Articles published in this site are copyright protected.

বিষয় ভিত্তিক পয়েন্ট: (লেখাটি বেশ বড়, তাই সংক্ষেপে পয়েন্ট) “র” বাংলাদেশের মগজে / দুই ডজনের বেশী চুক্তি / আত্মবিক্রিত প্রধানমন্ত্রী / অমিত শাহর হুমকি/ মতিয়ারও শিক্ষক!/ টাকা পাচারের হিড়িক /গরুর উচ্চতায় / বাংলাদেশে দাঙ্গার নজির নেই/ তারা চরমপন্থী নয় / বিচারবিভাগের প্রশিক্ষক ভারত?!/স্টেপ ডাউন!/ ভারতীয় প্রশ্নবিদ্ধ বিচার / ভোট বানিজ্য, লেন্দুপীয় কসরত/ এ রাজনীতি পৃথিবীতে বিরল / পেশাদার খুনীতে লাশ পড়তো / আন্ধা সাংবাদিক/ জাতি শ্মশান যাত্রার অপেক্ষায় / রবীন্দ্রনাথও সংকীর্ণ ছিলেন/ ভারতে গরু ও মুসলিম/

“র” বাংলাদেশের মগজে: বিচারপতি সিনহা ভারতের ইশারাতে মসনদে, এখানেও “র” বাজিমাত। তাকে বার বার ছুটে যেতে দেখা যায় ভারতে। মসজিদ ধ্বংসে বাড়াবাড়ি রকমের উৎসাহ সারা দেশে খোদ রাজধানীতে,  মসজিদের উপর মড়ক চলছে। দেখা যায় রাজধানীর লালবাগের ঢাকেশ^রী মন্দির রোডে ১৬৭৩ খৃষ্টাব্দে, হিজরী ১১০৩ সন, বাংলা ১০৮৯ সালে স্থাপিত ৩৩৩ বছরের হাজীবাগ মসজিদও হুমকির মুখোমুখি (প্রথম আলো, ০৫, ২০১৭)। ইসলামী ব্যাংক একই মড়ক যাতনার শিকার। ইকনোমিষ্টের চাঞ্জল্যকর তথ্য হচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে জোর করে ইসলামী ব্যাংক দখল করা হয়েছে বাংলাদেশে। এসব সত্য প্রকাশে কিছু দালাল সাংবাদিকরা বাঁকাচোখে পরখ করছেন। বর্তমান সরকারের হিনমন্য যোগসাজসে জনগণ অন্ধকারে। ভারতের সাথে বিগত ১০ সালের চুক্তির খবরও দেশ বাসীর অজানা,  এবার আরো দুই ডজন বেশী চুক্তি, ঢেকে রাখা। যেন ছেলের হাতের মোয়া দেশবাচ্চারা দেখে ফেললে বিপদ! প্রধান মন্ত্রী বলেছেন তার উপর বিশ^াস রাখতে! যদিও তিনি বিশ^াস রাখার অর্জন জমা না করে কত কি করছেন। বেশী দামে ভারতীয় বিদ্যুত আমদানীতে সরকারের লুকোচুরিও ঢাকা নেই। এ লজ্জাও জাতির অস্তিত্বের লজ্জা।  পাশের দেশ নেপাল ভুটান থেকেও  কোন পন্য কিনলে ভারতকে এর ভাগ দিতে হবে, নইলে পন্য নড়বে না। বাংলাদেশের করিডোর পাবে ভারত কিন্তু বিনিময়ে বাংলাদেশ শুধু আঙ্গুল চুষবে। চিহ্ন দেখে আঁচ করুন এরা কে বা কারা? শত্রু বন্ধু চেনা সময়ের বড় দাবী। এ হচ্ছে আওয়ামী সরকারের আমলে দেশ বিক্রির নমুনা। তিস্তা শুধু মমতার প্রাণ। ভিন জাতির সাথে প্রতারণা করতে মমতাদের কোন কষ্ট নেই। স্বজাতির মমতা আর পরজাতির বৈরিতা যাদের নীতি তারা সীমাহীন সংকীর্ণতার শিকার। হয়তো দেবতার ধর্মে এসব নীতির কথা অভিধানেও নেই, চানক্যরা এড়িয়ে গেছে, এটিই সার কথা!

বাংলাদেশের একজন আত্মবিক্রিত প্রধানমন্ত্রী কেমন করে সব বিচারিক জ্ঞান হারিয়ে বসেন একজন আঞ্চলিক মূখ্যমন্ত্রীর কাছে ! কি কারণে তিনি মমতার দ্বারস্থ হবেন যে কিনা সাধারণ ভদ্রতা জ্ঞানও রাখে না, তার মুড়ি মুড়কির প্রতারণা ঠিক পানি প্রতারণার সাথে তুলনীয় ! নিজ দেশে বাচনিক জটিলতা প্রধানমন্ত্রীর, জাতি এ নিয়ে বিরক্ত ও লজ্জিত কিন্তু মমতার আঘাতেও করুণায় কেন বিগলিত “মুঝে কুছ পাতা নেহি দিদিমনি কেয়া করেগি।” তারপরও স্বান্তনা, “পানি মাঙ্গা, বিদ্যুৎ মিলা, কুছ তো মিলা!” অবৈধ পথে আসায় নিজের মাত্রাজ্ঞানও শূণ্যে ঝুলছে। ওদিকে অমিত শাহ হুমকি দিচ্ছেন ক্ষমতায় গেলে বর্ডার সিল করবেন। যদিও ভারতের সিলিকনইন্ডিয়া ২১ মে ২০১৩তে লিখেছে ৫ লক্ষ ভারতীয় বেআইনীভাবে বাংলাদেশে বাস করে এবং ভারতের ৫ম বৃহত্তম রেমিটেন্স আয় আসে বাংলাদেশ থেকে। বর্ডার খোলা রেখে কি লাভ করছেন অমিত শাহ, সেটি আঁচ করতে পারলেও সত্য স্বীকার করার সাহস কম। ৫৪ নদীর পানি বেআইনী ভাবে অপসারন ও উজানে কয়েকশ (৫শ) বাঁধ নির্মান, পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সামরিক হস্তক্ষেপসহ বেআইনী সীমান্ত হত্যা, গুম খুনে তাদের লম্বা হাত আছেই। এত করেও হুমকিতে আগুয়ান, তার মানে কি ঠাকুর ঘরে কেরে? বলার আগেই জবাব রেডি আমি কলা খাই না, আমি নির্মল নির্ঝঞ্জাট।

অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয়া মতিয়াররা হচ্ছে এককালের প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক! সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হুশিয়ার সংকেত পার্টি ক্ষমতায় না থাকলে টাকা পয়সা নিয়ে পালাতে হবে! “হঠাৎ দুর্নীতির টাকা বিদেশে পাচারের হিড়িক পড়েছে”(যুগান্তর আমাদের সময়, ০৭ মে, ২০১৭)। এরা দুর্নীতিপরায়ন রাজনীতিবিদ আমলা ও ব্যবসায়ী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) সম্প্রতি টাকা পাচারের উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করাতে এটি আলোচিত হয়। অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, “বড় প্রকল্প মানে বড় দাও মারা।” কানাডার বেগমপাড়া, বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের নির্লিপ্ততা সবই ভয়ংকর। সুইস ব্যাংকের রিপোর্টে বলা হয়,দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশীদের আমানত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা (!) বলেন তথ্য পেলে ফেরত আনার চেষ্টা করা হবে। এতই যদি পারেন তবে কেন রিজার্ভের টাকা আনছেন না? প্রনব মুখার্জির ছেলে প্রতিমাসে বাংলাদেশে কি করতে আসে, প্রশ্নটি করেন মেজর আখতার।

ভারত রাজত্ব করছে গরুর উচ্চতায়। গরুর জন্য দেশ, মানুষ থেকে গরু উচ্চতায়, অ্যাম্বুলেন্স সাথে পশু চিকিৎসক ও সহকারী, গরু বনাম বিনা শুল্কের টেলিফোন, পরিচয় পত্র ঠিক হচ্ছে, পাশাপাশি মানুষেরা সেরা হাসপাতালেও নানান বর্ণবাদের শিকার। পাশাপাশি সেরা হাসপাতালেও গরীবকে নিজের স্ত্রীর মরদেহ কাঁধে করে ১২ কিলোমিটার দূরের বাড়ীতে ফিরতে দেখা যায়। এটি শুধু এক রাজ্যের খবর নয়, অনেক রাজ্যেই এটি হচ্ছে। মেয়ে শিশুরা অনার কিলিংসহ ন্যুনতম মৌলিক চিকিৎসাও পায় না। বছরে ৫এর কম বয়সের শিশু ২.১ মিলিয়ন মারা যায় (দ্যা ইন্ডিয়া টাইমস ১৮ এপ্রিল)। (WHO) বলছে প্রতি দশ শিশুর এক শিশু অপুষ্টির শিকার। অচিরেই বিশে^র ক্ষুধার্থ দেশ সমূহের নেতৃত্ব দিবে ভারত। বিজেপির ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক আধিপত্য হিন্দুত্ববাদের অতিভৌতিক উত্থান জমা করছে। স্বাধীনতার এত পরও সংখ্যালঘুর উন্নতি প্রশ্নবিদ্ধ করে রাখা, আর পাশর্^বর্তী দেশে কারণে অকারণে নাক গলানোর আদিখ্যেতায় ভরা। স্কুল কলেজ, সরকারী চাকরী কোথাও মুসলিমের দুর্দশা ছাড়া কোন সংরক্ষণ নেই। কেন ধর্মনিরপেক্ষতার মিথ্যা পুরিয়া গেলার পরও এই দুর্দশা ভারতের ? মুসলিমদের জন্য সব দরজাতে খিল দিয়ে রাখা! যদিও ভারত টিকে আছে ঐ মুসলিম সাহিত্য, চিত্রকলা, সংগীত, আইন, পোশাক পরিচ্ছদ, চাল চলন আচার বিচার সব শিল্পেই ভারত মুসলিম সভ্যতার কাছে আকন্ঠ নিমজ্জিত হয়ে ঋণভারে জর্জরিত কিন্তু প্রকাশ্যে স্বীকার করতে অপারগ। বরং তারা ব্যস্ত কিভাবে মুসলিম কৃতিত্বের ভার বাজেয়াপ্ত করবে চেপে রাখবে মাটির সাথে মিটিয়ে দেবে।

যেখানে গত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশে দাঙ্গার নজির নেই, বলেছেন হিন্দু প্রধান বিচারপতি সিনহা। এরকম এক গোষ্ঠী অসাম্প্রদায়িক মানুষের উপর তিনি খুব কৌশলে চাপিয়ে দেন সাম্প্রদায়িক মূর্তি ঠিক সুপ্রিম কোর্টের সামনে, ন্যায়দন্ডের প্রতিক দাঁড়িপাল্লা সরিয়ে এটি স্থাপন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের মুসলিমদের কষ্ট দিয়েছে বহু বেশী, মূর্তি আগলে দিয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র ও পতাকা। আজ মূর্তি এমন উচ্চতায় পৌচেছে যে একটি জাতির মানচিত্র ও পতাকা থেকেও সে শিখরে, সব আড়াল করে দাঁড়িয়েছে! অতীতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মোজেনাও এটি অকপটে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশীদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। রাহুল গান্ধী বাংলাদেশ সফরে আসেন প্রফেসর ইউনুসের গ্রামীন ব্যাংক ও ব্রাক সেন্টারের আমন্ত্রণে। তাকে ধারণা দেয়া হয় এটি একটি চরম মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক দেশ, জনগণ গরীব। তিনি প্রকাশ করেন তাকে যে ধারনা দেয়া হয়েছিল তা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তিনি পেয়েছেন মানুষ সহজ সরল উদার প্রকৃতির, কখনোই চরমপন্থী নয়। ভারতের গরীব থেকেও এখানকার দরিদ্রদের অবস্থা ভালো। ভারতে ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ হাজার করে কৃষক আত্মহত্যা করছে।

একটি খবর “বাংলাদেশের বিচারবিভাগকে প্রশিক্ষণ দেবে ভারত!”

একই দিনে মিডিয়াতে দুটি খবর। ভারতের বিচার বিভাগ নজিরবিহীন সংকটে প্রধান বিচারপতিসহ সাত বিচারকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা। দেড় হাজার বিচারক ভারতে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রী। এটিও তার সদ্য কৃতকর্মের একটি অপকর্ম হবে। দেশটির প্রধানবিচারপতিসহ ৭ জন বিচারপতির মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আরেক বিচারপতি। বাংলাদেশ সরকার বাকস্বাধীনতার কন্ঠরোধ করছে। লন্ডনের মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সম্প্রতি এটি প্রকাশ করেছে। ভারতে একজন ঘোষকের “স্টেপ ডাউন” কথাটি যেন ছিল দৈবের একটি নির্দেশ, হাসির খোরাক নয় বরং একটি চরম বাস্তব ওয়ার্নিং বাণী মুখ ফসকে বের হয়। যেখানে দেশের স্বার্থে অভিন্ন নদীর পানি নেই, সীমান্ত হত্যা বন্ধ নিয়ে কথা নেই, বানিজ্য অসমতা, তীস্তার পানির কোন পাওনা নেই। যাদের অর্জন এরকম অশ^ডিম্বে ভরা তাদের জন্য স্টেপ ডাউন কথাটি সময়ের দাবী।

ভারতীয় প্রশ্নবিদ্ধ বিচার: বাবরী মসজিদের ন্যায় দাবীর বিরুদ্ধে চিফ জাস্টিস বলেছিলেন এটি উত্তম হবে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনায় এটি সেরে ফেললে। উভয় পক্ষ নেবে ছাড়বে। এ মামলার কষ্টকর দিক হচ্ছে সংখ্যালঘুর পক্ষে সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার ক্রমাগত পদদলিত হয়ে থাকে। আর অপর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্টরা আধিপত্য লাভ করে। এটি আজ নতুন নয়। যখন ১৯৪৯ সালের ২২ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে দৈবমূর্তি এসে মসজিদ দখল করে বসে। তখন যদি সরকার ও প্রশাসন সত্যসন্ধানী হতো তবে সঠিক বিচার করতে পারতো। কিন্তু সরকারের ও বিচারবিভাগের কপটতা এখানেও দৃষ্টিগোচর হওয়ার মতন স্পষ্ট। অপরপক্ষে ১৯৮৬ সালের ১ ফেব্রƒয়ারীতে বাবরী মসজিদের তালা খুলে গণপূজা পাঠের অনুমতি দেয়া হয় কিসের ভিত্তিতে? এটিই শেষ নয়, ১৯৮৯ সালের মার্চে মসজিদের সামনে রামমন্দিরের শিলান্যাস দৃশ্যপটে আনা হয়, যার নকশায় বাবরী মসজিদও যুক্ত ছিল। অতপর মহাহুঙ্কারে জুলুমের চুড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ সালে। ধারণা হয়, ভারতের মুসলিম প্রতিষ্ঠাতার ধ্বংসের মাধ্যমে অনাগত ভারতের ধ্বংসের আগাম ইংগিত বপন করা হয় সেদিনই। আজ অবদি তাদের উদ্দেশ্য একটাই মুসলিমরা তাদের দাবী ছেড়ে দিক। শুধু নেবে ছাড়বে নয় এক পক্ষ সরে যাবে কারণ তারা সংখ্যালঘু, এটাই বিচারিক কথা। ইত্যবসরে হুমকিও বিলি করা হচ্ছে যে, যদি মুসলিমরা দাবী না ছাড়ে, তবে আগামী বছর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেই বিজিপি আইন করে রাম মন্দির স্বপ্ন পুরণ করবে। সুব্রানিয়াম স্বামী বলেই দিয়েছেন যে, অযোধ্যা, মথুরা ও কাশি এ তিনকে মুক্ত করা হবে। কি ভয়ঙ্কর কথা ! এরা নাকি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ আর কথায় কথায় বাংলাদেশের মানুষকে মনুষ্যত্ব শেখাতে আসে। উল্লেখ্য মথুরা বা কাশী নিয়ে কোন বিরোধই নেই। কিন্তু সংখ্যালঘু মুসলিমকে শাসানি দিতে তিনি ভারতের স্বামীজি এমনটাই করে যাচ্ছেন এটি বলা যায় এক ধরণের আদালতের কাজে হস্তক্ষেপ ও দুর্বল মনে করে সংখ্যালঘুকে হুমকির উপর রাখা। মুম্বাই থেকে প্রকাশিত উর্দু টাইমসএর আলোকে সংগৃহীত তথ্যাবলী এটিই জানান দিচ্ছে। যেখানে এই হচ্ছে ভারতের বিচার ব্যবস্থা সেখানে বাংলাদেশ কেন ওটিই রপ্ত করবে? যে দেশে আফজাল গুরুরা কোন বিচারিক মর্যাদা পায় না। অবিচারের পর্যায় পার হয়, এটি সারা বিশ^ জানে। তারপরও কেন ভারত থেকে বিচার শেখা ! তাদের বিচারিক রায় এমনই যাকে পাঞ্চয়েতী বিচার ফরমা বলে অভিহিত করা হয়। ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লক্ষণৌ বেঞ্চ বাবরী মসজিদ ইস্যুর উপর যে বিস্ময়কর রায় প্রদান করে সেটি হচ্ছে তিন পক্ষকে সমবন্টন করে দেয়া হোক। এরা তিন পক্ষ হচ্ছে সুন্নী সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহি আখড়া আর রামলীলা। বাবরী মসজিদের রায় এর মূল ধ্বংসকারী কর্মকর্তা বালবীর সিংএর জীবনাচারই বলে দেয় বাবরী মসজিদের প্রকৃত বিচার কি হতে পারে? এটি বিচারের জায়গা নয়, বরং অবিচারের লীলাভূমি ভারত। ঢিলের বদলে পাটকেল আসে কখনও খোদায়ি কখনও মানবিক   (বালবীরকে জানতে চাইলে পড়তে পারেন, কেমন ছিল আল্লাহর ফেরত পাটকেল!)

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত এক আদালত অবমাননার মামলায় সম্প্রতি বিচারপতি কারনানের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়। ঐ আদেশে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পুলিশকে বলা হয়, কলকাতার কোনো সরকারী হাসপাতালে মেডিকেল বোর্ড করে বিচারপতি কারনানের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।

ভারতের সব আবর্জনা কেন বাংলাদেশকে বইতে হবে? নরওয়ের কালো তালিকায় রামপালের ভারতীয় কোম্পানী। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী বিতর্কীত নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারত লজ্জাস্করভাবে অন্যের আভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। সব সময় ভোট বানিজ্যে লেন্দুপীয় কসরত যে করে চলেছে, এটি দেশটির হীনমন্যতার পরিচয় সুস্পষ্ট করছে ! যার জন্য অল্প দামে কেনার যে কসরত করছে ভারত সেটি কখনোই বাংলাদেশের মানুষ সহজভাবে নিচ্ছে না, নিবে না, নিতে পারে না। তাই ৯৫% বাংলাদেশের মানুষ আজ ভারত বিরোধী, এটি ভারতের বড় অর্জন। বারে বারে একজন মূখ্যমন্ত্রীকে ধরিয়ে দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিপক্ষ করে? শঠতার কপটতার সীমায় এসব কি বিচার? ভারতের আদালত কি বলবে? ওটিও কি ভারত থেকে শিখতে হবে? এ জাতি কারো প্রভুত্ব মেনে নেবে না, কথাটি খালেদা জিয়া উল্লেখ করেছেন বারে বারে।

আজ মে মাসের ৬ তারিখ। মানবজমিনে একটি লেখা দেখলাম। “রাজনীতিতে বিরল” ক্যাপশানে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার প্রসঙ্গ এসেছে। এবং তার মহতী প্রাণের আকুল আবেদন ফুটে উঠেছে লেখাটিতে। ৯০এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কথাই ধরা যাক। সে সময় রাজপথে জীবন্ত পোস্টার নূর হোসেনকে স্বৈরাচারের বুলেট কেড়ে নেয়। তার পরিবার হয়ে পড়ে অসহায়। এ পরিবারের পাশেও গিয়ে দাঁড়ান শেখ হাসিনা। নূর হোসেনের ভাই আলী হোসনেকে ড্রাইভিংএর কাজ শিখিয়ে নিজের গাড়ীর চালক নিয়োগ করেন। অপর ভাইকে কুয়েত যাওয়ার সমস্ত ব্যয় বহন করেন। জাতিকে অনেক হুমওয়ার্ক করতে হবে। জাতির গোজামিল কাটাতে কিছু তথ্য আনবো। যদিও এরশাদের সময় মানুষ পুলিশের গুলিতে মরেছে কিন্তু তাকে হঠানোর পর কি ঘটেছে বাংলাদেশে ১৭৩ দিন হরতালসহ বহু বছর অবদি সেটি জানুন সচেতনরা। যা জানি বলেই কষ্টও বহু বেশী। “৯২-৯৬ পুলিশের গুলিতে কেউ মারা যায় নি” শুধু লাশ চাই। মানুষের লাশ। ১৯৯০ সামরিক স্বৈরাচার নিপাত করে শহীদ নূর হোসেনের রক্তে ভেজা  ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ আন্দোলনে এরশাদের পুলিশের গুলিতে এদেশের অনেক তাজা প্রাণ নিহত হয়েছে। ১৯৯১ এর পর থেকে খালেদা সরকারের পতনের লক্ষ্যে ঢাকা শহরে মোট ১০০ লোক নিহত হয়েছে। তখনও একজন লোকও পুলিশের গুলিতে নিহত হয়নি। কখনো ভ্যাট প্রত্যাহার, কখনো সচিবালয় ঘেরাও, কখনো সংসদ ভবন ঘেরাও, কখনো নির্বাচন কমিশন ঘেরাও, কখনো বাজেট বাতিলের দাবী, কখনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও, নানা ইস্যুতে ৯২ থেকে ৯৬ সালের ২৬শে মার্চ তত্ত্বাবধায়ক বিল পাশ করা পর্যন্ত এসব প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতে ২জন, ৩জন, ৪জন করে মানুষ গুলিতে নিহত হয়েছে। এরা কেউই পুলিশ, বিডিআর বা সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়নি। এরা নিহত হওয়া সকলেই ১০৩ জনই নামগোত্রহীন, পরিচয়হীন, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। এসময় একজনও আওয়ামী লীগের কর্মী নিহত হননি। কিন্তু প্রতিটি লাশকেই শেখ হাসিনা আওয়ামী বলে প্রচার করেন। যদিও খালেদা জিয়ার সরকার বলেছে এরা নিরীহ পথচারী। এবার কথা হচ্ছে এসব লাশকে টাকাতে কেনা হতো। কর্মসূচীর দুইতিনদিন আগে ঢাকা শহরের সকল পেশাদারী খুনীদের কাছে অগ্রিম টাকা পৌছে দেয়া হতো। খুনীদের বলা হতো আমাদের আগামী কর্মসূচীর নির্দিষ্ট দিনে লাশ চাই। মানুষের লাশ হোক সে যে কোন মানুষের লাশ। লাশের খবর না আসা পর্যন্ত শেখ হাসিনার পানাহার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকতো। ততক্ষণ তিনি চা বা ফেনসিডিল খেতেন, আর লাশের অপেক্ষায় উৎকন্ঠার মাঝে সময় পার করতেন। লাশের খবর শুনলেই বলতেন, আমার ক্ষুধা লেগেছে খাবার লাগাও। অতপর খাওয়া শেষে ও সুখের নিদ্রা দিয়ে তৈরী হয়ে হাতে রুমালে গ্লিসারিন মাখিয়ে যেতেন ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে মর্গে লাশ দেখতে। মর্গে লাশ দেখে রুমাল চেপে ধরতেন আর ফটো সাংবাদিকরা ছবি তুলতো। “লাশ দেখে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অশ্রু সংবরণ করতে পারলেন না” এই ক্যাপশন দিয়ে সে ছবি পত্রিকায় ছাপা হতো।” (মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেনটুর আমার ফাঁসি চাই, পৃষ্ঠা ১২০-১২১)। এই আমাদের বাংলাদেশ আর এই জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা। ঐসব লাশ ছিল এ নেত্রীর জমা, বহু আকাঙ্খার ফসল।

মনিবজমিনের কলামটি দেখে আৎকে উঠি আর ভাবি কতটুকু অন্ধকারে থাকলে এরকম মিথ্যা প্রচার চলছে মিডিয়াতে। এসবের নিরব দর্শক আল্লাহ কিভাবে যে এত অনাচার সয়ে যাচ্ছেন এক আল্লাহই বলতে পারবেন। আমরা যারা এটি জানছি সেদিন থেকেই এর চাপা কান্নাতে মরছি। মানবজমিনের কলামে ছিল আসলেই শেখ হাসিনা একজন মমতাময়ী মা। একজন মমতাময়ী বোন। একজন সফল মানুষ! তাই কি? এরাই একবিংশ শতকের সফল কিন্তু বিধাতার কাছে এরা নির্ঘাৎ হবে আগুণের খোরাক। এই প্রধানমন্ত্রীই সারাক্ষণ আইনের কথা বলে নীতির কথা বলে। বিচার করবো, নানান হাঙ্কিপাঙ্কি তার আচারে আচরণে। কিন্তু তার বিচার যে কিভাবে হবে এক আল্লাহই জানে ভালো। সম্প্রতি শুনছি আইন হচেচ্ছ যারা ইতিহাস বিকৃত করবে তাদের আইনের আওয়ায় আনা হবে। সেটি মানে ইতিহাসের স্ট্যান্ডার্ডটি কি হবে? তাদের মনমত মিথ্যাচার দিয়ে সাজানো ইতিহাস হতে হবে, অন্যথায় এসব গ্রহণযোগ্য হবে না। যেমন তিনি অবৈধ পথে আসলেও তাকে মেনে নিতে হবে। এর অন্যথা যারা করবে তাদের আইন দিয়ে কাবু করা হবে। স্বাধীনতার পর থেকেই চলছে বড় মাপের ইতিহাস বিকৃতির ইতিহাস আর এটি বড়মাপে করে চলেছে বর্তমান আওয়ামী অনুগতরা। এরা নষ্ট হয় বলেই মানুষ নতুন পথ খুঁজে নেয় আর বিএনপির জন্ম হয়। শেখ মুজিব নিহত হওয়া পর্যন্ত বিএনপির কোন অস্তিত্ব ছিল না। বিএনপি অনেক পরের সৃষ্টি। কারণ আমরা নিজেরাই দেখেছি স্কুল কলেজে পড়া আমাদের ছেলেপেলেরা সব সময় ভুল ইতিহাস নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। যে ইতিহাস আমরা নিজেরা চোখে দেখে বড় হয়েছি তারা ভিন্ন ইতিহাস বলতো যা বিশে^স করতে যে কোন সচেতনেরই কষ্ট হবে, আমাদেরও হয়েছে। এই প্রধানমন্ত্রীই হচ্ছেন ভুল ইতিহাসের মাতা। তার চোখে জিয়াউর রহমান রাজাকার, ভাসানী অচেনা, কর্ণেল ওসমানীর কথা জাতি ভুলে গেছে। সত্যিই রাজনীতিতে এমন অপকর্মের রানী পৃথিবীর ইতিহাসে সত্যিই বিরল।

আন্ধা সাংবাদিক: কিছু সাংবাদিক আছেন এরা মগজ বিক্রি করা দালাল প্রজাতির বললে ভুল হবে না। এরা এদেশের নয়, পড়শির ভাড়া করা দালাল, ঠিক সরকারের মতই। এদের চাল চলন বলন শুনলে দেখলেই চেনা যায়। এত বিপর্যয়েও তারা মহাখুশী, মহাভারতসম গদ্য রচনা করে চলেছেন। এত উঁচু মানের ষড়যন্ত্রী সরকারের প্রশংসায় এরা পঞ্চমুখ। যে বা যারা দুকথা সত্য বলবে তাদের মুখে সাটার লাগিয়ে দিতে চায়। যথেষ্ঠ সংখ্যক হিন্দু সাংবাদিকরা এ অর্জনে আগুয়ান, তারা খুব কম নিরপেক্ষ চিন্তা করতে পারে। তাদের পছন্দ আওয়ামী লীগ, তারা মনে করে এটি তাদের জীবন মরণের দলিল। এরকম একজন ভক্ত সাংবাদিক স্বদেশ রায় তিনি এক নেত্রীকে আকাশে তুলতে গিয়ে মিথ্যাচার করতেও পিছপা হচ্ছেন না। বিডিনিউজ ২৪ ডট কমে “দুই নেত্রী কথাটি ষড়যন্ত্রের ফসল” ৩০ মে ২০১৭ কলামে  প্রচার করেন যে তার মহান নেত্রী নাকি ছিলেন বাংলাদেশের সব থেকে বড় মহিলা কলেজের নির্বাচিত ভিপি। তার এটি জানা উচিত ছিল যে এটি তার নেত্রীর হাজার মিথ্যাচারের এক মিথ্যাচার। “শেখ হাসিনা কখনোই রাজনীতির ধারে কাছেও ঘেষেনি। যদিও সাম্প্রতিককালে এক সময়ে শেখ হাসিনা ইডেন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভিপি ছিলেন বলে প্রচার চালানো হলেও কবে কখন বা কোন সালে তা প্রচার হয়না। বরং শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও ছিলেন না, এটি শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের প্রায় অনুষ্ঠানেই  তিনি বলেন” (রাজনীতিতে শেখ হাসিনা, আমার ফাঁসি চাই মতিয়ুর রহমান রেন্ট,ু ৩৯ পৃষ্ঠা)। তা ছাড়া এর উপর অনেক লেখা তথ্য ফেসবুক কমেন্ট পড়েছি জেনেছি এটি শুধু স্বদেশ রায়ের সাংবাদিকতার দীনতাই নয় বরং চাটুকারিতার মাত্রাজ্ঞানহীনতা বলেই মনে করছি। এভাবে তারা ও তাদের নেত্রী বহুভাবে মিথ্যাচারের স্মৃতিসৌধ নির্মান করে চলেছেন তা তাদের স্মৃতিতে আটকা পড়ে না। নেত্রীকে অধিষ্ঠিত করতে নিজের দৈন্যতা ছাপিয়ে কৌশলে ইকোনমিষ্ট পত্রিকার সাংবাদিকতার উপরও ছোবল মারেন। আগডুম বাগডুম ঘোড়ারডুম বলে বলেন আজ আর নানা কারণে পুরোপুৃরি সত্য লিখতে পারছি না, তবে শেখ হাসিনা আকারে ইঙ্গিতে তা বলেছেন। “এদের কাজ হচ্ছে মানসিকভাবে বাংলাদেশীদের ভারতীয়করণ করা। এদের হাতে রাখার জন্য ভারত প্রতিবছর ৩০ থেকে ৪০ মিলিয়ন টাকা ব্যয় করে থাকে। ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন টাকা সাংস্কৃতিক সংস্থাকে এগিয়ে নিতে। অর্থাৎ ৩০০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন টাকা এভাবে তাদের রাজনৈতিক প্লাটফর্মে আসে” এটি প্রকাশিত হয় দ্যা নিউ ন্যাশন পত্রিকায় ১৯ ডিসেম্বর ১৯৯৬ সংখ্যায়। ইনকিলাবের ৩০ এপ্রিল ৯২ সংখ্যায় প্রকাশিত হয় “র”এর মাধ্যমে প্রায় চার কোটি ৫০ লাখ রুপী পাঠানো হয় এবং দেয়া হয় এমন একটি দলকে যারা ঐ সময় (১৯৯১ সালে) পরাজিত হয়।” বস্তুত ইনকিলাবের এ উপস্থাপনা ছিল ঐ সময় দিল্লীর ডেট লাইনের খবরের শিরোনাম ছিল “গোপন অভিযানের অজুহাতে “র” কর্মকর্তারা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান চালু করেছে। আর আপনারা নিশ্চয় জানেন “জনকন্ঠ” নামের পত্রিকাটিও ছিল তাদের বড় মুখপাত্র। এরা এভাবে এদেশে গড়ে তুলে বৃটিশের আদলে আরেক কাসিম বাজার কুঠি, বঙ্গভূমি নামে চিত্তরঞ্জন সুতার থাকেন এর নেতৃত্বে। উপরে যে লাশগুলি পড়তো, টাকার অভাব হতো না, ভুতে যোগাতো দেশটিকে অস্থিতিশীল করতে। এদের বলা হয় দেশপ্রেমিক এরা হচ্ছে দেশের প্রধান শত্রু, দেশদ্রোহী।

শেখ হাসিনা ক্রমাগত কথা বলে চলেছেন তার কয়টি কথা সত্য তিনি বলেন? তাকে ১৯বার মারার চেষ্ঠা করা হয়েছে। এ কথা বলে তিনি নিজেকে মূল্যবান দেখাতে চান। তিনি বুঝাতে চান তার মত মূল্যবান আর কোন জাতি প্রজাতি এ দেশে জন্মায় নি। যদিও সারাদেশে মানুষ মেরে তিনি লাশের বানিজ্য চালাচ্ছেন আর নিজের ওজন বাড়াতে নিজেকে এসব কথা বলে নিলামে তুলছেন। এসব চেপে রাখা ইতিহাস প্রকাশ করা সময়ের দাবী। “শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলি” শিরোনামে “১৯৯৪ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর শনিবার ট্রেনে বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি গুলি করা হয়েছে বলে জাতীয় পত্র পত্রিকায় সংবাদ বের হলে, বগুড়া সরকারী সার্কিট হাউসের ভি আই পি রুমে বসে জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সফর সঙ্গিরা (যারা প্রকৃত ঘটনা জানে) হাসাহাসি করতে থাকে এবং হাসাহাসির এক পর্যায়ে গুলির এই ঘটনা নিয়ে পরদিন হরতাল ডাকার সিদ্ধান্ত হয়” (একটানা ১৬ বছর হাসিনার প্রাইভেট সেক্রেটারী হিসাবে নিয়োজিত মতিয়ুর রহমান রেনটুর ‘আমার ফাঁসি চাই’ গ্রন্থের ৭৫ পৃষ্ঠা থেকে)। এভাবে এসব প্রমান, মিথ্যাচারী চাটুকারদের লেখা থাকে সম্পূর্ণ একগাদা মিথ্যাচারে ভরা।

যে জিয়াউর রহমান মৃত আওয়ামী লীগসহ জাতির সব মৃত পার্টিকেই পুনর্জীবিত করেন সেটি তারা স্বীকার করতে অপারগ। এখানেও মিথ্যাচার খালেদা জিয়া কিভাবে গাজিপুরে লুকিয়ে ছিলেন এসব গাজীর গীত তিনি শুনান, জানি না এত রসদ কোথা থেকে যোগাচ্ছেন এ সাংবাদিক। বড় কসরতে তিনি প্রণান্তর চেষ্ঠা করছেন যে হাসিনা নন, খালেদা হচ্ছেন এরশাদের দোসর। এসব লাওয়ারিশ কথার কোন জবাব হয়না। এরা জাতিকে ঘোলের জল খাওয়াতে খাওয়াতে একদম মৃতবৎ করে তুলেছে। এরা জাতির শ্মশান যাত্রার অপেক্ষায় প্রহর গুণছে।  জাতির সতর্ক সন্তানরা টানা সাইরেন ধ্বনি বাজিয়ে গেছেন ক্ষনে ক্ষনে সব ধরণের ধড় পাকড়কে এড়িয়ে গিয়েও। নষ্ট চেতনার নামে আপনারা ঘোরে সময় পার করেছেন, ঐ চেতনা হচ্ছে ভারতীয় চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নয়। অতি অসাম্প্রদায়িকতার কারণে বাংলাদেশীরা আজ ধ্বংসের শেষ সোপানে এসে পৌচেছে।

দুঃখজনক হলেও সত্য শুধু সাংবাদিকদের বেলায়ই নয়, সবদিন সাহিত্যিকদের মাঝেও হিন্দুরা সংকীর্ণ ও একপেশে, রবীন্দ্রনাথও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। এরা সবদিনই বেশীর ভাগই এক পক্ষের জন্য বরাদ্দ। এর প্রধাণ কারণ মহৎ ধর্মের বানী সেখানে বাতিল। গরুরা যেখানে পূজ্য সেখানে মানবতা পৌছতে পারে কম।  ভারতে মানুষ হত্যা সেখানে সাধারণ ঘটনা কিন্তু গো হত্যা রোধে সম্প্রতি গরুর পরিচয়পত্র বিলি হচ্ছে। দৃশ্যত হিন্দুরা গরু খাননা। কিন্তু গবেষনা বলছে অনেক হিন্দুও গরু বা মহিষের মাংস খান, এবং মহিষ বেশী খান। ভারতের দ্য ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অফিস (এনএসএসও) জরিপ তথ্যে পাওয়া এ তথ্য। বাংলাদেশে আমার এক হিন্দু ফ্রেন্ড বলতো তার বাবা কখনো হিন্দু মুসলিম হোটেল পাশাপাশি থাকলে মুসলিমটাতেই ঢোকেন, তার পছন্দ মুসলিম হোটেল। তার এটি বলার কারণ যেদিন ব্যতিক্রমী কিছু রান্না হতো, সেও হোষ্টেলে আমাদের মাঝে এসে চুপিসারে ঢুকে পড়তো যাতে আমাদের সাথে সে শরিক হতে পারে। তার ভয় একটাই ছিল যেন বাকীরা তাকে না দেখে। না দেখলেই হলো, অন্য হিন্দুরা না দেখলেই ঠিক আছে।

ভারতে গরু ও মুসলিম: তবে মুসলিম প্রধান অঞ্চলেই গরুর জন্য যত আইন। দেখা যায় অনেক সময় অন্য ধর্মাবলম্বীরা গরুর মংস খেলেও ক্ষতি নেই। গরুর জন্য অ্যাম্বুলেন্স হচ্ছে কিন্তু দরিদ্র মানুষের জন্য মানবেতর জীবন দৃশ্যমান। অসংখ্য উদাহরণ ভাইরাল হচ্ছে স্বজনদের কাঁধে নিয়ে ফিরছেন স্বামী, কেউ সাইকেলে, কেউ হেটে। গরুর দুধ বিক্রেতাকে হত্যা করা হচ্ছে হত্যার অভিযোগ এনে, সম্ভবত তারা মনে করে জ্যান্ত মুসলিম মারলে মাটির দেবতার কীর্তন হয়। এত কষ্ট ধারণ করে এক মুসলিম তার সন্তানের বিয়েতে গনেশের মূর্তি দিয়ে পত্র ছাপিয়ে হিন্দু বন্ধুকে নেমন্তন্ন করেছে। এসব থেকে কি হিন্দুরা কিছু শিখবে? শিখবে বলে মনে হয় না, কারণ শিখলে তারা কম সুযোগ পায় নাই তাদের দেশে মুসলিমরা কয়েকশ বছর ধরেই শাসক ছিল, মহৎ ধর্মের বানীকে উপরে তুলে ধরাতে তারা তৎপর ছিল, তার প্রমাণ ইতিহাস। যদিও তাদের মুখে ও তাদের ইতিহাসে এর স্বীকৃতি কম। কারণ তারা মহৎ ধর্মে বিচরণ করেছে কম। তাই সংকীর্ণতা কাটাতে পেরেছে কম, যে গুরুদেব নামধারী উচ্চ পদে অধিষ্ঠিতদের এটি কাটাবার কথা ছিল তারাই পারে নাই। এটি তাদের চিরজনমের লজ্জা! অসাম্প্রদায়িক মুসলিমরা অতি অসাম্প্রদায়িকতা দেখাতে গিয়ে সবদিন তাদের দুর্নাম ঢেকে রেখেছে। তাই আমার কলামের নাম হয়েছে “সত্য বলা ছাড়া বিকল্প দেখছি না।” এসব স্পষ্ট করা সময়ের দাবী। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন যথেষ্ট অত্যাচারী জমিদার। তার পিতা গুন্ডা নিয়োগ করেন স্বজাতির একজন উদারবাদী হিন্দুকে হত্যা করতে কারণটি ছিল তিনি ছিলেন উদারবাদী কাঙ্গাল হরিনাথ। মিথ্যা যুক্তি সবাই প্রচার করেন রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অসাম্প্রদায়িক। কোন মুসলিম তাদের পুকুরও মাড়াতে পারতো না। শান্তিনিকেতনে মুসলিমরা পড়তে পারতো না। কিন্তু মুসলিমদের সাহায্য সহযোগিতা সেখানে গ্রহণ করা হতো। তখন ভারতের নিজাম বাহাদুর শান্তিনিকেতনে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন, যার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠেকায় পড়ে হাতেগুণা কয়জন মুসলিমকে ভর্তির সুযোগ দেন। এদের মাঝে একজন সিলেটের সৈয়দ মুজতবা আলী। বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তার জমিদারিতে কোন স্কুল স্থাপন করেন নি, এ অভিযোগ আহমদ শরীফসহ অনেকেরই। প্রসঙ্গ রবীন্দ্র: কবি জসিম উদ্দিনের দৃষ্টিতে শান্তিনিকেতন , কবি জসিম উদ্দিনের সাথে তারা কি আচরণ করেছিল যার প্রেক্ষিতে তাকে শান্তিনিকেতন ছাড়তে হয়। 

নাজমা মোস্তফা ০৬ মে, ২০১৭ সাল।

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: