Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত “আমাদের সময়” নভেম্বরের ২৮ তারিখ ২০১৭তে একটি কলাম ছাপে তার শিরোনাম “সরকারের ভিত কাঁপে এক খুনে”। শিরোনামটি দেখে পরম উৎসাহে লেখাটি গড় গড় করে পড়ে নেই। লেখাটি পড়ে মনে হলো একটি কলাম লেখা জরুরী। যারা অন্ধকারে পড়ে থেকে এসব কলাম লিখছেন তাদের অবগতির জন্য এ লেখা বেশী দরকারী। তাদের হাত দিয়ে মিথ্যাচার কিভাবে মিডিয়ার রসদ হচ্ছে, এসব তার উত্তম উদাহরণ। এরা অনেকে অত্যাচারী সরকারকে খুশী করতে এসব প্রকৃত খবর এড়িয়ে আংশিক সংবাদ পরিবেশন করেন।

ঘটনাটি যদি একটি দুর্ঘটনা হয়ে থাকে তবে বছরে এরকম হাজারটা দুর্ঘটনা দেশে ঘটে চলেছে। সরকারের নিজ মদদে বরং শত নয় হাজার হাজার মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে, গুম খুন হচ্ছে। সরকার হাসিনা এর পক্ষে সাফাই গাইছেন, যুক্তি দেখাচ্ছেন সব দেশেই এসব হয়। বিডিআর বিদ্রোহে একসাথে প্রায় ৫ ডজন মেধাবীকে খুন করে শক্তির তলানীতে কিন্তু দেশে কোন ষড়যন্ত্রী পক্ষের আন্দোলনকারী নেই বলেই ওদের ধ্বস নামে নি। দেশে আন্দোলনকারী আছে কিন্তু ষড়যন্ত্রী পক্ষ হয়ে মিথ্যাচারের রটনাবাজ হাসিনা ছাড়া আর কেউ নেই বলেই মনে হয়। ওরা আজও বুক চেতিয়ে গলাবাজি করছে, আর মিডিয়া তার সমর্থনে তালিয়া না বাজালে উপায় নেই, বাতিলের খাতায় ছুড়ে দেয়া হবে। আমাদের সময়ের কলাম “ধানমন্ডি ১ নম্বর সড়কের ১৩ নম্বর বাসার এক পরিবারে মেয়েটি গৃহপরিচারিকার কাজ করত। আবুল আহসান আহমদ আলীর গ্রামের বাড়ীও দিনাজপুর। টানা তিন বছরে একবারও দিনাজপুরে মায়ের কাছে আসা হয়নি ইয়াসমিনের। তাই বাড়িতে আসার জন্য বিশেষ করে মাকে দেখার জন্য ভীষণ উতলা ছিল সে। গৃহস্বামী তাকে দুর্গাপূজার ছুটিতে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু বাড়ি যাওয়ার জন্য উতলা ইয়াসমিন সেই বাক্যে স্বান্তনা পায়নি। এ কারণে ১৯৯৫ সালের ২৩ আগষ্ট ঐ পরিবারের ছেলেকে স্কুলে পৌছে দিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে একাই দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যায় ইয়াসমিন। সে উঠে পড়ে দিনাজপুর-ঠাকুরগাওগামী নৈশ কোচ হাছনা এন্টারপ্রাইজে। ২৪ আগষ্ট ইয়াসমিন রাত ৩টার দিকে দিনাজপুরের দশমাইল মোড়ে নামে। কোচের সুপারভাইজার দশমাইল মোড়ের পান দোকানদার জাবেদ আলী, ওসমান গনি, রহিমসহ স্থানীয়দের কাছে কিশোরী ইয়াসমিনকে দিয়ে সকাল হলে মেয়েটিকে দিনাজপুর শহরগামী যে কোন গাড়িতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু এর কিছুক্ষণের মধ্যে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার টহল পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান সেখানে আসে। তারা মেয়েটিকে তার মায়ের কাছে পৌছে দেয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। দশমাইলে একটি আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিশোরীকে নিয়ে যায় তারা। পরে ধর্ষণ ও হত্যা করে। পরদিন সকালে ইয়াসমিনের লাশ পাওয়া যায় দিনাজপুর-দশমাইল মহাসড়কে রানীগঞ্জ ব্রাক অফিসের সামনে। ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, পুলিশ হেফাজতে ধর্ষণ শেষে খুন হয় ইয়াসমিন। —- এখানে উল্লেখযোগ্য যে, উত্তর গোবিন্দপুর এলাকায় পড়ে থাকা ইয়াসমিনের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির উদ্দেশ্যে কোতায়ালি থানার এসআই স্বপন কুমার প্রকাশ্যে জনতার সামনেই লাশ উলঙ্গ করে ফেলেন, যা উৎসুক জনতার মাঝে ক্ষোভ সঞ্চার করে। এ নিয়ে দিনাজপুরে বিক্ষোভ মিছিল হয়”। এ লেখাটিতে দেখানো হয় এ ঘটনার পর ঐ সময় বিএনপি সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দেয় জনতারা। আমরা জানি জনতারা বিডিআর বিদ্রোহের শত বেদনা নিয়েও দম ছাড়ছে আর ষড়যন্ত্রী পক্ষ দম্ভোক্তি প্রকাশ করে চলেছে। ছলবাজি বিচারের নামে প্রহসন করে চলেছে। নির্দোষকে মেরে সাফ করেছে করছে আর প্রকৃত আসামীকে খালাস দিচ্ছে।

এবার আমি একজন প্রত্যক্ষদর্শীর নিজ চোখে পরখ করা বক্তব্য ও কলাম থেকে এর উপর কটি কথা যোগ করছি। কিভাবে আলখাল্লার ভিতর ইবলিস লুকিয়ে থাকে সেটি আল্লাহ পবিত্র গ্রন্থে বারে বারে স্পষ্ট করে তার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মানুষরা চোখ থাকতেও অন্ধের ভূমিকায় আছে। আল্লাহ বলেন প্রকৃত মানুষ তার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব, তাই বলে সব নয়। এরা অনেকে পশুরও অধম, হীন থেকে হীনতর এরা। গবেষণার চোখে সুক্ষ্ম দৃষ্টির অভাবে অনেক অনাচার ধরতে পারে না। তবে এটি ঠিক বিধাতার দৃষ্টি থেকে এসব কপটরা কখনোই বাঁচতে পারবে না। আল্লাহ এমন একটি অদেখা সত্তা যাকে আমরা দেখি না সত্য, কিন্তু তিনি সর্বক্ষণ আমাদের পরখ করছেন। সুতরাং অপরাধ করে নিস্তার পেয়ে যাবার সুযোগটা সাময়িক। যারা এই শক্তিমান সত্ত্বাকে প্রকৃত অর্থে বিশ^াস করে না, তারাই গোটা বিশ^ সমাজ জুড়ে এরকম অনাচার কাজ করেছে করছে সামনে আরো করবে। উপরের পুলিশেরা যেভাবে একটি লাশ ফেলে ঠিক একইভাবে শত শত লাশ পড়ছে বাংলাদেশে এদের কল্যাণে। এখানের এরা সবাই ইবলিসের দোসর। মানুষের সরল চোখে তা ধরা পড়ে নাই যদিও এসব চলে তখনকার বিরোধী শক্তির অতিশয় ধুরন্ধর নেতৃত্বের আঁচলের তলানীতে, যার নেতৃত্বে শেখ হাসিনা। এরা সময়ে সময়ে প্রতারণার জন্য মদিনার সনদ, তসবিহ, নামাজ, তাহাজ্জুদ এসব ব্যবহার করে শুধু মাত্র ক্ষমতায় যাবার গুটি হিসাবে। এরা সম্ভবত আল্লাহকে চিনেও না, তার পরোয়াও করে না।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত একজনের গ্রন্থ থেকে নেয়া শিরোনাম “জনতাকে শান্ত থাকার বকতৃতা: ১৯৯৫ সালের ২৪ আগষ্ট দিনাজপুরের মানুষ পুলিশের বিরুদ্ধে মিটিং মিছিল শুরু করলে শেখ হাসিনা দিনাজপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আব্দুর রহিমসহ কয়জন জেলা নেতাকে জরুরী তলব করে ঢাকায় ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু ভবনের লাইব্রেরী রুমে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিকেল পাঁচটাতে। তার পরামর্শ ছিল এই বিক্ষোভকে আন্দোলনে রুপ দিতে হবে। নির্দলীয় খোলসে রেখে তখনকার খলেদা সরকারের পতন ঘটাতে হবে। এখন ঢাকার দিকে নয়, দিনাজপুর থেকে ঢাকায় আসতে হবে। প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ করতে হবে। লাশের পর লাশ ফেলতে হবে। পুলিশের লাশও ফেলতে হবে। ঐ পুলিশের মাঝেই লোক আছে, যাদের টাকা পয়সা দিলে গুলি করে মানুষ মেরে ফেলার স্তুপ লাগিয়ে দিবে। পুলিশের সাথেও কন্ট্রাক্ট করবেন, টাকা পয়সা দেবেন। মনে রাখবেন, একমাত্র এই পথে ক্ষমতার মুখ দেখতে পারবেন। নইলে জীবনেও আর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিতে পারবেন না। ইয়াসমীন মরে সুযোগ করে দিছে, একে কাজে লাগান নির্দলীয় ব্যানারে। লীগের নাম মুখেও আনবেন না। ফাল দিয়ে কেউ মঞ্চে যাবেন না। সব করবেন পিছন থেকে। মুখ খুলবেন না, কথা বললে দুনিয়ার ভাল ভাল কথা বলবেন। কাজে যাই করেন, শুধু মুখে ভাল কথা। লঙ্কাকান্ড বাধাতে পারলে আমিও দিনাজপুর আসবো। ওখানে আপনাদের সাথে আমার কোন কথা হবে না। আমি শুধু বকতৃতায় বলে আসবো ধৈর্য্য ধরুন, শান্ত থাকুন, এসব। কিন্তু আপনারা কাজের কাজ পুরোপুরি চালিয়ে যাবেন। এখন ২০ লাখ টাকা নিয়ে যান। বাকী যা লাগে ওখানেই পৌছে দেব। আমি শুধু কাজ (লাশ) চাই। টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের গাড়ী না থাকলে আমি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেব” (মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেনটু “আমার ফাঁসি চাই” পৃষ্ঠা ৮১/৮২)।

৮১ সালের ১৭ই মে থেকে ৯৭সাল এই ১৬ বছর লেখক শেখ হাসিনার রাজনীতির নেপথ্যের অনেক কাহিনী বইটিতে প্রকাশ করেন। তিনি ছিলেন শেখ হাসিনার অলিখিত কনসালটেন্ট। তার স্ত্রী ৮৮ থেকে ৯৭ পর্যন্ত ৯ বছর হাসিনার অবৈতনিক হাউজ সেক্রেটারী ছিলেন। বইটিতে তিনি শেখ মুজিবেরও বিচার চান। তার যুক্তিতে নামকরণে প্রমাণ তিনি তার নিজের ফাঁসি চান, এ যুক্তিতে যে এত অপরাধ দেখেও তিনি অসহায়ভাবে নিরব ভূমিকায় ছিলেন। আজো সারা দেশের আওয়ামী লীগের অপকর্মীরা জানে কত অপরাধী তারা কিন্তু তারা নিরব। এরকম অবস্থাতে একজন মানুষের ঈমানের উপর সন্দেহ আসতেই পারে। ঈমান মানে আর কিছু না, আল্লাহতে বিশ^াস। এরকম কাজ করলে আর মানুষের ঈমান থাকার কথা নয়। হাসিনা সরকারের সময়ই এ বইটি প্রচার প্রকাশ করেন রেনটু তার বুকের পাটা বহাল রেখে। আর ধারণা হয় বইটির কপি বাজার থেকে ধ্বংস করা হয় এবং পরে বাতিলও করা হয়। এই সুবাদে দু একজনা ভাগ্যবানের কাছে এর কপিটি হাতে এসে পড়ে, আমিও তার একজন।

বইটির ১৩৭ পৃষ্ঠায় আর একটি কলাম ছিল “আমার, শেখ মুজিবের ও শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই”, তিনি এখানে তার নিজ সহ বাকী দুই জনেরও ফাঁসি চান। নীচে এ তিনজন অপরাধীর অপরাধের কারণ বর্ণিত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইংল্যান্ডের ক্রমওয়েল ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেই স্বৈরাচার হয়েছিলেন, তার বিচার হয় তার মৃত্যুর পরে। কবর থেকে তার হাড়গোড় তোলে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়েছিল, একেই বলে আইনের শাসন। তার যুক্তিতে শেখ মুজিবের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস হয়। এখানে তিনি তিনজনের ফাঁসি দাবী করেন। প্রথমে তার নিজের। যুক্তিগুলো হচ্ছে শেখ মুজিব হত্যার প্রতিবাদে যুদ্ধ করে দেশের যে ক্ষতি করেছি সে অপরাধে তিনি তার নিজের বিচার চান। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা জেনেও তা প্রকাশ না করায় এবং হত্যাকারীদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে তিনি তার নিজের ফাঁসি চান। ১৯৯২ সালে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন পন্ড করার জন্য শেখ হাসিনার পরিকল্পনা ও নির্দেশে হিন্দু মুসলিম রায়ট লাগিয়ে যে অপরাধ করেছি তার জন্য তার নিজের ফাঁসি চান। ৯২ থেকে ৯৬ পর্যন্ত আন্দোলনের নামে ঢাকা শহরের শেখ হাসিনার নীল নকশা ও নির্দেশে যে ১০৩ জন লোক নিহত হয় এই অজ্ঞাতনামা ১০৩ জন মানুষ হত্যার দায়ে তিনি তার নিজের ফাঁসি চান। (ঐ গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৩৮)।

লেখকের দৃষ্টিতে ফাঁসির আসামী হিসাবে (১) সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ঘোষণা না করায় ত্রিশ লক্ষ মানুষ নিহত হয়, ২ লক্ষ মা বোন ধর্ষিত হয়। এর জন্য শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসি চান। (২) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার অভিযোগে শেখ মুজিবের মরণোত্তর বিচার ও শাস্তি চান। (৩) যে মুক্তিযোদ্ধারা শেখ মুজিবকে স্বাধীন দেশে ফিরিয়ে আনেন। স্বাধীনতার পর ভারতে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা না এনে রাজাকার আলবদরদেরসহ ভুয়া ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেয়ার অভিযোগে তার মরণোত্তর বিচার ও শাস্তি চান। (৪) ক্ষমা না চাইতেই স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার, আলবদরদের ঢালাওভাবে ক্ষমা করার অপরাধে তার শাস্তি চান। (৫)বিপ্লবী নেতা সিরাজ সিকদারকে বন্দী অবস্থায় বিনা বিচারে গুলি করে হত্যার অপরাধে তার ফাঁসি চান। সিরাজ সিকদারকে খুন করে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে দম্ভোক্তির জন্য তার মরণোত্তর শাস্তি চান। (৭) জনতার ভোটের অধিকার, মিছিল করার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণসহ সংবিধানের মৌলিক অধিকার হরণ করে জাতির উপর একদলীয় (বাকশাল) শাসন শোষণ চাপিয়ে দেয়ার অপরাধে শেখ মুজিবের মরণোত্তর বিচার ও শাস্তি চান (ঐ গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৩৯)।

অতপর লেখক “ক থেকে চ” পর্যন্ত ছয়টি নম্বরযুক্ত শক্ত যুক্তি দ্বারা শেখ হাসিনার ফাঁসি চান

(ক) ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে এসে সন্ত্রাসী, চোরাকারবারী, কালোবাজারী, ঘুষখোরদের রাজনীতির চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছে এবং রাজনীতি থেকে সকল প্রকার নীতি আদর্শ ঝেটিয়ে বিদায় করে প্রতিষ্ঠিত করেছে নীতিহীন রাজনীতি। এই অপরাধে শেখ হাসিনার বিচার চান, শাস্তি চান।

(খ) ভারতে বসে জিয়া-উর রহমান হত্যায় ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করে ৮১ সালের ৩০ শে মে তা বাস্তবায়িত করায় হাসিনার ফাঁসি চান

(গ) ৮২ সালে নির্বাচিত বিএনপি সরকার উৎখাত করে সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অপরাধে শেখ হাসিনার বিচার ও শাস্তি চান

(ঘ) সামরিক স্বৈরাচার এরশাদকে হাতের মুঠোয় রাখার জন্য ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা, ছাত্র আন্দোলনের নামে ৮৩এর মধ্য ফেব্রুয়ারী বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র জাফর ও জয়নাল এবং ৮৪এর ফেব্রুয়ারীতে সেলিম ও দেলোয়ার হত্যার অপরাধে শেখ হাসিনার ফাঁসি চান।(ঐ গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৩৯/১৪০)।

(ঙ) ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন পন্ড করার জন্য হিন্দু মুসলমান সাম্প্রদায়িক রায়ট লাগিয়ে দেয়ার অপরাধে শেখ হাসিনার বিচার ও শাস্তি চান

(চ) ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত আন্দোলনের ইস্যু তৈরী করার জন্য ঢাকা শহরে ১০৩ জন নিরীহ অজ্ঞাতনামা সাধারণ মানুষকে খুন করার অপরাধে শেখ হাসিনার ফাঁসি চান।

আমার লেখাটির শিরোনাম “আলখাল্লার ভিতরে ইবলিসের বসবাস”, কেন আওয়ামী লীগের অনুসারীরা অতিরিক্ত নীতিবিবর্জীত। এর প্রধান কারণ তাদের নেতৃত্বের চরম সংকট। যারা তাদের চালায় তাদের উৎসাহেই এরা বিপথগামী দল। আদর্শহীন নেতৃত্ব কোনদিনও মানুষকে সুপথ দেখাতে পারে না। মানুষ যখন নষ্ট পথে হাটে, বুঝতে হবে সেটি ইবলিসের পথ। “তিনি জানেন চোখগুলোর চুপিসারে চাওয়া আর যা বুকগুলো লুকিয়ে রাখে” (সুরা আল-মুমিনএর ১৯ আয়াত)। “স্মরণ রেখো, দুইজন গ্রহণকারী গ্রহণ করে চলেছেন ডাইনে ও বাঁয়ে” (সুরা ক্বাফএর ১৭ আয়াত)।  কুরআনে এটি বারে বারে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এরা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। তাদের চলন বলন দেখেই তাদের চিনে নিতে হবে তার অনুসারীদের, কে ইনসান আর কে ইবলিস। “নিশ্চয়ই আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি শ্রেষ্ঠ সুন্দর আকৃতিতে। তারপর আমরা তাকে পরিণত করি হীনদের মধ্যে হীনতমে” (সুরা তীনের ৪/৫ আয়াত)। “শয়তানের সাঙ্গোপাঙ্গদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। নিঃসন্দেহ শয়তানের চক্রান্ত চির দুর্বল” (সুরা নিসার ৭৬ আয়াত)। “তোমাদের আমি বলেছিই যে শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু” (সুরা আল-আরাফ-এর ২২ আয়াত)। উপরের আয়াতগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়লেই চিহ্নিত ইবলিসকে জেনে যাবেন। তাদের মুখের ভালো ভালো কথা আর অন্তরের বিভৎস অধ্যায়ের খবর বিশ^প্রভু অদেখা বিধাতার কাছে জমা আছেই। অনলাইনে “আমার ফাঁসি চাই” কথাটি ইংরেজীতে লিখে সার্চ দিলেই আপনারা হাতের কাছে বইটি পেয়ে যাবেন, পড়তে পারেন এবং সত্য মিথ্যা পরখ করেন। আর প্রতিটি বাংলাদেশীর জন্য এ বইটি পড়া মনে হয় ফরজ হয়ে পড়েছে। নিজেকে দেশকে বাংলাদেশকে চিনতে হলে এটি অবশ্যই ছত্রে ছত্রে পড়তে হবে আপনাকে, অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোক।

কলামটি লেখার তারিখ- ২৮ নভেম্বর ২০১৭ সাল।

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: