাজেল হওয়াতে তারা এটি রপ্তও করেছেন আত্মায় অন্তরে।

কাতার সংকট: অতি সম্প্রতি এর সাথে সঙ্গতি রেখে আর একটি খবর ‘নেতানিয়াহুর কাছে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের চিঠি’ মিডিয়াতে খবরটি আসে জুলাই এর ১১ তারিখে। চিঠির বিষয়বস্তু হচ্ছে ইসরায়েল যেন হিন্দুদের সাথে ও একই সাথে বাংলাদেশের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। “Bangladeshis activist calls for diplomatic relations with Israel” শিরোনামে হিন্দু সংগ্রাম কমিটির প্রধান শিপন কুমার বসু এ চিঠি দিয়েছেন। মিডল ইস্ট মনিটর এর খবর বলছে, এটি পৌছে দেয়া হয়েছে ইসরাইলের দ্রুজ পার্টির নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী মেন্দি সাফাদির মাধ্যমে। যিনি গতবছরও বাংলাদেশের মিডিয়াতে মোশাদ এর এজেন্ট হিসাবে বার বার আলোচিত হন, মনিটর সেটিও উল্লেখ করে ভারতের নরেন্দ্র মোদির সফরেও এ নেতা উদ্দেলিত। দেখা যায় হিন্দুরা জগত শেঠ, উমি চাঁদ, রায় দুর্লভদের মতই যেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর দারস্থ হতে উৎসাহী। তারা এ দেশে বাস করে ভিন দেশ যারা দেশটির মজ্জা চুষে খেতে উদ্যত সময়ে অসময়ে তাদের কাছে ছুটে যায়, আবদারের জায়গা মনে করে। এরা প্রকারান্তরে দেশদ্রোহী আচরণ ধন্য কর্মকান্ড করে চলেছে, এসব তার প্রামান্য দলিল মাত্র। যে ইসরাইল একদল নির্দোষ জনতার উপর খাড়ার ঘায়ের মত চেপে বসেছে তারাই আজ হিন্দুদের অবতার সাজছে। মিডিল ইস্ট সংকটের আরো কারণ বের হচ্ছে। একই সময়ে খবরে প্রকাশ “কাতার সংকটের মূল হোতা ঋণ চেয়ে ব্যর্থ কুশনার”। সংকটের ঠিক আগইে কুশনার ৫০০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছিলেন, যার জন্য আজ মাশুল গুনতে কাতারকে এ সংকটে পড়তে হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসএর সূত্র মতে ২০১৫ সালে ট্রাম্পের নির্বাচন সময়ে কুশনার  শ্বশুরের সম্পদের রক্ষকের ভূমিকায় ছিলেন। প্রথমে কাতারের ধনী ব্যবসায়ী এতে সম্মতও হন এবং পরে একটি চায়নিজ কোম্পানীও মাত্র ৪ বিলিয়ন ঋণে সম্মত হয়েও কয়েক সপ্তাহ পরে তারা প্রত্যাহার করে। একই ধারাবাহিকতায় কাতারও সরে পড়ে। এ ঘটনার পর পরই কাতার সংকটের সূত্রপাত হয়। এর সূত্রে কুটনৈতিক সম্পর্ক ত্যাগ করে সৌদিসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ। একই সাথে ইরানের সাথে সম্পর্কের অভিযোগও আনা হয় (সূত্র: দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট)।

শ্রেষ্ঠ বিবৃতির কুরআন গ্রন্থ:  মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে তীব্র করতেই এসব পথে সংকীর্ণতার পথ চলা সৌদি সরকারের বিশাল বিতর্ক বর্তমান সময়ে জনসমক্ষে স্পষ্ট হতে চলেছে। মিশরে ব্রাদারহুডের দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও তাদের যোগ বিয়োগের মাঝে যোগের পাওনাই বিশাল। কিছু বিয়োগের খেসারত ছাড় দিলে তাদের বিশাল অর্জনকে খেলো করে দেখার কোন যুক্তি নেই। ব্রাদারহুড একটি আদর্শিক দল, তারা কখনোই এতদঅঞ্চলের অন্য দেশগুলির ব্যাপারে অন্যায় হস্তক্ষেপ করার নজির নেই, তাদের বিরুদ্ধে সৌদি যে অপবাদ ছড়াচ্ছে তার ভিত্তি কম, খেলো যুক্তি দিয়ে সৌদি তার কপট স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। ব্রাদারহুড কড়া ভাষাতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগের প্রতিবাদ করে ও নিন্দা জানায়। শুরু থেকেই এ সংগঠনটি নানা রকম নিপিড়ন নির্যাতনের শিকার হয়ে আছে। এত বিপর্যয়ের পরও তার চলাতে মৌলিক নীতিমালাতে শান্তির বিপক্ষে যাওয়ার কোন উদাহরণ তারা রাখে নাই। অপরদিকে শুরু থেকে সৌদির ইতিহাস বিশ্লেষনে ধরা পড়ে অসাধারণ সব গোজামিল কর্মকান্ড যা বিতর্কের জমা বাড়িয়েই চলেছে, কুরআনের নির্দেশণাতে খুঁজে পাওয়া যুক্তি দ্বারা জটিল সময়ে সঠিক পথটি খুঁজে নিয়ে এ থেকে উদ্ধার পাওয়া প্রতিটি মুসলিমের উচিত। চৌদ্দশত বছর থেকে এটি উদাহরণীয় দিকনির্দেশণা

“শ্রেষ্ঠ বিবৃতির একটি গ্রন্থ, সুবিন্যস্ত, পুনরাবৃত্তিময় সৎকর্মীদের জন্য উদাহরণীয় (সুরা যুমার ২৩ আয়াত)” “এ এক পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষ তা জানে না” (যুমার ৮৯ আয়াত)। “এর যা মন্দ তারা অর্জন করবে তা তাদের পাকড়াও করবে এ তারা এড়িয়ে যেতে পারবে না” (যুমার ৫১ আয়াত)।

ইসলাম অবিস্মরণীয় আলোকবর্তিকার নাম: সৌদি আরবের শুরুটা কেমন ছিল? শেষনবী এসেছিলেন ১৪০০ বছর আগে ৫৭০ খৃষ্টাব্দে জন্ম নিয়ে ৬৩২ সালে ইসলাম নামে একটি শ্রেষ্ঠ আত্মত্যাগী সততার মানদন্ডে মানবতার মূল্যবোধে সমৃদ্ধ জাতি গড়ে দিয়ে তিনি ইহধাম ত্যাগ করেন। ১৩০০ বছর পর ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বৃটিশের অনুগত ও সেবাদাস আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ বৃটিশদের অনুমতিতে হিজাজের নাম পরিবর্তন করে নিজ বংশের নাম অনুসারে এই জাজিরাতুল আরবের নাম রাখেন ‘সৌদি আরব’। এটি এ বিশে^র একমাত্র দেশ যেখানে একটি দেশের নাম হয়েছে একটি গোত্রের নাম অনুসারে। স্বভাবতই একজন সচেতনের মনে প্রশ্ন জাগবে তাহলে এটি কি চক্রান্ত নয়? শেষনবী বা তার পরিবার বা তার গোত্র কোন  নামেও কি দেশটি কখনো চিহ্নিত হয়েছিল? অবশ্যই, এটিই সৌদি কৃত এক বড় চক্রান্ত বা প্রতারণার উৎকৃষ্ঠ উদাহরণ। মুসলিম একটি গর্বিত জাত গোষ্ঠীর নাম, যাদেরে যুগে যুগে ষড়যন্ত্রকারীরাই ভাগে ভাগে ভাগ করেছে। প্রধাণত দুইভাগে ও পরে বহুভাগে বিভক্ত করেছে, তারা কুরআনের হিসাবেও আল্লাহর দৃষ্টিতে কঠোর শাস্তির ও যন্ত্রণার শিকার হবে। স্মরণ করুন “আর তাদের মত হয়ো না যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল আর মতভেদ করেছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী আসার পরেও। আর এরা – এদের জন্য আছে কঠোর যন্ত্রণা, (আল-ইমরান ১০৪ আয়াত ও আনআমের ১৬০ আয়াত)।

ধর্ম নয়, রাজনৈতিক চাল: ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায় শুরু থেকে বিভক্ত করার অপরাধে সামিলরা এসব করে শুধু মাত্র রাজনৈতিক সিদ্ধিলাভের জন্য, ধর্মের লাভের জন্য নয়। ধর্মের সর্বনাশ সেদিন থেকেই শুরু, ওরা ছিল ফেতনার উদগাতা, বিভক্তির জন্মদাতা। ইতিহাস বলে সংকীর্ণ স্বার্থে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য মূল গ্রন্থকে পাশ কাটিয়ে রাজদন্ডের নৈতিকতা বিহীন শক্তির আদলে কুরআনকে, ইসলামকে, নীতিকে চরম ভাবে অবহেলা করেছে সৌদরা। সবই হয়েছে নির্মল বিশুদ্ধ পবিত্র ইসলামকে সামনে রেখে, তার সেবক সেজে প্রতারণার কাজটি সমাধা করা হয়। সে শুরুটি আজও চলছে, শেষ হয়ে যায়নি। প্রকারান্তরে এভাবে সৌদ নামধারীরা কালে গোটা মুসলিম বিশে^র অধিকর্তা হয়ে বসে। বৃটিশরা সব সময়ই পরের ঘর দখলে, পরের ঘর ভাংতে দক্ষতা দেখিয়েছে ডিভাইড এন্ড রুলের নীতিকে অবলম্বন করে। এখানে দেখা যায় ঐ বৃটিশকে অবলম্বন করেই এরা জাজিরাতুল আরব বা হিজাজুল আরবএর পরিবর্তন করে এর উপর জবর দখল করে বসে। কার ইঙ্গিতে কোন সাহসে তারা নবীর দেশকে নতুন নামকরণ করলো? তুরষ্ককে ভেঙ্গে দিতে যেভাবে কামাল আতাতুর্ককে বেছে নেয়া হয় ঠিক একইভাবে ইবনে সৌদকেও অনুচর হিসাবে বেছে নেয় বৃটিশরা। এর জন্য প্রতিমাসে তাকে ৫ হাজার পাউন্ড স্টার্লিং ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। প্রথম বিশ^যুদ্ধে তুরষ্ক হেরে গেলে ইবনে সৌদের সাহস বাড়তে থাকে। এরপর এরা আরবের নানা অংশে সেনা অভিযান চালায়। অতপর ১৯২৫ সালে তারা হিজাজের মক্কা, মদীনা শহরসহ জেদ্দাহ, তায়েফ ও ইয়ানবু শহরে তাদের সেনা বাহিনী বিশ ত্রিশ হাজার মুসলিমকে হত্যা (?) করেছিল, যা কোন মতেই ইসলামের কুরআনের শেষনবীর নীতির অংশ নয় ! যেখানে কুরআনের কথা হচ্ছে,  যে বা যারা একজন নিরপরাধকে হত্যা করবে কোন কারণ ছাড়া তা সে যে কোন ভাষার গোত্রের বা ধর্মেরই হোক না কেন, সে যেন সর্ব সাকুল্যে সারা বিশে^র মানুষকেই হত্যা করলো। উল্লেখ্য এ আয়াতটিই (সুরা মায়েদার ৩২ আয়াত) নাজেল হয়েছিল এমন এক সময়ে যখন ইহুদীরা চরম অপরাধী হয়ে আল্লাহর চোখে ধরা খায় বলেই প্রামাণ্য হয়ে কুরআনে এ আয়াতে জায়গা করে নেয়। ঐ সময়ে ইহুদী নামধারীরাই ঐ সময়ের দাগী অনাচারী এবং ঐ সময়ে প্রকৃত ইহুদী অপরাধীরাই এসব নির্দোষ মানুষ হত্যা করতো, তাই তাদের উদ্দেশ্যে সাবধান বানী হিসাবে এটি নাজেল হয়। এ মূল্যবান আয়াতটি কিয়ামত পর্যন্ত অনুসরণ করার মত শক্ত অবলম্বনে ধন্য হয়ে আছে। ঐ সময়ের প্রতারক ইহুদীদের অপরাধের কারণেই তাদের কাছ থেকে মূল ধর্মটি অন্য একদল নির্মল চরিত্রের মানুষ কুলকে দেয়া হয়, যারা ছিল নবী ইসমাইলের বংশধারা। বনি ইসরাইল নামেও একটি সুরা জমা আছে কুরআনে, সারা কুরআন জুড়ে ওদের অপকর্মের সাবধানী সংকেত অনেক অনেক সুরাতে পাওয়া যায়।

আবু হানিফারা চক্ষুশূল: ইবনে সৌদ ময়দানে কুরআনকে সামনে রেখে এ অপকর্ম কেমন করে করলেন আর তার পরবর্তীরা এ অপকর্মের প্রতিবাদ না করে তা নিরবে সয়ে যাচ্ছে আজ অবদি, নিজেরাও অনাচার বহাল রেখেছে। আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ ‘নজদ’ অঞ্চলের মরু অধিবাসী। সুদূর প্রসারী রাজনীতির কপট স্বার্থে ওয়াহাবি সম্প্রদায়ের সাথে তারা জোট বাধে। বৃটিশের চক্রান্ত জগত জোড়া, ভারত বর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী তার উত্তম উদাহরণ। ইবনে সৌদকে ‘রাজার উপাধি’ দেয়া ও মূল নাম বদলে ‘সৌদি আরব’ নামকরণের অনুমতি দেয় বৃটিশরা এ শর্তে যেন তারা ফিলিস্তিনে অবৈধ ইহুদী নামধারীদের বসতিতে গোটা বিশ^ থেকে সদ্য আমদানী করা (ইহুদী যারা বর্তমান ইসরাইলে বসতি করছে) তাদের বিরোধীতা না করে। বর্তমানের গবেষনাতে ধরা পড়ছে এরা কখনোই প্রকৃত ইসরাইলীয়ও নয়। ইতিহাস পর্যালোচনাতে ধরা পড়ে, সৌদি আরব মূলতঃ বৃটিশ ধর্ম পালন করছে বললে কি ভুল বলা হবে? আমরা জানি সত্যনিষ্ঠ ইমাম আবু হানিফাকে প্রধান বিচারক নিয়োগ করার পরও তিনি সেটি নেন নাই শুধু এ যুক্তিতে যে, তাকে দিয়ে অন্যায় বিচার করানোর সম্ভাবনা তিনি আঁচ করেছেন। নিশ্চয় শাসক পক্ষ ষড়যন্ত্রী মনোভাব সম্পন্ন ছিল বলেই এ মুসলিম সাধু নিজেকে নির্মল রাখতে এ অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়ে গেছেন জগৎ বাসীর সামনে। এসব ত্যাগীদের সামনে এসব কপটরা অনেক বড় আসামী। সত্যি কথা বলতে কি এদের নিজেদের পরিচিতি সংকট অস্তিত্ব সংকটই মূলত আজকার মূল সংকটের কারণ। রাজতন্ত্রের যে মিথ্যাচারী অবয়ব তারা ধরে আছে এটি উমাইয়া পিরিয়ডে একইভাবে ষড়যন্ত্রের সুবাদে ময়দানে ঢোকে আর এরাও পরে সেই ষড়যন্ত্রকে আরো পাকাপোক্ত করে। যুগের আবু হানিফারা সব দিনই এদের চোখে চক্ষুশূল।

জিন ইনসান: কথায় আছে অতি বাড় বেড়ো না ঝরে পড়ে যাবে, এত ছোট হয়ো না ছাগলে মোড়াবে। সৌদির অতি বাড়ের খবর আমরা কয়জন রাখি? কয় দশক আগে যখন প্রথম আমাদের স্বজনরা ওদেশে কাজের সন্ধানে প্রবাসী হয়, তখনই সরাসরি তাদের থেকে জানতে পারি সেখানে কোন রাজনৈতিক আলোচনার সুযোগ নেই। ভয়ে কেউ এসব কথা বলে না, কেউ টের পেলে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। তার মানে রাজনীতি এক ধরণের ডাকাতী, একে লুকিয়ে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয় সেখানে, কেন? অবাক বিস্ময়ে এসব শুনেছি, আর শিশুকাল থেকে বেড়ে উঠা মনের মনিকোঠায় পরম শ্রদ্ধার ভালবাসার দেশটির সাথে নিজের মনের অংক মেলাতে কষ্ট হয়েছে ঠিক তখনই। এদের কল্যাণেই ১৯১৭ সালে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সারা বিশ^ থেকে ছুটে আসা কিছু বিচ্ছিন্ন জনতা অন্য কোথাও ঠাঁই না পেয়ে ‘ইসরাইল’ নামের রাষ্ট্রটি জবর দখল করে নিরীহ নিরপরাধ ফিলিস্তিনের উপর চেপে বসে । সৃষ্টির শুরুতে আদম আর ইবলিসের ঘটনা দিয়ে মহান আল্লাহ তার অনাগত বান্দাদের অদেখা অতিভৌতিক বাস্তবতাকে দেখতে শিখিয়েছে, জানতে শিখিয়েছে। কুরআনে বার বার বলা হয়েছে এদের উভয়ের (আদম ও ইবলিসের / জিন ও ইনসানের/ ইনসান ও ইবলিসের) কঠিন পরীক্ষা হবে। এদের দুজনার একজন নরম স্বভাবের মাটির আদলে গড়া, আর একজন উদ্ধত অহংকারী কপটের আদলে অগ্নিমূর্তি, উভয়েই কঠিন বিচারের মুখোমুখি হবে। কুরআনে সুরা আর রহমানে বারে বারে বলা হয়েছে এদের উভয়ের বিচার বরাদ্দ আছে, উভয়ের কাছে নবীরা এসেছেন। সুরা আর রহমানে দুটি সত্ত্বাকেই উদ্দেশ্য করে সাবধানী সংকেতে বলা হচ্ছে উভয়ে মাপঝোক সঠিকভাবে করবে, ফলফলাদি, গাছগাছালি, খেজুর, শস্যদানা  উভয়ের খাবার, তারপরও তোমরা উভয়ে আমার (আল্লাহর) কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে বলে প্রশ্ন করা হয়েছে একবার নয়, বারে বারে (সুরা আর রহমান ৮-১৩)। সমস্ত কুরআন জুড়ে গবেষনার উপাত্ত ভান্ডার লুকিয়ে আছে চিন্তাশীলদের জন্য। বাইবেলের অনেক গল্পকে কুরআনের অনেক অনুসারীরা বাইবেলের অদলেই গ্রহণ করে নিয়েছেন যদিও কুরআন সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে তার সত্যকে উপস্থাপনা করেছে, সেখানে বাইবেলের মত গড়ে উঠা কোন বিতন্ডার সুযোগ নেই। যার জন্য কুরআন বাইবেলের একদম হুবহু রিপ্লিকা নয়। অনেক ক্ষেত্রে সাদৃশ্য যেমন বর্তমান ঠিক তেমনি একটা স্বাতন্ত্রমূলক পার্থক্য উভয় গ্রন্থে বর্তমান। এসব পার্থক্যই প্রমাণ করে এটি বাইবেল থেকে কপি করা কখনোই নয়। একজন অক্ষর জ্ঞানহীনের সৃষ্ট কাজ এটি নয়। “এ কিতাব বিশদভাবে ব্যাখ্যাকৃত, আর যাদের গ্রন্থ দিয়েছিলাম তারা জানে যে, এটি অবতীর্ণ হয়েছে তোমার প্রভুর নিকট থেকে সত্যের সাথে, অতএব তুমি (মুহাম্মদ) সন্দিহানদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না” (সুরা আল-আনআমের ১১৫)। আবার দুনিয়ার বেশীরভাগের অনুসরণ না করতেও বলা হয়েছে, কারণ তারা অসার বিষয়ের অনুসরণ করে আর আন্দাজের উপর চলে (ঐ সুরার ১১৭ আয়াত)। আদম ও ইবলিস দুটি পক্ষ, বাইবেলের রুপক গল্পটি অনেক সত্য উন্মোচনের জন্যই আদিষ্ট হয়েছিল। মানব জাতির জন্য এসব ঘটনার মাঝে লুকিয়ে ছিল অসাধারণ গবেষণা লব্ধ সূত্রসমূহ। কুরআনেও এর ইঙ্গিত এসেছে বারে বারে। বিবরণে প্রকাশ ইবলিস আল্লাহর আদেশ পালন না করাতেই তার পরিচিতি স্পষ্ট হয়, সে স্বভাবে বেয়াড়া, বেআদব ও চরম উদ্ধত অহংকারী। যার পরিণতিতে তার জায়গা হবে জাহান্নামে, সে বিতাড়িতদের একজন। অনেকে গল্পের শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলেন, মনে করেন সে ফেরেশতাদের একজন ছিল, কিন্তু না, সে কখনোই ফেরেশতা ছিল না, সে এক আগুনের গোলা, অহংকারীতে ভরা এক নরকগামীর আগাম পরিচয়ধারী তোমাদের শত্রু, শয়তান দলভুক্ত, জিনদের মধ্যকার (সুরা আল কাহফএর ৫০ আয়াতে), কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত (বাক্কারাহ ৩৪ আয়াত) এভাবে কুরআনে তার পরিচয় স্পষ্ট। শয়তানরা কখনোই আল্লাহর অনুগত নয়। সত্যের নীতির আল্লাহর বিরুদ্ধাচারনই তাদের মূখ্য ভূমিকা। ফেরেশতারা সব সময় আল্লাহর  অনুগত। আল্লাহ কুরআন এটি স্পষ্ট করে যে এরা সব নবীকেই বিপদে ফেলার চেষ্ঠা করেছে। এককালে আরবের কুরাইশরাই ছিল আরবের জিন, বদর ওহুদ খন্দকসহ আজীবন তারা নবীর বিরুদ্ধাচারণ করেছে। “এইভাবে আমরা প্রত্যেক নবীর জন্যে সৃষ্টি করেছি শত্রু, মানুষ ও জিনের মধ্যকার শয়তানদের থেকে (আনআমএর ৬:  ১১২ আয়াত)”। প্রতিটি বিশ^াসীর সামনে বিরাট গবেষনার সূত্র লুকিয়ে আছে। গোটা বিশে^র মানুষ এমনই গাফেল হয়ে আছে যে, আদমকে খুঁজে পেলেও ইবলিসকে খুঁজে পায় না। যদিও ইবলিস যুগে যুগে প্রতিটি জাতিতে গোষ্ঠীতে প্রতিটি অপরাধীর ঘাড়ে সয়লাব হয়ে বিজয় উল্লাসে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

শুরু থেকে অনেক প্রশ্নে বিদ্ধ সৌদি: অভিযোগ আক্রান্ত কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবাদ করেন, মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে কিভাবে আমরা আত্মসমর্পণ করবো? সৌদির দৃষ্টিতে ইরানের সাথে সম্পর্ক রাখা বিরাট অপরাধ। কিন্তু আল্লাহর হুকুম এ সত্যধর্মে বিভেদ রেখা টানা যাবে না। কাতারিদের মসজিদুল হারামে ঢুকতে দিচ্ছে না সৌদি আরব। প্রশ্ন হচ্ছে নিজের স্বার্থপরতা, একদর্শীতা, সংকীর্ণতা, অপরাধ সৌদি কেন দেখতে পায় না? সৌদি কি সব বিচারের উর্ধে? শেষ নবী পর্যন্ত সারাক্ষণ সন্ত্রস্ত থেকেছেন পাছে কোন গাফিলতি ধরা পড়ে। তাই বিদায় হজ্জ্বে উপস্থিত হজ¦যাত্রীদের সামনে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে নবী এটি স্পষ্ট করেন যে তিনি গুরুত্বের সাথে তার প্রতিটি কাজ সমাপন করেছেন। উপস্থিত দশ হাজার জনতা এক বাক্যে তার কর্মকৃতিত্বের স্বীকৃতি দান করেছে। স্মরণ রাখতে হবে সৌদি মানেই ইসলাম নয়, ইসলামের জন্ম ঐ ভূমিতে হওয়াতে এখনো অনেক অসাধারণ উদাহরণীয় বাস্তবতা সেখানে বর্তমান, তারপরও জাহেলিয়াতির জন্মভূমি হিসাবে অনেক অনাচারও সেখানে থাকতে পারে, সেটি ভুলে গেলে চলবে না। একমাত্র সত্য, যুক্তি ও বিবেক আসলকে চিহ্নিত করতে সক্ষম। কারণ সপ্তম শতাব্দীতে যে সব ইবলিসরা আইয়ামে জাহেলিয়াতিকে সাদরে আপ্যায়ন করেছিল, ষড়যন্ত্রকারীরা সেটি ধরে রাখবে না, তা বলার অবকাশ কম। সৌদি কতটুকু ইসলামিক অর্জন ধরে রেখেছে? কোন যুক্তিতে সৌদি বাদশাহরা ১০০টি বিয়ে করেন? কোন যুক্তিতে সৌদি সরকার মেয়েদের ড্রাইভিংএর অনুমতি দেয় না? কুরআন বিরোধী মিসরাহ বা মুতাহ বিবাহের অনুমতির ফতোয়া তারা কিভাবে দেয়? এসব মৌলিক প্রশ্নে তারা কেন প্রশ্নবিদ্ধ? অনেক অনেক অপরাধীকে যে ভাবে কঠোর শাস্তি দেয়া হয়, প্রায়ই শোনা যায় লঘু পাপে গুরুদন্ড এসব কিসের আলামত? ইসলামিক ন্যায়বিচার সেখানে কতটুকু অনুসরণ করা হয়? সেসব বিশ্লেষণ করা জরুরী। যে কেউ মুসলিম যদি কুরআন বিরুদ্ধ কাজ করে, অতি অবশ্যই প্রতিটি মুসলিমের তার প্রতিরোধ করা উচিত সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে।

তুরষ্কে এরদোয়ান: স্মরণ যোগ্য উদাহরণ হতে পারে এরদোয়ানকে কেন তুরষ্কের মানুষ পছন্দ করে? সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে দেশটির হাজার হাজার জনতা রাস্তায় নেমে আসে। অনেকে ট্যাঙ্কের নীচে শুয়ে পড়ে থামিয়ে দিয়েছে ষড়যন্ত্রকারীর দেশ বিরোধী অভ্যুত্থান। এর প্রধান কারণ তিনি ছিলেন জনগণের প্রতিনিধি, ইস্তাম্বুলের মেয়র কালীন (১৯৯৪-৯৮) যে বৈপ্লবিক দুর্নীতি দূর করা সহ বাজেটের টাকাকে লুটেপুটে না খেয়ে জনগণের প্রকৃত কাজে এমনভাবে ব্যবহার করেন যে জনতারা প্রতিটি সেক্টরে উপকৃত হয়। তাদের দুই বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করে চার বিলিয়ন শহর উন্নয়নে ব্যয় করে অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা থেকে দেশকে আলোর পথে আশার পথে নিয়ে আসেন। দেশটির জিডিপি এমন উচ্চতায় নিয়ে পৌছান যে দেশবাসী তা নিয়ে গর্ব করে। তারা আশা করে আগামী দশ বছরে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দেশে পরিণত হবে। সততা, শৃংখলা, ন্যায়বিচার, নীতি নৈতিকতা ব্যতীত এসব অর্জন সম্ভব নয়। স্বৈরাচার, উৎপীড়ন, লুটপাটের বানিজ্যে যারা জড়িত তারা এসব অর্জনের স্বপ্ন দেখতে পারে না। বাস্তবভিত্তিক ইসলামিক মূল্যবোধ একটি বড় চালিকা শক্তি যার উপর ভিত্তি করে তুরষ্ক এগিয়ে চলেছে। বলতে দ্বিধা নেই কিছু বিতর্কীত অর্জনে সৌদি অনেক পিছিয়ে, তার সাম্প্রতিক কর্মকান্ডই বড় প্রমাণ, সৌদি যেন ন্যায়বিচারের ন্যায়কে কেটে দিয়ে শুধু বিচারকে বহাল রেখেছে। নির্যাতীতরা তার কাছে সন্ত্রাসী, যাদের দিকে তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার কথা, তাকে সে আরো বেশী পেষণ করতে চাচ্ছে। গণতন্ত্র না হয়ে রাজতন্ত্রই তার ঢাল হয় কেমন করে? ইসরাইলের মত একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রকে তারা ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে কেন?

ইসরাইল ঘোষনা: ১৯১৭ সালের ২রা নভেম্বর বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যালফোর ফিলিস্তিনে ইসরাইলের ঘোষনা ব্যালফোর ঘোষণা নামে ইতিহাসখ্যাত। এর আগেই আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদের কাছ থেকে লিখিত সম্মতিপত্র আদায় করে বৃটিশরা। হাওরের গরু আর মামা শ^শুরের দান। স্বল্প মূল্যে সৌদকে কিনে নেয় বৃটিশরা কারণ এখানে উভয়েই অপকর্মে দৃশ্যমান ছিল বলেই এটি সহজ হয়। শর্তটি দেখুন। “I am King Abdul Aziz Ibne Abdur Rahman – From the Faisal’s and Saud’s dynasty, thousand time I assured that and with knowing all I recommend in front of that honorable British governments representative Sir Kukas that if British government donate the Palestine to the poor Jews then I have nothing to raise protest against that. Basically I will not go beyond the British government upto Qiyamah. Nasirul Syeds book “Ale Saud’s History”.

“আমি বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুর রহমান – ফয়সলের বংশধর ও সৌদের বংশধর। হাজার বার স্বীকার করছি ও জেনেশুনে বলছি যে, মহান বৃটিশ সরকারের প্রতিনিধি স্যার কুকাসএর সামনে স্বীকারোক্তি করছি এই মর্মে যে, গরীব ইহুদীদেরকে বা অন্য কাউকে বৃটিশ সরকার যদি ফিলিস্তিন দান করে দেন তাহলে এতে আমার কোনো ধরণের আপত্তি নেই। বস্তুত: আমি কিয়ামত পর্যন্ত বৃটিশ সরকারের অভিমতের বাইরে যাব না” (নাসিরুস সাইদ প্রণীত আলে সৌদের ইতিহাস)।

কার নির্দেশে তারা কিয়ামত পর্যন্ত বৃটিশের গোলামীতে নিজেকে সম্পৃক্ত করে দিল? এরা কি আল্লাহর ভয়ে ভীত থেকেছে বা তার নির্দেশণাকে অনুসরণ করেছে, ইতিহাসের এসব জমা হয়তো কিয়ামতের মাঠেই এর জবাব তার বস্তুনিষ্ট আলোকধারীদের দিতে হবে। ঐ প্রস্তুতি অতি অবশ্যই প্রতিটি সত্যনিষ্ঠ চিন্তাশীল সচেতনকে অর্জন করতে হবে।

“Once in 1945, King Abdul Aziz Saud delivered a message against the construction of the Jewish country Israel. Immediately British government and Jewish two lobbyist came and contracted with King Abdul Aziz and let his remembered about the agreement of the previous assurance. Then King told them “in favor of the Jews what the things I will do should confidence on that. What I am saying is not important what I am doing should focus on that. Because It was another kind of forgery to hold the trickery I cannot hold the power if I am not talking like that.” (Nasirul Syed’s book Ale Saud’s History, page 953) After hearing this both the members got happy and left.” একবার (১৯৪৫ সালে) বাদশাহ আব্দুল আজিজ সৌদ ইহুদীবাদী ইসরাইল গঠনের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিবৃতি আসে। সঙ্গে সঙ্গে বৃটিশ সরকার ও বাহুদীবাদীদের পক্ষে দু’জন প্রতিনিধি এসে আব্দুল আজিজের সাথে দেখা করে এবং বাদশাহকে তার সম্পাদিত সম্মতি পত্রটির কথা মনে করিয়ে দেয়। তখন বাদশাহর জবাব ছিল, “আমি ইহুদীদের স্বার্থে কার্যত যা করে যাব তার উপর বিশ^াস রাখবেন। কি বলছি তার দিকে লক্ষ্য করবেন না। কারণ এ ধরণের কথা না বললে আমি টিকে থাকতে পারবো না” – (নাসিরুস সাইদ লিখিত ‘আলে সৌদের ইতিহাস’,  পৃ-৯৫৩)। বাদশাহর এ কথা শুনে বৃটিশ সরকারের ও ইহুদীবাদীদের প্রতিনিধি খুশী হয়ে ফিরে যায়। প্রায়ই এখানে ওখানে দেখা যায় সৌদি ইসরাইলের আঁতাত, আমরা নিজের চোখকে বিশ^াস করতে পারি না, মনকে প্রবোধ দিতে পারি না, আবার ভুলে যাই। তারা যে প্রতারণার খেলা খেলছে, এটি স্পষ্ট। তাদের উপরোক্ত যুক্তি এসব মিথ্যাচারের ষড়যন্ত্রের প্রামাণ্য দলিল মাত্র !

ষড়যন্ত্র: ১৯১৪ সালে স্বাক্ষরিত আল আকির চুক্তি অনুযায়ী সৌদ তুরষ্কের বিরুদ্ধে বৃটিশকে সহায়তা দেয়, বৃটিশ নাগরিক ও ব্যবসার রক্ষণাবেক্ষণের অনুমোদন দেয়। বিনিময়ে বৃটিশও প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করার অনুমোদন দেয়। দেখা যায় সৌদ পরিবারের লড়াইটি ছিল ওসমানিয়া সা¤্রাজ্যের বিরুদ্ধে, ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে, তূর্কী খেলাফতের ধ্বংস সাধনেও সৌদি রাজা আব্দুল আজিজ বৃটেনের সাথে হাত দাগিয়েছেন। রাজতন্ত্রের আদলে সৌদ রাষ্ট্র সৃষ্টি ছিল বৃটিশের একটি বিভৎস আবিষ্কার। ইসলামই একমাত্র গণতন্ত্রের প্রধান সূতিকাগার হওয়ার পরও কিভাবে ইসলামে রাজতন্ত্র এসে আসন গেড়ে বসে এসব তার অনবদ্য নিদর্শণ। এর আগের ইতিহাস ঘাটলেও আমরা এর অতীত কৃত কপটদের সন্ধান পাই যারা এ ধর্মটিকে বিভক্ত করে দুভাগ করেছিল তাদের কপট স্বার্থে আর সেখানে যুগ যুগ অবধি দেশীয় কপটদের সাথে সব সময়ই আন্তর্জাতিক চক্রান্ত লুকিয়ে ছিল, এসব স্পষ্ট হওয়া সময়ের বড় দাবী। প্রথম ষড়যন্ত্র কালীন মাসিক ৫ হাজার পাউন্ড, চুক্তি অনুযায়ী বৃটিশ সরকার সৌদ পরিবারকে প্রতি বছর ষাট হাজার পাউন্ড ভাতা দিতে থাকে। শুরুতে স্যার কুকাসকে সৌদি রাষ্টের উৎসবের উদ্দেশ্যে পাঠালে তাকে রাজা উপাধিতে ভূষিত করতে কুকাসের ভাষ্য ছিল, হে আব্দুল আজিজ, আপনি শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এটি ঠিক যেমন মিরজাফরকে তেল মেরেছিল উঁমিচাঁদগং ও বৃটিশরা। রাজার উত্তর ছিল, ‘আপনারাই আমার এ ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি করেছেন ও এ সম্মান দান করেছেন। যদি মহান বৃটিশ সামাজ্য না থাকতো তাহলে এখানে আব্দুল আজিজ আল সৌদ নামে কেউ আছে বলেই জানতো না। আমি তো আপনাদের মাধ্যমেই ‘আমির আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ’ শীর্ষক খেতাবটি অর্জন করতে পেরেছি। আমি আপনাদের এই মহানুভবতা আজীবন ভুলব না। আর আমার বিগত আচরণ ছিল আপনাদের সেবক ও অনুগত (গোলাম) হিসাবে আপনাদের ইচ্ছাগুলো বাস্তবায়ন করা। বৃটিশের দেয়া মেডেল রাজা আজিজের গলায় পরিয়ে কুকাস বলেন অচিরেই আপনাকে হিজাজের বাদশাহ ও হিজাজকে ‘সৌদি সামাজ্য’ ঘোষনা করা হবে। এ কথা শুনে আজিজ কুকাসের কপালে চুমু খেয়ে বলেন,

“আল্লাহ যেন আমাদেরকে আপনাদের খেদমত করার ও বৃটিশ সরকারের সেবা করার তৌফিক দেন।(মুহাম্মদ আলী সাইদ লিখিত ‘বৃটিশ ও ইবনে সৌদ, পৃষ্ঠা ২৬)। তথ্যসূত্রগুলো: সরওয়াতুস সৌদিয়া, ৩৯ পৃষ্ঠা/ বৃটিশ ও ইবনে সৌদ, পৃষ্ঠা ২০/ নজদ ও হিজাজের ইতিহাস, পৃষ্ঠা ২১০।

কেমন বর্বরতা! :খবরের শিরোনাম, কাতারের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দিলেই ভয়াবহ পরিণতি। কাতারি হজযাত্রীদের মক্কার মসজিদ আল হারামে ঢুকতে দিচ্ছে না, সৌদি কর্তৃপক্ষ কাতারি পত্রিকা আল শারক এর বরাতে এ খবর দিয়েছে বিবিসি ও রয়টার্স (জুন ১২, ২০১৭) । এখানে আমি সাম্প্রতিক খবরের শিরোনাম আনলাম যাতে সৌদির কর্মকান্ড বুঝা যাচ্ছে। এভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস অনেক কষ্টেভরা, চাতুরামী ও অনৈতিকতার দায়ে ভরা। এর পিছনে স্থানীয় ও অস্থানীয় বড় ইবলিসরা প্রচন্ডভাবে কর্মরত। এখন ইরানকে প্রতিপক্ষ ধরে সৌদি নিজেকে নিষ্পাপ নবীর সঠিক উত্তরসুরী বোঝাতে চাইলেও উপরের ঘটনাগুলো কি সংবাদ বিলি করে সেটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে প্রতিটি চিন্তাশীল মুসলিমকে। কুরআনে বারে বারে বলা আছে এখানে চিন্তাশীলদের জন্য খোরাক জমা আছে। সঠিক গবেষণা ব্যতীত কোন দিনও সত্যকে উন্মোচন করা সম্ভব নয়।

সৌদির বড় ভয় রাজতন্ত্র: বিশ্লেষনে দেখা যায় সৌদির বড় ভয় রাজতন্ত্রকে যা ইসলামের সাথে খাপে খাপে যায় না। ইসলামের সাথে সংঘর্ষ ছিল রাজতন্ত্রের প্রতাপের, দন্ডের, অবিচারের, জাহেলিয়াতির, অনাচারের। এসব বিলোপ করতেই ঐ নবীর আগমন হয়েছিল এ পৃথিবীতে। যদিও তারা যুগ যুগ থেকে রাজতন্ত্রটি ধরে আছেন যদিও নবীর যুগে বা সাহাবীদের যুগে এটি অনুপস্থিত ছিল। আরব বসন্তে তাদের নাড়িভুড়িসহ ভিত কমবেশী নড়ে উঠেছে। তাই এবার কাতারিদের কর্তৃত্ব কাটতে অতিরিক্ত তৎপর রাষ্ট্র সৌদি। সবচেয়ে বড় হুমকি তাদের কাছে ইরান, শাহের ইরান হলে তারা সখ্যতা গড়তো, এটি কিন্তু শাহের আমলের ইরান নয়, তাই যত বিতন্ডা। সম্প্রতি জাতিসংঘের ফিলিস্তিনী বিষয়ক বিশেষ কমিটি ইসরাইলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের নিন্দা জানায়। কঠোর দমন পীড়নসহ, বিনাবিচারে আটক, শিশুদের নির্বিচারে আটক, সব ধরণের নিরাপত্তাহীন, অমানবিক আচরণসহ জটিল পরিস্থিতির মুখে ফিলিস্তিনীরা (সূত্র: পার্সটুডে)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর দ্বিমুখী নীতি লক্ষ্য করার মত। প্রমাণ হিসাবে সাবেক মার্কিন রাজনীতিবিদ রন পল টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন ইরানের বিরুদ্ধে বাকস্বাধীনতার লংঘনের অভিযোগ করেন অথচ রাজতান্ত্রিক সৌদি আরবে মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা লংঘনের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেন না। সাংবাদিকরাও এ নিয়ে কেন টিলারসনকে কিছু জিজ্ঞাসা করেন না, সেটিও স্পষ্ট করেন তার বক্তব্যে (সূত্র: পার্সটুডে)। ।

১৯৭৯ সালের শাহের যুগের পরের ইরান সৌদির জন্য বিষবৎ কেন? এখানে দেখা যায় ইরানের সাথের লড়াই শিয়া সুন্নীর লড়াই নয়, বরং রাজতন্ত্র রক্ষার লড়াই। এখানে ইরান শত্রু কারণ সে নির্যাতীতের পক্ষ সমর্থন করছে। ইসলাম সর্বযুগে নির্যাতীতের পক্ষে দুহাত আগলে দাঁড়িয়েছে। এরা সব সময় নির্যাতীতের পক্ষে দাঁড়ায় যেখানে সৌদি হচ্ছে নির্যাতন করার পক্ষে। সঙ্গত কারণে হামাস, হিজবুল্লা, ও ব্রাদারহুডের সংগ্রামে ইরানের সমর্থন থাকলে তাকে বেশী মানবিক মনে হবার কথা। যেখানে সৌদি অমানবিক, ইসরাইল সমর্থক, ইসলামের সাথে চরমভাবে বেমানান।  আল কুরআনে সুরা মায়েদার ৮২ আয়াতে এটি স্পষ্ট করেই বলা যে, নবীকে বলা হচ্ছে “তুমি নিশ্চয় দেখতে পাবে যারা ঈমান এনেছে তাদের মাঝে শত্রুতায় সব চাইতে কঠোর হচ্ছে ইহুদীরা ও যারা শরিক করে। আর নিশ্চয় তুমি আবিষ্কার করবে যে, যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে বন্ধুত্বে সবচাইতে ঘনিষ্ট হচ্ছে ওরা যারা বলে ‘নিঃসন্দেহ আমরা খৃষ্টান’ এটি এ জন্য যে তাদের মাঝে রয়েছে পাদ্রীরা ও সাধু সন্যাসীরা আর যেহেতু তারা অহঙ্কার করে না” (সুরা মায়েদার ৮২ আয়াত)। কোনভাবেই সৌদিকে কুরআনের নির্দেশ পালনের দিকে দেখা যাচ্ছে না। দেখা যায় কুরআনের হিসাবে শত্রুতার শিরোভাগে ইহুদী ও শিরকধারী অংশীবাদীরা শীর্ষে।  সৌদি সরাসরি আল্লাহ বিরোধী আদেশই অনুসরণ করছে।

ইসরাইলের ষড়যন্ত্র: আল আকসা মুসলিমদের প্রথম কিবলা, সে মসজিদে ফিলিস্তিনিদের নামাজ পড়তে দিচ্ছে না ইসরাইল (০১ জুলাই ২০১৭, সূত্র: পার্সটুডে)। ইসরাইল সৃষ্টির পর থেকেই এরা সব আন্তর্জাতিক আইন, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিরোধী কাজ যোগান দিয়ে যাচ্ছে। মুসলিমদের ধর্মীয় অনুসঙ্গ নামাজে প্রতিরোধ করে তারা বোঝাতে চায় যে ফিলিস্তিনের সব অধিকার তারা ধ্বংস করে দিয়েছে, সব এখন ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে। মুসলিমদের সব কিছু নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আজানও বন্ধ করে দিয়েছে। মাত্র বছর দিন আগে জাতিসংঘের শিক্ষা সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো বলেছিল, আল-আকসা মসজিদসহ বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের ইসলামী স্থাপনার সাথে ইহুদীদের কোন ধরণের ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নেই। কিন্তু বাস্তবে বছরের প্রায় ২০০ দিনই মুসলিমদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইল। প্রথমত কিবলার অনেক অংশকে তারা তাদের সম্পত্তি দাবী করছে, উদ্দেশ্য আল-আকসা বিচ্ছিন্ন করা। উন্নয়নের অজুহাতে সুড়ং খোঁড়াসহ ঐ অঞ্চলের মসজিদের অস্তিত্বকে বিপন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য ১৯৯৪ সালে জর্দানের সাথে করা এক চুক্তিতে তারা অঙ্গীকার করেছিল যে কখনোই আল-আকসা মসজিদের সীমানায় তারা প্রবেশ করবে না। কিন্তু ট্রাম্প আসার পর বায়তুল মোকাদ্দাস শহরসহ ফিলিস্তিনী অঞ্চলে ইসরাইলের ষড়যন্ত্র ধারণার চেয়েও বেশী জোরদার হচ্ছে। অনেকের মতে, তাদের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মনে হয় সব অইহুদীদের  ধর্মীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চায়। ১৯ জুলাই ২০১৭ তারিখে মানবজমিনের বরাতে আল জাজিরার খবরে প্রকাশ ফিলিস্তিনী দের শংকা ইসরাইল গোপনে ঐ স্থাপনায় ফের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে। জেরুজালেমের পবিত্র এলাকাটিতেই রয়েছে আল আকসা মসজিদ ও ডোম অব দ্য রক। মক্কা ও মদীনার পর এটি ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান।

ভারত: “ফিলিস্তিন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল ভারত” (০৯ জুলাই, প্রথম আলো)।  ইসরাইলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরে নরেন্দ্র মোদি নেতানিয়াহুকে বহু জনমের দোস্তের মতই বুকে জড়িয়ে ধরা, সাগর পারে খালি পায়ে হাটা, ফেসবুকে কৃতজ্ঞতা জানানো, সবই অসাধারণ। ওদিকে পাশেই রামাল্লাহ, ছিল সম্পূর্ণ অচেনা, বাতিলের খাতায় ঢেকে রাখা, সেখানে যাওয়ার বা কোন ধরণের যোগাযোগের দাগও নেই, যদিও আমৃত্যু একটি বন্ধুত্বের আবরণ এতদিন ছিল। নেহরুর সময়ই ভারত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু বহুদিন থেকেই একটি অদেখা সম্পর্ক ছিল গোপন। দৃশ্যতঃ তৃতীয় বিশে^ ইসরাইলের শুরু থেকেই বন্ধু ঘাটতি প্রকট। রাশিয়া সবদিনই ভারতের বড় হাত ছিল, এবার প্রকাশ্যে ইসরাইলও যোগ হলো। মজার ব্যাপার হচ্ছে এতদিন ভারত ইসরাইলের সম্পর্ক ছিল বেশ লুকোচুরির মাঝে যেন অন্যেরা না দেখে, মানুষ মন্দ বলার সুযোগ ছিল। এবার বেশ ফুরফুরে মেজাজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিন্দনীয় বন্ধুত্বকে স্পষ্ট করেন। এর প্রধান কারণ যেখানে আরবরাই তাকে বন্ধু ভাবছে, সেখানে আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো? সচেতনরা দরাজ ভাবে চিন্তার দরজা খুলে দিন। আরববসন্ত কি শুধু তিউনিসিয়ার জন্য এসেছিল, আর বাকীদের জন্য কিছুই নয়। তিউনিসিয়ার সেই যুবকের মত প্রতিটি জাতিকেই কি গায়ে আগুণ দিয়ে রাজতন্ত্রের ক্ষত দেখাতে হবে? অধিকার আদায় করতে জনতার মূল্যায়ন করতে শাসক শ্রেণীর কপট শোষণকে রুখে দিতে গণতন্ত্রই হচ্ছে যুগের শ্রেষ্ঠ মত ও পথ। ঐ গণতন্ত্র কিন্তু ভারতেরও আছে আমেরিকারও আছে, ভারতে এত গণতন্ত্র থাকার পরও সারা বছর মুসলিমরা মার খায়, তাদের সে সাম্প্রদায়িক খবরও তারা আড়াল করে রাখে মিডিয়াতে প্রকাশ করে না, ছাপে না, সম্প্রতি এটিও প্রকাশ পায়। এ ক্ষেত্রে আমেরিকা অনেক প্রশংসা পাওয়ার দাবীদার। “সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার খবর কেন ছাপে না পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম” (জুলাই ৮, ২০১৭, আমার দেশ) এটি ছিল খবরের শিরোনাম, সম্ভবত পাছে লোক জানাজানি হয়। তাহলে সুবিধা একটাই সারা বছরই সংখ্যালঘু অবাধে  নির্যাতন নিধন করা যায় ১৯৪৭ থেকে ২০১৭। এর মাঝে জুলাইএর ৯ তারিখে “দিল্লীর রাজপথে মহিষ নিয়ে যাওযার পথে গোরক্ষকদের তান্ডব”  ভারতে এসব নতুন কিছু নয়। মুসলিমদের বাড়ীতে আগুন, পিটুনিতে হত্যার ঘটনা, গরুর মাংস খাওয়ার অপরাধে ১৫ বছরের কিশোর জুনায়েদকে চলন্ত ট্রেনেই ছুরিকাঘাত করা, এরকম যুগ যুগ থেকেই আখলাকদের পিটিয়ে মারা হয়,  মরার জন্যই ওদেশে জন্মায়, অপমৃত্যুর শিকার হয়। পরে জানা যায় ঐ মাংস মা-গরুর ছিল না, ছিল খাসি মাসির। তারপরও ভারতে গণতন্ত্রের মর্যাদা কি ভাবে পবিত্র থাকে? এবার মূল দিল্লীতেই গোরক্ষকরা নিজের শক্তির জানান দেয়। ছয় ব্যক্তি ৮০ টি মহিষ নিয়ে কসাই খানাতে বৈধ কাগজপত্রসহই যাচ্ছিলেন। পথে দিল্লীর হরিনাথ ট্রাক থামিয়ে জনতাকে মারধর করে গোরক্ষকরা। হাসপাতালে নিতে পাঁচজনকে ছেড়ে একজনকে আশংকাজনক বলে জানায়। সেদেশে সংখ্যালঘুর কোন ধর্ম থাকতে নেই, অধিকার থাকতে নেই। ভারতের দিল্লীসহ দেশটির বহু জায়গায় গোহত্যা নিষিদ্ধ। গত এপ্রিলে ছত্রিশগড়ের মূখ্যমন্ত্রী রমন সিং ঘোষনা দেন, রাজ্যে কেউ গরু জবাই করলে শাস্তি মৃত্যুদন্ড, ফাঁসি দেয়া হবে। এই জুনে মোদির আহবান ছিল গোহত্যার বিরুদ্ধে মানুষ খুন না করতে। এর কয় ঘন্টার মাঝেই ঝাড়খন্ডে উগ্র হিন্দুর হাতে খুন হন মুসলিম য্বুক। (সূত্র: দ্য হিন্দু, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া)। কি পাশবিক ভারতের গণতন্ত্র ও তার প্রয়োগের বাস্তবতা অন্তত সংখ্যালঘুর জন্য ! স্বাধীনতার ৭০ বছরেও তাদের বোধদয় হলো না !

কর্মতৎপর কাতারই কপটদের কাল: কাতারকে তারা ধন্যবাদ দিতে পারতো, তা না করে তারা তাকে প্রতিরোধে নেমেছে কারণ তাদের কপট সংকীর্ণ স্বার্থ। ‘বিমানে চড়ে কাতার যাচ্ছে চার হাজার গরু’ দেশটিতে যাতে দুধের সংকট না হয় সে জন্য কাতারের এক ব্যবসায়ীর পরিকল্পনা এটি। তবে প্রথমে প্রস্তুত ছিল জাহাজে আনার, পরে গবাদি পশুর বিমান ভ্রমণ বর্তমান রাজনৈতিক জটিলতায় সৃষ্ট, পশুদের জন্য এটি হবে ইতিহাসে বেশ বড় খবর। জাহাজের বদলে অবরোধের কারণেই বিমানের ভাবনা (১৩ জুন ২০১৭)। গত ৫ জুনে অবরোধ অরোপিত হয়। ছিন্ন করা দেশগুলো থেকেই দুধসহ টাটকা খাবার দাবার ও নির্মাণ সামগ্রি আসতো। মুসলিম বিশে^র এই উন্মাদনার কারণ হচ্ছে ইসলামের মূল আদর্শের সাথে বিরোধীরা(?)টিকতে না পেরে মূল থেকেই ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। সেটি যুগ যুগ অবদি চলছে। কিছু আগের ইতিহাস বলছি। ইয়েমেনে হুতি শিয়াদের বিনাশ করতে সৌদি (সুন্নী) বেপরোয়া বোমা ফেলেছে। ইরান ছিল হুতিদের পক্ষে। ওদিকে পাকিস্তান, তুরষ্ক মিলে ১০/১২টি দেশ সৌদির সাথে ছিল। ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরোধ ছিল। ওবামার শেষ সময়ে ইরানের সাথে কিছু সমঝোতা হলেও ট্রাম্প প্রশাসন সব ক্ষেত্রেই লঙ্কাকান্ড বাধাচ্ছে। সৌদি চাইছে কাতারের বিদেশনীতি তার থেকে ভিন্ন হতে পারবে না। কাতারের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার এমন কি তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে অন্য জ্ঞাতি ভাইকে ক্ষমতায় আনার হুমকিও চলছে। সৌদি আরবে কাতারের বার্সার জার্সি পরলেই জেল জরিমানা, (১৩ জুন, ২০১৭)। কাতারের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের যে অভিযোগ তুলেছে তার সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ দিতে পারে নি অবরোধকারী আরব দেশগুলো (সূত্র আল জাজিরা)। কাতার সংকটে বিপদে পড়বে ফিলিস্তিনীরা। গাজায় ২০১২ সালে শেখ হামাদ প্রকল্পের পুরো অর্থের যোগান দেয় ধনী দেশ কাতার। নি¤œ আয়ের প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিন পরিবার সেখানে স্থানান্তর হয়ে আবাস পেয়েছে। সেখানের এক অধিবাসী বলেন অর্থ সমর্থন অবকাঠামো ভবন নির্মাণ সবকিছুই বন্ধ হয়ে যাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজাতে নতুন বাড়ী, হাসপাতাল ও সড়ক নির্মাণে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে কাতার। দেশটি আরো প্রায় ১০০ কোটি ডলার দেয়ার অঙ্গিকার করেছে। সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলে সৌদি ও তার মিত্ররা কাতারকে একঘরে করার চেষ্টা করছে, যদিও কাতার এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে। সরকারি হিসাবে গাজাতে ৪০ শতাংশ মানুষের কোন কাজ নেই। বেকারত্বের ক্ষেত্রে যা বিশে^ একটি বড় রেকর্ড। দুঃখজনক হলেও সত্য সৌদি আরব কাতারকে একঘরে করার চেষ্টা করছে, এর এক বড় কারণ হামাসকে সহায়তা করা বন্ধ করতে হবে। এই হামাস সংগঠনটিই গাজা শাসন বা পরিচালনা করছে। প্রায় এক দশক আগে ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে হটিয়ে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হামাস। এর এক বছর পরে নির্বাচনে জয়লাভ করে হামাস। কাতারের সাবেক আমীরই একমাত্র নেতা যিনি নিপিড়িত গাজা সফর করেছেন। সেখানে যেসব ঘরবাড়ি সড়ক হচ্ছে তা হামাসের জন্য হচ্ছে না, বরং হচ্ছে ফিলিস্তিনী নিপিড়িত নির্যাতীত জনগণের জন্যে। সেখানে সীমান্তের দুধারে মিশর ও ইসরাইল কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। একই দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিম ব্রাদারহুডকে তারা সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করছে, যা বাস্তবিকই সৌদির আসল বিতর্কীত স্বরুপ, প্রকৃতি বিশে^র ময়দানে স্পষ্ট করছে। কাতারের প্রতি সংহতি জানিয়ে ফিলিস্তিনী শিশুরা স্লোগান দিচ্ছে “আমরাই কাতার”। আরব বসন্তকে সমর্থণ করায় কাতারকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে এমন মন্তব্য করেছেন হামাসের পার্লামেন্টারিয়ান ইয়াহইয়া মুসা। ট্রাম্পএর সৌদি ভ্রমণের সাথে গোটা বিষয় যুক্ত, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও তারা মনে করছেন। শেখ হামাদ সিটিতে যখন মিস্টার মুসা এ বক্তব্য দেন তখন ফিলিস্তিনী শিশুরা কাতার ও ফিলিস্তিনের পতাকা নাড়াচ্ছিল (বিবিসি বাংলা)। ইসরাইল ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের একটি পরিকল্পনায় সায় দিয়েছে যার ফলে গাজাতে বিশ লক্ষ মানুষ ৪৫ মিনিট কম বিদ্যুৎ পাবে। তারা গড়ে মাত্র চার ঘন্টার মত বিদ্যুৎ পায়। হামাসের অভিযোগ এসব তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে মিলে এসব করছে। ওদিকে ট্রাম্প ইসলামিক স্টেট, আল কায়দা ও হেজবুল্লার সাথে হামাসকেও দায়ী করতে উৎসাহী।

সৌদির ধ্যান রাজতন্ত্র: সৌদি কার ধ্যান করছে? গণতন্ত্রের তো নয়ই, তাহলে কি বাদশাহীর, না রাজতন্ত্রের? আল-জাজিরা একটি স্বাধীন স্যাটেলাইট গণমাধ্যম, কাতার অর্থ সাহায্য দেয় এটি সৌদির পছন্দ নয়, ইরান কাতার সম্পর্ক ভালো হলেও সৌদির আপত্তি, যার জন্য আজ কাতার অপরাধী। বিশে^র দৃষ্টিতে খারাপ ট্রাম্পও যে কোন কারণেই হোক ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের সাথে অল্প সময় নিয়ে হলেও দেখা করেন কিন্তু মোদির সব কিছু সিলড। বিগত বেশ বড় সময় থেকেই ভারতের সাথে ইসরাইল শিক্ষা ক্ষেত্রেও শক্ত গাটছড়া বাঁধছে। গ্যাঞ্জামের গুড় হয়তো লাগিয়েছেন ট্রাম্পই কিন্তু বাকীরা সুর সুর করে ধরা পড়েছে প্রকাশ্য ট্রাপে, যার যার প্রকৃত স্বরুপ নিয়ে। হয়তো এতে অনেক গোপন হয়েছে খোলাসা, দিবালোকের মত ফকফকা। সৌদিসহ জোটের দেয়া ১৩ শর্তে রাজি হয় নাই, তার মানে কাতার সন্ত্রাসী এটি জোটের কথা। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল থানি দোহায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, সৌদি জোটের দাবীগুলি হচ্ছে অবাস্তব যা মানা অসম্ভব। তার ভাষায় এটি আসলে সন্ত্রাসবাদের বিষয় নয়, এটা বাকস্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করা। আলোচনার মাধ্যমে কাতার এর সমাধান চায়. শুরু থেকেই তারা প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে , মধ্যস্থতাকারী দেশ কুয়েতকেও তা জানিয়েছে (ইন্টারনেট সূত্র)। বিশ্লেষনে দেখা যায় গনতন্ত্র কি সুবিধাবাদীদের একটি ধারালো অস্ত্র? যারা গণতন্ত্র ধারণ করছে তারাই প্রকারান্তরে বলছে ওটিকে শক্তভাবে ঠেকাও, কারণটি কি? তাদের কপট স্বার্থ! সহজ জবাব হচ্ছে এরা নীতিরও নয়, মানবতারও নয়! আরবরা দেশের তেলের টাকায় কেনা শক্তির জোরে তাদের বাদশাহী টিকিয়ে রেখেছে। ইসলাম কখনোই এসব সায় দেয় না। শনিবার জার্মানির হ্যামবার্গে জি-২০ সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে আবারও সোচ্চার হন তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান (রোববার ৯ এপ্রিল ২০১৭)। সৌদি জোটের ১৩ শর্তের মাঝে এক শর্ত হচ্ছে তুরষ্কের একটি সামরিক ঘাটি বন্ধের দাবীও এসেছে। সঙ্গত কারণেই তুরষ্কও তার ক্ষোভ প্রকাশ করে। জি-২০ সম্মেলনে এরদোয়ান সেটি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সব পক্ষকে শান্তির জন্য সমঝোতায় পৌছার জন্য আবারো আলোচনার আহবান জানান (সূত্র: আল-জাজিরা)।

Mehdi Hasan’s Awesome Reply in a Debate

বাংলাদেশ: বাংলাদেশেও কাগজে গণতন্ত্র আছে কিন্তু মাঠে নেই।

যুগে যুগে অসৎ শাসকরা শয়তানের বাহক শক্তি হয়ে ইন্ধন দিয়ে গেছে, রাজতন্ত্রে ভর করেই অপকর্মের মহড়া চালানোর উদাহরণ সর্বত্র। যার জন্য ইমাম আবু হানিফার মত সাধুরা ইসলামের বিজয় যুগের কাছাকাছি সময়ও অনেক নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস এ্যাসোসিয়েশেন প্রমাণ্য দলিলসহ বিশ্লষণধর্মী ব্যাখ্যাসহ বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। সরকারী সমর্থনে পুলিশ নিজেই অপরাধ করছে আর তাদের কৃত অপরাধ অস্বীকার করে চলেছে সরকার। পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস সরকারের এ দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করেন এবং মানবাধিকার মানুষের জীবন ও আইনের অশ্রদ্ধার যে আচরণ সরকার করছে তার অবসান চান। পুলিশ নিজের অপরাধকে বৈধতা দিতে বন্দুকযুদ্ধের নাটক করে, সরকার তাতে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। এসব আজ আর লুকানো নেই, খোলা দলিলের বানী। নিরপরাধের শাস্তি হয় অপরাধীরা মৃদঙ্গে তালিয়া বাজায়। এ হচ্ছে ২০১৭ তে ব্যর্থতায় ভরা কাগুজে গণতন্ত্রের বিকৃত প্রতিষ্ঠা। নীতি নৈতিকতার মানদন্ডে ইসলাম আগা গোড়া মোড়া। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সৌদি, ভারত, ইসরায়েল, আমেরিকা সিরিয়েলি কেন এক কাতারে দাঁড়িয়ে গেল, এক হয়ে গেল? তাহলে, এরাই কি ইসলামের প্রকৃত বিরোধী শক্তি হয়ে দাড়াচ্ছে? বিশ্লেষনে পাওয়া যুক্তি হিসাবে এ বলাটা অপরাধের হবে বলে মনে হয় না। প্রশ্নটি প্রতিটি সচেতনকে চিন্তাশীলকে বার বার পরখ করে দেখতে হবে। কুরআন কিন্তু তার অভিমত আগেই দিয়ে রেখেছে ,

“তুমি নিশ্চয় দেখতে পাবে যে যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে শত্রুতায় সব চাইতে কঠোর লোক হচ্ছে ইহুদীরা ও যারা শরীক করে।

আর নিশ্চয় তুমি আবিষ্কার করবে ঘনিষ্ট হচ্ছে তারা যারা বলে আমরা খৃষ্ঠান” সুরা মায়েদার ৮২ আয়াত দ্রষ্টব্য)।”

নাজমা মোস্তফা, ১০ জুলাই ২০১৭ সাল।

Tag Cloud

%d bloggers like this: