Articles published in this site are copyright protected.

আওয়ামী পাখা: সাবেক যুগ্মসচিব থেকে অবসর নেয়া নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে পাঁচ সদস্যের নতুন ইসি নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো আব্দুল হামিদ। বাংলাদেশের বর্তমান ইসি প্রেক্ষাপটে ধর্মের কথা কিছু এসেই যাচ্ছে। যদিও অজয় রায়রা এ নীতিধর্মটি সইতে পারেন কম, তারা চান ময়দান থেকে ওকে সার্বিক ভাবে মুছে দিতে। ইসলাম ধর্মের নির্দেশ হচ্ছে যদি কেউ একজন বিশ^াসিনী নারীকে নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দেয় তার জন্য ৮০ বেত্রাঘাত ও শাস্তি হিসাবে তার কোন সাক্ষ্যই গ্রহণযোগ্য নয় (সুরা নূর ২৩ আয়াত)। বিচার দিনে তাদের জিহবা, তাদের হাত তাদের পা তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যা তারা বলছিল (২৪ আয়াত)। সে হিসাবে এরকম ক্ষেত্রে একজন মানুষ যদি গোটা জাতির সাথে মিথ্যাচার করে তবে তার শাস্তি কতগুণ হতে পারে? অন্তত এরকম অবস্থানে একজনের সিইসি পদের তো প্রশ্নই উঠে না। যার সাক্ষ্যই গ্রহণযোগ্য নয়, তাকে কেন একটি মর্যাদার পদ দিতে হবে আবার সেই প্রকৃতির একজনের অহঙ্কারী কথাও সংবাদে এসেছে যে, সর্বোচ্চ পদ না পেলে তিনি গ্রহণ করবেন না। এ হিসাবে তাকে সবনিচের পদও দেবার কথা নয়। প্রধানমন্ত্রীও কথায় কথায় মিথ্যাচার করেন তা সারা জাতি জানে। এ হিসাবে তারও কোন যোগ্যতা নেই ওরকম একটি পদ ধরে রাখার। এ দৃষ্টিতে তিনিও অকুরআনীয় আচরণ ধন্য একজন মানুষ। সম্প্রতি খালোদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী ও এ্যাসাইনমেন্ট অফিসার শাসসুল ইসলাম মিথ্যাচারের গভীর সত্য কথাটি তার ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। ৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় তৎকালীন সচিব মহিউদ্দিন খান আলমগীরের ডাকে জনতার মঞ্চ ছিল একটি দেশ বিধ্বংসী অনাচারের জটিল মঞ্চ, এটি সারা জাতি জানে। ঐ সময় সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা চাকরির শৃংখলা ভঙ্গ করে ঐ অনাচার করে। নুরুল হুদা ঐ অনাচারে ছিলেন না, সাফাই গাইছেন। এবার তথ্য প্রমাণসহ তার বিপক্ষে সঠিক সত্য প্রকাশিত তথ্য আসছে (টুডে ডেস্ক)। সংক্ষেপে আনছি, সে সময় গুরুতর শৃংখলাভঙ্গের অপরাধে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়, এদের সাক্ষাৎ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় ২০৮ জনের তালিকা থেকে ৮৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। তারপরও এদের অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় নি। তারা তৎকালীন উর্ধতন কর্মকর্তাদের ধরে প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। ফলে অনেকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ওরাই আওয়ামী লীগের মূল দোসর বা অবলম্বন হয়ে উঠে, শীর্ষ পদে বসে, এরাই চালাচ্ছে বর্তমান সরকার। আবার যারা অবসরে গেছেন তাদের কামেলিয়াতী এতই গভীর ছিল যে এরাই পরবর্তীতে মন্ত্রী এমপির পদ পায়। এরা প্রত্যেকেই জাতি ধ্বংসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এরা শীর্ষে থাকলে যে কোন প্রসফুটিত জাতির ধ্বংস সহজ হয়।

বিএনপির উদারতার শাস্তি: সরকারের শীর্ষ পদে ডাকাত ঢুকে গেলে জাতির যা হয় তাই হচ্ছে এবং সামলাতে না পারলে আরো হবে।  ৯৬ সালে জনতার মঞ্চের সময় নুরুল হুদা কুমিল্লার ডিসি ছিলেন। সেখান থেকে তিনি মঞ্চের সাথে একাত্মতার বিবৃতি দেন। কুমিল্লা কালেকটরেট তখন প্রধানমন্ত্রী খালদা জিয়ার ছবি নামিয়ে ফেলেন।  এসব প্রকাশ হয় দৈনিক ভোরের কাগজসহ অন্যান্য জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় (৩০ মার্চ ৯৬সাল)। এ ছাড়া ৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনের ঠিক আগে হাইকোর্টে রিট করা হয় তার বিরুদ্ধে, ১৬৩৫ নম্বর রিটে তার ঐ অপকর্মে সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ আছে। তিনি এখানে ২০১৭ সালে যে অসততার পরিচয় প্রকাশ করলেন তাতে তার ধূর্ততার স্পষ্ট প্রমাণ এখনো বর্তমান। উল্লেখ্য, ৭৩ সালের তোফায়েল ক্যাডারের অফিসার (আইএমএস) হওয়া সত্ত্বেও খালেদা সরকার নুরুল হুদাকে ফরিদপুর ও কুমিল্লা জেলাতে সাড়ে চার বছর জেলা প্রশাসক রাখেন। তখন রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্ব দেয়া হতো না। তবে ৯১-৯৬ সালেও বিভিন্ন আওয়ামী পন্থীকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে বসানো হয়েছিল। যার খেসারতে এরাই পরবর্তীতে জনতার মঞ্চ করার দুঃসাহস দেখায়। ১৯৮০ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান বিজেএমসির এসিস্টেন্ট ম্যানেজার থেকে কে এম নুরুল হুদাকে বঙ্গভবনের সেকশন অফিসার হিসাবে নিয়োগ দিলে তিনি আড়াই বছর কর্মরত ছিলেন। তারপরও তিনি আগাগোড়াই একজন প্রাক্তন ছাত্রলীগ ও ভারতের প্রশিক্ষিত মুজিব বাহিনীর সদস্য, জনতার মঞ্চ নায়ক, জটিল দেশ বিধ্বংসী অংকের সদস্য।

আওয়ামী অপকর্মের নজির: শৃংখলা ভঙ্গের অপরাধে আসামীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় ২০০১ সালের ৯ ডিসেম্বর। পরে তিনি প্রশাসনিক ট্রাইবুনালে যান তবে জাতি জানে না তার কোন রায়ের খবর। অথচ বলা হচ্ছে হাইকোর্টের রায়ে তিনি চাকরি ফেরত পান, পিছনের তারিখে হাইকোর্ট নাকি তাকে পদোন্নতিও দিয়েছে, যা আদৌ সত্য নয়। হাতেম আলী খানের রেফারেন্স দেখিয়ে চাকরি ফেরতের বৈধতার কথাও হচ্ছে। বাস্তব হচ্ছে ২০০৯ এ ক্ষমতায় এসে অন্যান্যদের সাথে নুরুল হুদার চাকরি ফেরত দেন শেখ হাসিনা, উপঢৌকন হিসাবে সাথে দুটি পদোন্নতিও দেয়া হয়, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব হিসাবে। নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ইউনুসের পায়ে বেড়ি দেয়া হয় বয়সের প্যাঁচে, কিন্তু এর কয় বছর আগে ২০০৫ সালেই হুদার অবসরের বর্ষপূর্তি তারিখ পার হয়ে গেলে বেড়ি প্রযোজ্য নয়। এসব হচ্ছে তার অতিরিক্ত সচিব ও সচিব হওয়ার গোমর ফাঁক নাটক। তার যোগ্যতা যুগ্মসচিব পর্যন্তই। এমনও ঘটেছে ঐ সময় যিনি কবরে চলে গেছেন এমন ব্যক্তিকেও মেজর জেনারেল প্রমোশন দিয়ে হাসিনা সরকার বিশে^ অনন্য রেকর্ড রেখেছেন। দেখা যায় অবসরের প্রায় দেড়যুগের কাছাকছি সময়ে শেখ হাসিনার দয়াতে একটি দাওমারা পদ পেয়েছেন, যা নিয়ে মিথ্যাচারের ডুগডুগি বাজিয়েছেন।

ভেবেছিলাম একটি লিংক দেব সেটি এর মাঝেই মুছে দেয়া হয়েছে।

বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল..প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য ফাঁস করলেন আসিফ নজরুল ও মেজর আখতার

 

আমার লেখার শিরোনামটি একটি চিরাচরিত সত্য বানী। পিপিলিকার যখন মরার সময় হয় তখন তার পাখা দৈব থেকে গজায়। সরকারের সব ছক আসছে উচ্চ পর্যায় থেকে। যেখানে তথাগত রায়রা সুরঞ্জিতকে দিয়ে ভোটের বানিজ্য শক্ত ভুমিকা রাখতে দাগ রেখে যায়। সেখানে খালেদাকে মামলায় বেধে দেয়া আর এক নাটকের জটিল অংশ মাত্র। এরা আল্লাহর বা ধর্মের তোয়াক্কা করে না। এরা শুধু সামনের ক্ষমতার ময়দান দেখে। সুরঞ্জিত যে এত লুটপাট করলেন যাবার সময় কি কিছু নিতে পেরেছেন? নুরুল হুদাসহ প্রতিটি সুরঞ্জিতকেই শূণ্য হাতেই বিদায় নিতে হবে, তারপরও মানুষ বিধাতার অংক বুঝে খুব কম। জনতার কলিজাতে কামড় দিয়ে তার জনপ্রিয় নেত্রীকে কারাগারে দিয়ে নির্বাচন সারতে চায় বর্তমান সরকার। নিজের বহু গুণ অপর্মের সব ফিরিস্তি করে নিজের সব জটিল মামলা সরিয়ে নিয়ে যে নাটক তিনি করছেন, তা মূল আদালতে জমা থাকবেই।  পৃথিবীর কোন শক্তি নেই সঠিক অপকর্ম থেকে পার পেয়ে যাবার। জিয়া পরিবারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তিনি সীমাহীন নাটক করছেন। ঘোষক মানেন না, জিয়ার মুক্তিযুদ্ধ স্বীকার করেন না, পদক কেড়ে নিয়েছেন, খালেদাকে তার বাসা থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছেন আরো কত কি? তিনি আরো বহু বেশী করতে চান,  পা সোজা করে দাঁবাবার শক্তি না থাকাতে র‌্যবের পুলিশের ভরসায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সরকার চুরির সাগরচুরির ও মহাসাগরচুরির রেকর্ডে। এটি তার জানা এ আপোষহীন নেত্রীর জনপ্রিয়তা আকশচুম্বী। ওটি রোধতে তাকে কারাগারে ঢুকানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই। খালেদা জিয়া হচ্ছেন এখনকার সময়ের মাহমুদুর রহমান। ইনুর বেফাঁস মুখে এটি বার বার জাতি জেনেছে যে,খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা হবে এবং জেলে পুরা হবে। যার কারণে মিথ্যা মামলা আর প্রতি সপ্তাহে হাজিরা নাটক। কারণ মামলাকে দ্রুত হাটতে হবে নইলে খেল জমবে না। আদালতও সরকারের নির্দেশে চলে। বারে বারেই প্রমাণ আদালতের আচরণও সরকারী গোলামীতে হাটে। খবরে প্রকাশ, কম করে হলেও ২০৪১ পর্যন্ত হাসিনাকে আরো দুই মেয়াদে ক্ষমতায় রাখতে হবে (১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭)। এ মন্ত্রী তার বেয়াই খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ আবদার রাখেন। যার খেসারতে জাতিকে এসব নাকানী চুবানী খাওয়ানো হচ্ছে। দেশবাসী কি বুঝতে পারছে না তারা কোথায় যাচ্ছে? কার গোলাম হচ্ছে? দেশ যে কোন পথে হাটছে এটি জাতিকে আগা গোড়াই বুঝতে হবে। এদের দেশপ্রেম কোন শিকেয় ঝুলছে এটি নিশ্চয় জাতি আঁচ করতে পারবে, বিবেককে প্রশ্ন করুন এবং তড়িৎ উত্তরটি সংগ্রহ করুন। জাতি ভীষণ বড় সংকট সময় পার করছে। তবে জনতারা ঘুমিয়ে থাকলে চলবে কেন? দোয়া করি আল্লাহই জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক।

Andolon News | 29 Jan 2017 | এই তাহারা আসলে কাহারা ।

নাজমা মোস্তফা, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭।

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: