Articles published in this site are copyright protected.

বিশাল গন্ডির ইসলামকে ওরা সংকীর্ণ গন্ডিতে বাধতে গিয়ে বাস্তবের নাবিলার দাদীরা মরছে, ঠিক তারই পাশাপাশি সোরগোল উঠেছে নাটকের গুলি খাওয়া, মালালার বাঁচা, নোবেল পর্যন্ত পৌছে যাওয়া। যদিও নাবিলার কথা নাবলা কষ্টে ভরা, মানবতার প্রকৃত জমা। বিশ^ কম জানলেও সচেতন মুসলিমরা জানে নবীকে নিয়ে বিকৃত মিথ্যার সব কার্টুন আঁকা, নবীর প্রতিটি কাজের তীর্যক ছবি আঁকছে বিরুদ্ধবাদীরা। সপ্তম শতাব্দী থেকে এ সত্য ময়দানে, সেদিন থেকে বিরোধীরা এ ছলবাজ কাজে সচল আছে। বলা হচ্ছে পাকিস্তানের সোয়াতের এক স্কুল ছাত্রী মেয়ে মালালার উপর হামলা করে তালেবান মুসলিমরা। মিডিয়ার চাতুর্যতায় গোটা বিশে^র সামনে বিশাল প্রমাণ নিয়ে দাঁড়ায় একটি ম্যাসেজ “তালেবানী ইসলাম নারী শিক্ষা বিরোধী”। কুরআন নির্ভর ইসলামের রুপ এক, এর কোন তালেবানী, আলকায়দা আইএসআইএস বা যেকোন নামের খন্ডিত সংস্করণ হতেই পারে না। মূল সত্যকে অবহেলা করে এ ধারার রাজনৈতিক মিথ্যাচার ধর্মটির শুরুর ইতিহাসের সাথেই জড়িত। এর মূল কারণ বিরোধী সূত্রতা ও শত্রুতা।

‘মালালার ওপর হামলার ঘটনাটি আগেই লেখা’ (২৩ মে ২০১৭, প্রথম আলো) মালালা সম্বন্ধে পাকিস্তানেরই এক নারী সাংসদ মুসারাত আহমাদজেবের কথা শিরোনামটি দখল করেছে। তার মতে বিবিসির জন্য এটি আগে সাজানো হয়, পরে ঘটানো হয়। উম্মাহ পত্রিকার সাক্ষাৎকারে তার দাবী মালালার বাড়ীতে যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিক তিনমাস থেকে তাকে প্রশিক্ষণ দেন। মাথার গুলি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন এবং সোয়াতে সিটি স্কেনে তার কোন চিহ্ন পাওয়া যায় নি, এটিও স্পষ্ট করেন। তবে পেশোয়ারের সামরিক হাসপাতালে ওটি ধরা পড়ে। অভিযোগ উঠেছে আরো তার চিকিৎসকদেরে পাকিস্তান সরকার বাড়ীর জমি দেয় । যখন ছদ্মনামে বিবিসিতে মালালা লিখতেন তখনও তিনি ওসব লিখতে জানতেন না। উল্লেখ্য ২০১২ সালে তালেবান কর্তৃক তার উপর হামলা হয়, তিনি তখন থেকে নারী শিক্ষার উপর কাজ করছেন এবং ঐ সব কারণে ২০১৪ তে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।

অপরপক্ষে ওয়াজিরাস্তানের মেয়ে নাবিলার ক্ষতির পরিমাপ মনে হচ্ছে কম তো নয়ই বরং বহু বেশী। কিন্তু সেখানে নাটকহীন বাস্তবতার প্রতিবাদ প্রতিরোধ খুব অল্প। জীবন থমকে যায়, আহত বিধ্বস্ত মেয়েটি মুষড়ে পড়ে। আশ্চর্য্য, বরঞ্চ মানবতা যেন তাকে চোখ রাঙ্গায়! মালালা প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সাংসদের মন্তব্য যেন ফের পুরোনো ঘটনাকে উসকে দিল। লেখাটি অনেকটা যেমনটি রামের জন্মের আগেই রামায়ন লেখা হয়। যার জন্য বাস্তবের রামের সাথে রামায়নের রামের বৈপরিত্য স্বাভাবিক। নাদিম এফ পারাচা নামের একজন অভিজ্ঞ জার্নালিস্ট এর ১১অক্টোবর ২০১৩ সালের কলামটি বিশে^র সামনে যেন ঐ ঘটনাটির পোস্টমোর্টেম রিপোর্ট বলা যেতে পারে। লেখাতে https://www.dawn.com/news/1048776  Malala: The real story (with evidence)  একাধিক ছবিসহ প্রামাণ্যতার দলিল এসেছে, সব শেষে একটি ফিকশন নাটকের আশ্রয়ও নেয়া হয়েছে। অসংখ্য মানুষ তাতে বিস্ময় প্রকাশ করা সহ মন্তব্য করছেন, ৭২ হাজারের মত লাইক পড়েছে। আজ এটি চারদিকে সারা বিশে^ ছড়িয়ে পড়েছে এমনকি তাদের ডিফেন্স অনলাইনেও এর স্বপক্ষে লেখা বর্তমান। এখানে প্রচেষ্ঠা হয়েছে যে নারী শিক্ষা বিরোধী তালেবানরা সোয়াতের এ স্কুল যাওয়া মেয়ের মুখে ও মাথাতে গুলি করে। যার প্রেক্ষিতে তাকে প্রথমে পাকিস্তানে ও পরে ইংল্যান্ডে একাধিক সার্জারীর মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা হয়। বর্তমানে মালালা ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন আর নারীর স্বপক্ষে কাজ করছেন। এটি হচ্ছে গল্পের একদিক, যা পশ্চিমা বিশে^র মিডিয়া লুফে নিয়েছে।

এ গল্পের অন্যদিকও ঐ সোয়াত ভূমি থেকেই উত্থিত হয়েছে। ২০১৩ সালের এপ্রিলে Dawn.com (ডাওন ডট কম) থেকে পাঁচ মাস মেয়াদে একটি ইনভেস্টিগেশন দল পাঠানো হয় ঐ উত্থিত গল্পের পরবর্তী কিছু যৌক্তিক কারণে। তাদের ঐ গবেষণাতে বেশ কিছু প্রমান চ্যালেঞ্জের আদলে দাঁড়িয়েছে ঐ ঘটনাটির বিপক্ষে। মূল সন্ধানী প্রাপ্তিগুলি হচ্ছে।

(১) প্রথমত মালালা সোয়াতের মেয়ে বা পুস্তন মেয়ে নয়। সোয়াতের একজন সম্মানী ডাক্তার ইমতিয়াজ আলী খানজাই যিনি একটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক চালান। তিনি রিপোর্টারদের জানান যে ঘটনাক্রমে মালালার ডিএনএ রিপোর্ট তার কাছে আছে, ওতে প্রমাণিত হয় যে, সে পুস্তন মেয়ে নয়। তিনি তাদের রিপোর্টও দেখান। মেয়েটি যখন আরো ছোট অবস্থায় তার অভিভাবকদের সাথে ডাক্তারের চ্যাম্বারে আসে তার কানের সমস্যা নিয়ে, ওটি ঐসূত্রে তখনকার পাওয়া। ইত্যবসরে যখন সেই মেয়েই ফের গুলিতে বিদ্ধ হয় তখন তিনি স্মরণ করেন যে তার কাছে ওর কিছু সেম্পল আছে কোন বোতলে। যা অনেকটা সখের মতই তিনি রোগীদের এসব সংগ্রহ করেন।  সে হিসাবে তিনি বলেন এ মেয়ে পস্তু নয়, বরং ককেসাস, সম্ভবত পোলান্ডের মেয়ে।

(২) এ ঘটনার পর তিনি তার বাবাকে ডেকে বলেন যে আমি জানি তোমার মেয়ে কে? এ কথা শুনে তার বাবা চিৎকার চেঁচামেচি করলে ডাক্তার জানতে চান, ঠিক আছে আমি সবাইকে না জানালেও অবশ্যই আপনাকে আসল সত্য ঘটনাটি প্রকাশ করতে হবে।

(৩) ঠিক তখনই তার বাবা ধরা খেয়ে রাজি হন এবং প্রকাশ করেন যে তার আসল নাম জেইন এবং সে হাঙ্গেরীতে ১৯৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করে। তার মূল জন্মগত বাপ মা হচ্ছে খৃষ্টান মিশনারীজ যারা সোয়াত ভ্রমনের পর মালালাকে গিফট হিসাবে দান করে। সাথে সাথে সে লেখাতে খানজাইএর সেসব সংগৃহীত ডিএনএর নমুনা ছবিও প্রদর্শিত হয়।

(৪) এবার তাকে প্রশ্ন করা হয় তিনি কেন এখন এসব বলছেন উত্তরে তিনি বলেন তার বিশ^াস এসব করা হচ্ছে পাকিস্তান বিরোধীতার স্বার্থে, মালালাকে ঐ ইস্যুতে উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই তিনি শংকা প্রকাশ করেন।

(৫) তিনি আরো বলেন তিনি প্রমাণ দিতে পারবেন, যে তরুণ তাকে গুলি করেছে সেও পুস্তন নয়। তার কাছে ঐ মানুষটিরও কানের খইল সেম্পল জমা আছে। ঐ শ্যুটারের পরীক্ষার পর তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে সে সম্ভবত ইটালীয়। তিনি তখন তাদেরে ঐ সেম্পলটি মাইক্রোসকোপের নীচে নিয়ে দেখান। জানুয়ারী ২০১২ তে ডাক্তার এসব পাওয়া যুক্তি কিছু সিনিয়র পাকিস্তানী ইনটেলিজেন্সকে ও আইএসআইকে ইমেইল করেন।

(৬) এর কিছু দিন পরই তার ক্লিনিকটি রেইড হয়। তখন তিনি সৌদি ছিলেন, সেদিনও তিনি সৌদি রয়েল পরিবারের কিছু জনের এয়ারওয়াক্স সংগ্রহের জন্য ওখানে ছিলেন। এর সুবাদে তার ক্লিনিকে তার কর্মচারীদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় এবং রেইডাররা  জানতে চায় কোথায় রাখা আছে ঐসব গবেষনালব্ধ সেম্পলগুলো?

(৭) ঐ বছরের জুনে একজন তরুণ আইএসআই এই ডাক্তারের সাথে দেখা করেন এবং পুলিশ রেইডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এবং তাকে এটিও অবগত করান যে আইএসআই মালালার প্রকৃত পরিচিতি সম্বন্ধে অবগত। অনেক আলাপ আলোচনার পর ডাক্তার ঐ আইএসআই এর টেলিফোন নাম্বারটি রিপোর্টারকে দেন। ঐ অফিসারটি কথা বলতে নারাজ ছিলেন যদিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানা যায়।

(৮) ঐ মিস্টার এক্স একজন রিপোর্টারের কাছে লোয়ার সোয়াতের একটি গার্লস স্কুলের কিছু ইনফরমেশন দেন। তার মুখ ঢাকতে তিনি একটি স্পাইডার মাস্ক ব্যবহার করেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন এসব একদিন প্রকাশ হবে। আমি চাই না এরকম একটি স্পর্শকাতর গোপন খোলাসা করে দিতে। আমি একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। তিনি তার বাবার কথা “বিশাল ক্ষমতার সাথে দায়িত্বও জড়িত থাকে” কথাটি স্মরণ করেন ।

(৯) মালালার এ দুর্ঘটনা প্রদর্শিত হয় ইনটেলিজেন্স এজেন্সীর কারসাজিতে। ঐ অফিসার রিপোর্টারকে বলেন, সমস্ত নাটকটি পরিবেশিত হয় পাকিস্তান ও ইউএস এজেন্সীর যৌথ উদ্যোগে। যাতে পাকিস্তানী সৈন্য নর্থ ওয়াজিরিস্তান আক্রমন করতে পারে  এবং নর্থ ওয়াজিস্তান দখলে নিতে একটা ওজুহাত পায়।

(১০) যখন তাদেরে পাল্টা প্রশ্ন করা হয় নর্থ ওয়াজিরিস্তান যদি পাকিস্তানের অংশই হয় তবে আবার দখল কেন? অফিসারের জবাব ছিল, কয়েক শতাব্দী থেকে নর্থ ওয়াজিরিস্তান একটি স্বাধীন মুসলিম আমিরাতের অংশ। কিন্তু আমাদের ইতিহাসের বইতে বাচ্চাদেরে শেখানো হয় এটি পাকিস্তানের অংশ। ওটি ধারণার চেয়েও বেশী তেল, সোনা, দস্তা, রুপা কয়লা, হিরা, গ্যাস এবং দুর্লভ ডাইনোসরের ফসিল সমৃদ্ধ এলাকা, যার জন্য আমেরিকাও এসেছে। তখন রিপোর্টার প্রশ্ন করেন এসবের পক্ষে কি কোন দলিল আছে? তাকে কিছু ডাইনোসেরের হাড়ের ছবি দেখানো হলো যার ব্যাখ্যা তিনি দেন। তিনি আরো বলেন এসব তালেবানের ভূতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে ধরা পড়ে।

(১১) এবার প্রশ্ন হচ্ছে এটিতে আমেরিকা ও পাকিস্তানের জড়িত থাকার প্রমাণ কি? তখন ঐ অফিসার একটি কাগজ বের করে দেখান যে এটি তার প্রমাণ। এটি তালেবানদের কোয়ান্টাম ফিজিক্স নামে পরিচিত। সেখানে পাওয়া যায় দুজন মানুষের মাঝে টুইট আদান প্রদান হয়েছে। একজনের নাম ‘Lib Fish’ (CIA operator in Qatar)  আর একজনের নাম ‘Oil Gul (ISI in Lahore)’ দুজনভার মাঝে কথা চলে আকারে ইঙ্গিতে। আর একজন পাওয়া যায় @Tsunami_Mommy Agents d! যিনি বাধা দেন তিনি পাকিস্তানের খাইবার পুস্তুন প্রদেশের একজন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি এটি আবিষ্কার করেন যে ওরা দুই মিলে একটি নকল শুটিংএর প্ল্যান করছে যেখানে কোন গুলি থাকবে না। অতপর সুনামী মামী, ডাক্তার, অফিসার ও একজন মুসতানসার হুসাইন তাতারের বিষয় জানার পর একটি লেখা যার নাম হচ্ছে “এ ফেইক শুটিং অব এ ফেইক লিবারেল বাই এ ফেইক লিবারেল, ইউ বাসটাস।” ঐ লেখার পানডুলিপিতে থাকবে তারিখসহ কিছু ধারাবাহিক ঘটনা।

(১)      অক্টোবরের ১, ১৯৯৭: মালালার জন্ম হাঙ্গেরীয় বাপ মায়ের ঘরে, বুদাপেস্টে, তার নাম জেইন।

(২)     অক্টোবর ৪, ২০০২ : অভিভাবকরা CIA দ্বারা গৃহীত হন এবং তাদের একটি ক্রাশ কোর্স করানো হয় এভানজেলিক্যাল ক্রিশ্চিয়ানিটি, হিপনোটিজম আর কারাতের উপর।

(৩)     অক্টোবর ৭, ২০০৩ তারা পাকিস্তানের সোয়াতে থাকবেন এবং সেখানের এনজিও কাজে স্বক্রিয় থাকবেন। একজন আইএসআই এজেন্টের সংস্পর্শে থাকবেন, এবং পরিবারকে খৃষ্টান ধর্মে ধর্মান্তর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। জেইনকে তাদের মাঝে রাখা হবে। তার নাম বদলে মালালা রাখা হয়।

(৪)     অক্টোবর ৩০, ২০০৭, মালালা একটি ব্লগ লিখতে শুরু করে এবং সেখানের ধর্মধারী গোষ্ঠীকে তাদের অস্ত্র নামাতে বলে এবং বাইবেল হাতে নিয়ে এনজয় করতে বলে।

(৫)     অক্টোবর ২১, ২০১১, ধর্মধারীরা তাকে তার এভানজেলিক্যাল ব্লগ লেখা বন্ধ করতে বরং এর মাঝে তার হুমওয়ার্ক শেষ করতে বলে।

(৬)    অক্টোবর ১, ২০১২, সিআইএ একজন পস্তু বলতে পারা ইাাঁলিয়ান আমেরিকানকে নেয়  যার নাম রবার্ট। নিউইয়র্কে বসবাস করতেন এবং তাকেও একটি ক্রাশ কোর্স দেয়া হয় গুলি করার প্রশিক্ষণের উপর।

(৭)     অক্টোবর ৭, ২০১২ সিআইএ আইএসআই এর সাথে শেয়ার করে ঐ ফেইক শুটিংএর প্ল্যান করে। আইএসআই এতে সম্মত হয় এবং মালালা ও তার অভিভাবককে এর উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

(৮)     অক্টোবর ১১, ২০১২: এ তারিখে একজন ইটালিয়ান আমেরিকান সোয়াত ভ্যালিতে পৌছান একজন উজবেক হোমিওপ্যাথ হিসাবে। ঐ ফেইক গানম্যানের একটি ছবিও সাটা ছিল ঐখানে।

(৯)     অক্টোবর ১২, ২০১২, রবার্টকে একটি বন্দুক দেয়া হয় যাতে কোন গুলি ছিল না। সে মালালার স্কুলের ভ্যানকে থামায় এবং তার দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে। সে আঘাতের ভনিতা করে এবং হাতে গোপন করে রাখা টমেটো সসএর একটি প্যাককে সারা মুখে ছড়িয়ে দেয়। একটি নকল এমবুলেন্স তাৎক্ষণাৎ সেখানে এসে হাজির হয় এবং মালালাকে তুলে নেয়। সারা বিশে^ শোরগোল উঠে যে মালালাকে চরমপন্থী তালেবানরা গুলি করেছে। মিডিয়াতে আসে মালালার বন্ধুরা বলছিল যে গানম্যান মালালাকে খুঁজছিল এবং তার পর তাকে গুলি করে। প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকারে একটি মানুষ ভ্যান থামায় এবং পস্তু ভাষাতে চিৎকার করে ‘হু ইজ জেইন।’ মেয়েরা দ্বিধায় পড়ে পরস্পরের দিকে মুখ চাওয়াচাওয়ী করছিল। — তখন একটি মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে “তুমি আমার দিকে তাকাচ্ছো? ঠিক তখনই মালালা তার দিকে স্কুল বেগটি ছুড়ে মারে এবং ইটালি ভাষাতে চিৎকার করতে থাকে “নো, ইউ ইডিওট, আইএম লুকিং এট ইউ। মালালা মালালা, রিমেম্বার? বোকা” জবাবে বলে, ওহ! তারপর সে তাকে গুলি করে তার গুলিবিহীন বন্দুক দিয়ে।

(১০)   আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হচ্ছে যে মেয়েটিকে হসপিটালে দেখা যায় সে কিন্তু মালালা নয়। ঐ অফিসার কিছু ছবি দেখায় ওর প্রমাণ হিসাবে। সে প্রথমে আমাদের একটি ভিডিও দেখায় যেখানে দেখা গেছে মালালা হাসিখুশীভাবে বাঙ্গি জাম্পিং করছিল রিভার সোয়াত নদীর পাশের হিলী উপত্যকাতে। একটি ছবিও সেখানে সাটা হয়। এসব গেল একটি গল্পের দুটি দিক।

এবার আর একটি গল্প আসবে নাবিলার না বলা কথা।  একজন টরেন্টো বেইসড কলাম লেখক মর্তুজা হোসেইন যিনি মিডিল ইস্টার্ন পলিটিক্সএর অনেক কাজের সাথে সম্পৃক্ত। নমুনা তুলে ধরেছেন। তিনি দুজনাতে তুলনা করে দেখিয়েছেন নাবিলা রেহমান ওয়াশিংটন ডিসিতে কেন আবেদন ছড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হলেন? নয় বছরের নাবিলা তার মৃত দাদীর কথা উল্লেখ করে জানতে চেয়েছিল কি দোষ ছিল তার দাদীর? ২৪ অক্টোবর, ২০১২ একটি মরণঘাতি ড্রোন নর্থ ওয়াজিরিস্তানের ৮ বছরের মেয়ে নাবিলা রহমানের মাথার উপর উড়ছিল। ভাইবোনসহ তার দাদী মমিনা বিবি বাড়ীর পাশের মাঠে কাজ করছিলেন। তিনি বাচ্চাদেরে শিখাচ্ছিলেন কিভাবে ঢেড়শ, গাছ থেকে তুলতে হয়। সামনে ঈদ, তারা ভাবে নাই তাদের জীবন অতি অল্প সময়ের মাঝে ছিহ্নভিন্ন হয়ে যাবে। সিআইএর কৃত ড্রোনের ঐ বিভৎস আওয়াজ তাদের পিছু নেয় এবং মনুষ্যবিহীন সে ড্রোনের আক্রমণে বিপর্যয় নেমে আসে ঐ রেহমান পরিবারের উপর। মুহূর্তের মাঝে ৭টি বাচ্চা আহত বিধ্বস্ত হয় এবং তাদের দাদী তখনই মারা যান। নাবিলা এত কষ্ট ধারণ করেই বেঁচে আছে। গত সপ্তাহে নাবিলা তার স্কুল শিক্ষক বাবা এবং ধারালো ড্রোনের আঘাতে আহত ১৩ বছরের ভাইটিও ওয়াশিংটন ডিসিতে আসে তাদের সে করুণ গল্পটি শোনাতে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় দূর থেকে আগত গ্রামের পরিবারটিকে কোন গুরুত্বই দেয়া হয়নি। কংগ্রেশনাল হিয়ারিংএর ৪৩০ সদস্যের মাঝে মাত্র পাঁচজন উপস্থিত ছিলেন। নয় বছরের নাবিলার প্রশ্ন ছিল উপস্থিত দর্শকের কাছে কি অপরাধ ছিল তার দাদীর?

নাবিলার বাবা রফিক রেহমান বলেন আমেরিকার একটি ডকুমেন্টারী প্রডাকশন থেকে তাদের আসতে বলাতে তারা এখানে এসেছেন। তার ধারণা একজন শিক্ষক হিসাবে তিনি মনে করেন আমেরিকার জনগণেরও জানতে হবে তাদের কৃতকর্মে কিভাবে মানুষরা বিধ্বস্ত হচ্ছে এবং তার সন্তানেরাও এর ব্যতিক্রম নয়। তার মেয়ে টেররিস্ট নয়, মাও নয়। তিনি এফপির সাক্ষাৎকারে এসব প্রশ্ন তুলে ধরেন। এমন না যে তার পরিবার এসব কোন সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িত বা ইউএস বিরোধী কোন চরমপন্থী দলের সাথে জড়িত বা কিছু তারপরও এসব কেন, এর জবাব কি হতে পারে? মিডিয়ার বাহাদুরী যুক্তি কাটিয়ে তিনি বলেন সেখানে কোন বাড়ীতে বা গাড়ীতেও নয়, তারা বলেন এসব মিসাইল নামে খোলা ময়দানে যেখানে তারা শস্য ক্ষেতে কাজ করছেন এবং সেখানে বিকট আওয়াজে বোমা ফোটে, দুটি উজ্জল আলো তার দিকে ছুটে আসে আর হাতে আঘাত করে যার ফলে রক্ত ক্ষরণ বন্ধ না হওয়াতে হাসপাতালে নিলেও মমিনা বিবির মৃত্যু ঘটে। একই অবস্থা তার ভাই জোবায়ের ঐ ধারালো ক্ষতের শিকার, যাকে দুটি অপারেশন করতে হয়। যার জন্য তারা আহতই নয় শুধু ঋণগ্রস্তও হচ্ছে। এর পর থেকে তারা ঘুমাতে পারছে না, স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। জোবায়েরের ভাষাতে তার জীবনটাই যেন ওলটপালট করে দিয়েছে আকাশ থেকে নামা বৃষ্টির মত ঐ ড্রোন হামলা।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে জানা যায় ২০১৬ তে আমেরিকা আইএসআইএসকে ওবামার সময়েও ১ বিলিয়ন অস্ত্র দিয়েছে (২৫মে ২০১৭)। এতে প্রমাণিত হয় ইরাককে দুর্যোগে যেমনি একহাতে সাহায্য করেছে অন্যহাতে শত্রুপক্ষ ধরে আইএসআইসকেও অস্ত্র দিয়ে ইন্ধন দিয়ে গেছে। এরা যেন “যেমনি নাচাও তেমনি নাচে পুতুলের কি দোষ?” ওবামা আমার প্রিয় শাসক। তারপরও তার সময়ে কৃত কষ্টকে উপেক্ষা করি কিভাবে? ব্যক্তি ওবামা শুধু একটি ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান। তারা স্বীকার করেছে এভাবে বহুমুখী আক্রমনে ইরাক বিধ্বস্ত হচ্ছে যদিও তারাই স্বীকার করেছে এটি ইসলামিক স্টেট। কংগ্রেস সদস্য ডেমোক্রেটিক ইউএস সদস্য তুলসী গ্যাবার্ড সিরিয়া থেকে ফেরত এসে আইএসআইএস ও আল কায়দাকে সাহায্য করা অপকর্মের সত্য প্রমান নিয়ে ফিরেন। আসাদের ক্যামিক্যাল অস্ত্র কিভাবে ডজন ডজন সাধারণকে আহত বিধ্বস্ত করছে এ তার বস্তুনিষ্ট প্রমান। গ্যাবার্ডের মুখে শুনি, আলেপ্পো আর দামাসকাসের মাঠে একজন আমেরিকানকে দেখে সিরিয়ার জনতারা উৎফুল্ল হয় এবং সাথে সাথে জানতে চায় কি কারণে তোমরা আমাদের বন্ধু হয়ে আমাদের শত্রুকে হত্যা, ধ্বংস, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতনে সিরিয়ানদের মারতে সাহায্য করছো? এ প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করেন ২০০৩এ ইরাক আক্রমণের নামে কিভাবে সাদ্দাম হোসনেকে “ওয়েপনস অব মাস ডেসট্রাকশন” এর কথা বলে একটি মিথ্যা যুদ্ধ দিয়ে সমগ্র ইরাককে ধ্বংস করা হল। ঐ সময় সবই ছিল বুশের মিথ্যা অজুহাত ও সর্বৈব মিথ্যাচার। আজ আর কোনভাবেই এটি লুকানো নেই ৯/১১ কাদের সৃষ্টি। এটি মালালার মতই আর একটি ছলবাজ নাটকের নাম। সব কিছুর মূলেই ঐ সাধারণ আম নয়, ফজলি আমকে কবজা করতেই এতসব নাটক হচ্ছে গোটা বিশ^ পাড়াতে। ইসলাম কি কোন মানুষের সৃষ্ট ধর্ম? এর পেছনে মহাশক্তি বিদ্যমান বলেই মুসলিমরা জানে ও মানে। তবে ইবলিসীয় কিছু অপরিণামদর্শীতার কারণেই আজ ঐ ধর্মের গোড়া ধরে ভূমিধ্বস নামছে।

সচেতন বিশ্লেষকর জার্নালিস্টরা আবিষ্কার করেছেন পশ্চিমা প্রোপাগান্ডার দুমুখো নীতি। ইসলাম নামের একটি বস্তুনিষ্ট ধর্ম তাদের এতসব প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ঐ ধর্মের মহানুভবতাকে তারা তাদের নিজেদের আক্কেল দিয়ে সাজাতে চায়। তাই সৃষ্টি হয় আল কায়দা, আইএসআইএস, ধর্মের দ্বন্ধ বেড়ে চলে বহুগুণিত হয়ে। ইরাক, আফগানিস্তান, ভিয়েতনাম, ফিলিস্তিন, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভারত (বিহার, গুজরাট, আসাম, কর্ণাটক, আলীগড়, আহমেদাবাদ) শত শত লক্ষ লক্ষ মানুষ নিধন যজ্ঞ চলছে, একটিতেও মুসলিমরা অপরাধী নয়। তারপরও মুসলিমরা কেমন করে হয় টেররিস্ট আর বাকীরা সব সাধু! অস্ত্র বিক্রি, তেল বানিজ্য ঠিক রাখতেই নির্দোষ মুসলিমরা আজ কপটের কাছে ময়দানের অপরাধী। এটি মাথায় থাকুক সবদিনই কিছু ধর্মধারী দালালকে অল্প দামে কিনতে পেরেছে বিরুদ্ধাবাদীরা কারণ তারা মানুষ নয় ইবলিসের দোসর নামে এরা নিজেকে অল্প দামে বিক্রি হতে দিতে কখনোই কার্পণ্য করে নি। সারা বিশে^ই সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের সাথে ইসলামকে এক করে দেখানো হচ্ছে যদিও ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে এসবকে কখনোই সমর্থণ করা হয় না। একটি শক্ত সামর্থ ধর্ম ভেঙ্গে খান খান হয় আস্ত দুখন্ড, প্রতিষ্ঠায় তারা ব্যয় করে চলেছে যুগ যুগ বিভাজন খেলা।  শিয়া সুন্নী বিভেদকে তারাই তৃতীয় পক্ষ জিইয়ে রাখছে যুগ যুগ ধরে এসব লুকানো নেই। কিন্তু মুসলিমকে মাথামোটা ভাব থেকে মুক্ত হতে হবে। চিকন মাথার সত্যনিষ্ট বাস্তবতা অর্জন করতে হবে, প্রকৃত সত্যের সৈনিক হতে হবে। নকল ছলবাজকে দিয়ে এ সত্যসাধন সম্ভব নয়। মনুষ্য পরিচয়ে বাঁচতে হলে প্রতিটি মুসলিমকে প্রাথমিক যুগের সত্যনিষ্ট নিবেদিত সত্য সাধক হতে হবে। পরিশুদ্ধ চিত্তে যুক্তির মাঝে প্রতিটি সত্যের সঠিক বিশ্লেষন করতে হবে।

নাজমা মোস্তফা, ২৯ মে ২০১৭।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: গল্পটি যদি শত ফিকশন নাটকের একটি হয়, সেটি আমি উল্লেখ করেছি। মালালা যদি পারাচার মিথ্যাচার হয়, সে দায় পারাচার, আমার নয়। সম্প্রতি বাংলাদেশে ডুব সিনেমা নিয়ে গ্যাঞ্জাম হচ্ছে। হুমায়ুন আহমদের চালচিত্র নাকি ঐ ছবিতে এসেছে যা নিয়ে চলছে বিতন্ডা। তার দ্বিতীয় স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন বলছেন এটি হুমায়ুন আহমদের জীবন চিত্র আর চিত্র পরিচালক ফারুকী বলছেন এটি তার জীবনের সাথে কোন মিল নেই। তারপরও মানুষের আগ্রহ হয়তো এর কারণে আরো বেড়ে গিয়েছে ছবিটি দেখার জন্য। সত্য মিথ্যা দর্শকেরা দেখার পরই বিচার করতে পারবেন। সাক্ষাৎকারে শুনলাম ফারুকী এটিও বলেছেন এখানে যদি কোন মিল ছবিতে ধরা পড়ে তাকে বলা হয় শিল্পের আড়াল। তার মানে এখানেও একটি কৌশল সম্ভবত নেয়া হয়েছে শিল্পের আড়ালেই, কিছু সত্য প্রকাশের কসরত হয়তো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, আর এটি করার ক্ষমতা হয়তো একজন নির্মাতা শিল্পের স্বার্থেই  রাখেন।

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: