Articles published in this site are copyright protected.

না জ মা মো স্ত ফা

3

প্রতি বছর একটি দিনকে বিশ্ব তামাক-মুক্ত দিবস হিসাবে পালন করা হচ্ছে। দেখা যায় ১৯৮৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক গ্লোবালী সমস্ত বিশ্বে সাড়া জাগানোর জন্য ৩১শে মে দিবসটিকে পালন করা হচ্ছে। এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে যখন বিশ্বের কোথাও তেমন সাড়া ছিল না সে সময়টিতে বাংলাদেশ নামের একটি দেশ থেকে “তামাক বিরোধী আন্দোলন” বনাম “এন্টি টোবাকো মুভমেন্ট” নামের যে আন্দোলনটি এই গোটা অঞ্চলকে নাড়িয়ে দেয়াসহ সমস্ত বিশ্বকে নাড়িয়ে দেবার কথা ছিল, সেটি বিগত শতকেই বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল নানান জট জটিলতায়। স্বাধীনতার শুরুর সময় থেকেই ৭২ সালে তার প্রথম অন্দোলনের স্বরুপে আত্মপ্রকাশ| এরকম একজন সত্য সাধক যিনি বিগত শতকের শেষ সময়টিতে তার রোগীদেরকে খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করে এরকম একটি আন্দোলন শুরু করেছিলেন কিন্তু এর অগ্রগতি কিভাবে আজও স্তব্ধ হয়ে আছে আর জাতি এর কাল যাতনার মাঝে আকন্ঠ ডুবে আছে। এ বেদনার ভারে ভারী হয়ে উক্ত লেখক তার পরবর্তী গ্রন্থ “সেতুবন্ধন”এ এ-ব্যাপারেও বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ করে গেছেন।

একবিংশ শতাব্দীর দোয়ার মাড়াচ্ছি আমরা। সমাজ সভ্যতা ইতিমধ্যে সিগারেট পেরিয়ে আরো বহুদূর এগিয়ে চলেছে। ২০১০এ বাংলাদেশে গেলে আমি খেয়াল করছিলাম জনতারা এখনো বেশী হারে এটি খাচ্ছে নাকি কিছুটা কমেছে। আমার কাছে মনে হলো মনে হয় কিছুটা কমেছে। কিন্তু অনেকের ধারণা মতে কমে নি। কারো কারো মতে আগে জনতার তাগাদা ছিল সিগারেটের রসদ জোগানো এখন এর বদলে নতুন যোগ হয়েছে “মোবাইল ফোন বা সেলফোন” নামক খরচের উপাদানটি। এখন খোদ বাংলাদেশেও সবার হাতে হাতে টেলিফোন নামের সেই হ্যালো বলার যন্ত্রটি অপেক্ষায় আছে। অনেক বিপদে এটি বন্ধুর ভূমিকা রাখছে আবার অনেক বাড়তি বিপদ ডেকেও আনছে। বিগত শতাব্দীর বিপদটি ছিল একটি আগুণের কাঠি সচেতন জনতাদের মুখের সামনে জ্বলতো নিরবধি। যখন বিশ্বের কোথাও ধুমপান নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় নি সে সময় বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে একজন চিকিৎসককে এর উপর একটি আন্দোলন শুরু করতে দেখা গেছে। সভ্যতার উপাদানের সাথে সুযোগ সুবিধা যেমন বাড়ছে তেমনি অনেক ক্ষেত্রে বিড়ম্বনাও বাড়ছে। সে সময়টিতে ইংল্যান্ড আমেরিকা ভ্রমণ কালে তামাক বিরোধী আন্দোলনের সভাপতি ডঃ এম এ শুকুর ভয়েস অব আমেরিকা ও বিবিসির বাংলা চ্যানেলে এ ব্যাপারে তার সুচিন্তিত বক্তব্য রেখেছিলেন, সেটি সম্ভবত ১৯৮৮ সালের কথা।

কৃষিনির্ভর দেশ বাংলাদেশ। চালের মূল্য সেখানের জীবনের সাথে জড়িত এক উল্লেখযোগ্য বিষয়। ভোটের সময় রাজনেতারা চালের মূল্য সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী বিলি করলেও ভোট পরবর্তী সেটি এডিয়ে যাবার উল্টোনীতি জনগণকে ক্লান্ত ও বিপদগ্রস্থ করে তুলেছে বলেই লক্ষ্য করা গেছে। এরকম একটি খবরের শিরোনাম হয়েছে “খাদ্য উৎপাদনের বদলে তামাক চাষ: কৃষিমন্ত্রীর নজর নেই”। সীমিত ভূমির দেশ বাংলাদেশ, সেখানের কৃষির ভূমি কমে যদি হৃদয় পুড়ানোর রসদ তৈরীতে সেটি লাগানো হয়, সেটি জাতির জন্য দুঃখজনক অধ্যায়। অতীতে শোনা যেত বর্ডারে দেশের মূল্যবান জিনিস চলে যেত বর্ডার পেরিয়ে, বিনিময়ে আসতো ফেনসিডিল বা পাতার বিড়ি। আজও অবস্থান নিশ্চয় বদলে যায় নি, বরং ধারণা হচ্ছে এসব আরো বেড়েছে।

ব্যবসার মুনাফা লাভে ব্যস্ত দেশী বিদেশী কোম্পানীগুলি কৃষকদেরে নানাভাবে সাহায্যের প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের কার্য হাসিলের প্রচেষ্ঠায় এযাবত রত থেকেছে। এমনকি স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারাও তামাক উৎপাদনে সহযোগিতা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ জমেছে। খবরও শিরোনাম হচ্ছে যে, খাদ্য শস্যের বদলে তামাক চাষ হচ্ছে, এরকম নরক যাতনা থেকে আজকের দিনেও জনতারা বেরিয়ে আসতে পারছে না। কেন এমনটি হচ্ছে? ইতিহাস বলে এই ভূমিতে এককালে জনতারা নিজেদের শস্য চাষের বদলে নীলকুঠির সাহেবদের তত্ত্বাবধানে নীল চাষের আস্তানা গড়ে তুলেছিল। উপরের বর্ণিত আনুসাঙ্গিক খবরের উপদেশটি ছিল কৃষিমন্ত্রী যেন রাজনৈতিক বকতৃতার বদলে কৃষির দিকে নজর দেন। জানা যায় ২০১০ এ উত্তরাঞ্চলে প্রায় এক হাজার একরেরও বেশী জমিতে তামাকের চাষ হয়েছে।

বস্তুত তামাক এক ধরণের নেশাদ্রব্য, এমন কোন কৃষি উপাদান নয় যা দিয়ে জীবন ধারণ করা হয়। বরং বলা চলে এর দ্বারা মরণের সবকটি দরজাতে টোকা দেয়া হয়। বলা চলে জেনে শুনে বিষ পান করার এ এক অদভুত প্রক্রিয়া। সে হিসাবে যারা সেখানে ব্যবসা করছে তাদের উপর সে দেশে হাসপাতালে উপস্থিত সব রোগীদের তামাক জনিত রোগের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায় দেয়া জরুর। কারণ লাভের গোলা শুধু এক জনের খাতায়ই উঠবে, এ কেমন কথা? নয়তো খুব সহজে এসব অমানবিক উৎপাদন মরণ নেশার উপাদান হিরোইনসম আপদ থেকে জাতি নিরাপদ দূরত্বে থাকুক, এ ব্যবস্থার জন্য কর্তৃপক্ষের চিন্তা করা উচিত।

এসব খবর শোনার সাথে সাথে মনে পড়ে সেই সচেতন চিকিৎসকের কথা যিনি বিগত শতাব্দীতে গ্রাম থেকে বলতে গেলে তার একক প্রচেষ্ঠাতে এ কাজটি শুরু করেছিলেন। সেখানের জনতাদের হাতে সেদিন যদি আজকের এই হ্যালো বলার যন্ত্রটি হাতের কাছে থাকতো হয়তো সেদিন অতি অল্প পরিশ্রমে প্রতিটি দুয়ারে তড়িৎ খবরটি পৌছে যেত। বস্তুত সেদিন ঐ চিকিৎসকের প্রতিটি প্রেসক্রিপশনের নীচে লেখাই ছিল “সর্বরোগে এবং সর্বাবস্থায় বিড়ি, সিগারেট, তামাক, তামাকের পাতা ও জর্দা নিষেধ”। পরবর্তীতে বাংলাদেশের সিগারেটের প্যাকেটে সতর্ক সংকেত সম্পর্কীত নির্দেশ এর অনেক পরের ঘটনা।

তিনি একজন ডাক্তার তার রোগীর রোগ যাতনার মাঝে প্রত্যক্ষভাবে একজন গবেষক হিসাবে এর শিকড় সূত্রটি খূঁজে পান। যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তী ধাপ হিসাবে তিনি চিকিৎসার পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন এক ব্যতিক্রমধর্মী আন্দোলনে। সিলেটের সীমান্ত অঞ্চলের ধার ঘেষে বড়লেখার “মিশন হাউস” থেকেই শুরু হয় তার সেই প্রচার। প্রথমে সেটি ছিল ঘরোয়া পরিবেশে আত্মীয় পরিজন, পাড়া পড়শি এবং সর্বোপরি তার নিজের রোগীদের নিয়ে পরিচালিত শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার এক নিরলস প্রচেষ্ঠা হিসাবে। এতে পাড়া পড়শিসহ অনেক আত্মীয় পরিজন ও এর বাস্তব প্রয়োগে উপকৃত হন। সদ্য স্বাধীন হওয়া একটি জাতির সেই সূচনা লগ্নেই এভাবে একজন ডাক্তার তার নিজস্ব রোগীদের মাঝেই এ কর্মকান্ড চালিয়ে যান প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে।

তার কাজের মাঝে ধূমপানের এসব নেতিবাচক ভূমিকা ও সম্মুখ ময়দানে তার অগণিত রোগীদের দূর্ভোগ, তা ছাড়াও ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকেও গবেষকমনা এই চিকিৎসক তার গবেষণার, চিন্তার, ব্যাপ্তিকে প্রসারিত করেন। তার গবেষনাতে তিনি নিজেই চলমান জীবনের সাথে যাচাই করে এর সূত্র সম্বন্ধে বহুগুণ বেশী আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে উঠেন। এটা তার কাছে অত্যন্ত জীবন্ত হয়ে উঠে যে, ভয়ানক বিপর্যয়কর এ জটিল জিনিসটা সম্বন্ধে নিশ্চয়ই পবিত্র গ্রন্থ আলকোরআনে ইঙ্গিত থাকতে পারে। এখানে দেখা যায় এই চিকিৎসক মরণের বিষাক্ত রাস্তা থেকে তার প্রাণপ্রিয় রোগীদেরে বাঁচানোর জন্য, জনতাকে জুলুমের পথ থেকে উদ্ধারের জন্য আপ্রাণ সাধনা করে গেছেন। বড়লেখা অঞ্চলে এ নিয়ে গত শতাব্দীর শেষ লগ্নে বলতে গেলে শেষ দুটি দশকে এ নিয়ে অনেক, সভা সমিতি, আলাপ, আলোচনাসহ খোদ রাজধানী পর্যন্ত এ আন্দোলনের ঢেউ খেলে যায়।

তার এ ভূমিকার মূল কারণ একদিকে ছিল চোখের সামনে রোগীদের ভোগান্তি পর্যবেক্ষণ আবার পাশাপাশি তিনি ধর্মের গবেষনাতে বহুদিন থেকে একটি গাছের পরিচিতিও খুঁজছিলেন। তার মতে যেটি এ যাবত ধর্মের অনুসন্ধানেরও কোন ব্যক্তি সঠিক ভাবে চিহ্নিত করতে পারেন নাই। সেটি একটি গাছকে আল্লাহ কুরআনে নিষিদ্ধ করেছে যা মানব জাতীর ধ্বংসের সমূহ কারণসূত্র হবে। এটি তার বহুদিনের চিন্তার ও গবেষনার আলোতে পাওয়া একটি ব্যতিক্রমী আবিষ্কার ছিল। তিনি বলতেন এ গাছই সেই গাছ যা খেয়ে আমরা আল্লাহর আইন অমান্য করে চলেছি। আমি কথাগুলো আমার নিজের ভাষাতে বলছি এসব লেখা স্বাধীনতাউত্তর দেশে বিদেশে বিভিন্ন পত্রিকার কলামে ছাপা হয়েছে। আশা করি তার নিজের লেখা কলাম “নিষিদ্ধ বৃক্ষ” লেখাটি আমি পরবতীতে আনবো পাঠকের জন্য।

মরার উপর খাড়ার ঘাঁয়ের মত একটি খবর আমাকে আকৃষ্ট করে। খবরটি গুরুত্বপূর্ণ বলে এখানে সংযোজন করছি। আজ ২০১০ সালের ৩০ মার্চে পাওয়া একটি ইনফরমেশন নিউজ ডট কম ডট এ ইউ সাইটে খুঁজে পাই যা এই সিগারেট সম্বন্ধীয় সংবাদের সাথে জড়িত। খবরে প্রকাশ সেখানে সিগারেটের ফিল্টারে শুকরের রক্ত ব্যবহারের আলামত খুঁজে পাওয়া গেছে কিছু গবেষনাতে। অষ্ট্রেলিয়ান একজন বিশেষজ্ঞ ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সতর্ক করে দিয়ে তার ভেতরের জটিল বাস্তবতাকে তলিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন। সিডনী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিষয়ের প্রফেসর সিমন চ্যাপম্যান সম্প্রতি ডাচ্ রিসার্চে পাওয়া এ তথ্যটি দেন যে, ১৮৫ টি প্রতিষ্ঠান শুকরকে ব্যবহার করছে, তারা সিগারেটের ফিল্টারে শুকরের ঐ হিমোগ্লোবিন ব্যবহার করছে। প্রফেসর চ্যাপম্যান বলেন এ ধরণের গবেষনা বিশ্বের সিগারেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ভিতরের চিত্র তুলে ধরছে। গোটা বিশ্বের সচেতন মুসলমান, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সবজিভোজী সদস্য ও ইহুদীরা শুকর সম্বন্ধে অনেক সতর্কতা মেনে চলেন। সমস্যা হচ্ছে তামাক কোম্পানীগুলো তাদের উৎপাদিত সিগারেটের সব উপাদান ব্যাখ্যা করে না, উপরন্তু তারা দেখায় এটি তাদের ব্যবসায়ীক গোপনীয়তার একটি রক্ষাকবচ। ডাচ্ গবেষনায় সেখানে একটি হিমোগ্লোবিন ধরা পড়ে যা ঐ সিগারেটের ফিল্টার তৈরীতে রক্তের প্রোটিন হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে । আরো বেশ কিছু ক্যামিক্যালও ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, অন্ততঃ গ্রীসে একটি সিগারেট ব্রেন্ড নিশ্চিত বিক্রি হচ্ছে যেটাতে সিগারেটে হিমোগ্লোবিন ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রফেসরের বক্তব্য হচ্ছে তুমি যদি ইসলাম বা ইহুদী ধর্মধারী হয়ে থাক এটি জানার অধিকার তোমার আছে যদিও এখানে কিছুই সুস্পষ্ট নয়। “সিগারেট মে কনটেইন পিগ ব্লাড” খবরের শিরোনামে উল্লেখ্য তিনটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। (১) গবেষনাতে পাওয়া সিগারেটে রক্ত ব্যবহার করা হচ্ছে। (২) গোটা বিশ্বের সিগারেট তৈরীর ভিতরের তথ্য (৩) বিষয়টি মুসলিম ও ইহুদীদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

লেখাটির নীচে পাঠক মন্তব্য অনেক ছিল। ভালো মন্দ অনেক, তার কিছু আমি এখানেও আনছি। যেমন সিগারেট থেকে ৪০০০ এরও বেশী ক্যামিক্যালস তৈরী হয়। একটি সিগারেট পুড়াতে ৬৯ ধরণের ক্যামিক্যালস ক্যানসারের জন্য দায়ী। এবার আমরা শুকরের রক্তে শ্বাস নিচ্ছি। বিষের উপর বিষক্রিয়া। এবার কি এর বদলে অপিয়াম ও হাসিস ধরতে হবে। সিগারেটখোরদের জন্য এটি হোক শেষ অস্ত্র। সিডনী পোষ্টে ৩০ মার্চ ২০১০ এ এক পাঠকের মন্তব্য ছিল এক বিলিয়ন কাষ্টমার সিগারেট গ্রহণ ছেড়ে দিয়েছে। এভাবে অনেক অনেক খাবারে তারা শুকরের রক্ত জুড়ে দিচ্ছে, এবং তা হচ্ছে আইসক্রিম, চিউইং গাম, ডেনচার গ্লু, ও রাইস ক্রেকারে। সিগারেট একটি খারাপ অভ্যাস এবার এটি আরো নষ্টের অধঃপাতে যাচ্ছে। একজন হিন্দু মন্তব্য করেন এবার কি বিকল্প হিসাবে গরুর রক্ত দিয়ে পরিবর্তন আনা হবে? তার উদ্বেগের কারণ সে পাঠক গরু খান না। সিগারেটখোরদের জন্য এটি অবশ্যই ভয়ের কারণ তারা আরো অনেক ক্যামিক্যালই এভাবে গলাধঃকরণ করছে। এটি তাদের জন্য একটি দূর মেয়াদী আত্মহত্মা “সুইসাইড ইন দ্যা লং রান”।

সবার শেষে উপরের লেখক একজন সমাজকর্মী, ডাক্তার যিনি বিগত শতাব্দীতে এই জটিল বিষয়টির উপর ভিত্তি করে তার ভোক্তভোগী রোগীদের বাস্তবতা উপলব্ধি করেন। তাই তিনি এই আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন বাংলাদেশে মত একটি উন্নয়নশীল দেশের সিলেট অঞ্চলের একটি গ্রামীন পরিবেশ থেকে। তার আন্দোলনটি শুধুমাত্র একটি ধূমপান বিরোধী কার্যক্রমই ছিল না। এটি ছিল আরো ব্যাপক কারণ এটি ছিল তামাক বিরোধী আন্দোলন, তার মানে এতে শুধু সিগারেটই নয় তামাক সম্পর্কীত প্রতিটি বিতর্কীত জিনিস যেমন গুল, বিড়ি, দোকতা, জর্দার মত প্রতিটি তামাকজাত দ্রব্যের বিরুদ্ধে সেদিন তিনি উচ্চকন্ঠ ছিলেন। সেটি ছিল ঐ সময়ে এক ব্যতিক্রমধর্মী কঠিন সংগ্রামের সূচনা। তার গবেষনার বিষয়টি আজো আমার চিন্তাকে দারুণভাবে নাড়া দেয় সেটি হচ্ছে সে সময়টির থেকে বেশ দূর চলে যাওয়ার পর, আমিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একজন গবেষক ছাত্রী হিসাবে ২০০০ সালের দিকে গবেষণার কাজের বিষয়ে এক পর্যায়ে কথা প্রসঙ্গে আমার এমফিলের গাইড ঢাকা বিশ্ব-বিদ্যালয়ের ঐ বিভাগীয় শিক্ষিকা হাবিবা আপার কাছে এ তামাক গাছটি সম্বন্ধে ও এখানে উল্লেখিত বক্তা ও তার গবেষনায় পাওয়া বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলাম। তখন তিনি আমাকে চমকে দিয়ে একটি দারুণ মন্তব্য করলেন। বললেন লন্ডনের এলবার্ট মিউজিয়ামে তিনি নিজে একটি গাছের ছবি দেখেছেন এবং গাছটির নীচে পরিচিতি হিসাবে লেখা ছিল “গনদুমের গাছ”। গনদুমের গাছ দেখে তিনি নিখুতভাবে সেটি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে পারেন, সেটি দেখতে একদম তামাকের গাছ। তিনি সেদিন জোর গলায় বলছিলেন নির্ঘাৎ মনে হয় এটি ঠিক তাই, হয়তো ঐ ছবিটি এ কথাটিই বলেছে। সেদিন আমার শিক্ষিকার এ মন্তব্যটি যেন ছিল নির্ঘাৎ আরো একটি চমক লাগানো স্বীকৃতি। কথাটি শুনে আমি বিস্মিত হয়েছি এবং এ গবেষনার আবিষ্কারটির কথা স্মরণ করে রোমন্থিত হয়েছিলাম। সকল প্রশংসা আল্লাহরই। ভবিষ্যত হয়তো এর সঠিকতা সত্যতা একে আরো জীবন্ত ও আরো সুস্পষ্ট করে দিবে।

কিন্তু এই আন্দোলনের সভাপতির স্বপ্ন, সাধনা সবই তার মুত্যুর সাথে সাথে বা তার কিছু আগে থেকেই নানান ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পড়ে। সমাজ এরকম একটি আন্দোলনের সমূহ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হোক এটি ভাবতেও কষ্ট লাগে। এই আন্দোলন নিছক একটি আন্দোলনই ছিল না, এটি ছিল একটি জাতি গঠনের অঙ্গিকারও। পরবর্তী কলাম ঐ আন্দোলনের সভাপতির লেখা বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন, ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব?, নিষিদ্ধ বৃক্ষ , পড়তে পারেন।

২৭ মে ২০১৩ সাল তারিখে এ লেখাটি `আমার দেশ ‘অনলাইনে ছাপা হয়।

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: