Articles published in this site are copyright protected.

ফরহাদ মাজহারকে নিয়ে সম্প্রতি নাটক মাত্র শেষ হলো। সরকার পক্ষে এইচ টি ইমাম বলছেন, সরকার ফরহাদ মাজহারকে ভয় পায় না, তিনি এত বড় কেউকেটা নন। এটিও স্পষ্ট হলো যে কেউকেটাকে সরকার ঠিকই ভয় পায়। সরকারের দলবল ছাড়া ঐ সমাজে কে যে কেউকেটা সে বিচার করুক দেশবাসী। এ ব্যাপারে হোম ওয়ার্ক জরুরী, বাংলাদেশে যারা বসবাস করছে তারা পেট নীতিতেই সময় পার করছে বেশী। সরকার গোল্লায় যাক বা স্বর্গে যাক সে খোঁজে নেই তারা। তবে মনের সঙ্গোপনে সবারই কষ্টকাঁটা বিধে আছে। মানুষ দম আটকে হাল ছেড়েছে। সরকার প্রতিটি নাটক করছে সামনে পেছনে নিজের ক্রমাগত বৈধতার সংকট কাটাতে। মানুষের জীবনের শংকা এ সরকারের নেই। তাদের কাছে বাকী মানব জীবনের মূল্য অতি অল্প। শুধু ফরহাদ মাজহার নন, তাদের কাছে কেউই কিছু নন। মিডিয়াতে এত উল্টাসিধা খবর এসেছে যে সেখানে আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে ইচ্ছাকৃত গৃহত্যাগ দেখাতে। যেন এ বয়সে এসে ফরহাদ মজহার গৌতম বুদ্ধের মতই সংসার ত্যাগ করে নিখোঁজ হয়ে গেলেন। কর্তৃপক্ষ টোপটা গিলেছিল ঠিকই কিন্তু হজম করতে পারে নাই, উগলে বের করে দিয়েছে।

দুটি ফোনের মাঝে একটিতে ফোন আসে। তিনি বের হয়ে যান। কেউ একজন হেটে যেতে দেখেছেন। আসল খবর হচ্ছে কোন ফোন আসে নাই এসব অদেখা ভুত সাজিয়েছে, এরা তারাই যারা নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে। র‌্যাবকে একজন ফোন করে জানায় এবং র‌্যাব তাকে ফলো করে যশোহরের অভয় নগর থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় লাভজনক কে, প্রশ্ন করেন মুন্নী সাহা “প্লেয়ার বনাম প্লেয়ার” নামের টকশোতে। ঢাকার আদাবর থেকে তাকে অপহরণ করে, খুলনার পুলিশ বলেছে তিনি গৃহত্যাগের নাটক করেছেন। মুন্নি সাহার মনে হতে পারে এতে ফরহাদ মজহারই বেশী লাভবান হলেন! তিনি কেউকেটা নন, এবার কেউকেটা হলেন। কিছুরা অপহরণটি মানতে নারাজ। যার জন্যই মনে হচ্ছে চাঁদাবাজি, মুক্তিপন নাটকের সাথে জুড়ে দেয়া হয়। অপহরণের সাথে আবার ডানপন্থী বামপন্থীর প্রশ্ন কেন? সবাই অনুমান করতে ওস্তাদ! অতীতে ইলিয়াস আলীকে, সালাহউদ্দিনকে গিলতে পেরেছে পানি ছাড়াই। ধরা খেয়ে গেলে চোরের সবটাই লস, লাভ হয় না, তখন লাভ হয় বাড়ীওয়ালার। এখানে মুন্নী সাহা এ প্রশ্নটিই রাখে যে কে লাভবান হচ্ছেন। ইলিয়াস আলীকে গুম করে কে লাভবান হয়েছেন, সাগররুণিকে হত্যা করে কারা লাভ গোলাতে উঠিয়েছেন সে উত্তর মুন্নি সাহার ভালোই জানা আছে। তারপরও ঐ প্রশ্নটিই তাকে প্রতিটি সদস্যকেই করতে দেখা যায়।  সাগর রুণির হত্যার পর পরই একটি গুজব মিডিয়াতে ছড়ানো হয় যে তাদের মাঝে প্রেমের জটিলতা ছিল, বোঝাপড়ার সমস্যা ছিল। এসবে আগুয়ান আসামী পক্ষ, যারা চায় প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন রাস্তা করে দিতে, ধামাচাপা দিতে। আসামী পক্ষকে বাঁচাতে এসব উপস্থাপিকার কৌশল সবার চোখেই পড়ার মত বিষয়। তারপরও দেশবাসী কি করবে, চোখ থাকতেও অন্ধের ভনিতা করে পড়ে আছে। গাড়ীর মধ্যে তাকে লাত্থি মারে কিডন্যাপাররা। ভোর রাত তিনটাতে সচরাচরের মত কম্প্যুটারে বসলে চোখের সমস্যাতে ঝাপসা দেখাতে চোখের ড্রপ ফুরিয়ে যায়। যার জন্য সেই ভোরে তিনি বাসার সামনের দোকানে ঔষধ কিনতে নেমেছিলেন যে ফার্মেসী ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। তার মানে তিনি তখনও গৃহত্যাগ করার মত পাগল হয়ে যান নাই, বাড়ী থেকে গোসসা করে দেশান্তরী হন নাই বলেই মনে হচ্ছে। আর ঐ ফাঁকে চতুর পুলিশ তড়িঘড়ি একটি রেডিকরা ব্যাগ ধরিয়ে দিল, মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়লো। তিন ব্যক্তি টেনে হিচড়ে তাকে মাইক্রোবাসে ওঠায়, সিটে বসতেও দেয়নি। ঐ অবস্থায় স্ত্রীকে জানালে তারা ফোনটি কেড়ে নেয়। ফেরার পথে তাকে মাইক্রোতে তোলা হয়নি, একটি রিকশাতে তুলে তারা অনুসরণ করতে থাকে এবং একটি লোকজনহীন বাসের পেছনের সিটে বসিয়ে দেয়। এর ফাঁকে একটি বেগ ধরিয়ে দেয় সেখানে  পুলিশের সিজার লিস্টে উল্লেখ করা হয়েছে ঝোলা টাইপের বেগে প্রিন্টের লুঙ্গি, প্রিন্টের পাঞ্জাবি ও কিছু নতুন টাকাও বেগে ছিল। তারা কেন তাকে সীমান্তের দিকে নিতে চাইছিল? মাইক্রোবাসটি কোথায়? (সূত্র: আওয়াজবিডি নিউইয়র্ক, ৫ জুলাই, ২০১৭)। এটি কোন তেলাপোকা নয় যে সুরুৎ করে লুকিয়ে গেছে। সারা দেশ জানে সেটি কোথায় লুকালো। ‘তোমরা কি চাও’ বলাতে প্রথমে ৫০ লাখ বললেও পরে ৩৫ লাখ চায় তার স্ত্রীর ফোনেই (সূত্র: purboposhchimbd) ) । স্ত্রী ফরিদা আক্তার আদাবর থানায় জিডি নং-১০১, ও পরে একটি অপহরণ মামলা নং-০৪ দায়ের করেন। সোমবার রাত ১১টার দিকে যশোহরের নওয়াপাড়া বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় যশোর থেকে প্রথমে ঢাকার আদাবর থানাতে তারপর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয় (সূত্র: যুগান্তর)। ফেসবুকে একটি ছবিতে দেখি তাকে ঘিরে দুই তিনজনই বসে আছেন মাত্র, সারা বাস খালি। কৃতকর্মীরা ঐ বাসের সাথেই লেপ্টে আছে। কিন্তু পুলিশ ও সরকার এতই তৎপর যে সমানেই বলা হয় তদন্তের আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না। সরকারের করিৎকর্মা এইচটি ইমাম বলছেন, ঐ ব্যক্তি এমন ইমপরটেন্ট না যে সরকার ভয় পাবে? এ সরকারের কাছে সবাই ধোয়া তুলসি পাতা, তাতো জাতি জানে ও দেখছেই। জনতার সন্দেহ ভারতীয় গুম বাহিনী এতে সরাসরি জড়িত। আর সাথে আছে দেশীয় মদনগুলো, নাহলে এসব গল্প কেন নব নব ঢংএ সাজে। এক সংবাদ সম্মেলেন ডিআইজি দাবি করেন, অপহরণ নয়, ফরহাদ মজহার স্বেচ্ছায় ভ্রমণের বেগসহ আলাদা কাপড় নিয়ে বের হয়েছেন। সম্মেলনে তিনি নীরব ছিলেন। অতীতের সবগুলো গুমেই দেখা যায় ভুক্তভোগীরা নীরব হয়ে যায়। হয়তো কড়া কোন ড্রাগে তাদের আক্রান্ত করা হয়। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবন পরিষদ যুক্তরাজ্য জুলাই ৩, ২০১৭ তারিখে সন্ধ্যে সাতটা তিরিশ মিনিটে এ অপহরণের প্রতিবাদে লন্ডন আলতাফ আলি পার্কে একটি সমাবেশের আয়োজন করে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য খবর হচ্ছে লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন এটি বিএনপির কান্ড কিনা সেটি সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে (আমার দেশ, ০৬ জুলাই ২০১৭)।

এইচআর ডব্লিউএর রিপোর্ট “বাংলাদেশে গোপনে আটক করে রাখা হয়েছে অনেককে” (মানবজমিন, ৭ জুলাই ২০১৭)। এরা গুম খুন ছাড়াও গোপন আটকসম্বন্ধে বলেছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ৫ জুলাই নিউইয়র্ক থেকে ৯১ পৃষ্ঠার প্রকাশিত রিপোর্টের শিরোনাম “উই ডোন্ট হেভ হিম: সিক্রেট ডিটেনশন্স অ্যান্ড এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সেস ইন বাংলাদেশ” এতে বলা হয়েছে ২০১৩ থেকে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীসহ কয়েকশ’ মানুষকে আটকে রেখেছে বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।  ২০১৬ সালেই ৯০ জন গুম হয়েছেন। ২১টির প্রমাণ্য উপস্থাপনা করেছে, যেখানে বন্দীদেরে পরে হত্যা করা হয়। ২০১৬ তে বিরোধীদলীয় প্রথম সারির রাজনীতিকদের তিন ছেলেকে তুলে নিয়ে ৬মাস পর একজন ফিরে আসলেও বাকী দুইজন আজও নিখোঁজ। এদেরে সাথে কৃত আচরণ নির্যাতন ও অশোভন অভিযোগ আছেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, ২০০৯ সালে মানবাধিকার লংঘনের ক্ষেত্রে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও গুমের বিষয়ে শূন্য সহনশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে ২০০৯ থেকে কমপক্ষে ৩২০টি গুমের ঘটনা ঘটেছে। এর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, গুমের প্রামাণ্য প্রতিবেদনসহ রিপোর্ট হয়েছে। কিন্তু সরকার মানবাধিকার, মানুষের জীবন ও আইনের শাসনের প্রতি অবজ্ঞামূলক ভাব দেখাচ্ছে ও আইনের তোয়াক্কা না করেই এ চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ১৯ নেতাকর্মীর গুমের প্রামাণ্য প্রতিবেদন দেয়া হয়, যাদেরে ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এসবের কোন জবাব নেই সরকারের কাছে। বেশীর ভাগ ঘটাচ্ছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র‌্যাব, পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ ডিবি, বা নিরাপত্তা বাহিনীর অজ্ঞাত সদস্যরা। এসব অভিযোগ তদন্তসহ, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংস্কার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের অফিসের সাহায্য নিতেও বলা হচ্ছে। সরকার তো করবে না, তবে দেশবাসীকে সঠিক সময়ে সঠিক হুমওয়ার্কটি করতে হবে। বর্তমান সরকারের প্রতিটি সদস্যই সরকারের মতই একখোরে মাথা মোড়ানোর দল। এত বাস্তবতার পরও এইচটি ইমাম ও হাসান মাহমুদরা কি করছেন ওটিই বাস্তবতা!

ভুলো মনা বাংলাদেশীদের স্মৃতিশক্তিকে আরো ধারালো রাখতে হবে। ভুললে চলবে কেন? মনে আছে নিশ্চয় খালেদা জিয়ার বোতল (মদ) আর এবার পাওয়া গেল পুলিশের বরাতে ফরহাদ মজহারের ঝুলানো ব্যাগ। আমি দুটি ছবি দেখেছি একটিতে বিশাল বাসে শুধু সাদা পোশাকে ফরহাদ মজহার বসে আছেন আর তাকে ঘিরে আছে ২/৩জনা, ঈদের ভয়ঙ্কর ভিড়ে সারা বাস খালি! আর ঝোলানো বেগ বললে সেটিও ছিল না ঝোলানো বেগ যা তিনি সচরাচর পড়ার জন্য ব্যবহার করতেন, হয়তো দু একটা বই নিতেন। এ বেগ ছিল অন্য রকমের বাচ্চাদের স্কুল ব্যাগের মতন। বেগ ও মদ বিষয়ে একজন সাংবাদিকের পাওয়াটুকু পাঠকদের সাথে শেয়ার করছি। প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই তিনবারের সম্মানিত বিরোধী নেত্রীকে চুটকি কাটেন তিনি তো বোতল খান। তিনি জানেন তার অঘটন ঘটন পটিয়সী চেলারা (নীচে সাংবাদিকের লেখাতেই ক্রিড়ারত) এটি প্রতিষ্ঠিত করবে তাকে শুধু ‘বোতল’ সূত্রটুকু উল্লেখ করলেই চলবে। আজ মজহার নাটকে সেটি বেশ খোলাসা হলো। তাই জাতির চোখ খুলে দিতে সেটিও জরুরী হুমওয়ার্কের অংশ হয়েই রইলো।

বলছি সংক্ষেপে “খালেদা জিয়ার বাসায় মদ! আর ফরহাদ মজহারের ব্যাগ!!!” এম মাহাবুবুর রহমান। জাস্ট নিউজ: ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বাসভবন থেকে টেনে হিচড়ে বের করা হয়েছিল। একজন সংবাদকর্মী হিসাবে আমি পুরো ঘটনা ফলো করেছিলাম। প্রতিবাদে পরদিন হরতাল ডাকে বিএনপি। আওয়ামী আজ্ঞাবহ ভিসি আরেফিন সিদ্দিক হরতালের মাঝেই পরীক্ষা নেন। ঐদিন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ঐ সাংবাদিকেরও এমফিল পরীক্ষা থাকায় তিনি অংশ নেন। ওটি ছিল তার চোখে দেখা প্রথম হরতাল ধর্মঘটে প্রথম পরীক্ষা। এর মাধ্যমে ছাত্রদলও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে শতভাগ নিয়নন্ত্রণ হারায়। পরীক্ষা শেষ করেই তিনি ছুটে যান ক্যান্টনমেন্টে বেগম খালেদা জিয়ার উচ্ছেদকৃত বাড়ীতে। জাহাঙ্গীরগেইট থেকেই এক সেনাকর্মকর্তা জানালেন আমার দেশ, এনটিভি, নয়াদিগন্ত, দিনকালের সাংবাদিকরা সকলে একপাশে দাঁড়ান, অন্যরা পৃথক সারিতে। ইত্যবসরে ঐ সাংবাদিক ওদিকের কোন দলে না ভিড়ে তিনি ক্যাম্পাসের বড়ভাই বোরহানুল হক স¤্রাটের  (এটিএননিউজ) এর গাড়ীতে গিয়ে উঠে বসেন। কিছুক্ষণ পর গাড়ী ছুটে মইনুল রোডের বাড়ির উদ্দেশ্যে, কিন্তু আমারদেশসহ ভিন্ন লাইনের সাংবাদিকদের ঐ গেইট থেকেই ফেরত যেতে হয়। অর্থাৎ তারা নিষিদ্ধ। এবার বাড়ীর গেইটে গিয়ে দ্বিতীয়বার আইডি চেক। তিনি তখন নিউজবিএনএন নামক একটি অনলাইনের সম্পাদনা করেন। সে পরিচয়েও তার অনুমতি মেলে নি। অতপর তিনি ইত্তেফাকের ক্রাইম রিপোর্টার আবুল খায়ের ভাইয়ের হস্তক্ষেপে বাড়ীতে প্রবেশ করেন। খালেদা জিয়ার বাড়ীতে ঢুকে ঐসব সাংবাদিক সহকর্মীদের সে কি উল্লাস!! এটিএননিউজ এর বোরহানুল হক স¤্রাট, আর নিউএজএর মুকতাদির রোমিও ছাড়া বাকী সবাই ছিলেন উল্লসিত। ভোরের কাগজের শ্যামল দত্ত আর এটিএন নিউজের জ. ই মামুনকে মনে হয়েছে তাদের ভাগ্যে লটারি লেগে গেছে। বিলিয়ন ডলারের লটারি! উচ্ছ্বসিত তারা!

খালেদা জিয়ার বেডরুমে গিয়ে দুই পা উপরে তুলে নাচার চেষ্টা শ্যামল দত্তের। ওদিকে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বার বার টয়লেট দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছিলেন। টয়লেটে রাখা ছোট্ট একটি ফ্রিজ খুলে ছবি নিতে বলেন জ. ই মামুনকে। ফ্রিজ খুললে দেখা যায় পাঁচ টাকা দামের তিনটি মিস্টি বিস্কুট। তিনি প্রশ্ন করেন, “খালেদা জিয়া এত রুচিহীন? এ বয়সে এতো মিস্টি ও কমদামী বিস্কুট খান তিনি?” সেনা কর্মকর্তা বলেন, “আরো ভালোভাবে দেখেন, অনেক কিছুই পাবেন।” তারা যখন কিছুই পাচ্ছিলেন না, তখন সে সেনা কর্মকর্তা নিজেই ফ্রিজ থেকে একটি বোতল হাতে নিলেন। মদের বোতল। বললেন, উনি (খালেদা জিয়া) মদও খান!! এরপরের উল্লাস কার কে দেখে! জ, ই মামুন (সাংবাদিক!!) ছবি তুলেন নানা অ্যাঙ্গেলে। এখানে সহকর্মী স¤্রাটের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এ সাংবাদিক। শ্যামল দত্তের ও জ, ই মামুনের দিকে তার ঘৃণার দৃষ্টি সাংবাদিক মাহাবুবুর রহমানকে কিছু সাহস যোগায়। তাই তিনি বলেন আপনারা এসব না করলেও পারতেন। এর জবাবে শ্যামল দত্ত বলেন, “আপনি কে? এসব প্রশ্ন করছেন কেন?” জবাবে তিনি বলেছিলেন “একজন সম্পাদক হয়ে আপনি এখানে এসেছেন কেন? উল্লাস করতে?” এর পরই আরেকজন সেনা কর্মকর্তা কর্ণেল ওয়ালি বেডরুম থেকে সাংবাদিকদের বের করে নিলেন। তারপর জাইমার রুম আর ফটো শ্যুটিং এসব চলছিল। বেশ পর বারান্দা দিয়ে এক বৃদ্ধ হেটে যান, তার কাছে মনে হচ্ছিল ইনি হয়তো খালেদা জিয়ার বাসায় কাজ করতেন। কিন্তু বৃদ্ধ জানালেন, না, তিনি স্যারের বাসাতে কাজ করেন। তার স্যার এ বেগটি পাঠিয়েছে কর্ণেল স্যারকে দিতে। কি আছে বেগে জানতে চাইলে তিনি বললেন ‘আমি জানি না, প্যাকেট করা। কর্ণেল স্যার ছাড়া খুলতে নিষেধ করেছেন। এই বলে বৃদ্ধ খালেদা জিয়ার বেড রুমের দিকেই গেলেন। কিছুক্ষণ পরে কর্ণেল ওয়ালি এসে আবার সাংবাদিকদের ডাকলেন। বললেন, আপনারা মনে হয় অনেক কিছুই মিস করেছেন। শুধু টিভি ক্যামেরাগুলো নিয়ে আসেন। আচরণ সন্দেহ হওয়াতে সাংবাদিক মাহাবুবুর ও রোমিও তাদের পিছু নেন। একজন মেজর কর্ণেল ফারুকের মেয়ের জামাই এসে খালেদা জিয়ার বেডের মেট্রেস তুলে ধরে পাশের ড্রয়ার খুলে দিলেন। বললেন, এগুলো ভালো করে দেখেন। এসব কি? মহিলার টেস্ট দেখেন!!! ওদিকে জ. ই. এামুন এগিয়ে গিয়ে কিছু পর্নো ম্যাগাজিন বের করলো। ক্যামেরাম্যানকে ছবি নিতে বললো। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। মাহাবুবুরের অবাক করা মগজ নড়লো। ওমনিতে বৃদ্ধের প্যাকেট ছিল তার মগজেই জমা। সেনা কর্মকর্তাকে বললেন, একটু আগে তো এসব ছিল না। আমরা তো বেডের নিচও দেখেছি। একটি চিঠিও তিনি পেয়েছিলেন বেডের নিচ থেকে। রোমিও তার কথাতে সায় দেন। এবার রেগে যান কর্নেল ওয়ালি, এবং কর্ণেল ফারুকের মেয়ের জামাই মেজরের উপর তাকে দেখার দায়িত্ব পড়ে। আর ওদিকে ফরহাদ মজহারের ব্যাগে পুলিশ আবিষ্কার করেছে ফোনের চার্জার, শার্ট এসব যদিও তিনি কখনোই শার্ট পরেন না। যখন বের হন তখন তার গায়ে পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরাই ছিল। এ সাংবাদিক লেখক ১৮টি পয়েন্ট জুড়ে দিয়েছেন কারণ তার কোন অংকই মিলছে না। প্রশ্নগুলি হচ্ছে (১) মাইক্রোবাসে গেলে বাসে কেন ফিরলেন? (২) মাইক্রোবাসটি কার? কে চালাচ্ছিল, এখন কোথায়? (৩) সন্ধ্যা পর্যন্ত তার চোখ কেন বাঁধা ছিল (যুগান্তর)? (৪) তাকে কেন ছদ্মনামে লুকিয়ে বাসে উঠিয়ে দেয়া হলো, মাইক্রোবাস কেন ফিরলো না? (৫) গ্রিল হাউজে কবে থেকে ভাত ডাল সব্জি বিক্রি হয়? (৬) তাকে র‌্যাব ক্যাম্পে নেয়া হয়েছিল কেন? (৭) কার ফোন তিনি পান? (৮) এক বস্ত্রে বের হওয়া কিভাবে ব্যাগসহ উদ্ধার হন? (৯) ৩৫ লাখের মুক্তিপণের ফোন নাম্বারটি কেন করানো হয়েছিল, নাম্বারটি কার? (১০) ভারতের মুসলিম নিধনের প্রতিবাদের পরপরই কেন এটা ঘটলো, কেন তাকে হরণ করা হলো? (১১) নিজেকে গুম দেখিয়ে উনার কি লাভ? (১২) অসুস্থ, বিভ্রান্ত ও নির্বাক দেখাচ্ছিল কেন তাকে? (১৩) অতীতের সব নিখোঁজেরা ফিরে এসে কেন চুপ হয়ে যান? (১৪) অতীতের সব গল্পই কি এক ছকে আঁকা? (১৫) রিজওয়ানা হাসানের স্বামীর অপহরণ ও উদ্ধারের সাথে এ ঘটনা একাকার হচ্ছে কি? (১৬) এখন তিনি কোথায়? এরপর কি তাকে আবার রিমান্ডে নেয়া হবে? (১৭) আসলে কি অন্য পক্ষ তাকে গুমচেষ্টা করেছিল আর সরকার নিগেশিয়াসন করে অ্যারেস্ট করলো? (১৮) না কি ভারতীয় প্রেসক্রিপশন এমনই ছিল। গুম নাটক অতপর গ্রেফতার!! সবাই জীবিত ফেরতের প্রত্যাশায় থাকতে থাকতে তিনি কারাবাসে চলে যাবেন!!!! (এ সাংবাদিক লেখক: রয়টার্সের লন্ডন অফিসে কর্মরত; ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, দ্যা গার্ডিয়ান)।

উল্লেখ্য, গত জুলাই এর ২ তারিখে ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে আমারদেশ পত্রিকার সম্পাদক ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ভারতে গোরক্ষা আন্দোলনের নামে মুসলিম হত্যার প্রতিবাদ করেন (শীর্ষ নিউজ)। একজন মানবাধিকার কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও একজন বিবেকমান মানুষ হিসাবে ভারতে সমানেই সংখ্যালঘুর উপর হামলা হয়। এ নিয়ে আমাদের সুশীল সমাজের কারো মুখেই কোন কথা নেই। আবার আমরা জানি কথায় কথায় তথাগত রায়রা বাংলাদেশের এত সম্প্রীতি থাকার পরও এদেশে মাতবরী করতে আসতে দেখা যায়, আমাদের সংখ্যালঘুরাও দৌড় দিয়ে মামার বাড়ীতে আবদার রাখতে যায়। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ ঐ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফরহাদ মজহারও। ফরহাদ মজহার বলেন, যে কোন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতের এ কর্ম মানবতা বিরোধী। মাহমুদুর রহমান বলেন ১/১১এর ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। গতকাল অর্থাৎ শনিবার রাত থেকে মাহমুদুর রহমানের বাসার সামনে পুলিশ অবস্থান করছে। তাই সকালে তিনি নির্দিষ্ট সময়ে বের হতে ব্যর্থ হন। মাহমুদুর রহমানের বক্তব্য থেকে জানা যায় তাকে বের হতে সংবাদ সম্মেলনে যেতে ‘উপর মহলের নিষেধাজ্ঞা আছে’ বলে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে বাধা দেয়। পরে দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাক্ষাৎ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় এবং বাসা থেকে তাকে বের হতে দেয় পুলিশ। তাই পুলিশের এসব তৎপরতাও হুমওয়ার্কের আওতায় আনা দরকার। এসব ফেলনা তথ্য নয়। এবার সরাসরি মাহমুদুর রহমানকে না ধরে তার পাশে বসা লোকটির উপর পুলিশ মনে হয় হামলে পড়ে। অবশ্যই এটি উপর মহলের নির্দেশে নয় বলার সুযোগ কি আর থাকে? সম্প্রতি ভারতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে গো রক্ষার বিরুদ্ধে বলছেন মোদি কিন্তু তিনি নিজেই ঐ নাটকের মূল চালিকাশক্তি। তার এ লোকদেখানো বক্তব্যের পর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সেটি পূর্বেকার ভিডিও দিয়ে প্রমাণ করে দেখায়। এসব মুসলিম নিধন নাটক ছিল মোদির ভোট ব্যাংক বাড়ানোর কসরত। ভারতের মানুষ বেশীর ভাগই সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণ মানুষ, না হলে মোদি বিজয় লাভ করতেন না। ভারত যে সংকীর্ণ গন্ডিতে বাধা এক জাতি, সেটি তাদের আচরণেই স্পষ্ট। গুজরাট, আহমেদাবাদ, এসব উদাহরণ সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। গরুর জন্য দেশ হলেও মুসলিমের জন্য মরণ। দশ হাজার টাকায় ফরহাদ মজহার মুক্ত (পূর্বপশ্চিমবিডি সূত্র)। কে তাকে ফোন করলো তারানা হালিম কি জবাব দিবেন? সিম রেজিষ্ট্রেশন করার অনেক গালগল্প শুনেছি, তারপরও কেন সিসেম ফাঁক হয় না, সত্য ঢাকা থাকে, এতদিনপরও প্রকাশ পায় না। ভারতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে পাকিস্তানের জয়ে উল্লাস করায় ১৫ মুসলিম গ্রেফতার। কাশ্মীর ভারতের থাবার মুখে মুমূর্ষু সময় পার করছে। জবরদস্তি করে কি ভালোবাসা আদায় করা যায়? বিগত শতাব্দীতে চলে যাওয়া আশায় ভরা এক সশ্রদ্ধ জনের বিখ্যাত উক্তিটি স্মরণ করেই লেখাটির ইতি টানবো।

“ইদানিং ভারতের কিছু সংখ্যক মুসলিম বিদ্বেষী জ্বিন দৈত্য ও দানবদের মনে এক দানবীয় আকাঙ্খার উদ্রেক হয়েছে। ওরা চাইছে, বাবরী মসজিদসহ ভারতের অসংখ্য মসজিদ ভেঙ্গে ঐ সব স্থানে মন্দির গড়ে তুলতে। আমি মনে করি, তা কোনদিনও সম্ভব হবেনা। কেননা, আল্লাহ-পাক দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন যে, তিনি তা কোনদিনও হতে দিবেন না। পরন্তু তিনি ইসলামকে (তার সত্য সাম্য ন্যায় ও বিজ্ঞান ভিত্তিক অবস্থার কারণে সর্বধর্মের উপরে প্রতিষ্ঠিত করবেন অচিরেই) (কুরআনের ৬১ সুরার ৮ এবং ৯ নম্বর আয়াত দ্রষ্টব্য)। বর্তমান বিশ্বের কয়েক শ কোটি শোষিত মানুষের মত আমিও দুঃখ পাই যখন শুনি যে, অযোধ্যার বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে রামচন্দ্রের স্মৃতিতে মন্দির গড়ার নামে ভারতের বিভিন্ন স্থানে সহস্রাধিক মুসলমানকে ইতিমধ্যে প্রাণে বধ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। অথচ মূল প্রশ্নতো ওটা ছিল না। কার্যত, ওখানে মসজিদের স্থানে মসজিদ টিকে থাকবে, নাকি মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির গড়ে উঠবে, আসল প্রশ্ন তাও নয়। বরং প্রশ্ন হচ্ছে ওখানে, অর্থাৎ এই ভারতবর্ষে পূজা পাবেন কে? বিশ্ব স্রষ্টা নিজে, না তার সৃজিত মানুষ এবং মানুষের সৃজিত প্রতীক এবং প্রতিমা? এবং ধর্মের নামে মানুষ জানবে কাকে, সত্যকে না কুসংস্কারকে? এ দুটো প্রশ্নের জবাব খুজে পায় নি ভারতবর্ষের মানুষ গত এক হাজার বছরের এত খুন, জখম, সংঘাত ও সংঘর্ষের পরেও। তাই আশা করা যায় যে, এই দুটি প্রশ্নের সঠিক জবাব শুধু এই উপমহাদেশের মানুষেরাই নয়, বরং গোটা বিশ্বের মানুষ আগামী এক দশকের মাঝেই পেয়ে যাবে। এবং খুব সম্ভবত, অনাগত এই সুদিনের খবর জানতেন বলেই বিশ্ব নবী (সঃ) নাকি প্রায়ই বলতেন যে, তিনি হিন্দের দিক থেকে খুসবু তথা সুগন্ধির সুবাস অনুভব করছেন (সেতুবন্ধন ডাঃ এম এ শুকুর, পৃষ্ঠা ১৬০-১৬১, আগষ্ট ১৯৯২)।”

 

নাজমা মোস্তফা,  জুলাই ৭ তারিখ ২০১৭।

Tag Cloud

%d bloggers like this: