Articles published in this site are copyright protected.

Archive for February, 2017

এখানে মোট ১০০ + + + লেখার লিংক দেয়া হলো। যে লেখাগুলি রাজনৈতিক পটে লেখা হয়েছে। বাংলাদেশ বড় সংকট সময় পার করছে। বাস্তব ঘটনার আলোকে এগুলি লিখা হয়েছে ময়দানের দাগ চিহ্ন দেখে। স্বাধীনতা পরবর্তী জাতি এত বিপর্যস্ত অবস্থান মোকাবেলা করে নি যা বর্তমানে একটি বড় সময় থেকে মোকাবেলা করে যাচ্ছে। লেখাগুলি বাংলাদেশীদের জীবনের সাথে অতোপ্রতোভাবে জড়িত। লেখাগুলি প্রতিটি সচেতন বাংলাদেশীর পড়া অত্যন্ত জরুরী। তাছাড়াও কিছু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাস্তব নির্যাতনের কিছু চিত্রও এখানে এসেছে। শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসাবে ইসলাম একটি জরূরী অধ্যায়, অস্বীকার করার উপায় নেই। তাতে কোন ভুল জড়িত থাকুক সেটি এখানের কোন সৎ নেতৃত্বই চাইবেন না। সঙ্গত কারণে সেটির মূল্যায়নও দরকার। 

ইমাম যখন ঈমান হারান / আলখাল্লার ভিতরে ইবলিসের বসবাস /  বৌদ্ধ ধর্মের শিকড়েও ইসলাম /  মানুষের রক্তে নদীরা লাল /  শিকড়হারা (?) রোহিঙ্গাদের ইতিহাস / সৌদি, কাতার, গণতন্ত্র, আরববসন্ত, ইসলাম – সন্ধানী বিশ্লেষণ  /  ফরহাদ মজহার, খালেদা জিয়ার বোতল, পুলিশ ও সরকার / পলাশির পতনের মূলে হিন্দু পরাশক্তি অতঃপর মীরজাফর /

বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন, ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব? , নিষিদ্ধ বৃক্ষ / ২০১১ সালের ৩১ মে (বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস) উপলক্ষে লেখা /  বাংলাদেশের কলিজাতে কামড়: লাশের মিছিলে জিয়া ও মঞ্জুর / মালালা ও নাবিলা: পশ্চিমা বিশে^র নাবলা কথা। মাদ্রাসার বই ও হিন্দু লেখক , ভুল শুধরে ফের ভুল / সত্য বলা ছাড়া আর কোন বিকল্প দেখছি না /  হাওর গিলছে ভারত পানি মাঙ্গা লালপানি মিলা / জাতীয় সংগীত মূর্তিবন্দনা থেকে মাতৃবন্দনা অদক্ষ হাতে দেশবন্দনা (conspiracy / politics) বাংলাদেশ কি আকবরের দীন-ই-এলাহীর উত্তরসুরি? / পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার / স্বাধীনতা হারাবার শংকা কেন জাগছে? / মাওলানা সাঈদীর বিচারে “গভমেন্ট গেছে পাগল হইয়া তারা একটা রায় চায়” /  ষড়যন্ত্রের ভূমিকম্প : সিকিম মানচিত্রের পরিবর্তন / মধ্যযুগীয় উপনিবেশ: রুখে দাও বাংলাদেশ  / প্রতিরক্ষা চুক্তির ফাঁদে লেজেগোবরে জঙ্গিবাংলাদেশ ভাসুরের নাম মুছতে ব্যাংকে আগুন সাথে জঙ্গি হামলা /  ২০০১ সালের ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ জানান দেয় বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশ / বিগত শতকের গুণ্ডামি আজ চলচ্চিত্রের ‘গুণ্ডে’ / ঢিলের বদলে পাটকেল আসে কখনও খোদায়ি কখনও মানবিক /  ১৯৮৩ সালে ভারতে বাংলাভাষীদের ওপর আরোপিত নেলীর ধ্বংসযজ্ঞ /  এরশাদ চিহ্নিত জোড়া প্রতারকের একজন / ওড়না বিতর্ক: / মুক্তমনা ধর্মনিরপেক্ষ ও নাস্তিক্যবাদের নামে পাঠ্যবই এ গভীর ষড়যন্ত্র /  কয়লার ময়লাতে সুন্দরবন গভীর শংকায়  / আটশ’ বছরপূর্ব ওলির বাণীতে মানচিত্রের অতীত ও ভবিষ্যত্ +সিইসি বিতর্ক পিপিলিকার পাখা /   ছবি যখন ডিজিটাল ভোটের কথা কয়! /  ইসলাম বাতিলের ধ্বনি / জাতি জাগো  / ধর্মনিরপেক্ষতা ষড়যন্ত্রীদের ধর্ম বটিকা ! / গোলামী বড়? / প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষা ধর্ম চাকরী / ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ / পড়শির মনমত  / পথ খুঁজছে নাগরিকত্ব হারানো / হিন্দু প্রলয়াম / কুরআন পুড়ানো, প্রতিমা ভাঙ্গা / আনন্দবাজার ও “র”সুন্দরবন শংকায় “ক্রুসেডার ১০০”সংকটে জেগে উঠ / রাজনীতির অগ্নুৎপাত / গণতন্ত্র কি / শহীদের প্রশ্নবিদ্ধ সংখ্যা  / জাতীয় সংগীত বিডিআর বিদ্রোহ / মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার মেজর (অবঃ) এম এ জলিল: অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা / আলামত সৃষ্টির না ধ্বংসের? ব্যাংক লুটে ৭২ – ৭৪, ২০১৬ / প্রস্থান হোক প্রধান দাবী /  চিন্তার বলিরেখা কপালে / দুজন সম্পাদক / জিহাদ জঙ্গি, জয়, লাশের দেশ / গুলশানের জমা / সরকারই জঙ্গী ওপেন সিক্রেট / কল্যানপুরের জঙ্গি / সার্বভৌমত্ব মাপুন / দুর্গা পূজা পলাশীর কলঙ্ক / সুরঞ্জিতনামা / সংকটে বাংলাদেশ / কণ্ঠে কাঁটার মালা লতার বেদনায় হালকা মলম / দুই বিদেশী হত্যা: সরকার ও ভারত /  অন্ধ আলোটা নিভিয়ে দাও / বিরোধীরা আন্দোলনে সরকার গণহত্যায় / সরকার অপকর্ম দেখে না /  বিএনপি সরকার পতনের লক্ষে একুশে আগষ্ট ২০০৪, সন্দেহ সন্ত্রাসীকে / ভারত সরকারের নির্বাচনী ব্যাঙ্ক ২০১৪ ডিসেম্বরের রাজনৈতিক হালখাতা / লাশের মিছিলে জিয়া ও মঞজুর / স্বৈরাচাররা দুর্গন্ধ ঢাকতে ব্যস্ত ভালবাসার নাস্তিক সংকট / বৈশাখ পূজা শবেবরাত ইলিশ মঙ্গলপ্রদীপ সমকামিতা মানবাধিকার / ২০১৬এর রমজানে সংযম সংকট /  আকবরের দীন-ই-এলাহী কি ? ষড়যন্ত্রে : সিকিম মানচিত্রের পরিবর্তন / গুজরাটের রক্ত: ভারতবর্ষের গর্ব না কলঙ্ক? / অযোধ্যার আগুনের সলতেটা কার /

ধর্ম ও গবেষনা মূলক লেখা: অনেক ক্ষেত্রে ভুল ভাবে ধর্মের  বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সেটি স্পষ্ট করতে ১৮ + লেখা সংযোজন করছি যে গুলি এর মাঝে ছাপা হয়েছে এই সাইটে। 

ইমাম যখন ঈমান হারান / সৌদি, কাতার, গণতন্ত্র, আরববসন্ত, ইসলাম – সন্ধানী বিশ্লেষণ /  বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন,  ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব?, নিষিদ্ধ বৃক্ষ২০১১ সালের ৩১ মে (বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস) উপলক্ষে লেখা / ইসলামে যুদ্ধ: ব্যাখ্যার নামে অপব্যাখ্যা / ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:মুতার যুদ্ধ ময়দানের কঠিন যুদ্ধ: ধর্ম ব্যবসা নয় / দোররা / কার্টুন এক হাস্যকর তামাশা  / সেক্যুলার বাংগালি মুসলিমের ধর্মহীনতা / ২০১৫ এর লাশের মিছিলে হজ বিপর্যয় / “মুতাহ” বিবাহ “আইএসআইএস”এক বিষ ফোঁড়ার নাম / মাকড়শার ঠুনকো বাসাখুতবা, তবলিগ জামাত, ইজতেমা ও কিছু কথা / জাকির নায়েক ও সৌদির এক ধর্ম প্রচারকের পুরষ্কার / ধর্মহারা লালনের জন্য ডেরা তৈরী করে কে বা কারা? / যুগের সত্য মোকাবেলায় হিন্দু সংস্কৃতির প্রস্তুতি / পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার। / তুরষ্কের অভ্যুত্থানে আযান ছিল বিপদের সাইরেন ধ্বনি / ইহুদীরা না ইসরাইলীয় না সেমেটিক, জায়নবাদী ইহুদীরা নবী ইব্রাহিমের নয়, হিটলারের অনুসারী / মধ্যযুগ বাংলাদেশে, ধর্মের নামে রাজ প্রতারণা / ইসলামের নারী

তাছাড়া কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণামূলক বিষয়ে বা সাহিত্যে ইতিহাসে যে নির্যাতনের অপকর্ম করা হয়েছে তারও কিছু ছোঁয়া থাকবে। এবারের লেখাগুলোতে ডজনখানেক লেখা সংযোজন করছি।  

মালালা ও নাবিলা: পশ্চিমা বিশে^র নাবলা কথা। শিকড়হারা রোহিঙ্গাদের ইতিহাস / সময়ের দাবী কাশ্মীর বাংলাদেশ থেকে ভারত হটাও কষ্টের যাতাকলে কাশ্মীর, শুনছি যুদ্ধের ধ্বনি / প্যালেস্টাইনীরা বিপন্ন বিধ্বস্ত জঙ্গী আক্রান্ত / গাজাতে অবরোধ, বিপন্ন মানবতা, সভ্যতার নিরবতা! / মীর মশাররফ হোসেনের “গাজী মিঁয়ার বস্তানী”কবিতার অংশ:প্রসঙ্গ গুজরাটের ধর্মান্ধতা: উচ্চবর্ণের হিংস্রতা / প্রসঙ্গ রবীন্দ্র: কবি জসিম উদ্দিনের দৃষ্টিতে শান্তিনিকেতন / সাহিত্যে সতিত্বহানীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বাংলাদেশে এইডসএর প্রকৃত অবস্থান অতংকজনক /  ফেলানী /

এখানে স্মৃতিচারণমূলক একটি লেখা সংযোজন করছি।

গণিভাই ও আমরা

১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৭।

Advertisements

সিইসি বিতর্কে মনে পড়ছে পিপিলিকার পাখা উঠে মরিবার তরে:

আওয়ামী পাখা: সাবেক যুগ্মসচিব থেকে অবসর নেয়া নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে পাঁচ সদস্যের নতুন ইসি নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো আব্দুল হামিদ। বাংলাদেশের বর্তমান ইসি প্রেক্ষাপটে ধর্মের কথা কিছু এসেই যাচ্ছে। যদিও অজয় রায়রা এ নীতিধর্মটি সইতে পারেন কম, তারা চান ময়দান থেকে ওকে সার্বিক ভাবে মুছে দিতে। ইসলাম ধর্মের নির্দেশ হচ্ছে যদি কেউ একজন বিশ^াসিনী নারীকে নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দেয় তার জন্য ৮০ বেত্রাঘাত ও শাস্তি হিসাবে তার কোন সাক্ষ্যই গ্রহণযোগ্য নয় (সুরা নূর ২৩ আয়াত)। বিচার দিনে তাদের জিহবা, তাদের হাত তাদের পা তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যা তারা বলছিল (২৪ আয়াত)। সে হিসাবে এরকম ক্ষেত্রে একজন মানুষ যদি গোটা জাতির সাথে মিথ্যাচার করে তবে তার শাস্তি কতগুণ হতে পারে? অন্তত এরকম অবস্থানে একজনের সিইসি পদের তো প্রশ্নই উঠে না। যার সাক্ষ্যই গ্রহণযোগ্য নয়, তাকে কেন একটি মর্যাদার পদ দিতে হবে আবার সেই প্রকৃতির একজনের অহঙ্কারী কথাও সংবাদে এসেছে যে, সর্বোচ্চ পদ না পেলে তিনি গ্রহণ করবেন না। এ হিসাবে তাকে সবনিচের পদও দেবার কথা নয়। প্রধানমন্ত্রীও কথায় কথায় মিথ্যাচার করেন তা সারা জাতি জানে। এ হিসাবে তারও কোন যোগ্যতা নেই ওরকম একটি পদ ধরে রাখার। এ দৃষ্টিতে তিনিও অকুরআনীয় আচরণ ধন্য একজন মানুষ। সম্প্রতি খালোদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী ও এ্যাসাইনমেন্ট অফিসার শাসসুল ইসলাম মিথ্যাচারের গভীর সত্য কথাটি তার ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। ৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় তৎকালীন সচিব মহিউদ্দিন খান আলমগীরের ডাকে জনতার মঞ্চ ছিল একটি দেশ বিধ্বংসী অনাচারের জটিল মঞ্চ, এটি সারা জাতি জানে। ঐ সময় সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা চাকরির শৃংখলা ভঙ্গ করে ঐ অনাচার করে। নুরুল হুদা ঐ অনাচারে ছিলেন না, সাফাই গাইছেন। এবার তথ্য প্রমাণসহ তার বিপক্ষে সঠিক সত্য প্রকাশিত তথ্য আসছে (টুডে ডেস্ক)। সংক্ষেপে আনছি, সে সময় গুরুতর শৃংখলাভঙ্গের অপরাধে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়, এদের সাক্ষাৎ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় ২০৮ জনের তালিকা থেকে ৮৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। তারপরও এদের অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় নি। তারা তৎকালীন উর্ধতন কর্মকর্তাদের ধরে প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। ফলে অনেকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ওরাই আওয়ামী লীগের মূল দোসর বা অবলম্বন হয়ে উঠে, শীর্ষ পদে বসে, এরাই চালাচ্ছে বর্তমান সরকার। আবার যারা অবসরে গেছেন তাদের কামেলিয়াতী এতই গভীর ছিল যে এরাই পরবর্তীতে মন্ত্রী এমপির পদ পায়। এরা প্রত্যেকেই জাতি ধ্বংসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এরা শীর্ষে থাকলে যে কোন প্রসফুটিত জাতির ধ্বংস সহজ হয়।

বিএনপির উদারতার শাস্তি: সরকারের শীর্ষ পদে ডাকাত ঢুকে গেলে জাতির যা হয় তাই হচ্ছে এবং সামলাতে না পারলে আরো হবে।  ৯৬ সালে জনতার মঞ্চের সময় নুরুল হুদা কুমিল্লার ডিসি ছিলেন। সেখান থেকে তিনি মঞ্চের সাথে একাত্মতার বিবৃতি দেন। কুমিল্লা কালেকটরেট তখন প্রধানমন্ত্রী খালদা জিয়ার ছবি নামিয়ে ফেলেন।  এসব প্রকাশ হয় দৈনিক ভোরের কাগজসহ অন্যান্য জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় (৩০ মার্চ ৯৬সাল)। এ ছাড়া ৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনের ঠিক আগে হাইকোর্টে রিট করা হয় তার বিরুদ্ধে, ১৬৩৫ নম্বর রিটে তার ঐ অপকর্মে সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ আছে। তিনি এখানে ২০১৭ সালে যে অসততার পরিচয় প্রকাশ করলেন তাতে তার ধূর্ততার স্পষ্ট প্রমাণ এখনো বর্তমান। উল্লেখ্য, ৭৩ সালের তোফায়েল ক্যাডারের অফিসার (আইএমএস) হওয়া সত্ত্বেও খালেদা সরকার নুরুল হুদাকে ফরিদপুর ও কুমিল্লা জেলাতে সাড়ে চার বছর জেলা প্রশাসক রাখেন। তখন রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্ব দেয়া হতো না। তবে ৯১-৯৬ সালেও বিভিন্ন আওয়ামী পন্থীকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে বসানো হয়েছিল। যার খেসারতে এরাই পরবর্তীতে জনতার মঞ্চ করার দুঃসাহস দেখায়। ১৯৮০ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান বিজেএমসির এসিস্টেন্ট ম্যানেজার থেকে কে এম নুরুল হুদাকে বঙ্গভবনের সেকশন অফিসার হিসাবে নিয়োগ দিলে তিনি আড়াই বছর কর্মরত ছিলেন। তারপরও তিনি আগাগোড়াই একজন প্রাক্তন ছাত্রলীগ ও ভারতের প্রশিক্ষিত মুজিব বাহিনীর সদস্য, জনতার মঞ্চ নায়ক, জটিল দেশ বিধ্বংসী অংকের সদস্য।

আওয়ামী অপকর্মের নজির: শৃংখলা ভঙ্গের অপরাধে আসামীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় ২০০১ সালের ৯ ডিসেম্বর। পরে তিনি প্রশাসনিক ট্রাইবুনালে যান তবে জাতি জানে না তার কোন রায়ের খবর। অথচ বলা হচ্ছে হাইকোর্টের রায়ে তিনি চাকরি ফেরত পান, পিছনের তারিখে হাইকোর্ট নাকি তাকে পদোন্নতিও দিয়েছে, যা আদৌ সত্য নয়। হাতেম আলী খানের রেফারেন্স দেখিয়ে চাকরি ফেরতের বৈধতার কথাও হচ্ছে। বাস্তব হচ্ছে ২০০৯ এ ক্ষমতায় এসে অন্যান্যদের সাথে নুরুল হুদার চাকরি ফেরত দেন শেখ হাসিনা, উপঢৌকন হিসাবে সাথে দুটি পদোন্নতিও দেয়া হয়, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব হিসাবে। নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ইউনুসের পায়ে বেড়ি দেয়া হয় বয়সের প্যাঁচে, কিন্তু এর কয় বছর আগে ২০০৫ সালেই হুদার অবসরের বর্ষপূর্তি তারিখ পার হয়ে গেলে বেড়ি প্রযোজ্য নয়। এসব হচ্ছে তার অতিরিক্ত সচিব ও সচিব হওয়ার গোমর ফাঁক নাটক। তার যোগ্যতা যুগ্মসচিব পর্যন্তই। এমনও ঘটেছে ঐ সময় যিনি কবরে চলে গেছেন এমন ব্যক্তিকেও মেজর জেনারেল প্রমোশন দিয়ে হাসিনা সরকার বিশে^ অনন্য রেকর্ড রেখেছেন। দেখা যায় অবসরের প্রায় দেড়যুগের কাছাকছি সময়ে শেখ হাসিনার দয়াতে একটি দাওমারা পদ পেয়েছেন, যা নিয়ে মিথ্যাচারের ডুগডুগি বাজিয়েছেন।

ভেবেছিলাম একটি লিংক দেব সেটি এর মাঝেই মুছে দেয়া হয়েছে।

বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল..প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য ফাঁস করলেন আসিফ নজরুল ও মেজর আখতার

 

আমার লেখার শিরোনামটি একটি চিরাচরিত সত্য বানী। পিপিলিকার যখন মরার সময় হয় তখন তার পাখা দৈব থেকে গজায়। সরকারের সব ছক আসছে উচ্চ পর্যায় থেকে। যেখানে তথাগত রায়রা সুরঞ্জিতকে দিয়ে ভোটের বানিজ্য শক্ত ভুমিকা রাখতে দাগ রেখে যায়। সেখানে খালেদাকে মামলায় বেধে দেয়া আর এক নাটকের জটিল অংশ মাত্র। এরা আল্লাহর বা ধর্মের তোয়াক্কা করে না। এরা শুধু সামনের ক্ষমতার ময়দান দেখে। সুরঞ্জিত যে এত লুটপাট করলেন যাবার সময় কি কিছু নিতে পেরেছেন? নুরুল হুদাসহ প্রতিটি সুরঞ্জিতকেই শূণ্য হাতেই বিদায় নিতে হবে, তারপরও মানুষ বিধাতার অংক বুঝে খুব কম। জনতার কলিজাতে কামড় দিয়ে তার জনপ্রিয় নেত্রীকে কারাগারে দিয়ে নির্বাচন সারতে চায় বর্তমান সরকার। নিজের বহু গুণ অপর্মের সব ফিরিস্তি করে নিজের সব জটিল মামলা সরিয়ে নিয়ে যে নাটক তিনি করছেন, তা মূল আদালতে জমা থাকবেই।  পৃথিবীর কোন শক্তি নেই সঠিক অপকর্ম থেকে পার পেয়ে যাবার। জিয়া পরিবারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তিনি সীমাহীন নাটক করছেন। ঘোষক মানেন না, জিয়ার মুক্তিযুদ্ধ স্বীকার করেন না, পদক কেড়ে নিয়েছেন, খালেদাকে তার বাসা থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছেন আরো কত কি? তিনি আরো বহু বেশী করতে চান,  পা সোজা করে দাঁবাবার শক্তি না থাকাতে র‌্যবের পুলিশের ভরসায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সরকার চুরির সাগরচুরির ও মহাসাগরচুরির রেকর্ডে। এটি তার জানা এ আপোষহীন নেত্রীর জনপ্রিয়তা আকশচুম্বী। ওটি রোধতে তাকে কারাগারে ঢুকানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই। খালেদা জিয়া হচ্ছেন এখনকার সময়ের মাহমুদুর রহমান। ইনুর বেফাঁস মুখে এটি বার বার জাতি জেনেছে যে,খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা হবে এবং জেলে পুরা হবে। যার কারণে মিথ্যা মামলা আর প্রতি সপ্তাহে হাজিরা নাটক। কারণ মামলাকে দ্রুত হাটতে হবে নইলে খেল জমবে না। আদালতও সরকারের নির্দেশে চলে। বারে বারেই প্রমাণ আদালতের আচরণও সরকারী গোলামীতে হাটে। খবরে প্রকাশ, কম করে হলেও ২০৪১ পর্যন্ত হাসিনাকে আরো দুই মেয়াদে ক্ষমতায় রাখতে হবে (১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭)। এ মন্ত্রী তার বেয়াই খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ আবদার রাখেন। যার খেসারতে জাতিকে এসব নাকানী চুবানী খাওয়ানো হচ্ছে। দেশবাসী কি বুঝতে পারছে না তারা কোথায় যাচ্ছে? কার গোলাম হচ্ছে? দেশ যে কোন পথে হাটছে এটি জাতিকে আগা গোড়াই বুঝতে হবে। এদের দেশপ্রেম কোন শিকেয় ঝুলছে এটি নিশ্চয় জাতি আঁচ করতে পারবে, বিবেককে প্রশ্ন করুন এবং তড়িৎ উত্তরটি সংগ্রহ করুন। জাতি ভীষণ বড় সংকট সময় পার করছে। তবে জনতারা ঘুমিয়ে থাকলে চলবে কেন? দোয়া করি আল্লাহই জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক।

Andolon News | 29 Jan 2017 | এই তাহারা আসলে কাহারা ।

নাজমা মোস্তফা, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭।

সৌদি, কাতার, গণতন্ত্র, আরববসন্ত, ইসলাম – সন্ধানী বিশ্লেষণ

মক্কা হচ্ছে গোটা মুসলিম বিশে^র মিলন কেন্দ্র। এর পরিচালনার নেতৃতে যারা থাকবে, সবার প্রতি তাকে সমান দৃষ্টিতে বহুমুখী তৎপরতার দৃষ্টান্ত রাখতেই হবে। প্রতিটি মুসলিম সদস্য, দেশ গোষ্ঠী এর বড় দাবিদার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি চরম ঘোলাটে অবস্থানে পৌচেছে যা এশিয়ার জন্য শুধু নয়, গোটা বিশে^র জন্য ভূকম্পনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্রাম্পএর সফল সৌদি ভ্রমণে অনেকে অমেরিকার অস্ত্র বিক্রির সফলতা লক্ষ্য করেছেন। কিন্তু এর পর পরই সৌদির কিছু কর্মকান্ডের প্রেক্ষিতে বর্তমান বিতন্ডা অনেক উচ্চাঙ্গে ময়দান গরম করছে। অনেকেই সৌদিকে মাইল ফলক হিসাবে ধরেন কিন্তু বাস্তবে সৌদি ইসলামের সুমহান ঐতিহ্য তুলে ধরে রাখতে এযাবত কতটুকু সমর্থ হয়েছে, সেটি পর্যালোচনার সময় পার হচ্ছে। অতি সম্প্রতি ইউটিউবে মেহদী হাসানের একটি ডিবেটের জবাব দেখছিলাম, তিনি খুব স্পষ্টভাবে বাস্তবতা তুলে ধরেন। তার জবাবেও (নীচে ভিডিওটি দ্রষ্টব্য) এটি স্পষ্ট হয়, ১৪০০ বছর আগের বিশ^ভাতৃত্বের অসাধারণ ইসলাম আর বর্তমান সৌদি আরব বনাম ইসলামকে তুলে ধরেন। সম্প্রতি সৌদির কর্মকান্ডের উপর পক্ষে বিপক্ষে কথা উঠেছে। আরব ঐক্য বজায় রাখার উপরে মুসলিম ব্রাদারহুডসহ তুরষ্কের এরদোয়ানও সরব হয়েছেন। প্রতিটি সচেতনের মাথায় রাখা উচিত জাজিরাতুল আরব কেন কখন কিভাবে সৌদি আরবে রুপান্তরিত হয়। এসব জানতে হলে অবশ্যই শিকড়ের সন্ধান করতে হবে। একমাত্র শিকড়ের সন্ধানেই মৌল ইসলামের সহজ আবিষ্কার সম্ভব। সৌদি যে সংকীর্ণতার দিকে নিজের পরিচয়কে স্পষ্ট করছে, এতে বিশ^ মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর সমাধানের চিন্তা করতে হবে। অনেকে মনে করেন সৌদি যা বলবে যা করবে তাই হবে মুসলিম বিশে^র পথনির্দেশিকা। যারা ইসলামকে এভাবে চিন্তা করেন তারা মূল ইসলামের পরিচয় নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছেন। ইসলাম নির্ধারণ করার প্রধান মাপকাঠি প্রধানত ঐশী নির্দেশিকা আল কুরআন দ্বারা নির্ধারিত ও প্রদর্শিত হয়ে আছে। আজ থেকে চৌদ্দশত বছরেরও আগে এটি গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ হয়েছে এবং সেদিন থেকে এটিই সকল বিতর্কের উর্ধে একমাত্র বিশ^াসযোগ্য পথনির্দেশিকা। আজো প্রতিটি মুসলিম এ থেকে মুখস্ত করেন আর তখনকার বেশীর ভাগ মুসলিমরা এটি আগাগোড়া মুখস্ত করে নিতেন। তাদের নিজের ভাষাতে নাজেল হওয়াতে তারা এটি রপ্তও করেছেন আত্মায় অন্তরে।

কাতার সংকট: অতি সম্প্রতি এর সাথে সঙ্গতি রেখে আর একটি খবর ‘নেতানিয়াহুর কাছে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের চিঠি’ মিডিয়াতে খবরটি আসে জুলাই এর ১১ তারিখে। চিঠির বিষয়বস্তু হচ্ছে ইসরায়েল যেন হিন্দুদের সাথে ও একই সাথে বাংলাদেশের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। “Bangladeshis activist calls for diplomatic relations with Israel” শিরোনামে হিন্দু সংগ্রাম কমিটির প্রধান শিপন কুমার বসু এ চিঠি দিয়েছেন। মিডল ইস্ট মনিটর এর খবর বলছে, এটি পৌছে দেয়া হয়েছে ইসরাইলের দ্রুজ পার্টির নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী মেন্দি সাফাদির মাধ্যমে। যিনি গতবছরও বাংলাদেশের মিডিয়াতে মোশাদ এর এজেন্ট হিসাবে বার বার আলোচিত হন, মনিটর সেটিও উল্লেখ করে ভারতের নরেন্দ্র মোদির সফরেও এ নেতা উদ্দেলিত। দেখা যায় হিন্দুরা জগত শেঠ, উমি চাঁদ, রায় দুর্লভদের মতই যেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর দারস্থ হতে উৎসাহী। তারা এ দেশে বাস করে ভিন দেশ যারা দেশটির মজ্জা চুষে খেতে উদ্যত সময়ে অসময়ে তাদের কাছে ছুটে যায়, আবদারের জায়গা মনে করে। এরা প্রকারান্তরে দেশদ্রোহী আচরণ ধন্য কর্মকান্ড করে চলেছে, এসব তার প্রামান্য দলিল মাত্র। যে ইসরাইল একদল নির্দোষ জনতার উপর খাড়ার ঘায়ের মত চেপে বসেছে তারাই আজ হিন্দুদের অবতার সাজছে। মিডিল ইস্ট সংকটের আরো কারণ বের হচ্ছে। একই সময়ে খবরে প্রকাশ “কাতার সংকটের মূল হোতা ঋণ চেয়ে ব্যর্থ কুশনার”। সংকটের ঠিক আগইে কুশনার ৫০০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছিলেন, যার জন্য আজ মাশুল গুনতে কাতারকে এ সংকটে পড়তে হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসএর সূত্র মতে ২০১৫ সালে ট্রাম্পের নির্বাচন সময়ে কুশনার  শ্বশুরের সম্পদের রক্ষকের ভূমিকায় ছিলেন। প্রথমে কাতারের ধনী ব্যবসায়ী এতে সম্মতও হন এবং পরে একটি চায়নিজ কোম্পানীও মাত্র ৪ বিলিয়ন ঋণে সম্মত হয়েও কয়েক সপ্তাহ পরে তারা প্রত্যাহার করে। একই ধারাবাহিকতায় কাতারও সরে পড়ে। এ ঘটনার পর পরই কাতার সংকটের সূত্রপাত হয়। এর সূত্রে কুটনৈতিক সম্পর্ক ত্যাগ করে সৌদিসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ। একই সাথে ইরানের সাথে সম্পর্কের অভিযোগও আনা হয় (সূত্র: দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট)।

শ্রেষ্ঠ বিবৃতির কুরআন গ্রন্থ:  মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে তীব্র করতেই এসব পথে সংকীর্ণতার পথ চলা সৌদি সরকারের বিশাল বিতর্ক বর্তমান সময়ে জনসমক্ষে স্পষ্ট হতে চলেছে। মিশরে ব্রাদারহুডের দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও তাদের যোগ বিয়োগের মাঝে যোগের পাওনাই বিশাল। কিছু বিয়োগের খেসারত ছাড় দিলে তাদের বিশাল অর্জনকে খেলো করে দেখার কোন যুক্তি নেই। ব্রাদারহুড একটি আদর্শিক দল, তারা কখনোই এতদঅঞ্চলের অন্য দেশগুলির ব্যাপারে অন্যায় হস্তক্ষেপ করার নজির নেই, তাদের বিরুদ্ধে সৌদি যে অপবাদ ছড়াচ্ছে তার ভিত্তি কম, খেলো যুক্তি দিয়ে সৌদি তার কপট স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। ব্রাদারহুড কড়া ভাষাতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগের প্রতিবাদ করে ও নিন্দা জানায়। শুরু থেকেই এ সংগঠনটি নানা রকম নিপিড়ন নির্যাতনের শিকার হয়ে আছে। এত বিপর্যয়ের পরও তার চলাতে মৌলিক নীতিমালাতে শান্তির বিপক্ষে যাওয়ার কোন উদাহরণ তারা রাখে নাই। অপরদিকে শুরু থেকে সৌদির ইতিহাস বিশ্লেষনে ধরা পড়ে অসাধারণ সব গোজামিল কর্মকান্ড যা বিতর্কের জমা বাড়িয়েই চলেছে, কুরআনের নির্দেশণাতে খুঁজে পাওয়া যুক্তি দ্বারা জটিল সময়ে সঠিক পথটি খুঁজে নিয়ে এ থেকে উদ্ধার পাওয়া প্রতিটি মুসলিমের উচিত। চৌদ্দশত বছর থেকে এটি উদাহরণীয় দিকনির্দেশণা

“শ্রেষ্ঠ বিবৃতির একটি গ্রন্থ, সুবিন্যস্ত, পুনরাবৃত্তিময় সৎকর্মীদের জন্য উদাহরণীয় (সুরা যুমার ২৩ আয়াত)” “এ এক পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষ তা জানে না” (যুমার ৮৯ আয়াত)। “এর যা মন্দ তারা অর্জন করবে তা তাদের পাকড়াও করবে এ তারা এড়িয়ে যেতে পারবে না” (যুমার ৫১ আয়াত)।

ইসলাম অবিস্মরণীয় আলোকবর্তিকার নাম: সৌদি আরবের শুরুটা কেমন ছিল? শেষনবী এসেছিলেন ১৪০০ বছর আগে ৫৭০ খৃষ্টাব্দে জন্ম নিয়ে ৬৩২ সালে ইসলাম নামে একটি শ্রেষ্ঠ আত্মত্যাগী সততার মানদন্ডে মানবতার মূল্যবোধে সমৃদ্ধ জাতি গড়ে দিয়ে তিনি ইহধাম ত্যাগ করেন। ১৩০০ বছর পর ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বৃটিশের অনুগত ও সেবাদাস আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ বৃটিশদের অনুমতিতে হিজাজের নাম পরিবর্তন করে নিজ বংশের নাম অনুসারে এই জাজিরাতুল আরবের নাম রাখেন ‘সৌদি আরব’। এটি এ বিশে^র একমাত্র দেশ যেখানে একটি দেশের নাম হয়েছে একটি গোত্রের নাম অনুসারে। স্বভাবতই একজন সচেতনের মনে প্রশ্ন জাগবে তাহলে এটি কি চক্রান্ত নয়? শেষনবী বা তার পরিবার বা তার গোত্র কোন  নামেও কি দেশটি কখনো চিহ্নিত হয়েছিল? অবশ্যই, এটিই সৌদি কৃত এক বড় চক্রান্ত বা প্রতারণার উৎকৃষ্ঠ উদাহরণ। মুসলিম একটি গর্বিত জাত গোষ্ঠীর নাম, যাদেরে যুগে যুগে ষড়যন্ত্রকারীরাই ভাগে ভাগে ভাগ করেছে। প্রধাণত দুইভাগে ও পরে বহুভাগে বিভক্ত করেছে, তারা কুরআনের হিসাবেও আল্লাহর দৃষ্টিতে কঠোর শাস্তির ও যন্ত্রণার শিকার হবে। স্মরণ করুন “আর তাদের মত হয়ো না যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল আর মতভেদ করেছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী আসার পরেও। আর এরা – এদের জন্য আছে কঠোর যন্ত্রণা, (আল-ইমরান ১০৪ আয়াত ও আনআমের ১৬০ আয়াত)।

ধর্ম নয়, রাজনৈতিক চাল: ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায় শুরু থেকে বিভক্ত করার অপরাধে সামিলরা এসব করে শুধু মাত্র রাজনৈতিক সিদ্ধিলাভের জন্য, ধর্মের লাভের জন্য নয়। ধর্মের সর্বনাশ সেদিন থেকেই শুরু, ওরা ছিল ফেতনার উদগাতা, বিভক্তির জন্মদাতা। ইতিহাস বলে সংকীর্ণ স্বার্থে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য মূল গ্রন্থকে পাশ কাটিয়ে রাজদন্ডের নৈতিকতা বিহীন শক্তির আদলে কুরআনকে, ইসলামকে, নীতিকে চরম ভাবে অবহেলা করেছে সৌদরা। সবই হয়েছে নির্মল বিশুদ্ধ পবিত্র ইসলামকে সামনে রেখে, তার সেবক সেজে প্রতারণার কাজটি সমাধা করা হয়। সে শুরুটি আজও চলছে, শেষ হয়ে যায়নি। প্রকারান্তরে এভাবে সৌদ নামধারীরা কালে গোটা মুসলিম বিশে^র অধিকর্তা হয়ে বসে। বৃটিশরা সব সময়ই পরের ঘর দখলে, পরের ঘর ভাংতে দক্ষতা দেখিয়েছে ডিভাইড এন্ড রুলের নীতিকে অবলম্বন করে। এখানে দেখা যায় ঐ বৃটিশকে অবলম্বন করেই এরা জাজিরাতুল আরব বা হিজাজুল আরবএর পরিবর্তন করে এর উপর জবর দখল করে বসে। কার ইঙ্গিতে কোন সাহসে তারা নবীর দেশকে নতুন নামকরণ করলো? তুরষ্ককে ভেঙ্গে দিতে যেভাবে কামাল আতাতুর্ককে বেছে নেয়া হয় ঠিক একইভাবে ইবনে সৌদকেও অনুচর হিসাবে বেছে নেয় বৃটিশরা। এর জন্য প্রতিমাসে তাকে ৫ হাজার পাউন্ড স্টার্লিং ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। প্রথম বিশ^যুদ্ধে তুরষ্ক হেরে গেলে ইবনে সৌদের সাহস বাড়তে থাকে। এরপর এরা আরবের নানা অংশে সেনা অভিযান চালায়। অতপর ১৯২৫ সালে তারা হিজাজের মক্কা, মদীনা শহরসহ জেদ্দাহ, তায়েফ ও ইয়ানবু শহরে তাদের সেনা বাহিনী বিশ ত্রিশ হাজার মুসলিমকে হত্যা (?) করেছিল, যা কোন মতেই ইসলামের কুরআনের শেষনবীর নীতির অংশ নয় ! যেখানে কুরআনের কথা হচ্ছে,  যে বা যারা একজন নিরপরাধকে হত্যা করবে কোন কারণ ছাড়া তা সে যে কোন ভাষার গোত্রের বা ধর্মেরই হোক না কেন, সে যেন সর্ব সাকুল্যে সারা বিশে^র মানুষকেই হত্যা করলো। উল্লেখ্য এ আয়াতটিই (সুরা মায়েদার ৩২ আয়াত) নাজেল হয়েছিল এমন এক সময়ে যখন ইহুদীরা চরম অপরাধী হয়ে আল্লাহর চোখে ধরা খায় বলেই প্রামাণ্য হয়ে কুরআনে এ আয়াতে জায়গা করে নেয়। ঐ সময়ে ইহুদী নামধারীরাই ঐ সময়ের দাগী অনাচারী এবং ঐ সময়ে প্রকৃত ইহুদী অপরাধীরাই এসব নির্দোষ মানুষ হত্যা করতো, তাই তাদের উদ্দেশ্যে সাবধান বানী হিসাবে এটি নাজেল হয়। এ মূল্যবান আয়াতটি কিয়ামত পর্যন্ত অনুসরণ করার মত শক্ত অবলম্বনে ধন্য হয়ে আছে। ঐ সময়ের প্রতারক ইহুদীদের অপরাধের কারণেই তাদের কাছ থেকে মূল ধর্মটি অন্য একদল নির্মল চরিত্রের মানুষ কুলকে দেয়া হয়, যারা ছিল নবী ইসমাইলের বংশধারা। বনি ইসরাইল নামেও একটি সুরা জমা আছে কুরআনে, সারা কুরআন জুড়ে ওদের অপকর্মের সাবধানী সংকেত অনেক অনেক সুরাতে পাওয়া যায়।

আবু হানিফারা চক্ষুশূল: ইবনে সৌদ ময়দানে কুরআনকে সামনে রেখে এ অপকর্ম কেমন করে করলেন আর তার পরবর্তীরা এ অপকর্মের প্রতিবাদ না করে তা নিরবে সয়ে যাচ্ছে আজ অবদি, নিজেরাও অনাচার বহাল রেখেছে। আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ ‘নজদ’ অঞ্চলের মরু অধিবাসী। সুদূর প্রসারী রাজনীতির কপট স্বার্থে ওয়াহাবি সম্প্রদায়ের সাথে তারা জোট বাধে। বৃটিশের চক্রান্ত জগত জোড়া, ভারত বর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী তার উত্তম উদাহরণ। ইবনে সৌদকে ‘রাজার উপাধি’ দেয়া ও মূল নাম বদলে ‘সৌদি আরব’ নামকরণের অনুমতি দেয় বৃটিশরা এ শর্তে যেন তারা ফিলিস্তিনে অবৈধ ইহুদী নামধারীদের বসতিতে গোটা বিশ^ থেকে সদ্য আমদানী করা (ইহুদী যারা বর্তমান ইসরাইলে বসতি করছে) তাদের বিরোধীতা না করে। বর্তমানের গবেষনাতে ধরা পড়ছে এরা কখনোই প্রকৃত ইসরাইলীয়ও নয়। ইতিহাস পর্যালোচনাতে ধরা পড়ে, সৌদি আরব মূলতঃ বৃটিশ ধর্ম পালন করছে বললে কি ভুল বলা হবে? আমরা জানি সত্যনিষ্ঠ ইমাম আবু হানিফাকে প্রধান বিচারক নিয়োগ করার পরও তিনি সেটি নেন নাই শুধু এ যুক্তিতে যে, তাকে দিয়ে অন্যায় বিচার করানোর সম্ভাবনা তিনি আঁচ করেছেন। নিশ্চয় শাসক পক্ষ ষড়যন্ত্রী মনোভাব সম্পন্ন ছিল বলেই এ মুসলিম সাধু নিজেকে নির্মল রাখতে এ অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়ে গেছেন জগৎ বাসীর সামনে। এসব ত্যাগীদের সামনে এসব কপটরা অনেক বড় আসামী। সত্যি কথা বলতে কি এদের নিজেদের পরিচিতি সংকট অস্তিত্ব সংকটই মূলত আজকার মূল সংকটের কারণ। রাজতন্ত্রের যে মিথ্যাচারী অবয়ব তারা ধরে আছে এটি উমাইয়া পিরিয়ডে একইভাবে ষড়যন্ত্রের সুবাদে ময়দানে ঢোকে আর এরাও পরে সেই ষড়যন্ত্রকে আরো পাকাপোক্ত করে। যুগের আবু হানিফারা সব দিনই এদের চোখে চক্ষুশূল।

জিন ইনসান: কথায় আছে অতি বাড় বেড়ো না ঝরে পড়ে যাবে, এত ছোট হয়ো না ছাগলে মোড়াবে। সৌদির অতি বাড়ের খবর আমরা কয়জন রাখি? কয় দশক আগে যখন প্রথম আমাদের স্বজনরা ওদেশে কাজের সন্ধানে প্রবাসী হয়, তখনই সরাসরি তাদের থেকে জানতে পারি সেখানে কোন রাজনৈতিক আলোচনার সুযোগ নেই। ভয়ে কেউ এসব কথা বলে না, কেউ টের পেলে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। তার মানে রাজনীতি এক ধরণের ডাকাতী, একে লুকিয়ে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয় সেখানে, কেন? অবাক বিস্ময়ে এসব শুনেছি, আর শিশুকাল থেকে বেড়ে উঠা মনের মনিকোঠায় পরম শ্রদ্ধার ভালবাসার দেশটির সাথে নিজের মনের অংক মেলাতে কষ্ট হয়েছে ঠিক তখনই। এদের কল্যাণেই ১৯১৭ সালে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সারা বিশ^ থেকে ছুটে আসা কিছু বিচ্ছিন্ন জনতা অন্য কোথাও ঠাঁই না পেয়ে ‘ইসরাইল’ নামের রাষ্ট্রটি জবর দখল করে নিরীহ নিরপরাধ ফিলিস্তিনের উপর চেপে বসে । সৃষ্টির শুরুতে আদম আর ইবলিসের ঘটনা দিয়ে মহান আল্লাহ তার অনাগত বান্দাদের অদেখা অতিভৌতিক বাস্তবতাকে দেখতে শিখিয়েছে, জানতে শিখিয়েছে। কুরআনে বার বার বলা হয়েছে এদের উভয়ের (আদম ও ইবলিসের / জিন ও ইনসানের/ ইনসান ও ইবলিসের) কঠিন পরীক্ষা হবে। এদের দুজনার একজন নরম স্বভাবের মাটির আদলে গড়া, আর একজন উদ্ধত অহংকারী কপটের আদলে অগ্নিমূর্তি, উভয়েই কঠিন বিচারের মুখোমুখি হবে। কুরআনে সুরা আর রহমানে বারে বারে বলা হয়েছে এদের উভয়ের বিচার বরাদ্দ আছে, উভয়ের কাছে নবীরা এসেছেন। সুরা আর রহমানে দুটি সত্ত্বাকেই উদ্দেশ্য করে সাবধানী সংকেতে বলা হচ্ছে উভয়ে মাপঝোক সঠিকভাবে করবে, ফলফলাদি, গাছগাছালি, খেজুর, শস্যদানা  উভয়ের খাবার, তারপরও তোমরা উভয়ে আমার (আল্লাহর) কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে বলে প্রশ্ন করা হয়েছে একবার নয়, বারে বারে (সুরা আর রহমান ৮-১৩)। সমস্ত কুরআন জুড়ে গবেষনার উপাত্ত ভান্ডার লুকিয়ে আছে চিন্তাশীলদের জন্য। বাইবেলের অনেক গল্পকে কুরআনের অনেক অনুসারীরা বাইবেলের অদলেই গ্রহণ করে নিয়েছেন যদিও কুরআন সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে তার সত্যকে উপস্থাপনা করেছে, সেখানে বাইবেলের মত গড়ে উঠা কোন বিতন্ডার সুযোগ নেই। যার জন্য কুরআন বাইবেলের একদম হুবহু রিপ্লিকা নয়। অনেক ক্ষেত্রে সাদৃশ্য যেমন বর্তমান ঠিক তেমনি একটা স্বাতন্ত্রমূলক পার্থক্য উভয় গ্রন্থে বর্তমান। এসব পার্থক্যই প্রমাণ করে এটি বাইবেল থেকে কপি করা কখনোই নয়। একজন অক্ষর জ্ঞানহীনের সৃষ্ট কাজ এটি নয়। “এ কিতাব বিশদভাবে ব্যাখ্যাকৃত, আর যাদের গ্রন্থ দিয়েছিলাম তারা জানে যে, এটি অবতীর্ণ হয়েছে তোমার প্রভুর নিকট থেকে সত্যের সাথে, অতএব তুমি (মুহাম্মদ) সন্দিহানদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না” (সুরা আল-আনআমের ১১৫)। আবার দুনিয়ার বেশীরভাগের অনুসরণ না করতেও বলা হয়েছে, কারণ তারা অসার বিষয়ের অনুসরণ করে আর আন্দাজের উপর চলে (ঐ সুরার ১১৭ আয়াত)। আদম ও ইবলিস দুটি পক্ষ, বাইবেলের রুপক গল্পটি অনেক সত্য উন্মোচনের জন্যই আদিষ্ট হয়েছিল। মানব জাতির জন্য এসব ঘটনার মাঝে লুকিয়ে ছিল অসাধারণ গবেষণা লব্ধ সূত্রসমূহ। কুরআনেও এর ইঙ্গিত এসেছে বারে বারে। বিবরণে প্রকাশ ইবলিস আল্লাহর আদেশ পালন না করাতেই তার পরিচিতি স্পষ্ট হয়, সে স্বভাবে বেয়াড়া, বেআদব ও চরম উদ্ধত অহংকারী। যার পরিণতিতে তার জায়গা হবে জাহান্নামে, সে বিতাড়িতদের একজন। অনেকে গল্পের শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলেন, মনে করেন সে ফেরেশতাদের একজন ছিল, কিন্তু না, সে কখনোই ফেরেশতা ছিল না, সে এক আগুনের গোলা, অহংকারীতে ভরা এক নরকগামীর আগাম পরিচয়ধারী তোমাদের শত্রু, শয়তান দলভুক্ত, জিনদের মধ্যকার (সুরা আল কাহফএর ৫০ আয়াতে), কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত (বাক্কারাহ ৩৪ আয়াত) এভাবে কুরআনে তার পরিচয় স্পষ্ট। শয়তানরা কখনোই আল্লাহর অনুগত নয়। সত্যের নীতির আল্লাহর বিরুদ্ধাচারনই তাদের মূখ্য ভূমিকা। ফেরেশতারা সব সময় আল্লাহর  অনুগত। আল্লাহ কুরআন এটি স্পষ্ট করে যে এরা সব নবীকেই বিপদে ফেলার চেষ্ঠা করেছে। এককালে আরবের কুরাইশরাই ছিল আরবের জিন, বদর ওহুদ খন্দকসহ আজীবন তারা নবীর বিরুদ্ধাচারণ করেছে। “এইভাবে আমরা প্রত্যেক নবীর জন্যে সৃষ্টি করেছি শত্রু, মানুষ ও জিনের মধ্যকার শয়তানদের থেকে (আনআমএর ৬:  ১১২ আয়াত)”। প্রতিটি বিশ^াসীর সামনে বিরাট গবেষনার সূত্র লুকিয়ে আছে। গোটা বিশে^র মানুষ এমনই গাফেল হয়ে আছে যে, আদমকে খুঁজে পেলেও ইবলিসকে খুঁজে পায় না। যদিও ইবলিস যুগে যুগে প্রতিটি জাতিতে গোষ্ঠীতে প্রতিটি অপরাধীর ঘাড়ে সয়লাব হয়ে বিজয় উল্লাসে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

শুরু থেকে অনেক প্রশ্নে বিদ্ধ সৌদি: অভিযোগ আক্রান্ত কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবাদ করেন, মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে কিভাবে আমরা আত্মসমর্পণ করবো? সৌদির দৃষ্টিতে ইরানের সাথে সম্পর্ক রাখা বিরাট অপরাধ। কিন্তু আল্লাহর হুকুম এ সত্যধর্মে বিভেদ রেখা টানা যাবে না। কাতারিদের মসজিদুল হারামে ঢুকতে দিচ্ছে না সৌদি আরব। প্রশ্ন হচ্ছে নিজের স্বার্থপরতা, একদর্শীতা, সংকীর্ণতা, অপরাধ সৌদি কেন দেখতে পায় না? সৌদি কি সব বিচারের উর্ধে? শেষ নবী পর্যন্ত সারাক্ষণ সন্ত্রস্ত থেকেছেন পাছে কোন গাফিলতি ধরা পড়ে। তাই বিদায় হজ্জ্বে উপস্থিত হজ¦যাত্রীদের সামনে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে নবী এটি স্পষ্ট করেন যে তিনি গুরুত্বের সাথে তার প্রতিটি কাজ সমাপন করেছেন। উপস্থিত দশ হাজার জনতা এক বাক্যে তার কর্মকৃতিত্বের স্বীকৃতি দান করেছে। স্মরণ রাখতে হবে সৌদি মানেই ইসলাম নয়, ইসলামের জন্ম ঐ ভূমিতে হওয়াতে এখনো অনেক অসাধারণ উদাহরণীয় বাস্তবতা সেখানে বর্তমান, তারপরও জাহেলিয়াতির জন্মভূমি হিসাবে অনেক অনাচারও সেখানে থাকতে পারে, সেটি ভুলে গেলে চলবে না। একমাত্র সত্য, যুক্তি ও বিবেক আসলকে চিহ্নিত করতে সক্ষম। কারণ সপ্তম শতাব্দীতে যে সব ইবলিসরা আইয়ামে জাহেলিয়াতিকে সাদরে আপ্যায়ন করেছিল, ষড়যন্ত্রকারীরা সেটি ধরে রাখবে না, তা বলার অবকাশ কম। সৌদি কতটুকু ইসলামিক অর্জন ধরে রেখেছে? কোন যুক্তিতে সৌদি বাদশাহরা ১০০টি বিয়ে করেন? কোন যুক্তিতে সৌদি সরকার মেয়েদের ড্রাইভিংএর অনুমতি দেয় না? কুরআন বিরোধী মিসরাহ বা মুতাহ বিবাহের অনুমতির ফতোয়া তারা কিভাবে দেয়? এসব মৌলিক প্রশ্নে তারা কেন প্রশ্নবিদ্ধ? অনেক অনেক অপরাধীকে যে ভাবে কঠোর শাস্তি দেয়া হয়, প্রায়ই শোনা যায় লঘু পাপে গুরুদন্ড এসব কিসের আলামত? ইসলামিক ন্যায়বিচার সেখানে কতটুকু অনুসরণ করা হয়? সেসব বিশ্লেষণ করা জরুরী। যে কেউ মুসলিম যদি কুরআন বিরুদ্ধ কাজ করে, অতি অবশ্যই প্রতিটি মুসলিমের তার প্রতিরোধ করা উচিত সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে।

তুরষ্কে এরদোয়ান: স্মরণ যোগ্য উদাহরণ হতে পারে এরদোয়ানকে কেন তুরষ্কের মানুষ পছন্দ করে? সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে দেশটির হাজার হাজার জনতা রাস্তায় নেমে আসে। অনেকে ট্যাঙ্কের নীচে শুয়ে পড়ে থামিয়ে দিয়েছে ষড়যন্ত্রকারীর দেশ বিরোধী অভ্যুত্থান। এর প্রধান কারণ তিনি ছিলেন জনগণের প্রতিনিধি, ইস্তাম্বুলের মেয়র কালীন (১৯৯৪-৯৮) যে বৈপ্লবিক দুর্নীতি দূর করা সহ বাজেটের টাকাকে লুটেপুটে না খেয়ে জনগণের প্রকৃত কাজে এমনভাবে ব্যবহার করেন যে জনতারা প্রতিটি সেক্টরে উপকৃত হয়। তাদের দুই বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করে চার বিলিয়ন শহর উন্নয়নে ব্যয় করে অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা থেকে দেশকে আলোর পথে আশার পথে নিয়ে আসেন। দেশটির জিডিপি এমন উচ্চতায় নিয়ে পৌছান যে দেশবাসী তা নিয়ে গর্ব করে। তারা আশা করে আগামী দশ বছরে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দেশে পরিণত হবে। সততা, শৃংখলা, ন্যায়বিচার, নীতি নৈতিকতা ব্যতীত এসব অর্জন সম্ভব নয়। স্বৈরাচার, উৎপীড়ন, লুটপাটের বানিজ্যে যারা জড়িত তারা এসব অর্জনের স্বপ্ন দেখতে পারে না। বাস্তবভিত্তিক ইসলামিক মূল্যবোধ একটি বড় চালিকা শক্তি যার উপর ভিত্তি করে তুরষ্ক এগিয়ে চলেছে। বলতে দ্বিধা নেই কিছু বিতর্কীত অর্জনে সৌদি অনেক পিছিয়ে, তার সাম্প্রতিক কর্মকান্ডই বড় প্রমাণ, সৌদি যেন ন্যায়বিচারের ন্যায়কে কেটে দিয়ে শুধু বিচারকে বহাল রেখেছে। নির্যাতীতরা তার কাছে সন্ত্রাসী, যাদের দিকে তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার কথা, তাকে সে আরো বেশী পেষণ করতে চাচ্ছে। গণতন্ত্র না হয়ে রাজতন্ত্রই তার ঢাল হয় কেমন করে? ইসরাইলের মত একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রকে তারা ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে কেন?

ইসরাইল ঘোষনা: ১৯১৭ সালের ২রা নভেম্বর বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যালফোর ফিলিস্তিনে ইসরাইলের ঘোষনা ব্যালফোর ঘোষণা নামে ইতিহাসখ্যাত। এর আগেই আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদের কাছ থেকে লিখিত সম্মতিপত্র আদায় করে বৃটিশরা। হাওরের গরু আর মামা শ^শুরের দান। স্বল্প মূল্যে সৌদকে কিনে নেয় বৃটিশরা কারণ এখানে উভয়েই অপকর্মে দৃশ্যমান ছিল বলেই এটি সহজ হয়। শর্তটি দেখুন। “I am King Abdul Aziz Ibne Abdur Rahman – From the Faisal’s and Saud’s dynasty, thousand time I assured that and with knowing all I recommend in front of that honorable British governments representative Sir Kukas that if British government donate the Palestine to the poor Jews then I have nothing to raise protest against that. Basically I will not go beyond the British government upto Qiyamah. Nasirul Syeds book “Ale Saud’s History”.

“আমি বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুর রহমান – ফয়সলের বংশধর ও সৌদের বংশধর। হাজার বার স্বীকার করছি ও জেনেশুনে বলছি যে, মহান বৃটিশ সরকারের প্রতিনিধি স্যার কুকাসএর সামনে স্বীকারোক্তি করছি এই মর্মে যে, গরীব ইহুদীদেরকে বা অন্য কাউকে বৃটিশ সরকার যদি ফিলিস্তিন দান করে দেন তাহলে এতে আমার কোনো ধরণের আপত্তি নেই। বস্তুত: আমি কিয়ামত পর্যন্ত বৃটিশ সরকারের অভিমতের বাইরে যাব না” (নাসিরুস সাইদ প্রণীত আলে সৌদের ইতিহাস)।

কার নির্দেশে তারা কিয়ামত পর্যন্ত বৃটিশের গোলামীতে নিজেকে সম্পৃক্ত করে দিল? এরা কি আল্লাহর ভয়ে ভীত থেকেছে বা তার নির্দেশণাকে অনুসরণ করেছে, ইতিহাসের এসব জমা হয়তো কিয়ামতের মাঠেই এর জবাব তার বস্তুনিষ্ট আলোকধারীদের দিতে হবে। ঐ প্রস্তুতি অতি অবশ্যই প্রতিটি সত্যনিষ্ঠ চিন্তাশীল সচেতনকে অর্জন করতে হবে।

“Once in 1945, King Abdul Aziz Saud delivered a message against the construction of the Jewish country Israel. Immediately British government and Jewish two lobbyist came and contracted with King Abdul Aziz and let his remembered about the agreement of the previous assurance. Then King told them “in favor of the Jews what the things I will do should confidence on that. What I am saying is not important what I am doing should focus on that. Because It was another kind of forgery to hold the trickery I cannot hold the power if I am not talking like that.” (Nasirul Syed’s book Ale Saud’s History, page 953) After hearing this both the members got happy and left.” একবার (১৯৪৫ সালে) বাদশাহ আব্দুল আজিজ সৌদ ইহুদীবাদী ইসরাইল গঠনের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিবৃতি আসে। সঙ্গে সঙ্গে বৃটিশ সরকার ও বাহুদীবাদীদের পক্ষে দু’জন প্রতিনিধি এসে আব্দুল আজিজের সাথে দেখা করে এবং বাদশাহকে তার সম্পাদিত সম্মতি পত্রটির কথা মনে করিয়ে দেয়। তখন বাদশাহর জবাব ছিল, “আমি ইহুদীদের স্বার্থে কার্যত যা করে যাব তার উপর বিশ^াস রাখবেন। কি বলছি তার দিকে লক্ষ্য করবেন না। কারণ এ ধরণের কথা না বললে আমি টিকে থাকতে পারবো না” – (নাসিরুস সাইদ লিখিত ‘আলে সৌদের ইতিহাস’,  পৃ-৯৫৩)। বাদশাহর এ কথা শুনে বৃটিশ সরকারের ও ইহুদীবাদীদের প্রতিনিধি খুশী হয়ে ফিরে যায়। প্রায়ই এখানে ওখানে দেখা যায় সৌদি ইসরাইলের আঁতাত, আমরা নিজের চোখকে বিশ^াস করতে পারি না, মনকে প্রবোধ দিতে পারি না, আবার ভুলে যাই। তারা যে প্রতারণার খেলা খেলছে, এটি স্পষ্ট। তাদের উপরোক্ত যুক্তি এসব মিথ্যাচারের ষড়যন্ত্রের প্রামাণ্য দলিল মাত্র !

ষড়যন্ত্র: ১৯১৪ সালে স্বাক্ষরিত আল আকির চুক্তি অনুযায়ী সৌদ তুরষ্কের বিরুদ্ধে বৃটিশকে সহায়তা দেয়, বৃটিশ নাগরিক ও ব্যবসার রক্ষণাবেক্ষণের অনুমোদন দেয়। বিনিময়ে বৃটিশও প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করার অনুমোদন দেয়। দেখা যায় সৌদ পরিবারের লড়াইটি ছিল ওসমানিয়া সা¤্রাজ্যের বিরুদ্ধে, ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে, তূর্কী খেলাফতের ধ্বংস সাধনেও সৌদি রাজা আব্দুল আজিজ বৃটেনের সাথে হাত দাগিয়েছেন। রাজতন্ত্রের আদলে সৌদ রাষ্ট্র সৃষ্টি ছিল বৃটিশের একটি বিভৎস আবিষ্কার। ইসলামই একমাত্র গণতন্ত্রের প্রধান সূতিকাগার হওয়ার পরও কিভাবে ইসলামে রাজতন্ত্র এসে আসন গেড়ে বসে এসব তার অনবদ্য নিদর্শণ। এর আগের ইতিহাস ঘাটলেও আমরা এর অতীত কৃত কপটদের সন্ধান পাই যারা এ ধর্মটিকে বিভক্ত করে দুভাগ করেছিল তাদের কপট স্বার্থে আর সেখানে যুগ যুগ অবধি দেশীয় কপটদের সাথে সব সময়ই আন্তর্জাতিক চক্রান্ত লুকিয়ে ছিল, এসব স্পষ্ট হওয়া সময়ের বড় দাবী। প্রথম ষড়যন্ত্র কালীন মাসিক ৫ হাজার পাউন্ড, চুক্তি অনুযায়ী বৃটিশ সরকার সৌদ পরিবারকে প্রতি বছর ষাট হাজার পাউন্ড ভাতা দিতে থাকে। শুরুতে স্যার কুকাসকে সৌদি রাষ্টের উৎসবের উদ্দেশ্যে পাঠালে তাকে রাজা উপাধিতে ভূষিত করতে কুকাসের ভাষ্য ছিল, হে আব্দুল আজিজ, আপনি শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এটি ঠিক যেমন মিরজাফরকে তেল মেরেছিল উঁমিচাঁদগং ও বৃটিশরা। রাজার উত্তর ছিল, ‘আপনারাই আমার এ ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি করেছেন ও এ সম্মান দান করেছেন। যদি মহান বৃটিশ সামাজ্য না থাকতো তাহলে এখানে আব্দুল আজিজ আল সৌদ নামে কেউ আছে বলেই জানতো না। আমি তো আপনাদের মাধ্যমেই ‘আমির আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ’ শীর্ষক খেতাবটি অর্জন করতে পেরেছি। আমি আপনাদের এই মহানুভবতা আজীবন ভুলব না। আর আমার বিগত আচরণ ছিল আপনাদের সেবক ও অনুগত (গোলাম) হিসাবে আপনাদের ইচ্ছাগুলো বাস্তবায়ন করা। বৃটিশের দেয়া মেডেল রাজা আজিজের গলায় পরিয়ে কুকাস বলেন অচিরেই আপনাকে হিজাজের বাদশাহ ও হিজাজকে ‘সৌদি সামাজ্য’ ঘোষনা করা হবে। এ কথা শুনে আজিজ কুকাসের কপালে চুমু খেয়ে বলেন,

“আল্লাহ যেন আমাদেরকে আপনাদের খেদমত করার ও বৃটিশ সরকারের সেবা করার তৌফিক দেন।(মুহাম্মদ আলী সাইদ লিখিত ‘বৃটিশ ও ইবনে সৌদ, পৃষ্ঠা ২৬)। তথ্যসূত্রগুলো: সরওয়াতুস সৌদিয়া, ৩৯ পৃষ্ঠা/ বৃটিশ ও ইবনে সৌদ, পৃষ্ঠা ২০/ নজদ ও হিজাজের ইতিহাস, পৃষ্ঠা ২১০।

কেমন বর্বরতা! :খবরের শিরোনাম, কাতারের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দিলেই ভয়াবহ পরিণতি। কাতারি হজযাত্রীদের মক্কার মসজিদ আল হারামে ঢুকতে দিচ্ছে না, সৌদি কর্তৃপক্ষ কাতারি পত্রিকা আল শারক এর বরাতে এ খবর দিয়েছে বিবিসি ও রয়টার্স (জুন ১২, ২০১৭) । এখানে আমি সাম্প্রতিক খবরের শিরোনাম আনলাম যাতে সৌদির কর্মকান্ড বুঝা যাচ্ছে। এভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস অনেক কষ্টেভরা, চাতুরামী ও অনৈতিকতার দায়ে ভরা। এর পিছনে স্থানীয় ও অস্থানীয় বড় ইবলিসরা প্রচন্ডভাবে কর্মরত। এখন ইরানকে প্রতিপক্ষ ধরে সৌদি নিজেকে নিষ্পাপ নবীর সঠিক উত্তরসুরী বোঝাতে চাইলেও উপরের ঘটনাগুলো কি সংবাদ বিলি করে সেটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে প্রতিটি চিন্তাশীল মুসলিমকে। কুরআনে বারে বারে বলা আছে এখানে চিন্তাশীলদের জন্য খোরাক জমা আছে। সঠিক গবেষণা ব্যতীত কোন দিনও সত্যকে উন্মোচন করা সম্ভব নয়।

সৌদির বড় ভয় রাজতন্ত্র: বিশ্লেষনে দেখা যায় সৌদির বড় ভয় রাজতন্ত্রকে যা ইসলামের সাথে খাপে খাপে যায় না। ইসলামের সাথে সংঘর্ষ ছিল রাজতন্ত্রের প্রতাপের, দন্ডের, অবিচারের, জাহেলিয়াতির, অনাচারের। এসব বিলোপ করতেই ঐ নবীর আগমন হয়েছিল এ পৃথিবীতে। যদিও তারা যুগ যুগ থেকে রাজতন্ত্রটি ধরে আছেন যদিও নবীর যুগে বা সাহাবীদের যুগে এটি অনুপস্থিত ছিল। আরব বসন্তে তাদের নাড়িভুড়িসহ ভিত কমবেশী নড়ে উঠেছে। তাই এবার কাতারিদের কর্তৃত্ব কাটতে অতিরিক্ত তৎপর রাষ্ট্র সৌদি। সবচেয়ে বড় হুমকি তাদের কাছে ইরান, শাহের ইরান হলে তারা সখ্যতা গড়তো, এটি কিন্তু শাহের আমলের ইরান নয়, তাই যত বিতন্ডা। সম্প্রতি জাতিসংঘের ফিলিস্তিনী বিষয়ক বিশেষ কমিটি ইসরাইলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের নিন্দা জানায়। কঠোর দমন পীড়নসহ, বিনাবিচারে আটক, শিশুদের নির্বিচারে আটক, সব ধরণের নিরাপত্তাহীন, অমানবিক আচরণসহ জটিল পরিস্থিতির মুখে ফিলিস্তিনীরা (সূত্র: পার্সটুডে)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর দ্বিমুখী নীতি লক্ষ্য করার মত। প্রমাণ হিসাবে সাবেক মার্কিন রাজনীতিবিদ রন পল টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন ইরানের বিরুদ্ধে বাকস্বাধীনতার লংঘনের অভিযোগ করেন অথচ রাজতান্ত্রিক সৌদি আরবে মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা লংঘনের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেন না। সাংবাদিকরাও এ নিয়ে কেন টিলারসনকে কিছু জিজ্ঞাসা করেন না, সেটিও স্পষ্ট করেন তার বক্তব্যে (সূত্র: পার্সটুডে)। ।

১৯৭৯ সালের শাহের যুগের পরের ইরান সৌদির জন্য বিষবৎ কেন? এখানে দেখা যায় ইরানের সাথের লড়াই শিয়া সুন্নীর লড়াই নয়, বরং রাজতন্ত্র রক্ষার লড়াই। এখানে ইরান শত্রু কারণ সে নির্যাতীতের পক্ষ সমর্থন করছে। ইসলাম সর্বযুগে নির্যাতীতের পক্ষে দুহাত আগলে দাঁড়িয়েছে। এরা সব সময় নির্যাতীতের পক্ষে দাঁড়ায় যেখানে সৌদি হচ্ছে নির্যাতন করার পক্ষে। সঙ্গত কারণে হামাস, হিজবুল্লা, ও ব্রাদারহুডের সংগ্রামে ইরানের সমর্থন থাকলে তাকে বেশী মানবিক মনে হবার কথা। যেখানে সৌদি অমানবিক, ইসরাইল সমর্থক, ইসলামের সাথে চরমভাবে বেমানান।  আল কুরআনে সুরা মায়েদার ৮২ আয়াতে এটি স্পষ্ট করেই বলা যে, নবীকে বলা হচ্ছে “তুমি নিশ্চয় দেখতে পাবে যারা ঈমান এনেছে তাদের মাঝে শত্রুতায় সব চাইতে কঠোর হচ্ছে ইহুদীরা ও যারা শরিক করে। আর নিশ্চয় তুমি আবিষ্কার করবে যে, যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে বন্ধুত্বে সবচাইতে ঘনিষ্ট হচ্ছে ওরা যারা বলে ‘নিঃসন্দেহ আমরা খৃষ্টান’ এটি এ জন্য যে তাদের মাঝে রয়েছে পাদ্রীরা ও সাধু সন্যাসীরা আর যেহেতু তারা অহঙ্কার করে না” (সুরা মায়েদার ৮২ আয়াত)। কোনভাবেই সৌদিকে কুরআনের নির্দেশ পালনের দিকে দেখা যাচ্ছে না। দেখা যায় কুরআনের হিসাবে শত্রুতার শিরোভাগে ইহুদী ও শিরকধারী অংশীবাদীরা শীর্ষে।  সৌদি সরাসরি আল্লাহ বিরোধী আদেশই অনুসরণ করছে।

ইসরাইলের ষড়যন্ত্র: আল আকসা মুসলিমদের প্রথম কিবলা, সে মসজিদে ফিলিস্তিনিদের নামাজ পড়তে দিচ্ছে না ইসরাইল (০১ জুলাই ২০১৭, সূত্র: পার্সটুডে)। ইসরাইল সৃষ্টির পর থেকেই এরা সব আন্তর্জাতিক আইন, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিরোধী কাজ যোগান দিয়ে যাচ্ছে। মুসলিমদের ধর্মীয় অনুসঙ্গ নামাজে প্রতিরোধ করে তারা বোঝাতে চায় যে ফিলিস্তিনের সব অধিকার তারা ধ্বংস করে দিয়েছে, সব এখন ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে। মুসলিমদের সব কিছু নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আজানও বন্ধ করে দিয়েছে। মাত্র বছর দিন আগে জাতিসংঘের শিক্ষা সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো বলেছিল, আল-আকসা মসজিদসহ বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের ইসলামী স্থাপনার সাথে ইহুদীদের কোন ধরণের ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নেই। কিন্তু বাস্তবে বছরের প্রায় ২০০ দিনই মুসলিমদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইল। প্রথমত কিবলার অনেক অংশকে তারা তাদের সম্পত্তি দাবী করছে, উদ্দেশ্য আল-আকসা বিচ্ছিন্ন করা। উন্নয়নের অজুহাতে সুড়ং খোঁড়াসহ ঐ অঞ্চলের মসজিদের অস্তিত্বকে বিপন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য ১৯৯৪ সালে জর্দানের সাথে করা এক চুক্তিতে তারা অঙ্গীকার করেছিল যে কখনোই আল-আকসা মসজিদের সীমানায় তারা প্রবেশ করবে না। কিন্তু ট্রাম্প আসার পর বায়তুল মোকাদ্দাস শহরসহ ফিলিস্তিনী অঞ্চলে ইসরাইলের ষড়যন্ত্র ধারণার চেয়েও বেশী জোরদার হচ্ছে। অনেকের মতে, তাদের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মনে হয় সব অইহুদীদের  ধর্মীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চায়। ১৯ জুলাই ২০১৭ তারিখে মানবজমিনের বরাতে আল জাজিরার খবরে প্রকাশ ফিলিস্তিনী দের শংকা ইসরাইল গোপনে ঐ স্থাপনায় ফের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে। জেরুজালেমের পবিত্র এলাকাটিতেই রয়েছে আল আকসা মসজিদ ও ডোম অব দ্য রক। মক্কা ও মদীনার পর এটি ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান।

ভারত: “ফিলিস্তিন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল ভারত” (০৯ জুলাই, প্রথম আলো)।  ইসরাইলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরে নরেন্দ্র মোদি নেতানিয়াহুকে বহু জনমের দোস্তের মতই বুকে জড়িয়ে ধরা, সাগর পারে খালি পায়ে হাটা, ফেসবুকে কৃতজ্ঞতা জানানো, সবই অসাধারণ। ওদিকে পাশেই রামাল্লাহ, ছিল সম্পূর্ণ অচেনা, বাতিলের খাতায় ঢেকে রাখা, সেখানে যাওয়ার বা কোন ধরণের যোগাযোগের দাগও নেই, যদিও আমৃত্যু একটি বন্ধুত্বের আবরণ এতদিন ছিল। নেহরুর সময়ই ভারত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু বহুদিন থেকেই একটি অদেখা সম্পর্ক ছিল গোপন। দৃশ্যতঃ তৃতীয় বিশে^ ইসরাইলের শুরু থেকেই বন্ধু ঘাটতি প্রকট। রাশিয়া সবদিনই ভারতের বড় হাত ছিল, এবার প্রকাশ্যে ইসরাইলও যোগ হলো। মজার ব্যাপার হচ্ছে এতদিন ভারত ইসরাইলের সম্পর্ক ছিল বেশ লুকোচুরির মাঝে যেন অন্যেরা না দেখে, মানুষ মন্দ বলার সুযোগ ছিল। এবার বেশ ফুরফুরে মেজাজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিন্দনীয় বন্ধুত্বকে স্পষ্ট করেন। এর প্রধান কারণ যেখানে আরবরাই তাকে বন্ধু ভাবছে, সেখানে আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো? সচেতনরা দরাজ ভাবে চিন্তার দরজা খুলে দিন। আরববসন্ত কি শুধু তিউনিসিয়ার জন্য এসেছিল, আর বাকীদের জন্য কিছুই নয়। তিউনিসিয়ার সেই যুবকের মত প্রতিটি জাতিকেই কি গায়ে আগুণ দিয়ে রাজতন্ত্রের ক্ষত দেখাতে হবে? অধিকার আদায় করতে জনতার মূল্যায়ন করতে শাসক শ্রেণীর কপট শোষণকে রুখে দিতে গণতন্ত্রই হচ্ছে যুগের শ্রেষ্ঠ মত ও পথ। ঐ গণতন্ত্র কিন্তু ভারতেরও আছে আমেরিকারও আছে, ভারতে এত গণতন্ত্র থাকার পরও সারা বছর মুসলিমরা মার খায়, তাদের সে সাম্প্রদায়িক খবরও তারা আড়াল করে রাখে মিডিয়াতে প্রকাশ করে না, ছাপে না, সম্প্রতি এটিও প্রকাশ পায়। এ ক্ষেত্রে আমেরিকা অনেক প্রশংসা পাওয়ার দাবীদার। “সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার খবর কেন ছাপে না পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম” (জুলাই ৮, ২০১৭, আমার দেশ) এটি ছিল খবরের শিরোনাম, সম্ভবত পাছে লোক জানাজানি হয়। তাহলে সুবিধা একটাই সারা বছরই সংখ্যালঘু অবাধে  নির্যাতন নিধন করা যায় ১৯৪৭ থেকে ২০১৭। এর মাঝে জুলাইএর ৯ তারিখে “দিল্লীর রাজপথে মহিষ নিয়ে যাওযার পথে গোরক্ষকদের তান্ডব”  ভারতে এসব নতুন কিছু নয়। মুসলিমদের বাড়ীতে আগুন, পিটুনিতে হত্যার ঘটনা, গরুর মাংস খাওয়ার অপরাধে ১৫ বছরের কিশোর জুনায়েদকে চলন্ত ট্রেনেই ছুরিকাঘাত করা, এরকম যুগ যুগ থেকেই আখলাকদের পিটিয়ে মারা হয়,  মরার জন্যই ওদেশে জন্মায়, অপমৃত্যুর শিকার হয়। পরে জানা যায় ঐ মাংস মা-গরুর ছিল না, ছিল খাসি মাসির। তারপরও ভারতে গণতন্ত্রের মর্যাদা কি ভাবে পবিত্র থাকে? এবার মূল দিল্লীতেই গোরক্ষকরা নিজের শক্তির জানান দেয়। ছয় ব্যক্তি ৮০ টি মহিষ নিয়ে কসাই খানাতে বৈধ কাগজপত্রসহই যাচ্ছিলেন। পথে দিল্লীর হরিনাথ ট্রাক থামিয়ে জনতাকে মারধর করে গোরক্ষকরা। হাসপাতালে নিতে পাঁচজনকে ছেড়ে একজনকে আশংকাজনক বলে জানায়। সেদেশে সংখ্যালঘুর কোন ধর্ম থাকতে নেই, অধিকার থাকতে নেই। ভারতের দিল্লীসহ দেশটির বহু জায়গায় গোহত্যা নিষিদ্ধ। গত এপ্রিলে ছত্রিশগড়ের মূখ্যমন্ত্রী রমন সিং ঘোষনা দেন, রাজ্যে কেউ গরু জবাই করলে শাস্তি মৃত্যুদন্ড, ফাঁসি দেয়া হবে। এই জুনে মোদির আহবান ছিল গোহত্যার বিরুদ্ধে মানুষ খুন না করতে। এর কয় ঘন্টার মাঝেই ঝাড়খন্ডে উগ্র হিন্দুর হাতে খুন হন মুসলিম য্বুক। (সূত্র: দ্য হিন্দু, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া)। কি পাশবিক ভারতের গণতন্ত্র ও তার প্রয়োগের বাস্তবতা অন্তত সংখ্যালঘুর জন্য ! স্বাধীনতার ৭০ বছরেও তাদের বোধদয় হলো না !

কর্মতৎপর কাতারই কপটদের কাল: কাতারকে তারা ধন্যবাদ দিতে পারতো, তা না করে তারা তাকে প্রতিরোধে নেমেছে কারণ তাদের কপট সংকীর্ণ স্বার্থ। ‘বিমানে চড়ে কাতার যাচ্ছে চার হাজার গরু’ দেশটিতে যাতে দুধের সংকট না হয় সে জন্য কাতারের এক ব্যবসায়ীর পরিকল্পনা এটি। তবে প্রথমে প্রস্তুত ছিল জাহাজে আনার, পরে গবাদি পশুর বিমান ভ্রমণ বর্তমান রাজনৈতিক জটিলতায় সৃষ্ট, পশুদের জন্য এটি হবে ইতিহাসে বেশ বড় খবর। জাহাজের বদলে অবরোধের কারণেই বিমানের ভাবনা (১৩ জুন ২০১৭)। গত ৫ জুনে অবরোধ অরোপিত হয়। ছিন্ন করা দেশগুলো থেকেই দুধসহ টাটকা খাবার দাবার ও নির্মাণ সামগ্রি আসতো। মুসলিম বিশে^র এই উন্মাদনার কারণ হচ্ছে ইসলামের মূল আদর্শের সাথে বিরোধীরা(?)টিকতে না পেরে মূল থেকেই ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। সেটি যুগ যুগ অবদি চলছে। কিছু আগের ইতিহাস বলছি। ইয়েমেনে হুতি শিয়াদের বিনাশ করতে সৌদি (সুন্নী) বেপরোয়া বোমা ফেলেছে। ইরান ছিল হুতিদের পক্ষে। ওদিকে পাকিস্তান, তুরষ্ক মিলে ১০/১২টি দেশ সৌদির সাথে ছিল। ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরোধ ছিল। ওবামার শেষ সময়ে ইরানের সাথে কিছু সমঝোতা হলেও ট্রাম্প প্রশাসন সব ক্ষেত্রেই লঙ্কাকান্ড বাধাচ্ছে। সৌদি চাইছে কাতারের বিদেশনীতি তার থেকে ভিন্ন হতে পারবে না। কাতারের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার এমন কি তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে অন্য জ্ঞাতি ভাইকে ক্ষমতায় আনার হুমকিও চলছে। সৌদি আরবে কাতারের বার্সার জার্সি পরলেই জেল জরিমানা, (১৩ জুন, ২০১৭)। কাতারের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের যে অভিযোগ তুলেছে তার সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ দিতে পারে নি অবরোধকারী আরব দেশগুলো (সূত্র আল জাজিরা)। কাতার সংকটে বিপদে পড়বে ফিলিস্তিনীরা। গাজায় ২০১২ সালে শেখ হামাদ প্রকল্পের পুরো অর্থের যোগান দেয় ধনী দেশ কাতার। নি¤œ আয়ের প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিন পরিবার সেখানে স্থানান্তর হয়ে আবাস পেয়েছে। সেখানের এক অধিবাসী বলেন অর্থ সমর্থন অবকাঠামো ভবন নির্মাণ সবকিছুই বন্ধ হয়ে যাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজাতে নতুন বাড়ী, হাসপাতাল ও সড়ক নির্মাণে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে কাতার। দেশটি আরো প্রায় ১০০ কোটি ডলার দেয়ার অঙ্গিকার করেছে। সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলে সৌদি ও তার মিত্ররা কাতারকে একঘরে করার চেষ্টা করছে, যদিও কাতার এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে। সরকারি হিসাবে গাজাতে ৪০ শতাংশ মানুষের কোন কাজ নেই। বেকারত্বের ক্ষেত্রে যা বিশে^ একটি বড় রেকর্ড। দুঃখজনক হলেও সত্য সৌদি আরব কাতারকে একঘরে করার চেষ্টা করছে, এর এক বড় কারণ হামাসকে সহায়তা করা বন্ধ করতে হবে। এই হামাস সংগঠনটিই গাজা শাসন বা পরিচালনা করছে। প্রায় এক দশক আগে ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে হটিয়ে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হামাস। এর এক বছর পরে নির্বাচনে জয়লাভ করে হামাস। কাতারের সাবেক আমীরই একমাত্র নেতা যিনি নিপিড়িত গাজা সফর করেছেন। সেখানে যেসব ঘরবাড়ি সড়ক হচ্ছে তা হামাসের জন্য হচ্ছে না, বরং হচ্ছে ফিলিস্তিনী নিপিড়িত নির্যাতীত জনগণের জন্যে। সেখানে সীমান্তের দুধারে মিশর ও ইসরাইল কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। একই দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিম ব্রাদারহুডকে তারা সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করছে, যা বাস্তবিকই সৌদির আসল বিতর্কীত স্বরুপ, প্রকৃতি বিশে^র ময়দানে স্পষ্ট করছে। কাতারের প্রতি সংহতি জানিয়ে ফিলিস্তিনী শিশুরা স্লোগান দিচ্ছে “আমরাই কাতার”। আরব বসন্তকে সমর্থণ করায় কাতারকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে এমন মন্তব্য করেছেন হামাসের পার্লামেন্টারিয়ান ইয়াহইয়া মুসা। ট্রাম্পএর সৌদি ভ্রমণের সাথে গোটা বিষয় যুক্ত, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও তারা মনে করছেন। শেখ হামাদ সিটিতে যখন মিস্টার মুসা এ বক্তব্য দেন তখন ফিলিস্তিনী শিশুরা কাতার ও ফিলিস্তিনের পতাকা নাড়াচ্ছিল (বিবিসি বাংলা)। ইসরাইল ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের একটি পরিকল্পনায় সায় দিয়েছে যার ফলে গাজাতে বিশ লক্ষ মানুষ ৪৫ মিনিট কম বিদ্যুৎ পাবে। তারা গড়ে মাত্র চার ঘন্টার মত বিদ্যুৎ পায়। হামাসের অভিযোগ এসব তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে মিলে এসব করছে। ওদিকে ট্রাম্প ইসলামিক স্টেট, আল কায়দা ও হেজবুল্লার সাথে হামাসকেও দায়ী করতে উৎসাহী।

সৌদির ধ্যান রাজতন্ত্র: সৌদি কার ধ্যান করছে? গণতন্ত্রের তো নয়ই, তাহলে কি বাদশাহীর, না রাজতন্ত্রের? আল-জাজিরা একটি স্বাধীন স্যাটেলাইট গণমাধ্যম, কাতার অর্থ সাহায্য দেয় এটি সৌদির পছন্দ নয়, ইরান কাতার সম্পর্ক ভালো হলেও সৌদির আপত্তি, যার জন্য আজ কাতার অপরাধী। বিশে^র দৃষ্টিতে খারাপ ট্রাম্পও যে কোন কারণেই হোক ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের সাথে অল্প সময় নিয়ে হলেও দেখা করেন কিন্তু মোদির সব কিছু সিলড। বিগত বেশ বড় সময় থেকেই ভারতের সাথে ইসরাইল শিক্ষা ক্ষেত্রেও শক্ত গাটছড়া বাঁধছে। গ্যাঞ্জামের গুড় হয়তো লাগিয়েছেন ট্রাম্পই কিন্তু বাকীরা সুর সুর করে ধরা পড়েছে প্রকাশ্য ট্রাপে, যার যার প্রকৃত স্বরুপ নিয়ে। হয়তো এতে অনেক গোপন হয়েছে খোলাসা, দিবালোকের মত ফকফকা। সৌদিসহ জোটের দেয়া ১৩ শর্তে রাজি হয় নাই, তার মানে কাতার সন্ত্রাসী এটি জোটের কথা। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল থানি দোহায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, সৌদি জোটের দাবীগুলি হচ্ছে অবাস্তব যা মানা অসম্ভব। তার ভাষায় এটি আসলে সন্ত্রাসবাদের বিষয় নয়, এটা বাকস্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করা। আলোচনার মাধ্যমে কাতার এর সমাধান চায়. শুরু থেকেই তারা প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে , মধ্যস্থতাকারী দেশ কুয়েতকেও তা জানিয়েছে (ইন্টারনেট সূত্র)। বিশ্লেষনে দেখা যায় গনতন্ত্র কি সুবিধাবাদীদের একটি ধারালো অস্ত্র? যারা গণতন্ত্র ধারণ করছে তারাই প্রকারান্তরে বলছে ওটিকে শক্তভাবে ঠেকাও, কারণটি কি? তাদের কপট স্বার্থ! সহজ জবাব হচ্ছে এরা নীতিরও নয়, মানবতারও নয়! আরবরা দেশের তেলের টাকায় কেনা শক্তির জোরে তাদের বাদশাহী টিকিয়ে রেখেছে। ইসলাম কখনোই এসব সায় দেয় না। শনিবার জার্মানির হ্যামবার্গে জি-২০ সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে আবারও সোচ্চার হন তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান (রোববার ৯ এপ্রিল ২০১৭)। সৌদি জোটের ১৩ শর্তের মাঝে এক শর্ত হচ্ছে তুরষ্কের একটি সামরিক ঘাটি বন্ধের দাবীও এসেছে। সঙ্গত কারণেই তুরষ্কও তার ক্ষোভ প্রকাশ করে। জি-২০ সম্মেলনে এরদোয়ান সেটি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সব পক্ষকে শান্তির জন্য সমঝোতায় পৌছার জন্য আবারো আলোচনার আহবান জানান (সূত্র: আল-জাজিরা)।

Mehdi Hasan’s Awesome Reply in a Debate

বাংলাদেশ: বাংলাদেশেও কাগজে গণতন্ত্র আছে কিন্তু মাঠে নেই।

যুগে যুগে অসৎ শাসকরা শয়তানের বাহক শক্তি হয়ে ইন্ধন দিয়ে গেছে, রাজতন্ত্রে ভর করেই অপকর্মের মহড়া চালানোর উদাহরণ সর্বত্র। যার জন্য ইমাম আবু হানিফার মত সাধুরা ইসলামের বিজয় যুগের কাছাকাছি সময়ও অনেক নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস এ্যাসোসিয়েশেন প্রমাণ্য দলিলসহ বিশ্লষণধর্মী ব্যাখ্যাসহ বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। সরকারী সমর্থনে পুলিশ নিজেই অপরাধ করছে আর তাদের কৃত অপরাধ অস্বীকার করে চলেছে সরকার। পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস সরকারের এ দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করেন এবং মানবাধিকার মানুষের জীবন ও আইনের অশ্রদ্ধার যে আচরণ সরকার করছে তার অবসান চান। পুলিশ নিজের অপরাধকে বৈধতা দিতে বন্দুকযুদ্ধের নাটক করে, সরকার তাতে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। এসব আজ আর লুকানো নেই, খোলা দলিলের বানী। নিরপরাধের শাস্তি হয় অপরাধীরা মৃদঙ্গে তালিয়া বাজায়। এ হচ্ছে ২০১৭ তে ব্যর্থতায় ভরা কাগুজে গণতন্ত্রের বিকৃত প্রতিষ্ঠা। নীতি নৈতিকতার মানদন্ডে ইসলাম আগা গোড়া মোড়া। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সৌদি, ভারত, ইসরায়েল, আমেরিকা সিরিয়েলি কেন এক কাতারে দাঁড়িয়ে গেল, এক হয়ে গেল? তাহলে, এরাই কি ইসলামের প্রকৃত বিরোধী শক্তি হয়ে দাড়াচ্ছে? বিশ্লেষনে পাওয়া যুক্তি হিসাবে এ বলাটা অপরাধের হবে বলে মনে হয় না। প্রশ্নটি প্রতিটি সচেতনকে চিন্তাশীলকে বার বার পরখ করে দেখতে হবে। কুরআন কিন্তু তার অভিমত আগেই দিয়ে রেখেছে ,

“তুমি নিশ্চয় দেখতে পাবে যে যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে শত্রুতায় সব চাইতে কঠোর লোক হচ্ছে ইহুদীরা ও যারা শরীক করে।

আর নিশ্চয় তুমি আবিষ্কার করবে ঘনিষ্ট হচ্ছে তারা যারা বলে আমরা খৃষ্ঠান” সুরা মায়েদার ৮২ আয়াত দ্রষ্টব্য)।”

নাজমা মোস্তফা, ১০ জুলাই ২০১৭ সাল।

মুক্তমনা ধর্মনিরপেক্ষ ও নাস্তিক্যবাদের নামে পাঠ্যবই এ গভীর ষড়যন্ত্র

পাঠ্যবই জটিলতা ষড়যন্ত্রের সাথে কারা জড়িত আশা করছি খুব সহজেই তারা ধরা পড়বে ও শাস্তি পাবে। ধরা খাওয়ার পরও কিছু ষড়যন্ত্রীরা আজ উচ্চকন্ঠ হয়েছে যাতে জাতিকে কৌশলের সূতা নাতা দিয়ে অষ্টেপৃষ্ঠে বাধা যায়। ২০১৭ সালে পাঠ্যবইএর তুমুল লড়াই বাংলাদেশে শুরু হয়েছে, এই সুবাদে মুক্তমনের নামে অজয় রায়রা খুব হাত দাগিয়ে চলেছেন। প্রথমে শুনে আমিও কিছু বিচলিত হই, চমকাই। অনেক দিন থেকে এ লড়াই জানাই ছিল, তারপরও চমকানোতে বিষয়টার উপর একটু বাড়তি আলোকপাত করাই জরুরী মনে করলাম। মাথা ঠান্ডা করে ভালো করে পিছনে তাকাই। মুক্তমন নামধারী এসব অজয় রায় মেধাবীরা দেশটির ও জনগণের পোস্ট মর্টেম করে ছাড়বেন মনে হচ্ছে। তার কথা শুনে মনে হবে হেফাজতিরা সব অপকর্মের মূল। কারো দোষ থাকতে পারে সেটি স্পষ্ট করে না দেখিয়ে মিথ্যে করে অপবাদ ছড়ালেই বাহাদুরি কেনা যায় না এবং এভাবে মুক্তমনা হওয়াও যায় না। বরং এতে সব ছলবাজিও স্পষ্ট হবার সম্ভাবনা থেকে যায় । বাংলাদেশ একটি ৯০%-৯৫% মুসলিম দেশ। সেখানে এই ৯৫% মানুষের বিশ^াসের কবর রচনা করে কেন পাঠ্যবই সাজাতে হবে? অতীতে কি কারণে মুসলিমরা লেখাপড়াতে পিছিয়ে পড়েছিল সেটি কি বাংলাদেশের মুসলিমরা ভেবে দেখবে না? ভারতে আখলাকদের মূল্য কানা কড়িতে বিকায়, গরুর মাংসও খেতে পারে না ধর্মের দোহাই দিয়ে, ওটি খেলে তাদের জবাই হতে হয়।

তৎকালীন বৃটিশ জেনারেল শ্লীমান মোগল যুগের উচ্চ মানের শিক্ষার প্রশংসা করে বলেছেন, ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার যেরুপ ব্যাপক প্রসার হয়েছে পৃথিবীর খুব কম সম্প্রদায়ের মধ্যেই সেরুপ হয়েছে। উইলিয়াম হান্টারও এ কথাটি স্বীকার করেছেন যে, সেই যুগে ভারতে প্রচলিত শিক্ষা অন্যান্য শিক্ষা পদ্ধতি হতে বহুলাংশে উৎকৃষ্টতর ছিল। উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে মুসলিমদের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি হয়। রাজ্যহারা মুসলিমদের প্রতি বৃটিশের ছিল একচোখা নীতি। মুসলিমরা সাধারণ শিক্ষার সাথে ধর্মীয় শিক্ষা অত্যাবশ্যক মনে করতো। তখন ছাত্রদেরে প্রতিদিন হাটু গেড়ে নত মন্তকে স্বরস্বতী বন্দনা আবৃত্তি করতে হতো। পত্র লেখা, মনসামঙ্গল, হিন্দু ধর্ম ও উপকথাসমৃদ্ধ দিয়ে সাজানো ছিল। যার জন্য মুসলিমরা পাঠশালাগুলির এই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আকৃষ্টতা হারায়। এটিই প্রধানত মুসলিমদের পড়াশুনাতে পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ। তাদের কাছে তাদের ঈমান রক্ষা করাই ছিল জীবন ধারণের মতই মূল্যবান। যারা আজীবন যুক্তির সাথে উঠাবসা করেছে, তারা  এসব অতিভৌতিক মূর্তি নির্ভর জীবনের মাঝে খেই হারিয়ে ফেলেছিল। নজরুল সবদিনই ভারতের পাঠ্যবইতে উপেক্ষিত। সেদিন দেখলাম তার চুরুলিয়ার অবহেলার চিত্রটি একটি কলামে ভিডিওটি দেই। তড়িঘড়ি কেউ ওটি মূল সূত্র থেকে মুছেও দেয়। কারণ মুসলিম নির্যাতনের খুশবু বের হয়ে যাচ্ছে। অজয় রায়দের মুখে মুসলিম জনতার বিপক্ষের ওকালতী অনেকটাই স্পষ্ট। বাংলাদেশের ইসলাম মানসের অনুভূতিকে তারা মনে করে হেফাজতের অনুভূতি।

ইসলামী শিক্ষা বাদ দিতে হবে –

নতুন সংযোজন: অনেক দিন থেকেই মুক্তমতের দাবীদার বর্ষিয়ান এ শিক্ষক দেশবাসীকে নির্দেশ দিচ্ছেন। আজ ১২ এপ্রিল ২০১৭, আবার তিনি সরব হয়েছেন, প্রথম আলোয়। তরুণকে ডাকছেন প্রয়োজনে মূর্তি সরালে তরুণরা যেন ময়দানে ঝাপিয়ে পড়ে। কথায় কথায় বৃহত্তর মুসলিম জনগোষ্ঠীর কোন চাওয়াকে তিনি হেফাজতের চাওয়া বলে তীর্যক মন্তব্য করেন। সমস্ত ভারত জুড়ে ভারতের হিন্দুদের সীমাহীন বিতর্কীত কর্মকান্ড দেখেও কয়জন মুসলিম মুখিয়ে উঠেন কিন্তু তিনি মুক্তমতের নাম নিয়ে একটি নীতি ধর্মের মানুষকে এভাবে আক্রমণ করে নিজের প্রকৃত পরিচিতি স্পষ্ট করেন। ধর্মের উপর তার আক্রমণের সীমা, প্রথম লাইনে বলেন ইসলাম শান্তির ধর্ম, বলেই তিনি জুড়ে দেন এদের কিছু সংগঠন নারীকে শুধু রান্না ঘরে আর রাতে পুরুষের সঙ্গি করতে চায়। ইসলাম কখনোই এসব অনাচারে নেই। কয়টি সংগঠন এর কথা বলে মূল ধর্মকে কটাক্ষ করে তিনি কি বলতে চাচ্ছেন? তিনি কি প্রকারান্তরে এ ধর্মের শিকড়ে বিষ ঢেলে দিচ্ছেন না? এর নাম কি মুক্তমনা? তাদের আধা রাখি আধা ঢাকি বেশ থেকে স্পষ্ট হওয়া দরকার। তাদের এটি স্পষ্ট করা দরকার তারা বাংলাদেশ থেকে মুসলিম নির্মুল চান, ইসলাম ধর্মের বিলুপ্তি চান। হাজার অপকর্মে অপসংস্কৃতিতে দেশ ডুবছে সেদিকে তাদের খেয়াল নেই। এরা যদি প্রকৃতই মুক্ত মনের হতেন তবে জাতির এত বিপন্ন দশাতে তারা কয়টি সত্য কথা বলেছেন, বা জাতিকে সুপথ দেখাতে পারে। জাতি বিভক্তির খেলা ছাড়া তাদের হাতে দ্বিতীয় কোন কার্ড নেই। 

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তনসমূহ দেখে অজয় রায়রা ক্ষুব্ধ। স্মরণ রাখার বিষয়, হাতে নাতে ধরা পড়ে কিছুটা বেকায়দায় পড়ে সরকার এ পরিবর্তন করে। অতীতে কোন সরকারের সময়েই এসব দেশ বিধ্বংসী বিতর্ক উঠে নাই, কেন? পাকিস্তানের সময়ও এসব ঘটনা ঘটে নাই, এমন কি নতুন স্বাধীন দেশেও নয়। এসব সত্য তারা ঐ পাঠক্রমের পক্ষশক্তিও বলতে বাধ্য হচ্ছেন। দেখা গেছে অজয় রায়রা ঐ পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাদের যুক্তিতে মনে হচ্ছে ছাগলের গাছে চড়াটাই শোভনীয়। আজ কেন এমন ভুতের আগমন ঘটলো? শুধু পরিবর্তন নয়, ঐ সব কালপ্রিটকে খুঁজে খুঁজে জবাবদিহি মূলক শাস্তিই উচিত ছিল একমাত্র জমা পাওনা। বেশ কটি বছর থেকে এসব চলছে, অতপর ২০১৭এ তা পুনঃমুদ্রন করে ফিরিয়ে আনা হয়। দেখা যায় সমাজের এগিয়ে চলা নামধারী কিছু জনরা মুক্তবুদ্ধির নামে, ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে মুসলিমকে আবর্জনা গেলাতে চাচ্ছে। ৫% হিন্দুর জন্য ৯৫% মুসলিমকে তারা চরম অবজ্ঞা দেখিয়েছে। নীচে কি সরানো হয়েছে এবং কি ফেরত এসেছে তার একটু ছোঁয়া আনছি।

ক্লাস ওয়ানে ওড়না বিতর্ক তো রয়েই গেল। ওড়না দেয়াতে নাকি শিশু মেয়ের উপর অবিচার হয়েছে। দেখা গেছে বিগত সময়ে ক্লাস টুএর পাঠে শেষ নবীর “সবাই মিলে করি কাজ” ক্লাস থ্রি এর খলিফা আবু বকর, ক্লাস ফোর এর খলিফা হযরত ওমরের সংক্ষীপ্ত জীবনী বাদ দেয়া হয়। ক্লাস ফাইভে হুমায়ুন আজাদের একটি বিতর্কীত কবিতার নাম “বই” যাতে এটি স্পষ্ট যে মূল ইসলাম ধর্ম গ্রন্থকে খুব কৌশলে ব্যঙ্গ করে উদ্দেশ্য মূলক ভাবে নাস্তিক ধ্বজাধারী এ লেখক লিখেছিলেন; তা কেন কি উদ্দেশ্যে বাচ্চাদের পাঠ্য সূচিতে ঢোকানো হলো এটি কি ভাবার বিষয় নয়? একদম কচি একদল বাচ্চার সাথে পাঠ রচনাকারী পরিচালকরা কি পরিমান ষড়যন্ত্র করেছেন সেটি মাথায় রাখবেন, প্লিজ! যখন থেকে তারা চিন্তা করতে শিখবে ক্লাস ফাইভে এ ডোজটি রেডি করা হয়, যাতে তারা গিলে। শহীদ তিতুমীরের জীবন চরিত, তার বৃটিশ বিরোধী কৃতিত্বের কথা, আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জীবন চরিত এসব সরিয়ে ঢোকানো হয় “হিমালয়ের শীর্ষে বাংলাদেশের পতাকা” উল্লেখ্য, মুসা ইব্রাহিম নামের একজন এভারেষ্ট বিজয়ী দাবিদার যাকে নেপাল সরকার তার এ কৃতিত্বকে অস্বীকার করে। অতপর বিতর্কীত জিনিস বদলে আনা হয় কবি কাদের নেওয়াজের লেখা বাদশাহ আলমগীরের “শিক্ষা গুরুর মর্যাদা, বিদায় হজ্জ্ব ও বৃটিশ বিরোধী যোদ্ধা বীর তীতুমীরের জীবন কাহিনী। ক্লাস সিক্সএ বাংলা চারুপাঠে একটি গল্প “লাল গরুটা” যেখানে সমালোচকরা বলছেন গোমাতার প্রতি ভক্তিই গল্পের মূল উদ্দেশ্য। মুসলিমদেরে যে গরু জবাইএরও হুমকি দিচ্ছে সংখ্যালঘুরা শুধু বাংলাদেশই নয়, আমেরিকাতেও, সেখানে এসব সুক্ষ্ম কারচুপির নিদর্শন নয় বলার সুযোগ কম। এর বদলে পুনরায় ফেরত আনা হয় “সততার পুরষ্কার” নামের ঘটনাটি। ভারতের রাচী ভ্রমণ বদলে মিশরের নীলনদ আর পিরামিডের দেশ” পাঠ্যটি ফিরিয়ে আনা হয়। ক্লাস সেভেনে দূর্গা দেবীর প্রশংসায় রচিত “বাংলাদেশের হৃদয়” নামের কবিতা বদলে রবীন্দ্রনাথেরই আরেকটি কবিতা “নতুন দেশ” নেয়া হয়েছে। সেভেনে আবার শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী “মরু ভাষ্কর” ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ক্লাস এইটে দুটি কবিতা “প্রার্থণা ও বাবরের মহত্ত্ব” যা বাদ দেয়া হয়েছিল তা ফিরিয়ে আনা হয়। সাহিত্যিক কায়কোবাদের লেখা প্রার্থণা কবিতাটি আল্লাহর প্রশংসা ভক্তির এক অনুপম উদাহরণ, তাই এটি সরিয়ে প্রবেশ করা হয় বাউল লালনের “মানবধর্ম” কবিতা। প্রকারান্তরে এসব হচ্ছে নাস্তিক্যবাদী শিক্ষার নামে ইসলাম ধ্বংস খেলা। বাংলাদেশে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে মোগলরা বাতিল কেন ? কারণ হতে পারে মোদির ইচ্ছেতে তাই হচ্ছে ভারতে। বাংলাদেশে স্থানে স্থানে বসে আছে ভারতের দালালরা। সবদিন ভারতে বেশির ভাগই বিৃকত মুসলিম ইতিহাস পড়ানো হয়েছে। যারা এর উপর সঠিক কাজ করেছেন তাদের কাজকে আজীবন বাজেয়াপ্ত করে রাখা হয়। যদিও অনুসন্ধিৎসুরা জানেন এসব কত সঠিক। মোগল বাদশাহদের শহর ও রাস্তা করা ঐতিহাসিক দাগগুলোও খুব চতুরতার সাথে ভারত সরকার মুছে ফেলছে মুসলিম বিদ্বেষের কারণে। বাংলাদেশ নামের ৯৫% মুসলিম দেশটিতে চলছে এভাবে ভারতীয়করণ। দেখা গেছে যেখানে আগে ক্লাস এইটে ৩২টি পাঠ ছিল সেখানে এখন ১০টি কমে ২২টিতে এসে ঠেকেছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন যেন তেন প্রকারে এসব বদলে দেয়া হয়েছে। কবি সগিরের নবম দশমের “বন্দনা” কবিতায় মা বাবার প্রতি শ্রদ্ধা সহ বিধাতার প্রতি আনুগত্য ও নৈতিক শিক্ষার উপাদানটি সরিয়ে আনা হয় “সুখের লাগিয়া” মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব পদাবলী। এভাবে বাদ দেয়া হয় আল্লাহর নামে নিবেদিত মধ্যযুগের মুসলিম কবি আলাউলের “হামদ” কবিতাটি। অতপরঃ ক্লাস নাইন ক্লাস টেনে মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত রাধা কৃষ্ণের লীলাকীর্তন (মামা ভাগনীর প্রেমলীলা) “সুখের লাগিয়া” বিতর্কীত লেখাটির বদলে শাহ মুহাম্মদ সগীরের “বন্দনা” কবিতাটি নেয়া হয়েছে। ভারতচন্দ্রের লেখা দেবী অন্নপূর্ণার কাছে প্রার্থণা করে লেখা “আমার সন্তান” এর বদলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে মহাকবি আলাউলের হামদ” নামক কবিতাটি। লালনের একটি বিতর্কীত কবিতা “সময় গেলে সাধন হবে না” যেটি ইত্যবসরে লালন গবেষকরা যা আবিষ্কার করেছেন তা সব সচেতনের জন্যই আতঙ্কজনক বিবেচিত হবে। সঙ্গত কারণেই এটি বাদ দিয়ে কবি আব্দুল হাকিমের বঙ্গবানী কবিতাটি নেয়া হয়। রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়ের ইসলাম বিদ্বেষী কবিতা “স্বাধীনতা” বদলে আনা হয়েছে কবি গোলাম মোস্তফার “জীবন বিনিময়” কবিতাটি। অখন্ড ভারত গড়ার স্বপ নিয়ে লেখা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের “সাকোটা দুলছে” বদলে কাজী নজরুল ইসলামের “উমর ফারুক” কবিতাটি নেয়া হয়েছে। ভারতের ভ্রমনকাহিনী “পালামৌ” বদলে বঙ্কিমের “ফুলের বিবাহ” গল্প নেয়া হয়েছে।

Bangla New Talk-show ” নিলুফার মনির সাথে সুভাষ সিংহের তুমুল হেফাজত বিতর্ক”

 

যেখানে ওড়না শিখলেই শিশু মেয়েরা অত্যাচারিত হবে, আর যখন শিক্ষক হুমায়ুন আজাদ শেখাবে মদ খাও, নেশা করো, ধর্মকে অবজ্ঞা করো, কোন প্রথা মানবে না, সংসার বিয়ের কোন মূল্যায়ন করবে না। তিনি কিন্তু এসবই করেছেন কিন্তু সমাজকে ধ্বসিয়ে দিতে কিছু বাকী রাখেন নাই। এমন কি এখানে মুসলিমদের যে সব নীতি নৈতিকতার বিষয় আলোচিত হয়েছে এসব থেকে হিন্দুরা কি কিছুই শিখছে না? নীতির উপর পাঠ রচিত হলে যে কোন ধর্মধারীই তা থেকে ইতিবাচক অর্জন জমা করতে সক্ষম। রাধা কৃষ্ণের লীলার মাঝে যদি নীতি নৈতিকতা থাকতো তবে ওটি রাখতে কারো আপত্তি হবার কথা নয়। তারা ছাত্রছাত্রীরা এখান থেকেই মানুষ হবার প্রকৃত সবক আহরণ করতে সক্ষম। ধর্মের নামে নষ্ট প্রেমলীলা, নিজ দেশের ধ্বংস ডেকে ভিন দেশের স্বপ্নকে বাস্তবায়নে পাঠ সাজানো, মিথ্যা এভারেস্ট বিজয়ের মিথ্যা শিক্ষা, ছাত্র ছাত্রীকে চরিত্র ধ্বংসের সব হাতেখড়িতে কেন উদবুদ্ধ করা, তাও আবার নাস্তিক শিক্ষক দ্বারা! যারা সারা জীবন ইসলাম ধর্মের উপর কুৎসা রচনা করেই ক্ষান্ত থাকে নাই, তার দৃষ্টিতে ধর্ম মানুষের অজ্ঞানতার আধার, সুপরিকল্পিত মিথ্যাচার। তার ভাষায় পঞ্চম শ্রেণীর জ্ঞানও ধর্ম দিতে পারে না। ধর্মে অবিশ^াসী, পরকালে অবিশ^াসী, পরিবার প্রথাতে অবিশ^াসী ধর্মকে তিনি সর্ব নিকৃষ্ট বলে দেখিয়েছেন, তার লেখাতে নেশা মদকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন। জীবনকে উচ্ছন্নে নিয়ে যেতে, নীতি নৈতিকতাকে উপড়ে ফেলে দিতে এমন কোন কাজ নেই যাতে তিনি না উৎসাহ দিয়েছেন। হুমায়ুন আজাদের সমাদর পাবার মূল কারণ তিনি ইসলাম বিদ্বেষী। তার রচিত বই কবিতার কয়টি লাইন যে কোন সচেতনের মনেই কষ্ট বাড়িয়ে দিবে। হুমায়ুন আজাদের আজীবনের সাধনাই ছিল ঐ ঐশী গ্রন্থের বিরুদ্ধে, এটি নিশ্চয় যারা তার পাঠ পড়েছেন তারা জানেন। এরকম একজন মানুষ কবি কি বলতে চাচ্ছে এ কবিতাতে, পাঠক দেখুন –

“যে বই তোমায় দেখায় ভয়,

সেগুলো কোন বই-ই নয়

সে বই তুমি পড়বে না।

যে বই তোমায় অন্ধ করে

যে বই তোমায় বন্ধ করে

সে বই তুমি ধরবে না”

উপরের এ কবিতাটি ওড়না পড়ার কষ্ট থেকে কি ভয়ঙ্কর নয়? শিশুকে শেখানো হচ্ছে কুরআন কোন বই-ই নয়। ও বই পড়লে তুমি নষ্ট হবে, অন্ধ হবে, ওর ধারে কাছেও যাবে না। বিদ্যার কি বাহারী নমুনা! তো স্কুলে যাওয়ারই দরকার কি? মদের পাট্টাতে পাঠিয়ে দিলেই হয়, ভালো শিক্ষা হবে! হিরোইন ফেনসিডিলের প্রসার হবে, প্রতিবেশী দেশের আয় রোজগার বাড়বে। এখানের উপরের প্রায় প্রতিটি গল্প কবিতার সাথে আমরা নিজেরাও পরিচিত, এসব আমরা নিজেরাও পড়েছি। আর আমাদের হিন্দু ভাই বোনরাও এ থেকে অনেক নীতি নৈতিকতা শিক্ষা লাভ করেছেন যার সাক্ষী আমরা নিজেরাই। যা তাদের শিক্ষা ব্যবস্থাতে অনুপস্থিত বলেই আজও মুসলিমরা এসব মিথ্যাকে কখনোই গ্রহণ করতে পারে না। হিন্দুরা বলুক যে এসব শিক্ষালাভ করে তাদের বাচ্চাকাচ্চারা উচ্ছন্নে গিয়েছে, যাচ্ছে এবং যাবে। তারা প্রকারান্তরে ১০০% মুসলিমকে হিন্দুত্বের মূর্তি পূজাতে দাখিল করতে শপথ নিয়েছে। স্কুল কলেজে কখনোই ঈদ রমজান পালন হয় না, কিন্তু স্বরস্বতি পূজা না হলে নয়। সারা দেশে ২৯,০০০ / ৩০,০০০ মূর্তি গড়ে জাতির সামনে কি সুদিন আসছে, পরিবেশ ধ্বংস ছাড়া। এসব বিষয়ে সচেতন বিবেচক হিন্দুকে বিধর্মীকেও জেগে উঠতে হবে। এই একবিংশ শতকেও যদি মানুষ না জাগে আর কত যুগ মানুষকে অন্ধকারে হুমড়ি খেয়ে পড়ে থাকতে হবে। সারা দেশে যেভাবে হিন্দুত্ববাদীরা ও ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা হামলে পড়ছে মনে ভয় হচ্ছে এসব কি প্রকৃতই তাদের ধ্বসের লক্ষণ। বলা হয় বাতি নিভে যাবার আগে ধ্বপ করে জ¦লে উঠে? ওটি কি ওরকম কিছু!  বস্তুত নির্দ্ধিধায় বলা যায় এ পাঠ্য সূচি রচিত হয়েছিল দেশটিকে বিকৃত যৌনাচার ও হিন্দুত্ববাদের এক উৎকৃষ্ঠ লালনাগার হিসাবে গড়ে তুলার জন্য। এর মাঝে কোন ভুল নেই, যে বা যারা এসব করেছে তারা যে কত গভীর ষড়যন্ত্রের উপর ভর করে এসব করেছে তার সন্ধানে প্রতিটি সচেতনকে সে হিন্দু হোক বা মুসলিম হোক অতন্দ্র প্রহরায় বাড়তি সচেতন থাকতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই।

তোমরাই হচ্ছো শ্রেষ্ঠ উম্মততোমাদের খাড়া করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য। এ জন্য যেতোমরা প্রতিষ্ঠা করবে ন্যায়ের এবং নির্মূল করবে অন্যায়ের এবং ঈমান আনবে আল্লাহর উপর (সুরা আল ইমরানআয়াত ১১০)

নাজমা মোস্তফা

মার্চের ৬ তারিখ, ২০১৭।

ফরহাদ মজহার, খালেদা জিয়ার বোতল, পুলিশ ও সরকার

ফরহাদ মাজহারকে নিয়ে সম্প্রতি নাটক মাত্র শেষ হলো। সরকার পক্ষে এইচ টি ইমাম বলছেন, সরকার ফরহাদ মাজহারকে ভয় পায় না, তিনি এত বড় কেউকেটা নন। এটিও স্পষ্ট হলো যে কেউকেটাকে সরকার ঠিকই ভয় পায়। সরকারের দলবল ছাড়া ঐ সমাজে কে যে কেউকেটা সে বিচার করুক দেশবাসী। এ ব্যাপারে হোম ওয়ার্ক জরুরী, বাংলাদেশে যারা বসবাস করছে তারা পেট নীতিতেই সময় পার করছে বেশী। সরকার গোল্লায় যাক বা স্বর্গে যাক সে খোঁজে নেই তারা। তবে মনের সঙ্গোপনে সবারই কষ্টকাঁটা বিধে আছে। মানুষ দম আটকে হাল ছেড়েছে। সরকার প্রতিটি নাটক করছে সামনে পেছনে নিজের ক্রমাগত বৈধতার সংকট কাটাতে। মানুষের জীবনের শংকা এ সরকারের নেই। তাদের কাছে বাকী মানব জীবনের মূল্য অতি অল্প। শুধু ফরহাদ মাজহার নন, তাদের কাছে কেউই কিছু নন। মিডিয়াতে এত উল্টাসিধা খবর এসেছে যে সেখানে আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে ইচ্ছাকৃত গৃহত্যাগ দেখাতে। যেন এ বয়সে এসে ফরহাদ মজহার গৌতম বুদ্ধের মতই সংসার ত্যাগ করে নিখোঁজ হয়ে গেলেন। কর্তৃপক্ষ টোপটা গিলেছিল ঠিকই কিন্তু হজম করতে পারে নাই, উগলে বের করে দিয়েছে।

দুটি ফোনের মাঝে একটিতে ফোন আসে। তিনি বের হয়ে যান। কেউ একজন হেটে যেতে দেখেছেন। আসল খবর হচ্ছে কোন ফোন আসে নাই এসব অদেখা ভুত সাজিয়েছে, এরা তারাই যারা নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে। র‌্যাবকে একজন ফোন করে জানায় এবং র‌্যাব তাকে ফলো করে যশোহরের অভয় নগর থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় লাভজনক কে, প্রশ্ন করেন মুন্নী সাহা “প্লেয়ার বনাম প্লেয়ার” নামের টকশোতে। ঢাকার আদাবর থেকে তাকে অপহরণ করে, খুলনার পুলিশ বলেছে তিনি গৃহত্যাগের নাটক করেছেন। মুন্নি সাহার মনে হতে পারে এতে ফরহাদ মজহারই বেশী লাভবান হলেন! তিনি কেউকেটা নন, এবার কেউকেটা হলেন। কিছুরা অপহরণটি মানতে নারাজ। যার জন্যই মনে হচ্ছে চাঁদাবাজি, মুক্তিপন নাটকের সাথে জুড়ে দেয়া হয়। অপহরণের সাথে আবার ডানপন্থী বামপন্থীর প্রশ্ন কেন? সবাই অনুমান করতে ওস্তাদ! অতীতে ইলিয়াস আলীকে, সালাহউদ্দিনকে গিলতে পেরেছে পানি ছাড়াই। ধরা খেয়ে গেলে চোরের সবটাই লস, লাভ হয় না, তখন লাভ হয় বাড়ীওয়ালার। এখানে মুন্নী সাহা এ প্রশ্নটিই রাখে যে কে লাভবান হচ্ছেন। ইলিয়াস আলীকে গুম করে কে লাভবান হয়েছেন, সাগররুণিকে হত্যা করে কারা লাভ গোলাতে উঠিয়েছেন সে উত্তর মুন্নি সাহার ভালোই জানা আছে। তারপরও ঐ প্রশ্নটিই তাকে প্রতিটি সদস্যকেই করতে দেখা যায়।  সাগর রুণির হত্যার পর পরই একটি গুজব মিডিয়াতে ছড়ানো হয় যে তাদের মাঝে প্রেমের জটিলতা ছিল, বোঝাপড়ার সমস্যা ছিল। এসবে আগুয়ান আসামী পক্ষ, যারা চায় প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন রাস্তা করে দিতে, ধামাচাপা দিতে। আসামী পক্ষকে বাঁচাতে এসব উপস্থাপিকার কৌশল সবার চোখেই পড়ার মত বিষয়। তার পরও দেশবাসী কি করবে, চোখ থাকতেও অন্ধের ভনিতা করে পড়ে আছে। গাড়ীর মধ্যে তাকে লাত্থি মারে কিডন্যাপাররা। ভোর রাত তিনটাতে সচরাচরের মত কম্প্যুটারে বসলে চোখের সমস্যাতে ঝাপসা দেখাতে চোখের ড্রপ ফুরিয়ে যায়। যার জন্য সেই ভোরে তিনি বাসার সামনের দোকানে ঔষধ কিনতে নেমেছিলেন যে ফার্মেসী ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। তার মানে তিনি তখনও গৃহত্যাগ করার মত পাগল হয়ে যান নাই, বাড়ী থেকে গোসসা করে দেশান্তরী হন নাই বলেই মনে হচ্ছে। আর ঐ ফাঁকে চতুর পুলিশ তড়িঘড়ি একটি রেডিকরা ব্যাগ ধরিয়ে দিল, মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়লো। তিন ব্যক্তি টেনে হিচড়ে তাকে মাইক্রোবাসে ওঠায়, সিটে বসতেও দেয়নি। ঐ অবস্থায় স্ত্রীকে জানালে তারা ফোনটি কেড়ে নেয়। ফেরার পথে তাকে মাইক্রোতে তোলা হয়নি, একটি রিকশাতে তুলে তারা অনুসরণ করতে থাকে এবং একটি লোকজনহীন বাসের পেছনের সিটে বসিয়ে দেয়। এর ফাঁকে একটি বেগ ধরিয়ে দেয় সেখানে  পুলিশের সিজার লিস্টে উল্লেখ করা হয়েছে ঝোলা টাইপের বেগে প্রিন্টের লুঙ্গি, প্রিন্টের পাঞ্জাবি ও কিছু নতুন টাকাও বেগে ছিল। তারা কেন তাকে সীমান্তের দিকে নিতে চাইছিল? মাইক্রোবাসটি কোথায়? (সূত্র: আওয়াজবিডি নিউইয়র্ক, ৫ জুলাই, ২০১৭)। এটি কোন তেলাপোকা নয় যে সুরুৎ করে লুকিয়ে গেছে। সারা দেশ জানে সেটি কোথায় লুকালো। ‘তোমরা কি চাও’ বলাতে প্রথমে ৫০ লাখ বললেও পরে ৩৫ লাখ চায় তার স্ত্রীর ফোনেই (সূত্র: purboposhchimbd) ) । স্ত্রী ফরিদা আক্তার আদাবর থানায় জিডি নং-১০১, ও পরে একটি অপহরণ মামলা নং-০৪ দায়ের করেন। সোমবার রাত ১১টার দিকে যশোহরের নওয়াপাড়া বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় যশোর থেকে প্রথমে ঢাকার আদাবর থানাতে তারপর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয় (সূত্র: যুগান্তর)। ফেসবুকে একটি ছবিতে দেখি তাকে ঘিরে দুই তিনজনই বসে আছেন মাত্র, সারা বাস খালি। কৃতকর্মীরা ঐ বাসের সাথেই লেপ্টে আছে। কিন্তু পুলিশ ও সরকার এতই তৎপর যে সমানেই বলা হয় তদন্তের আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না। সরকারের করিৎকর্মা এইচটি ইমাম বলছেন, ঐ ব্যক্তি এমন ইমপরটেন্ট না যে সরকার ভয় পাবে? এ সরকারের কাছে সবাই ধোয়া তুলসি পাতা, তাতো জাতি জানে ও দেখছেই। জনতার সন্দেহ ভারতীয় গুম বাহিনী এতে সরাসরি জড়িত। আর সাথে আছে দেশীয় মদনগুলো, নাহলে এসব গল্প কেন নব নব ঢংএ সাজে। এক সংবাদ সম্মেলেন ডিআইজি দাবি করেন, অপহরণ নয়, ফরহাদ মজহার স্বেচ্ছায় ভ্রমণের বেগসহ আলাদা কাপড় নিয়ে বের হয়েছেন। সম্মেলনে তিনি নীরব ছিলেন। অতীতের সবগুলো গুমেই দেখা যায় ভুক্তভোগীরা নীরব হয়ে যায়। হয়তো কড়া কোন ড্রাগে তাদের আক্রান্ত করা হয়। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবন পরিষদ যুক্তরাজ্য জুলাই ৩, ২০১৭ তারিখে সন্ধ্যে সাতটা তিরিশ মিনিটে এ অপহরণের প্রতিবাদে লন্ডন আলতাফ আলি পার্কে একটি সমাবেশের আয়োজন করে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য খবর হচ্ছে লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন এটি বিএনপির কান্ড কিনা সেটি সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে (আমার দেশ, ০৬ জুলাই ২০১৭)।

এইচআর ডব্লিউএর রিপোর্ট “বাংলাদেশে গোপনে আটক করে রাখা হয়েছে অনেককে” (মানবজমিন, ৭ জুলাই ২০১৭)। এরা গুম খুন ছাড়াও গোপন আটকসম্বন্ধে বলেছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ৫ জুলাই নিউইয়র্ক থেকে ৯১ পৃষ্ঠার প্রকাশিত রিপোর্টের শিরোনাম “উই ডোন্ট হেভ হিম: সিক্রেট ডিটেনশন্স অ্যান্ড এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সেস ইন বাংলাদেশ” এতে বলা হয়েছে ২০১৩ থেকে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীসহ কয়েকশ’ মানুষকে আটকে রেখেছে বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।  ২০১৬ সালেই ৯০ জন গুম হয়েছেন। ২১টির প্রমাণ্য উপস্থাপনা করেছে, যেখানে বন্দীদেরে পরে হত্যা করা হয়। ২০১৬ তে বিরোধীদলীয় প্রথম সারির রাজনীতিকদের তিন ছেলেকে তুলে নিয়ে ৬মাস পর একজন ফিরে আসলেও বাকী দুইজন আজও নিখোঁজ। এদেরে সাথে কৃত আচরণ নির্যাতন ও অশোভন অভিযোগ আছেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, ২০০৯ সালে মানবাধিকার লংঘনের ক্ষেত্রে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও গুমের বিষয়ে শূন্য সহনশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে ২০০৯ থেকে কমপক্ষে ৩২০টি গুমের ঘটনা ঘটেছে। এর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, গুমের প্রামাণ্য প্রতিবেদনসহ রিপোর্ট হয়েছে। কিন্তু সরকার মানবাধিকার, মানুষের জীবন ও আইনের শাসনের প্রতি অবজ্ঞামূলক ভাব দেখাচ্ছে ও আইনের তোয়াক্কা না করেই এ চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ১৯ নেতাকর্মীর গুমের প্রামাণ্য প্রতিবেদন দেয়া হয়, যাদেরে ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এসবের কোন জবাব নেই সরকারের কাছে। বেশীর ভাগ ঘটাচ্ছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র‌্যাব, পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ ডিবি, বা নিরাপত্তার বাহিনীর অজ্ঞাত সদস্যরা। এসব অভিযোগ তদন্তসহ, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংস্কার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের অফিসের সাহায্য নিতেও বলা হচ্ছে। সরকার তো করবে না, তবে দেশবাসীকে সঠিক সময়ে সঠিক হুমওয়ার্কটি করতে হবে। বর্তমান সরকারের প্রতিটি সদস্যই সরকারের মতই একখোরে মাথা মোড়ানোর দল। এত বাস্তবতার পরও এইচটি ইমাম ও হাসান মাহমুদরা কি করছেন ওটিই বাস্তবতা!

ভুলো মনা বাংলাদেশীদের স্মৃতিশক্তিকে আরো ধারালো রাখতে হবে। ভুললে চলবে কেন? মনে আছে নিশ্চয় খালেদা জিয়ার বোতল (মদ) আর এবার পাওয়া গেল পুলিশের বরাতে ফরহাদ মজহারের ঝুলানো ব্যাগ। আমি দুটি ছবি দেখেছি একটিতে বিশাল বাসে শুধু সাদা পোশাকে ফরহাদ মজহার বসে আছেন আর তাকে ঘিরে আছে ২/৩জনা, ঈদের ভয়ঙ্কর ভিড়ে সারা বাস খালি! আর ঝোলানো বেগ বললে সেটিও ছিল না ঝোলানো বেগ যা তিনি সচরাচর পড়ার জন্য ব্যবহার করতেন, হয়তো দু একটা বই নিতেন। এ বেগ ছিল অন্য রকমের বাচ্চাদের স্কুল ব্যাগের মতন। বেগ ও মদ বিষয়ে একজন সাংবাদিকের পাওয়াটুকু পাঠকদের সাথে শেয়ার করছি। প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই তিনবারের সম্মানিত বিরোধী নেত্রীকে চুটকি কাটেন তিনি তো বোতল খান। তিনি জানেন তার অঘটন ঘটন পটিয়সী চেলারা (নীচে সাংবাদিকের লেখাতেই ক্রিড়ারত) এটি প্রতিষ্ঠিত করবে তাকে শুধু ‘বোতল’ সূত্রটুকু উল্লেখ করলেই চলবে। আজ মজহার নাটকে সেটি বেশ খোলাসা হলো। তাই জাতির চোখ খুলে দিতে সেটিও জরুরী হুমওয়ার্কের অংশ হয়েই রইলো।

বলছি সংক্ষেপে “খালেদা জিয়ার বাসায় মদ! আর ফরহাদ মজহারের ব্যাগ!!!” এম মাহাবুবুর রহমান। জাস্ট নিউজ: ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বাসভবন থেকে টেনে হিচড়ে বের করা হয়েছিল। একজন সংবাদকর্মী হিসাবে আমি পুরো ঘটনা ফলো করেছিলাম। প্রতিবাদে পরদিন হরতাল ডাকে বিএনপি। আওয়ামী আজ্ঞাবহ ভিসি আরেফিন সিদ্দিক হরতালের মাঝেই পরীক্ষা নেন। ঐদিন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ঐ সাংবাদিকেরও এমফিল পরীক্ষা থাকায় তিনি অংশ নেন। ওটি ছিল তার চোখে দেখা প্রথম হরতাল ধর্মঘটে প্রথম পরীক্ষা। এর মাধ্যমে ছাত্রদলও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে শতভাগ নিয়নন্ত্রণ হারায়। পরীক্ষা শেষ করেই তিনি ছুটে যান ক্যান্টনমেন্টে বেগম খালেদা জিয়ার উচ্ছেদকৃত বাড়ীতে। জাহাঙ্গীরগেইট থেকেই এক সেনাকর্মকর্তা জানালেন আমার দেশ, এনটিভি, নয়াদিগন্ত, দিনকালের সাংবাদিকরা সকলে একপাশে দাঁড়ান, অন্যরা পৃথক সারিতে। ইত্যবসরে ঐ সাংবাদিক ওদিকের কোন দলে না ভিড়ে তিনি ক্যাম্পাসের বড়ভাই বোরহানুল হক স¤্রাটের  (এটিএননিউজ) এর গাড়ীতে গিয়ে উঠে বসেন। কিছুক্ষণ পর গাড়ী ছুটে মইনুল রোডের বাড়ির উদ্দেশ্যে, কিন্তু আমারদেশসহ ভিন্ন লাইনের সাংবাদিকদের ঐ গেইট থেকেই ফেরত যেতে হয়। অর্থাৎ তারা নিষিদ্ধ। এবার বাড়ীর গেইটে গিয়ে দ্বিতীয়বার আইডি চেক। তিনি তখন নিউজবিএনএন নামক একটি অনলাইনের সম্পাদনা করেন। সে পরিচয়েও তার অনুমতি মেলে নি। অতপর তিনি ইত্তেফাকের ক্রাইম রিপোর্টার আবুল খায়ের ভাইয়ের হস্তক্ষেপে বাড়ীতে প্রবেশ করেন। খালেদা জিয়ার বাড়ীতে ঢুকে ঐসব সাংবাদিক সহকর্মীদের সে কি উল্লাস!! এটিএননিউজ এর বোরহানুল হক স¤্রাট, আর নিউএজএর মুকতাদির রোমিও ছাড়া বাকী সবাই ছিলেন উল্লসিত। ভোরের কাগজের শ্যামল দত্ত আর এটিএন নিউজের জ. ই মামুনকে মনে হয়েছে তাদের ভাগ্যে লটারি লেগে গেছে। বিলিয়ন ডলারের লটারি! উচ্ছ্বসিত তারা!

খালেদা জিয়ার বেডরুমে গিয়ে দুই পা উপরে তুলে নাচার চেষ্টা শ্যামল দত্তের। ওদিকে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বার বার টয়লেট দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছিলেন। টয়লেটে রাখা ছোট্ট একটি ফ্রিজ খুলে ছবি নিতে বলেন জ. ই মামুনকে। ফ্রিজ খুললে দেখা যায় পাঁচ টাকা দামের তিনটি মিস্টি বিস্কুট। তিনি প্রশ্ন করেন, “খালেদা জিয়া এত রুচিহীন? এ বয়সে এতো মিস্টি ও কমদামী বিস্কুট খান তিনি?” সেনা কর্মকর্তা বলেন, “আরো ভালোভাবে দেখেন, অনেক কিছুই পাবেন।” তারা যখন কিছুই পাচ্ছিলেন না, তখন সে সেনা কর্মকর্তা নিজেই ফ্রিজ থেকে একটি বোতল হাতে নিলেন। মদের বোতল। বললেন, উনি (খালেদা জিয়া) মদও খান!! এরপরের উল্লাস কার কে দেখে! জ, ই মামুন (সাংবাদিক!!) ছবি তুলেন নানা অ্যাঙ্গেলে। এখানে সহকর্মী স¤্রাটের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এ সাংবাদিক। শ্যামল দত্তের ও জ, ই মামুনের দিকে তার ঘৃণার দৃষ্টি সাংবাদিক মাহাবুবুর রহমানকে কিছু সাহস যোগায়। তাই তিনি বলেন আপনারা এসব না করলেও পারতেন। এর জবাবে শ্যামল দত্ত বলেন, “আপনি কে? এসব প্রশ্ন করছেন কেন?” জবাবে তিনি বলেছিলেন “একজন সম্পাদক হয়ে আপনি এখানে এসেছেন কেন? উল্লাস করতে?” এর পরই আরেকজন সেনা কর্মকর্তা কর্ণেল ওয়ালি বেডরুম থেকে সাংবাদিকদের বের করে নিলেন। তারপর জাইমার রুম আর ফটো শ্যুটিং এসব চলছিল। বেশ পর বারান্দা দিয়ে এক বৃদ্ধ হেটে যান, তার কাছে মনে হচ্ছিল ইনি হয়তো খালেদা জিয়ার বাসায় কাজ করতেন। কিন্তু বৃদ্ধ জানালেন, না, তিনি স্যারের বাসাতে কাজ করেন। তার স্যার এ বেগটি পাঠিয়েছে কর্ণেল স্যারকে দিতে। কি আছে বেগে জানতে চাইলে তিনি বললেন ‘আমি জানি না, প্যাকেট করা। কর্ণেল স্যার ছাড়া খুলতে নিষেধ করেছেন। এই বলে বৃদ্ধ খালেদা জিয়ার বেড রুমের দিকেই গেলেন। কিছুক্ষণ পরে কর্ণেল ওয়ালি এসে আবার সাংবাদিকদের ডাকলেন। বললেন, আপনারা মনে হয় অনেক কিছুই মিস করেছেন। শুধু টিভি ক্যামেরাগুলো নিয়ে আসেন। আচরণ সন্দেহ হওয়াতে সাংবাদিক মাহাবুবুর ও রোমিও তাদের পিছু নেন। একজন মেজর কর্ণেল ফারুকের মেয়ের জামাই এসে খালেদা জিয়ার বেডের মেট্রেস তুলে ধরে পাশের ড্রয়ার খুলে দিলেন। বললেন, এগুলো ভালো করে দেখেন। এসব কি? মহিলার টেস্ট দেখেন!!! ওদিকে জ. ই. এামুন এগিয়ে গিয়ে কিছু পর্নো ম্যাগাজিন বের করলো। ক্যামেরাম্যানকে ছবি নিতে বললো। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। মাহাবুবুরের অবাক করা মগজ নড়লো। ওমনিতে বৃদ্ধের প্যাকেট ছিল তার মগজেই জমা। সেনা কর্মকর্তাকে বললেন, একটু আগে তো এসব ছিল না। আমরা তো বেডের নিচও দেখেছি। একটি চিঠিও তিনি পেয়েছিলেন বেডের নিচ থেকে। রোমিও তার কথাতে সায় দেন। এবার রেগে যান কর্নেল ওয়ালি, এবং কর্ণেল ফারুকের মেয়ের জামাই মেজরের উপর তাকে দেখার দায়িত্ব পড়ে। আর ওদিকে ফরহাদ মজহারের ব্যাগে পুলিশ আবিষ্কার করেছে ফোনের চার্জার, শার্ট এসব যদিও তিনি কখনোই শার্ট পরেন না। যখন বের হন তখন তার গায়ে পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরাই ছিল। এ সাংবাদিক লেখক ১৮টি পয়েন্ট জুড়ে দিয়েছেন কারণ তার কোন অংকই মিলছে না। প্রশ্নগুলি হচ্ছে (১) মাইক্রোবাসে গেলে বাসে কেন ফিরলেন? (২) মাইক্রোবাসটি কার? কে চালাচ্ছিল, এখন কোথায়? (৩) সন্ধ্যা পর্যন্ত তার চোখ কেন বাঁধা ছিল (যুগান্তর)? (৪) তাকে কেন ছদ্মনামে লুকিয়ে বাসে উঠিয়ে দেয়া হলো, মাইক্রোবাস কেন ফিরলো না? (৫) গ্রিল হাউজে কবে থেকে ভাত ডাল সব্জি বিক্রি হয়? (৬) তাকে র‌্যাব ক্যাম্পে নেয়া হয়েছিল কেন? (৭) কার ফোন তিনি পান? (৮) এক বস্ত্রে বের হওয়া কিভাবে ব্যাগসহ উদ্ধার হন? (৯) ৩৫ লাখের মুক্তিপণের ফোন নাম্বারটি কেন করানো হয়েছিল, নাম্বারটি কার? (১০) ভারতের মুসলিম নিধনের প্রতিবাদের পরপরই কেন এটা ঘটলো, কেন তাকে হরণ করা হলো? (১১) নিজেকে গুম দেখিয়ে উনার কি লাভ? (১২) অসুস্থ, বিভ্রান্ত ও নির্বাক দেখাচ্ছিল কেন তাকে? (১৩) অতীতের সব নিখোঁজেরা ফিরে এসে কেন চুপ হয়ে যান? (১৪) অতীতের সব গল্পই কি এক ছকে আঁকা? (১৫) রিজওয়ানা হাসানের স্বামীর অপহরণ ও উদ্ধারের সাথে এ ঘটনা একাকার হচ্ছে কি? (১৬) এখন তিনি কোথায়? এরপর কি তাকে আবার রিমান্ডে নেয়া হবে? (১৭) আসলে কি অন্য পক্ষ তাকে গুমচেষ্টা করেছিল আর সরকার নিগেশিয়াসন করে অ্যারেস্ট করলো? (১৮) না কি ভারতীয় প্রেসক্রিপশন এমনই ছিল। গুম নাটক অতপর গ্রেফতার!! সবাই জীবিত ফেরতের প্রত্যাশায় থাকতে থাকতে তিনি কারাবাসে চলে যাবেন!!!! (এ সাংবাদিক লেখক: রয়টার্সের লন্ডন অফিসে কর্মরত; ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, দ্যা গার্ডিয়ান)।

উল্লেখ্য, গত জুলাই এর ২ তারিখে ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে আমারদেশ পত্রিকার সম্পাদক ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ভারতে গোরক্ষা আন্দোলনের নামে মুসলিম হত্যার প্রতিবাদ করেন (শীর্ষ নিউজ)। একজন মানবাধিকার কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও একজন বিবেকমান মানুষ হিসাবে ভারতে সমানেই সংখ্যালঘুর উপর হামলা হয়। এ নিয়ে আমাদের সুশীল সমাজের কারো মুখেই কোন কথা নেই। আবার আমরা জানি কথায় কথায় তথাগত রায়রা বাংলাদেশের এত সম্প্রীতি থাকার পরও এদেশে মাতবরী করতে আসতে দেখা যায়, আমাদের সংখ্যালঘুরাও দৌড় দিয়ে মামার বাড়ীতে আবদার রাখতে যায়। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ ঐ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফরহাদ মজহারও। ফরহাদ মজহার বলেন, যে কোন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতের এ কর্ম মানবতা বিরোধী। মাহমুদুর রহমান বলেন ১/১১এর ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। গতকাল অর্থাৎ শনিবার রাত থেকে মাহমুদুর রহমানের বাসার সামনে পুলিশ অবস্থান করছে। তাই সকালে তিনি নির্দিষ্ট সময়ে বের হতে ব্যর্থ হন। মাহমুদুর রহমানের বক্তব্য থেকে জানা যায় তাকে বের হতে সংবাদ সম্মেলনে যেতে ‘উপর মহলের নিষেধাজ্ঞা আছে’ বলে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে বাধা দেয়। পরে দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাক্ষাৎ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় এবং বাসা থেকে তাকে বের হতে দেয় পুলিশ। তাই পুলিশের এসব তৎপরতাও হুমওয়ার্কের আওতায় আনা দরকার। এসব ফেলনা তথ্য নয়। এবার সরাসরি মাহমুদুর রহমানকে না ধরে তার পাশে বসা লোকটির উপর পুলিশ মনে হয় হামলে পড়ে। অবশ্যই এটি উপর মহলের নির্দেশে নয় বলার সুযোগ কি আর থাকে? সম্প্রতি ভারতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে গো রক্ষার বিরুদ্ধে বলছেন মোদি কিন্তু তিনি নিজেই ঐ নাটকের মূল চালিকাশক্তি। তার এ লোকদেখানো বক্তব্যের পর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সেটি পূর্বেকার ভিডিও দিয়ে প্রমাণ করে দেখায়। এসব মুসলিম নিধন নাটক ছিল মোদির ভোট ব্যাংক বাড়ানোর কসরত। ভারতের মানুষ বেশীর ভাগই সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণ মানুষ, না হলে মোদি বিজয় লাভ করতেন না। ভারত যে সংকীর্ণ গন্ডিতে বাধা এক জাতি, সেটি তাদের আচরণেই স্পষ্ট। গুজরাট, আহমেদাবাদ, এসব উদাহরণ সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। গরুর জন্য দেশ হলেও মুসলিমের জন্য মরণ। দশ হাজার টাকায় ফরহাদ মজহার মুক্ত (পূর্বপশ্চিমবিডি সূত্র)। কে তাকে ফোন করলো তারানা হালিম কি জবাব দিবেন? সিম রেজিষ্ট্রেশন করার অনেক গালগল্প শুনেছি, তারপরও কেন সিসেম ফাঁক হয় না, সত্য ঢাকা থাকে, এতদিনপরও প্রকাশ পায় না। ভারতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে পাকিস্তানের জয়ে উল্লাস করায় ১৫ মুসলিম গ্রেফতার। কাশ্মীর ভারতের থাবার মুখে মুমূর্ষু সময় পার করছে। জবরদস্তি করে কি ভালোবাসা আদায় করা যায়? বিগত শতাব্দীতে চলে যাওয়া আশায় ভরা এক সশ্রদ্ধ জনের বিখ্যাত উক্তিটি স্মরণ করেই লেখাটির ইতি টানবো।

“ইদানিং ভারতের কিছু সংখ্যক মুসলিম বিদ্বেষী জ্বিন দৈত্য ও দানবদের মনে এক দানবীয় আকাঙ্খার উদ্রেক হয়েছে। ওরা চাইছে, বাবরী মসজিদসহ ভারতের অসংখ্য মসজিদ ভেঙ্গে ঐ সব স্থানে মন্দির গড়ে তুলতে। আমি মনে করি, তা কোনদিনও সম্ভব হবেনা। কেননা, আল্লাহ-পাক দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন যে, তিনি তা কোনদিনও হতে দিবেন না। পরন্তু তিনি ইসলামকে (তার সত্য সাম্য ন্যায় ও বিজ্ঞান ভিত্তিক অবস্থার কারণে সর্বধর্মের উপরে প্রতিষ্ঠিত করবেন অচিরেই) (কুরআনের ৬১ সুরার ৮ এবং ৯ নম্বর আয়াত দ্রষ্টব্য)। বর্তমান বিশ্বের কয়েক শ কোটি শোষিত মানুষের মত আমিও দুঃখ পাই যখন শুনি যে, অযোধ্যার বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে রামচন্দ্রের স্মৃতিতে মন্দির গড়ার নামে ভারতের বিভিন্ন স্থানে সহস্রাধিক মুসলমানকে ইতিমধ্যে প্রাণে বধ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। অথচ মূল প্রশ্নতো ওটা ছিল না। কার্যত, ওখানে মসজিদের স্থানে মসজিদ টিকে থাকবে, নাকি মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির গড়ে উঠবে, আসল প্রশ্ন তাও নয়। বরং প্রশ্ন হচ্ছে ওখানে, অর্থাৎ এই ভারত বর্ষে পূজা পাবেন কে? বিশ্ব স্রষ্টা নিজে, না তার সৃজিত মানুষ এবং মানুষের সৃজিত প্রতীক এবং প্রতিমা? এবং ধর্মের নামে মানুষ জানবে কাকে, সত্যকে না কুসংস্কারকে? এ দুটো প্রশ্নের জবাব খুজে পায় নি ভারতবর্ষের মানুষ গত এক হাজার বছরের এত খুন, জখম, সংঘাত ও সংঘর্ষের পরেও। তাই আশা করা যায় যে, এই দুটি প্রশ্নের সঠিক জবাব শুধু এই উপমহাদেশের মানুষেরাই নয়, বরং গোটা বিশ্বের মানুষ আগামী এক দশকের মাঝেই পেয়ে যাবে। এবং খুব সম্ভবত, অনাগত এই সুদিনের খবর জানতেন বলেই বিশ্ব নবী (সঃ) নাকি প্রায়ই বলতেন যে, তিনি হিন্দের দিক থেকে খুসবু তথা সুগন্ধির সুবাস অনুভব করছেন (সেতুবন্ধন ডাঃ এম এ শুকুর, পৃষ্ঠা ১৬০-১৬১, আগষ্ট ১৯৯২)।”

 

নাজমা মোস্তফা,  জুলাই ৭ তারিখ ২০১৭।

আলখাল্লার ভিতরে ইবলিসের বসবাস

নাজমা মোস্তফা

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত “আমাদের সময়” নভেম্বরের ২৮ তারিখ ২০১৭তে একটি কলাম ছাপে তার শিরোনাম “সরকারের ভিত কাঁপে এক খুনে”। শিরোনামটি দেখে পরম উৎসাহে লেখাটি গড় গড় করে পড়ে নেই। লেখাটি পড়ে মনে হলো একটি কলাম লেখা জরুরী। যারা অন্ধকারে পড়ে থেকে এসব কলাম লিখছেন তাদের অবগতির জন্য এ লেখা বেশী দরকারী। তাদের হাত দিয়ে মিথ্যাচার কিভাবে মিডিয়ার রসদ হচ্ছে, এসব তার উত্তম উদাহরণ। এরা অনেকে অত্যাচারী সরকারকে খুশী করতে এসব প্রকৃত খবর এড়িয়ে আংশিক সংবাদ পরিবেশন করেন।

ঘটনাটি যদি একটি দুর্ঘটনা হয়ে থাকে তবে বছরে এরকম হাজারটা দুর্ঘটনা দেশে ঘটে চলেছে। সরকারের নিজ মদদে বরং শত নয় হাজার হাজার মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে, গুম খুন হচ্ছে। সরকার হাসিনা এর পক্ষে সাফাই গাইছেন, যুক্তি দেখাচ্ছেন সব দেশেই এসব হয়। বিডিআর বিদ্রোহে একসাথে প্রায় ৫ ডজন মেধাবীকে খুন করে শক্তির তলানীতে কিন্তু দেশে কোন ষড়যন্ত্রী পক্ষের আন্দোলনকারী নেই বলেই ওদের ধ্বস নামে নি। দেশে আন্দোলনকারী আছে কিন্তু ষড়যন্ত্রী পক্ষ হয়ে মিথ্যাচারের রটনাবাজ হাসিনা ছাড়া আর কেউ নেই বলেই মনে হয়। ওরা আজও বুক চেতিয়ে গলাবাজি করছে, আর মিডিয়া তার সমর্থনে তালিয়া না বাজালে উপায় নেই, বাতিলের খাতায় ছুড়ে দেয়া হবে। আমাদের সময়ের কলাম “ধানমন্ডি ১ নম্বর সড়কের ১৩ নম্বর বাসার এক পরিবারে মেয়েটি গৃহপরিচারিকার কাজ করত। আবুল আহসান আহমদ আলীর গ্রামের বাড়ীও দিনাজপুর। টানা তিন বছরে একবারও দিনাজপুরে মায়ের কাছে আসা হয়নি ইয়াসমিনের। তাই বাড়িতে আসার জন্য বিশেষ করে মাকে দেখার জন্য ভীষণ উতলা ছিল সে। গৃহস্বামী তাকে দুর্গাপূজার ছুটিতে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু বাড়ি যাওয়ার জন্য উতলা ইয়াসমিন সেই বাক্যে স্বান্তনা পায়নি। এ কারণে ১৯৯৫ সালের ২৩ আগষ্ট ঐ পরিবারের ছেলেকে স্কুলে পৌছে দিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে একাই দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যায় ইয়াসমিন। সে উঠে পড়ে দিনাজপুর-ঠাকুরগাওগামী নৈশ কোচ হাছনা এন্টারপ্রাইজে। ২৪ আগষ্ট ইয়াসমিন রাত ৩টার দিকে দিনাজপুরের দশমাইল মোড়ে নামে। কোচের সুপারভাইজার দশমাইল মোড়ের পান দোকানদার জাবেদ আলী, ওসমান গনি, রহিমসহ স্থানীয়দের কাছে কিশোরী ইয়াসমিনকে দিয়ে সকাল হলে মেয়েটিকে দিনাজপুর শহরগামী যে কোন গাড়িতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু এর কিছুক্ষণের মধ্যে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার টহল পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান সেখানে আসে। তারা মেয়েটিকে তার মায়ের কাছে পৌছে দেয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। দশমাইলে একটি আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিশোরীকে নিয়ে যায় তারা। পরে ধর্ষণ ও হত্যা করে। পরদিন সকালে ইয়াসমিনের লাশ পাওয়া যায় দিনাজপুর-দশমাইল মহাসড়কে রানীগঞ্জ ব্রাক অফিসের সামনে। ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, পুলিশ হেফাজতে ধর্ষণ শেষে খুন হয় ইয়াসমিন। —- এখানে উল্লেখযোগ্য যে, উত্তর গোবিন্দপুর এলাকায় পড়ে থাকা ইয়াসমিনের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির উদ্দেশ্যে কোতায়ালি থানার এসআই স্বপন কুমার প্রকাশ্যে জনতার সামনেই লাশ উলঙ্গ করে ফেলেন, যা উৎসুক জনতার মাঝে ক্ষোভ সঞ্চার করে। এ নিয়ে দিনাজপুরে বিক্ষোভ মিছিল হয়”। এ লেখাটিতে দেখানো হয় এ ঘটনার পর ঐ সময় বিএনপি সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দেয় জনতারা। আমরা জানি জনতারা বিডিআর বিদ্রোহের শত বেদনা নিয়েও দম ছাড়ছে আর ষড়যন্ত্রী পক্ষ দম্ভোক্তি প্রকাশ করে চলেছে। ছলবাজি বিচারের নামে প্রহসন করে চলেছে। নির্দোষকে মেরে সাফ করেছে করছে আর প্রকৃত আসামীকে খালাস দিচ্ছে।

এবার আমি একজন প্রত্যক্ষদর্শীর নিজ চোখে পরখ করা বক্তব্য ও কলাম থেকে এর উপর কটি কথা যোগ করছি। কিভাবে আলখাল্লার ভিতর ইবলিস লুকিয়ে থাকে সেটি আল্লাহ পবিত্র গ্রন্থে বারে বারে স্পষ্ট করে তার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মানুষরা চোখ থাকতেও অন্ধের ভূমিকায় আছে। আল্লাহ বলেন প্রকৃত মানুষ তার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব, তাই বলে সব নয়। এরা অনেকে পশুরও অধম, হীন থেকে হীনতর এরা। গবেষণার চোখে সুক্ষ্ম দৃষ্টির অভাবে অনেক অনাচার ধরতে পারে না। তবে এটি ঠিক বিধাতার দৃষ্টি থেকে এসব কপটরা কখনোই বাঁচতে পারবে না। আল্লাহ এমন একটি অদেখা সত্তা যাকে আমরা দেখি না সত্য, কিন্তু তিনি সর্বক্ষণ আমাদের পরখ করছেন। সুতরাং অপরাধ করে নিস্তার পেয়ে যাবার সুযোগটা সাময়িক। যারা এই শক্তিমান সত্ত্বাকে প্রকৃত অর্থে বিশ^াস করে না, তারাই গোটা বিশ^ সমাজ জুড়ে এরকম অনাচার কাজ করেছে করছে সামনে আরো করবে। উপরের পুলিশেরা যেভাবে একটি লাশ ফেলে ঠিক একইভাবে শত শত লাশ পড়ছে বাংলাদেশে এদের কল্যাণে। এখানের এরা সবাই ইবলিসের দোসর। মানুষের সরল চোখে তা ধরা পড়ে নাই যদিও এসব চলে তখনকার বিরোধী শক্তির অতিশয় ধুরন্ধর নেতৃত্বের আঁচলের তলানীতে, যার নেতৃত্বে শেখ হাসিনা। এরা সময়ে সময়ে প্রতারণার জন্য মদিনার সনদ, তসবিহ, নামাজ, তাহাজ্জুদ এসব ব্যবহার করে শুধু মাত্র ক্ষমতায় যাবার গুটি হিসাবে। এরা সম্ভবত আল্লাহকে চিনেও না, তার পরোয়াও করে না।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত একজনের গ্রন্থ থেকে নেয়া শিরোনাম “জনতাকে শান্ত থাকার বকতৃতা: ১৯৯৫ সালের ২৪ আগষ্ট দিনাজপুরের মানুষ পুলিশের বিরুদ্ধে মিটিং মিছিল শুরু করলে শেখ হাসিনা দিনাজপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আব্দুর রহিমসহ কয়জন জেলা নেতাকে জরুরী তলব করে ঢাকায় ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু ভবনের লাইব্রেরী রুমে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিকেল পাঁচটাতে। তার পরামর্শ ছিল এই বিক্ষোভকে আন্দোলনে রুপ দিতে হবে। নির্দলীয় খোলসে রেখে তখনকার খলেদা সরকারের পতন ঘটাতে হবে। এখন ঢাকার দিকে নয়, দিনাজপুর থেকে ঢাকায় আসতে হবে। প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ করতে হবে। লাশের পর লাশ ফেলতে হবে। পুলিশের লাশও ফেলতে হবে। ঐ পুলিশের মাঝেই লোক আছে, যাদের টাকা পয়সা দিলে গুলি করে মানুষ মেরে ফেলার স্তুপ লাগিয়ে দিবে। পুলিশের সাথেও কন্ট্রাক্ট করবেন, টাকা পয়সা দেবেন। মনে রাখবেন, একমাত্র এই পথে ক্ষমতার মুখ দেখতে পারবেন। নইলে জীবনেও আর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিতে পারবেন না। ইয়াসমীন মরে সুযোগ করে দিছে, একে কাজে লাগান নির্দলীয় ব্যানারে। লীগের নাম মুখেও আনবেন না। ফাল দিয়ে কেউ মঞ্চে যাবেন না। সব করবেন পিছন থেকে। মুখ খুলবেন না, কথা বললে দুনিয়ার ভাল ভাল কথা বলবেন। কাজে যাই করেন, শুধু মুখে ভাল কথা। লঙ্কাকান্ড বাধাতে পারলে আমিও দিনাজপুর আসবো। ওখানে আপনাদের সাথে আমার কোন কথা হবে না। আমি শুধু বকতৃতায় বলে আসবো ধৈর্য্য ধরুন, শান্ত থাকুন, এসব। কিন্তু আপনারা কাজের কাজ পুরোপুরি চালিয়ে যাবেন। এখন ২০ লাখ টাকা নিয়ে যান। বাকী যা লাগে ওখানেই পৌছে দেব। আমি শুধু কাজ (লাশ) চাই। টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের গাড়ী না থাকলে আমি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেব” (মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেনটু “আমার ফাঁসি চাই” পৃষ্ঠা ৮১/৮২)।

৮১ সালের ১৭ই মে থেকে ৯৭সাল এই ১৬ বছর লেখক শেখ হাসিনার রাজনীতির নেপথ্যের অনেক কাহিনী বইটিতে প্রকাশ করেন। তিনি ছিলেন শেখ হাসিনার অলিখিত কনসালটেন্ট। তার স্ত্রী ৮৮ থেকে ৯৭ পর্যন্ত ৯ বছর হাসিনার অবৈতনিক হাউজ সেক্রেটারী ছিলেন। বইটিতে তিনি শেখ মুজিবেরও বিচার চান। তার যুক্তিতে নামকরণে প্রমাণ তিনি তার নিজের ফাঁসি চান, এ যুক্তিতে যে এত অপরাধ দেখেও তিনি অসহায়ভাবে নিরব ভূমিকায় ছিলেন। আজো সারা দেশের আওয়ামী লীগের অপকর্মীরা জানে কত অপরাধী তারা কিন্তু তারা নিরব। এরকম অবস্থাতে একজন মানুষের ঈমানের উপর সন্দেহ আসতেই পারে। ঈমান মানে আর কিছু না, আল্লাহতে বিশ^াস। এরকম কাজ করলে আর মানুষের ঈমান থাকার কথা নয়। হাসিনা সরকারের সময়ই এ বইটি প্রচার প্রকাশ করেন রেনটু তার বুকের পাটা বহাল রেখে। আর ধারণা হয় বইটির কপি বাজার থেকে ধ্বংস করা হয় এবং পরে বাতিলও করা হয়। এই সুবাদে দু একজনা ভাগ্যবানের কাছে এর কপিটি হাতে এসে পড়ে, আমিও তার একজন।

বইটির ১৩৭ পৃষ্ঠায় আর একটি কলাম ছিল “আমার, শেখ মুজিবের ও শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই”, তিনি এখানে তার নিজ সহ বাকী দুই জনেরও ফাঁসি চান। নীচে এ তিনজন অপরাধীর অপরাধের কারণ বর্ণিত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইংল্যান্ডের ক্রমওয়েল ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেই স্বৈরাচার হয়েছিলেন, তার বিচার হয় তার মৃত্যুর পরে। কবর থেকে তার হাড়গোড় তোলে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়েছিল, একেই বলে আইনের শাসন। তার যুক্তিতে শেখ মুজিবের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস হয়। এখানে তিনি তিনজনের ফাঁসি দাবী করেন। প্রথমে তার নিজের। যুক্তিগুলো হচ্ছে শেখ মুজিব হত্যার প্রতিবাদে যুদ্ধ করে দেশের যে ক্ষতি করেছি সে অপরাধে তিনি তার নিজের বিচার চান। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা জেনেও তা প্রকাশ না করায় এবং হত্যাকারীদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে তিনি তার নিজের ফাঁসি চান। ১৯৯২ সালে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন পন্ড করার জন্য শেখ হাসিনার পরিকল্পনা ও নির্দেশে হিন্দু মুসলিম রায়ট লাগিয়ে যে অপরাধ করেছি তার জন্য তার নিজের ফাঁসি চান। ৯২ থেকে ৯৬ পর্যন্ত আন্দোলনের নামে ঢাকা শহরের শেখ হাসিনার নীল নকশা ও নির্দেশে যে ১০৩ জন লোক নিহত হয় এই অজ্ঞাতনামা ১০৩ জন মানুষ হত্যার দায়ে তিনি তার নিজের ফাঁসি চান। (ঐ গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৩৮)।

লেখকের দৃষ্টিতে ফাঁসির আসামী হিসাবে (১) সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ঘোষণা না করায় ত্রিশ লক্ষ মানুষ নিহত হয়, ২ লক্ষ মা বোন ধর্ষিত হয়। এর জন্য শেখ মুজিবর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসি চান। (২) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার অভিযোগে শেখ মুজিবের মরণোত্তর বিচার ও শাস্তি চান। (৩) যে মুক্তিযোদ্ধারা শেখ মুজিবকে স্বাধীন দেশে ফিরিয়ে আনেন। স্বাধীনতার পর ভারতে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা না এনে রাজাকার আলবদরদেরসহ ভুয়া ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেয়ার অভিযোগে তার মরণোত্তর বিচার ও শাস্তি চান। (৪) ক্ষমা না চাইতেই স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার, আলবদরদের ঢালাওভাবে ক্ষমা করার অপরাধে তার শাস্তি চান। (৫)বিপ্লবী নেতা সিরাজ সিকদারকে বন্দী অবস্থায় বিনা বিচারে গুলি করে হত্যার অপরাধে তার ফাঁসি চান। সিরাজ সিকদারকে খুন করে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে দম্ভোক্তির জন্য তার মরণোত্তর শাস্তি চান। (৭) জনতার ভোটের অধিকার, মিছিল করার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণসহ সংবিধানের মৌলিক অধিকার হরণ করে জাতির উপর একদলীয় (বাকশাল) শাসন শোষণ চাপিয়ে দেয়ার অপরাধে শেখ মুজিবের মরণোত্তর বিচার ও শাস্তি চান (ঐ গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৩৯)।

অতপর লেখক “ক থেকে চ” পর্যন্ত ছয়টি নম্বরযুক্ত শক্ত যুক্তি দ্বারা শেখ হাসিনার ফাঁসি চান

(ক) ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে এসে সন্ত্রাসী, চোরাকারবারী, কালোবাজারী, ঘুষখোরদের রাজনীতির চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছে এবং রাজনীতি থেকে সকল প্রকার নীতি আদর্শ ঝেটিয়ে বিদায় করে প্রতিষ্ঠিত করেছে নীতিহীন রাজনীতি। এই অপরাধে শেখ হাসিনার বিচার চান, শাস্তি চান।

(খ) ভারতে বসে জিয়া-উর রহমান হত্যায় ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করে ৮১ সালের ৩০ শে মে তা বাস্তবায়িত করায় হাসিনার ফাঁসি চান

(গ) ৮২ সালে নির্বাচিত বিএনপি সরকার উৎখাত করে সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অপরাধে শেখ হাসিনার বিচার ও শাস্তি চান

(ঘ) সামরিক স্বৈরাচার এরশাদকে হাতের মুঠোয় রাখার জন্য ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা, ছাত্র আন্দোলনের নামে ৮৩এর মধ্য ফেব্রুয়ারী বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র জাফর ও জয়নাল এবং ৮৪এর ফেব্রুয়ারীতে সেলিম ও দেলোয়ার হত্যার অপরাধে শেখ হাসিনার ফাঁসি চান।(ঐ গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৩৯/১৪০)।

(ঙ) ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন পন্ড করার জন্য হিন্দু মুসলমান সাম্প্রদায়িক রায়ট লাগিয়ে দেয়ার অপরাধে শেখ হাসিনার বিচার ও শাস্তি চান

(চ) ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত আন্দোলনের ইস্যু তৈরী করার জন্য ঢাকা শহরে ১০৩ জন নিরীহ অজ্ঞাতনামা সাধারণ মানুষকে খুন করার অপরাধে শেখ হাসিনার ফাঁসি চান।

আমার লেখাটির শিরোনাম “আলখাল্লার ভিতরে ইবলিসের বসবাস”, কেন আওয়ামী লীগের অনুসারীরা অতিরিক্ত নীতিবিবর্জীত। এর প্রধান কারণ তাদের নেতৃত্বের চরম সংকট। যারা তাদের চালায় তাদের উৎসাহেই এরা বিপথগামী দল। আদর্শহীন নেতৃত্ব কোনদিনও মানুষকে সুপথ দেখাতে পারে না। মানুষ যখন নষ্ট পথে হাটে, বুঝতে হবে সেটি ইবলিসের পথ। “তিনি জানেন চোখগুলোর চুপিসারে চাওয়া আর যা বুকগুলো লুকিয়ে রাখে” (সুরা আল-মুমিনএর ১৯ আয়াত)। “স্মরণ রেখো, দুইজন গ্রহণকারী গ্রহণ করে চলেছেন ডাইনে ও বাঁয়ে” (সুরা ক্বাফএর ১৭ আয়াত)।  কুরআনে এটি বারে বারে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এরা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। তাদের চলন বলন দেখেই তাদের চিনে নিতে হবে তার অনুসারীদের, কে ইনসান আর কে ইবলিস। “নিশ্চয়ই আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি শ্রেষ্ঠ সুন্দর আকৃতিতে। তারপর আমরা তাকে পরিণত করি হীনদের মধ্যে হীনতমে” (সুরা তীনের ৪/৫ আয়াত)। “শয়তানের সাঙ্গোপাঙ্গদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। নিঃসন্দেহ শয়তানের চক্রান্ত চির দুর্বল” (সুরা নিসার ৭৬ আয়াত)। “তোমাদের আমি বলেছিই যে শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু” (সুরা আল-আরাফ-এর ২২ আয়াত)। উপরের আয়াতগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়লেই চিহ্নিত ইবলিসকে জেনে যাবেন। তাদের মুখের ভালো ভালো কথা আর অন্তরের বিভৎস অধ্যায়ের খবর বিশ^প্রভু অদেখা বিধাতার কাছে জমা আছেই। অনলাইনে “আমার ফাঁসি চাই” কথাটি ইংরেজীতে লিখে সার্চ দিলেই আপনারা হাতের কাছে বইটি পেয়ে যাবেন, পড়তে পারেন এবং সত্য মিথ্যা পরখ করেন। আর প্রতিটি বাংলাদেশীর জন্য এ বইটি পড়া মনে হয় ফরজ হয়ে পড়েছে। নিজেকে দেশকে বাংলাদেশকে চিনতে হলে এটি অবশ্যই ছত্রে ছত্রে পড়তে হবে আপনাকে, অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোক।

কলামটি লেখার তারিখ- ২৮ নভেম্বর ২০১৭ সাল।

পলাশির পতনের মূলে হিন্দু পরাশক্তি অতঃপর মীরজাফর

মীরজাফর নামটি তার অতীত কর্মকান্ডে জনমনে একটি কলঙ্কের নাম। কিন্তু এর চেয়ে বড় বড় কলঙ্কিত মীরজাফরেরাও নিশ্চিন্তে সংগোপনে লুকিয়ে আছেন খোলসের ভিতরে, তা স্পষ্ট হওয়াও ইতিহাসের বড় দায়। গবেষণালব্ধ ইতিহাস বলে মুসলিমরা সব সময়ই অতি অসাম্প্রদায়িক, এর বড় কারণ এটি তাদের ধর্মের স্পষ্ট নির্দেশনা। যার প্রেক্ষিতে তারা সব সময়ই মীরজাফরকে আসামী ধরে ধিক্কার দিয়েছে কিন্তু বাকীদের ব্যাপারে এতই নির্লিপ্ত থেকেছে যে, এতেও প্রকৃত সত্যের সাথে অনেক অবিচার করা হয়েছে। যার জন্য ধূর্ত অপরাধী শক্তি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেছে সেদিন থেকে আজ অবদি। গবেষণার প্রকৃত ইতিহাস বলে মীরজাফর কিছুটা চক্রান্তকারী হলেও পরমাত্মীয় সিরাজ বিরোধী ও দেশ বিরোধী চক্রান্তে জড়াতে চান নি। এমন কি ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় এ দায় বহাল রাখতে কুরআনের শপথও নিষ্ক্রিয় হয়েছে। চারপাশ থেকে কপট জোটবদ্ধ হিন্দুরা লোভের টোপ ফেলে তাকে ষড়যন্ত্রীদের দলে ভিড়ায়। মীরজাফর যখন এসব চক্রান্তে জড়াতে চাননি তখন উমিচাঁদের জবাব ছিল, আমরা তো সিরাজকে মারছি না। নিজেরাও নবাবী নিচ্ছি না। সিংহাসনে আপনাকেই বসাবো। কারণ আপনাকে ইংরেজসহ আমরা ও বাকী মুসলিম অমুসলিম সবাই শ্রদ্ধার চোখে (?) দেখে। এভাবে অতি লোভের টোপ পেয়ে মীরজাফর উমিচাঁদের বিলি করা জীবনধ্বংসকারী টোপটি গেলেন। এটি সত্য তার ঈমানের গলতি ছিল বলেই তিনি এমন টোপ গিলতে পারলেন। আজও যারা ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে জাতির সর্বনাশ করছে, এরা সবাই ঐ এক গোষ্ঠী দলের অন্তর্ভূক্ত। এরা মুমিন তো নয়ই, মুসলিমও নয়, এরা মোনাফিক। প্রতিটি জনতার এদের সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার। মানুষের মাঝে এরা তিন গোষ্ঠী আর চতুর্থ আর এক দলের নাম হচ্ছে মুশরিক। যারা আল্লাহর সাথে শিরক করে, অমুসলিমরা তো করেই, এমন কি মুসলিম হয়েও করে। এখানের সবচেয়ে উত্তম দল হচ্ছে মুমিন দল, এরা এক্সেলেন্ট পাওয়া দলের সদস্য।

প্রসঙ্গ একজন রাগীব আলী: প্রধান রিচারপতি সিনহা বাবু প্রায়ই দু চারটে কথা বলে চমক আনতে চান। যেমন ৪০ ভাগ কাজ হয় আর ৬০ ভাগ পকেটে ঢুকে যখন তিনি এটি বলছেন তখন জনগণ সন্দেহ করছে ৯০ ভাগই পকেটে ঢুকছে, না হলে এক মাইল রাস্তা খরচ হতে অন্যদের থেকে দশগুণ বেশী খরচ হয় কেন? দেখা যায়, সরকারী হিসাবে একটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের দাম হয় লাখ টাকা! এসব হচ্ছে ভাবমূর্তির লুটপাট বানিজ্য! সারা দেশে এত সব ভয়ঙ্কর অবস্থা চলছে, সে সব বিষয়ে বাংলাদেশ যেনো বোবার ভনিতা করছে। কেন এমন নীরবতা, কারণ মুখ খুলবে যে, তার ময়দানের অধিকার বাতিল হবে, হবে গুম নয়তো খুন। যে বা যারাই দেখছেন অনেক গুণিজনই বলছেন যে সাঈদী নির্দোষ থাকার সার্বিক প্রমাণ থাকার পরও কেন রায় উল্টোমুখি হয় স্কাইপি আদলে। কেন আসামীপক্ষ আইনজীবির জলজ্যান্ত যুক্তি ধোপে টেকে না? বিচারের নামে কেন এসব স্বজ্জ¦নদেরে ভাবিত করে না, বুঝি না। এতদ প্রসঙ্গে সিলেটের একজন রাগীব আলীর মানবিক অনেক কর্মকান্ডের অনেক রেকর্ড বর্তমান থাকার পরও তার বিচার বড় সহজে হয়। মনে হয় সরকারী কোন তকমা তার দলিলে নেই। তিনি বড় বড় ব্যাংক জালিয়াতি লুটপাটের রিজার্ভ চোর নন, শেয়ার চোরও নন, বলা হচ্ছে বিচারে কিছু ত্রুটি তার পেয়েছে। রিজার্ভ চোরদের, শেয়ার চোরদের শুধুই ছাড়, গুম হত্যাকারীরা নিষ্পাপ হয়, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। শুধু রাগিব আলী এলাকায় মানবতার সেবায় বিস্তর কর্মকান্ড করার পরও জেলের আসামী, ১৪ বছরের জেল। এই বিচার স্থানীয় অস্থানীয় অনেক মানুষের মনে নানান প্রশ্নের জমা বাড়িয়েছে, বিশেষ করে আঞ্চলিক ময়দানে সচেতন মানুষের মন ও মননে।

সিলেটের তারাপুর চা বাগান নিয়ে বেশ জটিলতা ছিল। সেখানে ৩ হাজার পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করা হবে বা হয় কারণ তাদের দোষ এরা রাগীব আলী নামে একজনের কাছ থেকে জায়গা জমি কিনেছিল। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা প্রশাসনের এই এক চোখা নীতি অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন কারণ রাগীব আলী কোন জমি বেআইনী দখল করেন নাই বরং তিনি পঙ্কজ কুমার গুপ্তের কাছ থেকে ঐ জমি কিনেছেন। পঙ্কজের পূর্ব পুরুষ কেউ একজন এ জমি কিনেছিলেন বৃটিশ ব্যবসায়ী সি কে হার্ডসন থেকে। এই সি কে হার্ডসন নামের ব্যক্তিটি হচ্ছে বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর পক্ষের একজন বৃটিশ। এই বেনিয়ারা সে সময় ব্যবসার নামে এ দেশ দখল করে রাখে। এটি তখন ছিল আসাম অঞ্চল। উইকিলিক্সে দেখা যায় ঐ সময় সব জায়গার মালিকই ছিল মুসলিমরা। কিন্তু কোম্পানী অশেষ নির্যাতনে কালে রাজ্যহারা মুসলিমদের সম্পদের দখলদারী নেয়। পরবর্তীতে দেশ ত্যাগের হিড়িকের সময় সেটি বৃটিশরা বিক্রি করে দেয় পঙ্কজ কুমারের পূর্ব পুরুষের কাছে। তারাপুরের জমি রাগিব আলী বিক্রি করে আসামী হলে পঙ্কজ কেন ঐ জমি ক্রয় করে আসামী হচ্ছেন না? এসব কথা যুক্তি অনেক ফেসবুকেও আলোচিত হচ্ছে। অতপর দেখা যায় এটি মন্দিরের জন্য দান করা হয়। এতে মূল বিষয় কি দাড়াচ্ছে মুসলিমদের থেকে জোর করে সম্পদ কুক্ষিগত করে সেটি মন্দিরে দিলে সেটি কি সঠিক হয়? এটি গেল রাগিব আলীর জটিলতার এক দিক।

সিলেটের ইতিহাস: উইকিলিক্সএর বরাতে পাওয়া যায় এ অঞ্চলে আর্য যুগ, মুসলিম যুগ, মোগল আমল, বৃটিশ আমল, অতপর পাকিস্তান মুুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ। সিলেট ছিল মূলত আসামের অংশ এখনো তার এক অংশ ভারতের আসাম রাজ্যের অঙ্গীভূত হয়ে আছে। এই যে ধারাবাহিক পর্যায়গুলি এসবে জবর দখল ও জবরদস্তি কাজ করেছে বহুভাবে। ইসলামপূর্ব সময় থেকে চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতকে গুপ্তবংশ, অতপর শশাঙ্ক নামে একজন স্বল্প সময়ের জন্য শেষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পাল রাজবংশ এতদঅঞ্চল শাসন করে। দ্বাদশ শতাব্দীতে সুফি সাধক ত্যাগী মুসলিমদের মারফতে এ অঞ্চলে ইসলাম আসে। সামরিক অভিযান ও যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে শত শত বছরের নির্যাতীত মানুষ ব্যতিক্রমী বিশ^ধর্মের মহতি সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে একে সাদর অভ্যর্থণা জানায়। ১২০৫-১২০৬ খৃষ্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজীর মাধ্যমে রাজা লক্ষণসেনের পলায়নের মাধ্যমে সেন রাজবংশের পতন ঘটে। ষোড়শ শতকে মোগল যুগের আগ পর্যন্ত এ অঞ্চল সুলতান ও ভূস্বামীদের হাতে শাসিত হয়। মোগল যুগেই বাদশাহ জাহাঙ্গিরের নামানুসারে ঢাকার রাজধানীর নাম রাখা হয় জাহাঙ্গিরনগর। ইউরোপীয় বণিকরা আসে পঞ্চদশ শতকের শেষভাগে। ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দে বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী পলাশীর ষড়যন্ত্রে এ ভূখন্ড দখলের পর এতদঅঞ্চলের শাসন কুক্ষিগত করে। ঐ ষড়যন্ত্রে বাহ্যত মীরজাফরকে দেখা গেলেও এর পিছনে প্রকটভাবে সচল ছিল হিন্দু বেনিয়া গোষ্ঠী, এ কুটবুদ্ধি চালবাজরা সব সময়ই মীরজাফরকে সামনে দিয়েছে যাতে সাপও মরে আর লাঠিও না ভাঙ্গে। দৃশ্যত তারা স্বজ্ঞানে একজন মুসলিমকে শাসন ক্ষমতা দিতে চায় নি কিন্তু নিজের গা বাঁচাতে মীরজাফরকে কাকতাড়–য়ার মত ব্যবহার করে। এযাবৎ ভারতে মুসলিমদের গৌরবোজ্জল ইতিহাস ঢেকে রাখা হয়েছে প্রচন্ড কৌশলে। এর উত্তম উদাহরণ হিসাবে যুগ যুগ অবধি এই গোলাম আহমাদ মোর্তজার মত লেখকদের লেখাকে অপ্রকাশিত করে রাখাটা এর এক অনন্য উদাহরণ।

ঐ দেশ ধ্বংসে বেনিয়া গোষ্ঠী জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রাজবল্লভ ছিল মূল চালিকা শক্তি। শুরুতে বৃটিশদের এদেশে মসনদ গড়ার সুযোগ করে দেয় এরাই। শুরু থেকে “টাকা যত লাগে এ যাবত দিয়েছি আরো দেব, কোন চিন্তা নেই” টাকারও মালিক মূলতঃ গৌরিসেন। এটি ছিল তাদের মুখের বানী। এরপরই সিরাজের বড় খালা ঘসেটি বেগমকে সিংহাসনের লোভ দেখায়। নবাব সিরাজউদৌলাকে সরাতে তারা ব্যস্ত সময় পার করছিল। ইংরেজ দূত ওয়াটস সেদিন মহিলার ছদ্মবেশে (অবশ্যই বোরখা পরেছিল) পালকী যোগে গোপন সলা পরামর্শে যোগ দেয়। সেদিনও বোরখা অস্ত্রটি এমন এক দেশ বিধ্বংসী ভূমিকা রাখে সেটি মাথায় রাখা উচিত। খুব সহজে যে কোন পুরুষও এটি পরে ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে। সেদিন দখলদার বৃটিশদের অর্থনৈতিক দায় মেটায় জগৎ শেঠ। জগৎ শেঠ মাছের তেলে মাছ ভেজে অর্থের যোগান দেয়। ইতিহাসের সব দায় মীরজাফরের ঘাড়ে একাই চাপিয়ে দিয়ে চালবাজরা থাকে খোলসের আড়ালে। আলীবর্দী খাঁএর কোন পুত্র না থাকাতে নাতি সিরাজুদৌলাই সিংহাসনে বসেন। সিরাজের বিরুদ্ধে হিন্দু-বৃটিশ শক্তি মিলিতভাবে মিথ্যাচারের রং চড়িয়ে ইতিহাস ঢেলে সাজায়, যার কোন সত্য ভিত্তি নেই। সঠিক তথ্য নির্ভর গবেষনাতে এসব ছলচাতুরী ধরা পড়ে। বৃটিশরা হামলে পড়ে পলাশিতে কারণ উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠের সাজানো সেনাপতি মীরজাফর হচ্ছে তাদের কাকতাড়–য়া স্বপক্ষ শক্তি। ক্লাইভের সৈন্য মাত্র ৩,০০০ আর সিরাজের সৈন্য ৫০,০০০। যুদ্ধকালীন এই মিলিত হিন্দু-মীরজাফর শক্তি নিষ্কর্মা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো আর নবাবের সৈন্যরা মরলো যেন আত্মহত্যা করছে তারা। মীর মর্দান সেনাপতির নির্দেশ ব্যতিরেকেই বীরের মত শহীদ হন। তখন অবদি যুদ্ধ কিন্তু সিরাজের অনুকূলে ছিল। ওদিকে মোহনলাল ও ফরাসি মিত্র সিনফ্রে যখন যুগপৎ তৎপর ঠিক তখন অল্প দামে কেনা বিশ^াসঘাতক মীরজাফর যুদ্ধ বন্ধের আদেশ করে। যুদ্ধের চলমান গতি বদলে যায়, সিরাজসহ ভারত পরাজয়ের মালা গলে পরে নেয়। এই হিন্দু ও মীরজাফর শক্তিই বৃটিশদের জয়ের মুকুট পরায়। প্রকৃতপক্ষে এটি যুদ্ধ ছিল না, ছিল একটি জাতির মিথ্যাচারের ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পাতানো খেলা। যুগ যুগ থেকে এসব ইতিহাসের তলায় চাপা দিয়ে রাখা। মুসলমানদের ইতিহাস সব সময়ই গৌরবের ইতিহাস যারা সঠিক ইতিহাস পাঠ করেছেন তারা জানেন। মীরজাফরেরও বহু আগ থেকেই হিন্দু মিলিত শক্তি ছক আঁকছিল। সিরাজ ধ্বংসের যে গোপন বৈঠক হয় সেখানে জগৎশেঠ, রাজা মহেন্দ্ররায় (দুর্লভ রায়), রাজা রামনারায়ণ,  রাজা রাজবল্লভ, কৃষ্ণদাস ও মীরজাফর। এরা সব বৃটিশের অনুগত গোলাম, রাজা টাইটেলও বৃটিশের দান। তাদের একজন জোর গলাতে হিন্দু নবাবের দাবী জানান, কিন্তু কুটবুদ্ধির কৃষ্ণদাস কৌশলে মীরজাফরকেই কোরবানীর বলদ হিসাবে সামনে রাখেন। বাকীরা এ যুক্তিতে এটি মেনে নেন যে অন্য কেউ নবাব হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। টাকার যোগানদাতা জগৎশেঠ ভারতের যোদপুরের এক হিন্দু হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার পরিবারের একজন হীরানন্দ জঠর জ¦ালায় বঙ্গদেশে এক বৃদ্ধের সেবা করার সুযোগ পান। ঐ বৃদ্ধের মৃত্যুতে তার সম্পদ হীরানন্দের ভাগের জমা। ১৭৫২ খৃষ্টাব্দে বাদশাহ ফররুখ শাহের সময় মুর্শিদ কুলি খাঁর সুপারিশে হীরানন্দকে শেঠ উপাধি দেয়া হয়। তখনকার সময়েও এসব হিন্দু মুসলিম মিলিত শক্তির ঐতিহাসিক উদাহরণ হয়ে ছিল (রিয়াজুস সানাতিন, Stewarts History of Bengal)। ওদিকে মুর্শিদ কুলী খাঁর মৃত্যুর সময় তার টাকাও শেঠদের বাড়ীতে জমা ছিল যার পরিমাণ সাত কোটী টাকা, যা শেঠরা কোনদিনই ফেরত দেয়নি (মুর্শিদাবাদ কাহিনী, ৫৬পৃষ্ঠা, নিখিল চন্দ্র রায়)। এভাবে অপরের হাতিয়ে নেয়া টাকা দিয়েই ব্যাংকার সেজে গোটা দেশ ধ্বংসের কর্মকান্ড চলে শেঠ কুলের মদদে। বৃটিশরা তাদের লেখাতে এটি স্বীকার করে যে, The Rupees of the Hindu banker, equally with the sword of the English colonel contributed to the overthrow of the Mahammedan power in Bengal. (ঐতিহাসিক চিত্র, অক্ষয় কুমার মৈত্র ১ম বর্ষ ১ম সংখ্যায় দ্রষ্টব্য। ইতিহাসের ইতিহাস, গোলাম আহমাদ মোর্তজা, ২৩৬ পৃষ্ঠা)। বাংলার মুসলমান ধ্বংস করতে বৃটিশ সেনাপতির তরবারীর সাথে হিন্দু ধনপতির মিলিত প্রয়াসেই এটি সম্ভব হয়। সিরাজকে হত্যা করার প্রস্তাবটিও জগৎ শেঠের। এরা মিলিতভাবে সিরাজের বিরুদ্ধে অন্ধকুপের হত্যাসহ চরিত্রধ্বংসের অনেক অনেক কলঙ্ক ছড়ায় যা ছিল ইতিহাসের চরম মিথ্যাচার মাত্র। এ মিথ্যাচারে অনেক বাবু হিন্দু লেখকরাও মহানন্দে শরিক হন। সিরাজ বুঝতে পেরেছিলেন মীরজাফর প্রতারণা করতে পারেন তারপরও কেন তাকে বিশ^াস করলেন এর একমাত্র যুক্তিটি হচ্ছে এই মোনাফিক কুরআন হাতে নিয়ে শপথ করেছিল যে দেশ বিধ্বংসী কিছু করবে না। এর জবাব অবশ্যই পরকালের খাতায় জমা রইবে। অনেকে মিথ্যাচারে ভরে দিলেও একজন গিরীশচন্দ্র ঘোষ প্রকৃত সত্য সিরাজকে সঠিক সত্যে উদ্ভাসিত করে নাটক লিখেন যা সকল মিথ্যাচারের মুখে চুনকালি লেপে দেয়। তার নাটক ছিল সকল মিথ্যাচারের স্পষ্ট জবাব। এক সময় ক্লাইভের শঠতার ইতিহাসও স্পষ্ট হলে, সে কলঙ্ক লুকাতে তার শেষ পরিণতিও হয় কলঙ্কজনক মৃত্যুতে। কাপুরুষের মত নিজ কন্ঠে ধারালো ক্ষুর দিয়ে শ^াসনালী কেটে আত্মহত্যার কলঙ্ক দিয়ে নিজেকে সমর্পণ করেন। এসব চাপা দিয়ে রাখা অতীতের অনেক অনেক ইতিহাস জানা যায় গোলাম আহমাদ মোর্তজার “ইতিহাসের ইতিহাস” গ্রন্থ থেকে (২৩২-২৪৬ পৃষ্ঠা)।  কলকাতার দুর্গ নির্মানের ব্যয়ের যোগানদাতা ছিল রায় দুর্লভ, তার ছেলে কৃষ্ণরায়, এরা প্রজা সাধারণের টাকায় নিজেদের মসনদ দৃঢ় করে। অন্যদিকে এই মুসলিমরাই সিপাহী বিদ্রোহের প্রকৃত যোগানদাতা হলেও গালির ভাগই তাদের ঘাড়ে বর্তায় কপটদের কল্যাণে। ওয়াটসাহেবকে সপরিবারে বন্দী করে কাশিমবাজার থেকে মুর্শিদাবাদ আনা হয়, রাজ বল্লভের পুত্র প্রজা নিপিড়নের টাকা পাচার করেন বৃটিশের ঘাটিতে। এ অপরাধেও হলওয়েল, কৃষ্ণদাস, ও উমিচাঁদকে নবাবের কাছে আনা হয়। তারা জানতেন তাদের পাপ প্রানদন্ডের অপরাধে অভিযুক্ত। কিন্তু সিরাজ তাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। এর খেসারত তাকে দিতে হয় জীবন দিয়ে।

এর ১০০ বছর পর ১৮৫৭সালে সিপাহী বিপ্লবের পর কোম্পানীর হাত থেকে সরাসরি বৃটিশ সা¤্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে আসে। বহুবার দুর্ভিক্ষ, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর হয় ১৭৭০ সালে, ৩০ লাখ মানুষ মারা যায়। অতপর ১৯০৫-১৯১১ বঙ্গভঙ্গ হয় এর ফলে রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক পুর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে একটি নতুন প্রদেশ গঠিত হয়। সেদিন রবীন্দ্রনাথসহ কলকাতা হিন্দু শ্রেণীর প্রবল বাধার মুখে এটি রদ হয়। ঐ বিভাগ ভাংতেই রচিত হয় সোনার বাংলা গানটি ছিল বাঙ্গলী মুসলিমের জন্য একটি দেশ বিধ্বংসী গান। তারপরও ইতিহাসের বাস্তবতায় ১৯৪৭ সালে আবার পাকিস্তান নামে পুনরায় দেশটি বিভক্ত হয়। কারণ এটি না হয়ে উপায় ছিল না। বর্ণহিন্দুরা যে জাতি বিদ্বেষী খেলা শুরু করেছিল এর সহজ পরিণতি ছিল এটি। নীচবর্ণ হিন্দুও সবদিনই ভারতে মুসলিমদের মত অন্য সব সংখ্যালঘিষ্টের মতই সেখানে নির্যাতীত। বৃটিশ আমলে আসাম ও সিলেট একত্রিত ছিল। দেখা যায় বৃটিশ আমলে এ এলাকায় ইন্ডিয়ান লস্করেরা তাবেদারী শাসন চালাতো। ১৭৭৮ সালে রবার্ট লিন্ডসের অধীনে সিলেট বড় ধরণের বন্যা, ফসলহানিতে বিক্ষুব্ধ সৈয়দ গাদী ও সৈয়দ মাহদী (পীরজাদা নামে পরিচিত)র সাথে লিন্ডসের যুদ্ধ সংগঠিত হয়। তখনও প্রচুর ভারতীয় তস্কর বৃটিশের সাথে যোগ দেয়। ফলে অনেকে সেদিন সিলেট ছেড়ে লন্ডনে চলে যায় ও সেখানে বসতি গড়ে। অতপর ইতিহাসের পালাবদলে দেখা যায় পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বে মাত্র তিনদিন আসাম ও সিলেট একত্রিত ছিল।

সুরমা টাইমসএর বরাতে ১৬ মে ২০১৬ তে দেখা যায় তারাপুর চা বাগান যা বৃটিশ পিরিয়ডে ছিল স্টার টি গার্ডেন (Star Tea Garden) ১৮৯২ সালের ১০ জুন ৭ হাজার টাকায় ৪২২.৯৬ একরের বাগানটি ডব্লিউ আর হার্ডসন বিক্রি করে দেন বৈকুন্ঠ চন্দ্র গুপ্তের কাছে। ১৯১৫ সালের ২ জুলাই বৈকুন্ঠ চন্দ্র জিউ দেবতার নামে বাগানটি উৎসর্গ করেন। তারপর তার  ছেলে রাজেন্দ্র গুপ্ত হন এর সেবায়েত। রাজেন্দ্র গুপ্ত ১৯৮৮ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর পঙ্কজ কুমার গুপ্ত দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষার্থে ইজারার অনুমতি চান ভূমিমন্ত্রণালয়ের কাছে। ১৯৮৯ সালের ১২ই অক্টোবর সে অনুমতি প্রদান করে। ইত্যবসরেই পঙ্কজ কুমার অনুমতি পাবার আগেই ১২লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে রাগীব আলীর ছেলে আব্দুল হাইয়ের কাছে পুরো তারাপুর চা বাগান বিক্রির জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। এভাবে এ সম্পদ রাগীর আলীর দখলে আসে। মুসলিম অধ্যুষিত সিলেটে বৃটিশ দখলদার হার্ডসনের সাথে বিরোধ লাগে মুসলিমদের। সিলেট আমার নিজের অঞ্চল, তার উপর সেখানের মানুষের প্রতি আমার একটি দুর্বলতা আছে অবশ্যই। মালিক সি কে হার্ডসেনের পর তার ছেলে ডব্লিউ আর হার্ডসন। ঐ ব্যক্তি তখনকার বৃটিশ কোম্পানীর বরাতে আসাতে তার নাম ধাম সবই বর্তমান। এখানে কেন তার নামে গোজামিল করা হলো, এটিও কি কোন চাতুরীর উদ্দেশ্যে কি না, সেটি স্পষ্ট হওয়া জরুরী। এমনকি তখনকার কলকাতা রেজিষ্টারেও এ নামটি লিখা আছে হাডসন, আসামের একজন ডেপুটি কালেকটর হিসাবে হার্ডসন নয় (সূত্র The Asiatic Journal and Monthly Miscellany, Volume 27, পৃষ্ঠা ২০২, লিঙ্ক-https://goo.gl/jTm9OY)।

ওদিকে ব্লগার সুক্ষ্মদর্শী নয়নেরও (নয়ন চ্যাটার্জির) প্রশ্ন হচ্ছে এটি কি কোন উদ্দেশ্যমূলক করা কি না? আদৌ বৈকুন্ঠ চন্দ্র গুপ্ত হাডসনের থেকে এ ব্যক্তি ক্রয় করেছিল কি না? এটিও জানা যায় বৈকুন্ঠ ছিল ঐ চা বাগানের সামান্য কর্মচারী। একজন সাধারণ কর্মচারী ঐ সময় ১৮৯২ সালে এত বিশাল টাকা কোথা থেকে পেল? এখানে কি কোন অতিভৌতিকতা কাজ করেছে কি না, সেটিও পরখ করে দেখা দরকার।  দেখা যায় পঙ্কজ যে কোন কারণেই হোক সব ধরণের সহযোগিতা পেয়ে যাচ্ছে যেখানে রাগীব আলীর জন্য সব দরজা বন্ধ ঘোষিত হয়। তিনি আসামী হলে ঠিক আছে। কিন্তু অন্যরা আসামী নয় তার যুক্তি কি হতে পারে সেটি পরখ না করলে সাঈদীর মতই কাদের মোল্লাহর মতই স্কাইপি রায় হচ্ছে না, সে প্রশ্ন সচেতনের মাঝে থেকেই যাবে। ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে রাগীব আলীর মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়াও জারি হয়। এদিকে জামিনে থাকা পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে আদালত। দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভূমি আত্মসাতের কারণে স্মারক জালিয়াতির অভিযোগে রাগীব আলীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ১০ জুলাই চার্জশিট দাখিল করে পিবিআইএর ১১৭ নং মামলাটি তদন্ত করেন এসআই দিলীপ কুমার নাথ।

তখনকার বৃটিশ ভারতের এক ভুক্তভোগী ডাঃ শুকুরের গ্রন্থ ‘সেতুবন্ধন’ থেকে দুটি প্যারা। কিন্তু আল্লাহর মার বড় মার। এসব ব্যাপারে আল্লাহ কাউকে ক্ষমা করেন না। বাংলার এই নিরীহ মানুষের ভাগ্য নিয়ে যখনই যারা বেঈমানী করেছে হোক তারা দেশের কিংবা বিদেশের, ক্লাইভ উমিচাঁদ জগৎশেঠ রাজবল্লব নন্দকুমার মীরজাফর মীরন ঘসেটি বেগম ভুট্টো মুজিব প্রিয়দর্শিনী কেউ স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করে এই দুনিয়া ছেড়ে বিদায় নিয়ে যেতে পারেননি। আর তাইত দেখি ভারত বিভাগকালীন সময়ের প্রধান কারিগর লর্ড মাউন্টব্যাটেন সেদিন স্ববংশে নিহত হলেন উত্তর সাগরে ভাসমান প্রমোদ তরীতে আইরিশ সন্ত্রাসীদের পাতানো বোমার আঘাতে। ভারত বিভাগকালীন সময়ে লেডী মাউন্টব্যাটেনের কৃত পাপাচার ও পন্ডিত নেহরুর সাথে তার ফষ্টিনষ্টি ও মেলামেশার কথা না বললে ভারত বিভাগের মূল কারণ এবং এ ব্যাপারে প্রধান কর্মকর্তাদের পরিচয় ও তাদের কাজের স্বরুপ একদিন মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যাবে (সেতুবন্ধন ডাঃ এম এ শুকুর, পৃষ্ঠা ৫০-৫১, আগষ্ট ১৯৯২)।

একটি কথা আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, যারা বাংলা তথা পূর্বাচলে মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন তাদের সবারই অপঘাত মৃত্যু ঘটেছে। আর্ল মাউন্ট ব্যাটেনও এই পরিণতি থেকে রেহাই পাননি। “ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় ঘসেটি বেগমের প্যালেস রাজনীতির বদৌলতে এদেশ নিজের স্বাধীনতা হারিয়েছিল পলাশীর মাঠে। পলাশী নাটকের সকল চক্রান্তকারীরাই অস্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করেছিলেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নবাব সিরাজউদ্দৌলা মুহাম্মদী বেগ কর্তৃক নির্মমভাবে নিহত হয়েছিল, আমিনা বেগম ও ঘসেটি বেগমকে ঢাকার অদূরে বুড়িগঙ্গায় ডুবিয়ে মারা হয়েছিল। মীর জাফর আলী খান এক ধরনের মারাত্মক কুষ্ট ব্যাধিতে মারা যান এবং তার পুত্র মীরণ বজ্রপাতের মাধ্যমে ইহজীবন ত্যাগ করেন। মীর কাসেম আলী খানের মৃতদেহ দিল্লীতে আজমিরি গেইটের নিকটে রাস্তায় পাওয়া গিয়েছিল। রবার্ট ক্লাইভের তৈরী পদক প্রাপ্তদের চুড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম দেখতে না পাওয়ায় উমিচাঁদ হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। মুঙ্গের দূর্গের শীর্ষ থেকে জগৎ শেঠ ও রায় দুর্লভ মীর কাসেম আলী খান কর্তৃক গঙ্গায় নিক্ষিপ্ত হন। মহারাজ নন্দকুমারকে ওয়ারেন হেস্টিংস এক মিথ্যা মামলার আসামী করে ফাঁসি দেন। নাটকের মূল নায়ক ক্লাইভ স্বয়ং আত্মহত্যা করে মৃত্যু বরণ করেন। পলাশীর বিয়োগান্ত নাটকের নায়ক ও নায়িকাদের জীবনের এটাই ছিল নির্মম পরিণতি। ইতিহাস ইতিহাস, আরব্য রজনী এটা নয়। তাইত দেখি, ১৯৭১ সালের ভারত বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নাটকে যে তিন মহারথী প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদের তিনজনই ঘাতকের হাতে নিহত হয়েছিলেন। শুধু তাও নয়, এই তিনটি পরিবার আজ এক মহা ত্রাস ও বিভিষিকার শিকার হয়ে পড়েছে। কিন্তু কেন? এরও জবাব দিবে ইতিহাস (সেতুবন্ধন ডাঃ এম এ শুকুর, ৫৬-৫৭)।

নাজমা মোস্তফা, ৩০ জুন, ২০১৭।

Tag Cloud