Articles published in this site are copyright protected.

লেখাটি বড় হলেও ধৈর্য্য ধরে পড়বেন প্লিজ! “একজন মানুষকে অন্যায় হত্যা করা মানে সমস্ত মানব জাতিকে হত্যা করার সামিল, আবার একজন নির্দোষকে বাঁচানো পুরো মানব জাতিকে বাঁচানোর সামিল” (সুরা মায়েদার ৩২ আয়াত)।  হে গ্রন্থপ্রাপ্ত লোকেরা! তোমাদের ধর্মমতে বাড়াবাড়ি করো না সত্য ছাড়া (মায়েদার ৭৭ আয়াত)। “আল্লাহর বৈধ জিনিস অবৈধ করো না, বাড়াবাড়ি করো না, আল্লাহ ভালোবাসেন না সীমালংঘনকারীদের” (সুরা মায়েদার ৮৭ আয়াত)। শুরুতে তিনটি কুরআনের বাণীর উদাহরণ টানলাম। ব্যারিষ্টার তুহিন মালিক কিছু প্রসঙ্গ টেনেছেন।  নিজের রাজনৈতিক পরিচিতি স্পষ্ট করেন যে তিনি সাঈদী সাহেবের দালাল নন, তবে আমরা জানি তিনি সত্যের দালাল। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ২০ টি মামলায় ১২টিতে তিনি খালাস পেয়েছেন ৮টির মাঝে মাত্র দুটিতে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। এ দুটো কেইসে  ইব্রাহিম কুট্টির মামলায় বলা হচ্ছে তিনি তাকে হত্যা করেছেন। যার সার্টিফাইড কপিতে দেখা যায় ১৭ জুলাই ১৯৭২ সালে বাদীপক্ষের স্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছিল যাদের বিরুদ্ধে সেখানেও কিন্তু সাঈদীর নাম নেই। আর একটি মামলায় বালী নামের একজনকে হত্যা করা হয়েছে তার ভাই সুখরঞ্জন বালী বারে বারে ইউটিউবে স্পষ্ট তিনি নিজে  বক্তব্য রাখছেন  যে এ হত্যাকান্ডের সাথে কোন সময়ই সাঈদী সাহেব জড়িত নন। পরবর্তীতে আসামীর স্বপক্ষে সাক্ষী দিতে আদালতে আসলে তাকে হাইকোর্টের সামনে থেকে সরকারী হুকুমে কে বা কারা পুলিশ কিংবা র‌্যাব শক্তির দাপটে ধরে নিয়ে যায়। এর জন্য তারা হাইকোর্ট পর্যন্ত গিয়েছে এবং তারা বলছে তাকে পাওয়া যায় নি। পরে সংবাদ মাধ্যমে জানা গেল সে আছে ভারতের কারাগারে। ঠিক যে তালে বিএনপির সালাহউদ্দিন নাটক, শিলং নাটক সাজানো হয়েছিল এটিও ঐ তালে সাজে।

স্বাধীন একটি দেশের জনগণের প্রতিরক্ষায় জড়িত এসব নিরাপত্তা সংকট কিন্তু জমা আছেই, তারপরও ভারতের প্রতিরক্ষার নামে নতুন নতুন আবদারের কমতি নেই। তুহিন মালিক এটি স্পষ্ট করেন যখন আইনকে রাজনীতির গোলাম বানিয়ে দেয়া হয় তখন আর বিচার হয় না হয় রাজনীতি যেটি অতীতে শাহবাগে হয়েছিল। খুব কৌশলে সরকার সেদিন জনতার ইচ্ছাকৃত আন্দোলনকে ছিনিয়ে নিয়ে তার সংকীর্ণ কপটতা দিয়ে অপকর্মে ঠাসা অবৈধকে বিরিয়ানীর প্যাকেটে ঘুষ লুটের খয়রাতে প্রকাশ্যে দিবালোকে ছিনিয়ে নেয়। ভারতও সেদিন ঐ দাগে যোগ দিয়েছে, প্রমান পাওয়া গেছে। মামলায় রায়ের আগে দেখা যায় প্রধান থেকে অধস্তনরা কি রায় হবে সেটি তর্জনী উঠিয়ে ডিরেকশন দেন, রায় এটি হতে হবে, ওটি হলে চলবে না। দেখা যায় মন্ত্রীদের কঠোর অপরাধেও তাদের মন্ত্রীত্ব যায় না। কিন্তু নির্বাচিত মেয়রের বিরুদ্ধে কোন মামলা হলেই তাকে বরখাস্তের নির্দেশ পাঠিয়ে দেয়া হয়। কি মজার দেশ, এক আওয়ামী লীগ একটি মামলা ঠুকে দিলেই হলো, বাকীদের সব প্রাপ্তি শূণ্যে যাবে। প্রথমত ভোটে তিনি যেতেই পারবেন না আর কোন কুক্ষণে বা সুক্ষণে চলে গেলেই কি? তিনি কি সেখানে বহাল থাকতে পারবেন? না, তাকে মূহূর্তে সেখান থেকে বন্দীত্ব শিবিরে পাঠিয়ে দেবার সব অংক আগে থেকেই রেডি করে রাখা, মামলা আর বরখাস্ত হচ্ছে অবৈধ সরকারের বেঁচে থাকার রুপরেখা। যে ইমরান সরকার শাহবাগী নাচে ছিলেন, সরকার খুব দ্রুত গতিতে তাদেরে সরকার মুখো করে উল্টো করে ঘুরিয়ে দিতেও পেরেছে। সেই ইমরানই দুদিন পর স্পষ্ট করেন যে, ব্লগার হত্যা হয়েছে সরকারের মদদে। অনেক অংকেই এরকম যুক্তি এসেছে, সঠিক বিচার হয় না, চেষ্টা হয় জামায়াত বিএনপির দিকে বিচারকে ঘুরিয়ে দেয়ার, সঠিক বিচার কখনোই উদ্দেশ্য নয়।  একই অংক সরকারী সব তৎপরতাতে লক্ষণীয়। এসব মঞ্চনাটকে আগুয়ান অনেকেই চিহ্নিত রাজাকার, যদিও তাদের বিচার বরাদ্দ নয়। এদের নাম সারা জাতি অনেক জানেন।

শাহরিয়ার কবির, প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই আওয়ামী এলজিআরডি মন্ত্রী , তার বাবা  নুরা রাজাকার; দেশের রাষ্ট্রপতিও চরম সংকটে দুর্যোগে দুর্ভোগে দৃষ্টিহীন বোবা। এসব পক্ষপাতিত্ব দেখে ব্যারিষ্টার কামাল বলেছেন অ্যাম্পায়ার নিরপেক্ষ না হলে খেলা যেমন জমে না, ভোটের খেলাও জমবে না। মনুষ্য বিহীন কুকুর পাহারার নির্বাচনকে অনেকেই বলেছেন কুত্তামার্কা নির্বাচন। “গভমেন্ট গেছে পাগল হইয়া, তারা একটা রায় চায়”, “আমি খাড়ায়া যামু আপনি বসায়ে দেবেন। জনগণ দেখুক যে আমাদের মাঝে কোন বোঝাপড়া নাই।” শ্লোকগুলিই উদাহরণ হিসাবে যথেষ্ট। বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে সাবধান বানীটি বারে বারে কুরআনে এসেছে এ কারণে যে আল্লাহ সীমা লংঘনকারীদের ভালোবাসেন না। আর মানুষ এটি বেশী বেশী করে, তাই বার বার এটি সাবধান বাণী হয়ে এসেছে গ্রন্থটির বহু জায়গাতে। এটি সবাই জানেন সাধারণত দলিতরা কোন সময়ই পূজার সুযোগ পায়না। ভারতে তামিল নাড়–র ২৫০ টি দলিত পরিবার মন্দিরে পূজা করতে বাধা গ্রস্ত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করে। এতে বোঝা যায় “অতি বাড় বেড়ো না ঝড়ে পড়ে যাবে আতি ছোট হয়ো না ছাগলে মুড়াবে” কথাটি হেলাফেলার নয়। মাওলানা সাঈদীর উপর দেখা বেশ কটি ইউটিউব ছিল যা সরকারের ও বিচার বিভাগের অপকর্ম দেখে বহুগুণ বিস্মিত হয়েছি। কিন্তু এর মাঝে খুব কৌশলে দেখি ওসব সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ঐ ইউটিউবগুলোতে প্রমাণগুলি স্পষ্ট ছিল যে আল্লামা সাঈদী ও দেলু শিকদার কখনোই এক ব্যক্তি নন। সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধী মামলার বাদী হিসাবে মিথ্যাবাদী সাক্ষ্যদাতা মাহবুবের মুখোশ উন্মোচন নামেও খুউবই সুষ্পষ্ট প্রমানসহ একটি ইউটিউব ছিল সেটিও ইত্যবসরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। মনে হতো ওসব দেখলে পরে আর বিচারের দরকার নেই, যে কোন বিবেকবানই রায়টি স্পষ্ট করে দিতে পারতেন, এত স্পষ্ট ও জীবন্ত ছিল।

দেলোয়ার হোসেন সাঈদী নির্দোষ দেখুনi

তার আরেক সাক্ষী সেলিম এটি স্পষ্ট করেই বলেন যে তিনি কখনোই রাজাকার ছিলেন না। এবং দেলু শিকদারের ভাই লালু শিকদারও স্পষ্ট করেই বলেন যে তিনি যুদ্ধাপরাধী নন। এখানের সবকটি লিংক আমি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং এটি নিশ্চিত হয়েছি যে তিনি কোনভাবেই দোষী নন। বিবিসি বাংলা থেকে প্রকাশিত খবরে জানা যায় বাংলাদেশের ইংরেজী পত্রিকা নিউ এইজের রিপোর্টে প্রকাশ ঢাকাতে তাকে আদালতের সামনে থেকে ধরে নিয়ে ভারতে ঠেলে দেয়া হয়। ২০১৩ সালের ফ্রেব্রুয়ারী মাসে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। কলকাতার সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালীকে জিজ্ঞেস করলে জানা যায় সামান্য নামের হেরফের ছাড়া বাকী সবটুকু খবরই সত্য। তারা জেনেছেন সুখরঞ্জন বালা নামে একজন ধরা পড়েছেন। তিনি বলেন হিন্দি ভাষার তালে পড়ে ওটি বালী বালা হতে পারে মাত্র। খবরে বাকী সবকিছুরই সত্যতা ধরা পড়ে। পাঠক নজর দিবেন ঘটনার মূলের দিকে। ১৯৭১ সালে পিরোজপুরের নিহতদের একজন দেলোয়ার শিকদার অরফে রাজাকার দেলু শিকদার। তার ভাই লালু শিকদারের বরাতে জানা যায় ঐ সময় তার ভাইএর অত্যাচারে বিরক্ত হয়ে মানুষ তার ভাইকে হত্যা করে। এ কথাটি এলাকার লোকজনসহ, তৎকালীন পিরোজপুরের জিয়া নগরের মুক্তিযোদ্ধার নিজ মুখে স্পষ্ট ছিল তারা তাদের ইচ্ছামত তাকে শাস্তি দিতে পারে নাই। এক মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্যে প্রকাশ তখনকার বৃটিশ পিরিয়ডের একজন হাবিলদার কমান্ডার শফিউদ্দিন আহমদ, গোলাম সরওয়ার (উনি যুদ্ধে মারা গেছেন), সাহেব আলী, আবেদ হাবিলদার সবাই সেদিন উপস্থিত ছিলেন। তারা ব্যবস্থা নেয়ার আগেই  বিক্ষুব্ধ জনতারা তার অত্যাচারে এতই অতিষ্ঠ ছিল যে, তাকে পিটিয়ে শেষ করে দেয়। তিনি বলছিলেন, তাদের ইচ্ছে ছিল তাকে ছিলে লবন লাগিয়ে দেয়া। আর অপরপক্ষে দেলায়ার হোসেন সাঈদী নামের মানুষটি এমনই একজন নির্দোষ প্রকৃতির লোক ছিলেন যে মুক্তিযোদ্ধারাই তার সাফাই গাইতে আজো শোনা যায় ইউটিউবে। তাদের মুখে তিনি ছিলেন পিরোজপুরের নয়নের মনি। এটিও স্পষ্ট করেন যে রাজনৈতিক কারণে ঐ কুখ্যাত রাজাকারের স্বপক্ষ শক্তি হয়ে সরকার দেলোয়ার শিকদার নামের এক প্রকৃত রাজাকারকে আড়াল করে নিরপরাধ দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে উদ্ধত হয়েছে। আজো নিহত দেলোয়ার শিকদারের পরিবারের সবাই বর্তমান এবং তারা সবাই একবাক্যে সত্য কথাটি বলতে উদগ্রীব কিন্তু সরকারপক্ষ সেটি স্পষ্ট করতে নারাজ। যেভাবে সুখরঞ্জনকে ময়দান থেকে তুলে নিয়ে গেছে একইভাবে তাদেরেও হুমকি ধমকি দিয়ে রেখেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন মুক্তিযোদ্ধারাই রাজাকার দেলোয়ার  শিকদার অরফে দেলু শিকদারকে মেরে শেষ করেছে জনগণের সামনে জনগণের সহযোগিতায় প্রকাশ্য ময়দানে। এতসব জানার পর এটি আমার বিশ^াস করতে কষ্ট হয় নি যে কেন ২০০ মানুষ এ লোকের জন্য মরলো। তারা সম্ভবত কেউই আমার মত কোন ইউটিউব দেখেনি, খবর ম্যাসেজ পড়ে নি। তারা তাকে শুধু কাছে থেকে দেখেছে, মনের মত করে অন্তরে গেঁথে রেখেছে। আমি তাকে দেখিনি দূর থেকে জানছি, পড়ছি, ঘাটছি, সত্য উদঘাটনের চেষ্ট করছি।

তারা আওয়ামীরা শত শঠতার মতই ইত্যবসরে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে ছলে বলে কলে কৌশলে হ-য-ব-র-ল করে দেলু শিকদার বানিয়ে দিল। আর এসব হাউকাউএর মাঝে মিথ্যে মামলায় তাকে ফাঁসিয়ে দিল। ন্যায়ের স্বার্থে বলতে হয় উল্টো এ অপরাধে সরকার পক্ষকে ও বিচার বিভাগকে আদালতের বিচারে দাঁড় করানো দরকার। ইউটিউবে তারা বলছে এটি একটি ঘৃণ্য ঘটনা সরকার সাজিয়েছে। মৃত রাজাকার দেলোয়ার  শিকদার অরফে দেলু শিকদার বাবার নাম ছিল রসুল শিকদার, গ্রাম- চিলা শিকদার বাড়ী, উপজেলা- পিরোজপুর সদর, জেলা- পিরোজপুর। অন্যদিকে জীবিত নির্দোষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বাবার নাম ছিল মাওলানা ইউসুফ সাঈদী, গ্রাম-সাঈদখালী, উপজেলা- জিয়ানগর, জেলা- পিরোজপুর। সম্পূর্ন দুটি মানুষ দুটি পরিচয়। জন্ম সন তারিখ সবই ভিন্ন। ১৯৭২ থেকে আজ অবদি সাঈদী সাহেবের হজ¦ গমন সহ সব সময়েরই দলিলাদি বর্তমান। তিনি এমন না যে সরকার তাকে চিনে না, চিনবে না, চিনতো না। বরং একজন দুই বারের সফল পার্লামেন্টারিয়ান হিসাবে তার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান ও কর্মকান্ড আজো চারপাশে ছড়িয়ে আছে, খুঁজলেই পাওয়া যায়। ঐ পার্লামেন্টে থাকা অবস্থায় তিনি এসব অপবাদের কঠোর প্রতিবাদ করে গেছেন একমাত্র সততার ভরসায়। যুদ্ধে জড়িত অনেক অনেক মুক্তিযোদ্ধাসহ বরিশাল অঞ্চলের মেজর জিয়াউদ্দিন, শাহজাহান ওমর বিরোত্তম , মুক্তিযোদ্ধা বাতেন, পাথরঘাটার মেয়র আব্দুল মল্লিক, মুক্তিযোদ্ধা বিএনপির খোকা, মুক্তিযোদ্ধা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফর উল্লাহ, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীসহ আরো অনেকেই অকপটে বলেন তিনি রাজাকার ছিলেন না। এ নাম আগে কখনোই শোনা যায় নি। এটি আওয়ামীদের শত ছলের এক পরবর্তী সংযোজন।

আশ্চর্য্য ব্যাপার হচ্ছে কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের বাবা ফয়জুর রহমানের হত্যাকারী হিসাবেও সাঈদীকে অঙ্গুলী নির্দেশ করা হয় ঘটনাকে আরো জটিল ও বস্তুনিষ্ট করতে। কিন্তু তার ছেলে প্রফেসর জাফর ইকবাল বা তাদের পরিবার থেকে এ ব্যাপারে কখনোই কোন অঙ্গুলী নির্দেশ করা হয়নি। এমন কি তাদের মায়ের লিখিত বইয়েও সাঈদী সাহেবের প্রতি সামান্যতম ইঙ্গিতও নেই। আবার এব্যাপারে মাত্রাতিরিক্ত নিরবতা পালন করা এক ধরণের শঠতা ছাড়া আর কিছু নয়। এ ব্যাপারে জাফর ইকবালকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন আমাকে ডাকা হয়নি। তার মানে তারা বিবেকের কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ হন না! একটি নির্দোষ মানুষ ফেঁসে যাচ্ছে, তারা কি এভাবে দায় এড়াতে পারবেন? সততার মর্যাদা রক্ষার্থে দুটি পথ হতে পারে, হয় বলতে হবে এ ব্যক্তি আসামী নয়তো স্পষ্ট করতে হবে যে এতে তার কোন সম্পৃক্ততা ছিল না,  তিনি নির্দোষ। যেটি অনেক অনেক মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেকেই স্পষ্ট করে সততায় দাগ রেখে একজন নিরপরাধের স্বপক্ষে উদারতার স্পষ্ট প্রমাণ রেখেছেন। এটি করতে না পারা জাতির সাথে অনেক বড় প্রতারণা করার সামিল অপরাধ।

গুম হওয়া কাঠমিস্ত্রী সুখরঞ্জন বালী কিছু লোকের কথা প্রকাশ করেন, তিনি যাদের কথা প্রকাশ করেন সেখানে কখনোই সাঈদী ছিলেন না। তাকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে নানাভাবে উত্যক্ত করা হয়। কিন্তু তিনি মিথ্যা সাক্ষী দিতে নারাজ। তিনি রাজী না হওয়াতেই ডিবি পুলিশ প্রকাশ্য দিবালোকে আদালতের সামনে থেকে তাকে তুলে নেয়। তার বাড়ীতে তার স্ত্রী বোনেরা কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকেন, সেদিন সত্য সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আর সে ফিরে আসে নাই। দেশ ও বিদেশে দ্যা ইকোনমিস্ট, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বিএইচআরসি (BHRC) এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ট্রাইবুনেলের প্রথম গেটে যেখানে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরা বসানো আছে সেখান থেকে একজন জ¦লজ্যান্ত মানুষ গায়েব হলেও সরকার কোন ইতিবাচক অবদান রাখে না, বিচারবিভাগও না। ওদিকে আর এক অভিযোগ তিনি মুক্তিযোদ্ধা শহীদুুল ইসলাম সেলিমদের বাড়ীতে আগুন দিয়েছেন, পরিবারকে নির্যাতন করেছেন। ভুক্তভোগী সেলিমের ভাষ্যে জানা যায় তারা সেদিন আগে থেকেই পালিয়ে যান। পরে বাড়ীতে আগুন দেয়া হয় কে দিয়েছে, তারা বলতেও পারবে না। সন্ধ্যের পর ফেরত আসে। তবে আদালতে যা জানে তাই প্রকাশ করেছে এর বাইরে কিছু প্রকাশ করে নাই, কোন মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় নাই। তারা সবাই সমাজের গ্রামের ব্যক্তির ভাষ্যে এটি স্পষ্ট যা ঘটে নাই, যেটি আমাদের কারো মন ও মগজেও নেই, সেটি কেমন করে আমরা বলবো। এমন কি ইব্রাহিম কুট্টির শ্যালকের স্বীকারোক্তিও জানা যায়। তিনি তখন ৭/৮ বছরের ছিলেন তার দুলাভাইকে খুন করা হয় তবে তিনিও বলেন ঐ নাম তারা কেউই ঐ সময় শোনেন নাই। অনেক পরে নির্বাচনের সময় প্রথম শুনতে পান এ নামের একজনের কথা। অতপর অনেকে তার মহফিলের সাথেও পরিচিত হয়, অনেক হিন্দুও তার মহফিলে উপস্থিত থাকতেন। সরকার পক্ষ থেকে মানুষকে টাকা খেয়ে সাক্ষী দেয়ার অনেক কসরত হয়েছে তবে এ ক্ষেত্রে কেউই মিথ্যা সাক্ষীতে আগায় নি, ঐ সাহস করে নাই। অনেক আগে একটি ইউটিউবে দেখেছিলাম মাহবুব নামের একজন প্রচন্ড অপরাধ প্রবণ মানুষ কিভাবে বড় মাপের ঘুষ খেয়ে উল্টাপাল্টা সত্য বিবর্জিত সাক্ষী দিচ্ছিল আর তার গ্রামের লোকেরা তার কৃত নানান অপকর্মের জন্য তাকে ধিক্কার দিচ্ছিল তারা বিবৃত করছিল তার সামগ্রিক চরিত্রহীনতা। আর সেটি ভিডিওতে অত্যন্ত স্পষ্টই ছিল। কে বা কারা ইত্যবসরে সেটি মুছে দিয়েছে।

কাদের মোল্লাও ছিলেন জুডিসিয়াল কিলিংএর বড় শিকার। ধারণা হয় এদের প্রতিটি বিচারই প্রচন্ড বিতর্কীত ও উদ্দেশ্যমূলক। ভারত চায় ইসলামকে কবজা করতে মুসলিমকে শৃংখলিত করতে তাই যেখানেই মুসলিম সেখানেই প্রতিরোধ এটি ভারতের বড় নীতি। মুসলিমদেরে কবজা করতেই মনে হয় তারা মিথ্যে একটি ধর্মনিরপেক্ষতার ঢাল সংযোজন করেছে বাংলাদেশের অনেক পরে, আগে বাংলাদেশে এটি সংযোজন করার নাটক সম্পন্ন করে তার পর নিজেরা সংযোজন করে। কিন্তু মুসলিম নিধনে তারা কোন সময়ই পিছিয়ে নেই। সবদিনই আগুয়ান। এখানে যে জামায়াত ধ্বংসী খেলা চলছে এর পেছনেও ভারত। ভারতই বর্তমান সরকারকে এসব করতে বাধ্য করছে ও উৎসাহ দিচ্ছে। তারা মনে করে জামায়াত এক বড় ফ্যাক্টর। লক্ষ্য করবেন সব সময় প্রতিটি দালাল চরিত্রের আওয়ামী লীগের মুখে একমাত্র কথা বিএনপি কেন জামায়াত ছাড়ে না। এখানে কেন তাদের এত মর্ম বেদনা! জামায়াত যদি যন্ত্রণাই হয় সেটি বিএনপি বুঝবে তোমরা তো ভালো জামায়াতমুক্ত আছ, তো অসুবিধা কি? আসলে সেটি তাদের বড় এজেন্ডা। চোরের মনে পুলিশ পুলিশ জামায়াত হচ্ছে ভারতের ও আওয়ামী লীগের পুলিশ পুলিশ। এর প্রধান কারণ ইসলামী মূল্যবোধে তারা অন্যদের থেকে বেশ আগুয়ান, এটি অস্বীকার করার জো নেই। আওয়ামী নেতা সাবেক মন্ত্রী আবু সাঈদের কথাতেও এটি স্পষ্ট যে জামায়াত একটি আদর্শিক দল। অন্যের কথা না বলে সরকারের নিজ সদস্য আবু সাঈদের উদাহরণই টানলাম। কারণ ফেনসিডিল, ইয়াবা ব্যবসা চালু রাখতে হলে দেশ ধ্বংস করতে হলে জামায়াত দিয়ে ওসব অবর্জনা গেলানো কষ্টকর। তারা মানুষকে পশু না বানিয়ে মানুষ বানানোর যথেষ্ট কসরত করে। মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীই কি কম উদাহরণ রেখেছেন, মানুষের জন্য কম করেছেন? তার গ্রামে দেখে আসুন সারা গ্রামের মানুষ পাগল হয়ে তার সুকীর্তি গাইছে। কারো সুকীর্তি থাকলে সেটি স্বীকার করতেই হবে। যুদ্ধে মাওলানা নামধারী খারাপ কেউ কিছু করে নাই, সেটিও ঠিক নয়। এসব ইউটিউবেই দেখা যায় দু একজন অপরাধী আজো বেঁচে আছে কিন্তু তারা তো ধরা ছোয়ায় নেই। কারণ ফাঁসি বেড়ি পরাতে হবে তাকেই যাকে শেষ করা দরকার ভারতের আর সরকারের। উনি টার্গেট ছলে বলে কলে কৌশলে রায় চায় শেষ রায়, তাই বারে বারেই বিচার হয় প্রশ্নবিদ্ধ! 

বলা হয় বিসাবালী ও ইব্রাহিম কুট্টি হত্যায় তিনি জড়িত। তার পক্ষের ডিফেন্স আইনজীবি এডভোকেট তাজুল ইসলাম এসব বিস্তারিত আলোচনায় আনেন। তার দাবী প্রকৃত তদন্তের স্বার্থে আওয়ামী বিচারিকপক্ষ সঠিক তদন্তের পথ মাড়ায় না। এদিকে ঐ সব সত্যনিষ্ঠ তদন্ত করার সাহস সরকারের যেমন নেই জনগণের ভোট মোকাবেলা করার সাহসও তেমনি নেই । কারণ সরকার জানে দুটি ক্ষেত্রেই তারা চরম মার খাবে। দেশবাসী জানেন ইত্যবসরে একজন মৃত জঙ্গি যাকে সরকার থেকে প্রচার করা হয়েছে, পরে জীবিত হয়ে তিনি পত্রিকা অফিস পর্যন্ত ছুটে গিয়ে প্রমান করেন তিনি মরেন নাই। মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। একই ভাবে মৃত রাজাকারের এ লাশ নিয়ে রাজনীতি করে জীবিত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে ধ্বংস করে দেয়ার প্রজেক্ট নিয়েছে হাসিনা সরকার। আল্লাহর দুনিয়াতে এটিও একটি অবিশ^াস্য নজির। মৃত অত্যাচারী রাজাকারের ভাই লালু শিকদার নিজের দায়, সত্য প্রকাশের দায় ও বিবেকের দায় থেকে ক্রমাগত জনতার কাছে এটি স্পষ্ট করে চলেছেন যে সরকার সাঈদী সাহেবের সাথে চরম অবিচার করছে । এটি প্রচার করাতে তিনি মৃত্যুর ভয়ও করছেন আর মানুষকে এর স্বপক্ষে দাঁড়াতে আবদার রেখে চলেছেন। ভিডিওটি দেখতে পারেন। একইভাবে অতীতে নির্দোষ উন্নত চরিত্রের অধিকারী সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ কাদের মোল্লাকে কসাই কাদের বানিয়ে মৃত্যুদন্ড দেয় এ সরকার। তার উপর অসাধারণ সব ডকুমেন্টারী আছে, যে কেউ দেখতে পারেন ইন্টারনেটে। সত্য কথা বললে এদেশে কেউ টাকা পায় না। মিথ্যে বললেই টাকা পাওয়া যায়, আয় রোজগার হয়। আর অনেকে আছে যারা টাকা নিয়ে মিথ্যে বলতে নারাজ, এরা তারাই যারা ঈমানের কাছে দুর্বল।  ইউটিউবে এক মুরব্বীর ভিডিও দেখি তিনি নিজেও একজন বয়ষ্ক লোক তিনি তার মুরব্বিদের কাছেও এ ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন, বলতে বলতে মানুষ কাঁদতে শুরু করে এমন বহু নির্দশণ আজো খুঁজে পাবেন। তিনি ছিলেন জনদরদী একজন মানুষ নামের উদাহরণ, তাকে দেখে শিখবার অনেক ছিল জাতির সামনে। দরকারে ভারত ও গরুর নামে মানুষ হত্যাকারীরা চাইলে মানুষ হবার শিক্ষা নিতে পারতো তার কাছ থেকে। সারা দেশে অপকর্মীদের বাড়তি নিরাপত্তা দিয়ে সরকার কেন যে চাইছে সব ভালো মানুষকে ময়দান থেকে শেষ করে দিতে। কিসের লোভে ২০০ মানুষ নিজের জান দিয়ে দিল এরকম একটি মানুষের জন্য, সেটি কেন চিন্তার মাঝে আসে না? পিরোজপুরের উন্নয়নে এই সাঈদী সাহেবের বিজয়ের ধ্বনি সারা গ্রামবাসীর মুখে মুখে আকাশ বাতাস  জুড়ে তার বিজয়ের জয়ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। প্রমাণ পেতে নীচে ক্লিক করুন।

এবার দেলু শিকদারের ভাই লালু শিকদারও বললেন সাঈদী যুদ্ধাপরাধী নয় l

 

ইসলাম ও মুসলিমরা ভারতের আধিপত্যবাদ হতে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে তৎপর এটি দিল্লীর কাছে পরিষ্কার। তাদের অনেকের অনেক কলামে এসব স্পষ্ট ধরা পড়ে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বিচারক যিনি ছিলেন একজন স্বঘোষিত যুদ্ধাপরাধী, এরকম বিচারপতি কিভাবে কেমন করে নিরপরাধ জনতার বিচার করবেন সেটি বোধগম্য নয়। এটি গুরুতর অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের বিরুদ্ধে। একটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল “রাজকাহন” টকশোতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে রাজাকার বলাতে আইনজীবি এখলাস উদ্দিন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে লিগেল নোটিশ পাঠান আর তার বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য ৭২ ঘন্টার সময় দেন, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া  হবে বলে উল্লেখ করেন। পরদিন ১৬ মার্চ ১৭ সালে শামসুদ্দিন মানিকও তার আইনজীবি মিজানুর রহমানের বরাতে জবাব পাঠান।  এরা দুজনাই অতীতে ঐ শিরোনামের স্কাইপি খেলাতে এক মাত্রায় জড়িত ছিলেন। যদিও আজ উভয়েই পাল্টাপাল্টি নোটিশ ও জবাব দিচ্ছেন। মিজানুর রহমান বলেন তার মক্কেল ১৫ই মার্চ নেটিশটি পান এবং তিনি স্বীকার করেন যে প্রধান বিচারপদি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ১৯৭১ সালে কুখ্যাত শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এটি তার মতামত নয় বরং এটি সিনহার নিজস্ব মতামত। ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তার মক্কেল যুদ্ধপরাধীর বিচারকালে যখন মুহুম্মদ কামরুজ্জামানের আপিল শুনছিলেন তখন প্রকাশ্যে জনাকীর্ণ আদালতে বিপুল সাংবাদিক আইনজীবি ও বিচারপ্রার্থীর উপস্থিতিতে বিচারপতি এস কে সিনহা প্রকাশ্যে সুস্পষ্ট ও জোরালোভাবে এটি স্বীকার করেন যে তিনি ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি আরো বলেন, “আমি নিজেও পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর জন্য কাজ করেছি”। এসব শুনে উপস্থিত সবাই হতবাক ও বিহ্বল হয়ে পড়েন। আদালতে চাপা গুঞ্জন শুরু হলে তিনি কথাকে অপ্রাসঙ্গিক ভাবে অন্যদিকে ঘুরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্ঠা করেন। পরদিন বিভিন্ন সংবাদপত্রে সেটি আসে বিশেষ করে ডেইলি ঢাকা ট্রিবিউন পত্রিকায় ২য় শীর্ষ সংবাদ হিসাবে প্রকাশিত হয়। লেখাটির শিরোনাম ছিল “Justice Sinha discloses his role in 1971”. এর কিছুদিন পর দৈনিক জনকন্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় তার উপসম্পাদকীয়তে লেখেন যে, বিচারপতি এস কে সিনহা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। এ মর্মে স্বীকারোক্তির পর বাংলাদেশের কোন আদালতে তিনি বিচারক হিসাবে থাকতে পারেন না। বিচারপতি এস কে সিনহার এই স্বীকারোক্তি দেশ বিদেশের কোটি কোটি দর্শক দেখেছেন, সেদিন টকশোতে আরো উপস্থিত ছিলেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি জেড আই খান পান্না, মাসুদ আহমেদ তালুকদার। বক্তব্য অনুযায়ী একটি সাংবিধানিক পদে যদি বাংলাদেশের এরকম একটি পদের বিচারক রাজাকার হয়ে থাকেন তাহলে এই বিজয়ের মাসে এটি শহীদদের সাথে বিশ^াসঘাতকতা বলে বিবেচিত হবে। এমতাবস্তায় রাজাকারের অধীনে বিচার ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে (পি এন এস ডেস্ক)।

শনিবার ২৬ মার্চ ২০১৬ কলকাতা, আনন্দবাজার ছাপে ২০১৫এর ১৭ জানুয়ারী, বাংলাদেশে হিন্দু আইনজীবি সুরেন্দ্রকুমার সিনহাকে সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রধান বিচারপতির অবস্থান রাষ্ট্রপতির ঠিক একধাপ নীচেই। এতে প্রধানের সুবিধা দুটি,  প্রথমত দেখানো নিরপেক্ষতা আর দ্বিতীয়ত হাতের কাছে একজন বিচারপতিকে অভিভাবক হিসাবে পাওয়া। বাবার মতই বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগের পথেই তিনি হাটছেন। তার আগ্রহেই ২০ তম রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। মাত্র ৯ মাস পর নির্বাচনে জিতে (?) হাসিনা গদিতে বসেন (মিথ্যা) কথাটি আনন্দবাজার উল্লেখ করে। ২০১৯এ ততক্ষণে আব্দুল হামিদের মেয়াদ ফুরিয়ে আসবে। সে শূণ্য স্থানে বসাবেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে। এমন সুবর্ণ সুযোগ তিনি ছাড়বেন কেন? সে ইঙ্গিতেই সুরেন্দ্র কুমার হাটছেন আর তার গুণ গরিমা প্রকাশ করছেন। পাঠক আশাকরি আনন্দবাজারের এ খবরে অনেক কিছুই আঁচ করতে পারবেন ভারতের খায়েশ কিভাবে দেশটির মজ্জা চুষে খাচ্ছে। তারপরও এক বিশ^¯্রষ্টার আদালতই সত্যনিষ্টদের জন্য একমাত্র ভরসা হওয়া উচিত।  ইত্যবসরে সুইডিশ রেডিওতে র‌্যাবের গুপ্তহত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা ফাঁস হয়েছে। সুইডেনের সরকারী অর্থায়নে পরিচালিত “সভারিজেস রেডিও” গোপন ধারণকৃত একটি অডিও প্রকাশ করেছে। র‌্যাবের উচ্চপদস্থ কিভাবে মানুষ হত্যা করে নাটক সাজায় তা বর্ণনাতে উঠে এসেছে। অবশ্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বুঝতে পারেন নি তার কথা রেকর্ড হচ্ছে। সেখানে উঠে এসেছে যদি তুমি টার্গেট করা মানুষটিকে খুঁজে পাও তাহলে সে যেই হোক না কেন তাকে গুলি কর ও হত্যা কর, অতপর তার পাশে একটি অস্ত্র রেখে দাও।” যাতে তার ঘাড়েই দোষটি চাপানো যায়। সেখানে তিনটি কৌশলের কথা এসেছে (১) টার্গেটকরা লোকটিকে ধরা (২) হত্যা করা (৩) লাশ লুকিয়ে ফেলা। মরদেহ নদীতে ফেলার আগে কংক্রিটের ব্লক দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। তারা যাতে কোনভাবে বিপদে না পড়ে সেজন্য তাদের গ্লাবস পড়ে কাজ করতে হয়, জুতার নীচে কাপড় লাগাতে হয় যাতে কোন পরিচয় না পাওয়া যায়, সিগারটে খাওয়া এসময় নিষেধ, সব দিকে সতর্ক দৃষ্টি যাতে কেউ কোন সূত্র খুঁজে না পায়।

একজন যুদ্ধাপরাধীর জন্য এত মানুষ পাগল কেন_??

 

এ অপরাধের দায় শুধু একা সরকারের ঘাড়ে চাপে না, সাথে ভারতও জড়িত এসব অপকর্মের দিকদর্শক হিসাবে। এ দেশ থেকে ধর্ম মুছে দেয়াসহ, প্রতিটি সমাজ বিনির্মাতাকে সরিয়ে দেয়াসহ গণতন্ত্র, সহনশীলতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায় বিচার, সবকিছুকেই কঠোর হস্তে দমনের স্বার্থে ভারত সরকারী প্ররোচনাতে দেশটির বিরুদ্ধে মরণ কামড় বহাল রেখেছে। শায়খ আব্দুর রহমানসহ প্রতিটি সদস্যই দেখা যায় আওয়ামী ঘর থেকেই উত্থিত হয়। কেউ ঘোরা পথে বাঁচে কেউ আটকায়, কেউ হয়তো টাকা বাগায়। বাংলাদেশের মানুষ অন্তহীন মরণের বিভৎস সময় পার করছে। দেলোয়ার হোসেন সাঈদী কেমন করে এসব যন্ত্র দানবের হাত থেকে রক্ষা পাবেন? যুদ্ধপরাধের বিচার সারা জাতিই সব দিন চেয়েছে, আজও সঠিক বিচার হলে কেউ অখুশী হতো না। কিন্তু আজ সঠিক বিচার সম্ভব নয়। আমি নিজেও ছিলাম স্বাধীনতার সময়ে আওয়ামী নেতার সন্তান। পাকিস্তানের সময়ে আমার পূর্ব পুরুষ পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম করে মুসলিমদের জন্য সংগ্রাম করেছেন কারণ ভারতের মুসলিম নির্যাতন সব আমরা শিকড় থেকে জানি। তারপরও সেদিনের ঐ লড়াই ছিল বন্টন জনিত বিভেদের লড়াই। দৃশ্যত ওটি ছিল না দেশ ভাঙ্গার লড়াই। কিন্তু মুজিবের অপরিণামদর্শিতার জন্যই একমুখীতার জন্যই, স্বার্থপরতার কারণে জাতির সাথে না থেকে অন্যদের মতামতের সামান্যতম গুরুত্ব না দিয়ে তোয়াক্কা না করে নিজের মনমত নিজে চলার নীতি নিয়ে দেশকে বিপন্ন দশাতে ফেলে দেন। যার স্বাভাবিক পরিণতিতে দেশ ময়দান থেকে উৎসাহ অর্জন করে স্বাধীনতা যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়। সেদিন যদি ঐসব চাটুকারদের সত্যিকারের বিচার হতো তবে অবশ্যই প্রতিটি নির্যাতীত মানুষ স্বস্থি খুঁজে পেতো। সে দুঃখ হাসিনা জানেন না, বরং জানবেন খালেদা। তিনি হাসিনা পাকিস্তানী রসদে পরিজন নিয়ে নিরাপত্তা ঘেরে থেকেছেন পাকিস্তানী হেফাজতে। অপর দিকে দেশবাসী বিচারের জন্য কেউ চল্লিশ বছর অপেক্ষায় থাকে না। আজ বেশীর ভাগ বাদী আসামী উভয়ে একযোগে মৃত। সরকার যা করছে সেটি বিরোধীর সাথে মঞ্চনাটক করছে, রাজনীতি করছে। সাড়ে সাত কোটি জনতার সাথে যে পূর্ব পুরুষ তখন থেকেই প্রতারণার খেলা খেলছেন, তার পরজন্মও আজ অবদি সে খেলা বহাল রাখছে। যে কাজটিকে মহা উৎসাহে অনুসরণ করছেন তার কন্যা, চাটুকারদের ভাষাতে জাতিকে না জানিয়ে তিনি নাকি বিজয়ীনির বেশে ভারত দেশে চুক্তি করতে যাচ্ছেন! ধারণা করি সব মানুষেরই দোষ গুণ থাকে, কারো বেশী কারো কম। কেন জানি বাবার গুনের দিকে না হেটে বাবার দোষের দিকেই তিনি বেশী ভি সাইন দেখিয়ে ক্রমাগত দৌড়াচ্ছেন, হাফাচ্ছেন, লাফাচ্ছেন আর জাতি ক্রমাগত ডুবছে, ডুবছে, অতল গহবরের দিকে ঢুকছে! এমন সংকট সময়ে আল্লাহর সাহায্যই একান্ত কাম্য। 

নাজমা মোস্তফা, এপ্রিলের ৬ তারিখ ২০১৭।

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: