Articles published in this site are copyright protected.

সুনামগঞ্জের শনির হাওর টাংগুয়ার হাওর বিপর্যস্ত। জানা যায় বাংলাদেশ সীমানা থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে উন্মুক্ত খনি থেকে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করে ভারতের মেঘালয় রাজ্য। সেখান থেকেই পানি এসে হাওরের পানি দুষিত করেছে। পরিণামে মাছ হাঁস মরছে, গরু মহিষসহ জীব বৈচিত্রের উপর প্রভাব পড়ছে। এর ক্ষতিকর প্রভার মানুষের উপর পড়বে না সে নিশ্চয়তা কি সরকার ও তার বিচারকর্তারা দিতে পারবেন? তড়িঘড়ি আনবিকশক্তি কমিশনের দীলিপ কুমার সাহা (?) ও দেবাশীষ পাল (?) পরীক্ষা সেরে দাবী করেছেন হাওরের পানিতে তেজষ্ক্রিয়তা নেই। অবৈধ সরকারের প্রকৃত বিরোধীদলহীন সংসদ হচ্ছে রং তামাশার কারখানা। জাতির যেখানে জীবন মরণের প্রশ্ন সেখানে তারা রসরংএ কপট কমেন্ট করছেন আর সময় পার করছেন। বলছেন এরকম হলে নাকি খুব ভালো পানিতে আসা মূল্যবান ইউরেনিয়ামে লাভ দেখছেন। হাওরের দুর্যোগ মানতে অপারগ তারা। উল্টো দেখি প্রধানমন্ত্রী বেজায় নারাজ গোসসা এসব খবর মিডিয়াতে আসাতে। যেখানে ভুক্তভোগীরা বলছে একটি মাছও বেঁচে নেই সেখানে তিনি পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সরকার সাহায্য দিবে তবে দুর্যোগ পূর্ণ এলাকা ঘোষনা করবে না। সাহায্যও রাজনীতির রং দেখে নিশ্চিত হয়ে দেয়া হয়, আওয়ামী না হলে কারো ভাগ্যে সাহায্যও মিলে না, সেটি বেশ দিন থেকেই জাতি জানে। সরকারী পরিদর্শকের মন্তব্য শুনলাম ওখানের এক প্রত্যক্ষদর্শী ভুক্তভোগীর কাছ থেকে যে তারা বলেছেন মানুষ যখন মরছে না সেটি আবার কেমন ধারার দুর্গত এলাকা? এটি হচ্ছে মানুষ খেকো সরকার, লাশ ছাড়া কিছু বুঝে কম! সরকারের মাঝে সচেতনতা আনতে মানুষকে মানববন্ধন করতে হচ্ছে, তারপরও রসিকতা চলছে। সরকারের স্বভাবই হচ্ছে ছলবাজি করা।

একটা সামলাতে আরটা এনে হাজির করে। এবার বলছে ওহ ওটি হচ্ছে সার প্রয়োগের বিরুপ প্রভাব। আবার বলছে কঠোর বিচার করবো। এসব হচ্ছে হাওরে কিছু দুর্নীতিবাজদের কারণে, ওসব অঞ্চল আজ ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হচ্ছে!  তারপরও চালবাজ মিথ্যাচারী সরকার মূল জটিলতা উন্মোচনে নেই। বরং কিভাবে ঢেকে রাখবে সে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ইত্যবসরে সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতিও বসে নেই, ভারতকে উদ্ধার করতে তিনিও একপায়ে খাড়া। হাওরের এই বিশাল ক্ষতি কি ভাবে পুষানো যাবে তার সমাধান বিলি করছেন যে কারো কাছে আমরা হাত পাতবো না, আমরা স্বয়ং সম্পূর্ণ। সব মোকাবেলা করবো নিজেরাই। ভারতের সব দায় যেন হাসিমুখে তিনি বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে উৎসাহী। যাতে কস্মিনকালেও ভারত ইউরেনিয়াম জটিলতায় না পড়ে, সেদিকে তার অতিরিক্ত নজর! এপ্রিলের ২৫ তারিখে আমাদের সময় বরাতে “কেন মরছে মাছ কিংবা হাঁস? সৈয়দ হাফিজুর রহমান জাবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক। তার গবেষনাতে শুধু কীটনাশক ও ফার্টিলাইজার ব্যবহারের সতর্কতার উপর কথা এসেছে। কিন্তু কেন জানি মূল আতঙ্ক ভয়ঙ্কর ইউরেনিয়াম ইস্যুটি আসেনি। বাংলাদেশের প্রায় তিনকোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট। দেখা যায় মেঘালয় রাজ্যে উন্মুক্ত খনিতে ইউরেনিয়াম জটিলতাতে ২০১১ ও ২০১২ সালে তাদের মাছের মড়ক হয় এবং ওখানের স্থানীয় খাসিয়া ছাত্র সংগঠন আন্দোলন করে। ফেসবুকে একজন কৃষকের জবানবন্দি থেকে উৎকট গন্ধ ও লাল ইট রং পানির খবর জানি, সে পানি দিন কয় ছিল। এটি জানার পর পরই আমার এক বোনের সাথে কথা হয় সে সুনামগঞ্জ নিবাসি। তার কাছ থেকে জেনে নিয়েই আমি কলামটি লিখতে বসি।

সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ, মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ ও মন্ত্রীদের মানুষ না মরার টিটকারীসহ বিস্তারিত জানলাম। একটি উৎকট গন্ধের কথা জিজ্ঞেস করাতে সে বললো প্রচন্ড রকমের একটি উৎকট গন্ধে সারা অঞ্চল সয়লাব ছিল একনাগাড়ে ১৪/১৫দিন। ১৪/১৫ দিন কথাটি আমি বার বার জিজ্ঞেস করে জেনে নেই। সেটি এতই ভয়ঙ্কর ও উৎকট ছিল যে তারা দরজা জানালা সেটেও নিস্তার পাচ্ছিল না। ঘরেও টিকে থাকা দায় ছিল। সব ফুটো ফাটা বন্ধ করেও এ তীব্র গন্ধ কেন, সেটি এখনো তারা আঁচ করতে পারছে না। সরকার আর মিডিয়া ভারতের দুর্গন্ধ ঢাকতে ব্যস্ত সারাক্ষণ আর ওদিকে দেশের জনতারা গিনিপিগ। প্রধানমন্ত্রীর সফর সেটি মুসলিম পাড়াতে নয়, ওটি হয়েছে হিন্দু পাড়াতে, সহায় সাহায্য সবই ওখানে। এটিও বললো অনেকে বলছে ধানপঁচা গন্ধ এটি সবৈব মিথ্যা কথা কারণ ধান এখনো ধরে নাই পঁচবে কেমনে, তবে সব ভেসে গেছে। অনেক সময় ধান পঁচে তাই বলে ওতে মাছ হাঁস মরে না, এটি সে স্পষ্ট করে। এটি নির্ঘাৎ ইউরেনিয়াম ঘটিত জটিলতা এটি আর রাখঢাক করে লুকানোর কোন যুক্তি দেখি না। শত শত বছর থেকে লোকজন বলছে এমন ধারা বিপর্যয় কোনদিন তারা দেখেনি। বন্যা আসে বন্যা যায়। লোকসানের পরও মানুষ ফের উঠে দাঁড়ায়। এবার বিষ যদি প্রয়োগ করা হয় তবে মানুষ উঠবে কেমনে? রসিক রানীকে তারা পানি দিয়েছে, পানি মাঙ্গা পানি মিলা, রক্তরাঙ্গা পানি, বিষযুক্ত পানি খাও মর, স্বাধীনতার স্বাদ নয় বরং বিস্বাদ ভোগ কর। মমতাময় প্রতিবেশীর ঈমানদারী পানি এটি। জাতির সাথে বেঈমানী না করেই এবার মোদির সরকার ঈমানদারী পানি পাঠিয়েছে হাওরবাসীর জন্য।

০৫ এপ্রিল, ২০১৭। নাজমা মোস্তফা

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: